বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ২৬ / ২৭ · ২,৫০১২,৬০০ / ২,৬৯২

২,৫০১.
কোনটি অস্থায়ী মূল কণিকা?
  1. পজিট্রন
  2. নিউট্রিনো
  3. ম্যাসন
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
অস্থায়ী মূল কণিকা: কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে।
এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা।

সূত্রঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫০২.
সৌরকেন্দ্রিক পরমাণু মডেল প্রস্তাব করেন -
  1. ক) জন ডাল্টন
  2. খ) স্যার আইজ্যাক নিউটন
  3. গ) নীলস বোর
  4. ঘ) আর্নেস্ট রাদারফোর্ড
সঠিক উত্তর:
ঘ) আর্নেস্ট রাদারফোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আর্নেস্ট রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন এটি রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত।
তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন। তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়।

সূত্রঃ রসায়ন, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫০৩.
টিউমার নির্ণয় ও চিকিৎসায় কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. 192Ir
  2. 131Zn
  3. 60Co
  4. 32P
সঠিক উত্তর:
60Co
উত্তর
সঠিক উত্তর:
60Co
ব্যাখ্যা

টিউমার নির্ণয় ও চিকিৎসায় 60Co তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 

রোগ নিরাময়ে
- সর্বপ্রথম থাইরয়েড ক্যানসার নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- রোগীকে পরিমাণমতো তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ 131I সমৃদ্ধ দ্রবণ পান করানো হয়।
- এই আইসোটোপ থাইরয়েডে পৌঁছে বিটা রশ্মি নির্গত করে, যা থাইরয়েডের ক্যানসার কোষকে ধ্বংস করে।
- এছাড়া ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্রেইন ক্যানসার নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ 60Co ব্যবহার করা হয়।
- 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যানসারের কোষকলাকে ধ্বংস করে।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় 32P এর ফসফেট ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

২,৫০৪.
যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে কী বলে?
  1. ক) বহুমৌলিক পদার্থ
  2. খ) যৌগিক পদার্থ
  3. গ) মৌলিক পদার্থ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক পদার্থ
ব্যাখ্যা
• মৌলিক পদার্থ:
- যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থ ছাড়া ভিন্ন ধর্ম বিশিষ্ট অন্য কোন নতুন পদার্থ পাওয়ার যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে।
- মৌলিক পদার্থের উদাহরণ : হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হিলিয়াম, নিয়ন, কার্বন, তামা, দস্তা, পারদ, সোনা, রূপা প্রভৃতি মৌলিক পদার্থ।

• যৌগিক পদার্থ:
- দুই বা তার বেশি সংখ্যক মৌলিক পদার্থ নির্দিষ্ট ওজনের অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে ভিন্ন ধর্মী পদার্থ গঠন করে। অথবা, যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা তার বেশি মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে।
- যৌগিক পদার্থের উদাহরণ : পানি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, খাদ্য লবন, এসিড, ক্ষার প্রভৃতি হল যৌগিক পদার্থ।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।   
২,৫০৫.
SATP তে তাপমাত্রা কত ধরা হয়? 
  1. 0°C
  2. 4°C
  3. 25°C
  4. 100°C
সঠিক উত্তর:
25°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
25°C
ব্যাখ্যা
SATP: 
- SATP হলো Standard Ambient Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- এক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 25°C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- SATP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 24.789 dm3। 

STP: 
- STP হলো Standard Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- এক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 0°C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 22.4 dm3। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫০৬.
দানাদার সালফারের রূপভেদ নিচের কোনটি? 
  1. ল্যামডা সালফার
  2. গামা সালফার
  3. ডেল্টা সালফার
  4. রম্বিক সালফার
সঠিক উত্তর:
রম্বিক সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রম্বিক সালফার
ব্যাখ্যা
বহুরূপতা: 
- যদি কোন মৌল ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রকৃতিতে থাকতে পারে তার এ ধর্মকে বহুরূপতা বলে। 
- কার্বন, ফসফরাস, সিলিকন, সালফার, জার্মেনিয়াম, বোরন, টিন ইত্যাদি মৌল বহুরূপতা প্রদর্শন করে। 

সালফারের বহুরূপতা: 
- প্রকৃতিতে সালফারের অনেকগুলো রূপভেদ আছে। 
যেমন: দানাদার, অদানাদার এবং তরল সালফার। 
- দানাদার সালফারের দুটি রূপভেদ হচ্ছে রম্বিক বা আলফা সালফার এবং মনোক্লিনিক বা বিটা সালফার। 
- অদানাদার সালফারের দুটি বহুরূপতা হচ্ছে প্লাস্টিক বা নমনীয় বা গামা সালফার এবং দুগ্ধ বা ডেল্টা সালফার। 
- তরল সালফারের রূপভেদ হচ্ছে ল্যামডা সালফার এবং মিউ সালফার। 
এছাড়াও সালফারের আরেকটি বহুরূপতা হচ্ছে কোলয়ডাল সালফার। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৫০৭.
বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি পরমাণুর শক্তি-
  1. যুক্ত অবস্থার চাইতে কম
  2. যুক্ত অবস্থার চাইতে অধিক
  3. যুক্ত অবস্থার সমান
  4. কোনোটিই সঠিক নয়
সঠিক উত্তর:
যুক্ত অবস্থার চাইতে অধিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্ত অবস্থার চাইতে অধিক
ব্যাখ্যা
- পরমাণুর কেন্দ্র হচ্ছে শক্তির ভাণ্ডার। 
- যুক্ত অবস্থা বা ঐক্যবদ্ধ অবস্থা হলো একটি স্থিতিশীল অবস্থা যেখানে পরমাণুর নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনগুলো শক্তভাবে আবদ্ধ থাকে। 
- অন্যদিকে, বিচ্ছিন্ন অবস্থা বা অযৌগিক অবস্থায় পরমাণু বা পরমাণুর কণিকাগুলো পরস্পর থেকে আলাদা থাকে। 
- বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পরমাণুর কণিকাগুলোর (নিউক্লিয়াসের প্রোটন ও নিউট্রন এবং ইলেকট্রনগুলোর) মধ্যে কোন আকর্ষণ শক্তি কাজ করে না। ফলে এই অবস্থায় পরমাণুর শক্তি বা শক্তির পরিমাণ বেশি হয়। কারণ, যুক্ত অবস্থায় আকর্ষণ শক্তিগুলো পরমাণুকে একত্রিত ও স্থিতিশীল রাখে, যা শক্তির একটি অংশ গ্রাস করে ফেলে। 
সুতরাং, বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি পরমাণুর শক্তি যুক্ত অবস্থার চাইতে বেশি থাকে। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
২,৫০৮.
আমরা যে চক দিয়ে লিখি তা হচ্ছে-
  1. ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড
  2. ক্যালসিয়াম ফসফেট
  3. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  4. ক্যালসিয়াম সালফেট
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম কার্বনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
- চক বা চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম কার্বনেট এবং সংকেত- CaCO3

অন্যদিকে, 
- ভিনেগারের রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH.
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3.
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O.
- চুনের রাসায়নিক সংকেত- CaO.
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2.
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3.

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫০৯.
d-ব্লক সর্বমোট মৌলের সংখ্যা কয়টি? 
  1. ৮টি
  2. ১৮টি
  3. ৩২টি
  4. ৪০টি
সঠিক উত্তর:
৪০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০টি
ব্যাখ্যা
d-ব্লক মৌল: 
- যেসব মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ ইলেকট্রনটি d অরবিটালে প্রবেশ করে তাদের d-ব্লক মৌল বলে। 
- পর্যায় সারণির চতুর্থ পর্যায়ের স্ক্যানডিয়াম (Sc, 21) থেকে জিঙ্ক (Zn, 30) এবং পঞ্চম পর্যায়ের ইট্রিয়াম (Y, 39) থেকে ক্যাডমিয়াম (Cd, 48) হলো d-ব্লক মৌল। 
- এছাড়া ষষ্ঠ পর্যায় ও সপ্তম পর্যায়েও d-ব্লক মৌল আছে। 
- পর্যায় সারণির 3 থেকে গ্রুপ 12 এর মৌলসমূহ এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। 
- এ শ্রেণিতে সর্বমোট 40টি মৌল আছে। 
- এ ব্লকের মৌলের পরমাণুর d1 থেকে d10 পর্যন্ত ইলেকট্রন থাকতে পারে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫১০.
সবচেয়ে নরম খনিজ কোনটি?
  1. ট্যালক
  2. চুনাপাথর
  3. পাইরাইটস
  4. সিলিকা
সঠিক উত্তর:
ট্যালক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্যালক
ব্যাখ্যা
• খনিজ পদার্থের কাঠিন্য:
- খনিজ পদার্থগুলো সাধারণত কঠিন হয় এবং একেকটি খনিজের কাঠিন্য একেক রকম।
- বেশি কঠিন খনিজ খুব সহজেই কম কঠিন খনিজে দাগ কাটতে পারে; কিন্তু কম কঠিন খনিজ বেশি কঠিন খনিজে দাগ কাটতে পারে না। কাঠিন্য অনুযায়ী সবচেয়ে নরম খনিজ হলো ট্যালক (Talc), যা দিয়ে ট্যালকাম পাউডার তৈরি হয়।
- সবচেয়ে কঠিন খনিজ হলো হীরা বা ডায়মন্ড। খনিজ পদার্থের নির্দিষ্ট দ্যুতি থাকে।
- ধাতব খনিজ যেমন: পাইরাইটস ধাতুর মতোই দ্যুতি প্রদর্শন করে অর্থাৎ অনেকটা ধাতুর মতোই চকচক করে।
- খনিজ হীরা অধাতু এবং এটিকে দেখে সাধারণ কাচের মতো মনে হতে পারে কিন্তু এটি কাটার পর এর দ্যুতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

উৎস:বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
২,৫১১.
ওজন স্তর ক্ষয়ের জন্য দায়ী কোনটি?
  1. CO2
  2. SO2
  3. CO
  4. CFC
সঠিক উত্তর:
CFC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CFC
ব্যাখ্যা
- ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পর্দাথের মধ্যে CFC হলো প্রধান।
- সিএফসি হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বনের সংক্ষিপ্ত রূপ।
- এটি বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তরে পৌঁছে ওজোনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অক্সিজেনে পরিণত করে। 
- এর ফলে ওজোনস্তর হালকা বা ফুটো হয়ে যায়।
- এই ফাটল দিয়ে মহাজাগতিক বিভিন্ন রশ্মি পৃথিবীতে এসে জীবজগতের ক্ষতিসাধন করে।
- এছাড়াও N2O, NO, CH4, BCF, CH3Br, CCl4 ইত্যাদি ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পর্দাথের অন্তর্ভূক্ত।

উৎস : উচ্চ-মাধ্যমিক রসায়ন ২য় পত্র।
২,৫১২.
বাফার দ্রবণ সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সঠিক?
  1. এটি উচ্চ অম্লীয় বা ক্ষারীয় বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে
  2. এটি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না
  3. সামান্য অম্ল বা ক্ষার যোগ করলে pH এ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না
  4. বেশি সময় রেখে দিলে বা দ্রবণকে লঘুকরণ করলে এর pH পরিবর্তিত হয়
সঠিক উত্তর:
সামান্য অম্ল বা ক্ষার যোগ করলে pH এ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামান্য অম্ল বা ক্ষার যোগ করলে pH এ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না
ব্যাখ্যা

◉ বাফার দ্রবণ (Buffer Solution) হলো এমন একটি দ্রবণ, যা সামান্য পরিমাণ অম্ল (Acid) বা ক্ষার (Base) যোগ করার পরেও এর pH মানকে প্রায় স্থির রাখতে সক্ষম।

বাফার দ্রবণ:
- যে দ্রবণে সামান্য পরিমাণে এসিড বা ক্ষারক যোগ করার পরও তার pH অপরিবর্তিত থাকে তাকে বাফার দ্রবণ বলে।
- pH পরিবর্তন প্রতিরোধ করার এই ক্ষমতাকে দ্রবণটির বাফার ক্ষমতা (buffer capacity) বলে।

বাফার দ্রবণগুলো সাধারণত
(i) মৃদু এসিড ও ঐ এসিডের সঙ্গে তীব্র ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন কোন লবণ (যেমন এসিটিক এসিড ও সোডিয়াম এসিটেট) বা
(ii) মৃদু ক্ষার ও এর সঙ্গে তীব্র এসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন কোন লবণ (যেমন NH4OH-NH4CI)-এর মিশ্রণ দ্বারা প্রস্তুত করা হয়।
উল্লেখ্য যে এসিটিক এসিড ও সোডিয়াম এসিটেট দ্বারা প্রস্তুত বাফার দ্রবণের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।

বাফার দ্রবণের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
(i) এই দ্রবণের একটি নির্দিষ্ট pH থাকে।
(ii) এই দ্রবণে সামান্য পরিমাণ এসিড বা ক্ষার যোগ করলেও এর pH এর পরিবর্তন হয় না।
(iii) বেশি সময় রেখে দিলে বা দ্রবণকে লঘুকরণ করলেও এর pH অপরিবর্তিত থাকে।
এই দ্রবণ তার বাফার ক্রিয়া (buffer action) দ্বারা pH পরিবর্তনে বাধা দান করে।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৫১৩.
কোনটি মৌলিক পদার্থ নয়?
  1. ক) লোহা
  2. খ) লবণ
  3. গ) সোনা
  4. ঘ) তামা
সঠিক উত্তর:
খ) লবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লবণ
ব্যাখ্যা

- যে সকল বস্তুকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করে অন্য কোনো বস্তুতে রূপান্তরিত করা যায় না তাকে বলে মৌলিক পদার্থ।
যেমন- সোনা, রূপা, তামা, লোহা, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি।
- যে সকল বস্তুকে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায় তাকে বলে যৌগিক পদার্থ।
যেমন- পানি, লবণ, ইস্পাত, চিনি, ইউরিয়া ইত্যাদি।

২,৫১৪.
কোন যৌগটিতে কেবলমাত্র সিগমা বন্ধন রয়েছে?
  1. ক) CH4
  2. খ) C2H4
  3. গ) C2H2
  4. ঘ) C6H6
সঠিক উত্তর:
ক) CH4
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) CH4
ব্যাখ্যা
সিগমা (G) বন্ধন: 
- দুটি একই বা ভিন্ন পরমাণুর দুটি পারমাণবিক অরবিটাল একই অক্ষ বরাবর মুখোমুখি অধিক্রমণের ফলে আণবিক অরবিটাল সৃষ্টির মাধ্যমে যে সমযোজী বন্ধন গঠিত হয় তাকে সিগমা (০) বন্ধন বলে।

- কার্বন পরমানুর প্রতিটি sp3 সংকর অরবিটালে একটি করে বিজোড় ইলেকট্রন থাকে, যা 4 টি C - H সিগমা বন্ধন সৃষ্টি হয়। ফলে মিথেন (CH4) অণু গঠিত হয়।

- অর্থাৎ CH4 যৌগটিতে কেবলমাত্র সিগমা বন্ধন রয়েছে।
২,৫১৫.
নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে কোন সার প্রস্তুত করা হয়?
  1. টিএসপি
  2. সবুজ সার
  3. পটাশ
  4. ইউরিয়া
সঠিক উত্তর:
ইউরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরিয়া
ব্যাখ্যা

◉ নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে ইউরিয়া সার প্রস্তুত করা হয়।

• ইউরিয়া [(NH2)2C=O]: উদ্ভিদের মৌলিক পুষ্টি উপাদানের মধ্যে নাইট্রোজেন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়।
- মাটিতে ইউরিয়েজ নামক এক প্রকার এনজাইম ইউরিয়াকে ধীরে ধীরে বিয়োজিত করে এ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই অক্সাইডে পরিণত করে।
- উৎপন্ন এ্যামোনিয়া মাটিতে উপস্থিত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে।
- এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড পানিতে আংশিক বিয়োজিত হয়ে ও আয়ন উৎপন্ন করে।
- উদ্ভিদ আয়ন পুষ্টি উপাদান হিসেবে শোষণ করে।

উৎস: রসায়ন-১ম পত্র, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ ঊন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫১৬.
কোন বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ ঘটে না?
  1. দহন বিক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. প্রশমন বিক্রিয়া
  4. বিয়োজন বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রশমন বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ ঘটে না। 

• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া:
- রেডক্স অর্থ জারণ-বিজারণ। যে বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে তাকে রেডক্স বিক্রিয়া বলে।   

- Reduction (বিজারণ) শব্দের প্রথমাংশ Red এবং Oxidation (জারণ) শব্দের প্রথমাংশ Ox এর সমন্বয়ে গঠিত শব্দ হলো Redox. 

• রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া:  
- জারণ এবং বিজারণ উভয় প্রক্রিয়া একই সাথে ঘটে।
- একটি পদার্থ ইলেকট্রন ত্যাগ করার সাথে সাথেই অন্য একটি পদার্থ সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
- এই কারণে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়াগুলিকে একত্রে রেডক্স বিক্রিয়া বলা হয়।
- জারণ-বিজারণ একটি যুগপৎ বিক্রিয়া। 

• কিছু বিক্রিয়াতে জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ঘটে থাকে।
→ উদাহরণ-
- সংযোজন বিক্রিয়া, 
- বিয়োজন বিক্রিয়া, 
- প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া,
- দহন বিক্রিয়া। 

• নন-রেডক্স বিক্রিয়া:
- এ ধরণের বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ তথা ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে না।

→ উদাহরণ-
- প্রশমন বিক্রিয়া,
- অধ:ক্ষেপণ বিক্রিয়া ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২,৫১৭.
ফিউশন প্রক্রিয়ায় -
  1. একটি পরমাণু ভেঙ্গে প্রচণ্ড শক্তি সৃষ্টি করে
  2. একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
  3. ভারী পরমাণু ভেঙ্গে দুটি পরমাণু গঠিত হয়
  4. একটি পরমাণু ভেঙ্গে দুটি পরমাণু সৃষ্টি হয়
সঠিক উত্তর:
একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
ব্যাখ্যা
- ফিউশন প্রক্রিয়ায় একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে এবং প্রচন্ড তাপশক্তি উৎপন্ন করে। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। যথা-
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন:
- যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে।

২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন:
- যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে।
- জার্মান বিজ্ঞানী বেথের মতে সূর্য রশ্মি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক উচ্চ তাপমাত্রায় সব সময় হাইড্রোজেন পরমাণু হিলিয়াম পরমাণুতে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং শক্তি নির্গত হচ্ছে। প্রকৃতি এ শক্তি ব্যবহার করছে।
- সূর্যে এ বিক্রিয়া স্বচ্ছন্দে ঘটে।

উৎস:
১. উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি]
২. রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫১৮.
নিচের কোনটি তরলের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. নির্দিষ্ট আয়তন আছে
  2. নির্দিষ্ট আকার নেই
  3. প্রবাহিত হতে পারে
  4. নির্দিষ্ট আকার রয়েছে
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্ট আকার রয়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্ট আকার রয়েছে
ব্যাখ্যা
• তরল পদার্থ:
- পদার্থের ৩ টি প্রধান অবস্থার মধ্যে একটি হলো তরল।

• তরলের বৈশিষ্ট্য:
- তরলের আয়তন নির্দিষ্ট (চাপ ও তাপমাত্রা স্থির থাকলে)।
- তরলের নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই; এটি যে পাত্রে রাখা হয়, সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরল প্রবাহিত হতে পারে (যেমন: পানি, তেল)। 
- তরলের অণুগুলোর মধ্যবর্তী আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম কিন্তু গ্যাসের চেয়ে বেশি শক্তিশালী । 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২,৫১৯.
দিয়াশলাইয়ের কাঠির শীর্ষে কোন প্রকারের ফসফরাস ব্যবহৃত হয়?
  1. বেগুনি ফসফরাস
  2. শ্বেত ফসফরাস
  3. লোহিত ফসফরাস
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
লোহিত ফসফরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত ফসফরাস
ব্যাখ্যা

• দিয়াশলাইয়ের কাঠির শীর্ষে সাধারণত লোহিত ফসফরাস (Red Phosphorus) ব্যবহার করা হয়। বাণিজ্যিক লোহিত ফসফরাস তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং স্থিতিশীল, যা ঘর্ষণের মাধ্যমে জ্বলে ওঠে। অন্যদিকে, শ্বেত ফসফরাস খুবই জ্বলনশীল ও বিষাক্ত, তাই এটি ব্যবহার করা হয় না। বেগুনি ফসফরাসও সাধারণত এই কাজে ব্যবহার করা হয় না। কাঠির শীর্ষে লোহিত ফসফরাস থাকায় ঘষলে তা সহজেই আগুন ধরে, যা আমাদের আলো জ্বালানোর জন্য নিরাপদ এবং কার্যকর।
- তাই প্রশ্নে সঠিক উত্তর হলো গ) লোহিত ফসফরাস।


ফসফরাস: রূপভেদ ২ টি।
• শ্বেত ফসফরাস ও
• লোহিত ফসফরাস।

- শ্বেত ফসফরাস বেশি সক্রিয় এবং বিষাক্ত।
- দিয়াশলাইয়ের কাঠির মাথায় লোহিত ফসফরাস ব্যবহৃত হয়।
- লোহিত ফসফরাস একটু উষ্ণ অবস্থায় বায়ুর অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। তাই লোহিত ফসফরাস ব্যবহার করে তৈরি করা হয় ম্যাচের কাঠি। ম্যাচের কাঠি বারুদে ঘর্ষণের ফলে যে তাপ তৈরি হয়, তাতে লোহিত ফসফরাস অক্সিজেনর সঙ্গে বিক্রিয়া করে জ্বলে ওঠে।

 উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।

২,৫২০.
ইস্পাতে কার্বনের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ক) ০.১৫ - ১.৫%
  2. খ) ৫.৫ - ৬.২৫%
  3. গ) ০.৫ - ১.৭৫%
  4. ঘ) ১১.০১%
সঠিক উত্তর:
ক) ০.১৫ - ১.৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ০.১৫ - ১.৫%
ব্যাখ্যা
ইস্পাতে কার্বনের শতকরা পরিমাণ ০.১৫ - ১.৫%। [সূত্র: ৯ম - ১০ম শ্রেণীর রসায়ন বই]
২,৫২১.
2311Na মৌলের প্রোটন সংখ্যা কত?
  1. ক) 11
  2. খ) 12
  3. গ) 23
  4. ঘ) 35
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) 11
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 11
ব্যাখ্যা
কোন পরমাণুতে ভরসংখ্যা = প্রোটন+নিউট্রন সংখ্যা, যা A দিয়ে প্রকাশ করা হয়। যেহেতু, ভরসংখ্যা হলো, প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বাদ দিলে পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যাবে। এখানে, Na- এর ভরসংখ্যা ২৩ এবং প্রোটন সংখ্যা ১১। তাই নিউট্রন সংখ্যা = ২৩-১১ = ১২। উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
২,৫২২.
বায়োগ্যাসে মিথেনের পরিমাণ কত?
  1. ৩৩%
  2. ৬৫%
  3. ৮৫%
  4. ৪০%
সঠিক উত্তর:
৬৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫%
ব্যাখ্যা
বায়োগ্যাস:
প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুরূপ গ্যাস নানা রকম প্রাণী ও উদ্ভিদের বর্জ্য থেকে তৈরি করার ব্যবস্থা করা যায়। এ ধরনের গ্যাসকে বলে বায়োগ্যাস।

- বায়ো অর্থ জীবন। প্রাণী বা উদ্ভিদ জীবনের অধিকারী বিধায় এদের দেহ এবং দেহ নিঃসৃত পদার্থ পচনশীল।
- গোবর, মলমূত্র, পাতা, খড়কুটো প্রভৃতি পদার্থ পানিতে মিশিয়ে বাতাসের অনুপস্থিতি রাখলে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে গাজন প্রক্রিয়া ঘটে। ফলে এক ধরনের বর্ণহীন দাহ্য গ্যাস উৎপন্ন হয়। এর শতকরা ৬০-৭০ ভাগই মিথেন গ্যাস। ইহাই বায়োগ্যাস নামে পরিচিত।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।

অপশনে ৬৫% থাকায় উত্তর হিসেবে এটাই বেছে নেওয়া হচ্ছে।
আরো অনেক উৎসে বায়োগ্যাসে মিথেনের বিভিন্ন মাপ বা রেঞ্জ দেওয়া আছে। সবগুলোতেই উত্তর ৭০% এর কাছাকাছি।
২,৫২৩.
কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ কেমন থাকে? 
  1. তীব্র
  2. দুর্বল
  3. মাঝারি
  4. আকর্ষণ নেই
সঠিক উত্তর:
তীব্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তীব্র
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল এ সকলই তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া -এরা সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫২৪.
‘সরিষার তেলে' কোন উপাদানটি পাওয়া যায়?
  1. ক) এসকরবিক এসিড
  2. খ) লিনোলিক এসিড
  3. গ) ইরোসিক এসিড
  4. ঘ) ডেটুবিন
সঠিক উত্তর:
গ) ইরোসিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইরোসিক এসিড
ব্যাখ্যা
- সর্দি-কাশি হলে অনেকে সরিষার তৈল নাকে-মুখে ব্যবহার করেন।
- কিন্তু এই তৈলের একটি বড় অসুবিধা হলো এতে প্রায় ৪০-৪৫% ইরোসিক এসিড নামক একটি ক্ষতিকারক ফ্যাটি এসিড আছে যা হৃৎপিন্ডের রোগ সৃষ্টি করতে পারে। 
- বর্তমানে আমরা যে পরিমান সরিষার তৈল দৈনিক আহার করি তাতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
 
উৎস: School of Agriculture & Rural Development, Bangladesh Open University
২,৫২৫.
জীবন্ত জীবাশ্ম উদ্ভিদের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. প্লাটিপাস
  2. ইকুইজিটাম
  3. স্ফোনোডন
  4. লিমুলাস
সঠিক উত্তর:
ইকুইজিটাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইকুইজিটাম
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও গিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে, এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫২৬.
নিচের কোন পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই কিন্তু নির্দিষ্ট আয়তন আছে?
  1. ইট
  2. অক্সিজেন
  3. অ্যামোনিয়া
  4. অ্যালকোহল
সঠিক উত্তর:
অ্যালকোহল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল এসবই তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া -এরা সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫২৭.
স্টেরিলাইজেশনের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. খাদ্যের পুষ্টি বৃদ্ধি করা
  2. খাদ্যের স্বাদ উন্নত করা
  3. খাদ্যকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা
  4. খাদ্য সংরক্ষণে ঠান্ডা রাখা
সঠিক উত্তর:
খাদ্যকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাদ্যকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা
ব্যাখ্যা

- স্টেরিলাইজেশন একটি তীব্র তাপ প্রয়োগ পদ্ধতি যা ১০০°C -এর বেশি তাপমাত্রায় করা হয় এবং এর লক্ষ্য হল খাদ্যের মধ্যে উপস্থিত সমস্ত অণুজীব, এমনকি ব্যাকটেরিয়ার স্পোরগুলোও সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করে দেওয়া।

স্টেরিলাইজিং বা রিটর্টিং বা নির্জীবকরণ: 

- সিলিং -এর পর স্টেরিলাইজিং করা হয়। 
- যেসব খাদ্য এসিডিক সেক্ষেত্রে 90-100°C তাপমাত্রায় প্রায় 30 মিনিট তাপ প্রয়োগ করা হয়। 
- যেসব খাদ্যে এসিড নেই অথবা খুব কম আছে সেক্ষেত্রে 121°C তাপমাত্রায় 1.5-2 ঘণ্টা ধরে তাপ প্রয়োগ করা হয়। কারণ 121°C তাপমাত্রায় জীবাণুর স্পোর বা কেলাস কাঠামো ভেঙে যায়। 
- এতে খাদ্য সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত হয় এবং কিছুটা রান্নার কাজও হয়। 
- যে ভৌত পদ্ধতিতে খাদ্য সম্পূর্ণরূপে জীবাণুমুক্ত হয় তাকে স্টেরিলাইজেশন বলে। 

অন্যদিকে, 
- স্টেরিলাইজেশন খাদ্যের পুষ্টির পরিমাণ বাড়ায় না; বরং কিছু ক্ষেত্রে পুষ্টি উপাদানের সামান্য হ্রাস ঘটতে পারে। 
- স্টেরিলাইজেশন প্রক্রিয়ায় উচ্চ তাপমাত্রার কারণে খাদ্যের স্বাদ বা পুষ্টিগুণের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু স্বাদ উন্নত করা এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য নয়। 
- ঠান্ডা রাখা (শীতলীকরণ বা ফ্রিজিং) খাদ্য সংরক্ষণের একটি আলাদা পদ্ধতি যা অণুজীবের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়, কিন্তু এটি স্টেরিলাইজেশন নয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫২৮.
PET- বোতল তৈরির একটি উপাদান হলো-
  1. ক) থেলিক এসিড
  2. খ) টেরিথেলিক এসিড
  3. গ) বেনজোয়িক এসিড
  4. ঘ) অ্যাসেটিক এসিড
সঠিক উত্তর:
খ) টেরিথেলিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) টেরিথেলিক এসিড
ব্যাখ্যা
• এটি পলিয়েস্টার গ্রুপের অন্তর্গত এবং পেট্রোলিয়াম থেকে প্রাপ্ত এক ধরণের প্লাস্টিকের কাঁচামাল। যা টেরিথেলিক এসিড একটি উপাদান নিয়ে গঠিত।
• PET (Poly Ethylene Terephthalate).
• Molecular Formula - C8H6O4 or C6H4(COOH)2
• এটি 1941 সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী হুইনফিল্ড এবং ডিক্সন দ্বারা আবিষ্কৃত হয়েছিল, যারা এটিকে ফাইবার তৈরির জন্য একটি পলিমার হিসাবে পেটেন্ট করেছিলেন। 
• বর্তমানে, PET হল বিশ্বের সবচেয়ে পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিক৷ আসলে, স্পেনে, বাজারে প্যাকেজিংয়ের 44% গৌণ ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয়৷
•ইউরোপীয় কমিশন দ্বারা সম্মত সার্কুলার ইকোনমি কৌশল মেনে চলার জন্য 2025 সালে শতাংশটি 55 শতাংশে উন্নীত করা উচিত।
২,৫২৯.
কোনটি জৈব অম্ল?
  1. ক) নাইট্রিক এসিড
  2. খ) হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. গ) এসিটিক এসিড
  4. ঘ) সালফিউরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
গ) এসিটিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এসিটিক এসিড
ব্যাখ্যা
- কার্বনিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, সালফিউরাস এসিড, নাইট্রিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, ফসফরিক এসিড ইত্যাদি হলো অজৈব অম্ল।
- ফরমিক এসিড, এসিটিক এসিড, স্টিয়ারিক এসিড, পামিটিক এসিড, এসকরবিক এসিড, সাইট্রিক এসিড ইত্যাদি হলো জৈব অম্ল।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 
২,৫৩০.
নিচের কোনটি ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ নয়?
  1. NH4Cl
  2. C10H8
  3. C10H16O
  4. NH3
সঠিক উত্তর:
NH3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NH3
ব্যাখ্যা
NHবা অ্যামোনিয়া ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ নয়। 

ঊর্ধ্বপাতন:
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
• নিশাদল (NH4Cl),
• কর্পূর (C10H16O), 
• ন্যাপথলিন (C10H8),
• কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2),
• আয়োডিন (I2),
• অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3)।

- এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়।
- এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়।
যেমন - কঠিন ন্যাপথলিনকে তাপ দিলে সেটি তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
২,৫৩১.
কোথায় কঠিন শিলা পাওয়া গেছে?
  1. দিনাজপুরের মধ্যপাড়া
  2. দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া
  3. জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ
  4. বরগুনার পাথরঘাটা
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুরের মধ্যপাড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুরের মধ্যপাড়া
ব্যাখ্যা
কঠিন শিলা (Hard Rock):
- রংপুর জেলার রানীপুকুর ও শ্যামপুর এবং দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলার সন্ধান পাওয়া গেছে।
- দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি হতে ২০১২ পর্যন্ত উত্তোলিত পাথরের পরিমাণ প্রায় ১,৮১১ লক্ষ মেট্রিক টন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৩২.
গ্লিসারিন ঠোঁট বা ত্বকে কেন ব্যবহার করা হয়? 
  1. গ্লিসারিন ত্বককে দ্রুত শুকিয়ে দেয়
  2. গ্লিসারিন ত্বককে সোনালী করে
  3. গ্লিসারিন ত্বকের রঙ গাড় করে 
  4. গ্লিসারিন ত্বককে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে
সঠিক উত্তর:
গ্লিসারিন ত্বককে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লিসারিন ত্বককে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে
ব্যাখ্যা
শীতকালে ঠোঁট, পায়ের গোড়ালি ফাটে কিন্তু গ্লিসারিন লাগালে না ফাটার কারণ: 
- শীতকালে বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকায় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে, তাই বস্পায়নের হার বেশি হয়। 
- শরীরের কোনো কোনো অংশের চামড়া জলীয় অংশ বাস্পায়নের ফলে শুকিয়ে যায়। 
- বিশেষ করে ঠোঁট এবং যাদের পায়ের গোড়ালি সবসময় ভেজা থাকে, সেই অংশ থেকে বাষ্পায়ন বেশি হয় এবং দ্রুত শুকিয়ে চামড়া সংকুচিত হয়। 
- বাইরের ও ভেতরের চামড়ার সংকোচন চাপের বিভিন্নতার কারণে ঠোঁট ফেটে যায়। 
- গ্লিসারিনের স্ফুটনাঙ্ক 290°C, ফলে এর বাস্পায়ন হার খুবই ধীর। 
- তাই গ্লিসারিন ঠোঁটে লাগালে সহজে বাষ্পায়ন হয় না ঠোঁট ভিজা থাকে। 
- ঠোঁট ভিজা থাকার কারণে সংকুচিত হয় না, ফলে ফাটে না। 
- এজন্য শীতকালে ঠোঁটে এবং ত্বকের বিভিন্ন স্থানে গ্লিসারিন লাগানো হয় যেন না ফাটে। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৩৩.
সর্বপ্রথম কে পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা সম্পর্কে মতবাদ প্রদান করেন? 
  1. ডেমোক্রিটাস
  2. অ্যারিস্টটল
  3. রাদারফোর্ড
  4. জন ডাল্টন
সঠিক উত্তর:
ডেমোক্রিটাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেমোক্রিটাস
ব্যাখ্যা
পরমাণুর ধারণা ও উৎপত্তি: 
- পদার্থ ক্ষুদ্র কণা দ্বারা গঠিত, যা অণু ও পরমাণু হতে পারে। 
- গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দ) সর্বপ্রথম পরমাণুর ধারণা দেন। 
- তিনি বলেন, পরমাণু অবিভাজ্য এবং এটি পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা। 
- "Atom" শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ "Atomos", যার অর্থ অবিভাজ্য। 
- প্লেটো ও অ্যারিস্টটল তার মতের বিরোধিতা করেন এবং পদার্থকে নিরবিচ্ছিন্ন (Continuous) বলে মনে করেন। 

ডাল্টনের পরমাণু তত্ত্ব: 
- ১৮০৩ সালে জন ডাল্টন পরীক্ষালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে পরমাণু তত্ত্ব দেন। 
- তিনি বলেন, পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, যা অবিভাজ্য। 
- ডাল্টনের মতবাদ গ্রহণযোগ্যতা পেলেও, পরবর্তী গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে পরমাণু আসলে বিভাজ্য। 

আধুনিক পরমাণু গঠন: 
- পরমাণু ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত। 
- রাদারফোর্ডের গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে,পরমাণুর ধনাত্মক আধান ও ভর নিউক্লিয়াসে থাকে। 
- নিউক্লিয়াস খুব ছোট এবং পরমাণুর বেশিরভাগ অংশ ফাঁকা। 
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারপাশে ঘুরছে, তবে নির্দিষ্ট কক্ষপথের উল্লেখ নেই। 

বোরের পরমাণু মডেল: 
- বোরের মডেল অনুযায়ী:ইলেকট্রন নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে। 
- পরমাণুর ভরের প্রায় পুরোটাই নিউক্লিয়াসে থাকে। 
- নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে, যা পরমাণুর ভর বহন করে। 
- ইলেকট্রন ও নিউক্লিয়াসের মধ্যবর্তী স্থান প্রায় ফাঁকা। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৫৩৪.
ধাতব খনিজ পদার্থ কোনটি? 
  1. কোয়ার্টজ
  2. সোনা
  3. জিপসাম
  4. গ্রাফাইট
সঠিক উত্তর:
সোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনা
ব্যাখ্যা
ধাতব-অধাতব খনিজ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যেমন- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
• লোহা (Fe), 
• তামা  (Cu), 
• সোনা (Au)
• রূপা  (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
• কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica), 
• গ্রাফাইট, 
• জিপসাম, 
• কয়লা, 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৫৩৫.
নিচের কোনটি বহুরূপী মৌল?
  1. ক) জিংক
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম
  3. গ) সালফার
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সালফার
ব্যাখ্যা
একই মৌল প্রকৃতিতে বিভিন্ন ভৌত গুণাগুণ প্রদর্শন করে কিন্তু রাসায়নিক ধর্মের তেমন কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। অর্থাৎ কিছু অধাতব মৌলের রাসায়নিক গুণাগুণ মোটামুটি অভিন্ন হলেও ভৌত ধর্মের মধ্যে বিভিন্নতা থাকে। এইসব পদার্থ বা মৌলগুলোকেই বহুরূপী মৌল বলে এবং মৌলের এই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় বহুরূপতা। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, গ্রাফাইট ও হিরক একই মৌল কার্বন দ্বারা গঠিত হলেও এদের ভৌত ধর্ম এবং রাসায়নিক ধর্মে পার্থক্য বিদ্যমান। অর্থাৎ হীরক ও গ্রাফাইট হলো কার্বনের রূপভেদ। শুধু তাই নয়; প্রকৃতিতে কার্বন বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়।

অনুরূপভাবে গন্ধক (সালফার) ও ফসফরাস দুটি মৌলও বহুরূপী। প্রকৃতিতে চার ধরনের গন্ধক ও দুই ধরনের ফসফরাস পাওয়া যায়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
২,৫৩৬.
STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন কত?
  1. ক) 20 liter
  2. খ) 22 liter
  3. গ) 21.5 liter
  4. ঘ) 22.4 liter
সঠিক উত্তর:
ঘ) 22.4 liter
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 22.4 liter
ব্যাখ্যা
STP: 
- STP হলো Standard Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- এক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 0°C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 22.4 dm3 = 22.4 liter

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৩৭.
কোন রশ্মি বিকিরণের ফলে মৌলের নিউক্লিয়াসের কোন পরিবর্তন ঘটে না?
  1. ক) অতিবেগুনী রশ্মি
  2. খ) আলফা রশ্মি
  3. গ) বিটা রশ্মি
  4. ঘ) গামা রশ্মি
সঠিক উত্তর:
ঘ) গামা রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা
গামা রশ্মি (γ-রশ্মি):
প্রকৃতি:
- গামা রশ্মি সাধারণ অর্থে কোন কণিকা নয়, এটি সাধারণ আলোকের ন্যায় তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ।
- α-কণা বা β-কণা বিচ্ছুরণের পর নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে শক্তির পূর্ণবিন্যাসের ফলে γ-রশ্মির উদ্ভব ঘটে।
- এদের তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য খুবই কম, এমনকি রঞ্জন রশ্মি অপেক্ষাও কম হয়।
বেগ:
- তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ বলে এদের গতিবেগ সেকেন্ডে 186000 মাইল বা 3 × 108 km। 
বায়ুর আয়নীকরণ:
- এরা প্রধানত পরোক্ষভাবে পদার্থকে আয়নিত করে।
- বহু দীর্ঘ পথে ঐ আয়নীকরণ সংঘটিত হয় বলে গামা রশ্মির আপেক্ষিক আয়নীকরণ ক্ষমতা খুব কম। 
ছেদন ক্ষমতা:
- গামা রশ্মির ছেদন ক্ষমতা α-কণার চেয়ে 10,000 গুণ বেশি।
- রঞ্জন রশ্মির ন্যায় তা বিভিন্ন পদার্থের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে পারে।
জীবকোষের উপর ক্রিয়া:
- জীবন্ত কোষের ক্ষতিসাধন করে। 
- গামা রশ্মি (γ-রশ্মি) বিকিরণের ফলে মৌলের নিউক্লিয়াসের কোন পরিবর্তন ঘটে না
- কারণ গামা রশ্মি (γ-রশ্মি) হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মির (γ-রশ্মি) কোন ভর বা চার্জ নেই। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)। 
২,৫৩৮.
নিচের কোন খনিজ পদার্থটি একটি মাত্র মৌলিক পদার্থ দ্বারা গঠিত?
  1. ক) হীরা
  2. খ) গন্ধক
  3. গ) সোনা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সোনা, হীরা এবং গন্ধক- এরা একটি মাত্র মৌলিক পদার্থ  দিয়ে গঠিত খনিজ পদার্থ। 

- এই তিনটি পদার্থকেই ভু-গর্ভ মৌল হিসেবে পাওয়া যায়। 
- অপরদিকে, অক্সিজেন,  লোহা এবং ফেরিক অক্সাইড দুই বা ততোধিক রাসায়নিক সংযোগে গঠিত খনিজ পদার্থ।  
- ভূত্বকের গভীর থেকে যা তোলা হয় তাই খনিজ, ব্যাপক অর্থে, বিভিন্ন প্রকার শিলার গঠন উপাদানই খনিজ।

খনিজ পদার্থের ব্যবহারের দিকসমূহ- 
১. ম্যাগনেটাইট লোহা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
২. চুনাপাথর ঘরবাড়ি, সিমেন্ট, সোডা গ্লাস, লোহা ও স্টিল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাটি এসিডিক হলে চুনাপাথর ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমিত করা হয়।
৩. কাচ, সিরিচ কাগজ, রেডিও, ঘড়ি তৈরিতে কোয়ার্টজ ব্যবহৃত হয়।
৪. গহনা ও ধাতব মুদ্রা তৈরিতে সিলভার বা রূপা ব্যবহার করা হয়।
৫. বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে মাইকা ব্যবহার করা হয়।
৬. সিমেন্ট ও প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরির কাঁচামাল তৈরিতে জিপসাম ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: ৯ পৃষ্ঠা, সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৩৯.
সানস্ক্রিন লোশন তৈরিতে কোন ন্যানো পার্টিকেল ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) Na2O
  2. খ) ZnO
  3. গ) Al2O3
  4. ঘ) CuO
সঠিক উত্তর:
খ) ZnO
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ZnO
ব্যাখ্যা
• সানস্ক্রিন লোশন তৈরিতে ব্যবহৃত পার্টিকেল হচ্ছে জিঙ্ক অক্সাইড (ZnO)।

ন্যানো পার্টিকেল বা ন্যানো কণা:
ন্যানো শব্দের সাধারণ অর্থ হলো 'খুবই ক্ষুদ্র'; যেমন, সংখ্যার একক মানের 1x 10-9 বোঝায় এবং মিটার এককে এর প্রতীক হলো 1nm = 10-9m.
ন্যানোস্কেল সিস্টেম বলতে ক্ষুদ্রতম কণার প্রস্থ 1nm থেকে 50mm পরিসর হলে তাকে ন্যানো কণা বলে।

ন্যানো কণার শ্রেণিবিভাগ:
১. ন্যানো-লেয়ার (nanolayer): ন্যানো স্কেল মতে One dimension বা একমাত্রিক বা রৈখিক বস্তুকণার পরিসর (range) 1nm - 100nm হলে, এদেরকে ন্যানো-লেয়ার (nanolayer) বলে।
২. ন্যানো-টিউব: ন্যানো স্কেল মতে, 1nm-100nm এর দ্বিমাত্রিক (বা two dimensions) ক্ষুদ্রকণার নাম হলো ন্যানো-টিউব বা ন্যানো-ওয়্যার (nanotube বা, nanowire)
৩. ন্যানো পার্টিকেল: ন্যানো স্কেল মতে, 1nm-100nm এর ত্রিমাত্রিক ক্ষুদ্রকণাকে ন্যানো পার্টিকেল বলে।


• পদার্থের স্বাভাবিক অবস্থায় বস্তুর স্থূলতা বা পরিমাণ ভৌত ধর্মকে প্রভাবিত করে না; কিন্তু ন্যানো পার্টিকেলের আকার ছোট বা বড় হলে এদের ভৌত ধর্মসমূহে বিশেষত অপটিকেল (optical), চুম্বকীয় (magnetic), বৈদ্যুতিক (electrical), যান্ত্রিক (mechanical) ইত্যাদি ধর্মে বিশেষ পরিবর্তন দেখা যায়। এর মূলে রয়েছে ন্যানো কণার তলের ক্ষেত্রফল (surface area) পদার্থের স্বাভাবিক স্থল অবস্থা থেকে অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়। যেমন,

(a) সাধারণ অবস্থায় সোনার বর্ণ হলো সোনালী হলুদ এবং সিলিকন হলো ধূসর বর্ণের। কিন্তু ন্যানো আকারে সোনার ও সিলিকনের বর্ণ হলো লাল।

(b) সাধারণ অবস্থায় স্বর্ণের গলনাঙ্ক হলো 1064°C; কিন্তু 2.5 nm আকারের স্বর্ণের গলনাঙ্ক হয় প্রায় 300°C.
(c) ফটোভোল্টিক সেলে (Photovoltic cell) সৌর রশ্মির শোষণের পরিমাণ ঐ সেলের ভেতরের পদার্থের আকারের ওপর নির্ভর করে। এতে সাধারণ অবস্থার পদার্থ যে পরিমাণ সৌর রশ্মি শোষণ করে, ন্যানো কণা যত ছোট হয়। ততো বেশি পরিমাণে সৌর রশ্মি শোষণ করতে পারে।

(d) আবার ZnO স্বাভাবিক অবস্থায় UV রশ্মি যে পরিমাণ প্রতিহত করে এর চেয়ে ন্যানো কণা অবস্থায় ZnO অনেক বেশি UV রশ্মি প্রতিহত করে। এজন্য ZnO ন্যানো কণা অবস্থায় 'Sun-screen lotion' তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

(e) সাধারণত অদ্রবণীয় কঠিন বস্তুর গুঁড়া তরল পদার্থে মিশ্রিত করলে ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে ঐ কঠিন বস্তুর গুঁড়া তরলে ভাসবে অথবা তলায় পড়ে জমা হবে। কিন্তু ন্যানো স্কেলের সূক্ষ্ম গুঁড়া বিস্তারণ বল, আয়ন ডাইপোল সম্পর্ক মতে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে সাসপেনশন অবস্থায় থাকে।

(f) ন্যানো কণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভৌতধর্ম হলো চুম্বকীয় ধর্ম ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা ধর্ম। যেমন ফেরো-ইলেকট্রিক কঠিন পদার্থ 10 nm এর ছোট আকারে থাকলে কক্ষ তাপমাত্রার তাপীয় শক্তি ব্যবহার করে সুপার প্যারা ম্যাগনেটিজম ধর্ম প্রকাশ করে। তখন এসব ন্যানো পার্টিকেল মেমোরি স্টোরেজ (memory storage)-এর অযোগ্য হয়ে পড়ে। তাই সব সময় এরূপ ধর্ম ন্যানো পার্টিকেলে সুবিধাজনক বা কাম্য নয়। অনেক ন্যানো কণা বিশেষত গ্রাফিন ও কার্বন ন্যানো টিউব সাধারণ গ্রাফাইটের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ সুপরিবাহী হয়।


সূত্র: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
২,৫৪০.
নিচের কোনটির নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন?
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোবার
  3. আইসোমার
  4. আইসোটোন
সঠিক উত্তর:
আইসোটোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোটোপ
ব্যাখ্যা
• আইসোটোন: 
- যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়। 

• আইসোটোপ: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 

• আইসোবার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে। 

• আইসোমার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

তথ্যসূত্র - রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৪১.
নিচের কোনটি তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী?
  1. ক) গ্রাফাইট
  2. খ) নিকেল
  3. গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) কপার
সঠিক উত্তর:
গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রন মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হয় সেসব পরিবাহীকে ইলেকট্রনীয় পরিবাহী বলে। যেমনঃ লোহা, কপার, নিকেল, গ্রাফাইট ইত্যাদি ইলেকট্রনীয় পরিবাহী। কপার সালফেট, সালফিউরিক এসিড, পানি, সোডিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী অর্থাৎ এরা গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
[সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
২,৫৪২.
লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির অসুবিধা কোনটি?
  1. চার্জ ধরে রাখার হার বেশি
  2. মেমোরী প্রভাব নেই 
  3. ব্যাটারি হালকা
  4. আভ্যন্তরীণ রোধ বেশি
সঠিক উত্তর:
আভ্যন্তরীণ রোধ বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আভ্যন্তরীণ রোধ বেশি
ব্যাখ্যা

লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি: 
- বিজ্ঞানী উইটিংহাম (Whittinghum) সর্বপ্রথম 1970 সালে লিথিয়াম ব্যাটারির প্রস্তাব করেন। 
- এটি একটি সেকেন্ডারী সেল। 

লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির গঠন: 
- লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির তিনটি মূল কার্যকরী উপাদান হচ্ছে ঋণাত্মক ইলেকট্রোড, ধনাত্মক ইলেকট্রোড এবং ইলেকট্রোলাইট। 
- ধনাত্মক তড়িৎদ্বার সাধারণত কার্বন হতে তৈরী করা হয়। ধনাত্মক তড়িৎদ্বার ধাতব অক্সাইডের তৈরী এবং ইলেকট্রোলাইট হচ্ছে জৈব দ্রাবকে দ্রবীভূত লিথিয়াম লবণ। 
- বানিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত ঋণাত্মক ইলেকট্রোড হয় গ্রাফইট এবং ধনাত্মক ইলেকট্রোড হিসাবে নিম্নলিখিত তিনটি পদার্থের যে কোন একটি ব্যবহৃত হয়-
(i) লিথিয়াম কোবাল্ট অক্সাইড স্তর (Li-CoO2), (ii) লিথিয়াম আয়রন ফসফেট এবং (iii) লিথিয়াম ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড (Li-Mn2O4)।

- লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির সুবিধা ও অসুবিধা দেওয়া হলো- 
সুবিধা: 
১। বিভিন্ন আকার আকৃতির পাওয়া যায় যা বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে সাইজেই ফিট হয়। 
২। অন্যান্য ব্যাটারি হতে হালকা। 
৩। অন্যান্য জলীয় ব্যাটারি হতে এদের বিভব পার্থক্য অধিক (উন্মুক্ত সার্কিটে)। 
৪। কোনো মেমোরী প্রভাব নেই। 
৫। অব্যবহৃত অবস্থায় চার্জ হারানোর হার কম (5-10%) অন্যান্য কার্যকারী ক্ষেত্রে হার 30% । 
৬। ব্যাটারির উপাদান পরিবেশগতভাবে বন্ধুভাবাপন্য। 

অসুবিধা: 
১। চার্জের ফলে ইলেক্ট্রোলাইটের মধ্যে জমাট বাধে যা আয়নের পরিবহনে বাধা দেয়। 
২। উচ্চ মাত্রায় চার্জ করা এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ব্যাটারির ধারকতা হারায়। 
৩। ২৫° C তাপমাত্রায় পূর্ণ চার্জের ফলে উভমূখীতা হারায়। 
৪। আভ্যন্তরীণ রোধ বেশি। 
৫। উচ্চ ক্ষমতার যন্ত্রের ক্ষেত্রে একটি বড় ব্যাটারি ব্যবহার অসুবিধা বরং একাধিক ছোট ব্যাটারি ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। 
৬। উচ্চ তাপমাত্রায় এ ব্যাটারি ব্যবহার বিপদজনক। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র (তড়িৎ রসায়ন), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৪৩.
বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কোন এসিড ব্যবহৃত হয়? 
  1. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
  2. কার্বোলিক এসিড 
  3. নাইট্রিক এসিড 
  4. সালফিউরিক এসিড 
সঠিক উত্তর:
কার্বোলিক এসিড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বোলিক এসিড 
ব্যাখ্যা

এসিডের ব্যবহার: 
- দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য। 
যেমন- 
- সোনার গহনা তৈরির সময় নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
– আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কার্বোলিক এসিড (যাকে ফিনলও বলা হয়) ব্যবহৃত হয়। 
- আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে যে এসিড অত্যাবশ্যকীয় তা হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
- সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
- এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
- ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২,৫৪৪.
একটি ইলেকট্রনের চার্জের পরিমাণ হলো-
  1. 1.60×10-19C
  2. 1.73×10-19C
  3. 9.11×10-28C
  4. 6.02×10-23C
সঠিক উত্তর:
1.60×10-19C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1.60×10-19C
ব্যাখ্যা
• ইলেকট্রন (Electron):
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন।
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হল ইলেকট্রন।
- এর ভর অতি সামান্য।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা।
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।
- ইলেকট্রনের সংকেত e-.
- ইলেকট্রনের আসল ভর- 9.11×10-28 g ।
- ইলেকট্রনের প্রকৃত আধান 1.60×10-19 Coulomb।
- আপেক্ষিক আধান -1.

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৪৫.
নিচের কোনটি উদ্বায়ী পদার্থ?
  1. নিশাদল
  2. সোডিয়াম
  3. পটাশিয়াম
  4. পারদ
সঠিক উত্তর:
নিশাদল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিশাদল
ব্যাখ্যা
উর্ধ্বপাতন (Sublimation) :
- পদার্থের সাধারণ পরিবর্তনের ধারাক্রম হলো তাপের প্রভাবে কঠিন থেকে তরল, তরল থেকে বাষ্পীয় অবস্থায় রূপান্তর।
- কিন্তু এমন কিছু পদার্থ আছে যাদেরকে তাপ দিয়ে কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্প এবং বাষ্পকে শীতল করলে সরাসরি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়।
- এক্ষেত্রে কঠিন থেকে বাষ্প এবং বাষ্প থেকে কঠিন অবস্থায় পরিবর্তিত হওয়ার সময় পদার্থ তার মধ্যবর্তী তরল অবস্থা প্রাপ্ত হয় না।
- এরা উদ্বায়ী পদার্থ। 
- কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি বাষ্পে পরিণত করে এবং ঐ বাষ্পকে শীতল করে সরাসরি কঠিন অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলা হয়।
- আয়োডিন, কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথালিন, কার্বন, কার্বন ডাই অক্সাইড প্রভৃতি উদ্বায়ী পদার্থ এবং এরা উর্ধ্বপাতিত হয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৪৬.
কোন ধাতু পানিতে ফেললে আগুন ধরে যায়?
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. ইউরেনিয়াম
  3. সোডিয়াম
  4. রেডিয়াম
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
ব্যাখ্যা

• সোডিয়াম ধাতুকে পানিতে ফেললে আগুন ধরে যায়। 

• সোডিয়াম: 
- সোডিয়াম একটি সক্রিয় ধাতু। 
- সোডিয়াম পানির সঙ্গে দ্রুত বিক্রিয়া করে তাপ উৎপন্ন করে এবং হাইড্রোজেন গ্যাস নির্গত করে। 
- এই বিক্রিয়াটি এতটাই দ্রুত হয় যে নির্গত হাইড্রোজেন গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এসে জ্বলে ওঠে। 
- সোডিয়াম স্বাভাবিকভাবে বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, বাতাসের জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিতে এটি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। 
- সাধারণ বাতাসে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এর একটি আস্তরণ তৈরি হয়, যা বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে সোডিয়াম বাইকার্বোনেটে (NaHCO3) পরিণত হয়। 
- সোডিয়ামকে সাধারণত কেরোসিন বা ন্যাপথার মতো inert তরলে ডুবিয়ে রাখা হয়, কারণ এটি নাইট্রোজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না। 
- তরল অবস্থায় সোডিয়াম কঠিন অবস্থার চেয়ে বেশি সক্রিয় এবং প্রায় ১২৫ °C (২৫৭ °F) তাপমাত্রায় এটি জ্বলে উঠতে পারে। 

অন্যদিকে, 
- ম্যাগনেসিয়াম সাধারণত +2 জারণ অবস্থায় থাকে। এটি জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ডিএনএ, আরএনএ এবং এটিপি-এর সঙ্গে জড়িত। 
- ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় রাসায়নিক উপাদান, যা পারমাণবিক জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- রেডিয়াম অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং এর যৌগগুলি অন্ধকারে হালকা নীল রঙের আলো ছড়ায়। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 

২,৫৪৭.
ক্যালসিয়ামের আকরিক নিচের কোনটি?
  1. বোরাক্স
  2. ক্রায়োলাইট
  3. লিমোনাইট
  4. জিপসাম
সঠিক উত্তর:
জিপসাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিপসাম
ব্যাখ্যা

• জিপসামের রাসায়নিক সংকেত হলো CaSO4.2H2O (ক্যালসিয়াম সালফেট ডাইহাইড্রেট)। এটি ক্যালসিয়ামের একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আকরিক, যা সিমেন্ট এবং প্লাস্টার অব প্যারিস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• সোডিয়ামের আকরিক: 
- রকসল্ট, 
- চিলি সল্টপিটার, 
- ন্যাট্রোন, 
- বোরাক্স ইত্যাদি। 

• ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

• আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৫৪৮.
নিচের কোন শিলা গ্রাফাইটে রূপান্তরিত হয়? 
  1. কয়লা
  2. গ্রানাইট
  3. বেলেপাথর
  4. চুনাপাথর
সঠিক উত্তর:
কয়লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়লা
ব্যাখ্যা

শিলা: 
- ভূত্বক যেসব উপাদান দ্বারা গঠিত তাদের সাধারণ নাম শিলা। 
- ভূতত্ত্ববিদগণের মতে দুই বা ততোধিক খনিজ দ্রব্যের সংমিশ্রণে এসব শিলার সৃষ্টি হয়। 
- ভূত্বক গঠনকারী সকল কঠিন ও কোমল পদার্থই শিলা। 
উদাহরণস্বরূপ নুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালি প্রভৃতি। 
- গঠনপ্রণালি অনুসারে শিলাকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- (১) আগ্নেয় শিলা, (২) পাললিক শিলা ও (৩) রূপান্তরিত শিলা। 

রূপান্তরিত শিলা: 
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচন্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে। 
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে। 
যেমন- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস এবং কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়। 
- রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই শিলা স্ফটিকযুক্ত, খুব কঠিন হয়; এতে জীবাশ্ম দেখা যায় না; কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৫৪৯.
'টেস্টিং সল্ট' এর রাসায়নিক নাম কী?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. আর্দ্র সোডিয়াম সালফেট
  3. সোডিয়াম থায়োসালফেট
  4. মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট
সঠিক উত্তর:
মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- লবণ হলো একটি আয়নিক যৌগ যা অম্ল ও ক্ষারকের মধ্যে সংঘটিত প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন হয়।
যেমন- 
- আর্দ্র সোডিয়াম সালফেট হলো গ্লুবার লবণ।
- সোডিয়াম থায়োসালফেটকে বলা হয় হাইপো।
- মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট কে বলা হয় টেস্টিং সল্ট।
- খাবার লবণ বা টেবিল সল্ট হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড।

উল্লেখ্য, প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
• ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), 
• সিলভার সালফেট (Ag2SO4), 
• সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৫৫০.
গ্রাফিন (graphene) কার বহুরূপী?
  1. ক) কার্বন
  2. খ) কার্বন ও অক্সিজেন
  3. গ) কার্বন ও হাইড্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন ও নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বন
ব্যাখ্যা

গ্রাফিন কার্বনের একটি বিশেষ রূপ। সহজভাবে বললে, এটা কার্বনের একটি ষড়ভুজাকৃতির স্ফটিক স্তর বা স্তর বিন্যাস যেখানে প্রতিটি স্তরের পুরুত্ব এক পরমাণুর সমান।

এটি আবিষ্কারের জন্য আন্দ্রেঁ গেইম এবং কনস্টানটিন নভোসেলভ ২০১০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

Britannica থেকেঃ
Graphene, a two-dimensional form of crystalline carbon, either a single layer of carbon atoms forming a honeycomb (hexagonal) lattice or several coupled layers of this honeycomb structure. The word graphene, when used without specifying the form (e.g., bilayer graphene, multilayer graphene), usually refers to single-layer graphene. Graphene is a parent form of all graphitic structures of carbon: graphite, which is a three-dimensional crystal consisting of relatively weakly coupled graphene layers; nanotubes, which may be represented as scrolls of graphene; and buckyballs, spherical molecules made from graphene with some hexagonal rings replaced by pentagonal rings.

প্রকৃতিতে একই মৌলের বিভিন্ন ভৌত রূপে অবস্থান করার প্রবণতাকে বহুরূপতা বলে।
কার্বন, ফসফরাস, সিলিকন, সালফার, জার্মেনিয়াম, বোরন, টিন ইত্যাদি মৌল বহুরূপতা প্রদর্শন করে।
কার্বনের দানাদার রূপভেদ হলো- গ্রাফাইট ও হীরক।
অদানাদার রূপভেদ হলো- কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৫৫১.
তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে কোন তড়িৎদ্বারের মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ থেকে বের হয়?
  1. অ্যানোড
  2. ক্যাথোড
  3. অ্যানোড ও ক্যাথোড দুইটিতেই
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অ্যানোড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানোড
ব্যাখ্যা

- তড়িৎ বিশ্লেষণ (electrolysis) প্রক্রিয়ায় অ্যানোড একটি ধনাত্মক তড়িৎদ্বার (positive electrode), যেখানে ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়নগুলো এসে ইলেকট্রন ত্যাগ করে জারিত হয়। এই ত্যাগের মাধ্যমে ইলেকট্রনগুলো দ্রবণ থেকে বেরিয়ে বাহ্যিক সার্কিটে প্রবেশ করে।অন্যদিকে, ক্যাথোড একটি ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার (negative electrode), যেখানে ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়নগুলো এসে ইলেকট্রন গ্রহণ করে বিজারিত হয়। বাহ্যিক সার্কিট থেকে ইলেকট্রন ক্যাথোডে প্রবেশ করে। 

তড়িৎদ্বার: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণে দুটি ধাতব পরিবাহী বা গ্রাফাইট দন্ড ব্যবহৃত হয়, যা তড়িৎদ্বার হিসেবে কাজ করে। একটির মাধ্যমে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে, অন্যটির মাধ্যমে বের হয়ে যায়। 
- তড়িৎদ্বার ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে এবং কোষের বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের জন্য দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যেমন-
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বলে। 
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৫২.
ডিডিটি বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) কীটনাশক
  2. খ) সার
  3. গ) বিস্ফোরক পদার্থ
  4. ঘ) পানি বিশোধক
সঠিক উত্তর:
ক) কীটনাশক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কীটনাশক
ব্যাখ্যা

- ডিডিটি হলো একটি কীটনাশক।
- ডিডিটি'র পূর্ণ নাম ডাইক্লোরোডাইফিনালট্রাইক্লোরোমিথেন (Dichlorodiphenyltrichloroethane – DDT)
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ১৯৪০ সালে DDT আবিষ্কৃত হলে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থ কীটনাশক হিসেবে অজৈব ও উদ্ভিদজাত পদার্থ থেকে গুণগত মানের দিক থেকে উন্নত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া

২,৫৫৩.
পরমশূন্য তাপমাত্রা হল-
  1. ক) 0°C
  2. খ) 0K
  3. গ) 273K
  4. ঘ) 212°F
সঠিক উত্তর:
খ) 0K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 0K
ব্যাখ্যা
স্থির চাপে গাণিতিকিভাবে যে তাপমাত্রায় যেকোনো গ্যাসের আয়তন শূন্য হয়, সেই তাপমাত্রাকে (-273°C বা 0K) পরম শূন্য তাপমাত্রা বলা হয়। সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
২,৫৫৪.
ঝিনুক বা শামুকের খোলস কি দিয়ে গঠিত?
  1. ক) ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. খ) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. গ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম সালফেট
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা

ঝিনুক বা শামুকের খোলসে প্রায় ৯৮% ক্যালসিয়াম কার্বনেট থাকে। তাপ দিয়ে ঝিনুক বা শামুকের খোলস থেকে চুন তৈরি করা হয়।
তাপে ঝিনুক বা শামুকের খোলসে থাকা ক্যালসিয়াম কার্বনেট ভেঙ্গে গিয়ে ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা চুন এবং কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয়।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৫৫৫.
গরম চায়ের কাপে নিচের কোন প্রক্রিয়াটি ঘটে? 
  1. পাতন
  2. ঘনীভবন
  3. বাষ্পীভবন
  4. ঊর্ধ্বপাতন
সঠিক উত্তর:
বাষ্পীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাষ্পীভবন
ব্যাখ্যা
বাষ্পীভবন: 
- কোনো তরলকে তাপ প্রদান করে ঐ তরল পদার্থকে বাষ্পে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে। 
যেমন: চায়ের কাপে গরম চা রাখলে ঐ গরম চা থেকে পানি বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় বাষ্পাকারে উড়ে যায়। 

ঘনীভবন: 
- আবার উক্ত বাষ্পকে শীতল করলে তা তরলে পরিণত হয় যাকে ঘনীভবন বলে। 
যেমন: জলীয় বাষ্প তাপশক্তি নির্গত করে ঠান্ডা হয়ে পানিতে পরিণত হয়। 

পাতন: 
- কোনো তরলকে তাপ প্রদানে বাষ্পে পরিণত করে তাকে পুনরায় শীতলীকরণের মাধ্যমে তরলে পরিণত করার পদ্ধতিকে পাতন বলে। 
অর্থাৎ, পাতন = বাষ্পীভবন + ঘনীভবন। 

ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন: নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৫৬.
কোন দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে দ্রবণের ঘনমাত্রা বেড়ে যায়? 
  1. সম্পৃক্ত দ্রবণে
  2. অসম্পৃক্ত দ্রবণে
  3. অতিপৃক্ত দ্রবণে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অসম্পৃক্ত দ্রবণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসম্পৃক্ত দ্রবণে
ব্যাখ্যা
দ্রবণ (Solution): 
- কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় যেকোনো ভৌত অবস্থায় একাধিক উপাদানের সম্পূর্ণ সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যাতে উপাদানগুলোর পরিমাণের অনুপাত একটি সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে তাকে দ্রবণ বলা হয়। 
- দ্রবণের প্রতিটি অংশের গঠন, ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদান কম পরিমাণে থাকে অর্থাৎ যা দ্রবীভূত হয়, তাকে দ্রব বলা হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদানের পরিমাণ বেশি এবং যার মধ্যে দ্রব যোগ করা হয় তাকে দ্রাবক বলা হয়। 

দ্রবণের শ্রেণিবিভাগ: 
- ঘনমাত্রা অনুযায়ী দ্রবণকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
i. সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক দ্রব দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ উৎপন্ন করে তাকে ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- এ অবস্থায় দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 

ii. অসম্পৃক্ত দ্রবণ (Unsaturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত হতে পারে তার চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব দ্রবণে উপস্থিত থাকলে তাকে অসম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- অসম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে দ্রবণের ঘনমাত্রা বেড়ে যায়। 

iii. অতিপৃক্ত দ্রবণ (Super-saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকতে পারে যদি কোনো বিশেষ কারণে দ্রবণে আরও অতিরিক্ত দ্রব দ্রবীভূত থাকে তবে ঐ দ্রবণকে অতিপৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- অতিপৃক্ত দ্রবণ অস্থায়ী প্রকৃতির হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৫৭.
কোনটি ভিনেগার? 
  1. 6-10% HCOOH
  2. 6-10% C6H5COOH
  3. 6-10% C2H5COOH
  4. 6-10% CH3-COOH
সঠিক উত্তর:
6-10% CH3-COOH
উত্তর
সঠিক উত্তর:
6-10% CH3-COOH
ব্যাখ্যা
ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়। 
- ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর 6-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
- এটি বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। 
- এটি বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে একে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমিয়ে দেয়। 
- তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
- তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
১. মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
২. যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
৩. ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
৪. পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
৫. দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৫৮.
জমির লবণাক্ততা নিয়িন্ত্রণ করে কোনটি?
  1. ক) কৃত্রিম সার প্রয়োগ
  2. খ) পানি সেচ
  3. গ) মাটিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখা
  4. ঘ) প্রাকৃতিক গ্যাস প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
খ) পানি সেচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পানি সেচ
ব্যাখ্যা
জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে পানি সেচ খুব কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
Source: fao.org
২,৫৫৯.
গ্যালেনা কোন ধাতুর আকরিক? 
  1. লেড 
  2. লোহা 
  3. অ্যালুমিনিয়াম 
  4. তামা 
সঠিক উত্তর:
লেড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেড 
ব্যাখ্যা

খনিজ (Minerals): 
- মাটির উপরিভাগে বা মাটির তলদেশে যেসকল পদার্থ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রবাদি যেমন-বিভিন্ন প্রকার ধাতু বা অধাতু ইত্যাদি সংগ্রহ করা হয় তাদেরকে খনিজ বলা হয়। 
- যে অঞ্চল থেকে খনিজ উত্তোলন করা হয় তাকে খনি বলে। 

আকরিক (Ores): 
- যে সকল খনিজ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতুকে সংগ্রহ বা নিষ্কাশন করা য়ায সে সকল খনিজকে আকরিক বলে। 
যেমন- গ্যালেনা (PbS) থেকে লাভজনকভাবে লেড ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাই গ্যালেনাকে লেড ধাতুর আকরিক বা লেড ধাতুর খনিজ বলা হয়। 
- বক্সাইট থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। অতএব বক্সাইটকে অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক বা খনিজ বলা হয়। আবার, কাদামাটি থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু নিষ্কাশন করা যায় না, সেজন্য কাদামাটি শুধু অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ কিন্তু আকরিক নয়। 
- অতএব, আকরিক হলে সেটা অবশ্যই খনিজ হবে কিন্তু খনিজ হলে সেটা আকরিক নাও হতে পারে। 
- আয়রনের সালফাইডকে আয়রন পাইরাইটস (FeS2) বলা হয়। আয়রন পাইরাইটস থেকে আয়রন ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৫৬০.
নিষ্ক্রিয় গ্যাস কয়টি?
  1. ১০
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপটন (Kr), জেনন (Xe),রেডন (Rn) ও  ওগানেসন (Og) এ সাতটি মৌল পর্যায় সারণিতে 18তম গ্রুপের মৌল।
- সাধারণত এরা যৌগ গঠন করে না বলে এরা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা নোবেল গ্যাস হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। 
- এ মৌলগুলো প্রকৃতিতে খুবই কম পরিমাণে পাওয়া যায়।
- মৌলগুলোর নিষ্ক্রিয়তার কারণ পরে আবিষ্কৃত হয়।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস আবিষ্কারের জন্য লর্ড রেলি (Lord Rayleigh) ও স্যার উইলিয়াম রামসে (Sir William Ramsay) কে ১৯০৪ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৬১.
ক্ষার ধাতু বলতে কোন মৌলগুলোকে বোঝানো হয়?
  1. Fe, Cu, Zn, Pb
  2. Cu, Ag ও Au
  3. Be, Mg, Ca, Sr
  4. Li, Na, K, Rb
সঠিক উত্তর:
Li, Na, K, Rb
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Li, Na, K, Rb
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রুপা (Ag) ও সোনা (Au)। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৬২.
খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে কোন রাসায়নিক পদার্থটির ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) সালফার
  3. গ) সোডিয়াম ট্রাইঅক্সাইড
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম এপারনেট
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যালসিয়াম এপারনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যালসিয়াম এপারনেট
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম এপারনেট দ্রব্যটি খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে।

- খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া যাতে খাদ্য পচন রোধ করা ছাড়াও অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়।
- এতে খাদ্যের গুণাগুণ, গ্রহণযোগ্যতা, সহজলভ্যতা ও খাদ্যমান অটুট থাকে।
- এ সকল খাদ্য সংরক্ষণে সাধারণতঃ পঁচন সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক সংক্রমণ এবং খাদ্যের চর্বি জাতীয় অংশের জারণ রোধ হয়।
- খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে সাধারণতঃ সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), সোডিয়াম ক্লোরাইড বা খাবার লবণ (NaCl), ক্যালসিয়াম এপারনেট, সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2), সোডিয়াম বাই সালফেট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন- BHA ও BHT খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে অনুমোদিতভাবে ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: ৬৭ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৬৩.
'এটম' অর্থ হচ্ছে -
  1. ক) অবিভাজ্য
  2. খ) বিভাজ্য
  3. গ) দ্বিবিভাজ্য
  4. ঘ) ত্রিবিভাজ্য
সঠিক উত্তর:
ক) অবিভাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অবিভাজ্য
ব্যাখ্যা
খ্রীষ্টপূর্ব ৫০০ সনে গ্রীক দার্শনিক ডেমেক্রিটাস সর্ব প্রথম অভিমত প্রকাশ করেন যে প্রতিটি বস্তুই অতি ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন কণিকার সাহায্যে গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্র কণিকার নাম দিয়েছিলেন ‘এটম'।
গ্রীক শব্দ ‘এটম’ অর্থ হচ্ছে অবিভাজ্য।
২,৫৬৪.
পেট্রোলিয়ামের সঙ্গে ইথানল মিশিয়ে যে জ্বালানী তৈরি হয় তাকে বলে- 
  1. বায়ো গ্যাস
  2. রেকটিফাইড স্পিরিট
  3. মেথিলেটেড স্পিরিট
  4. পাওয়ার অ্যালকোহল
সঠিক উত্তর:
পাওয়ার অ্যালকোহল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাওয়ার অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৬৫.
প্রোটিন মূলত কোন মনোমারের পলিমার? 
  1. গ্লুকোজ
  2. অ্যামাইনো এসিড
  3. ফ্যাটি অ্যাসিড
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইনো এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইনো এসিড
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- পলিমার শব্দটি গ্রিক শব্দ (পলি অর্থ 'বহু বা অনেক' এবং মেরোস অর্থ 'অংশ') থেকে উৎপত্তি হয়েছে। 
অর্থাৎ, পলিমার বলতে একই ধরনের অনেকগুলো ছোট ছোট অংশ যুক্ত হয়ে যে উচ্চ আণবিক ভবিশিষ্ট বৃহদাকার অণু তৈরি হয় তাকে বুঝায়। 
- যে ক্ষুদ্র অণু যুক্ত হয়ে পলিমার তৈরি হয় তাকে মনোমার বলা হয়। 
-পলিমার সাধারণত দুই প্রকার।
যথা: 
১। প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে প্রাকৃতিক পলিমার বলে। 
যেমন: প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, তুলা, রেশম, পশম, সিল্ক, উল ও পাট ইত্যাদি। 
- প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন বিভিন্ন শস্য দানা বিশেষ করে চাল, গম, ভুট্টা, যব ও গোল আলু এসব স্টার্চ গ্লুকোজের প্রাকৃতিক পলিমার। 
- মাছ, মাংস ও ডিম এসব প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডের পলিমার। 

২। কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে বা শিল্প-কারখানায় কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে কৃত্রিম পলিমার বলে। 
যেমন: পলিইথিলিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), পলিস্ট্যারিন, টেফলন, টেরিলিন ও নাইলন ইত্যাদি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৬৬.
শুষ্ক কোষে ক্যাথোড হিসেবে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. লৌহ দণ্ড
  2. দস্তার কৌটা
  3. কার্বন দণ্ড
  4. তামার দণ্ড
সঠিক উত্তর:
কার্বন দণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন দণ্ড
ব্যাখ্যা
• শুষ্ক কোষে ক্যাথোড হিসেবে কার্বনের দণ্ড ব্যবহার করা হয়।

• ড্রাই সেল:
- ড্রাই সেল বা শুষ্ক কোষ হলো এক ধরনের গ্যালভানিক কোষ। 

• ড্রাই সেলের মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। 
- সাধারণত টর্চলাইট জ্বালাতে, রেডিও বাজাতে, টিভির রিমোট চালাতে, খেলনা চালাতে ড্রাই সেল ব্যবহার করা হয়।
 
• ড্রাই সেলের গঠন:
- ড্রাই সেল অ্যানোড এবং ক্যাথোড দ্বারা গঠিত।
- ড্রাই সেলে অ্যানোড হিসেবে সাধারণত ধাতব জিংকের তৈরি ছোট কৌটা ব্যবহার করা হয়।
- ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2) অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড NH4Cl জিংক ক্লোরাইড (ZnCl2) ও পাতিত পানি মিশ্রিত করে প্রস্তুতকৃত কাই (paste) দ্বারা জিংকের তৈরি ছোট কৌটা পূর্ণ করা হয়।
- এরপর জিংকের কৌটাটির মাঝখানে একটি কার্বন (গ্রাফাইট) দণ্ড প্রবেশ করানো হয়।
- ড্রাই সেলে কার্বন দণ্ড ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে।
- ড্রাই সেলের অ্যানোড ও ক্যাথোড প্রান্তকে যদি বাল্ব বা কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্রের দুই প্রান্তে যুক্ত করা হয় তখন ইলেকট্রনের প্রবাহ সৃষ্টি হয় অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
• ড্রাই সেলে অ্যানোড হিসেবে জিঙ্ক এবং ক্যাথোড হিসেবে কার্বন দণ্ড ব্যবহৃত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২,৫৬৭.
মুক্তার প্রধান রাসায়নিক উপাদান কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেট
  3. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  4. সোডিয়াম কার্বনেট
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম কার্বনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
- ঝিনুকের খোলসের ভিতরে কোনো শক্ত বস্তু প্রবেশ করলে ঐ স্থানে প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং
- ঐ বস্তুকে জড়িয়ে ঝিনুকের শরীর থেকে এক ধরনের পদার্থ নির্গত হয়।
- যা পরে মুক্তায় রূপ নেয়।
- তাই বলা যায় মুক্তা হলো ঝিনুকের প্রদাহের ফল।
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট হল একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত হচ্ছে CaC03
- এটা প্রধানত তিনটি উপাদান কার্বন, অক্সিজেন এবং ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত।
- পাথর বা শিলার মধ্যে এটা একটা সাধারণ উপাদান এবং মুক্তা, সামুদ্রিক প্রাণীর খােলস,শামুক,ডিমের খােসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান।

উৎসঃ
১. প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,৫৬৮.
পানি বরফে পরিণত হলে-
  1. ঘনত্ব বেড়ে যাবে
  2. ঘনত্ব কমে যাবে
  3. আয়তন কমে যাবে
  4. ভর কমে যাবে
সঠিক উত্তর:
ঘনত্ব কমে যাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘনত্ব কমে যাবে
ব্যাখ্যা
• বরফ:
- একই পরিমাণ পানি যখন বরফে পরিণত হয় তখন বরফের আয়তন বেড়ে যায়।
- সমপরিমাণ ওজনের বরফ পানির চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে বলেই বরফ পানিতে ভাসে।
- বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি।
- কারণ, বরফে পানির অণুগুলো একটি ক্রিস্টাল গঠন তৈরি করে, যেখানে তারা একে অপরের থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করে ফলে ঘনত্ব কমে যায়।

- বরফ পানিতে পরিণত হলে আয়তন কমে যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৫৬৯.
অক্সি - এসিটিলিন শিখার প্রমাণ তাপমাত্রা কত?
  1. ১৮০০ - ২০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  2. ২০০০ - ২৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  3. ২৫০০ - ৩০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  4. ৩০০০ - ৩৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৩০০০ - ৩৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০০০ - ৩৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• অক্সি অ্যাসিটিলিন শিখা:
- অক্সিজেন ও অ্যাসিটিলিন নামক গ্যাসের মিশ্রণকে অক্সি অ্যাসিটিলিন বলা হয়। 
- এই মিশ্রণকে প্রজ্জ্বলিত করলে, যে অগ্নিশিখার সৃষ্টি হয় তাকেই অক্সি অ্যাসিটিলিন শিখা বলে। 
- এই শিখার তাপমাত্রা ৩০০০-৩৫০০° ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হয়ে থাকে। 
• ব্যবহার:
- ঝালাই: স্টিল এবং লোহা সহ বিভিন্ন ধাতুর ঝালাইয়ের জন্য।
- কাটিং: ধাতু কেটে আলাদা করার জন্য।
- গরম করা: ধাতুর আকৃতি বদলানোর আগে গরম করার জন্য।

উৎস: britannica.com
২,৫৭০.
সক্রিয়তা সিরিজে কোন ধাতুটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয়?
  1. লিথিয়াম
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. ক্রোমিয়াম
সঠিক উত্তর:
লিথিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিথিয়াম
ব্যাখ্যা
- সক্রিয়তা সিরিজে 'লিথিয়াম' ধাতুটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। 

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 

- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। 
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। 
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে। 


- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক। 
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
- অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৭১.
নিম্নের কোনটি বিজারক পদার্থের উদাহরণ?
  1. ক) ফ্লোরিন
  2. খ) ক্লোরিন
  3. গ) সালফিউরিক এসিড
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
জারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। যেমন: O2, Cl2, F2, HNO3, H2SO4 প্রভৃতি জারক পদার্থ। 

- বিজারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়।
- পর্যায় তালিকার গ্রুপ এ অবস্থিত মৌলসমূহ যেমন: H, Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। এছাড়াও Mg, Ca, SO2, H2S প্রভৃতি বিজারক পদার্থ।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৭২.
পরমাণুর কেন্দ্রে কোনটি অবস্থান করে?
  1. ইলেকট্রন
  2. শুধুমাত্র প্রোটন
  3. প্রোটন এবং নিউট্রন
  4. ইলেকট্রন এবং প্রোটন
সঠিক উত্তর:
প্রোটন এবং নিউট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন এবং নিউট্রন
ব্যাখ্যা

- পরমাণুর কেন্দ্রকে বলা হয় নিউক্লিয়াস, এই নিউক্লিয়াস পরমাণুর একটি ক্ষুদ্র ও ঘনত্বপূর্ণ অঞ্চল যেখানে ধনাত্মক আধানযুক্ত প্রোটন এবং আধানহীন (নিরপেক্ষ) নিউট্রন অবস্থান করে। পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভর এই নিউক্লিয়াসেই পুঞ্জীভূত থাকে। 

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান থাকে। 
- কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকতে পারে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৭৩.
রাবার নিম্নের কোনটিতে অদ্রবণীয়?
  1. ক) ইথার
  2. খ) মিথানল
  3. গ) টারপিন
  4. ঘ) পেট্রোল
সঠিক উত্তর:
খ) মিথানল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মিথানল
ব্যাখ্যা
রাবার:
- বর্তমান দুনিয়ায় রাবার একটি অতি প্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য দ্রব্য। পেন্সিলের লেখা মোছার ইরেজার থেকে শুরু করে সাইকেল, রিক্সা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন এসবই রাবার।
- এছাড়াও রাসায়নিক, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক শিল্পে, পানির পাইপ, সার্জিকেল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল ইত্যাদি প্রস্তুতিতে বিপুল পরিমাণ রাবার ব্যবহৃত হয়। 
- প্রাকৃতিক রাবার একটি অদানাদার, পানিতে অদ্রবণীয় কঠিন কিন্তু প্লাস্টিকের চেয়ে নরম পদার্থ। 
- রাবার জৈব দ্রাবক এসিটোন, মিথানল ইত্যাদিতে অদ্রবণীয় হলেও ইথার, টারপিন, পেট্রোল ইত্যাদিতে দ্রবণীয়
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি তাপ সংবেদনশীল ও স্থিতিস্থাপক পদার্থ। বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ ও তাপ কুপরিবাহী। তবে বিশেষভাবে তৈরি রাবার বিদ্যুৎ পরিবহণ করতে পারে।
- অন্যান্য পদার্থে তাপ দিলে আয়তন বাড়ে কিন্তু রাবারে তাপ দিলে আয়তন কমে। 
- রাবার পানি, এসিড, দুর্বল ক্ষার ইত্যাদির সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। তাই প্রলেপ দেয়ার কাজে রাবারকে ব্যবহার করা হয়। 
- রাবার এসিড, ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া না করলেও বাতাসের অক্সিজেন দ্বারা আক্রান্ত হয়। অনুরূপভাবে প্রাকৃতিক রাবার ওজোনের (O₃) সাথে বিক্রিয়া করে, ফলে রাবার ক্ষয়প্রাপ্ত হয় ও একসময় নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৫৭৪.
গ্যালভানাইজিং করতে কোনো ধাতুর উপর কিসের প্রলেপ দেয়া হয়? 
  1. কপার
  2. নিকেল
  3. জিংক
  4. সিলভার
সঠিক উত্তর:
জিংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিংক
ব্যাখ্যা
গ্যালভানাইজিং: 
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে। 
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। 
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
-  সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৭৫.
নিচের কোনটি হ্যালোজেন মৌল নয়?
  1. ক) ক্লোরিন
  2. খ) ব্রোমিন
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) রেডন
সঠিক উত্তর:
ঘ) রেডন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রেডন
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন মৌল: 
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি।
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে। 
- এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6 টি মৌল হচ্ছে: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- হ্যালোজেন মানে লবন উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়।
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে। যেমন: Cl₂, I₂ ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৭৬.
নিচের কোনটির সাহায্যে পানি বিশুদ্ধ করা যায়?
  1. ক) ইপসম লবণ
  2. খ) সাদা ভিট্রিওল
  3. গ) পটাশিয়াম ক্লোরাইড
  4. ঘ) পটাশ এলাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) পটাশ এলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পটাশ এলাম
ব্যাখ্যা

পটাশ এলাম বা ফিটকিরি পানিকে জীবাণুমুক্ত করতে সাহায্য করে। ফিটকিরি হলো আর্দ্র এলুমিনিয়াম পটাশিয়াম সালফেট [K2SO4.Al2(SO4)3.24H20]।
পটাশ এলাম ছাড়াও ব্লিচিং পাউডার, ক্লোরিন ট্যাবলেট প্রভৃতিও পানি বিশুদ্ধকরণে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,৫৭৭.
কোন তাপমাত্রায় বরফ গলে পানি হয়?
  1. ০° সেলসিয়াস
  2. ১০° সেলসিয়াস
  3. ৪° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
০° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

- বিশুদ্ধ বরফ স্বাভাবিক চাপে ০° সেলসিয়াস (0°C) তাপমাত্রায় গলতে শুরু করে এবং পানিতে পরিণত হয়, এই তাপমাত্রাকে পানির গলনাঙ্ক বলা হয়। একইভাবে, পানি যখন শীতল হয়ে ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পৌঁছায়, তখন তা জমে বরফে পরিণত হতে শুরু করে। 

পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.সি. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 

গলনাঙ্ক: 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাঙ্ক। 
- বরফের গলনাঙ্ক ০° সেলসিয়াস। 

স্ফুটনাংক: 
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৫৭৮.
চাপের একক কোনটি?
  1. ক) N
  2. খ) Kg
  3. গ) Pa
  4. ঘ) m/s
সঠিক উত্তর:
গ) Pa
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Pa
ব্যাখ্যা
কোনো পৃষ্ঠের একক ক্ষেত্রফলের উপর লম্বভাবে প্রযুক্ত মোট বলের মানকে চাপ বলে।
চাপের একক নিউটন/বর্গমিটার (Nm −2), একে প্যাসকেল (pa) ও বলা হয়।
২,৫৭৯.
সামান্য অক্সিজেনের উপস্থিতিতে সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় কোন তাপমাত্রায় ও চাপে ইথিনকে উত্তপ্ত করে পলিথিন তৈরি করা হয়?
  1. 100 atm চাপে ও 100°C তাপমাত্রায়
  2. 100 atm চাপে ও 200°C তাপমাত্রায়
  3. 1000 atm চাপে ও 100°C তাপমাত্রায়
  4. 1000 atm চাপে ও 200°C তাপমাত্রায়
সঠিক উত্তর:
1000 atm চাপে ও 200°C তাপমাত্রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1000 atm চাপে ও 200°C তাপমাত্রায়
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- যে বিক্রিয়ায় কোনো পদার্থের অনেকগুলো ক্ষুদ্র অণু পরস্পর যুক্ত হয়ে বৃহৎ অণু গঠন করে সেই বিক্রিয়াকে পলিমারকরণ বিক্রিয়া (Polymerization Reaction) বলে।
- পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় যে ছোট অণুগুলো অংশগ্রহণ করে তাদের প্রত্যেকটিকে এক একটি মনোমার (monomer) বলে এবং বিক্রিয়ার ফলে যে বৃহৎ অণু গঠিত হয় তাকে পলিমার অণু বলে।
- দুইটি মনোমার একসাথে যুক্ত হলে তাকে বলে ডাইমার (dimer), তিনটি মনোমার একসাথে যুক্ত হয়ে তৈরি হয় ট্রাইমার (trimer)।
- এভাবে অনেকগুলো মনোমার এক সাথে যুক্ত হয়ে পলিমারের সৃষ্টি হয়।
- খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান প্রোটিন, এই প্রোটিনও অ্যামাইনো এসিডের একটি পলিমার। 
- পলিমারকে বিভিন্নভাবে শ্রেণিবিভাগ করা যেতে পারে।
- তবে গঠন প্রকৃতি অনুযায়ী পলিমার দুই প্রকার।
যথা- সংযোজন বা যুত পলিমার এবং ঘনীভবন পলিমার। 

সংযোজন বা যুত পলিমার (Addition Polymer): 
- যে পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় মনোমার অণুগুলো সরাসরি একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শিকলবিশিষ্ট পলিমার গঠন করে তাকে সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়া বলা হয়।
- সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় গঠিত পলিমারকে সংযোজন পলিমার বলে।

সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়া: 
- সামান্য পরিমাণ অক্সিজেনের উপস্থিতিতে 1000 atm চাপে ও 200°C তাপমাত্রায় ইথিনকে উত্তপ্ত করলে পলিথিন উৎপন্ন হয়
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়া বলে।
- এই বিক্রিয়ায় ইথিনকে মনোমার বলা হয়।


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৮০.
সারিন কী?
  1. ক) এক ধরনের ফ্লু ভাইরাস
  2. খ) সিরিয় বিদ্রোহী গ্রুপ
  3. গ) এক প্রকার রাসায়নিক অস্ত্র
  4. ঘ) এক ধরনের ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
গ) এক প্রকার রাসায়নিক অস্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এক প্রকার রাসায়নিক অস্ত্র
ব্যাখ্যা
সারিন অত্যন্ত বিষাক্ত এক ধরনের বর্ণ ও গন্ধহীন তরল গ্যাসীয় পদার্থ যা রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এটি স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে অকার্যকর করে দেয়।
২,৫৮১.
কোনটি ধাতব খনিজ পদার্থ নয়?
  1. Fe
  2. Cu
  3. Au
  4. Quartz
সঠিক উত্তর:
Quartz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Quartz
ব্যাখ্যা
ধাতব-অধাতব খনিজ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যেমন- 
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
লোহা (Fe)
তামা  (Cu)
সোনা (Au)
• রূপা  (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica), 
• গ্রাফাইট, 
• জিপসাম, 
• কয়লা, 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৫৮২.
The average salinity of sea water is ______. 
  1. 1%
  2. 2.5%
  3. 3.5%
  4. 5%
  5. None
সঠিক উত্তর:
3.5%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
3.5%
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের পানি:
- সমুদ্রের পানিতে প্রায় ৩.৫% দ্রবীভূত লবণ থাকে, যা লবণাক্ততা হিসেবে পরিমাপ করা হয়।
- সমুদ্রের পানি মূলত সোডিয়াম ও ক্লোরিন লবণাক্ত।
- ফলে এই দুটো মৌল একত্রিত হয়ে তৈরি করে সোডিয়াম ক্লোরাইড, যাকে আমরা বলি লবণ।
- আর সমুদ্রের পানিতে সোডিয়াম ও ক্লোরিন আয়ন মিলে তৈরি হয় লবণ।
- এই দুটোর পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় সমুদ্রের পানিতেও লবণের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে।
- লবণের উপস্থিতির জন্যে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব অনেক বেশি।

তথ্যসূত্র -
১. নাসা। [লিঙ্ক]
২. National Oceanic and Atmospheric Administration. [Link]
৩. ব্রিটানিকা। [Link]
২,৫৮৩.
Which has a higher diffusion rate?
  1. ক) CO2
  2. খ) H2
  3. গ) N2
  4. ঘ) O2
সঠিক উত্তর:
খ) H2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) H2
ব্যাখ্যা
ব্যাপন:

- হাইড্রোজেনের (H2) ব্যাপন হার বেশি।
- কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
- যেমন: ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ।
- কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার কম ।
- H2, He, N2, O2 এবং CO2 গ্যাসগুলোর আণবিক ভর যথাক্রমে 2, 4, 28, 32 এবং 44।
- এই গ্যাসগুলোর মধ্যে H2 এর আণবিক ভর কম। তাই H2 এর ব্যাপন হার বেশি হবে এবং CO2 এর আণবিক ভর বেশি, কাজেই CO2 এর ব্যাপন হার কম হবে।

তথ্যসূত্র - রসায়ন বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৫৮৪.
অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার ফলে কী ঘটে? 
  1. কোষের পানি কমে না 
  2. দ্রাবক স্থির থাকে 
  3. দুই দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া চলে 
  4.  দ্রাবকের ঘনত্ব বাড়ে না 
সঠিক উত্তর:
দুই দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া চলে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া চলে 
ব্যাখ্যা

অভিস্রবণ: 
- যে প্রক্রিয়ায় একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লিয মধ্য দিয়ে হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি (দ্রাবক) অধিক ঘন দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে অভিস্রবণ বলে। 
- দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। 
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই কিসমিস ফুলে ওঠে। 
- অভিস্রবণ দুই ধরনের। 
যথা- 
(১) অন্তঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরোমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শোষণ করতে পারে। 
উদাহরণ- কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে। 

(২) বহিঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিংবা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঃঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫৮৫.
প্রাকৃতিক গ্যাসের কত শতাংশ ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ১৮.৭৫%
  2. খ) ২১.৭৫%
  3. গ) ২৫.৫০%
  4. ঘ) ৩৩.২৫%
সঠিক উত্তর:
খ) ২১.৭৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২১.৭৫%
ব্যাখ্যা
-ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হিসাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের ২১.৭৫% ব্যবহৃত হয়।  
প্রাকৃতিক গ্যাস প্রধানত কম সংখ্যক কার্বন বিশিষ্ট হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ।  এর মূল উপাদান হচ্ছে মিথেন (৯০%)।
- প্রাকৃতিক  গ্যাস ব্যবহারের দুটি ক্ষেত্র হল :- (ক) জ্বালানি ও (খ) শিল্পের কাঁচামাল। 
- ক্ষেত্রভেদে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার নিন্মরুপ- 
ক) বিদ্যুৎ উৎপাদন =৪৬.৫১%
খ) ইউরিয়া সার উৎপাদন = ২১.৭৫%
গ) অন্যান্য শিল্প কারখানা = ১৮.৯৪%
ঘ) গৃহস্থলী কাজে = ১১.৬৫%
ঙ) পরিবহন খাতে = ১.১৫% 

উৎস- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম- বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি
২,৫৮৬.
ধাতুর কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক? 
  1. ধাতু তাপ সুপরিবাহী কিন্তু বিদ্যুৎ অপরিবাহী
  2. ধাতুর গলনাঙ্ক কম ও স্ফুটনাঙ্ক বেশি
  3. ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি
  4. ধাতু আঘাতে টুন টুন শব্দ তৈরি করে না
সঠিক উত্তর:
ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি
ব্যাখ্যা
ধাতু-অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৮৭.
নিচের কোনটি লুইস এসিড নয়? 
  1. H2O
  2. BF3
  3. SO2
  4. CO2
সঠিক উত্তর:
H2O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
H2O
ব্যাখ্যা
এসিড-ক্ষারকের লুইস তত্ত্ব: 
- 1923 খ্রিস্টাব্দে ব্রনস্টেড-লাউরি প্রোটন দান- গ্রহণভিত্তিক এসিড ও ক্ষারকের সংজ্ঞা প্রদান করেন। 
- একই বছর আমেরিকান রসায়নবিদ জি. এন. লুইস ইলেকট্রন জোড় দান- গ্রহণভিত্তিক সর্বশেষ এসিড-ক্ষারকের সংজ্ঞা প্রদান করেন। 
- লুইস এসিড হলো এমন যৌগ বা আয়ন যা একটি ইলেকট্রন-জোড় গ্রহণ করে। 
- ক্ষারক হলো এমন যৌগ বা আয়ন যা একটি ইলেকট্রন-জোড় দান করে। 
- লুইসের ক্ষারকের সংজ্ঞা ও ব্রনস্টেড-লাউরির ক্ষারকের সংজ্ঞা একই; প্রতিক্ষেত্রে ক্ষারকের একটি ইলেকট্রন- জোড় থাকে, যা বন্ধন গঠনে দান করে। 
- তাই লুইসের সংজ্ঞায় ক্ষারকের সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটেনি; কিন্তু এসিডের সংখ্যার অনেক বৃদ্ধি ঘটেছে। 
যেমন- CO2, SO2, SO3, BF3, AICI3, Cu2+ আয়ন ইত্যাদিতে H-পরমাণু না থাকা সত্ত্বেও এরা লুইস এসিড; কারণ বিক্রিয়ায় এরা ইলেকট্রন জোড় গ্রহণ করে। 
- সব ব্রনস্টেড-লাউরি এসিড হলো লুইস এসিড; কিন্তু সব লুইস এসিড ব্রনস্টেড-লাউরি এসিড নয়। 
- H+ আয়নসহ সব ক্যাটায়ন ও প্রশম অণু যাদের খালি যোজ্যতা স্তরে ক্ষারক প্রদত্ত ইলেকট্রন জোড় শেয়ার করে বন্ধন গঠনে সক্ষম, তাদের সবই লুইস এসিড।  সুতরাং লুইস তত্ত্বে এসিডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। 
- লুইস ক্ষারক হলো NH3, H2O, OH-, CN-, CI- ইত্যাদি, এরা বিক্রিয়াকালে ইলেকট্রন যুগল যোগান দেয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারো ও নাগ)।
২,৫৮৮.
নিচের কোনটি আয়নিক বন্ধনের বৈশিষ্ট্য?
  1. ইলেকট্রন ভাগাভাগি করা হয়
  2. ধাতু ও অধাতু মধ্যে ইলেকট্রন হস্তান্তর হয়
  3. শুধুই ধাতু দ্বারা গঠিত যৌগ হয়
  4. বন্ধন গঠন ব্যবহৃত হয় শুধু শক্তিশালী ধাতুতে
সঠিক উত্তর:
ধাতু ও অধাতু মধ্যে ইলেকট্রন হস্তান্তর হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাতু ও অধাতু মধ্যে ইলেকট্রন হস্তান্তর হয়
ব্যাখ্যা

- আয়নিক বন্ধন হলো ধাতু ও অধাতুর মধ্যে তৈরি একটি রাসায়নিক বন্ধন।
- এই ধরনের রাসায়নিক বন্ধনে একটি ধাতু ইলেকট্রন হারায় এবং একটি অধাতু ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
- এর ফলে ধাতু ধনাত্মক আয়ন এবং অ-ধাতু ঋণাত্মক আয়ন তৈরি করে।
- এই বিপরীত আয়নের মধ্যে ইলেকট্রস্ট্যাটিক আকর্ষণ দ্বারা যৌগ স্থিতিশীল হয়।
 
এছাড়াও অন্যান্য রাসায়নিক বন্ধন ও তাদের বৈশিষ্ট:
- সমযোজী: ইলেকট্রন ভাগাভাগি করা হয়।
- ধাতব: ধাতুগুলোর মধ্যে তৈরি হয়।
- হাইড্রোজেন: হাইড্রোজেন পরমাণুর বন্ধন। 
 
তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন, Britannica 

২,৫৮৯.
জারণ-বিজারণ একটি -
  1. প্রশমন বিক্রিয়া
  2. যুগপৎ বিক্রিয়া
  3. নিরপেক্ষকরণ বিক্রিয়া
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যুগপৎ বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগপৎ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
-  জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

• জারণ অর্ধবিক্রিয়া Na0 → Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
• বিজারণ অর্ধবিক্রিয়াCl0 + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

এই দুই অর্ধবিক্রিয়াকে যোগ করলে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া পাওয়া যায়।
• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: Na0 + Cl0 → Na+ + Cl- → NaCl

এভাবে মনে রাখতে হবে,
- জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
- জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
- বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
- বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎস- নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই

২,৫৯০.
কলা পাকানোর জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) ক্যালসিয়াম কার্বাইট
  2. খ) ইথিলিন
  3. গ) ফরমালিন
  4. ঘ) কালটার
সঠিক উত্তর:
ক) ক্যালসিয়াম কার্বাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্যালসিয়াম কার্বাইট
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম কার্বাইট  কলা পাকানোর জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

ক্যালসিয়াম কার্বাইট : ফল বিশেষত কলা পাকানোর জন্য এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। এটি একটি যৌগ যা জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে অ্যাসিটিলিন নামক গ্যাস উৎপন্ন হয়- যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। 

ফরমালিন : ফরমালিন খাদ্য সংরক্ষণের রাসায়নিক যৌগ নয়। ফরমালিন একটি বিষাক্ত এবং ক্যান্সার উৎপাদক রাসায়নিক পদার্থ। দুধ, ফল, মাছ, মাংসকে পচন থেকে রক্ষা করার জন্য অতি লোভী অসাধু ব্যবসায়ীরা না বুঝে ব্যবহার করে থাকেন। এর দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে লিভার ও কিডনি নষ্ট হওয়া, ক্যান্সার, বদহজম, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, পেটের পীড়াসহ নানরকম জটিলতা দেখা দিতে পারে। মেয়েদের গর্ভপাত এমনকি সন্তান বিকলাঙ্গ পর্যন্তহতে পারে । যার পরিণতিতে যন্ত্রণাদায়ক অকাল মৃত্যু হতে পারে। ফরমালিন ব্যবহার খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও অসততা ও অসচেতনতার কারণে ফরমালিনের ব্যবহার একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ইথিলিন (Ethylene) : ফল নিজেই ইথিলিন তৈরি করে এবং পাকতে সাহায্য করে। ফল সৃষ্ট ইথিলিনকে ফলের হরমোন বলা হয়। কিন্তু একসঙ্গে ফল পাকাতে সারা বিশ্বে ইথিলিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। তখন ইথিলিনকে Ripeing agent বলা হয়। আমাদের দেশে অপরিপক্ক ফল পাকাতে ইথিলিন গ্যাস তৈরি করে ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করে। তাতে ফল সুমিষ্ট হয়। অতি অপরিপক্ক ফলে ইথিলিন ব্যবহার করা উচিত নয়। আম, কলা, পেঁপে, টমেটো ইত্যাদি পাকানোর জন্য ব্যবহার করলে অন্তত ৭-৮ দিন পর তা বাজারজাত করা উচিত। 

কালটার (Culter) : এটি একটি হরমোন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ। গাছে থাকা অবস্থায় এটি আমে প্রয়োগ করা হয়। এতে ফল দ্রুত পরিপক্ক হয় অথচ না পেকেই দীর্ঘদিন গাছে থাকে। ফলে, ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে বিক্রি করার সুযোগ পায়। কালটার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

সূত্র: ২৭ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৯১.
অটোমোবাইল ব্যাটারিতে যে এসিড ব্যবহার করা হয়, তা হলো -
  1. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  2. হাইড্রোফ্লোরিক এসিড
  3. সালফিউরিক এসিড
  4. নাইট্রিক এসিড
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
- সৌর প্যানেলে তৈরি সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ব্যবহার করা হয়।
- বাসাবাড়িতে আইপিএস (IPS) চালানোর জন্য এবং গাড়িতে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তার অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄)।
- ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলো অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস।
- সার হিসেবে আমরা যেগুলো ব্যবহার করি তার মধ্যে অন্যতম হলো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম সালফেট [(NH4)2SO4] ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট [(NH4)3PO4]।
- সার কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড (HNO3), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এবং ফসফরিক এসিড (H3PO4) ব্যবহার করে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
২,৫৯২.
আনারসের সুগন্ধি তৈরিতে কোন এস্টার ব্যবহৃত হয়? 
  1. অকটাইল অ্যাসিটেট
  2. অ্যামাইল বিউটাইরেট
  3. আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট
  4. মিথাইল বিউটাইরেট
সঠিক উত্তর:
মিথাইল বিউটাইরেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথাইল বিউটাইরেট
ব্যাখ্যা
এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে।
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R. 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি।
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে।
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়।
- তেল, চর্বি, আঠা, সেলুলোজ, রঙ, ভার্ণিশ ইত্যাদির দ্রাবক হিসেবে এস্টার ব্যবহৃত হয়।
- বিউটাইল অ্যাসিটেট 'পেনিসিলিন' -এর দ্রাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

- কৃত্রিম মনোরম স্বাদ ও সুগন্ধি তৈরিতে।
যেমন:
এস্টার ⇒ সুগন্ধির প্রকৃতি
• আইসোবিউটাইল ফরমেট ⇒ রাসবেরী, 
• আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট ⇒ কলা, 
• অকটাইল অ্যাসিটেট ⇒ কমলা, 
মিথাইল বিউটাইরেট ⇒ আনারস
• অ্যামাইল বিউটাইরেট ⇒ অ্যাপ্রিকট এবং 
• আইসোঅ্যামাইল ভ্যালেরেট ⇒ আপেল। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৯৩.
কোনটি তরল-গ্যাস দ্রবণ?
  1. ক) কোমল পানীয়
  2. খ) খাবার স্যালাইন
  3. গ) ভিনেগার
  4. ঘ) লেবুর শরবত
সঠিক উত্তর:
ক) কোমল পানীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কোমল পানীয়
ব্যাখ্যা

তরল-গ্যাস দ্রবণ:
- যে সমস্ত দ্রবণে তরল দ্রাবকে গ্যাসীয় পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে তাকে তরল-গ্যাস দ্রবণ বলে। 
- দ্রবণে দ্রাবক হলো তরল পদার্থ আর দ্রব হলো গ্যাসীয় পদার্থ। যেমন: (কোমল পানীয়- কোকা কোলা, সেভেন আপ)। 
- এ সমস্ত কোমল পানীয়ের বোতল খোলার সাথে সাথে হিস্ শব্দ করে বুদবুদ আকারে যে গ্যাসীয় পদার্থ বের হয় তা হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড যা পানীয়ের মধ্যে দ্রবীভূত অবস্থায় ছিল। 
- অর্থাৎ কোমল পানীয়গুলো হলো তরল-গ্যাস দ্রবণ। 
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীসমূহ (যেমন: মাছ) তাদের নিঃশ্বাসের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরাসরি বাতাস থেকে নিতে পারে না।
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীসমূহ অক্সিজেন নেয় পানিতে থাকা দ্রবীভূত অক্সিজেন থেকে। তাই নদ-নদী, খাল বিল বা প্রাকৃতিক জলাশয়ের পানি কিন্তু এক ধরনের তরল-গ্যাস দ্রবণ। 
- আবার বহুল সমালোচিত ফরমালিনও (যা আইনবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ফল ও মাছের সংরক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে) পানিতে ফরমালডিহাইড নামক গ্যাসের দ্রবণ।

অপরদিকে,
- লেবুর শরবত ও ভিনেগার হলো তরল-তরল দ্রবণ।
- খাবার স্যালাইন হলো - তরল-কঠিন দ্রবণ।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

২,৫৯৪.
হাসপাতালে ব্যবহৃত অক্সিজেনে অক্সিজেনের পরিমাণ কত?
  1. শতকরা ৯৫ ভাগ
  2. শতকরা ৯৩ ভাগ
  3. শতকরা ৮৮ ভাগ
  4. শতকরা ৯০ ভাগ
সঠিক উত্তর:
শতকরা ৯৩ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শতকরা ৯৩ ভাগ
ব্যাখ্যা
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র মতে, হাসপাতালে ব্যবহৃত অক্সিজেনে অক্সিজেনের পরিমাণ শতকরা ৯৩% বিশুদ্ধ। 
- এটি যে কোনও দূষণ থেকে মুক্ত এবং তেল-মুক্ত কম্প্রেসার দ্বারা উৎপন্ন হওয়া উচিত। 
- অক্সিজেন একটি ড্রাগ এবং একটি লক্ষ্য স্যাচুরেশন পরিসীমার সঙ্গে এটি নির্ধারিত করা উচিত।

উৎস: WHO ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]।
২,৫৯৫.
কোন অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি? 
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. গ্যাসীয়
  4. প্লাজমা
সঠিক উত্তর:
কঠিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন
ব্যাখ্যা
পদার্থের অবস্থা (States of Matter): 
- যার ভর আছে, স্থান দখল করে, স্থিতিশীল ও গতিশীল অবস্থার পরিবর্তনে বাঁধা সৃষ্টি করে, তাকে পদার্থ বলা হয়।
- সাধারণভাবে ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য অবস্থার উপর ভিত্তি করে পদার্থকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। কঠিন অবস্থা (Solid state): 
- পদার্থের এ অবস্থায় নির্দিষ্ট ভরের পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতির, নির্দিষ্ট আয়তন ও আকৃতি থাকে। এ অবস্থায় পদার্থের নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক গঠন বিন্যাসে থাকে। 
- এ অবস্থায় উপাদান কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই প্রবল থাকে এবং উপাদান কণার গতিশক্তি খুবই নগণ্য। গতিশক্তি কম হওয়ায় সুনির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জিত থাকে। এ কারণে নির্দিষ্ট আকৃতির ও উচ্চ ঘনত্ববিশিষ্ট হয়। 
- এ অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি গতিশক্তির তুলনায় অনেক বেশি থাকে। 

২। তরল অবস্থা (Liquid state): 
- এ অবস্থায় পদার্থের ভর ও আয়তন নির্দিষ্ট থাকে কিন্তু আকার নির্দিষ্ট থাকে না। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় ভর ও আয়তনের কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে সে পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- এ অবস্থায় অণুগুলোর মধ্যকার আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল কঠিন অবস্থার তুলনায় কম বলে অণুগুলো দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে না। অণুগুলোর গতিশক্তি কঠিন অবস্থার তুলনায় যথেষ্ট বেশি বলে অতি সহজে চলাচল করতে পারে। এ কারণে তরল অবস্থায় পদার্থের প্রবাহ গুণ থাকে এবং আকৃতি সহজে পরিবর্তনশীল হয়। 
- এ অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল ও গতিশক্তি প্রায় সমান হয়। 

৩। গ্যাসীয় অবস্থা (Gasious state): 
- এ অবস্থায় পদার্থ ওর ভর নির্দিষ্ট রাখে কিন্তু কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট আকার বা আকৃতি বজায় রাখতে পারে না। এ অবস্থায় যতো কম পরিমাণের পদার্থ হোক না কেন তা পাত্রকে পূর্ণ করে অবস্থান করবে। এর মূল কারণ এ অবস্থায় উপাদান অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল কার্যকর হয় না বললেই চলে। 
- অণুগুলোর গতিশক্তিও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং বিক্ষিপ্তভাবে স্বাধীন স্বত্ত্বায় এদিক ওদিক চলাচল করতে থাকে। 
- গ্যাসীয় অবস্থায় একদিকে ঘনত্ব যেমন মারাত্মকভাবে কমে যায় অন্যদিকে সংকোচনশীলতা মারাত্মক ভাবে বেড়ে যায়। এজন্য আকার ও আয়তন স্থির থাকে না। 
- এ অবস্থায় উপাদান কণাগুলোর গতিশক্তি আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের তুলনায় অনেক বেশি হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৯৬.
প্রশমন বিক্রিয়ার ফলে কোন পদার্থ উৎপন্ন হয়?
  1. লবণ ও পানি
  2. পানি ও অক্সিজেন
  3. গ্যাস ও লবণ
  4. পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
লবণ ও পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লবণ ও পানি
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া (Nutralisation Reaction): 
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। 
- বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। 
- এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। 
• H+(aq) + OH-(aq) → H2O (l) 
- এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) ও ক্ষার, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) কে কোনো কাঁচের জারের মধ্যে এক সাথে মিশালে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ ও পানি (H2O) উৎপন্ন হয়। 
• HCl (aq) + NaOH (aq)→ H+(aq) + Cl- (aq) + Na+ (aq) + OH- (aq)→ NaCl(aq) + H2O (l) 
- এক্ষেত্রে, হাইড্রোক্লোরিক এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি (H2O) উৎপন্ন করে। এটিই মূলত প্রশমন বিক্রিয়া। 

- এসিড মাত্রই জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) তথা হাইড্রোনিয়াম আয়ন (H3O+) দান করবে, এটি এসিডের প্রধান বৈশিষ্ট্য। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করবে। 
- এসিড দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হয় এবং ক্ষার দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয়। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যত বেশি, এসিড তত তীব্র হয় এবং দ্রবনের pH মান তত কম হয়। 
- ক্ষার দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়নের গাঢ়ত্ব যত বেশি, ক্ষার তত তীব্র হয় এবং দ্রবণের pH মান তত বেশি হয়। 
- জলীয় দ্রবণে এসিড-ক্ষার প্রশমন বিক্রিয়ার সময় যখন দ্রবণ পূর্ণ প্রশমিত হয় তখন দ্রবণের pH মান 7 এর কাছাকাছি হয়। 
- পূর্ণ প্রশমনের ক্ষেত্রে দ্রবণে কোনো অতিরিক্ত এসিড অথবা অতিরিক্ত ক্ষার এর কোনটিই থাকে না। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫৯৭.
প্লাজমা অবস্থায় কণাগুলির বৈশিষ্ট্য কী?
  1. কণাগুলি আয়নিত হয়
  2. কণাগুলি নির্জীব থাকে
  3. কণাগুলি গতি হারায়
  4. কণাগুলি কঠিন হয়
সঠিক উত্তর:
কণাগুলি আয়নিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণাগুলি আয়নিত হয়
ব্যাখ্যা
• প্লাজমা হল একটি বৈদ্যুতিক পরিবাহী মাধ্যম যেখানে প্রায় সমান সংখ্যক ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা থাকে , যা গ্যাসের পরমাণুগুলি আয়নিত হয়ে গেলে উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ এটি একটি আয়নিত অবস্থা। 
- এটিকে কখনও কখনও পদার্থের চতুর্থ অবস্থা হিসাবে উল্লেখ করা হয়, যা কঠিন , তরল এবং বায়বীয় অবস্থা থেকে পৃথক ।
- এটি এমন একটি বিশেষ অবস্থা, যা খুব উচ্চ তাপমাত্রায় বা উচ্চ  শক্তির সাহায্যে  উৎপন্ন হয়। এই আয়নিত গ্যাসীয় অবস্থার  কারনে এরা  বিশেষ অবস্থায়  বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে। 

⇒ প্লাজমার কণাগুলি পদার্থের মধ্যে সর্বোচ্চ গতিশক্তি প্রাপ্ত হয়  এবং তারা একে অপরের সাথে সংঘর্ষ করতে থাকে, ফলে এটি একটি বিদ্যুৎ পরিবাহী হিসেবে কাজ করে। এটি সূর্যের কেন্দ্র এবং আয়নোস্ফিয়ারে পাওয়া যায়, এবং এটি প্লাজমা টিভি, প্লাজমা কাটিং, এবং আণবিক গবেষণার মতো প্রযুক্তিতে ব্যবহার হয়।

অন্যদিকে,
কণাগুলি নির্জীব:  প্লাজমা অবস্থায় কণাগুলির গতি থাকে, সুতরাং এটি  সঠিক নয়। এটি গতিশীল এবং শক্তিসম্পন্ন। 

কণাগুলি গতি হারায়:  প্লাজমা কণাগুলি সবসময় গতিশীল থাকে, তাই তারা গতি হারায় না। বরং উচ্চ গতিতে চলে। 

কণাগুলি কঠিন হয়:   প্লাজমা গ্যাসের একটি অবস্থা, এবং এটি কঠিন অবস্থায় পরিণত হয় না। এটি তরল বা কঠিন নয়, বরং একটি আয়নিত গ্যাস।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
- ব্রিটানিকা
২,৫৯৮.
পিতলকে প্রধানত কোন ধাতুর সংকর ধাতু বলা হয়? 
  1. জিঙ্কের সংকর ধাতু 
  2. লোহার সংকর ধাতু 
  3. কপারের সংকর ধাতু 
  4. টিনের সংকর ধাতু 
সঠিক উত্তর:
কপারের সংকর ধাতু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপারের সংকর ধাতু 
ব্যাখ্যা

সংকর ধাতু: 
- দুই বা ততোধিক ধাতু একে অপরের সঙ্গে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্বযুক্ত কঠিন ধাতব পদার্থ গঠন করে, তাকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
উদাহরণস্বরূপ-
- কাঁসা (ব্রোঞ্জ): কাঁসার ক্ষেত্রে প্রধান ধাতু কপার (৯০%) এবং টিন (১০%)। 
- পিতল: পিতলের মধ্যে কপার ৬৫% এবং জিংক ৩৫% থাকায় এটি কপারের সংকর ধাতু। 
- স্টিল: প্রধান ধাতু লোহা (৯৯%) এবং অপ্রধান পদার্থ কার্বন (১%), তাই স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৫৯৯.
কোন লবণটি কাপড় কাচার সোডা নামে পরিচিত?
  1. সোডিয়াম কার্বোনেট 
  2. সোডিয়াম ক্লোরাইড 
  3. সোডিয়াম স্টিয়ারেট
  4. সোডিয়াম গ্লুটামেট
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম কার্বোনেট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম কার্বোনেট 
ব্যাখ্যা
লবণের ব্যবহার: 
- যে লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে তা হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), এই লবণ সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। 
- তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে এই খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য আরেকটি লবণ সোডিয়াম গ্লুটামেট ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে যে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় তাও একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে যে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় সেগুলোও লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য চুনাপাথর নামক একটি লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করে থাকি, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট (NH4)3PO4, পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

শিল্পকারখানায় লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬০০.
নরম পানীয়ের বোতলের ঢাকনা খোলার সাথে সাথে বুদবুদ আকারে গ্যাস বের হওয়ার প্রধান কারণ কী?
  1. চিনি ভেঙে CO2 উৎপন্ন হয়
  2. বোতলে দ্রবীভূত O2 অক্সিডেশন ঘটায়
  3. কার্বনিক অ্যাসিড সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়
  4. উচ্চ চাপে দ্রবীভূত CO2 চাপ কমলে বের হয়ে আসে
সঠিক উত্তর:
উচ্চ চাপে দ্রবীভূত CO2 চাপ কমলে বের হয়ে আসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চ চাপে দ্রবীভূত CO2 চাপ কমলে বের হয়ে আসে
ব্যাখ্যা

• উচ্চ চাপে দ্রবীভূত CO2 চাপ কমলে বের হয়ে আসে — কারণ কোমল পানীয়তে CO2 উচ্চ চাপে ও নিম্ন তাপমাত্রায় দ্রবীভূত থাকে, ঢাকনা খোলার সাথে সাথে চাপ কমে গিয়ে গ্যাস বুদবুদ আকারে বের হয়।

• কোমল পানীয়:
- আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেমন ঈদ, বিয়ে ইত্যাদিতে কোমল পানীয় পান করি।
- কোমল পানীয় পান করার সময় বোতলের ভিতর থেকে বুদবুদ আকারে একটি গ্যাস বের হতে দেখা যায়।
- এই গ্যাস হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)।
- CO2 গ্যাসকে উচ্চ চাপে ও ঠান্ডা অবস্থায় পানিতে দ্রবীভূত করা হয়।
- বোতলের ঢাকনা খোলার সাথে সাথে ভিতরের চাপ কমে যায়।
- চাপ কমে যাওয়ায় দ্রবীভূত CO2 বুদবুদ আকারে বের হয়ে আসে।

• কার্বনিক অ্যাসিড গঠন:
- CO2 পানিতে দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক অ্যাসিড (H2CO3) তৈরি করে।
- সমীকরণ:
- CO2(g) + H2O → H2CO3.
- কার্বনিক অ্যাসিড একটি মৃদু অ্যাসিড।
- এটি পানিতে অল্প পরিমাণে আয়নিত হয়।
- এটি আমাদের পরিপাকতন্ত্রের এনজাইমের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করে ও পরিপাকে সহায়তা করে।

• অন্যান্য অপশন:
- চিনি ভেঙে CO2 উৎপন্ন হয় → কোমল পানীয়তে CO2 পূর্বেই দ্রবীভূত করা থাকে, চিনি ভাঙার ফলে নয়।
- বোতলে দ্রবীভূত O2 অক্সিডেশন ঘটায় → কোমল পানীয়তে প্রধান দ্রবীভূত গ্যাস O2 নয়, CO.
- কার্বনিক অ্যাসিড সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় → H2CO3 একটি মৃদু অ্যাসিড, সম্পূর্ণ আয়নিত হয় না।

 উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।