বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ২৫ / ২৭ · ২,৪০১২,৫০০ / ২,৬৯২

২,৪০১.
নিচের কোন কাজে ক্লোরোফরম ব্যবহার করা হয়?
  1. চেতনানাশক হিসেবে
  2. পরীক্ষাগারে বিকারক হিসেবে
  3. রাবার নিষ্কাশনে জৈব দ্রাবক হিসেবে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ইথানল থেকে ক্লোরোফরম প্রস্তুতির মূলনীতি: 
- ইথানল, ব্লিচিং পাউডার ও পানির মিশ্রণকে পাতন করলে ক্লোরোফরম পাতিত তরল রূপে সংগৃহীত হয়। 
 -ব্লিচিং পাউডার ও পানি থেকে উৎপন্ন ক্লোরিন দ্বারা ইথানল প্রথমে জারিত হয়ে অ্যাসিটালডিহাইড বা ইথান্যাল উৎপন্ন করে এবং পরে ক্লোরিনেশন দ্বারা ক্লোরাল এবং শেষে ক্ষারীয় বিশ্লেষণের ফলে ক্লোরোফরম উৎপন্ন হয়। 
 

ক্লোরোফরম  ব্যবহার: 
১। চেতনানাশক হিসেবে ক্লোরোফরম ব্যবহার করা হয়। 
২। পরীক্ষাগারে বিকারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৩। ফাংগাসের বংশবৃদ্ধি রোধ, জৈবযৌগের সংশ্লেষণ এবং ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৪। চর্বি, তেল, মোম, রাবার নিষ্কাশনে জৈব দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪০২.
নিচের কোনটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকে না? 
  1. meson
  2. neutron
  3. proton
  4. electron
সঠিক উত্তর:
electron
উত্তর
সঠিক উত্তর:
electron
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন - 
১। ইলেকট্রন, 
২। প্রোটন ও 
৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- ইলেকট্রন (electron) নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪০৩.
ব্রোঞ্জ হলো -
  1. তামা ও লোহার সংকর
  2. টিন ও দস্তার সংকর
  3. তামা ও টিনের সংকর
  4. লোহা ও দস্তার সংকর
সঠিক উত্তর:
তামা ও টিনের সংকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামা ও টিনের সংকর
ব্যাখ্যা
- সংকর ধাতু ব্রোঞ্জের উপাদান হলাে তামা ও টিন। 
- ২৫-১০% টিন ও ৭৫-৯০% কপার এর সমন্বয়ে এই সংকর ধাতুটি তৈরি। 
- ব্রোঞ্জ ধাতু কাঁসা নামেও বহুল পরিচিত। 
- সংকর ধাতু হলো একাধিক ধাতু বা একটি ধাতুর সাথে বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪০৪.
অক্সালিক এসিডের গলনাংক কত?
  1. ক) 0°C
  2. খ) 100°C
  3. গ) 121°C
  4. ঘ) 101°C
সঠিক উত্তর:
ঘ) 101°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 101°C
ব্যাখ্যা
- কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে উহার তরল অবস্থায় পরিণত করাকে গলন বলে ।
- যে তাপমাত্রায় কোন পদার্থের কঠিন ও তরল উভয় ভৌত অবস্থা একত্রে সহ-অবস্থান করে তাকে ঐ পদার্থের গলনাংক বলে ।
- বেনজয়িক এসিডের গলনাংক 121°C
- অক্সালিক এসিডের গলনাংক 101°C
প্রত্যেক বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় (±10°C পার্থক্যে) হঠাৎ গলে যায়, কিন্তু অবিশুদ্ধ পদার্থ ধীরে ধীরে কয়েক ডিগ্রী তাপমাত্রা ধরে গলে । কাজেই কঠিন জৈব যৌগের সুনির্দিষ্ট গলনাংক উহার বিশুদ্ধতার নিশ্চিত পরীক্ষা বলে মনে করা হয়।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৪০৫.
কোনো পরমাণুর চতুর্থ কক্ষের ইলেকট্রন সংখ্যা-
  1. ৮টি
  2. ১৬টি
  3. ৩২টি
  4. ৬৪টি
সঠিক উত্তর:
৩২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩২টি
ব্যাখ্যা
- আমরা এখানে "চতুর্থ কক্ষ" বলতে বুঝি n = 4 শক্তিস্তর, অর্থাৎ প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা n = 4।

- একটি শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রনের সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় এই সূত্রে:
- সর্বোচ্চ ইলেকট্রন সংখ্যা=2n2  
- n = শক্তিস্তরের সংখ্যা (কক্ষ)।
- যখন n = 4, তখন:
- 2n2=2×42=2×16=32।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৪০৬.
পরীক্ষাগারে উৎপাদিত প্রথম জৈব যৌগ কোনটি?
  1. ক) অ্যালকোহল
  2. খ) ইথানল
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) পাইরিন
সঠিক উত্তর:
গ) ইউরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইউরিয়া
ব্যাখ্যা

- ১৮১৫ সালে বিজ্ঞানী বার্জেলিয়াস প্রস্তাব করেন যে, জৈব যৌগসমূহ কেবল সজীব উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহে এক রহস্যময় প্রাণশক্তির প্রভাবে উৎপন্ন হয়ে থাকে। তাই একে পরীক্ষাগারে উৎপন্ন করা সম্ভব নয়। একে প্রাণশক্তি মতবাদ বলা হয়। তখন সব বিজ্ঞানী এ মতবাদ গ্রহণ করেন।
- ১৮২৮ সালে বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক উহলার পরীক্ষাগারে অজৈব অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড লেড সায়ানেট দ্রবণের বিক্রিয়া ঘটিয়ে আকস্মিকভাবে পরীক্ষাগারে ইউরিয়া প্রস্তুত করেন।
- ইউরিয়া হলো প্রথম জৈব যৌগ যা পরীক্ষাগারে উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এজন্য বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক উহলারকে জৈব রসায়নের জনক বলা হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২,৪০৭.
সাবান তৈরির সময় কোন যৌগটি উপজাত হিসেবে উৎপন্ন হয়?
  1. ইথানল
  2. অ্যাসিটিক অ্যাসিড
  3. গ্লিসারিন
  4. সোডিয়াম ক্লোরাইড
সঠিক উত্তর:
গ্লিসারিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লিসারিন
ব্যাখ্যা

সাবান তৈরির উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।

• সাবান:
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK)।
- এর রাসায়নিক নাম হলো সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa)।
- সাবানের আয়নিক গ্রুপ হলো COO-Na+
- সাবান তৈরি করা হয় চর্বি এবং ক্ষার থেকে।
- সাবান তৈরির উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়

উৎস: রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

২,৪০৮.
কোন তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয়?
  1. 4° C
  2. 4° K
  3. 25° C
  4. 100° C
সঠিক উত্তর:
4° C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
4° C
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব (Density): 
- একই আয়তনের সকল পদার্থের ভর সমান নয়, তাই পদার্থের একক আয়তনের ভরকে তার ঘনত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
যেমন- দশ একক আয়তনের বস্তুর ভর বিশ একক হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব দুই একক। 
অর্থাৎ, বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে।
গাণিতিকভাবে বলা হয়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V  । 
এখানে, বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- যেহেতু ভরের একক কিলোগ্রাম (kg) এবং আয়তনের একক ঘনমিটার (m3), তাই ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার (সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)।
- ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার (সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা g/cm3) বহুল প্রচলিত, এটি S.I এককের উপগুণিতক। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। ঘনত্বের মাত্রা, [ρ] = ML-3  । 

- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়।
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়।
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়, তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1gm/cc ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪০৯.
শুষ্ক কোষে অ্যানোড হিসেবে কাজ করে কোনটি?
  1. ক) কার্বন দন্ড
  2. খ) ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড
  3. গ) দস্তার কৌটা
  4. ঘ) কার্বন পাউডার
সঠিক উত্তর:
গ) দস্তার কৌটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দস্তার কৌটা
ব্যাখ্যা

টর্চ লাইট, বিভিন্ন রকম রিমােট কন্ট্রোলার, নানা রকম খেলনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় সেগুলােকে ড্রাইসেল বা শুষ্ক কোষ বলে।
সাধারণ ড্রাইসেলে দস্তার চোঙ ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বা অ্যানােড হিসেবে কাজ করে আর ধাতব টুপি দিয়ে ঢাকা কার্বনদণ্ড ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বা ক্যাথােড হিসেবে কাজ করে।
সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি

২,৪১০.
বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির-
  1. তাপমাত্রা বেশি
  2. ঘনত্ব কম
  3. দ্রবণীয়তা বেশি
  4. ঘনত্ব বেশি
সঠিক উত্তর:
ঘনত্ব বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘনত্ব বেশি
ব্যাখ্যা
• বরফ:
- পানিকে বরফে পরিণত করলে আয়তন বাড়ে।
- বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি।
- এ কারণে পানির তুলনায় বরফের ঘনত্ব কম।
- একই পরিমাণ পানি যখন বরফে পরিণত হয় তখন বরফের আয়তন বেড়ে যায়।
- সমপরিমাণ ওজনের বরফ পানির চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে বলেই বরফ পানিতে ভাসে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৪১১.
ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. হিলিয়াম
  2. জেনন
  3. রেডন
  4. হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
জেনন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনন
ব্যাখ্যা

ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত জেনন (Xenon) গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
- জেনন গ্যাসের মধ্য দিয়ে উচ্চ বিভবশক্তির বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে এটি অত্যন্ত উজ্জ্বল সাদা আলো উৎপন্ন করে, যা প্রাকৃতিক দিনের আলোর খুব কাছাকাছি।
- এই বিশেষ গুণের কারণে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ গানে জেনন ভর্তি টিউব ব্যবহার করা হয়। 

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির শূন্য গ্রুপের মৌলসমূহ রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং কক্ষ তাপমাত্রায় গ্যাসীয়।
এইজন্য এদেকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস মোট ৭টি।
- এগুলো হলো- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন, রেডন ও ওগানেসন।
- এগুলোর মধ্যে প্রথম ৬টি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত।
- ওগানেসন (Og) পরীক্ষাগারে তৈরি এবং তেজস্ক্রিয়।
- ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত জেনন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪১২.
একই পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তরের কারন কী?
  1. তাপের প্রভাব
  2. পরমাণুর বিন্যাস
  3. রাসায়নিক পরিবর্তন
  4. অণুর বিন্যাস
সঠিক উত্তর:
তাপের প্রভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপের প্রভাব
ব্যাখ্যা
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে।
- আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তু যেমন, বই, খাতা, কলম, চেয়ার, টেবিল, পানি, বরফ, জলীয় বাষ্প, তেল, দুধ, কেরোসিন, তরল পানীয়, সোডা ওয়াটার ইত্যাদি সব পদার্থ।
- পদার্থ সাধারণত তিন অবস্থায় থাকতে পারে। যথা: কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
- কক্ষ তাপমাত্রায় বেশির ভাগ পদার্থই কঠিন হলেও তরল ও বায়বীয় অবস্থাতেও পদার্থ অবস্থান করে।
- তাপমাত্রার পরিবর্তন পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়।
- পদার্থের এ তিন অবস্থার মধ্যে আবার বেশ সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য ও ধর্ম বর্তমান। 
- সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে কঠিন পদার্থের আকার ও আয়তনের কোনো পরিবর্তন ঘটে না।
- তরলের ক্ষেত্রে আয়তন ঠিক থাকলেও আকারের পরিবর্তন ঘটে।
- পানিকে গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে এবং বোতলে রাখলে ঐ বোতলের আকার ধারণ করে।
- বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোন আকার ও আয়তন থাকে না।
- পদার্থের অবস্থার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বিশেষ ভূমিকা রাখে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪১৩.
ধাতব খনিজ পদার্থ কোনটি?
  1. ক) মাইকা
  2. খ) কোয়ার্টজ
  3. গ) তামা
  4. ঘ) জিপসাম
সঠিক উত্তর:
গ) তামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তামা
ব্যাখ্যা
ধাতব-অধাতব খনিজ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যেমন - 

১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
• লোহা (Fe), 
তামা  (Cu), 
• সোনা (Au), 
• রূপা  (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
কোয়ার্টজ (Quartz), 
মাইকা (Mica), 
• গ্রাফাইট, 
জিপসাম
• কয়লা, 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৪১৪.
কোন মৌলিক পদার্থটি প্রকৃতিতে অবস্থা পরিবর্তন না করে খাঁটি অবস্থায় পাওয়া যায়? 
  1. সালফার
  2. ক্লোরিন
  3. নাইট্রোজেন
  4. কপার
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- সকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 
- অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়; তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
• ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
• নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪১৫.
টয়লেট ক্লিনারের মূল উপাদান-
  1. সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট
  2. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. সোডিয়াম কার্বনেট ডেকা হাইড্রেট
  4. সোডিয়াম কার্বনেট
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
• টয়লেট ক্লিনার:
- টয়লেট ক্লিনারের মূল উপাদান সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH)।
- টয়লেট ক্লিনারে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর সাথে সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট (NaOCl) মিশ্রিত থাকে।
- বেসিন, কমোড ইত্যাদি পরিষ্কার করার জন্য টয়লেট ক্লিনার ব্যবহার করা হয়।
- টয়লেট, বেসিন, কমোড ইত্যাদিতে চর্বি জাতীয় পদার্থ, প্রোটিন জাতীয় পদার্থ, বিভিন্ন রং এর জৈব পদার্থ, অজৈব পদার্থ, রোগজীবাণু ইত্যাদি থাকে।
- যখন টয়লেট, বেসিন, কমোড ইত্যাদিতে টয়লেট ক্লিনার যোগ করা হয়, তখন সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড চর্বি জাতীয় পদার্থ, প্রোটিন জাতীয় পদার্থ ইত্যাদির সাথে বিক্রিয়া করে এবং সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট বিভিন্ন রং এর পদার্থ এবং রোগজীবাণুর সাথে বিক্রিয়া করে এদের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪১৬.
 'বরফ গলে পানি হওয়া' কোন ধরনের পরিবর্তন? 
  1. সাময়িক পরিবর্তন 
  2. ভৌত পরিবর্তন 
  3. রাসায়নিক পরিবর্তন
  4. নিউক্লিয়ার পরিবর্তন 
সঠিক উত্তর:
ভৌত পরিবর্তন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভৌত পরিবর্তন 
ব্যাখ্যা

ভৌত পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে কোন পদার্থের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক গঠনের কোন পরিবর্তন না ঘটে শুধু বাহ্যিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে। 
যেমন- 
• পানিকে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা, 
• লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া, 
বরফ গলে পানি হওয়া
• তাপ দ্বারা মোম গলানো ইত্যাদি। 

রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠনের পরিবর্তন হয় অর্থাৎ সম্পূর্ণ নতুন পদার্থে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। 
যেমন- 
• লোহায় মরিচা ধরা, 
• দুধ থেকে দই হওয়া, 
• গাছের পাতা হলুদ হওয়া, 
• ফল পেকে লাল বা হলুদ হওয়া ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪১৭.
CO2-এর আণবিক ভর কত?
  1. ক) 33
  2. খ) 44
  3. গ) 12
  4. ঘ) 22
সঠিক উত্তর:
খ) 44
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 44
ব্যাখ্যা
CO2-এর আণবিক ভর 12 + (16X2) = 44
২,৪১৮.
হাইপোক্লোরাস এসিড উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিচের বিক্রিয়ক পদার্থটি ব্যবহৃত হয় না?
  1. ক) ব্লিচিং পাউডার
  2. খ) CO2
  3. গ) NH3
  4. ঘ) পানি
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) NH3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) NH3
ব্যাখ্যা
ব্লিচিং পাউডার, CO2 ও পানির সাথে বিক্রিয়ায় হাইপোক্লোরাস এসিড উৎপন্ন করে। উৎপন্ন হাইপোক্লোরাস এসিড তাৎক্ষণিক বিয়োজিত হয়ে জায়মান অক্সিজেন উৎপন্ন করে। এই জায়মান অক্সিজেনের জারণ ক্রিয়ায় কাপড়ের দাগ দূর হয়। সূত্রঃ নবম - দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান (উন্মুক্ত) বই।
২,৪১৯.
নিচের কোন পারমাণবিক সংখ্যাটি নিষ্ক্রিয় গ্যাসের নয়?
  1. ৩৬
  2. ৫৪
  3. ৭৪
  4. ৮৬
সঠিক উত্তর:
৭৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৪
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস: 
- পর্যায় সারণির শূন্য (০) গ্রুপের অন্তর্গত হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপটন, জেনন এবং র‍্যাডন-এ ছয়টি মৌলকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা অভিজাত গ্যাস (noble gases) বলা হয়।
- এরা রাসায়নিকভাবে অতিশয় নিষ্ক্রিয়।
- অন্যান্য মৌলিক গ্যাসের (যেমন হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ক্লোরিন ইত্যাদি) ন্যায় এরা দ্বিপরমাণুক অণু গঠন করে না।
- সাধারণ অবস্থায় এ গ্যাসগুলি অন্য কোন মৌলের সাথে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে না এবং কোনরূপ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না বলে এদের নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়। 

- Tungsten (W)- এর পারমাণবিক সংখ্যা ৭৪।

নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের ইলেক্ট্রন বিন্যাস: 

- উপরের সারণি থেকে দেখা যায় যে, হিলিয়ামের একমাত্র কক্ষপথটি দুটি ইলেকট্রন দ্বারা পরিপূর্ণ (1s2) এবং অন্য সবগুলি নিষ্ক্রিয় গ্যাস মৌলের শেষ কক্ষপথটি আটটি (ns2np6) ইলেকট্রন দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে।
- মৌলের কক্ষপথগুলি ইলেকট্রন দ্বারা পরিপূর্ণ হলে মৌল একটি অতি সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস পায় যা সহজে পরিবর্তিত হতে চায় না।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস মৌলগুলির প্রতিটির জন্য এরূপ সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস রয়েছে। এ কারণেই এরা রাসায়নিকভাবে অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়। 

তথ্যসূত্র: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪২০.
যে মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়, তাকে কী বলা হয়? 
  1. ধাতু 
  2. অধাতু 
  3. অপধাতু 
  4. অস্থায়ী মৌল 
সঠিক উত্তর:
ধাতু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাতু 
ব্যাখ্যা

মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম: 
- পর্যায় সারণিতে অবস্থিত মৌলগুলোর কিছু ধর্ম আছে, যেমন- ধাতব ধর্ম, অধাতব ধর্ম, পরমাণুর আকার, আয়নিকরণ শক্তি, তড়িৎ ঋণাত্মকতা ইলেকট্রন আসক্তি ইত্যাদি। এসব ধর্মকে পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বলে। 

ধাতব ধর্ম (Metallic Properties): 
- যে সকল মৌল চকচকে, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী তাদেরকে ধাতু বলা হয়। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে ধাতু বলে। 
- ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের এই ধর্মকে ধাতব ধর্ম বলে। 
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করতে পারবে সেই মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি। 
যেমন- লিথিয়াম (Li) একটি ধাতু কারণ Li একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Li+ এ পরিণত হয়। 
• Li → Li+ + e-
- পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে ধাতব ধর্ম হ্রাস পায়। 

অধাতব ধর্ম (Non-metallic Properties): 
- যে সকল মৌল চকচকে নয়, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে না এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয় তাদেরকে অধাতু বলা হয়। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে অধাতু বলে। 
- অধাতুর ইলেকট্রন গ্রহণের এই ধর্মকে অধাতব ধর্ম বলে। 
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারবে সেই মৌলের অধাতব ধর্ম তত বেশি। 
যেমন- ক্লোরিন (Cl) একটি অধাতু কারণ Cl একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Cl- এ পরিণত হয়। 
• Cl + e- → Cl-
- পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়। 

অর্ধধাতু বা অপধাতু: 
- যে সকল মৌল কোনো কোনো সময় ধাতুর মতো আচরণ করে এবং কোনো কোনো সময় অধাতুর মতো আচরণ করে তাদেরকে অর্ধধাতু বা অপধাতু বলা হয়। 
- আবার আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল কোনো কোনো সময় ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং কোনো কোনো সময় ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাদেরকে অপধাতু বলে। 
যেমন- সিলিকন (Si) একটি অপধাতু। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪২১.
ধাতুর ঘনত্ব অধাতুর তুলনায় সাধারণত কেমন থাকে? 
  1. কম 
  2. বেশি 
  3. সমান 
  4. অপরিবর্তনশীল
সঠিক উত্তর:
বেশি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি 
ব্যাখ্যা

ধাতু-অধাতু: 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত।
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪২২.
কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা কিসের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়? 
  1. ঘনীভবন
  2. বাষ্পীভবন
  3. গলনাংক
  4. স্ফুটনাংক
সঠিক উত্তর:
গলনাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গলনাংক
ব্যাখ্যা
- কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা গলনাংক এর মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। 
- যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে আরম্ভ করে সে তাপমাত্রাকে গলনাঙ্ক বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের সাথে যদি কোন অপদ্রব্য মিশ্রিত অবস্থায় থাকে তাহলে বুঝতে হবে কঠিন পদার্থটি যে তাপমাত্রায় গলার কথা সে তাপমাত্রায় গলবে না। 

অন্যদিকে, 
- তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪২৩.
অধাতব খনিজ পদার্থ কোনটি?
  1. মাইকা
  2. খনিজ লবণ
  3. কোয়ার্টজ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 

ধাতব খনিজ পদার্থ: 
• লোহা (Fe), 
• তামা (Cu), 
• সোনা (Au) এবং 
• রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

অধাতব খনিজ পদার্থ: 
কোয়ার্টজ (Quartz)
মাইকা (Mica) এবং 
খনিজ লবণ ইত্যাদি। 
- আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪২৪.
কোন ধাতু তার পূর্বের আকৃতি (Shape) মনে রাখতে পারে?
  1. ক) লোহা
  2. খ) নাইটিনল
  3. গ) ব্রোঞ্জ
  4. ঘ) টেফলন
সঠিক উত্তর:
খ) নাইটিনল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাইটিনল
ব্যাখ্যা
নাইটিনল
- নাইটিনল একটি সংকর ধাতু যা নিকেল ও টাইটেনিয়ামের মিশ্রণে তৈরি একটি এলয়।
- এতে ৫৫% নিকেল এবং ৪৫% টাইটেনিয়াম রয়েছে।
- এটি অধিক স্থিতিস্থাপক ধাতু।
- নাইটিনলকে তাপ দিলে পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে।
- এটি তার পূর্বের আকৃতি মনে রাখতে পারে।
- এটি এমন এক ধরনের ধাতু যাকে বিকৃতির পর পূর্বের আকৃতিতে খুব সহজেই ফিরিয়ে আনা যায়।
- তা একে বলা হয় শেপ মেমরি এলয় (Shape Memory Alloy).
২,৪২৫.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক পলিমার?
  1. স্টার্চ
  2. পলিভিনাইল ক্লোরাইড
  3. নাইলন
  4. টেরিলিন
সঠিক উত্তর:
স্টার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টার্চ
ব্যাখ্যা
পলিমার (Polymer):
- পলিমার (Polymer) শব্দটি গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ অংশ থেকে উৎপত্তি হয়েছে।
- পলিমার বলতে একই ধরনের অনেকগুলো ছোট ছোট অংশ যুক্ত হয়ে যে উচ্চ আণবিক ভরবিশিষ্ট বৃহদাকার অণু তৈরি হয় তাকে বোঝায়। যে ক্ষুদ্র অণু যুক্ত হয়ে পলিমার তৈরি হয় তাকে মনোমার (Monomer) বলা হয়।
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। যথা-
ক) প্রাকৃতিক পলিমার ও
খ) কৃত্রিম পলিমার।

প্রাকৃতিক পলিমার:
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার।
- যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি।

কৃত্রিম পলিমার:
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার।
- যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্টারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি।
- গঠন ও তাপীয় বেশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কৃত্রিম পলিমারকে আবার দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যেমন-
১। থার্মোপ্লাস্টিক ও
২। থার্মোর্সেটিং প্লাস্টিক।

তথ্যসূত্র - রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪২৬.
বিশুদ্ধ অবস্থায় ২০°-২৭°C তাপমাত্রায় পানির pH কত? 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পানি একটি তরল পদার্থ। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় পানি তরল হলেও অত্যন্তশীতল অবস্থায় কঠিন বরফে পরিণত হয়। আবার উচ্চ তাপমাত্রায় গ্যাসীয় বাষ্পে পরিণত হয়। 
- জীবজগতের সকল উদ্ভিদ ও প্রাণির দেহ গঠনের জন্য পানি একটি অপরিহার্য উপাদান। 

পানির ধর্ম: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বচ্ছ, স্বাদহীন, গন্ধহীন ও বর্ণহীন হয়ে থাকে। 
- পানির কিছু সাধারণ ধর্ম নিম্নে উল্লেখ করা হলো- 
• গলনাংক: 
- শীতল অবস্থায় পানি কঠিন বরফ হিসেবে থাকে। 
- প্রমাণ চাপে বরফ ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে যায়। 
অর্থাৎ, পানির গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 

• স্ফূটনাংক: 
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 
অর্থাৎ, পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

• অম্লত্ব ও ক্ষারকত্ব: 
- বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ। 
অর্থাৎ, বিশুদ্ধ অবস্থায় এটি অ্যাসিড বা ক্ষার কোন ধর্মই প্রদর্শন করে না। 
- তবে এসিডের উপস্থিতিতে এটি ক্ষার হিসেবে আবার ক্ষারের উপস্থিতিতে এটি অ্যাসিড হিসেবে কাজ করে। 
- বিশুদ্ধ অবস্থায় ২০°-২৭°C তাপমাত্রায় পানির pH হলো ৭, তবে উচ্চ তাপমাত্রার পানির pH ৭ এর নিচে। 

• দ্রাবক: 
- পানি একটি ভাল দ্রাবক। 
- এটি বেশিরভাগ অজৈব লবণ এবং কিছু কিছু জৈব যৌগ দ্রবীভূত করতে পারে। 
- এজন্য পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয়। 

• ঘনত্ব: 
- ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয়। 
- ৪° সেলসিয়াসের চেয়ে কম ও বেশি তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব কমতে থাতে। 
- ৪° সেলসিয়াসে পানির ঘনত্ব ১ গ্রাম/কিউবিক সেন্টিমিটার বা ১০০০ কেজি/ঘনমিটার। 
অর্থাৎ, ১ সি সি পানির ভর ১ গ্রাম এবং ১ ঘন মিটিার পানির ভর ১০০০ কেজি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪২৭.
Which metal remains in liquid form at normal temperature?
  1. Sodium
  2. Aluminium
  3. Gold
  4. Mercury
  5. Iron
সঠিক উত্তর:
Mercury
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mercury
ব্যাখ্যা
• পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।  

• ধাতু:
- যেসব উপাদান সাধারণত তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী, আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ হয়, পিটিয়ে পাত করা যায়, ঘষলে চকচক করে সেসব উপাদানকে ধাতু বলে 

• ধাতুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য:  
বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা: ধাতু বিদ্যুৎ পরিবহনে সক্ষম।
তাপ পরিবাহিতা: ধাতু তাপ পরিবহনে সক্ষম।
চকচকে ভাব: ধাতুগুলির সাধারণত একটি উজ্জ্বল পৃষ্ঠ থাকে।
নমনীয়তা: ধাতুগুলিকে তারে পরিণত করা যায় বা পিটিয়ে পাতলা করা যায়।
কাঠিন্যতা: ধাতুগুলি সাধারণত কঠিন এবং দৃঢ় হয়। 
ধাতব বন্ধন: ধাতুগুলি ধাতব বন্ধনের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে। 

• পারদ:
- সাধারণ তাপমাত্রায়, একমাত্র তরল ধাতু হলো পারদ (Mercury)।
- এর প্রতীক Hg এবং পারমাণবিক সংখ্যা 80।
- এটি কক্ষ তাপমাত্রায় একটি চকচকে, রূপালী রঙের তরল ধাতু। 

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
২,৪২৮.
How many times lighter is an electron than a hydrogen atom?
  1. 184 times
  2. 920 times
  3. 1840 times
  4. 2180 times
  5. 2410 times
সঠিক উত্তর:
1840 times
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1840 times
ব্যাখ্যা

- একটি হাইড্রোজেন পরমাণু মূলত একটি প্রোটন এবং একটি ইলেকট্রন নিয়ে গঠিত। প্রোটনের ভর ইলেকট্রনের ভরের তুলনায় প্রায় ১৮৩৬ থেকে ১৮৪০ গুণ বেশি। যেহেতু হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভরই প্রোটন দ্বারা গঠিত, তাই একটি হাইড্রোজেন পরমাণু একটি ইলেকট্রনের তুলনায় প্রায় ১৮৪০ গুণ হালকা হয় বা একটি হাইড্রোজেন পরমাণু ইলেকট্রনের তুলনায় ১৮৪০ গুণ ভারী

ইলেকট্রন: 
- পরমাণুর একটি ক্ষুদ্রতম কণিকা হচ্ছে ইলেকট্রন। 
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হচ্ছে ইলেকট্রন। 
- ইলেকট্রনের ভর অতি সামান্য। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা। 
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 
- ইলেকট্রনের সংকেত e- । 
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 g ও -1.60×10-19 C. 
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান -1 । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 

২,৪২৯.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে কতটি পর্যায় আছে?
  1. ৫ টি
  2. ৭ টি
  3. ১৮ টি
  4. ৬ টি
সঠিক উত্তর:
৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ টি
ব্যাখ্যা
• পর্যায় সারণি (Periodic Table):
- পর্যায় সারণি হলো এমন একটি সারণি, যেখানে মৌলগুলোকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী সাজানো হয়।

• আধুনিক পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য-
- পর্যায় সারণিতে ৭ টি পর্যায় বা আনুভূমিক সারি রয়েছে।
- সারণিতে ১৮ টি গ্রুপ বা খাড়া স্তম্ভ রয়েছে।
-  প্রতিটি পর্যায় বাম দিকে গ্রুপ ১ থেকে শুরু করে ডানদিকে গ্রুপ ১৮ পর্যন্ত বিস্তৃত। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
২,৪৩০.
PCR- এর পূর্ণরূপ-
  1. ক) Public Common Reaction
  2. খ) Polymer Cotton Room
  3. গ) Polymerase Chain Reaction
  4. ঘ) Polytechnic College Reaction
সঠিক উত্তর:
গ) Polymerase Chain Reaction
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Polymerase Chain Reaction
ব্যাখ্যা
- PCR পূর্ণরুপ Polymerase Chain Reaction।
- এটি একটি অণুজীববিজ্ঞানের কৌশল যা তাপমাত্রা চক্রের একটি সিরিজের মাধ্যমে ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) এর একটি নির্দিষ্ট অংশকে প্রসারিত করতে ব্যবহৃত হয়।

একটি পিসিআর প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপগুলি নিম্নরূপ:
- Denaturation
- Annealing
- Extension

এর ব্যবহার: 
- আণবিক গবেষণা: সিকোয়েন্সিং, ক্লোনিং এবং জেনেটিক অধ্যয়নের জন্য ডিএনএ প্রশস্ত করা।
- মেডিকেল ডায়াগনস্টিকস: সংক্রমণ শনাক্ত করা, জেনেটিক ডিসঅর্ডার সনাক্ত করা এবং ফরেনসিক্সে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণ করা।
- এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ: মাইক্রোবিয়াল জনসংখ্যা সনাক্ত করা এবং জীববৈচিত্র্য অধ্যয়ন করা।
- বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান: প্রাচীন ডিএনএ বিশ্লেষণ করা এবং বিবর্তনীয় সম্পর্ক অধ্যয়ন করা।
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং: বিভিন্ন উদ্দেশ্যে প্রচুর পরিমাণে নির্দিষ্ট ডিএনএ খণ্ড তৈরি করা।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৪৩১.
‘নিত্য ব্যবহার্য বহু 'এরোসোলের' কৌটায় এখন লেখা থাকে 'সিএফসি' বিহীন। সিএফসি গ্যাস কেন ক্ষতিকারক?
  1. ফুসফুসে রোগ সৃষ্টি করে
  2. গ্রিন হাউজ ইফেক্টে অবদান রাখে
  3. ওজোনস্তরে ফুটো সৃষ্টি করে
  4. দাহ্য বলে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাবনা ঘটায়
সঠিক উত্তর:
ওজোনস্তরে ফুটো সৃষ্টি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওজোনস্তরে ফুটো সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা
- দাহ্য বলে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাবনা ঘটায় এবং ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পর্দাথের মধ্যে CFC হলো প্রধান।
- এছাড়াও N2O, NO, মিথেন, BCF, CH3Br, CCl4 ইত্যাদি ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পর্দাথের অন্তর্ভূক্ত।

• CFC গ্যাস:
- CFC গ্যাস হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বন।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে কিন্তু এর মধ্যে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (সিএফসি) গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে।
- সিএফসি এর মধ্যে CFC12 এবং CFC13 সর্বাধিক ক্ষতিকর।
- CFC12 এবং CFC13 এর কার্বন যৌগপ্তলো জায়মান দশায় ক্লোরিন উৎপাদন করে।
- উৎপন্ন ক্লোরিন ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোনের অণু ধ্বংস করে।
- এক লক্ষ ওজোনের অণু ধ্বংসের জন্য একটি ক্লোরিনের অণুই যথেষ্ট।

উৎস:
১. পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. উচ্চ-মাধ্যমিক রসায়ন ২য় পত্র।
২,৪৩২.
HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H2O (l) কোন ধরণের বিক্রিয়া?
  1. বিয়োজন বিক্রিয়া
  2. দহন বিক্রিয়া
  3. পানি যোজন বিক্রিয়া 
  4. প্রশমন বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া: 
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। 
- বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। 
উদাহরণ: HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H2O (l) 

পানি যোজন বিক্রিয়া: 
- আয়নিক যৌগ দ্রবণ থেকে কেলাস গঠনের সময় এক বা একাধিক সংখ্যা পানির অণুকে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পানি যোজন বিক্রিয়া বলে। 
- আয়নিক যৌগের কেলাসের সাথে সংযুক্ত পানিকে কেলাস পানি বলে। 

বিয়োজন বিক্রিয়া: 
- বিয়োজন বিক্রিয়া সংযোজন বিক্রিয়ার ঠিক বিপরীত ক্রিয়া।
- এ প্রক্রিয়ায় যৌগের অণু ভেঙ্গে একাধিক মৌল বা যৌগে পরিণত হয়।
- প্রকৃতপক্ষে যৌগের অণু উহার উপাদানসমূহে বিভক্ত হয়।
উদাহরণ: মারকারী (II) অক্সাইড উচ্চ তাপে বিয়োজিত হয়ে উহার সরলতম উপাদান মারকারী ও অক্সিজেনে পরিণত হয়। 

দহন বিক্রিয়া: 
- এ প্রক্রিয়ায় কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার সাথে সংযুক্ত উপাদান মৌলগুলোকে অক্সাইড যৌগে পরিণত করা হয়। 
উদাহরণ: কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৩৩.
ভিনেগার প্রস্তুতের জন্য কোন ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত হয়?
  1. স্ট্রেপ্টোকক্কাস
  2. অ্যাসিটোব্যাকটর
  3. ল্যাক্টোব্যাকটেরিয়া
  4. ই.কোলাই 
সঠিক উত্তর:
অ্যাসিটোব্যাকটর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাসিটোব্যাকটর
ব্যাখ্যা

- ভিনেগার প্রস্তুতের জন্য ব্যবহৃত ব্যাকটেরিয়া হলো অ্যাসিটোব্যাকটর (Acetobacter), যা অ্যালকোহলকে অ্যাসিটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত করে ভিনেগার তৈরি করে। 

সিরকা বা ভিনেগার: 

- ইথানয়িক এসিডের 4%-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়। 
- ভিনেগার একটি তরল পদার্থ। 
- সাধারণত আচার তৈরি করার সময় ভিনেগার যোগ করা হয়। 

ভিনেগারের প্রস্তুতি: 
25°C-35°C তাপমাত্রায় রাখা একটি স্টিলের পাত্রে ইথানল (CH3CH2OH) এবং অ্যাসিটোব্যাকটর নিয়ে এর মধ্যে অক্সিজেন গ্যাসের বুদবুদ প্রবাহিত করলে ভিনেগার বা অ্যাসিটিক এসিড বা ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) প্রস্তুত হয়। 
- অ্যাসিটোব্যাকটর (Acetobacter) ব্যাকটেরিয়া এমন এক ধরনের এনজাইম নিঃসৃত করে যা ইথানলকে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করতে সাহায্য করে। 

খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের ভূমিকা: 
- ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে আচার ভালো রাখার জন্য আচারের মধ্যে ভিনেগার দিলে আচারকে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে না। 
- ভিনেগারের মূল উপাদান ইথানয়িক এসিড। 
- ভিনেগারকে যখন আচারের মধ্যে দেওয়া হয় তখন ইথানয়িক এসিড কর্তৃক ত্যাগকৃত প্রোটন (H+) ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে এবং খাদ্য দীর্ঘকাল ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়, এভাবে ভিনেগার দিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৩৪.
ক্ষার ধাতু পানির সাথে বিক্রিয়ায় কী তৈরি করে? 
  1. হাইড্রোজেন গ্যাস ও লবণ
  2. হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার
  3. হাইড্রোজেন গ্যাস ও এসিড
  4. অক্সিজেন গ্যাস ও ক্ষার
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু (alkali metal): 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb) এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal): 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr) প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৩৫.
পোটেনশিওমিটার (Potentiometer) যন্ত্রটি কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপ
  2. তড়িৎ বিভব পরিমাপ
  3. তড়িৎ রোধ পরিমাপ
  4. তড়িৎ ক্ষমতা পরিমাপ
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ বিভব পরিমাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ বিভব পরিমাপ
ব্যাখ্যা

পোটেনশিওমিটার (Potentiometer) হলো একটি তড়িৎ পরিমাপক যন্ত্র, যা মূলত তড়িৎ বিভব (Voltage) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি নির্ভুল (Precise) এবং উচ্চ সংবেদনশীল (High Sensitivity) যন্ত্র, যা তড়িৎ বিভবের তুলনামূলক মান পরিমাপ করতে সাহায্য করে।

পোটেনশিওমিটারের ব্যবহার:
- এটি একটি ভেরিয়েবল রেজিস্টর (Variable Resistor) হিসাবে কাজ করে।
- এটি তড়িৎ বিভবের পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে এবং সাধারণ ভোল্টমিটারের তুলনায় এটি আরও নির্ভুল পরিমাপ দেয়।
- পোটেনশিওমিটারের সাহায্যে দুটি কোষের তড়িচ্চালক বলের তুলনা করা যায়। 
- পোটেনশিওমিটার ইলেকট্রনিক সার্কিটে ভোল্টেজ কন্ট্রোলার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপ – এটি অ্যামিটার (Ammeter) দিয়ে পরিমাপ করা হয়।
গ) রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ – এটি ওহমমিটার (Ohmmeter) দিয়ে পরিমাপ করা হয়।
ঘ) তড়িৎ ক্ষমতা পরিমাপ – এটি ওয়াটমিটার (Wattmeter) দিয়ে পরিমাপ করা হয়।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৪৩৬.
নিচের কোনটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. হিলিয়াম
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

• হিলিয়াম একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাসের উদাহরণ।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়ামের ব্যবহার:

- হিলিয়াম খুবই হাল্কা এবং অদাহ্য হওয়ায় বেলুনে ও উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হয়।
- একমাত্র হাইড্রোজেন গ্যাস হিলিয়াম অপেক্ষা হালকা।
- H2 গ্যাসের তুলনায় He গ্যাসের উত্তোলন ক্ষমতা প্রায় 92% ।
- হাইড্রোজেনের দাহ্যতার কারণে তা বিপজ্জনক হওয়ায় বর্তমানে একমাত্র হিলিয়াম ব্যবহৃত হয়।
- অলিম্পিক সাইক্লিস্ট প্রতিযোগীরা তাদের সাইকেলের টায়ার বাতাসের পরিবর্তে হাল্কা ও অদাহ্য হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা পূর্ণ করে।
- হাপানী রোগীর শ্বাসকাজে সহায়তার জন্য এবং গভীর পানির ডুবুরিগণ এবং অধিক চাপে কর্মরত ব্যক্তিগণ ৪০% হিলিয়াম ও অক্সিজেনের 20% মিশ্রণের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করেন।
- ধাতু সংকরের গলন ও জোড়া লাগানোর সময় হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা নিষ্ক্রিয় পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।
- নিম্ন তাপমাত্রায় গবেষণাকার্যে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। যেমন- তরল হিলিয়াম NMR (NMR = Nuclear Magnetic Resonance Spectroscopy) মেশিন শীতলকরণে ব্যবহৃত হয়।
- হিলিয়ামের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সর্বনিম্ন এবং পরমশূন্য তাপমাত্রার খুবই নিকটে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী ও নাগ)।

২,৪৩৭.
নিচের কোনটি নিউক্লিয়াসের বাহিরে অবস্থান করে?
  1. ক) পজিট্রন
  2. খ) নিউট্রন
  3. গ) প্রোটন
  4. ঘ) ইলেকট্রন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইলেকট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
- পরমাণুর একটি কেন্দ্র আছে, যার নাম নিউক্লিয়াস।
- এই নিউক্লিয়াসে ভিতরে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- পরমাণুর সকল ধনাত্মক আধান এবং প্রায় সম্পূর্ণ ভরই নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত।
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৩৮.
তেঁতুলে কোন এসিড বিদ্যমান রয়েছে?
  1. স্যালিসাইলিক এসিড
  2. ম্যালিক এসিড
  3. টারটারিক এসিড
  4. ফরমিক এসিড
সঠিক উত্তর:
টারটারিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টারটারিক এসিড
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন এসিড:
• ফরমিক এসিড: পিঁপড়ার কামড়ে।
• সাইট্রিক এসিড: আঙ্গুর, কমলা, লেবু।
• টারটারিক এসিড: তেঁতুল।
• অ্যাসকরবিক এসিড: আমলকি।
• ম্যালিক এসিড: আপেল, আনারস।
• স্যালিসাইলিক এসিড: আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, বরই ইত্যাদি ফলে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২,৪৩৯.
ফুলারিন কী?
  1. ক) কার্বনের রূপভেদ
  2. খ) ফ্লোরিনের রূপভেদ
  3. গ) সালফারের রূপভেদ
  4. ঘ) আয়োডিনের রূপভেদ
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বনের রূপভেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কার্বনের রূপভেদ
ব্যাখ্যা
• গ্রাফাইট, হীরক, গ্রাফিন, ফুলারিন প্রভৃতি হলো কার্বনের বিভিন্ন রূপভেদ।

কার্বনের রূপভেদ
• কার্বনের একটি বিশেষ শ্রেণির রূপভেদ ফুলারিন। ক্যাটেনেশনের একটি বিশেষ উদাহরণও হলো ফুলারিন। কার্বনের রূপভেদ C60 কে বুক্‌মিনস্টার ফুলারিন বা 'বাকি বল' বলা হয়। এর আকৃতি ফুটবলের মতো।

• কার্বনের প্রধান রূপভেদ হলো গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড (হীরক)।
- গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।

• গ্রাফিন হচ্ছে দ্বিমাত্রিক কার্বন ক্রিস্টাল যা খুব ভালো তাপ এবং বিদ্যুৎ পরিবাহী।
- গ্রাফিনকে গ্রাফাইট থেকে আহরণ করা হয়।

সূত্র: ৯ম-১০ম শ্রেণির রসায়ন বই এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির রসায়ন ২য় পত্র (হাজারী-নাগ)
২,৪৪০.
নিচের কোনটি অম্ল-ক্ষার নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) পানি
  2. খ) বেনজিন
  3. গ) মিথাইল অরেঞ্জ
  4. ঘ) ফিটকিরি
সঠিক উত্তর:
গ) মিথাইল অরেঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিথাইল অরেঞ্জ
ব্যাখ্যা
যে সকল রাসায়নিক পদার্থ এসিড ও ক্ষার এর জলীয় দ্রবণে উপস্থিত থেকে বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে দ্রবণটি এসিড না ক্ষার তা নির্দেশ করে সে সকল রাসায়নিক পদার্থকে নির্দেশক বলে।
যেমন: মিথাইল অরেঞ্জ, মিথাইল রেড, ফেনোফথ্যালিন, লিটমাস পেপার ইত্যাদি।

• মিথাইল অরেঞ্জ নির্দেশকের বর্ণ হচ্ছে কমলা।
- এটি এসিডে গোলাপী এবং ক্ষারকে হলুদ বর্ণ প্রদর্শন করে।

এছাড়া,
• লিটমাস পেপার - এসিডে লাল এবং ক্ষারকে নীল বর্ণ প্রদর্শন করে।
• মিথাইল রেড - নির্দেশকের বর্ণ লাল, এসিডে লাল এবং ক্ষারকে হলুদ বর্ণ প্রদর্শন করে।
• ফেনলফথ্যালিন - নির্দেশকের বর্ণ বর্ণহীন, এসিডে বর্ণহীন এবং ক্ষারকে গোলাপী বর্ণ প্রদর্শন করে।

সূত্র: ৯ম-১০ম শ্রেণির রসায়ন বই।
২,৪৪১.
নিচের কোনটি অধাতু?
  1. সালফার
  2. সোডিয়াম
  3. সিলভার
  4. আয়রন
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- খনিজ পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি হচ্ছে ধাতু। 
- আবার কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন ইত্যাদি হচ্ছে অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল খনিজ পদার্থই যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমান গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে লাভজনক ভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৪২.
সর্বপ্রথম গ্রিন কেমিস্ট্রি ধারণার অবতারণা করেন কে?
  1. ক) Percy Lavon Julian
  2. খ) Paul Jeko
  3. গ) Paul Anastas
  4. ঘ) Ernest Rutherford
সঠিক উত্তর:
গ) Paul Anastas
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Paul Anastas
ব্যাখ্যা
সবুজ রসায়ন: 
- ১৯৯১ সালে Paul Anastas সর্বপ্রথম গ্রিন কেমিস্ট্রি ধারণার অবতারণা করেন। 
- সবুজ রসায়নে (Green Chemistry) মূলত পরিবেশবান্ধব যৌগ ও তার উৎপাদন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। 
- এটি মূলত রাসায়নিক গবেষণা ও প্রকৌশলের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর যৌগের ব্যবহার ও উৎপাদন নিরুৎসাহিত করে। 
- পরিবেশের উপর রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত বিক্রিয়ক ও উৎপন্ন উৎপাদের ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাসকল্পে সবুজ রসায়নের অধ্যয়ন ও অনুশীলন আবশ্যক। 
- পল এনাসথাস এবং পরবর্তীতে United States Environment Protection Agency ও John C. Warner সবুজ রসায়নের ১২টি নীতি প্রণয়ন করেন। 
- নিচে এসব নীতিমালা আলোচনা করা হলো - 
১। প্রতিরোধ, 
২। পরমাণু অর্থনীতির সর্বোচ্চকরণ, 
৩। নিরাপদ উৎপাদ, 
৪। উৎপাদের বিষক্রিয়া হ্রাস, 
৫। নিরাপদ দ্রাবক ও সহায়ক পদার্থ, 
৬। শক্তির কর্মদক্ষতার পরিকল্পনা, 
৭। নিরাপদ কাঁচামাল ব্যবহার, 
৮। প্রভাবকীয় বিক্রিয়ক ব্যবহার, 
৯। ক্ষুদ্রাংশকরণ পরিকল্পনা, 
১০। বিক্রিয়ায় সময় অপ্রয়োজনীয় জাতক সৃষ্টি রোধ, 
১১। যথাসময়ে দূষণ এবং 
১২। দুর্ঘটনা প্রতিরোধ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৪৪৩.
একটি চায়ের কাপে গরম চা রাখলে তার মধ্যে নিচের কোন প্রক্রিয়াটি ঘটে? 
  1. ব্যাপন
  2. বাষ্পীভবন
  3. নিঃসরণ
  4. ঊর্ধ্বপাতন
সঠিক উত্তর:
বাষ্পীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাষ্পীভবন
ব্যাখ্যা
বাষ্পীভবন: 
- কোনো তরলকে তাপ প্রদান করে ঐ তরল পদার্থকে বাষ্পে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে। 
যেমন: একটি চায়ের কাপে গরম চা রাখলে ঐ গরম চা থেকে পানি বাষ্পাকারে উড়ে যায় যা বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ। 

ঘনীভবন: 
- আবার উক্ত বাষ্পকে শীতল করলে তা তরলে পরিণত হয় যাকে ঘনীভবন বলে। 
যেমন: জলীয় বাষ্প তাপশক্তি নির্গত করে ঠান্ডা হয়ে পানিতে পরিণত হয়। 

পাতন: 
- কোনো তরলকে তাপ প্রদানে বাষ্পে পরিণত করে তাকে পুনরায় শীতলীকরণের মাধ্যমে তরলে পরিণত করার পদ্ধতিকে পাতন বলে। 
অর্থাৎ, পাতন = বাষ্পীভবন + ঘনীভবন 

ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন: নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়।
- কোনো কঠিন পদার্থের মিশ্রণের মধ্যে একটি ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ মিশ্রিত থাকলে ঐ ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থকে মিশ্রণ থেকে পৃথক করা যায়।
যেমন: নিশাদল বা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) এর সাথে খাদ্য লবণ (NaCl) মিশ্রিত থাকলে ঊর্ধ্বপাতন পদ্ধতির মাধ্যমে নিশাদলকে পৃথক করা যায়। 

ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাস বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে অণু প্রবেশকে ব্যাপন বলে। 
যেমন- ঘরের মশা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে আমরা যে অ্যারোসল ব্যবহার করি তা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। 

নিঃসরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্ন চাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন: রিক্সার চাকা থেকে বাতাস বের হয়ে যাওয়া, গ্যাসের পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হলো নিঃসরণ। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৪৪.
উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. প্রস্বেদন 
  2. নিঃসরণ 
  3. শ্বসন 
  4. অভিসরণ 
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন 
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়।
যথা- (ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, (খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং (গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৪৫.
রাসায়নিকভাবে প্রায় অসক্রিয় ধাতু কোনটি?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম
  2. খ) প্লাটিনাম
  3. গ) রূপা
  4. ঘ) সীসা
সঠিক উত্তর:
খ) প্লাটিনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্লাটিনাম
ব্যাখ্যা

- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি রাসায়নিকভাবে অধিক সক্রিয় ধাতু।
- জিংক বা দস্তা, লৌহ, সীসা ইত্যাদি মধ্যম মানের সক্রিয় ধাতু।
- কপার বা তামা, পারদ, রূপা ইত্যাদি কম সক্রিয় ধাতু।
- প্লাটিনাম এবং সোনা প্রায় অসক্রিয় ধাতু। এদের বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় প্রকৃতিতে।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২,৪৪৬.
কোনটি নিরুদক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. P2O3
  2. H2O2
  3. P2O5
  4. H2S
সঠিক উত্তর:
P2O5
উত্তর
সঠিক উত্তর:
P2O5
ব্যাখ্যা
ফসফরাস (P):
- ফসফরাসের দুটি রূপভেদ আছে।
যথা-
লোহিত ফসফরাস ও
শ্বেত ফসফরাস।
- শ্বেত ফসফরাস বেশি সক্রিয়। শ্বেত ফসফরাসের গন্ধ রসুনের মত। দিয়াশলাইয়ের কাঠির মাথায় লোহিত ফসফরাস ব্যবহৃত হয়। দিয়াশলাইয়ের বক্সের দু-ধারে কাগজের উপর যে বারুদ থাকে তা আসলে কাচচূর্ণ মিশ্রিতু ফসফরাস।
- ফসফরাস পেন্টাক্সাইড (P2O5) নিরুদক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- গ্যাস মাস্কের প্রধান উপাদান ফসফরাস পেন্টাক্সাইড । 

উৎস: LiveMCQ Lecture
২,৪৪৭.
নিচের কোন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার এবং আয়তন নেই?
  1. ইট
  2. কেরোসিন
  3. অ্যামোনিয়া
  4. অ্যালকোহল
সঠিক উত্তর:
অ্যামোনিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামোনিয়া
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও  নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৪৮.
ক্যালামাইন কোন ধাতুর আকরিক ?
  1. আয়রন
  2. লেড
  3. কপার
  4. জিঙ্ক
সঠিক উত্তর:
জিঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিঙ্ক
ব্যাখ্যা

- ক্যালামাইন হচ্ছে জিঙ্ক ধাতুর আকরিক।

আকরিক:
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনক ভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না। 
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনক ভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে।
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে। - এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে।

- মার্কারি এর আকরিক:  সিন্নাবার (HgS)।
- জিংক এর আকরিক:  জিংক ব্লেন্ড (ZnS), ক্যালামাইন (ZnCO)।
- লেড এর আকরিক: গ্যালেনা (PbS)।
- আয়রন এর আকরিক: ম্যাগনেটাইট (Fe3O4),  হেমাটাইট (Fe2O3),  লিমোনাইট (Fe2O3.3H2O)।
- কপার এর আকরিক: কপার পাইরাইট (CuFeS2), চালকোসাইট (Cu2) ।
- অ্যালুমিনিয়াম এর আকরিক: বক্সাইট (Al2O3.2H2O)।
- ক্যালসিয়াম এর আকরিক: চুনাপাথর (CaCO3)।

উৎস: রসায়ন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৪৯.
কোন অবস্থায় বিক্রিয়ার গতিবেগ বৃদ্ধি পায়?
  1. বিক্রিয়ার আয়তন বৃদ্ধি পেলে
  2. উৎপাদকের ঘনমাত্রা কম থাকলে 
  3. বিক্রিয়ার তাপমাত্রা কম থাকলে
  4. বিক্রিয়াকের ঘনমাত্রা বেশি থাকলে
সঠিক উত্তর:
বিক্রিয়াকের ঘনমাত্রা বেশি থাকলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিক্রিয়াকের ঘনমাত্রা বেশি থাকলে
ব্যাখ্যা

বিক্রিয়ার গতিবেগ বা বিক্রিয়ার হার (Rate of Reaction): 
- যখন কোন রাসায়নিক বিক্রিয়া সংগঠিত হয় তখন বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হয়। 
- বিক্রিয়কের পরিমাণের হ্রাস ঘটে এবং উৎপাদের পরিমাণের বৃদ্ধি ঘটে। 
অর্থাৎ, বিক্রিয়কের ঘনমাত্রার হ্রাস এবং উৎপাদের ঘনমাত্রার বৃদ্ধি ঘটে। 
- বিক্রিয়ক ও উৎপাদের ঘনমাত্রার পরিবর্তনের হারকে ঐ বিক্রিয়ার গতিবেগ বা বিক্রিয়ার হার বলে। 
• বিক্রিয়ার হার = ঘনমাত্রার পরিবর্তন / সময়ের ব্যবধান । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৫০.
The chemical symbol for gold is -
  1. ক) Au
  2. খ) Ag
  3. গ) Al
  4. ঘ) As
সঠিক উত্তর:
ক) Au
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Au
ব্যাখ্যা
- Au হলো গোল্ডের প্রতীক,
- Pb হলো লেড,
- Fe হলো আয়রন এবং
- Hg হলো মারকারির প্রতীক৷

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
২,৪৫১.
লেড (Lead) এর পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ৬০
  2. ৭২
  3. ৮০
  4. ৮২
সঠিক উত্তর:
৮২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮২
ব্যাখ্যা
• Pb (লেড):
- লেড এর রাসায়নিক প্রতীক  Pb.
- এর পারমাণবিক সংখ্যা ৮২।
- এর পারমাণবিক ভর ২০৭। 
- এটি গ্রুপ ১৪ তে অবস্থিত। 

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
২,৪৫২.
পলিথিন ব্যাগ কোন মনোমার থেকে তৈরি?
  1. ফেনল
  2. মেলামাইন
  3. ভিনাইল ক্লোরাইড
  4. ইথিলিন
সঠিক উত্তর:
ইথিলিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথিলিন
ব্যাখ্যা

- পলিথিন (polyethylene) হলো একটি পলিমার যা ইথিলিন (ethylene) নামক মনোমার অণুগুলোর পলিমারাইজেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। 

পলিমার (Polymer): 
- পলিমার হলো বহু ছোট মনোমার অণু একত্রে যুক্ত হয়ে গঠিত বৃহৎ অণু, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ, যেমন পলিথিন ব্যাগ, পিভিসি পাইপ, সুইচ বোর্ড, কাপড় ও রাবারে পাওয়া যায়। 
- পলিমার (Polymer) শব্দটি এসেছে দুটি গ্রিক শব্দ পলি (Poly) ও মেরোস (Meros) থেকে। পলি শব্দের অর্থ হলো অনেক (Many) এবং মেরোস শব্দের অর্থ অংশ (Part)। অর্থাৎ, অনেকগুলো ছোট অণু পরপর যুক্ত হয়ে বড় আকারের যে অণু তৈরি হয় তাকে পলিমার বলে। 
- যে ছোট অণু থেকে পলিমার তৈরি হয়, তাকে বলে মনোমার (Monomer)। 
- যে পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার করা হয় তা 'ইথিলিন' নামের মনোমার থেকে তৈরি এক ধরনের পলিমার। একইভাবে, পিভিসি পাইপ (PVC) হলো ভিনাইল ক্লোরাইড নামের মনোমার থেকে তৈরি পলিমার। তবে সব সময় একটি মনোমার থেকেই পলিমার তৈরি হবে এমন নয়, একের অধিক মনোমার থেকেও পলিমার তৈরি হতে পারে। 
যেমন- বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ড তৈরিতে ব্যবহৃত বস্তু। বৈদ্যুতিক সুইচে ব্যাকেলাইট নামের একটি পলিমার ব্যবহার করা হয়। ব্যাকেলাইট তৈরি হয় ফেনল ও ফরমালডিহাইড নামের দুটি মনোমার থেকে। আবার, মেলামাইনের থালা-বাসন হলো মেলামাইন রেজিন নামের পলিমার, যা তৈরি হয় মেলামাইন ও ফরমালডিহাইড নামের দুটি মনোমার থাকে। 

প্রাকৃতিক পলিমার: 
- পাট, সিল্ক, সুতি কাপড়, রাবার প্রভৃতি হচ্ছে প্রাকৃতিক পলিমার। 

কৃত্রিম পলিমার: 
- মেলামাইন, রেজিন, বাকেলাইট, পিভিসি, পলিথিন প্রভৃতি হলো কৃত্রিম পলিমার। এগুলো প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না, শিল্পকারখানায় কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৫৩.
কিসের অভাবে ফসলের পরিপক্বতা বিলম্বিত হয়?
  1. ক) দস্তা
  2. খ) সালফার
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) পটাশিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সালফার
ব্যাখ্যা
Plants deficient in sulphur are small and spindly with short and slender stalks, their growth is retarded, maturity in cereals is delayed, nodulation in legumes may be poor and nitrogen-fixation reduced, fruits often do not mature fully and remain light-green in color, forages contain an undesirably wide N:S ratio and thus have lower nutritive value.
Source: The Sulphur Institute, Washington, USA.
২,৪৫৪.
গামা রশ্মির ছেদন ক্ষমতা আলফা কণার চেয়ে কত গুণ বেশি?
  1. ক) ১০ গুণ
  2. খ) ১০০ গুণ
  3. গ) ১০০০ গুণ
  4. ঘ) ১০,০০০ গুণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০,০০০ গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০,০০০ গুণ
ব্যাখ্যা
- একটি সরু ছিদ্রযুক্ত লেড বা সীসার পাত্রে রেডিয়াম রেখে দিলে তা থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয় রশ্মি ছিদ্র দিয়ে সরলরেখায় বের হয়। এ রশ্মিকে চৌম্বক বা বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত করলে তা তিন ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এদেরকে যথাক্রমে আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি বলা হয়।
- এদের মধ্যে আলফা রশ্মি ধনাত্মক চার্জযুক্ত, বিটা রশ্মি ঋনাত্মক চার্জযুক্ত এবং গামা রশ্মি হচ্ছে চার্জবিহীন বা চার্জনিরপেক্ষ। 

গামা রশ্মি (γ-রশ্মি):
প্রকৃতি: গামা রশ্মি সাধারণ অর্থে কোন কণিকা নয়, এটি সাধারণ আলোকের ন্যায় তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ। α-কণা বা β-কণা বিচ্ছুরণের পর নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে শক্তির পূর্ণবিন্যাসের ফলে γ-রশ্মির উদ্ভব ঘটে। এদের তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য খুবই কম, এমনকি রঞ্জন রশ্মি অপেক্ষাও কম হয়।
বেগ: তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ বলে এদের গতিবেগ সেকেন্ডে 186000 মাইল বা 3 × 108 km। 
বায়ুর আয়নীকরণ: এরা প্রধানত পরোক্ষভাবে পদার্থকে আয়নিত করে। বহু দীর্ঘ পথে ঐ আয়নীকরণ সংঘটিত হয় বলে গামা রশ্মির আপেক্ষিক আয়নীকরণ ক্ষমতা খুব কম।
ছেদন ক্ষমতা: গামা রশ্মির ছেদন ক্ষমতা α-কণার চেয়ে 10,000 গুণ বেশি। রঞ্জন রশ্মির ন্যায় তা বিভিন্ন পদার্থের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে পারে।
জীবকোষের উপর ক্রিয়া: জীবন্ত কোষের ক্ষতিসাধন করে। 
- গামা রশ্মি (γ-রশ্মি) বিকিরণের ফলে মৌলের নিউক্লিয়াসের কোন পরিবর্তন ঘটে না। কারণ গামা রশ্মি (γ-রশ্মি) হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ।
- গামা রশ্মির (γ-রশ্মি) কোন ভর বা চার্জ নেই। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
২,৪৫৫.
একটি অণু ভাঙলে কী পাওয়া যায়?
  1. ক) প্রোটন
  2. খ) ইলেকট্রন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) পরমাণু
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরমাণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরমাণু
ব্যাখ্যা
একটি অণু ভাঙলে পরমাণু পাওয়া যায় এবং পরমাণু ভাঙলে পাওয়া যায় ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
২,৪৫৬.
ঊর্ধ্বপাতন প্রক্রিয়ায় পদার্থকে তাপ দিলে কী ঘটে? 
  1. সরাসরি তরলে রূপান্তরিত হয় 
  2. সরাসরি বাষ্পে রূপান্তরিত হয় 
  3.  প্রথমে তরলে, পরে বাষ্পে রূপান্তরিত হয় 
  4. কোনো পরিবর্তন হয় না 
সঠিক উত্তর:
সরাসরি বাষ্পে রূপান্তরিত হয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরাসরি বাষ্পে রূপান্তরিত হয় 
ব্যাখ্যা

ঊর্ধ্বপাতন: 
- পদার্থের সাধারণ পরিবর্তনের ধারাক্রম হলো তাপের প্রভাবে কঠিন থেকে তরল, তরল থেকে বাষ্পীয় অবস্থায় রূপান্তর। 
- কিন্তু এমন কিছু পদার্থ আছে যাদেরকে তাপ দিয়ে কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্প এবং বাষ্পকে শীতল করলে সরাসরি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়। 
- এক্ষেত্রে কঠিন থেকে বাষ্প এবং বাষ্প থেকে কঠিন অবস্থায় পরিবর্তিত হওয়ার সময় পদার্থ তার মধ্যবর্তী তরল অবস্থা প্রাপ্ত হয় না, যাদের উদ্বায়ী পদার্থ বলে। 
- কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি বাষ্পে পরিণত করে এবং ঐ বাষ্পকে শীতল করে সরাসরি কঠিন অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতনবলা হয়। 
যেমন- আয়োডিন, কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথোলিন প্রভৃতি উদ্বায়ী পদার্থ এবং এরা উর্ধ্বপাতিত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৫৭.
কোনটি এসিডের প্রভাব নিষ্ক্রিয় করতে ব্যবহৃত ক্ষারক নয়? 
  1. চুন
  2. বেকিং সোডা
  3. ক্যালামিন
  4. মেলিটিন
সঠিক উত্তর:
মেলিটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেলিটিন
ব্যাখ্যা
ক্ষারক: 
- সকল ক্ষারক লাল লিটমাস কাগজের রং পরিবর্তন করে নীল করে। 
- পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারক অর্থাৎ ক্ষারসমূহ পানিতে হাইড্রক্সাইড আয়ন (OH-) উৎপন্ন করে। 
যেমন- 
• NaOH → Na+ + OH- 
• KOH → K+ + OH- 
- ক্ষারক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ উৎপন্ন করে। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

প্রাত্যহিক জীবনে ক্ষারকের ব্যবহার: 
- মৌমাছি হুল ফুটালে এবং পিঁপড়া কামড় দিলে শরীরে যেহেতু ফরমিক এসিড, মেলিটিন এবং অ্যাপামিন নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, তাই সেগুলি জ্বালাপোড়া এবং ফুলে যাওয়ার কারণ হয়ে থাকে। 
- এসিডের প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করতে ক্ষারক ধর্মীয় মলম, লোশন (যেমন চুন), ক্যালামিন (যা জিংক কার্বোনেট) এবং বেকিং সোডা ব্যবহার করা হয়, যা এই জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে। 

মাটির এসিডিটি দূর ক্ষারকের ব্যবহার: 
- মাটিতে এসিডিটি বৃদ্ধি পেলে উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়, যা প্রশমিত করতে ক্ষারক যেমন- চুন (CaO), মিল্ক অব লাইম (Ca(OH)2 এবং চুনাপাথর (CaCO3) ব্যবহৃত হয়। 
- বাসাবাড়িতে পরিষ্কারক হিসেবে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ব্যবহৃত হয়। 
- টুথপেস্ট ও টুথপাউডার ক্ষারীয় পদার্থ হয়ে মুখে এসিডীয় অবস্থা নিরসন করে দাঁতের ক্ষয় রোধ করে। 
- সাবান যেমন- শক্ত সাবান, তরল সাবান এবং কাপড় কাচার সাবান ক্ষারক হিসেবে তৈরি হয়। আবার শেভিং ফোম এবং নরম সাবানও ক্ষারক দিয়ে তৈরি। 
- গ্যাস্ট্রিক ব্যথা বা এসিডিটির জন্য ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Mg(OH)2) ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Al(OH)3) এন্টাসিড হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৫৮.
শুষ্ক কোষে কোনটি ইলেকট্রন দান করে? 
  1. দস্তার খোল
  2. কার্বন দণ্ড
  3. কয়লার গুড়া
  4. ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
দস্তার খোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দস্তার খোল
ব্যাখ্যা
শুষ্ক কোষ (Dry Cell): 
- শুষ্ক কোষ হল একটি প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি সেল, যা লেকল্যান্স বিদ্যুৎ কোষের একটি ভিন্ন রূপ। 
- এ বিশেষ লেকল্যান্স কোষে বিদ্যুৎ উত্তেজক হিসেবে NH4Cl এর পেস্ট এবং ক্যাথোডের গায়ে H2 গ্যাস দ্বারা পোলারন বা ছদন নিবারক হিসেবে জারকরূপে কঠিন ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2) ব্যবহৃত হয় বলে একে শুষ্ক কোষ বলে। 

গঠন: 
- শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষে জিংক অর্থাৎ দস্তার তৈরি একটি একমুখ বন্ধ ফাঁপা চোঙকে বহিঃপাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় যা ঋণাত্মক পাত বা অ্যানোড হিসেবে কাজ করে। 
- চোঙটিকে একটি কাগজের মোড়কে ঢেকে রাখা হয়। 
- এ চোঙের ঠিক মাঝখানে একটি কার্বন দণ্ড (কোষের নিষ্ক্রিয় তড়িৎদ্বাররূপে) কোষের ধনাত্মক পাত বা ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে। 
- কার্বন দণ্ডের মাথায় একটি পিতলের টুপি থাকে। 
- এ কার্বন দণ্ডটি আলকাতরাযুক্ত কাগজের উপর খাড়াভাবে বসানো থাকে ফলে কার্বন দণ্ড থেকে দস্তার ফাঁপা চোঙ বিচ্ছিন্ন থাকে। 
- এর চারপাশে কাগজের থলিতে MnO2 ও গুঁড়া কার্বনের একটি আঠালো পেস্ট থাকে। 
- কাগজের থলি সচ্ছিদ্র পাত্রের কাজ করে এবং কার্বন গুঁড়া ব্যবহারের ফলে ক্যাথোডের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বেড়ে যায়। 
- দস্তার চোঙ ও কাগজের থলির মাঝে আঠালো স্টার্চের গুঁড়া, NH4Cl ও সামান্য ZnCl2 এর একটি পেস্ট থাকে, যা MnO2 কে ভেজা রাখতে সাহায্য করে। 
- কোষের উপরের মুখে পিচ বা গালা স্তর থাকে। 
- জিঙ্ক (Zn) বা দস্তা ইলেক্ট্রন দান করে এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে
- এ কোষের E.M.F. প্রায় 1.5 Volt. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
২,৪৫৯.
পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কোথায় অবস্থান করে?
  1. ক) পানির উপরিভাগে
  2. খ) পানির মধ্যভাগে
  3. গ) পানির আন্তঃআণবিক স্থানে
  4. ঘ) পানির তলদেশে
সঠিক উত্তর:
গ) পানির আন্তঃআণবিক স্থানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পানির আন্তঃআণবিক স্থানে
ব্যাখ্যা

যদি, জলাধার হিসেবে বলা হয়,
তাহলে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন সবচেয়ে বেশি থাকে পানির উপরিভাগে, এবং গভীরতার সাথে সাথে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমতে থাকে। এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন পানির সকল স্তর তথা উপরিভাগ, মধ্যভাগ এবং তলদেশ সকল স্তরেই থাকে।
না হলে মধ্য এবং তলদেশের জলজ প্রাণীদের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব হতো না। মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। যারা বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না তাদের বেঁচে থাকার জন্য পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ।

যাইহোক, প্রশ্ন যদি এটা দেয়া হতো, 
পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন সবচেয়ে বেশি কোথায় অবস্থান করে?
সঠিক উত্তর: ক) পানির উপরিভাগে; এটা হতো।
-----
তবে, প্রথমত,
প্রশ্নে এটা চাওয়া হয়নি যে, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন "সবচেয়ে বেশি" কোথায় অবস্থান করে।
দ্বিতীয়ত,
গ) পানির আন্তঃআণবিক স্থানে - এই অপশনটি অকারণে দেয়া হয়নি।

পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন, এখানে দ্রবীভূত মানে হচ্ছে পানির মধ্যে অক্সিজেনের অণুগুলো অবস্থান করছে। কীভাবে করছে? আণবিক স্তর বিবেচনায়, পানির আন্তঃআণবিক স্থানে।
The United States Geological Survey অনুসারে, প্রতি মিলিয়ন পানির অণুতে অক্সিজেনের প্রায় দশ অণু পর্যন্ত দ্রবীভূত হতে পারে।

নিচে University of Florida, Institute of Food and Agricultural Sciences থেকে পানির আন্তঃআণবিক স্থানে দ্রবীভূত অক্সিজেন কীভাবে অবস্থান করে তার একটা চিত্র দেয়া হল -

২,৪৬০.
সিলিন্ডারে যে গ্যাস বিক্রি করা হয় তা প্রধানত-
  1. বিউটেন
  2. ইথেন
  3. প্রোপেন
  4. মিথেন
সঠিক উত্তর:
বিউটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিউটেন
ব্যাখ্যা
বিউটেন: 
- সিলিন্ডারে করে বাজারে যে গ্যাস বিক্রি করা হয় তার মূল উপাদান হলো বিউটেন, যা সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে। 
- কিন্তু উচ্চচাপে তরল অবস্থায় পরিবর্তিত করা হয় যা উচ্চচাপ যুক্ত আধারে সংরক্ষণ ব্যবহার ও স্থানান্তরের জন্য সুবিধাজনক। 
- বিউটেন একটি চার কার্বন বিশিষ্ট হাইড্রোকার্বন। 
- কক্ষতাপমাত্রায় বিউটেন একটি গ্যাসীয় পদার্থ। 
- এলপিজি মূলত বিউটেন ও প্রোপেন এর সমন্বয়ে গঠিত হয়। 
 - বিউটেনের রাসায়নিক সংকেত C4H10. 
 - বিউটেনের দুটি আইসোমার বা সমাণু আছে। 
যথা- n-বিউটেন এবং আইসো বিউটেন। 
- আইসো বিউটেনের আরেকটি নাম মিথাইল প্রোপেন, এটি মূলত জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এলপিজি মূলত একটি আমদানিনির্ভর পণ্য, এটি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। 
 
উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)।
২,৪৬১.
ফল পাকানোর জন্য দায়ী-
  1. ইথিলিন
  2. মিথিলিন
  3. এস্টার
  4. জিবেরেলিন
সঠিক উত্তর:
ইথিলিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথিলিন
ব্যাখ্যা
• ইথিলিন (C₂H₄):
- ইথিলিন (C₂H₄) একটি উদ্ভিদের হরমোন, যা ফল পাকানোর জন্য প্রধানত দায়ী।
- এটি একটি গ্যাসীয় উদ্ভিদ হরমোন, যা স্বাভাবিকভাবে ফল, ফুল ও অন্যান্য উদ্ভিদকোষ উৎপন্ন করে।
- ইথিলিন ফলের কোষে কিছু এনজাইম সক্রিয় করে ফক পাকতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে,
- মিথিলিন (Methyline) – এটি একটি রাসায়নিক যৌগ, যা ফল পাকানোর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
- এস্টার (Ester) – এটি মূলত সুগন্ধি যৌগ, যা ফলের সুগন্ধ বাড়ায়, তবে পাকানোর কাজে সরাসরি ভূমিকা রাখে না।
- জিবেরেলিন (Gibberellin) – এটি গাছের বৃদ্ধি ও অঙ্কুরোদগমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে ফল পাকানোর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,৪৬২.
মৌলগুলোর মধ্যে কোনটি সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল ধাতু?
  1. লিথিয়াম (Li)
  2. সোডিয়াম (Na)
  3. ক্যালসিয়াম (Ca)
  4. ম্যাগনেসিয়াম (Mg)
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম (Na)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম (Na)
ব্যাখ্যা

• ধাতুর প্রতিক্রিয়াশীলতা: ধাতুর প্রতিক্রিয়াশীলতা নির্ভর করে ধাতুটি কত সহজে ইলেকট্রন হারিয়ে ধনায়ন (cation) তৈরি করতে পারে তার উপর। অর্থাৎ, যে ধাতুটি দ্রুত ইলেকট্রন হারাতে পারে, সেটিই বেশি প্রতিক্রিয়াশীল।

- লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K) ইত্যাদি ধাতু গ্রুপ-১ এ অন্তর্ভুক্ত, যাদের প্রতিক্রিয়াশীলতা অত্যন্ত বেশি।
- এদের মধ্যে প্রতিক্রিয়াশীলতা নিচের দিকে বাড়ে, অর্থাৎ Li < Na < K < Rb < Cs 

• সোডিয়াম (Na):
- এটি একটি নরম, রূপালী ধাতু যা বাতাসে বা পানির সংস্পর্শে এলে দ্রুত বিক্রিয়া করে।
- পানির সাথে বিক্রিয়া করলে এটি হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে এবং সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) তৈরি করে:
2Na + 2H2O → 2NaOH + H2
- এই বিক্রিয়াটি এতটাই তীব্র যে, সোডিয়ামকে সাধারণত কেরোসিন তেলে সংরক্ষণ করা হয় যেন এটি বাতাস বা আর্দ্রতার সাথে বিক্রিয়া না করে।

সুতরাং, সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল ধাতু হলো সোডিয়াম (Na)।

তথ্যসূত্র: NCTB মধ্যমিক রসায়ন।

২,৪৬৩.
মানবদেহে লেড কত মাত্রার বেশি থাকলে বিষক্রিয়া দেখা দেয়? 
  1. 25 ppb 
  2. 50 ppb
  3. 75 ppb
  4. 85 ppb
সঠিক উত্তর:
50 ppb
উত্তর
সঠিক উত্তর:
50 ppb
ব্যাখ্যা

লেড (pb)-এর ব্যবহার:
- লেড-এসিড স্টোরেজ ব্যাটারির ইলেকট্রোড তৈরিতে লেড পারঅক্সাইড (PbO2) ব্যবহৃত হয়। পরিত্যক্ত স্টোরেজ ব্যাটারির PbO2 মাটিতে ও সারফেস ওয়াটারে Pb2+ আয়নরূপে মিশে থাকে। 
- কয়লার দহনকালে কয়লার মধ্যস্থ লেড যৌগ থেকে লেড বাষ্পরূপে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া হার্বিসাইড লেড আর্সেনেট যুক্ত পাউডার এবং স্প্রে থেকেও লেড বাতাসে সংক্রমিত হয়। পরে অধঃক্ষেপরূপে বাতাস থেকে এসব লেড যৌগ ও লেড কণা মাটিতে পুকুর ও জলাভূমিতে মিশে থাকে। 
- মাটি ও পানি থেকে লেড (II) আয়নরূপে উদ্ভিদ দেহে প্রবেশ করে। পরে উদ্ভিদ থেকে গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগির দেহে চর্বিতে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
- পেট্রোল ইঞ্জিনে ব্যবহৃত জ্বালানির অকটেন নাম্বার বৃদ্ধির জন্য এখনও টেট্রাঅ্যালকাইল লেড (PbR4) ব্যবহৃত হয়। 
- মোটর ইঞ্জিনে জ্বালানির দহনে সৃষ্ট বর্জ্য গ্যাসে লেড বাষ্প লেড অক্সাইডে পরিণত হয়ে মাটিতে অধঃক্ষিপ্ত হয়। এই উভয় উৎসের Pb2+ আয়ন মাটিসহ পুকুর, নদী ও হ্রদের পানিতে মিশে থাকে। 
 
খাদ্য শৃঙ্খলে Pb-এর প্রবেশ পথ: 
- মাটি থেকে উদ্ভিদে এবং উদ্ভিদ থেকে গরু, ছাগল ও পোল্ট্রির হাঁস-মুরগির দেহে তিন ধাপে সঞ্চিত হয়।
- এ সব প্রাণীর মাংস খাদ্যরূপে তৃতীয় স্তরের খাদক মানুষ গ্রহণ করলে মানুষের দেহে লেডের বিষক্রিয়া ঘটায়।
- আবার পুকুর, নদী ও হ্রদের পানি লেড দ্বারা দূষিত হলে ঐ লেড প্রথমে প্লাঙ্কটনে এর পরে মাছ ও পাখির দেহে সঞ্চিত হয়। 
- সবশেষে ঐ মাছ ও পাখির মাংস লেড দূষিত হওয়ায় তা খাদ্য শৃঙ্খলের তৃতীয় পর্যায়ভুক্ত খাদক মানুষের দেহে লেডের বিষক্রিয়া ঘটায়। 
 
লেড (pb)-এর বিষক্রিয়ার প্রভাব: 
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর রিপোর্ট মতে, মানবদেহে লেডের পরিমাণ 50 ppb এর বেশি হলে লেডের বিষক্রিয়া দেখা দেয়। 
- লেডের বিষক্রিয়ায় দাঁতের মাড়ি নীলাভ হয়। 
- এছাড়া লেড হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে বাঁধা দেয়, ফলে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 
- লেড দূষণের ফলে গর্ভবতী মহিলা মৃত সন্তান প্রসব করেন। 
- সাত বছরের কম বয়সের শিশুর লেড বিষাক্ততায় মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়; শিশুর বুদ্ধিবৃত্তি বা IQ হ্রাস পায়। 
 
উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (ড. হাজারী ও নাগ)।

২,৪৬৪.
পারমাণাবিক বোমা তৈরি হয় কি ধাতু দিয়ে?
  1. ক) রেডিয়াম
  2. খ) প্লুটোনিয়াম
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) ক্যালসিয়মি
সঠিক উত্তর:
খ) প্লুটোনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্লুটোনিয়াম
ব্যাখ্যা
পারমাণাবিক বোমা তৈরি হয় ইউরেনিয়াম-235 বা প্লুটোনিয়াম-239 ধাতু দিয়ে। বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙ্গে বেরিয়াম এবং ক্রিপ্টনে পরিণত হয়।
Verified From: Britannica Encyclopaedia.
২,৪৬৫.
তাপ প্রয়োগে তরলকে গ্যাসে পরিণত করবার প্রক্রিয়াটির নাম কী?
  1. ক) গলন
  2. খ) স্ফুটন
  3. গ) বাষ্পীভবন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) স্ফুটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্ফুটন
ব্যাখ্যা
তাপ প্রয়োগে কোন তরলের তাপমাত্রা বাড়িয়ে কোন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় দ্রুত বাষ্পে পরিণত করার পদ্ধতিকে স্ফুটন বলা হয়।

উদাহরণ : পানিতে তাপ প্রয়োগ করলে এর তাপমাত্রা বাড়ে। তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে 100°C মানে পৌঁছালে পানি ফুটতে শুরু করে। এ অবস্থায় তাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে পানি দ্রুত বাষ্পে পরিণত হয়।
 
তাপ প্রয়োগ করলে কঠিন বস্তু যখন তরলে পরিণত হয় তখন এই প্রক্রিয়াকে গলন বলে। অর্থাৎ তাপমাত্রা স্থির রেখে পদার্থের কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় পরিণত হওয়াকে গলন বলে। 

সূত্র: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৬৬.
কোনটি ভিনেগার? 
  1. 6-10% CH3-COOH
  2. 6-10% HCOOH
  3. 6-10% C6H5COOH
  4. 6-10% C2H5COOH
সঠিক উত্তর:
6-10% CH3-COOH
উত্তর
সঠিক উত্তর:
6-10% CH3-COOH
ব্যাখ্যা
ভিনেগার
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়। 
- ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর 6-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
- এটি বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। 
- এটি বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে একে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমিয়ে দেয়। 
- তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
- তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
১. মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
২. যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
৩. ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
৪. পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
৫. দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৬৭.
সাপের বিষে কী থাকে?
  1. ক) জিঙ্ক সালফাইড
  2. খ) কপার সালফাইড
  3. গ) লেড মনোফাইড
  4. ঘ) ফ্লোরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
ক) জিঙ্ক সালফাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জিঙ্ক সালফাইড
ব্যাখ্যা
সাপের বিষে জিঙ্ক সালফাইড পাওয়া যায়। এই জিঙ্ক সালফাইডের উপস্থিতির জন্যই ব্যাথা হয়। তবে সাপভেদে বিভিন্ন নিউরোটক্সিনের উপস্থিতির কারণে বিষের প্রভাবে তারতম্য ঘটে। জিঙ্ক সালফাইড আলোকোজ্জ্বল আলোকচিত্রের কাজেও ব্যবহার করা যায়।
Source: WHO, NatGEO, britannica
২,৪৬৮.
নিচের কোনটি অ্যালকেলি মেটাল (Alkali Metals)?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. সোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
• অ্যালকেলি মেটাল (Alkali Metals) বা ক্ষারধাতু:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ ১ (Group 1) এর মৌলসমূহকে অ্যালকেলি মেটাল (Alkali Metals) বলে।
- এরা অত্যন্ত সক্রিয় ধাতু এবং এদের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
এই গ্রুপের ধাতুগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- লিথিয়াম (Li), 
- সোডিয়াম (Na), 
- পটাসিয়াম (K), 
- রুবিডিয়াম (Rb), 
- সিজিয়াম (Cs), 
- ফ্রানসিয়াম (Fr), 

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৪৬৯.
প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমান কত?
  1. ক) ৯০%
  2. খ) ৮৫%
  3. গ) ৮৯%
  4. ঘ) ৮০
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮০
ব্যাখ্যা

- প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমান ৮০%।

প্রাকৃতিক গ্যাস:ঃ
- প্রাকৃতিক গ্যাসে সবচেয়ে পরিমানে বেশি থাকে মিথেন।
- প্রাকৃতিক গ্যাসে ইথেন ৭%।
- প্রাকৃতিক গ্যাসে প্রোপেন ৬%।
- প্রাকৃতিক গ্যাসে বিউটেন ৪%।
- প্রাকৃতিক গ্যাসে পেন্টেন  ৩%।

তথ্যসূত্র -রসায়ন,নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৭০.
ভিনেগারের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. HCl
  2. HNO3
  3. CH3COOH
  4. H2SO4
সঠিক উত্তর:
CH3COOH
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CH3COOH
ব্যাখ্যা

• CH3COOH — ভিনেগার মূলত ৫–৬% ইথানয়িক অ্যাসিড (Acetic acid) এর জলীয় দ্রবণ।
 
• অ্যাসিডের ধারণা ও শ্রেণিবিভাগ:
- যেসব রাসায়নিক পদার্থ পানিতে আয়নিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) উৎপন্ন করে, তাদের অ্যাসিড বলে।
- উদাহরণ: HCl → H+ + Cl-, CH3COOH → CH3COO- + H+.
- স্বাদে টক এবং নীল লিটমাসকে লাল করে।

• জৈব অ্যাসিড:
- ফলমূল বা উদ্ভিজ্জ উৎসে পাওয়া যায়।
- অণুতে সাধারণত কার্বক্সিল মূলক (-COOH) উপস্থিত থাকে।
- সাধারণত দুর্বল প্রকৃতির এবং আংশিকভাবে আয়নিত হয়।
- উদাহরণ: সাইট্রিক অ্যাসিড, টারটারিক অ্যাসিড, ম্যালিক অ্যাসিড, অ্যাসিটিক অ্যাসিড।

• অজৈব বা খনিজ অ্যাসিড:
- খনিজ পদার্থ থেকে প্রস্তুত।
- অধিকাংশই শক্তিশালী এবং সম্পূর্ণ আয়নিত হয়।
- উদাহরণ: হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl), নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3), সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4), ফসফরিক অ্যাসিড (H3PO4)।

• ভিনেগার (Vinegar):
- ৫–৬% ইথানয়িক অ্যাসিড (CH3COOH) এর জলীয় দ্রবণ।
- এটি একটি দুর্বল জৈব অ্যাসিড।
- খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
- ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়া প্রতিরোধ করে খাদ্য পচন রোধ করে।
- মাছ ও মাংস নরম করতেও ব্যবহৃত হয়।

• ভিনেগারের রাসায়নিক ধর্ম:
- CH3COOH + H2O ⇌ CH3COO- + H3O+.
- আংশিক আয়নিত হয়, তাই এটি দুর্বল অ্যাসিড।
- pH মান ৭-এর কম।
 
• অন্যান্য অপশন:
- HCl → শক্তিশালী অজৈব অ্যাসিড, পাকস্থলীতে খাদ্য হজমে সহায়ক।
- HNO3 → শক্তিশালী নাইট্রিক অ্যাসিড, সার ও বিস্ফোরক প্রস্তুতে ব্যবহৃত।
- H2SO4 → শক্তিশালী সালফিউরিক অ্যাসিড, ব্যাটারি ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৭১.
যদি প্রধান শক্তিস্তর n = 3 হয়, তবে M শক্তিস্তরের সর্বাধিক ইলেকট্রন সংখ্যা কত?
  1. 18
  2. 16
  3. 8
  4. 32
সঠিক উত্তর:
18
উত্তর
সঠিক উত্তর:
18
ব্যাখ্যা

পরমাণুর শক্তিস্তরে ইলেকট্রন বিন্যাস: 
- বোরের মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2, যেখানে n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি। 
অতএব এই সূত্রানুসারে- 
• K শক্তিস্তরের জন্য n = 1 অতএব, K শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = 2n2 টি = (2 × 12) টি = 2 টি। 
• L শক্তিস্তরের জন্য n = 2 অতএব, L শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = 2n2 টি = (2 × 22) টি = 8 টি। 
M শক্তিস্তরের জন্য n = 3 অতএব, M শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = 2n2 টি = (2 × 32) টি = 18 টি। 
• N শক্তিস্তরের জন্য n = 4 অতএব, N শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = 2n2 টি = (2 × 42) টি = 32 টি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৭২.
তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে কয় শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা-
১. প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ:
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।

২. সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ:
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে।
- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৭৩.
সবচেয়ে হালকা ধাতু কোনটি?
  1. হিলিয়াম
  2. পারদ
  3. সোডিয়াম
  4. লিথিয়াম
সঠিক উত্তর:
লিথিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিথিয়াম
ব্যাখ্যা

• লিথিয়াম (Li):
- লিথিয়াম (Li) হলো বিশ্বের সবচেয়ে হালকা ধাতু।
- এটি পারমাণবিক সংখ্যা ৩ এবং ঘনত্ব পানির ঘনত্ব এর চেয়েও কম।
- ফলে লিথিয়াম পানিতে ভাসতে পারে।

• লিথিয়ামের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
- এটি পর্যায় সারণির ক্ষারীয় ধাতু (Alkali Metal) গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত।
- এটি খুবই হালকা এবং নরম, ছুরি দিয়ে কাটা যায়।
- এটি খুব বেশি বিক্রিয়াশীল (reactive), বিশেষ করে পানির সাথে তীব্র বিক্রিয়া করে।
- লিথিয়াম ব্যাটারি, ওষুধ (বাইপোলার ডিসঅর্ডার), মহাকাশ প্রযুক্তি, এবং হালকা সংকর ধাতু (alloy) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• কয়েকটি ধাতু সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য:
- পারদ একমাত্র ধাতু যা তরল অবস্থায় থাকে, এটি তাপ কুপরিবাহী, ধাতুর মধ্যে পারদের গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম।
- সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু- পটাসিয়াম (K)।
- সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ধাতু- লোহা।
- উড়োজাহাজ তৈরিতে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু ব্যবহার করা হয়।
- লিথিয়াম, সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম ধাতু পানি আপেক্ষা হালকা।
- লোহা বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে মরিচা (Fe2O3.nH2O) গঠন করে।
- সোডিয়াম ধাতুকে কেরোসিনের নিচে রাখা হয়।
- সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু- প্লাটিনাম।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, রসায়ন এবং ব্রিটানিকা।

২,৪৭৪.
পদার্থের ক্ষয় ঘটায় কোনটি?
  1. সূর্যের আলো
  2. বাতাস ও পানি
  3. শীতল তাপমাত্রা
  4. নিষ্ক্রিয় পদার্থ
সঠিক উত্তর:
বাতাস ও পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতাস ও পানি
ব্যাখ্যা

• পদার্থের ক্ষয়: এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে পদার্থ ধীরে ধীরে তার প্রাকৃতিক অবস্থা, শক্তি বা আকৃতি হারায়, সাধারণত রাসায়নিক বিক্রিয়া বা পরিবেশগত প্রভাবে।

বাতাস ও পানি:
- বাতাসে থাকা অক্সিজেন এবং পানির আর্দ্রতা লোহা বা অন্যান্য ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে।
- এর ফলে ধাতু মরচে ধরে বা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- উদাহরণ: লোহা যখন আর্দ্র পরিবেশে থাকে, তখন লোহায় লাল মরচে গঠিত হয়।

অন্যান্য উপাদান:
- সূর্যের আলো: এটি প্রধানত তাপ ও আলোর প্রভাব ফেলে, কিন্তু সরাসরি ক্ষয় ঘটায় না।
- শীতল তাপমাত্রা: পদার্থকে ঠান্ডা করে, কিন্তু ক্ষয় সৃষ্টি করে না।
- নিষ্ক্রিয় পদার্থ: রাসায়নিকভাবে প্রতিক্রিয়াশীল নয়, তাই ক্ষয় ঘটায় না।

সুতরাং, পদার্থের ক্ষয় ঘটায় মূলত বাতাস ও পানি।

তথ্যসূত্র: NCTB মধ্যমিক রসায়ন।  

২,৪৭৫.
কোনটি চাপের একক? 
  1. ওয়াট
  2. জুল
  3. নিউটন
  4. প্যাসকেল
সঠিক উত্তর:
প্যাসকেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যাসকেল
ব্যাখ্যা
চাপ: 
- চাপ হলো একক ক্ষেত্রফলে কোন বস্তুর তলের ওপর লম্বভাবে প্রযুক্ত সমভাবে বিতরিত বল। 
- পারিপার্শ্বিক চাপের সাপেক্ষে যে চাপ উৎপন্ন হয় তাকে বলা হয় গজ চাপ। 
- চাপের একক হলো প্যাসকেল এবং সংকেত Pa. 

অন্যদিকে, 
- কাজ/শক্তি/তাপের একক - জুল, 
- বল/ওজনের একক - নিউটন এবং 
- বৈদ্যুতিক ক্ষমতার একক - ওয়াট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি।
২,৪৭৬.
হাইড্রোজেনের প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন স্থায়ী আইসোটোপ কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

হাইড্রোজেনের প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন স্থায়ী আইসোটোপ সংখ্যা ৩টি। 

স্থায়ী আইসোটোপ
- স্থায়ী আইসোটোপ তিনটি যা প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। এরা হল হাইড্রোজেন/প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম।
- যে সব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, সে সব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- আইসোটোপসমূহের মধ্যে রাসায়নিক ধর্মের কোন পার্থক্য দেখা যায় না।
- হাইড্রোজেনের আইসোটোপ তিনটিতেই হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা 1।
- প্রথমটির ভর সংখ্যা 1, দ্বিতীয়টির 2 এবং তৃতীয়টির 3।
- প্রথম আইসোটোপে কোন নিউট্রন নেই, দ্বিতীয়টিতে ১টি নিউট্রন এবং তৃতীয়টিতে ২টি নিউট্রন আছে।
- প্রকৃতিতে সকল আইসোটোপের পরিমাণ সমান থাকে না। যেমন, এক লক্ষ হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে হাইড্রোজেনের পরিমাণ 99985 টি, ডিউটেরিয়াম পরমাণুর সংখ্যা 15টি এবং ট্রিটিয়ামের সংখ্যা অতি নগণ্য।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৭৭.
মুদ্রা ধাতু বলতে কোন গ্রুপের মৌলগুলোকে বোঝায়?
  1. গ্রুপ-২ 
  2. গ্রুপ-১১
  3. গ্রুপ-১৭ 
  4. গ্রুপ-১৮
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ-১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ-১১
ব্যাখ্যা

মুদ্রা ধাতু বলতে ১১ গ্রুপের মৌলগুলোকে বোঝায়। 

মুদ্রা ধাতু (Coin Metals)
- গ্রুপ-11 এর 4টি মৌল হলো কপার, সিলভার, গোল্ড এবং রন্টজেনিয়াম।
- প্রথম দুটি মৌল কালের জন্য মুদ্রা তৈরি ও ব্যবসায় ব্যবহৃত হতো।

মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals)
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে বেরিলিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, স্ট্রনসিয়াম, বেরিয়াম এবং রেডিয়াম মৌলগুলো রয়েছে।
- এই মৌলগুলো মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায় এবং ক্ষার তৈরি করে।

হ্যালোজেন গ্রুপ (Halogen)
- গ্রুপ-17 এর 6টি মৌল হলো ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (As) এবং টেনেসিন (Ts)।
- এই মৌলগুলোকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠন করে, যেমন F + Na → NaF এবং Cl + Na → NaCl।
- হ্যালোজেন মৌল নিজেই ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু গঠন করে, যেমন Cl₂, I₂ ইত্যাদি।

নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases)
- পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌল হলো হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।
- এই মৌলগুলোর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে ইলেকট্রন পূর্ণ থাকে, তাই এরা যৌগ গঠন করতে চায় না।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় থাকে।
- সাধারণ তাপমাত্রায় এরা গ্যাস আকারে থাকে।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

২,৪৭৮.
বায়োগ্যাসের প্রধান উপাধান কোনটি?
  1. ইথেন
  2. প্রোপেন
  3. মিথেন
  4. বিউটেন
সঠিক উত্তর:
মিথেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথেন
ব্যাখ্যা
- বিকল্প জ্বালানির উৎস হিসাবে বায়োগ্যাস একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
- বিভিন্ন পচনশীল জৈব পদার্থ বা বর্জ্যপদার্থ যেমন গোবর, হাঁস- মুরগীর মলমূত্র, গৃহস্থালীর বর্জ্য ইত্যাদি বাতাসের অনুপস্থিতিতে পচনের ফলে যে গ্যাস তৈরী হয় তাকে বায়োগ্যাস বলে।
- এ জাতীয় গ্যাসে অধিকাংশ পরিমাণই থাকে মিথেন।

উৎসঃ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়।
২,৪৭৯.
সাধারণ স্ট্রোরেজ ব্যাটারিতে সিসার ইলেকট্রোডের সঙ্গে যে তরলটি ব্যবহৃত হয় তা হলো-
  1. নাইট্রিক এসিড
  2. সালফিউরিক এসিড
  3. এমোনিয়াম ক্লোরাইড
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
- সৌর প্যানেলে তৈরি সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) ব্যবহার করা হয়।
- বাসাবাড়িতে আইপিএস (IPS) চালানোর জন্য অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄)।
- সাধারণ স্টোরেজ ব্যাটারিতে সিসার ইলেকট্রোডের সঙ্গে যে তরলটি পাওয়া যায় তা হলো সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄)।
- ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলো অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। সার হিসেবে আমরা যেগুলো ব্যবহার করি তার মধ্যে অন্যতম হলো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH₄NO₃), অ্যামোনিয়াম সালফেট [(NH₄)2SO₄] ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট [(NH₄)3PO₄]। আর সার কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড (HNO₃), সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) এবং ফসফরিক এসিড (H₃PO₄) ব্যবহার করে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৮০.
কোন প্রক্রিয়ায় হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. শ্বসন
  2. অভিস্রবণ
  3. ব্যাপন
  4. প্রস্বেদন
সঠিক উত্তর:
অভিস্রবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিস্রবণ
ব্যাখ্যা
অভিস্রবণ:

- অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়।
- দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পাশাপাশি পৃথক থাকলে দ্রাবক অণুর কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে পর্দা অতিক্রম করে প্রবেশ করার প্রক্রিয়াকে অভিস্রবণ বলে।
- এ প্রক্রিয়া ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হবে।
- অভিস্রবণ একটি ভৌত প্রক্রিয়া, কিন্তু উদ্ভিদের ক্ষেত্রে প্রোটোপ্লাজমের নিয়ন্ত্রণে ঘটে বলে এটি একটি জৈব প্রক্রিয়া।
- অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ মাটি হতে পানি শোষণ করে।
- অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের পানি শোষণ বুঝতে হলে, অভিস্রবণ প্রক্রিয়াটি ভালোভাবে জানা প্রয়োজন।
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিসমিস ফুলে ওঠে।

তথ্যসূত্র - উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৮১.
পটাসিয়াম মৌলটির প্রতীক হল-
  1. ক) Pt
  2. খ) Pa
  3. গ) K
  4. ঘ) Po
সঠিক উত্তর:
গ) K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) K
ব্যাখ্যা

প্লাটিনামের রাসায়নিক সংকেত Pt
প্রোটোএকটিনিয়ামের রাসায়নিক সংকেত Pa
পোলোনিয়ামের রাসায়নিক সংকেত Po
পটাশিয়ামের রাসায়নিক সংকেত K 

Source: pubchem.ncbi.nlm.nih.gov

২,৪৮২.
কোনটি সাবান শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়?
  1. ক) ফ্যাট
  2. খ) NaOH
  3. গ) Ca(OH)2
  4. ঘ) গ্লিসারিন
সঠিক উত্তর:
গ) Ca(OH)2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Ca(OH)2
ব্যাখ্যা
•রোমানরা পশুর চর্বি, চামড়া এবং হাড় ইত্যাদির ছাইয়ের সাথে পানি ফুটিয়ে সাবান তৈরি করত।
• প্রাচীন কালে গরু, মহিষ ও উট ইত্যাদি পশুর চর্বি থেকে মিশরীয়রা সাবান তৈরি করত।
• পরবর্তীতে মধ্যযুগে পশুর চর্বির সাথে কস্টিক সোডাকে উত্তপ্ত করে সাবান তৈরির কৌশল আবিষ্কৃত হয়।
• ১৮৯০ সালে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সাবান উৎপাদন শুরু হয়।
• এই সময় সাবান তৈরির উপাদান কস্টিক সোডার উৎপাদনও ব্যাপকভাবে শুরু হয়।
• উদ্ভিদ বা প্রাণীজ তেল বা চর্বিকে NaOH বা KOH দ্বারা আর্দ্রবিশ্লেষণ করে সাবান তৈরি করা হয়। সাবান তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলা হয়।




উৎস: রসায়ন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৪৮৩.
আয়রনের আকরিক কোনটি? 
  1. লিমোনাইট
  2. ডলোমাইট
  3. ক্রায়োলাইট
  4. চুনাপাথর
সঠিক উত্তর:
লিমোনাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিমোনাইট
ব্যাখ্যা
আকরিক: 
- অধিকাংশ ধাতু প্রকৃতিতে ধাতব অক্সাইড ও ধাতব সালফাইড আকরিকরূপে থাকে। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৬ এর মৌলসমূহকে (যেমন O, S, Se, Te ইত্যাদিকে) আকরিক উৎপন্নকারী মৌল বা চ্যালকোজেনস (chalcogens) বলা হয়। 

ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৮৪.
জৈব যৌগের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. কার্বন
  3. লোহা
  4. সোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন
ব্যাখ্যা
• জৈব যৌগ:
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।'
যেমন:- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি।

কার্বনের ক্যাটেনেশন ধর্মের কারণে এটি জৈব যৌগের প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

• জৈব যৌগের বৈশিষ্ট্য:
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার প্রভৃতি মৌল যুক্ত থাকে।  
- প্রধানত সমযোজী বন্ধন দ্বারা গঠিত হয়। 
- নিম্ন গলনাঙ্ক ও নিম্ন স্ফুটনাংক বিশিষ্ট হয়।
- জৈব যৌগ পোলার দ্রাবক যেমন পানিতে অদ্রবণীয়, কিন্তু জৈব দ্রাবক যেমন, ইথার ও বেনজিনে দ্রবণীয়। তবে হাইড্রক্সিল মূলক যুক্ত যৌগ (চিনি, অ্যালকোহল) পানিতে দ্রবণীয়।
-জৈব যৌগের দহনের পর কোনো অবশেষ থাকে না। 
-জৈব যৌগ গলিত অবস্থায় বা দ্রবণে আয়নিত হয় না বলে তড়িৎ বিশ্লেষ্য নয়। অর্থাৎ বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ অপরিবাহী।
-জৈব বিক্রিয়ার কৌশল জটিল ও মন্থর গতির হয়।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৮৫.
স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে আয়তন বিকৃতি ও আয়তন পীড়নের অনুপাতকে কী বলে?
  1. সংনম্যতা
  2. ইয়ং গুণাঙ্ক
  3. দৃড়তার গুণাঙ্ক
  4. পয়সনের অনুপাত
সঠিক উত্তর:
সংনম্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংনম্যতা
ব্যাখ্যা
আয়তন গুণাঙ্ক: 
- স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে বস্তুর আয়তন পীড়ন ও আয়তন বিকৃতির অনুপাত একটি ধ্রুব সংখ্যা। এ ধ্রুব সংখ্যাকে বস্তুর উপাদানের আয়তন গুণাঙ্ক বলে। 
- আয়তন গুণাঙ্ককে B দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
অর্থাৎ, আয়তন গুণাঙ্ক, B = আয়তন পীড়ন/আয়তন বিকৃতি। 
- কঠিন, তরল ও গ্যাস সবারই আয়তন থাকায় আয়তন গুণাঙ্ক পদার্থের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। 

সংনম্যতা: 
- স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে আয়তন বিকৃতি ও আয়তন পীড়নের অনুপাততে সংনম্যতা বলে। 
∴ সংনম্যতা =  আয়তন বিকৃতি/আয়তন পীড়ন = 1/(আয়তন পীড়ন/আয়তন বিকৃতি) = 1/আয়তন গুণাঙ্ক = 1/B. 
অর্থাৎ, সংনম্যতা হচ্ছে আয়তন গুণাঙ্কের বিপরীত রাশি। 
- আয়তন গুণাঙ্ককে তাই কখনো কখনো অসংনম্যতা বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
২,৪৮৬.
প্রাথমিক তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নয় কোনটি?
  1. ক) লেকল্যান্স কোষ
  2. খ) শুষ্ক কোষ
  3. গ) ড্যানিয়েল কোষ
  4. ঘ) নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
১. প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষঃ যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।
২. সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষঃ যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

২,৪৮৭.
কাগজের প্রধান রাসায়নিক উপাদান -
  1. ক) লিগনিন
  2. খ) সেলুলোজ
  3. গ) রেজিন
  4. ঘ) হেমি সেলুলোজ
সঠিক উত্তর:
খ) সেলুলোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেলুলোজ
ব্যাখ্যা
সেলুলোজের ব্যবহার:
- সেলুলোজ কাগজ ও বস্ত্র শিল্পের প্রধান উপাদান,
- একে অ্যাসিটেট ফটোগ্রাফিক ফিল্মে ব্যবহৃত হয়,
- একে নাইট্রেট বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়,
- আসবাবপত্র ও নির্মাণ সামগ্রী তৈরিতে যান্ত্রিক সাহায্য প্রদানকারী প্রধান উপাদান সেলুলোজ,
- কাঠখেকো কীটপতঙ্গের পুষ্টিনালিতে বসবাসকারী এক ধরনের পরজীবী সেলুলোজ নামক উৎসেচক নিঃসৃত করে কাঠ হজমে সাহায্য করে ।

উৎস : উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৮৮.
সোডিয়াম ক্লোরাইড এর গলনাঙ্ক কত?
  1. ক) 801 ডিগ্রী সেলসিয়াস
  2. খ) 802 ডিগ্রী সেলসিয়াস
  3. গ) 800 ডিগ্রী সেলসিয়াস
  4. ঘ) 803 ডিগ্রি সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
ক) 801 ডিগ্রী সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 801 ডিগ্রী সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে আরম্ভ করে সেই তাপমাত্রা কে গলনাংক বলে। 801 ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সোডিয়াম ক্লোরাইড গলতে শুরু করে।
২,৪৮৯.
কোন দ্রবণের pH মান 5 হলে তার প্রকৃতি কী হবে?
  1. দ্রবণটি নিরপেক্ষ এবং লিটমাসে কোনো পরিবর্তন ঘটাবে না
  2. দ্রবণটি ক্ষারীয় এবং লাল লিটমাসকে নীল করবে
  3. দ্রবণটি অম্লীয় এবং নীল লিটমাসকে লাল করবে
  4. দ্রবণটি তীব্র ক্ষারীয় এবং ত্বকে ক্ষতি করবে
সঠিক উত্তর:
দ্রবণটি অম্লীয় এবং নীল লিটমাসকে লাল করবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রবণটি অম্লীয় এবং নীল লিটমাসকে লাল করবে
ব্যাখ্যা

• দ্রবণটি অম্লীয় এবং নীল লিটমাসকে লাল করবে — কারণ pH মান ৭-এর কম হলে দ্রবণ অম্লীয় হয় এবং অম্ল নীল লিটমাসকে লাল করে।

• pH ও এর ধারণা:
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল প্রবর্তন করেন।
- pH শব্দের p এসেছে জার্মান শব্দ Potenz থেকে, যার অর্থ ক্ষমতা, এবং H দ্বারা হাইড্রোজেন বোঝায়।
- pH = - log[H+].
- অর্থাৎ, কোনো দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমই হলো pH.

• pH স্কেল:
- pH মান ০ থেকে ১৪-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
- pH < ৭ হলে দ্রবণ অম্লীয়।
- pH = ৭ হলে দ্রবণ নিরপেক্ষ।
- pH > ৭ হলে দ্রবণ ক্ষারীয়।

• বিশুদ্ধ পানির pH:
- ২০°-২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানির pH প্রায় ৭।
- বিশুদ্ধ পানিতে অম্ল যোগ করলে pH কমে যায়।
- বিশুদ্ধ পানিতে ক্ষার যোগ করলে pH বৃদ্ধি পায়।

• pH মিটার:
- দ্রবণের pH নির্ণয়ের জন্য pH মিটার ব্যবহার করা হয়।
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে।

• মানবদেহে pH এর গুরুত্ব:
- স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তের pH প্রায় ৭.৪৫।
- রক্তের pH বেশি পরিবর্তিত হলে মারাত্মক বিপর্যয়, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য হজমের উপযোগী pH প্রায় ২।
- ক্ষুদ্রান্ত্রে উপযোগী pH প্রায় ৮।
- প্রস্রাব মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।

• প্রসাধনী ও ত্বকে pH:
- ত্বকের আদর্শ pH প্রায় ৫.৫।
- ত্বকের pH ৫.৫–৬.৫ এর মধ্যে থাকলে ত্বক ব্যাকটেরিয়া ও অ্যালার্জি প্রতিরোধে সক্ষম হয়।
- নবজাতক শিশুর ত্বকের pH প্রায় ৭-এর কাছাকাছি।
- শ্যাম্পুর pH প্রায় ৫.০–৫.৫ হওয়া উচিত।

• কৃষিক্ষেত্রে pH:
- মাটির pH সাধারণত ৪–৮ এর মধ্যে থাকে।
- pH ৩-এর নিচে হলে গাছ মারা যেতে পারে।
- pH ৯.৫-এর উপরে হলে মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- দ্রবণটি নিরপেক্ষ → pH = ৭ হলে নিরপেক্ষ দ্রবণ হয়।
- দ্রবণটি ক্ষারীয় → pH ৭-এর বেশি হলে ক্ষারীয় প্রকৃতি প্রকাশ করে এবং লাল লিটমাসকে নীল করে।
- তীব্র ক্ষারীয় দ্রবণ → উচ্চ pH মানবিশিষ্ট দ্রবণ ত্বকে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৯০.
pH হলো-
  1. এসিড নির্দেশক
  2. ক্ষারীয় নির্দেশক
  3. নিরপেক্ষ নির্দেশক
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• pH ও এর ব্যবহার:
- ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী সোরেনসেন (Sorensen) pH স্কেল ব্যবহার করেন।
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়।
- pH এর p এসেছে জার্মান শব্দ Potenz থেকে যার অর্থ হলো ক্ষমতা এবং H দ্বারা হাইড্রোজেন বোঝানো হয়েছে।
- অর্থাৎ pH হলো Potenz of hydrogen। pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। অর্থাৎ pH = -log[H+]
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয় এবং দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অ্যাসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি নিরপেক্ষ হয়।
pH মান:

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯১.
লোহায় মরিচা পড়ার কারণ কোনটি?
  1. ক) জারণ
  2. খ) জারণ-বিজারণ
  3. গ) বিয়োজন বিক্রিয়া
  4. ঘ) সংযোজন বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) জারণ-বিজারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জারণ-বিজারণ
ব্যাখ্যা
পদার্থের পরিবর্তন:

- পদার্থের পরিবর্তন  দুই ধরনের। 

১. ভৌত বা অবস্থানগত পরিবর্তন:
যে পরিবর্তনের ফলে শুধু পদার্থের বাহ্যিক আকার বা অবস্থার পরিবর্তন হয় কিন্তু তা কোনো নতুন পদার্থে পরিণত হয় না, তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে। উদাহরণ : পানিকে বরফ ও বাষ্পে পরিণত করা, লোহাকে চুম্বকে পরিণত করা, চিনিকে পানিতে দ্রবীভূত করা।

২. রাসায়নিক পরিবর্তন:
যে পরিবর্তনের জন্য এক বা একাধিক বস্তু প্রত্যেকে তার নিজস্ব সত্তা হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্ম বিশিষ্ট এক বা একাধিক নতুন বস্তুতে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। উদাহরণ : পানি এবং অক্সিজেনের সংযোগে লোহায় মরিচা ধরা, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে পানি তৈরি হওয়া, দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালানো এগুলো রাসায়নিক পরিবর্তন।

- আদ্র বাতাসের সংস্পর্শে বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে লোহার রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় আয়রন অক্সাইডের একধরনের যৌগ। এই যৌগই মরিচা।
- জারণ-বিজারণের ফলে লোহায় মরিচা পড়ে।
- মরিচা সৃষ্টিকে নিম্নরূপ সমীকরণের আকারে দেখানো সম্ভব -
লোহার সামগ্রী + আর্দ্র বাতাস = আয়রন অক্সাইড বা মরিচা

তথ্যসূত্র - রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি ও রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯২.
কোন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন থাকে না?
  1. লিথিয়াম 
  2. হাইড্রোজেন
  3. হিলিয়াম 
  4. কার্বন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।  
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- বিজ্ঞানী চ্যাডউইক ১৯৩২ সালে নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
-  নিউট্রনের ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n. 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g. 
- নিউট্রনের আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৯৩.
নিচের কোনটি পীট কয়লার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. শুষ্ক অবস্থায় অবাধে জ্বলে
  2. কম তাপ উৎপন্ন করে
  3. ভিজা ও নরম
  4. উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে
সঠিক উত্তর:
উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে
ব্যাখ্যা
• পীট কয়লা উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে না।

• পীট কয়লা:

- পীট কয়লা হলো জৈব পদার্থের আংশিক পচন দ্বারা গঠিত স্পঞ্জি উপাদান যা প্রাথমিকভাবে উদ্ভিদ উপাদান।
- পীট কয়লা সবচেয়ে নিম্ন মানের কয়লা যা মাটির ভূগর্ভে থেকে পাওয়া যায়।
- পীট কয়লা ভিজা ও নরম, দহনে খুব কম তাপ উৎপন্ন করে।
- শুষ্ক অবস্থায় এটি অবাধে জ্বলে।
- এতে শনাক্তযোগ্য উদ্ভিজ্জ কণিকা বিদ্যমান থাকলেও মণিক নেই বললেই চলে।

উৎস:
১. রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা।
২,৪৯৪.
রাদারফোর্ড মডেল অনুযায়ী নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রনের মধ্যে কোন বল ভারসাম্য রাখে? 
  1. বিকর্ষণ বল 
  2. গ্রাভিটেশনাল বল 
  3. চুম্বকীয় বল 
  4. কেন্দ্রমুখী বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল 
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রমুখী বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রমুখী বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল 
ব্যাখ্যা

পরমাণু মডেল (Atom Model): 
- ১৮৯৭-১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞানী পরমাণুর উপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাপ্ত তথ্য থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে যে মতবাদ উপস্থাপন করেন, তা পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
যেমন- থমসন পরমাণু মডেল, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল, বোর পরমাণু মডেল ইত্যাদি। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলর প্রস্তাবগুলো হলো- 
• পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও ভারী ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট কেন্দ্র থাকে, যাকে নিউক্লিয়াস বলা হয়। এটি পরমাণুর প্রায় সব ভর বহন করে। 
• নিউক্লিয়াসের চারপাশে ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান থাকে। 
• মডেলটিকে পরমাণুর সৌর মডেল বলা হয়, কারণ এটি সৌরমণ্ডলের মতো সাজানো। 
• নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রনের মধ্যে কেন্দ্রমুখী বৈদ্যুতিক আকর্ষণ ইলেকট্রনের কেন্দ্রমুখী বলের সাথে ভারসাম্য রাখে। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ- 
• ইলেকট্রন ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হওয়ায় একে অপরকে বিকর্ষণ করে, যা মডেল ব্যাখ্যা করতে পারে না। 
• ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্ব অনুযায়ী, ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রন শক্তি বিকিরণ করলে শেষ পর্যন্ত নিউক্লিয়াসে পতিত হওয়া উচিত কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। 
• ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি নির্ধারণ করা যায় না। 
• একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনের অবস্থান ও চলাচল সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা নেই। 
• পরমাণুর বর্ণালী (spectrum) ব্যাখ্যা করা যায় না। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৯৫.
প্লাটিনাম মৌলটির প্রতীক কোনটি?
  1. P
  2. Pb
  3. Pt
  4. Pa
সঠিক উত্তর:
Pt
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Pt
ব্যাখ্যা
• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলের প্রতীক:
- গোল্ডের প্রতীক Au.
- লেড এর প্রতীক Pb.
- প্লাটিনামের প্রতীক Pt.
- প্রোটো একটিনিয়ামের প্রতীক Pa.
- পোলোনিয়ামের প্রতীক Po.
- পটাশিয়ামের প্রতীক K .
- কপারের প্রতীক - Cu.
- সিলভারের প্রতীক- Ag.
- আর্সেনিকের প্রতীক - As .
- আয়রনের প্রতীক - Fe.

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,৪৯৬.
প্রাথমিক কোষের উদাহরণ কোনটি? 
  1. লেড সঞ্চয়ী কোষ 
  2. ড্যানিয়েল কোষ 
  3. নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ 
  4. লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ 
সঠিক উত্তর:
ড্যানিয়েল কোষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড্যানিয়েল কোষ 
ব্যাখ্যা

তড়িৎ রাসায়নিক কোষ: 
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। 
যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ। 

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২,৪৯৭.
স্টার্চ থেকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন অ্যালকোহলের নাম কী?
  1. ইথানল
  2. মিথানল
  3. আইসোপ্রোপানল
  4. মিথাইল অ্যালকোহল
সঠিক উত্তর:
ইথানল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথানল
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে।
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯৮.
1 মোল ইলেকট্রনের চার্জ হলো -
  1. 1 F
  2. 1 C
  3. 1.62 C
  4. 1.60245 × 10-19 C
সঠিক উত্তর:
1 F
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1 F
ব্যাখ্যা
ফ্যারাডে (Faraday): 
- এক মোল পরিমাণ ইলেকট্রনের চার্জকে 96500 কুলম্ব ধরা হয়। 
- মোল পরিমাণ তড়িৎ চার্জকে এক ফ্যারাডে বলা হয়। 
- ফ্যারাডের প্রতীক হলো F. 
- এক ফ্যারাডে = 96500 C তড়িৎ চার্জ। 

ফ্যারাডের সূত্রের সাহয্যে ইলেকট্রনের চার্জ গণনা: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণের সমীকরণ মতে, একযোজী এক মোল ক্যাটায়নকে চার্জ মুক্ত করতে 1 F বিদ্যুৎতের প্রয়োজন হয়। 
- এক মোল ক্যাটায়নের সংখ্যা হলো অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা NA
- একটি ইলেকট্রনের চার্জ = e -
∴ NA × e¯ = 1 ফ্যারাডে = 96500 কুলম্ব (C). 
∴ e - = 96500 C/NA = 96500 C/6.022 x 1023 = 1.60245 × 10-19 C. 
- এভাবে হিসাবকৃত ইলেকট্রনের চার্জের পরিমাণ বিভিন্ন পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত ইলেকট্রনের চার্জের সমান। 
- এ থেকে ফ্যারাডের সূত্রের তাৎপর্য বোঝা যায় এবং প্রমাণিত হয় যে, 1 মোল ইলেকট্রন = 1 ফ্যারাডে (F). 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
২,৪৯৯.
'নিঃসরণ'-এর জন্য কোন শর্ত প্রয়োজন?
  1. আলো 
  2. স্বতঃস্ফূর্ত ছড়িয়ে পড়া
  3. উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চল 
  4. কোনো নির্দিষ্ট ছিদ্রপথ এবং চাপের প্রভাব
সঠিক উত্তর:
কোনো নির্দিষ্ট ছিদ্রপথ এবং চাপের প্রভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনো নির্দিষ্ট ছিদ্রপথ এবং চাপের প্রভাব
ব্যাখ্যা

ব্যাপন (Diffusion): 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাসের বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বত:স্ফূর্ত অনু প্রবেশকে ব্যাপন বলা হয়। 
যেমন- 
• কোনো কক্ষের মধ্যে অথবা এয়ারকন্ডিশনার যুক্ত বাসের মধ্যে চলার সময় বায়ুর গুমোট ভাব ও দুর্গন্ধ তাড়ানোর জন্য এয়ার ফ্রেসনার ছড়িয়ে দেয়া হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
• রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনা-হেনা বা গোলাপ ফুল ফুটলে তার গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
• ছাতিম গাছের ফুলের গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে যার ফলে মন উদাস হয়ে যায়। 
• ঘরের মসা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে যে অ্যারোসল ব্যবহার করা হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 

নিঃসরণ (Effusion): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন- 
• রিক্সার চাকা ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় টিউব থেকে বাতাস বেরিয়ে পড়ার ঘটনাই হচ্ছে নিঃসরণ। 
• পাকা রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে বাস বা ট্রাক চলছে, হঠাৎ করে চাকা ফেটে গিয়ে ভিতরের বায়ু বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাই নিঃসরণ। 
• শহর এলাকায় যে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হয় শ্বে পাইপের কোথাও ছিদ্র হয়ে গেলে তীব্র বেগে গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাই হচ্ছে নিঃসরণ। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৫০০.
রাসায়নিক পদার্থ পরিমাপের একক কোনটি? 
  1. লিটার
  2. মোল
  3. গ্রাম
  4. কিলোগ্রাম
সঠিক উত্তর:
মোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোল
ব্যাখ্যা
মোল: 
- রাসায়নিক পদার্থ পরিমাপের এসআই একক হচ্ছে মোল। 
- কোনো উপাদানের যে পরিমাণের মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক অণু, পরমাণু বা আয়ন থাকে, সেই পরিমাণকে পদার্থের মোল বলে। 
- পদার্থের পারমাণবিক ভর অথবা আণবিক ভরকে গ্রাম এককে প্রকাশ করলে যে সংখ্যা মান পাওয়া যায় তার মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক পরমাণু বা অণু বর্তমান থাকে। 
- অ্যাভোগেড্রোর এ সংখ্যার মান 6.023×1023 । 
- কোনো পদার্থের ১ মোল বলতে সেই পরিমাণ পদার্থকে বুঝায় যার মধ্যে ঐ পদার্থের উপাদান কণিকার সংখ্যা 6.023×1023 । 
- কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ১ মোল অণু বলতে 6.023×1023 টি অণুকে বুঝায়। 
- আবার একইভাবে কোনো মৌলিক পদার্থের ১ মোল পরমাণু বলতে 6.023×1023 টি পরমাণু বুঝায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।