উত্তর
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে শিল্প কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে ETP (Effluent Treatment Plant) বা বর্জ্য পানি নিষ্কাশন কেন্দ্র স্থাপন করা প্রয়োজন হয় মূলত সেই সকল শিল্পে যেখানে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক বা দূষিত পানি উৎপন্ন হয়। বিশেষভাবে ট্যানারি শিল্পে ETP থাকা বাধ্যতামূলক, কারণ চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ক্রোমিয়াম, সলফার এবং অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার হয়, যা সরাসরি পরিবেশে ফেলা হলে মাটি, জল এবং মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি করে। অন্যদিকে, পশু খামার, রেডিমেড গার্মেন্টস বা কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বর্জ্য পানি কম দূষিত বা সহজে পরিচালনাযোগ্য হলেও, কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মান অনুসারে ছোট ETP থাকতে পারে। তাই সর্বাধিক জরুরি এবং আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক ETP হলো ট্যানারি শিল্পে।
• ETP (Effluent Treatment Plant) এর প্রয়োজনীয়তা শিল্প কারখানায়:
- ETP হলো একটি বিশেষ প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শিল্প কারখানার তরল বর্জ্য বা জলকে পরিশোধন করা হয়।
- এটি পরিবেশ দূষণ রোধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- বাংলাদেশে শিল্প কারখানা স্থাপনের সময় কিছু ধরণের শিল্পে ETP স্থাপন বাধ্যতামূলক।
• ট্যানারি শিল্প (Tannery Industry):
- ট্যানারি শিল্পে চামড়া প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রচুর রঞ্জক এবং রাসায়নিক ব্যবহার হয়।
- এই শিল্প থেকে নির্গত বর্জ্যে ভারী ধাতু এবং বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে।
- তাই, ট্যানারি শিল্পে ETP স্থাপন করা বাধ্যতামূলক।
• পশু খামার শিল্প (Animal Farming Industry):
- পশুপালন বা খামার শিল্প থেকে সাধারণত জৈব বর্জ্য উৎপন্ন হয়।
- যদিও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন, এটি ETP বাধ্যতামূলক নয়।
• রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্প (Readymade Garments Industry):
- গার্মেন্টস শিল্পে প্রধানত রঙ এবং রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়, কিন্তু বর্জ্য সাধারণত সহজে পরিশোধনযোগ্য।
- তাই সব ক্ষেত্রে ETP বাধ্যতামূলক নয়।
- টেক্সটাইল ডাইং ফ্যাক্টরিগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিকযুক্ত রঙিন পানি নির্গত হয়, যা শোধন করতে ETP লাগে। তবে রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্পের তুলনায় ট্যানারি শিল্পে ETP স্থাপন করা বেশি প্রয়োজন।
• কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প (Agricultural Processing Industry):
- কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে তরল বর্জ্য সাধারণত কম দূষিত হয়।
- ETP স্থাপন সাধারণত ঐচ্ছিক, নির্দিষ্ট শিল্প ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।
সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ।