বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ২০ / ২৭ · ১,৯০১২,০০০ / ২,৬৯২

১,৯০১.
কোনো বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে- 
  1. স্থির থাকবে
  2. ডুবে যাবে
  3. ভেসে যাবে 
  4. আংশিক ভাসবে
সঠিক উত্তর:
ডুবে যাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডুবে যাবে
ব্যাখ্যা

- যদি কোনো বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হয়, তাহলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে, কারণ বস্তুর ওপর নিচের দিকে ক্রিয়াশীল ওজন (মহাকর্ষ বল) উপরের দিকে ক্রিয়াশীল প্লবতা বল (অপসারিত পানির ওজন) থেকে বেশি হয়, ফলে বস্তুটি ডুবে যায়। 

আর্কিমিডিসের সূত্র: 

- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। 
- বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্বচাপ জনিত বল) W1 নিউটন।  এক্ষেত্রে- 
• W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
• W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
• W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯০২.
শুষ্ক কোষে ক্যাথােড হিসেবে কাজ করে কোনটি?
  1. ক) দস্তার চোঙ
  2. খ) কার্বন দণ্ড
  3. গ) ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) নাইট্রাস অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
খ) কার্বন দণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কার্বন দণ্ড
ব্যাখ্যা
টর্চ লাইট, বিভিন্ন রকম রিমােট কন্ট্রোলার, নানা রকম খেলনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় সেগুলােকে ড্রাইসেল বা শুষ্ক কোষ বলে।
সাধারণ ড্রাইসেলে দস্তার চোঙ ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বা অ্যানােড হিসেবে কাজ করে আর ধাতব টুপি দিয়ে ঢাকা কার্বন দণ্ড ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বা ক্যাথােড হিসেবে কাজ করে।

সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি। 
১,৯০৩.
কোন তড়িৎদ্বারে জারণ (Oxidation) ক্রিয়া ঘটে? 
  1. ধাতব পাতে 
  2. অ্যানোডে
  3. ক্যাথোডে 
  4. ইলেকট্রোলাইটে 
সঠিক উত্তর:
অ্যানোডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানোডে
ব্যাখ্যা
তড়িৎদ্বার: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় বিগলিত অথবা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে দুটি ধাতব পরিবাহী অথবা গ্রাফাইট দন্ড এমনভাবে রেখে দেয়া হয় যেন একটি দিয়ে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে এবং অন্যটি দিয়ে ইলেকট্রন বের হয়ে যায়। 
- এ দুটি ধাতব অথবা গ্রাফাইট পরিবাহীকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎদ্বার তড়িৎ রাসায়নিক কোষের ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে কোষ বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষেত্রে দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যথা- 
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০৪.
নিচের কোনটি সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহন করে? 
  1. নিউট্রন
  2. অণু
  3. পরমাণু
  4. ইলেকট্রন
সঠিক উত্তর:
পরমাণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমাণু
ব্যাখ্যা
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা 'পরমাণু' যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে। 

পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের একটি ক্ষুদ্রতম কণা বা একক। 
২. সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। যেমন—হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি। 
৩. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
৪. বিভিন্ন প্রকার পরমাণুর সংখ্যা সীমিত। 
৫. একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না। 

উৎস: রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯০৫.
পচা ডিম পানিতে ভাসে কেন?
  1. ক) তুলনামূলক ভাবে ঘনত্ব কম
  2. খ) তুলনামূলক ভাবে ঘনত্ব বেশি
  3. গ) তুলনামূলক ভাবে ওজন কম
  4. ঘ) তুলনামূলক ভাবে ওজন বেশি
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) তুলনামূলক ভাবে ঘনত্ব কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তুলনামূলক ভাবে ঘনত্ব কম
ব্যাখ্যা
পচা ডিমের ঘনত্ব পানির ঘনত্বের চেয়েও কম তাই এটি পানিতে ভাসে।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯০৬.
নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে কোন সার প্রস্তুত করা হয়?
  1. মিউরেট অব পটাশ
  2. জৈব সার
  3. টি, এস, পি
  4. ইউরিয়া
সঠিক উত্তর:
ইউরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরিয়া
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া:

- নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে ইউরিয়া সার প্রস্তুত করা হয়।
- ইউরিয়া [(NH2)2C=O]: উদ্ভিদের মৌলিক পুষ্টি উপাদানের মধ্যে নাইট্রোজেন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়।
- মাটিতে ইউরিয়েজ নামক এক প্রকার এনজাইম ইউরিয়াকে ধীরে ধীরে বিয়োজিত করে এ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই অক্সাইডে পরিণত করে।
- উৎপন্ন এ্যামোনিয়া মাটিতে উপস্থিত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে।
- এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড পানিতে আংশিক বিয়োজিত হয়ে ও আয়ন উৎপন্ন করে।
- উদ্ভিদ আয়ন পুষ্টি উপাদান হিসেবে শোষণ করে।

তথ্যসূত্র - রসায়ন-১ম পত্র, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ ঊন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০৭.
নিচের কোনটি ধাতুর বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. নমনীয়তা 
  2. তাপ নিরোধকতা 
  3. ঘাতসহনীয়তা 
  4. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা 
সঠিক উত্তর:
তাপ নিরোধকতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ নিরোধকতা 
ব্যাখ্যা

- ধাতুর বৈশিষ্ট্য নয়- তাপ নিরোধকতা, কারণ ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ সহজে পরিবাহন করতে পারে, তাই তারা তাপ নিরোধক নয়। তাপ নিরোধকতা হলো এমন পদার্থের ধর্ম, যা তাপ প্রবাহে বাধা দেয় যেমন- কাঠ, কাচ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 

ধাতু-অধাতু: 

- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ যেমন-সিলিকন ডাই-অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
• উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
• ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
• ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯০৮.
কোন অ্যালকোহল পানযোগ্য হিসেবে স্বীকৃত? 
  1. ইথানল
  2. মিথানল
  3. মেথিলেটেড স্পিরিট
  4. প্রোপানল
সঠিক উত্তর:
ইথানল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথানল
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহলের শিল্পোৎপাদন: 
মিথানল: 
- মিথানল সম্পৃক্ত মনোহাইড্রিক অ্যালকোহল গোত্রের প্রথম অ্যালকোহল। 
- প্রকৃতিতে মিথানল এস্টার হিসাবে পাওয়া যায়। 
- এক সময়ে কাঠের বিধ্বংসী পাতনের মাধ্যমে এ অ্যালকোহল উৎপাদিত হতো বলে এর আরেক নাম উড স্পিরিট (Wood Spirit) । 

ইথানল: 
- সম্পৃক্ত অ্যালকোহল গোত্রের দ্বিতীয় সদস্য হচ্ছে ইথানল যা অ্যালকোহল হিসাবে সমাধিক পরিচিত। 
- প্রাপ্ত কাচাঁমালের আমদানীর উপর ভিত্তি করে নানা পদ্ধতিতে ইথানল উৎপন্ন করা হয়। 
- ফারমেন্টেশন বা গাঁজন পদ্ধতিতে শ্বেতসার বা চিটাগুড় হতে অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 

ফারমেন্টেশন: 
- জটিল অণুবিশিষ্ট জৈব পদার্থকে এনজাইমের প্রভাবে বিয়োজিত বা আর্দ্র বিশ্লেষিত করে সরল অণুবিশিষ্ট পদার্থে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে ফারমেন্টেশন বা চোলাইকরণ বা গাঁজন বলা হয়। 
যেমন: শ্বেতসার হতে ইথানল উৎপাদন। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানল একমাত্র অ্যালকোহল যা পানীয় হিসেবে পান করা যায়। 
- অধিক পরিমাণ ইথানল পান বিষ ক্রিয়া প্রদর্শন করে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে বা শিল্পে ব্যবহৃত ইথানলকে মানুষের পানের অযোগ্য করার জন্য এতে বিষাক্ত মিথানল (৪%) মিশিয়ে দেয়া হয়। 
- মিথানল মিশ্রিত এ ধরনের রেকটিফাইড স্পিরিটকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। একে ডিনেচারড অ্যালকোহলও (Denatured alcohol) বলা হয়ে থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯০৯.
ড্রাগ শনাক্তকরণে তড়িৎচুম্বকীয় কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
  1. অবলোহিত রশ্মি
  2. অতিবেগুনি রশ্মি
  3. রঞ্জন রশ্মি
  4. গামা রশ্মি
সঠিক উত্তর:
অতিবেগুনি রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিবেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা

তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ: 
- যেসব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয় তাদের একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়। 
- দৃশ্যমান আলো হলো বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র। 
- এ সব তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণকে একত্রে তড়িৎ চুম্বকীয় স্পেকট্রাম ( spectrum) বা বর্ণালি বলা হয়। 

তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালির অঞ্চলসমূহ: 
- তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ রশ্মিসমূহকে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম বৃদ্ধি অনুসারে প্রধান সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
যথা- 
১. গামা (γ) রশ্মি অঞ্চল: 
- গামা রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.0005-0.15 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় এ তরঙ্গ অধিক শক্তিসম্পন্ন। 
- গামা রশ্মি জৈব যৌগের বিশ্লেষণে বর্ণালিমিতিক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। 

২. রঞ্জন রশ্মি (X-ray) অঞ্চল: 
- রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.01-10 nm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার ব্যাপক। 
যেমন- এক্সরে ক্রিস্টালোগ্রাফি, এক্সরে নিঃসরণ পদ্ধতিতে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

৩. অতিবেগুনি রশ্মি (UV) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10–380 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চলের বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। 
যেমন, 300-320 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV-রশ্মি চিকিৎসাক্ষেত্রে লাইট থেরাপি, 270–360 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি প্রোটিন বিশ্লেষণের কাজে, 200-400 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রশ্মি ড্রাগ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়। 

৪. দৃশ্যমান (Visible) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলটি 400-700 nm পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ অঞ্চল VIBGYOR অঞ্চলরূপে চিহ্নিত। 
- পরমাণুর সর্ববহিঃস্তরের ইলেকট্রন এ অঞ্চলের রশ্মি শোষণ বা বিকিরণ করে বর্ণালি সৃষ্টি করে। 

৫. অবলোহিত অঞ্চল: 
- অবলোহিত অঞ্চলটি Near-IR; Middle-IR এবং Far-IR এ তিনটি অংশে বিভক্ত। 
- জৈব যৌগের গঠন নির্ণয়ে এ রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- এদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর নিম্নরূপ: 
• Near-IR অঞ্চল: 0.8-2.5 µm, 
• Middle-IR অঞ্চল: 2.5-25 µm, 
• Far-IR অঞ্চল: 25-1000 µm (1µm = 1×10-6 m).  

৬. মাইক্রোওয়েভস (Microwaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 µm হতে 1.0 cm পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 

৭. রেডিও ওয়েভস (Radiowaves) অঞ্চল: 
- এ অঞ্চলের রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 100 cm হতে 5 m পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। 
- রেডিও এন্টেনাতে উচ্চ কম্পাঙ্কের পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ (AC) প্রবাহ দ্বারা এসব তরঙ্গের সৃষ্টি করা হয়। 

উৎস:
১. রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ।

২. রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯১০.
কোনটি জৈব যৌগের উদাহরণ?
  1. ক) Na2CO3
  2. খ) NaOH
  3. গ) CH3OH
  4. ঘ) CO2
সঠিক উত্তর:
গ) CH3OH
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) CH3OH
ব্যাখ্যা

উৎস বা প্রস্তুত পদ্ধতি যাই হোক না কেন সকল জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু বিদ্যমান। তাই বলা যায় জৈব যৌগ মূলত কার্বন যৌগ।
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে এক বা একাধিক বিভিন্ন মৌল যেমন- H, O, N, S, P, X ইত্যাদি যুক্ত থাকে।
- আবার কার্বনের দ্বারা গঠিত সকল যৌগই জৈব যৌগ নয়। যেমন- CO2, CO, Na2CO3 ইত্যাদি।
বর্তমানে জৈব যৌগকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় ‘কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।’
যেমন:- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি।

সূত্রঃ রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯১১.
বৈদ্যুতিক পাখা ধীরে ধীরে ঘুরলে বিদ্যুৎ খরচ -
  1. ক) কম হয়
  2. খ) বেশি হয়
  3. গ) একই হয়
  4. ঘ) খুব কম হয়
সঠিক উত্তর:
গ) একই হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) একই হয়
ব্যাখ্যা
এই প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার জন্য প্রথমেই আমরা বৈদ্যুতিক পাখার কার্যপ্রণালী সম্পর্কে কিছুটা জেনে নিবো।

প্রথমেই দেখা যাক বৈদ্যুতিক পাখা কীভাবে ঘোরে:

একটি পাখায় একটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং কয়েকটি ধাতব ব্লেড (সাধারণত ৩টি), সংযুক্ত থাকে। যখন আমরা একটি পাখার সুইচ অন করি, তখন ভোল্টেজের পার্থক্যের জন্য মোটরটির মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ যায় এবং তার ফলাফল হিসাবেই পাখাটি ঘুরতে থাকে। নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটর মোটরের ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং মোটরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমাণ কমিয়ে বা বাড়িয়ে দেয়।

সুতরাং, একটি পাখার ভোল্টেজর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণরূপে তার নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটরের ওপর নির্ভরশীল। আর একটি পাখার ভোল্টেজের পরিমাণ তার ঘূর্ণন গতির সমানুপাতী, অর্থাৎ ভোল্টেজ যত বাড়বে, পাখার গতিও ততটাই বাড়বে।

এখন, বিভিন্ন রেগুলেটর ও তাদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা যাক:

এই মুহূর্তে, বাজারে মোটামুটি দুই ধরনের রেগুলেটর পাওয়া যায়—

১) ইলেক্ট্রিক রেগুলেটর (Electric Regulator): এই রেগুলেটরগুলিতে পাখার ভোল্টেজ হ্রাস করার জন্য রোধ বসানো থাকে। যখন পাখার ভোল্টেজ কমানো হয় তখন রোধটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আর বিদ্যুৎ সরবরাহ কমার কারণে পাখার গতিও কমে যায়। কিন্তু এর ফলে পাখার ভোল্টেজ তথা গতি কমিয়ে যে বিদ্যুৎ বাঁঁচানো হয়, সেই বিদ্যুৎ এই রোধ-মধ্যস্থ তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত, এই রেগুলেটরের মাধ্যমে পাখার গতি কমিয়ে বিদ্যুৎ খরচ বিশেষ কমে না বললেই চলে।ফলে ইলেকট্রিক্যাল রেগুলেটর ব্যবহার করলে ফ্যানের গতি কম-বেশির সাথে রেগুলেটর লস যথাক্রমে বেশি ও কম হয় ফলে বৈদ্যুতিক পাখার গতি যাই হোক, বিদ্যুৎ খরচ প্রায় একই হয়।
২) ইলেকট্রনিক রেগুলেটর (Electronic Regulator): এই রেগুলেটরগুলিতে পাখার ভোল্টেজ হ্রাস করার জন্য মূলতঃ ট্রায়াক থাকে যার গেটে ট্রিগার নিয়ন্ত্রণ করে ফ্যানের ভোল্টেজের সাইন ওয়েভকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং ভোল্টেজের আরএমএস ভ্যালুকে পরিবর্তণ করে ফ্যানের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এইগুলি কখনই গরম হয়ে ওঠে না, ফলে পাখা যখন কম গতিতে চলে তখন যথেষ্ট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। সাধারণত ইলেকট্রনিক রেগুলেটরগুলি ইলেক্ট্রিক রেগুলেটরগুলির থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশী বিদ্যুতসাশ্রয়ী।

তাই সবশেষে বলা যেতে পারে, বৈদ্যুতিক পাখা কম গতিতে চালালে বিদ্যুৎ খরচ তখনই কম হবে যখন ইলেক্ট্রিক রেগুলেটরের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক রেগুলেটর ব্যবহৃত হবে।
১,৯১২.
কোন প্রোটিন দিয়ে 'রেশম তন্তু' তৈরি হয়? 
  1. ফাইব্রেয়ন
  2. প্রোলামিন
  3. প্রোটামিন
  4. অ্যালবিউমিন
সঠিক উত্তর:
ফাইব্রেয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাইব্রেয়ন
ব্যাখ্যা
রেশম: 
- সৌন্দর্য ও গুণে রেশমের তৈরি পোশাক আসলে রাজকীয় পোশাক। 
- রেশমকে তন্তুর রাণি বলা হয়। 
- রেশম বা পলু পোকা নামের এক জাতীয় পোকার গুটি বা কোকুন থেকে রেশম বা সিল্ক তন্তু আহরণ করা হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় রেশমের চাষ করা হয়। 
- রেশম রাজকীয় তন্তু কিন্তু পানি ধারণক্ষমতা অত্যধিক হওয়ায় রেশমের তৈরি পোশাক পানি দিয়ে ধোয়া যায় না। 
- এগুলো হচ্ছে পলু পোকার মুখ নিসৃত লালা যা আপন শরীরের চারপাশে এরা বুনতে থাকে। 
- রেশম তন্তু 'ফাইব্রেয়ন' নামক প্রোটিন জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি। 
- প্রাকৃতিক প্রাণিজ তন্তুর মধ্যে রেশমই সবচেয়ে হালকা, শক্ত ও দীর্ঘ। 
- সিল্কের শক্তিমাত্রা, দৃড়তা, মসৃণতা এবং কোমল অনুভবতা বৈশিষ্ট্য দীর্ঘকাল ধরে সুপরিচিত। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯১৩.
উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম কোনটি?
  1. লিমুলাস
  2. স্ফোনোডন
  3. প্লাটিপাস
  4. নিটাম
সঠিক উত্তর:
নিটাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিটাম
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও গিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে, এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯১৪.
এসিটিক এসিডের কত শতাংশ জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে?
  1. ৫%
  2. ১০%
  3. ৪-১০%
  4. ২০%
সঠিক উত্তর:
৪-১০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪-১০%
ব্যাখ্যা
অ্যাসিটিক এসিড এর (CH3-COOH) 4- 10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। আচার সংরক্ষণে ভিনেগার ব্যবহৃত হয়। মনে রাখা প্রয়োজন যে, এসিটিক এসিডকে ইথানয়িক এসিড ও বলা হয়ে থাকে।
১,৯১৫.
পানির লবণাক্ততা কোনটির মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়?
  1. গ্লুকোমিটার
  2. হ্যালোমিটার
  3. স্যালিনোমিটার
  4. এডাফিমিটার
সঠিক উত্তর:
স্যালিনোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যালিনোমিটার
ব্যাখ্যা
• লবণাক্ততা:
- পানিতে উপস্থিত দ্রবীভূত লবণের পরিমাণ ।
- জলের প্রাকৃতিক সংস্থাগুলিতে, লবণাক্ততা সাধারণত সোডিয়াম ক্লোরাইডের একটি পরিমাপ (NaCl; সাধারণ লবণ)।
- ম্যাগনেসিয়াম , সালফেট , ক্যালসিয়াম, এবং অন্যান্য আয়ন অল্প ঘনত্বে লবণাক্ততায় অবদান রাখে।
- লবণাক্ততা সাধারণত একটি স্যালিনোমিটার দিয়ে পরিমাপ করা হয় ।
- যা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানিতে উপস্থিত লবণের পরিমাণ বা ওজন গণনা করে।
- একে এককে প্রকাশ করা যেতে পারে যেমন পার্টস পার মিলিয়ন (পিপিএম) এবং প্রতি কিলোগ্রাম পানিতে গ্রাম লবণ (যাকে ব্যবহারিক লবণাক্ততা একক [psu] বলা হয়) বা সাধারণ শতাংশ হিসাবে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৯১৬.
What type of process occurs during the rust formation in iron?
  1. Physical Change
  2. Combustion Reaction
  3. Reduction Reaction
  4. Oxidation Reaction
  5. Decomposition Reaction
সঠিক উত্তর:
Oxidation Reaction
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Oxidation Reaction
ব্যাখ্যা

• লোহায় মরিচা পড়ার সময় লোহাতে জারণ বিক্রিয়া (Oxidation Reaction) ঘটে। 

• মরিচা:
- বিশুদ্ধ লোহা, জলীয় বাষ্প ও বায়ুর অক্সিজেন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে লোহার যে অক্সাইড গঠন করে তাকে মরিচা বলে।

• লোহাকে বাতাসে দীর্ঘসময় রেখে দিলে বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সাথে লোহা বিক্রিয়া করে মরিচা তৈরি করে।
- লোহার উপর মরিচা পড়া অনেক ধীর গতিতে সংঘটিত হয়।
- লোহায় মরিচা পড়ার এই প্রক্রিয়া টি জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। 
- এখানে এক ধাপে জারণ এবং অন্যধাপে বিজারণ ঘটে থাকে। 

• মরিচা পড়ার প্রক্রিয়া:
- লোহা (Fe) অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
- এই বিক্রিয়ায় লোহা অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয় এবং ইলেকট্রন ত্যাগ করে।
- এর ফলে লোহাতে জারণ ঘটে।
- ত্যাগকৃত ইলেকট্রনটি অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন আয়ন গ্রহণ করে পানি তৈরি করে, যা বিজারণ বিক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে।
- ফলে, লোহার অক্সাইড (Fe2O3) গঠিত হয়, যা মরিচা নামে পরিচিত।
- এই পুরো প্রক্রিয়াটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা। 

১,৯১৭.
অভিস্রবনের সময় কোনটির পরিবর্তিন ঘটে না?
  1. ঘনত্ব
  2. ভর
  3. আয়তন
  4. চাপ
সঠিক উত্তর:
ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর
ব্যাখ্যা
অভিস্রবণ (Osmosis): অভিস্রবণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে দ্রাবক (সাধারণত পানি) স্বল্প ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে অর্ধ-ভেদ্য পর্দা  (semi-permeable membrane) দিয়ে প্রবাহিত হয়।

ভর অপরিবর্তিত থাকার কারন
- রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ভর তৈরি বা ধ্বংস হয় না, শুধু স্থানান্তরিত হয়। 
- অভিস্রবণে শুধু পানি অণু এক দ্রবণ থেকে অন্য দ্রবণে যায়, কিন্তু মোট ভর অপরিবর্তিত থাকে।

অন্যদিকে,
ঘনত্ব:  দ্রাবকের চলাচলে দ্রবণের ঘনত্ব পরিবর্তিত হয়।
আয়তন:  দ্রবণের আয়তন দ্রাবকের বৃদ্ধি/হ্রাসের সাথে পরিবর্তিত হয়।
চাপ:  অভিস্রবণ চাপ সৃষ্টি হয় (উচ্চতর ঘনত্বের দ্রবণে বেশি চাপ সৃষ্টি হয়)।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান , নবম-দশম শ্রেণী।
- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
১,৯১৮.
দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য কত?
  1. ক) 270-400 nm
  2. খ) 400-700 nm
  3. গ) 300- 600 nm
  4. ঘ) 250-450 nm
সঠিক উত্তর:
খ) 400-700 nm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 400-700 nm
ব্যাখ্যা
আলোক
- আলো এক প্রকার বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ।
- এ বিকীর্ণ শক্তি তরঙ্গ সৃষ্টি করে স্পন্দন সহকারে উৎস থেকে সর্বদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- আলোর গতিবেগ মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল।
- শূন্যে আলোর বেগ সেকেন্ডে প্রায় 2.9979 × 108 m (সংক্ষেপে 3 × 108 m বা, 3 x 1010 cm)।
- বিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েল (Maxwell) প্রমাণ করেন যে, সব ধরনের দৃশ্য ও অদৃশ্য আলোর উৎপত্তি বিদ্যুৎ ও চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে হয়।
- এজন্য সব ধরনের আলোককে একত্রে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মি বলা হয়।
- দৃশ্যমান আলো হল বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ রশ্মির সামান্য অংশ মাত্র।
- সমগ্র বিকিরণ শক্তির অধিকাংশই অদৃশ্য।
- বিভিন্ন ধরনের বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য (একক ন্যানোমিটারে nm = 10-9m) নিচে দেয়া হলো- 
• মহাজাগতিক রশ্মির তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: <0.00005nm  
• গামা রশ্মির তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: 0.0005 - 0.15 nm
• রঞ্জন রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য: 0.01 – 10 nm
• অতিবেগুনি রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: <380 nm
দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ-দৈর্ঘ্য: 400 - 700nm 
• অবলোহিত আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: >700nm 
• রেডিও ও টেলিভিশন তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: >2.2 x 105 nm

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
১,৯১৯.
বক্সাইট কোন ধাতুর আকরিক? 
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. অ্যালুমিনিয়াম
  3. আয়রন
  4. ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
আকরিক: 
- অধিকাংশ ধাতু প্রকৃতিতে ধাতব অক্সাইড ও ধাতব সালফাইড আকরিকরূপে থাকে। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৬ এর মৌলসমূহকে (যেমন O, S, Se, Te ইত্যাদিকে) আকরিক উৎপন্নকারী মৌল বা চ্যালকোজেনস (chalcogens) বলা হয়। 

• ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর, 
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

• আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯২০.
প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ নয় কোনটি? 
  1. Na2CO3
  2. K2Cr2O7
  3. AgNO3
  4. HNO3
সঠিক উত্তর:
HNO3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
HNO3
ব্যাখ্যা

প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড (Primary Standard): এমন একটি পদার্থ যার উচ্চ বিশুদ্ধতা, স্থায়িত্ব এবং সঠিক রূপে মাপা যায় এমন আণবিক ভর থাকে।
- এটি ব্যবহার করে দ্রবণের সঠিক মান নির্ধারণ করা যায়।

বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- উচ্চ বিশুদ্ধতা
- আর্দ্রতা শোষণ কম
- রাসায়নিকভাবে স্থিতিশীল
- সঠিক মোলার ভর জানা
- উদাহরণ: Na2CO3, K2Cr2O7, AgNO3

•HNO₃ একটি তরল ও অস্থির অ্যাসিড, যা বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে, তাই এটি প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড নয়।

তথ্যসূত্র: NCTB রসায়ন বই

১,৯২১.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু কোনটি?
  1. টাংস্টেন
  2. হীরা
  3. তামা
  4. লোহা
সঠিক উত্তর:
টাংস্টেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাংস্টেন
ব্যাখ্যা
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হীরক। (হীরক ধাতু নয়। এটি কার্বনের একটি রূপভেদ)
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু - টাংস্টেন।
- সবচেয়ে ভারি ধাতু - রন্টজেনিয়াম (Roentgenium)। আনবিক ভর - ২৭২.০।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু - ইউরেনিয়াম (Uranium)। আনবিক ভর - ২৩৮.০৩।
- সবচেয়ে ভারী মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম (Platinum)। এর আনবিক ভর - ১৯৫.০৭৮
- সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম (Lithium)। এর আনবিক ভর - ৬.৯৪

উৎস:
১. ব্রিটানিকা।
২. রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
১,৯২২.
একটি ওজোন অণুতে কয়টি অক্সিজেন পরমাণু বিদ্যমান?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

একটি অক্সিজেন অণুতে থাকে ২টি অক্সিজেন পরমাণু।
আর একটি ওজোন অণুতে থাকে ৩টি অক্সিজেন পরমাণু।
ওজোন হলো অক্সিজেন এর একটি রূপভেদ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৯২৩.
গ্রেইনিং বলতে বুঝায় -
  1. ক) ফুটন্ত সাবানে লবণের পানি ঢালা
  2. খ) সাবানকে ছাঁচে ফেলে আকৃতি দেয়া
  3. গ) সাবানকে ব্যাবহারের উপযোগী করা
  4. ঘ) সাবানে রঞ্জক ও সুগন্ধি মেশানো
সঠিক উত্তর:
ক) ফুটন্ত সাবানে লবণের পানি ঢালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ফুটন্ত সাবানে লবণের পানি ঢালা
ব্যাখ্যা

সাবান তৈরির বেশ কয়েকটি পদ্ধতি আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে কেটলি পদ্ধতি।

কেটলি পদ্ধতি:
এই পদ্ধতিতে সাবান তৈরির জন্য প্রায় ১৫০ টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন বিশাল আকৃতির লোহার কেটলি ব্যবহার করা হয়। প্রথমত নির্দিষ্ট পরিমাণের চর্বি কেটলিতে তাপের সাহায্যে গলানো হয়। তারপর এই উত্তপ্ত চর্বিতে অল্প অল্প কস্টিক সোডার দ্রবণ যোগ করতে হয়। এইভাবে সাবানায়ন প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং ৩/৪ ঘণ্টা পরে মাখনের মত মসৃণ সাবানের লাই বা পেস্ট তৈরি হয়। সাবানের এই লাইয়ের সাথে মিশ্রিত থাকে গ্লিসারিন এবং অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্যাদি ।

মিশ্রিত দ্রব্যাদি থেকে সাবানকে পৃথক করার জন্য এই ফুটন্ত সাবানে আস্তে আস্তে লবণের দ্রবণ মিশাতে হয়। এতে সাবানের লাই আলাদা হয়ে যায়। লবণ মিশ্রিত পানির দ্বারা সাবানের লাই আলাদা করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় গ্রেইনিং

সাবানের লাই আলাদা হতে থাকলে তাপ প্রয়োগ বন্ধ রাখা হয় এবং থিতান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেটলির তলায় গ্লিসারিন লবণের দ্রবণ এবং লাই জমা হয় ও কেটলি হতে বের করা হয়। কেটলিতে অবস্থিত সাবানকে বিশুদ্ধ করার জন্য সাবানকে আবার তাপ দিয়ে ফুটানো হয় এবং আস্তে আস্তে পানি যোগ করতে হয়। এই পানি সাবানে লেগে থাকা লবণ ও গ্লিসারিন দ্রবীভূত করে।

এভাবে কয়েকবার স্ফুটন ও ধৌত করণের পর কেটলিতে সাবানের তিনটি স্তর আলাদা হয়ে যায়। উপরের স্তরে পরিষ্কার সাবান, মধ্য ভাগে তীব্র ক্ষারীয় সাবান এবং সর্ব নিচে থাকে সাবান লাই এবং অন্যান্য দ্রব্যের মিশ্রণ। উপরের সাবানকে পাম্প করে আলাদা করে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯২৪.
নিচের কোন হ্যালোজেন এসিডটি বেশি শক্তিশালী?
  1. HI
  2. HBr
  3. HF
  4. HCl
সঠিক উত্তর:
HI
উত্তর
সঠিক উত্তর:
HI
ব্যাখ্যা
• হ্যালোজেন এসিড:
- হ্যালোজেন গ্রুপের এসিডগুলোর শক্তি তাদের H—X বন্ধনের (Bond Strength) দুর্বলতা এবং হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) মুক্ত করার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে।
- এসিডের শক্তি: HI > HBr > HCl > HF।
- HI হ্যালোজেন এসিডটি বেশি শক্তিশালী।
- হাইড্রোজেন এবং আয়োডিন পরমাণুর মধ্যে বন্ধন দীর্ঘ এবং দুর্বল, তাই এটি সহজেই H⁺ আয়ন মুক্ত করে।
- আয়োডিনের বড় পরমাণু ব্যাসার্ধ (Atomic Radius) থাকার কারণে এটি H⁺ আয়নকে সহজে আলাদা করতে পারে, যা এসিডের শক্তি বাড়ায়।
- হ্যালোজেন গ্রুপের নিচের দিকে নামার সাথে সাথে এসিডের শক্তি বাড়ে। কারণ বন্ধনের শক্তি দুর্বল হয় এবং H⁺ আয়ন সহজে মুক্ত হয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৯২৫.
পান করা পানির সাথে ক্লোরিন মিশানো হয় -
  1. ক) পানির পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির জন্য।
  2. খ) পানিকে সুস্বাদু করার জন্য,
  3. গ) পানিতে মিশ্রিত অদ্রবণীয় কণাসমূহকে দ্রবীভূত করার জন্য।
  4. ঘ) ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করার জন্য।
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করার জন্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করার জন্য।
ব্যাখ্যা
পান করা পানির সাথে ক্লোরিন মিশানো হয় ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করার জন্য।

- পানিতে ব্লিচিং পাউডার যোগ করলে উৎপন্ন ক্লোরিন বিভিন্ন জীবাণুকে জারিত করে মেরে ফেলে।
- পানিতে জীবাণু থাকলে জীবাণুনাশক ব্যবহার করে তা মেরে ফেলতে হবে, এ ক্ষেত্রে জীবাণুনাশক হিসেবে ক্লোরিন গ্যাস ও ব্লিচিং পাউডার অন্যতম।
- এ ছাড়া কিছু পদার্থ আছে, যেগুলো পানির জীবাণু মারার কাজে ব্যবহার করা হয়।

- বন্যার সময় বিশুদ্ধ পানির খুবই অভাব থাকে। আর বাড়ির চারপাশের পানিতে নানা ধরনের জীবাণু থাকে। ওই অবস্থায় পানি বিশুদ্ধ করার জন্য ট্যাবলেট বা কিট দেওয়া হয়্এ‌ তে থাকে সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড। এর মধ্যে থাকা ক্লোরিন পানিতে থাকা জীবাণুগুলো জারিত করে মেরে ফেলে। বোতলজাত পানির কারখানায়ও এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: Centers of Disease Control and Prevention Website [লিঙ্ক]  
১,৯২৬.
নিচের কোন পদার্থের ব্যাপনহার সর্বোচ্চ?
  1. কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. অক্সিজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. নাইটোজেন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোজেনের(H2) ব্যাপনহার সর্বোচ্চ।

• ব্যাপন:

- কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
- যেমন: ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ।
- কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার কম।
- H2. He, N2, O2 এবং CO₂ গ্যাসগুলোর আণবিক ভর যথাক্রমে 2, 4, 28, 32 এবং 44।
- এই গ্যাসগুলোর মধ্যে H₂ এর আণবিক ভর কম, তাই H₂ এর ব্যাপন হার বেশি হবে।
এবং CO₂ এর আণবিক ভর বেশি, কাজেই CO₂ এর ব্যাপন হার কম হবে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯২৭.
রান্নার সিলিন্ডারে সাধারণত কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. মিথেন
  2. বিউটেন
  3. হেক্সেন
  4. অকটেন
সঠিক উত্তর:
বিউটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিউটেন
ব্যাখ্যা
• রান্নার সিলিন্ডারে প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাসের মিশ্রণ ব্যবহৃত হয়।

• LPG:

- রান্নার চুলার সিলিন্ডারে যে গ্যাস ব্যবহৃত হয়, তাকে বলা হয় এলপিজি (LPG – Liquefied Petroleum Gas)।

• এলপিজি মূলত দুটি গ্যাসের মিশ্রণ:
- ৩০% প্রোপেন, 
- ৭০% বিউটেন। 

বিউটেন হলো একটি হাইড্রোকার্বন, যার রাসায়নিক সংকেত C4H10
- এটি একটি স্যাচুরেটেড অ্যালকেন গ্যাস, স্বাভাবিক তাপমাত্রায় গ্যাস কিন্তু চাপ প্রয়োগ করলে সহজেই তরলে রূপান্তরিত হয়।

• বিউটেন ব্যবহারের কারণ- 

- এটি তরল অবস্থায় সহজে সংরক্ষণযোগ্য, 
- দ্রুত জ্বলে, 
- প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে, 
- কম বিষাক্ত। 

তথ্যসূত্র:
- Bangladesh Petroleum Corporation (BPC). 
- ব্রিটানিকা। 
১,৯২৮.
মৌমাছির হুলে কোনটি থাকে?
  1. ফরমিক অ্যাসিড
  2. মেলিটিন
  3. অ্যাপামিন
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
- মৌমাছির হুল ফুটালে বা পিঁপড়া কামড়ের জ্বালা কমানোর জন্য আমরা যে ক্যালামিন লোশন ব্যবহার করি তা হলো জিংক কার্বোনেট।
- অনেকে বেকিং সোডাও ব্যবহার করে থাকেন।
- পিঁপড়ার কামড়ে মূলত ফরমিক অ্যাসিড থাকে।
- মৌমাছির হুলে ফরমিক অ্যাসিড, মেলিটিন, ও অ্যাপামিন নামক অ্যাসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়।
- যেকারনে  ঐ স্থান জ্বালা-পোড়া করে ও ফুলে যায়।
- এই অ্যাসিড নিষ্ক্রিয় করতে বিভিন্ন ক্ষারীয় বস্তু ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
- মাটির অ্যাসিডিটি বাড়লে এর উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়।
- তাই মাটির উর্বরতাশক্তি ফেরাতে চুন (CaO), চুনা পাথর জাতীয় ক্ষারক পদার্থ ব্যবহার করা হয়।
- মিল্ক অফ লাইম নামক ক্ষারীয় বস্তু পোকামাকড় দমনে ব্যবহার করা হয়।

উৎস; সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯২৯.
আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC) এখন পর্যন্ত কয়টি মৌল স্বীকৃতি দিয়েছে?
  1. 120
  2. 118
  3. 108
  4. 112
সঠিক উত্তর:
118
উত্তর
সঠিক উত্তর:
118
ব্যাখ্যা

• আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC) 118 টি মৌল শনাক্ত করেছে।

আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (IUPAC):
 - আন্তর্জাতিক রসায়ন ও ফলিত রসায়ন সংস্থা (International Union of Pure and Applied Chemistry বা সংক্ষেপে IUPAC) এখন পর্যন্ত 118টি মৌলিক পদার্থকে শনাক্ত করেছে।
 - IUPAC সংস্থাটি আন্তর্জাতিকভাবে রসায়ন ও ফলিত রসায়নের বিভিন্ন নিয়মকানুন দেখাশোনা করে এবং নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন কোন নিয়ম গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি বর্জনযোগ্য।
 - 118টি মৌলের মধ্যে বেশির ভাগ মৌলই প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এবং বাকি কিছু মৌল ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়েছে।
 - ল্যাভয়সিয়ে মাত্র 33টি মৌল নিয়ে ছক তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন।
 - মেন্ডেলিফ 63টি আবিষ্কৃত মৌল এবং 4টি অনাবিষ্কৃত মৌল নিয়ে পর্যায় সারণি নামে যে ছকটি তৈরি করেছিলেন, তা বর্তমানে 118টি মৌলের আধুনিক পর্যায় সারণি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

১,৯৩০.
"পরমাণু অবিভাজ্য, তাদের সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই" - মতবাদটি কে দিয়েছিলেন?
  1. ক) জন ডাল্টন
  2. খ) রাদারফোর্ড
  3. গ) মেন্ডেলিফ
  4. ঘ) বোর
সঠিক উত্তর:
ক) জন ডাল্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জন ডাল্টন
ব্যাখ্যা
ডাল্টনের পরমাণুবাদ:
১৮০৩ সালে ইংরেজ পদার্থ ও রসায়ন বিজ্ঞানী জন ডাল্টন পরমাণু সম্পর্কে একটি তত্ত্ব প্রকাশ করেন যা ডাল্টনের পরমাণুবাদ নামে পরিচিত। তার প্রদত্ত পরমাণুবাদে মোট পাঁচটি স্বীকার্য আছে । এই স্বীকার্য পাঁচটি হলো–

১. পদার্থ অতি ক্ষুদ্র কণাসমূহ দ্বারা গঠিত, এই কণাগুলোর নাম পরমাণু।
২. একই পদার্থের পরমাণুসমূহের আকার, ভর এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য একই রকম হয়, ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের পরমাণুসমূহের আকার, ভর এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ভিন্নরকমের হয়।
৩. পরমাণুসমূহ অবিভাজ্য, তাদের সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই।
৪. সরল পূর্ণসংখ্যক অনুপাতে বিভিন্ন পদর্থের পরমাণু সংযুক্ত হয়ে রাসায়নিক যৌগের সৃষ্টি করে।
৫. রাসায়নিক বিক্রয়াসমূহে পরমাণু সংযোজিত, বিভক্ত বা পুনর্বিন্যাসিত হয়।
১,৯৩১.
নিচের কোন দ্রবণের pH এর মান ৭ এর কম?
  1. পানি
  2. ভিনেগার
  3. কস্টিক সোডা
  4. চুনের পানি
সঠিক উত্তর:
ভিনেগার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিনেগার
ব্যাখ্যা

- অম্লীয় দ্রবণের pH এর মান ৭ এর কম। ভিনেগার হলো এসিটিক এসিডের ৫% জলীয় দ্রবণ। তাই ভিনেগারের pH এর মান ৭ এর কম।
- নিরপেক্ষ দ্রবণের pH এর মান হলো ৭। পানি একটি নিরপেক্ষ দ্রবণ।
- ক্ষারীয় দ্রবণের pH এর মান ৭ এর বেশি৷ কস্টিক সোডা এবং চুনের পানি হলো ক্ষারীয় দ্রবণ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৯৩২.
সার কারখানায় ব্যবহৃত হয় না কোন এসিড?
  1. ক) সালফিউরিক এসিড
  2. খ) হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. গ) নাইট্রিক এসিড
  4. ঘ) ফসফরিক অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
খ) হাইড্রোক্লোরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা

সার কারখানায় নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3), সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4), ফসফরিক অ্যাসিড (H3PO4) ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের সার প্রস্তুত করা হয়।
টয়লেট পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত পরিষ্কারকের মূল উপাদানহলাে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl), নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3) বা সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4) এর মত শক্তিশালী অ্যাসিড।
বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলাে সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4)।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৩৩.
ডেটলের মূল উপাদান কোনটি?
  1. ক্লোরাল
  2. ক্লোরোবেনজিন
  3. ক্লোরোজাইলিনল
  4. বেনজিনহেক্সাক্লোরাইড
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোজাইলিনল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোজাইলিনল
ব্যাখ্যা
ডেটল (Dettol): 
- 'Dettol' হলো জীবাণুনাশক ও পচনরোধক; স্বাস্থ্যকর পরিবেশ রক্ষাকারী একটি বাণিজ্যিক প্রোডাক্ট। 
- বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান Reckitt Benckister 'অ্যান্টিসেপটিক ক্লিনিং প্রোডাক্ট' রূপে- এ 'Dettol' প্রথম বাজারজাত করে। 
- ডেটলের রাসায়নিক সক্রিয় উপাদানটি হলো 4-ক্লোরো-3, 5- ডাইমিথাইল ফেনল। 
- ডেটলের অপর নাম ক্লোরোজাইলিনল (Chloro-xylenol) যা ডেটলের মূল উপাদান, এটি একটি জীবাণুনাশক। 
- এছাড়া আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল, পাইন অয়েল, কাস্টর-অয়েল সোপ, সুগন্ধ বস্তু ও পানি ডেটলে থাকে।

ডেটল-মিশ্রণের সংযুক্তি: 
(১) ক্লোরোজাইলিনল (C8H9CIO) বা 4-ক্লোরো-3,5-ডাইমিথাইল ফেনল 4.8% (w/v), 
(২) আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল 13.1% (v/v), 
(৩) পাইন তেল বা টারপিনিওল (9.9% v/v, 
(৪) অবশিষ্ট সাবান পানি ও সুগন্ধ মিলে 72.2% v/v. 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (ড. হাজারী ও নাগ)।
১,৯৩৪.
কোন গ্যাস নিজে জ্বলে কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না?
  1. অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেন গ্যাসটি নিজে জ্বলে অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না
- অক্সিজেন গ্যাসটি নিজে জ্বলে না কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসটি নিজে জ্বলে না, অন্যকে জ্বলতেও সাহায্য করে না। 

উৎস: ব্রিটানিক। 
১,৯৩৫.
গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ক) আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি > গতি শক্তি
  2. খ) আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি < গতি শক্তি
  3. গ) আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি = গতি শক্তি
  4. ঘ) আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি ≅ গতি শক্তি
সঠিক উত্তর:
খ) আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি < গতি শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি < গতি শক্তি
ব্যাখ্যা
• আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি ও গতি শক্তি-এ দু প্রকারের শক্তির উপর পদার্থের ভৌত অবস্থা নির্ভর করে।  এ দুটি শক্তি পরস্পর বিপরীতমুখী। তাপমাত্রা বাড়ালে গতিশক্তি বৃদ্ধি পায় কিন্তু আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি হ্রাস পায়।

• কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রে: আন্তঃআণবিক শক্তি > গতি শক্তি। 
• তরল পদার্থের ক্ষেত্রে: আন্তঃআণবিক শক্তি ≅ গতি শক্তি।
• গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে: আন্তঃআণবিক শক্তি < গতি শক্তি। 

আন্ত:কণা আকর্ষণ শক্তি:
পরমাণু সামগ্রিকভাবে তড়িৎ নিরপেক্ষ হলেও এতে কতকগুলো চার্জ বাহী মৌলিক কণা যেমন- ইলেকট্রন ও প্রোটন থাকে। এ দুটি কণা পরস্পর বিপরীত চার্জ বহন করে। এ কারনে পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণাগুলোর অবস্থান, আবেশ ও বিন্যাসের উপর নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট অণুর দুপ্রান্তে ধনাত্নক ও ঋণাত্নক আধান বা চার্জের উদ্ভব ঘটে। ফলে কখনো ডাইপোল-ডালপোল জাতীয় শক্তিশালী আকর্ষণ এবং কখনো ভ্যান ডার ওয়ালস জাতীয় দুর্বল আকর্ষণ বলের সৃষ্টি হয়। এ ধরনের অন্তর্নিহিত বলকে পদার্থের আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি বা আন্তআণবিক বল বলা হয়। সাধারণভাবে ক্ষুদ্রতম কণাগুলোর দূরত্ব ও বিন্যাসের উপর এই বলের মান নির্ভর করে। এ বলের কারনে বস্তুর ক্ষুদ্রতম কণাগুলো পরস্পরের সাথে আবদ্ধ থাকে। এ বলের মান যথেষ্ট বেশি হলে বস্তুর ভৌত অবস্থা কঠিন হয়, অপেক্ষাকৃত কম হলে ভৌত অবস্থা তরল এবং যথেষ্ট কম হলে বস্তুর ভৌত অবস্থা গ্যাসীয় হয় ।

গতিশক্তি:
পরমশূন্য তাপমাত্রা ব্যতীত যে কোন তাপমাত্রায় সকল পদার্থের অণুসমূহে তিন ধরণের গতি বিরাজ করে। যথা:
(১) চলমান গতি (translational motion),
(২) ঘূর্ণায়মান গতি (rotational motion) এবং
(৩) কম্পন গতি (vibrational motion).

অণুসমূহ এ সকল গতিবেগের কারনে যে শক্তি লাভ করে তাকে গতিশক্তি বলে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে গতি শক্তির মান বেড়ে যায়। উল্লেখ্য যে শূন্য কেলভিন তাপমাত্রায় পদার্থের অণুগুলোর গতি শক্তির মান শূন্য হয়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৩৬.
আধুনিক পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি কী? 
  1. পরমাণু ভর 
  2. পরমাণু সংখ্যা 
  3. নিউট্রনের সংখ্যা 
  4. ইলেকট্রনের ভর 
সঠিক উত্তর:
পরমাণু সংখ্যা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমাণু সংখ্যা 
ব্যাখ্যা

আধুনিক সারণিতে পদার্থগুলোকে তাদের পরমাণু সংখ্যার (Atomic Number, Z) ক্রমে সাজানো হয়।
- আধুনিক পর্যায় সারণি (Periodic Table) ডেমিত্রি মেন্ডেলিভের সারণির উন্নত রূপ।
- এর ফলে একই গ্রুপে থাকা উপাদানগুলোর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য একই ধরনের হয়।
- সমান পর্যায়ে থাকা উপাদানগুলোর পরমাণুর আকার ও বৈশিষ্ট্য ক্রমান্বয়ে পরিবর্তিত হয়।

অতীতে মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণিতে পরমাণু ভরের ভিত্তিতে সাজানো হতো, কিন্তু এতে কিছু অমিল দেখা গিয়েছিল। আধুনিক সারণিতে পরমাণু সংখ্যা ব্যবহৃত হওয়ায় সব অমিল দূর হয়েছে।

তথ্যসূত্র: NCTB রসায়ন বই, Britannica: [লিংক]

১,৯৩৭.
আর্গনের ইলেকট্রন আসক্তির মান কত?
  1. ক) ০
  2. খ) ১
  3. গ) - ১
  4. ঘ) ৮
সঠিক উত্তর:
ক) ০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ০
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন আসক্তি :
He ব্যতীত নিষ্ক্রিয় প্রতিটি মৌলের যোজ্যতা স্তরে অষ্টক পূর্ণতা থাকায় এদের ইলেকট্রন আসক্তির মান শূন্য । ফলে, আর্গনের ইলেকট্রন আসক্তির মান শূন্য। 
- He এর যোজ্যতা স্তর ১ম শক্তিস্তরে s অরবিটাল ভিন্ন অন্যকোনো অরবিটাল না থাকায় এটিও ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ। এ কারণে He- এর ক্ষেত্রে ইলেকট্রন গ্রহণ করার প্রবণতা দেখা যায় না।
- He এর ইলেকট্রন আসক্তির মান 48 kJ. /mol' অর্থাৎ খুবই কম।

উৎস: রসায়ন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৯৩৮.
নিচের কোনটি পটাশিয়াম এর প্রতীক ?
  1. ক) Pb
  2. খ) Fe
  3. গ) K
  4. ঘ) Au
সঠিক উত্তর:
গ) K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) K
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম এর প্রতীক = Na
কপার এর প্রতীক = Cu
পটাশিয়াম এর প্রতীক = K
সিলভার এর প্রতীক =Ag
টিন  এর প্রতীক = Sn
এন্টিমনি এর প্রতীক = Sb
গোল্ড এর প্রতীক = Au
লেড  এর প্রতীক =Pb
টাংস্টেন এর প্রতীক = W
আয়রন এর প্রতীক =Fe
মারকারি এর প্রতীক = Hg

 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৯৩৯.
ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোনটি ঘটেছে?
  1. রিক্সার চাকার ছিদ্র হওয়া
  2. গ্যাস ভর্তি বেলুনের ফেটে যাওয়া
  3. চাকার বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা
  4. এয়ার ফ্রেসনারের গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়া
সঠিক উত্তর:
এয়ার ফ্রেসনারের গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এয়ার ফ্রেসনারের গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়া
ব্যাখ্যা
ব্যাপন (Diffusion): 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাসের বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বত:স্ফূর্ত অনু প্রবেশকে ব্যাপন বলা হয়। 
যেমন- 
কোনো কক্ষের মধ্যে অথবা এয়ারকন্ডিশনার যুক্ত বাসের মধ্যে চলার সময় বায়ুর গুমোট ভাব ও দুর্গন্ধ তাড়ানোর জন্য এয়ার ফ্রেসনার ছড়িয়ে দেয়া হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
• রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনা-হেনা বা গোলাপ ফুল ফুটলে তার গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
• ছাতিম গাছের ফুলের গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে যার ফলে মন উদাস হয়ে যায়। 
• ঘরের মসা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে যে অ্যারোসল ব্যবহার করা হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 

নিঃসরণ (Effusion): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন- 
• রিক্সার চাকা ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় টিউব থেকে বাতাস বেরিয়ে পড়ার ঘটনাই হচ্ছে নিঃসরণ। 
• পাকা রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে বাস বা ট্রাক চলছে, হঠাৎ করে চাকা ফেটে গিয়ে ভিতরের বায়ু বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাই নিঃসরণ। 
• শহর এলাকায় যে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হয় শ্বে পাইপের কোথাও ছিদ্র হয়ে গেলে তীব্র বেগে গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাই হচ্ছে নিঃসরণ। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৪০.
জারণ (Oxidation) প্রক্রিয়ায় কী ঘটে?
  1. হাইড্রোজেন গ্রহণ
  2. নিউট্রন গ্রহণ
  3. ইলেকট্রন দান
  4. ইলেকট্রন গ্রহণ
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন দান
ব্যাখ্যা

- ইলেকট্রনীয় মতবাদ অনুযায়ী, জারণ হলো এমন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া যেখানে কোনো পরমাণু, আয়ন বা অণু এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ বা দান করে। ইলেকট্রন দান করার ফলে সংশ্লিষ্ট মৌল বা আয়নের ধনাত্মক চার্জ বৃদ্ধি পায় অথবা ঋণাত্মক চার্জ হ্রাস পায়। 

রেডক্স বিক্রিয়া: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান বা বর্জন ঘটে।
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে। 
- সকল জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৪১.
কোন খনিজ পদার্থটি কাচ, সিরিশ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়?
  1. Ag
  2. Cu
  3. Mica
  4. Quartz
সঠিক উত্তর:
Quartz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Quartz
ব্যাখ্যা
• ধাতব-অধাতব খনিজ:
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়।
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে।
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে।

১. ধাতব খনিজ পদার্থ:
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। যেমন:
• লোহা (Fe),
• তামা (Cu),
• সোনা (Au),
• রূপা (Ag)।

২. অধাতব খনিজ পদার্থ:
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। যেমন:
• কোয়ার্টজ (Quartz),
• মাইকা (Mica),
• গ্রাফাইট,
• জিপসাম,
• কয়লা,
• খনিজ লবণ।

- আবার গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে।
- মাইকা (Mica) খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- ম্যাগনেটাইট খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- কোয়ার্টজ (Quartz) খনিজ পদার্থ কাচ, সিরিশ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- চুনাপাথর খনিজ পদার্থ ঘর-বাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৯৪২.
ও নিম্নের কোনটি উদাহরণ-
  1. ক) আইসোটোপ
  2. খ) আইসোটোন
  3. গ) আইসোমার
  4. ঘ) আইসোবার
সঠিক উত্তর:
ক) আইসোটোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আইসোটোপ
ব্যাখ্যা
• আইসোটোপ:
যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 
প্রশ্নে প্রদত্ত চিত্রে, উভয়ের প্রোটন সংখ্যা একই (১৭), কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন; প্রথমটির ৩৫ ও দ্বিতীয়টির ৩৭। 

• আইসোটোন:

যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়।

• আইসোবার:
যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে।

• আইসোমার:
যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৪৩.
কোনটি বাস্তব গ্যাসের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. বাস্তব গ্যাসসমূহ আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT মেনে চলে না।
  2. বাস্তব গ্যাসের অণুসমূহের মধ্যে আকর্ষণ বল বা বিকর্ষণ বল বিদ্যমান।
  3. বাস্তব গ্যাসের ক্ষেত্রে সংকোচনশীল গুনকের মান কখনো 1 হয় না।
  4. বাস্তব গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভরশীল নয়।
সঠিক উত্তর:
বাস্তব গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভরশীল নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাস্তব গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভরশীল নয়।
ব্যাখ্যা

বাস্তব গ্যাস (Real Gas): 
- যে গ্যাসসমূহ সকল তাপমাত্রা ও চাপে বয়েলের সূত্র, চার্লসের সূত্র, অ্যাভোগাড্রোর সূত্র তথা আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT কে মেনে চলে না তাদেরকে বাস্তব গ্যাস বলে।
- সংক্ষেপে বলা যায়, বাস্তবে যে গ্যাসগুলো পাওয়া যায় তাদেরকে বাস্তব গ্যাস বলে। H2, N2, O2, CO₂ প্রভৃতি গ্যাস বাস্তব গ্যাসের উদাহরণ।
- উচ্চতাপমাত্রা ও নিম্ন চাপে বাস্তব গ্যাস আদর্শ গ্যাসের ন্যায় আচরণ করে। কিন্তু বিপরীত শর্তে বিচ্যুতি বেশ দেখায়।

বাস্তব গ্যাসের নিচের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্তমান থাকে-
১. বাস্তব গ্যাসসমূহ যথাযথভাবে আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT মেনে চলে না।
২. বাস্তব গ্যাসের অণুসমূহের মধ্যে আকর্ষণ বল বা বিকর্ষণ বল বিদ্যমান।
৩. বাস্তব গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভরশীল
৪. নিম্নচাপ যেমন 1 atm বা তার নিচের চাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রায় বাস্তব গ্যাসসমূহ মোটামুটিভাবে প্রায় আদর্শ গ্যাসের ন্যায় আচরণ করে থাকে।
৫. বাস্তব গ্যাসের ক্ষেত্রে গ্যাস অণুগুলোর মধ্যকার সংঘর্ষ স্থিতিস্থাপক হয় না। এ কারণে আন্ত সংঘর্ষজনিত কারণে তাপের পরিবর্তন ঘটে।
৬. বাস্তব গ্যাসের ক্ষেত্রে সংকোচনশীল গুনক, Z= PV/RT ≠1. 
৭. গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল কার্যকরী হলেও অতি উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্ন চাপে এরা আদর্শ গ্যাসের মতো আচরণ করে।

তথ্যসূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৯৪৪.
নিচের কোনটি একটি অ্যান্টিসেপটিক পদার্থ? 
  1. ইথার 
  2. পেনিসিলিন 
  3. টিংচার আয়োডিন 
  4. পটাশিয়াম ক্লোরাইড 
সঠিক উত্তর:
টিংচার আয়োডিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিংচার আয়োডিন 
ব্যাখ্যা

চিকিৎসা শাস্ত্রে রসায়ন: 
- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন- MRI, CT scan, X-ray ইত্যাদি যন্ত্রের তত্ত্ব-রাসায়নিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাধারণ সরঞ্জাম যেমন- সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদি রসায়নের অবদান। 
- বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন- নিউমোনিয়ায় পেনিসিলিন, যক্ষ্মায় স্ট্রেপটোমাইসিন, টাইফয়েডে ক্লোরোমাইসেটিন ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হচ্ছে। 
- তাছাড়া অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন, চেতনা নাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি রসায়নের অনন্য আবিষ্কার যা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

কৃষিকাজে রসায়ন: 
- কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার যেমন- ইউরিয়া, পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), অ্যামোনিয়াম সালফেট ও জৈব সার ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় শিল্প কারখানায় প্রস্তুত করা হয়। 
- তাছাড়া জীবাণুনাশক ও কীটনাশক যেমন এনড্রিন, ডায়াজিনন, ফুরাডন প্রভৃতিও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হয়। 
- কাঁচা ফল পাকাতে এবং শস্যকে সংরক্ষণ করার জন্যও রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়। 

শিল্পক্ষেত্রে রসায়ন: 
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য সাবান, ডিটারজেন্ট, টুথপেস্ট, ম্যালামাইনের তৈজসপত্র, প্লাস্টিক সামগ্রী, কৃত্রিম নাইলন, সিল্ক, রাবার, প্রসাধনী ইত্যাদি সকল কিছুই নানা প্রকার রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হয়। 
- ইস্পাত, কাগজ, চিনি, বস্ত্র, কাচ ও চামড়া ইত্যাদি সকল শিল্পেই রসায়নের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার রয়েছে। 
- তাছাড়া ব্যাটারি, পেট্রোল, কেরোসিন ও ডিজেল ইত্যাদি শক্তির উৎসগুলোও রসায়নের অবদান রয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৪৫.
নিচের কোনটি জৈব অম্ল?
  1. HCl
  2. H2SO4
  3. CH3COOH
  4. HNO3
সঠিক উত্তর:
CH3COOH
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CH3COOH
ব্যাখ্যা
• অ্যাসিটিক অ্যাসিড(CH3COOH) হলো অন্যতম একটি জৈব অম্ল। 

• জৈব এসিড:

- যে জৈব যৌগে কার্বক্সিল গ্রুপ (-COOH) বিদ্যমান থাকে তাকে জৈব এসিড (অম্ল) বা ফ্যাটি এসিড বলে। 

• বৈশিষ্ট্য:
- জলীয় দ্রবণে H+ আয়ন দান করে, যা তাদের অম্লীয় করে তোলে।
- সাধারণত অজৈব অ্যাসিডের তুলনায় দুর্বল প্রকৃতির হয়।
- জৈব এসিড টক স্বাদ সম্পন্ন হয়। 
- পানি ও জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয়।

• উদাহরণ: সাইট্রিক অ্যাসিড, অক্সালিক অ্যাসিড, অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, অ্যাসিটিক অ্যাসিড(CH3COOH) ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৪৬.
সক্রিয়তা সিরিজে কোন ধাতুটি সবচেয়ে কম সক্রিয়?
  1. ক) লিথিয়াম
  2. খ) ক্যালসিয়াম
  3. গ) কপার
  4. ঘ) স্বর্ণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বর্ণ
ব্যাখ্যা
সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া:
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়।
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়।
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়।
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়।
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়।
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে।

- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক।
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে।
- অর্থাৎ হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৪৭.
সর্বাপেক্ষা হালকা গ্যাস কোনটি?
  1. অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. রেডন
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়ামের ব্যবহার: 
- হিলিয়াম খুবই হাল্কা এবং অদাহ্য হওয়ায় বেলুনে ও উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হয়। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন গ্যাস হিলিয়াম অপেক্ষা হালকা। 
- H2 গ্যাসের তুলনায় He গ্যাসের উত্তোলন ক্ষমতা প্রায় 92%। 
- হাইড্রোজেনের দাহ্যতার কারণে তা বিপজ্জনক হওয়ায় বর্তমানে একমাত্র হিলিয়াম ব্যবহৃত হয়। 
- অলিম্পিক সাইক্লিস্ট প্রতিযোগীরা তাদের সাইকেলের টায়ার বাতাসের পরিবর্তে হাল্‌কা ও অদাহ্য হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা পূর্ণ করে। 
- হাপানী রোগীর শ্বাসকাজে সহায়তার জন্য এবং গভীর পানির ডুবুরিগণ এবং অধিক চাপে কর্মরত ব্যক্তিগণ ৪০% হিলিয়াম ও অক্সিজেনের 20% মিশ্রণের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করেন। 
- ধাতু সংকরের গলন ও জোড়া লাগানোর সময় হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা নিষ্ক্রিয় পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। 
- নিম্ন তাপমাত্রায় গবেষণাকার্যে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- তরল হিলিয়াম NMR (NMR = Nuclear Magnetic Resonance Spectroscopy) মেশিন শীতলকরণে ব্যবহৃত হয়। 
- হিলিয়ামের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সর্বনিম্ন এবং পরমশূন্য তাপমাত্রার খুবই নিকটে। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী ও নাগ)।
১,৯৪৮.
ডেভিলস ব্রেথ কী? 
  1. এক ধরনের ড্রাগ
  2. এক ধরনের বিষ
  3. এক ধরনের কীটনাশক
  4. এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
এক ধরনের ড্রাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক ধরনের ড্রাগ
ব্যাখ্যা
শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ: 
- ‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা স্কোপোলামিন এক ধরনের ড্রাগ, যা ধুতরা ফুল থেকে তৈরি করা হয়।  
- এটি মানুষকে সম্মোহিত বা বশ করে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- স্কোপোলামিন তরল ও পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায় এবং শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে দ্রুত কাজ করে।
- অপরাধীরা এটি ব্যবহার করে ব্যক্তির মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেয়।
- এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, অস্থিরতা, এমনকি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে।
- নিরাপত্তার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি।
- প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা [লিংক]
১,৯৪৯.
উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানিকে বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত করে কোন প্রক্রিয়ায়?
  1. ক) অভিস্রবণ
  2. খ) ব্যাপন
  3. গ) ইমবাইবিশন
  4. ঘ) প্রস্বেদন
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রস্বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদদেহ থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বদন বলা হয়। 
- প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদদেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়। এতে উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে। তাই আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনকে ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়। 
- এজন্য প্রস্বেদনকে বলা হয় উদ্ভিদের জন্য এটি একটি 'Necessary evil'।  
- উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। কারণ প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানিকে বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত করে
- প্রস্বেদনের ফলে কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
১,৯৫০.
গ্যাসের মোলার আয়তন প্রকাশ করতে STP পদ্ধতিতে তাপমাত্রা কত ধরা হয়?
  1. - 298° C
  2. 0° C
  3. 25° C
  4. 298 K
সঠিক উত্তর:
0° C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0° C
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে গ্যাসের মোলার আয়তন প্রকাশের দুটি পদ্ধতি আছে। 
যেমন- 
(১) STP পদ্ধতি: 
- STP এর পুরো নাম Standard Temperature and Pressure. 
- STP পদ্ধতিতে তাপমাত্রা 0°C বা 273 K ও চাপ 1 atm বা 101.325 kPa ধরা হয়। 
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন হয়, Vm = 22.414 Lmol-1

(২) SATP পদ্ধতি: 
- SATP এর পুরো নাম Standard Ambient Temperature and Pressure. 
- এ পদ্ধতিতে তাপমাত্রা 25°C বা 298K ও চাপ 100 kPa (কিলো প্যাসকেল) ধরা হয়। 
- SATP তে গ্যাসের মোলার আয়তন, Vmθ = 24.789 Lmol-1

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)।
১,৯৫১.
রেডক্স বিক্রিয়ায় মৌলের কোন বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়? 
  1. পরমাণুর ভর 
  2. ইলেকট্রনের আকার 
  3. পরমাণুর সংখ্যা 
  4. জারণ সংখ্যা 
সঠিক উত্তর:
জারণ সংখ্যা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারণ সংখ্যা 
ব্যাখ্যা

রেডক্স বিক্রিয়া: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে। 
- সকল জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। 
- ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে- সংযোজন বিক্রিয়া, বিয়োজন বিক্রিয়া, প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া এবং দহন বিক্রিয়া ইত্যাদি। 

নন-রেডক্স বিক্রিয়া: 
- নন-রেডক্স বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়ার সময় মৌলের পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না। 
- এক বা একাধিক বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হওয়ার সময় বিক্রিয়ক অণুতে বর্তমান মৌল সমূহের মধ্যে কোনো মৌলের পরমাণুতেই যদি ইলেকট্রন দান বা গ্রহণ না ঘটে তবে তাকে নন-রেডক্স বিক্রিয়া বলে। 
- পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ না ঘটার কারণে বিক্রিয়া শেষে কোনো বিক্রিয়ক বা উৎপাদ মৌলের পরমাণুর জারণ সংখ্যার হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটে না। 
- ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না এরূপ বিক্রিয়াকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যথা- প্রশমন বিক্রিয়া এবং অধঃক্ষেপ বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৫২.
নিরপেক্ষ দ্রবণে pH মান কত?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৫৩.
ফিল্টার কোন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করে থাকে?
  1. ক) ক্লোরিনেশন
  2. খ) স্ফুটন
  3. গ) পরিস্রাবণ
  4. ঘ) পাতন
সঠিক উত্তর:
গ) পরিস্রাবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরিস্রাবণ
ব্যাখ্যা
সাধারণত যেসব প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়, সেগুলাে হলাে পরিস্রাবণ, ক্লোরিনেশন, স্ফুটন, পাতন ইত্যাদি। নিচে এই প্রক্রিয়াগুলাে বর্ণনা করা হলােঃ

পরিস্রাবণঃ পরিস্রাবণ হলাে তরল আর কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে কঠিন পদার্থকে আলাদা করার একটি প্রক্রিয়া। পানিতে অদ্রবণীয় ধুলা-বালির কণা থেকে শুরু করে নানারকম ময়লা-আবর্জনার কণা থাকে। এদেরকে পরিস্রাবণ করে পানি থেকে দূর করা হয়। এটি করার জন্য পানিকে বালির স্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয়, তখন পানিতে অদ্রবণীয় ময়লার কণাগুলাে বালির স্তরে আটকে যায়। বালির স্তর ছাড়াও খুব সূক্ষ্মভাবে তৈরি কাপড় ব্যবহার করেও পরিস্রাবণ করা যায়। বর্তমান সময়ে আমাদের অনেকের বাসায় আমরা যেসব ফিল্টার ব্যবহার করি, সেখানে আরাে উন্নতমানের সামগ্রী দিয়ে পরিস্রাবণ করা হয়।

ক্লোরিনেশনঃ যদি পানিতে রােগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকে, তবে তা অবশ্যই দূর করতে হবে এবং সেটি করা হয় জীবাণুনাশক ব্যবহার করে। নানারকম জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এদের মাঝে অন্যতম হচ্ছে ক্লোরিন গ্যাস। এছাড়া ব্লিচিং পাউডার এবং আরও কিছু পদার্থ যার মাঝে ক্লোরিন আছে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে পারে, সেগুলাে ব্যবহার করা হয়।

স্ফুটনঃ পানিকে খুব ভালােভাবে ফুটালে এতে উপস্থিত জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। প্রশ্ন হতে পারে, জীবাণুমুক্ত করার জন্য কতক্ষণ পানি ফুটাতে হয়? স্ফুটন শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট ফুটালে সেই পানি জীবাণুমুক্ত হয়। বাসা-বাড়িতে খাওয়ার জন্য এটি একটি সহজ এবং সাশ্রয়ী প্রক্রিয়া।

পাতনঃ যখন খুব বিশুদ্ধ পানির প্রয়ােজন হয়, তখন পাতন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়। যেমন: ঔষধ তৈরির জন্য, পরীক্ষাগারে রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পুরোপুরি বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়। এই প্রক্রিয়ায় একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাপ দিয়ে সেটাকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। পরে ঐ বাষ্পকে আবার ঘনীভূত করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ করা পানিতে অন্য পদার্থ থাকার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৫৪.
ঊর্ধ্বপাতন প্রক্রিয়ায় সাধারনত কোনটি ঘটে?
  1. কঠিন থেকে তরলে রূপান্তর
  2. কঠিন থেকে বায়বীয়তে সরাসরি রূপান্তর
  3. তরল থেকে বায়বীয়তে রূপান্তর
  4. বায়বীয় থেকে কঠিনে রূপান্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন থেকে বায়বীয়তে সরাসরি রূপান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন থেকে বায়বীয়তে সরাসরি রূপান্তর
ব্যাখ্যা
• ঊর্ধ্বপাতন:
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করা হলে কঠিন পদার্থটি তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।

- নিশাদল (NH4CI), কর্পূর (C10H16O), ন্যাফথলিন (C10H8), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) ইত্যাদি পদার্থগুলোতে তাপ প্রয়োগ করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়।
- এই পদার্থগুলোকে উদ্বায়ী পদার্থ বলা হয়।
- কোনো কঠিন পদার্থের মিশ্রণের মধ্যে একটি উদ্বায়ী পদার্থ মিশ্রিত থাকলে ঐ উদ্বায়ী পদার্থকে মিশ্রণ থেকে সহজে পৃথক করা যায়, যেমন নিশাদল বা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) এর সাথে খাদ্য লবণ (NaCl) মিশ্রিত থাকলে ঊর্ধ্বপাতন পদ্ধতির মাধ্যমে নিশাদলকে পৃথক করা যাবে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,৯৫৫.
গ্যাসীয় পদার্থ পাত্রে রাখলে কী হয়? 
  1. পাত্রের নিচে জমে থাকে
  2. নির্দিষ্ট আকার ধারণ করে
  3. পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে
  4. শুধু পাত্রের মুখ পর্যন্ত ওঠে
সঠিক উত্তর:
পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যেমন- 
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও  নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৫৬.
চকচকে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী মৌলকে কী বলে?
  1. খনিজ
  2. ধাতু
  3. অধাতু
  4. উপধাতু
সঠিক উত্তর:
ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাতু
ব্যাখ্যা
- চকচকে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী মৌলকে ধাতু বলে।

পদার্থ: 
-
সকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত।
যথা- ধাতু ও অধাতু।
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 
- আবার অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 
- প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
- যে সকল ধাতু ও অধাতু বেশি সক্রিয় তাদের যৌগ বেশি পরিমাণে এবং যে সকল যৌগ কম সক্রিয় তাদের যৌগ কম পরিমাণে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।

ধাতুর কতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো - 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৫৭.
কোন ধাতুর গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম?
  1. ক) দস্তা
  2. খ) সীসা
  3. গ) লোহা
  4. ঘ) পারদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) পারদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পারদ
ব্যাখ্যা

যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ গলতে শুরু করে, তাকে ঐ পদার্থের গলনাঙ্ক বলে।
প্রদত্ত পদার্থ গুলোর মধ্যে পারদের গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম; যার মান -৩৮.৮৩°C।
ফলে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল পদার্থ।
অন্য দিকে,
দস্তার গলনাঙ্ক ৪১৮°C
সীসার গলনাঙ্ক ৩২৭°C
এবং লোহার গলনাঙ্ক ১৫৩৫°C।

১,৯৫৮.
সর্বাপেক্ষা হালকা গ্যাস-
  1. অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. র‍্যাডন
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোজেন হচ্ছে সবচেয়ে হালকা গ্যাস।
- হাইড্রোজেন গ্যাস একটি গ্রিন এনার্জি, যাকে দাহ্য করা হলে শুধুমাত্র পানি উৎপন্ন করে, তাই এটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়।
- হাইড্রোজেন গ্যাস দাহ্য কিন্তু দহনে সাহায্য করে না।

• হাইড্রোজেন গ্যাসের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. বিশুদ্ধ হাইড্রোজেন, বর্ণহীন, স্বাদহীন, গন্ধহীন।
২. জলে প্রায় অদ্রাব্য গ্যাস।
৩. হাইড্রোজেন সবচেয়ে হালকা মৌল।
৪. বাতাস হাইড্রোজেন এর চেয়ে ১৪.৪ গুণ ভারী।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৯৫৯.
মারকারির সংকেত কী?
  1. ক) Au
  2. খ) Pb
  3. গ) Fe
  4. ঘ) Hg
সঠিক উত্তর:
ঘ) Hg
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Hg
ব্যাখ্যা
Au হলো গোল্ডের প্রতীক, Pb হলো লেড, Fe হলো আয়রন এবং Hg হলো মারকারির প্রতীক৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৯৬০.
কোন গ্যাসের ব্যাপন হার সবচেয়ে বেশি?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অ্যামোনিয়া
  3. অক্সিজেন
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
ব্যাপন:
- কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
- যেমন: ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ।
- কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার কম।
- যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম, তার ব্যাপন হার তত বেশি৷

এখানে,
- হাইড্রোজেন (H2) গ্যাসের আণবিক ভর ২,
- অ্যামোনিয়া (NH3) গ্যাসের আণবিক ভর ১৭,
- অক্সিজেন (O2) এর আণবিক ভর ৩২,
- নাইট্রোজেন (N2) এর আণবিক ভর ২৮।

- এখানে, হাইড্রোজেন এর আণবিক ভর সবচেয়ে কম, তার ব্যাপন হার সবচেয়ে বেশি৷ 
- কাজেই হাইড্রোজেন (H2) এর ব্যাপন হার সবচেয়ে বেশি।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি। 
১,৯৬১.
অপরিশোধিত তেল থেকে কেরোসিন, ডিজেল ও পেট্রোল পৃথক করা হয় কোন পদ্ধতিতে?
  1. তাপীয় বিক্রিয়া
  2. আংশিক পাতন
  3. পরিস্রবণ
  4. ক্রিস্টালাইজেশন
সঠিক উত্তর:
আংশিক পাতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আংশিক পাতন
ব্যাখ্যা
পেট্রোলিয়াম: 
- পেট্রোলিয়াম সাধারণত 5000 ফুট বা তার চেয়েও গভীরে শিলা স্তরের মধ্যে পাওয়া যায়। 
- পেট্রোলিয়ামের সাথে অনেক সময় প্রাকৃতিক গ্যাস থাকে, যা পেট্রোলিয়ামের উপরিভাগে চাপ প্রয়োগ করে। 
- কূপ খনন করা হলে এই প্রাকৃতিক গ্যাস পেট্রোলিয়ামকে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে উঠে আসতে সাহায্য করে। 
- যে পেট্রোলিয়াম খনি থেকে সরাসরি পাওয়া যায় তাকে অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) বা পেট্রোলিয়াম বলে। 
- এই অপরিশোধিত তেল অস্বচ্ছ, এতে কখনো কখনো সালফারের কিছু কিছু যৌগ থাকার কারণে দুর্গন্ধযুক্ত হয়। 
- পেট্রোলিয়াম বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ, এদের স্ফুটনাঙ্কও বিভিন্ন। 
- এই পেট্রোলিয়াম মূলত বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ এবং সরাসরি ব্যবহার উপযোগী নয়। এই অপরিশোধিত তেল আংশিক পাতন পদ্ধতিতে স্ফুটনাঙ্কের উপর ভিত্তি করে পৃথক করা হয়। 
- অপরিশোধিত তেল ব্যবহারের উপযুক্ত নয়, কিন্তু একে যদি আংশিক পাতনের সাহায্যে পৃথক করা হয় তবে এ অপরিশোধিত তেল থেকে পেট্রোল, গ্যাস, পেট্রোলিয়াম, ন্যাপথা, কেরোসিন, ডিজেল, প্যারাফিন মোম এবং পিচ প্রভৃতি অংশে বিভক্ত হয়ে যায়, যা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৬২.
অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রবের ক্ষেত্রে সত্য নয় কোনটি?
  1. এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি।
  2. দ্রবের আণবিক ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে সাম্যাবস্থা বিরাজ করে।
  3. দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে।
  4. পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়।
সঠিক উত্তর:
দ্রবের আণবিক ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে সাম্যাবস্থা বিরাজ করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রবের আণবিক ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে সাম্যাবস্থা বিরাজ করে।
ব্যাখ্যা
অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 

- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
- যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCI), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3 ) ইত্যাদি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব।

তথ্যসূত্র - রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৬৩.
ক্লোরোফরম ব্যবহৃত হয় - 
  1. জীবাণুনাশক হিসেবে
  2. ক্যান্সার রোগের চিকিৎসায়
  3. চেতনানাশক হিসেবে
  4. অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তিতে
সঠিক উত্তর:
চেতনানাশক হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চেতনানাশক হিসেবে
ব্যাখ্যা
- ক্লোরোফরম ব্যবহৃত হয় চেতনানাশক হিসেবে। 

ক্লোরোফরম: 
- ইথানল, ব্লিচিং পাউডার ও পানির মিশ্রণকে পাতন করলে ক্লোরোফরম পাতিত তরল রূপে সংগৃহীত হয়। 
- ব্লিচিং পাউডার ও পানি থেকে উৎপন্ন ক্লোরিন দ্বারা ইথানল প্রথমে জারিত হয়ে আ্যাসিটালডিহাইড বা ইথান্যাল উৎপন্ন করে এবং পরে ক্লোরিনেশন দ্বারা ক্লোরাল এবং শেষে ক্ষারীয় বিশ্লেষণের ফলে ক্লোরোফরম উৎপন্ন হয়। 
- চেতনানাশক হিসেবে ক্লোরোফরম ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৬৪.
সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু কোনটি?
  1. ক) লিথিয়াম
  2. খ) পটাশিয়াম
  3. গ) প্লাটিনাম
  4. ঘ) অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) প্লাটিনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্লাটিনাম
ব্যাখ্যা
- ধাতু দেখতে চকচকে। একে আঘাত করলে টুনটুন শব্দ হয়। ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
- সবচেয়ে ভারী মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম
- সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৬৫.
একই পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তরের কারণ কী? 
  1. তাপের প্রভাব
  2. অণুর সংখ্যা
  3. পরমাণুর বিন্যাস
  4. রাসায়নিক পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
তাপের প্রভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপের প্রভাব
ব্যাখ্যা
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তু যেমন, বই, খাতা, কলম, চেয়ার, টেবিল, পানি, বরফ, জলীয় বাষ্প, তেল, দুধ, কেরোসিন, তরল পানীয়, সোডা ওয়াটার ইত্যাদি সব পদার্থ। 
- পদার্থ সাধারণত তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যথা: কঠিন, তরল ও বায়বীয়। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় বেশির ভাগ পদার্থই কঠিন হলেও তরল ও বায়বীয় অবস্থাতেও পদার্থ অবস্থান করে। 
- তাপমাত্রার পরিবর্তনই পদার্থের তিন অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়। 
- পদার্থের এ তিন অবস্থার মধ্যে আবার বেশ সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য ও ধর্ম বর্তমান। 
- সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে কঠিন পদার্থের আকার ও আয়তনের কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 
- তরলের ক্ষেত্রে আয়তন ঠিক থাকলেও আকারের পরিবর্তন ঘটে। 
- পানিকে গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে এবং বোতলে রাখলে ঐ বোতলের আকার ধারণ করে। 
- বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোন আকার ও আয়তন থাকে না। 
- পদার্থের অবস্থার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৬৬.
তুঁতের রাসায়নিক সংকেত কী? 
  1. CuSO4.5H2O
  2. NaHCO3
  3. Na2SO4.10H2O
  4. Na2CO3.10H2O
সঠিক উত্তর:
CuSO4.5H2O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CuSO4.5H2O
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন মৌলের রাসায়নিক সংকেত: 
- সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত - CH3COONa, 
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- চুনাপাথরের  রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- ভিনেগারের  রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH, 
- চুনের  রাসায়নিক সংকেত- CaO । 

- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O], 
- গ্লুবার লবণ এর রাসায়নিক সংকেত- Na2SO4.10H2O, 
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত- Na2CO3.10H2O, 
- ক্লোরোফর্ম এর রাসায়নিক সংকেত- CHCl3
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক সংকেত- Ca(OCl)Cl. 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৬৭.
ভারি পানিতে নিচের কোনটি বিদ্যমান থাকে?
  1. ক) প্রোটিয়াম
  2. খ) ডিউটেরিয়াম
  3. গ) ট্রিটিয়াম
  4. ঘ) ভ্যানাডিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) ডিউটেরিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডিউটেরিয়াম
ব্যাখ্যা

পানির সংকেত হলো H2O এবং ভারি পানির সংকেত হলো D2O।
পানিতে উপস্থিত থাকে প্রোটিয়াম এবং অক্সিজেন।
ভারি পানিতে উপস্থিত থাকে ডিউটেরিয়াম এবং অক্সিজেন।
প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম হলো হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ। সাধারণভাবে হাইড্রোজেন বলতে প্রোটিয়ামকেই বোঝায়।

সূত্রঃ মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৯৬৮.
পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট এর সংকেত কোনটি?
  1. ক) K2MnO2
  2. খ) KMnO4
  3. গ) K2MnO4
  4. ঘ) KMnO2
সঠিক উত্তর:
খ) KMnO4
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) KMnO4
ব্যাখ্যা

পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট এর সংকেত হল KMnO4

পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট হচ্ছে অজৈব যৌগ।
ইহার রাসায়নিক সংকেত KMnO4 এবং K+ ও MnO−4 দ্বারা গঠিত।
এটা লালচে কালো স্ফটিকাকার কঠিন পদার্থ, যেটি পানিতে দ্রভিভুত হয়ে তাৎক্ষণিক গোলাপি বা লালচে দ্রবণ তৈরি করে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির রসায়নবিজ্ঞান

১,৯৬৯.
কোন বিক্রিয়াটি সৌর শক্তির উৎস?
  1. Nuclear fusion
  2. Ionization
  3. Nuclear Fission
  4. Chemical combustion
সঠিক উত্তর:
Nuclear fusion
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Nuclear fusion
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয়ার ফিউশন: যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়
এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে। 
 
সৌর শক্তির উৎস হলো নিউক্লিয়ার ফিউশন। 
 
The Sun is powered by nuclear fusion, a process by which nuclear reactions between light elements form heavier ones (up to iron). Substantial amounts of energy are released in cases where the interacting nuclei belong to elements with low atomic numbers. Fusion reactions constitute the fundamental energy source of stars.

[উৎস: ব্রিটানিকা ]
১,৯৭০.
জৈব যৌগ কোনটি?
  1. কস্টিক সোডা
  2. খাবার লবণ
  3. খাবার সোডা
  4. বেনজিন
সঠিক উত্তর:
বেনজিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেনজিন
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগ: 
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। 
যেমন- 
• মিথেন, 
• ইথেন, 
বেনজিন
• ইউরিয়া, 
• প্রোপিন, 
• পেন্টাইন ইত্যাদি। 
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে। 
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়। 

অজৈব যৌগ: 
- যেকোনো দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়। 
যেমন- 
• পানি, 
খাবার লবণ
খাবার সোডা
• কাপড় কাচার সোডা, 
কস্টিক সোডা
• চুন, 
• মরিচা ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৭১.
সালফানাইড প্রস্তুতিতে সালফার কেন ব্যবহার করা হয়? 
  1.  গ্যাস উৎপাদনের জন্য 
  2. তাপমাত্রা কমানোর জন্য 
  3.  রঙ দেয়ার জন্য 
  4. ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার জন্য 
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার জন্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার জন্য 
ব্যাখ্যা

সালফার: 
- সালফার হলুদ বর্ণের পদার্থ।
- সালফারের খনি মাটির অনেক নিচে থাকে।
 - ফ্রাশ (Frasch) পদ্ধতিতে সালফারের খনি থেকে সালফারকে নিষ্কাশন করা হয়।
- এক্ষেত্রে মাটির অনেক নিচে সালফারের খনির মধ্যে তিনটি এককেন্দ্রিক পাইপ প্রবেশ করানো হয়, যাকে ফ্লাশ পাইপ বলে।
- সালফার 115° C তাপমাত্রায় গলে যায়। এজন্য সালফারের গলনাঙ্কের চেয়ে বেশি তাপমাত্রায় গরম পানি (সুপার হিটেড ওয়াটার) তিনটি এককেন্দ্রিক নলের বাইরের পাইপ দিয়ে প্রবাহিত করা হয় যাতে গরম পানির তাপমাত্রায় সালফার গলে যায়।
- এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100° C, কিন্তু চাপ বাড়ালে পানির স্ফুটনাঙ্ক বৃদ্ধি পায়। এভাবে অতিরিক্ত চাপে 100° C থেকে 374° C তাপমাত্রার মধ্যবর্তী যেকোনো তাপমাত্রার পানিকে সুপার হিটেড ওয়াটার বলে। 
- এবার সবচেয়ে ভিতরের পাইপ দিয়ে 20-22 বায়ুমণ্ডল চাপের বাতাস প্রবাহিত করা হয়। একদিকে বাইরের পাইপ দিয়ে গরম পানির চাপে এবং সবচেয়ে ভিতরের পাইপ দিয়ে বাতাসের চাপে গলিত সালফার মাঝের পাইপ দিয়ে মাটির উপরে উঠে এসে বাইরের পাত্রে জমা হয়। 

সালফারের ব্যবহার: 
- সালফার বিভিন্ন শিল্পকারখানায় প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- 
(i) সালফিউরিক এসিড প্রস্তুতিতে সালফার ব্যবহার করা হয়। 
(ii) রাবারকে টেকসই করার জন্য রাবারের মধ্যে সালফার যোগ করা হয়, একে রাবারের ভলকানাইজিং বলে। 
(iii) সালফানাইড দ্বারা বিভিন্ন প্রকার ওষুধ তৈরি করা হয়। সালফানাইড ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। সালফানাইড প্রস্তুতিতে সালফার ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৭২.
রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে কোন খনিজ পদার্থ ব্যবহার করা হয়? 
  1. সিলভার
  2. চুনাপাথর
  3. মাইকা
  4. কোয়ার্টজ
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা

খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশির ভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে।
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: লোহা (Fe), তামা  (Cu), সোনা (Au) এবং  রূপা (Ag) ইত্যাদি।
২। অধাতব খনিজ পদার্থ: কোয়ার্টজ (Quartz), মাইকা (Mica) এবং খনিজ লবণ ইত্যাদি।

- গ্যাস, কয়লা, পেট্রোল এগুলোকে জৈব খনিজ পদার্থ বলে। 
- মাইকা (Mica) খনিজ পদার্থ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- কোয়ার্টজ (Quartz) খনিজ পদার্থ কাচ, সিরিজ কাগজ, রেডিও বা ঘড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- ম্যাগনেটাইট (Fe3O4) খনিজ পদার্থ লোহা (Fe) তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। 
- চুনাপাথর (CaCO3) খনিজ পদার্থ ঘরবাড়ি তৈরিতে এবং সিমেন্ট, সোডা, গ্লাস, লোহা ও স্টীল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া মাটি এসিডিক হলেও এটি ব্যবহার করে মাটিকে প্রশমন করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৯৭৩.
পানির ঘনত্ব 4° C তাপমাত্রায় কত?
  1. 1 kg/m3
  2. 10 kg/m3
  3. 100 kg/m3
  4. 1000 kg/m3
সঠিক উত্তর:
1000 kg/m3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1000 kg/m3
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা যায়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V . 
- বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)। ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা gcm-3) বহুল প্রচলিত। এটি S.I এককের উপগুণিতক। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। 
যেমন- [ρ] = ML-3

- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়, তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1 gm/cc

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৭৪.
সবচেয়ে উৎকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা নিচের কোনটি?
  1. পিট
  2. লিগনাইট
  3. বিটুমিনাস
  4. অ্যানথ্রাসাইট
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানথ্রাসাইট
ব্যাখ্যা
কয়লা (Coal): 
- কোনো এক যুগে ভূপৃষ্ঠস্থ বিশেষ এক ধরনের গাছপালা ভূগর্ভে প্রোথিত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ তাপ ও উপরের শিলাস্তরের চাপের ফলে তা রূপান্তরিত হয়ে এক ধরনের শিলাস্তরে পরিণত হয় তাকে কয়লা বলে।
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- কয়লা কার্বনের সমাবেশ ছাড়া আর কিছুই নয়।
- কার্বনের পরিমাণ বেশি হলে তাপ প্রদানের ক্ষমতাও অধিক হয়।
সুতরাং, তাপ প্রদানের ক্ষমতা দ্বারাই কয়লার গুণাগুণ বিচার করা হয়।
- গুণাগুণের পার্থক্য অনুযায়ী কয়লাকে প্রধানত চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
যথা- অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস, লিগনাইট ও পিট।
যথা - 
১। অ্যানথ্রাসাইট: 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো উৎকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা। 

২। বিটুমিনাস: 
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 

৩। লিগনাইট: 
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

৪। পিট:
- পিট হচ্ছে এক ধরণের নিকৃষ্ট শ্রেণির কয়লা। 

উল্লেখ্য, 
- নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই অনুসারে, কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। 
যেমন- অ্যানথ্রাসাইট, বিটুমিনাস, লিগনাইট। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)। 
১,৯৭৫.
নিচের কোন জৈব যৌগটিতে হাইড্রোজেন অনুপস্থিত থাকে?
  1. ক) ফরমালিন
  2. খ) ফ্রেয়ন
  3. গ) কার্বন- ডাই- অক্সাইড
  4. ঘ) বিউটিন
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রেয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রেয়ন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
গ্যামাক্সিন, হেক্সাক্লোরো ইথেন, ফসজিন, পাইরিন, ক্লোরোপিক্রিন, ফ্রেয়ন ইত্যাদি হলো হাইড্রোজেনবিহীন জৈব যৌগ।
ফরমালিন, বিউটিন, ফরমিক এসিড, বিউটেন, ইথাইন ইত্যাদি বেশিরভাগ জৈব যৌগতেই হাইড্রোজেন উপস্থিত থাকে।
কার্বন- ডাই- অক্সাইড একটি হাইড্রোজেনবিহীন অজৈব যৌগ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৯৭৬.
সিলিকনের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ক) ১১
  2. খ) ১২
  3. গ) ১৪
  4. ঘ) ১৬
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪
ব্যাখ্যা
সিলিকনের পারমাণবিক সংখ্যা ১৪,
সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১১,
ম্যাগনেসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১২,
কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬,
আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা ৩৩,
পারদের পারমাণবিক সংখ্যা ৮০।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৭৭.
খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগার ব্যবহারের মূল কারণ কী?
  1. এটি খাবারের মধ্যে ফেনা সৃষ্টি করে 
  2. এটি খাবারের স্বাদ মিষ্টি করে 
  3. এটি খাদ্যের রঙ বৃদ্ধি করে 
  4. এটি pH কমিয়ে অণুজীবের বৃদ্ধি বন্ধ করে
সঠিক উত্তর:
এটি pH কমিয়ে অণুজীবের বৃদ্ধি বন্ধ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি pH কমিয়ে অণুজীবের বৃদ্ধি বন্ধ করে
ব্যাখ্যা

ভিনেগার: 
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়। 
- ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর 6-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
অর্থাৎ, ভিনেগারের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড। 
- ভিনেগার বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। ভিনেগার বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে ভিনেগারকে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমে যায়; তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
- তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যবহার: 
- মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এভিনেগারের কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
- যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
- ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
- ভিনেগার পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
- ভিনেগার দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৭৮.
কোনো তরলকে তাপ প্রদানে বাষ্পে পরিণত করে পুনরায় শীতলীকরণের মাধ্যমে তরলে পরিণত করার পদ্ধতিকে বলা হয় -
  1. ক) ব্যাপন
  2. খ) পাতন
  3. গ) নিঃসরণ
  4. ঘ) বাষ্পীভবন
সঠিক উত্তর:
খ) পাতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পাতন
ব্যাখ্যা
পাতন
- কোনো তরলকে তাপ প্রদানে বাষ্পে পরিণত করে তাকে পুনরায় শীতলীকরণের মাধ্যমে তরলে পরিণত করার পদ্ধতিকে পাতন বলে। 
অর্থাৎ, 
পাতন = বাষ্পীভবন + ঘনীভবন। 

ব্যাপন
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাস বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে অণু প্রবেশকে ব্যাপন বলে। 
- ঘরের মশা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে আমরা যে অ্যারোসল ব্যবহার করি তা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় যে গ্যাসের আণবিক ভর যত বেশি তার ব্যাপনের হার তত কম। আর যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম তার ব্যাপনের হার তত অধিক। 

নিঃসরণ
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্ন চাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন: রিক্সার চাকা থেকে বাতাস বের হয়ে যাওয়া, গ্যাসের পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হলো নিঃসরণ। 

বাষ্পীভবন
- কোনো তরলকে তাপ প্রদান করে ঐ তরল পদার্থকে বাষ্পে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে। 
যেমন: চায়ের কাপে গরম চা রাখলে ঐ গরম চা থেকে পানি বাষ্পাকারে উড়ে যায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৭৯.
নিচের কোনটি অধাতু নয়?
  1. সালফার
  2. ক্লোরিন
  3. হাইড্রোজেন
  4. কপার
সঠিক উত্তর:
কপার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপার
ব্যাখ্যা

কপার (Cu) বা তামা একটি ধাতু।
- এটি পর্যায় সারণীর একটি ডি-ব্লক মৌল এবং এর পারমাণবিক সংখ্যা ২৯।
- এটি নরম, নমনীয় এবং অত্যন্ত তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী।
- এটি সাধারণত বৈদ্যুতিক তার, মুদ্রা ও বিভিন্ন শিল্প সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

খনিজ পদার্থ:
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি। যেমন-সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি।
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত যথাঃ ধাতু ও অধাতু।

ধাতু: ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিনিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক।

অধাতু: কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি হচ্ছে অধাতু।

উল্লেখ্য,
-প্রকৃতিতে প্রায় সকল ধাতু ও অধাতু যৌগিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।
তবে কয়লা, সালফার ও অল্প পরিমাণ গোল্ড মৌলিক পদার্থ হিসেবে পাওয়া যায়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৮০.
বিজারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়-
  1. ক) অ্যানোডে
  2. খ) ক্যাথডে
  3. গ) অ্যানোডে ও ক্যাথডে
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যাথডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যাথডে
ব্যাখ্যা
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে। 
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়
-  বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
- বিজারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় ক্যাথােডে।
- জারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় অ্যানােডে।

এভাবে মনে রাখা যায়- 
- জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
- জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
- বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
- বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বাের্ড বই
১,৯৮১.
আদর্শ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি কোন উপাদানের উপর নির্ভর করে না?
  1. আয়তন
  2. তাপমাত্রা
  3. গ্যাসের পরিমাণ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
আয়তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়তন
ব্যাখ্যা
আদর্শ গ্যাস (Ideal Gas): 
- যে গ্যাসসমূহ সকল তাপমাত্রা ও চাপে বয়েলের সূত্র, চার্লসের সূত্র, অ্যাভোগাড্রোর সূত্র তথা আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT কে মেনে চলে তাদেরকে আদর্শ গ্যাস বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে কোনো গ্যাসই সম্পূর্ণরূপে গ্যাস সূত্রসমূহ তথা PV = nRT সমীকরণ মেনে চলে না। 
- আদর্শ গ্যাস হলো একটি কাল্পনিক গ্যাস। 
- স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভর করে না। 

আদর্শ গ্যাসের বৈশিষ্ট্য: 
- আদর্শ গ্যাসে নিচের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্তমান থাকে- 
১. স্থির তাপমাত্রায় গ্যাসের চাপ ও আয়তনের গুণফল একটি ধ্রুবক, অর্থাৎ PV = K. তাই এক্ষেত্রে যদি স্থির তাপমাত্রায় চাপ বনাম PV এর লেখ অঙ্কন করা যায় তবে তা একটি সরলরেখা হবে। 
২. আদর্শ গ্যাস সকল তাপমাত্রা ও চাপে PV = nRT সমীকরণ মেনে চলে। 
৩. স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এর আয়তনের উপর নির্ভরশীল নয়। অর্থাৎ স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের আয়তনের পরিবর্তন হলেও এদের অভ্যন্তরীণ শক্তির কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 
৪. চাপ অপরিবর্তিত রেখে গ্যাসের তাপমাত্রা 0°C হতে -273.15°C কমালে গ্যাসের আয়তন শূন্য হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৮২.
ফারেনহাইট স্কেলে পানির স্ফুটনাঙ্ক কত?
  1. ক) 100°
  2. খ) 112°
  3. গ) 212°
  4. ঘ) 220°
সঠিক উত্তর:
গ) 212°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 212°
ব্যাখ্যা
স্বভাবিক চাপে পানির স্ফুটনাংক তাপমাত্রা 100°C, যেটা ফারেনহাইট স্কেলে 212°F.

সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হলো -
C/5 = (F - 32)/9 [C = সেলসিয়াস তাপমাত্রা, F = ফারেনহাইট তাপমাত্রা]

এখন, সেলসিয়াস স্কেল ও ফারেনহাইট স্কেলের তাপমাত্রা সমান (x) হলে,
x/5 = (x - 32)/ 9
Or, 9x = 5x - 160
Or, 4x = -160
Or, x = -40

অর্থাৎ, - 40 ডিগ্রিতে সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ফারেনহাইট তাপমাত্রা সমান।

আমরা জানি,
পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C
∴ 100/5 = (x - 32)/9
(x - 32)/9 = 20
x = 180 + 32 = 212° F
১,৯৮৩.
পলিথিন প্রস্তুতির জন্য নিচের কোন ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়?
  1. প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. সংযোজন বিক্রিয়া 
  4. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
সংযোজন বিক্রিয়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংযোজন বিক্রিয়া 
ব্যাখ্যা

• পলিথিন হলো একটি পলিমার, যা ইথিলিন বা ইথিন (CH2=CH2) নামক মনোমার থেকে তৈরি হয়।
- যে প্রক্রিয়ায় অসংখ্য ইথিলিন অণু উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রায় পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে একটি বৃহৎ চেইন পলিমার (পলিথিন) তৈরি করে, তাকে পলিমারাইজেশন বিক্রিয়া বলে।
- এই পলিমারাইজেশন বিক্রিয়াটি একটি সংযোজন বিক্রিয়ার (Addition Reaction) উদাহরণ।

 • সংযোজন বিক্রিয়া:
- যে বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক যৌগ বা মৌল যুক্ত হয়ে নতুন যৌগ উৎপন্ন করে সে বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়া বলা হয়। 

• সংযোজন পলিমার:
- যে পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় কোন ক্ষুদ্র অণুর অপসারণ ব্যাতিত মনোমার অণুসমূহ পরস্পর যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শিকল পলিমার গঠন করে এবং গঠিত পলিমারের আণবিক ভর মনোমারের আণবিক ভরের পূর্ণ গুণিতক হয় তাকে সংযোজন পলিমার বলে।
- সাধারণত দ্বিবন্ধন যুক্ত যৌগসমূহ যেমন অ্যালকিন, প্রতিস্থাপিত অ্যালকিন ও ভিনাইল যৌগসমূহে সংযোগ পলিমারকরণ (addition polymerization) ঘটে।

• পলিথিন:
- ১০০০ - ১২০০ বায়ু চাপে ইথিন গ্যাসকে তরলীকৃত করে সমান্য অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ২০০০০ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে ইথিনের অসংখ্য অণু পরপর যুক্ত হয়ে যুত পলিমার পলিথিন গঠন করে।
- পলিথিন তৈরির এই প্রক্রিয়া টি সংযোজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে। 
- পলিথিন একটি সাদা অসচ্ছ ও শক্ত প্লাস্টিক পদার্থ।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী। 
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৯৮৪.
বস্তুর ওজনের চেয়ে বস্তুটি দ্বারা অপসারিত তরলের ওজন বেশি হলে বস্তুটি ঐ তরলে কী অবস্থায় থাকবে?
  1. ডুবে যাবে
  2. ভেসে থাকবে
  3. অর্ধেক ভেসে থাকবে
  4. সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে ভাসবে
সঠিক উত্তর:
ভেসে থাকবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেসে থাকবে
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র (Archimedes' Law): 
- সিসিলির বিখ্যাত বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস আবিষ্কার করেন পানিতে নিমজ্জিত বস্তু তার আয়তনের সমান পরিমাণ পানি অপসারণ করে এবং কিছু ওজন হারায়। 
- তার এই আবিষ্কার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে একটি সূত্রের আকারে প্রকাশ করা হয় যা আর্কিমিডিসের সূত্র নামে পরিচিত। 
- সূত্রটি হল "কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান"। 

ব্যাখ্যা: 
- কোনো বস্তুকে যখন তরলে ডুবানো হয় তখন একই সাথে ঐ বস্তুর উপর দুটি বল কাজ করে। 
- একটি বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল, যা বস্তুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে টানে। একে বলে বস্তর ওজন। দ্বিতীয়টি বস্তুর উপর তরল পদার্থের ঊর্ধ্বমুখী চাপ বা বল, একে বলা হয় প্লবতা। 
- দুটি বিপরীতমুখী বলের লব্ধি বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল হয়। ফলে বস্তুটির ওজন কমে যায়। 
- বস্তুটি তরলে নিমজ্জিত হলে কিছু জায়গা দখল করে। তখন এই জায়গার তরল সরে যায় বা অপসারিত হয়। তরলের ঊর্ধ্বমুখী বল এই অপসারিত তরলের ওজনের সমান হয়। 
- বস্তু যত বেশি জায়গা দখল করবে অপসারিত তরলের আয়তনও তত বেশি হবে। আবার বস্তুটি যত বেশি তরল অপসারণ করবে তার ওজন তত বেশি কমবে যা আর্কিমিডিসের সূত্রের মূল কথা। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
- ধরা যাক, একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন। ঐ বস্তুটিকে পানিতে ডোবানো হলে বস্তুটির উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্বচাপ জনিত বল) W1 নিউটন।
এখন- 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ডুববে না, ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৮৫.
কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি যার মূল উপাদান হচ্ছে- 
  1. কার্বন
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. সালফার
সঠিক উত্তর:
কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- তবে স্থানভেদে এতে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H), সালফার (S), অক্সিজেন (O) কিংবা নাইট্রোজেন (N) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা এবং এর মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। 
- এভাবে জমা হওয়া কার্বনের স্তর আস্তে আস্তে পলি বা কাদার নিচে পড়ে যায় এবং বাতাসের সংস্পর্শ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 
- এরকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরো ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)। 
- পিট অনেকটা হিউমাসের মতো পদার্থ, পরবর্তীতে উচ্চ চাপে ও তাপে এই পিট পরিবর্তিত হয়ে কার্বনসমৃদ্ধ কয়লায় পরিণত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৮৬.
ইস্পাত লোহা থেকে ভিন্ন, কারণ এতে -
  1. লোহাকে টেম্পার করা হয়েছে
  2. সুনিয়ন্ত্রিত পরিমাণ কার্বন রয়েছে
  3. সকল বিজাতীয় পদার্থ বের করে দেয়া হয়েছে
  4. বিশেষ ধরনের আকরিক ব্যবহার করা হয়েছে
সঠিক উত্তর:
সুনিয়ন্ত্রিত পরিমাণ কার্বন রয়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনিয়ন্ত্রিত পরিমাণ কার্বন রয়েছে
ব্যাখ্যা
- সাধারণ লোহার সাথে সুনিয়ন্ত্রিত উপায়ে কার্বন মিশিয়ে ইস্পাত তৈরী করা হয়, তাই এটি সাধারণ লোহা থেকে ভিন্ন। 
- ইস্পাত লোহা ও কার্বনের একটি সংকর ধাতু যার মধ্যে মোট ওজনের ০.২% থেকে ২.১% কার্বন থাকে। 
- এছাড়াও ম্যাঙ্গানিজ, ক্রোমিয়াম এবং ট্যাংস্টেন লোহার সাথে মিশিয়ে ইস্পাত তৈরী করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৮৭.
নিচের কোনটি লোহার প্রধান আকরিক?
  1. ক) হেমাটাইট
  2. খ) বক্সাইট
  3. গ) বোরাক্স
  4. ঘ) জিপসাম
সঠিক উত্তর:
ক) হেমাটাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হেমাটাইট
ব্যাখ্যা
আয়রন বা লোহার আকরিক
- ম্যাগনেটাইট,
- হেমাটাইট,
- আয়রন পাইরাইটস,
- লিমোনাইট ইত্যাদি।

সোডিয়ামের আকরিক:
- রকসল্ট,
- চিলি সল্টপিটার,
- ন্যাট্রোন,
- বোরাক্স ইত্যাদি।

ক্যালসিয়ামের আকরিক:
- চুনাপাথর,
- জিপসাম,
- ডলোমাইট ইত্যাদি।

অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক:
- বক্সাইট,
- কোরান্ডাম,
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৯৮৮.
লবণ কী ধরনের পদার্থ?
  1. যৌগিক
  2. মৌলিক
  3. মিশ্র
  4. গ্যাসীয়
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা
• যৌগিক পদার্থ:
- দুই বা তার বেশি সংখ্যক মৌলিক পদার্থ নির্দিষ্ট ওজনের অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে ভিন্ন ধর্মী পদার্থ গঠন করে। অথবা, যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা তার বেশি মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে।
- যৌগিক পদার্থের উদাহরণ : পানি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, খাদ্য লবন, এসিড, ক্ষার প্রভৃতি হল যৌগিক পদার্থ।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৯৮৯.
কোন শ্রেণির কয়লায় কার্বনের পরিমাণ সবচেয়ে কম?
  1. এ্যানথ্রাসাইড কয়লা
  2. বিটুমিনাস কয়লা
  3. বাদামি কয়লা
  4. পীট কয়লা
সঠিক উত্তর:
পীট কয়লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পীট কয়লা
ব্যাখ্যা

কয়লার শ্রেণী বিভাগ:
- কয়লা কার্বনের সমাবেশ মাত্র। কয়লার গুনাগুন তাপ প্রদান ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল।
- কয়লার গুনাগুনের তারতম্য অনুযায়ী কয়লাকে প্রধানত চার শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়।
যেমন: 
১। এ্যানথ্রাসাইড কয়লা
২। বিটুমিনাস কয়লা
৩। লিগনাইট বা বাদামি কয়লা
৪। পীট কয়লা

নিম্নে বিভিন্ন শ্রেণীর কয়লার বর্ণণা দেয়া হলো: 
১। এ্যানথ্রাসাইড: এ শ্রেণীর কয়লা সবচেয়ে শক্ত ও উৎকৃষ্ট শ্রেণীর। এটার রং ঘন কৃষ্ণবর্ণ, উজ্জল ও ভারী হয়ে থাকে। এটা সহজে প্রজ্জলিত হতে চায় না। তবে একবার প্রজ্জলন হলে নীল আভাযুক্ত প্রচন্ড তাপ উৎপন্ন হয় এবং দীর্ঘ সময় জ্বলতে থাকে। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে।

২। বিটুমিনাস কয়লা: এটি মধ্যম শ্রেণীর কয়লা যা থেকে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। তবে সামান্য ধোয়াও বের হয়ে থাকে। এতে ৮২ ভাগ কার্বন ও ৫ ভাগ হাইড্রোজেন থাকে। পৃথিবীর সঞ্চিত কয়লার ৭৫ ভাগ কয়লাই এ শ্রেণীভূক্ত।

৩। লিগনাইট বা বাদামী কয়লা: এটি একটি নিকৃষ্ট ধরনের কয়লা। এটি সাধারনত নরম ও ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়ে থাকে। এর রং বাদামী বলে একে বাদামী কয়লাও বলা হয়। এতে ৬৫ ভাগ কার্বন থাকে। এ ধরনের কয়লায় গ্যাস ও জলীয় বাষ্প বেশী থাকার ফলে তাপ তুলনামূলক ভাবে কম হয়।

৪। পীট কয়লা: এটি কয়লার মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন মানের। এটাকে পুরপুরি কয়লা বলা যায় না। এতে মাত্র ৪৯% কার্বন থাকে এবং জ্বালালে খুব ধোঁয়া হয়। অত্যন্ত কম কার্বন থাকে বলে তাপ উৎপাদন ক্ষমতা খুব কম এবং খুব তাড়াতাড়ি পুড়ে যায়। 

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৯৯০.
কিটোনের কার্যকরী মূলক-
  1. -OH
  2. -COOH
  3. >C=O
  4. -NH2
সঠিক উত্তর:
>C=O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
>C=O
ব্যাখ্যা
কার্যকরী মূলক (Functional groups)
- অসংখ্য জৈব যৌগসমূহকে কতকগুলো সমধর্মী শ্রেণী বা সমগোত্রীয় শ্রেণীতে (Homologous series) ভাগ করা হয়।
- একই সমধর্মী শ্রেণীর যৌগ সমূহের মধ্যে যথেষ্ট সাদৃশ্য আছে।
- প্রত্যেক জৈব যৌগের শ্রেণীর ধর্ম উহাদের অণুতে একটি বিশেষ মূলকের উপস্থিতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই মুলকটিকে ঐ শ্রেণীর কার্যকরী মূলক বা ক্রিয়াশীল মুলক বলে। অর্থাৎ “কোন জৈব যৌগের অণুতে উপস্থিত যে পরমাণু বা পরমাণুগোষ্ঠী যৌগের সব রাসায়নিক ধর্মকে কার্যকর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তাকে কার্যকরী মূলক বা ক্রিয়াশীল মূলক বলে।”

• উদাহরণ:
- অ্যালকোহলের কার্যকরী মুলক হ'ল হাইড্রোক্সিল মূলক -OH
- অ্যামিনের কার্যকরী মুলক –NH2,
- কিটোনের >C=O,
- এসিডের -COOH ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৯১.
রাদারফোর্ডের মডেল কোন কণার ঘূর্ণন ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়েছিল?
  1. প্রোটন
  2. ইলেকট্রন
  3. ফোটন
  4. নিউট্রন
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- 1911 খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন। 
- এ মডেল অনুসারে- 
(a) প্রত্যেকটি পরমাণুর একটি কেন্দ্র আছে। এই কেন্দ্রের নাম নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটন ও নিউট্রন এবং নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেকট্রন অবস্থান করে। যেহেতু আপেক্ষিকভাবে ইলেকট্রনের ভর শূন্য ধরা হয় কাজেই নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত প্রোটন এবং নিউট্রনের ভরই পরমাণুর ভর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
(b) নিউক্লিয়াস অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং নিউক্লিয়াসের বাইরে ও পরমাণুর ভেতরে বেশির ভাগ জায়গাই ফাঁকা। 
(c) সৌরজগতে সূর্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কক্ষপথে যেমন গ্রহগুলো ঘুরে তেমনি নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কক্ষপথে ইলেকট্রনগুলো ঘুরছে। কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি প্রোটন থাকে নিউক্লিয়াসের বাইরে ঠিক সেই কয়টি ইলেকট্রন থাকে। যেহেতু প্রোটন এবং ইলেকট্রনের চার্জ একে অপরের সমান ও বিপরীত চিহ্নের, তাই পরমাণুর সামগ্রিকভাবে চার্জ শূন্য। 
(d) ধনাত্মক চার্জবাহী নিউক্লিয়াসের প্রতি ঋণাত্মক চার্জবাহী ইলেকট্রন এক ধরনের আকর্ষণ বল অনুভব করে। এই আকর্ষণ বল কেন্দ্রমুখী এবং এই কেন্দ্রমুখী বলের কারণে পৃথিবী যেরকম সূর্যের চারদিকে ঘুরে ইলেকট্রন সেরকম নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘুরে। 

- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করা হয়েছে বলে এ মডেলটিকে সোলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলে। আবার, এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন। 
- তিনিই সর্বপ্রথম একটি গ্রহণযোগ্য পরমাণু মডেল প্রদান করলেও তার পরমাণু মডেলের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। 
সেগুলো হলো- 
(a) এই মডেল ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার (ব্যাসার্ধ) ও আকৃতি সম্বন্ধে কোনো ধারণা দিতে পারেনি। 
(b) সৌরজগতের সূর্য ও গ্রহগুলোর সামগ্রিকভাবে কোনো আধান বা চার্জ নেই কিন্তু পরমাণুতে ইলেকট্রন এবং নিউক্লিয়াসের আধান বা চার্জ আছে। কাজেই চার্জহীন সূর্য এবং গ্রহগুলোর সাথে চার্যযুক্ত নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের তুলনা করা সঠিক নয়। 
(c) একের অধিক ইলেকট্রনবিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো কীভাবে নিউক্লিয়াসের চারদিকে পরিভ্রমণ করে তার কোনো ধারণা এ মডেলে দেওয়া হয়নি। 
(d) ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণনের সময় ক্রমাগত শক্তি হারাতে থাকবে। ফলে ইলেকট্রনের ঘূর্ণন পথও ছোট হতে থাকবে এবং এক সময় ইলেকট্রনটি নিউক্লিয়াসে পতিত হবে। অর্থাৎ পরমাণুর অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে। কিন্তু বাস্তবে সেটা ঘটে না অর্থাৎ ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বানুসারে রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল সঠিক নয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৯২.
পানিতে কোন রাসায়নিক উপাদানের আধিক্যে শ্যাওলা জন্মে?
  1. ক) সালফেট ও নাইট্রেট
  2. খ) ফসফেট ও নাইট্রোজেন
  3. গ) পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
খ) ফসফেট ও নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফসফেট ও নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
পানিতে ফসফেট ও নাইট্রোজেন এর আধিক্যে শ্যাওলা জন্মে।
১,৯৯৩.
কোনো পদার্থ কতটুকু অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝতে কোন বিজ্ঞানী pH স্কেল ব্যবহার করেন?
  1. জে. জে. থমসন
  2. জেমস চ্যাডউইক
  3. আইনস্টাইন
  4. সোরেনসেন
সঠিক উত্তর:
সোরেনসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোরেনসেন
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়।
- কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+

- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৯৯৪.
প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের মূল একক কোনটি?
  1. গ্লুকোজ
  2. অ্যামাইনো এসিড
  3. ফ্যাটি এসিড
  4. গ্লিসারল
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইনো এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইনো এসিড
ব্যাখ্যা

- স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ইত্যাদি শর্করা জাতীয় খাবারের মূল একক হলো গ্লুকোজ।
- প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের মূল একক হলো অ্যামাইনো এসিড।
- স্নেহ জাতীয় খাবারের মূল একক হলো ফ্যাটি এসিড এবং গ্লিসারল।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৯৯৫.
কত ক্যারেট স্বর্ণ ১০০% বিশুদ্ধ?
  1. ক) ২৫ ক্যারেট
  2. খ) ২৪ ক্যারেট
  3. গ) ২২ ক্যারেট
  4. ঘ) ২১ ক্যারেট
সঠিক উত্তর:
খ) ২৪ ক্যারেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৪ ক্যারেট
ব্যাখ্যা

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
১,৯৯৬.
লোহার যোজনী কত? 
  1. ২ ও ৩
  2. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
২ ও ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ ও ৩
ব্যাখ্যা

• লোহা প্রধানত ২ ও ৩ যোজনী প্রদর্শন করে।

• যোজনী:
- যোজনী হলো একটি মৌল কতটি ইলেকট্রন ব্যবহার করে অন্য মৌলের সঙ্গে যৌগ (bond) গঠন করতে পারে তা নির্দেশ করে।
- এটি মূলত মৌলের শেষ কক্ষপথে উপস্থিত ইলেকট্রনের সংখ্যা দ্বারা নির্ধারিত হয়।

• লোহা (Fe) এর যোজনী:
- লোহা একটি অবস্থান্তর মৌল (গ্রুপ - ৮)।
- লোহা বিভিন্ন অক্সিডেশন স্টেটে থাকতে পারে, যার ফলে এর যোজনীও পরিবর্তিত হয়।

• লোহা প্রধানত দুইটি যোজনী প্রদর্শন করে:
- Fe2+ (Ferrous) → যোজনী ২
- Fe3+ (Ferric) → যোজনী ৩

• বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ:
- FeO (Ferrous oxide) → লোহা ২+ অবস্থায় → যোজনী ২
- Fe2O3 (Ferric oxide) → লোহা ৩+ অবস্থায় → যোজনী ৩
- লোহা উভয় অক্সিডেশন অবস্থায় রাসায়নিক যৌগ তৈরি করতে সক্ষম।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

১,৯৯৭.
শেভিং ফোম বা জেল- এর রাসায়নিক সংকেত কোনটি?
  1. ক) CuSO4.5H2O
  2. খ) C17H35COOK
  3. গ) ZnCO3
  4. ঘ) C17H35COONa
সঠিক উত্তর:
খ) C17H35COOK
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) C17H35COOK
ব্যাখ্যা
• শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট যার রাসায়নিক সংকেত হলো- C17H35COOK
• কাপড় কাচার সাবানে থাকে মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট, যার রাসায়নিক সংকেত- C17H35COONa
• কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত- Na2CO3.10H2O
• তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O
• ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O]
• ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
• মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
• বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৯৮.
পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্ট শিলাকে কী বলা হয়? 
  1. জীবাশ্ম শিলা
  2. পাললিক শিলা
  3. আগ্নেয় শিলা
  4. রূপান্তরিত শিলা
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয় শিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয় শিলা
ব্যাখ্যা
শিলা: 
- ভূত্বক যেসব উপাদান দ্বারা গঠিত তাদের সাধারণ নাম শিলা। 
- ভূতত্ত্ববিদগণের মতে দুই বা ততোধিক খনিজ দ্রব্যের সংমিশ্রণে এসব শিলার সৃষ্টি হয়। 
- ভূত্বক গঠনকারী সকল কঠিন ও কোমল পদার্থই শিলা। 
যেমন- নুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালি প্রভৃতি। 
- গঠনপ্রণালি অনুসারে শিলাকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- (১) আগ্নেয় শিলা, (২) পাললিক শিলা ও (৩) রূপান্তরিত শিলা। 

আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks): 
- জন্মের প্রথমে পৃথিবী একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড ছিল। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়। পরে আরও তাপ বিকিরণ করে এর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে। এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে আগ্নেয় শিলা বলে। 
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় তাই এই শিলাকে প্রাথমিক শিলাও বলে। 
- এ শিলায় কোনো স্তর নেই, তাই আগ্নেয় শিলার অপর নাম অস্তরীভূত শিলা। 
- এই শিলায় জীবাশ্ম নেই। এই শিলার বৈশিষ্ট্য হলো- (ক) স্ফটিকাকার, (খ) অস্তরীভূত, (গ) কঠিন ও কম ভঙ্গুর, (ঘ) জীবাশ্ম দেখা যায় না এবং (ঙ) অপেক্ষাকৃত ভারী। 
- আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় ভূত্বকের দুর্বল অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়। তখন পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে উত্তপ্ত গলিত লাভা নির্গত হয়ে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে। এভাবে ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট শিলার সৃষ্টি হয়। 

- আগ্নেয় শিলাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা (Extrusive Igneous Rocks): 
- ভূগর্ভের উত্তপ্ত তরল পদার্থ ম্যাগমা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা অন্য কোনো কারণে বেরিয়ে এসে শীতল হয়ে জমাট বেঁধে বহিঃজ আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হয়, এদের দানা খুব সূক্ষ্ম এবং রং গাঢ়। এই শিলার উদাহরণ হলো ব্যাসল্ট, রায়োলাইট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি। 

(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা (Intrusive Igneous Rocks): 
- উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাইরে না এসে ভূগর্ভে জমাট বাঁধলে তৈরি হয় অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা। এর দানাগুলো স্থূল ও হালকা রঙের হয়। গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক ও সিল এ শিলার অন্যতম উদাহরণ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৯৯৯.
যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদের কী বলা হয়?
  1. আইসোটোন
  2. আইসোবার
  3. আইসোমার 
  4. আইসোটোপ
সঠিক উত্তর:
আইসোটোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোটোপ
ব্যাখ্যা

- যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোটোপ (Isotope) বলা হয়। একই প্রোটন সংখ্যা থাকায় আইসোটোপগুলো একই মৌলের ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু হয়, তবে ভিন্ন নিউট্রন সংখ্যার কারণে এদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। 

• আইসোবার: 
- যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলে। 

• আইসোটোন: 
- যে সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়। 

• আইসোটোপ: 
- যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 

• আইসোমার: 
- যেসব পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২,০০০.
মরিচার রাসায়নিক সংকেত কী? 
  1. CaCO3
  2. Fe2O3.nH2O
  3. NaHCO3
  4. Na2CO3.10H2O
সঠিক উত্তর:
Fe2O3.nH2O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Fe2O3.nH2O
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক নাম ও সংকেত: 
- চুনাপাথরের রাসায়নিক নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3). 
- চুনের নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO). 
- কলিচুন বা চুনের পানির নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2
- চুন (CaO) এর সাথে পানি (H2O) সংমিশ্রণে কলিচুন বা চুনের পানি উৎপন্ন হয়। 
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত Na2CO3.10H2O. 
- খাবার সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3). 
- মরিচার রাসায়নিক সংকেত হলো Fe2O3.nH2O

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।