বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৯৯ / ২১১ · ৯,৮০১৯,৯০০ / ২১,১৩২

৯,৮০১.
কোনটি সাধু ভাষায় রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ উপন্যাস?
  1. গোরা
  2. চতুরঙ্গ
  3. মালঞ্চ
  4. চার অধ্যায়
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
'চতুরঙ্গ' উপন্যাস:
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস - চতুরঙ্গ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

- তার সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি। 

নাটক: 
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- ডাকঘর, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী, 
- তাসের দেশ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৯,৮০২.
'কাফেলা' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) ইমদাদুল হক
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) ইব্রাহিম খাঁ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইব্রাহিম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইব্রাহিম খাঁ
ব্যাখ্যা

• ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটকঃ
- কাফেলা,
- আনোয়ার পাশা,
- কামাল পাশা,
- ভিস্তি বাদশা,
- ঋণ পরিশোধ।
• তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনীঃ
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- পাকিস্তানের পথে ঘাটে,
- নয়া চীনে এক চক্কর।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- সোনার শিকল,
- আলু বোখরা,
- দাদুর আসর।
• তাঁর রচিত উপন্যাস- বৌ বেগম।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৮০৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে 'গুরুদেব' সম্মানে ভূষিত করেন-
  1. ক) ক্ষিতিমোহন সেন
  2. খ) মহাত্মা গান্ধী
  3. গ) ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
  4. ঘ) চি-সি-লিজন
সঠিক উত্তর:
খ) মহাত্মা গান্ধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মহাত্মা গান্ধী
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে 'গুরুদেব' সম্মানে ভূষিত করেন- মহাত্মা গান্ধী, কবিগুরু উপাধিতে ভূষিত করেন- ক্ষিতিমোহন সেন, বিশ্বকবি সম্মানে ভূষিত করেন- ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় এবং ভারতের মহাকবি উপাধিতে ভূষিত করেন চীনা কবি চি-সি-লিজন। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৮০৪.
আবুল হাসানের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. পৃথক পালঙ্ক
  2. ওরা কয়েকজন
  3. যে তুমি হরণ করো
  4. রাজা যায় রাজা আসে
সঠিক উত্তর:
ওরা কয়েকজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা কয়েকজন
ব্যাখ্যা
• আবুল হাসানের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য - ওরা কয়েকজন।

• আবুল হাসান: 

- ১৯৪৭ সালের ৪ঠা আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্নি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নাজিরপুর, পিরোজপুর।
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। 
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ২৬শে নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

• গল্প সংকলন:
- আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৮০৫.
‘জননী’ উপন্যাস কার লেখা?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান রচিত জননী উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো দরিয়া-বিবি, আজহার, মোনাদি প্রমুখ। অন্যদিকে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (আসল নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়) জননী নামে একটি উপন্যাস লিখেছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৯,৮০৬.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটির প্রেক্ষাপট কী?
  1. দেশভাগ
  2. গণঅভ্যুত্থান
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. স্বাধীনতা সংগ্রাম
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতা সংগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতা সংগ্রাম
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশ' কবিতা:
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বিখ্যাত কবিতা ‘বাংলাদেশ’ অনিঃশেষ (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- কবিতাটি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৮০৭.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যাপক রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কথামালা
  2. খ) ইতিহাসমালা
  3. গ) কথোপকথন
  4. ঘ) লিপিমালা
সঠিক উত্তর:
ঘ) লিপিমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লিপিমালা
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যাপক রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'লিপিমালা'।

• ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়মের অভ্যন্তর ভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
- কলেজের বাঙালি শিক্ষকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত ছিলেন রামরাম বসু, তারিণীচরণ মিত্র ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার। 
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- তিনি উলিয়াম কেরীকে (১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত) বাংলা ভাষা সেখান। 
- রামরাম বসু রচিত বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত মৌলিক গ্রন্থ - প্রতাপাদিত্যচরিত্র (১৮০১)।
- রামরাম বসুর দ্বিতীয় গ্রন্থ হচ্ছে - লিপিমালা (১৮০২)।
- দ্বিতীয় গ্রন্থ হচ্ছে - লিপিমালা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাত্রদের চলিত ভাষা ও দেশিয় লোকের বৈষয়িক ব্যবহারের পরিচয় দানের জন্য পত্রাকারে লিখিত প্রবন্ধ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৯,৮০৮.
‘ধূসরতার কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) জীবনানন্দ দাস
  3. গ) মাইকেল মদুসূদন দত্ত
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনানন্দ দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনানন্দ দাস
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাস ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 
• জীবনানন্দ দাশকে “ধূসরতার কবি” বলা হয়। ‘
• ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আছে জীবনানন্দ দাশের। কিন্তু শুধু এ কারণেই তাঁকে ‘ধূসরতার কবি’ বলা হয়-তা নয়। তাঁর বহু কবিতায় হতাশা ও বিবর্ণের কথা আছে। তাঁর কবিতার চালচিত্রে আছে ধূসর বর্ণ। তাই জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ:
- মাল্যবান, 
- সুতীর্থ, 
- নিরুপম যাত্রা, 
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।

• জীবনানন্দের বনলতা সেন  কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়। এছাড়া জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৮০৯.
‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) গীতিনাট্য
  2. খ) কাব্যনাট্য
  3. গ) কাহিনী কাব্য
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্যনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
• পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য।
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে |
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্য
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- গণনায়ক,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৮১০.
ইংরেজি ঔপন্যাসিক লিটনের 'The Last Days of Pompeii' অবলম্বনে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. দেবী চৌধুরাণী
  2. রজনী
  3. যুগলাঙ্গুরীয়
  4. আনন্দমঠ
সঠিক উত্তর:
রজনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রজনী
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্রের 'রজনী' উপন্যাসটি ইংরেজি ঔপন্যাসিক লিটন রচিত 'The Last Days of Pompeii' অবলম্বনে রচিত। 

• 'রজনী' উপন্যাস:
- 'রজনী' (১৮৭৭) উপন্যাসের নায়িকা রজনীর সঙ্গে লর্ড লিটন প্রণীত 'দি লাস্ট ডেজ অফ পম্পেই' নামক উপন্যাসের নিডিয়া চরিত্রের কিছুটা ঐক্য আছে। - বিভিন্ন পাত্র-পাত্রীর জবানবন্দিতে এই উপন্যাস রচিত। এই রীতিটিও যে বঙ্কিম ইংরেজ ঔপন্যাসিক কার্লিনস অনুসরণে করেছেন তা তিনি ভূমিকায় জানিয়েছেন।
- বাংলা উপন্যাস গড়ে তুলবার জন্য এভাবেই পাশ্চাত্যের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। বঙ্কিমের অধিকাংশ উপন্যাসের মতোই এখানেও প্রেম ও আদর্শের সংঘাতই কাহিনির মূল উপজীব্য। 'রজনী'কে প্রকৃত উপন্যাস না বলে রোমান্স বলা হয়ে থাকে। কারণ এখানে বেশ কল্পদৃশ্যে ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
 
অন্যদিকে,
-----------------------------
• ‘দেবী চৌধুরাণী’ উপন্যাস:
- ‘দেবী চৌধুরাণী’ হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা উপন্যাস।
- এটি ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে সুবোধ চন্দ্র মিত্র এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ‘প্রফুল্ল’ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ভিতর থেকে শক্তির সাথে লড়াই করে। এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র এক নারীকে নেতৃত্ব দিয়ে সংগ্রাম করার কাহিনি উপস্থাপন করেছেন।
- এটি বাংলা ও ভারতীয় সাহিত্যের ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস। যেহেতু এটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ভারতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামকে উস্কে দিয়েছিল তাই উপন্যাসটি ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করেছিল।
- স্বাধীনতার পর ভারত সরকার পরবর্তীতে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। 

-------------------
• ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ উপন্যাস:
- ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ছোট আখ্যান। এটি প্রাচীন পটভূমিকায় একটি প্রেম কাহিনি।

------------------
• 'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস 'আনন্দমঠ'(১৮৮২)। 
- উপন্যাসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদ্বশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- এ গ্রন্থে রচিত গান "বন্দে মাতরম্‌" পরবর্তিতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮১১.
‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের দ্বিতীয় অংশের নাম কী?
  1. ভবানন্দচরিত
  2. শিবনারায়ণ
  3. বিদ্যাসুন্দর
  4. রূপসুন্দর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাসুন্দর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাসুন্দর
ব্যাখ্যা
অন্নদামঙ্গল:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যধারার প্রধান কবি- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য মোট তিন খণ্ডে বিভক্ত।
যেমন:
- শিবনারায়ণ।
- কালিকামঙ্গল।
- মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৮১২.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত নাটক কোনটি?
  1. বিশ শতকের মেয়ে
  2. যে অরণ্যে আলো নেই
  3. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  4. বহ্নিবলয়
সঠিক উত্তর:
যে অরণ্যে আলো নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে অরণ্যে আলো নেই
ব্যাখ্যা

• 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি নাটক। 

নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- 'রমনা পার্কে' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত ছোট গল্প
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৮১৩.
দ্বিজ বংশীদাস কোন কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল 
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• 'দ্বিজ বংশীদাস' — মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।

-------------------
দ্বিজ বংশীদাস:
মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি — দ্বিজ বংশীদাস বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বিশেষ খ্যাত। তিনি মূলত — মনসামঙ্গল কাব্যের কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচনায় সমকালীন সমাজজীবনের প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়। কাব্যে ব্যবহৃত ‘মঘ-ফিরিঙ্গি’, ‘বন্দুক-পলিতা’ ইত্যাদি শব্দ প্রমাণ করে যে তিনি সম্ভবত সতেরো শতকে আবির্ভূত হন।

 জীবনীসংক্রান্ত তথ্য:
• জন্মস্থান: কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রাম।
• কাব্যের পরিচয়: পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি।
• পাণ্ডিত্য: সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য।
• বিশেষত্ব: সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন।
• পারিবারিক পরিচয়: তিনি কবি চন্দ্রাবতীর পিতা।
-------------
'মনসামঙ্গল' কাব্য:
মনসামঙ্গল কাব্য  — দেবী মনসার পূজা ও গুণকীর্তন নিয়ে রচিত। এই কাব্যের প্রধান চরিত্র  — চাঁদ সওদাগর, একজন বণিক, যিনি তাঁর বাণিজ্যিক অভিযানের জন্য বিখ্যাত। মনসামঙ্গল কাব্যে  — চাঁদ সওদাগরের সমুদ্রযাত্রা, বাণিজ্য, এবং তাঁর সঙ্গে মনসা দেবীর দ্বন্দ্বের বর্ণনা রয়েছে। এই কাব্যে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভূমিকা, যেমন বণিক, নৌকার মাঝি, সাধারণ গ্রামবাসী, এবং ধর্মীয় বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন চরিত্রের জীবনযাত্রা ফুটে উঠেছে।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান কবিগণ:
• কানাহরি দত্ত — আদি কবি;
• বিজয়গুপ্ত;
• দ্বিজ বংশীদাস;
• নারায়ণদেব;
• কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৮১৪.
"কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ" গ্রন্থটির মূল বিষয়বস্তু কী?
  1. বাংলা ব্যাকরণ প্রণয়ন
  2. সুফিবাদের প্রচার
  3. খ্রিষ্টধর্মের মহিমা বর্ণনা
  4. বাংলা উপমহাদেশের ইতিহাস
সঠিক উত্তর:
খ্রিষ্টধর্মের মহিমা বর্ণনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ্রিষ্টধর্মের মহিমা বর্ণনা
ব্যাখ্যা

• কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ:
কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ হলো মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দ্বারা রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এটি ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়। এই গ্রন্থের মূল লক্ষ্য হলো - গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন করা।

• মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ: 
মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ একজন পর্তুগিজ খ্রিস্টান ধর্মযাজক। তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচনার আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি। ১৭৪৩ সালে, তিনি দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।
এগুলো হলো - 
- কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ,
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,
- বাংলাপিডিয়া।

৯,৮১৫.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক উপন্যাস?
  1. শেষের কবিতা 
  2. গোরা
  3. নৌকাডুবি
  4. চোখের বালি
সঠিক উত্তর:
গোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরা
ব্যাখ্যা

'গোরা' উপন্যাসের বিষয়বস্তু:
- 'গোরা' উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো 'ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়'।
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটি চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।

অন্যদিকে,
'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত "চোখের বালি" বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।

'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নৌকাডুবি' একটি সামাজিক উপন্যাস

'শেষের কবিতা'
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি রোমান্টিক উপন্যাস।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত 'নাইট' উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে 'নাইট' উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'গোরা' উপন্যাস।

৯,৮১৬.
বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা কয়টি?
  1. পাঁচটি
  2. সাতটি
  3. আটটি
  4. নয়টি
সঠিক উত্তর:
আটটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটটি
ব্যাখ্যা
• পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকা অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি এবং যা রতির মূলে আছে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি এবং কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে বলা হয় সমর্থা নায়িকা। 
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি - সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
যথা :
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা,
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮১৭.
মৈয়মনসিংহ গীতিকার কোন পালার সাথে কবি দ্বিজ কানাই এর ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে?
  1. মহুয়া পালা
  2. কমলা পালা 
  3. মলুয়া পালা 
  4. দস্যু কেনারামের পালা 
সঠিক উত্তর:
মহুয়া পালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া পালা
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া পালা':
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
"কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ী।।
তুমি হও গহীন গাঙ্গ আমি ডুব্যা মরি।।"

অন্যদিকে, 
--------------------
• চন্দ্রাবতী রচিত কয়েকটি পালা হচ্ছে - মলুয়া, দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।
• ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৮১৮.
‘কাসাসুল আম্বিয়া’ অনুসরণ করে সৈয়দ সুলতান রচনা করেন-
  1. ইউসুফ-জোলেখা
  2. নূরনামা
  3. নবীবংশ
  4. জ্ঞানচৌতিশা
সঠিক উত্তর:
নবীবংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবীবংশ
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ সুলতান:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম। চট্টগ্রামের লস্করপুর তথা পরাগলপুরে কবি সাময়িকভাবে বসবাস করেন।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

- তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর নবীবংশ, জ্ঞানপ্রদীপ, জ্ঞানচৌতিশা ও জয়কুম রাজার লড়াই উল্লেখযোগ্য।

- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য। ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে।
- তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে।
- বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।
- নবীবংশের দ্বিতীয় খন্ড রসুলচরিত একখানা পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।

অন্যদিকে,
- 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আবদুল হাকিম।
- ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৮১৯.
'সুশিক্ষিত ব্যক্তি মাত্রই স্বশিক্ষিত' উক্তিটি কার? 
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

'সুশিক্ষিত ব্যক্তি মাত্রই স্বশিক্ষিত' উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর লেখা।
এই উক্তিটি তার বিখ্যাত 'বই পড়া' প্রবন্ধের অংশ, যেখানে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে প্রকৃত শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক স্ব-শিক্ষা প্রক্রিয়া।   

প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল'।
- গদ্য / প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক 'সবুজপত্র' (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৪৬ সালে শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা,
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ,
- আহুতি।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- নানা চর্চা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ (১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৮২০.
নিচের কোনটি বিষ্ণু দের রচনা?
  1. ক) ময়নামতির চর
  2. খ) মধুমতীর চর
  3. গ) পদ্মা নদীর চর
  4. ঘ) সন্দ্বীপের চর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সন্দ্বীপের চর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সন্দ্বীপের চর
ব্যাখ্যা
সন্দ্বীপের চর বিষ্ণু দের একটি কাব্যগ্রন্থ। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- উর্বশী ও আর্টেমিস, চোরাবালি, সাত ভাই চম্পা, নাম রেখেছি কোমল গান্ধার, তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ, দিবানিশি চিত্ররূপমত্ত পৃথিবী, উত্তরে থাকে মৌন, আমার হৃদয়ের বাঁচো ইত্যাদি। ময়নামতির চর, মধুমতীর চর, পদ্মা নদীর চর কাব্যের রচয়িতা বন্দে আলী মিয়া।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৯,৮২১.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে নীলাম্বর ও পীতাম্বর এই চরিত্র দুটি আছে?
  1. পন্ডিতমশাই
  2. বিরাজ বৌ
  3. চরিত্রহীন
  4. পল্লী সমাজ
সঠিক উত্তর:
বিরাজ বৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরাজ বৌ
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস বিরাজবৌ। এই উপন্যাসের চরিত্র নীলাম্বর ও পীতাম্বর দুই ভাই।
- নীলাম্বর বুদ্ধিহীন অথচ পরোপকারী। উপার্জন করেন না শুধু প্রচুর গাঁজা খান।
- পীতাম্বর সংসারী মানুষ। তিনি নিজের উপার্জন নষ্ট না করে পৈতৃক সম্পত্তি দুভাগ করে বাড়ির মাঝে পাঁচিল তুলে দিলেন।
- এই দুই ভাইয়ের কাহিনী নিয়ে উপন্যাসটি রচনা করেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৮২২.
'মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরাসুর' কোন কবি রচিত কবিতার অংশ?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শামসুর রহমান
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শেখ ফজলল করিম
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজলল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজলল করিম
ব্যাখ্যা
‘কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ-নরক— মানুষেতে সুরাসুর।’
- কবিতাংশটি শেখ ফজলল করিমের রচনা।
 
তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে,
- তৃষ্ণা;
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি;
- গাঁথা;
- ভগ্নবীণা;
- প্রেমের স্মৃতি;
- পথ পাথেয় ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস-মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৯,৮২৩.
'পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবু ইসহাক
  2. খ) আহসান হাবীব
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
গ) আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- পানকৌড়ির রক্ত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৮২৪.
'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধ গ্রন্থের রচিয়তা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আহমদ শরীফ
  3. গ) ইবরাহীম খাঁ
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
ক) আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
তিনি ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।
- 'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা আহমদ ছফা।

 তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধঃ
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৯,৮২৫.
"গান গাই আমার মন রে বুঝাই, মন থাকে পাগলপারা" গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সঞ্জীব চৌধুরী
  2. খ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  3. গ) শাহ্‌ আবদুল করিম
  4. ঘ) লালন শাহ্‌
সঠিক উত্তর:
গ) শাহ্‌ আবদুল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শাহ্‌ আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
"গান গাই আমার মন রে বুঝাই, মন থাকে পাগলপারা" গানটির রচয়িতা শাহ্‌ আবদুল করিম।

• তাঁর আরও কয়েকটি বিখ্যাত গান- 
- আগে কী সুন্দর দীন কাটাইতাম।
- গাড়ি চলে না, চলে না, চলে না রে।
- কেমনে ভুলিব আমি বাঁচি না তারে ছাড়া,
- বন্ধে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে, 
- গান গাই আমার মন রে বুঝাই, মন থাকে পাগলপারা। 
- আসি বলে গেল বন্ধু আইল না।
- আমি কুল হারা কলঙ্কিনী
- বসন্ত বাতাসে সই গো বসন্ত বাতাসে। ইত্যাদি। 

• লোকসঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার, সুরকার শাহ্‌ আবদুল করিম ১৯১৬ সালে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধলআশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। 
তাঁর প্রকাশিত গানের সংকলন হলো
- আফতাব সঙ্গীত,
- কালনীর ঢেউ,
- ভাটির চিঠি,
- ধলমেলা,
- কালনীর কূলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৮২৬.
‘মেঘনাদবধ কাব্য’ কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• ‘মেঘনাদবধ কাব্যে':
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে ‘মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দেই প্রকাশ পায়।
- এটা মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' (১৮৬০) তাঁর প্রথম এবং বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- কবি কাব্যের প্রথম দিকে বীররসের কথা বললেও এই কাব্যে করুণরসই প্রধান।
- ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতা ভিলাষী কাব্য।
- নয় সর্গে সম্পূর্ণ 'মেঘনাদবধ কাব্যে’ বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ- হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।
- এ কাব্যের ট্রাজেডি সৃজন হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন কবি মিল্টনের 'প্যারাডাইস লস্ট' মহাকাব্যে শয়তান যেমন দুর্জয় বাসনা ও ঋজুতা প্রদর্শন করে, মধুসূদনও রাবণকে দিয়ে সে কাজ করিয়েছেন।

• কাব্যের প্রধান চরিত্র:
→ রাবণ,
→ মেঘনাদ,
→ লক্ষ্মণ,
→ রাম,
→ প্রমীলা,
→ বিভীষণ,
→ সীতা,
→ সরমা ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৯,৮২৭.
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' এটি শওকত ওসমান রচিত কোন প্রকার সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৮২৮.
"না জানি কেন রে এত দিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ।" - কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. ক) প্রাণ
  2. খ) শেষলেখা
  3. গ) নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  4. ঘ) প্রভাতসঙ্গীত
সঠিক উত্তর:
গ) নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
ব্যাখ্যা
আলোচ্য অংশটুকু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থের 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতার অংশ। 
- কাব্যগ্রন্থটি ১৮৮৩ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- কাব্যগ্রন্থে মোট ২১টি কবিতা আছে। 
------------------------------
'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতাটি নিম্নরূপ- 

আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের ‘পর,
কেমনে  পশিল গুহার আঁধারে প্রভাতপাখির গান!
না জানি কেন রে এত দিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ।
জাগিয়া উঠেছে প্রাণ,
ওরে       উথলি উঠেছে বারি,
ওরে       প্রাণের বাসনা প্রাণের আবেগ রুধিয়া রাখিতে নারি।
থর থর করি কাঁপিছে ভূধর,
শিলা রাশি রাশি পড়িছে খসে,
ফুলিয়া ফুলিয়া ফেনিল সলিল
গরজি উঠিছে দারুণ রোষে।
হেথায় হোথায় পাগলের প্রায়
ঘুরিয়া ঘুরিয়া মাতিয়া বেড়ায় –
বাহিরেতে চায়, দেখিতে না পায় কোথায় কারার দ্বার।
কেন রে বিধাতা পাষাণ হেন,
চারি দিকে তার বাঁধন কেন!
ভাঙ্ রে হৃদয়, ভাঙ্ রে বাঁধন,
সাধ্ রে আজিকে প্রাণের সাধন,
লহরীর পরে লহরী তুলিয়া
আঘাতের পরে আঘাত কর্।
মাতিয়া যখন উঠেছে পরান
কিসের আঁধার, কিসের পাষাণ!
উথলি যখন উঠেছে বাসনা
জগতে তখন কিসের ডর!

আমি    ঢালিব করুণাধারা,
আমি    ভাঙিব পাষাণকারা,
আমি    জগৎ প্লাবিয়া বেড়াব গাহিয়া
আকুল পাগল-পারা।
কেশ এলাইয়া, ফুল কুড়াইয়া,
রামধনু-আঁকা পাখা উড়াইয়া,
রবির কিরণে হাসি ছড়াইয়া দিব রে পরান ঢালি।
শিখর হইতে শিখরে ছুটিব,
ভূধর হইতে ভূধরে লুটিব,
হেসে খলখল গেয়ে কলকল তালে তালে দিব তালি।
এত কথা আছে, এত গান আছে, এত প্রাণ আছে মোর,
এত সুখ আছে, এত সাধ আছে – প্রাণ হয়ে আছে ভোর।।
কী জানি কী হল আজি, জাগিয়া উঠিল প্রাণ –
দূর হতে শুনি যেন মহাসাগরের গান।
ওরে, চারি দিকে মোর
এ কী কারাগার ঘোর –
ভাঙ্ ভাঙ্ ভাঙ্ কারা, আঘাতে আঘাত কর্।
ওরে আজ     কী গান গেয়েছে পাখি,
এসেছে রবির কর।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও সঞ্চয়িতা।
৯,৮২৯.
জীবনানন্দ দাশ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. হুগলী
  2. মুন্সিগঞ্জ
  3. নাটোর
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ: 
- কবি জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- তাকে ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবিও বলা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান, 
- সুতীর্থ ইত্যাদি।

• ‘কবিতার কথা’ হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৮৩০.
'মা যে জননী কান্দে' কে রচনা করেন?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. কায়কোবাদ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• কবি জসীমউদ্‌দীন 'মা যে জননী কান্দে' কাব্যটি রচনা করেছেন।  
-------------------
• ‘মা যে জননী কান্দে’ কাব্য : 
- ‘মা যে জননী কান্দে’ এক ধরনের গাঁথা কাব্য বা কাব্যগ্রন্থ। 
- অনেকে এটিকে কাহিনী কাব্য হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে।

• জসীমউদ্‌দীন :  
- কবি জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৮৩১.
‘উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) রশীদ করিম
  2. খ) শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
ক) রশীদ করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রশীদ করিম
ব্যাখ্যা
'উত্তম পুরুষ' উপন্যাসের রচয়িতা- 'রশীদ করীম'। 

• 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাস: 
- উত্তম পুরুষ উপন্যাসটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটি আধুনিক মননশীলতা, পরিশীলতা, আঙ্গিক, অভিজ্ঞতার নির্লিপ্ত বর্ণনায় পাঠকের পাঠতৃষ্ণার নিবারণ হয়। 

• উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য কিছু চরিত্র :
- শাকের,
- সেলিনা,
- অণিমা,
- শেখর।

রশীদ করীমের  অন্যান্য উপন্যাস :
- আমার যত গ্লানি,
- প্রসন্ন পাষাণ,
- মায়ের কাছে যাচ্ছি,
- লান্সবক্স,
- সোনার পাথর বাটি ইত্যাদি। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৮৩২.
‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সমরেশ মজুমদার
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

পুতুল নাচের ইতিকথা বাঙালি সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

৯,৮৩৩.
প্রমথ চৌধুরীর মতে, আমাদের দেশে লাইব্রেরির সার্থকতা কীসের চাইতে কম নয়?
  1. বিশ্ববিদ্যালয়ের
  2. হাসপাতালের
  3. কলেজের
  4. স্কুলের
সঠিক উত্তর:
হাসপাতালের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসপাতালের
ব্যাখ্যা
প্রমথ চোধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- প্রমথ চোধুরী বই পড়ার গুরুত্ব বোঝাতে তাঁর বইপড়া প্রবন্ধে বলেছেন "আমাদের মনে হয়, এ দেশে লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চাইতে কিছু কম নয় এবং স্কুল কলেজের চাইতে একটু বেশি।"

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
প্রবন্ধ:
- তেল-নুন-লকড়ী,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- ভাষার কথ,
- আমাদের শিক্ষা,
- নানাচর্চা,

গল্পগন্থ:
- চার-ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত,
- ঘোষালে ত্রিকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯,৮৩৪.
আহসান হাবীবের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) লতিকা
  2. খ) নবীকাহিনী
  3. গ) ছায়াহরিণ
  4. ঘ) বসন্ত
সঠিক উত্তর:
গ) ছায়াহরিণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ছায়াহরিণ
ব্যাখ্যা
কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষে'
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে। 
- কাব্যগ্রন্থে চার ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত
- এতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৮ টি। 

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৩৫.
কোনটি মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র নয়?
  1. বেহুলা
  2. লখিন্দর
  3. মুরারি শীল
  4. সনকা
সঠিক উত্তর:
মুরারি শীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুরারি শীল
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র - মুরারি শীল। 

মনসামঙ্গল:

- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
-‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’।
- চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
- দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।
- এই কাব্যের চরিত্রগুলো: বেহুলা, লখিন্দর, সনকা, সাপের দেবী মনসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৮৩৬.
ফররুখ আহমদ রচিত বিখ্যাত কাহিনি কাব্য -
  1. মুহূর্তের কবিতা
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. হাতেমতায়ী
  4. সিরাজাম মুনীরা
সঠিক উত্তর:
হাতেমতায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতেমতায়ী
ব্যাখ্যা
• ফররুখ আহমদ রচিত বিখ্যাত কাহিনি কাব্য- 'হাতেমতায়ী'। 

• বিশেষ তথ্য:
- পাখির বাসা (১৯৬৫) ফররুখ আহমেদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- নৌফেল ও হাতেম তাঁর রচিত কাব্য নাটক ।
- হাতেম তায়ী একটি কাহিনী কাব্য ।
- মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩) ফররুখ আহমেদের সনেট সংকলনের নাম ।
- তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সাত সাগরের মাঝি।
-------------------- 
• ফররুখ আহমদ: 
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনি কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
 
• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি'
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৮৩৭.
'একুশের গল্প' এর প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. মুনিম
  2. তপু
  3. অপু
  4. আসাদ
সঠিক উত্তর:
তপু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তপু
ব্যাখ্যা
• একুশের গল্প:
- জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে 'একুশের গল্প' অন্যতম।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পের প্রধান চরিত্র: তপু, রেণু ও রাহাত।
- এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি ২য় খণ্ড থেকে চয়িত হয়েছে।

• জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র 'সঙ্গম'।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনো আসে নি'।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি 'বাহানা'।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

• জহির রায়হান রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৩৮.
‘কারাগারের রোজনামাচা’ এর লেখক-
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) মাওলানা ভাষানী
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
- ‘কারাগারের রোজনামচ‘ হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। বাংলা একাডেমি ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বইটি প্রকাশ করে।
- এটির ভূমিকা লেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। - ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কারান্তরীন থাকালীকান তার জেল জীবনের ডায়েরিকে ‘কারাগারের রোজনামচা' নামে বই আকারে প্রকাশ করা হয়।
- ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দেবার পর বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা গ্রেফতার হন । ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত বন্দি থাকেন। সেই সময়ে কারাগারে প্রতিদিনের ডায়েরি লেখা শুরু করেন ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত লেখাগুলি এই বইয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেন অধ্যাপক ড. ফকরুল আলম ।

(তথ্যসূত্র: কারাগারের রোজনামচা )
৯,৮৩৯.
'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়' উক্তিটি কোন কাব্য গ্রন্থের?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) কালিকামঙ্গল
  4. ঘ) সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গলকাব্য। এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৮৪০.
'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' উপন্যাসটির রচয়িতা -
  1. আব্দুল কাদির
  2. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  3. আহমদ ছফা
  4. বেগম রোকেয়া
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- জন্ম - ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা 'স্বদেশ' প্রকাশিত হয়েছিল। 

আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৪১.
''মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।''- উক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঘ) কানাহরি দত্ত
সঠিক উত্তর:
ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়াংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- তাঁর রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম সত্যপীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।

তার কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- ''আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।''
- ''মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।''
- “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?”

উৎস: বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৪২.
'সপ্তপয়কর' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. আলাওল
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. সৈয়দ হামজা
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা
আলাওল:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন। আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।

সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- সপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৮৪৩.
কোনটি পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত?
  1. কমলা
  2. মলুয়া
  3. দেওয়ানা ভাবনা
  4. কাঞ্চনমালা
সঠিক উত্তর:
কাঞ্চনমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঞ্চনমালা
ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন  চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক। ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরণের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।  
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

পূর্ববঙ্গ গীতিকাগুলো হলো:
- নিজাম ডাকাতের পালা,
- কাফন চোরা,
- কমল সওদাগর,
- চৌধুরীর লড়াই,
- কাঞ্চনমালা,
- আয়না বিবি,
- ভেলুয়া,
- কমলা রানির গান।

অন্যদিকে,
- মলুয়া, দেওয়ানা ভাবনা ও কমলা মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৯,৮৪৪.
আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ হয়—
  1. আরবি সাহিত্যের প্রভাবে
  2. সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাবে
  3. ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে
  4. ফারসি সাহিত্যের প্রভাবে
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে
ব্যাখ্যা

আধুনিক যুগ:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়টুকু ছিলো প্রথম পর্যায়।
- ১৮০০ সালে শুরু হয় আধুনিক যুগ।
- ১৮৬০ সাল থেকে আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়।
- আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায়ে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য রচিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ' কাব্যের মাধ্যমে মহাকাব্যের ধারার প্রবর্তন হয়।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৮৪৫.
'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা' সংকলনের প্রধান সংগ্রাহক কে ছিলেন?​
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর​
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্‌দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন। দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৮৪৬.
'অভিজ্ঞান বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

'অভিজ্ঞান বসন্ত' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন অমিয় চক্রবর্তী।
- ১৯৪৩ সালে অমিয় চক্রবর্তীর নিজস্বতার স্বাক্ষরে ভাস্বরিত হয়ে প্রকাশিত হলো 'অভিজ্ঞান বসন্ত'।
- এই কাব্যগ্রন্থ সাত পর্যায়ে বিন্যস্ত।

-------------------
• অমিয় চক্রবর্তী:

- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
-তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
-পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
-কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে 'দেশিকোত্তম' (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার 'পদ্মভূষণ' (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৮৪৭.
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।' - পদটির রচয়িতা কে?
  1. ঢেণ্ডণপা
  2. বীণাপা
  3. ভাদেপা
  4. শান্তিপা
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা
ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন। তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

চর্যার ৩৩নং পদটি হলো:

'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।' - অর্থাৎ, লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৪৮.
মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি বলা হয় কাকে? 
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যসাগর 
  4. আলাওল 
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত উনিশ শতকের প্রথমার্ধে একমাত্র কবি যার কবিতা ছিল হালকা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের ভরা। তাঁর কবিতায় কল্পনার স্থানও ছিল না।

- ​ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

এছাড়াও তিনি আরও কিছু পত্রিকা সম্পাদনা করেন- 
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ণ,
- সংবাদ সাধুরঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৮৪৯.
‘শূন্যপুরাণ’ প্রকাশ করেন কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. নাগেন্দ্রনাথ বসু
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. রাজেন্দ্রলাল মিত্র
সঠিক উত্তর:
নাগেন্দ্রনাথ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগেন্দ্রনাথ বসু
ব্যাখ্যা
'শূণ্যপুরাণ':
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৫০.
'আগুনপাখি' উপন্যাসের পটভূমি কোন অঞ্চল?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. বর্ধমান
  4. কলকাতা
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) বর্ধমান।

ব্যাখ্যা:
'আগুনপাখি' উপন্যাসের পটভূমি হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল।

উপন্যাসের বিষয়বস্তু:
- ওই এলাকার মানুষের জীবনসংগ্রাম;
- বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতা;
- স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও সমস্যা।

বিশেষত্ব:
- লেখক তাঁর পৈতৃক ভূমির প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে এই উপন্যাস রচনা করেছেন।
- বর্ধমানের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র উপস্থাপিত

--------------------
• হাসান আজিজুল হক:
- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন।
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।

৯,৮৫১.
বাংলাদেশের কবিদের কবি নির্মলেন্দু গুণ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. পঞ্চগড় 
  2. নেত্রকোনা
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
নেত্রকোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা

• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ মূলত একজন কবি ছিলেন। তাঁকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়।
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম ছিলো রতন। তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবন, সমাজ-বাস্তবতা ও রাজনৈতিক চেতনা প্রকাশ পেয়েছে।
- নির্মলেন্দু গুণকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। সেই বছরই তিনি আলাওল সাহিত্য পুরস্কারও পান।
- ২০০১ সালে তাঁকে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবি,
- চাষাভূষার কাব্য,
- মুজিব লেলিন ইন্দিরা,
- হুলিয়া।

অনুবাদ কবিতা:
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- তোহু,
- রাজনৈতিক কবিতা।

উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- অন্তর্জাল,
- আপনদলের মানুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৮৫২.
কবি নজরুল রচিত গানের সংকলন কোনটি?
  1. গাঙের পার
  2. মুর্শীদা গান
  3. মহুয়ার গান
  4. গীতবিতান
সঠিক উত্তর:
মহুয়ার গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়ার গান
ব্যাখ্যা
• মহুয়ার গান:
- মহুয়ার গান মন্মথ রায়ের মহুয়া নাটকের জন্য কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গানের সংকলন। 
- ১৫ টি গানে সমৃদ্ধ এই মহুয়ার গান নামীয় নজরুলগীতি গ্রন্থটি ডি এম লাইব্রেরি থেকে ১ জানুয়ারি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়।
- মোট পৃষ্ঠা ছিল ১৩টি। মূল্য ছিল দুই আনা।

এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গানগুলো হলো:
- কে দিল খোঁপাতে ধুতুরা ফুল লো,
- একডালি ফুলে ওরে সাজাব কেমন করে,
- বউ কথা কও,
- কত খুঁজিলাম নীল কুমুদ তোরে,
- কোথা চাঁদ আমার,
- ফণীর ফণায় জ্বলে মণি,
- মহুল গাছে ফুল ফুটেছে, আজি ঘুম নহে, নিশি জাগরণ,
- খোলো খোলো গো দুয়ার,
- ভরিয়া পরান শুনিতেছি গান,
- (ওগো) নতুন নেশার আমার এ মদ,
- মোরা ছিনু একেলা, হইনু দুজন,
- ও ভাই আমার এ নাও যাত্রী না লয়,
- আমার গহীন জলে নদী,
- তোমায় কুলে তুলে বন্ধু আমি নামলাম জলে।

অন্যদিকে, 
• জসীম উদ্‌দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন। এছাড়াও উনার অন্যান্য গানের সংকলন গুলো হলো- রঙিলা নায়ের মাঝি, গাঙের পার।
• 'গীতবিতান' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমুদয় গানের সংকলন গ্রন্থ।

উৎস: 'মহুয়ার গান' কাজী নজরুল ইসলাম এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৮৫৩.
'পদাবলি'র প্রথম কবি কে?
  1. ক) শ্রীচৈতন্য
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) চণ্ডীদাস
  4. ঘ) জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
খ) বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল - বৈষ্ণব পদাবলী।
- পদাবলীর আদিকবি বাঙালী কবি - জয়দেব, তিনি পদাবলী রচনা করেছেন সংস্কৃত ভাষায়।
- অবাঙালী কবি বিদ্যাপতিকে বৈষ্ণব পদাবলীর আদি কবি বলা হয়। বিদ্যাপতি পদাবলী রচনা করেছেন ব্রজবুলি ভাষায়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় রচিত বৈষ্ণব পদাবলীর আদিকবি চণ্ডীদাস।

যেহেতু এই প্রশ্নে কোন ভাষার সেটা উল্লেখ করা নেই এবং 'জয়দেব' অপশনে নেই; তাই সঠিক উত্তর হিসাবে 'বিদ্যাপতি'কে নেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র: লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৯,৮৫৪.
'আবার আসিব ফিরে' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. মাত্রাবৃত্ত 
  2. অক্ষরবৃত্ত
  3. স্বরবৃত্ত
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
ব্যাখ্যা

• 'আবার আসিব ফিরে' কবিতাটির রচয়িতা: 'জীবনানন্দ দাশ'।
- ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- ‘রূপসীবাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- জীবনানন্দ দাশের বেশিরভাগ কবিতা অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা।

'আবার আসিব ফিরে' কবিতা
- জীবনানন্দ দাশ

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শঙখচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।
হয়তো বা হাঁস হবো – কিশোরীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায়
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে।
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়।

উৎস: 'আবার আসিব ফিরে' কবিতা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ছন্দের সহজপাঠ, সুদীপ্ত বিশ্বাস। 

৯,৮৫৫.
‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা গ্রন্থটির সম্পাদক কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. ইব্রাহীম খাঁ
  4. বেগম রোকেয়া
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কথা কয়:
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।
- সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।
- এত কাছের ঘটনা ও চরিত্র নিয়ে লেখা গল্প সকল সময় গল্প হয়ে ওঠে না। কখনো কখনো প্রামাণ্য চিত্র হয়ে ওঠে। সুতরাং কোনো পাঠক যদি এই গল্পগুলোর প্রত্যেকটিতে সার্থক গল্পের রস অথবা কুশলী হাতে সৃষ্ট চরিত্র ও ঘটনা-সন্নিবেশ খোঁজেন তাহলে নিরাশ হতেও পারেন।
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী।

আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা।
৯,৮৫৬.
শামসুর রাহমান কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. পাড়াতলীতে 
  2. মোগলটুলিতে 
  3. মাহুতটুলীতে
  4. পাহাড়তলীতে 
সঠিক উত্তর:
মাহুতটুলীতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহুতটুলীতে
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৮৫৭.
'মর্সিয়া সাহিত্য' মূলত কোন ধরনের কাহিনি অবলম্বনে রচিত? 
  1. পৌরাণিক কাহিনি
  2. লোককথা
  3. ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি
  4. সুফি সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।

- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)। 

- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷
- তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।  

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৯,৮৫৮.
মধ্যযুগের সাহিত্য 'জ্ঞানপ্রদীপ' রচনা করেন কে?
  1. ফকির গরিবুল্লাহ
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. শাহ মুহাম্মদ সগীর
  4. সৈয়দ হামজা
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ সুলতান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
সৈয়দ সুলতান:
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম।
- মক্তুল হুসেন কাব্যের রচয়িতা মুহম্মদ খান ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- জ্ঞানচৌতিশা,
- শব—ই—মিরাজ,
- ওফাত—উ—রসুল,
- জয়কুম রাজার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৮৫৯.
'আবোল তাবোল' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা? 
  1. নাটক 
  2. গল্প সংকলন  
  3. কবিতার বই
  4. ছোটগল্প 
সঠিক উত্তর:
কবিতার বই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতার বই
ব্যাখ্যা

• 'আবোল তাবোল':
- 'আবোল তাবোল' সুকুমার রায় রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ/কবিতার বই। 
- যা আজগুবি, যা উদ্ভট, যা অসম্ভব, তা নিয়েই এই বইয়ের কারবার।

- বইয়ের অধিকাংশ ছবি ও কবিতা নানা সময়ের “সন্দেশ” পত্রিকা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। এখানে আবশ্যক সংশোধন ও পরিবর্তন করে এবং নানা স্থানে নতুন মালমশলা যোগ করে সেগুলোকে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কিছু কবিতা হলো- 
 খিচুড়ি,  কাঠ-বুড়ো, গোঁফ চুরি, সৎ পাত্র, প্যাঁচা আর প্যাঁচানি, কাতুকুতু বুড়ো, গানের গুঁতো, খুড়োর কল, লড়াই-ক্ষ্যাপা, ছায়াবাজি ইত্যাদি। 

------------------
• সুকুমার রায়:

- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

এছাড়া তার অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে-
- অবাক জলপান,
- লক্ষণের শক্তিশেল',
- হেশোরাম হুশিয়ারের ডায়েরী,
- ঝালাপালা ও অন্যান্য নাটক এবং
- বহুরূপী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'আবোল তাবোল' কবিতা গ্রন্থের ভূমিকা।

৯,৮৬০.
শাহ্ মুহম্মদ সগীর কোন শতকের কবি ছিলেন?
  1. চোদ্দ শতকের
  2. পনের শতকের
  3. ষোল শতকের
  4. সতের শতকের
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পনের শতকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পনের শতকের
ব্যাখ্যা
শাহ্ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জুলেখা।
-তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৬১.
কোন উপন্যাস প্রকাশের মধ্যে দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব ঘটে?
  1. শঙ্খনীল কারাগার
  2. কোথাও কেউ নেই
  3. নন্দিত নরকে
  4. বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
নন্দিত নরকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নন্দিত নরকে
ব্যাখ্যা

• 'নন্দিত নরকে' উপন্যাস:
- ছাত্রজীবনে লেখা 'নন্দিত নরকে' শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।

-------------------
• হুমায়ূন আহমেদ:
- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- অনিল বাগচীর একদিন ইত্যাদি।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত অন্যান্য উপন্যাসসুমূহ:
- নন্দিত নরকে,
- শঙ্খনীল কারাগার,
- আনন্দ বেদনার কাব্য,
- যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ,
- আমার আছে জল,
- আজ রবিবার,
- এই সব দিনরাত্রি, 
- বহুব্রীহি,
- অয়োময়,
- শ্রাবণ মেঘের দিন,
- দুই দুয়ারী,
- কোথাও কেউ নেই,
- মহাপুরুষ,
- বৃষ্টিবিলাস,
- মৃন্ময়,
- এপিটাফ,
- লীলাবতী,
- তিন পুরুষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৮৬২.
চর্যাপদের কোন কবি অতীশ দীপঙ্করের গুরু ছিলেন?
  1. কাহ্নপা
  2. শান্তিপা
  3. শবরপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
শান্তিপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শান্তিপা
ব্যাখ্যা
• শান্তিপা:
- রাজা মহীপালের (৯৮৮-১০৩৮ খ্রিষ্টাব্দ) রাজত্বকালে শান্তিপা জীবিত ছিলেন বলে ধারণা করা যায়।
- মগধবাসী শান্তিপা ছিলেন অতীশ দীপঙ্করের গুরু।
- প্রথম জীবনে ব্রাহ্মণ ছিলেন পরে বৌদ্ধ ধর্মে ধর্মান্তরিত হন।
- তিনি একাধারে কুলগুরু ও রাজগুরু ছিলেন। নালন্দায় অধ্যাপনা করেছেন বলেও ধারণা করা হয়।
- তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে 'সুখদুঃখদ্বয়', 'পরিত্যাগ দৃষ্টি'।

উল্লেখ্য,
অতীশ দীপঙ্কর দশম থেকে একাদশ শতকের মধ্যে বিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত এবং ধর্মপ্রচারক ছিলেন।
---------------------------- 
• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ - ড. মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৮৬৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেডি ধাচের নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. রত্নবতী
  3. মায়া-কানন
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' নাটক:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেডি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। 
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী,
- ইন্দ্রনীল,
- শচী,
- মুরজা,
- রতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'শর্মিষ্ঠা' মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত ও সার্থক বাংলা নাটক।
• 'রত্নবতী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত উপন্যাস/গদ্যরচনা।
• মায়া-কানন (১৮৭৪  নাটকটি তিনি শেষ করতে পারেন নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৮৬৪.
লাহিনীপাড়া থেকে কোন পত্রিকাটি সম্পাদনা হতো?
  1. হিতকরী
  2. পরিচয়
  3. ক্রান্তি
  4. পূর্বমেঘ
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিতকরী
ব্যাখ্যা
'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর।
৯,৮৬৫.
মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস কোনটি?
  1. কালঘোড়া
  2. জীবন আমার বোন
  3. নূরলদীনের সারাজীবন
  4. কাবিলের বোন
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা
• ‘জীবন আমার বোন’ উপন্যাস:
- মাহমুদুল হক রচিত তৃতীয় উপন্যাস ‘জীবন আমার বোন’।  প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে, সাহিত্য প্রকাশ থেকে।

- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ যুগসন্ধিক্ষণের ঘটনাপ্রবাহ আবর্তিত হয়েছে এই উপন্যাসে। পটভূমি ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৭ মার্চের ঢাকা শহর।

- উপন্যাস এগিয়েছে কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল কবির খোকার বয়ানে। ‘জীবন আমার বোন’ মুক্তিযুদ্ধকালীন উপন্যাস হয়েও শুধুমাত্র একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়। বরং দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে এটি হয়ে যায় মানবজাতির চিরন্তন স্বাধীনতার এক আখ্যান।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
১ মার্চ প্রেসিডেন্টের ভাষণে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা। যতদিন যেতে থাকে, বাড়তে থাকে উত্তেজনা। সবচেয়ে বেশি উত্তেজিত হয়ে ওঠে খোকার বয়সী তরুণেরা। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের জল্পনা-কল্পনা, কাঠের ডামি রাইফেল হাতে কুচকাওয়াজ। সমান্তরালে চলতে থাকে রঞ্জু-খোকার পারিবারিক জীবন। এর মধ্যেই ঘটে যায় আসন্ন যুদ্ধ পূর্ববর্তী ঐতিহাসিক সব ঘটনাবলী- অসহযোগ আন্দোলন, জাহাজে করে চট্টগ্রামে পাকিস্তানী সৈন্যের আগমন, নতুন গভর্নর টিক্কা খান, ৭ই মার্চের ভাষণ, জয়দেবপুরে সেনাবাহিনীর গোলাগুলি, ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় চলতে থাকা মিছিল-মিটিং-জনসভা। সমগ্র দেশ যেন ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চলে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দিকে।

খোকার দৃষ্টি দিয়ে আমরা দেখি বারুদের স্তুপে পরিণত হওয়া ঢাকা শহরকে, যার সলতেয় স্ফুলিঙ্গ লাগে ২৫ মার্চ কালরাতে। গণহত্যা শেষে ২৭ মার্চ ঠিক মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মুহূর্তেই শেষ হয় উপন্যাস। যদিও শেষ দু’পাতায় বর্ণিত হয়েছে যুদ্ধ শেষে চরিত্রগুলোর পরিণতি।
 
উল্লেখযোগ্য অন্যান্য চরিত্র:
- খোকার ছোট বোন রঞ্জু,
- বন্ধু মুরাদ-ইয়াসিন-রহমান,
- মুরাদের বড় বোন লুলু চৌধুরী,
- খোকার পরিচিত রাজীব ভাই এবং তার দুই স্ত্রী।

অন্যদিকে, 
• 'কালঘোড়া' ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি উপন্যাস। 
• 'কাবিলের বোন' কবি আল মাহমুদ রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি উপন্যাস।
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাটক 'নূরলদীনের সারাজীবন'। 

উৎস: ‘জীবন আমার বোন’ উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৬৬.
“জল ভর সুন্দরী কইন্যা, জলে দিছ ঢেউ/হাসি মুখে কওনা কথা, সঙ্গে নাই মোর কেউ”- পঙ্‌ক্তি দুইটি কোন পালার অন্তর্গত?
  1. মলুয়া
  2. কাজলরেখা
  3. মহুয়া
  4. চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা
• “জল ভর সুন্দরী কইন্যা, জলে দিছ ঢেউ/হাসি মুখে কওনা কথা, সঙ্গে নাই মোর কেউ”- পঙ্‌ক্তি দুইটি ‘মহুয়া’ পালার অন্তর্গত।

• 'মহুয়া' পালা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
• এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
•'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
• নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
• এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং মৈমনসিংহ গীতিকা।
৯,৮৬৭.
কোনটি আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ?
  1. বাংলাদেশ কথা কয়
  2. নাম না জানা ভোর
  3. চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
  4. শেষ রাত্রির চাঁদ
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ কথা কয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ কথা কয়
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ কথা কয়:
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।
• সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।
• এত কাছের ঘটনা ও চরিত্র নিয়ে লেখা গল্প সকল সময় গল্প হয়ে ওঠে না। কখনো কখনো প্রামাণ্য চিত্র হয়ে ওঠে। সুতরাং কোনো পাঠক যদি এই গল্পগুলোর প্রত্যেকটিতে সার্থক গল্পের রস অথবা কুশলী হাতে সৃষ্ট চরিত্র ও ঘটনা-সন্নিবেশ খোঁজেন তাহলে নিরাশ হতেও পারেন। 
-----------------------------------
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা ।
৯,৮৬৮.
“সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই” - উক্তিটি কার?
  1. ক) বিবেকানন্দ
  2. খ) চন্ডীদাস
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) চন্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চন্ডীদাস
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয় চণ্ডীদাসকে।
তিনি 'শুনহ মানুষ ভাই / সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেন।
ব্যাক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের উর্ধ্বে ছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চন্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছেন৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৯,৮৬৯.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন কে?
  1. সুকুমার সেন
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. আহমদ শরীফ
  4. মুহাম্মদ এনামুল হক
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- পশ্চিমবঙ্গের হাওরায় ১৮৯০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে ভাষাচার্য উপাধি দেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- Original and Development of Bengali language.(এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়)।
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স।
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৭০.
'স্বদেশ' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
মানুষ কে, বাঙালি মেয়ে, আনারস, মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি, স্বদেশ, তপসে মাছ - ইত্যাদি কবিতার রচয়িতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
'ভ্রমণকারী বন্ধু' তাঁর ছদ্মনাম।
তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা- সংবাদ প্রভাকর, সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৮৭১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃত গল্প কোনটি?
  1. দান প্রতিদান
  2. জীবিত ও মৃত
  3. পুত্রযজ্ঞ
  4. মেঘ ও রৌদ্র
সঠিক উত্তর:
জীবিত ও মৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবিত ও মৃত
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃত গল্প 'জীবিত ও মৃত'।

• 'জীবিত ও মৃত' ছোটগল্প:
- 'জীবিত ও মৃত' ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি বাংলা ছোটগল্প।
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত আছে।
- গল্পটি সাহিত্যের দুটি অনন্য রূপকে একত্রিত করেছে: অতিপ্রাকৃত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপমা । তবে এটি কোনো নিখুঁত অতিপ্রাকৃত গল্প নয়।
- গল্পটির প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী। কাদম্বিনীর অস্তিত্ব অতিপ্রাকৃত। এতে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে আটকে থাকার ধারণা চিত্রিত হয়েছে। সংক্ষেপে, এটি মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করে।
- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' গল্প থেকে নেয়া।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত অতিপ্রাকৃত রসের গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীথে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল,
- গুপ্তধন,
- জীবিত ও মৃত।

• তাঁর রচিত সামাজিক জীবন সম্পর্কিত গল্প:
- ব্যবধান,
- মেঘ ও রৌদ্র,
- পণরক্ষা,
- দিদি,
- কর্মফল,
- দান প্রতিদান,
- হৈমন্তী,
- ছুটি,
- পুত্রযজ্ঞ,
- পোস্টমাস্টার,
- কাবুলিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. জীবিত ও মৃত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৯,৮৭২.
"আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি" কাব্যগ্রন্থটির কবি কে?
  1. আবুল ফজল
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• "আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি" কাব্যগ্রন্থ:
- "আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি" আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে ৩৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে। এই কাব্যগ্রন্থে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' নামে একটি নাম কবিতাও আছে। 
- বাঙালি জাতিসত্তার মৃত্তিকামূলে শিকড় সঞ্চার করে এ কাব্যগ্রন্থে কবি ঐক্যবদ্ধ চেতনায় সাহসী মানুষের সম্ভাবনার ছবি এঁকেছেন।

- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতায় আছে:
‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি / আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি / তার বুকে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল-'।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫)।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- কখনো রং কখনো সুর, 
- কমলের চোখ,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৯,৮৭৩.
মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক ছিলেন-
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দী
  3. গ) দীনেশরঞ্জন দাশ
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল কালাম শামসুদ্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল কালাম শামসুদ্দী
ব্যাখ্যা
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন(১৮৯৭-১৯৭৮)  সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর  ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
• শামসুদ্দীন আবুল কালাম এর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
• ১৯২২ সালে মাসিক  মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। পরে তিনি সাপ্তাহিক মোসলেম জগৎ, দি মুসলমান, দৈনিক  সোলতান, মাসিক মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
• ১৯৩৬ সালে দৈনিক আজাদে যোগদান করে তিনি ১৯৪০-৬২ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। 
• ১৯৬৪ সালে প্রেস ট্রাস্ট অব পাকিস্তান পরিচালিত দৈনিক পাকিস্তানের সম্পাদক নিযুক্ত হয়ে তিনি ১৯৭২ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

তার রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- আলমগড়ের উপকথা
- দুই মহল
- জীবন-কাব্য
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- আশিয়ানা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৮৭৪.
“অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে সেখানে ছিলাম আমি, আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে।” - কোন কবির রচনা?
  1. ক) জসীমউদ্‌দীন
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
উপরিউক্ত কবিতাংশটি জীবনানন্দ দাশ রচিত বনলতা সেন কবিতার অংশ।
- কবিতাটি কবির তৃতীয় প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ বনলতা সেন কাব্যের অন্তর্গত।
- ১৯৩৫ সালে কবিতা পত্রিকায় সর্বপ্রথম প্রকশিত হয়।
- ১৯৪২ সালে বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়।
কবিতাটি কবির অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং জনপ্রিয় কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা -ড.সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৭৫.
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. বিবিধার্থ সংগ্রহ
  2. সম্বাদ কৌমুদী
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. সংবাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর:
সম্বাদ কৌমুদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বাদ কৌমুদী
ব্যাখ্যা

'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন রাজা রামমোহন রায়। 
- এটি একটি সাময়িক পত্রিকা। যা ১৮২১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

-------------------
• বাংলার প্রথম সচিত্র মাসিক পত্রিকা 'বিবিধার্থ সংগ্রহ'।
- ১৮৫১ সালে রাজেন্দ্রলাল মিত্রের সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। এতে বিবিধ গবেষণামূলক আলোচনা স্থান পেয়েছে।

• 'তত্ত্বোবধিনী' পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৪৩ সালে।
- মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠিতা এবং অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন এর সম্পাদক।

• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৮৭৬.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. নূরলদীনের সারা জীবন
  3. নীল দংশন
  4. হৃৎকলমের টানে
সঠিক উত্তর:
নূরলদীনের সারা জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূরলদীনের সারা জীবন
ব্যাখ্যা
'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্য:
- "নূরলদীনের সারা জীবন" সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীন যার আসল নাম নূরুলউদ্দিন, তাঁর সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে নাটকটি রচনা করা হয়েছে।
- ১৪টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।
- নূরলদীনের বিখ্যাত আহবান- 'জাগো বাহে, কোনঠে সবাই'।
- কাব্যনাট্যটির বিখ্যাত লাইন- "এক নূরলদীন যদি চলি যায়, হাজার নূরলদীন আসিবে বাংলায়।"

-----------------
সৈয়দ শামসুল হকের সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- নিষিদ্ধ লোবান (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- ত্রাহি,
- তুমি সেই তরবারী,
- অন্য এক আলিখান,
- এক মুঠো জন্মভূমি,
- আলোর জন্য,
- রাজার সুন্দরী।

• প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৭৭.
'টেনিদা' যে সাহিত্যিকের কিশোরপাঠ্য লেখার কেন্দ্রীয় চরিত্র-
  1. ক) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. খ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  3. গ) শরবিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) সত্যজিৎ রায়
সঠিক উত্তর:
খ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'টেনিদা' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের এক অমর সৃষ্টি।
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের গ্রন্থসংখ্যা ৯৪ টি। 
- টেনিদা মূলত উত্তর কলকাতার পটলডাঙায় বসবাসরত একটি স্থানীয় চরিত্র।

• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, (১৯১৮-১৯৭০) একজন প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক।
- প্রকৃত নাম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, ‘নারায়ণ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যচর্চা শুরু হয় ছাত্রজীবনে কাব্য রচনার মধ্য দিয়ে।
- কালক্রমে তিনি গল্প,  উপন্যাস, নাটক প্রভৃতি রচনা করে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। 

• তাঁর রচিত কিশোরগ্রন্থ
- সপ্তকান্ড,
- অন্ধকারের আগন্তুক,
- ছোটদের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৫২),
- ছুটির আকাশ,
- খুশির হাওয়া,
- ঝাউ বাংলোর রহস্য,
- পঞ্চাননের হাতি,
- পটলডাঙ্গার টেনিদা,
- গল্প বলি গল্প শোন,
- অব্যর্থ লক্ষ্যভেদ,
- টেনিদার অভিযান (১৯৪১) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৮৭৮.
কাজী ইমদাদুল হক রচিত 'নবীকাহিনী' কী ধরণের গ্রন্থ?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) শিশুতোষ গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিশুতোষ গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিশুতোষ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক (১৮৮২-১৯২৬):
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক'।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
কাব্য:
- আঁখিজল ,
- লতিকা।
প্রবন্ধ:
প্রবন্ধমালা।

শিশুতোষ গ্রন্থ-

- নবীকাহিনী।

উপন্যাস-
‘আবদুল্লাহ' (১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কাজী ইমদাদুল হক মৃত্যুবরণ করলে অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদির মূল লেখকের খসড়া অবলম্বনে অসমাপ্ত উপন্যাসটির ১১টি পরিচ্ছেদ রচনা করেন এবং উপন্যাসটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৮৭৯.
‘রক্তে ভেজা একুশ’ গদ্যটি কার রচনা?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. সেলিনা হোসেন
  3. জহির রায়হান
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
⇒ ‘রক্তে ভেজা একুশ' গদ্য:
• বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' (১৯৬৪) উপন্যাসের অংশবিশেষ ‘রক্তে ভেজা একুশ' গদ্যটি।
• আমাদের মহান ভাষা-আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এ কাহিনি রচিত।
• ভাষা-আন্দোলনে ছাত্র-জনতার মিছিলে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী ছাত্র ও পথশিশুর অভিব্যক্তি প্রকাশিত হয়েছে এ গল্পে।
• আন্দোলনে শামিল হয়ে পথশিশু অহি শহিদ হয়েছে এবং সকল মায়ের সন্তান হিসেবে নন্দিত হয়েছে।

⇒ সেলিনা হোসেন:
• বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
• তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
• তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৮০.
'ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে, ভদ্র পল্লীতে'- উক্তিটি কোন উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. পদ্মানদীর মাঝি
  2. হাজার বছর ধরে
  3. বহিপীর
  4. আর কত দিন
সঠিক উত্তর:
পদ্মানদীর মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মানদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
• 'ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে, ভদ্র পল্লীতে'- উক্তিটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের অন্তর্গত।

• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• এ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

-----------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কথাসাহিত্যিক।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয়।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৮১.
নিচের কে লৌকিক দার্শনিক হিসাবে খ্যাত?
  1. সরদার ফজলুল করিম
  2. আরজ আলী মাতুব্বর
  3. লালন শাহ
  4. শাহ আবদুল করিম
সঠিক উত্তর:
আরজ আলী মাতুব্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরজ আলী মাতুব্বর
ব্যাখ্যা

লৌকিক দার্শনিক হিসাবে খ্যাত -আরজ আলী মাতুব্বরের রচনার ভাববস্তু ছিলো - জনজীবনের চিন্তা চেতনা।
তার রচিত কয়েকটি গ্রন্থ -
- সত্যের সন্ধান,
- সৃষ্টি রহস্য,
- স্মরণিকা,
- অনুমান
- শয়তানের জবানবন্দি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৮৮২.
"যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।" - কার উক্তি?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ 
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মীর মশররাফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।’ এ উক্তিটি করেছেন : প্রমথ চৌধুরী। 
--------------------- 
 • 'বইপড়া' প্রবন্ধ:
- 'বইপড়া' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
- এটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

• এই প্রবন্ধের কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো :
- ‘যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।’ 
- ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।’
- ‘যে জাতির জ্ঞানের ভাণ্ডার শূন্য সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী।’

 • প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।
----------------------
• প্রমথ চৌধুরীর বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
- বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে।
- সাহিত্য জাতির দর্পণ স্বরূপ।
- হীরক ও কাঁচ যমজ হলেও সহোদর নয়।
- সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া-কারও মনোরঞ্জন করা নয়।
- কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।
- সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভোগ করে। 
- যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।
- জ্ঞানের প্রদীপ যেখানেই জ্বালো না কেন, তাহার আলোক চারিদিক ছড়াইয়া পড়িবে।
- যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।
- মনোজগতে বাতি জ্বালানোর জন্য সাহিত্যচর্চার বিশেষ প্রয়োজন।
- ইহা সত্যকে সুন্দর করে নাই, মিথ্যাকে সত্যের মুখোশ পরাইয়াছে।
- মন উঁচুতে উঠতে চায় নীচুতেও নামতে চায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'বইপড়া' প্রবন্ধ ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৮৮৩.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৩ খণ্ডে রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- অপরাজিত, দৃষ্টিপ্রদীপ, আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল, বিপিনের সংসার, দেবযান, ইছামতি, অশনি সংকেত ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৯,৮৮৪.
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন-
  1. নওয়াজিশ খান
  2. দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. আলাওল
  4. দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা
• ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
• সতের শতকের কবি দৌলত কাজী ‘সতীময়ান ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য রচনা করেন।
• রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধার্মার প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী এ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন কিন্তু শেষ করার আগেই তিনি মারা যান।
• পরে উজির সোলায়মানের আদেশে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কবি আলাওল কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন।

• কাব্যের কাহিনি সংক্ষেপ:
রাজা লোর আর রূপসী রানি ময়নাবতীর সুখের সংসার। বনবিহারে গিয়ে লোর এক যোগীর কাছে অপরূপা চন্দ্রানীর সংবাদ পায়। চন্দ্রানীর সাথে লোরের সাক্ষাত হয়। এবং চন্দ্রানীর স্বমীর সাথে লোরের যুদ্ধে হলে, যুদ্ধে চন্দ্রানীর স্বামী মারা যায়। পরবর্তীতে গোহারী রাজ্যের রাজা চন্দ্রানীর পিতা লোরকে গ্রহণ করে এবং পৌত্রলাভের আশায় তাদের বিয়ে দেন। লোর ময়নার কথা ভুলে চন্দ্রানীকে নিয়ে সংসার করে। লোর-চন্দ্রানীর এক পুত্র হয় এভাবে দিন যায়। ময়নাবতী স্বামীর বিরহেও সতীত্ব অক্ষুণ্ন রাখে এবং ১৪ বছর পর এক সুখপাখি ময়নাবতীর কথা লোরকে বর্ণনা করলে পুত্রের হাতে রাজত্ব দিয়ে লোর-চন্দ্রানীকে নিয়ে ময়নাবতীর কাছে যায় এবং লোর তাঁর দুই স্ত্রী নিয়ে জীবনযাপন করে বৃদ্ধ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৮৫.
“আমি কিংবদন্তির কথা বলছি” গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ 
  3. আল মাহমুদ
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ 
ব্যাখ্যা

“আমি কিংবদন্তির কথা বলছি” গ্রন্থটির রচয়িতা হচ্ছে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। 

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ২০০১ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সাত নরীর হার,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- প্রেমের কবিতা,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ, প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৮৮৬.
‘একাত্তরের ডায়েরী’ প্রধানত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম? 
  1. উপন্যাস
  2. কবিতা
  3. স্মৃতিকথা
  4. প্রবন্ধ 
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা

‘একাত্তরের ডায়েরী’- সুফিয়া কামালের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির ভিত্তিতে লেখা স্মৃতিকথা।
--------------------------------------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।
- তাঁর সাহস ও প্রতিরোধর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে আইয়ুব খানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করা।
- তিনি সমগ্র বাঙালি জাতি, বিশেষ করে সবসময় নারীদের রক্ষা করতে চেয়েছেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প: ‘কেয়ার কাঁটা’ ও
তাঁর বিখ্যাত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।
-------------------------------------------
• ‘একাত্তরের ডায়েরী’ সম্পর্কিত তথ্য: 
- এটি মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
- সুফিয়া কামাল ‘একাত্তরের ডায়েরী’ স্মৃতিকথায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন তার অভিজ্ঞতা, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ ও বাঙালির সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরেছেন। 
- সুফিয়া কামালের ‘একাত্তরের ডায়েরী’ ১৯৮৯ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয়।
- এই ডায়েরী ছিল কবির ব্যক্তিগত দিনলিপি।   

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য।

৯,৮৮৭.
আবুল হাসানের প্রকৃত নাম -
  1. আবুল হুসেন
  2. আবুল হুসেন মিয়া
  3. আবুল হোসেন
  4. আবুল হোসেন মিয়া
সঠিক উত্তর:
আবুল হোসেন মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হোসেন মিয়া
ব্যাখ্যা
আবুল হাসান: 
- ১৯৪৭ সালের ৪ঠা আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্নি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নাজিরপুর, পিরোজপুর।
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। 
- তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান। 
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি একজস সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ২৬শে নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন:
- আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৮৮.
‘সুচয়নী’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) গীতিকা
  4. ঘ) কাব্যসংকলন
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাব্যসংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাব্যসংকলন
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
কবি জসীম উদ্দীনের কবিতার সংকলন সুচয়নী।
প্রশ্নে কাব্যসংকলন না থাকলে কাব্যগ্রন্থ উত্তর করতে হবে।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৯,৮৮৯.
'ভিখু' ও 'পাচি' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ - প্রাগৈতিহাসিক
এই গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র ভিখু ও পাচি।

• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- অতসী মামা ও অন্যান্য গল্প,
- মিহি ও মোটা কাহিনী,
- বৌ,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- ছোট বকুলপুরের যাত্রী,
- আত্মহত্যার অধিকার ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৯০.
'বাসন' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) হাফিজুর রহমান
  2. খ) হুমায়ুন কবির
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'বাসন' সেলিম আল দীন রচিত একটি নাটক। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, কেরামতমঙ্গল, মোনতাসির, শকুন্তলা, কীর্তনখোলা, যৈবতী কন্যার মন, চাকা, হরগজ, হাতহদাই, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৮৯১.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮৮৫-১৯৬৯
  2. ১৮৮৮-১৯৬৯
  3. ১৮৮৫-১৯৭০
  4. ১৮৭৫- ১৯৬৯
সঠিক উত্তর:
১৮৮৫-১৯৬৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৮৫-১৯৬৯
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর জীবনকাল (১০ জুলাই ১৮৮৫ - ১৩ জুলাই ১৯৬৯)। 
------------------------- 
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: 
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৯২.
"প্রাণের বান্ধব রে বুড়ি হইলাম তোর কারণে।" - গানটির গীতিকার কে?
  1. শাহ আবদুল করিম
  2. রাধারমন
  3. শেখ ওয়াহিদ
  4. কুদ্দুস বয়াতি
সঠিক উত্তর:
শেখ ওয়াহিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ওয়াহিদ
ব্যাখ্যা
•'পরানের বান্ধবরে, বুড়ি হইলাম তোর কারণে'- সুফিয়া কাঙালিনির কণ্ঠে গাওয়া এ গানের গীতিকার শেখ ওয়াহিদুর রহমান।

• শেখ ওয়াহিদুর রহমান:

• লোককবি শেখ ওয়াহিদুর রহমানের জন্ম ১৯৩৯ সালে।

• গানের জগতে জনশ্রুত একটি নাম, এ-কথা বলা যায় না। এর কারণ হলো, তাঁর অনেক গান আমরা শুনি কিন্তু গীতিকারের নাম অনুল্লেখ থাকায়, তা জানার আমাদের কোনো সুযোগ থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে না-বুঝেই বলা হয় গীতিকার অজ্ঞাত। কবি শেখ ওয়াহিদ ব্যাপকার্থে পরিচিত না হলেও অজ্ঞাত নন।

• সহজ-সরল কথায় গান রচনা করে ইতোমধ্যে তিনি 'বাউল' খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি রচনা করেছেন বিচিত্র ঘরানার গান; এ-অর্থে বলা যায় তাঁর গানের বৈচিত্র্যক তুলনারহিত।

• বঙ্গবন্ধুর দেওয়া নাম তাঁর ডাক নাম দুষ্ট ছেলে।

• তাঁর জন্ম ও বাল্য-কৈশোর কেটেছে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার নির্জন গ্রামে। ফলে তাঁর রচিত আঞ্চলিক গানে পাওয়া যায় সে-মাটির রূপ-রস-গন্ধ গন্ধ এবং এবং সংস্কৃতির প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যের নির্যাস।

• তাছাড়াও তিনি লিখেছেন পল্লিগীতি, ভাটিয়ালি, গণসঙ্গীত, মরমি, আধ্যাত্মিক ও শাক্ত পদাবলি। শেখ ওয়াহিদের গান শুনে ও পাঠ করে সহজেই বোঝা যায়, তিনি এ লোক-বাংলার সাধারণ মানুষেরই প্রতিনিধি।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কিছু গান হলো:
- আমার মাটির গাছে লাউ ধইরাছে,
- অপূর্ব তটিনী ওগো,
- অমৃত কূপের সুধা খেলে,
- অলি দরবেশ কারে বলে,
- আল-আরাবি নাবীজি আমার,
- আদমকে বানাইয়া খোদা।

তাঁর রচিত কিছু বিয়ার গান:
- মেনদি বাটো তোমরা সখি,
- মিতু আসবে নওশা সেজে,
- আজ ঝিলমিল ঝিলমিল,
- পালকি চড়ে যাইগো ভাবি,
- বিয়াই মজলিসে দেখবে,
- সখীরা সব সাজাও কন্যা। 

উৎস: ‘শেখ ওয়াহিদ গীতি সমগ্র’ শেখ ওয়াহিদুর রহমান।
৯,৮৯৩.
চর্যাপদের মহিলা কবি হিসেবে কাকে অনুমান করা হয়?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. লুইপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের মহিলা কবি:  
- চর্যাপদ হলো প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- চর্যাপদ পাল শাসনামলে রচিত হয়েছে।
- চর্যাপদ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- চর্যাপদে ৬ টি প্রবাদ বাক্য পাওয়া যায়।
- চর্যাপদের বয়স আনুমানিক ১০০০ বছর।
- চর্যাপদের রচনাকাল সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী।তা না থাকলে দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দী।
- সুনীতিকুমার ১৯২৬ সালে ‘Origin and Development of the Bengali Language'(ODBL) গ্রন্থ রচনা করে চর্যাপদকে বাংলা সাহিত্যের বলে প্রমাণ করেন।

- ধারনা করা হয় চর্যাপদের একমাত্র মহিলা কবি ছিলেন কুক্কুরীপা। 
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী কবি হিসেবে ধরা হয়।
- ধারণা করা হয়, তিনি চর্যাপদের ৩টি পদ লিখেছেন—২, ২০ এবং ৪৮ নং, যদিও ৪৮ নং পদ আজ পাওয়া যায়নি।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, কুক্কুরীপা ৮ম শতকের প্রথমার্ধে বর্তমান বাংলাদেশের অঞ্চলের লোক ছিলেন।
- এবং বৌদ্ধ তন্ত্র সাধনার মাধ্যমে মহামায়ার সাধনা শুরু করেছিলেন।
- ড. সুকুমার সেনের মতে, কুক্কুরীপার ভাষার সঙ্গে নারীদের ভাষার মিল দেখা যায়।
- ধারনা করা হয়, কুক্কুরীপা ছিলেন ইন্দ্রভূতির অন্যতম গুরু। 

- রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে,
• কুক্কুরীপা দেবপালের রাজত্বকালে ছিলেন।
• তার জন্মস্থান কপিলবস্তু এবং জন্ম হয়েছিল ব্রাহ্মণ বংশে।
• তিনি একজন সিদ্ধা ছিলেন।

- তারানাথের মতে, একটি কুকুরী সর্বদা সঙ্গে রাখতেন তাই এই সিদ্ধা কুক্কুরীপা নামে পরিচিত।
- কুক্কুরীপার লেখা চর্যাপদের ভাষা সহজ, গ্রাম্য এবং লোকসঙ্গীতের মতো।
- তার পরিচিত পংক্তি হলো—“দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই রাতি ভইলে কামরু জাই।" 

উৎস:
লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।  

৯,৮৯৪.
শিক্ষামূলক গ্রন্থ 'কথামালা' রচনা করেন কে?
  1. রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রামরাম বসু
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি একজন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী ছিলেন।
- তিনি১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবি 'বন্দ্যোপাধ্যায়'। তাঁর প্রকৃত নাম- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৮৯৫.
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) ডানপিটে শওকত
  2. খ) চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
  3. গ) শেষ রাত্রির চাঁদ
  4. ঘ) কৃষ্ণপক্ষ
সঠিক উত্তর:
খ) চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত প্রথম উপন্যাস চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান।
-  এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। 

- 'ডানপিটে শওকত' (১৯৫৩) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 
- 'শেষ রাত্রির চাঁদ' (১৯৭৬) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস
- 'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৫৯) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৯৬.
''পাছে লোকে কিছু বলে''- কবিতাটি কার রচনা?
  1. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  2. কামিনী রায়
  3. সুফিয়া কামাল
  4. কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতাটি লিখেছেন: 'কামিনী রায়'। 
 - কবিতাটি কোন কাজ করতে গেলে অন্য মানুষের সমালোচনার ভয়ে নিজেকে ঘুটিয়ে রাখে - সেই দিকটায় আলোকপাত করা হয়েছে।

কামিনী রায়: 
- কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালে বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় (১৮৮৯) সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- আলো ও ছায়া, 
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন ,
- মাল্য ও নির্মাল্য, 
- অশোকসঙ্গীত, 
- অম্বা, 
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে।
---------------------------- 
পাছে লোকে কিছু বলে,
- কামিনী রায়। 

করিতে পারি না কাজ
সদা ভয় সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,-
পাছে লোকে কিছু বলে।

আড়ালে আড়ালে থাকি
নীরবে আপনা ঢাকি,
সম্মুখে চরণ নাহি চলে
পাছে লোকে কিছু বলে। (সংক্ষেপিত)

উৎস: সাহিত্য কণিকা, অষ্টম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৮৯৭.
'কালের পুতুল' বুদ্ধদেব বসু রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'কালের পুতুল' বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি প্রবন্ধ। প্রবন্ধটি প্রথমে কবিতা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে প্রবন্ধটি বুদ্ধদেব বসুর 'কালের পুতুল' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 

------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম। 
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
• কাব্যগ্রন্থ:
- বন্দীর বন্দনা; কঙ্কাবতী; দ্রৌপদীর শাড়ী, শীতের প্রার্থনা: বসন্তের উত্তর, যে আঁধার আলোর অধিক। 

• উপন্যাস:
- লাল মেঘ; রাতভর বৃষ্টি; পাতাল থেকে আলাপ; গোলাপ কেন কালো।

• গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়; রেখাচিত্র; ভাসো আমার ভেলা। 

• নাটক:
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী; কলকাতার ইলেকট্রা; সত্যসন্ধ। 

• প্রবন্ধ: কালের পুতুল; সাহিত্যচর্চা; রবীন্দ্রনাথ: কথাসাহিত্য;  স্বদেশ ও সংস্কৃতি; 

• ভ্রমণ ও স্মৃতিকথা:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি; সব-পেয়েছির দেশে; জাপানি জার্নাল;  দেশান্তর; আমার ছেলেবেলা; আমার যৌবন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৮৯৮.
"স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার?
ভয় কি বন্ধু,
আমরা এখনো চারকোটি পরিবার" কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আবুল হোসেন
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
"স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার?
ভয় কি বন্ধু,
আমরা এখনো চারকোটি পরিবার" কবিতাংশটুকু আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব। এ সময়ে যাঁরা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে তোলার চেষ্টা করেন, তিনি তাঁদের মধ্যে অন্যতম।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৮৯৯.
'বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. আহমদ শরীফ
  3. আবদুল কাদির
  4. বদরুদ্দীন উমর
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা

আবদুল কাদির:
- আবদুল কাদির কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দ বিশারদ, সম্পাদক।
- ১৯০৬ সালের ১ জুন ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার আড়াইসিধা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

আবদুল কাদির রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা,
- কবি নজরুল,
- কাজী আব্দুল ওদুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৯০০.
বাঙালি রচিত এবং বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম দীর্ঘ মৌলিক রচনা কোনটি?
  1. লিপিমালা
  2. পুরুষ পরীক্ষা 
  3. মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং
  4. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা

রামরাম বসুর গদ্যগ্রন্থ দুটি রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১) ও লিপিমালা (১৮০২)। ফারসি-নবিস মুনশী বলে সেকালের চলতি রীতিতে বাংলা গদ্যপদ্য রচনায় তাঁর অবিসংবাদিত দক্ষতা ছিল।

• বাঙালি রচিত এবং বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম একটানা দীর্ঘ মৌলিক রচনা 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থে রাজা প্রতাপাদিত্য সম্পর্কে জ্ঞাত কাহিনিগুলো স্থান পেয়েছে।

• দ্বিতীয় গ্রন্থ 'লিপিমালা' ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাত্রদের চলিত ভাষা ও দেশীয় লোকের বৈষয়িক ব্যবহারের পরিচয়দানের জন্য পত্রাকারে লিখিত প্রবন্ধ। গ্রন্থের রচনারীতি সহজ সরল ও মৌখিক রীতির কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তার রচনাশৈলী সাধুভাষার অনুগত হলেও তা কথ্যরীতির অনুসারী ছিল। মৌলিক লেখক হিসেবে রামরাম বসুর স্বতন্ত্র পরিচয় বিদ্যমান।

অন্যদিকে, 
- হরপ্রসাদ রায় রচিত- পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)। 
- রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত- মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।