বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৯৮ / ২১১ · ৯,৭০১৯,৮০০ / ২১,১৩২

৯,৭০১.
'আকাল' কাব্য সংকলনটি সম্পাদনা করেন-
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
- আকাল একটি কাব্য সংকলন যা পঞ্চাশের মন্বন্তর প্রেরণায় সম্পাদিত হয়।
- সংকলনটি সম্পাদনা করেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৪৪ সালে 'আকাল' নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের ভুমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। 

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর পিতা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য কলকাতায় পুস্তক ব্যবসা করতেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন।
- ১৯৪৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য মাত্র ২০ বছর ৯ মাসে যক্ষা রোগে মারা যান।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ছাড়পত্র (কাব্যটি কবির মৃত্যুর তিনমাস পর রচিত হয়)।
- পূর্বাভাস।
- মিঠেকড়া।
- অভিযান।
- ঘুম নেই।
- হরতাল।
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৭০২.
'বঙ্গদূত' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. নীলমণি হালদার
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
নীলমণি হালদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলমণি হালদার
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গদূত' পত্রিকা:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকার সম্পাদক:
- সম্বাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- জ্ঞানান্বেষণ পত্রিকার সম্পাদক - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন  - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা - স্বদেশ।
- 'সবুজপত্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - প্রমথ চৌধুরী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনা করেছেন- সাধনা (১৮৯৪), ভারতী (১৮৯৮), বঙ্গদেশ (১৯০১), তত্ত্ববােধিনী (১৯১১)।
- বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদিত পত্রিকা- প্রগতি (১৯২৭-২৯), কবিতা (১৯৩৫-৪০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৭০৩.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য কোন ধর্ম প্রচারকের প্রভাব অপরিসীম?
  1. গৌরচন্দ্রিকা
  2. মনোহর দাস
  3. শ্রীকৃষ্ণ
  4. শ্রী চৈতন্যদেব
সঠিক উত্তর:
শ্রী চৈতন্যদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রী চৈতন্যদেব
ব্যাখ্যা
শ্রী চৈতন্যদেব:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য শ্রী চৈতন্যদেব ধর্ম প্রচারকের প্রভাব অপরিসীম।
- তিনি বাংলা সাহিত্য একটি পঙক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে যার নাম শ্রী চৈতন্যদেব।
- তাঁকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে মধ্যযুগের ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’।
- ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’ তিন প্রকার যথা : 
- জীবনীকাব্য,
- বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
- পদাবলী
- বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থের নাম বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত।
- বাংলা সাহিত্য ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে চৈতন্যযুগ বলে।
- শ্রীচৈতন্যর পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র, ডাক নাম নিমাই।
- চৈতন্যদেব জন্ম ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ এবং মৃত্য ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭০৪.
‘ইউরোপের চিঠি’ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা - অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।

• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৭০৫.
"যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে মুক্তি নেই"- উক্তিটি কার?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. আহমদ ছফা
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• "যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে মুক্তি নেই" মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত একটি উক্তি।

------------------
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- সংস্কৃতি কথা,
- সুখ,
- সভ্যতা (ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ)।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭০৬.
‘সেক শুভোদয়া’ গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. বৈদিক ধর্মের মাহাত্ম্য
  2. শেখের গৌরব ব্যাখ্যা
  3. ব্রাহ্মণ্য ধর্ম প্রচার
  4. ধর্মীয় জ্ঞান প্রসার
সঠিক উত্তর:
শেখের গৌরব ব্যাখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখের গৌরব ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা
‘সেক শুভোদয়া’ গ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শেখের গৌরব ব্যাখ্যা করা।

• সেক শুভোদয়া:
- রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়া' সংস্কৃত গদ্যপদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, 'সেক শুভোদয়া খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারেই গোড়ার দিককার রচনা।'
- গ্রন্থটি রাজা লক্ষ্মণ সেন ও শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজির অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- শেখের শুভোদয় অর্থাৎ শেখের গৌরব ব্যাখ্যাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য।
- এতে নানা ঘটনার মাধ্যমে মুসলমান দরবেশের চরিত্র ও অধ্যাত্মশক্তির পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
- এ গ্রন্থে প্রাচীন বাংলার যে সব নিদর্শন আছে তা হল পীর-মাহাত্ম্যজ্ঞাপক বাংলা ছড়া বা আর্যা, খনার বচন ও ভাটিয়ালি রাগের একটি প্রেমসঙ্গীত।
- আর্যার সংখ্যা তিনটি এবং এগুলো বাংলা ভাষায় প্রাপ্ত পীর মাহাত্ম্য-জ্ঞাপক কাব্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
- হিন্দু কবির দৃষ্টিতে পীরদরবেশগণের ওপর জাগ্রত দেবমাহাত্ম্য আরোপিত হয়েছে।
- সেক শুভোদয়া' গ্রন্থের প্রেমসঙ্গীতটিকে প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের একমাত্র নিদর্শন হিসেবে মনে করা হয়।
- প্রাচীন যুগে ব্যক্তিমানসের যে প্রতিফলন এতে ঘটেছে তা অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
- সেক শুভোদয়া গ্রন্থে প্রাচীন আমলের সমাজচিত্রেরও পরিচয় মিলে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
৯,৭০৭.
'যাঁদের দেখেছি' স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সুফিয়া কামাল
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• ‘যাঁদের দেখেছি’ গ্রন্থ:
-
‘যাঁদের দেখেছি’ জসীমউদ্‌দীন রচিত স্মৃতিকথামূলক সুখপাঠ্য গদ্যগ্রন্থ।
- গদ্যগ্রন্থটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত হয়।

• এই গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গদ্যগুলো হলো:
- নজরুল,
- পরিশিষ্ট,
- শরৎ-সন্নিধানে,
- দীনেশচন্দ্র,
- সিরাজী-স্মৃতি,
- আমার বন্ধু কুদরতউল্লাহ্ সাহাব।

----------------------
• জসীমউদ্‌দীন:
- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। 
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• কবি  জসীমউদ্‌দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

• জসীমউদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

 • শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; ‘যাঁদের দেখেছি’ গদ্যগ্রন্থ।
৯,৭০৮.
'কথোপকথন' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রামরাম বসু
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা
'কথোপকথন':
- 'কথোপকথন' গ্রন্থের রচয়িতা - উইলিয়াম কেরি
- কথোপকথন বাংলা ভাষায় মুদ্রিত এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় গ্রন্থ।
- একাধিক মানুষের মুখের সাধারণ কথা বা কথোকথন বা ডায়লগ এ গ্রন্থের উপজীব্য।

উইলিয়াম কেরি:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে তাঁর অবদান সর্বাধিক।
- তিনি 'ইতিহাসমালা' ও 'কথোপকথন' নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- 'ইতিহাসমালা' বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)।
৯,৭০৯.
'মানুষ মরে গেলে পচে যায়,বেঁচে থাকলে বদলায়,কারণে-অকারণে বদলায়।'- উক্তিটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কবর 
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. নবান্ন 
  4. মানুষ 
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।'- রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা ইত্যাদি।

------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৭১০.
তেভাগা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. খোয়াবনামা
  3. জঙ্গনামা
  4. দোজখের ওম
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা

খোয়াবনামা উপন্যাসে তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ এর মন্বন্তর, ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ প্রভৃতি ঐতিহাসিক উপাদান উপন্যাসের নিখুঁতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে ।
- উপন্যাসটির রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ।
- ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত লেখকের প্রথম উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭) ।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের রচিত গল্পগ্রন্থ:
- দুধে ভাতে উৎপাত
- দোজখের ওম
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল

গল্পগ্রন্থ: রেইনকোট, মিলির হাতে স্টেনগান ইত্যাদি

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)

৯,৭১১.
বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন ও গ্রামীণ দিগন্ত চিত্রায়িত হয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. অনেক দিনের আশা
  2. কাশবনের কন্যা
  3. দুই হৃদয়ের তীর
  4. পথ জানা নাই
সঠিক উত্তর:
কাশবনের কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাশবনের কন্যা
ব্যাখ্যা

• 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস ‘কাশবনের কন্যা’। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে।
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ দারিদ্রতা থাকলেও গ্রামেই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত চিত্রায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের চরিত্র সমূহ: সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান ইত্যাদি।

--------------------
শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল ইত্যাদি।

শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৭১২.
হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি উপন্যাস -
  1. বাঙলা ভাষার শত্রুমিত্র
  2. ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল
  3. নারী
  4. কতো নদী সরোবর
সঠিক উত্তর:
ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল
ব্যাখ্যা

'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস:
- 'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি উপন্যাস। 
- এই উপন্যাস প্রকাশের মধেদিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন।
- বাংলাদেশে সামরিক আইন জারীর প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাসটি ১৯৯৪ সালে ঢাকা থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস:
- ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল, 
- সব কিছু ভেঙে পড়ে, 
- একটি খুনের স্বপ্ন। 

হুমায়ুন আজাদ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা: 
- নারী, 
- বাঙলা ভাষার শত্রুমিত্র, 
- বাক্যতত্ত্ব, 
- লাল নীল দীপাবলি,
- কতো নদী সরোবর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং 'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস।

৯,৭১৩.
'শূণ্যপুরাণ' কী ধরনের রচনা?
  1. গীতিকাব্য
  2. চম্পুকাব্য
  3. ছড়ার সংকলন
  4. মহাকাব্য
সঠিক উত্তর:
চম্পুকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চম্পুকাব্য
ব্যাখ্যা
• 'শূণ্যপুরাণ':
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ। এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য। গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭১৪.
আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত প্রথম প্রকাশিত নাটক কোনটি?
  1. ক) এখনো ক্রীতদাস
  2. খ) শপথ
  3. গ) সুবচন নির্বাসনে
  4. ঘ) এখন দুঃসময়
সঠিক উত্তর:
খ) শপথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শপথ
ব্যাখ্যা

আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত বিখ্যাত নাটক- শপথ (প্রথম প্রকাশিত), সুবচন নির্বাসনে, এখন দুঃসময়, এবার ধরা দাও, শাহজাদীর কাল নেকাব, চারদিকে যুদ্ধ, এখনো ক্রীতদাস, কোকিলারা, মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি। উপন্যাস- মানব তোমার সারাজীবন, তাহাদের যৌবনকাল, হায় পার্বতী, এই চুনীলাল, গুন্ডাপান্ডা বাবা, খলনায়ক ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৭১৫.
আধুনিক যুগে বাংলা সাহিত্যে মুখ্য হয়ে ওঠে—
  1. ধর্মীয় ভাবনা
  2. রাজনীতি
  3. মানুষ ও মানবতা
  4. প্রাকৃত জীবন
সঠিক উত্তর:
মানুষ ও মানবতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ ও মানবতা
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা: 
১. প্রাচীন যুগ,
২. মধ্যযুগ,
৩. আধুনিক যুগ।
 
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্য হয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৭১৬.
নাথ-যোগীরা কার উপাসক ছিলেন?
  1. ক) মনসা
  2. খ) কৃষ্ণ
  3. গ) অন্নদা
  4. ঘ) শিব
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিব
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
নাথ সাহিত্য দুইভাগে বিভক্ত।
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষ নাথের কাহিনী
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৯,৭১৭.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের আদি মধ্যযুগ বা প্রাকচৈতন্য যুগের রচনাকাল কোনটি?
  1. ৯৫০ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১৩০০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৩০০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩০০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
• প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),

মধ্যযুগ:
→ প্রাচীন বা মুসলমানপূর্ব যুগ (৯৫০-১২০০),
→ তুর্কি বিজয়ের যুগ (১২০০-১৩০০),
→ আদি মধ্যযুগ বা প্রাকচৈতন্য যুগ (১৩০০-১৫০০),
→ অন্ত্য মধ্যযুগ (১৫০০-১৮০০), চৈতন্য যুগ বা বৈষ্ণবসাহিত্য যুগ (১৫০০-১৭০০) ও নবাবি আমল (১৭০০-১৮০০),

'চৈতন্য যুগ' সম্পর্কিত বিশেষ তথ্য:
- বাংলা সাহিত্যে (১৫০০ থেকে ১৭০০) পর্যন্ত সময়কে চৈতন্য যুগ বলে।
- শ্রীচৈতন্যদেব ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য সংক্ষেপে ‘চৈতন্য’ নামে পরিচিত।
- শ্রীচৈতন্যদেব তাঁর জীবিতকালেই ভক্তদের ভগমানের অবতার বলে গৃহীত হয়েছিল।
- চৈতন্যদেব প্রথম জীবনী সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- চৈতন্যের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- প্রবোধানন্দ সরস্বতী ‘শ্রীচৈতন্যচন্দ্রামৃত’ নামক কাব্য রচনা করেছিলেন।
- চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে ‘কচড়া’ নামে অভিহিত করা হয়েছে, যার অর্থ ব্যাপক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭১৮.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের সর্বশেষ সাহিত্যকর্ম কোনটি?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. একেই কি বলে সভ্যতা
  3. রত্নাবলী
  4. মায়াকানন
সঠিক উত্তর:
মায়াকানন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়াকানন
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্যকর্ম
- মাইকেল রচিত বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ১২টি গ্রন্থ এবং ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ৫টি গ্রন্থ রয়েছে।
- ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- এটিই বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সার্থক মৌলিক নাটক।
- হোমারের ইলিয়াড অবলম্বনে ১৮৭১ সালে তিনি রচনা করেন হেক্টরবধ।
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য।
- তাঁর শেষ রচনা মায়াকানন নাটক।

♦ মাইকেল ও অমিত্রাক্ষর ছন্দ
- ১৮৬০ সালে তিনি গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন পদ্মাবতী নাটক।
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্য - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।

♦ মেঘনাদবধ কাব্য
- ১৮৬১ সালে রামায়ণের কাহিনী নিয়ে তিনি রচনা করেন তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক মহাকাব্য।

♦ প্রহসন
- ১৮৬০ সালে মাইকেল রচনা করেন একেই কি বলে সভ্যতা ও বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ নামে দুটি প্রহসন।
- একেই কি বলে সভ্যতা এর বিষয় ছিল ইংরেজি শিক্ষিত নব্য বাবু সম্প্রদায়ের উচ্ছৃঙ্খলতা।
- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ এর বিষয় ছিল সনাতনপন্থী সমাজপতিদের নৈতিক চরিত্রের অধঃপতন।

♦ অনুবাদ গ্রন্থ - হেক্‌টর-বধ
♦ কাব্যনাট্য - রিজিয়া: ইমপ্রেস অফ ইন্ডে

♦ অনুবাদ নাটক
- রত্নাবলী
- শর্মিষ্ঠা
- নীল দর্পণ অর দি ইন্ডিগো প্ল্যান্টিং মিরর।

♦ প্রবন্ধ সাহিত্য
- দি অ্যাংলো-স্যাক্সন অ্যান্ড দ্য হিন্দু।

তথ্যসূত্র - ১..বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. ডেইলি স্টার বাংলা,
৩. জনকণ্ঠ।
৪. বাংলাপিডিয়া।
৯,৭১৯.
’সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান’ কে রচনা করেন?
  1. আবু ইসহাক
  2. আহমেদ শরীফ
  3. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• আবু ইসহাক:
- তাঁর জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর। 
-আবু ইসহাক ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস 'জাল'। এটি তাঁর রচিত গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।
- তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন।

•তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ দুটি:
- তহারেম;
- মহাপাত্র ।

• উপন্যাসের অনুরূপ গল্পগুলিতে ভূমিহীন মানুষ, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষ্য-পীড়িত মানুষের জীবন এবং বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের জীবনের নানা সমস্যা স্থান পেয়েছে।

• তাঁর রচিত একমাত্র নাটক 'জয়ধ্বনি'।
• তাঁর স্মৃতিচারণমূলক রচনা 'স্মৃতিবিচিত্রা' প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে।

অন্যদিকে,
• ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচনা করেন- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান।
• আহমেদ শরীফ রচনা করেন- বাংলা একডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান।
• হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন- বঙ্গীয় শব্দকোষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৭২০.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. রাজলক্ষ্মী
  2. রমা
  3. কুসুম
  4. করুণাময়ী
সঠিক উত্তর:
রাজলক্ষ্মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজলক্ষ্মী
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়। লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী।

অন্যদিকে, 
• 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

• 'পণ্ডিতমশাই' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা একটি সামাজিক উপন্যাস, যা গ্রাম বাংলার পটভূমিতে রচিত। উপন্যাসটি মূলত বৃন্দাবন ও কুসুম নামের দুটি চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। 

• 'পথের দাবী' উপন্যাসের মূল চরিত্রগুলির মধ্যে রয়েছেন- বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক, ভারতী ও সুমিত্রা, করুণাময়ী, বিনোদ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'পথের দাবী' উপন্যাস 

৯,৭২১.
'পরানের গহীন ভিতর' কাব্যের কবি কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. শামসুর রাহমান
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
'পরানের গহীন ভিতর' কাব্যের রচয়িতা - সৈয়দ শামসুল হক।

সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস, 
- শীত বিকেল, 
- আনন্দের মৃত্যু, 
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৭২২.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পর্কে কোন তথ্যটি যথার্থ নয়?
  1. তিন খণ্ডে 'বিষাদ-সিন্ধু' রচনা করেন
  2. নিজের জীবনী রচনা করেন
  3. জমিদারি দেখাশোনার কাজ করেছেন
  4. আজিজননেহার তাঁর ২য় স্ত্রী
সঠিক উত্তর:
আজিজননেহার তাঁর ২য় স্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজিজননেহার তাঁর ২য় স্ত্রী
ব্যাখ্যা

• আজিজননেহার তাঁর ২য় স্ত্রী এই তথ্যটি ভুল।
- আজিজননেহার তাঁর ১ম স্ত্রী।
- বিবি কুলসুম তার  ২য় স্ত্রী।

• মীর মশাররফ হোসেন(১৮৪৭-১৯১২):  

- মীর মশাররফ হোসেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার।
- কর্মজীবনের শুরুতে মশাররফ হোসেন পিতার জমিদারি দেখাশুনা করেন।
- পরে তিনি ফরিদপুর নবাব এস্টেটে চাকরি নেন এবং ১৮৮৫ সালে দেলদুয়ার এস্টেটের ম্যানেজার হন।
- এক সময় এ চাকরি ছেড়ে তিনি লাহিনীপাড়ায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং পরে ভাগ্যান্বেষণে কলকাতায় গিয়ে ১৯০৩-০৯ পর্যন্ত অবস্থান করেন।

- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায়  সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১) ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তাঁর রচিত বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু। 

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা  ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৭২৩.
কীর্তিচন্দ্র চর্যাপদ কোন ভাষায় অনুবাদ করেন?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. পালি
  4. তিব্বতি
সঠিক উত্তর:
তিব্বতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিব্বতি
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৭২৪.
'পাষণ্ডপীড়ন' পত্রিকাটি সম্পাদনা করতেন-  
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
  2. রাজা রামমোহন রায় 
  3. আবুল হোসেন 
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
ব্যাখ্যা

‘পাষণ্ডপীড়ন' পত্রিকাটি সম্পাদনা করতেন- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। 
---------------- 
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- তাঁর রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট।
- তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন
- অল্পদিনের মধ্যেই এটি বন্ধ হলেও ১৮৩৬ সালে পুনরায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৮৩৯ সালে ‘সংবাদ প্রভাকর’ বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকায় পরিণত হয়।
- সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি সমাজের অবিচার, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার ও অন্যায়কর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। -
- ‘সংবাদ প্রভাকর’ ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যেসব পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন—
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ন
- সংবাদ সাধুরঞ্জন প্রভৃতি।  

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

৯,৭২৫.
'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা নয়-
  1. পুবের চাতক
  2. কবি-রানী
  3. অকাল সন্ধ্যা
  4. অবেলার ডাক
সঠিক উত্তর:
অকাল সন্ধ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকাল সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা
• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'দোলন চাঁপা'। 
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’।   
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর ১৯২৩ সালে) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। কবি তখন রাজবন্দি ছিলেন।
- দোলন চাঁপা কাব্যগ্রন্থটি মূলত প্রেম প্রধান কবিতার বই।  
- কবির স্ত্রী আশালতা বা দোলনের (ডাক নাম দুলি, আদার করে ডাকা হতো দোলন) নামেই কাব্যটির নামকরণ করা হয়।

এই কাব্যের কিছু উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো :
- বেলা শেষে ,
- পুবের চাতক, 
- পূজারিণী, 
- কবি-রানী, 
- অবেলার ডাক। 

অন্যদিকে,
• ‘অকাল সন্ধ্যা’ কবিতাটি কাজী নজরুর রচিত চিত্তনামা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭২৬.
'সোনালী কাবিন' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) হুমায়ুন আজাদ
  2. খ) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) বিনয় ঘোষ
সঠিক উত্তর:
গ) আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
সোনালী কাবিন আল মাহমুদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম ইত্যাদি এই কাব্যগ্রন্থের উপজীব্য বিষয়। লোক লোকান্তর, কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, বখতিয়ারের ঘোড়া, প্রেমের কবিতা ইত্যাদি তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ।
কাবিলের বোন, চেহারার চতুরঙ্গ, উপমহাদেশ, ডাহুকী, কবি ও কোলাহল, ডাহুকী ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস এবং পানকৌড়ির রক্ত, গন্ধবণিক, ময়ূরীর মুখ, সৌরভের কাছে পরাজিত তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭২৭.
'মিলির হাতে স্টেনগান' গল্পটি কার লেখা? 
  1. শওকত আলী
  2. শওকত ওসমান
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. আব্দুল কাদির
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• ‘মিলির হাতে স্টেনগান’ গল্পটির লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলায়।

তাঁর রচিত ছোটগল্প: 
- মিলির হাতে স্টেনগান,
- রেইনকোট,
- দুধভাতে উৎপাত,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- ফোঁড়া,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭২৮.
মঙ্গলকাব্যে ‘চৌতিশা’ বলতে বোঝায়-
  1. চৌত্রিশজন কবি রচিত রচনা
  2. চৌত্রিশ অক্ষরে রচিত রচনা
  3. চৈত্র মাসে রচিত রচনা
  4. বাংলা চৌত্রিশ সনে রচিত রচনা
সঠিক উত্তর:
চৌত্রিশ অক্ষরে রচিত রচনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌত্রিশ অক্ষরে রচিত রচনা
ব্যাখ্যা
• 'চৌতিশা': 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশিষ্ট কাব্যধারা।
- মঙ্গলকাব্যে বিপন্ন নায়ক-নায়িকা চৌত্রিশ অক্ষরে ইষ্টদেবতার যে স্তব রচনা করে তাকে চৌতিশা বলে।
- ব্যঞ্জণবর্ণের ক থেকে হ পর্যন্ত বর্ণ পদের আদিতে প্রয়োগ করে এই চৌতিশা রচিত হত।
- চৌত্রিশটি বর্ণকে আশ্রয় করে এরূপ কবিতা রচিত হয় বলে একে বলা হয় চৌতিশা।
 
• শেখ ফয়জুল্লাহ্ জয়নবের চৌতিশা,  বাহরাম খান লায়লীর চৌতিশা,  সৈয়দ সুলতান জ্ঞানচৌতিশা উক্ত আঙ্গিকে রচনা করেছেন।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৭২৯.
"দুইবোন" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• "দুইবোন" উপন্যাস:
- 'দুইবোন' (১৯৩৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোট উপন্যাস। ১৯৩২-১৯৩৩ সালে 'বিচিত্রা' পত্রিকায় বের হয়।

- শর্মিলার স্বামী শশাঙ্কের সঙ্গে ঊর্মিলার ঘনিষ্ঠতা তাদের সকলের জীবনে যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তারই নাটকীয়তাময় রূপায়ণ এই উপন্যাসে। উপন্যাসটিতে পুরুষের পক্ষে দুই নারীকে দুইভাবে ভালোবাসার ফলে জটিলতার সৃষ্টি হয় আর নারীর পক্ষে সেই জটিলতার সমাধান দেখানো হয়েছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- শশাঙ্ক,
- শর্মিলা,
- ঊর্মিলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৩০.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা রচনা নয়? 
  1. শেষ লেখা
  2. শেষ প্রশ্ন
  3. শেষ কথা
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
শেষ প্রশ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষ প্রশ্ন
ব্যাখ্যা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা নয়- শেষ প্রশ্ন। 
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। 
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। 
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- ঘরে-বাইরে, 
- চোখের বালি, 
- শেষের কবিতা, 
- যোগাযোগ, 
- নৌকাডুবি, 
- বউ ঠাকুরানীর হাট, 
- দুই বোন, 
- মালঞ্চ, 
- চতুরঙ্গ, 
- গোরা, 
- রাজর্ষি, 
- চার অধ্যায় ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রেমের গল্প- শেষ কথা। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ- শেষ লেখা। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস- শেষের কবিতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর); বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৭৩১.
'ডাহুকী' - উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. আল মাহমুদ
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

‘ডাহুকী’ উপন্যাস:
- আল মাহমুদ রচিত প্রথম উপন্যাস - ডাহুকী।
- নব্বইয়ের দশকের প্রথমার্ধেই ১৯৯২ সালে বের হয় আল মাহমুদ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘ডাহুকী।
- গড়পড়তা আয়তনের উপন্যাস ‘ডাহুকী’র প্রধান চরিত্র আতেকা বানু। তাঁর সঙ্গে তীব্রভাবে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর কিশোরীকালের আবেগ।

আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৩২.
'রুপজালাল' কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) আত্মজীবনী
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) ভ্রমণকাহিনী
সঠিক উত্তর:
ক) আত্মজীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
'রুপজালাল' নওয়াব ফয়জুন্নেসার গদ্য ও কবিতায় আত্মজীবনী মূলক রচনা।  

নবাব ফয়জুন্নেসা (১৮৩৪-১৯০৩)  
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নবাব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কার স্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
-  বান্ধব,  ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু,  সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৩৩.
কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থের সংখ্যা কত?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থের সংখ্যা ৫টি।

নিষিদ্ধ গ্রন্থগুলো হলো:
• যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
• বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
• ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ নভেম্বর, ১৯২৪।
• প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
• চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৭৩৪.
সুকুমার রায় রচিত কবিতার বই কোনটি?
  1. কুঁচবরণ কন্যা
  2. খাই খাই
  3. টুনটুনির বই
  4. গুপী গাইন বাঘা বাইন
সঠিক উত্তর:
খাই খাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাই খাই
ব্যাখ্যা
• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

এছাড়া তার অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে-
- অবাক জলপান,
- লক্ষণের শক্তিশেল',
- হেশোরাম হুশিয়ারের ডায়েরী,
- ঝালাপালা ও অন্যান্য নাটক এবং
- বহুরূপী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া। 
• 'টুনটুনির বই' এবং 'গুপী গাইন বাঘা বাইন' উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচিত শিশুসাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘হ-য-ব-র-ল’ গ্রন্থের ভূমিকা এবং ‘পাগলা দাশু’ গল্পগ্রন্থের ভূমিকা।
৯,৭৩৫.
পল্লীকবি জসীমউদ্দীন রচিত কাব্য সংকলনের নাম কী?
  1. ক) সুচয়নী
  2. খ) মধুমালা
  3. গ) বোবা কাহিনী 
  4. ঘ) কবর
সঠিক উত্তর:
ক) সুচয়নী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সুচয়নী
ব্যাখ্যা
পল্লীকবি জসীমউদ্দীন রচিত একটি কাব্য সংকলনের নাম 'সুচয়নী'। 

কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি। 
- ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর ছাত্রস্থায় 'কবর' কবিতা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যারের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়। 

তাঁর রচিত অন্যান্য খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- রূপবতী,
- মাটির কান্না ইত্যাদি।

- 'মধুমালা' জসীমউদ্দীন রচিত নাটক। 
- 'বোবা কাহিনী' জসীমউদ্দীন রচিত একমাত্র উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৩৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের প্রধান নিদর্শন কোনটি?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. চর্যাপদ
  3. রামায়ণ
  4. পদাবলি
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের প্রধান নিদর্শন হচ্ছে চর্যাপদ।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৩৭.
বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম বই-
  1. লাইলি মজনু
  2. বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা
  3. ব্যবহরিক বাংলা অভিধান
  4. আধুনিক বাংলা অভিধান 
সঠিক উত্তর:
লাইলি মজনু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইলি মজনু
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম বই ছিল—
দৌলত উজির বাহ্‌রাম খাঁর- লাইলি মজনু।

বাংলা একাডেমি সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
১৯৫২ সালের  ভাষা আন্দোলন এবং এ দেশের মুসলিম মধ্যবিত্তের জাগরণ ও আত্মপরিচয় বিকাশের প্রেরণায় এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়।

- বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর।
- প্রথম প্রকাশিত বইটি ছিল লাইলি মজনু, যা মধ্যযুগীয় বাংলা প্রেমকাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।
- পরে একাডেমি আঞ্চলিক ভাষার অভিধান, লোকসংস্কৃতি বিষয়ক গ্রন্থ এবং ব্যবহরিক বাংলা অভিধান, আধুনিক বাংলা অভিধান ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা করে।

উৎস: বাংলা একাডেমি; প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট- লিংক।

৯,৭৩৮.
গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ সম্পাদনা করেছেন-
  1. এজরা পাউন্ড
  2. টি.এস.এলিয়ট
  3. ডব্লিউ. বি. ইয়েটস
  4. কীটস
সঠিক উত্তর:
ডব্লিউ. বি. ইয়েটস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডব্লিউ. বি. ইয়েটস
ব্যাখ্যা
• গীতাঞ্জলি:
- গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭ টি গানের সংকলন।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- ১৯১২ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings প্রকাশিত হয়।
- Song Offerings - গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন আইরিশ কবি ও নাট্যকার ইয়েটস্‌।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই এই গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- ইংরেজি অনুবাদ পরবর্তীতে সম্পাদনা করেন- ডব্লিউ বি. ইয়েটস্‌।
- ১৯১৩ সালে Song Offerings গ্রন্থের জন্য তিনি প্রথম এশীয় হিসাবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৩৯.
"একুশ মানে মাথা নত না করা" গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. আবুল ফজল
  3. শামসুর রাহমান
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• “একুশ মানে মাথা নত না করা” - এই "রাজনীতি ও রাজনীতিবিদ বিষয়ক" প্রবন্ধের রচয়িতা হচ্ছেন বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক — আবুল ফজল।

- ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবুল ফজলের বিখ্যাত উক্তি 'একুশ মানে মাথা নত না করা'।
- ষাটের দশকে পাকিস্তান সরকার যখন রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধ করেছিল তখন তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন আবুল ফজল।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনি ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

• আবুল ফজল:
- শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথা সাহিত্যিক ফজল আবুল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- কর্মজীবনে আবুল ফজল শিক্ষকতা করেছেন বিভিন্ন স্কুল, কলেজে। তিনি যখন চট্টগ্রাম কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত তখন দেশজুড়ে বইছিল ভাষা আন্দোলনের হাওয়া। ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে চট্টগ্রামে আবুল ফজলের ভূমিকাও ছিল অগ্রগণ্য।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মসমূহ হলো:
রাজনীতি ও রাজনীতিবিদ বিষয়ক প্রবন্ধ: একুশ মানে মাথা নত না করা।

• উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া ও The Daily Star Bangla।
৯,৭৪০.
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা হিসেবে কে চিরস্মরণীয়?
  1. ক) নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড
  2. খ) মনােএল দা আসসুম্পসাঁউ
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
সঠিক উত্তর:
খ) মনােএল দা আসসুম্পসাঁউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মনােএল দা আসসুম্পসাঁউ
ব্যাখ্যা

মনােএল দা আসসুম্পসাঁউ ছিলেন একজন খ্রিষ্টান ধর্মযাজক। জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ। তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ
রচয়িতা।

মনােএলের আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেন নি। ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন শহরে রােমান লিপিতে মনােএল দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন। গ্রন্থ দুটি হলাে :
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' এবং 'ভােকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পােরতুগিজ'। এর মধ্যে দ্বিতীয়টি অর্থাৎ ভােকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পােরতুগিজ মূলত অভিধান গ্রন্থ। তবুও এই গ্রন্থেই মনােএল অতি সংক্ষেপে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ একটি অধ্যায়ে সংযােজন করেন। এটাকেই মনােএলের ব্যাকরণ বলে এবং এ কারণেই তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

অন্যদিকে, বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহ্যাড৷ তার রচিত গ্রন্থটির নাম 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' (১৭৭৮)। গ্রন্থটি মূলত ইংরেজী ভাষায় রচিত। তবে দৃষ্টান্ত দেবার সময় এর কিছু অংশ বাংলা লিপিতে মুদ্রিত হয়৷
রামমােহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। রামমােহন রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' (১৮৩৩)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৯,৭৪১.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত ’আমি বীরাঙ্গনা বলছি” - কি ধরনের গ্রন্থ?
  1. নাটক
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

আমি বীরাঙ্গনা বলছি:
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ।
• গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'। 
• যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা। 
• তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।
• বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।

• তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা: 
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

• তাঁর নাটক: 
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৪২.
'ফুড কনফারেন্স' আবুল মনসুর আহমদ রচিত একটি- 
  1. প্রবন্ধ 
  2. গল্পগ্রন্থ 
  3. নাটক 
  4. উপন্যাস 
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ 
ব্যাখ্যা

  'ফুড কনফারেন্স' আবুল মনসুর আহমদ রচিত গল্পগ্রন্থ । এটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

----------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স, 
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৭৪৩.
চর্যাপদের কবি ঢেণ্ডণপা পেশায় ছিলেন একজন-
  1. নৌকা চালক 
  2. তাঁতি
  3. কামার 
  4. মন্ত্রী 
সঠিক উত্তর:
তাঁতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাঁতি
ব্যাখ্যা

• ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।’- চর্যাপদের ৩৩নং পদটির রচয়িতা চর্যাকার ঢেণ্ডণপা।

- অর্থাৎ লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯,৭৪৪.
বাংলা সাহিত্যের ‘আধুনিক যুগ’ শুরু হয় কবে?
  1. ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
আধুনিক যুগ:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়টুকু ছিলো প্রথম পর্যায়।
- ১৮০০ সালে শুরু হয় আধুনিক যুগ।
- ১৮৬০ সাল থেকে আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়।
- আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায়ে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য রচিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ' কাব্যের মাধ্যমে মহাকাব্যের ধারার প্রবর্তন হয়।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৪৫.
১৯৫৩ সালে প্রকাশিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলনটি কে সম্পাদন করেছিলেন?
  1. ক) সিকান্দার আবু জাফর
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) হাসান হাফিজুর রহমান
  4. ঘ) আবু হেনা মোস্তফা কামাল
সঠিক উত্তর:
গ) হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
একুশের প্রথম সংকলন টির নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।

একুশে ফেব্রুয়ারি

- এটি সম্পাদনা করেছেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে 'পুথিপত্র' প্রকাশনী থেকে সংকলনটি প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশক ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী মোহাম্মদ সুলতান ।
- এই সংকলনের অসাধারণ স্কেচগুলো করেন মুর্তজা বশীর।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকশা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২জন লেখক লিখেছেন। 
- এটি প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৪৬.
কাহ্নপা রচিত কত নং পদটি পাওয়া যায়নি?
  1. ৪০নং
  2. ২৪নং
  3. ১৮নং
  4. ১৩নং
সঠিক উত্তর:
২৪নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪নং
ব্যাখ্যা

কাহ্নপা:
- তিনি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহ্নিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি

উল্লেখ্য,
- চর্যাপদের মোট ৫১ টি পদ রয়েছে; এই পদগুলোর মধ্যে প্রাপ্ত পদের সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি।
- চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদগুলো পাওয়া যায় নি।
- চর্যাপদের প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ২৩ নং পদটি খন্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
- পদটির রচয়িতা ছিলেন ভুসুকুপা। ২৩ নং পদের ৬টি পদ বা লাইন পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৭৪৭.
'Uncle Tom's Cabin' - এর সাথে তুলনা করা হয় কোন নাটককে?
  1. বিসর্জন
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. নীল-দর্পন
  4. বীরাঙ্গনা
সঠিক উত্তর:
নীল-দর্পন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল-দর্পন
ব্যাখ্যা
'নীল-দর্পন' নাটক: 
- এটি হল দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি নীল চাষের জন্য সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন।
- ১৮৬০ সালে দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ নাটক প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সাহিত্যকর্ম।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।
- নাটকের বাস্তবতা এবং চরিত্র গুলোরে স্বাভাবিকতার গুনের জন্য অনেকেই নীল দর্পণকে  Uncle Tom's Cabin -  এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

দীনবন্ধু মিত্র:

- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- এটি নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীল- দর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীল দর্পন” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীল দর্পন” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
 - নীল-দর্পন,
 - নবীন তপস্বিন,
 - কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৭৪৮.
আবদুল গাফফার চৌধুরীর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) কৃষ্ণপক্ষ
  2. খ) শেষ রাত্রির চাঁদ
  3. গ) চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
  4. ঘ) বাংলাদেশ কথা কয়
সঠিক উত্তর:
গ) চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাসঃ
চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (১৯৬০, প্রথম উপন্যাস), নাম না জানা ভোর (১৯৬২), নীল যমুনা (১৯৬৪), শেষ রাত্রির চাঁদ (১৯৭৬)।
গল্পগ্রন্থঃ
কৃষ্ণপক্ষ (১৯৫৯), সম্রাটের ছবি (১৯৫৯), সুন্দর হে সুন্দর (১৯৬০)।
শিশুতোষ গ্রন্থঃ
ডানপিঠে শওকত, আঁধার কুঠির ছেলেটি, ভয়ংকরের হাতছানি।
‘বাংলাদেশ কথা কয় (১৯৭২)’ তার সম্পাদনা গ্রন্থ। তিনি “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” গানের রচয়িতা। তিনি ‘পলাশী থেকে ধানমণ্ডি’ (২০০৭) নামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করে খ্যাতি অর্জন করেন।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর। ]
৯,৭৪৯.
'রামচন্দ্র' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
  4. বুদ্ধদেব বসু
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম - রামচন্দ্র। 

অন্যদিকে, 
• রাজা রামমোহন রায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম - শিবপ্রসাদ দাস। 
• বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম - ক্বচিৎ প্রৌঢ়। 
• বুদ্ধদেব বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম•- বিপ্রদাস মিত্র। 

উৎস: 'বিবিধ প্রবন্ধ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৫০.
'পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. মাহবুবুল আলম চৌধুরী
  4. এম এ আখতার মুকুল
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা

• 'পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি' গ্রন্থটি রচনা করেন - বদরুদ্দীন উমর

বদরুদ্দীন উমর:
- ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে তিনি জন্মগ্রহন করেন।
- অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত পান।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৭৫১.
'পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল' - পঙ্‌ক্তিটি রচিয়তা কে?
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
পাখি-সব করে রব-
– মদনমোহন তর্কালঙ্কার। 

পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।
রাখাল গরুর পাল, ল’য়ে যায় মাঠে।

মদনমোহন তর্কালঙ্কার: 
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার কবি, সমাজসেবক।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত। 
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের  অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।

তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ: 
- রসতরঙ্গিণী, 
- বাসবদত্তা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৯,৭৫২.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে?
  1. পথের পাঁচালী
  2. দৃষ্টিপ্রদীপ
  3. ইছামতী
  4. আরণ্যক
সঠিক উত্তর:
দৃষ্টিপ্রদীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৃষ্টিপ্রদীপ
ব্যাখ্যা

• 'দৃষ্টিপ্রদীপ' উপন্যাস:
'দৃষ্টিপ্রদীপ' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস, যা আধ্যাত্মিকতা ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের এক অনন্য সমন্বয়। উপন্যাসটি প্রথমে প্রবাসী পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত এবং পরে গ্রন্থকারে প্রকাশ পায়।
- এটি একজন যুবক জিতুর জীবনকেন্দ্রিক গল্প, যিনি তার আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান ও সমাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে পাঠকের মনে গভীর ছাপ ফেলে।

উপন্যাসের বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপট-
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জিতু দার্জিলিংয়ে তার পরিবার—ভাই নিতাই ও বোন সীতার সঙ্গে বসবাস করে। এ উপন্যাসে জিতুর জীবনযাত্রা, তার অভ্যন্তরীণ আধ্যাত্মিক যাত্রা এবং সমাজের কুসংস্কার ও প্রচলিত রীতিনীতির প্রতি তার প্রশ্নবিদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। জিতুর চরিত্রের মাধ্যমে বিভূতিভূষণ মানবজীবনের গভীর দার্শনিক প্রশ্ন এবং আধ্যাত্মিক উপলব্ধির বিষয়টি অন্বেষণ করেছেন।

---------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস 'ইছামতী' প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিতা,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- দৃষ্টিপ্রদীপ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোট গল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল।

অন্যান্য উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য:

ক) পথের পাঁচালী:
- মূলত গ্রামীণ জীবনের বাস্তব চিত্র।
- শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিকাতরতা।
- পারিবারিক জীবনের সুখ-দুঃখ।

গ) ইছামতী:
- প্রেম ও বিরহের কাহিনী।
- নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা।
- প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক।

ঘ) আরণ্যক:
- বনজীবনের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
- প্রকৃতিপ্রেম ও অরণ্যচারী জীবন।
- দুর্গম অঞ্চলের জীবনযাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং 'দৃষ্টিপ্রদী' উপন্যাস, বিভতিভষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

৯,৭৫৩.
আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. জীবনে সমাজে সাহিত্যে
  2. যুগ যন্ত্রণা
  3. স্বদেশ অন্বেষা
  4. সাহিত্য ও সংস্কৃতি
সঠিক উত্তর:
সাহিত্য ও সংস্কৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহিত্য ও সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ নয় - সাহিত্য ও সংস্কৃতি
- এটি মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ।

আহমদ শরীফ: 
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- গবেষণা, প্রবন্ধ ও চিন্তামূলক রচনার জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, দাউদ সাহিত্য পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় একুশে পদক এবং কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি লাভ করেন।
-  ১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জীবনাবসান ঘটে, কিন্তু তার আগেই তিনি তাঁর মরদেহ উৎসর্গ করে গিয়েছিলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা গ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালী,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা
- স্বদেশ চিন্তা,
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে,
- যুগ যন্ত্রণা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, 
- বাঙালীর চিন্তা-চেতনার বিবর্তন ধারা,
- বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব,
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা
- বিশ্বাসবাদ বিজ্ঞানবাদ যুক্তিবাদ মৌলবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৫৪.
'বাঙ্গালীর ইতিহাস' বইটির লেখক কে?
  1. ক) নীহাররঞ্জন রায়
  2. খ) আর সি মজুমদার
  3. গ) অধ্যাপক আব্দুল করিম
  4. ঘ) অধ্যাপক সুনীতিকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
ক) নীহাররঞ্জন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নীহাররঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা
নীহাররঞ্জন রায়, ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন।
মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art (১৯৪৭) 
- বাঙ্গালীর ইতিহাস (১৯৪৯) 
- Nationalism in India 
- Idea and Image of Indian Art.

তাঁর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
- Mughal Court Painting (১৯৭৪),
- The Sikh Gurus and the Sikh Society (১৯৭০),
- Dutch Activities in the East (সম্পাদিত, ১৯৪৬),
- An Approach to Indian Art (১৯৭৪)।


উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৯,৭৫৫.
শহীদ কাদেরীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো-
  1. ক) কোথাও কোন ক্রন্দন নেই
  2. খ) তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
  3. গ) উত্তরাধিকার
  4. ঘ) আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও
সঠিক উত্তর:
গ) উত্তরাধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি শহীদ কাদরী। তিনি ১৯৪২ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

শহীদ কাদেরীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উত্তরাধিকার'। 
এটি ১৯৬৭  সালে প্রকাশিত হয়।  
এতে ৪০টি কবিতা রয়েছে।  

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ-
- উত্তরাধিকার,
 -তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৫৬.
'গুলে বকাওলী' কাব্যটি প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. নওয়াজিস খান
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. আমির হামজা
  4. সৈয়দ হামজা
সঠিক উত্তর:
নওয়াজিস খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াজিস খান
ব্যাখ্যা

গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

নওয়াজিস খান:
- কবি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার অন্তর্গত সুখছড়ি গ্রামে বসবাস করতেন বলে জানা যায়।
- বাংলায় গুলে বকাওলী কাব্যের রচয়িতা হিসেবে নওয়াজিস খান খ্যাতিমান।
- কবি কাব্যে যে আত্মপরিচয় দান করেছেন তাতে তাঁর বংশলতিকার পরিচয় পাওয়া যায়।
- তাঁর এক পূর্বপুরুষ ছিলিম খান গৌড় থেকে চট্টগ্রাম এসে ছিলিমপুর গ্রামের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৭৫৭.
কোনটি প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ নয়?
  1. আহুতি
  2. তেল-নুন-লকড়ি
  3. নীললোহিত 
  4. চার ইয়ারী কথা
সঠিক উত্তর:
তেল-নুন-লকড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেল-নুন-লকড়ি
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ - চার ইয়ারী কথা, নীললোহিত ও আহুতি

অন্যদিকে,
প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ - তেল-নুন-লকড়ি

প্রমথ চৌধুরী:
- তিনি ৭ আগস্ট, ১৮৬৮ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল’।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৫৮.
‘নুরু’ কার ছদ্মনাম?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. নুরুল মোমেন
  4. বন্দে আলী মিয়া
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী’, 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবি নজরুল জীবনী।
৯,৭৫৯.
'হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে'- বিখ্যাত সংলাপটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কালিন্দী
  2. কবি
  3. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  4. আরগ্য নিকেতন
সঠিক উত্তর:
কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি
ব্যাখ্যা

• 'কবি' উপন্যাস সম্পর্কে কিছু তথ্য:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'। ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে 'নিতাইচরণ'।

উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ:
'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।

-----------------------
• তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প 'রসকলি' সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৬০.
অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ট কবি ভারতচন্দ্রকে রায়গুনাকর উপাধি কে প্রদান করেন?
  1. ক) রাজা চন্দ্রগুপ্ত
  2. খ) রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  3. গ) রাজা বিক্রমাধিত
  4. ঘ) লক্ষনসেন
সঠিক উত্তর:
খ) রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা
অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ট কবি এবং মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে সুপরিচিত ভারতচন্দ্র রায় গুনাকর। অন্নদামঙ্গল কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা তিনি। তাঁর অপর গ্রন্থ ‘সত্যপীরের পাঁচালী’। ভারতচন্দ্র সভাকবি ছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। ভারতচন্দ্র ‘রায় গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়। “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?” - লাইনটির লেখক তিনি।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া ও Livemcq লেকচার পিডিএফ
৯,৭৬১.
'রমেশ' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. যোগাযোগ
  2. চার অধ্যায়
  3. নৌকাডুবি
  4. চতুরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
নৌকাডুবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা

'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
- 'নৌকাডুবি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
-  উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, নলিনাক্ষ, অন্নদাবাবু।

অন্যদিকে, 
- 'যোগাযোগ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র: নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদন।
- 'চার অধ্যায়' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ।
- 'চতুরঙ্গ' উল্লেখযোগ্য উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শচীশ, দামিনী এবং শ্রীবিলাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯,৭৬২.
কোনটি নাটক?
  1. ক) কর্তার ইচ্ছায় কর্ম
  2. খ) গড্ডলিকা
  3. গ) পল্লীসমাজ
  4. ঘ) সাজাহান
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাজাহান
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ইতিহাসাশ্রয়ী নাটক সাজাহান।
- মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন অবলম্বনে রচিত।
এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক:
- 'প্রতাপসিংহ',
- 'দুর্গাদাস',
- 'মেবার পতন',
- 'সিংহল বিজয়',
- 'নুরজাহান' ইত্যাদি
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৬৩.
‘অন্নদাদিদি’ ও 'রোহিণী' চরিত্র দুটি কোন উপন্যাসের?
  1. বড়দিদি
  2. শ্রীকান্ত
  3. পল্লীসমাজ
  4. দেবদাস
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা
'শ্রীকান্ত' উপন্যাস: 
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- এর চারটি খণ্ড।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র- 'ইন্দ্রনাথ'। 
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।

- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী,
- কমললতা প্রমুখ।

 শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কয়েকটি উপন্যাসের চরিত্র: 
- 'বড়দিদি' - মাধবী (বড়দিদি), প্রমীলা, ব্রজরাজ, সুরেন্দ্রনাথ।
- 'পল্লীসমাজ' - রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।
- 'দেবদাস' - দেবদাস, পার্বতী, চন্দ্রমূখী, চুনিলাল, ধর্মদাস।
- 'গৃহদাহ' - অচলা, মহিম, সুরেশ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) শরৎ রচনাবলী।
৯,৭৬৪.
কোনটি সরদার জয়েনউদ্‌দীন রচিত উপন্যাস?
  1. অষ্টপ্রহর
  2. খরস্রোত
  3. আদিগন্ত
  4. নয়ান ঢুলি
সঠিক উত্তর:
আদিগন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদিগন্ত
ব্যাখ্যা

'আদিগন্ত' উপন্যাস:
- 'আদিগন্ত' সরদার জয়েনউদ্দিন রচিত একটি উপন্যাস।  প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ খিষ্টাব্দে। 
- সরলা ও মেহের বয়াতির প্রেমের কাহিনি বর্ণানার ভেতর দিয়ে পল্লিসমাজের জটগুলো অনাবৃতভাবে এতে প্রকাশিত হয়েছে। 

সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- সরদার জয়েনউদ্দীন ১৯১৮ সালে ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) পাবনার সুজানগর উপজেলার কামারহাটিতে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- অনেক সূর্যের আশা, 
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ,
- আদিগন্ত।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- নয়ান ঢুলি,
- খরস্রোত, 
- বেলা ব্যানার্জীর প্রেম, 
- অষ্টপ্রহর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৭৬৫.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, মধ্যযুগ শুরু হয় কত সাল থেকে?
  1. ১১০০
  2. ৯৫০
  3. ১৩৫০
  4. ১২০১
সঠিক উত্তর:
১২০১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০১
ব্যাখ্যা

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
- প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
- মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০); অর্থ্যাৎ, ১২০১ সাল থেকে মধ্যযুগ শুরু হয়। এবং
- আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

- মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।
দীনেশ্চন্দ্র সেন, সুকুমার সেন, গোপাল হালদার, মুহাম্মদ এনামুল হক প্রমুখের যুগ-সম্পর্কিত অভিমত উল্লেখিত যুগ বিভাগকে সমর্থন করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৯,৭৬৬.
‘শকুন্তলা’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) কালিদাস
সঠিক উত্তর:
ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ- শকুন্তলা (১৮৫৪)। এটি সংস্কৃত কবি কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলা নাটকের 'আভজ্ঞান শকুন্তলম' নাটকের উপখ্যান ভাগের অনুবাদ।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৯,৭৬৭.
'সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়।'- উক্তিটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. জোহরা 
  2. আবদুল্লাহ
  3. আনোয়ারা
  4. গরীবের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারা
ব্যাখ্যা

• 'সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়।'- মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্নের 'আনোয়ারা' উপন্যাসের মূল বক্তব্য। 

• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- 'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা। 
- ‘সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়’- এটাই উপন্যাসের মূল বক্তব্য। নারীর ইচ্ছার পৃথক কোনো মূল্য নেই এই উপন্যাসে।
- উপন্যাসের চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লাহ, গোলাপজান ইত্যাদি। 

----------------------
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক। ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন। 
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 
- নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৬৮.
নিচের কোনটি অন্যগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়?
  1. ক) ধূমকেতু
  2. খ) লাঙ্গল
  3. গ) দৈনিক নবযুগ
  4. ঘ) বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
ঘ) বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা -
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ।
অন্যদিকে 
- 'বঙ্গদর্শন(১৮৭২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকা।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
৯,৭৬৯.
সেলিনা হোসেনের ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. ইতিহাস-নির্ভর উপন্যাস
  2. রোমান্টিক উপন্যাস
  3. বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
  4. সামাজিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ইতিহাস-নির্ভর উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতিহাস-নির্ভর উপন্যাস
ব্যাখ্যা

‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ উপন্যাসটি ভাষাশহিদ সোমেন চন্দ এবং ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা ইতিহাস-নির্ভর উপন্যাস। 
------------------------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও গবেষক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ জুন, ১৯৪৭ সালে রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচনায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নারী ও সমাজের জীবনচিত্র উঠে এসেছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

• সেলিনা হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’,
- ‘যাপিত জীবন’,
- ‘নীল ময়ূরের যৌবন’,
- ‘জ্যোস্নায় সূর্যজ্বালা’,
- ‘পদশব্দ’,
- ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’ (তিন খণ্ড),
- ‘ক্ষরণ’,
- ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’,
- ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’।
------------------------------------------------------ 
‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ উপন্যাসের খুঁটিনাটি:
-  ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ বাঙালির আত্মপরিচয়।
- এই উপন্যাসে লেখিকা শেকড় অনুসন্ধান এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জীবন্তভাবে উপস্থাপন করেছেন।
- সেলিনা হোসেনের ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ উপন্যাসটি ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯ সালে সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি একুশের উপন্যাস সংকলনের অংশ হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয়।

- ‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ উপন্যাসটি ইতিহাস-নির্ভর একটি উপন্যাস।
- সেলিনা হোসেনের 'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি' উপন্যাস ভাষাশহিদ সোমেন চন্দকে নিয়ে লেখা।
- গল্পের প্রেক্ষাপট ১৯৪৭-এর দেশভাগের পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- উপন্যাসের প্রধান বিষয়- মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জাগরণ, শাসক-শোষক বিরোধী লড়াই এবং ঐতিহ্যের পুনর্মূল্যায়ন।
- উপন্যাসে প্রধান চরিত্র- সোমেন চন্দ, মুনিম, আসাদ, সালাম, রাহাত, বেণু, নীলা, রেণু প্রমুখের মাধ্যমে ছাত্রসমাজের সংগ্রাম, আদর্শ এবং ভবিষ্যতের পথচলাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

উৎস:
‘নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি’ উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৯,৭৭০.
বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন 'চর্যাপদ' আবিস্কৃত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯০৬
  2. খ) ১৯০৯
  3. গ) ১৯০৭
  4. ঘ) ১৯০৮
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯০৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯০৭
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। 
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।

- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত। 
- চর্যাপদ গ্রন্থে সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৭১.
'বিচিত্র চিন্তা' কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) ছোটগল্প
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
খ) প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থঃ
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত্র চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি । 
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৭৭২.
'চন্দ্রগুপ্ত' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটক:
- ‘চন্দ্রগুপ্ত’ (১৯১১) দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত জনপ্রিয় নাটক।
- গ্রিক-ভারতীয় সম্পর্কের ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্তকে এই নাটকের পটভূমি করা হয়েছে।
- এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র চাণক্যের মধ্যে কাঠিন্য এবং কোমলতার বিপরীত সমাবেশ, দেশপ্রেমের উদ্দীপ্তি এবং ভাষার আড়ম্বর এই তিনদিক থেকে বাংলা নাটকের ইতিহাসে ‘চন্দ্রগুপ্ত’ বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়। ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।

দ্বিজেন্দ্রলালের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

নকশা-প্রহসন:
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- ত্র্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

পৌরাণিক নাটক:
- পাষাণী,
- সীতা,
- ভীষ্ম।

সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৭৩.
উইলিয়াম কেরি 'কথোপকথন' গ্রন্থটি কোন প্রেস প্রকাশ করেন?
  1. ফোর্ট উইলিয়াম প্রেস
  2. আনন্দবাজার প্রেস
  3. শ্রীরামপুর মিশন প্রেস
  4. বেঙ্গল গেজেট প্রেস
সঠিক উত্তর:
শ্রীরামপুর মিশন প্রেস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীরামপুর মিশন প্রেস
ব্যাখ্যা

'কথোপকথন':
- উইলিয়াম কেরি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশীর ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে ১৮০১ সালে 'কথোপকথন' গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থে গৃহীত কথোপকথনগুলো সে আমলের কলকাতা-শ্রীরামপুর অঞ্চলের সকল স্তরের স্ত্রীপুরুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সামাজিক রীতিনীতি, ধর্ম ও আচারব্যবহার নিয়ে রচিত।
- এই গ্রন্থে চাকর ভাড়াকরণ, সাহেবের হুকুম, সাহেব ও মুনশীর পরামর্শ, ভোজনের কথা, যাত্রা, পরিচয়, ভূমির কথা, মহাজন, আসামি, বাগান করার হুকুম, ভদ্রলোকে ভদ্রলোকে কথাবার্তা, প্রাচীনে প্রাচীনে কথাবার্তা, সুপারিশ, মজুরের কথাবার্তা, খাতক মহাজনি, ঘটকালি, হাটের বিষয়, স্ত্রীলোকের হাট করা, জেলেদের কথাবার্তা, ভিক্ষুকের কথা, কাজের চেষ্টার কথা, কোন্দল বা ঝগড়া, স্ত্রীলোকে স্ত্রীলোকে কথাবার্তা, 'মাইয়া কন্দল', জমিদার রায়তের কথা ইত্যাদি বিষয়াবলম্বনে কথোপকথন রচিত হয়েছে।
- উইলিয়াম কেরি সহজ ও বাস্তব ভঙ্গিতে বক্তব্য পরিবেশন করেছেন। গ্রন্থের কোথাও অবিমিশ্র সাধু আবার কোথাও কথ্য ভাষাশ্রিত রচনারীতি স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৯,৭৭৪.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত মৌলিক রচনা-
  1. শকুন্তলা
  2. ভ্রান্তিবিলাস
  3. ব্রজবিলাস
  4. সীতার বনবাস
সঠিক উত্তর:
ব্রজবিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রজবিলাস
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

• তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৭৭৫.
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের সুর করার ক্ষেত্রে কোন ধরণের সঙ্গীতের প্রভাব রয়েছে?
  1. ক) লোকগান
  2. খ) বাউল গান
  3. গ) পালাগান
  4. ঘ) কবিগান
সঠিক উত্তর:
খ) বাউল গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাউল গান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রচনার ইতিহাস:
- ১৯০৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ শীর্ষক সঙ্গীতটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।
- এই সঙ্গীত বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে স্বদেশী আন্দোলনের সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
- বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) বিরোধী রাজনীতিক, স্বদেশী কর্মী ও বিপ্লবীরা বাঙালি জনগণকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যম হিসেবে এ গান প্রচার করেন।
- গানটি সুর করার ক্ষেত্রে গগন হরকরা রচিত কালজয়ী বাউল গান ‘আমি কোথায় পাবো তারে’ এর প্রভাব রয়েছে।

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের গগন হরকরার প্রভাব পড়ে যেভাবে:
- তৎকালীন ভারত উপমহাদেশের নদীয়ার (বর্তমান কুষ্টিয়া) একটি ছোট গ্রামে গগনের বাস।
- ভূ-খন্ডের এই অংশে তখন প্রতিনিধিত্ব লালন সাঁই, গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃত কাঙাল হরিনাথ, সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের মতো কালজয়ী প্রতিভাদের। শিলাহদহ এস্টেটে ঠাকুরবাড়ির জমিদারি দেখাশোনার জন্য আসতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- শিলাইদহ পোস্ট অফিসে ডাকহরকরার কাজের ফাঁকে গান রচনা ও গাইতেন গগন। তিনি বাউল সম্রাট ফকির লালনের অনুসারী ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে এলে চিঠিপত্রাদি দিতে জমিদার কাচারিতে যাওয়া হতো গগনের।
- তার রচিত ও সুরারোপিত ‘আমি কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে’ গানটি শুনে মুগ্ধ হন রবীন্দ্রনাথ।

রবীন্দ্রনাথ গগণের নাম ও তার গানের বিষয়ে তার প্রবন্ধ “An Indian Folk Religion” এ উল্লেখ করেন।
- সেখানে ‘আমি কোথায় পাবো তারে’—গানটির উল্লেখ করে রবীন্দ্রনাথ বলেন, “The first Baul song, which I chanced to hear with any attention, profoundly stirred my mind.”

এই গান রবীন্দ্রনাথকে এতোটাই প্রভাবিত করে যে, তিনি এর সুরে রচনা করেন ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’।
---------------
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ডাকঘর নাটকটি গগন হরকরার জীবন থেকে প্রভাবিত হয়ে লিখেছিলেন।
- নাটকের গগেন্দ্রনাথ ঠাকুর চরিত্রটি তা প্রমাণ করে।

উৎস: ডেইলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট ও বিডি নিউজ২৪.কম আর্কাইভ।
৯,৭৭৬.
কোনটি আহসান হাবীবের প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ?
  1. রাত্রিশেষ
  2. ছায়া হরিণ
  3. সারাদুপুর
  4. আশায় বসতি
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষ
ব্যাখ্যা
⇒ 'রাত্রিশেষ' কাব্যগ্রন্থ:
- কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রিশেষ'।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।  
- কাব্যগ্রন্থে চার ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- এতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৮ টি। 

⇒ আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৭৭.
‘সারেং বৌ’ উপন্যাসের নায়ক কদম সারেং এর স্ত্রীর নাম কী? 
  1. জয়গুন
  2. জোহরা
  3. জমিলা
  4. নবিতুন
সঠিক উত্তর:
নবিতুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবিতুন
ব্যাখ্যা
'সারেং বৌ' উপন্যাস:
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস সারেং বৌ।
- তাঁর 'সারেং বউ' উপন্যাসের চরিত্র কদম সারেং ও তাঁর স্ত্রী নবিতুন।
- 'নবীতুন' চরিত্রটি শহীদুল্লা কায়সারের 'সারেং বৌ' উপন্যাসের অন্তর্গত।
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে।
- এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনী।

অন্যদিকে, 
• মোজাম্মেল হকের ‘জোহরা' উপন্যাসের চরিত্র- 'জোহরা'। 
• আবু ইসহাকের 'সূর্য দীঘল বাড়ি' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'জয়গুন'।
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলা।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৭৮.
'তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি' রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. পত্রপূট
  2. মানসী
  3. বলাকা
  4. শেষলেখা
সঠিক উত্তর:
শেষলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষলেখা
ব্যাখ্যা
• 'তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের 'শেষ লেখা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'শেষলেখা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
- এ গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ নিজে করে যেতে পারেননি।
- অধিকাংশ কবিতা জীবনের শেষ কয়েকদিনের রচনা।

• কবিতার অংশবিশেষ:

"তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি
বিচিত্র ছলনাজালে,
হে ছলনাময়ী।
মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতেছ নিপুণ হাতে
সরল জীবনে।"

• রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৭৯.
মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতি বিষয়ক গল্পগ্রন্থ "জন্ম যদি তব বঙ্গে" এর রচয়িতা কে?
  1. আনিসুল হক
  2. সেলিনা হোসেন
  3. শওকত ওসমান
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ গল্পগ্রন্থ:
- ‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ শওকত ওসমান রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। ১৯৭৫ সালে গল্পগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতি বিষয়ক একটি গল্পগ্রন্থ।

শওকত ওসমান:
- তিনি কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। 
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।

শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

শওকত ওসমান রচিত নাটক:
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং ‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’ গল্পগ্রন্থ।
৯,৭৮০.
মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় কোন দুটি পত্রিকার সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন?
  1. সানন্দা ও পূর্ণিমা
  2. আজিজননেহার ও সওগাত
  3. সংবাদ প্রভাকর ও গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সংবাদ প্রভাকর ও গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবাদ প্রভাকর ও গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৮১.
''থাল ঝনঝন থাল ঝনঝন থাল নিল চোরে।
বৃন্দাবনে আগুন লাগল কে নিবাইতে পারে।'' - কিসের উদাহরণ?
  1. খনার বচন
  2. ছড়া
  3. ধাঁধাঁ
  4. প্রবাদ
সঠিক উত্তর:
ধাঁধাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাঁধাঁ
ব্যাখ্যা
• থাল ঝনঝন থাল ঝনঝন থাল নিল চোরে।
বৃন্দাবনে আগুন লাগল কে নিবাইতে পারে। - ধাঁধাঁর উদাহরণ।

ধাঁধাঁ:
- লোকসাহিত্যে 'ধাঁধা' অন্যতম প্রাচীন শাখা হিসেবে বিবেচিত।
- রূপকের সাহায্যে এবং জিজ্ঞাসার আকারে কোন একটি ভাব সূক্ষ্ম বুদ্ধি ও চিন্তার অনুশীলনের মাধ্যমে ধাঁধাঁয় রূপায়িত হয়ে ওঠে।
- এতে বুদ্ধিবৃত্তি বিকাশের যে নিদর্শন পাওয়া যায় তাতে তাকে আদিম জাতির সৃষ্টি মনে না করে বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন মানবমনের সৃষ্টি বলে অনুমিত হয়।
- মানুষ সুপ্রাচীন কাল থেকে ধাঁধাঁর ব্যবহার করে আসছে।
- প্রত্যেক দেশের প্রাচীন সাহিত্যেই ধাঁধাঁর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়।
- প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে ধাঁধাঁ বা হেঁয়ালী ব্যবহারের প্রাচুর্য ছিল।

- ধাঁধাঁর উত্তর জনশ্রুতিমূলক হয়ে থাকে।
- সাধারণত উত্তর জানা না থাকলে প্রশ্নকর্তার সম্মুখে বিব্রত হতে হয়।
- তবে ধাঁধাঁর মীমাংসা জনশ্রুতিমূলক বলেই তার জবাবদান সম্ভবপর।
- আগে থেকে জানা না থাকলে লোকসাহিত্যের ধাঁধাঁর উত্তর বের করা কঠিন। কারণ ধাঁধাঁর মধ্যে বক্তব্য সাধারণত সঙ্গতিপূর্ণ থাকে না। যেমন:

একটুখানি পুতুনি কইয়ে ভুর ভুর করে
রাজা আইলে প্রজা আইলে তুইল্যা সেলাম করে।

- এর উত্তর যে 'হুঁকা'-তা আগে থেকে জানা না থাকলে ধাঁধাঁর বক্তব্য থেকে তা উদ্ধার করা চলে না।

- অনেক সময় ধাঁধাঁর উত্তরের সঙ্গে বক্তব্যের অর্থসঙ্গতি খুঁজে পাওয়া যায় না।
- ধাঁধাঁর মধ্যে অর্থহীন পদও ছন্দের ঝংকার তোলে। যেমন: 

থাল ঝনঝন থাল ঝনঝন থাল নিল চোরে।
বৃন্দাবনে আগুন লাগল কে নিবাইতে পারে। (-রোদ)

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৭৮২.
'হেমন্ত গোধূলি' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. সমর সেন
সঠিক উত্তর:
মোহিতলাল মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা
• 'হেমন্ত গোধূলি' কাব্যগ্রন্থের লেখক - মোহিতলাল মজুমদার।
• গ্রন্থটি বাংলা ১৩৪৮ সালে প্রকাশিত হয়। 

মোহিতলাল মজুমদার:

- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- বঙ্গদর্শন পত্রিকা তৃতীয় পর্যায়ে মোহিতলালের সম্পাদনায়ই প্রকাশিত হয়। 
- মোহিতলাল মজুমদারের সাহিত্যচর্চার শুরু মানসী পত্রিকার মাধ্যমে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপন পসারী,
- স্মরগরল,
- বিস্মরনী,
- হেমন্ত গোধূলি (গ্রন্থটি বাংলা ১৩৪৮ সালে প্রকাশিত হয়)।

 উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ ও সমালোচনা গ্রন্থ হলো:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- কবি শ্রীমধুসূদন,
- বিচিত্র কথা,
- সাহিত্য কথা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৮৩.
“নিষিদ্ধ লোবান" উপন্যাসটি কার লিখা?
  1. অরুণ বসু
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. অসীম সাহা
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

• “নিষিদ্ধ লোবান"- উপন্যাসটি সৈয়দ শামসুল হক এর লিখা।
-----------------------------------
 সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রতিভাবান কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও ছোটগল্পকার।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যে তার বহুমুখী অবদানের জন্য তাঁকে ‘সব্যসাচী লেখক’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়।

- সৈয়দ শামসুল হকের প্রধান রচনা: 
তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - নিষিদ্ধ লোবান।
• তাঁর সবচেয়ে বিতর্কিত উপন্যাস - খেলারাম খেলদে দে।

কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীতের শেষ বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা, 
- পরানের গহীন ভিতর,
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।
-------------------------------------------- 
“নিষিদ্ধ লোবান” নিয়ে কিছু কথা: 
- সৈয়দ শামসুল হকের “নিষিদ্ধ লোবান” উপন্যাসটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। 
- উপন্যাসে লেখক “নিষিদ্ধ লোবান” নামের মাধ্যমে মৃত্যুর বাস্তবতা ও যুদ্ধের বিভীষিকাকে প্রকাশ করেছেন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র বিলকিস একজন বীরাঙ্গনা।

- যুদ্ধকালে বিলকিস তার পরিবার ও স্বামীকে হারিয়ে ফেলে।
- যুদ্ধের ভয়াবহতা ও পরিবার-স্বজনকে হারানোর পরেও বিলকিস সাহস হারাননি।
- বরং, যুদ্ধকালে বিলকিস তার পরিবার ও স্বামীকে হারিয়ে নবগ্রামে ফিরে আসে।
- নবগ্রামে ফেরার কারণ হলো- বিলকিস তার যুদ্ধে শহীদ হওয়া ভাইয়ের লাশ খুজে পেতে বদ্ধপরিকর ছিল।

- নবগ্রামে বিলকিস কিশোর সিরাজ-এর সঙ্গে পরিচিত হয়।
- একসাথে তাঁরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।
- শেষ পর্যন্ত বিলকিস তার ভাইয়ের লাশ খুঁজে বের করে সৎকার করেন;
- যা তার দৃঢ় চেতনা ও স্বাধীনতার প্রয়াসকে প্রতিফলিত করে। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৮৪.
বাংলাদেশে প্রথম ব্রজবুলি পদ রচনা করেন-
  1. গোবিন্দদাস
  2. যশোরাজ খান
  3. শংকরদেব
  4. রামানন্দ রায়
সঠিক উত্তর:
যশোরাজ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যশোরাজ খান
ব্যাখ্যা
• ব্রজবুলি ভাষা:
- ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা। 
- মিথিলার কবি  বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) এই কৃত্রিম ভাষার উদ্ভাবক।
- তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন। 
- এ ভাষায় তিনি রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক বহু পদ রচনা করেন। পদগুলিতে রাধাকৃষ্ণের ব্রজলীলা বর্ণিত হওয়ায় এর নাম হয়েছে ব্রজবুলি।

- বিদ্যাপতির পদগুলি বাংলায় খুব জনপ্রিয় হয়েছিল; বিশেষত চৈতন্যদেব এই পদ আস্বাদন করায় এর ভাষার প্রতি বাংলার কবিগণ আকৃষ্ট হন।
- ষোল শতকের বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা বিদ্যাপতির পদের ভাষা ও ছন্দের অনুকরণে রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদ রচনা করতে শুরু করেন।
- হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল বৈষ্ণব কবি এ ভাষায় বহু পদ রচনা করেন। এই ধারা উনিশ শতক পর্যন্ত চলেছিল।
- আধুনিক কবিদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়।

- বাংলাদেশে প্রথম ব্রজবুলি পদ রচনা করেন যশোরাজ খান, আসামে ‘শংকরদেব’ এবং উড়িষ্যায় ‘রামানন্দ রায়’। তারা তিনজনই ছিলেন ষোল শতকের কবি।
-  ব্রজবুলির শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ছিলেন - গোবিন্দদাস কবিরাজ (১৬শ-১৭শ শতক)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৮৫.
চলিত রীতির প্রবর্তন করেন কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী: 
- বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল।
- 'বীরবলের হালখাতা' তাঁর প্রথম চলিত রীতিতে লিখিত গ্রন্থ।
- এটি ১৯০২ সালে প্রথম 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত সবুজপত্র পত্রিকা (১৯১৪) চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৭৮৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের সনেট সংকলন 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬১
  2. ১৮৬৯
  3. ১৮৬৬
  4. ১৮৫৯
সঠিক উত্তর:
১৮৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬৬
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট সংকলন চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- ইতালীয় কবি পেত্রার্ক ও শেক্সপিয়ারের অনুকরণে এসব সনেট রচনা করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।


- মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত (২৫ জানুয়ারি ১৮২৪ – ২৯ জুন ১৮৭৩) ঊনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ও নাট্যকার এবং প্রহসন রচকার।
- মাইকেল মধুসূদন বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৮৭.
মুহম্মদ কবীর রচিত ‘মধুমালতী’ কাব্যে কাহিনির উৎস-
  1. ক) মৈমনসিংহ গীতিকা
  2. খ) পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  3. গ) আরবি প্রণয়োখ্যান
  4. ঘ) ভারতীয় উপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভারতীয় উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভারতীয় উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

মুহম্মদ কবীর মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান রচিয়তা।
১৫৮৮ সালে 'মধুমালতী' নামে রোমান্টিক প্রণয়কাব্য রচনা করেন।
হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্‌ বা সাধনের কাব্যের অনুসরণে তাঁর মধুমালতী রচনা করেন।
রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলুভ রোমান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
মধুমালতী কাব্যের কাহিনি উৎস 'ভারতীয় উপাখ্যান।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৮৮.
'নিরঞ্জনের উষ্মা' - কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  2. শূন্যপুরাণ
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. রামায়ণ
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা

• 'নিরঞ্জনের উষ্মা’:
- নিরঞ্জনের উষ্মা অংশের মূল প্রতিপাদ্য হলো: বর্ণ-হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।
- এই অত্যাচারে বিরূপ হয়ে নিরঞ্জন ধর্মঠাকুর ‘যবন’ মুসলমানের রূপ ধারণ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ মূলত 'শূন্যপুরাণ' নামক কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ।
- ‘শূন্যপুরাণে’ কমপক্ষে পাঁচজন কবির হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে মনে করা হয়। এছাড়া নানা মতান্তরের কারণে ‘নিরঞ্জনের উষ্মার’ রচনাকাল নির্দিষ্টভাবে বলা যায় না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৭৮৯.
বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা কয়টি?
  1. ৫টি 
  2. ৬টি 
  3. ৭টি 
  4. ৮টি 
সঠিক উত্তর:
৮টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি 
ব্যাখ্যা

• বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকার অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি থাকে এবং যার রতির মূলে থাকে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি, যিনি কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে সমর্থা নায়িকা বলা হয়।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি এরা সকলেই সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা সর্বশ্রেষ্ঠ নায়িকা হিসেবে বিবেচিত।

পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা। যথা:
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা এবং
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৯০.
বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র?
  1. ক) দিকদর্শন
  2. খ) সমাচার দর্পণ
  3. গ) সংবাদ প্রভাকর
  4. ঘ) ঢাকা প্রকাশ
সঠিক উত্তর:
খ) সমাচার দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমাচার দর্পণ
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর-  সমাচার দর্পণ।

- “সমাচার দর্পণ” শ্রীরামপুর মিশন থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যান  কর্তৃক সম্পাদিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।  
- প্ত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ২৩শে মে, ১৮১৮ সালে। 
- প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র “দিকদর্শন” (প্রথম বাংলা মাসিক পত্রিকা) জন ক্লার্ক মার্শম্যান কর্তৃক ১৮১৮ সালে শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।                
- বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা- “সংবাদ প্রভাকর” ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কর্তৃক ১৮৩৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- “ঢাকা প্রকাশ” কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত পত্রিকা। “ঢাকা প্রকাশ” ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৯১.
কোনটি ঐতিহাসিক উপন্যাস?
  1. ক) রাজসিংহ
  2. খ) মৃত্যু-ক্ষুধা
  3. গ) ঘরে বাইরে
  4. ঘ) গোরা
সঠিক উত্তর:
ক) রাজসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাজসিংহ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘রাজসিংহ’ ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়।
এখানে রাজপুত রাজা রাজসিংহের সঙ্গে মোঘল বাদশা আওরঙ্গজেবের যুদ্ধ দেখানো হয়।
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম
৯,৭৯২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক উপন্যাস কোনটি?
  1. চোখের বালি
  2. নৌকাডুবি
  3. গোরা
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
গোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরা
ব্যাখ্যা

'গোরা' উপন্যাস:
- 'গোরা' (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সাল থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগের ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই আখ্যান গড়ে উঠেছে।
- 'গোরা'য় ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয় চিত্রিত হয়েছে।
- এটি রবীন্দ্রনাথের দীর্ঘতম উপন্যাস।

• উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- গোরা,
- পরেশবাবু, 
- সুচরিতা,
- পানুবাবু,
- ললিতা,
- বিনয়,
- বরদাসুন্দরী,
- কৃষ্ণদয়াল,
- আনন্দময়ী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯,৭৯৩.
ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে-
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  3. সংস্কৃত কলেজ
  4. বেথুন কলেজ
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত কলেজ
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পিতৃপ্রদত্ত নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি একজন সফল সমাজ সংস্কারকও ছিলেন।
- তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার কারণে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেলের সম্মতিক্রমে বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়।
- ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ বন্ধ করার জন্য 'সিভিল ম্যারেজ অ্যাক্ট' প্রণয়নে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে ৭১ বছর বয়েসে মৃত্যু বরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৯৪.
বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে কাজী নজরুল ইসলাম কোন গ্রন্থটি উৎসর্গ করেন?
  1. সর্বহারা
  2. বিষের বাঁশি
  3. অগ্নিবীণা
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' হলো কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা 'বিদ্রোহী'। 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই নজরুলকে 'বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- কাব্যের প্রথম কবিতা হলো 'প্রলয়োল্লাস'।
- বইটি নজরুল উৎসর্গ করেছেন বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে।

অগ্নিবীণা গ্রন্থে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে:
প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, রক্তাম্বর-ধারিণী মা, আগমণী, ধূমকেতু, কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-ইল-আরব, খেয়াপারের তরণী, কোরবানী, মহররম।

------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর, 
- প্রলয় শিখা,
- নির্ঝর, 
- ভাঙার গান, 
- সর্বহারা, 
- ফণি-মনসা
- চক্রবাক, 
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট, 
- পূবের হাওয়া,
- জিঞ্জির, 
- বিষের বাঁশি, 
- দোলনচাঁপা
- চন্দ্ৰবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল, 
- নতুন চাঁদ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৯৫.
'সমুদ্রেই যাবো' ও 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থদ্বয় কার রচনা?
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. সিকান্দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• 'সমুদ্রেই যাবো 'ও 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

-------------
• সৈয়দ আলী আহসান:

- সৈয়দ আলী আহসান মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের 'The Rose' নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৯৬.
বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনার সূচনা হয় কার জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. শ্রীচৈতন্যদেব
  3. বৃন্দাবন দাস
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
শ্রীচৈতন্যদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীচৈতন্যদেব
ব্যাখ্যা

শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৭৯৭.
"ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি, আবনী বহিয়া যায়।" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. মুকুন্দদাস
  3. কানাহরি দত্ত
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
"ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি,
আবনী বহিয়া যায়।" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা গোবিন্দদাস।

• গোবিন্দদাস:

- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।

• গোবিন্দদাসের উপাধি:
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।

• গোবিন্দদাস রচিত পঙ্‌ক্তিটির কিছু অংশ :
"ঢল ঢল কাঁচা
অঙ্গের লাবণি
অবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ- হিল্লোলে
মদন মুরুছা পায়।।"

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৯৮.
'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে কে লিখতেন?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
  3. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  4. মধুসূদন মজুমদার
সঠিক উত্তর:
মধুসূদন মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুসূদন মজুমদার
ব্যাখ্যা
• 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন -মধুসূদন মজুমদার।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ কবিদের ছদ্মনাম:
- কামদারঞ্জন রায় এর ছদ্মনাম উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।
- বিমল ঘোষ এর ছদ্মনাম 'মৌমাছি'।
- 'ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত' এর ছদ্মনাম 'ভ্রমণকারী বন্ধু'।
- 'প্রেমেন্দ্র মিত্র' এর ছদ্মনাম 'কৃত্তিবাস ভদ্র'।
- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত এর ছদ্মনাম নীহারিকা দেবী
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছদ্মনাম অনীলা দেবী, শ্রীকান্ত শর্মা, অনুরূপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায় ইত্যাদি।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৭৯৯.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. সেঁজুতি
  2. ক্ষণিকা
  3. ফাল্গুনী
  4. সোনার তরী
সঠিক উত্তর:
ফাল্গুনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাল্গুনী
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক- ফাল্গুনী। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী
- সোনারতরী,
- আকাশ- প্রদীপ, 
- শেষ সপ্তক,  
- চিত্রা
- কল্পনা
- বলাকা
- ক্ষণিকা
- পুনশ্চ
- সেঁজুতি
- শেষলেখা
- পূরবী
- চৈতালি,
- পরিশেষ 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৮০০.
‘বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. শামসুর রাহমান
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান: 
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা শামসুর রাহমান।
- পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট পরিবারসহ শেখ মুজিবের নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং রচনা করেন তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা ‘বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে’।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে(১৯৬০)
- রৌদ্র করোটিতে(১৯৬৩)
- বিধ্বস্ত নিলীমা(১৯৬৭)
- নিরালোকে দিব্যরথ(১৯৬৮)
- নিজ বাসভূমে (১৯৭০)
- বন্দী শিবির থেকে(১৯৭২)
- 'আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি(১৯৭৪)
- এক ধরনের অহংকার(১৯৭৫
- আমি অনাহারী(১৯৭৬)
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে(১৯৭৭) 
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে(১৯৭৮)
- প্রেমের কবিতা (১৯৮১)
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে(১৯৮৩) 
- অস্ত্রে আমার বিশ্বাস নেই(১৯৮৫)
- হোমারের স্বপ্নময় হাত (১৯৮৫) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।