বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৭৪ / ২১১ · ৭,৩০১৭,৪০০ / ২১,১৩২

৭,৩০১.
'মোরা সবাই স্বাধীন সবাই রাজা' - প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. দুর্দিনের যাত্রী
  2. যুগবাণী
  3. রাজবন্দীর জবানবন্দী
  4. রুদ্র-মঙ্গল
সঠিক উত্তর:
দুর্দিনের যাত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্দিনের যাত্রী
ব্যাখ্যা

'দুর্দিনের যাত্রী' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধগ্রন্থ - দুর্দিনের যাত্রী।
- এই প্রবন্ধে দেশপ্রেমের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ: আমি সৈনিক; মোরা সবাই স্বাধীন সবাই রাজা; স্বাগত; তুবড়ি বাঁশির ডাক।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৩০২.
প্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন কে?
  1. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 
  3. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. ড. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের চীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
•  বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭,৩০৩.
'সংস্কৃতির ভাঙাসেতু' প্রবন্ধের রচয়িতা-
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) বদরুদ্দিন উমর
সঠিক উত্তর:
গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতির ভাঙাসেতু আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ২২টি প্রবন্ধের সংকলন। সভ্যতার সংকট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। সংস্কৃতির সংকট বদরুদ্দিন উমর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ। সাম্য ও কালান্তর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৭,৩০৪.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস কোনটি?
  1. দেবদাস
  2. পল্লীসমাজ
  3. শ্রীকান্ত
  4. চন্দ্রনাথ
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে রচিত।
- ১ম খণ্ড বালক শ্রীকান্তের নানা অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হয়।
- ২য় খণ্ডে যুবক শ্রীকান্তের রেঙ্গুন যাত্রার জীবন্ত উপস্থাপনা আছে।
- ৩য় খণ্ডে অসুস্থ শ্রীকান্ত রাজলক্ষ্মীর সেবায় সুস্থ হলেও তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়।
- ৪র্থ খণ্ডে শ্রীকান্ত ও পুটুর বিয়ের দিন ধার্য হয়, রাজলক্ষ্মী সন্যাসীবেশ ত্যাগ করে এবং কমললতার নিরুদ্দেশ হওয়ার মাধ্যমে উপন্যাসের সমাপ্তি ঘটে।
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে- 'ইন্দ্রনাথ'।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: শ্রীকান্ত, রাজলক্ষ্মী,পুটু, অন্নদাদিদি, অভয়া, রোহিণী, কমললতা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৩০৫.
"মতিলাল" কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. চোখের বালি
  3. আলালের ঘরের দুলাল
  4. কপালকুণ্ডলা
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা

'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম  উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- প্যারীচাঁদ মিত্রকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক বলা হয়ে থাকে।
- তাই তাকে, বাংলা সাহিত্যধারার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ বলা হয়।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৩০৬.
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনিতে বিশেষত কোন স্থানের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা বর্ণিত হয়েছে?
  1. ক) পেশোয়ার
  2. খ) মিশর
  3. গ) তাসখন্দ
  4. ঘ) কাবুল
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাবুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাবুল
ব্যাখ্যা
'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি।
- এটি তাঁর প্রথম গ্রন্থ। 
- লেখক নিজে বিভিন্ন দেশে বিশেষত আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থান ও ভ্রমণ করে যে বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন তার পরিচয় আছে এই গ্রন্থে। 
- প্রকাশিত হয়েছে ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩০৭.
ইংরেজি সাহিত্যের এডমন্ড স্পেন্সার কে কবিদের কবি বলা হয়, তাহলে আধুনিক যুগে বাংলা সাহিত্যের কবিদের কবি কে?
  1. ক) শামসুর রহমান
  2. খ) নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
খ) নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

নির্মলেন্দু গুণ গত শতাব্দীর ষাটের দশকে কবিতা রচনা আরম্ভ করেন৷
পরের দশকেই তাঁর কবিতা এতোটা প্রভাববিস্তারী হয়ে উঠে যে, তরুণেরা তাঁর কবিতা দিয়ে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হন৷
অনেকে তার কবিতা পড়েই কবি হবার আকাঙ্ক্ষা বোধ করেন৷
গত শতাব্দীর সত্তর দশকের অনেক প্রতিষ্ঠিত কবি নির্মলেন্দু গুণের প্রভাবেই কবি হয়েছেন৷
তাই তাকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়।
আর বাংলা সাহিত্যে বাংলা কবিতা সত্যিকার অর্থে আধুনিকতার চূড়ান্ত মুখী হয় শহীদ কাদরী রচিত 'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৩০৮.
'যেসব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।'-পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবির রচনা?
  1. চণ্ডীদাস 
  2. আলাওল 
  3. আবদুল হাকিম
  4. ভারতচন্দ্র রায় 
সঠিক উত্তর:
আবদুল হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা

• 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আবদুল হাকিম।
- নূরনামা ফারসি নীতিকাব্য নূরনামাহ্ অবলম্বনে রচিত।
- 'যেসব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।'- বাংলা ভাষার প্রতি এরূপ শ্রদ্ধাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য কবির নূরনামা কাব্য বিশেষভাবে প্রশংসিত।

------------------------
• আবদুল হাকিম:
- তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- তিনি ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে সন্দ্বীপের সুধারামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মধ্যযুগে মুসলমানগণ বাংলাকে নিজেদের ভাষা মনে না করে পারসি-আরবি-উর্দুকে আপন ভাষা মনে করতো। এই পরভাষাশ্রীতিকে  আঘাত করার জন্য আবদুল হাকিম 'নূরনামা' কাব্যে তিনি প্রবাদতুল্য পঙ্‌ক্তি দুটো লিখেন।

আবদুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো:
• ইউসুফ জোলেখা,
• নূরনামা,
• দুররে মজলিশ,
• লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
• হানিফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৩০৯.
বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সুত্রপাত কোন রচনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বলা যায়?
  1. ক) লাইলি মজনু
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) ইউসুফ জোলেখা
  4. ঘ) চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
গ) ইউসুফ জোলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইউসুফ জোলেখা
ব্যাখ্যা
কবি শাহ মুহাম্মদ সগীরের ‘ইউসুফ জোলেখা’ রচনার মধ্যে দিয়ে বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার শুরু হয়েছিল। এজন্য তাঁকে এই ধারার প্রথম কবি বলা চলে। সুত্রঃ ওয়াকিল আহমেদের ‘বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান’।
৭,৩১০.
‘ঘনাদা’ চরিত্রটির স্রষ্টা কে?
  1. ক) প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) সুকুমার রায়
সঠিক উত্তর:
খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক প্রেমেন্দ্র মিত্রের জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
-  ১৯২৩ সালে প্রবাসীতে ‘শুধু কেরাণী’ ও ‘গোপন চারিণী’ নামে দুটি গল্প প্রকাশিত হয় এবং গল্প দুটি নিয়ে কল্লোল পত্রিকা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করে। ফলে সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর খ্যাতি বেড়ে যায়।

- সাহিত্য-সাধনার প্রথমপর্বে তিনি ‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কল্লোল (১৯২৩) পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- মুরলীধর বসুর সহযোগিতায় কালিকলম (১৯২৬) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- হাস্যকৌতুকের ধারায় তাঁর অমর সৃষ্টি ‘পরাশর বর্ম’।
- বাংলা শিশুসাহিত্যে তাঁর অতুলনীয় সৃষ্টি ‘ঘনাদা’। শিশুর মনোরাজ্যের রোমাঞ্চকর অনুভূতিগুলি তিনি ঘনাদা চরিত্রের মাধ্যমে অভিব্যক্ত করেন। ঘনাদা পড়ে প্রতিটি শিশু-কিশোর ঘনাদার ভিতর দিয়ে নিজেদের দেখতে উন্মুখ হয়ে ওঠে। প্রেমেন্দ্র মিত্রের এ ঘনাদা সৃষ্টি হয় প্রথম ‘মশা’ (১৯৩৭) গল্পের মাধ্যমে। কিশোর মনোরাজ্য অধিকারের জন্য ডিটেকটিভ ও রোমাঞ্চকর কাহিনি সৃজনে তিনি অসাধারণ শক্তির পরিচয় দেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- প্রথমা (১৯৩২),
- সম্রাট (১৯৪০),
- সাগর থেকে ফেরা (১৯৫৬),
- ফেরারী ফৌজ (১৯৫৮),
- হরিণ চিতা চিল (১৯৫৯),
- কখনো মেঘ (১৯৬১),
- অথবা কিন্নর (১৯৬৫),  
- নদীর নিকটে (১৯৭২);

গল্পগ্রন্থ :
- পঞ্চশর (১৯২৯),
- বেনামী বন্দর (১৯৩০),
- পুতুল ও প্রতিমা (১৯৩২),
- মৃত্তিকা (১৯৩২),
- অফুরন্ত (১৯৩৫),
- মহানগর (১৯৩৭),
- ধূলিধূসর (১৯৩৮),
- নিশীথ নগরী (১৯৩৮),
- কুড়িয়ে ছড়িয়ে (১৯৪৬),
- সামনে চড়াই (১৯৪৭),
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের শ্রেষ্ঠগল্প (১৯৫২),
- সপ্তপদী (১৯৫৫),
- জল পায়রা (১৯৫৭),
- নানা রঙে বোনা (১৯৬০);  

উপন্যাস :
- পাঁক (১৯২৬),
- কুয়াশা (১৯৩০),
- মিছিল (১৯৩৩),
- উপনয়ন (১৯৩৩),
- আগামীকাল (১৯৩৪), প্রতিশোধ (১৯৪১),
- প্রতিধ্বনি ফেরে (১৯৬১),
- অন্য এক নাম (১৯৬২),
- পা বাড়ালেই রাস্তা (১৯৬২),
- পতাকা যারে দাও (১৯৬৩),
- স্তব্ধ প্রহর (১৯৬৩),
- মনুদ্বাদশ (১৯৬৪),
- অমলতাস (১৯৬৫),
- স্বপ্নতনু (১৯৬৫),
- দিগ্বলয় (১৯৬৭),
- যিনি বিধাতা (১৯৭০),
- সেই যে শহর রাজোলি (১৯৭২)।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭,৩১১.
“স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়।" চরণটির রচয়িতা –
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়?'- চরণটির রচয়িতা রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়।

• পদ্মিনী উপাখ্যান:
- রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি 'পদ্মিনী উপাখ্যান' ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের 'Annals and Antiquities of Rajasthan' এর কাহিনি অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য।

- 'স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়? দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।' পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর এই উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।

----------------------
• রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের জন্ম ১৮২৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়া গ্রামে।
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়।
- তিনি নিজে কলকাতা থেকে মাসিক রস সাগর (১৮৫২) (পরিবর্তিত নাম সংবাদ সাগর) ও সাপ্তাহিক বার্তাবহ (১৮৫৬) সম্পাদনা করেন।
- এডুকেশন গেজেট পত্রিকা (১৮৫৫) প্রকাশিত হলে তিনি তার সহসম্পাদক নিযুক্ত হন।
- ১৮৮৭ সালের ১৩ মে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য:
- কর্মদেবী,
- শূরসুন্দরী,
- কাঞ্চী কাবেরী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭,৩১২.
‘জীবন ঘষে আগুন’ গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসান আজিজুল হক
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
ক) হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হকের গল্পগ্রন্থ ‘জীবন ঘষে আগুন’।

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ হলো :
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো।
উপন্যাস :
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩১৩.
নাথসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. ক) মানিকচন্দ্রের গান
  2. খ) ময়নামতীর গান
  3. গ) গোপীচন্দ্রের গান
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য  নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- গাথা-কাহিনীগুলি অপেক্ষাকৃত পরবর্তীকালের রচনা; পূর্বধারার সঙ্গে এগুলির কালিক ব্যবধান অন্তত দুশতকের। এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনী হলো  গোরক্ষবিজয়।
- রাজা মানিকচন্দ্রের গীত, ময়নামতীর গান বা  গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার ত্রিমুখী কাহিনী। 
- এছাড়া শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত গোরক্ষবিজয় এ ধারার সাহিত্য। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩১৪.
'দেশে-বিদেশে' কোন শ্রেনীর রচনা ?
  1. ক) আত্মজীবনী
  2. খ) ভৌগোলিক বিবরণ
  3. গ) ভ্রমণ কাহিনী
  4. ঘ) শিক্ষাবিষয়ক
সঠিক উত্তর:
গ) ভ্রমণ কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভ্রমণ কাহিনী
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী (১৯০৪-১৯৭৪) শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
ভ্রমণকাহিনী -
দেশে-বিদেশে (১৯৪৯), জলে-ডাঙায় (১৯৬০);
উপন্যাস -
অবিশ্বাস্য (১৯৫৪), শবনম (১৯৬০), শহর-ইয়ার (১৯৬৯);
রম্যরচনা -
পঞ্চতন্ত্র (১৯৫২), ময়ূরকণ্ঠী (১৯৫২);
ছোটগল্প -
চাচা-কাহিনী (১৯৫২), টুনি মেম (১৯৬৪)।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৭,৩১৫.
আধুনিক যুগের প্রথম ভাগের কবি কে?
  1. ক) ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
  2. খ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
আধুনিক যুগের প্রথম ভাগের কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- উনিশ শতকের শুরুর দিকে ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহসে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৭০০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিকাল ধরা হয়ে থাকে। 
- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন, এই দুই মনীষীর মধ্যবর্তীকালে  ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের আবির্ভাব।
- তাঁর মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা বৈশিষ্ট্য সমানভাবে লক্ষ্য করা যায় বলে তাঁকে যুগসন্ধির কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩১৬.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটক কোনটি?
  1. বঙ্গনারী
  2. সাজাহান
  3. চন্দ্রগুপ্ত
  4. সিংহল বিজয়
সঠিক উত্তর:
বঙ্গনারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গনারী
ব্যাখ্যা

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার। তিনি ডি.এল রায় নামে পরিচিত। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় 'পূর্ণিমা মিলন' নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে 'বঙ্গ আমার জননী আমার', 'ধনধান্য পুষ্প ভরা' ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
- তারাবাঈ,
- প্রতাপ-সিংহ,
- দুর্গাদাস,
- নূরজাহান,
- মেবার পতন,
- সাজাহান,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী
- সমাজ-বিভ্রাট, 
- কল্কি অবতার, 
- ত্র্যহস্পর্শ, 
- প্রায়শ্চিত্ত, 
- পুনর্জন্ম। 
- আনন্দ বিদায়।

• তাঁর রচিত রোমান্টিক পৌরাণিক নাটকগুলো:
- চন্দ্রগুপ্ত;
- সিংহল বিজয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৩১৭.
কবিগান রচয়িতাদের জীবনী সংগ্রহ করেছিলেন-
  1. ক) দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) চন্দ্রকুমার দে
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
- কবিগান রচয়িতাদের জীবনী সংগ্রহ করেছিলেন কবি ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯)।
- তিনি ছিলেন যুগসন্ধির কবি।
- তিনি উনিশশতকের প্রথম ভাগের একমাত্র কবি।
- তিনি নিজে এক সময় ছিলেন কবিয়ালদের দলে।

- কবিয়ালদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন কবি ছিলেন গোজলা গুই।
- কয়েকজন বিখ্যাত কবিওয়ালার নাম: রাম বসু, রাসু, নৃসিংহ, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি, হরু ঠাকুর, নিধুবাবু, কেষ্টা মুচি, ভবানী, রামানন্দ নন্দী প্রমুখ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৭,৩১৮.
কোন দুটি রচনা একই শ্রেণির?
  1. ক) নীলদর্পন ও বিষাদ-সিন্ধু
  2. খ) লালসালু ও বলাকা
  3. গ) গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণা
  4. ঘ) ডাকঘর ও শ্রীকান্ত
সঠিক উত্তর:
গ) গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা
'গীতাঞ্জলি' ও 'অগ্নিবীণা' উভয়ই কাব্য সংকলন বা কাব্যগ্রন্থ। 

- নীলদর্পণ (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্রের শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনা।
- 'বিষাদ সিন্ধু'(১৮৮৫-১৮৯১) মীর মশাররফ হোসেনের একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু'। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ 'বলাকা' 

- 'ডাকঘর' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস 'শ্রীকান্ত'। 

• 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) রচিত অন্যতম একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- বাংলা গীতাঞ্জলি হলো ১৫৭টি গীতিকবিতার সংকলন আর ইংরেজি গীতাঞ্জলী হলো ১০৩ টি গীতি কবিতার সংকলন।
- এই গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

• 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
-অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩১৯.
জ্ঞানদাস কার শিষ্য ছিলেন?
  1. জাহ্নবী দেবী
  2. বিদ্যাপতি
  3. গোবিন্দদাস
  4. কবিকঙ্ক
সঠিক উত্তর:
জাহ্নবী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহ্নবী দেবী
ব্যাখ্যা

জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৩২০.
খনার বচনের প্রাধান্য পেয়েছে-
  1. ক) জ্যোতিষ ক্ষেত্র তত্ত্ব
  2. খ) মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা
  3. গ) কৃষি ও আবহাওয়ার কথা
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষি ও আবহাওয়ার কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষি ও আবহাওয়ার কথা
ব্যাখ্যা
খনার বচনে প্রাধান্য পেয়েছে কৃষি ও আবহাওয়ার কথা। আর ডাকের বচনে প্রাধান্য পেয়েছে জ্যোতিষ ক্ষেত্রতত্ত্ব ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
৭,৩২১.
'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' কার রচনা?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থের রচয়িতা- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৯৩৬ সালে কলকাতার রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ, (ওডিবিএল, ১৯২৬)।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- পশ্চিমের যাত্রী,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৩২২.
জীবনানন্দ দাশের মাতা কে?
  1. কামিনী দাশ
  2. কামিনী রায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. কুসুমকুমারী রায়
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের মাতা - কুসুমকুমারী দাশ

কুসুমকুমারী দাশ: 
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা'।
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী', 'ব্রহ্মবাদী', 'মুকুল' প্রভৃতি পত্রিকায়।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা পঙ্‌ক্তি - 'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।'
- তিনি ১৯৪৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩২৩.
‘বোবা কাহিনী’ কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) গল্প
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা

'বোবা কাহিনী' ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত কবি জসীমউদদী্‌নের একমাত্র উপন্যাস।
উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বাছির নিগ্রহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৩২৪.
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কোথা থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন?
  1. নেপালের রাজদরবার
  2. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. শ্রীলঙ্কার রাজদরবার
  4. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
সঠিক উত্তর:
নেপালের রাজদরবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেপালের রাজদরবার
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ: 
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন। 
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন। 
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। 
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৭,৩২৫.
'ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান, 
আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!
  2. বিদ্রোহী
  3. খেয়াপারের তরণী
  4. জীবন বন্দনা
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!
ব্যাখ্যা

 • 'ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান,

আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!' কবিতার অংশবিশেষ।
- কবিতাটি তাঁর রচিত 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!
কাজী নজরুল ইসলাম

দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার 
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার! 

দুলিতেছে তরি, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ, 
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ? 
কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ। 
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার। 

তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান! 
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান। 
ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান, 
ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার। 

অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরন 
কাণ্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পন। 
হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন? 
কাণ্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার 

গিরি সংকট, ভীরু যাত্রীরা গুরু গরজায় বাজ, 
পশ্চাৎ-পথ-যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ! 
কাণ্ডারী! তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ-মাঝ? 
করে হানাহানি, তবু চলো টানি, নিয়াছ যে মহাভার! 

কাণ্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর, 
বাঙালীর খুনে লাল হল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর! 
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর! 
উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পূনর্বার। 

ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান, 
আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান 
আজি পরীক্ষা, জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রাণ? 
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৩২৬.
'সরমা' কোন মহাকাব্যের চরিত্র?
  1. বৃত্রসংহার
  2. মহাশ্মশান
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. স্পেনবিজয় কাব্য
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
মেঘনাদবধ কাব্য:
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসের মধ্যে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দেই প্রকাশ পায়।
- এটা মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। 
- 'মেঘনাদবধ কাব্যে'র বিরাট পটভূমির মধ্যে নানা ধরনের চরিত্র এবং নানা রসের সমাবেশ ঘটেছে।
- কবি কাব্যের প্রথম দিকে বীররসের কথা বললেও এই কাব্যে করুণরসই প্রধান।
- ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে  নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতাভিলাষী কাব্য।
- নয় সর্গে  সম্পূর্ণ 'মেঘনাদবধ কাব্যে' বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা  বর্ণিত।
- এ কাব্যের ট্রাজেডি সৃজন হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন করে।
- কবি মিল্টনের 'প্যারাডাইস লস্ট' মহাকাব্যে শয়তান যেমন দুর্জয় বাসনা ও ঝজুতা প্রদর্শন করে, মধুসূদন দত্তও রাবণকে দিয়ে সে কাজ করিয়েছেন।
- ভাব-ভাষা ও শব্দ ব্যবহারে কবি বিদেশি ক্লাসিক রীতি আয়ত্ত করে তা বাংলায় ব্যবহার করেছেন।
- কাব্যের বিভিন্ন সর্গে বীরত্ব, অভিমান, আক্ষেপ ইত্যাদি প্রকাশিত।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ছিলেন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
-  পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩২৭.
চর্যাপদ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯১৬ সালে
  3. ১৯০৫ সালে
  4. ১৯১৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে। এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে। 'চর্যাপদ' মাত্রাবৃত্ত ছন্দে লেখা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭,৩২৮.
বিতর্কিত কবি হিসেবে কাকে অভিহিত করা হয়?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. রফিক আজাদ
  3. আব্দুল মান্নান 
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা

•  হুমায়ুন আজাদকে বিতর্কিত কবি হিসেবে কাকে অভিহিত করা হয়।

• হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ (১৯৪৭-২০০৪) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি লেখক, কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী, সমালোচক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
- তিনি প্রথাবিরোধী, সাহসী এবং বহুমাত্রিক লেখার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- হুমায়ুন আজাদকে বিতার্কিক বলা হয় কারণ তিনি তার সাহিত্য ও প্রবন্ধে প্রচলিত ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক ধ্যানধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
- ধর্ম, মৌলবাদ, নারীবাদ এবং রাজনীতির মতো বিষয় নিয়ে তাঁর সমালোচনামূলক লেখা সমাজে বিতর্ক এবং সচেতনতা সৃষ্টি করেছিল। 

- তাঁর বিতর্কিত প্রবন্ধ:
• নারী;
• ২য় লিঙ্গ।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
• ‘অলৌকিক ইস্টিমার’,
• ‘জ্বলো চিতাবাঘ’,
• ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’,
• ‘যতোই গভীরে যাই মধু যতোই ওপরে যাই নীল’।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
• ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’,
 • ‘যখন গিয়েছি ভীরু’।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য গবেষণা ও প্রবন্ধ:
• 'লাল নীল দিপাবলী'।
• ‘নারী’,
 • ‘আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম’,
• ‘ভাষার জাদুকর’।

- কিশোর সাহিত্য গ্রন্থ:
• ‘আবুল আব্বাস’,
• ‘দ্বিতীয় মানুষ’,
• ‘আমাদের শহরে একদল নক্ষত্র’। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৭,৩২৯.
শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে 'কাঁদো, প্রিয় দেশ' প্রবন্ধগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. শামসুর রাহমান
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• 'কাঁদো, প্রিয় দেশ' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'কাঁদো, প্রিয় দেশ'।
- 'কাঁদো, প্রিয় দেশ'-এর বারোটি লেখাই অশ্রুমাখা।
- এ অশ্রু শুধু ব্যক্তি শেখ মুজিবের জন্যে নয় বরং বাঙালি জাতি, বাংলা ভাষা এবং বাঙালি সংস্কৃতির জন্যেও বটে।
- শেখ মুজিবকে অন্নদাশঙ্কর রায় বাঙালিত্বের শুদ্ধ প্রতীক হিসেবে কল্পনা করতেন। তাই তাঁর অকস্মাৎ প্রস্থান তার কাছে সমস্ত বাঙালির পতন হিসেবে প্রতিভাত।
 
• পদ্মা-মেঘনা-গৌরী-যমুনা যতদিন বহমান থাকবে ততদিনই শেখ মুজিবুর রহমানের কীর্তি সমুজ্জ্বল থাকবে বলে যে কীর্তিমান বাঙালির ছড়ায় ঐতিহাসিক উচ্চারণ ধ্বনিত হয়েছিল সেই অন্নদাশঙ্কর রায় ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের নৃশংস নিধনযজ্ঞ দেখে চুপ থাকতে পারেননি। সবাই যখন মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছিল তখন অন্নদাশঙ্কর অভীক-কণ্ঠে এই অন্যায় হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছেন। শুধু তা-ই নয় বঙ্গবন্ধুর হত্যাকে 'বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়' বলে বিদেশি বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চুপতাকেও তিনি কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন।
 
উল্লেখ্য,
- ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ নামে ১৯৬৮ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি উপন্যাস রয়েছে।


» শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা সম্বলিত আরো কিছু সাহিত্যকর্ম:

• ‘দেয়াল’:

- হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি উপন্যাস রয়েছে ‘দেয়াল’ (২০১২) নামে।
- উপন্যাসের একটি আখ্যানে তিনি পঁচাত্তরের পনেরো আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাবলি বর্ণনা করে ইতিহাসের নানা পরিবর্তনের ইতিবৃত্ত তুলে ধরেছেন।

• 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে': 
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা শামসুর রাহমান।
- পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট পরিবারসহ শেখ মুজিবের নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং রচনা করেন তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা ‘বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে’।

• 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি':
- 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' নামক চলচ্চিত্রটির কাহিনি রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
- বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিত ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। 
-  চলচ্চিত্রটি ২০০৭ সালে মুক্তি পায়।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৩০.
'সমরেশ বসু' ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. জাবালি
  2. যুবনাশ্ব
  3. চিত্রগুপ্ত
  4. ভ্রমর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমর
ব্যাখ্যা

• 'সমরেশ বসু' ব্যবহৃত ছদ্মনাম - কালকূট ও ভ্রমর।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম - জাবালি।
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- সুনন্দ।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৩৩১.
'অনেক দিনের আশা' গল্পের লেখক কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. সরদার জয়েন উদ্দিন
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
• 'অনেক দিনের আশা' গল্পের রচয়িতা শামসুদ্দীন আবুল কালাম।

• শামসুদ্দীন আবুল কালাম:

- শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুদ্দীন বরিশাল জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৪১), ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ (১৯৪৩) এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (১৯৪৬) পাস করেন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৩২.
নির্মলেন্দু গুণ রচিত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. ইউরোপের চিঠি
  2. দেশে বিদেশে
  3. ভ্রমি দেশে দেশে
  4. পথে প্রবাসে
সঠিক উত্তর:
ভ্রমি দেশে দেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমি দেশে দেশে
ব্যাখ্যা
• ‘ভ্রমি দেশে দেশে’ নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে।

------------------
নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো -
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

অন্যদিকে, 
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে (১৯৩১) ও
- ইউরোপের চিঠি (১৯৪২)।

• 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘ভ্রমি দেশে দেশে’ নির্মলেন্দু গুণ ।
৭,৩৩৩.
একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে মোট কয়টি অংশ থাকে?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
সঠিক উত্তর:
পাঁচটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচটি
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখন্ড, মর্ত্যখন্ড এবং শ্রুতিফল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৩৪.
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা-
  1. বিদ্রোহী
  2. ধূমকেতু
  3. আগমণী
  4. প্রলয়োল্লাস
সঠিক উত্তর:
প্রলয়োল্লাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রলয়োল্লাস
ব্যাখ্যা

অগ্নিবীণা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এতে মোট বারোটি কবিতা রয়েছে।
- ১৩২৯ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (সেপ্টেম্বর, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা- 'প্রলয়োল্লাস'।
- এই কাব্যগ্রন্থের ২য় কবিতা- 'বিদ্রোহী'।
- কাজী নজরুল ইসলামে 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গ করেন বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে।

• কবিতাসমূহ:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণ্‌ 
- কোরবানী, 
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৩৫.
'কালো বরফ' উপন্যাস বিষয়:
  1. ক) তেভাগা আন্দোলন
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধ
  4. ঘ) দেশভাগ
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেশভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেশভাগ
ব্যাখ্যা
মাহমুদুল হক একজন বাংলাদেশি লেখক।
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর লেখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা চমকপ্রদ।
- তাঁর রচিত উপন্যাস হচ্ছেঃ
• কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)
• জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)
• অনুর পাঠশালা,
• নিরাপদ তন্দ্রা,
• অশরীরী,
• পাতালপুরী,
• খেলাঘর,
• মাটির জাহাজ ইত্যাদি।
উৎসঃ মাহমুদুল হক ও দৈনিক জনকন্ঠ।
৭,৩৩৬.
‘ইউসুফ-জোলেখা’ কাব্যটি কোন সুলতানের রাজত্বকালে রচিত হয়েছিল?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. আলাউদ্দিন খিলজি
  3. আলাউদ্দিন ইলিয়াস শাহ্‌
  4. ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ্‌
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা

'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য:
- ইউসুফ-জোলেখা একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ।
- ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
- এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৩৭.
'কখনো আসে নি’ চলচ্চিত্রটির পরিচালক ছিলেন -
  1. সুভাষ দত্ত
  2. জহির রায়হান
  3. সত্যজিৎ রায়
  4. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- তাঁর সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’। এবং পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

জহির রায়হান রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস:
১) সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৩৮.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  2. এক পথ দুই বাঁক
  3. বিশ শতকের মেয়ে
  4. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা

• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি':
- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'। যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা।

- তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু-লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি। বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

-----------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা -এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৩৯.
'বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রাম' নিচের কোন গ্রন্থের প্রাপ্তিস্থান হিসেবে উল্লেখযোগ্য?
  1. চর্যাপদ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. রামায়ণ
  4. মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।
- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড় চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনি ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি - কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই।
- মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত। খণ্ডগুলো হলো:

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৩৪০.
‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’ নামে এক নতুন নাট্যরীতির প্রবর্তক -
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. সেলিম আল দীন
  3. শামসুজ্জামান খান
  4. সত্যেন সেন
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা

• নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন:
- ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন নোয়াখালী (বর্তমান ফেনী) জেলার সোনাগাজী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রোত্তরকালের বাংলা নাটকের প্রধান পুরুষ সেলিম আল দীন। 
- ১৯৮৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তার উদ্যোগেই খোলা হয় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ। 
- তিনি ১৯৮১-৮২ সালে দেশব্যাপী গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি মর্ত্যলোকের মায়া ত্যাগ করে চলে যান অনন্তলোকে।

- সেলিম আল দীন ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’ নামে এক নতুন নাট্যরীতির প্রচলন করেন।
- পাশ্চাত্য শিল্পের সব বিভাজনকে বাঙালির সহস্র বছরের নন্দনতত্ত্বের আলোকে অস্বীকার করে তিনি এই নবতর শিল্পরীতি প্রবর্তন করেন।
- এছাড়াও তিনি ফিউশন তত্ত্ব’র প্রবক্তা এবং নিউ এথনিক থিয়েটারের উদ্ভাবনকারী। 

উল্লেখযোগ্য নাটক : 
- জণ্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- মুনতাসির, শকুন্তলা,
- কিত্তনখোলা,
- কেরামত মঙ্গল,
- হাতহদাই,
- যৈবতী কন্যার মন,
- চাকা,
- হরগজ,
- বনপাংশুল,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- ধাবমান,
- স্বর্ণবোয়াল ইত্যাদি।

উৎস : যুগান্তর ও  বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৪১.
সুকুর মামুদের লেখা নাথসাহিত্য কোনটি?
  1. গোপীচন্দ্র নাটক
  2. গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
  3. গোরক্ষনাথের কাহিনি
  4. গোরক্ষবিজয়
সঠিক উত্তর:
গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
ব্যাখ্যা
• সুকুর মামুদের লেখা নাথসাহিত্য - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্য প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত। যথা:
 ১. মীননাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২. রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।
- গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় জায়সীর 'পদুমাবৎ' এ।
- এ বিষয়ে প্রথম বাংলা গ্রন্থ নেপালে রচিত সপ্তদশ শতাব্দীর নাটক 'গোপীচন্দ্র নাটক'।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' রচনা করেন - সুকুর মামুদ।

উল্লেখ্য, বাংলাপিডিয়ায় 'শুকুর মাহমুদ' দেওয়া আছে। মূলত তারা একই ব্যক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৪২.
'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) দ্বীনবন্ধু মিত্র
  2. খ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

গোবিন্দচন্দ্র দাস, (১৮৫৫-১৯১৮) ছিলেন একজন স্বভাবকবি। 
- নরনারীর ইন্দ্রিয়জ প্রেম গোবিন্দচন্দ্রের কাব্যের মুখ্য বিষয়বস্তু, তবে স্বদেশপ্রেম, পল্লিপ্রকৃতি ও মানবজীবনের কথাও তাঁর কাব্যে বর্ণিত হয়েছে।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু্‌,
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৪৩.
আমপারার কাব্যানুবাদ করেন-
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) ফররুখ আহমেদ
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম অনুবাদ করেন ‘কাব্য আমপারা’ (১৯৩৩)।
• কাজী নজরুল ইসলাম,(১৮৯৯-১৯৭৬)  বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
• নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
• করাচি সেনানিবাসে বসে রচিত এবং কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা।
প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯)।
• ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে  কলকাতা ফেরার পর নজরুলের দুটি ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক সৃষ্টিকর্ম হচ্ছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও ‘ভাঙার গান’ সঙ্গীত। এ দুটি রচনা বাংলা কবিতা ও গানের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল; ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্য নজরুল বিপুল খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৪৪.
'কবর' কবিতা কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? 
  1. দৈনিক নবযুগ
  2. পরিচয়
  3. কল্লোল
  4. নবনূর
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্লোল
ব্যাখ্যা
• 'কবর' কবিতা:
- কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত 'কবর' কাবিতাটি ১৯২৫ সালে প্রথম 'কল্লোল' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- জসীমউদ্‌দীন রচিত 'কবর' কবিতা 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- 'কবর' কবিতার মোট লাইন সংখ্যা- ১১৮ টি।

কবর
জসীমউদ্‌দীন
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিতাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
(সংক্ষিপ্ত)

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত কবিতা:
- মুসাফির (বালুচর),
- নিমন্ত্রণ (ধানক্ষেত),
- আসমানী (এক পয়সার বাঁশি) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও কবর কবিতা।
৭,৩৪৫.
'সবুজপত্র' পত্রিকা কত বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৩২১ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৪ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২০ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৫ বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩২১ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩২১ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- 'সবুজপত্র' পত্রিকা ১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত বিশিষ্ট সাহিত্য পত্রিকা।
- এটি বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ১৩ বছর চলে।
- এটি চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।

---------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল’।
- ‘বীরবলেন হালখাতা’ তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৪৬.
জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদিত পত্রিকা হলঃ 
  1. ধূপছায়া
  2. ধূমকেতু
  3. সংগ্রাম
  4. একটিও নয়
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূমকেতু
ব্যাখ্যা

'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু-"।
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। 

উল্লেখ্য,
➝ 'ধূমকেতু' কবিতাটি নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'-এর অন্তর্গত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৪৭.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্য নয় কোনটি?
  1. মাটির দেয়াল
  2. অভিজ্ঞান বসন্ত
  3. উত্তরফাল্গুনী
  4. খসড়া
সঠিক উত্তর:
উত্তরফাল্গুনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তরফাল্গুনী
ব্যাখ্যা
• 'উত্তরফাল্গুনী' ১৯৪০ সালে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 

------------------
অমিয় চক্রবর্তী:

• অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
• অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
• তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
• তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
• উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমী পুরস্কার। বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৪৮.
আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ছায়া হরিণ
  2. খ) রাত্রিশেষে
  3. গ) ছুটির দিনে দুপুরে
  4. ঘ) ছোটদের পাকিস্তান
সঠিক উত্তর:
খ) রাত্রিশেষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাত্রিশেষে
ব্যাখ্যা
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষে (১৯৪৭)। প্রকাশ: এপ্রিল, ১৯৪৭; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে। এই কাব্যগ্রন্থে প্রহর, প্রান্তিক, প্রতিভাস ও পদক্ষেপ এই চারটি ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- আহসান হাবিব-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত)
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর
- ছায়া হরিণ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৪৯.
‘কল্লোল’ কোন ধরণের পত্রিকা ছিল? 
  1. দৈনিক
  2. সাপ্তাহিক
  3. মাসিক
  4. পাক্ষিক 
সঠিক উত্তর:
মাসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক
ব্যাখ্যা

‘কল্লোল’:
- ‘কল্লোল’ ছিল একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
- এই পত্রিকাটি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতা ও কল্লোল যুগের সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাথমিক সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ ও গোকুলচন্দ্র নাগ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের সমকালীন লেখকদের জন্য শক্তিশালী সাহিত্য আন্দোলনের প্রতীক ছিল। 
- পত্রিকাটি নবীন লেখকদের- প্রেমেন্দ্র মিত্র, কাজী নজরুল ইসলাম, বুদ্ধদেব বসু প্রমুখ- জন্য মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছিল।
- বিশেষ করে যারা রবীন্দ্রনাথের বৃত্তের বাইরে নতুন ধারার সাহিত্য সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন।
- কল্লোল মূলত রবীন্দ্র-বিরোধী সাহিত্য বিপ্লব হিসেবে পরিচিত।
- এটি ১৯২৩ থেকে ১৯২৯ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৩৫০.
"Gypsy Wharf" শিরোনামে অনূদিত হয়েছে -
  1. রাখালী
  2. বোবা কাহিনী
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  4. কবর
সঠিক উত্তর:
সোজন বাদিয়ার ঘাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোজন বাদিয়ার ঘাট
ব্যাখ্যা
পল্লীকবি জসীম উদদীন
- বাংলা সাহিত্যে জসীম উদদীন বহুমুখী আধুনিক ব্যক্তিত্ব।
- তিনি একাধারে কবি, কাব্যোপন্যাসিক, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, ভ্রমণকাহিনীকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত।
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সাহিত্যকর্ম
- তাঁর নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতি-কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
- ১৯৩১ থেকে ১৯৩৭ পর্যন্ত, দীনেশচন্দ্র সেনের সাথে লোক সাহিত্য সংগ্রাহক হিসেবে জসীম উদ্‌দীন কাজ করেন।
- তিনি পূর্ব বঙ্গ গীতিকার একজন সংগ্রাহকও।
- জসীমউদ্দীন জারীগান ও মুর্শীদা গান নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন।

- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- রাখালী কাব্যে ১৯টি কবিতা রয়েছে।

♦ 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।
- এ উপন্যাসের নায়ক আজাহের।

♦ কবর: 
- ১৯২৫ সালে এই কবিতাটি প্রথম কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি কবির ‘রাখালী’ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর 'কবর' কবিতাটি প্রবেশিকা(এস.এস.সি) বাংলা পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এই কাহিনী-কাব্যটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত ‘ড্রামাটিক মনোলগ’।
- এ কবিতার চরণ সংখ্যা ১১৮।
- কবিতায় এক বৃদ্ধ তার নাতিকে পাঁচজন স্বজন হারানোর ব্যথা এক এক করে বর্ণনা করেছেন। তারা হলো: বৃদ্ধের স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ, নাতনী ও মেয়ে।

♦ সোজন বাদিয়ার ঘাট
- এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সাম্প্রদায়িকতার টানাপোড়ন এই কাব্যের উপজীব্য।
- ইউনেস্কো 'সোজন বাদিয়ার ঘাট' -কে এশীয় সিরিজের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্মের সম্মাননা দিয়েছে।
- কাব্যটি ইউনেস্কোর উদ্যোগে 'Gypsy Wharf' (১৯৬৯) শিরোনামে অনূদিত হয়।

♦ কাব্যগ্রন্থ
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- হাসু ,
- মাটির কান্না,
- এক পয়সার বাঁশী,
- সখিনা,
- মা যে জননী কান্দে,
- পদ্মা নদীর দেশে ইত্যাদি।

♦ নাটক
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে ,
- পল্লীবধূ ইত্যাদি।

♦ আত্মকথা
- যাদের দেখেছি ,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়,
- জীবন কথা ইত্যাদি।

♦ ভ্রমণ কাহিনী
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরির দেশে,
- যে দেশে মানুষ বড় ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. বিবিসি বাংলা,
৩. ডেইলি স্টার বাংলা,
৪. Who's who in Bangladesh art, culture, literature, আবু ফজল শামসুজ্জামান।
৫. বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৫১.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আবিষ্কৃত পুথির সূচনায় সংস্কৃত শ্লোক থেকে চর্যার কোন নামের ইঙ্গিত পাওয়া যায়?
  1. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
  2. চর্যাগীতিকা
  3. চর্যাপদ
  4. বৌদ্ধগান ও দোহা
সঠিক উত্তর:
চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামেও পরিচিত হয় তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হওয়ার পর এর বিষয়, ভাষা ও কাল সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা হয়। এতে তেইশজন পদকর্তার ৪৭টি পদ আছে। চর্যার কবিদের কাল খ্রিস্টীয় নবম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে ধরা হয়। অবশ্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে চর্যার কোনো কোনো পদকর্তার আবির্ভাবকাল সপ্তম অথবা অষ্টম শতক।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন। আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

- চর্যাকাররা সহজযান ধর্মমতে দীক্ষিত ও সিদ্ধাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন। তান্ত্রিক যোগসাধনা তাঁদের ধর্মমতের বৈশিষ্ট্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৫২.
শওকত আলী রচিত 'ওয়ারিশ' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. মনজু
  2. হায়দার
  3. মিঠু
  4. রনজু
সঠিক উত্তর:
রনজু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রনজু
ব্যাখ্যা
ওয়ারিশ:
- শওকত আলী রচিত 'ওয়ারিশ' (১৯৮৯) উপন্যাসটি মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আছে।
- অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে যেতে হয়। এরই নাম মানব সভ্যতার ইতিহাস, যাকে বলা যায় ক্রমবিকাশ।
- কথাশিল্পী শওকত আলী রনজু চরিত্রের মাধ্যমে উপর্যুক্ত ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির ধারাবাহিকতাই প্রকাশ করেছেন অনবদ্য গদ্যশৈলীতে।

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'পিঙ্গল আকাশ' উপন্যাস, শওকত আলী।
৭,৩৫৩.
‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. আত্মস্মৃতি
  3. ভ্রমণকাহিনি
  4. প্রবন্ধ গবেষণা
সঠিক উত্তর:
আত্মস্মৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মস্মৃতি
ব্যাখ্যা
⇒ 'কালের ধুলোয় লেখা’ আত্মস্মৃতি:
• 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি আত্মস্মৃতি।
• 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
• এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
• বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

⇒ শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’ কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর: ‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান।
৭,৩৫৪.
উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত ছিলেন কোন লেখক?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২) ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ। উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অন্নদাশঙ্কর রায় ২০ বছর বয়সে ওড়িয়া সাহিত্যিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর প্রথম কবিতা ওড়িয়া ভাষায় রচিত। কম বয়সে প্রভা নামে ওড়িয়া ভাষায় হাতে লেখা একটি পত্রিকা বের করেন। 

বাংলা ভাষায় তাঁর প্রথম প্রকাশিত মৌলিক রচনার বিষয় ছিল নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা, যা ভারতী পত্রিকায় ছাপা হয়।

অন্নদাশঙ্করের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ তারুণ্য ১৯২৮ সালে প্রকাশিত হয় বিচিত্রা পত্রিকায়। তবে তাঁর ইউরোপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা পথে প্রবাসে ভ্রমণকাহিনীর মাধ্যমেই তিনি বাংলা সাহিত্যে নিজের স্থান করে নেন। ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত দুই বছর উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ‘পথে প্রবাসে’।

দীর্ঘজীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রায় সত্তর বছর ধরে তিনি প্রবন্ধ, উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, ছড়া, কবিতা, নাটক, পত্রসাহিত্য, আত্মজীবনীমূলক রচনা প্রভৃতি লিখে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন। তাঁর রচিত উপন্যাসের সংখ্যা ২২টি।

এর মধ্যে প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'আগুন নিয়ে খেলা (১৯৩০)'। বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস তাঁর ছয় খন্ডে প্রকাশিত 'সত্যাসত্য ছয়টি' নামে প্রকাশিত হয় যথাক্রমে- যার যেথা দেশ (১৯৩২), অজ্ঞাতবাস (১৯৩৩), কলঙ্কবতী (১৯৩৪), দুঃখমোচন (১৯৩৬), মর্ত্যের স্বর্গ (১৯৪০), অপসরণ (১৯৪২)।

• উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:
অসমাপিকা; পুতুল নিয়ে খেলা; কন্যা; তিন খন্ডে প্রকাশিত রত্ম ও শ্রীমতী (১ম-১৯৫৬, ২য়-১৯৫৮, ৩য়-১৯৭২), সুখ; বিশল্যকরণী; তৃষ্ণার জল; রাজঅতিথি এবং চার খন্ডে রচিত ও প্রকাশিত ক্রান্তদর্শী (১ম-১৯৮৪, ২য়-১৯৮৫, ৩য়-১৯৮৫, ৪র্থ-১৯৮৬)। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থগুলো:
প্রকৃতির পরিহাস; দুকান কাটা; হাসনসখী; মনপবন; যৌবনজ্বালা; কামিনীকাঞ্চন;, রূপের দায়; গল্প; কথা; কাহিনী; শ্রেষ্ঠগল্প এবং গল্পসমগ্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৭,৩৫৫.
ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা কোনটি?
  1. সাধনা
  2. ভারতী
  3. বালক
  4. তত্ত্ববোধিনী
সঠিক উত্তর:
সাধনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধনা
ব্যাখ্যা

'সাধনা' জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা। এর পূর্বে অন্যান্য পত্রিকাসমূহ হলো- তত্ত্ববোধিনী,  ভারতী এবং বালক।

• 'সাধনা' পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৫৬.
'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) শহীদ কাদরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি শহীদ কাদরী। তিনি ১৯৪২ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ-
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৩৫৭.
স্বদেশপ্রেম এবং নারীমুক্তি ; এই উভয় চেতনা কোন উপন্যাসের পটভূমি?
  1. গোরা
  2. চোখের বালি
  3. শেষের কবিতা
  4. মালঞ্চ
সঠিক উত্তর:
গোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরা
ব্যাখ্যা
• গোরা উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।

-----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবিপ্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৮৭৬ সালে বনফুল কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো ধারাবাহিকভাবে ‘জ্ঞানাঙ্কুর’ ও ‘প্রতিবিম্ব’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন ১৫ বছর।
বনফুল ১৮৮০ সালে গ্রন্থাকারে তথা কাব্যগ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয়। তখন বয়স ছিল ১৯ বছর।
এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; গোরা উপন্যাস।
৭,৩৫৮.
"ইব্রাহিম কার্দি" কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. মুখরা রমণী বশীকরণ
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. রূপার কৌটা
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ওচরিত্র
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৫৯.
‘ময়নাবতী’ নিচের কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. পদ্মাবতী
  2. গুলে বকাওলী
  3. সতীময়ান ও লোরচন্দ্রানী
  4. মধুমালতী
সঠিক উত্তর:
সতীময়ান ও লোরচন্দ্রানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীময়ান ও লোরচন্দ্রানী
ব্যাখ্যা
• সতের শতকের কবি দৌলত কাজী ‘সতীময়ান ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য রচনা করেন।
• রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধার্মার প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী এ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন কিন্তু শেষ করার আগেই তিনি মারা যান।
• পরে উজির সোলায়মানের আদেশে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কবি আলাওল কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন।
• এই কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো: ময়নাবতী, চন্দ্রানী ও লোর।

⇒ 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যের কাহিনি সংক্ষেপ:
রাজা লোর ও রূপসী রানি ময়নাবতীর সুখের সংসার। বনবিহারে গিয়ে লোর এক যোগীর কাছে অপরূপা চন্দ্রানীর সংবাদ পায়। চন্দ্রানীর সাথে লোরের সাক্ষাত হয়। এবং চন্দ্রানীর স্বমীর সাথে লোরের যুদ্ধে হলে, যুদ্ধে চন্দ্রানীর স্বামী মারা যায়। পরবর্তীতে গোহারী রাজ্যের রাজা চন্দ্রানীর পিতা লোরকে গ্রহণ করে এবং পৌত্রলাভের আশায় তাদের বিয়ে দেন। লোর ময়নার কথা ভুলে চন্দ্রানীকে নিয়ে সংসার করে। লোর-চন্দ্রানীর এক পুত্র হয় এভাবে দিন যায়। ময়নাবতী স্বামীর বিরহেও সতীত্ব অক্ষুণ্ন রাখে এবং ১৪ বছর পর এক সুখপাখি ময়নাবতীর কথা লোরকে বর্ণনা করলে পুত্রের হাতে রাজত্ব দিয়ে লোর-চন্দ্রানীকে নিয়ে ময়নাবতীর কাছে যায় এবং লোর তাঁর দুই স্ত্রী নিয়ে জীবনযাপন করে বৃদ্ধ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৬০.
'আলবেরুনী' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. সমর সেন
  2. শামসুজ্জামান খান
  3. সত্যেন সেন
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সত্যেন সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা

সত্যেন সেন:
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৬৮ সালে 'উদীচী' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৯৭০ সালে উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ভোরের বিহঙ্গী,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৬১.
"সাত ভাই চম্পা" কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বিষ্ণু দে
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• ‘সাত ভাই চম্পা’ বিষ্ণু দে রচিত - কাব্যগ্রন্থ।

বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৬২.
‘কাশবনের কন্যা’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শামসুদ্দীন আবুল কামাল
  3. শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. শামসুজ্জামান খান
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কামাল
ব্যাখ্যা
⇒ কাশবনের কন্যা:
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে।
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ দারিদ্রতা থাকলেও গ্রামেই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত চিত্রায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের চরিত্র সমূহ: সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান ইত্যাদি।

⇒ শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুদ্দীন বরিশাল জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৪১), ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ (১৯৪৩) এবং  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (১৯৪৬) পাস করেন।

তাঁর রচনাসমূহ হলো:
• গল্পগ্রন্থ: 
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।

• উপন্যাস: 
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৬৩.
কাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়?
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) শঙ্খ ঘোষ
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহসে যুগসন্ধির/যুগসন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৭০০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিকাল ধরা হয়ে থাকে। 
- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন, এই দমনীষীর মধ্যবর্তীকালে  ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের আবির্ভাব।
- তাঁর মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা বৈশিষ্ট্য সমানভাবে লক্ষ্য করা যায় বলেতাঁকে যুগসন্ধির কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৬৪.
পদাবলির আদিকবি জয়দেবের 'বৈষ্ণব পদাবলি' কোন ভাষায় রচিত?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. ব্রজবুলি
  4. অহমিয়া
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস।

এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে।
যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

উল্লেখ্য,
['শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম; লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ।

৭,৩৬৫.
'History of Bengali Language and Literature' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. ক) হুমায়ুন আজাদ
  2. খ) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. গ) দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
গ) দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
১৯১১ সালে প্রকাশিত, 'History of Bengali Language and Literature' গ্রন্থটির রচয়িতা 'দীনেশচন্দ্র সেন।'
তাঁর রচিত আরও একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ, 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়' প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে।
দীনেশচন্দ্র সেন বিখ্যাত ছিলেন প্রাচীন বাংলা পুথি ও লোকগাথা সংগ্রহের জন্য। 
তাঁর সংগৃহীত পুথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে রচনা করেন 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' ১৮৯৬ সালে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৬৬.
‘কিত্তনখােলা’ নাটকটির বিষয়বস্তু-
  1. যন্ত্রণাদগ্ধ শহরজীবন
  2. স্নিগ্ধ-শ্যামল প্রকৃতির রূপ
  3. লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি
  4. দেশবিভাগজনিত জীবন যন্ত্রণা
সঠিক উত্তর:
লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা

 ‘কিত্তনখােলা’ নাটক:
- ‘কিত্তনখােলা’ নাটকটের রচয়িতা সেলিম আল দীন।
- জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যকর্ম তাঁর ‘কিত্তনখোলা’। ‘কিত্তনখোলা’ রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন।
- মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়।
- ‘কিত্তনখোলা’ হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত।
- লেখকের ভাষায় - কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই।


• সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া এবং ‘কিত্তনখোলা’ নাটক।

৭,৩৬৭.
'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. আব্দুল কাদির
  2. আবদুল্লাহ আল মুতী
  3. আনিসুজ্জামান
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মুতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মুতী
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মুতী:
- আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮। এবং প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম “এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৬৮.
উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' গ্রন্থের কাহিনি অনুসারে রচিত নাটক কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. পদ্মাবতী
  4. শর্মিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকুমারী:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

----------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ,
- ব্রজাঙ্গনা,
- বীরাঙ্গনা,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৬৯.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. আবে-হায়াত
  2. ফুড কনফারেন্স
  3. জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  4. বন্ধুর মুখ শত্রুর ছায়া
সঠিক উত্তর:
আবে-হায়াত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবে-হায়াত
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমদ রচিত উপন্যাস আবে-হায়াত।

অন্যদিকে,
জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন - সেলিম আল দীন।
১৯৭১: বন্ধুর মুখ শত্রুর ছায়া - হাসান ফেরদৌস।

• আবুল মনসুর আহমেদ:
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

• ব্যঙ্গরচনা:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- গালিভারের সফরনামা

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ

• অন্যান্য রচনা
- বাংলাদেশের কালচার,
- আসমানী পর্দা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৭০.
তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. অক্ষয় কুমার দত্ত
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
অক্ষয় কুমার দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষয় কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা

'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৩৭১.
'সৈনিক বধূ' সুফিয়া কামাল রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্প
  4. দিনলিপি
সঠিক উত্তর:
গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্প
ব্যাখ্যা
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'সৈনিক বধূ'। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের 'তরুণ' পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৭২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল ভ্ৰমণকাহিনী কোনটি? 
  1. দেশে-বিদেশে
  2. বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
  3. পথে-প্রবেশে
  4. পালামৌ
সঠিক উত্তর:
পালামৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালামৌ
ব্যাখ্যা

'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল ভ্রমণকাহিনি।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ভ্রমণকাহিনি। ‘পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- বিহারের পালামৌ এলাকায় দুই বছর ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে এর স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী পালামৌ।
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- সঞ্জীবচন্দ্র এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
- ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথম এই ভ্রমণকাহিনি প্রকাশ হয়।

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৭৩.
''অলীক কূনাট্য রঙ্গে
মজে লোকে রাঢ়ে ও বঙ্গে
নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।'' - চরণগুলোর রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• শর্মিষ্ঠা নাটক:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক (আধুনিক) নাটক - শর্মিষ্ঠা। এটি প্রকাশিত হয় - ১৮৫৯ সালে।
 -এর রচয়িতা ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তিনি শর্মিষ্ঠা নাটকের শুরুতে সেকালের নাটকের গ্রাম্যতায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
- শর্মিষ্ঠা নাটকের কাহিনী 'মহাভারত' থেকে সংগৃহীত।

তিনি বলেছেন -
''অলীক কূনাট্য রঙ্গে
মজে লোকে রাঢ়ে ও বঙ্গে
নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।''
------------------------- 
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্কুলজীবনের শেষে তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।
- এই কলেজে অধ্যয়নকালে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ জন্মে।
- ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। তখন তাঁর নামের প্রথমে যোগ হয় 'মাইকেল'।
- পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তীব্র আবেগ তাঁকে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনায় উদ্‌বুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে জীবনের বিচিত্র কষ্টকর অভিজ্ঞতায় তাঁর এই ভুল ভেঙেছিল।
- বাংলা ভাষায় কাব্যরচনার মধ্য দিয়ে তাঁর কবিপ্রতিভার যথার্থ স্ফূর্তি ঘটে।

• তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।

• তাঁর অন্যান্য কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর নাটক:
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর 
২. বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৭৪.
‘লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।’ - উক্তিটি কার?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব:
- 'সংস্কৃতি কথা' (১৯৫৮) মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি তাঁর ‘সংস্কৃতি কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
-  ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের উক্তি-লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।’
-  ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক শিক্ষার ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক সুফল প্রত্যাশা করেছেন।

• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, লেখক।
- ১৯০৩ সালে নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে। 
- তিনি ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন এবং এর সভা ও সম্মেলনে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ। দ্বিতীয় গ্রন্থ 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের 'Conquest of Happiness' গ্রন্থের এবং তৃতীয় গ্রন্থ 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেলের 'Civilization' গ্রন্থের ভাবানুবাদ। 
- ১৯৫৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- সংস্কৃতি কথা,
- সুখ,
- সভ্যতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৭৫.
বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র 'ফেলুদা' এর স্রষ্টা কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ 
  2. সত্যজিৎ রায়
  3. শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. জহির রায়হান 
সঠিক উত্তর:
সত্যজিৎ রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র 'ফেলুদা' এর স্রষ্টা সত্যজিৎ রায়।

• ফেলুদা সিরিজ:
- ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসের সন্দেশ পত্রিকায় ফেলুদা সিরিজের প্রথম গল্প ফেলুদার গোয়েন্দাগিরির প্রথমভাগ প্রকাশিত হয় যা পরের আরো দুইটি সংখ্যার মাধ্যমে শেষ হয়। ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত এই সিরিজের মোট ৩৫টি সম্পূর্ণ ও চারটি অসম্পূর্ণ গল্প ও উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।

- ফেলুদার প্রধান সহকারী তার খুড়তুতো ভাই তপেশরঞ্জন মিত্র ওরফে তোপসে ও লেখক লালমোহন গাঙ্গুলি (ছদ্মনাম জটায়ু)।
- ফেলুদার চরিত্র নির্মাণে সত্যজিৎ রায় তার ছোটবেলায় পড়া শার্লক হোমস এর গোয়েন্দা গল্পের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।

- তাই ফেলুদার চরিত্রের সাথে অনেক জায়গায় আমরা হোমসের আর ফেলুদার ভাই ও সহকারী তোপসের সাথে হোমসের সহকারী ওয়াটসনের মিল পাওয়া যায়। নিজের লেখা অধিকাংশ গল্পের বইয়ের মতই ফেলুদার বইতেও সত্যজিৎ রায় নিজেই প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করতেন।

অন্যদিকে,
- শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসিদ্ধতম সৃষ্টি হলো গোয়েন্দা চরিত্র সত্যান্বেষী- ব্যোমকেশ বক্সী।
 
উৎস: 'ফেলুদা সিরিজ' এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৭,৩৭৬.
"সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা" প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আহমদ শরীফ
  3. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  4. কাজী ইমদাদুল হক
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ:
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তাঁর বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য (দু খণ্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৭৭.
'রাবেয়া খাতুন' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) কপালকুণ্ডলা
  2. খ) শ্রীকান্ত
  3. গ) লালসালু
  4. ঘ) সংশপ্তক
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংশপ্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
• 'সংশপ্তক' উপন্যাসের চরিত্রগুলোর মধ্যে রাবেয়া খাতুন অন্যতম।
- এটি শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস।
- এছাড়াও তাঁর আরেকটি উপন্যাস হলো 'সারেং বউ'।

• 'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দির রোজনামচা যা ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৭৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস-
  1. ক) গোরা
  2. খ) চতুরঙ্গ
  3. গ) মালঞ্চ
  4. ঘ) দুইবোন
সঠিক উত্তর:
ক) গোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গোরা
ব্যাখ্যা
'গোরা' (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম এবং অনেকের মতে সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস। প্রবাসী পত্রিকায় ১৯০৮ থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- গোরা, পরেশবাবু, সুচরিতা, আনন্দময়ী, কৃষ্ণদয়াল, বিনয়, ললিতা ইত্যাদি।
এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- চোখের বালি, যোগাযোগ, চতুরঙ্গ, ঘরে বাইরে, চার অধ্যায়, মালঞ্চ, শেষের কবিতা, দুইবোন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৭৯.
নিচের কোনটি বেগম রোকেয়া রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ?
  1. অবরোধবাসিনী
  2. মতিচুর
  3. পদ্মরাগ
  4. পদ্মাপার
সঠিক উত্তর:
মতিচুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মতিচুর
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ- 'মতিচুর'।

• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন   খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana's Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

• রোকেয়ার উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচুর (প্রবন্ধ, ২টি খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

অন্যদিকে,
'পদ্মাপার' জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৮০.
১৯৪৩ এর মন্বন্তর এর চিত্র ফুটে উঠেছে নিচের কোন গ্রন্থে?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. খোয়াবনামা
  3. দুধভাতে উৎপাত
  4. জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস এর জন্ম ১৯৪৩ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল। তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষত, তাঁর রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে যে স্বকীয় বর্ণনারীতি ও সংলাপে কথ্যভাষার ব্যবহার লক্ষণীয় তা সমগ্র বাংলা কথাশিল্পে অনন্যসাধারণ।

তাঁর ছোটগল্প সংকলন:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর (১৯৭৬)
- খোঁয়ারি (১৯৮২)
- দুধভাতে উৎপাত (১৯৮৫)
- দোজখের ওম (১৯৮৯)
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল (১৯৯৭)

উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭)
- খোয়াবনামা (১৯৯৬)

প্রবন্ধ সংকলন:
- সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু (১৯৯৮)

> খোয়াবনামা উপন্যাসটি আখতারুজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস এর মহাকাব্যোচিত উপন্যাস। এর মাধ্যমে মূলত গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির -সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প,তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন অ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ।

৭,৩৮১.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত জীবিত ছিলেন -
  1. সপ্তদশ শতাব্দীতে
  2. অষ্টাদশ শতাব্দীতে
  3. উনবিংশ শতাব্দীতে
  4. বিংশ শতাব্দীতে
সঠিক উত্তর:
উনবিংশ শতাব্দীতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনবিংশ শতাব্দীতে
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত জীবিত ছিলেন - উনবিংশ শতাব্দীতে

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৮২.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস কোনটি?
  1. নরকে লাল গোলাপ
  2. একাত্তরের ঢাকা
  3. আমি বিরঙ্গনা বলছি
  4. দ্রৌপদী
সঠিক উত্তর:
দ্রৌপদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রৌপদী
ব্যাখ্যা
'দ্রৌপদী' উপন্যাস:
• রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'দ্রৌপদী' এপার ওপার দুই বাংলায় বেশ সমাদৃত।
• ১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। এবং শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।

গ্রন্থের ভূমিকায় লেখক লিখেন- 
১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। আজ শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে এর প্রকাশ আমার পক্ষে বড় গৌরবের। আমার যেসব শিক্ষক, ছাত্র, বন্ধু হানাদারদের হাতে খুন হয়েছেন তাঁদের স্মৃতির ভার কিছুটা লাঘব হয়েছে, এ উপন্যাস লিখে। যেসব চক্রান্ত দুই বাংলার মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, মুক্তিযুদ্ধের মহিমাকে খাটো করেছে, তার বিরুদ্ধেও এ এক ধরনের প্রতিবাদ। যদিও রাজনৈতিক প্রচারে উপন্যাসের পরিমণ্ডল দুষ্ট করতে আমি চাই নি।

অন্যদিকে, 
• 'নরকে লাল গোলাপ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। 

• সেলিনা হোসেন রচিত 'একাত্তরের ঢাকা' একটি স্মৃতিচারণমূলক সংকলন গ্রন্থ। শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ লা মার্চ থেকে। শেষ হয়েছে বিজয় দিবসের পরে বধ্যভূমি আবিষ্কার এবং লেখকের নানা স্মৃতিচারণের মাধ্যমে।

• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণা প্রবন্ধ।

উৎস: 'দ্রৌপদী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৮৩.
‘গেরিলা’ চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে নিচের কোন উপন্যাস অবলম্বনে?
  1. রেইনকোট
  2. জাহান্নম হইতে বিদায়
  3. নিষিদ্ধ লোবান
  4. প্রদোষে প্রাকৃতজন
সঠিক উত্তর:
নিষিদ্ধ লোবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা

‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস:
- সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস হলো ‘নিষিদ্ধ লোবান’।
- মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে ‘নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১) উপন্যাসে।
- এই উপন্যাসটি বীরাঙ্গনা ও এক কিশোরের মুক্তিযুদ্ধের গল্প।
- এর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র- বিলকিস, সিরাজ প্রমুখ।
- ‘নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’।

অন্যদিকে,
 - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
- শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস 'জাহান্নম হইতে বিদায়'।
- 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' (১৯৮৪) শওকত আলী রচিত একটি উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য, লাইভ এমসিকিউ [লিঙ্ক]।

৭,৩৮৪.
'পাগলা দাশু' গল্পগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2.  সুকুমার রায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
 সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা

'পাগলা দাশু' গল্পগ্রন্থ:
- পাগলা দাশু সুকুমার রায়ের সৃষ্টি একটি কল্পিত ও হাস্যরসাত্মক চরিত্র।
- এই গল্পগ্রন্থটি মূলত শিশুদের জন্য লেখা।
- এই গল্পগুলোতে স্কুলজীবনকে কেন্দ্র করে দাশু নামের এক দুষ্টু, অদ্ভুত কিন্তু অত্যন্ত বুদ্ধিমান ছেলের নানা কাণ্ডকারখানা তুলে ধরা হয়েছে।
- তার অস্বাভাবিক চিন্তাভাবনা, বিচিত্র পরিকল্পনা ও অবাস্তব আচরণ বন্ধু ও শিক্ষকদের বিস্মিত করে এবং পাঠকের মনে গভীর হাস্যরসের জন্ম দেয়।
- দাশুর এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সুকুমার রায় প্রচলিত সামাজিক নিয়ম ও ভাবনাকে সূক্ষ্ম ব্যঙ্গের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। -
- কল্পনা ও সৃজনশীলতায় ভরপুর এই গল্পগুলো শিশুদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ভাবনার জগৎকে উন্মুক্ত করে।
- ‘পাগলা দাশু’ বাংলা শিশু সাহিত্যে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

সুকুমার রায়:
- সুকুমার রায় জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায়।
- তাঁর পিতা ছিলেন বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী,
- আর তাঁর পুত্র ছিল সত্যজিৎ রায়- বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা।
- তিনি বাংলা শিশুসাহিত্যের ইতিহাসে ‘ননসেন্স ছড়া’- এর জনক হিসেবে অমর।

• তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ‘আবোল তাবোল’ ও
- ‘খাই খাই’।

উৎস: 
বাংলাপিডিয়া; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৩৮৫.
কোনটি মর্সিয়া সাহিত্য?
  1. ক) মধুমালতী
  2. খ) চন্দ্রাবতী
  3. গ) লায়লী-মজনু
  4. ঘ) জঙ্গনামা
সঠিক উত্তর:
ঘ) জঙ্গনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জঙ্গনামা
ব্যাখ্যা
জঙ্গনামা  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বিশেষত  হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।
- তাই আরবি-ফারসি সাহিত্যে যেমন, বাংলা সাহিত্যেও তেমনি ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
- কারবালা-কেন্দ্রিক কাব্যের অপর নাম মর্সিয়া সাহিত্য।
- আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক। শোকবিষয়ক রচনাকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়।
- অতএব জঙ্গনামা ও মর্সিয়া সাহিত্যের মধ্যে বিষয়গত মিল থাকলেও আঙ্গিক ও রসগত পার্থক্য আছে।
- জঙ্গনামা ও মর্সিয়া সাহিত্য প্রথমত আরবে, পরে পারস্যে বিকাশ লাভ করে এবং মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে এ সাহিত্যধারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- বাংলায় এ কাব্যধারা মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত প্রচলিত ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৮৬.
নিচের কোনটি আধুনিকতার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) মানবতা
  2. খ) স্বদেশপ্রেম
  3. গ) রোমান্টিকতা
  4. ঘ) দেহজপ্রেম
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেহজপ্রেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেহজপ্রেম
ব্যাখ্যা
আধুনিকতার বৈশিষ্ট্য: মানবিকতা, দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ, ব্যক্তিচেতনা, সমাজচেতনা, রোমান্টিকতা, মৌলিকতা, মুক্তবুদ্ধি, নাগরিকতা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৭,৩৮৭.
‘কালকূট’ নামে লেখেন কোন সাহিত্যিক?
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. সমরেশ বসু
  4. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
সমরেশ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - 'কালকূট'।

অন্যদিকে,
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম লীলাময় রায়।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- নীহারিকা দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৮৮.
বাংলা গদ্যরীতিকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায়:
• যে যুগে বাংলা গদ্যে প্রাঞ্জলতা ছিল একান্ত দুর্লভ, তখন রাজা রামমোহন রায় গদ্যে প্রাঞ্জল ভাষারীতি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
• বাংলা গদ্যরীতিকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪-১৮৩৩)।
• তাঁর বলিষ্ঠ হাতে বাংলা গদ্য বিচার-বিশ্লেষণে উচ্চতর চিন্তাধারার প্রকাশের বাহন হিসেবে অপরিসীম গুরুত্ব লাভ করে।
• রাজা রামমোহন রায় বাংলা রচনায় যে গদ্যরীতি ব্যবহার করেছেন তাতে বিশেষ কোন প্রকার রীতির প্রতি তিনি দৃষ্টিপাত করেন নি। তাই বলা যায়, তাঁর গদ্যরীতি সাহিত্যরসমণ্ডিত না হলেও তাতে উপযোগিতা থাকায় অপরিসীম গুরুত্ব লাভ করে।

• কবি ঈশ্বর গুপ্ত তাঁর ভাষারীতির সমালোচনা করতে গিয়ে মন্তব্য করেছেন-

‘দেওয়ানজি জলের ন্যায় সহজ ভাষা লিখিতেন, তাহাতে কোন বিচার ও বিবাদঘটিত বিষয় লেখায় মনের অভিপ্রায় ও ভাব সকল অতি সহজে স্পষ্টরূপে প্রকাশ পাইত, এ জন্যে পাঠকেরা অনায়াসেই হৃদয়ঙ্গম করিতেন, কিন্তু সে লেখায় শব্দের বিশেষ পারিপাট্য ও তাদৃশ মিষ্টতা ছিল না’।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৩৮৯.
‘নক্ষত্রের রাত’ নাটকটির রচয়িতা -
  1. মামুনুর রশীদ
  2. সাঈদ আহমদ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• ‘নক্ষত্রের রাত’ নাটকটির রচয়িতা - হুমায়ূন আহমেদ
- এটি ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয়।

হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' (১৯৭২)।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- নক্ষত্রের রাত,
- এই সব দিনরাত্রি,
- বহুব্রীহি,
- অয়োময়, 
- কোথাও কেউ নেই ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; ‘নক্ষত্রের রাত’ নাটক, হুমায়ূন আহমেদ।
৭,৩৯০.
'মাটির দেয়াল' ও ‘খসড়া’ কাব্যগ্রন্থগুলোর কবি-
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ।  
অমিয় চক্রবর্তী একজন শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।  
তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন।  
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
খসড়া,
এক মুঠো, 
মাটির দেয়াল,
অভিজ্ঞান বসন্ত
অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনা- 
চলো যাই 
সাম্প্রতিক 
পুরবাসী 
পথ অন্তহীন ইত্যাদি 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।]
৭,৩৯১.
সুফিয়া কামাল কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. বাসন্তী
  2. বেগম
  3. কালি ও কলম 
  4. কবিতা
সঠিক উত্তর:
বেগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম
ব্যাখ্যা

• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী ও সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম 'ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন'-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে 'মহিলা সংগ্রাম পরিষদ' (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৩৯২.
কার মতে চর্যাপদের ভাষা বঙ্গকামরূপী?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বিষয়ক আলোচনা:
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। 
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
- চর্যায় নাসিক্যধ্বনির প্রাধান্য ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে কেউ কেউ এ ভাষাকে পশ্চিমবঙ্গের মনে করেন। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্'র মতে চর্যার ভাষাকে প্রাচীন বাংলা কিংবা প্রাচীন বঙ্গকামরূপী ভাষা বলাই সঙ্গত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৩৯৩.
"মেঘনাদবধ" কাব্যের খলনায়ক চরিত্র কোনটি?
  1. রাবণ
  2. বিভীষণ
  3. রাম
  4. মেঘনাদ
সঠিক উত্তর:
রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাম
ব্যাখ্যা
• "মেঘনাদবধ" কাব্য:
- 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। এটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর কৃতি এবং তাঁর রচিত দ্বিতীয় কাব্য। 
- সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণের ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালের সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন মহাকাব্যটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।

কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র হলো:
- রাবণ,
- মেঘনাদ,
- লক্ষ্মণ,
- রাম,
- প্রমীলা,
- বিভীষণ,
- সীতা,
- সরমা ইত্যাদি।

উৎস: "মেঘনাদবধ" কাব্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৯৪.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী' প্রকাশিত হয় কোন সালে?
  1. ১৯২১
  2. ১৯২৯
  3. ১৯৩১
  4. ১৯৩৫
সঠিক উত্তর:
১৯২৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৯
ব্যাখ্যা
• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো: 
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

এছাড়াও, 
'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস। 
৭,৩৯৫.
'খােয়াবনামা' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি-
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. ছোটগল্প
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস একজন কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস

উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭),
- খােয়াবনামা (১৯৯৬)।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস

ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর (১৯৭৬),
- খোয়ারি (১৯৮২),
- দুধভাতে উৎপাত (১৯৮৫),
- দোজখের ওম (১৯৮৯)।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।]
৭,৩৯৬.
'কোহিনূর' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন কে?
  1. মোজাম্মেল হক
  2. শেখ আবদুর রহিম
  3. মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'কোহিনুর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - 'মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী'।

অন্যদিকে,
• মোজাম্মেল হক এর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়- 'মোসলেম ভারত' পত্রিকা। 
• হাফেজ, মিহির ও সুধাকর এই তিনটি পত্রিকারই সম্পাদক শেখ আবদুর রহিম।
• মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় 'হিতকরী' পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 
৭,৩৯৭.
শিশু-কিশোর গল্প 'সাতটি তারার ঝিকিমিকি' রচনা করেন কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. জাহানারা ইমাম
  3. সুকুমার সেন
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৩৯৮.
সমরেশ বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. সুবচনী
  2. জাবালি
  3. কালকূট
  4. বাণভট্ট
সঠিক উত্তর:
কালকূট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালকূট
ব্যাখ্যা
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - কালকূট।

অন্যদিকে, 
• সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - সুবচনী। 
• বিমল মিত্রের ছদ্মনাম - জাবালি। 
• নীহাররঞ্জন গুপ্তের ছদ্মনাম - বাণভট্ট। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৩৯৯.
'প্রতিদিন' - কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) বিষ্ণু দে
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ -'প্রতিদিন'
১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম। পিতা হীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন বিশিষ্ট দার্শনিক। প্রসিদ্ধ গায়িকা রাজেশ্বরী বাসুদেব তাঁর স্ত্রী।

• সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- কাব্য তন্বী
- অর্কেস্ট্রা
- ক্রন্দসী
- উত্তরফাল্গুনী
- সংবর্ত
- দশমী
- গদ্যগ্রন্থ স্বগত
- কুলায় ও কালপুরুষ
এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪০০.
ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমিকায় লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) ভূমিপুত্র
  2. খ) মাটির জাহাজ
  3. গ) কাঁটাতারে প্রজাপতি
  4. ঘ) চিলেকোঠার সেপাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) চিলেকোঠার সেপাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রথম উপন্যাস - চিলেকোঠার সেপাই
- এই উপন্যাসের পটভূমি ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালে।
- খোয়াবনামা - তাঁর রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস।
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল ও দুধভাতে উৎপাত - তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।