বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৭৩ / ২১১ · ৭,২০১৭,৩০০ / ২১,১৩২

৭,২০১.
'রুবি ও মোয়াজ্জেম' চরিত্র দুটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. কুহেলিকা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. ব্যথার দান
  4. বাঁধন-হারা
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুক্ষুধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুক্ষুধা
ব্যাখ্যা

• মৃত্যু-ক্ষুধা:
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের অন্যতম কালজয়ী উপন্যাস।
- এটি রচনা হয় ১৯২৭-১৯৩০ সালের মধ্যে এবং ধারাবাহিকভাবে সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয় (অগ্রহায়ণ ১৩৩৪ – ফাল্গুন ১৩৩৬)।
- এটি একটি সামাজিক উপন্যাস, যা মূলত দারিদ্র্য, ক্ষুধা, ধর্মান্তরণ, সাম্যবাদী চেতনা এবং নিম্নবিত্ত মানুষের সংগ্রামী জীবনের ছবি ফুটিয়ে তোলে।
- উপন্যাসটি নজরুলের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রচিত।
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: রুবি, আনসার, মোয়াজ্জেম প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,২০২.
'প্রতিশোধ' উপনাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. গ) নবীনচন্দ্র সেন
  4. ঘ) মামুনুর রশিদ
সঠিক উত্তর:
খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সম্পাদক ছিলেন। প্রেমেন্দ্র মিত্র কল্লোল (১৯২৩) পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন। পরে মুরলীধর বসুর সহযোগিতায় কালিকলম (১৯২৬) পত্রিকা সম্পাদনা করেন। তাঁর রচিত উপন্যাস- পাঁক, কুয়াশা, মিছিল, উপনয়ন, আগামীকাল, প্রতিশোধ, প্রতিধ্বনি ফেরে, অন্য এক নাম, পা বাড়ালেই রাস্তা, পতাকা যারে দাও, স্তব্ধ প্রহর, মনুদ্বাদশ, যিনি বিধাতা, সেই যে শহর রাজোলি। উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,২০৩.
গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. শ্রীচৈতন্য
  3. জয়দেব
  4. চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি বিদ্যাপতি। বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ এবং ‘কবীন্দ্র’ উপাধি দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২০৪.
রফিক আজাদের 'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে?
  1. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  2. সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে
  3. কোনো খেদ নেই
  4. অপর অরণ্যে
সঠিক উত্তর:
সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে
ব্যাখ্যা
'ভাত দে হারামজাদা', কবিতার রচয়িতা - রফিক আজাদ।
- কবিতাটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

-------------------
• রফিক আজাদ:

- রফিক আজাদ ছিলেন একজন বাংলাদেশি আধুনিক কবি। তিনি টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল- জীবন।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ২০১৩ সালে তিনি সাহিত্যে একুশে পদক লাভ করেন। 
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- হৃদয়ের কি বা দোষ,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২০৫.
'আঠারো শতকের বাংলা চিঠি' - গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) মাহমুদুল হক
  3. গ) মুস্তাফা নূরউল ইসলাম
  4. ঘ) আনিসুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
ঘ) আনিসুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• আনিসুজ্জামান
- বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের জন্ম ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি।
- ঢাকা বিভাগের বাংলা বিভাগের এমিরিটাস প্রফেসর ছিলেন।

• তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ গুলো হলো:
- মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- মুসলিম বাংলার সাময়িকপত্র,
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- পুরোনো বাংলা গদ্য,
- সাহিত্যে ও সমাজে,
- পূর্বগামী,
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
৭,২০৬.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পন্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার কতটি বাংলা পুস্তক লিখেছিলেন?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
গ) ৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এর সমসাময়িক সময়ে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন। 
তাদের মধ্যে সর্বাধিক পুস্তকের রচয়িতা কলেজের সংস্কৃত পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
তিনি মোট ৫টি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকা অবস্থায় কলেজের পন্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ৪টি বাংলা পুস্তক লিখেছিলেন।
সেগুলো হচ্ছে- 
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- রাজাবলী (১৮০৮) এবং
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)।

এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন বেদান্তচন্দ্রিকা
- এসব গদ্য প্রায় সবই অনুবাদমূলক।
- তা সত্ত্বেও তাঁর রচনা-রীতির কারণে অনেকটা মৌলিক রূপ লাভ করেছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২০৭.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মহিলা কবি কে?
  1. রহিমুন্নেসা
  2. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. নুরুন্নেসা
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
রহিমুন্নেসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রহিমুন্নেসা
ব্যাখ্যা

• কবি রহিমুন্নেসা:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম মহিলা — কবি রহিমুন্নেসা।
- কবি রহিমুন্নেসা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একমাত্র মুসলিম মহিলা কবি। ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক এই মহিলা কবির (আবির্ভাবকাল) ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ নির্ধারণ করেন। 
- তিনি (১৮শ শতক) বা অন্ত্যমধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর রচিত  লায়লী-মজনু কাব্যে সে সময়কার বাংলা ভাষার বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়।

অন্যদিকে, 
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।

• নুরুন্নেসা খাতুন (১৮৯৪-১৯৭৫) - প্রথম মুসলিম মহিলা ঔপন্যাসিক।

• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল মূলত একজন কবি।
- তিনি বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামাল বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তিনি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প সৈনিক বধূ ১৯২৩ সালে বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,২০৮.
'চারুলতা' কোন ছোটগল্পের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. নষ্টনীড়
  2. সমাপ্তি
  3. ভিখারিনী 
  4. দেনাপাওনা
সঠিক উত্তর:
নষ্টনীড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নষ্টনীড়
ব্যাখ্যা

• 'চারুলতা' রবীন্দ্রনাথের 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের চরিত্র। 

• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত।
- এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের 'চারুলতা' নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।

• আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- বাংলাদেশের শাহজাদপুর,  পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোট গল্পগুলো হল:
- ভিখারিণী ,
- দেনা পাওনা ,
- মনিহারা ,
- পোস্টমাস্টার,
- এক রাত্রি ,
- ক্ষুধিত পাষাণ ,
- স্ত্রীর পত্র ,
- নষ্টনীড়,
- কাবুলিওয়ালা ,
- হৈমন্তী ,
- মুসলমানীর গল্প । 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,২০৯.
"তাহারেই পড়ে মনে" কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. মাসিক মোহাম্মদী
  2. সাধনা
  3. পূর্বাশা
  4. কল্লোল
সঠিক উত্তর:
মাসিক মোহাম্মদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা

"তাহারেই পড়ে মনে" কবিতা:
- "তাহারেই পড়ে মনে" কবিতাটি ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ কবিতায় প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাৎপর্যময় অভিব্যক্তি পেয়েছে।

সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৭,২১০.
প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. সনেট পঞ্চাশৎ
  2. পদাচারণ
  3. বীরবলের হালখাতা
  4. নীললোহিত
সঠিক উত্তর:
নীললোহিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীললোহিত
ব্যাখ্যা
প্রমথ চোধুরী:
- তিনি ছিলেন চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তেল নুন লকড়ি - প্রমথ চৌধুরীর একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- সনেট পঞ্চাশৎ
- পদাচারণ।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- চার ইয়ারী কথা।
- আহুতি।
- নীললোহিত
- গল্পসংগ্রহ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি,
-  বীরবলের হালখাতা,
- The Story of Bengali Literature.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২১১.
কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. কবিতা
  2. সমকাল
  3. পূর্বাশা
  4. ক্রান্তি
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি। পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২১২.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) শ্রীকান্ত
  2. খ) চন্দ্রশেখর
  3. গ) মণ্ডিত মশাই
  4. ঘ) বিপ্রদাস
সঠিক উত্তর:
খ) চন্দ্রশেখর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চন্দ্রশেখর
ব্যাখ্যা
প্রশ্নের অপশনে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস পন্ডিতমশাই এর পরিবর্তে ভুলক্রমে মণ্ডিতমশাই চলে এসেছিল। 
যেহেতু প্রশ্নের অপশনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস চন্দ্রশেখর দেওয়া ছিল, তাই একে সঠিক উত্তর হিসেবে নেওয়া হয়েছে। 
 
'চন্দ্রশেখর'(১৮৭৫) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। 
- প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মীর কাসিমের সাথে ইংরেজদের সংগ্রাম। 
উল্লেখযোগ্য চরিত্র: চন্দ্রশেখর, প্রতাপ, শৈবালিনী প্রমুখ। 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- শ্রীকান্ত
- বিপ্রদাস,  
পন্ডিতমশাই,
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পল্লী সমাজ, 
- দত্তা, 
- বামুনের মেয়ে, 
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২১৩.
একুশের প্রথম উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) আ ন ম গাজীউল হক
  3. গ) মাহবু-উল-আলম চৌধুরী
  4. ঘ) জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
ঘ) জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
একুশের প্রথম উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’।
- উপন্যাসটির রচয়িতা জহির রায়হান। 
- পঞ্চাশের দশকে এটি পত্রিকায় ছাপা হয়, বই আকারে বের হয় '৬৯ সালে। 
- শহিদ দিবস পালন, একুশের মিটিং-মিছিল, সরকারি বাধা, শহিদ মিনার নির্মাণসহ একুশের স্মৃতিবিজড়িত নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটি রচিত।

অন্যদিকে, 
- একুশের প্রথম নাটক কবর রচনা করেন মুনীর চৌধুরী।
- একুশের প্রথম কবিতা কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি রচনা করেন মাহাবুবুল আলম চৌধুরী।
-  একুশের প্রথম গানের রচনা করেন আ ন ম গাজীউল হক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।র
৭,২১৪.
‘মাটি থেকে মহীরুহ’ শামসুজ্জামান খান রচিত কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. রম্য-রচনা
  3. শিশুসাহিত্য
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• ‘মাটি থেকে মহীরুহ’ শামসুজ্জামান খান রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এটি ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• শামসুজ্জামান খান:

- শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মায়ের নাম শামসুন্নাহার খানম এবং বাবার নাম আবদুর রহমান খান।
- তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর এরং বাংলা একাডেমি’র মহাপরিচালক ছিলেন।
- তিনি অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার, কালুশাহ পুরস্কার, দীনেশচন্দ্র সেন ফোকলোর পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার , মীর মশাররফ হোসেন স্বর্ণপদক ইত্যাদি পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা প্রসঙ্গ,
- গণসঙ্গতি,
- মাটি থেকে মহীরুহ,
- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ প্রাসঙ্গিক কথকতা,
- ফোকলোরচর্চা।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য:
- দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২১৫.
'সেলিম আল দীন' ছিলেন মূলত একজন -
  1. ক) কবি
  2. খ) নাট্যকার
  3. গ) ঔপন্যাসিক
  4. ঘ) ক ও গ
সঠিক উত্তর:
খ) নাট্যকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাট্যকার
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন বাংলা সাহিত্যের প্রতিথযশা নাট্যব্যক্তিত্ব।

সেলিম আল দীন রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা, যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২১৬.
'বেদান্তগ্রন্থ' - কে লিখেছেন?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. রামরাম বসু
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

• বেদান্তগ্রন্থ:
- 'বেদান্তগ্রন্থ' (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা।
- বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

---------------------
রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম — ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় — 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,২১৭.
'সোজন বাদিয়ার ঘাট' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. কায়কোবাদ
  4. জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
• কবি জসীমউদদীনের কাহিনীকাব্য- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৩ সালে।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী, 
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২১৮.
'বিষাদ সিন্ধু' কত পর্বে রচিত?
  1. ২ পর্বে
  2. ৩ পর্বে
  3. ৫ পর্বে
  4. ৯ পর্বে
সঠিক উত্তর:
৩ পর্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ পর্বে
ব্যাখ্যা

• বিষাদ সিন্ধু:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,২১৯.
শওকত আলী রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. উন্মূল বাসনা
  2. উত্তরের খেপ
  3. উপরে ছাপ
  4. দলিল
সঠিক উত্তর:
উন্মূল বাসনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উন্মূল বাসনা
ব্যাখ্যা
শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উন্মূল বাসনা,
- লেলিহান স্বাদ,
- শুন হে লক্ষিন্দর,
- বাবা আপনে যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'পিঙ্গল আকাশ' উপন্যাস, শওকত আলী।
৭,২২০.
বালক 'অমল' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন নাটকের নায়ক চরিত্র?
  1. রক্তকরবী
  2. অচলায়তন
  3. তাসের দেশ
  4. ডাকঘর
সঠিক উত্তর:
ডাকঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাকঘর
ব্যাখ্যা

• 'ডাকঘর' নাটক':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক।
- বালক 'অমল' এই নাটকের নায়ক।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এর গদ্য লিরিক।"

'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমল,
- সুধা,
- ঠাকুর্দা প্রমুখ।

--------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রূপক-সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- ফাল্গুনী,
- মুক্তধারা,
- রক্তকরবী,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭,২২১.
প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কোনটি?
  1. বীরবল
  2. নবকুমার
  3. অনিলা দেবী
  4. ধুমকেতু
সঠিক উত্তর:
বীরবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরবল
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম হচ্ছে বীরবল। 

প্রমথ চৌধুরী 
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট, যশোরে প্রমথ চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের তুলনামূলক গবেষক ছিলেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক এবং বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হিসেবে খ্যাত।
- সাহিত্যিক ছদ্মনাম: বীরবল।
- প্রথমবার গদ্য/প্রবন্ধে চলিত রীতি প্রয়োগ করেন।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তক।
- মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকার সম্পাদক।
- মৃত্যু: ১৯৪৬, শান্তিনিকেতন।

অন্যদিকে,
- সত্যেন্দ্রনাথের সাহিত্যিক ছদ্মনাম নবকুমার। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম অনিলা দেবী। 
- কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যিক ছদ্মনাম ধুমকেতু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৭,২২২.
‘যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  2. খ) বদরুদ্দীন উমর
  3. গ) বন্দে আলী মিয়া
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
খ) বদরুদ্দীন উমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা
‘যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ’ গ্রন্থটির রচয়িতা বদরুদ্দীন উমর।

• বদরুদ্দীন উমর ১৯৩১ সালের ২০শে ডিসেম্বর পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমানে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো : 
- সাম্প্রদায়িকতা।
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা।
- পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ।
- যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ।
- যুদ্ধপূর্ব বাংলাদেশ।
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ।
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি।
- বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২২৩.
'তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আব্দুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা

• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা।

• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
-তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,২২৪.
'মাটি থেকে মহীরুহ' প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. শামসুজ্জামান খান
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. সমর সেন
  4. শহীদ কাদরী
সঠিক উত্তর:
শামসুজ্জামান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
শামসুজ্জামান খান রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - মাটি থেকে মহীরুহ।
- গ্রন্থটি ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।

শামসুজ্জামান খান:
- শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মায়ের নাম শামসুন্নাহার খানম এবং বাবার নাম আবদুর রহমান খান।
- তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি’র মহাপরিচালক হন।
-  তিনি অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার, কালুশাহ পুরস্কার, দীনেশচন্দ্র সেন ফোকলোর পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার , মীর মশাররফ হোসেন স্বর্ণপদক ইত্যাদি পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা প্রসঙ্গ, 
- গণসঙ্গতি, 
- মাটি থেকে মহীরুহ, 
- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ প্রাসঙ্গিক কথকতা, 
- ফোকলোরচর্চা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২২৫.
'বীরবল' — কার সাহিত্যিক ছদ্মনাম?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  4. সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী'র সাহিত্যিক ছদ্মনাম — বীরবল।

অন্যান্য অপশন:
• প্রেমেন্দ্র মিত্রের সাহিত্যিক ছদ্মনাম - কৃত্তিবাস ভদ্র।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ‘বনফুল’ ছদ্মনামে পরিচিত।
• সমরেশ বসুর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - কালকূট।

--------------------
• প্রমথ চৌধুরী:

প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।

- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- তিনি ২রা সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৭,২২৬.
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।" - পদটির রচয়িতা কে?
  1. শান্তিপা
  2. শবরপা
  3. চাটিল্লপা
  4. আর্যেবপা
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

• 'শবরপা' রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২২৭.
কত বঙ্গাব্দে 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৩১৪ বঙ্গাব্দে
  2. খ) ১৩১৮ বঙ্গাব্দে
  3. গ) ১৩২১ বঙ্গাব্দে
  4. ঘ) ১৩২৪ বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৩২১ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৩২১ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সবুজপত্র পত্রিকা। 

- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২২৮.
জীবনানন্দ দাশের কোন কবিতায় অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে?
  1. বনলতা সেন
  2. মহাপৃথিবী
  3. হায় চিল
  4. ধূসর পাণ্ডুলিপি
সঠিক উত্তর:
বনলতা সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনলতা সেন
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।

- তিনি ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।

- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।

- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ,
- বিভা,
- জলপাইহাটি,
- কল্যাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,২২৯.
নিচের কোনটি বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থ নয়?
  1. ক) ব্রজবিলাস
  2. খ) রত্নপরীক্ষা
  3. গ) অতি অল্প হইল
  4. ঘ) বাঙ্গালার ইতিহাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাঙ্গালার ইতিহাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাঙ্গালার ইতিহাস
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিকগ্রন্থ গুলো হলো- প্রভাবতী সম্ভাষণ, ব্যাকরণ কৌমুদী, শব্দ মঞ্জুরী, বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব, অতি অল্প হইল, আবার অতি অল্প হইল, ব্রজবিলাস, রত্নপরীক্ষা ইত্যাদি। বাঙ্গালার ইতিহাস মৌলিক গ্রন্থ নয় মার্শম্যানের 'হিস্টরি অফ বেঙ্গল' গ্রন্থের অনুবাদ। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৭,২৩০.
পৌরাণিকধারার মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ধারায় বিভক্ত করা হয়। যথা:
১. খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা,
২. বিশুদ্ধ পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা।

• খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর) ও ধর্মমঙ্গল। অপ্রধান শ্রেণি হিসেবে: সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,২৩১.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) তরঙ্গভঙ্গ (নাটক)
  2. খ) মহাশ্মশান (নাটক)
  3. গ) সোজন বাদিয়ার ঘাট (উপন্যাস)
  4. ঘ) কাঁদো নদী কাঁদো (কাব্য)
সঠিক উত্তর:
ক) তরঙ্গভঙ্গ (নাটক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তরঙ্গভঙ্গ (নাটক)
ব্যাখ্যা
'তরঙ্গভঙ্গ' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক।  

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি 'ভোরের আলো' নামের হাটে লেখা পত্রিকা সম্পাদন করেন।
তাঁর রচনা সমূহ:
উপন্যাস:
- লালসালু
- চাঁদের আমাবস্যা
- কাঁদো নদী কাঁদো
- দি আগলি এশিয়ান

গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প

নাটক:
- বহিপীর
- তরঙ্গভঙ্গ
- সুড়ঙ্গ
- উজানে মৃত্যু

অন্যদিকে,
কবি জসীম উদদীনের কাহিনীকাব্য- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস- কাঁদো নদী কাঁদো,
'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৩২.
'বীরাঙ্গনা' পত্রকাব্যে মোট কতটি পত্র রয়েছে?
  1. ১১টি
  2. ১৩টি
  3. ১৮টি
  4. ২২টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা

• বীরাঙ্গনা কাব্য:
- ‘বীরাঙ্গনা কাব্য পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।
- রোমান কবি পাবলিসাস ওভিডিয়াস ন্যাসো সংক্ষেপে ওভিদের ‘হেরোইদাইস' কাব্যের অনুসরণে এই গ্রন্থ রচিত।
- এখানে মোট এগারটি পত্ৰ আছে।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্কুলজীবনের শেষে তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।
- এই কলেজে অধ্যয়নকালে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ জন্মে।
- ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। তখন তাঁর নামের প্রথমে যোগ হয় 'মাইকেল'।
- পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তীব্র আবেগ তাঁকে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনায় উদ্‌বুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে জীবনের বিচিত্র কষ্টকর অভিজ্ঞতায় তাঁর এই ভুল ভেঙেছিল।
- বাংলা ভাষায় কাব্যরচনার মধ্য দিয়ে তাঁর কবিপ্রতিভার যথার্থ স্ফূর্তি ঘটে।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।

- তাঁর অন্যান্য কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,২৩৩.
'গৌড়তটবাসী মশা' কোন সাহিত্যিক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন 
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন 
ব্যাখ্যা

•  মীর মশাররফ হোসেনর ছদ্মনামগুলো:
- গৌড়তটবাসী মশা,
- গাজী মিয়া এবং
- উদাসীন পথিক।

অন্যদিকে,
- বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল - ক্বচিৎ প্রৌঢ়৷
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় 'নীললোহিত', 'সনাতন পাঠক', 'নীল উপাধ্যায়' ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ব্যবহৃত ছদ্মনাম কস্যচিৎ “উপযুক্ত ভাইপোস্য'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৭,২৩৪.
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
  2. খ) এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ
  3. গ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  4. ঘ) ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পােরতুগিজ
সঠিক উত্তর:
খ) এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ
ব্যাখ্যা
নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড (১৭৫১-১৮৩০)-
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড৷ তার রচিত গ্রন্থটির নাম 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' (১৭৭৮)। গ্রন্থটি মূলত ইংরেজী ভাষায় রচিত। তবে দৃষ্টান্ত দেবার সময় এর কিছু অংশ বাংলা লিপিতে মুদ্রিত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৭,২৩৫.
কাজী নজরুল ইসলামের নামের সাথে জড়িত ধুমকেতু কোন ধরনের প্রকাশনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) পত্রিকা
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) ছােটগল্প
সঠিক উত্তর:
খ) পত্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পত্রিকা
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল সম্পাদিত পত্রিকা- দৈনিক নবযুগ (১৯২০), ধূমকেতু (১৯২২), লাঙল।
কাজী নজরুল ইসলামের নামের সাথে সম্পর্কিত 'ধূমকেতু' 'কবিতা/কাব্য' এবং 'পত্রিকা '। 
'ধূমকেতু' কবিতাটি নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'-এর অন্তর্গত। 
 
 
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৭,২৩৬.
সৈয়দ শামসুল হক কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুড়িগ্রাম
  2. রংপুর
  3. নীলফামারী
  4. গাইবান্ধা
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- তাঁর জীবনের প্রথম মঞ্চনাটক- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’।
- ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ তাঁর মঞ্চসফল অপর একটি নাটক।
- তাঁর রচিত ‘রক্ত গোলাপ’ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে প্রথম জাদুবাস্তবতা নিয়ে আসে পাঠকের কাছে। 

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নূরলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ: 
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,২৩৭.
বিখ্যাত 'মহেশ' ছোটগল্পটি রচনা করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'মহেশ' ছোটগল্প:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সার্থক ছােটগল্প ‘মহেশ'।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- গল্পের চরিত্র: গফুর, আমেনা, মহেশ, তর্করত্ন, জমিদার শিববাবু প্রমুখ।
- এ গল্পে 'মহেশ' একটি ষাঁড়ের নাম।

রৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'মহেশ' গল্প।
৭,২৩৮.
বাংলা গদ্যের আদি নিদর্শন কোনটি?
  1. ক) চর্যাপদ
  2. খ) কোচবিহার রাজের লেখা চিঠি
  3. গ) শেখ শুভোদয়া
  4. ঘ) নরোত্তম দাসের দেহ কড়চা
সঠিক উত্তর:
খ) কোচবিহার রাজের লেখা চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কোচবিহার রাজের লেখা চিঠি
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের কিছু দলিলে বাংলা গদ্যের আদিরূপ পাওয়া যায় এবং কিছু চিঠিতেও রয়েছে তার ছোঁয়া।
এরকম একটি চিঠি হচ্ছে - কুচবিহারের মহারাজা নরনারায়ণের। তিনি এ-মূল্যবান চিঠিটি লিখেছিলেন - অহোমরাজ স্বর্গদেবকে; ১৫৫৫ অব্দে।
চর্যাপদ - বাংলা সাহিত্যেরই আদি নিদর্শন। এটি কাব্যের নিদর্শন।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

৭,২৩৯.
'মুনিম' ও 'আসাদ' চরিত্র দুটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. শেষ বিকেলের মেয়ে
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. বরফ গলা নদী
  4. হাজার বছর ধরে
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা

'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:  
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি।
- এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
 
জহির রায়হান রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,২৪০.
ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গ্রন্থ - 
  1. ব্যাকরণ ও ভাষা 
  2. শব্দতত্ত্ব
  3. ধ্বনিপরিচয়
  4. বর্ণপরিচয় 
সঠিক উত্তর:
শব্দতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• 'শব্দতত্ত্ব' গ্রন্থ:
- শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গ্রন্থ হলো- 'শব্দতত্ত্ব'।
- 'শব্দতত্ত্ব' বইটিতে রবীন্দ্রনাথের প্রায় সারাজীবনের ভাষাচিন্তা, মতান্তর, বিশ্লেষণ-প্রবণতা, ধারণার বিবর্তন ইত্যাদি মুদ্রিত হয়ে আছে।
- মূলত এখানে বাংলাভাষার স্বভাব ও স্বাতন্ত্র্য আবিষ্কারের চেষ্টা করা হয়েছে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- সভ্যতার সংকট,
- মানুষের ধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,২৪১.
'সিংহল সমুদ্র হতে নিশিথের অন্ধকারে মালয় সাগরে, সেখানেও ছিলাম আমি' এটি কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. ক) সোনার তরী
  2. খ) বিদ্রোহী
  3. গ) বনলতা সেন
  4. ঘ) আমার স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
গ) বনলতা সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বনলতা সেন
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নোক্ত কবিতার লাইন - জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

বনলতা সেন
- জীবনানন্দ দাশ
"হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে , ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে - সব নদী - ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।"

জীবনানন্দ দাশের অন্যান্য কাব্য:
- ঝরা পালক,
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বেলা অবেলা কালবেলা,
- রূপসী বাংলা,
- মহাপৃথিবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বনলতা সেন কবিতা।
৭,২৪২.
নিচের কোনটি শরৎচন্দ্র এর উপন্যাস?
  1. ক) যোগাযোগ
  2. খ) শেষ প্রশ্ন
  3. গ) আরণ্যক
  4. ঘ) মাঝির ছেলে
সঠিক উত্তর:
খ) শেষ প্রশ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেষ প্রশ্ন
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্রের উপন্যাসঃ
- শেষ প্রশ্ন (১৯৩১),
- বড়দিদি (১৯০৭),
- পল্লী সমাজ (১৯১৬),
- দেবদাস (১৯১৭),
- চরিত্রহীন (১৯১৭),
- দত্তা (১৯১৮),
- গৃহদাহ (১৯২০),
- দেনা পাওনা (১৯২৩),
- পথের দাবী (১৯২৬)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর

৭,২৪৩.
বাংলায় টপ্পার প্রচলন হয় কত শতকে?
  1. সপ্তদশ শতকে
  2. অষ্টাদশ শতকে
  3. ঊবিংশ শতকে
  4. বিংশ শতকে
সঠিক উত্তর:
অষ্টাদশ শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টাদশ শতকে
ব্যাখ্যা
 টপ্পা:
- বাংলায় অষ্টাদশ শতকের শেষ ভাগ থেকে টপ্পার প্রচলন।
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধু (বাবু)।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে বহু সংগীতজ্ঞ সুললিত, অপূর্ব টপ্পা রচনা করে গেছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন রাধামোহন সেন, কালিকা মির্জা, শ্রীধর কথক, দাশরথী রায় বিশেষভাবে  উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৪৪.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের বড়াই কি ধরনের চরিত্র?
  1. শ্রী রাধার ননদিনী
  2. শ্রী রাধার শাশুড়ি
  3. রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী
  4. জনৈক গোপবালা
সঠিক উত্তর:
রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী
ব্যাখ্যা
• ‘বড়ায়ি’ চরিত্রটি ছিল রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী।

-------------------------
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য:

• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
• ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
• ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
• কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
• এ কাব্যের প্রধন তিনটি চরিত্র- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি। 

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো-
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৪৫.
শওকত আলী রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. ওয়ারিশ
  2. দলিল
  3. যেতে চাই
  4. লেলিহান স্বাদ
সঠিক উত্তর:
লেলিহান স্বাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেলিহান স্বাদ
ব্যাখ্যা
• শওকত আলী রচিত গল্পগ্রন্থ - লেলিহান স্বাদ
- এটি ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই
- ওয়ারিশ
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উন্মূল বাসনা,
- লেলিহান স্বাদ,
- শুন হে লক্ষিন্দর,
- বাবা আপনে যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; পিঙ্গল আকাশ, শওকত আলী।
৭,২৪৬.
নিম্নে কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম?
  1. নীহারিকা দেবী
  2. শ্রীমতী মধ্যমা
  3. অনিলা দেবী
  4. সুমিত্রা দেবী
সঠিক উত্তর:
শ্রীমতী মধ্যমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীমতী মধ্যমা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম= শ্রীমতী মধ্যমা।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- এগুলো হলো:
- ভানুসিংহ ঠাকুর;
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর;
- আন্নাকালী পাকড়াশী;
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য;
- নবীনকিশোর শর্মণ;
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা;
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ;
- শ্রীমতী কনিষ্ঠা;
- শ্রীমতী মধ্যমা;

অন্যদিকে,
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'অনিলা দেবী'।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- 'নীহারিকা দেবী'।
- মহাশ্বেতা দেবীর ছদ্মনাম- সুমিত্রা দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৭,২৪৭.
বাংলা সাহিত্যে “কালকূট” নামে পরিচিত কোন লেখক?
  1. সমরেশ মজুমদার
  2. শওকত ওসমান
  3. সমরেশ বসু
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
সমরেশ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা
• ‘কালকূট’ সমরেশ বসু ব্যবহৃত সাহিত্যিক ছদ্মনাম।

বাংলা সাহিত্যের কয়েকজন লেখক ও তাদের ছদ্মনাম:
• প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম - বীরবল।
• প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
• সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।
• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
• বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো - যাযাবর।
• সৈয়দ মুজতবা আলী এর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী।
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম - নীল লোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৪৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক প্রহসন কোনটি?
  1. ক) সধবার একাদশী
  2. খ) বিয়ে পাগলা বুড়ো
  3. গ) বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. ঘ) একেই কি বলে সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) একেই কি বলে সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) একেই কি বলে সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দের ৮ মে’র পরে প্রহসন লেখা আরম্ভ করেন এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তা শেষ করেন। প্রথমে একেই কি বলে সভ্যতা এবং এটি শেষ করেই বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ রচনা করেন। প্রহসন দুটি বেলগাছিয়া নাট্যশালায় অভিনয়ের উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল। ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকে পাইকপাড়া রাজাদের ব্যয়ে প্রহসন দুটি প্রকাশিত হয়।
৭,২৪৯.
'হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও' কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. ক) সমাচার দর্পণ
  2. খ) ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান
  3. গ) পূর্বাশা
  4. ঘ) ক্রান্তি
সঠিক উত্তর:
খ) ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান
ব্যাখ্যা
• 'হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও' ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- ডিরোজিওর পূর্ণ নাম- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৫০.
কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন কে?
  1. দ্বিজরামদেব
  2. কাশীরাম দাস
  3. মুক্তরাম সেন
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
• রামরাম বসু:
- তিনি ১৭৫৭ সালে হুগলির চুঁচুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৮০১ সালের মে মাসে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে কেরীর অধীনে বাংলা বিভাগের সূচনা হলে, রামরাম বসু সেখানে সহকারী মুনশি হিসেবে নিযুক্ত হন।
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।
- এই গ্রন্থটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।
- তাঁর আরেকটি বিখ্যাত গ্রন্থ 'লিপিমালা' (১৮০২)।
- তিনি ১৮১৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৫১.
কোন লেখক লোকসাহিত্যকে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. জসীম উদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- লােকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।
- লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন - 'ছড়া'।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,২৫২.
'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা কোথায় থেকে প্রকাশিত হতো?
  1. চট্টগ্রাম
  2. রংপুর
  3. ঢাকা
  4. কলকাতা
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা
'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
- পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,২৫৩.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
⇒ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,২৫৪.
প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. তাঁর আদিনিবাস বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলায়।
  2. তিনি ননসেন্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা।
  3. 'হ য ব র ল' এবং 'খাই-খাই' তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য।
  4. তিনি 'সন্দেশ'পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
সঠিক উত্তর:
তিনি 'সন্দেশ'পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি 'সন্দেশ'পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
ব্যাখ্যা
সুকুমার রায়
- উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ও ভারতীয় সাহিত্যে "ননসেন্স ছড়া"র প্রবর্তক। 
- তাঁর জন্ম হয় ৩০ অক্টোবর ১৮৮৭ সালে কলকাতায়।
- তাঁর আদিনিবাস বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার (বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলা) কটিয়াদি উপজেলার মসূয়া গ্রামে।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- 'সন্দেশ'পত্রিকার সম্পাদক থাকাকালীন তার লেখা ছড়া, গল্প ও প্রবন্ধ আজও বাংলা শিশুসাহিত্যে মাইলফলক হয়ে আছে। 
- 'সন্দেশ'পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন তাঁর পিতা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।
- প্রেসিডেন্সী কলেজে পড়বার সময় তিনি ননসেন্স ক্লাব নামে একটি সংঘ গড়ে তুলেছিলেন। 
- এই ক্লাবের মুখপাত্র সাড়ে-বত্রিশ-ভাজা পত্রিকাতেই তার আবোল-তাবোল ছড়ার চর্চা শুরু।
- ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে কালাজ্বরে (লেইশ্মানিয়াসিস) আক্রান্ত হয়ে মাত্র পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে সুকুমার রায় মৃত্যুবরণ করেন।

রচনাবলি: 
- আবোল তাবোল, 
- পাগলা দাশু, 
- হেশোরাম হুশিয়ারের ডায়েরি, 
- খাই-খাই, 
- অবাক জলপান, 
- লক্ষ্মণের শক্তিশেল, 
- ঝালাপালা ও অনান্য নাটক, 
- হ য ব র ল, 
- শব্দ কল্প দ্রুম ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২. বাংলাপিডিয়া।
৭,২৫৫.
নিচের কোনটি বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. নিসর্গ
  2. অনুরাগ
  3. বন্ধু বিয়োগ
  4. স্বপ্নদর্শন
সঠিক উত্তর:
অনুরাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুরাগ
ব্যাখ্যা
বাংলা গীতিকবিতার ধারার ‘ভোরের পাখি’ বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত
- শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ
- সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী। 

তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থঃ সারদা মঙ্গল। 
বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতার  গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’
অন্যদিকে,
বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ ‘অনুরাগ’

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।]
৭,২৫৬.
‘একাত্তরের যীশু' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) শাহরিয়ার কবির
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) মামুনুর রশীদ
সঠিক উত্তর:
খ) শাহরিয়ার কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শাহরিয়ার কবির
ব্যাখ্যা
একাত্তরের যীশু :
- ছোট গল্প লিখেছেন শাহরিয়ার কবির।
- একাত্তরের যীশু নামের গল্পটি প্রথম ছাপা হয়  ১৯৭৩ সালে দৈনিক বাংলা পত্রিকায়।
- তারপর বাংলা একাডেমীর একটা সংকলনে সবশেষে বইয়ে ছাপা হয়েছে ১৯৮৫ সালে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একটি শান্ত-সুনিবিড় জনপদকে ঘিরে রচিত হয়েছে 'একাত্তরের যিশু'।
- উপার্জন আর গির্জায় প্রার্থনায় সময় কাটানো মানুষগুলোর জীবনে যুদ্ধ বিহ্বলতা ও নৃশংসতা নিয়ে হাজির হয়।
- দ্রুত বদলে যায় তাদের অভ্যস্ত দৃশ্যপট।
- হানাদারদের রোষানলে পড়ার ভয় থাকলেও দূরান্ত থেকে আসা উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেয় তারা।
- আহার-চিকিৎসার ব্যবস্থাও করে। এসবে অধীর আগ্রহে সর্বাগ্রে থাকেন রেসমন্ড_ যার পুরো জীবনই গির্জার রক্ষণাবেক্ষণে কেটেছে।

উৎস: একাত্তরের যীশু, শাহরিয়ার কবির।
৭,২৫৭.
‘সাজঘর’- কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) কাজী ইমদাদুল হক
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ মানচিত্র, সাজঘর, শ্রেষ্ঠ কবিতা, চোখ, লেলিহান পাণ্ডুলিপি, সূর্য জ্বালার স্বপন।
৭,২৫৮.
বাঙালীদের প্রচেষ্ঠায় প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. বাঙ্গাল গেজেট
  3. সমাচার দর্পণ
  4. সংবাদ প্রভাকর
সঠিক উত্তর:
বাঙ্গাল গেজেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙ্গাল গেজেট
ব্যাখ্যা
• বাঙালীদের প্রচেষ্ঠায় প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা - বাঙ্গাল গেজেট। 

• 'বাঙ্গাল গেজেট' পত্রিকা: 
- উপমহাদেশে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে দিগ্দর্শন নামে বাংলা ভাষায় প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়।
- এই মাসিক পত্রিকাটি প্রকাশ করে শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন।
- একই বছর মে মাসে শ্রীরামপুরের খ্রিস্টান মিশনারিরা আরেকটি বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ করে।
- এটি ছিল জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ।
- ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দেই বাঙালি মালিকানায় প্রথম সংবাদপত্র বাঙ্গাল গেজেটি প্রকাশিত হয়, প্রকাশক ছিলেন গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য্য, কারো কারো মতে গঙ্গাধর ভট্টাচার্য্য।
- মাঝে মধ্যে এতে ইংরেজি ও হিন্দিতে কিছু নিবন্ধ মুদ্রিত হলেও সাধারণভাবে এর ভাষা ছিল বাংলা।
- হরচন্দ্র রায় ছিলেন বাঙ্গাল গেজেটি-র সম্পাদনাকার্যে গঙ্গাকিশোরের অন্যতম সহযোগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২৫৯.
‘মুরারী শীল’ কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) কালিকামঙ্গল
  3. গ) অন্নদামঙ্গল
  4. ঘ) চণ্ডীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ঘ) চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলকাব্য-এর প্রথম অংশের নায়ক কালকেতু, নায়িকা কালকেতুর স্ত্রী ফুল্লরা৷
এ কাব্যের অন্যান্য চরিত্র - মুরারী শীল, ভাঁড়ুদত্ত, কলিঙ্গের রাজা৷
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ
৭,২৬০.
কবি আল মাহমুদের জন্মসাল কোনটি?
  1. ১৯৪৬
  2. ১৯৩৩
  3. ১৯৩০
  4. ১৯৩৬
সঠিক উত্তর:
১৯৩৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৩৬
ব্যাখ্যা

আল মাহমুদ:
- কাবিলের বোন তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে, ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,২৬১.
'গোরা' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. কৃষ্ণদয়াল ও আনন্দময়ী
  2. শচীশ ও দামিনী
  3. মহেন্দ্র ও আশালতা
  4. বিমলা ও নিখিলেশ
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণদয়াল ও আনন্দময়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণদয়াল ও আনন্দময়ী
ব্যাখ্যা
• 'গোরা' উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো 'ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়'।

উপন্যাসটির চরিত্রগুলো হলো:
- গোরা,
- সুচরিতা,
- কৃষ্ণদয়াল,
- আনন্দময়ী।

অন্যদিক, 
• শচীশ ও দামিনী 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র। 
• মহেন্দ্র ও আশালতা 'চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্র। 
• বিমলা ও নিখিলেশ 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
৭,২৬২.
‘সংস্কৃতির সংকট’ গ্রন্থটির রচিয়তা কে?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) বদরুদ্দীন ওমর
  4. ঘ) বিজন ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
গ) বদরুদ্দীন ওমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বদরুদ্দীন ওমর
ব্যাখ্যা
মার্কসবাদী বদরুদ্দীন উমর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধ ‘সংস্কৃতির সংকট’ (১৯৬৭)। তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থঃ সাম্প্রদায়িকতা(১৯৬৬), পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি (পাকিস্তান সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত)। রেফারেন্সঃ বাংলাপিডিয়া।
৭,২৬৩.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর আল মাহমুদ কোন দৈনিকের সম্পাদক ছিলেন?
  1. দৈনিক ইত্তেফাক
  2. দৈনিক গণকণ্ঠ
  3. দৈনিক আজাদ
  4. দৈনিক বাংলার বাণী
সঠিক উত্তর:
দৈনিক গণকণ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক গণকণ্ঠ
ব্যাখ্যা

• আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯):
- তিনি ছিলেন একজন প্রথিতযশা কবি এবং বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা। 
- তাঁর প্রকৃত নাম: মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- স্বাধীনতা-উত্তরকালে আল মাহমুদ দৈনিক ”গণকণ্ঠ” এর সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,২৬৪.
পঞ্চপাণ্ডবদের একজন হলেন-
  1. ক) অতুল প্রসাদ সেন
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
খ) অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা সাহিত্যে ত্রিশের দশকের পাঁচজন প্রধান কবিকে একত্রে পঞ্চপাণ্ডব বলে। তারা হলেন অমিয় চক্রবর্তী, জীবনানন্দ দাশ, বুদ্বদেব বসু, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও বিষ্ণু দে। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৭,২৬৫.
”তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?” - কোন উপন্যাসের সংলাপ?
  1. গৃহদাহ
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. বিষবৃক্ষ
  4. চন্দ্রশেখর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
কপালকুণ্ডলা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।
- ”পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।” -  কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের এই সংলাপ, বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ।
- তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য বাক্য।
- গরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের নাট্যরূপ দেন।
---------------------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭,২৬৬.
'কুলায় কালস্রোত' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) শওকত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শওকত আলী
ব্যাখ্যা
'কুলায় কালস্রোত' উপন্যাসের রচয়িতা শওকত আলী। দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস। ওয়ারিশ, পিঙ্গল আকাশ, যাত্রা, উত্তরের খেপ ইত্যাদি তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৭,২৬৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসে ঐতিহাসিকতার ছোঁয়া থাকলেও ইতিহাসের সরাসরি সম্পর্ক নেই?
  1. ঘরে বাইরে
  2. বউ ঠাকুরানীর হাট
  3. চতুরঙ্গ
  4. করুণা
সঠিক উত্তর:
বউ ঠাকুরানীর হাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বউ ঠাকুরানীর হাট
ব্যাখ্যা
• ‘বউ ঠাকুরানীর হাট’ উপন্যাস:
- এটি ১৮৮১-৮২ খ্রিষ্টাব্দে 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম ছাপা হয়।
- ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে তা গ্রন্থাকার প্রকাশিত হলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাসের মর্যাদা লাভ করে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপন্যাসের কাহিনি সূত্র পেয়েছিলেন প্রতাপচন্দ্র ঘোষের 'বঙ্গাধিপতি পরাজয়' গ্রন্থের মধ্যে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলোর নাম ও কিছু ঘটনায় ঐতিহাসিকতার ছোঁয়া থাকলেও এর সঙ্গে ইতিহাসের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
- চরিত্রসমূহ যেমন, বসন্ত রায়, উদয়াদিত্য, বিভার সম্পর্ক রবীন্দ্রভাবনা তাড়িত।
- শিশুকালে ভৃত্যলালিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাতৃবিয়োগ হবার পর জ্যেষ্ঠ ভগ্নী সৌদামিনী দেবীর স্নেহে লালিত-পালিত হন।
- 'বউ ঠাকুরানীর হাটে' সেই স্নেহের সুষমা আছে।
- গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় সৌদামিনী দেবীকে।
- এই উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'প্রায়শ্চিত্ত' (১৯০৯) নামে নাটক রচনা করেন।

অন্যদিকে,
• ঘরে-বাইরে:
- 'ঘরে-বাইরে' (১৯১৬) চলিতভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস।
- উপন্যাসটি 'সবুজপত্রে' প্রকাশিত হয় ১৯১৫ সালে।
- স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত এই উপন্যাসে একদিকে আছে জাতিপ্রেম ও সংকীর্ণ স্বাদেশিকতার সমালোচনা অন্যদিকে আছে সমাজ ও প্রথা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নারী-পুরুষের সম্পর্ক, বিশেষত পরস্পরের আকর্ষণ-বিকর্ষণের বিশ্লেষণ।

• চতুরঙ্গ:
চতুরঙ্গ রবীন্দ্রনাথের ছোট উপন্যাস। কিন্তু স্বল্পাকৃতির হলেও এর গঠনরীতিতে আছে অভিনবতা, স্বাতন্ত্র্য ও কলানৈপুণ্য; এবং প্রকৃতিতে এটি একটি গুরুতর শিল্পকর্ম।
- পৌরাণিক যুদ্ধবিগ্রহে হাতি, ঘোড়া, রথ ও পদাতিক সৈন্যদলের চতুবর্গকে চতুরঙ্গ বলে। অন্যদিকে চতুরঙ্গ হলো দাবাখেলা।
- তবে এই উপন্যাসে চতুরঙ্গ হলো চারটি চরিত্র- জ্যাঠামশাই, শচীশ, দামিনী, শ্রীবিলাস।
- এই চারটি চরিত্র চার অঙ্গের মতো উপন্যাস-দেহকে গঠন দিয়েছে।
- চারজনকে নিয়েই শচীশের সহপাঠী ও অন্তরঙ্গ বন্ধু শ্রীবিলাসের বিবরণ এবং সেই উপন্যাসের কাহিনির সূত্রধর।
 
• করুণা:
- ‘করুণা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রথম উপন্যাস, কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নয়।
- রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘বউ ঠাকুরানীর হাট’।
- মাসিক ‘ভারতী’ পত্রিকায় এক বছর ধরে (আশ্বিন-ভাদ্র ১২৮৪-৮৫) ‘করণা’ উপন্যাসটি ছাপা হয়।
- তবে ‘করুণা’ উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথের জীবৎকালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় নি। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবরণের (১৯৪১) পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ‘রবীন্দ্র রচনাবলি’তে (১৯৬১) ‘করুণা’ প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং ‘চতুরঙ্গ’ উপন্যাস।
৭,২৬৮.
'ইছামতী' উপন্যাসের মূল উপজীব্য কী?
  1. শিক্ষার প্রসার
  2. শহুরে জীবনের টানাপোড়েন
  3. জমিদারি প্রথা
  4. নদী তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা
সঠিক উত্তর:
নদী তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা
ব্যাখ্যা
'ইছামতী' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস 'ইছামতী' প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে। এটি রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করে।
- ইছামতী নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ভবানী বাঁড়ুয্যে কিংবা তার পুত্রত্রয় তিলু, বিলু, নীলু লেখকের নিজের অভিজ্ঞতায় দেখা মানুষ।
- একান্ত অন্তরঙ্গ ভাবমূর্তিতে এদেরকে তিনি গড়ে তুলেছেন। গয়া মেম অন্যতম উল্লেখযোগ্য চরিত্র। রাজারাম দেওয়ান পরম সাত্ত্বিক ব্রাহ্মণ, কিন্তু ইংরেজের চাকরিতে প্রতিষ্ঠিত হতে ছলচাতুরি ও জোচ্চুরি করেছে।
- ইংরেজ শাসকদের প্রভাবে কৃষিনির্ভর বাঙালির মনে যে বাণিজ্য-চেতনা জাগে নালুপাল যেন তারই প্রতীক।
- প্রচলিত সংস্কার ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে নারী জাগরণের প্রতিনিধি নিস্তা রিনী। নীলকরদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আছে এ উপন্যাসে।
- একটি ঐতিহাসিক পটভূমিকায় নদীতীরবর্তী সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে উপন্যাসটি চিহ্নিত।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- বিপিনের সংসার,
- চাঁদের পাহাড়,
- দম্পতি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়িা।
৭,২৬৯.
‘সারা দুপুর’ কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
  1. ক) ফররুখ আহমেদ
  2. খ) আহসান হাবীব
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
খ) আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• ‘সারা দুপুর’ কাব্যগ্রন্থটি কবি আহসান হাবীব রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- আহসান হাবিব মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষে (প্রথম প্রকাশিত),
- ছায়া হরিণ,
- আশায় বসতি,
- দুই হাতে দুই আদিম পাথর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৭০.
তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সমাজে প্রচলিত নারী-পুরুষের বৈষম্য নিয়ে লিখিত কল্পকাহিনী -
  1. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  2. সুলতানার স্বপ্ন 
  3. বিশ শতকের মেয়ে
  4. বীরাঙ্গনা
সঠিক উত্তর:
সুলতানার স্বপ্ন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতানার স্বপ্ন 
ব্যাখ্যা

- বেগম রোকেয়া 'সুলতানার স্বপ্ন' লিখেছিলেন ১৯০৫ সালের তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সমাজে প্রচলিত নারী-পুরুষের বৈষম্য নিয়ে।

• ‘সুলতানার স্বপ্ন’:

- বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ রচনার মূল পটভূমি ছিল ব্রিটিশ ভারতের নারী-পুরুষ বৈষম্য ও নারীর পরাধীনতা।
- এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষা থেকেই রোকেয়া এমন এক কল্পসমাজ সৃষ্টি করেন, যেখানে নারীরা স্বাধীন, শিক্ষিত এবং ক্ষমতার অধিকারী।
- নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে তিনি নিজে প্রত্যক্ষ করেছিলেন যে, সেই সময়ে নারীরা শিক্ষার সুযোগ, স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়ে বদ্ধ জীবনে দিন কাটাচ্ছিলেন।
- তৎকালীন যুগে বিজ্ঞানের নানা নতুন আবিষ্কার এ রোকেয়া উপলব্ধি করেছিলেন যে বিজ্ঞানই নারীর মুক্তি।
- তাই তিনি ‘সুলতানার স্বপ্ন’–এ বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে এক উন্নত, সমতাভিত্তিক ও নারীকেন্দ্রিক সমাজের চিত্র অঙ্কন করেন।
- এ গল্পটিকে রোকেয়া রাজনৈতিক প্রতিবাদের একটি রূপ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
- তিনি দেখিয়েছেন যে কল্পনার সাহায্যে কীভাবে অন্যরকম এক মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সাম্যপরায়ণ সমাজ কল্পনা করা যায় এবং বিদ্যমান অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সম্ভব।
-----------------------------------------------
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন একজন বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক।
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে তিনি মারা যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলা নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে খ্যাত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলি হল:
- ‘পদ্মরাগ’ (উপন্যাস),
- ‘অবরোধবাসিনী’ (গল্প),
- ‘মতিচূর’ (প্রবন্ধ সংকলন) ও
- ‘সুলতানার স্বপ্ন’ (কল্পকাহিনি)।

অন্যদিকে,
• ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ (১৯৯৪)  নীলিমা ইব্রাহিমের লিখা।
- এ গ্রন্থে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনের শিকার সাতজন বীরাঙ্গনার হৃদয়বিদারক বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
- নীলিমা ইব্রাহিম (১৯২১–২০০২) ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখিকা ও সমাজসেবী।

‘বিশ শতকের মেয়ে’ উপন্যাসটিও নীলিমা ইব্রাহিমের লিখা।
- এ উপন্যাসে সে সময়ের নারীদের আত্মনির্ভর হওয়ার ইচ্ছা, জীবনসংগ্রাম এবং সমাজে তাদের পরিবর্তিত অবস্থানের চিত্র ফুটে উঠেছে।

বীরাঙ্গনা মাইকেল মধুসূধনের ১১ জন বীরনারীকে নিয়ে লিখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য (১৮৬২)।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা নবজাগরণের অগ্রদূত, আধুনিক কবিতার জনক ও মহাকবি হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা হলো- মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৭,২৭১.
বাংলা গদ্যরীতিতে লালিত্যসঞ্চার করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মানোএল দা আসসুম্পসাঁও
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
⇒ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
- বিদ্যাসাগর গদ্যরীতির মধ্যে লালিত্যসঞ্চার ও নমনীয়তা আনয়নপূর্বক ভাষারীতি হিসেবে গদ্যের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে গৌরবময় অগ্রগতি সাধন করেন। 
- তিনি বাংলা ভাষার অন্তর্নিহিত ধ্বনিপ্রবাহ অনুধাবন করে বাক্যে স্বাভাবিক শব্দানুবৃত্তির রূপ প্রদান পূর্বক গদ্যরীতিতে পরিমিতিবোধ সৃষ্টি করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরই বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের ‘প্রথম শিল্পী’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থের নাম হলো:
• 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (হিন্দি বৈতালপৈচ্চিসির বঙ্গানুবাদ ১৮৪৭)।
• 'শকুন্তলা' (কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটকের উপাখ্যান ভাগের বঙ্গানুবাদ, ১৮৫৪)।
• 'সীতার বনবাস’ (ভবভূতির উত্তররাম চরিত নাটকের প্রথম অঙ্কের ও রামায়ণের উত্তর কাণ্ডের বঙ্গানুবাদ, ১৮৬০)।
• ‘ভ্রান্তিবিলাস' (শেক্সপিয়ারের Comedy of Errors-এর বঙ্গানুবাদ, ১৮৬৯) ।

অন্যদিকে,
⇒ রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এর লিপি ছিল রোমান।

⇒ উইলিয়াম কেরি রচিত ‘কথোপকথন’ গ্রন্থে বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন বিধৃত। কথোপকথন গ্রন্থটি ছিল দ্বিভাষিক-এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,২৭২.
'সে' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. কবিতা
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'সে' গল্পগ্রন্থ:
- 'সে' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্পগ্রন্থ। এটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- উদ্ভট ও অদ্ভুত, সম্ভব ও অসম্ভবের মিলনে গল্পগুলি গঠিত।
- রবীন্দ্রনাথের লেখা ‘খাপছাড়া’ ও ‘ছড়ার ছবি'র কবিতার সঙ্গে এ গল্পগুলির যোগ সহজে লক্ষণীয়। গল্পগুলো শিশুদের ভালো লাগে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ, 
- নিশীতে, 
- মণিহার, 
- কঙ্কাল, 
- রবিবার, 
- শেষকথা, 
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭,২৭৩.
শওকত ওসমান কবে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯২২ সালে
  2. ১৯১৭ সালে
  3. ১৯২৫ সালে
  4. ১৯২৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৭ সালে
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান:
- তিনি কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।
- তাঁর সাহিত্য কর্ম:

উপন্যাস:
- জননী,
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- জাহান্নাম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:  
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- মনিব ও তাহার কুকুর,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৭,২৭৪.
‘জিনের বাদশা’ গল্পটি কার রচনা?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'শিউলিমালা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

• 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৭৫.
বুদ্ধদেব বসুর জন্ম কবে?
  1. ১৯০৫ সালের ৩০ জুন
  2. ১৯০৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর
  3. ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর
  4. ১৯১০ সালের ১ জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
•  বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২৭৬.
কোনটি ইব্রাহীম খাঁর গ্রন্থ নয়?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র
  3. কুঁচবরণ কন্যা
  4. সোনার শিকল
সঠিক উত্তর:
কুঁচবরণ কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুঁচবরণ কন্যা
ব্যাখ্যা
• ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটক - আনোয়ার পাশা।
- ভ্রমণ কাহিনী- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র।
- গল্প - সোনার শিকল।

অন্যদিকে,
• 'বন্দে আলী মিয়া' রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ- কুঁচবরণ কন্যা।
------------------- 
• ইব্রাহীম খাঁ: 
- ইব্রাহীম খাঁ ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। নাটক, গল্প,  উপন্যাস,  শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
- তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- ব্যাঘ্র মামা,
- বেদুঈনদের দেশে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র', ইবরাহীম খাঁ।
৭,২৭৭.
'নদী ও মানুষের কবিতা' - কোন কবির রচনা?
  1. সমর সেন
  2. সানাউল হক
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
সঠিক উত্তর:
সানাউল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সানাউল হক
ব্যাখ্যা
• 'নদী ও মানুষের কবিতা' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'সানাউল হক'।
- ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• সানাউল হক:
- তিনি ছিলেন কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ।
- সানাউল হকের প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক ।
- তাঁর কবিতায় প্রেমানুভূতি ও মানবতাবোধ ধ্বণিত হয়েছে।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য সানাউল হক বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার, লেখক সঙ্ঘ পুরস্কার, একুশে পদক, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্যা,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে,
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২৭৮.
'শূন্যপুরাণ' কোন ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ?
  1. পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক
  2. বৌদ্ধ ধর্মীয়
  3. খ্রিষ্ট ধর্মীয়
  4. বৈষ্ণব ধর্মীয়
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ ধর্মীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ ধর্মীয়
ব্যাখ্যা

• শূন্যপুরাণ:
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ এবং অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- 'শূন্যপুরাণ' বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- কারো মতে গ্রন্থটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং  'প্রাকৃতপেঙ্গল' গ্রন্থ।

৭,২৭৯.
Stop Genocide প্রামাণ্য চিত্রের নির্মাতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) তারেক মাসুদ
  3. গ) তানভীর মোকাম্মেল
  4. ঘ) চাষী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ক) জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার প্রামাণ্যচিত্রের নাম- Stop Genocide.
- প্রামাণ্যচিত্রটি তৈরি করেন জহির রায়হান

• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কত দিন,
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত ছবি:
- কখনো আসেনি ( প্রথম পরিচালিত ছবি)।
- সোনার কাজ,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- জীবন থেকে নেয়া,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম,
- বাহানা,

• 'জীবন থেকে নেয়া' ছবিতে প্রতীকী কাহিনীর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২৮০.
শেখ আব্দুর রহিম কর্তৃক প্রকাশিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. ক) মিহির
  2. খ) হাফেজ
  3. গ) সুধাকর
  4. ঘ) কোহিনুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোহিনুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোহিনুর
ব্যাখ্যা
হাফেজ, মিহির ও সুধাকর পত্রিকা তিনটির সম্পাদক শেখ আব্দুর রহিম। অপরদিকে কোহিনুর পত্রিকার সম্পাদক রওশন আলী চৌধুরী। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৭,২৮১.
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সারাদুপুর
  2. আশায় বসতি
  3. দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  4. উত্তরফাল্গুনী
সঠিক উত্তর:
উত্তরফাল্গুনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তরফাল্গুনী
ব্যাখ্যা

• 'উত্তরফাল্গুনী' সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

-------------------
• আহসান হাবীব:

- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে 'সারা দুপুর' প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ক।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,২৮২.
নিচের কোনটি হুমায়ুন আজাদের কবিতা নয়?
  1. ক) কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
  2. খ) সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
  3. গ) জ্বলো চিতাবাঘ
  4. ঘ) কবি অথবা দন্ডিত পুরুষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) কবি অথবা দন্ডিত পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কবি অথবা দন্ডিত পুরুষ
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন আজাদের কাব্যঃ অলৌকিক ইস্টিমার, জ্বলো চিতাবাঘ, সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে, যতি গভীরে যাই মধু যতই ওপরে যাই নীল, কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি। তার উপন্যাসঃ ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল, সব কিছু ভেঙে পড়ে, শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার, রাজনীতিবিদগণ, কবি অথবা দন্ডিত পুরুষ, পাঁক সার জমিন সাদ বাদ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭,২৮৩.
বাংলা অক্ষরের প্রথম নকশা করেন কে?
  1. উইলিয়াম কেরি 
  2. চার্লস উইলকিন্স
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রাজা রামমোহন রায় 
সঠিক উত্তর:
চার্লস উইলকিন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার্লস উইলকিন্স
ব্যাখ্যা
• বাংলা লিপি:
- বাংলা অক্ষর বা লিপি ব্রাহ্মী লিপির কুটিল অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- পাল যুগে লিপির কাজ শুরু হলেও সেন যুগে লিপির সুসংগঠন হয়।
চার্লস উইলকিন্স বাংলা লিপির প্রথম নকশা করেন, কিন্তু আধুনিক রূপ দেন পঞ্চানন কর্মকার।
- তাই বাংলা লিপির জনক বা প্রথম নকশাকারক চার্লস উইলকিন্স হলেও আধুনিকতার রূপকার পঞ্চানন কর্মকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৮৪.
"বহু যুবককে দেখিয়াছি যাহাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কাল মূর্তি।" - পঙ্‌ক্তিটি কোন রচনার? 
  1. জীবন বন্দনা
  2. আমার পথ
  3. যৌবনের গান
  4. দুরন্ত পথিক
সঠিক উত্তর:
যৌবনের গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌবনের গান
ব্যাখ্যা

"বহু যুবককে দেখিয়াছি যাহাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কাল মূর্তি।" - পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের অন্তর্গত। 

• ''যৌবনের গান'' ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে মুসলিম যুব সমাজের অভিনন্দনের উত্তরে তাদের উদ্দেশ্যে কাজী নজরুল ইসলাম যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তারই পরিমার্জিত লিখিত রূপ।
- ভাষণের এ ধরনের লিখিত রূপকে/ এ ধরনের রচনাকে বলা হয় অভিভাষণ।
- এটি ''দুর্দিনের যাত্রী'' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

''যৌবনের গান'' প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
বার্ধক্য তাহাই- যাহা পুরাতনকে, মিথ্যাকে, মৃত্যুকে আঁকড়িয়া পড়িয়া থাকে; বৃদ্ধ তাহারাই-যাহারা মায়াচ্ছন্ন নব মানবের অভিনব জয় যাত্রার শুধু বোঝা নয়, বিঘ্ন; শতাব্দীর নব যাত্রীর চলার ছন্দ ছন্দ মিলাইয়া যাহারা কুচকাওয়াজ করিতে জানে না, পারে না; যাহারা জীব হইয়াও জড়; যাহারা অটল সংস্কারের পাষাণস্তূপ আঁকড়িয়া পড়িয়া আছে। বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা নব অরুণোদয় দেখিয়া নিদ্রাভঙ্গের ভয়ে দ্বার রুদ্ধ করিয়া পড়িয়া থাকে। আলোক-পিয়াসী প্রাণচঞ্চল শিশুদের কল-কোলাহলে যাহারা বিরক্ত হইয়া অভিসম্পাত করিতে থকে, জীর্ণ পুঁথি চাপা পড়িয়া যাহাদের নাভিশ্বাস বহিতেছে, অতি জ্ঞানের অগ্নিমান্দ্যে যাহারা আজ কঙ্কালসার- বৃদ্ধ তাহারাই। ইহাদের ধর্মই বার্ধক্য। বার্ধক্যকে সব সময় বয়সের ফ্রেমে বাঁধা যায় না। বহু যুবককে দেখিয়াছি যাহাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কাল মূর্তি। আবার বহু বৃদ্ধকে দেখিয়াছি- যাঁহাদের বার্ধক্যের জীর্ণাবরণের তলে মেঘলুপ্ত সূর্যের মতো প্রদীপ্ত যৌবন। তরুণ নামের জয়-মুকুট শুধু তাহারই- যাহার শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার ন্যায়, তেজ নির্মেঘ আষাঢ় মধ্যাহ্নের মার্তণ্ডপ্রায়, বিপুল যাহার আশা, ক্লান্তিহীন যাহার উৎসাহ, বিরাট যাহার ঔদার্য, অফুরন্ত যাহার প্রাণ, অটল যাহার সাধনা, মৃত্যু যাহার মুঠিতলে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,২৮৫.
ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্রটি কার সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়?​
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. ​সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. অক্ষয়কুমার দত্ত
সঠিক উত্তর:
অক্ষয়কুমার দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো।
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।
- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

​অন্যদিকে,
• ​'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
• ​সুধীন্দ্রনাথ দত্ত "পরিচয়" নামের একটি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
• বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত প্রধান দুটি পত্রিকা হলো "প্রগতি" এবং "কবিতা"।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭,২৮৬.
কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্ম নয়?
  1. মেজদিদি
  2. ইন্দিরা
  3. সতী
  4. চরিত্রহীন
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
ইন্দিরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দিরা
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর সাহিত্যকর্ম নয় - ইন্দিরা
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোট উপন্যাস।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পল্লী সমাজ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- দত্তা,
- গৃহদাহ,
- বামুনের মেয়ে,
- দেনা পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অন্যান্য গল্প:
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নারীর মূল্য,
- স্বদেশ ও সাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,২৮৭.
মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক কোনটি?
  1. দণ্ডকারণ্য
  2. রত্নাবতী
  3. তেল নুন লকড়ি
  4. নীল দর্পণ
সঠিক উত্তর:
দণ্ডকারণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দণ্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা
- 'দণ্ডকারণ্য' মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক।

অন্যদিকে,
- 'রত্নাবতী' নাটকের রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন।
- 'তেল নুন লকড়ি' 'প্রমথ চৌধুরী রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'নীল দর্পণ' নাটকের রচয়িতা  দীনবন্ধু মিত্র।

• মুনীর চৌধুরী:

- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,২৮৮.
বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  2. বালুচর
  3. রাখালী
  4. নক্সী কাঁথার মাঠ
সঠিক উত্তর:
রাখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখালী
ব্যাখ্যা

'রাখালী' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী।
- এই কাব্যে ১৯টি কবিতা আছে। বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত। এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,২৮৯.
“রানার” কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. পূর্বাভাস
  2. হরতাল
  3. ঘুম নেই
  4. ছাড়পত্র
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত প্রশ্ন' কবিতাটি ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ।
কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতা :
- ছাড়পত্র
- আঠারো বছর বয়স
- রানার
- হে মানবজমিন

সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭)কিশোর কবি হিসেবে পরিচিত ।
- তিনি মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী ছিলেন ।
- তিনি মাত্র ২১ বছর বয়সে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ।
- ছাড়পত্র (১৯৪৭)
- পূর্বাভাস (১৯৫০)
- মিঠেকড়া (১৯৫১)
- অভিযান (১৯৫৩)
- ঘুম নেই (১৯৫৪)
- হরতাল (১৯৬২)
- গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,২৯০.
শ্রীজীব গোস্বামী বৈষ্ণব পদাবলীর কোন কবি কে ‘কবিরাজ’ উপাধি প্রদান করেন?
  1. বিদ্যপতি 
  2. গোবিন্দদাস
  3. চণ্ডীদাস 
  4. জয়দেব 
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা

• গোবিন্দদাস:
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,২৯১.
বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের আদিপর্বের শ্রেষ্ঠ রচনা কোনটি?
  1. মধুমালতী
  2. পদ্মাবতী
  3. ইউসুফ-জুলেখা
  4. লাইলি-মজনু
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের আদিপর্বের শ্রেষ্ঠ রচনা ‘পদ্মাবতী’।

• পদ্মাবতী:

- পদ্মাবতী সৈয়দ আলাওল রচিত একটি অনন্য রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান, যা রচিত হয় আনুমানিক ১৬৪৮–১৬৫২ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- আলাওল তাঁর পদ্মাবতী কাব্যের মূল কাহিনি গ্রহণ করেন  মুহম্মদ জায়সী-এর রচিত হিন্দি “পদ্মাবৎ” মহাকাব্য থেকে।
- কাব্যটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে চিতোর রাজা রতনসেন ও সিংহলরাজকন্যা পদ্মাবতীর প্রেমঘটনা ঘিরে।
- চিতোরের রাজা রতনসেনের সঙ্গে পদ্মাবতীর প্রেমের কথা জানতে পেরে দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি পদ্মাবতীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে চিতোর আক্রমণ করেন - এটাই কাব্যের মূল সংঘাত।
----------------------------------------------
• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান হলো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা।
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
• এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- নওয়াজিস খান,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর।
------------------------------------------
অন্যদিকে,
• মধুমালতী’ (১৫৮৮) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি প্রসিদ্ধ প্রণয়কাব্য, যার রচয়িতা কবি মুহম্মদ কবির।
- এই কাব্যে রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাময় প্রেমকাহিনি বর্ণিত হয়েছে, যেখানে নানা বাধা অতিক্রম করে তাদের প্রেমের সাফল্য ও সুখী দাম্পত্য জীবনের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- কাব্যটি মূলত হিন্দি কবি মনঝনের রচিত ‘মধু মালতী’ বা ‘মৈনাসত’ কাব্যের অনুসরণে রচিত।

• ‘ইউসুফ-জুলেখা’ পনেরো শতকে রচিত একটি বাংলা রোমান্টিক কাব্য, যার রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
- 'ইউসুফ জুলেখা’ গ্রন্থে নবী ইউসুফ (আ.) ও জুলেখার প্রেম, বিচ্ছেদ এবং আধ্যাত্মিক রূপান্তরের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- শাহ মুহম্মদ সগীর কোরআন ও ধর্মগ্রন্থ অবলম্বনে এই কাহিনিকে বাংলা ভাষায় মানবিক ও রোমান্টিক কাব্যরূপ দিয়েছেন।

• মধ্যযুগের ‘লাইলি মজনু’ একটি করুণ প্রেমকাহিনিভিত্তিক কাব্য, যেখানে কায়েস (মজনু) ও লাইলির নিঃশর্ত ভালোবাসা, সামাজিক বাধা ও করুণ পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে।
- আরবীয় লোকগাথা থেকে উদ্ভূত এই কাব্যটি দৌলত উজির বাহরাম খান বাংলায় রচনা করেন।
-------------------------------------
সৈয়দ আলাওল: 
- সৈয়দ আলাওল ছিলেন মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান কবি।
- আলাওল ছিলেন বহুভাষাবিদ; তিনি আরবি, ফারসি, সংস্কৃত, বাংলা এবং ব্রজবুলিতে পারদর্শী ছিলেন।
- তিনি আরাকানের দরবারে অমাত্য ও কবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তাঁকে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের 'বার্ড' বলা হয়। 
- তিনি রোমান্টিক ধারার বাংলা সাহিত্যের প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত;
- কারণ ধর্মীয় কাহিনীর বাইরে গিয়ে তিনি ফারসি ও হিন্দি সাহিত্য থেকে প্রাপ্ত কাহিনী নিয়ে প্রেমময় উপাখ্যান রচনা করেছেন।
- প্রধান কাব্য ‘পদ্মাবতী’-র পাশাপাশি তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
• ‘তোহফা’,
• সপ্তপয়কর,
• সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল,
• সিকান্দারনামা,
• ‘সাপচন্দ’,
• ‘সতীময়না ও
• লোরচন্দ্রানী’ প্রভৃতি ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

৭,২৯২.
'মানচিত্র' নাটকটির রচয়িতা -
  1. সেলিম আল দীন
  2. মামুনুর রশীদ
  3. আবুল ফজল
  4. আনিস চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আনিস চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনিস চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'মানচিত্র' নাটকটির রচয়িতা - 'আনিস চৌধুরী'। 
============ 
আনিস চৌধুরী:
- ১৯২৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন সমাজসচেতন নাট্যকার।
- সমাজের নিখুঁত চিত্রাঙ্কনে তাঁর বিশিষ্টতা।
- ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে তিনি টেলিভিশন ও রেডিওর জন্য অনেকগুলি নাটক রচনা করেন।
- তাঁর বিখ্যাত দুটি নাটক হচ্ছে মানচিত্র (১৯৬৩) ও অ্যালবাম (১৯৬৫)।
- তাঁর 'মানচিত্র', 'এলবাম', 'চেহারা', 'তবুও অনন্যা' বাংলাদেশের নাট্যসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
- মধ্যবিত্ত শ্রেণির দ্বন্দ্ব-সংঘাত, দুঃখ-দারিদ্র্য ও সংগ্রামী চেতনা তাঁর নাটক ও উপন্যাসে চমৎকারভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- তিনি নাটকের জন্য ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৯০ সালের ২ নভেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর আরো কিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- সরোবর,
- সৌরভ,
- শখের পুতুল,
- মধুগড়,
- প্রত্যাশা,
- ছায়াহরিণ,
- ছাড়পত্র,
- জাহাঙ্গীরের আত্মজীবনী (অনুবাদ) ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৭,২৯৩.
‘বত্রিশ সিংহাসন’ গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  4. মামুনুর রশীদ
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

• বত্রিশ সিংহাসন:
- ‘বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন।
- বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযোগ্য ।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- এছাড়াও তিনি কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা,
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,২৯৪.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. অপসরণ
  2. কঙ্কাবতী
  3. রাখী
  4. অসমাপিকা
সঠিক উত্তর:
রাখী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখী
ব্যাখ্যা
- অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখী।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে। 

অন্নদাশঙ্কর রায়:

- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি,
- লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।
- তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনী।

• অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রথম কবিতাগ্রন্থ - রাখী (১৯৩২)।

তাঁর রচিত উপন্যাস গুলো:
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- অপসরণ,
- অজ্ঞাতবাস ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• তাঁর প্রথম উপন্যাস - অসমাপিকা (১৯৩০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,২৯৫.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘পদ্মরাগ’ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৮৮০
  2. খ) ১৯০৯
  3. গ) ১৯১১
  4. ঘ) ১৯২৪
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯২৪
ব্যাখ্যা

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বরে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন জন্মগ্রহণ করেন রংপুরে। নারী শিক্ষায় অবদানের জন্য তাঁকে ,মুসলিম নারী জাগরনের অগ্রদূত বলা হয়।
'পদ্মরাগ' ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়। এটি বেগম রোকেয়া রচিত উপন্যাস। গ্রন্থটি প্রথম কোনো মুসলিম নারীর রচনা। মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত  ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
'পদ্মরাগ উৎসর্গ করা হয় বেগম রোকেয়ার জ্যৈষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সোমিত্র শেখর।

৭,২৯৬.
চণ্ডীমঙ্গলকাব্যের কবি হলেন-
  1. ক) বিজয়গুপ্ত
  2. খ) মুকুন্দরাম
  3. গ) বংশীদাস
  4. ঘ) হরিদত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) মুকুন্দরাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুকুন্দরাম
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্যের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে চণ্ডীমঙ্গল, আর মনসামঙ্গল৷
চণ্ডীমঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি দুজন হলেন কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী এবং রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র।
মনসামঙ্গলের দুজন সেরা কবি হলেন বিজয়গুপ্ত এবং বংশীদাস৷ মনসামঙ্গল আরো রচনা করেছেন বিপ্রদাস, হরিদত্ত এবং আরো অনেকে৷
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

৭,২৯৭.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পৈতৃক পদবি কী?
  1. শর্মা
  2. বিদ্যাসাগর
  3. মুখোপাধ্যায়
  4. বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত। তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

• তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,২৯৮.
গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ সম্পাদন করেন-
  1. ক) W B Yeats
  2. খ) T S Elliot
  3. গ) John Keats
  4. ঘ) Ejra Pound
সঠিক উত্তর:
ক) W B Yeats
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) W B Yeats
ব্যাখ্যা
গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭ টি গানের সংকলন।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- ১৯১২ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings প্রকাশিত হয়।
- Song Offerings - গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন আইরিশ কবি ও নাট্যকার ইয়েটস্‌।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই এই গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- ইংরেজি অনুবাদ পরবর্তীতে সম্পাদনা করেন - ডব্লিউ বি. ইয়েটস্‌।
- ১৯১৩ সালে Song Offerings গ্রন্থের জন্য তিনি প্রথম এশীয় হিসাবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া
৭,২৯৯.
‘শতকরা পঁয়তাল্লিশের জের’ প্রবন্ধের রচয়িতা-
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) আবুল হুসেন
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল হুসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
আবুল হুসেন (১৮৯৬-১৯৩৮): প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ ও সমাজসংস্কারক।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা- বাঙালী মুসলমানদের শিক্ষাসমস্যা (১৯২৮),
মুসলিম কালচার (১৯২৮),
বাঙলার নদীসমস্যা,
শতকরা পঁয়তাল্লিশের জের,
সুদ-রিবা ও রেওয়াজ,
নিষেধের বিড়ম্বনা,
Helots of Bengal,
Religion of Helots of Bengal,
Development of Muslim Law in British India প্রভৃতি।
এগুলির মধ্যে প্রথম তিনটি বিখ্যাত গ্রন্থ।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]
৭,৩০০.
বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক সমৃদ্ধ ধারা-
  1. নাটক
  2. ছোটগল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. গীতিকবিতা
সঠিক উত্তর:
গীতিকবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতিকবিতা
ব্যাখ্যা

• গীতিকবিতা:
- গীতিকবিতার মধ্যে কবিহৃদয়ের বিশেষ কোন অনুভূতি, সঙ্গীতমাধুর্য সহকারে রূপায়িত হয়ে ওঠে। কবির ব্যক্তিগত অনুভূতি এর উপজীব্য, সঙ্গীতের ব্যঞ্জনা নিয়ে তার প্রকাশ।

- যে শ্রেণির কবিতায় কবির হৃদয়ের অনুভূতি বা একান্ত ব্যক্তিগত বাসনাকামনা ও আনন্দবেদনা প্রাণের অন্তস্তল থেকে আবেগকম্পিত সুরে অখণ্ড ভাবমূর্তিতে আত্মপ্রকাশ করে, তাকেই গীতিকবিতা বলে অভিহিত করা হয়।

- আন্তরিকতাপূর্ণ অনুভূতি, অবয়বের স্বল্পতা, সঙ্গীতমাধুর্য ও গতিস্বাচ্ছন্দ্য-এই কয়টি বৈশিষ্ট্য গীতিকবিতার মধ্যে বিদ্যমান।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বক্তার ভাবোচ্ছ্বাসের পরিস্ফুটন মাত্র যার উদ্দেশ্য সেই কাব্যই গীতিকাব্য। হৃদয়ের অনুভূতি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী নয় বলে তা অবলম্বনে লেখা গীতিকবিতাও দীর্ঘ আকারের হয় না।

- গীতিকবিতায় ভাববস্তু সংক্ষিপ্ত বা বিস্তৃত উভয় রূপই হতে পারে। আর একারণেই গীতিকবিতার আকার তথা দৈর্ঘ্য সম্পর্কে সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ অসম্ভব।

- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বৈষ্ণব পদাবলিতে গীতিকবিতার বৈশিষ্ট্য প্রথম বারের মত ফুটে উঠেছিল। তবে কবিতা প্রাচীন ও মধ্য যুগের সৃষ্টি হলেও গীতিকবিতা আধুনিক যুগের সৃষ্টি।

- আধুনিক যুগে সৃষ্ঠ এই গীতি কবিতাই এই যুগের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ধারা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ।