বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৫২ / ২১১ · ৫,১০১৫,২০০ / ২১,১৩২

৫,১০১.
উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ। 

• তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১০২.
‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা’ গানটির রচয়িতা কে?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা’ গানটিতে অতুলপ্রসাদ সেনের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে। এ গান বাংলাদেশের  ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। গানটির আবেদন আজও অম্লান। 

অতুলপ্রসাদ সেন ও তাঁর সঙ্গীতভাণ্ডার: 
বাংলা সঙ্গীতে অতুলপ্রসাদই প্রথম ঠুংরির চাল সংযোজন করেন। এ ছাড়া রাগপ্রধান ঢঙে বাংলা গান রচনা তাঁর থেকেই শুরু হয়। উল্লেখ্য যে, বাংলায় ঠুংরি গীতধারার প্রথম প্রচলন করেন লক্ষ্ণৌর বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ্। অতুলপ্রসাদের বিশেষত্ব এ যে, তিনি বাংলা গানের সুর-তালের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখেই হিন্দুস্থানি রীতির প্রয়োগ করতে পেরেছিলেন।

জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় তিনি উত্তর ভারতে কাটান। সেজন্য ওখানকার সাঙ্গীতিক পরিমন্ডলের সঙ্গে মিশে গিয়ে তিনি হিন্দুস্থানি গীতিপদ্ধতিকে রপ্ত করতে সমর্থ হন। তাই বাংলা গানে হিন্দুস্থানি ঢঙের মিশ্রণ ঘটানো তাঁর পক্ষে সহজ হয়েছিল। অতুলপ্রসাদের এ প্রয়াস বাংলা গানে একদিকে যেমন নতুনত্ব এনেছে, অন্যদিকে তেমনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথ উন্মুক্ত করে বাংলা গানের জগতে এক বন্ধনমুক্ত শৈল্পিক আবহ নির্মাণে সক্ষম হয়েছে।

হিন্দুস্থানি লঘু খেয়াল, ঠুংরি ও দাদরা সঙ্গীতের সুষমামন্ডিত সুরের সঙ্গে অতুলপ্রসাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। হিন্দুস্থানি সুর সংযোজনায় বাংলা গানের কাব্যিক মর্যাদা কিছুটা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে কেউ কেউ মত প্রকাশ করলেও একটি স্বতঃস্ফূর্ত সাঙ্গীতিক ভাব তাঁর সকল গানে পরিলক্ষিত হয়। যেখানে সুর সঙ্গীতের অন্তর্নিহিত মাধুর্য নিয়ে কথার ভাবকে ছাড়িয়ে গিয়েছে সেখানেই অতুলপ্রসাদের সার্থকতা।

তাঁর ঠুংরি ও দাদরা ভঙ্গির গানগুলি শৈল্পিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে। এমন কয়েকটি গান হলো: ‘কি আর চাহিব বলো’ (ভৈরবী/টপ খেয়াল), ‘ওগো নিঠুর দরদী’ (মিশ্র আশাবরী-দাদরা/টপ ঠুংরি), ‘যাব না যাব না ঘরে’ (ঠুংরি) ইত্যাদি। তাঁর রাগপ্রধান গানের মধ্যে ‘বঁধু ধর ধর মালা’ (কালিংড়া), ‘তবু তোমায় ডাকি বারে বারে’ (সিন্ধু কাফি) ইত্যাদি গান আজও সঙ্গীতবোদ্ধাদের নিকট সমান প্রিয়।

১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌয়ে সর্বভারতীয় কংগ্রেস অধিবেশনে স্বেচ্ছাসেবকদের অধিনায়ক হিসেবে তিনি যে দেশাত্মবোধক গানটি রচনা করেন, তাতে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যের সুর আছে: ‘দেখ মা এবার দুয়ার খুলে/ গলে গলে এল মা/ তোর হিন্দু-মুসলমান দু ছেলে’।

এভাবে বাণীপ্রধান গীতি রচনা, সুললিত সুর সংযোজন, সুরারোপে পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রচলন ও করুণরস সঞ্চারের মাধ্যমে অতুলপ্রসাদ বাংলা সঙ্গীতভান্ডারকে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,১০৩.
'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আহমদ ছফা
  4. ঘ) আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা আহমেদ ছফা। তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস, বাঙালি মুসলমানের মন, শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ, সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ইত্যাদি।
৫,১০৪.
'এ লাশ আমরা রাখব কোথায়' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. শামসুর রাহমান 
  3. রফিক আজাদ
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান 
ব্যাখ্যা
• 'এ লাশ আমরা রাখব কোথায়' শামসুর রাহমান রচিত একটি কবিতা। এই কবিতার মাধ্যমে কবি তৎকালীন সমাজের অস্থিরতা, রাজনৈতিক সংকট এবং মানুষের অসহায়ত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন।
- ১৯৭০ সালে শামসুর রাহমানের 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থে কবিতাটি ছাপা হয়।

'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কিছু কবিতা হলো-
- বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা, 
- ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯, 
- পুলিশ রিপোর্ট, 
- হরতাল, 
- এ লাশ আমরা রাখব কোথায়?,
- আসাদের শার্ট ইত্যাদি। 

------------
 এ লাশ আমরা রাখব কোথায়?
- শামসুর রাহমান 

এ লাশ আমরা রাখব কোথায়?
তেমন যোগ্য সমাধি কই?
মৃত্তিকা বলো পর্বত বলো
অথবা সুনীল সাগর-জল-
সব কিছু ছেঁদো, তুচ্ছ শুধুই।
তাই তো রাখি না এ লাশ আজ
মাটিতে পাহারে কিংবা সাগরে,
হৃদয়ে হৃদয়ে দিয়েছি ঠাঁই।

উৎস: 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থ এবং 'এ লাশ আমরা রাখব কোথায়?' কবিতা।
৫,১০৫.
'ত্রিবিক্রম বর্মণ' কোন কবির ছদ্মনাম?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

• 'বনফুল' ছদ্মনামে লিখতেন 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১০৬.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. দশমী
  2. সংবর্ত
  3. প্রতিধ্বনি
  4. অর্কেষ্ট্রা
সঠিক উত্তর:
প্রতিধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিধ্বনি
ব্যাখ্যা

- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ - প্রতিধ্বনি।
- এটি ইউরোপের বিভিন্ন কবির কবিতার অনুবাদ ।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:

- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,১০৭.
বাংলা সাহিত্যে গিরিশচন্দ্র সেনের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি-
  1. কুরআনের বঙ্গানুবাদ
  2. পাঁচালী গান রচনা
  3. নাট্য রচনা
  4. অনুবাদক উপন্যাস রচনা
সঠিক উত্তর:
কুরআনের বঙ্গানুবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুরআনের বঙ্গানুবাদ
ব্যাখ্যা
• গিরিশচন্দ্র সেন:
- নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- তিনি 'সুলভ সমাচার' ও 'বঙ্গবন্ধু' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং 'মাসিক মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।
- কুরআনের বঙ্গানুবাদ বাংলা সাহিত্যে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন তিনি।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
• তাপসমালা:
- গিরিশচন্দ্রের বিখ্যাত গ্রন্থ তাপসমালা।
- এটি ৯৬ জন ওলি-আউলিয়ার জীবনচরিত, যা শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তায্কেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত।

• তত্ত্বরত্নমালা:
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা।
- এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- এতে নীতিকথা ও শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট গল্পের আকারে রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়াও তিনি হাদিস-পূর্ব বিভাগ শিরোনামে মিশ্কাত শরীফের প্রায় অর্ধাংশের অনুবাদ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১০৮.
কবি কায়কোবাদের উপাধি ছিল-
  1. বিদ্যাভূষণ
  2. কাব্যকণ্ঠ
  3. সাহিত্যসাগর
  4. সাহিত্য বিশারদ
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাভূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাভূষণ
ব্যাখ্যা
• নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

অন্যদিকে,
• 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধিতে ভূষিত হন।
• আবদুল করিমকে নদীয়া সাহিত্য সভা 'সাহিত্যসাগর' উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে 'সাহিত্য বিশারদ' উপাধিতে ভূষিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১০৯.
অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলনের নাম কী?
  1. ক) গীতিগুঞ্জ
  2. খ) কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
  3. গ) কয়েকটি গান
  4. ঘ) কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
খ) কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
ব্যাখ্যা
• অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলনের নাম 'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে। 

অতুলপ্রসাদ সেন (১৮৭১-১৯৩৪)
- ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন৷
- তার রচিত গানের সংখ্যা প্রায় দুশটি৷ 
- ‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা’ বিখ্যাত গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
- এ গান বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছে। গানটির আবেদন আজও অম্লান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১১০.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস নয়-
  1. ক) দেয়াল
  2. খ) নীল দংশন
  3. গ) একটি কালো মেয়ের কথা
  4. ঘ) অহিংসা
সঠিক উত্তর:
ঘ) অহিংসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অহিংসা
ব্যাখ্যা

''অহিংসা'' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- চতুষ্কোণ,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- সোনার চেয়ে দামী,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- চিহ্ন,
- জীয়ন্ত,
- মাশুল,
- হরফ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 'দেয়াল' হুমায়ুন আহমেদ, 'একটি কালো মেয়ের কথা' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং 'নীল দংশন'  সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

 
৫,১১১.
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ঝরা পালক
  2. বনলতা সেন
  3. সাতটি তারার তিমির
  4. মাল্যবান
সঠিক উত্তর:
মাল্যবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাল্যবান
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

অন্যদিকে,
- 'মাল্যবান' জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং জীবনানন্দ দাশ জীবনী।
৫,১১২.
'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. উপন্যাস 
  2. নাটক
  3. ছোটগল্প
  4. প্রবন্ধ 
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস 
ব্যাখ্যা

• 'আর্তনাদ' উপন্যাস:
- দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে দগ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের লেখা উপন্যাসের নাম- আর্তনাদ।
- 'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীন প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় বেড়ে ওঠা জনগোষ্ঠী ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাচীন চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ও ধর্মাশ্রয়ী শাসকগোষ্ঠীর আচরণ- এই দুই মেরুদণ্ডে গড়ে উঠেছে এ উপন্যাসের কাঠামো।

- অপেক্ষাকৃত দুর্বল মেরুদণ্ডটির ভাঙন শুরু হলো একুশের চেতনার মধ্য দিয়ে। যার ফলপ্রসূ সমাপ্তি ঘটল একাত্তরের বিজয়ের মধ্য দিয়ে। এ ভূখণ্ডে শহুরে সভ্যতার সূচনালগ্নের তরুণ আলী জাফর এই উপন্যাসের ব্যক্তি চরিত্র। আলী জাফরের মতো তখন গ্রাম ছেড়ে শহরে আসছে শত শত মানুষ, যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।

------------------
শওকত ওসমান রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো- 
• উপন্যাস:
- জননী,
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- আর্তনাদ,
- রাজপুরুষ। 

• গল্পগ্রন্থ:
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- মনিব ও তাহার কুকুর,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী। 

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ভাব ভাষা ভাবনা,
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর। 

• নাটক:
- আমলার মামলা,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা। 

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ওটেন সাহেবের বাংলো,
- মস্কুইটোফোন,
- ক্ষুদে সোশালিস্ট,
- পঞ্চসঙ্গী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'আর্তনাদ' উপন্যাস শওকত ওসমান।

৫,১১৩.
গোলাম মোস্তফা রচিত রসুলুল্লাহর জীবনীমূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) মরু ভাষ্কর
  2. খ) নবী রাসূল
  3. গ) বিশ্বনবী
  4. ঘ) রাসূলজীবনী
সঠিক উত্তর:
গ) বিশ্বনবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশ্বনবী
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা রচিত রসুলুল্লাহর জীবনীমূলক গ্রন্থ 'বিশ্বনবী'। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে। 
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৪)  কবি ও লেখক।
-  তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- তার কাব্যের প্রধান বিষয়বস্তু ইসলাম ও প্রেম। 

তাঁর অন্যান্য গদ্যরচনা সমূহ: 
- ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬),
- ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭),
- আমার চিন্তাধারা (১৯৫২),
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি প্রধান। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১১৪.
শহীদুল্লা কায়সারের আট বছরের কারাজীবনের স্মৃতি অঙ্কিত হয়েছে কোন গ্রন্থে?
  1. রাজবন্দীর জবানবন্দী
  2. রাজবন্দীর রোজনামচা
  3. কারাগারের রোজনামচা
  4. কারাগারের দিনগুলি
সঠিক উত্তর:
রাজবন্দীর রোজনামচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজবন্দীর রোজনামচা
ব্যাখ্যা
⇒ রাজবন্দীর রোজনামচা:
• শহীদুল্লা কায়সারের আট বছরের কারাজীবনের আশা, আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ, বেদনায় নিয়ে রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’। গ্রন্থটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
• গ্রন্থের শুরুতে তিনি লিখেছেন-
আট বছরের কারাজীবনে আশা আকাঙ্ক্ষা দুঃখ বেদনায় যারা ছিল নিত্যদিনের সাথী তাদের হাতে তুলে দিলাম বন্দী-জীবনের রোজনামচা।

• প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:
অনুজ জহির রায়হান ডায়রি লেখার ফরমাশ জানিয়ে একখানা খাতা পাঠিয়েছিল জেলখানায়। সুদৃশ্য মলাট আর রঙিন কাগজ দেখে রীতিমতো যত্ন করেই খাতাটাকে তুলে রেখেছিলাম বেশ কিছুদিন। মাঝে মাঝে হাত বুলিয়ে মলাটের মসৃণতাটা অনুভব করেছি আর হয়ত টুকে রেখেছি দুচারটি টুকরো কথা, এঁকে রেখেছি- এক আধটি ছবির রেখা। রাজবন্দীর রোজনামচার এটাই হল উৎপত্তি।
কিন্তু এই উৎপত্তি থেকে রোজনামচা কখনো ছাপার অক্ষরে পরিণত রূপে আত্ম-প্রকাশ করতে পারত না, যদি না থাকতো কারাগারের সাথী সন্তোষ গুপ্তের অক্লান্ত শ্রম এবং বন্ধুসুলভ নিষ্ঠা। কাগজ সংগ্রহে সাহায্য করেছেন সিদু ভাই। এদের দুজনের কাছেই আমি ঋণী।
আর একজন, এ পুস্তক প্রকাশে আমার মতোই আশা উৎকণ্ঠা উদ্বেগের যার অন্ত ছিল না, আমার কৃতজ্ঞতা তার অনভিপ্রেত। তাই নামটাও তার অনুক্ত থাকল।

অন্যদিকে,
- 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' নামে কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ রয়েছে।
- ‘কারাগারের রোজনামচা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ।
- ‘কারাগারের দিনগুলি’ বোরহান আহমেদ রচিত গ্রন্থ।

==============
⇒ শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ ।

উৎস: ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ গ্রন্থ;  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১১৫.
জসীমউদ্দীনের রাখালী কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯২৫ সালে
  2. খ) ১৯২৭ সালে
  3. গ) ১৯২৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৩৪ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা

• পল্লীকবি জসীমউদ্দীন (১৯০৩-১৯৭৬) একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
• তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
• ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
• পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত।
• 'রাখালী' তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
• এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
• বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে।
• তাঁর বিখ্যাত কবর কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- রূপবতী,
- মাটির কান্না,
- সুচয়িনী,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত আত্মকথাঃ
- জীবনকথা,
- স্মৃতিপট,
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙ্গিনায়।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থঃ
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশি,
- হাসু।
• 'বোবা কাহিনী' তাঁর একমাত্র উপন্যাস।
• তাঁর রচিত নাটক-
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মেয়ে ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ‌লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,১১৬.
শওকত ওসমান রচিত ‘আমলার মামলা’ নাটকের প্রেক্ষাপট কী? 
  1. শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ 
  2. আমলাতন্ত্রের দুর্নীতি ও শোষণ
  3. দরিদ্র পরিবারের জীবন সংগ্রাম 
  4. সব কয়টি 
সঠিক উত্তর:
সব কয়টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সব কয়টি 
ব্যাখ্যা

• ‘আমলার মামলা’ শওকত ওসমান রচিত একটি বিখ্যাত নাটক।
-----------------------------------------------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নাম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস : আর্তনাদ।
----------------------------------------------------
‘আমলার মামলা’ নিয়ে কিছু কথা:
- শওকত ওসমানের বিখ্যাত নাটক ‘আমলার মামলা’ তৎকালীন সমাজব্যবস্থার একটি বাস্তব ও নির্মম প্রতিফলন।
- এই নাটকটি মূলত আমলাতন্ত্রের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাধারণ মানুষের শোষণের চিত্র তুলে ধরে।
- নাটকটিতে দেখানো হয়েছে—কীভাবে সরকারি আমলারা তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে নিপীড়ন করে এবং আইনি জটিলতার মাধ্যমে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করে।
- নাটকের কাহিনিতে একটি দরিদ্র পরিবারের পাঁচজন মেধাবী ছেলের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে।
- বিশেষ করে বড় ছেলের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দারিদ্র্য ও আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতির কারণে ভেঙে যায়।
- তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলেও অর্থনৈতিক সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে।
- ‘আমলার মামলা’ শুধু শোষণের কাহিনি নয়, বরং শোষণের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভ ও প্রতিবাদের কথাও বলে
- নাটকে দেখা যায়, অন্যায়ের শিকার মানুষ ধীরে ধীরে সচেতন হয় এবং প্রতিবাদী হয়ে ওঠে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৫,১১৭.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি।' - আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত গানটি প্রথম কোন গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে?
  1. একুশের গল্প
  2. একুশের গান
  3. একুশে ফেব্রুয়ারী
  4. একুশের  শিরোনাম
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
ব্যাখ্যা
• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার জন্য ঢাকায় যে আত্মদান করা হয় তার স্মরণে ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে হাসান হাফিজুর রহমান 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামে একটি সাহিত্য সংকলন সম্পাদনা করেন।
- এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান। সম্পাদক ও প্রকাশক উভয়েই বামপন্থি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকশা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২ জন লেখক লিখেছেন।
- এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি। প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে।

উল্লেখ্য, 
  - ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি গানটি রচনা করেন সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী। ‘একুশের  শিরোনামে’ গানটি একটি খবরের কাগজের শেষ পাতায় প্রথম প্রকাশ হয়েছিল।

- ‘একুশের গান’ শিরোনামে গানটি প্রথম প্রকাশ হয় ভাষা আন্দোলনের প্রথম লিফলেটে। ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলনে প্রথম প্রকাশ হয়েছিল দেশাত্মবোধক এ গানটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১১৮.
বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তন করেন কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা

• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ছিলেন একাধারে সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী।
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ মাত্র তেরো বছর বয়সে 'বিদ্যোৎসাহিনী সভা' প্রতিষ্ঠা করেন।
- বিদ্যোৎসাহিনী সভাতে সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে মিলিত হয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা করতেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ:
• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা।
- এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।
- বাংলা গদ্যের উন্নয়নে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

• সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ:
- সতেরো খণ্ডে সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদও তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি।
- এটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,১১৯.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ?
  1. ক) আর্তনাদে বিবর্ণ
  2. খ) উচ্চারণগুলি শোকের
  3. গ) একাত্তরের ঢাকা
  4. ঘ) একাত্তরের ডায়েরি
সঠিক উত্তর:
গ) একাত্তরের ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) একাত্তরের ঢাকা
ব্যাখ্যা
- 'একাত্তরের ঢাকা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি প্রবন্ধের নাম।
- 'সেলিনা হোসেন' কর্তৃক এই প্রবন্ধটি রচিত হয়।

একাত্তরের ঢাকা
- সেলিনা হোসেন রচিত একাত্তরের ঢাকা একটি সংকলন গ্রন্থ। শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ লা মার্চ থেকে। 
-  শেষ হয়েছে বিজয় দিবসের পরে বধ্যভূমি আবিষ্কার এবং লেখকের নানা স্মৃতিচারণের মাধ্যমে।
- এ বইয়ে ২২টি শিরোনামে তিনি বিভিন্ন বিষয় এনেছেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১২০.
'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - 
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. বিষ্ণু দে
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• ‘মাটির দেয়াল’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা - অমিয় চক্রবর্তী

অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১২১.
'শিক্ষার হেরফের' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুফিয়া কামাল
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'শিক্ষার হেরফের' প্রবন্ধ:
- শিক্ষা ও রাজনৈতিক বিষয়ে কবির দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্পষ্ট ও বলিষ্ঠ। 'শিক্ষার হেরফের' (১৮৯২) প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব দেন।
- রাজশাহীতে অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ 'শিক্ষার হেরফের' শীর্ষক এই প্রবন্ধ রচনা করেন।

গ্রন্থের ভূমিকায় কবি লেখেন-
শিক্ষার হেরফেরনামক প্রবন্ধ যখন লিখিত হয় তখন মনে করি নাই যে, বর্তমান শিক্ষাপ্রণালী অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রুটি প্রদর্শনে কাহারো হৃদয়ে আঘাত লাগিবে। বিশেষত উক্ত প্রবন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সম্মুখেই পঠিত হয়। সেখানে রাজশহী কলেজের অধ্যক্ষ ও অধ্যাপক অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তাঁহারা কেহ কোনোরূপ ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাই; বরং যতদূর জানা গিয়াছিল অনেকেই অনুকূলভাবে লেখকের মতের অনুমোদন করিয়াছিলেন।
অবশেষে উক্ত প্রবন্ধ সাধনায় প্রকাশিত হইলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধিধারী পাঠক উহা ইংরেজিতে অনুবাদ করিবার জন্য ঔৎসুক্য প্রকাশ করেন এবং কলেজের অনেক পুরাতন ছাত্রের নিকট উহার ঐকমত শুনা যায়। বঙ্কিমবাবু, গুরুদাসবাবু এবং আনন্দমোহন বসু মহাশয় তৎসম্বন্ধে যে-পত্র লিখিয়াছিলেন তাও পাঠকগণ অবগত আছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি যাঁহাদের হৃদয়নিকুঞ্জে প্রিয়স্থান অধিকার করিয়াছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্ভুক্ত লোকের মুখে তাহার কোনোরূপ অমর্যাদার কথা শুনিলে তাঁহাদের মধ্যে কাহারো মনক্ষোভ উপস্থিত হইতে পারে সন্দেহ নাই, অতএব বর্তমান আলোচনায় প্রবৃত্ত হওয়া আমি আমার পক্ষে দুর্ভাগ্য বিবেচনা করি। কেবল, বিশ্ববিদ্যালয়ের যাঁহারা গৌরবস্থল এমন অনেক মহোদয়ের উৎসাহবাক্যে আমি নিজের লজ্জা নিবারণে সক্ষম হইতেছি।

উৎস: 'শিক্ষার হেরফের' প্রবন্ধ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৫,১২২.
'শেষের কবিতা' প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯২৭ সালে
  2. খ) ১৯২৯ সালে
  3. গ) ১৯৩৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৩৩ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২৯ সালে
ব্যাখ্যা
শেষের কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রোমান্টিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে। এটি একটি কাব্যোপন্যাস। এর অন্যতম চরিত্র অমিত ও লাবণ্য। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,১২৩.
'জীবন বিনিময়' কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. ক) আহসান হাবিব
  2. খ) গোলাম মোস্তফা
  3. গ) কায়কোবাদ
  4. ঘ) ফররুখ আহমেদ
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
গােলাম মােস্তফা যশাের জেলার শৈলকুপা থানার মনােহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
কাব্য, উপন্যাস, জীবনী, অনুবাদ ইত্যাদি সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় তাঁর স্বচ্ছন্দ পদচারণা ছিল।
কাব্যচর্চার ক্ষেত্রেই ইসলামি ঐতিহ্য থেকে তিনি প্রেরণা লাভ করেছিলেন।
তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

‘জীবন বিনিময়’ কবিতাটি গােলাম মােস্তফার বুলবুলিস্তান কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে।
কবিতাটিতে পিতৃস্নেহের একটি মহৎ দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে।
পিতার স্নেহ-বাৎসল্যের কাছে মৃত্যুর পরাজয় এই কবিতার প্রতিপাদ্য বিষয়। 

তাঁর প্রকাশিত কাব্য:
- রক্তরাগ,
- খােশরােজ,
- কাব্যকাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা 
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম,
- তারানা ই পাকিস্তান 
- গীতি সঞ্চয়ন 

উপন্যাস:
- ভাঙ্গাবুক,
- রূপের নেশা,
- এক মন এক প্রাণ;

জীবনী :
-বিশ্বনবী,
- মরুদুলাল;
- ইসলাম ও জেহাদ 
- আমার চিন্তাধারা 

অনুবাদ :
- কালামে ইকবাল,
- আল কুরআন,
- শিকওয়া ও জওয়াবে শিকওয়া ইত্যাদি। 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলা সাহিত্য,নবম দশম শ্রেণি।]
৫,১২৪.
"বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা এক পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে"- গানটির রচয়িতা কে?
  1. লালন শাহ্‌
  2. হাসন রাজা
  3. দ্বিজ কানাই
  4. সিরাজ সাঁই
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ্‌
ব্যাখ্যা
• "বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা এক পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে"- গানটির রচয়িতা লালন শাহ্‌।

• লালন শাহ্:

- লালন শাহ্ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
- তাই তিনি গেয়েছে - ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’

তাঁর রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান:
- আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
- আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।
- খাচার ভিতর অচিন পাখি।
- বাড়ির কাছে আরশিনগর।
- সব লােকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
- সময় গেলে সাধন হবে না।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৫,১২৫.
নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) সাদা হাওয়া
  2. খ) মাটির দেয়াল
  3. গ) পথ অন্তহীন
  4. ঘ) দোজখের ওম
সঠিক উত্তর:
খ) মাটির দেয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাটির দেয়াল
ব্যাখ্যা
'মাটির দেয়াল' একটি কাব্যগ্রন্থ। এটি রচনা করেন অমিয় চক্রবর্তী।
পথ অন্তহীন - তাঁর রচিত গদ্যরচনা।
সাদা হাওয়া - উপন্যাসের রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
দোজখের ওম - গল্পগ্রন্থের রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১২৬.
চর্যাপদের ইংরেজি অনুবাদ গ্রন্থ 'Mystic Poetry of Bangladesh' এর লেখক কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. ফখরুল আলম
  3. হাসনা জসীমউদ্‌দীন মওদুদ
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
হাসনা জসীমউদ্‌দীন মওদুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসনা জসীমউদ্‌দীন মওদুদ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের ইংরেজি অনুবাদ 'Mystic Poetry of Bangladesh': 
- নেপালের রাজদরবারে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কার করেছিলেন বাংলার প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদ।
- তারপর চর্যাপদ নিয়ে কিছু গবেষণা হয়েছে। কিন্তু গবেষকদের নির্ভর করতে হয়েছে তিব্বতি ও মঙ্গোলীয় ভাষায় অনূদিত চর্যাপদ-এর ওপর।
- হাসনা জসীমউদ্‌দীন মওদুদ চর্যাগুলোর ইংরেজি অনুবাদ করেছেন তালপাতার মূল পাণ্ডুলিপি থেকে।

• Hasna has written several books, including:

- Where Women Rule: South Asia, Haranand, Delhi, 2017
- Mystical Poetry of Bangladesh, Haranand, Delhi, 2017
- Revisiting China After 32 Years, 2011
- Eastern Himalayan Culture, Ecology and People, 2001
- A Thousand Year Old Bengali Mystic Poetry, 1992
- Women in China, Vikas, New Delhi

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট, ১ লা এপ্রিল, ২০১৭, THE LAKSHMI MITTAL AND FAMILY SOUTH ASIA INSTITUTE, HARVARD UNIVERSITY.
৫,১২৭.
মহাকবি আলাওল 'পদ্মাবতী' কাব্যটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন?
  1. ফারসি
  2. হিন্দি
  3. উর্দু
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' কাব্যটি মহাকবি আলাওল হিন্দি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন।

আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- কাব্যিক আবেগের সঙ্গে বৌদ্ধিক চেতনার মিশ্রণ থাকায় আলাওলকে ‘পন্ডিতকবি’ বলা হয়।
- এখন পর্যন্ত আলাওলের ৭ টি কাব্যের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দিকাব্য 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে আলাওল 'পদ্মাবতী' গ্রন্থটি অনুবাদ করেন।

পদ্মাবতী:
- এটি একটি ইতিহাসমিশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য।
- পদ্মাবতী আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- নাগরিক শিক্ষা, বৈদগ্ধ্য রূপ ও অভিপ্রায় তাঁর এ কাব্যের ভাব-ভাষা-রুচিতে প্রভাব বিস্তার করেছে।
- ‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খণ্ডে লেখা আছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১২৮.
'ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর প্রধান লেখক ছিলেন-
  1. কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হুসেন প্রমুখ
  2. মোহাম্মদ আকরাম খাঁ, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ
  3. মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন প্রমুখ
  4. কাজী ইমদাদুল হক, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী প্রমুখ
সঠিক উত্তর:
কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হুসেন প্রমুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল হুসেন প্রমুখ
ব্যাখ্যা
মুসলিম সাহিত্য-সমাজ:
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজ ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

• সংগঠনটির পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ.এফ.এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদির প্রমুখের ওপর। তারাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য।

• নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।

এছাড়াও-
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র শিখা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে।
• শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল।
• প্রথম সংখ্যা আবুল হুসেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যা কাজী মোতাহার হোসেন, চতুর্থ সংখ্যা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং পঞ্চম সংখ্যা আবুল ফজল সম্পাদনা করেন।
• শিখার মুখবাণী ছিল -‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।

• মুসলিম সাহিত্য-সমাজের প্রধান লেখকরা হলেন-
- আবুল হুসেন,
- মোতাহের হোসেন চৌধুরী,
- কাজী আবদুল ওদুদ,
- আবদুল কাদির,
- আবুল ফজল,
- আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,১২৯.
রোমান 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুসরণে মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য কোনটি?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা

• 'বীরাঙ্গনা কাব্য':
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।
- রোমান কাব্য 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুসরণে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত।
- এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।

- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে। বীরাঙ্গনা (১৮৬২) পত্রকাব্যের নায়িকাদের দিকে তাকালে এ কথার সত্যতা উপলব্ধি করা যাবে। এখানে জনা, কৈকেয়ী, তারা প্রমুখ পৌরাণিক নারী তাদের স্বামী বা প্রেমিকদের নিকট নিজেদের কামনা-বাসনা ও চাওয়া-পাওয়ার কথা নির্ভীকচিত্তে প্রকাশ করে। নারীচরিত্রে এরূপ দৃঢ়তার প্রকাশ বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের আগে আর কারও রচনায় প্রত্যক্ষ করা যায় না।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী। 

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

৫,১৩০.
নিচের কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকা নয়?
  1. মহুয়া
  2. কমলা রানীর গান
  3. চন্দ্রাবতী
  4. দেওয়ান ভাবনা
সঠিক উত্তর:
কমলা রানীর গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমলা রানীর গান
ব্যাখ্যা
- মৈমনসিংহ গীতকা নয় - কমলা রানীর গান।
- এটি হচ্ছে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা।

পূর্ববঙ্গ-গীতিকাগুলো গলো:
- ভেলুয়া সুন্দরী,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- কমলা রানীর গান। 

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
যথা:
১. মহুয়া,
২. মলুয়া,
৩. চন্দ্রাবতী,
৪. কমলা,
৫. দেওয়ান ভাবনা,
৬. দস্যু কেনারামের পালা,
৭. রূপবতী,
৮. কঙ্ক ও লীলা,
৯ কাজলরেখা ও
১০. দেওয়ানা মদিনা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,১৩১.
“বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।”—উক্তিটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া?
  1. হুতোম প্যাঁচার নকশা
  2. পালামৌ
  3. বিচিত্র চিন্তা
  4. পাখির বাসা 
সঠিক উত্তর:
পালামৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালামৌ
ব্যাখ্যা

“বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে”—এই অমর উক্তিটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনি ‘পালামৌ’ গ্রন্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
------------------------------------------------------
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
-  সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৪–১৮৮৯) ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক ও পণ্ডিত।
- তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে।
- তিনি একজন স্বশিক্ষিত মানুষ ছিলেন।
- নিজের উদ্যোগে অধ্যয়নের মাধ্যমে ইংরেজি সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও আইন বিষয়ে তিনি বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন
- সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
• যাত্রা সমালোচনা,
• কণ্ঠমালা,
• রামেশ্বরের অদৃষ্ট,
• মাধবীলতা,
• দামিনী, প্রভৃতি। 
----------------------------------------------
‘পালামৌ’ সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- 'পালামৌ’ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ভ্রমণকাহিনী।
- ‘পালামৌ’ ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- পালামৌ বিহারের একটি স্থান।
- বিহারে অবস্থানকালে নিজের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা অবলম্বনে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই ভ্রমণকাহিনি রচনা করেন।
- এই রচনাতেই তিনি অমর বাক্য সৃষ্টি করেন - “বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।”
---------------------------------------------------------------------
অন্যদিকে,
• কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত হুতোম প্যাঁচার নকশা একটি ব্যঙ্গরচনা।
• বিচিত্র চিন্তা- আহমদ ছফা রচিত প্রবন্ধ। 
• পাখির বাসা- ফররুখ আহমেদ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

৫,১৩২.
'আগুন নিয়ে খেলা' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. আবু ইসহাক
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. কাজী ইমদাদুল হক
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

• 'আগুন নিয়ে খেলা' উপন্যাস:
- 'আগুন নিয়ে খেলা' ​অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস। 
- প্রথম প্রকাশ আশ্বিন ১৩৩৭, দ্বিতীয় সংস্করণ জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৬,  তৃতীয় সংস্করণ অগ্রহায়ণ ১৩৫২,  চতুর্থ সংস্করণ মাঘ ১৩৫৭ এবং পঞ্চম সংস্করণ বৈশাখ ১৩৬৩। 
- প্রচ্ছদপট শ্রীমতী লীলা রায়ের আঁকা। এ গ্রন্থের কপিরাইট শ্রীমতী লীলা রায়ের ছিল।
- প্রকাশক শ্রীগোপালদাস মজুমদার। গ্রন্থটি ডি. এম. লাইব্রেরী , কর্নওয়ালিস স্টীট, কলিকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। প্রকাশকালে গ্রন্থটির মূল্য ছিল ​​তিন টাকা। 

​--------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  'আগুন নিয়ে খেলা' অন্নদাশঙ্কর রায় এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,১৩৩.
‘রাজাবলী’ - গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. বিষ্ণু দে
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• ‘রাজাবলী’ গ্রন্থের রচয়িতা - মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
 
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- এছাড়াও তিনি কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
 
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা,
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,১৩৪.
কোনটি শামসুর রাহমানের কাব্য নয়?
  1. হরিণের হাড়
  2. অন্ধকার থেকে আলোয়
  3. লেলিহান স্বাদ
  4. প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
সঠিক উত্তর:
লেলিহান স্বাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেলিহান স্বাদ
ব্যাখ্যা

'লেলিহান স্বাদ' শওকত আলী রচিত গল্পগ্রন্থ। ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- হরিণের হাড়।
- অন্ধকার থেকে আলোয়
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে 'শামসুর রাহমান' রচিত কাব্যগ্রন্থ।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,১৩৫.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা?
  1. সঞ্চিতা
  2. কালান্তর
  3. মহাপৃথিবী
  4. কাঁদো নদী কাঁদো
সঠিক উত্তর:
কালান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালান্তর
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- মানুষের ধর্ম,
- কালান্তর,
- সভ্যতার সংকট ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৩৬.
'পরিচয়' কোন ধরনের পত্রিকা ছিল?
  1. ত্রৈমাসিক
  2. ষান্মাসিক
  3. মাসিক
  4. দৈনিক
সঠিক উত্তর:
ত্রৈমাসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রৈমাসিক
ব্যাখ্যা
'পরিচয়' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতার আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল', 'কালিকলম', 'পরিচয়'-এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক হিসেবে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৯৩০ সালে 'কল্লোল' বন্ধ হয়ে গেলে বিষ্ণু দে-ও এ পত্রিকায় যোগ দেন এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে একযুগ এখানে সংযুক্ত ছিলেন।
- সুধীন্দ্রনাথও টানা বার বছর সম্পাদক ছিলেন এ পত্রিকার।
- পরে পত্রিকার মালিকানা-বদল ঘটে এবং গোপাল হালদার এর সম্পাদক হন।
- কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) পশ্চিমবঙ্গ শাখার তত্ত্বাবধানে এখনো 'পরিচয়' প্রকাশ পায়।
- বলা হয়, 'সবুজপত্রে'র পর এরকম উচ্চমানের পত্রিকা বাংলায় আর প্রকাশিত হয় নি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৩৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য কোনটি?
  1. ব্রজাঙ্গনা
  2. মেঘনাদবধ
  3. তিলোত্তমাসম্ভব
  4. বীরাঙ্গনা
সঠিক উত্তর:
ব্রজাঙ্গনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রজাঙ্গনা
ব্যাখ্যা

• ‘ব্রজাঙ্গনা’ গীতিকাব্য:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'।
- এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড জাতীয় গীতি কবিতা। 
- কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'।
- 'রাধা' সম্পর্কে মধুসূধন বলেছেন ‘Poor Old Mrs. Radha of Braja’( ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা )।

অন্যদিকে,
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণের' কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দের কাহিনির অবলম্বনে রচিত। সৌন্দর্য‍্যের প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে
সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- রোমান কাব্য 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুসরণে রচিত 'বীরাঙ্গনা কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য। এ কাব্যে পত্রের সংখ্যা মোট ১১ টি।

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,১৩৮.
সুকান্ত ভট্টাচার্য মৃত্যুবরণ করেন মাত্র -
  1. ২৩ বছর বয়সে
  2. ২১ বছর বয়সে
  3. ২০ বছর বয়সে
  4. ২২ বছর বয়সে
সঠিক উত্তর:
২১ বছর বয়সে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ বছর বয়সে
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে।
- মাত্র ২১ বছর বয়সে ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালের  প্রথমে ম্যালেরিয়া ও পরে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ (সঙ্গীত) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৩৯.
'নিমগাছ' গল্পে বনফুল 'নিমগাছ' বলতে কী বুঝিয়েছেন?
  1. ক) সকলের জন্য সাহায্যে হাত বাড়ানো
  2. খ) রোগ নিরাময়ের অস্ত্র
  3. গ) নারীর আত্মত্যাগ
  4. ঘ) সাধারণের মধ্যে অসাধারণ গুণ
সঠিক উত্তর:
গ) নারীর আত্মত্যাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নারীর আত্মত্যাগ
ব্যাখ্যা
নিমগাছ গল্পটি বনফুল (বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়) এর 'অদৃশ্যলোক' (১৯৪৭) নামক গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- এটি একটি প্রতীকী গল্প।
- এখানে নিমগাছের তুলনা করা হয়েছে একজন গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মী বউ এর সাথে। 
- 'নিমগাছ' গল্পটিতে নিমগাছ প্রতীকের সূত্রে বনফুল দেখিয়েছেন নারীর অপরিসীম আত্মত্যাগ।

কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (১৮৯৯-১৯৭৯) এর জন্ম বিহারের পূর্ণিয়া জেলার মণিহারী গ্রামে। 
তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ
- বনফুলের গল্প (১৯৩৬),
- বিন্দুবিসর্গ (১৯৪৪),
- অদৃশ্যলোকে (১৯৪৬),
- তন্বী (১৯৪৯),
- অনুগামিনী (১৯৫৮),
- দূরবীণ (১৯৬১),
- মণিহারী (১৯৬৩),
- বহুবর্ণ (১৯৭৬),
- বনফুলের নতুন গল্প (১৯৭৬) প্রভৃতি।

 তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস
- তৃণখন্ড (১৯৩৫),
- জঙ্গম (তিন খন্ড, ১৯৪৩-১৯৪৫),
- অগ্নি (১৯৪৬),
- ডানা (তিনখন্ড, যথাক্রমে ১৯৪৮, ১৯৫০ ও ১৯৫৫),
- স্থাবর (১৯৫১),
- অগ্নীশ্বর (১৯৫৯),
- হাটেবাজারে (১৯৬১),
- ত্রিবর্ণ (১৯৬৩),
- ভুবনসোম (১৯৬৩),
- প্রচ্ছন্ন মহিমা (১৯৬৭),
- উদয় অস্ত (দুই খন্ড, ১৯৫৯ ও ১৯৭৪) প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১৪০.
'আমার দেখা নয়াচীন' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ২০১২ সালে
  2. ২০১৮ সালে
  3. ২০১৭ সালে
  4. ২০২০ সালে
সঠিক উত্তর:
২০২০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০২০ সালে
ব্যাখ্যা
আমার দেখা নয়াচীন:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা তৃতীয় বই আমার দেখা নয়াচীন।
- প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে।
- এই বইটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।
- সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত।
 
উৎস: ১৪ আগস্ট ২০২০,  প্রথম আলো।
৫,১৪১.
“মিসির আলি” চরিত্রটি কার সৃষ্টি?
  1. শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. সত্যজিৎ রায়
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• মিসির আলি সিরিজ:
“মিসির আলি” বাংলাদেশের প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ সৃষ্ট একটি জনপ্রিয় চরিত্র। মিসির আলি কাহিনিগুলো রহস্যমাত্রিক। মিসির আলির কাহিনিগ‌ুলো ঠিক গোয়েন্দা কাহিনি নয়, কিংবা 'ক্রাইম ফিকশন' বা 'থ্রিলার' কাহিনি নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক, বিজ্ঞাননির্ভর এবং যুক্তিনির্ভর কাহিনির বুনটে বাঁধা। অনেক ক্ষেত্রে একে রহস্যগল্প বলা চলে। চারিত্রিক দিক দিয়ে মিসির আলি চরিত্রটি হুমায়ূন আহমেদের আরেক অনবদ্য সৃষ্টি।

মিসির আলি সিরিজের অন্যান্য পর্বগুলো হলো:
- দেবী (১৯৮৫),
- অন্যভুবন (১৯৮৭),
- বিপদ (১৯৯১),
- মিসির আলির অমীমাংসিত রহস্য (১৯৯৪),
- তন্দ্রাবিলাস (১৯৯৭),
- আমিই মিসির আলি (২০০০),
- বাঘবন্দি মিসির আলি (২০০১),
- নিশীথিনী (২০০৪),
- নিষাদ (২০০৪),
- বৃহন্নলা (২০০৪),
- কহেন কবি কালিদাস (২০০৫),
- মিসির আলির চশমা (২০০৮)  প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ‘মিসির আলি সিরিজ’ হুমায়ূন আহমেদ।
৫,১৪২.
সাঁওতাল বিদ্রোহের পেক্ষাপটে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) একটি কালো মেয়ের কথা
  2. খ) অরণ্যবহ্নি
  3. গ) কালিন্দা
  4. ঘ) রসকলি
সঠিক উত্তর:
খ) অরণ্যবহ্নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অরণ্যবহ্নি
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, (১৮৯৮-১৯৭১) একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
• তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়। এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী,  শনিবারের চিঠি,  প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। 
• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

তারাশঙ্কর প্রায় দুইশত গ্রন্থ রচনা করেন সেগুলির মধ্যে:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

- সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি’- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'একটি কালো মেয়ের কথা' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস।
- 'কালিন্দা' - নদীর বুকে উৎপন্ন চর কে কেন্দ্র করে তৈরি বিবাদ নিয়ে রচিত উপন্যাস।
- 'রসকলি' - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১৪৩.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. আখ্যান মঞ্জরী
  2. বর্ণপরিচয়
  3. বোধোদয়
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকটি
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

- বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

-ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১৪৪.
'মরণ রে,
তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।'
- কোন কবিতার লাইন?
  1. উর্বশী
  2. মরণ
  3. প্রাণ
  4. মৃত্যুর পরে
সঠিক উত্তর:
মরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরণ
ব্যাখ্যা
• ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।  
• উল্লেখযোগ্য কবিতা: মরণ,
 
মরণ’ কবিতার অংশবিশেষ:
"মরণ রে,
তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।"
 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষ লেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি। 
 
উৎস:
১) ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১০।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৩) বাংলাপিডিয়া।
৫,১৪৫.
'মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে এই আমার দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধূলা
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা -
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
 • 'মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে এই আমার দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধূলা
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।' -  কবিতাংশটুকুর রচয়িতা - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। 

⇒ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।
============== 
কবিতা: খাঁটি সোনা, 
কবি: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।

"মধুর চেয়ে আছে মধুর
সে এই আমার দেশের মাটি
আমার দেশের পথের ধূলা
খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া। 
৫,১৪৬.
কাজী মোতাহার হোসেনের বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন কোনটি?
  1. সঞ্চয়ন
  2. সঞ্চিতা
  3. সঞ্চয়িতা
  4. সঞ্জীবন
সঠিক উত্তর:
সঞ্চয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্চয়ন
ব্যাখ্যা

কাজী মোতাহার হোসেনের বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন হচ্ছে সঞ্চয়ন।  

কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ‘শিখা’ পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠায় তার অবদান ছিল।
- তিনি ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’ এর সাথে যুক্ত ছিলেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন ও আবুল ফজলের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- কাজী মোতাহার হোসেন সংস্থার মুখপত্র ‘শিখা’ পত্রিকা অল্প সময় সম্পাদনা করেন।
- শিক্ষা ও গবেষণায় তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে ভূষিত হন।

উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান।

অন্যদিকে, 
- সঞ্চিতা: এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কাব্যগ্রন্থ, যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করা হয়েছিল।  
- সঞ্চয়িতা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৩১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।  
- সঞ্জীবন: এটি কাজী মোতাহার হোসেনের প্রবন্ধ সংকলনের নাম নয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫,১৪৭.
"সুচারু সুরস অতি রাতুল অধর।
লাজে বিম্ব বান্ধুলি গমন বনান্তর।।- কার রূপের বর্ণনায় পঙক্তিদ্বয় রচিত ?
  1. ক) পদ্মাবতীর
  2. খ) মধুবালার
  3. গ) চন্দ্রাবতীর
  4. ঘ) মৃগাবতীর
সঠিক উত্তর:
ক) পদ্মাবতীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পদ্মাবতীর
ব্যাখ্যা
• মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থ। এটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার অন্তর্ভুক্ত একটি কাব্য।
• তাঁর কাব্য প্রতিভার জন্য তিনি আরাকান অমাত্য সভায় (মন্ত্রিসভা) স্থান পান।
• প্রধান অমাত্য (প্রধানমন্ত্রী) কোরেশী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে তিনি ১৬৪৮ সালে , হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী-এর পদুমাবৎ অবলম্বনে পদ্মাবতী কাব্যটি রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

পদ্মাবতীর রূপবর্ণনার কিছু অংশ হলো:

"সুচারু সুরস অতি রাতুল অধর।
লাজে বিম্ব বান্ধুলি গমন বনান্তর।।
মাণিক্য প্রবাল অতি নীরস কর্কশ।
অধরের অমিয় স্রবে এই মহারস।।
রক্ত উৎপল লাজে জলান্তরে বৈসে।
তাম্বুল রাতুল হৈল অধর পরশে।।"
(পদ্মাবতীর রুপবর্ণনা অংশ থেকে)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৪৮.
'চক্রবাক' - কাজী নজরুল ইসলামের কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. উপন্যাস 
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯ সাল) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দে) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

• 'চক্রবাক':
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- সাম্যবাদী,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয়শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫,১৪৯.
‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেসী /
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।’ - পদটির রচয়িতা কে?
  1. কাহ্নপা
  2. ঢেণ্ডণপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা
ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাপদের ৩৩নং পদটি তাঁর রচনা।
- তাঁর রচিত পদে বাঙালি জীবনের চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

ঢেণ্ডণপা রচতি পদ:

‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেসী /
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৫০.
সুফিয়া কামাল কোন পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন?
  1. বেগম
  2. মোহাম্মদী
  3. সওগাত
  4. ক্রান্তি
সঠিক উত্তর:
বেগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম
ব্যাখ্যা
সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম 'ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন'-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে 'মহিলা সংগ্রাম পরিষদ' (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১৫১.
জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে?
  1. বনলতা সেন
  2. হায় চিল
  3. মৃত্যুর আগে
  4. রূপসী বাংলা
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুর আগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুর আগে
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।

- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।

- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।

- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।

- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।

- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।

- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- তিনি ট্রামের নিচে পড়ে আহত হন এবং হাসপাতালে মারা যান।

------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ ইত্যাদি।

• 'কবিতার কথা' হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,১৫২.
'চৈতালী ঘূর্ণি' উপন্যাসটি রচনা করেন -
  1. ক) চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. খ) জর্জ আব্রাহাম
  3. গ) রফিক আজাদ
  4. ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- 'চৈতালী ঘূর্ণি' উপন্যাসটির রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- এছাড়াও কালিকলম, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি, প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি।
- পঞ্চগ্রাম।
- ধাত্রীদেবতা।
- কালিন্দী।
- গণদেবতা।
- পঞ্চগ্রাম।
- কবি।
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা।
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১৫৩.
চর্যাপদের ৩৩নং পদটির রচয়িতা কে?
  1. ঢেণ্ডণপা
  2. কুক্কুড়ীপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা
ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাপদের ৩৩নং পদটি তাঁর রচনা।
- তাঁর রচিত পদে বাঙালি জীবনের চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

ঢেণ্ডণপা রচিত্র পদ:

‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেসী /
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৫৪.
‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’- কবিতার রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. শামসুর রাহমান
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

- ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’ নামে বিখ্যাত কবিতার রচয়িতা-  শামসুর রাহমান । 

• শামসুর রাহমান: 

- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর ‘রূপালি স্নান’ প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- ‘রূপালি স্নান’ কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।
- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- অন্ধকার থেকে আলোয়,
- হরিণের হাড়,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,১৫৫.
বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে”- এ উক্তিটির প্রকৃত তাৎপর্য হচ্ছে -
  1. ক) বনের পশু বনে থাকতেই ভালোবাসে
  2. খ) প্রকৃতির রূপ সৌন্দর্য আদি ও অকৃত্রিম
  3. গ) আদিবাসী মানুষ অরণ্য জনপদে বাস করে
  4. ঘ) জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর
ব্যাখ্যা
''বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে''
- চমৎকার এ কথাটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন 'পালামৌ' নামের ভ্রমণকাহিনীতে।
এর মূলভাব হলো সৌন্দর্য্য সর্বত্র বিকশিত হয় না । প্রাকৃতিক নিয়মে যার যথা স্থান সেখানেই তার সৌন্দর্য ফুটে উঠে।

- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা। 
- ছোটনাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু ও মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- ''বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'' এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- এই বাক্য সৃষ্টির মাধ্যমে লেখক স্মরনীয় হয়ে থাকবেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৫৬.
'বীরবল' ছদ্মনামটি কার?
  1. বিনয় মুখোপাধ্যায়
  2. সুধীন্দ্ৰনাথ দত্ত
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরী: 
• বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী'র ছদ্মনাম বীরবল।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
- স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• তাঁর সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা হলো:
- বিশ্বভারতী (১৩৪৯-৫০),
- রূপ ও রীতি (১৩৪৭-৪৯) এবং
- অলকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,১৫৭.
শওকত আলীর ‘যাত্রা’ উপন্যাসে কোন সময়ের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে? 
  1. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত
  2. ১৯৭১ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী থেকে ১৬ ডিসেম্বর 
  3. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ
  4. স্বাধীনতা পরবর্তী সময়
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ
ব্যাখ্যা

- শওকত আলীর ‘যাত্রা’ উপন্যাসে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

• যাত্রা:
- শওকত আলীর ‘যাত্রা’ উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট।
- গল্পে ঢাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আকস্মিক আক্রমণের কারণে সাধারণ নগরবাসী প্রাণভয়ে পলায়ন করে। 
- পাকিস্তানি সেনাদের হঠাৎ আক্রমণে শহরের সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ আশ্রয় পাবেন তা না জেনেই প্রাণভয়ে ছুটতে থাকে। 
- উপন্যাসটি ডায়রির আকারে লেখা হয়েছে।
- এখানে মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হয়েছে।
- গল্পে নগরীর ধ্বংসলীলা, মানুষের দুঃখ-কষ্ট এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বেঁচে থাকার সংগ্রাম ফুটে উঠেছে।
- একই সঙ্গে দেখানো হয়েছে যে সাধারণ মানুষ কিভাবে প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠে।
---------------------------------
শওকত আলী:
- শওকত আলী (১৯৩৬-২০১৮) একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষক।
- তিনি মূলত মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি এবং মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট নিয়ে লিখেছেন।
- শওকত আলী বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
• যাত্রা;
• ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’;
• ‘অপেক্ষা’।

- শওকত আলীর বিখ্যাত ত্রয়ী উপন্যাস হলো:
• দক্ষিণায়নের দিন (১৯৮৫): ত্রয়ীর প্রথম কাহিনী, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লেখা।
• কুলায় কালস্রোত (১৯৮৬): দ্বিতীয় কাহিনী, ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
• পূর্বরাত্রি পূর্বদিন (১৯৮৬): শেষ কাহিনী, গল্পের সমাপ্তি।

উৎস:
যাত্রা উপন্যাস;
বাংলাপিডিয়া।

৫,১৫৮.
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. খ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. গ) সিকান্দার আবু জাফর
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ'। 

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ'র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস: 
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা |
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ।

• চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসের কাহিনী সংক্ষেপ: 
- উপন্যাসে কোপন নদীর তীরবর্তী চাঁদপাড়া গ্রামের জনৈক যুবক শিক্ষিত আরেফ আলী শীতের এক উজ্জ্বল জ্যোৎস্না রাতে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিল প্রকৃতির প্রয়ােজনে। প্রয়ােজন মিটিয়ে ঘরে ফিরে না গিয়ে সে। চন্দ্রলােকিত রজনীর রূপরাশিতে মােহাবিষ্ট হয়। হঠাৎ ছায়া শরীরের আকর্ষণে সে গ্রামের পথে বেরিয়ে পড়ে।
- বাঁশঝাড়ে নিহত এক রমণীর লাশ দেখে সে ঘটনাটি আরেফ আলীর মনােলােকে আলােড়ন তােলে।
- প্রকৃত ব্যাপরটি ছিল আরেফ আলী গ্রামের যে বড়বাড়িতে আশ্রিত গৃহশিক্ষক সেই বড়বাড়িরই অন্যতম কর্তাপুরুষ কাদের আলী নিম্ন শ্রেণির এক রমণীকে সম্ভোগের উদ্দেশ্যে বাঁশঝাড়ে যায়; আরেফ সেই কাদেরকেই অনুসরণ করেছিল। আরফের পদশব্দে ভয় পেয়ে কাদের রমণীটিকে গলাটিপে হত্যা করে।
- উপন্যাসের সিংহভাগ ব্যয়িত হয়েছে আরেফ আলীর মনে উক্ত ঘটনার প্রতিক্রিয়া বর্ণনায়। শেষ পর্যন্তই ঘটনাটি সে প্রথমে দাদাসাহেবকে এবং পরে পুলিশকে জানায়।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১৫৯.
বাংলাদেশের সাহিত্যে লোকসাহিত্য সংগ্রাহক কে?
  1. ড. কাজী আবদুল মান্নান
  2. ড. আশরাফ সিদ্দিকী
  3. ড. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ড. কাজী দীন মুহম্মদ
সঠিক উত্তর:
ড. আশরাফ সিদ্দিকী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. আশরাফ সিদ্দিকী
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সাহিত্যে লোকসাহিত্য সংগ্রাহক - ড. আশরাফ সিদ্দিকী
- তিনি মূলত লোকসাহিত্য-সংস্কৃতিবিদ হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর লোকসাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক গ্রন্থ 'লোকসাহিত্য' (১৯৬৪)।

অন্যদিকে,
• ড. কাজী আবদুল মান্নান ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক।
• ড. আলাউদ্দিন আল আজাদ ছিলেন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
• ড. কাজী দীন মুহম্মদ বাংলাদেশের একজন বরেণ্য ভাষাতত্ত্ববিদ ও সাহিত্যিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১৬০.
'থাকব না কো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে'- লাইনটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) রজনীকান্ত সেন
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'থাকব নাক বদ্ধ ঘরে,
দেখব এবার জগৎটাকে'- লাইনটির রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম ।


সংকল্প
        - কাজী নজরুল ইসলাম
থাকব না কো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে,- 
কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘুর্ণিপাকে। 
দেশ হতে দেশ দেশান্তরে 
ছুটছে তারা কেমন করে, 
কিসের নেশায় কেমন করে মরছে যে বীর লাখে লাখে, 
কিসের আশায় করছে তারা বরণ মরণ-যন্ত্রণারে।। 


উৎস: 'সংকল্প' কবিতা। 
৫,১৬১.
'পুতুলনাচের ইতিকথা' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) ছড়া-কবিতা
  2. খ) শিশুতোষ রচনা
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাট্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গ) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
কথা সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস- পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬), জননী, চিহ্ন, দিবারাত্রির কাব্য, পুতুলনাচের ইতিকথা, শহরবাসের ইতিকথা, অহিংসা, শহরতলী, সোনার চেয়ে দামি, স্বাধীনতার স্বাদ, ইতিকথার পরের কথা, আরোগ্য ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫,১৬২.
'বল্লালী বালাই' পর্বটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. পথের পাঁচালী
  3. অশনি সংকেত
  4. অপরাজিত
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা
• ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) বিভূতিভূ ষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় বিচিত্রা পত্রিকায়। গ্রন্থকারে প্রকাশিত হয় সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশনালয়, কলকাতা থেকে।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ: বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- এছাড়াও 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

• 'বল্লালী বালাই' বলার কারণ: 
- বল্লালী বালাই বলতে মূলত, রাজা বল্লাল সেনের বালাই বুঝানো হয়।
- তার শাসনামলে কৌলিন্য প্রথা চালু ছিল।
- কৌলীন্য প্রথা কুলীন ব্রাহ্মণদের মাঝে বহুবিবাহের প্রচলন ঘটায়।
- সেই প্রথা অনুসারে নামজাদা নৈকষ্য কুলীনেরা একেক জন ১০০ টিরও বেশি বিবাহ করে পালাক্রমে শ্বশুর বাড়ি আসত এবং মোটা অংকের টাকা নিয়ে পরের দিনই অন্য শ্বশুরবাড়ি যেতেন।
- এসব কারণে এ প্রথাকে বল্লালী বালাই' বলা হয়ে থাকে।

• উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো-
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,১৬৩.
রামায়ণের অনুবাদক নয় কে?
  1. ক) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. খ) কৃত্তিবাস
  3. গ) নিত্যানন্দ আচার্য
  4. ঘ) চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
ক) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
অনুবাদ সাহিত্য এ ক্ষেত্রে প্রথমেই উল্লেখযোগ্য রামায়ণ রচয়িতা কৃত্তিবাস ওঝা। বড়ু চন্ডীদাসের পরে তিনিই বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য কবি। তাঁর রচিত রামায়ণ বাংলা ভাষায় প্রথম ও সর্বাধিক জনপ্রিয় কাব্য। বর্ণনার হূদয়গ্রাহিতা এবং ভাষার প্রাঞ্জলতাই এর জনপ্রিয়তার কারণ। কৃত্তিবাস ১৫শ শতকের গোড়ার দিকে জীবিত ছিলেন। তাঁর কাব্যে মধ্যযুগের বাঙালি-জীবন প্রত্যক্ষ হয়ে উঠেছে। ১৮০২-৩ খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন থেকে মুদ্রিত হয়। মুদ্রণের সঙ্গে সঙ্গে তা সমগ্র বঙ্গদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। কৃত্তিবাসের পরে আরও অনেকে রামায়ণ রচনা করেছেন। সতেরো শতকে ময়মনসিংহের মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা চন্দ্রাবতীর রামায়ণগাথা সে অঞ্চলে প্রচলিত ছিল। উত্তরবঙ্গের অদ্ভুত আচার্য রামায়ণ গায়ক হিসেবে খ্যাত ছিলেন। নোয়াখালীর দ্বিজ ভবানী দাসের শ্রীরামপাঁচালি কাব্য অধ্যাত্ম্যরামায়ণ অবলম্বনে রচিত।
মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদ হচ্ছে কবীন্দ্র মহাভারত। ১৫১৫-১৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কবীন্দ্র পরমেশ্বর এটি রচনা করেন। লস্কর পরাগল খাঁর নির্দেশে রচিত বলে এটি পরাগলী মহাভারত নামেও পরিচিত।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৫,১৬৪.
নিচের কোন উপন্যাসে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনি উপস্থাপন করা হয়েছে?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. খোয়াবনামা
  3. খোঁয়ারি
  4. ওঙ্কার
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা

• 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের- এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিপুনভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। 
- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ ও ১৯৯৬ সালে কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন। 

অন্যদিকে,
• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- 'চিলেকোঠার সেপাই'” বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।

• 'খোঁয়ারি' ছোটগল্প:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বিখ্যাত ছোটগল্প 'খোঁয়ারি' (১৯৮২) মূলত মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক অস্থিরতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং হতাশাগ্রস্ত মধ্যবিত্তের মনস্তত্ত্ব তুলে ধরেছে। চার বন্ধুর আড্ডার মাধ্যমে পতিত হিন্দু-বাড়ির প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তৈরি হওয়া শূন্যতা ও রুক্ষ বাস্তবতার ছবি এতে ফুটে উঠেছে

এই সংকলনের "খোঁয়ারি" নামগল্পের পটভূমি পুরান ঢাকা। কাহিনীর কেন্দ্রস্থলে রয়েছে বৃদ্ধ অমৃতলালের শতাব্দী প্রাচীন জরাজীর্ণ বসতবাড়ি এবং অমৃতলালের স্মৃতিমন্থন। দেশভাগে তার পূর্বপুরুষেরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পূর্বে ঐশ্বর্য ও দাপটের সঙ্গে অমৃতলালের পূর্বপুরুষেরা ঢাকায় বাস করত। কিন্তু দেশভাগের ফলে তারা রাতারাতি সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে। একান্নবর্তী পরিবারের অনেকেই কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়। এরপর ১৯৬৪-এর পূর্ব পাকিস্তান দাঙ্গা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘটনায় বিশাল ঝাঁকুনি সহ্য করেছে বাড়িটি। দেশ স্বাধীন হবার পরে অমৃতলালের ছেলে সমরজিতের বন্ধুরা বাড়িটির কিছু অংশ ভাড়া বাবদ দখল চায়। অমৃতলালের বাড়িতে নতুন সংকট সামনে দাঁড়ায়। মুক্তিযুদ্ধ ও বাম রাজনীতি সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা অমৃতলালের বাড়ি দলীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করে। প্রকৃতপক্ষে ভাড়ার অজুহাতে বাড়ি দখল নেয়ার উদ্দেশে প্রতিয়মান হতে দেখা যায় তাদেরকে। অমৃতলাল একসময় প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। গল্পে ঢাকা শহরের সাতচল্লিশ পূর্ব হিন্দু-মুসলমানের আর্থ-সামাজিক অবস্থার চিত্র পাওয়া যায়। 

• 'ওঙ্কার' উপন্যাস:
- ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে।
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনি গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৫,১৬৫.
'ঝিকিমিকি' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. বিভক্তিযুক্ত দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. অনুকার দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় 'এই রকম একটা' ভাব।

যেমন-
অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাটু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ-মেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

• অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে।
যেমন-
আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, টুকরো-টাকরা, ধারধোর, জোগাড়-জাগাড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫,১৬৬.
'নিমচাঁদ, কেনারাম' - কোন সাহিত্যকর্মের চরিত্র?
  1. নবীন তপস্বিন
  2. কমলে কামিনী
  3. নীল দর্পন
  4. সধবার একাদশী
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা

'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,১৬৭.
'হঠাৎ আলোর ঝলকানি' বুদ্ধদেব বসু রচিত -
  1. প্রবন্ধ গ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. কাব্য
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।
- রবীন্দ্রনাথের মত তিনিও সব্যাসাচী লেখক।

- "প্রগতি" ও "কবিতা" নামে তিনি দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বুদ্ধদেব বসুর রচিত "হঠাৎ আলোর ঝলকানি” একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প: 
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• তাঁর উপন্যাস:  
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৬৮.
'শব্দকল্পদ্রুম' কবিতাটির লেখক কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সত্যেন সেন
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• সুকুমার রায় রচিত কবিতা - শব্দকল্পদ্রুম।

• সুকুমার রায়:
- তিনি ছিলেন শিশুসাহিত্যিক।
- ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়ায়।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী  তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- তিনি সুগায়ক ও সুঅভিনেতা হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
- তিনি ১৯২৩ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাই খাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১৬৯.
'রাজবন্দীর রোজনামচা' শহিদুল্লাহ কায়সার রচিত-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্মৃতিকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
'রাজবন্দীর রোজনামচা' শহিদুল্লাহ কায়সার রচিত স্মৃতিকথা।
সারেং বৌ ও সংশপ্তক তাঁর রচিত উপন্যাস এবং তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৭০.
কবি আল মাহমুদের কাব্যগ্রন্থ-
  1. উপমহাদেশ
  2. গন্ধবণিক
  3. সোনালী কাবিন
  4. ময়ূরীর মুখ
সঠিক উত্তর:
সোনালী কাবিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনালী কাবিন
ব্যাখ্যা

• 'সোনালী কাবিন' কবি আল মাহমুদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
• বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম ইত্যাদি এই কাব্যগ্রন্থের উপজীব্য বিষয়।
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- কবি ও কোলাহল,
- ডাহুকী ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- পানকৌড়ির রক্ত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,১৭১.
"কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ি
 তুমি হও গহিন গাঙ আমি ডুব্যা মরি।"
- কোন পালার পঙ্‌ক্তি?
  1. ক) মহুয়া
  2. খ) মলুয়া
  3. গ) দেওয়ানা মদিনা
  4. ঘ) কাজলরেখা
সঠিক উত্তর:
ক) মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মহুয়া
ব্যাখ্যা
ময়মনসিংহ গীতিকার শ্রেষ্ঠ পালা মহুয়া। এটি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে রচনা করেছেন। এটি নেত্রকোণার কাহিনি। 
মহুয়া নদের চাঁদকে উল্লিখিত কথাটি বলেছেন।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৫,১৭২.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'একাত্তরের রণাঙ্গন' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুল হুদা চৌধুরী
  2. খ) এম এ আখতার মুকুল
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) মেজর রফিকুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুল হুদা চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুল হুদা চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ একাত্তরের রণাঙ্গন এর রচয়িতা - শামসুল হুদা চৌধুরী

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ- 
- ঐশ্বর্যের চাবিকাঠি
- বরেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ
- একাত্তরের বিজয় 

• অন্যদিকে, 
এম এ আখতার মুকুল রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ = 'আমি বিজয় দেখেছি' 
সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ = 'একাত্তরের ঢাকা'
মেজর রফিকুল ইসলাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ = 'একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে'। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৫,১৭৩.
'কবিতা' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  4. খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

'কবিতা' পত্রিকা:
-  কবিতাবিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটির প্রথম দুবছরের সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও প্রেমেন্দ্র মিত্র
- যৌথ সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হলেও বুদ্ধদেব বসুই এর প্রধান পরিচালক ছিলেন।
- কবিতা পত্রিকার প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যার প্রথম কবি ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র। তাঁর কবিতার নাম ‘তামাসা’।
- আশ্বিন ১৩৪২ বঙ্গাব্দ থেকে চৈত্র ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত কবিতা পত্রিকার পঁচিশ বছরের জীবনকালে সর্বমোট ৩৪৫জন লেখক এতে অবদান রেখে গেছেন।

অন্যদিকে:
- 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
- 'কালি-কলম' পত্রিকার সম্পাদক মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

৫,১৭৪.
"তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা" কবিতাটি রচনা করেন কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. শামসুর রাহমান
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা-  
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি, 
- মধুস্মৃতি,
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।

শামসুর রাহমান: 
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫,১৭৫.
পেশাগত কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন উপাধি লাভ করেন?
  1. ক) রায়বাহাদুর
  2. খ) রায়গুণাকর
  3. গ) নওয়াব
  4. ঘ) জমিদার
সঠিক উত্তর:
ক) রায়বাহাদুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রায়বাহাদুর
ব্যাখ্যা
ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪)।
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন।
- তিনি তাঁর পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিম্ন নির্বাহী চাকরিতে (সাব-অর্ডিনেট এক্সিকিউটিভ সার্ভিস) যোগ দেন এবং পরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
- উপনিবেশিক সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে ‘রায়বাহাদুর’ এবং ১৮৯৪ সালে ‘Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire’ (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।
- বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর পেশাগত জীবনে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, তা তাঁর চিন্তা ও কর্মে গুরুতপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- তবে ইতিহাসে তিনি সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে নন, বরং একজন লেখক ও হিন্দু পুনরুত্থানবাদী চিন্তাবিদ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,১৭৬.
মুনীর চৌধুরী তাঁর 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের কাহিনি গ্রহণ করেছেন কোন গ্রন্থ থেকে?
  1. ক) পাদুমাবত
  2. খ) মহাশ্মশান
  3. গ) শকুন্তলম
  4. ঘ) কমেডি অফ এরর
সঠিক উত্তর:
খ) মহাশ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে। 
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। 
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।  
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি  ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরন বালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৭৭.
'আলোকিত মানুষ চাই' স্লোগান নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় নিচের কোনটি?
  1. এশিয়াটিক সোসাইটি
  2. জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র
  3. বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র
  4. বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি
সঠিক উত্তর:
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র
ব্যাখ্যা
১৯৭৮ সালে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
- এটির অবস্থান ঢাকার বাংলা মটরে।
- ‘আলোকিত মানুষ চাই’ হলো বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের স্লোগান।
- বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র হলো একটি এনজিও যা শিক্ষার মাধ্যমে অন্ধকার দূরীকরণে কাজ করে যাচ্ছে।
(সূত্র: বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র ওয়েবসাইট)
৫,১৭৮.
’অমিয় চক্রবর্তী’ কোন দশকের কবিদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বিশের দশক
  2. ত্রিশের দশক 
  3. চল্লিশের দশক
  4. পঞ্চাশের দশক
সঠিক উত্তর:
ত্রিশের দশক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিশের দশক 
ব্যাখ্যা

• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ। ।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- ত্রিশের দশকে পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া, 
- এক মুঠো, 
- মাটির দেয়াল, 
- অভিজ্ঞান বসন্ত, 
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,১৭৯.
''ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।'' উক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) মীর মশাররফ হোসেন
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ক) মোতাহার হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মোতাহার হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মোতাহার হোসেন চৌধুরীর বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ- সংস্কৃতির কথা। এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি- ''ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।'', 'মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও।'
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫,১৮০.
'বিড়াল' প্রবন্ধটি বঙ্কিমচন্দ্রের কোন প্রবন্ধগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে?
  1. কমলাকান্তের দপ্তর
  2. সাম্য
  3. কৃষ্ণচরিত্র
  4. বিবিধ সমালোচনা
সঠিক উত্তর:
কমলাকান্তের দপ্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমলাকান্তের দপ্তর
ব্যাখ্যা

'বিড়াল' প্রবন্ধ:
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'বিড়াল' একটি আকর্ষণীয় রম্যরচনা।
• প্রবন্ধটি 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
• ‘রিড়াল’ রূপকের মাধ্যমে লেখক আমাদের সমাজের দরিদ্র, বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের প্রতি ধনী সমাজের প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন।
• সমাজে শৃঙ্খলা আনতে হলে মানুষকে যে বিচারবুদ্ধি নিয়ে চলতে হবে এবং বৈষম্য দূর করতে হলে যে মানুষকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে তা লেখক সুস্পষ্টভাবে প্রবন্ধটিতে তুলে ধরেছেন।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিড়াল' প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
“দেখ, যদি অমুক শিরোমণি, কি অমুক ন্যায়ালঙ্কার আসিয়া তোমার দুধটুকু খাইয়া যাইতেন, তবে তুমি কি তাঁহাকে ঠেঙ্গা লইয়া মারিতে আসিতে? বরং যোড়হাত করিয়া বলিতে, আর একটু কি আনিয়া দিব? তবে আমার বেলা লাঠি কেন? তুমি বলিবে, তাঁহারা অতি পণ্ডিত, বড় মান্য লোক। পণ্ডিত বা মান্য বলিয়া কি আমার অপেক্ষা তাঁহাদের ক্ষুধা বেশী? তা ত নয়- তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্যজাতির রোগ-দরিদ্রের ক্ষুধা কেহ বুঝে না। যে খাইতে বলিলে বিরক্ত হয়, তাহার জন্য ভোজের আয়োজন কর-আর যে ক্ষুধার জ্বালায় বিনা আহ্বানেই তোমার অন্ন খাইয়া ফেলে, চোর বলিয়া তাহার দণ্ড কর-ছি! ছি!
---------------------

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬)।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। এটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র, 
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: 'বিড়াল' প্রবন্ধ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।।

৫,১৮১.
লেটোর দলের জন্য কাজী নজরুল ইসলাম কোনটি রচনা করেন?
  1. কবিতা
  2. নাটক
  3. সংলাপ
  4. পালাগান
সঠিক উত্তর:
পালাগান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালাগান
ব্যাখ্যা

 • কাজী নজরুল ইসলাম মাত্র ১২ বছর বয়সে 'লেটোর দলে' যোগদান করেন এবং দলে 'পালা গান' রচনা করেন।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর ৪৯ নং বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
- মাত্র ৪৩ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। 
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং২১ ফেব্রুয়ারি 'একুশে পদকে' ভূষিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,১৮২.
চলিত রীতির প্রথম গদ্যরচনা কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) সবুজপত্র
  2. খ) ভারতী
  3. গ) বিশ্বভারতী
  4. ঘ) হিতকরী
সঠিক উত্তর:
খ) ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভারতী
ব্যাখ্যা
বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬)।
- তাঁর ছদ্মনাম 'বীরবল'। 
- চলিত রীতিতে তাঁর প্রথম রচনা 'বীরবলের হালখাতা'। 
- এটি ভারতী পত্রিকায় ১৯০২ সালে প্রকাশিত হয়। 

- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। 
- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। 
- স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। 
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৮৩.
"নূরলদীনের সারাজীবন" — কাব্যনাট্য রচনা করেন কে?
  1. শওকত আলী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শওকত ওসমান
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

• 'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য:
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।
----------------------- 

• সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নূরলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ: 
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,১৮৪.
একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যের অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) বন্দনা
  2. খ) আত্নপরিচয়
  3. গ) দেবখণ্ড
  4. ঘ) স্বর্গখন্ড
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বর্গখন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বর্গখন্ড
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য / উপ্যনাস মঙ্গলকাব্য হচ্ছে দেবদেবীর মাহাত্ন্য নির্ভর কাব্য।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন - মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ -
- বন্দনা,
- আত্নপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড এবং
- শ্রুতিফল।

অন্যদিকে,
বাংলাপিডিয়া অনুসারে মঙ্গলকাব্যের অংশ যথা:
- বন্দনা,
- আত্নপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- নরখন্ড ও আখ্যায়িকা।

• অতএব উপরের আলোচনা থেকে দেখা যায় ‘স্বর্গখন্ড’ নামে কোন অংশ সার্থক মঙ্গলকাব্যে নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৮৫.
‘পলাশী থেকে পাকিস্তান’ ইতিহাস গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবুল কালাম শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন: 
- আবুল কালাম শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর  ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
 
• আবুল কালাম রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কচি পাতা (শিশুসাহিত্য)
- ত্রিস্রোতা (অনুবাদ),
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি,
- দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন),
- ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৮৬.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক্রন্দসী
  2. অর্কেষ্ট্রা
  3. তন্বী
  4. কুলায় ও কালপুরুষ
সঠিক উত্তর:
কুলায় ও কালপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলায় ও কালপুরুষ
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,

- উত্তরফাল্গুনী ইত্যাদি।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কুলায় ও কালপুরুষ
 
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১৮৭.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস কার লেখা?
  1. আবুল কালাম চৌধুরী
  2. আবু জাফর শামছুদ্দিন
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস:
- বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন গ্রামীণ দিগন্ত ফটোগ্রাফিকভাবে চিত্রায়িত হয়েছে শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে। 

শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- তিনি বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন ।

তাঁর কয়েকটি উপন্যাসের নাম:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,১৮৮.
ট্রাজেডি, কমেডি ও ফার্সের মূল পার্থক্য-
  1. জীবনানুভূতির গভীরতায়
  2. দূষ্টিভঙ্গির সূক্ষ্মতায়
  3. কাহিনীর সরলতা ও জটিলতায়
  4. ভাষার প্রকারভেদে
সঠিক উত্তর:
জীবনানুভূতির গভীরতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানুভূতির গভীরতায়
ব্যাখ্যা
• ‘ট্র্যাজেডি’ হচ্ছে শোকাবহ বা দুঃখজনক অবস্থা বা ঘটনা সংবলিত রচনা বা বিয়োগান্ত নাটকাদি।
• ‘কমেডি’ হচ্ছে হাস্য-রসাত্মক ঘটনা সংবলিত রচনা বা নাটক এবং ‘ফার্স’ হচ্ছে প্রসহসনমূল রচনা।
• সুতরাং ট্রাজেডি, কমেডি ও ফার্সের মধ্যে মূল পার্থক্য হচ্ছে জীবনানুভূতির গভীরতায়।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ), বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৫,১৮৯.
শওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসে কী প্রকাশিত হয়েছে?
  1. সামাজিক জীবন
  2. প্রেম কাহিনী
  3. রাজনৈতিক জীবনের অন্ধকার দিক
  4. ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক জীবনের অন্ধকার দিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক জীবনের অন্ধকার দিক
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমানের — ‘ক্রীতদাসের হাসি’ উপন্যাসে রাজনৈতিক জীবনের অন্ধকার দিকটি ফুটে উঠেছে।
--------------------------- 
• 'ক্রীতদাসের হাসি':
- শওকত ওসমানের 'ক্রীতদাসের হাসি' (১৯৬২) উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে ।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক।
- তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত।
--------------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

• শওকত ওসমান রচিত নাটক: 
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,১৯০.
কোনটি জহির রায়হানের প্রথম পরিচালিত ছবি?
  1. কখনো আসেনি
  2. জীবন থেকে নেয়া
  3. আনোয়ারা
  4. সঙ্গম
সঠিক উত্তর:
কখনো আসেনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কখনো আসেনি
ব্যাখ্যা

• জহির রায়হান ১৯৬১ সালে প্রথম ছবি হিসেবে ‘কখনো আসেনি’ পরিচালনা করেন।
- এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯শে আগস্ট ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান কলকাতায় মিত্র ইনিস্টিউটে এবং পরে আলীয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন।
- তিনি লেট দেয়ার বি লাইট নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ করেন।
- জহির রায়হানের উর্দু ছবি সঙ্গম ছিল পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গীন ছবি।
- তিনি কাঁচের দেয়াল ছবির জন্য অনেক পুরস্কার লাভ করেন।
- জহির রায়হানের প্রথম গল্পগ্রন্থ- 'সূর্যগ্রহণ'।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়।

তাঁর পরিচালিত কিছু ছবি হলো:
- সঙ্গম,
- কাঁচের দেয়াল,
- আনোয়ারা,
- বেহুলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,১৯১.
‘বিচিত্র চিন্তা’ – গ্রন্থের রচয়িতা –
  1. ক) আবদুল হাই
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ রচিত গ্রন্থ হলোঃ সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা, স্বদেশ অন্বেষা, জীবনে সমাজে সাহিত্যে, বিচিত্র চিন্তা, একালে নজরুল, স্বদেশ চিন্তা, বিশ শতকের বাঙালী, বাংলার পটভূমি ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৫,১৯২.
নিচের কোনটি মামুনুর রশিদ রচিত নাটক?
  1. গিনিপিগ
  2. সুবচন নির্বাসনে
  3. এখনও ক্রীতদাস
  4. সরীসৃপ
সঠিক উত্তর:
গিনিপিগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিনিপিগ
ব্যাখ্যা

• 'গিনিপিগ' মামুনুর রশীদ রচিত নাটক।

অন্যদিকে,
- সুবচন নির্বাসনে(নাটক) : আবদুল্লাহ আল মামুন।
- এখনও ক্রীতদাস(নাটক): আবদুল্লাহ আল মামুন (নাট্যকার)
- সরীসৃপ (ছোটগল্প): মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

• মামুনুর রশীদ:
- তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান।

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,১৯৩.
জহির রায়হানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. সঙ্গম
  2. বাহানা
  3. জীবন থেকে নেয়া 
  4. কাঁচের দেয়াল
সঠিক উত্তর:
সঙ্গম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঙ্গম
ব্যাখ্যা

জহির রায়হানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র হচ্ছে সঙ্গম। 

জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক এবং চলচ্চিত্র পরিচালক ছিলেন।
- প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।

গল্পগ্রন্থ:
- উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে সূর্যগ্রহণ।

চলচ্চিত্র পরিচালনা:
- নতুনত্বের পরিচয় দিয়েছেন; প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র কখনো আসে নি।
- প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র: সঙ্গম।
- প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি: বাহানা।
- কাঁচের দেয়াল চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে ‘নিগার পুরস্কার’ অর্জন করে।

উপন্যাসসমূহ ও সাহিত্যিক স্বীকৃতি:
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার লাভ।
- অন্যান্য উপন্যাস: আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদী, আর কতদিন, তৃষ্ণা, শেষ বিকেলের মেয়ে, কয়েকটি মৃত্যু।

উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসমূহ:
- জীবন থেকে নেয়া, কখনও আসেনি, Stop Genocide, সোনার কাজল, কাঁচের দেয়াল, বেহুলা, আনোয়ারা, সঙ্গম, বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫,১৯৪.
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যে কবির ভণিতা সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ৪০৭টি
  2. খ) ৪০৯টি
  3. গ) ৪১৮টি
  4. ঘ) ৪৫২টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৪০৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪০৯টি
ব্যাখ্যা
⇒ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।
- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই (দূতী)। 

⇒ পদসংখ্যা:
- খণ্ডিত পদসহ মোট পদে সংখ্যা: ৪১৮টি। 
- সংস্কৃত শ্লোক : ১৬১টি।
- পুঁথির পাতার সংখ্যা : ২২৬টি।
- পুঁথির পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪৫২টি।
- বিলুপ্ত পৃষ্ঠা সখ্যা : মাঝের ৪৫টি।
- প্রাপ্ত পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪০৭টি। 
- লিপিকারের সংখ্যা : ৩ জন বা তিন হাতের লেখা।
- কবির ভণিতা সংখ্যা : ৪০৯টি। 

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেল মূল বই, মঙ্গলকাব্যের মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৫,১৯৫.
'রঙিলা নায়ের মাঝি' কার লেখা?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. জসীমউদ্‌দীন
  4. সিকানদার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'রঙিলা নায়ের মাঝি':
- 'রঙিলা নায়ের মাঝি' সংকলনটির রচয়িতা জসীম উদ্‌দীন।
- এটি তাঁর রচিত একটি গানের সংকলন।
- সংকলনটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

• 'রঙিলা নায়ের মাঝি' গানের সংকলনের অন্তর্ভুক্ত সংগীতগুলো হলো:
- আজ আমার মনে ত না মানেরে, 
- আমার বন্ধু বিনোদিয়ারে, 
- আরে ও রঙিলা নায়ের মাঝি, 
- উজান গাঙের নাইয়া, 
- ও আমার গহিন গাঙের নায়া, 
- ও তুই যারে আঘাত হানলিরে মনে,
- ও মোহন বাঁশী,
- নদীর নাই-কিনার নাইরে,
- নিশিতে যাইও ফুলবনে,
- বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে,
- সিন্দুরের বেসাতি।

--------------
• জসীম উদ্‌দীন রচিত কয়েকটি গানের সংকলন হলো:
- রঙিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর; 'রঙিলা নায়ের মাঝি' সংকলন এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১৯৬.
‘সই কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধুয়া আন বাড়ি যায় আমার আঙিনা দিয়া’ এ অমর উক্তির রচয়িতা কে?
  1. ভারত চন্দ্র
  2. লুইপা
  3. রামাই পণ্ডিত
  4. চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীদাস: 
- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। 
- চণ্ডীদাসকে বাংলার ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়। 
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই’ বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তি জীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন। 
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন। 

চণ্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি:
'সই, কেমনে ধরিব হিয়া?
আমার বঁধূয়া আন বাড়ি যায়
আমার আঙিনা দিয়া।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,১৯৭.
‘আমি কি ডরাই সখি ভিখারী রাঘবে?’- এখানে রাঘব বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
  1. ইন্দ্রজিৎ কে
  2. রাবনকে
  3. রামকে
  4. বিভীষণকে
সঠিক উত্তর:
রামকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামকে
ব্যাখ্যা

আমি কি ডরাই সখি ভিখারী রাঘবে? এখানে রাঘব বলতে রামকে বোঝানো হয়েছে ।
উক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত মেঘনাদবধ (১৮৬১) কাব্যের অন্তর্গত ।

বাংলা সাহিত্যের সর্বপ্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকাব্য এটি |
অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত কাব্যের সর্গ সংখ্যা ৯ ।
এই মহাকাব্যের কাহিনীর উৎস সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ ।
প্রধান চরিত্র: মেঘনাদ (ইন্দ্রজিৎ), প্রমিলা, রাবণ, বিভীষণ ইত্যাদি ।

- অরিন্দম বলতে রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিৎ কে বোঝায় ।
- যুদ্ধের সময় পশ্চিম দুয়ারে রক্ষক হিসেবে ছিলেন দাশরথি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)

৫,১৯৮.
'টেকচাঁদ ঠাকুর' - কার ছদ্মনাম?
  1. সতীনাথ ভাদুড়ী
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. সমরেশ বসু
  4. মধুসূদন মজুমদার
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
খ) প্যারীচাঁদ মিত্র-এর ছদ্মনাম হল 'টেকচাঁদ ঠাকুর'। তিনি 'টেকচাঁদ ঠাকুর' ছদ্মনামে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮) রচনা করেছেন।

অন্যান্য লেখকদের ছদ্মনাম:
ক) সতীনাথ ভাদুড়ী - চিত্রগুপ্ত;
গ) সমরেশ বসু - কালকূট;
ঘ) মধুসূদন মজুমদার - দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৯৯.
'নীল-দর্পণ' নাটকের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮৬০
  2. খ) ১৮৬১
  3. গ) ১৮৬২
  4. ঘ) ১৮৬৩
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮৬১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮৬১
ব্যাখ্যা
নীল-দর্পণ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror'।
- অনুবাদটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত A Native ছদ্মনামে এই অনুবাদ করেন। 

- দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২০০.
'বঙ্গবাণী' কত শতকে রচিত সাহিত্য? 
  1. ষোল শতকে 
  2. সতের শতকে
  3. আঠার শতকে
  4. উনিশ শতকে
সঠিক উত্তর:
সতের শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতের শতকে
ব্যাখ্যা

• বঙ্গবাণী:
​• ‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি কবি আবদুল হাকিমের নূরনামা কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- ‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি সতের শতকে রচিত।
- মধ্যযুগীয় পরিবেশে বঙ্গভাষী এবং বঙ্গভাষার প্রতি এমন বলিষ্ট বাণীবদ্ধ কবিতার নিদর্শন দুর্লভ।

​''যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্নয় ন জানি।"
- এই উক্তটি তিনি 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'বঙ্গবাণী' কবিতায় লিখেছেন।

আব্দুল হাকিম:
- আব্দুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি।
- তিনি ১৬২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানি-ফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।