বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৫১ / ২১১ · ৫,০০১৫,১০০ / ২১,১৩২

৫,০০১.
নোয়াখালির আঞ্চলিক ভাষায় রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
  2. খ) ধাবমান
  3. গ) হাতহদাই
  4. ঘ) নিমজ্জন
সঠিক উত্তর:
গ) হাতহদাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাতহদাই
ব্যাখ্যা
নোয়াখালির আঞ্চলিক ভাষায় সেলিম আল দীন রচিত নাটক - 'হাতহদাই'

বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার মধ্যে যে বিরাট সম্ভাবনা আছে ‘হাতহদাই' এর উদাহরণ। নাটকটি নোয়াখালির আঞ্চলিক ভাষায় রচিত।
- ‘হাতহদাই' মানে বাংলায়অর্থ দাঁড়ায় ‘সাত সদাই' বা সাত রকমের সওদা বা বহু কিছু ।
- এই নাটকে নোয়াখালি অঞ্চলের এক গ্রামের মৌলবির মুখের আঞ্চলিক ভাষাও যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে সে কথা প্রতিষ্ঠিত।

মুনতাসীর ফ্যান্টাসি: এই নাটকে বিশ শতকের আশির দশকের স্বৈরশাসকের কবল থেকে দেশের কিছুই যে রক্ষিত হচ্ছিল না, সেই চিত্র উপস্থাপিত।

ধাবমান: নেত্রকোনাএ বিরিশিরি-দুর্গাপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্ছল ও সোমেশ্বর নদী এর আখ্যানের পটভূমি।

নিমজ্জন: বিশ্ব-গণহত্যার ঘটমান কাহিনি ও দৃশ্যচিত্রের সমন্বয়ে 'নিমজ্জন'- এর কাহিনি গড়ে উঠেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০০২.
কায়কোবাদ রচিত 'বিরহবিলাপ' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) নাটক
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্য
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিবমন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০০৩.
নবীনচন্দ্র সেন রচিত আত্মজীবনীর নাম-
  1. প্রভাস
  2. আত্মচরিত
  3. আমার জীবন
  4. জীবনস্মৃতি
সঠিক উত্তর:
আমার জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার জীবন
ব্যাখ্যা
• 'আমার জীবন' নবীনচন্দ্র সেনের আত্মজীবনী। 
 
• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি। ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন। প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।
 
• নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ীকাব্য':
রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত। কাহিনির বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।
 
• নবীনচন্দ্র সেনের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।
 
- তিনি ভগবদ্গীতা ও চণ্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।

- তাঁর আত্মজীবনী আমার জীবন  গ্রন্থখানি উপন্যাসের মতো সুখপাঠ্য এবং সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কিত একটি প্রামাণ্য দলিল।

অন্যদিকে, 
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।
জীবনস্মৃতি- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী গ্রন্থ।
• 'প্রভাস'- নবীনচন্দ্র সেনের একটি কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০০৪.
ইলিয়ট ও ইকবালের নির্বাচিত কবিতার অনুবাদ করেন কে?
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী 
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. কায়কোবাদ 
  4. কাজী নজরুল ইসলাম 
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ আলী আহসান ইলিয়ট ও ইকবালের নির্বাচিত কবিতার অনুবাদ করেন। অল ইন্ডিয়া রেডিওতে কর্মরত থাকার সময় থেকে তিনি দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের সান্নিধ্যে আসেন এবং আধুনিক পাশ্চাত্য সাহিত্যচিন্তার সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত হন। এর ফলস্বরূপ তিনি টি. এস. ইলিয়টের আধুনিক কাব্যভাবনা এবং আল্লামা ইকবালের ইসলামি দর্শন ও চেতনাকে বাংলা ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন।

• এই অনুবাদকর্মের মাধ্যমে সৈয়দ আলী আহসান একদিকে পাশ্চাত্য আধুনিকতাবাদ, অন্যদিকে মুসলিম ঐতিহ্য ও ভাবধারাকে বাংলা সাহিত্যে সমন্বিতভাবে তুলে ধরেন, যা তাঁর সাহিত্যিক বহুমাত্রিকতার গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত।

-----------------------
• সৈয়দ আলী আহসান:
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
-  ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- উচ্চারণ,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- সমুদ্রেই যাবো।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- পদ্মাবতী।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,০০৫.
'সারদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. ভারতচন্দ্র রায়
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গীতিকবিতার প্রবর্তক বিহারীলাল চক্রবর্তী।
• তাঁর প্রথম গীতিকাব্য স্বপ্নদর্শন।
• সারদামঙ্গল তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- সংগীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিনী,
- নিসর্গ সংগীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- সাধের আসন,
- ধুমকেতু ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৫,০০৬.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘শবনম’ একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কবিতা
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) রম্য-রচনা
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘শবনম’ একটি- উপন্যাস।

• সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ই সেপ্টেম্বর পিতার (সাব্রেজিস্ট্রার) অর্মস্থল তৎকালীন শ্রীহট্ট অর্থাৎ আজকের সিলেট এ জন্মগ্রহণ করেন

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য
- শবনম

• রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র
- ময়ূরকণ্ঠী

• ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী
- টুনি মেম

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০০৭.
শওকত আলীর 'যাত্রা' উপন্যাসের কাহিনী হলো -
  1. যুদ্ধবিজয়ের উল্লাস
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. গণ-অভ্যুত্থান
  4. ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'যাত্রা' উপন্যাস:
- যুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'।
- শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন।
- একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

শওকত আলী:
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ।
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন।
- বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৫।
৫,০০৮.
'সব্যসাচী' - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গৃহদাহ
  2. চরিত্রহীন
  3. বড়দিদি
  4. দেবদাস
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর কোনোটিই নয়।

'পথের দাবী' উপন্যাস:

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- পথের দাবী (১৯২৬) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 
- বঙ্গবাণী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) শরৎ রচনাবলী।

৫,০০৯.
‘মুজিব লেনিন ইন্দিরা’ কার লেখা?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. রুদ্র মোহাম্মদ
  4. রফিক আজাদ
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
- 'মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা নির্মলেন্দু গুণ।

নির্মলেন্দু গুণ: 

- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো -
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- ও বন্ধু আমার,
- চাষাভূষার কাব্য,
- পৃথিবীজোড়া গান,
- দূর হ দুঃশাসন,
- ইসক্রা,
- নেই কেন সেই পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০১০.
'দুনিয়া সাচ্চা নয়-মুই একা সাচ্চা হয়ে কি করবো?'- বিখ্যাত উক্তিটি কোন উপন্যাসের?
  1. সূর্য-দীঘল বাড়ী
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. লালসালু
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
লেখক: প্যারীচাঁদ মিত্র।
প্রথম প্রকাশ: ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়, এর আগে ১৮৫৪ সাল থেকে ‘মাসিক পত্রিকা’তে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।

• উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু:
উপন্যাসটি দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখকের অভিমত প্রকাশ করে। ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার প্রতি পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রসমূহ:
• মোকাজান মিয়া (ঠকচাচা): উপন্যাসের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র। তিনি বলেন, "দুনিয়া সাচ্চা নয়-মুই একা সাচ্চা হয়ে কি করবো?" 
• বাবুরাম: মতিলালের পিতা, 
• মতিলাল: বাবুরামের পুত্র, 
• বাঞ্ছারাম: অর্থলোভী চরিত্র, 
• বক্রেশ্বর: তোষামোদকারী চরিত্র। 

উৎস: ‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০১১.
'গীতগোবিন্দম্' - গ্রন্থটি মধ্যযুগের কোন ধারার সাহিত্য?
  1. বৈষ্ণব পদাবলি
  2. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. লোকসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণব পদাবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণব পদাবলি
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস।

এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।
['শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৫,০১২.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. এখানে এখন
  2. বিশ শতকের মেয়ে
  3. দুয়ে দুয়ে চার
  4. উজানের মৃত্যু
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের মেয়ে
ব্যাখ্যা

• নীলিমা ইব্রাহিম রচিত নাটকঃ
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।
• তাঁর রচিত ছোটগল্প- রমনা পার্কে।
• এখানে এখন কাব্যনাট্যের রচয়িতা সৈয়দ শামসুল হক।
• উজানের মৃত্যু নাটকের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,০১৩.
'শেষ রাত্রির তারা' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দিন
  2. খ) আলাউদ্দিন ওমর
  3. গ) মানিক বন্দোপাধ্যায়
  4. ঘ) ডি. এল. রায়
সঠিক উত্তর:
ক) আবু জাফর শামসুদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবু জাফর শামসুদ্দিন
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীনের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ— উপন্যাস: পরিত্যক্ত স্বামী (১৯৪৭), মুক্তি (১৯৪৮), ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০), প্রপঞ্চ (১৯৮০), দেয়াল (১৯৮৫); গল্পগ্রন্থ: জীবন, শেষ রাত্রির তারা, রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা। উৎসঃ কালের কণ্ঠ।
৫,০১৪.
কুক্কুরীপা রচিত চর্যার কোন পদটি পাওয়া যায়নি?
  1. ২৫নং 
  2. ৪৩নং 
  3. ৪৮নং  
  4. ২৪নং 
সঠিক উত্তর:
৪৮নং  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৮নং  
ব্যাখ্যা

• কুক্কুরীপা:
- ধারণা করা হয় কুক্কুরীপা খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে বর্তমান ছিলেন। এবং তিনি তিব্বতের কাছাকাছি কোনো এক অঞ্চলের বাসিন্দা।
- কুক্কুরীপা চর্যাপদের ২, ২০ ও ৪৮নং পদের রচয়িতা।
- তাঁর রচিত ৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন কুক্কুরীপা (৩টি)।

-------------------
• চর্যাপদ:

- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।
- চর্যাপদ তিব্বতী ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহববল আলম।

৫,০১৫.
'শিখা' পত্রিকার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন কোন সাহিত্যিক?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. রফিক আজাদ
  3. হুমায়ুন কবির
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে জন্ম, পৈতৃক নিবাস ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রাম। 
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন। 
-  তিনি ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন। এবং 'শিখা' পত্রিকার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন।

- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন। - কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

 - অধ্যাপক হোসেন ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইমেরিটাস প্রফেসর’ পদে নিযুক্তি লাভ করেন। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ১৯৭৫ সালে ড. হোসেন ‘জাতীয় অধ্যাপক’ পদে সম্মানিত হন।

----------------
'শিখা' পত্রিকা:
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মূলমন্ত্র ছিল বুদ্ধির মুক্তি। মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র শিখা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে। শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল।

• প্রথম সংখ্যা আবুল হুসেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যা কাজী মোতাহার হোসেন, চতুর্থ সংখ্যা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং পঞ্চম সংখ্যা আবুল ফজল সম্পাদনা করেন। শিখার প্রতিটি সংখ্যায় মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সাময়িক অধিবেশন ও বার্ষিক সম্মেলনের বিবরণ এবং সাহিত্য-সভায় পঠিত রচনা প্রকাশিত হত। শিখার মুখবাণী ছিল 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'।

• প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন- আবুল হুসেন, এ. এফ. এম আবদুল হক, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবদুল কাদির, আবুল ফজল, কাজী আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০১৬.
নিচের কোনটি মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক?
  1. নবান্ন
  2. মানুষ
  3. নরকে লাল গোলাপ
  4. মেবার পতন
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা
• 'মানুষ' নাটক:
- 'মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক।
- ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।
- মানুষ নাটকের চরিত্রাবলি: ফরিদ, জুলেখা, বাবা, মা, ডাক্তার ।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে। সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

অন্যদিকে,
• 'নবান্ন' নাটক:
- ‘নবান্ন’ হলো বিজন ভট্টাচার্যের লেখা একটি বাংলা নাটক।
- নাটকটি পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত।

• 'নরকে লাল গোলাপ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

• ‘মেবার পতন’ দ্বিজেন্দ্রলালা রায় রচিত ঐতিহাসিক নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০১৭.
বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক কে?
  1. বিপ্রদাস পিপলাই
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. মুকুন্দদাস
  4. মালাধর বসু
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা
টপ্পা সঙ্গীত:
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্থানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম - গীতরত্ন (১৮৩২)।

- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০১৮.
চর্যাপদ কোন আমলে লেখা হয়েছে?
  1. সেন বংশ
  2. ইংরেজ আমল
  3. পাল বংশ
  4. মোগল আমল
সঠিক উত্তর:
পাল বংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল বংশ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের বিকাশ:
- বাংলার পাল বংশের রাজারা বৌদ্ধ ছিলেন। তাঁদের আমলে চর্যাগীতিকাগুলোর বিকাশ ঘটেছিল।
- পাল বংশের পরে পরেই বাংলাদেশে সেন, বর্মণ রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতার পৌরাণিক হিন্দুধর্ম ও ব্রাহ্মণ্যসংস্কার রাজধর্ম হিসেবে গৃহীত হয় এবং দেশি ভাষা বাংলার পরিবর্তে সংস্কৃত ভাষা প্রাধান্য লাভ করে।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বাংলাদেশের বাইরে নেপালে পাওয়া গেছে।
- বৌদ্ধধর্মের উদ্ভব ঘটেছিল ভারতবর্ষে এবং বিস্তার লাভ করেছে বিশ্বজুড়ে।
- বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতি একদিন এদেশকে বহির্বিশ্বে পরিচিত করেছিল। কিন্তু এদেশ থেকে বৌদ্ধ বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে সারা ভারতবর্ষ থেকে বৌদ্ধশাস্ত্র, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের অবসান ঘটেছে। 
- তিব্বতি, চীনা ও মঙ্গোলীয় ভাষায় অনূদিত হয়ে বৌদ্ধশাস্ত্র ও ধর্মীয় সাহিত্য রক্ষিত হয়েছে।
- আধুনিক যুগে এ সবের আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫,০১৯.
অসহযোগ আন্দোলন পরবর্তী সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. গোরা
  2. পথের দাবী
  3. চার অধ্যায়
  4. কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
চার অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার অধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘চার অধ্যায়’ উপন্যাস:
- চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব- প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, ‘চার অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে।
- আসলে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই কাহিনি রচিত।
- সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ একদিকে যেমন অতিমানবিক গুণ সম্পন্ন, অন্যদিক সে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য।
- তার নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনি।
- সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর।
- চার অধ্যায়ের কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘রবিবার' গল্পের সম্পর্ক আছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অতীন,
- এলা,
- ইন্দ্রনাথ।

---------------------
অন্যদিকে,
• গোরা উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।

-------------------
• পথের দাবী:
• 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
• এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কোনো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

- গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে ‘পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।

- ‘আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য,আমার একটি মাত্র সাধনা।' আমার একটিমাত্র এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

----------------------
• কুহেলিকা (উপন্যাস):
- 'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত শেষ উপন্যাস। 
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায়  উপন্যাসটির প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে বড় ক্যানভাসে। 
- কলকাতার এক মেসের পরিবেশকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে। উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, ''ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।''

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,০২০.
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকটি কার নাট্যকর্ম?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. কায়কোবাদ
  3. মমতাজউদদীন আহমদ
  4. শেখ ওয়াজেদ আলি 
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকটি মুনীর চৌধুরীর নাট্যকর্ম। 
--------------------------------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী।
- তিনি তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ শহরে ২৭ নভেম্বর ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি পাকিস্তান সরকারের হাতে বন্দী হন।
- কারাগারে থাকাকালীনই তাঁর বিখ্যাত নাটক ‘কবর’ (১৯৫৩) রচনা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল-বদর বাহিনী তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করে এবং সেদিনই তাঁকে হত্যা করা হয়।

• মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য। 
---------------------------------------------
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- নাটকটি কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ কাব্য থেকে অনুপ্রাণিত।
- এই নাটকে তিনি যুদ্ধবিরোধী চেতনা, সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে মানবিক প্রেম এবং যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরেছেন।
- নাটকের মূল বার্তা হলো—যুদ্ধ কখনো প্রকৃত বিজয় আনে না;
- বরং এটি মানবজীবনের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৫,০২১.
মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য কোনটি?
  1. শূন্যপুরাণ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. সেক শুভোদয়া
  4. নিরঞ্জনের উষ্মা
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।
- আবিষ্কর্তা ও সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় প্রাচীন বৈষ্ণব লেখকদের ইঙ্গিত অনুসরণ করে গ্রন্থের নামকরণ করেন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাশ।
- এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।

অন্যদিকে,
- শূন্যপুরাণ, সেক শুভোদয়া, নিরঞ্জনের উষ্মা, বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫,০২২.
'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটকের বিষয়বস্তু কী?
  1. গারোদের সংঘাত-যুদ্ধ
  2. আশির দশকের স্বৈরশাসক
  3. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  4. মাদ্রিদের গণহত্যা
সঠিক উত্তর:
আশির দশকের স্বৈরশাসক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশির দশকের স্বৈরশাসক
ব্যাখ্যা
'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটক:
- প্রথমেই বলা দরকার রচনাকালে নাটকের নাম 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' থাকলেও কয়েক বছর পর নাট্যকার এর নাম থেকে 'ফ্যান্টাসি' শব্দটি বাদ দেন।
- এই নাটকে বিশ শতকের আশির দশকের স্বৈরশাসকের কবল থেকে দেশের কিছুই যে রক্ষিত হচ্ছিল না, সেই চিত্র উপস্থাপিত।
- হাস্যরসের মাধ্যমে সেলিম আল দীন দেখিয়েছেন সেনা ও স্বৈরশাসকেরা দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সঙ্গে শুভবোধ ও সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে।

সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন।
- কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,০২৩.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. আধ্যাত্নিকা
  2. সীতারাম
  3. মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়
  4. কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
সীতারাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীতারাম
ব্যাখ্যা
সীতারাম:
- 'সীতারাম' (১৮৮৭) বঙ্কিমচন্দ্রের সর্বশেষ উপন্যাস।
- সীতারাম একটি ঐতিহাসিক চরিত্র।
- উপন্যাসে ঐতিহাসিক কিছু ঘটনাও আছে।
- মূলত এটি এক ব্যক্তির পারিবারিক জীবনের এবং আদর্শের ট্র্যাজেডি।
- বঙ্কিমের ধর্মচিন্তা এই উপন্যাসের গঠনকে নিয়ন্ত্রিত করেছে।
- তবে চরিত্রসৃষ্টির নৈপুণ্য এবং কাহিনির বর্ণনা কুশলতায় বঙ্কিমের প্রতিভার ছাপ স্পষ্ট।
- তাঁর 'আনন্দমঠ', 'দেবী চৌধুরাণী' ও 'সীতারাম'কে 'ত্রয়ী উপন্যাস' বলা হয়।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
-  ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
-  তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট। 
-  কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।


অন্যদিকে:
• 'আধ্যাত্নিকা' উপন্যাসটি হলো প্যারীচাঁদ মিত্রের।
• 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি হলো কাজী নজরুল ইসলাম।
• 'মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়' প্যারীচাঁদ মিত্রের একটি প্রহসন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০২৪.
'বিদ্যাভূষণ' কার উপাধি?
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০২৫.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইছামতী উপন্যাসটি কোন বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত?
  1. সিপাহী বিদ্রোহ
  2. নীল বিদ্রোহ 
  3. তিতুমীরের বিদ্রোহ
  4.  চট্টগ্রাম বিদ্রোহ 
সঠিক উত্তর:
নীল বিদ্রোহ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল বিদ্রোহ 
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইছামতী উপন্যাসটি নীল বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত।

• ইছামতী উপন্যাস:
-
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ উপন্যাস ইছামতী ১৯৫০ সালের ১৫ জানুয়ারি মিত্রালয় প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ইছামতী উপন্যাসে উনিশ শতকের বাংলার নীলচাষ, নীল বিদ্রোহ এবং সাধারণ মানুষের জীবনের পরিবর্তন চিত্রায়িত হয়েছে।
- উপন্যাসে ইছামতী নদীর তীরবর্তী গ্রামের জীবন, প্রকৃতি ও কৃষিভিত্তিক সমাজ থেকে শিল্পভিত্তিক পুঁজিবাদের দিকে পরিবর্তনের প্রভাব দেখানো হয়েছে।
- এই উপন্যাসের চরিত্রদের মাধ্যমে লেখক সাধারণ মানুষের জীবনের সংগ্রাম, আবেগ এবং সামাজিক মনস্তত্ত্ব গভীরভাবে উপস্থাপন করেছেন।
- ইছামতী' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র:
• ভবানী বাড়ুয্যে, 
• অশোক এবং
• নীলা।
---------------------------------------------
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪-১৯৫০) একজন প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক।
- তিনি অসংখ্য কালজয়ী উপন্যাস ও গল্প রচনা করেছেন।
- তাঁর লেখায় প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবন এবং মানুষের মানসিকতার গভীর প্রকাশ পাওয়া যায়।
- বিভূতিভূষণের সাহিত্য গ্রামীণ সমাজের জীবনের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
- জীবনের শেষ সময়ে তিনি ইছামতী উপন্যাসের জন্য মরণোত্তর রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন, যা তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভার একটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

• তাঁর বিখ্যাত ত্রয়ী উপন্যাস —
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, ও
- অপুর সংসার।
- পথের পাঁচালী অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় নির্মিত চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করে।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো:
- ইছামতী,
- আরণ্যক,
- চাঁদের পাহাড়,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল ও
- অশনি সংকেত।

• বিভূতিভূষণের গল্প:
- মৌরিফুল।

• তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো:
- স্মৃতির রেখা ও
- অভিযাত্রিক।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

৫,০২৬.
বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত উপন্যাস-
  1. মহাপতঙ্গ
  2. সূর্য দীঘল বাড়ী
  3. জীবন থেকে নেয়া
  4. হাজার বছর ধরে
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা
'সূর্য দীঘল বাড়ী':
• বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে আবু ইসহাক রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী' (১৯৫৫) উপন্যাসটি।

• উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্তু পাঠকদের আকৃষ্ট করে। স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।

• দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি, দুর্ভোগ বেড়েছে।

• উভয় বাংলার অল্পক’টি সার্থক উপন্যাসের মধ্যে সূর্য-দীঘল বাড়ী একটি। একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়ে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। সূর্য-দীঘল বাড়ী অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ছ'টি আন্তর্জাতিক এবং বিভিন্ন বিভাগে নটি জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

অন্যদিকে, 
• জীবন থেকে নেয়া একটি বাংলা চলচ্চিত্র। জহির রায়হান এর নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ১৯৭০ সালের এপ্রিলে মুক্তি পায়।
• হাজার বছর ধরে প্রখ্যাত বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
• আবু ইসহাক রচিত ছােট গল্পগ্রন্থ ‘মহাপতঙ্গ'। 

উৎস: 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০২৭.
নিচের কোন উপন্যাসের বিষয়বস্তু মুক্তিযুদ্ধ নয়?
  1. ক) জীবন আমার বোন
  2. খ) কালো বরফ
  3. গ) খেলাঘর
  4. ঘ) সবগুলোই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা
সঠিক উত্তর:
খ) কালো বরফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কালো বরফ
ব্যাখ্যা
মাহমুদুল হক:
- তাঁকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর লেখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা চমকপ্রদ।

তাঁর রচিত উপন্যাস হচ্ছে:
কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে। মাত্র দশদিনে লেখা এই উপন্যাসটির বিস্তৃতি অনেক বড়।)
• জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত।)
• খেলাঘর (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।)
• অনুর পাঠশালা,
• নিরাপদ তন্দ্রা,
• অশরীরী,
• পাতালপুরী,
• মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।
৫,০২৮.
‘মিলির হাতে স্টেনগান’ - গল্পটির লেখক কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. জহির রায়হান
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• ‘মিলির হাতে স্টেনগান’ - গল্পটির লেখক : আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলায়।

তাঁর রচিত ছোটগল্প : 
- মিলির হাতে স্টেনগান,
- রেইনকোট,
- দুধভাতে উৎপাত,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- ফোঁড়া,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস : 
- চিলে কোঠার সেপাই (ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত),
- খোয়াবনামা।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থ।
৫,০২৯.
'পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।' - পঙক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) ঘুম নেই
  2. খ) অভিযান
  3. গ) ছাড়পত্র
  4. ঘ) হরতাল
সঠিক উত্তর:
গ) ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

হে মহাজীবন
(ছাড়পত্র) - সুকান্ত ভট্টাচার্য

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়ঃ
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হল:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: ছাড়পত্র, সুকান্ত ভট্টাচার্য
৫,০৩০.
বাংলা সাহিত্যে চতুর্দশপদী কবিতার প্রবর্তক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
চতুর্দশপদী কবিতাবলী:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট সংকলন 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী'। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে। 
- ইতালীয় কবি পেত্রার্ক ও শেক্সপিয়ারের অনুকরণে এসব সনেট রচনা করেন 'মাইকেল মধুসূদন দত্ত'। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- বাংলা সাহিত্য চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেটের প্রবর্তক - মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 
- চতুর্দশপদী (Sonnet) হল এক ধরনের কবিতা যার প্রথম উদ্ভব হয় মধ্যযুগে ইতালিতে। 
- চতুর্দশপদীর বৈশিষ্ট হল যে, এই কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত এবং প্রতিটি চরণে সাধারণভাবে মোট ১৪টি করে অক্ষর থাকবে। 
- এর প্রথম আট চরণের স্তবককে অষ্টক এবং পরবর্তী ছয় চরণের স্তবককে ষষ্টক বলে। 
- অষ্টকে মূলত ভাবের প্রবর্তন এবং ষষ্টকে ভাবের পরিণতি থাকে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০৩১.
বাংলা সাহিত্যে ‘পরাবাস্তবের কবি’ হিসেবে পরিচিত কে?
  1. আবদুল কাদির
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. আবুল হাসান
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান সৈয়দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে ‘পরাবাস্তবের কবি’ হিসেবে পরিচিত - আবদুল মান্নান সৈয়দ

পরাবাস্তব কবিতা:
- প্রথম কবিতার বই 'জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ' (১৯৬৮) প্রকাশের পরও দীর্ঘসময় বলা যেতে পারে সারাজীবনই তিনি পরাবাস্তবতায় আচ্ছন্ন ছিলেন সেটি বোঝা যায় ‘পরাবাস্তব কবিতা' (১৯৮২) নামেই আবদুল মান্নান সৈয়দ একটি কবিতার বই বের করেছিলেন।
- হাসান হাফিজুর রহমানকে উৎসর্গ করা বইটির প্রকাশকাল ০৩ আগস্ট ১৯৮২।
- পরাবাস্তব কবিতাও যে একটি বিশেষ আসন করে নিতে পারে কবিতায় বাংলাদেশে কবি আবদুল মান্নান সৈয়দই সেটা প্রথম প্রমাণ করেছেন।
- আধুনিক কবিতার কবি হিসেবে সব শর্তের, সব সীমায় তাঁকে আঁটকানোর পরেও কবিতা নিয়ে ভাবনাশ্রয়ী গুণীজনেরা তাঁকে ‘পরাবাস্তবের কবি’ বলেছেন। সেকারণেই আবদুল মান্নান সৈয়দ তার সময়ের এবং এখনো  অন্যদের থেকে আলাদা।

আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), নজরুল পুরস্কার (১৯৯৮), নজরুল পদক (২০০১) ইত্যাদি পদক ও পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০১০ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ,
- জ্যোৎস্না রৌদ্রের চিকিৎসা,
- ও সংবেদ ও জলতরঙ্গ,
- কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড,
- পরাবাস্তব কবিতা,
- পার্কস্ট্রিটে একরাত্রি,
- মাছ সিসিজ,
- সকল প্রশংসা তাঁর,
- নীরবতা গভীরতা দুই বোন বলে কথা ইত্যাদি।

 উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. দৈনিক ইনকিলাব,
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ৫ আগস্ট, ২০১৬।
৫,০৩২.
'মালাধর বসু' কোন সুলতানের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি লাভ করেন?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ্‌
  2. শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
  4. আলাউদ্দিন খিলজি
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ
ব্যাখ্যা
মালাধর বসু:
- তিনি মূলত মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তিনি ১৫ শতকের তৃতীয় বা চতুর্থ দশকে বর্ধমান জেলার কুলিন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি তাঁর কবিত্ব শক্তির জন্য শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি লাভ করেন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'। এই কাব্যে ভগবত অনুসরণে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও তাঁর লীলা বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৩৩.
‘রক্তাম্বরধারিণী মা’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) অগ্নি-বীণা
  2. খ) বিষের বাঁশি
  3. গ) সাম্যবাদী
  4. ঘ) সর্বহারা
সঠিক উত্তর:
ক) অগ্নি-বীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অগ্নি-বীণা
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ অগ্নি-বীণা।
এ গ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতা গুলো হলোঃ
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ারা,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মোহররম।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,০৩৪.
'ইমামগণের কেচ্ছা ও আফৎনামা' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. রাধারমণ গোপ
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা

• 'ইমামগণের কেচ্ছা' গ্রন্থটির লেখক - রাধারমণ গোপ।

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ। 
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'জয়নালের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ - মুক্তল হোসেন।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি রাধারমণ গোপ। 
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা', 'আফৎনামা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,০৩৫.
'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে পরিচিত লেখক হলেন -
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মোহিতলাল মজুমদার
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে পরিচিত। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম- কমলাকান্ত।
• মোহিতলাল মজুমদারের ছদ্মনাম - সত্যসুন্দর দাস।
• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - সুনন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,০৩৬.
‘আমার যত গ্লানি’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. শওকত আলী
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. রশীদ করীম
সঠিক উত্তর:
রশীদ করীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রশীদ করীম
ব্যাখ্যা
⇒ ‘আমার যত গ্লানি’ উপন্যাস:
• রশীদ করীম (১৯২৫-২০১১) বাংলাদেশের প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক। তাঁর প্রথম উপন্যাস উত্তম পুরুষ।
• রশীদ করীমের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘আমার যত গ্লানি’ (১৯৭৩)।
• উপন্যাসে এরফান চরিত্রের প্রেক্ষণবিন্দু দিয়ে পাকিস্তান কায়েম থেকে শাসক গোষ্ঠীর শোষণ নিপীড়ন এবং সত্তরের নির্বাচন-উত্তরকালে ভূমিধস বিজয়ী আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে ইয়াহিয়া-ভুট্টোর অনীহা, আলোচনার নামে সময় ক্ষেপণ এবং ঘুমন্ত বাঙালির ওপর বর্বর আক্রমণের চিত্র শহর ও গ্রাম জীবনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।

উৎস: যুগান্তর সংবাদপত্র প্রতিবেদন; বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫,০৩৭.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটা?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. মাটি আর অশ্রু
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. সারেং বউ 
সঠিক উত্তর:
হাঙর নদী গ্রেনেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঙর নদী গ্রেনেড
ব্যাখ্যা

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন। তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।

- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।
---------------
• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

• ‘মাটি আর অশ্রু’ সিকান্দার আবু জাফর রচিত উপন্যাস।
- গ্রন্থটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

'সারেং বউ' উপন্যাস:
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস সারেং বউ। তাঁর 'সারেং বউ' উপন্যাসের চরিত্র কদম সারেং ও তাঁর স্ত্রী নবিতুন।
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে।
- এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,০৩৮.
সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য 'কাব্য সুধাকর' অভিধা প্রদান করা হয় কাকে?
  1. কায়কোবাদ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা ছিলেন একজন কবি ও লেখক। যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।

- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।

- তাঁর "বিশ্বনবী" গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি আল-কুরআনও (১৯৫৮) অনুবাদ করেন।

- তিনি গীতিকার ও গায়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর গানের বিষয় ছিল ইসলামি সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম। পাকিস্তান আন্দোলনের পটভূমিকায় বহু ইসলামি ও দেশাত্মবোধক গান তিনি রচনা করেন।

- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

• তাঁর মৌলিক কাব্য:
রক্তরাগ (১৯২৪), খোশরোজ (১৯২৯), কাব্য-কাহিনী (১৯৩২), সাহারা (১৯৩৬), হাস্নাহেনা (১৯৩৮), বুলবুলিস্তান (১৯৪৯), তারানা-ই-পাকিস্তান (১৯৫৬), বনিআদম (১৯৫৮), গীতিসঞ্চালন (১৯৬৮) ইত্যাদি।

• অনুবাদকাব্য:
মুসাদ্দাস-ই-হালী (১৯৪১), কালামে ইকবাল (১৯৫৭), শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০) ।

• তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে-
বিশ্বনবী (১৯৪২), ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬), ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭), আমার চিন্তাধারা (১৯৫২), পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি প্রধান।

-----------------
অন্যদিকে, 
• 'কায়কোবাদ' বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘে থেকে 'কাব্যভূষণ', 'বিদ্যাভূষণ ও 'সাহিত্যরত্ন' উপাধিতে ভূষিত হন। 
• হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় মূলত মহাকাব্যের কবি ছিলেন। 'বাংলার মিল্টন' তার উপাধি/ অভিধা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৩৯.
বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ - 
  1. মসনদ
  2. পদ্মানদীর চর
  3. অরণ্য গোধূলি
  4. নীড়ভ্রষ্ট
সঠিক উত্তর:
পদ্মানদীর চর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মানদীর চর
ব্যাখ্যা

বন্দে আলী মিয়া: 
- বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কিছুদিন ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
- দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন।
- বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ এ শিশুতোষ গ্রন্থ।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।

বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী।

বন্দে আলী মিয়া রচিত উপন্যাস: 
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট

বন্দে আলী মিয়া রচিত নাটক: 
- মসনদ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,০৪০.
নিচের কোন চরণটি হাসন রাজার গানের পঙ্ক্তি?
  1. ক) ও যার আপন খবর আপনার হয় না।
  2. খ) কী ঘর বানাইমু আমি শূন্যের মাঝার।
  3. গ) ধরতে পারলে মনোবেড়ি দিতাম তাহার পায়।
  4. ঘ) চিরদিন পুষলাম এক অচিন পাখী ৷
সঠিক উত্তর:
খ) কী ঘর বানাইমু আমি শূন্যের মাঝার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কী ঘর বানাইমু আমি শূন্যের মাঝার।
ব্যাখ্যা
হাসন রাজা
তাঁর প্রকৃত নাম দেওয়ান হাসন রজা চৌধুরী।
- ১২৬১ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ (১৮৫৪ সালের ২৪ জনিুয়ারি) সিলেট জেলার সুনামগঞ্জে লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

• হাসন রাজার মুখ্য পরিচয় একজন মরমি কবি হিসেবে।
- তাঁর সম্পর্কে  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার ভারতীয় দর্শন কংগ্রেসের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে বলেছিলেন: ‘পূর্ববঙ্গের একজন গ্রাম্য কবির গানে দর্শনের একটি বড় তত্ত্ব পাই সেটি এই যে, ব্যক্তিস্বরূপের সহিত সম্বন্ধসূত্রেই বিশ্ব সত্য।
- ’ হাছন উদাস (১৯০৭), শৌখিন বাহার, হাছন বাহার ইত্যাদি গ্রন্থে তাঁর গানগুলি সংকলিত হয়েছে।

লোকে বলে বলেরে, ঘর বাড়ি ভালা নায় আমার
কি ঘর বানাইমু আমি, শূন্যের-ই মাঝার
ভালা করি ঘর বানাইয়া, কয় দিন থাকমু আর
আয়না দিয়া চাইয়া দেখি, পাকনা চুল আমার।
-হাসন রাজা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,০৪১.
“চাষী ওরা, নয়কো চাষা, নয়কো ছোটলোক” বলেছেন--
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

কোনো ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।

৫,০৪২.
'পল্লীসমাজ' উপন্যাসটি রচনা করেন -
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'পল্লীসমাজ' উপন্যাস:
- পল্লীসমাজ (১৯১৬) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।
- বাংলার পল্লীসমাজের নীচতা ও ক্ষুদ্র রাজনীতির পটভূমিকায় এক আদর্শবাদী যুবক - যুবতীর সম্পর্ক ও বিশেষ করে তাদের অভিশপ্ত প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- ১৯১৫ সালে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:

- বড়দিদি,
- শ্রীকান্ত,
- গৃহদাহ,
- দেনা পাওনা
- চরিত্রহীন,
- পল্লীসমাজ,
- বৈকুন্ঠের উইল,
- দেবদাস,
- পথের দাবী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫,০৪৩.
শামসুর রাহমান সম্পাদিত পত্রিকা-
  1. দৈনিক পূর্বদেশ
  2. দৈনিক ইত্তেফাক
  3. দৈনিক আজকাল
  4. দৈনিক বাংলা
সঠিক উত্তর:
দৈনিক বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক বাংলা
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• শামসুর রাহমান:
-  শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• শামসুর রাহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।
• উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
- রৌদ্র করোটিতে;
- বিধ্বস্ত নীলিমা;
- বন্দী শিবির থেকে;
- নিজ বাসভূমে;
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
- এবং উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। 

• এছাড়া তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থ- এলাটিং বেলাটিং।

• তাঁর উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক;
- অক্টোপাস,
- এলো সে অবেলায়,
- নিয়ত মন্তাজ।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

৫,০৪৪.
'ইডিপাস' নাটকের বাংলা বঙ্গানুবাদ করেন কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সেলিম আল দীন 
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা

• 'ইডিপাস' নাটক:
- বিশ্ববিখ্যাত নাট্যকার সফোক্লিস গ্রিক ভাষায় এ নাটকটা রচনা করেন।
- আর এটা বাংলায় অনুবাদ করেন সৈয়দ আলী আহসান।
- এটি একটি ট্র্যাজেডি নাটক।

-------------------
• সৈয়দ আলী আহসান:
- ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আলী হামেদ ছিলেন একজন স্কুল ইন্সপেক্টর।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ।
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত।
- সহসা সচকিত।
- উচ্চারণ।
- আমার প্রতিদিনের শব্দ।
- সমুদ্রেই যাবো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,০৪৫.
গীতি সঞ্চয়ন - কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) গানের সংকলন
  2. খ) প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. গ) নাট্যগ্রন্থ
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

গোলাম মোস্তফার কাব্যের প্রধান বিষয়বস্তু - ইসলাম ও প্রেম।
তার রচিত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থঃ
- রক্তরাগ
- খোশরোজ
- কাব্যকাহিনী
- সাহারা
- বুলবুলিস্তান
- বনি আদম
- গীতি সঞ্চয়ন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,০৪৬.
'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত -
  1. আল মাহমুদ
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
• মুসলিম সাহিত্য-সমাজ:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি 'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' প্রতি=ষ্ঠিত হয়।
- ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম চলে।
- প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন- আবুল হুসেন, এ. এফ. এম আবদুল হক, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবদুল কাদির, আবুল ফজল, কাজী আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মূলমন্ত্র ছিল 'বুদ্ধির মুক্তি'।
- বুদ্ধির মুক্তি বলতে তাঁরা বুঝাতেন অন্ধ সংস্কার ও শাস্ত্রানুগত্য থেকে মানুষের বিচারবুদ্ধিকে মুক্তি দান।
- জ্ঞানের শিখা জ্বালাবার জন্য সংগঠনটি ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখার মুখবাণী ছিল-'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,০৪৭.
জহির রায়হান কত সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক) ১৯৭৩
  2. খ) ১৯৭২
  3. গ) ১৯৭০
  4. ঘ) ১৯৭৩
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭২
ব্যাখ্যা
- জহির রায়হান কে ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রদান করা হয়।

তাঁর লিখিত ্কিছু বিখ্যাত বই হচ্ছে-
»শেষ বিকেলের মেয়ে
»হাজার বছর ধরে
»আরেক ফাল্গুন
»বরফ গলা নদী
»আর কত দিন।

- তিনি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত ইংরেজি পত্রিকা দ্য উইকলি এক্সপ্রেস প্রকাশের উদ্যোক্তাদের অন্যতম।
- এ ছাড়া তিনি কতিপয় সাহিত্য পত্রিকার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

-'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর বাংলাপিডিয়া
৫,০৪৮.
'শেখ মুজিব : তাকে যেমন দেখেছি' প্রবন্ধ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) মযহারুল ইসলাম
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. ঘ) আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা

মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম সদস্য আবুল ফজল রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ হলো 'শেখ মুজিব : তাকে যেমন দেখেছি'।
এটি ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।
তার অন্যান্য প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছে, বিচিত্র কথা, সমকালিন চিন্তা, শুভবুদ্ধি ইত্যাদি।
(সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)

৫,০৪৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প কোনটি?
  1. ছুটি
  2. বিলাসী
  3. ভিখারিনী
  4. মহেশ
সঠিক উত্তর:
ভিখারিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিখারিনী
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প - ভিখারিনী

ভিখারিনী:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প
- এটি 'ভারতী' পত্রিকায় ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের নিবিড় সম্পর্ক বিষয়ক গল্প:
- সুভা,
- অতিথি,
- আপদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,০৫০.
‘আবু নসর’ কোন উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. সূর্য-দীঘল বাড়ী
  2. ওঙ্কার
  3. সারেং বৌ
  4. আবদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ওঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওঙ্কার
ব্যাখ্যা
• 'ওঙ্কার' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- ‘আবু নসর’। 
--------------------- 
• 'ওঙ্কার' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:

- 'ওঙ্কার' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'আহমদ ছফা'। 
- ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে।
- আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে।
- আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 
-------------------
• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। 
- ষাটের দশকে তাঁর সাহিত্য-জীবনের সূচনা হয়।
- সৃষ্টিধর্মী লেখক হিসেবে তিনি গল্প,  উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ,  শিশুসাহিত্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দেখান।
- ছফার চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর দুটি উল্লেখযোগ্য রচনা বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ও বাঙালি মুসলমানের মন-এ।
- তাঁর মৃত্যু হয় ২০০১ সালের ২৮ জুলাই।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৫,০৫১.
’ঠাকুর বাড়ির আঙিনা‘ জসীম উদ্‌দীনের কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. ভ্রমণকাহিনি
  3. স্মৃতিকথা
  4. আত্মজীবনী
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন :
- ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- কলেজ জীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৩৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন।
- তাঁর উপাধি ছিল- পল্লিকবি।
- জসীম উদ্‌দীনের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ নক্সীকাঁথার মাঠ। 
- জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী ।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা :
- যাদের দেখেছি (১৯৫২),
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সীকাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে ,
- মাটির কান্না,
- সকিনা ,

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী :
- চলে মুসাফির ,
- হলদে পীরের দেশ,
- যে দেশে মানুস বড় ,
- জার্মানির শহরে ও বন্দরে ,

• তাঁর রচিত উপন্যাস :
- জসীম উদ্‌দীনের একমাত্র উপন্যাস বোবাকাহিনী। 

• আত্মজীবনী : জীবনকথা (১৯৬৪)

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০৫২.
সর্বপ্রথম লালন সাঁই এর গান সংগ্রহ করার কৃতিত্ব কার?
  1. ক) চন্দ্রকুমার দে
  2. খ) দীনেশ্চন্দ্র সেন
  3. গ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
সর্বপ্রথম লালন সাঁই এর গান সংগ্রহ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
-  রবীন্দ্রনাথ লালন শাহর ২৯৮টি গান সংগ্রহ করেন এবং সেগুলি থেকে ২০টি গান তিনি  'প্রবাসী' পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

লালন শাহ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
- তাই তিনি গেয়েছেন: ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’
- তাঁর জনপ্রিয় গান- 
- ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’,
- ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’,
- ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০৫৩.
'মে দিবস' নাটকটি কার লিখা?
  1. নুরুল মোমেন
  2. নজিবুর রহমান
  3. মামুনুর রশীদ
  4. মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
• মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৫৪.
হুমায়ূন আহমেদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. শঙ্খনীল কারাগার
  2. এই সব দিনরাত্রি
  3. বাদশাহ নামদার
  4. বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
বাদশাহ নামদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাদশাহ নামদার
ব্যাখ্যা

'বাদশাহ নামদার' উপন্যাস:
- 'বাদশাহ নামদার' হুমায়ূন আহমেদ রচিত বাংলা ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি ২০১১ সালে অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়। বইটিকে হুমায়ূন আহমেদের অন্যতম সেরা সৃষ্টি বলে গণ্য করা হয়।
- হুমায়ূন আহমেদ বাদশাহ নামদার বইটি লেখার সময় গুলবদন বেগম রচিত হুমায়ুন-নামা এবং জওহর আফতাবচির তাজকিরাতুল ওয়াকিয়াত গ্রন্থ থেকে ইতিহাসের ঘটনাবলি নিয়েছেন। আফতাবচি সম্রাট হুমায়ূনকে পানি পান করাতেন।

-------------------------
• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক। হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।

- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব। ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়। তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)।

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা জনপ্রিয় উপন্যাস জোছনা ও জননীর গল্প। হুমায়ূন আহমেদকে বাংলাদেশের সায়েন্স ফিকশনের পথিকৃৎ বলা যায়। তাঁর অন্যতম সায়েন্স ফিকশন তোমাদের জন্য ভালোবাসা।

- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস মধ্যাহ্ন এবং বাদশাহ নামদার।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া
- আগুনের পরশমণি
- অনিল বাগচীর একদিন
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

উপন্যাস:
- নন্দিত নরকে,
- শঙ্খনীল কারাগার,
- আনন্দ বেদনার কাব্য,
- যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ,
- আমার আছে জল,
- আজ রবিবার,
- এই সব দিনরাত্রি,
- বহুব্রীহি,
- অয়োময়,
- শ্রাবণ মেঘের দিন,
- দুই দুয়ারী,
- কোথাও কেউ নেই,
- মহাপুরুষ,
- বৃষ্টিবিলাস,
- মৃন্ময়,
- এপিটাফ,
- লীলাবতী,
- তিন পুরুষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,০৫৫.
আবুল ফজলের গড়ে তোলা ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের মুখপত্র ছিল-
  1. ক) কল্লোল
  2. খ) শিখা
  3. গ) ক্রান্তি
  4. ঘ) কণ্ঠস্বর
সঠিক উত্তর:
খ) শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শিখা
ব্যাখ্যা
• আবুল ফজল মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- এ আন্দোলনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা
- আবুল ফজল শিখা পত্রিকার ৫ম সংখ্যা সম্পাদনা করেন।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

•  তাঁর প্রধান কয়েকটি রচনাবলি হলো:
- চৌচির
- প্রদীপ ও পতঙ্গ
- মাটির পৃথিবী
- বিচিত্র কথা
- রাঙ্গা প্রভাত
- রেখাচিত্র
- মৃতের আত্মহত্যা প্রভৃতি।
• ‘রেখাচিত্র’ (১৯৬৬) আবুল ফজল রচিত একটি দিনিলিপি। তিনি রেখাচিত্রের জন্য আদমজি পুরস্কার (১৯৬৬) লাভ করেন।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৫৬.
কোন কবি 'ধর্মমঙ্গল' কাব্যের প্রণেতা?
  1. বংশীদাস চক্রবর্তী
  2. রূপরাম চক্রবর্তী
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. বলরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
রূপরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• ধর্মমঙ্গল কাব্য: 
- ধর্ম ঠাকুরের নাম যে মঙ্গলকাব্য সৃষ্ঠ হয়েছে তার  নাম ধর্মমঙ্গল।  
- ধর্মমঙ্গল কাব্য ধারার প্রথম কবি- ময়ূর ভট্ট। 
- ময়ূর ভট্ট রচিত গ্রন্থটি হলো 'হাকন্দপুরাণ'।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।
- তাঁর রচিত গ্রন্থের নাম শ্রীধর্মমঙ্গল।

- ধর্মমঙ্গল ধারার অন্যান্য কবি:
• রূপরাম চক্রবর্তী,
• খেলারাম চক্রবর্তী,
• মানিক রাম, 
• শ্যাম পণ্ডিত,
• নরসিংহ বসু প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,০৫৭.
বাংলা ভাষায় কবিতা রচনা না করেও কে বাংলা ভাষার কবি হিসাবে বিবেচিত?
  1. ক) চৈতন্যদেব
  2. খ) জয়দেব
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) উপরের সকলেই
সঠিক উত্তর:
গ) বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন - বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন - পঞ্চদশ শতকের কবি।
তিনি ব্রজবুলি ভাষায় কাব্য রচনা করতেন। তবে -
সংস্কৃত ভাষায় তার রচিত একটি গ্রন্থ হচ্ছে - পুরুষপরীক্ষা।
বিদ্যাপতির এ-জাতীয় আরো কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে -
কীর্তিলতা, গঙ্গাবাক্যাবলী, বিভাগসার।

তার সময় মিথিলা ছিল জ্ঞান ও সাহিত্য চর্চার কেন্দ্র। বাঙ্গালিরাও যেতো মিথিলায় সাহিত্যচর্চার জন্য। আর এভাবেই বাংলায় কবিতা রচনা না করেও বিদ্যাপতি হয়েছেন - বাংলা ভাষার কবি।
কবির রচনায় মোহিত ছিলেন - মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

কবি জয়দেব ছিলেন বাঙ্গালি কবি। তবে তিনি সংস্কৃত ভাষায় কাব্য রচনা করেছিলেন। তার কাব্যের নাম - গীতগোবিন্দম/গীতগোবিন্দ।

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

৫,০৫৮.
'বোধোদয়' গ্রন্থ রচনা করেছেন-
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• 'বোধোদয়' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ।

• তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:

- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৫৯.
’সনাতন পাঠক’ কোন লেখকের সাহিত্যিক ছদ্মনাম?
  1. সমরেশ বসু
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

‘সনাতন পাঠক’ হলো 'সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়' এর ছদ্মনাম।

এছাড়াও তিনি পরিচিত ছিলেন-
- নীল উপাধ্যায়
- নীল লোহিত

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পূর্ব-পশ্চিম
- আত্মপ্রকাশ
- সেই সময়
- প্রথম আলো
- অরণ্যের দিনরাত্রি  
- একা এবং কয়েকজন ।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম- সত্য পীর।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম- দৃষ্টিহীন।
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম- 'কালকূট'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,০৬০.
কোনটি মনসুর বয়াতি রচিত পালা?
  1. দেওয়ানা মদিনা
  2. দেওয়ান ভাবনা
  3. কাজলরেখা
  4. কমলা
সঠিক উত্তর:
দেওয়ানা মদিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেওয়ানা মদিনা
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে। এগুলো হলো: মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা।

• 'দেওয়ানা মদিনা' পালা:
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধিন বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙের দেওয়ানদের সম্পর্কে রচিত পালা 'দেওয়ানা মদিনা' ।
- এ পালার লেখক মনসুর বয়াতি।
- বানিয়াচঙের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবন কাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি এর মূল বিষয়।
এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা,
- সোনাফর।

অন্যদিকে,
• ‘দেওয়ান ভাবনা’ পালাটির রচয়িতা কে তা জানা যায়নি।
• কাজলরেখা কোনো পালা নয়। এটা পদ্য ও গল্পাকারে বর্ণিত রূপকথা। এর রচয়িতা কে তা জানা যায় নি।
• ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০৬১.
'জ্যোৎস্না ও জননীর' গল্প কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস 
  2. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক উপন্যাস 
  3. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 
  4. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 
ব্যাখ্যা

• 'জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প' হুমায়ূন আহমেদ এর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।

• 'জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প':
- হুমায়ূন আহমেদের ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।
- গল্পটি একটি সাধারণ গ্রাম্য পরিবারের জীবনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।
- ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ উপন্যাসে মাওলানা ইরতাজউদ্দিন কাশেমপুরী, তাঁর ভাই শাহেদ, শাহেদের স্ত্রী আসমানী ও মেয়ে রুনি— এই চরিত্রগুলো মাধ্যমে লেখক যুদ্ধের বাস্তবতা, ত্যাগ এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রাম ফুটিয়ে তুলেছেন।
- লেখক ইতিহাস ও কল্পনার মিশ্রণে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানুষের সংগ্রাম ও স্বাধীনতার চেতনা উপস্থাপন করেছেন।
-----------------------------------------
হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গীতিকার, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং শিক্ষাবিদ।
- তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি সাহিত্যিক।
- তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সাহিত্যে অসামান্য প্রভাব ফেলেছেন।
- তাঁর জনপ্রিয় চরিত্রের মধ্যে রয়েছে হিমু, মিসির আলি এবং শুভ্র।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
• অনীল বাগচীর একদিন,
• সৌরভ,
•  শ্যামল ছায়া,
• আগুনের পরশমণি,
• ১৯৭১। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৫,০৬২.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নিষিদ্ধ গ্রন্থ কোনটি?
  1. অগ্নিবীণা
  2. যুগবাণী
  3. বিষের বাঁশী
  4. ভাঙার গান
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি। এগুলো হলো-
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ নভেম্বর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উল্লেখ্য, 
• 'অগ্নিবীণা' কাব্যটি কখনো নিষিদ্ধ হয়নি। এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত “রক্তাম্বর-ধারিণী মা” কবিতাটি নিষিদ্ধ হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,০৬৩.
'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা -
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. ইব্রাহীম খাঁ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহীম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা
ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র:
- 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' ইবরাহীম খাঁর কেবল ভ্রমণকাহিনিই নয়, এটি তাঁর অন্যতম সাহিত্যকীর্তিও।
- তিনি ১৯৫১ সালের ২২ আগস্ট করাচী থেকে ইস্তাম্বুল যাত্রা করেন।
- সহযাত্রী ছিলেন মৌলভী তমিজুদ্দীন খাঁ ও মৌলভী খোন্দকার আলী আফজাল-এঁরা তিনজনই বাঙালি।
- তাঁরা আন্তঃপার্লামেন্টারি মতবিনিময় কার্যক্রমের অংশ হিসাবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেন।
- তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যের পথে প্রথমেই গেলেন বছরা; তারপর বৈরুত, আলোপ্পো, খালেদার মাজার দেখলেন, আরবী গান শুনলেন এবং আঙ্কারার পথে যাত্রা করলেন।
- এরপর এলেন ইস্তাম্বুলে, নিকোশিয়া, কায়রো, জেদ্দা, মক্কা, মদীনা, দামেশক, তেহরান ইত্যাদি ভ্রমণশেষে তাঁরা ১৯৫১ সালের ৪ অক্টোবর করাচী এসে তাঁদের সফর শেষ করেন।
- এই 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' গ্রন্থটি আলোচনা করতে গিয়ে দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ইবরাহীম খাঁকে 'অভিনব ভ্রমণকাহিনির প্রবর্তক' হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। 

ইব্রাহীম খাঁ: 
- তিনি ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। 
- নাটক, গল্প,  উপন্যাস,  শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
- তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- ব্যাঘ্র মামা,
- বেদুঈনদের দেশে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র', ইবরাহীম খাঁ।
৫,০৬৪.
বাঙালির নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয় কাকে?
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বেগম রোকেয়া
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক ও বাঙালির নবজাগরণের অন্যতম অগ্রদূত।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন।
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে 'রায়বাহাদুর' এবং ১৮৯৪ সালে 'Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire' (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।
- চব্বিশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) ও 'কপালকুণ্ডলা' (১৮৬৬) রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- রাজসিংহ,
- রজনী,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- চন্দ্রশেখর,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী,
- সীতারাম।

অন্যদিকে,
• বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে অগ্রদূত/মুসলিম রেঁনেসার অগ্রদূত হলেন সৈয়দ আমীর আলী। তিনি উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ছিলেন।

• বেগম রোকেয়াকে বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত/বাংলার মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক। তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,০৬৫.
পাকিস্তান সরকার কর্তৃক হাসান হাফিজুর রহমানের বাজেয়াপ্রাপ্ত সম্পাদনা সংকলন কোনটি-
  1. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে- দলিলপত্র
  2. আর্ত শব্দাবলী
  3. একুশে ফেব্রুয়ারী
  4. শোকার্ত তরবারী
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
ব্যাখ্যা
• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন:
- ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারী' প্রকাশিত হয়।
- এই সংকলনে স্থান পেয়েছিল একুশের প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, গান, নকশা ও ইতিহাস।
- ১৯৫৩ সালে 'পুথিপত্র' থেকে এটি প্রকাশ করেন বিশিষ্ট বামপন্থী রাজনৈতিককর্মী মোহাম্মদ সুলতান। 
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি'  গানটি প্রথম এ গ্রন্থে সংকলিত হয়
- এটি প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে। 

--------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান: 

-  হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।  
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারি”। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র - এর সম্পাদকও তিনি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা, 
- মূল্যবোধের জন্য, 
- সাহিত্য প্রসঙ্গ, 
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,০৬৬.
প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত ব্রহ্মবিষয়ক গানের সমষ্টি কোনটি?
  1. বামাতোষিণী
  2. আধ্যাত্মিকা
  3. গীতাঙ্কুর
  4. রামারঞ্জিকা
সঠিক উত্তর:
গীতাঙ্কুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতাঙ্কুর
ব্যাখ্যা
প্যারীচাঁদ মিত্র:
• প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮১৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তাকে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ বলা হয় ৷
• তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে লিখতেন।
• তাঁর রচিত কথিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)। ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ‘মাসিক পত্রিকা'য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।

• প্যারীচাঁদের অন্যান্য গ্রন্থ:
- ‘রামারঞ্জিকা' (১৮৬০) স্ত্রীশিক্ষামূলক গ্রন্থ।

• তাঁর প্রবন্ধ পুস্তক:
- 'কৃষিপাঠ' (১৮৬১),
- 'যৎকিঞ্চিৎ' (১৮৬৫),
- 'ডেবিড হেয়ারের জীবনচরিত' (১৮৭৮) প্রভৃতি।

• সংলাপপ্রধান গল্পমূলক রচনা:
- 'অভেদী' (১৮৭১),
- 'আধ্যাত্মিকা' (১৮৮০) ইত্যাদি গ্রন্থ সংলাপপ্রধান গল্পমূলক রচনা এবং মূলত নীতিবিষয়ক।

• 'এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদিগের পূর্বাবস্থা' (১৮৭৮) গ্রন্থে প্রাচীন ভারতের নারীদের শিক্ষা ও মহত্ত্বের পরিচয় উপলক্ষে পৌরাণিক নারীচরিত্রের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

• 'গীতাঙ্কুর' (৩য় সংস্করণ, ১৮৭০) ব্রহ্মবিষয়ক গানের সমষ্টি।
• 'বামাতোষিণী' (১৮৮১) প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশেষ রচনা-নারীশিক্ষার উদ্দেশ্যে গ্রন্থটির রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৫,০৬৭.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. খোয়ারি
  2. দুধভাতে উৎপাত
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. দোজখের ওম
সঠিক উত্তর:
চিলেকোঠার সেপাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
• চিলেকোঠার সেপাই:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তাঁর রচিত একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি অঙ্কিত হয়েছে। 

অন্যদিকে, 
খোয়ারি, দোজখের ওম ও দুধভাতে উৎপাত - তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫,০৬৮.
'বাংলাদেশ' কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. শামসুর রাহমান
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'বাংলাদেশ' কবিতাটির রচয়িতা: 'অমিয় চক্রবর্তী'। 

• 'বাংলাদেশ' কবিতা:
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বাংলাদেশ কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বিখ্যাত কবিতা ‘বাংলাদেশ’ অনিঃশেষ (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- কবিতাটি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

কবিতাংশ: 
কল্যাণীর ধারাবাহী যে_মাধুরী বাংলা ভাষায়
গড়েছে আত্মীয় পল্লী,যমুনা-পদ্মার তীরে তীরে
রুপোলি জলের ধারে,আম-জাম-নারকেল ঘেরা
আমন ধানের খেতে শ্রুতিময় তারি অন্তর্লীন
বাণী শোনো প্রাত্যহিক-বহু মিশ্র প্রাণের সংসারে
সেই বাংলাদেশে ছিল সহস্রের একটি কাহিনী
কোরানে পুরাণে শিল্পে,পালা-পার্বণের ঢাকে ঢোলে
আউল বাউল নাচে;পুন্যাহের সানাই রজ্ঞিত
রোদ্দুরে আকাশতলে দেখ কারা হাটে যায়,মাঝি
পাল তোলে,তাঁতি বোনে,খড়ে-ছাওয়া ঘরের আঙনে
মাঠে ঘাটে-শ্রমসঙ্গী নানাজাতি ধর্মের বসতি
চিরদিন বাংলাদেশ (সংক্ষেপিত)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০৬৯.
কোন লেখক 'কৃত্তিবাস ওঝা' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন?
  1. মোহিতলাল মজুমদার
  2. বিমল ঘোষ
  3. সুবোধ ঘোষ
  4. আবদুল মান্নান সৈয়দ
সঠিক উত্তর:
মোহিতলাল মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা
মোহিতলাল মজুমদার 'কৃত্তিবাস ওঝা' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।

অন্যদিকে,
বিমল ঘোষ এর ছদ্মনাম - মৌমাছি৷
‘সুবোধ ঘোষ’ এর ছদ্মনাম - কালপুরুষ।
আবদুল মান্নান সৈয়দ 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

মোহিতলাল মজুমদার:
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে।
- ১৯২৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন এবং ১৯৪৪ সালে অবসরে যান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,০৭০.
‘রুচি ও প্রগতি’ প্রবন্ধের রচয়িতা -
  1. বিষ্ণু দে
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. অজিতকুমার দত্ত
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• ‘রুচি ও প্রগতি’ প্রবন্ধের রচয়িতা - বিষ্ণু দে

বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,০৭১.
'অনল প্রবাহ' কাব্যটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ভারত ভিক্ষা', 'ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়। প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- প্রথম সংস্করণে কবিতাগুলো হচ্ছে: অনলপ্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ-ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন। পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০৭২.
কোনটি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি?
  1. তুরস্ক ভ্রমণ
  2. মোটর যোগে রাঁচী সফর
  3. মস্কোতে কয়েকদিন
  4. বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
সঠিক উত্তর:
তুরস্ক ভ্রমণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুরস্ক ভ্রমণ
ব্যাখ্যা

• 'তুরস্ক ভ্রমণ' গ্রন্থ পরিচিতি:
'তুরস্ক ভ্রমণ' গ্রন্থটি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি। তিনি ১৯১০ সালে বঙ্গীয় প্রতিনিধি হিসেবে তুরস্ক ভ্রমণ করেন এবং সেই অভিজ্ঞতা এই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন। এটি তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলোর মধ্যে একটি, যা তৎকালীন তুরস্কের সংস্কৃতি, সমাজ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে।

------------------------
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা। তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে সিরাজী' উপাধি যুক্ত করেন।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন।
- তিনি ১৯৩১ সালের ১৭ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস
- উদ্বোবন,
- নব উদ্দীপনা
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন ইত্যাদি।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গ্রমণকাহিনি- মস্কোতে কয়েকদিন।
• 'মোটর যোগে রাঁচী সফর' (১৯৪৯) হলো বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি, যা লিখেছেন এস ওয়াজেদ আলি ।
• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি "বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন"। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, "তুরস্ক ভ্রমণ' ভ্রমণকাহিনি এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,০৭৩.
নিচের কোনটি বিখ্যাত প্রতীকধর্মী উপন্যাস?
  1. ক) বিহঙ্গ পুরাণ
  2. খ) মরণবিলাস
  3. গ) ক্রীতদাসের হাসি
  4. ঘ) অলাতচক্র
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
- কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের প্রতীক ধর্মী উপন্যাস 'ক্রীতদাসের হাসি'। এতে রূপকাকারে আইয়ুবী স্বৈরশাসনের স্বরূপ এবং পুরো বাংলার স্বাধীনতাকামী মানুষের অন্তর্সত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন যতই জাঁকজমকভাবে উন্নয়নের দশক পালন করুক না কেন বাক-স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ছাড়া মানুষ কখনো সুখী হতে পারে না এইটাই এই উপন্যাসে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৭৪.
কোনটি হযরত মুহম্মদ (স)-এর জীবনী গ্রন্থ?
  1. মরুমায়া
  2. মরু ভাস্কর
  3. মরুতীর্থ
  4. মরু কুসুম
সঠিক উত্তর:
মরু ভাস্কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরু ভাস্কর
ব্যাখ্যা
• 'মরুভাস্কর' জীবনী গ্রন্থ:
- মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনী নিয়ে মরুভাস্কর রচনা করেন।
- এর প্রকাশকাল ১৯৪১ সাল।
- মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী একজন মুসলিম স্বাতন্ত্রবাদী লেখক।

উল্লেখ্য,
• "মরু-ভাস্কর" কাব্যগ্রন্থ:
- মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনীকাব্য 'মরু-ভাস্কর' এর রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ থেকে কাব্যটি রচিত হয়। ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে (১৯৫০) গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এ কাব্যের চারটি সর্গে  -মোহাম্মদ (স.) জন্ম, শৈশব, কৈশোর, বিয়ে ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫,০৭৫.
'আয়না' ব্যঙ্গ সাহিত্যটির রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'আয়না' গল্পগ্রন্থ:
- বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গরচনার জগতে আবুল মনসুর আহমদের 'আয়না' একটি কালজয়ী গল্পগ্রন্থ।
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই অবিস্মরণী ব্যঙ্গ গল্প-গ্রন্থের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন-

'এমনি আয়নায় শুধু মানুষের বাইরের প্রতিচ্ছবিই দেখা যায় কিন্তু আমার বন্ধু শিল্পী আবুল মনসুর যে আয়না তৈরী করেছেন, তাতে মানুষের অন্তরের রূপ ধরা পড়েছে। যে-সমস্ত মানুষ হরেক রকমে মুখোশ পরে আমাদের সমাজে অবাধে বিচরণ করছে, আবুল মনসুরের আয়নার ভেতরে তাদের স্বরূপ-মূর্তি বন্য ভীষণতা নিয়ে ফুটে উঠেছে।
---------------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ময়মনসিংহের ধানিখোলা গ্রামে ১৮৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- খেলাফত, অসহযোগ ও স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা ও
- আবে হায়াত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা‌।

• তাঁর রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরেবাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'আয়না' গল্পগ্রন্থ।
৫,০৭৬.
কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. আরণ্যক
  2. শাশ্বতবঙ্গ
  3. নদীবক্ষে
  4. অ-তে অজগর
সঠিক উত্তর:
নদীবক্ষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীবক্ষে
ব্যাখ্যা

'নদীবক্ষে' উপন্যাস:
- কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস 'নদীবক্ষে'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৮ সালে। এটি যতটুকু উপন্যাস তার চেয়ে বেশি সমাজচিত্র।
- গ্রামীণ সমাজের কলহ, বিবাদ, দ্বন্দ্ব আবার মিলনের কথা চারটি কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে এই গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের চরিত্র: জমির শেখ, ইরফান মণ্ডল, লালু, মতি প্রমুখ।

কাজী আবদুল ওদুদ:
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

কাজী আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ,
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

অন্যদিকে,
• আরণ্যক - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
• আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস - অ-তে অজগর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫,০৭৭.
মঙ্গলকাব্যের অধিকাংশ দেব-দেবী কোন গোষ্ঠীভুক্ত?
  1. অস্ট্রিক
  2. ককেশিয়ান
  3. দ্রাবিড়
  4. সেমিটিক-হেমিটিক
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম্য নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
- পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি। যথা:
• মনসামঙ্গল,
• চণ্ডীমঙ্গল,
• অন্নদামঙ্গল।
- একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে। যথা:
• বন্দনা,
• আতত্মপরিচয়,
• দেবখণ্ড,
• মর্ত্যখণ্ড,
• শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়।

মঙ্গলকাব্যের উদ্ভবের প্রেক্ষাপট:
- মঙ্গলকাব্যের অধিকাংশ দেবদেবী অস্ট্রিক গোষ্ঠীভুক্ত আদিম লোকায়ত সমাজের। 
- বাংলার গ্রামীণ পরিবেশে ও সমাজে এঁদের উদ্ভব ও প্রতিষ্ঠা।
- অস্ট্রিকদের দেবী হলেন শিবের মানসকন্যা মনসা, অনার্য ব্যাধ জাতির দেবী চণ্ডী হলেন শিবের গৃহিণী।
- সূর্যদেবতা হলেন কূর্মরূপী ধর্মঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৭৮.
কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'নাইটহুড' বা 'স্যার' উপাধি বর্জন করেন?
  1. ভারতছাড় আন্দোলন
  2. সত্যাগ্রহ আন্দোলন
  3. বঙ্গভঙ্গ
  4. জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড
সঠিক উত্তর:
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ সরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ১৯১৫ সালের ৩রা জুন 'নাইটহুড' বা 'স্যার' উপাধি প্রদান করেন। 
- পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ১৯১৯ সালের এপ্রিলে তিনি এই উপাধি বর্জন করেন।

- গীতাঞ্জলি এর অনুবাদ Song Offerings এর জন্য নোবেল পুরস্কার পান ১৯১৩ সালের নভেম্বর মাসে।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি-লিট পান ১৯১৩ সালের ২৬ শে ডিসেম্বর। 
- অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি-লিট পান ১৯৪০ সালের ৭ ই আগস্ট। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি-লিট পান ১৯৩৬ সালে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৭৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস-
  1. কুহেলিকা
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. বাঁধন-হারা
  4. ছিন্নপত্র
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
ব্যাখ্যা

• 'বাঁধন-হারা' বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
---------------------

• ‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

অন্যদিকে, 
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'কপালকুণ্ডলা' হল উপন্যাস। 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত পত্র সংকলন 'ছিন্নপত্র'। 
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস - কুহেলিকা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

৫,০৮০.
শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায় কোন কিশোর পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন?
  1. ক) আঙুর
  2. খ) সন্দেশ
  3. গ) মুকুল
  4. ঘ) ধান শালিকের দেশ
সঠিক উত্তর:
খ) সন্দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সন্দেশ
ব্যাখ্যা
• শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায় 'সন্দেশ' পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা 'সন্দেশ' প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও  কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।
- দেশবিদেশের গল্প, হাস্যকৌতুক, জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা ইত্যাদি লেখার পাশাপাশি নিজের আঁকা নানা বুদ্ধিদীপ্ত ছবি সংযোজনের মাধ্যমে সন্দেশকে তিনি তরুণ হূদয়ের যোগ্য একটি পত্রিকা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র সুকুমার রায় 'সন্দেশ' পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

অন্যদিকে, 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত কিশোর মাসিক পত্রিকা 'আঙুর' যা ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- ‘ধান শালিকের দেশ’ বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক শিশু কিশাের পত্রিকা।
- 'মুকুল'(১৮৯৫) পত্রিকার সম্পাদক শিবনাথ শাস্ত্রী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,০৮১.
ড. সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের রচনাকাল -
  1. ৬৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৯০০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৯০০ - ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

- ধারণা করা হয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে চর্যাপদ রচিত হয়েছিল।
- সে হিসেবে ধরা যায় পাল আমলে চর্যাপদের রচনা শুরু হয়।

চর্যাপদের রচনাকাল সম্পর্কে প্রসিদ্ধ মত -
- ড. সুকুমার সেনের মতে ৯৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে রচিত।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে- ৬৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে রচিত।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে রচিত এবং

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,০৮২.
'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত- 
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. আখ্যান কাব্য 
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস - চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান।
-  এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। 

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

 তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,০৮৩.
'শিয়রে বাংলাদেশ' কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী 
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. শামসুর রাহমান 
  4. সৈয়দ শামসুল হক 
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

• 'শিয়রে বাংলাদেশ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - নির্মলেন্দু গুণ।

--------------------
• নির্মলেন্দু গুণ:

- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম 'নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী'।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- ও বন্ধু আমার,
- চাষাভূষার কাব্য,
- পৃথিবীজোড়া গান,
- দূর হ দুঃশাসন,
- ইসক্রা,
- নেই কেন সেই পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- ভগলার তীরে,
- গীনসাবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়ালেখার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,০৮৪.
'শেখ আজিজুর রহমান' কোন সাহিত্যিকের প্রকৃত নাম?
  1. শওকত আলী
  2. কায়কোবাদ
  3. শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ছিলেন।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- জাহান্নাম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- পতঙ্গ পিঞ্জর, 
- রাজসাক্ষী, 
- জলাংগী, 
- পুরাতন খঞ্জর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৮৫.
বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে কোন পত্রিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য?
  1. ক) দৈনিকা আজাদ
  2. খ) সমকাল
  3. গ) পূর্বমেঘ
  4. ঘ) স্বদেশ
সঠিক উত্তর:
খ) সমকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমকাল
ব্যাখ্যা
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। 
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি।
- 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫,০৮৬.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত 'কাঞ্চনমালা' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কবিতা
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত 'কাঞ্চনমালা' হচ্ছে- উপন্যাস।

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পন্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। 
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- কাঞ্চনমালা (উপন্যাস),
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৮৭.
নিচের কোনটি মুসলিম নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. জমীদার দর্পণ
  2. বসন্তকুমারী
  3. বিষাদ-সিন্ধু
  4. আলালের ঘরের দুলাল
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা
'বসন্তকুমারী' নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে ‘বসন্তকুমারী নাটক’ (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।
-  ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র’ পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে ‘বসন্তকুমারী নাটক রচিত।
- নাটকটির অপর নাম ‘বৃদ্ধস্য তরূণী ভার্যা’।
- ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় নাটক।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায়  সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু, 

গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,০৮৮.
২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় কখন?
  1. ক) ২০০০
  2. খ) ১৯৯৭
  3. গ) ২০০২
  4. ঘ) ১৯৯৯
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৯৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৯৯
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহষ্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।
- একুশে ফেব্রুয়ারির শহীদদের স্মরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করেন (২৩ ফেব্রুয়ারি)।
- ড. সাঈদ হায়দার নকশার পরিকল্পনা করেন।
- শহীদ শফিউরের পিতা ২৪ তারিখে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সেই মিনারটি ভেঙ্গে ফেলে।
-  ভাষা আন্দোলনের অনুপ্রেরণা আমাদের মুক্তিসংগ্রামের অনুপ্রেরণা।
- ভাষা আন্দোলন থেকেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে।
- একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ:- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১  ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
- এই স্বীকৃতি ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা বেড়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০৮৯.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত গীতসংকলন কোনটি?
  1. কল্কি অবতার
  2. আনন্দ-বিদায়
  3. বঙ্গনারী
  4. আর্য্যগাথা
সঠিক উত্তর:
আর্য্যগাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্য্যগাথা
ব্যাখ্যা

'আর্য্যগাথা' গীতসংকলন:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় খুব অল্পবয়স থেকেই গান রচনা করতেন এবং নিজেই সুর দিয়ে গাইতেন। বিলেত যাওয়ার আগে মাত্র সতেরো বছর বয়সের মধ্যে লেখা একশো আটটি গান নিয়ে তাঁর প্রথম গীতসংকলন আর্য্যগাথা (প্রথম ভাগ) ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

- কিশোর বয়সে লেখা এ গানগুলিতে প্রকৃতির মনোরম সৌন্দর্য ও লাবণ্য, জগতের শোক-জরাজাত দুঃখাবসন্নতা, ঈশ্বরভক্তি এবং স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে।

এ পর্বের একটি গান হলো:
'গগনভূষণ তুমি জনগণমনোহারী!/
কোথা যাও নিশানাথ, হে নীল নভোবিহারী!।'

---------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন কবি, নাট্যকার, গীতিকার। ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর 'আর্য্যগাথা' (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে 'Lyrics of Ind' কাব্য প্রকাশিত হয়।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় 'পূর্ণিমা মিলন' নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রহসন বা লঘু রসাশ্রয়ী নাটক:
- একঘরে,
- কল্কি অবতার,
- বিরহ,
- এ্যহস্পর্শ বা সুখী পরিবার,
- পুনর্জন্ম, 
- আনন্দ-বিদায়। 

তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

তাঁর রচিত রোম্যান্টিক পৌরাণিক নাটক:
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয়।

তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,০৯০.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প -
  1. মহাযুদ্ধ
  2. কালো ঘোড়া
  3. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  4. ঘেরাও
সঠিক উত্তর:
জন্ম যদি তব বঙ্গে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্ম যদি তব বঙ্গে
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প - জন্ম যদি তব বঙ্গে।
- এটি শওকত ওসমান রচিত 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প।
- গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- ঘেরাও, মহাযুদ্ধ, কালো ঘোড়া।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,০৯১.
”সাত সাগরের মাঝি” কাব্যগ্রন্থটি কতসালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪০ সালে
  2. ১৯৪৪ সালে
  3. ১৯৪৬ সালে
  4. ১৯৪৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৪ সালে
ব্যাখ্যা

• সাত সাগরের মাঝি:
- ফররুখ আহমদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট উনিশটি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলি ১৯৪৩-৪৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত।
- মূলত জাগরণের লক্ষ্যে ফররুখ আহমদ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি লিখেছেন।
- বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে এ গ্রন্থে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিরূপ সমাজের ছবি কাব্যগ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে।

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।
• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।
• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,০৯২.
নিচের কোনটি মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম-মৃত্যু সাল?
  1. ১৮৪৭-১৯১১
  2. ১৮৫২-১৯১২
  3. ১৮৫৭-১৯১১
  4. ১৮৪৭-১৯১২
সঠিক উত্তর:
১৮৪৭-১৯১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৪৭-১৯১১
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম-মৃত্যু সাল- ১৮৪৭-১৯১১।

• উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য বোর্ড বই, সৌমিত্র শেখরের বই সহ অন্যান্য বই (১৮৪৭-১৯১১) সাল। তবে, বাংলাপিডিয়াতে মৃত্যুর সাল ১৯১২ দেয়া।

----------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,০৯৩.
'দি অ্যাংলো-স্যাক্সন অ্যান্ড দ্য হিন্দু' প্রবন্ধের রচয়িতা -
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মহাকবি, নাট্যকার, মধুসূদন বাংলা সাহিত্যের তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার জনক ও পথ নির্মাতা।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শৈশবে মা জাহ্নবী দেবীর কাছে শিক্ষার শুরু; রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ প্রভৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠেন মায়ের মাধ্যমেই।
- ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন বাংলার এই মহা কবি কপর্দকহীন অবস্থায় জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

♦♦ সাহিত্যকর্ম: 
- মাইকেল রচিত বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ১২টি গ্রন্থ এবং ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ৫টি গ্রন্থ রয়েছে।
- ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- এটিই বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সার্থক মৌলিক নাটক।
- হোমারের ইলিয়াড অবলম্বনে ১৮৭১ সালে তিনি রচনা করেন হেক্টরবধ।
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য।
- তাঁর শেষ রচনা মায়াকানন নাটক।

প্রহসন: 
- ১৮৬০ সালে মাইকেল রচনা করেন একেই কি বলে সভ্যতা ও বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ নামে দুটি প্রহসন।
- একেই কি বলে সভ্যতা এর বিষয় ছিল ইংরেজি শিক্ষিত নব্য বাবু সম্প্রদায়ের উচ্ছৃঙ্খলতা।
- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ এর বিষয় ছিল সনাতনপন্থী সমাজপতিদের নৈতিক চরিত্রের অধঃপতন।

♦ প্রবন্ধ সাহিত্য:
- দি অ্যাংলো-স্যাক্সন অ্যান্ড দ্য হিন্দু।

তথ্যসূত্র -
১..বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. ডেইলি স্টার বাংলা,
৩. জনকণ্ঠ।
৪. বাংলাপিডিয়া।
৫,০৯৪.
’চাষাভুষার কাব্য’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. বিষ্ণু দে
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. বিজন ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর হ দু্ঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,০৯৫.
‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।’- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে উক্তিটি কে করেছেন?
  1. আবুল ফজল
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  4. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
সঠিক উত্তর:
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।

• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫) ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১) হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।

• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩), বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭) সম্পাদনা করেন।

• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।’

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৯৬.
আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথম দিন
  2. ক্ষুধা ও আশা
  3. কর্ণফুলী
  4. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
সঠিক উত্তর:
তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
ব্যাখ্যা

• 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

​-------------------
আলাউদ্দিন আল আজাদে রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
• উপন্যাস:
তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০), 
শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথম দিন (১৯৬২), 
কর্ণফুলী (১৯৬২), 
ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪), 
খসড়া কাগজ (১৯৮৬)। 

• গল্প:
জেগে আছি (প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ), 
ধানকন্যা, 
মৃগণাভি, 
উজান তরঙ্গে, 
যখন সৈকত। 

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র। 

• নাটক:
নরকে লাল গোলাপ : মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক,
এহুদের মেয়ে, 
মরোক্কোর জাদুকর, 
মায়াবী প্রহর। 

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,০৯৭.
'কথোপকথন' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  4. রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা

• 'কথোপকথন' গ্রন্থের রচয়িতা - উইলিয়াম কেরি। 
- কথোপকথন বাংলা ভাষায় মুদ্রিত এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় গ্রন্থ। 
- একাধিক মানুষের মুখের সাধারণ কথা বা কথোকথন বা ডায়লগ এ গ্রন্থের উপজীব্য। 

উইলিয়াম কেরি: 
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি। 
- বাংলা গদ্যের বিকাশে তাঁর অবদান সর্বাধিক। 
- তিনি 'ইতিহাসমালা' ও 'কথোপকথন' নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন। 
- 'ইতিহাসমালা' বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ। 
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)।

৫,০৯৮.
"মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সোমেন চন্দ
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

•  "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"- উক্তিটির রচয়িতা সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। 

• 'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনি: 

-  সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘পালামৌ’ বাংলা সাহিত্যের একটি শ্রেষ্ঠ্য ভ্রমণকাহিনি।
- এটি ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের মধ্যে “বঙ্গদর্শন” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এটি সঞ্জীবের জীবদ্দশায় গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয় নি।
- বিহারের পালামৌ এলাকায় দুই বছর ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে এর স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী পালামৌ।
- এই বইয়ের বিখ্যাত উক্তি: বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। 

 'পালামৌ' গ্রন্থের কিভহু উল্লেখযোগ্য উক্তি- 
- "বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে ৷"
- "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন ।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব ।'
- "যে হারে, সেই রাগে ।"

-----------------------
• তাঁর রচিত গল্প: 
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট,

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- যাত্রা,

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,০৯৯.
'শ্রীরামপুর মিশন' কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮১০ সালে
  2. ১৮১৫ সালে
  3. ১৮০২ সালে
  4. ১৮০০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮০০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০০ সালে
ব্যাখ্যা
শ্রীরামপুর মিশন:
- শ্রীরামপুর মিশন (১৮০০-১৮৪৫) ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রচারক সংঘ।
- ১৮০০ সালের ১০ জানুয়ারী উইলিয়াম কেরী ও ভ্রাতৃবৃন্দ এ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে।
- উইলিয়াম কেরী ‘ব্যাপটিস্ট মিশনারি সোসাইটি’র প্রতিনিধি হিসেবে ১৭৯৩ সালে বাংলায় আসেন খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,১০০.
‘বায়ান্ন গলির এক গলি’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. রাবেয়া খাতুন
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
রাবেয়া খাতুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাবেয়া খাতুন
ব্যাখ্যা
• রাবেয়া খাতুনের উপস্থাপনায় এক বিশ্বস্ত দলিল উপন্যাস ‘বায়ান্ন গলির এক গলি’।
- ‘বায়ান্ন গলির এক গলি’ নামের ন্যায় এমন প্রেক্ষাপটেই এ উপন্যাসের পটভূমি বিস্তারিত হয়েছে। ’৪৭-পূর্ব ঢাকার সমাজ জীবন, রাজনীতি, দাঙ্গা এসেছে এ উপন্যাসে।

• রাবেয়া খাতুন:
- রাবেয়া খাতুনের জন্ম ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে। ২৭শে ডিসেম্বর ১৯৩৫ সালে মামাবাড়ি পাউসার গ্রামে।
- খাতুনের শৈশব-কৈশোর কেটেছে অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন শহর ও পুরোন ঢাকায়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্প 'প্রশ্ন'।
- পুস্তকাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'মধুমতী'।
- প্রকাশিত পুস্তকের সংখ্যা তিরিশ। মূলত ঔপন্যাসিক হলেও সাহিত্যের সব শাখায় রয়েছে তাঁর স্বাচ্ছন্দ বিচরণ। লিখেছেন অসংখ্য ছোট গল্প, নাটক, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, ছড়া, কিশোর সাহিত্য।

রাবেয়া খাতুন রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- শুধু তোমার জন্য,
- বসন্তভীলা,
- কুয়াশার ভোর,
- মেঘের পরে মেঘ,
- চাঁদের ফোটা।

উৎস: ‘একাত্তরের নয় মাস’ প্রবন্ধ রাবেয়া খাতুন এবং যুগান্তর রিপোর্ট ০৮ জানুয়ারি, ২০২১।