বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৩০ / ২১১ · ২,৯০১৩,০০০ / ২১,১৩২

২,৯০১.
নিচের কোন উত্তরটি অন্যগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়?
  1. চরিত্রহীন
  2. দেনাপাওনা
  3. পল্লীসমাজ
  4. নৌকাডুবি
সঠিক উত্তর:
নৌকাডুবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: নিচের কোন উত্তরটি অন্যগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়? 

• 'নৌকাডুবি' অন্যগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। 
- নৌকাডুবি ছাড়া বাকিগুলো (চরিত্রহীন, দেনাপাওনা, পল্লীসমাজ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- নৌকাডুবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য কিছু উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি, 
- চতুরঙ্গ,
- ঘরে-বাইরে,
- চার অধ্যায়,
- মালঞ্চ।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য কিছু উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- দেবদাস,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯০২.
"গোরক্ষবিজয়" কাব্যটি কে রচনা করেন?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. রাধারমণ গোপ
  3. শাহ্‌ ফকির গরীবুল্লাহ
  4. গোপীচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
‘গোরক্ষবিজয়’ কাব্যগ্রন্থ:
- নাথ সাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়। গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। 
- সংগ্রাহকরা হলেন: নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি), আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং পঞ্চানন মন্ডল (১টি পুথি)।

শেখ ফয়জুল্লাহ:
- শেখ ফয়জুল্লাহ (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

ফয়জুল্লাহর কাব্যগ্রন্থ:
- সত্যপীরবিজয়
- গোরক্ষবিজয়
- গাজীবিজয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৯০৩.
'যাযাবর' ছদ্মনামটি কোন লেখকের?
  1. বিমল মিত্র
  2. রোকনুজ্জামান খান
  3. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর

অন্যদিকে,
• বীরবল- প্রমথ চৌধুরী।
• জাবালি - বিমল মিত্র।
• দাদাভাই - রোকনুজ্জামান খান।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৯০৪.
বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা কয়টি?
  1. ৮টি 
  2. ৭টি 
  3. ৬টি 
  4. ৫টি 
সঠিক উত্তর:
৮টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি 
ব্যাখ্যা

• বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকার অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি থাকে এবং যার রতির মূলে থাকে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি, যিনি কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে সমর্থা নায়িকা বলা হয়।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি এরা সকলেই সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে 'শ্রীরাধা' সর্বশ্রেষ্ঠ নায়িকা হিসেবে বিবেচিত।

পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
যথা:
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা এবং
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৯০৫.
"কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা" - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. মাহবুবুল আলম চৌধুরী
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. কাজী আব্দুল ওদুদ
  4. আবুল ফজল,
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত বিখ্যাত কবিতা- 'মাগো ওরা বলে'।

মাগো ওরা বলে
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।

“কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কবি, সরকারি কর্মকর্তা। তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- প্রেমের কবিতা,
- নির্বাচিত কবিতা প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৯০৬.
'সেক শুভোদয়া' কে রচনা করেছেন বলে মনে করা হয়?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. রামাই পণ্ডিত
  3. হলায়ুধ মিশ্র
  4. রাজেন্দ্রলাল মিত্র 
সঠিক উত্তর:
হলায়ুধ মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলায়ুধ মিশ্র
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগের অন্যতম নিদর্শন 'সেক শুভোদয়া' রচনা করেছেন - হলায়ুধ মিশ্র।

'সেক শুভোদয়া':
- হলায়ুধ মিশ্র ছিলেন রাজা লক্ষ্মণ সেন এর সভাকবি।
- 'সেক শুভোদয়া' হলো বাংলা এবং সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি চম্পুকাব্য।
- এর রচনাকাল ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে।
- গদ্য-পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- গ্রন্থটি রাজা লক্ষ্মন সেন ও শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজীর অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- 'শেখের শুভোদয়' অর্থাৎ শেখের গৌরব ব্যাখ্যাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য।

• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

- অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুম্মা'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯০৭.
মুনিদত্তের মতে চর্যাপদের পদসংগ্রহের নাম কী?
  1. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  2. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
  3. আশ্চর্যচর্যাচয়
  4. চর্যাগীতিকোষ
সঠিক উত্তর:
আশ্চর্যচর্যাচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশ্চর্যচর্যাচয়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন চর্যাপদ।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তৃতীয় বার নেপাল সফর কালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে সে সাহিত্যের কতকগুলো পদ আবিষ্কার করেন। তাঁর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে সে সব পদ ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) চর্যাচর্যবিনিশ্চয় সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব-এ চারটি পুঁথি একত্রে 'হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৯০৮.
'মহুয়া' পালাটির প্রণেতা ছিলেন-
  1. দ্বিজ বংশীদাস 
  2. চন্দ্রাবতী 
  3. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  4. দ্বিজ কানাই
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া' পালা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিস্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৯০৯.
মধ্যযুগের অন্যতম সাহিত্যিক অনুষঙ্গ 'কড়চা' মূলত -
  1. রাধা কৃষ্ণের প্রেমের বর্ণনা
  2. বৈষ্ণব সাহিত্যের ভূমিকা
  3. কৃষ্ণ ও রাধার দিনলিপি
  4. চৈতন্যজীবনী
সঠিক উত্তর:
চৈতন্যজীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতন্যজীবনী
ব্যাখ্যা
- কড়চা কথাটির আধুনিক অর্থ দিনলিপি বা ডায়েরি।
- তবে মুরারি গুপ্ত ও স্বরূপ দামোদরের কল্যাণে চৈতন্যজীবনী গ্রন্থকে কড়চা বলে অভিহিত হয়।
- তাঁরা চৈতন্যজীবনী শ্লোকে পরিবেশন করে কড়চা বলে নির্দেশ করেন। এ কারণে অনেক গবেষক চৈতন্য জীবনগ্রন্থকে 'কড়চা' বলে অভিহিত করেছেন।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯১০.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প?
  1. শেষ প্রশ্ন
  2. শেষলেখা
  3. শেষের কবিতা
  4. শেষকথা
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শেষকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষকথা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বিখ্যাত ছোটগল্প — 'শেষকথা '। 

• তাঁর রচিত আধুনিক নরনারীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।
-------------------- 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি অসংখ্য কবিতা, গান,  ছোটগল্প,  উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য,  নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনী, চিঠিপত্র রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- বাংলাদেশের শাহজাদপুর,  পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বনফুল, 
- কবিকাহিনী, 
- গীতাঞ্জলি, 
- পূরবী, 
- শেষ লেখা ইত্যাদি। 

অন্যদিকে:  
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস- শেষ প্রশ্ন। 
- 'শেষের কবিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা উপন্যাস।। 
- 'শেষলেখা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা  কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৯১১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. শেষের কবিতা
  2. পূরবী
  3. পত্রপূট
  4. শেষলেখা
সঠিক উত্তর:
শেষলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষলেখা
ব্যাখ্যা
'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের 'শেষ লেখা'(১৯৪১) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
- 'শেষলেখা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ। কাব্যগ্রন্থটি তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
- এ গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ নিজে করে যেতে পারেননি। অধিকাংশ কবিতা জীবনের শেষ কয়েকদিনের রচনা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা, 
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯১২.
'অনীল বাগচীর একদিন' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) হুমায়ূন আহমেদ
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
খ) হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
'অনীল বাগচীর একদিন' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'হুমায়ূন আহমেদ' 

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস -
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।
২,৯১৩.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক কে?
  1. ক) চন্দ্রাবতী
  2. খ) আশাপূর্ণা দেবী
  3. গ) অনুরুপা দেবী
  4. ঘ) স্বর্ণকুমারী দেবী
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক ।
- তিনি কলকাতার জোড়াসাঁকো জন্মগ্রহণ করেন। সম্পর্কে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন।
- তিনি ১৮৭২ সালে প্রকাশিত ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেন ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ
- মেবার রাজ
- মালতী
- বিদ্রোহ
- বিচিত্রা
- স্বপ্নবাণী
- মিলনরাত্রি

- বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক লাভ করেন ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯১৪.
কাজী আবদুল ওদুদ রচিত ‘শাশ্বতবঙ্গ’ কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ সংকলন
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ সংকলন
ব্যাখ্যা
‘শাশ্বতবঙ্গ’ প্রবন্ধ সংকলন:
- কাজী আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধের সংকলন ‘শাশ্বতবঙ্গ’।
- এটি একটি সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- এটি ১৯৫১ সালে সংকলন করা হয়। 'শাশ্বতবঙ্গ’ এর প্রবন্ধগুলো ৬টি ভাগে বিভক্ত করা যায়।

কাজী আবদুল ওদুদ:

- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

 তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নদীবক্ষে (১৯১৮)।

তাঁর রচিত সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ:
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯১৫.
'একগ্লাস অন্ধকার' - কার রচনা?
  1. ক) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
ক) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (১৯৫৬-১৯৯১) একজন কবি। তাঁর জন্ম বরিশালে, ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন। 
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার’ লাভ করেন।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কাব্যগ্রন্থঃ

- মানুষের মানচিত্র (১৯৮৪) 
- ছোবল (১৯৮৬),
- গল্প (১৯৮৭),
- দিয়েছিলে সকল আকাশ (১৯৮৮),
- মৌলিক মুখোশ (১৯৯০) ও
- একগ্লাস অন্ধকার (১৯৯২)

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
২,৯১৬.
নিচের কোনটি আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর শিশুতোষ গ্রন্থ?
  1. ক) হাসু
  2. খ) ডানপিটে শওকত 
  3. গ) পাগলা দাশু
  4. ঘ) ডালিমকুমার
সঠিক উত্তর:
খ) ডানপিটে শওকত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডানপিটে শওকত 
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি--গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী 

আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাসঃ
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

গল্পগ্রন্থঃ
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

তাঁর  সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়
অন্যদিকে,
কবি জসীমউদদীনের শিশুতোষ গ্রন্থ গুলো হলো- হাসু, এক পয়সার বাঁশি, ডালিমকুমার
সুকুমার রায়ের শিশুতোষ সাহিত্য গুলো হলো- আবোলতাবোল, হ-য-ব-র-ল, পাগলা দাশু, বহুরূপী, ব্যাঙের সমুদ্র দেখা, খাইখাই, ইত্যাদি ।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]  
২,৯১৭.
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিতে কোন দেশের শহর এর কথা বর্ণিত হয়েছে?
  1. ক) মিশর
  2. খ) নেপাল
  3. গ) পাকিস্তান
  4. ঘ) আফগানিস্তান
সঠিক উত্তর:
ঘ) আফগানিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ভ্রমণ কাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
- 'দেশে বিদেশে' ও 'জলে ডাঙ্গায়' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,
- বড়বাবু,
- কত না অশ্রুজল।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৯১৮.
হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. শ্যামল ছায়া
  2. আগুনের পরশমণি
  3. ঘেটুপুত্র কমলা
  4. ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
আগুনের পরশমণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগুনের পরশমণি
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত চলচ্চিত্র:
- হুমায়ূন আহমেদের প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫)।
- তার শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র শ্যামল ছায়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি অবলম্বনে নির্মিত।

উল্লেখ্য,
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলায় ১৯৪৮ সালে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- 'নন্দিত নরকে' (১৯৭২) তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনিল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৯১৯.
'বিচূর্ণ আয়নায় কবির মুখ' আল মাহমুদ রচিত কী জাতীয় গ্রন্থ?
  1. আত্মজীবনী
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- যেভাবে বেড়ে উঠি,
- বিচূর্ণ আয়নায় কবির মুখ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৯২০.
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়? 
  1. কল্লোল 
  2. মোহাম্মদী
  3. ভারতী 
  4. বেগম 
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা

'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়- মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়। 

• তাহারেই পড়ে মনে
:
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে। 
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বক্তব্য- কবিজীবনের খ্যাতির অন্তরালে বেদনাকে স্মরণ। 
- কবিতার স্তবক সংখ্যা ৫টি এবং পঙ্‌তি সংখ্যা ৩০টি। 
- কবিতায় মাঘ ও ফাল্গুন দুটি বাংলা মাসের নামের উল্লেখ রয়েছে।
  
• সুফিয়া কামাল
- তিনি ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কুমিল্লায়। 
- কলকাতায় ১৯১৮ সালে বেগম রোকেয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়।  
- তাঁকে জননী সাহসিকা বলা হয়।
- তিনি মূলত কবি হিসেবে পরিচিত। 
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া 
- মন ও জীবন
- উদাত্ত পৃথিবী
- অভিযাত্রিক 
- মোর যাদুদের সমাধি পরে
- মায়া কাজল ইত্যাদি।
গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা 
শিশুতোষগ্রন্থ:
- ইতল বিতল
- নওল কিশোরের দরবারে 
আত্মজীবনী
- একালে আমাদের কাল 
ডায়েরি:
- একাত্তরের ডায়রী 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২,৯২১.
'বেণের মেয়ে’ ও ‘কাঞ্চনমালা’ উপন্যাসদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
  2. বিদ্যাপতি 
  3. চন্দ্রাবতী 
  4. বিহারীলাল 
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
ব্যাখ্যা

'বেণের মেয়ে’ ও ‘কাঞ্চনমালা’ উপন্যাসদ্বয়ের রচয়িতা- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
--------------------------------------------
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৮৫৩-১৯৩১) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত পণ্ডিত, সংরক্ষণবিদ এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- তিনি ৬ ডিসেম্বর ১৮৫৩ সালে খুলনার কুমিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শাস্ত্রী বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কারের জন্য সর্বাধিক পরিচিত।
- সাহিত্যচর্চায় অবদানের জন্য তাঁকে মহামহোপাধ্যায় উপাধি প্রদান করা হয়।
- এছাড়াও তিনি বাংলা ও সংস্কৃত সাহিত্যের বহু লুপ্তপ্রায় পুঁথি উদ্ধার, পাঠোদ্ধার ও সম্পাদনার মাধ্যমে ভাষা ও সাহিত্যে যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন।

তাঁর প্রধান অবদান:
- ১৯০৭ সালে নেপাল থেকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন লিখিত নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। 
- ১৯১৬ সালে এটি 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় রচিত বৌদ্ধ গান ও দোঁহা' নামে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- বেণের মেয়ে,
- কাঞ্চনমালা।

• তাঁর বিখ্যাত রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- রামচরিতম্, 
- ভারত মহিলা,
- তৈল।

• তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থ:
 বৌদ্ধধর্ম,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ,
- আমাদের ইতিহাস।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

২,৯২২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন?
  1. রামমোহন রায় 
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. উইলিয়াম কেরি
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও জনহিতৈষী।
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি 'উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ' ও 'অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত' সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৯২৩.
'অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প' গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। 

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যা ১৯০৮ সালে বিহারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস পদ্মা নদীর মাঝি।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে।
-'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পের রচয়িতা- 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়'। 
- ভিঁখু ও পাচি তাঁর 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পের পাত্র-পাত্রী। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
- মিহি ও মোটা কাহিনী, 
- বৌ,
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ,
- আজ কাল পরশুর গল্প, 
- ছোট বকুলপুরের যাত্রী, 
- আত্মহত্যার অধিকার ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯২৪.
'বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা?
  1. সৈয়দ আলী আহসান 
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. আবু ইসহাক
  4. নীলিমা ইব্রাহিম 
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আবদুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা

• 'বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন':
- 'বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন' গত শতকের মাঝামাঝিতে রচিত- মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত এ বইটি অর্ধশতাব্দী পূর্বে ভ্রমণ কাহিনি হিসেবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। 
- ১৯৫০ সালের দিকে বহির্বিশ্বের ছবি বা কাহিনি বাংলাভাষায় খুব কমই বই হিসেবে মানুষের হাতে এসেছে। মিলেনিয়াম যুগের সাথে সে যুগের আকাশ পাতাল পার্থক্য।

-------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই বাংলা ভাষার প্রধানতম ধ্বনিবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশেষণ দিয়ে রচিত তাঁর 'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব 'গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে।
- ১৯৬৯ সালের ৩ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন (ভ্রমণ কাহিনি),
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- মুহম্মদ আবদুল হাই সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেন 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ, ১৯৬৮)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন' এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৯২৫.
'কাহাকে' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. সেলিনা হোসেন
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. স্বর্ণকুমারী দেবী
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
• 'কাহাকে' উপন্যাস:
- উনিশ শতকের শেষ লগ্নে স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস 'কাহাকে'।
- "পুরাতনের ছায়া দেখিয়াই হৃদয় নূতনে আকৃষ্ট হইয়াছে, অথবা নূতনে মুগ্ধ হইয়া সহসা পুরাতন লাভ করিয়াছি? কাহাকে ভালোবাসিতে এ কাহাকে ভালোবাসিয়াছি?” এমন এক জিজ্ঞাসায় শেষ হয়েছে 'কাহাকে' উপন্যাসের সমাপ্তি-অনুচ্ছেদটি।
- একুশ শতকে দাঁড়িয়ে ভাবতে হয়তো অবাকই লাগে যে-উনিশ শতক শেষ হবার আগেই, ১৮৯৮ সালে, এক নারী-ঔপন্যাসিকের কলমে লেখা হয়ে গেছে এমন একটি উপন্যাস-ভালোবাসার স্বরূপসন্ধান আর আত্মসচেতন এক অন্বেষণই যার একমাত্র বর্ণনীয় বিষয়।
- অনেকে মনে করে, স্বর্ণকুমারী দেবীর সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ 'কাহাকে'। এ গ্রন্থটি 'The Unfinished Song' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। 

-----------------------
• স্বর্ণকুমারী দেবী:

- তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী ছিলেন।
- তিনি জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- তাকে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক বলা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ,
- মেবাররাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'কাহাকে' উপন্যাস।
২,৯২৬.
‘ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি,
আবনী বহিয়া যায়।’ - পঙঙ্কিটির রচয়িতা কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. গোবিন্দদাস
  4. মালধর বসু
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা

⇒ গোবিন্দদাস: 
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।     

গোবিন্দদাস রচিত পদেও অংশ বিশেষ:
ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি,
আবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ-হিলোলে
মদন মুরছা পায়।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।                                                   

২,৯২৭.
'মুহূর্তের কবিতা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. ফররুখ আহমদ
  3. কায়কোবাদ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

• মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমেদ।
• তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত সাগরের মাঝি।
• মুহূর্তের কবিতা তাঁর সনেট সংকলন।
• নৌফেল ও হাতেম তাঁর রচিত কাব্যনাট্য।
• হাতেম তায়ী তাঁর কাহিনীকাব্য।
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- নতুন লেখা,
- সিন্দাবাদ,
- হাবেদা মরুর কাহিনী,
-সিরাজাম মুনীরা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২,৯২৮.
নিচের কোনটি আহসান হাবিবের লেখা কাবগ্রন্থ নয়?
  1. ক) আশায় বসতি
  2. খ) অরণ্যে নীলিমা
  3. গ) মেঘ বলে চৈত্রে যাব
  4. ঘ) সারা দুপুর
সঠিক উত্তর:
খ) অরণ্যে নীলিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অরণ্যে নীলিমা
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীবের ‘অরণ্যে নীলিমা’ – উপন্যাস। কাব্যগ্রন্থঃ আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাব, সারা দুপুর, ছায়াহরিণ, দু'হাতে দুই আদিম পাথর, বিদীর্ণ দর্পর্ণে মুখ, প্রেমের কবিতা। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
২,৯২৯.
'নবান্ন' নাটকের প্রেক্ষাপট কী?
  1. পঞ্চাশের মন্বন্তর
  2. দেশভাগ
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চাশের মন্বন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চাশের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা

'নবান্ন' নাটক: 
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন।
- এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

বিজন ভট্টাচার্য:
-তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।  
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। 
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত নাটক: 
- নবান্ন, 
- জনপদ, 
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৯৩০.
‘ময়নামতির চর‘ কি ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) নাটক
  2. খ) কাব্য
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) গল্প
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্য
ব্যাখ্যা

বন্দে আলী মিয়া একজন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
তার সাহিত্যকর্ম-
- ময়নামতীর চর (১৯৩০),
- অনুরাগ (১৯৩২),
- পদ্মানদীর চর (১৯৫৩),
- মধুমতীর চর (১৯৫৩),
- ধরিত্রী (১৯৭৫)
- ময়নামতীর চর তাঁর প্রথম ও শ্রেষ্ঠকাব্য।

তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য গুলো হলো:
- চোর জামাই (১৯২৭),
- মেঘকুমারী (১৯৩২),
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা (১৯৩২),
- সোনার হরিণ (১৯৩৯),
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা (১৯৫৬),
- কুঁচবরণ কন্যা (১৯৬১),
- সাত রাজ্যের গল্প (১৯৭৭

- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার ১৯৬২ সালে লাভ করেন।

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

২,৯৩১.
বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাজসিংহ
  2. বত্রিশ সিংহাসন
  3. যুগলাঙ্গুরীয়
  4. চন্দ্রশেখর
সঠিক উত্তর:
বত্রিশ সিংহাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বত্রিশ সিংহাসন
ব্যাখ্যা
• বত্রিশ সিংহাসন:
- ‘বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন।
- বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযোগ্য।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:

- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ ও লেখক।
- উইলিয়াম কেরির সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এর বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- এছাড়াও তিনি কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা,
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস হচ্ছে-
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাজসিংহ।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,৯৩২.
‘যাত্রা’ উপন্যাসে ‘যাত্রা’ শব্দটি প্রধানত কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আনন্দভ্রমণ
  2. যুদ্ধযাত্রা
  3. অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে পলায়ন
  4. বিজয় অভিযাত্রা
সঠিক উত্তর:
অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে পলায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে পলায়ন
ব্যাখ্যা

'যাত্রা' উপন্যাসে ‘যাত্রা’ বলতে বোঝানো হয়েছে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে দিশাহীনভাবে শহর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার করুণ বাস্তবতা।
-----------------------------------------------
• শওকত আলী:
- শওকত আলী (১৯৩৬-২০১৮) একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষক।
- তিনি মূলত মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি এবং মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট নিয়ে লিখেছেন।
- শওকত আলী বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ছিলেন।

- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
• 'যাত্রা';
• ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’;
• ‘অপেক্ষা’।
-------------------------------------------
‘যাত্রা’ উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:
- শওকত আলীর ‘যাত্রা’ একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের ভয়াল কালরাতের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের পর ঢাকার সাধারণ মানুষের প্রাণরক্ষার তাগিদে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ছুটে চলার করুণ ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসটিতে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কালের ঘটনাপ্রবাহ ডায়েরি বা দৈনন্দিন দিনপঞ্জির আদলে বর্ণিত হয়েছে। 
- উপন্যাসে নগরবাসীর আত্মরক্ষার্থে পলায়ন, আশ্রয়ের সন্ধান, উদ্বাস্তু জীবনের অসহায়ত্ব এবং সেই যাত্রাপথেই ধীরে ধীরে প্রতিরোধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠার চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
- যুদ্ধের ধ্বংসলীলা, মানুষের ভয়–হতাশা–আশা এবং টিকে থাকার আপ্রাণ সংগ্রামের মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো মিলিয়ে ‘যাত্রা’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে এক গভীরভাবে মর্মস্পর্শী ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

উৎস: যাত্রা উপন্যাস ও বাংলাপিডিয়া।

২,৯৩৩.
'সৌদামিনী' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. সধবার একাদশী
  3. নীলদর্পণ
  4. ডাকঘর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা

'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পণ,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৯৩৪.
জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) ঝরাপালক, 
  2. খ) ধূসর পাণ্ডুলিপি
  3. গ) রূপসীবাংলা
  4. ঘ) সাতটি তারার তিমির
সঠিক উত্তর:
গ) রূপসীবাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রূপসীবাংলা
ব্যাখ্যা
‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
- ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি ‘রূপসীবাংলা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- ‘রূপসীবাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

"আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে— এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়— হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হ'য়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়;
হয়তো বা হাঁস হবো— কিশোরীর— ঘুঙুর রহিবে লাল পায়,
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে-ভেসে;
আবার আসিব আমি বাংলায় নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে
জলঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙ্গায়;"

অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরাপালক, 
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯৩৫.
নুরুল মোমেন রচিত 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. প্রদীপ সরকার
  2. সুরজিত নন্দী
  3. আবদুল্লাহ
  4. সুরেন্দ্রনাথ
সঠিক উত্তর:
সুরজিত নন্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরজিত নন্দী
ব্যাখ্যা
• 'নেমেসিস' নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে বাংলায় সংঘটিত মন্বন্তরের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এক চরিত্র বিশিষ্ট এমন নাটক বাংলা সাহিত্যে কম বলে 'নেমেসিস' উল্লেখযোগ্য।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী।

• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক 'রূপান্তর' ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন।
- ১৯৪৭সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।

• নুরুল মোমেন রচিত রম্যগ্রন্থ:
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।

• নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৯৩৬.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ছদ্মনাম কী ?
  1. ভ্রমণকারী বন্ধু
  2. নন্দন কবি
  3. স্বভাব কবি
  4. বাঙ্গাল বাউল
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকারী বন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমণকারী বন্ধু
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়।
- ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯৩৭.
চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক কে?
  1. ক) বৃন্দাবন দাস
  2. খ) লোচন দাস
  3. গ) মুরারি গুপ্ত
  4. ঘ) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
সঠিক উত্তর:
গ) মুরারি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুরারি গুপ্ত
ব্যাখ্যা
চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, 'শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম।'
- মুরারি গুপ্ত সিলেটের অধিবাসী ছিলেন পরে নবদ্বীপে শ্রীচৈতন্যের সহাধ্যায়ী ছিলেন। 
- মুরারি গুপ্তের গৃহে চৈতন্যের প্রথম ভাবাবেশ ঘটেছিলো বলে জনশ্রুতি বিদ্যমান। 

- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- বাংলায় ভাষায় লোচন দাস রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ 'চৈতন্য-মঙ্গল' ।
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রেষ্ঠ চৈতন্য জীবনীগ্রন্থ 'চৈতন্য-চরিতামৃত'। গ্রন্থটি রচনা করেন কৃষ্ণদাস কবিরাজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৯৩৮.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প নয় কোনটি?
  1. ক) সরীসৃপ
  2. খ) বকুলপুরের যাত্রী
  3. গ) উর্মিমালা
  4. ঘ) অতসী মামা ও অন্যান্য গল্প
সঠিক উত্তর:
গ) উর্মিমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উর্মিমালা
ব্যাখ্যা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প হলো প্রাগৈতিহাসিক, অতসী মামা ও অন্যান্য গল্প, সরীসৃপ, বকুলপুরের যাত্রী, সমুদ্রের স্বাদ, ফেরীওয়ালা, ভেজাল ইত্যাদি। অন্যদিকে উর্মিমালা হলো বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত ছোট গল্প। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
২,৯৩৯.
নিচের কোনটি বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত ধর্মীয় সংগীত?
  1. ক) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. খ) মৈমনসিংহ-গীতিকা
  3. গ) মঙ্গলকাব্য
  4. ঘ) চর্যাপদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ হলো বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত ধর্মীয় সংগীত।
- চর্যাপদ মূলত গানের সংকলন৷ চর্যাপদের বিষয়বস্তু হলো বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলাে রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। সহজিয়াগণ বৌদ্ধ সহজযান পন্থি।
- তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের বিভিন্ন পরিবর্তনের ধারায় সহজিয়াদের উৎপত্তি।
- স্বদেহ কেন্দ্রিক সহজপন্থায় সাধনা করত বলে এদের সহজিয়া বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯৪০.
কোনটি ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা
  2. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  3. পরিত্যক্ত স্বামী
  4. দেয়াল
সঠিক উত্তর:
ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন এই তিনটি উপন্যাস একত্রে ত্রয়ী উপন্যাস নামে পরিচিত ।
- আবু জাফর শামসুদ্দীন কর্তৃক উপন্যাসগুলো রচিত ।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩)
- পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪)
- সংকর সংকীর্তন (১৯৮০)
- দেয়াল (১৯৮৫)।
গল্পগ্রন্থ:
- জীবন (১৯৪৮)
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা (১৯৭৮)
- ল্যাংড়ী (১৯৮৪);
প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য (১৯৬৪),
- Sociology of Bengal Politics (১৯৭৩)
- সোচ্চার উচ্চারণ (১৯৭৭)
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি (১৯৮৮) ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (সৌমিত্র শেখর)

২,৯৪১.
‘জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়' - বলে ডাক দিয়েছিলো কে?
  1. ক) আলাউদ্দীন
  2. খ) নুরুলদীন
  3. গ) সূর্যসেন
  4. ঘ) রূপাই
সঠিক উত্তর:
খ) নুরুলদীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নুরুলদীন
ব্যাখ্যা

সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্যঃ পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, নূরলদীনের সারাজীবন, এখন এখানে।
‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে’ নুরুলদীনের সারাজীবন কাব্যনাট্যের অংশ বিশেষ।
‘জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়’ বলে ডাক দিয়েছিলো ‘নূরলদীন’।
তার গল্পঃ তাস, শীত বিকেল, আনন্দের মৃত্যু, প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান ইত্যাদি।
তার উপন্যাসঃ সীমানা ছাড়িয়ে, অনুপম দিন, এক মহিলার ছবি, নীল দংশন, খেলারাম খেলে যা, বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২,৯৪২.
নিচের কোনটি দীনবন্ধু মিত্রের নাটক?
  1. ক) মায়াকানন 
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) কৃষ্ণকুমারী 
  4. ঘ) লীলাবতী
সঠিক উত্তর:
ঘ) লীলাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লীলাবতী
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।  

- তাঁর জনপ্রিয় কাব্যগুলো:
- সুরধুনী কাব্য 
- দ্বাদশ কবিতা

তাঁর রচিত প্রহসন:
- বিয়ে পাগলা বুড়ো 
- সধবার একাদশী 

তাঁর রচিত নাটকগুলো:
- নবীন তপস্বিনী
- লীলাবতী 
- জামাই বারিক
- কমলে কামিনী

মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত নাটক 
- শর্মিষ্ঠা 
- পদ্মাবতী 
- কৃষ্ণকুমারী 
- মায়াকানন 

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
২,৯৪৩.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ছোটগল্প নয় কোনটি?
  1. খোয়ারি
  2. দোজখের ওম
  3. খােয়াবনামা
  4. অন্য ঘরে অন্য স্বর
সঠিক উত্তর:
খােয়াবনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খােয়াবনামা
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ছোটগল্প নয়- ‘খোয়াবনামা’।

• ‘খোয়াবনামা’ উপন্যাস:

- ‘খোয়াবনামা’ (১৯৯৬) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটিতে ঐতিহাসিক নানা উপাদান নিপুনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩-এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।
- এই উপাদানসমূহ অবলম্বন করে বাঙালির তথা মানবজীবনের সংগ্রাম ও এগিয়ে যাওয়াই উপন্যাসটির বিষয়।

---------------------------------
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:

- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
২,৯৪৪.
'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহীম
  2. জাহানারা ইমাম
  3. সেলিনা হোসেন
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহীম
ব্যাখ্যা
'আমি বীরাঙ্গনা বলছি':
- প্রবন্ধটি নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক রচনা। 
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে। (১৯৯৪ সালের বই মেলাতে প্রথম প্রকাশিত হয় বলে ধরে নেওয়া হয়)
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনীনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'। 
- যাদের দুঃখ কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা। 
- তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনী কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।
- বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি।

নীলিমা ইব্রাহীম:
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- ১১ জানুয়ারি ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর অন্যান্য প্রবন্ধ:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন।

উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাক,
- কেয়াবন সঞ্চারিনী,
- বহ্নিবলয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯৪৫.
’একটি তুলসী গাছের কাহিনি’ গল্পের রচয়িতা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ 
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ 
ব্যাখ্যা

'একটি তুলসী গাছের কাহিনি' 
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত 'একটি তুলসী গাছের কাহিনি' গল্পটি ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত
- গল্পটি তাঁর 'দুই তীর ও অন্যান্য গল্প' নামক গল্পগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
- গল্পের সীমিত পরিসরে জীবনের গভীর কোনো তাৎপর্যকে ইঙ্গিতময় ও ব্যঞ্জনাসমৃদ্ধ করে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ মুন্সিয়ানা রয়েছে। 
-  ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর কলকাতা থেকে আসা কিছু উদ্বাস্তু ঢাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
- খোলামেলা বাড়ি পেয়ে তারা স্বস্তি পেলেও উঠানে পাওয়া একটি তুলসী গাছ নিয়ে দ্বিধা তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত গাছটি রেখে দেওয়া হয়।
- অজান্তেই কেউ একজন গাছটির যত্ন নিতে থাকে। পরে সরকারি নির্দেশে উদ্বাস্তুরা উচ্ছেদ হলে বাড়িটি আবার শূন্য হয়ে যায়।
- যত্নের অভাবে তুলসী গাছটিও অবহেলিত হয়ে পড়ে।
- মানুষের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মতোই তুলসী গাছটিও সেই অস্থিরতার নীরব শিকার হয়ে থাকে।
 
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সৈয়দ আহমদউল্লাহ্। তাঁদের পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালী।
- কলকাতা ও ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে তাঁর শিক্ষাজীবন অতিবাহিত হয়।
- সাংবাদিকতা দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু। দেশে-বিদেশে সরকারের বিভিন্ন উচ্চতর পদে তিনি অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও একুশে পদক (মরণোত্তর) পেয়েছেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর ১০ই অক্টোবর তিনি প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

 ⇒ তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস: 'লালসালু', 'চাঁদের অমাবস্যা' ও 'কাঁদো নদী কাঁদো'।

• তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে- 
 ⇒ গল্পগ্রন্থ: 'নয়নচারা' এবং 'দুই তীর ও অন্যান্য গল্প';

 ⇒ নাটক : 'বহিপীর', 'তরঙ্গভঙ্গ' ও 'সুড়ঙ্গ'।

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি।

২,৯৪৬.
রবীন্দ্রনাথ রচিত 'ডাকঘর' নাটকের প্রধান চরিত্র-
  1. রতন
  2. অমল
  3. আদিত্য
  4. চন্দরা
সঠিক উত্তর:
অমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমল
ব্যাখ্যা
• 'ডাকঘর' নাটক':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক।
- বালক 'অমল' এই নাটকের প্রধান চরিত্র।
- রবীন্দ্রনাথ এই নাটক নিয়ে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এর গদ্য লিরিক।"

• রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক:
- রক্তকরবী,
-বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৯৪৭.
'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র' সম্পাদনা করেন-
  1. ক) হাসান আজিজুল হক
  2. খ) হুমায়ুন আজাদ
  3. গ) হাসান হাফিজুর রহমান
  4. ঘ) হুমায়ুন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
গ) হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমানের সবচেয়ে বেশি পরিচিত তাঁর ১৬ খণ্ডে রচিত 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র' সম্পাদনা করার জন্য। এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮২-৮৩ সালে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৯৪৮.
'লিচু-চোর' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পুবের হাওয়া
  2. নতুন চাঁদ
  3. দোলন-চাঁপা
  4. ঝিঙে ফুল
সঠিক উত্তর:
ঝিঙে ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝিঙে ফুল
ব্যাখ্যা
• 'লিচু-চোর' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'ঝিঙে ফুল' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

ঝিঙে ফুল:
- 'ঝিঙে ফুল' ছোটদের কবিতা নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- 'লিচু-চোর', 'প্রভাতী' নামের বিখ্যাত কবিতাগুলো এই কাব্যগ্রন্থেই রয়েছে।

লিচু-চোর,
- কাজী নজরুল ইসলাম

বাবুদের তাল-পুকুরে
হাবুদের ডাল-কুকুরে
সে কি বাস করলে তাড়া,
বলি থাম একটু দাড়া।

পুকুরের ঐ কাছে না
লিচুর এক গাছ আছে না
হোথা না আস্তে গিয়ে
য়্যাব্বড় কাস্তে নিয়ে
গাছে গো যেই চড়েছি
ছোট এক ডাল ধরেছি,

ও বাবা মড়াত করে
পড়েছি সরাত জোরে।
পড়বি পড় মালীর ঘাড়েই,
সে ছিল গাছের আড়েই।
ব্যাটা ভাই বড় নচ্ছার,
ধুমাধুম গোটা দুচ্চার
দিলে খুব কিল ও ঘুষি
একদম জোরসে ঠুসি।

আমিও বাগিয়ে থাপড়
দে হাওয়া চাপিয়ে কাপড়
লাফিয়ে ডিঙনু দেয়াল,
দেখি এক ভিটরে শেয়াল! …

সেকি ভাই যায় রে ভুলা-
মালীর ঐ পিটুনিগুলা!
কি বলিস ফের হপ্তা!
তৌবা-নাক খপ্তা…!

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; ঝিঙে ফুল, কাজী নজরুল ইসলাম।
২,৯৪৯.
‘মানুষ’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কোন নামটি উল্লেখ করেননি?
  1. ক) গজনি মামুদ
  2. খ) চেঙ্গিস
  3. গ) তৈমুর লঙ
  4. ঘ) কালাপাহাড়
সঠিক উত্তর:
গ) তৈমুর লঙ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তৈমুর লঙ
ব্যাখ্যা
• ‘মানুষ’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম 'গজনি মামুদ', 'চেঙ্গিস', 'কালাপাহাড়' এর নাম স্মরণ করেছেন।

মানুষ- কবিতা,  
– কাজী নজরুল ইসলাম

                 গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান!
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।-
                  পূজারী, দুয়ার খোলো,
ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হলো!’
স্বপন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়,
দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হ’য়ে যাবে নিশ্চয়!-
জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কন্ঠ ক্ষীণ
ডাকিল পান্থ, ‘দ্বার খোলো বাবা, খাইনিকো সাত দিন!’
সহসা বন্ধ হলো মন্দির, ভুখারী ফিরিয়া চলে,
তিমির রাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে!
                  ভুখারি ফুকারি কয়,
ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয়!’

মসজিদে কাল শিরনি আছিল, অঢেল গোস্ত-রুটি
বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটিকুটি!
এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে আজারির চিন,
বলে ‘বাবা, আমি ভুকা-ফাঁকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন!’
তেরিয়া হইয়া হাঁকিল মোল্লা – ‘ভ্যালা হলো দেখি লেঠা,
ভুখা আছো মরো গো-ভাগাড়ে গিয়ে! নামাজ পড়িস বেটা?’
ভুখারী কহিল, ‘না বাবা!’ মোল্লা হাঁকিল – ‘তা হলে শালা,
সোজা পথ দেখ!’ গোস্ত-রুটি নিয়া মসজিদে দিল তালা!
                  ভুখারি ফিরিয়া চলে,
                  চলিতে চলিতে বলে-
‘আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তোমায় কভু,
আমার ক্ষুধার অন্ন তা’বলে বন্ধ করনি প্রভু!
তব মসজিদ-মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি,
মোল্লা-পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবি!’
কোথা চেঙ্গিস, গজনি-মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়?
ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া-দ্বার!
খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?
সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি-শাবল চালা!

উৎস: মানুষ- কবিতা, কাজী নজরুল ইসলাম। 
২,৯৫০.
বিধবার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. চোখের বালি
  2. যোগাযোগ
  3. ঘরে বাইরে
  4. নৌকাডুবি
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
ব্যাখ্যা
•'চোখের বালি':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চোখের বালি' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনীর ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৯৫১.
'সেই দিন এই মাঠ' কবিতাটি জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন কাব্যগ্রন্থভুক্ত?
  1. ঝরাপালক
  2. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  3. বনলতা সেন
  4. রূপসী বাংলা
সঠিক উত্তর:
রূপসী বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা
'সেই দিন এই মাঠ' কবিতা:
- 'সেই দিন এই মাঠ' জীবনানন্দের 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থভুক্ত প্রথম কবিতা।
- 'রূপসী বাংলা' প্রকাশিত হয় কবির মৃত্যুর পর, ১৯৫৭ সালে।
- গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় 'আবহমান বাংলা, বাঙালী'কে।

জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৯৫২.
‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. উপহার
  2. অনিঃশেষ
  3. অভিজ্ঞান বসন্ত
  4. অমরাবতী
সঠিক উত্তর:
অনিঃশেষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিঃশেষ
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়। 
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। 
- ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি আমিয় চক্রবর্তী রচিত ‘অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে কবিতাটি।

অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- কবিতাবলী (প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ),
- উপহার,
- অনিঃশেষ 
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,৯৫৩.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র?
  1. ক) বাহানা
  2. খ) কখনো আসেনি
  3. গ) সংগম
  4. ঘ) জীবন থেকে নেয়া
সঠিক উত্তর:
গ) সংগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংগম
ব্যাখ্যা
জহির রায়হানের উর্দু ছবি 'সঙ্গম' ছিল সমগ্র পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নির্মিত প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র‌‌। উর্দু ছবি বাহানা ছিল সমগ্র পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নির্মিত প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৯৫৪.
'যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি' - পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. রাখালী
  2. বালুচর
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  4. নকশী কাঁথার মাঠ
সঠিক উত্তর:
বালুচর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বালুচর
ব্যাখ্যা

• 'যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা জসীম উদ্‌দীন। কবিতাটি জসীম উদ্‌দীনের 'প্রতিদান' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। এটি 'বালুচর' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২,৯৫৫.
‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মোহাম্মদী
  2. ধূমকেতু
  3. বিজলী
  4. মোসলেম ভারত
সঠিক উত্তর:
বিজলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজলী
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।
- মূলত ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্যই কবি নজরুলকে ‘বিদ্রোহী কবি’ বলা হয়।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯৫৬.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত কাব্য কোনটি?
  1. ক) গাথা
  2. খ) মালতি 
  3. গ) স্বপ্নবাণী
  4. ঘ) বিবাহ উৎসব 
সঠিক উত্তর:
ক) গাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গাথা
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
তিনি জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
স্বর্ণকুমারী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- দীপ নির্বাণ 
- মেবার রাজ
- মালতি 
- বিদ্রোহ 
- বিচিত্রা 
- স্বপ্নবাণী 
- মিলনরাত্র্রী 

তাঁর রচিত নাটক: 
- বসন্ত উৎসব 
- বিবাহ উৎসব 
- দেব কৌতুক 

তাঁর রচিত কাব্য: 
- গাথা 
- কবিতা ও গান 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
২,৯৫৭.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গ্রন্থ?
  1. বন্দীর বন্দনা
  2. বিষের বাঁশী
  3. রূপসী বাংলা
  4. সন্দ্বীপের চর
সঠিক উত্তর:
বিষের বাঁশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষের বাঁশী
ব্যাখ্যা
• 'বিষের বাঁশি' গ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ বিষের বাঁশি।
- ১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে (আগস্ট, ১৯২৪) ‘বিষের বাঁশী’ প্রকাশ করেন কবি নিজেই।
- সে বছরই সরকার গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করে।
- এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত কাব্যগ্রন্থ।
- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়েছিল ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলাে উদারনৈতিক ঐতিহ্যভাবনার অন্তর্গত।
- কাজী নজরুলের কবিতার বলিষ্ঠতা, যৌবনের উদ্দাম শক্তি, উদার মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা এবং গীতি প্রতিভার সমস্ত বৈশিষ্ট্য এই কাব্যে পরিস্ফুট হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• 'বন্দীর বন্দনা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু। 
• 'সন্দ্বীপের চর'- কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা বিষ্ণু দে। 
• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।

-------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৯৫৮.
সুস্পষ্ট সন তারিখযুক্ত মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা কে?
  1. ক) কানা হরিদত্ত
  2. খ) বিপ্রদাস পিপিলাই
  3. গ) বিজয় গুপ্ত
  4. ঘ) নারায়ন দেব
সঠিক উত্তর:
গ) বিজয় গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিজয় গুপ্ত
ব্যাখ্যা
সুস্পষ্ট সন তারিখযুক্ত মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা বিজয় গুপ্ত। 
- বিজয় গুপ্ত (১৫ শতক)  মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- পদ্মাপুরাণ নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
- তাঁর কাব্যের ভণিতা থেকে কাব্য রচনার কাল পাওয়া যায় ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দ।

- মনসামঙ্গলের  আদি কবি  কানা হরিদত্ত, কিন্তু তাঁর গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি নারায়ন দেব। নারায়ন দেবের কাব্যের নাম পদ্মাপুরাণ। 
- বিজয়গুপ্তের প্রায় সমসাময়িক বিপ্রদাস পিপিলাই। তাঁর রচিত কাব্যের নাম মনসা বিজয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৯৫৯.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাহিত্য সাময়িকী ‘প্রগতি’র অন্যতম সম্পাদক ছিলেন-
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. নরেশ সেনগুপ্ত
  3. আশুতোশ ভট্টাচার্য
  4. মনীশ ঘটক
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাহিত্য সাময়িকী ‘প্রগতি’র অন্যতম সম্পাদক ছিলেন- 'বুদ্ধদেব বসু'। 

⇒ 'প্রগতি' পত্রিকা:
- প্রগতি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'।
-সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত। বাংলা
- সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ।
- কল্লোল- কালিকলম-প্রগতি একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য তিনটি নাম।
- বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,৯৬০.
'উদাত্ত পৃথিবী' কবিতাটির কবি কে?
  1. ক) কুসুমকুমারী দাশ
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
খ) সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
জননী সাহসিকা হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
তার রচিত কবিতা- সাঁঝের মায়া, উদাত্ত পৃথিবী, অভিযাত্রিক, মায়া কাজল ইত্যাদি।
গল্প- কেয়ার কাঁটা৷
- একাত্তরের ডায়েরী৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯৬১.
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটক কোনটি?
  1. সিরাজদ্দৌলা
  2. কুলীনকুলসর্বস্ব
  3. মালতীমাধব
  4. কীর্তিবিলাস
সঠিক উত্তর:
সিরাজদ্দৌলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজদ্দৌলা
ব্যাখ্যা
• 'সিরাজদ্দৌলা' নাটক:
- গিরিশচন্দ্র ঘোষের 'সিরাজদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজদ্দৌলাকে নবজাগ্রত স্বাদেশিকতার আদর্শ বিগ্রহে পরিণত করেছিলেন।
- ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় স্বাধীন বাংলার শেষ নবাব, ইংরেজ ঐতিহাসিকদের হাতে কুৎসা-কণ্টকিত, সিরাজদ্দৌলার নতুন দেশভক্তরূপ আবিষ্কার করেছিলেন। নাটকে তা যথাযথ রূপায়িত হয়েছিল।

- নাটকে সিরাজ-চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে সিরাজের উক্তিতে:
স্বেচ্ছাচারে চালিত জীবন,
হিতাহিত ছিল না বিচার,
মদ্যপানে করিয়াছি
শত শত দুর্নীতি ব্যাভার
কিন্তু কহি স্বরূপ বচন
বসি বৃদ্ধ নবাবের মরণ শয্যায়,
শেষ বাক্যে তাঁর
জন্মিয়াছে ধারণা আমার,
রাজকার্য নহে স্বেচ্ছাচার।

----------------------
তাঁর রচিত নাটক:
- আগমনী,
- অভিমন্যুবধ,
- রামের বনবাস,
- সীতাহরণ,
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস,
- প্রফুল্ল
- বলিদান,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- শঙ্করাচার্য,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর।

অন্যদিকে,
• নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্ব' (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
• রামনারায়ণ তর্করত্নের অনুবাদ নাটক-  মালতীমাধব। 
• ১৮৫২ সালে যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের 'কীর্তিবিলাস' মৌলিক নাটক প্রকাশিত হয়। কীর্তিবিলাস' হচ্ছে বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯৬২.
'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটির পরিচালক কে?
  1. আতাউর রহমান
  2. চাষী নজরুল ইসলাম
  3. জহির রায়হান
  4. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটির পরিচালক - জহির রায়হান
- এটি ১৯৬৩ সালে পরিচালনা করেন।
- 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে 'নিগার পুরস্কার' লাভ করে।

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তাঁর প্রকৃত নাম - মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- তাঁর সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে 'নিগার পুরস্কার' লাভ করে।
- 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি 'আদমজি সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেন।

তাঁর পরিচালিত অন্যান্য চলচ্চিত্র:
- জীবন থেকে নেয়া,
- কখনও আসেনি,
- Stop Genocide,
- সোনার কাজল,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম,
- বাহানা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৯৬৩.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন?
  1. Bengal Ryots
  2. Bengal Ryots: Their Rights
  3. Bengal Ryots: Their Liabilities
  4. Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities
সঠিক উত্তর:
Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities
ব্যাখ্যা
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, লেখক, পণ্ডিত।
- পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন পূর্ববর্তী স্বদেশী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটদের একজন।
- একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি ইংরেজি সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও আইনে বিশেষ ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। 
- প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ করে। 
 - তাঁর অনুজ সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। 
- তিনি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ভ্রমর’ সম্পাদনা করেন। অতঃপর তিনি ‘বঙ্গদর্শন’- এর সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।
- তিনি 'Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities' (১৮৬৪) গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৯৬৪.
'পৃথক পালঙ্ক' কাব্যগ্রন্থের কবি -
  1. আল মাহমুদ
  2. রফিক আজাদ
  3. আবুল হাসান
  4. আবুল হোসেন
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
• ‘পৃথক পালঙ্ক’ আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------
◉ আবুল হাসান:
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম ⎯ আবুল হোসেন মিয়া। তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

• তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন'।
• তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন  আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৯৬৫.
মধ্যযুগের সাহিত্য 'শূন্যপুরাণ' হলো -
  1. রাধাকৃষ্ণের প্রেমের কাব্য
  2. চৈতন্যজীবনীমূলক গ্রন্থ
  3. ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ
  4. পুঁথিসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'শূন্যপুরাণ' হলো- 'ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ'।

• 'শূন্যপুরাণ': 
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে। 
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম। 
২,৯৬৬.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী?
  1. Buddhist Mystic Songs
  2. চর্যাগীতিকা
  3. চর্যাগীতিকোষ
  4. হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা
সঠিক উত্তর:
Buddhist Mystic Songs
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Buddhist Mystic Songs
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ সম্পর্কিত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থের নাম- Buddhist Mystic Songs.
- তার মতে চর্যাপদ রচিত হয়েছিলো - ৬৫০ - ১২০০ সালের মধ্য।
- এই গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম পাওয়া যায়।
- এছাড়া তিনি এই গ্রন্থে চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।

অন্যদিকে,
- 'চর্যাগীতিকা' গ্রন্থের রচয়িতা- মুহম্মদ আবদুল হাই।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত গ্রন্থ- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা।

----------------------------
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫০টি।
- তবে সুকুমার সেনের মতে, চর্যাপদের পদ হচ্ছে ৫১টি।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত।
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
২,৯৬৭.
নজরুলের প্রেমের কাব্য নয় কোনটি?
  1. ক) দোলন-চাঁপা
  2. খ) সিন্ধু-হিন্দোল
  3. গ) চক্রবাক
  4. ঘ) সঞ্চিতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সঞ্চিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
দোলন-চাঁপা, সিন্ধু-হিন্দোল, চক্রবাক নজরুলের প্রেম ও প্রকৃতি নির্ভর কাব্যগ্রন্থ।
- অন্যদিকে সঞ্চিতা নজরুলের কাব্য সংকলন। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করা হয়েছে।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২,৯৬৮.
অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রথম খণ্ডের প্রধান কাহিনি কোনটি?
  1. মানসিংহের যশোর অভিযান
  2. সীতার দেহত্যাগ, উমারূপ জন্ম ও শিববিবাহ
  3. ভবানন্দের দিল্লি যাত্রার বর্ণনা
  4. বিদ্যাসুন্দর প্রেমকাহিনি
সঠিক উত্তর:
সীতার দেহত্যাগ, উমারূপ জন্ম ও শিববিবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীতার দেহত্যাগ, উমারূপ জন্ম ও শিববিবাহ
ব্যাখ্যা

অন্নদামঙ্গল:
- অন্নদামঙ্গল মধ্যযুগের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্য, যা আনুমানিক ১৭৫২-৫৩ সালে রচিত হয়।
- এর রচয়িতা হলেন মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- প্রথম মুদ্রণ করা হয় ১৮১৬ সালে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের মাধ্যমে।
- কাব্যটি মূলত দেবী অন্নদার পূজা, মহিমা এবং আখ্যান প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যটি ছন্দ ও অলঙ্কারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুদক্ষভাবে রচিত।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এটি অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য এবং সমগ্র বাংলা সাহিত্যের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

- কাব্যটি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত:
• প্রথম খণ্ড শিবায়ন অন্নদামঙ্গল,
• দ্বিতীয় খণ্ড বিদ্যাসুন্দর কালিকা মঙ্গল এবং
• তৃতীয় খণ্ড মানসিংহ অন্নদামঙ্গল।

প্রথম খণ্ডে সীতার দেহত্যাগ, উমারূপে জন্মগ্রহণ, শিবের সঙ্গে বিবাহ, অন্নপূর্ণার মূর্তিধারণ এবং কাশীপ্রতিষ্ঠার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

• দ্বিতীয় খণ্ডে বিদ্যাসুন্দরের প্রেমকাহিনি প্রকাশিত হয়েছে।

• তৃতীয় খণ্ডে মানসিংহের যশোর অভিযান, রাজা প্রতাপাদিত্যের পরাজয় এবং ভবানন্দের দিল্লি যাত্রার বর্ণনা রয়েছে।

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত পঙক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।”
•“মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।”
• “হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।”
• “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?”
• “বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।”

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
বাংলাপিডিয়া।

২,৯৬৯.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস জন্মগ্রহণ করেন কোথায়?
  1. ক) গাইবান্ধায়
  2. খ) বগুড়ায়
  3. গ) ঢাকায়
  4. ঘ) সিরাজগঞ্জে 
সঠিক উত্তর:
ক) গাইবান্ধায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গাইবান্ধায়
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস। 
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া শহরের নিকটবর্তী চেলোপাড়ায়।

• তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। 
- বিশেষত, তাঁর রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে যে স্বকীয় বর্ণনারীতি ও সংলাপে কথ্যভাষার ব্যবহার লক্ষণীয় তা সমগ্র বাংলা কথাশিল্পে অনন্যসাধারণ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো: 
- অন্যঘরে অন্যস্বর 
- দোজখের ওম 
-  খোয়াবনামা 
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৯৭০.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' পঙক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. বেগম রোকেয়া
  3. মুকুন্দরাম
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়াংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- তাঁর রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম সত্যপীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।

তার কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- "আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।"
- "মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।"
- "নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?”

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৯৭১.
ইংরেজ অনুকরণের প্রতি ব্যঙ্গ করে রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. ক) এর উপায় কি?
  2. খ) সধবার একাদশী
  3. গ) একেই কি বলে সভ্যতা
  4. ঘ) বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ
সঠিক উত্তর:
গ) একেই কি বলে সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) একেই কি বলে সভ্যতা
ব্যাখ্যা

দেশীয় নব্যশিক্ষিতদের ইংরেজদের অনুকরণ ও সুরাপানে আসক্তের প্রতি ব্যঙ্গ করে মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'একেই কি বলে সভ্যতা' প্রহসন রচনা করেন।
তার অপর প্রহসন 'বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ' নিরীহ প্রজাদের দ্বারা অত্যাচারী জমিদারের উচিত শিক্ষা প্রদান বিষয়ে রচিত।
এর উপায় কি? এবং সধবার একাদশী রচনা করেছেন যথাক্রমে মীর মশাররফ হোসেন এবং দীনবন্ধু মিত্র। দুটো প্রসহনই বেশ্যাবৃত্তি ও সুরাপানের আসক্তদের প্রতি ব্যঙ্গ করে রচনা করা হয়েছে।
(সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর)

২,৯৭২.
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একুশে পদক লাভ করেন- 
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম: 
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম মোট ১৩ বার ঢাকায় আসেন।
- প্রথমবার আসেন ১৯২৬ সালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন মোট ৫ বার। 
- দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়। তাকে 'জাতীয় কবি' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৯৭৪ সালের ৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে তাকে 'ডি. লিট' উপাধি বা সম্মাননা প্রদান করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বাংলা ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,৯৭৩.
মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। 
- এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা 'ভোরের আলো' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে আদমজি পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের ১০ই অক্টোবর, প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা, 
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৯৭৪.
‘ক্রান্তি’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. রণেশ দাশগুপ্ত
  2. সোমেন চন্দ
  3. সত্যেন সেন
  4. কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
রণেশ দাশগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রণেশ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা

'ক্রান্তি' পত্রিকা:
- ‘ক্রান্তি’র প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত, আর প্রকাশক ছিলেন সোমেন চন্দ।
- বাংলাদেশে প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা ‘ক্রান্তি’।
- পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ঢাকায় ১৯৩৯ সালে গঠিত হয় প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ। ১৯৪০ সালে এই সংঘের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- সংঘের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন সোমেন চন্দ, রণেশ দাশগুপ্ত, সত্যেন সেন, কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত, সতীশ পাকরাশী প্রমুখ।
- এই সংঘ ছিল মূলত সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, যুদ্ধ, আধিপত্যবাদ বিরোধী এবং মেহনতি মানুষের পক্ষে লেখনী ধারণকারী প্রতিষ্ঠান।
- এই সংঘের মুখপত্র হিসেবে ‘ক্রান্তি’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালের শেষ দিকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৯৭৫.
নিম্নের কোনটি হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়?
  1. ক) শ্যামল ছায়া
  2. খ) জাহান্নম হইতে বিদায়
  3. গ) অনীল বাগচীর একদিন
  4. ঘ) জোছনা ও জননীর গল্প
সঠিক উত্তর:
খ) জাহান্নম হইতে বিদায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জাহান্নম হইতে বিদায়
ব্যাখ্যা
কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস -
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনীল বাগচীর একদিন।

অন্যদিকে, 'জাহান্নম হইতে বিদায়' (১৯৭১) শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৯৭৬.
বিজ্ঞান লেখক হিসেবে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল-মুতী
  2. খ) আবদুল্লাহ আল-মামুন
  3. গ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল্লাহ আল-মুতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল্লাহ আল-মুতী
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- মূলত বিজ্ঞান লেখক হিসেবে তিনি পরিচিত। 
- তিনি ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষা বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।’ 

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ সমূহ-
- এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে
- আবিষ্কারের নেশায়
- বিজ্ঞাব ও মানুষ
- সাগরের রহস্যপুরী
- তারার দেশের হাতছানি
- বিজ্ঞানের বিস্ময়
- শিক্ষা ও বিজ্ঞান ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৯৭৭.
ব্রজবুলি ভাষার ব্যবহার কোথায় দেখা যায়?
  1. পদ্মাবতী
  2. ভানুসিংহের পদাবলী 
  3. রামায়ণ
  4. ইউসুফ-জোলেখা
সঠিক উত্তর:
ভানুসিংহের পদাবলী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভানুসিংহের পদাবলী 
ব্যাখ্যা

• “ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী” কাব্যের সারসংক্ষেপ:
- ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।
- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।                                                                                                                                      
- প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।
- ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।
-  উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ, প্রশ্ন।
- ‘মরণ’ কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি: "মরণ রে, তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।"

অন্যদিকে,
• 'পদ্মাবতী' মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
- প্রধান অমাত্য (প্রধানমন্ত্রী)  কোরেশী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে তিনি ১৬৪৮ সালে , হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী-এর পদুমাবত অবলম্বনে 'পদ্মাবতী' কাব্যটি রচনা করেন।

আবার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে 'পদ্মাবতী' নাটক রচনা করেন।
- এটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

• রামায়ণ অনুবাদ:
- কবি বাল্মীকি রচিত রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। বাল্মীকি আগে রত্নাকার নামে দস্যুবৃত্তি করতেন।
- বল্মীকির 'রামায়ণ' প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি কৃত্তিবাস ওঝা।
- কৃত্তিদাস ওঝা রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম-পাঁচালি'।
- তাঁর বাংলায় অনুবাদ কৃত রামায়ণ টি এতোটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে, ১৮০২-০৩ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীরামপুরের পাদ্রিরা তাদের নব প্রতিষ্ঠিত প্রেসে গ্রন্থটি মুদ্রণ করেন।

• ইউসুফ-জোলেখা:
- ইউসুফ-জোলেখা একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ।
- ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
- এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন।

উৎস: ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

২,৯৭৮.
'সারদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থটির লেখক কে? 
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বুদ্ধদেব বসু 
  4. রাজশেখর বসু 
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

'সারদামঙ্গল' গ্রন্থটির লেখক- বিহারীলাল চক্রবর্তী। 
----------------------------------
• 'সারদামঙ্গল' গ্রন্থটির
মূলকথা:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর সারদামঙ্গল বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক গীতিকাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি। এখানে সারদা বা সরস্বতী দেবীকে কল্পনার মাধ্যমে বন্দনা করা হয়েছে এবং বঙ্গনারীর রূপ-গুণ ও মানসিক অনুভূতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কাব্যটি দশটি সর্গে বিভক্ত। এতে প্রকৃতির সৌন্দর্য, প্রেমের আনন্দ ও বিচ্ছেদের বিষাদ মিলিয়ে রোমান্টিক ভাবধারা প্রকাশ পেয়েছে। 
---------------------------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন কবি এবং গীতিকার ছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে ও পরিচিত।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায় এবং তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিহারীলাল গীতি কবিতা শুনিয়েছে বলে তাকে বাংলা গীতি কবিতার ভোরের পাখি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধি দিয়েছেন। 
- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন যে তাঁর গীতিকবিতা বাংলা কবিতার নবজাগরণের সূচনা করেছিল, ঠিক যেমন ভোরের প্রথম পাখির ডাক নতুন দিনের আগমনী বার্তা বহন করে।
- এছাড়াও তাঁর কাব্যধারা ছিল বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। 

বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ- সারদামঙ্গল

• বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- সঙ্গীতশতক;
- বন্ধুবিয়োগ;
 - প্রেমপ্রবাহিণী;
- নিসর্গসন্দর্শন;
- বঙ্গসুন্দরী;
- সারদামঙ্গল;
- নিসর্গসঙ্গীত;
- সাধের আসন এবং
- ধূমকেতু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

২,৯৭৯.
'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' কে সম্পাদনা করেন?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান':
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার একটি সংকলন গ্রন্থ।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় গ্রন্থ এটিই প্রথম।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য রচনা কর্ম হলো:
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,৯৮০.
“ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা”- গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শেখ ফজলুল করিম
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।

- “ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা”- দেশাত্মক গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত বাংলা সাহিত্যের ঐতিহাসিক নাটক “সাজাহান” এ এই গানটি রয়েছে। 
- উল্লেখ্য উপরের সকলেই আধুনিক বাংলা গানের জনপ্রিয় পথিকৃৎ। তাদের মাধ্যমেই বাংলা আধুনিক গানের সূত্রপাত হয়।
 
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
২,৯৮১.
রফিক আজাদের ডাকনাম ছিল-
  1. জীবন
  2. মানিক
  3. আজাদ
  4. রতন
সঠিক উত্তর:
জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন
ব্যাখ্যা
• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ ছিলেন একজন বাংলাদেশী আধুনিক কবি। আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

-----------
• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯৮২.
ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মা যে জননী কান্দে
  2. ধানখেত
  3. সুচয়নী
  4. মুহূর্তের কবিতা
সঠিক উত্তর:
মুহূর্তের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহূর্তের কবিতা
ব্যাখ্যা
মুহূর্তের কবিতা:
- ইসলামী স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি/ মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন - মুহূর্তের কবিতা।
- গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপীরিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ৬৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- জসীমউদ্‌দীন রচিত গাথাকাব্য - মা যে জননী কান্দে।
- জসীমউদ্‌দীন রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন - ধানখেত, সুচয়নী।

ফররুখ আহমদ:  
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
২,৯৮৩.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী
- বিহারীলাল চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত তিনি।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম কবি।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
-বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা - বঙ্গসুন্দরী।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদামঙ্গল।

- বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত দুটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৯৮৪.
হাসান আজিজুল হক সম্পাদিত পত্রিকা নিচের কোনটি?
  1. ক) কথাসাহিত্য
  2. খ) অসীমান্তিক
  3. গ) সঞ্জীবনী
  4. ঘ) শিল্পকলা
সঠিক উত্তর:
খ) অসীমান্তিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অসীমান্তিক
ব্যাখ্যা
হাসান আজিজুল হক সম্পাদিত পত্রিকা - অসীমান্তিক (১৯৯৮)। তার রচিত নাটক - চন্দর কোথায়। তিনি ১৯৯৯ সালে একুশে পদক লাভ করেন। তার অন্যতম সেরা প্রবন্ধ - একাত্তর : করতলে ছিন্নমাথা। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
২,৯৮৫.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের দুটি চরিত্র হলো-
  1. হেমচন্দ্র ও মনোরমা
  2. রোহিনী ও ভ্রমর
  3. নগেন্দ্রনাথ ও সূর্যমুখী
  4. চন্দ্রশেখর ও শৈবালিনী
সঠিক উত্তর:
রোহিনী ও ভ্রমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোহিনী ও ভ্রমর
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিনীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।

• উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- রোহিনী,
- গোবিন্দলাল,
- ভ্রমর।

অন্যদিকে,
• ‘মৃণালিনী’ উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: হেমচন্দ্র, মৃণালিনী, পশুপতি ও মনোরমা।
• ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: নগেন্দ্রনাথ, কুন্দনন্দিনী, সূর্যমুখী, হীরা ইত্যাদি।
• ‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: চন্দ্রশেখর, প্রতাপ, শৈবালিনী।

-------------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯৮৬.
'Buddhist Mystic Songs’ গ্রন্থে চর্যাপদের কয়টি পদ সংখ্যার কথা উল্লেখ আছে?
  1. ৫১টি
  2. ৫২টি
  3. সাড়ে ৪৬টি
  4. ৫০টি
সঠিক উত্তর:
৫০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের পদসংখ্যা বিষয়ক আলোচনা:
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন।

• সুকুমার সেন রচিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'।
- যদিও সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।
- টীকাকারের কাছে মূল চর্যার পুঁথিতে আরো অন্তত একটি বেশি চর্যা ছিল (১১ ও ১২ তম চর্যার মাঝখানে)। এই চর্যাটির ব্যাখ্যা না থাকায় লিপিকার উদ্ধৃত করেন নি, শুধু 'টীকা নাই' এই মন্তব্যটুকু করিয়াছেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs’ গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির কথা বলেছেন। এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

• উল্লেখ্য, চর্যাপদের একটি পদ ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেখান থেকেই এই মতবিরোধের সৃষ্টি।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
২,৯৮৭.
"আমি কবি- বনের পাখির মতো স্বভাব আমার গান করার। কাহারও ভালো লাগিলেও গাই , ভালো না লাগিলেও গাহিয়া যাই।" - উক্তিটি কোন কবির?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. ফররুখ আহমদ 
  4. নির্মলেন্দু গুণ 
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• "আমি কবি- বনের পাখির মতো স্বভাব আমার গান করার। কাহারও ভালো লাগিলেও গাই , ভালো না লাগিলেও গাহিয়া যাই।" - পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের অন্তর্গত। 

• ''যৌবনের গান'':
- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে মুসলিম যুব সমাজের অভিনন্দনের উত্তরে তাদের উদ্দেশ্যে কাজী নজরুল ইসলাম যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তারই পরিমার্জিত লিখিত রূপ।
- ভাষণের এ ধরনের লিখিত রূপকে/ এ ধরনের রচনাকে বলা হয় অভিভাষণ।
- এটি ''দুর্দিনের যাত্রী'' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

''যৌবনের গান'' প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
আমি কবি- বনের পাখির মতো স্বভাব আমার গান করার। কাহারও ভালো লাগিলেও গাই , ভালো না লাগিলেও গাহিয়া যাই। বায়স-ফিঙে যখন বেচারা গানের পাখিকে তাড়া করে, তীক্ম চঞ্চু দ্বারা আঘাত করে, তখনও সে এক গাছ হইতে উড়িয়া আন গাছে পিয়া গান ধরে। তাহার হাসিতে গান, তাহার কান্নায় গান ৷ সে গান করে আপন মনের আনন্দে- যদি তাহাতে কাহারও অলসতন্দ্রা, মোহনিদ্রা টুটিয়া যায়, তাহা একান্ত দৈব ৷ যৌবনের সীমা পরিক্রমণ আজও আমার শেষ হয় নাই। কাজেই আমি যে গান গাই, তাহা যৌবনের গান । তারুণ্যের ভরা-ভাদরে যদি আমার গান জোয়ার আনিয়া থাকে, তাহা আমার অগোচরে; যে চাঁদ সাগরে জোয়ার জাগায়, সে হয়ত তাহার শক্তি সম্বন্ধে আজও না-ওয়াকিফ ৷

উৎস: বাংলাপিডিয়া; "যৌবনের গান'' প্রবন্ধ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৯৮৮.
শিশুতোষ গ্রন্থ - 'হরফের ছড়া'র লেখক কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. কায়কোবাদ 
  3. ফররুখ আহমদ
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

• 'হরফের ছড়া' শিশুতোষ গ্রন্থের লেখক - ফররুখ আহমদ।
- এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------------
• ফররুখ আহমদ: 
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ‘সাত সাগরের মাঝি' (১৯৪৪) ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর রচিত কাব্যনাট্য 'নৌফেল ও হাতেম' (১৯৬১)।
- ‘মুহূর্তের কবিতা' (১৯৬৩) তাঁর রচিত একটি সনেট সংকলন। 
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনিকাব্য 'হাতেম তায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষ গ্রন্থের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
-  ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. কালের কণ্ঠ পত্রিকা ১০ জুন, ২০১৯।

২,৯৮৯.
‘জুলেখার মন’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ
  2. সমর সেন
  3. রজনীকান্ত সেন
  4. জাহানারা আরজু
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ:
-
তিনি ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাব্যরচনায় বিশিষ্ঠতা দেখিয়েছেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যের নাম:
জুলেখার মন,
- রক্তিম হৃদয়,
- আপন ভুবনে,
- বৈরিতার হাতে বন্দি,
- মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহর কাব্যসম্ভার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৯৯০.
"আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর,
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. রজনীকান্ত সেন
  3. যতীন্দ্রনাথ বাগচী
  4. বন্দে আলী মিয়া
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
• 'আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।'- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা 'বন্দে আলী মিয়া'। 
-----------------
• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কিছুদিন ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
- দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন।
- বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ এ শিশুতোষ গ্রন্থ।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
কাব্য: 
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী;

উপন্যাস:
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট

নাটক:
-  মসনদ;

শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।

আমাদের গ্রাম- কবিতা,
----------------- বন্দে আলী মিয়া

আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর,
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।
পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই,
এক সাথে খেলি আর পাঠশালে যাই।
আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।
মাঠ ভরা ধান তার জল ভরা দিঘি,
চাঁদের কিরণ লেগে করে ঝিকিমিকি।
আম গাছ, জাম গাছ, বাঁশ ঝাড় যেন,
মিলে মিশে আছে ওরা আত্মীয় হেন।
সকালে সোনার রবি পুব দিকে উঠে,
পাখি ডাকে, বায়ু বয়, নানা ফুল ফুটে।

উৎস: আমাদের গ্রাম কবিতা- বন্দে আলী মিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৯৯১.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চন্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ-
  1. ক) রাজাবলি
  2. খ) লিপিমালা
  3. গ) তোতা ইতিহাস
  4. ঘ) পুরুষ পরীক্ষা
সঠিক উত্তর:
গ) তোতা ইতিহাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তোতা ইতিহাস
ব্যাখ্যা
চণ্ডীচরণ মুনশী অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালী লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এটি ফরাসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত। 

অন্যদিকে,
হরপ্রসাদ রায় রচিত গ্রন্থের নাম - পুরুষ পরীক্ষা
রামরাম বসু রচিত গ্রন্থের নাম - লিপিমালা 
হরপ্রসাদ রায় রচিত গ্রন্থের নাম - পুরুষ পরীক্ষা 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক। 
২,৯৯২.
কোনটি ফররুখ আহমদের কাব্য?
  1. সিরাজাম মুনিরা
  2. অনল প্রবাহ
  3. প্রেমের সমাধি
  4. শান্তিধারা
সঠিক উত্তর:
সিরাজাম মুনিরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজাম মুনিরা
ব্যাখ্যা
সিরাজাম মুনিরা:
- সিরাজাম মুনিরা ফররুখ আহমদের একটি বিখ্যাত কাব্য।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে।
- এই কাব্যে মোট কবিতা হচ্ছে ১৯ টি।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে সিরাজাম মুনিরা।

ফররুখ আহমদের কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি, 
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম, 
- মুহূর্তের কবিতা, 
- ধোলাই কাব্য, 

অন্যদিকে:
• অনল প্রবাহ = সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী।
• প্রেমের সমাধি = মোহাম্মদ নজিবর রহমান।
• শান্তিধারা = মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) সিরাজাম মুনিরা কাব্যগ্রন্থ। 
২,৯৯৩.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
  2. পদ্মবিভূষণ উপাধিতে ভূষিত হন।
  3. চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
  4. আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
সঠিক উত্তর:
পদ্মবিভূষণ উপাধিতে ভূষিত হন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মবিভূষণ উপাধিতে ভূষিত হন।
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের 'পদ্মভূষণ' লাভ:
- কাজী নজরুল ইসলাম পদ্মভূষণ উপাধি লাভ করেন ১৯৬০ সালে।
- পদ্মভূষণ হলো ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক পুরষ্কার যা সরকার দ্বারা প্রদান করা হয়।
---------------------------

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা: 
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

কিন্তু, অপশন খ) তে দেওয়া আছে, তিনি 'পদ্মবিভূষণ' উপাধিতে ভূষিত হন। যা সঠিক নয়। কারণ, তিনি ''পদ্মভূষণ' উপাধি পান; 'পদ্মবিভূষণ' উপাধি নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, পত্রিকা রিপোর্ট এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৯৯৪.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস ‘আগুনের পরশমণি'এর রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. শওকত ওসমান
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
‘আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস - আগুনের পরশমণি।
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে। উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর w বাংলাপিডিয়া।
২,৯৯৫.
'ফেরারী ডায়েরী' কোন পটভূমিকায় রচিত?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) দেশ বিভাগ
  3. গ) ভাষা অন্দোলন
  4. ঘ) গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
ক) মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর লেখা বই 'ফেরারী ডায়েরী'।
• তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক নরকে লাল গোলাপ।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- কর্ণফুলী,
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- বিশৃঙ্খলা,
- স্বপ্নশীলা,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন ইত্যাদি।
• তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস। আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবনযাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত। উপজাতীয় জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য। এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার
২,৯৯৬.
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ গ্রন্থটি অন্য কোন নামে পরিচিত?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তি
  2. শ্রীকৃষ্ণসদ্ভাব
  3. শ্রীকৃষ্ণস্তুতি
  4. শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক গ্রন্থ।

- কাব্যটির পুঁথির প্রথম ও শেষাংশ খণ্ডিত থাকায় গ্রন্থের আসল নাম ও কবির বিস্তৃত পরিচয় নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
- যদিও গ্রন্থের ভেতরে কবির ভণিতা আছে, তবু কোথাও কাব্যের নাম উল্লেখ নেই।
- এই অবস্থায় সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ লোকশ্রুতি ও কৃষ্ণলীলা–কেন্দ্রিক বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে কাব্যটির নামকরণ করেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
- তবে এই নামকে অনেক গবেষক যথার্থ মনে করেন না।
- কারণ, ‘কীর্তন’ বলতে ভক্তিসঙ্গীতের মাধ্যমে নাম–রূপ–গুণের সরব উচ্চারণ বোঝায়।
- অথচ এই কাব্যে কৃষ্ণের উপস্থিতি থাকলেও প্রকৃত কীর্তনের রূপ অনুপস্থিত।

- কাব্যে ১২টি স্থানে ‘ধামালি’ শব্দের ব্যবহার থাকায় কেউ কেউ মনে করেন এর নাম ‘রাধাকৃষ্ণের ধামালি’ হওয়াই যুক্তিযুক্ত হতো।
- অপরদিকে, পুঁথিতে প্রাপ্ত একটি চিরকুটের সূত্রে জানা যায় যে কাব্যটির প্রকৃত নাম হলো ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ব্ব’ (শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ)।
- ‘সন্দর্ভ’ শব্দের অর্থ রচনার সংকলন বা গবেষণামূলক গ্রন্থ। 
- সুতরাং আভিধানিক অর্থে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ বলতে বোঝায় ‘শ্রীকৃষ্ণ বিষয়ক সংকলন/গবেষণা’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২,৯৯৭.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস-
  1. ক) রাতের সমুদ্র
  2. খ) ময়ূরকণ্ঠী
  3. গ) অরণ্যের সুর
  4. ঘ) জননী
সঠিক উত্তর:
ঘ) জননী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জননী
ব্যাখ্যা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস জননী। সৈয়দ মুজতবা আলীর রম্য রচনা- ময়ূরকণ্ঠী। মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা রচিত কাব্য অরণ্যের সুর। উল্লেখ্য জননী নামে শওকত ওসমান একটি উপন্যাস রচনা করেছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯৯৮.
'রঞ্জন' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকের?
  1. বিসর্জন
  2. রক্তকরবী
  3. মুক্তধারা
  4. ডাকঘর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
ব্যাখ্যা
• 'রক্তকরবী' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক। ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। এবং 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে।
- শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

নাটকের প্রধান চরিত্র:
- নন্দিনী ও
- রঞ্জন

অন্যদিকে,
• ‘বিসর্জন’ নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অপর্ণা প্রমুখ।
• ‘ডাকঘর’ নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অমল, সুধা, ঠাকুর্দা প্রমুখ।
• 'মুক্তধারা' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অভিজিৎ, রণজিত, সুমন, অম্বা, বিভূতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
২,৯৯৯.
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি কার বুকের ক্রন্দনশ্বাস?
  1. বঞ্চিতের 
  2. বিধবার
  3. ইস্রাফিলের
  4. পরশুরামের
সঠিক উত্তর:
বিধবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধবার
ব্যাখ্যা

• ‘বিদ্রোহী’ কবিতার অংশবিশেষ:
আমি উনান মন উদাসীর,
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা-হুতাশ আমি হুতাশীর।
আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির-গৃহহারা যত পথিকের,
আমি অবমানিতের মরম বেদনা, বিষ-জ্বালা, প্রিয়-লাঞ্ছিত বুকে গতি ফের।

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- ‘বিদ্রোহী’ কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ,১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

• অগ্নিবীণা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতা গুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা),
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ ।

৩,০০০.
‘খাপছাড়া’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. জসীমউদ্দীন
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'খাপছাড়া':
- 'খাপছাড়া' হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত একটি বিখ্যাত শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের কাব্য রচনার "অন্ত্যপর্ব"- এর অন্তর্গত একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি।
- রবীন্দ্রনাথ এই গ্রন্থটি রাজশেখর বসু (পরশুরাম) কে উৎসর্গ করেন।

⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী,
- সোনারতরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- বলাকা,
- পুনশ্চ,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- পূরবী,
- চৈতালি।

উৎস: খাপছাড়া, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।