বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ২৯ / ২১১ · ২,৮০১২,৯০০ / ২১,১৩২

২,৮০১.
বৈষ্ণব পদাবলির আদি নিদর্শন গীতগোবিন্দম্ কোন ভাষায় রচিত?
  1. সংস্কৃত
  2. ব্রজবুলি
  3. বাংলা
  4. মণিপুরি
  5. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন-গীতগোবিন্দম্- সংস্কৃত ভাষায় রচিত। 
---------------------------- 
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সমৃদ্ধ সাহিত্যধারা হিসেবে বিবেচিত।
- এই ধারার সূচনা ও বিকাশ মূলত রাধা–কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও ভক্তিভাবকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
- বাঙালি কবি জয়দেব-কে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা আদিকবি বলা হয়।
- তাঁর রচিত গীতগোবিন্দম্ কাব্যে রাধা–কৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তির রূপ চিত্রিত হলেও এটি বাংলা নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- তবু এটিকেই আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন ধরা হয়।

- পরবর্তীতে অবাঙালি কবি বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- তাই তাঁকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদিকবি বলা হয়। 
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস—যার মাধ্যমে বাংলা ভাষায় এই ধারার পূর্ণ বিকাশ ঘটে।

- বৈষ্ণব পদাবলিতে মোট পাঁচটি রসের প্রকাশ দেখা যায়—
- শান্তরস,
- দাস্যরস,
- সখ্যরস,
- বাৎসল্যরস,
- ও মধুররস।
- এই রসসমূহের সমন্বয়েই বৈষ্ণব পদাবলি ভক্তি ও প্রেমের এক অনন্য সাহিত্যিক রূপ লাভ করেছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২,৮০২.
প্রমথ চৌধুরী কোন পত্রিকা সম্পাদনা করতেন?
  1. ভারতী
  2. সবুজপত্র
  3. সমকাল
  4. বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরী সবুজপত্র পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।  

প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল ‘বীরবল’।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের তুলনামূলক গবেষণা করেছেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতি প্রবর্তন এবং বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধ রচনায় তিনি বিশেষ খ্যাত।
- প্রমথ চৌধুরী প্রথম গদ্য ও প্রবন্ধে চলিত রীতির ব্যবহার করেন।
- তিনি বাংলা কাব্য সাহিত্যে প্রথম ইতালীয় সনেট প্রবর্তন করেন।
- ১৯১৪ সালে তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- ১৯৪৬ সালে তিনি শান্তিনিকেতনে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া। 

২,৮০৩.
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কবিতা কোনটি?
  1. কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
  2. স্মৃতিস্তম্ভ
  3. মাগো ওরা বলে
  4. সাত নরীর হার
সঠিক উত্তর:
মাগো ওরা বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাগো ওরা বলে
ব্যাখ্যা
• বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত বিখ্যাত কবিতাটি হলো  'মাগো ওরা বলে'।

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ২০০১ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো :
- সাত নরীর হার,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- প্রেমের কবিতা,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
২,৮০৪.
ইবলিশ ও গিনিপিগ নাটকের নাট্যকার কে?
  1. নুরুল মোমেন
  2. মামুনুর রশীদ
  3. বিজন ভট্টাচার্য
  4. আব্দুল্লাহ আল মুতী
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
• মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক। তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান।

তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮০৫.
নিচের কোনটি ফররুখ আহমদ রচিত কাহিনিকাব্য?
  1. হাতেমতায়ী
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. পাখির বাসা
  4. নৌফেল ও হাতেম
সঠিক উত্তর:
হাতেমতায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতেমতায়ী
ব্যাখ্যা

⇒ ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। 
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ। পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- ‘হাতেমতায়‘ ফররুখ আহমদ রচিত একটি কাহিনিকাব্য।
- নৌফেল ও হাতেম ফররুখ আহমদ রচিত একটি কাব্যনাট্য। 
- সাত সাগরের মাঝি ফররুখ আহমদ এর প্রথম প্রকাশিত কাব্য। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি 
- সিরাজাম মুনিরা
- নৌফেল ও হাতেম 
- মুহূর্তের কবিতা
- হাতেমতায়ী 
- হাবেদা মরুর কাহিনী  ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা 
- হরফের ছড়া 
- ছড়ার আসর  ইত্যাদি। 

• ফররুখ আহমদ ‘পাখির বাসা’ শিশুতোষ গ্রন্থের জন্য ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৮০৬.
আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি-
  1. আলাওল
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. দৌলত কাজী
  4. মরদন
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা

​• আরাকান রাজসভা:
- ​আরাকান রাজসভার আদি কবি ও প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী।
- তিনি লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী'।
- এটি হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসত' কাব্য অবলম্বনে তিন খন্ডে রচিত।

• আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ হলেন:
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করিম খন্দকার,
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৮০৭.
কোনটি আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. প্রেম ও ফুল
  2. রাজা যায় রাজা আসে
  3. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  4. উদাত্ত পৃথিবী
সঠিক উত্তর:
রাজা যায় রাজা আসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা যায় রাজা আসে
ব্যাখ্যা

'রাজা যায় রাজা আসে' কাব্যগ্রন্থ:
- 'রাজা যায় রাজা আসে' আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ। প্রথম প্রকাশ ডিসেম্বর ১৯৭২।
- উৎসর্গ পত্রে লেখক লিখেন- উৎসর্গ আমার মা, আমার মাতৃভূমির মতোই অসহায়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে রয়েছে সমকালীন রাজনৈতিক চেতনা, মানবিক যন্ত্রণা ও আত্মবীক্ষণের দারুণ প্রকাশ।

এই কাব্যগ্রন্থের কয়েকটি উল্লেখ্যযোগ্য কবিতা:
- বনভূমির ছায়া;
- প্রত্যাবর্তনের সময়;
- স্বীকৃতি চাই;
- পাখি হয়ে যায় প্রাণ।

অন্যদিকে,
রফিক আজাদর রচিত কাব্যগ্রন্থ - চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া।
গােবিন্দচন্দ্র দাস রচিত কাব্যগ্রন্থ - প্রেম ও ফুল।
সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ - উদাত্ত পৃথিবী।

আবুল হাসান:
- আবুল হাসান ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান। তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- ১৯৭৫ সালের ২৬ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৮০৮.
নিচের কোনটি শামসুদ্দীন আবুল কালামের উপন্যাস?
  1. ক) পথ জানা নেই
  2. খ) পুঁই ডালিমের কাব্য
  3. গ) দুই হৃদয়ের তীর
  4. ঘ) আলমনগরের উপকথা
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলমনগরের উপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলমনগরের উপকথা
ব্যাখ্যা
পুঁই ডালিমের কাব্য, অনেক দিনের আশা, ঢেউ, পথ জানা নেই, দুই হৃদয়ের তীর, শাহের বানু ইত্যাদি শামসুদ্দীন আবুল কালামের গল্পগ্রন্থ। কাঞ্চনমালা, সমুদ্রবাসর, কাশবনের কন্যা, জায়জঙ্গল, দুই মহল, আলমনগরের উপকথা ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮০৯.
'একুশে ফেরুয়ারি' সাহিত্য সংকলনের প্রথম সংকলক কে?
  1. হাসান আজিজুর রহমান
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
'একুশে ফেরুয়ারি' সাহিত্য সংকলনের প্রথম সংকলক 'হাসান হাফিজুর রহমান'।

• হাসান হাফিজুর রহমান:

- তিনি ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামে।
- ১৯৫২ সালে সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন।
- পরে সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-১৯৫৭), পাকিস্তান (১৯৬৫) এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করেন।
- ১৯৭৮ সালে তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়ের অধীন 'মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকল্প'-এর পরিচালক নিযুক্ত হন।
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ 'একুশে ফেব্রুয়ারী'।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৬ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধঃ দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• কাব্যগ্রন্থ:
- বিমুখ প্রান্তর,
- সীমান্ত শিবিরে,
- আর্ত শব্দাবলী,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- দক্ষিণের জানালা,
- প্রতিবিম্ব,
- শোকার্ত তরবারী,
- আমার ভেতরের বাঘ ইত্যাদি।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা, 
- মূল্যবোধের জন্যে, 
- সাহিত্য প্রসঙ্গ, 

• গল্পগ্রন্থ:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৮১০.
"শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার" কার রচনা?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. মহাদেব সাহা
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন আজাদ ছিলেন মূলত লেখক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের রাড়িখাল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস গুলো হলো:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
- সবকিছু ভেঙে পড়ে
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার
- রাজনীতিবিদগণ
- কবি অথবা দন্ডিত পুরুষ
- পাক সার জমিন সাদ বাদ ইত্যাদি
- আব্বুকে মনে পড়ে

- হুমায়ুন আজাদ রচিত 'আব্বুকে মনে পড়ে' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস।

শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার - ১৯৯৭ সালের বই মেলায় প্রথম প্রকাশিত হয়।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
২,৮১১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস এটি।
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী,
- অন্যান্য কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮১২.
কোনটি নির্মলেন্দু গুণ রচিত উপন্যাস?
  1. শিয়রে বাংলাদেশ
  2. প্রেমাংশুর রক্ত চাই
  3. কালোমেঘের ভেলা
  4. ইসক্রা
সঠিক উত্তর:
কালোমেঘের ভেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালোমেঘের ভেলা
ব্যাখ্যা

• নির্মলেন্দু গুণ রচিত উপন্যাস - কালোমেঘের ভেলা

নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- ও বন্ধু আমার,
- চাষাভূষার কাব্য,
- পৃথিবীজোড়া গান,
- দূর হ দুঃশাসন,
- ইসক্রা,
- নেই কেন সেই পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- ভলগার তীরে, 
- গীনসাবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়ালেখার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৮১৩.
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুল হক
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
'বেণের মেয়ে' ও 'কাঞ্চনমালা' উপন্যাসের রচয়িতা- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা, প্রাচীন বাংলার গৌরব, মেঘদূত ব্যাখ্যা, ভারত মহিলা, বাঙ্গালা ব্যাকরণ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
২,৮১৪.
'আগমনী' মৌলিক নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. গিরিশচন্দ্র সেন
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথমে গান ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং পরে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটকও লিখতে থাকেন।
- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের শর্মিষ্ঠা নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।
- দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী নাটকে তিনি নিমচাঁদ চরিত্রে অভিনয় করেন।
- প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্ত্ত।
-  মধুসূদনের চৌদ্দ মাত্রার অমিত্রাক্ষর ছন্দকে ভেঙ্গে তিনি অভিনয়ের উপযোগী ছোট ছোট ছত্রে বিন্যস্ত করেন।
- তাঁর নামানুসারে এ ছন্দের নাম হয় ‘গৈরিশ ছন্দ’। 
- তাঁর রচিত প্রথম মৌলিক নাটক 'আগমনী' (১৮৭৭)।
- পৌরাণিক, ঐতিহাসিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে রচিত তাঁর নাটকের সংখ্যা মোট ৮০।

- সেগুলির মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি হলো:
- অভিমন্যুবধ,  
- সীতার বনবাস,  
- সীতাহরণ,  
- পান্ডবের অজ্ঞাতবাস,  
- প্রফুল্ল,  
- আবু হোসেন,  
- সিরাজদ্দৌলা,  
- মীরকাশিম,  
- শঙ্করাচার্য,  
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর ইত্যাদি।

- প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্তু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৮১৫.
'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতাটির লেখক কে?
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. আহসান হাবীব
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতা:
- 'আমি কোন আগন্তুক নই' কবিতাটি আহসান হাবীব রচনা করেন।
- কবিতাটি 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' (১৯৮০) কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা।
- কবিতাতে শহুরে মানুষের গ্রামে ফেরার কথা আছে। গ্রামীণ অনুষঙ্গসমূহ এই শহুরে মানুষকে সন্দেহ না করলেও সেই মানুষ সাক্ষী মানছে গ্রামীণ নানা কিছু।
- 'আমি কোন অভ্যাগত নই' একথা বোঝাতে শহুরে মানুষ তাই বলছে: 'আসমানের তারা সাক্ষী, সাক্ষী এই জমিনের ফুল .....' ইত্যাদি।

আহসান হাবীব:
- তিনি ১৯১৭ সালে পিরোজপুর জেলার শঙ্করপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'রাত্রিশেষ' (১৯৪৭)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮১৬.
'তিন পুরুষ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) শহীদ কাদরী
সঠিক উত্তর:
ক) সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সমর সেন
ব্যাখ্যা
সমর সেন বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের নাগরিক কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর পাঁচটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এগুলো হচ্ছে কয়েকটি কবিতা, গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা, নানাকথা, খোলাচিঠি, তিন পুরুষ এবং সমর সেনের কবিতা। তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ (আত্মজীবনী)- বাবু বৃত্তান্ত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮১৭.
'বাংলাদেশ' নামক কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'বাংলাদেশ' কবিতা:
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বাংলাদেশ কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বিখ্যাত কবিতা ‘বাংলাদেশ’ অনিঃশেষ (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- কবিতাটি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

অমিয় চক্রবর্তী:
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
 
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮১৮.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান কেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) সংশপ্তক
  2. খ) চিলেকোঠার সেপাই
  3. গ) আরেক ফাল্গুন
  4. ঘ) জাহান্নাম হইতে বিদায়
সঠিক উত্তর:
খ) চিলেকোঠার সেপাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসটি 'উনসত্তরের গগণঅভ্যুত্থান' প্রেক্ষাপটে রচিত। 

'চিলেকোঠার সেপাই' 
• ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
• এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
• ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
• উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
• কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
• এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে। 

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন। 
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই 
- খােয়াবনামা 

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর 
- খোয়ারি 
- দুধভাতে উৎপাত
- দোজখের ওম 

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮১৯.
”কুহেলি উত্তরীতলে মাঘের সন্ন্যাসী”- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. বেগম রোকেয়া
  3. নীলিমা ইব্রাহীম
  4. বেগম মাহবুবা
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

•  ”কুহেলি উত্তরীতলে মাঘের সন্ন্যাসী”- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা বেগম সুফিয়া কামাল।
 - পঙ্‌ক্তিটির ”তাহারেই পড়ে মনে” কাবিতা অন্তর্গত ।
- সাঝোঁর মায়া কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত বেগম সুফিয়া কামাল রচিত কবিতা ”তাহারেই পড়ে মনে”  ।
- কতিাটি প্রকাশিত হয়- ১৯৩৫ সালে।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

• বেগম সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। 
- তিনি নিজ চেষ্টায় হয়ে ওঠেন স্বশিক্ষিত ও সুশিক্ষিত।
- বাড়িতে উর্দুভাষার চল থাকলেও নিজ উদ্যেগেই তিনি বাংলা ভাষা শিখে নেন।
- ১৯২৩ সালে তিনি রচনা করেন তাঁর প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’, যা বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- মায়া কাজল ,
- মন ও জীবন ,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

২,৮২০.
'মধুমালা' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

মধুমালা হলো কাজী নজরুল ইসলামের রচিত একটি নাটক।

• মধুমালা:
- মধুমালা হলো কাজী নজরুল ইসলামের রচিত একটি বিখ্যাত গীতিনাট্য, যা ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে ৪৩টি গান রয়েছে।
- এই নাটকে গদ্য সংলাপ, গান ও কাব্য একত্রে মিশে আছে।
- এটি রূপকথা বা ঐতিহ্যের আদলে রচিত।
- নাটকটির কাহিনী মদনকুমারের স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা মধুমালা ও কাঞ্চনমালার মধ্যে ত্রিভুজ প্রেম এবং মধুমালার করুণ পরিণতি নিয়ে নাটকটি গঠিত।
- এটি নজরুলের সর্বাধিক মঞ্চসফল নাটকের মধ্যে একটি।
-----------------------------------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- আধুনিক বাংলা সঙ্গীতে তিনি বুলবুল নামে খ্যাত।
- নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো — অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, চক্রবাক, প্রলয় শিখা, দোলনচাঁপা ও ভাঙার গান।
- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা' (১৯২২) ।
- অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা ' প্রলয়োল্লাস'।
- অগ্রপথিক কবিতাটি নজরুল ইসলামের 'জিঞ্জীর' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• তাঁর গল্পগ্রন্থ:
- শিউলিমালা,
- বেদনার দান ও
- পদ্মগোখরা।

• তাঁর নাটক:
- আলেয়া,
- ঝিলিমিলি,
- মধুমালা
- পুতুলের বিয়ে।

• তাঁর উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

২,৮২১.
পল্লি কবি জসিমউদ্দিনের রচনা কোনটি?
  1. ক) ছায়ানট
  2. খ) চক্রবাক
  3. গ) রুদ্রমঙ্গল
  4. ঘ) বালুচর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বালুচর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বালুচর
ব্যাখ্যা
বালুচর পল্লি কবি জসিমউদ্দিনের। ছায়ানট, চক্রবাক, রুদ্রমঙ্গল কাজী নজরুল ইসলামের রচনা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২,৮২২.
কোনটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম নাটক?
  1. পদ্মাবতী
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. কৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন: 
- একেই কি বলে সভ্যতা, 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রো।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

২,৮২৩.
'শূণ্যপুরাণ' গ্রন্থটি কোন যুগের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রাচীন
  2. আধুনিক
  3. অন্ধকার
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার
ব্যাখ্যা
'শূণ্যপুরাণ':
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮২৪.
শ্রীরামপুরের মিশনারীরা স্মরণীয় যে জন্য-
  1. প্রথম বাংলায় খৃষ্টধর্ম প্রচার
  2. প্রথম বাংলায় মুদ্রণ
  3. প্রথম বাংলায় সংস্কার কাজ
  4. প্রথম বাংলা স্কুল
সঠিক উত্তর:
প্রথম বাংলায় মুদ্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম বাংলায় মুদ্রণ
ব্যাখ্যা
শ্রীরামপুর মিশন প্রেস:
- শ্রীরামপুর মিশন ছিল ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রচারক সংঘ।
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে। 
- ১৮০০ সালের ১০ই জানুয়ারি উইলিয়াম কেরি এবং ভ্রাতৃবৃন্দ এই মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেই বছরই মার্চ মাসে উইলিয়াম কেরি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস নামে ছাপাখানাটি খোলেন।
- এই মাসেই পঞ্চানন কর্মকারের সহযোগিতায় প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ মথী রচিত মঙ্গল সমাচার ছাপা হয় মিশন প্রেস থেকে।
- বাংলা গদ্য চর্চায় যে সকল প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে খ্রিষ্টান মিশনারীগণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘শ্রীরামপুর মিশন' সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। 
- বাংলায় বাইবেল আনুবাদ করে প্রদেশে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারে ব্রতী হয়েছিলেন উইলিয়াম কেরি।
- শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে পরবর্তীকালে রামায়ণ, মহাভারত, পাঠ্যপুস্তক ইত্যাদি বহু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল।
- ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে এই মিশন থেকে 'দিগদর্শন' ও 'সমাচার দর্পণ' নামক পত্রিকা দুটি প্রকাশিত হয়। 
- ১৮০০-১৮৩২ সালের মধ্যে শ্রীরামপুর প্রেস থেকে ৪৫টি ভাষায় ২,১২,০০০ বই ছাপা হয়।
- ১৮৪৫ সালে শ্রীরামপুর মিশন বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু এ প্রেস ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত চালু ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৮২৫.
'পথে প্রবাসে' ভ্রমণ কাহিনীর রচয়িতা কে?
  1. ক) সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
পথে প্রবাসে' ভ্রমণ কাহিনীর রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়‌। অসমাপিকা, আগুন নিয়ে খেলা, পুতুল নিয়ে খেলা, সত্যাসত্য এগুলো তার উপন্যাস। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৮২৬.
কাজী নজরুল ইসলামকে কোন কবিতা রচনার জন্য কারাবাস করতে হয়?
  1. আগমনী
  2. বিদ্রোহী
  3. কামাল পাশা
  4. আনন্দময়ীর আগমনে
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনন্দময়ীর আগমনে
ব্যাখ্যা
• ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে 'ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন পত্রিকার সম্পাদক। ব্রিটিশ বিরোধী রচনা এখানে ছাপা হতো।

• ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়। এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

অন্যদিকে, 
• বাংলা কবিতার পালাবদলকারী কাব্য অগ্নি-বীণা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যায় এবং পরপর কয়েকটি নতুন সংস্করণ প্রকাশ করতে হয়; কারণ এ কাব্যে নজরুলের ‘প্রলয়োল্লাস’, ‘আগমনী’, ‘খেয়াপারের তরণী’, ‘শাত-ইল্-আরব’, ‘বিদ্রোহী’, ‘কামাল পাশা’ প্রভৃতি বাংলা সাহিত্যে সাড়া জাগানো এবং বাংলা কবিতার মোড় ফেরানো কবিতা সংকলিত হয়েছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২,৮২৭.
বিজ্ঞান বিষয়ক রচনা 'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' এর রচয়িতা-
  1. ড. আবদুল্লাহ্‌ আল- মুতী
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল
  4. ড. মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা
সঠিক উত্তর:
ড. আবদুল্লাহ্‌ আল- মুতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. আবদুল্লাহ্‌ আল- মুতী
ব্যাখ্যা
• 'আবদুল্লাহ আল-মুতী' প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম- ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে'। 

• 'আবদুল্লাহ আল-মুতী':  

- আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।

• ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' গ্রন্থ: 
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে'।
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে। 

• তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে: 
- আবিষ্কারের নেশায়,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- তারার দেশের হাতছানি, 
- বিজ্ঞানে বিস্ময়,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- মহাকাশে কী ঘটছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮২৮.
নিচের কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস নয়?
  1. দেবদাস
  2. বিজয়া
  3. গৃহদাহ
  4. দত্তা
সঠিক উত্তর:
বিজয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজয়া
ব্যাখ্যা
• 'বিজয়া' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত নাটক। 

⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত নাটক: 
- ষোড়শী,
- রমা, 
- বিজয়া ইত্যাদি। 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস গুলো হলো:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা,
- বৈকুণ্ঠের উইল, 
- পল্লীসমাজ, 
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন, 
- নিষ্কৃতি,
- শ্রীকান্ত, 
- দত্তা, 
- গৃহদাহ, 
- দেনা-পাওনা,  
- পথের দাবী, 
- শেষ প্রশ্ন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮২৯.
ফররুখ আহমেদের শিশুতোষ রচনা নয় কোনটি?
  1. পাখির বাসা
  2. হরফের ছড়া
  3. ছড়ার আসর
  4. শিশুমেলা
সঠিক উত্তর:
শিশুমেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশুমেলা
ব্যাখ্যা

• শিশুমেলা ফররুখ আহমেদের শিশুতোষ রচনা নয়।

• ফররুখ আহমেদের শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা ,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।
• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।
• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৮৩০.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কবিতা?
  1. সোনার তরী
  2. হিন্দুমেলার উপহার
  3. নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  4. মেঘদূত
সঠিক উত্তর:
হিন্দুমেলার উপহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দুমেলার উপহার
ব্যাখ্যা
• হিন্দুমেলার উপহার:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম প্রকাশিত কবিতাটির নাম হচ্ছে - ‘হিন্দুমেলার উপহার’।
- তাঁর কবিতাটি ১৮৭৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সর্বপ্রথম অমৃতবাজার পত্রিকার প্রকাশিত হয়।
- তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য প্রথম সাহিত্যকর্ম:

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম ‘কবি-কাহিনী’ (প্রকাশ:১৮৭৮)।
- আট বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতা লেখা শুরু করেন।
- প্রথম প্রকাশিত কবিতা - হিন্দুমেলার উপহার।
-  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম নাটক - বাল্মীকি প্রতিভা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম- ভিখারিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৩১.
বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক কোনটি?
  1. এখনও ক্রীতদাস
  2. সুবচন নির্বাসনে
  3. নবান্ন
  4. কোকিলারা
সঠিক উত্তর:
নবান্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবান্ন
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' নাটক:
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন। এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

অন্যদিকে,
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক - কোকিলারা, সুবচন নির্বাসনে, এখনও ক্রীতদাস। 

বিজন ভট্টাচার্য:
-তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক।
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,৮৩২.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘ঈশ্বর’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অগ্নিবীণা
  2. দোলন-চাপা
  3. সাম্যবাদী
  4. সঞ্চিতা
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

- ‘ঈশ্বর’ কবিতাটি সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• 'সাম্যবাদী':

- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- সাম্যবাদী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা।
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে ।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

• এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য
- কুলি-মজুর,

তথ্যসূত্র:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।

২,৮৩৩.
'বিদ্রোহী’ কবিতাটি কোন সনে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১২
  2. ১৯১৯
  3. ১৯২০
  4. ১৯২২
সঠিক উত্তর:
১৯২২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২২
ব্যাখ্যা

• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কবি নজরুল ইসলাম ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি লেখেন।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

উল্লেখ্য,
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতা গুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা), 
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বিদ্রোহী কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৮৩৪.
'Men and Rivers' নামে নিচের কোন উপন্যাসের ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে?
  1. পদ্মানদীর মাঝি
  2. তিতাস একটি নদীর নাম
  3. নদী ও নারী
  4. কাঁদো নদী কাঁদো
সঠিক উত্তর:
নদী ও নারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী ও নারী
ব্যাখ্যা

• 'নদী ও নারী' উপন্যাস:
- 'নদী ও নারী' উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ুন কবির। ১৯৪৫ সালে তাঁর 'নদী ও নারী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় এবং একই বছর 'Men and Rivers' নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের পটভূমিতে রয়েছে চরের মানুষের জীবনালেখ্য।
- নজু মিয়া আর আসগর মিয়া দুই বন্ধু। তাদের জীবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে 'নদী ও নারী উপন্যাসের কাহিনি।
- এ উপন্যাসে তিনি পদ্মা নদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
- ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।

অন্যদিকে, 
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' একটি উপন্যাস। পদ্মা তীরবর্তী ধীবর- জীবন এর মূল কাহিনি ।পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো- কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিঞা ইত্যাদি।

• 'কাঁদো নদী কাঁদো” ১৯৬৮ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি উপন্যাস। এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র সমূহ হচ্ছে: মুস্তফা, বদর শেখ, খেদমতুল্লা, কালু মিয়া ইত্যাদি। এইসকল চরিত্রের মাধ্যমে লেখক তুলে ধরেছেন গ্রামীণ ও
কুমুরডাঙার শাহরিক পরিবেশ এর বর্ণনা।

• 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'। উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন।

----------------
• হুমায়ুন কবির রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী,
- অষ্টাদশী।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নদী ও নারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৮৩৫.
জয় বাংলার পূর্ণচন্দ্র, জয় জয় আদি-অন্তরীণ!
জয় যুগে-যুগে-আসা-সেনাপতি, জয় প্রাণ আদি-অন্তহীন!
- কার রচনা?
  1. গাজী মাজহারুল ইসলাম
  2. কমরেড মুজাফফর আহমদ
  3. মণিভূষণ মুখোপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

- এই কবিতাংশটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ''পূর্ণ-অভিনন্দন'' কবিতা থেকে নেওয়া।
- ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী পূর্ণচন্দ্র দাসকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি কবিতাটি রচনা করেন।
- এই কবিতাটি কবির ''ভাঙ্গার গান'' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত।
- উল্লেখ্য, এ লাইন থেকেই বঙ্গবন্ধু ''জয় বাংলা'' স্লোগানটি গ্রহন করেছিলেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো আর্কাইভ।

২,৮৩৬.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ত্রয়ী উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. আনন্দমঠ
  2. রাধারাণী
  3. দেবী চৌধুরানী
  4. সীতারাম
সঠিক উত্তর:
রাধারাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারাণী
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ত্রয়ী উপন্যাস নয়- রাধারাণী।

• ‘রাধারাণী’ উপন্যাস:
- ১২৮২ বঙ্গাব্দের (১৮৭৫ সালে) কার্তিক-অগ্রহায়ণ সংখ্যা বঙ্গদর্শন-এ প্রকাশিত ‘রাধারাণী’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রা।
- বঙ্কিমচন্দ্রের ভাইপো শচীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ১৮৭৫ সালে রথের মেলায় প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে একটি মেয়ে হারিয়ে গিয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্র সেই সময় কাঁটালপাড়ার বাড়িতেই ছিলেন। তিনি নিজেও মেলার মধ্যে মেয়েটির অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনার দু’মাস পরেই তিনি ‘রাধারাণী’ লিখেছিলেন।
- ১৮৮৬-তে ‘রাধারাণী’ পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়।

• উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
এই কাহিনির মূল বিষয়বস্তু রাধারাণী নামে একটি বালিকার বাল্য প্রেম। রাধারাণী তার এগারো বৎসর বয়সে রথের মেলায় মালা বিক্রি করতে গিয়ে অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলে। এক সহৃদয় ব্যক্তি তাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়। তারপর সময়ের স্রোত বয়ে যায়, রাধার জীবনে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে যায়। ৮ বৎসর পর রাধা আবার সেই মানুষটির দেখা পায় এবং বুঝতে পারে তারা পরস্পর পরস্পরকে মন দিয়ে বসে আছে। শেষে তাদের বিবাহ হয়। মধুরেন সমাপয়েৎ। এই হলো গল্প। বঙ্কিমের এই কাহিনি উপন্যাসের পূর্ণতা ও লক্ষণ পায়নি। ‘রাধারানী’কে উপন্যাসিকা বলা যেতে পারে। রোমান্টিক ঘরানার লেখা। কাহিনীর গতি সরল, কোন উত্থান পতন নেই। এটাই উপন্যাসিকাটির খামতি।

------------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারাণী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর; ‘রাধারাণী’ উপন্যাসের ভূমিকা।
২,৮৩৭.
রামনিধি গুপ্ত বাংলা সাহিত্যে কোনটির প্রবর্তন হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন?
  1. মর্সিয়া গান
  2. নাথ গান
  3. টপ্পা গান
  4. পাচাঁলি গান
সঠিক উত্তর:
টপ্পা গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টপ্পা গান
ব্যাখ্যা
• টপ্পা সঙ্গীত:
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ তবে বাংলা টপ্পা সর্বতোভাবে পাঞ্জাবি টপ্পার অনুকরণ নয়।
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্থানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম - গীতরত্ন (১৮৩২)।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

অন্যদিকে,
• কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য৷ মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি শেখ ফয়জুল্লাহ৷ তাঁর গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা (১৫৭০)।

• শিবের উপাশক এক শ্রেণীর যোগী সম্প্রদায় ছিল যাদের ধর্মের নাম ছিল নাথ ধর্ম। এই নাথ ধর্মের কাহিনিই বর্ণিত হয়েছে নাথ সাহিত্যে।  শেখ ফয়জুল্লাহ নাথ সাহিত্যের আদি কবি। উনার আখ্যানকাব্যের নাম “গোরক্ষ বিজয়”।

• আগে মঙ্গলকাব্যকেই “পাচাঁলি” নামে আখ্যায়িত করা হত। পরে, দীর্ঘ আখ্যানমূলক কাব্য পাঁচালি নামে পরিচিত হয়। পাঁচালি গানের রচয়িতাদের মধ্যে শক্তিশালী কবি ছিলেন দাশরথি রায়। 

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৮৩৮.
"লাল পলাশের ভস্মস্তূপে কিসের জ্বালা/ স্তব্ধ অধীর বজ্রগর্ভ মেঘের মতো?" পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
"লাল পলাশের ভস্মস্তূপে কিসের জ্বালা
স্তব্ধ অধীর বজ্রগর্ভ মেঘের মতো?" পঙক্তিদ্বয় আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'হাড়' কবিতার অংশ।  
- 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,
- মানচিত্র ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন
- কর্ণফুলী 
- ক্ষুধা ও আশা
- খসড়া কাগজ
- স্বপ্নশিলা 
- বিশৃঙ্খলা

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮৩৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'বিশ্ব পরিচয়' বইটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. জগদীশচন্দ্র বসু
  2. মেঘনাদ সাহা
  3. সি ভি রমন
  4. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ বসু
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'বিশ্ব পরিচয়' বইটি — সত্যেন্দ্রনাথ বসু উৎসর্গ করেন। 
- ‘বিশ্ব পরিচয়’ গ্রন্থ ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।

তাঁর অন্যান্য উৎসর্গকৃত কাব্য:
- ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী - কাদম্বরী দেবী। 
- মানসী - মৃণালিনী দেবী ( 'উপহার' কবিতায় ইঙ্গিত আছে)। 
- সোনার তরী - কবি-ভ্রাতা দেবেন্দ্রনাথ সেন। 
- কথা ও কাহিনী - জগদীশচন্দ্র বসু। 
- স্মরণ - মৃণালিনী দেবী। 
- পরিশেষ - অতুলপ্রসাদ সেন। 
- খাপছাড়া - রাজশেখর বসু। 
- আকাশ প্রদীপ - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত প্রভৃতি।
- পূরবী - আর্জেন্টাইন মহিলা ভিক্টোরিইয়া ওকাম্পো। 
- 'বউ ঠাকুরানীর হাট' উপন্যাসটি উৎসর্গ করেন সৌদামিনী দেবী। 

উল্লেখ্য,
- কাজী নজরুল ইসলামকে  উৎসর্গ করেছেন তাঁর 'বসন্ত' নাটকটি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'কালের যাত্রা' নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন।
- এছাড়াও তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেন 'তাসের দেশ' নাটক।
- ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে তাঁর রচিত ‘পূরবী’ কাব্যগ্রন্থাটি উৎসর্গ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আকাশ-প্রদীপ’ কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন। 
- কাজী নজরুল ইসলাম তার সঞ্চিতা কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৪০.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত কোন কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন?
  1. ক) ক্রন্দসী
  2. খ) উত্তরফাল্গুনী
  3. গ) স্বগত
  4. ঘ) তন্বী
সঠিক উত্তর:
ঘ) তন্বী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তন্বী
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর রচিত ‘তম্বী’ (১৯৩০) কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছেন।
• ‘তম্বী’ উৎসর্গপত্রে লিখেছেন: ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরণে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।’

⇒ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
• সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
⇒ কাব্য:  
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী।

⇒ গদ্যগ্রন্থ:
• স্বগত ,
• কুলায় ও কালপুরুষ।
এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
২,৮৪১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে?
  1. ভারতী
  2. সাধনা
  3. বঙ্গদর্শন
  4. অমৃতবাজার পত্রিকা
সঠিক উত্তর:
ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী
ব্যাখ্যা
• কবি-কাহিনী:
- 'কবি-কাহিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- 'ভারতী' পত্রিকায় পৌষ-চৈত্র, ১২৮৪ বঙ্গাব্দ (১৮৭৮ খ্রি.) সংখ্যায় এর কবিতাগুলি ছাপা হয়।
- ১৮৭৮ সালেই কবিতাগুলি নিয়ে 'কবি-কাহিনী' গ্রন্থ প্রকাশিত হলে গ্রন্থকার হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচয় আরম্ভ হয়।
- চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক এক কবি এবং নায়িকা 'নলিনী'।
- নলিনীর মৃত্যুর পর নায়ক কবির বিশ্বপ্রেমের উপলব্ধিতে কাব্যের পরিসমাপ্তি।
- মনে করা হয়, এ কাব্যের নায়ক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।
- কবিতার কাহিনিতে নাটকীয়তা নেই।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের রচনা।
- তবে বিন্যাস পয়ার ও ত্রিপদী উভয় ধরনের।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৪২.
কোনটি মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজীবনীমূলক রচনা?
  1. বিন্দু বিসর্গ
  2. আমার ছেলেবেলা
  3. জীবনস্মৃতি
  4. কুলসুম জীবনী
সঠিক উত্তর:
কুলসুম জীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলসুম জীবনী
ব্যাখ্যা
• কুলসুম জীবনী:
- 'কুলসুম জীবনী' মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- কুলসুম জীবনী গ্রন্থটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয়।
- লেখক 'আমার জীবনীর জীবনী কুলসুম জীবনী' নামে অভিহিত করেছেন।
- এটি মীর মশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী বিবি কুলসুমকে কেন্দ্র করে লিখিত যা বিবি কুলসুম সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

অন্যদিকে,
• নীলিমা ইব্রাহিমের আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ - বিন্দু বিসর্গ।
• 'জীবনস্মৃতি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
• ‘আমার ছেলেবেলা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আত্মজীবনী।

--------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৪৩.
দীনবন্ধু মিত্রের রচনা কোনটি?
  1. কবিতার কথা
  2. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  3. দ্বাদশ কবিতা
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ কবিতা
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্রের রচনা - দ্বাদশ কবিতা
- এটি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৮৭২ সালে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র: 
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে 'সংবাদ প্রভাকর', 'সংবাদ সাধুরঞ্জন' প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- 'নীলদর্পণ' তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- দ্বাদশ কবিতা,
- সুরধুনী কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৪৪.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রহসন?
  1. জামাই বারিক
  2. উভয় সঙ্কট
  3. গোড়ায় গলদ
  4. চক্ষুদান
সঠিক উত্তর:
গোড়ায় গলদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোড়ায় গলদ
ব্যাখ্যা
• ‘গোড়ায় গলদ’ প্রহসন:
- ‘গোড়ায় গলদ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি প্রহসন।
- প্রহসনটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয়।
- জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত "সংগীত সমাজ"-এ অভিনয়ের জন্য রবীন্দ্রনাথ এই প্রহসনটি রচনা করেন।
- এই প্রহসনের সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত রূপ হলো রবীন্দ্রনাথের অন্য আরেকটি নাটক "শেষরক্ষা"।

-----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। 
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় করেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এমন কর্ম আর করব না’ নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- কবির শেষ বয়সের প্রায় সব নাটকই শান্তিনিকেতনে রচিত।
- বলাকা কাব্যের জীবনতত্ত্বকেই কবি রূপ দিয়েছেন ‘ফাল্গুনী’ নাটকে।
 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো: 
- বিসর্জন,
- রাজ,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকবরী,
- তাসের দেশ।
 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ কৌতুক নাটক চিরকুমার সভা। তার অন্যান্য কৌতুক নাটক-
- বৈকুন্ঠের খাতা,
- গোড়ায় গলদ,
- শেষরক্ষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
‘জামাই বারিক’ দ্বীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন।
• রামনারায়ণ রচিত প্রহসন হচ্ছে- যেমন কর্ম তেমনি ফল, চক্ষুদান, উভয় সঙ্কট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং ‘গোড়ায় গলদ’ নাটক।
২,৮৪৫.
'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' আহমদ ছফা রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' উপন্যাস:
• আহমদ ছফার দুই খণ্ডে সমাপ্ত আত্মজৈবনিক উপন্যাস 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী'।
• আহমদ ছফা 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' উপন্যাসের প্রথম খণ্ডটিতে প্রেমজ অঙ্গীকার নিয়েই প্রেমের কথা বলেছেন।
• লেখক একেকটি নারী চরিত্রকে এমন জীবন্তভাবে উপস্থাপন করেছেন, নারীদের মনো-জগতের এমন উন্মোচন ঘটিয়েছেন; গ্রন্থটি পাঠ করলে মনে হবে জীবনের করুণতম অভিজ্ঞতার উৎস থেকেই জন্মলাভ করেছে এই সমস্ত চরিত্র।

--------------
আহমদ ছফার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• আহমদ ছফার উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- উদ্ধার,
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- অলাতচক্র,
- ওঙ্কার,
- গাভীবৃত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ।

• গল্পগ্রন্থ: নিহত নক্ষত্র।

• আহমদ ছফার কাব্যগ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- একটি প্রবীণ বটের কাছে প্রার্থনা,
- লেনিন ঘুমোবে এবার ইত্যাদি একাধিক কাব্যগ্রন্থের প্রণেতা তিনি।

উৎস: 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৪৬.
নিচের কোনটি সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণ কাহিনি?
  1. ক) রাশিয়ার চিঠি
  2. খ) দেশে-বিদেশে
  3. গ) পথে প্রবাসে
  4. ঘ) পশ্চিমের যাত্রী
সঠিক উত্তর:
খ) দেশে-বিদেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দেশে-বিদেশে
ব্যাখ্যা
•  সৈয়দ মুজতবা আলী, (১৯০৪-১৯৭৪)  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।

• গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি  উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:

ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায় ;

• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম ,
- শহ্র-ইয়ার;

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী এবং

ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম ।

• মুজতবা আলীর ডি.ফিল অভিসন্দর্ভ The Origin of Khojahs and Their Religious Life Today (১৯৩৬) বন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। তাঁর আরেকটি অনবদ্য গ্রন্থ পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

• সৈয়দ মুজতবা আলী ‘দেশে-বিদেশে’ গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। গ্রন্থখানি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি পাঠকচিত্ত জয় করতে সক্ষম হন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও  অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি। 

অন্যদিকে,
রাশিয়ার চিঠি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণ কাহিনি
পথে প্রবাসে - অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণ কাহিনি। 
'পশ্চিমের যাত্রী'- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণ কাহিনি। 

উৎস:  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৪৭.
চর্যাপদের টীকা রচনায় কে সন্ধ্যাভাষার সরলার্থ করেছেন?
  1. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 
  3. কৃতিচন্দ্র 
  4. মুনিদত্ত 
সঠিক উত্তর:
মুনিদত্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনিদত্ত 
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের টীকা রচনায় টীকাকার মুনিদত্ত সন্ধ্যাভাষার সরলার্থ করেছেন। এর ফলে চর্যাপদের তত্ত্বকথা সম্বন্ধে অদীক্ষিত ব্যক্তিও কিছু কিছু জ্ঞানার্জন করতে সমর্থ। 

• তবে চর্যাপদ প্রধানত সহজিয়া মতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও এতে হীনযান, মহাযান, কালচক্রযান, বজ্রযান, ব্রাহ্মণ্যতত্ত্ব ও নাথধর্মের নানা প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৮৪৮.
'মহাশ্মশান' কোন ঐতিহাসিক ঘটনা অবলম্বনে রচিত? 
  1. পলাশীর যুদ্ধ 
  2. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  3. বক্সারের যুদ্ধ 
  4. রাজমহলের যুদ্ধ 
সঠিক উত্তর:
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

•'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান।

​ মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৮৪৯.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. আগুনের পরশমণি
  2. সৌরভ
  3. শ্যামল ছায়া
  4. শ্রাবণ মেঘের দিন
সঠিক উত্তর:
শ্রাবণ মেঘের দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রাবণ মেঘের দিন
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদ:
- তার জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলায়।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' (১৯৭২)।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনিল বাগচীর একদিন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- এই সব দিনরাত্রি,
- আমার আছে জল,
- নক্ষত্রের রাত,
- ফেরা,
- বহুব্রীহি,
- গৌরীপুর জংশন,
- শ্রাবণ মেঘের দিন,
- দুই দুয়ারী,
- কোথাও কেউ নেই,
- বৃষ্টি বিলাস,
- বাদশাহ নামদার,
- মেঘের ওপর বাড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৮৫০.
জহির রায়হান কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. যশোর
  2. ফেনী
  3. বরিশাল
  4. মাগুড়া
সঠিক উত্তর:
ফেনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেনী
ব্যাখ্যা
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- তাঁর সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে 'নিগার পুরস্কার' লাভ করে।
- 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি 'আদমজি সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেন।

তাঁর পরিচালিত অন্য ছবিগুলো হলো:
- সঙ্গম,
- কাঁচের দেয়াল,
- আনোয়ারা,
- বেহুলা,

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো:
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৫১.
আহমদ ছফা রচিত ‘তানিয়া’ কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. অনুবাদ
  4. শিশুতোষ
সঠিক উত্তর:
অনুবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুবাদ
ব্যাখ্যা

১৯৪৩ সালে, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আহমদ ছফা
তিনি ছিলেন চিন্তাবিধ ও সাহিত্যিক।
'তানিয়া' ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত আহমদ ছফা রচিত অনুবাদ গ্রন্থ।

-জল্লাদ সময়
-দুঃখের দিনের দোহা তাঁর, কাব্য।

-দোলা আমার কনক চাপা,
-গো হাকিম আহমদ ছফার শিশুতোষ গ্রন্থ।

'নিহিত নক্ষত্র' তাঁর গল্পগ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 

২,৮৫২.
আত্মজা ও একটি করবী গাছ - গল্পের রচয়িতা?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) হাসান আজিজুল হক
  3. গ) হুমায়ূন আহমেদ
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খ) হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
আত্মজা ও একটি করবী গাছ গল্পটি রচনা করেন হাসান আজিজুল হক। এটি দেশভাগের পর সাম্প্রদায়িকতাকে কেন্দ্র করে রচিত। তার অন্যান্য গল্পের মধ্যে রয়েছে নামহীন গোত্রহীন, রোদে যাবো, পাতালে হাসপাতালে, জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
২,৮৫৩.
'পারস্য প্রতিভা' গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'পারস্য প্রতিভা' গ্রন্থের রচয়িতা - 'মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ'।

• মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ: 
- ১৮৯৮ সালের ২ মার্চ পাবনা জেলার শাহজাদপুরের ঘোড়াশালে তাঁর জন্ম। ১৯৭৪ সালের ২ নভেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
- আধুনিক বাঙালি মুসলমান লেখকদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম দার্শনিক ভাবনাসমৃদ্ধ প্রবন্ধ রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
- দর্শনের বিভিন্ন দুরূহ বিষয় সাবলীল বাংলা গদ্যে প্রকাশ করে তিনি প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
- তিনি প্রবন্ধ সাহিত্যে বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬০), নয়া জাতির স্রষ্টা হযরত মুহম্মদ গ্রন্থের জন্য দাউদ পুরস্কার (১৯৬৩) লাভ করেন

তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- পারস্য প্রতিভা (২ খণ্ড ১৯২৪, ১৯৩২),
- মানুষের ধর্ম্ম,
- কারবালা ও ইমামবংশের ইতিবৃত্ত,
- নয়া জাতির স্রষ্টা হযরত মুহম্মদ,
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ধারা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৮৫৪.
কোন কবি ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে মারা যান?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) সমর সেন
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) সতিনাথ ভাদুড়ী
সঠিক উত্তর:
গ) সোমেন চন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
- 'সোমেন চন্দ' ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে মারা যান।

• সোমেন চন্দ:
- তিনি ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী ও সাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে তিনি নিহত হন।
- তাঁর বিখ্যাত গল্প ‘ইঁদুর’ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বিভিন্ন গল্পে গণচেতনা ও অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বলেছেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প।
- কলকাতা থেকে বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প।
- সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৫৫.
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প?
  1. দিবারাত্রির কাব্য
  2. সরীসৃপ
  3. পুতুলনাচের ইতিকথা
  4. জননী
সঠিক উত্তর:
সরীসৃপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরীসৃপ
ব্যাখ্যা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা ইত্যাদি।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৫৬.
“পিপিড়ার পাখা ওঠে মরিবার তরে কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।” উক্তিটি মঙ্গলকাব্যের কোন শাখা থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

“পিপিড়ার পাখা ওঠে মরিবার তরে কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।” - উক্তিটি মঙ্গলকাব্যের চণ্ডীমঙ্গল শাখার কালকেতু-ফুল্লরা উপাখ্যান থেকে নেওয়া।
- উক্তিটি ফুল্লরা বলেছে তার স্বামী কালকেতুকে
--------------------------------
• চণ্ডীমঙ্গলের প্রথম খণ্ড: কালকেতু-ফুল্লরা উপাখ্যান:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য মূলত দুটি প্রধান কাহিনির সমন্বয়ে গঠিত—
• ব্যাধ কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, যা ‘আখেটিক খণ্ড’ নামে পরিচিত,
• এবং বণিক ধনপতি সদাগর ও খুল্লনার কাহিনি, যা ‘বণিক খণ্ড’ নামে অভিহিত।

- চণ্ডীমঙ্গলের প্রথম খণ্ডে দেবী চণ্ডীকে কেন্দ্র করে কাহিনি রচিত।
- নায়ক কালকেতু এবং নায়িকা ফুল্লরা।
- খল চরিত্র হিসেবে রয়েছে ভাঁড়ু-দত্ত ও মুরারী শীল।

- কাহিনী:
- কাহিনির সূচনা হয় শিবভক্ত নীলাম্বর শাপগ্রস্ত হয়ে মর্ত্যে আগমনের মাধ্যমে। নীলাম্বর কলিঙ্গ জনপদে কালকেতু নামে জন্মায় এবং তাঁর স্ত্রী ছায়া ফুল্লরা নামে জন্মগ্রহণ করে। মর্ত্যে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। কালকেতু বনের পশু শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে, কিন্তু তার অত্যাচারে পশুরা দেবী চণ্ডীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। চণ্ডী গুইসাপরূপে কালকেতুর সামনে উপস্থিত হয়ে শিকার প্রতিরোধ করে। কালকেতু শিকার না পেয়ে গুইসাপরূপী চণ্ডীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে হাটে চলে যায়। 
ফুল্লরা বাসায় ফিরে দেখে চণ্ডী সুন্দরী নারীমূর্তি ধারণ করে বসে আছে। এটি দেখে ফুল্লরা রেগে যায় এবং চোখ লাল হয়ে প্রতিবাদ করে বলে: “পিপিড়ার পাখা ওঠে মরিবার তরে কাহার ষোড়শী কন্যা আনিয়াছ ঘরে।”
পরে দেবী স্বরূপে ফিরে এসে ফুল্লরাকে পূজা প্রচারের প্রলোভন দেখান এবং কালকেতুকে দুটি উপহার দেন—মানিক অঙ্গুরীয় ও সাত ঘড়া সোনার মহর, যা বিক্রি করে গুজরাট বন কেটে নগর গঠন করতে নির্দেশ দেয়া হয়। কালকেতু নগর তৈরি করেন, কিন্তু লোক না থাকায় দেবী বন্যা প্রেরণ করে যাতে লোক আসে এবং বিনিময়ে চণ্ডীর পূজা করা হয়। কিছু মুসলমানও আসে, তবে তাদের পূজা বাধ্যতামূলক নয়। এরপর ভাড়-দত্ত নামে প্রতারক লোক আসে, যার কারণে কলিঙ্গ রাজা কালকেতুকে পরাজিত করে। দেবীর স্বপ্নাদেশে কালকেতু পুনরায় বাড়ি পৌঁছায় এবং অবশেষে সকলেই চণ্ডীর ক্ষমতা বুঝে তার পূজা প্রচার করতে থাকে।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৮৫৭.
'গুলে বকাওলী' কাব্যটি প্রথম বঙ্গানুবাদ করেন কে?
  1. দৌলত কাজী
  2. কবি নওয়াজিস খান
  3. মুহম্মদ কবীর
  4. দৌলত উজির বাহরাম খান
সঠিক উত্তর:
কবি নওয়াজিস খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি নওয়াজিস খান
ব্যাখ্যা
• গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮৫৮.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি কে?
  1. ক) শাহ মুহাম্মদ সগীর
  2. খ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. গ) কায়কোবাদ
  4. ঘ) আব্দউল হাকিম
সঠিক উত্তর:
গ) কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ। 
- তার প্রকৃত নাম- কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 
- অশ্রুমালা
- কুসুমকানন
- অমিয়ধারা 
- শিবমন্দির 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮৫৯.
'লখিন্দর' কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. ক) চন্ডীমঙ্গল
  2. খ) মনসামঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গলের প্রধান চরিত্র গুলো হলো- সাপের দেবী মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা। মনসামঙ্গলের অপর নাম পদ্মাপুরাণ। চন্ডীমঙ্গল মধ্যযুগের মঙ্গল কাব্যের সাহিত্য ধারা। চন্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রসমূহ- কালকেতু, ফুল্লরা, ভাড়ুদত্ত, মুরারি শীল। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২,৮৬০.
বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ 'শূন্যপূরাণের' রচয়িতা -
  1. শ্রীহর্ষ
  2. হলায়ূধ মিশ্র
  3. রামাই পণ্ডিত
  4. বড়ু চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
রামাই পণ্ডিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামাই পণ্ডিত
ব্যাখ্যা
• শূন্যপুরাণ:
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ এবং অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- ‘শূন্যপুরাণ’ বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য,
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ নামে শূন্যপুরাণের একটি অংশ আছে।
- তাতে মুসলিম পীর-গাজী কর্তৃক ব্রাহ্মণদের অত্যাচার থেকে সদ্ধর্মী তথা বৌদ্ধদের রক্ষা করার বিবরণ আছে।
- ভাষাগত বৈশিষ্ট্য থেকে কোনো কোনো পণ্ডিত এই অংশকে শূন্যপুরাণের পরবর্তীকালের রচনা বলে মনে করেন।
- তাঁদের মতে ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ অংশটি হিন্দু-মুসলমানের ধর্মসমন্বয়ের চেতনা থেকে পরে প্রক্ষিপ্ত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৬১.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা-
  1. লাঙল
  2. ধূমকেতু
  3. নবযুগ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা-
- ধূমকেতু (অর্ধসাপ্তাহিক) ,
- লাঙল (সাপ্তাহিক),
- নবযুগ (দৈনিক)।

• ‘ধূমকেতু’ পত্রিকা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল- "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু-"।
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা-
• 'দৈনিক নবযুগ’ পত্রিকা': 
- নবযুগ কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক পাতার একটি সান্ধ্য দৈনিক।
- পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। 
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
- পরে ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে এর সম্পাদক হন। 

• ‘লাঙ্গল’ পত্রিকা:
- নজরুলের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল সাপ্তাহিক লাঙ্গল পত্রিকা প্রকাশ (১৬ ডিসেম্বর ১৯২৫)।
- তিনি এ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলেন। এর প্রথম সংখ্যাতেই নজরুলের ‘সাম্যবাদী’ কবিতা সমষ্টি মুদ্রিত হয়।
- লাঙ্গল ছিল বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম শ্রেণিসচেতন সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- এতে প্রকাশিত ‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ দলে’র ম্যানিফেস্টোতে প্রথম ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপিত হয়।
- এ সময় নজরুল পেশাজীবী শ্রমিক-কৃষক সংগঠনের উপযোগী সাম্যবাদী ও সর্বহারা  কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৬২.
সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন! - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জ্ঞানদাস
  3. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন--
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন! - পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

- কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় ছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন কর্ম আর করব না নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও 'দুই বিঘা জমি' কবিতা।
২,৮৬৩.
হিন্দু ধর্মনুরাগীদের থেকে 'ঋষি' উপাধি লাভ করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়। তিনি হিন্দু ধর্মনুরাগীদের থেকে 'ঋষি' উপাধি লাভ করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

অন্যদিকে,
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে বলা হয় যুগ সন্ধিক্ষণের কবি।
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাহিত্য প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।
• ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৮৬৪.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকে জোহরা বেগমের স্বামীর নাম কী?
  1. দনুবাবু
  2. ইব্রাহিম কার্দি
  3. নজিবউদ্দৌলা
  4. কার ফরমার
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহিম কার্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহিম কার্দি
ব্যাখ্যা
রক্তাক্ত প্রান্তর:
- এটি মুনীর চৌধুরী রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
- ইতিহাস থেকে তিনি কাহিনি গ্রহণ করেননি, গ্রহণ করেছেন কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থ থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- এর চরিত্রগুলোর মধ্যে বিখ্যাত চরিত্র গুলো হচ্ছে ইব্রাহীম কার্দি, জোহরা, সুজাউদ্দৌলা, নজীবউদ্দৌলা, আবদালি প্রমুখ।
- নাটকে ইব্রাহীম কার্দির স্ত্রী জোহরা বেগম। 
- নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।’।  

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
২,৮৬৫.
১৮৬০ সালে প্রকাশিত নাটক কোনটি?
  1. কমলে কামিনী
  2. নীলদর্পণ
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. লীলাবতী
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- 'নীলদর্পণ' দীনবন্ধু মিত্রের শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনা।

- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।

- নীলদর্পণ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। মধুসূদন দত্ত A Native ছদ্মনামে 'Nil Durpan, or The Indigo Planting Mirror' নামে অনুবাদ করেছিলেন।প্রকাশ করেছিলেন রেভারেন্ড জেমস লং। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে।

• নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গোলক বসু,
- নবীন মাধব,
- রাইচরণ,
- তোরাপ,
- সাবিত্রী,
- সরলতা,
- ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
---------------
• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।
• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।
• দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারেনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৬৬.
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগে রচিত গ্রন্থ-
  1. গুলেবকাওলী
  2. প্রাকৃত পৈঙ্গল
  3. সায়াতনামা
  4. সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামান
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃত পৈঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃত পৈঙ্গল
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
• 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম 'শূণ্যপুরাণ' এবং এর 'কলিমা জালাল' বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুম্মা',
• হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'। 'সেক শুভোদয়া' পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক একটি কাব্য।

অন্যদিকে, 
• 'সায়াতনামা' অনুবাদ গ্রন্থের লেখক- মুজাম্মিল। 
• 'গুলেবকাওলী' অনুবাদ গ্রন্থের লেখক- নওয়াজিস খান, মুহম্মদ মুকীম। 
• 'সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামান' অনুবাদ গ্রন্থের লেখক- দোনা গাজী চৌধুরী, আলাওল, ইব্রাহিম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।
২,৮৬৭.
‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।‘- কোন আন্দোলনের স্লোগান?
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) শিক্ষা আন্দোলন
  3. গ) গণনাট্য আন্দোলন
  4. ঘ) বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ঘ) বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার  মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক কুসংস্কার ও অন্ধ শাস্ত্রানুগত্য থেকে মানুষকে মুক্ত করা।
- এ উদ্দেশে তাঁরা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- তাঁদের সে আন্দোলনের বার্তা সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১৯২৬ সালে তাঁরা প্রকাশ করেন সমাজের মুখপত্র শিখা। মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও শিখার সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন তাঁরা ‘শিখাগোষ্ঠী’ নামে পরিচিত ছিলেন।
- এ গোষ্ঠী তখন ঢাকায় বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন শুরু করে।
- তাঁদের আন্দোলনের মূলকথা ছিল ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।


তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৬৮.
'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়' কোন ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন?
  1. ক) পরশুরাম
  2. খ) বীরবল
  3. গ) টেকচাঁদ ঠাকুর
  4. ঘ) বনফুল
সঠিক উত্তর:
ঘ) বনফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বনফুল
ব্যাখ্যা
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
• লেখক হিসেবে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় হাজারেরও বেশি কবিতা, ৫৮৬টি ছোট গল্প, ৬০টি উপন্যাস, ৫টি নাটক, জীবনী ছাড়াও অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার রচনাবলীসমগ্র ২২ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে ।
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'বনফুল'।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় নাটক রচনাতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রহসন, একাঙ্কিকা, চিত্রনাট্য, নাটিকা ছাড়াও তিনি বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনচরিত অবলম্বন করে নাটক রচনা করেন, যাতে পাওয়া যায় তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার অপর একটি ভিন্ন রূপের পরিচয়।

অন্যদিকে,
প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর।
রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম পরশুরাম।
প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম বীরবল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮৬৯.
কে চর্যাপদের কবি নন?
  1. দারিকপা
  2. তিলোপা
  3. গুণ্ডরীপা
  4. তাড়কপা
সঠিক উত্তর:
তিলোপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলোপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন - তিলোপা।

চর্যাপদের কবিগণ:

চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৮৭০.
মৈয়মনসিংহ গীতিকার পালাগুলোর মধ্যে 'মহুয়া' পালাটি কে রচনা করেন?
  1. মনসুর বয়াতী
  2. দ্বিজ কানাই
  3. দ্বিজ ঈশান
  4. নয়ানচাঁদ ঘোষ 
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া পালা':
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি — দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
"কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ী।।
তুমি হও গহীন গাঙ্গ আমি ডুব্যা মরি।।"

উল্লেখ্য,
• চন্দ্রাবতী রচিত কয়েকটি পালা হচ্ছে - মলুয়া, দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।
• ‘চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র’ নয়ানচাঁদ ঘোষ প্রণীত পালা। 
• ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।
• 'দেওয়ানা মদিনা' - পালার লেখক মনসুর বয়াতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৮৭১.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. বিষ্ণু দে
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৭২.
জহির রায়হান পরিচালিত 'জীবন থেকে নেওয়া' চলচ্চিত্রটির অন্তর্নিহিত পটভূমি ছিলো-
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলন
  3. গ) দেশ ভাগ
  4. ঘ) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
- 'জীবন থেকে নেওয়া' জহির রায়হান পরিচালিত একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র যা ১৯৭০ সালের ১০ এপ্রিল মুক্তি পায়৷
- চলচ্চিত্রটি পারিবারিক আবহে নির্মিত হলেও এর অন্তর্নিহিত পটভূমি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম
 
জীবন থেকে নেয়া ছবিতে প্রতীকী কাহিনীর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

সংসারে এক নারী ছিল, যার সিদ্ধান্তের ওপরে কোনো কথা বলা যেত না। তিনি অত্যাচার করতেন, কথা বলতে দিতেন না, গান করতেও দিতেন না। প্রতিবাদ করলে অত্যাচারের মাত্রা যেত বেড়ে। পশ্চিম পাকিস্তানের স্বৈরাচার সরকারের অত্যাচারকে প্রতীক করে নির্মাতা জহির রায়হান সেই ১৯৭০ সালে বানিয়েছিলেন ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবিটি।


তাই 'জীবন থেকে নেওয়া' চলচ্চিত্রটির অন্তর্নিহিত পটভূমি হবে  - বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।


জহির রায়হান পরিচালিত অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে:
- Let There Be Light
- Stop Genocide
- কখনো আসেনি
- কাজল
- কাঁচের দেয়াল
- বেহুলা
- আনোয়ারা
- সঙ্গম
- বাহানা প্রভৃতি।
 
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো)
২,৮৭৩.
আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত 'মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা' একটি-
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. অনুবাদ কবিতা
  4. ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
ছোটগল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ একজন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চবিবশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন। 

আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস-
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,
- অ-তে অজগর,
- কলকাতা, কলকাতা,
- পোড়ামাটির কাজ,
- হে সংসার হে লতা।

তাঁর রচিত ছোটগল্প-
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

প্রবন্ধ-
- বিবেচনা-পুনর্বিবেচনা,
- দশ দিগন্তের দ্রষ্টা,
- নির্বাচিত প্রবন্ধ,
- করতলে মহাদেশ,
- আমার বিশ্বাস।

অনুবাদ কবিতা:
- মাতাল মানচিত্র 
- বিদেশী প্রেমের কবিতা 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর,বাংলাপিডিয়া।]
২,৮৭৪.
বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা নয় কোনটি?
  1. উৎকণ্ঠিতা
  2. খণ্ডিতা
  3. অভিসারিকা
  4. প্রেমকণ্ঠিতা
সঠিক উত্তর:
প্রেমকণ্ঠিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমকণ্ঠিতা
ব্যাখ্যা
⇒ বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
• যে নায়িকা অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি এবং যাঁর রতির মূলে আছে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি এবং কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে বলা হয় সমর্থা নায়িকা। 
• বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি - সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
• বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।

যথা:
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা,
- স্বাধীনভর্তৃকা।

• অতএব, বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা নয় - প্রেমকণ্ঠিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮৭৫.
"যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের-মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা।" পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে? 
  1. জীবনানন্দ দাশ 
  2. আল মাহমুদ 
  3. ফররুখ আহমেদ 
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ 
ব্যাখ্যা
• "যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের-মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা।" পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।

• এটি তার 'মহাপৃথিবী' কাব্যগ্রন্থের "আট বছর আগে একদিন" কবিতার একটি পঙ্‌ক্তি।

: • জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও 'মহাপৃথিবী' কাব্যগ্রন্থ। 
২,৮৭৬.
বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তনে কোন পত্রিকাটির ভূমিকা সবচেয়ে বেশী?
  1. শিখা
  2. সংবাদ প্রভাকর
  3. সবুজপত্র
  4. বঙ্গদর্শন 
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা

• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- 'সবুজপত্র' পত্রিকা ১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত বিশিষ্ট সাহিত্য পত্রিকা।
- এটি বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ১৩ বছর চলে।
- এটি চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৮৭৭.
‘দেখ মা এবার দুয়ার খুলে/ গলে গলে এল মা/ তোর হিন্দু-মুসলমান দু ছেলে’ গানটি রচনা করেন কে?
  1. ক) লালন শাহ
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি বাংলা গানের সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন।
- 'মোদের গরব মোদের আশা আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান। তিনি সুরকার হিসেবে প্রসিদ্ধি অর্জন করেন। 'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।
- অতুলপ্রসাদ প্রেম, ভক্তি, ভাষাপ্রীতি, দেশপ্রেম প্রভৃতি বিষয়ভিত্তিক বহু গান রচনা করেছেন।
- ‘দেখ মা এবার দুয়ার খুলে/ গলে গলে এল মা/ তোর হিন্দু-মুসলমান দু ছেলে' দেশাত্মবোধক গানটি রচনা করেন- অতুলপ্রসাদ সেন ।
- গানটিতে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যের সুর আছে। 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
২,৮৭৮.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ খোলা হয়- 
  1. ১৮০০ সালে
  2. ১৮০১ সালে
  3. ১৮০২ সালে 
  4. ১৮০৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
ব্যাখ্যা

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালের ৪মে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

- নবনিযুক্ত ইউরোপীয় আমলাদের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি সাধনই ছিল এ কেন্দ্রের উদ্দেশ্য। 
-  ১৮০১ সালের ২৪শে নভেম্বর কলেজে বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রথম অধ্যক্ষ হন পাদ্রী উইলিয়াম কেরী। 
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ উইলিয়াম কেরী এবং তাঁর দুই সহকারী রামরাম বসু ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ছাড়াও আরো কয়েকজন বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠ্যপোযোগী গ্রন্থ রচনা করেন।

তথ্যসূত্র: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যবই- এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৮৭৯.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সর্বশেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. একটি কালো মেয়ের কথা
  2. কালিন্দী
  3. জলসাঘর
  4. পঞ্চপুণ্ডলী
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- জলসাঘর,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮৮০.
'তরঙ্গভঙ্গ' নাটকটি কার সৃষ্টিকর্ম? 
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. শেখ ওয়াজেদ আলী 
  3. শওকত ওসমান 
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

'তরঙ্গভঙ্গ' নাটকটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচিত। 
-------------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ  ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন ফেনী হাইস্কুলে।
- তাঁর প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে।
- লেখায় তিনি গ্রামীণ সমাজ, লোকায়ত সংস্কার, ধর্মীয় ভণ্ডামি এবং চারিত্রিক পতন চিত্রায়ন করেছেন।
- তিনি বাংলাদেশের ‘একুশে পদক’ (মরণোত্তর, ১৯৮৩) লাভ করেন।
- তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১০ অক্টোবর ১৯৭১, প্যারিসে।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত ছোট গল্প:
- নয়নচারা;
- একটি তুলসি গাছের কাহিনী।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা;
- কাঁদো নদী কাঁদো;
- লালসালু।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত নাটক:
- বহিপীর;
- তরঙ্গভঙ্গ;
- সুরঙ্গ;
- উজানে মৃত্যু।
--------------------------
'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত ‘তরঙ্গভঙ্গ’ একটি অভিব্যক্তিবাদী নাটক।
- নাটকটি গ্রামীণ পটভূমিতে দারিদ্র্য ও যন্ত্রণার কারণে আমেনা নামের এক নারীর স্বামী হত্যার ঘটনা এবং এর পেছনের সামাজিক দায় ও বিচার প্রক্রিয়ার মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তুলে ধরে। নাটকটি খুনের কারণ অনুসন্ধানের চেয়ে চরিত্রের মানসিক টানাপড়েন, বিচারকের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দোষ-নির্দোষের প্রশ্নকে গুরুত্ব দিয়েছে, যা গ্রামীণ জীবনের অসহায়ত্ব ও সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

২,৮৮১.
‘তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ’ কাব্যগ্রন্থ কে রচনা করেন ?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা

বিষ্ণু দে, একজন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
বিষ্ণু দে রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস (১৯৩৩),
- চোরাবালি (১৯৩৭),
- সাত ভাই চম্পা (১৯৪৪),
- রুচি ও প্রগতি (১৯৪৬),
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ (১৯৫২),
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার (১৯৫৩),
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ (১৯৫৮),
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত (১৯৬৩),
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্পসাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা (১৯৬৬),
- মাইকেল রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য জিজ্ঞাসা (১৯৬৭)
- In the Sun and the Rain (১৯৭২),
- উত্তরে থাকো মৌন (১৯৭৭),
- সেকাল থেকে একাল (১৯৮০),
- আমার হূদয়ে বাঁচো (১৯৮১) ইত্যাদি।

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

২,৮৮২.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন কে?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
-  ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম। 
- ভাষা বিষয়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘অরিজিন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’।
- শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমারের স্বীকৃতি আছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৮৮৩.
'বই পড়া' প্রবন্ধের রচিয়তা -
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
- 'বই পড়া' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
- এটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থ থেকে নির্বাচন করা হয়েছে। 

প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ: 
- তেল নুন লকড়ী, 
- বীরবলের হালখাতা, 
- নানাকথা, 
- ভাষার কথা, 
- আমাদের শিক্ষা, 
- রায়তের কথা, 
- নানাচর্চা, 
- প্রবন্ধ সংগ্রহ। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- চার ইয়ারী কথা, 
- আহুতি, 
- নীললোহিত, 
- অনুকথা সপ্তক, 
- ঘোষালে ত্রিকথা। 

কাব্যগ্রন্থ: 
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৮৪.
"কী করিব লয়ে কিছু এর রেখে যাই,
কিছু লই সাথে।" - কোন কবির রচনা?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১ - ১৯৪১):
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালির কাছে বিশেষ একটি নাম। বাংলা সাহিত্যের তিনি একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং তাঁর বিশাল সাহিত্য কীর্তির জন্য তিনি বহু বাঙালির রক্তস্রোতে আজও মিশে আছেন।

তিনি ছিলেন একাধারে বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতকার, চিত্রশিল্পী, নাট্যকার, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক। এক কথায় বহুমুখী প্রতিভার সম্বন্বয় ঘটেছিল তাঁর বর্ণময় দীর্ঘ কর্মজীবনে।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাংলা ছোট গল্পের জনক বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘গীতাঞ্জলি’ অবলম্বনে ‘Song Offerings’ ১৯১২সালে প্রকাশিত হয়। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার ইংরেজি ‘গীতাঞ্জলি’ বা ‘Song Offerings’ গ্রন্থের জন্য।
- বৃটিশ সরকার ১৯১৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নাইটহুড উপাধি প্রদান করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৩৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ডি. লিট্ উপাধি প্রদান করেন।

প্রশ্নের লাইন দুটি কবির 'যেতে নাহি দিব' কবিতার অন্তর্গত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বিবিসি বাংলা প্রতিবেদন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,৮৮৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. কালান্তর
  2. বিচিত্রপ্রবন্ধ
  3. বিবিধপ্রসঙ্গ
  4. সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
বিবিধপ্রসঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবিধপ্রসঙ্গ
ব্যাখ্যা
• ‘বিবিধপ্রসঙ্গ’ প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ‘বিবিধপ্রসঙ্গ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রকাশিত প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৮৮৩ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটিতে মোট ৩৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।

• প্রবন্ধগ্রন্থটির কিছু উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ হলো:
- মনের বাগান-বাড়ি
- গরীব হইবার সামর্থ্য
- দয়ালু মাংসাশী
- অনধিকার 
- অধিকার
- বেশী দেখা ও কম দেখা
- বসন্ত ও বর্ষা
- প্রাতঃকাল ও সন্ধ্যাকাল
- আদর্শ প্রেম
- বন্ধুত্ব ও ভালবাসা
- আত্মসংসর্গ
- বধিরতার সুখ।

---------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্রপ্রবন্ধ (১৯০৭; প্রবন্ধের সংকলন),
- সাহিত্য (১৯০৭; প্রবন্ধের সংকলন),
- মানুষের ধর্ম,
- কালান্তর (১৯৩৭; প্রবন্ধের সংকলন),
- সভ্যতার সংকট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘বিবিধপ্রসঙ্গ’ প্রবন্ধগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৮৮৬.
'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কোনটি?
  1. মৃণালিনী
  2. কপিলা 
  3. তিলোত্তমা
  4. বিমলা 
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমা
ব্যাখ্যা

• 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৮৮৭.
বৈষ্ণব কবিতার সর্বপ্রথম সংকলনটি কে তৈরি করেন?
  1. শ্রীচৈতন্যদেব
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. বাবা আউল মনোহর দাস
সঠিক উত্তর:
বাবা আউল মনোহর দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবা আউল মনোহর দাস
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব সাহিত্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ ধারা হলো বৈষ্ণব সাহিত্য।
- মধ্যযুগে ১৬৫ জনের মতো কবি বৈষ্ণব সাহিত্য রচনা করেন।
- এদের রচিত বৈষ্ণব কবিতার সর্বপ্রথম সংকলন করেন বাবা আউল মনোহর দাস। তাঁর বৈষ্ণব কবিতা সংকলের নাম পদসমুদ্র।
- এতে প্রায় পনের হাজার বৈষ্ণব কবিতা সংকলিত হয়েছে। ষোড়শ শতকের শেষের দিকে তিনি এগুলো সংগ্রহ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৮৮৮.
“মেঘদূত” কার রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. খ) সোমেন চন্দ
  3. গ) সত্যেন সেন
  4. ঘ) শহীদুল্লাহ কায়সার
সঠিক উত্তর:
ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৮৫৩-১৯৩১):
- প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পন্ডিত।
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধি পান।

তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থঃ
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- কাঞ্চন মালা,
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা,
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচিন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৮৮৯.
আবদুল হাকিম কোন শতাব্দীর কবি? 
  1. পঞ্চদশ শতাব্দী
  2. ষোড়শ শতাব্দী
  3. সপ্তদশ শতাব্দী
  4. অষ্টাদশ শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
সপ্তদশ শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তদশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা
আবদুল হাকিম: 
- আবদুল হাকিম ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রামের সন্দীপের ভুলুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবদুল হাকিম সতেরো শতেকের একজন কবি। 
- তিনি ৮ টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। 
যথা: 
• লালমতি সয়ফুল মুলুক, 
• নূরনামা, 
• কারবালা, 
• ইউসুফ জোলেখা, 
• নসীহৎনামা, 
• শহরনামা, 
• শিহাবউদ্দিননামা এবং 
• চারি মোকামভেদ। 

- আবদুল হাকিমের ‘নূরনামা’ কাব্যের বিখ্যাত উক্তি: 
"যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় না জানি"। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (মাহবুবুল আলম), বাংলা সাহিত্যের কথা (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ) এবং লাল নীল দীপাবলি।
২,৮৯০.
মর্সিয়া সাহিত্যে হিন্দু কবি হলেন-
  1. রামপ্রসাদ সেন 
  2. রামনিধি গুপ্ত 
  3. রাধারমণ গোপ
  4. রাধামন গোপ
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম 'জয়নাবের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ।তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৮৯১.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গ্রন্থ 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর-খৈয়াম' এর ভূমিকা লেখেন কে?
  1. ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• ইরানের জীবন বাদী কবি ওমর খৈয়ামের রুবাই বা কবিতা অনুবাদ করেন কাজী নজরুল ইসলাম।  
- ১৯৫৯ সালের ডিসেম্বরে 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থকারে প্রকাশিত হয়।  
- সৈয়দ মুজতবা আলী এর ভূমিকা লেখেন। 

• সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি  উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো: 

ভ্রমণ কাহিনী:
- দেশে বিদেশে
- জলে ডাঙ্গায়

রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী

ছোটগল্প:
- চাচা কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২,৮৯২.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের কোন গ্রন্থটি সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত?
  1. ক) বত্রিশ সিংহাসন
  2. খ) হিতোপদেশ
  3. গ) রাজাবলী
  4. ঘ) প্রবোধচন্দ্রিকা
সঠিক উত্তর:
খ) হিতোপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হিতোপদেশ
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের 'হিতোপদেশ' গ্রন্থটি সংস্কৃত 'পঞ্চতন্ত্র' থেকে অনূদিত

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ছিলেন উইলিয়াম কেরির অধিনস্থ বাংলা বিভাগের প্রধান-পন্ডিত।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলো হলো: 
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), 
- হিতোপদেশ (১৮০৮), 
- রাজাবলী (১৮০৮) এবং 
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)। 
- এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন বেদান্তচন্দ্রিকা।


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২,৮৯৩.
নিম্নের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতিপ্রাকৃত রসের ছোটগল্প নয়?
  1. ক) ক্ষুধিত পাষাণ
  2. খ) কঙ্কাল
  3. গ) মণিহার
  4. ঘ) যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
সঠিক উত্তর:
ঘ) যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৪ টি অতিপ্রাকৃত রসের গল্প রয়েছে। 
সেগুলো হচ্ছে - 
- ক্ষুধিতে পাষাণ
- নিশীতে
- মণিহার
- কঙ্কাল 

অন্যদিকে,
যজ্ঞস্বরের যজ্ঞ - তাঁর সমাজ সমস্যামূলক ছোটগল্প। 
অনুরূপ অন্যান্য সমাজ সমস্যামূলক ছোটগল্প হচ্ছে, অনধিকার প্রবেশ, দেনাপাওনা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮৯৪.
বাংলা সাহিত্যের “দুঃখবাদী কবি” কে?
  1. ক) গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. খ) যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত বাংলা সাহিত্যে “দুঃখবাদী কবি” হিসেবে পরিচিত। তার কাব্যঃ মরীচিকা, মরুমায়া, মরুশিখা, সায়ম, ত্রিযামা, নিশান্তিকা ইত্যাদি। উল্লেখ্য যে, কাজী নজরুল লিখেছিলেন - মরুভাস্কর কাব্য, যা মুহম্মদ (স.) এর জীবনী নিয়ে লেখা।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-মোহসীনা নাজিলা
২,৮৯৫.
চর্যাপদের ভাষাকে কে বাংলায় প্রতিপন্ন করেছেন?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. বিধু শেখর শাস্ত্রী
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. প্রবোধকুমার বাগচী
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
 চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

চর্যপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।
• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৮৯৬.
"মানুষের ধর্ম" প্রবন্ধটি রচনা করেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. আবদুল হাই
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধ:
- বিবিধ প্রবন্ধ,
- বিচিত্রপ্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম,
- সভ্যতার সংকট,
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,৮৯৭.
কাজী নজরুল ইসলামের কয়টি বই বাজেয়াপ্ত করা হয়?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৪টি
  4. ৩টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ:
১৯২২ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়।
গ্রন্থগুলো হচ্ছে -
- যুগবাণী,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙ্গার গান,
- প্রলয় শিখা ও
- চন্দ্রবিন্দু।

• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম ‘যুগবাণী’।
- ১৯২২ সালে ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
- তৎকালীন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ‘যুগবাণী’কে একটি ভয়ংকর বই হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়, লেখক বইটির মাধ্যমে উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রচার করছেন।
- ‘ক্রীতদাস মানসিকতার’ ভারতীয় জনগণকে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে শাসনভার দখলের মন্ত্রণা জোগাচ্ছেন।
- ‘নবযুগ’ পত্রিকায় লেখা কাজী নজরুল ইসলামের কয়েকটি নিবন্ধনের সংকলন ‘যুগবাণী’।

• বিষের বাঁশি গ্রন্থটি কাব্যগ্রন্থ হিসাবে প্রথম বাজেয়াপ্ত হয়।
- এটি ১৯২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত হয় এবং ২৪ অক্টোবরে নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

উৎস: নিষিদ্ধ নজরুল, শিশির কর; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৮৯৮.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সৃষ্ট চরিত্র নয় কোনটি?
  1. রাজলক্ষ্মী
  2. ব্রজরাজ
  3. রাজসিংহ
  4. কমল
সঠিক উত্তর:
রাজসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজসিংহ
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সৃষ্ট চরিত্র নয় রাজসিংহ।

• ‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
• ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
• বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
• ‘রাজসিংহ' উপন্যাসের চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞাপনে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, 'আমি পূর্বে কখনও ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখি নাই। ‘দুর্গেশনন্দিনী' বা ‘চন্দ্রশেখর' বা 'সীতারাম'কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যাইতে পারে না। এই প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখিলাম।
• 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।

• উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো:
- ঔরঙ্গজেব,
- রাজসিংহ,
- জেবউন্নিসা,
- উদিপুরী। 
 
অন্যদিকে,
• বড়দিদি:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস 'বড়দিদি' (১৯০৭)।
- ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। 
- একজন মানুষের শুধুমাত্র এই বড়দিদি নামটির ওপর কী ধরনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকতে পারে তা খুব স্পষ্টভাবেই অনুভব করতে পারা যায় এই উপন্যাসের দ্বারা।

- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মাধবী, সুরেন্দ্রনাথ, ব্রজরাজ, প্রমীলা।

-------------------------
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র 'ইন্দ্রনাথ'।
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।

- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।

--------------------------
• 'শেষপ্রশ্ন' উপন্যাস:
- 'শেষপ্রশ্ন' (১৯৩১) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিতর্কপ্রধান ও সমস্যামূলক উপন্যাস।
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মূল উপন্যাস ধারা থেকে কিছুটা পৃথক। 

- উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো: শিবনাথ, মনোরমা, অজিত, কমল, নীলিমা, আশুবাবু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৮৯৯.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. যুগবাণী
  3. পঞ্চভূত
  4. কালান্তর
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
ব্যাখ্যা

 'যুগবাণী' প্রবন্ধ সংকলন:
- 'নবযুগ' পত্রিকায় লেখা কাজী নজরুল ইসলামের কয়েকটি প্রবন্ধের সংকলন 'যুগবাণী'।
- নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থ যুগবাণী বাজেয়াপ্ত হয় ২৩ নভেম্বর ১৯২২।
- একই দিনে নজরুলকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে কলকাতায় আনা হয়।
- বিচারাধীন বন্দি হিসেবে ১৯২৩ সালের ৭ জানুয়ারি নজরুল আত্মপক্ষ সমর্থন করে চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহোর আদালতে যে জবানবন্দী প্রদান করেন, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তা ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ নামে সাহিত্য-মর্যাদা পেয়ে আসছে। ১৬ জানুয়ারি বিচারের রায়ে নজরুল এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ-গ্রন্থ:
- তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা।
- রাজবন্দীর জবানবন্দী;
- যুগবাণী;
- রুদ্রমঙ্গল;
- দুর্দিনের যাত্রী’।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধ- কালান্তর, পঞ্চভূত।
• আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ রচিত প্রবন্ধ- পদ্মাবতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৯০০.
'মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব।'- উক্তিটি কোন রচনার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঘরে-বাইরে
  2. গোরা
  3. সভ্যতার সংকট
  4. মুক্তধারা
সঠিক উত্তর:
সভ্যতার সংকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সভ্যতার সংকট
ব্যাখ্যা
• 'সভ্যতার সংকট':
- 'সভ্যতার সংকট' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ গদ্যরচনা।
- এই ক্ষুদ্র কিন্তু অসামান্য প্রবন্ধে ইউরোপীয় সভ্যতা ও ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের তীব্র সমালোচনা ও মানবতার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশিত।
- 'ঐ মহামানব আসে' গানটি এই পুস্তিকার অন্তর্ভুক্ত।
- তাছাড়া এখানেই তিনি বলেছেন: 'মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।