বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ২৭ / ২১১ · ২,৬০১২,৭০০ / ২১,১৩২

২,৬০১.
'দেশে বিদেশে' গ্রন্থে কোন শহরের বর্ণনা সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠেছে? 
  1. প্যারিস 
  2. কাবুল 
  3. অসলো 
  4. রোম 
সঠিক উত্তর:
কাবুল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবুল 
ব্যাখ্যা
 • দেশে বিদেশে:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- নিজে বিভিন্ন দেশে বিশেষত কাবুলে অবস্থান ও ভ্রমণ করে যে বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন, তার পরিচয় আছে এই গ্রন্থে।
- এর ভাষা সহজ, উপস্থাপনায় সাবলীলতা ও আড্ডার মেজাজ আছে।
- রাজনৈতিক ঝোড়ো হাওয়া, সাধারণ মানুষের জীবন, সাংস্কৃতিক জীবনের নানা পরিচয়, অপরিচিত দেশের নানা বৈশিষ্ট্য সব ফুটে  উঠেছে এক অপূর্ব আন্তরিক ভঙ্গিতে।
- গ্রন্থটির রচনাশৈলী অসাধারণ বলে প্রথম গ্রন্থেই মুজতবা আলী পাঠকহৃদয় জয় করেন।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬০২.
'কল্লোল' পত্রিকাটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯৩৩ সালে
  4. ১৯৩৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা
• কল্লোল — পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
 
• 'কল্লোল' পত্রিকা:
 অতি আধুনিক লেখকগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে এই পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল। এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

• 'কল্লোল' পত্রিকার লেখক ছিলেন — অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম ও মোহিতলাল মজুমদার প্রমুখ।
 
উৎস:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬০৩.
গ্রীক ট্রাজেডি ‘ইডিপাস’ বাংলায় অনুবাদ করেন -
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. কবীর চৌধুরী
  3. হেলাল হাফিজ
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
ইডিপাস:
- ইডিপাস বাংলা সাহিত্যের একটা গুরুত্বপূর্ণ নাটক। বিশ্ববিখ্যাত নাট্যকার সফোক্লিস গ্রিক ভাষায় এ নাটকটা রচনা করেন।
- আর এটা বাংলায় অনুবাদ করেন সৈয়দ আলী আহসান।
- এটি একটি ট্র্যাজেডি নাটক।

সৈয়দ আলী আহসান:
- ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আলী হামেদ ছিলেন একজন স্কুল ইন্সপেক্টর।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ।
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত।
- সহসা সচকিত।
- উচ্চারণ।
- আমার প্রতিদিনের শব্দ।
- সমুদ্রেই যাবো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬০৪.
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীর জন্মস্থান কোথায়?
  1. ক) গাজীপুর
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) ব্রাহ্মণবাড়ীয়া
  4. ঘ) যশোর
সঠিক উত্তর:
খ) কুমিল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
- নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী, (১৮৩৪-১৯০৩) জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।

 [উৎস: বাংলাপিডিয়া]
২,৬০৫.
কালকেতু ও ফুল্লরা —বিখ্যাত এ চরিত্র দুটি কোথায় পাওয়া যায়?
  1. ক) ধর্মমঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) চণ্ডীমঙ্গল
  4. ঘ) মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
গ) চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি চতুর্দশ শতকের কবি।
চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ তিনি ষোল শতকের কবি।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২,৬০৬.
'জীবন এত ছোট ক্যানে' এই উক্তিটি কোন উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. ক) হাসুলি বাঁকের উপকথা
  2. খ) কবি
  3. গ) গনদেবতা
  4. ঘ) আরোগ্য নিকেতন
সঠিক উত্তর:
খ) কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কবি
ব্যাখ্যা

কবি উপন্যাসটিতে ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করার কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে। এটি তারাশঙ্করের একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
এই উপন্যাসের 'জীবন এত ছোট ক্যানে' সংলাপটি ক্লাসিক মর্যাদা পেয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

 

 

২,৬০৭.
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মূলত কী হিসেবে পরিচিত?
  1. প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক
  2. কবি ও রাজনীতিবীদ
  3. রাজনীতিবীদ ও সাংবাদিক
  4. সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক
সঠিক উত্তর:
প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক
ব্যাখ্যা
• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক হিসেবে সর্বসকলের কাছে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- অনতিক্রান্তবৃত্ত,
- শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ,
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ,
- বাঙালি কাকে বলি,
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে,
- বৃত্তের ভাঙা-গড়া,
- নেতা জনতা ও রাজনীতি,
- ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি,
- বাঙালীর জাতীয়তাবাদ,
- গণতন্ত্রের সন্ধানে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ।

• তাঁর রচিত ছোটদের গল্প:
- দরজাটা খোলো।

• তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস:
- বাবুলের বেড়ে ওঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
২,৬০৮.
বাংলাদেশের 'ফোকলোর সংগ্রহমালা' সম্পাদনা করেন-
  1. ক) হুমায়ুন কবির
  2. খ) সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) শামসুজ্জামান খান
সঠিক উত্তর:
ঘ) শামসুজ্জামান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
শামসুজ্জামান খান হলেন একজন বাংলাদেশী অধ্যাপক, লোক সংস্কৃতি ও পল্লীসাহিত্য গবেষক এবং বাংলা একাডেমির প্রাক্তন মহাপরিচালক। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কর্ম হল 'বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা' শিরোনামে ৬৪ খণ্ডে ৬৪ জেলার লোকজ সংস্কৃতির সংগ্রহসালা সম্পাদনা এবং ১১৪ খণ্ডে বাংলাদেশের 'ফোকলোর সংগ্রহমালা' সম্পাদনা। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।
২,৬০৯.
'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যে কয়টি উপাখ্যান বর্ণিত হয়েছে?
  1. দুইটি 
  2. তিনটি 
  3. চারটি 
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি 
ব্যাখ্যা

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬১০.
'অমল' কোন নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. অচলায়তন
  2. রক্তকরবী
  3. কালের যাত্রা
  4. ডাকঘর
সঠিক উত্তর:
ডাকঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাকঘর
ব্যাখ্যা

'ডাকঘর' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক।
- বালক 'অমল' এই নাটকের নায়ক।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এর গদ্য লিরিক।"
- 'ডাকঘর' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অমল, সুধা, ঠাকুর্দা প্রমুখ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রূপক-সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব,
- রাজা, 
- ডাকঘর, 
- অচলায়তন, 
- ফাল্গুনী, 
- গুরু (১৯১৮): এটি অচলায়তনের সংক্ষিপ্ত রূপ।
- অরূপরতন, 
- মুক্তধারা, 
- রক্তকরবী, 
- কালের যাত্রা, 
- তাসের দেশ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম

২,৬১১.
'কুহেলিকা' নজরুল ইসলাম রচিত -
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬১২.
'আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে' এই পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতার?
  1. ক) রূপসী বাংলা
  2. খ) সেই দিন এই মাঠ
  3. গ) আবার আসিব ফিরে
  4. ঘ) এই পৃথিবীতে একস্থান আছে
সঠিক উত্তর:
গ) আবার আসিব ফিরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবার আসিব ফিরে
ব্যাখ্যা
আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে' এই পঙ্‌ক্তিটি জীবনানন্দ দাশ রচিত 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার।

- 'আবার আসিব ফিরে' কবিতাটি 'রূপসী বাংলা' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

এই বক্তব্যে, কবি ব্যক্ত করেছে যে, তিনি নদীমাতৃক এই বাংলার বিভিন্ন অনুষঙ্গ ও উপাদানের মধ্যেই জীবিত থাকবেন। এগুলো যদি হারিয়ে যায় তবে বাংলার শাশ্বত রূপও নষ্ট হয়ে যাবে। তাই বাংলার রূপ অবিকৃত রাখার প্রয়োজনে আমাদের উচিত, এই দেশের পশু-পাখি, গাছ-পালা, নদী- হাওড়, মানুষ ও জীবজন্তুকে ভালোবাসা এবং এগুলো যেন সুন্দরভাবে বৃদ্ধি পায় সে দিকে লক্ষ রাখা।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- ঝরাপালক
- ধূসর পাণ্ডুলিপি
- বনলতা সেন
- মহাপৃথিবী
- তিমির
- সাতটি তারার মালা
- বেলা অবেলা কালবেলা
- রূপসী বাংলা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬১৩.
কাজী নজরুল ইসলাম কত বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন? 
  1. ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ
  2. ২৫ বৈশাখ, ১৩০৭ বঙ্গাব্দ 
  3. ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ 
  4. ১২ ভাদ্র ১৩০৬ বঙ্গাব্দ 
সঠিক উত্তর:
১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ২৪মে, ১৮৯৯ সালে (১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।
- নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি 'একুশে পদকে' ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পার্শ্বে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হ

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

• কাজী নজরুল ইসলাম-এর প্রকাশিত
- প্রথম কাব্য/কবিতা - "মুক্তি"। 
- প্রথম কাব্যগ্রন্থ - "অগ্নিবীণা"। 
- প্রথম গল্প - "বাউণ্ডলের আত্মকাহিনী"। 
- প্রথম গল্পগ্রন্থ/গ্রন্থ -  ব্যথার দান। 
- প্রথম প্রবন্ধ - তুর্ক মহিলার ঘোমটা খোলা। 
- প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ- যুগবাণী। 
- প্রথম উপন্যাস - বাঁধনহারা। 
- প্রথম নাটক - ঝিলিমিলি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬১৪.
একুশের প্রথম কবিতার লেখক ছিলেন কে?
  1. ক) গাজীউল হক
  2. খ) মুনীর চৌধুরী
  3. গ) মাহবুব উল আলম চৌধুরী
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
গ) মাহবুব উল আলম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাহবুব উল আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা - কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি।
- কবিতাটি লেখেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী।
- ২২ ফেব্রুয়ারি ১৭ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকায় ছাপা হয় কবিতাটি। 

- প্রথম নির্মিত শহীদ মিনার ধ্বংসের প্রতিবাদে আলাউদ্দিন আজাদ লিখেন 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি। 
- একুশের প্রথম গানের রচয়িতা ভাষাসৈনিক গাজীউল হক। 
- একুশের প্রথম নাটকের রচয়িতা মুনীর চৌধুরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬১৫.
‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো-সহচরস্য’ ছদ্মনামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. রত্নপরীক্ষা
  2. বোধোদয়
  3. কথামালা
  4. ভ্রান্তিবিলাস
সঠিক উত্তর:
রত্নপরীক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রত্নপরীক্ষা
ব্যাখ্যা
• 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।
• অতি অল্প হইল, আবার অতি অল্প হইল, ব্রজবিলাস, বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা, রত্ন পরীক্ষা। এই পাঁচটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বেনামি রচনা।

• 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' নামে প্রথম রচনা 'অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)।
• উক্ত বেনামিতে দ্বিতীয় রচনা 'আবার অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)। এই বই দুটি বহুবিবাহ বিষয়ে তারানাথ তর্কবাচস্পতির লিখিত বক্তব্যের প্রতিবাদে লেখা, বিতর্কমূলক উত্তর-প্রত্যুত্তর।

• তৃতীয় রচনা ‘ব্রজবিলাস’ (নভেম্বর, ১৮৮৪) - ''কবিকুলতিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য'' ছদ্মনামে রচিত। বিধবাবিবাহের বিরুদ্ধে ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের রচনার প্রত্যুত্তরে লিখেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
 
• চতুর্থ রচনা ‘কস্যচিৎ তত্ত্বণ্বেষিণ’ ছদ্মনামে রচিত ‘বিধবা বিবাহ ও যশোহর হিন্দুধর্ম রক্ষণী সভা’।
• পঞ্চম রচনা ‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো-সহচরস্য’ ছদ্মনামে রচিত- রত্নপরীক্ষা।


-------------------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতালপঞ্চবিংশতি'।

• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬১৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস -
  1. ডাকঘর
  2. কবি-কাহিনী
  3. চার-অধ্যায়
  4. কালান্তর
সঠিক উত্তর:
চার-অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার-অধ্যায়
ব্যাখ্যা
চার-অধ্যায় হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।

• চার-অধ্যায়:
- চার-অধ্যায় একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই উপন্যাসটি রচিত।
- উপন্যাসের চরিত্রে ইন্দ্রনাথ সন্ত্রাসবাদীদের নেতা। তিনি একদিকে অতিমানবিক অন্যদিকে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য।
- ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনী।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ।

• অন্য অপশন:
- ডাকঘর হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রূপক সাংকেতিক নাটক।
- কালান্তর হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভারতবর্ষীয় রাজনৈতিক সমস্যা বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধের সংকলন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - 'কবি-কাহিনী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬১৭.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম নিদর্শন কী?
  1. ক) চতুর্দশপদী কবিতা
  2. খ) চর্যাপদ
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) মঙ্গলকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের সাহিত্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শাখা মঙ্গলকাব্য। এ সময়ে পাওয়া যায় - মনসামঙ্গল কাব্য, চণ্ডীমঙ্গলকাব্য, ধর্মমঙ্গল কাব্য, কালিকামঙ্গল কাব্য, অন্নদামঙ্গল কাব্য, শীতলামঙ্গল কাব্য। এ সময়ের প্রধান কাব্যগ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা
২,৬১৮.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ব্যাকরণ মঞ্জুরী
  2. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  3. ব্যাকরণ কৌমুদী
  4. ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণ কৌমুদী:
- 'ব্যাকরণ কৌমুদী' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ।
- তিনি মোট চারটি খণ্ডে গ্রন্থটি রচনা করেন।
- প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৩ সালে, তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং চতুর্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬২ সালে।
- ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’ গ্রন্থটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে অনুবাদ করেন। 

আরো উল্লেখযোগ্য কিছু ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা:
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' এর লেখক - ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'ব্যাকরণ কৌমুদী' এর লেখক - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
• 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' এর রচয়িতা-ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। 
• "ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ" - গ্রন্থের রচয়িতা ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
• ১৯০০ সালে হৃষিকেশ শাস্ত্রী রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ: 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ'।
• ড. সুকুমার সেন - 'ভাষার ইতিবৃত্ত' (১৯৩৯)।
• বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান - আহমদ শরীফ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬১৯.
ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মতে, প্রাচীনযুগ শুরু হয় কত খ্রিস্টাব্দ থেকে?
  1. ৯০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৯৫০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৬৯০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
৬৫০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
• প্রাচীন যুগের সময়কাল,
- ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মতে, ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
----------------- 
বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
১. প্রাচীন যুগ (৬৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং 
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।
মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
২,৬২০.
রামপ্রসাদ সেন কোন ধারার পদের জন্য বিখ্যাত?
  1. মর্সিয়া
  2. বৈষ্ণব পদবলি
  3. বাউল গান
  4. শাক্ত পদাবলি
সঠিক উত্তর:
শাক্ত পদাবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাক্ত পদাবলি
ব্যাখ্যা
• রামপ্রসাদ সেন  "শাক্ত পদাবলীর " জন্য বিখ্যাত।

• রামপ্রসাদ সেন:

- শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত ছিনেন" রামপ্রসাদ সেন"।
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তার রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং ‘কবিরঞ্জন’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- একসময় মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নদীর পাড়ে রামপ্রসাদের গান শুনে মুগ্ধ হন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে ‘রামপ্রসাদী সুর’ নামে পরিচিত।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।

• তাঁর বিখ্যাত উক্তি,
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই'।

• বিখ্যাত গান-
"মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলতো সোনা।"

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
২. বাংলাপিডিয়া।
২,৬২১.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কোন ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করেননি?
  1. কলমগীর
  2. কবিরঞ্জন
  3. ত্রিবিক্রম বর্মণ
  4. নবকুমার
সঠিক উত্তর:
কবিরঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিরঞ্জন
ব্যাখ্যা

• 'কবিরঞ্জন' ছদ্মনামে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কাব্যচর্চা করেননি ।
• কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের উপাধি।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:

- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। 
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন - নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬২২.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. রেখাচিত্র
  2. খোঁয়ারি
  3. মহাপতঙ্গ
  4. জন্ম যদি তব বঙ্গে
সঠিক উত্তর:
খোঁয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোঁয়ারি
ব্যাখ্যা
• 'খোঁয়ারি' গল্পগ্রন্থ:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ খোঁয়ারি।
- ১৯৮২ সালে এই গ্রন্থ প্রকাশের পর তিনি বাংলাদেশের প্রথম সারির অগ্রগণ্য কথাসাহিত্যিক হিসেবে স্বীকৃতি পেতে শুরু করেন।
- এই গ্রন্থভুক্ত চারটি গল্পে ইলিয়াস সময়ের ভেতরে থেকেও সময়কে অতিক্রম করা চিরকালের কিছু প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন- নৈঃসঙ্গ, যৌনতা, বার্ধক্য, মৃত্যু। তাঁর নিজস্ব সময় এই গল্পগুলোতে যথার্থ রুক্ষ শুকনো ভাষায় জীবন্ত-স্থির হয়ে পরিণত হয়েছে বাংলা ভাষার চিরায়ত সম্পদে।

অন্যদিকে, 
• 'রেখাচিত্র' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু।
• 'মহাপতঙ্গ' আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ।
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ- জন্ম যদি তব বঙ্গে।

---------------
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬২৩.
‘যত বড় ক্ষতি ততো বড় লাভ-এই তো জগতের নিয়ম।’ উক্তিটি কোন নাটকের অন্তর্গত?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. কবর
  3. রূপার কৌটা
  4. দণ্ডকারণ্য
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
⇒ ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

নাটকে ব্যবহৃত কিছু উক্তি হলো:
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' - রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- ‘যত বড় ক্ষতি ততো বড় লাভ-এই তো জগতের নিয়ম।’- রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে উক্তিটি করেছেন নজীবদ্দৌলা। 
- ‘আমরা হচ্ছি পাহারাদার। টুলি-পরা কলুর বলদ।’- রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে উক্তিটি করেছেন বশির।

-------------------
⇒ মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬২৪.
‘রূপসী বাংলার কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. জসীমউদ্দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. আল মাহমুদ
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবনানন্দ দাশ একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- রূপসী বাংলার কবি বলা জীবননান্দ দাশকে। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ এর উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমি হননের কবি
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬২৫.
'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র-
  1. বিনোদনী
  2. বিমলা
  3. লাবণ্য
  4. কুমুদিনী
সঠিক উত্তর:
বিমলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমলা
ব্যাখ্যা

'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।
- উপন্যাসের চরিত্র: বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ

অন্যদিকে,
- চোখের বালি উপন্যাসের চরিত্র নগেন্দ্রনাথ, বিহারী ও বিনোদনী।
- যোগাযোগ উপন্যাসের চরিত্র মধুসূদন ও কুমুদিনী
- শেষের কবিতা উপন্যাসের চরিত্র অমিত, লাবণ্য, কেতকা ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত 'নাইট' উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে 'নাইট' উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬২৬.
বাংলা একাডেমির 'প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' কত সালে প্রণীত হয়?
  1. ১৯৯০
  2. ১৯৯২
  3. ১৯৯৪
  4. ১৯৯৬
সঠিক উত্তর:
১৯৯২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯২
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি 'প্রমিত বানানের নিয়ম' প্রণয়ন করে ১৯৯২ সালে।

• বাংলা একাডেমি প্রমিত বানানের নিয়ম:
- বাংলা একাডেমি ড. আনিসুজ্জামানকে সভাপতি করে বানানের নিয়মগুলো সূত্রবদ্ধ করার জন্য কমিটি গঠন করে।
- এ কমিটি বিশ্বভারতী, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রবর্তিত পাঠ্য বইয়ের বানানরীতিকে সমন্বিত করে
- একটি অভিন্ন বানানের নিয়ম নির্ধারণ করেন, যা বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' বলে পরিচিত।
- যার প্রথম প্রকাশ ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর এবং পরিমার্জিত সংস্করণ ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি।
- উক্ত নিয়ম অনুসরণ করে একই কমিটির অন্যতম সদস্য জামিল চৌধুরী প্রণয়ন করেন 'বাংলা বানান-অভিধান'।
- ১৯৯৪ সালের জুনে বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে।
- বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত থাকার জন্য বাংলাদেশের সমসাময়িক সাহিত্য এবং পত্র-পত্রিকায় ওই বানানকে 'প্রমিত' হিসেবে গণ্য করা হয়।

-----------------------
উল্লেখ্য,
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ১৯৮৮ সালে বাংলা বানানের নিয়ম প্রণয়ন করে।

• বাংলা একাডেমি অভিধান সংকলন:
- বাংলা একাডেমি সূচনালগ্ন (১৯৫৫) থেকেই অভিধান রচনায় মনোনিবেশ করে এবং এই কাজে ব্রতী হয়েছিলেন স্বয়ং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয় পূর্ব পাকিস্তানী আঞ্চলিক ভাষার অভিধান (পরবর্তীকালে বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান, ১৯৬৫)।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (১৯৭৪) প্রণয়নের সূত্রপাত করেন আরেকজন বিখ্যাত পণ্ডিত ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
- এই অভিধানটি প্রকাশিত হয় অধ্যাপক শিবপ্রসন্ন লাহিড়ীর সম্পাদনায় (১৯৮৪)।

• বাংলা একাডেমি প্রণীত কয়েকটি অভিধান গ্রন্থ:
- Bangla Academy English-Bangla Dictionary (1993),
- Bangla Academy Bengali-English Dictionary (1994),
- বাংলা একাডেমি বাংলা বানান অভিধান (১৯৯৪),
- বাংলা একাডেমী বাংলা উচ্চারণ অভিধান (১৯৯০),
- যথাশব্দ (১৯৭৪),
- বাংলা একাডেমী ছোটদের অভিধান (১৯৮৩) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অভিধান।
২,৬২৭.
বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদনা করতেন কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বেগম রোকেয়া
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

‘বেগম’ পত্রিকা:
- ‘বেগম’ বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন সুফিয়া কামাল
- পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬২৮.
'রামগরুড়ের ছানা, হাসতে তাদের মানা,
হাসির কথা শুনলে বলে,
হাসব না-না না-না।'- উদ্ধৃতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকুমার রায়
  3. আহসান হাবীব
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• উদ্ধৃতাংশটি সুকুমার রায়ের ' রামগরুড়ের ছানা' নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

• সুকুমার রায়:
- সুকুমার রায় একজন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম।
- কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন।
- তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 
- 'রামগরুড়ের ছানা'- কবিতাটি তাঁর 'আবোল-তাবোল' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- আবোল-তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাইখাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি। 
এছাড়া বাংলা ও ইংরেজিতে রচিত তাঁর কিছু গুরুগম্ভীর প্রবন্ধও রয়েছে।

 'রামগরুড়ের ছানা'- কবিতা,
----------------------সুকুমার রায়।

রামগরুড়ের ছানা হাসতে তাদের মানা,
হাসির কথা শুনলে বলে,
‘‘হাস্‌ব না-না না-না’’।

সদাই মরে ত্রাসে- ঐ বুঝি কেউ হাসে!
এক চোখে তাই মিট্‌মিটিয়ে
তাকায় আশে পাশে।
ঘুম নাহি তার চোখে আপনি ব’কে ব’কে
আপনারে কয়, ‘‘হাসিস্‌ যদি
 মারব কিন্তু তোকে!’’
যায় না বনের কাছে, কিম্বা গাছে গাছে,
হাসিয়ে ফেলে পাছে!
সোয়াস্তি নেই মনে- মেঘের কোণে কোণে
হাসির বাষ্প উঠছে ফেঁপে
কান পেতে তাই শোনে।
ঝোপের ধারে ধারে রাতের অন্ধকারে
জোনাক্‌ জ্বলে আলোর তালে
হাসির ঠারে ঠারে।
হাসতে হাসতে যারা হচ্ছে কেবল সারা
রামগরুড়ের লাগছে ব্যথা
বুঝছে না কি তারা?
রামগরুড়ের বাসা ধমক দিয়ে ঠাসা,
হাসির হাওয়া বন্ধ সেথায়
নিষেধ সেথায় হাসা।

উৎস: 'রামগরুড়ের ছানা'- কবিতা, সুকুমার রায়, বাংলাপিডিয়া।  
২,৬২৯.
শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা 'সন্দেশ' এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন-
  1. সুকুমার রায়
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর
সঠিক উত্তর:
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর
ব্যাখ্যা

• 'সন্দেশ' পত্রিকা:
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা 'সন্দেশ' প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।

- দেশবিদেশের গল্প, হাস্যকৌতুক, জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা ইত্যাদি লেখার পাশাপাশি নিজের আঁকা নানা বুদ্ধিদীপ্ত ছবি সংযোজনের মাধ্যমে সন্দেশকে তিনি তরুণ হূদয়ের যোগ্য একটি পত্রিকা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।

- তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র সুকুমার রায় 'সন্দেশ' পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,৬৩০.
‘সাতকাহন’ অন্নদাশঙ্কর রায় এর একটি-
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. ভ্রমণকাহিনি
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
- অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ- সাতকাহন।

• অন্নদাশঙ্কর রায়:

- তিনি একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত। 
- ওড়িশার দেশীয় রাজ্য ঢেঙ্কানালের এক শাক্ত পরিবারে ১৯০৪ সালে অন্নদাশঙ্কর রায়ের জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম কবিতা ওড়িয়া ভাষায় রচিত। কম বয়সে প্রভা নামে ওড়িয়া ভাষায় হাতে লেখা একটি পত্রিকা বের করেন। 
- ১৬ বছর বয়সে টলস্টয়ের গল্প ‘তিনটি প্রশ্ন’ তিনি বাংলায় অনুবাদ করেন।
- বাংলা ভাষায় তাঁর প্রথম প্রকাশিত মৌলিক রচনার বিষয় ছিল ’নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা।
- তাঁর মৃত্যু ২৮ অক্টোবর ২০০২।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
-  যার যেথা দেশ ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কলঙ্কবতী ,
- দুঃখমোচন ,
- মর্ত্যের স্বর্গ ,
- অপসরণ;
- অসমাপিকা ,
- পুতুল নিয়ে খেলা ,
- সুখ .
- বিশল্যকরণী;
- তৃষ্ণার জল;
- রাজঅতিথি ;
 
• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থগুলো:
- প্রকৃতির পরিহাস;
- দুকান কাটা;
- হাসনসখী;
- মনপবন; 
- যৌবনজ্বালা;
- কামিনীকাঞ্চন;
- রূপের দায়; 
- গল্প; 
- কথা ;
- কাহিনী ;
- শ্রেষ্ঠগল্প ;
- গল্পসমগ্র;

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
-  তারুণ্য,
-  রবীন্দ্রনাথ,
- বাংলার রেনেসাঁস,
-  শিক্ষার সংকট,
- সাতকাহন,
- সাহিত্যে সংকট ও অন্যান্য, 
- সংস্কৃতির বিবর্তন, 

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি: 
- ইউরোপের চিঠি,
- পথে প্রবাসে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৩১.
পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘তঘমা-ই-ইমতিয়াজ’ নামক জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন কোন নারী সাহিত্যিক?
  1. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. জাহানারা ইমাম
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
⇒ সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।
- ১৯৮৪ সালে রুশ ভাষায় তাঁর সাঁঝের মায়া গ্রন্থটি সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত হয়।
- ২০০১ সালে বাংলা একাডেমী তাঁর কিছু কবিতার ইংরেজি অনুবাদ নিয়ে ‘Mother of Pearls and Other Poems’ এবং ২০০২ সালে সুফিয়া কামালের রচনা সমগ্র প্রকাশ করেছে।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদানের জন্য সুফিয়া কামাল অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। ১৯৬১ সালে তিনি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘তঘমা-ই-ইমতিয়াজ’ নামক জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৩২.
'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরোনা নামক স্থানের যুবক পেট্রশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন: কাহিনিটি স্কুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভোগ্য।

মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬৩৩.
চর্যাপদ প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯০৭
  2. ১৯০৯
  3. ১৯১৭
  4. ১৯১৬
সঠিক উত্তর:
১৯১৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬
ব্যাখ্যা

• ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।

• চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬৩৪.
‘সঞ্চিতা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি -
  1. প্রবন্ধ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. কবিতা সংকলন
সঠিক উত্তর:
কবিতা সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা সংকলন
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা সংকলন- ‘সঞ্চিতা'।
এতে ৭৮টি কবিতা ও গান সংকলিত হয়েছে।
সংকলনটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কাজী নজরুল ইসলাম উৎসর্গ করেন।
উল্লেখ্য ‘সঞ্চয়িতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা সংকলন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৩৫.
‘রাঙ্গাপ্রভাত’ -উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) আবুল হাসান
  4. ঘ) আবুল হুসেন
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল রচিত উপন্যাস- চৌচির, প্রদীপ ও পতঙ্গ, রাঙ্গা প্রভাত ইত্যাদি। তাঁর রচিত প্রবন্ধ- শেখ মুজিব: তাঁকে যেমন দেখেছি, বিচিত্র কথা, সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন, শুভবুদ্ধি, সমকালীন চিন্তা ইত্যাদি। মাটির পৃথিবী ও মৃতের আত্মহত্যা তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৬৩৬.
নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ! - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. ফররুখ আহমদ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ! - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা: কাজী নজরুল ইসলাম
- এটি তাঁর 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'খেয়াপারের তরণী' কবিতার পঙ্‌ক্তি।

খেয়াপারের তরণী
কাজী নজরুল ইসলাম

যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্‌ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!

নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- সাম্যবাদী,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'অগ্নিবীণা' কাব্য, কাজী নজরুল ইসলাম।
২,৬৩৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' গল্পের বিখ্যাত চরিত্র কোনটি? 
  1. বিনোদিনী
  2. হৈমন্তী
  3. আশালতা
  4. চারুলতা
সঠিক উত্তর:
চারুলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারুলতা
ব্যাখ্যা

'নষ্টনীড়’:
- এটি ১৯০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- গল্পের কেন্দ্রবিন্দু চারুলতা, যে তার কর্মব্যস্ত স্বামী ভূপতির অবহেলায় একাকী ও নিঃসঙ্গ জীবন কাটায়।
- একাকীত্ব ও অতৃপ্তি থেকে তার মধ্যে জন্ম নেয় অমল নামক ভূপতির ছোট ভাইয়ের প্রতি সূক্ষ্ম মানসিক আকর্ষণ।
- এছাড়াও অমলের লেখালেখি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংযোগ চারুলতার জীবনে নতুন অনুভূতির জন্ম দেয়।
- ‘নষ্টনীড়’ বা ভাঙা নীড় কেবল ঘর নয়, বরং সম্পর্কের ভিত্তি এবং মানসিক আশ্রয়স্থল ভেঙে যাওয়াকে বোঝায়।
- প্রধান চরিত্রগুলো হলো : চারুলতা, ভূপতি এবং অমল।
- গল্পটি মূলত উনিশ শতকের বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজের বাস্তবতা এবং নারীর মনস্তত্ত্বের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে।
- এছাড়াও, এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে ১৯৬৪ সালে সত্যজিৎ রায় “চারুলতা” নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

অন্যদিকে,
• চোখের বালি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বিখ্যাত সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস, যা ১৯০৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথের ‘চোখের বালি’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো আশালতা ও বিনোদিনী।
• ‘হৈমন্তী’ হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বিখ্যাত ছোটগল্প।
- ‘হৈমন্তী’ ছোটগল্পের বিখ্যাত চরিত্র হলো ‘হৈমন্তী’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
‘নষ্টনীড়’ ছোটগল্প।

২,৬৩৮.
'সারেং বৌ' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কোনটি?
  1. নবিতুন
  2. আসমা
  3. নূরজাহান
  4. রাবেয়া খাতুন 
সঠিক উত্তর:
নবিতুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবিতুন
ব্যাখ্যা

• 'সারেং বৌ' উপন্যাস: 
- "সারেং বৌ" শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি কালজয়ী বাংলা উপন্যাস। এই উপন্যাসটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও প্রেম-ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। 

- কদম আলী (সারেং) ও নবিতুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-  
“কদম” সারেং জাহাজে কাজ করে অনেক দিন পর ফিরে আসে নিজ বাড়িতে, তারপর ভালবেসে বিয়ে করে “নবিতন”কে। বিয়ের কিছু দিন পরে আবার চলে যায় জাহাজের কাজে, কদম চলে যাওয়ার পর মাঝে মাঝেই নবিতনের কাছে চিঠি ও টাকা পাঠায়। কিন্তু গ্রামের প্রভাবশালী “মোড়ল” ডাক পিয়নকে হাত করে সেইসব চিঠি ও টাকা নিয়ে নেয়, যাতে করে নবিতনের সংসারে অভাব চলে আসে। আর এই অভাবের সুযোগে নবিতনকে তার লালসার শিকার বানাতে চায়, কিন্তু নবিতন নিজে গায়ে খেঁটে ঢেঁকিতে ধান বেঁনে কোন মতে সংসার চালায়।

শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬৩৯.
'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  2. প্রেমের কবিতা
  3. সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে
  4. সশস্ত্র সুন্দর
সঠিক উত্তর:
সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে
ব্যাখ্যা
• 'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি' সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া।
'ভাত দে হারামজাদা, তা-না হলে মানচিত্র খাবো' এই পঙক্তিটি' ভাত দে হারামজাদা' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ ১৯৪২ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি  টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- অসম্ভবের পায়ে,
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- প্রেমের কবিতা,
- হাতুড়ির নিচে জীবন,
- অপর অরণ্যে,
- করো অশ্রুপাত,
- প্রেম ও বিরহের কবিতা,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি,
- সশস্ত্র সুন্দর,
- অঙ্গীকারের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৪০.
বরিশাল অঞ্চলের লোকজীবন বর্ণিত হয়েছে কোন রচনায়?
  1. কাশবনের কন্যা
  2. ধানকন্যা
  3. সারেং বউ
  4. পদ্মানদীর মাঝি
সঠিক উত্তর:
কাশবনের কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাশবনের কন্যা
ব্যাখ্যা
বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন গ্রামীণ দিগন্ত ফটোগ্রাফিকভাবে চিত্রায়িত হয়েছে শামসুদ্দিন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে। 

শামসুদ্দীন আবুল কালাম (১৯২৬-১৯৯৭):
 - কথাসাহিত্যিক শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘আবুল কালাম শামসুদ্দীন’
- শামসুদ্দীনের মুখ্য পরিচয় একজন কথাশিল্পী হিসেবে।
- তিনি অনেক গল্প ও  উপন্যাস রচনা করেছেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
গল্পগ্রন্থ
- অনেক দিনের আশা (১৯৫২),
- ঢেউ (১৯৫৩),
- পথ জানা নাই (১৯৫৩),
- দুই হূদয়ের তীর (১৯৫৫),
- শাহের বানু (১৯৫৭),
- পুঁই ডালিমের কাব্য (১৯৮৭);
উপন্যাস
- আলমনগরের উপকথা (১৯৫৪),
- কাশবনের কন্যা (১৯৫৪),
- কাঞ্চনমালা (১৯৬১),
- জায়মঙ্গল (১৯৭৮) ও
- কাঞ্চনগ্রাম (১৯৯৮)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৪১.
'বাংলারকবি মধুসূদন' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

 'বাংলারকবি মধুসূদন' গ্রন্থের রচয়িতা নীলিমা ইব্রাহিম।

• নীলিমা ইব্রাহিম:

- তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলারকবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,৬৪২.
'কারাগারের রোজনামচা'-কার লেখা?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. শেখ হাসিনা
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. শেখ কামাল
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
⇒ কারাগারের রোজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে ।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন ।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।

গ্রন্থটির কিছু অংশ:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘কারাগারের রোজনামচা’য় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন।
কারাগারের রোজনামচায় প্রসঙ্গক্রমে অনেকবার এসেছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কথা। শেখ মুজিব তিনি নিজের সন্তান, স্ত্রী, পরিবার-পরিজন, বাবা-মা সবকিছু ফেলে দেশের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠকে বেছে নিয়েছিলেন। পরিবারের জন্য হৃদয়ে রক্তক্ষরণ দেখি তাঁর লেখায়: ‘৮ ফেব্রুয়ারি ২ বৎসরের ছেলেটা এসে বলে, ‘আব্বা বালি চলো’। কি উত্তর ওকে আমি দিব। ওকে ভোলাতে চেষ্টা করলাম, ও তো বোঝে না আমি কারাবন্দী। ওকে বললাম, ‘তোমার মার বাড়ি তুমি যাও। আমি আমার বাড়ি থাকি। আবার আমাকে দেখতে এসো।’ ও কি বুঝতে চায়!..

উৎস: ‘কারাগারের রোচনামচা বঙ্গবন্ধু’ শেখ মুজিবুর রহমান।
২,৬৪৩.
'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত একটি-
  1. ক) সামাজিক উপন্যাস
  2. খ) ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  4. ঘ) গল্প
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
হাঙর নদী গ্রেনেড বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন রচিত একটি বাংলা ভাষার উপন্যাস।

'হাঙর নদী গ্রেনেড' 
- উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কালের যশোরের কালীগঞ্জ গ্রামের এক মায়ের সত্য ঘটনা অবলম্বনে সেলিনা হোসেন এই উপন্যাসটি রচনা করেন। - - ১৯৭২ সালে গল্পাকারে ঘটনাটি লিখেন এবং সমকালীন টেরেডাকটিল নামে তরুণদের একটি পত্রিকায় গল্পটি ছাপা হয়েছিল।
- ১৯৭৪ সালে গল্পটিকে উপন্যাস আকারে লিখেন এবং ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেন।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থসমূহ:
প্রবন্ধ: 
- স্বদেশে পরবাসী
- একাত্তরের ঢাকা
- নির্ভয় করো হে
- মুক্তো করো ভয়
- ঘর গেরস্থির রাজনীতি

গল্প:
- উৎস থেকে নিরন্তরত
- পরজন্ম
- মানুষটি 
- মতিজানের মেয়েরা
- অনূঢ়া
- পূর্ণিমা
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা। 

উপন্যাস : 
- জলোচ্ছ্বাস
- মগ্ন চৈতন্যে শিস
- যাপিত জীবন
- নীল ময়ূরের যৌবন
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি 
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
- কালকেতু ও ফুল্লরা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,৬৪৪.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন-
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
অক্ষয়কুমার দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা। অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত। অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬৪৫.
সুকান্ত ভট্টাচার্য কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ফরিদপুর
  2. গোপালগঞ্জ
  3. কলকাতায়
  4. হবিগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
কলকাতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতায়
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- এ সময় ছাত্র আন্দোলন ও বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত হওয়ায় তাঁর আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৪৬.
ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য কোন কাব্যের উপজীব্য?
  1. বিষাদসিন্ধু
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. চক্রবাক
  4. প্রলয়োল্লাস
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাত সাগরের মাঝি
ব্যাখ্যা
• ফররুখ আহমদ রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যের মূল উপজীব্য হলো- ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

---------------------------------
• ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- মূলত মুসুমানদের জাগরণের লক্ষ্যে তিনি এ গ্রন্থের কবিতাগুলো লিখেছেন।
- সেজন্য কবি ত্যাগ করেছেন বঙ্গীয় শব্দ ও অনুষঙ্গ, গ্রহণ করেছেন আরব্য উপন্যাস, ইরান- আরবের সংস্কৃতি ও পুরাণকথা।

- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

------------------------------
• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি'
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

অন্যদিকে,
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস - বিষাদ-সিন্ধু, যা একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস। কারবালার কাহিনীর মূল ঘটনার প্রেক্ষিতে রচিত।
- "চক্রবাক" গ্রন্থটি কাজী নজরুলের প্রেমের কবিতা ও গানের সংকলন। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা : প্রলয়োল্লাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬৪৭.
'দি আগলি এশিয়ান' - উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) হাসান হাফিজুর রহমান
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
'দি আগলি এশিয়ান' - উপন্যাস টির রচয়িতা - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌।

• এ উপন্যাসে পূর্ববঙ্গের রাজধানী শহর (নাম নেয়া হয় নি) কেন্দ্র করে রাজনীতিতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ, সেনাবাহিনীকে দিয়ে সামরিক আইন জারি, সাধারণ মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার খর্ব করা, দেশে সাম্যবাদী উত্থান প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করা ইত্যাদি প্রধান হয়ে উঠেছে।

সামরিক আইন জারি করিয়ে সেনাবাহিনী দিয়ে বা নিজেদের সমর্থনপুষ্ট পুঁজিবাদীদের কাজে লাগিয়ে মার্কিন দেশ তখন এশিয়ার প্রতিটি দেশেই নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব্যস্ত ছিল। এশিয়ার এই কদর্য রূপকেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এ উপন্যাসে তুলে ধরেছেন।
আসলে ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দেই ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯৭১-এর পূর্বপর্যন্ত বাঙালির সংগ্রামসমূহ এই উপন্যাসে ধারণ করেছেন শুধু তাঁর অন্ত গুণে। উপন্যাসটি চরমভাবে দৃষ্টির গুণে উপন্যাসটি মার্কিনবিরোধী।

• উইলিয়াম জে লেডেরার ও ইউজিন বারডিক যৌথভাবে রচিত মার্কিন উপন্যাস 'দি আগলি আমেরিকান' (১৯৫৮) এর প্রভাব এ উপন্যাস রনার সময় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র উপর পড়েছিল ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৬৪৮.
‘সন্ধ্যাভাষা' কোন সাহিত্যকর্মের সঙ্গে যুক্ত?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. পদাবলি
  3. চর্যাপদ
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৬৪৯.
'একদা তুমি প্রিয়ে' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. আহমদ ছফা
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• ‘একদা তুমি প্রিয়ে’ উপন্যাস: 
- বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৩ সালে।
- পলাশ ও রেবার মধ্যে যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তারই স্মৃতি ধরে উভয়ের মনে এক জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়। রেবা নতুনভাবে প্রেমের অভিষেক করতে চায় কিন্তু পলাশ বুঝতে পারে তা সম্ভবপর নয়। এরকম একটি কাহিনি নিয়ে বুদ্ধদেব বসু রচিত এই উপন্যাসটি।

-------------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৫০.
‘সাত ভাই চম্পা’ - কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• ‘সাত ভাই চম্পা’ বিষ্ণু দে রচিত - কাব্যগ্রন্থ

বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬৫১.
জহির রায়হানের প্রকৃত নাম কী?
  1. মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
  2. জহিরুল ইসলাম
  3. জহির উদ্দিন
  4. মোহাম্মদ রায়হান
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
ব্যাখ্যা

জহির রায়হানের প্রকৃত নাম - মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।

• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান (১৯৩৫–১৯৭২) ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- তিনি ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন।
- জহির রায়হান বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
- তাঁর লেখনী ও নির্মাণ বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিখোঁজ হন। 
- তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উপন্যাসসমূহ:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে (যার জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার পান),
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- তুলাসিন্ধু সেতুবন্ধ,
- অপূর্ব, ব্যারিকেড,
- ক্ষয়িষ্ণু,
- ডায়মন্ড নেকলেস ও
- আমি কেন সিরাজী।

• তাঁর গল্পগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সোনার হরিণ,
- মহামৃত্যু,
- জন্মান্তর,
- ম্যাসাকার এবং
- মানুষের ঘরবাড়ি।

• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- কখনও আসেনি,
- কাঁচের দেয়াল,
- জীবন থেকে নেয়া,
- বেহুলা,
- সঙ্গম।

• তাঁর পরিচালিত তথ্যচিত্র: স্টপ জেনোসাইড।
• “একুশের গল্প” জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সার্থক ছোটগল্প।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

২,৬৫২.
'ঠাকুরমার ঝুলি' কী জাতীয় রচনার সংকলন?
  1. ক) রূপকথা
  2. খ) ছোট গল্প
  3. গ) গ্রাম্য গীতিকা
  4. ঘ) উপকথা
সঠিক উত্তর:
ক) রূপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রূপকথা
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে রূপকথার অন্যতম সংকলন ‘ঠাকুরমার ঝুলি’। 
- গ্রন্থটি সংকলন করেন- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার।
- এটি প্রকাশিত হয়েছিলো- ১৯০৭ সালে।
- এর পরবর্তী খন্ড- ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’ যা ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার - দৃষ্টিহীন ছদ্মনামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৫৩.
শামসুর রাহমানের 'বন্দী শিবির থেকে' কী ধরনের রচনা?
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ
  3. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
  4. ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক কবিতা
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রাহমানের লেখা 'বন্দী শিবির থেকে' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

• এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি,
- মধুস্মৃতি,
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- শামসুর রাহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সেখান থাকাকালীন তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৬৫৪.
'হলুদ পোড়া' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. উপন্যাস 
  2. নাটক 
  3. প্রবন্ধ 
  4. ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
ছোটগল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোটগল্প
ব্যাখ্যা

• 'হলুদ পোড়া' ছোটগল্প:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'হলুদ পোড়া' একটি বিখ্যাত ছোটগল্প, যা গ্রাম বাংলার কুসংস্কার, বিশেষত ভূত-প্রেত এবং অলৌকিক শক্তির ধারণা নিয়ে রচিত। 
- ছোটগল্পে দামিনী নামের এক নারী চরিত্রের ভয় ও উন্মাদনা দেখানো হয়েছে কাঁচা হলুদ পোড়ানোর মাধ্যমে, যা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাস্তবধর্মী ও মনস্তাত্ত্বিক লেখার উদাহরণ।
- গল্পটি মূলত কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামীণ জীবনের অন্ধকার দিক এবং মানবমনের গভীর ও জটিল অনুভূতিকে তুলে ধরেছে, যা বাংলা সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

-------------------------
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি, 
- পুতুলনাচের ইতিকথা, 
- শহরতলী, 
- চিহ্ন, 
- চতুষ্কোণ, 
- সার্বজনীন, 
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ, 
- হলুদ পোড়া,  
- আজ কাল পরশুর গল্প,  
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

• নাটক: ভিটেমাটি। 

উৎস: হলুদ পোড়া' ছোটগল্প এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬৫৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা কে?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বিহারের পালামৌ এলাকায় দুই বছর ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে এর স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমণকাহিনী - পালামৌ, যার রচয়িতা সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। টি ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের মধ্যে “বঙ্গদর্শন” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এটি সঞ্জীবের জীবদ্দশায় গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয় নি। পরে ১৩৫১ বঙ্গাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের বিখ্যাত উক্তিঃ বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
২,৬৫৬.
'আনোয়ারা' —এ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ফররুখ আহমেদ
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. ঘ) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
গ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা

মোহাম্মদ নজিবর রহমান: তিনি ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।

তার রচিত উপন্যাস -
- আনোয়ারা
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি (১৯১৭),
- পরিণাম (১৯১৮),
- গরীবের মেয়ে (১৯২৩),
- দুনিয়া আর চাই না (১৯২৪)৷


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২,৬৫৭.
পেশায় তাঁতি ছিলেন কোন কবি?
  1. ভাদেপা
  2. ডোম্বীপা
  3. ঢেণ্ডণপা
  4. তাড়কপা
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা
• ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন। তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন।
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।'- চর্যাপদের ৩৩নং পদটির রচয়িতা চর্যাকার ঢেণ্ডণপা।

অর্থাৎ লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,৬৫৮.
রাজনৈতিক জীবনের অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. জননী
  2. সমাগম
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা

• 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের কালোতীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি। এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস।
- ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। প্রাচীন কাহিনী, ঘটনা ও চরিত্রের রূপকে লেখক সমকালীন রাজনীতিতে স্বৈরাচারী চরিত্র ও নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেছেন।
- উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে। 
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত । এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

অন্যদিকে, 
---------------
• 'সমাগম' উপন্যাস:
 সমাগম' হলো বিখ্যাত বাংলাদেশী লেখক শওকত ওসমান রচিত একটি রূপকধর্মী ও ফ্যান্টাসি উপন্যাস, যা ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয়। এবং এটি সাম্রাজ্যবাদ, যুদ্ধ ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়, যেখানে কালজয়ী মনীষীদের চিন্তাভাবনার মাধ্যমে এক কাল্পনিক জগতের সৃষ্টি করা হয়। 

• 'জননী' উপন্যাস: 
জননীতে সামাজিক জীবনচিত্র উন্মোচিত হয়েছে। জননীতে গ্রাম ও নগরজীবনের সংঘাতে একটি পরিবারের বিপর্যস্ত অবস্থার বিবরণ আছে

"ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী" বলতে সাধারণত বিখ্যাত সাহিত্যিক শওকত ওসমানের একটি বিখ্যাত ছোটগল্পের সংকলন।  

---------------------
শওকত ওসমানের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো- 
• নাটক:
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

• উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসসমূহ:
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাংগী
- জাহান্নম হইতে বিদায়।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী (এর জন্য তিনি ১৯৯১ সালে ফিলিপস পুরস্কার পান)।
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে (এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬৫৯.
'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. খ) আলতাফ মাহমুদ
  3. গ) আবদুল লতিফ
  4. ঘ) গোবিন্দ হালদার
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচনা করেন ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি'।
- সঙ্গীতশিল্পী আবদুল লতিফ রচনা ও সুর করেন 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' এবং ‘তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি'র মতো সঙ্গীত
- ড. মুনীর চৌধুরী জেলে বসে রচনা করেন 'কবর' নাটক।
- জহির রায়হান রচনা করেন ‘আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলায় শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,৬৬০.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বত্রিশ সিংহাসন
  2. হিতোপদেশ
  3. প্রবোধচন্দ্রিকা
  4. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা

• রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র গ্রন্থের রচয়িতা রামরাম বসু।

​• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:

- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।

​তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

২,৬৬১.
কোন প্রতিষ্ঠানটি গদ্যচর্চা শুরু করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  2. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  3. বিশ্বভারতী
  4. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
ব্যাখ্যা
→ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগে পদ্যই ছিল ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন। মধ্যযুগে কতিপয় ক্ষেত্রে চিঠিপত্র, দলিল-দস্তাবেজে গদ্যের ব্যবহার দেখা গেলেও তা ছিল খুবই সীমিত।
→ ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বাংলা গদ্যে গ্রন্থ প্রণয়নের প্রয়োজন দেখা দেয়।
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে গদ্যচর্চা শুরু হয়। সেদিনকার গদ্য লেখকগণ গদ্যগ্রন্থ রচনা করতে গিয়ে মূলত নির্ভর করলেন সাধুজনের মধ্যে ব্যবহৃত সংস্কৃত ভাষার ওপর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২,৬৬২.
কারাগারের রোজনামচা-
  1. ক) নাটক
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) কাব্য
  4. ঘ) দিনলিপি
সঠিক উত্তর:
ঘ) দিনলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দিনলিপি
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
উৎসঃলাইভ এমসিকিউ লেকচার
২,৬৬৩.
'ধূসরতার কবি' উপাধিটি কার?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. শামসুর রহমান
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের উপাধি:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

অন্যদিকে,
• জসীম উদ্‌দীনকে পল্লিকবি' বলা হয়।
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের উপাধি ছিল ছন্দের যাদুকর।
• শামসুর রহমানের উপাধি নাগরিক কবি।

------------------------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৬৪.
জীবনানন্দ দাশের কবিতা মূলত প্রকাশ ঘটেছে:
  1. বাংলার সমাজ ব্যবস্থা
  2. গ্রাম বাংলার অর্থনৈতিক বঞ্চনা
  3. গ্রাম বাংলার নিসর্গ
  4. একটিও নয়
সঠিক উত্তর:
গ্রাম বাংলার নিসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রাম বাংলার নিসর্গ
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশের কবিতার বৈশিষ্ট্য:
জীবনানন্দ দাশের কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য নিসর্গচিত্র, বিশেষ করে গ্রাম বাংলার প্রকৃতি, নদী, বন, পাখি, গ্রাম্য শান্ত জীবন ইত্যাদি। তাঁর কাব্যে প্রকৃতি একটি স্বতন্ত্র চরিত্রের মতো উপস্থিত।
তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো (রূপসী বাংলা, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, বেলা অবেলা কালবেলা) প্রায় সবই গ্রাম-বাংলার প্রকৃতি ও তার রূপ-রস-গন্ধ নিয়েই রচিত।

সুতরাং — সঠিক উত্তর: গ) গ্রাম বাংলার নিসর্গ।

--------------------
জীবনানন্দ দাশ:

- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।

জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬৬৫.
জসীম উদ্‌দীন রচিত ‘কবর’ কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. রাখালী
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  4. বালুচর
সঠিক উত্তর:
রাখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখালী
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন রচিত ‘কবর’ কবিতাটি রাখালী কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

• 'কবর' কবিতা নিয়ে কিছু কথা: 
- জসীম উদ্‌দীনের ‘কবর’ কবিতায় একজন নিঃস্ব ও নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের বেদনা ফুটে উঠেছে।
- বৃদ্ধ তার প্রিয়তমা স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ ও কন্যাকে হারানোর দুঃখে একমাত্র নাতিকে নিয়ে কবরের পাশে বসে তাদের স্মৃতি স্মরণ করতেন।  
- কবিতায় কবি গ্রামীণ জীবনের সহজ ভালোবাসা, ত্যাগ ও বিয়োগান্তক অভিজ্ঞতা ফুটিয়ে তুলেছেন। 
- কবিতাটি কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’র অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা রয়েছে। 
- ‘কবর’ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়। 
----------------------------------------
কবিতা- কবর।
কবি- জসীম উদ্‌দীন।

“এইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা।” 

---------------------------------------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- তাঁকে “পল্লীকবি” উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

- পল্লীকবির লেখা বিখ্যাত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- 
- নক্সী কাঁথার মাঠ, 
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- রাখালী,
- বালুচর, 
- ধানখেত,
- হাসু,
- রূপবতী। 

উৎস:
'কবর' কবিতা;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২,৬৬৬.
'সাহিত্যের ভবিষ্যৎ' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. বিষ্ণু দে
  4. অক্ষয়কুমার দত্ত
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• ‘সাহিত্যের ভবিষ্যৎ’ বিষ্ণু দে রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬৬৭.
'অধ্যাপক রায়হান' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. যাত্রা
  3. দুই সৈনিক
  4. নেকড়ে অরণ্য
সঠিক উত্তর:
যাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাত্রা
ব্যাখ্যা
'যাত্রা' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'।
- যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন। একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

অন্যদিকে, 
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস-  
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'যাত্রা' উপন্যাস।
২,৬৬৮.
নিচের কোনটি আবুল মনসুর আহমেদ এর স্মৃতিকথা?
  1. ক) আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর
  2. খ) ফুড কনফারেন্স
  3. গ) সত্যমিথ্যা
  4. ঘ) বাংলাদেশের কালচার
সঠিক উত্তর:
ক) আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমেদ (৩ সেপ্টেম্বর ১৮৯৮ – ১৮ মার্চ ১৯৭৯) একজন বাংলাদেশী সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিক।
• তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, আইনজ্ঞ ও সাংবাদিক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্রূপাত্মক রচয়িতা। 
• ১৯৭৯ সালের ১৮ মার্চ আবুল মনসুর আহমদের মৃত্যু হয়। 

• ব্যঙ্গরচনা
- আয়না 
- ফুড কনফারেন্স 
- গালিভারের সফরনামা

• স্মৃতিকথা
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী)
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর 
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু 

• তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে,
- সত্যমিথ্যা 
- জীবন ক্ষুধা 
- আবে-হায়াৎ 

• অন্যান্য রচনা 
- বাংলাদেশের কালচার 
- আসমানী পর্দা 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬৬৯.
'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. গ) আতাউর রহমান খান
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমেদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল মনসুর আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা

আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৮) গ্রন্থটির রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ।
- এটি একটি আত্মজীবনী মূলক বই।
আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক আরেকটি গ্রন্থ হলো: ‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ (১৯৭৩)।
- আত্মজীবনী – আত্মকথা।
- শিশু সাহিত্যে: মুসলমানী কথা, ছোটদের কাসাসুল আম্বিয়া, গালিভারের সফরনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।

২,৬৭০.
১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে 'প্রগতি' কী ধরনের সাহিত্য পত্রিকা হিসাবে প্রকাশিত হয়?
  1. অর্ধ-সাপ্তাহিক 
  2. সাময়িক 
  3. সাপ্তাহিক 
  4. মাসিক 
সঠিক উত্তর:
মাসিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক 
ব্যাখ্যা

• 'প্রগতি' পত্রিকা:
- 'প্রগতি' ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'।
- সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ। কল্লোল- কালিকলম-প্রগতি একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য তিনটি নাম। বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬৭১.
'ফোকলোরচর্চা' প্রবন্ধগ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) শামসুজ্জামান খান
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুজ্জামান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
- শামসুজ্জামান খান রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ হচ্ছে 'ফোকলোরচর্চা'

• শামসুজ্জামান খান: 
- মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর বাবার নাম আব্দুর রহমান খান এবং মায়ের নাম শামসুন্নাহার খানম।
- তিনি জাতীয় যাদুঘর ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা প্রসঙ্গ।
- মাটি থেকে মহীরূহ।
- ফোকলোরচর্চা।
- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা।
- গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।
তিনি 'দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ' নামে একটি শিশু সাহিত্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৭২.
কে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না?
  1. ক) রামরাম বসু
  2. খ) গোলকনাথ শর্মা
  3. গ) মৃত্যুঞ্জয়‌ তর্কালঙ্কার
  4. ঘ) তারিণীচরণ মিত্র
সঠিক উত্তর:
গ) মৃত্যুঞ্জয়‌ তর্কালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মৃত্যুঞ্জয়‌ তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়মের অভ্যন্তরভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। 
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন- উইলিয়াম কেরী, রামরাম বসু, গোলকনাথ শর্মা, মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার, তারিণীচরণ মিত্র, রাজীবলােচন, চণ্ডীচরণ মুনশী ইত্যাদি। 
-  ফোর্ট উইলিয়মের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানই বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন। 
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৭৩.
‘এ-গাঁর চাষীরা নিঝুম রাতে বাঁশের বাঁশীর সুরে,/ওইনা গাঁয়ের মেয়ের সাথে গহন ব্যথায় ঝুরে’- চরণ দুটি যে বিখ্যাত রচনার অন্তর্গত-
  1. ক) নকশী কাঁথার মাঠ
  2. খ) মহুয়া
  3. গ) চক্রবাক
  4. ঘ) দেওয়ানা মদিনা
সঠিক উত্তর:
ক) নকশী কাঁথার মাঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নকশী কাঁথার মাঠ
ব্যাখ্যা

- নক্সী কাঁথার মাঠ একটি কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ। রচয়িতা কবি জসীমউদ্দীন (১৯০৩-১৯৭৬ ) রচনাকাল ১৯২৯।
- নক্সী কাঁথার মাঠ একটি শিল্পসফল কাহিনি কাব্য। কাব্যটি চোদ্দটি সর্গ বা ছোট ছোট দৃশ্যপটে বর্ণিত।
- ‘এ-গাঁর চাষীরা নিঝুম রাতে বাঁশের বাঁশীর সুরে,/ওইনা গাঁয়ের মেয়ের সাথে গহন ব্যথায় ঝুরে’- চরণ দুটি এই রচনার অন্তর্গত।

সোর্সঃ নকশী কাঁথার মাঠ এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬৭৪.
'নীল দর্পণ'  নাটকটি 'The Indigo Planting Mirror' নামে  ইংরেজি অনুবাদ করেন কে? 
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

নীল-দর্পণ:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- নাটকটি ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

• দীনবন্ধু মিত্র রচিত অন্যান্য নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

২,৬৭৫.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটোগল্প?
  1. শেষ লেখা
  2. শেষরক্ষা
  3. শেষ কথা
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
শেষ কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষ কথা
ব্যাখ্যা

• 'শেষ কথা' ছোটোগল্প:
"শেষ কথা" হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বিখ্যাত ছোটোগল্প, যা তাঁর 'তিনসঙ্গী' নামক গল্পসংকলনের অন্তর্ভুক্ত। যেখানে জীবন ও সম্পর্কের জটিলতাকে তুলে ধরা হয়েছে, বিশেষত সম্পর্কের গভীরে থাকা সত্যের অনুসন্ধান এবং একটি অসমাপ্ত প্রেমের আখ্যান নিয়ে এই গল্পটি রচিত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কিছু গল্প হলো-
• অতিপ্রাকৃতিক গল্প:  ক্ষুধিত পাষাণ, নিশীতে, মণিহার, কঙ্কাল।
• আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি।
• সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: দেনাপাওনা, রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা, যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ, অনধিকার প্রবেশ।

অন্যদিকে, 
• 'শেষ লেখা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
• 'শেষের কবিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি উপন্যাস।
• 'শেষরক্ষা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি প্রহসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'শেষ কথা' ছোটগল্প।

২,৬৭৬.
'আমার সোনার বাংলা' গানটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) বঙ্গদর্শন
  2. খ) সাধনা
  3. গ) ভারতী
  4. ঘ) বিশ্বভারতী
সঠিক উত্তর:
ক) বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
'আমার সোনার বাংলা' গানটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতবিতানের স্বরবিতানের অন্তর্ভূক্ত।
- এটি স্বদেশ পর্যায়ের গান।
- এই গানের সুর করেছেন রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং, তবে এতে বাউল গগন হরকরার সুরের প্রভাব পড়েছিল।

- এটি বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১৩১২ (১৯০৫) সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ব্রিটিশদের বঙ্গভঙ্গ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে তিনি এই সঙ্গীতটি রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৭৭.
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  4. নির্দিষ্ট কেউ বলে
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• ‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচনা করেন।
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য
বিষয়।

--------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৭৮.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় কত সালে ভাষা আলোচনা সাপেক্ষে স্বীকৃতি দেন চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯২৮ সালে
  4. ১৯৪৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷
 
• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। 
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।
 
• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। 
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৬৭৯.
বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি কোনটি?
  1. ক) ব্ৰাহ্মী
  2. খ) মণিপুরি
  3. গ) বাংলা
  4. ঘ) কুটিল
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলা
ব্যাখ্যা
•বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি হচ্ছে বাংলা লিপি। 

⇒ প্রায় আড়াই বছর আগে উপমহদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়। ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির পরিবর্তিত রূপ। অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুর প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে রেখা হয়। সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
২,৬৮০.
আবুল হাসানের প্রকৃত নাম কী?
  1. আবুল হোসেন মিয়া
  2. আবুল হুসেন
  3. আবুল হোসাইন
  4. হুসেন মিয়া
সঠিক উত্তর:
আবুল হোসেন মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হোসেন মিয়া
ব্যাখ্যা
আবুল হাসান:
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম - আবুল হোসেন মিয়া
- 'আবুল হাসান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত৷
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৮১.
‘ওরা কদম আলী’ নাটকটি কে লিখেছেন?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. মমতাজ উদ্দীন আহমদ
  3. মামুনুর রশীদ
  4. বদরুদ্দীন ওমর
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
• মামুনুর রশীদ রচিত নাটক হচ্ছে ওরা কদম আলী। 

• ওরা কদম কদম আলী:
- ১৯৭৮ সালে 'ওরা কদম আলী' প্রকাশের মধ্য দিয়ে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে নাট্যকার হিসেবে।
- শোষিত-নিপীড়িত বঞ্চিত মানুষের জন্য নাটক লিখতে গিয়ে তিনি নাটকে নিয়ে এসেছেন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ চেতনা।
- আর বঞ্চিত, শোষিত মানুষের শ্রেণিসংগ্রামের রূপকার হিসেবে মামুনুর রশীদের ‘ওরা কদম আলী' নাটক সমকালীন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের ধারায় যুক্ত করেছেন বিশিষ্ট মাত্রা। গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কীভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে। 
-----------------------
• মামুনুর রশীদ:
- তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷

• তাঁর রচিত নাটক:
-  ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৮২.
আলাওল কোন শতকের কবি?
  1. ১৫ শতক
  2. ১৬ শতক
  3. ১৭ শতক
  4. ১৮ শতক
সঠিক উত্তর:
১৭ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ শতক
ব্যাখ্যা

• আলাওল:
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি।
- আলাওল — ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পদ্মাবতী' তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন। কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহ্‌ফা,
- সপ্তপয়কর, 
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল,
- রাগতালনামা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

২,৬৮৩.
‘কাব্যসুধাকর’ কার উপাধি?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৮৪.
'কুলায় ও কালপুরুষ' সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কোন ধরণের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. কবিতা
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• ‘কুলায় ও কালপুরুষ’ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- 'কুলায় কালস্রোত' উপন্যাসের রচয়িতা শওকত আলী।

-----------------
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:

- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
- সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
কাব্যগ্রন্থ:
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
• স্বগত ,
• কুলায় ও কালপুরুষ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
২,৬৮৫.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত নাটক কোনটি?
  1. গাথা
  2. বিচিত্রা
  3. বিদ্রোহ
  4. বসন্ত উৎসব
সঠিক উত্তর:
বসন্ত উৎসব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্ত উৎসব
ব্যাখ্যা
• স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত নাটক - বসন্ত উৎসব

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী। 
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক
- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ও সাহিত্য কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী দেবী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে ’সখী সমিতি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন। 
- ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।
- তিনি ৩রা জুলাই, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ, 
- মেবার রাজ, 
- মালতী, 
- বিদ্রোহ
- বিচিত্রা
- স্বপ্নবাণী, 
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব
- দেব কৌতুক।

তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা
- কবিতা ও গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬৮৬.
রবীন্দ্রনাথ কোন কবিকে ‘ভোরের কবি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. ক) সুকুমার রায়
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল  চক্রবর্তী, (১৮৩৫-১৮৯৪) আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে:
- স্বপ্নদর্শন (১৮৫৮),
- সঙ্গীতশতক (১৮৬২)
- বন্ধুবিয়োগ (১৮৭০),
- প্রেমপ্রবাহিণী (১৮৭০),
- নিসর্গসন্দর্শন (১৮৭০),
- বঙ্গসুন্দরী (১৮৭০),
- সারদামঙ্গল (১৮৭৯),
- নিসর্গসঙ্গীত (১৮৮১),
- মায়াদেবী (১৮৮২),
- দেবরাণী (১৮৮২),
- বাউলবিংশতি (১৮৮৭),
- সাধের আসন (১৮৮৮-৮৯) এবং
- ধূমকেতু (১৮৯৯) উল্লেখযোগ্য।

• সারদামঙ্গল কাব্য বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ভোরের পাখি’ বলে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৬৮৭.
'বাঙ্গালীর ইতিহাস' -বইটির লেখক কে?
  1. ক) নীহার রঞ্জন রায়
  2. খ) সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) আবদুল কাদির
  4. ঘ) আর সি মজুমদার
সঠিক উত্তর:
ক) নীহার রঞ্জন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নীহার রঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা
• নীহাররঞ্জন রায়, ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন।
মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art (১৯৪৭),
- বাঙ্গালীর ইতিহাস (১৯৪৯),
- Nationalism in India,
- Idea and Image of Indian Art.

তাঁর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
- Mughal Court Painting (১৯৭৪),
- The Sikh Gurus and the Sikh Society (১৯৭০),
- Dutch Activities in the East (সম্পাদিত, ১৯৪৬),
- An Approach to Indian Art (১৯৭৪)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৬৮৮.
'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক কে?
  1. ক) মুহম্মদ আব্দুল হাই
  2. খ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) মুহম্মদ এনামুল হক
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমিকে জাতির মননের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর এটি প্রতিষ্ঠীত হয়।
- মওলানা আঁকরাম খাঁ প্রথম সভাপতি।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক হলেন আহমদ শরীফ
- বাংলা একাডেমি বাংলা বানান অভিধানের সম্পাদক হলেন জামিল চৌধুরী।
- বাংলা একাডেমি বাংলা সাহিত্যকোষের সম্পাদক সেলিনা হোসেন ও নুরুল ইসলাম।
- বাংলা একাডেমি আঞ্চলিক ভাষার অভিধানের সম্পাদক হলে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ ও অন্যান্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৮৯.
মধ্যযুগের কোন সাহিত্য কৃষিকাজের জন্য উপযোগী?
  1. ক) রুপকথা
  2. খ) পুঁথি সাহিত্য
  3. গ) ডাক ও খনার বচন
  4. ঘ) লোকসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
গ) ডাক ও খনার বচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডাক ও খনার বচন
ব্যাখ্যা
খনার বচন মূলত কৃষিতত্ত্বভিত্তিক ছড়া।
- তাই মধ্যযুগের ডাক ও খনার বচন কৃষিকাজের জন্য উপযোগী।
- বুদ্ধ সমাজের ডাকের বচন এবং হিন্দু সমাজে খনার বচনের উৎপত্তি হয়েছিল।
- ডাকের বচন ‘ডাকের কথা’ বা ‘ডাক পুরুষের কথা’ নামেও পরিচিত। 
- ডাক তাঁর বচনকে ‘ডাকর কথা’ বলেছেন, চাকমা ভাষায় যা ‘দাগর কধা’ নামে পরিচিত।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী, লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও  খনা একই ব্যক্তি।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও দীনেশচন্দ্র সেনের মতে ডাকার্ণব বাংলা ভাষার আদিগ্রন্থ।
- এটি কৃষি, জ্যোতিষশাস্ত্র, গণস্বাস্থ্য ও প্রাত্যহিক জীবন সংক্রান্ত প্রজ্ঞা-বচনের সমাহার

উৎস : বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৯০.
'সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি' এই চরণদ্বয়ের লেখক _____।
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কুসুমকুমারী দাস
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• 'সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি' পঙ্‌ক্তিটি মদনমোহন তর্কালঙ্কার এর 'আমার পণ' কবিতার অন্তর্গত।
 
• মদনমোহন তর্কালঙ্কার: 
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
-  তিন খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর শিশু শিক্ষা (১৮৪৯ ও ১৮৫৩) শিশুদের উপযোগী একটি অনন্যসাধারণ গ্রন্থ।
- ‘পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল’ শিশুপাঠ্য এই বিখ্যাত কবিতাটি তাঁরই রচনা।
 
মদনমোহনের মৌলিক কাব্যগ্রন্থ: 
- রসতরঙ্গিণী ও
- বাসবদত্তা। 

--------------------------
আমার পণ- কবিতা, 
মদনমোহন তর্কালঙ্কার। 
 
সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি।
আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে,
আমি যেন সেই কাজ করি ভাল মনে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৯১.
'ইবলিশ' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিজন ভট্টাচার্য
  2. খ) মামুনুর রশীদ
  3. গ) বন্দে আলী মিয়া
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার ছিলেন। তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক- ওরা কদম আলী, ওরা আছে বলেই, মে দিবস, ইবলিশ, এখানে নোঙর, গিনিপিগি, সমতট, পাথর, লেবেদেফ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৯২.
'ঘনাদা' - চরিত্রটির সৃষ্টি করেছেন কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় 
  4. সুকুমার রায় 
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

• ‘মশা’ গল্প ও ‘ঘনাদা’ চরিত্র:
- বাংলা শিশুসাহিত্যে প্রেমেন্দ্র মিত্রের অতুলনীয় সৃষ্টি — ‘ঘনাদা’ চরিত্রটি।
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের এ ঘনাদা চরিত্রে সৃষ্টি হয় তাঁর রচিত — ‘মশা’ (১৯৩৭) গল্পের মাধ্যমে।
- শিশুর মনোরাজ্যের রোমাঞ্চকর অনুভূতিগুলি তিনি ঘনাদা চরিত্রের মাধ্যমে অভিব্যক্ত করেন।
- ঘনাদা পড়ে প্রতিটি শিশু-কিশোর ঘনাদার ভিতর দিয়ে নিজেদের দেখতে উন্মুখ হয়ে ওঠে।
- কিশোর মনোরাজ্য অধিকারের জন্য ডিটেকটিভ ও রোমাঞ্চকর কাহিনি সৃজনে তিনি অসাধারণ শক্তির পরিচয় দেন।
- অপরদিকে তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক কিশোর উপন্যাস কুহকের দেশে লিখে বাংলা ভাষায় এ ধারার সার্থকতা প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- অফুরন্ত,
- ধূলিধূসর,
- জলপায়রা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘মশা’ গল্প।

২,৬৯৩.
'ষোড়শী' ও 'জীবনানন্দ' শরৎচন্দ্র রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পল্লীসমাজ
  2. বৈকুন্ঠের উইল
  3. গৃহদাহ
  4. দেনা পাওনা
সঠিক উত্তর:
দেনা পাওনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেনা পাওনা
ব্যাখ্যা
• 'ষোড়শী' ও 'জীবনানন্দ' শরৎচন্দ্র রচিত 'দেনা পাওনা' উপন্যাসের চরিত্র।

অন্যদিকে,
- বৈকুন্ঠের উইল - বৈকুন্ঠ মজুমদার, বিনোদ, গোকুল
- পল্লীসমাজ - রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।
- গৃহদাহ - সুরেশ, অচলা, মহিম।

• শরৎচন্দ্রের উপন্যাস গুলো হলো:

- বড়দিদি,
- শ্রীকান্ত,
- গৃহদাহ,
- দেনা পাওনা
- চরিত্রহীন,
- পল্লীসমাজ,
- বৈকুন্ঠের উইল,
- দেবদাস,
- পথের দাবী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,৬৯৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন রচনাকারী কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মীর মশাররফ হোসেন 
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রামানারায়ণ তর্করত্ন
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন রচয়িতা:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম পাশ্চাত্যধারা তথা ইংরেজি Farce-এর বৈশিষ্ট্য ও গুণ সমন্বিত প্রহসন রচনায় কৃতিত্বের অধিকারী হলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- মূলত তাঁর একেই কি বলে সভ্যতা (১৮৬০) ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০) প্রহসনদ্বয়ের মধ্য দিয়েই বাংলা প্রহসন তার স্বকীয়তা লাভ করে।
- প্রথমটিতে মধুসূদন উনিশ শতকের ইংরেজি শিক্ষাপ্রাপ্ত ইয়ংবেঙ্গলদের অতি আধুনিকতা, জীবন উপভোগের প্রবল বাসনা, অমিতাচার ও উগ্রতাকে তীব্র পরিহাসের রূপকে তুলে ধরেছেন।
- আর দ্বিতীয়টিতে তিনি সুতীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে রূপায়িত করেছেন কুলীন ব্রাহ্মণদের নারী উপভোগের বিকৃত বাসনাকে।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের স্রষ্টা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব'। কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ ঘটান তাঁর রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে৷
- তাছাড়া বাংলা ভাষায় প্রথম চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন তিনি।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়ে থাকে।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৬৯৫.
‘মহামায়া’ ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
‘মহামায়া’ ছোটগল্প:
• গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক অপূর্ব সৃষ্টি। একটি ব্যাতিক্রমী সৃষ্টিও বটে। কবি গুরু এই গল্পটি ভূতপূর্ব সমাজের পেক্ষাপটে লেখা, যখন সহমরণ অর্থাৎ সতীদাহ প্রথা চালু ছিল। সতীদাহ প্রথা তৎকালীন হিন্দু সমাজের সর্বোচ্চ ভয়ংকর একটি প্রথা ছিল। যেখানে স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীদেরও জীবন্ত দাহ করা হতো। ব্রাক্ষ্মন সমাজে এই সহমরণ প্রথার প্রচলন ছিলো সবচেয়ে বেশি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথের (১৮৬১-১৯৪১) বিপুল প্রতিভার যাদুস্পর্শে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা স্বল্প সময়ে সুসমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।
- রবীন্দ্রনাথই বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ছোটগল্পকার। বাংলা ছোটগল্পের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত।
- তাঁর প্রথম গল্প 'ভিখারিণী' ভারতী পত্রিকায় ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল,
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি,
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৯৬.
রাহুল সংকৃত্যায়ন কোন চর্যাপদ কবিকে "নাড়কপা" নামে অভিহিত করেছেন?
  1. ক) তন্ত্রীপা
  2. খ) জয়ন্দীপা
  3. গ) তাড়কপা
  4. ঘ) কঙ্কণপা
সঠিক উত্তর:
গ) তাড়কপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তাড়কপা
ব্যাখ্যা
রাহুল সাংকৃত্যায়ন তাড়কপা কে "নাড়কপা" নামে অভিহিত করেছেন। তবে শহীদুল্লাহ্‌ একে 'ভুল' বলে অভিহিত করেছেন।

• তাড়কপা চর্যাপদের ৩৭ সংখ্যক পদ লিখেছেন। তাড়কপা সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না।
- এমনকি তিব্বতী ভাষায় ৮৪ নিহাসিদ্ধের তালিকাতেও তাঁর নাম পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,৬৯৭.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  2. খ) জসীম উদদীন
  3. গ) আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
দীনেশচন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯) একজন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্য বিশারদ এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। তিনি ১৮৯৬ সালে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' শিরোনামে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনা করেন। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ। তিনি ময়মনসিংহ গীতিকা সম্পাদনা করেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,৬৯৮.
'স্বভাবকবি' হিসেবে পরিচিত ছিলেন কোন পাঁচালিকার?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. দাশরথি রায়
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
দাশরথি রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাশরথি রায়
ব্যাখ্যা

দাশরথি রায়:
- দাশরথি রায় ১৮০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার বাঁধমুড়া গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। 'দাশু রায়' নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন।
- ১৮৩৬ সালে আখড়া গঠন করে ছড়া ও পাঁচালি রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই দাশরথি খ্যাতনামা পাঁচালিকার হিসেবে নবদ্বীপের পন্ডিতসমাজে উচ্চ প্রশংসিত হন।
- তাঁর গানগুলি রাগসুরে রচিত এবং তাতে টপ্পা অঙ্গের ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
- পাঁচালিকে বিভিন্ন শ্রেণির শ্রোতাদের উপভোগ্য করে তোলেন, যা 'দাশুরায়ের পাঁচালি' নামে খ্যাত। 

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২,৬৯৯.
"ওরা অন্ধকার বেচে।
বিক্রি হয় অন্ধকার
প্রকাশ্য ও গোপন বাজারে
নানান মোড়কে মোড়া রঙীন লোভন,
কত না লেবেল-এ। - কবিতাংশের রচয়িতা কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. সমর সেন
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. সজনীকান্ত সেন
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র (১৯০৪-৮৮) আধুনিক জীবন কাব্যে রূপায়িত করেছেন।
- প্রথমা', সম্রাট’, ‘ফেরারি ফৌজ’, সাগর থেকে ফেরা’, হরিণ চিতা চিল’, কখন মেঘ’ ইত্যাদি কাব্য গ্রন্থে তাঁর বলিষ্ঠ প্রতিভার পরিচয় বিদ্যমান।
- কল্লোল গােষ্ঠীর লেখক হিসেবে প্রেমেন্দ্র মিত্র কবিতা ও কথাসাহিত্যে সব্যসাচী ছিলেন।
- তিনি আধুনিক কবিতার অন্যতম পথনির্মাতা ছিলেন, কিন্তু পরে গােত্র-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
- তাকে আবেগধর্মী কবি বলে বিবেচনা করা হয়। অথচ আবেগকে সংযত নিয়ন্ত্রিত প্রচ্ছন্ন করে রাখতে পারার সামর্থ্যেই তাঁর শিল্পধর্মের সফলতা প্রকাশ পেয়েছে।

- প্রেমেন্দ্র মিত্রের কবিতা ব্যক্তিগত জীবনাচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি, তাঁর কবিতায় আপন পরিবেশ-পরিপার্শ্বজ ব্যাপক জীবনের পরিমণ্ডলে স্পন্দিত হয়েছে।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র জীবনের রহস্যসন্ধানী—তাঁর এই প্রচেষ্টার স্বাতন্ত্রেই তিনি নতুন যুগের এক প্রতিনিধি কণ্ঠ, কেবল ভাবানুভবের নিবিষ্টতায় নয়, রূপনির্মিতির স্বতঃস্ফূর্তির বশেও। তাঁর কবিতার নমুনা :

"ওরা অন্ধকার বেচে।
বিক্রী হয় অন্ধকার
প্রকাশ্য ও গােপন বাজারে
নানান মােড়কে মােড়া রঙীন লােভন,
কত না লেবেল-এ।"

তথ্যসূত্র:- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস , মাহবুবুল আলম।
২,৭০০.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা কে? 
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. রামরাম বসু
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার: 
- তিনি আনুমানিক ১৭৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক। 
- উইলিয়াম কেরির সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজর বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন। 
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা। 
- তিনি ১৮১৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। 

তার রচিত গ্রন্থ: 
- বত্রিশ সিংহাসন, 
- রাজাবলী, 
- হিতোপদেশ, 
- বেদান্তচন্দ্রিকা, 
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।