বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ২৫ / ২১১ · ২,৪০১২,৫০০ / ২১,১৩২

২,৪০১.
'চাঁদের আমাবস্যা' - উপন্যাসে স্কুল মাস্টার কে?
  1. ক) খতিব মিয়া
  2. খ) আরেফ আলী
  3. গ) আক্কাস আলী
  4. ঘ) আবদুল কাদের
সঠিক উত্তর:
খ) আরেফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আরেফ আলী
ব্যাখ্যা
• চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচনা করেন |
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা |

- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন। - একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ।

তার লিখিত অন্যান্য উপন্যাস:
- লালসালু (১৯৪৮)
- কাঁদো নদী কাঁদো
- The Ugly Asian

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪০২.
আহমদ শরীফের সম্পাদনায় বাংলা একাডেমীর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) আলাওলের ‘সিকান্দরনামা’
  2. খ) দৌলত উজির বাহরাম খাঁর ‘লায়লী-মজনু’
  3. গ) জয়েনউদ্দীনের ‘রসুলবিজয়’
  4. ঘ) আফজল আলীর ‘নসিহতনামা’
সঠিক উত্তর:
খ) দৌলত উজির বাহরাম খাঁর ‘লায়লী-মজনু’
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দৌলত উজির বাহরাম খাঁর ‘লায়লী-মজনু’
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফের সম্পাদনাগ্রন্থঃ ষোল শতকের কবি দৌলত উজির বাহরাম খাঁর ‘লায়লী-মজনু’ (বাংলা একাডেমীর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ, ১৯৫৭),
পুথি পরিচিতি (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ, ১৯৫৮),
আলাওলের তোহফা (১৯৫৮) ও সিকান্দরনামা (১৯৭৭),
মুহম্মদ খানের সত্য-কলি-বিবাদ-সংবাদ (১৯৫৯),
মুসলিম কবির পদসাহিত্য (১৯৬১),
জয়েনউদ্দীনের রসুলবিজয় (১৯৬৪),
মুজাম্মিলের নীতিশাস্ত্রবার্তা (১৯৬৫),
মধ্যযুগের রাগতালনামা (১৯৬৭), বাঙলার সূফীসাহিত্য (১৯৬৯),
আফজল আলীর নসিহতনামা (১৯৬৯), বাউলতত্ত্ব (১৯৭৩),
সৈয়দ সুলতানের নবীবংশ, রসুলচরিত (১৯৭৮) ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]
২,৪০৩.
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. অতসীমামী
  2. জননী
  3. জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প
  4. দিবারাত্রির কাব্য 
সঠিক উত্তর:
জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প
ব্যাখ্যা

- জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত গ্রন্থ নয়।

• জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প: 

- হুমায়ুন আহমেদ এর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।
- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮–২০১২) ছিলেন একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার ও শিক্ষক।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
∗ নন্দিত নরকে,  
∗ শঙ্খনীল কারাগার, 
∗ দেবী, 
∗ বাদশাহ নামদার।

- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
∗ শ্যামল ছায়া, 
∗ আগুনের পরশমণি, 
∗ ১৯৭১ ও জোছনা ও জননী।
∗ তাঁর সর্বশেষ প্রকাশিত উপন্যাস হলো দেয়াল।
--------------------------------
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮–১৯৫৬) ছিলেন একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার।
- স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনার সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প অতসী মামী (১৯২৮) প্রকাশিত হয়।

∗ তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী;
- পদ্মানদীর মাঝি;
- দিবারাত্রির কাব্য;
- পুতুলনাচের ইতিকথা।

∗ তাঁর ঐতিহাসিক ছোটগল্প হচ্ছে: 
প্রাগৈতিহাসিক;
- এই ছোটগল্পের ঐতিহাসিক চরিত্র: পাচী, ভিখু ও পেহলাদ।

উৎস:
বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য;
বাংলাপিডিয়া। 

২,৪০৪.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য’র ধনপতি সওদাগর কোন নগরের অধিবাসী?
  1. উজানী নগর
  2. সিংহল নগর
  3. রুপ নগর
  4. বর্ধমান নগর
সঠিক উত্তর:
উজানী নগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উজানী নগর
ব্যাখ্যা

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে ধনপতি সওদাগরের কাহিনী উজানী নগরের পটভূমিতে রচিত হয়েছে।
---------------------------------------------- 
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য হলো মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঙ্গলকাব্য, যেখানে দেবী চণ্ডীকে কেন্দ্র করে কাহিনী রচিত।
- দেবী চণ্ডীকে অন্য নামে অভয়া, ভবানী বা কখনও অম্বিকা বলা হয়।
- তাই চণ্ডীমঙ্গলকে অভয়ামঙ্গল, ভবানীমঙ্গল বা অম্বিকামঙ্গলও বলা হয়।

- কাব্যটি মূলত দুইটি খণ্ডে বিভক্ত-
- প্রথম খণ্ডকে বলা হয় আখেটিক খণ্ড, যা ব্যাধ কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনী উপস্থাপন করে।
- দ্বিতীয় খণ্ড হলো বণিক খণ্ড, যা ধনপতি সওদাগরের কাহিনী। 

- দ্বিতীয় খণ্ডে উজানী নগরের ধনপতি তার সন্তান লাভের আশায় দ্বিতীয় বিবাহ করেন।
- কিন্তু দ্বিতীয় স্ত্রী খুল্লনা সন্তানহীন থাকায় তাকে বনভূমিতে ছাগল চরাতে পাঠানো হয়।
- সেখানে খুল্লনা দেবী চণ্ডীর পূজা করেন, যা ধনপতি দেখে ভাঙার চেষ্টা করেন।
- তবে খুল্লনা ও দেবী চণ্ডী মিলিতভাবে ধনপতি ও পরিবারকে রক্ষা করেন।
- ধনপতির ছেলে শ্রীমন্ত উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণের পরে বাণিজ্যিক কাজে সিংহলে পাঠানো হয়।
- সেখানে তিনি কমলে কামিনী দেখেন।
- ধনপতি রাজাকে ঘটনা জানান, কিন্তু রাজা তখন তা প্রত্যক্ষ করতে পারেননি।
- পরে দেবী চণ্ডীর কৃপায় রাজা ও ধনপতি উভয়ই উদ্ধার হন।
- শেষে রাজা শ্রীমন্তকে তার কন্যা সুশীলা ও জয়াবতী-এর সঙ্গে বিবাহ প্রদান করেন।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য মূলত দেবীর পূজা, ন্যায়-অন্যায়, কৌশল ও নৈতিকতার মধ্য দিয়ে চরিত্রের শিক্ষণীয় দিক তুলে ধরে এবং সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২,৪০৫.
আলাউদ্দিন আল আজাদের কোন উপন্যাস অবলম্বনে 'বসুন্ধরা' চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে?
  1. মানচিত্র
  2. কর্ণফুলী
  3. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  4. ক্ষুধা ও আশা
সঠিক উত্তর:
তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
ব্যাখ্যা
• 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

----------------
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪০৬.
বাংলা আধুনিক উপন্যাস-এর প্রবর্তক ছিলেন- 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় 
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় 
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা আধুনিক উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪০৭.
বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কথোপকথন
  2. খ) সংবাদ প্রভাকর
  3. গ) সবুজ পত্র
  4. ঘ) সম্বাদ কৌমুদী
সঠিক উত্তর:
ক) কথোপকথন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কথোপকথন
ব্যাখ্যা
উইলিয়াম কেরির 'কথোপকথন' বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত গদ্য গ্রন্থ। মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ প্রবোধ চন্দ্রিকা।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
২,৪০৮.
‘মেঘনাদবধ কাব্য’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের কত নম্বর কাব্য?
  1. ক) প্রথম
  2. খ) দ্বিতীয়
  3. গ) তৃতীয়
  4. ঘ) চতুর্থ
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিতীয়
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্য। এটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। এটি মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
কাহিনি : রামায়ণ থেকে নেওয়া হয়েছে। 
উৎসর্গ : রাজা দিগম্বর মিত্র, যিনি মুদ্রণের ব্যয় বহন করেছেন। 
স্থায়িত্বকাল : ৩ দিন ২ রাত। 
সর্গ : নয়টি সর্গ।

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
২,৪০৯.
নবচর্যাপদ সম্পাদনার কাজ ড. শশিভূষণ দাশগুপ্তের মৃত্যুর পর কে সম্পন্ন করেন?
  1. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ড. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• নবচর্যাপদ:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক চর্যাগীতির পুথি আবিষ্কারের প্রায় অর্ধশতক বছর পর ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত নেপাল থেকে ২০টি পুথি অবলম্বনে ২৫০টি চর্যাগীতি খুঁজে বের করেন।
- এগুলোর মধ্য থেকে ৯৮টি চর্যাগীতি নবচর্যাপদ নামে প্রকাশের উদ্যোগ নেন তিনি।
- কিন্তু তাঁর আকস্মিক মৃত্যু ঘটলে ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে সেগুলো প্রকাশিত হয়।

এই গ্রন্থে সংকলিত চর্যাগীতিপুথির প্রথম ১৯টির রচনাকাল দশম থেকে দ্বাদশ শতক। পরবর্তী ৪৪টি চর্যাগীতি ত্রয়োদশ থেকে চতুর্দশ শতকের রচনা। বাকি ৩৫টি চর্যাগীতির রচনাকাল পঞ্চদশ শতক।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে নবচর্যাপদগুলির বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে। প্রথমত ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতক সম্পর্কে সাধারণ ধারণা, বাংলা সাহেিত্যর তথাকথিত এই অন্ধকার কালপঠে এদেশে সাহিত্য রচিত হয় নি। কিন্তু নবচর্যাগীতিগুলি আবিষ্কারের পর এ প্রমাণ পাওয়া গেছে সেসময়ও সাহিত্য রচনা অব্যাহত ছিল।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ- ড. মাহবুবুল হক।
২,৪১০.
চর্যাপদ সম্পর্কে সঠিক বিবৃতি নয় কোনটি?
  1. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে এটি আবিষ্কার করেন।
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন।
  3. ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।
  4. কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন ‘চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে।
সঠিক উত্তর:
ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদ সম্পর্কে সঠিক বিবৃতি নয় - ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। 
- সঠিক বিবৃতি - ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। 

চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন।
- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম ‘আশ্চর্যচর্যাচয়'।
- নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।
- এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন।
- সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়।
- মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন।
- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন ‘চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
২,৪১১.
মধ্যযুগের কোন সাহিত্যধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয় মানুষের গুরুত্ব অধিক?
  1. শাক্তপদ ধারা
  2. মঙ্গলকাব্য ধারা
  3. লোক সাহিত্যধারা
  4. নাথ সাহিত্যধারা
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্যধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্যধারা
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যযুগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪১২.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন রাজার সভাকবি ছিলেন?
  1. রাজা রঘুনাথ রায়
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. রাজা গণেশ
  4. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর:
- অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি এবং মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে সুপরিচিত ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা তিনি। তিনি 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর অপর গ্রন্থ ‘সত্যপীরের পাঁচালী’।
- ভারতচন্দ্র সভাকবি ছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। তাকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।
- “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?” - লাইনটির রচয়িতা তিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪১৩.
ফররুখ আহমেদ কোন পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন?
  1. কল্লোল
  2. হাফেজ
  3. মিহির
  4. মাসিক মোহাম্মদী
সঠিক উত্তর:
মাসিক মোহাম্মদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা
- ফররুখ আহমেদ মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।

অন্যদিকে,
- হাফেজ পত্রিকার সম্পাদক শেখ আব্দুর রহিম।
- 'মিহির' পত্রিকার সম্পাদক শেখ আব্দুর রহিম।
- 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদক দীনেশচন্দ্র দাস।

• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৪১৪.
বৈষ্ণব সাহিত্য কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলস্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।
বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
যথা:
১. জীবনীকাব্য,
২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২,৪১৫.
'বুলবুলিস্তান' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন-
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) জসীম উদ্‌দীন
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) দিলারা হাসেম
সঠিক উত্তর:
ক) গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
- 'বুলবুলিস্তান' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন- গোলাম মোস্তফা

• গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- তিনি গীতিকার ও গায়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর গানের বিষয় ছিল ইসলামি সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ।
- খোশরোজ।
- কাব্য-কাহিনী।
- সাহারা।
- হাসনাহেনা।
- বুলবুলিস্তান।
- তারানা-ই-পাকিস্তান।
- বনি আদম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪১৬.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো' এই সংলাপটির স্রষ্টা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. রফিক আজাদ
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো' - এই উপন্যাসের সংলাপ।

• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৪১৭.
বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্য কয়টি ধারায় বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ধারায় বিভক্ত করা হয়। যথা:
১. খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা,
২. বিশুদ্ধ পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা।

•খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর) ও ধর্মমঙ্গল। অপ্রধান শ্রেণি হিসেবে: সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৪১৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের 'হৈমন্তী' এর স্বামীর নাম কী ছিলো?
  1. গৌরীশংকর
  2. অপু
  3. তপু
  4. বনমালী
সঠিক উত্তর:
অপু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপু
ব্যাখ্যা
'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' এর স্বামীর নাম ছিলো — অপু। 

- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজ সমস্যামূলক ছোট গল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
• হৈমন্তী (শিশির),
• গৌরীশংকর,
• অপু,
• বনমালী প্রমুখ।

এই গল্পের কিছু বিখ্যাত উক্তি -
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ ইত্যাদি।
-------------------- 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪১৯.
"কল্যাণীর ধারাবাহী যে_মাধুরী বাংলা ভাষায়
গড়েছে আত্মীয় পল্লী,যমুনা-পদ্মার তীরে তীরে
রুপোলি জলের ধারে"- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• "কল্যাণীর ধারাবাহী যে_মাধুরী বাংলা ভাষায়
গড়েছে আত্মীয় পল্লী,যমুনা-পদ্মার তীরে তীরে
রুপোলি জলের ধারে"- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা 'অমিয় চক্রবর্তী'। 

• 'বাংলাদেশ' কবিতা:
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বাংলাদেশ কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বিখ্যাত কবিতা ‘বাংলাদেশ’ অনিঃশেষ (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- কবিতাটি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
------------- 
• অমিয় চক্রবর্তী:
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
• খসড়া,
• এক মুঠো,
• মাটির দেয়াল,
• অভিজ্ঞান বসন্ত,
• অনিঃশেষ ইত্যাদি।
----------------
কবিতাংশ:
কল্যাণীর ধারাবাহী যে_মাধুরী বাংলা ভাষায়
গড়েছে আত্মীয় পল্লী,যমুনা-পদ্মার তীরে তীরে
রুপোলি জলের ধারে,আম-জাম-নারকেল ঘেরা
আমন ধানের খেতে শ্রুতিময় তারি অন্তর্লীন
বাণী শোনো প্রাত্যহিক-বহু মিশ্র প্রাণের সংসারে
সেই বাংলাদেশে ছিল সহস্রের একটি কাহিনী
কোরানে পুরাণে শিল্পে,পালা-পার্বণের ঢাকে ঢোলে
আউল বাউল নাচে;পুন্যাহের সানাই রজ্ঞিত
রোদ্দুরে আকাশতলে দেখ কারা হাটে যায়,মাঝি
পাল তোলে,তাঁতি বোনে,খড়ে-ছাওয়া ঘরের আঙনে
মাঠে ঘাটে-শ্রমসঙ্গী নানাজাতি ধর্মের বসতি
চিরদিন বাংলাদেশ (সংক্ষেপিত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'বাংলাদেশ' কবিতা।
২,৪২০.
নিচের কোনটি গোয়েন্দাভিত্তিক রচনা?
  1. ক) লাল ফুলকি
  2. খ) জাল
  3. গ) ওয়ারিশ
  4. ঘ) যাত্রা
সঠিক উত্তর:
খ) জাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জাল
ব্যাখ্যা
• গোয়েন্দাভিত্তিক রচনা জাল।
- উপন্যাসটির রচয়িতা আবু ইসহাক।  
- এটি তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস। 

• আবু ইসহাক ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৪২১.
'জয়গুন' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. খ) সূর্য দীঘল বাড়ি
  3. গ) অরণ্য নীলিমা
  4. ঘ) সংকর সংকীর্তন
সঠিক উত্তর:
খ) সূর্য দীঘল বাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সূর্য দীঘল বাড়ি
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাকের উপন্যাস সূর্য দীঘল বাড়ি, পদ্মার পলিদ্বীপ ও জাল। অরণ্য নীলিমা আহসান হাবীবের উপন্যাস এবং সংকর সংকীর্তন উপন্যাসের রচয়িতা আবু জাফর শামসুদ্দীন। সূর্য দীঘল বাড়ি উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'জয়গুন'।
২,৪২২.
বৈষ্ণব পদাবলির বেশিরভাগ পদ কোন ভাষায় রচিত হয়েছে?
  1. প্রাচীন বাংলা
  2. প্রাচীন সংস্কৃত
  3. ব্রজবুলি
  4. গদ্য-পদ্য
সঠিক উত্তর:
ব্রজবুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রজবুলি
ব্যাখ্যা
- মৈথিলি ও বাংলা মিশ্রিত হয়ে যে কৃত্রিম ভাষা সৃষ্টি হয়েছিল তাকে ব্রজবুলি ভাষা বলে।
- এই ভাষায় কথা বলা হত না, কেবল লেখার ভাষা হিসেবে এটি ব্যবহৃত হত।
- এই ভাষার উদ্ভাবন করেন - মিথিলার কবি বিদ্যাপতি।
- এই ভাষাতেই বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশ পদ রচিত হয়েছে।
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম
২,৪২৩.
শুকুর মাহমুদ রচিত কাব্য কোনটি?
  1. মীনচেতন
  2. গোর্খবিজয়
  3. গোপীচাদের সন্ন্যাস
  4. গোরক্ষবিজয়
সঠিক উত্তর:
গোপীচাদের সন্ন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপীচাদের সন্ন্যাস
ব্যাখ্যা
শুকুর মাহমুদ ও 'গোপীচাদের সন্ন্যাস' কাব্য:
- শুকুর মহম্মদের কাব্যের নাম 'গোপীচাদের সন্ন্যাস'। তাঁর মতে এটি ঐতিহাসিক কাহিনিকাব্য।
- ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়।
- ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী শুকুর মহম্মদের পুঁথি দিনাজপুর থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। সে পুঁথি শতাধিক বৎসরের পুরাতন। কবির নিবাস বালুরঘাটে সিন্দুর-কুসুম গ্রামে ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। পুরাণ শুনে কবি এ কাব্য রচনা করেন।

- যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি শুকুর মহম্মদের কাব্য সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে লিখেছেন, 'কবির ভাষা প্রাঞ্জল। কিন্তু নারীর বেশভূষা ও রূপবর্ণনা করিবার সময় তিনি সংস্কৃত শব্দের লোভছাড়িতে পারেন নাই। অনেক শব্দের অপপ্রয়োগ করিয়াছেন, বর্ণনাও ব্যর্থ হইয়াছে। তথাপি তাঁহার রচনায় সংযম আছে; অন্যান্য কবির ন্যায় গ্রাম্যজনসুলভ অশ্লীলতা নাই। ভাষা দেখিলে কবিকে দুই একশত বৎসরের অধিক পুরাতন বোধ হয় না।'

- ড. মুহম্মদ এনামুল হক শুকুর মহম্মদের কাল আনুমানিক ১৬৮৩ থেকে ১৭৫০ সঙ্গি বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁকে ত্রিপুরার কবি মনে করেন এবং তাঁর মতে আঠার শতকের গোড়ার দিকে এ কাব্য রচিত হয়। 

- কবি নিজের নাম সম্পর্কে বলেছেন:
আবদুল শুকুর নাম পিতাএ রাখিল।
শুকুর মোহাম্মদ নাম কিতাবে ঘুষিল।

অন্যদিকে, 
গোরক্ষনাথ-মীননাথের কাহিনি অবলম্বনে রচিত যে সব কাব্য সম্পাদিত হয়ে প্রকাশ পেয়েছে সেগুলো হলো:
১. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সম্পাদিত কবি শেখ ফয়জুল্লার 'গোরক্ষবিজয়',
২. ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত কবি শ্যামদাস সেনের 'মীনচেতন' এবং
৩. ড. পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত কবি ভীম সেনের 'গোর্খবিজয়'। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
২,৪২৪.
নিচের কোন উপন্যাসের উপজীব্য ‘পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ’?
  1. ক) বোবা কাহিনী
  2. খ) বাঁধন হারা
  3. গ) মহাশ্মশান
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর কোনটিই নয়।

- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদ রচিত বাংলা মহাকাব্য (১৯০৪)। এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধ ছিল ভারতের উদীয়মান হিন্দুশক্তি মারাঠাদের সঙ্গে মুসলিমশক্তি তথা আহমদ শাহ আবদালীর নেতৃত্বে রোহিলা-অধিপতি নজীবউদ্দৌলার শক্তিপরীক্ষা।
- যুদ্ধে মুসলমানদের জয় হলেও কবির দৃষ্টিতে তা ছিল উভয়েরই শক্তিক্ষয় ও ধ্বংস; এজন্যই তিনি একে ‘মহাশ্মশান’ বলেছেন।

বোবা কাহিনী পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের লেখা উপন্যাস। ১৯৬৪ সালে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবন ভিত্তিক।

এবং, কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। এতে ১৮টি পত্র রয়েছে। কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সময় নজরুল এর দুটি নাম ঠিক করেন ‘বাধন-হারা ও 'তাহমিনা'। পরে ‘বাধন-হারা' নামেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা। অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে- রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

২,৪২৫.
'দেশপ্রেমিক' ও 'বিশ্বকর্মা' কোন সাহিত্যিকের ছদ্মনাম?
  1. শহীদুল্লা কায়সার
  2. শামসুর রাহমান
  3. সুকুমার রায়
  4. সিকান্দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লা কায়সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদুল্লা কায়সার
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লা কায়সার
- তার প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লা।
- তিনি একজন বাংলাদেশী সাংবাদিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবী। 
- শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার সোনাগাজি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ভাষা আন্দোলনে তার রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে ১৯৫২ সালের ৩ জুন তিনি গ্রেফতার হন।
- তিনি ১৯৪৯ সালে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিচালিত সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগদান করেন৷

- শহীদুল্লা কায়সার সংবাদ পত্রিকায় 'দেশপ্রেমিক' ছদ্মনামে রাজনৈতিক পরিক্রমা এবং 'বিশ্বকর্মা' ছদ্মনামে বিচিত্র কথা এই দুটি কলাম লিখতেন।

- তিনি ১৯৬৯ সালে উপন্যাসে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৮৩ সালে সাংবাদিকতায় মরণোত্তর একুশে পদক এবং সাহিত্যে ১৯৯৮ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

♦♦ সাহিত্যকর্ম: 
- ১৪ অক্টোবর, ১৯৫৮ সালে তাঁকে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করে আইয়ুব সরকার। এরপর তিনি মুক্তি পেলেন ১৯৬২ সালের অক্টোবরে। 
- এই সময় কারাগারে বসেই তিনি লিখেন তাঁর অমর উপন্যাস 'সারেং বৌ', যা কারাগার মুক্তি হওয়ার এক মাস পরে ১৯৬২ সালের নভেম্বর মাসে ছাপা হয়।  
- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'সংশপ্তক'(১৯৬৫), স্মৃতিকথা 'রাজবন্দীর রোজনামচা'ও  কারাগারে বসেই লিখেছিলেন।  

♦ অন্যান্য উপন্যাস: 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ, 
- তিমির বলয়, 
- দিগন্তে ফুলের আগুন, 
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা, 
- চন্দ্রভানের কন্যা, 
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

♦ স্মৃতিকথা: 
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

♦ ভ্রমণকাহিনী: 
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

তথ্যসূত্র - প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ওয়েবসাইট।

২,৪২৬.
মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতির সাথে সেলিম আল দীন কোন নাটক রচনার পর্বে পরিচিত হন?
  1. মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
  2. কিত্তনখােলা
  3. জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  4. কেরামতমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
কিত্তনখােলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিত্তনখােলা
ব্যাখ্যা

• ‘কিত্তনখােলা’ নাটক:
- ‘কিত্তনখােলা’ নাটকটের রচয়িতা সেলিম আল দীন।
- ‘কিত্তনখোলা’ নাটক রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন। মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়।
- ‘কিত্তনখোলা’ হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত।
- লেখকের ভাষায় - কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই।

-----------------------
সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং ‘কিত্তনখোলা’ নাটক।

২,৪২৭.
কারবালার যুদ্ধের করুণ কাহিনি বর্ণিত হয়েছে কোন সাহিত্যকর্মে?
  1. ইতিহাসমালা
  2. সাত সাগরের মাঝি
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. বিষাদ-সিন্ধু
সঠিক উত্তর:
বিষাদ-সিন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষাদ-সিন্ধু
ব্যাখ্যা
• ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস: 
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।

- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয়নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত। তন্মধ্যে 'মহরম পর্ব্বে' উপক্রমণিকা ও ছাব্বিশটি প্রবাহ, 'উদ্ধার পর্ব্বে' ত্রিশটি প্রবাহ, 'এজিদ-বধ পর্ব্বে' পাঁচটি প্রবাহ ও উপসংহার-অংশ রয়েছে।

- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।

- জয়নাবের রূপে বিমোহিত এজিদ এবং এই রূপতৃষ্ণার পরিণামে বহু মানুষের বিপর্যয় ও ধ্বংসের যে কথকতা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রন্থটিকে সর্বজনীন করে তুলেছে।

- 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকেই মীর মশাররফ হোসেন গ্রহণ করেছেন।

--------------------
অন্যদিকে,
• 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।

• ইসলামি স্বাতন্ত্র‌্যবাদী কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিরূপ সমাজের ছবি ‘লাশ’ ও ‘আউলাদ’ কবিতায় পাওয়া যায়। তবে মূলত মুসলমানদের জাগরণের লক্ষ্যে তিনি এ গ্রন্থের কবিতাগুলো লিখেছেন।

• 'ইতিহাসমালা' (১৮১২) উইলিয়াম কেরি সঙ্কলিত বিভিন্ন বিষয়ের ১৫০টি গল্পের সংগ্রহ। বাংলা ভাষায় এবং আধুনিক ভারতীয় সাহিত্যের এটি প্রথম গল্পসংগ্রহ। গল্পগুলি বাংলাদেশের নানা অঞ্চলে প্রচলিত ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪২৮.
'মনোজগতে বাতি জ্বালানোর জন্যে সাহিত্যচর্চার বিশেষ প্রয়োজন।' - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরীর কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষত (বইপড়া)।
- ভাষা মানুষের মুখ হতে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে (ভাষার কথা)।
- জীবনে জ্যাঠামি, সাহিত্যে ন্যাকামি সহ্য করতে পারতেন না-প্রমথ চৌধুরী (সাহিত্যে খেলা)।
- মনোজগতে বাতি জ্বালানোর জন্যে সাহিত্যচর্চার বিশেষ প্রয়োজন। 
- জ্ঞানের প্রদীপ যেখানেই জ্বালো না কেন, তাহার আলোক চারদিক ছড়াইয়া পড়িবে।
- সাহিত্যের উদ্দেশ্যে সকলকে আনন্দ দান করা কারো মনোরঞ্জনের বিষয় নহে (সাহিত্যে খেলা)।
- ব্যাধিই সংক্রামক স্বাস্থ্য নয়।

প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৪২৯.
কোন লেখকের প্রকৃত নাম ‘মইনুদ্দিন আহমেদ’?
  1. শামসুর রহমান
  2. মনিরুজ্জামান
  3. সেলিম আল দীন
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা

• নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম - মইনুদ্দিন আহমেদ।

অন্যদিকে, 
- মুক্তিযুদ্ধকালে শামসুর রহমান ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- ‘সত্যপীর’ - সৈয়দ মুজতবা আলী এর ছদ্মনাম।
- ‘হায়াৎ মামুদ’ ছদ্মনামে মনিরুজ্জামান লিখতেন।

সেলিম আল দীন: 
-  তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়। 
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়। 
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান। 
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২,৪৩০.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস -
  1. তারাবাঈ
  2. স্পেন বিজয় কাব্য
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. অনল প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
তারাবাঈ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাবাঈ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা ছিলেন।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী একই সাথে বেশ কিছু সংগঠন ও দলের সদস্য ছিলেন, যেমন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, আঞ্জুমান-ই-উলামা-ই-বাঙ্গালা, জামিয়াত-ই-উলামা-ই-হিন্দ, স্বরাজ পার্টি ও কৃষক সমিতি।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,৪৩১.
‘অশীতিপর শর্মা’ ছদ্মনামে কে লেখেন?
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• ‘অশীতিপর শর্মা’ ছদ্মনামে লিখতেন - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর।

অন্যদিকে,
- সমরেশ বসু ব্যবহৃত ছদ্মরনাম - কালকূট।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - নীল উপাধ্যায়, নীল লোহিত, সনাতন পাঠক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

২,৪৩২.
'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাসের রচয়িতা কে? 
  1. জহির রায়হান 
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

​তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২,৪৩৩.
কাজী নজরুল ইসলামের 'ঝিলিমিলি' নাট্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯২৭ সালে
  2. খ) ১৯৩০ সালে
  3. গ) ১৯৩১ সালে
  4. ঘ) ১৯৩৫ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৩০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৩০ সালে
ব্যাখ্যা
ঝিলিমিলি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নাট্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩০ সালে। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক- আলেয়া, পুতুলের বিয়ে ও মধুমালা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসিনা নাজিলা। অনেক গাইডে ভুল দেয়া আছে।
২,৪৩৪.
‘মন্দির ও মসজিদ’ গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. কায়কোবাদ
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ‘মন্দির ও মসজিদ’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধ।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
২,৪৩৫.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র নয়-
  1. ক) রাধা
  2. খ) সনকা
  3. গ) কৃষ্ণ
  4. ঘ) বড়াই
সঠিক উত্তর:
খ) সনকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সনকা
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি। এগুলো হলো- কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই। রাধা কৃষ্ণের মাঝে সংযোগ সৃষ্টিকারী অনুঘটক চরিত্র ছিলো বড়াই। মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র সনকা। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২,৪৩৬.
"তেইশ নম্বর তৈলচিত্র" উপন্যাস অবলম্বনে কোন চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে?
  1. আয়না
  2. বসুন্ধরা
  3. ডুমুরের ফুল
  4. তালাশ
সঠিক উত্তর:
বসুন্ধরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসুন্ধরা
ব্যাখ্যা
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে 'বসুন্ধরা' চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৩৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. ড. সুকুমার সেন
  4. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
সঠিক উত্তর:
ড. দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য':
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' (১৮৯৬) দীনেশচন্দ্র সেন রচিত বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।

- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয়ের মনোজ্ঞ বিবিরণ লিপিবদ্ধ আছে এই গ্রন্থে।

- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাসগ্রন্থ যেখানে সাহিত্য ও সমাজের গূঢ় সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়া হয়।

----------------
• দীনেশচন্দ্র সেন:
- রায়বাহাদুর দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।

- তিনি ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মাতুলালয়, বগজুড়ি গ্রাম, ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লী অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে প্রাচীন বাংলা পুঁথি ও লোককথা সংগ্রহ করেন।

- তাঁর সংগৃহীত পুঁথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' রচনা করেন। 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।

- তাঁর রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়' (১৯১৪)।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯৩৯ সালের ২০ নভেম্বর বেহালায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৪৩৮.
মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনি অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচিত নাটক?
  1. তরঙ্গভঙ্গ 
  2. কুলীন কুলসর্বস্ব
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. সুড়ঙ্গ
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

'শর্মিষ্ঠা' নাটক: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক- শর্মিষ্ঠা। 
- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনি অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার। 
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে নাটকটি প্রকাশিত ও একই সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়। 
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- যযাতি, দেবযানি, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৪৩৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম গল্পসংগ্রহের নাম কী?
  1. কথা-চতুষ্টয়
  2. গল্প দশক
  3. ছোটগল্প
  4. বিচিত্র গল্প
সঠিক উত্তর:
ছোটগল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম গল্পসংগ্রহের নাম 'ছোটগল্প'।
- এটি ১৮৯৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরে প্রকাশিত হয় পরপর চারটি গল্পগ্রন্থ 'কথা-চতুষ্টয়' (১৮৯৪), 'বিচিত্র গল্প' দুই খণ্ড (১৮৯৪), 'গল্প দশক' (১৮৯৫)।
- ১৯০০ সালে এই পাঁচটি গ্রন্থের গল্প ও নতুন লিখিত কিছু গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় 'রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ' নামে একটি গ্রন্থ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের নিবিড় সম্পর্ক বিষয়ক গল্প:
- শুভা,
- অতিথি,
- আপদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৪৪০.
শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বিধ্বস্ত নীলিমা
  2. রৌদ্র করোটিতে
  3. অদ্ভুত আঁধার এক
  4. ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা
সঠিক উত্তর:
অদ্ভুত আঁধার এক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্ভুত আঁধার এক
ব্যাখ্যা
• 'অদ্ভুত আঁধার এক' শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

-----------------
শামসুর রাহমান:

• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা 'স্বাধীনতা তুমি' ও 'তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা'।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে 'বন্দী শিবির থেকে' নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে 'বন্দী শিবির থেকে'র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৪১.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. ক) কাঁদো নদী কাঁদো
  2. খ) লালসালু
  3. গ) চাঁদের অমাবস্যা
  4. ঘ) তরঙ্গভঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) তরঙ্গভঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তরঙ্গভঙ্গ
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
• তিনি চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
• প্রদত্ত অপশনে তরঙ্গভঙ্গ নাটক। বাকিগুলো উপন্যাস।
• তাঁর রচিত নাটকঃ
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানের মৃত্যু ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- লালসালু,
- কাঁদো নদী কাঁদো ও
- চাঁদের অমাবস্যা।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২,৪৪২.
আবুল মনসুর আহমদের 'আয়না' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
খ) গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ রচিত 'আয়না'- 'গল্পগ্রন্থ' 

আবুল মনসুর আহমদ
আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া
২,৪৪৩.
'সাঁঝের মায়া' কাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) জীবনানন্দ দাস
  4. ঘ) কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
খ) সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
'সাঁঝের মায়া' কাব্যটির রচয়িতা- 'সুফিয়া কামাল'।

সুফিয়া কামাল 
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। 
- কবি সুফিয়া কামালের বিখ্যাত কবিতা ‘তাহারেই পড়ে মনে’ প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়। এটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়্‌
- মায়া কাজল, 
- মন ও জীবন,  
- উদাত্ত পৃথিবী, 
- অভিযাত্রিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৪৪.
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকাটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৮৪ সালে
  2. ১৭৮০ সালে
  3. ১৭৮৫ সালে
  4. ১৭৭৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৮০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮০ সালে
ব্যাখ্যা
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৪৫.
নিচের কোন কবিতাটি 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. মানুষ
  2. বারাঙ্গনা
  3. কুলি মজুর
  4. মহররম
সঠিক উত্তর:
মহররম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহররম
ব্যাখ্যা

• 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা নয় - মহররম। এটি 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা।

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:

- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি মজুর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,৪৪৬.
‘চার ইয়ারী কথা’ গল্পগ্রন্থের চারজন নায়িকা কোথাকার অধিবাসী?
  1. আরবীয়
  2. ইউরোপীয়
  3. ভারতীয়
  4. চীনদেশীয়
সঠিক উত্তর:
ইউরোপীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরোপীয়
ব্যাখ্যা
'চার ইয়ারী কথা' গল্পগ্রন্থ:
- এটি প্রমথ চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ।  এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এখানে বর্ণিত হয়েছে চার বন্ধুর প্রেমের কাহিনী। গল্পগ্রন্থের নায়িকা চারজনই ইউরোপীয়।
- গল্পগ্রন্থে প্রথম নায়িকা উন্মাদ, দ্বিতীয় চোর, তৃতীয় প্রতারক ও চতুর্থ নায়িকা মৃত্যুর পর ভালোবাসা ব্যক্ত করেছে।
- এটিতে ভাষার চাতুর্য, পরিহাসপ্রিয়তা এবং সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ উদ্ভাসিত হয়েছে ভাবালু প্রেমকাহিনী প্রতিবাদী রূপে।

-----------------
প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী। বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী। প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৪৭.
"ক’ফোঁটা রক্ত দিয়ে এক ফোঁটা চোখের জল হয় তোমাদের বিজ্ঞানে বলতে পারে?" - উক্তিটি কে করেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. হেলাল হাফিজ 
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• "ক’ফোঁটা রক্ত দিয়ে এক ফোঁটা চোখের জল হয় তোমাদের বিজ্ঞানে বলতে পারে?" - এই উক্তিটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের কাজী মোতাহার হোসেনের কাছে লিখা একটি চিঠির বিখ্যাত উক্তি।

• উক্তিটি লেখার প্রেক্ষাপট:
এই লেখায় কাজী নজরুল ইসলামের একতরফা প্রেম ও মানসিক যন্ত্রণার করুণ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কবি তাঁর প্রিয় বন্ধু কাজী মোতাহার হোসেনকে উদ্দেশ করে ফজিলাতুন্নেছার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও বিরহের কষ্ট প্রকাশ করেছেন চিঠির মাধ্যমে। ফজিলাতুন্নেছা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম ছাত্রী ও মেধাবী নারী, যাঁকে নজরুল নিঃশব্দে ভালোবেসেছিলেন। কিন্তু তাঁর পক্ষ থেকে পাওয়া এক কড়া চিঠিতে কবি ভীষণ আঘাত পান এবং বুঝতে পারেন, আর কোনো উত্তর আসবে না। সেই আঘাতে কবি আরও ব্যাকুল হয়ে ওঠেন এবং মোতাহার হোসেনের কাছে প্রেমের যন্ত্রণা নিয়ে প্রশ্ন করেন। চিঠিগুলোতে নজরুলের অসহায়তা, হতাশা ও হৃদয়ের ক্ষত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একখানা চিঠির প্রত্যাশায় কবির অন্তর শুকিয়ে মরুভূমির মতো হয়ে যায়—যা তাঁর গভীর মানসিক যন্ত্রণা ও অসম প্রেমের বেদনার প্রতীক।

প্রাসঙ্গিক তথ্য:
- এই চিঠিতে কাজী মোতাহার হোসেনকে 'মতিহার' বলে সম্বোধন করা হয়েছে।
- নজরুল এই চিঠিকে নিজের জীবনের সবচেয়ে করুণ পাতা বলে উল্লেখ করেছেন। 
- এই চিঠিতে কাজী নজরুল ইসলাম নিজেকে ইংরেজ কবি কীটসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কিট্‌স-এর প্রিয়া ফ্যানিকে লিখা চিঠির সাথে কবির মনের ভাবের সামঞ্জস্য এবং একইসাথে কিট্‌স এর ‘সোর-থ্রোট’ (যক্ষা) হয়ে মারা যাওয়া এর সাথে নিজের কণ্ঠপ্রদাহ রোগের মিল থেকে কবি এমন তুলনা করেছেন। 

উৎস: কাজী মোতাহার হোসেনের কাছে লিখা একটি চিঠি।

২,৪৪৮.
'জাগাে মানুষের সুপ্ত শক্তি হাটে মাঠে ঘাটে বাঁকে'— কোথা থেকে নেয়া?
  1. ক) একুশে ফেব্রুয়ারী
  2. খ) বাংলাদেশ
  3. গ) একুশের গান
  4. ঘ) স্বাধীনতা তুমি
সঠিক উত্তর:
গ) একুশের গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) একুশের গান
ব্যাখ্যা

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত 'একুশের গান' প্রথম ছাপা হয় হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলনে। এটি ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রকাশিত প্রথম সংকলন। প্রকাশ পায় ১৯৫৩ সালে৷
এই গানের একটি লাইন-  
'জাগাে মানুষের সুপ্ত শক্তি হাটে মাঠে ঘাটে বাঁকে'- বলতে কবি বাঙালির মধ্যে প্রতিরােধ স্পৃহা আছে। এই প্রতিরােধ স্পৃহাকে তিনি জাগ্রত করতে বলেছেন এবং পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বলেছেন ঐক্যবদ্ধ হতে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷

২,৪৪৯.
‘অশনি সংকেত’ উপন্যাসের পটভূমি কী?
  1. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
  2. দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ ও ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ
  3. বাংলা নবজাগরণ
  4. স্বাধীনতা সংগ্রাম
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ ও ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ ও ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা
'অশনি সংকেত' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে। তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৪৫০.
'বঙ্গ আমার জননী আমার' বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গানটির রচয়িতা-
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. জসীমউদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
'বঙ্গ আমার জননী আমার'- বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গানটির রচয়িতা: 'দ্বিজেন্দ্রলাল রায়'। 
- পরাধীন ভারতে বাঙালিদের মধ্যেই যেমন প্রথম বিপ্লবীর জন্ম হয়েছিল, তেমনি বাঙালির কণ্ঠেই প্রথম জলদমন্দ্র ধ্বনিত হয়েছিল দ্বিজেন্দ্রলালের ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’ গানের মধ্য দিয়ে।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।

দ্বিজেন্দ্রলালের উলে­খযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
• কাব্য:
- আর্য্যগাথা,
- আলেখ্য,
- ত্রিবেণী।

• নকশা-প্রহসন:
- একঘরে,
- সমাজ-বিভ্রাট ও কল্কি অবতার,
- ত্র্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম।

• পৌরাণিক নাটক:
- পাষাণী,
- সীতা,
- ভীষ্ম।

• সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

"বঙ্গ আমার জননী আমার"- কবিতা,
------------- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। 

বঙ্গ আমার জননী আমার
ধাত্রী আমার, আমার দেশ
কেন গো মা তোর শুস্ক নয়ন?
কেন গো মা তোর রুক্ষ কেশ?
কেন গো মা তোর ধুলায় আসন?
কেন গো মা তোর মলিন বেশ?
.
শত কোটি সন্তান যার
ডাকে উপচে আমার দেশ।
কিসের দুঃখ, কিসের দৈন্য,
কিসের লজ্জা, কিসের ক্লেশ?
শত কোটি মিলিত কণ্ঠে
ডাকে যখন আমার দেশ।।
.
উদিল যেখানে বৌদ্ধ আত্মা
মুক্ত করিতে মোক্ষ দ্বার,
আজিও জুড়িয়া অর্ধ জগৎ
ভক্তি প্রণতঃ চরণে যার।
অশোক যাহার কীর্তি ছায়িল
গান্ধার হতে জলধি শেষ
তুই কিনা মা গো তাদের জননী?
তুই কিনা মা গো তাদের দেশ।।

একদা যাহার বিজয় সেনানী
হেলায় লঙ্কা করিল জয়
একদা যাহার অর্ণবপোত
ভ্রমিল ভারত সাগরময়।
সন্তান যার তিব্বততীর
জাপানে গঠিল উপনীদেশ
তার কি না ধুলায় আসন,
তার কি না এই চ্ছিন বেশ?

উদিল যেখানে মোরজ মন্ত্রে
নিমাই কণ্ঠে মধুর ও তান
ন্যায়ের বিধান দিল রঘুমনি,
চন্ডীদাসও গাইল গান
যুদ্ধ করিল প্রতাপাদিত্য
তুই কিনা সেই ধন্য দেশ,
ধন্য আমরা যদি এ শিরায়
রহে যদি তাদের রক্ত লেশ।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৫১.
উনসত্তরের প্রেক্ষাপটে রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আবু ইসহাক
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
ক) আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা

আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার (উনসত্তরের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস),
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন,
- মরণবিলাস,
- গাভী বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২,৪৫২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘হিন্দুমেলার উপহার' কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. জ্ঞানাঙ্কুর
  2. ভারতী
  3. অমৃতবাজার
  4. তত্ত্ববোধিনী
সঠিক উত্তর:
অমৃতবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমৃতবাজার
ব্যাখ্যা
'হিন্দুমেলার উপহার' কবিতা:
- কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম প্রকাশিত কবিতাটির নাম হচ্ছে - ‘হিন্দুমেলার উপহার’।
- তাঁর কবিতাটি ১৮৭৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সর্বপ্রথম অমৃতবাজার পত্রিকার প্রকাশিত হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৪৫৩.
'জয় বাংলা, বাংলার জয়' গানটির সুরকার কে?
  1. ক) গাজী মাজহারুল আনোয়ার
  2. খ) আলতাফ মাহমুদ
  3. গ) আনোয়ার পারভেজ
  4. ঘ) সমর দাস
সঠিক উত্তর:
গ) আনোয়ার পারভেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আনোয়ার পারভেজ
ব্যাখ্যা
- জয় বাংলা বাংলার জয় গানটির রচয়িতা বা গীতিকার হলেন- গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
- গানটির সুরকার হলেন আনোয়ার পারভেজ।

এছাড়াও -
- গোবিন্দ হালদার একটি ফুলকে বাচাবো বলে, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, পূর্বদিগন্তে সূ্র্য উঠেছে প্রভৃতি গানের রচয়িতা।
- সব কটা জানালা খুলে দাও না গানটির গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু।
- জনতার সংগ্রাম চলবেই গানটি সিকান্দার আবু জাফর রচিত।
- সালাম সালাম হাজার সালাম গানটি ফজলে এ খোদা রচিত।

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রণোদনা : গান, দৈনিক ভোরের কাগজ
২,৪৫৪.
'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. রাজেন্দ্রলাল মিত্র
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

- 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থের রচয়িতা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
- এই গ্রন্থেই তিনি বলেন চর্যাপদে পদসংখ্যা ৫০টি এবং প্রাপ্ত পদ সাড়ে ছেচল্লিশটি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৪৫৫.
কোনটি কামিনী রায় রচিত সনেট সংগ্রহ?
  1. নির্মাল্য
  2. অশোক সংগীত
  3. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  4. সনেট পঞ্চশৎ
সঠিক উত্তর:
অশোক সংগীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অশোক সংগীত
ব্যাখ্যা
 'অশোক সংগীত' কামিনী রায় রচিত - সনেট সংগ্রহ।
- এটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত।

• কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)। 

অন্যদিকে,
- 'সনেট পঞ্চশৎ' তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।
- 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী - মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৫৬.
বাংলা লোকসাহিত্যের অন্যতম প্রধান সংগ্রাহক-
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
  3. গ) হরিনাথ মজুমদার
  4. ঘ) রামেন্দু মজুমদার
সঠিক উত্তর:
খ) মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
ব্যাখ্যা

- মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন বাংলা লোকসাহিত্যের অন্যতম প্রধান সংগ্রাহক।
- তিনি লোকসাহিত্যের সংকলন 'হারামনি' (দশ খন্ড) সম্পাদনা করেন।
- এর প্রথম সংগ্রহ ছিল নিজ গ্রামের প্রেমদাস বৈরাগীর কাছ থেকে লালনের একটি গান।
- যা পরে প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

২,৪৫৭.
'শেষের কবিতা' উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় ছাপা হয়?
  1. ভারতী
  2. প্রবাসী
  3. কল্লোল
  4. হিতকরী
সঠিক উত্তর:
প্রবাসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাসী
ব্যাখ্যা
'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে।
- নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্‌রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন: ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৪৫৮.
'বেনের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) জসীমউদ্‌দীন
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
'বেনের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এর চরিত্রগুলি প্রায় সবই কাল্পনিক কিন্তু এর পরিবেশ ঐতিহাসিক। 
- দশম-একাদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ, বৌদ্ধধর্মের অবসান ও হিন্দুধর্মের পুনরুত্থানের কালে সপ্তগ্রামের এর বৌদ্ধ পরিবারকে নিয়ে কাহিনিটি রচিত হয়েছে। 

উল্লেখ্য, 'বেদের মেয়ে' নাটকটির রচয়িতা পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৫৯.
'শিউলিমালা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. নাটক
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• গল্পগ্রন্থ 'শিউলিমালা':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ- শিউলিমালা।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

--------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

তাঁর অন্য গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- শিউলিমালা,
- রিক্তের বেদন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ।
২,৪৬০.
'ভিমসিংহ' - কোন রচনার চরিত্র?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. পদ্মাবতী
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণকুমারী:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থথেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো: কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীমসিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২,৪৬১.
মীর মশাররফ হোসেন 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' গ্রন্থে প্রধানত কী তুলে ধরেছেন?
  1. কাল্পনিক যুদ্ধের কাহিনি
  2. ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন
  3. পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনা
  4. গ্রাম্য লোকগাথা
সঠিক উত্তর:
পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনা
ব্যাখ্যা

উদাসীন পথিকের মনের কথা:
- 'উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- "উদাসীন পথিকের মনের কথা” (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না।
- বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।
- এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত বর্ণনা এবং নিজের মাতা-পিতাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে চিত্রিত হতে দেখা যায়। উদাসীন পথিকের মনের কথায় হিন্দু-মুসলমানের যে মিলন-কামনা আছে, তার গভীর তাৎপর্য স্বীকার করতে হয়।

মীর মশাররফ হোসেন:
- তিনি ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' (১৮৩১) ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রত্নবতী,
- বিষাদ-সিন্ধু,
- উদাসীন পথিকের মনের কথা।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,৪৬২.
কায়কোবাদের রচনা নয় কোনটি?
  1. বিরহ-বিলাপ
  2. অমিয়ধারা
  3. মহরম শরীফ
  4. চিন্তাতরঙ্গিনী
সঠিক উত্তর:
চিন্তাতরঙ্গিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিন্তাতরঙ্গিনী
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।
- তিনি বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা।
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ (১৯২৫) উপাধিতে ভূষিত করে।
-  ১৯৫১ সালের ২১ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- বিরহ বিলাপ (প্রথম কাব্য),
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুমকানন,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

অন্যদিকে,
- চিন্তাতরঙ্গিনী কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৪৬৩.
‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ কার লিখিত উপন্যাস?
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) শামসুদদীন আবুল কালাম
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীন,  (১৯১১-১৯৮৮)  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
• ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
• ১৯৮৮ সালের ২৪ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।  

• উপন্যাস
- পরিত্যক্ত স্বামী 
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা 
- সংকর সংকীর্তন 
- প্রপঞ্চ 
- দেয়াল 

• গল্প গ্রন্থ
- জীবন
- শেষ রাত্রির তারা
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা
- ল্যাংড়ী
- নির্বাচিত গল্প

• প্রবন্ধ গ্রন্থ
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানি সাহিত্য
- সংস্কৃতি ও ইতিহাস
- ইসলাম ও সমকালীন রাজনীতি
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙালি সংস্কৃতি
- বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
২,৪৬৪.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ পর্বে রচিত বাংলা বইগুলো-
  1. সংস্কৃত বইয়ের অনুবাদ
  2. ফারসি বইয়ের অনুবাদ
  3. ইংরেজি বইয়ের অনুবাদ
  4. পণ্ডিতদের রচিত মৌলিক গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত বইয়ের অনুবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত বইয়ের অনুবাদ
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ পর্বে রচিত বাংলা বইগুলো- সংস্কৃত বইয়ের অনুবাদ। 

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ (১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত) পর্বে (বিশেষত ১৮০১-১৮১৫) বাংলা গদ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে, কিন্তু এই সময়ে রচিত বাংলা গ্রন্থগুলোর অধিকাংশই সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ বা সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাবে রচিত হয়েছে। উইলিয়াম কেরির নেতৃত্বে দেশীয় পণ্ডিতরা (যেমন, রামরাম বসু, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, গোলকনাথ শর্মা) এই কাজ করেন। এই গ্রন্থগুলো কলেজের ইংরেজ কর্মচারীদের জন্য পাঠ্যপুস্তক হিসেবে রচিত হয়েছে, যাতে সংস্কৃতের কৃত্রিম গাম্ভীর্য এবং সাধু ভাষার প্রাধান্য লক্ষণীয়।

উদাহরণস্বরূপ:
• হিতোপদেশ (গোলকনাথ শর্মা, ১৮০২; মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ১৮০৮): সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ।
• বত্রিশ সিংহাসন (মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ১৮০২): সংস্কৃত কথাসাহিত্যের অনুবাদ।
• রাজাবলি (মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ১৮০৮): সংস্কৃত ইতিহাসের অনুবাদ।
• রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (রামরাম বসু, ১৮০১): এটি বাংলা গদ্যের প্রথম মুদ্রিত জীবনচরিত্র, কিন্তু সংস্কৃত শৈলীতে রচিত এবং ঐতিহাসিক উৎসের ভিত্তিতে (মৌলিক বলে বিবেচিত হলেও, সংস্কৃত প্রভাব প্রধান)।

যদিও কিছু গ্রন্থে পণ্ডিতদের নিজস্ব শৈলী প্রকাশ পেয়েছে (যেমন, কথোপকথন বা লিপিমালা), তবুও অধিকাংশই অনুবাদভিত্তিক। এই পর্ব বাংলা গদ্যকে সংস্কৃতীকরণ করেছে, যা পরবর্তীকালে চলিত ভাষার প্রসারে সাহায্য করেছে।

অন্যান্য অপশনগুলো কেন সঠিক নয় তা বিশ্লেষণ করা হলো:
খ) ফারসি বইয়ের অনুবাদ: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে ফারসি ভাষার শিক্ষা দেওয়া হলেও বাংলা গদ্যপুস্তকগুলো ফারসি গ্রন্থের অনুবাদ ছিল না। এগুলো মূলত সংস্কৃত গ্রন্থের ভিত্তিতে রচিত হয়।

গ) ইংরেজি বইয়ের অনুবাদ: এই পর্বে বাংলা গদ্যে ইংরেজি গ্রন্থের অনুবাদের উদাহরণ তেমন পাওয়া যায় না। বাংলা গদ্যের প্রাথমিক বিকাশে সংস্কৃত প্রভাবই প্রধান ছিল।

ঘ) পণ্ডিতদের রচিত মৌলিক গ্রন্থ: যদিও কিছু গ্রন্থে পণ্ডিতদের নিজস্ব রচনাশৈলী প্রকাশ পেয়েছে (যেমন, উইলিয়াম কেরির কথোপকথন বা রামরাম বসুর রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র), তবুও এই গ্রন্থগুলোর অধিকাংশই সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ বা সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাবে রচিত। তাই এটিকে সম্পূর্ণ মৌলিক গ্রন্থ বলা যায় না।


-------------------------
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:

বাংলাদেশে কর্মরত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের জন্য তৎকালীন ইংরেজশাসিত ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি কর্তৃক ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ৪ঠা মে কলেজের প্রতিষ্ঠা-দিবস হলেও ২৪শে নভেম্বর থেকে কলেজের কাজ শুরু হয়েছিল। ওয়েলেসলি অনুভব করেছিলেন যে কোম্পানির দায়িত্বপূর্ণ কাজের ভার নিয়ে বিলাত থেকে যারা আসে, তারা অধিকাংশ চৌদ্দ থেকে আঠার বৎসরের নাবালক, স্বদেশে তাদের শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় নি, এ দেশেও তার কোন ব্যবস্থা ছিল না। দেশীয় ভাষা শিক্ষা দিয়ে এই সিবিলিয়ানদের উপযুক্ত করে তোলার জন্যই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠা। এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক বাংলায় অভিজ্ঞ উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁর অধীনস্ত দু জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁদের প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন:
• কেরি রচিত- কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২)। 
• রামরাম বসু রচিত- রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১), লিপিমালা (১৮০২)। 
• গোলোকনাথ শর্মা রচিত- হিতোপদেশ (১৮০২)। 
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), হিতোপদেশ (১৮০৮),  রাজাবলি (১৮০৮), প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)। 
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত- ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)। 
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত- মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)। 
• চণ্ডীচরণ মুর্শী রচিত- তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত-  পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)। 

উল্লেখ্য,
বাংলা ভাষার সংস্কৃতীকরণ বাংলা গদ্যের সূচনাতেই এর রূপের পরিবর্তন ঘটেছিল। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে যে লেখকগোষ্ঠী গদ্যরচনায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন তাঁরাই বাংলা গদ্যকে সংস্কৃতঘেঁষা করে তোলেন। এতদিন পর্যন্ত দৈনন্দিন জীবনের কথাবার্তায় তদ্ভব, আরবি-ফারসি ও দেশজ শব্দমিশ্রিত যে ভাষা প্রচলিত ছিল তা সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিতগণের প্রভাবে সংস্কৃত শব্দসম্ভারে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে এবং গদ্যরীতির মধ্যে কৃত্রিম গাম্ভীর্য আনীত হয়। এমনিভাবে বাংলা গদ্য একটা নতুন রূপ পরিগ্রহ করে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া। 

২,৪৬৫.
'চাষাভুষার কাব্য' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. জসীমউদ্দীন
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• 'চাষাভুষার কাব্য' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা নির্মলেন্দু গুণ।

• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

• নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- ইসক্রা,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চাষাভূষার কাব্য,
- ও বন্ধু আমার,
- পৃথিবীজোড়া গান,
- দূর হ দুঃশাসন,
- নেই কেন সেই পাখি,
- শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভগলার তীরে,
- গীনসাবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়ালেখার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

• ছোটগল্প:
- অন্তর্জাল,
- আপন দলের মানুষ।

• কবিতা:
- হুলিয়া,
- স্বাধীনতা এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৬৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম গদ্যগ্রন্থ -
  1. ক) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
  2. খ) মঙ্গল সমাচার
  3. গ) কথোপকথন
  4. ঘ) রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
সঠিক উত্তর:
ক) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম গদ্যগ্রন্থ- কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ।

- 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থটি রচনা করেন - মনোএল দা আসসাম্পসাঁউ ।

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ একজন পর্তুগিজ। মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেনি।

- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো: · কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ।

- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোর্তুগিজ। এর মধ্যে ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ গ্রন্থে একটি অধ্যায়ে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সংযোজন করেন। তাই তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,৪৬৭.
রামপ্রসাদ সেনকে 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. দাশরথি রায়
  3. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা

রামপ্রসাদ সেন:
 - তিনি ছিলেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- শাক্তপদাবলির আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি রামপ্রসাদ সেন।
- পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে পরিচিত।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।

• তাঁর কয়েকটি জনপ্রিয় গান হলো: 
- ‘মন রে কৃষি কাজ জানো না’,
- ‘ডুব দেরে মন কালী বলে’,
- ‘মা আমায় ঘুরাবি কত’ ইত্যাদি। এ গানগুলির আবেদন চিরন্তন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২,৪৬৮.
গিরিশচন্দ্র ঘোষের প্রথম মৌলিক নাটক কোনটি?
  1. নকশাল
  2. মন্দির
  3. আগমনী
  4. রাজসিংহ
সঠিক উত্তর:
আগমনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগমনী
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথমে গান ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং পরে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটকও লিখতে থাকেন।
- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের 'শর্মিষ্ঠা' নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।
- গিরিশচন্দ্র শেকসপীয়রের ম্যাকবেথ (১৮৯৩) নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন এবং বঙ্কিমচন্দ্রের মৃণালিনী, বিষবৃক্ষ ও দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাস, মধুসূদনের  মেঘনাদবধ কাব্য ও নবীনচন্দ্রের পলাশীর যুদ্ধ কাব্যের নাট্যরূপ দেন।
- প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্তু।
-  তাঁর রচিত প্রথম মৌলিক নাটক 'আগমনী' (১৮৭৭) গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটারে মঞ্চেই অভিনীত হয়।
- ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- আগমনী,
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর।
- তাঁর রচিত প্রহসন:
- যামিনী চন্দ্রমাহীনা,
- গোপন চুম্বন,
- বেল্লিক বাজার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া,  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৬৯.
‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. আবুল ফজল
  2. রশীদ করিম
  3. শওকত আলী
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'কাঁদো নদী কাঁদো'- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি  উপন্যাস।
-------------------------- 
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌: 
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রাবস্থায় তিনি 'ভরের আলো' নামের হাটে লেখা পত্রিকা সম্পাদন করেন।

• 'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাস:
- ১৯৬৮ সালে  সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি  উপন্যাস।
- আঙ্গিক প্রকরণে পাশ্চাত্যের প্রভাব থাকলেও এর সমাজজীবন, পরিবেশ ও চরিত্রাদি স্বদেশীয়। - তবারক ভুঁইয়া নামে এক স্টিমারযাত্রীর মুখে বিবৃত কুমুরডাঙ্গার ছোট হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফার জীবনালেখ্য ও অন্তর্জীবনের ইতিকথা এর বিষয়বস্ত্ত। প্রকৃতপক্ষে তা মুহাম্মদ মুস্তফারই অবচেতন মনের বিবৃতি।
- এরূপ আঙ্গিকের জন্য চরিত্রের মতো আখ্যানভাগও আপাত জটিল ও খাপছাড়া বলে প্রতিভাত হয়। 
- একদিকে নিয়তি তাড়িত মুহাম্মদ মুস্তফার করুণ জীবনোপাখ্যান।
- অপরদিকে শুকিয়ে যাওয়া বাকাল নদীর প্রভাবতাড়িত কুমুরডাঙ্গার মানুষের ব্যতিব্যস্ত জীবনচিত্র জীবন ও নিসর্গ, বাস্তব ও পরাবাস্তব, মানবচৈতন্য ও অবচেতনা, বিশ্বাস ও সংস্কার সবকিছু মিলে অস্তিত্ববাদ ও নিয়তিবাদের সমন্বয়ে এক অভিনব ও জটিল শৈল্পিক নৈপুণ্যে গ্রন্থখানি বাংলা উপন্যাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- দি আগলি এশিয়ান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৭০.
মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত ‘শিখা’ পত্রিকার লেখক ও প্রকাশক কে ছিলেন?
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) আবু ইসহাক
  3. গ) আবুল হোসেন
  4. ঘ) আবদুল কাদির
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবদুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
• আবদুল কাদির ছিলেন মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত শিখা পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক (১৯২৭)।
• তিনি মূলত কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছন্দসিক ও সম্পাদক ছিলেন।
• তিনি প্রথমে কলকাতায় সওগাত পত্রিকায় সম্পাদনা বিভাগে চাকুরি করেন
• আবদুল কাদির কাজী নজরুল ইসলামের দৈনিক নবযুগ পত্রিকায় বার্তা সম্পাদক হিসেবেও নিযুক্ত ছিলেন। এবং তিনি মোহাম্মদী ও অর্ধসপ্তাহিক পয়গাম পত্রিকায়ও চাকুরি করেন।
• তাঁর রচিত কবিতা- দিলরুবা, উত্তর বসন্ত । প্রবন্ধ- বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা, কবি নজরুল, কাজী আবদুল ওদুদ, লোকায়ত সাহিত্য।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৭১.
'নতুন কবিতা' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছিলেন আশরাফ সিদ্দিকী এবং—
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. আবদুর রশীদ খান
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবদুর রশীদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুর রশীদ খান
ব্যাখ্যা

'নতুন কবিতা' পত্রিকা:
- আবদুর রশীদ খান ও আশরাফ সিদ্দিকী যৌথভাবে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি কবিদের প্রথম সংকলন 'নতুন কবিতা' সম্পাদনা করেন।
- সংকলনটি প্রকাশিত হয় ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এতে লিখেছিলেন: হাবীবুর রহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, শামসুর রাহমান, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবদুর রশীদ খান, আশরাফ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ মামুন, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, মনোজ সেনগুপ্তসহ তেরোজন কবি।
- সম্পাদকগণ দাবি করেছিলেন যে, সংকলনটি হবে 'সাহিত্য পথের নতুন যাত্রীদের কাব্য সৃষ্টির খতিয়ান'।
- কিন্তু উত্তরকাল দেখা গেছে এঁদের মধ্যে অধিকাংশই কবি হতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, অনেকে কবিতা লিখলেও স্বাচ্ছন্দ্য হারিয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৪৭২.
বিখ্যাত 'নারী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অগ্নি-বীণা
  2. সর্বহারা
  3. সাম্যবাদী
  4. পুবের হাওয়া
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
• 'নারী' কবিতাটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।

কবিতার মূলভাব-

‘নারী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত। সাম্যবাদী কবি ‘নর-নারী’ উভয়কেই মানুষ হিসেবে দেখেন। তিনি জগতে নর ও নারীর সাম্য বা সমান অধিকারে আস্থাবান। তাঁর মতে, পৃথিবীতে মানবসভ্যতা নির্মাণে নারী ও পুরুষের অবদান সমান। কিন্তু ইতিহাসে পুরুষের অবদান যতটা লেখা হয়েছে নারীর অবদান ততটা লেখা হয় নি। কিন্তু এখন দিন এসেছে সম অধিকারের। তাই নারীর ওপর নির্যাতন চলবে না, তাঁর অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করা চলবে না। নারী-পুরুষ সবাইকে সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রচনা করতে হবে সম্মিলিতভাবে।

কবিতাটি সংক্ষেপে দেয়া হলো-

নারী
- কাজী নজরুল ইসলাম
 সাম্যের গান গাই—
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই।
বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।
জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড় অভিযান
মাতা ভগ্নি ও বধূদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান। 

-------------------
• 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:

- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম। 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- সাম্যবাদী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে। সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

• এই গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি-মজুর। 

উৎস: সাহিত্য কনিকা, অষ্টম শ্রেণি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ।
২,৪৭৩.
অমিয় চক্রবর্তী ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কার লাভ করেন কত সালে?
  1. ১৯৬৫
  2. ১৯৬০
  3. ১৯৮৬
  4. ১৯৭০
সঠিক উত্তর:
১৯৭০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭০
ব্যাখ্যা

 অমিয় চক্রবর্তী পদ্মভূষণ পুরস্কার লাভ করেন ১৯৭০ সালে।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।
-উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমী পুরস্কার। বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫;
তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই: কবিতাবলী (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার (১৯২৭),
- খসড়া (১৯৩৮),
- এক মুঠো (১৯৩৯),
- মাটির দেয়াল (১৯৪২),
- অভিজ্ঞান বসন্ত (১৯৪৩),
- পারাপার (১৯৫৩),
- পালাবদল (১৯৫৫),
- ঘরে ফেরার দিন (১৯৬১),
- হারানো অর্কিড (১৯৬৬),
- পুষ্পিত ইমেজ (১৯৬৭),
- অমরাবতী (১৯৭২),
- অনিঃশেষ (১৯৭৬),
- নতুন কবিতা (১৯৮০),
- চলো যাই (১৯৬২),
- সাম্প্রতিক (১৯৬৩)।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া

২,৪৭৪.
ত্রয়ী উপন্যাস রচনা করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
•  আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো "ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন"।

• ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান এবং পদ্মা মেঘনা যমুনা সিরিজের শেষ উপন্যাস সংকর সংকীর্তন। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার। কিন্তু প্রতিটি বই যার যার স্বকীয়তা নিয়ে আলাদা এবং আলাদাভাবে উপভোগ্য। তিনটির মিলিত কাহিনির মধ্যে বিধৃত আছে বাংলাদেশের মানুষের প্রায় এক শতাব্দীকালের জীবন।

---------------------
• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ত্রয়ী উপন্যাস আবু জাফর শামসুদ্দীন এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৭৫.
‘ভেড়াকান্ত' নামে সাহিত্য রচনা করেছেন-
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
♦ গাজী মিয়াঁর বস্তানী:
- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেনের কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলাের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে ‘ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

⇒ মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা- মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৭৬.
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগে কোন বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়?
  1. ধর্মীয় কাব্য
  2. মানবতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা
  3. আধ্যাত্মিক চিন্তা
  4. সমাজের প্রতি তীব্র আক্রমণ
সঠিক উত্তর:
মানবতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানবতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা: 
১. প্রাচীন যুগ,
২. মধ্যযুগ,
৩. আধুনিক যুগ।
 
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।

• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।

• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্যহয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৭৭.
'বহুতর উচ্চশ্রেণির ব্রাহ্মণ-পরিবার ক্রমশঃ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন।' - এটি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর কোন গ্রন্থভুক্ত উক্তি?
  1. অনল প্রবাহ
  2. তারা-বাঈ
  3. রায়নন্দিনী
  4. স্পেন বিজয় কাব্য
সঠিক উত্তর:
রায়নন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রায়নন্দিনী
ব্যাখ্যা
রায়নন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'র প্রতিক্রিয়ায় ইসমাইল হোসেন সিরাজী 'রায়নন্দিনী' লেখেন।
- উপন্যাস হিসেবে 'রায়নন্দিনী' ব্যর্থ। 
- তবে প্রতিক্রিয়ার ইতিহাসে এই নামটি স্মরণ করতে হয়। 
- উপন্যাসটির শেষ বাক্য: 'বহুতর উচ্চশ্রেণির ব্রাহ্মণ-পরিবার ক্রমশঃ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন।'

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা। 
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন। 
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন। 
- তিনি ১৯৩১ সালের ১৭ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন, 
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারা-বাঈ, 
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৪৭৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে কী বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. কুশুম কলি
  2. কবিদের কবি
  3. ভোরের পাখি
  4. গীত কবিগুরু
সঠিক উত্তর:
ভোরের পাখি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোরের পাখি
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'।
- একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
২,৪৭৯.
'পদ্মরাগ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস। এটি ১৯২৪ সালে প্রাকশিত হয়।
- এই উপন্যাসে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
- অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ উপন্যাসে।
- 'পদ্মরাগ' উৎসর্গ করা হয় তাঁর জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, দুই খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),
- সুলতানার স্বপ্ন (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৮০.
'কুমুদিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) যোগাযোগ
  2. খ) চোখের বালি
  3. গ) নৌকাডুবি
  4. ঘ) ঘরে বাইরে
সঠিক উত্তর:
ক) যোগাযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যোগাযোগ
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'যোগাযোগ' (১৯২৯) উপন্যাসের চরিত্র- মধুসূদন ও কুমুদিনী। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২,৪৮১.
আবু ইসহাক রচিত 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৫৭ সালে
  4. ১৯৫৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাসটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত।
- বিশেষত গ্রামীণ মুসলমান জীবনের বিশ্বস্ত এবং আন্তরিক পরিচয় সমকালীন বাংলা সাহিত্যে বিরল।
- প্রকাশের অব্যবহিত পর থেকে বাস্তব চিত্রণ, চরিত্রায়ণের স্বাভাবিকতা ও প্রকাশভঙ্গির ঋজুতার জন্য উপন্যাসটি সমালোচক ও পাঠকসমাজে নন্দিত হয়েছে।
- জয়গুনদের বাড়িটিতে রাতে কথিত ভূতের ঢিল পড়ে, সে বাড়িতে নির্ভয়ে থাকা যায় না। তাই সূর্য-দীঘল বাড়ি অমঙ্গলের প্রতীকে পরিণত হয়।
- উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: জয়গুন, তার ছেলে হাসু, মেয়ে মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু প্রধান।

আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৪৮২.
'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন -
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ক + গ
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। 
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য। 
- 'কল্লোল', 'কালিকলম', 'পরিচয়'- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে। 
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৪৮৩.
'লুই ভণই গুরু পূছিঅ জাণ।'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা-
  1. লুইপা
  2. শবরপা
  3. কাহ্নপা
  4. ডোম্বীপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা

• 'লুই ভণই গুরু পূছিঅ জাণ।'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা চর্যার কবি লুইপা। 
- পঙ্‌ক্তি আধুনিক গদ্যে রূপান্তর- লুই বলেন, গুরুকে জিজ্ঞাসা করে জানো।
এটি চর্যার এক নং পদের একটি পঙক্তি।




উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক।

২,৪৮৪.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা কে?
  1. জয়দেব
  2. চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস।

এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।
['শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২,৪৮৫.
‘নলিনী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থের নায়িকা?
  1. ক) বনফুল
  2. খ) কবি-কাহিনী
  3. গ) মানসী
  4. ঘ) সোনার তরী
সঠিক উত্তর:
খ) কবি-কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কবি-কাহিনী
ব্যাখ্যা
• ‘নলিনী’  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ  ‘কবি-কাহিনী’ এর নায়িকা।
– চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক কবি এবং নায়িকা নলিনী।
– ‘ভারতী’ পত্রিকায় ১২৮৪ বঙ্গাব্দ (১৮৭৮) এ প্রকাশিত হয়।

– ‘বনফুল’ কাব্য (১৮৮০)  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
– ‘মানসী’ (১৮৯০)  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যকলার পূর্ণপ্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ ।
– ‘শেষলেখা’ (১৯৪১)  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৮৬.
বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত। এবং বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।

অন্যদিকে,
- রাজা রামমোহন রায় পশ্চিম বাংলার রাধানগর গ্রামে এক রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৪৮৭.
কোন আমলে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যেরা বাংলা থেকে বিতাড়িত হয়ে যায়?
  1. ক) আর্য
  2. খ) মৌর্য
  3. গ) পাল
  4. ঘ) সেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেন
ব্যাখ্যা
সেন আমলে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যেরা বাংলা থেকে বিতাড়িত হয়ে যায়
- চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
- পাল বংশের রাজারা বৌদ্ধ ছিলেন, তাদের আমলে চর্যাগীতিকাগুলোর বিকাশ ঘটেছিল। 
- পাল বংশের পরে পরেই বাংলাদেশে সেন, বর্মণ রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় পৌরাণিক হিন্দুধুর্ম ও ব্রাহ্মণ্যসংস্কার রাজধর্ম হিসেবে গৃহীত হয় এবং দেশি ভাষা বাংলার পরিবর্তে সংস্কৃত ভাষা প্রাধান্য লাভ করে।
- পাল রাজাদের উদারপন্থী বৌদ্ধ মতবাদের পরিবর্তে সেন রাজাদের ব্রাহ্মণ্য ধর্মমতের প্রাধান্যের ফলে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যেরা এদেশ থেকে বিতাড়িত হয়।
- সেন রাজাদের প্রতাপের জন্যই বাংলাদেশের বাইরে তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয়েছিল।  
- তাই বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বাংলার বাইরে নেপালে পাওয়া গিয়েছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২,৪৮৮.
আর্য ভাষার প্রথম স্তর কোনটি?
  1. ক) বৈদিক
  2. খ) সংস্কৃত
  3. গ) অপভ্রংশ
  4. ঘ) তদ্ভব
সঠিক উত্তর:
ক) বৈদিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বৈদিক
ব্যাখ্যা
আর্য ভাষার তিনটি স্তর হলো যথাক্রমে বৈদিক,সংস্কৃত এবং অপভ্রংশ।
উৎসঃ হুমায়ুন আজাদ রচিত ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’।
২,৪৮৯.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুঁথিতে কবির ভণিতার সংখ্যা কত?
  1. ১৩টি
  2. ১৬১টি
  3. ৪০৯টি
  4. ৪১৮টি
সঠিক উত্তর:
৪০৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০৯টি
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে কবির মোট ভণিতা সংখ্যা ৪০৯টি।
--------------------------- 
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন হলো বড়ু চণ্ডীদাস রচিত মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য ও উৎকৃষ্ট আখ্যানকাব্য।
- প্রাক্‌-চৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় চতুর্দশ শতক) প্রেক্ষাপটে রাধা–কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত এই কাব্যটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে নির্মিত একটি নাট্যগীতি।
- গ্রন্থটি ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ আবিষ্কার করেন।
- এবং পরবর্তীতে ১৯১৬ সালে এটি প্রকাশিত হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের নামকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের বিষয়।
- পুঁথির প্রথম ও শেষাংশ খণ্ডিত থাকায় কাব্যের নাম ও কবির পূর্ণ পরিচয় জানা যায়নি।
- গ্রন্থের ভেতরে কবির ভণিতা থাকলেও কাব্যের নামের উল্লেখ নেই।
- লোকশ্রুতি ও কৃষ্ণলীলা-ভিত্তিক বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে সম্পাদক এর নামকরণ করেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
- তবে এই নাম যথার্থ নয় বলে অনেকের মত, কারণ কীর্তন বলতে ভক্তিসঙ্গীতে নাম-রূপ-গুণের সরব উচ্চারণ বোঝায়, অথচ এই কাব্যে সেই অর্থে কীর্তন অনুপস্থিত।
- কাব্যে ১২টি স্থানে ‘ধামালি’ শব্দের ব্যবহার থাকায় কেউ কেউ মনে করেন এর নাম ‘রাধাকৃষ্ণের ধামালি’ হলে অধিক উপযুক্ত হতো।
- পুঁথিতে প্রাপ্ত একটি চিরকুট অনুসারে কাব্যটির প্রকৃত নাম ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ব্ব’ (শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ)।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে মোট ৪১৮টি পদ রয়েছে (খণ্ডিতসহ)।
- এতে ১৬১টি সংস্কৃত শ্লোক সংযোজিত।
- পুঁথির মোট পাতা ২২৬টি, অর্থাৎ পৃষ্ঠা ৪৫২টি।
- এর মধ্যে মাঝের ৪৫টি পৃষ্ঠা বিলুপ্ত, আর প্রাপ্ত পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪০৭টি।
- কাব্যে কবির ভণিতা সংখ্যা ৪০৯টি।

- গঠনগতভাবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটি ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
- খণ্ডগুলো হলো—
১. জন্ম খণ্ড
২. তাম্বুল খণ্ড
৩. দান খণ্ড
৪. নৌকা খণ্ড
৫. ভার খণ্ড
৬. ছত্র খণ্ড
৭. বৃন্দাবন খণ্ড
৮. কালিয়দমন খণ্ড
৯. যমুনা খণ্ড
১০. হার খণ্ড
১১. বাণ খণ্ড
১২. বংশী খণ্ড
১৩. বিরহ খণ্ড

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৪৯০.
গোরক্ষবিজয়ের পুথি কোন শতকে পাওয়া যায়?
  1. ষোড়শ শতক
  2. সপ্তদশ শতক
  3. অষ্টাদশ শতক
  4. ঊনবিংশ শতক
সঠিক উত্তর:
অষ্টাদশ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টাদশ শতক
ব্যাখ্যা

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্য প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত।
যথা:
 ১. মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২. রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।

এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।
- গোরক্ষবিজয়ের পুথি অষ্টাদশ শতকে, বাংলায় সহদেব চক্রবর্তী ও রামাই পণ্ডিতের  'ধর্ম পুরাণে' বা 'অনিল পুরাণে' পাওয়া যায়।
- গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় জায়সীর  'পদুমাবৎ' এ। এ বিষয়ে প্রথম বাংলা গ্রন্থ নেপালে রচিত সপ্তদশ শতাব্দীর নাটক 'গোপীচন্দ্র নাটক'।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' রচনা করেন - সুকুর মামুদ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাপিডিয়ায় 'শুকুর মাহমুদ' দেওয়া আছে। মূলত তারা একই ব্যক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৪৯১.
শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে কোন উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন?
  1. সংগীতমাধব
  2. কবিকঙ্কন
  3. কবিরাজ
  4. কবিকন্ঠহার
সঠিক উত্তর:
কবিরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিরাজ
ব্যাখ্যা

গোবিন্দদাস:
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ এবং ‘কবীন্দ্র’ উপাধি প্রদান করেন।

অন্যদিকে,
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল - কবিকঙ্কন।
• কবি বিদ্যাপতির উপাধি ছিলো - কবিকন্ঠহার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৪৯২.
পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিচের কোন লেখককে 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) শাহ মুহম্মদ সগীর
সঠিক উত্তর:
গ) গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন। তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

১৯৬০- এ পাকিস্তান সরকার সিতারা-ই-ইমতিয়াজ উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

 

২,৪৯৩.
আবুল ফজল কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  3. ফরিদপুর জেলা যুবসঙ্গ
  4. ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ
সঠিক উত্তর:
ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ
ব্যাখ্যা
মুসলিম সাহিত্য-সমাজ:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি 'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম চলে।
- প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন- আবুল হুসেন, এ. এফ. এম আবদুল হক, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, আবদুল কাদির, আবুল ফজল, কাজী আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

আবুল ফজল:

- ফজল আবুল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল ফজল একজন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক এবং কথাসাহিত্যিক।
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

তাঁর রচিত দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৪৯৪.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. রজনী
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. চন্দ্রশেখর
  4. কমলাকান্তের দপ্তর
সঠিক উত্তর:
কমলাকান্তের দপ্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমলাকান্তের দপ্তর
ব্যাখ্যা

• কমলাকান্তের দপ্তর:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রবন্ধ সংকলন "কমলাকান্তের দপ্তর"।

- এটি নকশা জাতীয় রম্য রচনা।
- এর তিনটি অংশ - ১. কমলাকান্তের দপ্তর, ২. কমলাকান্ত পত্র ও ৩. কমলাকান্তের জবানবন্দি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:

- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৪৯৫.
কলকাতার বেঙ্গলি থিয়েটার-এ মঞ্চস্থ প্রথম বাংলা নাটক কোনটি?
  1. কাল্পনিক সংবদল
  2. ভানুমতি চিত্ত বিলাস
  3. কিঞ্চিৎ জলযোগ
  4. কলীনকল সর্বস্ব
সঠিক উত্তর:
কাল্পনিক সংবদল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাল্পনিক সংবদল
ব্যাখ্যা

• নাটকের উৎপত্তি:
- ১৭৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর কলকাতার বেঙ্গলি থিয়েটার-এ মঞ্চস্থ হয় প্রথম বাংলা নাটক “কাল্পনিক সংবদল'।
- এটি কোন মৌলিক নাটক নয়, অনুবাদ নাটক। রুশদেশীয় যুবক গেরাসিম স্তেপানভিচ্‌ লেবেদেফ ইংরেজি নাটক "দ্য ডিসগাইজ' বাংলায় রূপান্তর করে লেখেন “কাল্পনিক সংবদল'।
- এ সময় লেবেদেফ “লাভ ইজ দ্য বেস্ট ডক্টর' নামে আরও একটি কৌতুক নাটক অনুবাদ করেন। এ নাটকটিও কলকাতার বেঙ্গলি থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়। নাটকদ্বয় বাংলায় রূপান্তর করতে গিয়ে লেবেদেফ পন্ডিত গোলকনাথ দাসের সহায়তা গ্রহণ করেছিলেন। 
- ১৭৯৫ সালে রুশীয় যুবক লেবেদেফের এই সাহসী উদ্যমের পর ধীরে ধীরে বাংলা নাটক বিকশিত হতে আরম্ভ করে।

অন্যদিকে, 
• হরচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটক 'ভানুমতি চিত্ত বিলাস' (১৮৫৩)। 
• জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক 'কিঞ্চিৎ জলযোগ'। 
• রামনারায়ন তর্করত রচিত নাটক 'কলীনকল সর্বস্ব' নাটক

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৯৬.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের সম্পাদনায় কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়?
  1. নয়া সড়ক
  2. ক্রান্তি
  3. কণ্ঠস্বর
  4. অগত্যা
সঠিক উত্তর:
নয়া সড়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয়া সড়ক
ব্যাখ্যা
'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র।
- পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমীর 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৯৭.
অতীন ও এলা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গোরা
  2. চার-অধ্যায়
  3. চতুরঙ্গ
  4. যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
চার-অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার-অধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'চার-অধ্যায়' উপন্যাস:
- ‘চার-অধ্যায়’ (১৯৩৪) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, ‘চার-অধ্যায়’ উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে। আসলে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই কাহিনি রচিত।
- সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনি। সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর।
- চার-অধ্যায়ের কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রবিবার’ গল্পের সম্পর্ক আছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা,
- চতুরঙ্গ,
- চার-অধ্যায়,
- ঘরে-বাইরে।

অন্যদিকে, 
• 'গোরা' উপন্যাসের চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
• 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্র: শচীশ ,দামিনী এবং শ্রীবিলাস।
• নায়িকা কুমু্দনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ 'যোগাযোগ' উপন্যাসের কেন্দ্র। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৪৯৮.
এস ওয়াজেদ আলি রচিত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
  2. মোটর যোগে রাঁচী সফর
  3. পশ্চিমের যাত্রী
  4. জাপান যাত্রী
সঠিক উত্তর:
মোটর যোগে রাঁচী সফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোটর যোগে রাঁচী সফর
ব্যাখ্যা

"মোটর যোগে রাঁচী সফর" হলো শেখ ওয়াজেদ আলির লেখা একটি বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি যা ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়। এই বইটিতে তিনি মোটরগাড়িতে করে রাঁচী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পথের বিবরণ দিয়েছেন। 

--------------------
• এস ওয়াজেদ আলি:
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ 'অতীতের বোঝা' ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
 • প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

 • উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

 • ভ্রমণকাহিনি:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

অন্যদিকে, 
 • 'জাপান যাত্রী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি। 
 • 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি। 
• 'পশ্চিমের যাত্রী' সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

২,৪৯৯.
কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দোলনচাঁপা
  2. অগ্নিবীণা
  3. বিষের বাঁশী
  4. চক্রবাক
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা

'বিদ্রোহী' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
----------------------------------------------------
• অগ্নিবীণা: 
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিতা হলো বিদ্রোহী, যার জন্য মূলত তাকে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়।
- কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা হলো প্রলয়োল্লাস।
- নজরুল তাঁর কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেছেন।

- অগ্নিবীণা তে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। এগুলো হলো:
• প্রলয়োল্লাস, 
বিদ্রোহী,
• রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
• আগমণী,
• ধূমকেতু,
• কামাল পাশা,
• আনোয়ার,
• রণভেরী,
• শাত-ইল-আরব,
• খেয়াপারের তরণী,
• কোরবানী,
• মহররম।
------------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।

• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো- 
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- চক্রবাক,
- প্রলয় শিখা,
- দোলনচাঁপা,
- ও ভাঙার গান।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- শিউলিমালা,
- বেদনার দান ও
- পদ্মগোখরা।

• তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- আলেয়া,
- ঝিলিমিলি,
- মধুমালা ও
- পুতুলের বিয়ে।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
জাতীয় তথ্য বাতায়ন;
বাংলাপিডিয়া। 

২,৫০০.
'আসমানী পর্দা' গল্পগ্রন্থটি কার লেখা?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- ফুড কনফারেন্স
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।