বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ২৩ / ২১১ · ২,২০১২,৩০০ / ২১,১৩২

২,২০১.
”এর উপায় কি?”-প্রহসনের রচয়িতা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
•”এর উপায় কি?”
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন।
- উনিশ শতকে নারীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে যে অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল একশ্রেণির লোক -লেখক এই প্রহসনে তা তুলে ধরেন।
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এ প্রহসনের উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র ।
- গ্রন্থটির প্রকাশ ঘটে, ১৮৭৫ সালে।
----------------------------------------
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। 
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা - ’বিষাদ-সিন্ধু” (উপন্যাস)

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২০২.
'শাশ্বত বঙ্গ' প্রবন্ধটি কয়টি ভাগে বিভক্ত?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৫
  3. গ) ৬
  4. ঘ) ৮
সঠিক উত্তর:
গ) ৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬
ব্যাখ্যা
'শাশ্বত বঙ্গ' কাজী আবদুল ওদুদ রচিত একটি প্রবন্ধ সংকলন। 
- ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে এটি সংকলন করা হয়। 
- প্রবন্ধগুলো ৬টি ভাগে বিভক্ত। 

• কাজী আবদুল ওদুদ একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, বিশিষ্ট সমালোচক, নাট্যকার ও জীবনীকার ছিলেন।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নদীবক্ষে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- শাশ্বত বঙ্গ।

• সমাজ ও সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ: 
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ 
- নজরুল প্রতিভা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২০৩.
ফররুখ আহমদ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯১১ সালে
  2. ১৯২৮ সালে
  3. ১৯১৮ সালে
  4. ১৯২৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৮ সালে
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২০৪.
'রক্তরাগ' গোলাম মোস্তফা রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. গদ্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস 
  3. প্রবন্ধ
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'রক্তরাগ' গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ। 
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়। 

--------------------
• গোলাম মোস্তফা:

- গোলাম মোস্তফা ছিলেন কবি ও লেখক। ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২০৫.
জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. একাত্তরের ডায়েরি
  2. একাত্তরের ঢাকা
  3. একাত্তরের দিনগুলি
  4. একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের দিনগুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের দিনগুলি
ব্যাখ্যা

• একাত্তরের দিনগুলি:
- 'একাত্তরের দিনগুলি' বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'।

- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে।

- ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়। বস্তুত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।

-----------------
• জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত। তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।
- কর্ম জীবনে তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- একাত্তরের দিনগুলি (বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ)
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি। 

অন্যদিকে,
- সুফিয়া কামালের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ 'একাত্তরের ডায়েরি'।
- সেলিনা হোসেনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ 'একাত্তরের ঢাকা'।
- হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ- একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২০৬.
'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
- 'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

গোবিন্দচন্দ্র দাস:
-  গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস  ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি  ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবেও বিখ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু্‌,
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২০৭.
সাহিত্যে অবদানের জন্য মোহাম্মদ নজিবর রহমান কোন উপাধি লাভ করেন?
  1. সাহিত্যরাজ 
  2. সাহিত্যরত্ন
  3. সাহিত্যবিশারদ 
  4. সাহিত্যসম্রাট 
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যরত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যরত্ন
ব্যাখ্যা

• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক। তিনি আনুমানিক ১৮৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন।
- নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি 'সাহিত্যরত্ন' উপাধি লাভ করেন।
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাসের নাম 'আনোয়ারা'।

- তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাসের নাম 'আনোয়ারা'।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- পরিণাম,  
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আবদুল করিম ছিলেন সাহিত্যিক, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা এবং প্রাচীন বাংলা পুঁথির সংগ্রাহক ও ব্যাখ্যাকার। সাহিত্যবিশারদ তাঁর উপাধি।

• বাংলা সাহিত্যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায় সাহিত্যসম্রাট নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২০৮.
‘একালে আমাদের কাল’ কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. আত্মজীবনী
  4. গল্প
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা

‘একালে আমাদের কাল’ একটি আত্নজীবনীমূলক রচনা। 

সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'সৈনিক বধূ'। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের 'তরুণ' পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল, ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২০৯.
'নামহীন গোত্রহীন' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
গ) হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

• 'নামহীন গোত্রহীন' হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
• একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২,২১০.
"কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!' পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) অগ্নি-বীণা
  2. খ) ফণি-মনসা
  3. গ) সর্বহারা
  4. ঘ) সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
ক) অগ্নি-বীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অগ্নি-বীণা
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'অগ্নি-বীণা' কাব্যগ্রন্থের 'কামাল পাশা' কবিতার অন্তর্গত 

কবিতাটি শুরু হয়েছে এভাবে- 

" ঐ খেপেছে পাগ্‌লি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোর্‌সে সামাল সামাল তাই।
            কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো   কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই! " 

• 'অগ্নি-বীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা ‘প্রলয়ােল্লাস'।
- এ কাব্যে মােট ১২টি কবিতা আছে। 

কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ- 
- অগ্নিবীণা
- বিষের বাঁশি 
- ভাঙার গান 
- সাম্যবাদী
- সর্বহারা
- ঝিঙে ফুল
- ফণি-মনসা 
- জিঞ্জিরা
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২১১.
কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' নাটক অবলম্বনে আখ্যান কাহিনি 'শকুন্তলা' রচনা করেন কে?
  1. রামরাম বসু
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. চণ্ডীচরণ মুন্সি
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

• প্রাচীন সংস্কৃত মহাকবি কালিদাস রচিত 'অভিজ্ঞান শকুন্তলা' নাটক অবলম্বনে - ১৮৫৪ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একটি আখ্যান কাহিনি লিখেন - তার নাম দেন — শকুন্তলা। কালিদাসের ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’ নাটকটি মূলত মহাভারতের বনপর্বের একটি অংশ থেকে অনুপ্রাণিত।
-----------------------
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

• 'শকুন্তলা' আখ্যান কাহিনি:
- প্রাচীন সংস্কৃত মহাকবি কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম্‌' নাটক অবলম্বনে ১৮৫৪ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একটি আখ্যান বা উপন্যাসোপম কাহিনি লিখে নাম দেন 'শকুন্তলা'।
- 'শকুন্তলা'য় কাহিনি নির্মাণ ও ভাষাব্যবহারে বিদ্যাসাগর যথেষ্ট স্বাধীন্তা নিয়েছেন।
- চন্দ্রবংশীয় রাজা দুষ্মন্ত শিকারে এসে কম্ব মুনির তপোবনে উপস্থিত হয়।
- সেখানে শকুন্তলা, প্রিয়ংবদা, অনসূয়া নামের মুনির তিন রূপবতী পালিতা কন্যার মধ্যে শকুন্তলার সঙ্গে দুষ্মন্তের বিয়ে হয়।
- দৈববাণীতে দুষ্মন্ত সব অবগত হয় এবং শকুন্তলা- ভরতকে যোগ্য স্থান দেয়।
- বৃদ্ধ বয়সে দুষ্মন্ত ভরতকে নিজ রাজ্যের উত্তরাধিকারী করে।
- বাংলা সাহিত্যে 'শকুন্তলা' গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, এ গ্রন্থের আগে গদ্যে রচিত এতো চমৎকার কাহিনি বা আখ্যান বর্ণনা পাওয়া যায় না।
- গদ্যসাহিত্য প্রতিষ্ঠার যুগে 'শকুন্তলা' একটি অসাধারণ সৃষ্টি।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

২,২১২.
‘আরেফ আলী’ চরিত্র টি কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) কাঁদো নদী কাঁদো
  2. খ) চাঁদের আমাবস্যা
  3. গ) নয়নচারা
  4. ঘ) বহিপীর
সঠিক উত্তর:
খ) চাঁদের আমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চাঁদের আমাবস্যা
ব্যাখ্যা
‘আরেফ আলী’ চরিত্র টি ‘চাঁদের আমাবস্যা’ উপন্যাসের।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি 'ভরের আলো' নামের হাটে লেখা পত্রিকা সম্পাদন করেন।

তাঁর রচনা সমূহ:
• উপন্যাস:
- লালসালু
- চাঁদের আমাবস্যা
- কাঁদো নদী কাঁদো
- দি আগলি এশিয়ান

• গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প

• নাটক:
- বহিপীর
- তরঙ্গভঙ্গ
- সুড়ঙ্গ
- উজানে মৃত্যু

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
২,২১৩.
সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রহু চণ্ডালের হাড়
  2. খ) কৈবর্ত খণ্ড
  3. গ) ফুল বউ
  4. ঘ) অলীক মানুষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলীক মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অলীক মানুষ
ব্যাখ্যা

• "অলীক মানুষ" উপন্যাস:
- "অলীক মানুষ" সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ রচিত একটি বিখ্যাত বাংলা উপন্যাস। এটি উনিশ-বিশ শতকের পটভূমিতে একটি মুসলিম পীর পরিবারের জীবন নিয়ে লেখা, যেখানে লৌকিক ও অলৌকিক ঘটনার মিশ্রণ ঘটেছে।
- উপন্যাসটি কোলাজ পদ্ধতিতে লেখা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ, মিথ ও কিংবদন্তী, এমনকি ব্যক্তিগত ডায়েরি ও সংবাদপত্রের কাটিংও ব্যবহার করা হয়েছে।
- এই উপন্যাসে বাঙালি হিন্দু-মুসলিম জীবনের একটি অনাবিষ্কৃত দিক তুলে ধরা হয়েছে।‘অলীক মানুষ’ বইয়ের প্রাপ্ত পুরস্কার গুলির নাম ও সালঃ
- ভুয়ালকা পুরস্কার - ১৯৯০।
- বঙ্কিম স্মৃতি পুরস্কার - ১৯৯৪।
- সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার - ১৯৯৪।
- সুরমা চৌধুরী মেমোরিয়াল আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার - ২০০৮।

উৎস: "অলীক মানুষ" উপন্যাস।

২,২১৪.
'অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস' কোন পত্রিকার স্লোগান ছিল?
  1. ক) ক্রান্তি
  2. খ) কবিতা
  3. গ) সমকাল
  4. ঘ) স্বদেশ
সঠিক উত্তর:
গ) সমকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমকাল
ব্যাখ্যা
সিকান্দার আবু জাফরের সম্পাদনায় ১৯৫৭ সালে সমকাল পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটির স্লোগান ছিল - 'অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস'। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
২,২১৫.
'অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. নীলিমা ইব্রাহীম
  3. সেলিনা হোসেন
  4. নূরজাহান বেগম
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহীম
ব্যাখ্যা

• 'অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি' প্রবন্ধের রচয়িতা নীলিমা ইব্রাহিম।

• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

• তাঁর নাটকঃ
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

• আমি বীরাঙ্গনা বলছি - তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামাণ্য গ্রন্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

২,২১৬.
ভুসুকুপার কোন পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে?
  1. ৬নং
  2. ২১নং
  3. ২৩নং
  4. ৪৯নং
সঠিক উত্তর:
২৩নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩নং
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- ভুসুকুপা চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদের লেখক।
- তিনি মোট আটটি পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো - ৬নং/২১নং/ ২৩নং/ ২৭নং/ ৩০নং/ ৪১নং/ ৪৩নং/ ৪৯নং।
- ভুসুকুপা রচিত চর্যাপদের ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়।
- এর ৬টি পঙক্তি পাওয়া গেছে। বাকি ৪টি পঙক্তি পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২১৭.
‘শূন্যপুরাণ’ গ্রন্থটি কয়টি অধ্যায়ে বিভক্ত?
  1. ক) ২৭ টি
  2. খ) ২১ টি
  3. গ) ৫১ টি
  4. ঘ) ৪৭ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৫১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫১ টি
ব্যাখ্যা

‘শূন্যপুরাণ' বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
গ্রন্থটির লেখক কে তার সুনির্দিষ্ট হদিস পাওয়া যায় নি। তবে যতটুকু ভণিতা পাওয়া যায়, তাতে মনে হয় গ্রন্থটি রামাই পণ্ডিতের।
গ্রন্থটির প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টি তত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ড, সৌমিত্র শেখর।

২,২১৮.
নিম্নের কোন গ্রন্থটি কাশীরাম দাস অনুবাদ করেছেন?
  1. রামায়ণ
  2. মহাভারত
  3. ভাগবত
  4. গীতা
সঠিক উত্তর:
মহাভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাভারত
ব্যাখ্যা

• মহাভারতের শ্রেষ্ঠ বাংলা অনুবাদক — কাশীরাম দাস — মহাভারত গ্রন্থের অনুবাদক ছিলেন।

• কাশীরাম দাস:
- কাশীরাম দাসের অনুবাদকৃত মহাভারতের নাম — ‘ভারত পাঁচালী'। এটির রচনাকাল সম্বন্ধে যোগেশচন্দ্র বিদ্যানিধি মনে করেন ১৬০২-০৪ খ্রিষ্টাব্দের।
- তিনি গ্রন্থ রচনা শেষ করে যেতে পারেন নি। মহাভারতের আদি, সভা, বন ও বিরাট পর্ব রচনার পর তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।
- কথিত আছে কবির অসমাপ্ত কাব্য সমাপ্ত করেন কবির পুত্র, ভ্রাতুষ্পুত্র ও শিষ্য স্থানীয় অনেকে।

--------------
• মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- মূল রচয়িতা — কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন — কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম — পরাগলী মহাভারত।
- অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন - বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক — কাশীরাম দাস।
- মহাভারতের আদি, সভা, বন, ও বিরাট পর্ব রচনার পর কাশীরাম দাস ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২১৯.
"জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই?"- বিখ্যাত সংলাপটি কার রচিত নাটকে উধৃত হয়েছে?
  1. মমতাজউদদীন আহমদ
  2. নুরুল মোমেন
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• "জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই?"- বিখ্যাত সংলাপটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'নুরুলদীনের সারাজীবন' নাটকে উধৃত হয়েছে। 

• 'নুরুলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য:

- "নুরুলদীনের সারাজীবন” (১৯৮২) ১৪টি দৃশ্যে সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য। ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ তাঁর মঞ্চসফল অপর একটি নাটক।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে নাটকটি রচিত।
- এই নাটকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- 'জাগো বাহে, কোন্‌ঠে সবাই'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২২০.
নিচের কোনটি পথের পাঁচালী উপন্যাসের চরিত্র নয়?
  1. ক) অপু
  2. খ) দুর্গা
  3. গ) সর্বজয়া
  4. ঘ) বুদ্ধু সিংহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বুদ্ধু সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বুদ্ধু সিংহ
ব্যাখ্যা
- 'বুদ্ধু সিংহ' পথের পাঁচালী উপন্যাসের চরিত্র নয়।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'আরণ্যক' উপন্যাসের চরিত্র হচ্ছে 'বুদ্ধু সিংহ'।

• পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- এছাড়াও 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো- 
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২২১.
'ন্যায়দণ্ড' উপন্যাসটি কে রচনা করেন?
  1. ক) স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. খ) রশীদ করিম
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ
  4. ঘ) জরাসন্ধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) জরাসন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জরাসন্ধ
ব্যাখ্যা
'ন্যায়দণ্ড' উপন্যাসটির রচয়িতা জরাসন্ধ।

জরাসন্ধ এর প্রকৃত নাম চারুচন্দ্র চক্রবর্তী। 
- তিনি কারাগারের কাহিনি লিখে এক সময় পাঠক সমাজ মুগ্ধ করে রেখেছিলেন।
- তাঁর জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামে। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- লৌহকপাট,
- তামসী,
- পাড়ি,
- মসিরেখা,
- মল্লিকা,
- আবরণ,
- আশ্রয়, 
- অপর্ণা, 
- তনুমন, 
- নিঃসঙ্গ পথিক,
- মহাশ্বেতা ডায়রি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২,২২২.
জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৭ সালে
  2. ১৯৩৬ সালে
  3. ১৯২২ সালে 
  4.  ১৯২৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা

• ‘রাখালী' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী। কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এতে মোট ১৯টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------
• পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একাধারে কবি, কাব্যোপন্যাসিক, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, ভ্রমণকাহিনীকার, নাট্যকার, স্মৃতিকথক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক ইত্যাদি বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত।
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে তাঁর জন্ম। পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- ছাত্র থাকা অবস্থায় তার 'কবর' কবিতা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্য তালিকাভুক্ত করা হয়।
- তিনি ১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে লেকচারার পদে যোগ দেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- তাঁর রচিত কবিতায় গ্রামীণ জীবনের নিখুঁত চিত্র অঙ্কিত হয়।
- তাঁর নক্সী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতি-কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম।
- 'বোবা কাহিনী' তাঁর প্রথম উপন্যাস।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- বালুচর,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- হাসু,
- মাটির কান্না,
- এক পয়সার বাঁশী,
- মা যে জননী কান্দে,
- পদ্মা নদীর দেশে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২২৩.
'বহুবিবাহ' প্রচলনের কথা চর্যাপদের কোন পদে জানা যায়-
  1. ক) ১৮ নং পদ
  2. খ) ১৯ নং পদ
  3. গ) ২০ নং পদ
  4. ঘ) ২১ নং পদ
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯ নং পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯ নং পদ
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদের ১৯নং পদে 'বহুবিবাহ' প্রচলনের কথা বলা হয়েছে।
- তখন বহুবিবাহ প্রচলিত ছিল।
- বিয়ের সুন্দর চিত্র আছে এই পদে।

 • চর্যাপদের ১৯নং পদ:
ভব নিব্বাণে পড়হ মাদলা।
মণ পবণ বেণি করগু কশালা।
জঅ জঅ দুন্দুহি সাদ উছলিআঁ।
কাহ্ন ডোম্বী বিবাহে চলিআ।
ডোম্বী বিবাহিআ অহারিউ জাম।
জউতুকে কিঅ আণুত্তর ধাম।
অহণিসি সুরঅ পসঙ্গে জাই।
জোইণি জালে রঅণি পোহাই।

অর্থাৎ
- ‘পটহ ও মাদল জোড়া ঢোল কাঁসি ইত্যাদির জয় জয় দুন্দুভি শব্দ উচ্ছলিত হল।
- কাহ্ন ডোমনিকে বিয়ে করতে চলল। বিয়েতে তার জন্ম স্বার্থক হবে– বিয়ের যৌতুক অনুত্তর ধর্ম।
- এখানে তৎকালীন বিয়ের নিখুঁত চিত্র প্রত্যক্ষ করা চলে।

সোর্স: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
২,২২৪.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সুধা
  2. সাধনা
  3. বঙ্গদূত
  4. জ্ঞানান্বেষণ
সঠিক উত্তর:
সুধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধা
ব্যাখ্যা
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
- প্রধানত 'ঠাকুরমার ঝুলি' শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি।
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক 'সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ 'উত্থান' কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় 'সাধনা' পত্রিকাটির প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা সম্পাদক ছিলেন দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২২৫.
"আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি"- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন ঐতিহাসিক ঘটনার পেক্ষাপটে উক্তিটি করেন?
  1. মুক্তিযুদ্ধ 
  2. ভাষা আন্দোলন 
  3. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. দেশভাগ
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন 
ব্যাখ্যা

• ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিম। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন কারন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযুক্ত হন।

- ভাষা, সাহিতা ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ড প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিডিয় পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আন এমলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫) ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিতা পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২৯) হিসেবে তিনি যোগাতার পরিচয় দেন।

- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা নি লীম (১৯৯০), বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭) সম্পাদনা করেন।

- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিতা,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিক-ওয়ায় ও জওয়াব-ই-শিকওয়ায়,
- রুবাইয়াত-ই-উমর অয়্যাম,
- Essays on Islam,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিতোর কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আমর কী তারিখ,
- বাংলা সাহিতোর কথা,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকারা,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিতা জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,২২৬.
'শ্যামল ছায়া' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রটির পরিচালক ছিলেন?
  1. জহির রায়হান
  2. তারেক মাসুদ
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. হুমায়ূন আহমদে
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমদে
ব্যাখ্যা
'শ্যামল ছায়া':
- প্রখ্যাত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'শ্যামলছায়া'।

- ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে যুদ্ধকালীন কিছু বিশেষ দিক। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের যাত্রাপথে যখনই দেখা পেয়েছেন সাধারণ বাঙালিদের, তখনই পেয়েছেন তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা, অসুস্থ হলে সেবা-শুশ্রূষা পেয়েছে পরম আন্তরিকতায়।

- সিনেমাটির বিশেষত্ব হচ্ছে, সরাসরি যুদ্ধের দৃশ্য না দেখিয়েও এতে যুদ্ধের আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

- মূল চরিত্রে ছিলেন হুমায়ূন ফরিদী, মেহের আফরোজ শাওন, শিমুল, রিয়াজ, স্বাধীন খসরু, সৈয়দ আক্তার আলী, তানিয়া আহমেদ, এজাজুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ প্রমুখ।

উৎস: বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ।
২,২২৭.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম প্রহসন কোনটি?
  1. ভাই ভাই এইতো চাই
  2. ফাঁস কাগজ
  3. এর উপায় কি
  4. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
সঠিক উত্তর:
এর উপায় কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এর উপায় কি
ব্যাখ্যা

• ‘এর উপায় কি’ প্রহসন:
- ‘এর উপায় কি’ মীর মশাররফ হোসেনের প্রথম প্রহসন। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৬ সালে।
- অনেক সমালোচক মনে করেন মধুসূদনের অনুকরণেই মশাররফ হোসেন আলোচ্য প্রহসন রচনা করেছেন। তবে অনুকরণ করলেও আলোচ্য প্রহসনে মশাররফের স্বাতন্ত্র্য সহজেই পরিলক্ষিত হয়।
- লেখক সামাজিক অনিয়ম, অনাচার আর উচ্ছৃঙখলা সমর্থন করতে পারেন নি। তাঁর প্রহসনে যে মনোভাবরে পরিচয় মিলে। তিনি নিজের জীবনে সহজ বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করে তাঁর নাটক প্রহসনে তা প্রতিফলিত করে ছিলেন। অন্যায়-অনাচার রূপায়ণে তাঁর সাহসিকতাও নাটকে প্রকাশমান এবং তা যে কোনো বিচারে প্রশংসার্হ।
- চরিত্র সৃষ্টিতে তিনি পূর্বসূরীদের অনুসারী হলেও এ ক্ষেত্রে তিনি কৃতিত্ব দাবী করতে পারেন। নাটকে ভাষার লালিত্য বৃদ্ধি এবং সঙ্গীত সংযোজনা তাঁর নিজস্ব শিল্পকুশলী মনের পরিচায়ক। তবে অন্য প্রহসনগুলোতে মীর মশাররফ হোসেন ততটা সাফল্য লাভ করতে পারেন নি।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত অন্যান্য প্রহসনগুলো হলো-
- এর উপায় কি, 
- ভাই ভাই এইতো চাই,
- ফাঁস কাগজ ও 
- একি? প্রহসন।

অন্যদিকে, 
• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। 

উৎস: ‘এর উপায় কি’ প্রহসন; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া। 

২,২২৮.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর কোন উপন্যাসটি অসমাপ্ত রেখে যান?
  1. পণ্ডিত মশাই
  2. বিপ্রদাস
  3. শেষ প্রশ্ন
  4. শেষের পরিচয়
সঠিক উত্তর:
শেষের পরিচয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের পরিচয়
ব্যাখ্যা
শেষের পরিচয়:
- 'শেষের পরিচয়' (১৯৩৯) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মৃত্যুর পূর্বে শেষ করতে পারেন নি
- পঞ্চদশ পরিচ্ছেদের 'রাখাল এ প্রশ্নে নীরবে বাহির হইয়া গেল' পর্যন্ত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা।
- বাকি অংশ রাধারানী দেবী কর্তৃক রচিত।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
-  তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়। 
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে। 
- তবে নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তার সংস্কারবন্দি জীবনের রূপায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত বাঙালি নারীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তুলনাহীন। 
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা, 
- বিরাজ বৌ, 
- পণ্ডিত মশাই, 
- পল্লী সমাজ, 
- দেবদাস, 
- চরিত্রহীন, 
- দত্তা, 
- গৃহদাহ, 
- বামুনের মেয়ে, 
- দেনা পাওনা, 
- পথের দাবী, 
- শেষ প্রশ্ন, 
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২২৯.
নিচের কে বৈষ্ণব পদাবলির কবি নয়?
  1. গোবিন্দদাস
  2. লোচন দাস
  3. কানা হরি দত্ত
  4. জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
কানা হরি দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানা হরি দত্ত
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল বৈষ্ণব পদাবলি।
- বৈষ্ণব পদাবলির পদগুলো রাধা-কৃষ্ণের প্রেম বিষয়ক।
বৈষ্ণব পদের চার মহাকবি:
- বিদ্যাপতি
- গোবিন্দ দাস
- জ্ঞানদাস
- চন্ডীদাস
এছাড়াও আছেন,
- অনন্তদাস, বলরাম দাস, বৈষ্ণব দাস, লোচন দাস, শ্যাম দাস, শেখর রায়, নাসির মামুদ প্রমুখ।

অন্যদিকে, কানা হরি দত্ত - মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি।

উৎস : লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৩০.
কোনটি মৌলিক সাহিত্য?
  1. শকুন্তলা
  2. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  3. ভ্রান্তিবিলাস
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
প্রভাবতী সম্ভাষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রভাবতী সম্ভাষণ
ব্যাখ্যা

প্রভাবতী সম্ভাষণ:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' একটি শোকগাঁথা। এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা।
- বন্ধুর বালিকা কন্যা প্রভাবতীর অকাল মৃত্যুর শোকে বিদ্যাসাগর এটি রচনা করেন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (১৮৪৭)।
- ব্রজবিলাস ও রত্নপরীক্ষা গ্রন্থ দুটির রচয়িতাও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

অন্যদিকে,
শকুন্তলা: - প্রাচীন সংস্কৃত মহাকবি কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম্' নাটক অবলম্বনে ১৮৫৪ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একটি আখ্যান বা উপন্যাসোপম কাহিনি লিখে নাম দেন 'শকুন্তলা'।
'ভ্রান্তিবিলাস': - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'ভ্রান্তিবিলাস' শেক্সপীয়রের 'কমেডি অব এররস' নাটকের অনুবাদ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

২,২৩১.
'মোসলেম ভারত' পত্রিকাটি প্রথম কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  2. মোজাম্মেল হক
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
মোজাম্মেল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
• 'মোসলেম ভারত' পত্রিকা:
- ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় 'মোসলেম ভারত' মাসিক সাহিত্যপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিখ্যাতি লাভের পশ্চাতে এই পত্রিকার বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল।
- 'মোসলেম' শব্দটি থাকলেও এটি ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন পত্রিকা। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে খ্যাতিমান লেখকদের লেখা এতে প্রকাশিত হতো।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস: মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৩২.
সংখ্যাধিক্যের পরিপেক্ষিতে কবি ও সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা হয় চর্যাপদের কোন কবিকে?
  1. শবরপা
  2. লুইপা
  3. কাহ্নপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• কাহ্নপা:
- চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদরচয়িতার গৌরবের অধিকারী কাহ্নপা। তাঁর তেরটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে গৃহীত হয়েছে। এই সংখ্যাধিক্যের পরিপেক্ষিতে তাঁকে কবি ও সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায়।

- কাহ্নপা রচিত পদ সংখ্যা-১৩ টি, কিন্তু প্রাপ্ত পদ সংখ্যা-১২ টি। তার রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায় নি।

- কানু পা কৃষ্ণপাদ ইত্যাদি নামেও তিনি পরিচিত। বিভিন্ন পদে কাহ্ন, কাহ্ন, কাহ্নু, কাহ, কাহ্নি, কাহ্নিলা, কাহ্নিল্য প্রভৃতি ভণিতা লক্ষ করা যায়।

- খ্রিস্টিয় অষ্টম শতকে কানু পার আবির্ভাব হয়েছিল বলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করেন। কাহ্নপার বাড়ি ছিল উড়িষ্যায়, তিনি সোমপুর বিহারে বাস করতেন। রাহুল সংকৃত্যায়ন কাহ্ন পা বা কৃষ্ণ পাদ বা কৃষ্ণাচার্য পাদ বা কৃষ্ণবজ্র পাদকে অভিন্ন ব্যক্তি মনে করেন। তিনি দেব পালের রাজত্বকালে বর্তমান ছিলেন। তাঁর জীবৎকালের ঊর্ধ্বসীমা ৮৪০ সাল তিনি বর্ণে ব্রাহ্মণ এবং ভিক্ষু ও সিদ্ধ। তিনি পণ্ডিত-ভিক্ষু নামে খ্যাত ছিলেন।

- চর্যাপদ ছাড়াও তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন। বিষয়বস্তুর বিচারে বিচারে কাহ্ন পা সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের যোগী ছিলেন বলে অনুমিত হয়। ড. সুকুমার সেনের মতে, 'কাঙ্গুর চর্যাগীতির রচনারীতিতে অস্পষ্টতা নাই। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
২,২৩৩.
‘ইন্দ্রকুমার সোম’ কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সানাউল হক
  2. ধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. সোমেন চন্দ
সঠিক উত্তর:
সোমেন চন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
• সোমেন চন্দের ছদ্মনাম- ইন্দ্রকুমার সোম।

-------------------
• সোমেন চন্দ:
- তিনি ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী ও সাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে তিনি নিহত হন।
- তাঁর বিখ্যাত গল্প ‘ইঁদুর’ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বিভিন্ন গল্পে গণচেতনা ও অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বলেছেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- কলকাতা থেকে বনস্পতি,
- অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৩৪.
'তিথিডোর' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস 'তিথিডোর'।

•'তিথিডোর' উপন্যাস: 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৮। 
- উপন্যাসটি প্রথম শ্রাবণ, করুণ রঙিন পথ, যবনিকা কম্পমান এই তিনখন্ডে বিভক্ত। 
- বাঙালি মধ্যবিত্ত শিল্পিত স্বভাব নর নারীর জীবন যাপনের মনোরম ও মধুর কাহিনি এ উপন্যাসে বর্ণিত। 
- কাহিনির মূল উপজীব্য প্রেম ও যৌবনের বন্দনা। 

বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'

• বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা- 
প্রগতি (১৯২৭-১৯)
কবিতা (১৩৪২-৪৭)  

•তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী
- বন্দীর বন্দনা
- কঙ্কাবতী
- যে আধাঁর আলোর অধিক
- মরচেপড়া পেরেকের গান
- একদিন চিরদিন
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি। 
 
বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- মৌলিনাথ,
- নীলাঞ্জনের খাতা,
- রাত ভরে বৃষ্টি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়ামালঞ্চ
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী 
- কলকাতার ইলেক্ট্রা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

২,২৩৫.
‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের,
সমাজের সঙ্গে ধর্মের,
ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’। - উক্তিটি কোন উপন্যাসের বিষয়বস্তু?
  1. চোখের বালি
  2. গোরা
  3. যোগাযোগ
  4. নৌকাডুবি
সঠিক উত্তর:
গোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরা
ব্যাখ্যা
'গোরা' উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো
‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৩৬.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ কোনটি?
  1. আকাল
  2. হরতাল
  3. গীতিগুচ্ছ
  4. ছাড়পত্র
সঠিক উত্তর:
আকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাল
ব্যাখ্যা

আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

২,২৩৭.
জেলে জীবন কেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) গঙ্গা
  2. খ) পুতুলনাচের ইতিকথা
  3. গ) হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  4. ঘ) গৃহদাহ
সঠিক উত্তর:
ক) গঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গঙ্গা
ব্যাখ্যা

'গঙ্গা' উপন্যাসটি সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত।
- গঙ্গার পটভূমি একটাই, জল-জাল-জেলে; বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি। গঙ্গা উপন্যাসের চরিত্রগুলো সামনে অতটা উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়নি।
- সমরেশ বসুর মূল বিষয় চরিত্র চিত্রণ নয়, মূল বিষয় জেলেজীবন।
- জেলেজীবনের সংগ্রাম চিত্রণ করতে যা যা প্রয়োজন, তা করেছেন। চরিত্রের ক্ষেত্রেও তাই।
- এখানে মোটা দাগে যারা রয়েছে: সাইদার নিবারণ, নিবারণের ছোট ভাই পাঁচু ও ছেলে বিলাস, বশীর, সয়ারাম, পাচী (ছায়া), রসিক, দুলাল; অপরদিকে অমর্তের বউ, দামিনী, হিমি, হিমির সখী আতর, মহাজন ব্রজেন ঠাকুর প্রমুখ।
- আপাতদৃষ্টিতে এই উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা হলো বিলাস ও হিমি। কিন্তু সব চরিত্র যার ছায়া অবলম্বনে, তিনি হলো নিবারণ। সেদিক থেকে নিবারণ হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উৎসঃ 'গঙ্গা' উপন্যাস ও সাহিত্য সাময়িকী।

২,২৩৮.
কোন পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর?
  1. সাধনা
  2. কালিকলম
  3. শিখা
  4. কল্লোল
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
সাধনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধনা
ব্যাখ্যা
’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন। এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৩৯.
বিমল মিত্র ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. যুবনাশ্ব
  2. ভ্রমর
  3. জাবালি
  4. যাযাবর
সঠিক উত্তর:
জাবালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাবালি
ব্যাখ্যা

• বিমল মিত্রের ছদ্মনাম - জাবালি। 

অন্যদিকে,
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - কালকূট ও ভ্রমর।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২৪০.
"আলো-আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার; খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না।” — চর্যাপদ সম্পর্কে এই মন্তব্যটি কার?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. ড. সুকুমার সেন
  3. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
• 'চর্যাপদ' এর ভাষা:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।'
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,২৪১.
গোলাম মোস্তফা রচিত গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বিশ্বনবী
  2. রক্তরাগ
  3. বুলবুলিস্তান
  4. বনি আদম
সঠিক উত্তর:
বিশ্বনবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বনবী
ব্যাখ্যা

• 'বিশ্বনবী' গদ্যগ্রন্থ:
- 'বিশ্বনবী' গদ্যগ্রন্থের রচয়িতা গোলাম মোস্তফা।
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.) কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

-------------------
• গোলাম মোস্তফা:

- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• গোলাম মোস্তফা রচিত রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২৪২.
কোনটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ?
  1. পঞ্চতন্ত্র
  2. দেশে বিদেশে
  3. চাচা-কাহিনী
  4. টুনি মেম
সঠিক উত্তর:
দেশে বিদেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশে বিদেশে
ব্যাখ্যা

'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি: 
- সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি'দেশে বিদেশে' (১৯৪৯)।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- ভ্রমণকাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহরে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,২৪৩.
'The Meaning of Art' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের-
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) প্রবন্ধগ্রন্থ
  3. গ) বক্তৃতার শিরোনাম
  4. ঘ) গদ্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গ) বক্তৃতার শিরোনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বক্তৃতার শিরোনাম
ব্যাখ্যা
• 'The Meaning of Art' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের- বক্তৃতার শিরোনাম।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ২ বার ঢাকায় আসেন। 
- প্রথমবার ১৮৯৮ সালে 
- দ্বিতীয়বার ১৯২৬ সালে 

• ১৯২৬ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে প্রথমবার বক্তৃতা প্রদান করেন। 
- সেই বক্তৃতার শিরোনাম ছিল- 'The Meaning of Art'। 

• ১৯২৬ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি তিনি দ্বিতীয় বক্তৃতা প্রদান করেন। 
- সেই বক্তৃতার শিরোনাম ছিল- 'The Rule of the Giant'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৪৪.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. রত্নাবলী
  3. পাষণ্ডপীড়ন
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হতো।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৪৫.
"সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি"- উক্তিটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কবি কাহিনী
  2. শেষের কবিতা
  3. কবিতার কথা
  4. কবি
সঠিক উত্তর:
কবিতার কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতার কথা
ব্যাখ্যা
• 'কবিতার কথা' প্রবন্ধ:
- "কবিতার কথা" কবি জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রবন্ধ যা তাঁর মৃত্যুর পর প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। যেখানে তিনি কবিতা ও কবি-সত্তা নিয়ে নিজস্ব ভাবনা প্রকাশ করেছেন।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে।
- এই প্রবন্ধে তিনি "সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি" এই বিখ্যাত উক্তিটি করেন, যা বাংলা সাহিত্য জগতে একটি উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করে আছে।  
- "কবিতার কথা" প্রবন্ধে জীবনানন্দ দাশ কবিতার সংজ্ঞা, কবিতার উপাদান, কবির মানসিকতা এবং কবিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন। 

---------------
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'কবি' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। 
• 'কবি কাহিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
• 'শেষের কবিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৪৬.
‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ -এর লেখক নন -
  1. শেখ আবদুর রহিম
  2. কাজী আবদুল ওদুদ
  3. আবুল হুসেন
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
শেখ আবদুর রহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ আবদুর রহিম
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’এর লেখক নন শেখ আবদুর রহিম।

• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
• এর প্রধান লেখক ছিলেন-
- আবুল হুসেন,
- মোতাহের হোসেন চৌধুরী,
- কাজী আবদুল ওদুদ,
- আবদুল কাদির,
- আবুল ফজল,
- আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২৪৭.
'উত্তরাধিকার' কোন প্রতিষ্ঠানের সাময়িকী?
  1. বাংলা একাডেমি
  2. শিল্পকলা একাডেমি
  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
সঠিক উত্তর:
বাংলা একাডেমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা একাডেমি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ও সাময়িকী:
- ধান শালিকের দেশ - ত্রৈমাসিক কিশোর সাহিত্য পত্রিকা।
- বার্তা  - মাসিক মুখপাত্র।
- বাংলা একাডেমি পত্রিকা - গবেষণামূলক ত্রৈমাসিক।
- বাংলা একাডেমি জার্নাল: ষাণ্মাসিক পত্রিকা।
- উত্তরাধিকার - সৃজনশীল সাহিত্য মাসিক পত্রিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
২,২৪৮.
‘সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ’ রচনা করেছেন -
  1. ক) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) মুহম্মদ এনামুল হক
সঠিক উত্তর:
গ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
তার বিখ্যাত গ্রন্থের মধ্যে আছে - বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা
- অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অব মডার্ন ইন্ডিয়া।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২,২৪৯.
কায়কোবাদের 'অশ্রুমালা' গ্রন্থটি কোন ধরনের রচনা?
  1. কাহিনিকাব্য
  2. গীতিকাব্য
  3. নীতিকাব্য
  4. মহাকাব্য
সঠিক উত্তর:
গীতিকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতিকাব্য
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদের 'অশ্রুমালা' গ্রন্থটি গীতিকাব্য
- এটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।

কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।
- তিনি বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ (১৯২৫) উপাধিতে ভূষিত করে।
-  ১৯৫১ সালের ২১ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুমকানন,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৫০.
‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।‘- কোন আন্দোলনের স্লোগান?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. শিক্ষা আন্দোলন
  3. গণনাট্য আন্দোলন
  4. বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার  মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক কুসংস্কার ও অন্ধ শাস্ত্রানুগত্য থেকে মানুষকে মুক্ত করা।
- এ উদ্দেশে তাঁরা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- তাঁদের সে আন্দোলনের বার্তা সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১৯২৬ সালে তাঁরা প্রকাশ করেন সমাজের মুখপত্র শিখা। মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও শিখার সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন তাঁরা ‘শিখাগোষ্ঠী’ নামে পরিচিত ছিলেন।
- এ গোষ্ঠী তখন ঢাকায় বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন শুরু করে।
- তাঁদের আন্দোলনের মূলকথা ছিল ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।


তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৫১.
বাংলা গদ্যপ্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য 'উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ' ও 'অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত' সৃষ্টি করেন কে?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১) :
সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত৷
- তিনিই প্রথম বাংলা গদ্যে যতি চিহ্ন বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন৷
- বাংলা গদ্যপ্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি তার গদ্যে 'উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ' ও 'অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত' সৃষ্টি করেন৷

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,২৫২.
'শবনম' উপন্যাস কার লেখা?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ মুস্তফা সিরাজ
  3. জহির রায়হান
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• 'শবনম' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ মুজতবা আলী। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। 
- সাহিত্যাচার্য পরম শ্রদ্ধান্বিত রাজশেখর বসুকে গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছেন।
 
----------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
• সৈয়দ মুজতবা আলী (১৯০৪-১৯৭৪) শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
• গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি  উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনি প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
 
• ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায় ;
 
• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম ,
- শহ্র-ইয়ার;
 
• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী এবং
 
ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'শবনম' উপন্যাসে।
২,২৫৩.
দীনবন্ধু মিত্র সমধিক পরিচিত কী হিসেবে?
  1. ঔপন্যাসিক
  2. নাট্যকার
  3. প্রাবন্ধিক
  4. কবি
সঠিক উত্তর:
নাট্যকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাট্যকার
ব্যাখ্যা

• দীনবন্ধু মিত্র: 
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে 'সংবাদ প্রভাকর', 'সংবাদ সাধুরঞ্জন' প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

তাঁর রচিত নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২৫৪.
কোনটি হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়?
  1. ক) আগুনের পরশ মণি
  2. খ) অনিল বাগচীর একদিন
  3. গ) শ্যামল ছায়া
  4. ঘ) নন্দিত নরকে
সঠিক উত্তর:
ঘ) নন্দিত নরকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নন্দিত নরকে
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।

তাঁর বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস: 
- আগুনের পরশমনি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- ১৯৭১,
- সূর্যের দিন,
- শ্যামল ছায়া,
- জোছনা ও জননীর গল্প।

• অন্যদিকে, 
- নন্দিত নরকে উপন্যাসটি হুমায়ূন আহমেদের প্রথম রচনা। 
- উপন্যাসটি সাধারণ একটা নিম্নবিত্ত পরিবারের জীবন সংগ্রাম নিয়ে লেখা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৫৫.
‘ময়নামতীর চর’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. নুরুল মোমেন
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
⇒ বন্দে আলী মিয়া: 
- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক  ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কুচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৫৬.
রফিক আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. উর্বশী ও আর্টেমিস
  2. করো অশ্রুপাত
  3. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  4. হৃদয়ের কী বা দোষ
সঠিক উত্তর:
উর্বশী ও আর্টেমিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উর্বশী ও আর্টেমিস
ব্যাখ্যা
• রফিক আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় - উর্বশী ও আর্টেমিস
- এটি বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থ।

রফিক আজাদ: 
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৫৭.
দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম নাটকের অনুবাদ প্রকাশকের দায়ে কাকে রাজদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিলো?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত 
  2. রেভারেন্ড জেমস লং
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. হ্যারিয়েট বিচার স্টো
সঠিক উত্তর:
রেভারেন্ড জেমস লং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেভারেন্ড জেমস লং
ব্যাখ্যা

• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম নাটক বেনামীতে মুদ্রিত 'নীলদর্পণ' (১৮৬০)। এদেশে নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের চিত্র এতে অঙ্কিত হয়েছে।

- নাটকটিতে নাট্যকারের প্রত্যক্ষ স্বজাতি-প্রেম এবং বিদেশী শাসকের প্রজাপীড়নের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। নাটকটির নাম ছিল 'নীলদর্পণম নাটকম' এবং বিজ্ঞপ্তিটি ছিল: ‘নীলকর-বিষধর-দংশনকাতর-প্রজা নিকর-ক্ষেমঙ্করেণ কেনাচৎ পথিকেনাভি প্রণীতম।' নাটকে নাট্যকারের নাম ছিল না।

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীলদর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন। এবং অনুবাদের প্রকাশক হিসেবে নাম থাকায় পাদ্রী রেভারেন্ড জেমস লং রাজদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন।

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীলদর্পন” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীলদর্পন” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।

- নীলকরেরা কি ধরনের অত্যাচার করত সে সম্পর্কে যোগেশচন্দ্র বাগল লিখেছেন, 'নীলকর কর্তৃক টাকা দাদন দিয়ে উৎকৃষ্ট জমিতে নীল চাষে চাষীকে প্ররোচনা, আশানুরূপ ফসল না হলে পর বছর নীল উৎপাদনে তাকে বাধ্য করান, নীল চাষের জন্য দশ বছরের চুক্তি, পুরুষানুক্রমে নীলকরের আজ্ঞাবহ প্ৰজায় পরিণতি, নীলকরদের জমিদারী তালুকদারী ক্রয়, প্রজাবৃন্দদের দ্বারা বেগার খাটান, চুক্তি ভঙ্গকারী চাষিদের নীলকুঠিতে কয়েদ করে রাখা ইত্যাদি অত্যাচার ও নিপীড়নের চিত্র ফুটে উঠেছে।
 - বাস্তব চিত্র রূপায়ণের ফলে সে আমলে নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রবল আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম। 

২,২৫৮.
নিচের কোন চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথের 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের?
  1. বিহারী-বিনোদিনী
  2. নিখিলেস-বিমলা
  3. মধুসূদন-কুমুদিনী
  4. অমিত-লাবণ্য
সঠিক উত্তর:
নিখিলেস-বিমলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিখিলেস-বিমলা
ব্যাখ্যা
• 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে (১৯১৬) চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসটি ১৯১৫ সালে ‘সবুজপত্রে’ প্রকাশিত হয়।
- ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উপন্যাসটি রচিত।
- এই উপন্যাসের সঙ্গে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অট' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।

• এর উল্লেখযােগ্য চরিত্র-
- নিখিলেশ,
- বিমলা
- সন্দীপ।

-------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি অসংখ্য কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনি, চিঠিপত্র রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এই পরিবারের পূর্বপুরুষ পূর্ববঙ্গ থেকে ব্যবসায়ের সূত্রে কলকাতায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন।
- উনিশ শতকের বাঙালির নবজাগরণ এবং ধর্ম ও সমাজ-সংস্কার আন্দোলনে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য।
- এ যুগের অন্যতম সমাজ-সংস্কারক এবং একেশ্বরবাদের প্রবক্তা রামমোহন রায় ছিলেন দ্বারকানাথের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
- রামমোহন রায়ের আদর্শ দ্বারকানাথ, তাঁর পুত্র দেবেন্দ্রনাথ এবং দৌহিত্র রবীন্দ্রনাথের ওপর এক অভাবনীয় প্রভাব বিস্তার করে।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- বাংলাদেশের শাহজাদপুর, পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাসঃ
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৫৯.
কোনটি কবি জৈনুদ্দিনের কাব্যগ্রন্থ?
  1. রসুল বিজয়
  2. মক্কা বিজয় 
  3. রসুলচরিত
  4. মক্কানামা 
সঠিক উত্তর:
রসুল বিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রসুল বিজয়
ব্যাখ্যা
• 'রসুল বিজয়' কাহিনীকাব্য:
- 'রসুল বিজয়' জৈনুদ্দীন রচিত যুদ্ধবিষয়ক একটি কাহিনীকাব্য।
- এতে  হযরত মুহাম্মদ (স.) ও ইরাকাধিপতি জয়কুমের মধ্যেকার দীর্ঘযুদ্ধের বর্ণনা আছে। যুদ্ধে ইসলামের বিজয় দেখানো হয়েছে।
- কাব্যটিতে রসুলের মধুর বাণী আছে বটে, কিন্তু যুদ্ধের ঘনঘটা ও শৌর্যবীর্যের যে ব্যাপক বর্ণনা আছে, তাতে কবিত্বের পরিচয় আছে কমই।
- কাব্যের উৎস ফারসি সাহিত্য হলেও কবি কোন কাব্য অনুসরণ করেছেন তা জানা যায় না।
- একই সময়ে সুলতান বারবক শাহের রাজত্বকালে (১৪৫৯-৭৪) মালাধর বসু শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য রচনা করেন।
- রসুলবিজয় ও শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্যদ্বয় ওই সময়ে সমান গুরুত্বের সঙ্গে যথাক্রমে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করেছে বলে মনে করা হয়।

----------------
• জৈনুদ্দীন:

- জৈনুদ্দীন (১৫শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর পিতার নাম মৈনুদ্দীন। তাঁরা নিজেদের খলিফা আবুবকর সিদ্দিকীর বংশধর বলে দাবি করেন।
- রসুলবিজয় কাব্য রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
- জৈনুদ্দীন ছিলেন সুফি ধারার অনুসারী; শাহ্ মোহাম্মদ খান ছিলেন তাঁর পীর।
- কবির পৃষ্ঠপোষক ছিলেন গৌড়ের যুবরাজ ইছপ খান (ইউসুফ খান), যিনি পরে শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ (১৪৭৪-৮২) নামে গৌড়ের সুলতান হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২৬০.
'নরকে লাল গোলাপ’- এই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটকের নাট্যকার কে ?
  1. সেলিম আল দীন
  2. মমতাজ উদ্দিন
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. রাজিয়া হক
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

-  'নরকে লাল গোলাপ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।

• নরকে লাল গোলাপ: 

- “নরকে লাল গোলাপ” নাটকটি মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ত্যাগ কৌশলপূর্ণভাবে উপস্থাপন করে।
- নাটকের সংলাপগুলো অত্যন্ত আবেগময়, যা দর্শকের মনে দেশপ্রেমের আগুন জ্বালাতে সক্ষম।

• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
 
• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:

» উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  
 
» কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র, 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, 
 
» গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি, 
- মৃগনাভি, 
- ধানকন্যা, 
- যখন সৈকত, 
- অন্ধকার সিঁড়ি, 
- জীবনজামিন,  
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার। 
 
তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,২৬১.
স্বভাব কবি বলা হয় কাকে?
  1. ক) গোবিন্দ চন্দ্র দাস
  2. খ) নবীনচন্দ্র সেন
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ক) গোবিন্দ চন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গোবিন্দ চন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যের স্বভাব কবি হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।

• গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি  ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক শোভা, বস্ত্তনিষ্ঠতা এবং গভীর পত্নিপ্রেম ফুটে উঠেছে। 
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন। কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

 • তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- মগের মুলুক (ব্যঙ্গকাব্য),
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস (১৯১০) ইত্যাদি।
এ ছাড়াও তিনি অ্যালেন হিউমের অ্যায়োত্রক কবিতা এবং ভগবদ্গীতার কাব্যানুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৬২.
'লিপিমালা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রামরাম বসু
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. গোলোকনাথ শর্মা
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
- উইলিয়াম কেরি রচিত: কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২)।
- রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১); লিপিমালা (১৮০২)
- গোলোকনাথ শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২); হিতোপদেশ (১৮০৮); রাজাবলি (১৮০৮); প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
- তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
- রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।
- চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
- হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,২৬৩.
বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. মানোএল দা আসসুম্পসাঁও
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
মানোএল দা আসসুম্পসাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানোএল দা আসসুম্পসাঁও
ব্যাখ্যা
• "কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ" গ্রন্থ:
• রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদরি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ' গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

• গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী (বর্তমান গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার একটি গ্রাম) নামক স্থানে লিখিত। এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজ ভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিস্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিস্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

• মূল পর্তুগিজ অংশ মানোএল দা আসসুম্পসাঁও-এর লেখা; তিনি সম্ভবত কোন দেশীয় খ্রিস্টান দ্বারা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করিয়েছিলেন। খ্রিস্টীয় ধর্মশাস্ত্রকে কৃপা বা দয়ার শাস্ত্র মনে করে এর অর্থ রহস্য উদ্ঘাটন করার চেষ্টা আলোচ্য গ্রন্থে পরিদৃষ্ট হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,২৬৪.
‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের আদি কবি কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মানিক দত্ত
  3. দ্বিজমাধব
  4. রূপরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা

চণ্ডীমঙ্গল:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পুজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়দত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,২৬৫.
‘স্বাধীনতা - হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে‘ চরণটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাধীনতা - হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে' - চরণটির রচয়িতা হচ্ছে রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। 

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের জন্ম  পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়া গ্রামে। 
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়। 
- তিনি নিজে  কলকাতা থেকে মাসিক রস সাগর (১৮৫২) (পরিবর্তিত নাম সংবাদ সাগর) ও সাপ্তাহিক বার্তাবহ (১৮৫৬) সম্পাদনা করেন। 
- এডুকেশন গেজেট পত্রিকা (১৮৫৫) প্রকাশিত হলে তিনি তার সহসম্পাদক নিযুক্ত হন। 
⇒ রঙ্গলালের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি পদ্মিনী উপাখ্যান ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের Annals and Antiquities of Rajasthan -এর কাহিনী অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য। 
- ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়
দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়’ - পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর এই উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য হচ্ছে: 
- কর্মদেবী, 
- শূরসুন্দরী ও 
- কাঞ্চী কাবেরী। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৬৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ ঘটে- 
  1. কৃষ্ণকুমারী নাটকে
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যে 
  3. পদ্মাবতী নাটকে
  4. মেঘনাদবধ কাব্যে 
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী নাটকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী নাটকে
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২,২৬৭.
‘আজ রবিবার’ নাটকটি কে রচনা করেন?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. মাসুম রেজা
  3. জিয়া হায়দার
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• 'আজ রবিবার' নাটকটির রচয়িতা হুমায়ূন আহমেদ। 

⇒ হুমায়ূন আহমেদ: 
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে। 
- শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান। 
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন। 
- 'নন্দিত নরকে' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- আশির দশকে বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটক ও ধারাবাহিক নাটকের ইতিহাসে হুমায়ূন আহমেদ আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
⇒ হুমায়ুন আহমেদের প্রথম টেলিভিশন নাটক - প্রথম প্রহর (১৯৮৩, পরিচালনা- নওয়াজেস আলী খান)।
⇒ তাঁর প্রথম ধারাবাহিক নাটক - "এইসব দিনরাত্রি" বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়।

এ ছাড়া অন্যান্য জনপ্রিয় ধারাবাহিকের মধ্যে আছে:
- বহুব্রীহি (কমেডি),
- অয়োময় (সামাজিক-ঐতিহাসিক),
- কোথাও কেউ নেই (নাগরিক জীবনভিত্তিক),
- আজ রবিবার (পারিবারিক-সামাজিক),
- নক্ষত্রের রাত (আধুনিক জীবনসমস্যা) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২৬৮.
ডাক ও খনার বচনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো -
  1. ক) ছন্দ-বৈচিত্র
  2. খ) হাস্যরস
  3. গ) বিদেশী শব্দের আধিক্য
  4. ঘ) ভণিতার উপস্থিতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভণিতার উপস্থিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভণিতার উপস্থিতি
ব্যাখ্যা

খনার বচনঃ
খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি। বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

- ডাকের বচন ‘ডাকের কথা’ বা ‘ডাক পুরুষের কথা’ নামেও পরিচিত। ডাক তাঁর বচনকে ‘ডাকর কথা’ বলেছেন, চাকমা ভাষায় যা ‘দাগর কধা’ নামে পরিচিত।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- বৌদ্ধ সমাজে যেমন ডাকের বচনের উৎপত্তি হয়েছিল তেমনি হিন্দু সমাজে খনার বচনের সৃষ্টি হয়েছিল। আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

- বচন লোকসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় শাখা। এর স্বতন্ত্র একটা প্রকৃতি, কাব্যরস ও গীতিধর্মিতা আছে। ডাক ও খনার বচনে মাঝে মাঝে ভণিতা আছে, যা লোকসাহিত্যের অন্য শাখায় সচরাচর লক্ষ করা যায় না।
- বচনে প্রাত্যহিক জীবনের মূল্যবান নীতিমালা ও নির্দেশনা পাওয়া যায়। খনার বচনের বর্তমান ভাষা তার মূল ভাষা নয়, তবে লীলাবতী আর্যার ভাষা অনেকটা মূল ভাষার কাছাকাছি।
- বাংলা ও অন্যান্য ভাষার তুলনীয় বচন-প্রবচন বিশ্লেষণ করে একটি নব ভাষাতাত্ত্বিক দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। অন্যান্য প্রাদেশিক ভাষায় খনার বচনের অনুপ্রবেশের প্রধান কারণ কৃষিবিজ্ঞান। কৃষিপ্রধান বঙ্গদেশে ডাকের কথা ও খনার বচন প্রাচীন বাংলা ও আসামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বুনিয়াদ রচনা করেছিল।

- ডাকের কথায় নীতিকথা বেশি।
অন্যদিকে,
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যাতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২৬৯.
বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন -
  1. ক) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. খ) চর্যাপদ
  3. গ) মহাভারত
  4. ঘ) বৈষ্ণব পদাবলি
সঠিক উত্তর:
খ) চর্যাপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন - চর্যাপদ

• প্রায় এক হাজার পূর্বে লেখ্য বাংলা ভাষার কাব্য রীতিতে 'চর্যাপদ' রচিত।
- ব্যবহারিক প্রয়োজনে ক্রমে লেখ্য গদ্য রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের সূচনায় এই গদ্য রীতি সাধু রীতির জন্ম দেয়।
- বিশ শতকের সূচনায় সাধু রীতির পাশাপাশি চলিত রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- একূশ শতকের সূচনায় চলিত রীতির একটি আদর্শ রূপ প্রমিত রীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
- এই প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
২,২৭০.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, চর্যাপদের রচনাকাল কোনটি?
  1. ৬৫০-১২০০ খ্রি.
  2. ৯৫০-১২০০ খ্রি.
  3. ৯০০-১২০০ খ্রি.
  4. ৭০০ - ১২০০ খ্রি.
সঠিক উত্তর:
৯৫০-১২০০ খ্রি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫০-১২০০ খ্রি.
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের রচনা কাল:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে, ৬৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে রচিত,
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে, 

• চর্যাপদ: 
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৭১.
চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা লুইপার গুরু ছিলেন কে?
  1. ডোম্বীপা
  2. শবরপা
  3. কুক্কুরীপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
শবরপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০-৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি। সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি:
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৭২.
নিচের কোনটি আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস নয়?
  1. ক) বখতিয়ারের ঘোড়া
  2. খ) কাবিলের বোন
  3. গ) উপমহাদেশ
  4. ঘ) আগুনের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
ক) বখতিয়ারের ঘোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বখতিয়ারের ঘোড়া
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ লোক লোকান্তর, কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে উঠে, সোনালী কাবিন, বখতিয়ারের ঘোড়া, পাখির কাছে ফুলের কাছে, প্রেমের কবিতা, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, দোয়েল ও দয়িতা ইত্যাদি। উপন্যাসঃ ডাহুকী, কবি ও কোলাহল, উপমহাদেশ, আগুনের মেয়ে, কাবিলের বোন, চেহারায় চতুরঙ্গ। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
২,২৭৩.
'প্রদোষে প্রাকৃতজন' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) শওকত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শওকত আলী
ব্যাখ্যা
শওকত আলী রচিত প্রদোষে প্রাকৃতজন উপন্যাসে রাজা লক্ষণ সেনের সময়ের সমাজ ও মানুষের দ্বন্দ্ব তুলে ধরা হয়েছে। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
২,২৭৪.
বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচয়িতা কে?
  1. জ্ঞানদাস
  2. গোবিন্দদাস
  3. চন্ডীদাস
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

• বৈষ্ণব পদাবলীর আদি কবি বিদ্যাপতি কিন্তু তিনি বাংলা ভাষায় পদ রচনা করেননি।
• বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলীর রচনা করেন চণ্ডীদাস।
• বৈষ্ণব পদাবলী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২,২৭৫.
'ফেরদৌসি চরিত' - গ্রন্থের লেখক কে?
  1. নজিবর রহমান
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. সরদার জয়েনউদ্দিন
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা

• 'ফেরদৌসি চরিত' গদ্যগ্রন্থের লেখক - মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি, পশ্চাৎপদতা ও আত্মবিস্মৃতির বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ ও সংগঠনের মাধ্যমে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রচিত উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক। 
২) বাংলাপিডিয়া।

২,২৭৬.
‘বহুব্রীহি’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. সাঈদ আহমদ
  3. মামুনুর রশীদ
  4. জিয়া হায়দার
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• ‘বহুব্রীহি’ নাটকটির রচয়িতা - হুমায়ূন আহমেদ
- এটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।

হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' (১৯৭২)।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- নক্ষত্রের রাত,
- এই সব দিনরাত্রি,
- বহুব্রীহি,
- অয়োময়, 
- কোথাও কেউ নেই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বহুব্রীহি, হুমায়ূন আহমেদ।
২,২৭৭.
'জমিদার দর্পণ' নাটকের অত্যাচারী জমিদার চরিত্রের নাম কী?
  1. আবু মোল্লা
  2. হায়ওয়ান আলী
  3. সমাদ্বার সাহেব
  4. রাইচরণ
সঠিক উত্তর:
হায়ওয়ান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হায়ওয়ান আলী
ব্যাখ্যা

'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- 'জমিদার দর্পণ' মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি নাটক।
-নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্থ প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি 'জমিদার দর্পণ' (১৮৭৩) এর মূল ঘটনা।
- লেখক লিখেছে, নাটকটির কিছুই সাজানো নয়, অবিকল ছবি তুলে ধরা হয়েছে প্রচলিত সমাজের।
- নামকরণে দীনবন্ধু মিত্রের 'নীল-দর্পণ' নাটকের প্রভাব যেমন প্রবল, নাটকটির ঘটনা বিন্যাসেও এর ছায়া পড়েছে।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার  হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

২,২৭৮.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের পদকর্তা কতজন?
  1. ২২ জন
  2. ২৩ জন‌
  3. ২৪ জন
  4. ২৫ জন
সঠিক উত্তর:
২৩ জন‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ জন‌
ব্যাখ্যা
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম আছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
২,২৭৯.
বেগম সুফিয়া কামালের গ্রন্থ ‘একালে আমাদের কাল’-এ কোন নারীর প্রভাব ও অনুপ্রেরণার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ আছে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. সিমোন দ্য বোভোয়ার
  4. কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা

বেগম সুফিয়া কামালের গ্রন্থ ‘একালে আমাদের কাল’-এ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের প্রভাব ও অনুপ্রেরণার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ আছে। 
----------------
‘একালে আমাদের কাল’:
- ‘একালে আমাদের কাল’ হলো বিশিষ্ট বাঙালি কবি বেগম সুফিয়া কামাল-এর আত্মজীবনীমূলক রচনা। 
- ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত এই স্মৃতিকথা গ্রন্থে তিনি তাঁর শৈশবের দিনগুলি, পারিবারিক জীবন এবং সমাজের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন। 
- এছাড়া, সুফিয়া কামালের ‘একালে আমাদের কাল’ গ্রন্থে মূলত নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন-এর গভীর প্রভাব ও অনুপ্রেরণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 
- তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও নারী মুক্তি আন্দোলনে রোকেয়ার আদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং সেই প্রভাবকে বিশেষভাবে এই আত্মজীবনীর মধ্যে তুলে ধরেছেন।
-------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।

• তাঁর  উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর বিখ্যাত গল্প: ‘কেয়ার কাঁটা’। 
• স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে কবির উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

• কবি সুফিয়া কামালের শিশু সাহিত্যেও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
- তাঁর ‘ইতল বিতল’ এবং ‘নওল কিশোরের দরবারে’ গ্রন্থ দুটি শিশুদের জন্য রচিত ছড়া ও কবিতার সংকলন।
- গ্রন্থ দুইটি বাংলা শিশু সাহিত্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
- এসব রচনায় শিশুদের কল্পনা, আনন্দ ও মানসিক জগৎ অত্যন্ত সহজ ও প্রাণবন্তভাবে ফুটে উঠেছে।

• এ ছাড়া শিশুদের কেন্দ্র করে লেখা তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘আজিকার শিশু’ শিশু সাহিত্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি রচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

২,২৮০.
মধ্যযুগের সাহিত্যধারা কেমন ছিল?
  1. গদ্যনির্ভর
  2. ধর্মনির্ভর
  3. কল্পনানির্ভর
  4. রূপকথানির্ভর
সঠিক উত্তর:
ধর্মনির্ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মনির্ভর
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য - ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা - বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- মধ্যুযগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
২,২৮১.
'পুত্র' নাটকটি কে রচনা করেন?
  1. মামুনুর রশীদ
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'পুত্র' নাটক:
- সেলিম আল দীন পুত্র হারানো এক দম্পতির অবিশ্রান্ত বিলাপ ও স্মৃতি মন্থরতা এ নাটকে রূপায়িত করেছেন।
- সিরাজ ও আবছা তাদের পুত্র মানিক আম গাছে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করেন।
- নাটকের শেষাংশে দেখা যায়, নতুন সন্তানের তীব্র কামনায়  স্ত্রী আবছা স্বামীকে তালাক দিয়ে ফিরে যায় ফেলে আসা যমুনার তীরে।

সেলিম আল দীন:

- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
-কবি ও তিমি।

 তাঁর উপন্যাস:
-অমৃত উপাখ্যান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক ও নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প

তাঁর নাটক:
- পুত্র,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- বাসন,
 মুনতাসির, 
- শকুন্তলা ও কিত্তনখোলা, 
- কেরামতমঙ্গল,
- প্রাচ্য,
- কিত্তনখোলা,  
- হাতহদাই, 
- যৈবতী কন্যার মন,
- চাকা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর। 
২,২৮২.
"কালো আর ধলো বাহিরে কেবল,
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. কামিনী রায় 
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার 
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• "কালো আর ধলো বাহিরে কেবল,
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা- 'সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত'। 

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

মানুষ জাতি- কবিতা,
-------------- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে
সে জাতির নাম মানুষ জাতি;
এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত
একই রবি শশী মোদের সাথী।
শীতাতপ ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা
সবাই আমরা সমান বুঝি,
কচি কাঁচাগুলি ডাঁটো করে তুলি
বাঁচিবার তরে সমান যুঝি।
দোসর খুঁজি ও বাসর বাঁধি গো,
জলে ডুবি, বাঁচি পাইলে ডাঙা,
কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া, মানুষ জাতি- কবিতা।

২,২৮৩.
‘আমি ভজন সাধন জানি নে মা
নিজে ত ফিরিঙ্গি।
যদি দয়া করে কৃপা কর
হে শিবে মাতঙ্গী।’ - এই বিখ্যাত গানের রচয়িতা কে?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. লালন ফকির
  4. এন্টনি ফিরিঙ্গি
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
এন্টনি ফিরিঙ্গি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এন্টনি ফিরিঙ্গি
ব্যাখ্যা
এন্টনি ফিরিঙ্গি:
- তিনি ছিলেন আঠারো শতকের বাংলা ভাষার কবিয়াল।
- তাঁর প্রকৃত নাম হেনসম্যান এন্টনি (Hensman Anthony)। তিনি জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ এবং ধর্মে খ্রিস্টান।
- পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগরের ফরাসডাঙায় তিনি বসবাস করতেন।
- তিনি খ্রিস্টান হলেও বাঙালি কালি সাধক হিন্দুর মত জীবনযাপন করতেন। তিনি হিন্দু বিধবা কে বিয়ে করেন এবং কলকাতার বউবাজারে ফিরিঙ্গি কাকীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

তাঁর একটি বিখ্যাত গান-
‘আমি ভজন সাধন জানি নে মা
নিজে ত ফিরিঙ্গি।
যদি দয়া করে কৃপা কর
হে শিবে মাতঙ্গী।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৮৪.
'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনার ক্ষেত্রে কোন মহাকাব্যের প্রভাব রয়েছে?
  1. রামায়ণ
  2. মহাভারত
  3. প্যারাডাইস রিগেইন্ড
  4. প্যারাডাইস লস্ট
সঠিক উত্তর:
প্যারাডাইস লস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারাডাইস লস্ট
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত  মহাকাব্য 'রামায়ণের' ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- গ্রন্থটি ১৮৬১ সালেই প্রকাশ পায়। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য।
- রামকে খলনায়ক এবং রাবণকে নায়ক করে তিনি রচনা করেন এই কাব্য। 
- মোট ৩ দিন ২ রাতের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে এই কাব্যে। 
- কবি মিল্টনের প্যারাডাইস লস্ট (Paradise Lost) এর ছায়া অবলম্বনে রচিত হয়েছে এ কাব্য। 
-------------------
মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে ।
- ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।
- তাঁর ছদ্মনাম টিমোথি পেনপোয়েম
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক ‘শর্মিষ্ঠা' তিনি রচনা করেন ।
- তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য।

তাঁর রচিত নাটক ও প্রহসন
- শর্মিষ্ঠা নাটক (১৮৫৯)
- একেই কি বলে সভ্যতা? (১৮৬০)
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০)
- পদ্মাবতী নাটক (১৮৬০)
- কৃষ্ণকুমারী নাটক (১৮৬১)
- মায়া-কানন (১৮৭৪)

তাঁর রচিত কাব্য
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬০)
- মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১)
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য (১৮৬১)
- বীরাঙ্গনা কাব্য (১৮৬২)
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (১৮৬৫)

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,২৮৫.
'চার ইয়ারী কথা' প্রমথ চৌধুরী রচিত- 
  1. ভ্রমণকাহিনি
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'চার ইয়ারী কথা':
- 'চার ইয়ারী কথা' প্রমথ চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ। এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এখানে বর্ণিত হয়েছে চার বন্ধুর প্রেমের কাহিনি।
- গল্পগ্রন্থের নায়িকা চারজনই ইউরোপীয়।
- গল্পগ্রন্থে প্রথম নায়িকা উন্মাদ, দ্বিতীয় চোর, তৃতীয় প্রতারক ও চতুর্থ নায়িকা মৃত্যুর পর ভালোবাসা ব্যক্ত করেছে।
- এটিতে ভাষার চাতুর্য, পরিহাসপ্রিয়তা এবং সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ উদ্ভাসিত হয়েছে ভাবালু প্রেমকাহিনী প্রতিবাদী রূপে।

• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- আহুতি।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২৮৬.
দ্বিজ কানাই রচিত ‘মহুয়া’ পালায় বেদে সম্প্রদায়ের সর্দারের নাম কী ছিল?
  1. কুব্বাত আলী
  2. রতন সর্দার
  3. হুমরা 
  4. সমিরন
সঠিক উত্তর:
হুমরা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমরা 
ব্যাখ্যা

দ্বিজ কানাই রচিত ‘মহুয়া’ পালায় বেদে সম্প্রদায়ের সর্দারের নাম ছিল- হুমরা বাইদ্যা। 
-------------------------
'মহুয়া পালা':
- ‘মহুয়া পালা’, দ্বিজ কানাই (১৬৫০) রচিত, মৈমনসিংহ গীতিকার অন্যতম জনপ্রিয় ও করুণ প্রেমকাহিনী। কাহিনীর কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো বেদে সম্প্রদায়ের কন্যা মহুয়া এবং জমিদার নদের চাঁদ। মহুয়া শৈশবে হুমরা বাইদ্যা নামে এক বেদে সর্দারের কাছে চলে যায় এবং বেদে সম্প্রদায়ের মধ্যেই বড় হয়। বড় হয়ে মহুয়া সাপের খেলা দেখাতে শিখে। একদিন হুমরা বেদের দল বাউলের গ্রামে আসে, সেখানেই মহুয়া ও নদের চাঁদের মধ্যে গভীর প্রেম গড়ে ওঠে। তাদের প্রেম জনসমাজের নজরে আসলে সামাজিক বাধার সৃষ্টি হয়। নদের চাঁদের আত্মীয় ও সমাজের চাপের কারণে হুমরা বাইদ্যা মহুয়াকে অন্যত্র নিয়ে যায়। নদের চাঁদ মহুয়াকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেও, শেষপর্যন্ত হুমরা বাইদ্যা মহুয়াকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে। মহুয়া প্রেমের জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে আত্মবলিদান দেয়, নিজের বুকে ছুরি বসিয়ে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনার পর নদের চাঁদও মহুয়ার বিরহে সংসার ত্যাগ করেন।

- মহুয়া পালার গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি:
• ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী রাত্রি।। 
নিশাকালে হুমরা তার করল চুরি।। 

• লজ্জা নাই নিলজ্জ ঠাকুর লজ্জা নাইরে তর।। 
গলায় কলসী বাইন্দা জলে ডুব্যা মর।। 

• কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ি।। 
তুমি হও গহিন গাঙ আমি ডুব্যা মরি।। 
------------
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা হলো বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল (বর্তমান কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা) থেকে সংগৃহীত প্রাচীন লোকগাথা ও পালাগানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- এটি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত গল্প ও গানসমূহকে একত্রিত করেছে, যা গ্রামীণ সংস্কৃতির অনন্য দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় এই গীতিকাগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মূল সংগ্রাহক ছিলেন চন্দ্রকুমার দে।
- মৈমনসিংহ গীতিকার কাহিনিগুলো সাধারণ মানুষের জীবন, নারীর প্রেম, সংগ্রাম ও ট্রাজিক পরিণতি নিয়ে রচিত।
- ভাষা সহজ, সরল ও গ্রামীণ ছন্দময়। 
- এই সংকলন বিশ্বসাহিত্যে স্বীকৃত এবং ২৩টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- সৌরভ পত্রিকায় কেদারনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এর দুটি পালা প্রথম প্রকাশিত হয়। 

• সংকলনে ১০টি গীতিকা ও রূপকথা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- যেমন:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা),
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২,২৮৭.
'তিথিডোর' বুদ্ধদেব বসু রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক 
  3. প্রবন্ধ
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• 'তিথিডোর' উপন্যাস:
 - বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস 'তিথিডোর'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৮।
- উপন্যাসটি প্রথম শ্রাবণ, করুণ রঙিন পথ, যবনিকা কম্পমান এই তিনখন্ডে বিভক্ত।
- বাঙালি মধ্যবিত্ত শিল্পিত স্বভাব নর নারীর জীবন যাপনের মনোরম ও মধুর কাহিনি এ উপন্যাসে বর্ণিত।
- কাহিনির মূল উপজীব্য প্রেম ও যৌবনের বন্দনা।
- এ কাহিনির গীতল ভাষা ও কাব্যময়তা এবং এর শেষাংশে প্রযুক্ত 'চৈতন্যপ্রবাহ'-ধর্মী বর্ননাভঙ্গির দেখা পাওয়া যায়।

-----------------
• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,২৮৮.
“লাইলী-মজনু” প্রণয়োপাখ্যান সম্পাদনা করেন-
  1. ক) মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মুহাম্মদ এনামুল হক
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহমদ শরীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

আহমদ শরীফ (১৯২১- ১৯৯৯)ঃ শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।

- বাংলা একাডেমীর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ তাঁরই সম্পাদিত ষোল শতকের কবি দৌলত উজির বাহরাম খাঁর লায়লী-মজনু (১৯৫৭)।

- অধ্যাপক শরীফ মধ্যযুগের চল্লিশোর্ধ্ব কাব্যের পুথি সম্পাদনা করেছেন।

সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

- আলাওলের তোহফা (১৯৫৮),

- সিকান্দরনামা (১৯৭৭), 

- মুসলিম কবির পদসাহিত্য (১৯৬১),

- জয়েনউদ্দীনের রসুলবিজয় (১৯৬৪),

- মুজাম্মিলের নীতিশাস্ত্রবার্তা (১৯৬৫),

- মধ্যযুগের রাগতালনামা (১৯৬৭),

- বাঙলার সূফীসাহিত্য (১৯৬৯),

- আফজল আলীর নসিহতনামা (১৯৬৯),

- বাউলতত্ত্ব (১৯৭৩),

- সৈয়দ সুলতানের নবীবংশ, রসুলচরিত (১৯৭৮)।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

২,২৮৯.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) ইছামতি
  2. খ) ময়ূরকন্ঠী
  3. গ) ধূপছায়া
  4. ঘ) সংকর সকীর্তন
সঠিক উত্তর:
ক) ইছামতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইছামতি
ব্যাখ্যা
ইছামতি (১৯৫০) উপন্যাসের জন্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মরণোত্তর রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদান করে। এটি নীল বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- আরণ্যক,
- অংশনি সংকেত (অসমাপ্ত),
- আদর্শ হিন্দু হোস্টেল,
- দৃষ্টিপ্রদীপ,
- দেবযান ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
২,২৯০.
'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. গ) আহমদ ছফা
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা

আহমদ ছফা ছিলেন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্ম ও সংগঠক।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম গ্রন্থ তাঁর রচিত প্রবন্ধ 'জাগ্রত বাংলাদেশ'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালে।
তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ-
-বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
-বাঙালি মুসলমানের মন,
-শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ,
-সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস-
-সূর্য তুমি সাথী (প্রথম উপন্যাস),
-ওঙ্কার,
-একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন,
-মরণবিলাস,
-গাভী বিত্তান্ত,
-অর্ধেক নারী তুমি অর্ধেক ঈশ্বরী,
-পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২,২৯১.
’এমন যদি হত ইচ্ছে হলেই আমি হতাম প্রজাপতির মত।’- পঙক্তিটির লেখক কে? 
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকুমার বড়ুয়া
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মোহিতলাল মজুমদার
সঠিক উত্তর:
সুকুমার বড়ুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার বড়ুয়া
ব্যাখ্যা

- ’এমন যদি হত ইচ্ছে হলেই আমি হতাম প্রজাপতির মত।’- পঙক্তিটির লেখক- সুকুমার বড়ুয়া।
- পঙক্তিটি সুকুমার বড়ুয়ার রচিত ’এমন যদি হতো’ কবিতার অংশ।

এমন যদি হতো — সুকুমার বড়ুয়া

------------------------------
এমন যদি হতো
ইচ্ছে হলে আমি হতাম
প্রজাপতির মতো
নানান রঙের ফুলের পরে
বসে যেতাম চুপটি করে
খেয়াল মতো নানান ফুলের
সুবাস নিতাম কতো ।(সংক্ষিপ্ত)।

• সুকুমার বড়ুয়া:
- সুকুমার বড়ুয়া বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ছড়াকার।
- ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে সুকুমারের জন্ম হয়।
- ১৯৬২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি শুরু করেন।
- ১৯৯৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোরকিপার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- ছড়ারাজ, 
- ছড়াশিল্পী,  
- ছড়াসম্রাট;
- পাগলা ঘোড়া, 
- ভিজে বেড়াল, 
- চিচিংফাঁক, 
- লেজ আবিষ্কার;

উৎস: যুগান্তর পত্রিকা, এবং প্রথম আলো।

২,২৯২.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত 'বিষাদ সিন্ধু' একটি-
  1. ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ 
  3. মহাকাব্য 
  4. আত্মজীবনী
সঠিক উত্তর:
ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস
ব্যাখ্যা

 • ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।
- তন্মধ্যে 'মহরম পর্ব্বে' উপক্রমণিকা ও ছাব্বিশটি প্রবাহ, 'উদ্ধার পর্ব্বে' ত্রিশটি প্রবাহ, 'এজিদ-বধ পর্ব্বে' পাঁচটি প্রবাহ ও উপসংহার-অংশ রয়েছে।
- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।
- জয়নাবের রূপে বিমোহিত এজিদ এবং এই রূপতৃষ্ণার পরিণামে বহু মানুষের বিপর্যয় ও ধ্বংসের যে কথকতা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রন্থটিকে সর্বজনীন করে তুলেছে।
- 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকেই মীর মশাররফ হোসেন গ্রহণ করেছেন।


• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২৯৩.
‘হিসাবনিকাশ’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  4. ঘ) সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
ক) শওকত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শওকত আলী
ব্যাখ্যা
‘হিসাবনিকাশ’ উপন্যাসটির রচয়িতা - শওকত আলী।
• শওকত আলী ১৯৩৬ সালের ১২ জানুয়ারী দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত গল্প সমূহ:
- লোলিহান স্বাদ
- শুন হে লক্ষিন্দর
- উন্মুল বাসনা
- বাবা আপনে যান

• ‘উত্তরের খেপ’, ‘দলিল’, এবং ‘ওয়ারিশ’ তাঁর রচিত উপন্যাস।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ -
- যাত্রা
- পিঙ্গল আকাশ
- প্রদোষে প্রাকৃতজন
- দক্ষিণায়নের দিন
- পূর্বদিন
- যেতে চাই
- বাসর মধুচন্দ্রিমা
 -হিসাবনিকাশ
- উপরে ছাপ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৯৪.
সোমেন চন্দের কোন গল্পটি পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে?
  1. সংকেত
  2. শিশু তপন
  3. ইঁদুর
  4. কলকাতা থেকে বনস্পতি
সঠিক উত্তর:
ইঁদুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইঁদুর
ব্যাখ্যা
• সোমেন চন্দ:
- তিনি ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী ও সাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে তিনি নিহত হন।
- তাঁর বিখ্যাত গল্প ‘ইঁদুর’ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বিভিন্ন গল্পে গণচেতনা ও অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বলেছেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- কলকাতা থেকে বনস্পতি,
- অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৯৫.
সুফিয়া কামালের জন্মস্থান -
  1. ঢাকা
  2. খুলনা
  3. বরিশাল
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

তার রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা,
- একাত্তরের ডায়েরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৯৬.
চর্যাপদের প্রথম পদের রচয়িতা কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. শরবপা
  3. লুইপা
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
লুইপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা
⇒ লুইপা: 
- লুইপা প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের একজন কবি।
- মুহাম্মদ শহীদুল্লার অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইফা জীবিত ছিলেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, লুইফা রাঢ় অঞ্চলের লোক।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯নং পদ রচনা করেন। 

• লুইপা রচিত চর্যার প্রথম পদ-
কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।

⇒ চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা কাহ্নপা তিনি মোট ১৩টি পদ রচনা করেন। তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা হচ্ছেন ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৯৭.
'আল মাহমুদ' এর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সোনালি কাবিন
  2. বখতিয়ারের ঘোড়া
  3. পাখির কাছে ফুলের কাছে
  4. লোক-লোকান্তর
সঠিক উত্তর:
লোক-লোকান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোক-লোকান্তর
ব্যাখ্যা
• 'আল মাহমুদ' এর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - 'লোক-লোকান্তর'। 

• আল মাহমুদ:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৯৮.
মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের কয়টি ভাষায় মুদ্রিত হয়েছে?
  1. ৯ টি
  2. ১৫ টি
  3. ২৩ টি
  4. ১০ টি
সঠিক উত্তর:
২৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ টি
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• বাংলা সাহিত্যে তিন ধরনের গীতিকা রয়েছে। যথা :
১. নাথ গীতিকা,
২. মৈমনসিংহ-গীতিকা এবং
৩. পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

• মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,২৯৯.
মর্সিয়া সাহিত্যে হিন্দু কবি হলেন- 
  1. ভবানী দাস
  2. দুর্লভ মল্লিক 
  3. রাধারমণ গোপ
  4. শ্যামাদাস সেন
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনী নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন - শেখ ফয়জুল্লাহ। তার রচিত গ্রন্থের নাম জয়নবের চৌতিশা এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ। 
- রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৩০০.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার লেখক নয় কে?
  1. আবদুল হাকিম
  2. ঘনরাম চক্রবর্তী
  3. আলাওল
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ঘনরাম চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘনরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা।
- মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- ঘনরাম চক্রবর্তী হচ্ছে - ধর্মমঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।