বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ২২ / ২১১ · ২,১০১২,২০০ / ২১,১৩২

২,১০১.
শহীদুল্লাহ কায়সারের মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. সারেং বউ
  2. সংশপ্তক
  3. পতঙ্গ পিঞ্জর
  4. যাত্রা
সঠিক উত্তর:
সংশপ্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
- শহীদুল্লাহ কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্।

- 'সংশপ্তক' (১৯৬৫) তাঁর রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তীকাল থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর ধারণ করেছেন।
- এই উপন্যাসকে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১০২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর "লাইব্রেরি" প্রবন্ধে লাইব্রেরিকে কিসের সাথে তুলনা করেছেন?​
  1. ঢেউয়ের গর্জন​
  2. মহাসমুদ্রের কল্লোলধ্বনি
  3. নদীর স্রোত
  4. আকাশের মেঘ
সঠিক উত্তর:
মহাসমুদ্রের কল্লোলধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাসমুদ্রের কল্লোলধ্বনি
ব্যাখ্যা
'লাইব্রেরি' প্রবন্ধ:
- প্রবন্ধটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিচিত্র প্রবন্ধ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। এটি তাঁর 'বিচিত্র' প্রবন্ধগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত। এ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ লাইব্রেরির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি লাইব্রেরিকে মহাসমুদ্রের কল্লোলধ্বনির সাথে তুলনা করেছেন। কেননা, লাইব্রেরিতে মানবাত্মার ধ্বনিরাশি বইয়ের পাতায় বন্দি হয়ে থাকে।

• 'লাইব্রেরি' প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
মহাসমুদ্রের শত বৎসরের কল্লোল কেহ যদি এমন করিয়া বাঁধিয়া রাখিতে পারিত যে, সে ঘুমাইয়া পড়া শিশুটির মতো চুপ করিয়া থাকিত, তবে সেই নীরব মহাশব্দের সহিত এই লাইব্রেরির তুলনা হইত। এখানে ভাষা চুপ করিয়া আছে, প্রবাহ স্থির হইয়া আছে, মানবাত্মার অমর আলোক কালো অক্ষরের শৃঙ্খলে কাগজের কারাগারে বাঁধা পড়িয়া আছে। ইহারা সহসা যদি বিদ্রোহী হইয়া উঠে, নিস্তব্ধতা ভাঙিয়া ফেলে, অক্ষরের বেড়া দগ্ধ করিয়া একবারে বাহির হইয়া আসে! হিমালয়ের মাথার উপরে কঠিন বরফের মধ্যে যেমন কত কত বন্যা বাঁধা আছে, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে মানবহৃদয়ের বন্যা কে বাঁধিয়া রাখিয়াছে!

কাহিনি সংক্ষেপ:
বইয়ের ভেতর দিয়েই আমরা আকাশের দৈববাণী থেকে মহাত্মাদের কথা পেয়ে থাকি। যাঁদের সান্নিধ্য আমাদের কখনই পাওয়া সম্ভব নয়, বইয়ের ভেতর দিয়েই আমরা তাদের পেতে পারি। বই আমাদের অতীতের সাথে সেতুবন্ধ গড়ে দেয়। এ বইয়ের স্থান হলো লাইব্রেরি। এ লাইব্রেরিতেই মানব হৃদয়ের উত্থান-পতনের শব্দ শোনা যায়। লাইব্রেরিতে সকল পথের, সকল মতের মানুষের সম্মিলন ঘটে। লাইব্রেরির মহত্ত্বের কথা বর্ণনা করে লেখক বলেছেন- জগতের উদ্দেশ্যে কি আমাদেরও কিছু বলার নেই? আমরা কি কেবল তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কলহ করে বেড়াব। লেখক শেষে আশা ব্যক্ত করে বলেছেন- বাঙালিরা জেগে উঠেছে। তারাও আপন ভাষায় লিখে বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে তুলবে। 'লাইব্রেরি' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বই পড়ার সঙ্গে জ্ঞানের সম্পর্ক উপস্থাপন করেছেন। প্রবন্ধটি আমাদের বই পাঠ এবং জ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১০৩.
বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

অমিত্রাক্ষর ছন্দ:
— অমিত্রাক্ষর ছন্দ হলো বাংলা কাব্যের একটি ছন্দ, যা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নব সংস্করণ। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো — এতে অন্ত্যমিল বা অন্ত্যানুপ্রাস থাকে না, যা ইংরেজি কাব্যের — ব্ল্যাঙ্ক ভার্স (Blank Verse)-এর সঙ্গে তুলনীয়।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদান:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত — উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যে — অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন করেন। তিনি প্রথম এই ছন্দের ব্যবহার করেন তাঁর নাটক — ‘পদ্মাবতী’ (দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) এবং পরবর্তীতে তাঁর কাব্য ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ -এ এই ছন্দের পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ করেন।

এই ছন্দের মাধ্যমে তিনি বাংলা কাব্যে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেন, যা ঐতিহ্যবাহী পায়ার ছন্দ থেকে ভিন্ন এবং ইংরেজি সাহিত্যের ব্ল্যাঙ্ক ভার্সের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এটি বাংলা কাব্যে সুরমুক্তির একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।

২,১০৪.
“অনল প্রবাহ” - কি ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাট্যগ্রন্থ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে : অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনী:
-তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১০৫.
শরৎচন্দ্রের আত্মচরিতমূলক উপন্যাস কোনটি ? 
  1. গৃহদাহ
  2. শ্রীকান্ত
  3. দেবদাস
  4. বিলাসী
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মচরিতমূলক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী নামে প্রকাশ পায়। 
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চরিত্রহীন,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- দত্তা,
- চরিত্রহীন,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১০৬.
ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. বহিপীর
  2. লালসালু
  3. তরঙ্গভঙ্গ
  4. উজান মৃত্যু
সঠিক উত্তর:
লালসালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালসালু
ব্যাখ্যা
⇒ ‘লালসালু’ উপন্যাস:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। 
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।
 
================
⇒ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১০৭.
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি কোন শহর নিয়ে লেখা?
  1. কাবুল
  2. কায়রো
  3. প্যারিস
  4. রোম
সঠিক উত্তর:
কাবুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবুল
ব্যাখ্যা

•'দেশে বিদেশে':
 'দেশে বিদেশেভ্রমণকাহিনির রচয়িতা- সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য
- শবনম

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী
- টুনি মেম

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

২,১০৮.
সংস্কৃত ভাষায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী রচনা করেন-
  1. মুরারি গুপ্ত
  2. বৃদ্ধাবন দাস
  3. কৃষ্ণদাস
  4. লোচন দাস
সঠিক উত্তর:
মুরারি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুরারি গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• চৈতন্যদেবের জীবনীকাব্য:
- চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম।
- এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিলো।

চৈতন্যদেবের বাংলা জীবনী:
• বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য- ভাগবত’।
• বাংলায় চৈত্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ- লোচন দাস রচিত ‘চৈতন্য-চরিতামৃত’।
• বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী- কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত ‘চৈতন্য-চরিতামৃত’।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১০৯.
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আহমদ ছফা
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটি আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস। 
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (পরিচালক: সুভাষ দত্ত) উপন্যাস অবলম্বনে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।
- নির্মিত চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

----------------------------
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
 • উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  

• কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র, 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, 

• গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি, 
- মৃগনাভি, 
- ধানকন্যা, 
- যখন সৈকত, 
- অন্ধকার সিঁড়ি, 
- জীবনজামিন,  
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১১০.
'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. উদয়াদিত্য
  2. অমল
  3. সুরমা
  4. ধনঞ্জয়
সঠিক উত্তর:
অমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমল
ব্যাখ্যা
'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ ‘পরিত্রাণ’ নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ধনঞ্জয় বৈরাগী,
- সুরমা,
- উদয়াদিত্য,
- বিভা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'ডাকঘর' নাটকের চরিত্র - অমল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
২,১১১.
মঙ্গলকাব্যের কয়টি ধারা?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্যের শ্রেণি বা ধারা: মঙ্গলকাব্যের শ্রেণি বা ধারা হলো দুটি।

• লৌকিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর), সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,১১২.
কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক রচনা নয়?
  1. ক) রত্নপরীক্ষা
  2. খ) ব্রজবিলাস
  3. গ) অতি অল্প হইল
  4. ঘ) শকুন্তলা
সঠিক উত্তর:
ঘ) শকুন্তলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শকুন্তলা
ব্যাখ্যা
'শকুন্তলা' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ।
- প্রাচীন সংস্কৃত মহাকবি কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' নাটক অবলম্বনে ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একটি আখ্যান বা উপন্যাসোম  কাহিনী লিখে নাম দেন 'শকুন্তলা'। 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থসমূহ -  
- অতি অল্প হইল 
- আবার অতি অল্প হইল 
- ব্রজবিলাস 
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা 
- রত্নপরীক্ষা 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অন্যান্য অনুবাদ গ্রন্থ-
- ভ্রান্তিবিলাস (শেক্সপিয়রের কমেডি অব এররস অনুসারে)
- বেতালপঞ্চবিংশতি (হিন্দি বৈতালপচ্চিসি এর বঙ্গানুবাদ)
- সীতার বনবাস (রামায়ণ অনুসারে) ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১১৩.
শাহ আব্দুল করিম কার দর্শনে প্রভাবিত হয়েছিলেন?
  1. ক) লালন শাহ
  2. খ) হাসন রাজা
  3. গ) রাধারমণ দত্ত
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
শাহ আব্দুল করিম প্রথম জীবনে লালন শাহ্‌ এবং হাসন রাজার দর্শনে প্রভাবিত হয়েছিলেন। লালন ও হাসনের গানে যেখানে আধ্যাত্মিকতা প্রধান, সেখানে আব্দুল করিমের গানে প্রাধান্য পেয়েছে ইহজাগতিকতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
২,১১৪.
নিচের কোনটি আহসান হাবীবের রচনা নয়?
  1. অরণ্যে নীলিমা
  2. আলো ও ছায়া
  3. ছায়াহরিণ
  4. সারা দুপুর
সঠিক উত্তর:
আলো ও ছায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো ও ছায়া
ব্যাখ্যা
• 'আলো ও ছায়া'- আহসান হাবীবের রচনা নয়।
- এটি কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উল্লেখ্য,
 'আলো ও ছায়া'- কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা গল্পগ্রন্থ।
---------------------- 

আহসান হাবীব:

- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬।

• আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

• তাঁর উপন্যাস: 
- অরণ্যে নীলিমা,
- রানী খালের সাঁকো।
---------------------- 

• কামিনী রায়: 
- কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালে বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় (১৮৮৯) সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,১১৫.
‘বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি’ নামে অভিহিত করা হয় কোন মঙ্গলকাব্যকে?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. কালিকামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
কালিকামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• কলিকামঙ্গল: 
- কলিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি' বলে।
- সুকুমার সেনের মতে, পুরুষ বিদ্যা খুঁজে আর নারী প্রত্যাশা করে সুন্দর পতির। 
- এই কাহিনির উপর ভিত্তি করেই গত সহস্রাব্দের প্রারম্ভের তিন চার শতাব্দী থেকেই উত্তর-পশ্চিম ভারত সহ পরবর্তীকালে বাংলায় বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি প্রচলন।
- কাব্যটির উৎস এগারো শতকের সংস্কৃত কবি বিলহনের চৌরপঞ্চাশিকা। 
- বিদ্যা ও সুন্দরের এই প্রেমকাহিনি অবলম্বনে প্রথমে বাংলা ভাষায় কাব্য রচনা করেন ষোলো শতকের কবি শাহ বিরিদ খান ও দ্বিজ শ্রীধর।
- পরে কৃষ্ণরাম, বলরাম, কবিশেখর,  রামপ্রসাদ সেন,  ভারতচন্দ্র রায় প্রমুখ এ ধারায় কাব্য রচনা করে যশস্বী হন।
- তবে এঁদের মধ্যে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল বা কালিকামঙ্গলই শ্রেষ্ঠ কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,১১৬.
ভুসুকু পা রচিত কতটি পদ চর্যাপদে সংগৃহীত হয়েছে?
  1. ক) ১৩
  2. খ) ৮
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৪
সঠিক উত্তর:
খ) ৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৮
ব্যাখ্যা
চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকু পা।
- তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে রচিত। 
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকু নামটিকে ছদ্মনাম বলে মনে করা হয়।
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।

তাঁর রচিত চর্যাপদের নমুনা-
"কাহৈরি ঘিনি মেলি অচ্ছহু কীস।
বেটিল ডাক পড়অ চৌদীস।।
আপণা মাংসে হরিণা বৈরী।
খনহ ন ছাড়অ ভুসুকু আহেরী।।" 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২,১১৭.
‘আয়না’ গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) আনিসুজ্জামান
  4. ঘ) মানিক দত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সর্বাধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না
- ফুড কনফারেন্স।

তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- সত্যমিথ্যা
- জীবন ক্ষুধা ও
- আবে-হায়াৎ।

স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১১৮.
'নামহীন গোত্রহীন' এই গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. শওকত ওসমান
  3. আবু ইসহাক
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

• ‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থ:
- হাসান আজিজুল হক রচিত ‘নামহীন গোত্রহীন’ গল্পগ্রন্থটির প্রথম প্রকাশ ঘটে ১৯৭৫ সালে।
- সাতটি গল্পে সমন্বিত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত গ্রন্থটির গল্পগুলিতে মানুষের বিপর্যয়ের চরম দুর্দশার চিত্রটি অঙ্কন করা হয়েছে, দেখানো হয়েছে পশ্চিম পাকিস্থানী সামরিক বাহিনীর বর্বরোচিত আচরণকে।

• হাসান আজিজুল হক:
- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ হলো:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১১৯.
রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক বলা হয় কোনটি কে?
  1. ডাকঘর
  2. প্রায়শ্চিত্ত
  3. বিসর্জন
  4. রক্তকরবী
সঠিক উত্তর:
প্রায়শ্চিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা

• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই নাটকেই ধনঞ্জয় বৈরাগী চরিত্রের আবির্ভাব। 
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ 'পরিত্রাণ' নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ধনঞ্জয় বৈরাগী,
- সুরমা,
- উদয়াদিত্য,
- বিভা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-------------------
• 'ডাকঘর' (১৯১২ খ্রিস্টাব্দ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক। নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- মাধব দত্ত, 
অমল, সুধা। 

• 'বিসর্জন' (১৮৯১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়। এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অর্পনা।

• 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত। উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: নন্দিনী, রঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১২০.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত 'কারাগারের রোজনামচা' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ২০১২
  2. ২০১৭
  3. ২০১৮
  4. ২০২০
সঠিক উত্তর:
২০১৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৭
ব্যাখ্যা
কারাগারের রােজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো 'কারাগারের রোজনামচা'।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো 'কারাগারের রোজনামচা'।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- এর নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।
- এর প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

উল্লেখ্য,
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়।
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত 'আমার দেখা নয়াচীন' ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: কারাগারের রােজনামচা, শেখ মুজিবুর রহমান।
২,১২১.
'কায়েশ' কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. পদ্মাবতী 
  2. লায়লী মজনু
  3. ইউসুফ জুলেখা
  4. গুলে বকাওলী 
সঠিক উত্তর:
লায়লী মজনু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লায়লী মজনু
ব্যাখ্যা

• 'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে (১৫৪৩-১৫৫৩) সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ। 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ-ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

------------------------
• দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

- দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
- লায়লী মজনু ও
- ইমাম বিজয়।
[উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১২২.
প্রকাশকাল অনুযায়ী কোন পত্রিকাটি প্রথমে প্রকাশিত হয়েছে?
  1. সমকাল
  2. সাধনা
  3. সুধাকর
  4. স্বদেশ
সঠিক উত্তর:
সুধাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধাকর
ব্যাখ্যা
• প্রকাশকাল অনুযায়ী 'সুধাকর' পত্রিকাটি প্রথমে প্রকাশিত হয়েছে।
- এটি ১৮৮৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- শেখ আবদুর রহিম এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

অন্যদিকে,
• 'সমকাল' পত্রিকা ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- সিকান্‌দার আবু জাফর এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'সাধনা' পত্রিকা ১৮৯১ সালে প্রকাশিত হয়।
- সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও পরবর্তীতে এটি সম্পাদনা করেন।

• 'স্বদেশ' পত্রিকা ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- আহমদ ছফা এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১২৩.
বুদ্ধদেব বসুর 'বন্দীর বন্দনা' কোন জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু:
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। 
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।
- ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে।
- এছাড়া 'স্বাগত বিদায়' কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৭৪) লাভ করেন।
- ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের গান,
- একদিন চিরদিন,
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি,
- কালের পুতুল,
- সাহিত্যচর্চা,
- রবীন্দ্রনাথ: কথাসাহিত্য ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- মৌলিনাথ,
- রাত ভরে বৃষ্টি,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনের খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১২৪.
'চলে মুসাফির' ভ্রমণকাহিনী মূলক গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'চলে মুসাফির' ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা- জসীমউদ্‌দীন । 

• জসীমউদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনী:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ, 
- যে দেশে মানুষ বড়। 

অন্যদিকে, 
'সৈয়দ মুজতবা আলী' রচিত ভ্রমণকাহিনী হলো 'দেশে বিদেশে'।  
এস ওয়াজেদ আলী রচিত ভ্রমণকাহিনী হলো - 'মোটর যোগে রাঁচী সফর’। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২,১২৫.
'স্বদেশ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন -
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. আহমদ ছফা
  3. অজিত দত্ত
  4. হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলা আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১২৬.
কোন গ্রন্থটির রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলি?
  1. আশা-আকাঙ্ক্ষার সমর্থনে
  2. ভবিষ্যতের বাঙালি
  3. উন্নত জীবন
  4. সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যতের বাঙালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যতের বাঙালি
ব্যাখ্যা
• ‘ভবিষ্যতের বাঙালি’ প্রবন্ধ গ্রন্থটির রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলি।
- এই গ্রন্থে তিনি সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

------------------------
• এস ওয়াজেদ আলি:
- এস ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১২৭.
নিচের কোন রচনাটি ভিন্নধর্মী?
  1. ক) পুতুল নিয়ে খেলা
  2. খ) অসমাপিকা
  3. গ) কালের শাসন
  4. ঘ) সত্যাসত্য
সঠিক উত্তর:
গ) কালের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কালের শাসন
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাসঃ
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি। 

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত কবিতাগুলো হলোঃ
রাখী,
কালের শাসন,
কামনা পঞ্চবিংশতি,
নূতন রাধা 
লিপি

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনীঃ
- পথে প্রবাসে ও
- ইউরোপের চিঠি।
২,১২৮.
নিচের কোনটি হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে
  2. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  3. কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
  4. কোনো খেদ নেই
সঠিক উত্তর:
কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
ব্যাখ্যা

• 'কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু' কাব্যগ্রন্থ:
- 'কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু' হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 

- হুমায়ুন আজাদ প্রকাশিত এই কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছে এমন একগুচ্ছ কবিতা, যা সাম্প্রতিক কবিতার দূষণমুক্ত- নিবিড়, অন্তরঙ্গ, অমল এই কবিতারাশি, এবং এর ভাষা ভিন্ন, গভীর অনুভূতির ছোঁয়ায় যা পংক্তিতে পংক্তিতে আলোড়িত।

- হুমায়ুন আজাদের এই কবিতারাশিতে যা বড়ো হয়ে ধরা পড়েছে, তা হচ্ছে প্রাজ্ঞতা, যার বড়ো অভাব আমাদের কবিতায়। আমাদের কবিদের বয়স বাড়ে না, তারা প্রাজ্ঞ হন না, থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেন উত্তেজিত যৌবনে; কিন্তু হুমায়ুন আজাদ এগিয়েছেন সামনের দিকে।

---------------------
হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস:
- আব্বুকে মনে পড়ে,
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- শুভব্রত তার সম্পর্কিত সুসমাচার,
- রাজনীতিবিদগণ,
- কবি অথবা দণ্ডিত পুরুষ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ।

অন্যদিকে, 
রফিক আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো-
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া, 
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে, 
- কোনো খেদ নেই। 

উৎস: 'কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু' কাব্যগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১২৯.
ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন—
  1. ক) বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. খ) সধবার একাদশী
  3. গ) জামাই বারিক
  4. ঘ) কমলে কামিনী
সঠিক উত্তর:
খ) সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা

- সমাজের প্রাচীনপন্থীদের ব্যঙ্গ করে দীনবন্ধু মিত্রের রচিত প্রহসন ‘বিয়ে পাগলা বুড়ো’।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন 'সধবার একাদশী'।
- 'জামাই বারিক' তাঁর হাস্যরসাত্মক নাটক।
- 'কমলে কামিনী' তাঁর সর্বশেষ নাটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,১৩০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর নিজের লেখা কয়টি নাটকে অভিনয় করেন?
  1. ১০টি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৬টি
সঠিক উত্তর:
১৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩টি
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর নিজের লেখা ১৩টি নাটকে অভিনয় করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
-  কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। 
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় ছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন কর্ম আর করব না নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- কবির শেষ বয়সের প্রায় সব নাটকই শান্তিনিকেতনে রচিত।
- বলাকা কাব্যের জীবনতত্ত্বকেই কবি রূপ দিয়েছেন ফাল্গুনী নাটকে।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক: 
- বিসর্জন,
- রাজ,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকবরী,
- তাসের দেশ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২,১৩১.
'কাব্যসঞ্চয়ন' কার রচনা?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮২-১৯২২) কবি ও ছান্দসিক।
সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন।
যেমন - নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি হলো:
সবিতা (১৯০০), সন্ধিক্ষণ (১৯০৫), বেণু ও বীণা (১৯০৬), হোম শিখা (১৯০৭), ফুলের ফসল (১৯১১), কুহু ও কেকা (১৯১২), তুলির লিখন (১৯১৪), অভ্র-আবীর (১৯১৬), হসন্তিকা (১৯১৯), বেলা শেষের গান (১৯২৩), বিদায়-আরতি (১৯২৪), কাব্যসঞ্চয়ন (১৯৩০), শিশু-কবিতা (১৯৪৫) ইত্যাদি।
তাঁর অনুবাদ কাব্যগুলি হলো:
তীর্থরেণু (১৯১০), তীর্থ-সলিল (১৯১৮), মণিমঞ্জুষা (১৯১৫)৷
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২,১৩২.
অন্নদামঙ্গল মঙ্গলকাব্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি কে ছিলেন?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. বিজয় গুপ্ত
  4. দ্বিজ মাধব
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের শেষতম ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর (১৭১২–১৭৬০)।
- তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবিও বলা হয়। 
- তাঁর পিতা নরেন্দ্রনারায়ণ রায় (মুখার্জি) ছিলেন হাওড়া জেলার পেন্ড্রো গ্রামে জমিদার।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম রচয়িতা কাব্য ছিল দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি বিমিশ্র পাঁচালি।
- তিনি অন্নদামঙ্গল মঙ্গলকাব্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। 
- তিনি অন্নদামঙ্গল মঙ্গলকাব্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি। 
- ভারতচন্দ্রই প্রথম কবি যিনি মঙ্গলকাব্যের প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নতুন আধুনিক কাব্যশৈলী ও বাস্তবধর্মী রচনার সূচনা করেন।
- তাঁর রচনায় পৌরাণিক ও সামাজিক বাস্তবতার সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। 
- তাঁর রচনা বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগে রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

- ভারতচন্দ্রের সাহিত্যিক প্রতিভা প্রথমে নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের নজরে আসে।
- মহারাজা তাঁর পাণ্ডিত্য ও ভদ্র আচরণ দেখে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে তাকে রাজসভাসদ বা আমত্য পদে নিয়োগ দেন।
- কবি প্রায়ই রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে কবিতা পাঠ করতেন।
- মহারাজা তাঁর প্রতিভায় অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে মঙ্গলকাব্য রচনার নির্দেশ দেন।
- এ নির্দেশ অনুসারে ভারতচন্দ্র অন্নদামঙ্গল রচনা করেন, যা বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের বিখ্যাত কাব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রচনার সময় তিনি কৃষ্ণনগর পরিবারের একটি কাহিনীকেও সংযোজন করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র খুশি হয়ে তাঁকে সভাকবি নিযুক্ত করেন।
- পাশাপাশি রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেছিলেন।
- ভারতচন্দ্র কৃষ্ণনগরে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত বসবাস করে ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
- ১৭৬০ সালে তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের অবসান ঘটে এবং আধুনিক যুগের সূচনা হয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

২,১৩৩.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. সারেং বউ
  2. শঙ্খনীল কারাগার
  3. জলাঙ্গী
  4. নভেরা
সঠিক উত্তর:
জলাঙ্গী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলাঙ্গী
ব্যাখ্যা
'জলাঙ্গী':
- শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জলাঙ্গী'।
- স্বাধীন স্বদেশ প্রতিষ্ঠার দ্যোতক হিসেবে 'জলাঙ্গী' (১৯৭৪) উপন্যাসের মূল্য অপরিসীম।
- শওকত ওসমান রচিত এ উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও তার প্রেমিকার ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা। এদের হাত-পা বেঁধে গলায় পাথর ঝুলিয়ে মেঘনা নদীতে ডুবিয়ে মারা হয়।
- এরা নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েও মৃত্যুর আগ মুহূর্তে 'জয় বাংলা' তাদের অবিচলিত দেশপ্রেমকে মহিমান্বিত করেছে।

অন্যদিকে,
- সারেং বউ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে।
- বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের প্রথম রচিত উপন্যাস - শঙ্খনীল কারাগার।
- হাসনাত আবদুল হাই নভেরা আহমেদকে নিয়ে জীবনীমূলক উপন্যাস লিখেছেন।

• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক -
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ -
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৩৪.
‘তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে'- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাস:
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ।
• প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
• এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে ‘তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
• উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
• ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

--------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুটি তত্ত্বমূলক উপন্যাস হলো আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরাণী।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধসমূহ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৩৫.
কোন কাব্যটি লৌকিক ধারার অন্তর্গত?
  1. চণ্ডিকামঙ্গল 
  2. গৌরীমঙ্গল
  3. গঙ্গামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
লৌকিক শ্রেণি বা ধারা:
- এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর), সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

অন্যদিকে,
পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,১৩৬.
বাংলা সাহিত্যে ‘হুতোম প্যাঁচা’ নামে পরিচিত -
  1. ক) কালিপ্রসন্ন সিংহ
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) দক্ষিনারঞ্জন মিত্রমজুমদার
সঠিক উত্তর:
ক) কালিপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কালিপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা

কালি প্রসন্নসিংহের সাহিত্যিক ছদ্মনাম, হুতোম প্যাঁচা। তাঁর বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম হুতোম প্যাঁচার নকশা নামে পরিচিত।
ভানুসিংহ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম।
ভোরের পাখি, বিহারীলাল চক্রবর্তীর উপাধি।
দৃষ্টিহীন, দক্ষিনারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ছদ্মনাম।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

২,১৩৭.
'জ্বলো চিতাবাঘ' গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. শামসুর রাহমান
  3. আল মাহমুদ
  4. অন্নদাশংকর রায়
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'জ্বলো চিতাবাঘ' গ্রন্থটির রচয়িতা - হুমায়ুন আজাদ
- এটি ১৯৮০ সালে প্রকাশিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

হুমায়ুন আজাদ:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের রাড়িখাল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মূলত লেখক ও অধ্যাপক।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অলৌকিক ইস্টিমার'।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮৬) লাভ করেন।
- তিনি ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যাই মধু, যতোই উপরে যাই নীল,
- আমি বেঁচেছিলাম অন্যদের সময়ে, 
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৩৮.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. ক) ধুমকেতু
  2. খ) লাঙ্গল
  3. গ) সাম্যবাদী
  4. ঘ) নবযুগ
সঠিক উত্তর:
গ) সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা -
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯২৫ সালে প্রকাশিত ‘লাঙ্গল’ পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। 
- কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন 'দৈনিক নবযুগ'।

- 'সাম্যবাদী' (১৯২৩) পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী। 
- 'সাম্যবাদী' (১৯২৫) কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৩৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কতটি ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. ৯টি 
  2. ৮টি 
  3. ৭টি 
  4. ৬টি 
সঠিক উত্তর:
৯টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি 
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখতেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।

২,১৪০.
পনের শতকের কবি শাহ মুহম্মদ সগীর সূত্রপাত করেন -
  1. অনুবাদ সাহিত্য ধারা
  2. জীবনী সাহিত্য ধারা
  3. লোক সাহিত্য ধারা
  4. শাক্তপদ
সঠিক উত্তর:
অনুবাদ সাহিত্য ধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুবাদ সাহিত্য ধারা
ব্যাখ্যা
অনুবাদ সাহিত্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সমগ্র সৃষ্টিকে অনুবাদ ও মৌলিক এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা চলে।
- অনুবাদ শাখা মধ্যযুগের ব্যাপক পরিসর জুড়ে আছে।
- পনের শতক থেকে অনুবাদের ধারাটির সূত্রপাত লক্ষ করা যায়।
- অনুবাদ শাখার মধ্যে এক শ্রেণির সাহিত্য সংস্কৃত থেকে অনূদিত যেমন রামায়ণ, মহাভারত, ভাগবত ইত্যাদি।
- অনুবাদজাতীয় সাহিত্যসৃষ্টি হিসেবে মুসলমান কবিগণের প্রণয়োপাখ্যান কাব্যের কথাও এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। 
- পনের শতকের কবি শাহ মুহম্মদ সগীর এ ধারার সূত্রপাত করেন
- মুসলমান কবি রচিত প্রণয়োপাখ্যান কাব্যগুলো ফারসি হিন্দি প্রভৃতি ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে।
- মুসলমান কবিগণের কেউ কেউ নিজস্ব ধর্মীয় সাহিত্য রচনা করেছিলেন। সেগুলো আরবি ফারসি থেকে অনূদিত।
- এ সব কাব্য রচনাকালে কবিরা মূলের প্রতি যে গভীর আনুগত্য দেখিয়েছেন তা নয়, বরং তাঁরা মৌলিক রচনার বৈশিষ্ট্য এগুলোর মধ্যে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,১৪১.
'বাংলাদেশ' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'বাংলাদেশ' কবিতাটি আমিয় চক্রবর্তী রচিত 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে কবিতাটি।

• অমিয় চক্রবর্তী:
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।

• অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কবিতাবলী (প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ),
- উপহার,
- অনিঃশেষ
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,১৪২.
কোন কবিতা রচনার জন্য কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়েছিল?
  1. আনন্দময়ীর আগমনে
  2. বিদ্রোহী
  3. রক্তাম্বরধারিণী মা
  4. কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়নি
সঠিক উত্তর:
কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়নি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়নি। 
-----------------
সাহিত্য সমালোচক শিশির কর 'নিষিদ্ধ গ্রন্থে বলেছেন - 
১৯২২ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়।
গ্রন্থগুলো হচ্ছে -
- যুগবাণী, 
- বিষের বাঁশি, 
- ভাঙ্গার গান, 
- প্রলয় শিখা ও
- চন্দ্রবিন্দু। 

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। কিন্তু প্রকাশিত গ্রন্থ হিসেবে দ্বিতীয়।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- মোট বারটি কবিতার সমাহারে কলকাতার আর্য পাবলিশিং হাউস থেকে ১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে 'অগ্নিবীণা' কাব্যটি প্রকাশিত হয়।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ার, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মোহররম। 

উৎস: নিষিদ্ধ নজরুল, শিশির কর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া।
২,১৪৩.
শহীদুল্লা কায়সারের 'সারেং বৌ' কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. রম্য রচনা
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
সারেং বৌ:
- শহীদুল্লা কায়সারের প্রধান উপন্যাস 'সারেং বৌ' (১৯৬২)- এ মানুষ ও তাঁর অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে। 
- 'সারেং বৌ' (১৯৬২) উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে। 
- কদম সারেং সৎ বলে সহকর্মীদের মতো বাড়ি ও দালান করতে পারে নি। স্ত্রী নবিতুনকে নিয়ে আর্থিক কষ্টের মধ্যেও সুখে থাকে সে।
-  প্রকৃতির বিরুদ্ধতায় সারেং যখন দীর্ঘ দিন নিখোঁজ, সেই সময় যুবতী নবিতুনের উপর দারিদ্র্য ও লোলুপ সমাজপতিদের লোলুপতা নেমে আসে। 
- এই উপন্যাসে সব সংস্কার তুচ্ছ করে মানুষকে জয়ী দেখানো হয়েছে।

শহীদুল্লা কায়সার:
-  ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। 
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ। 
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। 
- ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সংবাদ’ পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
- শহীদুল্লা কায়সার সাহিত্যকর্মের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৪৪.
চণ্ডীমঙ্গলের আখ্যান প্রধানত কোন দুটি খণ্ডে বিভক্ত?
  1. জন্মখণ্ড ও বিরহখণ্ড
  2. পদ্মখণ্ড ও বংশীখণ্ড
  3. আখেটিক খণ্ড ও বণিক খণ্ড
  4. বিদ্যাসুন্দর খণ্ড ও মানসিংহ খণ্ড
সঠিক উত্তর:
আখেটিক খণ্ড ও বণিক খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখেটিক খণ্ড ও বণিক খণ্ড
ব্যাখ্যা

চণ্ডীমঙ্গল:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্য হলো মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি প্রধান মঙ্গলকাব্য শাখা।
- এটি মূলত লৌকিক দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য ও মর্ত্যে তাঁর পূজা প্রচারের কাহিনী নিয়ে রচিত।

- কাব্যে দুটি প্রধান আখ্যান দেখানো হয়েছে—
- কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনী (আখেটিক খণ্ড) এবং
- ধনপতি-খুল্লনা-লহনার কাহিনী (বণিক খণ্ড)।
- প্রথম কাহিনী দারিদ্র্য, সংগ্রাম এবং সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরে।
- দ্বিতীয় কাহিনী সমুদ্র বাণিজ্য ও ধনসম্পদের মধ্য দিয়ে দেবী চণ্ডীর প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও সমর্পণ দেখায়।

- কাব্যের প্রধান চরিত্র হলো কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি সদাগর, খুল্লনা, লহনা, ভাঁড়ুদত্ত এবং দেবী চণ্ডী।
- কাব্যটি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত—দেবখণ্ড ও নরখণ্ড।
- দেবখণ্ডে চণ্ডীর মহিমা ও পূজা প্রচার, আর নরখণ্ডে মানুষের জীবন, দারিদ্র্য, বিলাসিতা এবং সামাজিক প্রথা বর্ণিত হয়েছে।

- কাব্যের আদি-কবি জনশ্রুতি অনুসারে মানিক দত্ত।
- কিন্তু শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পরিচিত মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- এছাড়া দ্বিজ মাধব ও হরিরাম প্রমুখও চণ্ডীমঙ্গলে অবদান রেখেছেন।
- কাব্যটি সমাজচিত্র, ধর্মীয় বিশ্বাস ও লৌকিক আধ্যাত্মিকতার সুন্দর মিশ্রণ হিসেবে রচনা করা হয়েছে।
---------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- জন্মখণ্ড ও বিরহখণ্ড — শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের খণ্ড।
- পদ্মখণ্ড ও বংশীখণ্ড — শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের খণ্ড।
- বিদ্যাসুন্দর খণ্ড ও মানসিংহ খণ্ড — অন্নদামঙ্গল কাব্যের খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২,১৪৫.
'নন্দিনী ও রঞ্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. বিসর্জন
  2. রক্তকরবী
  3. ডাকঘর
  4. বৈকুণ্ঠের খাতা
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
ব্যাখ্যা
• 'রক্তকরবী' নাটক: 
- 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সাংকেতিক নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নন্দিনী ও 
- রঞ্জন। 

অন্যদিকে,
• 'বিসর্জন' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অপর্ণা।
• 'ডাকঘর' নাটকের উল্ল্যেখযোগ্য চরিত্র: অমল, ঠাকুর্দা, সুধা, দৈওয়ালা ইত্যাদি।

• 'বৈকুণ্ঠের খাতা' (১৮৮৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় কৌতুক নাটক। এক আত্মভােলা সরল প্রকৃতির বৃদ্ধ এই কাহিনির কেন্দ্র। তাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের কৌতুকময় ঘটনা। সংলাপের দ্যুতি এবং আচরণের নাটকীয়তা নাটকটির জনপ্রিয়তার মূলে। নাটকটির কোনাে কোনাে চরিত্রে লেখকের আত্মীয়বন্ধুর চরিত্রের ছায়াপাত ঘটেছে।

-----------------
রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক গুলো:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- বৈকুন্ঠের খাতা
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৪৬.
মৃত্যু পরবর্তী আবদুল কাদির রচিত প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) উত্তর বসন্ত
  2. খ) দিলরুবা
  3. গ) কবি নজরুল
  4. ঘ) লোকায়ত সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) লোকায়ত সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লোকায়ত সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• 'লোকায়ত সাহিত্য' প্রবন্ধ গ্রন্থের রচয়িতা আবদুল কাদির।
- এটি তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- এটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। 

আবদুল কাদির
- কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দ বিশারদ, সম্পাদক।
- ১৯০৬ সালের ১ জুন ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার আড়াইসিধা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

তাঁর অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস,  
- কবি নজরুল,  
- কাজী আব্দুল ওদুদ। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- দিলরুবা (১৯৩৩), ও
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৪৭.
চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ-
  1. ক) দীপ ও ধূপ
  2. খ) স্বপ্নসাধ
  3. গ) তোতা ইতিহাস
  4. ঘ) ছায়াময়ী
সঠিক উত্তর:
গ) তোতা ইতিহাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তোতা ইতিহাস
ব্যাখ্যা
চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালি লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাঙ্গলা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক।
তাঁর রচিত 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
'স্বপ্নসাধ' কাব্যের রচয়িতা হুমায়ুন কবির।
'দীপ ও ধূপ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কামিনী রায়।
'ছায়াময়ী' কাব্যের রচয়িতা হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৪৮.
অযান্ত্রিক- এর রচিয়তা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সুবোধ ঘোষ
  3. সমরেশ বসু
  4. নরেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
সুবোধ ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবোধ ঘোষ
ব্যাখ্যা
- ‘অযান্ত্রিক’ সুবোধ ঘোষ রচিত একটি গল্প।
- বহুবিচিত্র চরিত্র ও অভিজ্ঞতার কোমল-মায়াময়-হৃদয়গ্রাহী গল্প লিখতেন সুবোধ ঘোষ।
- মানুষের সঙ্গে মানুষের এবং মানুষের সঙ্গে নিসর্গের বিবিধ অনুষঙ্গের সম্পর্ক নিয়ে অনেক লেখকই লিখেছেন; কিন্তু জড় পদার্থের সঙ্গেও যে মানুষের অপূর্ব সম্পর্ক তৈরি হতে পারে সেই বিষয়টি সাহিত্যে খুব সুলভ নয়। ‘অযান্ত্রিক’ এই গল্পটি সেই অদ্ভুত সম্পর্কের মনোগ্রাহী বিবরণ দিয়েছে।
- এই গল্পের কাহিনি অবলম্বনে একই নামে চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়।

সুবোধ ঘোষ রচিত অন্যন্য গল্পগুলো হলো:
- জতুগৃহ,
- পরশুরামের কুঠার,
- অযান্ত্রিক,
- সুন্দরম,
- কালপুরুষ,
- বারবধূ।

উৎস: কালের কণ্ঠ রিপোর্টস তারিখ: ২৯ অক্টোবর, ২০২০।
২,১৪৯.
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের রচনাকাল-
  1. ক) নবম থেকে দশম শতাব্দী
  2. খ) সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী
  3. গ) সপ্তম থেকে দশম শতাব্দী
  4. ঘ) দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
খ) সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা

- ধারণা করা হয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে চর্যাপদ রচিত হয়েছিল।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৬৫০-১২০০ (সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর) সালের মধ্যে রচিত।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০-১২০০ সালের (দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর) মধ্যে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২,১৫০.
'শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে'- চরণটির রচয়িতা কে?
  1. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. যতীন্দ্র মোহন বাগচী
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• 'শিশুগণ দেয় মন  নিজ নিজ পাঠে'- চরণটির রচয়িতা: 'মদনমোহন তর্কালঙ্কার'। 
-----------------
• মদনমোহন তর্কালঙ্কার: 
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার কবি, সমাজসেবক।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত। 
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের  অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।

• তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ: 
- রসতরঙ্গিণী, 
- বাসবদত্তা।

- তিন খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর শিশু শিক্ষা শিশুদের উপযোগী একটি অনন্যসাধারণ গ্রন্থ;
- ‘পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল’ এই বিখ্যাত উক্তিটি রচনা করেন তিনি।

- কবি-প্রতিভার জন্য  সংস্কৃত কলেজ থেকে তিনি ‘কাব্যরত্নাকর’ এবং পান্ডিত্যের জন্য ‘তর্কালঙ্কার’ উপাধি লাভ করেন।
- ১৮৫৮ সালের ৯ মার্চ  কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

পাখি-সব করে রব- কবিতা, 
– মদনমোহন তর্কালঙ্কার। 

পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।
রাখাল গরুর পাল, ল’য়ে যায় মাঠে।
শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।।

ফুটিল মালতী ফুল, সৌরভ ছুটিল।
পরিমল লোভে অলি, আসিয়া জুটিল।।
গগনে উঠিল রবি, লোহিত বরণ।
আলোক পাইয়া লোক, পুলকিত মন।।

শীতল বাতাস বয়, জুড়ায় শরীর।
পাতায় পাতায় পড়ে, নিশির শিশির।।
উঠ শিশু মুখ ধোও, পর নিজ বেশ।
আপন পাঠেতে মন, করহ নিবেশ।।

উৎস: পাখি-সব করে রব- কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
২,১৫১.
প্রেমেন্দ্র মিত্র কোন পত্রিকায় সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. ক) প্রগতি
  2. খ) পূর্বাশা
  3. গ) কবিতা
  4. ঘ) পরিচয়
সঠিক উত্তর:
গ) কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কবিতা
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি  ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে। 
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো।

• বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা- 
- প্রগতি (১৯২৭-১৯)
- কবিতা (১৩৪২-৪৭) 

• 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য - এই পত্রিকার জন্য তিনি স্মরনীয় হয়ে আছেন।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।
- এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৫২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ 'পঞ্চভূত' কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সাধনা
  2. ভারতী
  3. সবুজপত্র
  4. তত্ত্ববোধিনী
সঠিক উত্তর:
সাধনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধনা
ব্যাখ্যা
পঞ্চভূত:
১৮৯৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গ্রন্থ।
- এই প্রবন্ধগুলি সাধনা পত্রিকায় 'পঞ্চভূতের ডায়ারি' নামে ছাপা হয়।
ক্ষিতি, স্রোতস্বিনি, দীপ্তি, সমীর ও গগন এই পাঁচটি চরিত্রের মধ্যে আলোচনার রীতিতে মূলত তত্ত্ব বিষয়ক সমস্যার সরস ও গভীর বিশ্লেষণ।
- রঙ্গ-ব্যঙ্গ সাহিত্যের মধ্যেও কেউ কেউ ফেলেন ।
- আসলে রবীন্দ্রনাথের পরিবারের ৫ জন ব্যক্তির অভিজ্ঞতার আলোকে লিখিত হয়েছে।
- এটি ‘লেখক ভূতনাথ বাবু’ লেখক নামে সাধনা পত্রিকায় ‘পঞ্চভূতের ডায়েরি' নামে ছাপা হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৫৩.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮২০ - ১৮৯১
  2. ১৮২৪ - ১৮৭৩
  3. ১৮৩৮ - ১৮৯৪
  4. ১৮৪৭ - ১৯১১
সঠিক উত্তর:
১৮২০ - ১৮৯১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮২০ - ১৮৯১
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনকাল - ১৮২০ - ১৮৯১

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৫৪.
তোমার আমার ঘরই নাই,
তার আবার মানুষ’ - উক্তিটি 'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসে কে করেছেন?
  1. কিশোরের
  2. করমালীর
  3. মালো যুবক
  4. রামপ্রসাদের
সঠিক উত্তর:
করমালীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করমালীর
ব্যাখ্যা
‘তোমার আমার ঘরই নাই,
তার আবার মানুষ’ - উক্তিটি করমালীর।


• তিতাস একটি নদীর নাম:
- ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। এটি প্রথম মাসিক ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসটি ৪ খণ্ডে রচিত।
- উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, কিশোর, বাসন্তী ও করমালীর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন।
- উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এর কাহিনি অবলম্বন করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

• অদ্বৈত মল্লবমর্ণ:

- অদ্বৈত মল্লবমর্ণ ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গোকর্ণ গ্রামে মালো বংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- অদ্বৈত মল্লবর্মন ত্রিপুরা পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'নবশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- মোহাম্মদী পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন তিনি।

• উপন্যাসটির কিছু উক্তি:
• ‘তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।’- করমালীর উক্তি।
• ‘সে এখন পরের বাড়ির কাঁথা সিলাই করে, আর সে সুইয়ের ফোড় আমার বুকে আইয়া বিন্ধে।’- উক্তিটি করমালীর ।
• ‘হেই পুলা, তুই আমার নাওয়ে যাইবি? আমি খালে-বিলে জাল লইয়া ঘুরি, মাছ ধরি- মাছ বেচি, নাওয়ে রান্ধি-নাওয়ে খাই।’ উক্তিটি কিশোরের।
• ‘মনের মত মানুস পাইলাম না।’ উক্তিটি জনৈক মালো যুবক।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
২,১৫৫.
বৈষ্ণব পদাবলীতে নায়িকার অবস্থা কয়টি?
  1. ক) পাঁচটি
  2. খ) ছয়টি
  3. গ) সাতটি
  4. ঘ) আটটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) আটটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আটটি
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের অরিধান প্রেমিকা শ্রীধারাকে নায়িকা বলা হয়।
• বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার আটটি অবস্থা। যথা:
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কালহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা,
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৫৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে নিচের কোন প্রহসনে?
  1. এর উপায় কি
  2. টালা অভিনয়
  3. ফাঁস কাগজ
  4. কমলে কামিনী 
সঠিক উত্তর:
এর উপায় কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এর উপায় কি
ব্যাখ্যা

'এর উপায় কি' প্রহসন: 
- 'এর উপায় কি' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন। 
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন। 
- এই প্রহসনে মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রাধাকান্ত,
- স্ত্রী মুক্তকেশী,
- নয়নতারা,
- ইয়ার মদন প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৫৭.
'একালে আমাদের কাল' - গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শহীদুল্লা কায়সার
  2. সেলিনা হোসেন
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. সুফিয়া কামাল
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

'একালে আমাদের কাল' আত্মজীবনীটির রচয়িতা - সুফিয়া কামাল

সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। 
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,১৫৮.
‘মৈথিল কোকিল ‘ বলা হয় কাকে?
  1. ক) আলাওল
  2. খ) জ্ঞানদাস
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
গ) বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৫৯.
‘মোদের গরব মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা’ - এর রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. রামনিধি্ গুপ্ত
  4. অতুল প্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
অতুল প্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতুল প্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
- 'মোদের গরব মোদের আশা / আ-মরি বাঙলা ভাষা' - গানটির রচয়িতা: 'অতুলপ্রসাদ সেন'। 
- গানটি ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়বাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।

অতুলপ্রসাদ সেন:
- অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
- তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন।
- 'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান।
- 'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২,১৬০.
জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ঝরা পালক
  2. বেলা অবেলা কালবেলা
  3. বাংলার রূপ
  4. মহাপৃথিবী
সঠিক উত্তর:
বাংলার রূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলার রূপ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিকা
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ রচিত সুপরিচিত কবিতা আদর্শ ছেলে (আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/কথায় না বড় হয়ে কাজে বড়ো হবে) আজও শিশুশ্রেণির পাঠ্য।
- জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৫ সালে কলকাতায় এক ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হন, পরে ২২ অক্টোবর মারা যান।
- তিনি ব্রহ্মবাদী' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম কাব্য- ঝরা পালক।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহা পৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- বেলা অবেলা কালবেলা(এটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়),
- রূপসী বাংলা (এটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়)।

উল্লেখ্য,
জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয় - বাংলার রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৬১.
‘মানচিত্র’- কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) আবুল মনসুর
  3. গ) কাজী ইমদাদুল হক
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ মানচিত্র, সাজঘর, শ্রেষ্ঠ কবিতা, চোখ, লেলিহান পাণ্ডুলিপি, সূর্য জ্বালার স্বপন। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
২,১৬২.
বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের সূচনা কোন শতক থেকে?
  1. ক) বিংশ শতক
  2. খ) সতের শতক
  3. গ) আঠারো শতক
  4. ঘ) উনিশ শতক
সঠিক উত্তর:
ঘ) উনিশ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উনিশ শতক
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হয় ১৮০১ সাল থেকে বা উনিশ শতক থেকে
১২০১ সাল বা তের শতক থেকে ১৮০০ বা আঠারো শতক পর্যন্ত হলো মধ্যযুগ। এর মধ্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল হলো অন্ধকার যুগ।
প্রাচীন যুগ ধরা হয় ৬৫০ থেকে ১২০০ সাল পর্যন্ত সময়কে।
মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি বলা হয় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে
(সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)

২,১৬৩.
ফররুখ আহমদ-কে কি বলা হয়?
  1. নৌফেল ও হাতেম
  2. মুসলিম রেনেসাঁর কবি
  3. হাতেমতাই
  4. মুসলিম কবি 
সঠিক উত্তর:
মুসলিম রেনেসাঁর কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম রেনেসাঁর কবি
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ:
- একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কবি। ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- হাতেমতায়ী কাহিনিকাব্যের জন্যে তিনি আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- পাখির বাসা গ্রন্থের জন্যে ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনিরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৬৪.
কোন যুগে বাংলা সাহিত্যে গদ্যসাহিত্যের উদ্ভব ঘটে?
  1. মধ্যযুগে
  2. আধুনিক যুগে
  3. প্রাচীন যুগে
  4. চর্যাযুগে
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগে
ব্যাখ্যা
আধুনিক যুগে বাংলা সাহিত্যের গদ্যসাহিত্যের উদ্ভব ঘটে।

- বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের আগে যে সাহিত্য রচিত হয়েছে তা ছিল মূলত কবিতা বা পদ্য নির্ভর।
- উনবিংশ শতাব্দী থেকে বাংলা সাহিত্যে মূলগত যে বৈশিষ্ট্য পরিদৃষ্ট হয় তা সূত্রাকারে লিপিবদ্ধ করা হলো:
১. গদ্যসাহিত্যের উদ্ভব
২. সাময়িকপত্রের আবির্ভাব
৩. নাট্যসাহিত্যের জন্ম
৪. প্রবন্ধ (চিন্তামূলক) সাহিত্যের সৃষ্টি ইত্যাদি।
- এ সময় প্রথাগত কবিতার বদলে কাব্যক্ষেত্রে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং পাশ্চাত্য প্রভাব অঙ্গীভূত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুল আলম।
২,১৬৫.
‘গন্ধবণিক’ কী ধরনের রচনা?
  1. ক) নাটক
  2. খ) কবিতা
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গল্প
ব্যাখ্যা

'গন্ধবণিক 'আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ। প্রকাশিত হয়, ১৯৮৬ সালে।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,১৬৬.
গদ্য সাহিত্য প্রকৃতপক্ষে কোন যুগের সৃষ্টি?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. অন্ধকার যুগ
  3. মধ্যযুগ
  4. আধুনিক যুগ
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা

• গদ্য সাহিত্য রচনার সূচনা:
- উনিশ শতকের (১৮০০-১৮৯৯) শুরুতে বাংলা ভাষার গদ্য সাহিত্য রচনা শুরু হয়।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হিসেবে ধরা হয়।
- ১৮০১ থেকে আধুনিক যুগের সূচনা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা, বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক চিন্তার কারণে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক ধারা তরান্বিত হয়। 
- কাব্য, ছড়া, পালা প্রাচীন ও মধ্যযুগের সৃষ্টি।
- কিন্তু নাটক, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, সাময়িকপত্র আধুনিক যুগের সৃষ্টি।

উল্লেখ্য, 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। 
- বাংলা গদ্যকে সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও বহুমুখী প্রকাশক্ষম করার প্রধান কৃতিত্ব ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের।
- এজন্য তাকে "বাংলা গদ্যের জনক" বলা হয়।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
- বাংলাপিডিয়া।

২,১৬৭.
'অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন’ - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. রাইফেল রোটি আওরাত
  2. যাত্রা
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. নেকড়ে অরণ্য
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা
'রাইফেল রােটি আওরাত' উপন্যাস:
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' (১৯৭৩) আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে - ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
২,১৬৮.
স্বৈরশাসনকে ব্যাঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক কোনটি?
  1. মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
  2. নিমজ্জন
  3. হরগজ
  4. চাকা
সঠিক উত্তর:
মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনতাসীর ফ্যান্টাসি
ব্যাখ্যা

• 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটক:
- 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটকটির রচয়িতা বাংলাদেশের অন্যতম নাট্যকার সেলিম আল দীন।
- প্রথমেই বলা দরকার রচনাকালে নাটকের নাম 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' থাকলেও কয়েক বছর পর নাট্যকার এর নাম থেকে 'ফ্যান্টাসি' শব্দটি বাদ দেন।
- স্বৈরশাসনকে ব্যাঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচনা করেন 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটকটি। এই নাটকে বিশ শতকের আশির দশকের স্বৈরশাসকের কবল থেকে দেশের কিছুই যে রক্ষিত হচ্ছিল না, সেই চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে।
- হাস্যরসের মাধ্যমে সেলিম আল দীন দেখিয়েছেন সেনা ও স্বৈরশাসকেরা দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সঙ্গে শুভবোধ ও সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে।

---------------------
• সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান, তাহিতি' ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৬৯.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) উপমহাদেশ
  2. খ) সূর্য তুমি সাথী
  3. গ) নিহত নক্ষত্র
  4. ঘ) জাগ্রত বাংলাদেশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাগ্রত বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাগ্রত বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা আহমদ ছফা। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালে।
তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস, বাঙালি মুসলমানের মন, শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ, সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ইত্যাদি।
সূর্য তুমি সাথী তাঁর প্রথম উপন্যাস। নিহত নক্ষত্র তাঁর রচিত গল্পসংগ্রহ এবং উপমহাদেশ উপন্যাসের রচয়িতা আল মাহমুদ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
২,১৭০.
আলালি বা হুতোমি ভাষা বলা হয় কোন ভাষাকে ?
  1. ক) সাধু
  2. খ) চলিত
  3. গ) ইংরেজি
  4. ঘ) সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
খ) চলিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চলিত
ব্যাখ্যা
আলালি বা হুতোমি ভাষা বলা হয় - চলিত ভাষাকে।

প্যারীচাঁদের অনুসরণে বাংলা ভাষাকে আরও গণমুখী করেন কালীপ্রসন্ন সিংহ।
কলকাতা এবং তৎসংলগ্ন এলাকার মৌখিক ভাষাকে তিনি সার্থকভাবে তাঁর রচনায় প্রয়োগ করেন।
তাঁর ‘হুতোম প্যাচার নকশা’ (১৮৬২) উপন্যাসে ব্যবহৃত ভাষারীতি প্যারীচাঁদের ভাষার চেয়ে মার্জিততর।
এ গ্রন্থে চলিত ভাষায় সরস ব্যঙ্গবিদ্রূপের মাধ্যমে কলকাতার সমাজজীবন চিত্রিত হয়েছে।
স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কারণে তাঁর ভাষা ‘হুতোমি ভাষা’ নামে পরিচিত, যা পরবর্তী শতকের গদ্যরচনায় বিশেষ প্রভাব ফেলে।

প্যারীচাঁদ মিত্রের কথ্যরীতিতে গদ্য-পদ্য রচনা, প্রচুর তদ্ভব এবং চলিত ফারসী শব্দের ব্যবহার এবং ক্রিয়া পদে সাধু ও কথ্য ভাষার মিশ্রণ তার গদ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল। তাঁর লেখা বই আলালের ঘরে দুলাল এই গদ্যের ব্যবহার করা হয়েছিল যার জন্য এর নাম হয়ে যায় ‘আলালী ভাষা’। টেকচাঁদ ঠাকুর যেমন ‘আলালী’ ভাষায় ক্রিয়া পদের সাধু ও চলিত রূপের ব্যবহার করেছিলেন কালীপ্রসন্ন সিংহ প্রায় একই সময়ে লেখা হুতোম প্যাঁচার নকশায় তা করেন নি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,১৭১.
'কর্ণফুলী' উপন্যাস রচনা করে কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. আহসান হাবীব
  3. আবু ইসহাক
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
'কর্ণফুলী' উপন্যাস:
- সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস। উপন্যাসে চাকমা উপজাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
- আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত।
- উপজাতীযর জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য। এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক ছিলেন।
- জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতক (১৯৫৩) ও স্নাতকোত্তর (১৯৫৪)।
-তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটির বিষয়বস্ত্ত অবলম্বনে বসুন্ধরা নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত।

আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৭২.
'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' উপন্যাসটি কার রচিত?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) মীর মশাররফ হোসেন
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
গ) মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলাের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে ‘ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৭৩.
নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) শঙ্খনীল কারাগার
  2. খ) জোছনা ও জননীর গল্প
  3. গ) আগুনের পরশমণি
  4. ঘ) মাতাল তরণী
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাতাল তরণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাতাল তরণী
ব্যাখ্যা
‘মাতাল তরণী’ হুমায়ুন আজাদ রচিত প্রবন্ধ। [সূত্র: LiveMCQ লেকচার]
২,১৭৪.
চর্যাপদে খণ্ডিত আকারে পাওয়া পদটির রচয়িতা কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. লুইপা
  3. শবরপা
  4. কাহ্নপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

- চর্যাপদের মোট ৫১ টি পদ রয়েছে; এই পদগুলোর মধ্যে প্রাপ্ত পদের সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি।
- চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদগুলো পাওয়া যায় নি।
- চর্যাপদের প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
- পদটির রচয়িতা ছিলেন ভুসুকুপা। ২৩ নং পদের ৬টি পদ বা লাইন পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,১৭৫.
বাংলাদেশের রণসংগীতটি সর্বপ্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) জন্মভূমি
  2. খ) যুগবাণী
  3. গ) শিখা
  4. ঘ) দৈনিক নবযুগ
সঠিক উত্তর:
গ) শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শিখা
ব্যাখ্যা

- ঢাকার শিখা পত্রিকায় ১৯২৮ বার্ষিক সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশকালে এর শিরোনাম ছিল ‘নতুনের গান’। পরে এর নাম হয় চল চল চল।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,১৭৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যিক ছদ্মনাম কোনটি?
  1. সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. অনুরূপা দেবী
  3. দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
  4. পরশুরাম
সঠিক উত্তর:
দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিকশূণ্য ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা, 
- শ্রীমতি মধ্যমা।

অন্যদিকে, 
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৭৭.
'গোরক্ষবিজয়' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  2. নাথ সাহিত্য
  3. লোকসাহিত্য
  4. বৈষ্ণব সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
নাথ সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য:
- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনি ভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো শেখ ফয়জুল্লাহর ‘গোরক্ষবিজয়’।
- রাজা মাণিকচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান বা গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার কাহিনি।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৭৮.
Who has written the famous novel 'Pather Panchali'?
  1. ক) Satyjit Ray
  2. খ) Bibhutibhushan Bandyopadhyay
  3. গ) Chintha Lakshmi Smhaarachchi
  4. ঘ) K. Roy and Margaret Chatterjee
সঠিক উত্তর:
খ) Bibhutibhushan Bandyopadhyay
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Bibhutibhushan Bandyopadhyay
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস পথের পাঁচালী।
এই উপন্যাসের দ্বিতীয় খন্ড অপরাজিত ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।
পথের পাঁচালী উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন সত্যজিৎ রায়।

প্রধান চরত্রিগুলো হলো :
- অপু
- সর্বজায়া
- হরিহর
- অপর্ণা

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২,১৭৯.
চর্যাপদের কোন কবির প্রকৃত নাম শান্তিদেব?
  1. লুই পা
  2. কাহ্ন পা
  3. শবর পা
  4. ভুসুকু পা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকু পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকু পা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকু পা: 
- চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকু পা।
- তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকু নামটিকে ছদ্মনাম বলে মনে করা হয়।
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন।
- রাহুল সাংকৃত্যায়নের মতে ভুসুকুর জীবৎকালের শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকু জীবিত ছিলেন।
- "আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী। নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী।'--- ভুসুকুর এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

• ভুসুকু রচিত চর্যাপদের নমুনা: 
কাহৈরি যিনি মেলি অচ্ছহু কীস
বেটিল হাক পড়অ চৌদীস ।। 
অপণা মাংসে হরিণা বৈরী।
খনহ না ছাড়অ ভুসুঅ হেরি ।।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
২,১৮০.
'সোনালী কাবিন' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) আল-মাহমুদ
  3. গ) হুমায়ুন আজাদ
  4. ঘ) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
খ) আল-মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আল-মাহমুদ
ব্যাখ্যা
'সোনালী কাবিন' কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ।

আল মাহমুদ(১৯৩৬ –২০১৯):
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মির আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
-  তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে দৈনিক গণকণ্ঠ (১৯৭২-১৯৭৪) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- 'সোনালি কাবিন' তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর (১৯৬৩)
- কালের কলস (১৯৬৬)
 - সোনালী কাবিন (১৯৭৩)
- বখতিয়ারের ঘোড়া(১৯৮৪) 
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না(১৯৮০)
- পাখির কাছে ফুলের কাছে
- প্রেমের কবিতা

২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ৮২ বছর বয়সে ঢাকার ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতা‌লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৮১.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ
  2. খ) সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  3. গ) বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গ্রন্থঃ
- অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
২,১৮২.
'মনীষা মঞ্জুষা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?  
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. ড. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ এনামুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা

• 'মনীষা মঞ্জুষা' গ্রন্থ:
- 'মনীষা মঞ্জুষা' মুহম্মদ এনামুল হকের একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ, যেখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি, দর্শন, এবং সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থটিতে মুহম্মদ এনামুল হক বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্য, মধ্যযুগীয় সাহিত্য, ভাষার বিবর্তন, এবং সমসাময়িক সাহিত্যিক প্রবণতার উপর আলোকপাত করেছেন। এছাড়াও, বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ রয়েছে।

--------------------
• মুহম্মদ এনামুল হক:
- মুহম্মদ এনামুল হক ১৯০২ সালে বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষণায় অন্যতম প্রধান পন্ডিত ব্যক্তি।
- মুহম্মদ এনামুল হক মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাস এবং বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ বিষয়ে দুরূহ গবেষণা কর্মে বিশেষ অবদান রেখেছেন।
- ১৯২৯ হতে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পেয়ে এনামুল হক অধ্যাপক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের অধীনে গবেষণা করেন।
- তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল 'History of Sufism in Bengal'।
- বাংলা একাডেমি তাঁর নামে 'মুহম্মদ এনামুল হক সাহিত্য পদক' প্রচলন করে।
- ১৯৮২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

মুহম্মদ এনামুল হক রচিত গ্রন্থ:
- আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য,
- মনীষা মঞ্জুষা,
- ঝর্ণাধারা (১৯২৮, কবিতা সংকলন),
- বঙ্গে সূফী প্রভাব (১৯৩৫),
- ব্যাকরণ মঞ্জুরি (১৯৫২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৮৩.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) চিলেকোঠার সেপাই
  2. খ) অন্য ঘরে অন্য স্বর
  3. গ) খোয়াবনামা
  4. ঘ) রাইফেল রোটি আওরাত
সঠিক উত্তর:
খ) অন্য ঘরে অন্য স্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্য ঘরে অন্য স্বর
ব্যাখ্যা
• কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ 'অন্য ঘরে অন্য স্বর'।
গ্রন্থটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থের গল্পগুলো ১৯৬৫ - ১৯৭৫ সালের মধ্যে রচিত।
এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য গল্প - নিরুদ্দেশ যাত্রা, উৎসব, ফেরারী, প্রতিশোধ, অন্য ঘরে অন্য স্বর ইত্যাদি।
তাঁর রচিত আরো কয়েকটি গল্পগ্রন্থ,-
-খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,-
- দোজখের ওম ইত্যাদি।

• অন্যদিকে, 
- 'চিলেকোঠার সেপাই', 'খোয়াবনামা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস' রচিত উপন্যাস। 
- 'রাইফেল রোটি আওরাত' আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৮৪.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থ নয় কোনটি? 
  1. অতি অল্প হইল
  2. রত্ন পরীক্ষা
  3. ব্রজবিলাস
  4. বেতাল পঞ্চবিংশতি 
সঠিক উত্তর:
বেতাল পঞ্চবিংশতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেতাল পঞ্চবিংশতি 
ব্যাখ্যা
• বেতাল পঞ্চবিংশতি:
-  বেতাল পঞ্চবিংশতি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- এটি হিন্দি 'বৈতাল পচ্চীসীর' অনুবাদ। 
- এ গ্রন্থেই প্রথম তিনি যতিচিহ্ন ব্যবহার করেন। 

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:

- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত অনুবাদ গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া
২,১৮৫.
নিচের কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প?
  1. গিনিপিগ 
  2. ফেরিওয়ালা
  3. শহরতলী
  4. ইবলিশ
সঠিক উত্তর:
ফেরিওয়ালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরিওয়ালা
ব্যাখ্যা

'ফেরিওয়ালা' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি গল্প। গল্পটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ফেরিওয়ালা' নামক গল্পগ্রন্থে সংকলিত হয়ে গন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 

অন্যদিকে, 
• 'গিনিপিগ' নাটক: “গিনিপিগ'” নাট্যকার মামুনুর রশীদের একটি উল্লেখযোগ্য নাটক। যা বাংলাদেশের নাট্য অঙ্গনে সাড়া ফেলেছিলো। গিনিপিগ নাটকে লেখক ২২টি চরিত্রের মাধ্যমে তার চিন্তাকে সংলাপের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন। দর্শকদের উৎসুক চিন্তা তাই 'গিনিপিগ নাটকে অতি সহজেই নিজেদের মতো করে নিতে পারে।

• 'ইবলিশ' মামুনুর রশীদ রচিত একটি নাটক। নাটকটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৮৬.
'ব্রাহ্মণ রোমান ক্যাথলিক সংবাদ' নামক মুদ্রিত গ্রন্থটি রচিত হয় -
  1. ১৮৩৭ সালে
  2. ১৭৩৫ সালে
  3. ১৭৯০ সালে
  4. ১৯১৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৩৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৩৫ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থ:
- বাংলা গদ্যের প্রাচীনতম নিদর্শনের পরবর্তী প্রচেষ্টার নিদর্শনস্বরূপ সর্বাগ্রে উল্লেখ করা যায় সতের শতকের শেষভাগে ঢাকার ভূষণার জমিদারপুত্র দোম আন্তনিও নামক একজন দেশীয় পাদ্রি রচিত 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ'।
- ‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থে একজন ব্রাহ্মণ ও একজন রোমান-ক্যাথলিকের মধ্যে ধর্মবিচারচ্ছলে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে খ্রিষ্ট ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপাদন করাই ছিল উদ্দেশ্য।
- গ্রন্থটি ১৭৩৫ সালে রচিত হয় এবং পর্তুগালের রাজধানী লিসবন নগরে ১৭৪৩ সালে রোমান অক্ষরে মুদ্রিত হয়।
- সাধুভাষার ছাঁদে গ্রন্থটি লিখিত এবং এতে ফারসি শব্দের বাহুল্য বর্জন করার চেষ্টা আছে।
- গ্রন্থের ভাষায় তৎসম শব্দের আধিক্য পরিলক্ষিত না হলেও রচনা সহজবোধ্য হয়নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং ‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থ।
২,১৮৭.
পল্লীকবি জসীমউদ্দিনের গানের সংকলন কোনটি?
  1. মাটির কান্না
  2. সুচয়নী
  3. হলদে পরীর দেশ
  4. গাঙের পাড়
সঠিক উত্তর:
গাঙের পাড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাঙের পাড়
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
তাঁর রচিত গানের সংকলের নাম- 
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি(১৯৩৫)
- গাঙ্গের পাড় (১৯৬৪)
- জারিগান (১৯৬৮) 
- মুর্শীদা গান (১৯৭৭)। 

'পল্লীকবি' উপাধিতে ভূষিত, জসীম উদ্‌দীন আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মোহাম্মাদ জসীম উদ্‌দীন মোল্লা তার পূর্ণ নাম হলেও তিনি জসীম উদ্‌দীন নামেই পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- রাখালী (১৯২৭)
- নকশী কাঁথার মাঠ (১৯২৯)
- বালুচর (১৯৩০)
- ধানখেত (১৯৩৩)
- সোজন বাদিয়ার ঘাট (১৯৩৪)
- হাসু (১৯৩৮)
- রুপবতি (১৯৪৬)
- মাটির কান্না (১৯৫১)
- এক পয়সার বাঁশী (১৯৫৬)
- সখিনা (১৯৫৯)
- সুচয়নী (১৯৬১)
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে (১৯৬২)
- মা যে জননী কান্দে (১৯৬৩)
- হলুদ বরণী (১৯৬৬)
- জলে লেখন (১৯৬৯)
- পদ্মা নদীর দেশে (১৯৬৯)
- কাফনের মিছিল (১৯৭৮) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া
২,১৮৮.
'মায়া কাজল' সুফিয়া কামাল রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. শিশুতোষ গল্প
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'মায়া কাজল' সুফিয়া কামাল রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 

---------------------
• সুফিয়া কামাল:

- সুফিয়া কামাল ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী ও সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম 'ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন'-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদিক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে 'মহিলা সংগ্রাম পরিষদ' (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• তাঁর রচিত শিশুতোষগ্রন্থ:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৮৯.
‘ভানসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ বাংলা সাহিত্যের কোন যুগের নির্দেশন?
  1. ক) প্রাচীন যুগ
  2. খ) আধুনিক যুগ
  3. গ) মধ্যযুগ
  4. ঘ) অন্ধকার যুগ
সঠিক উত্তর:
খ) আধুনিক যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
• আধুনিক কবিদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পদাবলী রচনা করেছেন।
- পদাবলী নিয়ে তার রচিত কাব্যের নাম 'ভানুসিংহের পদাবলী'। এর বেশির ভাগ পদই ব্রজবুলি ভাষায় রচিত।
- গ্রন্থটি ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী'র অন্তর্গত লেখা- 'মরণ রে, তুঁহু মম শ্যাম সমান! মেঘ বরণ তুঝ, মেঘ জটাজুট রক্ত কমল কর.......'।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার বিভিন্ন রচনার ক্ষেত্রে অনেকগুলো ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
• উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো -
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মন,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা,
- বানীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা,
- শ্রীমতি মধ্যমা

উংস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৯০.
'Folk Tales of Bangladesh' জসীম উদ্‌দীন রচিত কোন গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ?
  1.  লোক সাহিত্যের কথা
  2. গ্রাম বাংলার লোকসাহিত্য
  3. বাঙালীর হাসির গল্প
  4. বাংলাদেশের লোকসাহিত্য
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বাঙালীর হাসির গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙালীর হাসির গল্প
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন রচিত গল্পগ্রন্থ: 
• ‘বাঙ্গালীর হাসির গল্প' (১ম খণ্ড- ১৯৬০, ২য় খণ্ড-১৯৬৪)।
- এ গ্রন্থটি ইউনেস্কোর উদ্যোগে ‘Folk Tales of Bangladesh' নামে অনূদিত হয়।

জসীম উদ্‌দীনের কবিতার সংকলন : সুচয়নী

জসীম উদ্‌দীনের গানের সংকলন :
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি (১৯৩৫),
- গাঙ্গের পাড় (১৯৬৪),
- জারিগান (১৯৬৮)।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- যাঁদের দেখেছি (স্মৃতিকথা, ১৯৫২),
- 'ঠাকুর বাড়ির আঙিনায় (স্মৃতিকথা, ১৩৬৮),
- জীবন কথা (আত্মজীবনী, ১৯৬৪) ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড় প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৯১.
‘সাবিত্রী উপাখ্যান’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘সাবিত্রী উপখ্যান’ উপন্যাস:
- হাসান আজিজুল হকের উপন্যাস 'সাবিত্রী উপাখ্যান' প্রকাশ পায় তাঁর উপন্যাস 'আগুন পাখি'র (২০০৬) সাত বছর পর ২০১৩ সালে।
- বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সমাজমনস্ক উপন্যাস এটি।
- উপন্যাসটি একটি সত্য ঘটনা অবলম্বন করে লেখা।

• হাসান আজিজুল হক:
- ১৯৩৯ সালে হাসান আজিজুল হক পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ হলো: 
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৯২.
কোনটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন?
  1. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. সধবার একাদশী
  4. ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা

'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসন:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন। এটি ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ, গদাগর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
'বিয়ে পাগলা বুড়ো' প্রহসন:
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক (প্রহসন)।
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

'সধবার একাদশী' প্রহসন:
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
- ‘সধবার একাদশী' প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনি নিয়ে নাটকটির রচিত।

উল্লেখ্য,
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত রচিত প্রহসন - একেই কি বলে সভ্যতা, বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,১৯৩.
'আনন্দমঠ' - উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'আনন্দমঠ' উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ভূমিকা।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে। উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
-বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২,১৯৪.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) দিবারাত্রির কাব্য
  2. খ) জননী
  3. গ) চিহ্ন
  4. ঘ) সবকটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬) একজন কথাসাহিত্যিক। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গন্থ:
উপন্যাস-
জননী (১৯৩৫), দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫), পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬), পুতুলনাচের ইতিকথা (১৯৩৬), শহরতলী (১৯৪০-৪১), চিহ্ন (১৯৪৭), চতুষ্কোণ (১৯৪৮), সার্বজনীন (১৯৫২), আরোগ্য (১৯৫৩) প্রভৃতি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২,১৯৫.
'শহর-ইয়ার' (১৯৬৯) কার লেখা উপন্যাস?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ফররুখ আহমদ
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• 'শহর-ইয়ার' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।

-----------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:

- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম,
- তুলনাহীনা,
- শহর-ইয়ার।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৯৬.
'সন্দেশ' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. ক) সুকুমার রায়
  2. খ) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর
  3. গ) সত্যজিৎ রায়
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা 'সন্দেশ' প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও  কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।
- দেশবিদেশের গল্প, হাস্যকৌতুক, জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা ইত্যাদি লেখার পাশাপাশি নিজের আঁকা নানা বুদ্ধিদীপ্ত ছবি সংযোজনের মাধ্যমে সন্দেশকে তিনি তরুণ হূদয়ের যোগ্য একটি পত্রিকা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র সুকুমার রায় 'সন্দেশ' পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,১৯৭.
'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যটি কোন দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে রচিত?
  1. মনসা দেবী
  2. শীতলা দেবী
  3. অন্নপূর্ণা দেবী
  4. চণ্ডী দেবী
সঠিক উত্তর:
চণ্ডী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডী দেবী
ব্যাখ্যা

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পুজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়দত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,১৯৮.
"মহাপতঙ্গ" কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. প্রবন্ধ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কবিতা
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস নয় - মহাপতঙ্গ।
- এটি তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয়।
--------------------- 
• আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) এবং ‘শিশু একাডেমি পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৯৯.
হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অলৌকিক ইস্টিমার
  2. পাক সার জমিন সাদ বাদ
  3. সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
  4. জ্বলো চিতাবা
সঠিক উত্তর:
পাক সার জমিন সাদ বাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাক সার জমিন সাদ বাদ
ব্যাখ্যা

'পাক সার জমিন সাদ বাদ' উপন্যাস:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস 'পাক সার জমিন সাদ বাদ'। উপন্যাসটি প্রথম বেরোয় দৈনিক ইত্তেফাক- এর ঈদ সংখ্যা ২০০৩-এ।
- বেরোনোর পর প্রগতিশীলেরা একে অভিনন্দিত করেন, আর মৌলবাদীরা মেতে ওঠে তার বিরুদ্ধে অক্রিমণে-উপন্যাসটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়। পুস্তকারে উপন্যাসটি পরিবর্ধিত হয়েছে।
- হুমায়ুন আজাদ এই উপন্যাসটি উৎসর্গ করেছিলেন '১৯৭১' সালকে; পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীতের নামানুসারে এই উপন্যাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে কটাক্ষ করা হয়েছে।

হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ। 

হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,২০০.
ঠকচাচা ও মতিলাল চরিত্র দুটি কোন উপন্যাসের?
  1. ক) কপালকুন্ডলা
  2. খ) চোখের বালি
  3. গ) আলালের ঘরের দুলাল
  4. ঘ) যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
গ) আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
- ঠকচাচা ও মতিলাল চরিত্র দুটি 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

• আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।