বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)

মোট প্রশ্ন২,৫৩৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)

PrepBank · পাতা / ২৬ · ৭০১৮০০ / ২,৫৩৩

৭০১.
'শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস' পালন করা হয় কবে?
  1. ২৬ মার্চ
  2. ১৭ মার্চ
  3. ১২ ডিসেম্বর
  4. ১৪ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৪ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
- ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস।

- ১৯৭১ সালের এ দিনে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামসরা বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।
- বুদ্ধিজীবী হত্যার ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের এ দেশীয় দোসর আল-বদরের সাহায্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সংস্কৃতি কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার বরেণ্য ব্যক্তিদের অপহরণ করা হয়।
- পরে নিদারুণ যন্ত্রণা দিয়ে রায়েরবাজার ও মিরপুরে তাদের হত্যা করা হয়। এ দু'টি স্থান এখন বধ্যভূমি হিসেবে সংরক্ষিত।
- মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আল-বদর বাহিনী আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে স্থাপিত আল-বদর ঘাঁটিতে নির্যাতনের পর রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর কবরস্থানে নিয়ে হত্যা করে।
- শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক মুনির চৌধুরী, ডা.আলিম চৌধুরী, অধ্যাপক মুনিরুজ্জামান, ড. ফজলে রাব্বী, সিরাজ উদ্দিন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, অধ্যাপক জিসি দেব, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক রশীদুল হাসান, ড. আবুল খায়ের, ড.মুর্তজা, সাংবাদিক খন্দকার আবু তাহের, নিজামউদ্দিন আহমেদ, এসএ মান্নান (লাডু ভাই), এ এন এম গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নাজমুল হক, সেলিনা পারভিনসহ আরও অনেকে।

উৎস: বিবিসি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রানালয়ের ওয়েবসাইট।  
৭০২.
পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন কে?
  1. ক) এম এ জি ওসমানি
  2. খ) এ কে খোন্দকার
  3. গ) আব্দুর রব
  4. ঘ) কে এম শফিউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খ) এ কে খোন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এ কে খোন্দকার
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। এদিন লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
(সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭০৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার-এর সচিবালয় পরিচালিত হতো কোন স্থান হতে?
  1. ক) থিয়েটার রোড, কলকাতা
  2. খ) ডালহৌসি স্ট্রিট, কলকাতা
  3. গ) পার্ক স্ট্রিট, কলকাতা
  4. ঘ) কলেজ স্ট্রিট, কলকাতা
সঠিক উত্তর:
ক) থিয়েটার রোড, কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) থিয়েটার রোড, কলকাতা
ব্যাখ্যা

আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের (মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত) সদস্যদের শপথ পাঠ করান।
শপথ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউসুফ আল স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
উল্লেখ্য, শপথ গ্রহন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন - আব্দুল মান্নান এম.এন.এ।
এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

৭০৪.
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ এর সমাধি রয়েছে -
  1. নড়াইলে
  2. সিলেটে
  3. যশোরে
  4. চট্রগ্রামে
সঠিক উত্তর:
যশোরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যশোরে
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ:
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্ম ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬, যশোর জেলার অর্ন্তঃগত নড়াইল মহকুমার মহিষখোলা গ্রামে।
- ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫৯, তদানিন্তন ইপিআর-এ সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন।
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর গঠন হলে তাঁর উপর ন্যস্ত হয় ৮নং সেক্টরের দায়িত্ব।
- তিনি নিয়োগ পান বয়রা সাব-সেক্টরে।
- এই সাব-সেক্টরের অধীনে গোয়ালহাটি, ছুটিপুর ঘাট, ছুটিপুর সেনাক্যাম্প, বরনী আক্রমণে অংশ নেন এবং বীরত্ব প্রদর্শন করেন।
- বরনীতে নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার জীবন রক্ষা করেন।
- ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১, সুতিপুর প্রতিরক্ষা অবস্থানের সামনে ষ্ট্যান্ডিং পেট্রোলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণ নস্যাৎ করে দেন প্রায় একাই।
- আহত অবস্থায় অধীনস্থ সৈনিকদের নিরাপদে পিছনে পাঠিয়ে দেন এবং শত্রুর মোকাবেলা অব্যাহত রাখার সময় শাহাদাত বরণ করেন।
- পরবর্তীতে সহযোদ্ধারা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্র যশোরের কাশীপুরে সমাহিত করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

উৎস:- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৭০৫.
১৯৭১ সালে মুক্তিবাহিনীর "এস ফোর্স" এর দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. কর্নেল জিয়াউর রহমান
  2. কর্নেল খালেদ মোশাররফ
  3. কর্নেল কে. এম সফিউল্লাহ
  4. উপরের কেউ নন
সঠিক উত্তর:
কর্নেল কে. এম সফিউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নেল কে. এম সফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
- এস ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল কে. এম. সফিউল্লাহ।

বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী:
- যে জনযুদ্ধ এনেছে বাংলাদেশের পতাকা, সেই জনযুদ্ধের দাবিদার এদেশের সাত কোটি বাঙালি।
- এই সশস্ত্র যুদ্ধ একটি নির্বাচিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
- পরিকল্পিত এই যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ বাংলাদেশ সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ৪টি যুদ্ধঅঞ্চলে বিভক্ত করেন।

- এই ৪টি অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন:
ক) চট্টগ্রাম অঞ্চল: মেজর জিয়াউর রহমান,
খ) কুমিল্লা অঞ্চল: মেজর খালেদ মোশাররফ,
গ) সিলেট অঞ্চল: মেজর কে এম সফিউল্লাহ,
ঘ) দক্ষিণ পশ্চিম: অঞ্চল মেজর আবু ওসমান চৌধুরী।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তীতে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলকে বিভক্ত করে রাজশাহী অঞ্চলে মেজর নাজমুল হক,
- দিনাজপুর অঞ্চলে মেজর নওয়াজেস উদ্দিন এবং,
- খুলনা অঞ্চলে মেজর জলিলকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
- ৭ই জুলাই ১৯৭১ যুদ্ধের কৌশলগত কারণে সরকার নিয়মিত পদাতিক ব্রিগেড গঠনের পরিকল্পনায় 'জেড ফোর্স' ব্রিগেড গঠন করেন।
- এই জেড ফোর্সের অধিনায়ক হলেন লেঃ কর্নেল জিয়াউর রহমান।
- একই ভাবে সেপ্টেম্বর মাসে 'এস ফোর্স' এবং ১৪ই অক্টোবর 'কে ফোর্স' গঠন করা হয়।
- কে ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল খালেদ মোশাররফ।
- এস ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল কে. এম. সফিউল্লাহ।

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৭০৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কতটি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- “জেড” ফোর্স, “কে” ফোর্স, “এস” ফোর্স নিয়ে ৩টি ব্রিগেড ফোর্স।
- জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৭.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’-এর অধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. প্রতাপ শঙ্কর হাজরা
  2. আলী ইমাম
  3. শাহজাহান আলম
  4. জাকারিয়া পিন্টু
সঠিক উত্তর:
জাকারিয়া পিন্টু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাকারিয়া পিন্টু
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের একটি ফুটবল দল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত অর্জন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনী ফুটবল খেলায় অংশ নেয়।
- এই দলটি ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’ নামে পরিচিত ছিল।
- পৃথিবীর ইতিহাসে যুদ্ধকালীন প্রথম ফুটবল দল এটি।
- মূল পরিকল্পনাটা ছিলো শামসুল হকের।
- জুন মাসে কলকাতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ক্রীড়া সমিতি এবং যারা সারা ভারতজুড়ে খেলে সমর্থন আদায় করবে আমাদের স্বাধীন বাংলার স্বীকৃতির জন্য।
- তার সাহায্যে এগিয়ে এলেন সমিতির প্রথম সেক্রেটারি লুতফর রহমান, কোচ আলী ইমাম ও ইস্ট এন্ড ক্লাবের সাবেক ফুটবলার সাঈদুর রহমান প্যাটেল।
- স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু।
- আর সহ-অধিনায়ক ছিলেন প্রতাপ শংকর হাজরা।
- কোচ ও ম্যানেজার ছিলেন যথাক্রমে ননি বসাক ও তানভীর মাজহারুল তান্না। 
- ম্যাচ খেলা থেকে অর্জিত পাঁচ লাখ ভারতীয় রুপি ক্রীড়া সমিতি জমা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ফান্ডে।

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলে যারা ছিলেন: 
- জাকারিয়া পিন্টু (অধিনায়ক), প্রতাপ শঙ্কর হাজরা (সহ-অধিনায়ক), আলী ইমাম, মোহাম্মদ কায়কোবাদ, অমলেশ সেন, আইনুল হক, নিহার কান্তি দাস, শেখ আশরাফ আলী, বিমল কর, শাহজাহান আলম, মনসুর আলী লালু, কাজী সালাউদ্দিন, এনায়েতুর রহমান, সুভাষ সাহা, কে এম নওশেরুজ্জামান, ফজলে সাদাইন খোকন, আবুল হাকিম, তসলিমউদ্দিন শেখ, আমিনুল ইসলাম, আবদুল মমিন জোয়ারদার, মনিরুজ্জামান পেয়ারা, সাত্তার, প্রাণ গোবিন্দ কুন্ডু, মুজিবর রহমান, মেজর জেনারেল (অব.) খন্দকার নুরুন্নবী, লুৎফর রহমান, সাইদুর রহমান প্যাটেল, অনিরুদ্ধ চ্যাটার্জি, সনজিব কুমার দে, মাহমাদুর রশিদ, দেওয়ান মোহাম্মদ সিরাজউদ্দিন, নিহার কান্তি দাস।

উৎস: ২৬ মার্চ ২০২২, সময় নিউজ।
৭০৮.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি সেনার সংখ্যা—
  1. ক) ৯০ হাজার
  2. খ) ৮১ হাজার
  3. গ) ৮৩ হাজার
  4. ঘ) ৯৩ হাজার
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৯৩ হাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৯৩ হাজার
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার জন্য চূড়ান্ত যুদ্ধে অংশ নিতে ধাপে ধাপে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলেন।
- একাত্তরের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার সামনে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে শত্রুদের মোকাবিলা করার জন্য যার যা আছে, তা-ই নিয়ে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলেন তিনি।
- বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
- তাঁর এই ভাষণের পর সারা দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে।
- ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।
- ওই রাতেই গ্রেপ্তার হন বঙ্গবন্ধু।
- শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।
- ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্বাঞ্চলের কমান্ডার জেনারেল এ এ কে নিয়াজিকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
- ১৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সংবরণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। 
- ১৬ ডিসেম্বর সকাল সোয়া নয়টার সময় মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের জয়ী ও পরাজিত দুই পক্ষের মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিল স্বাক্ষরিত হয়। 
- শেষপর্যন্ত জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্সের যে স্থানে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে ৯৩ হাজার সৈন্য ও অফিসারসহ আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, জিওসি এবং পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় বাহিনী ও বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। 

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
          ii) ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, প্রথম আলো।
৭০৯.
১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয় কোন ব্রিগেড ফোর্স?
  1. এস ফোর্স
  2. কে ফোর্স
  3. জেড ফোর্স
  4. এন ফোর্স
সঠিক উত্তর:
জেড ফোর্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেড ফোর্স
ব্যাখ্যা

ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
• জেড ফোর্স,
• কে ফোর্স,
• এস ফোর্স।

⇒ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

⇒ কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

⇒ খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১০.
মুক্তিবাহিনীর 'চিফ অব স্টাফ' কে ছিলেন?
  1. এ কে খন্দকার
  2. এম এ জি ওসমানী
  3. খালেদ মোশাররফ
  4. লে. কর্নেল (অব.) আব্দুর রব
সঠিক উত্তর:
লে. কর্নেল (অব.) আব্দুর রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লে. কর্নেল (অব.) আব্দুর রব
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।

কর্নেল এম এ রব:
- মুক্তিযুদ্ধে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুর রব ছিলেন নেতৃস্থানীয় ভূমিকায়।
- তার খেতাবের সনদ নম্বর ০১। মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অবিস্মরণীয়।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আবদুর রব যুদ্ধে যোগ দেন।
- সিলেট অঞ্চলে ৪ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বে দুর্ধর্ষ সব যুদ্ধের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন এম এ রব।
- মুজিবনগর সরকার তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ ও সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে  নিয়োগ দেয়।
- মুক্তিযুদ্ধের পরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুর রবকে মেজর জেনারেল পদ দেওয়া হয় এবং বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন সিলেট-২০ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুর রব।
- ১৯৭৫ সালের ১৪ নভেম্বর শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

অন্যদিকে,
- মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল এম এ জি ওসমানী।
- মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।
- ২নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন খালেদ মোশারফ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি, জানুয়ারি ১, ২০২২ ডেইলি স্টার।
৭১১.
মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের কোন ফোর্সের নেতৃত্বে ছিলেন?
  1. কে ফোর্স
  2. জেড ফোর্স
  3. এস ফোর্স
  4. এম ফোর্স
সঠিক উত্তর:
এস ফোর্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এস ফোর্স
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের বিগ্রেড ফোর্স 
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রথম ব্রিগেড গঠন করা হয় ৭ই জুলাই ১৯৭১।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বিগ্রেড ফোর্স ছিল তিনটি - জেড ফোর্স, কে ফোর্স, এস ফোর্স।
- ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৩টি ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে গঠন করা হয় এই ব্রিগেড।

কে এম সফিউল্লাহ:
- কে এম সফিউল্লাহর জন্ম ১৯৩৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে।
- সফিউল্লাহ ছিলেন জয়দেবপুরে দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের দ্বিতীয় প্রধান।
- ১৯৭১ সালে  তাঁর নেতৃত্বেই ওই রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যরা বিদ্রোহ করে।
- মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে সফিউল্লাহ ছিলেন ৩ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন।  
- পরে তিনটি নিয়মিত আর্মি ব্রিগেড গঠিত হলে ‘এস’ ফোর্সের নেতৃত্বে আসেন সফিউল্লাহ।
- মেজর কে এম সফিউল্লাহর নামানুসারে অক্টোম্বর ৭১ সনে গঠিত হয় এই বিগ্রেড যার নাম করা হয় এস ফোর্স।
- এই ফোর্সের অন্তর্ভুক্ত ছিল ২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।
- এস ফোর্সের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ সমূহ ছিল ধর্মগড় আক্রমন, মনোহরদী অবরোধ, কলাছড়া অপারেশন, বামুটিয়া অপারেশন, আশুগঞ্জ অপারেশন, মুকুন্দপুর যুদ্ধ, আখাউড়া যুদ্ধ ইত্যাদি।
- মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাব পান।

উল্লেখ্য,
- ১৯৩৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জন্ম নেওয়া কে এম সফিউল্লাহ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।
- পরে মালয়েশিয়া, কানাডা, সুইডেন, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
- বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ (বীর উত্তম) ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, পত্রিকা রিপোর্ট। [Link]
৭১২.
সর্বকনিষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম লালু কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ৫ নং
  2. খ) ৬ নং
  3. গ) ৯ নং
  4. ঘ) ১১ নং
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১ নং
ব্যাখ্যা

সর্বকনিষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম লালু ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন ।

-লালু নামে পরিচিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে। 

-তিনি বাংলাদেশে বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত সর্বকনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা।

-তিনি ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:molwa.gov.bd( মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)

৭১৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. সংগ্রাম
  3. স্বাধীন বাংলা
  4. জয় বাংলা
সঠিক উত্তর:
জয় বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয় বাংলা
ব্যাখ্যা
সাপ্তাহিক জয়বাংলা:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পত্র-পত্রিকা প্রকাশ করা হয়।
- গণমাধ্যম হিসেবে মূল্যবান অবদান রেখেছে এসব পত্র-পত্রিকা। 
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় 'সাপ্তাহিক জয়বাংলা'।
- আব্দুল মান্নান এম.এন.এ. ছিলেন এর সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি।
- জিল্লুর রহমান এম.এন.এ. ছিলেন প্রধান সম্পাদক।
- ১১ মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর এটি প্রকাশিত হয়।

এছাড়াও,
- বহির্বিশ্বে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে মুজিবনগর সরকার 'Bangladesh' নামক একটি পত্রিকা প্রকাশ করে।
- গেরিলা আক্রমণ ও সম্মুখ সমরসহ মুক্তিযোদ্ধাদের নানা ধরনের তৎপরতার খবরের পাশাপাশি এই পত্রিকাগুলোতে থাকতো বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম ও নির্দেশাবলী, রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দের বিবৃতি ও তৎপরতা, প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠন ও আন্দোলনের খবর এবং বাঙালি কুটনীতিকদের কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১৪.
বাংলাদেশ নৌ বাহিনী আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে -
  1. ক) ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে
  2. খ) ১৯৭১ সালের মে মাসে
  3. গ) ১৯৭১ সালের জুন মাসে
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নৌ-বাহিনী:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে।
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জন্ম হয়।
- ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে ঐতিহাসিক সেক্টর কমান্ডারদের কনফারেন্সের ঘোষণা মোতাবেক বাংলাদেশ নৌ বাহিনী আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।
- উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাঙ্গালী অফিসার ও নাবিকগণ পশ্চিম পাকিস্তান ত্যাগ করে দেশে এসে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী গঠন করেন।
- ভারত থেকে প্রাপ্ত 'পদ্মা' ও 'পলাশ' নামের ছোট দুটি গানবোট এবং ৪৯ জন নাবিক নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী।
- জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সমস্ত নাবিকগণ শত্রুর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ ও গেরিলা যুদ্ধে লিপ্ত হন।
- পাশাপাশি ' অপারেশন জ্যাকপট' নামে নির্ভীক ডুবুরীদল সমুদ্র ও নদী বন্দর সমূহে বিধংসী আক্রমণ পরিচালনা করেন।
- এতে হানাদার বাহিনীর ২৬ টি জাহাজ ধ্বংস হয় ও সমুদ্র পথ কার্যতঃ অচল হয়ে পড়ে।
- নৌ বাহিনীর অপারেশনের মধ্যে হিরণ পয়েন্টের মাইন আক্রমণ (১০ নভেম্বর ৭১), মার্কিন ও ব্রিটিশ নৌযান ধ্বংস (১২ নভেম্বর ৭১), চালনা বন্দরে নৌ হামলা (২২ নভেম্বর ৭১), চট্টগ্রাম নৌ অভিযান (০৫ ডিসেম্বর ৭১), পাকিস্তান নৌ ঘাঁটি পিএনএস তিতুমীর অভিযান (১০ ডিসেম্বর ৭১) উল্লেখযোগ্য।
- মহান মুক্তিযুদ্ধে নৌ বাহিনীর দুঃসাহসিক অভিযানে শক্রপক্ষ নৌ পথে দিশেহারা হয়ে পড়ে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধে বহুসংখ্যক নৌ সদস্য শাহাদৎ বরণ করেন। তাঁদের বীরত্ব ও আত্নত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ শহীদ রুহুল আমিন, ইআরএ-১, কে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব প্রদান করা হয়। এ
- ছাড়া ০৫ জনকে বীর উত্তম, ০৮ জনকে বীর বিক্রম এবং ০৭ জনকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়।
- জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে নৌ বাহিনীর ভূমিকাকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭১৫.
মুক্তিযুদ্ধের কোন সেক্টর কেবল নৌ কমান্ডো দ্বারা গঠিত হয়েছিল?
  1. ক) ১১ নং সেক্টর
  2. খ) ১ নং সেক্টর
  3. গ) ১০ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৯ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়। এ সরকার প্রথমে ১০ এপ্রিল সমগ্র দেশকে ৪ টি সেক্টরে ভাগ করে। ১১ এপ্রিল তা পুনর্গঠন করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন এবং ১১টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না। এটি ছিলো নৌ সেক্টর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী
৭১৬.
বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব প্রাপ্তদের মধ্যে নিচের কোন জন সাবেক ই. পি. আর. সদস্য?
  1. ক) মোস্তফা কামাল
  2. খ) রুহুল আমিন
  3. গ) মুন্সি আব্দুর রউফ
  4. ঘ) হামিদুর রহমান
সঠিক উত্তর:
গ) মুন্সি আব্দুর রউফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুন্সি আব্দুর রউফ
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন কে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করেন।
বাহিনী অনুসারে বীরশ্রেষ্ঠবৃন্দ:
- সেনাবাহিনীর : তিনজন
- সাবেক ই. পি. আর : দুইজন
- বিমানবাহিনীর : একজন
- নোবাহিনীর : একজন।
বীরশ্রেষ্ঠবৃন্দ:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।

(তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
৭১৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন কে?
  1. মিয়া গোলাম সামাদ
  2. মোনায়েম খান
  3. আব্দুল মোত্তালিব মালিক
  4. আমির আব্দুল্লাহ নিয়াজী
সঠিক উত্তর:
আব্দুল মোত্তালিব মালিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল মোত্তালিব মালিক
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান। তবে ১৭ সেপ্টেম্বর টিক্কা খান কে সরিয়ে ডা. আব্দুল মোত্তালিব মালিক কে গর্ভনর করা হয়।
- একই সময়ে ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। ১৪ ডিসেম্বর এই মন্ত্রিসভা পদত্যাগে বাধ্য হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
৭১৮.
'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালনা করে কোন বাহিনী?
  1. গেরিলা বাহিনী
  2. নৌ বাহিনী
  3. মিত্র বাহিনী
  4. বিমান বাহিনী
সঠিক উত্তর:
নৌ বাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌ বাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট মতান্তরে ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে। [অপশনে ১৫ আগস্ট থাকলে ১৫ আগস্ট দাগাতে হবে। অপশনে ১৫ আগস্ট না থাকলে সেই ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট দাগাতে হবে।]
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।
- ১৯৭১ সালের অগাস্টের ১৫ তারিখ রাতে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল সেই বছরের মে মাসে।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
৭১৯.
বাংলাদেশের খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত বীর বিক্রম একমাত্র মুক্তিযোদ্ধার নাম কী?
  1. ইউ কে চিং
  2. আশুতোষ চাকমা
  3. মং প্রু
  4. অংশু চাকমা
সঠিক উত্তর:
ইউ কে চিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউ কে চিং
ব্যাখ্যা
ইউ কে চিং মারমা:
- ইউ কে চিং মারমা ১৯৩৭ সালে বান্দরবানে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৫২ সাল থেকে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে কর্মরত ছিলেন।
- আদিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে একমাত্র তিনি খেতাব লাভ করেন।
- সম্মুখ যুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে মুক্তিযুদ্ধের তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব ‘বীর বিক্রম’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ ইপিআরের নায়েক হিসেবে রংপুর জেলার হাতিবান্ধা বিওপিতে কর্মরত ছিলেন ইউ কে চিং।
- সেখান থেকে মেজর বাশারের নেতৃত্বে ৯ বাঙালি ইপিআর সৈনিক নিয়ে পাটগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধ করেন।
- তিনি কর্মরত বিহারি ও দুই পাঞ্জাবিকে হত্যা করেন। 
- অপারেশন চালান রংপুর, লালমনিরহাট, পাখিউড়া, কাউয়াহাট, বাগভাণ্ডার, হাতিবান্দা, চৌধুরীহাট, ভূরুঙ্গামারী, জয়মনিরহাট, রায়গঞ্জ, নাগেশ্বরী, তিস্তা নদী, কুলাঘাট প্রভৃতি স্থানে।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত ‘দি বাংলাদেশ গেজেট-এক্সট্রা অর্ডিনারি পাবলিশড বাই অথরিটি’ বইয়ের ক্রমিক নম্বর ১০০-তে তার ‘বীর বিক্রম’ প্রাপ্তির উল্লেখ আছে। 

উল্লেখ্য,
- ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: ২৬ জুলাই,২০১৪, bdnews24.com
৭২০.
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র প্রথম কোথা থেকে প্রচার শুরু করে?
  1. ক) কুষ্টিয়া
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) বেনাপোল
  4. ঘ) কালুরঘাট
সঠিক উত্তর:
ঘ) কালুরঘাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কালুরঘাট
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
পরবর্তীতে, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্থায়ী সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর স্বাধীন দেশের বেতার কেন্দ্র হিসেবে এর নতুন নাম হয় ‘বাংলাদেশ বেতার’। বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসে এবং সেদিন থেকেই স্বাধীন দেশের রেডিও হিসেবে বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচার কাজ শুরু হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৭২১.
পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে কত সালে?
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি:

- পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে ১৯৭৪ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি।
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত ও ভূটান বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদান করে।
- ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়
- ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্যসহ সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া নেদাল্যান্ডস এবং জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশকে।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা, ২৬ মার্চ ২০২১।
৭২২.
মুক্তিযুদ্ধে ডা. সিতারা বেগম কোন সেক্টরের ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’-এ চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন?
  1. ১ নং সেক্টর
  2. ২ নং সেক্টর
  3. ৫ নং সেক্টর
  4. ১১ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে মোট ৬৭৬ বীর যোদ্ধাকে বিভিন্ন খেতাবে ভূষিত করা হয়েছে।
- তাদের মধ্যে দুজন নারীও রয়েছেন। একজন হলেন ডা. সেতারা বেগম এবং অন্যজন তারামন বিবি; যাদের ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিত্সাসেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে হাসপাতাল বা চিকিত্সাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। এ রকম একটি হাসপাতাল ছিল ২ নম্বর সেক্টরে। নাম ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’। ডা. সিতারা বেগম বাংলাদেশ হাসপাতালে অসাধ্য সাধনের মতো সব কাজ করতেন। মুক্তিযুদ্ধে এ মহীয়সী নারীর সাহসী আবদানের জন্য তাঁকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। ১৯৭২ সালে জেনারেল ওসমানী চিঠি দিয়ে তাঁকে বীর প্রতীক খেতাব পাওয়ার কথা জানান। তারপর তা গেজেট আকারে প্রকাশ পায়।

অন্যদিকে,
- তারামন বিবি ১১ নং সেক্টর থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- কাঁকন বিবি ১৯৭১ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক বীরযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা ও গুপ্তচর। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর বিপক্ষে মুক্তিবাহিনীর হয়ে ৫ নং সেক্টরের গুপ্তচরের কাজ করেন।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।

৭২৩.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবে 'ভেটো' প্রদান করে কোন দেশ?
  1. ভারত
  2. ফ্রান্স
  3. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. চীন
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
সোভিয়েত ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভূমিকা:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের পর সর্বাধিক অবদান রাখে অধুনালুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)।
- পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানান।
- তিনি ইয়াহিয়াকে বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যও বলেন।
- সোভিয়েত পত্রপত্রিকা, প্রচার মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের কাহিনি ও মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি প্রচার করে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
- জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব সোভিয়েত ইউনিয়ন 'ভেটো' (বিরোধিতা করা) প্রদান করে বাতিল করে দেয়।
- সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে কিউবা, যুগোস্লাভিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, পূর্ব জার্মানিসহ তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন জানায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭২৪.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. অ্যালেক্সি কেসিগিনি
  2. নিকোলাই পদগর্নি
  3. এনলাই কিসিন
  4. আন্দ্রে গোমিসিন
সঠিক উত্তর:
অ্যালেক্সি কেসিগিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালেক্সি কেসিগিনি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিত্ব:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন রিচার্ড নিক্সন,
- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এডওয়ার্ড হিথ,
- ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও রাষ্ট্রপতি ছিলেন ভিভি গিরি।
- রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন  আলেক্সি কোসিগিন,
- রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন নিকোলাই পদগর্নি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও সংগ্রামের নোটবুক।
৭২৫.
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা'-কে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় কোথায়?
  1. ক) মুজিবনগরে
  2. খ) ঢাকার পল্টনে
  3. গ) আগরতলায়
  4. ঘ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
সঠিক উত্তর:
ক) মুজিবনগরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুজিবনগরে
ব্যাখ্যা
- ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার বাংলাকে বিভক্ত করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করে যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯০৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’- সঙ্গীতটি রচনা করেন।
- বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে স্বদেশী আন্দোলনের সময় এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
- এ গানটি ১৯৭১ সালের ৩রা জানুয়ারি ঢাকায় এক বিশাল জনসভায় এবং পরে ৩রা মার্চ ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ আয়োজিত জনসভায় পুনরায় গাওয়া হয়।
- মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রথম সরকার এই গানকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত প্রচার হতো। 
- স্বাধীনতার পরে সাংবিধানিকভাবে ( অনুচ্ছেদ ৪.১)-এ ‘আমার সোনার বাংলা’ গণপ্রজাতন্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতরূপে ঘোষিত হয়। 
- এই গানের প্রথম ১০ লাইন কণ্ঠসঙ্গীত এবং প্রথম ৪ লাইন যন্ত্রসঙ্গীত হিসেবে পরিবেশনের বিধান রাখা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭২৬.
মেজর জিয়াউর রহমান কোন বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন?
  1. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র
  2. কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র
  3. চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র
  4. রেডিও পাকিস্তান, চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা ঘোষণা:
- ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রথম প্রহরেই মেজর জিয়াউর রহমান নিজেকে প্রভিশননাল প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য,
- পাকিস্তানের স্বৈরশাসক ইয়াহিয়ার নির্দেশে তার সামরিক বাহিনী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ২৫ মার্চ কালরাতে।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে আক্রমণ শুরু হয় গভীর রাতে। জহুরুল হক হল, জগন্নাথ হল, রোকেয়া হলে চালানো হয় হত্যা ও পাশবিক নির্যাতন। এছাড়া পিলখানা, ইপিআর সদর দপ্তর, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আক্রমণ করে নির্বিচার হত্যা চালানো হয়। একইভাবে গণহত্যা চলেছিল পুরনো ঢাকায়, কচুক্ষেত, তেজগাঁও, ইন্দিরা রোড, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে, রায়েরবাজার, গণকটুলি, ধানমণ্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান প্রভৃতি স্থানে।
- ঢাকার ন্যায় দেশের অন্যান্য শহরেও পাকিস্তানি বাহিনী ব্যাপক গণহত্যা শুরু করে।
- এ পরিস্থিতিতে ২৬শে মার্চ তারিখে মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- এরপর তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
- তাঁর স্বাধীনতা ঘোষণা এবং এর প্রতি বাঙালি সামরিক, আধাসামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর সমর্থন ও অংশগ্রহণের খবরে স্বাধীনতাকামী জনগণ উজ্জীবিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭২৭.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে প্রেরিত ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’-এর বিষয় কী ছিল?
  1. Crisis in South Asia
  2. Human Rights in East Pakistan
  3. Dissent From U.S. Policy Toward East Pakistan
  4. U.S. Foreign Policy Review
সঠিক উত্তর:
Dissent From U.S. Policy Toward East Pakistan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Dissent From U.S. Policy Toward East Pakistan
ব্যাখ্যা

• 'ব্লাড টেলিগ্রাম'/The Blood Telegram:
- আর্চার কেন্ট ব্লাড (Archer Kent Blood) ছিলেন একজন মার্কিন কূটনীতিক, যিনি ১৯৭১ সালে ঢাকায় পূর্ব পাকিস্তানের মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
- ২৫ মার্চের ভয়ংকর গণহত্যার সাক্ষী ছিলেন ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন কনসাল জেনারেল আরচার ব্লাড ও তার সহকর্মীরা।
- তারা মার্চ মাসজুড়ে বারবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে ক্যাবল পাঠান, জানান এই ভয়াবহ গণহত্যার খবর।
- ব্লাড ও তার সহকর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে তাদের নৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়ে ৬ এপ্রিল একটি টেলিগ্রাম করেন, যা ইতিহাসে ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ নামে পরিচিত। 
- এই টেলিগ্রাম ছিল একটি প্রতিবাদ, যা এখনো আমেরিকান ফরেন সার্ভিস একাডেমীতে নবীশদের পড়ানো হয়। 
- এটির শিরোনাম বা বিষয় ছিল "Dissent From U.S. Policy Toward East Pakistan" / ''পূর্ব পাকিস্তান সম্পর্কিত মার্কিন নীতির বিরোধিতা'' । 
- এই তারবার্তাটি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দমনমূলক অভিযানের বিরুদ্ধে মার্কিন নীতির তীব্র সমালোচনা করেছিল।
 - এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন সরকারের নৈতিক দেউলিয়াত্বের (moral bankruptcy) অভিযোগ তুলেছিল এবং পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত নৃশংসতাকে 'জেনোসাইড' বা 'গণহত্যা' হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আমেরিকান অধ্যাপক গ্যারি জে বাসের  'দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড' নামে একটি বই রয়েছে। 

তথ্যসূত্র:
i) Department of State, United States of America. (Link) (Link) 
ii) Daily Star. (Link) (Link) 
iii) Washington Post. (Link)
iv) Prothom Alo. (Link) 

৭২৮.
'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড' কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. ডেইলি টেলিগ্রাফ
  2. দ্য সানডে টাইমস
  3. রয়টার
  4. নিউইয়র্ক টাইমস
সঠিক উত্তর:
নিউইয়র্ক টাইমস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউইয়র্ক টাইমস
ব্যাখ্যা

সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড (September on Jessore Road):
- সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড- বিখ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের কবি এলেন গিন্সবার্গ রচিত একটি কবিতা। 

⇒ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানীরা এদেশে হামলা করলে প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশী জনগণ অস্থায়ী শরণার্থী হিসেবে ভারতে গমন করে। সে সময় নিরাপদে ভারতের ভূখণ্ডে অস্থায়ীভাবে প্রবেশের পথ হিসেবে শরণার্থীরা বেছে নেয় এই যশোর রোডকে।
- ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ ভারতের কলকাতা থেকে নৌকায় করে বাংলাদেশের যশোর সীমান্তে পৌছান।
- সীমান্তবর্তী শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাসকারী উদ্বাস্তুদের দুর্দশা প্রত্যক্ষ করে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। 
- দেশে ফিরে গিন্সবার্গ একটি কবিতা লেখেন: 'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড'।
- এই কবিতার লাইন সংখ্যা ১৫২ টি।
- এই দীর্ঘ কবিতার সাথে সুর দিয়ে এটিকে গানে রূপ দিয়েছিলেন তিনি।
- আমেরিকায় ফিরে গিয়ে তার বন্ধু বব ডিলান ও অন্যান্য বিখ্যাত গায়কদের সহায়তায় এই গান গেয়ে কনসার্ট করেছিলেন। 
- ১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বর কবিতাটি নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত হয়।

উৎস: প্রথম আলো।

৭২৯.
‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করে-
  1. আওয়ামী লীগ
  2. ছাত্র ইউনিয়ন
  3. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  4. সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:

- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৩০.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত হয় কত নং সেক্টর?
  1. ক) ২নং সেক্টর
  2. খ) ৩ নং সেক্টর
  3. গ) ৬ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৮ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
ক) ২নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

২ নং সেক্টরঃ
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে। নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

৭৩১.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. খ) এইচ এম কামারুজ্জামান
  3. গ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  4. ঘ) অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ
সঠিক উত্তর:
ক) তাজউদ্দীন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তাজউদ্দীন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

 • কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
→ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
→ মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
→ মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
→ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
→ এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
→ খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩২.
মুক্তিযুদ্দের সময় যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে বিভক্ত করেছিলো?
  1. ক) ৯টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ১২টি
  4. ঘ) ১৩টি
  5. ঙ) ১১টি
সঠিক উত্তর:
ঙ) ১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) ১১টি
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার কতগুলো সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
মুক্তিকালীন ১১টি সেক্টরের কমান্ডারগণ:
১ নং সেক্টর:
- মেজর জিয়াউর রহমান
- মেজর রফিকুল ইসলাম
২ নং সেক্টর:
- মেজর খালেদ মোশাররফ
- মেজর এ.টি.এম হায়দার
৩ নং সেক্টর:
- মেজর কে. এম শফিউল্লাহ
- মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান
৪ নং সেক্টর:
- মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
- ক্যাপ্টেন এ রব
৫ নং সেক্টর:
- মেজর মীর শওকত আলী
৬ নং সেক্টর:
- উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার
৭ নং সেক্টর:
- মেজর নাজমুল হক
- সুবেদার মেজর এ. রব
- মেজর কাজী নূরুজ্জামান
৮ নং সেক্টর:
- মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
- মেজর এম.এ মঞ্জুর
৯ নং সেক্টর:
- মেজর এম.এ জলিল
- মেজর এম. এ মঞ্জুর ও
- মেজর জয়নাল আবেদীন
১০ নং সেক্টর:
কোন নিয়মিত সেক্টর ছিলো না
১১ নং সেক্টর:
- মেজর এম. আবু তাহের
- স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)

৭৩৩.
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. খুলনা
  2. চট্টগ্রাম
  3. রাজশাহী
  4. ঢাকা
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর:

- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মুক্তিযুদ্ধ-ভিত্তিক একটি জাদুঘর।
- এটি বাংলাদেশের একমাত্র মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
- এটি ঢাকার এফ-১১/এ-বি, সিভিক সেক্টর, আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।
- এই জাদুঘরের উদ্বোধন হয় ১৯৯৬ সালের ২২ শে মার্চ।
- মুক্তিযুদ্ধের অনেক দুর্লভ বস্তু আছে এই জাদুঘরে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় ওয়েবসাইট।
৭৩৪.
মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর প্রথম কোথায় স্থাপিত হয়?
  1. ক) কলকাতা
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) দিল্লি
  4. ঘ) মুজিবনগর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুজিবনগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুজিবনগর
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার

- মুজিবনগর সরকার গঠন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল।
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল।
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত।
- দেশী-বিদেশী ১২৭ জন সাংবাদিক ও কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল।
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 
- এ সরকারের সদর দপ্তর প্রথম স্থাপিত হয় মুজিবনগরে (মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা)।

- পরবর্তীকালে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রধানত নিরাপত্তা এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানের সুবিধার্থে এ সরকারের প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর হয়।
- কারণ, মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণের মাত্র ২ ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমা বর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৫.
মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন-
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. খ) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী 
  3. গ) খন্দকার মোস্তাক
  4. ঘ) এএইচএম কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
ঘ) এএইচএম কামরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এএইচএম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
• ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। 
• মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভার কাঠামো ছিলঃ
- রাষ্ট্রপতিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান; 
- উপরাষ্ট্রপতিঃ সৈয়দ নজরুল ইসলাম; 
- প্রধানমন্ত্রীঃ তাজউদ্দীন আহমদ;
- অর্থমন্ত্রীঃ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী;
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীঃ এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান;
- পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীঃ খন্দকার মোশতাক আহমেদ; 
- প্রধান সেনাপতিঃ কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত এম. এ. জি ওসমানী; 
- চিফ অব স্টাফঃ কর্নেল (অব.) আব্দুর রব এবং 
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং বিমান বাহিনীর প্রধানঃ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।

উৎসঃ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
৭৩৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন সেক্টরটির সদরদপ্তর বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ছিল?
  1. ২ নং
  2. ৬ নং
  3. ৮ নং
  4. ১১ নং
সঠিক উত্তর:
৬ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ নং
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
⇒ ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর রফিকুল ইসলাম। 

⇒ ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর এটিএম হায়দার।

⇒ ৩নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর কে এম শফিউল্লাহ, মেজর এএনএম নুরুজ্জামান। 

⇒ ৪ নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর চিত্তরাজন দত্ত, ক্যাপ্টেন এ রব।

⇒ ৫নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর মীর শওকত আলী। 

⇒ ৬নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়িমাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার: উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার। 

⇒ ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর নজরুল হক, সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামান। 

⇒ ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, মেজর এম এ মঞ্জুর।

⇒ ৯নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর এম জলিল, মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীন।

⇒ ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল।

⇒ ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার: মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৩৭.
মুক্তিবাহিনী কয় ভাগে বিভক্ত ছিল?
  1. দুই ভাগে
  2. তিন ভাগে
  3. চার ভাগে
  4. এগার ভাগে
সঠিক উত্তর:
দুই ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই ভাগে
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনী
- মুজিবনগর সরকার পরিকল্পিত উপায়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য সামরিক ও বেসামরিক সকল জনগণকে নিয়ে ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করে।
- মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনী।
- অনিয়মিত বাহিনী গণবাহিনী নামে পরিচিত ছিল। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর বিভিন্ন সেক্টরে গণবাহিনীতে নিয়োগ করা হতো।গণবাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শত্রুর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পাঠানো হয়।
-নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা। এই বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্রবাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- মুজিবনগর সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে প্রথমে ৪ টি যুদ্ধাঞ্চলে ভাগ করে। পরে আরো ৩টি ভাগ করা হয়। ফলে মোট যুদ্ধাঞ্চল ছিল ৭টি।
- S ফোর্স, K ফোর্স ও Z ফোর্স নামে তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
-এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সমগ্র বাংলাদেশ ১১ টি সেক্টর ছিল , যেখানে মোট ১৬ জন সেক্টর-কমান্ডার ছিলেন।

তথ্যসূত্র- বিবিসি নিউজ।
৭৩৮.
মুজিবনগর সরকারের অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  2. এএইচএম কামরুজ্জামান
  3. এম মনসুর আলী
  4. তাজউদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

• মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
→ রাষ্ট্রপতি - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
→ উপরাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
→ প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমেদ
→ অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী - এম মনসুর আলী
→ স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী - এএইচএম কামরুজ্জামান
→ পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী - খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : তৃতীয় খণ্ড।
৭৩৯.
 অপারেশন সার্চলাইট এর বর্বরতা বিশ্ববাসীর নিকট তুলে ধরেন কে?
  1. লিওন ব্রোরা
  2. সাইমন কিং
  3.  ডাব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড
  4. সাইমন ড্রিং
সঠিক উত্তর:
সাইমন ড্রিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইমন ড্রিং
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট -
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা চালায়।
- ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এ গোপনে অবস্থান করে এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন।
- পরে ৩০ মার্চ, ১৯৭১ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় 'ট্যাংকস ক্রাশ রিভোল্ড ইন পাকিস্তান' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাকবাহিনীর এর বর্বরতা বহির্বিশ্বে প্রকাশ করেন।
- ২০২১ সালের ১৬ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।

অন্যদিকে,
অপারেশন জ্যাকপট
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট ১০ নং সেক্টরে নৌবাহিনী পরিচালিত প্রথম অভিযান 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- এই রাতে নৌ-কমান্ডোরা পাকবাহিনীর ২৬ টি জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দিয়েছিলেন।

উৎস- দৈনিক প্রথম আলো ও বাংলাপিডিয়া।
৭৪০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'বীরপ্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক ডব্লিও এ এস ওডারল্যান্ড কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন?
  1. ক) বেলজিয়াম
  2. খ) ইতালি
  3. গ) অস্ট্রেলিয়া
  4. ঘ) হল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ঘ) হল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হল্যান্ড
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'বীরপ্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক ডব্লিও এ এস ওডারল্যান্ড ৬ ডিসেম্বর, ১৯১৭ সালে হল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- তাঁর জাতীয়তা ছিল অস্ট্রেলিয়।
- মুক্তিযুদ্ধে তিনি ২ নং সেক্টরে কাজ করেন।
- ১৯৭০ সালে তিনি বাটা সু কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশে আসে।
- ১৮ মে, ২০০১ সালে তিনি মারা যান।

উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৭৪১.
মুজিবনগর সরকার শপথ নিয়েছিলো-
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ২৬ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ঘ) ৩০ এপ্রিল, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
উৎসঃ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
৭৪২.
মুক্তিযুদ্ধে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কোন সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন?
  1. ৪নং সেক্টর
  2. ৫নং সেক্টর
  3. ৬নং সেক্টর
  4. ৭নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৭নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে.
- ১৯৫৩ সালে পাতারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবনের সূচনা হয়।
- ১৯৬৪ সালে মুলাদি মাহমুদ জান পাইলট হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- ১৯৬৮ সালের ২রা জুন তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন।
- তিনি ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন।
- তিনি অসামান্য বীরত্বের সাথে আরগরারহাট, কানসাট, শাহপুর এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং মুক্তাঞ্চল গঠন করেন।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহীদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।

তথ্যসূত্র -  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

৭৪৩.
মুজিবনগর দিবস কত তারিখে?
  1. ১০ এপ্রিল
  2. ১৭ এপ্রিল
  3. ১১ এপ্রিল
  4. ১৮ এপ্রিল
সঠিক উত্তর:
১৭ এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর দিবস:
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস।

এছাড়াও,
- মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত।
- ১৯৭৩ সালের ৩১ আগস্ট সরকার মুজিবনগরে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের নির্দেশ দেয়।
- ১৯৭৪ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসে মুক্তিযুদ্ধকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এ প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও মেহেরপুর জেলা ওয়েবসাইট।
৭৪৪.
Who is the director of the documentary 'A State is Born'?
  1. ক) Jahir Raihan
  2. খ) Tanvir Mokammel
  3. গ) Chashi Najrul Islam
  4. ঘ) Alamgir Kabir
সঠিক উত্তর:
ক) Jahir Raihan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Jahir Raihan
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামাণয চিত্র:

- জহির রায়হান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র,
• স্টপ জেনোসাইড।
• এ স্টেট ইজ বর্ন।

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র 'স্মৃতি ৭১' এর পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল।
- মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র,
• আগামী ও - সূচনা।
- তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র,
• মুক্তির গান ও মুক্তির কথা।

তথ্যসূত্র - সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৭৪৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌপথ কত নম্বর সেক্টরের অধীন ছিল?
  1. ক) ৯ নং সেক্টর
  2. খ) ৪ নং সেক্টর
  3. গ) ১০ নং সেক্টর
  4. ঘ) ১১ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না। ১০ নং সেক্টরের অধীনে ছিল অভ্যন্তরিন নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল। এ সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন নৌবাহিনীর ৮ জন বাঙ্গালি কর্মকর্তা।
৭৪৬.
ক্র্যাক প্লাটুন কী?
  1. ক) স্বাধীন বাংলা ফুটবল টিম
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্র উদ্ধার অভিযান
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা সংগঠন
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধের নৌ কমান্ডারদের অপারেশন
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা সংগঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা সংগঠন
ব্যাখ্যা
• ক্র্যাক প্লাটুন হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা সংগঠন। 

• ক্র্যাক প্লাটুন:
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ক্র্যাক প্লাটুন দলটি গঠন করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন ২নং সেক্টরের কমান্ডার খালেদ মোশাররফ, বীরউত্তম এবং এটিএম হায়দার বীরউত্তম।
- এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ২নং সেক্টরের অধীন একটি স্বতন্ত্র গেরিলা দল ছিল যারা আসলে গণবাহিনীর অংশ বলে পরিচিত।
- ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে।
- শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ।
৭৪৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কতটি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ৯ টি
  2. খ) ১০ টি
  3. গ) ১১ টি
  4. ঘ) ১৪ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ টি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়। এ সরকার প্রথমে ১০ এপ্রিল সমগ্র দেশকে ৪ টি সেক্টরে ভাগ করে। ১১ এপ্রিল তা পুর্নগঠন করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন এবং ১১টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না। এটি ছিলো নৌ সেক্টর।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৪৮.
ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন?
  1. ৬নং সেক্টর
  2. ৭নং সেক্টর
  3. ৮নং সেক্টর
  4. ৯নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৮নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:

- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৭৪৯.
স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ক) ৭ জন
  2. খ) ৬৮ জন
  3. গ) ১৭৬ জন
  4. ঘ) ৬৭৬ জন
সঠিক উত্তর:
ক) ৭ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৭ জন
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন

তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী]
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

∴ বর্তমানে (২০২১) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
৭৫০.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান 'জল্লাদের দরবার' এর রচয়িতা কে ছিলেন?
  1. কল্যাণ মিত্র
  2. রাজু আহমেদ
  3. এম আর আকতার মুকুল
  4. নারায়ণ ঘোষ (মিতা)
সঠিক উত্তর:
কল্যাণ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্যাণ মিত্র
ব্যাখ্যা

⇒ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান 'জল্লাদের দরবার' এর রচয়িতা ছিলেন কল্যাণ মিত্র।

♦ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র: 
→ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
→ বস্ত্তত, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
→ এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
→ স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল:
• ‘চরমপত্র‘, 
• ‘জল্লাদের দরবার’, 
• মীর জাফরের রোজনামচা।

♦ ‘জল্লাদের দরবার’:
→ জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো।
→ এই ব্যঙ্গাত্মক সিরিজে তাকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রে চিত্রিত করা হয় এবং এই ভূমিকায় অভিনয় করেন রাজু আহমেদ। এটি মূলত ছিল রূপকধর্মী সিরিজ নাটক।
• 'জল্লাদের দরবার' নাটক রচনা ও প্রযোজনা করেন - কল্যাণ মিত্র।
→ এছাড়াও তিনি 'মীর জাফরের রোজনামচা' নামক আরেকটি নাটক রচনা করেন।

♦ ‘চরমপত্র’:
→ চরমপত্র ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান।
→ এটি ছিল ব্যঙ্গাত্মক ও শ্লেষাত্মক মন্তব্যে ভরপুর একটি অনুষ্ঠান, যা মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
→ রচনা ও উপস্থাপনা: এম আর আখতার মুকুল।
→ চরমপত্র প্রচারের পরিকল্পনা করেছিলেন: এমএ মান্নান [গণপরিষদ সদস্য]

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও পত্রিকার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক রিপোর্ট।

৭৫১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-সেক্টর ছিলো -
  1. ৮নং
  2. ১০নং
  3. ১১নং
  4. ২নং
সঠিক উত্তর:
১০নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০নং
ব্যাখ্যা
নৌ সেক্টর:
- ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এর মধ্যে ১০নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর।
- দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৭৫২.
Who hoisted the first flag in foreign mission during the liberation war?
  1. ক) Abu Sayeed Chowdhury
  2. খ) M. Hossain Ali
  3. গ) Syed Nazrul Islam
  4. ঘ) Yusuf Ali
সঠিক উত্তর:
খ) M. Hossain Ali
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) M. Hossain Ali
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রথম মিশন স্থাপিত হয় কলকাতায়।
- এদিন কলকাতায় অবস্থিত পাকিস্তান উপ-দূতাবাসের তৎকালীন ডেপুটি হাইকমিশনার এম হোসেন আলী পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।

(তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার)
৭৫৩.
'বীরাঙ্গনা'দের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় কত সালে?
  1. ক) ২০১৫ সালে
  2. খ) ২০১৬ সালে
  3. গ) ২০১৭ সালে
  4. ঘ) ২০১৮ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ২০১৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নারী:
- মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল।
- ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, তাতে নারীদের বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত।
- মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা অস্ত্রচালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- অপরদিকে সহযোদ্ধা হিসেবে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শুধুবা, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দান ও তথ্য সরবরাহ করে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এদেশের অগণিত নারী মুক্তিসেনা।
- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হন প্রায় তিন লাখ মা-বোন।
- তাঁরাও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী।
- তাদের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারিভাবে তাঁদের 'বীরাঙ্গনা' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৫ সালে তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং লিঙ্ক
৭৫৪.
সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক উপাধি কি?
  1. ক) বীরশ্রেষ্ঠ
  2. খ) বীর বিক্রম
  3. গ) বীর উত্তম
  4. ঘ) বীর প্রতীক
সঠিক উত্তর:
ক) বীরশ্রেষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বীরশ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা

মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন কে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করেন।
এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য তিনজন, সাবেক ই. পি. আর. সদস্য দুইজন এবং বিমান বাহিনী ও নৌ বাহিনীর একজন করে।
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর - সেনাবাহিনী
সিপাহী মোস্তফা কামাল - সেনাবাহিনী
সিপাহী হামিদুর রহমান - সেনাবাহিনী
ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন - নৌবাহিনী
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান – বিমান বাহিনী
ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ – সাবেক ই. পি. আর.
ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ – সাবেক ই. পি. আর.।
সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

৭৫৫.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের দিনে পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন কে?
  1. ক) জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী
  2. খ) মেজর খালেদ মোশাররফ
  3. গ) ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
  4. ঘ) মেজর শফিউল্লাহ
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা
ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চীফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল জ্যাকব পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের খসড়া দলিল নিয়ে অপরাহ্ণ এক ঘটিকায় ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল অরোরা এক হেলিকপ্টার বহরে তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে বিকাল চারটায় ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছেন। পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি চীফ অব স্টাফ গ্রুপ-ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকাল পাঁচটা এক মিনিটে রমনা রেসকোর্সে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যৌথ কম্যান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং পাকিস্তান বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৭৫৬.
'তারামন বিবি' কে?
  1. ক) ব্যাংকের একজন পরিচালক
  2. খ) একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা
  3. গ) জারিগান গায়িকা
  4. ঘ) নাটকের একটি চরিত্র
সঠিক উত্তর:
খ) একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা
ব্যাখ্যা
তারামন বিবি
- বাংলাদেশের দুইজন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন। 
- তিনি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের বীর উত্তম।
- তারামন মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন মুহিব হাবিলদার নামে এক মুক্তিযোদ্ধার উৎসাহে। 
- তারামনের বয়স যখন মাত্র ১৩ কিংবা ১৪ তখন তিনিই তারামনকে ক্যাম্পে রান্নাবান্নার জন্য নিয়ে আসেন।
- কিন্তু পরবর্তীতে তারামনের সাহস ও শক্তির পরিচয় পেয়ে মুহিব হাবিলদার তাকে অস্ত্র চালনা শেখানো শুরু করেন।
- তারামন রাইফেল ও স্টেনগান চালানো শিখেছিলেন।
- তিনি ১১ নম্বর সেক্টরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলার নদী-তীরবর্তী অঞ্চল মোহনগঞ্জ, তারাবর, কোদালকাটি ও গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়িতে অগ্রবর্তী দলের হয়ে কয়েকটি সশস্ত্র যুদ্ধে বীরত্বের সাথে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর সরকার মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবির সাহসীকতা ও বীরত্ব পূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে “বীর প্রতীক” উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- কিন্তু এরপর ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাঁকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। 
- ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহের একজন গবেষক প্রথম তাঁকে খুঁজে বের করেন এবং নারী সংগঠনগুলো তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। 
- ১৯৯৫ সালের ১৯শে ডিসেম্বর এক অনাড়ম্বর পরিবেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে তারামন বিবিকে বীরত্বের পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দেয়া হয়।

উৎস: মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি বীর প্রতীক, kurigram.gov.bd.
৭৫৭.
মুজিবনগর সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. তাজউদ্দীন আহমদ
  2. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  3. এম মনসুর আলী
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ: 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- রাষ্ট্রপতি।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম- উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)। 
- তাজউদ্দীন আহমদ- প্রধানমন্ত্রীএবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। 
- খন্দকার মোশতাক আহমদ- মন্ত্রী, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
- এম মনসুর আলী- মন্ত্রী, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
- এ এইচ এম কামরুজ্জামান- মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৭৫৮.
মুজিবনগর সরকারের উপরাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
  1. এএইচএম কামারুজ্জামান
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. তাজউদ্দিন আহমদ
  4. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত (অস্থায়ী) রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম। অর্থাৎ, তিনি বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমদ। তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। 
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এএইচএম কামারুজ্জামান (পুরো নাম - আবুল হাসানাত মুহাম্মদ কামারুজ্জান)
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৫৯.
What was the name of the military operation carried out by the Pakistani army on the night of 25 March 1971?
  1. Operation Searchlight 
  2. Operation Jackpot
  3. Operation Kilo Flight 
  4. Operation Clean Heart
সঠিক উত্তর:
Operation Searchlight 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Operation Searchlight 
ব্যাখ্যা

 • অপারেশন সার্চ লাইট:
-  মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বৈশিষ্ট্য গণহত্যা। 
-  পাকিস্তানী বাহিনী পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা শুরু করে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত্রিতে। 
-  বাঙালিকে শক্তির সাহায্যে দমন করার পরিকল্পনার নাম তারা দিয়েছিল 'অপারেশন সার্চ লাইট'।
-  বাঙালিদের দমন করার জন্য ৩ ব্যাটালিয়ন সৈন্য 'অপারেশন সার্চ লাইটে' অংশগ্রহণ করে।
-  রাত ১১ টার দিকে অপারেশন শুরু হয়। 
-  এই অপারেশনের লক্ষ্য ছিল গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগ। ঐ রাতে পুরো ঢাকা শহর আক্রান্ত হয়।
-  সে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও ছাত্রদের হত্যা করে জগন্নাথ হল, রোকেয়া হলসহ বিভিন্ন জায়গায় গণকবর দেয়া হয়।
-  সে রাতে ৭ জন শিক্ষক শহিদ হয়েছিলেন। শাঁখারি বাজার, তাঁতিবাজার, নয়াবাজার পুড়িয়ে দেয়া হয়। সে রাতে পাকিস্তানী বাহিনী ঢাকা শহরে দশ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছিল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬০.
মুক্তিযুদ্ধকালে কাদেরিয়া বাহিনী কোন অঞ্চলে সক্রিয় ছিল?
  1. টাঙ্গাইল
  2. ময়মনসিংহ
  3. বরিশাল
  4. পাবনা
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা

আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

৭৬১.
জীবনঢুলী চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু কী?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. চুকনগর গণহত্যা
  4. রায়েরবাজার গণহত্যা
সঠিক উত্তর:
চুকনগর গণহত্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুকনগর গণহত্যা
ব্যাখ্যা
জীবনঢুলী চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু চুকনগর গণহত্যা।

জীবনঢুলী:

- এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র।
- 'জীবনঢুলী'র পরিচালক ছিলেন তানভীর মোকাম্মেল।
- ‘জীবনঢুলী’ নির্মিত হয়েছে ২০১৩ সালে।
- জীবনঢুলী নিম্নবর্গের একটি হিন্দু ঢাকি ও তার পরিবারের ১৯৭১ সালের অভিজ্ঞতার কাহিনি।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় নিম্নবর্ণের এক ঢাকি জীবনকৃষ্ণ দাস ও তাঁর পরিবারের অভিজ্ঞতার গল্প বলা হয়েছে ‘জীবনঢুলী’ ছবিতে।
- বাংলাদেশ সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত ছবিটিতে চুকনগর গণহত্যাকে তুলে ধরা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর বাজার।
- ১৯৭১ সালের ২০ মে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সেখানে এক নৃশংস গণহত্যা চালায়।
- ইতিহাসে তা ‘চুকনগর গণহত্যা’ নামে পরিচিতি।

উৎস: i) ১৯ জানুয়ারি ২০১৪, প্রথম আলো।
        ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭৬২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজশাহী কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ৬নং সেক্টর
  2. ৭নং সেক্টর
  3. ৮নং সেক্টর
  4. ৯নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৭নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

• ৫নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

• ৬নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।

• ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭৬৩.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কয়টি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়?
  1. ৩ টি
  2. ৭ টি
  3. ১০ টি
  4. ৬৪ টি
সঠিক উত্তর:
৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ টি
ব্যাখ্যা
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়। এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- ১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।
-কর্নেল আতাউল গনি ওসমানী তিনটি ব্রিগেড আকারের ফোর্স গঠন করেন।
- যেগুলোর নামকরণ করা হয় তাদের অধিনায়কদের নামের অদ্যাংশ দিয়ে।
-যা এস ফোর্স, কে ফোর্স, জেড ফোর্স নামে পরিচিত।

(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৬৪.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  2. খ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  3. গ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
গ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী : এ এইচ এম কামরুজ্জামান
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

৭৬৫.
উইং কমান্ডার এম.কে. বাশার মুক্তিযুদ্ধের কততম সেক্টর প্রধান ছিলেন?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
৬ নং সেক্টর:

- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত।
- প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
- এই সেক্টরকে পাঁচটি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়। 
- সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল পাটগ্রামের নিকটবর্তী বুড়িমারিতে।
- এটিই ছিল একমাত্র সেক্টর যার হেড কোয়ার্টার ছিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭৬৬.
সংবিধানের কততম সংশোধনীতে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানে সংযোজন করা হয়?
  1. ক) চতুর্দশ
  2. খ) পঞ্চদশ
  3. গ) ষোড়শ
  4. ঘ) সপ্তদশ
সঠিক উত্তর:
খ) পঞ্চদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পঞ্চদশ
ব্যাখ্যা
সংবিধান আইন ২০১১ (পঞ্চদশ সংশোধনী) পাস হয় ২০১১ সালের ২৫ জুন
এই সংশোধনীতে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ও ৭ই মার্চের ভাষণ সংবিধানে সংযোজন করা হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৬৭.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় কয়টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়?
  1. একটি
  2. তিনটি
  3. দুইটি
  4. চারটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স: 

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনকে ১১টি সেক্টর ও তার অধীন অনেক সাব-সেক্টর ছাড়াও তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে বিভক্ত করা হয়।
- ফোর্সের নামকরণ করা হয় ব্রিগেডগুলোর অধিনায়কদের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে।

১/  জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে 'জেড' ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

২/ কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে 'এস' ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

৩/ খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে 'কে' ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৭৬৮.
মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর ছিল -
  1. মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায়
  2. ঢাকায়
  3. গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়
  4. কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে
সঠিক উত্তর:
কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন। 
- সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে। 
- আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের (মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত) সদস্যদের শপথ পাঠ করান। 
- শপথ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

উল্লেখ্য,
মুজিবনগর সরকার:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়: খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
- অর্থ মন্ত্রণালয়: এম. মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়: এ এইচ এম কামরুজ্জামান,
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী,
- চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব, 
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না?
  1. ৮নং
  2. ৯নং
  3. ১০নং
  4. ১১নং
সঠিক উত্তর:
১০নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিল ১০ নং সেক্টরের অধীনে।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭৭০.
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধি কোথায় অবস্থিত?
  1. মৌলভীবাজার
  2. রাঙামাটি
  3. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. যশোর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল:
- তাঁর জন্ম ১৯৪৯ সালে বরিশালের দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে।
- ১৯৬৮ সালে তিনি পাকিস্তানের চতুর্থ ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পূর্বে বক্সার হিসাবে সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা অবৈতনিক ল্যান্স নায়েক হিসাবে পদোন্নতি পান।
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোতায়েন করে।
- বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ কেরন।
- তিনি মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে আশুগঞ্জ, উজানিস্বর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- ১৮ এপ্রিল অসীম সাহসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন।
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দরুইন গ্রামের জনগণ মোস্তফা কামালকে তাঁর শাহাদাতের স্থানের পাশেই সমাহিত করে।
- মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৭৭১.
মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. খন্দকার মোশতাক আহমদ
  2. এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
  3. এম. মনসুর আলী
  4. এম.এ.জি ওসমানী
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- রাষ্ট্রপতি- শেখ মুজিবুর রহমান
- উপ-রাষ্ট্রপতি- সৈয়দ নজরুল ইসলাম (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি)
- প্রধানমন্ত্রী- তাজউদ্দীন আহমদ
- অর্থমন্ত্রী- ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী- এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী- খন্দকার মোশতাক আহমদ
- প্রধান সেনাপতি- কর্নেল (অব.) এম.এ.জি ওসমানী
- চিফ অব স্টাফ- লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ- গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৭২.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সেক্টরে নিয়মিত কোন সেক্টর কমান্ডার ছিলো না?
  1. ক) ৭ নং সেক্টর
  2. খ) ৮ নং সেক্টর
  3. গ) ৯ নং সেক্টর
  4. ঘ) ১০ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
•  তার মধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর। দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
• ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
• যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৭৩.
মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব কে  পালন করেন? 
  1. এ কে খন্দকার
  2. এম এ জি ওসমানী
  3. এম এ রব
  4. কে এম শফিউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
এম এ রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম এ রব
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ ই এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের-
- মুক্তিযুদ্ধে প্রধান সেনাপতি ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ জি ওসমানী।
- মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি/সরকার প্রধান/ ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।
- মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।

এছাড়াও,
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন- সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- তাজউদ্দিন আহমদ,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
- অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- এম.মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ওয়েবসাইট। 
৭৭৪.
কোন সেক্টর নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ড গঠিত হয়?
  1. ক) ৭ নং সেক্টর
  2. খ) ৮ নং সেক্টর
  3. গ) ৯ নং সেক্টর
  4. ঘ) ১০ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• সেক্টর:
 - ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এরমধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর। দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৫.
৪ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ক) মেজর কে এম শফিউল্লাহ
  2. খ) মেজর এ এন এম নুরুজ্জামান
  3. গ) মেজর মীর শওকত আলী
  4. ঘ) মেজর চিত্ত রঞ্জন দত্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) মেজর চিত্ত রঞ্জন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মেজর চিত্ত রঞ্জন দত্ত
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার কতগুলো সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
মুক্তিকালীন ১১টি সেক্টরের কমান্ডারগণ:
১ নং সেক্টর:
- মেজর জিয়াউর রহমান
- মেজর রফিকুল ইসলাম
২ নং সেক্টর:
- মেজর খালেদ মোশাররফ
- মেজর এ.টি.এম হায়দার
৩ নং সেক্টর:
- মেজর কে. এম শফিউল্লাহ
- মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান
৪ নং সেক্টর:
- মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
- ক্যাপ্টেন এ রব
৫ নং সেক্টর:
- মেজর মীর শওকত আলী
৬ নং সেক্টর:
- উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার
৭ নং সেক্টর:
- মেজর নাজমুল হক
- সুবেদার মেজর এ. রব
- মেজর কাজী নূরুজ্জামান
৮ নং সেক্টর:
- মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
- মেজর এম.এ মঞ্জুর
৯ নং সেক্টর:
- মেজর এম.এ জলিল
- মেজর এম. এ মঞ্জুর ও
- মেজর জয়নাল আবেদীন
১০ নং সেক্টর: কোন নিয়মিত সেক্টর ছিলো না
১১ নং সেক্টর:
- মেজর এম. আবু তাহের
- স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)

৭৭৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১ নং সেক্টরের অধীনে ছিল -
  1. ময়মনসিংহ
  2. কুষ্টিয়া
  3. হবিগঞ্জ
  4. যশোর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।

⇒ সেক্টরগুলো:
- ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি এবং ফেনী: ১নং সেক্টর,
- ঢাকা, কুমিল্লা, আখাউড়া–ভৈরব, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের কিছু অংশ: ২ নং সেক্টর,
- হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ এবং ঢাকার কিছু অংশ: ৩ নং সেক্টর,
- সিলেট জেলার অংশবিশেষ: ৪ নং সেক্টর,
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ: ৫ নং সেক্টর,
- দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর: ৬ নং সেক্টর,
- রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল এবং রংপুরের কিছু অংশ: ৭ নং সেক্টর,
- কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ: ৮ নং সেক্টর,
- পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ: ৯ নং সেক্টর,
- সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নৌ কমান্ডো ও আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন: ১০ নং সেক্টর,
- ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল: ১১ নং সেক্টর।

উৎস: বিবিসি বাংলা।
৭৭৭.
ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ কোন সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন?
  1. ৪ নং
  2. ১ নং
  3. ৮ নং
  4. ৭ নং
সঠিক উত্তর:
১ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ নং
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ:
- বীরত্বের জন্য প্রদত্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক পুরস্কার বীরশ্রেষ্ঠ। 
- যুদ্ধক্ষেত্রে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী যোদ্ধার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক দেয়া হয়। 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে।

• সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ -
⇒ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
- সেক্টর: ৭ নং,
- মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ)

⇒ সিপাহী হামিদুর রহমান,
- সেক্টর: ৪ নং,
- মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১

⇒ সিপাহী মোস্তফা কামাল,
- সেক্টর: ২ নং,
- মৃত্যু: এপ্রিল ১৮, ১৯৭১

⇒ মোহাম্মদ রুহুল আমিন,
- সেক্টর: ১০ নং,
- মৃত্যু: ডিসেম্বর ১০, ১৯৭১

⇒ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান,
- বাংলাদেশ বিমান বাহিনী,
- মৃত্যু: আগস্ট ২০, ১৯৭১

⇒ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ,
- সেক্টর: ১ নং,
- মৃত্যু: এপ্রিল ৮, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে ১ম শহীদ)

⇒ নূর মোহাম্মদ শেখ,
- সেক্টর: ৮ নং,
- মৃত্যু: ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৭৭৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ১১ টি
  2. ১২ টি
  3. ২৯ টি
  4. ৬৪ টি
সঠিক উত্তর:
৬৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৪ টি
ব্যাখ্যা

জেনারেল এম.এ. জি ওসমানী মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের মাধ্যমে যুদ্ধকৌশলের সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টর এবং ৬৪ টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

৭৭৯.
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীকে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতা করেছে কারা?
  1. রাজাকার
  2. আলবদর
  3. আলশামস
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
অবরুদ্ধ বাংলাদেশ ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি: 
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ জুড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা নির্যাতন, গণহত্যা আর ধ্বংসলীলায় মেতে উঠে।
- তাদের প্রধান লক্ষ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ এদেশের ছাত্রসমাজ, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়।
- পাকিস্তানিরা বিশ্বাস করত পূর্ব পাকিস্তানের আন্দোলন সংগ্রামের পেছনে ভারতের ইন্ধনে হিন্দুরা কাজ করছে।
- রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত পাকিস্তানি বাহিনী পৌঁছে যায়।
- মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে।
- পরিকল্পিতভাবে এদেশকে মেধাশূন্য করার জন্য পাকিস্তানি বাহিনী বরেণ্য সাহিত্যিক, শিল্পী, কবি, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
- পাকিস্তানি বাহিনীকে নির্যাতন, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ইত্যাদি মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতা করেছে রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটি।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮০.
এম.এ.জি. ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয় -
  1. ক) ১১ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১৪ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ক) ১১ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১১ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
⇨ তাজউদ্দীন আহমদ আওয়ামী লীগের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের একটি অধিবেশন আহ্বান করেন। উক্ত অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে মুক্তিযুদ্ধ ও সরকার পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়।
⇨ এই মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করেন।
⇨ সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়। তাজউদ্দীন আহমদকে
প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, খন্দকার মোশতাক আহমদ ও এএইচএম কামরুজ্জামানকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য নিয়োগ করা হয়।
⇨ ১১ এপ্রিল এম.এ.জি. ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।
⇨ প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ বেতারে মন্ত্রিপরিষদ গঠনের ঘোষণা দিয়ে ভাষণ প্রদান করেন।
⇨ ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার এক আম বাগানে মন্ত্রিপরিষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
⇨ দেশি—বিদেশি প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১ টায় শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতেই বাংলাদেশকে 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি একে একে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর তিন সহকর্মীকে পরিচয় করিয়ে দেন।  

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮১.
অ্যালেন গিন্সবার্গ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর কোন কবিতা রচনা করেছিলেন?
  1. ক) উচ্চারণগুলি শোকের
  2. খ) স্বাধীনতা, উলঙ্গ কিশোর
  3. গ) সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড
  4. ঘ) কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
সঠিক উত্তর:
গ) সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড
ব্যাখ্যা
সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড:
- সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড - বিখ্যাত মার্কিন কবি এলেন গিন্সবার্গ রচিত একটি কবিতা যা থেকে পরে গান করা হয়েছিল।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে যশোর রোডে সীমান্তের ওপারে শরণার্থী শিবির ঘুরে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তা নিয়ে তিনি লিখেন বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’।
- এই কবিতার লাইন সংখ্যা ১৫২ টি। এই দীর্ঘ কবিতার সাথে সুর দিয়ে এটিকে গানে রূপ দিয়েছিলেন তিনি।
- আমেরিকায় ফিরে গিয়ে তার বন্ধু বব ডিলান ও অন্যান্য বিখ্যাত গায়কদের সহায়তায় এই গান গেয়ে কনসার্ট করেছিলেন। এভাবেই বাংলাদেশী শরণার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন গিন্সবার্গ।
- এই কবিতার বাংলা ভাষান্তর করেন খান মোহাম্মদ ফারাবি।     

অন্যদিকে -
- গিন্সবার্গের সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা 'আপনার ভিতরের চাঁদের আলো অনুসরণ করুন; পাগলামি লুকাবেন না।'
- 'উচ্চারণগুলি শোকের' আবুল হাসান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা।
- 'স্বাধীনতা, উলঙ্গ কিশোর' নির্মলেন্দু গুণ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা।
- 'কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প' রুদ্র মুহান্মদ শহীদুল্লাহ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা।

উৎস: প্রথম আলো, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬।
৭৮২.
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন?
  1. ১নং
  2. ৪ নং
  3. ১০ নং
  4. ১১ নং
সঠিক উত্তর:
১০ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ নং
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন:
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয়, রুহুল আমিন তাদের অন্যতম।
- তাঁর পদবী ছিল স্কোয়াড্রন ইঞ্জিনিয়ার।
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের জন্ম ১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার বাঘচাপড়া গ্রামে।
- ১৯৫৩ সালে তিনি নৌ বাহিনীতে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এপ্রিল মাসে তিনি ২নং সেক্টরে যোগদান করেন।
- পরবর্তীতে ১০নং নৌ সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রূপসা নদীতে খুলনা শীপইয়ার্ডের কাছে সম্মুখ যুদ্ধে বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ পলাশকে রক্ষা করতে গিয়ে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায় এ বীর সন্তান শহিদ হন।
- সমাধিস্থল: রূপসা ফেরিঘাটের লুকপুরে।
- নোয়াখালীতে তাঁর জন্মস্থানে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিন স্মৃতি পাঠাগার ও জাদুঘর রয়েছে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
৭৮৩.
ঢাকা শহরে 'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালনার মূল দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  2. জেনারেল টিক্কা খান
  3. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  4. জেনারেল খাদিম হোসেন রেজা
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট:
- পাকিস্তানী স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মুক্তিকামী বাঙালিদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে, সামরিক কর্তৃপক্ষ একে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিহিত করে।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাত সাড়ে এগারটা থেকে মধ্য মে পর্যন্ত বড় বড় শহরে অভিযান পরিচালিত হয়।
- অপারেশন সার্চলাইট  অভিযান শুরুর সময় নির্ধারিত ছিল ২৬ মার্চ রাত ১টা।
- সিদ্ধান্ত হয়, ২৫ মার্চ রাত ১টায় অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযানে ঢাকায় নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল খাদিম হোসেন রেজা।
- অপারেশন সার্চলাইটে সেনাবাহিনী নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। এতে হাজার হাজার নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষ নিহত হয়।
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা এবং অন্যান্য স্থানগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৭৮৪.
বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন কোন যুদ্ধজাহাজে কর্মরত অবস্থায় শহিদ হন?
  1. বিএনএস পদ্মা
  2. বিএনএস পলাশ
  3. বিএনএস চিত্রা
  4. বিএনএস তিতুমীর
সঠিক উত্তর:
বিএনএস পলাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিএনএস পলাশ
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর খুলনার রূপসা নদীতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ভুলবশত বোমাবর্ষণে ‘বিএনএস পলাশ’ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি জাহাজ রক্ষার চেষ্টা করেন এবং পরবর্তীতে রাজাকারদের হাতে শহিদ হন।

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন:
- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন 'পলাশ' নামক গানবোটের ইঞ্জিনরুম আর্টিফিশার ছিলেন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়, তিনি ভারতের হলদিয়া নৌঘাটি থেকে মংলা বন্দরের দিকে অগ্রসর হন।
- 'পদ্মা' ও 'পলাশ' গানবোটের মাধ্যমে পাকিস্তানি নৌ ঘাঁটি 'তিতুমীর' দখলের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানো হয়েছিল।
- ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১ তারিখে, এই অভিযানের সময় 'পলাশ' গানবোটে রুহুল আমিন সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

উল্লেখ্য,
- যখন ভারতীয় বিমানগুলো আক্রমণ শুরু করেছিল, রুহুল আমিন সঙ্গীদের পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, গানবোট সচল রাখতে হবে। একটি গোলা পলাশের ইঞ্জিন রুমে আঘাত করলে, রুহুল আমিন নদীতে লাফিয়ে পড়ে আহত হন। পরে, পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের হাতে তার নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। রুহুল আমিনের এই সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ তাকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করেছে।

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

৭৮৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সাহায্য করতে কোন দেশ বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে নৌবহর প্রেরণ করে?
  1. ক) চীন
  2. খ) রাশিয়া
  3. গ) যুক্তরাষ্ট্র
  4. ঘ) যুগোশ্লাভিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানকে রক্ষার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে উদ্দেশ্যে টাস্কফোর্স-৭৪ প্রেরণ করে। মার্কিন সপ্তম নৌবহরের কয়েকটি জাহাজের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স-৭৪ গঠন করা হয়।
এতে ছিলো তৎকালীন সময়ের বিশ্বের সর্ববৃহৎ যুদ্ধজাহাজ বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের কঠিন অবস্থানের কারণে তা শেষ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করতে পারেনি।
(সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার)
৭৮৬.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর কোন্‌ সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ২ (দুই) নম্বর
  2. ৩ (তিন) নম্বর
  3. ৪ (চার) নম্বর
  4. ৫ (পাঁচ) নম্বর
সঠিক উত্তর:
২ (দুই) নম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ (দুই) নম্বর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরসমূহ:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার (অধিনায়ক) নিয়োগ করা হয়।
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।

- ২ নং সেক্টরের অন্তর্ভূক্ত অঞ্চল - ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে - ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- এই সেক্টরে ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন - প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যান্য সেক্টর: 
সেক্টর নং - ১:
- ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি এবং ফেনী পর্যন্ত ছিল ‘সেক্টর নং ১’।
- ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান এবং জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন মেজর রফিকুল ইসলাম।
- আর এই সেক্টরকে পাঁচটি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।

সেক্টর নং - ৩:
- হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ এবং ঢাকার কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৩’ এর আওতায়।
- এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর কেএম শফিউল্লাহ। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন মেজর এএনএম নুরুজ্জামান।
- আর এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।

সেক্টর নং - ৪:
- সিলেট জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ৪’। এই সেক্টরেও ছিল ৬টি সাব-সেক্টর।
- মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর সিআর দত্ত (পরে মেজর জেনারেলা) এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।

সেক্টর নং - ৫:
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ‘সেক্টর নং ৫‘ গঠিত হয় ।
- মেজর মীর শওকত আলী ছিলেন সেক্টর কমান্ডার।
- এই সেক্টরকেও ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়ছিল।

সেক্টর নং - ৬:
- দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৬’।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এমকে বাশার। এই সেক্টরে ছিল ৫টি সাব-সেক্টর।

সেক্টর নং - ৭:
- রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল এবং রংপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৭’ এর অন্তর্ভুক্ত।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তিনজন -মেজর নাজমুল হক, সুবেদার মেজর এ রব ও মেজর (পরে লে. কর্নেল) কাজী নুরুজ্জামান।
- এই সেক্টরে ছিল ৯টি সাব-সেক্টর।

সেক্টর নং - ৮:
- কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৮’ এর অন্তর্ভুক্ত।
- এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর (পরে লে.কর্নেল) আবু ওসমান চৌধুরী ও আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর (পরে মেজর জেনারেল) এম এ মঞ্জুর।
- এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।

সেক্টর নং - ৯:
- পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৯’।
- ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম এ জলিল এবং তারপর মেজর জয়নাল আবেদীন। এছাড়াও অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন মেজর এম এ মঞ্জুর।
- এই সেক্টরে ছিল ৩টি সাব-সেক্টর।

সেক্টর নং - ১০:
- সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নৌ কমান্ডো ও আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন ছিল ‘সেক্টর নং ১০’ এর অধীনে।
- এ সেক্টরে নৌ কমান্ডোরা যখন যে সেক্টরে মিশনে নিয়োজিত থাকতেন, তখন সে সেক্টরের কমান্ডারের নির্দেশে কাজ করতেন।
- এই সেক্টরে কোনো সাব-সেক্টর ছিল না এবং ছিল না নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার। প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ বাহিনী ছিল এটি।

সেক্টর নং - ১১:
- কিশোরগঞ্জ বাদে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ১১’।
- ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।
- নভেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু তাহের ও তারপর ফ্লাইট লেফট্যান্যান্ট (পরে উইং কমান্ডার) এম হামিদুল্লাহ খান।
- এই সেক্টরকে ৭টি সাব-সেক্টর ভাগ করা হয়েছিল।

উৎস: ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া এবং BBC বাংলা প্রতিবেদন।
৭৮৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ৬ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন কে?
  1. মেজর সি আর দত্ত
  2. মেজর মীর শওকত আলী
  3. উইং কমান্ডার খাদেমুল বাশার
  4. মেজর নাজমুল হক
সঠিক উত্তর:
উইং কমান্ডার খাদেমুল বাশার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইং কমান্ডার খাদেমুল বাশার
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার কতগুলো সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
মুক্তিকালীন ১১টি সেক্টরের কমান্ডারগণ:
১ নং সেক্টর:
- মেজর জিয়াউর রহমান
- মেজর রফিকুল ইসলাম
২ নং সেক্টর:
- মেজর খালেদ মোশাররফ
- মেজর এ.টি.এম হায়দার
৩ নং সেক্টর:
- মেজর কে. এম শফিউল্লাহ
- মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান
৪ নং সেক্টর:
- মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
- ক্যাপ্টেন এ রব
৫ নং সেক্টর:
- মেজর মীর শওকত আলী
৬ নং সেক্টর:
- উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার
৭ নং সেক্টর:
- মেজর নাজমুল হক
- সুবেদার মেজর এ. রব
- মেজর কাজী নূরুজ্জামান
৮ নং সেক্টর:
- মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
- মেজর এম.এ মঞ্জুর
৯ নং সেক্টর:
- মেজর এম.এ জলিল
- মেজর এম. এ মঞ্জুর ও
- মেজর জয়নাল আবেদীন
১০ নং সেক্টর: কোন নিয়মিত সেক্টর ছিলো না
১১ নং সেক্টর:
- মেজর এম. আবু তাহের
- স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭৮৮.
When was the Mujibnagar government formed?
  1. ক) March 16, 1971
  2. খ) April 10, 1971
  3. গ) April 17, 1971
  4. ঘ) April 13, 1971
সঠিক উত্তর:
খ) April 10, 1971
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) April 10, 1971
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 

- এ সরকারের সদর দপ্তর প্রথম স্থাপিত হয় মুজিবনগরে (মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা)।
- পরবর্তীকালে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রধানত নিরাপত্তা এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানের সুবিধার্থে এ সরকারের প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর হয়।
- এ সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাই তাঁরই নামানুসারে বৈদ্যনাথতলার নতুন নামকরণ হয় মুজিবনগর এবং অস্থায়ী সরকারও পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।

তথ্যসূত্র: - ইতিহাস তৃতীয় পত্র, BA & BSS প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৯.
মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে -
  1. ক) ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল
  2. খ) ১৯৭১ সালের ১৫ এপ্রিল
  3. গ) ১৯৭১ সালের ১২ এপ্রিল
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিতি। 
- ১০ এপ্রিল ঘোষিত মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে।
- বৈদ্যনাথতলার পরিবর্তিত নাম মুজিবনগর। 
- ১০ এপ্রিল ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে মুজিবনগর প্রশাসনের সকল কর্মকান্ডের বৈধকরণ করা হয়।
- যুদ্ধকালীন বাংলাদেশের মৌলিক আইনের ভিত্তি ছিল এই স্বাধীনতার সনদ। 
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশের সংবিধান কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এটিই ছিল দেশের সংবিধান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯০.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বভূষণ খেতাবপ্রাপ্ত সর্বকনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা-
  1. ক) শরিফুল ইসলাম
  2. খ) শহীদুল ইসলাম
  3. গ) চাঁন মিয়া
  4. ঘ) মুন্সী আব্দুর রব
সঠিক উত্তর:
খ) শহীদুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শহীদুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বভূষণ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে শহীদুল ইসলাম সর্বকনিষ্ঠ।
- ১৯৭১ সালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- শহিদুল ইসলাম লালু ৪২৬ জন গ্যাজেটভূক্ত বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ৪২৫ নং ব্যক্তি।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিবাহিনী ছাড়াও দেশের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় কয়েকটি সশস্ত্র আঞ্চলিক বাহিনী গড়ে ওঠে। এর মধ্যে কাদেরিয়া বাহিনী অন্যতম। এ বাহিনীর একটি দলের সঙ্গে ছিলেন শহীদুল ইসলাম।
- শহীদুল ইসলামের গ্রামের বাড়ী ছিলো সুখী পলাশপাড়া, গোপালপুর, টাঙ্গাইল।
- শুরুতে তিনি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য- সহযোগিতা, অস্ত্র-গোলাবারুদ বহন ও সংবাদ সংগ্রহের কাজ করতেন।
- পরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরায় অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নেন।

উৎস: প্রথম আলো
৭৯১.
অপারেশন ওমেগা কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের মাঝে ত্রাণকার্য পরিচালনা
  2. মুক্তিযুদ্ধে নৌ-কমান্ডার অপারেশন
  3. মুক্তিযুদ্ধে ক্র্যাক প্লাটুন কর্তৃক অপারেশন
  4. পাকিস্থানি বাহিনী কর্তৃক ২৫ মার্চ অপারেশন
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের মাঝে ত্রাণকার্য পরিচালনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের মাঝে ত্রাণকার্য পরিচালনা
ব্যাখ্যা

অপারেশন ওমেগা:
- বাংলাদেশের মুক্তি-আন্দোলনের পক্ষে ইংল্যান্ডে জন্ম নেয় অনন্য উদ্যোগ ‘অপারেশন ওমেগা’।
- এর সদস্যরা মনে করেন বাংলাদেশের ভেতরে দুর্গত জীবনযাপন করছেন যেসব মানুষ, তাদের কাছে খাবার, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছে দেয়া অপর মানুষের দায়িত্ব।
- ব্রিটিশ নাগরিক রজার মুডির যুদ্ধবিরোধী পত্রিকা ‘পিস নিউজ’-এ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়। 
- সাহায্য সামগ্রীসহ সাবেক ব্রিটিশ পুলিশ মার্ক ডুরানের নেতৃত্বে ৪ সদস্য বিশিষ্ট টীম ১ জুলাই লন্ডনের ট্রাফেলগার স্কোয়ার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের উদেশ্যে যাত্রা করে।
- মেডিকেল ও খাবার সহায়তা ছাড়াও নানাভাবে তাঁরা তাঁদের কাজ চালান।
- ১৯৭১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এদের কয়েকজন আটক হয় এবং পাকিস্তান সরকার তাঁদের সাজা দেয়।
- বলা হয়, ফ্লাইট এ পাকিস্তান ত্যাগ করা সময়কাল পর্যন্ত তারা সাজা ভোগ করবেন।

উৎস: i) প্রথম আলো
ii) সংগ্রামের নোটবুক।

৭৯২.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সেক্টরে নিয়মিত কোন সেক্টর কমান্ডার ছিলো না?
  1. ক) ৮ নং সেক্টর
  2. খ) ১০ নং সেক্টর
  3. গ) ৭ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৬ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এর মধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর।
- দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৭৯৩.
মুক্তিযুদ্ধে মেজর এম.এ জলিল কোন সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন?
  1. ৭নং সেক্টর
  2. ৬নং সেক্টর
  3. ৯নং সেক্টর
  4. ৮নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৯নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ৯নং সেক্টর: বরিশাল-পটুয়াখালী-খুলনার অংশ; কমান্ডার এম.এ জলিল, মঞ্জুর, জয়নাল আবেদীন।

মুক্তিযুদ্ধে ৯নং সেক্টর:
- বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।
- এই সেক্টরে প্রায় বিশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করে।
- এই সেক্টরকে টাকি, হিঙ্গলগঞ্জ ও শমসেরনগর তিনটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- ডিসেম্বর মাসে চূড়ান্ত আক্রমণের পূর্বে এই সেক্টরকে ৮ নং সেক্টরের সঙ্গে একীভূত করা হয় এবং এর দায়িত্ব অর্পিত হয় মেজর মঞ্জুরের উপর।

এছাড়া,
- ৭ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।
- ৬ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
- ৮ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম এ মঞ্জুর।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৭৯৪.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মৃত্যুবরণকারী ইতালির নাগরিকের নাম কী ছিল?
  1. মাদার তেরেসা
  2. উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড
  3. মাদার মারিও ভেরেনজি
  4. জর্জ হ্যারিসন
সঠিক উত্তর:
মাদার মারিও ভেরেনজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাদার মারিও ভেরেনজি
ব্যাখ্যা
মাদার মারিও ভেরেনজি:
- মাদার মারিও ভেরেনজি ইতালির নাগরিক ছিলেন।
- ফাদার ভেরেনজি যশোর ফাতিমা ক্যাথলিক হাসপাতালের চারজন ইতালীয় যাজকের একজন ছিলেন।
- সকলেই জাভেরিয়ান আদেশের সদস্য ছিলেন।
- বাংলাদেশের যশোর জেলায় স্থাপিত খ্রিস্টান চার্চের দায়িত্ব পালনকালে ৪ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হন।
- তাকে যশোর ক্যাথলিক হাসপাতালের মাঠে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৫.
মুক্তিযুদ্ধকালীন 'হেমায়েত বাহিনী' কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করে?
  1. মানিকগঞ্জ
  2. পাবনা
  3. বরিশাল
  4. কুষ্টিয়া
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধকালীন 'হেমায়েত বাহিনী' বরিশাল অঞ্চলে যুদ্ধ করে।

• আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

৭৯৬.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম ইউরোপীয় দেশ কোনটি?
  1. বেলজিয়াম
  2. পূর্ব-জার্মানি
  3. স্পেন
  4. পর্তুগাল
সঠিক উত্তর:
পূর্ব-জার্মানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ব-জার্মানি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরব দেশ:
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় - ইরাক।
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২৮ মার্চ, ১৯৭৩ সালে।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে।

• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরো কিছু উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্র:
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার - সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ বা প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে - ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ২৫ মে ১৯৭২।

তথ্যসূত্র - পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।
৭৯৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন আন্তর্জাতিক গায়ক বাংলাদেশের সমর্থনে কনসার্ট আয়োজন করেন?
  1. পল ম্যাককার্টনি
  2. বব ডিলান
  3. জন লেনন
  4. জর্জ হ্যারিসন
সঠিক উত্তর:
জর্জ হ্যারিসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ হ্যারিসন
ব্যাখ্যা

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিশ্বখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- বাংলাদেশের জনগণের সাহায্যার্থে কিছু করার জন্য তিনি প্রথম যোগাযোগ করেন জনপ্রিয় বিটলসের অন্যতম সদস্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।

উল্লেখ্য,
- জন লেনন শেষ পর্যন্ত কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেননি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC।

৭৯৮.
মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন-
  1. ক) কর্নেল এম এ জি ওসমানী
  2. খ) এ কে খন্দকার
  3. গ) কর্নেল এম এ রব
  4. ঘ) কে এম শফিউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
গ) কর্নেল এম এ রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্নেল এম এ রব
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ ই এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের-
- মুক্তিযুদ্ধে প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ জি ওসমানী।
- মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি/সরকার প্রধান/মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ এর দায়িত্ব পালন করেন - কর্নেল এম এ রব।
- মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।

- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন- সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- তাজউদ্দিন আহমদ,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
- অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- এম.মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি
৭৯৯.
September on Jessor Road- কবিতাটির রচিয়তা কে?
  1. ক) Juliam Spilsberg
  2. খ) Julian Ginsberg
  3. গ) Allen Spilsberg
  4. ঘ) Allen Ginsberg
সঠিক উত্তর:
ঘ) Allen Ginsberg
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Allen Ginsberg
ব্যাখ্যা
• সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড (ইংরেজি ভাষায়: September on Jessore Road) বিখ্যাত মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ রচিত একটি কবিতা যা থেকে পরে গান করা হয়েছিল।
- এটি রচিত হয়েছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশর মুক্তিযুদ্ধ ও শরণার্থীদের নিয়ে। 

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৮০০.
'অপারেশন কিলো ফ্লাইট' পরিচালনা করে-
  1. বিমান বাহিনী
  2. গেরিলা
  3. নৌবাহিনী
  4. মিত্র বাহিনী
সঠিক উত্তর:
বিমান বাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমান বাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন কিলো ফ্লাইট:
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্ম ও গোড়াপত্তনের ইতিহাস।
- ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত এক বিমানঘাঁটিতে জন্ম হয়েছিল যে ইতিহাসের, সেই ইতিহাস শত্রুর চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অপারেশনগুলোর সমন্বিত সাংকেতিক নাম।
- এই কিলো ফ্লাইটের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন দুঃসাহসিক বিমান যোদ্ধারা।
- ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্ভাবনাটিও চিরতরে হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও ডেইলি স্টার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২।