বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)

মোট প্রশ্ন২,৫৩৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)

PrepBank · পাতা / ২৬ · ৬০১৭০০ / ২,৫৩৩

৬০১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল?
  1. ক) ১১ টি
  2. খ) ৩২ টি
  3. গ) ৫২ টি
  4. ঘ) ৬৪ টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬৪ টি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়। এই সেক্টরগুলোকে আবার ৬৪ টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়।
-  যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০২.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন কে?
  1. রিচার্ড নিক্সন
  2. থমাস জেফারসন
  3. জন অ্যাডামস
  4. আব্রাহাম লিংকন
সঠিক উত্তর:
রিচার্ড নিক্সন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিচার্ড নিক্সন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে:
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট: রিচার্ড নিক্সন,
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী (Secretary of State: উইলিয়াম পিয়ার্স রজার্স,
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা: হেনরি কিসিঞ্জার,
- জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি: জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ,
- পাকিস্তানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত: জোসেফ এস. ফারল্যান্ড,
- ঢাকায় নিযুক্ত কনসাল জেনারেল: আর্চার কে. ব্লাড,
- ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত: কেনেথ বি. কিটিং।

উৎস: U.S. Department of State (.gov) ওয়েবসাইট।
৬০৩.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় 'বাতেন বাহিনী' কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করেন?
  1. টাঙ্গাইল
  2. কুমিল্লা
  3. সিলেট
  4. নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা

আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

৬০৪.
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ এর সমাধি কোথায়?
  1. ক) নড়াইল
  2. খ) যশোর
  3. গ) রাঙামাটি
  4. ঘ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সঠিক উত্তর:
খ) যশোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যশোর
ব্যাখ্যা
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্ম ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬, যশোর জেলার অর্ন্তঃগত নড়াইল মহকুমার মহিষখোলা গ্রামে।
- ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫৯, তদানিন্তন ইপিআর-এ সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন।
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর গঠন হলে তাঁর উপর ন্যস্ত হয় ৮নং সেক্টরের দায়িত্ব।
- তিনি নিয়োগ পান বয়রা সাব-সেক্টরে।
- এই সাব-সেক্টরের অধীনে গোয়ালহাটি, ছুটিপুর ঘাট, ছুটিপুর সেনাক্যাম্প, বরনী আক্রমণে অংশ নেন এবং বীরত্ব প্রদর্শন করেন।
- বরনীতে নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার জীবন রক্ষা করেন।
- ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১, সুতিপুর প্রতিরক্ষা অবস্থানের সামনে ষ্ট্যান্ডিং পেট্রোলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণ নস্যাৎ করে দেন প্রায় একাই।
- আহত অবস্থায় অধীনস্থ সৈনিকদের নিরাপদে পিছনে পাঠিয়ে দেন এবং শত্রুর মোকাবেলা অব্যাহত রাখার সময় শাহাদাত বরণ করেন।
- পরবর্তীতে সহযোদ্ধারা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্র যশোরের কাশীপুরে সমাহিত করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

উৎস:- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৬০৫.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্টপতি ছিলেন-
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) মাওলানা ভাষানী
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন এম মনসুর আলী। স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন এএইচএম কামরুজ্জামান এবং পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬০৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ৮ টি
  2. খ) ৯ টি 
  3. গ) ১০ টি 
  4. ঘ) ১১ টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১ টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে সংগঠিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনায় অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের সমগ্র ভূখণ্ডকে ১১টি যুদ্ধক্ষেত্র বা সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় কাদেরিয়া বাহিনী, হেমায়েত বাহিনী, আকবর বাহিনী, কুদ্দুস বাহিনী, আফসার বাহিনী প্রভৃতি।
- ভারতে আলাদাভাবে গঠিত হয় মুজিব বাহিনী।
-ভারত সরকার বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদেরকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৭.
সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক উপাধি কি?
  1. ক) বীর প্রতীক
  2. খ) বীর বিক্রম
  3. গ) বীর উত্তম
  4. ঘ) বীরশ্রেষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বীরশ্রেষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বীরশ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
→ বীরশ্রেষ্ঠ,
→ বীরউত্তম,
→ বীরবিক্রম এবং
→ বীরপ্রতীক।

এর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ।
→ সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি পান ৭ জন,
→ দ্বিতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরউত্তম’ পান ৬৮ জন,
→ তৃতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরবিক্রম’ পান ১৭৫ জন এবং
→  চতুর্থ বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরপ্রতীক’ পান ৪২৬ জন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬০৮.
তারামন বিবি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ৮
  2. খ) ৯
  3. গ) ১০
  4. ঘ) ১১
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের দুইজন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- তিনি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের বীর উত্তম। 
- ১৯৯৫ সালের ১৯শে ডিসেম্বর এক অনাড়ম্বর পরিবেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে তারামন বিবিকে বীরত্বের পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দেয়া হয়।

সূত্র:  কুড়িগ্রাম জেলার ওয়েবসাইট
৬০৯.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে খেতাব প্রাপ্ত বিদেশি মুক্তিযোদ্ধা ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড কোন দেশে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন?
  1. পোল্যান্ড
  2. জার্মানি
  3. নেদারল্যান্ডস
  4. অস্ট্রেলিয়া
সঠিক উত্তর:
নেদারল্যান্ডস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেদারল্যান্ডস
ব্যাখ্যা
ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ওডারল্যান্ড ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং
সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ওডারল্যান্ড ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬১০.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. মে. জে. জিয়াউর রহমান
  2. মে. জে. সফিউল্লা
  3. লে. জে. এইচ. এম. এরশাদ
  4. জে. আতাউল গণি ওসমানি
সঠিক উত্তর:
জে. আতাউল গণি ওসমানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জে. আতাউল গণি ওসমানি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম প্রধান সেনাপতি ছিলেন জে. আতাউল গণি ওসমানি।

জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী:

- জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর জেনারেল পদে উন্নীত হন।
- তাঁর পদোন্নতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬১১.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১২
  4. ১৩
সঠিক উত্তর:
১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১
ব্যাখ্যা
সেক্টর ও সাব সেক্টরসমূহ:

- ১১ টি সেক্টরের অধিনে ৬৪ টি সাবসেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে ১নং সেক্টর গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম। 
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে ২নং সেক্টর গঠিত। আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে ৩নং সেক্টর গঠিত হয়।
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে ৪নং সেক্টর গঠিত।
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে ৫নং সেক্টর গঠিত।
- ৬ নং সেক্টর  সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত।
- ৭ নং সেক্টর  রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- ১০ নং সেক্টর  নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- ১১ নং সেক্টর  টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬১২.
মুজিবনগর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) ঝিনাইদহ
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) যশোর
  4. ঘ) কুষ্টিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
• মেহেরপুরের মুজিবনগরের পুরাতন নাম বৈদ্যনাথতলার ভবের পাড়া।
• ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের রাজধানী ছিল।
• এখানে একটি স্মৃতিসৌধ রয়েছে, যা মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ নামে পরিচিত।
• এ সৌধের স্থপতি তানভীর কবির।

এছাড়াও 

- মুজিবনগর সরকার (যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার বা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার নামেও পরিচিত) মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জনগনের রায়ে নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল এই সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে (বর্তমান মুজিবনগর) শপথ গ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে।
- প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে।
- শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান।
- বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- মেহেরপুরের ভবের পাড়া বৈদ্যনাথতলার 'মুজিবনগর নামকরণ করেন তাজউদ্দিন আহমেদ।
- প্রবাসী সরকার গঠিত হয় ১৯৭০ সালের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে।
- শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তৎকালীন মেহেরপুরের সাব-ডিভিশন অফিসার তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬১৩.
মুজিবনগর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. যশোর
  2. কুষ্টিয়া
  3. মেহেরপুর
  4. চুয়াডাঙ্গা
সঠিক উত্তর:
মেহেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর:
- মুজিবনগর মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত।
- এটি একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- এর পূর্বনাম বৈদ্যনাথতলা।
- বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের রাজধানী ছিল এখানে।
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী ছিল মুজিবনগর।
- মুজিবনগরের আম্রকাননে ১৭ এপ্রিল সরকারের মন্ত্রী পরিষদ শপথ নিয়েছিল।
- উল্লেখ্য, মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মুজিবনগর।
- এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬১৪.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে কত জন মুক্তিযোদ্ধার খেতাব বহাল রয়েছে?
  1. ৬৭২ জন
  2. ৬৭৪ জন
  3. ৬৭৬ জন
  4. ৬৭৮ জন
সঠিক উত্তর:
৬৭২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৬১৫.
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সর্বোচ্চ খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ আনুষ্ঠানিকভাবে কবে ঘোষিত হয়?
  1. ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭২
  2. ১৫ই ডিসেম্বর, ১৯৭৩
  3. ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭৩
  4. ২৬শে মার্চ, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১৫ই ডিসেম্বর, ১৯৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ই ডিসেম্বর, ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
বীরত্বসূচক খেতাব:
- বীরত্বসূচক খেতাব বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সভায় বীরত্বসূচক খেতাবের নতুন নামকরণ হয়.
- সেগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ পদমর্যাদার খেতাব: বীরশ্রেষ্ঠ,
- উচ্চ পদমর্যাদার খেতাব: বীর উত্তম,
- প্রশংসনীয় পদমর্যাদার খেতাব: বীর বিক্রম,
- বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্রের খেতাব: বীর প্রতীক।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরত্বসূচক খেতাবের জন্য নির্বাচন করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৬ মার্চ পূর্বের ৪৩ জনসহ মোট ৫৪৬ জন মুক্তিযোদ্ধা খেতাবের জন্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খেতাব তালিকায় স্বাক্ষর করেন।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়।
- ১৯৯২ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতীয়ভাবে বীরত্বসূচক খেতাব প্রাপ্তদের পদক ও রিবন প্রদান করা হয়।
- ২০০১ সালের ৭ মার্চ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক পুরস্কার এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬১৬.
মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে 'যৌথ কমান্ড' গঠন করা হয় কবে?
  1. ২০ নভেম্বর, ১৯৭১ সালে
  2. ২১ নভেম্বর, ১৯৭১ সালে
  3. ২২ নভেম্বর, ১৯৭১ সালে
  4. ২৩ নভেম্বর, ১৯৭১ সালে
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর, ১৯৭১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়:
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে সাহায্য সহযোগিতা করে।
- ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে 'যৌথ কমান্ড' গঠন করে।
- ৬-১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সাথে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে।
- যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- এতে অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
- পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৭.
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কতটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ক) ১১টি
  2. খ) ১৯টি
  3. গ) ৮টি
  4. ঘ) ৬৪টি
সঠিক উত্তর:
ক) ১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১১টি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে
- এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- ১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেনি।
৬১৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালনা করে-
  1. যৌথ বাহিনী
  2. বাংলাদেশ বিমান বাহিনী
  3. বাংলাদেশ নৌবাহিনী
  4. বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ নৌবাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ নৌবাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।

- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট ১৯৭১ সালে।
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর - চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১। 
৬১৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কত নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ২ নং
  2. ৪ নং
  3. ৫ নং
  4. ১ নং
সঠিক উত্তর:
২ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।

তন্মধ্যে,
- চট্টগ্রাম: ১নং সেক্টর,
- ঢাকা: ২ নং সেক্টর,
- রংপুর: ৬ নং সেক্টর,
- রাজশাহী: ৭ নং সেক্টর,
- মুজিবনগর: ৮ নং সেক্টর,
- সুন্দরবন: ৯ নং সেক্টর।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল: ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও -বঙ্গোপসাগর)।

উল্লেখ্য,
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬২০.
'অপারেশন কিলো ফ্লাইট' পরিচালনা করে -
  1. মুক্তিবাহিনী
  2. নৌ বাহিনী
  3. বিমান বাহিনী
  4. মিত্র বাহিনী
সঠিক উত্তর:
বিমান বাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমান বাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন কিলো ফ্লাইট:

- অপারেশন কিলো ফ্লাইট নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্ম ও গোড়াপত্তনের ইতিহাস।
- ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত এক বিমানঘাঁটিতে জন্ম হয়েছিল যে ইতিহাসের, সেই ইতিহাস শত্রুর চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অপারেশনগুলোর সমন্বিত সাংকেতিক নাম।
- এই কিলো ফ্লাইটের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন দুঃসাহসিক বিমান যোদ্ধারা।
- ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্ভাবনাটিও চিরতরে হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

তথ্যসুত্র - ডেইলি স্টার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২।
৬২১.
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমানের পদবী কী ছিল?
  1. ক) সিপাহী
  2. খ) ফ্লাইট ক্যাপ্টেন
  3. গ) ল্যান্স নায়েক
  4. ঘ) উপরের কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ গণ-
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ
উৎসঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
৬২২.
১৯৭১ সালের কত তারিখে নিউ ইয়র্কের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ আয়োজন করা হয়?
  1. ২৫শে মার্চ
  2. ২৬শে জুন
  3. ২৪শে জুলাই
  4. ১লা আগস্ট
সঠিক উত্তর:
১লা আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১লা আগস্ট
ব্যাখ্যা

কনসার্ট ফর বাংলাদেশেঃ
- বিশ্বখ্যাত ভারতীয় সেতরাবাধক রবিশঙ্কর এবং তার বন্ধু ছিলেন গিটারবাধক জর্জ হ্যারিসন। 
- উভয়ে মিলে ১লা আগস্ট ১৯৭১ তারিখে নিউ ইয়র্কের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি বেনিফিট কনসার্ট আয়োজন করেন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে ও শরণার্থীদের সাহায্যে তহবিল সংগ্রহ ছিল এই কনসার্টের উদ্দেশ্য।
- সংগীতানুষ্ঠানটি কনসার্ট ফর বাংলাদেশে নামে পরিচিত।
- কনসার্টে সংগৃহীত অর্থ - ইউনিসেফ এর মাধ্যমে শরণার্থীদের জন্যে দিয়ে দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬২৩.
During Liberation war, Barisal was under sector number -
  1. Sector 3
  2. Sector 4
  3. Sector 6
  4. Sector 9
  5. Sector 11
সঠিক উত্তর:
Sector 9
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Sector 9
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
 
সেক্টরগুলো:
- ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম,
- ২নং সেক্টর: ঢাকা, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও কুমিল্লার অংশবিশেষ,
- ৩নং সেক্টর: কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ, 
- ৪ নং সেক্টর: মৌলভীবাজার ও সিলেটের পূর্বাংশ, 
- ৫নং সেক্টর: সিলেট ও সুনামগঞ্জ, 
- ৬নং সেক্টর: রংপুর, দিনাজপুর,
- ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা,
- ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর,
- ৯নং সেক্টর: খুলনা, বরিশাল,
- ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ।
 
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬২৪.
মুক্তিযুদ্ধে হেমায়েত বাহিনী গঠন করা হয় কোন জেলায়?
  1. চট্টগ্রাম
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. বরিশাল
  4. টাঙ্গাইল
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৬২৫.
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর- ২ এর অধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. মেজর খালেদ মোশাররফ
  2. মেজর কে এম শফিউল্লাহ
  3. মেজর সি আর দত্ত
  4. মেজর জলিল
সঠিক উত্তর:
মেজর খালেদ মোশাররফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর খালেদ মোশাররফ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২ নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩ নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

• ৫ নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

• ৬ নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭ নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮ নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯ নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।

• ১১ নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬২৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন জায়গার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর?
  1. মেহেরপুর
  2. চন্দ্রনাথ
  3. বৈদ্যনাথতলা
  4. স্বরূপকাঠি
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যনাথতলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যনাথতলা
ব্যাখ্যা
→ মুক্তিযুদ্ধের সময় বৈদ্যনাথতলা নামকরণ করা হয় মুজিবনগর

• মুজিব নগর:

- ২০০০ সালের ২৪ফেব্রুয়ারির তথ্য মতে;
- মুজিবনগর উপজেলা মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত।
- তখন আয়তনে সবচেয়ে ছোট উপজেলা ছিল।
- এর নামকরণের সঠিক ইতিহাস জানা নেই।
- তবে ১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধের সময়প্রসিদ্ধ বৈদ্যনাথতলা আম্রকাননে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের হেডকোয়াটার্স স্থাপিত হয়।
- এবং ১৭ এপ্রিল এস্থলেই অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রি পরিষদ শপথ গ্রহণ করে।
- শেখ মুজিবুর রহমানকে অস্থায়ী সরকারের প্রথম রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়।
- ফলে শেখ মুজিবুর রহমান এর নামের সাথে মিল রেখে এ স্থানের নামকরণ করা হয় মুজিবনগর।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬২৭.
মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা দল 'ক্র্যাক প্লাটুন' দলটি গঠন করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন -
  1. ক) মেজর কে. এম শফিউল্লাহ
  2. খ) মেজর খালেদ মোশাররফ
  3. গ) মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
  4. ঘ) মেজর মীর শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
খ) মেজর খালেদ মোশাররফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেজর খালেদ মোশাররফ
ব্যাখ্যা
• ক্র্যাক প্লাটুন:
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ক্র্যাক প্লাটুন দলটি গঠন করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন ২নং সেক্টরের কমান্ডার খালেদ মোশাররফ, বীরউত্তম এবং এটিএম হায়দার বীরউত্তম।
- এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ২নং সেক্টরের অধীন একটি স্বতন্ত্র গেরিলা দল ছিল যারা আসলে গণবাহিনীর অংশ বলে পরিচিত।

 - ক্র্যাক প্লাটুন ঢাকা শহরে ছোটো বড় মিলিয়ে মোট ৮২টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে।
- শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ।
৬২৮.
কোন স্থানে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে?
  1. সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
  2. ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে
  3. পল্টন ময়দানে
  4. চন্দ্রিমা উদ্যানে
সঠিক উত্তর:
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
ব্যাখ্যা
• আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনী তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান বা বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আত্মসমর্পণ করে।
- রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের পক্ষে আত্মসমর্পণ করেন জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী।
- আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ৯৩ হাজার সৈন্য উপস্থিত ছিলেন।
- যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৯.
অপারেশন জ্যাকপট সম্পর্কে কোন উক্তিটি সত্য নয়?
  1. ক) এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল নৌ-বন্দরগুলোকে অকেজো করে দেওয়া।
  2. খ) বাঙালি নৌ-কমান্ডোরা ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে একযোগে মোংলা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর আক্রমণ করে।
  3. গ) নৌ-কমান্ডোদের নির্দেশ দেওয়া হতো স্বাধীন বাংলা বেতারের গানের মাধ্যমে।
  4. ঘ) প্রথম সংকেত ছিল সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এর গান: "আমার পুতুল আজকে প্রথম যাবে শ্বশুরবাড়ি।"
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রথম সংকেত ছিল সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এর গান: "আমার পুতুল আজকে প্রথম যাবে শ্বশুরবাড়ি।"
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রথম সংকেত ছিল সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এর গান: "আমার পুতুল আজকে প্রথম যাবে শ্বশুরবাড়ি।"
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট (Operation Jackpot)

১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে মুক্তিযুদ্ধের ১০ নং সেক্টরের নৌবাহিনীর মুক্তিসেনারা যে অভিযান পরিচালনা করেন তার সাংকেতিক নাম দেওয়া হয় 'অপারেশন জ্যাকপট (Operation Jackpot)'। Jackpot শব্দের অর্থ হলো ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত'। যতক্ষণ জীবন থাকে ততক্ষণ অভিযান চালাতে হবে বলা হয়েছে, তাই এর নাম দেয়া হয়েছে  Operation Jackpot।

এটি ছিল একটি আত্মঘাতী অপারেশন। তাতে করে বাংলাদেশে পণ্য কিংবা সামরিক সরঞ্জামবাহী জাহাজ প্রেরণ অনিরাপদ হয়ে উঠবে। 

এই অপারেশন ১৯৭১-এর ১৫ আগস্ট রাত ১২টার পর অর্থাৎ ১৬ আগস্ট প্রথম প্রহরে চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্র বন্দর এবং দেশের অভ্যন্তরে চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরে একই সময়ে পরিচালিত হয়। এই গেরিলা অপারেশনে পাকিস্তানি বাহিনীর অনেকগুলো অস্ত্র ও রসদবাহী জাহাজ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এর মধ্যে পাকিস্তানি বাহিনীকে সাহায্যকারী অনেকগুলো বিদেশি জাহাজও থাকায় এই অপারেশন বাংলাদেশের যুদ্ধ এবং যোদ্ধাদেরকে সারা বিশ্বে পরিচিতি পাইয়ে দেয়। সারা বিশ্ব বুঝতে পারে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই লড়ছে। 

টিম লিডারদের অপারেশন পরিচালনার জন্য শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল বিশেষ গোপনীয় পদ্ধতি। টিম কমান্ডারদের বলা হয়েছিল যে, 

- দুটি বাংলা গানকে সতর্ক সঙ্কেত হিসেবে ব্যবহার করা হবে। 
- গান দুটি প্রচার করা হবে কলকাতা আকাশবাণীর পক্ষ থেকে পূর্বাঞ্চলীয় শ্রোতাদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানে। 
- সকাল ৬-৬:৩০ মিনিট অথবা রাত ১০:৩০-১১টা। গান দুটি ও তাদের সঙ্কেত হলো:

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৩০.
‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. মন্বন্তর
  4. প্রেম
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
রাইফেল রোটি আওরাত:
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। 
-  মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস এটি। 
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

নোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 

- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬৩১.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. এম. মনসুর আলী
  3. তাজউদ্দিন আহমদ
  4. আতাউর রহমান খান
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী  সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

মুজিবনগর মন্ত্রিসভার মোট সদস্য ছিলো ছয়জন।
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
৬৩২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) তিন নম্বর সেক্টর
  2. খ) দুই নম্বর সেক্টর
  3. গ) চার নম্বর সেক্টর
  4. ঘ) এক নম্বর সেক্টর
সঠিক উত্তর:
খ) দুই নম্বর সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দুই নম্বর সেক্টর
ব্যাখ্যা
২ নং সেক্টর ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৬৩৩.
নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এ নিচের কোন শিল্পী অংশগ্রহণ করেননি?
  1. বব ডিলান
  2. জন লেনন
  3. এরিক ক্ল্যাপটন
  4. রিঙ্গো স্টার
সঠিক উত্তর:
জন লেনন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন লেনন
ব্যাখ্যা

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ: 
- নিউ ইয়র্কে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এ বিখ্যাত পপ শিল্পীদের মধ্যে জন লেনন অংশগ্রহণ করেননি।
- এ কনসার্টের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন সাবেক বিটলস তারকা জর্জ হ্যারিসন,
- তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজুড়ে জনমত গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
- রবি শঙ্করের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, রিঙ্গো স্টারসহ অনেক খ্যাতিমান শিল্পী কনসার্টে অংশগ্রহণ করেন।
- যদিও জন লেননের অংশগ্রহণের কথা ছিল, তিনি শেষ মুহূর্তে কনসার্ট থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।
- এই আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বব্যাপী সহানুভূতি ও অর্থ সংগ্রহে বিশেষ অবদান রাখে।  

সূত্র: BBC রিপোর্ট। 

৬৩৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় একমাত্র নৌ সেক্টর ছিল কোনটি?
  1. ৮নং
  2. ৯নং
  3. ১০নং
  4. ১১নং
সঠিক উত্তর:
১০নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০নং
ব্যাখ্যা
নৌ সেক্টর:
- ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এর মধ্যে ১০নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর।
- দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৬৩৫.
Which of the following is the highest award given to the living freedom fighters?
  1. ক) Bir Shrestho
  2. খ) Bir Uttam
  3. গ) Bir Bikram
  4. ঘ) Bir Protik
সঠিক উত্তর:
খ) Bir Uttam
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Bir Uttam
ব্যাখ্যা
১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত। যথা-
১. বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন (মর্যাদা অনুসারে প্রথম বীরত্বসূচক খেতাব),
২. বীর উত্তম ৬৮ জন (মর্যাদা অনুসারে দ্বিতীয় বীরত্বসূচক খেতাব এবং জীবিতদের মধ্যে সর্বোচ্চ খেতাব),
৩. বীর বিক্রম ১৭৫ জন (মর্যাদা অনুসারে তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব) এবং
৪. বীর প্রতীক ৪২৬ জন (মর্যাদা অনুসারে চতুর্থ বীরত্বসূচক খেতাব)।
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।
 
========
 
- কিন্তু ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত সর্বমোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
- দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী এই খেতাব বাতিল করা হয়েছে।

খেতাব বাতিল হওয়া চার খুনি হলেন-
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীরউত্তম, গেজেট নং ২৫), লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নুর চৌধুরী (বীরবিক্রম, গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীরপ্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) ও নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীরপ্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।

উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৩৬.
স্বাধীনতা সংগ্রামের একমাত্র নৌ-সেক্টর কোনটি?
  1. ক) ১ নম্বর সেক্টর
  2. খ) ১০ নম্বর সেক্টর
  3. গ) ৩ নম্বর সেক্টর
  4. ঘ) ৫ নম্বর সেক্টর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ নম্বর সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ নম্বর সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এরমধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর। দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।

(তথ্যসূত্রঃ স্বাধীনতার দলিলপত্র : তৃতীয় খণ্ড এবং বাংলাপিডিয়া)
৬৩৭.
‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা ও কর্মসূচি’ শীর্ষক ইশতেহার প্রচার হয় কত তারিখে?
  1. ক) ১ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ৩ মার্চ, ১৯৭১
  3. গ) ৫ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ৭ মার্চ, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ মার্চ, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ ঢাকায় এবং তার পরদিন সারা প্রদেশে হরতাল ডাকেন। সকল সরকারি কর্মকান্ড প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ৩ মার্চ, ১৯৭১ পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভায় ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা ও কর্মসূচি’ শীর্ষক ইশতেহার প্রচার করে।
সূত্র : বাংলাপিডিয়া
৬৩৮.
'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয় -
  1. ক) ১ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ৩ মার্চ, ১৯৭১
  3. গ) ২ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ৭ মার্চ, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ক) ১ মার্চ, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১ মার্চ “স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” গঠিত হয় । “স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” - এর সদস্যগণ হলেন -
১. নুরে আলম সিদ্দিকী (সভাপতি, ছাত্রলীগ)
২. শাজাহান সিরাজ (সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগ)
৩. আ. স. ম. আব্দুর রব (সহ-সভাপতি, ডাকসু)
৪. আব্দুল কুদ্দুস মাখন (সাধারণ সম্পাদক, ডাকসু)
• এই ৪ ছাত্র নেতাকে মুক্তিযুদ্ধের ৪ খলিফা বলা হত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম - দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৩৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'অপারেশন কিলো ফ্লাইট' পরিচালনা করে কোন বাহিনী? 
  1. নৌবাহিনী
  2. সেনাবাহিনী
  3. বিমান বাহিনী
  4. গেরিলা বাহিনী
সঠিক উত্তর:
বিমান বাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমান বাহিনী
ব্যাখ্যা

অপারেশন কিলো ফ্লাইট:
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর বিমান উইংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযান ছিল।
- এটি মূলত একটি দুঃসাহসিক বিমান হামলা যা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়। 
- কিলো ফ্লাইট ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধ বিমান গঠনের সাংকেতিক নাম। 
- এই অপারেশনের মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর তেল ডিপো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সরবরাহ লাইন ধ্বংস করা, সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়ানো। 
- ১৯৭১ এর সেপ্টেম্বর এর মাঝামাঝি ভারত সরকার অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারকে একটি স্বাধীন বিমান বাহিনী গঠনের জন্য আমেরিকায় তৈরী ১টি পুরানো ডিসি-৩ বিমান, কানাডার তৈরী ১টি অটার বিমান এবং ফ্রান্সের তৈরী ১টি এ্যালুয়েট-৩ হেলিকপ্টার দেয়।
- এর সাথে ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে একটি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরিত্যক্ত রানওয়ে ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
- ২৮ সেপ্টেম্বর মুক্তিবাহিনীর ডিপুটি চিফ অফ স্টাফ এ কে খন্দকারের নেতৃত্বে ৯ জন পাইলট ও ৪৭ জন গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারের সমন্বয়ে যাত্রা শুরু হয় মুক্তিবাহিনীর এয়ার উইং এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর।
- বিমান বাহিনী প্রধান হিসাবে মুক্তিযুদ্ধের উপ-প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকারকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

⇒ এই কিলো ফ্লাইটের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন দুঃসাহসিক বিমান যোদ্ধারা। ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্ভাবনাটিও চিরতরে হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

⇒ এই ফ্লাইট, ঢাকা, চট্টগ্রাম, লালমনিরহাট এলাকায় মোট ৫০টি অভিযান সাফল্যের সঙ্গে পরিচালনা করে।
- এদের মধ্যে মোগলহাটে (১৫ অক্টোবর ৭১), লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁয়ে (১৬ অক্টোবর ৭১), চৌগাছায় (২১ নভেম্বর ৭১), গোদনাইল ও পতেঙ্গায় (৩ ডিসেম্বর ৭১), সিলেটে (৪ ডিসেম্বর ৭১), জামালপুরে (৫ ডিসেম্বর ৭১), মেঘনা নদীতে (৬ ডিসেম্বর ৭১), সিলেটে (৭ ডিসেম্বর ৭১) এবং নরসিংদীতে (১১ ডিসেম্বর ৭১) বিমান হামলা বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) The Daily Star বাংলা।

৬৪০.
কোন সেক্টরে নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিল না?
  1. ৮নং সেক্টর
  2. ৯নং সেক্টর
  3. ১০নং সেক্টর
  4. ১১নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১০নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১০ নং সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাঞ্চলকে যে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এর মধ্যে ১০নং সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো।
- মূলত সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা, নদী ও সমুদ্র বন্দরসহ বাংলাদেশের সমগ্র জলপথ নিয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়।
- নদীমাতৃক বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রপথে পাকিস্তানের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া ছিল নৌ-কমান্ডো আক্রমণের উদ্দেশ্য।
- ১০নং সেক্টরের কোনো নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না।
- অপারেশনের সময় কমান্ডোদের কাজের নিয়ন্ত্রণ থাকত যে এলাকায় অপারেশন পরিচালিত হবে সে এলাকার সেক্টর কমান্ডারের ওপর।
- এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৪১.
মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা কোনটি?
  1. ঢাকা
  2. যশোর
  3. রাজশাহী
  4. খুলনা
সঠিক উত্তর:
যশোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যশোর
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ ও যশোর জেলাঃ
- ১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণপণ লড়াইয়ে দেশের সর্বপ্রথম শত্রু মুক্ত হয় যশোর জেলা।
- ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠর মধ্যে ২-জনই বৃহত্তর যশোর জেলার কৃতি সন্তান।
- এরা হলো বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ও বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সেপাহী হামিদুর রহমান।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যশোরই হল প্রথম শত্রু মুক্ত জেলা।

উল্লেখ্য,
- সর্বশেষ শত্রু মুক্ত হয় ঢাকা জেলা।

উৎস: যশোর জেলার ওয়েবসাইট।

৬৪২.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয় -
  1. ক) ২০০০ সনের ২৩ অক্টোবর
  2. খ) ২০০১ সনের ২৪ অক্টোবর
  3. গ) ২০০১ সনের ২৩ অক্টোবর
  4. ঘ) ২০০১ সনের ২৫ অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০০১ সনের ২৩ অক্টোবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০০১ সনের ২৩ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচিতি
২০০১ সনের ২৩ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়;
• সর্বপ্রথম বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভবনে ৩ টি কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরম্ভ হয়;
• মন্ত্রণালয়ের কাজের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত ও মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নির্বিঘ্নে সেবা প্রদানের সুবিধার্থে ২০০২ সালে বিআরটিবি ভবন,এলেনবাড়ী, তেজগাঁও-এ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় স্থানান্তরিত হয়;
• পরবর্তীতে কাজের কলেবর ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান ঠিকানা সচিবালয় লিংক রোড, ঢাকার সরকারি পরিবহন পুলভবনের ৬ষ্ঠ ও ৭ম তলায় গত ১০/১০/২০০৬ তারিখ হতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৬৪৩.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে খেতাবপ্রাপ্ত ডব্লিউ এস ওডারল্যান্ড কোন দেশের নাগরিক?
  1. ক) পোল্যান্ড
  2. খ) সুইডেন
  3. গ) স্কটল্যান্ড
  4. ঘ) অস্ট্রেলিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) অস্ট্রেলিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
একজন বিদেশি হয়েও ডব্লিউ এস ওডারল্যান্ড বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে। ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। অসীম সাহসিকতার জন্যে বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করে। তিনি ২০০১ সালে মারা যান। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৬৪৪.
১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল প্রণয়ন করা মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল কী নামে পরিচিত হয়?
  1. মালনীছড়া রণকৌশল
  2. তেলিয়াপাড়া রণকৌশল
  3. মুজিবনগর রণকৌশল
  4. বৈদ্যনাথপাড়া রণকৌশল
সঠিক উত্তর:
তেলিয়াপাড়া রণকৌশল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলিয়াপাড়া রণকৌশল
ব্যাখ্যা
তেলিয়াপাড়া রণকৌশল:
- ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা সিলেটের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে এক বৈঠকে মিলিত হন।
- সেখানে তারা মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল প্রণয়ন করে।
- পরে এটি তেলিয়াপাড়া রণকৌশল নামে পরিচিত হয়।
- বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এম এ জি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে।
- তেলিয়াপাড়াকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিসাক্ষী হিসেবে পরিচিত করার মূল ভূমিকা পালন করেন ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক মেজর খালেদ মোশাররফ।
- ২৭ মার্চ মেজর শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্রোহ শুরু হয়, যেখানে কয়েকজন পাক সেনা অফিসার বন্দী হন।
- এরপর মেজর খালেদ মোশাররফ অধিনায়কত্ব গ্রহণ করেন এবং বিদ্রোহের সংবাদ ছড়িয়ে দেন।
- ২৮ মার্চ সম্ভাব্য বিমান হামলা এড়াতে ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গলের সদর দপ্তর তেলিয়াপাড়া চা বাগানে স্থানান্তরিত হয়।
- ৪ এপ্রিল এখানে বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
- ভারতীয় বিএসএফ-এর ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডে এবং আগরতলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওমেস সায়গলসহ বাংলাদেশের বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তা ও কর্নেল ওসমানী এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
- এ সভার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক পরিকল্পনা গৃহীত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬৪৫.
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. যশোর
  2. সিলেট
  3. খুলনা
  4. চট্টগ্রাম
  5. নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন:
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন: ১৯৩৫ সালে।
- তাঁর জন্মস্থান: বাঘচাপড়া, নোয়াখালী।
- ১৯৫৩ সালে তিনি নৌ বাহিনীতে জুনিয়ার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।
- সেপ্টেম্বর ১৯৭১ এ বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী গঠনের উদ্দেশ্যে সকল সেক্টর থেকে প্রাক্তন নৌসেনাদের আগরতলায় সংগঠিত করে নৌ বাহিনীর প্রাথমিক কাঠামো গঠন করা হয়।
- ভারত সরকার বাংলাদেশ নৌ বাহিনীকে দুইটি টাগবোট উপহার দেয়। এগুলোকে কোলকাতার গার্ডেনরীচ নৌ ওয়ার্কসপে দুইটি বাফার গান ও মাইন পড লাগিয়ে গানবোটে রূপান্তরিত করা হয়।
- গানবোট দুটির নামকরণ করা হয় 'পদ্মা' ও 'পলাশ'।
- রুহুল আমিন নিয়োগ পান 'পলাশের' ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশার হিসেবে।
- ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি নিহত হন।
- খুলনার রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৬৪৬.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে?
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমদ
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
সঠিক উত্তর:
ক) তাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
তাজউদ্দীন আহমদ: 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী (১০ এপ্রিল, ১৯৭১ - ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২)।
- ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর কারাগারে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
- এই দিনটি “জেলহত্যা দিবস” নামে পরিচিত।

উৎস: Live MCQ লেকচার।
৬৪৭.
মুক্তিযুদ্ধকালে ভারত-সোভিয়েত ইউনিয়ন মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কত তারিখে?
  1. ক) ৯ আগস্ট ১৯৭১
  2. খ) ৪ জুলাই ১৯৭১
  3. গ) ৬ মে ১৯৭১
  4. ঘ) ৭ মার্চ ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ক) ৯ আগস্ট ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৯ আগস্ট ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত নীতির বিভিন্ন পর্যায়

- ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে আমেরিকান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার পাকিস্তান সফর করার পরই প্রেসিডেন্ট নিক্সনের প্রস্তাবিত চীন সফরের সংবাদ প্রচারিত হয়- যা সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্য ছিল বিব্রতকর।
- অন্যদিকে পিকিং থেকে ফিরেই হেনরি কিসিঞ্জার ওয়াশিংটনে ভারতের রাষ্ট্রদূতকে বলেন যে, ভারত পাকিস্তান আক্রমণ করলে চীন হস্তক্ষেপ করবে এবং আমেরিকা ভারতের সাহায্যে নাও এগিয়ে আসতে পারে। 
- এর ফলে ভারতীয় নেতৃবৃন্দ বিশেষভাবে চিন্তিত ও শঙ্কিত হয়ে পড়েন।
- সোভিয়েত ইউনিয়নও এ বিষয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে। ফলে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পারস্পরিক নিরাপত্তার অভাববোধ থেকে ১৯৭১ সালের ৯ আগস্ট স্বাক্ষরিত হয় ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তি।

- কিন্তু এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভারত জোটনিরপেক্ষ নীতি বিসর্জন দিয়েছে বলে সমালোচনা হলে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন, “India will continue to follow its policy of non-alignment as before.”
- তবে বাস্তব সত্য হচ্ছে যে, চীন-মার্কিন আঁতাতের জবাবেই মূলত এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।


তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৮.
কোথায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়?
  1. ঢাকা
  2. খুলনা
  3. কালুরঘাট
  4. মুজিবনগর
সঠিক উত্তর:
মুজিবনগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুজিবনগর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
- বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই হল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ এই ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিক ভাবে জারি করা হয় এবং ২৬ মার্চ, ১৯৭১ থেকে বলবৎ করা হয়।
- অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এই আদেশ জারি করেন।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ এ অধ্যাপক ইউসুফ আলী মুজিবনগরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪৯.
Which European Country first introduced Bangladesh as an independent country?
  1. Belgium
  2. East-Germany
  3. Poland
  4. Ukraine
সঠিক উত্তর:
East-Germany
উত্তর
সঠিক উত্তর:
East-Germany
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরব দেশ:
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় - ইরাক।
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২৮ মার্চ, ১৯৭৩ সালে।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে।

• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরো কিছু উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্র:
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার - সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ বা প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে - ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ২৫ মে ১৯৭২।

তথ্যসূত্র - পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।
৬৫০.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  4. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:

- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫১.
স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বের জন্য কতজন বীরমুক্তিযোদ্ধাকে বীরপ্রতীক উপাধি প্রদান করা হয়?
  1. ৪২৫
  2. ৪৩০
  3. ৪২৬
  4. ৪২০
সঠিক উত্তর:
৪২৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪২৬
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৬৫২.
মুজিব নগর সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. তাজউদ্দিন আহমদ
  2. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  3. এম. মনসুর আলী
  4. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
সঠিক উত্তর:
এম. মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- এস.এ সামাদ ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।
- উপ-সেনাপতি ছিলেন এ.কে খন্দকার।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৬৫৩.
মুজিবনগর সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন -
  1. এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান
  2. তাজউদ্দিন আহমদ
  3. মোহাম্মদ মনসুর আলী
  4. মোশতাক আহমেদ
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার
- বাংলাদেশের প্রথম সরকার "মুজিবনগর সরকার"।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এই সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল, তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমায় মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- এই সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে।
- মুজিবনগর সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় সহ মোট ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ছিল।
- রাষ্ট্রপতি -- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি -- সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, তথ্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী -- তাজউদ্দিন আহমদ।
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী -- এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান।
- অর্থমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী -- মোহাম্মদ মনসুর আলী।

তথ্যসূত্র - উৎস : ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৪.
বাংলাদেশে মোট রাষ্ট্রীয় খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ক) ৬৭৬
  2. খ) ৭৮০
  3. গ) ৫৭৬
  4. ঘ) ৭৭৬
সঠিক উত্তর:
ক) ৬৭৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬৭৬
ব্যাখ্যা
- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত। যথা- বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন, বীর উত্তম ৬৮ জন, বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং বীর প্রতীক ৪২৬ জন।
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।

- কিন্তু ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
=================

প্রশ্নটি আগের হিসাব অনুসারে করা হয়েছে।
তাই এই প্রশ্নের হিসাবে সঠিক উত্তর - ৬৭৬ জন।
৬৫৫.
'বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল' এর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন -
  1. ক) ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
  2. খ) ডা. মোঃ আব্দুল মবিন
  3. গ) ডা. সিতারা বেগম
  4. ঘ) উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল' এর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন - ডা. মোঃ আব্দুল মবিন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম।

• বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল:

-  ১৯৭১ সালের মে মাসের প্রথম দিকে বিএমএ এবং যুক্তরাজ্য যৌথ ভাবে ডা. মোঃ আব্দুল মবিন ও জাফরুল্লাহকে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করার জন্য ভারতে পাঠায়।
-  ডা. মোঃ আব্দুল মবিন ও জাফরুল্লাহ বাংলাদেশ অস্থায়ী সরকারের সহায়তায় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মেলাঘরে ৪৮০ শয্যা বিশিষ্ট বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল   স্থাপন করেন।
- এই হাসপাতালের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন সেনাবাহিনীর চিকিৎসক ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম।
- ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ছিলেন এই গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা।
- প্রতিষ্ঠানটি সমাজ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা বা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অবদান রাখায় দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কার স্বাধীনতা পদক লাভ করে।
- বর্তমানে সারাদেশে গণস্বাস্থ্যের ৪০টি মেডিকেল সেন্টার রয়েছে।  
- স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১৯৭১ সালের মার্চে ব্রিটেনে বসবাসরত এক হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি চিকিৎসক নিয়ে গঠিত হয় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)।
- যার সভাপতি ছিলেন ডা. এ এইচ সায়েদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

উৎস: ঢাকা ট্রিবিউন ও প্রথম আলো প্রতিবেদন।
৬৫৬.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার কতজন আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে?
  1. ৩ জন
  2. ৪ জন
  3. ৫ জন
  4. ৬ জন
সঠিক উত্তর:
৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার জন আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৬৫৭.
'পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অর্ডিন্যান্স' কবে জারি করা হয়?
  1. জুন, ১৯৭১
  2. জুলাই, ১৯৭১
  3. আগস্ট, ১৯৭১
  4. সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
জুন, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুন, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশে পাকিস্তানের পক্ষের সহযোগী বাহিনী:
- ১৯৭১ সালের জুন মাসে লে. জেনারেল টিক্কা খান 'পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অর্ডিন্যান্স' জারি করেন।
- শুরুতে আনসার, মুজাহিদদের নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়।
- পরে পাকিস্তানপন্থি অনেকে এই বাহিনীতে যোগ দেয়।
- এই বাহিনী গঠনে জেনারেল নিয়াজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

উল্লেখ্য,
- রাজাকারদের প্রশিক্ষণের মেয়াদ ছিল এক সপ্তাহ। রাজাকারদের ট্রেনিং দিত পাকিস্তান সেনাবাহিনী। দখলদার বাহিনীর দোসর হিসেবে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। রাজাকার বাহিনী ছাড়াও আলবদর এবং আলশামস নামে আরও দুটি বাহিনী ছিল। এরাও বিভিন্নভাবে হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করে।মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতায় প্রথম যে সংগঠনের জন্ম হয় তা হলো 'শান্তি কমিটি'। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫৮.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে মোট কত জনকে বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করা হয়?
  1. ৬৭২ জন
  2. ৬৭৬ জন
  3. ৬৭৮ জন
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
৬৭৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭৬ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- ৬ জুন ২০২১ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৬৫৯.
মুক্তিযুদ্ধে কোন দুইটি গানবোট নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী?
  1. পদ্মা ও যমুনা
  2. মেঘনা ও যমুনা
  3. পদ্মা ও পলাশ
  4. বানৌজা ও পলাশ
সঠিক উত্তর:
পদ্মা ও পলাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মা ও পলাশ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ নৌবাহিনী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্ম হয়।
- ঐ বছর জুলাই মাসে সেক্টর কমান্ডারদের কনফারেন্সের ঘোষণা মোতাবেক বাংলাদেশ নৌবাহিনী আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।
- উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাঙালি অফিসার ও নাবিক পশ্চিম পাকিস্তান ত্যাগ করে দেশে এসে বাংলাদেশ নৌবাহিনী গঠন করেন।
- ভারত থেকে প্রাপ্ত ‘পদ্মা’ ও ‘পলাশ’ নামের ছোট দুটি গানবোট এবং ৪৯ জন নাবিক নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
- জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সকল নাবিক শত্রুর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ ও গেরিলা যুদ্ধে লিপ্ত হয়।
- পাশাপাশি ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে নির্ভীক ডুবুরীদল সমুদ্র ও নদী বন্দর সমূহে বিধ্বংসী আক্রমণ পরিচালনা করে।
- এতে হানাদার বাহিনীর ২৬ টি জাহাজ ধ্বংস হয় ও সমুদ্রপথ কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এ ধরনের সফল আক্রমণ মুক্তিযুদ্ধের এক গৌরবময় অধ্যায়ের সুচনা করে।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৬০.
The Ministry of Liberation War was formed-
  1. 2001
  2. 2002
  3. 2003
  4. 2004
সঠিক উত্তর:
2001
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2001
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়:

- ২০০১ সনের ২৩ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়।
- সর্বপ্রথম বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভবনে ৩ টি কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরম্ভ হয়।
- মন্ত্রণালয়ের কাজের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত ও মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নির্বিঘ্নে সেবা প্রদানের সুবিধার্থে ২০০২ সালে বিআরটিবি ভবন,এলেনবাড়ী, ভেজগাঁও-এ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় স্থানান্তরিত হয়।
- পরবর্তীতে কাজের কলেবর ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান ঠিকানা সচিবালয় লিংক রোড, ঢাকার সরকারি পরিবহন পুলভবনের ৬ষ্ঠ ও ৭ম তলায় গত ১০/১০/২০০৬ তারিখ হতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়রবসাইট।
৬৬১.
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ কোথায় ঘটেছিল?
  1. ঢাকা 
  2. কুমিল্লা 
  3. গাজীপুর 
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
গাজীপুর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাজীপুর 
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ:
- ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গাজীপুরের জয়দেবপুরের জনগণ সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল।
- এটিই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ। 

⇒ ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চে ঢাকা ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার থেকে আকস্মিকভাবে পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার জাহান জেবের নেতৃত্বে পাকিস্তানি রেজিমেন্ট জয়দেবপুরের (গাজীপুর) দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার জন্য পৌঁছে যায়।
- এ খবর জানাজানি হতেই বিক্ষুব্ধ জনতা জয়দেবপুরে এক প্রতিরোধ সৃষ্টি করে।
- সশস্ত্র পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করলে অকুস্থলেই শহীদ হন অনেকে।
- এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ক) ১১ টি
  2. খ) ১০ টি
  3. গ) ৩৯ টি
  4. ঘ) ৬৪ টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬৪ টি
ব্যাখ্যা
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- ফোর্স তিনটি হলো- জেড ফোর্স, এস ফোর্স এবং কে ফোর্স।
- ১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬৩.
Who became the first martyr in our liberation war among the seven Bir Sreshtho?
  1. Noor Mohammad Sheikh
  2. Mohammad Ruhul Amin
  3. Muhammad Mustafa Kamal
  4. Mohiuddin Jahangir
  5. Munshi Abdur Rouf
সঠিক উত্তর:
Munshi Abdur Rouf
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Munshi Abdur Rouf
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে প্রথম শহীদ হন ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ।

বীরশ্রেষ্ঠ:
- বীরশ্রেষ্ঠ বীরত্বের জন্য প্রদত্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক পুরস্কার। 
- যুদ্ধক্ষেত্রে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী যোদ্ধার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক দেয়া হয়। 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে।
 
১। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর,
- সেক্টর: ৭ নং,
- মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ)।
- সমাধিস্থল: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণ।
 
২। সিপাহী হামিদুর রহমান,
- সেক্টর: ৪ নং,
- মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১।
- সমাধিস্থল: মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান।
 
৩। সিপাহী মোস্তফা কামাল,
- সেক্টর: ২ নং,
- মৃত্যু: ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১।
- সমাধি স্থল: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে।
 
৪। মোহাম্মদ রুহুল আমিন,
- সেক্টর: ১০ নং,
- মৃত্যু: ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১।
- সমাধিস্থল: রূপসা ফেরিঘাটের লুকপুরে।
 
৫। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান,
- বাংলাদেশ বিমান বাহিনী,
- মৃত্যু: ২০ আগস্ট, ১৯৭১।
- সমাধিস্থল: মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান।
 
৬। ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ,
- সেক্টর: ১ নং,
- মৃত্যু: ৮ এপ্রিল, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে ১ম শহীদ)।
- সমাধিস্থল: রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারে কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারের পাশে। 
 
৭। নূর মোহাম্মদ শেখ,
- সেক্টর: ৮ নং,
- মৃত্যু: ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১।
- সমাধিস্থল: যশোরের কাশিপুর নামক স্থানে।
 
উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৬৬৪.
‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ ভাস্কর্যটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা সেনানিবাসে
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
  3. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে
  4. চট্টগ্রাম সেনানিবাসে
সঠিক উত্তর:
ঢাকা সেনানিবাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা সেনানিবাসে
ব্যাখ্যা
সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য:

- সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’।
- এর উদ্বোধন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।
- ভাস্কর্যটি ঢাকা সেনানিবাসের মাটিকাটা মিলিটারি পুলিশ চেকপোস্ট এলাকায় অবস্থিত।
- ১২ নভেম্বর ২০২৩ সালে ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করা হয়।
- ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ ভাস্কর্যটিতে ‘অর্ধবৃত্তাকার প্রাচীরে’ সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে তুলে ধরা হয়েছে।
- ভাস্কর্যের সামনে ‘ফোয়ারা’ নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।
- ফোয়ারা থেকে প্রাচীর পর্যন্ত সংযুক্ত রেখাগুলো ‘সূর্যরশ্মির প্রতীক’, যা দিয়ে বোঝানো হয়েছে যে বীরশ্রেষ্ঠরা জাতির সূর্যসন্তান এবং তাঁরা সূর্যরশ্মির মতো দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আলোর দিশারি ও অনবদ্য অনুপ্রেরণার উৎস।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ১৩ নভেম্বর, ২০২৩।
৬৬৫.
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ২য় দাবি ছিলো কোনটি?
  1. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
  2. সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া
  3. মার্শাল ল প্রত্যাহার
  4. জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর
সঠিক উত্তর:
সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
- ভাষণটি ইতিহাসে ‘বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ’ নামে অভিহিত হয়েছে।
- মার্শাল ল প্রত্যাহার বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের প্রথম দাবি ছিলো।

• ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয় -
১। মার্শাল ল প্রত্যাহার,
২। সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
৩। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
৪। জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।

অন্যদিকে:
- ২১ দফা দাবির প্রথম দফা: বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা
- ৬ দফা দাবির প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬৬.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব -
  1. ক) বীরপ্রতীক
  2. খ) বীরশ্রেষ্ঠ
  3. গ) বীর বিক্রম
  4. ঘ) বীর উত্তম
সঠিক উত্তর:
খ) বীরশ্রেষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বীরশ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ। 
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক। 
 
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া
৬৬৭.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কোন সেক্টরের কোন সেক্টর কমান্ডার ছিল না?
  1. ১০নং
  2. ৯নং
  3. ১১নং
  4. ৮নং
সঠিক উত্তর:
১০নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিল ১০ নং সেক্টরের অধীনে।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৬৮.
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ক) ১১টি
  2. খ) ১২টি
  3. গ) ১৩টি
  4. ঘ) ৯টি
সঠিক উত্তর:
ক) ১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১১টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:

- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালে ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে এবং ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং  সেক্টরের অধিনে ।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধিনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৬৯.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্যে কতজনকে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ছয়জন
  2. সাতজন
  3. আটজন
  4. নয়জন
সঠিক উত্তর:
সাতজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাতজন
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন কে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করেন।

এরা হলেন:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।

(তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
৬৭০.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির নেতা কে ছিলেন?
  1. তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
  3. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  4. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
সঠিক উত্তর:
আবদুল হামিদ খান ভাসানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:

- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭১.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার জন্য কতজন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধীতে ভূষিত করা হয়?
  1. ক) ৫ জন
  2. খ) ৬ জন
  3. গ) ৭ জন
  4. ঘ) ২ জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২ জন
ব্যাখ্যা
মহিলা বীরপ্রতীক:

- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসুত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৬৭২.
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে কোথায় সমাহিত করা হয়?
  1. চট্টগ্রাম
  2. যশোর
  3. খুলনা
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
খুলনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুলনা
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন:
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন: ১৯৩৫ সালে।
- তাঁর জন্মস্থান: বাঘচাপড়া, নোয়াখালী।
- ১৯৫৩ সালে তিনি নৌ বাহিনীতে জুনিয়ার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।
- সেপ্টেম্বর ১৯৭১ এ বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী গঠনের উদ্দেশ্যে সকল সেক্টর থেকে প্রাক্তন নৌসেনাদের আগরতলায় সংগঠিত করে নৌ বাহিনীর প্রাথমিক কাঠামো গঠন করা হয়।
- ভারত সরকার বাংলাদেশ নৌ বাহিনীকে দুইটি টাগবোট উপহার দেয়। এগুলোকে কোলকাতার গার্ডেনরীচ নৌ ওয়ার্কসপে দুইটি বাফার গান ও মাইন পড লাগিয়ে গানবোটে রূপান্তরিত করা হয়।
- গানবোট দুটির নামকরণ করা হয় 'পদ্মা' ও 'পলাশ'।
- রুহুল আমিন নিয়োগ পান 'পলাশের' ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশার হিসেবে।
- ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি নিহত হন।
- খুলনার রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৬৭৩.
ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ১নং সেক্টরে
  2. ৪নং সেক্টরে
  3. ৭নং সেক্টরে
  4. ১১নং সেক্টরে
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টরে
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:

- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৬৭৪.
স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা কোনটি?
  1. খুলনা
  2. বরিশাল
  3. ঢাকা
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা

⇒ স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা:
- স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা ঢাকা।

⇒ উল্লেখ্য:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পরাজয় হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর।
- কিন্তু আত্মসমর্পণের পরও পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিল।
- ঢাকায় আত্মসমর্পণের ১ সপ্তাহ পর্যন্ত যুদ্ধ চলার পর ২৩ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয় কুমিল্লার হোমনা।
- কিন্তু ঢাকার মিরপুর তখনো পাকিস্তানি বাহিনী ও বিহারিদের হাতে পুরোপুরি অবরুদ্ধ।
- ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি এক বিশেষ সামরিক অভিযানের পর ৩১ জানুয়ারি ১২ নম্বর সেকশনের ডি ব্লক ঈদগাহ মাঠে আত্মগোপনকারী পাকিস্তানি সেনা, বিহারি, রাজাকার, আলবদরদের অস্ত্রসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্ত হয় মিরপুর।

⇒ অন্যদিকে:
- খুলনা জেলা শত্রুমুক্ত হয় ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১।
- সিলেট জেলা শত্রুমুক্ত হয় ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১।
- কুমিল্লা জেলা শত্রুমুক্ত হয় ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১।

তথ্যসূত্র - জানুয়ারি ৩০, ২০২৩, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।

৬৭৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সুন্দরবন কত নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) ৭ নম্বর
  2. খ) ৮ নম্বর
  3. গ) ৯ নম্বর
  4. ঘ) ১০ নম্বর
সঠিক উত্তর:
গ) ৯ নম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৯ নম্বর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল-১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

- চট্টগ্রাম-১নং সেক্টর,
- ঢাকা-২ নং সেক্টর,
- রাজশাহী-৭ নং সেক্টর,
- মুজিব নগর-৮ নং সেক্টর,
- সুন্দরবন-৯ নং সেক্টর,

সূত্র: ঢাকা বিভাগের ওয়েবসাইট।
৬৭৬.
মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্যে গৃহীত প্রথম রণকৌশল কোনটি?
  1. ক্যালকাটা স্ট্র্যাটেজি
  2. ইউনাইটেট ওফেনসিভ
  3. তেলিয়াপাড়া রণকৌশল
  4. মেহেরুপুর রণকৌশল
সঠিক উত্তর:
তেলিয়াপাড়া রণকৌশল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলিয়াপাড়া রণকৌশল
ব্যাখ্যা
তেলিয়াপাড়া রণকৌশল:
মহান মুক্তিযুদ্ধে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলাধীন তেলিয়াপাড়ার একটি বর্ণাঢ্য ইতিহাস রয়েছে। এখান থেকেই যেমন মুক্তিবাহিনী গঠন, মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা ও রাজনৈতিক সরকার গঠনের প্রস্তাব তথা মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রথম পাঠের অনুশীলন হয় তেমনি এখানে সংগঠিত হয়েছে বহু সম্মুখ সমর।
- ২৮ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত সময়ে এখানে সংগঠিত নানা বিষয় যেমন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ইতিহাসের অমূল্য উপাদান; তেমনি সম্মুখ সমরক্ষেত্র হিসেবেও এ স্থানের রয়েছে অতুলনীয় গৌরব-গাঁথা।

২৫ মার্চ পাক বাহিনীর বর্বোরোচিত হামলার পর বাঙ্গালি অনেক সেনা অফিসার বিদ্রোহ করেন। বিদ্রোহী অফিসারদের অনেকেই (খালেদ মোশাররফ, শাফায়াত জামিল, জিয়াউর রহমান, এস এম রেজা, কে এম সফিউল্লাহ প্রমুখ এম.এ.জি ওসমানীর উপস্থিতি বৈঠক করেন। তেলিয়াপাড়া তখন ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গলের অস্থায়ী হেডকোয়ার্টার। সেখান থেকে পূর্ব যোগাযোগের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় তেলিয়াপাড়া বিওপি-এর কাছে ভারতীয় বিএসএফ-এর পূর্বাঞ্চলীয় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষের আলোচনায় ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোতে বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তাদের একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়।

৪ এপ্রিল সকালের মধ্যেই সেনা কর্মকর্তাদের সকলে তেলিয়াপাড়া বাংলোতে উপস্থিত হন। ১০টার দিকে ভারতীয় বিএসএফ-এর পূর্বাঞ্চলীয় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডে ও আগরতলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওমেস সায়গল বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীকে সঙ্গে নিয়ে তেলিয়াপাড়াস্থ সেনা সদরে এসে উপস্থিত হন। ৭ সকাল ১১টায় সভার কার্যক্রম শুরু হয়।

এখানেই সিদ্ধান্ত হয় যে, বিদ্রোহী অফিসাররা যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। এখানেই প্রথম বিদ্রোহী সকল ইউনিটের সমন্বয়ে 'মুক্তিফৌজ' গঠন করে।
এই বৈঠকের স্থানের নাম অনুসারে এখানে গৃহীত যুদ্ধকৌশলকে "তেলিয়াপাড়া রণকৌশল" নামে অভিহিত করা হয়। এটাই মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্যে গৃহীত প্রথম রণকৌশল হিসাবে পরিগণিত।

তেলিয়াপাড়া সেনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ সরকার গঠনের আগে। তাই নিকট অতীতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার উদাহরণ বিশ্লেষণ করে সভার লিখিতাকারে কোনো সিদ্ধান্ত সংরক্ষণ করা হয়নি।
- ‘মৌখিকভাবে বাহিনীর সংগঠন, নেতৃত্ব ও যুদ্ধ পরিচালনার যে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন পায়।
- ১১ এপ্রিল নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বেতার ভাষণে এই সভার সিদ্ধান্তের কিছু অংশ উচ্চারিত হয়েছিল। উক্ত ভাষণে 'মুক্তিফৌজ' গঠনের কথাও বলা হয়।
পরে এই সভার সিদ্ধান্তগুলোকে পরিবর্ধন, পরিমার্জন, সংশোধন, সংযোজনের মাধ্যমে আরও সময়োপযোগী করে তোলা হয়’।
- সভা শেষে কর্নেল ওসমানী তাঁর রিভলভার থেকে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।’
- ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তানুযায়ী ১০ এপ্রিল তেলিয়াপাড়ায় ২য় সেনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসঃ মূলধারা ৭১, বাংলাপিডিয়া ও তেলিয়াপাড়া উপজেলা ওয়েবসাইট।
৬৭৭.
অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কে পাঠ করেন?
  1. ক) ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) এম এ হান্নান
  4. ঘ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে প্রাথমিকভাবে পূর্ব প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক তৎপরতা ছাড়াই পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ ও গণহত্যা শুরু হলে পূর্ব পাকিস্তান হতে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের অধিকাংশ সদস্য প্রতিবেশি দেশ ভারতে আশ্রয় নেন।
- তারা একত্রিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করেন।
- ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন।
- সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং দেশে-বিদেশে সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে ।
- আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের (মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত) সদস্যদের শপথ পাঠ করান।
- শপথ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৭৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ২নং সেক্টরের সদরদপ্তর কোথায় ছিল?
  1. বাঁশতলা
  2. হেজামারা
  3. হরিণা
  4. মেলাঘর
সঠিক উত্তর:
মেলাঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেলাঘর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
=১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ২নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৩নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে মেজর এএনএম নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৫নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৭৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কতটি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়
  1. ৩টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- “জেড” ফোর্স, “কে” ফোর্স, “এস” ফোর্স নিয়ে ৩টি ব্রিগেড ফোর্স।
- জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬৮০.
বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রের ঘোষণা হয়েছিল কবে?
  1. ক) ২৬ মার্চ ১৯৭১
  2. খ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  3. গ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ঘ) ১০ জানুয়ারী ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ ঘোষণা প্রবাসী মুজিবনগর সরকার পরিচালনার অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসাবে কার্যকর হয়।

উৎস: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র - বাংলাপিডিয়া
৬৮১.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে 'কাদেরিয়া বাহিনী' কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করে?
  1. গোপালগঞ্জ
  2. ময়মনসিংহ
  3. টাঙ্গাইল
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৬৮২.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে কয়টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ১১
  2. ৩২
  3. ৬৪
সঠিক উত্তর:
৬৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৪
ব্যাখ্যা

• সেক্টর ও সাব সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ১১ টি সেক্টরের অধীনে ৬৪ টি সাবসেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে ১নং সেক্টর গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম। 
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে ২নং সেক্টর গঠিত। আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে ৩নং সেক্টর গঠিত হয়।
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে ৪নং সেক্টর গঠিত।
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে ৫নং সেক্টর গঠিত।
- ৬ নং সেক্টর  সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত।
- ৭ নং সেক্টর  রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- ১০ নং সেক্টর  নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- ১১ নং সেক্টর  টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬৮৩.
বৃহত্তর রংপুর জেলা মুক্তিযুদ্ধে কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) চার নম্বর
  2. খ) ছয় নম্বর
  3. গ) আট নম্বর
  4. ঘ) নয় নম্বর
সঠিক উত্তর:
খ) ছয় নম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছয় নম্বর
ব্যাখ্যা
সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ৬ নং সেক্টর গঠিত হয়েছিল। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার। সূত্র- বাংলাপিডিয়া।
৬৮৪.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ১১ টি
  2. খ) ১৯ টি
  3. গ) ৬৪ টি
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৪ টি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ৬৪ টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়। 

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়।
- এ সরকার প্রথমে ১০ এপ্রিল সমগ্র দেশকে ৪ টি সেক্টরে ভাগ করে।
- ১১ এপ্রিল তা পুর্নগঠন করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন এবং ১১ টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না। এটি ছিলো নৌ সেক্টর।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি। 
৬৮৫.
মুজিবনগর সরকার সম্পর্কে সত্য নয় কোনটি?
  1. স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আবদুল মান্নান।
  2. Bangladesh নামক পত্রিকা প্রকাশ করে।
  3. সদর দপ্তর ছিলো কলকাতায়।
  4. তাজউদ্দীন আহমেদ ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আবদুল মান্নান।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আবদুল মান্নান।
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর অস্থায়ী সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করেন।
- এটি মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ সরকার কখনই মুজিবনগরে অবস্থান করেননি। কিন্তু 'মুজিবনগর' নামটি প্রতিকী তাৎপর্য বহন করতে থাকে। 
- সরকারের প্রকৃত কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয় কোলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে ।
- তাজউদ্দিন আহমেদ ১২ এপ্রিল মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বন্টন করেন (তবে বাংলাপিডিয়ার মতে ১৮ই এপ্রিল দপ্তর বন্টন করা হয়)। 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রেসিডেন্ট।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভাইস-প্রেসিডেন্ট।
- তাজউদ্দীন আহমেদ প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
- খন্দকার মোশতাক আহমদ পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ মন্ত্রণালয়।
- এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান অভ্যন্তরীণ সরকার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় এবং
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- ১৭ ই এপ্রিল আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান ।
- বহিঃবিশ্বে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে মুজিবনগর সরকার ‘Bangladesh’ নামক একটি পত্রিকা প্রকাশ করে। 

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৮৬.
মুক্তিযুদ্ধকালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়
  2. অজয় মুখোপাধ্যায়
  3. প্রফুল্লচন্দ সেন
  4. জ্যোতি বসু
সঠিক উত্তর:
অজয় মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অজয় মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধকালীন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়
- তাঁর নেতৃত্বে 'মুক্তিযুদ্ধ সহায়ক সমিতি' গঠিত হয়।
- এই সমিতির মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও বিশ্বনেতাদের নিকট প্রচারণা চালান।
- এছাড়া, তাঁর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রায় ৭৫ লাখ শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়।

তথ্যসূত্র- বিবিসি নিউজ বাংলা।
৬৮৭.
১নং সেক্টর কোন এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. রাজশাহী
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
১নং সেক্টর: 
- ১নং সেক্টর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
- এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
- এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার।
- এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৮৮.
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন কোন নদীর তীরে শহীদ হন?
  1. মেঘনা
  2. পদ্মা
  3. যমুনা
  4. রূপসা
সঠিক উত্তর:
রূপসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপসা
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ তিনি রূপসা নদীর তীরে শহীদ হন।
------------------------------------------------------ 
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন:
- বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন (১৯৩৫–১৯৭১) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন নৌ-সেনা ছিলেন।
- তিনি অসাধারণ সাহসিকতার জন্য সর্বোচ্চ সামরিক পদ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।
- তিনি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বাঘপাঁচড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫৩ সালে তিনি পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

- মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পরিবারকে ছেড়ে ত্রিপুরা সীমান্ত অতিক্রম করে ২নং সেক্টরে যোগ দেন;
- এবং সেখানে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করেন।
- ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ ‘পিএনএস পলাশ’ জাহাজে রূপসা নদীতে যুদ্ধরত অবস্থায় আহত হয়ে স্থানীয় রাজাকার ও পাক বাহিনীর হাতে শহীদ হন।
- শাহাদাত বরণ করার পর তাঁকে রূপসা নদীর তীর সংলগ্ন বাগমারা গ্রামে সমাহিত করা হয়।
- খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছেই তাঁর সমাধিসৌধ সংরক্ষিত আছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।   

৬৮৯.
১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ”চরমপত্র” পাঠ করতেন কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. মাহবুবুল আলম
  3. এম. আর. আখতার মুকুল
  4. গাজী মাজহারুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
এম. আর. আখতার মুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. আর. আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র :
-স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়। এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
-১৯৭১-এর ৩০ মার্চ পাকিস্তান বিমান বাহিনী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। ফলে এটি অচল হয়ে যায়।
-২৫ মে তারিখ কেন্দ্রটি কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় এবং একই দিনে সেখানে এটি তার কার্যক্রম শুরু করে।
-স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন - আবদুল মান্নান ।
- এম.আর আখতার মুকুল, এর উপস্থাপক ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
 
৬৯০.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী ছিলেন -
  1. তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান
  3. খন্দকার মোশতাক
  4. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) গঠন: 

• মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার। 
• এটি মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। 
• এ সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায়। 

• এ সরকারের বিভিন্রান পদে যারা দায়িত্বে ছিলেন:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান;
- উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ);
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দীন আহমদ;
- অর্থমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী;
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী: এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান;
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমদ;
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম.এ.জি ওসমানী;
- চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব;
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার। 
• তাজউদ্দিন আহমেদ ১২ এপ্রিল মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন।
• বাংলাদেশের এই অস্থায়ী মুজিবনগর সরকারের ১২ টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬৯১.
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভার 'স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন' মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. তাজউদ্দিন আহমদ
  3. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  4. এম. মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন। 
- সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে। 
- আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের (মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত) সদস্যদের শপথ পাঠ করান। 
- শপথ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়: খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
- অর্থ মন্ত্রণালয়: এম. মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়: এ এইচ এম কামরুজ্জামান,
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী,
- চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব, 
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯২.
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেন?
  1. ৫নং সেক্টর
  2. ৬নং সেক্টর
  3. ৭নং সেক্টর
  4. ৮নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৮নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : কোনো সেক্টরের অধীনে ছিলেন না।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৬৯৩.
মেজর আবু তাহের মুক্তিযুদ্ধের সময় কত নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন?
  1. ক) ৮ নং সেক্টর
  2. খ) ৬ নং সেক্টর
  3. গ) ৯ নং সেক্টর
  4. ঘ) ১১ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এর মধ্যে টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে ১১ নং সেক্টর গঠিত হয়।
- এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন প্রথমদিকে মেজর এম. আবু তাহের এবং পরবর্তীতে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ।
- ১১ নং সেক্টরের সদরদপ্তর ছিলো মহেন্দ্রগঞ্জ। এই সেক্টরের অধীনে আটটি সাব-সেক্টর ছিলো।
অন্যদিকে,
৬ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন:
- উইং কমান্ডার এম. খাদেমুল বাশার
৮ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন:
- মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
- মেজর এম.এ মঞ্জুর
৯ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন:
- মেজর এম. এ জলিল
- মেজর এম. এ. মঞ্জুর
- মেজর জয়নাল আদেীন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)

৬৯৪.
মুক্তিযুদ্ধে ৬নং সেক্টরের সদরদপ্তর কোথায় ছিল?
  1. হেজামারা
  2. বুড়িমারী
  3. মেলাঘর
  4. হরিণা
সঠিক উত্তর:
বুড়িমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুড়িমারী
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সদরদপ্তর:
= ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: হরিণা।

= ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।

= ৩নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।

= ৪ নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।

= ৫নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।

= ৬নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়িমারী (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।

= ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।

= ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।

= ৯নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।

= ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন।

= ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৯৫.
চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণার কথা প্রথম কে প্রচার করেন?
  1. মেজর রফিকুল ইসলাম
  2. এম এ হান্নান
  3. মীর শওকত আলী
  4. মেজর জিয়াউর রহমান
সঠিক উত্তর:
এম এ হান্নান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম এ হান্নান
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণা:
- ২৫ মার্চ রাত ১:৩০ মিনিটে হানাদার সেনারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডিস্থ ৩২ নম্বর বাসভবন হতে গ্রেপ্তার করে।
- মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের মীয়ানওয়ালী কারাগারে বন্দি ছিলেন।
- গ্রেপ্তারের পূর্বে তিনি মধ্যরাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং এ ঘোষণা ওয়‍্যারলেসের মাধ্যমে চট্টগ্রাম প্রেরণ করেন।
- পরের দিন বিবিসি'র প্রভাতি অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি প্রচারিত হয়।
- চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণাটি প্রচার করেন।
- ২৭ মার্চ কালুরঘাটে স্থাপিত অস্থায়ী বেতার কেন্দ্র থেকে বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার আর একটি ঘোষণা পাঠ করেন।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার কথা প্রচারিত হওয়ার পর মাতৃভূমিকে মুক্ত করার আশায় প্রবল শক্তিতে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণ ঝাঁপিয়ে পড়ে।
- হানাদারদের বিরুদ্ধে সর্বত্র সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়।
- স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলার ছাত্র-যুবক, নারী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীসহ সকল পেশাজীবী ও আপামর জনতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
- তারা ঢাকা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হানাদারদের বিরুদ্ধে জোর প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- এভাবেই প্রতিরোধ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশকে শত্রু মুক্ত করার জন্য শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৬.
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ২নং সেক্টর
  2. ৩নং সেক্টর
  3. ৪নং সেক্টর 
  4. ৬নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৪নং সেক্টর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪নং সেক্টর 
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান: 

• সিপাহী হামিদুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা।
• সাতজন শ্রেষ্ঠ বীরদের অন্যতম বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান।
• তিনি ৪ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
• জন্ম:  ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহ জেলার খালিশপুর গ্রামে।
• মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১ সাল।
• তিনি বীরশ্রেষ্ঠদের মাঝে সর্বকনিষ্ঠ।
• মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর।
• সমাধি: ১১ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৬৯৭.
২ নং সেক্টরের প্রথম সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর খালেদ মোশাররফ
  2. মেজর এ.টি.এম হায়দার
  3. মেজর জিয়াউর রহমান
  4. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে খন্দকার
সঠিক উত্তর:
মেজর খালেদ মোশাররফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর খালেদ মোশাররফ
ব্যাখ্যা
২ নং সেক্টর:   
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে।
- নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।
- এই সেক্টরে ছয়টি সাব-সেক্টর ছিল। 
- এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের ফলে কুমিল্লা ও ফেনীর মধ্যবর্তী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে পাক-বাহিনী সম্পূর্ণ বিতাড়িত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিককালে এই এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকারে থাকে।
- এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের অন্যতম প্রধান সাফল্য হলো বেলোনিয়া সূচিবুূ্যহ প্রতিরক্ষা।
- ১ নং ও ২ নং সেক্টরের বাহিনীর যৌথ অভিযানের ফলে ২১ জুন পর্যন্ত বেলোনিয়া সূচিব্যুহের প্রবেশপথ সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল।
- ২ নম্বর সেক্টরের কয়েকটি নিয়মিত কোম্পানি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান পরিচালনা করে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৯৮.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) আট
  2. খ) দশ
  3. গ) এগার
  4. ঘ) পনের
সঠিক উত্তর:
গ) এগার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এগার
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এর মধ্যে নৌ সেক্টর ছিলো ১০নং সেক্টর।
- ঢাকা শহর ২নং সেক্টর এবং মুজিবনগর ৮নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
- সেক্টর প্রধানরা সেক্টর কমান্ডার নামে পরিচিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
৬৯৯.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি কে ছিলেন?
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) শ্যাম বেনেগাল
  3. গ) সুখবিন্দর সিং
  4. ঘ) অজয় কর
সঠিক উত্তর:
ক) সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সমর সেন
ব্যাখ্যা
সমর সেন (জন্ম: ১০ অক্টোবর, ১৯১৬ — মৃত্যু: ২৩ আগস্ট, ১৯৮৭)
- ছিলেন একজন উল্লেখযোগ্য বাংলাভাষী স্বাধীনতা - উত্তর কালের ভারতীয় কবি এবং সাংবাদিক।
- তিনি বিখ্যাত সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ দীনেশচন্দ্র সেনের পৌত্র।
- আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধ ছিলেন সমর সেন।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭০০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন ৮নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন-
  1. মেজর শওকত আলী
  2. কে এম শফিউল্লাহ
  3. আবু ওসমান চৌধুরী
  4. মেজর সি আর দত্ত
সঠিক উত্তর:
আবু ওসমান চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু ওসমান চৌধুরী
ব্যাখ্যা

- গতবছর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের দুইজন সেক্টর কমান্ডার মৃত্যুবরণ করেন। উনাদের একজন আবু ওসমান চৌধুরী এবং অপরজন মেজর সি আর দত্ত।
- ২৫ আগস্ট ২০২০ সালে ৪ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর সি আর দত্ত এবং
- ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ সালে ৮ নং সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।