বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)

মোট প্রশ্ন২,৫৩৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)

PrepBank · পাতা / ২৬ · ৪০১৫০০ / ২,৫৩৩

৪০১.
মুক্তিযুদ্ধকালীন আকবর বাহিনী কোন অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত ছিলো?
  1. মাগুরা
  2. টাঙ্গাইল
  3. বরিশাল
  4. গোপালগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
মাগুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাগুরা
ব্যাখ্যা

আকবর বাহিনী শ্রীপুর, মাগুরার একটি স্থানীয় মুক্তিবাহিনী।
- আকবর বাহিনীর প্রধান ছিলেন আকবর হোসেন মিয়া।
- যুদ্ধের শুরুতে মাত্র কয়েকটি ৩০৩ রাইফেল, ১টি চাইনিজ রাইফেল ও কয়েক রাউন্ড গুলির ওপর নির্ভর করে বাহিনী গড়ে ওঠে।
- যুদ্ধ চলাকালে এ বাহিনী ‘আকবর বাহিনী’ নামে পরিচিতি পায়।
- আকবর হোসেন মিয়া ১৯২৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর শ্রীপুর উপজেলার খামারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম গোলাম কাদের মিয়া এবং মাতার নাম নবেজান খাতুন।
- তিনি ১৯৫০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন।
- ১৯৫১ সালে তিনি রয়েল পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন।
- পাকিস্তানিদের বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে ১৯৫৪ সালে তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন।
- ২৪শে এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী মাগুরা শহর দখল করলে আকবর হোসেন মিয়া প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শ্রীপুরে স্থানান্তর করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের জন্য একটি বাহিনী গড়ে তোলেন।
- শ্রীপুর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এ বাহিনী এলাকায় স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে থাকে।
- এ বাহিনীতে ইপিআর ও বেঙ্গল রেজিমেন্টের মোট ১২৮ জন এবং সাধারণ পরিবার থেকে আসা হাজারেরও বেশি যোদ্ধা ছিলেন।
- এ বাহিনীর যোদ্ধারা শ্রীপুর, বালিয়াকান্দি, শৈলকুপা, পাংশা, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী অর্থাৎ ঝিনাইদহের গাড়াগঞ্জ থেকে ফরিদপুরের গোয়ালন্দ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল তাঁদের দখলে এনেছিলেন।
- অধিনায়ক আকবর হোসেন মিয়ার দক্ষ নেতৃত্বে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকার বাহিনীর বিরুদ্ধে অসংখ্য সফল অভিযান চালানো হয়েছিল। সেসব অভিযানের মধ্যে শ্রীপুর থানা দখল, শৈলকুপা থানা দখল,

• মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক বাহিনী:

- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত। ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলারা।

উৎস: সংগ্রামের নোটবুক।

৪০২.
মুজিবনগর সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. আবদুল মান্নান
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. এম. মনসুর আলী
  4. এএইচএম কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় যা ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে।
মুজিবনগর সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় : তাজউদ্দীন আহমদ।
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ-পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী : এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪০৩.
মুক্তিযুদ্ধে 'ক্র্যাক প্লাটুন' কোন শহরে সক্রিয় ছিল?
  1. ঢাকা 
  2. খুলনা 
  3. টাঙ্গাইল 
  4. বরিশাল 
সঠিক উত্তর:
ঢাকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা 
ব্যাখ্যা

ক্র্যাক প্লাটুন:
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে ঢাকা শহরে গেরিলা আক্রমণ পরিচালনাকারী একদল তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত দল, যাঁরা তৎকালীন সময় একটি কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।
- শাফী ইমাম রুমী ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য ছিলেন।

⇒ মুক্তিযুদ্ধের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকায় মুক্তিবাহিনীর গেরিলা তৎপরতাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। যে সব গেরিলা বাহিনী ঢাকা নগরীতে অভূতপূর্ব দুঃসাহসী অভিযান পরিচালনা করে তাদের সদস্যদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
- এই সব গেরিলা বাহিনীর অন্যতম ক্র্যাক প্লাটুন' গড়ে উঠেছিল ২নং সেক্টরের দুঃসাহসী সেনাপতি মেজর হায়দারের নেতৃত্বে, সদস্যদের মধ্যে মোফাজ্জল হোসেন (মায়া), শহীদুল্লাহ খান (বাদল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, এই প্লাটুনের তৎপরতা সম্পর্কে জানা যায় এ. এস. এম সামছুল আরেফিন রচিত "মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান গ্রন্থ থেকে।
- ক্র্যাক প্লাটুনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অপারেশন ছিল, হোটেল ইন্টারকনটিনেন্টালে, ৫ ও ১১ কেভি পাওয়ার স্টেশান, যাত্রাবাড়ী ব্রিজ, হামিদুল হক চৌধুরীর প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রি, বি ডি আর গেইট ও ধানমণ্ডি, ভোগ ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প আক্রমণ ও ধ্বংস সাধন! মাদারটেক ও ত্রিমোহিনীতে পাকিস্তান সেনা শিবির, বৈদ্যের বাজার ও রূপগঞ্জ থানা আক্রমণ, বিস্ফোরণ এবং শত্রুর জান-মালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) The Daily Star Bangla.

৪০৪.
নিম্নের কোন প্রাচীন মসজিদের সামনে বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধি অবস্থিত?
  1. বাঘা মসজিদ
  2. কুসুম্বা মসজিদ 
  3. ষাট গম্বুজ মসজিদ
  4. ছোট সোনা মসজিদ
সঠিক উত্তর:
ছোট সোনা মসজিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোট সোনা মসজিদ
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- 'বীরশ্রেষ্ঠ' মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে।
- ১৯৫৩ সালে পাতারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবনের সূচনা হয়।
- ১৯৬৪ সালে মুলাদি মাহমুদ জান পাইলট হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- তার পোস্টিং হয় ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরে।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহীদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করা হয়।
- তিনি বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ।

 ⇒ ছোট সোনা মসজিদ:
- ছোট সোনা মসজিদ 'সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন' বলে আখ্যায়িত। 
- মধ্যযুগের সুলতানি আমলের গৌড়নগরীর এক ঐতিহাসিক স্থাপনা ছোট সোনামসজিদ।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রধানতম নিদর্শন হচ্ছে ছোট সোনামসজিদ।
- মধ্যযুগে বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৩-১৫১৯) নির্মিত হয় সোনামসজিদ। 

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪০৫.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল না-
  1. ভারত
  2. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন।
- অন্যদিকে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।
উৎসঃ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪০৬.
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কত সালে স্থাপিত হয়?
  1. ১৯৯৪
  2. ২০০২
  3. ১৯৯৬
  4. ১৯৯৩
সঠিক উত্তর:
১৯৯৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৬
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর:
- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মুক্তিযুদ্ধ-ভিত্তিক একটি জাদুঘর।
- এটি বাংলাদেশের একমাত্র মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
- এটি ঢাকার এফ-১১/এ-বি, সিভিক সেক্টর, আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।
- এই জাদুঘরের স্থাপিত হয় ১৯৯৬ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধের অনেক দুর্লভ বস্তু আছে এই জাদুঘরে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় ওয়েবসাইট।
৪০৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘের কোন দেশ বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করেছিল?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. চীন
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান:
- ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন
- যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তিন বার ই ভেটো দেয়।
- এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৪০৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে প্রায় কতজন শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছিল?
  1. ক) ৯৩ হাজার
  2. খ) ৯৫ হাজার
  3. গ) ১ কোটি
  4. ঘ) ৩০ লক্ষ
সঠিক উত্তর:
গ) ১ কোটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১ কোটি
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের অবস্থান ছিল ভারতে।
- প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতীয় সরকার মুক্তিযুদ্ধের সমর্থন দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেনি, বিশ্ব জনমত গঠনে ভারতীয় সরকারের উল্যেখযোগ্য অবদান রয়েছে।  
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সরকার বাঙালিদের ওপর গণহত্যা চালায়।
- ত্রিশ লক্ষ মানুষকে তারা হত্যা করে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় ছয় লক্ষ নারী নির্যাতিত হন।
- সেসময় প্রায় এক কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতার গোবরা ক্যাম্পে কতজন নারী সশস্ত্র ট্রেনিং গ্রহন করেন?
  1. ক) ৩০০ জন
  2. খ) ৪০০ জন
  3. গ) ৫০০ জন
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
খ) ৪০০ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪০০ জন
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- কলকাতার গোবরা ক্যাম্পে ৪০০ জন মহিলা মুক্তিযোদ্ধা সশস্ত্র যুদ্ধের ট্রেনিং গ্রহণ করেন।
- ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গোবরা ক্যাম্পে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়েছেন অনেক নারী।
- নারী সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গোবরা, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে।
- গোবরা ক্যাম্পে মেয়েদের দেওয়া হতো তিন রকম ট্রেনিং। যেমন, সিভিল ডিফেন্স, নার্সিং, অস্ত্র চালনা ও গেরিলা আক্রমণ।

এছাড়াও,
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন।
- কেউ সশস্ত্র যোদ্ধা হিসেবে, কেউবা মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সংরক্ষণ ও সরবরাহকারীরূপে, কেউবা মুক্তিযোদ্ধাদেরকে আশ্রয় দিয়ে, খাবার রান্না করে, অনুপ্রেরণা যুগিয়ে,   তথ্য সরবরাহ করে, সেবাদান করে ইত্যাদি নানাভাবে ভূমিকা রেখেছেন ।
- মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান পুরুষের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। যেমন: 
- আগরতলার লেম্বুচোরা ক্যাম্পে মহিলা গেরিলা স্কোয়াড-এর আধুনিক অস্ত্রের উচ্চতর ট্রেনিং হয়।
- রণাঙ্গনের যোদ্ধা তারামন বিবি বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত হন।
- চিকিৎসার কাজে মহিলা চিকিৎসকগণের গৌরবময় দৃষ্টান্ত ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম। তিনিও বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও মানবকন্ঠ।
৪১০.
মুক্তিযুদ্ধে মর্যাদা অনুসারে ২য় বীরত্বসূচক খেতাব কোনটি?
  1. বীর প্রতীক
  2. বীরশ্রেষ্ঠ
  3. বীর বিক্রম
  4. বীর উত্তম
সঠিক উত্তর:
বীর উত্তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীর উত্তম
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।

⇒ এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ: ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম: ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম: ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক: ৪২৬জন।

⇒ উল্লেখ্য,
• ৬ জুন ২০২১ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪ জনের খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ: ৭ জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক: ৪২৪ জন।

উৎস: ¡) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
         ¡¡) বাংলাপিডিয়া।
৪১১.
বর্তমানে দেশে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া বীরাঙ্গনার সংখ্যা কত?
  1. ক) ৪৩৯ জন
  2. খ) ৪৪৮ জন
  3. গ) ৪২৮ জন
  4. ঘ) ৪৬৫ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ৪৪৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪৪৮ জন
ব্যাখ্যা
বর্তমানে দেশে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া বীরাঙ্গনার সংখ্যা ৪৪৮ জন।

উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো।
৪১২.
বীর উত্তম কে এম সফিউল্লাহ কত নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন?
  1. ১ নম্বর
  2. ২ নম্বর
  3. ৩ নম্বর
  4. ৪ নম্বর
সঠিক উত্তর:
৩ নম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ নম্বর
ব্যাখ্যা
কে এম সফিউল্লাহ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বিগ্রেড ফোর্স ছিল তিনটি - জেড ফোর্স, কে ফোর্স, এস ফোর্স।
- ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৩টি ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে গঠন করা হয় এই ব্রিগেড।
- সফিউল্লাহ ছিলেন জয়দেবপুরে দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের দ্বিতীয় প্রধান।
- মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে সফিউল্লাহ ছিলেন ৩ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন।  
- পরে তিনটি নিয়মিত আর্মি ব্রিগেড গঠিত হলে ‘এস’ ফোর্সের নেতৃত্বে আসেন সফিউল্লাহ।
- মেজর কে এম সফিউল্লাহর নামানুসারে অক্টোম্বর ৭১ সনে গঠিত হয় এই বিগ্রেড যার নাম করা হয় এস ফোর্স।
- এই ফোর্সের অন্তর্ভুক্ত ছিল ২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।
- মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাব পান।

উল্লেখ্য,
- ১৯৩৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জন্ম নেওয়া কে এম সফিউল্লাহ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।
- পরে মালয়েশিয়া, কানাডা, সুইডেন, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
- বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ (বীর উত্তম) ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, পত্রিকা রিপোর্ট। [Link]
৪১৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর কোন সেক্টরের অধীনে ছিলো?
  1. ৩ নম্বর সেক্টর
  2. ২ নম্বর সেক্টর
  3. ১ নম্বর সেক্টর
  4. ৪ নম্বর সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২ নম্বর সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নম্বর সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২ নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩ নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

• ৫ নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

• ৬ নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭ নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮ নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯ নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।

• ১১ নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪১৪.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কতজনকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. ২৫৭ জন
  2. ১৬৩ জন
  3. ৪৪ জন
  4. ৬৮ জন
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্বীকৃতির তথ্য:

• স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন, 
- বীর উত্তম - ৬৮ জন, 
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন, 
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন। 

• তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী], 
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম), 
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক), 
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)। 

∴ বর্তমানে (২০২১) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন, 
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন, 
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন। 

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
৪১৫.
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ এর উপাধি কী ছিল?
  1. সিপাহী
  2. সার্জেন্ট
  3. ল্যান্স নায়েক
  4. ক্যাপ্টেন
সঠিক উত্তর:
ল্যান্স নায়েক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যান্স নায়েক
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ:
• জন্ম- ১৯৪৩ সালে ফরিদপুর জেলায়
• কর্মস্থল- মুন্সি আব্দুর রউফ ১৯৬৩ সালের ৮ই মে ২০ বছর বয়সে যোগদান করলেন ইপিআর-এ।
- প্রশিক্ষণ শেষে নিয়োগ পেলেন পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে।
- তাঁর ইপিআর নম্বর -১৩১৮৭।
• পদবি- ল্যান্স নায়েক
• সেক্টর- ১নং
• মৃত্যু- ৮ এপ্রিল, ১৯৭১
• সমাধি- রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ার চরে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৪১৬.
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় 'পোড়ামাটি নীতি' নিম্নের কোন বাহিনী দ্বারা প্রয়োগ করা হয়েছিল?
  1. ভারতীয় সেনাবাহিনী
  2. পাকিস্তানি সেনাবাহিনী
  3. গেরিলা বাহিনী
  4. মিত্রবাহিনী
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী
ব্যাখ্যা

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy):
- ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী 'পোড়ামাটি নীতি' প্রয়োগ করেছিল।
- পোড়ামাটি নীতি এমন একটি সামরিক কৌশল যা দ্বারা সেনাবাহিনীরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের সামরিক বেসামরিক নির্বিশেষে সবাইকে হত্যার পাশাপাশি সবকিছু পুড়িয়ে দেয়। শত্রুর পক্ষে ব্যবহার করা সম্ভব এমন স্থাপনা ও অবকাঠামো পুড়িয়ে দেয়। এ থেকে পরিত্রাণ পায় না খাদ্যের উৎস, পানি সরবরাহ, পরিবহন, যোগাযোগ, শিল্পকারখানা। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের সবকিছু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ায় হলো পোড়ামাটি নীতি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বেলা ১১টায় মেজর জেনারেল খাদিম হুসেইন রাজাকে ফোনে চার শব্দের এক বার্তা দেন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান। প্রায় এক মাস আগে থেকে তৈরি হতে থাকা একটা সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা এভাবেই বাস্তবায়নের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। অভিযানটির নাম ‘অপারেশন সার্চলাইট’।
- নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা আগেই সেনাবহর রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা সেনানিবাস থেকে বেরিয়ে পড়ে। ফার্মগেটে মিছিলের ওপর গুলি চালিয়ে অপারেশন সার্চলাইটের সূচনা করে তারা। তারপর রাতভর চলে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ। পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পুরান ঢাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলে নির্বিচার মানবনিধন। 
- জেনারেল টিক্কা, তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব অর্থাৎ সশস্ত্র বাঙালি ইউনিট ও ব্যক্তিদের নিরস্ত্রীকরণ এবং বাঙালি নেতাদের আটক করার পরিবর্তে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা এবং পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করেন। সৈন্যদের প্রতি তাঁর নির্দেশ ছিল: “মানুষ না, মাটি চাই।” 

এছাড়াও,
- ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকেই ‘অপারেশন ব্লিৎজ’ নামে এই অভিযানের কথা প্রথম ভেবেছিলেন পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান। এর আওতায় সামরিক শাসন জারি করে সামরিক বাহিনীকে ‘বিদ্রোহী’ রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে হেফাজতে নেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।

৪১৭.
ফ্লাইট লেফটেনান্ট মতিউর রহমান যে মার্কিন বিমানটি নিয়ে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে চেয়েছিলেন, সেই বিমানটির নাম -
  1. ক) টি - ৩৩
  2. খ) মিগ - ২১
  3. গ) এফ - ৬
  4. ঘ) মিরেজ - ৮
সঠিক উত্তর:
ক) টি - ৩৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) টি - ৩৩
ব্যাখ্যা
• মতিউর রহমান:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ছুটিতে এসে মতিউর রহমান স্থানীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন।
- ভৈরবে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি অংশ নিয়েছিলেন।
- তাঁর লক্ষ্য ছিল বিমান ছিনতাই করে সেটি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেবেন।
 - ২০ আগস্ট সকালে করাচির মশরুর বিমানঘাঁটি থেকে পাইলট অফিসার মিনহাজ রশীদের টি-৩৩ বিমান নিয়ে উড়বার শিডিউল ছিল।
- মতিউর ছিলেন তার প্রশিক্ষক।
- টি-৩৩ বিমানের সাংকেতিক নাম ছিল ব্লু বার্ড।
- প্রশিক্ষণকালে মতিউর বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেন নি। বিমানটি বিধ্বস্ত হয় ভারতীয় সীমান্তের কাছে থাট্টায়। 
 - মতিউর রহমানের দেশপ্রেম ও আত্মদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪১৮.
ঢাকায় বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের প্রধান দু'টি বধ্যভূমি -
  1. ক) পিলখানা ও সেনানিবাস
  2. খ) জগন্নাথ হল ও ইকবাল হল
  3. গ) শিয়ালবাড়ি ও রায়ের বাজার
  4. ঘ) রমনা ও রেসকোর্স
সঠিক উত্তর:
গ) শিয়ালবাড়ি ও রায়ের বাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শিয়ালবাড়ি ও রায়ের বাজার
ব্যাখ্যা
বুদ্ধিজীবী হত্যা

- জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে যুদ্ধবিরতির পক্ষে ব্যাপক সাড়া পড়ে গেলে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে পরাজয় নিশ্চিত জেনে আলবদর ও রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতায় ১০ ডিসেম্বর থেকে বুদ্ধিজীবী অপহরণ ও হত্যাকান্ড দ্রুত ঘটানো হয়।
- ১৪ ডিসেম্বর ঢাকার গভর্নর হাউসে বোমাবর্ষণের পর ডা. মল্লিক মন্ত্রিসভার পদত্যাগের পর পাকবাহিনীর সকল আশা ধূলিসাৎ হলে ইতোমধ্যে আটককৃত কিংবা নতুন আটককৃত বুদ্ধিজীবীদের সরাসরি হত্যা করা হয়।
- ঢাকার বুদ্ধিজীবীদের মিরপুর শিয়ালবাড়ি ও মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে হত্যা করা হয়।
- স্থানীয় পর্যায়ে আরো অনেক বধ্যভূমিতে তাঁদের লাশ পাওয়া যায়।
- আবার কারো কারো লাশও পাওয়া যায়নি।
- স্বাধীনতার পর লাশের স্তুপে যাঁদের পাওয়া গিয়েছে তাঁদের সকলের হাত-পা-চোখ বাঁধা ছিল।
- কারো হাত নেই, কারো চোখ বা হৃৎপিন্ড নেই। এগুলো নরপিশাচদের নির্যাতনের স্বাক্ষর বহন করে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি কে ছিলেন?
  1. তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. খন্দকার মোশতাক আহমদ
  3. মনোরঞ্জন ধর
  4. অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা

সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ:
- ১৯৭১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান করার জন্য আওয়ামী লীগসহ পাঁচটি দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় ৮ সদস্যের 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ'।
- এই পরিষদের নেতৃবৃন্দ মূলত মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর একাত্তরের ১০ এপ্রিল শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত মুজিবনগর সরকারকেই সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছিল।
- ভারতের কলকাতায় গঠন করা হয় 'জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি', যা 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ' নামে পরিচিতি লাভ করে।

উল্লেখ্য,
⇒ সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন:
- আহবায়ক ছিলেন: তাজউদ্দীন আহমেদ।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন-
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি),
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি),
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা),
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২০.
মুজিবনগর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) ফরিদপুর
  4. ঘ) রংপুর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশে একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয়। ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন। সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে। সূত্র- বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২১.
কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য কোনটি?
  1. ক) জাগ্রত চৌরঙ্গী
  2. খ) অপরাজেয় বাংলা
  3. গ) সাবাশ বাংলাদেশ
  4. ঘ) মুক্ত বাংলা
সঠিক উত্তর:
খ) অপরাজেয় বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অপরাজেয় বাংলা
ব্যাখ্যা
কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সম্মুখ প্রাঙ্গনে স্থাপিত অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য। এটি ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয়। এর স্থপতি সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ। অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে ছাত্রসমাজের ভূমিকার পটভূমিতে নির্মিত। জাগ্রত চৌরঙ্গী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য যা গাজীপুর চৌরাস্তায় অবস্থিত। সাবাশ বাংলাদেশ এবং মুক্তবাংলা ভাস্কর্য যথাক্রমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৪২২.
বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ৬৭
  2. ৬৫
  3. ৬৯
  4. ৬৩
সঠিক উত্তর:
৬৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী।
- মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে তিনি এই প্রস্তাব করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।

মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য  ৬৭৬ জনকে খেতাব প্রদান করা হয়।
যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।

উল্লেখ্য,
-  ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যাঁদের খেতাব বাতিল হলো তাঁরা হলেন লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫),  লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৭ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
• বীর প্রতীক ৪২৪ জন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
         ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
৪২৩.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে খেতাব প্রাপ্ত বিদেশি মুক্তিযোদ্ধা ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড কোন দেশে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন?
  1. নেদারল্যান্ডস
  2. অস্ট্রেলিয়া
  3. পোল্যান্ড
  4. জার্মানি
সঠিক উত্তর:
নেদারল্যান্ডস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেদারল্যান্ডস
ব্যাখ্যা
ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড:

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ওডারল্যান্ড ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং
সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ওডারল্যান্ড ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪২৪.
Which is the following countries was the first to recognize Bangladesh as an independent state?
  1. ক) Bhutan
  2. খ) Russia
  3. গ) Libya
  4. ঘ) India
সঠিক উত্তর:
ক) Bhutan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Bhutan
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশকে বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি:
- প্রথম দেশ : ভুটান (৬ ডিসেম্বর ১৯৭১)
- দ্বিতীয় দেশ : ভারত (৬ ডিসেম্বর ১৯৭১)
- প্রথম ইউরোপীয় দেশ : পূর্ব জার্মানি (১১ জানু. ১৯৭২)
- প্রথম আফ্রিকান/মুসলিম দেশ : সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২)
- প্রথম আরব মুসলিম দেশ : ইরাক (৮ জুলাই ১৯৭২)
- আলজেরিয়া : ১৬ জুলাই ১৯৭৩
- ইন্দোনেশিয়া : ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২।

(সূত্রঃ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট  এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন)
৪২৫.
কোন দেশটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিরোধিতা করেছিলো?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. কানাডা
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. ভারত
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইরান, সৌদি আরবসহ বেশ কিছু দেশ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
- এদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানকে সাহায্য করতে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে টাস্কফোর্স-৭৪ নামে নৌবহর প্রেরণ করে।
- তবে মার্কিন জনগণ, গণমাধ্যম ও কিছু কংগ্রেসম্যান পাকিস্তানী বর্বরতার নিন্দা জানায় এবং বাঙালিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।
অন্যদিকে,
- ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয়।
- যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, ইতালিসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সাধারণ জনগণ ও প্রচারমাধ্যমসমূহে পাকিস্তানী বর্বরতার নিন্দা জানানো হয়।
- লন্ডন ছিলো বহিবির্শ্বে বাংলাদেশের প্রধান প্রচারকেন্দ্র।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪২৬.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল-
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) ব্রিটেন
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) চীন
সঠিক উত্তর:
গ) রাশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাশিয়া
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)।
- অন্য থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।

৪২৭.
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রথম কূটনৈতিক মিশন কোথায় স্থাপিত হয়?
  1. নিউ ইয়র্ক
  2. নয়াদিল্লি
  3. লন্ডন
  4. কলকাতা
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা

প্রবাসে বাঙালিদের ভূমিকা ও কূটনৈতিক তৎপরতা:
- স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রথম কূটনৈতিক মিশন স্থাপিত হয় কলকাতায়।

- এটি ছিল পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনের পরিবর্তিত রূপ যেখানে ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল পাকিস্তানি ডেপুটি হাইকমিশনার এম হোসেন আলীর নেতৃত্বে বাঙ্গালী কর্মকর্তারা আনুগত্য প্রকাশ করেন।
- এটি ছিল বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম দূতাবাস। 

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন আদায়ের জন্য মুজিবনগর সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ করে।
- বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর প্রচেষ্টায় জাতিসংঘে ৪৭টি দেশের প্রতিনিধি বাংলাদেশ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে।
- এতে পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়।

⇒ মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই এপ্রিল মাসে প্রবাসী বাঙালি মহিলাদের একটি প্রতিবাদ মিছিল লন্ডনের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গিয়ে স্মারকলিপি পেশ করে।
- জুন মাসে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে লন্ডনে মিছিলের আয়োজন করে।
- মিছিল শেষে এই প্রতিবাদকারীগণ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গিয়ে স্মারকলিপি পেশ করে।

উল্লেখ্য,
- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকেই বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) দিল্লি ও কলকাতায় বাংলাদেশের দুটি মিশন স্থাপন করে।
- এছাড়া বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক এবং লন্ডনেও বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করে।
- এসব মিশন বাংলাদেশের পক্ষে মিছিল, সমাবেশ, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, পার্লামেন্ট সদস্যদের সমর্থন আদায় ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

৪২৮.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দ্বিতীয় খেতাব কোনটি?
  1. ক) বীরবিক্রম
  2. খ) বীরশ্রেষ্ঠ
  3. গ) বীরউত্তম
  4. ঘ) বীরপ্রতীক
সঠিক উত্তর:
গ) বীরউত্তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বীরউত্তম
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।
- উল্লেখ্য, বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৪২৯.
মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি যুদ্ধ করেন কোন সেক্টরে?
  1. ১১
সঠিক উত্তর:
১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১
ব্যাখ্যা
তারামন বিবি:

- তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের (বীর উত্তম)।
- বাংলাদেশের দুইজন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে।
- মৃত্যুবরণ করেন ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং ডেইলি স্টার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১।
৪৩০.
বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয় কোন বিদেশি মিশনে?
  1. কলকাতা
  2. টোকিও
  3. ওয়াশিংটন
  4. নিউইয়র্ক
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা
- বিদেশি কোন দুতাবাস হিসেবে ভারতের কলকাতা মিশনে বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয়। 
- ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল, রবিবার কলকাতার পাকিস্তান ডেপুটি হাইকমিশন অফিসের সব বাঙালি কর্মকর্তা–কর্মচারী একযোগে আনুগত্য প্রকাশ করল বাংলাদেশ সরকারের প্রতি।
- কার্যালয়ের নাম পাল্টে হয়ে গেল ‘গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক মিশন।
- মিশনের ছাদে ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ হোসেন আলীর নেতৃত্বে ওড়ানো হলো স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।
- প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়তে শুরু করল।

সূত্র: প্রথম আলো।
৪৩১.
মুক্তিযুদ্ধে অস্থায়ী সরকার কোন জেলায় গঠিত হয়?
  1. ক) ফরিদপুর
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) গোপালগঞ্জ
  4. ঘ) যশোর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিতি।
- ১০ এপ্রিল ঘোষিত মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মেহেরপুর মহকুমার (বর্তমান মেহেরপুর জেলা)  ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে।
- বৈদ্যনাথতলার পরিবর্তিত নাম মুজিবনগর।
- ১০ এপ্রিল ঘোষিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে মুজিবনগর প্রশাসনের সকল কর্মকান্ডের বৈধকরণ করা হয়।
- যুদ্ধকালীন বাংলাদেশের মৌলিক আইনের ভিত্তি ছিল এই স্বাধীনতার সনদ।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশের সংবিধান কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এটিই ছিল দেশের সংবিধান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত  বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩২.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয় -
  1. ১৯৯৯ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ২০০১ সালে
  4. ২০০২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০১ সালে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়:
- ২৩ অক্টোবর, ২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ/সংগঠনসমূহ:
• বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট,
• জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল,
• বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ,
• জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ,
• মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর,
• স্বাধীনতা স্তম্ভ কমপ্লেক্স,
• মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স,
• মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৪৩৩.
চট্টগ্রাম কোন সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৪নং সেক্টর
  4. ১১নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
- এই সেক্টরের পাঁচটি সাব-সেক্টর ছিল।
- এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন।
- এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার।
- এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৩৪.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ কতটি সেক্টরে বিভক্ত ছিল?
  1. ১১টি
  2. ৮টি
  3. ১০টি
  4. ১২টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।

সেক্টরগুলো:
- ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি এবং ফেনী: ১নং সেক্টর,
- ঢাকা, কুমিল্লা, আখাউড়া–ভৈরব, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের কিছু অংশ: ২ নং সেক্টর,
- হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ এবং ঢাকার কিছু অংশ: ৩ নং সেক্টর,
- সিলেট জেলার অংশবিশেষ: ৪ নং সেক্টর,
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ: ৫ নং সেক্টর,
- দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর: ৬ নং সেক্টর,
- রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল এবং রংপুরের কিছু অংশ: ৭ নং সেক্টর,
- কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ: ৮ নং সেক্টর,
- পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ: ৯ নং সেক্টর,
- সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নৌ কমান্ডো ও আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন: ১০ নং সেক্টর,
- ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল: ১১ নং সেক্টর।

উৎস: ২৬ মার্চ ২০২৩, বিবিসি বাংলা।
৪৩৫.
মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার জন্যে কতজনকে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ছয়জন
  2. সাতজন
  3. আটজন
  4. নয়জন
সঠিক উত্তর:
সাতজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাতজন
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে (বর্তমানে ৬৭২ জন) চারটি বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করে।
- এর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ প্রদান করা হয় সাতজনকে।
এরা হলেন:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ (সাবেক ইপিআর)
- সিপাহী মোস্তফা কামাল (সেনাবাহিনী)
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান (বিমানবাহিনী)
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ (সাবেক ইপিআর)
- সিপাহী হামিদুর রহমান (সেনাবাহিনী)
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন (নৌবাহিনী)
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (সেনাবাহিনী)।
(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
৪৩৬.
বাংলাদেশের প্রথম সরকার কোথায় শপথ গ্রহণ করে?
  1. ঢাকা
  2. কলকাতা
  3. আগরতলা
  4. মেহেরপুর
সঠিক উত্তর:
মেহেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) গঠন: 
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী কর্তৃক গণহত্যা শুরু হলে বিচ্ছিন্নভাবে বাঙালিরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- এ সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায়।
- শপথ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশী সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- তখন মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৩৭.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে সর্বমোট কতজন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়েছিল?
  1. ৬৭১ জন
  2. ৬৭৪ জন
  3. ৬৭৬ জন
  4. ৬৭৯ জন
সঠিক উত্তর:
৬৭৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭৬ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
⇒ সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ: ৭জন।
⇒ ২য় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম: ৬৮ জন।
⇒ ৩য় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম: ১৭৫ জন।
⇒ ৪র্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক: ৪২৬জন।

- ৬ জুন ২০২১ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
⇒ বীরশ্রেষ্ঠ: ৭জন।
⇒ বীর উত্তম: ৬৭ জন।
⇒ বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
⇒ বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪৩৮.
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ২নং সেক্টর
  2. ৬নং সেক্টর
  3. ৯নং সেক্টর
  4. ১১নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল:
- তাঁর জন্ম ১৯৪৯ সালে বরিশালের দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে।
- ১৯৬৮ সালে তিনি পাকিস্তানের চতুর্থ ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পূর্বে বক্সার হিসাবে সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা অবৈতনিক ল্যান্স নায়েক হিসাবে পদোন্নতি পান।
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোতায়েন করে।
- বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে আশুগঞ্জ, উজানিস্বর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- ১৮ এপ্রিল অসীম সাহসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন।
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দরুইন গ্রামের জনগণ মোস্তফা কামালকে তাঁর শাহাদাতের স্থানের পাশেই সমাহিত করে।
- মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৪৩৯.
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে গঠিত “সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি” এর সদস্য ছিলেন না -
  1. ক) অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ
  2. খ) মনোরঞ্জন ধর
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
• মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
• এর আহবায়ক ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমেদ। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)
- মনিসিংহ (কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)
• সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি বা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মেহেরপুর কত নং সেক্টরের অধীন ছিলো?
  1. ৬ নং সেক্টর
  2. ৭ নং সেক্টর
  3. ৮ নং সেক্টর
  4. ৯ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৮ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের জুলাই মাসে প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
এদের মধ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা এবং ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ৮ নং সেক্টর গঠিত হয়। বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার অধীন মেহেরপুর ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
৮ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং মেজর এম. এ. মঞ্জুর।

অন্যদিকে,
৬ নং সেক্টর : সমগ্র রংপুর জেলা ও ঠাকুরগাঁও মহকুমা
৭ নং সেক্টর : রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া ও দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ
৯ সেক্টর : বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা এবং খুলনা-ফরিদপুরের অংশবিশেষ
ঢাকা শহর ২নং সেক্টরের অধীন ছিলো।

(তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া)
৪৪১.
১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার কর্তৃক প্রকাশিত পত্রিকার নাম ছিল-
  1. জয় বাংলা
  2. বাংলাদেশ
  3. স্বাধীনতা
  4. মুক্তির ডাক
সঠিক উত্তর:
জয় বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয় বাংলা
ব্যাখ্যা
সাপ্তাহিক জয়বাংলা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র - সাপ্তাহিক জয়বাংলা।
- পত্রিকাটি মূলত ছিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম।
- এর লক্ষ্য ছিল একদিকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ।
- সাপ্তাহিক জয়বাংলা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ১১ মে (২৭ বৈশাখ ১৩৭৮)।
- কলকাতার পার্ক সার্কাসের ২১/১ বালু হাক্কাক লেনে ছিল জয়বাংলা পত্রিকার অফিস দপ্তর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৪২.
কার নেতৃত্বে 'জেড' ফোর্স গঠন করা হয়?
  1. জিয়া আহসান
  2. কে.এম.সফিউল্লাহ
  3. জিয়াউর রহমান
  4. খালেদ মোশারফ
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স: 
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনকে ১১টি সেক্টর ও তার অধীন অনেক সাব-সেক্টর ছাড়াও তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে বিভক্ত করা হয়।
- ফোর্সের নামকরণ করা হয় ব্রিগেডগুলোর অধিনায়কদের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে।

১: জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে 'জেড' ফোর্স-
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

২: কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে 'এস' ফোর্স-
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

৩: খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে 'কে' ফোর্স-
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৪৪৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিচালিত ’ক্র্যাক প্লাটুন’ ছিল-
  1. চট্টগ্রামের গেরিলা দল
  2. ঢাকার গেরিলা দল
  3. রাজশাহীর গেরিলা দল
  4. খুলনার গেরিলা দল
সঠিক উত্তর:
ঢাকার গেরিলা দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকার গেরিলা দল
ব্যাখ্যা

'ক্র্যাক প্লাটুন':
- মুক্তিযুদ্ধে স্বতন্ত্র গেরিলা দল যারা মূলত গণবাহিনীর অংশ।
- এই বাহিনী স্বাধীনতা যুদ্ধে ২ নং সেক্টরের অধীন অংশ নেয়।
- ক্র্যাক প্লাটুন গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন খালেদ মোশাররফ এবং এটিএম হায়দার।
- ক্রাক প্লাটুন ঢাকা শহরে অপারেশন পরিচালনা করে।
- ঢাকা শহরে এটি ৮২ টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- এরা "হিট এন্ড রান" পদ্ধতিতে তাঁদের অপারেশন পরিচালনা করতো।
- এই প্লাটুনের অন্যতম সদস্য ছিলেন:
- শহীদ জননী জাহানার ইমাম, শহীদ রুমি ইমাম, আলতাফ মাহমুদ, পপ সম্রাট আজম খান প্রমুখ।
 
 উৎস:  বাংলাপিডিয়া, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভস, দ্যা দেইলি স্টার বাংলা।

৪৪৪.
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন?
  1. ২নং সেক্টর
  2. ৪নং সেক্টর
  3. ৭নং সেক্টর
  4. ৮নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৪৪৫.
বীরশ্রেষ্ঠগণের মধ্যে বিমান বাহিনীর কয়জন ছিলেন?
  1. ক) ২ জন
  2. খ) ৩ জন
  3. গ) ৪ জন
  4. ঘ) ১ জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১ জন
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে কে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ প্রদান করেন।
- এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য তিনজন, সাবেক ই. পি. আর. সদস্য দুইজন এবং বিমান বাহিনী ও নো বাহিনীর একজন করে।

বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্তরা হলেন:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.।
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৪৪৬.
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গণহত্যাটি কোথায় হয়?
  1. রায়ের বাজার
  2. মোহাম্মদপুর
  3. চুকনগর
  4. মিরপুর
সঠিক উত্তর:
চুকনগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুকনগর
ব্যাখ্যা

চুকনগর গণহত্যা:
- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণহত্যা ছিল চুকনগর গণহত্যা।
- চুকনগর ছিল খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ২০ মে মাত্র এক প্লাটুন পাকিস্তানি সেনা ৪ ঘণ্টায় ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে অন্তত ১২ হাজার নিরীহ মানুষকে।
- প্রকৃতপক্ষে এই গণহত্যায় এরচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
- চুকনগরের পাশে ভদ্রা নদীর পানিতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া যায়নি।
- মে মাসের মাঝামাঝি সময় বৃহত্তর খুলনার বাগেরহাট, রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, কচুয়া, শরণখোলা, মংলা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, চালনা, ফরিদপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ ভারতে যাবার উদ্দেশে রওনা হন।
- ভারতে যাবার জন্যে তারা ট্রানজিট হিসেবে বেছে নেন ডুমুরিয়ার চুকনগরকে।
- ২০ মে সকাল ১০টার দিকে ৩টি ট্রাকে করে হঠাৎ পাকিস্তানি সেনারা চুকনগর বাজারের ঝাউতলায় (তৎকালীন পাতখোলা) এসে থামে।
- দুপুর ৩টা পর্যন্ত তারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করতে থাকে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।

৪৪৭.
স্বাধীনতার প্রাক্কালে ১৯ মার্চ জনতার সঙ্গে পাকবাহিনীর প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ হয় -
  1. ক) ফার্মগেট
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) জয়দেবপুর
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
গ) জয়দেবপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জয়দেবপুর
ব্যাখ্যা
পাকবাহিনীকে প্রতিরোধ

- জয়দেবপুরে প্রথম সশস্ত্র গণপ্রতিরোধের সূচনা হয়।
- ৭ মার্চের পর এখানে মো. হাবিবুল্লাহ, আ.ক.ম. মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- ১৯ মার্চ জয়দেবপুরে জনতার সশস্ত্র প্রতিরোধ শুধু গাজীপুরে নয় সারা দেশের সার্বিক স্বাধীনতার সংগ্রামে তাৎপর্যপূর্ণ।
- ২৫ মার্চ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের আগেই জয়দেবপুরবাসী গর্জে ওঠে।

- ঐদিন ব্রিগেডিয়ার জাহানজেবের নেতৃত্বে পাকিস্তানি বাহিনীর একটি দল ঢাকা থেকে জয়দেবপুরে দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টের (দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট) বাঙালি সৈনিকদের অস্ত্র জমা নেওয়ার জন্য এলে পথে হাজার হাজার লোক দুর্ভেদ্য ব্যারিকেড দেয়।
- জয়দেবপুর রেলক্রসিং-এর কাছে লাঠি, তীর, বন্দুক ছাড়াও অনেকে ব্যক্তিগত কয়েকটি বন্দুক নিয়ে উপস্থিত হয়।
- সেদিন জনতার অনুরোধে ৫ জন বাঙালী সৈনিক পাঞ্জাবি সৈনিকদের ওপর প্রথম গুলি ছুঁড়ে।
- পাল্টা গুলিতে নিহত হয় জয়দেবপুর বাজারে মনুমিয়া নামের এক দর্জি ও নিয়ামত নামে এক কিশোর আহত হয়।
- কানু মিয়া নামে আর একজন নিহত হয়।
- মারমুখী জনতার প্রতিরোধ মোকাবেলা করে সে যাত্রা পাক সেনারা ঢাকা ফিরে যায়।
- কিন্তু জয়দেবপুরের প্রতিরোধের শিক্ষা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিভিন্ন জায়গায় শ্লোগান ওঠে ‘জয়দেবপুরের পথ ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর।'

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও দৈনিক প্রথম আলো।
৪৪৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় আফসার ব্যাটালিয়ন কোন এলাকায় গড়ে ওঠে?
  1. বরিশাল
  2. পাবনা
  3. ময়মনসিংহ
  4. মাগুরা
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৪৪৯.
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস না হওয়ার প্রধান কারণ কী ছিল?
  1. ভারতের আপত্তি
  2. সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো
  3. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো
  4. চীনের অনুপস্থিতি
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো
ব্যাখ্যা
- সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেটো দেওয়ায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস হয়নি।
- এটি বাংলাদেশের পক্ষে কূটনৈতিক বিজয় ছিল।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে 'ভেটো' প্রদান করেছিল।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তিনবারই ভেটো দেয়।
- এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি।
৪৫০.
১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত 'চরমপত্র' অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা করেন কে?
  1. ক) এম এ আজিজ
  2. খ) আবু হেনা মোস্তফা কামাল
  3. গ) আবদুল মান্নান
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল মান্নান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল মান্নান
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠান ছিল চরমপত্র। এই অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আবদুল মান্নান। স্থানীয় ঢাকাইয়া উপভাষায় এর স্ক্রিপ্ট তৈরি এবং উপস্থাপনা করেন এম আর আখতার মুকুল।
এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানটি জনগণের কাছে বিপুলভাবে সমাদৃত হয় এবং জনগণের নৈতিক মনোবল দৃঢ়করণে ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৪৫১.
বাংলাদেশের একাত্তরের গণহত্যাকে স্বীকৃতি প্রদানকারী মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. দ্য প্রিভেনশন ইনস্টিটিউট ফর জেনোসাইড
  2. দ্য হিউম্যান রাইটস ইনস্টিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন
  3. জেনোসাইড ওয়াচ ইনস্টিটিউট ফর প্রিভেনশন
  4. লেমকিন ইনস্টিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন
সঠিক উত্তর:
লেমকিন ইনস্টিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেমকিন ইনস্টিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন
ব্যাখ্যা
একাত্তরের হত্যাকাণ্ড:
⇒ ১৯৭১ সালে বাঙালির ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান লেমকিন ইনস্টিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন।

অন্যদিকে
• বাংলাদেশিদের ওপর পাকিস্তানিদের নির্মম হত্যাযজ্ঞকে ‘জেনোসাইড বা গণহত্যা’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
• বিশ্বজুড়ে গণহত্যা প্রতিরোধ, মানুষের নিরাপত্তা ও জবাবদিহি তৈরিতে কাজ করে লেমকিন ইনস্টিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন।
• বাংলাদেশর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এই স্বীকৃতি পায়।
• একাত্তরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করে লেমকিন ইনস্টিটিউট।

সূত্র: প্রথম আলো ও দৈনিক যুগান্তর।
৪৫২.
‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয় কবে?
  1. ক) ১৯৫৩ সালে
  2. খ) ১৯৫৪ সালে
  3. গ) ১৯৫৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৬ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৫৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
জন্মলগ্ন থেকে আওয়ামী মুসলিম লীগ অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরেপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনায় বিশ্বাসী ছিল। ফলে ১৯৫৫ সালে ‘মুসলিম' শব্দটি বাদ দিয়ে দলটিকে একটি অসাম্প্রদায়িক রূপ দেয়া হয় এবং অন্য ধর্মবলম্বীদের জন্য এর দ্বার খুলে দেওয়া হয়। এর মূল নেতা নির্বাচিত হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৩.
মুজিবনগর সরকারের অর্থনীতি বিষয়ক ও পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. তাজউদ্দিন আহমদ
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. এম. মনসুর আলী
  4. এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ:
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- রাষ্ট্রপতি।

• সৈয়দ নজরুল ইসলাম- উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)।

• তাজউদ্দীন আহমদ- প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।

• খন্দকার মোশতাক আহমদ- মন্ত্রী, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

• এম মনসুর আলী- মন্ত্রী, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

• এ এইচ এম কামরুজ্জামান- মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৪৫৪.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার জন্য কতজন মহিলা ‘বীর প্রতীক’ উপাধি পান?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. কেউ না
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নিয়েছেন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রকৃত অর্থেই ছিল জনযুদ্ধ।
- নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বাত্মক এই যুদ্ধে শামিল হয়েছিল সমানভাবে।
- মোট গেজেটভুক্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২০৩ জন।
- বর্তমানে মোট বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৪৮ জন।
- এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২ জন।
- ২ জন নারী বীর প্রতীক: ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং তারামন বিবি।

উৎস: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ওয়েবসাইট।
৪৫৫.
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ কতগুলো সেক্টরে বিভক্ত ছিল?
  1. ১৯ টি
  2. ৯ টি
  3. ৮ টি
  4. ১১ টি
সঠিক উত্তর:
১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।

- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং সেক্টরের অধিনে ।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪৫৬.
মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার জন্যে প্রদত্ত সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব কোনটি?
  1. ক) বীরউত্তম
  2. খ) বীরবিক্রম
  3. গ) বীরশ্রেষ্ঠ
  4. ঘ) বীরপ্রতীক
সঠিক উত্তর:
গ) বীরশ্রেষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বীরশ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।
- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)।

অর্থ্যাৎ, স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে।
এর মধ্য,
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন
- বীর উত্তম: ৬৭ জন
- বীরবিক্রম : ১৭৪ জন
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো)
৪৫৭.
বর্তমানে 'বীর বিক্রম' খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ১৭২ জন
  2. ১৭৩ জন
  3. ১৭৪ জন
  4. ১৭৫ জন
সঠিক উত্তর:
১৭৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৪ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪৫৮.
বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন -
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. তাজউদ্দিন আহমেদ
  3. এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান
  4. কর্নেল ওসমানী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার শপথ গ্রহণ করে - ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে।
- এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রী ছিলেন এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
- মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন - এম.এ.জি ওসমানী।

যেহেতু, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন, সেহেতু তিনিই কার্যত মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
৪৫৯.
'বীরশ্রেষ্ঠ' ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর শহীদ হন -
  1. ক) ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১
  2. খ) ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• 'বীরশ্রেষ্ঠ' মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- 'বীরশ্রেষ্ঠ' মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে।
-  পিতা আব্দুল মোতালেব হাওলাদার ছিলেন কৃষক ও শৌখিন গাইয়ে এবং মা সাফিয়া বেগম ছিলেন গৃহিণী।
- পিতার আর্থিক দৈন্যতার কারণে মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে মামার বাড়ি মুলাদি উপজেলার পাতারচর গ্রামে গমন করেন।
- ১৯৫৩ সালে পাতারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবনের সূচনা হয়।
- ১৯৬৪ সালে মুলাদি মাহমুদ জান পাইলট হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
 - তার পোস্টিং হয় ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরে।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহীদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করা হয়।

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৪৬০.
মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম 
  2. খ) এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান
  3. গ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী 
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) তাজউদ্দীন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তাজউদ্দীন আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল ঘোষিত মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে।
- বৈদ্যনাথতলার পরিবর্তিত নাম মুজিবনগর।
- তাজউদ্দিন আহমেদ ১২ এপ্রিল মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - প্রেসিডেন্ট।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম - ভাইস-প্রেসিডেন্ট।
- তাজউদ্দীন আহমেদ - প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
- খন্দকার মোশতাক আহমদ - পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ।
- এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান - অভ্যন্তরীণ সরকার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন।
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী - অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
৪৬১.
মেজর এম এ জলিল কত নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ৬ নং
  2. ৭ নং
  3. ৮ নং
  4. ৯ নং
সঠিক উত্তর:
৯ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯ নং
ব্যাখ্যা
৯ নং সেক্টর: 
- বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। 
- হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। 
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন। 
- এই সেক্টরে প্রায় বিশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করে। 
- এই সেক্টরকে টাকি, হিঙ্গলগঞ্জ ও শমসেরনগর তিনটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। 
- ডিসেম্বর মাসে চূড়ান্ত আক্রমণের পূর্বে এই সেক্টরকে ৮ নং সেক্টরের সঙ্গে একীভূত করা হয় এবং এর দায়িত্ব অর্পিত হয় মেজর মঞ্জুরের উপর।

এছাড়া,
- ৬ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
- ৭ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।
- ৮ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম এ মঞ্জুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৬২.
মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে-
  1. ক) ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর
  2. খ) ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর
  3. গ) ১৯৭১ সালের ২১ মার্চ
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে সাহায্য সহযোগিতা করে। ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে। ৬-১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সাথে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে। যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়। [সূত্র: একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর (উন্মুক্ত) ইতিহাস বই]
৪৬৩.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন তারিখে বুদ্ধিজীবীদের ওপর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়?
  1. ক) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  2. খ) ২৫ মার্চ ১৯৭১
  3. গ) ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
- ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুই শতেরও বেশি বুদ্ধিজীবীকে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয়।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৪৬৪.
মুক্তিবাহিনীর চিফ অব স্টাফ কে ছিলেন?
  1. কর্নেল এম.এ.জি. ওসমানী
  2. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার
  3. কর্নেল আবদুর রব
  4. মেজর খালেদ মোশাররফ
সঠিক উত্তর:
কর্নেল আবদুর রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নেল আবদুর রব
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনী গঠন ও কার্যক্রম: 
- মুজিবনগর সরকার সুষ্ঠু ও পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
- মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল এম.এ.জি. ওসমানী।
- এছাড়া চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল (অব.) আবদুর রব।
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে ১১জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
- প্রত্যেক সেক্টর বেশ কয়েকটি সাব- সেক্টরে বিভক্ত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৪৬৫.
'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' এর সদস্য নন -
  1. ক) তোফায়েল আহমেদ
  2. খ) শাজাহান সিরাজ
  3. গ) আ. স. ম. আব্দুর রব
  4. ঘ) আব্দুল কুদ্দুস মাখন
সঠিক উত্তর:
ক) তোফায়েল আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তোফায়েল আহমেদ
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১ মার্চ “স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” গঠিত হয় । “স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” - এর সদস্যগণ হলেন -
১. নুরে আলম সিদ্দিকী (সভাপতি, ছাত্রলীগ)
২. শাজাহান সিরাজ (সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগ)
৩. আ. স. ম. আব্দুর রব (সহ-সভাপতি, ডাকসু)
৪. আব্দুল কুদ্দুস মাখন (সাধারণ সম্পাদক, ডাকসু)
• এই ৪ ছাত্র নেতাকে মুক্তিযুদ্ধের ৪ খলিফা বলা হত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম - দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৬৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ৯ টি
  2. খ) ১০ টি
  3. গ) ১১ টি
  4. ঘ) ৬৪ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ টি
ব্যাখ্যা

- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়। এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- ১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।

তথ্যসূত্র- জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

৪৬৭.
মুক্তিযুদ্ধে কয়টি ব্রিগেড ফোর্সের নাম পাওয়া যায়?
  1. ৫টি
  2. ৭টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা:
- ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- তখন সরকার ৪টি সামরিক জোনে বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে।
- ১১ই এপ্রিল তা পুনর্গঠিত করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- এবং ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৪৬৮.
Who was the finance minister of the Mujibnagar government?
  1. Tajuddin Ahmed
  2. M Mansoor Ali
  3. Abul Hasnat Muhammad Kamaruzzaman
  4. Khandaker Mushtaq Ahmed
  5. Syed Nazrul Islam
সঠিক উত্তর:
M Mansoor Ali
উত্তর
সঠিক উত্তর:
M Mansoor Ali
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য:
- মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ।
- মন্ত্রীপরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন গণপরিষদের আওয়ামীলীগের হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত ও উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন- তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার পুলিশপ্রধান মাহবুব উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে আনসার, পুলিশ ও উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত ১২ সদস্যের একটি যৌথ দল।
- শপথগ্রহণের সময় শতাধিক ভারতীয় ও বিদেশি সাংবাদিক এবং প্রচার মাধ্যম কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
৪৬৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. জিয়াউর রহমান
  3. কর্নেল এম এ রব
  4. কর্নেল এম.এ.জি. ওসমানী
সঠিক উত্তর:
কর্নেল এম.এ.জি. ওসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নেল এম.এ.জি. ওসমানী
ব্যাখ্যা
জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় কর্নেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী (যিনি এম.এ.জি. ওসমানী নামে পরিচিত) মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তার নেতৃত্বেই মুক্তিবাহিনী সংগঠিত হয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালায়।
- তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন এবং ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতেও কাজ করেছিলেন।
- তার সামরিক জ্ঞান ও নেতৃত্বের দক্ষতার কারণে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে গঠিত অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার তাকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিযুক্ত করে।
- তার অধীনে মুক্তিবাহিনী ১১টি সেক্টরে বিভক্ত হয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালায়।
- এছাড়াও তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন পরিকল্পনা এবং কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- তার দক্ষ পরিচালনায় মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পরাজিত করতে সক্ষম হয় এবং ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় লাভ করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪৭০.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী যৌথ কমান্ড গঠন করে—
  1. ১ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  2. ২১ নভেম্বর, ১৯৭১
  3. ৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  4. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর।

উল্লেখ্য, 
- বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ।
- বাংলাদেশ হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের মধ্যে প্রথম দেশ, যে দেশ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত আমাদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে।
- বিশেষভাবে ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- পাকিস্তান ৩রা ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
- ৬-১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয় ৷

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি।
৪৭১.
How many sectors were there during the Liberation War?
  1. ক) 10
  2. খ) 11
  3. গ) 7
  4. ঘ) 9
সঠিক উত্তর:
খ) 11
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 11
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:

- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালে ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে এবং ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং  সেক্টরের অধিনে ।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধিনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪৭২.
মুক্তিযুদ্ধকালে কাদেরিয়া বাহিনী কোন অঞ্চলে সক্রিয় ছিল?
  1. টাঙ্গাইলে
  2. খুলনায়
  3. যশোরে
  4. বরিশালে
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইলে
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে কাদেরিয়া বাহিনী:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী টাঙ্গাইলে তার নিজস্ব বাহিনী নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন।
- তাঁর বাহিনীর নাম ছিল কাদেরিয়া বাহিনী।
- এ বাহিনী মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় কৃতিত্বের সাথে পাকবাহিনীর মোকাবিলা করে।
- ২৮ মার্চ ভূয়াপুর কলেজের শহীদ মিনারের পাদদেশে ‘ভূঞাপুর সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ’-এর সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৭৩.
What was the code name of Flight Lieutenant Matiur Rahman's hijacked plane?
  1. Big Bird
  2. Black Bird
  3. Blue Bird
  4. Sea Bird
সঠিক উত্তর:
Blue Bird
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Blue Bird
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান:

- বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান টি-৩৩ বিমানটি ছিনিয়ে আনতে গিয়ে শহীদ হন।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ঢাকার ১৯৪১ সালের ২৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৬৩ সালের জুন মাসে কমিশন লাভ করেন। কর্মস্থল ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের রিসালপুর।
- এর পরের বছর পেশোয়ারে জেট পাইলট নিযুক্ত হবার পূর্বে করাচিতে জেট কনভার্সন কোর্স সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেন।
- ২০ আগস্ট সকালে করাচির মশরুর বিমানঘাঁটি থেকে পাইলট অফিসার মিনহাজ রশীদের টি-৩৩ বিমান নিয়ে উড়বার শিডিউল ছিল।
- মতিউর ছিলেন তার প্রশিক্ষক।
- টি-৩৩ বিমানের সাংকেতিক নাম ছিল ব্লু বার্ড।
- প্রশিক্ষণকালে মতিউর বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেন নি।
- বিমানটি বিধ্বস্ত হয় ভারতীয় সীমান্তের কাছে থাট্টায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪৭৪.
‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করে -
  1. ছাত্রলীগ
  2. ছাত্র ইউনিয়ন
  3. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  4. আওয়ামী লীগ
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:

- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৭৫.
How many people in the Air Force who received the title in the Liberation War?
  1. ক) 11
  2. খ) 21
  3. গ) 30
  4. ঘ) 46
সঠিক উত্তর:
খ) 21
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 21
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন বাহিনীতে খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা:

- বিমান বাহিনী - ২১  জন।
- সেনাবাহিনী - ২৮৮ জন।
- নৌবাহিনী - ২৪  জন।
- বাংলাদেশ রাইফেল্স - ১৪৯ জন।
- মুজাহিদ/ আনসার - ১৪ জন।
- গণবাহিনী - ১৭৫ জন।

তথ্যসূত্র - বাংলপিডিয়া।
৪৭৬.
স্বাধীন সার্বভৌম ''গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার'' এর রাষ্ট্রপতির নাম -
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) তাজউদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন:
- ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ নির্বাচিত সাংসদগণ আগরতলায় একত্রিত হয়ে এক সর্বসস্মত সিদ্ধান্তে সরকার গঠন করেন।
- এই সরকার স্বাধীন সার্বভৌম ''গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার''।
- স্বাধীনতার সনদ (Charter of Independence) বলে এই সরকারের কার্যকারিতা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হয়।
- ১৭ই এপ্রিল ৭১ মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামে বৈদ্যনাথ তলায় ''গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার'' আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন।
- রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির এই সরকারের মন্ত্রী পরিষদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পীকার অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- যে সমস্ত নেতৃবৃন্দকে নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয় তাঁরা হলেনঃ

১।  রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (পাকিস্তানে বন্দী)
২।   উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি)
৩।   প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমেদ (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত) 
৪।   অর্থমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত)
৫।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমেদ (আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত)
৬।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: এ এইচ এম কামরুজ্জামান (ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত)

- এই অনুষ্ঠানে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসাবে (বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে) এবং কর্নেল এম এ জি ওসমানী মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে সরকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- দেশ বিদেশের শতাধিক সাংবাদিক ও হাজার হাজার দেশবাসীর উপস্থিতিতে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংসদ জনাব আবদুল মান্নান।
- নবগঠিত সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।
- বাঙালির প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এই স্থানটির নামকরণ করা হয় ''মুজিব নগর''।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৪৭৭.
মুজিবনগরে কোন তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল?
  1. ক) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
  4. ঘ) ১০ নভেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
উৎসঃ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস
৪৭৮.
ডাক্তার সেতারা বেগম কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ৪ নম্বর
  2. ৭ নম্বর
  3. ২ নম্বর
  4. ৫ নম্বর
সঠিক উত্তর:
২ নম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নম্বর
ব্যাখ্যা
নারী মুক্তিযোদ্ধা সেতারা বেগম:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিত্সাসেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে হাসপাতাল বা চিকিত্সাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল।
- এ রকম একটি হাসপাতাল ছিল ২ নম্বর সেক্টরে।
- নাম ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’।
- এটি প্রথমে স্থাপিত হয় সীমান্তসংলগ্ন ভারতের সোনামুড়ায়।
- পরে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তা স্থানান্তর করা হয় আগরতলার কাছাকাছি বিশ্রামগঞ্জে। 
- ডা. সিতারা বেগম জুলাইয়ের শেষ দিকে বাংলাদেশ হাসপাতালে যোগ দেন।
- পরে হাসপাতালের সিও (কমান্ডিং অফিসার) কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। 
- ডা. সিতারা বেগম বাংলাদেশ হাসপাতালে অসাধ্য সাধনের মতো সব কাজ করতেন।
- পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিদিনই এ হাসপাতালে পাঠানো হতো। 
- আহত মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল চাঙা রাখতে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা যে অবদান রেখেছেন, তা সত্যিই স্মরণীয়।

উৎস:  ১৬ জুন ২০২১, প্রথম আলো।
৪৭৯.
মুজিবনগর সরকারের অর্থনীতি বিষয়ক ও শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন কে? 
  1. খন্দকার মোশতাক আহমদ
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  4. এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকারের অর্থনীতি বিষয়ক ও শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন- তাজউদ্দীন আহমদ।

• মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ:  
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- রাষ্ট্রপতি।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম- উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)।
- তাজউদ্দীন আহমদ- প্রধানমন্ত্রীএবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।
- খন্দকার মোশতাক আহমদ- মন্ত্রী, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
- এম মনসুর আলী- মন্ত্রী, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
- এ এইচ এম কামরুজ্জামান- মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪৮০.
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী 'ইউ কে চিং মারমা' যুদ্ধে অবদানের জন্য কোন খেতাবে ভূষিত হয়েছেন?
  1. বীরশ্রেষ্ঠ
  2. বীর বিক্রম
  3. বীর উত্তম
  4. বীর প্রতীক
সঠিক উত্তর:
বীর বিক্রম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীর বিক্রম
ব্যাখ্যা
ইউ কে চিং মারমা:
- ইউ কে চিং মারমা ১৯৩৭ সালে বান্দরবানে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৫২ সাল থেকে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ৬ নম্বর সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেন। 
- তিনি মূলত উত্তরবঙ্গের বৃহত্তর রংপুর জেলায় যুদ্ধ করেছেন। 
- তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সর্বোচ্চ খেতাবধারী একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা।
- সম্মুখ যুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে মুক্তিযুদ্ধের তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব ‘বীর বিক্রম’ উপাধিতে ভূষিত করে।

⇒ ১৯৫২ সালে ১৯ বছর বয়সে ইউ কে চিং ইপিআরে যোগদান করেন। একাত্তরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি নায়েক পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তাকে হাবিলদার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৮২ সালে তৎকালীন বিডিআর থেকে সুবেদার পদে অবসরগ্রহণ করেন। একাত্তরের ৩ মার্চ তিনি রংপুরের ১০ নম্বর উইংয়ের অধীন লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা বিওপিতে যোগ দেন। ২৯ মার্চ ভোর ৪টায় হাতিবান্ধা বিওপি’র বাঙালি ইপিআর সদস্যরা একযোগে বিদ্রোহ করে পরদিন ভারতের সোনারহাটে কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আরব আলীসহ প্রায় শতাধিক ইপিআর ও অন্যান্য মুক্তিবাহিনী সদস্যের সঙ্গে গিয়ে মিলিত হন।

উল্লেখ্য,
- ২০১৪ সালে ২৫ জুলাই এ বীর মুক্তিযোদ্ধার জীবনাবসান হয়।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়।
ii) যুগান্তর।
৪৮১.
'Bluebird' was the code name of -
  1. ক) B1 aircraft
  2. খ) T-33 aircraft
  3. গ) B4 aircraft
  4. ঘ) T-I aircraft
সঠিক উত্তর:
খ) T-33 aircraft
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) T-33 aircraft
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত সাতজন মুক্তিযোদ্ধার অন্যতম ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ঢাকার আগাসাদেক রোডস্থ পৈতৃক বাসভবনে ১৯৪১ সালের ২৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন।
 
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ছুটিতে এসে মতিউর রহমান স্থানীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন। ভৈরবে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। পরে পারিবারিক চাপে মে মাসে তিনি পাকিস্তান চলে যান। সেখানে তিনি বিমান ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল বিমান ছিনতাই করে সেটি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেবেন।
 
২০ আগস্ট সকালে করাচির মশরুর বিমানঘাঁটি থেকে পাইলট অফিসার মিনহাজ রশীদের টি-৩৩ বিমান নিয়ে উড়বার শিডিউল ছিল। মতিউর ছিলেন তার প্রশিক্ষক। টি-৩৩ বিমানের সাংকেতিক নাম ছিল ব্লু বার্ড। প্রশিক্ষণকালে মতিউর বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেন নি। বিমানটি বিধ্বস্ত হয় ভারতীয় সীমান্তের কাছে থাট্টায়। 
 
মতিউর রহমানের দেশপ্রেম ও আত্মদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
 
উৎস : বাংলাপিডিয়া 
৪৮২.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সারা বিশ্ব ও পরাশক্তিসমূহ কত ভাগে বিভক্ত হয়েছিল?
  1. ক) দুই ভাগে
  2. খ) তিন ভাগে
  3. গ) চার ভাগে
  4. ঘ) পাঁচ ভাগে
সঠিক উত্তর:
ক) দুই ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই ভাগে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সারা বিশ্ব ও পরাশক্তিসমূহ দুভাগে ভাগ হয়েছিল। 
- ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে 
- এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সরকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
- পরাশক্তিসমূহের বিভাজনের কারণে জাতিসংঘ কোন ভালো ভূমিকা রাখতে পারেনি। 
- সে সময় যুক্তরাজ্য সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করেছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৩.
মুজিব নগর সরকারকে নীতি নির্ধারণী পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য কত সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়?
  1. ৭ জন
  2. ৮ জন
  3. ৯ জন
  4. ১০ জন
সঠিক উত্তর:
৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ জন
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- সরকারকে নীতি নির্ধারণী পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ৮ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়।
- বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় ছিল। 
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৪.
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন -
  1. ক) আতাউল গণি ওসমানী
  2. খ) এ কে খোন্দকার
  3. গ) আব্দুল জলিল
  4. ঘ) কেউই নন
সঠিক উত্তর:
ঘ) কেউই নন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কেউই নন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন কিন্তু তিনি সাক্ষর করেননি। ১৯৭১ সালের ৬-১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়। ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন। পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৫.
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী ‘মুজিবনগর’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) সাতক্ষীরা
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) যশোর
  4. ঘ) ঝিনাইদহ
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
ব্যাখ্যা

- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। যা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

৪৮৬.
অপারেশন জ্যাকপট কী?
  1. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ চট্টগ্রামে পাকবাহিনীর অভিযান
  2. বঙ্গোপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযান
  3. মুক্তিবাহিনীর নৌকমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান
  4. মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান
সঠিক উত্তর:
মুক্তিবাহিনীর নৌকমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিবাহিনীর নৌকমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোরা পরিচালিত প্রথম অভিযান অপারেশন জ্যাকপট নামে পরিচিত।
- এইদিন নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়। এতে পাকবাহিনীর ২৬টি নৌযান ধ্বংস হয়।
- মোট ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডোরা চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে অপারেশন জ্যাকপটে অংশ নেয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৪৮৭.
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার তথ্য প্রকাশ করা বিখ্যাত প্রতিবেদন ‘জেনোসাইড’ কোথায় প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. সানডে টাইমস
  2. ডেইলি টেলিগ্রাম
  3. দ্য মর্নিং নিউজে
  4. নিউ ইয়র্ক টাইমস
সঠিক উত্তর:
সানডে টাইমস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সানডে টাইমস
ব্যাখ্যা

• অ্যান্থনি মাসকারেনহাস:
-  ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে তিনি পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার বিষয়টি বিশ্ববাসীর কাছে সর্বপ্রথম উন্মোচিত করেন।
- মার্চের শেষ থেকে পাকাসেনারা পরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার লোককে হত্যা করে চলেছে।
- সানডে টাইমসের পাকিস্তান-প্রতিনিধি অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস এই প্রথামবারের মতো নিরবতার পর্দা উন্মোচন করলেন।
- তিনি সেখানে পাকসেনাদের কীর্তিকলাপ দেখেছেন।  
- তিনি পাকিস্তান ছেড়ে এসেছেন বিশ্ববাসীকে সেসব জানানোর জন্য। 
- সেনাবাহিনী শুধু স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলা বা বাংলাদেশ ধারণার সমর্থকদেরই হত্যা করছে না। স্বেচ্ছাকৃতভাবে খুন করা হচ্ছে হিন্দু ও বাঙালি মুসলমান সবাইকে। 
- এরপর তিনি পাকিস্তান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
- পরিবারসহ লন্ডনে চলে যাওয়ার পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংসতা ফাঁস করে দেন। 

- ১৩ জুন, ১৯৭১ সালে যুক্তরাজ্যের সানডে টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ম্যাসকারেনহাসের সেই প্রতিবেদন।
- সম্পাদকীয় পাতার দুই পৃষ্ঠা জুড়ে ছাপা হয় সেই প্রতিবেদন, সঙ্গে ছিল বিশাল হরফের শিরোনাম- জেনোসাইড
- এক শব্দের সেই শিরোনামেই প্রথমবারের মতো ফাঁস হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার ব্যাপকতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জেনোসাইড আর্কাইভ, বাংলা ট্রিবিউন।

৪৮৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিচালিত অপারেশন 'কিলো ফ্লাইট' কার নামানুসারে গঠিত হয়? 
  1. এম এ জি ওসমানী
  2. এম এ রব
  3. এ কে খন্দকার
  4. জিয়াউর রহমান 
সঠিক উত্তর:
এ কে খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা

• এ কে খন্দকার: 
- এ কে খন্দকারের জন্ম ১৯৩০ সালে বাবার কর্মস্থল রংপুরে। 
- তাঁর আদি নিবাস পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা গ্রামে। 
- ১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশন ও ১৯৪৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি। 
- ১৯৫২ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। 
- গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে তিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন।

- মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত আগে এ কে খন্দকার ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর দ্বিতীয় প্রধান।
 - সেখান থেকে বেরিয়ে এসে ১৯৭১ সালের মে মাসের মাঝামাঝি মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।
 - তাঁর সঙ্গে ছিলেন বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ বৈমানিক। তাঁরা মুক্তিবাহিনীর বিমান শাখা গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। 

- নাগাল্যান্ডের ডিমারপুরে একটি বিমানঘাঁটি করা হয় এবং ২৮ সেপ্টেম্বর বিমানবাহিনী গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
 - এই বিমানবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল তিনটি বিমান নিয়ে।
 - এ কে খন্দকারের নাম অনুসারে গঠন করা ‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল মুক্তিবাহিনীর বিমান উইংয়ের প্রথম ইউনিট। 
- ‘কে’ দিয়ে যেহেতু খন্দকার হয়, তাই এর নাম দেওয়া হলো ‘কিলো ফ্লাইট’। ‘কে’ ফর কিলো। আর ‘ফ্লাইট’ হচ্ছে বিমানের ভাষায় স্কোয়াড্রন থেকে ছোট একটা ইউনিট। 

- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক মুহূর্তে মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
 - স্বাধীনতার পর তিনি প্রথম বিমানবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন।
- তাঁর নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত বিমানবাহিনী পুনর্গঠিত হয়। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বিমানবাহিনীর প্রধান ছিলেন তিনি।

- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদান রাখার জন্য এ কে খন্দকার ১৯৭৩ সালে ‘বীর উত্তম’ খেতাব এবং ২০১১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিয়ে এ কে খন্দকারের লেখা ১৯৭১: ভেতরে বাইরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের আলোচিত একটি গ্রন্থ। 

- ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ (শনিবার) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। 
- তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।


তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। (Link) (Link2)

৪৮৯.
মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
খ) তাজউদ্দীন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তাজউদ্দীন আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল ঘোষিত মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে।
- বৈদ্যনাথতলার পরিবর্তিত নাম মুজিবনগর।
- তাজউদ্দিন আহমেদ ১২ এপ্রিল মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন;
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - প্রেসিডেন্ট
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম - ভাইস-প্রেসিডেন্ট
- তাজউদ্দীন আহমেদ - প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
- খন্দকার মোশতাক আহমদ - পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ
 - এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান - অভ্যন্তরীণ সরকার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন
 - ক্যাপ্টেন মনসুর আলী - অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯০.
মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ২ নং সেক্টরে
  2. খ) ৭ নং সেক্টরে
  3. গ) ৯ নং সেক্টরে
  4. ঘ) ১১ নং সেক্টরে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১ নং সেক্টরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১ নং সেক্টরে
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের (বীর উত্তম)। 

তারামন বিবি:
- বাংলাদেশের দুইজন 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু। 
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করে। 
- তিনি ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। 

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য অন্য আরেকজন মহিলা মুক্তিযুদ্ধাকে 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তিনি হলেন- ডা. সেতারা বেগম।
- ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে ২নং সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং ডেইলি স্টার পত্রিকা।
৪৯১.
মুক্তিযুদ্ধে ২নং সেক্টরের সদরদপ্তর কোথায় ছিল?
  1. হরিণা
  2. হেজামারা
  3. বাঁশতলা
  4. মেলাঘর
সঠিক উত্তর:
মেলাঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেলাঘর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
=১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ২নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৩নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে মেজর এএনএম নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৪ নং সেক্টর:
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরাজন দত্ত, পরে ক্যাপ্টেন এ রবের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৫নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

= ৬নং সেক্টর:
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।

= ৭নং সেক্টর:
-রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নজরুল হক, পরে সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৮নং সেক্টর:
- কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল,
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ।
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৯নং সেক্টর:
- বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম জলিল, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীনের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ১০নং সেক্টর:
- সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন।

= ১১নং সেক্টর:
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৯২.
বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র ছিল কোনটি?
  1. ক) লন্ডন
  2. খ) ৮নং থিয়েটার রোড, কলকাতা
  3. গ) নয়া দিল্লি
  4. ঘ) স্টকহোম
সঠিক উত্তর:
ক) লন্ডন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লন্ডন
ব্যাখ্যা
গ্রেট ব্রিটেনের ভূমিকা:
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে ব্রিটেনের প্রচার মাধ্যম বিশেষ করে বিবিসি এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকা বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নির্যাতন এবং বাঙালিদের সংগ্রাম ও প্রতিরোধ, ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের করুণ অবস্থা, পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা এবং মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি সম্পর্কে বিশ্ব জনমতকে জাগ্রত করে তোলে।
- ব্রিটিশ সরকারও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে খুবই সহানুভূতিশীল ছিল।
- লন্ডন ছিল বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কে-ফোর্স এর নেতৃত্বে কে ছিলেন?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. খালেদ মোশাররফ
  3. কে এম শফিউল্লাহ
  4. খাইরুল বাসার
সঠিক উত্তর:
খালেদ মোশাররফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খালেদ মোশাররফ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে ব্রিগেড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রধান সেনাপতি কর্নেল এম এ জি ওসমানী বিগ্রেড আকারে তিনটি ফোর্স গঠন করেছিলেন।
ফোর্স ৩টি হলো:
- জেড ফোর্স (জিয়াউর রহমান),
- কে ফোর্স (খালেদ মোশাররফ) এবং
- এস ফোর্স (কে এম শফিউল্লাহ)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৯৪.
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়-
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  4. ঘ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
• ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
• ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
• যা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী।
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
• মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪৯৫.
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  2. খ) কামরুজ্জামান
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমেদ
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী : এ এইচ এম কামরুজ্জামান
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

৪৯৬.
জাপান কবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  2. ১০ জানুয়ারি ১৯৭২
  3. ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
  4. ১৫ আগস্ট ১৯৭৫
সঠিক উত্তর:
১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
ব্যাখ্যা

→ জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়: ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ সালে।

• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরব দেশ:
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় - ইরাক।
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২৮ মার্চ, ১৯৭৩ সালে।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে।

• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরো কিছু উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্র:
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার - সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ বা প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে - ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ২৫ মে ১৯৭২।

তথ্যসূত্র - পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, সংগ্রামের নোটবুক ও প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৪৯৭.
মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. কর্নেল এম এ জি ওসমানী
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. এ কে খন্দকার
  4. কর্নেল এম এ রব
সঠিক উত্তর:
কর্নেল এম এ জি ওসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নেল এম এ জি ওসমানী
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ সংগঠন ও পরিচালনা: 
- মুজিবনগর সরকার আতাউল গণি ওসমানীকে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করে।
- তিনি মুক্তিবাহিনীকে সংগঠিত করেন।
- তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস এর বাঙালি সদস্য সমন্বয়ে গঠিত;
- সৈন্য, ব্যাটেলিয়ান ই পি আর, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে মুক্তি বাহিনীর নিয়মিত বাহিনী গঠন করা হয়।
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।
- উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করা।
- প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করার  মোট ১২টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল।
-  মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করে।
- ১০ এপ্রিল, ৪টি এবং পরবর্তীকালে ১১ এপ্রিল ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল যারা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল।
- এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, কৃষক, নারী, রাজনৈতিক দলের কর্মী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।


 উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৮.
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
  1. ক) আমেরিকা
  2. খ) অস্ট্রেলিয়া
  3. গ) ইতালি
  4. ঘ) ইংল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
খ) অস্ট্রেলিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
অস্ট্রেলিয়ার ওলন্দাজ নাগরিক উইলিয়ম ওডারল্যান্ডই একমাত্র বিদেশি যিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার কর্তৃক ‘বীর প্রতীক’ রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত হন।
- ওডারল্যান্ড ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৪০ সালে সেনাবাহিনীর চাকুরি ছেড়ে ওলন্দাজ বাহিনীর গেরিলা কমান্ডো হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে (১৯৩৯-১৯৪৫) অংশগ্রহণ করেন।
- ঢাকায় বাটা সু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে ওডারল্যান্ড ১৯৭০ সালের শেষের দিকে প্রথম  ঢাকায় আসেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গেরিলা কমান্ডো হিসেবে স্বীয় অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এবং স্বয়ং ২নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা শাখার সক্রিয় সদস্যরূপে অকুতোভয় ওডারল্যান্ড বাটা ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণসহ টঙ্গীর  কয়েকটি গোপন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত গেরিলা রণকৌশলের প্রশিক্ষণ দিতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৯৯.
বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত সর্বমোট বীর মুক্তিযোদ্ধা-
  1. ক) ৬৭৬ জন
  2. খ) ৪৩৯ জন
  3. গ) ৪২৬ জন
  4. ঘ) ৬৭২ জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬৭২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬৭২ জন
ব্যাখ্যা

- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত। যথা- বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন, বীর উত্তম ৬৮ জন, বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং বীর প্রতীক ৪২৬ জন।
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৬৭৬ জন।
- কিন্তু ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত সর্বমোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
- দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী এই খেতাব বাতিল করা হয়েছে।

খেতাব বাতিল হওয়া চার খুনি হলেন-
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীরউত্তম, গেজেট নং ২৫), লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নুর চৌধুরী (বীরবিক্রম, গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীরপ্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) ও নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীরপ্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।

উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫০০.
'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালিত হয় কবে?
  1. ১৯৭১ সালের ২১শে মার্চ
  2. ১৯৭১ সালের ২৩শে মার্চ
  3. ১৯৭২ সালের ২৫শে মার্চ
  4. ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট: 
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরলতম এবং একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়, যা 'কালরাত্রি' নামে পরিচিত।
- সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ, স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনগণের ওপর ইতিহাসের নির্মমতম গণহত্যা চালায়।
- পাকিস্তান তাদের এ অভিযানের নাম দেয় 'অপারেশন সার্চলাইট'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।