বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)

মোট প্রশ্ন২,৫৩৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)

PrepBank · পাতা / ২৬ · ৩০১৪০০ / ২,৫৩৩

৩০১.
জল্লাদের দরবার অনুষ্ঠানে 'কেল্লা ফতেহ খান' দ্বারা কোন চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে?
  1. আইয়ুব খান 
  2. ইয়াহিয়া খান
  3. জুলফিকার আলী ভুট্টো
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ইয়াহিয়া খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন বাংলা বেতার:
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’।
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো।
- এই ব্যঙ্গাত্মক সিরিজে তাকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রে চিত্রিত করা হয় এবং এই ভূমিকায় অভিনয় করেন রাজু আহমেদ।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আবদুল মান্নান এবং স্থানীয় ঢাকাইয়া উপভাষায় এর স্ক্রিপ্ট তৈরি করেন এম.আর আখতার মুকুল, যিনি নিজেই এর উপস্থাপক ছিলেন।
- এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানটি জনগণের কাছে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়।
- এতে একইসঙ্গে ছিল তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ ও জাতীয়তা বোধের প্রকাশ যা জনগণের নৈতিক মনোবল দৃঢ়ীকরণে ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩০২.
মুজিবনগর সরকার কত সদস্য বিশিষ্ট পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে?
  1. ৪ জন
  2. ৫ জন
  3. ৬ জন
  4. ৭ জন
সঠিক উত্তর:
৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ জন
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন:
- পরিকল্পনা কমিশন গঠন দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না।
- স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী।
- সদস্য ছিলেন,
(১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ।
(২) ড. মোশাররফ হোসেন।
(৩) ড. এস. আর. বোস।
(৪) ড. আনিসুজ্জামান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৩.
'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালনা করে কে?
  1. নৌ বাহিনী
  2. মিত্র বাহিনী
  3. বিমান বাহিনী
  4. গেরিলা বাহিনী
সঠিক উত্তর:
নৌ বাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌ বাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট ১৯৭১ সালে।
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
৩০৪.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় কত সালে?
  1. ২০০৬ সালে
  2. ২০০৭ সালে
  3. ২০০৮ সালে
  4. ২০০৯ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান:
- ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে তিনি জম্ম গ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি যোগ দেন সেনাবাহিনীতে।
- হামিদুর রহমানের পদবী ছিল সিপাহী।
- ১৯৭১ সালে হামিদুর রহমান মুক্তিবাহিনীর সাহসী সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করছিলেন সিলেট শ্রীমঙ্গল এলাকায়।
- ১৯৭১ সালের ২৮শে অক্টোবর সম্মুখ যুদ্ধে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত হন।
- সুদীর্ঘ ৩৬ বছর পর ১০ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।
- ১১ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৩০৫.
সাইমন ড্রিং কোন ঘটনা বিশ্ববাসীর নিকট তুলে ধরেন?
  1. অপারেশন জ্যাকপট
  2. অপারেশন সার্চলাইট
  3. ক্র্যাক প্লাটুনের হিট এন্ড রান
  4. বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড
সঠিক উত্তর:
অপারেশন সার্চলাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন সার্চলাইট
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট ও সাইমন ড্রিং
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা চালায়।
- ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এ গোপনে অবস্থান করে এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন।
- পরে ৩০ মার্চ, ১৯৭১ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় 'ট্যাংকস ক্রাশ রিভোল্ড ইন পাকিস্তান' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাকবাহিনীর এর বর্বরতা বহির্বিশ্বে প্রকাশ করেন।
- ২০২১ সালের ১৬ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।

অন্যদিকে,
অপারেশন জ্যাকপট
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট ১০ নং সেক্টরে নৌবাহিনী পরিচালিত প্রথম অভিযান 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- এই রাতে নৌ-কমান্ডোরা পাকবাহিনীর ২৬ টি জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র- দৈনিক প্রথম আলো। বাংলাপিডিয়া।
৩০৬.
'দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' আয়োজন করা হয়েছিল কোন স্থানে?
  1. নিউইয়র্কে
  2. জর্জিয়ায়
  3. লন্ডনে
  4. ক্যালিফোর্নিয়া
সঠিক উত্তর:
নিউইয়র্কে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউইয়র্কে
ব্যাখ্যা
দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:

- মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি বন্ধুদের পাশে এসে দাঁড়ানোর অসাধারণ একটি উদ্যোগের নাম 'দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'।
- ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজন করা হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক কনসার্টটি।
- ম্যনহাটনের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে হওয়া সেই কনসার্টের অন্যতম দুই উদ্যোক্তা ছিলেন ইংল্যান্ডের সাড়া জাগানো ব্যান্ড দল দ্য বিটলস ব্যান্ডখ্যাত পশ্চিমা সঙ্গীতের অগ্রগণ্য শিল্পী জর্জ হ্যারিসন ও ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য অংশ সেই কনসার্টের ৫০ বছর পূর্তিতে নিউইয়র্কে আয়োজন করা হয়েছে একটি উৎসবের।
- ৩১ জুলাই শনিবার বিকালে জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে 'ফ্রেন্ডস অব ফ্রিডম' নামে একটি সংগঠন এই উৎসবের আয়োজন করেছে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ১৬ জুলাই ২০২১।
৩০৭.
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেন?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৩নং সেক্টর
  4. ৪নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : কোনো সেক্টরের অধীনে ছিলেন না।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৩০৮.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় কত তারিখে?
  1. ক) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ৭ মার্চ, ১৯৭১
  3. গ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ঘ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ক) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানী সেনারা ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যায় লিপ্ত হয়।
- নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙ্গালির ওপর বিভৎস এ আক্রমণ অখন্ড পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়।
- আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩০৯.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নিহত মাদার মারিও ভেরেনজি কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
  1. জার্মানি
  2. ইতালি
  3. অস্ট্রিয়া
  4. অস্ট্রেলিয়া
সঠিক উত্তর:
ইতালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতালি
ব্যাখ্যা
মাদার মারিও ভেরেনজি:
- মাদার মারিও ভেরেনজি ইতালির নাগরিক ছিলেন।
- ফাদার ভেরেনজি যশোর ফাতিমা ক্যাথলিক হাসপাতালের চারজন ইতালীয় যাজকের একজন ছিলেন।
- সকলেই জাভেরিয়ান আদেশের সদস্য ছিলেন।
- বাংলাদেশের যশোর জেলায় স্থাপিত খ্রিস্টান চার্চের দায়িত্ব পালনকালে ৪ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হন।
- তাকে যশোর ক্যাথলিক হাসপাতালের মাঠে সমাহিত করা হয়।

এছাড়াও, 
ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ওডারল্যান্ড ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ওডারল্যান্ড ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩১০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কতটি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ১৭টি
  4. ১৮টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০-১৭ জুলাই কলকাতায় তাজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যুদ্ধাঞ্চলের অধিনায়কদের সম্মেলনে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। ১১টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
এগারোটি সেক্টর হলো:
১ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর জিয়াউর রহমান এবং মেজর রফিকুল ইসলাম
২ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশবিশেষ
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর খালেদ মোশাররফ এবং মেজর এ.টি.এম হায়দার
৩ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান
৪ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
৫ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর মীর শওকত আলী
৬ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা
- সেক্টর কমান্ডার : উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার
৭ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর নাজমুল হক এবং সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান
৮ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং মেজর এম.এ মঞ্জুর
৯ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর এম. এ জলিল এবং মেজর এম. এ মঞ্জুর
১০ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : সমুদ্র ও নৌ অঞ্চল
- সেক্টর কমান্ডার : নিয়মিত কোন সেক্টর কমান্ডার ছিলো না
১১ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর এম. আবু তাহের এবং স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৩১১.
'মুক্তিবেটি' নামে পরিচিত কে?
  1. ক্যাপ্টেন ডা. সেতারা বেগম
  2. তারামন বিবি
  3. কাঁকন বিবি
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
কাঁকন বিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁকন বিবি
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে নারী, শিশু ও ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী:
- দুজন মহিলাকে বীরত্বসূচক 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রদান করা হয় মুক্তিযুদ্ধে নারীদের বিশেষ অবদানের জন্য।
- তারা হলেন ক্যাপ্টেন ডা. সেতারা বেগম এবং তারামন বিবি।
- সেতারা বেগম যুদ্ধ করেন ২নং সেক্টরে আর তারামন বিবি ১১নং সেক্টরে। 
- খেতাবহীন বীর মহিলা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুনামগঞ্জের খাসিয়া সম্প্রদায়ের কাঁকন বিবি পরিচিত, যার আসল নাম ছিল কাঁকাত হেনিনচিতা।
- কাঁকন বিবি 'মুক্তিবেটি' নামেও পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক সেনা বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হন প্রায় তিন লাখ নারী।
- এই নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এবং তাদের ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয়ভাবে 'বীরাঙ্গনা' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি। 

৩১২.
বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে প্রথম কে শহিদ হয়েছিলেন?
  1. মুন্সি আব্দুর র‍উফ
  2. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  3. সিপাহী মোস্তফা কামাল
  4. ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান
সঠিক উত্তর:
মুন্সি আব্দুর র‍উফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুন্সি আব্দুর র‍উফ
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর র‍উফ:
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা ও অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়, মুন্সী আবদুর রউফ তাঁদের অন্যতম।
- তিনি বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে ১ম শহিদ।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তিনি ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে আবদুর রউফ ইপিআরের ১১ নম্বর উইং চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল রাঙামাটির নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের মুখোমুখি লড়াই হয়। কৌশলগত কারণে সহযোদ্ধাদের পিছু হটতে বলে তিনি নিজেই শত্রুসেনাদের মোকাবেলা করেন, একপর্যায়ে শহীদ হন। সহযোদ্ধারা পরে তাঁর লাশ উদ্ধার করে নানিয়ারচরের চিংড়ি খালসংলগ্ন একটি টিলার ওপর সমাহিত করেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরত্ব ও আত্মদানের জন্য বাংলাদেশ রাইফেলস ১৯৭৩ সালে সিপাহি মুন্সী আবদুর রউফকে অনারারি ল্যান্স নায়েক পদে মরণোত্তর পদোন্নতি দান করে।

অন্যদিকে,
• ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর,
- মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ)।

• সিপাহী মোস্তফা কামাল,
- মৃত্যু: ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১।

• ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান,
- মৃত্যু: ২০ আগস্ট, ১৯৭১।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৩১৩.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার কতজন আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে?
  1. ২ জন
  2. ৪ জন
  3. ৬ জন
  4. ৮ জন
সঠিক উত্তর:
৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৩১৪.
মুক্তিযুদ্ধকালীন ’আফসার বাহিনী’ কোথায় গড়ে উঠে?
  1. টাঙ্গাইল
  2. ঝিনাইদহ
  3. বরিশাল
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

মুক্তিবাহিনী:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় যে বাহিনীটা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সেটাকেই মুক্তিবাহিনী বলে।
- এটার কয়েকটা ভাগ ছিল।
- যেমন: একটা ভাগে ছিল সেনাবাহিনী, ইপিআর, পুলিশ, আনসার আর আরেকটা অংশে ছিল ছাত্র-জনতা।
- সবাইকে মিলিয়ে বলা হতো মুক্তিবাহিনী।

- এছাড়া, কতিপয় স্বতন্ত্র বাহিনীও  বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং অনেক এলাকা মুক্ত করে।

⇒ যেমন:
- ময়মনসিংহের আফসার বাহিনী।
- টাঙ্গাইলের কাদের সিদ্দিকীর কাদেরিয়া বাহিনী।
- সিরাজগঞ্জে রফিক মির্জা বাহিনী।
- ফরিদপুরের হেমায়েত বাহিনী।
- ঝিনাইদহের আকবর বাহিনী।
- বরিশালের কুদ্দুস বাহিনী।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বিবিসি বাংলা।

৩১৫.
ঢাকা শহরে 'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালনার মূল দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. জেনারেল খাদিম হোসেন রেজা
  2. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  3. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  4. জেনারেল টিক্কা খান
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা
• অপারেশন সার্চলাইট:
- অপারেশন সার্চলাইট পাকিস্তানে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মুক্তিকামী বাঙালিদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে সামরিক কর্তৃপক্ষ একে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিহিত করে।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাত সাড়ে এগারটা থেকে মধ্য মে পর্যন্ত বড় বড় শহরে অভিযান পরিচালিত হয়।
- অপারেশন সার্চলাইট  অভিযান শুরুর সময় নির্ধারিত ছিল ২৬ মার্চ রাত ১টা।
⇒ ২৫ মার্চ রাত ১টায় অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযানে ঢাকায় নেতৃত্ব দেয় জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নেতৃত্ব দেয় জেনারেল খাদিম হোসেন রেজা।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
৩১৬.
সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ কোথায় অবস্থিত?
  1. কুমিল্লা সেনানিবাস
  2. চট্টগ্রাম সেনানিবাস
  3. রাজশাহী সেনানিবাস
  4. ঢাকা সেনানিবাস
সঠিক উত্তর:
ঢাকা সেনানিবাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা সেনানিবাস
ব্যাখ্যা
সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য:
- সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’।
- এর উদ্বোধন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।
- ভাস্কর্যটি ঢাকা সেনানিবাসের মাটিকাটা মিলিটারি পুলিশ চেকপোস্ট এলাকায় অবস্থিত।
- ১২ নভেম্বর ২০২৩ সালে ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করা হয়।
- ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ ভাস্কর্যটিতে ‘অর্ধবৃত্তাকার প্রাচীরে’ সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে তুলে ধরা হয়েছে।
- ভাস্কর্যের সামনে ‘ফোয়ারা’ নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।
- ফোয়ারা থেকে প্রাচীর পর্যন্ত সংযুক্ত রেখাগুলো ‘সূর্যরশ্মির প্রতীক’, যা দিয়ে বোঝানো হয়েছে যে বীরশ্রেষ্ঠরা জাতির সূর্যসন্তান এবং তাঁরা সূর্যরশ্মির মতো দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আলোর দিশারি ও অনবদ্য অনুপ্রেরণার উৎস।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ১৩ নভেম্বর, ২০২৩।
৩১৭.
মুজিবনগর সরকারের মূখ্য সচিব কে ছিলেন?
  1. আমিনুল ইসলাম
  2. রুহুল কুদ্দুস
  3. ইউসুফ আলী
  4. কামাল হোসেন
সঠিক উত্তর:
রুহুল কুদ্দুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুহুল কুদ্দুস
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো:

- মুজিবনগর সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- জনাব রুহুল কুদ্দুস প্রধান সচিব নিযুক্ত হয়েছিলেন।
- সুষ্ঠু প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জুলাই মাসে (১৯৭১) বাংলাদেশকে ১১টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- এগুলোর নাম দেয়া হয় জোনাল কাউন্সিল।
- মুজিবনগর সরকারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণাকারী প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের সদস্যদের প্রত্যক্ষভোটে ১১ জন আঞ্চলিক চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়।
- প্রতিটি অঞ্চলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে একজন করে আঞ্চলিক প্রশাসক বা জোনাল এডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ করা হয়।
- প্রতিটি অঞ্চলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ত্রাণ, প্রকৌশল, পুলিশ, তথ্য ও হিসাব কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৮.
মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কোথায় ছিল?
  1. মেহেরপুর
  2. কুষ্টিয়া
  3. কলকাতা
  4. আগরতলা
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার
- বাংলাদেশের প্রথম সরকার "মুজিবনগর সরকার"।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এই সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল, তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমায় মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন -- আব্দুল মান্নান।
- সেই অনুষ্ঠানে নবগঠিত মন্ত্রীসভাকে শপথবাক্য পাঠ করান -- অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন -- অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন -- মাহবুব উদ্দিন আহমেদ এর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি দল। 
- এই সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে।

উল্লেখ্য,
- মুজিবনগর সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় সহ মোট ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ছিল।
- রাষ্ট্রপতি -- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি -- সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী -- তাজউদ্দিন আহমদ।
- প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, তথ্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী -- তাজউদ্দিন আহমদ।
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী -- এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান।
- অর্থমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী -- মোহাম্মদ মনসুর আলী।

তথ্য- পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো মোজাম্মেল হোক।
৩১৯.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য কতজন নারীকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৪ জন
  4. ৫ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৩২০.
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী দেশ নিচের কোনটি?
  1. ভারত
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
• মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা:
- মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে।
- তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন রিচার্ড এম নিক্সন।
- তার আস্থাভাজন ব্যক্তি ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার।
- নিক্সন-কিসিঞ্জার নিয়ন্ত্রিত মার্কিন নীতি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে পরিচালিত হয়।
- যুদ্ধচলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে রাজনৈতিক ও বস্তুগত উভয়ভাবেই সহায়তা করে।
- নিক্সন মুক্তিযুদ্ধকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে।
- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের কিছুই করার নেই বলে জানান।

উল্লেখ্য,
- মধ্য-পঞ্চাশের দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান সিয়াটো ও সেন্টো নামে দুটি প্রতিরক্ষা চুক্তি তথা মৈত্রী জোট গঠন করে।
- ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার বিশ্বস্ত মিত্রকে রক্ষা করতেই মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে সমর্থন দেয়।

উৎস: উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২১.
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামালকে কোথায় সমাহিত করা হয়?
  1. যশোর
  2. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  3. বরিশাল
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল:
- তাঁর জন্ম ১৯৪৯ সালে বরিশালের দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে।
- ১৯৬৮ সালে তিনি পাকিস্তানের চতুর্থ ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পূর্বে বক্সার হিসাবে সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা অবৈতনিক ল্যান্স নায়েক হিসাবে পদোন্নতি পান।
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোতায়েন করে।
- বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে আশুগঞ্জ, উজানিস্বর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- ১৮ এপ্রিল অসীম সাহসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন।
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দরুইন গ্রামের জনগণ মোস্তফা কামালকে তাঁর শাহাদাতের স্থানের পাশেই সমাহিত করে।
- মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৩২২.
নিচের কোন পত্রিকাটি মুজিবনগর সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছিলো?
  1. ক) মুক্তির ডাক
  2. খ) জয় বাংলা
  3. গ) একাত্তর
  4. ঘ) নয়া আলো
সঠিক উত্তর:
খ) জয় বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জয় বাংলা
ব্যাখ্যা

- সাপ্তাহিক 'জয়বাংলা', ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র।
- পত্রিকাটি মূলত ছিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম।
- এর লক্ষ্য ছিল একদিকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভসাপ্তাহিক জয়বাংলা
- প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ১১ মে (২৭ বৈশাখ ১৩৭৮)।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম তর্জনী ভাস্কর্য “মুক্তির ডাক” নরসিংদীর সাহেপ্রতাপ মোড়ে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।    

৩২৩.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য মোট কতজন মুক্তিযোদ্ধাকে ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রীয় খেতাব দেয়া হয়?
  1. ক) ৬৬৮ জন
  2. খ) ৬৭১ জন
  3. গ) ৬৭৬ জন
  4. ঘ) ৬৮০ জন
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৭৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৭৬ জন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মোট ৬৭৬ জন কে মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় খেতাব দেয়া হয়। 

• রাষ্ট্রীয় খেতাব :

- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক- ৪২৬ জন। 

এছাড়াও,
- ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

উৎস:- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৩২৪.
বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় কখন?
  1. ক) ৭ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ২ মার্চ, ১৯৭১
  3. গ) ১ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ৩ মার্চ, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
খ) ২ মার্চ, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
২ মার্চ সকাল ১১ টায় হরতল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ছাত্র সমাবেশে ডাকসু ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
• পতাকাটি উত্তোলন করেন আ স ম আবদুর রব। তখন তার সঙ্গে ছিলেন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা তোফারেল আহমদ, আবদুল কুদ্দুস মাখন এবং নূরে আলম সিদ্দিকী। 
• দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সচিবালয়ে পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকা পতাকা উড়ানো হয়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২৫.
‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক কে ছিলেন?
  1. কল্যাণ মিত্র
  2. এম আর আখতার মুকুল
  3. বেলাল মোহাম্মদ
  4. আবদুল জব্বার
সঠিক উত্তর:
এম আর আখতার মুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- বস্তুত, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল:
• 'চরমপত্র',
• 'জল্লাদের দরবার',
• 'মীর জাফরের রোজনামচা'।

⇒ 'চরমপত্র':
- চরমপত্র ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান।
- এটি ছিল ব্যঙ্গাত্মক ও শ্লেষাত্মক মন্তব্যে ভরপুর একটি অনুষ্ঠান, যা মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
- রচনা ও উপস্থাপনা: এম আর আখতার মুকুল।
- চরমপত্র প্রচারের পরিকল্পনা করেছিলেন: এমএ মান্নান [গণপরিষদ সদস্য]।

⇒ 'জল্লাদের দরবার':
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো।
- এই ব্যঙ্গাত্মক সিরিজে তাকে 'কেল্লা ফতেহ খান' চরিত্রে চিত্রিত করা হয় এবং এই ভূমিকায় অভিনয় করেন রাজু আহমেদ। এটি মূলত ছিল রূপকধর্মী সিরিজ নাটক।
- 'জল্লাদের দরবার' নাটক রচনা ও প্রযোজনা করেন কল্যাণ মিত্র।
- এছাড়াও তিনি 'মীর জাফরের রোজনামচা' নামক আরেকটি নাটক রচনা করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পত্রিকার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক রিপোর্ট।

৩২৬.
মুজিবনগর সরকারের সচিবালয়ে প্রধান সচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন কে?
  1. রুহুল কুদ্দুস
  2. মোশাররফ হোসেন
  3. এস. আর. বোস
  4. খান সরওয়ার মুর্শেদ
সঠিক উত্তর:
রুহুল কুদ্দুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুহুল কুদ্দুস
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো:
- মুজিবনগর সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- জনাব রুহুল কুদ্দুস প্রধান সচিব নিযুক্ত হয়েছিলেন।
- সুষ্ঠু প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জুলাই মাসে (১৯৭১) বাংলাদেশকে ১১টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- এগুলোর নাম দেয়া হয় জোনাল কাউন্সিল।
- মুজিবনগর সরকারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণাকারী প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের সদস্যদের প্রত্যক্ষভোটে ১১ জন আঞ্চলিক চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়।
- প্রতিটি অঞ্চলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে একজন করে আঞ্চলিক প্রশাসক বা জোনাল এডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ করা হয়।
- প্রতিটি অঞ্চলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ত্রাণ, প্রকৌশল, পুলিশ, তথ্য ও হিসাব কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নারী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য স্থান 'গোবরা ক্যাম্প' কোথায় অবস্থিত?
  1. আসাম
  2. ত্রিপুরা
  3. কলকাতায়
  4. মেঘালয়
সঠিক উত্তর:
কলকাতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতায়
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নারী:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতার পার্ক সার্কাস ও পদ্মপুকুরের মাঝামাঝি গোবরা নামের স্থানে শুধু নারী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। 
- সেটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। 
- নারী যোদ্ধাদের জন্য অনুরূপ আরো তিনটি ক্যাম্প প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে।
- গোবরা ক্যাম্পে মেয়েদের দেওয়া হতো তিন রকম ট্রেনিং: ১. সিভিল ডিফেন্স, ২. নার্সিং, ৩. অস্ত্র চালনা ও গেরিলা আক্রমণ।

এছাড়াও,
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন।
- আগরতলার লেম্বুচোরা ক্যাম্পে মহিলা গেরিলা স্কোয়াড-এর আধুনিক অস্ত্রের উচ্চতর ট্রেনিং হয়।
- রণাঙ্গনের যোদ্ধা তারামন বিবি বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত হন।
- চিকিৎসার কাজে মহিলা চিকিৎসকগণের গৌরবময় দৃষ্টান্ত ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম। তিনিও বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ইত্তেফাক।
৩২৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন দেশ থেকে 'বাংলাদেশ স্ফুলিঙ্গ' নামক সংবাদপত্র প্রকাশিত হত?
  1. আমেরিকা
  2. যুক্তরাজ্য
  3. কানাডা
  4. ভারত
সঠিক উত্তর:
কানাডা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানাডা
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যম:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন দেশে সংবাদপত্রে মুক্তিবাহিনীর তৎপরতা, বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম ও নির্দেশাবলী, নেত্রবৃন্দের বিবৃতি ও তৎপরতা, প্রবাসী বাঙ্গালীদের আন্দোলনের খবর ইত্যাদি প্রকাশিত হত।
- এদের মধ্যে মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত জয় বাংলা, বাংলাদেশ, বঙ্গবাণী, স্বদেশ, রণাঙ্গন, স্বাধীন বাংলা, মুক্তিযুদ্ধ, সোনার বাংলা, বিপ্লবী বাংলাদেশ, জন্মভূমি, বাংলার বাণী, নতুন বাংলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও,
- মার্কিন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত হতো বাংলাদেশ নিউজ লেটার, বাংলাদেশ সংবাদ পরিক্রমা।
- আমেরিকা থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ নিউজ লেটার, বাংলাদেশ নিউজ বুলেটিন, শিক্ষা উল্লেখযোগ্য।
- কানাডা থেকে বাংলাদেশ স্ফুলিঙ্গ নামক সংবাদপত্র প্রকাশিত হত।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৩২৯.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কে?
  1. আব্দুল্লাহ আবু সায়িদ
  2. এম. ইউসুফ আলী
  3. শাহজাহান সিরাজ
  4. আবদুল মান্নান
সঠিক উত্তর:
এম. ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- এই অনুষ্ঠানে অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।

- এর আগে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং একইদিন প্রবাসী সরকারের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৩৩০.
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-১৯৭১ এর প্রধান শিল্পী কে?
  1. ক) রুনা লায়লা
  2. খ) বাপ্পি লাহিরি
  3. গ) মার্ক এন্থনি
  4. ঘ) জর্জ হ্যারিসন
সঠিক উত্তর:
ঘ) জর্জ হ্যারিসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জর্জ হ্যারিসন
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে জর্জ হ্যারিসনের তত্ত্বাবধানে নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল 'দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'।
- জর্জ হ্যারিসনকে অনুষ্ঠানটি করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন বিখ্যাত সেতার বাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

৩৩১.
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামালকে কোথায় সমাহিত করা হয়?
  1. হবিগঞ্জ
  2. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  3. সিলেট
  4. মৌলভীবাজার
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল:
- তাঁর জন্ম ১৯৪৯ সালে বরিশালের দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে।
- ১৯৬৮ সালে তিনি পাকিস্তানের চতুর্থ ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পূর্বে বক্সার হিসাবে সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা অবৈতনিক ল্যান্স নায়েক হিসাবে পদোন্নতি পান।
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোতায়েন করে।
- বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে আশুগঞ্জ, উজানিস্বর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- ১৮ এপ্রিল অসীম সাহসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন।
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দরুইন গ্রামের জনগণ মোস্তফা কামালকে তাঁর শাহাদাতের স্থানের পাশেই সমাহিত করে।
- মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৩৩২.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. এগার
  2. দশ
  3. আট
  4. পনের
সঠিক উত্তর:
এগার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এগার
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং সেক্টরের অধিনে ।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া।
৩৩৩.
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল কত নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৩নং সেক্টর
  4. ৪নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৩৩৪.
মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমদ
  2. খ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  3. গ) এম মনসুর আলী
  4. ঘ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
ঘ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।

এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপ রাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমেদ।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী - এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী - এম মনসুর আলী।
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী - খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণী।
৩৩৫.
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে কী নামে প্রচারিত হয়?
  1. ক) জয় বাংলা
  2. খ) জয় বঙ্গবন্ধু
  3. গ) বজ্রকণ্ঠ
  4. ঘ) বাংলার দূত
সঠিক উত্তর:
গ) বজ্রকণ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বজ্রকণ্ঠ
ব্যাখ্যা
- পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশে লক্ষ লক্ষ জনতার ঢল নামে। 
- বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের এই ভাষণটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ‘বজ্রকণ্ঠ’ নামে প্রচারিত হয়। 
- তাঁর বক্তব্যের মধ্যে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল।
 ক) চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার, 
 খ)  সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া, 
 গ)  গণহত্যার তদন্ত করা এবং
 ঘ) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

 উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৬.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে খেতাবপ্রাপ্ত উইলিয়ম এস. ওডারল্যান্ড কোন দেশের নাগরিক?
  1. ক) পোল্যান্ড
  2. খ) অস্ট্রিয়া
  3. গ) ইতালি
  4. ঘ) অস্ট্রেলিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) অস্ট্রেলিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক হলেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
তিনি ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৩৩৭.
বর্তমানে বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ৬৭ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ৬৯ জন
  4. ৭০ জন
সঠিক উত্তর:
৬৭ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৩৩৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়?
  1. ১১টি
  2. ২১টি
  3. ৬০টি
  4. ৬৪টি
সঠিক উত্তর:
৬৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৪টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর এবং সাব সেক্টর:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল এবং সুবিধার জন্য হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়।
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য সেক্টরগুলোকে আবার ৬৪ টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- এই বিভাজনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যক্রম ও সামরিক অপারেশন সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা সহজ হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৯.
'আমাদের বাঁচার দাবি: ছয় দফা কর্মসূচি' শীর্ষক পুস্তিকা প্রকাশ পায়-
  1. ক) ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  2. খ) ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  3. গ) ২ মার্চ, ১৯৬৬
  4. ঘ) ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
সঠিক উত্তর:
খ) ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তির সনদ ছয় দফা:

- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধীদলীয় নেতারা একটি সম্মেলন আহ্বান করেন।
- আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু লাহোরে পৌছান।
- বিরোধী দলের সম্মেলন চলাকালে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করলে সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ তা প্রত্যাখান করেন৷ বঙ্গবন্ধু সম্মেলন বর্জন করে সাংবাদিক সম্মেলন করে ছয়দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ঢাকায় চলে আসেন।
- ২১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর নামে 'আমাদের বাঁচার দাবি: ছয় দফা কর্মসূচি' শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়।
- ছয় দফাতে ছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক দাবী।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪০.
মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমদ
  2. খ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. গ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  4. ঘ) এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
গ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
উপ রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ।
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান
অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।
খন্দকার মুশতাক আহমেদ ছিলেন পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি
৩৪১.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান কোনটি?
  1. অপারেশন কিলো ফ্লাইট
  2. অপারেশন বিগ বার্ড
  3. অপারেশন জ্যাকপট
  4. অপারেশন থান্ডার বোল্ট
সঠিক উত্তর:
অপারেশন জ্যাকপট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন জ্যাকপট
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট মতান্তরে ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে। [অপশনে ১৫ আগস্ট থাকলে ১৫ আগস্ট দাগাতে হবে। অপশনে ১৫ আগস্ট না থাকলে সেই ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট দাগাতে হবে।]
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।
- ১৯৭১ সালের অগাস্টের ১৫ তারিখ রাতে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল সেই বছরের মে মাসে।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
৩৪২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
  1. রাজেন্দ্র প্রসাদ
  2. ভেঙ্কট গিরি
  3. ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ
  4. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ
সঠিক উত্তর:
ভেঙ্কট গিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেঙ্কট গিরি
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ:
- বঙ্গবন্ধু বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের মহান নেতা। 
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে বন্দি থাকলেও তার নামেই ন’মাস মুক্তিযুদ্ধ চলে।
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী মুজিবনগর সরকারও বঙ্গবন্ধুকে প্রধান করেই গঠন (১৭ এপ্রিল, ১৯৭১) করা হয়েছিল।
- পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকার মাটিতে পা রাখেন।
- এর আগে ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২ খবর আসে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে খুব ভোরে লন্ডন যান।
- ৯ জানুয়ারি টেলিফোনে ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে অভিনন্দন জানান এবং অনুরোধ করেন ঢাকার পথে যেন তিনি দিল্লিতে যাত্রাবিরতি করেন। 
- রাষ্ট্রপতি শ্রী ভরাহগিরি ভেঙ্কট গিরি তখন বঙ্গবন্ধুকে আলিঙ্গন করছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী তাকে স্বাগত জানাচ্ছিলেন।
- তখন ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছিল।
- নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানিয়ে প্রদত্ত ভাষণে প্রেসিডেন্ট ভিভি গিরি বলেন, ‘মহোদয়, এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দেশের প্রধান হিসেবে আপনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এ অঞ্চলে স্থায়ী ও অটুট শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা জোরদার ও সুনিশ্চিত করবে।’
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বিকালে বঙ্গবন্ধু লন্ডন দিল্লি হয়ে প্রাণের শহর ঢাকায় ফিরে আসেন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে। 

উল্লেখ্য,
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি ছিলেন ভেঙ্কট গিরি।

উৎস: ১০ জানুয়ারি ২০২১, যুগান্তর।
৩৪৩.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. খ) আবু সাঈদ চৌধুরী
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
• স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় যা অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তার অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

• মুজিবনগর সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপ ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমদ।
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমদ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
৩৪৪.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য তারামন বিবিকে যে উপাধি দেওয়া হয়-
  1. ক) বীর উত্তম
  2. খ) বীরাঙ্গনা
  3. গ) বীরবিক্রম
  4. ঘ) বীর প্রতীক
সঠিক উত্তর:
ঘ) বীর প্রতীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বীর প্রতীক
ব্যাখ্যা

১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়-
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৮ জন,
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন,
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন।

তার মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য যে দুই নারী 'বীরপ্রতীক' খেতাব পেয়েছেন।
- ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম
- তারামন বিবি।

উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট

৩৪৫.
‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করে -
  1. ছাত্র ইউনিয়ন
  2. আওয়ামী লীগ
  3. ছাত্রলীগ
  4. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:

- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৪৬.
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত 'চরমপত্র' কথক কে ছিলেন?
  1. আবদুল হান্নান
  2. এম আর আখতার হামিদ
  3. এম আর আখতার মুকুল
  4. কামাল লোহানী
সঠিক উত্তর:
এম আর আখতার মুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা
• এম. আর আখতার মুকুল (১৯২৯-২০০৪):
- এম আর আখতার মুকুল সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান 'চরমপত্র'-এর কথক।
- তাঁর জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে।
- ১৯৮৭ সালে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনার দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছুদিন কাজ করেছেন। পরে তিনি ঢাকায় সাগর পাবলিশার্স নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
- এ সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর রচিত ৬০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

• এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
⇒পল্লী এক্সপ্রেস (অনুবাদ, ১৯৬০),
⇒রূপালী বাতাস (১৯৭২),রূপালী বাতাস সোনালী আকাশ (১৯৭৩),
⇒মুজিবের রক্তলাল (১৯৭৬),
⇒ভাসানী মুজিবের রাজনীতি (১৯৮৪),
⇒পঞ্চাশ দশকে আমরা ও ভাষা আন্দোলন (১৯৮৫)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৪৭.
১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকালে ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’ শিরোনামের পোস্টারটি কে এঁকেছিলেন?
  1. ক) ভিনসেন্ট ভ্যানগগ
  2. খ) পাবলো পিকাসো
  3. গ) কামরুল হাসান
  4. ঘ) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন
সঠিক উত্তর:
গ) কামরুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে নিরীহ বাঙালির উপর পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর নৃশংস হামলাকে কেন্দ্র করে কামরুল হাসানের ইয়াহিয়ার মুখচ্ছবি দিয়ে আঁকা পোস্টার ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’ / 'ANNIHILATE THESE DEMONS' দেশেবিদেশে বিপুলভাবে সাড়া জাগায় এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে সাধারণ মানুষকেও উদ্বুদ্ধ করে।
মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণামূলক পোস্টার আঁকায় নিতুন কুন্ডু (১৯৩৬-২০০৭), প্রাণেশ মন্ডল প্রমুখ শিল্পী বিশেষ অবদান রাখেন।
স্বাধীনতার পরও অব্যাহত ছিল রাজনৈতিক পোস্টার শিল্পের বিকাশ।
কামরুল হাসান-এর দেশ আজ বিশ্ববেহায়ার খপ্পরে, কাজী হাসান হাবীব (১৯৪৮-১৯৮৮)-এর বাংলাদেশ বনপোড়া হরিণীর মতো আর্তনাদ করে, কাউয়ুম চৌধুরীর আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি প্রভৃতি পোস্টার বাংলাদেশের কতকগুলি রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের সাক্ষী হয়ে আছে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৩৪৮.
মুক্তিযুদ্ধের ২নং সেক্টরের সদরদপ্তর কোথায় ছিল?
  1. মেলাঘর
  2. বাঁশতলা
  3. হেজামারা
  4. হরিণা
সঠিক উত্তর:
মেলাঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেলাঘর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
=১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ২নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৩নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে মেজর এএনএম নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৪ নং সেক্টর:
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরাজন দত্ত, পরে ক্যাপ্টেন এ রবের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৫নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

= ৬নং সেক্টর:
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।

= ৭নং সেক্টর:
-রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নজরুল হক, পরে সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৮নং সেক্টর:
- কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল,
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ।
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৯নং সেক্টর:
- বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম জলিল, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীনের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ১০নং সেক্টর:
- সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন।

= ১১নং সেক্টর:
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৪৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজশাহী জেলা কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) ছয়
  2. খ) সাত
  3. গ) আট
  4. ঘ) নয়
সঠিক উত্তর:
খ) সাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাত
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে ১১ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। প্রত্যেক সেক্টর বেশ কয়েকটি সাব- সেক্টরে বিভক্ত ছিল।
- সেক্টরগুলোর পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো-
এক নম্বর সেক্টর: চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ফেনী নদী পর্যন্ত এলাকা।
দুই নম্বর সেক্টর: নোয়াখালী, আখাউড়া, ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত, কুমিল্লা জেলা, সিলেট জেলার হবিগঞ্জ (বর্তমানে জেলা), ঢাকা ও ফরিদপুর জেলার কিছু অংশ।
তিন নম্বর সেক্টর: আখাউড়া, ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলা, সিলেট, ঢাকা জেলার অংশবিশেষ ও কিশোরগঞ্জ।
চার নম্বর সেক্টর: সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল, খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন ছাড়াও পূর্ব ও উত্তর দিকে ডাউকি সড়ক পর্যন্ত অঞ্চল।
পাঁচ নম্বর সেক্টর: সিলেট জেলার পশ্চিমাঞ্চল, সিলেট-ডাউকি সড়ক থেকে সুনামগঞ্জ ময়মনসিংহ সড়ক পর্যন্ত এলাকা।
ছয় নম্বর সেক্টর: রংপুর জেলা, দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহকুমা (বর্তমানে জেলা)।
সাত নম্বর সেক্টর: দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চল, রাজশাহী, পাবনা ও বগুড়া জেলা
আট নম্বর সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুরের অধিকাংশ এবং খুলনা জেলার দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত এলাকা।
নয় নম্বর সেক্টর: দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক থেকে খুলনা জেলার দক্ষিণাঞ্চল, ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ এবং বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা।
দশ নম্বর সেক্টর: দশ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো, সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ নৌপথ।
এগার নম্বর সেক্টর: কিশোরগঞ্জ ছাড়া ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি। 
৩৫০.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে আত্মসমর্পণ দলিলে কার স্বাক্ষর ছিল?
  1. কর্নেল ওসমানী
  2. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
  3. লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ কে নিয়াজী
  4. মেজর জেনারেল রাও ফরমান
সঠিক উত্তর:
জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য,
- ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্বাঞ্চলের কমান্ডার জেনারেল এ কে নিয়াজিকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
- ১৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সংবরণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান।
- ১৬ ডিসেম্বর সকাল সোয়া নয়টার সময় মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের জয়ী ও পরাজিত দুই পক্ষের মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিল স্বাক্ষরিত হয়।
- যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, জিওসি এবং পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় বাহিনী ও বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণি ও প্রথম আলো।
৩৫১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কতটি সাব - সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ১৯ টি
  2. ৫১ টি
  3. ৬১ টি
  4. ৬৪ টি
সঠিক উত্তর:
৬৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৪ টি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়। এই সরকার ১১ই এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন এবং ১১টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না। এটি ছিলো নৌ সেক্টর।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৫২.
মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা দল 'ক্র্যাক প্লাটুন' কোন শহরে সক্রিয় ছিল?
  1. ক) বরিশাল
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
• ক্র্যাক প্লাটুন:
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ক্র্যাক প্লাটুন দলটি গঠন করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন ২নং সেক্টরের কমান্ডার খালেদ মোশাররফ, বীরউত্তম এবং এটিএম হায়দার বীরউত্তম।
- এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ২নং সেক্টরের অধীন একটি স্বতন্ত্র গেরিলা দল ছিল যারা আসলে গণবাহিনীর অংশ বলে পরিচিত।

 - ক্র্যাক প্লাটুন ঢাকা শহরে ছোটো বড় মিলিয়ে মোট ৮২টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে।
- শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন।


তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ।
৩৫৩.
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি কে?
  1. ক) জনাব তাজউদ্দীন আহমদ
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) এএইচএম কামারুজ্জামান
  4. ঘ) জেনারেল এমএজি ওসমানী
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত (অস্থায়ী) রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম। অর্থাৎ, তিনি বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমদ
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এএইচএম কামারুজ্জামান (পুরো নাম - আবুল হাসানাত মুহাম্মদ কামারুজ্জান)
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

৩৫৪.
বাংলাদেশে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ পালিত হয়-
  1. ক) ১২ ডিসেম্বর
  2. খ) ১৪ ডিসেম্বর
  3. গ) ১৬ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ১৮ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৪ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৪ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
 - বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ পালিত হয়।
- ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানের এদেশীয় দোসররা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।
- সব শহীদ বুদ্ধিজীবীর প্রকৃত সংখ্যা অদ্যাবধি নিরূপণ করা সম্ভব হয় নি। প্রাপ্ত তথ্যসূত্র থেকে শহীদদের মোটামুটি একটা সংখ্যা দাঁড় করানো যায়। এঁদের মধ্যে ছিলেন ৯৯১ জন শিক্ষাবিদ, ১৩ জন সাংবাদিক, ৪৯ জন চিকিৎসক, ৪২ জন আইনজীবী, ৯ জন সাহিত্যিক ও শিল্পী, ৫ জন প্রকৌশলী,এবং অন্যান্য ২ জন।
- শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতি অমর করে রাখতে ১৯৭২ সালে ঢাকার মিরপুরে মোস্তফা আলী কুদ্দুসের নকশায় শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫৫.
'পোড়ামাটি-নীতি' কোন বাহিনীর জন্য প্রযোজ্য ছিল?
  1. ক) পাকিস্তান বিমানবাহিনী
  2. খ) ভারত সেনাবাহিনী
  3. গ) পাক-ভারত বাহিনী
  4. ঘ) পাকিস্তান সেনাবাহিনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাকিস্তান সেনাবাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাকিস্তান সেনাবাহিনী
ব্যাখ্যা

'পোড়ামাটি-নীতি' পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর জন্য প্রযোজ্য ছিল।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পোড়া মাটি নীতি নিয়েই ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ চুড়ান্তভাবে গনহত্যায় নেমেছিলো।
এই নীতিতে টিক্কা খান তার সৈন্যদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, “আমি পূর্ব বাংলার মাটি চাই, মানুষ নয়”।
উৎসঃ জেনারেল নিয়াজীর আত্মজীবনীমূলক বই-The betrayal of East Pakistan, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট।

৩৫৬.
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' নাটকটি কার?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) রণেশ দাশগুপ্ত
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) মমতাজুদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক: 
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক।
- 'কী চাহ শঙ্খচিল' ও 'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' মমতাজুদ্দীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় অন্য রাজবন্দি বামপন্থী লেখক রণেশ দাশগুপ্ত মুনীর চৌধুরীকে নাটক লিখতে বলেন।
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত Bury The Dead নাটকের অনুসরণে ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে ‘কবর' নাটকটি রচিত হয়েছে।
- রাজবন্দিরা এই নাটকটি জেলেই মঞ্চস্থ করেন। 
- 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটক। 
- কবর মুনীর চৌধুরীর একাঙ্ক বিশিষ্ট নাটক। বাংলা ভাষা আন্দোলনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে মুনীর চৌধুরীকে আটক করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৭.
মুজিবনগর সরকারের 'অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী' ছিলেন-
  1. এম মনসুর আলী
  2. মোশতাক আহমেদ
  3. কামরুজ্জামান
  4. তাজউদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে এবং এই সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ-
রাষ্ট্রপতিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান;
উপরাষ্ট্রপতিঃ সৈয়দ নজরুল ইসলাম;
প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীঃ তাজউদ্দীন আহমদ;
অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীঃ এম মনসুর আলী;
স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীঃ এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান,
পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীঃ খন্দকার মোশতাক আহমেদ;
প্রধান সেনাপতিঃ কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত এম. এ. জি ওসমানী;
চিফ অব স্টাফঃ কর্নেল (অব.) আব্দুর রব এবং
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং বিমান বাহিনীর প্রধানঃ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৫৮.
‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করে -
  1. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  2. ছাত্র ইউনিয়ন
  3. আওয়ামী লীগ
  4. ছাত্রলীগ
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:
- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৫৯.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য কোন নারী মুক্তিযোদ্ধাদের বীর প্রতীক খেতাব দেওয়া হয়?
  1. ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং তারামন বিবি
  2. ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং কাঁকন বিবি
  3. ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং কাকঁন মণি
  4. কোনোটিই নয়।
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং তারামন বিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং তারামন বিবি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নিয়েছেন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রকৃত অর্থেই ছিল জনযুদ্ধ।
- নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বাত্মক এই যুদ্ধে শামিল হয়েছিল সমানভাবে।
- মোট গেজেটভুক্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২০৩ জন।
- বর্তমানে মোট বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৪৮ জন।
- এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২ জন।
- ২ জন নারী বীর প্রতীক: ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং তারামন বিবি।

উৎস: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ওয়েবসাইট।
৩৬০.
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের গণহত্যার নীলনকশা করে কে?
  1. ক) টিক্কা খান
  2. খ) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. গ) ইয়াহিয়া খান
  4. ঘ) আইয়ুব খান
সঠিক উত্তর:
ক) টিক্কা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
২৫শে মার্চের গণহত্যা
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়, যা 'কালরাত্রি' নামে পরিচিত।
- সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরহ, স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনগণের ওপর হামলা করে এবং নির্বিচারে হত্যা চালায়।
- পাকিস্তান তাদের এ অভিমানের নাম দেয় অপারেশন সার্চলাইট।
১৮ই মার্চ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী অপারেশন সার্চলাইট' বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬১.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলিত হয়েছিল-
  1. ক) ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  2. খ) ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  3. গ) ৬ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  4. ঘ) ৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন আ.স.ম আব্দুর রউফ।
উৎসঃ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
৩৬২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'কাদেরিয়া বাহিনী' কোন অঞ্চলে গঠিত হয়েছিল?
  1. টাঙ্গাইলে
  2. সিরাজগঞ্জে
  3. ফরিদপুরে
  4. বরিশালে
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইলে
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনী:
- বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও অনেকে গেরিলা বাহিনী গঠন করেন। 
- যেমন:
- টাঙ্গাইলের কাদের সিদ্দিকীর কাদেরিয়া বাহিনী।
- সিরাজগঞ্জে রফিক মির্জা বাহিনী। 
- ফরিদপুরের হেমায়েত বাহিনী। 
- ঝিনাইদহের আকবর বাহিনী।
- বরিশালের কুদ্দুস বাহিনী।
- ময়মনসিংহের আফসার বাহিনী।
- ভারতের বাহিনীর মেজর জেনারেল ওবানের অধীনে বঙ্গবন্ধুর নামে ‘মুজিব বাহিনী’ নামে একটি বাহিনী গঠিত হয়।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৩.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন কে?
  1. ক) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  2. খ) ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
  3. গ) এম মনসুর আলী
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
• স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
• মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন ইউসুফ আলী।
• ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
• ১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র খসড়া প্রণয়ন ও আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং
• ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
• ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয় ।

তথ্যসূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
৩৬৪.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান জল্লাদের দরবার পরিচালনা করতেন কে?
  1. এম.আর আখতার মুকুল
  2. রাজু আহমেদ
  3. কল্যাণ মিত্র
  4. কামাল লোহানী 
সঠিক উত্তর:
কল্যাণ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্যাণ মিত্র
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- মুক্তিযুদ্ধ সময়কালে যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের এবং অবরুদ্ধ এলাকার জনগণের মনোবল অক্ষুন্ন রাখার ক্ষেত্রে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এই স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নীতি নির্ধারণী ভাষণসহ জনগণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নির্দেশাবলী প্রচারিত হয়।
- প্রতিদিনের সংবাদসহ যে সমস্ত অনুষ্ঠান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল তার মধ্যে চরমপত্র ও জল্লাদের দরবার অন্যতম।
- যুদ্ধের ময়দানে অস্ত্রশস্ত্রে পিছিয়ে থাকলেও মনের জোরে অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা।
- তাঁদের মনের জোর আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানটি।
- বিদ্রূপ ও শ্লেষাত্মক অনুষ্ঠানটি রচনা ও উপস্থাপন করেছিলেন সাংবাদিক ও লেখক এম আর আখতার মুকুল।

⇒ স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’।
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো। এই ব্যঙ্গাত্মক সিরিজে তাকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রে চিত্রিত করা হয় এবং এই ভূমিকায় অভিনয় করেন রাজু আহমেদ। জল্লাদের দরবার পরিচালনা করতেন কল্যাণ মিত্র।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আবদুল মান্নান এবং স্থানীয় ঢাকাইয়া উপভাষায় এর স্ক্রিপ্ট তৈরি করেন এম.আর আখতার মুকুল, যিনি নিজেই এর উপস্থাপক ছিলেন। এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানটি জনগণের কাছে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়। এতে একইসঙ্গে ছিল তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ ও জাতীয়তা বোধের প্রকাশ যা জনগণের নৈতিক মনোবল দৃঢ়ীকরণে ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো

৩৬৫.
অপারেশন জ্যাকপট কবে পরিচালনা করা হয়েছিল?
  1. মার্চ, ১৯৭১
  2. আগস্ট, ১৯৭১
  3. জুন, ১৯৭১
  4. সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
আগস্ট, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগস্ট, ১৯৭১
ব্যাখ্যা

অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ডো বাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- ১৯৭১ সালের ১৬ই অগাস্ট প্রথম প্রহরে দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা, এবং দুইটি নদী বন্দর -চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- অপারেশন জ্যাকপটের আওতায় নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মোংলা, চাঁদপুর এবং নারায়ণগঞ্জ বন্দরে আক্রমণ করে পাকিস্তান বাহিনীর মোট ২৬টি পণ্য ও সমরাস্ত্রবাহী জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দিয়েছিলেন।
- এ অভিযানে অংশগ্রহণকারী কোন গেরিলা শত্রুপক্ষের হাতে ধরা পড়েননি।

উলেখ্য, 
- ১৯৭১ সালের অগাস্টের ১৫ তারিখ রাতে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল সেই বছরের মে মাসে।
- অপারেশন জ্যাকপটের চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযানটি পরিচালিত হয় সেক্টর কমান্ডার রফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে।
- মুক্তিযুদ্ধে নৌ-অভিযানের সূত্রপাত হয়েছিল অপারেশন জ্যাকপটের মাধ্যমে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) BBC. 

৩৬৬.
মুক্তিযুদ্ধে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠর মধ্যে প্রথম শহীদ কে?
  1. ক) মোহাম্মদ রুহুল আমিন
  2. খ) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
  3. গ) মোহাম্মদ হামিদুর রহমান
  4. ঘ) মতিউর রহমান
সঠিক উত্তর:
খ) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
ব্যাখ্যা
[মুন্সী আব্দুর রউফের শহীদ হওয়ার তারিখ ও স্থান নিয়ে বহু জায়গায় বিভ্রান্তিকর তথ্য রয়েছে। সরকারি–বেসরকারি নানা স্থানে সে তারিখ কোথাও ৮, কোথাও ১৮ এপ্রিল। ১৯৭১ সালে মুন্সী আব্দুর রউফকে নিয়ে লেখা মুজিবনগর সরকারের অভিজ্ঞানপত্র (সাইটেশন) সম্প্রতি প্রথম আলোর হাতে এসেছে। মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী, মীর শওকত আলী এবং চৌধুরী খালেকুজ্জামান স্বাক্ষরিত সে অভিজ্ঞানপত্রে মুন্সী আব্দুর রউফের শহীদ হওয়ার তারিখ ২০ এপ্রিল। যদিও নামের বানান তাতে ছিল মুন্সী আবদুর রব। কয়েক বছর পর সে ভুল সংশোধন করা হয়। সূত্র: প্রথম আলো।]

[যেহেতু অপশনে মুন্সি আব্দুর রউফ নেই, সে হিসেবে অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে মোস্তফা কামালকে নেওয়া হয়েছে।]

মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠদের শাহাদাতের তারিখ:
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ১৮ এপ্রিল ১৯৭১
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : ২০ আগস্ট ১৯৭১
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ২৮ অক্টোবর ১৯৭১
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন : ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
৩৬৭.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবনগর কত নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) ২নং
  2. খ) ৬নং
  3. গ) ৮নং
  4. ঘ) ৫নং
সঠিক উত্তর:
গ) ৮নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৮নং
ব্যাখ্যা
সেক্টর ও সাব সেক্টরসমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবনগর ৮নং সেক্টরের অধীনে ছিল।
- এই সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ১১ টি সেক্টরের অধিনে ৬৪ টি সাবসেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে ১নং সেক্টর গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম। 
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে ২নং সেক্টর গঠিত। আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে ৩নং সেক্টর গঠিত হয়।
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে ৪নং সেক্টর গঠিত।
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে ৫নং সেক্টর গঠিত।
- ৬ নং সেক্টর  সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত।
- ৭ নং সেক্টর  রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- ১০ নং সেক্টর  নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- ১১ নং সেক্টর  টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৬৮.
নিচের কোন দুইজন খেতাবধারী মহিলা মুক্তিযোদ্ধা?
  1. ক্যাপ্টেন সুফিয়া বেগম ও পরিজন বিবি
  2. ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম ও তারামন বিবি
  3. ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম ও জাহানারা বেগম
  4. ক্যাপ্টেন হালিমা ও তারামন বিবি
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম ও তারামন বিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম ও তারামন বিবি
ব্যাখ্যা
তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম:
- বাংলাদেশের দুইজন 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু। 
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করে। 
- তিনি ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য অন্য আরেকজন মহিলা মুক্তিযুদ্ধাকে 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তিনি হলেন-ক্যাপ্টেন ডা. সেতারা বেগম।
- ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে ২নং সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন।


উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং ডেইলি স্টার পত্রিকা।
৩৬৯.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
  2. খ) এম মনসুর আলী
  3. গ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।

এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী : আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৩৭০.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য কতজন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৪ জন
  4. ৫ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৩৭১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নারী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের স্থান 'গোবরা ক্যাম্প' কোথায় অবস্থিত?
  1. কলকাতা
  2. চট্টগ্রাম
  3. আগরতলা
  4. আসাম
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সময় নারী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের স্থান 'গোবরা ক্যাম্প' কলকাতায় অবস্থিত।

মুক্তিযুদ্ধে নারী:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতার পার্ক সার্কাস ও পদ্মপুকুরের মাঝামাঝি গোবরা নামক স্থানে শুধু নারী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। 
- সেটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। 
- নারী যোদ্ধাদের জন্য অনুরূপ আরো তিনটি ক্যাম্প প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে।
- গোবরা ক্যাম্পে মেয়েদের দেওয়া হতো তিন রকম ট্রেনিং: ১. সিভিল ডিফেন্স, ২. নার্সিং, ৩. অস্ত্র চালনা ও গেরিলা আক্রমণ।

এছাড়াও,
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন।
- আগরতলার লেম্বুচোরা ক্যাম্পে মহিলা গেরিলা স্কোয়াড-এর আধুনিক অস্ত্রের উচ্চতর ট্রেনিং হয়।
- রণাঙ্গনের যোদ্ধা তারামন বিবি বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত হন।
- চিকিৎসার কাজে মহিলা চিকিৎসকগণের গৌরবময় দৃষ্টান্ত ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম। তিনিও বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) দৈনিক ইত্তেফাক।

৩৭২.
মুক্তিযুদ্ধকালীন হেমায়েত বাহিনী কোন অঞ্চলে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করে?
  1. টাঙ্গাইল
  2. ময়মনসিংহ
  3. সিরাজগঞ্জ
  4. গোপালগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
গোপালগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপালগঞ্জ
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনী গঠন ও কার্যক্রম:
- মুজিবনগর সরকার সুষ্ঠু ও পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
- মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল এম.এ.জি. ওসমানী।
- মুক্তিবাহিনী সরকারি পর্যায়ে দুটি শাখায় বিভক্ত ছিল ১. নিয়মিত বাহিনী ও ২. অনিয়মিত বাহিনী।

১. নিয়মিত বাহিনী: ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইউনিটগুলোর বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়। সরকারিভাবে এদের নামকরণ করা হয় এম. এফ. (মুক্তিফৌজ)। মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকার নিয়মিত বাহিনী হিসেবে সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীও গড়ে তোলে।

২. অনিয়মিত বাহিনী: ছাত্র, যুবক, শ্রমিক, কৃষক ও সকল পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিভিন্ন সেক্টরের অধীনে অনিয়মিত বাহিনী গঠিত হয়। এই বাহিনীর সরকারি নামকরণ ছিল 'গণবাহিনী' বা এফ. এফ. (ফ্রিডম ফাইটার বা মুক্তিযোদ্ধা)। তাদের নিজ নিজ এলাকায় গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হতো। এছাড়া ছাত্রলীগের বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়ে গঠিত হয় 'মুজিববাহিনী'। কমিউনিস্ট পার্টি ন্যাপ (মোজাফফর), ন্যাপ (ভাসানী) ও ছাত্র ইউনিয়নের আলাদা গেরিলা দল ছিল।

⇒ আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে ওঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল), আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ), বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল), হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল), হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ), আকবর বাহিনী (মাগুরা), লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা) ও জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৩৭৩.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কতজনকে বীরোত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়?
  1. ৬২ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ৫৮ জন
  4. ৪৪ জন
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৩৭৪.
রাজাকার বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হয়েছিলো কে?
  1. মতিউর রহমান নিজামী
  2. গোলাম আযম
  3. মোঃ ইউসুফ
  4. ফজলুল কাদের চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মোঃ ইউসুফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোঃ ইউসুফ
ব্যাখ্যা
রাজাকার বাহিনী:
- লেফট্যানেন্ট জেনারেল টিক্কা খান ১৯৭১ সালের জুন মাসে 'পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অর্ডিন্যান্স ১৯৭১' জারি করেন।
- তার পূর্বেই ১৯৭১ এর মে মাসে মওলানা এ.কে.এম ইউসুফ ৯৬ জন জামায়াত কর্মীর সমন্বয়ে খুলনায় আনসার ক্যাম্পে 'রাজাকার বাহিনী' গঠন করেন। 
- পরবর্তীকালে অর্ডিন্যান্সে এই নাম গ্রহণ করা হয়। 
- ইসলামী ছাত্র সংঘের প্রধান মোঃ ইউসুফ রাজাকার বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হন।
- রাজাকার বাহিনী পাকিস্তান রক্ষার সংগ্রামের চাইতে লুটপাট, ছিনতাই, নারী ধর্ষণ এসব কাজে মগ্ন থেকেছে। 
- মুক্তিযোদ্ধার সন্ধান দেওয়া, হানাদার বাহিনীকে তাদের বাড়িঘর চিনিয়ে দেওয়া, গ্রাম থেকে গরু, ছাগল, মুরগি ধরে এনে পাকিস্তানী বাহিনীর ক্যাম্পে সরবরাহ করা, গ্রাম থেকে যুবতী নারী ধরে এনে আর্মি ক্যাম্পে সরবরাহ করা ইত্যাদি অপকর্মে রাজাকারদের নিয়োজিত রাখা হয়েছে।
এছাড়া,
- মতিউর রহমান নিজামী আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন।
- গোলাম আযম, ফজলুল কাদের চৌধুরী আল শামস বাহিনীর নেতা ছিলেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৫.
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোহাম্মদ হামিদুর রহমান কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ২ নং সেক্টর
  2. খ) ৩ নং সেক্টর
  3. গ) ৪ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৭ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনীর আক্রমণের মুখে সিপাহি মোহাম্মদ হামিদুর রহমান সেনানিবাস ত্যাগ করে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। পরে তিনি বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে ধলই নামক স্থানে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এ জেলা ৪ নং সেক্টরের অধীন ছিল। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
৩৭৬.
‘চরমপত্র’ সিরিজের পরিকল্পনা করেন কে?
  1. এম আর আখতার মুকুল
  2. আবদুল মান্নান 
  3. গাজি মাজহারুল ইসলাম
  4. আব্দুল জব্বার
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান 
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- বস্ত্তত, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
- স্বাধীন বাংলা বেতারের দুটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল 'চরমপত্র' এবং 'জল্লাদের দরবার'।
- 'জল্লাদের দরবার' অনুষ্ঠানে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র এবং পাশবিক আচরণকে 'কেল্লা ফতেহ খান' চরিত্রের মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছিল। '
- চরমপত্র' সিরিজটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদের সদস্য আবদুল মান্নান এবং এর স্ক্রিপ্ট লেখা ও উপস্থাপনা করেন এম আর আখতার মুকুল। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৭৭.
অপারেশন জ্যাকপট কী?
  1. ক) ১৯৭১ সালে পাকবাহিনী পরিচালিত অভিযান
  2. খ) বঙ্গোপসাগরে মার্কিন সামরিক টাস্কফোর্স
  3. গ) মুক্তিবাহিনীর নৌকমান্ডোরা পরিচালিত অভিযান
  4. ঘ) ভারতের স্বর্ণমন্দিরে পরিচালিত অভিযান
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্তিবাহিনীর নৌকমান্ডোরা পরিচালিত অভিযান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্তিবাহিনীর নৌকমান্ডোরা পরিচালিত অভিযান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোরা পরিচালিত প্রথম অভিযান অপারেশন জ্যাকপট নামে পরিচিত। এদিন নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়। এতে পাকবাহিনীর ২৬টি নৌযান ধ্বংস হয়। মোট ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডোরা চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে এ অপারেশনে অংশ নেয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৩৭৮.
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ৯টি
  2. ১০টি
  3. ১১টি
  4. ১২টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা:
- ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- ১০ই এপ্রিল সরকার ৪টি সামরিক জোনে বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে।
- ১১ই এপ্রিল তা পুনর্গঠিত করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- এছাড়া বেশ কিছু সাব-সেক্টর এবং তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়।
- এসব সেক্টরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা, সেনাসদস্য, পুলিশ, ইপিআর, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যগণ যোগদান করেন।
- প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল।
- এরা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল।
- এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক, রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।
- ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ শেষে যোদ্ধাগণ দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি সামরিক ছাউনি বা আস্তানায় হামলা চালায়।
- মুক্তিযুদ্ধে সরকারের অধীন বিভিন্ন বাহিনী ছাড়াও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭৯.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে মোট কতজনকে বীরউত্তম খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ৬৭ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ৬৯ জন
  4. ৭০ জন
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৩৮০.
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এর অন্যতম আয়োজক রবি শঙ্কর কোন দেশের অধিবাসী?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. ভারত
  4. বাংলাদেশ
সঠিক উত্তর:
ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের মুখে যুদ্ধ বিরতি ঘটিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে বাধাগ্রস্ত করতে জাতিসংঘে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
- তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের অনেক সদস্য, বিভিন্ন সংবাদপত্র, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সর্বস্তরের জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা পালন করে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।
- কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন জর্জ হ্যারিসন।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
 
উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
         ii) ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১, প্রথম আলো।
৩৮১.
দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় মুক্তিযুদ্ধের সময় নিম্নের কোনটি পাঠ করে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে উঠেন?
  1. ক) বিবিসি
  2. খ) সংবাদ পরিক্রমা
  3. গ) বজ্রকণ্ঠ
  4. ঘ) চরমপত্র
সঠিক উত্তর:
খ) সংবাদ পরিক্রমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সংবাদ পরিক্রমা
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি পুরোটা সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে খবর প্রচার করে পেছেন।
- এদিকে দেশে অবরুদ্ধ থেকেও অনেক বাঙালি সাংবাদিক ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে খবর পাঠিয়েছে। এজন্য তাদের শত্রুর হাতে চরম মূল্যও দিতে হয়।
- একাত্তরের শহিদ নিজামউদ্দিন ও নাজমুল হক এরকমই দুজন সাংবাদিক।
- এছাড়া আকাশবাণী, বিবিসি, ভোয়া প্রভৃতি বেতারকেন্দ্র আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল।
- আকাশবাণী কলকাতা থেকে প্রতি রাতে প্রচারিত 'সংবাদ পরিক্রমা' খুবই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল।
- 'সংবাদ পরিক্রমা' পাঠ করে দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে উঠেন
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের 'বজ্রকন্ঠ' ও 'চরমপত্রসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান শ্রোতাদের মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি। 
৩৮২.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে ঢাকা শহরে গেরিলা আক্রমণ পরিচালনাকারী দল কোনটি?
  1. ক) মুজিব বাহিনী
  2. খ) মুজিব ব্যাটারি
  3. গ) ক্র‍্যাক প্লাটুন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ক্র‍্যাক প্লাটুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্র‍্যাক প্লাটুন
ব্যাখ্যা
ক্র্যাক প্লাটুন

ক্র্যাক প্লাটুন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে ঢাকা শহরে গেরিলা আক্রমণ পরিচালনাকারী দল। 

এই দলটি গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন খালেদ মোশাররফ, বীর উত্তম এবং এটিএম হায়দার, বীর উত্তম। এটি ২ নং সেক্টরের অধীন একটি স্বতন্ত্র গেরিলা দল যারা মূলত গণবাহিনীর অংশ বলে পরিচিত। 

সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নির্দেশনা ছিলো হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে বিদেশী সাংবাদিক ও অতিথিরা থাকাকালীন ঢাকা শহরের পরিস্থিতি যে শান্ত নয় এবং এখানে যুদ্ধ চলছে তা বোঝানোর জন্য শহরের আশে-পাশে কিছু গ্রেনেড ও গুলি ছুড়তে হবে; কিন্তু দু:সাহসী এই তরুণেরা ঢাকায় এসে ৯ জুন তারিখে সরাসরি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গ্রেনেড হামলা করে এবং বেশ কয়েকজনকে হত্যা করে যা ছিলো অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ ও অচিন্তনীয় কাজ। 

সন্ধ্যায় বিবিসির খবর থেকে খালেদ মোশাররফ এই অপারেশনের কথা জানতে পেরে বলেন, 

'দিজ অল আর ক্র্যাক পিপল! বললাম, ঢাকার বাইরে বিস্ফোরণ ঘটাতে আর ওরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালেই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এসেছে।' 

তিনিই প্রথম এই দলটিকে "ক্র্যাক" আখ্যা দেন; যা থেকে পরবর্তীতে এই প্লাটুনটি "ক্র্যাক প্লাটুন" নামে পরিচিত হয়।


তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও দৈনিক প্রথম আলো।
৩৮৩.
স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য ডা. সেতারা বেগমকে কোন খেতাবে ভূষিত করা হয়?
  1. ক) বীরশ্রেষ্ঠ
  2. খ) বীর-উত্তম
  3. গ) বীর-বিক্রম
  4. ঘ) বীরপ্রতিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) বীরপ্রতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বীরপ্রতিক
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিত্সাসেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছিল।
- এ রকম একটি হাসপাতাল ছিল ২ নম্বর সেক্টরে।
- এর নাম ছিল ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’।
- এখানে ডা. জাফরউল্লাহ, ডা. মোবিন, ডা. আখতার, ডা. সিতারা বেগমসহ আরও অনেক চিকিৎসক, মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রী ও সেবিকা নিয়োজিত ছিলেন।
- এটি প্রথমে স্থাপিত হয় সীমান্তসংলগ্ন ভারতের সোনামুড়ায়।
- পরে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তা স্থানান্তর করা হয় আগরতলার কাছাকাছি বিশ্রামগঞ্জে।
- ডা. সিতারা বেগম বাংলাদেশ হাসপাতালে অসাধ্য সাধনের মতো সব কাজ করতেন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য যে দুই নারী ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব পেয়েছেন, তাঁদের একজন ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং অন্যজন তারামন বিবি। 

উৎস: প্রথম আলো, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০।
৩৮৪.
What was the sector number of Dhaka in 1971?
  1. 2
  2. 4
  3. 7
  4. 11
সঠিক উত্তর:
2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল: ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও -বঙ্গোপসাগর)।
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
- চট্টগ্রাম: ১নং সেক্টর,
- ঢাকা: ২ নং সেক্টর,
- রংপুর: ৬ নং সেক্টর,
- রাজশাহী: ৭ নং সেক্টর,
- মুজিবনগর: ৮ নং সেক্টর,
- সুন্দরবন: ৯ নং সেক্টর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৮৫.
মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ কতটি সেক্টরে বিভক্ত ছিলো?
  1. ক) ৭টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ১৩টি
  4. ঘ) ১১টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট ১১ টি সেক্টরে ও ৬৪ টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার (অধিনায়ক) নিয়োগ করা হয়।
- প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।
- সেক্টর নং ১ -  ৫টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।
- সেক্টর নং ২ -  এই সেক্টরে ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।
- সেক্টর নং ৩ - এই সেক্টরে ছিল ১০টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৪ - এই সেক্টরে ছিল ৬টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৫ - ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়ছিল।
- সেক্টর নং ৬ - এই সেক্টরে ছিল ৫টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৭ -  এই সেক্টরে ছিল ৮টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৮ -  এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৯ - এই সেক্টরে ছিল ৩টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ১০ - এই সেক্টরে কোনো সাব-সেক্টর ছিল না এবং ছিল না নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার। প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ বাহিনী ছিল এটি।
- সেক্টর নং ১১ -  এই সেক্টরকে ৮টি সাব-সেক্টর ভাগ করা হয়েছিল।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৮৬.
Out of the following countries, which one is the first to give recognition to Bangladesh?
  1. Poland
  2. Senegal
  3. Iran
  4. Iraq
সঠিক উত্তর:
Poland
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Poland
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বীকৃত লাভ:

- অপশনে উল্লেখিত দেশসমূহের মধ্যে পোল্যান্ড সবার আগে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে ০৮ জুলাই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি), মালয়েশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), ইন্দোনেশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), গাম্বিয়া (মার্চ), গ্যাবন (৬ এপ্রিল), সিয়েরা লিওন (২১ এপ্রিল), ইরাক (৮ জুলাই), দক্ষিণ ইয়েমেন (৩১ জুলাই), উগান্ডা (৫ আগস্ট), বুরকিনা ফাসো (১৯ আগস্ট) প্রভৃতি মুসলিম দেশ ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ইরান ও তুরস্ক ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ ও বিবিসি, মার্চ ২৬, ২০২১। 
৩৮৭.
১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকালে ANNIHILATE THESE DEMONS শিরোনামের পোস্টারটি কে এঁকেছিলেন?
  1. ক) ভিনসেন্ট ভ্যানগগ
  2. খ) পাবলো পিকাসো
  3. গ) কামরুল হাসান
  4. ঘ) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন
সঠিক উত্তর:
গ) কামরুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে নিরীহ বাঙালির উপর পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর নৃশংস হামলাকে কেন্দ্র করে কামরুল হাসানের ইয়াহিয়ার মুখচ্ছবি দিয়ে আঁকা পোস্টার ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’ / 'ANNIHILATE THESE DEMONS' দেশেবিদেশে বিপুলভাবে সাড়া জাগায় এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে সাধারণ মানুষকেও উদ্বুদ্ধ করে।
মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণামূলক পোস্টার আঁকায় নিতুন কুন্ডু (১৯৩৬-২০০৭), প্রাণেশ মন্ডল প্রমুখ শিল্পী বিশেষ অবদান রাখেন।
স্বাধীনতার পরও অব্যাহত ছিল রাজনৈতিক পোস্টার শিল্পের বিকাশ।
কামরুল হাসান-এর দেশ আজ বিশ্ববেহায়ার খপ্পরে, কাজী হাসান হাবীব (১৯৪৮-১৯৮৮)-এর বাংলাদেশ বনপোড়া হরিণীর মতো আর্তনাদ করে, কাউয়ুম চৌধুরীর আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি প্রভৃতি পোস্টার বাংলাদেশের কতকগুলি রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের সাক্ষী হয়ে আছে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৩৮৮.
মুক্তিযুদ্ধে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোন দেশের সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে?
  1. সৌদি আরব
  2. আমেরিকা
  3. চীন
  4. যুক্তরাজ্য
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ভুমিকা :
- যুক্তরাজ্যের নীতির মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের কাঠামোর অভ্যন্তরে বাঙালির স্বাধীকার সমস্যার সমাধান করা।
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে।
- বাংলাদেশের ঘটনায় ব্রিটেন সরকারিভাবে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে এবং ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদের জন্য ব্রিটিশ সরকার আন্তর্জাতিক ত্রাণ তৎপরতায় অংশগ্রহণ করে। 
- ব্রিটিশ সরকারের নিরপেক্ষ নীতির কারণে ব্রিটেনের পত্র-পত্রিকায় ও বেতার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে প্রচারণা সহজতর হয়েছিল। 
- ব্রিটেনের মাটিকে প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলার জন্য কোন সরকারি বাধা বিঘ্ন ছাড়াই জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। 
অন্যদিকে,
- চীন পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে। 
- মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন সরকার পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করে।
- সৌদি আরব, ইরান, ইরাক প্রভৃতি দেশসমূহ এবং ওআইসি বাংলাদেশে পাকিস্তানের গণহত্যার প্রতিবাদ করেনি। 
- বরং পাকিস্তানকে সমর্থন করতে বিশ্বের মুসলমানদের আহ্বান জানিয়েছে।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৯.
মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন দেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে?
  1. চীন
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ভারত
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
মিত্র দেশসমূহ:

ভারত:
- ভারত মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ ছিল।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয়।
- ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তখন বাংলাদেশকে সমর্থন করার জন্য রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, এবং সামরিক সহায়তা প্রদান করেন।
- ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, এবং বিমানবাহিনী যৌথভাবে "মুক্তিবাহিনী"র সঙ্গে একযোগে কাজ করে।

সোভিয়েত ইউনিয়ন:
- সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিল, যদিও তার ভূমিকা প্রধানত কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক সমর্থনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
- সেই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং এই ভেটো প্রয়োগের ফলে পাকিস্তানের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকে।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ে সাহায্য করে এবং মুক্তিযুদ্ধের ন্যায্যতাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে। 

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সামরিক এবং কূটনৈতিকভাবে সমর্থন দিচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে সামরিক সহায়তা প্রদান করেছিল।
- চীন জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলেছিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।
৩৯০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ঢাকা শহর কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ৫ নং সেক্টর
  2. ২ নং সেক্টর
  3. ৩ নং সেক্টর
  4. ৪ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• সেক্টর:
- ১৯৭১ সালে ‍মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- ঢাকা শহর ২নং সেক্টরের অধীন ছিলো। 
- মুক্তিযুদ্ধে ২নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মােশাররফ এবং মেজর এটি এম হায়দার।
- এর মধ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা এবং ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ৮ নং সেক্টর গঠিত হয়।
- বর্তমান মেহেরপুর জেলা ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো। 
- ৮ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৩৯১.
What is the name of Bangladesh Air Force's first operation?
  1. ক) Operation Close Door
  2. খ) Operation Kilo-Flight
  3. গ) Operation Big Bird
  4. ঘ) Operation Jackpot
সঠিক উত্তর:
খ) Operation Kilo-Flight
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Operation Kilo-Flight
ব্যাখ্যা
অপারেশন কিলো-ফ্লাইট:

- বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম অপারেশন হল 'অপারেশন কিলো-ফ্লাইট'।
- ১৯৭১ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর এ কে খন্দকারের নেতৃত্বে বিমান বাহিনী গঠিত হয়।
- ভারতীয় বিমান বাহিনীর সহায়তায় ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
- ২০২১ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমান বাহিনী বিভিন্ন কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯২.
অপারেশন সার্চ লাইটের নীল নকশা প্রস্তুত করেন কে?
  1. খাদিম রাজা
  2. টিক্কা খান
  3. আমির আব্দুল্লাহ নিয়াজী
  4. গোলাম মুহাম্মদ
সঠিক উত্তর:
টিক্কা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর 'অপারেশন সার্চ লাইট' পরিচালনা করে।
- এই অপারেশনে ঢাকা শহর জুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালানো হয়।
- ১৮ মার্চ ১৯৭১ জেনারেল টিক্কা খান এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা প্রস্তুত করেন।
- সব প্রস্তুতি শেষে ২৫ মার্চ এই অপারেশন চালানো হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চ লাইটের মূল দায়িত্বে ছিলেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৯৩.
বাংলাদেশের নৌ কমান্ডারদের দ্বারা পরিচালিত অভিযানের নাম-
  1. অপারেশন সি হান্ট
  2. অপারেশন বিগ বার্ড
  3. অপারেশন জ্যাকপট
  4. অপারেশন কিলোফাইট
সঠিক উত্তর:
অপারেশন জ্যাকপট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন জ্যাকপট
ব্যাখ্যা
• অপারেশন জ্যাকপট:
- অপারেশন জ্যাকপট ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি নৌ-কমান্ডোরা বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে অত্যন্ত অল্প সময়ে যুদ্ধের গতি সম্পর্কে বিশ্বকে ধারণা দিতে সক্ষম হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট পরিচালিত নৌ-কমান্ডো বাহিনীর প্রথম অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে পরিচিত।
- এদিন রাতে নৌ-কমান্ডোরা একযোগে মংলা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর আক্রমণ করে এবং পাকিস্তান বাহিনীর ২৬ টি পণ্য ও সমরাস্ত্রবাহী জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দেয়।
- মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাঞ্চলকে যে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এর মধ্যে ১০নং সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো।
- মূলত সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা, নদী ও সমুদ্র বন্দরসহ বাংলাদেশের সমগ্র জলপথ নিয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়।
-  ১০নং সেক্টরের কোনো নির্দিষ্ট সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৩৯৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন দেশ থেকে 'বাংলাদেশ স্ফুলিঙ্গ' নামক সংবাদপত্র প্রকাশিত হত?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. ফ্রান্স
  4. কানাডা
সঠিক উত্তর:
কানাডা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানাডা
ব্যাখ্যা
গণমাধ্যম:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন দেশে সংবাদপত্রে মুক্তিবাহিনীর তৎপরতা, বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম ও নির্দেশাবলী, নেত্রবৃন্দের বিবৃতি ও তৎপরতা, প্রবাসী বাঙ্গালীদের আন্দোলনের খবর ইত্যাদি প্রকাশিত হত।
- এদের মধ্যে মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত জয় বাংলা, বাংলাদেশ, বঙ্গবাণী, স্বদেশ, রণাঙ্গন, স্বাধীন বাংলা, মুক্তিযুদ্ধ, সোনার বাংলা, বিপ্লবী বাংলাদেশ, জন্মভূমি, বাংলার বাণী, নতুন বাংলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও,
- মার্কিন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত হতো বাংলাদেশ নিউজ লেটার, বাংলাদেশ সংবাদ পরিক্রমা।
- আমেরিকা থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ নিউজ লেটার, বাংলাদেশ নিউজ বুলেটিন, শিক্ষা উল্লেখযোগ্য।
- কানাডা থেকে বাংলাদেশ স্ফুলিঙ্গ নামক সংবাদপত্র প্রকাশিত হত।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৩৯৫.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে স্বীকৃতিস্বরূপ কতজন ব্যক্তিকে ’বীর উত্তম’ খেতাব দেওয়া হয়?
  1. ৬৭ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ৬৯ জন
  4. ৬৪ জন
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
ব্যাখ্যা

• বীরত্বসূচক খেতাব;
- বীরত্বসূচক খেতাব  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।

- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- এ পরিকল্পে চার পর্যায়ের খেতাব প্রদানের বিধান ছিল: (ক) সর্বোচ্চ পদ, (খ) উচ্চ পদ, (গ) প্রশংসনীয় পদ, (ঘ) বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্র।

• স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সভায় বীরত্বসূচক খেতাবের নতুন নামকরণ হয়:
- সর্বোচ্চ পদমর্যাদার খেতাব →  বীরশ্রেষ্ঠ।
- উচ্চ পদমর্যাদার খেতাব →  বীর উত্তম।
- প্রশংসনীয় পদমর্যাদার খেতাব →  বীর বিক্রম।
- বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্রের খেতাব →  বীর প্রতীক।

• ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়
• বীরশ্রেষ্ঠ- ৭ জন;
• বীর উত্তম- ৬৮ জন;
• বীর বিক্রম- ১৭৫ জন;
• বীর প্রতীক- ৪২৬ জন;

উৎস:
ⅰ) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
iii)বাংলাপিডিয়া।

৩৯৬.
বাংলাদেশের জাতীয় দিবস কোনটি?
  1. ক) ১৬ ডিসেম্বর
  2. খ) ২৬ মার্চ
  3. গ) ২১ ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) ৭ মার্চ
সঠিক উত্তর:
খ) ২৬ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৬ মার্চ
ব্যাখ্যা
• স্বাধীনতা দিবস ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সৈন্যদের নির্বিচার গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। তখন থেকেই এ দিনটি স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
- কিন্তু ১৯৮০ সালের ৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকার দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবেও উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৩৯৭.
কোন জেলায় মহান মুক্তিযুদ্ধের মহাপরিকল্পনার প্রথম গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) কুমিল্লা জেলায়
  2. খ) হবিগঞ্জ জেলায়
  3. গ) ঢাকা জেলায়
  4. ঘ) চট্রগাম জেলায়
সঠিক উত্তর:
খ) হবিগঞ্জ জেলায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হবিগঞ্জ জেলায়
ব্যাখ্যা
তেলিয়াপাড়া বাংলোয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বৈঠক:
- হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোতে ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের মহাপরিকল্পনার প্রথম গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- সেই গোপন বৈঠক থেকেই মুক্তিযুদ্ধের সামরিক সর্বাধিনায়ক আতাউল গণি ওসমানীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের শপথবাক্য পাঠ করা হয় এবং তিনি নিজের পিস্তল থেকে ফাঁকা গুলি করে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের ঘোষণা করেন।

- এ ছাড়া ৪ এপ্রিল থেকে ওই বাংলোটি প্রথমে মুক্তিবাহিনীর সদর দপ্তর এবং পরবর্তী সময়ে ৩ ও ৪ নম্বর সেক্টরের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে প্রকৃতির নয়নাভিরাম পরিবেশে তেলিয়াপাড়া চা বাগানের পাশেই স্থাপন করা হয় 'তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ।

তেলিয়াপাড়া আরো কয়েকটি কারণে স্মরণীয়:
- তেলিয়াপাড়াকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিসাক্ষী হিসেবে পরিচিত করার মূল ভূমিকা পালন করেন ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক মেজর খালেদ মোশাররফ। ২৭ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থানরত ৪র্থ বেঙ্গলের মেজর শাফায়াত জামিল কর্তৃক অবাঙ্গালি অধিনায়ক লেঃ কর্নেল খিজির হায়াত খানসহ ৩জন পাকঅফিসারকে বন্দী এবং সাধারণ অবাঙালি সেনাদের হত্যার পর পরই শমসেরনগর থেকে ফিরে এসে সহ-অধিনায়ক মেজর খালেদ মোশাররফ ইউনিটের অধিনায়কত্ব গ্রহণ করেন।
- তেলিয়াপাড়ার বিদ্রোহী সামরিক অফিসারদের বৈঠকেই যুদ্ধের সুবিধার্থে বাংলাদেশকে কৌশকলগতভাবে ৪টি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়।


উৎস: মাধবপুর উপজেলা ওয়েবসাইট এবং যায় যায় দিন পত্রিকা নিউজ।
৩৯৮.
 বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেন?
  1. ৫নং সেক্টর
  2. ৬নং সেক্টর
  3. ৭নং সেক্টর
  4. ৪নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৭নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৩৯৯.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজধানী ঢাকা কোন সেক্টরের আওতায় ছিল?
  1. ১ নং
  2. ২ নং
  3. ৭ নং
  4. ৪ নং
সঠিক উত্তর:
২ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।

সেক্টরগুলো:
- ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি এবং ফেনী: ১নং সেক্টর,
- রাজধানী ঢাকা, কুমিল্লা, আখাউড়া–ভৈরব, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের কিছু অংশ: ২ নং সেক্টর,
- হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ এবং ঢাকার কিছু অংশ: ৩ নং সেক্টর,
- সিলেট জেলার অংশবিশেষ: ৪ নং সেক্টর,
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ: ৫ নং সেক্টর,
- দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর: ৬ নং সেক্টর,
- রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল এবং রংপুরের কিছু অংশ: ৭ নং সেক্টর,
- কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ: ৮ নং সেক্টর,
- পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ: ৯ নং সেক্টর,
- সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নৌ কমান্ডো ও আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন: ১০ নং সেক্টর,
- ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল: ১১ নং সেক্টর।

উৎস: ২৬ মার্চ ২০২৩, বিবিসি বাংলা।
৪০০.
তারামন বিবি কোন খেতাব পেয়েছেন?
  1. বীরশ্রেষ্ঠ
  2. বীর উত্তম
  3. বীর বিক্রম
  4. বীর প্রতীক
সঠিক উত্তর:
বীর প্রতীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীর প্রতীক
ব্যাখ্যা
বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

তার মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য যে দুই নারী 'বীরপ্রতীক' খেতাব পেয়েছেন।
- ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম ও
- তারামন বিবি।

উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও ডয়েচভেলে রিপোর্ট।