উত্তর
ব্যাখ্যা
♦ ম্যাজিস্ট্রেট নালিশ প্রাপ্তির পর ২০০ ধারায় শপথ পূর্বক বাদী বা ফরিয়াদীকে ও উপস্থিত সাক্ষীকে পরীক্ষা করতে পারেন ।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২২ / ১২৬ · ২,১০১–২,২০০ / ১২,৬০৫
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪২ ধারা অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট যদি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনা (ground for presuming) দেখেন, তবে তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠন করবেন।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪২ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট চার্জ গঠন করেন। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ থেকে ২৫০ ধারা পর্যন্ত বর্ণনা করা হয়েছে। ২৪১ক ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট মামলার নথি ও দাখিলকৃত কাগজপত্র আমলে নিয়ে যদি এই মত পোষণ করেন যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন তাহলে চার্জ গঠনের আগে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন।
আর যদি অভিযুক্ত অপরাধ করেছে বলে মনে হয়, তবে যে অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে সেই অপরাধ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ২৪২ ধারায় আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করবেন।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪২ ধারার ধারার বিধান চার্জ গঠন:
যদি উপরোক্ত বিবেচনা ও শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট মনে করেন যে, অভিযুক্ত অপরাধ করেছে এমন ধারণা করার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে, তবে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অপরাধ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করবেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করবেন যে, তিনি এই অপরাধটি করেছেন কিনা।
-------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section-242. Charge to be framed:
If, after such consideration and hearing as aforesaid, the Magistrate is of opinion that there is ground for presuming that the accused has committed an offence, the Magistrate shall frame a formal charge relating to the offence of which he is accused and he shall be asked whether he admits that he has committed the offence with which he is charged.
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৮০ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি আদালতের সম্মুখে বা আদালতের উপস্থিতিতে দণ্ডবিধির ধারা ১৭৫, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০ বা ২২৮ অনুযায়ী আদালত অবমাননার (Contempt of Court) মতো অপরাধ করেন, তাহলে—
- আদালত ঐ ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক রাখতে পারে এবং
- সেই দিনের আদালত অধিবেশন শেষ হওয়ার পূর্বে (before the rising of the court) অপরাধটি আমলে নিয়ে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দিতে পারে এবং
- জরিমানা প্রদান না করলে, তাকে সর্বোচ্চ এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম (Simple) কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারে।
→ “Simple imprisonment” মানেই হলো বিনাশ্রম কারাদণ্ড — যেখানে আসামিকে কোনো ধরনের শ্রম বা কাজ করতে হয় না, এটি একটি কম কঠিন ধরনের শাস্তি।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮০ ধারার বিধান:- অবমাননার কতিপয় ক্ষেত্রে পদ্ধতি:
কোন দেওয়ানী, ফৌজদারি বা রাজস্ব আদালতের দৃষ্টি গোচরে বা উপস্থিতিতে দণ্ডবিধির ধারা-১৭৫, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০ বা ২২৮ এ উল্লিখিত কোন অপরাধ করা হলে উক্ত আদালত অপরাধীকে কারাগারে আটক রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং ঐদিন আদালতের অধিবেশন শেষ হবার পূর্বে যেকোনো সময় উপযুক্ত মনে করলে অপরাধটি আমলে নিতে পারবেন এবং অপরাধীকে সর্বোচ্চ ২০০ (দু'শত) টাকা অর্থদণ্ডে এবং যথাশীঘ্র জরিমানার টাকা প্রদান করা না হলে এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন।
------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section- 480: Procedure in certain cases of contempt:
-When any such offence as is described in section 175, section 178, section 179, section 180 or section 228 or the Penal Code is committed in the view or presence of any Civil, Criminal or Revenue Court, the Court may cause the offender to be detained in custody and at any time before the rising of the Court on the same day may, if it thinks fit, take cognizance of the offence and sentence the offender to fine not exceeding two hundred taka, and in default of payment, to simple imprisonment for a term which may to one month, unless such fine be sooner paid.
⇒ দণ্ডবিধিতে “Judge” শব্দের অর্থ ধারা ১৯ অনুযায়ী ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ধারা ১৯-এ "Judge" শব্দটিকে একটি বিস্তৃত অর্থে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র দাপ্তরিকভাবে নিযুক্ত বিচারকই নন, বরং আইন দ্বারা যেকোনো ধরনের চূড়ান্ত বা কার্যত চূড়ান্ত রায় দেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত যেকোনো ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
⇒ দণ্ডবিধির ১৯ ধারার বিধান- জজ:
বিচারক অর্থ শুধু সরকারিভাবে বিচারক বলে আখ্যাত বা নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকেই বোঝায় না, বরং যেকোন আইনগত কার্যব্যবস্থা, কোন দেওয়ানি বা ফৌজদারি যা হোক, চূড়ান্ত রায়দান বা আপিল না করা না হলে চূড়ান্ত গণ্য হবে এইরূপ বায়দান বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সমর্থিত হলে চূড়ান্ত গণ্য হবে এমন কোন রায়দান করতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রদত্ত প্রত্যেক ব্যক্তি, অথবা অনুরূপ রায়দান করার জন্য আইনবলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোন ব্যক্তি সংস্থাভুক্ত ব্যক্তিকেও বুঝাবে।
উদাহরণ:
(ক) ১৮৫৯ সালের ১০নং আইন মোতাবেক কোন মোকদ্দমায় বিচার-ক্ষমতা প্রয়োগে একজন কালেক্টরই বিচারক।
(খ) যে অভিযোগের বিচারে ম্যাজিস্ট্রেটের অর্থ বা কারাদণ্ডদানের ক্ষমতা রয়েছে-তার দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাক বা না যাক- সে অভিযোগে বিচার ক্ষমতা প্রয়োগকারী ম্যাজিস্ট্রেট একজন বিচারক।
(ঘ) যে অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেট কেবলমাত্র কোন আদালতে বিচারের জন্য সোপর্দ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত, সে অভিযোগের ব্যাপারে এখতিয়ার প্রয়োগকারী ম্যাজিস্ট্রেট একজন বিচারক নয়।
----------
⇒ The penal Code,1860: Section-19. “Judge”:
The word “Judge” denotes not only every person who is officially designed as a Judge, but also every person,-
-who is empowered by law to give, in any legal proceeding, civil or criminal, a definitive judgment, or a judgment which, if not appealed against, would be definitive, or a judgment -which, if confirmed by some other authority, would be definitive, or
-who is one of a body of persons, which body of persons is empowered by law to give such a judgment.
Illustration:
(a) A Collector exercising jurisdiction in a suit under Act X of 1859, is a Judge.
(b) A Magistrate exercising jurisdiction in respect of a charge on which he has power to sentence to fine or imprisonment with or without appeal, is a Judge.
(d) A Magistrate exercising jurisdiction in respect of a charge on which he has power only to commit for trial to another Court, is not a Judge.
'তামাদি’:
‘তামাদি’ একটি আরবি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ “বিলুপ্ত হওয়া” বা “অতিক্রান্ত হওয়া”। আইনি পরিভাষায় ‘তামাদি’ বলতে বোঝায়— যখন কোনো দাবির নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়ে যায়, অর্থাৎ দাবিটি করার বা মামলা দায়েরের আইনানুগ সময় শেষ হয়ে যায়।অতএব, নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর মামলা, আপিল বা দরখাস্ত দায়ের করা এবং আদালত কর্তৃক তা বাধ্যতামূলকভাবে খারিজ হওয়ার প্রক্রিয়াকেই সংক্ষেপে ‘তামাদি’ বলা হয়।
তামাদি আইনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৭৯৩ সাল - উপমহাদেশে প্রথম তামাদি আইন প্রণীত হয়। ইংরেজ শাসক লর্ড চার্লস কর্নওয়ালিস এটি প্রবর্তন করেন। তবে সে সময়ের আইনটি সঠিকভাবে বিধিবদ্ধ ছিল না।
১৮৫৯ সাল - তামাদি আইন প্রথমবারের মতো সুনির্দিষ্টভাবে বিধিবদ্ধ হয়।
১৮৬২ সাল - ১৮৫৯ সালের বিধিবদ্ধ আইন কার্যকর হয়।
১৯০৮ সালের ৭ আগস্ট - আইনটি ব্যাপক সংস্কার ও পরিমার্জন করে পুনরায় প্রকাশ করা হয়।
১৯০৯ সালের ১ জানুয়ারি - নবপ্রণীত আইন কার্যকর হয়, যা বর্তমানে “১৯০৮ সালের ৯ নং আইন” নামে পরিচিত।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৪ সালের ২৮ নং আইন দ্বারা তামাদি আইনের ১ম তফসিলের ১১৩ ও ১১৪ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়। সংশোধনীতে ১১৩ এবং ১১৪ অনুচ্ছেদের তামাদি সময় ৩ বছর থেকে কমিয়ে ১ বছর করা হয়।
বর্তমানে এতে ২৯টি ধারা ও ১টি তফসিল কার্যকর রয়েছে। ১ম তফসিলে মোট ১৮৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে, যা ৩টি খণ্ডে বিভক্ত-
প্রথম খণ্ড (১–১৪৯)- মামলা দায়েরের সময় সম্পর্কিত;
দ্বিতীয় খণ্ড (১৫০–১৫৭)- আপিল দায়েরের সময় সম্পর্কিত;
তৃতীয় খণ্ড (১৫৮–১৮৩)- আবেদন বা দরখাস্ত দায়েরের সময় সম্পর্কিত।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির, আদেশ-২২, বিধি-৭: মহিলা পক্ষের বিবাহের ফলে মামলা স্থগিত হবে না:
(১) কোনো মহিলা বাদী বা বিবাদীর বিবাহ হলেও মামলাটি স্থগিত হবে না, বরং মামলা অগ্রসর হয়ে রায় প্রদান করা যাবে; এবং যেখানে রায় মহিলা বিবাদীর বিরুদ্ধে থাকে, সেখানে রায় শুধুমাত্র তার বিরুদ্ধে কার্যকর করা যেতে পারে।
(২) যেখানে স্বামী আইন অনুসারে তার স্ত্রীর দেনার জন্য দায়ী, সেখানে আদালতের অনুমতি নিয়ে রায় স্বামীর বিরুদ্ধে কার্যকর করা যেতে পারে; এবং স্ত্রীর পক্ষে রায় হলে, স্বামীর আবেদনপত্রে, যেখানে স্বামী আইন অনুযায়ী রায়ের বিষয়ভিত্তিক অধিকারী, সেখানে রায় কার্যকর করার জন্য অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ৫০৫ ধারা অনুযায়ী, মামলার কোনো পক্ষ এডভোকেটের মাধ্যমে বা ব্যক্তিগতভাবে (যদি হেফাজতে না থাকেন) সাক্ষীকে জেরা, পুনঃজেরা বা জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারেন। অর্থাৎ, যদি কোনো পক্ষ কারাগারে বা হেফাজতে থাকে, তবে তারা ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষীকে জেরা করতে পারবে না। তবে, তারা এডভোকেটের মাধ্যমে এই কাজ করতে পারে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০৫ অনুযায়ী, যদি কোনো মামলায় সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন জারি করা হয়, তাহলে মামলার পক্ষসমূহ (যথা, অভিযুক্ত ও রাষ্ট্রপক্ষ) সাক্ষীর জবানবন্দির জন্য লিখিত প্রশ্নমালা (interrogatories) সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতে জমা দিতে পারে।
সেই প্রশ্নমালা যদি আদালত বা ম্যাজিস্ট্রেট প্রাসঙ্গিক মনে করেন, তবে তা অনুসারে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।
এছাড়াও, মামলার পক্ষসমূহ এডভোকেটের মাধ্যমে বা ব্যক্তি হিসেবে (যদি হেফাজতে না থাকেন) উপস্থিত থেকে সাক্ষীকে জেরা (cross-examine) ও পুনঃজেরা (re-examine) করতে পারেন।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫০৫ ধারার বিধান: পক্ষগণ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারবেন:-
(১) এই বিধির অধীন যে মামলায় কমিশন প্রদান করা হয়েছে সেই মামলার পক্ষসমূহ কমিশন দানকারী ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালত যে বিষয়কে মূল বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিক মর্মে মনে করেন সেই বিষয়ে প্রশ্নমালা দিতে পারেন এবং উক্ত কমিশন যখন ধারা-৫০৩ এ বর্ণিত কোন ম্যাজিস্ট্রেট বা অফিসার বরাবর প্রেরিত হয়, তখন যে ম্যাজিস্ট্রেট বা অফিসারের উপর কমিশন কার্যকর করার দায়িত্ব অর্পিত হয় সেই ম্যাজিস্ট্রেট বা অফিসার উক্ত প্রশ্নমালার ভিত্তিতে সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণ করবেন।
(২) মামলার কোন পক্ষ এডভোকেট কর্তৃক বা কারাগারে না থাকলে ব্যক্তিগতভাবে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা অফিসার বরাবর উপস্থিত হবে এবং উক্ত সাক্ষীর জবানবন্দী, জেরা ও পুনঃজবানবন্দী, যেখানে যেরূপ, গ্রহণ করতে পারবেন।
---------------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section- 505: Parties may examine witnesses:-
(1) The parties to any proceeding under this Code in which a commission is issued, may respectively forward any interrogatories in writing which the Magistrate or Court directing the commission may think relevant to the issue and when the commission is directed to a Magistrate or officer mentioned in section 503, such Magistrate or the Officer to whom the duty of executing such commission has been delegated shall examine the witness upon such interrogatories.
(2) Any such party may appear before such Magistrate or officer by pleader, or if not in custody, in person, and may examine, cross-examine and re-examine (as the case may be) the said witness.
⇒ দণ্ডবিধির (Penal Code, 1860) অধ্যায় IV-এর "সাধারণ ব্যতিক্রম" (General Exceptions) বিভাগে ধারা ৭৭ বিশেষভাবে বিচারকের (Judge) বিচারিক কাজের (judicial acts) সুরক্ষা প্রদান করে।
অর্থাৎ: একজন বিচারক যখন তাঁর বিচারিক দায়িত্ব পালনকালে (acting judicially) কোনো কাজ করেন, যা আইন দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতার ব্যবহারে (exercise of power) বা সৎবাবে (good faith) আইন দ্বারা প্রদত্ত মনে করে করেন, তখন সেই কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। এটি বিচারকদের স্বাধীনভাবে এবং ভয়হীনভাবে বিচারকাজ করার জন্য একটি সুরক্ষা প্রদান করে, যাতে তারা আইনের মধ্যে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
⇒ দণ্ডবিধির ৭৭ ধারার বিধান বিচার সংক্রান্ত কাজ সম্পাদনকালে বিচারক দ্বারা কৃতকার্য:
-বিচার কাজ পরিচালনাকালে অর্থাৎ বিচারক হিসেবে কাজ পরিচালনাকালে বিচারক দ্বারা তাকে আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা বা যে ক্ষমতা তাঁকে আইনে প্রদত্ত হয়েছে তিনি সরল মনে বিশ্বাস করেন সে ক্ষমতানুসারে কৃত কোন কাজ অপরাধ হবে না।
--------------------------------
⇒ The Penal Code,1860- Section 77: Act of Judge when acting judicially:-
- Nothing is an offence which is done by a Judge when acting judicially in the exercise of any power which is, or which in good faith he believes to be, given to him by law.
⇒ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডার এর ২৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে বার কাউন্সিল তালিকাভুক্ত সকল অ্যাডভোকেটকে সনদ প্রদান করবেন।
----------
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972: Article- 23. (1) Entries in the roll shall be made in the order of seniority and such seniority shall be determined as follows, namely:-
(a) all such persons as are referred to in clause (a) of Article 20 shall be entered first in the order in which they were respectively entitled to seniority immediately before the commencement of this Order; and
(b) the seniority of any other person admitted to be an advocate under this Order after the commencement of this Order shall be determined by the date of his admission.
(2) Where the date of seniority of two or more persons is the same, the one senior in age shall rank as senior to the other.
⇒ The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972: Article- 24. The Bar Council shall issue a certificate of enrolment in the prescribed form to every person enrolled under Article 23.
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৪২ক ধারার বিধান:- আপিল ও রিভিশন নিষ্পত্তির সময়:
(১) কোন আপিল আদালত ইহার নিকট দায়েরকৃত আপিল রেসপন্ডেন্টের উপর নোটিশ জারী হবার তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবেন।
(২) রিভিশনের ক্ষমতা সম্পন্ন আদালত পক্ষগণের উপর নোটিশ জারী হবার তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে রিভিশনের কার্যক্রম নিষ্পত্তি করবেন।
(৩) এই ধারায় সময় নির্ধারণের জন্য কেবল কার্যদিবস গণনা করতে হবে।
⇒ The Penal Code, 1860-Section 215. Taking gift to help to recover stolen property, etc:
Whoever takes or agrees or consents to take any gratification under pretence or on account of helping any person to recover any moveable property of which he shall have been deprived by any offence punishable under this Code, shall, unless he uses all means in his power to cause the offender to be apprehended and convicted of the offence, be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
⇒ দণ্ডবিধির ২১৫ ধারার বিধান: চোরাই সম্পত্তি ইত্যাদি উদ্ধারে সহায়তা করার জন্য উপহার গ্রহণ করা:
কোন ব্যক্তি এই বিধি বলে দণ্ডনীয় কোন অপরাধহেতু যে সম্পত্তি হতে বঞ্চিত হয়েছে তাকে সে সম্পত্তি উদ্ধারে সহায়তার ভান করে বা সহায়তা করার জন্য যদি কেউ কোন পারিতোষিক গ্রহণ করে কিংবা গ্রহণ করতে স্বীকৃত বা সম্মত হয়, তবে সে যদি না অপরাধীকে গ্রেফতার ও অপরাধের জন্য দণ্ডিত করানোর জন্য তার সাধ্যায়ও সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৪৭, বিধি ৪(২)(ক) অনুসারে, পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করার পূর্বে আদালতকে প্রতিপক্ষকে (opposite party) নোটিশ দিতে হবে। এই নোটিশের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে আদালতে উপস্থিত হয়ে ডিক্রি বা আদেশের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। অন্য অপশনগুলো (যেমন উচ্চ আদালতের অনুমোদন নেওয়া, জরিমানা আদায় ইত্যাদি) এই বিধির অধীনে বাধ্যতামূলক নয়।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮, আদেশ–৪৭, বিধি–৪ : আবেদন বাতিল বা মঞ্জুর করার নিয়ম:
(১) যখন আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে পুনর্বিবেচনার (review) আবেদনের জন্য যথেষ্ট কারণ বা ভিত্তি নেই, তখন আদালত উক্ত আবেদন বাতিল করবে।
(২) যদি আদালতের মতে পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করা উচিত হয়, তবে আদালত উক্ত আবেদন মঞ্জুর করতে পারবে,
তবে নিম্নলিখিত শর্তাবলি প্রযোজ্য হবে—
(ক) উক্ত আবেদন মঞ্জুর করার পূর্বে প্রতিপক্ষকে (opposite party) নোটিশ দিতে হবে, যাতে সে উপস্থিত হয়ে সেই ডিক্রি বা আদেশের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে পারে, যার পুনর্বিবেচনা চাওয়া হয়েছে; এবং
(খ) যদি আবেদনকারী দাবি করেন যে নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণ উদ্ঘাটিত হয়েছে, যা ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের সময় তার জ্ঞাত ছিল না বা পেশ করা সম্ভব ছিল না, তবে সে ক্ষেত্রে উক্ত দাবির কঠোর প্রমাণ (strict proof) ব্যতিরেকে কোনো আবেদন মঞ্জুর করা যাবে না।
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১০৬ ধারা অনুযায়ী,
কোনো বিষয় যখন বিশেষ ভাবে কোনো ব্যক্তির অবগতির মধ্যে থাকে, তখন সেই বিষয় প্রমাণ করার দায়িত্ব তার উপরই ন্যস্ত থাকে। অর্থাৎ, কোনো একটি ঘটনা বা বিষয় যখন নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জানার কথা বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি ব্যতীত অন্যরা জানার কথা নয়, তখন ঐ ব্যক্তির উপরই প্রমাণ করার দায়িত্ব বর্তাবে।
⇒ এই ধারা অনুসারে, 'A'-কেই প্রমাণ দিতে হবে যে, তার কাছে টিকেট ছিল।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪(ঞ)-তে "তদন্ত" এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, "তদন্ত বলতে এই সংহিতা অনুসারে প্রমাণ সংগ্রহ করার জন্য একজন পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি (ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত) কর্তৃক পরিচালিত সকল কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত হবে।"
সুতরাং, তদন্ত মূলত পুলিশের প্রমাণ সংগ্রহ-related কার্যক্রম।
- আদালতে শুনানি বা ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিক কার্যক্রম তদন্ত নয়।
- ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অভিযোগ দাখিল করাও তদন্তের অংশ নয়।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪(ঞ) (l) "investigation" includes all the proceedings under this Code for the collection of evidence conducted by a police-officer or by any person (other than a Magistrate) who is authorised by a Magistrate in this behalf."
- তদন্ত হলো পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তি কর্তৃক প্রমাণ সংগ্রহের সকল কার্যক্রম। এটি ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে হয়, কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট নিজে তদন্ত করেন না। তদন্তের সময় পুলিশ গ্রেপ্তার, জব্দ, সাক্ষী জেরা, স্থান পরিদর্শন ইত্যাদি করে।
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি নারীর শালীনতাহানির উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে, তাহলে অপরাধী সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। এছাড়া জরিমানা বা উভয় শাস্তিও প্রযোজ্য হতে পারে।
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি: কোনো নারীর উপর আক্রমণ (assault) বা অপরাধমূলক বল (criminal force) প্রয়োগ করে উদ্দেশ্য বা জ্ঞানসহকারে যে এতে তার শালীনতায় আঘাত (outrage modesty) পড়বে, তাহলে অপরাধী সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম) অথবা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি একসাথে প্রযোজ্য।
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 354. Assault or criminal force to woman with intent to outage her modesty:
Whoever assaults or uses criminal force to any woman, intending to outrage or knowing it to be likely that he will thereby outrage her modesty, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
⇒ ফৌজদারী কার্যবিধির ৫২৩ ধারা অনুযায়ী, পুলিশ অফিসার কর্তৃক ধারা ৫১ অনুযায়ী গৃহীত, চোরাই বলে সন্দেহযুক্ত বা অপরাধের সাথে সম্পর্কিত সম্পত্তি জব্দ করা হলে, তা সঙ্গে সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট এরপর সম্পত্তির হেফাজত, প্রদান বা মালিক অজ্ঞাত হলে ঘোষণা জারির বিষয়ে যথাযথ আদেশ দিতে পারেন।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৩ ধারার বিধান:- ৫১ ধারা অনুসারে গৃহীত মাল বা চোরাইমাল আটকের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্তৃক গৃহীত পদ্ধতি:
(১) ৫১ ধারা অনুসারে গৃহীত বা চেরাইমাল বলে কথিত বা সন্দেহযুক্ত বা কোন অপরাধ সংঘটনের সন্দেহ সৃষ্টিকারী অবস্থায় প্রাপ্ত সম্পত্তি কোন পুলিশ অফিসার জব্দ করলে সঙ্গে সঙ্গে তা কোন ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানাতে হবে এবং উক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত সম্পত্তির বিহিত ব্যবস্থা বা উহার দখলের অধিকারী ব্যক্তিকে প্রদান বা এরূপ ব্যক্তিকে না পাওয়া গেলে উহার হেফাজত ও অর্পণ সম্পর্কে যেরূপ মনে করেন সেরূপ আদেশ দিবেন।
- জব্দকৃত মারের মালিক অজ্ঞাত হলে পদ্ধতি:
(২) সম্পত্তি দখলের অধিকারী ব্যক্তি যদি পরিচিত হয় তাহলে ম্যাজিষ্ট্রেট যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন সেরূপ শর্তে (যদি আরোপিত হয়) তাকে সম্পত্তি প্রদানের আদেশ দিতে পারবেন। কিন্তু উক্ত ব্যক্তি যদি অজ্ঞাত হয় তাহলে ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত সম্পত্তি আটক রাখতে পারবেন এবং সেক্ষেত্রে, তিনি সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণসহ এই মর্মে একটি ঘোষণা দিবেন যে, উক্ত সম্পত্তিতে কারো কোন দাবী থাকলে ঘোষণা তারিখ হতে এক মাসের মধ্যে তার সামনে হাজির হয়ে উক্ত দাবী প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
----------
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898:-Section-523: Procedure by police upon seizure of property taken under section 51 or stolen:
(1) The seizure by any police-officer of property taken under section 51, or alleged or suspected to have been stolen, or found under circumstances which create suspicion of the commission of any offence, shall be forthwith reported to a Magistrate, who shall make such order as he thinks fit respecting the disposal of such property or the delivery of such property to the person entitled to the possession thereof, or, if such person cannot be ascertained, respecting the custody and production of such property.
-Procedure where owner of property seized unknown:
(2) If the person so entitled is known, the Magistrate may order the property to be delivered to him on such conditions (if any) as the Magistrate thinks fit. If such person is unknown, the Magistrate may detain it and shall, in such case, issue a Proclamation specifying the articles of which such property consists, and requiring any person who may have a claim thereto, to appear before him and establish his claim within [one month] from the date of such proclamation.
উত্তর: ৭ বছর।
বসতবাড়ি বা অনুরূপ স্থানে চুরি – (ধারা ৩৮০, The Penal Code, 1860):
যে কেউ কোনো ভবন, তাঁবু বা জাহাজে চুরি করে — যা মানুষের বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হয় বা সম্পত্তি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয় সে ব্যক্তি যেকোনো ধরণের (সশ্রম বা বিনাশ্রম) কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন, যা সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে এবং তিনি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ারও যোগ্য হবেন।
Section 9: Continuous running of time
Where once time has begun to run, no subsequent disability or inability to sue stops it:
Provided that where letters of administration to the estate of a creditor have been granted to his debtor, the running of the time prescribed for a suit to recover the debt shall be suspended while the administration continues.
ধারা ৯- সময়ের অবিরাম চলন
একবার তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হলে পরবর্তী কোন অপারগতা বা অক্ষমতা দ্বারা তা বন্ধ হবে না।
ব্যতিক্রম
যেক্ষেত্রে পাওনাদারের (Creditor) সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেনাদারের (Debtor) উপর পরিচালনার পত্ৰনামার (Letters of Administration) মাধ্যমে অর্পন করেছে, সেইক্ষেত্রে যতদিন উক্ত দায়িত্ব ন্যাস্ত থাকবে ততদিন উক্ত দেনার টাকা আদায়ের মামলার তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হওয়া স্থগিত থাকবে।
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৪-এর মূল বিধান হলো — যখন একাধিক ব্যক্তি সাধারণ অভিপ্রায় (common intention) বাস্তবায়নের জন্য কোনো অপরাধমূলক কাজ করে, তখন প্রতিটি ব্যক্তি সেই কাজের জন্য যৌথ দায় বহন করে এবং তাকে এমনভাবে দায়ী করা হয় যেন সে একা ঐ অপরাধটি করেছে। অর্থাৎ, দণ্ডবিধির দৃষ্টিতে প্রত্যেকে মূল অপরাধীর সমান দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়।
- এই বিধানটির উদ্দেশ্য হলো যৌথ দায়িত্ব সৃষ্টি করা, যাতে সাধারণ অভিপ্রায়ে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ব্যক্তিকে আলাদাভাবে শাস্তি দেওয়া যায়, যদিও প্রকৃতপক্ষে কাজটি তারা সম্মিলিতভাবে করেছে।
- অর্থাৎ দণ্ডবিধির ধারা ৩৪ অনুযায়ী, যখন একাধিক ব্যক্তি সাধারণ অভিপ্রায়ের (common intention) অধীনে কোনো অপরাধ সংঘটিত করে, তখন প্রত্যেককে সেই অপরাধের জন্য দায়ী ধরা হয়, যেমন মনে করা হবে সে একাই ওই অপরাধটি করেছে।
Illustration:
A ও B মিলে Z-এর উপর হামলা চালায় অভিপ্রায় অনুযায়ী। Z আহত হলে, A ও B দুজনই আলাদাভাবে পূর্ণ দায়ী।