বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মধ্যযুগ ও মুসলিম শাসন

মোট প্রশ্ন৬৩৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মধ্যযুগ ও মুসলিম শাসন

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৬৩৫

৩০১.
কোন মুগল সম্রাট 'বাংলা বর্ষপঞ্জি' প্রবর্তন করেন?
  1. ক) সম্রাট আওরঙ্গজেব
  2. খ) সম্রাট আকবর
  3. গ) সম্রাট শাহজাহান
  4. ঘ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
খ) সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
• ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবর প্রবর্তন করেন বাংলা বর্ষপঞ্জি
• এই নতুন বর্ষপঞ্জিটি প্রথমে তারিখ-ই-এলাহী নামে পরিচিত ছিল ।
• ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ বা ১১ মার্চ এটি বঙ্গাব্দ নামে প্রচলিত হয়।
• নতুন এই সালটি আকবরের রাজত্বের ঊনত্রিশতম বর্ষে প্রবর্তিত হলেও তা গণনা করা হয় ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৫ নভেম্বর থেকে, কারণ এদিন আকবর দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
• তারিখ-ই-এলাহীর উদ্দেশ্য ছিল আকবরের বিজয়কে মহিমান্বিত করে রাখা এবং একটি অধিকতর পদ্ধতিগত উপায়ে রাজস্ব আদায়ে সহায়তা করা।
• এর পূর্বে মুগল সম্রাটগণ রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে হিজরি বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করেতেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৩০২.
'বর্গি' নামে পরিচিত ছিল কারা?
  1. ক) আরাকানী জলদস্যু
  2. খ) ডাচ জলদস্যু
  3. গ) পর্তুগিজ জলদস্যু
  4. ঘ) মারাঠি দস্যু
সঠিক উত্তর:
ঘ) মারাঠি দস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মারাঠি দস্যু
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ ভারতের মারাঠারা বাংলায় ‘বর্গি’ নামে পরিচিত ছিলো।
- মারাঠা সৈন্যবাহিনীর সর্বনিম্ন পদধারী সৈনিকরা ‘বর্গি’ নামে পরিচিত ছিলো। এই বরগি থেকেই বর্গি নামের উদ্ভব।
- ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে গিরিয়ার যুদ্ধে আলীবর্দী সরফরাজকে পরাজিত করে মুঘলদের অনুমোদন ছাড়াই বাংলার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
- তার সময়ে বর্গি নামে পরিচিত মারাঠি দস্যুরা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণ করে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল।
- আলিবর্দি খান ১৭৪২ থেকে ১৭৫১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১০ বছর এদের প্রতিরোধ করে দেশছাড়া করতে সক্ষম হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৩০৩.
হুমায়ুন ও শেরশাহের মধ্যে চৌসার যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়?
  1. ১৫৩৯ সালে
  2. ১৫৪৩ সালে
  3. ১৫৭৭ সালে
  4. ১৫৮৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৫৩৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৩৯ সালে
ব্যাখ্যা
চৌসার যুদ্ধ:
- ১৫৩৯ সালের ২৬ জুন বিহারের চৌসারে মুঘল সম্রাট হুমায়ুন ও আফগান নেতা শের খান (পরে শের শাহ সূরি) এর মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধে শের খান বিজয়ী হন এবং হুমায়ুন পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
- এর মাধ্যমে মুঘল শাসনের পতন শুরু হয় এবং সূরি বংশের উত্থান ঘটে।

⇒ সম্রাট হুমায়ুন গৌড় পরিত্যাগ করার পূর্বে জাহাঙ্গীর কুলী বেগকে বাংলার শাসনভার অর্পণ করেন।
- হুমায়ুন তাঁর বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে আগ্রা অভিমুখে যাত্রা করলেন।
- কিন্তু দুভার্গ্যক্রমে পথিমধ্যে বক্সারের নিকটবর্তী চৌসা নামক স্থানে শেরখান ও তাঁর আফগান অনুচরেরা সম্রাট হুমায়ুনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুন চৌসায় উভয়পক্ষের মধ্যে এক তীব্র যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে চৌসার যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এই যুদ্ধে হুমায়ুন শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয়।
- চৌসার যুদ্ধে শের খানের জয়লাভ ভারতীয় উপমহাদেশে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কেননা এর ফলে শের খানের রাজ্য পশ্চিম দিকে কনৌজ হতে পূর্বে আসাম ও চট্টগ্রাম এবং উত্তর দিকে রোটাস হতে দক্ষিণ দিকে বীরভূম পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে।
- এই যুদ্ধের পর শেরখান শেরশাহ উপাধি ধারণ করেন এবং নিজ নামে মুদ্রা প্রচলন ও পাঠের নির্দেশ প্রদান করেন।
- পক্ষান্তরে এই যুদ্ধে হুমায়ুনের পরাজয়ের মাধ্যমে মুঘলদের সামরিক ও কূটনৈতিক দুর্বলতা প্রস্ফুটিত হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৪.
ইরানের কবি হাফিজের সাথে পত্রালাপ হয়েছিল বাংলার কোন সুলতানের?
  1. ক) গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ
  2. খ) আলাউদ্দীন হুসেন শাহ
  3. গ) ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ
  4. ঘ) ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
ক) গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ
ব্যাখ্যা
সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ নিজে বিদ্বান ও কবি ছিলেন। তিনি বিদ্বান লোকদের খুব সমাদর করতেন। মাঝে মাঝে তিনি আরবি ও ফারসি ভাষায় কবিতা লিখতেন। পারস্যের বিখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ ছিল। একবার তিনি হাফিজের নিকট কবিতার একটি চরণ লিখে পাঠান এবং কবিতাটিকে পূর্ণ করার জন্য কবিকে অনুরোধ জানান। তিনি তাঁকে বাংলায় আসার আমন্ত্রণও জানান। হাফিজ দ্বিতীয় চরণটি রচনা করে কবিতাটি পূর্ণ করে পাঠান। তিনি সুলতানের নিকট একটি গজলও লিখে পাঠান। গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ বাংলা সাহিত্যের উন্নতির ক্ষেত্রেও যথেষ্ট অবদান রাখেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘ইউসুফ জোলেখা’ রচনা করেন। সম্ভবত সুলতান কৃত্তিবাসকেও বাংলায় রামায়ণ লেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
Source: Banglapedia
৩০৫.
Who was the last Mughal Emperor?
  1. Bahadur Shah
  2. Humayun
  3. Shahjahan
  4. Akbar
সঠিক উত্তর:
Bahadur Shah
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bahadur Shah
ব্যাখ্যা
বাহাদুর শাহ:
- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ছিলেন সর্বশেষ মুঘল সম্রাট।
- ১৮৩৭ সালে তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মুঘল বংশের পতনের যুগ বলা হয়। 
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৬.
বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয় কোন যুদ্ধের মাধ্যমে?
  1. বক্সারের যুদ্ধ
  2. পলাশীর যুদ্ধ
  3. পানিপথের যুদ্ধ
  4. হলদিঘাটের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
পলাশীর যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলাশীর যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
পলাশী যুদ্ধ:
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এ যুদ্ধ আট ঘণ্টার মতো স্থায়ী ছিল।
- প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানি কর্তৃক পরাজিত হন।
- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক।
- এর ফলে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- নবাবের পক্ষে সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫ হাজার।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে ছিল মাত্র ৩ হাজার।
- জেতার সব ধরণের সুযোগ সুবিধার পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।
- অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে,
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে নবাব মীর কাসিম ও তাঁর মিত্রশক্তির সাথে ইংরেজদের এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে। এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।
- পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে বাবর ও ইব্রাহিম লোদীর মধ্যে সংগঠিত হয়। যুদ্ধে লোদী পরাজিত হন এবং মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত করেন বাবর। 
- ১৫৭৬ সালের ১৮ জুন রাজস্থানের রাজসমন্দ জেলার হলদিঘাটিতে মেবার ও মোঘলদের মধ্যে হওয়া যুদ্ধটি ইতিহাসে হলদিঘাটের বা হলদিঘাটির যুদ্ধ নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৭.
চাকমা বিদ্রোহ কোন সমকালের মধ্যে সংঘটিত হয়?
  1. ক) ১৭৭৭ - ১৭৮৭ সাল
  2. খ) ১৭৬৫ - ১৭৭৫ সাল
  3. গ) ১৭৮৩ - ১৭৯৩ সাল
  4. ঘ) ১৭৯৯ - ১৮০৯ সাল
সঠিক উত্তর:
ক) ১৭৭৭ - ১৭৮৭ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৭৭৭ - ১৭৮৭ সাল
ব্যাখ্যা
১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যভাগে চাকমারা প্রথমবার বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এই বিদ্রোহের নায়ক ছিলেন চাকমা দলপতি রাজা সের দৌলত ও তাঁর সেনাপতি রামু খাঁ। প্রথম বিদ্রোহের পর রামু খাঁর পুত্র জানবকস খাঁর নেতৃত্বে ১৭৮২ সালে ও ১৭৮৪ সালে দুটি বিদ্রোহ হয়। এরপর দ্বিতীয় শের দৌলত খাঁর নেতৃত্বে ১৭৮৭ সালে আরেকটি বিদ্রোহ হয়। [সূত্র: কালের কণ্ঠ]
৩০৮.
গৌড়ের 'আদিনা মসজিদ' নির্মাণ করেন কোন শাসক?
  1. সিকান্দর শাহ
  2. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. ফিরোজ শাহ তুঘলক
সঠিক উত্তর:
সিকান্দর শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দর শাহ
ব্যাখ্যা
সিকান্দর শাহ:
- ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সিকান্দর শাহ ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি প্রায় ৩৪ বছর রাজত্ব করেন।
- তাঁর এ সুদীর্ঘ রাজত্বকালে বাংলাদেশে মুসলিম শাসন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- সিকান্দর শাহ সুশাসক ও বিদ্যানুরাগী ছিলেন।
- সুফি শেখ আলাউল হক ও শেখ শরফউদ্দীন ইয়াহিয়ার সাথে সিকান্দর শাহের সৌহার্দ্য ও পত্রালাপ ছিল।
- তাঁর রাজত্বকালে স্থাপত্যশিল্পের যথেষ্ট উন্নতি হয়।
- তাঁর সময় তৈরি আদিনা মসজিদ মধ্যযুগের বাংলার স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৯.
সুলতানি আমলে বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. আলাউদ্দিন আলি শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

• ইলিয়াস শাহিবংশ
→ সোনারগাঁয়ে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ যখন স্বাধীন সুলতান তখন লখনৌতির সিংহাসন দখল করেছিলেন সেখানকার সেনাপতি আলি মুবারক। সিংহাসনে বসে তিনি 'আলাউদ্দিন আলি শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন। লখনৌতিতে তিনিও স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন। পরে রাজধানী স্থানান্তর করেন পাণ্ডুয়ায় (ফিরোজাবাদ)। 

→ আলি শাহক্ষমতায় ছিলেন ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। তাঁর দুধভাই ছিলেন হাজি ইলিয়াস। তিনি আলি শাহকে পরাজিত ও নিহত করে 'শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ' নাম নিয়ে বাংলায় একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন।

→ ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দে ফিরোজাবাদের সিংহাসন অধিকারের মাধ্যমে ইলিয়াস শাহ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলার অধিপতি হন। সোনারগাঁ ও সাতগাঁও তখনও তাঁর শাসনের বাইরে ছিল।

→  ইলিয়াস শাহের স্বপ্ন ছিল সমগ্র বাংলার অধিপতি হওয়া। তিনি প্রথম দৃষ্টি দেন বাংলার পশ্চিম দিকে। ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে সাতগাঁও তাঁর অধিকারে আসে। ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করে বহু ধনরত্ন হস্তগত করেন। ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহ ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ে ইলিয়াস শাহের হাতে পরাজিত হন।

→ সোনারগাঁ দখলের মাধ্যমে সমগ্র বাংলার অধিকার সম্পন্ন হয়। তাই বলা হয়, ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীনতার সুচনা করলেও প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।

৩১০.
ইবনে বতুতা কার শাসনামলে বাংলায় সফর করেন?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
  3. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  4. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা
ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমন কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তা ছিল কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলে বিখ্যাত সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের (হযরত শাহজালাল মুজার্রদ-ই-ইয়েমেনী) দর্শন লাভ।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
- এরপর তিনি ভারতে আসেন।
- তিনি ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে আসেন এবং সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের অধীনে দীর্ঘ প্রায় আট বছর কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন।

⇒ ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকালে বাংলায় সফর করেন।
- বাংলার যে শহরে ইবনে বতুতা প্রথম পৌঁছেন (৯ জুলাই ১৩৪৬) তার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন সাদকাঁও (চাটগাঁও)।
- সেখান থেকে সরাসরি তিনি কামারু (কামরূপ) পার্বত্য অঞ্চল অভিমুখে রওনা হন। 
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান। এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়। ইবনে বতুতা তার 'আর রিহলা' গ্রন্থে বাংলাকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত (A Hell Full Of Good Things) ’ অর্থাৎ প্রাচুর্যপূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন।
- ইবনে বতুতা সিলেটের প্রখ্যাত সাধক হযরত শাহজালালের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীকালে তিনি চীনের রাজদরবার গমনের উদ্দেশ্যে বাংলা ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য,
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান। 
- তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্ব ও কর্মে বাংলার অভ্যন্তরীণ অবস্থার ব্যাপক উন্নতি ঘটলে বাংলার সুনাম এর বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।
- তাঁর সময়ে বাংলার সীমানা চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত হলে বাংলার গৌরব উজ্জ্বলতর হয়।
- তাই ফখরুদ্দিনের রাজত্বকালকে বাংলার গৌরবময় যুগ বলা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১১.
কোন শাসনামলে বাংলায় কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়?
  1. গুপ্ত শাসন
  2. সেন শাসন
  3. হাবশী শাসন
  4. পাল শাসন
সঠিক উত্তর:
পাল শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাল শাসন
ব্যাখ্যা
- পাল শাসনামলে দ্বিতীয় মহীপালের সময়ে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অন্ত:কলহের সময় বাংলায় এক বিদ্রোহ সংঘটিত হয় যা `কৈবর্ত বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত।
- কৈবর্ত হলো বরেন্দ্র অঞ্চলের একটি জেলে সম্প্রদায়। ১০৮০ সালে দিব্য এর নেতৃত্বে কৈবর্তরা বরেন্দ্র অঞ্চলে পালদের পরাজিত করে ক্ষমতা দখল করে।
- তবে কৈবর্ত শাসন ছিলো স্বল্পস্থায়ী। ১০৮২ সালে দ্বিতীয় মহীপালের ভাই রামপাল কৈবর্ত শাসক ভীমকে পরাজিত করে বরেন্দ্র অঞ্চলে পাল শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : ষষ্ঠ শ্রেণী)
৩১২.
কোন মুঘল সম্রাট তার শাসনকালে বাংলায় প্রতিষ্ঠা লাভে ব্যর্থ হয়েছিল?
  1. ক) সম্রাট হুমায়ুন
  2. খ) সম্রাট আকবর
  3. গ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) সম্রাট আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
ক) সম্রাট হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সম্রাট হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
আফগান নেতা শের শাহ হুমায়ুনের রাজত্বকালে ১৫৩৭ সালে দুইবার বাংলা আক্রমন করেন। পরবর্তীতে হুমায়ুন শের খানকে বাংলা থেকে বিতারিত করে রাজধানী গৌড়ে ৬ মাস অবস্থান করেন। পরে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের খবর পেয়ে দিল্লী যাত্রা করেন। চৌসা পৌছালে অপ্রস্তুত হুমায়ুনের বাহিনীকে শের খান এই সময় আক্রমণ ও পরাজিত করে (১৫৩৯)। যুদ্ধে জয়লাভ করে শের খান নিজেকে বিহারের স্বাধীন সুলতান ঘোষনা করেন। ১৫৪০ সালে বাংলায় মুঘল শাসনকর্তা আলী কুলী খানকে পরাজিত করে শের খান বাংলা দখল করে নেন। এই বছরেই কনৌজের যুদ্ধে মুঘল সম্রাট হুমায়ুন কে চুড়ান্ত রূপে পরাজিত করে শের খান দিল্লীর সিংহাসন দখল করে নেন।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৩১৩.
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ সিংহাসনে আরোহণ করেন কত সালে?
  1. ক) ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১৪৮১ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১৪৯০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
- বাংলার স্বাধীন সুলতানদের মধ্যে হুসেন শাহি বংশের শাসনামল ছিলো সবচেয়ে গৌরবময়। ১৪৯৩ সালে আলাউদ্দিন হুসেন শাহ এই বংশের শাসনামলের সূচনা করেন।
- তিনি ১৪৯৩ সাল থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বাংলা শাসন করেন। তাকে হুসেন শাহী বংশের শ্রেষ্ঠ সুলতান বিবেচনা করা হয়।
- হাবসি শাসনে বিপর্যস্ত বাংলায় তিনি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। ১৫৩৮ সাল পর্যন্ত হুসেন শাহি বংশ বাংলা শাসন করে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩১৪.
'কৃষ্ণাবতার' উপাধিতে ভূষিত করা হয় কোন শাসককে?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. সিকান্দর শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. সালাউদ্দিন আলী শাহ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৫.
নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ আমলের কীর্তি-
  1. ক) পান্ডুয়ার ‘আদিনা’ মসজিদ
  2. খ) গৌড়ের ‘ছোট সোনা’ মসজিদ
  3. গ) গৌড়ের ‘বারোদুয়ারি’ মসজিদ
  4. ঘ) গৌড়ের ‘দাখিল দরওয়াজা’
সঠিক উত্তর:
গ) গৌড়ের ‘বারোদুয়ারি’ মসজিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গৌড়ের ‘বারোদুয়ারি’ মসজিদ
ব্যাখ্যা
নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ (শাসনকাল ১৫১৯-১৫৩২খ্রি.) ছিলেন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের পুত্র। তাঁর সময়ে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
তাঁর আমলের কীর্তিঃ
-গৌড়ের বারদুয়ারি বা বড় সোনা মসজিদ তাঁর আমলের কীর্তি।
-তিনি বাগেরহাটের মিঠাপুকুর এর নির্মাতা।
-তাঁর আদেশে কবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারতের কিয়দংশ বাংলায় অনুবাদ করেন।
-শ্রীকর নন্দী মহাভারতের অশ্বমেধপর্বের বঙ্গানুবাদ করেন।
অন্যদিকে,
-আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালে রাজত্বকালে নির্মিত হয় গুমতিদ্বার ও গৌড়ের ‘ছোট সোনা’ মসজিদ।
-পান্ডুয়ার ‘আদিনা’ মসজিদ সিকান্দার শাহের অমরকীর্তি।
-গৌড়ের ‘দাখিল দরওয়াজা’ নামে পরিচিত বিরাট ও সুন্দর তোরণটি রুকনউদ্দিন বরবক শাহ নির্মাণ করেছিলেন।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৩১৬.
ইলিয়াস শাহ কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. ইরাক
  2. তুরষ্ক
  3. ইরান
  4. আফগানিস্তান
সঠিক উত্তর:
ইরান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরান
ব্যাখ্যা
ইলিয়াস শাহের সিংহাসন লাভ ও রাজ্য বিস্তার:
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন।
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন।
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রো করতে পারেননি। তাই এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে।
- ইলিয়াস শাহ ইরানের অধিবাসী ছিলেন।
- ইলিয়াস লখনৌতির শাসনকর্তা আলী মুবারকের ধাত্রীমাতার পুত্র ছিলেন।
- পরে আলী মুবারক বাংলাদেশে চলে আসেন এবং অল্প দিনের মধ্যেই লখনৌতির শাসনকর্তা কদর খানের প্রধান সেনাপতি হন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- তিনি প্রথমে সাতগাও দখল করেন।
- এরপর ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করেন ও প্রচুর ধন-সম্পদ লাভ করেন।
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।
- ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' ও 'সুলতান-ই- বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৭.
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ পারস্যের কোন বিখ্যাত কবির সাথে পত্রালাপ করতেন?
  1. কবি ফেরদৌসী
  2. কবি হাফিজ
  3. ওমর খৈয়াম
  4. নিজামী গজনবী
সঠিক উত্তর:
কবি হাফিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি হাফিজ
ব্যাখ্যা

গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ: 
- ইলিয়াস শাহী শাসকদের মধ্যে সিকন্দার শাহ সুদীর্ঘ সময় ধরে বাংলার সুলতান ছিলেন।
- তাঁর রাজত্বকালে বাংলায় সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি বিরাজমান ছিল।
- তিনি সুকৌশলে ফিরোজ শাহের আক্রমণ প্রতিহত করেন।
- তিনি সাহিত্য, শিল্পকলা, স্থাপত্য প্রভৃতি সুকুমার শিল্পের উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ এক সংঘর্ষে পিতা সিকান্দর শাহকে হত্যা করে বাংলার সিংহাসন দখল করেন।
- তিনি পারস্যের বিখ্যাত কবি হাফিজের সাথে পত্রালাপ এবং চীন সম্রাট ইয়াং লুর সাথে দূত বিনিময় করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৮.
ইসলাম খান চিশতি বাংলার রাজধানী কোন জায়গা থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন?
  1. রাজমহল
  2. সোনারগাঁও 
  3. মুর্শিদাবাদ 
  4. পাটালিপুত্র 
সঠিক উত্তর:
রাজমহল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজমহল
ব্যাখ্যা

ইসলাম খান চিশতি:
- সুবাদার ইসলাম খান চিশতিকে বাংলা প্রদেশের শ্রেষ্ঠ সুবাহদার হিসেবে গণ্য করা হয়।
- প্রকৃত নাম শেখ আলাউদ্দীন চিশতি।

উল্লেখ্য,
- ১৬০৮ সালে সুবাদার জাহাঙ্গীর কুলি খানের মৃত্যুর পর সম্রাট জাহাঙ্গীর বিখ্যাত সুফি সেলিম চিশতীর দৌহিত্র ইসলাম খান চিশতী বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেন।
- নিয়োগ লাভ করে তিনি অনতিবিলম্বে বাংলার তদানীন্তন রাজধানী বিহারের রাজমহল-এ চলে আসেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আসেন এবং বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- তিনি সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।
- ইসলাম খান ঢাকাকে সুরক্ষিত করে তিনি ভূঁইয়াদের সব অবস্থানের বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করেন এবং ১৬১১ খ্রিস্টাব্দেই মুসা খানসহ বারো ভূঁইয়াদের সবাই ইসলাম খানের নিকট বশ্যতা স্বীকার করেন। 

⇒ সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে ইসলাম খান উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- তিনি লোহার পুল নির্মান করেন এবং ঢাকার ধোলাই খাল খনন করেন।
- বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে রাজমহলে স্থানান্তরিত করেন শাহ সুজা।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৩১৯.
ইবনে বতুতা কোন শাসকের শাসনামলে বাংলায় আগমন করেন?
  1. গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
  2. ইলিয়াস শাহ
  3. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা
• ইবনে বতুতা (মরক্কো)
 - ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে ২১ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং
- আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লিতে পৌঁছেন।
- সুলতান মুহাম্মদ বিন তুগলক তাঁকে দিল্লির কাজী নিযুক্ত করেন।
- ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সফর করেন ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের আমলে।
- বাংলার যে শহরে ইবনে বতুতা প্রথম পৌঁছেন (৯ জুলাই ১৩৪৬) তার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন সাদকাঁও (চাটগাঁও)।
- গ্রন্থ- ইবনে জুযাই , কিতাবুল রেহালা।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৩২০.
Bakhtiar Khalji was born in-
  1. Iraq
  2. Afganistan
  3. Iran
  4. Turkey
সঠিক উত্তর:
Afganistan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Afganistan
ব্যাখ্যা
বাংলায় মুসলিম শাসন:
- বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশীরের (দস্ত-ই-মার্গ) অধিবাসী ছিলেন।
- রাজধানী নদীয়া আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজি লক্ষন সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা দখলের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- বখতিয়ার খলজি ১২০৪-০৫ সালে শীতকালীন সময়ে নদীয়া আক্রমণ করেছিলেন।
- নদীয়া দখলের পর বখতিয়ার খলজি গৌড় বা লক্ষ্মণাবতীর দিকে যাত্রা করেন। তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- এটি মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- বাংলাদেশে বখতিয়ার খলজি রাজ্য পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া নদী, দক্ষিণে পদ্মা নদী ও উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর অবধি ছিল।
- অতি সাধারণ অবস্থা থেকেই তিনি অল্প সময়ের মধ্যে নিজ প্রতিভাবলে লখনৌতিতে মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- এ মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর জীবনের বড় কৃতিত্ব।
- বখতিয়ার খলজি বিজিত এলাকায় খুতবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলনের ব্যবস্থা করেন এবং সমগ্র এলাকাকে তাঁর সহকর্মী তুর্কি খলজি আমীরদের মধ্যে ভাগ করে দেন ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২১.
বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান কে ছিলেন?
  1. সুলতান মাহমুদ শাহ
  2. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ:
- বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
- তিনি বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তার রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার শাসকগণ দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতেন।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের শাসনামলে বাংলাকে সোনারগাঁও, লখনৌতি ও সাতগাঁও এই তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হলে ফখরুদ্দিন নামে তাঁর একজন সিলাদার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- তিনি 'মুবারক শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- ফখরুদ্দিন বাংলায় তাঁর কর্তৃত্ব সুদৃঢ় করলে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলায় দু'শো বছরের স্বাধীন ইতিহাসের সূচনা হয়।
- তিনি তাঁর রাজ্যসীমা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অনেকটা সম্প্রসারণ করেন।
- তিনি চট্টগ্রাম বিজয় করেন এবং এ পর্যন্ত সমগ্র ভূ-ভাগে তাঁর সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণে ছিল।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২২.
বাংলায় তুর্কি শাসনের সূচনাকারী কে?
  1. গিয়াসউদ্দিন খলজি
  2. তুগ্রিল খান
  3. নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
  4. আলাউদ্দিন খিলজি
সঠিক উত্তর:
নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
ব্যাখ্যা

তুগ্রিল খান, আলাউদ্দিন খিলজি, গিয়াসউদ্দিন খলজি নামে কেউ তুর্কি শাসনের সাথে যুক্ত ছিলেন না, অপশন বিবেচনায় অধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে নাসিরুদ্দিন মাহমুদ উত্তর নেওয়া হয়েছে। 

তুর্কি শাসন:

- তুর্কি শাসনামল ১২২৭ থেকে ১২৮১ সাল পর্যন্ত।
- মোট ১৫ জন তুর্কি শাসক বাংলা শাসন করেছিলেন।
- বাংলায় তুর্কি শাসনের প্রথম শাসক নাসিরুদ্দিন মাহমুদ।
- এ সময় থেকে বাংলার শাসনকর্তারা দিল্লির সুলতানদের কাছ থেকে নিয়োগ লাভ করে এখানকার শাসক হতেন।
- বাংলায় দিল্লির অনুগত কোনো শাসনই প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
- দিল্লির শাসকরা যেমন, ইলতুতমিশ, বলবন, গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ও মুহাম্মদ বিন তুঘলক বাংলার শাসকদেরকে প্রতিহত করতে একের এর এক অভিযান চালিয়ে বিদ্রোহ দমন করেন।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বাংলার তৎকালীন স্বাধীন শাসক তুগ্রিল খানকে দমনের জন্য নিজেই আক্রমণ করেন।
- যুদ্ধে তুগ্রিল খান নিহত হন। ফলে বাংলা দিল্লির শাসনাধীন হয়।
- ১২৮৭ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মারা গেলে বঘরা খান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ নাম ধারণ করে ১২৯০ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৩২৫ সালে দিল্লির শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বাংলা অধিকার করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৩.
Which Muslim poet wrote poetry in Bengal during the Sultanate period?
  1. ক) Shah Muhammad Sagir
  2. খ) Sheikh Alaul Haque
  3. গ) Rowed Kha
  4. ঘ) Syed Ashraf Simnani
সঠিক উত্তর:
ক) Shah Muhammad Sagir
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Shah Muhammad Sagir
ব্যাখ্যা
- মুসলিম শাসকগণ বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতাও করেন।
- এই সময়ে বাংলা ভাষা সাহিত্যের মর্যাদা পায় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সুলতানদের দরবারে প্রবেশ করে।
- প্রথমে সুলতানরা ও তাঁদের আমাত্যেরা হিন্দু কবিদের উৎসাহ দেন ও পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- অর্থাৎ মুসলিম সুলতানরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বাংলা সাহিত্যের উৎপত্তি ও বিকাশে সহায়তা দান করেন।
- পরে মুসলিম কবিরাও বাংলা ভাষায় কাব্য রচনা করেন।
- শাহ মুহাম্মদ সগীর একমাত্র মুসলিম কবি যিনি সুলতানি আমলে কাব্য রচনা করেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।
- মধ্যযুগের আগে বাংলা ভাষার লিপি রচনার গতি বেশ ধীর ছিল।
- পাল ও সেন যুগে সংস্কৃত ভাষার প্রভাব বেশি থাকায় বাংলা ভাষার তেমন উন্নতি হয়নি।
- বাংলা ভাষার সবচেয়ে পুরোনো নমুনা হল চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ভাষা পুরোপুরি বাংলা নয়, বলা চলে এটি বাংলা-পূর্ববর্তী ভাষা।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৪.
তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১০৯২ খ্রি.
  2. ১১৯০ খ্রি.
  3. ১০৯০ খ্রি.
  4. ১১৯২ খ্রি.
সঠিক উত্তর:
১১৯২ খ্রি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১৯২ খ্রি.
ব্যাখ্যা

তরাইনের প্রথম যুদ্ধ (১১৯১ খ্রি.)
- মুহম্মদ ঘোরি পাঞ্জাব দখল করলে ভারতের হিন্দু রাজাগণ শঙ্কিত হয়ে ওঠেন।
- ১১৮৯ খ্রি. ভাতিন্দা দখল করে মুহম্মদ ঘোরি চৌহান রাজ্যের বিরুদ্ধে অগ্রসর হলে দিল্লি ও আজমীরের রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহান একটি শক্তি-সংঘ গঠন করেন।
- পৃথ্বীরাজের আহ্বানে অনেক রাজা সাড়া দেন। তবে কনৌজের রাজা জয়চাঁদের সাথে পৃথ্বীরাজের সুসম্পর্ক ছিল না।
- পৃথ্বীরাজ জয়চাঁদের কন্যা সংযুক্তার স্বয়ম্বর সভায় আমন্ত্রণ পাননি।
- তিনি ছদ্মবেশে এসে সংযুক্তাকে হরণ করে নিয়ে বিয়ে করেন।
- মুহম্মদ ঘোরি পৃথ্বীরাজের রাজ্য আক্রমণ করেন।
- ১১৯১ খ্রিস্টাব্দে তরাইন প্রান্তরে মিলিত পৃথ্বীরাজের বাহিনীর সাথে মুহম্মদ ঘোরির প্রচন্ড যুদ্ধ হয়।
- যুদ্ধে মুহম্মদ ঘোরির বাহিনী পরাজিত হলে তিনি নিজে আহত হন ও পলায়ন করেন।
- এটি তরাইনের প্রথম যুদ্ধ নামে পরিচিত ছিল।

• তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ (১১৯২ খ্রি.)
- মুহম্মদ ঘোরি প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হলেও পর বৎসর অর্থাৎ ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে ১,২০,০০০ সৈন্য নিয়ে আবার ভারত আক্রমণ করেন।
- এবারও পৃথ্বীরাজের বাহিনীর সাথে তরাইনের প্রান্তরে তাঁর প্রচন্ড যুদ্ধ হয়।
- দু'পক্ষেই বহু সৈন্য নিহত হয়। এবার পৃথ্বীরাজের বাহিনী পরাজিত হলে পৃথ্বীরাজ পলায়ন করেন।
- কিন্তু সরস্বতী নদীর তীরবর্তী সিরসুতী নামক স্থানে তিনি ধরা পড়লে তাঁকে হত্যা করা হয়। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৫.
‘মসনদ-ঈ-আলা উপাধি’ কে গ্রহণ করেন?
  1. মুসা খান
  2. ঈসা খান
  3. শায়েস্তা খান
  4. আকবর খা
সঠিক উত্তর:
ঈসা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈসা খান
ব্যাখ্যা

• ঈসা খান (১৫২৯-১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দ):
- সরাইলের জমিদার, ভাটি অঞ্চলের শাসক এবং বারো ভূঁইয়াদের নেতা।
- ইসা খানের জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে।
- ১৫৭৮ সালে বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলার কাস্তলে ঈসা খানের সাথে মোগলদের যুদ্ধ হয়।
- প্রাথমিক প্রর্যায়ে ঈসা খান হেরে গেলেও পরবর্তীতে সম্মিলিত শক্তির কাছে মোগলরা পরাজিত হয়।
- সম্রাট আকবরের বিরুদ্ধে মুগল সেনাপতিদের বিদ্রোহের সুযোগ নিয়ে ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে ঈসা খান পূর্ব বাংলায় তাঁর শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকেন।
- তিনি ১৫৮১-৮২ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে ভাটি অঞ্চলের অধিপতি হিসেবে ঘোষণা দেন এবং নিজেই ‘মসনদ-ঈ-আলা উপাধি’ গ্রহণ করেন।
- এ সময় তিনি তাঁর প্রশাসনিক কেন্দ্র সরাইল থেকে সোনারগাঁও-এ স্থানান্তর করেন এবং সোনারগাঁও এর নিকটবর্তী কাত্রাবো, কলাগাছিয়া ও খিজিরপুরে দুর্গ নির্মাণ করেন।

- ১৫৮৩ ও ১৫৮৪ খিস্টাব্দেও ঈসাখান আগ্রাসী সৈন্যবাহিনীকে যথাক্রমে বাজিতপুরে ও কাত্রাবোতে পরাস্ত করেন।
- ১৫৮৬ সালেও মোগলরা ঈসাখানকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন।
- ঈসাখানের সাথে মোঘল বাহিনীর শেষ যুদ্ধ হয় রাজা মানসিংহের নেতৃত্বে। এই যুদ্ধেও মোগলরা তাঁর কাছে পরাজিত হন এবং অনেক মোগল সৈন্য বন্দি হন।
- ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দে ঈসাখান মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।

৩২৬.
কোন আমলে সিলেটের নাম জালালাবাদ ছিল?
  1. ক) সেন
  2. খ) তুর্কী
  3. গ) সুলতানী
  4. ঘ) মৌর্যযুগে
সঠিক উত্তর:
গ) সুলতানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুলতানী
ব্যাখ্যা
সিলেট
- সিলেট একটি প্রাচীন জনপদ।
- সুলতানী আমলে সিলেটের নাম ছিল জালালাবাদ।
- দশম শতাব্দীতে মহারাজা শ্রীচন্দ্র কর্তৃক উৎকীর্ণ পশ্চিমবাগ তাম্রলিপি থেকে জানা যায় যে, তিনি সিলেট জয় করেছিলেন।
- ঐতিহাসিকদের ধারণা, সিলেট বা শ্রীহট্ট (সমৃদ্ধ হাট) বহু আগে থেকেই একটি বর্ধিষ্ণু বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে বর্তমান ছিল।
- প্রাচীন শ্রীহট্টে বিপুল হারে বাঙালি অভিবাসন হয়েছিল।
- ১৪ শতকে ইয়েমেনের সাধক পুরুষ হযরত শাহজালাল (র.) সিলেট জয় করেন এবং ইসলাম প্রচার শুরু করেন।
- মোগল যুগে পাঠান বীর খাজা ওসমান সিলেটের স্থানীয় সামন্তদের সহায়তায় আক্রমণকারী মোগলদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।
- ১৮৫৭ সালে বিদ্রোহের সময়ে সিলেটে বিদ্রোহীরা বৃটিশ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ব্যর্থ হয়।

উৎস: সিলেট জেলার পটভূমি, sylhet.gov.bd.
৩২৭.
ময়মনসিংহ গীতিকার কোন পালাটি 'আলাল-দুলালের পালা' হিসেবে পরিচিত?
  1. দেওয়ানা মদিনা
  2. কঙ্ক ও লীলা
  3. মলুয়া
  4. মহুয়া
সঠিক উত্তর:
দেওয়ানা মদিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেওয়ানা মদিনা
ব্যাখ্যা
'দেওয়ানা মদিনা' পালা: 
-  লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।
- ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: আলাল, দুলাল, মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৮.
মোঘল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ক) বাবর
  2. খ) হুমায়ুন
  3. গ) শাহজাহান
  4. ঘ) আকবর
সঠিক উত্তর:
ক) বাবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাবর
ব্যাখ্যা

ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম দিকে ভারতবর্ষের অরাজক রাজনৈতিক অবস্থার সুযোগ গ্রহণ করে জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবুর এদেশে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি মাত্র চার বছর রাজত্ব করেন।
রাজত্বকালের পুরো সময়েই তিনি যুদ্ধ বিগ্রহে ব্যস্ত ছিলেন।
তাই তিনি বংশধরদের জন্য একটি সুসংগঠিত রাজ্য রেখে যেতে পারেননি।
এ কারণে হুমায়ুন সিংহাসনে আরোহণ করার পরই বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন।
দিল্লীর সিংহাসন তাঁর হাত-ছাড়া হয়ে যায়।
তবে দীর্ঘ পনের বছর পর হুমায়ুন দিল্লীর সিংহাসন পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছিলেন।
উৎসঃ ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (উন্মুক্ত)।

৩২৯.
বাংলায় মুসলমান শাসকদের মধ্যে কে সর্বপ্রথম নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেছিলেন?
  1. আলী মর্দান খলজি
  2. গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি
  3. মুহম্মদ শিরান খলজি
  4. আলাউদ্দিন জানি
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি
ব্যাখ্যা
গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি ১২১২ থেকে ১২২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছর স্বাধীন সুলতান হিসেবে বাংলা শাসন করেন।
তিনিই সর্বপ্রথম বাংলায় নৌবাহিনী গঠন করেন। নিজের নামে মুদ্রা চালু করেন।
তিনি তাঁর পূর্বের শাসক আলি মর্দান খলজির মতো স্বাধীন শাসক ছিলেন।
১২২৭ খ্রিষ্টাব্দে যুবরাজ নাসিরুদ্দিন মাহমুদ লখনৌতি আক্রমণ করলে ইওজ খলজি পরাজিত ও নিহত হন।
[উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি (বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)]
৩৩০.
ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ কাকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' বলে উল্লেখ করেছেন?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি
  4. সিকান্দার শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ: 
- ইলিয়াস শাহ ১৩৪২ খ্রিস্টাব্দে উত্তর ও উত্তর পশ্চিম বাংলার অধিপতি হয়ে ফিরোজাবাদে নিজের অবস্থানকে সুসংহত করে রাজ্য বিস্তারে মনোনিবেশ করেন।
- তিনি প্রথমে সাতগাঁও-এর দিকে রাজ্য সম্প্রসারণের চেষ্টা করেন।
- এজন্য তিনি ১৩৪৬ সালের মধ্যে সাতগাঁও সহ সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলায় নিজ আধিপত্য বিস্তার করেন।
- ইলিয়াস শাহ তাঁর রাজ্যের পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত ত্রিভৃত অধিকার করেন।
-তিনি ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে নেপালে অভিযান করে ইলিয়াস শাহ অতঃপর পূর্ব বাংলায় একটি সাফল্যজনক বিজয়াভিযান প্রেরণ করেন।
- ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ও সোনারগাঁও-এর শাসক ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে পূর্ব বঙ্গে রাজ্য সম্প্রসারণ করেন।
- লখনৌতি, সাতগাঁও এবং এর সাথে সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভকরেন।
- ইতিপূর্বে এই বিরল গৌরব আর কোন মুসলমান শাসক অর্জন করতে পারেন নি।
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ" এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩১.
বখতিয়ার খলজী বাংলার কোন রাজাকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন?
  1. বল্লাল সেন
  2. হেমন্ত সেন
  3. কেশব সেন
  4. লক্ষণ সেন
সঠিক উত্তর:
লক্ষণ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা

বখতিয়ার খিলজির নদীয়া অভিযান:
- ১২০৪ সালে লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে তুর্কী বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি বাংলায় মুসলমান শাসনের সূচনা করেন।

- বিহারকে মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি পূর্ব দিকে সেনারাজ্য আক্রমণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
- বাংলার সেনবংশীয় বয়োঃবৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেন তখন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন।
- সেনদের আদি রাজধানী ছিল ঢাকার বিক্রমপুরে।
- নদীয়া ছিল তাদের দ্বিতীয় রাজধানী।
- বখতিয়ার খিলজি ১২০৪ খ্রি. নদীয়া জয় করেন।
- নদীয়া আক্রমণের সময় বখতিয়ার বাংলার সাধারণ প্রবেশ পথ তেলিয়াগর্হির গিরিপথ দিয়ে না ঢুকে উড়িষ্যার ঝড়খন্ডের জঙ্গলের দূর্গম পথে বাংলায় প্রবেশ করেন।
- তিনি ঘোড়া ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে মাত্র ১৭ বা ১৮ জন অগ্রগামী অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে দ্রুতগতিতে নদীয়ার দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হন।
- মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি রাজপ্রাসাদের রক্ষীদের হত্যা করে প্রাসাদে ঢুকে অতর্কিতে আক্রমণ শুরু করেন।
- ইতিমধ্যে তাঁর মূল বাহিনী এসে পড়ে।
- এ সময় রাজা লক্ষণ সেন মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত ছিলেন।
- তিনি এ আকস্মিক আক্রমণে ভীত হয়ে কোন প্রতিরোধ ছাড়াই পেছনের দরজা দিয়ে নৌকা যোগে পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে পালিয়ে যান।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচ এসসি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩২.
ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ কত সালে সোনারগাঁয়ের শাসন ক্ষমতা দখল করেন?
  1. ১৩৪৯
  2. ১৩৪২
  3. ১৩৩৫
  4. ১৩৩৮
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮
ব্যাখ্যা

• ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ :
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ (১৩৩৮-১৩৪৯) বাংলার সুলতান।
- বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে। 
- ফখরুদ্দীন ছিলেন জাতিতে তুর্কি এবং খুব সম্ভবত তুর্কিদের কারাউনা গোত্রীয়।
- তিনি ছিলেন দিল্লির তুগলক সুলতানের অধীনে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা (ওয়ালি) বাহরাম খানের সিলাহদার (অস্ত্রাগারের তত্ত্বাবধায়ক)।
-  ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন এবং স্বীয় অবস্থান সুদৃঢ় করে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- স্বীয় মুদ্রায় ফখরুদ্দীন আল-সুলতানুল আযম ফখরুদ্দুনিয়া ওয়াদ-দ্বীন আবুল মুজাফফর মুবারক শাহ আল-সুলতান উপাধি গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৩৩.
কোন মুঘল সম্রাটের রাজত্বকাল “The Age of Marble” নামে খ্যাত?
  1. ক) সম্রাট বারর
  2. খ) সম্রাট শাহজাহান
  3. গ) সম্রাট হুমায়ুন
  4. ঘ) সম্রাট আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
খ) সম্রাট শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা

• মুঘল ইতিহাসে শাহজাহানের রাজত্বকাল “The Age of Marble” নামে খ্যাত।
• তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তিনি ইতিহাসে ‘The Prince of Builders or Engineer King” নামে পরিচিত ।
• সম্রাট শাহজাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হল আগ্রার তাজমহল। যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত তাজমহল হচ্ছে সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী • মমতাজ মহলের স্মৃতিকে অমর করে রাখার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম - ১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৩৪.
হিন্দু লেখকগণ কোন মুসলিম শাসককে 'জগৎভূষণ' উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
  2. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  3. নুসরত শাহ
  4. আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৫.
কার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ফরায়েজী আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে?
  1. ক) হাজী শরীয়তউল্লাহ
  2. খ) গোলাম রসুল
  3. গ) দুদু মিয়া
  4. ঘ) পরাগল শাহ
সঠিক উত্তর:
গ) দুদু মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তউল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে ফরায়েজি আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
প্রথমদিকে এটি ছিলো একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন। তবে শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং তিনি একে রাজনৈতিক রূপ দেন।
দুদু মিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ফরায়েজী আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া)
৩৩৬.
কার প্রচেষ্টায় হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের প্রচলন হয়?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) রাজা রামমোহন রায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সমাজ সংস্কারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহ প্রচলন এবং বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধকরণে সংগ্রাম করেন।
তার প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালে লর্ড ডালহৌসি বিধবা বিবাহ আইন পাস করেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার ছেলের বিয়ে দেন একজন বিধবা'র সাথে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৩৩৭.
ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম কামানের ব্যবহার হয় কোন যুদ্ধে?
  1. ক) পানিপথের ১ম যুদ্ধ
  2. খ) মান্দাসোর যুদ্ধ
  3. গ) পানিপথের ২য় যুদ্ধ
  4. ঘ) পানিপথের ৩য় যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ক) পানিপথের ১ম যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পানিপথের ১ম যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (২১ এপ্রিল, ১৫২৬ খ্রি.)
• পানিপথ বর্তমান ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে হরিয়ানা রাজ্যে অবস্থিত।
• ১৫২৫ খ্রিস্টাব্দে বাবর কাবুল থেকে আগমন করে পাঞ্জাবের শাসক দৌলত খান লোদীকে পরাজিত করে লাহোর তথা সমগ্র পাঞ্জাব অধিকার করেন।
• ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল লোদী বংশের সর্বশেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদী ও জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের মধ্যে ঐতিহাসিক পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
• ‘তুযুক-ই-বাবুরী’ বা ‘বাবরনামা’র বিবরণ অনুযায়ী পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবরের সেনাবাহিনীতে ছিল ১২,০০০ পদাতিক, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অশ্বারোহী ও গোলন্দাজ। এই যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্যবাহিনীতে ছিল ১,০০,০০০ সৈন্য ও ১০০ হস্তী।
• ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর সর্বপ্রথম এই যুদ্ধে কামানের ব্যবহার করেন।
• এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বাবর ইব্রাহিম লোদীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত ও নিহত করেন।
• পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয় লাভ করার মাধ্যমে লোদী বংশের পতন ঘটে। ফলে উপমহাদেশে সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে এবং মুঘল বংশের রাজত্ব শুরু হয়। 

তথ্যসূত্র:- ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৩৮.
গজনীর সুলতান মাহমুদ মোট কতবার ভারত আক্রমণ করেন?
  1. ১৫ বার
  2. ১৬ বার
  3. ১৭ বার
  4. ১৮ বার
সঠিক উত্তর:
১৭ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ বার
ব্যাখ্যা

সুলতান মাহমুদ:
- সুলতান উপাধিধারী প্রথম শাসক গজনভির মাহমুদ বা সুলতান মাহমুদ। তাঁর পুরো নাম ইয়ামিনউদ্দৌলা আবুল কাসিম মাহমুদ ইবনে সবুক্তগিন। মাহমুদ-ই জাবুলি নামেও তিনি পরিচিত।
- সুলতান মাহমুদ ছিলেন গজনভি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা সবুক্তগিনের (আবু মনসুর সবুক্তগিন) জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- তিনি পূর্ব প্রাদেশিক শহর গজনিকে একটি বৃহৎ সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধশালী রাজধানীতে পরিণত করেন। বর্তমান আফগানিস্তান, পূর্ব ইরান ও পাকিস্তানের একটি বড় অংশজুড়ে তাঁর সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে।
- সুলতান মাহমুদ ১০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মোট ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন এবং প্রতিবারই বিজয়ী হন।

উল্লেখ্য,
- সুলতান মাহমুদের সভাকবি ছিলেন মহাকবি ফেরদৌসী। ফেরদৌসীর রচিত অমর কাব্যগ্রন্থের নাম শাহনামা। ফেরদৌসীকে বলা হয় প্রাচ্যের হোমার। 

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলা, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৩৩৯.
বাংলার প্রথম স্বাধীন সালতানাতের প্রথম রাজধানী ছিল -
  1. গৌড়
  2. মুর্শিদাবাদ
  3. পান্ডুয়া
  4. সোনারগাঁও
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ:
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর রাজধানী সোনারগাঁও-ই হল স্বাধীন বাংলার প্রথম রাজধানী।

উল্লেখ্য,
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার শাসকগণ দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতেন।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হলে ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলায় দু'শো বছরের স্বাধীন ইতিহাসের সূচনা হয়।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ একজন যোগ্য শাসক ও কূটকৌশলী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি নিজ নামে মুদ্রা জারি করেন।
- তিনি চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত একটি রাজপথ নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা যায়।
- ফখরুদ্দিনের রাজত্বকালকে বাংলার গৌরবময় যুগ বলা হয়।

উৎস:
১. বাংলাপিডিয়া [Link]
২. ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪০.
ফরাসি পর্যটক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার কোন শাসনামলে ভারতে এসেছিলেন?
  1. পাল
  2. সেন
  3. গুপ্ত
  4. মুঘল
সঠিক উত্তর:
মুঘল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুঘল
ব্যাখ্যা
ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার:
- ফরাসি পর্যটক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার মুঘল শাসনামলে ভারতে এসেছিলেন।

⇒ তিনি ছিলেন একজন ফরাসি চিকিৎসক এবং ভ্রমণকারী।
- তিনি ১৬৫৬ ও ১৬৬৮ সালের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।
- মুঘল আমলে প্রায় ১২ বছর তিনি ভারতে ছিলেন।
- হিন্দুস্থানের সম্রাট, আমীর ওমরাহ থেকে সকল শ্রেণির মানুষের জীবন, সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতি, এমন কি সতীদাহ পর্যন্ত নিজের চোখে দেখেছেন।

উল্লেখ্য,
- সম্রাট শাহজাহান এর পুত্রদের মধ্যে উত্তরাধিকার যুদ্ধে দারাকে বন্দি করে কুচকাওয়াজ সহকারে অসম্মানজনকভাবে রাস্তা দিয়ে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, বার্নিয়ার সেই সময় দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন।
- বার্নিয়ারের মূল ভ্রমণবৃত্তান্ত ফরাসি ভাষায় লিখিত ও প্রকাশিত।
- Travels in The Mogul Empire, AD 1656-68 শিরোনামে আরচিবল্ড কনস্টেবল (Archibald Constable) পুস্তকটি ১৮৯১ সালে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ও ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশ করেন।
- সেই সময় থেকে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় পুস্তকটি অনূদিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৪১.
বাংলাদেশকে 'বুলগাকপুর' নামে অভিহিত করেন কে?
  1. ইবনে বতুতা
  2. জিয়াউদ্দিন বারানী
  3. আবুল ফজল
  4. তানসেন
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী
ব্যাখ্যা
বাংলায় তুর্কি শাসন: 
- বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন বখতিয়ার খলজি।
- এ পর্বের প্রথম পর্যায় ছিল ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- এ যুগের শাসনকর্তাদের পুরোপুরি স্বাধীন বলা যাবে না।
- তাঁদের কেউ ছিলেন বখতিয়ারের সহযোদ্ধা খলজি মালিক,
- আবার কেউ কেউ তুর্কি বংশের শাসক।
- শাসকদের সকলেই দিল্লির সুলতানদের অধীনে বাংলার শাসনকর্তা হয়ে এসেছিলেন।
- পরবর্তীকালে অনেক শাসনকর্তাই দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছেন।
- মুসলিম শাসনের এ যুগ ছিল বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ।
- তাই ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাদেশের নাম দিয়েছিলেন 'বুলগাকপুর'।
- এর অর্থ 'বিদ্রোহের নগরী'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪২.
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন কোন শাসক?
  1. বখতিয়ার খিলজি
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ
  4. কুতুব উদ্দিন আইবেক
সঠিক উত্তর:
বখতিয়ার খিলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বখতিয়ার খিলজি
ব্যাখ্যা

• বখতিয়ার খলজী:
- বখতিয়ার খলজী  ১২০৫ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকে নদীয়া জয় করেন এবং বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
- উত্তর আফগানিস্তানের গরমশির (আধুনিক দস্ত-ই-মার্গ) এলাকার বাসিন্দা ইখতিয়ারউদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজী তুর্কি জাতির খলজী সম্প্রদায়র্ভুক্ত ছিলেন। 

- ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী বিহার আক্রমণ করেন এবং ওদন্তপুরী বৌদ্ধবিহারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে।
- অতঃপর তারা সে স্থান থেকে মূল্যবান সম্পদ লুণ্ঠন করে প্রত্যাবর্তন করে।
- তিনি কুতুবউদ্দীন আইবকের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে মূল্যবান উপহার প্রদান করেন। 
- অপরপক্ষে কুতুবউদ্দীনও তাঁকে সাদর অভ্যর্থনা জানান।
- অতঃপর ১২০৪ খ্রিস্টাব্দের শীতকালে তিনি ঝাড়খন্ডের দুর্গম অরণ্যাঞ্চলের মধ্য নদীয়া আক্রমন করেন।
- রাজা লক্ষ্মণসেন নৌপথে তাঁর রাজধানী বিক্রমপুরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- ইতোমধ্যে বখতিয়ার খলজীর মূল বাহিনীও এসে পড়েছিল।
- ফলে নদীয়া মুসলমানদের  অধিকারে আসে।

- বখতিয়ার খলজী স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে তিনি গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা-৯ম-১০ম শ্রেণি।

৩৪৩.
কোন জেলা আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন?
  1. নদীয়া
  2. হুগলী
  3. বীরভূম
  4. বাঁকুড়া
সঠিক উত্তর:
নদীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীয়া
ব্যাখ্যা
বাংলায় মুসলিম শাসন:
- বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশীরের (দস্ত-ই-মার্গ) অধিবাসী ছিলেন।
- রাজধানী নদীয়া আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজি লক্ষন সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা দখলের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- বখতিয়ার খলজি ১২০৪-০৫ সালে শীতকালীন সময়ে নদীয়া আক্রমণ করেছিলেন।
- নদীয়া দখলের পর বখতিয়ার খলজি গৌড় বা লক্ষ্মণাবতীর দিকে যাত্রা করেন। তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- এটি মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- বাংলাদেশে বখতিয়ার খলজি রাজ্য পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া নদী, দক্ষিণে পদ্মা নদী ও উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর অবধি ছিল।
- অতি সাধারণ অবস্থা থেকেই তিনি অল্প সময়ের মধ্যে নিজ প্রতিভাবলে লখনৌতিতে মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- এ মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর জীবনের বড় কৃতিত্ব।
- বখতিয়ার খলজি বিজিত এলাকায় খুতবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলনের ব্যবস্থা করেন এবং সমগ্র এলাকাকে তাঁর সহকর্মী তুর্কি খলজি আমীরদের মধ্যে ভাগ করে দেন ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৪.
'ইংরেজ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি' বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে -
  1. ক) ১৭৫৭ সালে
  2. খ) ১৭৬৪ সালে
  3. গ) ১৭৬৫ সালে
  4. ঘ) ১৭৭৩ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭৬৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
কোম্পানির দেওয়ানি লাভ
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানি লাভের পর প্রকৃতপক্ষে ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব লাভে সক্ষম হয়।
- বক্সারের যুদ্ধে বাংলার নবাব, অযোধ্যার নবাব এবং দিল্লীর সম্রাটের পরাজয় ইংরেজ শক্তিকে এই ক্ষমতা লাভের সুযোগ করে দেয়।
- বক্সারের যুধের পর ক্লাইভ দ্বিতীয়বার (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ) ভারতবর্ষে এলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
- ক্লাইভ দেশ থেকে ফিরে অযোধ্যার পরাজিত নবাবের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করেন।
- তার বিনিময়ে আদায় করে নেন কারা ও এলাহাবাদ জেলা দুটি।
- যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ আদায় করেন পঞ্চাশ লক্ষ টাকা।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানিকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি দান করা হয়।
- এর বিনিময়ে ছাব্বিশ লক্ষ টাকা নবাব প্রতিবছর সম্রাটকে পাঠাবেন।
- এই টাকা নিয়মিত পাঠাবার জামিনদার হবে কোম্পানি।
- ইতিহাসে এটি এলাহাবাদ চুক্তি নামে পরিচিত। 

অন্যদিকে-
- ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে জয়ী হয়ে 'ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি' বাংলা তথা ভারতবর্ষে তাদের কর্তৃত্বের ভিত্তি রচনা করেন।
- ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে বাংলা, বিহার, অযোধ্যা ও দিল্লির সম্রাটের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করলে, ইংরেজদের সেই ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়।
- ১৭৭৩ সালে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ন্ত্রণের জন্য 'নিয়ামক আইন' পাশ হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৫.
কোন যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলায় মুঘল শাসনের সূচনা হয়?
  1. পলাশীর যুদ্ধ
  2. চৌসার যুদ্ধে
  3. দেবগিরির যুদ্ধ
  4. রাজমহলের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
রাজমহলের যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজমহলের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• রাজমহলের যুদ্ধ :
- রাজমহলের যুদ্ধ বাংলার ইতিহাসে একটি নিষ্পত্তিমূলক ঘটনা, যা মুঘল শাসনের সূচনা করে।
- ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে গিয়াসউদ্দীন মাহমুদ শাহের পতনের মাধ্যমে স্বাধীন সালতানাতের অবসান ঘটে এবং হুমায়ুন গৌড় অধিকার করেন। - কিন্তু ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে শেরশাহ আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করেন, যা ১৫৬৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
- কররানী বংশের উত্থানে বাংলা স্বাধীনতা ফিরে পায়,
- কিন্তু দাউদ খান কররানী ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দের তুকারই যুদ্ধে মুনিম খানের কাছে পরাজিত হন।
- কটক চুক্তির মাধ্যমে তিনি বাংলা ও বিহার মুগলদের হাতে ছেড়ে দেন।
- পরবর্তিতে দাউদ হারানো এলাকা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন, 
- কিন্তু ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে রাজমহলের যুদ্ধে হোসেন কুলী বেগের কাছে পরাজিত হন।
- এই যুদ্ধে দাউদ খান বন্দি ও নিহত হন, যার ফলে বাংলায় আফগান শাসনের অবসান ও মুগল শাসনের সূচনা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৪৬.
কোন আন্দোলনের ফলে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের অবনতি হয়?
  1. ক) অসহযোগ আন্দোলন
  2. খ) স্বদেশী আন্দোলন
  3. গ) খিলাফত আন্দোলন
  4. ঘ) সিপাহী বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
খ) স্বদেশী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করে যা ‘বঙ্গভঙ্গ’ নামে পরিচিত। কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুরা এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে।
- এর ফলে কংগ্রেসের উগ্রপন্থিদের নেতৃত্বে স্বদেশী আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এই আন্দোলনের মূল বিষয় ছিলো ইংরেজদের সবকিছু বয়কট ও স্বদেশী পণ্যের ব্যবহার। বাংলার সর্বত্র স্বদেশী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
- তবে মুসলমানরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিলো, তাই তারা স্বদেশী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়নি। যার কারণে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয়।
অন্যদিকে,
- অসহযোগ আন্দোলন, সিপাহী বিদ্রোহ ও খিলাফত আন্দোলনে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায় সম্মিলিতভাবে অংশগ্রহণ করে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৪৭.
বাংলার নাম 'জান্নাতাবাদ' করেন কে?
  1. সম্রাট হুমায়ুন
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট বাবর
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
সম্রাট হুমায়ুন:
- মুঘল বংশের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের জ্যেষ্ঠপুত্র হুমায়ুন।
- বাবরের শাসনামলে হুমায়ুন বাদাখশান, হিসার ফিরোজা এবং সম্বলের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- পিতা বাবরের মৃত্যুর পর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে ডিসেম্বর মাত্র ২৩ বছর বয়সে পিতৃ মনোনয়ন অনুসারে হুমায়ুন ‘নাসির উদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন' নাম ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।

উল্লেখ্য,
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মোগল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সম্রাট আকবর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট আকবর এর প্রথম পুত্র জাহাঙ্গীর তাঁর পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে নূরুদ্দীন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর উপাধি গ্রহণ করে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে আগ্রার সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁর সময়ে ইসলাম খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৩৪৮.
পানিপথের প্রথম যুদ্ধে মুখোমুখি হন কারা?
  1. বাবর বনাম শের শাহ
  2. বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী
  3. আকবর বনাম হিমু
  4. বাবর বনাম রানা সাঙ্গা
সঠিক উত্তর:
বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী
ব্যাখ্যা

• পানি পথের যুদ্ধ:
- পানিপথ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।
- দিল্লি হতে পানি পথের দূরত্ব- ৯০ কি.মি.
- পানি পথে এ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।

• পানি পথের প্রথম যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ
- পক্ষ: বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী।
- ফলাফল: ইব্রাহিম লোদী পরাজিত হন এবং নিহত হন্।
- এই যুদ্ধে প্রথম কামানের ব্যাবহার হয়।

• পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ।
- পক্ষ: আকবরের সেনাপতি বৈরাম খাঁ বনাম আফগান নেতা হিমু।
- ফলাফল: হিমু পরাজিত ও নিহত হন।

• পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৪ জানুয়ারি, ১৭৬১ সালে।
- আহমদ শাহ আবদালি বনাম মারাঠা।
- ফলাফল: মারাঠা বাহিনী পরাজিত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি।

৩৪৯.
বাংলার রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁওয়ের পত্তন করেন কে?
  1. শাহজাদা আজম
  2. মুসা খা
  3. ঈশা খাঁ
  4. শায়েস্তা খান
সঠিক উত্তর:
ঈশা খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশা খাঁ
ব্যাখ্যা
সোনারগাঁও:
- সোনারগাঁও বাংলার প্রাচীন রাজধানী।
- বর্তমান ঢাকা থেকে ২৭ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সোনারগাঁও বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
- প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে।
- বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ'র স্ত্রী সোনাবিবি'র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- বাংলার রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁওয়ের পত্তন করেন ঈশা খাঁ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।
- ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্যন্ত সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- ঈশা খাঁ ও তাঁর বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- সোনারগাঁও এর আরেকটি নাম ছিল পানাম।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৫০.
কোন শাসকের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলায় হাবশি শাসনের অবসান ঘটে?
  1. সাইফুদ্দিন ফিরোজ শাহ
  2. শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
  3. জালালউদ্দিন ফাতেহ শাহ
  4. শাহজাদা বারবক শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
ব্যাখ্যা

→ শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ এর পতনের মধ্য দিয়ে বাংলায় হাবশি শাসনের অবসান ঘটে।

বাংলায় হাবশি শাসন:
- বাংলার ছয় বছরের হাবশি শাসনামলে চারজন সুলতান বাংলা শাসন করেছেন।
- তাদের প্রত্যেকেই পূর্বসুরীকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছেন এবং ষড়যন্ত্রকারী উত্তরসূরীর হাতেই নিহত হয়েছেন।
- মূলত হাবশি আমল বলতে মাহমুদ শাহী সুলতান জালালুদ্দিন ফতেহ শাহের পরে বাংলা শাসনকৃত গিয়াসুদ্দিন বারবক শাহ বা সুলতান শাহজাদা, ফিরোজ শাহ, মাহমুদ শাহ এবং মুজাফ্ফর শাহের শাসনকালকে বোঝানো হয়।
- হাবশি নেতা সুলতান শাহজাদা (১৪৮৭ খ্রি.) প্রথম ক্ষমতায় বসে কয়েক মাসের মধ্যে হাবশি সেনাপতি মালিক আন্দিলের হাতে নিহত হন।
- আন্দিল 'সাইফুদ্দিন ফিরুজ শাহ' উপাধি নিয়ে তিনবছর (১৪৮৭-১৪৯০ খ্রি.) শাসন করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ।
- কিন্তু তাঁকে হত্যা করে ক্ষতায় বসেন 'শামসুদ্দীন আবু নছর মুজাফফর শাহ' (১৪৯০-১৪৯৩ খ্রি.) নামে এক হাবশি সর্দার।
- তিনি ছিলেন অত্যাচারী শাসক।
- তাই গৌড়ের সম্ভ্রান্ত লোকেরা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং এই বিদ্রোহে যোগ দেন তাঁর উজির সৈয়দ হোসেন।
- অবশেষে শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ নিহত হন এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলায় হাবশি শাসনের অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫১.
ব্রিটিশ আমলে সংঘটিত কোন বিদ্রোহটি 'কার্পাস বিদ্রোহ' নামে পরিচিত?
  1. ক) চাকমা বিদ্রোহ
  2. খ) মুন্ডা বিদ্রোহ
  3. গ) বারাসাত বিদ্রোহ
  4. ঘ) গারো বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
ক) চাকমা বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চাকমা বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
১৭৭৬ সাল থেকে ১৭৮৭ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত চাকমাদের বিদ্রোহ কার্পাস বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
মোট চারবার চাকমা বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এসব বিদ্রোহে চাকমা রাজা সের দৌলত এবং তার সেনাপতি রুনু খান নেতৃত্ব দেন।
১৭৮৭ সালে চাকমা রাজা ও ইংরেজদের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি ফলে কার্পাস বিদ্রোহের অবসান হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস : সিরাজুল ইসলাম এবং দৈনিক প্রথম আলো)
৩৫২.
পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়-
  1. ক) ১৫২৬ সালে
  2. খ) ১৫৫৬ সালে
  3. গ) ১৭৬১ সালে
  4. ঘ) ১৭৬৪ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৫৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৫৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৫৫৬ সালে আকবরের সেনাপতি বৈরাম খান ও আফগান নেতা হিমুর মধ্যে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংগঠিত হয়।
- পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে (১৫৫৬ খ্রিঃ) আদিল শাহের সেনাপতি হিমু মুঘল সৈন্যদের নিকট পরাজিত ও নিহত হন।
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল লোদী বংশের সর্বশেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদী ও জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের মধ্যে ঐতিহাসিক পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ ১৪ই জানুয়ারি ১৭৬১ সালে দিল্লির ৯৭ কিলোমিটার উত্তরে পানিপথ নামক স্থানে মারাঠাদের সাথে দোয়াবের আফগান রোহিলা ও আয়ুব এর সম্রাট সুজা-উদ-দৌল্লার যৌথ সমর্থনে আফগানিস্থানের সম্রাট আহমেদ-শা-আবদালির মধ্যে সংঘটিত হয়।
- ১৭৬৪ সালে তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত নবাব নবাব মীর কাসিম, মোঘল সম্রাট শাহ আলম ও অযোধ্যার নওয়াব সুজাউদ্দৌলা বাহিনীর সাথে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর যুদ্ধ হয় যা বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।

৩৫৩.
কৃষিকাজের সুবিধার্থে কোন মুঘল সম্রাট বাংলা সন প্রবর্তন করেন?
  1. আকবর
  2. বাহাদুর শাহ
  3. শেরশাহ
  4. জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকবর
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন।
- বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

এছাড়াও,
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

⇒ সম্রাট আকবর সমন্বয়বাদী চিন্তার ধারক-বাহক ছিলেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii)ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৪.
শেরশাহ কাকে পরাভূত করে ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন?
  1. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  2. সম্রাট হুমায়ুন
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট বাবর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
শেরশাহ সম্রাট হুমায়ুনকে পরাভূত করে ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন।

শেরশাহ:

- শেরশাহ ভারতবর্ষের শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি ছিলেন বিহারের অন্তর্গত সাসারামের জায়গিরদার হাসান খান শূরের পুত্র।
- তাঁর প্রকৃত নাম ফরিদ।

⇒ তাঁর সাহস ও বীরত্বের জন্য বাহার খান তাঁকে ‘শের খান’ খেতাবে ভূষিত করেন।
- শের খান ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে সুরজগড়ের যুদ্ধে মাহমুদ শাহ ও জালাল খানের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেন।
- ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে শের খান বাংলা আক্রমণ করে সুলতান মাহমুদ শাহকে পরাজিত করেন।
- কিন্তু মুগল সম্রাট হুমায়ুন বাংলা অভিমুখে অগ্রসর হলে শের খান বাংলা ত্যাগ করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে (বক্সারের নিকটে) হুমায়ুনকে পরাভূত করে তিনি ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন এবং বাংলা পুনর্দখল করে খিজির খানকে এর শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
- পরবর্তী বছর পুনরায় হুমায়ুনকে পরাজিত ও ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করে তিনি দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।

উল্লেখ্য,
- শেরশাহ উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থা চালু করেন।
- শেরশাহ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন।
- তিনি বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড' নির্মাণ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৫.
মুঘল আমলে নির্মিত 'ময়ূর সিংহাসন' লুণ্ঠন করে নিয়ে যায় কোন সম্রাট?
  1. ইলিয়াস শাহ
  2. সম্রাট আকবর
  3. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  4. নাদির শাহ
সঠিক উত্তর:
নাদির শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাদির শাহ
ব্যাখ্যা
ময়ূর সিংহাসন:
- ১৭শ শতাব্দীতে মুঘল সম্রাট শাহজাহান সোনার তৈরি ময়ূর সিংহাসন নির্মাণ করেন।
- সিংহাসনটিতে রূপার সিড়ি দিয়ে আরোহণ করা হতো। সিংহাসনের পেছনে দুটি ময়ূরের ছবি ছিল, যারা তাদের অনিন্দ্যসুন্দর পেখম ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আর এই পেখমগুলো খচিত ছিল নানা রকম দুষ্প্রাপ্য আর অতিমূল্যবান রত্নপাথর দিয়ে। এর মাঝে ছিল নীলকান্ত মণি, পান্না, চুনি কিংবা পদ্মরাগ মণি, মুক্তা ও অন্যান্য মূল্যবান পাথর। 

উল্লেখ্য,
- ১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট মোহাম্মদ শাহের শাসনামলে, পারস্য সম্রাট নাদির শাহ ভারতবর্ষ অভিযানকালে লুণ্ঠন করে নিয়ে যায় সিংহাসনটি।
- এর সৌন্দর্য দেখে পাগল হয়ে নাদির শাহ সিংহাসনটি সঙ্গে নিয়ে যান নিজ দেশ পারস্যে অর্থাৎ বর্তমান ইরানে।
- ১৭৪৭ সালে নাদির শাহ আততায়ীর হাতে নিহত হন। এরপরই আসল ময়ূর সিংহাসনটি হারিয়ে যায়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) Britannica.
৩৫৬.
সেন রাজ বংশের প্রথম রাজা কে ছিলেন?
  1. ক) বল্লাল সেন
  2. খ) বিজয় সেন
  3. গ) হেমন্ত সেন
  4. ঘ) লক্ষ্মণ সেন
সঠিক উত্তর:
গ) হেমন্ত সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হেমন্ত সেন
ব্যাখ্যা
- বাংলার সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন - সামন্ত সেন।
- তবে তিনি কোন রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করায় সেন বংশের প্রথম রাজার মর্যাদা দেয়া হয় তার পুত্র - হেমন্ত সেনকে। 
- হেমন্ত সেনের পর তাঁর পুত্র বিজয় সেন (১০৯৮-১১৬০ খ্রিস্টাব্দ) সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- তিনিই সম্ভবত সামন্ত রাজা থেকে নিজেকে স্বাধীনরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। 
- কৈবর্ত্য বিদ্রোহের সময় তিনি রামপালকে সাহায্য করেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি। 
৩৫৭.
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব কে ছিলেন?
  1. আলীবর্দী খান
  2. মুর্শিদকুলি খান
  3. সিরাজউদ্দৌলা
  4. ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলি খান
ব্যাখ্যা
- মুর্শিদকুলি খান ১৭০০ সালে দিওয়ান নিযুক্ত হন এবং ১৭১৭ সালে রাজধানী স্থানান্তর করে স্বাধীন নবাব হিসেবে বাংলায় শাসন শুরু করেন।

• নবাব:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়।
- বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
- বিশেষ করে মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে কর তলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুরশিদকুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি ঢাকা বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।
- সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৩৫৮.
তৈমুর লং ভারত আক্রমণ করেন-
  1. ১৬৯৮ সালে
  2. ১৫৯৮ সালে
  3. ১৩৯৮ সালে
  4. ১২৯৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৩৯৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৯৮ সালে
ব্যাখ্যা
তৈমুর লং -এর ভারত আক্রমণ:

- তৈমুর ছিলেন তুর্কী চাগতাই বংশীয়। খোঁড়া ছিলেন বলে তাঁকে 'লং' বলা হতো।
- তিনি ইরাক, ইরাণ ও আফগানিস্তান দখল করে ভারতে প্রবেশ করেন। ভারতে রাজ্যস্থাপন এবং ভারতের সম্পদ লুন্ঠন এই দুই উদ্দেশ্যেই তিনি ভারত আক্রমণ করেন।
- তিনি ১৩৯৮ খ্রিস্টাব্দে ভারত আক্রমণ করেন।
- সুলতান মাহমুদ শাহের সৈন্যবাহিনী নামেমাত্র প্রতিরোধের চেষ্টা করে পরাজিত হয় ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
- তৈমুর দিল্লীতে বিজয়গৌরবে প্রবেশ করেন। 

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
৩৫৯.
সম্রাট শাহজাহানের কোন পুত্র বাংলার শাসনকর্তা ছিলেন?
  1. ক) দারা
  2. খ) শাহ সুজা
  3. গ) মুরাদ
  4. ঘ) আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
খ) শাহ সুজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শাহ সুজা
ব্যাখ্যা
শাহ সুজা (১৬৩৯-১৬৬০) সুবাহ-বাংলার মুগল ভাইসরয়। তিনি ছিলেন সম্রাট শাহজাহান ও সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহলের দ্বিতীয় পুত্র। শাহজাহান ইসলাম খান মাসহাদীকে দরবারে ডেকে পাঠান এবং শাহ সুজাকে ১৬৩৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুবাহদার নিযুক্ত করেন। ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে ঊড়িষ্যা প্রদেশের দায়িত্বও অর্পণ করা হয়। ১৬৩৯-১৬৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিশ বছরের কিছু অধিক সময় ধরে তিনি প্রদেশ দুটি শাসন করেন। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
৩৬০.
কোন শাসনামলে প্রাচীন বাংলার গৌরব মসলিন কাপড় ঢাকায় তৈরি হতো?
  1. মুঘল শাসনামলে
  2. পাল শাসনামলে
  3. সেন শাসনামলে
  4. ইংরেজ শাসনামলে
সঠিক উত্তর:
মুঘল শাসনামলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুঘল শাসনামলে
ব্যাখ্যা
মসলিন কাপড়:
- মুঘল আমলে প্রাচীন বাংলার গৌরব মসলিন কাপড় ঢাকায় তৈরী হতো।
- মসলিন বিশেষ এক ধরনের তুলার আঁশ থেকে প্রস্তুতকৃত সূতা দিয়ে বয়ন করা এক প্রকার অতি সূক্ষ্ম কাপড়।
- এটি ঢাকাই মসলিন নামেই পরিচিত।
- ফুটি কার্পাস নামক তুলা থেকে প্রস্তুত অতি চিকন সুতা দিয়ে মসলিন তৈরী করা হতো।
- চড়কা দিয়ে কাটা, হাতে বোনা মসলিনের জন্য সর্বনিম্ন ৩০০ কাউন্টের সুতা ব্যবহার করা হতো।
- নানা কারণে আঠারো শতকের শেষার্ধে বাংলায় মসলিন বয়ন বন্ধ হয়ে গেলেও বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগে পুনরায় বুননের কাজে হাত দেয়া হয় এবং এই শিল্পকে আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
- ঢাকাই মসলিনের শেষ প্রদর্শনী হয়েছিল লন্ডনে ১৮৫০ সালে।
- এর ১৭০ বছর পর বাংলাদেশে আবার বোনা হলো ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন কাপড়ের শাড়ি।
- মসলিন ঠিক তেমনই ঠিক যেমনটি আগে ছিল আংটির ভেতর দিয়ে গলে যায় আস্ত শাড়ি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৬১.
সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় কোন মুঘল সম্রাটের শাসনামলে?
  1. ক) সম্রাট হুমায়ুন
  2. খ) সম্রাট বাবর
  3. গ) সম্রাট আকবর
  4. ঘ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
• বাংলার বার ভূঁইয়াদের দমন করে এদেশে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালের কৃতিত্বপূর্ণ কার্য।
• সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে সুবাদার ইসলাম খান ‘বারোভূঁইয়া’দের দমন করে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। 
• আর এ কৃতিত্বের দাবিদার সুবাদর ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩ খ্রি:)। শাসনভার গ্রহণ করেই তিনি বুঝতে পারেন যে, বার ভূঁইয়াদের নেতা মূসা খানকে দমন করতে পারলেই তাঁর পক্ষে অন্যান্য জমিদারদেরকে বশীভূত করা সহজসাধ্য হবে।
• সেজন্য তিনি রাজমহল হতে ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কারণ, মূসা খানের ঘাঁটি সোনারগাঁও ঢাকার অদূরে ছিল।
• বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় আসার পথে ইসলাম খান বেশ কজন জমিদারের আনুগত্য লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৬২.
'সাত গম্বুজ মসজিদ' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) চকবাজার
  2. খ) আরমানিটোলা
  3. গ) মোহাম্মদপুর
  4. ঘ) মিরপুর
সঠিক উত্তর:
গ) মোহাম্মদপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মোহাম্মদপুর
ব্যাখ্যা
- সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত। 
- এটির নির্মাতা মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান। 
- ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি এটি নির্মাণ করেন।
- তবে অন্য তথ্যমতে এটির নির্মাতা শায়েস্তা খানের ছেলে বুজুর্গ উদ্দিন (উমিদ)।
- বর্তমানে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে আছে।

তথ্য: ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
৩৬৩.
ইবনে বতুতা কার রাজত্বকালে ভারতে এসেছিলেন?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. ফিরোজ শাহ তুঘলক
  3. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  4. গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ বিন তুঘলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা

ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন। এরপর তিনি ভারতে আসেন।
- তিনি ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে আসেন এবং সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের অধীনে দীর্ঘ প্রায় আট বছর কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকালে বাংলায় সফর করেন।
- বাংলার যে শহরে ইবনে বতুতা প্রথম পৌঁছেন (৯ জুলাই ১৩৪৬) তার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন সাদকাঁও (চাটগাঁও)। সেখান থেকে সরাসরি তিনি কামারু (কামরূপ) পার্বত্য অঞ্চল অভিমুখে রওনা হন। 
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান। ইবনে বতুতা তার 'আর রিহলা' গ্রন্থে বাংলাকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত (A Hell Full Of Good Things) ’ অর্থাৎ প্রাচুর্যপূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৪.
কার শাসন আমলে 'মাৎস্যন্যায়' এর অবসান ঘটে?
  1. ক) সেন বংশের শাসন আমলে
  2. খ) মোগলদের শাসন আমলে
  3. গ) গোপালের শাসন আমলে
  4. ঘ) খলজি বংশের শাসন আমলে
সঠিক উত্তর:
গ) গোপালের শাসন আমলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গোপালের শাসন আমলে
ব্যাখ্যা
- শশাঙ্কের পর দীর্ঘদিন বাংলায় কোন যোগ্য শাসক ছিল না। 
- ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। 
- সামন্ত রাজারা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে থাকেন। 
- অরাজকতাপূর্ণ সময় (৭ম - ৮ম শতকে) কে পাল তাম্র শাসনে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলে। 
- পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা 'গোপাল' এর শাসনামলে এই মাৎস্যন্যায় এর অবসান ঘটে ও শৃঙ্খলা ফিরে আসে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬৫.
বাংলার আকবর নামে পরিচিত-
  1. গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. নিজাম শাহ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত।
- তিনি 'বাংলার আকবর হিসেবে' পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব "বৈষ্ণব ধর্ম" প্রচার করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে 'নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
          ii) বাংলাপিডিয়া।
৩৬৬.
ছোট সোনা মসজিদ কোন আমলের স্থাপত্য নিদর্শন?
  1. সেন
  2. মুঘল
  3. সুলতানি
  4. ব্রিটিশ
সঠিক উত্তর:
সুলতানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতানি
ব্যাখ্যা
ছোট সোনা মসজিদ:
- ছোট সোনা মসজিদ 'সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন' বলে আখ্যায়িত।
- মধ্যযুগের সুলতানি আমলের গৌড়নগরীর এক ঐতিহাসিক স্থাপনা ছোট সোনামসজিদ।
- মসজিদটিকে বলা হতো ‘গৌড়ের রত্ন’।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রধানতম নিদর্শন হচ্ছে ছোট সোনামসজিদ।
- মধ্যযুগে বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৩-১৫১৯) নির্মিত হয় সোনামসজিদ।
- প্রধান প্রবেশ পথের উপরিভাগে স্থাপিত একটি শিলালিপি অনুযায়ী জনৈক মজলিস-ই-মাজালিস মজলিস মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয়।

⇒ সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত।
- তিনি বাংলার আকবর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব “বৈষ্ণব ধর্ম” প্রচার করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
⇒ ছোট সোনা মসজিদ ‘সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন’ বলে আখ্যায়িত।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৩৬৭.
ঈসা খান কোন অঞ্চলের জমিদার ছিলেন?
  1. ক) বিক্রমপুর
  2. খ) চন্দ্রদ্বীপ
  3. গ) সোনারগাঁও
  4. ঘ) ভাওয়াল
সঠিক উত্তর:
গ) সোনারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
মুঘল আমলে পূর্ববঙ্গের জমিদারগণ বারোভূঁইয়া নামে পরিচিত ছিলো। এদের নেতা ছিলেন ঈসা খান। ঈসা খান সোনারগাঁওয়ের জমিদার ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তারপুত্র মুসা খান সোনারগাঁওয়ের জমিদার হন।
বারোভূঁইয়াদের অন্যতম চাঁদ রায় ও কেদার রায় ছিলেন বিক্রমপুর বা মুন্সিগঞ্জের জমিদার। চন্দ্রদ্বীপের জমিদার ছিলেন পরমানন্দ রায়। ভাওয়ালের জমিদার ছিলেন বাহাদুর গাজি।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৬৮.
১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করেন কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. মীর জুমলা
  3. শাহ সুজা
  4. ইসলাম খান
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
রাজধানী ঢাকা:
- এটি বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ায় পূর্বে ঢাকা বাংলার রাজধানী ছিল চারবার।
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পূর্বে ঢাকা ১৬১০, ১৬৬০, ১৯০৫ ও ১৯৪৭ সালে মোট চারবার বাংলার রাজধানীর মর্যাদা পায়।

উল্লেখ্য,
- ১৬০৮ সালে সুবাদার জাহাঙ্গীর কুলি খানের মৃত্যুর পর সম্রাট জাহাঙ্গীর বিখ্যাত সুফি সেলিম চিশতীর দৌহিত্র ইসলাম খান চিশতী বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেন।
- নিয়োগ লাভ করে তিনি অনতিবিলম্বে বাংলার তদানীন্তন রাজধানী বিহারের রাজমহল-এ চলে আসেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আসেন এবং বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- তিনি সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।
- ইসলাম খান ঢাকাকে সুরক্ষিত করে তিনি ভূঁইয়াদের সব অবস্থানের বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করেন এবং ১৬১১ খ্রিস্টাব্দেই মুসা খানসহ বারো ভূঁইয়াদের সবাই ইসলাম খানের নিকট বশ্যতা স্বীকার করেন।

এছাড়াও,
- ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন।
- শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৩৬৯.
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ বাংলায় কোন শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন?
  1. সেন
  2. পাল
  3. হাবশি
  4. মুঘল
সঠিক উত্তর:
হাবশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাবশি
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭০.
শেখ আলাউদ্দীন চিশতিকে ‘ইসলাম খান’ উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  2. সম্রাট বাবর
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
- সুবাদার ইসলাম খান চিশতি (১৬০৮-১৬১৩) পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ের জন্য বাংলার মুগল সুবাহদার ছিলেন।
- প্রকৃত নাম শেখ আলাউদ্দীন চিশতি।
- ১৬০৮ সালে সুবাদার জাহাঙ্গীর কুলি খানের মৃত্যুর পর সম্রাট জাহাঙ্গীর বিখ্যাত সুফি সেলিম চিশতীর দৌহিত্র ইসলাম খান চিশতী বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেন ।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে ইসলাম খান উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৩৭১.
বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা -
  1. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
  2. ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. ফরাসউদ্দিন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ:
- তিনি বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- ফখরুদ্দীন ছিলেন জাতিতে তুর্কি।
- ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন।
- স্বীয় অবস্থান সুদৃঢ় করে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে ১৩৪৬ সালে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন।
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান।
- এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৭২.
কোন গ্রন্থে বাংলাকে ‘বুলগাকপুর’ বা বিদ্রোহের নগরী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) কিতাবুল রেহালা
  2. খ) ইবনে জুযাই
  3. গ) তারিখ-ই-ফিরোজশাহী
  4. ঘ) আকবরনামা
সঠিক উত্তর:
গ) তারিখ-ই-ফিরোজশাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তারিখ-ই-ফিরোজশাহী
ব্যাখ্যা
- বাংলায় ঘন ঘন বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার জন্য দিল্লির ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারাণী তার ‘তারিখ-ই-ফিরোজশাহী’ গ্রন্থে বাংলার নাম দিয়েছিলেন ‘বুলগাকপুর’ বা বিদ্রোহের নগরী।
- বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রথম পর্যায়ে (১২০৪-১৩৩৮ খ্রি.) বাংলার শাসকগণ পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না।
- তারা দিল্লির সুলতানদের অধীনে বাংলা শাসন করতেন।
- তবে এই সময়ের শাসকগণ প্রায়ই দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছেন। কিন্তু দিল্লির সুলতানদের বারবার আক্রমণে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ফলে বাংলায় এই সময়ে মুসলিম শাসন ছিলো বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলাপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৩.
বাংলা নামের উৎপত্তির বিষয়টি কোন গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে?
  1. ক) তুযুক-ই-আকবরী
  2. খ) আকবরনামা
  3. গ) আইন-ই-আকবরী
  4. ঘ) আলমগীরনামা
সঠিক উত্তর:
গ) আইন-ই-আকবরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আইন-ই-আকবরী
ব্যাখ্যা
আইন-ই-আকবরী
- আইন-ই-আকবরী  মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- আকবরনামা একটি ইতিহাস গ্রন্থ।
- সুষ্ঠু প্রশাসন প্রবর্তন ও কার্যকর করার জন্য সম্রাট আকবর যে আইন ও নীতি প্রবর্তন করেন তা আইন-ই-আকবরীতে উল্লিলখিত হয়েছে।
- আকবরনামার অংশবিশেষ হলেও আইন-ই-আকবরী এককভাবেই এক পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ।
- আইন-ই-আকবরীতে উল্লিখিত তথ্যসমূহ বাংলার ইতিহাস পুনর্গঠনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
- এ গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল।
- কারণ এ দেশের প্রাচীন রাজাগণ সারাদেশে চওড়া ‘আল’ নির্মাণ করতেন।
- সেজন্যে ‘বঙ্গ' ও 'আল' শব্দ দুটির যোগে 'বঙ্গাল' নামের উৎপত্তি হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৪.
দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. কুতুবউদ্দিন আইবেক
  2. শামস-উদ্দিন ইলতুৎমিশ
  3. গিয়াসউদ্দিন বলবন
  4. ফিরোজ শাহ তুঘলক
সঠিক উত্তর:
শামস-উদ্দিন ইলতুৎমিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামস-উদ্দিন ইলতুৎমিশ
ব্যাখ্যা
শামস-উদ্দিন ইলতুৎমিশ:
- ইলতুৎমিশ দাস হিসেবে জীবন শুরু করেন। নানা প্রভুর হাত ঘুরে শেষ পর্যন্ত তিনি কুতুবউদ্দিনের অধীনে আসেন। কুতুবউদ্দিন তাঁর গুণে মুগ্ধ হন। তাঁকে মুক্তি দিয়ে সুলতান তাঁর সাথে নিজ কন্যার বিয়ে দেন এবং তাঁকে বদায়ুনের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। কুতুবউদ্দিনের মৃত্যুর পর আরাম শাহ সুলতান হন। আমিরদের অনুরোধে অযোগ্য আরাম শাহকে পরাজিত করে ইলতুৎমিশ সিংহাসনে বসেন। তিনি নব গঠিত দিল্লি সালতানাতকে নানা বিপদ থেকে রক্ষা করেন। তিনি ইয়ালদুজ, কুবাচা ও ইওয়াজের বিরোধিতা নির্মূল করেন। এর ফলে লাহোর, সিন্ধু-মুলতান এবং বাংলার উপর দিল্লির কর্তৃত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি কৌশলে চেঙ্গিস খানের সম্ভাব্য আক্রমণ থেকেও ভারতকে রক্ষা করেন। বিদ্রোহী হিন্দু রাজাদের দমন করে তিনি দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করেন।
- তাঁকে দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৫.
'ষাটগম্বুজ মসজিদ' কার আমলে নির্মিত হয়?
  1. ক) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. খ) নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ
  3. গ) সিকান্দার শাহ
  4. ঘ) জালালুদ্দিন মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
খ) নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা
- নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ (১৪৩৫-১৪৫৯) ছিলেন বাংলার সুলতান এবং সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ এর বংশধর। 
- ১৪৩৫ সালে নাসিরুদ্দীন আবুল মুজাফফর মাহমুদ শাহ উপাধি নিয়ে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- তাঁর সিংহাসনারোহণের ফলে প্রায় তেইশ বছর (১৪১২-১৪৩৫ খ্রি.) বিরতির পর ইলিয়াস শাহী বংশ পুনরায় বাংলার শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শান্তিপ্রিয় লোক ছিলেন। তাঁর রাজত্বকালে বাংলা দিল্লি সালতানাতের সাথে কোন যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয় নি।
 
তাঁর রাজত্বকালে নির্মিত মসজিদগুলির মধ্যে বাগেরহাটের খান জাহানের ষাটগম্বুজ মসজিদ, মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গীপুরে সরফরাজ খানের নির্মিত দুটি মসজিদ (১৪৪৩), গৌড়ের নিকটবর্তী এলাকায় জনৈক হিলালী কর্তৃক নির্মিত মসজিদ (১৪৫৫), ঢাকার বখত বিনত মসজিদ (১৪৫৫) এবং ভাগলপুরে খুরশীদ খানের মসজিদ (১৪৪৬) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
 
 বাগেরহাটে খান জাহান আলীর সমাধিসৌধ এবং হজরত পান্ডুয়ায় জনৈক আল্লামার সমাধিসৌধ তাঁর রাজত্বকালে নির্মিত হয়।
 
উৎস : বাংলাপিডিয়া 
৩৭৬.
কোন শাসনামলে বাংলাভাষী অঞ্চল ‘বাঙ্গালা’ নামে পরিচিতি লাভ করে?
  1. মৌর্য
  2. মুসলিম
  3. পাল
  4. সেন
সঠিক উত্তর:
মুসলিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম
ব্যাখ্যা

বাংলাভাষী অঞ্চলটি 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিতি লাভ করে মূলত শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ (১৪ শতকের মাঝামাঝি) এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সালতানাতের আমলে, যখন তিনি সমগ্র বাংলা অঞ্চলকে একত্রিত করে 'শাহ-ই-বাঙ্গালা' বা 'সুলতান-ই-বাঙ্গালা' হিসেবে পরিচিতি পান। 

বাংলাদেশের ইতিবৃত্ত:
- আজকের বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিম বাংলার অধিকাংশ এলাকাকে প্রাচীনকালে বলা হতো 'বাংলা'।
- তবে প্রাচীন যুগে এই সম্পূর্ণ দেশটির একক নাম বাংলা ছিল না।
- হিন্দু ও বৌদ্ধদের শাসনকালে এই দেশ অনেকগুলো অংশে বিভক্ত ছিল।
- প্রত্যেকটি অংশের ছিল ভিন্ন ভিন্ন নাম।
- মধ্যযুগে যখন এদেশে মুসলমান শাসকদের অধিকারে আসে তখন থেকে দেখা যায় দেশটির নামের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসছে।
- বাংলা ভাষায় কথা বলা লোকেরা যে অঞ্চলে বাস করত এসময়ে তারই নাম হয় বাংলা।

⇒ মুসলমান শাসন যুগ অর্থাৎ মধ্য যুগের শুরুর দিকে মুসলিম শাসক ও ইতিহাস লেখকগণ 'বঙ্গ বা বাঙলা (বাংলা)' বলতে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাকে বুঝাতেন। এ যুগের সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াসশাহ প্রথম পুরো বাংলাকে নিজের অধিকারে আনেন। ইতিহাস লেখকগণ তখন তাঁকে উপাধি দেন 'শাহ-ই-বাঙ্গালা' এবং 'সুলতানই বাঙ্গালা'।
- এ সময় থেকেই পুরো দেশটি বাংলা নামে পরিচিত হয়। রাঢ় ও লক্ষণাবতীর (গৌড়) লোকেরা ইলিয়াস শাহের সময় থেকেই বাঙালি বলে পরিচিত হতে থাকে।

⇒ অনেককাল পরে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজদের অধিকারে চলে যায় এদেশ।
- ধীরে ধীরে পুরো ভারতের ক্ষমতা দখল করে ইংরেজরা।
- আমাদের এদশেটি ব্রিটিশদের একটি প্রদেশে পরিণত হয়।
- ইংরেজরা তখন এই প্রদেশকে বলত 'বেঙ্গল'। বেঙ্গল নামটি ছিল ইংরেজি ভাষায় আর বাংলা ভাষায় বলা হতো বাংলাদেশ। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটো দেশের জন্ম হয়। এ সময় পূর্ব বাংলা হয়ে যায় পাকিস্তানের অংশ আর পশ্চিম বাংলা হয় ভারতের অংশ। পরে পূর্ব বাংলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় পূর্ব পাকিস্তান। কিন্তু পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকে দুই অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য, জাতিগত এবং সংস্কৃতিগত স্বতন্ত্র সত্তাগুলো ক্রমশ প্রকট হতে থাকে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ স্বাধীন হওয়ার আকঙ্ক্ষায় ১৯৭১ এর ২৬ মার্চে ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে। তখন থেকে এদেশবাসী তাদের দেশেন নাম দেয় 'বাংলাদেশ'। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় লাভ করে। তখন থেকে 'বাংলাদেশ' একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের নাম হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৭.
বাংলাকে ”জান্নাতবাদ” নাম ঘোষণা করেন-
  1. মুঘল সম্রাট আকবর
  2. মুঘল সম্রাট হুমায়ুন
  3. মুঘল সম্রাট বাবর
  4. মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
মুঘল সম্রাট হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুঘল সম্রাট হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
মুঘল সম্রাট হুমায়ুন:
- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুন প্রায় ৯ মাস  বাংলায় অবস্থান করেন এবং আবহাওয়া চমৎকার লাগায় বাংলাকে জান্নাতাবাদ নাম ঘোষণা করেন।
- হুমায়ুনের রাজত্বকাল দুটি পর্বে বিভক্ত।
- প্রথম পর্ব: ১৫৩০-১৫৪০খ্রিস্টাব্দ।
- দ্বিতীয় পর্ব: ১৫৫৫-১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দ।
- মুঘল বংশের দ্বিতীয় শাসক।
- মধ্যখানে ১৫৪০-১৫৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি শের শাহের কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে পারস্য আশ্রিত ছিলেন।
- ১৫৩৯ সালে চৌসার যুদ্ধে এবং ১৫৪০ সালে কনৌজের যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন।
- ১৫৫৫ সালে পারস্যর সহায়তায় তিনি মোঘল সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন।
- কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত ১৫৫৬ সালে ২৬ জানুয়ারি গ্রন্থাগারের সিঁড়ি থেকে পরে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

⇒অপরদিকে,
- মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও তার পিতা বাবর।
- হুমায়ুনের পুত্র মুঘল সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সম্রাট আকবর।
- সম্রাট জাহাঙ্গির নিজের নামে মুদ্রা প্রচলন করেন।

উৎস: ¡) ইতিহাস ১ম পত্র: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ¡¡)  বাংলাপিডিয়া।
৩৭৮.
নীল কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন কে?
  1. ক) রেভারেন্ড জে. সেল
  2. খ) ডব্লিউ এফ. ফারগুসন
  3. গ) ডব্লিউ এস. সিটনকার
  4. ঘ) চন্দ্রমোহন চ্যাটার্জী
সঠিক উত্তর:
গ) ডব্লিউ এস. সিটনকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডব্লিউ এস. সিটনকার
ব্যাখ্যা
নীল বিদ্রোহের ফলে ব্রিটিশ সরকার ১৮৬০ সালের ৩১শে মার্চ নীল কমিশন গঠন করে। নীল কমিশনের সদস্যরা হলেন:
ডব্লিউ এস. সিটনকার - চেয়ারম্যান
রেভারেন্ড জে. সেল - মিশনারী প্রতিনিধি
ডব্লিউ এফ. ফারগুসন - নীলকরদের প্রতিনিধি
আর টেম্পল - সরকারি প্রতিনিধি
চন্দ্রমোহন চ্যাটার্জী - জমিদারদের প্রতিনিধি।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৩৭৯.
মধ্যযুগে মুসলিম সুলতানদের বাংলার রাজধানী ছিল-
  1. মহাস্থানগড়
  2. চন্দ্রদ্বীপ
  3. উয়ারী বটেশ্বর
  4. সোনারগাঁও
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
সোনারগাঁও:
- নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পাশে প্রায় আড়াই কিলোমিটার উত্তরে সোনারগাঁও অবস্থিত।
- বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
- প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে।
- বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ’র স্ত্রী সোনাবিবি’র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদের মধ্যে শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে সোনারগাঁও একটি গৌরবময় জনপদ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- মধ্যযুগে মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল সোনারগাঁও।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৮০.
বাবর উপমহাদেশে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন -
  1. ১৫১৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫২২ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• পানি পথের যুদ্ধ:
- পানিপথ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।
- দিল্লি হতে পানি পথের দূরত্ব- ৯০ কি.মি.
- পানি পথে এ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।

• পানি পথের প্রথম যুদ্ধ:
- সময়কাল - ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ।
- পক্ষ- বারব বনাম ইব্রাহিম লোদী।
- ফলাফল - ইব্রাহিম লোদী পরাজিত হন এবং নিহত হন।
- এই যুদ্ধে প্রথম কামানের ব্যাবহার হয়।
- এই যুদ্ধের ফলে ভারতে মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং দিল্লি সালতানাতের পতন হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮১.
কোন আমল থেকে সমগ্র বাংলাদেশ 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয়?
  1. সেন আমল
  2. ইলিয়াস শাহী আমল
  3. হোসেন শাহী আমল
  4. মুঘল আমল
সঠিক উত্তর:
ইলিয়াস শাহী আমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলিয়াস শাহী আমল
ব্যাখ্যা
ইলিয়াস শাহী আমল:
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন।
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্রো করেন।
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্র করতে পারেননি। 
- আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮২.
ইলিয়াস শাহ কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. ইরান
  2. ইরাক
  3. আফগানিস্তান
  4. সিরিয়া
সঠিক উত্তর:
ইরান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরান
ব্যাখ্যা

ইলিয়াস শাহের সিংহাসন লাভ ও রাজ্য বিস্তার:
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন। 
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন। 
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রো করতে পারেননি। তাই এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে। 
- ইলিয়াস শাহ ইরানের অধিবাসী ছিলেন।
- ইলিয়াস লখনৌতির শাসনকর্তা আলী মুবারকের ধাত্রীমাতার পুত্র ছিলেন।
- পরে আলী মুবারক বাংলাদেশে চলে আসেন এবং অল্প দিনের মধ্যেই লখনৌতির শাসনকর্তা কদর খানের প্রধান সেনাপতি হন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- তিনি প্রথমে সাতগাও দখল করেন।
- এরপর ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করেন ও প্রচুর ধন-সম্পদ লাভ করেন।
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।
- ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' ও 'সুলতান-ই- বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৩.
নিচের কোনটি শায়েস্তা খান নির্মাণ করেন?
  1. লালবাগ কেল্লা
  2. সাত গম্বুজ মসজিদ
  3. ছোট কাটরা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
শায়েস্তা খান:
- ইরানি বংশোদ্ভূত শায়েস্তা খান মোগল আমলে বাংলার একজন বিখ্যাত সুবাদার ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু তালিব।
- মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে শায়েস্তা খান নাম দেন।
- শায়েস্তা খান সম্রাট আওরঙ্গজেবের মামা ছিলেন।
- ১৬৬৩ সালে বাংলার সুবাদার মীর জুমলার মৃত্যু হলে ১৬৬৪ সালে আওরঙ্গজেব তাঁকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিযুক্ত করেন।
- শায়েস্তা খান ৬৩ বছর বয়সে প্রথম বাংলায় আসেন।
- তাঁর শাসনামলে তিনি কুচবিহার বিদ্রোহ দমন করেন, চট্টগ্রাম জয় ও মগ দস্যুদের বিতাড়িত করেন (১৬৬৬ সালে)।
- তাঁর শাসনামলে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত।
- ১৬৯৪ সালে তিনি ৯৪ বছর বয়সে মারা যান।

উল্লেখ্য,
- তিনি লালবাগ কেল্লা, শায়েস্তা খান মসজিদ, ছোট কাটরা, সাত গম্বুজ মসজিদ প্রভৃতি নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৮৪.
সোনারগাঁও -এর পূর্ব নাম কি ছিল?
  1. নাসিরাবাদ
  2. সিংহজানী
  3. রোহিতহিরি
  4. সুবর্ণ গ্রাম
সঠিক উত্তর:
সুবর্ণ গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবর্ণ গ্রাম
ব্যাখ্যা
সোনারগাঁও:
- সোনারগাঁও স্বর্ণগ্রাম বা সুবর্ণগ্রাম নামে অভিহিত বঙ্গের এক প্রাচীন জনপদ।

- ব্রহ্মপুত্রের উভয় তীর ব্যাপী বিস্তৃত এই জনপদে ‘স্বর্ণভূষিত’ জাতি নামে চিহ্নিত এক আদিম জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল।
- এরা ঐতিহ্যগতভাবেই নারী পুরুষ নির্বিশেষে স্বর্ণালঙ্কারে ভূষিত ছিল।
- মহাভারতে বর্ণিত কুরুপান্ডব যুদ্ধের সময়কালে এবং সম্ভবত এর আগেও এই জনপদের অস্তিত্ব ছিল বলে অনুমিত হয়।
- প্রাচীনকালে এই জনপদের অবস্থান ছিল শীতলক্ষ্যা ও মেঘনার মধ্যবর্তী ওই ভূখন্ডে যা বর্তমানে নরসিংদী জেলা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার বৃহত্তর অংশে বিস্তৃত।

বিভিন্ন স্থানের পূর্ব নাম:

-ময়নামতি- রোহিতগিরি।
- চট্টগ্রাম - ইসলামাবাদ / পোর্টোগ্রান্ডে শাতিলগঞ্জ।
- সিলেট জালালাবাদ/শ্রীহট্ট।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৮৫.
মুঘল শেষ সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে কোথায় নির্বাসন দেওয়া হয়?
  1. সিংহল
  2. রেঙ্গুন
  3. আন্দামান
  4. মালাবার
সঠিক উত্তর:
রেঙ্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেঙ্গুন
ব্যাখ্যা
মুঘল সাম্রাজ্যের পতন:
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মুঘল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে তার উত্তরসূরীরা এটিকে সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে রুপান্তরিত করে।
- বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মুঘল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।
- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মুঘল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মুঘল বংশের পতনের যুগ বলা হয়।
- সামগ্রিকভাবে মুঘল সাম্রাজ্য পতনের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বহিঃআক্রমন প্রভৃতি বিষয়কে দায়ী করা হয়।
- পারস্য সম্রাট নাদির শাহ এবং পরবর্তীকালে আফগান রাজা আহমদ শাহ আবদালীর দিল্লি আক্রমণ ও লুণ্ঠনে মোগল সাম্রাজ্য দুর্দশায় ও পতনুম্মুখ হয়ে পড়ে।
- এমনি মুমূর্ষ অবস্থায় ইংরেজ শক্তির ক্ষমতা দখল করার ফলে মোগল সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে।
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মোগল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৬.
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. সিরিয়া
  2. ইরান
  3. ইরাক
  4. আফগানিস্তান
সঠিক উত্তর:
আফগানিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
বাংলায় মুসলিম শাসন:
- বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশীরের (দস্ত-ই-মার্গ) অধিবাসী ছিলেন।
- রাজধানী নদীয়া আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজি লক্ষন সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা দখলের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- বখতিয়ার খলজি ১২০৪-০৫ সালে শীতকালীন সময়ে নদীয়া আক্রমণ করেছিলেন।
- নদীয়া দখলের পর বখতিয়ার খলজি গৌড় বা লক্ষ্মণাবতীর দিকে যাত্রা করেন। তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- এটি মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- বাংলাদেশে বখতিয়ার খলজি রাজ্য পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া নদী, দক্ষিণে পদ্মা নদী ও উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর অবধি ছিল।
- অতি সাধারণ অবস্থা থেকেই তিনি অল্প সময়ের মধ্যে নিজ প্রতিভাবলে লখনৌতিতে মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- এ মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর জীবনের বড় কৃতিত্ব।
- বখতিয়ার খলজি বিজিত এলাকায় খুতবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলনের ব্যবস্থা করেন এবং সমগ্র এলাকাকে তাঁর সহকর্মী তুর্কি খলজি আমীরদের মধ্যে ভাগ করে দেন ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৭.
ঢাকাকে সর্বপ্রথম বাংলার রাজধানী করেন কে?
  1. মীর জুমলা
  2. ইসলাম খান
  3. শায়েস্তা খান
  4. মুর্শিদকুলি খান
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
- ১৬১০ সালের ১৬ জুলাই সুবাদার ইসলাম খান চিশতী সর্বপ্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করেন এবং নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর।
- এই নাম সম্রাট জীবিত থাকা পর্যন্ত বহাল ছিল। 
- এরপর ১৬৫০ সালে সুবাদার শাহ সুজা পুনরায় বাংলার রাজধানী বিহারের রাজমহলে নিয়ে যান।
- কিন্তু ১৬৬০ সালে মীর জুমলা পুনরায় ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করেন যা ১৭১৭ সাল পর্যন্ত বজায় ছিল। 
- ১৭১৭ সালে মুর্শিদকুলি খান বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- পরবর্তী ১৯০৫ থেকে ১৯১১ এবং ১৯৪৭ সাল থেকে ঢাকা বাংলার রাজধানী হিসেবে ছিলো।
- ১৯৭১ সাল থেকে ঢাকা স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী। 

উৎস: ঢাকা জেলার ওয়েবসাইট। 
৩৮৮.
চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি থেকে পর্তুগিজদের চিরতরে বিতাড়িত করেন কে?
  1. ক) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  2. খ) শায়েস্তা খান
  3. গ) সম্রাট আকবর
  4. ঘ) ইসলাম খান
সঠিক উত্তর:
খ) শায়েস্তা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ:
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না, তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী করত।
- আবার সুযোগ পেলেই জুলুম, অত্যাচার ও লুণ্ঠন করতো।
- অনেক সময় সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত। এতে তাঁরা মোগল সম্রাটের বিরাগভাজন হন। 
- তাঁরা জোর করে এদেশেরই অসহায় বালক-বালিকাদের খ্রিস্টান বানাত।
- এদেশের মানুষকে ধরে নিয়ে দাসদাসীরূপে বিক্রি করতো বিদেশের বাজারে।
- পর্তুগিজ সৈন্যরা জোর করে এদেশের মেয়ে বিয়ে করত।

- তাদের এ অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন। 

উৎস
: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৯.
ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ধর্মনিরপেক্ষ শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন কোন সুলতান?
  1. ক) কুতুব উদ্দিন আইবেক
  2. খ) শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ
  3. গ) গিয়াস উদ্দিন বলবন
  4. ঘ) মুহম্মদ বিন তুঘলক
  5. ঙ) আলাউদ্দিন খলজি
সঠিক উত্তর:
ঙ) আলাউদ্দিন খলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) আলাউদ্দিন খলজি
ব্যাখ্যা
সুলতান আলাউদ্দিন খলজি আমির, মালিক, অভিজাত সম্প্রদায় এবং উলামাদের প্রভাব ক্ষুণ্ণ করে মধ্যযুগীয় দিল্লী সালতানাতের ইতিহাসে সর্বপ্রথম একটি ধর্মনিরপেক্ষ এবং কেন্দ্রীভূত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র কায়েম করে তিনি সুষ্ঠু প্রশাসন ব্যবস্থার প্রচলন করেন। রাষ্ট্রের আয় বৃদ্ধি এবং নিয়মিত রাজস্ব সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি রাজস্ব ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধন করেন। অভ্যন্তরীণ ও বহি:স্থ বিদ্রোহ দমন এবং সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণের জন্য এক বিশাল সামরিক বাহিনী গড়ে তুলেন।সুলতান আলাউদ্দিন খলজি ছিলেন একাধারে রাজ্য বিজেতা, সুদক্ষ যোদ্ধা, দক্ষ প্রশাসক এবং সমসাময়িককালের একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস -২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৩৯০.
লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে কার সমাধি অবস্থিত?
  1. আজম খান
  2. শায়েস্তা খান
  3. পরীবিবি
  4. সোনাবিবি
সঠিক উত্তর:
পরীবিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরীবিবি
ব্যাখ্যা
লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ বা আওরঙ্গবাদ দুর্গ।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- নবাব শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে পুনরায় দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
- পরী বিবিকে দরবার হল এবং মসজিদের ঠিক মাঝখানে সমাহিত করা হয়।
- ১৮৪৪ সালে ঢাকা কমিটি নামে একটি আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্গের উন্নয়ন কাজ শুরু করে।
- এ সময় দুর্গটি লালবাগ দুর্গ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়।
-  এটি মোগল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন। 

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৯১.
বখতিয়ার খলজি কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. তুরস্ক
  2. আফগানিস্তান
  3. উজবেকিস্তান
  4. ইরান
সঠিক উত্তর:
আফগানিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা

বাংলায় মুসলিম শাসন:
- বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশীরের (দস্ত-ই-মার্গ) অধিবাসী ছিলেন। 
- রাজধানী নদীয়া আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজি লক্ষন সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা দখলের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- বখতিয়ার খলজি ১২০৪-০৫ সালে শীতকালীন সময়ে নদীয়া আক্রমণ করেছিলেন।
- নদীয়া দখলের পর বখতিয়ার খলজি গৌড় বা লক্ষ্মণাবতীর দিকে যাত্রা করেন। তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- এটি মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- বাংলাদেশে বখতিয়ার খলজি রাজ্য পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া নদী, দক্ষিণে পদ্মা নদী ও উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর অবধি ছিল।
- অতি সাধারণ অবস্থা থেকেই তিনি অল্প সময়ের মধ্যে নিজ প্রতিভাবলে লখনৌতিতে মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- এ মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর জীবনের বড় কৃতিত্ব।
- বখতিয়ার খলজি  বিজিত এলাকায় খুতবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলনের ব্যবস্থা করেন এবং সমগ্র এলাকাকে তাঁর সহকর্মী তুর্কি খলজি আমীরদের মধ্যে ভাগ করে দেন ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯২.
বাঙালি মুসলিম নারী সমাজের নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয় কাকে?
  1. ক) নূরজাহান বেগম
  2. খ) বেগম রোকেয়া
  3. গ) নবাব ফয়জুন্নেসা
  4. ঘ) আনোয়ারা বেগম
সঠিক উত্তর:
খ) বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়াকে বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
বিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি নারীশিক্ষা বিশেষত মুসলিম নারীদের মধ্যে শিক্ষার প্রসারে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। এছাড়া তিনি নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং সরকারের নিকট নারীদের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবী দাওয়া পেশ করেন।
বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩২ সালে কলকাতায় মারা যান।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৩৯৩.
চৌসারের যুদ্ধে কোন মুঘল সম্রাট শেরশাহের বিরুদ্ধে পরাজিত হন?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট বাবর
  3. সম্রাট হুমায়ুন
  4. সম্রাট শাহজান
সঠিক উত্তর:
সম্রাট হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট হুমায়ুন
ব্যাখ্যা

শেরশাহ:
- শেরশাহ ভারতবর্ষের সম্রাট ও শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর প্রকৃত নাম ফরিদ।

⇒ তাঁর সাহস ও বীরত্বের জন্য বাহার খান তাঁকে ‘শের খান’ খেতাবে ভূষিত করেন।
- শের খান ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে সুরজগড়ের যুদ্ধে মাহমুদ শাহ ও জালাল খানের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেন।
- ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে শের খান বাংলা আক্রমণ করে সুলতান মাহমুদ শাহকে পরাজিত করেন।
- কিন্তু মুগল সম্রাট হুমায়ুন বাংলা অভিমুখে অগ্রসর হলে শের খান বাংলা ত্যাগ করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে (বক্সারের নিকটে) হুমায়ুনকে পরাভূত করে তিনি ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন এবং বাংলা পুনর্দখল করে খিজির খানকে এর শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন।
- পরবর্তী বছর পুনরায় হুমায়ুনকে পরাজিত ও ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করে তিনি দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।

উল্লেখ্য,
- শেরশাহ উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থা চালু করেন।
- শেরশাহ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন।
- তিনি বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড' নির্মাণ করেন। গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৩৯৪.
Who established the first Muslim kingdom in Bengal?
  1. Hussain Shah
  2. Taj Khan
  3. Sher khan
  4. Bakhtiyar Khalji
  5. Daud Khan
সঠিক উত্তর:
Bakhtiyar Khalji
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bakhtiyar Khalji
ব্যাখ্যা
বাংলায় মুসলিম শাসন:
- বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশীরের (দস্ত-ই-মার্গ) অধিবাসী ছিলেন।
- রাজধানী নদীয়া আক্রমন করে বখতিয়ার খলজি বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজি লক্ষন সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা দখলের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা পায়।
- বখতিয়ার খলজি ১২০৪-০৫ সালে শীতকালীন সময়ে নদীয়া আক্রমণ করেছিলেন।
- নদীয়া দখলের পর বখতিয়ার খলজি গৌড় বা লক্ষ্মণাবতীর দিকে যাত্রা করেন। তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- এটি মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- বাংলাদেশে বখতিয়ার খলজি রাজ্য পূর্বে তিস্তা ও করতোয়া নদী, দক্ষিণে পদ্মা নদী ও উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর অবধি ছিল।
- অতি সাধারণ অবস্থা থেকেই তিনি অল্প সময়ের মধ্যে নিজ প্রতিভাবলে লখনৌতিতে মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- এ মুসলিম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর জীবনের বড় কৃতিত্ব।
- বখতিয়ার খলজি বিজিত এলাকায় খুতবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলনের ব্যবস্থা করেন এবং সমগ্র এলাকাকে তাঁর সহকর্মী তুর্কি খলজি আমীরদের মধ্যে ভাগ করে দেন ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৫.
বাহাদুর গাজী কোন অঞ্চলের জমিদার ছিলেন?
  1. নোয়াখালী
  2. সিলেট
  3. ভাওয়াল
  4. বিক্রমপুর
সঠিক উত্তর:
ভাওয়াল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাওয়াল
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগে ষোল শতকের মাঝামাঝি থেকে সতের শতকের মধ্য সময় পর্যন্ত পূর্ব বাংলার যেসব জমিদার মুঘলদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে সচেষ্ট ছিলেন তারা ‘বারোভূঁইয়া’ নামে পরিচিত।
বারোভূঁইয়াদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন:
- ঈসা খান ও মুসা খান : ঢাকা ও ময়মনসিংহ
- বাহাদুর গাজি : ভাওয়াল
- চাঁদ রায় ও কেদার রায় : বিক্রমপুর (মুন্সিগঞ্জ)
- সোনাগাজি : সরাইল (উত্তর ত্রিপুরা)
- ওসমান খান : বোকাইনগর (সিলেট)
- বীর হামির বিষ্ণুপুর (বাকুড়া)
- লক্ষণ মানিক্য : ভুলুয়া (নোয়াখালী)
- পরমানন্দ রায় : চন্দ্রদ্বীপ (বরিশাল)
- বিনোদ রায়/মধু রায় : চান্দপ্রতাপ (মানিকগঞ্জ)
- মুকুন্দরা/সত্রজিৎ : ভূষণা (ফরিদপুর)
- রাজা কন্দর্পনারায়ণ/রামচন্দ্র : বরিশাল জেলার অংশবিশেষ।
- ১৬১১ সালে মুঘল সুবাদার ইসলাম খান বারোভূঁইয়াদের দমন করে সমগ্র বাংলা মুঘল অধিকারে আনেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৯৬.
বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমলের সূচনা হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?
  1. ১৩০২
  2. ১৩৩৮
  3. ১৩৪৯
  4. ১৩৫২
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮
ব্যাখ্যা

• বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমলের সূচনা হয় ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে ।

• ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ :
⇒ ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হয়। বাহরাম খানের বর্মরক্ষক ছিলেন 'ফখরা' নামের একজন রাজকর্মচারী। প্রভুর মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং 'ফখরুদ্দিন মুবারকশাহ' নাম নিয়ে সোনারগাঁয়ের সিংহাসনে বসেন। এভাবেই সূচনা হয় বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের।

- তাকে বলা হয় বাংলার প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে। 
- ফখরুদ্দীন ছিলেন জাতিতে তুর্কি এবং খুব সম্ভবত তুর্কিদের কারাউনা গোত্রীয়।
- তিনি ছিলেন দিল্লির তুগলক সুলতানের অধীনে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা (ওয়ালি) বাহরাম খানের সিলাহদার (অস্ত্রাগারের তত্ত্বাবধায়ক)।
- ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন এবং স্বীয় অবস্থান সুদৃঢ় করে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- স্বীয় মুদ্রায় ফখরুদ্দীন আল-সুলতানুল আযম ফখরুদ্দুনিয়া ওয়াদ-দ্বীন আবুল মুজাফফর মুবারক শাহ আল-সুলতান উপাধি গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

৩৯৭.
লক্ষণ মাণিক্য ছিলেন -
  1. ক) রাজপুত রাজা
  2. খ) মুঘল শাসক
  3. গ) সেন শাসক
  4. ঘ) বার ভূঁইয়াদের একজন
সঠিক উত্তর:
ঘ) বার ভূঁইয়াদের একজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বার ভূঁইয়াদের একজন
ব্যাখ্যা
বার ভূঁইয়া
- ‘বার ভূঁইয়া' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ বারো জন প্ৰধান বা বারো জন জমিদার হলেও মূলত বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে শাসন কার্যক্রম পরিচালনাকারী সকল স্বাধীন জমিদারগণই একত্রে ‘বার ভূঁইয়া' নামে পরিচিত ছিলেন।
- বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হলে সুলতানগণ কর্মের পুরস্কার এবং ইজারা দায়িত্ব হিসেবে নানা জায়গীর লাভ করে।
- পরবর্তীকালে রাজস্ব আদায়কারী এ সকল ইজারাদার ও কর্মচারীদের বংশধরগণ জমিদার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- এ জমিদারগণ স্বাধীনভাবে জমিদারী কার্যক্রম পরিচালনাকালে মুঘলদের সাথে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বৈরি সম্পর্ক তৈরি হলেই মূলত এরা ইতিহাসের পাতায় উঁচু স্থান লাভ করে।
বার ভূঁইয়াদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- ঈসা খান, মুসা খান।
- চাঁদ রায় ও কেদার রায়।
- বাহাদুর গাজী।
- সোনা গাজী।
- ওসমান খান।
- লক্ষণ মাণিক্য।
- পরমানন্দ রায়।
- বিনোদ রায়, মধু রায়।
- মুকুন্দরাম, সত্রজিৎ।
- রাজা কন্দর্পনারায়ণ, রামচন্দ্র।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, ওপেন স্কুল।
৩৯৮.
রাজা টোডরমল কে ছিলেন?
  1. আকবরের ধর্মমন্ত্রী
  2. আকবরের অর্থমন্ত্রী
  3. আকবরের সমরমন্ত্রী
  4. আকবরের সভাকবি
সঠিক উত্তর:
আকবরের অর্থমন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকবরের অর্থমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
• আকবর:
- সম্রাট আকবর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।
- ১৫৫৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জালালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবর উপাধি নিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- আকবরের মন্ত্রীসভা:
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আবুল ফজল।
- অর্থমন্ত্রী ছিলেন টোডরমল।
- সেনাপ্রধান ছিলেন মান সিংহ।

• রাজা টোডরমল:
- টোডরমল  চাষের জমি সমূহকে ৪ ভাগে ভাগ করেন।
-  পোলাজ জমি এ সমস্ত জমি প্রতি বছর চাষ করা হত।
- পরাউতি জমি- এ ধরনের জমি একবার চাষের পর উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য কিছুদিন অনাবাদী রাখা হত।
- চাচর জমি এ সমস্ত জমি তিন বা চার বছর পর পর চাষ করা হত।
- বনযার জমি এ ধরনের জমি পাঁচ বছরের জন্য অনাবাদী থাকত।
- প্রথম দুই ধরনের ভূমি থেকে উৎপন্ন শস্যের এক তৃতীয়াংশ ভূমি রাজস্ব হিসেবে গৃহীত হতো। 
- এই ভূমি রাজস্ব নীতি 'যাবতী' বা টোডরমলের 'রায়তওয়ারী' প্রথা নামে পরিচিত। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া, দৈনিক নয়া দিগন্ত।
৩৯৯.
বিখ্যাত তারা মসজিদ নির্মাণ করেন -
  1. মির্জা গোলাপ পীর
  2. মির্জা আহমদ খান
  3. মির্জা গোলাম পীর
  4. মির্জা মোহাম্মদ খান
সঠিক উত্তর:
মির্জা গোলাম পীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মির্জা গোলাম পীর
ব্যাখ্যা

তারা মসজিদ:
- তারা মসজিদ পুরানো ঢাকার আরমানিটোলায় আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত।
- সাদা মার্বেলের গম্বুজের ওপর নীলরঙা তারায় খচিত এ মসজিদ নির্মিত হয় আঠারো শতকের প্রথম দিকে।
- মির্জা গোলাম পীর (মির্জা আহমদ জান) ঢাকার বিখ্যাত ‘তারা মসজিদ’ তৈরি করেন।
- ১৯২৬ সালে, ঢাকার তৎকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ী, আলী জান বেপারী মসজিদটির সংস্কার করেন। সে সময় জাপানের রঙিন চিনি-টিকরি পদার্থ ব্যবহৃত হয় মসজিদটির মোজাইক কারুকাজে।
- মসজিদের বতর্মান দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট (২১.৩৪ মিটার), প্রস্থ ২৬ ফুট (৭.৯৮ মিটার)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

৪০০.
নদীমাতৃক বাংলায় যুদ্ধ জয়ের জন্য সর্বপ্রথম নৌবহর প্রতিষ্ঠা করেন-
  1. ক) মুহম্মদ শিরান খলজি
  2. খ) আলি মর্দান খলজি
  3. গ) নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
  4. ঘ) হুসামউদ্দিন ইওজ খলজি
সঠিক উত্তর:
ঘ) হুসামউদ্দিন ইওজ খলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হুসামউদ্দিন ইওজ খলজি
ব্যাখ্যা
হুসামউদ্দিন ইওজ খলজি নদীমাতৃক বাংলায় যুদ্ধ জয়ের জন্য সর্বপ্রথম নৌবাহিনী গঠন করেন। নিজের নামে মুদ্রাও চালু করেন। তিনি তাঁর পূর্বের শাসক আলি মর্দান খলজির মতো স্বাধীন শাসক ছিলেন। বাংলার মুসলিম রাজ্যকে সুদূঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করেন এবং এই নবগঠিত রাজ্যের সীমানা বিস্তারে অবদান রাখেন ইওজ খলজি। ১২২৭ খ্রিষ্টাব্দে যুবরাজ নাসিরুদ্দিন মাহমুদ লখনৌতি আক্রমণ করলে ইওজ খলজি পরাজিত ও নিহত হন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]