বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মধ্যযুগ ও মুসলিম শাসন

মোট প্রশ্ন৬৩৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মধ্যযুগ ও মুসলিম শাসন

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৬৩৫

২০১.
বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা শশাঙ্ক যে ধর্মের অনুসারী ছিলেন-
  1. বৌদ্ধ
  2. জৈন
  3. হিন্দু
  4. শৈব
সঠিক উত্তর:
শৈব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৈব
ব্যাখ্যা
- বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা শশাঙ্ক শৈব ধর্মের অনুসারী ছিলেন । 
- বিখ্যাত চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং শৈব ধর্মের অনুসারী রাজা শশাঙ্ককে বৌদ্ধধর্ম বিদ্বেষী / বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
- শশাঙ্ক একজন সুশাসক ছিলেন। তার রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদের নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ। তার আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দর গুরুত্ব লাভ করে।

[উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণি]
২০২.
বাংলায় কররানি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. হোসেন খান কররানি
  2. বায়েজীদ খান কররানি
  3. তাজ খান কররানি
  4. দাউদ খান কররানি
সঠিক উত্তর:
তাজ খান কররানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজ খান কররানি
ব্যাখ্যা

কররানি শাসন:
- কররানি উপাধিধারী আফগানরা হচ্ছে একটি আফগান গোত্র।
- কররানীদের আদি নিবাস ছিল আফগানিস্তানের বঙ্গাশ নামক স্থানে। বর্তমানে এটি কুররম নামে অভিহিত।
- পাঠানদের কররানী শাখা আফগানিস্তানে করলানি নামে পরিচিত।
- ১৫৬৪ সালে তাজ খান কররানি বাংলায় কররানি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি এক সময় শেরশাহের অধীনে চাকরি করতেন।
- ১৫৬৫ সালে তিনি বাংলার অধিপতি হওয়ার এক বছরের মধ্যে মারা যান।
- তাঁর ভাই সুলেমান কররানি প্রায় সাত বছর বাংলার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- এই সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করেছিলেন।
- তাঁর আমলে বাংলায় অপেক্ষাকৃত সুশাসন ও শান্তি বিরাজ করেছে।
- সুলায়মান কররানীর জ্যেষ্ঠ পুত্র বায়েজীদ কররানী তাঁর উত্তরাধিকারী হন।
- তিনি তাঁর পিতার নীতি পরিহার করে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- বায়েজীদ কররানী মাত্র অল্প কয়েকমাস বাংলা শাসন করেন।
- ১৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে বায়েজীদের কনিষ্ঠ ভ্রাতা দাউদ কররানীকে বাংলার সিংহাসনে অভিষিক্ত করেন।
- দাউদ তাঁর ভাইয়ের স্বাধীন নীতি অনুসরণ করে নিজের নামে খুৎবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলন করেন।
- ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১২ জুলাই রাজমহলের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। দাউদ কররানী বন্দি হন এবং তাঁকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়।
- দাউদ কররানীর মৃত্যুদন্ডের ফলে বাংলায় স্বাধীন মুসলিম শাসনের অবসান ও মুঘল শাসনের সূচনা হয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

২০৩.
কত বছর বয়সে হযরত মুহাম্মদ (স.) নবুয়ত লাভ করেন?
  1. ক) ৩৩ বছর
  2. খ) ৪০ বছর
  3. গ) ৪৩ বছর
  4. ঘ) ৪৫ বছর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪০ বছর
ব্যাখ্যা
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ২০ এপ্রিল ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখে মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মক্কার হেরা গুহায় গভীর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। ৪০ বছর বয়সে তিনি নবুয়ত প্রাপ্ত হন।
৬২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মদিনা হিজরত করেন। ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি মক্কার কুরাইশদের সাথে বিখ্যাত হুদাইবিয়ার সন্ধি করেন। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে (১২ই রবিউল আউয়াল) তিনি ইন্তেকাল করেন।
(সূত্র: ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা : ষষ্ঠ শ্রেণী)
২০৪.
'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত'- প্রবর্তন করেন -
  1. ক) লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. খ) লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  3. গ) লর্ড ওয়েলেসলি
  4. ঘ) লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
ক) লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত  ১৭৯৩ সালে কর্নওয়ালিস প্রশাসন কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকার ও বাংলার ভূমি মালিকদের মধ্যে সম্পাদিত একটি স্থায়ী চুক্তি।
- এ চুক্তির আওতায় জমিদার উপনিবেশিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ভূ-সম্পত্তির নিরঙ্কুশ স্বত্বাধিকারী হন।
- এটি ছিল ইংরেজদের একটি সাম্রাজ্যবাদী বিধিব্যবস্থা।
- এর মাধ্যমে ইংরেজরা এদেশে তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।
- এক্ষেত্রে তারা অনেক সফলতা লাভ করলেও এ ব্যবস্থার ফলে সাধারণ কৃষক এমনকি অনেক সম্ভ্রান্ত বনেদি জমিদার সর্বশান্ত হয়ে পড়ে।
- অন্যদিকে নগদ টাকার মালিক ও পুঁজিপতি মহাজনরা রাতারাতি জমিদারে পরিণত হয়।
- নব সৃষ্ট এ জমিদার শ্রেণী ইংরেজ শাসনের জন্য একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপনে সহায়ক শক্তির ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৫০ সালে এ ব্যবস্থা উচ্ছেদ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২০৫.
ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি বাংলা জয় করেন কত সালে?
  1.  ১২০১ খ্রিস্টাব্দে
  2.  ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে
  3.  ১২০৯ খ্রিস্টাব্দে
  4.  ১২০৮ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
 ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

• বাংলার ইতিহাস: স্বাধীন সুলতানি আমল (১৩৩৮-১৫৩৮ খ্রি.):
- ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির মাধ্যমে ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়।
- এরপর থেকে রাজা গণেশের স্বল্পকালীন শাসনামল ব্যতীত ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনাধীনে ছিল।
- বখতিয়ারের বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যেসব খলজি মালিক, তুর্কি শাসক ও বলবনী শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন তাদের অনেকেই পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না, বরং তাঁরা দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন।
 - দিল্লি থেকে বাংলা দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় তাঁদের অনেকেই সুযোগ পেলেই স্বাধীনতার জন্য দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। - এজন্য বাংলাকে বুলঘাকপুর বা বিদ্রোহের নগরীও বলা হত।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও-এ স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন।
- তখন থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় দু'শ বছর ধরে বাংলাদেশ অবিচ্ছিন্নভাবে স্বাধীনতা ভোগ করেছিল।
- বাংলার এই স্বাধীন সুলতানি যুগে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ, ইলিয়াস শাহী বংশ, রাজা গণেশের বংশ, হাবশি সুলতান এবং পরবর্তীতে হোসেন শাহী বংশের শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন।
- তাই দু'শ বছরের এ স্বাধীন যুগটিকে বাংলার গৌরবময় যুগ বলা হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৬.
আদিনা মসজিদ কোন শাসকের সময় নির্মিত?
  1. ইলিয়াস শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
  4. সিকান্দর শাহ
সঠিক উত্তর:
সিকান্দর শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দর শাহ
ব্যাখ্যা

সিকান্দর শাহ:
- ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সিকান্দর শাহ ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি প্রায় ৩৪ বছর রাজত্ব করেন।
- তাঁর এ সুদীর্ঘ রাজত্বকালে বাংলাদেশে মুসলিম শাসন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- সিকান্দর শাহ সুশাসক ও বিদ্যানুরাগী ছিলেন। 
- সুফি শেখ আলাউল হক ও শেখ শরফউদ্দীন ইয়াহিয়ার সাথে সিকান্দর শাহের সৌহার্দ্য ও পত্রালাপ ছিল।
- তাঁর রাজত্বকালে স্থাপত্যশিল্পের যথেষ্ট উন্নতি হয়।
- তাঁর সময় তৈরি আদিনা মসজিদ মধ্যযুগের বাংলার স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৭.
মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে কাকে?
  1. সিকান্দার শাহ
  2. আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
  3. ইলিয়াস শাহ
  4. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা
সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত।
- তিনি বাংলার আকবর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব “বৈষ্ণব ধর্ম” প্রচার করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
⇒ ছোট সোনা মসজিদ ‘সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন’ বলে আখ্যায়িত।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।

⇒ তার শাসনামলে বাংলার সালতানাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে।
- হুসেন শাহ কামরূপ ও কামতা জয় করেন।
- ঊড়িষ্যা এবং ত্রিপুরার কিছু অংশ তার শাসনাধীন আসে।
- এছাড়া তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে 'নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।

⇒ তিনি হিন্দু-মুসলমান সম্প্রতি স্থাপনের জন্য প্রচেষ্টা চালান, যা তৎকালীন সমাজজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।
- হুসেন শাহ সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তার শাসনামলে বাংলা সাহিত্যের ব্যাপক উন্নতি ঘটে।
- তার সময়ের বিখ্যাত কবিদের মধ্যে ছিলেন রূপ গোস্বামী, মালাধর বসু, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, এবং পরাগল খান।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২০৮.
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয় কবে?
  1. ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১২০১ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১২০৪ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০৪ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
- তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করার মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম/তুর্কি শাসনের সূত্রপাত ঘটে।
- ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের পূর্বপর্যন্ত বাংলায় মুসলিম শাসন অব্যাহত ছিলো।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২০৯.
বাংলার প্রথম রাজা কে ছিলেন?
  1. ক) শশাঙ্ক
  2. খ) গোপাল
  3. গ) লক্ষ্মণ সেন
  4. ঘ) ধর্মপাল
সঠিক উত্তর:
ক) শশাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা। তিনি নিজেকে গৌড়েশ্বর পরিচয় দিতেন। শশাঙ্ক একজন সুশাসক ছিলেন। তার রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদের নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ। তার আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দর গুরুত্ব লাভ করে। বিখ্যাত চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং শৈব ধর্মের অনুসারী রাজা শশাঙ্ককে বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম-দশম শ্রেণি
২১০.
বাংলাকে ‘বুলগাকপুর’ হিসেবে সম্বোধন করার কারণ ছিল-
  1. ক) বিচিত্র সৌন্দর্য্য
  2. খ) ধন সম্পদপূর্ণ স্থান
  3. গ) বিদ্রোহের নগরী
  4. ঘ) অনেকগুলো নদী থাকার কারণে
সঠিক উত্তর:
গ) বিদ্রোহের নগরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিদ্রোহের নগরী
ব্যাখ্যা
বাংলা প্রদেশ সর্বদাই দিল্লি সুলতানদের মাথা ব্যাথার কারণ ছিল। কেন্দ্রীয় শক্তির দুর্বলতা এবং বাংলার স্বতন্ত্র ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলার শাসকগণ সুযোগ পেলেই কেন্দ্রীয় শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে উঠতেন। যে কারণেই বাংলাকে বলা হত বিদ্রোহীর নগরী বা বুলগাকপুর। ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী এই নাম দিয়েছিলেন। [সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)]
২১১.
ঢাকা শহরের গোড়াপত্তন হয়-
  1. ক) বিট্রিশ আমলে
  2. খ) মুঘল আমলে
  3. গ) সুলতানা আমলে
  4. ঘ) নবাবী আমলে
সঠিক উত্তর:
খ) মুঘল আমলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুঘল আমলে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মোঘল-পূর্ব যুগে কিছু গুরুত্বধারন করলেও শহরটি ইতিহাসে প্রসিদ্ধি লাভ করে মোঘল যুগে।
• আকবর নামা গ্রন্থে ঢাকা একটি থানা (সামরিক ফাঁড়ি) হিসেবে এবং আইন-ই- আকবরী গ্রন্থে সরকার বাজুহার একটি পরগনা হিসেবে ঢাকা বাজু উল্লিখিত হয়েছে।
• ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ইসলাম খান চিশতি সুবাহ বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে এর নামকরণ করে জাহাঙ্গীরনগর।
• প্রশাসনিকভাবে জাহাঙ্গীরনগর নামকরণ হলেও সাধারণ মানুষের মুখে ঢাকা নামটিই থেকে যায়। সকল বিদেশী পর্যটক এবং বিদেশী কোম্পানির কর্মকর্তারাও তাদের বিবরণ এবং চিঠিপত্রে ঢাকা নামটি ব্যবহার করেন।
• ঢাকার সমৃদ্ধি ও স্থাপত্য সমূহ মূলত মোঘল যুগেই শুরু হয়।

তথ্যসূত্র: ঢাকা জেলার ওয়েবসাইট ও মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই।
২১২.
কার পৃষ্ঠোপাষকতায় 'নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়' জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠে?
  1. ক) দেবপাল
  2. খ) ধর্মপাল
  3. গ) বিগ্রহ পাল
  4. ঘ) নারায়ণপাল
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্মপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্মপাল
ব্যাখ্যা

ভারতের বিহারে অবস্থিত নালন্দা মহাবিহার প্রাচীন ভারতের একটি বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র। এটিকে পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় বিবেচনা করা হয়।
বাঙালি বৌদ্ধ পণ্ডিত শীলভদ্র ৬৩৫ সালে নালন্দা মহাবিহারের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ শীলভদ্রের নিকট শিক্ষা লাভ করেন।
বাংলার পাল রাজগণ নালন্দার প্রতি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত রাখেন। এটি পরিচালনার ক্ষেত্রে ধর্মপাল বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য আরেক পাল রাজা 'দেবপাল' বৌদ্ধ মঠ নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

২১৩.
তারা মসজিদের নির্মাতা কে?
  1. ইসা খান
  2. নবাব সলিমুল্লাহ
  3. মির্জা গোলাম পীর
  4. শাহ সুজা
সঠিক উত্তর:
মির্জা গোলাম পীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মির্জা গোলাম পীর
ব্যাখ্যা

তারা মসজিদ:
- তারা মসজিদ পুরানো ঢাকার আরমানিটোলায় আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত।
- সাদা মার্বেলের গম্বুজের ওপর নীলরঙা তারায় খচিত এ মসজিদ নির্মিত হয় আঠারো শতকের প্রথম দিকে।
- মির্জা গোলাম পীর (মির্জা আহমদ জান) ঢাকার বিখ্যাত ‘তারা মসজিদ’ তৈরি করেন।
- ১৯২৬ সালে, ঢাকার তৎকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ী, আলী জান বেপারী মসজিদটির সংস্কার করেন। সে সময় জাপানের রঙিন চিনি-টিকরি পদার্থ ব্যবহৃত হয় মসজিদটির মোজাইক কারুকাজে।
- মসজিদের বতর্মান দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট (২১.৩৪ মিটার), প্রস্থ ২৬ ফুট (৭.৯৮ মিটার)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

২১৪.
ছোট সোনা মসজিদ কে নির্মাণ করেন?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. মীর জুমলা
  3. শায়েস্তা খান
  4. শাহ সুজা
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ:
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত।
- তিনি বাংলার আকবর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব “বৈষ্ণব ধর্ম” প্রচার করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
⇒ ছোট সোনা মসজিদ ‘সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন’ বলে আখ্যায়িত।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।

⇒ তার শাসনামলে বাংলার সালতানাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে।
- হুসেন শাহ কামরূপ ও কামতা জয় করেন।
- ঊড়িষ্যা এবং ত্রিপুরার কিছু অংশ তার শাসনাধীন আসে।
- এছাড়া তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে 'নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।

⇒ তিনি হিন্দু-মুসলমান সম্প্রতি স্থাপনের জন্য প্রচেষ্টা চালান, যা তৎকালীন সমাজজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।
- হুসেন শাহ সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তার শাসনামলে বাংলা সাহিত্যের ব্যাপক উন্নতি ঘটে।
- তার সময়ের বিখ্যাত কবিদের মধ্যে ছিলেন রূপ গোস্বামী, মালাধর বসু, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, এবং পরাগল খান।

অন্যদিকে,
- লালবাগ কেল্লা নির্মাণ করেন শায়েস্তা খান।
- ঢাকায় ‘বড় কাটরা’ নির্মাণ করেন শাহ সুজা।
- 'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২১৫.
প্রতাপ আদিত্য কে ছিলেন?
  1. ক) বাংলার বারো ভুঁঞাদের একজন
  2. খ) রাজপুত রাজা
  3. গ) বাংলার শাসক
  4. ঘ) মোগল সেনাপতি
সঠিক উত্তর:
ক) বাংলার বারো ভুঁঞাদের একজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাংলার বারো ভুঁঞাদের একজন
ব্যাখ্যা
বাংলার ইতিহাসে ষোড়শ শতক থেকে সপ্তদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলায় যেসব বড় বড় জমিদার মুঘলদের অধীনতা মেনে নেননি এবং শক্তিশালী সৈন্য ও নৌ-বহর নিয়ে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একজোট হয়ে মুঘল সেনাপতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন তারাই বাংলার ইতিহাসে 'বারো ভুঁইয়া' নামে পরিচিত।

যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য বারো ভুঁইয়াদের মধ্যে সর্বাধিক সম্পদশালী ও প্রভাবশালী ছিলেন।

১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতাপের ক্ষমতা ও খ্যাতি পুরো ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল।
বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন সোনার গাঁয়ের জমিদার ঈসা খাঁ।
তার মৃত্যুর পর মোগলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ স্তিমিত হয়ে যায়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
২১৬.
বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক কে ছিলেন?
  1. গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ
  2. নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
  3. জালালউদ্দিন মাহমুদ
  4. সিরাজউদ্দিন মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
ব্যাখ্যা
তুর্কি শাসন:
- ১২২৭ থেকে ১২৮১ সাল পর্যন্ত তেমন ১৫ জন তুর্কি শাসক বাংলা শাসন করেছিলেন।
- বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন নাসিরুদ্দিন মাহমুদ।
- এ সময় থেকে বাংলার শাসনকর্তারা দিল্লির সুলতানদের কাছ থেকে নিয়োগ লাভ করে এখানকার শাসক হতেন।
- বাংলায় দিল্লির অনুগত কোনো শাসনই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং দিল্লির মনোনীত তুর্কি শাসকরাই একের পর এক বিরোধিতা অব্যাহত রাখেন।
- দিল্লির শাসকরা যেমন, ইলতুতমিশ, বলবন, গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ও মুহাম্মদ বিন তুঘলক বাংলার শাসকদেরকে প্রতিহত করতে একের এর এক অভিযান চালিয়ে বিদ্রোহ দমন করেন।
- দিল্লির শাসনকালে বাংলায় বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ লেগেই ছিল।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বাংলার তৎকালীন স্বাধীন শাসক তুগ্রিল খানকে দমনের জন্য নিজেই আক্রমণ করেন।যুদ্ধে তুগ্রিল খান নিহত হন। ফলে বাংলা দিল্লির শাসনাধীন হয়।
- ১২৮৭ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মারা গেলে বঘরা খান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ নাম ধারণ করে ১২৯০ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৩২৫ সালে দিল্লির শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বাংলা অধিকার করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৭.
'পানিপথ প্রান্তর' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মুলতানের অদূরে
  2. খ) দিল্লির অদূরে
  3. গ) পেশোয়ারের অদূরে
  4. ঘ) তুর্কির অদুরে
সঠিক উত্তর:
খ) দিল্লির অদূরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দিল্লির অদূরে
ব্যাখ্যা
- ভারতবর্ষে বাবুরের প্রাথমিক বিজয় তাঁকে দিল্লীর সিংহাসন দখলের জন্য উৎসাহিত করে।
- সে লক্ষে তিনি দিল্লীর অদূরে ঐতিহাসিক পানিপথ প্রান্তরে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে ১২ এপ্রিল দিল্লীর লোদী বংশের শেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদীর সাথে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হন।
- বাবুর তাঁর আজীবনী তুযুক-ই-বাবুরী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এ সময়ে তাঁর সাথে বার হাজার সৈন্য ছিল।
- তাঁর জ্যৈষ্ঠপুত্র হুমায়ুনও তাঁর সাথে যোগদান করেন।
- এ যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ।
- পানিপথ প্রান্তরে বাবুর প্রতিরক্ষা কৌশল হিসেবে পরিখা খনন করেন এবং কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন।
- এ যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী প্রাণপণ যুদ্ধ করেও পরাজিত ও নিহত হন।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৮.
পদ্মা ও ভাগিরথী নদীর মধ্যবর্তী স্থানে কোন রাজ্যের অবস্থান ছিলো?
  1. ক) সমতট
  2. খ) বরেন্দ্র
  3. গ) হরিকেল
  4. ঘ) গঙ্গারিডি
সঠিক উত্তর:
ঘ) গঙ্গারিডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গঙ্গারিডি
ব্যাখ্যা
পদ্মা ও ভাগীরথী নদীর মধ্যবর্তী স্থানে গঙ্গারিডই নামক রাজ্যের অবস্থান ছিলো। আলেকজান্ডার কর্তৃক ভারত আক্রমণের সময় এ রাজ্য অস্তিত্বশীল ছিলো বলে অনুমান করা হয়। একই সময়ে প্রাসিয়র নামে আরেকটি রাজ্যেরও অস্তিত্ব ছিলো। হরিকেল জনপদ সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত, সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল এবং বরেন্দ্র জনপদ বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২১৯.
মহাস্থানগড় কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. গঙ্গা
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. করতোয়া
  4. মহানন্দা
সঠিক উত্তর:
করতোয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করতোয়া
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কি.মি উত্তরে মহাস্থান গড় অবস্থিত।
- মহাস্থানগড় বগুড়ায় জেলার করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রাচীন পর্যটন কেন্দ্র। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২২০.
'ষাট গম্বুজ মসজিদ' কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. খান জাহান আলী
  2. শাহ বায়েজীদ বোস্তামী
  3. সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. শাহ মখদুম রূপোশ
সঠিক উত্তর:
খান জাহান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খান জাহান আলী
ব্যাখ্যা

ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- এটি বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত।
- ১৫ শতকের দিকে খান জাহান আলী ঐতিহাসিক মসজিদের শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ষাট গম্বুজ মসজিদটিতে ৮১ টি গম্বুজ রয়েছে।
- মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে বাইরের দিকে প্রায় ১০৪ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ৮৮ ফুট চওড়া।
- দেয়ালগুলো প্রায় ৮·৫ ফুট পুরু।
- এ বিশাল মসজিদের চতুর্দিকে প্রাচীর ৮ফুট চওড়া, এর চার কোনে চারটি মিনার আছে।
- মসজিদটি ছোট ইট দিয়ে তৈরী, এর দৈর্ঘ্য ১৬০ফুট, প্রস্থ ১০৮ ফুট, উচ্চতা ২২ফুট।
- মসজিদের পশ্চিম দিকে প্রধান মেহরাবের পাশে একটি দরজাসহ মোট ২৬টি দরজা আছে।
- ইউনেস্কো এ মসজিদটি বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছে।

তথ্যসূত্র - প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

২২১.
বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয় কবে?
  1. ক) ৬২৪ সালে
  2. খ) ৬২৫ সালে
  3. গ) ৬২৭ সালে
  4. ঘ) ৬৩১ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ৬২৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬২৪ সালে
ব্যাখ্যা
ইসলামের ইতিহাসে বদর যুদ্ধ হলো মুসলমান ও অবিশ্বাসীদের মধ্যে সংঘটিত প্রথম যুদ্ধ বা সামরিক সংঘর্ষ। ৬২৪ সালে মদিনার অদূরে বদর নামক স্থানে মক্কার কুরাইশ বাহিনীর সাথে মুসলমানদের বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী জয় লাভ করে।
৬২৫ সালে উহুদের যুদ্ধ, ৬২৭ সালে খন্দকের যুদ্ধ এবং ৬৩১ সালে তাবুকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস ১মপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২২২.
বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন কে?
  1. ক) ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. খ) লর্ড ওয়েলেসলি
  3. গ) লর্ড ক্যানিং
  4. ঘ) লর্ড কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
ঘ) লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২২৩.
বারো ভূঁইয়ার প্রধান কে ছিলেন?
  1. ঈশা খাঁ
  2. শের খান
  3. জাহাঙ্গীর খাঁ
  4. ইসলাম খান
সঠিক উত্তর:
ঈশা খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশা খাঁ
ব্যাখ্যা
বারো ভূঁইয়া:
- বাংলায় কররানী বংশের রাজত্ব দুর্বল হয়ে পড়লে বাংলার সোনারগাঁ, খুলনা, বরিশাল প্রভৃতি অঞ্চলে কিছুসংখ্যক জমিদার স্বাধীন রাজার মতো রাজত্ব শুরু করে।
- ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবর পশ্চিম বাংলা ও উত্তর বাংলার অধিকাংশই দখল করে নেন। 
- এক দল জমিদার বা ভূস্বামী একযোগে পূর্ব বাংলার ওপর মোগল আক্রমণ প্রতিহত করেন। এরাই বারো ভূঁইয়া নামে পরিচিত।
- বারো ভূঁইয়াদের মধ্যে সোনারগাঁওয়ের ঈশা খাঁ ছিলেন সর্বাধিক প্রভাবশালী।
- বারো ভূঁইয়াদের প্রধান ছিলেন ঈশা খাঁ।
- আকবরের সেনাপতি মানসিংহ বারবার চেষ্টা করেও ঈশা খাঁকে পরাজিত করতে পারেননি।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসন আমলেও বারো ভূঁইয়ারা মোগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

উল্লেখযোগ্য বারো ভূঁইয়া:
⇒ বারো ভূঁইয়াদের মধ্যে সোনারগাঁও এর ঈসা খাঁ ও তার পুত্র মুসা খাঁ, যশোহরের প্রতাপদিত্য, বিক্রমপুরের কেদার রায় ও চাঁদ রায়, বরিশালের কন্দর্প নারায়ণ, ফরিদপুরের মুকুন্দ রাম রায়, নোয়াখালীর লক্ষণ মাণিক্য, নাটোরের কংস নারায়ণ, বাকুড়ার বীর হাম্মীর, ভাওয়ালের ফজল গাজী, চন্দ্রপ্রতাপের চাঁদ গাজ, পুটিয়ার পীতাম্বর রায় এবং দিনাজপুরের প্রমথ রায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এছাড়াও বাহাদুর গাজী, সোনা গাজী, ওসমান কান, রাজা ছত্রজিৎ ও রাজা অনন্ত মাণিক্যও বারো ভূঁইয়াদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

ইসলাম খানের আগমন:
- ১৬০৮ সালে ইসলাম খান বাংলার সুবাদার হয়ে আসেন।
- তার মূল লক্ষ্য ছিল বারো ভূঁইয়াদের দমন করে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
বারো ভূঁইয়াদের পতন:
- বারো ভূঁইয়ারা পরবর্তীতে ইসলাম খানের নেতৃত্বে মুঘল সেনাবাহিনীর হাতে পরাজিত হন।
- মুঘল শাসনের বশ্যতা স্বীকারের মাধ্যমে বাংলায় মুঘল শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: i) বাংলাপিডিয়া।
              ii) ইতিহাস, এসএএস এইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৪.
বাগেরহাট জেলা কার শাসনামলে 'খলিফাত-ই-আবাদ' নামে পরিচিত লাভ করে?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. সুলতান নুসরত শাহ
  3. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
  4. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
সঠিক উত্তর:
নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কূল ঘেষে বাগেরহাট জেলার অবস্থান।
বাংলার শাসক যখন নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ(১৪৪২-১৪৫৯) তখন হযরত খানজাহান(রঃ) এ অঞ্চল আবাদ করে নামকরণ করলেন ‘‘খলিফাত-ই-আবাদ’’ বা প্রতিনিধির অঞ্চল। মানুষের কল্যাণে তিনি তৈরী করলেন ষাটগম্বুজসহ অসংখ্য মসজিদ, দীঘি, রাসত্মা ও পত্তন করলেন অগণিত হাট-বাজার। হযরত খানজাহান(রঃ) এর আগমনকাল না জানা গেলেও এ সাধক পুরম্নষ পঞ্চদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বহু ধর্মপ্রাণ অনুসারিদের সাথে নিয়ে যশোর জেলার বার বাজার হয়ে ভৈরব নদী অতিক্রম করে বাগেরহাট পৌঁছান।

উৎস: বাগেরহাট জেলা ওয়েবসাইট।
২২৫.
বখতিয়ার খলজি বাংলার কোন রাজাকে পরাজিত করেন?
  1. দীনেশ্বর সেন
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. কেশব সেন
  4. সীতাল সেন
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মণ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্মণ সেন
ব্যাখ্যা
- বখতিয়ার খলজি লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া দখল করেন।

ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি:
- বখতিয়ার খলজী ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি।
- তিনি আফগানিস্তানের গরমশির এলাকার অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি তুর্কীদের খিলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি দ্বাদশ শতাব্দীতে ভারতবর্ষে আসেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- উল্লেখ্য, পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।
- ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়।
- তিনি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- তিনি স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- বাংলা জয় করেন ১৩ শতকে।
- ১২০৬ সালে বখতিয়ার খিলজী ইহলোক ত্যাগ করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলার ইতিহাস; সুলতানি আমল: আব্দুল করিম।
২২৬.
‘পরী বিবি’ কে ছিলেন?
  1. আওরঙ্গজেবের কন্যা।
  2. শায়েস্তা খাঁনের কন্যা।
  3. মুর্শিদকুলি খাঁনের কন্যা।
  4. আওরঙ্গজেবের স্ত্রী।
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খাঁনের কন্যা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খাঁনের কন্যা।
ব্যাখ্যা
পরী বিবি:

- তিনি বাংলার মুগল সুবাহদার শায়েস্তা খান এর কন্যা।
-বাদশাহ আওরঙ্গজেব এর পুত্র মুহম্মদ আজম এর স্ত্রী।
- বাংলাদেশ সরকারের কাটরার ওয়াকফ পরিদপ্তরে সংরক্ষিত শায়েস্তা খানের নিজস্ব অছিয়তনামা থেকেই শায়েস্তা খানের কন্যা হিসেবে বিবি পরীকে (ইরান দুখত্ রহমত বানু) চিহ্নিত করা যায়।
- লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে মসজিদের পূর্ব দিকে বিবি পরীকে সমাহিত করা হয়। শায়েস্তা খান কন্যার সমাধির উপর একটি সুদৃশ্য সৌধ নির্মাণ করেন।

তথ্যসুত্র- বাংলাপিডিয়া।
২২৭.
বাংলায় মুসলমান শাসকদের মধ্যে কে সর্বপ্রথম নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেছিলেন?
  1. ক) আলী মর্দান খলজি
  2. খ) গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি
  3. গ) মুহম্মদ শিরান খলজি
  4. ঘ) আলাউদ্দিন জানি
সঠিক উত্তর:
খ) গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি
ব্যাখ্যা
গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি ১২১২ থেকে ১২২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছর স্বাধীন সুলতান হিসেবে বাংলা শাসন করেন।
তিনিই সর্বপ্রথম বাংলায় নৌবাহিনী গঠন করেন। নিজের নামে মুদ্রা চালু করেন।
তিনি তাঁর পূর্বের শাসক আলি মর্দান খলজির মতো স্বাধীন শাসক ছিলেন।
১২২৭ খ্রিষ্টাব্দে যুবরাজ নাসিরুদ্দিন মাহমুদ লখনৌতি আক্রমণ করলে ইওজ খলজি পরাজিত ও নিহত হন।
[সূত্রঃ নবম-দশম শ্রেণি (বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)]
২২৮.
আদিনা মসজিদ কোন শাসকের সময় নির্মিত হয়?
  1. সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  2. সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  3. সুলতান সিকান্দার শাহ
  4. সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
সঠিক উত্তর:
সুলতান সিকান্দার শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতান সিকান্দার শাহ
ব্যাখ্যা

⇒ আদিনা মসজিদ সুলতান সিকান্দার শাহ এর সময় নির্মিত হয়।

⇒ সিকান্দর শাহ:

- ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সিকান্দর শাহ ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি প্রায় ৩৪ বছর রাজত্ব করেন।
- তাঁর এ সুদীর্ঘ রাজত্বকালে বাংলাদেশে মুসলিম শাসন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- সিকান্দর শাহ সুশাসক ও বিদ্যানুরাগী ছিলেন। 
- সুফি শেখ আলাউল হক ও শেখ শরফউদ্দীন ইয়াহিয়ার সাথে সিকান্দর শাহের সৌহার্দ্য ও পত্রালাপ ছিল।
- তাঁর রাজত্বকালে স্থাপত্যশিল্পের যথেষ্ট উন্নতি হয়।

⇒ আদিনা মসজিদ:
- আদিনা মসজিদ পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার হযরত পান্ডুয়া বা ফিরুজাবাদে অবস্থিত।
- এটি ১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে ইলিয়াস শাহের পুত্র সিকান্দর শাহ কর্তৃক নির্মিত হয়।
- এটি তৎকালীন সময়ে বাংলা তথা সমগ্র উপমহাদেশের বৃহত্তম মসজিদ ছিল।
- মসজিদের বাইরের আয়তন প্রায় ১৫৫ মি × ৮৭ মি এবং ভেতরের ১২২ মি × ৪৬ মি।
- বর্তমানে এটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় রয়েছে, শুধু পশ্চিম দেয়ালের কিছু অংশ টিকে আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

২২৯.
সর্বপ্রথম ‘পাট্টা’ (ভূমি স্বত্বের দলিল) ও ‘কবুলিয়াত’ (চুক্তি দলিল) প্রথা চালু করেন-
  1. ক) হুসেন শাহ
  2. খ) মুহম্মদ খান
  3. গ) শের শাহ
  4. ঘ) জালাল খাঁ
সঠিক উত্তর:
গ) শের শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শের শাহ
ব্যাখ্যা
শূর শাসনের সূচনা করেন আফগান শাসক শের শাহ। তিনি ১৫৩৮ সালে বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
চৌসা (১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দ) ও কণৌজের (১৫৪০ খ্রিস্টাব্দ) যুদ্ধে শের শাহ মুঘল সম্রাট হুমায়ূনকে পরাজিত করে দিল্লীর সিংহাসন দখল করেন।
শের শাহের আমলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হচ্ছে -
- শের শাহ বাংলায় ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থার প্রচলন করেন।
- তিনি ‘দাম’ নামক মুদ্রার প্রচলন করেন।
- সড়ক-ই-আজম বা বিখ্যাত গ্রান্ড ট্রাংক রোডের নির্মাতা তিনি।
- পাট্টা ও কবুলিয়াত প্রথা চালু করেন শের শাহ।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]
২৩০.
দিল্লি সালতানাত বিলুপ্ত হয়-
  1. ক) ১৫২৪
  2. খ) ১৫২৭
  3. গ) ১৫২৮
  4. ঘ) ১৫২৬
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫২৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫২৬
ব্যাখ্যা

- ইব্রাহিম লোদীর উদ্ধত আচরণ ও কঠোর দমন নীতির ফলে অসন্তুষ্ট আফগান অভিজাত শ্রেণি, পাঞ্জাবের শাসনকর্তা দৌলত খান লোদী এবং ইব্রাহীম লোদীর পিতৃব্য আলম খান এবং রাজপুতনার মেবারের রানা সংগ্রাম সিংহ কাবুলের অধিপতি জহিরুদ্দীন মুহম্মদ বাবরকে ভারত আক্রমণের আহ্বান জানান।
- উচ্চাভিলাষী এবং সাম্রাজ্যবাদী বাবর এই আহবানে সাড়া দিয়ে ভারত আক্রমণ করেন।
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত ঐতিহাসিক পানিপথের প্রথম যুদ্ধে লোদী বংশের সর্বশেষ শাসক ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে দিল্লি সালতানাতের পতন ঘোষণা করেন এবং ভারতর্ষে মুঘল শাসনের গোড়াপত্তন করেন।

তথ্যসূত্র: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র , একাদশ - দ্বাদশ (উন্মুক্ত)।

২৩১.
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত করেন কে?
  1. ক) মুহম্মদ ঘুরি
  2. খ) বখতিয়ার খলজী
  3. গ) ইলিয়াস শাহ
  4. ঘ) মুহম্মদ বিন কাসিম
সঠিক উত্তর:
খ) বখতিয়ার খলজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বখতিয়ার খলজী
ব্যাখ্যা
ত্রয়োদশ শতকে ১২০৪ সালে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি কর্তৃক নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়।
- ১২০৪ সালে বখতিয়ার খলজি বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- উত্তর আফগানিস্তানের গরমশির (আধুনিক দস্ত-ই-মার্গ) এলাকার বাসিন্দা ইখতিয়ারউদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজী তুর্কি জাতির খলজী সম্প্রদায়র্ভুক্ত ছিলেন। 
- বখতিয়ার খলজী স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে তিনি গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন। পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩২.
নবগঠিত পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর ছিলেন কে?
  1. ক) ফ্রেডেরিক বারোজ
  2. খ) ব্যামফিল্ড ফুলার
  3. গ) ক্রিস্টোফার ক্রিপস
  4. ঘ) পেথিক লরেন্স
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যামফিল্ড ফুলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যামফিল্ড ফুলার
ব্যাখ্যা
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জলপাইগুড়ি, মালদহ, পার্বত্য ত্রিপুরা ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠিত হয়।
এর প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিযুক্ত হন স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার। তিনি ১৯০৬ সালের ২০ আগস্ট লেফটেন্যান্ট গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী ছিলো ঢাকা। কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতার কারণে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
২৩৩.
প্রতাপ আদিত্য কে ছিলেন?
  1. বাংলার বারো ভূঁইয়াদের একজন
  2. রাজপুত রাজা
  3. বাংলার শাসক
  4. মোগল সেনাপতি
সঠিক উত্তর:
বাংলার বারো ভূঁইয়াদের একজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলার বারো ভূঁইয়াদের একজন
ব্যাখ্যা
বারো ভূঁইয়া:
- বাংলায় কররানী বংশের রাজত্ব দুর্বল হয়ে পড়লে বাংলার সোনারগাঁ, খুলনা, বরিশাল প্রভৃতি অঞ্চলে কিছুসংখ্যক জমিদার স্বাধীন রাজার মতো রাজত্ব শুরু করে।
- ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবর পশ্চিম বাংলা ও উত্তর বাংলার অধিকাংশই দখল করে নেন।
- এক দল জমিদার বা ভূস্বামী একযোগে পূর্ব বাংলার ওপর মোগল আক্রমণ প্রতিহত করেন।
- এরাই বারো ভূঁইয়া নামে পরিচিত।
- বারো ভূঁইয়াদের প্রধান ছিলেন ঈশা খাঁ।
- আকবরের সেনাপতি মানসিংহ বারবার চেষ্টা করেও ঈশা খাঁকে পরাজিত করতে পারেননি।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসন আমলেও বারো ভূঁইয়ারা মোগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

⇒ বারো-ভূঁইয়া শব্দটির অর্থ বারোজন ভূঁইয়া।
- প্রকৃতপক্ষে বাংলায় আফগান শাসনামল ও মুগল শক্তির উত্থানের মধ্যবর্তী সময়ে এদেশের বিভিন্ন এলাকা বহু সামরিক প্রধান, ভূঁইয়া এবং জমিদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
- তারা কখনও যৌথভাবে এবং বেশিরভাগ সময় পৃথকভাবে মুগল আগ্রাসন প্রতিহত করেছিলেন এবং স্বাধীন বা অর্ধ-স্বাধীন শাসকরূপে তাঁদের নিজ নিজ এলাকা শাসন করেছিলেন।
- এ অবস্থায় বহু ভূঁইয়া বিদ্রোহ করেছিলেন।
- তবে শেষ পর্যন্ত বারো ভূঁইয়াগণ মুঘল সুবাদার ইসলাম খানের হাতে পরাজিত হন এবং মুঘল বশ্যতা স্বীকার করেন।
- ফলে বাংলায় মুঘল শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য বারো ভুঁইয়াদের মধ্যে সর্বাধিক সম্পদশালী ও প্রভাবশালী ছিলেন। ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতাপের ক্ষমতা ও খ্যাতি পুরো ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএএস এইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২৩৪.
'এলাহাবাদ চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮৯৫ সালে
  2. খ) ১৮৬৫ সালে
  3. গ) ১৭৯৩ সালে
  4. ঘ) ১৭৬৫ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭৬৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
• এলাহাবাদ চুক্তি:
- ১২ আগস্ট, ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে এলাহাবাদের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- সম্রাট আলমগীরের পুত্র মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম, বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভের হাতে একটি চুক্তিপত্র তুলে দিয়েছিলেন যা ইতিহাসে এলাহাবাদ চুক্তি হিসেবে পরিচিত।
- এলাহাবাদ চুক্তি অনুসারে (১৭৬৫) শাহ আলম বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বা দিউয়ানি প্রদান করেন।
- কোম্পানি কোরা ও এলাহাবাদকে বাদশাহর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্মত হয়।    

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যাল।
২৩৫.
নিচের কোন শাসক 'নৃপতি তিলক' উপাধি লাভ করেন?
  1. আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
  2. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  3. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
  4. নাসিরউদ্দীন নুসরত শাহ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৬.
সম্রাট আকবরের শাসনব্যবস্থার কোন দিকগুলো 'আইন-ই-আকবরী' গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?
  1. ক) সরকার ব্যবস্থা
  2. খ) বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ
  3. গ) বহুবিধ প্রশাসনিক বিভাগ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
আইন-ই-আকবরী
• আইন-ই-আকবরী মুগল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
• সুষ্ঠু প্রশাসন প্রবর্তন ও কার্যকর করার জন্য সম্রাট আকবর যে আইন ও নীতি প্রবর্তন করেন তা আইন-ই-আকবরীতে উল্লিখিত হয়েছে।
• এটি একটি প্রবিধানপূর্ণ প্রশাসনিক সারগ্রন্থ এবং একটি আধুনিক গেজেটিয়ার এর সমতুল্য।
• আকবরনামার অংশবিশেষ হলেও আইন-ই-আকবরী এককভাবেই এক পূর্ণাঙ্গ প্রন্থ।
• আইন-ই-আকবরীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সম্রাট আকবরের সরকার ব্যবস্থা, এর বহুবিধ প্রশাসনিক বিভাগ, বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ প্রভৃতি।
• আইন-ই-আকবরীর আরেকটি তাৎপর্যতম অধ্যায় হল মুগল সাম্রাজ্যের ভৌগোলিক সমীক্ষা এবং বাংলাসহ প্রতিটি প্রদেশের পরিসংখ্যানগত বিবরণ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩৭.
বারো ভূঁইয়া কাদের বলা হত?
  1. দিল্লীর ১২জন বাদশাহ
  2. সুলতানী আমলের ১২ জন সেনাপতি
  3. মোগল আমলের ১২ জন সেনাপতি
  4. বড় বড় স্বাধীন জমিদার
সঠিক উত্তর:
বড় বড় স্বাধীন জমিদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড় বড় স্বাধীন জমিদার
ব্যাখ্যা
বারো ভূঁইয়া:
- সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে বাংলার স্থানীয় প্রধান ও জমিদার মুগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। 
- প্রকৃতপক্ষে বাংলায় আফগান শাসনামল ও মুগল শক্তির উত্থানের মধ্যবর্তী সময়ে এদেশের বিভিন্ন এলাকা বহু সামরিক প্রধান, ভূঁইয়া এবং জমিদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
- তারা কখনও যৌথভাবে এবং বেশিরভাগ সময় পৃথকভাবে মুগল আগ্রাসন প্রতিহত করেছিলেন এবং স্বাধীন বা অর্ধ-স্বাধীন শাসকরূপে তাঁদের নিজ নিজ এলাকা শাসন করেছিলেন।
- বারো ভূঁইয়া বলা হত বাংলার বড় বড় স্বাধীন জমিদারকে।
- বারো ভূঁইয়া বলতে বারজন প্রসিদ্ধ ভূ-স্বামী বুঝালেও আসলে এসব জমিদারদের সংখ্যা ছিল অনেক।

এছাড়াও,
- তাঁরা সম্মিলিতভাবে মুঘল আধিপত্যের বিরুদ্ধে সম্রাট আকবরের খ্যাতনামা সমর নায়কদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হন।
- মুসলমান এবং হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন এ জমিদারগণ।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএএস এইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
২৩৮.
চৌসার যুদ্ধ কাদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. শের খান ও বাবর
  2. হুমায়ুন ও শের খান
  3. শের শাহ ও আকবর
  4. হুমায়ুন ও জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন ও শের খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন ও শের খান
ব্যাখ্যা
চৌসার যুদ্ধ:
- ১৫৩৯ সালের ২৬ জুন বিহারের চৌসারে মুঘল সম্রাট হুমায়ুন ও আফগান নেতা শের খান (পরে শের শাহ সূরি) এর মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধে শের খান বিজয়ী হন এবং হুমায়ুন পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
- এর মাধ্যমে মুঘল শাসনের পতন শুরু হয় এবং সূরি বংশের উত্থান ঘটে।

⇒ সম্রাট হুমায়ুন গৌড় পরিত্যাগ করার পূর্বে জাহাঙ্গীর কুলী বেগকে বাংলার শাসনভার অর্পণ করেন।
- হুমায়ুন তাঁর বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে আগ্রা অভিমুখে যাত্রা করলেন।
- কিন্তু দুভার্গ্যক্রমে পথিমধ্যে বক্সারের নিকটবর্তী চৌসা নামক স্থানে শেরখান ও তাঁর আফগান অনুচরেরা সম্রাট হুমায়ুনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুন চৌসায় উভয়পক্ষের মধ্যে এক তীব্র যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে চৌসার যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এই যুদ্ধে হুমায়ুন শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয়।
- চৌসার যুদ্ধে শের খানের জয়লাভ ভারতীয় উপমহাদেশে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কেননা এর ফলে শের খানের রাজ্য পশ্চিম দিকে কনৌজ হতে পূর্বে আসাম ও চট্টগ্রাম এবং উত্তর দিকে রোটাস হতে দক্ষিণ দিকে বীরভূম পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে।
- এই যুদ্ধের পর শেরখান শেরশাহ উপাধি ধারণ করেন এবং নিজ নামে মুদ্রা প্রচলন ও পাঠের নির্দেশ প্রদান করেন।
- পক্ষান্তরে এই যুদ্ধে হুমায়ুনের পরাজয়ের মাধ্যমে মুঘলদের সামরিক ও কূটনৈতিক দুর্বলতা প্রস্ফুটিত হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৯.
'তারা মসজিদ'-এর নির্মাতা কে?
  1. নবাব আব্দুল গণি 
  2. শায়েস্তা খান 
  3. মির্জা আহমদ জান
  4. শেখ এনায়েত উল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মির্জা আহমদ জান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মির্জা আহমদ জান
ব্যাখ্যা

তারা মসজিদ:
- বাংলাদশের পুরানো ঢাকার আরমানিটোলা-র আবুল খয়রাত সড়কে অবস্থিত ‘তারা মসজিদ’।
- খ্রিষ্টীয় আঠারো শতকে ঢাকার জমিদার মির্জা গোলাম পীর (মির্জা আহমদ জান) এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।
- তারা মসজিদের আরও কিছু প্রচলিত নাম আছে, যেমন, মির্জা গোলাম পীরের মসজিদ বা সিতারা মসজিদ।
- মসজিদের বতর্মান দৈর্ঘ্য ৭০ ফুট (২১.৩৪ মিটার), প্রস্থ ২৬ ফুট (৭.৯৮ মিটার)।

⇒ সতের শতকে দিল্লি, আগ্রা ও লাহোরে নির্মিত মোঘল স্থাপত্য শৈলী অনুসরণে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
- মসজিদের কোথায়ও এর তৈরির সময় উল্লেখ নেই বলে কবে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়, তার সুস্পষ্ট কোনো নথি পাওয়া যায়নি।
- তবে, মসজিদটি তৈরির পর ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে মির্জা গোলাম পীর মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার তৎকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ী, আলী জান বেপারী মসজিদটির সংস্কার করেন।
- এই সময় মসজিদটির আকার বৃদ্ধি করা হয়।
- ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে এই মসজিদটির পুনরায় সংস্কার করা হয়।
- এই সময় পুরনো একটি মেহরাব ভেঙে দুটো গম্বুজ আর তিনটি নতুন মেহরাব বানানো হয়।
- সব মিলিয়ে বর্তমানে এর গম্বুজ সংখ্যা পাঁচটিতে দাঁড়িয়েছে।
- এর ফলে মসজিদের জায়গা সম্প্রসারিত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

২৪০.
ঢাকা কত সালে প্রথম বাংলার রাজধানী হিসেবে স্থাপিত হয়েছিল?
  1. ১৬০১ সালে 
  2. ১৬০২ সালে 
  3. ১৬১০ সালে 
  4. ১৬১২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৬১০ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬১০ সালে 
ব্যাখ্যা

ঢাকা ১৬১০ সালে প্রথম বাংলার রাজধানী হিসেবে স্থাপিত হয়েছিল।

রাজধানী ঢাকা:
- রাজধানী ঢাকা বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়। সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।

⇒ মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ফরমান অনুযায়ী ১৬ জুলাই ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়। সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়। 
- এর আগে সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার প্রাদেশিক রাজধানী ছিলো বিহারের রাজমহল।
- বারো ভূইয়ার নিয়ন্ত্রণ থেকে বাংলাকে করতলগত করতে ১৫৭৬ থেকে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বারবার চেষ্টা চালানো হয়। এরপর সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতীকে রাজমহলের সুবেদার নিযুক্ত করেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে রাজধানী রাজমহল থেকে সরিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।

উল্লেখ্য,
- জনপদ হিসেবে ঢাকার গোড়াপত্তন হয় ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে।
- শহর হিসেবে এর গোড়াপত্তন হয় ১২২৯ খ্রিস্টাব্দে।
- ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন। শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়।
- কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার উথানে অধিকতর স্থায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক , প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) The Business Standard.

২৪১.
দিল্লি সালতানাতের প্রথম স্বাধীন সুলতান কে?
  1. গিয়াস উদ্দিন খলজি
  2. শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
  3. মুহাম্মাদ ঘুরি
  4. কুতুবুদ্দিন আইবেক
সঠিক উত্তর:
কুতুবুদ্দিন আইবেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুতুবুদ্দিন আইবেক
ব্যাখ্যা
কুতুবুদ্দিন আইবেক: 
- কুতুবুদ্দিন দিল্লি সালতানাতের প্রথম স্বাধীন সুলতান।
- মুহাম্মাদ ঘুরির প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জয় করেন।
- সুলতান হওয়ার পর অবশ্য তিনি আর কোন নতুন অঞ্চল জয় করতে পারেন নি।
- তবে পূর্ব অধিকৃত অঞ্চলে তিনি শান্তি কায়েম করতে সক্ষম হন। তিনি সুশাসন প্রবর্তন করেন। বলা হয় তাঁর কঠোর শাসনে মেষ ও নেকড়ে বাঘ একঘাটে পানি পান করতো। দেশে চুরি-ডাকাতি ছিল না বললেই চলে। নব বিজিত দেশে এ'রকম আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা কম কৃতিত্বের কথা নয়।

উল্লেখ্য: 
- কুতুবউদ্দীন ছিলেন অত্যন্ত দানশীল। তাঁকে 'লাখ-বশ' বলা হতো। বিখ্যাত দাতা হাতেম তাঈ-র সাথে তাঁকে তুলনা করা হতো। তিনি ধর্মভীরু মুসলমান ছিলেন। কিন্তু ধর্মীয় কারণে কোন হিন্দুকে তিনি উৎপীড়ণ করেন নি। তিনি বহু হিন্দুকে রাজকাজে নিয়োগ করেন। জ্ঞানী-গুণীগণ তাঁর দ্বারা সমাদৃত হতো। তিনি বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। তিনি স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।

- দিল্লীর "কুয়ত- উল-ইসলাম” এবং আজমীরের "আড়াই-দিনকা-ঝোঁপড়া” নামক মসজিদ দুটি তাঁর শাসনামলে নির্মিত হয়। বিখ্যাত কুতুব মিনারের নির্মাণ কাজও তাঁর সময়ই শুরু হয়। যদিও এটির নির্মাণ কাজ শেষ হয় তাঁর জামাতা ইলতুতমিসের শাসনামলে। 

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪২.
বাংলা কত খ্রিস্টাব্দে মুঘল সাম্রাজ্যভুক্ত হয়?
  1. ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫৭৮ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৭৯ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
মুঘল শাসন:
- ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলার শেষ আফগান শাসক দাউদ খান কররানি মোগল সেনাবাহিনীর হাতে রাজমহলের যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।
- তবে ঢাকাসহ পূর্ব বাংলার কয়েকজন প্রভাবশালী জমিদার মুঘল বাদশার আনুগত্য অস্বীকার করে সতের শতকের প্রথম দশক পর্যন্ত স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেন। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৩.
ফররুখ শিয়ারের রাজত্বকালে বাংলার সুবাদার পদ দেয়া হয় -
  1. ক) মুর্শিদকুলী খানকে
  2. খ) রুকনউদ্দিনকে
  3. গ) ইকবালকে
  4. ঘ) সুজাউদ্দিনকে 
সঠিক উত্তর:
ক) মুর্শিদকুলী খানকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুর্শিদকুলী খানকে
ব্যাখ্যা
• সুবাদারি শাসন:
- সুবাদার ইসলাম খান ১৬১০ সালে বার ভুঁইয়াদের দমন করে সমগ্র বাংলায় সুবাদারী শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- ১৬১৩ সালে ইসলাম খানের মৃত্যুর পর বেশ কয়েকজন সুবাদার বাংলার শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন।
- তবে ১৬৬০ সালে সুবাদার মীর জুমলা ক্ষমতা গ্রহণ করার পূর্ব পর্যন্ত কোনো সুবাদারই তেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে
পারেন নি।

- ফররুখ শিয়ারের রাজত্বকালে মুর্শিদকুলী খান বাংলার সুবাদার পদ দেয়া হয়। এদেশের রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য তিনি খ্যাতিমান হয়ে আছেন।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর দুর্বল মোগল সম্রাটগণ দূরবর্তী সুবাগুলোর দিকে তেমন দৃষ্টি দিতে পারেন নি। ফলে এসব অঞ্চলের সুবাদারগণ অনেকটা স্বাধীনভাবে নিজেদের অঞ্চল শাসন করতে থাকেন।
- মুর্শিদকুলী খানও অনেকটা স্বাধীন হয়ে পরেন।
- তিনি নামেমাত্র সম্রাটের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করতেন এবং সম্রাটকে বার্ষিক ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকা রাজস্ব পাঠাতেন।
-মুর্শিদকুলী খানের পর তাঁর জামাতা সুজাউদ্দিন খান বাংলার সিংহাসনে বসেন।
- এভাবে বাংলার সুবাদারী বংশগত হয়ে পরে। আর এরই পথ ধরে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন শাসন। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৪.
Which Mughal emperor is laid to rest in Yangon?
  1. Sher Shah
  2. Bahadur Shah
  3. Elias Shah
  4. Babur
সঠিক উত্তর:
Bahadur Shah
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bahadur Shah
ব্যাখ্যা
বাহাদুর শাহ:
- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ছিলেন সর্বশেষ মুঘল সম্রাট।
- ১৮৩৭ সালে তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মুঘল বংশের পতনের যুগ বলা হয়। 
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৫.
পানিপথের প্রথম যুদ্ধে কে পরাজিত ও নিহত হয়?
  1. বাবর
  2. ইব্রাহিম লোদী
  3. হুমায়ুন
  4. শেরশাহ
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহিম লোদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহিম লোদী
ব্যাখ্যা

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- পক্ষ: সম্রাট বাবঢ় বনাম ইব্রাহিম লোদী। 
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ।
- অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ। 
- পানিপথ প্রান্তরে বাবর ভিন্ন রকম যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। 
- প্রতিরক্ষা হিসেবে পরিখা খনন করেন। 
- ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন। 
- শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন।

এছাড়াও,
- পানিপথের ২য় যুদ্ধ: ১৫৫৬  খ্রিস্টাব্দ।
- পানিপথের ৩য় যুদ্ধ: ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দ।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৬.
ঢাকার আহসান মঞ্জিল কে নির্মাণ করেন?
  1. নবাব আব্দুল লতিফ
  2. নবাব আব্দুল গণি
  3. শায়েস্তা খান
  4. নবাব কুতুব উদ্দিন
সঠিক উত্তর:
নবাব আব্দুল গণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব আব্দুল গণি
ব্যাখ্যা

আহসান মঞ্জিল:
- আহসান মঞ্জিল পুরনো ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।
- এটি পূর্বে ছিল ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ।
- বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- এর প্রতিষ্ঠাতা নওয়াব আবদুল গণি। তিনি তার পুত্র খাজা আহসানুল্লাহ’র নামানুসারে এর নামকরণ করেন।
- এর নির্মাণকাল ১৮৫৯-১৮৭২ সাল।
- নওয়াব আবদুল গণি ১৮৭২ সালে প্রাসাদটি নতুন করে নির্মাণ করান।
- ১৯০৬ সালে এখানে এক অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়।
- এই প্রাসাদের ছাদের উপর সুন্দর একটি গম্বুজ আছে। এক সময় এই গম্বুজের চূড়াটি ছিল ঢাকা শহরের সর্বোচ্চ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) বাংলাপিডিয়া।

২৪৭.
সুলতান মাহমুদ কতবার ভারতীয় উপমহাদেশে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন?
  1. ২৭ বার
  2. ২০ বার 
  3. ১৮ বার 
  4. ১৭ বার
সঠিক উত্তর:
১৭ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ বার
ব্যাখ্যা

সুলতান মাহমুদ:
- সুলতান মাহমুদ ছিলেন তুর্কি বংশোদ্ভূত।
- মুহম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযানের প্রায় তিনশ বছর পর গজনির সুলতান মাহমুদ ভারত অভিযান করেন।
- গজনি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আলপ্তগীন। আলপ্তগীনের ক্রীতদাস ও জামাতা গজনীর আমির সবুক্তগীনের পুত্র ছিলেন সুলতান মাহমুদ।
- এ রাজবংশটি ইসলামের ইতিহাসে ‘গজনি রাজবংশ' নামে পরিচিত।
- সুলতান মাহমুদ ১০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মাত্র ২৭ বছরে ১৭ বার ভারতীয় উপমহাদেশে অভিযান পরিচালনা করেন।

⇒ সুলতান মাহমুদের সভাকবি ছিলেন মহাকবি ফেরদৌসী।
- ফেরদৌসীর রচিত অমর কাব্যগ্রন্থের নাম শাহনামা।
- ফেরদৌসীকে বলা হয় প্রাচ্যের হোমার।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৮.
বাংলার কোন সুলতানের সাথে পারস্যের কবি হাফিজের পত্রালাপ হত?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা

সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ ও পারস্যের কবি হাফিজের সাথে সম্পর্ক:
- সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের একজন উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- তিনি নিজেও কাব্যচর্চা করতেন এবং ফারসি কবিতা রচনায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন।
- রিয়াজ-উস-সালাতিনের বর্ণনায় জানা যায় যে,পারস্যের প্রখ্যাত কবি হাফিজের সাথে তাঁর পত্রালাপ হত।
- তিনি তাঁকে বাংলায় আসার আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন।
- রিয়াজের একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, একদা আজম শাহ এমন গুরুতর অসুস্থ হন যে তাঁর বাঁচার কোন সম্ভাবনা ছিল না।
- এজন্য তিনি তাঁর হারেমের প্রিয় তিনজন মহিলা সরবা, গুল ও লালা কে তাঁর মৃত্যুর পর মৃতদেহের গোসলের দায়িত্ব দেন।
- সৌভাগ্যক্রমে সুলতান সুস্থ হয়ে উঠলে হারেমের অন্য মহিলারা তাদেরকে ঈর্ষা করে গাস্সালিন বা শবরজকিনী বলে বিদ্রুপ করত।
- তারা সুলতানের কাছে অভিযোগ করলে সুলতান তাঁদের প্রশংসা করে কবিতার একটি পংক্তি রচনা করেন।
- কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও দ্বিতীয় পংক্তিটি রচনা করতে না পেরে তিনি কবি হাফিজকে এটি রচনার জন্য অনুরোধ জানান।
- কবি হাফিজ দ্বিতীয় পংক্তিটি রচনা করে পাঠান।
- এ পত্রে একটি কবিতায় গিয়াসউদ্দিনের প্রশংসা করে কবি সুলতানকে ভারতবর্ষের তোতাপাখি বলে উল্লেখ করেছেন। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৯.
রাজ মহলের যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৭৯ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• রাজ মহলের যুদ্ধ:
- ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে রাজমহলে মোগল বাহিনীর সাথে যুদ্ধে হয় দাউদ কররানির।
- এ যুদ্ধে দাউদ পরাজিত ও বন্দি হন। পূর্ববর্তীকালে সন্ধি ভঙ্গের অপরাধে দাউদ খানকে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়। এভাবে কররানি শাসনের অবসান।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫০.
বাংলার নবাবী শাসনের সূচনা করেন কে?
  1. সুজাউদ্দৌলা
  2. সিরাজউদৌলা
  3. মুর্শিদ কুলি খান
  4. আলীবর্দী খান
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদ কুলি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদ কুলি খান
ব্যাখ্যা

নবাবী আমল:
- বাংলায় স্বাধীন নবাবী আমল ১৭০৭-১৭৫৭ সাল।
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদকুলী খান ১৭০৭ সালে নবাবী শাসনের সূচনা করেন।
- ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদৌলার ইংরেজদের হাতে পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় স্বাধীন নবাবী আমল।
- ১৭৬০ থেকে ৬৩ সাল পর্যন্ত মীর কাসিম নবাব ছিলেন।
- ১৭৬৪ সালে তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত নবাব নবাব মীর কাসিম, মোঘল সম্রাট শাহ আলম ও অযোধ্যার নওয়াব সুজাউদ্দৌলা বাহিনীর সাথে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর যুদ্ধ হয় যা বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- উক্ত যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলা সহ অন্যান্য অঞ্চলে নবাবী শাসন বিলুপ্ত হয় এবং ইংরেজ উপনেবেশিক যুগ চূড়ান্তভাবে শুরু হয়

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।

২৫১.
ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন কে?
  1. ভাস্কো-দ্য-গামা
  2. আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল
  3. বার্থলমিউ দিয়াজ
  4. আল বুকার্ক
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো-দ্য-গামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো-দ্য-গামা
ব্যাখ্যা
- বাংলায় ইউরোপীয়দের মধ্যে সবার আগে আসে পর্তুগিজরা।
- ১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করার কয়েক দশক পর থেকেই বাংলায় পর্তুগিজদের আগমন ঘটে।
-  আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। কলম্বাস বিখ্যাত ইতালীয় নাবিক ছিলেন।
 
- উপমহাদেশে আসার অল্পদিনের মধ্যেই তাঁরা এদেশের পশ্চিম উপকূলের কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি বন্দরে, সিংহলের নানাস্থানে এবং বাংলার হুগলী বন্দরে তাঁদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন। 
- তাঁদের নৌ ও সেনাবাহিনী খুব শক্তিশালী ছিল।

- বাংলায় সবার শেষে আগমন করে ফরাসিরা।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী;  বাংলাপিডিয়া; ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় )
২৫২.
কোন মুঘল সম্রাটের শাসনামলে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  3. সম্রাট হুমায়ূন
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
রাজধানী ঢাকা:
- এটি বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বাংলার রাজধানী ছিল বিহারের রাজমহল।
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।

উল্লেখ্য,
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ফরমান অনুযায়ী ১৬ জুলাই ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়। সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।
- এর আগে সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার প্রাদেশিক রাজধানী ছিলো বিহারের রাজমহল।
- বারো ভূইয়ার নিয়ন্ত্রণ থেকে বাংলাকে করতলগত করতে ১৫৭৬ থেকে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বারবার চেষ্টা চালানো হয়। এরপর সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতীকে রাজমহলের সুবেদার নিযুক্ত করেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে রাজধানী রাজমহল থেকে সরিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন। শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়।
- কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার উথানে অধিকতর স্থায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক , প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) The Business Standard.
২৫৩.
বখতিয়ার খিলজির জাতিগত পরিচয় কী ছিল?
  1. আফগান
  2. তুর্কি
  3. আরবি
  4. পারসি
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
ব্যাখ্যা

বখতিয়ার খিলজি:
- ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ -বিন- বখতিয়ার খিলজি নদীয়া জয় করে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজি সমগ্র নদীয়া জয় করেন।
- তিনি জাতিতে তুর্কিদের খিলজি সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- তবে তিনি আফগানিস্তানের গরমিশ অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন।
- ভারতবর্ষে ভাগ্যের অন্বেষণে এসে শেষ পর্যন্ত অযোধ্যার শাসক মালিক হুশাম উদ্দিনের রাজ্যের পূর্ব সীমান্তে সীমান্তরক্ষীর কাজ পান।
- তিনি গৌড় বা লক্ষণাবতী (লখনৌতি) জয় করে সেখানেই রাজধানী স্থাপন করেন।
- তার শাসন কেন্দ্র ছিল লক্ষণা বতীতে।
- বখতিয়ার খলজির শাসনামলে বাংলায় যথেষ্ট সংখ্যক মসজিদ, মাদ্রাসা এবং খানকাহ (অতিথিশালা) তৈরি করা হয়।
- ১২০৬ সালে তিনি তিব্বত অভিযানে বের হয়ে ব্যর্থ হন, দিনাজপুরের দেবকোটে ফিরে আসার পর এখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫৪.
বখতিয়ার খলজি কত সালে সালে বাংলা জয় করেন?
  1. ১২০২ সালে
  2. ১২০৩ সালে
  3. ১২০৪ সালে
  4. ১২০৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১২০৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০৪ সালে
ব্যাখ্যা
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি:
- বখতিয়ার খলজী ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি।
- ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়। 
- তিনি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- বখতিয়ার খলজী তুর্কি জাতির খলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- তিনি স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- উল্লেখ্য, পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
২৫৫.
কোন শাসক ভারতে মুসলিম শাসন স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) মুহম্মদ বিন কাসিম
  2. খ) সুলতান মাহমুদ গজনী
  3. গ) মুহম্মদ ঘুরী
  4. ঘ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
ব্যাখ্যা
কুতুবইদ্দিন আইবেক মুহম্মদ ঘুরীর একজন ক্রীতদাস হিসেবে জীবন শুরু করেন। তিনি ঘুরীর অনুমতিক্রমে ভারত বিজয়ের পর দিল্লিতে মুসলিম শাসনের গোড়াপত্তন করেন।
উপমহাদেশে স্থায়ী মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আইবেক। দানশীলতার জন্য তাকে ‘লাখবক্স’ বলা হত।
উৎস - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
২৫৬.
সড়ক-ই-আজম বা বিখ্যাত গ্রান্ড ট্রাংক রোডের নির্মাতা হলেন-
  1. ক) শের শাহ
  2. খ) হুসেন শাহ
  3. গ) ইলিয়াস শাহ
  4. ঘ) জালাল খাঁ
সঠিক উত্তর:
ক) শের শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শের শাহ
ব্যাখ্যা
শূর শাসনের সূচনা করেন আফগান শাসক শের শাহ। তিনি ১৫৩৮ সালে বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন। চৌসা(১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দ) ও কণৌজের(১৫৪০ খ্রিস্টাব্দ) যুদ্ধে শের শাহ মুঘল সম্রাট হুমায়ূনকে পরাজিত করে দিল্লীর সিংহাসন দখল করেন। শের শাহ বাংলায় ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থার প্রচলন করেন। তিনি ‘দাম’ নামক মুদ্রার প্রচলন করেন। সড়ক-ই-আজম বা বিখ্যাত গ্রান্ড ট্রাংক রোডের নির্মাতা তিনি। পাট্টা ও কাবুলিয়াত প্রথা চালু করেন শের শাহ। সূত্র- বাংলাপিডিয়া।
২৫৭.
Islam Khan transferred the capital of Bengal of Dhaka from where?
  1. Rajmahal
  2. Tanda
  3. Sonargaon
  4. Kolkata
সঠিক উত্তর:
Rajmahal
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Rajmahal
ব্যাখ্যা
ইসলাম খান চিশতি:
- সুবাদার ইসলাম খান চিশতিকে বাংলা প্রদেশের শ্রেষ্ঠ সুবাহদার হিসেবে গণ্য করা হয়।
- প্রকৃত নাম শেখ আলাউদ্দীন চিশতি।

উল্লেখ্য,
- ১৬০৮ সালে সুবাদার জাহাঙ্গীর কুলি খানের মৃত্যুর পর সম্রাট জাহাঙ্গীর বিখ্যাত সুফি সেলিম চিশতীর দৌহিত্র ইসলাম খান চিশতী বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আসেন এবং বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- তিনি সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।

⇒ সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে ইসলাম খান উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- তিনি লোহার পুল নির্মান করেন এবং ঢাকার ধোলাই খাল খনন করেন।
- বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে রাজমহলে স্থানান্তরিত করেন শাহ সুজা।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২৫৮.
যশোরের প্রতাপাদিত্য হলেন -
  1. মুঘল শাসক
  2. রাজপুত রাজা
  3. সেন শাসক
  4. বার ভূঁইয়াদের একজন
সঠিক উত্তর:
বার ভূঁইয়াদের একজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার ভূঁইয়াদের একজন
ব্যাখ্যা
• বার ভূঁইয়া: 
- ‘আফগানদের শাসনামলে বাংলায় বার ভূঁইয়াদের উত্থান ঘটে।
- তারা জমির খাজনা বা ইজারা লাভের সুযোগে জমিদার হয়ে উঠেন।
- হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্য থেকেই এসব জমিদার বংশ সৃষ্টি হয়।
- যদিও এদের বার ভূঁইয়া বলা হয়, কিন্তু তাদের প্রকৃত সংখ্যা ১২-এর অধিক ছিল।
- আকবরের বাহিনী বাংলায় প্রবেশ করলে জমিদারগণ শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
- তাদের নিজস্ব সৈন্য ও নৌবাহিনী ছিল।

• উল্লেখযোগ্য বার ভূঁইয়াদের মধ্যে ছিলেন সোনারগাঁয়ের জমিদার ঈসা খান, ভাওয়ালের গাজী পরিবার, বাকুড়ার বীর হামির, চন্দ্রদ্বীপের পরমানন্দ রায়, ভুলুয়ার লক্ষণ মাণিক্য, যশোরের প্রতাপাদিত্য, বিক্রমপুরের কেদার রায়, পাবনার রাজা রায়, মানিকগঞ্জের বিনোদ রায় প্রমুখ।

সূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৯.
বক্সারের যুদ্ধে কে পরাজিত হন?
  1. ক) মীর কাশিম
  2. খ) সুজাউদ্দৌলা
  3. গ) শাহ আলম
  4. ঘ) ফররুখশিয়ার
সঠিক উত্তর:
ক) মীর কাশিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মীর কাশিম
ব্যাখ্যা
অযোদ্ধার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও মুঘল সম্রাট শাহ আলমের সহায়তায় গড়ে তোলা মীর কাশিমের সম্মিলিত বাহিনীর সাথে ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে বিহারের বক্সার নামক স্থানে ইংরেজ বাহিনীর যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় তাই বক্সারের যুদ্ধ নামে খ্যাত। এ যুদ্ধে মীর কাশিম শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। [সূত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস প্রথম পত্র, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা]
২৬০.
বাংলায় কররানি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন -
  1. বায়েজিদ খান কররানি
  2. সালাউদ্দীন খান কররানি
  3. তাজ খান কররানি
  4. আলাউদ্দীন খান কররানি
সঠিক উত্তর:
তাজ খান কররানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজ খান কররানি
ব্যাখ্যা
কররানি শাসন:
- কররানি উপাধিধারী আফগানরা হচ্ছে একটি আফগান গোত্র।
- কররানীদের আদি নিবাস ছিল আফগানিস্তানের বঙ্গাশ নামক স্থানে। বর্তমানে এটি কুররম নামে অভিহিত।
- পাঠানদের কররানী শাখা আফগানিস্তানে করলানি নামে পরিচিত।
- ১৫৬৪ সালে তাজ খান কররানি বাংলায় কররানি বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি এক সময় শেরশাহের অধীনে চাকরি করতেন।
- ১৫৬৫ সালে তিনি বাংলার অধিপতি হওয়ার এক বছরের মধ্যে মারা যান।
- তাঁর ভাই সুলেমান কররানি প্রায় সাত বছর বাংলার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- এই সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করেছিলেন।
- তাঁর আমলে বাংলায় অপেক্ষাকৃত সুশাসন ও শান্তি বিরাজ করেছে।
- সুলায়মান কররানীর জ্যেষ্ঠ পুত্র বায়েজীদ কররানী তাঁর উত্তরাধিকারী হন।
- তিনি তাঁর পিতার নীতি পরিহার করে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- বায়েজীদ কররানী মাত্র অল্প কয়েকমাস বাংলা শাসন করেন।
- ১৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে বায়েজীদের কনিষ্ঠ ভ্রাতা দাউদ কররানীকে বাংলার সিংহাসনে অভিষিক্ত করেন।
- দাউদ তাঁর ভাইয়ের স্বাধীন নীতি অনুসরণ করে নিজের নামে খুৎবা পাঠ ও মুদ্রা প্রচলন করেন।
- ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১২ জুলাই রাজমহলের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। দাউদ কররানী বন্দি হন এবং তাঁকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়।
- দাউদ কররানীর মৃত্যুদন্ডের ফলে বাংলায় স্বাধীন মুসলিম শাসনের অবসান ও মুঘল শাসনের সূচনা হয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২৬১.
সোমপুর বিহার কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) জয়পুরহাট
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) দিনাজপুর
  4. ঘ) নওগাঁও
  5. ঙ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) নওগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নওগাঁও
ব্যাখ্যা
সোমপুর বিহার
 
দলগাছী উপজেলা তথা নওগাঁ জেলার সর্বাপেক্ষা গৌরবময় দর্শনীয় স্থান হলো সোমপুর বিহার বা পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার
• বর্তমান পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদের অর্ন্তগত পাহাড়পুর গ্রামে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার অবস্থিত।
• পাহাড়পুর নামটি আধুনিক এর প্রাচীন নাম সোমপুর।
• বাংলাদেশে সপ্তম শতাব্দিতে (৭৭০ - ৮১০ খ্রি:) বৌদ্ধ ধর্মীয় পাল রাজ বংশের প্রতিষ্ঠা হয়।
• বৌদ্ধ ধর্মের চরম উৎকর্ষতার যুগেতাদেরই পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশে এই পাহাড়পুর বিহার ও মন্দির গড়ে ওঠে।
• ঐতিহাসিক ও ভৌগলিক কারণে এই মহাবিহারটি ধ্বংসস্তুপে পরিনত হলেও আজও এই অপূর্ব বিহারটি এশিয়ার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বৌদ্ধ বিহার বলে সগৌরবে দন্ডায়মান।
•   অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান বেশ কয়েক বছর এখানে অতিবাহিত করেন। এখানে বসে তিনি তিববতী ভাষায় ‘মাধ্যমক রত্নপ্রদীপ’ অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
২৬২.
বাংলায় মুসলিম আধিপত্য বিস্তারের সূচনা কে করেন?
  1. আলী মর্দান খলজী
  2. তুঘরিল খান
  3. শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
  4. ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী
সঠিক উত্তর:
ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী
ব্যাখ্যা
• বাংলায় মুসলিম আধিপত্য বিস্তারের সূচনা করেন — ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী। 

• ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি:
- বখতিয়ার খলজী ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি।
- তিনি আফগানিস্তানের গরমশির এলাকার অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি তুর্কীদের খলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন। 
- ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়। 
- তিনি — ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- উল্লেখ্য, পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।
- তিনি স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- ১২০৬ সালে বখতিয়ার খলজী ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
২৬৩.
বাংলায় সুবাদারী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ইসলাম খান চিশতি
  2. মীর জুমলা
  3. শায়েস্তা খান
  4. মুর্শিদকুলী খান
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান চিশতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান চিশতি
ব্যাখ্যা

বাংলায় সুবাদারী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা ইসলাম খান চিশতি।

বাংলায় সুবাদারী প্রতিষ্ঠা:

- মোগল সম্রাট আকবর তাঁর সাম্রাজ্যকে অনেকগুলো প্রদেশে ভাগ করেছিলেন। এই প্রদেশগুলোকে বলা হতো 'সুবা'। সুবার শাসনকর্তাকে বলা হতো সুবাদার। আকবরের সময় থেকে বাংলায় সুবাদার নিয়োগ করা শুরু হয়। তবে বারভূঁইয়াদের দাপটে বাংলায় মোগল সুবা শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়াতে পারেনি। সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে দক্ষতার সাথে বারভূঁইয়াদের দমন করেন সুবাদার ইসলাম খান চিশতি।
- এরপর থেকে বাংলার সুবাদারদের মাধ্যমে পুরো বাংলায় মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ সুবাদার ইসলাম খান চিশতিকে বাংলা প্রদেশের শ্রেষ্ঠ সুবাহদার হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রকৃত নাম শেখ আলাউদ্দীন চিশতি।
- ১৬০৮ সালে সুবাদার জাহাঙ্গীর কুলি খানের মৃত্যুর পর সম্রাট জাহাঙ্গীর বিখ্যাত সুফি সেলিম চিশতীর দৌহিত্র ইসলাম খান চিশতী বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আসেন এবং বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। তিনি সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।
- ইসলাম খান ঢাকাকে সুরক্ষিত করে তিনি ভূঁইয়াদের সব অবস্থানের বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করেন এবং ১৬১১ খ্রিস্টাব্দেই মুসা খানসহ বারো ভূঁইয়াদের সবাই ইসলাম খানের নিকট বশ্যতা স্বীকার করেন।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে ইসলাম খান উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। তিনি লোহার পুল নির্মান করেন এবং ঢাকার ধোলাই খাল খনন করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬৪.
কোন মুঘল সম্রাট ’সুবাহ’ ব্যবস্থা চালু করেন?
  1. ক) সম্রাট বাবর
  2. খ) সম্রাট হুমায়ুন
  3. গ) সম্রাট আকবর
  4. ঘ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
গ) সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
‘সুবাহ’ 

- মুঘল প্রদেশগুলো ‘সুবাহ’ নামে পরিচিত ছিল।
- সুবাহ্ ব্যবস্থা চালু হয় ১৫৭৯-১৫৮০ সালে ।
-  সুবাহ্ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকদের বলা হতো সুবাদার।
 - মুঘল সম্রাট আকবর এর প্রবর্তন করেন।
- প্রথমে তার সাম্রাজ্যকে বারোটি (১২) সুবাহতে বিভক্ত করেন। এগুলো হলো:
লাহাবাদ, আগ্রা, অযোধ্যা, আজমীর, আহমেদাবাদ, বিহার (রাজধানী-পাটনা), বাংলা (রাজধানী- রাজমহল), দিল্লি, কাবুল, লাহোর, মুলতান এবং মালওয়া।

- পরবর্তীতে সুবাহর সংখ্যা বাড়ানো হয় এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে উড়িষ্যা ও কাশ্মির সুবাহ্র মর্যাদা পেলে, সুবাহ্র সংখ্যা হয় সতেরোটি। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৫.
বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন-
  1. আলী মর্দান খলজী
  2.  আলাউদ্দিন খিলজি
  3. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  4. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন সুলতানি আমল (১৩৩৮ ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দ):
- দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক বিদ্রোহপ্রবণ বাংলাকে দিল্লির অধীনে রাখার জন্য বাংলাকে তিনটি প্রশাসনিক ইউনিটে ভাগ করেন।
- ইউনিটগুলো হলো:  লাখনৌতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁ।

- ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হয়।
- বাহরাম খানের বর্মরক্ষক ছিলেন 'ফখরা' নামের একজন রাজকর্মচারী।
- প্রভুর মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং 'ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ' নাম নিয়ে সোনারগাঁয়ের সিংহাসনে বসেন।
- এভাবেই সূচনা হয় বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের।
- দিল্লির সুলতান মুহম্মদ-বিন-তুঘলকের পক্ষে এ সময় বাংলার দিকে দৃষ্টি দেওয়ার সুযোগ ছিল না। 
- তাই সোনারগাঁয়ে স্বাধীনতার সূচনা হলেও ধীরে ধীরে স্বাধীন অংশের সীমা বিস্তৃত হতে থাকে।
- পরবর্তী দুই'শ বছর এ স্বাধীনতা কেউ কেড়ে নিতে পারেনি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

২৬৬.
'এলাহাবাদ চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয় -
  1. ক) লর্ড কার্জন ও শাহ সুজার মধ্যে
  2. খ) রবার্ট ক্লাইভ ও শাহ সুজার মধ্যে
  3. গ) সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ও ওয়ারেন হেস্টিংসের মধ্যে
  4. ঘ) দ্বিতীয় শাহ আলম ও রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্বিতীয় শাহ আলম ও রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্বিতীয় শাহ আলম ও রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে
ব্যাখ্যা
এলাহাবাদ চুক্তি
• ১২ আগস্ট, ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে এলাহাবাদের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
• প্রয়াত সম্রাট আলমগীরের পুত্র মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম, বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভের হাতে একটি চুক্তিপত্র তুলে দিয়েছিলেন যা ইতিহাসে এলাহাবাদ চুক্তি হিসেবে পরিচিত।
• এলাহাবাদ চুক্তি অনুসারে (১৭৬৫) শাহ আলম বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বা দীউয়ানি প্রদান করেন।
• কোম্পানি কোরা ও এলাহাবাদকে বাদশাহর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্মত হয়।    

তথ্যসূত্র:- ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
২৬৭.
'ধোলাই খাল' কে খনন করেন?
  1. ক) শায়েস্তা খান
  2. খ) শেরশাহ
  3. গ) ঈশা খান
  4. ঘ) ইসলাম খান
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
ধোলাই খাল
- এটি পুরানো ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক আবাসিক এলাকা।
- তৎকালীন ঢাকার প্রধান জলপথ ও নগর রক্ষা পরিখা ছিল এ ধোলাই খাল।
- নগর রক্ষার পরিখা নির্মাণ ও জলপথ হিসেবে ব্যবহারের জন্য ঢাকার প্রথম সুবেদার ইসলাম খান ধোলাই খাল খনন করিয়েছিলেন।
- অতীতে ধোলাই খাল শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এবং ঐতিহাসিক  লালবাগ দুর্গ, আহসান মঞ্জিল ও  বড় কাটরা এবং ছোট কাটরাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এর চারপাশে গড়ে ওঠে।
- খালটি শহরকে সুরক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগের সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে খনন করা হয়। 
- ১৮৩২ সালে মি. ওয়াল্টার নামে ঢাকার একজন কালেক্টর নারায়ণগঞ্জ যাতায়াতের সুবিধার্থে খালটির উপর একক স্প্যানের একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করেন।
- এটি ছিল সে সময়ের প্রকৌশল সাফল্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।
- ১৮৬৭ সালে খালে চলাচলকারী যানবাহনের ওপর টোল আরোপ করা হয়।
- সময়ের বিবর্তনে কৌশলগত ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্ববহ জলপথটি পার্শ্ববর্তী বাড়িঘর থেকে নিক্ষিপ্ত ময়লা-আবর্জনা দিয়ে স্থানে স্থানে ভরাট হয়ে যায়।
- খালটির কিছু অংশ এখনও উন্মুক্ত স্থান হিসেবে দেখা যায়।
- কিন্তু পুরানো ঢাকায় এটিকে একটি ভূগর্ভস্থ নর্দমায় রূপান্তর করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৬৮.
ঢাকার শেষ নবাব কে ছিলেন?
  1. খাজা আতিকুল্লাহ বাহাদুর
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন বাহাদুর
  3. খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর
  4. খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর
সঠিক উত্তর:
খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর
ব্যাখ্যা
নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর:

- তিনি ২৬এপ্রিল, ১৮৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর ঢাকার পঞ্চম এবং শেষ নবাব।
- তাঁর পিতাছিলেন নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর।
- নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুরের শাসনামলেই ঢাকার নবাবপরিবারের সম্পদ ও জৌলুশ কমতে থাকে।
- ১৯৫২ সালে ইস্ট পাকিস্তান এস্টেটঅ্যাকিউজিশন অ্যাক্ট দ্বারা যা চূড়ান্তভাবে বর্জন করতে হয়।
- ২১শে নভেম্বর ১৯৫৮ তারিখে নবাব হাবিবুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিভাগ ওয়েবসাইট।
২৬৯.
সময়ের বিবেচনায় কোন রাজনৈতিক দলটি সবার আগে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)
  2. খ) নিখিল ভারত মুসলিম লীগ
  3. গ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
  4. ঘ) জামায়াতে ইসলামী
সঠিক উত্তর:
খ) নিখিল ভারত মুসলিম লীগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিখিল ভারত মুসলিম লীগ
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৭ সালের ২৪-২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে আয়োজিত গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)’ গঠিত হয়।
- ন্যাপের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মাওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
- এর আগে ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ‘কাগমারি সম্মেলনে’ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে বিরোধের জের ধরে ১৮ই মার্চ ১৯৫৭ মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।

- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

- ১৯৪১ সালের ২৫ আগস্ট লাহোরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করা হয় - ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর।

- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় ‘নিখিল ভারত মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে’ ঢাকার তৎকালীন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মুসলিম লীগের গঠন প্রক্রিয়ার সাথে নওয়াব ‍সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল ‍মুলক, আগা খান প্রমুখ যুক্ত ছিলেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।

 

২৭০.
বাংলায় কররানি (আফগান) শাসনের অবসান এবং মুঘল শাসনের সূচনা হয় কোন যুদ্ধের মাধ্যমে?
  1. ক) চৌসার যুদ্ধ
  2. খ) কণৌজের যুদ্ধ
  3. গ) রাজমহলের যুদ্ধ
  4. ঘ) বিলগ্রামের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) রাজমহলের যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাজমহলের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট হুমায়ুন বাংলার রাজধানী গৌড় অধিকার করে মুঘল শাসনের সূচনা করেন। কিন্তু বাংলায় তাঁর অধিকার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে পরাজয়ের পর বিজয়ী আফগান নেতা শের খান গৌড় দখল করেন এবং বাংলায় আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলার প্রবেশ পথ রাজমহলের নিকটে বাংলার শেষ আফগান শাসক দাউদ খান ও মুঘল বাহিনীর তুমুল যুদ্ধ হয়। যা রাজমহলের যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই যুদ্ধে দাউদ খান পরাজিত ও বন্দি হলে বাংলায় মুঘল শাসনের সূত্রপাত হয়।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র (উন্মুক্ত)]
২৭১.
মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি গঠন করেন কে?
  1. ক) সৈয়দ আমির আলী
  2. খ) স্যার সৈয়দ আহমদ
  3. গ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. ঘ) নবাব ফয়জুন্নেসা
সঠিক উত্তর:
গ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
বাংলার মুসলমানদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষা বিস্তারে নওয়াব আব্দুল লতিফ আন্তরিক প্রচেষ্টা চালান। এ লক্ষ্যে তিনি ১৮৬৩ সালে মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি গঠন করেন।
এছাড়া তিনি ‍মুসলমানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের নিকট বিভিন্ন দাবী দাওয়া পেশ করেন। তার প্রচেষ্টায় মহসীন ফান্ডের অর্থ কেবল মুসলমান ছাত্রদের জন্যে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২৭২.
ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপনের সময় সুবেদার কে ছিলেন?
  1. ইসলাম খান
  2. মীর জুমলা
  3. শায়েস্তা খান
  4. উমিদ খাঁ
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
ব্যাখ্যা

ইসলাম খান চিশতি:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতি বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন।
- ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বার ভূঁইয়াদের দমন করেন এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র, তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ১৬১০ সালে তিনি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
- তিনি এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- ইসলাম খান বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

উল্লেখ্য,
- ঢাকা পাঁচবার বাংলার রাজধানী হয়।
- ১৬১০, ১৬৬০,  ১৯০৫, ১৯৪৭, ১৯৭১ সাল।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

২৭৩.
সুবাহ্ ব্যবস্থা চালু করেন কোন মুঘল সম্রাট?
  1. ক) মুঘল সম্রাট হুমায়ুন
  2. খ) মুঘল সম্রাট আকবর
  3. গ) মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) মুঘল সম্রাট বাবর
সঠিক উত্তর:
খ) মুঘল সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুঘল সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা

- মুঘল প্রদেশগুলো ‘সুবা’ নামে পরিচিত ছিল।
- সুবাহ্ ব্যবস্থা চালু হয় ১৫৭৯-১৫৮০ সালে ।
- এর প্রবর্তন করেন তৃতীয় মুঘল সম্রাট আকবর ।
- প্রথমে তার সাম্রাজ্যকে বারোটি (১২) সুবাহতে বিভক্ত করেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আসেন এবং ঢাকাকে সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এর নাম করেন জাহাঙ্গীরনগর।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২৭৪.
মধ্যযুগে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস বলতে কোন সময়কে নির্দেশ করে?
  1. ক) ১২০৪-১৭৫৭
  2. খ) ১২০০-১৫০০
  3. গ) ১২০০-১৬০০
  4. ঘ) ১২০১-১৮০০
সঠিক উত্তর:
ক) ১২০৪-১৭৫৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১২০৪-১৭৫৭
ব্যাখ্যা

- বাংলায় মুসলমান শাসনের সূচনাকালকে বাংলায় মধ্যযুগের শুরু বলা হয়।
- মধ্যযুগের বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস বলতে ১২০৪ থেকে ১৭৫৭ পর্যন্ত সময়কে বুঝানো হয় ।
- যার প্রায় পুরোটা সময় জুড়ে ছিল মুসলমানদের আধিপত্য অর্থাৎ ১২০৪-১৭৬৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ বছর ।
- বাংলার প্রথম মুসলিম শাসক তুর্কী বীর ইখতিয়ারউদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি (১২০৪)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।

২৭৫.
কোন সুবেদার ঢাকাকে সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন?
  1. ক) ইসলাম খান চিশতি
  2. খ) শায়েস্তা খান
  3. গ) মুহাম্মদ আজম শাহ
  4. ঘ) শাহ সুজা
সঠিক উত্তর:
ক) ইসলাম খান চিশতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইসলাম খান চিশতি
ব্যাখ্যা
জাহাঙ্গীরনগর:

- সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে  ইসলাম খান চিশতি বাংলার সুবাহ্দার নিযুক্ত করেন।
- তাঁর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কৌশল বাংলার জন্য যথার্থভাবে কার্যকর হয় এবং সুবাহ্ বাংলার সীমানা বৃদ্ধি পায়।
- ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আসেন এবং  ঢাকাকে সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এর নাম করেন  জাহাঙ্গীরনগর। 
- এ শহরে ছিল প্রশাসনিক সদর দফতর এবং  সুবাহদার ও অন্যান্য কর্মচারীদের বাসস্থান।
- মুর্শিদকুলী খান কর্তৃক ত্রিপুরা, বিহারের ভাগলপুর এবং পূর্ণিয়ার কিছু অংশ সুবাহ্ বাংলার অন্তর্ভুক্ত হয় এবং আঠারো শতকে মেদেনীপুর বাংলার সঙ্গে সংযুক্ত হলে মুগল সুবাহ্ বাংলার সীমানা পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে।
- যেমন, উত্তরে পর্বতমালা, উত্তর-পূর্বে আসামের হাজো, পূর্বে ত্রিপুরা, দক্ষিণে সমুদ্র, দক্ষিণ-পূর্বে  আরাকান, দক্ষিণ-পশ্চিমে উড়িষ্যা এবং পশ্চিমে বিহার।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২৭৬.
জাহাঙ্গীর 'দস্তর-উল-আমল' নামে কয়টি আইন প্রণয়ন করেন?
  1. ১১টি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৪টি
সঠিক উত্তর:
১২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২টি
ব্যাখ্যা
সম্রাট জাহাঙ্গীর:

- আকবরের মৃত্যুর পর যুবরাজ সেলিম 'নুরউদ্দীন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি ১৬০৫- ১৬২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।
- তিনি মোগল সাম্রাজ্যের সংহতি বাংলার বার ভূঁইয়াদের দমন এবং মেবার বিজয় করেন।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একাধারে আকর্ষণীয়, প্রজ্ঞাবান, দয়ালু ও বুদ্ধিমান শাসক।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁর পিতার সময়ের বেশকিছু নির্যাতনমূলক আইন বাতিল করেন।
- তিনি 'দস্তুর-উল-আমল' নামে ১২টি আইন প্রণয়ন করে দয়া ও উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
- একজন সাধারণ প্রজাও সরাসরি সম্রাটের বিচারপ্রার্থী হতে পারতেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৭.
প্রথম সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজি
  2. মুহম্মদ ঘুরী
  3. সুলতান মাহমুদ
  4. মুহাম্মদ বিন কাসিম
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ বিন কাসিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ বিন কাসিম
ব্যাখ্যা
সিন্ধু বিজয়:
- আরবদের সিন্ধু বিজয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- এটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলমানদের আগমনের সূচনালগ্ন ধরা হয়।
- এ ঐতিহাসিক ঘটনার প্রধান কুশীলব ছিলেন আরব সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ও সিন্ধুর তৎকালীন রাজা দাহির।
- প্রথম সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি ছিলেন মুহাম্মদ বিন কাসিম।

উল্লেখ্য,
- খলিফা প্রথম ওয়ালিদের সময় মুসলমানগণ সিন্ধু অভিযান করে।
- খলিফার অনুমতি নিয়ে ইরাকের গভর্ণর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এই অভিযান পাঠান।
- সিন্ধু বিজয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাম্রাজ্যের বিস্তার সাধন এবং অর্থ সম্পদ লাভ।
- মুহম্মদ বিন কাসিম এক শক্তিশালী বাহিনী নিয়ে সিন্ধুদেশ আক্রমণ করেন।
- তিনি দাইবুল, নীরুন, সিওয়ান ও সিসাম দখল করে আরও উত্তরে অগ্রসর হন।
- সিন্ধুরাজ দাহির রাওয়ার দুর্গ রক্ষার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু তিনি যুদ্ধে নিহত হন।
- রাওয়ার দখলের পর মুহম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুর রাজধানী আলোর জয় করেন।
- এরপর মুলতানও মুসলমানদের দখলে আসে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৮.
সর্বপ্রথম কোন গ্রন্থে ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠীর উল্লেখ পাওয়া যায়?
  1. ক) বাঙালির ইতিহাস
  2. খ) ঐতরেয় আরণ্যক
  3. গ) আইন-ই-আকবরী
  4. ঘ) রঘুবংশ
সঠিক উত্তর:
খ) ঐতরেয় আরণ্যক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঐতরেয় আরণ্যক
ব্যাখ্যা
- ‘বঙ্গ’ হলো প্রাচীন বাংলায় বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠী ও জনপদের নাম।
- ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠীর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় বেদের শাখা হিসেবে রচিত ‘ঐতরেয় আরণ্যক’ গ্রন্থে।
- তবে বঙ্গের অবস্থান সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাওয়া যায় কালিদাস রচিত ‘রঘুবংশ’ গ্রন্থে।
- ‘বঙ্গ’ শব্দ থেকেই বর্তমান ‘বাংলাদেশ’ নামের উদ্ভব হয়েছে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
২৭৯.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে কে কাকে পরাজিত করেন?
  1. ক) আকবর হিমুকে
  2. খ) বাবর ইব্রাহিম লোদীকে
  3. গ) আহমেদ শাহ আবদালি মারাঠাদিগকে
  4. ঘ) আকবর রানা প্রতাপকে
সঠিক উত্তর:
গ) আহমেদ শাহ আবদালি মারাঠাদিগকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আহমেদ শাহ আবদালি মারাঠাদিগকে
ব্যাখ্যা

- পানিপথের (বর্তমানে হরিয়ানা, ভারত) তৃতীয় যুদ্ধ ১৪ই জানুয়ারি ১৭৬১ সালে দিল্লির ৯৭ কিলোমিটার উত্তরে পানিপথ নামক স্থানে মারাঠাদের সাথে দোয়াবের আফগান রোহিলা ও আয়ুব এর সম্রাট সুজা-উদ-দৌল্লার যৌথ সমর্থনে আফগানিস্থানের সম্রাট আহমেদ শাহ আবদালির মধ্যে সংঘটিত হয়।

- এছাড়া ১৫২৬ সালে বাবুর ও ইব্রাহিম লোদীর মধ্যে পানিপথের প্রথম যুদ্ধ । এবং
- ১৫৫৬ সালে আকবরের সেনাপতি বৈরাম খান ও আফগান নেতা হিমুর মধ্যে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংগঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

২৮০.
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি কোন শতাব্দীতে ভারতবর্ষে আসেন?
  1. একাদশ
  2. দ্বাদশ
  3. ত্রয়োদশ
  4. চতুর্দশ
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ
ব্যাখ্যা
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি:
- বখতিয়ার খলজী ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি।
- তিনি আফগানিস্তানের গরমশির এলাকার অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি তুর্কীদের খিলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি দ্বাদশ শতাব্দীতে ভারতবর্ষে আসেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- উল্লেখ্য, পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।
- ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়।
- তিনি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- তিনি স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
-  বাংলা জয় করেন ১৩ শতকে।
- ১২০৬ সালে বখতিয়ার খিলজী ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলার ইতিহাস; সুলতানি আমল: আব্দুল করিম।
২৮১.
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ বাংলার সুলতান ছিলেন—
  1. ১৩২৮–১৩৩৮ সাল
  2. ১৩৩৮–১৩৪৯ সাল
  3. ১৩৪০–১৩৫০ সাল
  4. ১৩৫৫–১৩৬৫ সাল
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮–১৩৪৯ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮–১৩৪৯ সাল
ব্যাখ্যা

• ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ :
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ (১৩৩৮-১৩৪৯) বাংলার সুলতান।
- বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে। 
- ফখরুদ্দীন ছিলেন জাতিতে তুর্কি এবং খুব সম্ভবত তুর্কিদের কারাউনা গোত্রীয়।
- তিনি ছিলেন দিল্লির তুগলক সুলতানের অধীনে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা (ওয়ালি) বাহরাম খানের সিলাহদার (অস্ত্রাগারের তত্ত্বাবধায়ক)।
- ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন এবং স্বীয় অবস্থান সুদৃঢ় করে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- স্বীয় মুদ্রায় ফখরুদ্দীন আল-সুলতানুল আযম ফখরুদ্দুনিয়া ওয়াদ-দ্বীন আবুল মুজাফফর মুবারক শাহ আল-সুলতান উপাধি গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৮২.
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত ঘটে-
  1. ক) ১২০০ সালে
  2. খ) ১২০৪ সালে
  3. গ) ১২০২ সালে
  4. ঘ) ১২১২ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১২০৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১২০৪ সালে
ব্যাখ্যা
ত্রয়োদশ শতকে ১২০৪ সালে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি কর্তৃক নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়। ১২০৪ সালে বখতিয়ার খলজি বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন। লক্ষ্মণ সেন পেছনের দরজা দিয়ে নৌকাযোগে বিক্রমপুরে পলায়ন করেন। তবে পূর্ব বাংলায় ত্রয়োদশ শতক জুড়ে সেন শাসন অব্যাহত ছিলো।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
২৮৩.
কোন মুঘল সম্রাটের শাসনামলে ঢাকা গেইট নির্মিত হয়েছে?
  1. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  2. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট বাবর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আওরঙ্গজেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

ঢাকা গেইট:
- ঢাকা গেইট ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্য নিদর্শন।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা।
- এটি মীর জুমলা গেইট, ময়মনসিংহ গেইট বা রমনা গেইট নামেও পরিচিত ছিল।
- 'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে ঢাকা গেইট নির্মিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ে বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন মীর জুমলা।
- মীর জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে ঢাকা গেইট নির্মাণ করেছিলেন।
- সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এটি নির্মাণ করা হয়।
- সম্প্রতি ঢাকা গেট সংস্কার শেষে নতুন করে উদ্বোধন হয় ঐতিহাসিক ঢাকা গেইট।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বিবিসি বাংলা।

২৮৪.
নবাব সিরাজউদ্দৌলা কার দৌহিত্র ছিলেন?
  1. মুর্শিদকুলি খাঁন
  2. মীর কাসিম
  3. সুজা উদ্দৌলা
  4. আলীবর্দী খাঁন
সঠিক উত্তর:
আলীবর্দী খাঁন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলীবর্দী খাঁন
ব্যাখ্যা
• সিরাজউদ্দৌলা:
- আলীবর্দী খানের কোনো পুত্র ছিল না।
- তার তিন কন্যা আমেনা, ময়মুনা ও ঘষেটি ।
- ময়মুনা ও আমেনার দুই পুত্র ছিল।
- কিন্তু ঘষেটি বেগমের কোনো পুত্র ছিল না।
- আলীবর্দী খান আমেনার পুত্র সিরাজউদ্দৌলাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন।
- এ কারণে তাঁকেই তাঁর জীবিতকালে বাংলার নবাব পদে মনোনীত করে যান।
- আলীবর্দী খান দৌহিত্য ছিলেন সিরাজউদ্দৌলা।
- সিরাজ ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- তাঁর পিতার নাম মির্জা মুহম্মদ হাসিম মইনুদ্দীন খান।
- ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যু হয়।
- তখন ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৫.
সোমপুর বিহারের নির্মাতা কে?
  1. ক) হর্ষবর্ধন
  2. খ) ধর্মপাল
  3. গ) বিজয় সেন
  4. ঘ) রামপাল
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্মপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন ধর্মপাল। তিনি প্রায় ৪০ বছর (৭৮১-৮২১) রাজত্ব করেন। বৌদ্ধধর্মের প্রসারে তিনি নওগা জেলার পাহাড়পুরে সোমপুর বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। এখনো পর্যন্ত সোমপুর বিহার ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় বিহার হিসেবে স্বীকৃত। এটিকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐহিত্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২৮৬.
শাহ সুজার নিযুক্তির সময় সুবাহ-বাংলার রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. ক) রাজমহল
  2. খ) ঊড়িষ্যা
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) কুচবিহার
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
শাহ সুজা:

- শাহ সুজার নিযুক্তির সময় ঢাকা সুবাহ-বাংলার রাজধানী ছিল।
- শাহ সুজা (১৬৩৯-১৬৬০) সুবাহ-বাংলার মুগল ভাইসরয়।
- তিনি ছিলেন সম্রাট শাহজাহান ও সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহলের দ্বিতীয় পুত্র। ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জুন তাঁর জন্ম হয়।
- ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে ঊড়িষ্যা প্রদেশের দায়িত্বও অর্পণ করা হয়।
- ঢাকার প্রাচীন মুগল দালানগুলি তাঁর সময়েই নির্মিত হয়। দালানগুলি হলো বড় কাটরা, ঈদগাহ, হোসেনী দালান এবং চুড়িহাট্টা মসজিদ,বুড়িগঙ্গার তীরে বড় কাটরা

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া। 
২৮৭.
কে বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান ঘটান?
  1. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  2. সুলতান মাহমুদ
  3. বখতিয়ার খিলজি
  4. শেরশাহ 
সঠিক উত্তর:
শেরশাহ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেরশাহ 
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন সুলতানি যুগের পতন:
- নুসরত শাহের সময়কাল থেকেই শুরু হয় বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের পতন পর্ব।
- নুসরত শাহের উত্তরাধিকারীগণ ছিলেন দুর্বল।
- তাঁর ছোট ভাই গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দে ফিরোজ শাহকে হত্যা করে সিংহাসনে বসেন।
- কিন্তু তাতে অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
- বরং নুসরত শাহের শাসনকালে রাজ্যে যে ভাঙনের সূচনা হয়েছিল, মাহমুদ শাহের শাসনকালে তা সম্পূর্ণ হয়।
- তাঁর পাঁচ বছরের রাজত্বকালের উল্লেখযোগ্য ঘটনা আফগান যোদ্ধা শেরশাহ শূরের সাথে সংঘর্ষ।
- অবশেষে ১৫৩৮ সালে শেরশাহ গৌড় দখল করলে কেবল হুসেন শাহী বংশের নয়, বরং বাংলার দুই'শ বছরের স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান ঘটে।


 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

২৮৮.
আওরঙ্গজেব কত বছর দাক্ষিণাত্যে অবস্থান করেন?
  1. ১৫ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ২৫ বছর
  4. ৩০ বছর
সঠিক উত্তর:
২৫ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ বছর
ব্যাখ্যা
আওরঙ্গজেব:

- ১৬৫৮ খিষ্টাব্দে আওরঙ্গজেব বাদশাহ আলমগীর উপাধি নিয়ে মোগল সিংহাসনে বসেন।
- ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে তিনি একজন অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব।
- ঐতিহাসিক স্টেন্সি লেনপুল আওরঙ্গজেবকে মোগল বংশের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী শাসক বলেছেন।
- তিনি আকবর অপেক্ষা বৃহত্তর সাম্রাজ্য শাসন ও বিশালতর সৈন্যবাহিনীর অধিনায়কত্ব করেছিলেন। সম্রাট হয়েও তিনি সরল ও পবিত্র জীবনযাপন করতেন।
- আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য বিজয়কে তিন পর্যায়ে ভাগ করা যায়।
- আওরঙ্গজেব দীর্ঘ ২৫ বছর (১৬৮২- ১৭০৭ খ্রি.) দাক্ষিণাত্যে অবস্থান করেছিলেন।
- এ সময়ে শম্ভুজী পরাজিত ও নিহত হন এবং তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মোগল- মারাঠা সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৯.
সুলতানী আমলে বাংলার রাজধানীর নাম কী?
  1. ঢাকা
  2. জাহাঙ্গীরনগর
  3. গৌড়
  4. ইসলামপুর
সঠিক উত্তর:
গৌড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়
ব্যাখ্যা

• সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী ছিল — গৌড়।

• বাংলার প্রাচীন রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁও ও গৌড়:
- নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোগড়াপাড়া ক্রসিং থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার উত্তরে সোনারগাঁও অবস্থিত।
- সবুজ বন-বনানী আর অনুপম স্থাপত্যশৈলীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য়ের নান্দনিক ও নৈসর্গিক পরিবেশে ঘেরা বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
- প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে।
- অন্য ধারণামতে বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ’র স্ত্রী সোনাবিবি’র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদের মধ্যে শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে সোনারগাঁও একটি গৌরবময় জনপদ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- সুলতানী আমলে বাংলার রাজধানী ছিল প্রথমে সোনারগাঁও (১৩৩৮-১৩৫২ খ্রি.)।
- পরে রাজধানী স্থানান্তরিত হয় গৌড়ে (১৪৫০-১৫৬৫ খ্রি.)।
- সুলতানি আমলে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এবং সর্বশেষ  রাজধানী গৌড় ছিল। সে আলোকে গৌড়  উত্তর নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও,
- ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্য়ন্ত সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- ঈশা খাঁ ও তাঁর বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- সোনারগাঁও-এর আরেকটি নাম ছিল পানাম।
- পানাম নগরের নির্মিত ভবনগুলো ছোট লাল ইট দ্বারা তৈরী।
- ইমারতগুলো কোথাও একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন, আবার কোথাও সন্নিহিত।
- অধিকাংশ ভবনই আয়তাকার এবং উত্তর দক্ষিণে বিস্তৃত।দীর্ঘ একটি সড়কের উভয় পাশে দৃষ্টিনন্দন ভবন স্থাপত্যের মাধ্যমে পানামনগর গড়ে উঠেছিল।
- উভয় পাশে মোট ৫২টি পুরোনো বাড়ী এই ক্ষুদ্র নগরীর মূল আকর্ষণ।

উল্লেখ্য,
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁওকে স্বাধীন বাংলার প্রথম রাজধানী করেন।
- জালালউদ্দিন মাহমুদ শাহ তার রাজধানী গৌড়ে স্থানান্তরিত করেন। 
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ সিংহাসনে আরোহণ করে রাজধানী গৌড় থেকে একডালাতে স্থানান্তরিত করেন। 

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

২৯০.
কে বাংলার সাল গণনা শুরু করেন?
  1. লক্ষ্মণ সেন
  2. ইলিয়াস শাহ্‌
  3. বিজয় সেন
  4. আকবর
সঠিক উত্তর:
আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকবর
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন।
- বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

⇒ সম্রাট আকবর সমন্বয়বাদী চিন্তার ধারক-বাহক ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

এছাড়াও,
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii)ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯১.
বখতিয়ার খিলজি জাতিতে কোন বংশের ছিলেন?
  1. আফগানি
  2. পারসিয়ান
  3. মঙ্গোলীয়
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
ব্যাখ্যা

 বখতিয়ার খিলজি:
- ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ -বিন- বখতিয়ার খিলজি নদীয়া জয় করে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজি সমগ্র নদীয়া জয় করেন।
- তিনি জাতিতে তুর্কিদের খিলজি সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- তবে তিনি আফগানিস্তানের গরমিশ অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন।
- ভারতবর্ষে ভাগ্যের অন্বেষণে এসে শেষ পর্যন্ত অযোধ্যার শাসক মালিক হুশাম উদ্দিনের রাজ্যের পূর্ব সীমান্তে সীমান্তরক্ষীর কাজ পান।
- তিনি গৌড় বা লক্ষণাবতী (লখনৌতি) জয় করে সেখানেই রাজধানী স্থাপন করেন।
- তার শাসন কেন্দ্র ছিল লক্ষণা বতীতে।
- বখতিয়ার খলজির শাসনামলে বাংলায় যথেষ্ট সংখ্যক মসজিদ, মাদ্রাসা এবং খানকাহ (অতিথিশালা) তৈরি করা হয়।
- ১২০৬ সালে তিনি তিব্বত অভিযানে বের হয়ে ব্যর্থ হন, দিনাজপুরের দেবকোটে ফিরে আসার পর এখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯২.
ইতিহাসে ‘The Prince of Builders or Engineer King” নামে পরিচিত হলেন -
  1. ক) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  2. খ) সম্রাট শাহজাহান
  3. গ) সম্রাট আওরঙ্গজেব
  4. ঘ) সম্রাট বাবর
সঠিক উত্তর:
খ) সম্রাট শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা

- মুঘল ইতিহাসে শাহজাহানের রাজত্বকাল “The Age of Marble” নামে খ্যাত।
- তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তিনি ইতিহাসে ‘The Prince of Builders or Engineer King” নামে পরিচিত ।
- সম্রাট শাহজাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হল আগ্রার তাজমহল। যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত তাজমহল হচ্ছে সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে অমর করে রাখার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা - ৯ম - ১০ম শ্রেনি এবং বাংলাপিডিয়া।

২৯৩.
'Prince of Builders' নামে খ্যাত কে?
  1. জাহাঙ্গীর
  2. শাহজাহান
  3. আওরঙ্গজেব
  4. আকবর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
ব্যাখ্যা
সম্রাট শাহজাহান:

- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি 'আবুল মুজাফফর শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ শাহজাহান বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
- তাঁর ত্রিশ বছরের রাজত্বকালে মোগল সাম্রাজ্য গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল।
- সমরকুশলী হিসেবে সম্রাট শাহজাহান দক্ষতার পরিচয় দেন।
- মোগল আধিপত্য বিস্তারেও তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
- তাঁর আমলে আহমদনগর, বিজাপুর, গোলকুণ্ডায় মোগল আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তিনি পর্তুগিজদের দমন করে হুগলী দখল করেন।
- সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম পশ্চিম এশিয়ার এবং ইউরোপের সাথে ভারতবর্ষের বহির্বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্য পিপাসু শিল্পমনা মানুষ।
- 'The Prince of Builder' নামে খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের আমলে মোগল শিল্প ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- সম্রাটের স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর নির্মিত স্মৃতিসৌধ তাজমহল বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন।
- তাজমহলকে ঐতিহাসিক হ্যাভেল ভারতের 'ভেনাস দ্যা মিলো' নামে আখ্যায়িত করেছেন।
- এছাড়া মতি মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, জামে মসজিদ তাঁর আমলের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি।
- শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসন তাঁর শিল্পানুরাগের এক অপূর্ব নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৪.
হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে কোন উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন?
  1. কৃষ্ণাবতার
  2. জগৎভূষণ
  3. নৃপতি তিলক
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৫.
ইবনে বতুতা কোন খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও ভ্রমণ করেন?
  1. ১৩৪৪ খ্র্রিস্টাব্দে
  2. ১৩৪৫ খ্র্রিস্টাব্দে
  3. ১৩৪৬ খ্র্রিস্টাব্দে
  4. ১৩৪৭ খ্র্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩৪৬ খ্র্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৪৬ খ্র্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
সোনারগাঁও: 

- ১৩৩৫ থেকে ১৫৩৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সোনারগাঁও কখনো বাংলার রাজধানী আবার কখনো পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল।
- মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্র্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও ভ্রমণ করেন।
- পানামের জমিদারেরা ব্রিটিশ বিরোধী স্বদেশী-আন্দোলন ও মহাত্মা গান্ধীর অহিংস-আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক মোহাজের সমস্যা সোনারগাঁওয়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২৯৬.
কার কাছে পরাজিত হয়ে লক্ষণ সেন বাংলার সিংহাসন হারায়?
  1. ক) বখতিয়ার খলজি
  2. খ) আলীবর্দী খা
  3. গ) বল্লাল সেন
  4. ঘ) আলি মর্দান খলজি
সঠিক উত্তর:
ক) বখতিয়ার খলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বখতিয়ার খলজি
ব্যাখ্যা

- বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজি
- বখতিয়ার খলজি ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলার বয়োঃবৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
- তিনি অশ্ব বিক্রেতার বেশে ১৭/১৮ জন অশ্বারোহীসহ লক্ষণ সেনের রাজধানী নদীয়ায় প্রবেশ করে অতর্কিত আক্রমণ করেন। এই আক্রমণে লক্ষণ সেন পালিয়ে পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে আশ্রয় নেন।
লক্ষণ সেন পলায়ন করলে বখতিয়ার খলজি বিনা বাধায় নদীয়া দখল করেন এবং গৌড়ের নাম পরিবর্তন করে লক্ষণাবতী রাখেন।
- তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই এদেশে প্রথম মুসলমানদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় অবস্থান করে লক্ষণ সেন আরও ২/৩ বৎসর রাজত্ব করেন। খুব সম্ভব ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দে (মতান্তরে ১২০৫ খ্রি:) তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন।
- লক্ষণ সেনের মৃত্যুর পর তাঁর দুই পুত্র বিশ্বরূপ সেন ও কেশব সেন কিছুকাল (১২০৩ খ্রি: পর্যন্ত) পূর্ব বাংলা শাসন করেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

২৯৭.
বাংলার প্রথম মুসলিম বিজেতা -
  1. ক) বখতিয়ার খলজী
  2. খ) ইলিয়াস শাহ
  3. গ) হুসেন শাহ
  4. ঘ) শিরান খলজী
সঠিক উত্তর:
ক) বখতিয়ার খলজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বখতিয়ার খলজী
ব্যাখ্যা
- বখতিয়ার খলজি নদীয়া আক্রমণ করেন ১২০৪ সালে। 
- তিনি বাংলার প্রথম মুসলিম বিজেতা।
- বখতিয়ার খলজি একজন তুর্কি বীর। তিনি আফগানিস্থানের অধিবাসী।
- ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের আবির্ভাব হয় ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মোহম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের মধ্য দিয়ে।
- সুলতান মাহমুদ ১০০০-১০২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট ১৭ বার ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন।

উৎস : ইসলামি ইতিহাস ও সংস্কৃতি (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।
২৯৮.
পরী বিবির আসল নাম কী?
  1. ইরান দুখত
  2. গুলতেকিন
  3. ফাতেমা
  4. গুলবাহার
সঠিক উত্তর:
ইরান দুখত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরান দুখত
ব্যাখ্যা
পরী বিবি:
- পরী বিবি বাংলার মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান এর কন্যা।
- বাদশাহ আওরঙ্গজেব এর পুত্র মুহম্মদ আজম এর স্ত্রী।
- তাঁর আসল নাম ইরান দুখত।
- লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে মসজিদের পূর্ব দিকে বিবি পরীকে সমাহিত করা হয়।
- শায়েস্তা খান কন্যার সমাধির উপর একটি সুদৃশ্য সৌধ নির্মাণ করেন।

উল্লেখ্য,
⇒ লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ বা আওরঙ্গবাদ দুর্গ।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- নবাব শায়েস্তা খান লালবাগ দুর্গ নির্মাণ করেন।
- তিনি ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে এই দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
- পরী বিবিকে দরবার হল এবং মসজিদের ঠিক মাঝখানে সমাহিত করা হয়।
- ১৮৪৪ সালে ঢাকা কমিটি নামে একটি আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্গের উন্নয়ন কাজ শুরু করে।
- এ সময় দুর্গটি লালবাগ দুর্গ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়।
- এটি মোগল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ৯ ডিসেম্বর ২০১৬, প্রথম আলো।
২৯৯.
দৌলত খান লোদী কোন রাজ্যের শাসক ছিলেন?
  1. পাঞ্জাব
  2. মালব
  3. কাশ্মীর
  4. বাংলা
সঠিক উত্তর:
পাঞ্জাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঞ্জাব
ব্যাখ্যা
মুঘল শাসনের পুর্বে:

- বাবরের ভারতবর্ষ আক্রমণের প্রাক্কালে এদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজমান ছিল।
- তখন দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের শাসক ছিলেন ইব্রাহিম লোদী।
- তিনি অনেকটা দুর্বল শাসক ছিলেন। ফলে অমাত্যবর্গ ও প্রাদেশিক শাসনকর্তাগণের উপর তার নিয়ন্ত্রণ কম ছিল।
- কেন্দ্রীয় শাসনের দুর্বলতার সুযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এসব রাজ্যের মধ্যে পাঞ্জাবের শাসক দৌলত খান লোদী সুলতানের চরম বিরোধিতা করেন এবং ইব্রাহিম লোদীকে সিংহাসনচ্যুত করার জন্য বাবরকে আমন্ত্রণ জানান।
- এমন সংকটপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থার সুযোগ নিয়ে বাবর ভারত আক্রমণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০০.
আদিনা মসজিদ কোন শাসকের সময়ে নির্মিত হয়?
  1. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  2. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. সিকান্দর শাহ
সঠিক উত্তর:
সিকান্দর শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দর শাহ
ব্যাখ্যা

→ আদিনা মসজিদ সিকান্দর শাহ এর সময়ে নির্মিত হয়।

সিকান্দর শাহ:
- ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সিকান্দর শাহ ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি প্রায় ৩৪ বছর রাজত্ব করেন।
- তাঁর এ সুদীর্ঘ রাজত্বকালে বাংলাদেশে মুসলিম শাসন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- সিকান্দর শাহ সুশাসক ও বিদ্যানুরাগী ছিলেন। 
- সুফি শেখ আলাউল হক ও শেখ শরফউদ্দীন ইয়াহিয়ার সাথে সিকান্দর শাহের সৌহার্দ্য ও পত্রালাপ ছিল।
- তাঁর রাজত্বকালে স্থাপত্যশিল্পের যথেষ্ট উন্নতি হয়।
- তাঁর সময় তৈরি আদিনা মসজিদ মধ্যযুগের বাংলার স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।