বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ নারী লেখক

মোট প্রশ্ন৬৪০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ নারী লেখক

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৬৪০

২০১.
নাচোলের তেভাগা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কাকতাড়ুয়া
  2. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  3. কাঁটাতারে প্রজাপতি
  4. যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
কাঁটাতারে প্রজাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁটাতারে প্রজাপতি
ব্যাখ্যা

• 'কাঁটাতারে প্রজাপতি' উপন্যাস:
- সেলিনা হোসেনের 'কাটাতারে প্রজাপতি' [১৯৮৯] নাচোলের তেভাগা আন্দোলন ও তার কিংবদন্তিতুল্য সংগঠক ও নেত্রী ইলা মিত্রকে নিয়ে লেখা ইতিহাস-নির্ভর জীবনী-উপন্যাস।

- এ উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু নাচোলের কৃষক বিদ্রোহের নেত্রী ইলা মিত্র। সেলিনা হোসেনের 'কাঁটাতারে প্রজাপতি'তে ঐতিহাসিক নায়িকাই উপন্যাসের আঙ্গিকে নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছেন। জমিদার বাড়ির বউ ইলা মিত্রের তেভাগা আন্দোলনের নাচোল শাখার মুখ্য কর্তা রমেন মিত্রের সঙ্গে নাচোলের কৃষক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে সকলের ভালোবাসার রানিমা হয়ে ওঠার কাহিনি বিবৃত হয়েছে।

- ২৭টি অধ্যায়ে বর্ণিত 'কাঁটাতারে প্রজাপতি' উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে সুতো উৎপাদক আজমলের চিন্তাস্রোত বর্ণনা করে। আর কাহিনি শেষ হয়েছে রাজশাহী জেল হাসপাতালে মরণাপন্ন অবস্থায় থেকে আজমলের ইলা মিত্রের জবানবন্দি পাঠ ও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের ঘটনার মাধ্যমে।

--------------------
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাসসমূহ:
• 'যুদ্ধ' (১৯৯৮): ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। এ উপন্যাসে ১১ নম্বর সেক্টরের নারী মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক তারামন বিবির প্রসঙ্গ এসেছে।'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি' (১৯৮৭): চল্লিশের দশকের পটভূমিতে রচিত।

• 'কাকতাড়ুয়া' (১৯৯৬): এটি শিশুতোষ উপন্যাস। এটি বুধা নামে এক এতিম সাহসী কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কাহিনি।

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' (১৯৭৬): এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। ১৯৭২ সালে এ ঘটনা নিয়ে তিনি গল্প লেখেন। পরবর্তীতে এটি উপন্যাসে রূপান্তরিত করেন।
• 'যাপিত জীবন' (১৯৮১): এ উপন্যাসে ১৯৪৭-৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের যাবতীয় ঘটনা কেন্দ্রীয় চরিত্র জাফর এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।

• 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬): উপন্যাস বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নাফ নদীর তীরবর্তী শাহপরী দ্বীপ নামক এক ছোট দ্বীপের ধীবর শ্রেণির মানুষের জীবন সংগ্রাম এর বাস্তব রূপায়ণ। চরিত্র: মালেক, সাফিয়া।

• ‘জলোচ্ছ্বাস' (১৯৭২): দক্ষিণ বাংলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, আগুনমুখা, কাজল নদীর কূলে প্রতিকূল প্রকৃতি ও সামাজিক অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামশীল মানুষের জীবনধারা এ উপন্যাসের আলেখ্য।

উৎস: 'কাঁটাতারে প্রজাপতি' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২০২.
সুফিয়া কামালের মুক্তিযুদ্ধের পেক্ষাপটে রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. অভিযাত্রিক
  2. সাঁঝের মায়া
  3. মোর যাদুদের সমাধি পরে
  4. উদাত্ত পৃথিবী
সঠিক উত্তর:
মোর যাদুদের সমাধি পরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোর যাদুদের সমাধি পরে
ব্যাখ্যা

• "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ:
- "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কবি সুফিয়া কামালের সপ্তম কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের রক্তঝরা দিনগুলোর প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশপ্রেমের কবিতা স্থান পেয়েছে।

-------------------
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ: কেয়ার কাঁটা। 
• দিনলিপি: একাত্তরের ডায়েরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

২০৩.
নিচের কোনটি সুফিয়া কামালের শিশুতোষ গ্রন্থ?
  1. ক) সাঁঝের মায়া
  2. খ) মন ও জীবন
  3. গ) ইতলবিতল
  4. ঘ) মৃত্তিকার মায়া
সঠিক উত্তর:
গ) ইতলবিতল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইতলবিতল
ব্যাখ্যা
- 'ইতল বিতল' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা সুফিয়া কামাল। 

সুফিয়া কামাল: 
- তিনি ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কুমিল্লায়। 
- কলকাতায় ১৯১৮ সালে বেগম রোকেয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়।  
- তাঁকে জননী সাহসিকা বলা হয়।
- তিনি মূলত কবি হিসেবে পরিচিত। 
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
কবিতা:
- সাঁঝের মায়া 
- মন ও জীবন
- উদাত্ত পৃথিবী
- অভিযাত্রিক 
- মোর যাদুদের সমাধি পরে
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

গল্প:
- কেয়ার
শিশুতোষ:
- ইতল বিতল
- নওল কিশোরের দরবারে 

আত্মজীবনী:
- একালে আমাদের কাল 
ডায়েরি:
- একাত্তরের ডায়রী 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২০৪.
'স্ত্রীজাতির অবনতি' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন কবির
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বেগম রোকেয়া
  4. হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
• 'স্ত্রীজাতির অবনতি' বেগম রোকেয়া রচিত 'মতিচূর' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রবন্ধ।
- এই প্রবন্ধে লেখিকা স্ত্রীজাতির দাসত্ব মানসিকতা নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

• 'মতিচূর' প্রবন্ধগ্রন্থ:

- 'মতিচূর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর। রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই।
- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।
- প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-'পিপাসা', 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'নিরীহ বাঙালি', 'অর্ধাঙ্গী', 'সুগৃহিণী', 'বোরকা' ও 'গৃহ'।
- দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

----------------------------
• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২০৫.
'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. জহির রায়হান
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন: 
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা 'মুসলিম মহিলা সমিতি'। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত 'Lady Land' বা 'নারীস্থান' মূলত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনেরই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
- তিনি ৯ই ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, দুই খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- সুলতানার স্বপ্ন (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২০৬.
বেগম রোকেয়া  রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. পদ্মরাগ
  2. মতিচূর
  3. নারীর মূল্য
  4. পদ্মগোখরা
সঠিক উত্তর:
মতিচূর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মতিচূর
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ -'মতিচূর'।

'মতিচূর':
- 'মতিচূর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর।
- রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই।
- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।
- প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম- পিপাসা, স্ত্রীজাতির অবনতি, নিরীহ বাঙালি, অর্ধাঙ্গী, সুগৃহিণী, বোরকা ও গৃহ।
- দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।
-------------------------------------

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'পদ্মগোখরা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প।
- 'পদ্মরাগ' বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'নারীর মূল্য' নামক প্রবন্ধ গ্রন্থটি রচনা করেছেন।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
২০৭.
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্মসাল -
  1. ১৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮৮
  2. ১৯ই ডিসেম্বর, ১৮৯০
  3. ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮৮
  4. ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০
সঠিক উত্তর:
৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০
ব্যাখ্যা

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
 রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২০৮.
মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে ধর্ষিত হওয়া সাত জন নারীর করুণ কাহিনী বর্ণিত হয়েছে নিম্নের কোন রচনায় ?
  1. একাত্তরের অগ্নিকন্যা
  2. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  3. যে অরণ্যে আলো নেই
  4. নীল দংশন
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা

'আমি বীরাঙ্গণা বলছি' লেখিকা নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি বই। এই বইয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে ধর্ষিত হওয়া সাত জন নারীর করুন কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। 

- ১৯৯৪ এবং ১৯৯৭ সালে আমি বীরাঙ্গণা বলছি'র দুইটি খণ্ড প্রকাশ করেন।এই গ্রন্থে ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন সময়ে বীরাঙ্গণাদের দুঃখ এবং যুদ্ধের পরবর্তী সুখ-দুঃখের কথা সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে সুন্দরভাবে।
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী নীলিমা ইব্রাহিম ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস
- বিশ শতকের মেয়ে ১৯৫৮
- এক পথ দুই বাক ১৯৫৮
- কেয়াবন সঞ্চারিনী ১৯৫৮
- বহ্নিবলয় ১৯৮৫

তাঁর রচিত প্রবন্ধ
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি
- শরৎ প্রতিভা
- বাংলার কবি মধুসূদন

তাঁর রচিত নাটক
- দুইয়ে দুইয়ে চার ১৯৬৪
- যে অরণ্যে আলো নেই(মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক) ১৯৭৪
- রোদজ্বলা বিকেল ১৯৭৪
- সূর্যাস্তের পর
- নব মেঘদূত
- রমনা পার্কে

-একাত্তরের অগ্নিকন্যা তুষার আব্দুল্লাহ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক রচনা।
-নীল দংশন সৈয়দ শাসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ।

২০৯.
জাহানারা ইমাম রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. নিঃসঙ্গ পাইন
  2. অন্য জীবন
  3. প্রবাসের দিনগুলি
  4. একান্তরের ডায়েরী
সঠিক উত্তর:
একান্তরের ডায়েরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একান্তরের ডায়েরী
ব্যাখ্যা
•  ‍সুফিয়া কামাল রচিত স্মৃতিকথা মূলক গ্রন্থ- একান্তরের ডায়েরী।

--------------------------
• জাহানারা ইমাম:
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলায় ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'।

• তাঁর রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২১০.
কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ-
  1. একাত্তরের যীশু
  2. একাত্তরের দিনগুলি
  3. একাত্তরের চিঠি
  4. একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের দিনগুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের দিনগুলি
ব্যাখ্যা
'একাত্তরের দিনগুলি' উপন্যাস:
- একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে।
- ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়। বস্তুত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।

অন্যদিকে, 
• লেখক শাহরিয়ার কবির-এর লেখা 'একাত্তরের যীশু' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস।  

• "একাত্তরের চিঠি" কোনো একক ব্যক্তির লেখা গ্রন্থ নয়, এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় লেখা বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধার চিঠিগুলোর একটি সংকলন। এই সংকলনে মোট ৮৬টি চিঠি রয়েছে, যা বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা তাদের পরিবার, বন্ধু ও ভালোবাসার মানুষকে লিখেছিলেন। একাত্তরের চিঠি'র প্রথম চিঠিটি লিখেছেন শহীদ কাজী নূরুন্নবী।  

•  'একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা' হাসান আজিজুল হক রচিত গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১১.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত উপন্যাস- 
  1. বসন্ত উৎসব
  2. দীপনির্বাণ
  3. বিবাহ উৎসব
  4. রাজকন্যা
সঠিক উত্তর:
দীপনির্বাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীপনির্বাণ
ব্যাখ্যা

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২)  কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- তিনি জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।

• 'দীপনির্বাণ' স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত উপন্যাস।
- ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ
- বিদ্রোহ,  
- মেবার  রাজ, 
- ছিন্নমুকুল, 
- হুগলীর ইমামবাড়ী, 
- বিচিত্র, 
- স্বপ্নবাণী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- বিবাহ উৎসব,
- রাজকন্যা,
- যুগান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং  বাংলাপিডিয়া।

২১২.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. মেবার পতন
  2. কল্যাণী
  3. মেবার রাজ
  4. নির্বাণ দীপ
সঠিক উত্তর:
মেবার রাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেবার রাজ
ব্যাখ্যা
• স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত উপন্যাস 'মেবার রাজ'।

অন্যদিকে,
- 'মেবার পতন' দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের নাটক।
- 'কল্যাণী' জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস।

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১৩.
সিস্টার সারা চরিত্রটি বেগম রোকেয়া রচিত কোন রচনার অন্তর্গত? 
  1. পদ্মরাগ
  2. অবরোধবাসিনী
  3. সুলতানার স্বপ্ন
  4. মতিচূর
সঠিক উত্তর:
সুলতানার স্বপ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতানার স্বপ্ন
ব্যাখ্যা

সিস্টার সারা চরিত্রটি বেগম রোকেয়ার কল্পকাহিনী - 'সুলতানার স্বপ্ন' এর অন্তর্ভুক্ত। 

• ‘সুলতানার স্বপ্ন’: 
- গল্পটি নারীবাদী কল্পকাহিনি।
- গল্পের মাধ্যমে লেখক নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতার বার্তা দিতে চেয়েছেন।
- বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ গল্পের মূল চরিত্র হলো সুলতানা।
- সুলতানা হচ্ছে এই গল্পের কথক।
- গল্পে সুলতানার পথপ্রদর্শক হিসেবে সিস্টার সারার চরিত্রটি চিত্রায়ন করা হয়েছিলো।
- গল্পে সুলতানা স্বপ্ন একটি কল্পনাপূর্ণ নারী বিশ্ব বা লেডিল্যান্ডের স্বপ্ন দেখে।
- যেখানে সব নেতৃত্বের কাজ নারীদের অধীনে থাকবে।
- যেখানে পুরুষদের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করে রাখা হবে।
- এই স্বপ্নের জগৎ সম্পূর্ণভাবে নারীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। 
-----------------------------------------------
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন একজন বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক।
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে তিনি মারা যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

• বাংলা নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে খ্যাত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলি হল:
- ‘পদ্মরাগ’ (উপন্যাস),
- ‘অবরোধবাসিনী’ (গল্প),
- ‘মতিচূর’ (প্রবন্ধ সংকলন) ও
- ‘সুলতানার স্বপ্ন’ (কল্পকাহিনি)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

২১৪.
কামিনী রায় রচিত কোন গ্রন্থের ভূমিকা হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় লেখে দেন?
  1.  মাল্য ও নির্মাল্য
  2. পৌরাণিকী
  3. আলো ও ছায়া
  4. অশোকসঙ্গীত
সঠিক উত্তর:
আলো ও ছায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো ও ছায়া
ব্যাখ্যা

• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর -বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- একসময় তিনি 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন। তাঁর কবিতা সহজ, সরল, মানবিক ও উপদেশমূলক। তাঁর কবিতায় জীবনের মহৎ আদর্শের প্রতি গভীর অনুরাগের পরিচয় আছে।
-সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (১৯২৯) 'জগত্তারিণী পদকে' সম্মানিত হন।
-তিনি 'নারী শ্রম তদন্ত কমিশন' (১৯২২-২৩) এর সদস্য ছিলেন।
- তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৩ সালে হাজারীবাগ, বিহারে মৃত্যুবরণ করেন।
-'আলো ও ছায়া' (১৮৮৯): এটি তাঁর ১৫ বছর বয়সে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এ গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য, 
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থ এবং চারুপাঠ ষষ্ঠ শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২১৫.
নীলিমা ইব্রাহিমের গবেষণামূলক রচনার মধ্যে কোনটি রয়েছে?
  1. শরৎ প্রতিভা
  2. বহ্নিবলয়
  3. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  4. বিশ শতকের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
শরৎ প্রতিভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎ প্রতিভা
ব্যাখ্যা

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়ন
 সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ও বাংলাপিডিয়া।

২১৬.
বাংলা একাডেমির প্রথম নারী সভাপতি -
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
খ) সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমির প্রথম নারী সভাপতি হলেন ঔপন্যাসিক ও কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।
- গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ প্রথম নারী হিসেবে সেলিনা হোসেন বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
- বাংলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা

উৎস: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
২১৭.
'কেয়াবন সঞ্চারিণী' - উপন্যাসটি লিখেছেন কে?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বন্দে আলী মিয়া
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
• ‘কেয়াবন সঞ্চারিণী’ উপন্যাস:
- নীলিমা ইব্রাহিম লিখিত উপন্যাস ‘কেয়াবন সঞ্চারিণী’ প্রকাশিত হয় ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে।  
- প্রকাশক ছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা, প্রকাশিত হয় (পুথিঘর লিঃ) ঢাকা থেকে। প্রকাশ কালে গ্রন্থটির মূল্য ছিল দুই টাকা পঁচিশ পয়সা মাত্র।
- কেয়াবন সঞ্চারিণী, উপন্যাসে মূল চরিত্র আইরিন, রিনা নামেই সে পরিচিত। তাকে ঘিরে উপন্যাসের প্রতিটি পর্ববিন্যাস।
- নিরা একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে, ঢাকার মগবাজারে তাদের বাসা। বাবা প্রয়াত স্কুল শিক্ষক, পিতার মৃত্যুর পর রিনা সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়, তখন তার বয়স মাত্র উনিশ। এভাবেই সংসারের দায়িত্ব ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি নিয়ে উপন্যাসের প্রতিটি পর্ববিন্যাস হয়েছে। 

------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনের শুরুতে নীলিমা ইব্রাহিম কলকাতার লরেটো হাউজে লেকচারার (১৯৪৩-৪৪) হিসেবে চাকরি করেন। নীলিমা ইব্রাহিম বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

তাঁর গ্রন্থবদ্ধ রচনাসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
• গবেষণা:
- শরৎ-প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক।

• উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

• নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

আত্মজীবনী:
- বিন্দু-বিসর্গ।

উৎস: ‘কেয়াবন সঞ্চারিণী’ উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।
২১৮.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত 'মতিচূর' প্রবন্ধ গ্রন্থটি কয়টি খণ্ডে বিভক্ত?
  1. পাঁচ খণ্ডে
  2. চার খণ্ডে
  3. তিন খণ্ডে
  4. দুই খণ্ডে
সঠিক উত্তর:
দুই খণ্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই খণ্ডে
ব্যাখ্যা
⇒ 'মতিচূর' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'মতিচূর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর। রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই। 
- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।
- প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-'পিপাসা', 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'নিরীহ বাঙালি', 'অর্ধাঙ্গী', 'সুগৃহিণী', 'বোরকা' ও 'গৃহ'। 
- দ্বিতীয় খণ্ডে ১০টি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

⇒ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:  
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ)
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২১৯.
‘রক্তে ভেজা একুশ’ গদ্যটির রচয়িতা -
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. সেলিনা হোসেন
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. আবদুল গাফফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
‘রক্তে ভেজা একুশ' গদ্য:
• বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' (১৯৬৪) উপন্যাসের অংশবিশেষ ‘রক্তে ভেজা একুশ' গদ্যটি।
• আমাদের মহান ভাষা-আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এ কাহিনি রচিত।
• ভাষা-আন্দোলনে ছাত্র-জনতার মিছিলে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী ছাত্র ও পথশিশুর অভিব্যক্তি প্রকাশিত হয়েছে এ গল্পে।
• আন্দোলনে শামিল হয়ে পথশিশু অহি শহিদ হয়েছে এবং সকল মায়ের সন্তান হিসেবে নন্দিত হয়েছে।
 
সেলিনা হোসেন:
• বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
• তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
• তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 
 
• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২০.
বেগম রোকেয়ার পিতৃপ্রদত্ত নাম কী?
  1. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. রোকেয়া খাতুন
  3. রোকেয়া বেগম
  4. রোকেয়া আখতার
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া খাতুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোকেয়া খাতুন
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- তাঁর পিতৃপ্রদত্ত নাম রোকেয়া খাতুন।
- বিবাহের পর তাঁর স্বামীর নাম সাখাওয়াত হোসেন যুক্ত হয়।
- তিনি প্রথম জীবনে মিসেস আর এস হোসেন নামে লিখতেন।   
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উল্লে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- চাষার দুক্ষু (প্রবন্ধ),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২২১.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. ক) বিশ শতকের মেয়ে
  2. খ) এক পথ দুই বাঁক
  3. গ) যে অরণ্যে আলো নেই
  4. ঘ) রমনা পার্কে
সঠিক উত্তর:
গ) যে অরণ্যে আলো নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যে অরণ্যে আলো নেই
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত নাটক- যে অরণ্যে আলো নেই, দুয়ে দুয়ে চার, রোদজ্বালা বিকেল, সূর্যাস্তের পর। উপন্যাস- বিশ শতকের মেয়ে, এক পথ দুই বাঁক, কেয়া বন সঞ্চারিণী, বহ্নিবলয়। ছোটগল্প- রমনা পার্কে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২২.
"তাহারেই পড়ে মনে" কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. মাসিক মোহাম্মদী
  2. সাধনা
  3. পূর্বাশা
  4. কল্লোল
সঠিক উত্তর:
মাসিক মোহাম্মদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাসিক মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা

"তাহারেই পড়ে মনে" কবিতা:
- "তাহারেই পড়ে মনে" কবিতাটি ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ কবিতায় প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাৎপর্যময় অভিব্যক্তি পেয়েছে।

সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

২২৩.
তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সমাজে প্রচলিত নারী-পুরুষের বৈষম্য নিয়ে লিখিত কল্পকাহিনী -
  1. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  2. সুলতানার স্বপ্ন 
  3. বিশ শতকের মেয়ে
  4. বীরাঙ্গনা
সঠিক উত্তর:
সুলতানার স্বপ্ন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতানার স্বপ্ন 
ব্যাখ্যা

- বেগম রোকেয়া 'সুলতানার স্বপ্ন' লিখেছিলেন ১৯০৫ সালের তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সমাজে প্রচলিত নারী-পুরুষের বৈষম্য নিয়ে।

• ‘সুলতানার স্বপ্ন’:

- বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ রচনার মূল পটভূমি ছিল ব্রিটিশ ভারতের নারী-পুরুষ বৈষম্য ও নারীর পরাধীনতা।
- এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষা থেকেই রোকেয়া এমন এক কল্পসমাজ সৃষ্টি করেন, যেখানে নারীরা স্বাধীন, শিক্ষিত এবং ক্ষমতার অধিকারী।
- নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে তিনি নিজে প্রত্যক্ষ করেছিলেন যে, সেই সময়ে নারীরা শিক্ষার সুযোগ, স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়ে বদ্ধ জীবনে দিন কাটাচ্ছিলেন।
- তৎকালীন যুগে বিজ্ঞানের নানা নতুন আবিষ্কার এ রোকেয়া উপলব্ধি করেছিলেন যে বিজ্ঞানই নারীর মুক্তি।
- তাই তিনি ‘সুলতানার স্বপ্ন’–এ বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে এক উন্নত, সমতাভিত্তিক ও নারীকেন্দ্রিক সমাজের চিত্র অঙ্কন করেন।
- এ গল্পটিকে রোকেয়া রাজনৈতিক প্রতিবাদের একটি রূপ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
- তিনি দেখিয়েছেন যে কল্পনার সাহায্যে কীভাবে অন্যরকম এক মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সাম্যপরায়ণ সমাজ কল্পনা করা যায় এবং বিদ্যমান অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সম্ভব।
-----------------------------------------------
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন একজন বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক।
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে তিনি মারা যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলা নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে খ্যাত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলি হল:
- ‘পদ্মরাগ’ (উপন্যাস),
- ‘অবরোধবাসিনী’ (গল্প),
- ‘মতিচূর’ (প্রবন্ধ সংকলন) ও
- ‘সুলতানার স্বপ্ন’ (কল্পকাহিনি)।

অন্যদিকে,
• ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ (১৯৯৪)  নীলিমা ইব্রাহিমের লিখা।
- এ গ্রন্থে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনের শিকার সাতজন বীরাঙ্গনার হৃদয়বিদারক বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
- নীলিমা ইব্রাহিম (১৯২১–২০০২) ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখিকা ও সমাজসেবী।

‘বিশ শতকের মেয়ে’ উপন্যাসটিও নীলিমা ইব্রাহিমের লিখা।
- এ উপন্যাসে সে সময়ের নারীদের আত্মনির্ভর হওয়ার ইচ্ছা, জীবনসংগ্রাম এবং সমাজে তাদের পরিবর্তিত অবস্থানের চিত্র ফুটে উঠেছে।

বীরাঙ্গনা মাইকেল মধুসূধনের ১১ জন বীরনারীকে নিয়ে লিখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য (১৮৬২)।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা নবজাগরণের অগ্রদূত, আধুনিক কবিতার জনক ও মহাকবি হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা হলো- মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

২২৪.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘পদ্মরাগ’ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৮৮০
  2. খ) ১৯০৯
  3. গ) ১৯১১
  4. ঘ) ১৯২৪
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯২৪
ব্যাখ্যা

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বরে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন জন্মগ্রহণ করেন রংপুরে। নারী শিক্ষায় অবদানের জন্য তাঁকে ,মুসলিম নারী জাগরনের অগ্রদূত বলা হয়।
'পদ্মরাগ' ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়। এটি বেগম রোকেয়া রচিত উপন্যাস। গ্রন্থটি প্রথম কোনো মুসলিম নারীর রচনা। মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত  ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
'পদ্মরাগ উৎসর্গ করা হয় বেগম রোকেয়ার জ্যৈষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সোমিত্র শেখর।

২২৫.
জীবনানন্দ দাশের মাতা কে?
  1. কামিনী দাশ
  2. কামিনী রায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. কুসুমকুমারী রায়
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের মাতা - কুসুমকুমারী দাশ

কুসুমকুমারী দাশ: 
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম 'পৌরাণিক আখ্যায়িকা'।
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী', 'ব্রহ্মবাদী', 'মুকুল' প্রভৃতি পত্রিকায়।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা পঙ্‌ক্তি - 'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।'
- তিনি ১৯৪৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২৬.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  2. এক পথ দুই বাঁক
  3. বিশ শতকের মেয়ে
  4. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা

• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি':
- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'। যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা।

- তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু-লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি। বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

-----------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা -এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২২৭.
'সৈনিক বধূ' সুফিয়া কামাল রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্প
  4. দিনলিপি
সঠিক উত্তর:
গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্প
ব্যাখ্যা
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'সৈনিক বধূ'। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের 'তরুণ' পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২৮.
নিচের কোনটি বেগম রোকেয়া রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ?
  1. অবরোধবাসিনী
  2. মতিচুর
  3. পদ্মরাগ
  4. পদ্মাপার
সঠিক উত্তর:
মতিচুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মতিচুর
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ- 'মতিচুর'।

• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন   খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana's Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

• রোকেয়ার উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচুর (প্রবন্ধ, ২টি খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

অন্যদিকে,
'পদ্মাপার' জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২২৯.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস কোনটি?
  1. নরকে লাল গোলাপ
  2. একাত্তরের ঢাকা
  3. আমি বিরঙ্গনা বলছি
  4. দ্রৌপদী
সঠিক উত্তর:
দ্রৌপদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রৌপদী
ব্যাখ্যা
'দ্রৌপদী' উপন্যাস:
• রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'দ্রৌপদী' এপার ওপার দুই বাংলায় বেশ সমাদৃত।
• ১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। এবং শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।

গ্রন্থের ভূমিকায় লেখক লিখেন- 
১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। আজ শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে এর প্রকাশ আমার পক্ষে বড় গৌরবের। আমার যেসব শিক্ষক, ছাত্র, বন্ধু হানাদারদের হাতে খুন হয়েছেন তাঁদের স্মৃতির ভার কিছুটা লাঘব হয়েছে, এ উপন্যাস লিখে। যেসব চক্রান্ত দুই বাংলার মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, মুক্তিযুদ্ধের মহিমাকে খাটো করেছে, তার বিরুদ্ধেও এ এক ধরনের প্রতিবাদ। যদিও রাজনৈতিক প্রচারে উপন্যাসের পরিমণ্ডল দুষ্ট করতে আমি চাই নি।

অন্যদিকে, 
• 'নরকে লাল গোলাপ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। 

• সেলিনা হোসেন রচিত 'একাত্তরের ঢাকা' একটি স্মৃতিচারণমূলক সংকলন গ্রন্থ। শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ লা মার্চ থেকে। শেষ হয়েছে বিজয় দিবসের পরে বধ্যভূমি আবিষ্কার এবং লেখকের নানা স্মৃতিচারণের মাধ্যমে।

• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণা প্রবন্ধ।

উৎস: 'দ্রৌপদী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩০.
সুফিয়া কামাল কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. বাসন্তী
  2. বেগম
  3. কালি ও কলম 
  4. কবিতা
সঠিক উত্তর:
বেগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম
ব্যাখ্যা

• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী ও সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম 'ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন'-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে 'মহিলা সংগ্রাম পরিষদ' (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৩১.
শিশু-কিশোর গল্প 'সাতটি তারার ঝিকিমিকি' রচনা করেন কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. জাহানারা ইমাম
  3. সুকুমার সেন
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৩২.
রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. নীল দংশন
  2. হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  3. কালো ঘোড়া
  4. ফেরারী সূর্য
সঠিক উত্তর:
ফেরারী সূর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরারী সূর্য
ব্যাখ্যা
• রাবেয়া খাতুন:
- বাংলাদেশী সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের (১৯৩৫-২০২১) জন্ম ঢাকার বিক্রমপুরে তার মামার বাড়িতে। 
- তার রচিত প্রথম উপন্যাসের নাম ‘নিরাশ্রয়া’।
- রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক জনপ্রিয় উপন্যাস “মেঘের পর মেঘ” অবলম্বনে, বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম ২০০৪ সালে একই শিরোনামে নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র - মেঘের পরে মেঘ।
- ২০১১ সালে তার আরেকটি জনপ্রিয় উপন্যাস “মধুমতি” অবলম্বনে, পরিচালক শাহজাহান চৌধুরী একই শিরোনামে নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র মধুমতি।
- এছাড়াও অভিনেত্রী মৌসুমী ২০০৩ সালে তার লেখা কখনো ‘মেঘ কখনো বৃষ্টি’ অবলম্বনে একই শিরোনামে নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি।

তাঁর লেখা বিভিন্ন উপন্যাস গুলো হলো:
- মধুমতি,
- সাহেব বাজার,
- অনন্ত অন্বেষা,
- রাজারবাগ শালিমারবাগ,
- মন এক শ্বেত কপোতী,
- ফেরারী সূর্য (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- অনেকজনের একজন,
- জীবনের আর এক নাম,
- দিবস রজনী,
- সেই এক বসন্তে,
- মোহর আলী,
- নীল নিশীথ,
- বায়ান্ন গলির এক গলি,
- পাখি সব করে রব,
- নয়না লেকে রূপবান দুপুর,
- মিড সামারে,
- হানিফের ঘোড়া,
- হিরণ দাহ,
- এই বিরহকাল,
- হোটেল গ্রীন বাটন,
- বাগানের নাম মালনিছড়া,
- প্রিয় গুলশানা,
- বসন্ত ভিলা,
- ছায়া রমণী,
- সৌন্দর্যসংবাদ,
- হৃদয়ের কাছের বিষয়,
- মালিনীর দুপুর,
- রঙিন কাচের জানালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘কালো ঘোড়া’ ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• ‘নীল দংশন’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্ট এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩৩.
’’বিধাতা দেছেন প্রাণ, থাকি সদা ম্রিয়মাণ;- পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা-
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) তসলিমা নাসরিন
  3. গ) কুসুমকুমারী দাস
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
ক) কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
’’বিধাতা দেছেন প্রাণ
থাকি সদা ম্রিয়মাণ;
শক্তি মরে ভীতির কবলে,
পাছে লোকে কিছু বলে’’ এই লাইনদ্বয় নেওয়া হয়েছে কামিনী রায়ের ‘পাছে লোকে কিছু বলে ’ কবিতা থেকে।

• কামিনী রায়, (১৮৬৪-১৯৩৩) কবি ও সমাজকর্মী।
• ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
• ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য 
- পৌরাণিকী 
- গুঞ্জন ,
- মাল্য ও নির্মাল্য 
- অশোকসঙ্গীত 
- অম্বা 
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ 
- ঠাকুরমার চিঠি 
- দীপ ও ধূপ 
- জীবনপথে 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৩৪.
"মোর যাদুদের সমাধি পরে" স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. শামসুর রাহমান 
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

"মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ:
- "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কবি সুফিয়া কামালের সপ্তম কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের রক্তঝরা দিনগুলোর প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশপ্রেমের কবিতা স্থান পেয়েছে।

উল্লেখ্য, 
• 'বন্দী শিবির থেকে' ও 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থে শামসুর রাহমানের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত কবিতাগুলি স্থান পেয়েছে।
• মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ- যখন উদ্যত সঙ্গীন।
• মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৈয়দ আলী আহসান রচিত কবিতা- আমার প্রতিদিনের শব্দ।  

-------------------
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ: কেয়ার কাঁটা। 
• দিনলিপি: একাত্তরের ডায়েরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

২৩৫.
রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেনের ‘পদ্মরাগ’ কোন ধরনের রচনা?
  1. গল্প
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস 'পদ্মরাগ'। এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।

⇒ তবে একে উপন্যাস না বলে উপন্যাসপম গদ্য-আখ্যায়িকা বলাই ভালো। কেননা উপন্যাসের গাঁথুনি এখানে নেই, শিল্প হিসেবেও অসফল। তবে ‘পদ্মরাগে’র মূল্য অন্যত্র। প্রথমত কোনো মুসলিম নারীর রচনা; দ্বিতীয়ত মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না ; তৃতীয়ত অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ জন্যে।
এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।
• ‘পদ্মরাগ’ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

-------------------------
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
 রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩৬.
'মুসলিম মহিলা সমিতি'র প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  3. বেগম রোকেয়া
  4. নূরজাহান বেগম
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া ও মুসলিম মহিলা সমিতি:
বাঙালি মুসলমান সমাজে নারীর স্বাতন্ত্র্য ও নারী স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বেগম রোকেয়া। বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানদের নবজাগরণের সূচনালগ্নে নারীশিক্ষা ও নারী জাগরণে তিনিই প্রধান নেতৃত্ব দেন।

বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান। মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।

তাঁর জীবনব্যাপী সাধনার অন্যতম ক্ষেত্র এই মহিলা সমিতি। এ সমিতির ইতিহাসের সঙ্গে রোকেয়ার সংগ্রামী কর্মজীবনের কাহিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মুসলিম মহিলা সমিতি থেকে বহু বিধবা নারী অর্থ সাহায্য পেয়েছে, বহু দরিদ্র মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা হয়েছে, অসংখ্য অভাবী মেয়ে সমিতির অর্থে শিক্ষালাভ করেছে, সমাজ-পরিত্যক্ত অসহায় অনাথ শিশুরা আশ্রয় ও সাহায্য পেয়েছে। শুধু তাই নয়, কলকাতার মুসলমান নারী সমাজের ক্রমোন্নতির ইতিহাসে এই সমিতির উলে­খযোগ্য অবদান ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৩৭.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্বপ্ন কল্পনার প্রতীকী মূলক রচনা কোনটি?
  1. অবরোধবাসিনী
  2. পদ্মরাগ
  3. মতিচুর
  4. সুলতানার স্বপ্ন
সঠিক উত্তর:
সুলতানার স্বপ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতানার স্বপ্ন
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর। বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana's Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে। এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলেখযোগ্য রচনা:
- মতিচুর,
- Sultana's Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩৮.
'আগষ্টের একরাত' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
গ) সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
'আগষ্টের একরাত' উপন্যাসের রচয়িতা- সেলিনা হোসেন। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য উপন্যাস- জলোচ্ছ্বাস, হাঙর নদী গ্রেনেড, যাপিত যৌবন, নীল ময়ূরের যৌবন, পোকা মাকড়ের ঘরবসতি, নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি, কাঁটাতারের প্রজাপতি, গায়ত্রী সন্ধ্যা, অপেক্ষা, গেরিলা ও বীরাঙ্গনা, ঘুমকাতুরে ঈশ্বর, পূর্ণছবির মগ্নতা, ভালোবাসা প্রীতিলতা, কালকেতু ও ফুল্লরা, খুন ও ভালোবাসা ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২৩৯.
বেগম রোকেয়া কখন এবং কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৮৭০ সালে গাইবান্ধা জেলায়
  2. ১৮৮১ সালে নীলফামারী জেলায়
  3. ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায়
  4. ১৮৭৯ সালে রংপুর জেলায়
সঠিক উত্তর:
১৮৮০ সালে রংপুর জেলায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৮০ সালে রংপুর জেলায়
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৪০.
'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' সেলিনা হোসেন রচিত একটি?
  1. ছোটগল্প
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মালেক, সাফিয়া, তোরাব আলী প্রমুখ।

সেলিনা হোসেন:

- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস,
- পোকামাকড়ের ঘড়বসতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪১.
'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. জাহানারা ইমাম 
  4. সুফিয়া কামাল 
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল 
ব্যাখ্যা

• 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৯৩৮ সালে সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া' প্রকাশিত হয়।
- এর ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। এই কাব্যে ২৮টি কবিতা রয়েছে।

---------------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
-১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।

২৪২.
“একাত্তরের দিনগুলি” স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রাবেয়া খাতুন
  2. জাহানারা ইমাম
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

• জাহানারা ইমামের রচনা - একাত্তরের দিনগুলি
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'।
 - বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত আছে এ গ্রন্থে।

• জাহানারা ইমাম:
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম  ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
- পরবর্তীতে সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উল্লেখ্য
• সুফিয়া কামাল রচিত স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ - একাত্তরের ডায়েরী।
• সেলিনা হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - একাত্তরের ঢাকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২৪৩.
সুফিয়া কামালের প্রকাশিত প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. বসন্তলিপি
  2. বাসন্তী
  3. ভিখারিণী
  4. সৈনিক বধূ
সঠিক উত্তর:
বাসন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাসন্তী
ব্যাখ্যা
সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। 
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
-  সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৪৪.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. ক) বিশ শতকের মেয়ে
  2. খ) এক পথ দুই বাঁক
  3. গ) রোদ জ্বলা বিকেল
  4. ঘ) কেয়াবন সঞ্চারিণী
সঠিক উত্তর:
গ) রোদ জ্বলা বিকেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রোদ জ্বলা বিকেল
ব্যাখ্যা
• নীলিমা ইব্রাহিম: 
- নীলিমা ইব্রাহিম শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী নীলিমা ইব্রাহিমের ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।
- তিনি আমৃত্যু মানুষের শুভ ও কল্যাণী চেতনায় আস্থাশীল ছিলেন। মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উদার মানবিকতাবোধই ছিল তাঁর জীবনদর্শন।

নীলিমা ইব্রাহিম বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়;

• নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর;

= বি:দ্র: "রোদ জ্বলা বিকেল" নীলিমা ইব্রাহিম রচিত নাটক , এছাড়া বাকি ৩টি নীলিমা ইব্রাহিমের উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪৫.
'পদ্মরাগ' উপন্যাস কে  রচনা করেছেন? 
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  2. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
  3. শওকত ওসমান 
  4. বুদ্ধদেব বসু 
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
ব্যাখ্যা
পদ্মরাগ (উপন্যাস)
- বেগম রোকেয়া সাখওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস।
- প্রথমত কোনো মুসলিম রচিত উপন্যাস। 
-  দ্বিতীয়ত মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না;
- তৃতীয়ত অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ জন্যে।

• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

• রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

 এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২৪৬.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুমিল্লা
  2. বরিশাল
  3. রংপুর
  4. দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
রংপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রংপুর
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana's Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে। এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

রোকেয়ার উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
• মতিচুর (প্রবন্ধ),
• Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
• পদ্মরাগ (উপন্যাস),
• চাষার দুক্ষু (প্রবন্ধ),
• অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।

এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক কে?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. নবাব ফয়জুন্নেছা
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক
- তিনি কলকাতার জোড়াসাঁকো জন্মগ্রহণ করেন। সম্পর্কে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন।
- তিনি ১৮৭২ সালে প্রকাশিত ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেন ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৪৮.
‘ইতল বিতল’ শিশুতোষ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আহসান হাবীব
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. সুফিয়া কামাল
  4. ফররুখ আহমেদ
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
‘ইতল বিতল’ শিশুতোষ গ্রন্থ: 
- সুফিয়া কামালের একগুচ্ছ ছড়া নিয়ে 'ইতল বিতল' প্রথমবার প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে।
- চট্টগ্রাম থেকে বইটি প্রকাশ করেন সৈয়দ মোঃ শফি, তাঁর শিশু সাহিত্য বিতানের মাধ্যমে।
- ছড়াগুলোর সাথে ছবি ও প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন তখন তরুণ, আজ প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খান।

⇒ সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘ইতল বিতল’ গ্রন্থ।
২৪৯.
কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি? 
  1. বেনু ও বীনা
  2. মাল্য ও নির্মাল্য
  3. আলো ও ছায়া
  4. দীপ ও ধূপ
সঠিক উত্তর:
বেনু ও বীনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেনু ও বীনা
ব্যাখ্যা

'বেনু ও বীনা' সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ।

কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক এবং পেশায় বিচারক ছিলেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক লাভ করেন।
- কামিনী রায় ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- আলো ও ছায়া (প্রথম কাব্যগ্রন্থ, ১৮৮৯),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত,
- অম্বা (নাটককাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে,
- পৌরাণিকী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া। 

২৫০.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. যে রাতে পূর্ণিমা ছিল
  2. হাঙর নদী গ্রেনেড
  3. ফাঁদ
  4. উজান বাঁশি
সঠিক উত্তর:
হাঙর নদী গ্রেনেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঙর নদী গ্রেনেড
ব্যাখ্যা
'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়। তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'।
- মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি। হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।

অন্যদিকে,
- শহীদুল জহিরের রচিত উপন্যাস 'যে রাতে পূর্ণিমা ছিল জীবন'। এটি একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা উপন্যাস। এটি ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস।
২৫১.
সুফিয়া কামালের 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দে
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দে
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দে
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
ব্যাখ্যা
• তাহারেই পড়ে মনে:
- কবিতাটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে এবং প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়।
- কবিতার মূল বক্তব্য- কবিজীবনের খ্যাতির অন্তরালে বেদনাকে স্মরণ।
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার স্তবক সংখ্যা ৫টি এবং পঙ্‌তি সংখ্যা ৩০টি। 
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা। 
- কবিতায় মাঘ ও ফাল্গুন দুটি বাংলা মাসের নামের উল্লেখ রয়েছে।

----------------
সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫২.
'যে অরণ্যে আলো নেই' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটকের নাট্যকার হলেন-
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. মামুনুর রশীদ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
• 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

--------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• 'বিন্দু বিসর্গ' তাঁর রচিত আত্মজীবনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৫৩.
বেগম রোকেয়া রচিত Sultana’s Dream একটি -
  1. উপন্যাস
  2. গদ্যগ্রন্থ
  3. নকশাধর্মী রচনা
  4. কাব্য
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
- বেগম রোকেয়া বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি নারীবাদী।
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

- ১৯০২-এ ‘পিপাসা’ নামে একটি বাংলা গল্পের মধ্য দিয়ে তিনি সাহিত্যজগতে পা রাখেন।
- রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে
- ‘মতিচূর’ (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream উপন্যাস (নকশাধর্মী রচনা),
- ‘পদ্মরাগ’ (উপন্যাস),
- ‘অবরোধবাসিনী’ (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।
- তার লেখাগুলো নবনূর, সওগাত, মোহাম্মদী ইত্যাদি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

- ১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর স্বামীর প্রদত্ত অর্থে পাঁচটি ছাত্রী নিয়ে তিনি ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস’ স্কুল স্থাপন করেন।
- ১৯১৬ সালে তিনি মুসলিম বাঙালি নারীদের সংগঠন 'আনজুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: ১.ড. সৌমিত্র শেখর রচিত বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. দৈনিক প্রথম আলো।
২৫৪.
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির অনুভূতির সাথে কোনটি তুলনীয়?
  1. ক) প্রকৃতির সৌন্দর্য
  2. খ) প্রকৃতির বিরুপতা
  3. গ) বসন্তের আমেজ
  4. ঘ) শীতের রিক্ততা
সঠিক উত্তর:
ঘ) শীতের রিক্ততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শীতের রিক্ততা
ব্যাখ্যা
কবি সুফিয়া কামালের বিখ্যাত কবিতা ‘তাহারেই পড়ে মনে’ প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়। কবিতায় কবির অনুভূতির সাথে শীতের রিক্ততা তুলনীয়। তবে কবিতায় উল্লেখ আছে বসন্ত ঋতুর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২৫৫.
কামিনী রায় রচিত নাট্যকাব্য কোনটি?
  1. অম্বা
  2. অশোক সংগীত
  3. আলো ও ছায়া
  4. দীপ ও ধূপ
সঠিক উত্তর:
অম্বা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অম্বা
ব্যাখ্যা
কামিনী রায়:
- তিনি ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্স সহ বি.এ পাস করেন। সেই কলেজেই অধ্যাপনা করেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী' পদক পান।
- তিনি ১৯৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত (সনেট সংগ্রহ),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২৫৬.
জাহানারা ইমাম রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. অন্যজীবন
  2. একাত্তরের ঢাকা
  3. নাটকের অবসান
  4. প্রবাসের দিনগুলি
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের ঢাকা
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম রচিত গ্রন্থ নয় - একাত্তরের ঢাকা
- এটি সেলিনা হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি,
- একাত্তরের দিনগুলি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৫৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারীবাদী লেখিকা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. কুসুম কুমারী দেবী
  4. সুলতানা কামাল
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারীবাদী লেখিকা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।

⇒ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:  

- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৫৮.
ফয়জুন্নেসাকে "নওয়াব" উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. মহারানী ভিক্টোরিয়া
  2. লর্ড মিন্টো
  3. পঞ্চম জর্জ
  4. লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
মহারানী ভিক্টোরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহারানী ভিক্টোরিয়া
ব্যাখ্যা

নওয়াব ফয়জুন্নেসা:  
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নওয়াব ফয়জুন্নেসা ১৮৩৪ সালে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
-  'বান্ধব', 'ঢাকা প্রকাশ', 'মুসলমান বন্ধু', 'সুধাকর', 'ইসলাম প্রচারক' প্রভৃতি বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও নওয়াব ফয়জুন্নেসার পরিচিতি আছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনি স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া 'সঙ্গীতসার' ও 'সঙ্গীতলহরী' নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।
- ১৯০৩ সালে স্বগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয় এবং পারিবারিক গোরস্থানে তিনি সমাহিত হন।
- ২০০৪ সালে নওয়াব ফয়জুন্নেসাকে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২৫৯.
‘নির্মাল্য’ কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কামিনী রায়
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়: 
- কামিনী রায় কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
-  তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

অন্যদিকে,
⇒ “আমাকে কী মাল্য দেবে, দাও” নির্মলেন্দু গুণ রচিত একটি কবিতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৬০.
আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।" - এই বিখ্যাত চরণ দু'টির রচনা করেন কোন কবির মা?
  1. ক) কুসুমকুমারী দাশ
  2. খ) মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।" - এই বিখ্যাত চরণ দু'টির রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ। 
- তিনি বিখ্যাত কবি জীবনানন্দ দাশের মাতা। 

• কুসুমকুমারী দাশ ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কুসুমকুমারী দাশ শিশুদের জন্য রচনা করেন 'কবিতা-মুকুল।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম - পৌরাণিক আখ্যায়িকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬১.
'ঘুম কাতুরে ঈশ্বর' কার রচিত গল্প?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন: 
- তিনি একজন কথাশিল্পী। তিনি ১৯৪৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ২১টি উপন্যাস, ৭টি গল্পগ্রন্থ ও ৪টি প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। সমকালীন রাজনৈতিক সংকট ও দ্বন্দ্বের উৎস ও প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে সেলিনা হোসেন এর বই সমূহ-তে।
- সেলিনা হোসেন এর বই সমগ্র অনূদিত হয়েছে ইংরেজি, রুশসহ একাধিক ভাষায়। প্রবীণ এ লেখিকা ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর কর্মজীবন থেকে অবসর নেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
 উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি, 
- জলোচ্ছা,
- পোকামাকড়ের ঘড়বসত ইত্যাদি।

• 'ঘুম কাতুরে ঈশ্বর' তার একটি গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬২.
বেগম রোকেয়া রচিত রচনা নয় কোনটি?
  1. ক) সওগাত
  2. খ) রূপজালাল
  3. গ) পিপাসা
  4. ঘ) Sultana’s Dream
সঠিক উত্তর:
খ) রূপজালাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রূপজালাল
ব্যাখ্যা
গদ্য ও কবিতায় রচিত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস 'রূপজালাল' গ্রন্থটি নওয়াব ফয়জুন্নেসার একমাত্র সাহিত্যকীর্তি। 

নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- মতান্তরে, তাঁর প্রথম লেখা ‘পিপাসা’ (মহরম) প্রকাশিত হয় ইংরেজি ১৯০২ সালে, চৈত্র ও বৈশাখ ১৩০৮-১৩০৯ (যুগ্মসংখ্যা) নবপ্রভা পত্রিকায়। 
- সওগাত পত্রিকার প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যার (অগ্রহায়ণ ১৩২৫) প্রথম পৃষ্ঠায় রোকেয়ার ‘সওগাত’ কবিতাটি ছাপা হয়। 

- রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর 
- Sultana’s Dream
- পদ্মরাগ
- অবরোধবাসিনী প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৬৩.
’বিশ শতকের মেয়ে’ উপন্যাসটির লেখক কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. নীলিমা ইব্রাহিম 
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহিম 
ব্যাখ্যা

• ‘বিশ শতকের মেয়ে’ নীলিমা ইব্রাহীম রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৮ সালে।

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২৬৪.
সুফিয়া কামাল রচিত 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন-
  1. বেগম রোকেয়া 
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জসীম উদ্‌দীন 
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৯৩৮ সালে সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঝের মায়া' প্রকাশিত হয়।
- এর ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।
- ২৮টি কবিতার এই নাতিদীর্ঘ সঞ্চয়নটির অন্যতম গুণ হচ্ছে সুফিয়া কামালের ভবিষ্যৎ সাহিত্য রচনার ভিত্তি স্থাপনা, যার স্বরূপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এক নারীর কণ্ঠস্বরে, সংস্কৃতির শিকড়ে তার গভীর অথচ গতিময় সঞ্চরণে এবং এক বৈশ্বিক, সামগ্রিক চেতনার পরিচয়ে।
- কবি কামা ইভানোভা কর্তৃক অনূদিত 'সাঁঝের মায়া' গ্রন্থটির রাশিয়ান অনুবাদ প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে তদানিন্তন সোভিয়েত ইউনিয়নে।

--------------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়। সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম 'ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন'- এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে 'মহিলা সংগ্রাম পরিষদ' (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া, 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।

২৬৫.
‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাসের রচয়িতা - সেলিনা হোসেন।

• পোকামাকড়ের ঘরবসতি:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মালেক, সাফিয়া, তোরাব আলী প্রমুখ। 

• সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬৬.
'অশোক সঙ্গীত' কামিনী রায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. সঙ্গীত গ্রন্থ 
  2. সনেট সংগ্রহ
  3. আত্মজীবনী
  4. নাটক 
সঠিক উত্তর:
সনেট সংগ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনেট সংগ্রহ
ব্যাখ্যা

'অশোক সঙ্গীত' কামিনী রায় রচিত সনেট সংগ্রহ।
- এটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত।

----------------
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৬৭.
”ধন্য তার বসুন্ধরা যার”- উক্তিটি কোন গ্রন্থের?
  1. অনল প্রবাহ
  2. রুদ্রমঙ্গল
  3. কালের পুতুল
  4. চাষার দুক্ষু
সঠিক উত্তর:
চাষার দুক্ষু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাষার দুক্ষু
ব্যাখ্যা

”ধন্য তার বসুন্ধরা যার”- উক্তিটি বেগম রোকেয়া রচিত “চাষার দুক্ষু” প্রবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে |

বাংলায় নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া তার স্বামীর অনুপ্রেরণায় সাহিত্য চর্চা শুরু করেন।
- তিনি সমাজের প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লেখনি ধারণ করেন ।
- নারীর অধিকার আদায়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম মহিলা সমিতি |

তার বিখ্যাত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- মতিচুর( তার প্রথম রচিত গ্রন্থ)
- অবরোধবাসিনী
- চাষার দুক্ষু

উপন্যাস:
- পদ্মরাগ
- সুলতানার স্বপ্ন

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২৬৮.
কবি ও সমাজসেবক নবাব ফয়জুন্নেসা কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুমিল্লা
  2. যশোর
  3. ঢাকা
  4. কুষ্টিয়া
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
⇒ নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী:
- নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরী ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন। মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায়ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে। 
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়। উল্লেখ্য যে, নবাব ফয়জুন্নেসা এমন এক সময়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা করেন যখন অভিজাত মুসলমানদের মধ্যে এই ভাষা সাধারণত ব্যবহৃত হতো না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৬৯.
’ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক’ প্রবন্ধগ্রন্থের লেখক কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. গুলবদন বেগম
  3. ড, মুহাম্মদ এনামুল হক
  4. নীলিমা ইব্রাহীম
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলিমা ইব্রাহীম
ব্যাখ্যা
• নীলিমা ইব্রাহিম :
- তিনি খুলনায় ১১ ই জানুয়ারি ১৯২১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ।
- ২০০২ সালের ১৮ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ গবেষণা: 
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২৭০.
বাঙালি নারী জাগরণের পথিকৃৎ-
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) বেগম রোকেয়া
  3. গ) ফজিলতুন্নেসা
  4. ঘ) নুরজাহান বেগম
সঠিক উত্তর:
খ) বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।

রোকেয়ার উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর
- Sultana’s Dream
- পদ্মরাগ
- অবরোধবাসিনী ।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭১.
‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. শওকত আলী
  3. রাবেয়া খাতুন
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
⇒ সেলিনা হোসেন:
• বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
• তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
• তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭২.
“আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে” কবিতার রচয়িতা কে?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. বেগম রোকেয়া
  3. কামিনী রায়
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

“আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে” কবিতার রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ।

• ‘আদর্শ ছেলে’:
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন,
‘মানুষ হইতে হবে’ – এই যার পণ"৷

- কুসুমকুমারী দাশের ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতায় কবি এমন এক ছেলের চিত্র এঁকেছেন, যার মুখে থাকবে আনন্দময় হাসি এবং বুকে অমিত শক্তি ও জোশ। 
- এই ছেলে কেবল কথায় নয়, কাজেও বড় হবে এবং সব পরিস্থিতিতে “মানুষ” হওয়ার প্রতিজ্ঞা রাখবে।
- বিপদ বা চ্যালেঞ্জ এলে সে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে আসবে। 
- কবির দৃষ্টিতে আদর্শ ছেলে হলো সেই যে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করবে।
- যে হবে কর্মনিষ্ঠ, সাহসী এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিক।
------------------------------------------------------------
কুসুমকুমারী দাশ:
- কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক বিশিষ্ট মহিলা কবি।
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- এবং ১৯৪৮ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র জীবনানন্দ দাশ বাংলা কাব্যজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় কবি হিসেবে স্বীকৃত।
- কুসুমকুমারী দেবী মূলত শিশুতোষ ও নীতিপ্রধান কবিতার জন্য সুপরিচিত।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা “আদর্শ ছেলে”।
- কবিতাটির প্রথম পঙক্তি “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে”—বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বহু পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, 
• কুসুমকুমারী দাশ শিশুদের জন্য লিখেছিলেন “কবিতা মুকুল” নামে একটি পুস্তিকা, যা তাঁর উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ সাহিত্যকর্ম হিসেবে পরিচিত।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য গদ্যরচনার মধ্যে রয়েছে: “পৌরাণিক আখ্যায়িকা”।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

২৭৩.
বেগম সুফিয়া কামাল কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯০৯ সালে 
  2. ১৯১১ সালে 
  3. ১৯১৩ সালে 
  4. ১৯১৫ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯১১ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১১ সালে 
ব্যাখ্যা

সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী।
- তাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ ও বলা হয়ে থাকে।
- বেগম সুফিয়া কামাল ২০শে জুন ১৯১১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন সৈয়দ আব্দুল বারী এবং মাতা ছিলেন সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।
- তাঁর সাহস ও প্রতিরোধের অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে আইয়ুব খানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করা।
- তিনি সমগ্র বাঙালি জাতি, বিশেষ করে সবসময় নারীদের রক্ষা করতে চেয়েছেন।
- তিনি ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর বিখ্যাত গল্প- ‘কেয়ার কাঁটা’।
• স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

২৭৪.
"অর্ধাঙ্গী" প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. মতিচূর
  2. পদ্মরাগ
  3. অবরোধবাসিনী
  4. Sultana’s Dream
সঠিক উত্তর:
মতিচূর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মতিচূর
ব্যাখ্যা

'মতিচূর' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'মতিচূর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর।
- রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই।
- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।

প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-
- পিপাসা, স্ত্রীজাতির অবনতি, নিরীহ বাঙালি, অর্ধাঙ্গী, সুগৃহিণী, বোরকা ও গৃহ।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

২৭৫.
'দীপ নির্বাণ' - উপন্যাস কে রচনা করেছেন?
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. সেলিনা হোসেন
  3. বেগম রোকেয়া
  4. বেগম ফয়েজুন্নেসা
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা

• 'দীপ নির্বাণ' - উপন্যাস এর রচয়িতা স্বর্ণকুমারি দেবী।

• স্বর্ণকুমারি দেবী  ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট কলকাতার জোড়াসাঁকো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো:
উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- বিবাহ উৎসহ,
- দেব কৌতুক।

কাব্য:
- গাথা,
- কবিতা ও গান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৭৬.
স্বর্ণকুমারী দেবীর কবিতার সংকলন কোনটি?
  1. বিচিত্রা
  2. বসন্ত উৎসব
  3. স্বপ্নবাণী
  4. গাথা
সঠিক উত্তর:
গাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাথা
ব্যাখ্যা
• 'গাথা' স্বর্ণকুমারী দেবীর কবিতার সংকলন।

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ও সাহিত্য কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজ সংস্কারে সক্রিয় স্বর্ণকুমারী দেবী বিধবা ও দরিদ্র নারীদের সাহায্যার্থে ’সখী সমিতি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন।
- ১৯২৯ সালে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।
- তিনি ৩রা জুলাই, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- গাথা,
- কবিতা ও গান।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
২৭৭.
কোনটি  সেলিনা হোসেন রচিত গ্রন্থ? 
  1. কেয়াবন সঞ্চারিনী
  2. যে অরণ্যে আলো নেই
  3. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  4. বিশ শতকের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
ব্যাখ্যা

সেলিনা হোসেন রচিত গ্রন্থ- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি।

• 'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি':
- সেলিনা হোসেনের নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি উপন্যাসের পটভূমি ব্রিটিশ শাসন থেকে পাকিস্তান আমলের অস্থির পরিস্থিতি।
- এতে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ এবং ১৯৪৭-এর দেশভাগের প্রভাব দেখা যায়।
- এই গ্রন্থে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং ৫২-এর ভাষা আন্দোলনের আগে বাঙালি মধ্যবিত্তের জাগরণ ও সংগ্রাম ফুটে উঠেছে।
- উপন্যাসটি বাঙালি জাতিসত্তা, সামাজিক ন্যায় ও ভাষার অধিকার আদায়ের সংগ্রামের একটি জীবন্ত দলিল।
---------------------------------------------
সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও গবেষক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ জুন, ১৯৪৭ সালে রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে। 
- তার রচনায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নারী ও সমাজের জীবনচিত্র উঠে এসেছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

• সেলিনা হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
- ‘যাপিত জীবন’,
- ‘নীল ময়ূরের যৌবন’,
- ‘জ্যোস্নায় সূর্যজ্বালা’,
- ‘পদশব্দ’,
- ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’ (তিন খণ্ড),
- ‘ক্ষরণ’,
- ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’,
- ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’।
---------------------------------- 
অন্যদিকে, 
- কেয়াবন সঞ্চারিণী, বিশ শতকের মেয়ে- নীলিমা ইব্রাহীমের রচিত উপন্যাস।
- আর যে অরণ্যে আলো নেই- নীলিমা ইব্রাহীমের রচিত নাটক। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

২৭৮.
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন
'মানুষ হইতে হবে'- এই যার পণ।- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. কামিনী রায়
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
• মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন
'মানুষ হইতে হবে'- এই তার পণ।- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কুসুমকুমারী দাশ রচিত ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতার অন্তর্গত।

• কুসুমকুমারী দাশ:

- কুসুমকুমারী দাশ ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম- পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।
- কুসুমকুমারী দাশ শিশুদের জন্য রচনা করেন 'কবিতা-মুকুল'।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী, ব্রহ্মবাদী, মুকুল প্রভৃতি পত্রিকায়।

কুসুমকুমারী দাশ রচিত একটি বিখ্যাত কবিতা-

আদর্শ ছেলে
কুসুমকুমারী দাশ
আমাদের দেশে সেই ছেলে কবে হবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন
'মানুষ হইতে হবে'- এই যার পণ।
'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭৯.
বেগম রোকেয়ার গ্রামের নাম-
  1. ক) আড্ডা
  2. খ) মিঠাপুর
  3. গ) পায়রাবন্দ
  4. ঘ) গোবিন্দগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
গ) পায়রাবন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পায়রাবন্দ
ব্যাখ্যা

বেগম রোকেয়াকে বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়। বিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি নারীশিক্ষা বিশেষত মুসলিম নারীদের শিক্ষা প্রসারে নিরলস পরিশ্রম করেন। নিজের উদ্যোগে বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। সরকারের নিকট নারী শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন দাবী-দাওয়া পেশ করেন। তিনি ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩২ সালে কলকাতায় মারা যান।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।

২৮০.
শাহপরি দ্বীপের মানুষের ও মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ ঘটেছে সেলিনা হোসেন রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. যাপিত জীবন
  2. হাঙর নদি গ্রেনেড
  3. পোকামাকড়ের ঘরবসতি
  4. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
সঠিক উত্তর:
পোকামাকড়ের ঘরবসতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোকামাকড়ের ঘরবসতি
ব্যাখ্যা

• 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত একটি উপন্যাস।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে অবস্থিত শাহপরি দ্বীপের মানুষের জীবনকে, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ করে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো মালেক, সাফিয়া এবং তোরাব আলী।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
পদ্মা নদীর মাঝিদের নিয়ে একবার বাংলা ভাষায় একটি উপন্যাস লেখা হয়েছিল। সেসব মাঝিদের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু তাদের বংশধরেরা বেঁচে আছে। সারা বাংলাদেশেই, কেউ কেউ দক্ষিণাঞ্চলে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের নিয়েই লেখা এই উপন্যাস। নাফ নদীর তীরে ছোট্ট এক দ্বীপের বুকে এইসব মানুষের বসতি। মানুষের, না পোকামাকড়ের? দৃশ্যমান বাস্তবতা তো পোকামাকড়ের কথাই বলে। কিন্তু সেই ঘরবসতিতে আমরা তো মানুষকেই দেখতে চাই। সাহসী, লড়াকু, স্বপ্নতাড়িত প্রেমময় মানুষ। পিষ্ট হতে হতে শেষে মাথা তুলে দাঁড়াবে এমন মানুষ, জলদাস নয়, জলের অধিপতি হিসেবেই বেঁচে থাকবে মানুষ। তাদের কুশলী শ্রমে রূপোলী মাছ আটকে যাবে জালের সুতোয়, স্বপ্নের মধ্যে জালের গুটি টুং-টাং বেজে উঠবে যেন অলৌকিক সঙ্গীত। সব জলদাস দাঁড়াবে এসে এক আলোকিত মিছিলে পুরোভাগের সাহসি মানুষটির চোখে ভিড় করবে স্বপ্নঘেরা এক ভূখন্ডের মানচিত্র। হাঙরদের পরাভূত করে উঠে আসবে জলমগ্ন মানুষের দল। না, এ উপন্যাস 'পদ্মানদীর মাঝি' নয়। মানিক বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে সেলিনা হোসেনের যোগসূত্রের সন্ধানে বেরোলে সামনে থাকবে দীর্ঘপথ। তবু উভয়ের মধ্যে একটা সূক্ষ্ম সাদৃশ্য যেন রয়েছে। সেই সাদৃশ্যটি জীবনের প্রতি অঙ্গীকারের বিশ্বস্ততায় যে মানুষ আমরা সবাই, শহরের, মধ্যবিত্ত কিংবা উচ্চবিত্ত জীবনের, তার বাইরের মানুষের জন্য লেখকের ভালোবাসা। ভালোবেসে সে মানুষকে বোঝার চেষ্টা, তার ঘরবসতিকে অন্যরকম করে সাজিয়ে দেওয়ার সাহস।

অন্যদিকে, 
• ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।

• সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'হাঙ্গর নদী গ্রেনেড'। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• 'নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি' উপন্যাসটির লেখক সেলিনা হোসেন। ১৯৪৭ এ দেশ ভাগের আগের ও পরের সাহিত্য চর্চা, রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দিয়ে কাহিনি শুরু। সাথে আছে দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া কিছু পরিবারের চিত্র (১৯৪৩ যা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত)।

------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত কথাশিল্পী এবং তাঁর উপন্যাসের প্রধান বিষয় হলো অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- সাহিত্য ও কলার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্  পুরস্কার (১৯৮৮) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেছেন।

উল্লেখযোগ্য উপন্যাসসমূহ:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

২৮১.
'দ্রৌপদী' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. রাবেয়া খাতুন
  2. সেলিনা হোসেন
  3. রাজিয়া খান
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
রাজিয়া খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজিয়া খান
ব্যাখ্যা

• 'দ্রৌপদী' উপন্যাস:
- রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দ্রৌপদী' এপার ওপার দুই বাংলায় বেশ সমাদৃত।
- ১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। এবং শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।

গ্রন্থের ভূমিকায় লেখক লিখেন-
১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। আজ শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে এর প্রকাশ আমার পক্ষে বড় গৌরবের। আমার যেসব শিক্ষক, ছাত্র, বন্ধু হানাদারদের হাতে খুন হয়েছেন তাঁদের স্মৃতির ভার কিছুটা লাঘব হয়েছে, এ উপন্যাস লিখে। যেসব চক্রান্ত দুই বাংলার মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, মুক্তিযুদ্ধের মহিমাকে খাটো করেছে, তার বিরুদ্ধেও এ এক ধরনের প্রতিবাদ। যদিও রাজনৈতিক প্রচারে উপন্যাসের পরিমণ্ডল দুষ্ট করতে আমি চাই নি।

অন্যদিকে,
• রাবেয়া খাতুনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো 'ফেরারী সূর্য', 'ঘাতক রাত্রি', 'মেঘের পর মেঘ', এবং 'একাত্তরের নিশান'।

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। আবার 'একাত্তরের ঢাকা' একটি স্মৃতিচারণমূলক সংকলন গ্রন্থ। শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ লা মার্চ থেকে। শেষ হয়েছে বিজয় দিবসের পরে বধ্যভূমি আবিষ্কার এবং লেখকের নানা স্মৃতিচারণের মাধ্যমে।

• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণা প্রবন্ধ।

উৎস: 'দ্রৌপদী' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৮২.
কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. নির্মাল্য
  2. পৌরাণিকী
  3. গুঞ্জন
  4. অম্বা
সঠিক উত্তর:
অম্বা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অম্বা
ব্যাখ্যা
- ’ অম্বা’ কামিনী রায় রচিত নাটক।
----------------------------------------------------
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে।

•তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮৩.
'একাত্তরের ঢাকা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংকলন গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সেলিনা হোসেন
  4. রাবেয়া খাতুন
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'একাত্তরের ঢাকা':
- সেলিনা হোসেন রচিত 'একাত্তরের ঢাকা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি সংকলন গ্রন্থ।
- ঘটনা শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে। শেষ হয়েছে বিজয় দিবসের পরে বধ্যভূমি আবিষ্কার এবং লেখকের নানা স্মৃতিচারণের মাধ্যমে।
- একাত্তরের নয় মাসে কত কি ঘটেছে তার নানা ধরণের বিবরণ আছে এ বইয়ে। বিভিন্ন শিরোনামে তিনি বিভিন্ন বিষয় এনেছেন।
- একটি-দু'টি উদাহরণ এমন : 'মার্চের পঁচিশ দিন : পাকিস্তান সরকার বনাম বঙ্গবন্ধু সরকার, কাক ও ডোমদের শহর, রুদ্ধশ্বাসের দিনগুলো ইত্যাদি।

-------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৭ রাজশাহী শহরে।
- ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা।
- প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- রাজশাহীতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চেম্পিয়নশীপ স্বর্ণপদক পান।

অন্যদিকে,
• ‘একাত্তরের দিনগুলি’ জাহানারা ইমাম রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক অসাধারণ ডায়েরি (দিনলিপি) গ্রন্থ।
• ‘একাত্তরের ডায়েরী’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিকথাটির রচয়িতা সুফিয়া কামাল।

উৎস: ‘একাত্তরের ঢাকা’ সংকলন গ্রন্থ সেলিনা হোসেন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮৪.
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে"- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
• আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে'- পঙক্তিটির রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ।

কুসুমকুমারী দাশ:
- শিশুদের জন্যে তিনি 'কবিতা মুকুল' নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেন।
- তাঁর গদ্যগ্রন্থের নাম- পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- তাঁর কবিতা প্রকাশিত হত 'প্রবাসী, ব্রহ্মবাদী, মুকুল প্রভৃতি পত্রিকায়।
- কুসুমকুমারী দাশ হলেন জীবনানন্দ দাশের মাতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮৫.
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কোন ঋতুর উল্লেখ আছে?
  1. ক) হেমন্ত
  2. খ) গ্রীষ্ম
  3. গ) বসন্ত
  4. ঘ) শীত
সঠিক উত্তর:
গ) বসন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বসন্ত
ব্যাখ্যা
কবি সুফিয়া কামালের বিখ্যাত কবিতা ‘তাহারেই পড়ে মনে’ প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়। কবিতায় কবির অনুভূতির সাথে শীতের রিক্ততা তুলনীয়। তবে কবিতায় উল্লেখ আছে বসন্ত ঋতুর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২৮৬.
'ন হন্যতে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) নীহাররঞ্জন গুপ্ত
  2. খ) মৈত্রেয়ী দেবী
  3. গ) কমলকুমার মজুমদার
  4. ঘ) আশালতা দেবী
সঠিক উত্তর:
খ) মৈত্রেয়ী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মৈত্রেয়ী দেবী
ব্যাখ্যা
'ন হন্যতে' উপন্যাসের রচয়িতা মৈত্রেয়ী দেবী। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ সানিধ্য লাভের জন্য তিনি বিশেষ খ্যাতিমান। 
- তাঁর সবচেয়ে খ্যাতিমান উপন্যাস। 
- এটি ১৯৭৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- 'ন হন্যতে' উপন্যাসে বাস্তবধর্মী  এবং সময়কালীন অনেক ব্যাক্তিত্বের প্রসঙ্গে এতে তুলে ধরা হয়েছে। 
- এ উপন্যাসের অমৃতা চরিত্রের মধ্য দিয়ে মৈত্রেয়ী দেবীর জীবন খুঁজে পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২৮৭.
স্বর্ণকুমারী দেবী কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন? 
  1. সাধনা
  2. ভারতী
  3. পূর্ণিমা
  4. সোমপ্রকাশ 
সঠিক উত্তর:
ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন।
- তিনি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ভারতী-এর সম্পাদনা করেছিলেন প্রায় এক দশক ধরে।
- এছাড়া তিনি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার অগ্রদূত ছিলেন।
- নারীদের সৃজনশীলতা ও সহায়তার জন্য তিনি সখী সমিতি নামক একটি সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।
------------------------ 
অন্যদিকে,
- সাধনা – সম্পাদনা করেছিলেন হরচন্দ্র বসু।
- পূর্ণিমা – সম্পাদনা করেছিলেন বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- সোমপ্রকাশ – সম্পাদনা করেছিলেন দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২৮৮.
'মতিচূর' কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'মতিচূর' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'মতিচূর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর। রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই।
- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।
- প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-'পিপাসা', 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'নিরীহ বাঙালি', 'অর্ধাঙ্গী', 'সুগৃহিণী', 'বোরকা' ও 'গৃহ'।
- দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮৯.
কোন নারী সাহিত্যিকের ছদ্মনাম 'জনৈক বঙ্গমহিলা'?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. কামিনী রায়
  3. সুফিয়া কামাল
  4. কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

কামিনী রায়ের ছদ্মনাম - জনৈক বঙ্গমহিলা

কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২৯০.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলা সাহিত্যকর্মের সঠিক যুগল কোনটি?
  1. একাত্তরের যিশু — অজয় দাশগুপ্ত
  2. একাত্তরের দিনগুলি — জাহানারা ইমাম
  3. একাত্তরের বর্ণমালা — শামসুল হুদা 
  4. একাত্তরের বিজয়গাথ — সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের দিনগুলি — জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের দিনগুলি — জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলা সাহিত্যকর্মের সঠিক যুগল: একাত্তরের দিনগুলি — জাহানারা ইমাম।

• ‘একাত্তরের দিনগুলি’:
- ‘একাত্তরের দিনগুলি’ জাহানারা ইমামের লেখা একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দিনপঞ্জি। 
- বইটিতে তিনি ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, বেদনা এবং ছেলের (শহীদ রুমী) স্মৃতি তুলে ধরেছেন।
- এটি মূলত একটি দিনলিপি, যেখানে প্রতিদিনের ঘটনা, অনুভূতি ও পর্যবেক্ষণ লিপিবদ্ধ আছে।
- বইতে মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব চিত্র, হানাদার বাহিনীর অত্যাচার, সাধারণ মানুষের জীবন, এবং গেরিলাদের কার্যক্রমের বর্ণনা রয়েছে
- জাহানারা ইমাম তার শহীদ পুত্র রুমীর আত্মত্যাগ ও মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাগুলো উল্লেখ করেছেন, যা একজন মায়ের গভীর শোক ও সংগ্রামের সাক্ষ্য দেয়।
- গ্রন্থে দেশের প্রতি ভালোবাসা, স্বাধীনতার প্রতি ন্যায়বিচার এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চিত্রও ফুটে উঠেছে।
- এটি কেবল একটি বই নয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল, যা যুদ্ধের ভয়াবহতা, একজন মায়ের ত্যাগ এবং দেশপ্রেমের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
----------------------------------------
জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম (১৯৩৫-২০০৩) বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন অগ্রগামী নারী।
- যিনি শুধু মুক্তিযুদ্ধকালীন শহীদ রুমীর মা হিসেবে নয়;
- বরং পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধবিরোধী আন্দোলনে তাঁর সাহসী ভূমিকার জন্যও সুপরিচিত।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর ছেলে, রুমী, স্বাধীনতার লড়াইয়ে অংশ নেয়।
- রুমীর আত্মত্যাগের কারণে তিনি ‘শহীদ জননী’ হিসেবে জনসাধারণের কাছে পরিচিত।

অন্যদিকে, 
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উল্লেখযোগ্য বাংলা সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে :
- একাত্তরের যাত্রী — আজয় দাশগুপ্ত;
- একাত্তরের যিশু — শহরয়ার কবির;
- একাত্তরের যাত্রী — শাহরিয়ার কবির;
- একাত্তরের বিজয়গাথা — মেজর রফিকুল ইসলাম;
- একাত্তরের ডায়েরি — বেগম সুফিয়া কামাল;
- একাত্তরের বর্ণমালা — আখতার মুকুল;
- একাত্তরের রণাঙ্গন — শামসুল হুদা;

উৎস:  
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২৯১.
“চাষার দুক্ষু” বেগম রোকেয়া রচিত-
  1. ক) কাব্য
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• “চাষার দুক্ষু” বেগম রোকেয়া রচিত - প্রবন্ধ 

• বাংলায় নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া তার স্বামীর অনুপ্রেরণায় সাহিত্য চর্চা শুরু করেন।
- তিনি সমাজের প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লেখনি ধারণ করেন ।
- নারীর অধিকার আদায়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম মহিলা সমিতি |

• তার অন্যান্য বিখ্যাত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- মতিচুর( তার প্রথম রচিত গ্রন্থ)
- অবরোধবাসিনী

• উপন্যাস:
- পদ্মরাগ
- সুলতানার স্বপ্ন

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২৯২.
বেগম রোকেয়া রচিত উপন্যাসপম গদ্য কোনটি?
  1. ক) অবরোধবাসিনী
  2. খ) মতিচুর
  3. গ) পদ্মরাগ
  4. ঘ) সুলতানার স্বপ্ন
সঠিক উত্তর:
গ) পদ্মরাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পদ্মরাগ
ব্যাখ্যা
'পদ্মরাগ' বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত  একটি উপন্যাস।
- তবে একে উপন্যাস না বলে উপন্যাসপম গদ্য-আখ্যায়িকা বলাই ভালো।
- এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।

বেগম রোকেয়া রচিত অন্যান্য গ্রন্থ -
- মতিচুর,(প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- অবরোধবাসিনী, (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১)
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮), ইত্যাদি।

উৎস: ড. সৌমিত্র শেখর রচিত বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২৯৩.
নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান-
  1. ক) কাঁঠালপাড়া
  2. খ) কাচড়াপাড়া
  3. গ) পায়রাবন্দ
  4. ঘ) বাউইগাছি
সঠিক উত্তর:
গ) পায়রাবন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পায়রাবন্দ
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকিয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২) রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার অন্তর্গত 'পায়রাবন্দ' গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক, নারী জাগরণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত‌।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- 'পদ্মরাগ' তাঁর রচিত উপন্যাস।

তাঁর অন্যান্য সাহিত্যকর্ম:
- সুলতানার স্বপ্ন (উপন্যাস, ইংরেজিতে রচিত)
- অবরোধবাসিনী
- মতিচুর (প্রবন্ধ)।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯৪.
''আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?'' চরণ দুটি কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. ক) বঙ্গবাণী
  2. খ) বন্দনা
  3. গ) আমার দেশ
  4. ঘ) আদর্শ ছেলে
সঠিক উত্তর:
ঘ) আদর্শ ছেলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আদর্শ ছেলে
ব্যাখ্যা
• কুসুমকুমারী দাশ একজন বাঙালি মহিলা কবি। তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ- কবিতা মুকুল।

- গদ্যগ্রন্থ- পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- তার আরেকটি পরিচয়, তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম উজ্জ্বল কবি জীবনান্দ দাশের মাতা।
- কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা আদর্শ ছেলে। তার রচিত এই কবিতা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করায় সর্বাধিক পরিচিত।

যার প্রথম দুই চরণ-
''আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?''

উৎস: বাংলাপিডিয়া বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯৫.
সেলিনা হোসেন রচিত 'যাপিত জীবন' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  4. ১৯৭২ এর নির্বাচন
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- সেলিনা হোসেন রচিত 'যাপিত জীবন' উপন্যাসের পটভূমি ভাষা আন্দোলন।
- এই উপন্যাসের নায়ক জাফর বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব করে। এই উপন্যাসের কাহিনির পরতে পরতে বাঙালির শেকড়চিন্তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিচিত্র। এই উপন্যাস মূলত প্রতীকী ভাবনায় বাংলা ও বাঙালির শেকড় ও অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে। জাফর হয়ে ওঠে বাঙালির বলিষ্ঠ কণ্ঠের উৎসারণ।

•  তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

 •তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনুঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'যাপিত জীবন' উপন্যাস।
২৯৬.
“সুলতানার স্বপ্ন” কার রচনা?
  1. ক) জসীমউদ্‌দীন
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) বেগম সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) বেগম রোকেয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা

রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'মতিচুর'। গ্রন্থটি দুই খণ্ডে (১ম খণ্ড ১৯০৪; ২য় খণ্ড ১৯২২) প্রকাশিত হয়।
তার রচিত আরাে কয়েকটি গ্রন্থঃ অবরােধবাসিনী (প্রবন্ধগ্রন্থ), পদ্মরাগ ও সুলতানার স্বপ্ন (উপন্যাস)।
সূত্রঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসিনা নাজিলা।

২৯৭.
নিচের কোন লেখিকা আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. চন্দ্রাবতী
  3. প্রভা দেবী
  4. স্বর্ণকুমারী দেবী
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৯৮.
মধ্যযুগের 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের চরিত্র 'কালকেতু ও ফুল্লরা' নিয়ে উপন্যাস লিখেছেন কে?
  1. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের চরিত্র 'কালকেতু ও ফুল্লরা' নিয়ে উপন্যাস লিখেছেন - সেলিনা হোসেন

কালকেতু ও ফুল্লরা:
- মানুষ ভালো থেকে মন্দে এবং মন্দ থেকে ভালোয় রূপান্তরিত হয়।
- মানুষকে মন্দ করে তার লোভ, অন্য মানুষের প্রতি তার সহানুভূতির অভাব।
- একজন মানুষের লোভ যখন চরমে পৌঁছায়, অত্যাচারিত অন্য মানুষেরা তার বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ায়, প্রতিবাদ করে।
- 'কালকেতু ও ফুল্লরা' মানুষের এমনি লোভ, এমনি অধঃপতন ও এমনি প্রতিবাদের গল্প।

- ষড়যন্ত্রের রাজনীতি কখনোই মানুষের জন্য মঙ্গলকর নয়। তাই এ উপন্যাসে আছে একজন ভিন্ন কালকেতুর সম্প্রসারণ।
- যে ক্ষমতা পেয়েই দেবীর মতো সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিজের পূজো চায়।
- মনে করে এই নগর তার স্বর্গ, এই নগর তার স্বেচ্ছাচারের লীলাক্ষেত্র।
- এইসব স্বৈরাচারী কালকেতু ও ফুল্লরাদের কোনো কাল নেই, এদের সামনে থেকে মুছে যায় ভৌগোলিক সীমানা।
- এরা যে কোনো দেশের, যে কোনো কালের। এদের চরিত্র এক।

- ঐতিহ্যের পুনঃনির্মাণ সেলিনা হোসেন-এর উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য।
- তিনি অতীতকে দেখেন বর্তমানের দৃষ্টিতে।
- খুঁজে নেন শিল্পিত উপাদান যা উপন্যাসের মতো শিল্পকে এক থেকে বহুমাত্রায় বিন্যস্ত করে।
- 'কালকেতু ও ফুল্লরা' (১৯৯৯২) উপন্যাসে আছে এই বিস্তৃতি।

সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; কালকেতু ও ফুল্লরা, সেলিনা হোসেন।
২৯৯.
'অশোক সংগীত' সনেট সংগ্রহের রচয়িতা কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. কামিনী রায়
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• 'অশোক সংগীত' কামিনী রায় রচিত সনেট সংগ্রহ।
- এটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত।



--------------
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০০.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত ’আমি বীরাঙ্গনা বলছি” - কি ধরনের গ্রন্থ?
  1. নাটক
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

আমি বীরাঙ্গনা বলছি:
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ।
• গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'। 
• যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা। 
• তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।
• বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।

• তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা: 
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

• তাঁর নাটক: 
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।