বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান ও চলচ্চিত্র

মোট প্রশ্ন৩৯০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান ও চলচ্চিত্র

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৩৯০

১০১.
“ঘেটুপুত্র কমলা” চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. ক) মোর্শেদুল আলম
  2. খ) সুভাষ দত্ত
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) চাষী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গ) হুমায়ুন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হুমায়ুন আহমেদ
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদের সর্বশেষ নির্মিত চলচ্চিত্র 'ঘেটুপুত্র কমলা' যা ২০১২ সালে নির্মিত হয়েছিল। তাঁর নির্মিত অন্যান্য চলচ্চিত্র- আগুনের পরশমনি, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, শ্যামল ছায়া, আমার আছে জল।
এছাড়াও তিনি নিজে পরিচালনা করেননি কিন্তু তাঁর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এরকম কিছু চলচ্চিত্রঃ শঙ্খনীল কারাগার, দারুচিনি দ্বীপ, নন্দিত নরকে।

১০২.
মুক্তিযুদ্ধপূর্ব যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. জীবন থেকে নেয়া
  2. আগুনের পরশমণি
  3. ওরা এগারো জন 
  4. গেরিলা
সঠিক উত্তর:
জীবন থেকে নেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন থেকে নেয়া
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধপূর্ব যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত চলচ্চিত্র জীবন থেকে নেয়া।

জীবন থেকে নেয়া:
- পরিচালক: জহির রায়হান।
- মুক্তি: ১৯৭০ সালের ১০ এপ্রিল (পাকিস্তান)।
- সময়: ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট (প্রায়)।
- সংগীত পরিচালক: খান আতাউর রহমান।
- জহির রায়হান পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি সরাসরি যুদ্ধভিত্তিক না হলেও এটি তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে, যা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরিতে সহায়ক ছিল।
- ১৯৫২ থেকে ১৯৭০- এ সময়ের প্রেক্ষাপটে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে।

⇒ চলচ্চিত্রটির মধ্যে আগামী দিনের উত্তাল বিদ্রোহের অনুপ্রেরণা ছিল।
- এটি সম্পূর্ণভাবেই রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন চলচ্চিত্র।
- চলচ্চিত্র নির্মাতা আলমগীর কবির তাই এ চলচ্চিত্রকে 'বাংলাদেশের প্রথম জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী চলচ্চিত্র' বলে অভিহিত করেছেন। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণ-অভ্যুত্থান যখন তুঙ্গে, তখন জহির রায়হান জীবন থেকে নেয়া চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।

অন্যদিকে,
- ওরা এগারো জন (১৯৭২): এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র, যা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই নির্মিত হয়েছিল।
- আগুনের পরশমণি (১৯৯৫): হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
- গেরিলা (২০১১): নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত এটিও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।

১০৩.
’স্টপ জেনোসাইড’ কোন ধরনের চলচ্চিত্র?
  1. স্বল্পদৈর্ঘ্য
  2. পূর্ণদৈর্ঘ্য
  3. প্রামাণ্যচিত্র
  4. শিশুতোষ
সঠিক উত্তর:
প্রামাণ্যচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রামাণ্যচিত্র
ব্যাখ্যা

স্টপ জেনোসাইড:
- এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র। 
- নির্মাতা জহির রায়হান।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের মে/জুন মাসে এটি প্রথম কলকাতায় প্রদর্শিত হয়।
- মূলত বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া স্টক ফুটেজ ও নিউজ রিলের ছবির ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয় স্টপ জেনোসাইড।
- একজন চলচ্চিত্র-নির্মাতা হিসেবে জহির রায়হান দুনিয়ার মানুষকে বাংলাদেশে চলতে থাকা গণহত্যার খবর জানান দেওয়ার এক বড় দায়িত্ব কাঁধে নেন।
- বিভিন্ন জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রসঙ্গে লেনিনের একটি বক্তব্য দিয়ে শুরু হয় ছবিটি।
- ২০ মিনিটের এই ছবিতে বাংলাদেশের মানুষ আছে, এর প্রকৃতি আছে, আছে পাকিস্তানিদের অত্যাচার, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগের দৃশ্য।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) প্রথম আলো।

১০৪.
বাংলাদেশের প্রথম বাংলা সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ মুক্তি লাভ করে কবে?
  1. ১৯৫৫ সালে
  2. ১৯৫৬ সালে
  3. ১৯৫৭ সালে
  4. ১৯৫৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

‘মুখ ও মুখোশ’:
- বাংলাদেশের প্রথম বাংলা সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’।
- দিনটি ছিল ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট।
- বাংলাদেশে চলচ্চিত্রটির প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় রূপমহল প্রেক্ষাগৃহে।
- চলচ্চিত্রটির দৈর্ঘ্য ছিল ৯৯ মিনিট।
- চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন পূর্ণিমা সেন, সাইফুদ্দিন, বিনয় বিশ্বাস, আবদুল জব্বার খান, ইনাম আহমেদ, জহরত আরা।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন আবদুল জব্বার খান। 
- সংগীত পরিচালক ছিলেন সমর দাস।
- গান করেন মাহবুবা হাসনাত ও আবদুল আলীম।
- নৃত্য পরিচালনা করেন গওহর জামিল।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন মুরারী মোহন জামান।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

১০৫.
প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  2. ওরা এগারো জন
  3. গেরিলা
  4. সংগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ওরা এগারো জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা এগারো জন
ব্যাখ্যা
ওরা এগারো জন:
- প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা এগারো জন'।
- 'ওরা এগারো জন' চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছিলেন নির্মাতা-প্রযোজক।
- “ওরা এগারো জন” চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- একাত্তরে ১১টি সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বাঙালিরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ওরা ১১ জন।
- পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুল ইসলামের প্রথম সিনেমা ছিল এটি।
- ওরা ১১ জন-এর শুটিং হয়েছিল জয়দেবপুরে।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন আবদুস সামাদ।
- ওরা ১১ জন সিনেমা শুরু হয় সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত 'ও আমার দেশের মাটি' দিয়ে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক প্রথম আলো, ১৩ আগস্ট ২০২২।
১০৬.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র নিচের কোনটি?
  1. অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী
  2. শ্যামল ছায়া
  3. জয়যাত্রা
  4. ওরা এগারো জন
সঠিক উত্তর:
ওরা এগারো জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা এগারো জন
ব্যাখ্যা
ওরা এগারো জন:
- প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা এগারো জন'।
- 'ওরা এগারো জন' চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছিলেন নির্মাতা-প্রযোজক।
- “ওরা এগারো জন” চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- একাত্তরে ১১টি সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বাঙালিরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ওরা ১১ জন।
- পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুল ইসলামের প্রথম সিনেমা ছিল এটি।
- ওরা ১১ জন-এর শুটিং হয়েছিল জয়দেবপুরে।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন আবদুস সামাদ।
- ওরা ১১ জন সিনেমা শুরু হয় সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত 'ও আমার দেশের মাটি' দিয়ে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক প্রথম আলো, ১৩ আগস্ট ২০২২।
১০৭.
'জীবনঢুলী' চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট কী?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. ১৯৪৭-এর দেশভাগ
  4. মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
জীবনঢুলী:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র জীবনঢুলী।
- 'জীবনঢুলী'র পরিচালক ছিলেন তানভীর মোকাম্মেল।
- চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে ২০১৩ সালে।

⇒ জীবনঢুলী নিম্নবর্গের একটি হিন্দু ঢাকি ও তার পরিবারের ১৯৭১ সালের অভিজ্ঞতার কাহিনি।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় নিম্নবর্ণের এক ঢাকি জীবনকৃষ্ণ দাস ও তাঁর পরিবারের অভিজ্ঞতার গল্প বলা হয়েছে ‘জীবনঢুলী’ ছবিতে।
- বাংলাদেশ সরকারের অনুদানপ্রাপ্ত ছবিটিতে চুকনগর গণহত্যাকে তুলে ধরা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর বাজার।
- ১৯৭১ সালের ২০ মে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সেখানে এক নৃশংস গণহত্যা চালায়।
- ইতিহাসে তা ‘চুকনগর গণহত্যা’ নামে পরিচিতি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০৮.
গম্ভীরা গানের উৎপত্তি কোথায়?
  1. মালদহ
  2. চাপাইনবাবগঞ্জ
  3. দিনাজপুর
  4. রংপুুর
সঠিক উত্তর:
মালদহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালদহ
ব্যাখ্যা
গম্ভীরা গানের উৎপত্তি ভারতের মালদহ জেলার হিন্দু সমাজে। দেশভাগের পর এই গান রাজশাহী অঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় চলে আসে এবং মুসলিম সম্প্রদায় গম্ভীরা গানের পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠে।
আদিতে গম্ভীরা গানের মূল বিষয়ে শিবের বন্দনা থাকলেও মুসলিম সমাজে এই গানের বিষয়বস্তু পরিবর্তিত হয়ে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বিষয়বস্তু হয়ে উঠে। নানা-নাতির সংলাপের মাধ্যমে গম্ভীরা গান রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ প্রভৃতি জেলায় ব্যাপক জনপ্রিয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১০৯.
‘জয় বাংলার ধ্বনি’ চলচ্চিত্রের পরিচালক -
  1. ক) রফিকুল আনোয়ার (রাসেল)
  2. খ) মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম খন্দকার
  3. গ) তানভীর মোকাম্মেল
  4. ঘ) ফাখরুল আরেফিন খান
সঠিক উত্তর:
খ) মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম খন্দকার
ব্যাখ্যা
২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দুইটি চলচ্চিত্র - ‘জয় বাংলার ধ্বনি’ ও ‘একাত্তর-করতলে ছিন্নমাথা’।
জয় বাংলার ধ্বনি’ চলচ্চিত্রের পরিচালক - মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম খন্দকার।
‘একাত্তর-করতলে ছিন্নমাথা’ চলচ্চিত্রের পরিচালক - রফিকুল আনোয়ার (রাসেল)।
‘জেকে ১৯৭১’ চলচ্চিত্রটির নির্মাতা - ফাখরুল আরেফিন খান।
 
সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, জুলাই ২০২২
১১০.
‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি’ গানটির শিল্পী কে ছিলেন?
  1. গোবিন্দ হালদার
  2. আব্দুল জব্বার
  3. আব্দুল হাদী
  4. আপেল মাহমুদ
  5. আলতাফ মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আপেল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপেল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি’ গানটি দারুণভাবে প্রেরণা জুগিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের।
- ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ গানটির গীতিকার গোবিন্দ হালদার।
- গানটির শিল্পী আপেল মাহমুদ।
- ‘জয়বাংলার গান’ রূপে পরিচিত গোবিন্দ হালদারের সঙ্গীতগুলো 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' থেকে প্রচারিত হত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া।
১১১.
‘কখনও আসেনি’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন কে?
  1. আলমগীর কবির
  2. জহির রায়হান
  3. তানভীর মোকাম্মেল
  4. আবদুল জব্বার খান
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
- ‘কখনো আসেনি’ ছবিটি পরিচালনা করেন জহির রায়হান।
জহির রায়হান পরিচালিত অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে:
- Let There Be Light
- Stop Genocide
- জীবন থেকে নেওয়া
- কাজল
- কাঁচের দেয়াল
- বেহুলা
- আনোয়ারা
- সঙ্গম
- বাহানা প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১১২.
'সব কটা জানালা খুলে দাও না' গানটির গীতিকার কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. নজরুল ইসলাম বাবু
  3. আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল
  4. আবু হেনা মোস্তফা কামাল
সঠিক উত্তর:
নজরুল ইসলাম বাবু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা

নজরুল ইসলাম বাবু
- 'সব কটা জানালা খুলে দাও না: গানটির গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু।

⇒ তার রচিত অন্যান্য গানের মধ্যে রয়েছে:
- 'একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার',
- ‘আমায় গেঁথে দাও না মাগো একটা পলাশ ফুলের মালা’,
- ‘ও আমার আট কোটি ফুল দেইখো গো মালি’ প্রভৃতি।

⇒ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরে তুরার পাহাড়ে বসে যুদ্ধে প্রশিক্ষণের অবসরমুহূর্তে তিনি লিখতেন গান।
- ট্রেনিং শেষে দেশে ফিরে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আধুনিক ও চলচ্চিত্রের অসংখ্য জনপ্রিয় গান লিখেছেন।
- তার লেখা গান গেয়েছেন বশীর আহমেদ, সৈয়দ আবদুল হাদী, আশা ভোঁসলে, সুবীর নন্দী, রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমীন, শাম্মী আখতার, দিলরুবা খান, বেবী নাজনীন, সুখেন্দু চক্রবর্তী, অ্যান্ড্রু কিশোর, কুমার বিশ^জিৎ, শুভ্রদেব, কুমার শানুসহ অনেকে।

⇒ নজরুল ইসলাম বাবু ১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত পদ্মা মেঘনা যমুনার গীত রচনার জন্য শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি ২০২২ সালে পান একুশে পদক।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
ii) প্রথম আলো।

১১৩.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক চলচ্চিত্র ’জীবন থেকে নেয়া’এর পরিচালক কে? 
  1. চাষী নজরুল
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. জহির রায়হান
  4. তৌকির আহমেদ
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক চলচ্চিত্র:
- ফাগুন হাওয়া পরিচালক তৌকির আহমেদ।
- জীবন থেকে নেয়া: জহির রায়হান।
- Let there be light: জহির রায়হান।

অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র:
- আগুনের পরশমণি হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায়।
- শ্যামল ছায়া: এটি হুমায়ূন আহমেদের একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র।
- চাষী নজরুল 'হাঙ্গর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস থেকে সিনেমা পরিচালনা করেন।

উৎস: প্রথম আলো। 

১১৪.
‘আগুনের পরশমণি’ চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. জহির রায়হান
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. খান আতাউর রহমান
  4. তানভীর মোকাম্মেল
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা

আগুনের পরশমণি:
- মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে যে চলচ্চিত্রগুলো নির্মিত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ‘আগুনের পরশমণি’।
- চিত্রনাট্য ও পরিচালনা: হুমায়ূন আহমেদ।
- নির্মিত হয়: ১৯৯৪ সালে।
- মুক্তি পায়: ১৯৯৫ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ ঢাকায় মুক্তিবাহিনীর অভিযান আর মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের সংকট ছবিটিতে তুলে ধরেছেন। এ ছবিতে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর, বিপাশা হায়াত, ডলি জহুর ও আরো অনেকে।
- আগুনের পরশমণি চলচ্চিত্রটি ৮টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।
- শাখাগুলো হচ্ছে-
• শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র (প্রযোজক হুমায়ূন আহমেদ),
• শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার (হুমায়ূন আহমেদ),
• শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা (হুমায়ূন আহমেদ),
• শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (বিপাশা হায়াত),
• শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক (সত্য সাহা),
• শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক (মফিজুল হক),
• শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী (শিলা আহমেদ),
• শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার (হোসনে আরা পুতুল)।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১১৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র 'মুক্তির গান'-এর পরিচালক কে?
  1. তানভীর মোকাম্মেল
  2. মিশুক মুনির
  3. জহির রায়হান
  4. তারেক মাসুদ
সঠিক উত্তর:
তারেক মাসুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারেক মাসুদ
ব্যাখ্যা

মুক্তির গান:
- ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মুক্তির গান তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ পরিচালিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র।
- মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা লিয়ার লেভিন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর একটি ডকুমেন্টারি নির্মাণের অভিপ্রায়ে এদেশের একদল সাংস্কৃতিক কর্মীর সঙ্গ নেন। বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা নামের দলের এই সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের দেশাত্মবোধক ও সংগ্রামী গান শুনিয়ে উজ্জীবিত করতেন। এই শিল্পীদের সাথে থেকে লেভিন প্রায় ২০ ঘণ্টার ফুটেজ সংগ্রহ করেন। যুদ্ধের শেষ দিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান।
- ১৯৯০ সালে তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদ নিউইয়র্কে লেভিনের কাছ থেকে এই ফুটেজ সংগ্রহ করেন। এ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য তারা আরো বিভিন্ন উৎস থেকে মুক্তিযুদ্ধের নানা সংরক্ষিত উপাদান সংগ্রহ করেন, বিশ বছর আগের সেই শিল্পীদের সাথে যোগাযোগ করেন। লেভিনের কাছ থেকে প্রাপ্ত ফুটেজের সাথে সংগৃহীত অন্যান্য উপাদান যোগ করে ছবিটি নির্মিত হয়।
- এই চলচ্চিত্রটি ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন৷

১১৬.
‘আমার বন্ধু রাশেদ’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রটির পরিচালক কে?
  1. জাফর ইকবাল
  2. চাষী নজরুল ইসলাম
  3. মোরশেদুল ইসলাম
  4. আলমগীর কবির
সঠিক উত্তর:
মোরশেদুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোরশেদুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
আমার বন্ধু রাশেদ:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘আমার বন্ধু রাশেদ’।
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম।
- মুহম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস অবলম্বনে সরকারি অনুদানে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন মোরশেদুল ইসলাম।
- ২০১১ সালে মুক্তি পেয়েছিল সিনেমাটি। 

⇒ প্রেক্ষাপট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মফস্বলের ছোট্ট একটা শহর। আর চরিত্রগুলো কয়েকজন স্কুলছাত্রকে কেন্দ্র করে।
- যার মূল চরিত্র রাশেদ।
- এ ছাড়া ছবিতে দেখা যায়, একাত্তরের উত্তাল দিনগুলো যখন ছোট ছেলেরা বুঝতে পারছে না, রাজনীতি সচেতন রাশেদ তখন ঠিক তার মতো করে সেটা সবাইকে বুঝিয়ে দিচ্ছে।
- একসময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দেশটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ওই ছোট্ট শহরেও তারা এসে হাজির হয়।
- ভয়ংকর এক ধ্বংসলীলার সাক্ষী হয়ে থাকে রাশেদ।

উৎস: প্রথম আলো।
১১৭.
১৯৪৭ সালের দেশভাগ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. চিত্রা নদীর পারে
  2. নদীর নাম মধুমতি
  3. বাঙলা
  4. শ্যামল ছায়া
সঠিক উত্তর:
চিত্রা নদীর পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্রা নদীর পারে
ব্যাখ্যা

চিত্রা নদীর পারে:
- 'চিত্রা নদীর পারে' চলচ্চিত্রটির পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল।
- ১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এ চলচ্চিত্রটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মানদণ্ডে সাতটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছিল।
- ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাজন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুদের জীবনে যে প্রভাব ফেলেছিল, সেসব কাহিনি নিয়ে নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের অন্যতম চলচ্চিত্র 'চিত্রা নদীর পারে'।
- কাহিনির শুরু ১৯৪৭ দিয়ে এবং শেষ হয় ১৯৬০-এর দশকে।

⇒ ভারতবর্ষ বিভাজন বৃহত্তর স্বার্থে হলেও এই বিভাজনকে পুঁজি করে তৎকালীন সরকারের শোষণের বলি হয়েছিল এ দেশেরই মানুষ।
- নিজস্ব ভিটেমাটি থাকা সত্ত্বেও অনেককে পাড়ি জমাতে হয়েছিল পার্শ্ববর্তী দেশে। বেদখল হয়ে যায় অনেকের নিজস্ব সম্পদ।
- এ রকম কিছু স্পর্শকাতর ব্যাপারই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তানভীর মোকাম্মেল তার 'চিত্রা নদীর পারে' চলচ্চিত্রে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৯৯ সালে চলচ্চিত্রটি ৭টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

অন্যদিকে,
- নদীর নাম মধুমতী ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। 
- শহীদুল ইসলাম খোকনের 'বাঙলা' ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে তৈরি একটি আধুনিক চলচ্চিত্র।

উৎস: i) সময় নিউজ।
ii) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।

১১৮.
জীবন থেকে নেয়া ছবিতে প্রতীকী কাহিনীর মধ্য দিয়ে কী চিত্রিত করা হয়?
  1. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  2. পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসন
  3. গণহত্যার চিত্র
  4. দেশভাগের চিত্র
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসন
ব্যাখ্যা
- জহির রায়হান পরিচালিত ছবি ‘জীবন থেকে নেয়া’।
- ছবিটি জহির রায়হানের কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ১৯৭০ সালে মুক্তি পেয়েছিল।
- জীবন থেকে নেয়া ছবিতে প্রতীকী কাহিনীর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
- তিনি লেট দেয়ার বি লাইট নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় তিনি তা শেষ করতে পারেন নি।
- পাকিস্তানি সামরিক জান্তার গণহত্যার চিত্র সম্বলিত স্টপ জেনোসাইড ছবিটি পৃথিবী জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
- জহির রায়হানের উর্দু ছবি সঙ্গম ছিল পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গীন ছবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
প্রথম আলো (১৬ ডিসেম্বর ২০২৩)
১১৯.
“একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার” -গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) গাজী মাজহারুল আনোয়ার
  2. খ) নজরুল ইসলাম বাবু
  3. গ) আপেল মাহমুদ
  4. ঘ) সাবিনা ইয়াসমিন
সঠিক উত্তর:
খ) নজরুল ইসলাম বাবু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা
“একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার” -গানটির গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু।

তার রচিত অন্যান্য গানের মধ্যে রয়েছে:
- 'সব কটা জানালা খুলে দাও না'
- ‘আমায় গেঁথে দাও না মাগো একটা পলাশ ফুলের মালা’
- ‘ও আমার আট কোটি ফুল দেইখো গো মালি’ প্রভৃতি।

উৎস: প্রথম আলো।
১২০.
কোনটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক চলচ্চিত্র?
  1. দুঃসম‌য়ের বন্ধু
  2. গে‌রিলা
  3. জীবন থে‌কে নেয়া
  4. পা‌য়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
জীবন থে‌কে নেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন থে‌কে নেয়া
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক চলচ্চিত্র:
- জীবন থে‌কে নেয়া।
- Let there be light. 
- নির্মাতা: জহির রায়হান।

উপন্যাস: 
- আরেক ফাল্গুন: জহির রায়হান।
- আর্তনাদ: শওকত ওসমান।
- নিরন্তর ঘন্টাধ্ব‌নি :সেলিনা হো‌সেন।

গল্প ও ছোটগল্প :
- একুশের গল্প: জহির রায়হান।
- মৌন নয়: শওকত ওসমান।
- পণ্ডশ্রম: আবু ইসহাক।

উল্লেখ্য, 
- গে‌রিলা :না‌সির উদ্দীন ইউসুফ, মু‌ক্তিযুদ্ধ‌ভি‌ত্তিক চলচ্চিত্র।
- পা‌য়ের আওয়াজ পাওয়া যায়: সৈয়দ শামসুল হক,মু‌ক্তিযুদ্ধ‌ভি‌ত্তিক নাটক।
- দুঃসম‌য়ের বন্ধু : শাহ‌রিয়ার ক‌বির, প্রামান্য চিত্র, মু‌ক্তিযুদ্ধ‌ভি‌ত্তিক।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো।
১২১.
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন কে?
  1. তানভীর মোকাম্মেল
  2. আলমগীর কবির
  3. জহির রায়হান
  4. মোরশেদুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
মোরশেদুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোরশেদুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন মোরশেদুল ইসলাম।

- মোরশেদুল ইসলামের চলচ্চিত্র পরিচালনায় হাতেখড়ি হয়েছিল ১৯৮৪ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে তৈরি 'আগামী' নামের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
- যুদ্ধ পরবর্তী সময়ের গল্প তুলে ধরা হয়েছে ২৫ মিনিটের এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে।
- ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে চট্টগ্রামে সিনেমাটি প্রথম প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয়।
- সিনেমাটি প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে প্রদর্শিত হয় ফেব্রুয়ারি মাসের ১৬ তারিখে ঢাকার ব্রিটিশ কাউন্সিলে।

অন্যদিকে,
- তানভীর মোকাম্মেল নির্মাণ করেন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘হুলিয়া’ (১৯৯৫)।

উৎস: প্রথম আলো ও বাংলাপিডিয়া।

১২২.
'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটির সুরকার কে?
  1. গাজী মাজহারুল আনোয়ার
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. আনোয়ার পারভেজ
  4. নজরুল ইসলাম বাবু
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পারভেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পারভেজ
ব্যাখ্যা
জয় বাংলা বাংলার জয়:
- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটিকেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের রণসংগীত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- এই গানের সুরকার আনোয়ার পারভেজ।
- গানটি লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার।

উল্লেখ্য,
- এক সাক্ষাৎকারে গানটির গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, 'আমার কথার আনোয়ার পারভেজ যে সুরের অলংকার পরিয়ে দিয়েছিলেন, তা মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে।
- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটি মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয়টা মাস মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।

উৎস: ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, প্রথম আলো। 
১২৩.
প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. গেরিলা
  2. ওরা এগারো জন
  3. আগামী
  4. সংগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ওরা এগারো জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা এগারো জন
ব্যাখ্যা

ওরা এগারো জন:
- প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা এগারো জন'।
- 'ওরা এগারো জন' চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছিলেন নির্মাতা-প্রযোজক।
- “ওরা এগারো জন” চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- একাত্তরে ১১টি সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বাঙালিরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ওরা ১১ জন।
- পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুল ইসলামের প্রথম সিনেমা ছিল এটি।
- ওরা ১১ জন-এর শুটিং হয়েছিল জয়দেবপুরে।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন আবদুস সামাদ।
- ওরা ১১ জন সিনেমা শুরু হয় সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত 'ও আমার দেশের মাটি' দিয়ে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক প্রথম আলো, ১৩ আগস্ট ২০২২।

১২৪.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপ দেন-
  1. ঋতুপর্ণ ঘোষ
  2. গৌতম ঘোষ
  3. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. ঋত্বিক ঘটক
সঠিক উত্তর:
ঋত্বিক ঘটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋত্বিক ঘটক
ব্যাখ্যা

- তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
- উপন্যাসটি ৪ খণ্ডে বিভক্ত।
- উপন্যাসটি মৎস্যজীবী মানুষের জীবন কাহিনী বা ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে‌।
- ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় ১৯৭৩ সালে উপন্যাসটিকে চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা হয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১২৫.
৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ক) সেই মুজিব
  2. খ) রেডিও
  3. গ) বার্তা
  4. ঘ) ঐতিহাসিক মার্চ
সঠিক উত্তর:
খ) রেডিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রেডিও
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র 'রেডিও'। 
- অনন্য মামুন পরিচালিত এই চলচিত্রটি। 
- চ্যানেল আইয়ে 'রেডিও' চলচ্চিত্রের বিশ্ব প্রিমিয়ার হয়েছে।
- ‘রেডিও' চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিয়াজ।
- ৭ মার্চ, ২০২৩ চ্যানেল আইয়ে প্রথম মুক্তি পায় এই চলচিত্র।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা ও Live MCQ বিশেষ সাম্প্রতিক সমাচার। 
১২৬.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. জোছনা ও জননীর গল্প
  2. তিতাস একটি নদীর নাম
  3. নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  4. আর্তনাদ
সঠিক উত্তর:
জোছনা ও জননীর গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোছনা ও জননীর গল্প
ব্যাখ্যা

জোছনা ও জননীর গল্প:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস জোছনা ও জননীর গল্প।
- জোছনা ও জননীর গল্প বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে হুমায়ুন আহমেদ রচিত একটি উপন্যাস।

উল্লেখ্য,
- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক হুমায়ুন আহমেদ রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: শ্যামল ছায়া (১৯৭৪), আগুনের পরশমণি (১৯৮৬), অনিল বাগচীর একদিন (১৯৯২), ১৯৭১ (১৯৯৩), জোছনা ও জননীর গল্প (২০০৪) প্রভৃতি। 

অন্যদিকে,
- তিতাস একটি নদীর নাম অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস। এই উপন্যাসে গ্রামের দরিদ্র মালো শ্রেণীর লোকজনের দুঃখ-দুর্দশার কাহিনী ফুটিয়ে তুলেছেন।
- কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস 'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি'।
- শওকত ওসমান রচিত 'আর্তনাদ' উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো ভাষা আন্দোলন। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।

১২৭.
গাড়ি চলে না চলে না, চলে না রে.... গানটির গীতিকার কে?
  1. বাপ্পা মজুমদার
  2. সঞ্জীব চৌধুরী
  3. হাছন রাজা
  4. শাহ আবদুল করিম
সঠিক উত্তর:
শাহ আবদুল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
গানটির -
ধরন: ব্যান্ড।
গীতিকার: শাহ আবদুল করিম।
সুরকার: অজ্ঞাত।
গেয়েছেন: সঞ্জীব চৌধুরী।
অ্যালবাম: হৃদয়পুর।

তথ্যসূত্র: lyrics.khichuri.net
১২৮.
‘Bhatiali’ songs represent which regions of Bangladesh?
  1. Rajshahi and Rangpur
  2. Mymensingh and Sylhet
  3. Dhaka and Sylhet
  4. Mymensingh and Rangpur
সঠিক উত্তর:
Mymensingh and Sylhet
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mymensingh and Sylhet
ব্যাখ্যা

• ভাটিয়ালি গান:
-  ভাটিয়ালি এক ধারার  লোকগীতি।
-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য সুরের দীর্ঘ টান ও লয়।
- প্রচলিত মতে মাঝিমাল্লাদের গান থেকে ভাটিয়ালি সুরের উৎপত্তি।
- নিকট অতীতে নদীবিধৌত বাংলাদেশে সাধারণত নদীর ভাটির স্রোতে নৌকা বাইতে মাঝিদের তেমন বেগ পেতে হতো না।
- তাই সেই অবসর ও আনন্দে তারা লম্বা টানে গলা ছেড়ে গান গাইত। কালক্রমে এই গানই ভাটিয়ালি গান নামে পরিচিতি লাভ করে।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ও সিলেট জেলায় এই গান বিশেষভাবে প্রচলিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

১২৯.
উপমহাদেশের প্রথম নির্বাক চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ক) মুখ ও মুখোশ
  2. খ) জামাই ষষ্ঠী
  3. গ) আলি বাবা ও চল্লিশ চোর
  4. ঘ) ধ্রুব
সঠিক উত্তর:
গ) আলি বাবা ও চল্লিশ চোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আলি বাবা ও চল্লিশ চোর
ব্যাখ্যা
আলিবাবা ও চল্লিশ চোর
- ‘আলী বাবা ও চল্লিশ চোর’ হলো উপমহাদেশের প্রথম নির্বাক চলচ্চিত্র
- চলচ্চিত্রটি হীরালাল সেন পরিচালিত।
- ১৯০০ সাল থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত হীরালাল সেন নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবির সংখ্যা ৪০টি।
- তিনি ১৯০৪ সালে উপমহাদেশের প্রথম নির্বাক ছবি আলীবাবা ও চল্লিশ চোর নির্মাণ করেন। 

অন্যদিকে,
- অমরেন্দ্রনাথ চৌধুরী পরিচালিত ‘জামাই ষষ্ঠী’ হলো উপমহাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র।
- পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশ ভূখণ্ডের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র হলো ‘মুখ ও মুখোশ’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ।
১৩০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পিআইএ-এর বিমান ছিনতাইয়ের ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমাটির নাম কি? 
  1. ফ্লাইট হাইজ্যাক ১৯৭১
  2. জেঁ কে ১৯৭১
  3. এ জে ৭১ 
  4. রানওয়ে ৭১
সঠিক উত্তর:
জেঁ কে ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেঁ কে ১৯৭১
ব্যাখ্যা

• 'জেঁ কে ১৯৭১': 
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র, যা ১৯৭১ সালে ফরাসি তরুণ জঁ ক্যুয়ে (Jean Kay) কর্তৃক পিআইএ-এর বিমান ছিনতাইয়ের সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
- তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।  
- এটি ২০২৩ সালে মুক্তি পায়।
- পরিচালক: ফখরুল আরেফিন খান।
- প্রযোজনা: চলচ্চিত্রটির শুটিং হয়েছে ভারতের কলকাতার পার্পল স্টুডিওতে।

- ফরাসি নাগরিক জাঁ কে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (PIA) একটি ৭০৭ বোয়িং বিমান হাইজ্যাক করেন। তিনি ২০ টন মেডিকেল সাপ্লাই এবং রিলিফ সামগ্রী লোড করার দাবি করেন, যাতে এগুলো বাংলাদেশের শরণার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছানো যায়। গল্পে যুদ্ধের মানবিক সংকট, সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, হাইজ্যাকের সময়ের টেনশন এবং ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে জাঁ কে-এর উদ্দেশ্য দেখানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: 
i) The Daily star. (Link)
ii) The Daily Observer. (Link) 
iii) Times of India. 

১৩১.
'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল' গানের গীতিকার কে?
  1. আপেল মাহমুদ
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. আব্দুল জব্বার
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দ হালদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দ হালদার
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রচারিত গানগুলো মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রেরণা যুগিয়েছে।

গানসমূহ:
⇒ পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: সমর দাস।
- গানটি কয়েকজন শিল্পীর সমবেত কণ্ঠে প্রচার করা হয়।

⇒ মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: আপেল মাহমুদ।

⇒ তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর:
- কথা ও সুর: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: রথীন্দ্রনাথ রায়।

⇒ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: স্বপ্না রায়।

⇒ সালাম সালাম হাজার সালাম:
- গীতিকার: ফজলে খোদা।
- সুরকার: আব্দুল জব্বার।
- শিল্পী: আব্দুল জব্বার।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

১৩২.
‘অলাতচক্র’ চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু কোন জাতীয় ইতিহাসকে তুলে ধরে?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. দেশ ভাগ 
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

অলাতচক্র:
- দেশের প্রথম থ্রিডি সিনেমা ‘অলাতচক্র’।
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফার উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে।
- এটি পরিচালনা করেছেন হাবিবুর রহমান।

⇒ ‘অলাতচক্র’ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সিনেমা।
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এ ছবিতে তায়েবা চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান ও দানিয়েল চরিত্রে আহমেদ রুবেল।

উৎস: i) The Daily Star Bangla.
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।

১৩৩.
'সালাম সালাম হাজার সালাম' গানটির গায়ক কে?
  1. ক) আব্দুল জব্বার
  2. খ) আব্দুল হাদী
  3. গ) মাহমুদুন্নবী
  4. ঘ) খুরশীদ আলম
সঠিক উত্তর:
ক) আব্দুল জব্বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আব্দুল জব্বার
ব্যাখ্যা

- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক গান ‘সালাম সালাম হাজার সালাম সকল শহিদ স্মরণে’ এর গীতিকার ফজলে এ খোদা।
- ১৯৬৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী তিনি গানটি রচনা করেন।
- গানটির সুরকার ও গায়ক আব্দুল জব্বার
- ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে গানটি প্রথম রেডিওতে প্রচারিত হয়।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো।

১৩৪.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘অনিল বাগচীর একদিন’ কার?
  1. তানভীর মোকাম্মেল
  2. চাষী নজরুল ইসলাম
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. মোরশেদুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'অনিল বাগচীর একদিন'।

• অনিল বাগচীর একদিন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।
- পিতার হত্যা-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা।
- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে।
- পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে।
- অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় চিরতরে কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১৩৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. সংগম
  2. মেঘের অনেক রং
  3. মেহেরজান
  4. গেরিলা
সঠিক উত্তর:
মেঘের অনেক রং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘের অনেক রং
ব্যাখ্যা

মেঘের অনেক রং:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র মেঘের অনেক রং।
- হারুনর রশীদ এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন।
- এটি ১৯৭৬ সালে নির্মিত হয়।
- যুদ্ধের সময় রুমা নামের একজন চিকিৎসকের স্ত্রী ধর্ষণের শিকার হয়।
- এরপর সন্তানসহ কীভাবে বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, এর মর্মস্পর্শী চিত্র রয়েছে।
- এতে অভিনয় করেছেন মাথিন, ওমর এলাহী, রওশন আরা, আদনান প্রমুখ।

উৎস: প্রথম আলো।

১৩৬.
নিচের কোন চলচ্চিত্রের সাথে হুমায়ুন আহমেদের নামটি জড়িত নয়?
  1. শ্রাবণ মেঘের দিন
  2. দুই দুয়ারী
  3. আগুনের পরশমণি
  4. গেরিলা
সঠিক উত্তর:
গেরিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গেরিলা
ব্যাখ্যা

- হুমায়ূন আহমেদ,  (১৯৪৮-২০১২) কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র নির্মাণে সার্থক
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)। 
- অন্যান্য চলচ্চিত্র :
- শ্রাবণ মেঘের দিন (২০০০),
- দুই দুয়ারী (২০০১), 
- চন্দ্রকথা (২০০৩), 
- নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭)
- আমার আছে জল (২০০৮)।

- গেরিলা চলচ্চিত্রটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত উপন্যাস 'নিষিদ্ধ লোবান' অবলম্বনে নাসিরুদ্দিন ইউসুফ নির্মাণ করেন।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

১৩৭.
প্রামাণ্যচিত্র 'তিতাস পারের মানুষটি: শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত'-এর পরিচালক কে?
  1. খান আতাউর রহমান
  2. গৌতম কৈরী
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. তানভীর মোকাম্মেল
সঠিক উত্তর:
তানভীর মোকাম্মেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তানভীর মোকাম্মেল
ব্যাখ্যা
তিতাস পারের মানুষটি: শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- চলচ্চিত্রকার তানভীর মোকাম্মেল ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের জীবন ও কর্মের ওপর ‘তিতাস পারের মানুষটি : শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত’ শিরোনামে ৭০ মিনিট দৈর্ঘ্যরে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন।
- প্রামাণ্যচিত্রটি প্রযোজনা করেছেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সদস্য-সদস্যরা।
- পাকিস্তান গণপরিষদে সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার দাবি উত্থাপন করা সংসদ সদস্য শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ওপর নির্মিত এ প্রামাণ্যচিত্র।

উৎস: ৫ নভেম্বর, ২০২৩, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা। 
১৩৮.
বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম নাটক -
  1. সংশপ্তক
  2. বাংলা আমার বাংলা
  3. একতলা দোতলা
  4. কবর
সঠিক উত্তর:
একতলা দোতলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একতলা দোতলা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম নাটক:
- বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম নাটক ছিল ‘একতলা দোতলা’।
- এর নাট্যকার শহীদ মুনীর চৌধুরী।
- প্রযোজক শহীদ মনিরুল আলম।
- ১৯৬৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে টিভিতে সেই নাটক প্রচারিত হয়। নাটকে অভিনয় করেছিলেন ফেরদৌসী মজুমদার।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) কার্যক্রম শুরু করে ১৯৬৪ সালে।
- তখন এটি পরিচিত ছিল ঢাকা টেলিভিশন হিসেবে।
- মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীতে টেলিভিশনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং এর রাষ্ট্রায়ত্তকরণ করা হয়।
- ১৯৭৫ সালে ডিআইটি ভবন ছেড়ে রামপুরায় টেলিভিশনের নিজস্ব ভবন তৈরি করা হয়।

অন্যদিকে,
- ১৯৭১ সালে শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস ‘সংশপ্তক’ থেকে ধারাবাহিক নাটক সংশপ্তক নির্মাণ শুরু হয়েছিল।
- ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক ‘বাংলা আমার বাংলা’। নাটকটি লিখেছিলেন ড. ইনামুল হক, প্রযোজনা করেছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।
১৩৯.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক "ওরা ১১ জন" চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. নাসির উদ্দীন ইউসুফ
  2. জহির রায়হান
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. তানভীর মোকাম্মেল
সঠিক উত্তর:
চাষী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাষী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• "ওরা ১১ জন (১৯৭২)":
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’।
- এর পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম।
- এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, হাসান ইমাম, এ টি এম শামসুজ্জামান, খলিল উল্লাহ প্রমুখ।
- সিনেমায় অভিনয় করা ১১ জন মুক্তিযোদ্ধার ১০ জনই সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন।
- তাঁদের মধ্যে আছেন খসরু, মুরাদ, হেলাল, নান্টু। ছবির নামটি প্রতীকী।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং ১৯৬৮-৬৯ সালে ছাত্ররা ১১ দফার ভিত্তিতে আন্দোলন করে।
- এখান থেকে ছবির নামকরণ হয়েছে ‘ওরা ১১ জন’। 

উৎস: প্রথম আলো- তারিক মনজুর, শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৪০.
'সূর্য দীঘল বাড়ি' চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. শেখ নিয়ামত শাকের
  2. জহির রায়হান
  3. সুভাষ দত্ত
  4. খান আতা
সঠিক উত্তর:
শেখ নিয়ামত শাকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ নিয়ামত শাকের
ব্যাখ্যা
[সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘ক’ গ্রহণ করা হয়েছে।]

• ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ চলচ্চিত্রের পরিচালক হলেন শেখ নিয়ামত আলী এবং মসিহউদ্দিন শাকের।
- আবু ইসহাক রচিত ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটি ১৯৭৯ সালে নির্মিত হয়।
- এটি ছিলো সরকারি অনুদানে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র।

---------------------------
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'।
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

• উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- হাসু,
- মায়মুন,
- শাফি,
- ডা. রমেশ চক্রবর্তী,
- মোরল গদু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
১৪১.
'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।
ভবে দেও দুঃখ মা, আর কত চাই।।'
- কোন ধরণের সঙ্গীতের উদাহরণ?
  1. ক) কবিগান
  2. খ) পাঁচালি
  3. গ) শ্যামাসঙ্গীত
  4. ঘ) টপ্পাগান
সঠিক উত্তর:
গ) শ্যামাসঙ্গীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শ্যামাসঙ্গীত
ব্যাখ্যা
- শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন - রামপ্রসাদ সেন
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- তার রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গান -
"আমি কি দুঃখেরে ডরাই।
ভবে দেও দুঃখ মা, আর কত চাই।।"

- আরেকটি বিখ্যাত গান:
"মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলতো সোনা।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪২.
বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ মুক্তি পায় -
  1. ১৯৬২ সালে
  2. ১৯৬০ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
চলচ্চিত্র :
- পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সবাক বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য  চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ মুক্তি পায় ১৯৫৬ সালের ৩ আগষ্ট।
- ১৯৫৬ সালে ১টি ছবি মুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু করা হয়। 
- এর প্রযোজনায় ছিলেন নুরুজ্জামান, শহীদুল আলম, কলিমউদ্দিন আহমেদ, এম এ হাসান ও আব্দুল জব্বার খান।
- পরিচালকের নিজের লেখা নাটক ডাকাত অবলম্বনে এ ছবির কাহিনী তৈরি হয়।
- ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদে বিল পাশের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (ইপিএফডিসি) প্রতিষ্ঠত হয়।
- এফডিসি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ভিত্তি স্থাপিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর।
১৪৩.
‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. মোস্তাফিজুর রহমান মানিক
  2. তানভীর মোকাম্মেল
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. অমিতাভ রেজা চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
অমিতাভ রেজা চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিতাভ রেজা চৌধুরী
ব্যাখ্যা

আয়নাবাজি:
- ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখে মুক্তি পেয়েছিল ‘আয়নাবাজি’।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন অমিতাভ রেজা চৌধুরী।
- এর কাহিনি গাউসুল আলম শাওনের এবং যৌথভাবে চিত্রনাট্য করেছিলেন গাউসুল আলম শাওন এবং অনম বিশ্বাস।
- চলচ্চিত্রটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন চঞ্চল চৌধুরী।
- এ কারণে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি ওই বছর ‘আয়নাবাজি’ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরো সাতটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।
- চঞ্চল ছাড়াও ‘আয়নাবাজি’-তে অন্যান্য চরিত্রে আরও অভিনয় করেন মাসুমা নাবিলা, পার্থ বড়ুয়া, লুৎফুর রহমান জর্জ, বৃন্দাবন দাশ, গাউসুল আলম শাওন, জামিল হোসেন প্রমুখ।

তথ্যসূত্র - চ্যানেল আই অনলাইন, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪।

১৪৪.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির প্রথম সুরকার ছিলেন -
  1. আবদুল লতিফ
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. আপেল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি:
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ।

উল্লেখ্য,
- এই গানটি প্রথম হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি'(১৯৫৩) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
- ঢাকা কলেজের নতুন নতুন ছাত্র ইউনিয়নের অভিষেক অনুষ্ঠানে গানটি প্রথম গাওয়া হয়।
- গানটির রচয়িতা 'আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী'।
- বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ।

⇒ আবদুল লতিফ:
- আবদুল লতিফ একজন সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার।
- তিনি বরিশালের রায়পাশা গ্রামে ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কংগ্রেস সাহিত্য সংঘে তিনি ১৬ বছর বয়স থেকে গান গাইতে শুরু করেন।
- ১৯৪৮ সালের জুলাই মাসে তিনি ঢাকায় আসেন।
- ১৯৪৮ সালেই তিনি রেডিও পাকিস্তানে (বর্তমান ঢাকা বেতার কেন্দ্র) সংগীত প্রযোজকের চাকরি পান।
- ৫ আগস্ট তিনি বেতারে প্রথম গান পরিবেশন করেন।
- সংগীতে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদক লাভকরেন।
- তিনি ২০০৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি মারা যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী' এর পরিচালক কে?
  1. শাহরিয়ার কবির
  2. সুভাষ দত্ত
  3. তারেক মাসুদ
  4. খান আতাউর রহমান
সঠিক উত্তর:
সুভাষ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুভাষ দত্ত
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র-
- Stop Genocide: জহির রায়হান,
- ওরা ১১ জন : চাষী নজরুল ইসলাম,
- আবার তোরা মানুষ হ : খান আতাউর রহমান,
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড : চাষী নজরুল ইসলাম,
- অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী : সুভাষ দত্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৪৬.
Who is the composer of the song 'Joy Bangla, Banglar Joy'?
  1. ক) Gazi Mazharul Anwar
  2. খ) Anwar Parvez
  3. গ) Salil Chowdhury
  4. ঘ) Sudhin Dasgupta
সঠিক উত্তর:
খ) Anwar Parvez
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Anwar Parvez
ব্যাখ্যা
জয় বাংলা বাংলার জয়
- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটিকেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের রণসংগীত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্রনির্বিশেষে এই গানকে আরাধ্য করেই মুক্তির পথে এগিয়ে যায় সমগ্র বাঙালি।
- এই গান স্বাধীন বাংলা বেতারের সূচনা সংগীত; জাতীয় স্লোগানও বটে।
- এই গানের সুরস্রষ্টা আনোয়ার পারভেজ।
- গানটি লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
- আনোয়ার পারভেজ ২০০৬ সালের ১৭ জুন মারা গেছেন।
- এক সাক্ষাৎকারে গানটির গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘আমার কথার আনোয়ার পারভেজ যে সুরের অলংকার পরিয়ে দিয়েছিলেন, তা মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে।
- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটি মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয়টা মাস মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।
- এ গান একটি যুদ্ধ, এ গান একটি স্বপ্ন, এ গান একটি বাস্তবতা।
- এ গানেই দেশের সব চাওয়ার কথা, মুক্তির স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।
১৬ ডিসেম্বর ২০২০।
১৪৭.
‘ওকি গাড়িয়াল ভাই কত রব আমি পন্থের দিকে চাইয়ারে’ - কোন প্রকারের গান?
  1. ক) ভাটিয়ালি
  2. খ) জারি
  3. গ) ভাওয়াইয়া
  4. ঘ) সারি
সঠিক উত্তর:
গ) ভাওয়াইয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাওয়াইয়া
ব্যাখ্যা
‘ওকি গাড়িয়াল ভাই কত রব আমি পন্থের দিকে চাইয়ারে’ - ভাওয়াইয়া গানের উদাহরণ- 
- ভাওয়াইয়া  উত্তরবঙ্গে প্রচলিত এক প্রকার  লোকগীতি।
- রংপুর ও ভারতের কুচবিহার জেলা এ গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গান সুরলালিত্যে ভরপুর এবং এর একটি নিজস্ব গীতরীতি আছে।
- এ গানের মূল সুর নর-নারীর প্রণয়। প্রণয়ের বিচ্ছেদ জ্বালাই এতে অধিক রূপায়িত হয়।
- মৈশাল, গাড়োয়ান, মাহুত প্রমুখ এই প্রণয়গীতির নায়ক।
- আধ্যাত্মিক চেতনাসমৃদ্ধ ভাওয়াইয়া গানও পরিলক্ষিত হয়।
যেমন: ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে’, ‘ছাড় রে মন ভবের খ্যালা’ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪৮.
'মাটির ময়না' চলচ্চিত্রের কাহিনী ও চিত্রনাট্য রচনা করেছেন কে?
  1. মিশুক মুনীর
  2. তারেক মাসুদ
  3. তানভীর মোকাম্মেল
  4. মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
সঠিক উত্তর:
তারেক মাসুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারেক মাসুদ
ব্যাখ্যা
মাটির ময়না:
- মাটির ময়না বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি বাংলাদেশী ফিচার চলচ্চিত্র।
- এটি ২০০২ সালে বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পায়।
- 'মাটির ময়না' চলচ্চিত্রের কাহিনী ও চিত্রনাট্য রচনা এবং পরিচালনা করেছেন তারেক মাসুদ।
- চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে মাসুদের ছেলেবেলার অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে।
- এই চলচ্চিত্রের মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নুরুল ইসলাম বাবলু, রাসেল ফরাজী, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, রোকেয়া প্রাচী, শোয়েব ইসলাম এবং লামিসা আর রিমঝিম।
- ২০০২ সালের ১৫ মে ৫৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও সময় নিউজ, ১৩ এপ্রিল ২০২২।
১৪৯.
‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ চলচ্চিত্রটির নির্মাতা কে?
  1. নাসির উদ্দিন ইউসুফ
  2. তারেক মাসুদ
  3. তানভীর মোকাম্মেল
  4. মান্নান হীরা
সঠিক উত্তর:
মান্নান হীরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মান্নান হীরা
ব্যাখ্যা

একাত্তরের ক্ষুদিরাম:
- ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ চলচ্চিত্রটির নির্মাতা মান্নান হীরা। 

⇒ মান্নান হীরা রচিত ও পরিচালিত শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’। 
- মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি নিয়ে নির্মিত এই পূর্ণদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্র।
- এতে অভিনয় করবেন মামুনুর রশীদ, ফজলুর রহমান বাবু, ড. ইনামুল হক, মোমেনা চৌধুরী, ছবি, ফিরোজ আল মামুন, সাজু প্রমুখ। শিশু শিল্পী চরিত্রে অভিনয় করবেন স্বচ্ছ, রুদ্র, শাকিল, অন্তরা, মধুমনি প্রমুখ।
- ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে চলচ্চিত্রটির নির্মাণ শুরু হয়। 

উৎস: প্রথম আলো।

১৫০.
আলমগীর কবির নিম্নের কোন চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন?
  1. রূপালী সৈকতে
  2. সংগ্রাম
  3. আবার তোরা মানুষ হ
  4. অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী
সঠিক উত্তর:
রূপালী সৈকতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপালী সৈকতে
ব্যাখ্যা
আলমগীর কবির:
- বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ আলমগীর কবির।
- আলমগীর কবিরের জন্ম রাঙামাটি শহরে ১৯৩৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর।
- ১৯৮৯ সালের ২০ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

⇒ প্রামাণ্যচিত্র দিয়ে পরিচালনা শুরু করলেও স্বাধীনতার পরে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করা শুরু করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশে তিনি বেশ কটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- তাঁর নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হলো ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩), সূর্যকন্যা (১৯৭৬), সীমানা পেরিয়ে (১৯৭৭), রূপালী সৈকতে (১৯৭৯), মোহনা (১৯৮২), পরিণীতা (১৯৮৪) ও মহানায়ক (১৯৮৫)।
- তাঁর পরিচালিত তিনটি চলচ্চিত্র ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘সীমানা পেরিয়ে’ ও ‘রূপালী সৈকতে’ ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের ‘বাংলাদেশের সেরা ১০ চলচ্চিত্র’র তালিকায় স্থান পেয়েছে।

⇔ রূপালী সৈকতে:
- আলমগীর কবিরের চতুর্থ সিনেমা “রূপালি সৈকতে”।
- আলমগীর কবির “রুপালি সৈকতে” চলচ্চিত্রটি নির্মান করেছিলেন ১৯৭৯ সালে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫১.
"ভালো আছি, ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো" - বিখ্যাত এই গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) খান আতাউর রহমান
  2. খ) রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) আপেল মাহমুদ
  4. ঘ) নজরুল ইসলাম বাবু
সঠিক উত্তর:
খ) রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
- "ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখ" - রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর লিখা একটি গান। 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ(১৯৫৬-১৯৯১):
কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্ম বরিশালে, ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর।
- পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্য—উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫২.
বিদেশি ভাষায় প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ছবি 'JK 1971' এর পরিচালক কে?
  1. রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমন
  2. ফখরুল আরেফিন খান
  3. মাসুদ পথিক
  4. নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু
সঠিক উত্তর:
ফখরুল আরেফিন খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুল আরেফিন খান
ব্যাখ্যা
বিদেশি ভাষায় প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ছবি 'JK 1971' এর পরিচালক ফখরুল আরেফিন খান।
১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ফ্রান্সের প্যারিসের আর্লি বিমান বন্দরে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের (পিআইএ) একটি বিমান ছিনতাই করেন ফরাসি এক তরুণ। নাম জঁ ক্যা। এই ঘটনার উপর ভিত্তি করে ছবিটি নির্মিত হয়েছে। 
উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট।
১৫৩.
বাংলা লোকসাহিত্য সংশ্লিষ্ট ‘আলকাপ’ হলো এক প্রকার?
  1. ক) কর্মসংগীত
  2. খ) পালাগান
  3. গ) সারিগান
  4. ঘ) বিবেকের গান
সঠিক উত্তর:
খ) পালাগান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পালাগান
ব্যাখ্যা

- আলকাপ গান পালাগানের একটি শাখা।
- সাধারণত পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও মালদহ এবং বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলে এ গানের প্রচলন বেশি।
- আলকাপ একটি দলীয় ও মিশ্র প্রকৃতির সঙ্গীত প্রদর্শন। এতে নাচ, গান, কথা, ছড়া, অভিনয় ইত্যাদির মিশ্রণ আছে। 

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

১৫৪.
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটির গীতিকার কে?
  1. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. আলতাফ মাহমুদ
  3. আবদুল লতিফ
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা

- ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ গানটির গীতিকার আবদুল গাফফার চৌধুরী।

• একুশের গান:
- আবদুল গাফফার চৌধুরীর অমর-কর্ম হলো ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে রচিত ‘একুশের গান’।
- গানটির প্রথম পঙ্‌ক্তি: “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি”।
- হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ (১৯৫৩) সংকলন গ্রন্থে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- গানটির প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ; পরে আলতাফ মাহমুদ নতুন সুরারোপ করেন, যা বর্তমানে প্রচলিত।
- ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বলতে বোঝানো হয়েছে যে, একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা।

১৫৫.
নাসির উদ্দিন ইউসুফ পরিচালিত 'গেরিলা’ চলচ্চিত্রের পটভূমি কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

গেরিলা চলচ্চিত্র:
​- গেরিলা ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র।
​- এটি নাসির উদ্দিন ইউসুফ পরিচালিত।
​- এই চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত।
​- সৈয়দ শামসুল হকের 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করা হয়েছে চলচ্চিত্রটি।
​- যৌথভাবে চিত্রনাট্য রচনা করেছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও এবাদুর রহমান।
​- ‘গেরিলা' ছবিটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান, ফেরদৌস, শতাব্দী ওয়াদুদ, এটিএম শামসুজ্জামান, পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ৷

​উৎস: প্রথম আলো।

১৫৬.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. যাত্রা
  2. কালো ঘোড়া
  3. রাইফেল রোটি আওরাত
  4. নেকড়ে অরণ্য
সঠিক উত্তর:
নেকড়ে অরণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা

‘নেকড়ে অরণ্য’
- শওকত ওসমানের রচিত একটি  মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

• শওকত ওসমান মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস :
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
-  দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
 - জলাংগী;

অন্যদিকে.
- ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস: কালো ঘোড়া।
- শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস: ’যাত্রা’।
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস: রাইফেল রোটি আওরাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫৭.
'মাটির ময়না' চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. মুস্তফা মনোয়ার
  2. তারেক মাসুদ
  3. আলমগীর কবীর
  4. তানভীর মোকাম্মেল
সঠিক উত্তর:
তারেক মাসুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারেক মাসুদ
ব্যাখ্যা

মাটির ময়না:
- মাটির ময়না বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি বাংলাদেশী ফিচার চলচ্চিত্র।
- এটি ২০০২ সালে বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পায়।
- 'মাটির ময়না' চলচ্চিত্রের কাহিনী ও চিত্রনাট্য রচনা এবং পরিচালনা করেছেন তারেক মাসুদ।
- চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে মাসুদের ছেলেবেলার অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে।
- এই চলচ্চিত্রের মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নুরুল ইসলাম বাবলু, রাসেল ফরাজী, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, রোকেয়া প্রাচী, শোয়েব ইসলাম এবং লামিসা আর রিমঝিম। 
- ২০০২ সালের ১৫ মে ৫৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও সময় নিউজ, ১৩ এপ্রিল ২০২২।

১৫৮.
‘হত্যাযজ্ঞ’ ও ‘চরদখল’ চিত্রকর্ম দুটি কার?
  1. ক) জয়নুল আবেদিন
  2. খ) এস এম সুলতান
  3. গ) কামরুল হাসান
  4. ঘ) কাইয়ুম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) এস এম সুলতান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এস এম সুলতান
ব্যাখ্যা
‘হত্যাযজ্ঞ’ (১৯৮৭) এবং ‘চরদখল’ (১৯৮৮) চিত্রকর্ম দুটির শিল্পী হলেন এস এম সুলতান।
তার অন্যান্য চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে:
-সভ্যতার ক্রমবিকাশ
- ধান মাড়াই
- জমি কর্ষণ
- গ্রাম্য কাজিয়া
- মাঠ পরিস্কার
- ফসল সংগ্রহ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
এস এম সুলতান বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী। তার পুরো নাম শেখ মোহাম্মদ সুলতান।
তিনি ১৯২৩ সালে নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি নড়াইলে ‘শিশুস্বর্গ’ ও ‘চারুপীঠ’ নামে শিশুদের জন্যে দুটি চিত্রাংকন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ঢাকা ট্রিবিউন)
১৫৯.
বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে জনপ্রিয় লোকসঙ্গীতের নাম কী?
  1. ক) ভাওয়াইয়া
  2. খ) ভাটিয়ালি
  3. গ) জারিগান
  4. ঘ) সারিগান
সঠিক উত্তর:
ক) ভাওয়াইয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাওয়াইয়া
ব্যাখ্যা
ভাওয়াইয়া উত্তরবঙ্গে প্রচলিত এক প্রকার লোকগীতি।
- রংপুর ও ভারতের কুচবিহার জেলা এ গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গান সুরলালিত্যে ভরপুর এবং এর একটি নিজস্ব গীতরীতি আছে।
- বৈশিষ্ট্যগত কারণে সাধারণত উত্তর বাংলার শিল্পী ছাড়া এ গানের সুরসংযোজনা সকলের পক্ষে সম্ভব হয় না।
যেমন:
- ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’,
- ‘যে জন প্রেমের ভাব জানে না’,
- ‘কোন দ্যাশে যান মইশাল বন্দুরে’,
- ‘নউতোন পিরিতির বড় জ্বালা’ ইত্যাদি অধিক জনপ্রিয়।  

 - শিল্পী  আববাসউদ্দীন আহমদ ভাওয়াইয়া গান জনপ্রিয় করে তোলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬০.
'বিলিয়ন ডলার হেইস্ট' তথ্যচিত্রটির পরিচালক -
  1. ক) ব্রেন্ডন ডনোভান
  2. খ) ব্রায়ান ইভানস
  3. গ) ড্যানিয়েল গর্ডন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
তথ্যচিত্র:
- বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হলিউড তথ্যচিত্র ‘বিলিয়ন ডলার হেইস্ট’।
- ইউনিভার্সাল পিকচার্স হোম এন্টারটেইনমেন্টের ওয়েবসাইটে তথ্যচিত্রটির মুক্তির বিষয় জানানো হয়েছে।
 -তথ্যচিত্রটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন ড্যানিয়েল গর্ডন, ব্রেন্ডন ডনোভান ও ব্রায়ান ইভানস

উল্লেখ্য যে,
- ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ১ হাজার ৬২৩ ডলার চুরি হয়।সেখান থেকে টাকা চুরি করে ফিলিপাইনে নিয়ে যাওয়া হয়।

উৎস: বণিক বার্তা পত্রিকা রিপোর্ট।
১৬১.
’মেঘের অনেক রং’ চলচ্চিত্রটির পরিচালক কে? 
  1. শেখ নিয়ামত আলী
  2. হারুনর রশীদ
  3. জহির রায়হান
  4. তানভীর মোকাম্মেল
সঠিক উত্তর:
হারুনর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হারুনর রশীদ
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের কাহিনিনির্ভর অন্যতম সিনেমা ‘মেঘের অনেক রং’–এর পরিচালক হারুনর রশীদ।
​- তার কয়েকটি চলচ্চিত্র: 
​- “মেঘের অনেক রং”, “আমরা তোমাদের ভুলব না”, “গৌরব”, “রঙিন গুনাই বিবি”, “ধনবান”, “অসতী”।
​-’ সহকারী পরিচালক হিসেবে হারুনর রশীদ কাজ করেছেন ‘সুয়োরানী দুয়োরানী’, ‘কাঞ্চনমালা’ ও ‘রূপবান’ ছবিতে।

কয়েকটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র: 
​- অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী: পরিচালক সুভাষ দত্ত।
​​- ধীরে বহে মেঘনা: আলমগীর কবির।
​- ওরা এগারো জন: চাষী নজরুল ইসলাম।
​- সূর্য-দীঘল বাড়ী: শেখ নিয়ামত আলী ও মসিহউদ্দিন শাকের।
​- চিত্রা নদীর পাড়ে: তানভীর মোকাম্মেল।
​- জীবন থেকে নেয়া: জহির রায়হান।

​উৎস:  বাংলাপিডিয়া। 

১৬২.
"আমি কোথায় পাবো তারে, আমার মনের মানুষ যে রে।" - কার রচিত গান?
  1. লালন সাঁই
  2. সিরাজ সাঁই
  3. গগন হরকরা
  4. রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
গগন হরকরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গগন হরকরা
ব্যাখ্যা
"আমি কোথায় পাব তারে,
আমার মনের মানুষ যে রে।
হারায়ে সেই মানুষে, তার উদ্দেশে দেশ-বিদেশে-
আমি দেশ-বিদেশে বেড়াই ঘুরে;
কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে।।"

- কালজয়ী বাউল গানটির রচয়িতা ও সুর করেছন - গগন হরকরা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি" এর সুর করেছিলেন এই গানটির থেকে প্রভাবিত হয়ে।
--------------
গগন হরকরা- পরিবারের দেওয়া নাম গগণচন্দ্র দাস হলেও ইতিহাসে যিনি গগন হরকরা নামেই প্রসিদ্ধ।
- কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামে আনুমানিক ১৮৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন গগন।
- শিলাইদহ পোস্ট অফিসে কাজ করতেন ডাকহরকরা বা ডাকপিয়ন হিসেবে। তবে এই পরিচয় ছাপিয়ে গগন ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন তার রচিত ও সুরারোপিত কালজয়ী গানের জন্য।

তাঁর রচিত ও সুর করা আরো একটি গান: ও মন অসাড় মায়ায় ভুলে রবে। (এই গানের সুর থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর "যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক" - এই গানটির সুর করেন।

---------------
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের গগন হরকরার প্রভাব পড়ে যেভাবে:
- তৎকালীন ভারত উপমহাদেশের নদীয়ার (বর্তমান কুষ্টিয়া) একটি ছোট গ্রামে গগনের বাস।
- ভূ-খন্ডের এই অংশে তখন প্রতিনিধিত্ব লালন সাঁই, গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃত কাঙাল হরিনাথ, সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের মতো কালজয়ী প্রতিভাদের। শিলাহদহ এস্টেটে ঠাকুরবাড়ির জমিদারি দেখাশোনার জন্য আসতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- শিলাইদহ পোস্ট অফিসে ডাকহরকরার কাজের ফাঁকে গান রচনা ও গাইতেন গগন। তিনি বাউল সম্রাট ফকির লালনের অনুসারী ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে এলে চিঠিপত্রাদি দিতে জমিদার কাচারিতে যাওয়া হতো গগনের।
- তার রচিত ও সুরারোপিত ‘আমি কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে’ গানটি শুনে মুগ্ধ হন রবীন্দ্রনাথ।

রবীন্দ্রনাথ গগণের নাম ও তার গানের বিষয়ে তার প্রবন্ধ “An Indian Folk Religion” এ উল্লেখ করেন।
- সেখানে ‘আমি কোথায় পাবো তারে’—গানটির উল্লেখ করে রবীন্দ্রনাথ বলেন, “The first Baul song, which I chanced to hear with any attention, profoundly stirred my mind.”

এই গান রবীন্দ্রনাথকে এতোটাই প্রভাবিত করে যে, তিনি এর সুরে রচনা করেন ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’
---------------
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ডাকঘর নাটকটি গগন হরকরার জীবন থেকে প্রভাবিত হয়ে লিখেছিলেন।
- নাটকের গগেন্দ্রনাথ ঠাকুর চরিত্রটি তা প্রমাণ করে।

উৎস: ডেইলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট ও বিডি নিউজ২৪.কম আর্কাইভ।
১৬৩.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির গীতিকার কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. আবদুল লতিফ
  4. আপেল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি:
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির বর্তমান সুরকার হলেন আলতাফ মাহমুদ।
- গানটির রচয়িতা বা গীতিকার হলেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। সেটি এখন বলবৎ আছে। 
- ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' বলতে বোঝানো হয়েছে যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ডেইলী স্টার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।

১৬৪.
প্রয়াত চিত্রপরিচালক তারেক মাসুদের 'জঙ্গীবাদ ও তার প্রভাব' সম্পর্কিত চলচ্চিত্রের নাম -
  1. ক) মাটির ময়না
  2. খ) অন্তর্যাত্রা
  3. গ) মুক্তির গান 
  4. ঘ) রানওয়ে
সঠিক উত্তর:
ঘ) রানওয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রানওয়ে
ব্যাখ্যা

- প্রয়াত চিত্রপরিচালক তারেক মাসুদের 'জঙ্গীবাদ ও তার প্রভাব' সম্পর্কিত চলচ্চিত্রের নাম - রানওয়ে।

• চলচ্চিত্র:
- বাংলাদেশে স্বাধীন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, লেখক এবং গীতিকার হিসেবে সমাদৃত তারেক মাসুদ।
- শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর ছেলে আশফাক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিবিসির ভিডিও গ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন।
- সবার কাছে মিশুক মুনীর নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন তিনি।
- তিনি তার প্রতিটি কাজের মাধ্যমে একটি করে নতুন ধারার সূচনা করতে চেয়েছিলেন।
- তিনি চেয়েছিলেন তার ‘রানওয়ে’ চলচ্চিত্রটিকে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তের দর্শকদের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে।
- জঙ্গীবাদ, মৌলবাদ বিরোধী একটি রাজনৈতিক ছবি ‘রানওয়ে’ নিয়ে ভেবেছিলেন অন্য ভাবনা।
- ঢাকা কেন্দ্রীক চিন্তাচেতনাকে অগ্রাহ্য করে আর্থিক ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকা পরও অবলীলায় নিজের তৈরি ছবি ‘রানওয়ে’কে বন্দরনগরীতে ২০১০ সালের ৪ অক্টোবরে মুক্তি দিয়েছিলেন।
- ২০০২ সালে তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’ মুক্তি পায়।
- ২০১১ সালের ১৩ অগস্ট মাসে কাগজের ফুল লোকেশন দেখতে গিয়ে ফিরে আসার সময় মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মারা যান। 

তথ্যসূত্র: বাংলা নিউজ ডট কম এবং ইত্তেফাক পত্রিকা রিপোর্ট। 

১৬৫.
সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি' চরণটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) জসীমউদ্দীন
  4. ঘ) মধুসূদন দত্ত
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা

ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা
ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
ও সে সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি
সে যে আমার জন্মভূমি, সে যে আমার জন্মভূমি।
-দ্বিজেন্দ্রলাল রায় বা ডি. এল. রায়

১৬৬.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম গানটির প্রথম চরণ কী?
  1. আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
  2. এ জ্বলন্ত হিমায়িত হৃদয়
  3. চল চল চল, মুক্তির পথে
  4. ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না
সঠিক উত্তর:
ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম গানটির প্রথম চরণ- ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না।
---------------------------------------- 
•  ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম গান:
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত প্রথম গান হিসেবে পরিচিত “ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না”।
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিবর্ষণ ও প্রথম শহীদ মিনার ধ্বংসের ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ভাষাসৈনিক আ ন ম গাজীউল হক এই গানটি রচনা করেন।
- পরের বছর, ১৯৫৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আরমানিটোলা ময়দানে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় গানটি সর্বপ্রথম পরিবেশিত হয়।

- এই গানের রচয়িতা গাজীউল হক নিজেই।
- গানটির প্রথম পংক্তি ছিল “ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না”।
- গানের সুরারোপ করেন তাঁর অনুজ নিজাম উল হক।
- ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত প্রেক্ষাপট ও জাতীয় শোক-প্রতিবাদের আবেগ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে জন্ম নেওয়া এই গানটি পরবর্তীকালে আন্দোলনের এক শক্তিশালী সাংস্কৃতিক প্রতীক হয়ে ওঠে।
--------------------
অন্যদিকে,
- “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক গান।
- এটি ১৯৫২ সালে সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী রচনা করেন।
- পরবর্তীতে আলতাফ মাহমুদের সুরে গানটি শহীদদের স্মরণে প্রভাতফেরিতে পরিবেশিত হয়। 
- গানটি এখন ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরির অপরিহার্য গানে পরিণত হয়েছে। 
- এটি বিবিসি বাংলার জরিপে অন্যতম সেরা গান হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৬৭.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটির গীতিকার কে?
  1. আবদুল লতিফ
  2. আলতাফ মাহমুদ
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি:
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির গীতিকার 'আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী'।
- গানটি প্রথম হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি'(১৯৫৩) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
- গানটির প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ।
- গানটির বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বিবিসি রিপোর্ট ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬৮.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি? 
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. আর্তনাদ
  3. ধীরে বহে মেঘনা
  4. কবর
সঠিক উত্তর:
ধীরে বহে মেঘনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরে বহে মেঘনা
ব্যাখ্যা

• ইতিহাসভিত্তিক সাহিত্যকর্ম: 
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি (মাহবুব উল আলম চৌধুরী)।
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক হলো মুনীর চৌধুরী রচিত 'কবর'।
- প্রথম উপন্যাস- আরেক ফাল্গুন (জহির রায়হান)।
- শওকত ওসমান রচিত  ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস- ‘আর্তনাদ’। 
- ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে ভাষা আন্দোলন নিয়েই বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বেশি কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক এবং প্রবন্ধ রচিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- আলমগীর কবির নির্মিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত চলচ্চিত্র হলো 'ধীরে বহে মেঘনা'।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৬৯.
'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি' গানটির শিল্পী কে?
  1. সমর দাস
  2. আব্দুল জব্বার
  3. গোবিন্দ হালদার
  4. আপেল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আপেল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপেল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রচারিত গানগুলো মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রেরণা যুগিয়েছে।

⇒ তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর:
- কথা ও সুর: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: রথীন্দ্রনাথ রায়।

⇒ পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: সমর দাস।
- গানটি কয়েকজন শিল্পীর সমবেত কণ্ঠে প্রচার করা হয়।

⇒ মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: আপেল মাহমুদ।

⇒ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: স্বপ্না রায়।

⇒ সালাম সালাম হাজার সালাম:
- গীতিকার: ফজলে খোদা।
- সুরকার: আব্দুল জব্বার।
- শিল্পী: আব্দুল জব্বার।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।
১৭০.
কান চলচ্চিত্র উৎসবে ফিপ্রেস্কি আন্তর্জাতিক সমালোচক পুরস্কারের আওতায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করে কোন চলচ্চিত্রটি? 
  1. অন্তর্যাত্রা
  2. মাটির ময়না
  3.  নরসুন্দর
  4. রানওয়ে
সঠিক উত্তর:
মাটির ময়না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটির ময়না
ব্যাখ্যা
মাটির ময়না: 

• মাটির ময়না ২০০২ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ফিপ্রেস্কি আন্তর্জাতিক সমালোচক পুরস্কারের আওতায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করে।
• এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি বাংলাদেশি ফিচার চলচ্চিত্র। 
• কাহিনি ও চিত্রনাট্য রচনা এবং পরিচালনা: তারেক মাসুদ
• প্রযোজক: ক্যাথরিন মাসুদ। 
• অভিনয়ে শিল্পী: নুরুল ইসলাম বাবলু, রাসেল ফরাজী, রোকেয়া প্রাচী, শোয়েব ইসলাম, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, লামিসা রিমঝিম প্রমুখ।
• তারেক মাসুদের উল্লেখযোগ্য আরও কয়েকটি চলচ্চিত্র হলো অন্তর্যাত্রা (২০০৬), নরসুন্দর (২০০৯) এবং রানওয়ে (২০১০)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং The Story of 'Matir Moina’
১৭১.
হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র নয় কোনটি?
  1. চন্দ্রকথা
  2. নন্দিত নরকে
  3. আমার আছে জল
  4. দুই দুয়ারী
সঠিক উত্তর:
নন্দিত নরকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নন্দিত নরকে
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে।
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর অন্যন্যা চলচ্চিত্র গুলো হলো,
- শ্রাবণ মেঘের দিন (২০০০), দুই দুয়ারী (২০০১), চন্দ্রকথা (২০০৩), নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭) এবং আমার আছে জল (২০০৮)।

অন্যদিকে,
- নন্দিত নরকে পরিচালনা করেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা চলচ্চিত্রকার বেলাল আহমেদ।
- হুমায়ুন আহমেদ এর জনপ্রিয় উপন্যাস নন্দিত নরকে অবলম্বনে নির্মাণ করা হয় চলচ্চিত্রটি।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৭২.
‘প্রাণের বান্ধবরে বুড়ি হইলাম তাের কারণে’-গানটির গীতকার
  1. ক) শেখ ওয়াহিদ
  2. খ) কিরণ রায়
  3. গ) শাহ আবদুল করিম
  4. ঘ) কাঙ্গালিনী সুফিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) শেখ ওয়াহিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শেখ ওয়াহিদ
ব্যাখ্যা
'বুড়ি হইলাম তর কারণে', 'আমার মাটির গাছে লাউ ধইরাছে'_এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা গীতিকবি মুক্তিযোদ্ধা শেখ ওয়াহিদুর রহমান।
ওয়াহিদের রচিত গানের সংখ্যা দেড় হাজারের অধিক। তার গানের বিষয়বস্তু, পরমতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, প্রেমতত্ত্ব, গুরুতত্ত্ব, আঞ্চলিক গান, পল্লীগীতি, মুর্শিদি, ভাটিয়ালি, মারফতি, পদাবলি, কীর্তন। আঞ্চলিক গান রচনায় তিনি ছিলেন বিশেষ আগ্রহী। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত তার গানের সংখ্যা শতাধিক। ‘পরাণের বন্ধুরে/ বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ এবং ‘আমার মাটির গাছে লাউ ধরেছে/লাউটা বড় সোহাগী/লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী’ তার এ গান দুটি বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।


সুত্রঃ কালের কণ্ঠ এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা
১৭৩.
'ভাওয়াইয়া' কোন অঞ্চলের গান?
  1. রংপুর
  2. সিলেট
  3. কুষ্টিয়া
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
রংপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রংপুর
ব্যাখ্যা

ভাওয়াইয়া:
- ভাওয়াইয়া উত্তরবঙ্গে প্রচলিত এক প্রকার  লোকগীতি।
- রংপুর ও ভারতের কুচবিহার জেলা এ গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গান ভাবসমৃদ্ধ বিধায় ‘ভাব’ থেকে ‘ভাওয়াইয়া’ কথাটির উৎপত্তি বলে অনুমিত হয়।
- এ গানের মূল সুর নর-নারীর প্রণয়। প্রণয়ের বিচ্ছেদ জ্বালাই এতে অধিক রূপায়িত হয়।
- ভাওয়াইয়া গান দুই প্রকার- দীর্ঘ সুরবিশিষ্ট ও চটকা সুরবিশিষ্ট।
- প্রথম শ্রেণীর গানে নর-নারীর, বিশেষত নবযৌবনাদের অনুরাগ, প্রেমপ্রীতি ও ভালোবাসার আবেদন ব্যক্ত হয়।
- এরূপ গানের মধ্যে ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’, ‘যে জন প্রেমের ভাব জানে না’, ‘কোন দ্যাশে যান মইশাল বন্দুরে’, ‘নউতোন পিরিতির বড় জ্বালা’ ইত্যাদি অধিক জনপ্রিয়।
- অপরপক্ষে চটকা এক প্রকার রঙ্গগীতি।
- এ গান চটুল ও দ্রুত তালের।
- গ্রাম্য ‘চট’ (অর্থ তাড়াতাড়ি) শব্দটির স্ত্রীলিঙ্গান্তর করে ‘চটকা’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।
- এ শ্রেণীর গানে যথেষ্ট হাস্যরসের উপাদান থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১৭৪.
’’আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’’ গানটির প্রথম সুরকার কে?
  1. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. আব্দুর জব্বার
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. আব্দুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
আব্দুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
একুশে ফেব্রুয়ারি গান:
- ’’আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি”
- গানটির বর্তমান সুরকার- আলতাফ মাহমুদ।
- গানটির রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- এই গানটি প্রথম হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি' (১৯৫৩) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
- গানটির প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ।
- ঢাকা কলেজের নতুন নতুন ছাত্র ইউনিয়নের অভিষেক অনুষ্ঠানে গানটি প্রথম গাওয়া হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ডেইলী স্টার,।
১৭৫.
Stop Genocide প্রমাণ্য চলচ্চিত্রটির নির্মাতা কে?
  1. খান আতাউর রহমান
  2. জহির রায়হান
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. সত্যজিৎ রায়
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
Stop Genocide:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র Stop Genocide.
- নির্মাতা জহির রায়হান।
-মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের মে/জুন মাসে এটি প্রথম কলকাতায় প্রদর্শিত হয়।
- মূলত বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া স্টক ফুটেজ ও নিউজ রিলের ছবির ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয় স্টপ জেনোসাইড।
- একজন চলচ্চিত্র-নির্মাতা হিসেবে জহির রায়হান দুনিয়ার মানুষকে বাংলাদেশে চলতে থাকা গণহত্যার খবর জানান দেওয়ার এক বড় দায়িত্ব কাঁধে নেন।
- বিভিন্ন জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রসঙ্গে লেনিনের একটি বক্তব্য দিয়ে শুরু হয় ছবিটি।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র-
- Stop Genocide: জহির রায়হান,
- ওরা ১১ জন : চাষী নজরুল ইসলাম,
- আবার তোরা মানুষ হ : খান আতাউর রহমান,
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড : চাষী নজরুল ইসলাম,
- অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী : সুভাষ দত্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭৬.
তুমি কি দেখেছো কভু গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) আব্দুল জব্বার
  2. খ) গাজী মাযহারুল আনোয়ার
  3. গ) সত্য সাহা
  4. ঘ) মো. মনিরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
ঘ) মো. মনিরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মো. মনিরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
২০০৬ সালে বিবিসি বাংলার জরিপে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ গানের তালিকায় ২০তম ছিলো ''তুমি কি দেখেছো কভু, জীবনের পরাজয়'' গানটি। এটির শিল্পী আব্দুল জব্বার, সুরকার সত্য সাহা এবং রচয়িতা ডক্টর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। এটি ১৯৬৮ সালে প্রথম গাওয়া হয়। (সূত্রঃ বিবিসি বাংলা)
১৭৭.
হুমায়ূন আহমেদের পরিচালিত চলচ্চিত্র নয় কোনটি?
  1. আগুনের পরশমণি
  2. ঘেটুপুত্র কমলা
  3. শ্রাবণ মেঘের দিন
  4. মুক্তির গান
সঠিক উত্তর:
মুক্তির গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তির গান
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ:

- 'মুক্তির গান' হুমায়ূন আহমেদের পরিচালিত চলচ্চিত্র নয়।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে।
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর অন্যন্যা চলচ্চিত্র গুলো হলো,
- শ্রাবণ মেঘের দিন (২০০০), দুই দুয়ারী (২০০১), চন্দ্রকথা (২০০৩), নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭) এবং আমার আছে জল (২০০৮)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৭৮.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি' গ্রন্থের সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. শামসুর রাহমান
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক:
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক একুশের প্রথম সংকলন গ্রন্থের নাম: একুশে ফেব্রুয়ারি।

- গ্রন্থটির সম্পাদক: হাসান হাফিজুর রহমান।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সাহিত্যচর্চার সূচনা: ছাত্রজীবন থেকেই।
- তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
- একই বছরে (১৯৫২) তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘অমর একুশে’ রচিত হয়।
- ১৯৫৩ সালে, তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।

অন্যদিকে,
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' কবিতাটি লেখেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী।
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রথম উপন্যাস 'আরেক ফাল্গুন' এর রচয়িতা জহির রায়হান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৭৯.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধকে অবলম্বন করে রচিত উপন্যাস?
  1. মায়ের কাছে যাচ্ছি
  2. আমার যত গ্লানি
  3. খোয়াবনামা
  4. প্রসন্ন পাষাণ
সঠিক উত্তর:
আমার যত গ্লানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার যত গ্লানি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস:

• রশীদ করীম রচিত 'আমার যত গ্লানি' উপন্যাস মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক। 
• এটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
• এটি উত্তম পুরুষে রচিত। 
• এই উপন্যাসের এরফান চৌধুরী নামের এক মধ্যবিত্তের আত্মগ্লানি দেখানো হয়েছে।
• স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিক অস্থিরতাকে আশ্রয় করে তিনি এটি রচনা করেন। 
• এতে ১৯৪৭ সাল থেকে ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালের মধ্যকার কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে।
• উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ঢাকার একটি বহুজাতিক ফার্মের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণির এরফান চৌধুরী।
• উল্লেখ্য, 'মায়ের কাছে যাচ্ছি' ও ‘প্রসন্ন পাষান’ উপন্যাসের লেখক- রশীদ করীম।
• রশীদ করীমের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘উত্তম পুরুষ’ (১৯৬১)।
• 'খোয়াবনামা' আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১৮০.
'সালাম সালাম হাজার সালাম' গানের গীতিকার কে?
  1. আব্দুল জব্বার
  2. ফজলে খোদা
  3. গোবিন্দ হালদার
  4. আপেল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
ফজলে খোদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফজলে খোদা
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রচারিত গানগুলো মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রেরণা যুগিয়েছে।

⇒ তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর:
- কথা ও সুর: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: রথীন্দ্রনাথ রায়।

⇒ পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: সমর দাস।
- গানটি কয়েকজন শিল্পীর সমবেত কণ্ঠে প্রচার করা হয়।

⇒ মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: আপেল মাহমুদ।

⇒ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: স্বপ্না রায়।

⇒ সালাম সালাম হাজার সালাম:
- গীতিকার: ফজলে খোদা।
- সুরকার: আব্দুল জব্বার।
- শিল্পী: আব্দুল জব্বার।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

১৮১.
"এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি" এর রচয়িতা-
  1. জহির রায়হান
  2. গাফ্ফার চৌধুরী
  3. শামসুর রাহমান
  4. মাহবুব আলম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মাহবুব আলম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহবুব আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ - এই কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপট 'ভাষা আন্দোলন'।
------------------ 
• কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা:   
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
- এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা।
- মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী প্রগতিশীল মাসিক সীমান্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং চট্টগ্রামের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী গুলি চালিয়ে হত্যা করে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে মিছিলরত তরুণদের। সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
মাহবুব উল আলম চৌধুরী তখন অসুস্থ; তাঁর শরীরে জলবসন্তের চিহ্ন। রাত জেগে তিনি লিখলেন আগুনঝরা কবিতা: ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতেই চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে রাজনৈতিক কর্মী হারুনুর রশীদ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।
--------------- 
মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী:
- মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী কবি, সাংবাদিক, লেখক, ভাষা সৈনিক এবং ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার রচয়িতা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে (২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২) আন্দোলনকারী ভাষা সৈনিকদের ওপর পুলিশের গুলি এবং ছাত্র নিহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ স্বরূপ কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী  ’একুশে’ শিরোনামে রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা ’কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ যা ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতা হিসেবে স্বীকৃত।
- মাহবুব উল আলম চৌধুরীর জন্ম ৭ নভেম্বর ১৯২৭, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের আসাদ চৌধুরীর বাড়িতে। 

---------------
কবিতার কিছু অংশ:

এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে
রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার তলায়
যেখানে আগুনের ফুলকির মতো
এখানে-ওখানে জ্বলছে অসংখ্য রক্তের ছাপ
সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি।
আজ আমি শোকে বিহ্বল নই
আজ আমি ক্রোধে উন্মত্ত নই
আজ আমি প্রতিজ্ঞায় অবিচল।
যে শিশু আর কোনোদিন তার
পিতার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার
সুযোগ পাবে না
----------------  
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৮২.
'শূন্য এ বুকে পাখি মোর আয়' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) অতুল প্রসাদ
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) রজনীকান্ত সেন
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'শূন্য এ বুকে পাখি মোর আয়' গানটির রচয়িতা হলেন কাজী নজরুল ইসলাম। 
 
গানটির অংশবিশেষ নিম্নরূপ:
 
শূন্য এ-বুকে পাখি মোর আয়
ফিরে আয় ফিরে আয়!
তোরে না হেরিয়া সকালের ফুল
অকালে ঝরিয়া যায়॥
 
তুই নাই বলে ওরে উন্মাদ
পান্ডুর হলো আকাশের চাঁদ
কেঁদে নদী হলো করুণ বিষাদ
ডাকে আয় তীরে আয়।।

আকাশে মেলিয়া শত শতকর
খোঁজে তোরে তবু ওরে সুন্দর
তোর তরে বনে উঠিয়াছে ঝড়
লুটায় লতা ধূলায়।।

তুই ফিরে এলে ওরে চঞ্চল
আবার ফুটিবে বন ফুল দল
ধূসর আকাশ হইবে সুনীল
তোর চোখের চাওয়ায়।।
১৮৩.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মুখপাত্র হিসেবে কোন পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. বাংলাদেশ
  2. মুজিব বার্তা
  3. মুক্তির ডাক
  4. জয়বাংলা
সঠিক উত্তর:
জয়বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়বাংলা
ব্যাখ্যা
  • জয়বাংলা 
- মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপত্র ছিলো- জয় বাংলা। 
- সাপ্তাহিক জয়বাংলা প্রকাশিত হতো- মুজিবনগর থেকে। 
- জয় বাংলা পত্রিকার প্রকাশক - আবদুল মান্নান । 
- জয় বাংলা পত্রিকার সম্পাদক – মতিন আহমদ চৌধুরী (ভারপ্রাপ্ত)। 
- জয় বাংলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকাল - ১১ মে ১৯৭১ (২৭ বৈশাখ ১৩৭৮)।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া। 
১৮৪.
'অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী' চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট কী?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী:
- স্বাধীনতা-পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় ছবি অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হলেও বিষয়বস্তুতে অনন্যসাধারণ এই চলচ্চিত্রটি।
- সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের চলচ্চিত্র ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’। 

⇒ 'লাঞ্ছিত নারীত্বের মর্যাদা দাও, নিষ্পাপ সন্তানদের বরণ কর'- এই স্লোগানে ১৯৭২ সালে প্রখ্যাত পরিচালক সুভাষ দত্ত নির্মাণ করেন অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী চলচ্চিত্রটি।
- ছবিটি মূলত একজন অভিনেতাকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে; যিনি যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে রক্ষা পেতে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যান।
- কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শুরু হয় নিজের বিবেকের দংশন।
- এভাবেই এগিয়ে চলে ছবিটির গল্প।
- এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন ববিতা, উজ্জল, আনোয়ার হোসেনসহ আরো অনেকে।

উৎস: বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ।
১৮৫.
স্বাধীন দেশে প্রথম নাটক মঞ্চায়ন করে কোন নাট্যদল?
  1. থিয়েটার
  2. নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়
  3. আরণ্যক
  4. ঢাকা থিয়েটার
সঠিক উত্তর:
আরণ্যক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরণ্যক
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মঞ্চনাটক:
- স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে বড় এক অর্জন যুক্ত হলো—মঞ্চনাটক। মুক্তিযুদ্ধের যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা সেটা মঞ্চের মতো করে আর কোথাও সেভাবে চর্চিত হয়নি। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও মানবিকবোধ জাগ্রত করার পেছনে নিরলস পরিশ্রম করেছেন এই অঙ্গনের যোদ্ধারা। এই সংস্কৃতিযোদ্ধাদের বেশির ভাগই ছিলেন রণাঙ্গনের যোদ্ধা। 

⇒ অস্ত্র হাতে যাঁরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন। ভারতে প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে কলকাতায় বিভিন্ন নাট্যদলের নাটক দেখে তাঁদের মনে হলো, নাটক হতে পারে একটি নিয়মিত চর্চার শিল্পমাধ্যম। স্বাধীনতার পরপরই তাঁদের প্রত্যেকেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন মঞ্চে। তাঁদের হাত ধরেই পরবর্তী সময়ে বেড়ে ওঠে ‘গ্রুপ থিয়েটার’ আন্দোলন।

⇒ স্বাধীনতা পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই গঠিত হয় বেশ কয়েকটি নাটকের দল। ১৯৭২ সালেই প্রতিষ্ঠিত হয় নামকরা কয়েকটি নাটকের দল—থিয়েটার, নাট্যচক্র, আরণ্যক, নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় [দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৬৮ সালে, প্রথম নাটক মঞ্চায়ন ১৯৭২-এ]। পরের বছর গড়ে ওঠে ঢাকা থিয়েটার ও চট্টগ্রাম থিয়েটার। 

⇒ স্বাধীন দেশে প্রথম নাটক মঞ্চায়ন করে আরণ্যক নাট্যদল।
- ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে তারা মঞ্চস্থ করে মুনীর চৌধুরী রচিত ‘কবর’। প্রথম মঞ্চায়নের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন আলী যাকের, সুভাষ দত্ত, ইনামুল হক ও মামুনুর রশীদের মতো শিল্পীরা। তবে দর্শনীর বিনিময়ে প্রথম নাটক মঞ্চায়ন হয় পরের বছর। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের নাটকটির নাম ‘বাকি ইতিহাস’, মঞ্চস্থ হয় ১৯৭৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি।
- ‘বাকি ইতিহাস’ নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে দেয় অন্য দলগুলোর জন্য।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) কালের কন্ঠ।

১৮৬.
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. আল মাহমুদ
  4. মমতাজউদদীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা

রাইফেল রোটি আওরাত:
- আনোয়ার পাশা রচিত 'রাইফেল রোটি আওরাত' মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঘটে যাওয়া গণহত্যা এবং তার পরবর্তী দিনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কাহিনী উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে।
- যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে, প্রত্যক্ষ বাস্তবতার ভেতর তিনি উপন্যাসটি লেখেন।
- যুদ্ধের এমন প্রত্যক্ষ, এমন মৌলিক ব্যাপ্তি সত্যিই বিরল।
- এ উপন্যাস শুধু বিপন্ন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি নয়, রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে উদ্ভাসিত এক নতুন বাংলাদেশ।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র সুদীপ্ত শাহীন-ই যেন সেই বাংলাদেশ।
- তিনি ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিহত হন।

উৎস: প্রথম আলো।

১৮৭.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় নির্মিত 'ধীরে বহে মেঘনা' চলচ্চিত্রের নির্মাতা কে?
  1. আলমগীর কবির
  2. খান আতাউর রহমান
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. সুভাষ দত্ত
সঠিক উত্তর:
আলমগীর কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলমগীর কবির
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'ধীরে বহে মেঘনা' চলচ্চিত্রটির পরিচালক- 'আলমগীর কবির'।

ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩):
- এটির নির্মাতা আলমগীর কবির।
- ভারতীয় মেয়ে অনিতার প্রেমিক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়।
- সে ঢাকায় এসে যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে আরও গভীরভাবে মর্মাহত হয়।
- অভিনয়ে বুলবুল আহমেদ, ববিতা, গোলাম মোস্তফা, আনোয়ার হোসেন, খলিল উল্লাহ প্রমুখ।
- হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান আছে এ ছবিতে।

অন্যদিকে -
- 'আবার তোরা মানুষ হ' চলচ্চিত্রটির পরিচালক খান আতাউর রহমান।
- 'আগুনের পরশমণি' হুমায়ূন আহমেদ এর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছায়াছবি।
-  'অরুনোদয়ের অগ্নিসাক্ষী' চলচ্চিত্রের পরিচালক সুভাষ দত্ত। 

উৎস: প্রথম আলো- তারিক মনজুর, শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
১৮৮.
'সালাম সালাম হাজার সালাম' গানটির গীতিকার কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আব্দুল জব্বার
  3. ফজল–এ–খোদা
  4. মাহমুদুননবী খুরশীদ আলম
সঠিক উত্তর:
ফজল–এ–খোদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফজল–এ–খোদা
ব্যাখ্যা
'সালাম সালাম হাজার সালাম':
- 'সালাম সালাম হাজার সালাম' গানটির গীতিকার ফজল–এ–খোদা।

⇒ ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত হলেও মুক্তিযুদ্ধের সময়ও গানটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
- গানটি রচনা করেন ফজল-এ-খোদা।
- এতে সূর দেন কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে আব্দুল জব্বারের কণ্ঠে গানটি ব্যপকভাবে প্রচারিত হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ এবং তারপর থেকে গানটি বেশি প্রচারিত হলেও মূলত ১৯৫২ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণেই এই গান রচিত হয়।
- ২০০৬ সালে বিবিসি কর্তৃক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাংলা গান হিসেবে শ্রোতা মনোনীত ২০ সেরা গানের মধ্যে ১২তম অবস্থানে অর্ন্তভূক্ত হয় গানটি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১৮৯.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী' এর পরিচালক কে?
  1. খান আতাউর রহমান 
  2. সুভাষ দত্ত 
  3. চাষী নজরুল ইসলাম 
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
সুভাষ দত্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুভাষ দত্ত 
ব্যাখ্যা

- অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী এর পরিচালক : সুভাষ দত্ত।
- মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’- জনপ্রিয় এ গানটি ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ সিনেমার।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রায় এক বছর পরই ১৯৭২ সালের ১০ নভেম্বর মুক্তি পায় সিনেমাটি।

অন্যদিকে,
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র-

- Stop Genocide: জহির রায়হান,
- ওরা ১১ জন : চাষী নজরুল ইসলাম,
- আবার তোরা মানুষ হ : খান আতাউর রহমান,
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড : চাষী নজরুল ইসলাম,
- অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী : সুভাষ দত্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৯০.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র 'ইনোসেন্ট মিলিয়নস’-এর পরিচালক কে?
  1. জহির রায়হান
  2. আলমগীর কবির
  3. তারেক মাসুদ
  4. বাবুল চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বাবুল চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবুল চৌধুরী
ব্যাখ্যা
প্রামাণ্যচিত্র:
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ১৯৭১ সালে চারটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়।
- এগুলো হলো জহির রায়হানের ‘স্টপ জেনোসাইড’, ‘আ স্টেট ইজ বর্ন’; আলমগীর কবিরের ‘লিবারেশন ফাইটার্স’ ও বাবুল চৌধুরীর ‘ইনোসেন্ট মিলিয়নস’।
- এসব প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানি মিলিটারির গণহত্যা ও নৃশংসতা সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে জানানো।
- এ ছাড়া শরণার্থীদের দেশত্যাগ ও আশ্রয়শিবিরের দুঃখ-যন্ত্রণার কথা উঠে এসেছে এসব প্রামাণ্যচিত্রে।
- জহির রায়হান চারটি প্রামাণ্যচিত্রের নাম দেন ‘জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র’।

⇒ তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ ‘মুক্তির গান’ (১৯৯৫) নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। এখানে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার একটি ভ্রাম্যমাণ গানের দলের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৭১ সালে মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা লিয়ার লেভিনের ধারণ করা ফুটেজ থেকে এটি তৈরি করা হয়।

উৎস: প্রথম আলো।
১৯১.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নয়? 
  1. আবার তোরা মানুষ হ
  2. ধীরে বহে মেঘনা
  3. নদীর নাম মধুমতি
  4. কখনো আসেনি
সঠিক উত্তর:
কখনো আসেনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কখনো আসেনি
ব্যাখ্যা

- কখনো আসেনি ১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি সামাজিক চলচ্চিত্র।
​- চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন জহির রায়হান।
​- পরিচালক হিসেবে এটিই জহির রায়হানের প্রথম চলচ্চিত্র।
- তার কয়েকটি চলচ্চিত্র হলো: কাজল, কাঁচের দেয়াল, বেহুলা, জীবন থেকে নেয়া, আনোয়ারা, সঙ্গম এবং বাহানা। 

​অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র,
​- আবার তোরা মানুষ হ : চলচ্চিত্রটির পরিচালক খান আতাউর রহমান।
​- ধীরে বহে মেঘনা: পরিচালনা করেছেন আলমগীর কবির।
- নদীর নাম মধুমতি: তানভীর মোকাম্মেল।

​​উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ফিল্ম আর্কাইভ।

১৯২.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কোন প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়?
  1. ক) আলোর মিছিল
  2. খ) একাত্তরের যীশু
  3. গ) ইনোসেন্ট মিলিয়নস
  4. ঘ) হাঙর নদী গ্রেনেড
সঠিক উত্তর:
গ) ইনোসেন্ট মিলিয়নস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইনোসেন্ট মিলিয়নস
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কলকাতায় মোট চারটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়।
এগুলো হলো:
- স্টপ জেনোসাইড (জহির রায়হান)
- এ স্টেট ইজ বর্ন (জহির রায়হান)
- লিবারেশন ফাইটার্স (আলমগীর কবির)
- ইনোসেন্ট মিলিয়নস (বাবুল চৌধুরী)।

পাকিস্তানী বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যাকে বিশ্বে তুলে ধরা এসব চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিলো। জহির রায়হান এই চারটি চলচ্চিত্রের নামকরণ করেছিলেন জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র হিসেবে।

অন্যদিকে,

- একাত্তরের যীশু : ১৯৯৩ সালে
- হাঙর নদী গ্রেনেড : ১৯৯৭ সালে
- আলোর মিছিল : ১৯৭৪।

(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো)
১৯৩.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ক) কখনো আসেনি
  2. খ) আবার তোরা মানুষ হ
  3. গ) সঙ্গম
  4. ঘ) জীবন থেকে নেওয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) জীবন থেকে নেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জীবন থেকে নেওয়া
ব্যাখ্যা

• কথাসাহিত্যিক জহির রায়হান একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক।
• তাঁর আসল নাম ছিল মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- শেষ বিকেলের মেয়ে (প্রথম উপন্যাস),
- আরেক ফাল্গুন (ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক),
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- কয়েকটি মৃত,
- তৃষ্ণা,
- একুশে ফেব্রুয়ারি।
• তাঁর বিখ্যাত চলচ্চিত্র-
- কখনো আসেনি (প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র),
- সঙ্গম (বাংলাদেশের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র),
- কাঁচের দেয়াল,
- জীবন থেকে নেওয়া (বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র),
- বেহুলা,
- সোনার কাজল,
- আনোয়ারা,
- বাহানা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৯৪.
‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. তারেক মাসুদ
  2. চাষী নজরুল ইসলাম
  3. সেলিনা হোসেন
  4. তানভীর মোকাম্মেল
সঠিক উত্তর:
চাষী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাষী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
হাঙর নদী গ্রেনেড:
- সেলিনা হোসেনের গল্প অবলম্বনে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত চলচ্চিত্র হাঙর নদী গ্রেনেড।
- এর পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম।
- এর কাহিনিতে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে একজন মা তার বাক্প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেয় পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে।

উৎস: প্রথম আলো।
১৯৫.
বাংলাদেশের ক্রীড়া সংগীতের সুরকার কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খন্দকার নূরুল আলম
  3. সত্য সাহা
  4. সমর দাস
সঠিক উত্তর:
খন্দকার নূরুল আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খন্দকার নূরুল আলম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ক্রীড়া সংগীত:
- বাংলাদেশের ক্রীড়া সংগীত ‘বাংলাদেশের দুরন্ত সন্তান আমরা দুর্দম দুর্জয়’।
- গানটি সেলিমা রহমান রচিত।
- গানটির সুরকার খন্দকার নূরুল আলম।
- এটি ১০ চরণ বিশিষ্ট।
- ক্রীড়া সংগীতের শেষের লাইন ‘বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের নাম হবে গৌরবময়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৯৬.
'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. শ্যাম বেনেগাল
  2. নাসির উদ্দিন ইউসুফ
  3. তানভীর মোকাম্মেল
  4. আবদুল গাফফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
পলাশী থেকে ধানমন্ডি:
- ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ একটি মঞ্চ নাটক।
- প্রথম অভিনীত হয় ২০০৪ সালের মার্চ মাসে।
- এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামান্যচিত্র। 
- এই প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের পরিচালক আবদুল গাফফার চৌধুরী।

উল্লেখ্য,
- বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তার ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ এর রচয়িতা।
- ১৯৪৭ সালে তিনি কংগ্রেস নেতা দুর্গা মোহন সেন সম্পাদিত ‘কংগ্রেস হিতৈষী’ পত্রিকায় কাজ শুরু করেন।
- ১৯৪৯ সালে সওগাত পত্রিকায় আবদুল গাফফার চৌধুরীর প্রথম গল্প ছাপা হয়। 
- ১৯৫৩ সালে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের ‘মাসিক সওগাত’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হন গাফফার চৌধুরী। 
- ১৯৫৮ সালে আবদুল গাফফার চৌধুরী দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার রাজনৈতিক পত্রিকা ‘চাবুকে’র সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৯৭.
গম্ভীরা কোন অঞ্চলের লোক সংগীত?
  1. রাজশাহী
  2. কুষ্টিয়া
  3. বগুড়া
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
রাজশাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজশাহী
ব্যাখ্যা
গম্ভীরা:

- গম্ভীরা গান এক প্রকার জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত।
- সাধারণত বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে এ গান প্রচলিত।
- 'গম্ভীরা' হচ্ছে এক প্রকার উৎসব।
- ধারণা করা হয় যে, গম্ভীরা উৎসবের প্রচলন হয়েছে শিবপুজাকে কেন্দ্র করে।
- শিবের এক নাম 'গম্ভীরা, তাই শিবের উৎসব গম্ভীরা উৎসব এবং শিবের বন্দনাগীতিই হলো গম্ভীরা গান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৯৮.
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র 'স্টপ জেনোসাইড' কে নির্মাণ করেন?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের প্রামাণ্য চলচ্চিত্র:
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনির নৃশংসতা, পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড এবং মুক্তিযুদ্ধের উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয় চারটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র।
- এগুলো হচ্ছে স্টপ জেনোসাইড, লিবারেশন ফাইটারস, এ স্টেট ইজ বর্ন, এবং ইনোসেন্ট মিলিয়নস।
- এর মধ্যে জহির রায়হান নির্মিত স্টপ জেনোসাইড একাধিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত ও প্রশংসিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের প্রামাণ্য চলচ্চিত্র: উদ্ভব বিকাশ ও সাম্প্রতিক প্রবণতা, লেখক: জাহেদুর রহমান আরমান।
১৯৯.
‘কেউ মালা, কেউ তসবি গলায়, তাইতো জাত ভিন্ন বলায়’ গানটি কার লেখা?
  1. ক) হাছন রাজা
  2. খ) লালন শাহ
  3. গ) সিরাজ সাঁই
  4. ঘ) শাহ আবদুল করিম
সঠিক উত্তর:
খ) লালন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লালন শাহ
ব্যাখ্যা
- ‘কেউ মালা, কেউ তসবি গলায়, তাইতো জাত ভিন্ন বলায়’ -গানটির রচয়িতা বাউল সম্রাট খ্যাত লালন শাহ।
তার অন্যান্য গানের মধ্যে রয়েছে:
- ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’
- ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’
- ‘মিলন হবে কত দিনে’
- ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়’
- ‘তিন পাগলের মেলা’
- ‘সময় গেলে সাধন হবে না’।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
২০০.
“খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়” গানের রচয়িতা কে?
  1. শাহ আবদুল করিম
  2. হাসন রাজা
  3. লালন শাহ
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ
ব্যাখ্যা

 বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা, গায়ক লালন শাহ।
- লালনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না, কিন্তু নিজ সাধনাবলে তিনি হিন্দু-মুসলমান উভয় ধর্মের শাস্ত্র সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভ করেন। তাঁর রচিত গানে সেই জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়।
- আধ্যাত্মিক ভাবধারায় তিনি প্রায় দুহাজার গান রচনা করেন। তাঁর গান মরমি ব্যঞ্জনা ও শিল্পগুণে সমৃদ্ধ। সহজ-সরল শব্দময় অথচ গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্মস্পর্শী তাঁর গানে মানব জীবনের আদর্শ, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে।
- লালন শাহ এর প্রচলিত স্কেচটি অঙ্কন করেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

তাঁর জনপ্রিয় কিছু গান:
- আমি অপার হয়ে বসে আছি
- সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে
- জাত গেলো জাত গেলো বলে
- খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়
- আপন ঘরের খবর লে না
- আমারে কি রাখবেন গুরু চরণদাসী
- মন তুই করলি একি ইতরপনা
- এই মানুষে সেই মানুষ আছে
- যেখানে সাঁইর বারামখানা
- বাড়ির কাছে আরশিনগর
- আমার আপন খবর আপনার হয় না
- দেখ না মন,ঝকমারি এই দুনিয়াদারী
- ধর চোর হাওয়ার ঘরে ফান্দ পেতে
- সব সৃষ্টি করলো যে জন
- সময় গেলে সাধন হবে না
- আছে আদি মক্কা এই মানব দেহে
- তিন পাগলে হলো মেলা নদে এসে
- এসব দেখি কানার হাট বাজার
- মিলন হবে কত দিনে
- কে বানাইলো এমন রঙমহল খানা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।