বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীবের বংশগতি ও প্রাণিবিজ্ঞান সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়

মোট প্রশ্ন২৬০এই পাতা৫৭প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীবের বংশগতি ও প্রাণিবিজ্ঞান সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়

PrepBank · পাতা / · ২০১২৫৭ / ২৬০

২০১.
প্রাণি জগতের বৃহত্তম পর্ব কোনটি?
  1. Arthropoda
  2. Porifera
  3. Annelida
  4. Mollusca
সঠিক উত্তর:
Arthropoda
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Arthropoda
ব্যাখ্যা

• প্রাণিজগতের বৃহত্তম পর্ব হলো Arthropoda (আর্থ্রোপোডা)। 

প্রাণী জগতের শ্রেণীবিন্যাস:
- সম্পূর্ণ প্রানী জগতকে ৯ টি প্রধান পর্বে ভাগ করা হয়েছে যার মধ্যে প্রথম আটটি অমেরুদন্ডী প্রাণীদের এবং শুধুমাত্র কর্ডাটা পর্ব মেরুদন্ডী প্রাণীদের নিয়ে গঠিত।

- প্রাণীজগৎ এ মুুুখ্য পর্ব মোট ৯টি।এগুলো হল:

১.পরিফেরা - (Porifera)
২. নিডারিয়া - (Nidaria)
৩. প্লাটিহেলমিনথেস - (Platyhelminthes)
৪. নেমাটোডা - (Nematoda)
৫. অ্যানেলিডা - (Annelida)
৬. আর্থ্রোপোডা - (Arthropoda)
৭. মলাস্কা - (Mollusca)
৮. একাইনোডারমাটা - (Echinodermata)
৯. কর্ডাটা - (Chordata)    

উৎস: জীববিজ্ঞান-২য় পত্র, গাজী আজমল, গাজী আসমত।

২০২.
হেটেরোজাইগাস জিনোটাইপের উদাহরণ কোনটি?
  1. ΤΤ
  2. Tt
  3. tt .
  4. XX
সঠিক উত্তর:
Tt
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tt
ব্যাখ্যা
হেটারোজাইগাস (Heterozygous) জিনোটাইপ:
- কোন জিনোটাইপে একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী অ্যালিলদুটি অসমপ্রকৃতির হলে, তাকে হেটারোজাইগাস জিনোটাইপ বলা হয়।
- যেমন T এবং t অর্থাৎ Tt -ধারী জীবটি লম্বা হলেও তা হেটারোজাইগাস। কারণ এর মধ্যে একটি হলো প্রকট জিন এবং অন্যটি হলো প্রচ্ছন্ন জিন। 

অর্থাৎ প্রকট ও প্রচ্ছন্ন জিন পাশাপাশি অবস্থান করলে হেটারজাইগাস জিনোটাইপ তৈরি হয়। 
সুতরাং Tt জিনোটাইপ টি হেটারোজাইগাস প্রকৃতির।  

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
২০৩.
আরশোলার হৃদপিন্ড কত প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট?
  1. ৪ প্রকোষ্ঠ
  2. ৮ প্রকোষ্ঠ
  3. ১১ প্রকোষ্ঠ
  4. ১৩ প্রকোষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
১৩ প্রকোষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩ প্রকোষ্ঠ
ব্যাখ্যা
- আরশোলার (cockroach) হৃদপিণ্ড ১৩ টি প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- এটি টিউবুলার আকৃতির এবং পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- মানুষের হৃদপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট (দুটি আলিন্দ এবং দুটি নিলয়) ।
- বেশিরভাগ মাছের হৃদপিণ্ড দুই প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট (একটি আলিন্দ এবং একটি নিলয়)।
- ব্যাঙের হৃদপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট (দুটি আলিন্দ এবং একটি নিলয়)।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২০৪.
কোনটিকে জীবনের ভিত্তি বলা হয়? 
  1. দেহকোষ
  2. জিন
  3. প্রোটোপ্লাজম
  4. ক্রোমোজোম
সঠিক উত্তর:
প্রোটোপ্লাজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটোপ্লাজম
ব্যাখ্যা
প্রোটোপ্লাজম: 
- কোষপ্রাচীরের অভ্যন্তরে পাতলা পর্দাবেষ্টিত জেলীর ন্যায় থকথকে আধা তরল বস্তুটিকে প্রোটোপ্লাজম বলে। 
- প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভিত্তি বলা হয়। 
- প্রোটোপ্লাজমের তিনটি অংশ আছে। 
যথা- 
• কোষ ঝিল্লি, 
• সাইটোপ্লাজম ও 
• নিউক্লিয়াস। 

কোষ ঝিল্লি: 
- সম্পূর্ণ প্রোটোপ্লাজমকে ঘিরে যে নরম পর্দা দেখা যায় তাকে কোষ ঝিল্লি বা সেল মেমব্রেন বলে। 
- এটি কোষের ভেতর ও বাইরের মধ্যে পানি, খনিজ পদার্থ ও গ্যাস এর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। 

সাইটোপ্লাজম: 
- প্রোটোপ্লাজম থেকে নিউক্লিয়াসকে বাদ দিলে যে অর্ধতরল অংশটি থাকে, তাকে সাইটোপ্লাজম বলে। 
- এর প্রধান কাজ কোষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঙ্গানুগুলোকে ধারণ করা। 
- কিছু শরীরবৃত্তীয় কাজ এখানে সম্পন্ন হয়। 
যেমন- সালোকসংশ্লেষণ। 

নিউক্লিয়াস: 
- প্রোটোপ্লাজমের মধ্যে ভাসমান গোলাকার ঘন বস্তুটি নিউক্লিয়াস। 
- নিউক্লিয়াস কোষের সকল শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নবীন কোষে এদের অবস্থান কোষের কেন্দ্রে। 
- পরিণত কোষে এদের স্থান পরিবর্তন হতে পারে। 
- এরা গোলাকার তবে কখনও কখনও উপবৃত্তাকার বা নলাকার হতে পারে। 
- কোনো কোনো কোষে নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- একটি নিউক্লিয়াস প্রধানত (১) নিউক্লিয়ার মেমব্রেন (২) নিউক্লিওপ্লাজম (৩) ক্রোমাটিন তন্তু ও (৪) নিউক্লিওলাস নিয়ে গঠিত। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২০৫.
Plasmodium vivax এর জীবনচক্রেমানবদেহে সংঘটিত চক্রটি হলো-
  1. অযৌন চক্র
  2. যৌন চক্র
  3. সুস্থাবস্থা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
অযৌন চক্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অযৌন চক্র
ব্যাখ্যা

• Plasmodium vivax এর জীবনচক্রেমানবদেহে সংঘটিত চক্রটি হলো- অযৌন চক্র। 

Plasmodium vivax এর জীবনচক্রে মানবদেহে সংঘটিত চক্র:
- Plasmodium vivax নামক ম্যালেরিয়া পরজীবীর জীবনচক্র দুটি পোষকে সম্পন্ন হয়—মানবদেহ ও স্ত্রী এনোফিলিস মশা।
- মানবদেহে এই পরজীবী কেবল অযৌনভাবে বংশবিস্তার করে।
- মানবদেহে প্রবেশের পর স্পোরোজয়াইট প্রথমে যকৃতে (লিভার) প্রবেশ করে এবং সেখানে অযৌন বিভাজনের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়।
- পরে এটি রক্তের লোহিত কণিকায় (RBC) প্রবেশ করে এবং পুনরায় অযৌন বিভাজনের মাধ্যমে সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
- এই অযৌন বিভাজনের ফলেই ম্যালেরিয়ার উপসর্গ যেমন—জ্বর, কাঁপুনি, ঘাম ইত্যাদি দেখা যায়।

যৌন চক্র (Sexual Cycle):
- Plasmodium vivax এর যৌন চক্র মানবদেহে সংঘটিত হয় না।
- যৌন চক্র সম্পন্ন হয় স্ত্রী এনোফিলিস মশার দেহে।
- মানবদেহে তৈরি হওয়া গ্যামেটোসাইট মশার দেহে প্রবেশ করার পর সেখানে যৌন প্রজনন ঘটে।

সুস্থাবস্থা:
- সুস্থাবস্থা মানবদেহে Plasmodium vivax এর জীবনচক্রের কোনো ধাপ নয়।
- এটি পরজীবীর জীবনচক্রের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

- সুতরাং, Plasmodium vivax এর জীবনচক্রে মানবদেহে যে চক্রটি সংঘটিত হয় তা হলো অযৌন চক্র।
- সঠিক উত্তর: ক) অযৌন চক্র। 

সূত্র - sciencedirect journal.

২০৬.
বিবর্তন শব্দটি এসেছে -
  1. ক) Evolveri থেকে
  2. খ) Evolver থেকে
  3. গ) Evolvers থেকে
  4. ঘ) Evolution থেকে
সঠিক উত্তর:
ক) Evolveri থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Evolveri থেকে
ব্যাখ্যা
- সময়ের সাথে কোন জীবের পরিবর্তনের ফলে নতুন কোন প্রজাতি সৃষ্টি হলে তাকে জৈব বিবর্তন বলে। 
- ইংরেজ দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেন্সার প্রথম ইভোলিউশন কথাটি ব্যবহার করেন।
- Evolution অর্থ বিবর্তন বা অভিব্যক্তি। 
 -বিবর্তন শব্দটি এসেছে Evolveri থেকে।

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
২০৭.
উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম কোনটি?
  1. লিমুলাস
  2. স্ফোনোডন
  3. প্লাটিপাস
  4. নিটাম
সঠিক উত্তর:
নিটাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিটাম
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও গিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে, এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৮.
কোন পর্বের প্রাণীরা চলাচলে অক্ষম?
  1. ক) পরিফেরা
  2. খ) আর্থোপোডা
  3. গ) নেমাটোডা
  4. ঘ) কর্ডাটা
সঠিক উত্তর:
ক) পরিফেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পরিফেরা
ব্যাখ্যা

পরিফেরা পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্যঃ
১। এদের দেহ কোষ দুই স্তরে বিন্যস্ত। এরা সরলতম বহুকোষী প্রাণী।
২। এদের দেহপ্রাচীর অস্টিয়া নামক অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত।
৩। এদের দেহে বিশেষ ধরনের নালীতন্ত্র বিদ্যমান, এর সাহায্যে অভ্যন্তরীণ পরিবহন ঘটে।
৪। এই পর্বের প্রাণীদের কোন অঙ্গ নেই ফলে এরা চলতে পারে না।
৫। এদের পরিপাক অন্তঃকোষীয়।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৯.
নিডারিয়া পর্বের প্রাণি কোনটি?
  1. ক) জোঁক
  2. খ) হাইড্রা
  3. গ) শামুক
  4. ঘ) গোলকৃমি
সঠিক উত্তর:
খ) হাইড্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাইড্রা
ব্যাখ্যা
প্রজাপতি, চিংড়ি, আরশোলা, কাঁকড়া ইত্যাদি আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণি। এই পর্বটি প্রাণিজগতের সবচেয়ে বৃহৎ পর্ব৷
নিডারিয়া পর্বের প্রাণি হলো- হাইড্রা, অবেলিয়া৷
অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণি হলো- কেঁচো, জোঁক৷
নেমাটোডা পর্বের প্রাণি- গোলকৃমি, ফাইলেরিয়া কৃমি ইত্যাদি৷
মলাস্কা পর্বের প্রাণি - শামুক, ঝিনুক।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২১০.
মাইটোকন্ড্রিয়ায় কত ভাগ প্রোটিন?
  1. ৭০%
  2. ৭২%
  3. ৭৩%
  4. ৮০%
সঠিক উত্তর:
৭৩%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৩%
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু। 
- শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে। 
- মাইটোকন্ড্রিয়া ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড, সামান্য পরিমাণে ডিএনএ, আরএনএ, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে। 
- শক্তি উৎপাদনের সকল প্রক্রিয়া এর ভিতরে ঘটে থাকে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে 'পাওয়ার হাউস' বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১১.
নিম্নলিখিত কোনটি প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়? 
  1. অ্যামিবা
  2. প্যারামেসিয়াম
  3. শৈবাল
  4. ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

- ব্যাকটেরিয়া প্রোটিস্টা (Protista) রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়; এটি মনেরা (Monera) রাজ্যের সদস্য।

রাজ্য-2: প্রোটিস্টা (Protista): 

- এই প্রোটিস্টা রাজ্যের কিছু বৈশিষ্ট্য নিম্নে দেওয়া হলো-
• এরা এককোষী বা বহুকোষী, একক বা কলোনিয়াল (দলবদ্ধ) বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট। 
• কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। 
• ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে। 
• কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে। 
• খাদ্যগ্রহণ শোষণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে। 
• মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে অর্থাৎ জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে।
• কোনো ভ্রূণ গঠিত হয় না। 
উদাহরণ: অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম, এককোষী ও বহুকোষী শৈবাল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং লাইভ লেকচার।

২১২.
পানির জীব হয়েও বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়-
  1. পটকা মাছ
  2. হাঙ্গর
  3. ডলফিন
  4. জেলী ফিস
সঠিক উত্তর:
ডলফিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডলফিন
ব্যাখ্যা
- ডলফিন (শুশুক) ও তিমি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণি। 
- কিন্তু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য ডলফিন বা শুশুক মাছ মানুষের মতই বাতাস ব্যবহার করে। 
- পানিতে এই প্রাণিগুলো নিঃশ্বাস নিতে পারে না, কারণ এগুলোর ফুলকা নেই। 

- Whales and dolphins are mammals and breathe air into their lungs, just like we do. 
- They cannot breathe underwater like fish can as they do not have gills. They breathe through nostrils, called a blowhole, located right on top of their heads. 
 - This allows them to take breaths by exposing just the top of their heads to the air while they are swimming or resting under the water. 
- After each breath, the blowhole is sealed tightly by strong muscles that surround it, so that water cannot get into the whale or dolphin’s lungs. 

উৎস: uk.whales.org
২১৩.
শক্তি উৎপাদনের ‘Power house' বলা হয় কোনটিকে? 
  1. প্লাস্টিড
  2. রাইবোসোম
  3. নিউক্লিয়াস
  4. মাইটোকন্ড্রিয়া
সঠিক উত্তর:
মাইটোকন্ড্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইটোকন্ড্রিয়া
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়া দ্বিস্তরবিশিষ্ট ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে। ঝিল্লীটি প্রোটিন ও লিপিড দিয়ে তৈরি। 
- এটি কোষের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু যেখানে শ্বসন প্রক্রিয়ার ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম এবং অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ঘটে এবং শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- বেন্ডা ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে মাইটোকন্ড্রিয়া নামকরণ করেন। 
- একটি কোষে মাইটোকন্ড্রিয়ার সংখ্যা গড়ে প্রায় ৩০০-৪০০টি। তবে যকৃত কোষে ১০০০ বা তার অধিক মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে। 
- ঝিল্লীর বাইরের আবরণটি মসৃণ কিন্তু ভেতরের আবরণটি স্থানে স্থানে ভাঁজ হয়ে ভেতরের দিকে ঝুলে থাকে, এ ভাঁজগুলোকে ক্রিস্টি বলা হয়। 
- ক্রিস্টিতে শ্বসনের অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন পর্যায়টি সম্পন্ন হয়। 
- ক্রিস্টির উপরের চারদিকে ছোট ছোট সবৃন্তক বৃত্তাকার বস্তু দেখা যায়, এগুলোকে অক্সিসোম বলা হয়। 
- অক্সিসোমে এনজাইমগুলো সাজানো থাকে । প্রতিটি অক্সিসোম এর তিনটি অংশ থাকে। যথা- বৃন্ত, ভিত্তি, এবং মস্তক। 
- মাইটোকন্ড্রিয়ার শুষ্ক ওজনের প্রায় ৬৫% প্রোটিন, ২৯% গি]সারাইড, ৪% কোলেস্টেরল থাকে। বাকি ১০% হলো ফ্যাটি অ্যাসিড, ক্যারোটিনয়েড, ভিটামিন ‘E’ এবং কিছু অজৈব পদার্থ। 
- মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের অর্ধতরল দানাদার পদার্থকে ম্যাট্রিক্স বলা হয়। এতে ডিএনএ থাকে। 
- শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল এনজাইম মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরে থাকে, ফলে এগুলো শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে। 
- মাইটোকন্ড্রিয়াকে শক্তি উৎপাদনের উৎস বা ‘Power house' বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৪.
নিচের কোন প্রাণীটি অপ্রতিসাম্য?
  1. অ্যামিবা
  2. যকৃত কৃমি
  3. সমুদ্র তারা 
  4. ভলভক্স
সঠিক উত্তর:
অ্যামিবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামিবা
ব্যাখ্যা

- অ্যামিবা (Amoeba) একটি এককোষী প্রাণী যার কোনো নির্দিষ্ট আকার বা আকৃতি নেই এবং এটি ক্রমাগত তার রূপ পরিবর্তন করে। এই কারণে, অ্যামিবার শরীরকে কোনো অক্ষ বা তল বরাবর দুটি সমান অংশে ভাগ করা যায় না, তাই এটি অপ্রতিসাম্য (asymmetrical) প্রাণী। 

প্রতিসাম্য: 

- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

২। গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

৩। অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

৪। দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

৫। দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৫.
কোন হরমোনের প্রভাবে পিপঁড়াদের এক সারিতে চলতে দেখা যায়?
  1. ফ্লোরিজেন
  2. ভার্নালিন
  3. ফেরোমন
  4. জিবেরেলিন
সঠিক উত্তর:
ফেরোমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরোমন
ব্যাখ্যা
সমন্বয়: 
- বিভিন্ন অঙ্গ তন্ত্রের পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কাজের মাধ্যমে দেহের সকল কর্মকান্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমন্বয় বলা হয়। 
- উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে বিভিন্ন আচরণ প্রকাশ করা প্রতিটি প্রাণীর মৌলিক বৈশিষ্ট্য। 
- হাঁটা চলা, উঠা বসা, কথা বলা, চিন্তা করা, পড়া মুখস্থ করায় বিভিন্ন অঙ্গ অংশ নেয়। এ অঙ্গগুলোকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি সমন্বয় ব্যবস্থার প্রয়োজন। 
- প্রাণীর প্রয়োজনীয় সমন্বয় ব্যবস্থা স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোন দ্বারা প্রভাবিত হয়। 

হরমোনাল প্রভাব: 
- হরমোনের কারণে প্রাণী তার কার্যকলাপ অর্থাৎ আচরণের পরিবর্তন করে থাকে। 
- হরমোন দেহের নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। নালিবিহীন গ্রন্থিগুলো একে অপরকে নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নালিবিহীন গ্রন্থিগুলোর কার্যকলাপ আবার স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে। 
- সমন্বয় সাধনে প্রাণী হরমোন ব্যবহার করে। 
যেমন- পিপঁড়া খাদ্যের খোঁজ নেয় এবং খাদ্য উৎস থেকে বাসায় আসার পথে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত করে। একে ফেরোমন বলে। এর উপর নির্ভর করে অন্য পিপঁড়াগুলোও খাদ্য উৎসে যায় এবং খাদ্য সংগ্রহ করে বাসায় ফিরে আসে। এ ফেরোমন হরমোনের কারণে পিপঁড়াদের এক সারিতে চলতে দেখা যায়। 
- কোন কোন পতঙ্গ ফেরোমন দিয়ে তার স্বপ্রজাতির সঙ্গীকে খুঁজে নেয়। 
- শস্য ক্ষেতে অনিষ্টকারী পোকা দমনে বা ধ্বংসে ফেরোমন ব্যবহার করা হয়। 
- ফেরোমনের কারণে আকৃষ্ট হয়ে অনিষ্টকারী পোকা ফাঁদে ও পানিতে ডুবে মারা যায়, এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৬.
মানবদেহের প্রতিটি কোষে কত জোড়া অটোজোম থাকে?
  1. 23 জোড়া
  2. 22 জোড়া
  3. 46 জোড়া
  4. 1 জোড়া
সঠিক উত্তর:
22 জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
22 জোড়া
ব্যাখ্যা
• মানব দেহের কোষে ২২ জোড়া অটোজোম থাকে ৷

- মানব দেহের কোষে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে ৷
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম ।
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই ।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৭.
“Survival of the fittest” ধারণাটি কার?
  1. ডারউইন
  2. হার্বার্ট স্পেন্সার
  3. ল্যামার্ক 
  4. ওয়াটসন
সঠিক উত্তর:
হার্বার্ট স্পেন্সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হার্বার্ট স্পেন্সার
ব্যাখ্যা

◉ “Survival of the fittest” ধারণাটি প্রথম ব্যবহার করেন হার্বার্ট স্পেন্সার, একজন সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক। পরে চার্লস ডারউইন তার প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) তত্ত্ব ব্যাখ্যা করার সময় এই বাক্যাংশটি গ্রহণ করেন।
অর্থাৎ, পরিবেশের সাথে সবচেয়ে বেশি মানিয়ে নিতে সক্ষম জীবই টিকে থাকে ও বংশবিস্তার করে।

​প্রাকৃতিক নির্বাচন বা যোগ্যতমের উর্দ্ধতন (Natural Selection or Survival of the Fittest):
- ডারউইনের মতে জীবন ধারণের সংগ্রামে কেবল সেই জীব সাফল্য লাভ করে যাদের দেহে সংগ্রামের পক্ষে অনুকূলে এবং অধিকতর ও সঙ্গত সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিযোজন বা প্রকরণ থাকে।
- যে সকল জীবের অভিযোজন বা প্রকরণ সংগ্রাম উত্তরণের উপযোগী নহে তারা পৃথিবী হতে বিলীন হয়ে যায়।
- ডারউইন একে প্রাকৃতিক নির্বাচন (natural selection) বলে অভিহিত করেছেন।
- Herbert Spencer একে যোগ্যতমের উর্দ্ধতন (survival of the fittest) হিসেবে অ্যাখায়িত করেছেন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৮.
আরশোলার বৈজ্ঞানিক নাম কি?
  1. ক) Apis indica
  2. খ) Periplaneta americana
  3. গ) Bufo melanostictus
  4. ঘ) Plasmodium vivax
সঠিক উত্তর:
খ) Periplaneta americana
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Periplaneta americana
ব্যাখ্যা

Apis indica - মৌমাছি
Periplaneta americana - আরশোলা
Bufo melanostictus - কুনোব্যাঙ
Plasmodium vivax - ম্যালেরিয়ার জীবাণু

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২১৯.
মানুষের চোখের রঙ নিয়ন্ত্রন করে -
  1. আরএনএ
  2. নিউক্লিয়াস
  3. জিন
  4. ক্যারোটিন
সঠিক উত্তর:
জিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিন
ব্যাখ্যা
•  মানুষের চোখের রং DNA বা জিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়। 

• নিউক্লিক এসিড:
- নিউক্লিক এসিড দুই ধরনের। যথা- DNA (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড) এবং RNA (রাইবো নিউক্লিক এসিড)।
- ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান DNA।
- বংশগতি ধারা পরিবহনে ক্রোমোজোমের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA ও RNA এর গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধারণত ক্রোমোজোমের DNA অণুগুলোই জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক এবং জীবদেহের বৈশিষ্ট্যগুলো বহুন করে।
- তাই বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA এর অংশকে জিন নামে অভিহিত করা হয়।
- DNA হলো ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ।
- জীবের এক একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একাধিক জিন কাজ করে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটিমাত্র জিন বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- মানুষের চুলের প্রকৃতি, চামড়ার রং ইত্যাদি সবই DNA বা জিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মানুষের মতো অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যগুলোও তাদের ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- ক্রোমোজোম জিনকে এক বংশ থেকে পরবর্তী বংশে বহন করার জন্য বাহক হিসাবে কাজ করে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে।
- মিয়োসিস কোষ বিভাজনের দ্বারা বংশগতির এ ধারা অব্যাহত থাকে।
- ক্রোমোজোম বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য কোষ বিভাজনের সময় জিনকে সরাসরি মাতাপিতা থেকে বহন করে পরবর্তী বংশধরে নিয়ে যায়। এ কারণে ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌতভিত্তি বলা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২২০.
ক্লোরোপ্লাস্ট কেন সবুজ বর্ণের হয়?
  1. ক্যারোটিন বেশি থাকে বলে
  2. জ্যান্থোফিল বেশি থাকে বলে
  3. ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা অধিক মাত্রায় থাকে বলে
  4. সূর্যের আলোর প্রতিফলনের কারণে
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা অধিক মাত্রায় থাকে বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা অধিক মাত্রায় থাকে বলে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : গ) ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা অধিক মাত্রায় থাকে বলে 

• ক্লোরোপ্লাস্ট:
 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 

• ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন (ভৌত গঠন): 
- সমস্ত ক্লোরোপ্লাস্ট একটি দুই স্তরবিশিষ্ট আংশিক অনুপ্রবেশ্য (semipermeable) মেমব্রেন (ঝিল্লি) দ্বারা আবৃত থাকে। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট মেমব্রেনে ফসফোলিপিড-এর পরিবর্তে গ্লাইকোসিল গ্লিসারাইড (glycosyl glyceride) থাকে।
- এটি একটি ব্যতিক্রমী গঠন। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট হলো তিন মেমব্রেন দ্বারা তৈরি ৩ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট একটি অঙ্গাণু। 


উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

২২১.
মুক্তা হলো ঝিনুকের -
  1. খোলসের টুকরা
  2. চোখের মণি
  3. প্রদাহের ফল
  4. জমাট হরমোন
সঠিক উত্তর:
প্রদাহের ফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রদাহের ফল
ব্যাখ্যা
• মুক্তা হলো ঝিনুকের প্রদাহের ফল।

• মুক্তা:
- মুক্তা (Pearl) বা মতি এক ধরনের মূল্যবান রত্ন, যা শম্বুক জাতীয় প্রাণী ঝিনুকের অভ্যন্তরে তৈরি হয়।
- মাসেল শ্রেণির ঝিনুকের পেটে মুক্তা তৈরি হয়।
- মুক্তার রাসায়নিক উপাদান হলো কনকায়োলিন, ক্যালসাইট, এবং ক্যালসিয়াম কার্বোনেট।
- যখন ঝিনুক খোলস ফাঁক করে খাবার গ্রহণ করে, তখন যদি বালুকণা বা অন্য কোনো কঠিন বস্তু তার দেহে প্রবেশ করে এবং তা ঝিনুকের পক্ষে বের করা সম্ভব না হয়, তখন ঝিনুকের শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি হয়।
- ঝিনুকের দেহ থেকে ক্ষরিত সাদা ঘন আঠালো রস কণাটিকে বেষ্টন করে স্তরে স্তরে জমাট বাঁধে।
- এই জমাট বাঁধা পদার্থ ধীরে ধীরে মুক্তায় পরিণত হয়।
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO₃) হলো একটি রাসায়নিক যৌগ, যা মূলত কার্বন, অক্সিজেন এবং ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত।
- এটি মুক্তা, সামুদ্রিক প্রাণীর খোলস, শামুক এবং ডিমের খোসার প্রধান উপাদান, এবং শিলার মধ্যেও প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির বোর্ড বই এবং রসায়ন বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২২২.
'যকৃত কৃমি' একটি _____________ প্রতিসাম্য প্রাণীর উদাহরণ? 
  1. অরীয় 
  2. গোলীয় 
  3. দ্বি-অরীয়
  4. দ্বি-পার্শ্বীয় 
সঠিক উত্তর:
দ্বি-পার্শ্বীয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বি-পার্শ্বীয় 
ব্যাখ্যা

প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
ক. গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 
 
খ. অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 
 
গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 
 
ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 
 
ঙ. অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)।
 
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৩.
রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও সিংহ-এর মধ্যে কোন ধরনের বৈচিত্র্য বিদ্যমান? 
  1. জিনগত বৈচিত্র্য 
  2. স্বভাবগত বৈচিত্র্য 
  3. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য 
  4. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
সঠিক উত্তর:
প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
ব্যাখ্যা

জীব-বৈচিত্র্য: 
- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। 
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়। 
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর। 
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়। 
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়। 
 
প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity): 
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে। 
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।
যথা- 
১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। 
 
২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। 
- যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে। 
 
৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। 
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি । 
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। 
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২২৪.
ম্যালপিজিয়ান নালিকা কোন পর্বের প্রাণীর রেচন অঙ্গ?
  1. Echinodermata
  2. Platyhelminthes
  3. Arthropoda
  4. Annelida
সঠিক উত্তর:
Arthropoda
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Arthropoda
ব্যাখ্যা
•  Arthropoda পর্বের প্রাণীর রেচন অঙ্গ ম্যালপিজিয়ান নালিকা।

• আথ্রোপোডা (Arthropoda):
- এই পর্বটি প্রাণিজগতের সবচেয়ে বৃহত্তম পর্ব। এরা পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র সকল পরিবেশে বাস করতে সক্ষম। এদের বহু প্রজাতি অন্তঃপরজীবী ও বহিঃপরজীবী হিসেবে বাস করে। বহু প্রাণী স্বলে, স্বাদু পানিতে ও সমুদ্রে বাস করে। এ পর্বের অনেক প্রজাতির প্রাণী ডানার সাহায্যে উড়তে পারে।
- দেহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত ও সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বিদ্যমান।
- মাথায় একজোড়া পুঞ্জাক্ষি ও অ্যান্টেনা থাকে।
- নরম দেহ কাইটিন সমৃদ্ধ শক্ত আরণী দ্বারা আবৃত।
- দেহে রক্তপূর্ণ গহ্বর হিমােসিল নামে পরিচিত।
- উদাহরণ : প্রজাপতি, চিংড়ি, আরশােলা, কাঁকড়া ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশনসমূহ সম্পর্কে আলোচনা:
• Echinodermata পর্বের সকল প্রাণীই সামুদ্রিক। পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর দেহ পঞ্চঅরীয় প্রতিসম অথবা পাঁচটি সমভাগে বিভাজ্য এবং এদের রেচনতন্ত্র নেই।
• Annelida পর্বের প্রাণীদের দেহের প্রায় প্রতিটি খণ্ডকে অবস্থিত নেফ্রিডিয়া নামক প্যাঁচানো নালিকা প্রধান রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
• Platyhelminthes পর্বের প্রাণীদের রেচনতন্ত্র শিখা কোষ নিয়ে গঠিত।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২. জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৩. অষ্টম শ্রেণি, বিজ্ঞান।
২২৫.
মেরুদণ্ডী প্রাণী হিসেবে মাছ কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত?
  1. Amphibia
  2. Aves
  3. Mammalia
  4. Pisces
সঠিক উত্তর:
Pisces
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Pisces
ব্যাখ্যা
- মেরুদণ্ডী প্রাণী হিসেবে মাছ Pisces শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
- Amphibia এ শ্রেণির প্রাণীরা প্রথম স্থলচর মেরুদণ্ডী। মূলত স্থলচর হলেও জননকালে ডিম পাড়তে এরা পানিতে আসতে বাধ্য হয়। মেরু অঞ্চলসহ পৃথিবীর প্রায় সব বসবাসযোগ্য স্থানে উভচর পাওয়া যায়। বর্তমানে এদের প্রজাতির সংখ্যা ৭,১৭১।
- Aves শ্রেণিভুক্ত প্রাণিদের পাখি বলা হয়। বর্তমানে পৃথিবীতে ১০ হাজারের বেশি প্রজাতির পাখি রয়েছে।
- বিবর্তনের দিক থেকে Mammalia সবচেয়ে আধুনিক প্রাণি। বর্তমানে প্রায় ৬০০০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী রয়েছে। মানুষও এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত প্রাণি।

উৎস:
১. প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. [springer.com]
২২৬.
ডারউইনবাদ কিসের ওপর ভিত্তি করে গঠিত?
  1. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার
  2. পরিবেশগত চাপ
  3. প্রাকৃতিক নির্বাচন
  4. জীন পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক নির্বাচন
ব্যাখ্যা

• ডারউইনবাদ বা ডারউইনিজম মূলত প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) মতবাদের ওপর ভিত্তি করে গঠিত।
- উল্লেখ্য: 'অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার' হলো ল্যামার্কবাদের মূল ভিত্তি।

• ডারউইনবাদ বা ডারউইনের তত্ত্ব:
- ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন জীববিজ্ঞান তথা সমগ্র বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বৈপ্লবিক চিন্তাধারার সৃষ্টি করেন।
- বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন (Charles Robert Darwin, 1809-1882) ইংল্যান্ডের স্রাসবেরি শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ পরিভ্রমণকালে তিনি ঐ অঞ্চলের উদ্ভিদ এবং প্রাণিকুলের বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন এরপর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে 1837 খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে প্রত্যাবর্তনের প্রায় 20 বছর পরে 1859 খ্রিষ্টাব্দে 'প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা প্রজাতির উদ্ভব' (Origin of Species by Means of Natural Selection) নামক বইয়ে তাঁর মতবাদটি প্রকাশ করেন।
- ডারউইনের তত্ত্বটি বিবর্তন তত্ত্ব নামে প্রচলিত হলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে জৈব অভিব্যক্তি তথা বিবর্তনের আবিষ্কারক নন।
- ডারউইনের সাফল্য ছিল, জৈব অভিব্যক্তির কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত সংখ্যক -বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি প্রক্রিয়ার (mechanism) ধারণা প্রতিষ্ঠা করা, যা জৈব অভিব্যক্তির যাবতীয় বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারবে।
- জৈব অভিব্যক্তির কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক নির্বাচনকে উল্লেখ করে আরও একজন সমসাময়িক ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী, আলফ্রেড ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace, 1823-1913), একই সময়ে কিন্তু স্বাধীনভাবে অনুরূপ তত্ত্ব প্রণয়ন করেন।
- তবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে তাঁর চেয়ে ডারউইনের নামেই তত্ত্বটি অধিক প্রচলিত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৭.
প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের প্রাণীদের দেহ কেমন আকৃতির? 
  1. গোলাকার
  2. লম্বাটে
  3. চ্যাপ্টা
  4. শুঁড়বিশিষ্ট
সঠিক উত্তর:
চ্যাপ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চ্যাপ্টা
ব্যাখ্যা
প্লাটিহেলমিনথেস (Platyhelminthes): 
- Platy শব্দের অর্থ চ্যাপ্টা এবং helminthes শব্দের অর্থ কৃমি, এই শব্দ দুটি থেকে প্লাটিহেলমিনথেস শব্দটি এসেছে। 
- এই পর্বের প্রাণীদের জীবনযাত্রা বেশ বৈচিত্র্যময়। 
- এই পর্বের বহু প্রজাতি বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী হিসেবে অন্য জীবদেহের বাইরে বা ভিতরে বসবাস করে। 
- তবে কিছু প্রজাতি মুক্তজীবী হিসেবে স্বাদু পানিতে আবার কিছু প্রজাতি লবণাক্ত পানিতে বাস করে। 
- এই পর্বের কোনো কোনো প্রাণী ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বাস করে। 
যেমন- যকৃত কৃমি, ফিতা কৃমি এই পর্বের অন্তর্গত। 

প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের সাধারণ বৈশিষ্ট্য: 
দেহ চ্যাপ্টা, উভলিঙ্গ। 
• বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী। 
• দেহ পুরু কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
• দেহে চোষক ও আংটা থাকে। 
• দেহে শিখা অঙ্গ নামে বিশেষ অঙ্গ থাকে, এগুলো রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। 
• পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ বা অনুপস্থিত। 
উদাহরণ: Fasciola (যকৃৎ কৃমি) Taenia (ফিতা কৃমি)। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২২৮.
কোনটি স্তন্যপায়ী প্রাণী?
  1. ক) টিকটিকি
  2. খ) জিরাফ
  3. গ) ডাইনোসর
  4. ঘ) সাপ
সঠিক উত্তর:
খ) জিরাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জিরাফ
ব্যাখ্যা

- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে।
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে।
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়।
- উদাহরণ: তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি।
- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী। এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়।

২২৯.
কোন প্রাণীর তিনটি হৃৎপিণ্ড?
  1. ক) হাঙ্গর
  2. খ) ক্যাটল ফিস
  3. গ) সিল মাছ
  4. ঘ) কচ্ছপ
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যাটল ফিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যাটল ফিস
ব্যাখ্যা
ক্যাটল ফিস ও অক্টোপাস উভয়ের তিনটি করে হৃৎপিন্ড আছে।
তাছাড়া ব্যাঙের হৃদপিন্ডে ৩টি প্রকোষ্ঠ এবং মানুষের হৃৎপিণ্ডে ৪ টি প্রকোষ্ঠ আছে।
২৩০.
জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের জন্য কোন গ্যাস দায়ী?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) ক্লোরিন
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা

গ্রীনহাউজ গ্যাস (CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাবার ফলে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যায় যাকে গ্রীন হাউজ ইফেক্ট বলা হয়। গ্রীন হাউজ ইফেক্টের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল। এছাড়া সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যাবে, ঝড় ও জ্বলোচ্ছ্বাস এর তীব্রতা বেড়ে যাবে, বনাঞ্চল ধ্বংস হবে। সামগ্রিকভাবে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

 
২৩১.
মেরুদণ্ডী প্রাণী কোনটি? 
  1. কেঁচো
  2. ব্যাঙ
  3. কাঁকড়া 
  4. প্রজাপতি 
সঠিক উত্তর:
ব্যাঙ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাঙ
ব্যাখ্যা

- মেরুদণ্ডের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্রাণীজগৎকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড আছে, তাদেরকে বলা হয় মেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মাছ, ব্যাঙ, পাখি, টিকটিকি, গরু, ছাগল, মানুষ ইত্যাদির মেরুদণ্ড আছে। 
- এদের মেরুদণ্ড আছে, দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে, পাখনা বা দুই জোড়া পা থাকে, চোখ সরল প্রকৃতির। 
- মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে। 
- এরা ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

২। অমেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, তাদেরকে বলা হয় অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মশা, মাছি, প্রজাপতি, চিংড়ি, কাঁকড়া, কেঁচো ইত্যাদি অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, এদের দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে না, চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যা পুঞ্জাক্ষি এবং এদের লেজ নেই। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

২৩২.
প্রতি চাকে কয়টি কর্মী মৌমাছি থাকে?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) অসংখ্য
  4. ঘ) ১টি
সঠিক উত্তর:
গ) অসংখ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অসংখ্য
ব্যাখ্যা

- মৌমাছি উপকারী পতঙ্গের মধ্যে অন্যতম।
- প্রতি চাকে একটি রানী, কয়েকটি পুরুষ মৌমাছি এবং অসংখ্য কর্মী মৌমাছি থাকে।
- মৌমাছি মূলত বসন্তকালের ফুল হতে মধু আহরণ করে।
- তাই মৌমাছির মধু ঋতু বলা হয় বসন্তকালকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৩৩.
মানবদেহে কয় জোড়া অটোজোম থাকে?
  1. ২২
  2. ২৩
  3. ২৪
  4. ৪৬
সঠিক উত্তর:
২২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে ২২ জোড়া অটোজোম থাকে। 

• মানবদেহে ২ ধরণের ক্রোমোজোম থাকে। যথা-
→ অটোজোম:
- এগুলো শারীরবৃত্তীয় , ভ্রূণ এবং দেহ গঠন ইত্যাদি কার্যাদিতে অংশগ্রহণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোন ভূমিকা নেই। 

সেক্স ক্রোমোজোম:
- এরা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- সেক্স ক্রোমোজোম দুইটি । এগুলো X ও Y  নামে পরিচিত।
- পুরুষে XY সেক্স ক্রোমোজোম থাকে এবং নারীতে থাকে XX সেক্স ক্রোমোজোম। 

• মানবদেহের মোট ক্রোমোজোম সংখ্যা ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি।
• এর মধ্যে ২২ জোড়া বা ৪৪ টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম এবং ১ জোড়াকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২৩৪.
একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানের দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক কোনটি?
  1. হাইড্রিলা
  2. কচ্ছপ
  3. বক
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
কচ্ছপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কচ্ছপ
ব্যাখ্যা
• একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানে দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক হলো কচ্ছপ। বাস্তুসংস্থান বা ইকোসিস্টেমে খাদ্য শৃঙ্খল থাকে যেখানে বিভিন্ন স্তরের প্রাণী একে অপরের উপর নির্ভর করে খাদ্য গ্রহণ করে। প্রথম শ্রেণির খাদক হলো উদ্ভিদভক্ষী প্রাণীরা, যেমন বক। হাইড্রিলা হলো জলজ উদ্ভিদ, যা উৎপাদক হিসেবে কাজ করে। দ্বিতীয় শ্রেণির খাদকের কাজ হলো প্রথম শ্রেণির খাদকদের খাওয়া, যা এখানে কচ্ছপ। তাই কচ্ছপ পুকুরের বাস্তুসংস্থানের দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক।
- তাই সঠিক উত্তর হলো (খ) কচ্ছপ।

বাস্তুসংস্থান (Ecology): 
- পরিবেশের সাথে জীবের যে পারস্পরিক ক্রিয়া তার একটি শৃঙ্খলা রয়েছে যাকে বাস্তুসংস্থান বলা হয়। 
- বাস্তুসংস্থানকে ইংরেজিতে Ecology বলা হয়। এর উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Oikos যার অর্থ ঘর বা বসতি স্থান এবং Logos হচ্ছে বিজ্ঞান বা অধ্যয়ন। 
সুতরাং বাস্তুসংস্থান শব্দটির আভিধানিক অর্থ পৃথিবী বাসগৃহের তত্ত্বাবধায়ক বিজ্ঞান। তবে বাস্তুসংস্থান শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
- বৃহৎ অর্থে বাস্তুসংস্থান হলো পৃথিবীতে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠির সাথে পরিবেশের সম্পর্ক অর্থাৎ জীবের সাথে পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলো বাস্তুসংস্থান। 
যেমন- জলজ বাস্তুসংস্থান, স্থলজ বাস্তুসংস্থান, বনজ বাস্তুসংস্থান ইত্যাদি। 
- প্রত্যেকটি বাস্তুসংস্থান আলাদা এবং পরিপূর্ণভাবে শৃঙ্খলের মধ্যে টিকে আছে। আর প্রত্যেকটি শৃঙ্খলের উপর মানুষ নির্ভরশীল। 
- পরিবেশের এই শৃঙ্খলা যখন স্বাভাবিক নিয়মে বিরাজমান এবং চলমান থাকে তখন তাকে পরিবেশের ভারসাম্য অবস্থা বলে। 
- এই ভারসাম্য অবস্থা বুঝার জন্য একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তুলে ধরা হলো - 
- একটি পুকুরে বসবাসকারী জীব সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রধান হচ্ছে ভাসমান ও সঞ্চারমান ক্ষুদ্র জীব অর্থাৎ প্লাঙ্কটন। এছাড়া রয়েছে সবুজ শেওলা ও ক্ষুদ্র জলজ প্রাণি। - আর জড় উপাদানের মধ্যে রয়েছে পানি, মাটি ও সৌরশক্তি ইত্যাদি। 
- পুকুরের বাস্তুসংস্থানের উৎপাদক হচ্ছে সাধারণ ভাসমান ও অগভীর পানির বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ। 
যেমন- কচুরিপানা, শাপলা, হাইড্রিলা ইত্যাদি। 
- একটি পুকুরের প্রথম শ্রেণির খাদক হলো বিভিন্ন প্রকার ভাসমান ক্ষুদ্র পোকা, মশার শুককীট প্রভৃতি। 
- দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক হলো খামারি আকৃতির মাছ, ব্যাঙ, কচ্ছপ ইত্যাদি। 
- আর তৃতীয় শ্রেণির খাদকের মধ্যে রয়েছে বড় মাছ, বক, গাংচিল প্রভৃতি। 
- মৃত্যুর পর একই নিয়মে জীবাণু, মৃতজীবি ছত্রাক, কাঁদায় বসবাসকারী পোকা বিয়োজকের কাজ করে।  
- বিয়োজিত অজৈব লবণ পুকুরের উৎপাদক সম্প্রদায় খাদ্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে। এভাবে পুকুরের প্রত্যেকটি উপাদান স্বাভাবিক নিয়মে নিজ নিজ কার্যাদি সম্পন্ন করে থাকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তার সুশৃঙ্খল ধারা বজায় রেখে ভারসাম্য বজায় রাখছে। 
- কোনো কারণে এই শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটলে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। পুকুরের বাস্তুসংস্থানের অন্তর্গত কোনো একটি শ্রেণি নষ্ট বা ধ্বংস হলে শৃঙ্খলা ভেঙ্গে যাবে। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৫.
অমেরুদণ্ডী প্রাণী কোনটি? 
  1. ব্যাঙ 
  2. পাখি
  3. মাছি 
  4. মাছ 
সঠিক উত্তর:
মাছি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাছি 
ব্যাখ্যা

প্রাণিজগৎ: 
- এসব জীবের কোষে সেলুলোজ নির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে না। 
- সাধারণত একোষগুলোতে প্লাস্টিডও থাকে না, তাই খাদ্যের জন্য এরা উদ্ভিদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 
উদাহরণ- মাছ, পাখি, গরু, মানুষ ইত্যাদি। 
- মেরুদণ্ডের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্রাণীজগৎকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। অমেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, তাদেরকে বলা হয় অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মশা, মাছি, প্রজাপতি, চিংড়ি, কাঁকড়া, কেঁচো ইত্যাদি অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, এদের দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে না, চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যা পুঞ্জাক্ষি এবং এদের লেজ নেই। 

২। মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড আছে, তাদেরকে বলা হয় মেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মাছ, ব্যাঙ, পাখি, টিকটিকি, গরু, ছাগল, মানুষ ইত্যাদির মেরুদণ্ড আছে। 
- এদের মেরুদণ্ড আছে, দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে, পাখনা বা দুই জোড়া পা থাকে, চোখ সরল প্রকৃতির। 
- মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে। 
- এরা ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

২৩৬.
'মানুষ' কোন স্তরী বিশিষ্ট প্রাণী? 
  1. একস্তরী
  2. দ্বিস্তরী
  3. ত্রিস্তরী
  4. স্তরবিহীন
সঠিক উত্তর:
ত্রিস্তরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিস্তরী
ব্যাখ্যা
ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক. একস্তরী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum)। 

খ. দ্বিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita)। 

গ. ত্রিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens)। 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৭.
একই প্রজাতির দুটি নিউক্লিয়াস যদি দুটি ভিন্ন শক্তি অবস্থায় থাকে এবং কমপক্ষে তাদের একটি যদি ক্ষণস্থায়ী হয়, তাহলে তাদেরকে বলা হয় _____।
  1. ক) আইসোটোপ
  2. খ) আইসোএনার্জি
  3. গ) আইসোম্যাস
  4. ঘ) আইসোমার
সঠিক উত্তর:
ঘ) আইসোমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আইসোমার
ব্যাখ্যা

আইসোটোপ (Isotope): যেসব নিউক্লাইডের প্রোটন সংখ্যা (Z) সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা (Z) ভিন্ন তাদেরকে বলা হয় আইসোটোপ৷
আইসােটোন (Isotone): যে সব নিউক্লাইডের নিউট্রন সংখ্যা (N) সমান তাদের বলা হয় আইসােটোন৷
আইসােবার (Isobar): যে সব নিউক্লাইডের ভর সংখ্যা (A) সমান তাদের বলা হয় আইসােবার।
আইসােমার (Isomer): একই প্রজাতির দুটি নিউক্লিয়াস যদি দুটি ভিন্ন শক্তি অবস্থায় থাকে এবং কমপক্ষে তাদের একটি যদি ক্ষণস্থায়ী হয়, তাহলে তাদেরকে বলা হয় আইসােমার।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, ২য় পত্র, ১১শ-১২শ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন

২৩৮.
বায়ুথলিকে কি বলা হয়?
  1. ক) ব্রঙ্কাস
  2. খ) অ্যালভিকিওল
  3. গ) ব্রঙ্কিউল
  4. ঘ) ট্রাকিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যালভিকিওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যালভিকিওল
ব্যাখ্যা
দুটি ফুসফুস বক্ষগহ্বরের মধ্যে দুপাশে অবস্থিত। ইহা স্পঞ্জের ন্যায় নরম ও কোমল। ডান ফুসফুস তিন খন্ডে ও বাম ফুসফুস দু’খন্ডে বিভক্ত। প্রতিটি ফুসফুসে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বায়ু প্রকোষ্ঠ বা বায়ু থলি থাকে। এ বায়ুথলিগুলোর মধ্যে গ্যাসীয় আদান প্রদান ঘটে। বায়ুথলিগুলিকে অ্যালভিওলাসও বলা হয়। প্রতিটি ব্রঙ্কিউলের শেষপ্রান্তে অ্যালভিওলাস থাকে।
২৩৯.
বংশগতিবিদ্যার প্রধান বিষয় কী? 
  1. প্রাণের বিকাশ 
  2. কীটপতঙ্গের জীবন 
  3. জিন ও জীবের বংশগতিধারা 
  4. কোষের গঠন ও কার্যাবলি 
সঠিক উত্তর:
জিন ও জীবের বংশগতিধারা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিন ও জীবের বংশগতিধারা 
ব্যাখ্যা
১।  বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): 
- জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

২। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): 
- পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৩। হিস্টোলজি (Histology): 
- জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৪। ভূণবিদ্যা (Embryology): 
- জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৫। কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৬। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

৭। কীটতত্ত্ব (Entomology): 
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪০.
Platyhelminthes পর্বের প্রাণীদের রেচন অঙ্গ কী নামে পরিচিত? 
  1. কিডনি
  2. শিখা অঙ্গ
  3. নেফ্রিডিয়া
  4. ম্যালপিজিয়ান নলিকা
সঠিক উত্তর:
শিখা অঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিখা অঙ্গ
ব্যাখ্যা
প্লাটিহেলমিনথেস (Platyhelminthes): 
- Platy শব্দের অর্থ চ্যাপ্টা এবং helminthes শব্দের অর্থ কৃমি, এই শব্দ দুটি থেকে প্লাটিহেলমিনথেস শব্দটি এসেছে। 
- এই পর্বের প্রাণীদের জীবনযাত্রা বেশ বৈচিত্র্যময়। 
- এই পর্বের বহু প্রজাতি বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী হিসেবে অন্য জীবদেহের বাইরে বা ভিতরে বসবাস করে। 
- তবে কিছু প্রজাতি মুক্তজীবী হিসেবে স্বাদু পানিতে আবার কিছু প্রজাতি লবণাক্ত পানিতে বাস করে। 
- এই পর্বের কোনো কোনো প্রাণী ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বাস করে। 
যেমন- যকৃত কৃমি, ফিতা কৃমি এই পর্বের অন্তর্গত। 

প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের সাধারণ বৈশিষ্ট্য: 
• দেহ চ্যাপ্টা, উভলিঙ্গ। 
• বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী। 
• দেহ পুরু কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
• দেহে চোষক ও আংটা থাকে। 
দেহে শিখা অঙ্গ নামে বিশেষ অঙ্গ থাকে, এগুলো রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। 
• পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ বা অনুপস্থিত। 
উদাহরণ: Fasciola (যকৃৎ কৃমি) Taenia (ফিতা কৃমি)। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২৪১.
নিম্নের কোন প্রাণীটি জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ?
  1. বানর 
  2. ইকুইজিটাম 
  3. মানুষ 
  4. প্ল্যাটিপাস
সঠিক উত্তর:
প্ল্যাটিপাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্ল্যাটিপাস
ব্যাখ্যা

জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। - অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪২.
নিচের কোনটি আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণী?
  1. ক) আরশোলা
  2. খ) জেলিফিশ
  3. গ) ফিতা কৃমি
  4. ঘ) অক্টোপাস
সঠিক উত্তর:
ক) আরশোলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আরশোলা
ব্যাখ্যা

আর্থ্রোপোডা  (গ্রিক, arthron = joint, সন্ধি + pous, podos = foot, পা) পর্বটি প্রাণিজগতে সর্ব বৃহৎ পর্ব। এদের পা দেখলেই বোঝা যায় যে, কয়েকটি ভিন্ন অংশ যুক্ত হয়ে এটি গঠিত হয়েছে, তাই এদের সন্ধিপদী নাম করা হয়েছে। এরা পাহাড়, পর্বত, সমুদ্রের তলদেশ, মরুভূমির বালুকাময় স্থানসহ সর্বত্র বাস করে।

বৈশিষ্ট্যঃ
১। সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বর্তমান। প্রতিটি খ-ে সাধারণত একজোড়া উপাঙ্গ থাকে।
২। দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, ত্রিস্তরী, খ-ায়িত দেহ।
৩। উন্মুক্ত সংবহনতন্ত্র যা পৃষ্ঠীয় সংকোচনশীল হৃদপি-, ধমনীসমূহ এবং হিমোসিল নিয়ে গঠিত।
৪। দেহ প্রাচীর ফুলকা, ট্রাকিয়া বা পুস্তক ফুসফুস দ্বারা শ্বাসকার্য সম্পাদিত হয়।
৫। কক্সাল, এন্টেনাল, ম্যালপিজিয়ান নালিকা দ্বারা রেচন সম্পাদিত হয়।
৬। স্ত্রী-পুরুষ আলাদা সাধারণত অন্তঃনিষেক সম্পন্ন হয় এবং প্রায় ক্ষেত্রেই মেটামরফোসিস বিদ্যমান।
৭। পৌষ্টিকতন্ত্র সর্ম্পূণ, উপাঙ্গ পরিবর্তিত হয়ে মুখোপাঙ্গ গঠিত যা বিভিন্ন প্রকার খাদ্য গ্রহণের জন্য অভিযোজিত।

উদাহরণঃ
Periplaneta americana (আরশোলা),
Penaeus monodon (বাগদা চিংড়ি),
Carcinus maenas
(কাঁকড়া)।

২৪৩.
অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীর উদাহরণ কোনটি?
  1. শামুক
  2. ঝিনুক
  3. কেঁচো
  4. তারামাছ
সঠিক উত্তর:
কেঁচো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেঁচো
ব্যাখ্যা
প্রাণী জগতের শ্রেণীবিন্যাস: 
- সম্পূর্ণ প্রানী জগতকে ৯ টি প্রধান পর্বে ভাগ করা হয়েছে যার মধ্যে প্রথম আটটি অমেরুদন্ডী প্রাণীদের এবং শুধুমাত্র কর্ডাটা পর্ব মেরুদন্ডী প্রাণীদের নিয়ে গঠিত। 

একাইনোডারমাটা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- সম্পূর্ণরূপে সামুদ্রিক। 
- পানি সংবহনতন্ত্র দেখা যায়। 
-  দেহ কন্টকযুক্ত। 
- রেচনতন্ত্র অনুপস্থিত। 
উদাহরণ - তারামাছ, সমুদ্র শসা ইত্যাদি। 

মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- প্রায় সকল প্রাণী সামুদ্রিক। 
- দেহ নরম কিন্তু বাইরের দিকে শক্ত খোলসে আবৃত থাকে। 
উদাহরণ - শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি। 

নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- অধিকাংশ প্রাণী সামুদ্রিক। 
- দেহ দুটি ভ্রূণীয় কোষস্তর দ্বারা গঠিত। 
- সিলেন্টেরন নামক গহবর দেখা যায়। 
- নিডোব্লাস্ট নামে বিশেষ কোষ দেখা যায়। 
উদাহরণ - হাইড্রা, ওবেলিয়া ইত্যাদি। 

অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- দেহ নলাকার ও খন্ডায়িত। 
- প্রতিটি খন্ডে সিটা থাকে (জোক ব্যতীত)। 
- নেফ্রেডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে। 
উদাহরণ- কেঁচো, জোক ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২৪৪.
একটি মৌচাকে সাধারণত কয়টি রাণী মৌমাছি থাকে? 
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. একাধিক
সঠিক উত্তর:
একটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি
ব্যাখ্যা
মৌমাছি: 
- মৌমাছি Arthropoda পর্বের Hymenoptera বর্গের Apis গণভুক্ত প্রাণী। 
- এদের বিস্তৃতি বিশ্বব্যাপী, তবে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রজাতি পাওয়া যায়। 
- বাংলাদেশে তিন প্রজাতির মৌমাছি পাওয়া যায়। 
যথা- Apis indica, Apis dorsata ও Apis florea. 
- মৌমাছি শুধু সামাজিক প্রাণী নয় বরং এরা চরমভাবে অ্যালুটুইস্টিক। 
- চাকের প্রতিটি সদস্য নিজের স্বার্থ না দেখে অন্য সদস্যদের কল্যাণে কাজ করে যায়। প্রতিটি সদস্য সমাজের জন্য নিবেদিত প্রাণ। এরা নিজের স্বার্থে কোন কাজ করে না। মৌমাছিরা সামাজিক রীতিনীতি কঠোরভাবে মেনে চলে। 
- এদের ৫০,০০০ থেকে ১০০,০০০ সদস্য একত্রে কলোনি গঠন করে বাস করে, এদের বাসাকে মৌচাক বলে। 
- মৌমাছির কলোনিতে তিন জাতের মৌমাছি থাকে। এরা হল- একটি রাণী, কয়েক হাজার কর্মী ও কয়েকশত পুরুষ। মৌমাছিদের শ্রমবণ্টন লক্ষ্য করা যায়। 
- তিন ধরনের মৌমাছির দৈহিক গঠনে ভিন্নতা দেখা যায়, এদের এরূপ অবস্থাকে বহুরূপতা বলে। 

রাণী মৌমাছি: 
- একটি মৌচাকে মাত্র একটি রাণী মৌমাছি থাকে। 
- রাণী মৌমাছি আকারে অনেক বড়, এদের উদর বেশ প্রশস্ত থাকে। 
- রাণী মৌমাছি অধিকাংশ সময় মৌচাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, কেবল সঙ্গম উড্ডয়নের সময় মৌচাক থেকে বের হয়ে আসে। 
- এরা জীবনে একবার কয়েকশত পুরুষের সাথে সঙ্গমে অংশগ্রহণ করে অসংখ্য শুক্রাণু গ্রহণ করে যা সারা জীবন ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে। 
- রাণী মৌমাছি ৩-৫ বছর বাঁচে। 

পুরুষ মৌমাছি: 
- পুরুষ বা ড্রোন কলোনির প্রজননক্ষম পুরুষ মৌমাছি, কলোনিতে ৩০০-৩০০০ পর্যন্ত ড্রোন থাকে। 
- এরা রাণী অপেক্ষা আকারে কিছুটা ছোট, প্রশস্ত দেহ, বৃহৎ চক্ষু, ক্ষুদ্রাকার তীক্ষ্ম চোয়ালবিশিষ্ট হয়ে থাকে। 
- এরা মৌচাকের অলস প্রকৃতির ও কোলাহল সৃষ্টিকারী সদস্য। 
- এরা প্রতিরক্ষা বা খাদ্য সংগ্রহের কাজে অংশগ্রহণ করে না। 
- এরা এমন অলস প্রকৃতির যে নিজের খাদ্য নিজে গ্রহণ করে না, কোন কারণে কর্মী মৌমাছি না খাওয়ালে এরা মারা যায়। 

কর্মী মৌমাছি: 
- কর্মী মৌমাছি কলোনির মধ্যে সবচেয়ে ছোট আকারের মৌমাছি। 
- এরা বন্ধ্যা স্ত্রী জাতীয় মৌমাছি, এরা কালো বা বাদামী বর্ণের হয়ে থাকে। 
- একটি মৌচাকে কর্মী মৌমাছির সংখ্যা ৬০,০০০ থেকে ৮০,০০০ পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
- নিষিক্ত ডিম থেকে উৎপন্ন হলেও এরা জননে অক্ষম। 
- যে সব লার্ভাকে শ্রমিক মৌমাছিরা মৌরুটি সরবরাহ করে তারা পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় কর্মী মৌমাছিতে পরিণত হয়। শ্রমিক মৌমাছির হাইপোফ্যারিঞ্জিয়াল গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত পদার্থ, মধু ও নেকটারের সঙ্গে মিশে যে মিশ্র খাদ্য সৃষ্টি হয় তাকে মৌরুটি বা বি ব্রেড বলে। 
- বৃদ্ধির সপ্তম দিন থেকে এরা মৌচাকের বাইরে আসতে সক্ষম হয়। 
- এরা প্রায় ৬ সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৫.
'জেনেটিকস' শব্দটি কে প্রথম প্রয়োগ করেন?
  1. উইলিয়াম বেটসন
  2. চার্লস ডারউইন
  3. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
  4. জে পি মরগান
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম বেটসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম বেটসন
ব্যাখ্যা
- উইলিয়াম বেটসন ১৯০৫ সালে সর্বপ্রথম Genetics শব্দটি প্রচলন করেন।
- অস্ট্রিয়াবাসী ধর্মযাজক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল জিনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের মৃত্যুর ১৬ বছর পর ১৯০০ সালে নেদারল্যান্ডসের উদ্ভিদবিজ্ঞানী হিউগো ডে ভ্রিস, জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী অধ্যাপক কার্ল করেন্স, অস্ট্রিয়ার কৃষিবিজ্ঞানী এরিক শ্চের্মেক পৃথকভাবে কিন্তু একই সময়ে মেন্ডেলের গবেষণার ফলাফল পুনরাবিষ্কার করেন।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
২৪৬.
"প্রাকৃতিক নির্বাচন" (Natural Selection) তত্ত্বটি কে প্রস্তাব করেন?
  1. গ্রেগর মেন্ডেল
  2. চার্লস ডারউইন
  3. আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস
  4. জে ল্যামার্ক
সঠিক উত্তর:
চার্লস ডারউইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার্লস ডারউইন
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) তত্ত্ব:
- প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) ধারণাটি ১৮৫৯ সালে চার্লস ডারউইন তার বিখ্যাত বই "On the Origin of Species"-এ ব্যাখ্যা করেন।
- এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে পরিবেশের সাথে সবচেয়ে বেশি অভিযোজিত (adapted) প্রাণীগুলো বেঁচে থাকে এবং প্রজনন করে, আর দুর্বল বা কম অভিযোজিত প্রাণীগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

উদাহরণ:
- জিরাফের দীর্ঘ গলা:
- ডারউইনের মতে, প্রাচীন জিরাফদের মধ্যে কিছুদের গলা লম্বা ছিল, আর কিছুদের গলা ছোট ছিল।
- লম্বা গলার জিরাফেরা সহজেই উঁচু গাছের পাতা খেতে পারত, ফলে তারা বেশি বেঁচে থাকত ও বেশি প্রজনন করত।
- প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে লম্বা গলার বৈশিষ্ট্যটি প্রাধান্য পেয়ে আজকের জিরাফ সৃষ্টি হয়েছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও Natural History Museum.com.
২৪৭.
জীবন্ত জীবাশ্ম উদ্ভিদের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. প্লাটিপাস
  2. ইকুইজিটাম
  3. স্ফোনোডন
  4. লিমুলাস
সঠিক উত্তর:
ইকুইজিটাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইকুইজিটাম
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও গিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে, এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৮.
কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম নয়? 
  1. ভেড়া
  2. লিমুলাস
  3. প্লাটিপাস
  4. স্ফোনোডন
সঠিক উত্তর:
ভেড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেড়া
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৯.
রুই মাছের আঁইশ কোন প্রকৃতির?
  1. সাইক্লয়েড
  2. টিনয়েড
  3. গ্যানয়েড
  4. প্লাকয়েড
সঠিক উত্তর:
সাইক্লয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইক্লয়েড
ব্যাখ্যা
রুই মাছের দেহ গঠন (বাহ্যিক): 
- রুই মাছের দেহ অনেকটা মাকু আকৃতির। 
- দেহের মধ্যভাগ কিছুটা প্রশস্ত এবং লেজ ও মাথার দিক ক্রমশ সরু হয়ে গেছে, এ ধরনের গঠনকে স্ট্রিমলাইনড গঠন বলে। 
- এদের দেহ রুপালি আঁইশ দ্বারা আবৃত, কিন্তু এদের মাথা আঁইশ দ্বারা আবৃত থাকে না। 
- রুই মাছ সর্বোচ্চ ২ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং ওজন ৪৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। 
- রুই মাছের দেহ তিন অংশে বিভক্ত। 
যথা- মাথা, দেহ কাণ্ড এবং লেজ। 
- মুখছিদ্র ছোট ও মাংসল ঠোঁট দ্বারা পরিবেষ্টিত। 
- মাথার পেছনের অংশে কানকো দিয়ে ঢাকা ৪ জোড়া ফুলকা আছে। 

মাথা: 
- দেহের অগ্রপ্রান্ত থেকে কানকোর পশ্চাৎ প্রান্ত পর্যন্ত অংশ হলো মাথা। 
- রুই মাছের মাথা ১০-১২ সে.মি লম্বা এবং এর পৃষ্ঠীয় ভাগ উত্তল। 
- উদর হতে মস্তকের উপরিভাগ বেশি উত্তল। 
- মুখ নিচের দিকে অবস্থিত, মুখের দু কোণা পেছনের দিকে বাঁকা, ফলে মুখ অর্ধচন্দ্রাকৃতির দেখায়। 
- রুই মাছের চোখের কোনো পাতা নেই, মাথার দু-পার্শ্বে বড় বড় দুটি চোখ অবস্থিত। 
- চোখের কর্নিয়া স্বচ্ছ আবরণ দ্বারা আবৃত। 

দেহ কাণ্ড: 
- রুই মাছের কানকো শেষভাগ থেকে পায়ু পর্যন্ত অংশকে দেহ কাণ্ড বা ধর বলে। 
- দেহ কাণ্ড বেশ লম্বা, লেজের দিকে ক্রমশ সরু। 

লেজ: 
- দেহ কাণ্ডের শেষভাগে লেজ অবস্থিত। 
- প্রায় মধ্যভাগের পর থেকে লেজ দু-খণ্ডে বিভক্ত। 
- লেজ পুচ্ছপাখনা নামে পরিচিত। 

ত্বক: 
- রুই মাছের সমস্ত দেহ ত্বক দ্বারা ঢাকা থাকে। 
- ত্বকের দুটি স্তর, বাইরের স্তরটিকে বলা হয় এপিডার্মিস এবং ভেতরের স্তরটিকে বলা হয় ডার্মিস। 
- এপিডার্মিসে রঞ্জক কোষ এবং মিউকাস কোষ থাকে। 
- মিউকাস কোষ পিচ্ছিল পদার্থ নিঃসরণ করে দেহকে পিচ্ছিল রাখে, ফলে এদের চলাফেরা করতে সুবিধা হয়। 

আঁইশ: 
- রুই মাছের দেহ বড় বড় সাইক্লয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত। 
- এ আঁইশের মধ্যে বৃত্তাকার এক ধরনের রেখা থাকে, একে সারকুলাস বলে। 
- এ সারকুলাস পর্যবেক্ষণ করে মাছের বয়স নির্ণয় করা হয়। 
- আঁইশের কেন্দ্রকে ফোকাস বলে। 
- রুই মাছের আঁইশের বৃদ্ধি বেশি হয় গ্রীষ্মকালে ও বসন্তকালে। 

পাখনা: 
- রুই মাছের দেহে ৫ ধরনের পাখনা আছে। 
- এ পাখনাগুলো হলো মাথার কাছে বক্ষের দিকে বক্ষ পাখনা, পিঠের দিকে পৃষ্ঠ পাখনা, দেহের মাঝ বরাবর নিচের দিকে শ্রেণিপাখনা, পায়ুর একটু পেছনে পায়ু পাখনা এবং একেবারে পেছন দিকে পুচ্ছ পাখনা রয়েছে। 
- এ পাখনাগুলো এদের চলাচলে সাহায্য করে। 

পার্শ্বরেখা: 
- রুই মাছের দেহের দু-পাশেই আঁইশের নিচে এক সারি ছোট ছোট গর্ত আছে যা পার্শ্বরেখা সৃষ্টি করে। 
- এ গর্তের মধ্যে সংবেদী অঙ্গ যুক্ত থাকে। 
- এ সংবেদী অঙ্গের মাধ্যমে রুই মাছ পানির গুণাগুণ (যেমন- পিএইচ, ঘোলাত্ব ইত্যাদি) বুঝতে সক্ষম হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
২৫০.
ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের মূল বিষয় কী?
  1. জীবের নিজের প্রয়োজনে নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি
  2. প্রাকৃতিক নির্বাচন
  3. স্বল্পহারে সংখ্যাবৃদ্ধি
  4. প্রকৃতির সাথে খাপ খাইয়ে প্রতিটি জীবের বেঁচে থাকা
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক নির্বাচন
ব্যাখ্যা
• ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের মূল বিষয় হলো প্রাকৃতিক নির্বাচন। 

• চার্লস ডারউইন ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "On the Origin of Species"–এ বিবর্তনের মূল প্রক্রিয়া হিসেবে “প্রাকৃতিক নির্বাচন”-এর ধারণা তুলে ধরেন।

• প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ হলো—
''যেসব জীব তাদের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে টিকে থাকতে সক্ষম, তাদের বেঁচে থাকার ও প্রজননের সম্ভাবনা বেশি। ফলে তাদের বৈশিষ্ট্যগুলো পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে।''

• ডারউইন এর মতবাদের মূল বিষয়-
- জীবদের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকে (Variation)। 
- উত্তম বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবরা টিকে থাকে। 
- প্রকৃতির সাথে খাপ খাইয়ে শুধু যোগ্য জীবেরা বেঁচে থাকে,  অযোগ্য জীবরা বিলুপ্ত হয়।  
- উত্তরাধিকারসূত্রে গঠনগত পরিবর্তন ছড়িয়ে পড়ে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
- National Geographic website – Theory of Evolution
২৫১.
জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে-
  1. ক) লাইসোজোম
  2. খ) কোষগহ্বর
  3. গ) রাইবোজোম
  4. ঘ) গলজি বস্তু
সঠিক উত্তর:
ক) লাইসোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লাইসোজোম
ব্যাখ্যা

- লাইসোজোম জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে।
- এর উৎসেচক আগত জীবাণুগুলো হজম করে ফেলে।
- রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫২.
DNA এর পূর্ণরূপ ____। 
  1. Deoxyribonucleic Acid
  2. Dinucleotide Acid
  3. Deoxygenated Nucleic Acid
  4. Dual Nucleic Acid
সঠিক উত্তর:
Deoxyribonucleic Acid
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Deoxyribonucleic Acid
ব্যাখ্যা

• পূর্ণরূপ: DNA = Deoxyribonucleic Acid

- DNA হলো জিনগত তথ্য সংরক্ষণকারী অণু, যা জীবদেহের সমস্ত ধরণের বৈশিষ্ট্য এবং জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

DNA এর বৈশিষ্ট্য:
- “Deoxyribo” মানে হলো ডিএক্সিও রাইবোজ (Deoxyribose) চিনি, যা DNA এর শৃঙ্খলের একটি অংশ।
- “Nucleic” নির্দেশ করে যে এটি নিউক্লিয়াসে পাওয়া যায়।
- “Acid” নির্দেশ করে এর রাসায়নিক প্রকৃতি, যা অ্যাসিডিক।

গঠন:
- DNA হলো ডাবল হেলিক্স (Double helix)।
- এটি নিউক্লিয়োটাইডের শৃঙ্খল দ্বারা গঠিত, যেখানে প্রতিটি নিউক্লিয়োটাইডে ফসফেট, ডিএক্সিওরাইবোজ চিনি, এবং নাইট্রোজেন ভিত্তি থাকে।

কার্য:
- জিনগত তথ্য সংরক্ষণ।
- প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজনে সহায়ক।
- উত্তরাধিকার সূত্রে জিনগত বৈশিষ্ট্য প্রজন্মান্তরে স্থানান্তর।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

২৫৩.
কর্ডাটা পর্বের প্রাণি কোনটি?
  1. ক) তারামাছ
  2. খ) প্রজাপতি
  3. গ) জোঁক
  4. ঘ) রুই মাছ
সঠিক উত্তর:
ঘ) রুই মাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রুই মাছ
ব্যাখ্যা
কর্ডাটা পর্বের প্রাণি- মানুষ, কুনোব্যাঙ, রুই মাছ ইত্যাদি৷
একাইনোডারমাটা পর্বের প্রাণি- তারামাছ, সমুদ্র শশা।
কাঁকড়া, প্রজাপতি, চিংড়ি, তেলাপোকা ইত্যাদি আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণি।
অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণি হলো- কেঁচো, জোঁক
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২৫৪.
একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্র এবং নদীর বাস্তুতন্ত্রের পার্থক্য কোন বৈচিত্র্যের উদাহরণ? 
  1. জীবাশ্ম বৈচিত্র্য
  2. বংশগতীয় বৈচিত্র্য
  3. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
  4. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
সঠিক উত্তর:
বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা

- পুকুর ও নদীর বাস্তুতন্ত্রের পার্থক্য হলো বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem Diversity)-এর উদাহরণ, কারণ এটি বিভিন্ন ধরনের আবাসস্থল (যেমন পুকুর ও নদী) এবং সেগুলোর মধ্যে থাকা জীব সম্প্রদায় ও প্রক্রিয়ার ভিন্নতাকে বোঝায়। 

জীববৈচিত্র্য (Biodiversity): 

- পৃথিবীর পরিবেশ জীব ও জড় উপাদান নিয়ে গঠিত, এখানে রয়েছে বিচিত্র ধরনের জীব ও অজস্র জড় পদার্থ। 
- প্রতিটি প্রজাতি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং স্বকীয় বৈশিষ্ট্য দিয়ে যে কোনো একটি প্রজাতি অন্য সব প্রজাতি হতে ভিন্ন ও শনাক্তকরণযোগ্য। 
- জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ের ভিন্নতাই হলো প্রজাতিগত বৈচিত্র্য। 
- সাধারণভাবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বোঝায়। 
যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা, বৃদ্ধির ধরন ইত্যাদি ভিন্ন হয়। 

২। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান ও জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে। 
- এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়। 
- এ পরিবর্তনের জন্য যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। 
যেমন- একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যে সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর। 

৩। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity): 
- এ পৃথিবীতে একই প্রজাতিভুক্ত সদস্যদের মধ্যেও অনেক বিষয়ে পার্থক্য দেখা যায়, এ পার্থক্যগুলো তৈরি হয় তাদের জিন সংগঠনের সামান্য বৈচিত্র্যের কারণে। 
- এ বৈচিত্র্যতার কারণ হচ্ছে জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চালিত হয়। 
- প্রাণিদেহের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা আলাদা জীন দায়ী। 
- বিভিন্ন কারণে এ জীনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটায় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। 
- এ বংশানুক্রমিক প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে তাকেই বংশগতীয় বৈচিত্র্য বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৫.
নিচের কোনটি বিবর্তনের একটি মতবাদ? 
  1. জড়তা তত্ত্ব
  2. কোষ তত্ত্ব
  3. ল্যামার্কিজম
  4. নিউটনীয় তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ল্যামার্কিজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যামার্কিজম
ব্যাখ্যা
বিবর্তন: 
- বিবর্তনের অপর নাম অভিব্যক্তি। 
- বিবর্তন বলতে সাধারণভাবে বুঝায় কোনো কিছু বিকশিত হওয়া, ধীরে ধীরে উন্মোচিত হওয়া। 
- বিবর্তনের মতবাদগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১. ল্যামার্কিজম, ২. ডারউইনিজম ও ৩. নব্য ডারউইনিজম। 
- বিবর্তন এর উল্লেখযোগ্য প্রমাণগুলো হলো- 
১। অঙ্গসংস্থানিক প্রমাণ, 
২। ভ্রূণতত্ত্বীয় প্রমাণ, 
৩। ভৌগোলিক প্রমাণ, 
৪। শারীরবৃত্তীয় প্রমাণ, 
৫। শ্রেণিবিন্যাসগত প্রমাণ, 
৬। জিনতত্ত্বীয় প্রমাণ ও 
৭। জীবাশ্মগত প্রমাণ ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৬.
রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও সিংহ-এর মধ্যে কোন ধরনের বৈচিত্র্য বিদ্যমান? 
  1. জিনগত বৈচিত্র্য 
  2. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
  3. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য 
  4. স্বভাবগত বৈচিত্র্য 
সঠিক উত্তর:
প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
ব্যাখ্যা

জীব-বৈচিত্র্য: 
- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। 
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়। 
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর। 
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়। 
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়। 
 
প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity): 
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে। 
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।
যথা- 
১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। 
 
২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। 
যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে। 
 
৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। 
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি । 
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। 
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৭.
নিচের কোনটি অমেরুদন্ডী প্রাণী? 
  1. বাদুড়
  2. ব্যাঙ
  3. কুমির
  4. কেঁচো
সঠিক উত্তর:
কেঁচো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেঁচো
ব্যাখ্যা
মেরুদন্ডী প্রাণী: 
(ক) মৎস্যকুল: 
- এ দলের প্রাণীরা পানিতে বাস করে। দেহ আঁশ দিয়ে ঢাকা। ফুলকার সাহায্যে শ্বাস কাজ চালায়। 
যেমন- রুই, কাতল, পুঁটি। 

(খ) উভচর প্রাণী: 
- এসব প্রাণী পানিতে এবং ডাঙ্গায় বসবাস করে। জীবনচক্রের একটা অংশ এদের পানিতে বিকাশ লাভ করে। 
যেমন- ব্যাঙ। 

(গ) সরিসৃপ: 
- এরা বুকে ভর দিয়ে চলাফেরা করে। 
যেমন- কুমির, টিকটিকি। 

(ঘ) পাখি: 
- এসব প্রাণীর দেহ পালকে ঢাকা থাকে। 
যেমন- ময়না, টিয়া, ঘুঘু। 

(ঙ) স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- এসব প্রাণী মায়ের দুধ পান কর। 
যেমন- বাদুড়, তিমি, মানুষ। 

অমেরুদন্ডী প্রাণী: 
১. প্রোটোজোয়া: 
- এরা এককোষী আদি প্রাণী। 
যেমন- অ্যামিবা, ম্যালেরিয়া জীবাণু। 

২. পরিফেরা: 
- এসব প্রাণীর দেহ অসংখ্য ক্ষুদ ক্ষুদ্র ছিদ্র যুক্ত। এরা জলে বাস করে। 
যেমন- স্পনজিলা। 

৩. সিলেনটারেটা: 
- এ পর্বের বেশির ভাগ প্রাণী সমুদ্রে বাস করে। এদের দেহের মেলো দিকটা মুখ হিসেবে কাজ করে। মুখের চারদিকে টেন্টাকল আছে। 
যেমন- হাইড্রা, জেলীফিস। 

৪. প্লাটিহেলমিনথিস: 
- এ পর্বের অন্তর্ভুক্ত প্রাণীদের দেহ ফিতার মত চ্যাপ্টা। এরা সাধারণত পরজীবী। 
যেমন- ফিতাকৃমি। 

৫. নেমাথেলমিনথিস: 
- এ পর্বের প্রাণীদের দেহ নলাকৃতি ও অখণ্ডিত। এরা সাধারণত পরজীবী। 
যেমন- কেঁচোকৃমি। 

৬. অ্যানিলিডা: 
- এ জাতীয় প্রাণীদের দেহ নরম এবং রিং বা বলয়ের মত খণ্ড খণ্ড অংশ দিয়ে গঠিত। 
যেমন- কেঁচো, জোঁক। 

৭. আর্থোপোডা: 
- এ পর্বের প্রাণীদের দেহ শক্ত আবরণে ঢাকা এবং এদের সন্ধিযুক্ত পা রয়েছে। 
যেমন- চিংড়ি, তেলাপোকা। 

৮. একাইনোর্ডামাটা: 
- এসব প্রাণী সমুদ্রে বাস করে। এদের দেহ কাটাযুক্ত। 
যেমন- তারামাছ। 

৯. মলাস্কা: 
- এ পর্বের প্রাণীদের দেহ নরম কিন্তু শক্ত খোলস দিয়ে আবৃত। 
যেমন- শামুক, ঝিনুক। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।