• একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানে দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক হলো কচ্ছপ। বাস্তুসংস্থান বা ইকোসিস্টেমে খাদ্য শৃঙ্খল থাকে যেখানে বিভিন্ন স্তরের প্রাণী একে অপরের উপর নির্ভর করে খাদ্য গ্রহণ করে। প্রথম শ্রেণির খাদক হলো উদ্ভিদভক্ষী প্রাণীরা, যেমন বক। হাইড্রিলা হলো জলজ উদ্ভিদ, যা উৎপাদক হিসেবে কাজ করে। দ্বিতীয় শ্রেণির খাদকের কাজ হলো প্রথম শ্রেণির খাদকদের খাওয়া, যা এখানে কচ্ছপ। তাই কচ্ছপ পুকুরের বাস্তুসংস্থানের দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক।
- তাই সঠিক উত্তর হলো (খ) কচ্ছপ।
বাস্তুসংস্থান (Ecology):
- পরিবেশের সাথে জীবের যে পারস্পরিক ক্রিয়া তার একটি শৃঙ্খলা রয়েছে যাকে বাস্তুসংস্থান বলা হয়।
- বাস্তুসংস্থানকে ইংরেজিতে Ecology বলা হয়। এর উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Oikos যার অর্থ ঘর বা বসতি স্থান এবং Logos হচ্ছে বিজ্ঞান বা অধ্যয়ন।
সুতরাং বাস্তুসংস্থান শব্দটির আভিধানিক অর্থ পৃথিবী বাসগৃহের তত্ত্বাবধায়ক বিজ্ঞান। তবে বাস্তুসংস্থান শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বৃহৎ অর্থে বাস্তুসংস্থান হলো পৃথিবীতে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠির সাথে পরিবেশের সম্পর্ক অর্থাৎ জীবের সাথে পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলো বাস্তুসংস্থান।
যেমন- জলজ বাস্তুসংস্থান, স্থলজ বাস্তুসংস্থান, বনজ বাস্তুসংস্থান ইত্যাদি।
- প্রত্যেকটি বাস্তুসংস্থান আলাদা এবং পরিপূর্ণভাবে শৃঙ্খলের মধ্যে টিকে আছে। আর প্রত্যেকটি শৃঙ্খলের উপর মানুষ নির্ভরশীল।
- পরিবেশের এই শৃঙ্খলা যখন স্বাভাবিক নিয়মে বিরাজমান এবং চলমান থাকে তখন তাকে পরিবেশের ভারসাম্য অবস্থা বলে।
- এই ভারসাম্য অবস্থা বুঝার জন্য একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তুলে ধরা হলো -
- একটি পুকুরে বসবাসকারী জীব সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রধান হচ্ছে ভাসমান ও সঞ্চারমান ক্ষুদ্র জীব অর্থাৎ প্লাঙ্কটন। এছাড়া রয়েছে সবুজ শেওলা ও ক্ষুদ্র জলজ প্রাণি। - আর জড় উপাদানের মধ্যে রয়েছে পানি, মাটি ও সৌরশক্তি ইত্যাদি।
- পুকুরের বাস্তুসংস্থানের উৎপাদক হচ্ছে সাধারণ ভাসমান ও অগভীর পানির বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ।
যেমন- কচুরিপানা, শাপলা, হাইড্রিলা ইত্যাদি।
- একটি পুকুরের প্রথম শ্রেণির খাদক হলো বিভিন্ন প্রকার ভাসমান ক্ষুদ্র পোকা, মশার শুককীট প্রভৃতি।
- দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক হলো খামারি আকৃতির মাছ, ব্যাঙ, কচ্ছপ ইত্যাদি।
- আর তৃতীয় শ্রেণির খাদকের মধ্যে রয়েছে বড় মাছ, বক, গাংচিল প্রভৃতি।
- মৃত্যুর পর একই নিয়মে জীবাণু, মৃতজীবি ছত্রাক, কাঁদায় বসবাসকারী পোকা বিয়োজকের কাজ করে।
- বিয়োজিত অজৈব লবণ পুকুরের উৎপাদক সম্প্রদায় খাদ্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে। এভাবে পুকুরের প্রত্যেকটি উপাদান স্বাভাবিক নিয়মে নিজ নিজ কার্যাদি সম্পন্ন করে থাকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তার সুশৃঙ্খল ধারা বজায় রেখে ভারসাম্য বজায় রাখছে।
- কোনো কারণে এই শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটলে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। পুকুরের বাস্তুসংস্থানের অন্তর্গত কোনো একটি শ্রেণি নষ্ট বা ধ্বংস হলে শৃঙ্খলা ভেঙ্গে যাবে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।