• এই প্রশ্নটি অরীয় প্রতিসাম্য (Radial Symmetry) সম্পর্কিত।
সঠিক উত্তর: গ) Astropecten.
- Hydra এবং Astropecten উভয়ই অরীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে, তবে Astropecten (তারামাছ) অরীয় প্রতিসাম্যের সবচেয়ে আদর্শ ও সুস্পষ্ট উদাহরণ।
অরীয় প্রতিসাম্য হলো এমন একটি দেহ গঠন যেখানে কেন্দ্রীয় অক্ষের চারদিকে দেহ অংশগুলো সুষমভাবে বিন্যস্ত থাকে। কেন্দ্র দিয়ে যেকোনো উল্লম্ব তলে দেহকে কাটলে সমান দুটি অংশ পাওয়া যায়।
প্রতিটি অপশন বিশ্লেষণ:
ক) Hydra - এটি অরীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে (Cnidaria পর্বের অন্তর্গত)
খ) Taenia - এটি দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে (ফিতাকৃমি)
গ) Astropecten - এটি একটি তারামাছ (Starfish/Sea star), যা স্পষ্ট অরীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে (Echinodermata পর্বের অন্তর্গত)
ঘ) Labeo - এটি একটি মাছ যা দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে
• প্রতিসাম্য:
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে।
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. গোলীয় প্রতিসাম্য:
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)।
২. অরীয় প্রতিসাম্য:
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)।
৩. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য:
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)।
৪. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য:
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)।
৫. অপ্রতিসাম্য:
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে।
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।