বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীবের বংশগতি ও প্রাণিবিজ্ঞান সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়

মোট প্রশ্ন২৬০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীবের বংশগতি ও প্রাণিবিজ্ঞান সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ২৬০

১০১.
Hydra কোন পরিবেশে বাস করে? 
  1. মরুভূমি 
  2. শুষ্ক মাটি 
  3. মিঠা পানি 
  4. লবণাক্ত পানি 
সঠিক উত্তর:
মিঠা পানি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিঠা পানি 
ব্যাখ্যা

হাইড্রা: 
- Hydra আবিষ্কার করেন আব্রাহাম ট্রেম্বলে। 
- Hydra এর নামকরণ করেন বিজ্ঞানী লিনিয়াস। 
- বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির Hydra পাওয়া যায় তন্মধ্যে Hydra vulgaris সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। 
- কর্ষিকার সাহায্যে এরা খাদ্য গ্রহণ, দেহের সংকোচন, প্রসারণ ও চলাচল সম্পন্ন করে থাকে। 
- Hydra ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শ্বসন ও রেচন সম্পন্ন করে। 

- মুকুলোদগম ও দ্বিবিভাজনের সাহায্যে অযৌন জনন এবং জননকোষ সৃষ্টি করে যৌন জনন সম্পন্ন করে। 
- Hydra পুনরুৎপত্তি (regeneration) ক্ষমতা প্রাপ্ত। 
- Hydra মিঠাপানির প্রাণী। 
- এরা সাধারণত খাল, বিল, পুকুর, হ্রদ, ডোবা, ঝর্ণার পানিতে বাস করে। 
- ঘোলা পানিতে এদের কম পাওয়া গেলেও পরিস্কার, অপেক্ষাকৃত শীতল এবং স্রোতহীন পানিতে এদেরকে তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০২.
মানুষের দৈহিক গঠনের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়-
  1. ক) জিনগত বৈচিত্রের কারণে
  2. খ) প্রজাতিগত বৈচিত্র্যের কারণে
  3. গ) বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্যের কারণে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) জিনগত বৈচিত্রের কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জিনগত বৈচিত্রের কারণে
ব্যাখ্যা
জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity)- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে। এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে।
যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোঁলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৩.
কোন প্রাণীর দেহে পুঞ্জাক্ষি থাকে? 
  1. জোঁক
  2. কেঁচো
  3. মশা
  4. শামুক
সঠিক উত্তর:
মশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মশা
ব্যাখ্যা
- 'মাছি'র দেহে প্রাণীর দেহে পুঞ্জাক্ষি থাকে। 

অমেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, এদের দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে না, চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যা পুঞ্জাক্ষি এবং এদের লেজ নেই। 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণী নানা ধরনের হয়। 
যেমন- 
• অনেক অমেরুদণ্ডী প্রাণী আকারে খুবই ছোটো, এদের খালিচোখে দেখা যায় না। 
যেমন- অ্যামিবা। 
• একদলভুক্ত অমেরুদণ্ডী প্রাণী, যাদের দেহ অনেকগুলো খণ্ডে বিভক্ত থাকে। 
যেমন- কেঁচো, জোঁক। 
• আরেক দলভুক্ত প্রাণী, এদের দেহ খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত নয় এবং দেহ সাধারণত শক্ত খোলসে আবৃত থাকে এবং মাংসল পা থাকে। 
যেমন- শামুক ও ঝিনুক। 
• পৃথিবীতে পতঙ্গ শ্রেণিভুক্ত প্রাণীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এদের দেহ তিনটি অংশে বিভক্ত যথা: মস্তক, বক্ষ ও উদর। এদের সন্ধিযুক্ত পা ও পুঞ্জাক্ষি থাকে। 
যেমন- প্রজাপতি, মশা, মাছি, তেলাপোকা, উইপোকা, মৌমাছি ইত্যাদি। 
• অনেক পতঙ্গ আছে যারা উপকার করে। এরা উপকারী পতঙ্গ। 
যেমন: মৌমাছি, রেশম পোকা ইত্যাদি। 
• নানা রকম রোগ ছড়ায় এমন শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। 
যেমন- মশা ও মাছি। 
• অনেক পতঙ্গ আবার ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও ফসলের ক্ষতিসাধন করে। 
যেমন- উইপোকা, লেদাপোকা, পামরীপোকা ইত্যাদি। 
• এমন কতকগুলো সামুদ্রিক প্রাণী আছে, যাদের ত্বকে কাঁটার মতো অংশ থাকে। 
যেমন- তারামাছ ও সামুদ্রিক শশা। 
• আরেক দলভুক্ত অমেরুদণ্ডী প্রাণী। এদের দেহের ভিতর একটা ফাঁপা গহ্বর বা সিলেন্টেরন থাকে। এদের দেহে একটি মাত্র ছিদ্র থাকে। এই ছিদ্রপথে এরা খাদ্য গ্রহণ করে আবার বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়। 
যেমন- জেলী মাছ, প্রবালকীট। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১০৪.
Vertebrata প্রাণীর প্রধান রেচন অঙ্গ কোনটি?
  1. বৃক্ক 
  2. ত্বক 
  3. ফুসফুস 
  4. শ্বাসনালী 
সঠিক উত্তর:
বৃক্ক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ক 
ব্যাখ্যা

উপপর্ব-ভার্টিব্রাটা: 
- Vertebrata (ল্যাটিন vertebratus = মেরুদণ্ড)- কর্ডাটা পর্বের যে সকল প্রাণীর ভ্রূণীয় নটোকর্ড পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় তরুণাস্থি অথবা অস্থি গঠিত মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, তারা Vertebrata উপপর্বের প্রাণি। 
- অস্থিময় বা তরণাস্থিময় ক্রেনিয়াম (cranium) এর ভিতর মস্তিষ্ক অবস্থান করে বলে এর অপর নাম Cranita । 
- এদেও প্রজাতির সংখ্যা ৬৫,৭৮৯টি। 

বৈশিষ্ট্য: ১। নটোকর্ড অস্থিময় বা তরুণাস্থিময় কশোরুকাবিশিষ্ট মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত। 
২। পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু মস্তিষ্ক ও সুষুম্মাকাণ্ড গঠন করে। 
৩। রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ ধরনের। 
৪। মেসোডার্মাল বৃক্ক (kidney) প্রধান রেচন অঙ্গ। 
৫। পার্শ্বীয় জোড়া উপাঙ্গ (পাখনা বা পদ) চলন অঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৫.
DNA কাটা হয় কী দ্বারা?
  1. ইলেকট্রন
  2. সূক্ষ ইলেকট্রিক ছুরি
  3. লাইগেজ এনজাইম
  4. সীমাবদ্ধ এনজাইম
সঠিক উত্তর:
সীমাবদ্ধ এনজাইম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীমাবদ্ধ এনজাইম
ব্যাখ্যা
• সীমাবদ্ধ এনজাইম:
- সীমাবদ্ধ এনজাইম (Restriction Endonuclease) হল এক ধরনের এনজাইম, যা নির্দিষ্ট নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্স (Recognition Site) চিনে DNA কেটে ছোট টুকরোয় বিভক্ত করে।
Escherichia coli একটি জনপ্রিয় রেস্ট্রিকশন এনজাইম।
• ব্যবহার:
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ DNA কাটার জন্য।
- DNA ক্লোনিং ও রিকম্বিনেন্ট DNA (rDNA) প্রযুক্তিতে।
- PCR ও জেল ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষায়।
- DNA টেস্টিং পরিক্ষায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১০৬.
লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য কোন ক্রোমোজোম দায়ী?
  1. অটোসোম
  2. সেক্স ক্রোমোজোম
  3. সব ক্রোমোজোম
  4.  ২২ জোড়া অটোসোম
সঠিক উত্তর:
সেক্স ক্রোমোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেক্স ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা

ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোসোম। অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৭.
প্রথম ক্লোন মানব শিশুর নাম-
  1. ক) ডলি
  2. খ) মলি
  3. গ) ইভ
  4. ঘ) ইয়ান
সঠিক উত্তর:
গ) ইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইভ
ব্যাখ্যা
প্রথম ক্লোন মানব শিশু (কন্যা শিশু) এর নাম ইভ।
সূত্রঃ ২৬তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
১০৮.
রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তিকে আর কী নামে ডাকা হয়? 
  1. রেপ্লিকেশন
  2. জিন ক্লোনিং
  3. ট্রান্সক্রিপশন
  4. প্রোটিন সংশ্লেষণ
সঠিক উত্তর:
জিন ক্লোনিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিন ক্লোনিং
ব্যাখ্যা
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (Genetic engineering): 
- একটি জীব থেকে একটি নির্দিষ্ট জিন বহনকারী ডিএনএ খণ্ড পৃথক করে ভিন্ন একটি জীবে স্থানান্তরের কৌশল হচ্ছে জিন প্রকৌশল (Genetic engineering)। 
অর্থাৎ, কাঙ্ক্ষিত নতুন একটি বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির জন্য কোনো জীবের ডিএনএর পরিবর্তন ঘটানোকে জিন প্রকৌশল বলে। 
- এই জিন যে কৌশলগুলোর মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়, তাদের একত্রে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ কৌশল বলে। 
- এই কৌশল অবলম্বন করে একটি ডিএনএ অণুর কাঙ্ক্ষিত অংশ কেটে আলাদা করে অন্য একটি ডিএনএ অনুতে প্রতিস্থাপন করার ফলে যে নতুন ডিএনএ অণুর সৃষ্টি হয়, তাকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ বলে। 
- রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরির প্রক্রিয়াকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি বা জিন ক্লোনিং বলা হয়। 
- জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে উৎপন্ন নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের কোনো কোনোটিকে বলা হয় GMO (Genetically Modified Organism) আর কোনোটিকে বলে ট্রান্সজেনিক (Transgenic)। জিএমও এবং ট্রান্সজেনিক জীব এক নয়। 
- আধুনিক জীবপ্রযুক্তি বা জিন কৌশলের মাধ্যমে জিন স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য অল্প সময়ে সুচারুভাবে স্থানান্তর করা সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবক বা উদ্যোক্তাগণের নিকট প্রচলিত প্রজননের তুলনায় এ প্রযুক্তিটি অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০৯.
বংশগতির বাহক জিনের রাসায়নিক কী দিয়ে তৈরি?
  1. অ্যামিনো অ্যাসিড
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. ডিএনএ
  4. ফ্যাটি অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
ডিএনএ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিএনএ
ব্যাখ্যা

◉ জিন আসলে DNA-এর একটি অংশ। DNA হলো নিউক্লিক অ্যাসিড, যা জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে। এর ভেতরে চারটি নাইট্রোজেন বেস (A, T, G, C) নির্দিষ্ট ক্রমে সাজানো থাকে, যা জিনগত তথ্য নির্ধারণ করে।

• মানব দেহে দুই ধরনের নিউক্লিক এসিড থাকে- DNA এবং RNA।
- DNA এর পূর্ণরূপ হল Deoxyribonucleic acid এবং RNA এর পূর্ণরূপ হল Ribonucleic acid।
- জিনের রাসায়নিক গঠন উপাদান হলো DNA।
- এটি একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে।
- ডিএনএ হলো দ্বিসূত্রকবিশিষ্ট পলিনিউক্লিয়োটাইডের সর্পিলাকার গঠন।
- ডিএনএ অণুর আকৃতি অনেকটা প্যাঁচানো সিঁড়ির ন্যায়। 
- ১৯৫৩ সালে জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক বিজ্ঞানীদ্বয় ডিএনএ অণুর গঠন আবিষ্কার করেন। 

 উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১০.
শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ কোনটি? 
  1. বর্গ 
  2. শ্রেণি 
  3. গণ 
  4. প্রজাতি 
সঠিক উত্তর:
প্রজাতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজাতি 
ব্যাখ্যা

শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা: 
- পৃথিবীতে বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রাণীর সংখ্যা সঠিক সংখ্যা কারো জানা নেই, তাই বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সহজ উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণিদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী জীবজগৎকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- প্রয়োজনের তাগিদে বর্তমানে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যা শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy) নামে পরিচিত। 

- প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক। 
যেমন- মানুষ, কুনোব্যাঙ, কবুতর ইত্যাদি এক একটি প্রজাতি। 
- কোনো প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস করতে হলে সেই প্রাণীকে বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে সাজাতে হয়, এই সকল ধাপের প্রত্যেকটিকে যথাযথভাবে বিন্যস্ত করতে হয়। 
- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যারিস্টটল, জন রে ও ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়, তিনিই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo sapiens  । 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন অথবা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১১১.
​সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে কী বলা হয়? 
  1. জিন ক্লোনিং 
  2. সেল ক্লোনিং 
  3. মলিকুলার ক্লোনিং 
  4. রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং 
সঠিক উত্তর:
রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং 
ব্যাখ্যা

ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত।
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে।
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে।
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়।
​ যথা-
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়।
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে।
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে।

- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়।
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে।
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১২.
নিচের কোনটি একটি ছত্রাক? 
  1. ক্লোরেলা
  2. ইস্ট
  3. অ্যামিবা
  4. স্পাইরোগাইরা
সঠিক উত্তর:
ইস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্ট
ব্যাখ্যা
জীবের শ্রেণিকরণ: 
- বিজ্ঞানীগণ পৃথিবীর সমস্ত জীবকে তাদের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবদ্ধকরণের চেষ্টা করেছেন। 
- ১৯৬৯ খ্রি. বিজ্ঞানী হুইটেকার পঞ্চরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- ১৯৭৪ খ্রি. বিজ্ঞানী মাগিউলিস (Margulis) উক্ত শ্রেণিবিন্যাসকে পুনর্বিন্যাস করে জীবজগতের আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসটি নিম্নরূপ পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করেছেন- 
যেমন-
রাজ্য-১: মনেরা, 
রাজ্য-২: প্রোটিস্টা, 
রাজ্য-৩: ফানজাই বা ছত্রাক, 
রাজ্য- ৪: প্লান্টি (উদ্ভিদজগৎ) এবং 
রাজ্য-৫: এ্যানিমেলিয়া (প্রাণিজগৎ)। 

ফানজাই বা ছত্রাক: 
- এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে।
- এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়।
- দেহে ক্লোরোফিল নেই, তাই এরা পরভোজী। 
উদাহরণ- ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, মাশরুম ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- ক্লোরেলা ও স্পাইরোগাইরা শৈবাল (Algae), যা স্বপোষী। 
- অ্যামিবা হলো এককোষী প্রোটিস্ট (অপ্রকৃত প্রাণী)। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১১৩.
কোন প্রাণীর রেচন অঙ্গ শিখা কোষ?
  1. ক) হাইড্রা
  2. খ) জেলিফিশ
  3. গ) ফিতা কৃমি
  4. ঘ) ঝিনুক
সঠিক উত্তর:
গ) ফিতা কৃমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফিতা কৃমি
ব্যাখ্যা
প্লাটিহেলমিনথিস পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্যঃ
১। দেহ নরম, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং পৃষ্ঠ- অঙ্কীয় তল বরাবর চ্যাপ্টা ।
২। এরা ট্রিপলোব্লাস্টিক অর্থাৎ তিনটি কোষীয় স্তরে বিন্যস্ত থাকে।
৩। সকল প্রাণী সিলোমবিহীন।
৪। পৌষ্টিকতন্ত্র অসর্ম্পূণ ।
৫। শিখা কোষ নামক প্রোটোনেফ্রিডিয়া সমন্বয়ে রেচনতন্ত্র গঠিত।
৬। অধিকাংশ উভলিঙ্গী।

উদাহরণঃ Dugesia tigrini, Taenia solium (ফিতাকৃমি), Fasciola hepatica (যকৃত কৃমি)।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৪.
হাইড্রার নামকরণ করেছেন কোন বিজ্ঞানী? 
  1. থিওফ্রাস্টাস
  2. ট্রেম্বলে
  3. লিনিয়াস
  4. অ্যারিস্টটল
সঠিক উত্তর:
লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিনিয়াস
ব্যাখ্যা
হাইড্রা: 
- Hydra আবিষ্কার করেন আব্রাহাম ট্রেম্বলে। 
- হাইড্রার নামকরণ করেন বিজ্ঞানী লিনিয়াস। 
- বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির Hydra পাওয়া যায় তন্মধ্যে Hydra vulgaris সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। 
- কর্ষিকার সাহায্যে এরা খাদ্য গ্রহণ, দেহের সংকোচন, প্রসারণ ও চলাচল সম্পন্ন করে থাকে। 
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শ্বসন ও রেচন সম্পন্ন করে। 
- মুকুলোদগম ও দ্বিবিভাজনের সাহায্যে অযৌন জনন এবং জননকোষ সৃষ্টি করে যৌন জনন সম্পন্ন করে। 
- Hydra পুনরুৎপত্তি (regeneration) ক্ষমতা প্রাপ্ত। 
- Hydra মিঠাপানির প্রাণী। 
- এরা সাধারণত খাল, বিল, পুকুর, হ্রদ, ডোবা, ঝর্ণার পানিতে বাস করে। 
- ঘোলা পানিতে এদের কম পাওয়া গেলেও পরিস্কার, অপেক্ষাকৃত শীতল এবং স্রোতহীন পানিতে এদেরকে তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৫.
নিচের কোন প্রাণীটি মেরুদণ্ডী প্রাণী? 
  1. মাছ
  2. মশা
  3. কেঁচো
  4. চিংড়ি
সঠিক উত্তর:
মাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাছ
ব্যাখ্যা
- মেরুদণ্ডের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্রাণীজগৎকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। অমেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, তাদেরকে বলা হয় অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মশা, মাছি, প্রজাপতি, চিংড়ি, কাঁকড়া, কেঁচো ইত্যাদি অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, এদের দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে না, চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যা পুঞ্জাক্ষি এবং এদের লেজ নেই। 

২। মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড আছে, তাদেরকে বলা হয় মেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মাছ, ব্যাঙ, পাখি, টিকটিকি, গরু, ছাগল, মানুষ ইত্যাদির মেরুদণ্ড আছে। 
- এদের মেরুদণ্ড আছে, দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে, পাখনা বা দুই জোড়া পা থাকে, চোখ সরল প্রকৃতির। 
- মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে। 
- এরা ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১১৬.
একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী কোনটি? 
  1. ইঁদুর 
  2. খরগোস 
  3. ভেড়া 
  4. গরু 
সঠিক উত্তর:
ভেড়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেড়া 
ব্যাখ্যা

ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত। 
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়। 
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 
- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং বলে। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১৭.
সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে কী বলা হয়?
  1. জিন ক্লোনিং
  2. সেল ক্লোনিং
  3. রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং
  4. প্রাকৃতিক ক্লোনিং
সঠিক উত্তর:
রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং
ব্যাখ্যা

ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত। 
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়। ২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 

- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং বলে। 
যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১৮.
কোন প্রাণী জিহ্বার সাহায্যে শোনে?
  1. ক) ঘড়িয়াল
  2. খ) কচ্ছপ
  3. গ) গিরগিটি
  4. ঘ) সাপ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাপ
ব্যাখ্যা

- গিরগিটি গায়ের রং পরিবর্তন করে আত্মরক্ষা করে।
- সাপ জিহ্বার সাহায্যে শোনে। সাপের কান নেই।
- কচ্ছপ দীর্ঘজীবী প্রাণী। কচ্ছপ প্রায় ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
- ঘড়িয়াল বিরল প্রজাতির মিঠা জলের কুমির বর্গের সরীসৃপ প্রাণী।

১১৯.
মাছ অক্সিজেন নেয়-
  1. মাঝে মাঝে পানির উপর নাক তুলে
  2. পানিতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন বিশ্লিষ্ট করে
  3. পটকার মধ্যে জমানো বাতাস হতে
  4. পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে
সঠিক উত্তর:
পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে
ব্যাখ্যা
- জলাধারে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন সবচেয়ে বেশি থাকে পানির উপরিভাগে, এবং গভীরতার সাথে সাথে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমতে থাকে। 
- কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন পানির সকল স্তর তথা উপরিভাগ, মধ্যভাগ এবং তলদেশ সকল স্তরেই থাকে। 
- না হলে মধ্য এবং তলদেশের জলজ প্রাণীদের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব হতো না। 
- মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। 
- যারা বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না তাদের বেঁচে থাকার জন্য পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন গুরুত্বপূর্ণ। 
- মাছ অক্সিজেন নেয় পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে। 
১২০.
চার্লস ডারউইনকে কী বলা হয়?
  1. সেল থিওরির জনক
  2. জীববৈচিত্র্য তত্ত্বের জনক
  3. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর জনক
  4. জৈব বিবর্তনের জনক 
সঠিক উত্তর:
জৈব বিবর্তনের জনক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জৈব বিবর্তনের জনক 
ব্যাখ্যা

বিবর্তন (Evolution): 
- বিবর্তন বা অভিব্যক্তি হলো এমন একটি জীববৈজ্ঞানিক ধারণা যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জীবের গাঠনিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্রমপরির্তনকে বুঝায়। 
- কোনো জীবের বংশধরদের মাঝে যে জিনরাশি ছড়িয়ে পড়ে তারাই বংশপ্রবাহে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে। 
- ল্যামার্ক বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন ৰা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। 
- তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামের একটি বইয়ে বিবর্তন বা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব লিপিবদ্ধ করেন। 
- সর্বপ্রথম জেনোফেন সময়ের সাথে সাথে জীবদেহের আকার পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনেন। 
- তারপর, এরিস্টটল বিবর্তনবাদ নিয়ে আলোচনা করেন। 
- হার্বার্ট স্পেন্সার সর্বপ্রথম Evolution শব্দটি ব্যবহার করেছেন। 
- ল্যামার্ক বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন ৰা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। 
- এ বিষয়টি তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামে একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেন। 
- চার্লস ডারউইনকে জৈব বিবর্তনের জনক বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২১.
টেস্টটিউব বেবি প্রযুক্তি প্রধানত কোন সমস্যার সমাধানে ব্যবহৃত হয়?
  1. জেনেটিক রোগ
  2. বন্ধ্যাত্ব সমস্যা
  3. সংক্রামক রোগ
  4. হরমোনজনিত রোগ
সঠিক উত্তর:
বন্ধ্যাত্ব সমস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্ধ্যাত্ব সমস্যা
ব্যাখ্যা

• টেস্টটিউব বেবি প্রযুক্তি প্রধানত বন্ধ্যাত্ব সমস্যার সমাধানে ব্যবহৃত হয়।

• টেস্টটিউব বেবি:
- টেস্টটিউব বেবি হলো একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে দেহের বাইরে কৃত্রিমভাবে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ সৃষ্টি করা হয়।
- পরবর্তীতে সেই ভ্রূণ নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং স্বাভাবিকভাবে ভ্রূণের বৃদ্ধি ঘটে।
- এই পদ্ধতিতে জন্ম নেওয়া শিশুকেই টেস্টটিউব বেবি বলা হয়।

• ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF):
- টেস্টটিউব বেবি পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক নাম হলো ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF)।
- এখানে “ইন ভিট্রো” বলতে দেহের বাইরে বিশেষ পাত্রে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাকে বোঝায়।

• টেস্টটিউব বেবির প্রয়োজনীয়তা:
- অনেক দম্পতির ক্ষেত্রে স্বাভাবিক উপায়ে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন সম্ভব হয় না।
- ফ্যালোপিয়ান নালির সমস্যা, শুক্রাণুর স্বল্পতা বা অন্যান্য জটিলতার কারণে সন্তান ধারণে ব্যর্থতা দেখা দেয়।
- এসব ক্ষেত্রে টেস্টটিউব বেবি প্রযুক্তি সন্তান লাভের একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• টেস্টটিউব বেবির ধাপসমূহ:
- দেহ থেকে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু সংগ্রহ করা হয়।
- বিশেষ কালচার মিডিয়ামে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়।
- উৎপন্ন ভ্রূণ নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।
- এরপর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ভ্রূণের বৃদ্ধি ও শিশুর জন্ম ঘটে।

• টেস্টটিউব বেবি প্রযুক্তির গুরুত্ব:
- বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় আক্রান্ত দম্পতিদের জন্য নতুন আশার সৃষ্টি করেছে।
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে আধুনিক প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ।
- পরিবার গঠন ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• অন্যান্য অপশনসমূহ:
- জেনেটিক রোগ → জেনেটিক রোগ প্রতিরোধে PGT (Preimplantation Genetic Testing) করা যায় IVF-এর সময়, কিন্তু IVF-এর প্রধান উদ্দেশ্য নয়। এটি অতিরিক্ত সুবিধা।
- সংক্রামক রোগ → IVF-এর সাথে সংক্রামক রোগের কোনো সম্পর্ক নেই।
- হরমোনজনিত রোগ → হরমোনজনিত সমস্যা (যেমন PCOS) বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে, কিন্তু IVF-এর প্রধান লক্ষ্য হরমোনজনিত রোগের চিকিৎসা নয়, বরং বন্ধ্যাত্বের সমাধান।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১২২.
মৌমাছির বৈজ্ঞানিক নাম কী? 
  1. Homo sapiens 
  2. Apis indica 
  3. Periplaneta americana
  4. Copsychus saularis
সঠিক উত্তর:
Apis indica 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Apis indica 
ব্যাখ্যা

- কয়েকটি জীবের দ্বিপদ নাম নিচে দেওয়া হলো- 
সাধারণ নাম ⇔ বৈজ্ঞানিক নাম: 
• ধান ⇔ Oryza sativa.
• পাট ⇔ Corchorus capsularis.
• আম ⇔ Mangifera indica.
• কাঁঠাল ⇔ Artocarpus heterophyllus.
• শাপলা ⇔ Nymphaea nouchali.
• জবা ⇔ Hibiscus rosa-sinensis.
• কলেরা জীবাণু ⇔ Vibrio cholerae.
• ম্যালেরিয়া জীবাণু ⇔ Plasmodium vivax.
• আরশোলা ⇔ Periplaneta americana.
মৌমাছি ⇔ Apis indica.
• ইলিশ ⇔ Tenualosa ilisha.
• কুনো ব্যাঙ ⇔ Duttaphrynus melanostictus (Bufo melanostictus).
• দোয়েল ⇔ Copsychus saularis.
• রয়েল বেঙ্গল টাইগার ⇔ Panthera tigris.
• মানুষ ⇔ Homo sapiens ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং লাইভ লেকচার।

১২৩.
মানুষের ভ্রূণীয় স্তর কয়টি?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. স্তরবিহীন
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক. একস্তরী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum) । 

খ. দ্বিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita) । 

গ. ত্রিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens) । 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus) । 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৪.
নিউক্লিক এসিড গঠিত হয়-
  1. সুগার + ফসফেট দিয়ে
  2. সুগার + নাইট্রোজেন বেইজ + ফসফেট দিয়ে
  3. সুগার + নাইট্রোজেন বেইজ + সালফেট দিয়ে
  4. প্রোটিন + নাইট্রোজেন বেইজ + সালফেট দিয়ে
সঠিক উত্তর:
সুগার + নাইট্রোজেন বেইজ + ফসফেট দিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুগার + নাইট্রোজেন বেইজ + ফসফেট দিয়ে
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক এসিড:
- নিউক্লক এসিড গঠিত হয় মূলত শর্করা, অজৈব ফসফেট, নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক দিয়ে।
- নিউক্লক এসিড মূলত দুই প্রকার:

• DNA :
- DNA এর পুরো নাম Deoxyribo Nucleic Acid.
- এতে পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট পেন্টোজ শর্করা, অজৈব ফসফেট, নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থাইমিন ও সাইটোসিন) থাকে।

• RNA :
- RNA এর পুরো নাম Ribo Nucleic Acid।
- এটি পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা, অজৈব ফসফেট, নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল ও সাইটোসিন) দ্বারা গঠিত।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১২৫.
সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে কী বলা হয়?
  1. জিন ক্লোনিং
  2. সেল ক্লোনিং
  3. প্রাকৃতিক ক্লোনিং
  4. রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং
সঠিক উত্তর:
রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং
ব্যাখ্যা

ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত।
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়। 
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 
- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। 
যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২৬.
সাপ কোন বর্গের প্রাণি?
  1. Crocodillia
  2. Squamata
  3. Rhyncocepalia
  4. Chelonia
সঠিক উত্তর:
Squamata
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Squamata
ব্যাখ্যা

• সাপের বর্গ (Snake Classification):
- সাপ হলো Reptilia (সাপ, ছিপোকা, কুমির ইত্যাদি) প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত, তবে আরও বিশেষভাবে এটি Squamata বর্গের অন্তর্গত।
- Squamata বর্গের প্রাণীর মধ্যে সাপ এবং ছিপোকা থাকে।
- এই বর্গের প্রাণীর লাঠির মতো শক্তি ও নমনীয় ত্বক থাকে, যা তাদের চামড়ার আকার পরিবর্তনে সাহায্য করে।
- Crocodillia বর্গের প্রাণীর মধ্যে কুমির অন্তর্ভুক্ত, Rhyncocepalia প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতির ছিপোকা, আর Chelonia বর্গের মধ্যে কচ্ছপ অন্তর্ভুক্ত।
- সাপের শারীরিক গঠন, চলাচল পদ্ধতি এবং দাঁতের ধরন অনুযায়ী এটি Squamata বর্গের সঠিক উদাহরণ।  

সুতরাং, সাপের সঠিক বর্গ হলো - খ) Squamata.

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 

১২৭.
নিচের কোনটি ​স্তন্যপায়ী প্রাণী? 
  1. বাদুড় 
  2. টিকটিকি 
  3. কুমির 
  4. কচ্ছপ 
সঠিক উত্তর:
বাদুড় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাদুড় 
ব্যাখ্যা

সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী: 
- এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়।
যেমন- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী।

স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে।
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে।
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়।
- যেমন- তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১২৮.
নীল তিমি কোন শ্রেণির প্রাণী? 
  1. সরীসৃপ
  2. পক্ষীকুল
  3. স্তন্যপায়ী
  4. মৎস্যকুল
সঠিক উত্তর:
স্তন্যপায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্তন্যপায়ী
ব্যাখ্যা
Chordata পর্বের Mammalia শ্রেণির স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- নীল তিমি
- বাদুড়, 
- ডলফিন, 
- মানুষ, 
- বানর ইত্যাদি। 

Chordata পর্বের Reptalia শ্রেণির সরীসৃপ প্রাণী: 
- ঘড়িয়াল, 
- কুমির, 
- কচ্ছপ, 
- সাপ, 
- টিকটিকি ইত্যাদি। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১২৯.
অরীয় প্রতিসামোর উদাহরণ কোনটি?
  1. Hydra
  2. Taenia
  3. Astropecten
  4. Labeo
সঠিক উত্তর:
Astropecten
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Astropecten
ব্যাখ্যা

• এই প্রশ্নটি অরীয় প্রতিসাম্য (Radial Symmetry) সম্পর্কিত।
সঠিক উত্তর: গ) Astropecten.
- Hydra এবং Astropecten উভয়ই অরীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে, তবে Astropecten (তারামাছ) অরীয় প্রতিসাম্যের সবচেয়ে আদর্শ ও সুস্পষ্ট উদাহরণ।

অরীয় প্রতিসাম্য হলো এমন একটি দেহ গঠন যেখানে কেন্দ্রীয় অক্ষের চারদিকে দেহ অংশগুলো সুষমভাবে বিন্যস্ত থাকে। কেন্দ্র দিয়ে যেকোনো উল্লম্ব তলে দেহকে কাটলে সমান দুটি অংশ পাওয়া যায়।

প্রতিটি অপশন বিশ্লেষণ:
ক) Hydra - এটি অরীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে (Cnidaria পর্বের অন্তর্গত)
খ) Taenia - এটি দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে (ফিতাকৃমি)
গ) Astropecten - এটি একটি তারামাছ (Starfish/Sea star), যা স্পষ্ট অরীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে (Echinodermata পর্বের অন্তর্গত)
ঘ) Labeo - এটি একটি মাছ যা দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে

• প্রতিসাম্য:
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে।
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

১. গোলীয় প্রতিসাম্য:
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)।

২. অরীয় প্রতিসাম্য:
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)।

৩. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য:
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)।

৪. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য:
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)।

৫. অপ্রতিসাম্য:
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে।
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩০.
জীববৈচিত্র্যকে কতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে? 
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা
জীববৈচিত্র্য (Biodiversity): 
- পৃথিবীর পরিবেশ জীব ও জড় উপাদান নিয়ে গঠিত, এখানে রয়েছে বিচিত্র ধরনের জীব ও অজস্র জড় পদার্থ। 
- প্রতিটি প্রজাতি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং স্বকীয় বৈশিষ্ট্য দিয়ে যে কোনো একটি প্রজাতি অন্য সব প্রজাতি হতে ভিন্ন ও শনাক্তকরণযোগ্য। 
- জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity), 
২। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity) এবং 
৩। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩১.
Brood pouch কোন মাছে থাকে?
  1. Sea horse
  2. তিমি
  3. হাঙ্গর
  4. ম্যাকারেল
সঠিক উত্তর:
Sea horse
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Sea horse
ব্যাখ্যা

• ব্রুড পাউচ (Brood Pouch):
- ব্রুড পাউচ হলো একটি বিশেষ ধরনের গর্ভধারণের পাউচ যা কিছু মাছের মধ্যে থাকে, যেখানে পুরুষ মাছ তার ডিম বা বাচ্চাদের নিরাপদে রাখে।
- এটি মূলত প্রজননের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং বাচ্চাদের নিরাপত্তা ও পুষ্টি দেয়।
- ব্রুড পাউচের মাধ্যমে ডিমগুলি পরিপক্ব হয়ে মাছের দেহ থেকে বের হয়।

• কোন মাছে থাকে? 
- ব্রুড পাউচ মূলত সি হর্সে (Sea Horse) দেখা যায়।
- সি হর্সের পুরুষ মাছই ডিমের যত্ন নেয় এবং তাদের ব্রুড পাউচে ডিম রাখে যতক্ষণ না তারা ফেটে বের হয়।
- অন্য মাছ যেমন তিমি, হাঙ্গর, বা ম্যাকারেল এ ধরনের ব্রুড পাউচ নেই।

- সুতরাং, ব্রুড পাউচ থাকা মাছ হলো -সি হর্স (Sea Horse). 
- সঠিক উত্তর: ক) Sea horse.

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 

১৩২.
মাছ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়-
  1. ক) Herpetology
  2. খ) Ornithology
  3. গ) Ichthyology
  4. ঘ) Entomology
সঠিক উত্তর:
গ) Ichthyology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Ichthyology
ব্যাখ্যা

- মাছ সম্পর্কিত বিদ্যাকে Ichthyology বলে।
- পাখি সম্পর্কিত বিদ্যাকে Ornithology বলে।
- উভচর ও সরীসৃপ বিষয়ক বিদ্যাকে Herpetology বলে।
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে কীটতত্ত্ব বা Entomology বলে।

উৎসঃ প্রাণিবিদ্যা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৩.
'অভিব্যক্তি' বলতে কী বোঝায়? 
  1. জীবের অপরিবর্তিত থাকা 
  2. ধারাবাহিক পরিবর্তন ছাড়া হঠাৎ রূপান্তর 
  3. পরিবেশের প্রভাবে অস্থায়ী পরিবর্তন 
  4. জীবের ধীর ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন রূপ ধারণ করা 
সঠিক উত্তর:
জীবের ধীর ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন রূপ ধারণ করা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবের ধীর ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন রূপ ধারণ করা 
ব্যাখ্যা

বিবর্তন: 
- বিবর্তন একটি জৈবিক পদ্ধতি, এর প্রকৃত অর্থ হলো ক্রমবিকাশ।
- পৃথিবীতে বর্তমানে যত জীব রয়েছে তারা বিভিন্ন সময়ে এ ভূমণ্ডলে আবির্ভূত হয়েছে, আবার অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী সময়ের আবর্তে বিলুপ্ত হয়েছে। যেমন- ডাইনোসর আজ থেকে কয়েক মিলিয়ন বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে, আবার কোন কোন জীব ধীর গতিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে এখনও টিকে আছে। 
- কয়েক লক্ষ বা হাজার বছর সময়ের ব্যাপকতায় জীব প্রজাতির পৃথিবীতে আবির্ভাব ও টিকে থাকার জন্য যে পরিবর্তন ও অভিযোজন প্রক্রিয়া তাকে জৈব বিবর্তন বলা হয়। 

- হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টেফেন জে. গোল্ড (১৯৯১) এর মতে 'Evolution' পরিপদটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন জার্মান জীববিদ Albrecht von Haller (১৭৭৪ সালে)। 
- তিনি বলেন ধীর অথচ ক্রমাগত ও পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কোন সত্ত্বা সরল থেকে জটিল হওয়ার ধারাবাহিক পরিবর্তনই বিবর্তন। 
- কোন প্রাণী বা উদ্ভিদ ধীরে ধীরে ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রাণী বা উদ্ভিদ এ পরিণত হওয়াকে অভিব্যক্তি বলা হয়। 
- অভিব্যক্তির মূল কথা হলো প্রজাতিগুলো পরিবর্তনযোগ্য অর্থাৎ দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে জীবের চেহারায় পরিবর্তন ঘটে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৪.
Oryza sativa কোন উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম?
  1. গম
  2. ধান
  3. পাট
  4. ভুট্টা
সঠিক উত্তর:
ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধান
ব্যাখ্যা
কয়েকটি জীবের দ্বিপদ নাম: 
• সাধারণ নাম ⇔ বৈজ্ঞানিক নাম: 
- পাট ⇔ Corchorus capsularis
- আম ⇔ Mangifera indica
- কাঁঠাল ⇔ Artocarpus heterophyllus
- শাপলা ⇔ Nymphaea nouchali
- ধান ⇔ Oryza sativa
- জবা ⇔ Hibiscus rosa-sinensis
- কলেরা জীবাণু ⇔ Vibrio cholerae
- ম্যালেরিয়া জীবাণু ⇔ Plasmodium vivax
- আরশোলা ⇔ Periplaneta americana
- মৌমাছি ⇔ Apis indica
- ইলিশ ⇔ Tenualosa ilisha
- দোয়েল ⇔ Copsychus saularis
- রয়েল বেঙ্গল টাইগার ⇔ Panthera tigris,
- মানুষ ⇔ Homo sapiens এবং 
- কুনো ব্যাঙ ⇔ Duttaphrynus melanostictus (Bufo melanostictus)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৫.
তেলাপোকার রক্ত সংবহনতন্ত্র কোন ধরণের?
  1. উন্মুক্ত
  2. বন্ধ
  3. উভয়
  4. কোনটাই না
সঠিক উত্তর:
উন্মুক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উন্মুক্ত
ব্যাখ্যা

• তেলাপোকার রক্ত সংবহনতন্ত্র (Circulatory System of Cockroach):
- তেলাপোকার রক্ত সংবহনতন্ত্র - উন্মুক্ত (Open type)।
- এদের দেহে রক্ত সম্পূর্ণভাবে রক্তনালীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
- রক্ত (হিমোলিম্ফ) দেহগহ্বরের মধ্যে অবস্থিত অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সরাসরি স্নান করায়।
- তেলাপোকার হৃদপিণ্ড একটি দীর্ঘ নলাকার গঠনবিশিষ্ট এবং দেহের পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত।
- রক্ত পরিবহনের সময় অক্সিজেন বহন করে না, কারণ তেলাপোকা ট্র্যাকিয়াল শ্বাসপ্রণালীর মাধ্যমে শ্বাস গ্রহণ করে।
- তাই তেলাপোকার রক্ত সংবহনতন্ত্রকে বন্ধ (Closed) বলা যায় না।

সুতরাং, তেলাপোকার রক্ত সংবহনতন্ত্রের ধরণ হলো - উন্মুক্ত।
সঠিক উত্তর: ক) উন্মুক্ত। 

সূত্র - sciencedirect journal.

১৩৬.
Who is the proponent of the theory of Inheritance of Acquired Characters?
  1. Charles Darwin
  2. Gregor Johann Mendel
  3. Jean-Baptiste Lamarck
  4. Alfred Russel Wallace
  5. Isaac Newton
সঠিক উত্তর:
Jean-Baptiste Lamarck
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Jean-Baptiste Lamarck
ব্যাখ্যা
• ফরাসী বিজ্ঞানী জা ব্যাপ্টিস্ট ল্যামার্ক অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদের প্রবক্তা। 

• ল্যামার্কিজম:
- ল্যামার্কের মতবাদ (Lamarckism) অনুযায়ী, জীব তার জীবদ্দশায় যে বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জন করে, সেগুলো তার বংশধরদের মধ্যে সঞ্চারিত হতে পারে। 
- একে "অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার" বলা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ, জিরাফের লম্বা গলা বিবর্তনের মাধ্যমে এসেছে এই মতবাদ অনুসারে, কারণ তারা গাছের উপরের পাতা খাবার জন্য তাদের ঘাড়কে প্রসারিত করতে করতে লম্বা করেছে, এবং এই লম্বা ঘাড় তাদের সন্তানদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছে।  
- ফরাসী বিজ্ঞানী জা ব্যাপ্টিস্ট ল্যামার্ক অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদ প্রদান করেন, যা ল্যামার্কিজম নামে পরিচিত। 

• ল্যামার্কিজমের মূল ধারণা হলো:
- জীব তার পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন করার জন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার বা অপব্যবহার করে।
- ব্যবহৃত অঙ্গগুলো শক্তিশালী হয় এবং অব্যবহৃত অঙ্গগুলো দুর্বল হয়ে যায়।
- এই অর্জিত বৈশিষ্ট্যগুলো বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়।

• ডডসন ১৯০৬০ খ্রিস্টাব্দে বিবর্তন সম্বন্ধে-এর বিস্তৃত ধারণাকে ৪টি সূত্রের অধীন করে ব্যাখ্যার সুবিধা করে দেন। 
- প্রথম সূত্র- বৃদ্ধি: প্রত্যেক জীব তার জীবনকালে অন্তঃজীবনী শক্তির প্রভাবে দেহের আকার এবং অঙ্গ-প্রতঙ্গের বৃদ্ধি ঘটাতে চায়।
- দ্বিতীয় সূত্র- পরিবেশের প্রভাব এবং জীবের সক্রিয় প্রচেষ্টা ও আঙ্গিক পরিবর্তন: সদা পরিবর্তনশীল পরিবেশে অভিযোজনের জন্য সৃষ্ট অভাবরোধের উদ্দীপনা এবং নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলে দেহের আঙ্গিক পরিবর্তন ঘটে। 
- তৃতীয় সুত্র- ব্যবহার ও অব্যবহার: ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে দেহের একটি বিশেষ অঙ্গ সুগঠিত, কার্যক্ষম ও বড় হতে পারে, আবার অব্যবহার অঙ্গটি ক্রমশ ক্ষুদ্র হয়ে বিলুপ্ত হয়ে যায়। 
- চতুর্থ সূত্র- অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার: প্রতিটি জীবরে জীবদ্দশায় অর্জিত সকল বৈশিষ্ট ভবিষ্যৎ বংশধরে সঞ্চারিত হয়।

• তবে, আধুনিক জিনতত্ত্ব এই মতবাদকে ভুল প্রমাণ করেছে। জিনতত্ত্ব অনুসারে, জীবের অর্জিত বৈশিষ্ট্যগুলো তার জিনগত গঠনকে প্রভাবিত করে না এবং তাই বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয় না। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১৩৭.
বাংলাদেশের সুন্দরবনে কতো প্রজাতির হরিণ দেখা যায়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন: 
- বাংলাদেশের অংশ ৬,০১৭ বর্গ কি.মি.আয়তনের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ, দীর্ঘতম লবণাক্ত জলাভূমি এবং জীব বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইকোসিস্টেম। 
- এখানে ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিদ্যমান যার মধ্যে আছে ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৩১৫ প্রজাতির পাখি, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং বিশ্ব বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
- প্রধান সরীসৃপ জাতিগুলোর মধ্যে আছে নোনা পানির কুমির, অজগর, গোখরা, গুইসাপ, সামুদ্রিক সাপ, গিরগিটি, কচ্ছপ এবং অন্যান্য। 
- বাংলাদেশের সুন্দরবনে চিত্রা হরিণ ও মায়া হরিণ নামক দুই প্রজাতির হরিণ দেখা যায়। 
- এই দুই প্রজাতির মধ্যে চিত্রা হরিণের সংখ্যা একটু বেশি হলেও মায়া হরিণের সংখ্যা খুবই কম। 
উল্লেখ্য যে, 
- বাংলাদেশ এই প্রজাতি ছাড়াও সাম্বার হরিণ, বারোশিঙা (Swamp) হরিণ ও হগ হরিণ নামে তিনটি প্রজাতির হরিণ রয়েছে যা প্রায় বিলুপ্তির পথে। 
- ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 
১৩৮.
Platyhelminthes-এর দেহে কী থাকে না? 
  1. শিখা অঙ্গ 
  2. পুরু কিউটিকল 
  3. চোষক ও আংটা 
  4. সম্পূর্ণ পৌষ্টিকতন্ত্র 
সঠিক উত্তর:
সম্পূর্ণ পৌষ্টিকতন্ত্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পূর্ণ পৌষ্টিকতন্ত্র 
ব্যাখ্যা

প্লাটিহেলমিনথেস (Platyhelminthes): 
- Platy শব্দের অর্থ চ্যাপ্টা এবং helminthes শব্দের অর্থ কৃমি, এই শব্দ দুটি থেকে প্লাটিহেলমিনথেস শব্দটি এসেছে। 
- এই পর্বের প্রাণীদের জীবনযাত্রা বেশ বৈচিত্র্যময়। 
- এই পর্বের বহু প্রজাতি বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী হিসেবে অন্য জীবদেহের বাইরে বা ভিতরে বসবাস করে। 
- তবে কিছু প্রজাতি মুক্তজীবী হিসেবে স্বাদু পানিতে আবার কিছু প্রজাতি লবণাক্ত পানিতে বাস করে। 
- এই পর্বের কোনো কোনো প্রাণী ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বাস করে। 
যেমন- যকৃত কৃমি, ফিতা কৃমি এই পর্বের অন্তর্গত। 

প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের সাধারণ বৈশিষ্ট্য: 
• দেহ চ্যাপ্টা, উভলিঙ্গ। 
• বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী। 
• দেহ পুরু কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
• দেহে চোষক ও আংটা থাকে। 
• দেহে শিখা অঙ্গ নামে বিশেষ অঙ্গ থাকে, এগুলো রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। 
পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ বা অনুপস্থিত। 
উদাহরণ: Fasciola (যকৃৎ কৃমি) Taenia (ফিতা কৃমি)। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১৩৯.
পানির জীব হয়েও বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়-
  1. পটকা মাছ
  2. হাঙ্গর
  3. শুশুক
  4. জেলী ফিস
সঠিক উত্তর:
শুশুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুশুক
ব্যাখ্যা
- ডলফিন (শুশুক) ও তিমি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণি। কিন্তু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য এগুলো মানুষের মতই বাতাস ব্যবহার করে। 
- পানিতে এই প্রাণিগুলো নিঃশ্বাস নিতে পারে না, কারণ এগুলোর ফুলকা নেই। তাই শুশুক পানির জীব হয়েও বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়। 

- Whales and dolphins are mammals and breathe air into their lungs, just like we do.
- They cannot breathe underwater like fish can as they do not have gills. They breathe through nostrils, called a blowhole, located right on top of their heads.
 
- This allows them to take breaths by exposing just the top of their heads to the air while they are swimming or resting under the water.
- After each breath, the blowhole is sealed tightly by strong muscles that surround it, so that water cannot get into the whale or dolphin’s lungs.

উৎস: uk.whales.org
১৪০.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আগত আলোক রশ্মির কত শতাংশ সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহার হয়?
  1. ০.১% মাত্র
  2. ০.০১% মাত্র
  3. ০.০০১% মাত্র
  4. ০.০০০১% মাত্র
সঠিক উত্তর:
০.০১% মাত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.০১% মাত্র
ব্যাখ্যা
বাস্তুতন্ত্রে শক্তি প্রবাহ (Energy flow in ecosystem): 
- সবুজ উদ্ভিদ সৌর শক্তি ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে স্থিতি শক্তিরূপে ধরে রাখে। 
- এ সবুজ উদ্ভিদ থেকে শক্তি তৃণভোজী প্রাণী, তৃণভোজী প্রাণী থেকে মাংসাশী প্রাণীতে এবং সবশেষে বিয়োজকে স্থানান্তরিত হয়, এ সময় সমস্ত শক্তিই বিনষ্ট হয়। 
- এভাবে সৌর শক্তি এক স্তর থেকে অন্য স্তরে বিভিন্ন ধাপে স্থানান্তরিত হওয়ার ধারাকে শক্তি প্রবাহ বলা হয়। 
- শক্তি প্রবাহ নিম্নলিখিত তিনটি পর্যায়ভুক্ত- 
১। শক্তি অর্জন: 
- শক্তির মূল উৎস সূর্যালোক। 
- পৃথিবীতে যে পরিমাণ সূর্যালোক বিকিরিত হয় তার মাত্র ০.০২ ভাগ সবুজ উদ্ভিদের ক্লোরোফিল কর্তৃক শোষিত হয় এবং রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে উৎপন্ন খাদ্যের স্থিতিশক্তিরুপে যুক্ত হয়। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আগত আলোক রশ্মির ০.০১% মাত্র সালোকসংশ্লেষণে যুক্ত হয়। 

২। শক্তির ব্যবহার: 
- বাস্তুতন্ত্রের প্রথম স্তরের খাদকরা অর্থাৎ তৃণভোজী প্রাণীরা সবুজ উদ্ভিদের পাতা, কান্ড, ফুল, ফল, বীজ খেয়ে জীবন ধারণ করে। 
- মাংসাশী প্রাণীরা প্রথম স্তরের খাদক অর্থাৎ তৃণভোজী প্রাণীদের খেয়ে বাঁচে তাই মাংসাশী প্রাণীরা ২য় স্তরের খাদক। 
- প্রথম স্তরের খাদক থেকে এভাবে রাসায়নিক শক্তি দ্বিতীয় স্তরের খাদকের দেহে স্থানান্তরিত হয়। 
- অনুরূপভাবে দ্বিতীয় স্তরের খাদক থেকে রাসায়নিক শক্তি খাদ্য আকারে তৃতীয় স্তরের খাদকে পৌঁছায়। 
- শক্তি অর্জন কখনও ১০০ ভাগ হয় না। 
- জীব যে পরিমাণ শক্তি গ্রহণ করে তার বেশিরভাগ অংশ দেহের তাপ উৎপাদন এবং বহুবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যয় হয়, এভাবে ব্যয়িত শক্তিকে শ্বসনিক শক্তি বলা হয়। 

৩। শক্তির স্থানান্তর: 
- বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক থেকে শক্তি প্রাইমারী খাদক, সেকেন্ডারি খাদক, টারসিয়ারী খাদকে স্থানান্তরিত হয়। 
- এভাবে এক জীব থেকে আরেক জীবে খাদ্য শক্তি স্থানান্তরের সময় বেশ কিছু শক্তি বাস্তুতন্ত্রের সাধারণ নিয়মেই এ তন্ত্রের বাইরে চলে যায়। এ কারণে খাদ্য শিকলে খাদ্যস্তরের সংখ্যা যত কমানো যায় শক্তির অপচয় তত কম হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪১.
প্রতিসাম্য এর ভিত্তিতে প্রাণী প্রধানত কত প্রকারের হয়ে থাকে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা

কোন প্রাণী দেহকে জ্যামিতিক নকশায় কেটে সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ একাধিক খণ্ডে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াকে প্রতিসাম্যতা বলে।

প্রকারভেদ:
১। দ্বিপার্শ্বিয় প্রতিসাম্য
২। অরীয় প্রতিসাম্য
৩। অপ্রতিসাম্য

সূত্র: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান পাঠ্যবই।

১৪২.
নিচে কোনটি ডিএনএ (DNA) এর কাজ?
  1. শক্তি উৎপাদন
  2. জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ
  3. কম্পিউটার মেমোরি সংরক্ষণ
  4. কোষের আবরণী গঠন
সঠিক উত্তর:
জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা

• ডিএনএ (DNA) - জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ করে।

• ডিএনএ (Deoxyribonucleic Acid):
- DNA - হলো একটি জৈব অণু যা জীবের প্রতিটি কোষে জিনগত তথ্য সংরক্ষণ করে এবং বংশগতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ডিএনএকে কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত একটি দ্বি-হেলিক্স কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যা চারটি নিউক্লিওটাইড (অ্যাডেনিন-A, গুয়ানিন-G, সাইটোসিন-C, থাইমিন-T) দিয়ে গঠিত।
- এটি জিন (Gene) এর মাধ্যমে জীবের বৈশিষ্ট্য (যেমন: চোখের রঙ, উচ্চতা) নির্ধারণ করে।
- প্রতিলিপি (replication) ও ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে প্রোটিন সংশ্লেষণের নির্দেশনা দেয়।
- জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক ১৯৫৩ সালে ডিএনএ-এর দ্বি-হেলিক্স কাঠামোর বর্ণনা করেন।

উল্লেখ্য,
- শক্তি উৎপাদন কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ।
- কোষের আবরণী গঠন করে ফসফোলিপিড বাইলেয়ার।

উৎস:
১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

১৪৩.
বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক কে?
  1. Archimedes
  2. Charles Darwin
  3. Oppenheimer
  4. John Dalton
সঠিক উত্তর:
Charles Darwin
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Charles Darwin
ব্যাখ্যা
• বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক হলেন চার্লস ডারউইন। তিনি "The Origin of Species" নামক বিখ্যাত গ্রন্থে প্রাকৃতিক নির্বাচন বা "Natural Selection" এর মাধ্যমে প্রজাতির ধাপে ধাপে পরিবর্তন ও অভিযোজন ব্যাখ্যা করেন। ডারউইনের মতে, পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে সক্ষম জীবেরা বেঁচে থাকে এবং তাদের বৈশিষ্ট্য উত্তরসূরিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময়ে জীবজগতে বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়। আর্কিমিডিস, ওপেনহেইমার বা জন ডাল্টন বিবর্তন তত্ত্বের সাথে জড়িত নন।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: খ) Charles Darwin.

বিবর্তনবাদ:

- বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক চার্লস ডারউইন।
- এই থিওরি বিজ্ঞানের জগতে বৈপ্লবিক তত্ত্ব হিসেবে পরিচিত।
- এই তত্ত্বে দেখানো হয়েছে প্রাণীরা সময়ের সাথে সাথে প্রাকৃতিক নিয়মে ধীরে ধীরে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।
- বিবর্তনবাদের এই তত্ত্বটি আমাদের পৃথিবীর পশুপাখি ও উদ্ভিদ জগৎ সম্পর্কে বুঝতে বড়ো ধরনের ভূমিকা রেখেছে।
- তার এই প্রক্রিয়াকে ইংরেজিতে বলা হয় ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন যার মাধ্যমে একটি প্রাণীর জনগোষ্ঠী থেকে নতুন প্রজাতির উদয় ঘটে।
- অন দ্য অরিজিন অফ স্পেশিস নামে চার্লস ডারউইনের এই বইটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালে।
- তার এই গ্রন্থে তিনি বিবর্তনবাদকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেছেন, এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে কোনো প্রাণী ক্রমাগত অভিযোজনের ফলে আপন পরিবেশের জন্যে বিশেষায়িত হতে হতে এক সময় নতুন একটি প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৪.
কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড জাতির মানুষের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়?
  1. জিনগত বৈচিত্র্য
  2. স্বভাবগত বৈচিত্র্য
  3. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  4. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
সঠিক উত্তর:
জিনগত বৈচিত্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিনগত বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা
• মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড জাতির মানুষের মধ্যে পার্থক্যের প্রধান কারণ হলো জিনগত বৈচিত্র্য। মানুষের শরীরের গঠন, ত্বকের রঙ, চোখের আকৃতি, চুলের গঠন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে জিন বা বংশগত উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে বসবাস করা মানুষের মধ্যে হাজার হাজার বছর ধরে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রভাবে জিনগত পরিবর্তন ঘটে। এই জিনগত বৈচিত্র্যই মঙ্গোলয়েডদের চ্যাপ্টা মুখমণ্ডল ও সরু চোখ এবং নিগ্রয়েডদের ঘন কোঁকড়ানো চুল ও গাঢ় ত্বকের রঙের মত বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে।
- তাই সঠিক উত্তর: ক) জিনগত বৈচিত্র্য।


জীব-বৈচিত্র্য:

- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়।
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়।
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর।
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়।
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়।

প্রাণিজগতের বিভিন্নতা বা প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity):
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে।
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।

যথা-
১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity):
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে।
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে।
- যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
- আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়।

২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity):
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে।
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে।
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে।

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity):
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়।
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি ।
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে।
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৫.
জীব-বৈচিত্র্যের কোন প্রকারটি একই প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে দেখা যায়? 
  1. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  2. জিনগত বৈচিত্র্য
  3. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
  4. বাস্তুসংস্থানগত বৈচিত্র্য
সঠিক উত্তর:
জিনগত বৈচিত্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিনগত বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা
জীব-বৈচিত্র্য: 
- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। 
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়। 
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর। 
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়। 
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়। 

প্রাণিজগতের বিভিন্নতা বা প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity): 
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে। 
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।
যথা- 
১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। 

২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। 
যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে। 

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। 
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি । 
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। 
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৬.
Hydra কোন অঙ্গের সাহায্যে খাদ্য গ্রহণ করে?
  1. শুঁড়
  2. সিলিয়া
  3. কর্ষিকা
  4. ফ্যারিংস
সঠিক উত্তর:
কর্ষিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ষিকা
ব্যাখ্যা

হাইড্রা:
- Hydra আবিষ্কার করেন আব্রাহাম ট্রেম্বলে।
- হাইড্রার নামকরণ করেন বিজ্ঞানী লিনিয়াস।
- বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির Hydra পাওয়া যায় তন্মধ্যে Hydra vulgaris সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
- কর্ষিকার সাহায্যে এরা খাদ্য গ্রহণ, দেহের সংকোচন, প্রসারণ ও চলাচল সম্পন্ন করে থাকে
- হাইড্রা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শ্বসন ও রেচন সম্পন্ন করে।
- মুকুলোদগম ও দ্বিবিভাজনের সাহায্যে অযৌন জনন এবং জননকোষ সৃষ্টি করে যৌন জনন সম্পন্ন করে।
- Hydra পুনরায় উৎপত্তি (regeneration) ক্ষমতা প্রাপ্ত।
- Hydra মিঠাপানির প্রাণী, এরা সাধারণত খাল, বিল, পুকুর, হ্রদ, ডোবা, ঝর্ণার পানিতে বাস করে।
- ঘোলা পানিতে এদের কম পাওয়া গেলেও পরিস্কার, অপেক্ষাকৃত শীতল এবং স্রোতহীন পানিতে এদেরকে তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৭.
কোনটিকে জৈব মুদ্রা বা শক্তি মুদ্রা বলা হয়?
  1. NAD
  2. NADP
  3. GTP
  4. ATP
সঠিক উত্তর:
ATP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ATP
ব্যাখ্যা
শক্তির উৎস হিসেবে এটিপি এর ভূমিকা: 
- জীব কর্তৃক তার দেহে শক্তির উৎপাদন এবং ব্যবহারের মৌলিক কৌশলই হলো জীবনীশক্তি। 
- শক্তির মূল উৎস হলো সূর্য। 
- সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এ প্রক্রিয়ার প্রথমে আলোক পর্যায়ে ATP এবং NADPH নামক জৈব যৌগের সৃষ্টি হয়। এগুলোই হলো জীবনীশক্তি (Bioenergy)। 
- পরবর্তীতে সালোকসংশ্লেষণের কার্বন বিজারণ পর্যায়ে এ শক্তি শর্করা এবং অন্যান্য জৈব যৌগের অণুর রাসায়নিক বন্ধনীতে সঞ্চিত এবং আবদ্ধ হয়। 
- জীবন পরিচালনার জন্য জীবকোষে প্রতিনিয়ত হাজারো ধরনের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- এ সকল বিক্রিয়া জীবনীশক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়। 

- কিছু শক্তিসমৃদ্ধ যৌগ উচ্চশক্তি ধারণ করে। 
- প্রয়োজনে উচ্চ শক্তিসমৃদ্ধ যৌগগুলো অন্যান্য বিক্রিয়ায় শক্তি যোগায়। 
- উচ্চ শক্তি সম্পন্ন যৌগের মধ্যে রয়েছে ATP, GTP, NAD, NADP, FADH, ইত্যাদি। 
- ATP শক্তি জমা রাখে এবং দরকার হলে অন্য বিক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে। 
- এজন্য এটিপিকে (ATP) জৈব মুদ্রা বা শক্তি মুদ্রা বলা হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণের সময় ADP সৌর শক্তি গ্রহণ করে ATP এ পরিণত হয়। 
- আলোর উপস্থিতিতে ATP তৈরির এ প্রক্রিয়াকে ফটোফসফোরাইলেশন বলা হয়। 

- এ প্রক্রিয়ায় এটিপি এর তৃতীয় ফসফেট বন্ধনীতে প্রায় ৭৩০০ ক্যালরি সৌর শক্তি আবদ্ধ হয়। 
- এটিপি হলো মুক্ত শক্তির বাহক, এর ফসফেট বন্ধনীর মধ্যে শক্তি আবদ্ধ থাকে। 
- জৈব সংশ্লেষণ, পরিবহন এবং অন্যান্য বিপাকীয় কাজে শক্তির দরকার হলে ATP ভেঙ্গে ADP ও AMP তৈরি হয় এবং শক্তি উৎপন্ন হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্যবিদ্যালয়।
১৪৮.
হাইড্রা কোন অঙ্গের সাহায্যে খাদ্য গ্রহণ ও চলাচল করে? 
  1. কর্ষিকা
  2. সিলেন্টরন
  3. ত্বক
  4. অ্যান্টেনা
সঠিক উত্তর:
কর্ষিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ষিকা
ব্যাখ্যা
হাইড্রা: 
- হাইড্রা (Hydra) আবিষ্কার করেন আব্রাহাম ট্রেম্বলে। 
- হাইড্রার নামকরণ করেন বিজ্ঞানী লিনিয়াস। 
- বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির Hydra পাওয়া যায় তন্মধ্যে Hydra vulgaris সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। 
- হাইড্রা কর্ষিকার সাহায্যে খাদ্য গ্রহণ, দেহের সংকোচন, প্রসারণ ও চলাচল সম্পন্ন করে থাকে। 
- হাইড্রা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শ্বসন ও রেচন সম্পন্ন করে। 
- হাইড্রা মুকুলোদগম ও দ্বিবিভাজনের সাহায্যে অযৌন জনন এবং জননকোষ সৃষ্টি করে যৌন জনন সম্পন্ন করে। 
- হাইড্রা পুনরুৎপত্তি (regeneration) ক্ষমতা প্রাপ্ত। 
- হাইড্রা মিঠাপানির প্রাণী। 
- হাইড্রা সাধারণত খাল, বিল, পুকুর, হ্রদ, ডোবা, ঝর্ণার পানিতে বাস করে। 
- ঘোলা পানিতে এদের কম পাওয়া গেলেও পরিস্কার, অপেক্ষাকৃত শীতল এবং স্রোতহীন পানিতে এদেরকে তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৯.
আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীর নিঃসরণ অঙ্গ কোনটি? 
  1. নেফ্রিডিয়া
  2. সিলোম
  3. স্পিরাকল
  4. মালপিজিয়ান নালিকা
সঠিক উত্তর:
মালপিজিয়ান নালিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালপিজিয়ান নালিকা
ব্যাখ্যা
আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) পর্ব: 
- আর্থ্রোপোডা সন্ধিপদী প্রাণী। 
- এদের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ১২,৫৭,০৪০। 
- ১৮৪৫ সালে Siebold এ পর্বের নামকরণ করেন। 

আর্থ্রোপোডা পর্বের বৈশিষ্ট্য:  
- আর্থ্রোপোডা পর্বের নামকরণ দুটি গ্রিক শব্দ Arthros সন্ধিযুক্ত ও Podos = পদ হতে গৃহীত হয়েছে। 
১। আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের দেহে তিন ততোধিক জোড়া সন্ধিযুক্ত পার্শ্বীয় পা বা উপাঙ্গ থাকে (সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ এ পর্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য)। 
২। এরা ত্রিস্তরী, দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম, দেহ ট্যাগমায় বিভক্ত। 
৩। এদের দেহ পুরু কিউটিকলযুক্ত কাইটিন আবরণ দ্বারা আবৃত ও বাহ্যিকভাবে খণ্ডায়িত। 
৪। এদের মাথায় এন্টেনা ও একজোড়া পুঞ্জাক্ষি থাকে। 
৫। এই পর্বের প্রাণীতে হিমোসিল নামক দেহগহ্বর থাকে, যে সিলোম বক্ত দ্বারা পূর্ণ থাকে তাকে হিমোসিল (hemocoel) বলে। 
৬। এদের রক্তসংবহনতন্ত্র মুক্ত ধরদের। 
৭। এদের মালপিজিয়ান নালিকার মাধ্যমে রেচন ক্রিয়া সম্পন্ন করে। 
উদাহরণ: Oxya chinensis (ঘাস ফড়ি), Periplaneta americana (তেলাপোকা), Penaeus monodon (বাগদা চিংড়ি), Papilio xuthus (প্রজাপতি) ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
১৫০.
Budding কোন প্রাণিতে ঘটে?
  1. Euglena
  2. Hydra
  3. তেলাপোকা
  4. পরিফেরা
সঠিক উত্তর:
Hydra
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Hydra
ব্যাখ্যা

Budding (কুঁড়ি দ্বারা প্রজনন):
- Budding হলো এক ধরনের অযৌন প্রজনন পদ্ধতি, যেখানে মূল দেহের গায়ে একটি ছোট কুঁড়ি (bud) তৈরি হয়।
- এই কুঁড়িটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে পূর্ণাঙ্গ নতুন জীব হিসেবে পরিণত হয়।
- পরিপক্ব হলে কুঁড়িটি মূল দেহ থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করে।
- Budding প্রক্রিয়ায় জিনগত বৈচিত্র্য থাকে না, কারণ এটি অযৌন প্রজনন।
- এই প্রক্রিয়া সাধারণত সরল গঠনের প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়।

Hydra-তে Budding:
- Hydra একটি সরল জলজ প্রাণী।
- Hydra-র দেহপ্রাচীরের কোষ বিভাজনের মাধ্যমে কুঁড়ি সৃষ্টি হয়।
- কুঁড়িটি ধীরে ধীরে মুখ ও শুঁড় (tentacle) গঠন করে।
- পরিপক্ব হলে এটি মূল Hydra থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
- তাই Hydra-তে Budding প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
- Euglena প্রধানত দ্বিখণ্ডন (Binary fission) প্রক্রিয়ায় বংশবিস্তার করে।
- তেলাপোকা যৌন প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে।
- পরিফেরা (স্পঞ্জ) তে কুঁড়ি সদৃশ প্রক্রিয়া থাকলেও পাঠ্যবই অনুযায়ী আদর্শ উদাহরণ নয়।

সুতরাং, Budding প্রক্রিয়াটি ঘটে Hydra-তে।
সঠিক উত্তর: খ) Hydra.

সূত্র - sciencedirect journal.

১৫১.
নিচের কোনটি দ্বিস্তরী প্রাণী?
  1. অরেলিয়া
  2. স্কাইফা
  3. মানুষ
  4. অ্যামিবা
সঠিক উত্তর:
অরেলিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরেলিয়া
ব্যাখ্যা
ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক. একস্তরী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum) । 

খ. দ্বিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita) । 

গ. ত্রিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens) । 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus) । 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫২.
নিম্নলিখিত কোনটি বাস্তুসংস্থানের সজীব উপাদান?
  1. জলবায়ু 
  2. উৎপাদক 
  3. মাটি 
  4. খনিজ লবণ 
সঠিক উত্তর:
উৎপাদক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎপাদক 
ব্যাখ্যা

বাস্তুসংস্থানের উপাদান: 
- বাস্তুসংস্থানের উপাদান মূলত দুটি।
যথা- 
ক. সজীব উপাদান: 
- সজীব সম্প্রদায় হলো বাস্তুসংস্থানের জীব উপাদান। 
- সজীব উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. উৎপাদক: সবুজ উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, খনিজ লবণ প্রভৃতি জীব উপাদান গ্রহণ করে সৌরশক্তির মাধ্যমে নিজেদের শর্করা জাতীয় খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। এ সবুজ উদ্ভিদই উৎপাদক। 
২. খাদক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক কর্তৃক তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভরশীল জীবগোষ্ঠিকে বলে খাদক। খাদক তিন প্রকার। যথা- প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক এবং তৃতীয় স্তরের খাদক। 
৩. বিয়োজক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক ও খাদকের মৃতদেহ মাটিতে মিশে ব্যাকটেরিয়া, ক্ষুদ্র পোকামাকড় ইত্যাদির দ্বারা বিয়োজক স্তর গড়ে উঠে। পরিশেষে উৎপাদক জীবগোষ্ঠি পুনরায় বিয়োজক স্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে দেহে পুষ্টি জোগায়। 

খ. জড় উপাদান: 
- পরিবেশের সকল অজৈব ও জৈব উপাদান হলো বাস্তুসংস্থানের জড় উপাদান। 
- জড় উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. অজৈব উপাদান: মাটি, পানি, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, খনিজ লবণ ইত্যাদি হচ্ছে বাস্তুসংস্থানের অজৈব উপাদান। 
২. জৈব উপাদান: উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ হতে তৈরি হিউমাস ও ইউরিয়া হলো মাটির জৈব উপাদান। 
৩. ভৌত উপাদান: আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ বাস্তুসংস্থানের ভৌত উপাদান। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৩.
নিচের কোন অমেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহে একটি মাত্র ছিদ্র থাকে? 
  1. কেঁচো
  2. প্রজাপতি
  3. পামরীপোকা
  4. জেলী মাছ
সঠিক উত্তর:
জেলী মাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেলী মাছ
ব্যাখ্যা
- 'জেলী মাছ' একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী, যার দেহে একটি মাত্র ছিদ্র থাকে। 

অমেরুদণ্ডী প্রাণী: 

- অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, এদের দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে না, চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যা পুঞ্জাক্ষি এবং এদের লেজ নেই। 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণী নানা ধরনের হয়। 
যেমন- 
• অনেক অমেরুদণ্ডী প্রাণী আকারে খুবই ছোটো, এদের খালিচোখে দেখা যায় না। 
যেমন- অ্যামিবা। 
• একদলভুক্ত অমেরুদণ্ডী প্রাণী, যাদের দেহ অনেকগুলো খণ্ডে বিভক্ত থাকে। 
যেমন- কেঁচো, জোঁক। 
• আরেক দলভুক্ত প্রাণী, এদের দেহ খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত নয় এবং দেহ সাধারণত শক্ত খোলসে আবৃত থাকে এবং মাংসল পা থাকে। 
যেমন- শামুক ও ঝিনুক। 
• পৃথিবীতে পতঙ্গ শ্রেণিভুক্ত প্রাণীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এদের দেহ তিনটি অংশে বিভক্ত যথা: মস্তক, বক্ষ ও উদর। এদের সন্ধিযুক্ত পা ও পুঞ্জাক্ষি থাকে। 
যেমন- প্রজাপতি, মশা, মাছি, তেলাপোকা, উইপোকা, মৌমাছি ইত্যাদি। 
• অনেক পতঙ্গ আছে যারা উপকার করে। এরা উপকারী পতঙ্গ। 
যেমন: মৌমাছি, রেশম পোকা ইত্যাদি। 
• নানা রকম রোগ ছড়ায় এমন শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। 
যেমন- মশা ও মাছি। 
• অনেক পতঙ্গ আবার ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও ফসলের ক্ষতিসাধন করে। 
যেমন- উইপোকা, লেদাপোকা, পামরীপোকা ইত্যাদি। 
• এমন কতকগুলো সামুদ্রিক প্রাণী আছে, যাদের ত্বকে কাঁটার মতো অংশ থাকে। 
যেমন- তারামাছ ও সামুদ্রিক শশা। 
• আরেক দলভুক্ত অমেরুদণ্ডী প্রাণী। এদের দেহের ভিতর একটা ফাঁপা গহ্বর বা সিলেন্টেরন থাকে। এদের দেহে একটি মাত্র ছিদ্র থাকে। এই ছিদ্রপথে এরা খাদ্য গ্রহণ করে আবার বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়। 
যেমন- জেলী মাছ, প্রবালকীট। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১৫৪.
‘নব্য ডারউইনিজম’ কোন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত? 
  1. কৃষি বিজ্ঞান
  2. বিবর্তন
  3. জৈব চিকিৎসা
  4. পরিবেশ বিজ্ঞান
সঠিক উত্তর:
বিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবর্তন
ব্যাখ্যা
- ‘নব্য ডারউইনিজম’ শব্দটি বিবর্তন বা অভিব্যক্তি'র সঙ্গে সম্পর্কিত। 

বিবর্তন: 

- বিবর্তনের অপর নাম অভিব্যক্তি। 
- বিবর্তন বলতে সাধারণভাবে বুঝায় কোনো কিছু বিকশিত হওয়া, ধীরে ধীরে উন্মোচিত হওয়া। 
- বিবর্তনের মতবাদগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১. ল্যামার্কিজম, ২. ডারউইনিজম ও ৩. নব্য ডারউইনিজম। 
- বিবর্তন এর উল্লেখযোগ্য প্রমাণগুলো হলো- 
১। অঙ্গসংস্থানিক প্রমাণ, 
২। ভ্রূণতত্ত্বীয় প্রমাণ, 
৩। ভৌগোলিক প্রমাণ, 
৪। শারীরবৃত্তীয় প্রমাণ, 
৫। শ্রেণিবিন্যাসগত প্রমাণ, 
৬। জিনতত্ত্বীয় প্রমাণ ও 
৭। জীবাশ্মগত প্রমাণ ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৫.
নিচের কোনটি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী?
  1. বাদুড়
  2. শুশুক
  3. গিরগিটি
  4. তিমি
সঠিক উত্তর:
গিরগিটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরগিটি
ব্যাখ্যা
• স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে। 
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়। 
যেমন- তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি। 

 • সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী: 
-  এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। 
যেমন- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৫৬.
RNA তে কোন নাইট্রোজেন বেইজ টি অনুপস্থিত?
  1. অ্যাডেনিন
  2. গোয়ানিন
  3. থায়মিন
  4. ইউরাসিল
সঠিক উত্তর:
থায়মিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থায়মিন
ব্যাখ্যা
• RNA :
- RNA এর পুরো নাম Ribo Nucleic Acid।
- এটি পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা, অজৈব ফসফেট, নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক নিয়ে গঠিত।

• নাইট্রোজেন বেইজগুলো হলো:
- অ্যাডিনিন(A),
- গুয়ানিন(G),
- ইউরাসিল(U) ও
- সাইটোসিন(C).

অন্যদিকে,
• DNA এর  নাইট্রোজেনঘটিত বেইজ:
- অ্যাডিনিন(A),
- গুয়ানিন(G),
- থাইমিন(T).
- সাইটোসিন(C).
অতএব, থাইমিন RNA এর নাইট্রোজেনঘটিত বেইজ নয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৫৭.
জীববৈচিত্র্যকে কয়টি স্তরে ভাগ করা যায়?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা

• জীববৈচিত্র্যক বা Biodiversity মূলত তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে।
- যথা: ১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity), ২। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity) এবং ৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity)।

প্রজাতিগত বৈচিত্র্য:
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ের ভিন্নতাই হলো প্রজাতিগত বৈচিত্র্য।
- সাধারণভাবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বোঝায়। যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা, বৃদ্ধির ধরন ইত্যাদি ভিন্ন হয়।

বংশগতীয় বৈচিত্র্য:
- এ বৈচিত্র্যতার কারণ হচ্ছে জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চালিত হয়।
- প্রাণিদেহের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা আলাদা জীন দায়ী।
- বিভিন্ন কারণে এ জীনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটায় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। এ বংশানুক্রমিক প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে তাকেই বংশগতীয় বৈচিত্র্য বলা হয়।

বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য:
- একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান ও জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে।
- এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- এ পরিবর্তনের জন্য যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য।
যেমন- একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যে সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৮.
একাইনোডার্মাটা পর্বের প্রাণীদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. শ্বাসতন্ত্র
  2. স্নায়ুতন্ত্র
  3. রেচনতন্ত্র
  4. পানি সংবহনতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
পানি সংবহনতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি সংবহনতন্ত্র
ব্যাখ্যা
Echinodermata (একাইনোডার্মাটা): 
- একাইনোডার্মাটা শব্দটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত (গ্রিক, echino = spin, কণ্টকাবৃত এবং derma = skin, ত্বক)। 
- Jacob Klein (১৭৩৪) সর্বপ্রথম কণ্টকাবৃত প্রাণীদের একাইনোডার্মাটা নামকরন করেন। 
- এ পর্বভুক্ত প্রায় সমস্ত প্রাণীদের দেহত্বক কর্কশ, কণ্টক দ্বারা আচ্ছাদিত এবং দেহত্বকের নিচে অবস্থিত চূর্ণময় পাত থেকে অসংখ্য কণ্টকাকার অভিক্ষেপ সৃষ্টি হয়। 

বৈশিষ্ট্য: 
- অরীয় প্রতিসম, পূর্ণাঙ্গ প্রাণী সাধারণত পঞ্চ অরীয়ভাবে এবং লার্ভা দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম। 
- দেহত্বক ত্রিস্তরী, দেহগহ্বরযুক্ত, প্রকৃত মস্তক, মস্তিষ্ক ও খণ্ডকবিহীন; তবে স্পষ্ট মৌখিক ও পরাঙ্গমুখ তল দেখা যায়। 
- পানি সংবহনতন্ত্র সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য, পানি সংবহন নালি তরল দ্রব্য দিয়ে পূর্ণ থাকে। 
- সংবহনতন্ত্র বর্তমান, স্নায়ুতন্ত্র ও জ্ঞানেন্দ্রিয় অত্যন্ত অনুন্নত ধরনের। 
- সম্পূর্ণরূপে সামুদ্রিক, সমুদ্রের বিভিন্ন গভীরতায় বাস করে, স্বাধীনজীবী, মুক্ত সঞ্চারণশীল। 
- রেচনতন্ত্র অনুপস্থিত, লিঙ্গ সাধারণত পৃথক কিন্তু সঙ্গম হয় না, জনন পদার্থ বাইরে নিক্ষিপ্ত হয় ও পানিতে নিষিক্তকরণ ঘটে। 
- পরোক্ষভাবে বৃদ্ধিকালে লার্ভা দশা দেখা যায়, লার্ভা সর্বদাই দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, মুক্ত সাতারু (কতক প্রজাতিতে বৃদ্ধি সরাসরি)। 
উদাহরণ: Echinus esculentus (সমুদ্র আর্চিন), Cucumaria frondosa (সমুদ্র শশা)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৯.
অরীয় প্রতিসাম্য প্রাণী কোনটি?
  1. অ্যামিবা
  2. ভলভক্স
  3. সমুদ্র তারা
  4. যকৃত কৃমি
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তারা
ব্যাখ্যা
প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- 

ক. গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

খ. অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

ঙ. অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬০.
কোন ক্লোনিং পদ্ধতিতে রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়? 
  1. সেল ক্লোনিং
  2. জীব ক্লোনিং
  3. জিন ক্লোনিং
  4. প্রাকৃতিক ক্লোনিং
সঠিক উত্তর:
জিন ক্লোনিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিন ক্লোনিং
ব্যাখ্যা
ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত। 
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়। 
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 
- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬১.
বাংলাদেশ কোন প্রাণিভৌগলিক অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. ক) ওরিয়েন্টাল
  2. খ) নিওট্রপিক্যাল
  3. গ) নিআর্কটিক
  4. ঘ) প্যালিআর্কটিক
সঠিক উত্তর:
ক) ওরিয়েন্টাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ওরিয়েন্টাল
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গপুর, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি এলাকাসমূহ ওরিয়েন্টাল প্রাণিভৌগলিক অঞ্চলে অবস্থিত।
- দক্ষিণ আমেরিকা ও অধিকাংশ মধ্য আমেরিকা এলাকা নিওট্রপিক্যাল প্রাণিভৌগলিক অঞ্চলে অবস্থিত।
- উত্তর আমেরিকার অধিকাংশ, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড নিআর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত।
- সম্পূর্ণ ইউরোপ, আফ্রিকার উত্তরাংশ ইত্যাদি এলাকা প্যালিআর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১৬২.
কোন প্রাণীতে হিমোসিল নামক দেহগহ্বর থাকে?
  1. তেলাপোকা
  2. ব্যাঙ
  3. হাইড্রা
  4. মাছ
সঠিক উত্তর:
তেলাপোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলাপোকা
ব্যাখ্যা
Arthropoda পর্ব: 
- এরা সন্ধিপদী প্রাণী। 
- এদের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ১২,৫৭,০৪০। 
- ১৮৪৫ সালে Siebold এ পর্বের নামকরণ করেন। 

Arthropoda পর্বের বৈশিষ্ট্য:  
- এ পর্বের নামকরণ দুটি গ্রিক শব্দ Arthros সন্ধিযুক্ত ও Podos = পদ হতে গৃহীত হয়েছে। 
১। আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের দেহে তিন ততোধিক জোড়া সন্ধিযুক্ত পার্শ্বীয় পা বা উপাঙ্গ থাকে (সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ এ পর্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য)। 
২। এরা ত্রিস্তরী, দ্বিপার্শ্বীয়ভাবে প্রতিসম, দেহ ট্যাগমায় বিভক্ত। 
৩। দেহ পুরু কিউটিকলযুক্ত কাইটিন আবরণ দ্বারা আবৃত ও বাহ্যিকভাবে খণ্ডায়িত। 
৪। মাথায় এন্টেনা ও একজোড়া পুঞ্জাক্ষি থাকে। 
৫। এই পর্বের প্রাণীতে হিমোসিল নামক দেহগহ্বর থাকে, যে সিলোম বক্ত দ্বারা পূর্ণ থাকে তাকে হিমোসিল (hemocoel) বলে। 
৬। রক্তসংবহনতন্ত্র মুক্ত ধরদের। 
৭। মালপিজিয়ান নালিকার মাধ্যমে রেচন ক্রিয়া সম্পন্ন করে। 
উদাহরণ: Oxya chinensis (ঘাস ফড়ি), Periplaneta americana (তেলাপোকা), Penaeus monodon (বাগদা চিংড়ি), Papilio xuthus (প্রজাপতি) ইত্যাদি। 


উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
১৬৩.
জিনের যে ভিন্ন ভিন্ন রূপ অভিব্যক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাকে কী বলা হয়?
  1. অ্যালিল
  2. জেনোটাইপ
  3. ক্রোমোজোম
  4. নিউক্লিওটাইড
সঠিক উত্তর:
অ্যালিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালিল
ব্যাখ্যা
অভিব্যক্তি (Evolution): 
- জীব সৃষ্টির মূলেই রয়েছে জৈব অভিব্যক্তি বা Evolution. 
- ল্যাটিন শব্দ 'Evolveri' থেকে Evolution শব্দটি এসেছে। 
- ইংরেজ দার্শনিক এবং শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেনসার (Herbert Spencer) প্রথম ইভোলিউশন কথাটি ব্যবহার করেন। 
- এক সময় বলা হতো, যে ধীর, অবিরাম এবং চলমান পরিবর্তন দিয়ে কোনো সরলতর নিম্নশ্রেণির জীব থেকে জটিল এবং উন্নততর নতুন প্রজাতির বা জীবের উদ্ভব ঘটে, তাকে বিবর্তন বা অভিব্যক্তি বা ইভোলিউশন বলে। 
- তবে জৈব অভিব্যক্তির সব সময় ধীর গতিতে ঘটে না, পরিবেশের কারণে অনেক সময় দ্রুত ঘটতে দেখা গেছে। শুধু তা-ই নয়, জৈব অভিব্যক্তির কারণে জটিল জীব সরলতর রূপ নিয়েছে তারও উদাহরণ আছে। 
- মেক্সিকান কেভ ফিশ পানির উপরের স্তর থেকে সরে গিয়ে গভীর পানিতে অন্ধকার গুহায় বাস করতে শুরু করার কারণে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। কাজেই এখন ইভোলিউশনের সংজ্ঞা জিনের অ্যালিলের মাধ্যমে দেওয়া হয় (একটি নির্দিষ্ট জিন একাধিকভাবে থাকতে পারে, তখন সেই জিনটির ভিন্ন ভিন্ন রূপকে তার অ্যালিল বলা হয়)। 
- কার্টিস-বার্নস (1989) প্রদত্ত আধুনিক সংজ্ঞা অনুসারে, ইভোলিউশন বা জৈব অভিব্যক্তি হলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নির্দিষ্ট এলাকায় এক কিংবা কাছাকাছি প্রজাতির অ্যালিল ফ্রিকোয়েন্সির পরিবর্তন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৪.
শ্রেণিবিন্যাসের জনক কে?
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) লুই পাস্তুর
  3. গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
  4. ঘ) উইলিয়াম হার্ভে
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা

- প্রাণিদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিনাস করা হয়। এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভিন্ন স্তর বা ধাপে সাজানো হয়। জীবজগৎকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।

- শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয় ক্যারোলাস লিনিয়াসকে।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান বই

১৬৫.
জীববৈচিত্র্যকে কয়টি স্তরে ভাগ করা যায়?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity), ২। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity) এবং ৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity)।

প্রজাতিগত বৈচিত্র্য:
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ের ভিন্নতাই হলো প্রজাতিগত বৈচিত্র্য।
- সাধারণভাবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বোঝায়। যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা, বৃদ্ধির ধরন ইত্যাদি ভিন্ন হয়।

বংশগতীয় বৈচিত্র্য:
- এ বৈচিত্র্যতার কারণ হচ্ছে জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চালিত হয়।
- প্রাণিদেহের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা আলাদা জীন দায়ী।
- বিভিন্ন কারণে এ জীনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটায় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। এ বংশানুক্রমিক প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে তাকেই বংশগতীয় বৈচিত্র্য বলা হয়।

বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য:
- একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান ও জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে।
- এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- এ পরিবর্তনের জন্য যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য।
যেমন- একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যে সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৬.
প্রোটিন সংশ্লেষণ করা কোনটির প্রধান কাজ? 
  1. নিউক্লিয়াস
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. রাইবোসোম
  4. মাইটোকন্ড্রিয়া
সঠিক উত্তর:
রাইবোসোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইবোসোম
ব্যাখ্যা
রাইবোসোম: 
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম। 
- প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন। 
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। 
- এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে। 
- সাধারণত অমসৃণ অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার উভয় দিকে এরা সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। 
- রাইবোসোম এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন করা। 
- এজন্য রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়। 
- এটি আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে, প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে এবং এ সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে। 

অন্যদিকে, 
- ক্লোরোপ্লাস্টকে উদ্ভিদের রান্নাঘর বলা হয়। 
- মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বলা। হয়। 
- নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণশক্তি বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৭.
মায়োটম পেশী থাকে কোথায়? 
  1. Urochordata
  2. Cephalochordata
  3. Vertebrata
  4. Cyclostomata
সঠিক উত্তর:
Cephalochordata
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cephalochordata
ব্যাখ্যা

মায়োটম পেশী (Myotome):
- মায়োটম হলো ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন খণ্ডিত পেশী।
- এটি দেহের পার্শ্বদেশে V বা W আকৃতির পেশীখণ্ড হিসেবে সাজানো থাকে।
- মায়োটম মূলত দেহের চলন ও সাঁতারে সাহায্য করে। - এই পেশী সাধারণত কর্ডেট প্রাণীদের দেহে খণ্ডিত আকারে দেখা যায়।
- মায়োটম পেশী নটোকর্ডের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে।

Cephalochordata-তে মায়োটম পেশী:
- Cephalochordata পর্বের প্রাণী যেমন Amphioxus (Branchiostoma)-এ মায়োটম পেশী অত্যন্ত সুস্পষ্ট।
- এদের দেহে সারাজীবন খণ্ডিত মায়োটম পেশী বিদ্যমান থাকে।
- মায়োটম পেশীর সাহায্যে এরা দক্ষভাবে সাঁতার কাটতে পারে।
- Cephalochordata-কে মায়োটম পেশীর আদর্শ উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়।

অন্যান্য অপশনের সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ:
- Urochordata-তে লার্ভা অবস্থায় কিছু পেশী দেখা গেলেও পূর্ণাঙ্গ মায়োটম সুস্পষ্ট নয়।
- Vertebrata-তে মায়োটম ভ্রূণীয় অবস্থায় থাকলেও পরিণত অবস্থায় তা পরিবর্তিত হয়।
- Cyclostomata-তে মায়োটম আংশিকভাবে দেখা গেলেও Cephalochordata-এর মতো স্পষ্ট নয়।

সুতরাং, মায়োটম পেশী প্রধানত ও স্পষ্টভাবে পাওয়া যায় Cephalochordata পর্বে।

সঠিক উত্তর: খ) Cephalochordata.

সূত্র - sciencedirect journal.

১৬৮.
প্রোটিস্টার কোষের ক্রোমাটিন পদার্থে কী থাকে?
  1. Protein
  2. DNA
  3. RNA
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

প্রোটিস্টা (Protista): 
প্রোটিস্টা (Protista) জগতের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে দেওয়া হলো- 
- এরা এককোষী বা বহুকোষী, একক বা কলোনিয়াল (দলবদ্ধ) বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট। 
- কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। 
- ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে। 
- কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে। 
- খাদ্যগ্রহণ শোষণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে। 
- মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে অর্থাৎ জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে। 
- কোনো ভ্রুণ গঠিত হয় না। 
উদাহরণ: অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম, এককোষী ও বহুকোষী শৈবাল ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬৯.
মানবদেহে অটোসোম সংখ্যা- 
  1. ৪৩ টি
  2. ৪২ টি
  3. ৪৪ টি
  4. ৪৬ টি
সঠিক উত্তর:
৪৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৪ টি
ব্যাখ্যা

মানুষের দেহে অটোসোমের সংখ্যা ২২ জোড়া অর্থাৎ ৪৪ টি।

• ক্রোমোজোম:

- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম।
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু।
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি।
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন।
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে।
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া বা ৪৪টি ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম।
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭০.
একই বৈশিষ্ট্যের জন্য ক্রোমোজোমে অবস্থানরত জিনের ভিন্ন ভিন্ন রূপকে কী বলা হয়?
  1. অ্যালিল
  2. লোকাস
  3. জিনোটাইপ
  4. ফিনোটাইপ
সঠিক উত্তর:
অ্যালিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালিল
ব্যাখ্যা

◉ একটি জিনের ভিন্ন ভিন্ন রূপকে অ্যালিল বলা হয়। এগুলো একই লোকাসে (chromosome-এর নির্দিষ্ট অবস্থান) অবস্থান করে এবং কোনো বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন: মটরশুঁটির ফুলের রঙের জন্য একটি অ্যালিল বেগুনি রঙের, আরেকটি অ্যালিল সাদা রঙের হতে পারে।

জিন: 
- জিন (Gene) W. L. Johannsen (গ্রিক genes = born) ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে জিন শব্দটি ব্যবহার করেন।
- ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে মেন্ডেল এর অনুমানকৃত জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারক বস্তুটি হলো এলিমেন্টিস বা ফ্যাক্টর যা পরবর্তীকালে জিন নামে অভিহিত হয়। 
- জিন হচ্ছে বংশগতির মৌলিক একক এবং এরা বংশ পরম্পরায় সঞ্চারিত হয়ে বংশগতিধারা অব্যাহত রাখে। 
- জিন হচ্ছে পলিপেপটাইড সংশ্লেষের জন্য সংকেত প্রদানকারী DNA অণুর অংশ বিশেষ। 

লোকাস: 
- ক্রোমোসোমে একটি জিনের অবস্থানকে লোকাস বলে। 

অ্যালিল: 
- ক্রোমোসোমের একই লোকাসে অবস্থানকারী জিনগুলোকে পরস্পরের অ্যালিল বলা হয়। 

অ্যালিলোমর্ফ: 
- জিনগুলোর একত্রে অবস্থান করাকে অ্যালিলোমর্ফ বলে। 

জিনোটাইপ: 
- জীবদেহের দৃশ্যমান অথবা সুপ্ত বেশিষ্ট্যগুলোর নিয়ন্ত্রক জিনসমূহের গঠনকে জিনোটাইপ বলে। 

ফিনোটাইপ: 
- জীবদেহের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যসমূহকে ফিনোটাইপ বলে। 
- ফিনোটাইপ প্রকৃতপক্ষে জিনোটাইপের জিনসমূহের বাহ্যিক প্রকাশ। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭১.
নিচের কোন প্রাণীটি আর্থ্রোপোডার উদাহরণ? 
  1. জেলি ফিস
  2. আরশোলা
  3. সরীসৃপ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
আরশোলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরশোলা
ব্যাখ্যা
Arthropoda (আর্থ্রোপোডা): 
- আর্থ্রোপোডা (গ্রিক, arthron = joint, সন্ধি + pous, podos = foot, পা) পর্বটি প্রাণিজগতে সর্ব বৃহৎ পর্ব। 
- এদের পা দেখলেই বোঝা যায়, এরা কয়েকটি ভিন্ন অংশ যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে, তাই এদের সন্ধিপদী নাম করা হয়েছে। 
- এরা পাহাড়, পর্বত, সমুদ্রের তলদেশ, মরুভূমির বালুকাময় স্থানসহ সর্বত্র বাস করে। 

বৈশিষ্ট্য: 
- সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বর্তমান। প্রতিটি খণ্ডে সাধারণত একজোড়া উপাঙ্গ থাকে। 
- দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, ত্রিস্তরী, খণ্ডায়িত দেহ। 
- উন্মুক্ত সংবহনতন্ত্র যা পৃষ্ঠীয় সংকোচনশীল হৃদপিণ্ড, ধমনীসমূহ এবং হিমোসিল নিয়ে গঠিত। 
- দেহ প্রাচীর ফুলকা, ট্রাকিয়া বা পুস্তক ফুসফুস দ্বারা শ্বাসকার্য সম্পাদিত হয়। 
- কক্সাল, এন্টেনাল, ম্যালপিজিয়ান নালিকা দ্বারা রেচন সম্পাদিত হয়। 
- স্ত্রী-পুরুষ আলাদা সাধারণত অন্তঃনিষেক সম্পন্ন হয় এবং প্রায় ক্ষেত্রেই মেটামরফোসিস বিদ্যমান। 
- পৌষ্টিকতন্ত্র সম্পূর্ণ, উপাঙ্গ পরিবর্তিত হয়ে মুখোপাঙ্গ গঠিত যা বিভিন্ন প্রকার খাদ্য গ্রহণের জন্য অভিযোজিত। 
উদাহরণ: Periplaneta americana (আরশোলা), Penaeus monodon (বাগদা চিংড়ি), Carcinus maenas (কাঁকড়া)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭২.
ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামোর জনক কে?
  1. ওয়াটসন ও ক্রিক
  2. আলফ্রেড হার্শে
  3. চার্লস ডারউইন
  4. গ্রেগর মেন্ডেল
সঠিক উত্তর:
ওয়াটসন ও ক্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াটসন ও ক্রিক
ব্যাখ্যা
• ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামো:
- ইংরেজ বিজ্ঞানী ক্রিক এবং মার্কিন বিজ্ঞানী ওয়াটসন ১৯৫৩ সালে ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামোর বর্ণনা দেন।
- এই ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামো আবিষ্কারের জন্য তারা নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।
- ডিএনএ হলো একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে।
- ডিএনএ অণুর দ্বি-হেলিক্স কাঠামো প্রথম আবিষ্কার করেন জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক।
- এজন্য জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিককে ডিএনএ অণুর ডাবল হেলিক্স কাঠামোর জনকও বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৩.
নিচের কোনটি বাস্তুতন্ত্রের বিযোজক?
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাঙ
  3. কচ্ছপ
  4. সবুজ উদ্ভিদ
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
ব্যাখ্যা
বাস্তুতন্ত্র: 
- কোনো একটি পরিবেশের অজীব এবং জীব উপাদানসমূহের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া, আদান-প্রদান ইত্যাদির মাধ্যমে পরিবেশে যে তন্ত্র গড়ে উঠে, তাই বাস্তুতন্ত্র নামে পরিচিত। 
- বাস্তুতন্ত্রের সকল উপাদানের মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে।  

বাস্তুতন্ত্রের উপাদান: 
- অজীব এবং জীব এই দুটি প্রধান উপাদান নিয়ে বাস্তুতন্ত্র গঠিত। 
১। অজীব উপাদান: 
- বাস্তুতন্ত্রের প্রাণহীন সব উপাদান অজীব উপাদান নামে পরিচিত। 
- এই অজীব উপাদান আবার দুই ধরনের। 
(ক) অজৈব বা ভৌত উপাদান: অজৈব উপাদানের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার খনিজ লবণ, মাটি, আলো, পানি, বায়ু, তাপ, আর্দ্রতা ইত্যাদি। 
(খ) জৈব উপাদান: সকল জীবের মৃত ও গলিত দেহাবশেষ জৈব উপাদান নামে পরিচিত। 
- পরিবেশের জীব উপাদানের বেঁচে থাকার জন্য এসব অজৈব ও জৈব উপাদান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। 

২। জীব উপাদান: 
- পরিবেশের সকল জীবন্ত অংশই বাস্তুতন্ত্রের জীব উপাদান। 
- বাস্তুতন্ত্রের সকল জীব ও অজীব উপাদানের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। 
- বাস্তুতন্ত্রকে কার্যকরী রাখার জন্য এ সকল জীব যে ধরনের ভূমিকা রাখে, তার উপর ভিত্তি করে এসব জীব উপাদানকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
(ক) উৎপাদক: 
- সবুজ উদ্ভিদ যারা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে, তারা উৎপাদক নামে পরিচিত। 
- যারা উৎপাদক তারা সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- যার উপর বাস্তুতন্ত্রের অন্যান্য সকল প্রাণী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 

(খ) খাদক বা ভক্ষক: 
- যে সকল প্রাণী উদ্ভিদ থেকে পাওয়া জৈব পদার্থ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে বা অন্য কোনো প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে, তারাই খাদক বা ভক্ষক নামে পরিচিত। 
- বাস্তুতন্ত্রে তিন ধরনের খাদক রয়েছে। 
প্রথম স্তরের খাদক: 
- যে সকল প্রাণী উদ্ভিদভোজী তারা প্রথম স্তরের খাদক, এরা তৃণভোজী নামেও পরিচিত। 
- তৃণভোজী প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে ছোট কীটপতঙ্গ থেকে শুরু করে অনেক বড় প্রাণী। 
যেমন- গরু, ছাগল ইত্যাদি। 

দ্বিতীয় স্তরের খাদক: 
- যারা প্রথম স্তরের খাদকদেরকে খেয়ে বাঁচে, তারাই দ্বিতীয় স্তরের খাদক, এরা মাংসাশী বলেও পরিচিত। 
যেমন- পাখি, ব্যাঙ, মানুষ ইত্যাদি। 

তৃতীয় স্তরের খাদক বা সর্বোচ্চ খাদক: 
- যারা দ্বিতীয় স্তরের খাদকদের খায়, তারাই তৃতীয় স্তরের খাদক বা সর্বোচ্চ খাদক। 
যেমন- কচ্ছপ, বক, ব্যাঙ, মানুষ ইত্যাদি। 
- এদের মধ্যে কোনো কোনো প্রাণী আবার একাধিক স্তরের খাবার খায়, এদেরকে বলা হয় সর্বভুক। 

(গ) বিযোজক: 
- এরা পচনকারী নামেও পরিচিত। 
- পরিবেশে কিছু অণুজীব আছে, বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক যারা মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহের উপর ক্রিয়া করে এবং বিযোজিত হয়। 
- এসময় মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, ফলে মৃতদেহ ক্রমশ বিযোজিত হয়ে নানা রকম জৈব ও অজৈব দ্রব্যাদিতে রূপান্তরিত হয়। 
- এসব দ্রব্যের কিছুটা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক নিজেদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। 
- মৃতদেহ থেকে তৈরি বাকি খাদ্য পরিবেশের মাটি ও বায়ুতে জমা হয়, যা উদ্ভিদ পুনরায় ব্যবহার করে। 
- এভাবে প্রকৃতিতে অজীব ও জীব উপাদানের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া হয়ে বাস্তুসংস্থান সচল থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৭৪.
মানুষের শরীরে লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন হয় কোথায় থেকে? 
  1. লিভার
  2. অস্থিমজ্জা
  3. ফুসফুস
  4. হার্ট
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকণিকা: 
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি-অবতল এবং চাকতি আকৃতির।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়।
- এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে।
- অন্যভাবে বলা যায়, লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি চ্যাপ্টা আকৃতির ভাসমান ব্যাগ।
- এ কারণে লোহিত কণিকা অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহন করতে পারে।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না।
- এ কণিকাগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।

অন্যদিকে,
- স্তন্যপায়ী প্রাণীদের লোহিত রক্তকণিকাগুলো উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে আসার পূর্বে নিউক্লিয়াসবিহীন হয়ে যায়।
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে এরকম ঘটে না অর্থাৎ এদের লোহিত কণিকাগুলোতে নিউক্লিয়াস থাকে।
- লোহিত কণিকা প্লীহা (Spleen) তে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭৫.
খাদ্য সংগ্রহের সময় বাসায় ফেরার পথে কোন প্রাণী ফেরোমন নিঃসৃত করে? 
  1. পাখি 
  2. মাছি 
  3. পিপঁড়া 
  4. মশা 
সঠিক উত্তর:
পিপঁড়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিপঁড়া 
ব্যাখ্যা

সমন্বয়: 
- বিভিন্ন অঙ্গ তন্ত্রের পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কাজের মাধ্যমে দেহের সকল কর্মকান্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমন্বয় বলা হয়। 
- উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে বিভিন্ন আচরণ প্রকাশ করা প্রতিটি প্রাণীর মৌলিক বৈশিষ্ট্য। 
- হাঁটা চলা, উঠা বসা, কথা বলা, চিন্তা করা, পড়া মুখস্থ করায় বিভিন্ন অঙ্গ অংশ নেয়। এ অঙ্গগুলোকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি সমন্বয় ব্যবস্থার প্রয়োজন। 
- প্রাণীর প্রয়োজনীয় সমন্বয় ব্যবস্থা স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোন দ্বারা প্রভাবিত হয়। 

হরমোনাল প্রভাব: 
- হরমোনের কারণে প্রাণী তার কার্যকলাপ অর্থাৎ আচরণের পরিবর্তন করে থাকে। 
- হরমোন দেহের নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। নালিবিহীন গ্রন্থিগুলো একে অপরকে নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নালিবিহীন গ্রন্থিগুলোর কার্যকলাপ আবার স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে। 
- সমন্বয় সাধনে প্রাণী হরমোন ব্যবহার করে। 
যেমন- পিপঁড়া খাদ্যের খোঁজ নেয় এবং খাদ্য উৎস থেকে বাসায় আসার পথে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত করে, একে ফেরোমন বলে। এর উপর নির্ভর করে অন্য পিপঁড়াগুলোও খাদ্য উৎসে যায় এবং খাদ্য সংগ্রহ করে বাসায় ফিরে আসে। এ ফেরোমন হরমোনের কারণে পিপঁড়াদের এক সারিতে চলতে দেখা যায়। 
- কোন কোন পতঙ্গ ফেরোমন দিয়ে তার স্বপ্রজাতির সঙ্গীকে খুঁজে নেয়। 
- শস্য ক্ষেতে অনিষ্টকারী পোকা দমনে বা ধ্বংসে ফেরোমন ব্যবহার করা হয়। 
- ফেরোমনের কারণে আকৃষ্ট হয়ে অনিষ্টকারী পোকা ফাঁদে ও পানিতে ডুবে মারা যায়, এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৬.
প্রথম ক্লোন করা স্তন্যপায়ী প্রাণী কোনটি?
  1. ছাগল
  2. গরু
  3. ভেড়া
  4. বিড়াল
সঠিক উত্তর:
ভেড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেড়া
ব্যাখ্যা

◉ বিশ্বের প্রথম ক্লোন করা স্তন্যপায়ী প্রাণী হলো ভেড়া "ডলি" (Dolly the sheep). ডলিকে ১৯৯৬ সালে স্কটল্যান্ডের Roslin Institute-এ বিজ্ঞানীরা সফলভাবে ক্লোন করেন।

​ক্লোনিং:
- প্রাকৃতিক ক্লোন হলো একটি জীব অথবা একদল জীব যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ জননের দ্বারা।
- এদের ধরন হয় মাতৃ জীবের ন্যায়।
- একটি কোষ বা কোষগুচ্ছ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপন্ন হয় এবং তাদের প্রকৃতি মাতৃকোষের ন্যায় হয়, তাকেও ক্লোন বলে।
- প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশিরভাগ প্রোটোজোয়া এবং ঈস্ট, ছত্রাক ক্লোনিং এর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনবোধে কোনো বিশেষ জিনের সংখ্যাবৃদ্ধি করে তার প্রতিলিপি তৈরি করা হয়।
- কোনো কোনো কোষকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় আবাদ মাধ্যমে রেখে বিভাজন ঘটিয়ে এতে উৎপন্ন করা হয় একগুচ্ছ একই ধরনের কোষ।
- আবার কোনো অণুজীব উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীর অনুরূপ অনেক জীব উৎপাদন করাকে ক্লোনিং বলে। 

​- সম্প্রতি জিন প্রযুক্তির দ্বারা সম্ভব হয়েছে একই প্রাণীর দেহকোষ থেকে সম্পূর্ণ নিউক্লিয়াসকে বের করে সে প্রাণীর নিষেককৃত ডিম্বাণুতে ইনজেকট করে নিউক্লিয়াস স্থাপন করা।
- ডিম্বাণুতে দেহকোষের নিউক্লিয়াস স্থাপন করার পূর্বে নিষেককৃত ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসকে অপসারণ করা হয়। এ ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয় তা হুবহু তার মাতার ন্যায় হয়।
- ডলি নামক ভেড়া হলো পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে।
- এ ক্লোনিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শূকর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে।
- ইঁদুর, ডলি নামক ভেড়া, বানর, প্রভৃতি ক্লোনিংয়ের পর বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি এখন মানুষের উপর।
- এ প্রক্রিয়াটি কিন্তু মোটেই দূরূহ নয়, তাই ইতিমধ্যে বিভিন্ন উন্নত দেশে মানুষের ক্লোন করার প্রক্রিয়া আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৭৭.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম নয়?
  1. চিত্রা হরিণ
  2. রাজ কাঁকড়া
  3. স্ফোনোডন
  4. প্লাটিপাস
সঠিক উত্তর:
চিত্রা হরিণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্রা হরিণ
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক  প্রাণীর জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

অন্যদিকে, 
- চিত্রা হরিণ কোনো জীবন্ত জীবাশ্ম নয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
১৭৮.
প্রাণীর ক্ষেত্রে নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালাকে বলা হয়-
  1. ICZN
  2. IZCN
  3. ICBN
  4. ICAN
সঠিক উত্তর:
ICZN
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ICZN
ব্যাখ্যা
• প্রাণীর ক্ষেত্রে নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালাকে বলা হয় 'International code of Zoological Nomenclature', সংক্ষেপে ICZN.

• জীবের নামকরণ (Nomenclature):

- সুইডিস বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম নামকরণের একটি প্রথা প্রবর্তন করেন এটি দ্বিপদ নামকরণ প্রথা (Binomial Nomenclature System) নামে পরিচিত।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature) বর্তমানে ICN (International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code on Zoological Nomenclature)- এর নীতিমালা অনুযায়ী।

• নামকরণের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নীতিমালা নিম্নরূপ:
১. নামকরণের ভাষা হবে ল্যাটিন।
২. প্রতিটি জীব-প্রজাতির নামের দু'টি অংশ থাকবে, প্রথম অংশ হলো গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশ হলো প্রজাতিক পদ।
৩. একই দ্বিপদ নাম কোন দু'টি প্রজাতির জন্য প্রযোজ্য হবে না, একটি দ্বিপদ নাম কেবল মাত্র একটি প্রজাতির জন্যই সুনির্দিষ্ট।
৪. গণ নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের হবে, প্রজাতিক পদ ছোট অক্ষরে হবে ।
৫. ছাপানো হলে দ্বিপদ নাম ইটালিক বা মোটা অক্ষরে হবে। হাতে লিখলে দ্বিপদ নামের নিচে দু'অংশে দু'টি টানা দাগ দিতে হবে; যেমন- Homo sapiens বা Homo sapiens.
৬. দ্বিপদ নামের শেষে নাম প্রদানকারীর নাম উল্লেখ করতে হয়, যেমন- Mangifera indica L., L. হলো লিনিয়াসের সংক্ষিপ্ত রূপ। এ নামটি লিনিয়াস দিয়েছিলেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৯.
প্রাণিজগতে সর্ববৃহৎ পর্ব কোনটি? 
  1. Arthropoda 
  2. Protozoa 
  3. Chordata 
  4. Mollusca 
সঠিক উত্তর:
Arthropoda 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Arthropoda 
ব্যাখ্যা

Arthropoda (আর্থ্রোপোডা): 
- আর্থ্রোপোডা (গ্রিক, arthron = joint, সন্ধি + pous, podos = foot, পা) পর্বটি প্রাণিজগতে সর্ব বৃহৎ পর্ব। 
- এদের পা দেখলেই বোঝা যায়, এরা কয়েকটি ভিন্ন অংশ যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে, তাই এদের সন্ধিপদী নাম করা হয়েছে। 
- এরা পাহাড়, পর্বত, সমুদ্রের তলদেশ, মরুভূমির বালুকাময় স্থানসহ সর্বত্র বাস করে।

বৈশিষ্ট্য: 
- সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বর্তমান। প্রতিটি খণ্ডে সাধারণত একজোড়া উপাঙ্গ থাকে। 
- দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, ত্রিস্তরী, খণ্ডায়িত দেহ। 
- উন্মুক্ত সংবহনতন্ত্র যা পৃষ্ঠীয় সংকোচনশীল হৃদপিণ্ড, ধমনীসমূহ এবং হিমোসিল নিয়ে গঠিত। 
- দেহ প্রাচীর ফুলকা, ট্রাকিয়া বা পুস্তক ফুসফুস দ্বারা শ্বাসকার্য সম্পাদিত হয়। 
- কক্সাল, এন্টেনাল, ম্যালপিজিয়ান নালিকা দ্বারা রেচন সম্পাদিত হয়। 
- স্ত্রী-পুরুষ আলাদা সাধারণত অন্তঃনিষেক সম্পন্ন হয় এবং প্রায় ক্ষেত্রেই মেটামরফোসিস বিদ্যমান। 
- পৌষ্টিকতন্ত্র সম্পূর্ণ, উপাঙ্গ পরিবর্তিত হয়ে মুখোপাঙ্গ গঠিত যা বিভিন্ন প্রকার খাদ্য গ্রহণের জন্য অভিযোজিত। 
উদাহরণ: Periplaneta americana (আরশোলা), Penaeus monodon (বাগদা চিংড়ি), Carcinus maenas (কাঁকড়া)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮০.
বিবর্তন নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে, সেটার নাম কী?
  1. Evolution
  2. Embryology
  3. Mycology
  4. Microbiology
সঠিক উত্তর:
Evolution
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Evolution
ব্যাখ্যা
– বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়- Evolution.

অন্যদিকে,
- ভ্রুণ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Embryology,
- অণুজীব বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় Microbiology,
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Mycology.

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮১.
সামুদ্রিক পর্বের প্রাণীরা কোন পর্বের অন্তর্গত?
  1. Nematoda
  2. Echinodermata
  3. Mollusca
  4. Platyhelminthes
সঠিক উত্তর:
Echinodermata
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Echinodermata
ব্যাখ্যা
• সামুদ্রিক পর্বের প্রাণীরা একাইনোডার্মাটা পর্বের অন্তর্গত।

• Echinodermata পর্বের প্রাণী:
- এরা কণ্টকত্বকী প্রাণী।
- এদের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৭,৫৫০।
- Echinodermata শব্দটি গ্রিক শব্দ Echinus (কণ্টক) এবং Derma (ত্বক)-এ দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।
- ১৭৩৪ সালে Jacob Kline এর নামকরণ করেন।

• Echinodermata পর্বের বৈশিষ্ট্য:
- পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর দেহ পঞ্চঅরীয় প্রতিসম অথবা পাঁচটি সমভাগে বিভাজ্য।
- এদের দেহ কণ্টকময়, স্পাইন ও পেডিসিলারি নামক বহিঃকঙ্কালযুক্ত।
- এই পর্বে পানি সংবহনতন্ত্রের সাহায্যে চলন ও শ্বসনক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
- মস্তক অনুপস্থিত।
- দেহে সুস্পষ্ট মৌখিক তল (oral) ও বিমৌখিক তল (aboral) বিদ্যমান।
- এ পর্বের সকল প্রাণীই সামুদ্রিক।
- রেচনতন্ত্র নেই।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২. জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১৮২.
এন্টোমলজি কোন বিষয়ের বিজ্ঞান?
  1. ক) মাছ
  2. খ) কীটপতঙ্গ
  3. গ) পিপড়া
  4. ঘ) শামুক
সঠিক উত্তর:
খ) কীটপতঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কীটপতঙ্গ
ব্যাখ্যা
কীটতত্ত্ব (Entomology): কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষিত, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১৮৩.
প্রজাতিগত বৈচিত্র্য কী বোঝায়?
  1. বংশগত বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন
  2. পৃথিবীতে জীবের মোট প্রজাতির সংখ্যা
  3. পৃথিবীর সকল জীবের আকার ও আচরণ
  4. বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে পরিবেশগত পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীতে জীবের মোট প্রজাতির সংখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীতে জীবের মোট প্রজাতির সংখ্যা
ব্যাখ্যা
জীববৈচিত্র্য (Biodiversity): 
- পৃথিবীর পরিবেশ জীব ও জড় উপাদান নিয়ে গঠিত, এখানে রয়েছে বিচিত্র ধরনের জীব ও অজস্র জড় পদার্থ। 
- প্রতিটি প্রজাতি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং স্বকীয় বৈশিষ্ট্য দিয়ে যে কোনো একটি প্রজাতি অন্য সব প্রজাতি হতে ভিন্ন ও শনাক্তকরণযোগ্য। 
- জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ের ভিন্নতাই হলো প্রজাতিগত বৈচিত্র্য। 
- সাধারণভাবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বোঝায়। 
যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা, বৃদ্ধির ধরন ইত্যাদি ভিন্ন হয়। 

২। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান ও জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে। 
- এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়। 
- এ পরিবর্তনের জন্য যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। 
যেমন- একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যে সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর। 

৩। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity): 
- এ পৃথিবীতে একই প্রজাতিভুক্ত সদস্যদের মধ্যেও অনেক বিষয়ে পার্থক্য দেখা যায়, এ পার্থক্যগুলো তৈরি হয় তাদের জিন সংগঠনের সামান্য বৈচিত্র্যের কারণে। 
- এ বৈচিত্র্যতার কারণ হচ্ছে জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চালিত হয়। 
- প্রাণিদেহের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা আলাদা জীন দায়ী। 
- বিভিন্ন কারণে এ জীনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটায় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। 
- এ বংশানুক্রমিক প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে তাকেই বংশগতীয় বৈচিত্র্য বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৪.
কোন প্রাণীকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়?
  1. ঘোড়া
  2. বলগা হরিণ
  3. উট
  4. খেচর
সঠিক উত্তর:
উট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উট
ব্যাখ্যা
- উট প্রাণীকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়। 
- উট মরুজীবনের জন্য চমৎকারভাবে অভিযোজিত। 
- এদের প্রশস্ত পদ বালির উপর চলাচলের জন্য যেমন উপযুক্ত, তেমনি নাসারন্ধ্র সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ক্ষমতা এবং সংবদ্ধ করার উপযোগী। 
- দুই সারি চোখের পাপড়ি মরুভূমিতে বসবাসের জন্য খুবই সহায়ক। 
- আর এসব উপযোগিতার কারণে উট মরুভূমিতে সহজেই মালামাল বহন করতে পারে। 

উৎস: dw.com
১৮৫.
GMO -এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Genetically Manipulated Object
  2. General Modified Organism
  3. Genetically Modified Organism
  4. Gene Managed Organism
সঠিক উত্তর:
Genetically Modified Organism
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Genetically Modified Organism
ব্যাখ্যা

- GMO-এর পূর্ণরূপ হলো Genetically Modified Organism. এটি দিয়ে এমন কোনো জীব বোঝানো হয় যার জিনকে জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে পরিবর্তন বা পরিবর্তিত করা হয়েছে।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (Genetic engineering): 
- একটি জীব থেকে একটি নির্দিষ্ট জিন বহনকারী ডিএনএ খণ্ড পৃথক করে ভিন্ন একটি জীবে স্থানান্তরের কৌশল হচ্ছে জিন প্রকৌশল (Genetic engineering)। 
অর্থাৎ, কাঙ্ক্ষিত নতুন একটি বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির জন্য কোনো জীবের ডিএনএর পরিবর্তন ঘটানোকে জিন প্রকৌশল বলে। 
- এই জিন যে কৌশলগুলোর মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়, তাদের একত্রে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ কৌশল বলে। এই কৌশল অবলম্বন করে একটি ডিএনএ অণুর কাঙ্ক্ষিত অংশ কেটে আলাদা করে অন্য একটি ডিএনএ অনুতে প্রতিস্থাপন করার ফলে যে নতুন ডিএনএ অণুর সৃষ্টি হয়, তাকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ বলে। 
- রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরির প্রক্রিয়াকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি বা জিন ক্লোনিং বলা হয়। 
- জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে উৎপন্ন নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের কোনো কোনোটিকে বলা হয় GMO (Genetically Modified Organism) আর কোনোটিকে বলে ট্রান্সজেনিক (Transgenic)। জিএমও এবং ট্রান্সজেনিক জীব এক নয়। 
- আধুনিক জীবপ্রযুক্তি বা জিন কৌশলের মাধ্যমে জিন স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য অল্প সময়ে সুচারুভাবে স্থানান্তর করা সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবক বা উদ্যোক্তাগণের নিকট প্রচলিত প্রজননের তুলনায় এ প্রযুক্তিটি অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৬.
কোন প্রজাতি প্রাকৃতিক ক্লোনিং মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে? 
  1. ব্যাকটেরিয়া 
  2. শৈবাল
  3. প্রোটোজোয়া
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত।
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়।
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 
- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৭.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম? 
  1. পিঁপড়া
  2. লিমুলাস
  3. তেলাপোকা
  4. ম্যানিস
সঠিক উত্তর:
লিমুলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিমুলাস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী হচ্ছে জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৮.
সামাজিক আচরণ প্রদর্শনকারী প্রাণি কোনটি?
  1. কুকুর
  2. বাবুই পাখি
  3. ব্যাঙ
  4. মৌমাছি
সঠিক উত্তর:
মৌমাছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌমাছি
ব্যাখ্যা

• সামাজিক আচরণ প্রদর্শনকারী প্রাণী হলো এমন প্রাণী যারা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে, নিজেদের মধ্যে সংযোগ ও সহযোগিতা করে এবং দলগত কাজ করে। এই ধরনের প্রাণীর মধ্যে একে অপরের সাথে যোগাযোগ, খাদ্য সংগ্রহ, শিকার করা বা শত্রু থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাধারণ। উপরের উদাহরণগুলোতে ব্যাঙ মূলত একা থাকে এবং সামাজিকতা খুব কম দেখায়। বাবুই পাখি কিছুটা দলবদ্ধ হয়, কিন্তু সামাজিক আচরণ সীমিত। কুকুর মানুষের সাথে এবং নিজেদের মধ্যে সামাজিক আচরণ দেখায়, তবে মৌমাছি সম্পূর্ণ সামাজিক প্রাণী হিসেবে পরিচিত। মৌমাছি ছত্রাকের মতো কাঠামো তৈরি, খাদ্য সংগ্রহ, সন্তান পালন এবং রানী মৌমাছির নেতৃত্বের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সামাজিক জীবন পরিচালনা করে।
- তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) মৌমাছি।

 
• মৌমাছির সামাজিক আচরণ (Social Behavior of Honey Bee):
- মৌমাছি সামাজিক প্রাণী। একেকটি বড় পরিবার গড়ে বা বসতবদ্ধ হয়ে মৌচাকে বাস করে।
- প্রত্যেকটি কলোনিতে মৌমাছির ৩টি সম্প্রদায়ভুক্ত সদস্যরা সম্মিলিতভাবে সামাজিক উন্নয়নে নিরলস কাজ করে চলে।
- একটি মাত্র রাণীর নেতৃত্বে কয়েকশ ড্রোন (পুরুষ মৌমাছি) এবং ৬০-৮০ হাজার কর্মী মৌমাছি (বন্ধ্যা স্ত্রী মৌমাছি) সুশৃঙ্খলভাবে সামাজিক দায়িত্ব পালন করে।
- এই মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা মৌমাছি গোষ্ঠীর সকল মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে প্রাণিজগতে অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
- মৌমাছিরা দৃঢ় সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে বাস করে এবং একে সমাজবদ্ধ প্রাণীর আদর্শ উদাহরণ বলা হয়।

সুতরাং, সামাজিক আচরণ প্রদর্শনকারী প্রাণী হল মৌমাছি।  
সঠিক উত্তর: ঘ) মৌমাছি। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল এবং গাজী আসমত। 

১৮৯.
নিচের কোনটি এককোষী প্রাণী? 
  1. মাছ 
  2. ব্যাঙ 
  3. হাইড্রা 
  4. অ্যান্টামিবা 
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টামিবা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টামিবা 
ব্যাখ্যা
কোষের ভিত্তিতে: 
- কোষের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। এককোষী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটি মাত্র কোষ নিয়ে গঠিত তাদেরকে এককোষী প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যান্টামিবা (Entamoeba histolytica)। 

২। বহুকোষী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে বহুকোষী প্রাণী বলে। 
যেমন- হাইড্রা (Hydra vulgaris)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯০.
মনেরা কিংডম এর অন্তর্ভুক্ত প্রাণী কোনটি?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) এমিবা
  3. গ) ব্যাঙ
  4. ঘ) গরু
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া এবং নীলাভ সবুজ শৈবাল- এগুলো মনেরা কিংডম এর অন্তর্ভুক্ত প্রাণী।

মনেরা রাজ্যের বৈশিষ্ট্য-
১. এরা একের পর এক কোষ লম্বালম্বিভাবে যুক্ত হয়ে ফিলামেন্ট গঠন করে।
২. কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে; কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই।
৩. এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা নেই; কিন্তু রাইবোসোম আছে।
৪. কোষ বিভাজন দ্বি-বিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।
৫. এরা সাধারণত শোষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১৯১.
পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় জীব কোনটি? 
  1. সিংহ
  2. তিমি
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. হাতি
সঠিক উত্তর:
তিমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিমি
ব্যাখ্যা
পরিবেশের উপাদানের আন্তঃসম্পর্ক এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতা: 
- পরিবেশের সকল অজীব বা জড় উপাদানের সাথে জীব উপাদানসমূহের সবসময়ই পারস্পরিক ক্রিয়া, আদান-প্রদান চলছে। এমনকি জীব পরিবেশে যে উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে, তাদের মধ্যেও চলছে এই ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া। - বেঁচে থাকার জন্য এরা একে অপরের উপর নির্ভরশীল। 
- কোন অঞ্চলের জীব উপাদান ও জড় উপাদানের নির্ভরশীলতার সম্পর্কের নাম বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম। 
- পৃথিবীতে যত প্রকার জীব আছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো তিমি, আর ক্ষুদ্রতম হলো ব্যাকটেরিয়া। 
- বড় থেকে ক্ষুদ্র সকল জীবই কিন্তু পরস্পর পরস্পরের সাথে বিভিন্নভাবে সম্পর্কিত। 
- পরিবেশের উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে সম্পর্ক আছে। এদের সাথে আবার বায়ু, মাটি ও পানির যে সম্পর্ক তা একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলছে। 

- জীব জড়ের উপর নির্ভরশীল, আবার একটি জীব অপর একটি জীবের উপর নির্ভরশীল। 
- পরিবেশ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিষয়টি বুঝা যায় যেমন- উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির জন্য সৌরশক্তিকে কাজে লাগায়, যা সালোকসংশ্লেষণ নামে পরিচিত। সালোকসংশ্লেষণ (উদ্ভিদ) এবং শ্বসন (উদ্ভিদ এবং প্রাণী) পদ্ধতি পরিবেশের বিভিন্ন অজীব ও জীবের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রধান দুটি উপায়। 
- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং পানি ব্যবহার করে গুকোজ এবং অক্সিজেন উৎপন্ন করে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন অক্সিজেন উদ্ভিদ এবং প্রাণীর শ্বসন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদনে কাজে লাগে। প্রাণীর শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। এভাবেই সালোকসংশ্লেষণ এবং শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জীবমণ্ডলের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সষ্টি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১৯২.
Rh ফ্যাক্টর কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) ১৯২০
  2. খ) ১৯৪০
  3. গ) ১৯৩০
  4. ঘ) ১৯৪৫
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৪০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৪০
ব্যাখ্যা
১৯৪০ সালে কাল ল্যান্ডস্টেইনার এবং উইলার এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনে সক্ষম হন। মানুষের লোহিত রক্ত কণিকার ঝিল্লিতে বানরের লোহিত রক্ত কণিকার ঝিল্লির মত এক প্রকার এন্টিজেন থাকে। এ এন্টিজেনকে রেসাস ফ্যাক্টর বা Rh ফ্যাক্টর বলে।
১৯৩.
স্তন্যপায়ী প্রাণী নয় কোনটি?
  1. Crocodylus palustris
  2. Balaenoptera musculus
  3. Bos taurus
  4. Loxodonta cyclotis
সঠিক উত্তর:
Crocodylus palustris
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Crocodylus palustris
ব্যাখ্যা
• স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে। 
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়। 
যেমন-
- তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি।

এখানে,
- তিমির বৈজ্ঞানিক নাম = Balaenoptera musculus.
- গরুর বৈজ্ঞানিক নাম = Bos taurus.
- হাতির বৈজ্ঞানিক নাম = Loxodonta cyclotis.

 • সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী: 
-  এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। 
যেমন- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী। 

এখানে,
- কুমিরের বৈজ্ঞানিক নাম = Crocodylus palustris.

অতএব, Crocodylus palustris - স্তন্যপায়ী প্রাণী নয়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৯৪.
বংশগতীয় বৈচিত্র্যের প্রধান কারণ কী? 
  1. পরিবেশগত তাপমাত্রা 
  2. জিনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন 
  3. প্রজাতির মধ্যে ভিন্নতা 
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
জিনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন 
ব্যাখ্যা

জীববৈচিত্র্য (Biodiversity): 
- পৃথিবীর পরিবেশ জীব ও জড় উপাদান নিয়ে গঠিত, এখানে রয়েছে বিচিত্র ধরনের জীব ও অজস্র জড় পদার্থ। 
- এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ লক্ষ প্রজাতির বর্ণনা ও নামকরণ পাওয়া গেছে। এর প্রতিটি প্রজাতি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডীত এবং স্বকীয় বৈশিষ্ট্য দিয়ে যে কোনো একটি প্রজাতি অন্য সব প্রজাতি হতে ভিন্ন ও শনাক্তকরণযোগ্য। 
যেমন- আনারস একটি প্রজাতি এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়ে একে অন্যান্য প্রজাতি থেকে আলাদা করা সম্ভব। 
- জীবদের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকার কারণেই জীবজগতকে লক্ষ লক্ষ প্রজাতিতে বিভক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আবার একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের মধ্যেও বৈচিত্র্য থাকে। তাই পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের প্রাচুর্য ও ভিন্নতাই হলো জীববৈচিত্র্য। 

জীববৈচিত্র্যের প্রকারভেদ: 
- জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য: 
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ের ভিন্নতাই হলো প্রজাতিগত বৈচিত্র্য। সাধারণভাবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বোঝায়। যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা, বৃদ্ধির ধরন ইত্যাদি ভিন্ন হয়। 

২। বংশগতীয় বৈচিত্র্য: 
- এ পৃথিবীতে একই প্রজাতিভুক্ত সদস্যদের মধ্যেও অনেক বিষয়ে পার্থক্য দেখা যায়। এ পার্থক্যগুলো তৈরি হয় তাদের জিন সংগঠনের সামান্য বৈচিত্র্যের কারণে। এ বৈচিত্র্যতার কারণ হচ্ছে জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চালিত হয়। প্রাণিদেহের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা আলাদা জীন দায়ী। বিভিন্ন কারণে এ জীনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটায় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। এ বংশানুক্রমিক প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে তাকেই বংশগতীয় বৈচিত্র্য বলা হয়। 

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য: 
- একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান ও জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে। এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়। এ পরিবর্তনের জন্য যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। যেমন- একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যে সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৫.
খাদ্যাভাসের উপর ভিত্তি করে মাছ কয় প্রকার?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৫ প্রকার
  4. ৬ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা

খাদ্যাভাসের উপর ভিত্তি করে মাছের প্রকারভেদ:
- খাদ্যাভাসের উপর ভিত্তি করে মাছকে প্রধানত তিন প্রকারে ভাগ করা যায়।  
- যথা:
- শাকাশী (Herbivorous),
- মাংসাশী (Carnivorous) এবং
- সর্বভুক (Omnivorous)।  

শাকাশী মাছ:
- শাকাশী মাছ হলো যারা উদ্ভিদজাত খাবার খেয়ে জীবনধারণ করে।  
- তারা প্রচুর পরিমাণে ফাইটোপ্লাঙ্কটন, জলজ উদ্ভিদ বা শেওলা খায়।  
- যেমন: রুই, কাতলা ইত্যাদি।  

মাংসাশী মাছ:
- মাংসাশী মাছ হলো যারা পুকুরের বা নদীর ছোট ছোট মাছ, পোকামাকড়, জুপ্লাঙ্কটন ও অন্যান্য জলজ প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে।  
- যেমন: চিতল, বোয়াল ইত্যাদি।  

সর্বভুক মাছ:
- সর্বভুক মাছ হলো যারা উদ্ভিদজাত খাবার এবং প্রাণিজ খাবার দুটোই খায়।  
- যেমন: পাঙ্গাস, তেলাপিয়া ইত্যাদি।  

- সুতরাং, খাদ্যাভাসের উপর ভিত্তি করে মাছের সংখ্যা হলো তিন।  
- সঠিক উত্তর: ক) ৩ প্রকার। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 

১৯৬.
নিচের কোন প্রাণীকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়? 
  1. নিটাম 
  2. প্লাটিপাস 
  3. হাতি 
  4. শিয়াল 
সঠিক উত্তর:
প্লাটিপাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাটিপাস 
ব্যাখ্যা

জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯৭.
নিচের কোনটি উৎপাদক?
  1. সবুজ উদ্ভিদ
  2. মাটি 
  3. শিকারি পোকা 
  4. ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
সবুজ উদ্ভিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজ উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা

- সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সূর্যালোক, জল এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহার করে নিজেদের খাদ্য তৈরি করতে পারে, এই কারণে বাস্তুতন্ত্রে এদেরকে উৎপাদক বা প্রাথমিক উৎপাদক বলা হয়। খাদ্য শৃঙ্খল সবসময় একটি উৎপাদক দিয়েই শুরু হয়। 

ইকোলজি: 

- ইকোলজি হলো এমনই এক বিজ্ঞান যা জৈব ও অজৈব উপাদানসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক, পারস্পরিক মিথস্ত্রিয়া ব্যাখ্যা করে। 
- জীব ও জড় পরিবেশের এই পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ককেই বলা হয় বাস্তুসংস্থান। 
- পরিবেশ ও জীবের এই সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য এবং মানুষ, জীব ও পরিবেশ একে অন্যের জীবনধারণের প্রতিটি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। 

বাস্তুসংস্থানের উপাদান: 
- বাস্তুসংস্থানের উপাদান মূলত দুটি। 
যথা- 
ক. সজীব উপাদান: 
- সজীব সম্প্রদায় হলো বাস্তুসংস্থানের জীব উপাদান। 
- সজীব উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. উৎপাদক: সবুজ উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, খনিজ লবণ প্রভৃতি জীব উপাদান গ্রহণ করে সৌরশক্তির মাধ্যমে নিজেদের শর্করা জাতীয় খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। এ সবুজ উদ্ভিদই উৎপাদক। 
২. খাদক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক কর্তৃক তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভরশীল জীবগোষ্ঠিকে বলে খাদক। খাদক তিন প্রকার। যথা- প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক এবং তৃতীয় স্তরের খাদক। 
৩. বিয়োজক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক ও খাদকের মৃতদেহ মাটিতে মিশে ব্যাকটেরিয়া, ক্ষুদ্র পোকামাকড় ইত্যাদির দ্বারা বিয়োজক স্তর গড়ে উঠে। পরিশেষে উৎপাদক জীবগোষ্ঠি পুনরায় বিয়োজক স্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে দেহে পুষ্টি জোগায়। 

খ. জড় উপাদান: 
- পরিবেশের সকল অজৈব ও জৈব উপাদান হলো বাস্তুসংস্থানের জড় উপাদান। 
- জড় উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. অজৈব উপাদান: মাটি, পানি, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, খনিজ লবণ ইত্যাদি হচ্ছে বাস্তুসংস্থানের অজৈব উপাদান। 
২. জৈব উপাদান: উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ হতে তৈরি হিউমাস ও ইউরিয়া হলো মাটির জৈব উপাদান। 
৩. ভৌত উপাদান: আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ বাস্তুসংস্থানের ভৌত উপাদান। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৮.
কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়? 
  1. মশা
  2. পিঁপড়া
  3. প্লাটিপাস
  4. তেলাপোকা
সঠিক উত্তর:
প্লাটিপাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাটিপাস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী ইত্যাদি হলো জীবন্ত জীবাশ্ম প্রাণী। 
- অন্যদিকে, ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৯.
জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য ১ লিটার পানিতে কমপক্ষে কতটুকু অক্সিজেন থাকা দরকার?
  1. ক) ১০ মিলিগ্রাম
  2. খ) ৫ মিলিগ্রাম
  3. গ) ৮ ডেসিগ্রাম
  4. ঘ) ৪ পিকোগ্রাম
সঠিক উত্তর:
খ) ৫ মিলিগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫ মিলিগ্রাম
ব্যাখ্যা

কোনো কারণে যদি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে থাকা অক্সিজেন নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে কমে যায়, তাহলে জলজ প্রাণীগুলোর সমস্যা হতে থাকে।
যদি পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন না থাকে, তাহলে মাছসহ অন্যান্য প্রাণী বাঁচতেই পারে না। জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য ১ লিটার পানিতে কমপক্ষে ৫ মিলিগ্রাম অক্সিজেন থাকা দরকার।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২০০.
কোন রাজ্যের জীবগুলোর কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না? 
  1. মনেরা
  2. প্রোটিস্টা
  3. প্লান্টি
  4. ফানজাই
সঠিক উত্তর:
মনেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনেরা
ব্যাখ্যা
জীবের শ্রেণিকরণ: 
- বিজ্ঞানীগণ পৃথিবীর সমস্ত জীবকে তাদের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবদ্ধকরণের চেষ্টা করেছেন। 
- ১৯৬৯ খ্রি. বিজ্ঞানী হুইটেকার পঞ্চরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- ১৯৭৪ খ্রি. বিজ্ঞানী মাগিউলিস (Margulis) উক্ত শ্রেণিবিন্যাসকে পুনর্বিন্যাস করে জীবজগতের আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসটি নিম্নরূপ পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করেছেন- 
যেমন-
রাজ্য-১: মনেরা: 
- এ রাজ্যের অধীনে বিন্যস্ত জীবের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- জীবটি এককোষী এবং এর কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না; এরা খুবই ক্ষুদ্র এবং অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায় না। 
উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, স্পাইরোগাইরা ইত্যাদি। 

রাজ্য-২: প্রোটিস্টা: 
- এর অধীনে ঐ সকল জীবকে বিন্যস্ত করা হয়, যাদের কোষ সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত, এরা এককোষী বা বহুকোষী ক্লোরোফিল যুক্ত একক বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
উদাহরণ: ইউগ্লেনা, অ্যামিবা ইত্যাদি। 

রাজ্য-৩: ফানজাই বা ছত্রাক: 
- এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়। দেহে ক্লোরোফিল নেই, তাই এরা পরভোজী। 
উদাহরণ- ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, মাশরুম ইত্যাদি। 

রাজ্য- ৪: প্লান্টি (উদ্ভিদজগৎ): 
- অধিকাংশ উদ্ভিদ নিজেই নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। এদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দ্বারা নির্মিত। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও কোষ গহ্বর বিদ্যমান। উদ্ভিদে সবুজ কণিকা বা ক্লোরোফিল থাকে, তাই এরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
উদাহরণ: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি। 

রাজ্য-৫: এ্যানিমেলিয়া (প্রাণিজগৎ): 
- এসব জীবের কোষে সেলুলোজ নির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে না। সাধারণত এ কোষগুলোতে প্লাস্টিডও থাকে না। তাই খাদ্যের জন্য এরা উদ্ভিদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 
উদাহরণ- মাছ, পাখি, গরু, মানুষ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।