বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কর্মধারয় সমাস

মোট প্রশ্ন৬১৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কর্মধারয় সমাস

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৬১৭

.
'রক্তকমল' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. রক্ত ও কমল
  2. রক্ত যে কমল
  3. রক্তের কমল
  4. রক্ত রূপ কমল
সঠিক উত্তর:
রক্ত যে কমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্ত যে কমল
ব্যাখ্যা
• "রক্তকমল" শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য হলো— রক্ত যে কমল = রক্তকমল।

----------------------- 
• কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
নীল যে আকাশ = নীলাকাশ।
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
রক্ত যে কমল = রক্তকমল।
কাঁচা অথচ মিঠা/ যা কাঁচা, তাই মিঠা = কাঁচামিঠা। 
যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস নয়?
  1. সিংহপুরুষ
  2. বদ্বীপ
  3. অরুণরাঙা
  4. নয়নপদ্ম
সঠিক উত্তর:
অরুণরাঙা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরুণরাঙা
ব্যাখ্যা

উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- ব- এর মতো দ্বীপ = বদ্বীপ,
- প্রাণের মতো প্রিয় = প্রাণপ্রিয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা' উপমান কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
কোনটি কর্মধারয় সমাস?
  1. গাছপাকা
  2. কুশীলব
  3. বাগবিতণ্ডা
  4. মহাত্মা
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাত্মা
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা

অন্যদিকে,
- তৎপুরুষ সমাস - 'বাক্ দ্বারা বিতণ্ডা = বাগবিতণ্ডা।
- দ্বন্দ্ব সমাস - কুশ ও লব = কুশীলব।
- সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস - গাছে পাকা = গাছপাকা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘ভিক্ষান্ন’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
  3. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- আত্ম বিষয়ে যে স্বাতন্ত্র‌্য = আত্মস্বাতন্ত্র্য;
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ;
- ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি;
- ভিক্ষা লব্ধ অন্ন = ভিক্ষান্ন;
- প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ;
- উর্ণ নির্মিত জাল = উর্ণাজাল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
উপমিত কর্মধারয় সমাস নয় কোনটি?
  1. নয়নপদ্ম
  2. পদ্মআঁখি
  3. সিংহপুরুষ
  4. বিষাদসিন্ধু
সঠিক উত্তর:
বিষাদসিন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষাদসিন্ধু
ব্যাখ্যা

উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ;
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

অন্যদিকে,
রূপক কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

.
নিচের কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) মনমাঝি
  2. খ) বিষাদসিন্ধু
  3. গ) ক্রোধানল
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে রূপক কর্মধারয় সমাস হয়।
যেমন - ক্রোধানল, বিষাদসিন্ধু, মনমাঝি ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা‌।
.
নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস?
  1. হাতেখড়ি
  2. বিজয়-পতাকা
  3. চিরুনদাঁতি
  4. বিড়ালচোখী
সঠিক উত্তর:
বিজয়-পতাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজয়-পতাকা
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:  
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- যেমন:
• নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম;
• শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট;
• কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা। 

♠ কর্মধারয় সমাসের প্রকারভেদ 
- কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকার; 
• দ্বিগু কর্মধারয়,
• মধ্যপদলোপী,
• উপমান,
• উপমিত ও
• রূপক কর্মধারয় সমাস।

♣♣ মধ্যপদলোপী কর্মধারয় : 
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথা-
• ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত;
• হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি; 
বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা; 
• সিংহ চিহ্নিত আসন - সিংহাসন, 
• সাহিত্য বিষয়ক সভা- সাহিত্যসভা, 
• স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।

♠♠
পদলোপী বহুব্রীহি:  
• চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি;
• হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি;
• বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী;  
• কমলাক্ষ, শূর্পণখা, দশবছুরে ইত্যাদি।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
"পলান্ন" কোন সমাসের অন্তর্গত?
  1. সাধারণ কর্মধারয়
  2. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  3. রূপক কর্মধারয়
  4. উপমান কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

"পলান্ন" মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের অন্তর্গত।

• কর্মধারয় সমাস:
- সমাস হলো এমন একটি ব্যাকরণিক প্রক্রিয়া যেখানে দুই বা ততোধিক সম্পর্কিত শব্দ একত্রিত হয়ে একটি অর্থপূর্ণ একপদী শব্দ গঠন করে।
- কর্মধারয় সমাস হলো এমন সমাস যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণসমজাত পদ + বিশেষ্য বা বিশেষ্যসমজাত পদ মিলিত হয় এবং এতে দ্বিতীয় পদের অর্থ প্রধান থাকে।
- সাধারণত ব্যাসবাক্যে 'যে', 'যিনি', 'সদৃশ' ইত্যাদি শব্দ থাকে।
- উদাহরণ:
• নীল + পদ্ম = নীলপদ্ম,
• মহান + নবী = মহানবী,
• কাঁচা + মিঠা = কাঁচামিঠা।
- কর্মধারয় সমাসের প্রকারভেদ: মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস।
-----------------------------
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস হলো সেই সমাস যেখানে মূল বাক্যের মধ্যপদ (মধ্যবর্তী শব্দ) বাদ দিয়ে একটি সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করা হয়।
- পলান্ন' (মাংস মিশ্রিত অন্ন) হলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস-এর একটি উদাহরণ, যেখানে ব্যাসবাক্যের ['পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন'] মাঝের পদ 'মিশ্রিত' লুপ্ত হয়েছে।
- অন্যান্য উদাহরণ:
• সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন (এখানে 'চিহ্নিত' পদটি লোপ পেয়েছে)।
• সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা (এখানে 'বিষয়ক' পদটি লোপ পেয়েছে)।
• স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ (এখানে 'রক্ষার্থে' পদটি লোপ পেয়েছে)।
• জগৎ ঈশ্বর = জগদীশ্বর (এখানে 'ঈশ্বরের' পদটি লোপ পেয়েছে)।
• রাজার পুত্র = রাজপুত্র (এখানে 'পুত্র' পদটি লোপ পেয়েছে, যদিও এটি সাধারণত সম্বন্ধ পদে পড়ে, তবে উদাহরণে ব্যবহার করা হয়)।
• ঘৃতান্ন: ঘৃত মিশ্রিত অন্ন (মিশ্রিত পদ লুপ্ত)
• মৌমাছি: মৌ-আশ্রিত মাছি (এখানে 'আশ্রিত' পদটি লুপ্ত)।
• হাসিমুখ: হাসিমাখা মুখ (এখানে 'মাখা' পদটি লুপ্ত)।
• জ্যোৎস্নারাত: জ্যোৎস্না-সুবর্ণিত রাত (এখানে 'সুবর্ণিত' বা 'সুন্দর' পদটি লুপ্ত)।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস?
  1. অল্পপ্রাণ
  2. আধ্যাত্মিক
  3. কালচক্র
  4. কল্পনাবিলাসী
সঠিক উত্তর:
কালচক্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালচক্র
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- ভক্তি রূপ সুধা = ভক্তিসুধা;
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

অন্যদিকে,
• অল্প (হাল্কা) প্রাণ যার = অল্পপ্রাণ (বহুব্রীহি সমাস)। 
• অধ্যাত্ম বিষয়ে জ্ঞান আছে যাঁর = আধ্যাত্মিক (বহুব্রীহি সমাস)। 
• কল্পনায় বিলাস করে যে = কল্পনাবিলাসী (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
"আলুসিদ্ধ" কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন – গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

• কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে যে’ যােজক থাকে, যেমন –
 
খাস যে জমি = খাসজমি;
চিত যে সঁতার = চিতসাঁতার;
ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা;
সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ;
কনক যে চাঁপা = কনকচাপা;
টাক যে মাথা = টাকমাথা;
যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর;
যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১১.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. অজ্ঞান
  2. নাজানা
  3. কদর্থ
  4. অবুঝ
সঠিক উত্তর:
কদর্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কদর্থ
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
কর্মধারয় সমাসে পূর্বপদে ‘কু’ বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে ‘কু’ স্থানে ‘কৎ’ হয়।
যেমন:
- কু যে অর্থ = কদর্থ,
- কু যে আচার = কদাচার।

অন্যদিকে, 
• নঞ্‌ বহুব্রীহি:
বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি বলে । নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়। যেমন: ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান, বে (নাই) হেড যার = বেহেড, না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার। নি (নাই) ভুল যার = নির্ভুল, না (নয়) জানা যা = নাজানা, অজানা ইত্যাদি। এরকম- নাহক, নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, অকেজো, বে- পরোয়া, বেহুঁশ, অনন্ত, বেতার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১২.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস নয়?
  1. ক) কমলমুখ
  2. খ) বিষাদ-সিন্ধু
  3. গ) তুষারশুভ্র
  4. ঘ) মনমাঝি
সঠিক উত্তর:
গ) তুষারশুভ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তুষারশুভ্র
ব্যাখ্যা
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। কমল রূপ মুখ = কমলমুখ, বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু, মন রূপ মাঝি = মনমাঝি, জ্ঞান রূপ বৃক্ষ = জ্ঞানবৃক্ষ এগুলো রূপক কর্মধারয় সমাস। তুষারশুভ্র রুপক কর্মধারয় সমাস নয়। এটি উপমান কর্মধারয় সমাস যার ব্যাসবাক্যঃ তুষারের ন্যায় শুভ্র।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৩.
'আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি' এটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমান কর্মধারয় সমাস
  2. রূপক কর্মধারয় সমাস
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ;
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
'স্মৃতিসৌধ' কোন ধরনের সমাস?
  1. উপমিত কর্মধারয়
  2. রূপক কর্মধারয়
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  4. উপমান কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলােপী কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ হয়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা-
- জ্যোৎস্না শোভিত যে রাত = জ্যোৎস্নারাত;
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া;
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা;
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ।
১৫.
নীল যে আকাশ = নীলাকাশ কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) দ্বিগু
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন - নীল যে আকাশ = নীলাকাশ।
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
রক্ত যে কমল = রক্তকমল।
কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।
যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১৬.
নিচের কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাস এর উদাহরণ?
  1. মনমাঝি
  2. সিংহপুরুষ
  3. চন্দ্রমুখ
  4. প্রস্তরকঠিন
সঠিক উত্তর:
প্রস্তরকঠিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্তরকঠিন
ব্যাখ্যা
• প্রস্তরকঠিন = প্রস্তরের ন্যায় কঠিন; উপমান কর্মধারয় সমাস।

• উপমান কর্মধারয়:
- উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু।
- প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান।
- উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
- যেমন- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ।
- এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়।
- কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম। সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
- যথা: তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র, অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা।

অন্যদিকে,
- চন্দ্রমুখ ও সিংহপুরুষ উপমিত কর্মধারয় সমাস।
- মনমাঝি রূপক কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. পলান্ন
  2. মশা-মাছি
  3. বেহায়া
  4. চিরসুখী
সঠিক উত্তর:
পলান্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলান্ন
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস - পলান্ন

মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- পল (মাংশ) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন

অন্যদিকে,
• দ্বন্দ্ব সমাস - মশা-মাছি।
• অব্যয়ীভাব, বহুব্রীহি সমাস - বেহায়া।
• তৎপুরুষ সমাস - চিরসুখী।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস?
  1. সিংহপুরুষ
  2. পদ্মআঁখি
  3. বিষাদসিন্ধু
  4. চন্দ্রমুখ
সঠিক উত্তর:
বিষাদসিন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষাদসিন্ধু
ব্যাখ্যা

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

অন্যদিকে,
• উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ;
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১৯.
'বজ্রসম' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
  যেমন:
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন,
- এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি ‘কে’ লোপ - পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস,
- বজ্রের সম = বজ্রসম। (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস),
- এখানে ষষ্ঠী বিভক্তি লোপ পেয়েছে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. স্বচ্ছসলিলা
  2. নরাধম
  3. সহোদর
  4. আয়তলোচনা 
সঠিক উত্তর:
নরাধম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নরাধম
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে কর্মধারয় সমাস হলে কখনো কখনো বিশেষণ পরে আসে, বিশেষ্য আগে যায়।
যেমন-
- সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ,
- অধম যে নর = নরাধম।

-------------------
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।
যথা:
- আয়ত লোচন যার = আয়তলোচনা (স্ত্রী),
- মহান আত্মা যার = মহাত্মা,
- স্বচ্ছ সলিল যার = স্বচ্ছসলিলা,
-  ধীর বুদ্ধি যার = ধীরবুদ্ধি।

‘সহ’ কিংবা ‘সহিত’ শব্দের সঙ্গে অন্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে ‘সহ’ ও ‘সহিত’ এর স্থলে ‘স’ হয়।
যেমন : বান্ধবসহ বর্তমান = সবান্ধব, সহ উদর যার = সহোদর > সোদর। এরূপ – সজল, সফল, সদৰ্প, সলজ্জ, সকল্যাণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২১.
কোন সমাসে সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে না?
  1. ক) উপমিত কর্মধারয়
  2. খ) রূপক কর্মধারয়
  3. গ) উপমান কর্মধারয়
  4. ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
ক) উপমিত কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপমিত কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
যেমন -
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ
এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
২২.
নরাধম শব্দটি কোন সমাস?
  1. ক) দ্বিগু
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) দ্বন্দ
  4. ঘ) তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট, কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি। বিশেষণ পদ পূর্বে এবং বিশেষ্য পদ পরে হলে হয় সাধারণ কর্মধারয় সমাস। যেমন- কু যে আচার - কদাচার, সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ, অধম যে নর = নরাধম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩.
উপমিত কর্মধারয় সমাস নয় কোনটি?
  1. জয়ধ্বনি
  2. বদ্বীপ
  3. নয়নপদ্ম
  4. সিংহপুরুষ
সঠিক উত্তর:
জয়ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম,
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- ব-এর মতো দ্বীপ = বদ্বীপ,
- প্রাণের মতো প্রিয় = প্রাণপ্রিয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- জয় সূচক ধ্বনি = জয়ধ্বনি।

এরকম: অষ্টাদশ, ইগলপাখি, উটপাখি, উল্কাপিন্ড, খড়িমাটি, পদ্মানদী, কলিযুগ, কাঠফলক ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪.
’সাম্যবাদ’ কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• 'সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ' কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ। 

কর্মধারয় সমাস:
- কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে - কর্ম + ধৃ + ণিচ + আ = কর্মধারয়।
- এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে।
- অর্থাৎ যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন -
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- যা কাঁচা তাই পাকা = কাঁচাপাকা ইত্যাদি।

মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন -
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
নিচের কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. পদ্মআঁখি
  2. মনমাঝি
  3. কনকচাঁপা
  4. কাজলকালো
সঠিক উত্তর:
পদ্মআঁখি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মআঁখি
ব্যাখ্যা
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। 
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমনঃ-
পুরুষ সিংহের ন্যায়= পুরুষসিংহ
মুখ চন্দ্রের ন্যায়= চন্দ্রমুখ
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি 

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১]
২৬.
‘কাঁচামিঠা’ - এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) কাঁচা ও মিঠা
  2. খ) যা কাঁচা তাই মিঠা
  3. গ) কাঁচা হয়েও মিঠা
  4. ঘ) কাঁচা যে মিঠা
সঠিক উত্তর:
খ) যা কাঁচা তাই মিঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যা কাঁচা তাই মিঠা
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের সমাস হলে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরুপে প্রতিয়মান হলে তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- ‘কাঁচামিঠা’ এর ব্যাসবাক্য - যা কাঁচা তা-ই মিঠা। 

এরূপ:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ,
- কমল রূপ মুখ = কমলমুখ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
২৭.
কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস?
  1. কাজলকালো
  2. তুষারপুত্র
  3. চাঁদমুখ
  4. শশব্যস্ত
সঠিক উত্তর:
চাঁদমুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদমুখ
ব্যাখ্যা
চাঁদমুখ হচ্ছে উপমিত কর্মধারয় সমাস।

• উপমিত কর্মধারয় সমাস
- যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- এই সমাসে দুটো পদই বিশেষ্য হয়।
- যেমন সোনার মতো মুখ সোনামুখ, বাস্তু লতার ন্যায় বাতুলতা। 
- এ সমাসে উপমেয় পদটি সাধারণত পূর্বে বসে।
যেমন
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় মুখচন্দ্র।

এরূপ-
করকমল, করপল্লব, অধরপল্লব, চরণকমল, চরণণয়, চাঁদবদন, চাঁদমুখ, নয়নপল্প, মুখগল্প, হাঁড়িমুখ ইত্যাদি উপমিত কর্মধারয় সমাস।

• উপমান কর্মধারয় সমাস
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন-
ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ। এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।

- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- তুষারের ন্যায় পুত্র = তুষারপুত্র
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

এরূপ-
অগ্নিশর্মা, অরুণরাঙা, কচুকাটা, কদমহাট, কাচভঙ্গুর, কুসুমকোমল, কাজলকালো, গোবেচারা, শৈলোন্নত, দুখখবল, ধনুকবাঁকা, নিমতেতো, প্রস্তরকঠিন, ফুটিফাটা, রক্তিমূর্থ, বকধার্মিক, বিড়ালভপমী, বরফসাদা, বজ্রকঠিন, লৌহকঠিন, শিশির-রিপ, সিদুররাঙা ইত্যাদি উপমান কর্মধারয় সমাস।

উৎস:
১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮.
'কুসুমকোমল' কোন প্রকার কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস
  2. খ) উপমিত কর্মধারয় সমাস
  3. গ) উপমান কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) রূপক কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
গ) উপমান কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপমান কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস: ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।  
আয়কর = আয়ের উপর কর 
মৌমাছি = মৌ আশ্রিত মাছি 
সিংহাসন = সিংহ চিহ্নিত আসন 

উপমান কর্মধারয় সমাস: উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
এই সমাসে একটা বিশেষণ পদ থাকে।
কাজলকালো= কাজলের ন্যায় কালো
কুসুমকোমল = কুসুমের ন্যায় কোমল

রূপক কর্মধারয় সমাসঃ উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করে উপমান ও উপেময় পদের যে সমাস হয় তাকে রূপল কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমনঃ
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু
-মন রূপ মাঝি= মনমাঝি
- প্রাণ রূপ পাখি = প্রাণপাখি

উপমিত কর্মধারয় সমাস: যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
প্রাণপ্রিয় = প্রাণের মতো প্রিয়
রক্তকমল = কমল রক্তের ন্যায়
পদ্মাসন = আসন পদ্মের ন্যায়

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ
২৯.
'চিকিৎসাশাস্ত্র' কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. অব্যয়ীভাব
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস: 
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন-
- সিংহ চিহ্নিত আসন= সিংহাসন। 
 - চিকিৎসা বিষয়ক যে শাস্ত্র = চিকিৎসাশাস্ত্র।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ব্যাকরণ ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৩০.
কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) সিংহপুরুষ
  2. খ) শশব্যস্ত
  3. গ) পদ্মআঁখি
  4. ঘ) চন্দ্রমুখ
সঠিক উত্তর:
খ) শশব্যস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শশব্যস্ত
ব্যাখ্যা
- 'শশব্যস্ত' উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়। 
যেমন -
কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে
শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।
যেমন -
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৩১.
কোন পদটিতে উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হয়?
  1. গুরুভক্তি
  2. ধামাচাপা
  3. বিদ্যাধন
  4. উপকণ্ঠ
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাধন
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

অন্যদিকে,
‘গুরুভক্তি’ চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস। এর ব্যাসবাক্য হচ্ছে - গুড়ুকে ভক্তি = গুরুভক্তি।
‘ধামাচাপা’ তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস। এর ব্যাসবাক্য হচ্ছে - ধামা দ্বারা চাপা = ধামাচাপা।
‘উপকণ্ঠ’ অব্যয়ীভাব সমাস। এর ব্যাসবাক্য হচ্ছে - কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ও ভাষা শিক্ষা,ড. হায়াৎ মামুদ।
৩২.
'যিনি জজ তিনিই সাহেব' = জজ সাহেব -কোন সমাস?
  1. ক) তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) দ্বিগু সমাস
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন - নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম। কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা, যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী]
৩৩.
'মনমাঝি' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) মনের মাঝি
  2. খ) মন দ্বারা চালিত মাঝি
  3. গ) মন রূপ মাঝি
  4. ঘ) মন সদৃশ মাঝি
সঠিক উত্তর:
গ) মন রূপ মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মন রূপ মাঝি
ব্যাখ্যা
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন –
- গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল,
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়।
- এগুলােকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন –
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২০ সংস্করণ)।
৩৪.
নিচের কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. কাজলকালাে
  2. চন্দ্রমুখ
  3. সিংহপুরুষ
  4. পদ্মআঁখি
সঠিক উত্তর:
কাজলকালাে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজলকালাে
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন -
কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে
শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত
এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়। 

উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ
এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
৩৫.
'কুসুমকোমল’ কোন কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমান কর্মধারয় সমাস
  2. উপমিত কর্মধারয় সমাস 
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  4. রূপক কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র।
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল।

অন্যদিকে,
• উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ; 
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয় । এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ;
- ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩৬.
নিচের কোন শব্দটি রূপক কর্মধারায় সমাসের একটি উদাহরণ?
  1. জলযান
  2. মনমাঝি
  3. সিংহদ্বার
  4. একাদশ
সঠিক উত্তর:
মনমাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনমাঝি
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারায় সমাসের উদাহরণ - মনমাঝি

রূপক কর্মধারায় সমাস:
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক
কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি,
- ক্রোধ রূপ অনল = ক্রোধানল।
- আনন্দ রূপ সাগর = আনন্দসাগর।
- পরান রূপ পাখি = পরানপাখি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭.
নিচের কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. মনমাঝি
  2. স্মৃতিসৌধ
  3. তুষারশুভ্র
  4. চন্দ্রমুখ
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রমুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রমুখ
ব্যাখ্যা

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা-
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন, 
- সাহিত্য বিষয়ক সভা =  সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ

• উপমান কর্মধারয়: 
- উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
যেমন
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ =  ভ্রমরকৃষ্ণকেশ।
- তুষারের ন্যায় শুভ্র  = তুষারশুভ্র,
- অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা।

উপমিত কর্মধারয়:
- সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (
যেমন
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ। 
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।

• রূপক কর্মধারয়:
- উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে রূপক কর্মধারয় সমাস হয়।
যেমন-
- ক্রোধ রূপ অনল= ক্রোধানল, 
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, 
- মন রূপ মাঝি  = মনমাঝি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি। (২০১৯ সালের সংস্করণ)

৩৮.
'কদাচার' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়।

যথা:
১. দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে।
যেমন: যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।

২. দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে।
যেমন: যিনি জজ তিনিই = সাহেব জজ সাহেব।

৩. কার্যে পরম্পরা বোঝাতে দুটি কৃতন্ত বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়।
যেমন: আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা।

৪. পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়।
যেমন:
- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা;
- মহতী যে কীর্তি = মহাকীর্তি।

৫. বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে, 'মহৎ' ও 'মহান' স্থানে 'মহা' হয়।
যেমন:
- মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান;
- মহান যে নবি = মহানবি।

৬. পূর্বপদে 'কু' বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে 'কু' স্থানে 'কৎ' হয়।
যেমন:
- কু যে অর্থ = কদর্থ;
- কু যে আচার = কদাচার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩৯.
“মহর্ষি” কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) দ্বন্দ্ব
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) দ্বিগু
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

মহর্ষি [মহোর্‌শি] (বিশেষ্য) ঋষিশ্রেষ্ঠ; বড় ঋষি।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) মহান+ঋষি; বা, মহান যে ঋষি (কর্মধারয় সমাস)}
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

৪০.
'সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ' কোন প্রকার সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কর্মধারয় সমাস
  2. খ) বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) দ্বিগু সমাস
  4. ঘ) তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস সংজ্ঞা:
কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলাে- কর্ম + ধৃ+ ণিচ + আ = কর্মধারয়। এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে। অর্থাৎ যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে। বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট, যা কাঁচা তাই পাকা= কাঁচাপাকা ইত্যাদি।

মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ পায় তাকে বলা হয় মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন-
- পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- প্রীতিসূচক উপহার = প্রীতিউপহার,
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- ঘরে আশ্রিত জামাই =ঘরজামাই,
- সাম্য বিষয়ক বাদ = সাম্যবাদ,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১.
‘নীলপদ্ম’ কোন সমাস?
  1.  দ্বন্দ্ব সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
• বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম, যা কাঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা ইত্যাদি।   

অন্যদিকে,
• সংযোজক অব্যয়ের লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের (পুর্বপদ ও পরপদ) অর্থেরই প্রধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: মাতা ও পিতা = মাতাপিতা; ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ ইত্যাদি।

• যে সমাসের পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: ধানের ক্ষেত = ধানখেত, ‍ভাতকে রাঁধা = ভাতরাঁধা ইত্যাদি।

• ‘অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান। অব্যয় শব্দ পূর্বে বসে যে সমাস হয় এবং যেখানে পুর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন: কূলের সমীপে = উপকূল, দিন দিন = প্রতিদিন ইত্যাদি।   

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪২.
বিশেষণের সাথে বিশেষ্যের যে সমাস হয় তার নাম কী?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাস:
- বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রাধান্য পায় তাকে 'কর্মধারয়' সমাস বলে। কর্মধারয় সমাসে সাধারণত বিশেষণ পদ আগে বসে।

যেমন:
- ফুলের মতো কুমারী = ফুলকুমারী,
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।

অন্যদিকে,
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।
 যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক।

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
- জায়া ও পতি = দম্পতি।

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।
 
উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৩.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস কোনটি?
  1. ভ্রমরকৃষ্ণকেশ
  2. চন্দ্রমুখ
  3. সাহিত্যসভা
  4. সিংহপুরুষ
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যসভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যসভা
ব্যাখ্যা

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

অন্যদিকে, 
-------------------
• উপমান কর্মধারয়:
উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু। প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
যেমন:
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ।
[এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম। সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।]

যথা- তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র, অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা।

• উপমিত কর্মধারয়: 
সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সাথে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (এ ক্ষেত্রে সাধারণ গুণটিকে অনুমান করে নেওয়া হয়) এ সমাসে উপমেয় পদটি পূর্বে বসে।
যেমন-
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।

 উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪৪.
ক্ষুধিত পাষাণ কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. তৎপুরুষ
  4. দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
- বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস  হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়  তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন, 
- ক্ষুধিত-পাষাণ = ক্ষুধিত যে পাষাণ।
- অক্ষয়কীর্তি = অক্ষয় যে কীর্তি। 
- অর্ধপথ = অর্ধ যে পথ।
- খাসমহল = খাস যে মহল। 
- নবান্ন = নব যে অন্ন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৫.
‘দুধভাত’ কোন সমাস?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

দুধভাত = দুধ মিশ্রিত ভাত (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়)

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৪৬.
'অধর পল্লব' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) বহুব্রীহি
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয় সমাস: উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- এই সমাসে সাধারণ ধর্ম উল্লেখ করা থাকে না। অর্থাৎ, উপমান ও উপমিত কর্মধারয়ের মধ্যে যেটিতে সাধারণ ধর্মবাচক পদ থাকবে না, সেটিই উপমিত কর্মধারয় সমাস।
যেমন, 'পুরুষ সিংহের ন্যায় = পুরুষসিংহ'।
এখানে 'পুরুষ'কে 'সিংহ'র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে 'পুরুষ' উপমেয় আর 'সিংহ' উপমান।
সাধারণ ধর্মের উল্লেখ নেই।
সুতরাং, এটি উপমিত কর্মধারয় সমাস।

যেমন:
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
কর কমলের ন্যায় = করকমল।
আসন পদ্মের ন্যায় = পদ্মাসন।
অধর পল্লবের ন্যায় = অধরপল্লব। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৭.
'কাঁচামিঠা' কোন সমাসের সমস্তপদ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• 'কাঁচা অথচ মিঠা'- 'কাঁচামিঠা'- কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ। 

----------------------- 
• কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থ প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
নীল যে আকাশ = নীলাকাশ।
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
রক্ত যে কমল = রক্তকমল।
কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা। 
যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮.
'অজমূর্খ' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন: 
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে, 
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত, 
- অজের ন্যায় মূর্খ = অজমূর্খ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৯.
‘শশব্যস্ত’ শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. দ্বিগু
  3. কর্মধারয়
  4. বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
যেমন: 
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে।
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
৫০.
'শশব্যস্ত' - শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. দ্বন্দ্ব
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে।
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত।
- অজের ন্যায় মূর্খ = অজমূর্খ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- ভাইবোন,
- তালমাতাল ইত্যাদি।

তৎপুরুষ সমাস:
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫১.
নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস?
  1. মহারাজ
  2. সুন্দরলতা
  3. নরাধম
  4. স্মৃতিসৌধ
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিসৌধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিসৌধ
ব্যাখ্যা

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা-
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

অন্যদিকে,
- সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা।(সাধারণ কর্মধারয় সমাস)
- অধম যে নর  = নরাধম।(সাধারণ কর্মধারয় সমাস)
- মহান যে রাজা = মহারাজ।(সাধারণ কর্মধারয় সমাস)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) 

৫২.
"বেগুনভাজা" এর ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. বেগুন ও ভাজা
  2. বেগুনে ভাজা
  3. বেগুন দিয়ে ভাজা
  4. ভাজা যে বেগুন
সঠিক উত্তর:
ভাজা যে বেগুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাজা যে বেগুন
ব্যাখ্যা
• "বেগুনভাজা" এর ব্যাসবাক্য - ভাজা যে বেগুন।
----------------
• কর্মধারয় সমাস:

যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন – গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

• কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে যে’ যােজক থাকে, যেমন –
 
খাস যে জমি = খাসজমি;
চিত যে সঁতার = চিতসাঁতার;
ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা;
সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ;
কনক যে চাঁপা = কনকচাপা;
টাক যে মাথা = টাকমাথা;
যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর;
যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৩.
নিচের কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কাজলকালো
  2. খ) মনমাঝি
  3. গ) চন্দ্রমুখ
  4. ঘ) সিংহপুরুষ
সঠিক উত্তর:
ক) কাজলকালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাজলকালো
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন- গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা ইত্যাদি।

ক. কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে ‘যে' যোজক থাকে।
যেমন-
- খাস যে জমি = খাসজমি
- চিত যে সাঁতার = চিতসাঁতার
- কনক যে চাঁপা = কনকচাঁপা
- টাক যে মাথা = টাকমাথা
- ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা
- সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ
- যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর
- যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।

খ. কিছু কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হয়, সেগুলোকে দ্বিগু কর্মধারয় বলে।
যেমন-
তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা
চার রাস্তার মিলন = চৌরাস্তা।

গ. কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায়। এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় নামে পরিচিত।
যেমন-
- ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত
- হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি
- ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই
- বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা।

ঘ. যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন-
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

ঙ. যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ। 
- এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

চ. কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়। এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন- 
বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু 
মন রূপ মাঝি = মনমাঝি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৪.
'দোতলা' কোন ধরনের সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. দ্বিগু
  3. অব্যয়ীভাব
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

কখনো কখনো সর্বনাম পদ, সংখ্যাবাচক শব্দ এবং উপসর্গ আগে বসে পরপদের সাথে কর্মধারয় সমাস গঠন করে।
যেমন -
- অব্যয়ঃ কুকর্ম, যথাযোগ্য ইত্যাদি।
- সর্বনামঃ সেকাল, একাল ইত্যাদি।
- সংখ্যাবাচকঃ একজন, দোতলা ইত্যাদি।
- উপসর্গঃ বিকাল, সকাল, বিদেশ, বেসুর ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, দোতলা শব্দটি প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাসেরও উদাহরণ।

সূত্রঃ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই।

৫৫.
‘অক্ষয়কীর্তি’ কোন সমাস?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. বহুব্রীহি
  3. কর্মধারয়
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
- বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস  হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়  তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন, 
- ক্ষুধিত-পাষাণ =ক্ষুধিত যে পাষাণ।
- অক্ষয়কীর্তি = অক্ষয় যে কীর্তি। 
- অর্ধপথ = অর্ধ যে পথ।
- খাসমহল = খাস যে মহল। 
- নবান্ন = নব যে অন্ন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মাহমুদ।
৫৬.
"কুসুমকোমল" শব্দটি কোন ধরনের সমাসের উদাহরণ? 
  1. উপমিত কর্মধারয়
  2. উপমান কর্মধারয়
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৫৭.
‘নয়নকমল’-এর যথার্থ ব্যাসবাক্য হলো-
  1. ক) নয়নের ন্যায় কমল
  2. খ) নয়ন কমলের ন্যায়
  3. গ) নয়নে কমল
  4. ঘ) নয়ন ও কমল
সঠিক উত্তর:
খ) নয়ন কমলের ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নয়ন কমলের ন্যায়
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয় সমাসে প্রত্যক্ষ বা উপমেয়ের সাথে পরোক্ষ বা উপমানের তুলনা হয়।
উপমিত সমাসে সাধারণ ধর্ম বা গুণের উল্লেখ থাকে না, সাধারণ ধর্ম বা গুণ উহ্য থাকে।
যেমন : ‘পুরুষসিংহ’ সমস্তপদের পূর্বপদ পুরুষ ও পরপদ সিংহের তুলনা করা হলেও পুরুষ ও সিংহের সাধারণ ধর্ম বা গুণের উল্লেখ নেই, এখানে সাধারণ ধর্ম ‘শক্তিশালী’ বা ‘বলশালী’ যা-ই হোক না কেন তা উহ্য আছে।
সুতরাং বলা যায় যে, সাধারণ গুণের উল্লেখ না থেকে উপমেয়ের সাথে উপমানের যে সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

উৎস : বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
৫৮.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) নবযৌবন
  2. খ) আমরা
  3. গ) প্রিয়ংবদা
  4. ঘ) মেঘলুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ক) নবযৌবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নবযৌবন
ব্যাখ্যা
নবযৌবন কর্মধারয় সমাস, আমরা একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস, প্রিয়ংবদা উপপদ তৎপুরুষ সমাস এবং মেঘলুপ্ত তৎপুরুষ সমাস। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা‌।
৫৯.
'জজ সাহেব' কোন সমাস?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যাক্তি বা বস্তুকে বোঝালে কর্মধারয় সমাস হয়। জজ সাহেব = যিনি জজ তিনিই সাহেব।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণী।
৬০.
‘কানাকড়ি’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব
  2. তৎপুরুষ
  3. কর্মধারয়
  4. দ্বিগু
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

কানাকড়ি = কানা যে কড়ি । এটি একটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কর্মধারয় সমাসঃ
নবান্ন = নব যে অন্ন।
আগ্নেয়গিরি = আগ্নেয় যে গিরি।
ক্রীতদাস = ক্রীত যে দাস।
প্রাণচঞ্চল = চঞ্চল যে প্রাণ।
হেডমাস্টার = হেড যে মাস্টার।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬১.
'বিষবৃক্ষ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) উপমান কর্মধারয়
  2. খ) মধ্যপদলােপী কর্মধারয়
  3. গ) উপমিত কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) রূপক কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) রূপক কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রূপক কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন - নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম। এখানে নীল রংটিকে প্রাধান্য না দিয়ে পদ্মটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

রূপক কর্মধারয়

যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
বিষবৃক্ষ = বিষ রূপ বৃক্ষ;
- এটি রূপক কর্মধারয় সমাস।
বিষবৃক্ষ বলতে বিশেষ ধরণের বৃক্ষকে বোঝায় যার ফল বিষময়। এখানে, বিষবৃক্ষ দ্বারা প্রথম অংশ 'বিষ'কে বোঝানো হচ্ছে না, পরের অংশ 'বৃক্ষ'কে বোঝাচ্ছে। অর্থ্যাৎ, পরপদের প্রাধান্য পাচ্ছে।

এরূপ:
জ্ঞান রূপ বৃক্ষ = জ্ঞানবৃক্ষ;
প্রান রূপ বায়ু = প্রাণবায়ু;
কাল রূপ রাত্রি = কালরাত্রি;
মন রূপ মাঝি = মনমাঝি ইত্যাদি।

উৎস: ড. হায়াৎ মামুদ রচিত ভাষা শিক্ষা বই ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬২.
'মুজিববর্ষ' কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. দ্বিগু সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• মুজিববর্ষ এর ব্যাসবাক্য: 'মুজিবের স্মরণে যে বর্ষ'।
- এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।

•মধ্যপদলােপী কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ হয়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যথা-
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা। 
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। 
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।
- আয়ের উপর কর = আয়কর। 
------------------------- 
• মুজিববর্ষ' সম্পর্কে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করা হয় - ১২ জানুয়ারী, ২০১৯।
- ১৭ মার্চ ২০২০ — ৩১ মার্চ ২০২২ সাল মুজিব বর্ষের সময়কাল।
- সব্যসাচী হাজরা মুজিব বর্ষের লোগোর ডিজাইনার।
- মুজিববর্ষ-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (জন্ম ১৭ মার্চ ১৯২০)।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মুজিব বর্ষ’ ঘোষণা করেন।
- মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয় ১০ জানুয়ারি ২০২০ থেকে।
- তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর, ঢাকা মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা উদ্বোধন করেন।
- ১০ জানুয়ারি ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষের লোগো উন্মোচন করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, দৈনিক প্রথম আলো, ১২ ডিসেম্বর ২০২০ ও দৈনিক যুগান্তর, ৮ জানুয়ারী, ২০২২। 
৬৩.
নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
  2. যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
  3. উপমান কর্মধারয় সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
  4. উপমিত কর্মধারয় সমাসে উভয় পদই বিশেষণ হয়।
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয় সমাসে উভয় পদই বিশেষণ হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয় সমাসে উভয় পদই বিশেষণ হয়।
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন -
কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে
শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত
এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়। 

উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ
এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
৬৪.
নিচের কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাস?
  1. পদ্মআঁখি
  2. বীরকেশরী
  3. রক্তলাল
  4. সিংহপুরুষ
সঠিক উত্তর:
রক্তলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তলাল
ব্যাখ্যা

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- রক্তের ন্যায় লাল = রক্তলাল,
- তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র।

অন্যদিকে,
• উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- বীর কেশরীর ন্যায় = বীরকেশরী;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ;
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৬৫.
'হাসিমুখ' শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬৬.
'বিষবৃক্ষ' (বিশ সদৃশ বৃক্ষ) কোন সমাস?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) বহুবীহি
  3. গ) অব্যয়ীভাব
  4. ঘ) কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন - নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম। এখানে নীল রংটিকে প্রাধান্য না দিয়ে পদ্মটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

বিষবৃক্ষ = বিষ রূপ বৃক্ষ; এটি রূপক কর্মধারয় সমাস।
বিষবৃক্ষ বলতে বিশেষ ধরণের বৃক্ষকে বোঝায় যার ফল বিষময়। এখানে, বিষবৃক্ষ দ্বারা প্রথম অংশ 'বিষ'কে বোঝানো হচ্ছে না, পরের অংশ 'বৃক্ষ'কে বোঝাচ্ছে। অর্থ্যাৎ, পরপদের প্রাধান্য পাচ্ছে।

এরূপ -
জ্ঞান রূপ বৃক্ষ = জ্ঞানবৃক্ষ;
প্রান রূপ বায়ু = প্রাণবায়ু;
কাল রূপ রাত্রি = কালরাত্রি;
মন রূপ মাঝি = মনমাঝি ইত্যাদি।

উৎস: ড. হায়াৎ মামুদ রচিত ভাষা শিক্ষা বই ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৭.
‘প্রাণভয়’ শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?–
  1. ক) প্রাণ যাওয়ার তরে ভয়
  2. খ) প্রাণের ভয়
  3. গ) প্রাণ হারানোর ভয়
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) প্রাণ হারানোর ভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রাণ হারানোর ভয়
ব্যাখ্যা

মধ্যপদলােপী কর্মধারয়: যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ হয়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমনঃ
- জীবন হানির আশঙ্কায় যে বীমা /জীবন-আশঙ্কায় বীমা = জীবনবিমা,
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা।
- প্রাণ হারানোর ভয়= প্রাণভয় 

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।]

 
৬৮.
নিচের কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. কাজলকালো
  2. পদ্মআঁখি
  3. বিষাদসিন্ধু
  4. মনমাঝি
সঠিক উত্তর:
পদ্মআঁখি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মআঁখি
ব্যাখ্যা
• পদ্মআঁখি = আঁখি পদ্মের ন্যায়; উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন: পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ, মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

অন্যদিকে,
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু; মন রূপ মাঝি = মনমাঝি রূপক কর্মধারয় সমাস।
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো; উপমান কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৪ সংস্করণ)।
৬৯.
"চালকুমড়া" কোন সমাস?
  1. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  2. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭০.
নিচের কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. কাজলকালো
  2. বকধার্মিক
  3. ভ্রমরকৃষ্ণকেশ
  4. বাহুলতা
সঠিক উত্তর:
বাহুলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহুলতা
ব্যাখ্যা

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
এই সমাসে দুটো পদই বিশেষ্য হয়।
যেমন:
- সোনার মতো মুখ = সোনামুখ,
- বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা।

এ সমাসে উপমেয় পদটি সাধারণত পূর্বে বসে।
যেমন:
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।

এরূপ-
করকমল, করপল্লব, অধরপল্লব, চরণকমল, চরণণয়, চাঁদবদন, চাঁদমুখ, নয়নপল্প, মুখগল্প, হাঁড়িমুখ ইত্যাদি উপমিত কর্মধারয় সমাস।

------------------------
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণ কেশ। 
[এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।]

- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- তুষারের ন্যায় পুত্র = তুষারপুত্র,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

এরূপ-
অগ্নিশর্মা, অরুণরাঙা, কচুকাটা, কদমহাট, কাচভঙ্গুর, কুসুমকোমল, কাজলকালো, গোবেচারা, শৈলোন্নত, দুখখবল, ধনুকবাঁকা, নিমতেতো, প্রস্তরকঠিন, ফুটিফাটা, রক্তিমূর্থ, বকধার্মিক, বিড়ালভপমী, বরফসাদা, বজ্রকঠিন, লৌহকঠিন, শিশির-রিপ, সিদুররাঙা ইত্যাদি উপমান কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও  সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭১.
কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) নীলাম্বর
  2. খ) নরাধম
  3. গ) ঋণমুক্ত
  4. ঘ) দম্পতি
সঠিক উত্তর:
খ) নরাধম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নরাধম
ব্যাখ্যা
নরাধম = অধম যে নর; কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ। 
অন্যদিকে, 
নীলাম্বর = নীল অম্বর যার - বহুব্রীহি 
ঋণমুক্ত = ঋণ থেকে মুক্ত - পঞ্চমী তৎপুরুষ 
জায়া ও পতি = দম্পতি - দ্বন্দ্ব সমাস 

• কর্মধারয় সমাস
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন – গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

• কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে যে’ যােজক থাকে, যেমন –
 
খাস যে জমি = খাসজমি
চিত যে সঁতার = চিতসাঁতার
ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা
সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ
কনক যে চাঁপা = কনকচাপা
টাক যে মাথা = টাকমাথা
যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর
যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭২.
কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কাঁচকলা
  2. খ) দাকুমড়া
  3. গ) আদায়-কাঁচকলায়
  4. ঘ) গাছপাকা
সঠিক উত্তর:
ক) কাঁচকলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাঁচকলা
ব্যাখ্যা
• সাধারণ কর্মধারয় সমাস:
মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
(বিশেষণ+ বিশেষ্য)
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা;
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন;
- মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।

অন্যদিকে,
- আদায় ও কাঁচকলায় = আদায়-কাঁচকলায় (অলুক দ্বন্দ্ব সমাস)।
- দা ও কুমড়া = দাকুমড়া ( বিপরীতার্থক বা বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস)।
- গাছে পাকা = গাছপাকা ( সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৩.
'বাহুলতা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  2. উপমান কর্মধারয় সমাস
  3. রূপক কর্মধারয় সমাস
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়।
- এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ; 
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ, 
- বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা।

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
- এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।

যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে;
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত;
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল।

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয়।
- এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৪.
'মাস্টারসাহেব' কোন সমাস?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- যিনি মাস্টার তিনিই সাহেব = মাস্টারসাহেব।
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- যা কাঁচা তাই পাকা = কাঁচাপাকা।
- যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজসাহেব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭৫.
'গোবরগণেশ' কোন সমাস?
  1. ক) উপমান কর্মধারয়
  2. খ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  3. গ) উপমিত কর্মধারয়
  4. ঘ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
খ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যে মধ্যপদের লোভ হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- গোবরে জন্ম যে গণেশ = গোবরগণেশ, সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা।
উৎসঃ বাংলা প্রশ্নের টীকা-ভাষ্য, অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬.
নিচের কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস?
  1. মিশকালো
  2. জয়ধ্বনি
  3. বিদ্যাধন
  4. বাহুলতা
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাধন
ব্যাখ্যা

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি,
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন।

অন্যদিকে, 
---------------------
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন= সিংহাসন। 
- জয় সূচক ধ্বনি = জয়ধ্বনি। 

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।
- মিশির মতো কালো = মিশকালো। 
 
• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
পূর্বপদে উপমেয় পদের সঙ্গে পরপদে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে, উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
- বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭৭.
'হাতঘড়ি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• 'হাতঘড়ি'- কর্মধারয় সমাস এর উদাহরণ।
- এটি মধ্যপদলােপী কর্মধারয়।

মধ্যপদলােপী কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ হয়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন,
'হাতে পরা হয় যে ঘড়ি'- 'হাতঘড়ি'। 
ঘি মাখানো ভাত- ঘিভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৭৮.
কোন সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয়?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) অলুক দ্বন্দ্ব
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়,তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৭৯.
নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. হাতেখড়ি
  2. ক্ষণস্থায়ী
  3. দুধসাগু
  4. নরসিংহ
সঠিক উত্তর:
দুধসাগু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুধসাগু
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র,
- দুধ মিশ্রিত সাগু = দুধসাগু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ক্ষণকাল ব্যপীয়া স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী, এটি ব্যাপ্তি অর্থে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি, মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস।
- নর সিংহের ন্যায় = নরসিংহ, উপমিত কর্মধারয় সমাস।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮০.
মধ্যপদলােপী কর্মধারয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) হাতঘড়ি
  2. খ) শশব্যস্ত
  3. গ) পদ্মআঁখি
  4. ঘ) চন্দ্রমুখ
সঠিক উত্তর:
ক) হাতঘড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাতঘড়ি
ব্যাখ্যা
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- যেমন – গােলাপ নামের ফুল = গােলাপফুল, যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা।

কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লােপ পায়। এগুলাে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় নামে পরিচিত।
যেমন – ঘি মাখানাে ভাত = ঘিভাত
            হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি
            ঘরে আশ্রিত জামাই = ঘরজামাই
            বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৮১.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাস?
  1. ঘানিরতেল
  2. শান্তশিষ্ট
  3. হাতেকাটা
  4. গোড়ায়গলদ
সঠিক উত্তর:
শান্তশিষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শান্তশিষ্ট
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
কর্মধারয় শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলো- কর্ম + ধূ+ ণিচ + আ = কর্মধারয়। এতে সমান বিভক্তিযুক্ত বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের মিলন হয় এবং পরপদে বিশেষ্যের অর্থ প্রধান থাকে। অর্থাৎ যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।

যেমন-
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- যা কাঁচা তাই পাকা = কাঁচাপাকা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- ঘানি তেল = ঘানিরতেল,
- হাতে কাটা = হাতেকাটা,
- ঘি দিয়ে ভাজা = ঘিয়েভাজা,
- কল দ্বারা ছাঁটা = কলেছাঁটা ,
- গোড়ায় গলদ = গোড়ায়গলদ,
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২.
'মুখচন্দ্র' শব্দটি কোন সমাস?
  1. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  2. উপমিত কর্মধারয়
  3. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  4. উপমান কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- পূর্বপদে উপমেয় পদের সঙ্গে পরপদে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে, উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র,
- চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল।

অন্যদিকে,
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- মিশির মত কালো = মিশকালো ইত্যাদি।

বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি,
- স্থির নয় যে = অস্থির,
- অল্প প্রাণ যার = অল্পপ্রাণ ইত্যাদি।

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৩.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস কোনটি? 
  1. ঋতুচক্র
  2. উর্ণাজাল
  3. কালসাপ
  4. জ্ঞানালোক
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
উর্ণাজাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উর্ণাজাল
ব্যাখ্যা

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: 
ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- আত্ম বিষয়ে যে স্বাতন্ত্র্য = আত্মস্বাতন্ত্র্য,
- উর্ণা নির্মিত জাল = উর্ণাজাল,
- কণ্টক সদৃশ শয্যায় যে শয়ন = কণ্টকশয়ন,
- কার্য সাধনের লক্ষ্যে যে পরিকল্পনা = কার্যপরিকল্পনা,
- জয় সূচক ধ্বনি = জয়ধ্বনি।

এরকম:
অষ্টাদশ, ইগলপাখি, উটপাখি, উল্কাপিণ্ড, খড়িমাটি, পদ্মানদী, কলিযুগ, কাষ্ঠফলক, কুশপুতলিকা, প্রবালপ্রাচীর, পত্রপুট, লৌহপিঞ্জর, স্বর্ণালংকার, জলভাত, ডালভাত, দুধভাত, শিক্ষামন্ত্রী, পূর্ববিভাগ, খাল- মন্ত্রণালয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- ঋতু রূপ চক্র = ঋতুচক্র, 
- কাল (মৃত্যু) রূপ সাপ = কালসাপ,
- জ্ঞান রূপ আলোক = জ্ঞানালোক। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৪.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস কোনটি?
  1. ক) সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
  2. খ) মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ
  3. গ) কুসুমের মতাে কোমল = কুসুমকোমল
  4. ঘ) জায়া ও পতি = দম্পতি
সঠিক উত্তর:
ক) সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
ব্যাখ্যা

সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন (মধ্যপদলােপী কর্মধারয়)।
কুসুমের মতাে কোমল = কুসুমকোমল (উপমান কর্মধারয়)।
মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ (সাধারণ কর্মধারয়)।
জায়া ও পতি = দম্পতি (দ্বন্দ্ব সমাস)।

উৎসঃ বাংলা ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ 

৮৫.
'সিংহাসন' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারায়
  4. নিমিত্তার্থে চতুর্থী
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারায়
ব্যাখ্যা

যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- সিংহ চিহ্নিত আসন=সিংহাসন।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী।

৮৬.
কোনটি রূপক কর্মধারায় সমাস নয়?
  1. ক) কালচক্র
  2. খ) প্রাণপ্রিয়
  3. গ) বিদ্যাধন
  4. ঘ) সিংহাসন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিংহাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিংহাসন
ব্যাখ্যা
• রূপক কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র;
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়;
- বিদ্যা রূপ ধন = বিদ্যাধন;
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি;
- সংসার রূপ সমুদ্র = সংসার সমুদ্র।

অন্যদিকে,
‘সিংহাসন’ মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস । এর ব্যাস কাব্য হচ্ছে- সিংহ চিহ্নিত যে আসন = সিংহাসন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি ও ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৮৭.
কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাস?
  1. চরণকমল
  2. তালতমাল
  3. পদ্মগন্ধি
  4. রক্তলাল
সঠিক উত্তর:
রক্তলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তলাল
ব্যাখ্যা
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- রক্তের ন্যায় লাল = রক্তলাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল; উপমিত কর্মধারয় সমাস।
• তাল ও তমাল = তালতমাল; দ্বন্দ্ব সমাস। 
• পদ্মের ন্যায় গন্ধ যার = পদ্মগন্ধি; বহুব্রীহি সমাস। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৮.
‘প্রাণভয়’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সাধারণ কর্মধারয় সমাস
  2. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  3. রূপক কর্মধারয় সমাস
  4. উপমান কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসে মধ্য পদ লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। 

• মধ্য পদলোপী কর্মধারয় সমাসের কিছু উদাহরণ হলো:
- বৌ ভাত = বৌ পরিবেশন করা ভাত, 
- একাদশ = এক অধিক দশ, 
- ভিক্ষান্ন = ভিক্ষা লব্ধ অন্ন, 
- প্রাণভয় = প্রাণ যাওয়ার তরে ভয়।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৯.
"চালকুমড়া" শব্দটি কোন সমাস?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  3. উপমান কর্মধারয় সমাস
  4. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যথা:
সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯০.
কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) দিলদরিয়া
  2. খ) মধুমাখা
  3. গ) কাজলকালো
  4. ঘ) পদ্মআঁখি
সঠিক উত্তর:
ক) দিলদরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দিলদরিয়া
ব্যাখ্যা
রূপক কর্মধারয় সমাসঃ উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করে উপমান ও উপেময় পদের যে সমাস হয় তাকে রূপল কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমনঃ
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু
-মন রূপ মাঝি= মনমাঝি
- প্রাণ রূপ পাখি = প্রাণপাখি
- দিল রূপ দরিয়া = দিলদরিয়া
- শোক রূপ অনল= শোকানল

[উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি]
৯১.
‘স্মৃতিসৌধ’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. দ্বন্দ্ব
  4. তৎপুরুষ
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- আয়ের উপর কর = আয়কর।
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ;
- রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি = রাষ্ট্রনীতি;
- ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি;
- প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯২.
‘জজসাহেব’ এর ব্যাসব্যাক্য কোনটি?
  1. ক) যিনি সাহেব তিনি জজ
  2. খ) যিনি জজ তিনি সাহেব
  3. গ) যিনি সাহেব তিনিই জজ
  4. ঘ) যিনি জজ তিনিই সাহেব
সঠিক উত্তর:
ঘ) যিনি জজ তিনিই সাহেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যিনি জজ তিনিই সাহেব
ব্যাখ্যা

কর্মধারয় সমাসের কয়েকটি বিশেষ নিয়ম-
১) দুইটি বিশেষণ একই বিশেষ্য বোঝালে সেটি কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর। এখানে পরবর্তী বিশেষ্যটি অপেক্ষাকৃত বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে এটি দ্বন্দ্ব সমাস হবে না।
২) দুইটি বিশেষ্য একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে সেটিও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজসাহেব। যিনি রাজা তিনিই ঋষি = রাজর্ষি।
৩) কার্যে পরপম্পরা বোঝাতে দুটি কৃদন্ত বিশেষণ বা ক্রিয়াবাচক বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা। এখানে ‘মোছা’ কাজটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৪) পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে তা পুরুষবাচক হয়ে যাবে। যেমন, সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা
৫) বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে মহা হয়। মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান
৬) পূর্বপদে ‘কু’ বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে ‘কু’, ‘কৎ’ হয়। যেমন, কু যে অর্থ = কদর্থ।
৭) পরপদে ‘রাজা’ থাকলে ‘রাজ’ হয়। যেমন, মহান যে রাজা = মহারাজ।
৮) বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে কর্মধারয় সমাস হলে কখনো কখনো বিশেষ্য আগে এসে বিশেষণ পরে চলে যায়। যেমন, সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৩.
'মহাকীর্তি'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) মহতী যে কীর্তি
  2. খ) মহা যে কীর্তি
  3. গ) মহান যে কীর্তি
  4. ঘ) মহান কীর্তি যার
সঠিক উত্তর:
ক) মহতী যে কীর্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মহতী যে কীর্তি
ব্যাখ্যা
মহাকীর্তি শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য হলো 'মহতী যে কীর্তি'।
এটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

কর্মধারয় সমাস: 
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয়
এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন: নীল যে পদ্ম= নীলপদ্ম। 

কিছু কিছু পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়।
যেমন:  'মহতী যে কীর্তি'= 'মহাকীর্তি'।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৯৪.
‘পদপল্লব’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) উপমিত কর্মধারয় সমাস
  2. খ) উপমান কর্মধারয় সমাস
  3. গ) রূপক কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
ক) উপমিত কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপমিত কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
- উপমিত কর্মধারয় সমাস : প্রত্যক্ষ বস্তুর সাথে পরোক্ষ বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয় বা উপমিত। 
- যেমন : 
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = পুরুষসিংহ
- চরণ কোমলের ন্যায় =চরণকোমল
- অধর কোমলের ন্যায় = অধরকোমল
- ফুল বাবুর ন্যায় = ফুলবাবু
- ফুল কুমারীর ন্যায় = ফুলকুমারী, 
- কর কমল সদৃশ =করকমল
- পদ পল্লবের ন্যায় = পদপল্লব ইত্যাদি। 


উৎস : বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম) : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫.
উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. কাজলকালো
  2. মুখচন্দ্র
  3. চরণকমল
  4. সিংহাসন
সঠিক উত্তর:
কাজলকালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজলকালো
ব্যাখ্যা

উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয় সমাস: মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র, চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল।
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।

৯৬.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক্ষনস্থায়ী
  2. ঘরছাড়া
  3. চালকুমড়া
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
চালকুমড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালকুমড়া
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ।

অন্যদিকে:
- ক্ষণকাল ব্যাপীয়া স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী- এটি ব্যাপ্তি অর্থে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- ঘর থেকে ছাড়া = ঘরছাড়া (পঞ্চমী তৎপুরুষ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯৭.
দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে কোন সমাস হয়?
  1. বহুব্রীহি
  2. কর্মধারয়
  3. অব্যয়ীভাব
  4. দ্বিগু সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
• নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
• কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়।
যেমন:
১. দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে।
যেমন- যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।

২. দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তিকে বোঝালে।
যেমন – যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৮.
‘মৃগনয়ন’ কোন সমাস?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
নয়ন মৃগের নয় = মৃগনয়ন - উপমিত কর্মধারয়
মৃগনয়না = মৃগের নয়নের ন্যায় নয়ন যার - উপমাত্মক/পদলোপী বহুব্রীহি

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৯৯.
নিচের কোন শব্দটি সমাসবদ্ধ নয়?
  1. গাছপাকা
  2. বিদ্যালয়
  3. সিংহাসন
  4. দিলদরিয়া
সঠিক উত্তর:
বিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

• 'বিদ্যালয়' শব্দটি সমাসবদ্ধ শব্দ নয়। এটি সন্ধিবদ্ধ শব্দ (বিদ্যা + আলয়)।
-----------------
অপশন বিশ্লেষণ:

ক) গাছপাকা-
গাছে পাকা (যা) = কর্মধারয় সমাস
এটি সমাসবদ্ধ শব্দ।

খ) বিদ্যালয়-
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়।
এটি সমাসবদ্ধ শব্দ নয়। সন্ধিবদ্ধ শব্দ।

গ) সিংহাসন-
- সিংহ চিহ্নিত আসন = কর্মধারয় সমাস (উপমান কর্মধারয়)।
- এটি সমাসবদ্ধ শব্দ।

ঘ) দিলদরিয়া-
- এটি ফারসি শব্দ।
অর্থ: উদার হৃদয়ের, দানশীল।
দিলদরিয়া (দরিয়ার মতাে দিল যার); কর্মধারয় সমাস (উপমিত কর্মধারয়)।
- এটি সমাসবদ্ধ শব্দ।

সঠিক উত্তর: ঘ) বিদ্যালয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০০.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. খাসজমি
  2. গোলাপফুল
  3. গোঁফখেজুরে
  4. টাকমাথা
সঠিক উত্তর:
গোঁফখেজুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোঁফখেজুরে
ব্যাখ্যা
পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়।
যেমনঃ
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে।
- 'গোঁফখেজুরে' কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ নয়। 

অন্যদিকে: 
• কর্মধারয় সমাস: 

- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
 - গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল,
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা। 
- খাস যে জমি = খাসজমি। 

কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে ‘যে’ যোজক থাকে,
যেমন:
– ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা,
- সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ,
- কনক যে চাঁপা = কনকচাঁপা,
- টাক যে মাথা = টাকমাথা,
- যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর,
- যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম - দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।