বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩২ / ১৪০ · ৩,১০১৩,২০০ / ১৪,০৮০

৩,১০১.
কোন তাপমাত্রাকে পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. 212 K
  2. 373.15 K
  3. 0 K
  4. 273.16 K
সঠিক উত্তর:
273.16 K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
273.16 K
ব্যাখ্যা
• পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা হলো ২৭৩.১৬ K। ত্রৈধ বিন্দু বলতে বুঝায় সেই নির্দিষ্ট তাপমাত্রা যেখানে পানি ত্রৈধ অবস্থায় থাকে, অর্থাৎ বরফ, তরল পানি এবং বাষ্প একসঙ্গে সমতা অবস্থায় থাকে। এটি এক ধরনের স্থির বিন্দু, যেখানে তিনটি অবস্থা একই সাথে বিদ্যমান থাকে এবং চাপ ১ বাতাস। এই তাপমাত্রাটি ০.০১°C বা ২৭৩.১৬ K হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গ্রহণ করা হয়েছে। অন্য  অপশনগুলো যেমন ২১২ K বা ৩৭৩.১৫ K পানির অন্য কোন ফেজ বা অবস্থার তাপমাত্রা নির্দেশ করে না, তাই সঠিক উত্তর হলো ২৭৩.১৬ K।

পানির ত্রৈধ বিন্দু:

- 4.5 mm পারদস্তম্ভ চাপে যে তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প তাপীয় সমতায় থাকে, তাকে পানির ত্রৈধ বিন্দু বলে।
- পানির ত্রৈধ বিন্দুর তাপমাত্রা 273.16 K নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এই তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে পরম শূন্য তাপমাত্রা 0 K, বরফ বিন্দু 273.15 K এবং স্টিম বিন্দু 373.15 K ধরা হয়।
- তাপমাত্রা পরিমাপের কেলভিন স্কেলে বরফ বিন্দুকে 273.15 K এবং স্টিম বিন্দুকে 373.15 K ধরে মৌলিক ব্যবধানকে 100 ভাগে ভাগ করা হয়।
- এক একটি ভাগকে এক কেলভিন (1 K) বলা হয়।
- সেলসিয়াস এবং কেলভিন স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক হচ্ছে-
K = C + 273.15

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১০২.
নিচের কোনটি নিম্ন উচ্চতার মেঘ?
  1. ক) স্ট্রেটাস
  2. খ) সিরোকিউম্যুলাস
  3. গ) নিম্বোস্ট্রেটাস
  4. ঘ) সিরাস
সঠিক উত্তর:
ক) স্ট্রেটাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্ট্রেটাস
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো:
উঁচু উচ্চতার মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ।
উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস
- সিরোকিউম্যুলাস
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।
মাঝারি উচ্চতার মেঘ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস
- নিম্বোস্ট্রেটাস
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
- কিউম্যুলাস
- কিউম্যুলোনিম্বাস।
(তথ্যসূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা)
৩,১০৩.
বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে- 
  1. অর্ধেক ভেসে থাকবে
  2. ডুবে যাবে
  3. ভেসে থাকবে
  4. সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে ভাসবে
সঠিক উত্তর:
ভেসে থাকবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেসে থাকবে
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র: 
- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। 
- বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্ব চাপ জনিত বল) W1 নিউটন।  এক্ষেত্রে - 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১০৪.
রেডিয়াম আবিষ্কার করেন-
  1. ক) পিয়ারে কুরি
  2. খ) মেরি কুরি
  3. গ) রাদারফোর্ড
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
১৮৯৯ সালে পিয়ারে কুরি এবং মেরি কুরি সর্বপ্রথম রেডিয়াম আবিষ্কার করেন৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই
৩,১০৫.
'অরিজিন অব স্পিসিস' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ক্যারোলাস লিনিয়াস
  2. খ) চার্লস ডিকেন্স
  3. গ) চার্লস ডারউইন
  4. ঘ) উইলিয়াম হার্ভে
সঠিক উত্তর:
গ) চার্লস ডারউইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চার্লস ডারউইন
ব্যাখ্যা
ইংলিশ জীববিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন সর্বপ্রথম বিবর্তনের ধারণা দেন। ১৮৫৯ সালে তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ 'অরিজিন অব স্পিসিস' এ প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন যা বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১০৬.
কলেরা রোগ সৃষ্টি করে নিচের কোন ব্যাকটেরিয়া?
  1. ক) Salmonella typhosa
  2. খ) Bacillus dysenteri
  3. গ) Vibrio cholerae
  4. ঘ) Clostridium tetani
সঠিক উত্তর:
গ) Vibrio cholerae
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Vibrio cholerae
ব্যাখ্যা
• কলেরা সৃষ্টি করে Vibrio cholerae ব্যাকটেরিয়া।

• মানুষের অধিকাংশ মারাত্মক রোগ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়ে থাকে। যেমন:
- কলেরা রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Vibrio cholerae.
- টাইফইয়েড রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Salmonella typhosa.
- আমাশয় রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Bacillus dysenteri.
- ধ্নুষ্টংকার রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Clostridium tetani.

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১০৭.
মহাবিশ্বে কার্যকর মৌলিক বলগুলোর মধ্যে দুর্বলতম কোনটি?
  1. সবল নিউক্লীয় বল
  2. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  3. তড়িৎচুম্বকীয় বল
  4. মহাকর্ষ বল
  5. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা

• মহাবিশ্বে চারটি মৌলিক বল বিদ্যমান: সবল নিউক্লীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল, তড়িৎচুম্বকীয় বল এবং মহাকর্ষ বল। এদের মধ্যে দুর্বলতম বল হলো মহাকর্ষ বল। এটি অন্যান্য বলের তুলনায় অত্যন্ত দুর্বল, কারণ এটি বড় কণার মধ্যে মাত্রই প্রভাব ফেলে এবং পারমাণবিক বা সাবপারমাণবিক স্তরে প্রায় অদৃশ্য। মহাকর্ষ বল তার ক্রিয়াশীলতা দ্বারা বৃহৎ আকারের বস্তু যেমন গ্রহ, তারা বা গ্যালাক্সিকে আকৃষ্ট করে, কিন্তু কণার স্তরে প্রভাব অত্যন্ত কম। অন্যদিকে তড়িৎচুম্বকীয় এবং নিউক্লীয় বলগুলো পারমাণবিক ও উপপারমাণবিক স্তরে শক্তিশালীভাবে কাজ করে। তাই, শক্তির দিক দিয়ে মহাবিশ্বে সবচেয়ে দুর্বল মৌলিক বল হলো মহাকর্ষ বল।

- সঠিক উত্তর: ঘ) মহাকর্ষ বল।

• প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। যথা:
- মহাকর্ষ বল, তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং সবল নিউক্লীয় বল।
১। মহাকর্ষ বল:
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল।
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে।
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে।
এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই।
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে।

২. তড়িৎ চৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল:
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে।

৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল:
- দুর্বল নিউক্লীয় বল মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে দ্বিতীয় দুর্বলতম বল, যা মহাকর্ষ বলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী কিন্তু সবল নিউক্লীয় ও তড়িৎচুম্বকীয় বলের চেয়ে দুর্বল।
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৮ m) কাজ করে।

৪। সবল নিউক্লীয় বল:
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০- ১৫ m) কাজ করে।
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১০৮.
তেজস্ক্রিয় রশ্মি নয় কোনটি?
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. রঞ্জন রশ্মি
সঠিক উত্তর:
রঞ্জন রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে সেটাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য নিউট্রনের সংখ্যাও বেড়ে যেতে থাকে, কিন্তু তারপরও নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটনের সংখ্যা ৮২ অতিক্রম করার পর থেকে নিউক্লিয়াসগুলো অস্থিতিশীল হতে শুরু করে। (যদিও প্রোটনসংখ্যা 43-Technetium এবং 61-Promethium মৌলের কোনো স্থায়ীরূপ পাওয়া যায় না)। 
- অস্থিতিশীল নিউক্লিয়াসগুলো কোনো এক ধরনের বিকিরণ করে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে এবং এই প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় তেজস্ক্রিয়তা। 
- নিউক্লিয়াসের ভেতর থেকে যে বিকিরণ বের হয়ে আসে সেটাকে বলে তেজস্ক্রিয় রশ্মি। 

- 1896 সালে হেনরি বেকেরেল (Henri Becquerel) প্রথম ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। 
- পরবর্তীতে আরনেস্ট রাদারফোর্ড (Ernest Rutherford), পিয়ারে কুরি (Pierre Curie), মেরি কুরি (Marie Curie) এবং অন্যা বিজ্ঞানীরা অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- এটি বাইরের চাপ, তাপ, বৈদ্যুতিক বা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে কোনোভাবে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কাজেই এটি একটি নিউক্লীয় ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। 
- শুধু তাই নয়, তেজস্ক্রিয়তার কারণে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয়ে নিউক্লিয়াসের গঠন পরিবর্তিত হয়ে সেটিও ভিন্ন একটি মৌলে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে সেটাও লক্ষ্য করা হয়েছে। 
- নিউক্লিয়াস থেকে তিনটি প্রধান তেজস্ক্রিয় রশ্মি বের হয় যেমন- আলফা রশ্মি, বিটা রশ্মি এবং গামা রশ্মি। 

অন্যদিকে, 
- রঞ্জন রশ্মি (X-ray) যদিও তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ কিন্তু এটি তেজস্ক্রিয় বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন নয়, বরং ইলেকট্রনের অভ্যন্তরীণ স্তর থেকে নির্গত হয়, তাই এটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১০৯.
কাচ শিল্পে প্রধানত কোন খনিজ উপাদান ব্যবহৃত হয়?
  1. চুনাপাথর
  2. সিলিকা বালু 
  3. তেজস্ক্রিয় বালু 
  4. নুড়ি পাথর
সঠিক উত্তর:
সিলিকা বালু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকা বালু 
ব্যাখ্যা

- কাচ শিল্পের প্রধান এবং মৌলিক খনিজ উপাদান হলো সিলিকা বালু (Silica Sand)। সাধারণত কাচের অধিকাংশ অংশই এই সিলিকা দিয়ে গঠিত। 

অধাতব খনিজ (Non-Metallic Minerals):

১। চুনাপাথর: 
- সিমেন্ট, গ্লাস, ইস্পাত, সাবান, কাগজ, ব্লিচিং পাউডার প্রভৃতি প্রস্তুত করার জন্য চুনাপাথরের প্রয়োজন হয়। এছাড়া গৃহনির্মাণে, ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও রং তৈরি করতে চুনাপাথর ব্যবহৃত হয়। 

২। সিলিকা বালু: 
- এটি এক ধরনের বালু যা কাচ নির্মাণে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য, রং, অগ্নিচুল্লির ইষ্টক নির্মাণে এর দরকার হয়। 

৩। চীনামাটি: 
- বাসনপত্র, কাগজ, রাবার বস্তু, বৈদ্যুতিক ইনস্যুলেটর, স্যানিটারি জিনিসপত্র প্রভৃতি নির্মাণের জন্য চীনামাটি ব্যবহৃত হয়। 

৪। কঠিন শিলা: 
- মধ্যপাড়া কঠিন শিলা (গ্রানাইট) খনি প্রকল্পটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-গর্দস্থ খনি। এই গ্রানাইট পাথর আধুনিক সুউচ্চ ভবন, সড়ক-মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট, নদী-শাসন, রেললাইন, ফ্লাইওভার ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 

৫। খনিজ বালু/ভারী মানিক: 
- এই খনিজ বালুর মধ্যে জিরকন, মোনাজাইট, রুটাইল, ইলমেটাইট এবং ম্যাগনেটাইট প্রধান। 

৬। পাথর বা কঠিন শিলা: 
- রেললাইন, রাস্তাঘাট, গৃহনির্মাণ, নদীর বাঁধ তৈরি প্রভৃতি ক্ষেত্রে কঠিন শিলার প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় কঠিন শিলা পাওয়া যায়। 

৭। নুড়ি পাথর: 
- নুড়ি পাথর প্রধানত রাস্তাঘাট, গৃহ, পুল, কালভার্ট, রেলপথ ইত্যাদি নির্মাণে প্রয়োজন হয়। সিলেট জেলার ভোলাগঞ্জ, পিয়ানগঞ্জ, পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়া; লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম প্রভৃতি স্থানে নুড়িপাথর পাওয়া যায়। 

৮। ইউরেনিয়াম আকরিক: 
- পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি ও পারমাণবিক বোমা তৈরিতে এ তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার হাড়গাছা পাহাড়ে ইউরেনিয়াম নামক তেজস্ক্রিয় পদার্থ পাওয়া যায়। এছাড়া কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া হতে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে তেজস্ক্রিয় বালু রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার এক ভূ-বিজ্ঞানী কক্সবাজার উপকূলে এ তেজস্ক্রিয় বালুর অবস্থান আবিষ্কার করেন। 

৯। গন্ধক: 
- রাসায়নিক শিল্পে গন্ধকের ব্যবহার অধিক। সালফিউরিক এসিড, বারুদ, কীটনাশক প্রভৃতি তৈরি করতে এটি ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে গন্ধকের উৎপাদন নেই বললেই চলে, কেবল কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া দ্বীপে গন্ধক পাওয়া যায়। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।

৩,১১০.
কোনটি ধাতব খনিজ পদার্থের উদাহরণ?
  1. জিপসাম (Gypsum)
  2. মাইকা (Mica)
  3. লোহা (Fe)
  4. কোয়ার্টজ (Quartz)
সঠিক উত্তর:
লোহা (Fe)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা (Fe)
ব্যাখ্যা

খনিজ পদার্থ: 
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়। 
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। 
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। 
যেমন-
১। ধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। 
লোহা (Fe)
• তামা (Cu), 
• সোনা (Au), 
• রূপা (Ag) ইত্যাদি। 

২। অধাতব খনিজ পদার্থ: 
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। 
• কোয়ার্টজ (Quartz), 
• মাইকা (Mica), 
• গ্রাফাইট, 
• জিপসাম (Gypsum), 
• কয়লা, 
• খনিজ লবণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,১১১.
এক্স-রে রশ্মি জীবন্ত কোষের উপর কী প্রভাব ফেলে? 
  1. উত্তেজিত করে
  2. বিকশিত করে
  3. রক্ষা করে
  4. ধ্বংস করে
সঠিক উত্তর:
ধ্বংস করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বংস করে
ব্যাখ্যা
এক্স-রে রশ্মির ধর্ম: 
- এক্স-রে রশ্মি সরল পথে গমন করে। 
- এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
- এক্স-রে রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
- এক্স-রে রশ্মির ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
- এক্স-রে রশ্মি জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 
- এক্স-রে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
- এক্স-রে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
- এক্স-রে রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
- এটি আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
- আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
- এক্স-রে রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
- এক্স-রে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
- এক্স-রে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১১২.
মানুষের স্থায়ী দাঁত কয় ধরনের হয়ে থাকে?
  1. ক) তিন
  2. খ) চার
  3. গ) পাঁচ
  4. ঘ) দুই
সঠিক উত্তর:
খ) চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চার
ব্যাখ্যা
মানুষের স্থায়ী চার ধরনের দাঁত রয়েছে।

যথা-
১. কর্তন দাঁত- এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরো টুকরো করা হয়। 
২. ছেদন দাঁত- খাবার ছেঁড়া হয়।
৩. অগ্রপেষণ দাঁত- এই ধরনের দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ, উভয়ের কাজ করা হয়। 
৪. পেষণ দাঁত- এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণের কাজ করে। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩,১১৩.
নিচের কোনটি জীবদেহের শ্বসনে সহায়তা করে?
  1. ক) নিউক্লিয়াস
  2. খ) প্লাস্টিড
  3. গ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. ঘ) লাইসোসোম
সঠিক উত্তর:
গ) মাইটোকন্ড্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাইটোকন্ড্রিয়া
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া জীবদেহের শসনে সহায়তা করে এবং ইহা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। 

মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria) হচ্ছে এক প্রকার কোষীয় অঙ্গানু, যা সুকেন্দ্রিক কোষে পাওয়া যায়। মাই‌টোক‌ন্ড্রিয়াকে কোষের শ‌ক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউসও বলা হয়। প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়া দ্বিস্তর পর্দা দ্বারা আবৃত। এর বাইরের পর্দাটি মসৃণ কিন্তু ভেতরের পর্দাটি আঙুলের মতো অনেক ভাঁজ সৃষ্টি করে।

মাইট্রোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ- 
১। মাইটোকন্ড্রিয়াতে কোষীয় শ্বসনের ক্রেবস চক্ক সংঘটিত হয়। এতে জীবদেহের প্রয়ােজনীয় শক্তি উৎপন্ন হয় । এ জন্য এদেরকে কোষের শক্তিঘর (Power house) বলা হয়।
২। এরা প্রােটিন সংশ্লেষেণের প্রয়ােজনীয় এনজাইম ধারণ করে।
৩। মাইটোকন্ডিয়াতে বিভিন্ন ধরনের ক্যাটায়ন, যেমন- Ca, S++, Fe++, Min+ ইত্যাদি সঞ্চিত থাকে।
৪ ডিম্বাণু ও শুক্রাণু গঠনে অংশগ্রহণ করে।
৫। DNA ও RNA সংশ্লেষ করে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান
৩,১১৪.
কোন ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দৃষ্টিগোচরীভূত হয়?
  1. লেক্সেল
  2. কোহুটেক
  3. হেইল-বপ
  4. হ্যালির ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
হ্যালির ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্যালির ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
ধূমকেতু (Comet): 
- ধূমকেতু এক ধরনের জ্যোতিষ্ক। 
- ধূমকেতুর দুইটি অংশ রয়েছে। 
যেমন: মস্তক (Head) বা কেন্দ্র ও পুচ্ছ (Tail)। 
- কোনো কোনো ধূমকেতুর মস্তক বা কেন্দ্র গ্রহ অপেক্ষা বড় হয়ে থাকে। 
- ধূমকেতুর রয়েছে গ্যাসীয় পদার্থের তৈরি সুদীর্ঘ পুচ্ছ। 
- অধিকাংশ ধূমকেতু উপবৃত্তাকার কক্ষপথে গ্রহসমূহের আবর্তন পথের উল্টোদিকে ছুটে চলে। 
- হ্যালির ধূমকেতু (Hally's Comet) প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দৃষ্টিগোচরীভূত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১১৫.
ভাইরাসের দেহে কী থাকে?
  1. কোষঝিল্লি
  2. এনজাইম
  3. আমিষ
  4. নিউক্লিয়াস
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের গঠনঃ
বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের গঠন বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে।
সাধারণভাবে প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত। যথা-প্রােটিন আবরণ তথা ক্যাপসিড ও নিউক্লিক এসিড।

ক্যাপসিড (Capsid):
অপেক্ষাকৃত জটিল ভাইরাসে নিউক্লিক এসিডের বাইরে একে ঘিরে অবস্থিত প্রােটিন আবরণটি হলাে ক্যাপসিড। এ প্রােটিন আবরণটি অসংখ্য প্রােটিন অণু দ্বারা গঠিত। ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রােটিন অণুকে ক্যাপসােমিয়ার (capsomere) বলে।
এ ক্যাপসােমিয়ার অণুসমূহ নির্দিষ্ট ভাইরাস নির্দিষ্ট ধরণের।
কোনাে কোনাে প্রাণি ভাইরাসের ক্যাপসিডের বাহিরে একটি লিপােপ্রােটিনের স্তর থাকে এবং এর একককে পেপলােমার (peplomer) বলে। এ ধরনের ভাইরাসকে লিপপাভাইরাস (lipovirus) বলে।

নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acid):
প্রতিটি ভাইরাস দেহের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক এসিড।
নিউক্লিক এসিড ভাইরাসের বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। নিউক্লিক এসিড দু'ধরনের তথা DNA (ডি অক্সিরাইবাে নিউক্লিক এসিড) ও RNA (রাইবাে নিউক্লিক এসিড)।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)
৩,১১৬.
কোন গ্যাস ওজোনস্তর ক্ষয়ের জন্য দায়ী?
  1. ক) CO2
  2. খ) CH4
  3. গ) CFC
  4. ঘ) N2
সঠিক উত্তর:
গ) CFC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) CFC
ব্যাখ্যা
• CFC (ক্লোরোফ্লুরোকার্বনস) এবং অন্যান্য ক্ষয়কারী অন্যান্য যৌগসমূহকে ওজোনস্তর ক্ষয়কারী যৌগ ('ODS) হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে।
• ওজোনস্তর ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি যেমন UVB তরঙ্গ (২৮০–৩১৫ nm) পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশে বাধা প্রদান করে।
• ওজোনস্তর ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি যেমন UVB তরঙ্গ (২৮০–৩১৫ nm) পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশে বাধা প্রদান করে।

উৎস: সাধারন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১১৭.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য সমষ্টিগত অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের সংখ্যা কতটি? 
  1. ৭ টি 
  2. ৯ টি 
  3. ১৬ টি
  4. ১২ টি 
সঠিক উত্তর:
১৬ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ টি
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। এই ৬০টি উপাদানের মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্তপ্রয়োজনীয়।
- এই ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (Essential elements) বলা হয়, কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। এদের যে কোনো একটির অভাব হলে উদ্ভিদের অভাবজনিত লক্ষণ (Deficiency symptoms) প্রকাশ পায় এবং পুষ্টি অভাবজনিত রোগ সৃষ্টি হয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুইভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্রোউপাদান (Macronutrient) বা মুখ্য উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোউপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৯টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S)। 

(খ) মাইক্রোউপাদান (Micronutrient) বা গৌণ উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোউপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১১৮.
কয়লা থেকে উৎপন্ন সালফার কী ধরনের পরিবেশগত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে?
  1. তাপমাত্রার পরিবর্তন
  2. ভূমি ধ্বংস
  3. এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি
  4. গ্রীনহাউস গ্যাসের সৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- শক্তির উৎসগুলোর মধ্যে কয়লা সকলের নিকট পরিচিত। 
- কয়লা একটি জৈব পদার্থ। 
- প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও স্বাভাবিকভাবে গাছের পাতা বা কান্ড মাটির নিচে চাপা পড়ে এবং জমতে থাকে। মাটির নিচে পাতা ও কান্ড রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কয়লায় রূপান্তরিত হয়। 
- কয়লা পোড়ালে তাপ পাওয়া যায়। 
- জ্বালানি ছাড়াও কয়লা থেকে অনেক প্রয়োজনীয় পদার্থ উৎপাদিত হয়। 
- এদের মধ্যে রয়েছে কোল গ্যাস, আলকাতরা, বেঞ্জিন, অ্যামোনিয়া, টলুয়িন প্রভৃতি। 
- রান্না করতে ও বাষ্পীয় ইঞ্জিন চালাতে কয়লার ব্যবহার আছে। 
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার আছে। 
- কয়লা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হতে নির্গত ধোঁয়ায় সালফারের থাকে। এই সালফার পানির সাথে বিক্রিয়া করে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে। এই এসিড বৃষ্টি পুকুর, নদী ও খালে বিলে মাছ মেরে ফেলে, বন ধ্বংস করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১১৯.
ভরের আর্ন্তজাতিক একক কী?
  1. ক) পাউন্ড
  2. খ) আউন্স
  3. গ) লিটার
  4. ঘ) কিলোগ্র্রাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) কিলোগ্র্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কিলোগ্র্রাম
ব্যাখ্যা
ভরের আন্তর্জাতিক (SI) একক কিলোগ্রাম। সময়ের আন্তর্জাতিক (SI) একক সেকেন্ড। দৈর্ঘ্যের আন্তর্জাতিক (SI) একক মিটার। Source: Britannica
৩,১২০.
ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে কোনটি থাকে?
  1. ক) ডিএনএ
  2. খ) আরএনএ
  3. গ) জিন
  4. ঘ) থাইমিন
সঠিক উত্তর:
খ) আরএনএ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আরএনএ
ব্যাখ্যা
আরএনএ (RNA):
- RNA এর পুরো নাম- Ribo Nucleic Acid।
- এটি ক্রোমোসোমের স্থায়ী উপাদান নয়। 
- ক্রোমোসোমে এর পরিমাণ হচ্ছে ০.২-১.৪%।
- প্রতিটি RNA অণু একসূত্রকবিশিষ্ট।
- এটিও পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা (RNA এর রাইবোজ স্যুগারের ২নং কার্বনে অক্সিজেন অণু বিদ্যমান), অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল, সাইটোসিন) দিয়ে গঠিত।
- RNA তে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ক্ষারক থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল উপস্থিত থাকে। 
- এটি ১০% ক্রোমোসোমে থাকে।
- ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,১২১.
মার্কারির প্রধান আকরিক কোনটি?
  1. গ্যালেনা
  2. কপার পাইরাইট
  3. বক্সাইট 
  4. সিন্নাবার
সঠিক উত্তর:
সিন্নাবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্নাবার
ব্যাখ্যা

- মার্কারির প্রধান আকরিক হলো সিন্নাবার (Cinnabar), যার রাসায়নিক সংকেত হলো HgS । এই আকরিকটিকে বাতাসে গরম করে (রোস্টিং প্রক্রিয়ায়) মার্কারি বা পারদ নিষ্কাশন করা হয়।

আকরিক: 

- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না। 
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনকভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে, এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 
ধাতু ⇒ আকরিক: 
• মার্কারি ⇒ সিন্নাবার (HgS), 
• লেড ⇒ গ্যালেনা (PbS), 
• ক্যালসিয়াম ⇒ চুনাপাথর (CaCO3), 
• অ্যালুমিনিয়াম ⇒ বক্সাইট (Al2O3.2H2O), 
• জিংক ⇒ জিংক ব্লেন্ড (ZnS) ও ক্যালামাইন (ZnCO3), 
• কপার ⇒ কপার পাইরাইট (CuFeS2) ও চালকোসাইট (Cu2S) এবং 
• আয়রন ⇒ ম্যাগনেটাইট (Fe3O4), হেমাটাইট (Fe2O3) ও লিমোনাইট (Fe2O3.3H2O) । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১২২.
শ্বেত রক্তকণিকার ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?
  1. এটিকে দেহের প্রহরী বলা হয়
  2. এটি নিউক্লিয়াসহীন কোষ
  3. এটি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে
  4. এর গড় আয়ু ১২০ দিন
সঠিক উত্তর:
এটিকে দেহের প্রহরী বলা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটিকে দেহের প্রহরী বলা হয়
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা:
- মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে।
যথা-
১. লোহিত রক্তকণিকা,
২. শ্বেত রক্তকণিকা ও
৩. অনুচক্রিকা।

• লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস নেই।
- এ কণিকা দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল
- লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকারনেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১ থেকে ১৫ দিন।
- শ্বেত রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়

• অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের।
- এতে নউক্লিয়াস থাকে না।
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০দিন।

তথ্যসুত্র- জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১২৩.
মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রোটিন থাকে -
  1. ক) ৫৫%
  2. খ) ৬৩%
  3. গ) ৬৮%
  4. ঘ) ৭৩%
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭৩%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭৩%
ব্যাখ্যা
কোষের সাইটোপ্লাজমের মাঝে বিক্ষিপ্তভাগে অবস্থিত ধূসর বর্ণের ও শক্তি উপাদানের বিশেষ ধরনের অঙ্গগুলোকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলা হয়। একে কোষের পাওয়ার হাউজও বলা হয়।
মাইটোকন্ড্রিয়ায় ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড, এবং সামান্য পরিমানে ডিএনএ ও আরএনএ, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, এএসসি প্রোগ্রাম, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১২৪.
অধাতব খনিজ পদার্থ কোনটি?
  1. ম্যাঙ্গানিজ
  2. সোনা
  3. বক্সাইট
  4. গন্ধক
সঠিক উত্তর:
গন্ধক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গন্ধক
ব্যাখ্যা
খনিজ সম্পদ (Mineral Resources): 
- মানুষ ভূগর্ভ ও ভূপৃষ্ঠ হতে যেসব বস্তু সংগ্রহ করে নিজের চাহিদা পূরণ করে তাকে খনিজ সম্পদ বলে। 
- ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, 'প্রকৃতিপ্রদ ও অজৈব কঠিন পদার্থ, যাদের মধ্যে কতিপয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং নির্দিষ্ট রাসায়নিক সংযুক্তি থাকে তাদেরকেই খনিজ পদার্থ বলে।' 
- কোনো কোনো খনিজ কেবল একটি মৌলিক উপাদানে গঠিত। 
যেমন- সোন, রূপা, হীরা ইত্যাদি। 
- কিন্তু বেশিরভাগ খনিজ দুই বা তার বেশি মৌলিক উপাদানের রাসায়নিক যৌগের ফলে বা সংমিশ্রণে গঠিত হয়।
- সাধারণত দু'ভাবে খনিজের শ্রেণিবিভাগ করা যায়।
যেমন- 
১। উৎপত্তি অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- কোন বস্তু থেকে খনিজের উদ্ভব ঘটেছে তার উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর যাবতীয় খনিজ দ্রব্যকে দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) জৈব খনিজ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি। 
(খ) অজৈব খনিজ: লোহা, নিকেল, সীসা, ম্যাঙ্গানিজ, অভ্র, জিপসাম প্রভৃতি। 

২। প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে শ্রেণিবিভাগ: 
- প্রকৃতি বা উপাদান অনুসারে খনিজ দ্রব্যগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
(ক) ধাতব খনিজ (Metallic Mineral): 
- লৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজ, যথা- লৌহ আকরিক। 
- অলৌহ বর্গীয় ধাতব খনিজ, যথা- তামা, টিন, বক্সাইট, সোনা, রূপা, দস্তা ইত্যাদি। 
- লৌহ সঙ্কর ধাতব খনিজ, যথা- ম্যাঙ্গানিজ, নিকেল। 

(খ) অধাতব খনিজ (Nonmetallic Mineral): 
- রাসায়নিক খনিজ, যথা- গন্ধক, লবণ, পটাস, ডলোমাইট। 
- সড়ক ও গৃহনির্মাণের খনিজ, যথা- চুন, চুনাপাথর, মার্বেল। 
- অন্যান্য অধাতব খনিজ, যথা- অভ্র, চীনামাটি, গ্রাফাইট। 

(গ) জ্বালানি খনিজ (Fuel Mineral): 
- কঠিন, যথা- কয়লা। 
- তরল, যথা- খনিজ তেল। 
- গ্যাসীয়, যথা- প্রাকৃতিক গ্যাস। 
- পারমাণবিক, যথা- ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, রেডিয়াম। 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
৩,১২৫.
হাইড্রোজেনের আইসোটোপ প্রোটিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা কত? 
  1. এক
  2. দুই
  3. শূন্য
  4. তিন
সঠিক উত্তর:
শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেনের আইসোটোপ প্রোটিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা শূন্য। 

আইসোেটাপ (Isotope): 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান। 
- কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। 
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১২৬.
তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা কেমন হবে? 
  1. বেশি হবে
  2. কম হবে
  3. অপরিবর্তনশীল থাকবে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বেশি হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি হবে
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন: পানি। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১২৭.
নিচের কোনটি biological coin নামে পরিচিত?
  1. NADP
  2. NADH
  3. ATP
  4. FTP
সঠিক উত্তর:
ATP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ATP
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহের কোষে অবস্থিত জটিল যৌগিক খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে সরল দ্রব্যে পরিণত হয় এবং শক্তি উৎপন্ন করে তাকে শ্বসন (respiration) বলে। 
- শ্বসনের সময় খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়। 
- শ্বসন প্রতিটি সজীব কোষে দিন ও রাতের সবসময় ঘটে। 
- কোষের সাইটোপ্লাজম বা সাইটোসল (cytosol) এবং কোষস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া নামক অঙ্গানুতে সবাত শ্বসন হয়। 
- অবাত শ্বসন হয় সাইটোপ্লাজমে। 
- সবাত ও অবাত শ্বসনে খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে যে রাসায়নিক শক্তি উৎপাদন করে তা কোষের বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করার জন্যে প্রধানত ATP হিসাবে তৈরি ও পরবর্তীতে ব্যবহৃত হয়। সেজন্য ATP কে জৈবনিক মুদ্রা বা biological coin বলা হয়। 
- সবাত শ্বসনের এক অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারনের সর্বশেষ ধাপ কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াতে হয় এবং অন্যান্য উচ্চশক্তিসম্পন্ন রাসায়নিক পদার্থ ATP তে রূপান্তরিত হয় এবং সেজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বা powerhouse of a cell বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,১২৮.
নিচের কোন পদার্থটি উর্ধ্বপাতিত হয় না?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড
  2. খ) অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
  3. গ) ন্যাপথলিন
  4. ঘ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
সঠিক উত্তর:
ঘ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
যে প্রক্রিয়ায় কোনাে কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলাে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্প এ পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। নিশাদল (NH4Cl), কপূর (C10H16O), ন্যাপথলিন(C10H8), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়ােডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) এই পদার্থগুলােকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলাে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। এই পদার্থগুলােকে উধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়। যেমন-কঠিন ন্যাপথলিনকে তাপ দিলে সেটি তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয়।
সূত্র: নবম শ্রেণির রসায়ন বিজ্ঞান।
৩,১২৯.
কোনটির কারণে মরিচ ঝাল লাগে?
  1. ক) অক্সালিক এসিড
  2. খ) ক্যাপসিসিন
  3. গ) ক্যাপসোমিয়ার
  4. ঘ) ভিটামিন সি
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যাপসিসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যাপসিসিন
ব্যাখ্যা
- ক্যাপসিসিনের কারণে মরিচে ঝাল লাগে।
- ক্যাপসিসিন গন্ধহীন একধরনের অ্যালকালয়েড।
- যে মরিচে যত বেশি ক্যাপসিসিন থাকে সে মরিচ তত বেশি ঝাল।
৩,১৩০.
গম, ভূট্টা, ইক্ষু এদের পরাগায়ন ঘটে-
  1. ক) প্রাণীর সাহায্যে
  2. খ) মৌমাছির সাহায্যে
  3. গ) বাতাসের সাহায্যে
  4. ঘ) কীটপতঙ্গের সাহায্যে
সঠিক উত্তর:
গ) বাতাসের সাহায্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাতাসের সাহায্যে
ব্যাখ্যা
যেসব ফুলের পরাগায়ন বায়ুর মাধ্যমে হয়ে থাকে তাদের বায়ুপরাগী ফুল বলে। যেমন- ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু ইত্যাদি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৩১.
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর কোনটি?
  1. মেসোস্ফিয়ার
  2. ট্রপোস্ফিয়ার
  3. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  4. তাপমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
ট্রপোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রপোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর হলো ট্রপোমণ্ডল বা  ট্রপোস্ফিয়ার। 

• বায়ুমণ্ডল:
- যে গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে বায়ুমণ্ডল বল হয়। 

• বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
যথা-
- ট্রপোমণ্ডল,
- স্ট্রাটোমণ্ডল,
- মেসোমণ্ডল,
- তাপমণ্ডল ও
- এক্সোমণ্ডল।

• এর মধ্যে ট্রপোমণ্ডল হলো বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর এবং এক্সোমণ্ডল হলো সবচেয়ে উপরের স্তর। 

• ট্রপোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য:
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা কমতে থাকে। সাধারণভাবে প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬.৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়।
- নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে।
- ধূলিকণার অবস্থানের ফলে সমগ্র বায়ুমন্ডলের ওজনের প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে।
- যে উচ্চতায় তাপমাত্রা বন্ধ হয়ে যায় তাকে ট্রপোবিরতি বলে। এখানে তাপমাত্রা - ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে হতে পারে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৩,১৩২.
নিচের কোনটি হৃদরোগ ?
  1. ক) প্যরালাইসিস
  2. খ) এপিলেপসি
  3. গ) এনজাইনা
  4. ঘ) পারকিনসন
সঠিক উত্তর:
গ) এনজাইনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এনজাইনা
ব্যাখ্যা
- স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, পারকিনসন'স ডিজিজ, আলঝেইমার'স ডিজিজ, GBS, মেনিনজাইটিস, এপিলেপসি প্রভৃতি স্নায়ুরোগ হিসাবে পরিচিত।
- হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, উচ্চ রক্তচাপ, এনজাইনা, মায়োকার্ডাইটিস, এন্ডোকার্ডাইটিস ইত্যাদি হৃদরোগ হিসাবে পরিচিত।
- নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, সিওপিডি, ব্রঙ্কিয়েকটেসিস ইত্যাদি ফুসফুসের রোগ হিসাবে পরিচিত।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৩,১৩৩.
'এভিকালচার' শব্দ দ্বারা কী বুঝায়? 
  1. পাখি পালন
  2. মৌমাছি পালন
  3. মৎস্য চাষ
  4. রেশম চাষ
সঠিক উত্তর:
পাখি পালন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাখি পালন
ব্যাখ্যা
আধুনিক চাষ পদ্ধতি: 
- পাখিপালন বিদ্যাকে বলা হয়- এভিকালচার। 
- মৎস্যচাষ বিদ্যাকে বলা হয়- পিসিকালচার। 
- মৌমাছি পালন বিদ্যাকে বলা হয়- এপিকালচার। 
- রেশম চাষ বিদ্যাকে বলা হয়- সেরিকালচার। 
- উদ্যান পালন বিদ্যাকে বলা হয়- হর্টিকালচার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৩,১৩৪.
কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম নয়?
  1. প্লাটিপাস
  2. রাজকাঁকড়া
  3. তেলাপোকা
  4. স্ফোনোডন
সঠিক উত্তর:
তেলাপোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলাপোকা
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
যেমন- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩,১৩৫.
নাসার বিজ্ঞানীরা যে নতুন চাঁদ-সদৃশ বস্তু আবিষ্কার করেছেন, বৈজ্ঞানিক ভাষায় সেটিকে কী বলা হয়? 
  1. Crescent Moon
  2. Waxing Gibbous Moon
  3. Quasi Moon
  4. First Quarter Moon 
সঠিক উত্তর:
Quasi Moon
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Quasi Moon
ব্যাখ্যা

কোয়াসি-মুন:
- নাসার বিজ্ঞানীরা ২০২৫ পিএন৭ নামের একটি নতুন চাঁদ-সদৃশ বস্তু আবিষ্কার করেছেন।
- এটি একটি ছোট মহাকাশীয় বস্তু যা দীর্ঘ সময় ধরে পৃথিবীর কাছাকাছি থাকে।
- এর কক্ষপথ এমনভাবে ঘোরে যে কখনও এটি পৃথিবীর সামনে দেখা যায়, আবার কখনও পিছনে চলে যায়।
- ফলে আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি পৃথিবীর উপগ্রহের মতো মনে হয়।
- কিন্তু এই নতুন চাঁদ-সদৃশ বস্তু পৃথিবীর উপগ্রহ নয়।
- এটি সূর্যের চারপাশে এমন কক্ষপথে ঘুরছে যা দেখে মনে হয় এটি পৃথিবীর সঙ্গে চলছে। 
- বৈজ্ঞানিক ভাষায় এই ধরনের বস্তুকে ‘কোয়াসি-মুন’ বা আংশিক চাঁদ বলা হয়
- এটি মূলত ১৯ মিটার ব্যাসের একটি ছোট গ্রহাণু।
-এই ছোট গ্রহাণু ২০৮৩ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি থাকবে।

অন্যদিকে,
• Crescent Moon (অর্ধচন্দ্র) হলো চাঁদের এমন একটি পর্যায় যেখানে চাঁদ New Moon এবং পূর্ণিমার মধ্যে থাকে। 
- এসময় চাঁদের পুরো অংশ আলোকিত হয় না, শুধু ছোট অংশ সূর্যের আলোয় প্রতিফলিত হয়ে দৃশ্যমান হয়।

• Waxing Gibbous Moon হলো চাঁদের এমন পর্যায় যেখানে অর্ধেকের বেশি অংশ আলোকিত থাকে।

• First Quarter Moon হলো চাঁদের সেই পর্যায় যখন অর্ধেক অংশ আলোকিত থাকে এবং নিখুঁত অর্ধবৃত্তের মতো দেখা যায়।

উৎস:
১. প্রথম আলো;
২. The Daily Ittefaq;
৩. BBC News.

৩,১৩৬.
গ্রিন হাউজ গ্যাসের উদাহরণ কোনটি? 
  1. আর্গন
  2. হাইড্রোজেন
  3. মিথেন
  4. সালফার ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
মিথেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথেন
ব্যাখ্যা
গ্রিন হাউজ প্রভাব: 
- ওজোন স্তরে ক্ষত সৃষ্টি হলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে কৃষি ও পরিবেশের ওপর যে বিরুপ প্রভাব ফেলে একেই গ্রিন হাউজ প্রভাব (Green House Effect) বলা হয়। 
- গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হচ্চে। 
- ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ ক্রমে গলে যাচ্ছে। 
- এর ফলে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর নিম্নভূমি ক্রমশ নিমজ্জিত হবে। 
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে: 
• জলীয় বাষ্প, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড, 
• নাইট্রাস অক্সাইড, 
মিথেন
• ওজোন, 
• ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি। 
- কার্বন ডাই সালফাইড এবং কার্বনিল সাইফাইড পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস। 

অন্যদিকে,
- আর্গন, হাইড্রোজেন ও সালফার ডাই-অক্সাইড গ্রীন হাউজ গ্যাস নয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৩৭.
ক্যালরি এককে গ্যাস ধ্রুবকের মান কত?
  1. 1.987 cal mol-1K-1
  2. 0.082 cal mol-1K-1
  3. 8.314 Jmol-1K-1
  4. 8.32×107 erg mol-1K-1
সঠিক উত্তর:
1.987 cal mol-1K-1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1.987 cal mol-1K-1
ব্যাখ্যা
মোলার গ্যাস ধ্রুবক: 
- আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT এর ধ্রবক R কে সার্বজনীন গ্যাস ধ্রুবক বা মোলার গ্যাস ধ্রবক বলে। 
কারণ, একই তাপমাত্রা ও চাপে এক মোল যেকোনো গ্যাসের মোলার আয়তন সমান হওয়ায় সব গ্যাসের বেলায় ঐ গ্যাস ধ্রুবকের মান একই হয়। 

গ্যাস ধ্রুবক R এর মান নির্ণয়: 

- ক্যালরি (calorie) এককে গ্যাস ধ্রুবক R এর মান: 1.987 cal mol-1K-1

অন্যদিকে, 
- লিটার অ্যাটমসফিয়ার চাপ এককে গ্যাস ধ্রুবক R এর মান: 0.082 L.atm.mol-1K-1
- এস. আই. (S. I) এককে গ্যাস ধ্রুবক R এর মান: 8.314 Jmol-1K-1
- সি. জি. এস (CGS) এককে গ্যাস ধ্রুবক R এর মান: 8.32×107 erg mol-1K-1

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৩,১৩৮.
সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের চারপাশে একবার ঘুরতে যে সময় লাগে তাকে কী বলে?
  1. কসমিক বছর
  2. সৌর বছর
  3. চন্দ্র বছর
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কসমিক বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কসমিক বছর
ব্যাখ্যা
কসমিক বছর (Cosmic Year):
- সময়কাল: প্রায় ২২৫ মিলিয়ন বছর।
- এটি হলো সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের চারপাশে একবার ঘুরতে যে সময় লাগে।

চন্দ্র বছর (Lunar Year):
- সময়কাল: প্রায় ৩৫৪ দিন।
- এটি ১২টি সিনোডিক মাস বা ১২টি চন্দ্র চক্র নিয়ে গঠিত, যা কিছু ক্যালেন্ডারে ব্যবহৃত হয়।

সৌর বছর (Solar Year):
- সময়কাল: ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড।
- এটি পরপর দুটি বসন্ত বিষুবের (Vernal Equinox) মধ্যে সময় ব্যবধান।

নাক্ষত্রিক বছর (Sidereal Year):
- সময়কাল: ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা ৯ মিনিট ১০ সেকেন্ড।
- এটি হলো সূর্যের বার্ষিক আপাত গতিপথ অনুযায়ী নির্দিষ্ট এক স্থানে ফিরে আসার সময়।

অ্যানোমালিস্টিক বছর (Anomalistic Year):
- সময়কাল: ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড।
- এটি হলো পৃথিবীর কক্ষপথে সূর্যের নিকটতম বিন্দু (perihelion) থেকে পরবর্তী একই অবস্থানে ফিরে আসার সময়কাল।

উৎস: Britannica.
৩,১৩৯.
মানুষের হৃৎপিণ্ডে কতটি প্রকোষ্ঠ থাকে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত।

হৃৎপিণ্ড:
- হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত এক ধরনের পাম্প।
- হৃৎপিণ্ড অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত।
হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে বেস্টিত থাকে।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- ওপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম নিলয় (Ventricles) বলে।
- দুটি অলিন্দের ভেতরকার প্রাচীর পাতলা কিন্তু নিলয় দুটির প্রাচীর পুরু এবং পেশিবহুল।
- ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে।
- বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে।
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপত্তি হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১৪০.
পানিতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের দ্রবণকে বলা হয়-
  1. ক) সোডা ওয়াটার
  2. খ) মিল্ক অব লাইম
  3. গ) ওয়াটার গ্যাস
  4. ঘ) মার্ক পারহাইড্রল
সঠিক উত্তর:
ক) সোডা ওয়াটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সোডা ওয়াটার
ব্যাখ্যা

কোন পানিতে উচ্চচাপে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে দ্রবীভূত করলে যে দ্রবণ পাওয়া যায়, তাকে সোডা ওয়াটার বলে।
যেমন- সেভেন আপ, স্প্রাইট, কোকাকোলা ইত্যাদি পানীয়।

৩,১৪১.
বস্তু নিজে আলো উৎপন্ন না করলে আমরা কীভাবে সেটি দেখি?
  1. আলো শোষণের মাধ্যমে
  2. আলো প্রতিফলনের মাধ্যমে
  3. আলো বিচ্ছুরণের মাধ্যমে
  4. আলো প্রতিসরণের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
আলো প্রতিফলনের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো প্রতিফলনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• বস্তু নিজে আলো উৎপন্ন না করলে, সেই বস্তুতে পতিত আলো প্রতিফলিত হয়ে চোখে প্রবেশ করে, ফলে আমরা বস্তুটি দেখতে পাই।

• আলোর চলাচল:
- আলো এক প্রকার শক্তি, যা সরলরেখায় চলে।
- আলো উৎস থেকে নির্গত হয়ে সোজা পথে অগ্রসর হয়।
- স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো সাধারণত বাঁকা পথে চলে না।
- আলো চলার পথে কোনো অস্বচ্ছ বস্তু থাকলে ছায়া সৃষ্টি হয়, যা প্রমাণ করে যে আলো সরলরেখায় চলে।
- আলো চলার এই ধর্মকে আলোর সরলরৈখিক গতি বলা হয়।
 
• আমরা যেভাবে দেখি:
- কোনো বস্তুকে দেখতে হলে সেই বস্তু থেকে আলো আমাদের চোখে প্রবেশ করতে হয়।
- বস্তু নিজে আলো উৎপন্ন করতে পারে অথবা অন্য উৎস থেকে আলো প্রতিফলিত করে চোখে পাঠায়।
- আলো চোখে প্রবেশ করার পর আমরা বস্তুটি দেখতে পাই।
- আলো যদি চোখে প্রবেশ না করে, তবে বস্তু দেখা সম্ভব নয়।
- তাই দেখার জন্য আলো, বস্তু ও চোখ—তিনটির উপস্থিতি প্রয়োজন।

উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

৩,১৪২.
পৃথিবীর কেন্দ্রে মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণের মান কত?
  1. 9.8 m/s2
  2. 0 m/s2
  3. 1.6 m/s2
  4. - 9.8 m/s2
সঠিক উত্তর:
0 m/s2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0 m/s2
ব্যাখ্যা

- কোনো বস্তু যে পরিমাণ বল দ্বারা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে আকর্ষিত হয় তাকে তার ওজন বলে।
- আমরা জানি, W = mg
- এখানে, g= অভিকর্ষজ ত্বরণ যার মান 9.8 ms- 2, m = বস্তুর ভর।
- অভিকর্ষজ ত্বরণের মান ভূপৃষ্ঠে সর্বোচ্চ। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত নিচে/উপরে যাওয়া যায় এর মান তত কমতে থাকে।
- এজন্য g এর মান পাহাড়ে বা খনির ভেতরে কম।
- মেরু অঞ্চলে g এর মান বিষুব অঞ্চলের চেয়ে বেশি।
- পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর মান শূন্য।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,১৪৩.
ভিটামিন-এ এর অভাবে কোন রোগ হয়? 
  1. রিকেটস 
  2. বেরিবেরি 
  3. স্কার্ভি 
  4. রাতকানা 
সঠিক উত্তর:
রাতকানা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাতকানা 
ব্যাখ্যা

ভিটামিন এ: 
- প্রাণিজ উৎসের মধ্যে ডিম, গরুর দুধ, মাখন, ছানা, দই, ঘি, যকৃত ও বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ মাছে, বিশেষ করে ছোট মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-এ পাওয়া যায়। 
- উদ্ভিজ উৎসের মধ্যে ক্যারোটিন সমৃদ্ধ শাক-সবজি যেমন: লালশাক, কচুশাক, পুঁইশাক, পাটশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, পুদিনা পাতা, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, মটরশঁটি এবং বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন: আম, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ রয়েছে। 

ভিটামিন-এ এর কাজ: 
- দেহের স্বাভাবিক গঠন এবং বর্ধন সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হওয়ার কাজ নিশ্চিত করে। 
- দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা যেমন: ত্বক, চোখের কর্নিয়া ইত্যাদিকে স্বাভাবিক ও সজীব রাখে। 
- হাঁড় এবং দাঁতের গঠন ও দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে। 
- দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। 
- দেহে রোগ সংক্রমন প্রতিরোধ করে। 
- ভিটামিন-এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। 
- ভিটামিন-এ এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে, এ অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া রোগ বলে। এই রোগে আক্রান্ত মানুষ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে। 
- ভিটামিন-এ এর অভাবে দেহের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। অনেক সময় ঘা, সর্দি, কাশি,গলাব্যাথা ইত্যাদি উপসর্গও দেখা দেয়। 
- ভিটামিন-এ এর অভাবে ত্বকের লোমকূপের গোড়ায় ছোট ছোট গুটির সৃষ্টি হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১৪৪.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন‌ কে? 
  1. স্টিফেন হকিং
  2. জি. লেমেটার
  3. জন হুইলার
  4. আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
স্টিফেন হকিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টিফেন হকিং
ব্যাখ্যা

• স্টিফেন হকিং: 
- স্টিফেন হকিং একজন পদার্থবিদ ও গণিতজ্ঞ। 
- স্টিফেন হকিং মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন‌। 
- তাঁর রচিত বইসমূহ- 
• A Brief History of Time, 
• The Universe in a Nutshell এবং 
• The Grand Design ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জি. লেমেটার। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১৪৫.
ট্রপোস্ফিয়ার এলাকার বিস্তৃতি
  1. ভূপৃষ্ঠের ১৮ কিমি উপর পর্যন্ত
  2. ভূপৃষ্ঠের ১০০ কিমি উপর পর্যন্ত
  3. ভূপৃষ্ঠের ৮০ কিমি উপর পর্যন্ত
  4. ভূপৃষ্ঠের ১২০ কিমি উপর পর্যন্ত
সঠিক উত্তর:
ভূপৃষ্ঠের ১৮ কিমি উপর পর্যন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূপৃষ্ঠের ১৮ কিমি উপর পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
• ভূপৃষ্ঠের ১৮ কিমি উপর পর্যন্ত বায়ুর স্তরকে ট্রপোস্ফিয়ার বলে।
• এটি নিকটতম স্তর।
• এ স্তরে বজ্রপাত, বিদ্যুৎ চমকানো, ঘূর্ণিঝড় ও টর্নেডো ইত্যাদি সংঘটিত হয়। 

উৎস - মাধ্যমিক ভূগোল, বোর্ড বই
৩,১৪৬.
হামের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভ্যাকসিন নিচের কোনটি?
  1. এমআর ভ্যাকসিন
  2. পিসিভি ভ্যাকসিন
  3. বিসিজি ভ্যাকসিন
  4. ডিপিটি ভ্যাকসিন
সঠিক উত্তর:
এমআর ভ্যাকসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এমআর ভ্যাকসিন
ব্যাখ্যা
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে,
- বিসিজি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় যক্ষ্মার বিরুদ্ধে।
- ডিপিটি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া ও হুপিং কাশির বিরুদ্ধে।
- এমআর ভ্যাকসিন দেওয়া হয় হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে।
- পিসিভি ভ্যাকসিন দেওয়া হয় নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে।

সূত্র: www.dghs.gov.bd
৩,১৪৭.
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন কে? 
  1. গ্যালিলিও
  2. মার্কনী
  3. আইনস্টাইন
  4. ম্যাক্সওয়েল
সঠিক উত্তর:
মার্কনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্কনী
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে তিনি বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৪৮.
দিনের গড় তাপমাত্রা 86°F হলে সেন্টিগ্রেড স্কেলে তা কত ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড হবে?
  1. 30°
  2. 25°
  3. 35°
  4. 36°
সঠিক উত্তর:
30°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
30°
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দিনের গড় তাপমাত্রা 86°F হলে সেন্টিগ্রেড স্কেলে তা কত ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড হবে?

সমাধান:
ফারেনহাইট স্কেল থেকে সেন্টিগ্রেড স্কেলে তাপমাত্রা রূপান্তরের সূত্র: 
C = (F - 32) × 5/9
এখানে, F = 86
C = (86 - 32) × 5/9
C = 54 × 5/9
C = 270/9
C = 30

সুতরাং, 86°F তাপমাত্রা সেন্টিগ্রেড স্কেলে 30°C হবে।

৩,১৪৯.
পূর্ণবয়স্ক সুস্থ একজন ব্যক্তির গড় নাড়ীর স্পন্দন প্রতি মিনিটে কত বার?
  1. ৬৬ বার
  2. ৭২ বার
  3. ৭৮ বার
  4. ৮০ বার
সঠিক উত্তর:
৭২ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭২ বার
ব্যাখ্যা
• পূর্ণবয়স্ক সুস্থ একজন মানুষের হৃৎস্পন্দন গড়ে প্রতি মিনিটে ৭২ বার।

• রক্তচাপ:

- হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রবাহমান রক্ত ধমনির স্থিতিস্থাপক প্রাচীরে যে পার্শ্বীয় চাপের সৃষ্টি করে, তাকে রক্তচাপ বলে।
- হৃৎপিণ্ড থেকে দেহে প্রবাহমান রক্ত ধমনির প্রাচীরের ওপর দুই ধরনের পার্শ্বীয় চাপের সৃষ্টি করে। যথা:

১. সিস্টোলিক চাপ বা সিস্টোল:
- হৃৎপিণ্ডের ভেন্ট্রিকল সিস্টোল থাকা অবস্থায় প্রবাহমান রক্ত ধমনির প্রাচীরে যে উচ্চ পার্শ্বীয় চাপের সৃষ্টি করে তাকে সিস্টোলিক চাপ বলে।
- এ চাপ ১১০-১৪০ মি.মি. পারদ (Hg).

২. ডায়াস্টোলিক চাপ বা ডায়াস্টোল:
- হৃৎপিণ্ডের ভেন্ট্রিকলদ্বয় ডায়াস্টোল থাকা অবস্থায় প্রবাহমান রক্ত ধমনির প্রাচীরে যে পার্শ্বীয় নিম্নচাপের সৃষ্টি করে তাকে ডায়াস্টোলিক চাপ বলে।
- ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৬০-৯০ মি.মি. পারদ (Hg) পর্যন্ত ওঠানামা করে।
- সুস্থ স্বাভাবিক পূর্ণবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক চাপ ১২০ মি.মি. পারদ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মি.মি. পারদ (Hg).
- এ পরিমাপকে আদর্শ রক্তচাপ ধরা হয়।
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে মানুষের রক্তচাপ নির্ণয় করা হয়।
- একবার সিস্টোল এবং তার পরবর্তী ডায়াস্টোলকে একত্রে হৃৎস্পন্দন বা হার্টবিট বলে।
- পূর্ণবয়স্ক সুস্থ একজন মানুষের হৃৎস্পন্দন গড়ে প্রতি মিনিটে ৭২ বার।
- রক্তের সান্দ্রতা (viscosity), প্রান্তীয় রোধ (peripheral resistance) এবং দেহের রক্তের মোট পরিমাণের ওপর রক্তচাপ নির্ভর করে।
- রক্তচাপ মাপার জন্য Sphygmomanometer ও Stethoscope ব্যবহার করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩,১৫০.
ফাইলেরিয়া জীবানু বহনকারী মশার নাম-
  1. ক) এডিস
  2. খ) অ্যানোফিলিস
  3. গ) কিউলেক্স
  4. ঘ) ম্যানসোনাইড
সঠিক উত্তর:
গ) কিউলেক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কিউলেক্স
ব্যাখ্যা
ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা ভাইরাস ইত্যাদির বাহক এডিস মশা। ম্যালেরিয়ার বাহক অ্যানোফিলিস মশা। আর ফাইলেরিয়ার বাহক হল কিউলেক্স মশা।
৩,১৫১.
গ্যামেটোজেনেসিস কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
গ্যামিটোজেনেসিস বা গ্যামিট সৃষ্টি (Gametogenesis):

- যৌন জননক্ষম মানুষের জননকোষ বা গ্যামিট সৃষ্টি হওয়ার প্রক্রিয়াকে গ্যামেটোজেনেসিস বলে।
- গ্রিক gamos জননকোষ এবং genesis-উৎপত্তি হওয়া এর সমন্বয়ে gametogenesis শব্দটি গঠিত।
- যৌন জননক্ষম পরিণত পুরুষের শুক্রাশয় এবং স্ত্রীর ডিম্বাশয়ের জার্মিনাল এপিথেলিয়াম কোষ থেকে গ্যামেটোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় যথাক্রমে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়।
- গ্যামেটোজেনেসিস দু'প্রকার। যথা-
১) স্পার্মাটোজেনেসিস। 
২) উওজেনেসিস।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৫২.
মূল ও কান্ডের মজ্জায় কোন ভাজক টিস্যুর সৃষ্টি হয়?
  1. রিব ভাজক টিস্যু
  2. মাস ভাজক টিস্যু
  3. প্লেট ভাজক টিস্যু
  4. গ্রাউন্ড ভাজক টিস্যু
সঠিক উত্তর:
রিব ভাজক টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিব ভাজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
বিভাজন প্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ: 
- বিভাজন প্রক্রিয়ার ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে ভাজক টিস্যুকে তিনভাগে বিভক্ত করা হয়। 
যথা - 
১। মাস ভাজক টিস্যু, 
২। রিব ভাজক টিস্যু ও 
৩। প্লেট ভাজক টিস্যু। 

মাস ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষ সব তলেই বিভাজিত হয় তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলে। এ প্রকার বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ দেহের আয়তন বাড়ে। 
যেমন- কর্টেক্স, এন্ডোস্পার্ম।  

রিব ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো মাত্র একটি তলে বিভক্ত হয় তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলে। এ ধরনের বিভাজনের ফলে এক সারি কোষ সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মূল ও কান্ডের মজ্জায় এই ধরনের টিস্যু সৃষ্টি হয়। 

প্লেট ভাজক টিস্যু: 

- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো দুটি তলে বিভক্ত হয় তাদের প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়। 
যেমন- পাতার টিস্যু। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৫৩.
উচ্চ মাত্রা বেগ সম্পন্ন তেজ কণিকার প্রবাহ কোনটি?
  1. ক) পানি
  2. খ) আলো
  3. গ) বায়ু
  4. ঘ) আগুন
সঠিক উত্তর:
খ) আলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আলো
ব্যাখ্যা
প্রাচীন ভারতীয় তত্ত্ব:
- খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ থেকে পঞ্চম শতাব্দীর মধ্যে প্রাচীন ভারতীয় সাংখ্য দর্শনে পাওয়া যায়- বিশ্ব গঠনের পাঁচটি মৌলিক উপাদানের একটি আলো।
- বৈশাশি দর্শনে পাওয়া যায় ভৌত জগতের পারমাণবিক অবস্থার মূল উপাদান ৪টি হলো ক্ষিতি (পৃথিবী), অপ (পানি), তেজ (আগুন) এবং মরুৎ (বায়ু)।
- আলো হলো উচ্চ মাত্রা বেগ সম্পন্ন তেজ কণিকার প্রবাহ
- বেগের বিভিন্নতার জন্য আলোর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বা বর্ণ প্রতীয়মান হয়।
- খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর বিষ্ণু পুরাণে সূর্যের আলোর সাত প্রকার বর্ণের রশ্মির উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ঋগ্ বেদে উল্লেখ আছে আলোর মৌলিক বর্ণ ৩টি এদের মিশ্রণে সকল বস্তু দৃশ্যমান হয়। 
- ভারতীয় বৌদ্ধ গ্রন্থ দ্বিগঙ্গায় খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকে এবং খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকে ধর্মকীর্তিতে আলোকে শক্তির সমতুল্য আণবিক সত্তা হিসাবে উল্লেখ করা হয় যা আধুনিক ফোটনের ধারণার অনুরূপ।
- তাদের মতে সকল বস্তুই আলো ও শক্তির কণা দিয়ে গঠিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,১৫৪.
রাডারে যে তড়িৎ চৌম্বক ব্যবহার করা হয় তার নাম-
  1. গামা রশ্মি
  2. মাইক্রোওয়েভ
  3. অবলোহিত বিকিরণ
  4. আলোক তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোওয়েভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোওয়েভ
ব্যাখ্যা
- মাইক্রোওয়েভ রাডারে ব্যবহৃত হয়। 
- রাডার যন্ত্রে, নৌ ও বিমান চালনায়, রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থায়, শিল্প কারখানায় মাইক্রোওয়েভ ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া খাবার গরম করা ও রান্নার কাজে মাইক্রোওভেন ব্যবহৃত হয়।
- মাইক্রোওয়েভ এর ফ্রিকুয়েন্সী রেঞ্জ হচ্ছে ৩০০MHz থেকে ৩০০GHz.
- মাইক্রোওয়েভ সিস্টেমে মূলত দুটো ট্রান্সসিভার (Transceiver) থাকে।
- এর একটি সিগন্যাল ট্রান্সমিট (Transmit) করে এবং অন্যটি রিসিভ (Receive) করে।
- মাইক্রোওয়েভ যোগাযোগ দু' ধরনের হতে পারে। যথা : টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ (Terrestrial Microwave) ও স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ (Satellite Microwave) 

উৎস:
১. ব্রিটানিকা
২. পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৫৫.
মানুষের সুষুম্না স্নায়ুর সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ১২টি
  2. খ) ২৪টি
  3. গ) ৩১টি
  4. ঘ) ৬২টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬২টি
ব্যাখ্যা
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যগত একককে স্নায়ুকোষ বা নিউরন বলে।
- মানবদেহের দীর্ঘতম কোষ হলো স্নায়ুকোষ।
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ হলো মস্তিষ্ক।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া বা ২৪টি।
- মানুষের সুষুম্না স্নায়ু ৩১ জোড়া বা ৬২টি।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৫৬.
কোন ভিটামিন রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে?
  1. ভিটামিন A
  2. ভিটামিন C
  3. ভিটামিন K
  4. ভিটামিন D
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন K
ব্যাখ্যা
• ভিটামিন K রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

• রক্ততঞ্চন: 
- দেহের কোথাও ক্ষত সৃষ্টির ফলে কোনো রক্তবাহিকার এন্ডোথেলিয়াম ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তপাত বন্ধের উদ্দেশে ও সংক্রমণ প্রতিরোধে যে জটিল জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায়
   ফাইব্রিন জালক সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষতস্থানে রক্তকে থকথকে পিণ্ডে পরিণত করে সে প্রক্রিয়াকে রক্তের জমাট বাঁধা বা রক্ত তঞ্চন বলে।
• এ প্রক্রিয়ায় অণুচক্রিকা ও রক্তরসে উপস্থিত ১৩ ধরনের ক্লটিং ফ্যাক্টর (clotting factor) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

• এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ৪টি ফ্যাক্টর হলো-
(i) ফাইব্রিনোজেন,
(ii) প্রোথ্রম্বিন,
(iii) থ্রম্বোপ্লাস্টিন ও
(iv) Ca2+

• এর মধ্যে ২ নং ফ্যাক্টর টি হলো প্রোথ্রম্বিন। এটি প্লাজমা প্রোটিন।
-  এটি ভিটামিন K-র উপস্থিতিতে যকৃতে সংশ্লেষিত হয়। এটি রক্ত তঞ্চনের সময়ে প্রম্বিনে পরিণত হয়।
- ভিটামিন K রক্ত জমাট বাঁধতে ভূমিকা রাখে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি; গাজী আজমল।
৩,১৫৭.
কোনটি জলজ আবহাওয়াজনিত (hydro-meteorological) দুর্যোগ নয়?
  1. ভূমিকম্প
  2. খরা
  3. তুষারপাত
  4. ঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
• Hydro-meteorological দুর্যোগ:
- Hydro-meteorological শব্দটি দুটি অংশ থেকে গঠিত:
- Hydro এর অর্থ পানি সংশ্লিষ্ট।
- এবং Meteorological অর্থ আবহাওয়া বা জলবায়ু সংক্রান্ত ঘটনা।
- Hydro-meteorological দুর্যোগ বলতে মূলত জলবায়ু ও আবহাওয়াজনিত কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলিকে বোঝায়।
- বন্যা, ভূমিধস উভয় hydro-meteorological দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত।
- এই দুর্যোগগুলো সরাসরি জলবায়ু (Climate) এবং আবহাওয়ার (Weather) পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- প্রধানত বৃষ্টিপাত, বায়ুর গতি, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার পরিবর্তন এই দুর্যোগগুলির কারণ।
- জলজ আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের কিছু উদাহরণ হলো: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, ভারি বৃষ্টি, খরা, তুষারপাত।
- ভূমিকম্প জলজ আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ নয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।প্রা
৩,১৫৮.
নিচের কোনটি বহুরূপী মৌল নয়?
  1. সোডিয়াম
  2. কার্বন
  3. গন্ধক
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
যদি কোন মৌল ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রকৃতিতে থাকতে পারে তার এ ধর্মকে বহুরূপতা বলে।

কার্বনের রূপভেদ:
কার্বন একটি বহুরূপী মৌল। এর অনেক রূপভেদ আছে। কার্বনের রূপভেদকে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
যথা- স্ফটিকাকার বা দানাদার এবং অদানাদার।

- স্ফটিকার কার্বনের রূপভেদ হচ্ছে ডায়মন্ড ও গ্রাফাইট। 
- অদানাদার কার্বন প্রকৃতিতে নানা রূপে থাকে। যেমন: কাঠ কয়লা, প্রাণিজ কয়লা, ভুসা কয়লা, কোক কার্বন, কয়লা, গ্যাস কার্বন। 

সালফারের বহুরূপতা: প্রকৃতিতে সালফারের অনেকগুলো রূপভেদ আছে।
যেমন: দানাদার, অদানাদার এবং তরল সালফার।
- দানাদার সালফারের দুটি রূপভেদ আছে- রম্বিক বা আলফা সালফার এবং মনোক্লিনিক বা বিটা সালফার।
- অদানাদার সালফারের দুটি বহুরূপতা হচ্ছে- প্লাস্টিক বা নমনীয় বা গামা সালফার এবং দুগ্ধ বা ডেল্টা সালফার।
- তরল সালফারের রূপভেদ হচ্ছে - ল্যামডা সালফার এবং মিউ সালফার।
- এছাড়াও সালফারের আরেকটি বহুরূপতা হচ্ছে কোলয়ডাল সালফার।

অক্সিজেনের বহুরূপতা: প্রকৃতিতে অক্সিজেনের দুইটি বহুরূপতা বিদ্যমান আছে।
- যার একটি হচ্ছে ডাই অক্সিজেন বা অক্সিজেন নামে পরিচিত। এর সংকেত O₂। অপরটি হচ্ছে ট্রাই অক্সিজেন যা ওজন নামে পরিচিত। এর সংকেত O₃।

ফসফরাসের বহুরূপতা: প্রকৃতিতে ফসফরাসের দুটি বহুরূপতা আছে।
- একটি হল শ্বেত ফসফরাস এবং অপরটি হচ্ছে লোহিত ফসফরাস।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৩,১৫৯.
"Survival of the fittest" ধারণাটি সর্বপ্রথম কোন বিজ্ঞানী ব্যবহার করেন?
  1. ল্যামার্ক
  2. গ্রেগর মেন্ডেল
  3. থমাস হাক্সলি
  4. হার্বার্ট স্পেন্সার
সঠিক উত্তর:
হার্বার্ট স্পেন্সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হার্বার্ট স্পেন্সার
ব্যাখ্যা

"Survival of the fittest" ধারণাটি প্রথম ব্যবহার করেন হার্বার্ট স্পেন্সার, একজন সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক।
- পরে চার্লস ডারউইন তার প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) তত্ত্ব ব্যাখ্যা করার সময় এই বাক্যাংশটি গ্রহণ করেন।
- অর্থাৎ, পরিবেশের সাথে সবচেয়ে বেশি মানিয়ে নিতে সক্ষম জীবই টিকে থাকে ও বংশবিস্তার করে।

প্রাকৃতিক নির্বাচন বা যোগ্যতমের উর্দ্ধতন (Natural Selection or Survival of the Fittest):
- ডারউইনের মতে জীবন ধারণের সংগ্রামে কেবল সেই জীব সাফল্য লাভ করে যাদের দেহে সংগ্রামের পক্ষে অনুকূলে এবং অধিকতর ও সঙ্গত সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিযোজন বা প্রকরণ থাকে।
- যে সকল জীবের অভিযোজন বা প্রকরণ সংগ্রাম উত্তরণের উপযোগী নহে তারা পৃথিবী হতে বিলীন হয়ে যায়।
- ডারউইন একে প্রাকৃতিক নির্বাচন (natural selection) বলে অভিহিত করেছেন।
- Herbert Spencer একে যোগ্যতমের উর্দ্ধতন (survival of the fittest) হিসেবে অ্যাখায়িত করেছেন।

অন্যান্য অপশনসমূহ:
- ল্যামার্ক: তিনি 'অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার' তত্ত্বের প্রবক্তা।
- গ্রেগর মেন্ডেল: তিনি বংশগতিবিদ্যার জনক।
- থমাস হাক্সলি: তিনি ডারউইনের একজন শক্তিশালী সমর্থক ও প্রচারক ছিলেন, কিন্তু এই শব্দটির প্রবক্তা নন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৬০.
এক্স-রশ্মির আবিষ্কারক-
  1. আইনস্টাইন
  2. ম্যাক্সওয়েল
  3. উইলহেম রন্টজেন
  4. ম্যাক্স প্লাংক
সঠিক উত্তর:
উইলহেম রন্টজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলহেম রন্টজেন
ব্যাখ্যা
এক্সরে বা এক্স-রশ্মি:
- জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- ১৮৯৫ সালে এক্স-রশ্মি আবিষ্কৃত হয়।
- এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রনজেন ১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10-8 m থেকে 10-13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।

⇒ এক্সরের ধর্ম:
• এক্সরে সরল পথে গমন করে।
• এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না।
• এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ।
• এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট।
• এটি আলোর সমবেগে গমন করে।
• আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে।
• এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে।
• এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
• এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই ।
• এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে।
• এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে।
• এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক।
• এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৬১.
মহীসোপান কত ডিগ্রি কোণে সমুদ্রের তলদেশে নিমজ্জিত থাকে?
  1. ১ ডিগ্রি
  2. ৫ ডিগ্রি
  3. ১০ ডিগ্রি
  4. ১৫ ডিগ্রি
সঠিক উত্তর:
১ ডিগ্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর মহাদেশসমূহের স্থলভাগের যে অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে তাকে মহীসোপান বলে। মহীসোপান ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে।

মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার।
ইউরোপের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসোপান অবস্থিত। উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে দ্বিতীয় বৃহত্তম মহীসোপান অবস্থিত।

বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোসাগরে মহীসোপানের বিস্তৃতি প্রায় ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং প্রথম আলো)
৩,১৬২.
বৃক্কের গাঠনিক বা কার্যিক একককে কী বলে?
  1. নেফ্রন
  2. নিউরন
  3. রেচন
  4. কিডনী
সঠিক উত্তর:
নেফ্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেফ্রন
ব্যাখ্যা

মানুষের বৃক্ক:
- যে প্রক্রিয়ায় কোষীয় বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন বলে।
- যে তন্ত্রের মাধ্যমে রেচনকার্য সম্পন্ন হয় তাকে রেচনতন্ত্র বলে।
- বৃক্ক মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ।
- বৃক্কের গাঠনিক বা কার্যিক একককে নেফ্রন বলে।
- মানুষের প্রতিটি বৃক্কে ১০-১২ লাখ নেফ্রন থাকে।
- বৃক্ক মানুষের দেহে এবং রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তে লবণের পরিমান নিয়ন্ত্রণ করে।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার,প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থুলত্ব ৩ সেন্টিমিটার।
- পুরুষ মানুষের প্রতিটি বৃক্কের ওজন ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং প্রতিটি মহিলা মানুষের বৃক্কের ওজন ১৩০-১৫০ গ্রাম।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান,একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি,গাজী আজমল ও প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৬৩.
বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের বেগ কত?
  1. ক) ০ m/s
  2. খ) ২৮০ m/s
  3. গ) ৩৩২ m/s
  4. ঘ) ১১২০ m/s
সঠিক উত্তর:
গ) ৩৩২ m/s
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩৩২ m/s
ব্যাখ্যা
- মাধ্যম ছাড়া শব্দ চলতে পারে না। তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ ০।
- কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি যা ৫২২১ মি./সে,
- বায়বীয় মাধ্যমে সবচেয়ে কম যা ৩৩২ মি./সে।
- তরল মাধ্যমে শব্দের বেগ ১৪৫০ মি./সে।

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (১ম পত্র) বোর্ড বই।
৩,১৬৪.
একটি তেজস্ক্রিয় মৌলের অর্ধায়ু ২০০ বছর। মৌলটির ৭৫% ক্ষয় হতে কত বছর লাগবে?
  1. ক) ১৫০
  2. খ) ৩০০
  3. গ) ৪০০
  4. ঘ) ৪৫০
সঠিক উত্তর:
গ) ৪০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪০০
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি তেজস্ক্রিয় মৌলের অর্ধায়ু ২০০ বছর। মৌলটির ৭৫% ক্ষয় হতে কত বছর লাগবে?

সমাধান: 
অর্ধায়ু, T = 0.693/λ; λ = ক্ষয়ধ্রুবক 

200 = 0.693/λ
⇒ λ = 0.693/200 
= 0.003465

মৌলটির ৭৫% ক্ষয় হলে, অবশিষ্ট আছে (100 - 75)%
= 25%

তেজস্ক্রিয় ভাঙ্গনের বা ক্ষয়ের সূচকীয় সূত্র: 
N = N0e-tλ
⇒ N/N0 = e-tλ
⇒ e-tλ = 25% = 1/4
⇒ ln(e-tλ) = ln(1/4)
⇒ -tλ = -1.39
⇒ t = 1.39 / 0.003465
∴ t = 401.15 দিন 

গ অপশনটি কাছাকাছি হওয়ায় সঠিক উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হলো। 
৩,১৬৫.
অর্ধপরিবাহীতে কি মেশালে পরিবাহীর ন্যায় আচরণ করে?
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) সোডিয়াম
  3. গ) ফসফরাস
  4. ঘ) ইউরেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) ফসফরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফসফরাস
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহীর সাথে ফসফরাস মেশালে ফসফরাসের মুক্ত ইলেকট্রন থাকার কারণে সেটার সহযোগীতায় সেমিকন্ডাক্টর কন্ডাক্টর বা পরিবাহীর ন্যায় আচরণ করে। উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩,১৬৬.
শর্করার গঠন উপাদান কোনটি?
  1. কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
  2. কার্বন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  3. কার্বন, হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট: 
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যতম প্রধান খাদ্য বা প্রধান পুষ্টি উপাদান। 
- দেহের শক্তি উৎপাদনকারী খাদ্য উপাদানের মধ্যে শর্করা অপরিহার্য। 
- প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন খাদ্যসমূহের বেশিরভাগই শর্করা জাতীয় খাদ্য। 
- দেহের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মশক্তি ও তাপশক্তির ৬০%-৭০% শক্তি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য হতে গ্রহণ করা হয়। 
- ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা হতে ৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। 
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটের মূল গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O)। 
- কার্বোহাইড্রেট অণুতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন ২ : ১ অনুপাতে অবস্থান করে। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত জৈব যৌগের মধ্যে কার্বোহাইড্রেটের সংখ্যাই বেশি। 

শর্করার শ্রেণিবিভাগ: 
- গাঠনিক বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শর্করাকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। এক-শর্করা (Monosaccharide): 
- Mono অর্থ এক এবং Saccharide অর্থ চিনি, এ থেকেই Mono Saccharide বা এক-শর্করার নামকরণ করা হয়েছে। এক অণুবিশিষ্ট সরল শর্করাকে এক-শর্করা বলা হয়। মনোস্যাকারাইডকে বিশ্লেষণ করলে কেবল কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পাওয়া যায়। 
যেমন- গ্লুকোজ, ফ্রক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ। 

২। দ্বি-শর্করা (Disaccharide): 
- ডাই অর্থ দুই। দুটি এক-শর্করার অণু যুক্ত হয়ে দ্বি-শর্করা তৈরি হয়। দ্বি-শর্করাকে বিশ্লেষণ করলে ২টি এক-শর্করা পাওয়া যায়। 
যেমন- সুক্রোজ, মল্টোজ ও ল্যাকটোজ। 
- এদের বিশ্লেষণ করলে ২টি করে এক-শর্করা পাওয়া যাবে। 
• সুক্রোজ → গ্লুকোজ + ফ্রুক্টোজ, 
• মল্টোজ → গ্লুকোজ + গ্লুকোজ, 
• ল্যাকটোজ → গ্লুকোজ + গ্যালাকটোজ। 

৩। বহু শর্করা (Poly Saccharide): 
- বহু শর্করাগুলো জটিল শর্করা। অনেকগুলো বা দুই এর অধিক। এক-শর্করা অণু যুক্ত হয়ে বহু শর্করা গঠিত হয়। 
যেমন- সেলুলোজ, স্টার্চ ও গ্লাইকোজেন। 
- এদের ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করলে এক শর্করা পাওয়া যায়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৬৭.
সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলোর রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলো-
  1. ০%
  2. ১০-১৫%
  3. ৩-৬%
  4. ১০০%
সঠিক উত্তর:
৩-৬%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩-৬%
ব্যাখ্যা
সালোক সংশ্লেষণ: 
- যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
- যেহেতু সালোক সংশ্লেষনে এর সময় কার্বন-ডাই-অক্সাইড শর্করা জাতীয় খাদ্যে রূপান্তরিত হয় সুতরাং ফটোসিনথেসিস প্রক্রিয়ার এই অংশকে কার্বন আত্তীকরণ পদ্ধতি বলে। 
- সুতরাং সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে আলোচনার জন্য দুটি অংশে ভাগ করা যায়।
- প্রথমত সালোক সংশ্লেষণ বা আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়া বা আলোক পর্যায় এবং দ্বিতীয়ত কার্বন ডাই-অক্সাইড বিজারণ বা কার্বন আত্তীকরণ প্রক্রিয়া। 
- সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার রাসায়নিক বিক্রিয়া নিচে দেওয়া হলো- 


- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে- (১) আলো, (২) ক্লোরোফিল, (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- সূর্য হতে যে আলো পৃথিবীতে আসে তার যে অংশ উদ্ভিদের পাতায় পতিত হয় সে অংশের শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ মাত্র সালোক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়, বাকী ৯৮ থেকে ৯৯ ভাগ সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে অথবা কিছু অংশ তাপ শক্তি রূপে শোষিত হয়। 

উল্লেখ্য, 
- অপশন গ) ৩-৬% এর উত্তরটি শতকরা ১-২ ভাগের কাছাকাছি হওয়ায় এই উত্তরটি নেওয়া হয়েছে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৬৮.
ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করতে কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. নিয়ন
  2. রেডন
  3. আর্গন
  4. জেনন
সঠিক উত্তর:
রেডন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডন
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের ব্যবহার: 

হিলিয়াম: 
১। অত্যন্ত হালকা এবং অদাহ্য গ্যাস হওয়ায় পর্যবেক্ষণ বেলুন এবং উড়োজাহাজে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
২। রক্তে নাইট্রোজেনের তুলনায় হিলিয়াম কম দ্রবীভূত হয়। এজন্য গভীর সমুদ্রে ডুবুরিরা বাতাসের পরিবর্তে অক্সিজেন এবং হিলিয়াম গ্যাসের মিশ্রণ শ্বাসকার্যের জন্য ব্যবহার করেন। যদি বাতাস ব্যবহার করা হয় তাহলে সমুদ্রের গভীরে উচ্চ চাপে রক্তের মধ্যে নাইট্রোজেন দ্রবীভূত হয় এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে উঠে আসার সাথে সাথে রক্ত থেকে নাইট্রোজেন গ্যাস বুদবুদ আকারে বের হয়ে আসে যা প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি করে। 
৩। যেসব ধাতু সহজে জারিত হয় সেগুলি গলানো এবং ঝালাই করার জন্য হিলিয়াম গ্যাসের নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া সৃষ্টি করা হয়। 
৪। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিতে যেখানে অতি নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় সেখানে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 

নিয়ন: 
১। রঙ্গীন বাতি এবং বিজ্ঞাপনের আলোর জন্য নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। নিম্ন চাপে নিয়ন গ্যাসের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালালে গ্যাসটি জ্বলে ওঠে এবং উজ্জ্বল লাল আলো দেয়। এ আলো ঘন কুয়াশার মধ্যেও দেখা যায়। এ জন্য উড়োজাহাজকে উঁচু পর্বত থেকে সতর্ক করার জন্য গিরিচূড়ায় নিয়ন আলোর সংকেত দেখানো হয়। আবার আকাশে উড়ন্ত একটি উজোজাহাজকে দূর থেকে অন্য আর একটি উড়োজাহাজ যাতে দেখতে পায়, সেজন্য উড়োজাহাজেও নিয়ন আলোর সংকেত ব্যবহার করা হয়। 
২। নিয়ন গ্যাসের সাথে আর্গন এবং পারদ বাষ্প মিশিয়ে নিয়ন আলোর রং পরিবর্তন করা যায়। এজন্য বিভিন্ন রং এর বাতি এবং ফ্লোরোসেন্ট টিউবে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। আজকাল বিজ্ঞাপনের কাজে এরূপ আলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 
৩। টেলিভিশন সেট এবং রেডিও ফটোগ্রাফীতে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

আর্গন: 
১। বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
২। রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
৩। ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল অ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

ক্রিপটন: 
১। বৈদ্যুতিক আলোর টিউবে নিয়নের সাথে ক্রিপটন গ্যাস মিশ্রিত করে নীল আলো সৃষ্টি করা হয়। 
২। সিনেমাটোগ্রাফীতে অতি উজ্জ্বল আলো সৃষ্টি করার জন্য ক্রিপটন ফ্লাস ব্যবহার করা হয়। 
৩। মহাজাগতিক রশ্মি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত আয়নীকরণ চেম্বার যন্ত্রে ক্রিপটন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

জেনন: 
১। ইলেকট্রোনিক টিউব লাইটে সবুজ আলো সৃষ্টি করার জন্য জেনন ব্যবহার করা হয়। 
২। ফটোগ্রাফিক ফ্লাসটিউবে অতি উজ্জ্বল আলো সৃষ্টি করার জন্য জেনন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

রেডন: 
- রেডন একটি তেজস্ক্রিয় মৌল যা আলফা কণা বিচ্ছুরণ করে। 
- ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি দেওয়ার জন্য রেডন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৬৯.
একই পদার্থের বিভিন্ন অণুর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বলকে কী বলে?
  1. ক) সংসক্তি বল
  2. খ) আসঞ্জন বল 
  3. গ) আন্ত:আণবিক শক্তি 
  4. ঘ) কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
ক) সংসক্তি বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সংসক্তি বল
ব্যাখ্যা

একই পদার্থের বিভিন্ন অণুর মধ্যে পারস্পরিক এ আকর্ষণ বলকে সংসক্তি বল বলে। 
যেমন - ইস্পাতের বিভিন্ন অণুর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল।

একটি পদার্থকে অন্য একটি পদার্থের সংস্পর্শে রাখলে পদার্থ দুটির অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল অনুভূত হয়। বিভিন্ন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বলকে আসঞ্জন বল (Adhesive Force) বলে।

আন্তঃআণবিক বল হচ্ছে দুটি অণুগুলোর মধ্যকার আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল, যা পরমাণুর মত অন্য কণার (আয়ন) মধ্যেও বিরাজ করে। আন্তঃআণবিক বল, অন্তঃআণবিক বল (যে বল মৌলের পরমাণুগুলোকে একত্রে ধরে রাখে) অপেক্ষা দুর্বল প্রকৃতির। যেমনঃ সমযোজী বন্ধন, যেখানে দুটি পরমাণু ইলেকট্রন যুগল শেয়ার করে তা আন্তঃআণবিক বল অপেক্ষা বেশি শক্তিশালী।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, শাজাহান তপন।

৩,১৭০.
প্রসূতি মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় দৈনিক মোট ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ-
  1. ২৬০০ ক্যালরি
  2. ২১০০ ক্যালরি
  3. ১৯৫০ ক্যালরি
  4. ৫০০ ক্যালরি
সঠিক উত্তর:
২৬০০ ক্যালরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬০০ ক্যালরি
ব্যাখ্যা

প্রসূতি মায়ের খাদ্য:
- প্রসব-পরবর্তী নবজাতকের দুধের চাহিদা পূরণ ও মায়ের স্বাস্থ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য এই সময় মায়ের বেশি পুষ্টিকর খাদ্যের প্রয়োজন।
- প্রসূতি মাকে দৈনিক গড়ে ৬৫০ থেকে ৮৫০ মিলিলিটার দুধ উৎপাদন করতে হয়। এই দুধ উৎপাদনের জন্য মাকে অতিরিক্ত ৫০০ ক্যালরি গ্রহণ করতে হয়।
- দৈনিক প্রসূতি মায়ের মোট ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ হচ্ছে (২১০০ + ৫০০) = ২৬০০ ক্যালরি।
- দুধের প্রোটিন তৈরির জন্য মাকে দৈনিক ৭০ - ৭৫ গ্রাম প্রোটিন জাতীয় খাদ্য, যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, ডাল গ্রহণ করতে হবে।
 - ক্যালসিয়াম ও লৌহসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। দুধ, কাঁটাসহ ছোট মাছ, ডিম, সবুজ শাক-সবজি, যকৃত ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম ও লৌহ পাওয়া যায়।
- শারীরিক সুস্থতার জন্য বেশি পরিমাণে শাক-সবজি ও ফল খেতে হবে। প্রসবের পর এক মাস ফলিক এসিড খেতে হবে।
- বিশুদ্ধ পানি, দুধ ও পানি জাতীয় খাদ্য বেশি পরিমাণে খেতে হবে।
- মায়ের দুধ শিশুর আদর্শ খাদ্য। এই দুধে শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সব কয়টি পুষ্টি উপাদান থাকে। তাই দুগ্ধ উৎপাদন ও মায়ের দুর্বলতা রোধের জন্য মাকে নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
- প্রসূতি মাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। দৈনিক হালকা হাঁটা-চলা ও ঘরের হালকা কাজ করতে পারবে।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৭১.
কলেরা অথবা ডায়ারিয়া আক্রান্ত রোগীকে স্যালাইন খেতে দেয়া হয় কেন ?
  1. ক) বমি বন্ধ হওয়ার জন্য
  2. খ) দেহে পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণের জন্য
  3. গ) পায়খানা বন্ধ হওয়ার জন্য
  4. ঘ) দেহ বর্ধনের জন্য
সঠিক উত্তর:
খ) দেহে পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দেহে পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণের জন্য
ব্যাখ্যা
কলেরা অথবা ডায়ারিয়া হলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে লবণ ও পানি বের হয়ে যায়।
দেহের পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণের জন্য আক্রান্ত রোগীকে স্যালাইন খেতে দেয়া হয়।

ডায়রিয়ার ব্যাপ্তি কমিয়ে আনার জন্য জিংক চমৎকার কাজ করে। তাই এখন স্যালাইনের পাশাপাশি জিংকও ডায়রিয়ার জরুরি পথ্য। 
তবে কোন বয়সি রোগী কতটা জিংক গ্রহণ করবেন সেটার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

স্যালাইন জীবন রক্ষাকারী হিসাবে যেমন কাজ করে, তেমনি এটি সঠিক নিয়মে না খাওয়ালে জটিলতা আরও বাড়তে পারে। তাই এই ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত সবার।
সেলাইন খাওয়ার সঠিক নিয়ম - [লিংক]
৩,১৭২.
মহাকর্ষ বল সরবরাহ করে কিন্তু কোন তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ নিঃসরণ করে না, এমন পদার্থকে বলা হয় -
  1. ক) ব্ল্যাকহোল
  2. খ) ডার্ক ম্যাটার
  3. গ) ডার্ক এনার্জি
  4. ঘ) পালসার
সঠিক উত্তর:
খ) ডার্ক ম্যাটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডার্ক ম্যাটার
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণবিবর বা কৃষ্ণগহ্বর:
একটি তারকায় যদি যথেষ্ট ভর ও ঘনত্ব থাকে তাহলে তার মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র এত শক্তিশালী হবে যে, আলো সেখান থেকে নির্গত হতে পারবে না। সেই তারকার পৃষ্ঠ হতে নির্গত আলো বেশি দূরে যাওয়ার আগেই তারকাটির মহাকর্ষীয় আকর্ষণ তাকে পেছনে টেনে নিয়ে আসবে। ঐ সব তারকা থেকে আলো আসতে পারে না বলে আমরা এদের দেখতে পাই না। তবে এদের মহাকর্ষ আকর্ষণ আমাদের বোধগম্য হবে, এই সমস্ত বস্তুপিণ্ডকে কৃষ্ণবিবর বা কৃষ্ণগহ্বর বলে।

• ডার্ক ম্যাটার বা অদৃশ্য বস্তু:
গ্যালাক্সিতে বিপুল পরিমাণ ভর রয়েছে যা মহাকর্ষ বল সরবরাহ করে কিন্তু কোনো তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ নিঃসরণ না করায় তা' দৃশ্যমান হয় না, এদেরকেই অদৃশ্য ভর বা ডার্ক ম্যাটার বলে। ধারণা করা হয় গ্যালাক্সিতে অদৃশ্য ভরের পরিমাণ দৃশ্যমান ভরের প্রায় দশগুণ।

• ডার্ক এনার্জি বা অদৃশ্য শক্তি:
মহাবিশ্বে মহাকর্ষের বিপরীতে একটি বল ক্রিয়াশীল রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যা মহাবিশ্বের প্রসারণকে ত্বরান্বিত করছে। একে অদৃশ্য শক্তি বা ডার্ক এনার্জি বলা হয় ।

• নিউট্রন নক্ষত্র বা পালসার:
কোনো নক্ষত্র যখন সুপারনোভা হিসেবে বিস্ফোরিত হয়, তখন এর কোর বা মূলবস্তুর চাপ এত বেশি হয় যে, প্রোটন ও ইলেকট্রন একত্রিত হয়ে নিউট্রন গঠন করে। তাই একে নিউট্রন নক্ষত্র বলা হয়। নিউট্রন নক্ষত্রের সাথে জড়িত থাকে অতি উচ্চ চৌম্বক ক্ষেত্র। এটি তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর রেডিওপাল্‌স বা বেতার স্পন্দন নির্গমন করে, তাই একে পালসার বলা হয়।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি; (ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)
৩,১৭৩.
জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি?
  1. কৃত্রিম সার প্রয়োগ
  2. পানি সেচ
  3. জমিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখা
  4. প্রাকৃতিক সার প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
পানি সেচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি সেচ
ব্যাখ্যা
• জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে পানি সেচ।
- দুই-তিনবার স্বাদুপানির সেচ দিয়ে সেই পানি জমি থেকে বের করে দিলে জমির লবণাক্ততা অনেকটাই কমে যায়।
- এটা একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি।
- লবণাক্ততার কারণে শুকনো মৌসুমে বিশেষ করে রবি ও খরিফ-১ মৌসুমে ফসল চাষ অসম্ভব হয়ে পড়ে।
- এ সময়ে মাটির লবণাক্ততা ৮.০ ডিএস/মি. এর উপরে চলে যায়।
- এছাড়া এ সময়ে নদীর পানির লবণাক্ততা ২৫.০-৩০.০ ডিএস/মি. পর্যন্ত লক্ষ করা যায়।

• জমির উর্বরতা রক্ষা ও বৃদ্ধির জন্যে করণীয় হলো:
- ভূমিক্ষয় রোধ করা।
- মাটিতে জৈব পদার্থ প্রয়োগ করা।
- মাটির অম্লমান নিয়ন্ত্রণ করা।
- শিম জাতীয় উদ্ভিদের চাষ করা।
- একই জমিতে একই ফসল বারবার চাষ না করে ভিন্ন ভিন্ন ফসল চাষ করা।
- পানি ও আগাছা ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাদেশ কৃষি তথ্য সার্ভিস এবং মাধ্যমিক কৃষিশিক্ষা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৭৪.
ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর কী দ্বারা পঠিত?
  1. প্রোটিন ও কাইটিন
  2. লিপিড ও প্রোটিন
  3. কাইটিন ও লিপিড
  4. লিগনিন ও সুবেরিন
সঠিক উত্তর:
লিপিড ও প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিপিড ও প্রোটিন
ব্যাখ্যা
• কোষপ্রাচীর (cell wall):
- কোষপ্রাচীর উদ্ভিদ কোষের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
- এটি মৃত বা জড়বস্তু দিয়ে তৈরি। প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর থাকে না।
- কোষপ্রাচীরের রাসায়নিক গঠন বেশ জটিল, এতে সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, লিগনিন, পেকটিন, সুবেরিন নামক রাসায়নিক পদার্থ থাকে।
- তবে ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রোটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে তৈরি ।
- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।
- প্রাথমিক কোষ প্রাচীরটি এক স্তরবিশিষ্ট। 
- কোষপ্রাচীর কোষকে দৃঢ়তা প্রদান করে, কোষের আকার ও আকৃতি বজায় রাখে।
- পাশের কোষের সাথে প্লাজমোডেজমাটা (আণুবীক্ষণিক নালি) সৃষ্টির মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং পানি ও খনিজ লবণ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৭৫.
দৃশ্যমান বর্ণালিতে সবচেয়ে কম তরঙ্গদৈর্ঘ্য কোন রঙের?
  1. লাল
  2. কমলা
  3. বেগুনি
  4. হলুদ
সঠিক উত্তর:
বেগুনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগুনি
ব্যাখ্যা

• বেগুনি (Violet) 380-424 nm - তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, প্রতিসরণ, বিচ্যুতি (বিক্ষেপণ সবচেয়ে বেশি।

• দৃশ্যমান আলো:
- দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য 380-780mm।
- মৌলিক রং ৩টি-লাল, সবুজ, আসমানী।
- লাল আলোতে সবুজ বস্তুকে কালো দেখায়।
- নীল কাচের মধ্য দিয়ে সাদা ফুল নীল দেখায়।

• বেগুনি (Violet) 380-424 nm - তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, প্রতিসরণ, বিচ্যুতি (বিক্ষেপণ সবচেয়ে বেশি,
• নীল (Indigo) 424-450 nm - নীল আলোর বিক্ষেপণের কারনে আকাশ নীল দেখায়,
• আসমানী (Blue) 450-500 nm,
• সবুজ (Green) 500-575 nm,
• হলুদ (Yellow) 575-590 nm - মধ্য রশ্মি বলা হয়,
• কমলা (Orange) 590-647 nm এবং 
• লাল (Red) 647-780 nm - তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, প্রতিসরণ, বিচ্যুতি, বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৭৬.
অ্যামিবা কোন প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে?
  1. অরীয় প্রতিসাম্য
  2. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য​
  3. অপ্রতিসাম্য
  4. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য
সঠিক উত্তর:
অপ্রতিসাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপ্রতিসাম্য
ব্যাখ্যা
প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

২। গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

৩। অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

৪। দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

৫। দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৭৭.
আয়োডিন দ্রবণ ব্যবহার করে খাদ্যের কোন উপাদানটি নির্ণয় করা যায়?
  1. ক) শর্করা
  2. খ) আমিষ
  3. গ) স্নেহ
  4. ঘ) ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
ক) শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শর্করা
ব্যাখ্যা
- আয়োডিন দ্রবণ ব্যবহার করে কোনো খাদ্যে শর্করা আছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়।
- শর্করা আয়োডিন দ্রবণের রঙ পরিবর্তন করে।
- স্বাদ ও গুণাগুণ বিচার করে খাদ্যকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। প্রোটিন বা আমিষ ,শর্করা ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য।
- এ তিন প্রকার খাদ্য আমাদের দেহ গঠন, ক্ষয়পূরুণ, বৃদ্ধিসাধন ও শক্তি যোগায়।
- ভিটামিন হলো খাদ্যের আরেকটি উপাদান যা কিনা দেহের রোগমুক্ত ও সবল রাখার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।

সূত্র:  ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বই।
৩,১৭৮.
কোন রঙের কাপে চা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়?
  1. লাল
  2. বেগুনি
  3. সাদা
  4. কালো
সঠিক উত্তর:
কালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালো
ব্যাখ্যা
• পদার্থের তাপশোষণ ক্ষমতা:
- কালো রঙের কাপে চা দ্রুত ঠাণ্ডা হয়।

- কারণ কালো রং তাপ শোষণ করতে পারে।
- তাপ সব সময় উচ্চ তাপীয় অবস্থা থেকে নিম্ন তাপীয় অবস্থায় স্থানান্তরিত হয়।
- এক্ষেত্রে চা এর কালো কাপটি হচ্ছে নিম্ন তাপীয় অবস্থা তাই তা দ্রুত তাপ শোষণ করে নেবে এবং চা তাপ বিকিরণ করে ঠান্ডা হয়ে যাবে।
- সাদা রঙের কাপে চা বেশি সময় গরম থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৭৯.
চাঁদের সবচেয়ে বড় গহ্বরটির নাম কী?
  1. ক) ডিমোস
  2. খ) ক্লেভিউস
  3. গ) ফোবোস
  4. ঘ) গ্যানিমেড
সঠিক উত্তর:
খ) ক্লেভিউস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্লেভিউস
ব্যাখ্যা
চাঁদ (Moon)
- পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার।
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নিজ কক্ষপথে ২৯ দিনে একবার আবর্তন করে।
- চাঁদের ব্যাস ৩,৪৭৫ কিলোমিটার।
- ১৯৬৯ সালের ২১ শে জুলাই সর্বপ্রথম মানুষ চাঁদে অবতরণ করেন।
- চাঁদে পানি, বায়ু, উদ্ভিদ বা প্রাণী নেই।
- চাঁদে বহু সমতলভূমি, পাহাড় পর্বত ও বৃহদাকার গর্তের উপরিভাগ দেখা যায়।
- চাঁদের সবচেয়ে বড় গহ্বরটির নাম ক্লেভিউস।
- চাঁদের আকাশ দিনে-রাতে একই রকম কালো।
- চাঁদের নিজস্ব আলো নেই।
- সূর্যের আলোতে চাঁদ আলোকিত হয়।
- চাঁদের যে পৃষ্ঠে সূর্যালোক পড়ে সে পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১০০° সেলসিয়াস এর ওপরে এবং অন্ধকার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১৫০° সেলসিয়াসের নীচে।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,১৮০.
উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোন জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে?
  1. ক) প্রোটিন
  2. খ) কার্বোহাইড্রেট
  3. গ) ফ্যাট
  4. ঘ) ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
খ) কার্বোহাইড্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কার্বোহাইড্রেট
ব্যাখ্যা
যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৮১.
'মহাবিশ্বের সব বস্তুপিণ্ড একসময় একত্রিত অবস্থায় ছিল'-এই ধারণাটি কোন তত্ত্বের মূল বক্তব্য? 
  1. স্টেডি স্টেট তত্ত্ব 
  2. স্থির মহাবিশ্ব তত্ত্ব 
  3. নীহারিকা তত্ত্ব 
  4. বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব 
সঠিক উত্তর:
বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব (Big Bang Theory): 
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়। 
- ১৯৩১ সালে তিনি আরো প্রস্তাব করেন যে, প্রসারণশীল বিশ্বকে যদি সময়ের সাথে পিছিয়ে নেয়া হয়, তাহলে একটা বিন্দুতে উপনীত হতে পারা যায়, যেখানে মহাবিশ্বের সমস্ত ভর পুঞ্জীভূত ছিল, যাকে আদিম পরমাণু বলা যেতে পারে এবং এখান থেকেই স্থান-কালের উদ্ভব। 
- তাই জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে।
- জর্জ গ্যামো মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন যে, যেহেতু গ্যালাক্সিসমূহ পরষ্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই সুদূর অতীতে নিশ্চয়ই তারা পরষ্পরের খুব কাছাকাছি ছিল। 
অর্থাৎ, কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব। 

- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা। সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুর করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে অর্থাৎ সর্বত্র ঘটেছিল। 
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির শুরু বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়। অর্থাৎ, বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না। 
- বিগ ব্যাগ-এর পর 10-43 s পর্যন্ত কী ঘটেছিল তা কেউ জানতে পারেনি, কিছুটা ধারণা পেয়েছে মাত্র। 
- মহাবিশ্ব শুরু হয়েছিল একটি অপরিমেয় ক্ষুদ্র, অসীম তাপ ও অসীম ঘনত্ববিশিষ্ট শক্তির উৎস থেকে। একে বলা হয় অনন্যতা বা অদ্বৈত বিন্দু (Singularity)। এতে সব মৌলিক বলগুলো একত্রে একীভূত বল হিসেবে ছিল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৮২.
স্টিফেন হকিং কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য সর্বাধিক পরিচিত?
  1. জিনতত্ত্ব
  2. রোবোটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
  3. কোয়ান্টাম কম্পিউটার
  4. কৃষ্ণগহ্বর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণগহ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণগহ্বর
ব্যাখ্যা

◉ স্টিফেন হকিং (Stephen Hawking) একজন বিশ্ববিখ্যাত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও মহাকাশবিদ। কৃষ্ণগহ্বর (Black Hole) এবং মহাবিশ্বের উৎপত্তি বিষয়ক তাঁর গবেষণা তাঁকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি দিয়েছে। বিশেষ করে “হকিং রেডিয়েশন (Hawking Radiation)” তত্ত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

স্টিফেন হকিং:
- স্টিফেন হকিং ছিলেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী।
- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of Time.
- তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত Centre for Theoretical Cosmology এর পরিচালক ছিলেন।
- সম্মান: রয়্যাল সোসাইটির ফেলো, প্রেসিডেন্টিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম, কপলি মেডেল
- ১৪ মার্চ ২০১৮ স্টিফেন হকিং মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বইসমূহ:
- A Brief History of Time,
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design,
- A Brief History of Time.

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩,১৮৩.
রক্তের লাল রঙের জন্য কোন পদার্থ দায়ী? 
  1. হিমোগ্লোবিন 
  2. প্লাজমা 
  3. লিউকোসাইট 
  4. বিলিরুবিন
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিন 
ব্যাখ্যা

• হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত একটি লৌহঘটিত প্রোটিন রঞ্জক। এই প্রোটিনে আয়রন বা লোহা থাকায় এটি অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে, যার ফলে রক্ত উজ্জ্বল লাল দেখায়।

• রক্ত: 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১৮৪.
লিথাল জিনের কারণে কোন রোগ হয়?
  1. হিমোফিলিয়া ও থ্যালাসেমিয়া
  2. থ্যালাসেমিয়া ও বর্ণান্ধতা
  3. বর্ণান্ধতা ও রাতকানা
  4. রাতকানা ও হিমোফিলিয়া
সঠিক উত্তর:
হিমোফিলিয়া ও থ্যালাসেমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমোফিলিয়া ও থ্যালাসেমিয়া
ব্যাখ্যা

লিথাল জিন (Lethal gene):
- লিথাল জিন হলো এমন জিন, যার প্রভাবে জীবের মৃত্যু ঘটে বা স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব হয় না।
- সাধারণত এই জিন হোমোজাইগাস অবস্থায় মারাত্মক প্রভাব সৃষ্টি করে।
- এর ফলে ভ্রূণ অবস্থাতেই বা অল্প বয়সে জীবের মৃত্যু হতে পারে।
- তাই লিথাল জিন দ্বারা সৃষ্ট রোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর প্রকৃতির হয়।

থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia):
- থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তজনিত রোগ।
- হোমোজাইগাস অবস্থায় (থ্যালাসেমিয়া মেজর) এটি লিথাল হিসেবে বিবেচিত।
- রোগীর শরীরে স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না।
- চিকিৎসা না হলে অল্প বয়সেই রোগীর মৃত্যু হতে পারে।
- তাই থ্যালাসেমিয়া লিথাল জিন দ্বারা সৃষ্ট রোগ।

হিমোফিলিয়া (Hemophilia):
- হিমোফিলিয়া একটি এক্স-লিঙ্কড বংশগত রোগ।
- এতে রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কমে যায়।
- এটি গুরুতর হলেও সাধারণভাবে লিথাল জিন দ্বারা সৃষ্ট নয়।
- যথাযথ চিকিৎসায় রোগী দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে।

বর্ণান্ধতা ও রাতকানা:
- বর্ণান্ধতা এবং রাতকানা উভয়ই দৃষ্টিজনিত বংশগত সমস্যা।
- এ রোগগুলোতে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে না।
- তাই এগুলো লিথাল জিনের উদাহরণ নয়।

সুতরাং, প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে লিথাল জিনের কারণে সৃষ্ট রোগ হিসেবে পাঠ্যবই অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য উত্তর হলো —
সঠিক উত্তর: ক) হিমোফিলিয়া ও থ্যালাসেমিয়া। 

সূত্র - sciencedirect journal.

৩,১৮৫.
সংক্রামক ব্যাধি কালাজ্বরের বাহক কোনটি?
  1. ক) লিশম্যানিয়া নামক বিশেষ ধরনের পরজীবী
  2. খ) এডিস মশকী
  3. গ) এক ধরনের উকুন
  4. ঘ) বেলেমাছি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেলেমাছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেলেমাছি
ব্যাখ্যা

কালাজ্বর বাংলাদেশের একটি এন্ডেমিক সংক্রামক রোগ। Leishmania donovani নামক এক বিশেষ পরজীবীর সংক্রমণের কারণে কালাজ্বর হয়ে থাকে। অর্থাৎ কালাজ্বরের কারণ হলো এই বিশেষ ধরনের পরজীবী।
Leishmania donovani নামক এই বিশেষ পরজীবী Phlebotomas নামক বিশেষ ধরনের বেলেমাছি বা Sand fly এর মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই কালাজ্বরের বাহক হলো বেলেমাছি।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি 

৩,১৮৬.
ক্লোনিং পদ্ধতিতে জন্মগ্রহণকারী ভেড়ার নাম কী?
  1. নেনী
  2. টমি
  3. শেলী
  4. ডলি
সঠিক উত্তর:
ডলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডলি
ব্যাখ্যা
ক্লোনিং:
- প্রাকৃতিক ক্লোন হলো একটি জীব অথবা একদল জীব যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ জননের দ্বারা।
- এদের ধরন হয় মাতৃ জীবের ন্যায়।
- একটি কোষ বা কোষগুচ্ছ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপন্ন হয় এবং তাদের প্রকৃতি মাতৃকোষের ন্যায় হয়, তাকেও ক্লোন বলে।
- প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশিরভাগ প্রোটোজোয়া এবং ঈস্ট, ছত্রাক ক্লোনিং এর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনবোধে কোনো বিশেষ জিনের সংখ্যাবৃদ্ধি করে তার প্রতিলিপি তৈরি করা হয়।
- কোনো কোনো কোষকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় আবাদ মাধ্যমে রেখে বিভাজন ঘটিয়ে এতে উৎপন্ন করা হয় একগুচ্ছ একই ধরনের কোষ।
- আবার কোনো অণুজীব উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীর অনুরূপ অনেক জীব উৎপাদন করাকে ক্লোনিং বলে।
- ক্লোনিং তিন ধরনের। যথা- 

১। জিন ক্লোনিং:
- একই জিনের অসংখ্য প্রতিলিপি তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে।
- জিন ক্লোনিং রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে করা হয়।

২। সেল ক্লোনিং:
- একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই ধরনের কোষ তৈরি করাকে সেল ক্লোনিং বলে।

৩। জীব ক্লোনিং:
- একটি মাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে।
- প্রাকৃতিক পরিবেশে উদ্ভিদের ক্ষেত্রে অঙ্গজ জননের ফলে উৎপন্ন উদ্ভিদ একটি ক্লোন।
- মনোজাইগোটিক যমজ একে অপরের ক্লোন।

- সম্প্রতি জিন প্রযুক্তির দ্বারা সম্ভব হয়েছে একই প্রাণীর দেহকোষ থেকে সম্পূর্ণ নিউক্লিয়াসকে বের করে সে প্রাণীর নিষেককৃত ডিম্বাণুতে ইনজেকট করে নিউক্লিয়াস স্থাপন করা।
- ডিম্বাণুতে দেহকোষের নিউক্লিয়াস স্থাপন করার পূর্বে নিষেককৃত ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসকে অপসারণ করা হয়। এ ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয় তা হুবহু তার মাতার ন্যায় হয়।
- ডলি নামক ভেড়া হলো পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে।
- এ ক্লোনিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শূকর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে।
- ইঁদুর, ডলি নামক ভেড়া, বানর, প্রভৃতি ক্লোনিংয়ের পর বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি এখন মানুষের উপর।
- এ প্রক্রিয়াটি কিন্তু মোটেই দূরূহ নয়, তাই ইতিমধ্যে বিভিন্ন উন্নত দেশে মানুষের ক্লোন করার প্রক্রিয়া আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৮৭.
ট্রায়োড আবিষ্কার করেন কে?
  1. জে এস কেলবি
  2. আবাকাস
  3. লি ডি ফরেস্ট
  4. জোসেফ বাটলার
সঠিক উত্তর:
লি ডি ফরেস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লি ডি ফরেস্ট
ব্যাখ্যা

- ট্রায়োড এক ধরনের ইলেকট্রনিক বিবর্ধক যার তিনটি ইলেকট্রোড (cathode filament, anode plate এবং control grid) থাকে।
- সাধারণত ট্রায়োড বলতে ভ্যাকুয়াম টিউব ইলেকট্রোডকেই বোঝায়।
- ডায়োড নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় ১৯০৬ সালের ২০ অক্টোবর লি ডি ফরেস্ট ট্রায়োড আবিষ্কার করেন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,১৮৮.
'A Brief History of Time' গ্রন্থটির লেখক -
  1. Jamal Nazrul Islam
  2. George Lemaitre
  3. Kepler
  4. Stephen Hawking
সঠিক উত্তর:
Stephen Hawking
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Stephen Hawking
ব্যাখ্যা
• 'A Brief History of Time' গ্রন্থটির লেখক হলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী Stephen Hawking. এই বইটি ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি মহাবিশ্বের গঠন, সময়ের প্রকৃতি, কৃষ্ণগহ্বর (black holes), বিগ ব্যাং (Big Bang), আপেক্ষিকতা ও কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মতো জটিল ধারণাগুলো সাধারণ পাঠকের জন্য সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করে। স্টিফেন হকিং বইটিতে মূলত মহাবিশ্বের উৎপত্তি, বিকাশ ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটি বিজ্ঞানের জনপ্রিয়ীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি কপি বিক্রি হয়েছে। এই গ্রন্থই তাকে সাধারণ মানুষের মাঝে বিজ্ঞানী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।

তাঁর রচিত বইসমূহ-
- A Brief History of Time,
- The Universe in a Nutshell,
- The Grand Design, ইত্যাদি।

- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।
- স্টিফেন হকিং ছিলেন একজন ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী।
- পৃথিবীর মানুষের কাছে “The Scientist on a Wheelchair” হিসেবে পরিচিত।
- স্টিফেন হকিং এর জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র- ‘Theory of Everything.’

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩,১৮৯.
নিচের কোন উদ্ভিদটি আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদের উদাহরণ? 
  1.  ইক্ষু 
  2.  তামাক 
  3. চন্দ্রমল্লিকা 
  4. আউশ ধান 
সঠিক উত্তর:
আউশ ধান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আউশ ধান 
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদে আলো-অন্ধকারের ছন্দকে বায়োলজিক্যাল ক্লক বলা হয়।
- উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদে পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ৮-১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, তামাক, শিম, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া ইত্যাদি। 
 
২। দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন হয়। 
যেমন- পালংশাক, আফিম, ভুট্টা, যব, লেটুস, ঝিঙা ইত্যাদি। 
 
৩। আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে আলো কোনও প্রভাব ফেলে না। 
যেমন- টমেটো, কার্পাস, আউশ ধান, শসা, সূর্যমুখী ইত্যাদি। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৯০.
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক কত লিটার পানি পান করা প্রয়োজন?
  1. ক) ১-২ লিটার
  2. খ) ৪-৫ লিটার
  3. গ) ২-৩ লিটার
  4. ঘ) ৫-৬ লিটার
সঠিক উত্তর:
গ) ২-৩ লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২-৩ লিটার
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পানি খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান। 
- দেহের গঠন ও অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না। 
- আমাদের দৈহিক ওজনের ৬০%- ৭৫% হচ্ছে পানি। 
- আমাদের রক্ত, মাংস, স্নায়ু, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানির প্রয়োজন। 

- পানি জীবদেহে দ্রাবকের কাজ করে, খাদ্য উপাদানের পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করে। 
- বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থগুলোকে পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়। 
- একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত, কারণ প্রায় ঐ পরিমাণ পানি প্রত্যেকদিনই আমাদের শরীর থেকে বের হয়ে যায়। 
- পানি দেহে অম্ল ও ক্ষারের সমতা নষ্ট করে এসিডোসিস রোগের সৃষ্টি হয়। 
- শরীরে পানি ১০% কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ পায়, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩,১৯১.
সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি
  2. এটি অপর্যাবৃত্ত গতি
  3. এটি সরল রৈখিক গতি
  4. ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
এটি অপর্যাবৃত্ত গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি অপর্যাবৃত্ত গতি
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন: 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে। 
- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচের গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ। 

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য: 
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি
৩. এটি সরল রৈখিক গতি
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক, 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৯২.
ফোটন কণার নিশ্চল ভর কত?
  1. 0
  2. 3 × 108 kg
  3. 3 × 10-9 kg
  4. 3 × 10-19 kg
সঠিক উত্তর:
0
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0
ব্যাখ্যা
• ফোটন:
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

• ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
- প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ।
- শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে চলাচল করে।
-  প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক। 
- নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৯৩.
মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে উচ্চশক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদের সমষ্টিকে বলে -
  1. ক) গামা রশ্মি
  2. খ) অবলোহিত রশ্মি
  3. গ) মহাজাগতিক রশ্মি
  4. ঘ) অতি বেগুনী রশ্মি
সঠিক উত্তর:
গ) মহাজাগতিক রশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মহাজাগতিক রশ্মি
ব্যাখ্যা
মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে উচ্চশক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদের সমষ্টিকে মহাজগতিক রশ্মি বলে।
বিজ্ঞানী ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ১৯৩৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,১৯৪.
কোন রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়?
  1. শ্বেত রক্তকণিকা
  2. লোহিত রক্তকণিকা
  3. অণুচক্রিকা
  4. হিমোগ্লোবিন
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্তকণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা
• লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস নেই।
- এ কণিকা দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।
- লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকারনেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১ থেকে ১৫ দিন।
- শ্বেত রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়।

• অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের।
- এতে নিউক্লিয়াস থাকে না।
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০ দিন।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৯৫.
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মৌলিক রাশির কতটি একক আছে? 
  1. ৮ 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

রাশি এবং তাদের পরিমাপ: 
- প্রকৃত বিজ্ঞানে সবকিছুরই পরিমাপ করতে হয়; বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পরিমাপ করে সব কিছুকে নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করা। 
- এই জগতে যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলে, এই ভৌতজগতে অসংখ্য বিষয় রয়েছে যা পরিমাপ করা সম্ভব। 
যেমন- কোনো কিছুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা, আয়তন, ওজন, তাপমাত্রা, রং, কাঠিন্য, তার অবস্থান, বেগ, তার ভেতরকার উপাদান, বিদ্যুৎ পরিবাহিতা, অপরিবাহিতা, স্থিতিস্থাপকতা, তাপ পরিবাহিতা, অপরিবাহিতা, ঘনত্ব, আপেক্ষিক তাপ, চাপ গলনাঙ্ক, স্ফুটনাঙ্ক ইত্যাদি।
অর্থাৎ, ভৌতজগতে রাশিমালার কোনো শেষ নেই। 
- এই অসংখ্য রাশিমালা পরিমাপ করার জন্য অসংখ্য রাশির সংজ্ঞা আর অসংখ্য একক তৈরি করে রাখতে হবে বিষয়টি এমন নয়; শুধুমাত্র সাতটি রাশির সাতটি একক ব্যবহার করে অন্য সব একক বের করে করা যায়। 

মৌলিক রাশি: 
- যে সাতটি রাশির সাতটি একক ব্যবহার করে অন্য সব একক বের করে করা যায় সে সব রাশিকে বলে মৌলিক রাশি। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, বৈদ্যুতিক প্রবাহ, তাপমাত্রা, পদার্থের পরিমাণ এবং দীপন তীব্রতা। 
- এই সাতটি মৌলিক রাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, এই সাতটি একককে বলে এস.আই (S.I) একক। 

লব্ধ রাশি: 
- এই সাতটি মৌলিক রাশি ব্যবহার করে যখন অন্য কোনো রাশি প্রকাশ করা হয়, তখন তালে বলে লব্ধ রাশি। 
যেমন- কাজ, ক্ষমতা, বল, বেগ, ত্বরণ, ঘনত্ব ইত্যাদি হচ্ছে লব্ধ রাশি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১৯৬.
কোন পদার্থটিকে তাপ দিলে কঠিন পদার্থ থেকে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়?
  1. ক) ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড
  2. খ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  3. গ) নিশাদল
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড
সঠিক উত্তর:
গ) নিশাদল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিশাদল
ব্যাখ্যা

যে প্রক্রিয়ায় কোনাে কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলাে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
নিশাদল (NH4Cl), কপূর (C10H16O), ন্যাপথলিন(C6H6), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়ােডিন (I), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) - এই পদার্থগুলােকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলাে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। এই পদার্থগুলােকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়।
কঠিন ন্যাপথলিনকে তাপ দিলে সেটি তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয়।

৩,১৯৭.
ধাতব পদার্থে মরিচা পড়া রোধ করতে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. তামা
  2. সীসা
  3. লোহা
  4. টিন
সঠিক উত্তর:
টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিন
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

পেইন্টিং: 
- পেইন্টিং বা রং করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়। 
- বাসার রেফ্রিজারেটর, আলমারি, গাড়ি, স্টিলের আসবাবপত্র এসবেরই ক্ষয় রোধ করা জন্য পেইন্ট দিয়ে রং করা হয়। 
- এই পেইন্ট সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব আবার পেইন্টিং করে নেওয়া ভালো। 

গ্যালভানাইজিং: 

- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৩,১৯৮.
ভাঙ্গা হাড় শনাক্ত করার জন্য কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) গামা
  2. খ) রঞ্জন
  3. গ) বিটা
  4. ঘ) আলফা
সঠিক উত্তর:
খ) রঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রঞ্জন
ব্যাখ্যা
রঞ্জন রশ্মি:

- তীব্র গতিবেগ সম্পন্ন ইলেকট্রন উচ্চ গলনাঙ্ক বিশিষ্ট কোনো কঠিন বস্তুকে আঘাত করলে উচ্চ ভেদন শক্তির এবং ক্ষুদ্রতর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের যে অদৃশ্য তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ কঠিন বস্তু থেকে নির্গত হয়, তাকে এক্স রশ্মি বলে।
- এক্স-রে অথবা রঞ্জন রশ্মি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যবহার করা হয়।
- যেমন- এক্স-রশ্মির সাহায্যে ফটোগ্রাফিক প্লেটে হাত, পা বা দেহের হাড়ের ছবি পাওয়া যায়।
- এজন্য শল্য চিকিৎসায় এক্স-রশ্মি অপরিহার্য।
- এক্স-রশ্মির জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার, টিউমার প্রভৃতি রোগের চিকিৎসায় এই রশ্মি ব্যবহৃত হয়। একে এক্স-রে থেরাপি বলে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৯৯.
সিলিকনের সাথে কোন পদার্থ যোগ করলে p-টাইপ অর্ধপরবাহী তৈরি হয়?
  1. ফসফরাস
  2. বোরন
  3. হাইড্রোজেন
  4. কার্বন
সঠিক উত্তর:
বোরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোরন
ব্যাখ্যা
• p- টাইপ অর্ধপরিবাহক:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহকে সামান্য পরিমাণে ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসাবে মেশানো হলে তাকে p- টাইপ অর্ধপরিবাহক বলে।
- যেমন- বোরন, এলুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম, ইন্ডিয়াম।

• n- টাইপ অর্ধপরিবাহক:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহকে সামান্য পরিমাণে পঞ্চযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসাবে মেশানো হলে তাকে n- টাইপ অর্ধপরিবাহক বলে।
- যেমন- ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি, বিসমাথ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,২০০.
পানিতে নৌকার বৈঠা বাঁকা দেখা যাওয়ার কারণ, আলোর - 
  1. বিচ্ছুরণ
  2. প্রতিফলন
  3. প্রতিসরণ
  4. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
সঠিক উত্তর:
প্রতিসরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিসরণ
ব্যাখ্যা
প্রতিসরণ: 
- আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে বাঁকাভাবে আপতিত হয় তবে মাধ্যম দুটির বিভেদতলে এর গতিপথের দিক পাল্টে যায়। একে প্রতিসরণ বলে। 
আলোর প্রতিসরণের ফলে - 
১) পুকুরের পানির ভেতর মাছকে কিছুটা ওপরে দেখা যায়। 
২) একটি সরল দণ্ডকে তির্যকভাবে পানিতে ডোবালে বাঁকা দেখা যায়। 
৩) পানিতে ডােবানাে পয়সা উপর থেকে তাকালে কিছুটা উপরে দেখা যায়। 
৪) খাঁড়াভাবে তাকালে পুকুরের গভীরতা প্রকৃত গভীরতা থেকে কম মনে হয়। 
৫) পানিতে নৌকার বৈঠা বাঁকা দেখা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।