বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৩০ / ১৪০ · ১২,৯০১১৩,০০০ / ১৪,০৮০

১২,৯০১.
কোনটির অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়?
  1. সায়ানোকোবালামিন
  2. রাইবোফ্ল্যাভিন
  3. নিয়াসিন
  4. থায়ামিন
সঠিক উত্তর:
সায়ানোকোবালামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সায়ানোকোবালামিন
ব্যাখ্যা
- দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ায় অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।
- রাইবোফ্ল্যাভিনের অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হয়, ত্বক খসখসে হয়। চোখ দিয়ে পানি পড়ে। এর অভাবে তীব্র আলোতে চোখ খুলতে অসুবিধা হয়।
- নিয়াসিনের অভাবে পেলেগ্রা হয়।
- কোবালামিন/ সায়ানোকোবালামিন/ ভিটামিন B12 এর অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয় এবং স্নায়ুর অবক্ষয় ঘটে।

সূত্র: মাধমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
১২,৯০২.
আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে-
  1. ক) ট্রানজিস্টর
  2. খ) ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট
  3. গ) পাঞ্চকার্ড
  4. ঘ) বায়ুশূন্য টিউব
সঠিক উত্তর:
খ) ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট
ব্যাখ্যা
আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি)। এটি ১৯৫৮ সালে আবিষ্কার করেন জ্যাক কেলবি। আইসি হলো এক ধরনের মাইক্রো সার্কিট। ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহক চিপে সাধারণত থাকে- রোধক, ধারক, ডায়োড, ট্রানজিস্টর ইত্যাদি।
১২,৯০৩.
ক্রোমোজোমে কোনটি থাকে না?
  1. ক) ডিএনএ
  2. খ) আরএনএ
  3. গ) প্রোটিন
  4. ঘ) ম্যাঙ্গানিজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ম্যাঙ্গানিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ম্যাঙ্গানিজ
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজম নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওপ্লাজমে অবস্থিত একপ্রকার ক্রোমাটিন ফাইবার বা তন্তু। ক্রোমোজম নিউক্লিক এসিড তথা ডিএনএ ও আরএনএ, প্রোটিন এবং অল্প পরিমাণ লিপিড, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন দ্বারা গঠিত।
উৎসঃ বিজ্ঞানঃ নবম-দশম শ্রেণী
১২,৯০৪.
সিনেমাস্কোপ প্রজেক্টারে কোন ধরনের লেন্স ব্যবহৃত হয়?
  1. উত্তল
  2. অবতল
  3. জুম
  4. সিলিনড্রিক্যাল
সঠিক উত্তর:
সিলিনড্রিক্যাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিনড্রিক্যাল
ব্যাখ্যা
• সিনেমাক্সোপ (Cinemascope) প্রজেক্টরে সাধারণত অ্যানামর্ফিক লেন্স (Anamorphic Lens) - (সিলিনড্রিক্যাল লেন্স) ব্যবহার করা হয়।

• Cinemascope কী?
- Cinemascope হলো একটি ওয়াইডস্ক্রিন ফরম্যাট যা ১৯৫০-এর দশকে জনপ্রিয় হয়। এটি 35mm ফিল্ম ব্যবহার করে, কিন্তু চিত্রটিকে হরাইজন্টালি সংকুচিত (squeeze) করে রেকর্ড করা হয়।

- লেন্সের ভূমিকা:
- অ্যানামর্ফিক লেন্স ক্যামেরায় ব্যবহার করা হয় চিত্রটিকে সংকুচিত করে ধারণ করতে (সাধারণত 2:1 অনুপাতের সংকোচন)।

- প্রজেকশন টাইমে আবার একটি অ্যানামর্ফিক প্রজেকশন লেন্স ব্যবহার করে সংকুচিত চিত্রটিকে পুনরায় প্রসারিত করে সঠিক অনুপাত ও রেশিওতে স্ক্রিনে দেখানো হয়।
- ব্যবহার করা হয়:
- 1.5x বা 2x অ্যানামর্ফিক প্রজেকশন লেন্স, যা সংকুচিত চিত্রটিকে 2.35:1 বা 2.39:1 স্ক্রিন রেশিওতে পুনঃপ্রসারিত করে।
- সিনেমাক্সোপ প্রজেক্টরে অ্যানামর্ফিক প্রজেকশন লেন্স ব্যবহার করা হয়, যা সংকুচিত চিত্রকে পুনরায় প্রাকৃতিকভাবে স্ক্রিনে দেখায়।

সূত্র: widescreenmuseum [লিংক]
১২,৯০৫.
টমাস আলফা এডিসন কোনটি আবিষ্কার করেন? 
  1. বিদ্যুৎ
  2. রকেট
  3. ফনোগ্রাফ
  4. ডায়নামো
সঠিক উত্তর:
ফনোগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফনোগ্রাফ
ব্যাখ্যা
- টমাস আলফা এডিসন ফনোগ্রাফ এবং বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেন। 

অন্যদিকে, 
- মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামো আবিষ্কার করেন। 
- উইলিয়াম গিলবার্ট বিদ্যুৎ আবিষ্কার করেন। 
- ডব্লিউ কনগ্রিড রকেট আবিষ্কার করেন। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১২,৯০৬.
কোনটি সাবান শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়?
  1. ক) ফ্যাট
  2. খ) NaOH
  3. গ) Ca(OH)2
  4. ঘ) গ্লিসারিন
সঠিক উত্তর:
গ) Ca(OH)2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Ca(OH)2
ব্যাখ্যা
•রোমানরা পশুর চর্বি, চামড়া এবং হাড় ইত্যাদির ছাইয়ের সাথে পানি ফুটিয়ে সাবান তৈরি করত।
• প্রাচীন কালে গরু, মহিষ ও উট ইত্যাদি পশুর চর্বি থেকে মিশরীয়রা সাবান তৈরি করত।
• পরবর্তীতে মধ্যযুগে পশুর চর্বির সাথে কস্টিক সোডাকে উত্তপ্ত করে সাবান তৈরির কৌশল আবিষ্কৃত হয়।
• ১৮৯০ সালে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সাবান উৎপাদন শুরু হয়।
• এই সময় সাবান তৈরির উপাদান কস্টিক সোডার উৎপাদনও ব্যাপকভাবে শুরু হয়।
• উদ্ভিদ বা প্রাণীজ তেল বা চর্বিকে NaOH বা KOH দ্বারা আর্দ্রবিশ্লেষণ করে সাবান তৈরি করা হয়। সাবান তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলা হয়।




উৎস: রসায়ন, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১২,৯০৭.
বড়দিনের উদ্ভিদ কোনটি?
  1. ক) আলু
  2. খ) ইক্ষু
  3. গ) শিম
  4. ঘ) লেটুস 
সঠিক উত্তর:
ঘ) লেটুস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লেটুস 
ব্যাখ্যা
: দিনের দৈর্ঘ্য বড় হলে এ জাতীয় ফুল ফোটে। যেমন- ঝিঙ্গা, লেটুস, আফিম, যব প্রভৃতি । এদের ছোট রাত্রির উদ্ভিদও বলা হয়।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
১২,৯০৮.
‘অলটিমিটার’ যন্ত্রের সাহায্যে কী পরিমাপ করা হয়?
  1. ক) উচ্চতা
  2. খ) বিদ্যুৎ প্রবাহ
  3. গ) শব্দের তীব্রতা
  4. ঘ) গ্যাসের চাপ
সঠিক উত্তর:
ক) উচ্চতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উচ্চতা
ব্যাখ্যা

উচ্চতা নির্ণয়ের যন্ত্র - অলটিমিটার
শব্দের তীব্রতা নির্ণায়ক যন্ত্র - অডিওমিটার
বিদ্যুৎ প্রবাহ মাপক যন্ত্র - অ্যামিটার
গ্যাসের চাপ নির্ণয়ক যন্ত্র - ম্যানােমিটার।

১২,৯০৯.
নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস কত প্রকার?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা-
১. DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস।
- Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

২. RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিও ভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক। 

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১২,৯১০.
কোন প্রক্রিয়ার জন্য সূর্যের প্রখর উত্তাপেও গাছের পাতা গরম হয় না?
  1. ক) প্রস্বেদন
  2. খ) ব্যাপন
  3. গ) অভিস্রবণ
  4. ঘ) সালোকসংশ্লেষণ
সঠিক উত্তর:
ক) প্রস্বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদকোষ থেকে বাষ্পাকারে পানি বের হয়ে যাওয়ার প্রণালীকে বলে প্রস্বেদন। 
-প্রস্বেদনের জন্য সূর্যের প্রখর উত্তাপেও গাছের পাতা গরম হয় না।
শীত বা গ্রীষ্মের পূর্বে প্রস্বেদন কমাতে গাছের পাতা ঝরে যায়।
প্রস্বেদন ৩ প্রকার। যথা- পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১২,৯১১.
শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয় কাকে?
  1. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  2. জন রে
  3. অ্যারিস্টটল
  4. থিওফ্রাস্টাস
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা
শ্রেণিবিন্যাসবিদ্য: 
- পৃথিবীতে বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রাণীর সংখ্যা সঠিক সংখ্যা কারো জানা নেই, তাই বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সহজ উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণিদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী জীবজগৎকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- প্রয়োজনের তাগিদে বর্তমানে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যা শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy) নামে পরিচিত। 
- প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক। 
যেমন- মানুষ, কুনোব্যাঙ, কবুতর ইত্যাদি এক একটি প্রজাতি। 
- কোনো প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস করতে হলে সেই প্রাণীকে বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে সাজাতে হয়, এই সকল ধাপের প্রত্যেকটিকে যথাযথভাবে বিন্যস্ত করতে হয়। 

- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যারিস্টটল, জন রে ও ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়, কারণ তিনিই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo sapiens  । 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন অথবা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১২,৯১২.
অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীর উদাহরণ কোনটি?
  1. শামুক
  2. ঝিনুক
  3. কেঁচো
  4. তারামাছ
সঠিক উত্তর:
কেঁচো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেঁচো
ব্যাখ্যা
প্রাণী জগতের শ্রেণীবিন্যাস: 
- সম্পূর্ণ প্রানী জগতকে ৯ টি প্রধান পর্বে ভাগ করা হয়েছে যার মধ্যে প্রথম আটটি অমেরুদন্ডী প্রাণীদের এবং শুধুমাত্র কর্ডাটা পর্ব মেরুদন্ডী প্রাণীদের নিয়ে গঠিত। 

একাইনোডারমাটা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- সম্পূর্ণরূপে সামুদ্রিক। 
- পানি সংবহনতন্ত্র দেখা যায়। 
-  দেহ কন্টকযুক্ত। 
- রেচনতন্ত্র অনুপস্থিত। 
উদাহরণ - তারামাছ, সমুদ্র শসা ইত্যাদি। 

মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- প্রায় সকল প্রাণী সামুদ্রিক। 
- দেহ নরম কিন্তু বাইরের দিকে শক্ত খোলসে আবৃত থাকে। 
উদাহরণ - শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি। 

নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- অধিকাংশ প্রাণী সামুদ্রিক। 
- দেহ দুটি ভ্রূণীয় কোষস্তর দ্বারা গঠিত। 
- সিলেন্টেরন নামক গহবর দেখা যায়। 
- নিডোব্লাস্ট নামে বিশেষ কোষ দেখা যায়। 
উদাহরণ - হাইড্রা, ওবেলিয়া ইত্যাদি। 

অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য: 
- দেহ নলাকার ও খন্ডায়িত। 
- প্রতিটি খন্ডে সিটা থাকে (জোক ব্যতীত)। 
- নেফ্রেডিয়া নামক রেচন অঙ্গ থাকে। 
উদাহরণ- কেঁচো, জোক ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১২,৯১৩.
তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে মূলত কী বোঝায়? 
  1. দৈর্ঘ্যের প্রসারণ
  2. ক্ষেত্রফলের প্রসারণ
  3. আয়তনের প্রসারণ
  4. ভরের প্রসারণ
সঠিক উত্তর:
আয়তনের প্রসারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়তনের প্রসারণ
ব্যাখ্যা

• তরল পদার্থের প্রসারণ:
- তাপ প্রয়োগে কঠিন পদার্থের মতো তরল পদার্থেরও প্রসারণ ঘটে।
- কঠিন পদার্থের সুনির্দিষ্ট আকার থাকায় এর বিভিন্ন প্রসারণ স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। এর দৈর্ঘ্য, ক্ষেত্রফল এবং আয়তনের প্রসারণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা সহজ হয় ৷
- কিন্তু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও আকার বা দৈৰ্ঘ্য নেই ।
- যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের আকার ধারণ করে।
- তাপের প্রভাবে তরল পদার্থের আয়তনের পরিবর্তনই কেবল প্রতীয়মান হয়, তাই তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে এর আয়তনের প্রসারণকেই বুঝায় ।
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, একই পরিমাণ তাপ প্রয়োগে সম আয়তনের কঠিন পদার্থের তুলনায় তরল পদার্থের আয়তনের প্রসারণ বেশি হয়।
- আবার একই পরিমাণ তাপে বিভিন্ন প্রকার তরলের প্রসারণের পরিমাণও সমান হয় না।
- তাপে পদার্থের প্রসারণ পর্যবেক্ষণের জন্য ঐ পদার্থকে তাপ দিতে হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।

১২,৯১৪.
আয়রনের আকরিক কোনটি? 
  1. লিমোনাইট
  2. ডলোমাইট
  3. ক্রায়োলাইট
  4. চুনাপাথর
সঠিক উত্তর:
লিমোনাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিমোনাইট
ব্যাখ্যা
আকরিক: 
- অধিকাংশ ধাতু প্রকৃতিতে ধাতব অক্সাইড ও ধাতব সালফাইড আকরিকরূপে থাকে। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৬ এর মৌলসমূহকে (যেমন O, S, Se, Te ইত্যাদিকে) আকরিক উৎপন্নকারী মৌল বা চ্যালকোজেনস (chalcogens) বলা হয়। 

ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
- চুনাপাথর
- জিপসাম, 
- ডলোমাইট ইত্যাদি। 

আয়রনের আকরিক: 
- ম্যাগনেটাইট, 
- হেমাটাইট, 
- আয়রন পাইরাইটস, 
- লিমোনাইট ইত্যাদি। 

অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
- বক্সাইট, 
- কোরান্ডাম, 
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৯১৫.
জৈব যৌগের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. কার্বন
  3. লোহা
  4. সোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন
ব্যাখ্যা
• জৈব যৌগ:
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।'
যেমন:- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি।

কার্বনের ক্যাটেনেশন ধর্মের কারণে এটি জৈব যৌগের প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

• জৈব যৌগের বৈশিষ্ট্য:
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার প্রভৃতি মৌল যুক্ত থাকে।  
- প্রধানত সমযোজী বন্ধন দ্বারা গঠিত হয়। 
- নিম্ন গলনাঙ্ক ও নিম্ন স্ফুটনাংক বিশিষ্ট হয়।
- জৈব যৌগ পোলার দ্রাবক যেমন পানিতে অদ্রবণীয়, কিন্তু জৈব দ্রাবক যেমন, ইথার ও বেনজিনে দ্রবণীয়। তবে হাইড্রক্সিল মূলক যুক্ত যৌগ (চিনি, অ্যালকোহল) পানিতে দ্রবণীয়।
-জৈব যৌগের দহনের পর কোনো অবশেষ থাকে না। 
-জৈব যৌগ গলিত অবস্থায় বা দ্রবণে আয়নিত হয় না বলে তড়িৎ বিশ্লেষ্য নয়। অর্থাৎ বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ অপরিবাহী।
-জৈব বিক্রিয়ার কৌশল জটিল ও মন্থর গতির হয়।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯১৬.
নিচের কোনটি দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক নিয়ে গঠিত হয়েছে?
  1. বোসন
  2. লেপ্টন
  3. প্রোটন
  4. নিউট্রন
সঠিক উত্তর:
প্রোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন
ব্যাখ্যা
ফার্মিওন (Fermion): 
- মহাবিশ্বের সকল পদার্থ এই কণিকা দ্বারা গঠিত। 
- এদের স্পিন 1/2 । 
- এরা পাউলির (Pauli) বর্জন নীতি মেনে চলে অর্থাৎ কখনই একটি পরমাণুতে দুটি ভিন্ন কণার সকল বৈশিষ্ট্য এক হতে পারে না। 
- অদ্ভুত পক্ষে স্পিনের দিক থেকে হলেও বিপরীত হবে। 
- এদের প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিকণা আছে। 
- ফার্মিওন কণা আবার দু'রকমের (১) কোয়ার্ক ও (২) লেপ্টন। 

কোয়ার্ক (Quark): 
- কোয়ার্ক পদার্থ গঠনের অন্যতম মৌলিক কণিকা। 
- সকল বস্তু প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত, আর এই প্রোটন ও নিউট্রন গঠিত হলো কোয়ার্ক দিয়ে। 
- দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক নিয়ে প্রোটন এবং দুটি ডাউন এবং একটি আপ কোয়ার্ক নিয়ে নিউট্রন গঠিত। 
- কোয়ার্ক মূলত ৬ টি। 
যথা- আপ (u) ও ডাউন (d), চার্ম (c) ও স্ট্রেঞ্জ (s) এবং টপ (t) ও বটম (b)। 
- এদের প্রত্যেকের আবার তিনটি করে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণ (Colour) রয়েছে। এই বর্ণ বাস্তবের রং নির্দেশ করে না বরং কণাগুলোর ভিন্ন ভিন্ন কোয়ান্টাম অবস্থা নির্দেশ করে। 
- কোয়ার্কগুলোর চার্জের পরিমাণ ভগ্নাংশ; যেমন: 2/3, -1/3 । তবে তারা সব সময় এমনভাবে থাকে যেন নীট চার্জ পূর্ণসংখ্যা হয়। 
- কোয়ার্ক সব সময় দলবদ্ধ অবস্থায় থাকে। 
- কোয়ার্কের এক একটি দলকে বলে হ্যাড্রন (Hadron)। 
- তিনটি কোয়ার্ক নিয়ে যে হ্যাড্রন গঠিত হয় তাদেরকে বলা হয় বেরিয়ন (Baryon)। 
যেমন- প্রোটন, নিউট্রন বেরিয়ন কণা। 
- একটি কোয়ার্ক ও তার এন্টিকোয়ার্ক নিয়ে যে হ্যাড্রন হয় তাদের বলা হয় মেসন (Meson)। 
যেমন- π মেসন, k মেসন ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯১৭.
পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্গত তার নাম কী?
  1. ছায়াগঙ্গা
  2. ম্যাজিলানিক ক্লাউডস
  3. মিল্কিওয়ে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মিল্কিওয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিল্কিওয়ে
ব্যাখ্যা

মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি ও সৌরজগত:
- গ্যালাক্সির অংশ বিশেষ ছায়াপথ নামে পরিচিত।
- সুদুর আকাশে বায়বীয় পদার্থ ও গ্যাসপূর্ণ স্বপ্নালোকিত মেঘের মত আস্তরণকে গ্যালাক্সি বলা হয় ।
- আমাদের সৌরজগত মিল্কিওয়ে (Milkyway) গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশবিশেষ, যা বাংলায় ছায়াপথ নামে অভিহিত।
- এই ছায়াপথটি অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্রের সমন্বয়ে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৯১৮.
HIV এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. Human Immune Deficiency Virus
  2. Human Immunologically Deficient Virus
  3. Human Immunodeficiency Virus
  4. Human Immune Deficient Virus
সঠিক উত্তর:
Human Immunodeficiency Virus
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Human Immunodeficiency Virus
ব্যাখ্যা

 HIV:
- এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immunodeficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে। 
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। 
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। 
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। 

এইডস রোগ:
- ‘AIDS’ এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Acquired Immunodeficiency Syndrome.
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। 
- এটি একটি সংক্রামক রোগ। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। 
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১২,৯১৯.
লোহার টুকরো সলিনয়েডের ভেতরে রাখলে এবং সলিনয়েডে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে কী ঘটে?
  1. লোহা চৌম্বকত্ব হারিয়ে ফেলে
  2. চৌম্বক ক্ষেত্র উৎপন্ন হয় না
  3. লোহার চৌম্বক কণিকাগুলো এলোমেলো থাকে
  4. লোহার চৌম্বক কণিকাগুলো এক সারিতে সজ্জিত হয় 
সঠিক উত্তর:
লোহার চৌম্বক কণিকাগুলো এক সারিতে সজ্জিত হয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহার চৌম্বক কণিকাগুলো এক সারিতে সজ্জিত হয় 
ব্যাখ্যা

তাড়িতচুম্বক (Electromagnet): 
- শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করা যায়। তবে, যদি একটি লোহার টুকরো কয়েল বা সলিনয়েডের ভেতরে রাখা হয় এবং সলিনয়েড দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়, তাহলে অনেক শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। 
- লোহা, কোবাল্ট এবং নিকেল এই ধাতুগুলোর চৌম্বকীয় ধর্ম রয়েছে। এদের ভেতর ছোট ছোট চৌম্বকের মতো অনেক কণিকা এলোমেলোভাবে থাকে। ফলে সাধারণ অবস্থায় লোহা চৌম্বক হিসেবে কাজ করে না। 
- কিন্তু যখন লোহার টুকরোটি বিদ্যুৎপ্রবাহিত সলিনয়েডের ভেতরে রাখা হয়, তখন ওই চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে লোহার অভ্যন্তরের ছোট ছোট চৌম্বক কণিকাগুলো এক সারিতে সজ্জিত হয়। ফলে লোহার নিজস্ব চৌম্বক ক্ষেত্র গঠিত হয় এবং এটি সলিনয়েডের চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। 
- এইভাবে তৈরি হওয়া চুম্বককে বলা হয় তাড়িতচুম্বক। 
- যখন সলিনয়েডে বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন লোহার অভ্যন্তরের চৌম্বক কণিকাগুলো আবার এলোমেলো হয়ে পড়ে এবং চৌম্বকত্ব হারিয়ে যায়। 
- স্পিকারে বা এয়ারফোনে যে শব্দ শোনা যায় সেখানে তাড়িতচুম্বক ব্যবহার করা হয়। এখানে শব্দের কম্পন এবং তীব্রতার সমান বিদ্যুৎপ্রবাহ পাঠানো হয়, সেই বিদ্যুৎ একটা তাড়িতচুম্বক বা ইলেকট্রোম্যাগনেটের চৌম্বকত্ব শব্দের কম্পন বা তীব্রতার উপযোগী করে তৈরি করে সেটা একটা ডায়াফ্রামকে কাঁপায় এবং সেই ডায়াফ্রাম সঠিক শব্দ তৈরি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৯২০.
বায়ু ও পানির সংস্পর্শে জাহাজ চলাচল করলে কোন ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়?
  1. চল ঘর্ষণ
  2. প্রবাহী ঘর্ষণ
  3. স্থিতি ঘর্ষণ
  4. আবর্ত ঘর্ষণ
সঠিক উত্তর:
প্রবাহী ঘর্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাহী ঘর্ষণ
ব্যাখ্যা
ঘর্ষণ ও ঘর্ষণ বল: 
- দু'টি বস্তু পরস্পরের সংস্পর্শে থেকে যদি একটির উপর দিয়ে অপরটি চলতে চেষ্টা করে, তবে বস্তু দু'টির স্পর্শ তলে একটি বাধার সৃষ্টি হয়। এ বাধাকে ঘর্ষণ বলে। 
- আর যে বল গতিশীল বস্তুটির গতির পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ঘর্ষণ বল বলে। 
- ঘর্ষণ সাধারণত চার প্রকার। 
যথা- 
১. স্থিতি ঘর্ষণ (Static friction), 
২. চল বা পিছলানো ঘর্ষণ (Sliding friction), 
৩. আবর্ত ঘর্ষণ (Rolling friction) এবং 
৪. প্রবাহী ঘর্ষণ (Fluid friction) । 

প্ৰবাহী ঘর্ষণ:
- যখন কোনো বস্তু যেকোনো প্রবাহী পদার্থ যেমন- তরল বা বায়বীয় পদার্থের মধ্যে প্রবাহিত হয় বা গতিশীল থাকে বা যখন কোনো তরল বা বায়বীয় পদার্থের গতিপথে কোনো স্থির বস্তু রাখা হয়, তখন উভয়ের মধ্যে যে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়, তাকে প্রবাহী ঘর্ষণ বলে। 
- জাহাজ পানিতে চলার সময় একটি বাধা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, আবার পুকুরে সাঁতার কাটার সময় পুকুরের পানির মধ্য দিয়ে একটি বাঁধাকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগুতে হয়। আর এ বাঁধাই প্রবাহী ঘর্ষণ। 
- বৃষ্টির পানি বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়ার সময় প্রবাহী ঘর্ষণের উৎপত্তি হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯২১.
যে বর্তনীর সাহায্যে A.C কে D.C তে রূপান্তর করা হয় তাকে কী বলা হয়?
  1. অ্যামিটার
  2. রেকটিফায়ার
  3. ট্রান্সফরমার
  4. ট্রানজিস্টর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার
ব্যাখ্যা:
একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার: যে বর্তনীর সাহায্যে পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating Current বা A.C.) কে একমুখী প্রবাহ (Direct Current বা D.C.)-এ রূপান্তর করা হয়, তাকে একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier) বলা হয়।
এটি মূলত ডায়োড ব্যবহার করে A.C.-এর নেগেটিভ অংশকে ইতিবাচক করে বা শুধু ইতিবাচক অংশকে ব্যবহার করে D.C. প্রবাহ তৈরি করে।

অন্য অপশনগুলো-
ক) অ্যামিটার: বর্তনীতে তড়িৎপ্রবাহ (কারেন্ট) পরিমাপ করার যন্ত্র, রূপান্তরের কোনো কাজ করে না।

গ) ট্রান্সফরমার: শুধুমাত্র A.C. ভোল্টেজকে বাড়ায় বা কমায়, কিন্তু A.C. কে D.C. তে রূপান্তর করে না।

ঘ) ট্রানজিস্টর: সুইচ, অ্যামপ্লিফায়ার বা অসিলেটর হিসেবে কাজ করে, সরাসরি A.C. কে D.C. তে রূপান্তর করে না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৯২২.
ঢাকা বেতার কেন্দ্র মিডিয়াম ওয়েভে 630Hz এ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে। রেডিও তরঙ্গের বেগ 3 × 108 ms-1 হলে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কত হবে?
  1. ক) 476190 m
  2. খ) 476.19 m
  3. গ) 476190 cm
  4. ঘ) 476.19 cm
সঠিক উত্তর:
ক) 476190 m
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 476190 m
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ঢাকা বেতার কেন্দ্র মিডিয়াম ওয়েভে 630Hz এ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে। রেডিও তরঙ্গের বেগ 3 × 108 ms-1 হলে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কত হবে?

সমাধান:
কম্পাঙ্ক, f = 630 Hz 
তরঙ্গের বেগ, v = 3 × 108 ms-1
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য λ

আমরা জানি, 
v = fλ
⇒ λ = v/f
= 3 × 108/630 
= 476190 m
১২,৯২৩.
কোন পদার্থ পরম শূন্য তাপমাত্রায় অন্তরকের ন্যায় কাজ করে?
  1. পরিবাহী পদার্থ
  2. অপরিবাহী পদার্থ
  3. অর্ধপরিবাহী পদার্থ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অর্ধপরিবাহী পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধপরিবাহী পদার্থ
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী: 
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্ধ্রকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। 
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm ক্রমের। 
- কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই অর্ধপরিবাহী চিহ্নিত করা যায় না। কেননা এমন কিছু সংকর ধাতু ও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু এগুলো অর্ধপরিবাহী নয়। 

অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য: 
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে। 
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm  এর মধ্যে থাকে। 
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পোঁছা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম। 
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯২৪.
স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে আয়তন বিকৃতি ও আয়তন পীড়নের অনুপাতকে কী বলে?
  1. সংনম্যতা
  2. ইয়ং গুণাঙ্ক
  3. দৃড়তার গুণাঙ্ক
  4. পয়সনের অনুপাত
সঠিক উত্তর:
সংনম্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংনম্যতা
ব্যাখ্যা
আয়তন গুণাঙ্ক: 
- স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে বস্তুর আয়তন পীড়ন ও আয়তন বিকৃতির অনুপাত একটি ধ্রুব সংখ্যা। এ ধ্রুব সংখ্যাকে বস্তুর উপাদানের আয়তন গুণাঙ্ক বলে। 
- আয়তন গুণাঙ্ককে B দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
অর্থাৎ, আয়তন গুণাঙ্ক, B = আয়তন পীড়ন/আয়তন বিকৃতি। 
- কঠিন, তরল ও গ্যাস সবারই আয়তন থাকায় আয়তন গুণাঙ্ক পদার্থের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। 

সংনম্যতা: 
- স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে আয়তন বিকৃতি ও আয়তন পীড়নের অনুপাততে সংনম্যতা বলে। 
∴ সংনম্যতা =  আয়তন বিকৃতি/আয়তন পীড়ন = 1/(আয়তন পীড়ন/আয়তন বিকৃতি) = 1/আয়তন গুণাঙ্ক = 1/B. 
অর্থাৎ, সংনম্যতা হচ্ছে আয়তন গুণাঙ্কের বিপরীত রাশি। 
- আয়তন গুণাঙ্ককে তাই কখনো কখনো অসংনম্যতা বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
১২,৯২৫.
নিচের কোন মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম? 
  1. শূন্য মাধ্যমে
  2. পানি মাধ্যমে 
  3. বায়ু মাধ্যমে 
  4. কঠিন মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
বায়ু মাধ্যমে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ু মাধ্যমে 
ব্যাখ্যা
• শব্দের গতি বা দ্রুতি:
- শব্দ প্রতি সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে শব্দের গতি বা দ্রুতি বলে।
- কঠিন মাধ্যমে (যেমন- ইস্পাত, লোহা) শব্দ সবচেয়ে দ্রুত চলে।
- তরল মাধ্যমে (যেমন- পানি) তার চেয়ে ধীরে চলে।
- বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি শূন্য। এ মাধ্যমে শব্দের কোনো অস্তিত্ব নেই। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৯২৬.
বাংলাদেশের কোন জেলাটি কয়লা সমৃদ্ধ?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলাটি কয়লা সমৃদ্ধ।
- বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কয়লা খনি।
- এটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত।
- এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৫ সালে।
- এর থেকে প্রাপ্ত কয়লা দিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

উৎস: পার্বতীপুর উপজেলা ওয়েবসাইট।
১২,৯২৭.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে কত সময় লাগে?
  1. ৮ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড
  2. ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
  3. ৮ মিনিট ৩০ সেকেন্ড
  4. ৮ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

নক্ষত্র (Star): 
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে। 
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে, খালি চোখে মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখা যায়। এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়। 
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিণ্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে। 
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না। পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে। 

- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না। এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়। 
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে। 
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৯২৮.
সবুজ গ্রহ বলা হয় কোনটিকে?
  1. ইউরেনাস
  2. বৃহস্পতি
  3. বুধ
  4. নেপচুন
সঠিক উত্তর:
ইউরেনাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরেনাস
ব্যাখ্যা
• ইউরেনাস:
- ইউরেনাস একটি অত্যন্ত ঠান্ডা এবং শীতল গ্রহ।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
- এটিতে শনির মতো একটি বলয় রয়েছে।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।

- বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ এবং এটির সূর্যের নিকটতম গ্রহ।
- নেপচুন হলো সৌরজগতের সবচেয়ে দূরতম গ্রহ।
- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি। একে গ্রহরাজ বলা হয়।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
১২,৯২৯.
একটি মৌচাকে সাধারণত কয়টি রাণী মৌমাছি থাকে? 
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. একাধিক
সঠিক উত্তর:
একটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি
ব্যাখ্যা
মৌমাছি: 
- মৌমাছি Arthropoda পর্বের Hymenoptera বর্গের Apis গণভুক্ত প্রাণী। 
- এদের বিস্তৃতি বিশ্বব্যাপী, তবে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রজাতি পাওয়া যায়। 
- বাংলাদেশে তিন প্রজাতির মৌমাছি পাওয়া যায়। 
যথা- Apis indica, Apis dorsata ও Apis florea. 
- মৌমাছি শুধু সামাজিক প্রাণী নয় বরং এরা চরমভাবে অ্যালুটুইস্টিক। 
- চাকের প্রতিটি সদস্য নিজের স্বার্থ না দেখে অন্য সদস্যদের কল্যাণে কাজ করে যায়। প্রতিটি সদস্য সমাজের জন্য নিবেদিত প্রাণ। এরা নিজের স্বার্থে কোন কাজ করে না। মৌমাছিরা সামাজিক রীতিনীতি কঠোরভাবে মেনে চলে। 
- এদের ৫০,০০০ থেকে ১০০,০০০ সদস্য একত্রে কলোনি গঠন করে বাস করে, এদের বাসাকে মৌচাক বলে। 
- মৌমাছির কলোনিতে তিন জাতের মৌমাছি থাকে। এরা হল- একটি রাণী, কয়েক হাজার কর্মী ও কয়েকশত পুরুষ। মৌমাছিদের শ্রমবণ্টন লক্ষ্য করা যায়। 
- তিন ধরনের মৌমাছির দৈহিক গঠনে ভিন্নতা দেখা যায়, এদের এরূপ অবস্থাকে বহুরূপতা বলে। 

রাণী মৌমাছি: 
- একটি মৌচাকে মাত্র একটি রাণী মৌমাছি থাকে। 
- রাণী মৌমাছি আকারে অনেক বড়, এদের উদর বেশ প্রশস্ত থাকে। 
- রাণী মৌমাছি অধিকাংশ সময় মৌচাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, কেবল সঙ্গম উড্ডয়নের সময় মৌচাক থেকে বের হয়ে আসে। 
- এরা জীবনে একবার কয়েকশত পুরুষের সাথে সঙ্গমে অংশগ্রহণ করে অসংখ্য শুক্রাণু গ্রহণ করে যা সারা জীবন ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে। 
- রাণী মৌমাছি ৩-৫ বছর বাঁচে। 

পুরুষ মৌমাছি: 
- পুরুষ বা ড্রোন কলোনির প্রজননক্ষম পুরুষ মৌমাছি, কলোনিতে ৩০০-৩০০০ পর্যন্ত ড্রোন থাকে। 
- এরা রাণী অপেক্ষা আকারে কিছুটা ছোট, প্রশস্ত দেহ, বৃহৎ চক্ষু, ক্ষুদ্রাকার তীক্ষ্ম চোয়ালবিশিষ্ট হয়ে থাকে। 
- এরা মৌচাকের অলস প্রকৃতির ও কোলাহল সৃষ্টিকারী সদস্য। 
- এরা প্রতিরক্ষা বা খাদ্য সংগ্রহের কাজে অংশগ্রহণ করে না। 
- এরা এমন অলস প্রকৃতির যে নিজের খাদ্য নিজে গ্রহণ করে না, কোন কারণে কর্মী মৌমাছি না খাওয়ালে এরা মারা যায়। 

কর্মী মৌমাছি: 
- কর্মী মৌমাছি কলোনির মধ্যে সবচেয়ে ছোট আকারের মৌমাছি। 
- এরা বন্ধ্যা স্ত্রী জাতীয় মৌমাছি, এরা কালো বা বাদামী বর্ণের হয়ে থাকে। 
- একটি মৌচাকে কর্মী মৌমাছির সংখ্যা ৬০,০০০ থেকে ৮০,০০০ পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
- নিষিক্ত ডিম থেকে উৎপন্ন হলেও এরা জননে অক্ষম। 
- যে সব লার্ভাকে শ্রমিক মৌমাছিরা মৌরুটি সরবরাহ করে তারা পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় কর্মী মৌমাছিতে পরিণত হয়। শ্রমিক মৌমাছির হাইপোফ্যারিঞ্জিয়াল গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত পদার্থ, মধু ও নেকটারের সঙ্গে মিশে যে মিশ্র খাদ্য সৃষ্টি হয় তাকে মৌরুটি বা বি ব্রেড বলে। 
- বৃদ্ধির সপ্তম দিন থেকে এরা মৌচাকের বাইরে আসতে সক্ষম হয়। 
- এরা প্রায় ৬ সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯৩০.
শুক্র গ্রহের গড় তাপমাত্রা -
  1. ১৬৭° সেলসিয়াস
  2. ৪৬৪° সেলসিয়াস
  3. ১৫° সেলসিয়াস
  4. -৬৫° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৪৬৪° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৬৪° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের তাপমাত্রা:
- প্রতিটি গ্রহের গড় তাপমাত্রা একটি গ্রহ সূর্য থেকে যত দূরে থাকে গ্রহের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ততই শীতল হতে থাকে।
- শুক্র ব্যতিক্রম, কারণ সূর্যের সান্নিধ্য এবং এর ঘন বায়ুমণ্ডল এটিকে আমাদের সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহ করে তোলে।
- আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলির গড় তাপমাত্রা হল:
• বুধ: ১৬৭° সেলসিয়াস।
• শুক্র: ৪৬৪° সেলসিয়াস।
• পৃথিবী: ১৫° সেলসিয়াস।
• মঙ্গল: -৬৫° সেলসিয়াস।
• বৃহস্পতি: -১১০° সেলসিয়াস।
• শনি: -১৪০° সেলসিয়াস।
• ইউরেনাস: -১৯৫° সেলসিয়াস।
• নেপচুন: -২০০° সেলসিয়াস।
• বামন গ্রহ প্লুটো: -২২৫° সেলসিয়াস।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট। [link]
১২,৯৩১.
কোনটির আবিষ্কার আধুনিক ইলেকট্রনিক্স এর সূচনা করে?
  1. রেডিও
  2. ট্রানজিস্টর
  3. ক্যাথোড রশ্মি
  4. তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ট্রানজিস্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রানজিস্টর
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টর একটি আধা-পরিবাহী ডিভাইস যা ইলেকট্রনিক সিগন্যাল বুস্ট (amplify) বা সুইচ (switch) করতে ব্যবহৃত হয়। ট্রানজিস্টরের আবিষ্কারই আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের সূচনা করে।
এটি আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
⇒ ১৯৪৭ সালে আমেরিকার Bell Laboratories-এর বিজ্ঞানী John Bardeen, Walter Brattain এবং William Shockley ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন। 1956 Physics Nobel Prize দেওয়া হয় Bardeen, Brattain, ও Shockley-কে ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য।
  এর আগে ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ব্যবহৃত হত বিশালাকৃতির ভ্যাকুয়াম টিউব, যা ছিল ভারী ও অকার্যকর।

ট্রানজিস্টর এর প্রভাব:
⇒ কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, টিভি, রেডিওসহ প্রায় সব আধুনিক ডিভাইসে ট্রানজিস্টর ব্যবহার হয়।
⇒ এটি দিয়েই ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) এবং মাইক্রোপ্রসেসর তৈরির ভিত্তি স্থাপন হয়।
⇒ Digital Revolution বা তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লব সম্ভব হয় ট্রানজিস্টরের জন্যই। 

অন্যদিকে, 
রেডিও: এটি তথ্য পাঠানোর একটি মাধ্যম, তবে ইলেকট্রনিক্সের মূল ভিত্তি নয়।

ক্যাথোড রশ্মি: এটি একটি ইলেকট্রন রশ্মি, যা টিভি স্ক্রিন বা মনিটরে ব্যবহৃত হয়; এটি ইলেকট্রনিক্সের একটি ধাপ হলেও সূচনা নয়।

তরঙ্গ:
এটি যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ইলেকট্রনিক্সের যন্ত্রাংশ বা সার্কিট বোঝাতে তরঙ্গ ব্যাবহার করা হয় না।

তথ্যসূত্র:
-  ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান। 
-  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি – নবম-দশম শ্রেণি (NCTB)
-  San José State University, California. 
-   NobelPrize.org
১২,৯৩২.
হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ এবং সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে কোনটি?
  1. এপিকার্ডিয়াম
  2. মায়োকার্ডিয়াম
  3. এন্ডোকার্ডিয়াম
  4. পেরিকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
পেরিকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
• পেরিকার্ডিয়াম হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে এবং সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।

• হৃৎপিণ্ডের আবরণ:
- হৃৎপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত।
- বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল পেরিকার্ডিয়াম এবং ভেতরের স্তরটিকে ভিসেরাল পেরিকার্ডিয়াম বলা হয়।
- এই দুই স্তরের মাঝে পেরিকার্ডিয়াল গহ্বর থাকে, যা তরল পদার্থে পূর্ণ এবং এটি হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও সম্প্রসারণে সাহায্য করে।
- পেরিকার্ডিয়াম হৃৎপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।

• হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর:
- হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত।
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। যথা-

১. এপিকার্ডিয়াম:
- এটি হৃৎপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি।
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে।

২. মায়োকার্ডিয়াম:
- মায়োকার্ডিয়াম হৃৎপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর।
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

৩. এন্ডোকার্ডিয়াম:
- এটি হৃৎপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃৎকপাটিকাসমূহ সৃষ্টি করে তা ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃৎপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯৩৩.
আমরা যে গ্যালাক্সিতে বাস করি তার নাম কী?
  1. অ্যান্ড্রোমিডা
  2. মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
  3. আলফা সেন্টোরি
  4. সৌরজগৎ
সঠিক উত্তর:
মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
ব্যাখ্যা

• আমরা যে গ্যালাক্সিতে বাস করি তার নাম মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ।
সঠিক উত্তর: খ) মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ।
 
মহাবিশ্ব (Universe): 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- মহাবিশ্ব যে কত বড় তা কেউ জানে না এবং কেউ জানে না মহাবিশ্বের আকার বা আকৃতি কেমন। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। 
- গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

মহাবিশ্বের উৎপত্তি যেভাবে হয়েছে: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১২,৯৩৪.
বায়ুমণ্ডলে ওজোন গ্যাসের পরিমাণ কত?
  1. ০.০৩%
  2. ০.০১%
  3. ০.০০১%
  4. ০.০০০১%
সঠিক উত্তর:
০.০০০১%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.০০০১%
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন উপাদানের পরিমাণ:
- নাইট্রোজেনের (N2) পরিমাণ ৭৮.০২%,
- অক্সিজেনের (O2) পরিমাণ ২০.৭১%,
- আর্গনের (Ar) এর পরিমাণ ০.৮০%,
- কার্বন ডাই-অক্সাইডের (CO2) পরিমাণ ০.০৩%,

- ওজোনের পরিমাণ (O3) ০.০০০১%,
- জলীয় বাষ্পের পরিমাণ (H2O) ০.৪১%,
- ধূলিকণা ও কনিক্সের পরিমাণ ০.০১%,
- অন্যান্য গ্যাসের পরিমাণ ০.০১৯৯%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম - দশম শ্রেণি।
১২,৯৩৫.
কোন গ্রন্থি নিঃসৃত খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে থাকে?
  1. ক) শ্বসনতন্ত্র
  2. খ) স্নায়ুতন্ত্র
  3. গ) পরিপাকতন্ত্র
  4. ঘ) রেচনতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
গ) পরিপাকতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরিপাকতন্ত্র
ব্যাখ্যা

পরিপাকতন্ত্র নিঃসৃত খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে থাকে।

- মুখ থেকে মলদ্বার পর্যন্ত খাদ্যনালী এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গ সমবায়ে মানব পরিপাকতন্ত্র গঠিত যার মূল কাজ খাদ্য পরিপাক করা। একে পাচনতন্ত্র (digestive system) বা, পরিপাকতন্ত্রও বলা হয়ে থাকে।
- খাদ্য পাচন বা পরিপাক বা হজম একটি শারীরিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে খাদ্যকে প্রথমে ছোট ছোট টুকরো করে তার পর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উৎসেচক দ্বারা বিগলিত করে দেহে আত্তীকরণের উপযোগী করা হয়।
- পাচন প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত অঙ্গতন্ত্রকে পরিপাকতন্ত্র বলে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

১২,৯৩৬.
মাইটোসিস কোষ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোমের সংখ্যা মাতৃকোষের -
  1. ক) অর্ধেক
  2. খ) সমান
  3. গ) দ্বিগুণ
  4. ঘ) চারগুণ
সঠিক উত্তর:
খ) সমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমান
ব্যাখ্যা

মাইটোসিস: উন্নত শ্রেণির প্রাণীর ও উদ্ভিদের দেহকোষ মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়।
এ প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস একবার বিভাজিত হয়ে সমআকৃতির, সমগুণ সম্পন্ন ও সমসংখ্যক ক্রোমােজোম বিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে প্রাণী এবং উদ্ভিদ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বৃদ্ধি পায়। এ ধরনের বিভাজনের দ্বারা উদ্ভিদের ভাজক টিস্যুর কোষের সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে।

মাইটোসিসের বৈশিষ্ট্য:
- মাইটোসিস কোষ বিভাজন দেহকোষের এক ধরনের বিভাজন পদ্ধতি।
- এ প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি একবার মাত্র বিভাজিত হয়।
- মাতৃকোষটি বিভাজিত হয়ে সমগুণ সম্পন্ন দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে।
- এ ধরনের বিভাজনে মাতৃকোষের ক্রোমােজোম সংখ্যা এবং অপত্য কোষের ক্রোমােজোম সংখ্যা সমান থাকে অর্থাৎ ক্রোমােজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে।
- এ ধরনের বিভাজনে প্রতিটি ক্রোমােজোম লম্বালম্বিভাবে দুভাগে বিভক্ত হয়। ফলে সৃষ্ট নতুন কোষ দুটিতে ক্রোমােজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমােজোম সংখ্যার সমান থাকে। তাই মাইটোসিসকে ইকুয়েশনাল বা সমীকরণিক বিভাজনও বলা হয়।

সূত্র: অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই।

১২,৯৩৭.
নিম্নলিখিত কোনটি খাদ্যের প্রধান উপাদান নয়? 
  1. ফ্যাট 
  2. শর্করা 
  3. খনিজ লবণ 
  4. প্রোটিন 
সঠিক উত্তর:
খনিজ লবণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খনিজ লবণ 
ব্যাখ্যা

খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্যের যেসব জৈব ও অজৈব উপাদান দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে তাদের খাদ্য উপাদান বা Nutrients বলে।
- দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য ভিন্ন ভিন্ন খাদ্য উপাদান প্রয়োজন হয়। 
- খাদ্য উপাদান ৬ টি। 
যথা- 
১। আমিষ বা প্রোটিন, 
২। শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট, 
৩। স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট, 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, 
৫। খনিজ লবণ বা মিনারেল এবং 
৬। পানি। 

- আমিষ, শর্করা ও স্নেহ পদার্থকে খাদ্যের প্রধান বা মূল উপাদান (Macro nutrients) বলা হয়। কারণ, এ উপাদানগুলো মানবদেহে অধিক পরিমাণে প্রয়োজন হয়। 
- ভিটামিন ও খনিজ লবণকে সহায়ক খাদ্য উপাদান বা অণুখাদ্য (Micro Nutrients) বলা হয়। কারণ, এ খাদ্য উপাদানগুলো মানবদেহে অতি অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয়। 
- যেকোনো খাদ্য উপদানই প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে শারীরিক জটিলতা ও অসুস্থতা দেখা দেয়। 
- খাদ্য উপাদান পানি জীবনধারণের অত্যবশ্যকীয় উপাদান কারণ দেহের ৭০ শতাংশই পানি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৯৩৮.
কোন রং বেশি দূর থেকে দেখা যায়?
  1. ক) সাদা
  2. খ) কালো
  3. গ) লাল
  4. ঘ) হলুদ
সঠিক উত্তর:
গ) লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লাল
ব্যাখ্যা
• দূর থেকে আমরা লাল রং আগে দেখতে পাই।
- লাল রঙের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি এবং বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম। তাই লাল রং বেশি দূর থেকে দেখা যায়।
- আলোর বিক্ষেপণ নির্ভর করে এর রং ও তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উপর।
- আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি হলে তাঁর বিক্ষেপণ তত কম হয়।
- লাল রং বেশি দূর থেকে দেখা যায় তাই উঁচু টাওয়ারে লাল রং এর লাইট ব্যবহৃত হয় যাতে বিমান নিচ দিয়ে যাবার সময় অনেক দূর থেকে দেখা যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯৩৯.
নিম্নলিখিত কোন অঞ্চলে দিন এবং একই রাতের মধ্যে সর্বাধিক তাপমাত্রা তারতম্য পরিলক্ষিত হয়?
  1. উপকূলীয় এলাকা 
  2. দ্বীপ 
  3. মরুভূমি 
  4. উপদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
মরুভূমি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরুভূমি 
ব্যাখ্যা

- মরুভূমিতে বাতাস খুবই শুষ্ক থাকে, জলীয় বাষ্প প্রায় থাকে না, মেঘও থাকে না।
- দিনের বেলা সূর্যের তাপ সরাসরি বালুতে পড়ে, বালি খুব তাড়াতাড়ি গরম হয়ে যায়, ফলে তাপমাত্রা ৪৫-৫০° সে. বা তার বেশিও হয়ে যায়।
- সূর্য ডুবে গেলে আকাশ থেকে তাপ বিকিরণে দ্রুত হারিয়ে যায় এবং রাতের মধ্যেই তাপমাত্রা ৫-১৫° সে. পর্যন্ত নেমে আসে।
- এই কারণে দিন-রাতের তাপমাত্রার তারতম্য মরুভূমিতে সবচেয়ে বেশি (৩০-৫০° সে. পর্যন্ত হতে পারে)।

অন্যান্য অপশন:
উপকূলীয় এলাকা: সমুদ্রের পানি তাপ ধরে রাখে, তাই তারতম্য খুব কম।
দ্বীপ: চারদিকে সমুদ্র থাকায় আবহাওয়া আরও মৃদু, তারতম্য খুবই কম।
উপদ্বীপ: কিছুটা সমুদ্রের প্রভাব থাকে, তাই মরুভূমির মতো এত বেশি তারতম্য হয় না।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১২,৯৪০.
কোন যন্ত্রের মাধ্যমে যান্ত্রিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. মাইক্রোফোন 
  2. বৈদ্যুতিক মোটর 
  3.  জেনারেটর 
  4. লাউড স্পিকার 
সঠিক উত্তর:
 জেনারেটর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 জেনারেটর 
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর: 
- মাইক্রোফোন- শব্দ শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- বৈদ্যুতিক মোটর- তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- লাউড স্পিকার ও বৈদ্যুতিক ঘন্টা বিদ্যুৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- জেনারেটর বা ডায়নামো- যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- মোবাইল ফোনের ব্যাটারিকে বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার ফলে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৯৪১.
মানব রক্তের হিমোগ্লোবিনের কাজ কী?
  1. রোগ প্রতিরোধ করা
  2. রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করা
  3. এলার্জি প্রতিরোধ করা
  4. অক্সিজেন পরিবহণ করা
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন পরিবহণ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন পরিবহণ করা
ব্যাখ্যা
• অক্সিজেন পরিবহন (Transportation of Oxygen):
- রক্তের মাধ্যমে দু'ভাবে কোষে অক্সিজেন পরিবাহিত হয়।
- ৯৭- ৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের সাথে রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে এবং ২-৩% পরিবাহিত হয় প্লাজমায় দ্রবীভূত হয়ে।
- প্রতিটি হিমোগ্লোবিন অণু ৪টি লৌহ যুক্ত হিম ও ৪টি গ্লোবিনের সমন্বয়ে গঠিত।
- একটি করে লৌহ অণু প্রতিটি হিম গ্রুপের কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং প্রতিটি লৌহ অণুর সাথে একটি করে অক্সিজেন অণুযুক্ত হতে পারে।
- ফলে একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে।
- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী।

অন্যদিকে,
- শ্বেত রক্তকনিকা রোগ প্রতিরোধে সহয়তা করে এবং এলার্জি প্রতিরোধ করে।
- অনুচক্রিকা রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯৪২.
যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার-
  1. প্রতিসরণ তত কম
  2. বিচ্যুতি তত কম
  3. বিক্ষেপণ তত কম
  4. সবগুলোই সঠিক
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই সঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা

তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালি:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4 × 10 - 7 মিটার থেকে 7 × 10- 7 মিটার।
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়।
এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- দৃশ্যমান আলোর স্পেকট্রামে লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কারণে লাল আলো কম বিক্ষিপ্ত হয় এবং বস্তুর পৃষ্ঠ থেকে সহজে প্রতিফলিত হয়।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি।
- আর লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৯৪৩.
শীতকালে সিভনল কোষের রন্ধ্রে কোন পদার্থ জমা হয়?
  1. ক্যালোজ
  2. সেলুলোজ
  3. স্টার্চ
  4. লিগনিন
সঠিক উত্তর:
ক্যালোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালোজ
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পরিবহন (Phloem translocation): 
- উদ্ভিদের মূল এবং পাতা পরস্পর থেকে দূরে অবস্থান করায় খাদ্য চলাচলে একটি দ্রুত ও কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা থাকা আবশ্যক, এ কাজটি ফ্লোয়েমের সিভনল করে থাকে। 
- ফ্লোয়েম পরিবহন কলাগুচ্ছের অন্যতম গুচ্ছ। 
- পরিবহন কলাগুচ্ছে জাইলেমগুচ্ছ এবং ফ্লোয়েমগুচ্ছ থাকে। 
- ফ্লোয়েমগুচ্ছে সিভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা ও বাস্টফাইবার থাকে। 
- সিভনল এক ধরনের কেন্দ্রিকাবিহীন ও পাতলা প্রাচীরযুক্ত সজীব কোষ। 
- লম্বালম্বিভাবে এরা একটির সাথে অন্যটি যুক্ত হয়ে উদ্ভিদদেহে জালের মতো গঠন সৃষ্টি করে। 
- দুটো কোষের মধ্যবর্তী অনুপ্রস্থ প্রাচীরটি স্থানে স্থানে বিলুপ্ত হয়ে চালুনির মতো আকার ধারণ করে। এর ফলে খাদ্যদ্রব্য সহজেই এক কোষ থেকে অন্য কোষে চলাচল করতে পারে। 
- শীতকালে এ রন্দ্রগুলোতে ক্যালোজ নামক রাসায়নিক পদার্থ জমা হয়ে রন্ধ্র ছোট হয়, তাই খাদ্য চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। 
- গ্রীষ্মের আগমনে ক্যালোজ গলে যায়, তাই খাদ্য চলাচল বেড়ে যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৯৪৪.
কোনটির মাধ্যমে ধানের ফুলে পরাগায়ন সংগঠিত হয়?
  1. ক) বাতাসের সাহায্যে
  2. খ) পতঙ্গের সাহায্যে
  3. গ) ফুলে ফুলে সংস্পর্শের মাধ্যমে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) বাতাসের সাহায্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাতাসের সাহায্যে
ব্যাখ্যা

- যে প্রক্রিয়ায় পরাগধানী হতে পরাগরেণু কোনো মাধ্যম বা বাহক দ্বারা একই প্রজাতির অন্য একটি গাছের ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয় তাকে পর-পরাগায়ন বলে। আর যে মাধ্যম পরাগ বহন করে গর্ভমুন্ড পর্যন্ত নিয়ে যায় তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলে। উদাহরণ- বাতাস, পোকামাকড়, পাখি ইত্যাদি।
- যেসব ফুলের পরাগায়ন বায়ুর মাধ্যমে হয়ে থাকে তাদের বায়ুপরাগী ফুল বলে। যেমন- ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৯৪৫.
মৌলিক রাশির সংখ্যা কত?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৬টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৮টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭টি
ব্যাখ্যা
ভৌত রাশি:

- মৌলিক রাশির সংখ্যা ৭টি।
- এই বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়।
- যেসকল রাশি পরিমাপের জন্যে অন্য রাশির প্রয়োজন হয় না তাকে মৌলিক রাশি বলে।
- ৭টি মৌলিক রাশি হলো দৈর্ঘ্য, ভর, সময়,তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ।
- যেসকল রাশি পরিমাপের জন্যে অন্য রাশির প্রয়োজন হয় তাকে লব্ধ রাশি বলে।
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ। 

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯৪৬.
অপটিক্যাল ফাইবারে আলো কোন নীতি অনুসরণ করে? 
  1. পরোক্ষ প্রতিফলন 
  2. আলো বিভাজন 
  3. আলো শোষণ 
  4. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন 
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন 
ব্যাখ্যা

• অপটিক্যাল ফাইবার হলো একটি স্বচ্ছ কাচ বা প্লাস্টিকের তন্তু যা আলোর সংকেত বহন করে।
- ফাইবারের মূল ধারণা হলো লাইট সিগন্যালকে কোরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, যাতে সঙ্কেত দূরত্বে কম ক্ষয় হয়।
- এটি সম্ভব হয় পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের (Total Internal Reflection) মাধ্যমে।
- কোরের প্রতিসরণাঙ্ক (n₁) ক্ল্যাডিংয়ের প্রতিসরণাঙ্ক (n₂) এর চেয়ে বেশি।
- আলো কোর-ক্ল্যাডিং সীমান্তে একটি নির্দিষ্ট কোণ (> critical angle) দিয়ে প্রতিফলিত হয় এবং ক্ল্যাডিংয়ে যায় না।

অপরদিকে, 
পরোক্ষ প্রতিফলন: সত্যি নয়, এটি আংশিক প্রতিফলনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
আলো বিভাজন: ফাইবারে সিগন্যাল বিভক্ত হয় না, বরং সঙ্কুচিত হয়।
আলো শোষণ: ক্ষয় বা হ্রাসের কারণ, আলো পরিবহন নীতি নয়।

তথ্যসূত্র: NCTB পদার্থবিজ্ঞান বই, Britannica: [লিংক]

১২,৯৪৭.
প্রতি ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতির কী রকম পরিবর্তন হয়?
  1. 1.0 মিটার/ সেকেন্ড বাড়ে
  2. 0.8 মিটার/ সেকেন্ড কমে
  3. 0.6 মিটার/ সেকেন্ড বাড়ে
  4. একই থাকে
সঠিক উত্তর:
0.6 মিটার/ সেকেন্ড বাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0.6 মিটার/ সেকেন্ড বাড়ে
ব্যাখ্যা
শব্দ:
• শব্দ এক প্রকার শক্তি যা অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গরূপে কানে পৌঁছে শ্রবণের অনুভূতি জন্মায়।
• বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়, বস্তুর কম্পন থেমে গেলে শব্দ তরঙ্গ থেমে যায়।

শব্দের বেগের পরিবর্তন: 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 
- কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 ( মিটার/ সেকেন্ড)। 
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C বা 1 K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। 
- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। 

যেমন- 
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং 
• লোহার মধ্যে 5220ms-1। 

- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি। 
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯৪৮.
অপরিবাহী পদার্থ কোনটি? 
  1. তামা 
  2. প্লাস্টিক 
  3. সিলিকন 
  4. জার্মেনিয়াম 
সঠিক উত্তর:
প্লাস্টিক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাস্টিক 
ব্যাখ্যা

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে।
যেমন- কাঁচ, কাঠ, প্লাস্টিক ইত্যাদি। 
- মূলত প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী।
- অপরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না।

পরিবাহী: 
- যে সব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে।
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি।
- মূলত সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী।
- পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে।

অর্ধ-পরিবাহী: 
- যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি।
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশী এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে।
- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়, আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৯৪৯.
 পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করা হলে কোনটি ঘটে?
  1. রোধ বৃদ্ধি পায় 
  2. অন্তরকের ন্যায় আচরণ করে 
  3. রোধ হ্রাস পায় 
  4. রোধ একই থাকে 
সঠিক উত্তর:
রোধ বৃদ্ধি পায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোধ বৃদ্ধি পায় 
ব্যাখ্যা

• তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায়। 

• পরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের মধ্যদিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
• উদাহরণ- তামা, রুপা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি

• পরিবাহীতে অনেক মুক্ত ইলেকট্রন থাকে। পরিবাহীতে যোজনব্যান্ড এবং পরিবহণব্যান্ডের মাঝে শক্তি ব্যবধান থাকে না।
- এজন্য পরিবাহীর দু প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্য ঘটলেই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
- পরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ কম হয়। প্রায় 10-8 Ωm ক্রমের।

• তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পরিবাহী পদার্থের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা সাধারণত হ্রাস পায়।  
- সাধারণ পরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে, তাপমাত্রা বাড়লে পরিবাহীর মধ্যস্থ পরমাণু এবং আয়নগুলির কম্পন বাড়ে।
- উক্ত কম্পনের ফলে পরিবাহীর মুক্ত ইলেকট্রনের সঙ্গে কম্পনরত পরমাণু সমূহের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়, যা মুক্ত ইলেকট্রনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। 
- এর ফলে রোধ বাড়ে এবং পরিবাহিতা কমে যায়।

অন্যদিকে,
অর্ধপরিবাহী পদার্থের ক্ষেত্রে, তাপমাত্রা বাড়লে কিছু ইলেক্ট্রন শক্তি অর্জন করে এবং মুক্ত হয়ে পরিবহনে অংশ নেয়, ফলে পরিবাহিতা বাড়ে এবং রোধ কমে যায়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৯৫০.
Seismograph কি?
  1. ক) পানির প্রবাহ মাপার যন্ত্র
  2. খ) বায়ু মাপার যন্ত্র
  3. গ) ভূমিকম্প মাপার যন্ত্র
  4. ঘ) বৃষ্টিপাত মাপার যন্ত্র
সঠিক উত্তর:
গ) ভূমিকম্প মাপার যন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভূমিকম্প মাপার যন্ত্র
ব্যাখ্যা

Seismograph (noun) ভূমিকম্পের শক্তি, স্থায়িত্ব ও দূরত্ব মাপার যন্ত্রবিশেষ; ভূকম্পলিখ।
Seismology (noun) [uncountable noun] ভূকম্পবিদ্যা।
Seismologist (noun) ভূকম্পবিদ।

১২,৯৫১.
তাড়িতচৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক-
  1. টমাস আলভা এডিসন
  2. মাইকেল ফ্যারাডে
  3. আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল
  4. ম্যাক্সওয়েল
সঠিক উত্তর:
মাইকেল ফ্যারাডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল ফ্যারাডে
ব্যাখ্যা

• তাড়িতচৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক 'মাইকেল ফ্যারাডে'।

• তাড়িতচৌম্বক আবেশ:
- ওয়েরস্টেড 1820 সালে তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বকীয় ক্রিয়া আবিস্কারের পর থেকেই বিজ্ঞানীদের মাথা চিন্তা আসে যদি তড়িৎ প্রবাহের ফলে চুম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হতে পারে তবে কেন চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি হবে না?
- তিন দেশের তিনজন বিজ্ঞানী ইংল্যান্ডে মাইকেল ফ্যারাডে, আমেরিকাতে জোসেফ হেনরী এবং রাশিয়ায় এইচ. এফ. ই. লেন্‌জ পৃথক পৃথকভাবে এ বিষয়ের উপর গবেষণা করে সফলতা অর্জন করেন।
- কিন্তু মাইকেল ফ্যারাডে 1831 সালে সর্বপ্রথম তাঁর গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশ করেছিলেন।
- সেজন্য মাইকেল ফ্যারাডে তাড়িতচৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক হিসাবে পরিচিত।
- ফ্যারাডের পরীক্ষাগুলো থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, কোনো বদ্ধ কুন্ডলী এবং কোনো চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আপেক্ষিক গতি থাকলে ঐ কুন্ডলীতে একটি আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- টমাস আলভা এডিসন ফনোগ্রাফ এবং বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেন।
- আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল টেলিফোন ও মাইক্রোফোন আবিষ্কার করেন।
- জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৯৫২.
প্রাথমিক তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নয় কোনটি?
  1. ক) লেকল্যান্স কোষ
  2. খ) শুষ্ক কোষ
  3. গ) ড্যানিয়েল কোষ
  4. ঘ) নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
১. প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষঃ যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।
২. সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষঃ যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

১২,৯৫৩.
দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত সংঘটিত হয় কবে?
  1. ২২ ডিসেম্বর
  2. ২১ জুন
  3. ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ২২ সেপ্টেম্বর
সঠিক উত্তর:
২১ জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ জুন
ব্যাখ্যা
• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২১ জুন।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২১ জুন।
• পৃথিবীর দিনরাত্রি সর্বত্র সমান - ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
১২,৯৫৪.
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পদ্ধতি কে আবিষ্কার করেন? 
  1. জে.সি. বসু
  2. মার্কনী
  3. ম্যাক্সওয়েল 
  4. হেনরিখ হার্জ
সঠিক উত্তর:
মার্কনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্কনী
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অবদান: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে তিনি বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৯৫৫.
পৃথিবী পৃষ্ঠের শতকরা কতভাগ জলরাশি দখল করে আছে?
  1. ৭৪ ভাগ
  2. ২৯ ভাগ
  3. ৩২ ভাগ
  4. ৭১ ভাগ
সঠিক উত্তর:
৭১ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭১ ভাগ
ব্যাখ্যা
পানির উৎস ও বন্টন:

- পৃথিবী পৃষ্ঠের মোট আয়তন প্রায় ৫১০ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার বা ১৯৭ মিলিয়ন বর্গমাইল।
- এর মধ্যে ৩৬২.১ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার অর্থাৎ ৭১% জলভাগ এবং ১৪৭.৯ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার অর্থাৎ ২৯% স্থলভাগ।
- আবার পৃথিবীর মোট জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগই মহাসাগর, সাগর এবং উপসাগর ধারণ করছে। অবশিষ্ট ৩ ভাগ অন্যান্য জলাধার ধারণ করছে।
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে পানি একই অবস্থায় না থেকে তিনটি বিশেষ অবস্থায় রয়েছে।
- পানির তিনটি অবস্থা হলো-
• কঠিন (বরফ)।
• গ্যাসীয় (জলীয়বাষ্প)।
• তরল।
- পানি বায়ুমন্ডলে রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসেবে এবং ভূ-পৃষ্ঠে রয়েছে কঠিন ও তরল অবস্থায়। 

তথ্যসূত্র - ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯৫৬.
কাচকে হঠাৎ উত্তপ্ত করলে ফেটে যায় কিন্তু ধাতু ফাটে না কারণ কাঁচ তাপ-
  1. ক) অন্তরক
  2. খ) সুপরিবাহী
  3. গ) কুপরিবাহী
  4. ঘ) অর্ধ-পরিবাহী
সঠিক উত্তর:
গ) কুপরিবাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুপরিবাহী
ব্যাখ্যা
কাচকে হঠাৎ উত্তপ্ত করলে ফেটে যায় কিন্তু ধাতু ফাটে না কারণ কাঁচ তাপ কুপরিবাহী। 

- যে সব পদার্থ তাপ ভালো পরিবহন করতে পারে না তাদের কুপরিবাহী বলা হয়। 
যেমন- কাঠ, কাচ, পশম কাপড় ইত্যাদি তাপ কুপরিবাহী পদার্থের উদাহরণ। 

সূত্র: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১২,৯৫৭.
সমুদ্র তলদেশের গভীরতা নির্ণয়ের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়? 
  1. টেলিস্কোপ 
  2. সিসমোমিটার
  3. ফ্যাদোমিটার 
  4. ব্যারোমিটার 
সঠিক উত্তর:
ফ্যাদোমিটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্যাদোমিটার 
ব্যাখ্যা

সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ: 
- সাগর, মহাসাগরের পানিরাশির উপরিভাগ সমতল দেখা গেলেও সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ সমতল নয়। 
- স্থলভাগ যেমন বন্ধুর প্রকৃতির অর্থাৎ কোথাও সমভূমি, কোথাও মালভূমি, কোথাও সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, আবার কোথাও গভীর খাত, সমুদ্র তলদেশের ভূমির প্রকৃতিও তেমন বন্ধুর। বরং স্থলভাগের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমুদ্রের তলদেশ অধিক বন্ধুর প্রকৃতির। 
- সমুদ্র তলদেশে অসংখ্য পাহাড়, পর্বত, আগ্নেয়গিরি, মালভূমি, পর্বতচূড়া এবং সুগভীর খাত বর্তমান। 
- অতীতে জাহাজ হতে শিকল বা শক্ত তারের মাথায় ভারী জিনিস বেঁধে সমুদ্রের মধ্যে নিক্ষেপ করে সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করা হতো। 
- বর্তমানে অন্যান্য পদ্ধতিসহ শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়। 
- শব্দ তরঙ্গ প্রতি সেকেন্ডে পানির মধ্য দিয়ে প্রায় ১,৪৭৫ মিটার গিয়ে আবার ফিরে আসে, আর এভাবেই সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করা হয়। 
- সমুদ্রের গভীরতা সাধারণত ফ্যাদমে (এক ফ্যাদম সমান ছয় ফুট) পরিমাপ করা হয়। 
- সমুদ্রের গভীরতা মাপক যন্ত্রের নাম ফ্যাদোমিটার। 

অন্যদিকে, 
- টেলিস্কোপ (Telescope) মূলত দূরের বস্তু পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। 
- সিসমোমিটার (Seismometer) ভূমিকম্প বা কম্পনের মাত্রা পরিমাপ করার যন্ত্র। 
- ব্যারোমিটার (Barometer) বায়ুর চাপ পরিমাপের যন্ত্র। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১২,৯৫৮.
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা কত সালে বাংলাদেশকে পোলিও মুক্ত ঘোষণা করে?
  1. ১৯৯৮
  2. ২০০৬
  3. ২০১৪
  4. ২০১৮
সঠিক উত্তর:
২০১৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৪
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ পোলিওমুক্ত: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
- বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৪ সালে বাংলাদেশকে পোলিও মুক্ত ঘোষণা করে।

⇒ ২৭ মার্চ ২০১৪ তারিখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশকে পোলিও মুক্ত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে।
- বাংলাদেশে যদিও ২০০৭ সাল থেকে কোন পোলিও রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি, কিন্তু ভারতে সেটির অস্তিত্ব থাকার কারণে বাংলাদেশকে পোলিও মুক্ত হিসেবে ঘোষণা করেনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এককভাবে কোনও দেশকে পোলিওমুক্ত ঘোষণা না করে সেটি অঞ্চলভিত্তিক করে থাকে, কেননা সীমানা পার হয়েও ভাইরাসের যাতায়াত হতে পারে।
- বাংলাদেশে ১৯৭০ এবং ৮০’র দশকে পোলিও আক্রান্তের সংখ্যা ছিল অনেক। সেই প্রেক্ষাপটে ১৯৭৯ সাল থেকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিও চালু হয়। নব্বইয়ের দশকে পোলিও নির্মূলে সফলতা আসতে থাকে।

উল্লেখ্য,
⇒ পোলিও রোগের কারণ পোলিওমাইলাইটিস একটি আরএনএ ভাইরাসজনিত রোগ।
- পোলিও ভাইরাস রোগীর মলমূত্র দিয়ে বের হয়। যদিও আক্রান্ত রোগীর মলমূত্রে প্রথম সপ্তাহেই অধিক পরিমাণে বের হয়। ছয় থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত তা বের হতে থাকে, অর্থাৎ ওই সময়কাল পর্যন্ত একজন পোলিও রোগী রোগ ছড়াতে পারে। পরে এই জীবাণু মলমূত্র দ্বারা কোনো খাবার বা পানীয়ের সঙ্গে মিশে শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। সাধারণত এই সংক্রমণ শিশু-কিশোরদের মাঝে বেশি দেখা যায়। 
- পোলিও, বা পোলিওমাইলাইটিস, মেরুদন্ড এবং মস্তিষ্কের স্নায়ুকে প্রভাবিত করে। এটি গুরুতর ক্ষেত্রে পক্ষাঘাত এবং শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। টিকাই এই রোগের একমাত্র প্রতিরোধ, কারণ এর কোনো পরিচিত প্রতিকার নেই।

উৎস: i) WHO ওয়েবসাইট।
ii) BBC.
iii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১২,৯৫৯.
কাগজের প্রধান রাসায়নিক উপাদান -
  1. ক) লিগনিন
  2. খ) সেলুলোজ
  3. গ) রেজিন
  4. ঘ) হেমি সেলুলোজ
সঠিক উত্তর:
খ) সেলুলোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেলুলোজ
ব্যাখ্যা
সেলুলোজের ব্যবহার:
- সেলুলোজ কাগজ ও বস্ত্র শিল্পের প্রধান উপাদান,
- একে অ্যাসিটেট ফটোগ্রাফিক ফিল্মে ব্যবহৃত হয়,
- একে নাইট্রেট বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়,
- আসবাবপত্র ও নির্মাণ সামগ্রী তৈরিতে যান্ত্রিক সাহায্য প্রদানকারী প্রধান উপাদান সেলুলোজ,
- কাঠখেকো কীটপতঙ্গের পুষ্টিনালিতে বসবাসকারী এক ধরনের পরজীবী সেলুলোজ নামক উৎসেচক নিঃসৃত করে কাঠ হজমে সাহায্য করে ।

উৎস : উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯৬০.
বাংলাদেশে তড়িৎ-এর কম্পাঙ্ক প্রতি সেকেন্ডে ৪০ সাইকেল-এর তাৎপর্য কী?
  1. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ বার দিক বদলায়
  2. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ বার উঠানামা করে
  3. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ বার বন্ধ হয়
  4. প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ একক দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে
সঠিক উত্তর:
প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ বার দিক বদলায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ বার দিক বদলায়
ব্যাখ্যা
• যে প্রবাহ সময়ের সাথে সাথে দিক বা দশা পরিবর্তন করে তাকে দিক পরিবর্তী প্রবাহ বলে(A.C.)। বাংলাদেশের তড়িৎ-এর কম্পাঙ্ক প্রতি সেকেন্ডে ৪০ সাইকেল বলতে- প্রতি সেকেন্ডে বিদ্যুৎ প্রবাহ ৪০ বার দিক বদলায়।

• তড়িৎ প্রবাহ:
- দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে যখন পরিবাহী তার দ্বারা যুক্ত করা হয় তখন তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।
- যখন দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে তার দ্বারা সংযুক্ত করা হয়, তখন নিম্ন বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তু থেকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন উচ্চ বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ধাতব বস্তুর মধ্যে বিভব পার্থক্য বর্তমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ঋণাত্মক আধানের এই প্রবাহ চলে।
- কোনোভাবে যদি ধাতব বস্তুদ্বয়ের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বজায় রাখা যায় তখন এই প্রবাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।
- ঋণাত্মক আধান বা ইলেকট্রনের এই প্রবাহের জন্যই তড়িৎ প্রবাহিত হয়।
- মূলত কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাই হলো তড়িৎ প্রবাহ।
- প্রচলিত তড়িৎ প্রবাহের দিক ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে হয়।
- তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার। একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- প্রতি একক আধানকে তড়িৎক্ষেত্রের এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে স্থানান্তর করতে সম্পন্ন কাজের পরিমাণ হলো ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব পার্থক্য।
- দুটি বিন্দুর মধ্যে বিভব পার্থক্য না থাকলে তড়িৎ প্রবাহিত হবে না। ফলে কোনো আধান প্রবাহিত হবে না এবং কোনো কাজও সম্পন্ন হবে না।
- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। যথা- অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ বা ডিসি প্রবাহ, পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি প্রবাহ।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১২,৯৬১.
সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল কোথায়?
  1. এশিয়া
  2. মেক্সিকো
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. আফ্রিকা
সঠিক উত্তর:
মেক্সিকো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেক্সিকো
ব্যাখ্যা
- সোইয়ইন ফ্লু ভাইরাসটি সর্বপ্রথম শনাক্ত করা হয়েছিল মেক্সিকোতে, এপ্রিল, ২০০৯ সালে। পরবর্তীতে, এই রোগটি অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
- সোয়াইন ফ্লু হচ্ছে মানবদেহের ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাসের মতোই এক ধরনের ভাইরাস, যা প্রধানত শূকরের দেহে দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে।
এই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস টাইপ A (H1N1)।
- বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ২০০৯-এর জুন মাসে বিশ্বের ৭৪টি দেশে নতুন H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের উপস্থিতির কারণে এই রোগের সাম্প্রতিক অবস্থাকে বিশ্বব্যাপী মহামারি বলে চিহ্নিত করেছে।
- মানুষ, শূকর ও পাখির সংমিশ্রণে উদ্ভব হওয়া ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের এই রূপটি সম্পর্কে ধারণা করা হয় এটি শূকরের মাধ্যমে মানুষকে আক্রান্ত করেছে।
- সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গের মধ্যে জ্বর হওয়া, মাথা ব্যথা, গলা ও শরীর ব্যথা, শ্বাস কষ্ট, ক্ষুধামান্দ্য ও আলস্যবোধ করা, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি অন্যতম। 
- ২০০৯ সালের ১৮ জুন বাংলাদেশে প্রথম সোয়াইন ফ্লু রোগী শনাক্ত করা হয়। 

সূত্র: WHO Website [লিঙ্ক]
১২,৯৬২.
বায়ু শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করার জন্য প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. হাইড্রো টারবাইন
  2. বায়ুকল
  3. ইলেকট্রিক মোটর
  4. সোলার সেল 
সঠিক উত্তর:
বায়ুকল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুকল
ব্যাখ্যা

- বায়ুকল (Windmill বা আধুনিক বায়ু টারবাইন) হলো এমন একটি যন্ত্র যা বায়ুর গতিশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে এবং পরবর্তীতে জেনারেটরের (বিদ্যুৎ জেনারেটর) মাধ্যমে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এটিই বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উপাদান। 

বায়ু শক্তি: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ু প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু প্রবাহজনিত গতি শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তাকে বায়ুকল বলে। 
- বায়ু প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে প্রাচীনকালের মানুষেরা কুয়া থেকে পানি তোলা, জাহাজ চালানো ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করতো। 
- নৌকায় পাল তুলে আজও বায়ু শক্তিকে কাজে লাগানো হয়। 
- বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বায়ু কল কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

অন্যদিকে, 
- হাইড্রো টারবাইন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহৃত হয়, যেখানে পানির প্রবাহ বা উচ্চতা থেকে প্রাপ্ত শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। 
- সোলার সেল সৌরশক্তি বা সূর্যালোককে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে (ফোটোভোলটাইক প্রভাব ব্যবহার করে)। 
- ইলেকট্রিক মোটর সাধারণত বিদ্যুৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে (যেমন পাখা ঘোরানো)। বায়ু শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জেনারেটর ব্যবহার করা হয়, মোটর নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৯৬৩.
পরিবাহিতার একক কোনটি?
  1. ওহম
  2. কুলম্ব
  3. সিমেন্স
  4. অ্যাম্পিয়ার
সঠিক উত্তর:
সিমেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিমেন্স
ব্যাখ্যা
- রোধের একক ওহম।
- পরিবাহিতার একক সিমেন্স।
- আধানের একক কুলম্ব।
- তড়িৎ প্রবাহের একক অ্যাম্পিয়ার।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৯৬৪.
সোডিয়াম ক্লোরাইড এর গলনাঙ্ক কত?
  1. ক) 801 ডিগ্রী সেলসিয়াস
  2. খ) 802 ডিগ্রী সেলসিয়াস
  3. গ) 800 ডিগ্রী সেলসিয়াস
  4. ঘ) 803 ডিগ্রি সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
ক) 801 ডিগ্রী সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 801 ডিগ্রী সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে আরম্ভ করে সেই তাপমাত্রা কে গলনাংক বলে। 801 ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সোডিয়াম ক্লোরাইড গলতে শুরু করে।
১২,৯৬৫.
জীবদেহের দৃশ্যমান অথবা সুপ্ত বেশিষ্ট্যগুলোর নিয়ন্ত্রক জিনসমূহের গঠনকে বলে -
  1. জিনোটাইপ
  2. ফিনোটাইপ
  3. হোমোজাইগাস
  4. হেটারোজাইগাস
সঠিক উত্তর:
জিনোটাইপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিনোটাইপ
ব্যাখ্যা

- জিনোটাইপ (Genotype): জীবদেহের দৃশ্যমান অথবা সুপ্ত বেশিষ্ট্যগুলোর নিয়ন্ত্রক জিনসমূহের গঠনকে জিনোটাইপ বলে। মনেকরি, মটরশুঁটি গাছের লম্বা কান্ডের জন্য T জিন এবং বামন কান্ডের জন্য T জিন দায়ী। অতএব TT, tt, Tt যথাক্রমে বিশুদ্ধ লম্বা, বিশুদ্ধ বামন ও সঙ্কর (hrbrid) লম্বা মটরশুঁটি গাছের জিনোটাইপ।
- ফিনোটাইপ (Phenotype) - জীবদেহের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যসমূহকে ফিনোটাইপ বলে। ফিনোটাইপ প্রকৃতপক্ষে জিনোটাইপের জিনসমূহের বাহ্যিক প্রকাশ।
- হোমোজাইগাস (Homozygous) ও হেটারোজাইগাস (Heterozygous)- জীবে একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী জিন জোড়া একই রকমের (উভয় জিনই প্রকট বা প্রচ্ছন্ন) হলে তাকে হোমোজাইগাস জীব বলে। জিন জোড়া ভিন্ন রকমের হলে সে জীবকে হেটারোজাইগাস জীব বলে।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

১২,৯৬৬.
ট্রান্সফর্মার কোন নীতিতে কাজ করে?
  1. তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ
  2. ওহমের সূত্র
  3. জুলের তাপীয় প্রভাব
  4. ফ্যারাডের তড়িৎ বিশ্লেষণ
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ:
- একটি গতিশীল চুম্বক বা তড়িৎবাহী বর্তনীর সাহায্যে অন্য একটি বদ্ধ বর্তনীতে ক্ষণস্থায়ী তড়িচ্চালক শক্তি ও তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হওয়ার পদ্ধতিকে তাড়িতচৌম্বকীয় আবেশ বা তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বলে।

• রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার (Transformer):
- যে যন্ত্রের সাহায্যে পর্যাবৃত্ত বা দিক পরিবর্তী উচ্চবিভবকে নিম্নবিভবে এবং নিম্নবিভবকে উচ্চবিভবে রূপান্তরিত করা যায় তাকে রূপান্তরক বা ট্রান্সফর্মার বলা হয়।

• তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ বা তাড়িতচৌম্বক আবেশের ওপর ভিত্তি করে ট্রান্সফর্মার তৈরি করা হয়। 

• ট্রান্সফর্মার সাধারণত দুই প্রকারের হয়।যথা-
- আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার: যে ট্রান্সফর্মার অল্প বিভবের অধিক তড়িৎপ্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার বলা হয়। 

- অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার: যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
১২,৯৬৭.
তড়িৎ প্রবাহ যদি এক দিকেই প্রবাহিত হয়, তবে সেটাকে কী বলা হয়? 
  1. এসি প্রবাহ
  2. ডিসি প্রবাহ
  3. পরিবর্তী প্রবাহ
  4. পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
ডিসি প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিসি প্রবাহ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহ: 
- দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে যখন পরিবাহী তার দ্বারা যুক্ত করা হয় তখন তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। 
- যখন দুটি ভিন্ন বিভবের ধাতব বস্তুকে তার দ্বারা সংযুক্ত করা হয়, তখন নিম্ন বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তু থেকে ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন উচ্চ বিভবসম্পন্ন ধাতব বস্তুর দিকে প্রবাহিত হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ধাতব বস্তুর মধ্যে বিভব পার্থক্য বর্তমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ঋণাত্মক আধানের এই প্রবাহ চলে। 
- কোনোভাবে যদি ধাতব বস্তুদ্বয়ের মধ্যবর্তী বিভব পার্থক্য বজায় রাখা যায় তখন এই প্রবাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে। 
- ঋণাত্মক আধান বা ইলেকট্রনের এই প্রবাহের জন্যই তড়িৎ প্রবাহিত হয়। 
- মূলত কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে একক সময়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তাই হলো তড়িৎ প্রবাহ। 
- প্রচলিত তড়িৎ প্রবাহের দিক ইলেকট্রন প্রবাহের বিপরীত দিকে হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের একক হলো অ্যাম্পিয়ার। একে সাধারণত A দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- প্রতি একক আধানকে তড়িৎক্ষেত্রের এক বিন্দু থেকে অন্য বিন্দুতে স্থানান্তর করতে সম্পন্ন কাজের পরিমাণ হলো ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব পার্থক্য। 
- দুটি বিন্দুর মধ্যে বিভব পার্থক্য না থাকলে তড়িৎ প্রবাহিত হবে না। ফলে কোনো আধান প্রবাহিত হবে না এবং কোনো কাজও সম্পন্ন হবে না। 

- তড়িৎ প্রবাহ দুই প্রকার। 
যথা-
(ক) অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা সমপ্রবাহ বা একমুখী প্রবাহ বা ডিসি প্রবাহ: 
- যখন সময়ের সাথে সাধারণত তড়িৎ প্রবাহের দিকের কোনো পরিবর্তন না ঘটে, অর্থাৎ যে তড়িৎ প্রবাহ সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, সেই প্রবাহকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- তড়িৎ কোষ বা ব্যাটারি থেকে অপর্যায়বৃত্ত প্রবাহ পাওয়া যায়। 
- আবার ডিসি জেনারেটরের সাহায্যেও এই প্রকার তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করা যায়। 

(খ) পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বা পরিবর্তী প্রবাহ বা এসি প্রবাহ: 
- যখন নির্দিষ্ট সময় পরপর তড়িৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়, সেই তড়িৎ প্রবাহকে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ বলে। 
- বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের তড়িৎ প্রবাহই পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ। 
- এর কারণ তুলনামূলকভাবে এটি উৎপন্ন ও সরবরাহ করা সহজ এবং সাশ্রয়ী। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের উৎস জেনারেটর বা ডায়নামো। 
- দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে জেনারেটরের সাহায্যে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ উৎপন্ন করা হয়। 
- পর্যায়বৃত্ত প্রবাহের দিক পরিবর্তন দেশভেদে বিভিন্ন হয়। 
যেমন- বাংলাদেশে পর্যায়বৃত্ত প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে পঞ্চাশবার এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সেকেন্ডে ষাটবার দিক পরিবর্তন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১২,৯৬৮.
কোন দ্রবণের pH মান 5 হলে তার প্রকৃতি কী হবে?
  1. দ্রবণটি নিরপেক্ষ এবং লিটমাসে কোনো পরিবর্তন ঘটাবে না
  2. দ্রবণটি ক্ষারীয় এবং লাল লিটমাসকে নীল করবে
  3. দ্রবণটি অম্লীয় এবং নীল লিটমাসকে লাল করবে
  4. দ্রবণটি তীব্র ক্ষারীয় এবং ত্বকে ক্ষতি করবে
সঠিক উত্তর:
দ্রবণটি অম্লীয় এবং নীল লিটমাসকে লাল করবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রবণটি অম্লীয় এবং নীল লিটমাসকে লাল করবে
ব্যাখ্যা

• দ্রবণটি অম্লীয় এবং নীল লিটমাসকে লাল করবে — কারণ pH মান ৭-এর কম হলে দ্রবণ অম্লীয় হয় এবং অম্ল নীল লিটমাসকে লাল করে।

• pH ও এর ধারণা:
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল প্রবর্তন করেন।
- pH শব্দের p এসেছে জার্মান শব্দ Potenz থেকে, যার অর্থ ক্ষমতা, এবং H দ্বারা হাইড্রোজেন বোঝায়।
- pH = - log[H+].
- অর্থাৎ, কোনো দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমই হলো pH.

• pH স্কেল:
- pH মান ০ থেকে ১৪-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
- pH < ৭ হলে দ্রবণ অম্লীয়।
- pH = ৭ হলে দ্রবণ নিরপেক্ষ।
- pH > ৭ হলে দ্রবণ ক্ষারীয়।

• বিশুদ্ধ পানির pH:
- ২০°-২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানির pH প্রায় ৭।
- বিশুদ্ধ পানিতে অম্ল যোগ করলে pH কমে যায়।
- বিশুদ্ধ পানিতে ক্ষার যোগ করলে pH বৃদ্ধি পায়।

• pH মিটার:
- দ্রবণের pH নির্ণয়ের জন্য pH মিটার ব্যবহার করা হয়।
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে।

• মানবদেহে pH এর গুরুত্ব:
- স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তের pH প্রায় ৭.৪৫।
- রক্তের pH বেশি পরিবর্তিত হলে মারাত্মক বিপর্যয়, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য হজমের উপযোগী pH প্রায় ২।
- ক্ষুদ্রান্ত্রে উপযোগী pH প্রায় ৮।
- প্রস্রাব মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।

• প্রসাধনী ও ত্বকে pH:
- ত্বকের আদর্শ pH প্রায় ৫.৫।
- ত্বকের pH ৫.৫–৬.৫ এর মধ্যে থাকলে ত্বক ব্যাকটেরিয়া ও অ্যালার্জি প্রতিরোধে সক্ষম হয়।
- নবজাতক শিশুর ত্বকের pH প্রায় ৭-এর কাছাকাছি।
- শ্যাম্পুর pH প্রায় ৫.০–৫.৫ হওয়া উচিত।

• কৃষিক্ষেত্রে pH:
- মাটির pH সাধারণত ৪–৮ এর মধ্যে থাকে।
- pH ৩-এর নিচে হলে গাছ মারা যেতে পারে।
- pH ৯.৫-এর উপরে হলে মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- দ্রবণটি নিরপেক্ষ → pH = ৭ হলে নিরপেক্ষ দ্রবণ হয়।
- দ্রবণটি ক্ষারীয় → pH ৭-এর বেশি হলে ক্ষারীয় প্রকৃতি প্রকাশ করে এবং লাল লিটমাসকে নীল করে।
- তীব্র ক্ষারীয় দ্রবণ → উচ্চ pH মানবিশিষ্ট দ্রবণ ত্বকে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৯৬৯.
pH হলো-
  1. এসিড নির্দেশক
  2. ক্ষারীয় নির্দেশক
  3. নিরপেক্ষ নির্দেশক
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• pH ও এর ব্যবহার:
- ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী সোরেনসেন (Sorensen) pH স্কেল ব্যবহার করেন।
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়।
- pH এর p এসেছে জার্মান শব্দ Potenz থেকে যার অর্থ হলো ক্ষমতা এবং H দ্বারা হাইড্রোজেন বোঝানো হয়েছে।
- অর্থাৎ pH হলো Potenz of hydrogen। pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। অর্থাৎ pH = -log[H+]
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয় এবং দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অ্যাসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি নিরপেক্ষ হয়।
pH মান:

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯৭০.
'জেনেটিকস' শব্দটি কে প্রথম প্রয়োগ করেন?
  1. উইলিয়াম বেটসন
  2. চার্লস ডারউইন
  3. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
  4. জে পি মরগান
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম বেটসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম বেটসন
ব্যাখ্যা
- উইলিয়াম বেটসন ১৯০৫ সালে সর্বপ্রথম Genetics শব্দটি প্রচলন করেন।
- অস্ট্রিয়াবাসী ধর্মযাজক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল জিনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের মৃত্যুর ১৬ বছর পর ১৯০০ সালে নেদারল্যান্ডসের উদ্ভিদবিজ্ঞানী হিউগো ডে ভ্রিস, জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী অধ্যাপক কার্ল করেন্স, অস্ট্রিয়ার কৃষিবিজ্ঞানী এরিক শ্চের্মেক পৃথকভাবে কিন্তু একই সময়ে মেন্ডেলের গবেষণার ফলাফল পুনরাবিষ্কার করেন।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১২,৯৭১.
পিটুইটারি গ্রন্থির অবস্থান -
  1. ক) অগ্র মস্তিষ্কে
  2. খ) পশ্চাৎ মস্তিষ্কে
  3. গ) মধ্য মস্তিষ্কে
  4. ঘ) ডান মস্তিষ্কে
সঠিক উত্তর:
ক) অগ্র মস্তিষ্কে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অগ্র মস্তিষ্কে
ব্যাখ্যা

অগ্রমস্তিষ্কে অবস্থিত সকল গ্রন্থি নিয়ন্ত্রণকারী একটি ক্ষুদ্র গ্রন্থি অবস্থিত, একে পিটুইটারী গ্রন্থি বলে।
- এটি দেখতে অনেকটা মটর দানার মত।
- এটি অগ্রবর্তী অঞ্চল, মধ্যবর্তী অঞ্চল ও পশ্চাদ্বর্তী অঞ্চলে বিভক্ত।
- পিটুইটারী প্রাণিদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনালগ্রন্থি।
- এ গ্রন্থি নিঃসৃত হরমােনগুলাে দেহের অন্যান্য অনাল গ্রন্থির ক্ষরণ ও কার্যকারীতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য পিটুইটারী গ্রন্থিকে গ্রন্থি রাজ (Master Gland) বলা হয়।
উৎসঃ জীব বিজ্ঞানঃ নবম-দশম শ্রেণী

১২,৯৭২.
দুটি আহিত কণা একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে, তাকে কী বলা হয়?
  1. মহাকর্ষ বল
  2. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  3. তড়িৎ চৌম্বক বল
  4. সবল নিউক্লীয় বল
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ চৌম্বক বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ চৌম্বক বল
ব্যাখ্যা

বল: 
- যা স্থির বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায় অথবা যা গতিশীল বস্তুর উপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায় তাকে বল বলে। 
- বল সবসময় জোড়ায় জোড়ায় ক্রিয়া করে। 
- প্রকৃতিতে মাত্র চার ধরনের মৌলিক বল আছে। 
যথা:
 ১। মহাকর্ষ বল: 
- এই সৃষ্টিজগতের সকলবস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে, সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে, তখন তাকে মধ্যাকর্ষণ বল বলে। 
- এই মধ্যাকর্ষণ বল আমাদেরকে নিচের দিকে (পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে) টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই। 
- ভর আছে সেরকম যেকোন বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 
 
২। তাড়িতচৌম্বক বা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল: 
- দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের ওপর যে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চৌম্বক বল বলে
 
৩। দুর্বল নিউক্লীয় বল: 
- দুর্বল নিউক্লীয় বলকে দুর্বল বলা হয় কারণ এটা তড়িৎ চৌম্বক বল থেকে দুর্বল (প্রায় ট্রিলিওন গুণ) কিন্তু মোটেও মহাকর্ষ বল থেকে দুর্বল নয়। 
- মহাকর্ষ এবং তড়িৎ চৌম্বক বল যেকোন দূরত্ব থেকে কাজ করতে পারে কিন্তু এই দুর্বল নিউক্লীয় বল খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৮ m) কাজ করে। 
 
৪। সবল নিউক্লীয় বল: 
- সবল নিউক্লীয় বল হচ্ছে সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বকীয় বল থেকেও ১০০গুণ বেশি শক্তিশালি কিন্তু এটাও খুবই অল্প দূরত্বে (১০-১৫ m) কাজ করে। 
- সূর্য থকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ এই বল দিয়ে তৈরি হয়। 
 
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৯৭৩.
কৃষ্ণবিবর সম্পর্কে কোনটি সঠিক নয়?
  1. এখানে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ প্রবল
  2. আবিষ্কার করেন জন হুইলার
  3. এর ভর তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি
  4. এটি সম্পূর্ণ কার্বন দিয়ে তৈরি
সঠিক উত্তর:
এটি সম্পূর্ণ কার্বন দিয়ে তৈরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি সম্পূর্ণ কার্বন দিয়ে তৈরি
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণবিবর (Black hole):
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে।
- নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Black hole)।
- কৃষ্ণবিবিরের ঘনত্ব থাকে অত্যন্ত বেশি।এবং পৃষ্ঠে g এর মান অত্যন্ত বেশি থাকে।
-  g-এর মান এত বেশি হয় যে, এমনটি ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না।
- ১৯৬৯ সালে  মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
১২,৯৭৪.
পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের ইলেকট্রন কে বলা হয় -
  1. ক) মেসন
  2. খ) ইলেক্ট্রোলাইট
  3. গ) যোজনী
  4. ঘ) যোজন ইলেকট্রন
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোজন ইলেকট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোজন ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
পরমাণুর সবচেয়ে বাইরের ইলেকট্রন কে যোজন ইলেকট্রন বলে।
যোজন ইলেকট্রনের শক্তির পাল্লা বা ব্যান্ড কে যোজন ব্যান্ড বলে। পরমাণুতে অবস্থিত মুক্ত যোজন ইলেকট্রন গুলো পরিবহনে অংশ নিলে তাদের পরিবাহী ইলেকট্রন বলে। পরিবাহী ইলেকট্রনের শক্তির পাল্লা বা ব্যান্ডকে পরিবাহী ব্যান্ড বলে।

পরিবাহী পদার্থে যোজন ব্যান্ড ও পরিবাহী ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি ব্যবধান থাকেই না , বরং উপরিলেপন ঘটে। ফলে পরিবাহীর দুই প্রান্তে সামান্য বিভব পার্থক্যে তড়িৎ প্রবাহের সূচনা হয়।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বই
১২,৯৭৫.
নিম্নের কোনটি শনি গ্রহের উপগ্রহ?
  1. টাইটান
  2. টাইটানিয়া
  3. মিরান্ডা
  4. ওবেরন
সঠিক উত্তর:
টাইটান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাইটান
ব্যাখ্যা
শনি গ্রহ:
- শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর দূরত্ব ১৪৩ কোটি কিলোমিটার।
- শনি গ্রহ উজ্জ্বল বলয় দ্বারা বেষ্টিত এবং এর ভূ-ত্বক বরফে ঢাকা।
- সূর্যের চারদিকে শনির একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৯.৪ বছর।
- গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৯ গুণ বড়।
- এর উপগ্রহ রয়েছে ১৪৬টি।

উল্লেখ্য,
- টাইটান শনি গ্রহের সবচেয়ে বড় উপগ্রহ।
- ১৬৫৫ সালে ডাচ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান হাইগেনস এটি আবিস্কার করেন।
- টাইটান একমাত্র উপগ্রহ, যেটা অনেকটা পৃথিবীর মতো।
- টাইটানের বায়ুমণ্ডল অনেক ঘন। বায়ুমণ্ডলের ৯৭% হলো নাইট্রোজেন।
- অর্থাৎ পৃথিবীর পর টাইটানের বায়ুমণ্ডলই কেবল এত বেশি নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত।

অন্যদিকে,
⇒ ইউরেনাস:
- ইউরেনাসের প্রধান পাঁচটি উপগ্রহ: মিরান্ডা, এরিয়েল, আমব্রিয়েল, টাইটানিয়া এবং ওবেরন।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) NASA ওয়েবসাইট।
১২,৯৭৬.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম) কবে গঠন করা হয়?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম) ২০১২ সালে গঠন করা হয়।
- ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২’ অনুমোদনের পর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর আগে ১৯৭৩ সালে গঠিত ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর এবং ১৯৯২ সালে সৃষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো (ডিএমবি) একীভূত হয়ে ডিডিএম গঠিত হয়।
- এই অধিদপ্তর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জরুরি সহায়তা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব পালন করে।

উল্লেখ্য, 
- এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কাজ করে।
- ডিডিএম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১২,৯৭৭.
সুনামি সৃষ্টির প্রধান কারণ কোনটি? 
  1. অতিবৃষ্টি 
  2. বজ্রপাত 
  3. সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প 
  4. ঘূর্ণিঝড় 
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প 
ব্যাখ্যা

সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ।  
- যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। 
- এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা ইত্যাদি সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 
- সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায়। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 
 
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৯৭৮.
আলোক রশ্মির এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য এক স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে দিক পরিবর্তন করাকে কি বলে?
  1. আলোর প্রতিফলন
  2. আলোর প্রতিসরণ
  3. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ
  4. সংকট কোণ
সঠিক উত্তর:
আলোর প্রতিসরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোর প্রতিসরণ
ব্যাখ্যা
• প্রতিসরণ (Refraction): 
- কোনো সমসত্ব ও স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো সরলরেখায় চলে। এর গতির কোন পরিবর্তন হয় না। 
- কিন্তু আলো যখন এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন এর গমন পথ বেঁকে যায় (আলো লম্বভাবে মাধ্যম পরিবর্তন করলে দিক পরিবর্তন হয় না তবে বেগের পরিবর্তন হয়)। 
- এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে যাওয়ার সময় দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে তীর্যকভাবে আপতিত আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
- অর্থাৎ দুটি স্বচ্ছ মাধ্যমের বিভেদ তলে আলোক রশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে। 
- বিভেদ তলের উপর আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত লম্বকে অভিলম্ব বলে। 
- আপতন বিন্দুতে আপতিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে আপতন কোণ এবং প্রতিসরিত রশ্মি ও অভিলম্বের মধ্যে সৃষ্ট কোণকে প্রতিসরণ কোণ বলে। 

• প্রতিসরণের সূত্র (Laws of Refraction): 
- আলোর প্রতিসরণ দু'টি সূত্র মেনে চলে এদের প্রতিসরণের সূত্র বলে। 
- সূত্র দু'টি হলো:
(১) দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত রশ্মি, আপতন বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব এবং প্রতিসরিত রশ্মি একই সমতলে অবস্থান করে। 
(২) এক জোড়া নির্দিষ্ট মাধ্যম এবং নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর জন্য আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত সর্বদা ধ্রুব। 
অর্থাৎ, sin i/sin r = একটি ধ্রুব (সংখ্যা)। 
- প্রতিসরণের দ্বিতীয় সূত্রটি জার্মান বিজ্ঞানী স্নেলের নামানুসারে স্নেলের সূত্র নামে অভিহিত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯৭৯.
ম্যালেরিয়ার ওষুধ ‘কুইনিন’ কোন গাছ থেকে পাওয়া যায়?
  1. ক) নিম গাছ
  2. খ) পাথরকুচি
  3. গ) সিনকোনা
  4. ঘ) তুলসী গাছ
সঠিক উত্তর:
গ) সিনকোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিনকোনা
ব্যাখ্যা
• ম্যালেরিয়ার ওষুধ ‘কুইনিন’ সিনকোনা গাছ থেকে পাওয়া যায়।
- এ গাছের বাকল থেকেই বিশ্ব প্রথম পায় কুইনিন, যা ম্যালেরিয়ার প্রথম ওষুধ হিসেবে সমাদৃত।
- কুইনিনের আবিষ্কার নিয়ে বিশ্বজুড়ে শিহরণ যেমন ছিল, তেমনি ছিল সন্দেহও।
- এ গাছ থেকে কাঁচামাল নিয়ে উৎপাদিত ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১২,৯৮০.
তড়িৎ বর্তনীতে তড়িৎযন্ত্র ও উপকরণসমূহ কয়ভাবে সংযুক্ত করা যায়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
সাধারণত তড়িৎ বর্তনীতে তড়িৎযন্ত্র ও উপকরণসমূহ ২ ভাবে সংযুক্ত করা যায়। ১. শ্রেণিসংযোগ বর্তনী ও ২. সমান্তরাল সংযোগ বর্তনী। [সূত্র: অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই]
১২,৯৮১.
ডায়াচৌম্বক পদার্থের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. চুম্বক ক্ষেত্রের দিকে মুখ করে দুর্বল চুম্বকায়ন সৃষ্টি করে
  2. শক্তিশালী চুম্বকায়ন দেখায় এবং ডোমেইন গঠন করে
  3. চুম্বকায়ন সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত 
  4. চুম্বক ক্ষেত্রের বিপরীতে দুর্বল চুম্বকায়ন সৃষ্টি করে
সঠিক উত্তর:
চুম্বক ক্ষেত্রের বিপরীতে দুর্বল চুম্বকায়ন সৃষ্টি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুম্বক ক্ষেত্রের বিপরীতে দুর্বল চুম্বকায়ন সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা

- ডায়াচৌম্বক পদার্থের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে চুম্বক ক্ষেত্রের বিপরীতে দুর্বল চুম্বকায়ন সৃষ্টি করে। 

প্যারাচৌম্বক পদার্থ:  
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, তাদেরকে প্যারাচৌম্বক পদার্থ বলে। যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি। 
- প্যারাচৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোল গুলো এলোমেলোভাবে থাকে। ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ থাকে না। 

ডায়াচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায, তাদেরকে ডায়াচৌম্বক পদার্থ বলে। যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি। 
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়, এদেরকে ডায়াচৌম্বক পদার্থ বলে। 
- ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না। এসব পরমাণুতে ইলেকট্রনের কক্ষীয় ও স্পিন গতি থেকে চৌম্বক মোমেন্ট উৎপত্তি হয়। 
- এক জোড়া ইলেককট্রনের মধ্যে একটির মোমেন্ট অন্যটির সমান ও বিপরীত হলে, এদের নীট মোমেন্ট শূন্য হবে। যেহেতু ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুতে এ রকম বহু সংখ্যক জোড়ার সমাহার সেহেতু পদার্থের পরমাণুতে কোনো দ্বিপোল থাকে না এবং কোন নীট মোমেন্টও থাকে না। 

ফেরোচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়, তাদেরকে ফেরোচৌম্বক পদার্থ বলে। যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 
- ফেরোচৌম্বক পদার্থের পরমাণু তথা অণুসমূহের প্রত্যেকের নীট্ চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। কিন্তু দ্বিপোলগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে না, এই দ্বিপোলগুলো বিভিন্ন ডোমেইন-এ বিভক্ত থাকার ফলে সমষ্টিগতভাবে নীট মোমেন্ট শূন্য হয়। 
- ফেরোচৌম্বক পদার্থকে বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে বা চুম্বকের কাছে আনলে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে কিছু কিছু ডোমেইনের আকার এক সময় বৃহৎ ডোমেইন গঠন করে এবং দ্বিপোলগুলো ক্ষেত্রের দিকে পদার্থটির চুম্বকায়ন ঘটে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১২,৯৮২.
লোহায় মরিচা পড়ার কারণ কোনটি?
  1. ক) জারণ
  2. খ) জারণ-বিজারণ
  3. গ) বিয়োজন বিক্রিয়া
  4. ঘ) সংযোজন বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) জারণ-বিজারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জারণ-বিজারণ
ব্যাখ্যা
পদার্থের পরিবর্তন:

- পদার্থের পরিবর্তন  দুই ধরনের। 

১. ভৌত বা অবস্থানগত পরিবর্তন:
যে পরিবর্তনের ফলে শুধু পদার্থের বাহ্যিক আকার বা অবস্থার পরিবর্তন হয় কিন্তু তা কোনো নতুন পদার্থে পরিণত হয় না, তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে। উদাহরণ : পানিকে বরফ ও বাষ্পে পরিণত করা, লোহাকে চুম্বকে পরিণত করা, চিনিকে পানিতে দ্রবীভূত করা।

২. রাসায়নিক পরিবর্তন:
যে পরিবর্তনের জন্য এক বা একাধিক বস্তু প্রত্যেকে তার নিজস্ব সত্তা হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্ম বিশিষ্ট এক বা একাধিক নতুন বস্তুতে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। উদাহরণ : পানি এবং অক্সিজেনের সংযোগে লোহায় মরিচা ধরা, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে পানি তৈরি হওয়া, দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালানো এগুলো রাসায়নিক পরিবর্তন।

- আদ্র বাতাসের সংস্পর্শে বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে লোহার রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় আয়রন অক্সাইডের একধরনের যৌগ। এই যৌগই মরিচা।
- জারণ-বিজারণের ফলে লোহায় মরিচা পড়ে।
- মরিচা সৃষ্টিকে নিম্নরূপ সমীকরণের আকারে দেখানো সম্ভব -
লোহার সামগ্রী + আর্দ্র বাতাস = আয়রন অক্সাইড বা মরিচা

তথ্যসূত্র - রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি ও রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯৮৩.
সমুদ্র স্রোতের অন্যতম কারণ -
  1. ক) নিয়ত বায়ু প্রবাহ
  2. খ) সমুদ্রের পানিতে তাপ পরিচালনা
  3. গ) সমুদ্রের পানিতে ঘনত্বের তারতম্য
  4. ঘ) সমুদ্রের ঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর:
ক) নিয়ত বায়ু প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিয়ত বায়ু প্রবাহ
ব্যাখ্যা
সমুদ্র স্রোত:
সমুদ্র স্রোতের প্রধান কারন - বায়ু প্রবাহ।
বায়ু প্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ তৈরি করে এবং ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন  (Gyre/spiral pattern) তৈরি করে। সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরন করে চলাচল করে, একে সমুদ্রস্রোত বলে।

সমুদ্রস্রোতকে উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে, দুইভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. উষ্ণ স্রোত:
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় জলরাশি হালকা হয় ও হালকা জলরাশি সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে পৃষ্ঠপ্রবাহরূপে শীতল মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়; এরূপ স্রোতকে উষ্ণ স্রোত বলে।
২. শীতল স্রোত:
- মেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারী জলরাশি জলের নিচে অংশ দিয়ে অন্তঃপ্রবাহরূপে নিরক্ষীয় উষ্ণমন্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। এরূপ স্রোতকে শীতল স্রোত বলে।

সমুদ্রস্রোতের কারণ:
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (প্রধান কারন)
- পৃথিবীর আহ্নিক গতি।
- সমুদ্রজলের তাপমাত্রার পার্থক্য
- সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পার্থক্য
- ভূখন্ডের অবস্থান
- অসম বাষ্পীভবন
- সমুদ্রের গভীরতা

উৎস: মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বই।
১২,৯৮৪.
কোন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন থাকে না?
  1. লিথিয়াম 
  2. হাইড্রোজেন
  3. হিলিয়াম 
  4. কার্বন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।  
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- বিজ্ঞানী চ্যাডউইক ১৯৩২ সালে নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
-  নিউট্রনের ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n. 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g. 
- নিউট্রনের আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৯৮৫.
কোনটি ওহমের সূত্র
  1. ক) I ∝ V
  2. খ) V ∝ C
  3. গ) V ∝ F
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) I ∝ V
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) I ∝ V
ব্যাখ্যা
নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোন পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমান পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক। বিভব পার্থক্য v এবং প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমান I হলে I ∝ V
১২,৯৮৬.
নিচের কোনটি পীট কয়লার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. শুষ্ক অবস্থায় অবাধে জ্বলে
  2. কম তাপ উৎপন্ন করে
  3. ভিজা ও নরম
  4. উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে
সঠিক উত্তর:
উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে
ব্যাখ্যা
• পীট কয়লা উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে না।

• পীট কয়লা:

- পীট কয়লা হলো জৈব পদার্থের আংশিক পচন দ্বারা গঠিত স্পঞ্জি উপাদান যা প্রাথমিকভাবে উদ্ভিদ উপাদান।
- পীট কয়লা সবচেয়ে নিম্ন মানের কয়লা যা মাটির ভূগর্ভে থেকে পাওয়া যায়।
- পীট কয়লা ভিজা ও নরম, দহনে খুব কম তাপ উৎপন্ন করে।
- শুষ্ক অবস্থায় এটি অবাধে জ্বলে।
- এতে শনাক্তযোগ্য উদ্ভিজ্জ কণিকা বিদ্যমান থাকলেও মণিক নেই বললেই চলে।

উৎস:
১. রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা।
১২,৯৮৭.
আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ কোনটি? 
  1. E = m2c
  2. W = Fd
  3. E = mc2
  4. F = ma
সঠিক উত্তর:
E = mc2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
E = mc2
ব্যাখ্যা
ভর-শক্তি সম্পর্ক: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো ভর-শক্তি সম্পর্ক। 
- চিরায়ত বলবিদ্যায় কোনো বস্তুর ভর ধ্রুব রাশি এবং শক্তি সর্বদাই নিত্য। চিরায়ত বলবিদ্যায় আরো ধরা হয় যে, ভর এবং শক্তি দুটি ভিন্ন সত্তা। 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বে চিরায়ত বলবিদ্যায় পুরাতন ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটে। এই তত্ত্বানুসারে ভর এবং শক্তি দুটি অভিন্ন সত্তা। 
- ভরকে সম্পূর্ণরূপে ধংস করা যায় এবং তা থেকে শক্তির উৎপন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ভর সম্পূর্ণরূপে শক্তিতে রূপান্তর হয় এবং একই ভাবে শক্তিও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে ভরে রূপান্তর হয়। 

সুতরাং, E = mc2, এটিই আইনস্টইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ। 
- এই সমীকরণ প্রমাণ করে, ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র। 
- নিউক্লিয় ফিশান ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা এই সমীকরণ দিয়ে সঠিক ভাবে পরিমাপ করা যায়। 
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। 
অর্থাৎ, এই সমীকরণ মহাজগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯৮৮.
পালতোলা নৌকা সম্পূর্ণ অন্য দিকের বাতাসকেও এর সম্মুখ গতিতে ব্যবহার করতে পারে। কারণ-
  1. ক্রিয়ার বদলে প্রতিক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়
  2. সম্মুখ অভিমুখে বলের উপাংশটিকে কার্যকর রাখা হয়
  3. পালের দাড়িতে টানের নিয়ন্ত্রণ বিশেষ দিকে বাতাসকে কার্যকর করে
  4. পালের আকৃতিকে সুকৌশলে ব্যবহার করা যায়
সঠিক উত্তর:
সম্মুখ অভিমুখে বলের উপাংশটিকে কার্যকর রাখা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্মুখ অভিমুখে বলের উপাংশটিকে কার্যকর রাখা হয়
ব্যাখ্যা
- যথাযথভাবে হাল ঘুরিয়ে বিপরীতমূখী বলকে নিষ্ক্রিয় করা গেলে নৌকা অন্যদিকের বাতাসকে সম্মুখ অভিমূখে বলের উপাংশটিকে কাজে লাগিয়ে তা নৌকার সম্মুখগতিতে ব্যাবহার করতে পারে।

- পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ু প্রবাহিত হয়।
- বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তাকে বায়ুকল বলে।
- বায়ু প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে প্রাচীনকালের মানুষেরা কুয়া থেকে পানি তোলা, জাহাজ চালানো ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করতো।
- নৌকায় পাল তুলে আজও বায়ু শক্তিকে কাজে লাগানো হয়।
- পালতোলা নৌকাতে বাতাস দুইভাবে কাজ করে।
- একটি বলের অভিমূখে অন্যটি বলের বিপরীত।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা।
২. পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯৮৯.
সমুদ্রের পানির ফুলে ওঠাকে কী বলা হয়?
  1. ভাটা
  2. জোয়ার
  3. সাগরপ্রবাহ
  4. জলোচ্ছ্বাস
সঠিক উত্তর:
জোয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোয়ার
ব্যাখ্যা

- চন্দ্র ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণে এবং পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের জল নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে ওঠে, এই ঘটনাকে জোয়ার (Tide/High tide) বলে। 

জোয়ার-ভাটা: 
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তির প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্র পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়।
- সমুদ্রের পানি ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে বলা হয় ভাটা। 
- প্রতি ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট পরপর এই জোয়ার-ভাটা সংঘটিত হয়। 
অর্থাৎ, সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দুই বার জোয়ার ও দুই বার ভাটা হয়। 

উৎস: ভূগোল প্রথপম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৯৯০.
কোনটি স্কেলার রাশির উদাহরণ? 
  1. দৈর্ঘ্য
  2. ত্বরণ
  3. বেগ 
  4. বল 
সঠিক উত্তর:
দৈর্ঘ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা

ভেক্টর: 
-কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য শুধুমাত্র মানের প্রয়োজন হয়।
- আবার কিছু কিছু ভৌত রাশিকে প্রকাশের জন্য মান ও দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়। 
- এজন্য বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি এবং  খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি। 

স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি: 
- যেসব ভৌত রাশির শুধুমাত্র মান আছে কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, দ্রুতি, কাজ, তাপমাত্রা ইত্যাদি। 

ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি: 
- যেসব ভৌতরাশির মান ও দিক উভয়ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলা হয়। 
যেমন- সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৯৯১.
কোনটি রুপান্তরিত শিলার উদাহরণ নয়?
  1. গ্রাফাইট
  2. কয়লা
  3. মার্বেল
  4. নিস
সঠিক উত্তর:
কয়লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়লা
ব্যাখ্যা

- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তা পাললিক শিলা।
- এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে।
- পাললিক শিলা নরম ও হালকা যা সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- এর মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়। পাললিক শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।

• পাললিক শিলার উদাহরণ:
- চুনাপাথর,
- কয়লা,
- নুড়িপাথর,
- বেলেপাথর,
- পলিপাথর,
- কর্দমপাথর,
- চক,
- কোকিনা,
- লবণ,
- জিপসাম,
- ডায়াটম,
- ডোলোমাইট ইত্যাদি।

• কিছু রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
- গ্রাফাইট (কয়লার রূপান্তরিত রূপ),
- মার্বেল (চুনাপাথরের রূপান্তরিত রূপ),
- নিস (গ্রানাইটের রূপান্তরিত রূপ) ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৯৯২.
কোনটি এন্টিবায়োটিক?
  1. ইনসুলিন
  2. পেপসিন
  3. পেনিসিলিন
  4. ইথিলিন
সঠিক উত্তর:
পেনিসিলিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেনিসিলিন
ব্যাখ্যা
- পেনিসিলিন হলো একটি এন্টিবায়োটিক।
- স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ১৯২৯ সালে পেনিসিলিন নামক জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেন।

অন্যদিকে,
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- পেপসিন নামক এনজাইম প্রোটিন পরিপাকে সহায়তা করে ।
- ফল পাকানোর জন্য দায়ী ফাইটোহরমোনের নাম ইথিলিন।

উৎস: ব্রিটানিকা ও উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১২,৯৯৩.
পৃথিবীর কোন অক্ষাংশতে আহ্নিক গতির বেগ সর্বাপেক্ষা বেশি?
  1. ০° অক্ষাংশ
  2. ২৩.৫° অক্ষাংশ
  3. ৬৬.৫° অক্ষাংশ
  4. ৯০° অক্ষাংশ
সঠিক উত্তর:
০° অক্ষাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০° অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও অক্ষরেখা:
- আহ্নিক গতি নিরক্ষরেখায় সর্বাপেক্ষা বেশি। নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°। 
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে।
- পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।
- নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে পৃথিবীর মোট ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন।
- এই সময়কে সৌরদিন বলা হয়।
- পৃথিবী গোলাকার হলেও এর ব্যাস সর্বত্র সমান নয়।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্রায়)।

উল্লেখ্য:

- পৃথিবীর দুই মেরু হতে সমান দূরত্বে (পৃথিবীর মাঝখানে) পূর্ব-পশ্চিমে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা কল্পিত বৃত্তকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখার সমান্তরালে উত্তরে ও দক্ষিণে কতকগুলো রেখা কল্পনা করা হয়। এই রেখাগুলোকে অক্ষরেখা বা সমাক্ষরেখা বলে।
- অক্ষরেখাসমূহের দূরত্ব সর্বত্র সমান। নিরক্ষেরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বের মানকে ডিগ্রিতে প্রকাশ করলে তাকে অক্ষাংশ বলে। 
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°। নিরক্ষরেখা থেকে ৯০° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় সুমেরু এবং ৯০° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় কুমেরু।
- এছাড়া ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রামে- কর্কটক্রান্তি এবং ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে বলা হয় মকরক্রান্তি।
- ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রমে সুমেরু বৃত্ত এবং কুমেরু বৃত্ত।
- বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখাকে বলা হয় মহাবৃত্ত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯৯৪.
ভূপৃষ্ঠে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু কী পরিমাণে আছে?
  1. ক) ৩.৬%
  2. খ) ৫%
  3. গ) ৭.৮%
  4. ঘ) ৮.১%
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮.১%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮.১%
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু (৮.১%)। লোহার পরিমাণ ৫%, ক্যালসিয়াম ৩.৬%।
Source: space.com
১২,৯৯৫.
কোনটি একবীজপত্রী উদ্ভিদ?
  1. আম
  2. ধান
  3. জাম
  4. কাঁঠাল
সঠিক উত্তর:
ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধান
ব্যাখ্যা
একবীজপত্রী উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদের বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে, তাদের একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: ধান, গম, যব, খেজুর, বরই ইত্যাদি। 

দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, জাম, কাঁঠাল, ছোলা, মটর, শিম ইত্যাদি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 
১২,৯৯৬.
রাদারফোর্ড মডেল অনুযায়ী নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রনের মধ্যে কোন বল ভারসাম্য রাখে? 
  1. বিকর্ষণ বল 
  2. গ্রাভিটেশনাল বল 
  3. চুম্বকীয় বল 
  4. কেন্দ্রমুখী বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল 
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রমুখী বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রমুখী বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল 
ব্যাখ্যা

পরমাণু মডেল (Atom Model): 
- ১৮৯৭-১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞানী পরমাণুর উপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাপ্ত তথ্য থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে যে মতবাদ উপস্থাপন করেন, তা পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
যেমন- থমসন পরমাণু মডেল, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল, বোর পরমাণু মডেল ইত্যাদি। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলর প্রস্তাবগুলো হলো- 
• পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও ভারী ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট কেন্দ্র থাকে, যাকে নিউক্লিয়াস বলা হয়। এটি পরমাণুর প্রায় সব ভর বহন করে। 
• নিউক্লিয়াসের চারপাশে ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান থাকে। 
• মডেলটিকে পরমাণুর সৌর মডেল বলা হয়, কারণ এটি সৌরমণ্ডলের মতো সাজানো। 
• নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রনের মধ্যে কেন্দ্রমুখী বৈদ্যুতিক আকর্ষণ ইলেকট্রনের কেন্দ্রমুখী বলের সাথে ভারসাম্য রাখে। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ- 
• ইলেকট্রন ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হওয়ায় একে অপরকে বিকর্ষণ করে, যা মডেল ব্যাখ্যা করতে পারে না। 
• ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্ব অনুযায়ী, ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রন শক্তি বিকিরণ করলে শেষ পর্যন্ত নিউক্লিয়াসে পতিত হওয়া উচিত কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। 
• ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি নির্ধারণ করা যায় না। 
• একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনের অবস্থান ও চলাচল সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা নেই। 
• পরমাণুর বর্ণালী (spectrum) ব্যাখ্যা করা যায় না। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৯৯৭.
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা কমপক্ষে কত হতে হবে?
  1. ২৭° সেলসিয়াস
  2. ২০° সেলসিয়াস
  3. ১৭° সেলসিয়াস
  4. ১৫° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
২৭° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৭° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা কমপক্ষে ২৭° সেলসিয়াস হতে হয়। এই উচ্চ তাপমাত্রা সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে বাষ্পীভবন ঘটায়, যা বায়ুমণ্ডলে আদ্রতা বৃদ্ধি করে। আদ্র বায়ু উত্তোলিত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রীয় অংশে ঘনীভূত হয়ে শক্তিশালী বাতাসের সঞ্চার ঘটায়। যদি সমুদ্রের তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের নিচে থাকে, তবে পর্যাপ্ত শক্তি সৃষ্টি হয় না এবং ঘূর্ণিঝড় গঠন কঠিন হয়। তাই ঘূর্ণিঝড়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস বা তার বেশি হওয়া। তাই সঠিক উত্তর হলো ক) ২৭° সেলসিয়াস।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস (Cyclone and Tidal Surge):

- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির একটি আদর্শ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত।
- বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়সমূহের মধ্যে কোনো কোনোটি মারাত্মক ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করে।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠে সাধারণত ২৭° সেলসিয়াস বা এর বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- এসময় উচ্চচাপযুক্ত বায়ু প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে যেখানে নিম্নচাপ থাকে সেদিকে ধাবিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলে। এটি দেখতে অনেকটা মানুষের চোখের মতো।
- বিগত অর্ধশতাব্দীতে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আঘাত হানে।
- এর মধ্যে ১৯৭০, ১৯৮৮, ১৯৯১, ২০০৭, ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় অন্যতম।
- জীবনহানির দিকে থেকে সবচেয়ে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ১৯৭০, ১৯৮৮ এবং ১৯৯১ সালে সংঘটিত হয়। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৯৯৮.
প্লাটিনাম মৌলটির প্রতীক কোনটি?
  1. P
  2. Pb
  3. Pt
  4. Pa
সঠিক উত্তর:
Pt
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Pt
ব্যাখ্যা
• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলের প্রতীক:
- গোল্ডের প্রতীক Au.
- লেড এর প্রতীক Pb.
- প্লাটিনামের প্রতীক Pt.
- প্রোটো একটিনিয়ামের প্রতীক Pa.
- পোলোনিয়ামের প্রতীক Po.
- পটাশিয়ামের প্রতীক K .
- কপারের প্রতীক - Cu.
- সিলভারের প্রতীক- Ag.
- আর্সেনিকের প্রতীক - As .
- আয়রনের প্রতীক - Fe.

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১২,৯৯৯.
'সোয়াইন ফ্লু' রোগের ভাইরাস কোনটি?
  1. HN
  2. H1N1
  3. H2N1
  4. H1N2
সঠিক উত্তর:
H1N1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
H1N1
ব্যাখ্যা
সোইয়ইন ফ্লু ভাইরাস: 
- সোইয়ইন ফ্লু ভাইরাসটি সর্বপ্রথম ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে মেক্সিকোতে শনাক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই রোগটি অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। 
- সোয়াইন ফ্লু হচ্ছে মানবদেহের ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাসের মতোই এক ধরনের ভাইরাস, যা প্রধানত শূকরের দেহে দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। 
- এই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস টাইপ A (H1N1)। 
- বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ২০০৯-এর জুন মাসে বিশ্বের ৭৪টি দেশে নতুন H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের উপস্থিতির কারণে এই রোগের সাম্প্রতিক অবস্থাকে বিশ্বব্যাপী মহামারি বলে চিহ্নিত করেছে। 
- মানুষ, শূকর ও পাখির সংমিশ্রণে উদ্ভব হওয়া ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের এই রূপটি সম্পর্কে ধারণা করা হয় এটি শূকরের মাধ্যমে মানুষকে আক্রান্ত করেছে। 
- সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গের মধ্যে জ্বর হওয়া, মাথা ব্যথা, গলা ও শরীর ব্যথা, শ্বাস কষ্ট, ক্ষুধামান্দ্য ও আলস্যবোধ করা, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি অন্যতম। 
- ২০০৯ সালের ১৮ জুন বাংলাদেশে প্রথম সোয়াইন ফ্লু রোগী শনাক্ত করা হয়। 

উৎস: WHO Website [লিঙ্ক]।
১৩,০০০.
পৃথিবীর ঘৃর্ণনের ফলে আমরা ছিটকিয়ে পড়ি না-
  1. ক) মহাকর্ষ বলের জন্য
  2. খ) মাধ্যাকর্ষণ বলের জন্য
  3. গ) আমরা স্থির থাকার জন্য
  4. ঘ) পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের আবর্তনের জন্য
সঠিক উত্তর:
খ) মাধ্যাকর্ষণ বলের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাধ্যাকর্ষণ বলের জন্য
ব্যাখ্যা
পৃথিবী সবকিছুকে নিজের দিকে টানে। পৃথিবী সবকিছুকে নিজের দিকে টেনে রাখে বলেই কোনো কিছু উপরের দিকে না গিয়ে নিচের দিকে পড়ে এবং সবকিছু পৃথিবীর সাথে লেগে থাকে, ছিটকে যায় না। এজন্যই আমরা মাটিতে হেঁটে বেড়াতে পারি, শূন্যে ভেসে থাকি না। উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি - পদার্থ বিজ্ঞান বই।