বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাধারণ বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন১৪,০৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাধারণ বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১২৫ / ১৪০ · ১২,৪০১১২,৫০০ / ১৪,০৮০

১২,৪০১.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র কোনটি?
  1. ওডোমিটার
  2. ক্রনোমিটার
  3. ম্যানোমিটার
  4. অডিওমিটার
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার
ব্যাখ্যা

- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 

অন্যদিকে, 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 

আরোও কিছু গূরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১২,৪০২.
পিটার হিগস ও ফ্রাঁসোয়া ইংলার্ট হিগস-বোসন কণার অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য কত সালে নোবেল পুরষ্কার পান?
  1. ১৯৬৪
  2. ১৯৯৩
  3. ২০১২
  4. ২০১৩
সঠিক উত্তর:
২০১৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৩
ব্যাখ্যা
• হিগের কণা:
- ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে এমন একটি কণার ধারনা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে এবং এর ফলে মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে।
- এই কণাটিকে হিগের কণা বলা হয়।
- হিগস কণা একটি বোসন কণা।
- হিগস বোসন কণাটি ঈশ্বর কণা নামে পরিচিত।
- পদার্থবিজ্ঞানী লিওর লেডারম্যান ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা নামে চিহ্নিত করেন।
- ৪ই জুলাই ২০১২ সালে এই বোসন কণাটি আবিষ্কৃত হয়।
- হিগস-বোসন কণার অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য ২০১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান 'পিটার ডব্লিউ হিগস ও ফ্রাঁসোয়া ইংলার্ট'।
- হিগের কণা সৃষ্টিতে অবদান রাখেন বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর 'কণা পরিসংখ্যান তত্ত্ব'।
- বিজ্ঞানী হিগের সাথে সতেন্দ্রনাথকে জড়িয়ে হিগের কণার নাম দেন- হিগস বোসন কণা।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১২,৪০৩.
পদার্থের ভৌত অবস্থা মূলত নির্ভর করে-
  1. গতিশক্তি ও আন্তঃআণবিক শক্তির উপর
  2. আন্তঃআণবিক শক্তির উপর
  3. গতিশক্তির উপর
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গতিশক্তি ও আন্তঃআণবিক শক্তির উপর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গতিশক্তি ও আন্তঃআণবিক শক্তির উপর
ব্যাখ্যা
• আন্ত:আণবিক আকর্ষণ শক্তি ও গতি শক্তি-এ দু প্রকারের শক্তির উপর পদার্থের ভৌত অবস্থা নির্ভর করে। 
• তাপমাত্রা বাড়ালে গতিশক্তি বৃদ্ধি পায় কিন্তু আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি হ্রাস পায়।

- কঠিন পদার্থ (Solid): 
কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন ও ত্রি মাত্রিক গঠন রয়েছে। কারণ, এক্ষেত্রে আন্ত:আণবিক বলের মান খুব বেশি হওয়ায় অণুগুলো একে অন্য থেকে আলাদা হতে পারে না। অণুগুলোর শুধুমাত্র দোলন বা কম্পনের স্বাধীনতা থাকে। 

- তরল পদার্থ (Liquid): 
তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও এর কোন নির্দিস্ট আকৃতি নেই। কারণ, এ ক্ষেত্রে অণুগুলো একে অপরের কাছাকাছি থাকলেও এদের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল তুলনামূলকভাবে কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। ফলে এদের মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধি পায়। এ জন্য অণুগুলির চলাফেরা করার স্বাধীনতা থাকে। তাই কঠিন পদার্থকে তরল পদার্থে রূপান্তরিত করলে আয়তন বেড়ে যায় ।

পানি ব্যতিক্রম ধর্মী তরল পদার্থ। কারণ বরফকে পানিতে রূপান্তরিত করলে আয়তন কমে যায়। এর কারণ হলো বরফের গঠণ কাঠামোতে অনেক ফাঁকা স্থান থাকে যা তরল পানির ক্ষেত্রে পূরণ হয়। এ ছাড়া তরল পানিতে হাইড্রোজেন বন্ধনের উপস্থিতি পানির আয়তন হ্রাসের অন্যতম কারণ ।

- গ্যাস (Gas):  
বাষ্পীয় বা গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের অণুসমূহের মধ্যে পারষ্পরিক আকর্ষণ খুবই কম। ফলে এরা যথেষ্ট দূরে দূরে অবস্থান করে এবং বিনা বাধায় চলাফেরা করতে পারে। ফলে পাত্রের পুরো জায়গা এরা দখল করে। তবে চাপ প্রয়োগে অণুসমূহ কাছাকাছি আসে এবং গ্যাসের আয়তন কমে যায়। তাপ বাড়ালে উল্টো ঘটনা ঘটে। আন্ত:আণবিক শক্তি কমে যায় এবং গতিশক্তি বেড়ে যায়। ফলে গ্যাস অণুসমূহ আরো ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্যাসের আয়তন বেড়ে যায়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪০৪.
রূপান্তরিত পাতার উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) নারিকেল পাতা
  2. খ) আকর্ষী
  3. গ) জবা পাতা
  4. ঘ) গোল পাতা
সঠিক উত্তর:
খ) আকর্ষী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আকর্ষী
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত পাতাঃ বিশেষ কাজ সমাধা করার জন্য পাতার রূপ পরিবর্তিত হয়।
ক) আকর্ষী: পাতার শীর্ষভাগ অথবা পত্রক অনেক সময় প্যাচানো স্প্রিং এর ন্যায় রূপ ধারন করে। এগুলো আকর্ষি। এর সাহায্যে গাছ কোন কিছু আকড়ে ধরতে পারে। জংলী মটর গাছে এ ধরনের আকর্ষি দেখা যায়।
খ) খাদ্য সঞ্চয়: পেঁয়াজ, রসুন বা ঘৃতকুমারী গাছের পাতা পুরুও রসালো হয়। এসব পাতায় খাদ্য জমা থাকে।
গ) পতঙ্গ ফাঁদ: কলসী উদ্ভিদ এক ধরণের লতানো গাছ ও ঝাঁঝি নামক জলজ উদ্ভিদের পাতা রূপান্তরিত হয়ে কলসি বা থলের ন্যায় রূপ ধারণ করে। এর মধ্যে পোকামাকড় ঢুকলে কলসির ঢাকনাটি বন্ধ হয়ে যায় পরে গাছ তার দেহ থেকে রস শুষে নেয়।
ঘ) প্রজনন: কোন কোন উদ্ভিদে পাতার কিনারা থেকে কুঁড়ি গজায়। ধীরে ধীরে এসব কুঁড়ি থেকে নিচের দিকে গুচ্ছ মূল ও গজায়। কোন এক সময় এরা মুক্ত হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেমন-পাথরকুঁচি।
ঙ) কণ্টক পত্র: পাতা কখনও কাঁটায় রূপান্তরিত হয়, যথা- লেবু।
চ) শল্কপত্র: কখনও ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ডের পাতা পাতলা আঁশ এর ন্যায় আকার ধারণ করে। যেমন- আলু, আদা, হলুদ ইত্যাদি। এরাই শল্কপত্র। রসালো শল্কপত্র খাদ্য সঞ্চয় করে এবং কাক্ষিক মুকুলকে রক্ষা করে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১২,৪০৫.
ধানের “টুংরো রোগ” - কোনটির কারনে হয়?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) পরজীবী
সঠিক উত্তর:
খ) ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাইরাস
ব্যাখ্যা

ধানের রোগঃ
১. বাদামি দাগ রোগ
কারণ - বাইপোলারিস ওরাইজি (Bipolaris oryzae) নামক ছত্রাক
২. ব্লাস্ট রোগ (Blast)
কারণ - পাইরিকুলারিয়াগ্রিসিয়া (Pyricularia grisea) নামক ছত্রাক
৩. খোল পচা রোগ (Sheath rot)
কারণ - স্যারোক্লেডিয়াম ওরাইজি (Sarocladium oryzae) নামক ছত্রাক
৪. ব্যাকটেরিয়াজনিত পোড়া রোগ (Bacterial Blight)
জ্যানথোমোনাস অরাইজি পিভি অরাইজি (Xanthomonas oryzae pv.oryzae) এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া
৫. টুংরো (Tungro)
কারণ - রাইস টুংরো ভাইরাস (Rice Tungro Virus) নামক এক ধরনের অতি সূক্ষ্ম জীবাণু বা ভাইরাস
৬. উফরা রোগ (ডাক পোড়া) (Ufra)
কারণ - ডাইটিলেংকাস এ্যাংগাসটাস (Ditylenchus angustus) নামক এক ধরনের কৃমি
উৎসঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) ওয়েবসাইট।

১২,৪০৬.
‘এইচকেইউ৫-কোভ-২’ কী?
  1. যুদ্ধ বিমান
  2. কৃত্রিম উপগ্রহ
  3. নতুন করোনা ভাইরাস
  4. নতুন আবিষ্কৃত গ্রহাণু
সঠিক উত্তর:
নতুন করোনা ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নতুন করোনা ভাইরাস
ব্যাখ্যা
‘এইচকেইউ৫-কোভ-২’:
- মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে 'এইচকেইউ৫-কোভ-২' নতুন একটি করোনা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গেছে চীনে।
- নতুন করোনা ভাইরাসটির সন্ধান দিয়েছেন সংক্রামকবিদ শি ঝেংলি।
- চীনের উহানের ‘ইনস্টিটিউ অব ভাইরালজি’ নতুন স্ট্রেনটি বাঁদুরের মধ্যে পেয়েছেন।
- নতুন এইচকেইউ৫-কোভ-২ ভাইরাসটি মারবেকোভাইরাস পরিবারের একটি জীবাণু।
- মারবেকোভাইরাস পাওয়া গেছে মিঙ্ক এবং প্যাঙ্গোলিন নামের দুটি প্রাণীর মধ্যে।
- ধারণা করা হয় এই প্রাণীর মাধ্যমে বাঁদুর ও মানুষের মধ্যে ভাইরাসটি আসে।

এছাড়া,
- এটির সঙ্গে মার্সের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
- মার্স করোনা ভাইরাস বেশ শক্তিশালী একটি ভাইরাস, যেটিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চার ভাগের তিন ভাগই মারা যায়।

তথ্যসূত্র- নিউজ প্রতিবেদন। [Link]
১২,৪০৭.
গামা রশ্মি -
  1. আধানহীন
  2. ধনাত্মক চার্জযুক্ত 
  3. ঋণাত্মক চার্জযুক্ত
  4. চার্জ পরিবর্তনশীল 
সঠিক উত্তর:
আধানহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধানহীন
ব্যাখ্যা

◉ গামা রশ্মি (γ-rays) হলো এক ধরনের তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ (Electromagnetic Radiation), যা দৃশ্যমান আলোর মতোই প্রকৃতিতে কিন্তু অনেক বেশি শক্তিশালী। এটি কোনো কণা নয়, বরং উচ্চ-শক্তির ফোটন (Photon) দিয়ে গঠিত। যেহেতু ফোটনের ভর নেই এবং কোনো বৈদ্যুতিক আধানও নেই, তাই গামা রশ্মি আধানহীন।

গামা রশ্মি (Gamma Ray): 
- গামা রশ্মি আসলে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)। 
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান। 
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়। 
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। 
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়। 
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৪০৮.
কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়?
  1. মস
  2. মটরশুটি
  3. সাইকাস
  4. ফাণ
সঠিক উত্তর:
সাইকাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইকাস
ব্যাখ্যা
• সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।

• জীবন্ত জীবাশ্ম:
- বর্তমান কালের কোনো জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোনো জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
- সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে সাইকাডালস বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত ছিল।
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত। এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে।
- এ বর্গের সাইকাস সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে।
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদি কালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাস এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির।
- এজন্যই সাইকাস সহ বর্তমান কালের সকল সাইকাডালস বর্গের উদ্ভিদকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪০৯.
নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে গোলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট কোথায় পাওয়া যায়?
  1. Chlamydomonas
  2. Spirogyra
  3. Oedogonium
  4. Pithophora
সঠিক উত্তর:
Pithophora
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Pithophora
ব্যাখ্যা
ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে একে 'কোষের রান্নাঘর' (kitchen of cell) বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' (factory of synthesis of sugar) বলে। 
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গাণু। 

প্রতি কোষে সংখ্যা: 
- এক হতে একাধিক। 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত ১০ হতে ৪০টি ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, কিন্তু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে সাধারণত আরও কম থাকে। 

আকৃতি: 
- উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদকোষে ক্লোরোপ্লাস্টের আকৃতি সাধারণত লেন্সের মতো হয়ে থাকে। 
- নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে এদের আকৃতি হরেক রকম হতে পারে। 
যেমন- 
• পেয়ালাকৃতি (Chlamydomonas), 
• সর্পিলাকার (Spirogyra), 
• জালিকাকার (Oedogonium), 
• তারকাকার (Zygnema), 
• ফিতা বা আংটি আকৃতির/গার্ডলাকৃতির (Ulothrix), 
গোলাকার (Pithophora) ইত্যাদি। 
- শৈবালে ক্লোরোপ্লাস্টের বৈচিত্র্য বেশি। 

আকার: 
- লেন্স আকৃতির ক্লোরোপ্লাস্টের ব্যাস সাধারণত ৩-৫ মাইক্রন। 
- Spirogyra এর সর্পিলাকার ক্লোরোপ্লাস্ট সোজা অবস্থায় কোষের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বেশি লম্বা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
১২,৪১০.
‘মিল্কী ওয়ে’ একটি __________।
  1. ক) নক্ষত্র
  2. খ) নীহারিকা মণ্ডল
  3. গ) সৌরজগৎ
  4. ঘ) সুপারনোভা
সঠিক উত্তর:
খ) নীহারিকা মণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নীহারিকা মণ্ডল
ব্যাখ্যা
• মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি: 
- গ্যালাক্সির অংশ বিশেষ ছায়াপথ নামে পরিচিত।
- সুদূর আকাশে বায়বীয় পদার্থ ও গ্যাসপূর্ণ স্বপ্নালোকিত মেঘের মত আস্তরণকে গ্যালাক্সি বলা হয়।
- আমাদের সৌরজগত মিল্কিওয়ে (Milkyway) গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশবিশেষ, যা বাংলায় ছায়াপথ নামে অভিহিত।
- এই ছায়াপথটি অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্রের সমন্বয়ে উত্তর- দক্ষিণে বিস্তৃত। একে নীহারিকা মণ্ডল বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১২,৪১১.
নিচের কোন পদার্থটি সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে না এসে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়?
  1. কার্বন মনোক্সাইড
  2. অ্যামোনিয়া
  3. অ্যামোনিয়াম
  4. নাইট্রোজেন অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
অ্যামোনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামোনিয়াম
ব্যাখ্যা

- অ্যামোনিয়াম (NH4+) পদার্থটি সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে না এসে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। 

দূষক (Pollutant): 

- কোনো পদার্থ পরিবেশে তার স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রাচুর্য অপেক্ষা অধিক পরিমাণে উপস্থিত থেকে মনুষ্যজাতি অথবা অন্যান্য জীবের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলে ঐ পদার্থটিকে দূষক বলা হয়। 
- বায়ুতে সল্পমাত্রায় (0.1 ppm) কার্বন মনোক্সাইড (CO) থাকে, কিন্তু এর পরিমাণ বেড়ে 40 ppm বা তার বেশি হলে এটি দূষক হিসেবে বিবেচিত হয়। 
- দূষক প্রধানত দুই প্রকার। 
১। প্রাইমারি দূষক: 
- যে সকল দূষক পদার্থ কোনো উৎস থেকে নির্গত হয়ে অপরিবর্তিত অবস্থায় পরিবেশে বিদ্যমান থাকে এবং পরিবেশের দূষণ ঘটায় তাদেরকে প্রাইমারি দূষক বলে।
যেমন- 
• নাইট্রিক অক্সাইড (NO), 
• নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2), 
• কার্বন মনোক্সাইড (CO), 
• কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2), 
• সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2), 
• অ্যামোনিয়া (NH3) ইত্যাদি। 

২। সেকেন্ডারি দূষক: 
- যে সকল দূষক পদার্থ সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে আসে না, বরং বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়া প্রাথমিক দূষকগুলো থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে সেকেন্ডারি দূষক বলে। 
যেমন- 
• সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3), 
• নাইট্রিক এসিড (HNO3), 
• নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2), 
• সালফিউরিক এসিড (H2SO4), 
• হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H2O2), 
• অ্যামোনিয়াম (NH4+), 
• ওজোন (O3) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং University of California এবং Energy Education.

১২,৪১২.
অস্টিয়া কোন পর্বের প্রাণীদের দেহপ্রাচীরে দেখা যায়?
  1. পরিফেরা
  2. নিডারিয়া
  3. নেমাটোডা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পরিফেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিফেরা
ব্যাখ্যা

• পরিফেরা:
- প্রাণী বিবর্তনের প্রথম ধাপ হিসেবে এ পর্বের প্রাণিদের চিহ্নিত করা হয়।
- দেহে অসংখ্য ছিদ্র থাকায় এদের ছিদ্রাল প্রাণীও বলা হয়।
- এই পর্বের সদস্যদেরকে সাধারণভাবে স্পঞ্জ নামে অভিহিত করা হয়। ১৮৩৬ সালে Grant সর্বপ্রথম এই পর্বটির নামকরণ করেন। 
- এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের অধিক প্রজাতির সন্ধান পওয়া গেছে।
- এদের কিছু প্রজাতি মিঠাপানির, অন্যরা সকলেই সামুদ্রিক। এই পর্বের প্রাণীরা পানির তলদেশে বা ভাসমান কোন বস্তুর সাথে সংলগ্ন থাকে।

বৈশিষ্ট্য:
- এদের দেহ কোষ দুই স্তরে বিন্যস্ত। এরা সরলতম বহুকোষী প্রাণী।
- এদের দেহপ্রাচীর অস্টিয়া নামক অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত।
- এদের দেহে বিশেষ ধরনের নালীতন্ত্র বিদ্যমান, এর সাহায্যে অভ্যন্তরীণ পরিবহন ঘটে।
- এই পর্বের প্রাণীদের কোন অঙ্গ নেই ফলে এরা চলতে পারে না।
- এদের পরিপাক অন্তঃকোষীয়।
- এদের অন্তঃকঙ্কাল স্পিকিউল বা ফাইব্রাস নামক প্রোটিনে তৈরি স্পঞ্জিন সমন্বয়ে গঠিত।

উৎস: ১)জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৪১৩.
ব্লিচিং পাউডারের রাসায়নিক নাম কী?
  1. সোডিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইট
  2. সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট
  3. ক্যালসিয়াম হাইপোক্লোরাইট
  4. ক্যালসিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইট
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইট
ব্যাখ্যা
• ব্লিচিং পাউডার:
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম ক্লোরাে হাইপােক্লোরাইট, Ca(OCl)Cl.
- বলপেন এর কালি বা অন্য কোনাে রং যেগুলাে সাবান এবং ডিটারজেন্ট দিয়ে তােলা যায় না সেগুলােকে কাপড় থেকে উঠানাের জন্য তথা বর্ণহীন করার জন্য ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়া মেঝে, কমােড, বেসিন ইত্যাদি জায়গা থেকে জীবাণু ধ্বংস করার কাজেও ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়।
- 40°C তাপমাত্রায় কঠিন ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের মধ্যে ক্লোরিন গ্যাস চালনা করলে ব্লিচিং পাউডার, Ca(OCl)Cl উৎপন্ন হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম দশম শ্রেণি।
১২,৪১৪.
একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানের দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক কোনটি?
  1. হাইড্রিলা
  2. কচ্ছপ
  3. বক
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
কচ্ছপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কচ্ছপ
ব্যাখ্যা
• একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানে দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক হলো কচ্ছপ। বাস্তুসংস্থান বা ইকোসিস্টেমে খাদ্য শৃঙ্খল থাকে যেখানে বিভিন্ন স্তরের প্রাণী একে অপরের উপর নির্ভর করে খাদ্য গ্রহণ করে। প্রথম শ্রেণির খাদক হলো উদ্ভিদভক্ষী প্রাণীরা, যেমন বক। হাইড্রিলা হলো জলজ উদ্ভিদ, যা উৎপাদক হিসেবে কাজ করে। দ্বিতীয় শ্রেণির খাদকের কাজ হলো প্রথম শ্রেণির খাদকদের খাওয়া, যা এখানে কচ্ছপ। তাই কচ্ছপ পুকুরের বাস্তুসংস্থানের দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক।
- তাই সঠিক উত্তর হলো (খ) কচ্ছপ।

বাস্তুসংস্থান (Ecology): 
- পরিবেশের সাথে জীবের যে পারস্পরিক ক্রিয়া তার একটি শৃঙ্খলা রয়েছে যাকে বাস্তুসংস্থান বলা হয়। 
- বাস্তুসংস্থানকে ইংরেজিতে Ecology বলা হয়। এর উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Oikos যার অর্থ ঘর বা বসতি স্থান এবং Logos হচ্ছে বিজ্ঞান বা অধ্যয়ন। 
সুতরাং বাস্তুসংস্থান শব্দটির আভিধানিক অর্থ পৃথিবী বাসগৃহের তত্ত্বাবধায়ক বিজ্ঞান। তবে বাস্তুসংস্থান শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
- বৃহৎ অর্থে বাস্তুসংস্থান হলো পৃথিবীতে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠির সাথে পরিবেশের সম্পর্ক অর্থাৎ জীবের সাথে পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলো বাস্তুসংস্থান। 
যেমন- জলজ বাস্তুসংস্থান, স্থলজ বাস্তুসংস্থান, বনজ বাস্তুসংস্থান ইত্যাদি। 
- প্রত্যেকটি বাস্তুসংস্থান আলাদা এবং পরিপূর্ণভাবে শৃঙ্খলের মধ্যে টিকে আছে। আর প্রত্যেকটি শৃঙ্খলের উপর মানুষ নির্ভরশীল। 
- পরিবেশের এই শৃঙ্খলা যখন স্বাভাবিক নিয়মে বিরাজমান এবং চলমান থাকে তখন তাকে পরিবেশের ভারসাম্য অবস্থা বলে। 
- এই ভারসাম্য অবস্থা বুঝার জন্য একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তুলে ধরা হলো - 
- একটি পুকুরে বসবাসকারী জীব সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রধান হচ্ছে ভাসমান ও সঞ্চারমান ক্ষুদ্র জীব অর্থাৎ প্লাঙ্কটন। এছাড়া রয়েছে সবুজ শেওলা ও ক্ষুদ্র জলজ প্রাণি। - আর জড় উপাদানের মধ্যে রয়েছে পানি, মাটি ও সৌরশক্তি ইত্যাদি। 
- পুকুরের বাস্তুসংস্থানের উৎপাদক হচ্ছে সাধারণ ভাসমান ও অগভীর পানির বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ। 
যেমন- কচুরিপানা, শাপলা, হাইড্রিলা ইত্যাদি। 
- একটি পুকুরের প্রথম শ্রেণির খাদক হলো বিভিন্ন প্রকার ভাসমান ক্ষুদ্র পোকা, মশার শুককীট প্রভৃতি। 
- দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক হলো খামারি আকৃতির মাছ, ব্যাঙ, কচ্ছপ ইত্যাদি। 
- আর তৃতীয় শ্রেণির খাদকের মধ্যে রয়েছে বড় মাছ, বক, গাংচিল প্রভৃতি। 
- মৃত্যুর পর একই নিয়মে জীবাণু, মৃতজীবি ছত্রাক, কাঁদায় বসবাসকারী পোকা বিয়োজকের কাজ করে।  
- বিয়োজিত অজৈব লবণ পুকুরের উৎপাদক সম্প্রদায় খাদ্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে। এভাবে পুকুরের প্রত্যেকটি উপাদান স্বাভাবিক নিয়মে নিজ নিজ কার্যাদি সম্পন্ন করে থাকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তার সুশৃঙ্খল ধারা বজায় রেখে ভারসাম্য বজায় রাখছে। 
- কোনো কারণে এই শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটলে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। পুকুরের বাস্তুসংস্থানের অন্তর্গত কোনো একটি শ্রেণি নষ্ট বা ধ্বংস হলে শৃঙ্খলা ভেঙ্গে যাবে। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪১৫.
মানুষের রক্তে প্রধানত কত ধরনের অ্যান্টিজেন থাকতে পারে?
  1. ২ ধরনের
  2. ৫ ধরনের
  3. ৩ ধরনের
  4. ৪ ধরনের
সঠিক উত্তর:
২ ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ ধরনের
ব্যাখ্যা

রক্তের গ্রুপ: 
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে। 
- রক্ত কণিকায় আ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- মানুষের রক্তে A ও B এই দুই ধরনের আ্যান্টিজেন থাকতে পারে। 
- মানুষের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- O, A, B এবং AB।
O রক্তের গ্রুপ: 
- O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই। 
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে। 

• A রক্তের গ্রুপ: 
- A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে। 
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে। 

• B রক্তের গ্রুপ: 
- B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে। 
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

• AB রক্তের গ্রুপ: 
- AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে। 
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৪১৬.
শিল্প কারখানায় অত্যন্ত শক্ত পদার্থ কাটার জন্য নিচের কোনটি ব্যবহৃ হয়? 
  1. ক) শক্তিশালী ছুরি 
  2. খ) সিলভার
  3. গ) সোডিয়াম  
  4. ঘ) ডায়মন্ড 
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডায়মন্ড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডায়মন্ড 
ব্যাখ্যা
কার্বন একটি অধাতু এবং বিজারক। 
- কার্বনের বহুরূপতা ধর্ম দেখা যায়।
- এটির একটি রুপভেদ হলো হীরক বা ডায়মন্ড। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে কঠিন পদার্থ হীরক।
- হীরক কাচ কাটতে ব্যবহৃত হয়।
- শিল্প কারখানায় অত্যন্ত শক্ত পদার্থ কাটার জন্য ডায়মন্ড ব্যবহৃত হয়।
১২,৪১৭.
কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. বায়বীয়
  4. শূন্য
সঠিক উত্তর:
কঠিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন
ব্যাখ্যা
• কঠিন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। 

• শব্দ:
- শব্দ হলো একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ (mechanical wave), যা কম্পনের মাধ্যমে উৎপন্ন হয় এবং মাধ্যমের (বায়ু, পানি, কঠিন পদার্থ) কণাগুলোর অনুনাদ বা কম্পনের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

• শব্দ শোনার জন্য শর্ত:
- একটি উৎস (source of vibration),
- একটি মাধ্যম (বায়ু, পানি, ইত্যাদি),
- একটি গ্রাহক (যেমন: কান)।

• মাধ্যমের ঘনত্ব যত বেশি শব্দের গতি তত বেশি হয়।
- কঠিন পদার্থের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় কঠিন পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন- লোহাতে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি।
- তরল মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের থেকে কম,
- বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের বেগ তরল মাধ্যমের থেকে কম।
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য হয় কারণ শূন্য মাধ্যমে শব্দ পরিবহনের জন্য কোন কণা থাকে না।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১২,৪১৮.
হীরক উজ্জ্বল দেখার কারণ-
  1. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য
  2. প্রতিসরণের জন্য
  3. প্রতিফলনের জন্য
  4. অপবর্তনের জন্য
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য
ব্যাখ্যা
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য হীরক উজ্জ্বল দেখায়।
- হীরক ও গ্রাফাইট হলো কার্বনের রূপভেদ প্রকৃতিতে কার্বন বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়।
- হীরক বর্ণহীন, স্বচ্ছ, উজ্জ্বল, স্ফটিকাকার পদার্থ।
- হীরক সবচেয়ে কঠিন পদার্থ।
- হীরক তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
১২,৪১৯.
কোন দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে দ্রবণের ঘনমাত্রা বেড়ে যায়? 
  1. সম্পৃক্ত দ্রবণে
  2. অসম্পৃক্ত দ্রবণে
  3. অতিপৃক্ত দ্রবণে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
অসম্পৃক্ত দ্রবণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসম্পৃক্ত দ্রবণে
ব্যাখ্যা
দ্রবণ (Solution): 
- কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় যেকোনো ভৌত অবস্থায় একাধিক উপাদানের সম্পূর্ণ সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যাতে উপাদানগুলোর পরিমাণের অনুপাত একটি সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে তাকে দ্রবণ বলা হয়। 
- দ্রবণের প্রতিটি অংশের গঠন, ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদান কম পরিমাণে থাকে অর্থাৎ যা দ্রবীভূত হয়, তাকে দ্রব বলা হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদানের পরিমাণ বেশি এবং যার মধ্যে দ্রব যোগ করা হয় তাকে দ্রাবক বলা হয়। 

দ্রবণের শ্রেণিবিভাগ: 
- ঘনমাত্রা অনুযায়ী দ্রবণকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যেমন- 

১। সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক দ্রব দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ উৎপন্ন করে তাকে ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- এ অবস্থায় দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 

২। অসম্পৃক্ত দ্রবণ (Unsaturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত হতে পারে তার চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব দ্রবণে উপস্থিত থাকলে তাকে অসম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- অসম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে দ্রবণের ঘনমাত্রা বেড়ে যায়। 

৩। অতিপৃক্ত দ্রবণ (Super-saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকতে পারে যদি কোনো বিশেষ কারণে দ্রবণে আরও অতিরিক্ত দ্রব দ্রবীভূত থাকে তবে ঐ দ্রবণকে অতিপৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- অতিপৃক্ত দ্রবণ অস্থায়ী প্রকৃতির হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪২০.
আয়নিক যৌগে ধনাত্মক আয়নকে কী বলা হয়? 
  1. ক্যাটায়ন
  2. অ্যানায়ন 
  3. নিউট্রন
  4. কোভালেন্ট আয়ন
সঠিক উত্তর:
ক্যাটায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাটায়ন
ব্যাখ্যা

আয়নিক বন্ধন: 
- দুটি বিপরীতধর্মী আধানের মধ্যে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণের মাধ্যমে যে বন্ধনের সৃষ্টি হয় তাকে আয়নিক বন্ধন বলে। 
- আয়নিক বন্ধন গঠনের ক্ষেত্রে তড়িৎ ধনাত্মক মৌল ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অন্যদিকে, তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল ইলেকট্রনকে গ্রহন করে ঋণাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- ধনাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে ক্যাটায়ন এবং ঋণাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে অ্যানায়ন বলে। 
যেমন- NaCl যৌগের মধ্যে Na+ ক্যাটায়ন ও CI- অ্যানায়ন। 
- ক্যাটায়নের মধ্যে ইলেকট্রনের সংখ্যা প্রোটনের তুলনায় কম এবং অ্যানায়নের মধ্যে ইলেকট্রনের সংখ্যা প্রোটনের তুলনায় বেশি থাকে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৪২১.
সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল কোনটি?
  1. ক) ম্যাগনেটাইট
  2. খ) মাইকা
  3. গ) জিপসাম
  4. ঘ) ধাতব পাইরাইটস
সঠিক উত্তর:
গ) জিপসাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জিপসাম
ব্যাখ্যা
ম্যাগনেটাইট (Fe3O4) - লোহা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়
মাইকা (Mica) - বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে বিদ্যুৎ নিরোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়
জিপসাম(CaSO4.2H2O) - সিমেন্টপ্লাস্টার অব প্যারিস তৈরির কাঁচামাল
ধাতব পাইরাইটস - সালফার এবং নানা রকমের ধাতু তৈরিতে ব্যবহৃত হয়

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
১২,৪২২.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজন গ্যাস রয়েছে?
  1. ক) ট্রপোমন্ডল
  2. খ) স্ট্রাটোমন্ডল
  3. গ) মেসোমন্ডল
  4. ঘ) এক্সোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
খ) স্ট্রাটোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্ট্রাটোমন্ডল
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোমন্ডল স্তরে ওজন নামক গ্যাস রয়েছে। 

ট্রপোমন্ডলের উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমন্ডল নামে পরিচিত। স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রা স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোপজ বলে। 

স্ট্রাটোমন্ডলের বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
১। এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে অবস্থান করে। ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়। 
২। এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাস্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুস্ক। ঝড়, বৃষ্টি থাকে না বলে এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
৩। প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত নির্ধারণ করে।

সূত্র: সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
১২,৪২৩.
অমেরুদণ্ডী প্রাণী কোনটি? 
  1. ব্যাঙ 
  2. পাখি
  3. মাছি 
  4. মাছ 
সঠিক উত্তর:
মাছি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাছি 
ব্যাখ্যা

প্রাণিজগৎ: 
- এসব জীবের কোষে সেলুলোজ নির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে না। 
- সাধারণত একোষগুলোতে প্লাস্টিডও থাকে না, তাই খাদ্যের জন্য এরা উদ্ভিদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 
উদাহরণ- মাছ, পাখি, গরু, মানুষ ইত্যাদি। 
- মেরুদণ্ডের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্রাণীজগৎকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। অমেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, তাদেরকে বলা হয় অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মশা, মাছি, প্রজাপতি, চিংড়ি, কাঁকড়া, কেঁচো ইত্যাদি অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, এদের দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে না, চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যা পুঞ্জাক্ষি এবং এদের লেজ নেই। 

২। মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড আছে, তাদেরকে বলা হয় মেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মাছ, ব্যাঙ, পাখি, টিকটিকি, গরু, ছাগল, মানুষ ইত্যাদির মেরুদণ্ড আছে। 
- এদের মেরুদণ্ড আছে, দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে, পাখনা বা দুই জোড়া পা থাকে, চোখ সরল প্রকৃতির। 
- মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে। 
- এরা ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১২,৪২৪.
চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণকারী মনুষ্যবাহী ১ম মহাকাশযানের নাম কী?
  1. ক) এ্যাপোলো-১২
  2. খ) এ্যাপোলো-১৪
  3. গ) এ্যাপোলো-১১
  4. ঘ) এ্যাপোলো-১৫
সঠিক উত্তর:
গ) এ্যাপোলো-১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এ্যাপোলো-১১
ব্যাখ্যা
মানুষ প্রথম চাঁদে পা রাখে ২০ জুলাই, ১৯৬৯ সালে।
- যুক্তরাষ্ট্র চন্দ্রবিজয়ী বিশ্বের প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র দেশ।
- এপোলো-১১ নামক চন্দ্রযানে করে নীল আর্মস্ট্রং ও এডউইন অলড্রিন চাঁদে অবতরণ করেন।

উৎসঃ ব্রিটানিকা.কম
১২,৪২৫.
পাতা সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য হওয়ার কারণ নয় কোনটি? 
  1. পাতায় ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা বেশি।
  2. পাতায় ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা কম।
  3. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকে।
  4. পাতা অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত করে।
সঠিক উত্তর:
পাতায় ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা কম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতায় ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা কম।
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের সবুজ অংশ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডকে কাজে লাগিয়ে শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপাদন করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। 
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে।
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে কেন গণ্য করা হয়। কারণ- 
১. পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
২. পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
৩. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১২,৪২৬.
উদ্ভিদে খাদ্য পরিবহন প্রক্রিয়া কোন টিস্যুর মাধ্যমে ঘটে?
  1. ফ্লোয়েম
  2. কোলেনকাইমা
  3. স্ক্লেরেনকাইমা
  4. জাইলেম
সঠিক উত্তর:
ফ্লোয়েম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোয়েম
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত পদার্থ:
- উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে, এ পানি জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে উদ্ভিদের মূল থেকে পাতায় পৌঁছে।
- পাতা উক্ত পানি এবং বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে।
- নিম্নস্তরের সবুজ উদ্ভিদের প্রায় সকল কোষেই খাদ্য তৈরি হয়। কিন্তু উচ্চস্তরের উদ্ভিদে কেবলমাত্র সবুজ অংশ এবং পাতায় সালোকসংশ্লেষণ ঘটে।
- পাতায় সংশ্লেষিত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় খাদ্য পরিবহন।

- উদ্ভিদ পাতা থেকে বিভিন্ন স্থানে যে খাদ্য পরিবহন করে তা দ্রবীভূত তরল অবস্থায় থাকে বলে একে খাদ্যরস বলা হয়। এ খাদ্যরস বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের পর উদ্ভিদ অতিরিক্ত খাদ্যরসকে অদ্রবণীয় অবস্থায় রূপান্তরিত করে এবং সংরক্ষণ করে।
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে খাদ্য তৈরি হয়।
- এই খাদ্য তৈরির পর ফ্লোয়েমের মাধ্যমে খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন স্থানের কোষে পৌঁছায়
- ফ্লোয়েমের চারটি কোষীয় উপাদান থাকে।
যথা- সীভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু।
- এই কোষীয় উপাদানগুলোর মধ্যে সীভনল, সঙ্গীকোষ এবং ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা খাদ্যরস পরিবহনে অংশ নেয়। এই তিনটির মধ্যে আবার সীভনল খাদ্য পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৪২৭.
এইডস রোগের মূল কারণ কী?
  1. টিবি ব্যাকটেরিয়া
  2. ম্যালেরিয়া
  3. হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস
  4. হেপাটাইটিস ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস
ব্যাখ্যা
এইডস (AIDS): 
- এইডস একটি সংক্রমক রোগ। 
- এ রোগে আক্রান্তব্যক্তির নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আক্রান্তব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। 
- এইডস হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome (AIDS)। 
- ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম এইডস রোগ শনাক্ত হয়। তবে, আফ্রিকার দেশগুলোতেই এর প্রকোপ বেশি। 
- মানবদেহের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি থাকে। 
- Human Immune Deficiency Virus (HIV) নামক ভাইরাসের আক্রমণে দেহের এই স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। 
- ফলে শরীরে নানা ধরনের রোগ যেমন-শ্বাসতন্ত্রের রোগ, মস্তিষ্কের রোগ, পরিপাকতন্ত্রের রোগ, টিউমার ইত্যাদি হয়। 
- এইডস এর চিকিৎসা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, তাই একে মরণব্যাধি বলা হয়। 

এইডস সংক্রমণ: 
- এইডস যেহেতু সংক্রমক রোগ সেহেতু এ রোগ এক দেহ হতে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়। 
অর্থাৎ, এইডস রোগীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে আসলে অন্য ব্যক্তিরও এইডস হতে পারে। 
- বিভিন্নভাবে এইডস সংক্রমিত হয়। 
যেমন- 
১। এইডস-এর জীবাণু একজন মানুষের দেহে সুপ্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকে এবং বায়ু সংস্পর্শে অতি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। 
২। যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ হতে HIV সুস্থ দেহে প্রবেশ করে। 
৩। এইডস আক্রান্ত গর্ভবতী মায়ের গর্ভের সন্তানের মধ্যে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৪। এইডস আক্রান্ত স্তন্যদানকারী মায়ের দুধ হতে নবজাতকের দেহে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৫। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের মাধ্যমে ও সিরিঞ্জের সাহায্যে ড্রাগ ব্যবহারকারী অন্যান্য ব্যক্তির দেহে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৬। রক্ত, বীর্য, লালা ও অশ্রুর মাধ্যমে এ রোগ অসুস্থ দেহ হতে সুস্থ দেহে সংক্রমিত হতে পারে। HIV আক্রান্ত ব্যক্তি মাদকদ্রব্য গ্রহণ করলে এইডস দ্রুত সংক্রমিত হতে পারে। 
- এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমাজচ্যুত না করে তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। 
- খাদ্য, পানি, কীটপতঙ্গ বা রোগীর সাধারণ স্পর্শের মাধ্যমে এ রোগ সংক্রমিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪২৮.
Which of the following is not a characteristic of a virus?
  1. ক) Viruses contain DNA or RNA as nucleic acid
  2. খ) Viruses are capable of causing mutation
  3. গ) Viruses are unicellular
  4. ঘ) Genetic recombination occurs in viruses
সঠিক উত্তর:
গ) Viruses are unicellular
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Viruses are unicellular
ব্যাখ্যা
- ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য নয় - ভাইরাস এককোষী।

ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
- পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
- ভাইরাসে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়।
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম।
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে ।
- ভাইরাস অকোষীয়।এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর,রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না।
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত।এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না।
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়,পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান,প্রথম পত্র,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪২৯.
ভিটামিন কোন ধরনের পদার্থ?
  1. অজৈব যৌগ
  2. জৈব রাসায়নিক পদার্থ
  3. অজৈব কঠিন পদার্থ
  4. অজৈব পদার্থ
  5. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
জৈব রাসায়নিক পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জৈব রাসায়নিক পদার্থ
ব্যাখ্যা
ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ:
- ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ একটি জৈব রাসায়নিক পদার্থ।
- যা দেহে অতি অল্প পরিমাণে উপস্থিত থেকে দেহের অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্যাবলি সম্পন্ন, নিয়ন্ত্রণ ও সহায়তা করে।
- দ্রবণ ক্ষমতার উপর নির্ভর করে ভিটামিন দু'প্রকার যথা:

• পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন:
- পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো- ভিটামিন বি কমপ্লেক্স,
- যেমন-থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, পিরিডক্সিন, কোবালামিন ইত্যাদি।
- এবং ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড। 

• স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন:
- স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো-ভিটমিন এ, ডি, ই এবং কে।

উল্লেখ্য,
- সাধারণভাবে ভিটামিন দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে,
- প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাকে সাহায্য করে।
- দেহের বৃদ্ধিতে ও সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪৩০.
মধুতে কোন ভিটামিন বিদ্যমান?
  1. ক) ভিটামিন এ
  2. খ) ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স
  3. গ) ভিটামিন সি
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
১. মধু মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমাশয়, কানপাকা, জিহবার ঘা, জন্ডিস, অর্শরোগ, সর্দি, কাশি, শ্বাসরোগসহ বিভিন্ন রোগের উপশম ছাড়াও জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহার করা যায় ।
২. মধু বলবৃদ্ধিকারক, পুষ্টিকর ও মিষ্টিদ্রব্য তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
৩. মধুতে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স ও ভিটামিন-সি রয়েছে।
৪. মধুতে বিদ্যমান ডেক্সট্রোজ শরীরের দীর্ঘস্থায়ী শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
৫. মধু দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে ।
৬. দেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় K, Ca, Mg, S, Fe, Cu, P ইত্যাদি উপাদানের উৎস হিসেবে কাজ করে।

কৃষিবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১২,৪৩১.
নিচের কোন মৌলটির আকৃতি সবচেয়ে বড়?
  1. ক) Na
  2. খ) Si
  3. গ) Mg
  4. ঘ) Al
সঠিক উত্তর:
ক) Na
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Na
ব্যাখ্যা
• কোনো পর্যায়ে যত বাম দিক থেকে ডান দিকে যাওয়া যায়, পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে শক্তিস্তর সংখ্যা একই থাকে কিন্তু ইলেকট্রন সংখ্যা বাড়তে থাকে। - এর ফলে নিউক্লিয়াসের অধিক প্রোটন সংখ্যা এবং নিউক্লিয়াসের বাইরের অধিক ইলেকট্রন সংখ্যার মধ্যে আকর্ষণ বেশি হয়। ফলে ইলেকট্রনগুলোর শক্তিস্তর নিউক্লিয়াসের কাছে চলে আসে। ফলে পরমাণুর আকার ছোট হয়ে যায়। 
তাহলে,
Na > Mg > Al > Si কারণ তারা সবাই পর্যায় সারণিতে ৩নং পর্যায়ে আছে এবং Na সবচেয়ে বামে আছে।

• কোন গ্রুপের  উপর থেকে যত নিচে নামা হয় পারমাণবিক সংখ্যা ততই বাড়তে থাকে। এর ফলে শক্তিস্তরের সংখ্যা বাড়তে থাকে। 
- একই সাথে পরমাণুর আকারও বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ এই গ্রুপের উপর থেকে নিচে যেতে থাকলে বাইরের দিকে একটি নতুন করে শক্তিস্তর যুক্ত হতে থাকবে এবং এর ফলে পরমাণুর আকারও বাড়তে থাকে।
১২,৪৩২.
প্রমাণ দ্রবণ কোনটি?
  1. 1.0g H2SO4
  2. 1.0M Na2CO3
  3. 1.0mL H2SO4
  4. 1.0mol H2SO4
সঠিক উত্তর:
1.0M Na2CO3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1.0M Na2CO3
ব্যাখ্যা
প্রমাণ দ্রবণ: 
- কোনো প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থের নমুনা দিয়ে তৈরি করা দ্রবণের ঘনমাত্রা সঠিকভাবে জানা থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ নমুনা দ্রবের প্রমাণ দ্রবণ বলে। 
যেমন- 1M Na2CO3 দ্রবণ, 0.5M Na2CO3 দ্রবণ, 0.1M Na2CO3 দ্রবণ হলো প্রত্যেকেই এক একটি প্রমাণ দ্রবণ। 
কারণ, Na2CO3 প্রথমত প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ এবং দ্বিতীয়ত প্রতিটি প্রস্তুত করা দ্রবণের বেলায় নির্দিষ্ট পরিমাণ Na2CO3 রাসায়নিক নিক্তিতে সঠিকভাবে ওজন করে দ্রবণটি তৈরি করা হয়। 

প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 
- যেসব কঠিন রাসায়নিক পদার্থকে (১) বিশুদ্ধ অবস্থায় প্রস্তুত করা যায়; (২) এরা বাতাসের সংস্পর্শে জলীয় বাষ্প বা O2 সহ বিক্রিয়া করে না; (৩) এদের ওজন নেয়ার সময় রাসায়নিক নিক্তিকে ক্ষয় করে না এবং (৪) এদের দ্রবণের ঘনমাত্রা দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকে, এদেরকে প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে। 
যেমন- 
(১) অনার্দ্র সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) ক্ষার, 
(২) কেলাসিত ইথেন ডাইওয়িক এসিড বা অক্সালিক এসিড (H2C2O4.2H2O), 
(৩) পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট (K2Cr2O7) জারক পদার্থ, 
(৪) কেলাসিত সোডিয়াম ইথেন ডাইওয়েট বা অক্সালেট (Na2C2O4.2H2O) বিজারক পদার্থ ইত্যাদি হলো প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ। 

সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 
- যে সব পদার্থের মধ্যে প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থের চারটি বৈশিষ্ট্যের যেমন বিশুদ্ধতা, বাতাসে অপরিবর্তিত থাকা, রাসায়নিক নিক্তির ক্ষয় না করা অথবা ঘনমাত্রার পরিবর্তন না ঘটা ইত্যাদির মধ্যে কোনো একটির অভাব ঘটলে, এদেরকে সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে। 
যেমন- 
(১) NaOH ক্ষার, 
(২) HCl এসিড, 
(৩) H2SO4 এসিড, 
(৪) পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (KMnO4) জারক পদার্থ,
(৫) সোডিয়াম থায়োসালফেট (Na2S2O3.5H2O) বিজারক ইত্যাদি। 
- এ সব সেকেন্ডারি পদার্থের মোলার দ্রবণ বা ডেসিমোলার (0.1M) দ্রবণ প্রমাণ দ্রবণ হয় না। 
- সেকেন্ডারি পদার্থের দ্রবণকে অপর পদার্থের প্রমাণ দ্রবণ দ্বারা টাইট্রেশন করে এর সঠিক মোলার ঘনমাত্রা নির্ণয় করা হয়। 
- এরূপ সেকেন্ডারি পদার্থের যেমন KMnO4 এর 0.1M দ্রবণ তৈরি করে জারণ-বিজারণ টাইট্রেশনে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১২,৪৩৩.
গ্যাল্ভানিক কোষে তড়িৎ প্রবাহ ঘটে -
  1. বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগে।
  2. স্বতঃস্ফূর্ত রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে।
  3. তাপীয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে।
  4. আলো শোষনের মাধ্যমে।
সঠিক উত্তর:
স্বতঃস্ফূর্ত রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বতঃস্ফূর্ত রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে।
ব্যাখ্যা
গ্যাল্ভানিক কোষ (Galvanic cell) এমন একটি যন্ত্র যেখানে স্বতঃস্ফূর্ত রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং এর মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হয়।
- গ্যাল্ভানিক কোষে দুটি ভিন্ন ধাতু (অ্যানোড এবং ক্যাথোড) দ্রবণে ডুবানো থাকে।
- একে অপরের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং ইলেকট্রন  অ্যানোড থেকে ক্যাথোডে চলে যায়। এই ইলেকট্রন চলাচলই তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি করে।
- এটি স্বতঃস্ফূর্ত  কারণ তাতে বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগের দরকার নেই, শুধুমাত্র রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকেই তড়িৎ শক্তি উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ স্বতঃস্ফূর্ত রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়। 


অন্যদিকে, 
বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগে: এটি ইলেকট্রোলাইসিসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হয়।

তাপীয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে: তাপীয় বিক্রিয়া (thermoelectric effect) তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করতে পারে, তবে গ্যাল্ভানিক কোষে এটি প্রযোজ্য নয়।

আলো শোষণের মাধ্যমে: এটি সোলার কোষে প্রযোজ্য, যেখানে আলো থেকে তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হয়।


তথ্যসূত্র:
- রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণী।  
- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী। 
-"Chemistry: Principles and Applications" by J. D. Lee — Galvanic Cells chapter.
১২,৪৩৪.
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু কোনটি? 
  1. বোসন কণা
  2. কৃষ্ণবিবর
  3. কোয়াসার
  4. নিউট্রন স্টার
সঠিক উত্তর:
কোয়াসার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়াসার
ব্যাখ্যা

কোয়াসার (Quasar): 
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। 
- অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বণ্ঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস বণ্ঢ্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি।

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৪৩৫.
স্টোরেজ ব্যাটারিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া সাম্যাবস্থায় পৌছালে কী ঘটে?
  1. ক) Charged
  2. খ) Decayed
  3. গ) Discharged
  4. ঘ) Fused
সঠিক উত্তর:
গ) Discharged
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Discharged
ব্যাখ্যা
- কিছু কিছু কোষ আছে যেগুলির বিভব কমে গেলে তাকে আবার বিদ্যুৎ গ্রস্থ (Charged) করে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করা যায়। এ ধরনের কোষকে সঞ্চয়ক কোষ (storage battery) বলে।
- সঞ্চয়ক কোষে ঘটিত রাসায়নিক বিক্রিয়া সাম্যাবস্থায় পৌছালে কোষ থেকে আর বিদ্যুৎ টানা যায় না। এ অবস্থাকে সাধারণত বলা হয় discharged হয়ে যাওয়া বা কোষ ডাউন (down) হয়ে যাওয়া। 
- কোষের তড়িৎদ্বারে বাইরে থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ তড়িৎ বিভব প্রয়োগ করে তড়িৎ শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়। অর্থাৎ কোষটিকে বিদ্যুৎ গ্রস্থ (Charged) করা যায়। 
- যে বিক্রিয়ার সাহায্যে সঞ্চয়ক কোষে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় তা উভমূখী। কাজেই বিক্রিয়াকে তড়িৎ শক্তির সাহায্যে আবার বিপরীত দিকে চালিত করে কোষটিকে Charged বা বিদ্যুৎগ্রস্থ করা হয় এবং কোষটি পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়।
- বাজারে বিভিন্ন ধরণের সঞ্চয়ক কোষের মধ্যে সীসা বা লেড কোষ অতি পরিচিত। 
 
উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১২,৪৩৬.
নিচের কোনটি রূপান্তরিত মূল নয়?
  1. ক) মুলা
  2. খ) শালগম
  3. গ) গাজর
  4. ঘ) আদা
সঠিক উত্তর:
ঘ) আদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আদা
ব্যাখ্যা
কোনো ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
১২,৪৩৭.
মানবদেহের কোন কোষটি পরিপক্ব অবস্থায় নিউক্লিয়াসবিহীন থাকে?
  1. নিউট্রোফিল
  2. লোহিত রক্তকণিকা
  3. হেপাটোসাইট
  4. নিউরন
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্তকণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cell - RBC) নিউক্লিয়াসবিহীন থাকে।

• লোহিত রক্ত কণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এটি মানবদেহে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।

অন্যান্য অপশনসমূহ:
• নিউট্রোফিল: নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট শ্বেত রক্তকণিকা।
• হেপাটোসাইট: লিভারের কোষ, নিউক্লিয়াস সম্পন্ন।
• নিউরন: স্নায়ুতন্ত্রের কোষ, নিউক্লিয়াস থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৪৩৮.
বিরুৎ জাতীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) বিরুৎজাতীয় উদ্ভিদ আকারে ছোট হয়
  2. খ) এদের কাণ্ড, শাখা-প্রশাখা নরম হয়
  3. গ) এদের শেকড় মাটির তেমন গভীরে যায় না
  4. ঘ) উপরের সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা
যে সব উদ্ভিদ আকারে ছোট এবং যাদের কাণ্ড নরম হয় তাদেরকে বিরুৎজাতীয় উদ্ভিদ বলে। যেমন – ধান, সরিষা, মরিচ, লাউ, কুমড়া, পুঁই শাক ঘাস, কচু ইত্যাদি।
বিরুৎজাতীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য সমূহ:
বিরুৎজাতীয় উদ্ভিদ আকারে ছোট হয়।
এদের কাণ্ড, শাখা-প্রশাখা নরম হয়।
এদের শেকড় মাটির তেমন গভীরে যায় না।
উদাহরণ: মরিচ গাছ, লাউ গাছ, ধান, সরিষা ইত্যাদি

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
১২,৪৩৯.
সূর্যের প্রখর উত্তাপেও গরম হয় না-
  1. ক) বায়ুমণ্ডল
  2. খ) গাছের ফল
  3. গ) মাটি
  4. ঘ) গাছের পাতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) গাছের পাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গাছের পাতা
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য বায়বীয় অঙ্গ হতে জলীয় বাষ্প বের হয়ে যাবার প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রস্বেদন।
- বায়বীয় অংশ থেকে পানি ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের হয়ে যায়।
- প্রস্বেদনের জন্য সূর্যের প্রখর উত্তাপেও গাছের পাতা গরম হয় না।
- শীত বা গ্রীষ্মের পূর্বে প্রস্বেদন কমাতে গাছের পাতা ঝড়ে যায়।
- কলার চারা লাগানোর সময় প্রস্বেদন রোধ করার জন্য পাতা কেটে ফেলা হয়।

১২,৪৪০.
রেকটিফায়ার ব্যবহৃত হয়-
  1. এসি ভোল্টেজকে ডিসি ভোল্টেজে রূপান্তর করতে
  2. ডিসি ভোল্টেজকে এসি ভোল্টেজে রূপান্তর করতে
  3. তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি করতে
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
এসি ভোল্টেজকে ডিসি ভোল্টেজে রূপান্তর করতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসি ভোল্টেজকে ডিসি ভোল্টেজে রূপান্তর করতে
ব্যাখ্যা
প্রক্রিয়ায় পরিবর্তী প্রবাহ (Alternating current- এসি) বা ভোল্টেজকে একমুখী প্রবাহ (Direct current- ডিসি) বা ভোল্টেজে রূপান্তর করা হয় তাকে রেকটিফিকেশন বা একমুখীকরণ বলে।
একমুখীকরণের কাজটি যে যন্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় তাকে রেফটিফায়ার বলে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪৪১.
বিগ ব্যাংগ তত্ত্বের জনক কে? 
  1. জর্জ লেমাইটার 
  2. জর্জ গ্যামো 
  3. এডউইন হাবল 
  4. স্টিফেন হকিং 
সঠিক উত্তর:
জর্জ লেমাইটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ লেমাইটার 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব (Big Bang Theory): 
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়। 
- ১৯৩১ সালে তিনি আরো প্রস্তাব করেন যে, প্রসারণশীল বিশ্বকে যদি সময়ের সাথে পিছিয়ে নেয়া হয়, তাহলে একটা বিন্দুতে উপনীত হওয়া যাবে, যেখানে মহাবিশ্বের সমস্ত ভর পুঞ্জীভূত ছিল, যাকে আদিম পরমাণু বলা যেতে পারে এবং এখান থেকেই স্থান-কালের উদ্ভব। 
- তাই জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে। 
- জর্জ গ্যামো মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন যে, যেহেতু গ্যালাক্সিসমূহ পরষ্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই সুদুর অতীতে নিশ্চয়ই তারা পরষ্পরের খুব কাছাকাছি ছিল। 
অর্থাৎ, কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব। 

- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ আমাদের পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা। সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুরু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল। 
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির 'শুরু বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়, অর্থাৎ বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না। 
- মহাবিশ্ব শুরু হয়েছিল একটি অপরিমেয় ক্ষুদ্র, অসীম তাপ ও অসীম ঘনত্ববিশিষ্ট শক্তির উৎস থেকে, একে বলা হয় অনন্যতা বা অদ্বৈত বিন্দু (Singularity)। 
- বিগ ব্যাংগ এর ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন বছরের মধ্যে মহাকর্ষের প্রভাবে হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম গ্যাসের পরমাণু সমূহ মহাবিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আলাদাভাবে একত্রিত হতে শুর করে এবং নিজস্ব মহাকর্ষের প্রভাবে জমাট বাঁধতে থাকে এবং সংকোচিত হয়। 
- ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে নিউক্লিয় বিক্রিয়া শুর হয় এবং কালক্রমে নক্ষত্র ও গ্যালাক্সিগুলোর সৃষ্টি হয়। 
- স্টিফেন হকিং তত্ত্বটির আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৪৪২.
রংধনু তৈরি হওয়ার কারণ কী?
  1. বিবর্ধন
  2. ব্যতিচার
  3. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা
• পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন:
- আলোকরশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় মানের কোণে আপতিত হয় তখন প্রতিসরণের পরিবর্তে আলোকরশ্মি সম্পূর্ণরূপে ঘন মাধ্যমের অভ্যন্তরে প্রতিফলনের সূত্রানুযায়ী প্রতিফলিত হয়। এই ঘটনাকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।

• রংধনু বা রামধনু (Rainbow): 
- রংধনু একটি আলোকীয় ঘটনা। এক পশলা বৃষ্টির পর আবার যখন সূর্য উঠে তখন কখনও কখনও সূর্যের বিপরীত দিকে আকাশে উজ্জ্বল রঙের অর্ধবৃত্ত দেখা যায়। একে বলা হয় রংধনু ।
- রংধনুতে বর্ণালির ৭টি রং থাকে। সূর্যের বিপরীতে গঠিত হয় বলে সকালে পশ্চিমাকাশে এবং বিকালে পূর্বাকাশে রংধনু দেখা যায়।
- রংধনু তৈরি হয় পানির পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন দিয়ে।  রংধনু সৃষ্টির সময় পানির কণাগুলো প্রিজমের কাজ করে।
- তখন বাতাসে পানির কণা থাকে এবং পানির কণায় সেই আলো পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলিত হওয়ার সময় ভিন্ন ভিন্ন রঙের আলো ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে বেঁকে যায়।
- এই আলোর রশ্মিগুলো দিয়ে রংধনুর ভিন্ন ভিন্ন রঙের ব্যান্ড (Band) তৈরি হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১২,৪৪৩.
শ্বেত কণিকার গড় আয়ুস্কাল কতদিন?
  1. ১ থেকে ১৫ দিন
  2. ১০ থেকে ২০ দিন
  3. ২০ থেকে ৩৫ দিন
  4. ২৫ থেকে ৪৫ দিন
সঠিক উত্তর:
১ থেকে ১৫ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ থেকে ১৫ দিন
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা:
- মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে। যথা- -
১. লোহিত রক্তকণিকা।
২. শ্বেত রক্তকণিকা।
৩. অনুচক্রিকা।

⇒ লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস নেই।
- এ কণিকা দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।
- লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।

⇒ শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকারনেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১ থেকে ১৫ দিন।
- শ্বেত রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়।

⇒ অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের।
- এতে নিউক্লিয়াস থাকে না।
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০ দিন।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৪৪৪.
পৃথিবীর গভীরতম মহাসাগর কোনটি?
  1. ক) আটলান্টিক মহাসাগর
  2. খ) প্রশান্ত মহাসাগর
  3. গ) ভারত মহাসাগর
  4. ঘ) উত্তর মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রশান্ত মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর গভীরতম ও বৃহত্তম মহাসাগর হলো প্রশান্ত মহাসাগর বা প্যাসিফিক ওশান। প্রশান্ত মহাসাগরের গড় গভীরতা ৪,২৭০ মিটার এবং আয়তন ১৬.৬ কোটি বর্গকিলোমিটার।

প্রশান্ত মহাসাগরে পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রখাত মারিয়ানা ট্রেঞ্চ অবস্থিত। মারিয়ানা ট্রেঞ্চের চ্যালেঞ্জার ডিপ হলো পৃথিবীর গভীরতম স্থান যার গভীরতা প্রায় ৩৬,১৯৭ ফুট।

আয়তনে ও গভীরতায় পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাসাগর হলো দক্ষিণ মহাসাগর। এটির আয়তন ১.৪৭ কোটি বর্গকিলোমিটার এবং গড় গভীরতা ১৪৯ মিটার।

(তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ এবং ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
১২,৪৪৫.
বেকিং পাউডার নিচের কোনটি প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) আইস্ক্রিম প্রস্তুতিতে
  2. খ) কেক প্রস্তুতিতে
  3. গ) কাপড় পরিষ্কারে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) কেক প্রস্তুতিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কেক প্রস্তুতিতে
ব্যাখ্যা
কেক প্রস্তুতিতে বেকিং পাউডার ব্যবহৃত হয়। 

- বেকিং সোডা ও ড্রাই অ্যাসিডের সমন্বয়ে তৈরি হয় বেকিং পাউডার। 
- সোডিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের মতো খাবার তৈরি করতে বেকিং পাউডার ব্যবহার করা হয়। 
- খাবার সোডার রাসয়নিক নাম হচ্ছে সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বোনেট। 

সূত্র- ২৯১ পৃষ্ঠা, রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১২,৪৪৬.
কোন মৌলটি জৈব যৌগ গঠনে অপরিহার্য?
  1. ক) সালফার
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) হাইড্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্বন
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগ:

- কার্বন শিকল দ্বারা গঠিত বিভিন্ন শ্রেণির যৌগের রসায়নকে জৈব রসায়ন বলে।
- প্রকৃতপক্ষে কার্বনের রসায়নই জৈব রসায়নের আলোচ্য বিষয়।
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে প্রধানত হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার, ফসফরাস, হ্যালোজেন প্রভৃতি মৌল যুক্ত থাকে।
- সকল জৈব যৌগে কার্বন থাকবেই।
- কিন্তু সকল জৈব যৌগে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার, ফসফরাস, হ্যালোজেন প্রভৃতি নাও থাকতে পারে।
- জৈব যৌগে কার্বন থাকলেও সকল কার্বনযুক্ত যৌগ কিন্তু জৈব যৌগ নয়।

তথ্যসূত্র - উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১২,৪৪৭.
কোষ বিভাজন সর্বপ্রথম কে প্রত্যক্ষ করেন এবং কত সালে?
  1. কার্লএরেকি, ১৯১৮ সালে
  2. মেন্ডেল, ১৯১৯ সালে
  3. ওয়াল্টার ফ্লেমিং, ১৮৮২ সালে
  4. ওয়াটসন ও ক্রিক, ১৯১৯ সালে
সঠিক উত্তর:
ওয়াল্টার ফ্লেমিং, ১৮৮২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াল্টার ফ্লেমিং, ১৮৮২ সালে
ব্যাখ্যা
কোষ বিভাজন:
- বিভাজনের মাধ্যমে সংখ্যাবৃদ্ধি কোষের একটি স্বাভাবিক এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
- এককোষী জীব যেমন- ব্যাকটেরিয়া, ইষ্ট, Navicula শৈবাল প্রভৃতি বার বার বিভাজনের মাধ্যমে একটি থেকে অসংখ্য এককোষী জীবে পরিণত হয়।
- বিশালদেহী একটি বটগাছের সূচনাও কিন্তু একটি মাত্র কোষ জাইগোট হতে। 

- রুডলফ ভিরশাও (Rudolf Virchow, 1858) যথার্থই বলেছেন, গাছ থেকে যেমন গাছের সৃষ্টি হয়, প্রাণী থেকে সৃষ্টি হয় প্রাণীর তেমন কোষ থেকে কেবল কোষেরই সৃষ্টি হতে পারে।
- এককোষী নিষিক্ত ডিম্বক হতে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি পরিণত মানুষের সৃষ্টি হয়।
- কোষ বিভাজন একটি মৌলিক ও অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ও বংশ বৃদ্ধি ঘটে।

- যে প্রক্রিয়ায় একটি কোষ বিভাজিত হয়ে একাধিক কোষের সৃষ্টি করে তাকে কোষ বিভাজন বলা হয়।
- যে কোষটি বিভাজিত হয় তাকে মাতৃকোষ এবং বিভাজনের ফলে যে নতুন কোষ উৎপন্ন হয়, তাকে অপত্য কোষ বলা হয়।
- Walter Flemming (১৮৮২) খ্রিস্টাব্দে সামুদ্রিক সালামান্ডার কোষে প্রথম কোষ বিভাজন প্রত্যক্ষ করেন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪৪৮.
কোন ভিটামিন সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়? 
  1. ভিটামিন ডি
  2. ভিটামিন বি
  3. ভিটামিন এ
  4. ভিটামিন সি
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন ডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন ডি
ব্যাখ্যা
ভিটামিন ডি: 
- একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়। 
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন ডি- এর প্রধান উৎস। 
- বাধাঁকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে। 
- ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয়। 
- দৈনিক চাহিদা থেকে বেশি পরিমাণে ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষতি হয়। এর ফলে অধিক ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষিত হওয়ায় রক্তে এদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। 
- যে কারণে বৃক্ক (কিডনি), হৃৎপিন্ড, ধমনি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমা হতে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৪৪৯.
এক্সট্রিন্সিক সেমিকন্ডাক্টরে ডোপায়ন করার ফলে কোনটি ঘটে?
  1. পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়
  2. পরিবাহিতা হ্রাস পায়
  3. মুক্ত ইলেকট্রনের পরিমাণ হ্রাস পায়
  4. হোলের পরিমাণ হ্রাস পায়
সঠিক উত্তর:
পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
• এক্সট্রিন্সিক সেমিকন্ডাক্টরে ডোপায়ন করার ফলে এর পরিবাহিতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

• সেমিকন্ডাক্টর: 

- যেসকল পদার্থের আপেক্ষিক রোধ অপরিবাহী ও পরিবাহীর মধ্যবর্তী তাদেরকে সেমিকন্ডাক্টর বা অর্ধপরিবাহী বলা হয়।
• ডোপায়ন: 
- পরিবাহিতা বৃদ্ধির জন্য বিশুদ্ধ সেমিকন্ডাক্টরে অতিসামান্য অপদ্রব্য মেশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপায়ন বলা হয়। 

• সেমিকন্ডাক্টর প্রধানত দুই প্রকারঃ
→ ইনট্রিন্সিক বা অন্তর্জাত (Intrinsic) সেমিকন্ডাক্টর:
-  যে সকল সেমিকন্ডাক্টরে কোনো অপদ্রব্য মেশানো হয় না তাদেরকে ইনট্রিন্সিক বা অন্তর্জাত সেমিকন্ডাক্টর বলে।
- এটি খাঁটি বা বিশুদ্ধ সেমিকন্ডাক্টর।
- এতে কোনো ডোপেন্ট (dopant) মেশানো থাকে না।
- এতে ইলেকট্রন ও হোল (hole) এর সংখ্যা সমান থাকে।

→ এক্সট্রিন্সিক বা বহির্জাত (Extrinsic) সেমিকন্ডাক্টর:
- অপদ্রব্য মেশানো সেমিকন্ডাক্টরকে এক্সট্রিন্সিক বা বহির্জাত সেমিকন্ডাক্টর বলে।
- অন্তর্জাত সেমিকন্ডাক্টরে অতিসামান্য অপদ্রব্য নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে (প্রায় এক কোটি পরমাণুতে একটি পরমাণু) মেশালে এতে বিপুল পরিমাণে মুক্ত ইলেক্ট্রন বা হোল সৃষ্টি হয়।
- ডোপায়নের ফলে এর পরিবাহিতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
- বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা বাড়ানোর জন্য এতে সামান্য পরিমাণে অপদ্রব্য যোগ করা হয়।
- ডোপায়নের মাধ্যমে n-type এবং p-type এই ২ ধরনের এক্সট্রিন্সিক সেমিকন্ডাক্টর তৈরি হয়। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
১২,৪৫০.
নিচের কোন পদার্থের ঘনত্ব বেশি?
  1. পানি
  2. পারদ
  3. কাচ
  4. লোহা
সঠিক উত্তর:
পারদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারদ
ব্যাখ্যা
- অপশনে উল্লেখিত পদার্থগুলোর মধ্যে 'পারদ'-এর ঘনত্ব বেশি যা প্রায় 13.6 gm/cc

ঘনত্ব (Density): 
- তরল এবং বায়বীয় পদার্থের চাপ বোঝার আগে ঘনত্ব সম্পর্কে ধারণাটি অনেক স্পষ্ট থাকা দরকার। 
- ঘনত্ব হচ্ছে একক আয়তনে ভরের পরিমাণ। 
অর্থাৎ, কোনো বস্তুর ভর যদি m এবং আয়তন V হয় তাহলে তার ঘনত্ব, 
• ρ = m/V 
- ঘনত্বের একক = kg/m3 অথবা gm/cc.
- ঘনত্বের মাত্রা [P] = ML-3  । 
- তাপমাত্রা বাড়লে কিংবা কমলে পদার্থের আয়তন বাড়বে কিংবা কমতে পারে। যেহেতু ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না তাই পদার্থের ঘনত্ব তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তন হতে পারে। 
- সেজন্য পদার্থের ঘনত্বের কথা বলতে হলে সাধারণত সেটি কোন তাপমাত্রায় মাপা হয়েছে সেটিও বলে দিতে হয়। 
- নিচে কয়েকটি পদার্থের ঘনত্ব দেওয়া হলো- 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৪৫১.
পিতলের প্রধান ধাতু কী? 
  1. টিন
  2. কপার
  3. কার্বন
  4. জিংক
সঠিক উত্তর:
কপার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপার
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- বিভিন্ন ধাতু একত্রে মিশিয়ে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- এই সংকর ধাতু তৈরিতে সকল ধাতুকে সমান পরিমাণে মেশানো হয় না। 
- সংকর ধাতুর মধ্যে একটি থাকে প্ৰধান ধাতু এবং এক বা একাধিক থাকে অপ্রধান ধাতু বা অধাতু। 
- প্রধান ধাতুর নাম অনুসারে সংকর ধাতুর নামকরণ করা হয়। 
যেমন- 
- কপারের দুইটি সংকর ধাতু আছে। 
যথা: পিতল (ব্রাস) ও কাঁসা (ব্রোঞ্জ)। 
- কাঁসার মধ্যে প্রধান ধাতু কপার থাকে 90%, টিন থাকে 10%, এজন্য কাঁসা কপারের সংকর ধাতু। 
- পিতলে প্রধান ধাতু কপার থাকে 65% এবং অপ্রধান ধাতু জিংক থাকে 35%, এজন্য পিতলও কপারের সংকর ধাতু। 
- স্টিলে প্রধান ধাতু লোহা থাকে 99% এবং অপ্রধান অধাতু কার্বন থাকে 1%, এজন্য স্টিলকে লোহার সংকর ধাতু বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৪৫২.
What type of signal is transmitted through fiber optic cables?
  1. Radio signal
  2. Electrical signal
  3. Microwaves
  4. Optical signal
  5. Ultrasonic waves
সঠিক উত্তর:
Optical signal
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Optical signal
ব্যাখ্যা

• ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে আলোক সংকেত (Optical signal) প্রেরণ করা হয়। 

• ফাইবার অপটিক্স:
- ফাইবার অপটিক্স একটি অত্যাধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি যার ফলে আলোক সংকেতের মাধ্যমে তথ্য পাঠানো যায়।
- এতে প্লাস্টিক বা কাঁচের তৈরি পাতলা তন্তুর (fiber) মাধ্যমে আলো পাঠানো হয়।
- এটি আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ধর্ম ব্যবহার করে দীর্ঘ দূরত্বে তথ্য বহন করে। 

• ফাইবার অপটিক প্রযুক্তির কার্যপ্রণালী:
- তথ্য প্রথমে ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করা হয়।
- এরপর সেই সংকেতকে আলোক সংকেতে রূপান্তর করা হয়।
- আলোক সংকেতকে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়।
- গন্তব্যে পৌঁছে আলোক সংকেত আবার ডিজিটাল তথ্য হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

অন্যান্য অপশন:
- Radio signal: ওয়্যারলেস যোগাযোগে (রেডিও, Wi-Fi, মোবাইল) ব্যবহৃত হয়, ফাইবারে নয়।
- Electrical signal: কপার তার (twisted pair, coaxial) দিয়ে প্রেরণ করা হয়।
- Microwaves: মাইক্রোওয়েভ লিঙ্ক, স্যাটেলাইট যোগাযোগে ব্যবহৃত হয়, ফাইবারে নয়।
- Ultrasonic waves: শব্দ তরঙ্গ (ultrasound), যা মেডিকেল ইমেজিং বা sonar-এ ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা। 
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ০ ১০ম শ্রেণি।

১২,৪৫৩.
নিউক্লিয় ফিশন ও ফিউশন বিক্রিয়ায় যে শক্তি পাওয়া যায় তা কোন সমীকরণের সাহায্যে সঠিকভাবে পরিমাপ করা যায়?
  1. ভর-বেগের সমীকরণ
  2. ভর-শক্তির সমীকরণ
  3. ওজন-শক্তির সমীকরণ
  4. সবকয়টি
সঠিক উত্তর:
ভর-শক্তির সমীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর-শক্তির সমীকরণ
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিয় ফিশন ও ফিউশনের ফলে যে শক্তি পাওয়া যায় তা আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তির সমীকরণ দিয়ে সঠিকভাবে পরিমাপ করা যায়।

• ভর-শক্তি সম্পর্ক (Mass Energy Relation):

- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ অবদান হলো ভর-শক্তি সম্পর্ক।
- চিরায়ত বলবিদ্যায় কোনো বস্তুর ভর ধ্রুব রাশি এবং শক্তি সর্বদাই নিত্য।
- চিরায়ত বলবিদ্যায় আরো ধরা হয় যে, ভর এবং শক্তি দুটি ভিন্ন সত্তা।
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বে চিরায়ত বলবিদ্যায় পুরাতন ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটে।
- এই তত্ত্বানুসারে ভর এবং শক্তি দুটি অভিন্ন সত্তা।
- ভরকে সম্পূর্ণরূপে ধংস করা যায় এবং তা থেকে শক্তির উৎপন্ন হয়।
- অর্থাৎ ভর সম্পূর্ণরূপে শক্তিতে রূপান্তর হয় এবং একই ভাবে শক্তিও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে ভরে রূপান্তর হয়।
- E = mc2 এটিই আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণ।
- এই সমীকরণ প্রমাণ করে, ভর ও শক্তি ভিন্ন সত্তার নয়, বরং একই সত্তার দুটি ভিন্নরূপ মাত্র।
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাও এই সমীকরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়।
- অর্থাৎ এই সমীকরণ মহাজগতিক সকল শক্তির ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪৫৪.
নিচের কোনটি চাপের মাত্রা?
  1. ML- 1T- 2
  2. ML 2T- 3
  3. ML- 2T- 2
  4. ML- 1T- 3
সঠিক উত্তর:
ML- 1T- 2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ML- 1T- 2
ব্যাখ্যা
• চাপ:
- চাপ হল একক ক্ষেত্রফলে কোন বস্তুর তলের ওপর লম্বভাবে প্রযুক্ত সমভাবে বিতরিত বল।
- পারিপার্শ্বিক চাপের সাপেক্ষে যে চাপ উৎপন্ন হয় তাকে বলা হয় গজ চাপ।
- চাপের একক হল প্যাসকেল এবং সংকেত Pa.
- চাপের মাত্রা হল: ML- 1T- 2.

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- ক্ষমতার মাত্রা ML 2T- 3.
- কাজের মাত্রা ML 2T- 2.
১২,৪৫৫.
এনট্রপি কোন ভৌত ধর্মের পরিমাপ করে?
  1. চাপ
  2. তাপ
  3. শৃঙ্খলা
  4. বিশৃঙ্খলা
সঠিক উত্তর:
বিশৃঙ্খলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা
এনট্রপি: 
- কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে। 
- আমরা জানি, কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 
- আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়। 
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে। 
- ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এনট্রপি। 
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় এনট্রপির কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- পৃথিবীর এনট্রপি ক্রমাগত বাড়ছে। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
১২,৪৫৬.
নিচের কোনটি হাইড্রোফিলিক পদার্থ?
  1. সেলুলোজ
  2. মোম
  3. রেজিন 
  4. তেল
সঠিক উত্তর:
সেলুলোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলুলোজ
ব্যাখ্যা

ইমবাইবিশন (Imbibition): 
- এক খণ্ড শুকনা কাঠের এক প্রান্ত পানিতে ডুবালে ঐ কাঠের খণ্ডটি কিছু পানি টেনে নেবে। কলয়েড জাতীয় শুকনা বা আধা শুকনা পদার্থ তরল পদার্থ শুষে নেয়, এজন্যই কাঠের খণ্ডটি পানি টেনে নিয়েছে, এ প্রক্রিয়াকে ইমবাইবিশন বলে। 
- সেলুলোজ, স্টার্চ, জিলাটিন- এগুলো হাইড্রোফিলিক (পানিপ্রিয়) পদার্থ। 
- এরা তরল পদার্থের সংস্পর্শে এলে তা শুষে নেয়, আবার তরল পদার্থের অভাবে সংকুচিত হয়ে যায়। 
- কোষপ্রাচীর ও প্রোটোপ্লাজম কলয়েডধর্মী হওয়ায় ইমবাইবিশন প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে স্ফীত হয়ে ওঠে। 
- ইমবাইবিশন পানি শোষণের একটি অন্যতম প্রক্রিয়া। 

অন্যদিকে, 
- রেজিন সাধারণত হাইড্রোফোবিক (জলবিরোধী) বা পানিতে অদ্রবণীয় হয়।
- মোম একটি লিপিড এবং এটি হাইড্রোফোবিক, অর্থাৎ এটি পানির সাথে মেশে না।
- তেলও একটি হাইড্রোফোবিক পদার্থ। তেল এবং পানি একসাথে মেশে না, তেল পানির উপর ভাসে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৪৫৭.
তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে নিচের কোনটি?
  1. ডায়নামো
  2. কার্নো ইঞ্জিন
  3. বৈদ্যুতিক বাল্ব
  4. জেনারেটর
সঠিক উত্তর:
কার্নো ইঞ্জিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্নো ইঞ্জিন
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর
প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে।
নিচে শক্তির রূপান্তরের কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হল।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি:
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি:
বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি:
কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি:
বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি:
কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি:
কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি:
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি:
ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়।

তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য 'সাদী কার্নো' সকল দোষ-ত্রুটি মুক্ত যে আদর্শ যন্ত্রের পরিকল্পনা করেন তাকে কার্নো ইঞ্জিন বলে।
কার্নো ইঞ্জিন একটি আদর্শ ইঞ্জিনের ধারণামাত্র, বাস্তবে এর রূপান্তর সম্ভব হয়নি।

সুত্র: শক্তির উৎস ও রূপান্তর, এসএসসি, সাধারণ বিজ্ঞান এবং একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বই (দ্বিতীয় পত্র)।

১২,৪৫৮.
মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বন্ধ্যাত্ব দূর করে কোন ভিটামিন?
  1. ভিটামিন বি
  2. ভিটামিন ডি
  3. ভিটামিন এ
  4. ভিটামিন ই
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন ই
ব্যাখ্যা
• ভিটামিন ই মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বন্ধ্যাত্ব দূর করে।

• ভিটামিন ই:
- ভিটামিন ই এর রাসায়নিক নাম টোকোফেরল।
- এটি তাপ ও অম্লে বিনষ্ট হয় না। তবে ক্ষারে সামান্য নষ্ট হয়।

• ভিটামিন ই এর উৎস:
- সব ধরনের উদ্ভিজ্জ তেল, যেমন- নারিকেল তেল, সরিষার তেল, চালের কুঁড়ার তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি ভিটামিন ই এর ভালো উৎস।
- শস্যদানার ভ্রূণ, বাদাম, গোটা শস্য, শাক-সবজি, মাখন ইত্যাদিতে কিছু পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে।
- ডিমের কুসুম, দুধ ও যকৃতেও ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

• ভিটামিন ই এর কাজ:
১। ভিটামিন এ রক্তের লোহিত কণার জারণসহ অবাঞ্ছিত জারণ রোধ করে।
২। জননাঙ্গের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক ক্ষমতা বজায় রাখে।
৩। নারী ও পুরুষের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ করে।
৪। নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক প্রজননে সহায়তা করে।
৫। অকাল বার্ধক্য রোধ করে।
৬। ভ্রূণের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

• ভিটামিন ই এর অভাবজনিত অবস্থা:
১। নারী ও পুরুষের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পায় এবং বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।
২। ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
৩। গর্ভপাত হতে পারে।
৪। অকাল বার্ধক্য দেখা দেয়।

অন্যদিকে,
- ভিটামিন ডি এর অভাবে রিকেটস রোগ হয়।
- ভিটামিন বি১ এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়।
- ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
 
উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
২. গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪৫৯.
উপসর্গ “গিগা (Giga)” দ্বারা কোন মান বোঝানো হয়?
  1. 109
  2. 106
  3. 1012
  4. 1015
সঠিক উত্তর:
109
উত্তর
সঠিক উত্তর:
109
ব্যাখ্যা

- উপসর্গ “গিগা (Giga)” দ্বারা বোঝানো হয় 109 । 

উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix): 
- বিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান চর্চা করার জন্য নানান কিছু পরিমাপ করতে হয়। 
- কখনো হয়তো গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য মাপতে হয় (6×1024 m), আবার কখনো একটা নিউক্লিয়াসের ব্যাসার্ধ মাপতে হয় (1×10-15 m); দূরত্বের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য মাপার জন্য সব সময়ই একই ধরনের সংখ্যা ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু S.I উপসর্গ বা গুণিতক (Prefix) তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। এই গুণিতক থাকার কারণে একটা ছোট উপসর্গ লিখে অনেক বড় কিংবা অনেক ছোট সংখ্যা বোঝানো যায়। 
- দৈনন্দিন জীবনে কিন্তু এগুলো সব সময় ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- দূরত্ব বোঝানোর জন্য এক হাজার মিটার না বলে এক কিলোমিটার বলা হয়, আবার পানির আয়তন বোঝানোর জন্য এক লিটারের এক শতাংশ না বলে 10 মিলিমিটার বলা হয়।


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৪৬০.
বৃক্ক যে পাতলা আবরণ দ্বারা আবৃত থাকে তার নাম কী?
  1. ক) রেনাল ক্যাপসুল
  2. খ) প্লুরা
  3. গ) পেরিকার্ডিয়াম
  4. ঘ) পেরিটোনিয়াম
সঠিক উত্তর:
ঘ) পেরিটোনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পেরিটোনিয়াম
ব্যাখ্যা
সমগ্র বৃক্ক স্বচ্ছ, পাতলা পেরিটোনিয়াম নামক ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে।

মেরুদণ্ডী প্রাণী তথা মানুষের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো বৃক্ক বা কিডনি। মানবদেহের উদরগহ্বরের পিছনের অংশে, মেরুদণ্ডের দুদিকে বক্ষপিঞ্জরের নিচে পিঠ-সংলগ্ন অবস্থায় দুটি বৃক্ক অবস্থান করে। প্রতিটি বৃক্ক দেখতে শিমের বিচির মতাে এবং এর রং লালচে হয়। বৃক্কের বাইরের পার্শ্ব উত্তল এবং ভিতরের পার্শ্ব অবতল হয়। অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাস (Hilus) বা হাইলাম বলে। হাইলামের ভিতর থেকে ইউরেটার এবং রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনি বৃক্কে প্রবেশ করে। দুটি বৃক্ক থেকে দুটি ইউরেটর বের হয়ে মূত্রাশয়ে প্রবেশ করে। ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশকে রেনাল পেলভিস বলে। 
 
বৃক্কের কাজসমূহ- 
১. বিপাকজাত দূষিত পদার্থগুলোকে মূত্রের মাধ্যমে দেহ থেকে বের করে দেয়া। 
২. দেহে ও রক্তে পানির ভারসাম্য বজায় রাখা। 
৩. রক্তের উপাদানের পরিমাণ নির্দিষ্ট রাখতে সহায়তা করা। 
৪. ভিটামিন ‘ডি’-কে কার্যকর রূপে পরিণত করা। 
৫. রেনিন তৈরি করা।
৬. ইরাইথ্রোপয়েটিন তৈরি করা, যা লোহিত রক্ত কণিকা তৈরিতে সহায়তা করে। 
৭. রক্তের বিক্রিয়া বজায় রাখতে সহায়তা করা। 

সূত্র- ১৪৪ পৃষ্ঠা,  জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪৬১.
'অস্টিয়া' থাকে কোন পর্বের প্রাণিদের?
  1. ক) আর্থোপোডা
  2. খ) পরিফেরা
  3. গ) নেমাটোডা
  4. ঘ) অ্যানিলিডা
সঠিক উত্তর:
খ) পরিফেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পরিফেরা
ব্যাখ্যা
পরিফেরা পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্য:
- এদের দেহ কোষ দুই স্তরে বিন্যস্ত।
- এরা সরলতম বহুকোষী প্রাণী।
- এদের দেহপ্রাচীর অস্টিয়া নামক অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত।
- এদের দেহে বিশেষ ধরনের নালীতন্ত্র বিদ্যমান, এর সাহায্যে অভন্ত্যরীণ পরিবহন ঘটে।
- এই পর্বের প্রাণীদের কোন অঙ্গ নেই ফলে চলতে পারে না।
- এদের পরিপাক অন্তঃকোষীয়। 

সূত্র: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১২,৪৬২.
মানবদেহে রক্ত সংবহনের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ ধরনের
  2. খ) মানুষের ক্ষেত্রে বৃক্কীয় পোর্টাল সংবহন অনুপস্থিত
  3. গ) পালমোনারি সংবহনের শুরু হয় ফুসফুসীয় শিরা থেকে
  4. ঘ) মানবদেহে চার প্রক্রিয়ায় রক্তসংবহন সংঘটিত হয়
সঠিক উত্তর:
গ) পালমোনারি সংবহনের শুরু হয় ফুসফুসীয় শিরা থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পালমোনারি সংবহনের শুরু হয় ফুসফুসীয় শিরা থেকে
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ ধরনের। অর্থাৎ রক্ত হৃদপিণ্ড, ধমনি, শিরা ও কৈশিক নালির মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়ে অভ্যন্তরীণ পরিবহন সম্পন্ন করে।
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্রে দ্বি-চক্রীয় সংবহন অর্থাৎ সিস্টেমিক ও পালমোনারি চক্র দেখা যায়। মানবদেহে চার প্রক্রিয়ায় রক্তসংবহন সংঘটিত হয়, যথা- সিস্টেমিক, পালমোনারি, পোর্টাল এবং করোনারি।
- যে সংবহনে রক্ত হৃদপিণ্ডের ডান নিলয় থেকে ফুসফুসে পৌছায় এবং ফুসফুস থেকে বাম অলিন্দে ফিরে আসে, তাকে পালমোনারি বা ফুসফুসীয় সংবহন বলে। পালমোনারি সংবহনের শুরু হয় ফুসফুসীয় ধমনি থেকে আর শেষ হয় পালমোনারি শিরার মাধ্যমে বাম অলিন্দে ফেরত আসার মাধ্যমে।
- মেরুদণ্ডী প্রাণীতে সাধারণত যকৃত এবং বৃক্কীয়- এ দুধরনের পোর্টাল সংবহন দেখা যায়। তবে রেনাল পোর্টাল সংবহন মানুষসহ বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণীতে অনুপস্থিত।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১২,৪৬৩.
Alkaline Earth Metals কোনটি? 
  1. সিজিয়াম 
  2. রেডিয়াম 
  3. লিথিয়াম 
  4. রুবিডিয়াম 
সঠিক উত্তর:
রেডিয়াম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডিয়াম 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু (Alkali Metals): 
- পর্যায় সারণির 1 নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে। 
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals): 
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6 টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৪৬৪.
কোন জাতীয় খাদ্য দেহে শুধু নাইট্রোজেন সরবরাহ করে?
  1. ক) স্নেহ
  2. খ) শর্করা
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আমিষ
ব্যাখ্যা
- আমিষ জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- সালফার, ফসফরাস ও আয়রন সামান্য পরিমাণে থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই দেহে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষ একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪৬৫.
ল্যাবরেটরির কাজে কোন পরিষ্কারকটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর?
  1. ডিটারজেন্ট
  2. সাবান
  3. ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ
  4. সোডা
সঠিক উত্তর:
ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ
ব্যাখ্যা

• ল্যাবরেটরির কাজের সময় কাঁচের যন্ত্রপাতি যেমন বিকার, ব্যুরেট, পিপেট, মেজারিং ফ্লাস্ক ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে অপরিষ্কার হয়ে যায়। বিশেষ করে কখনও কখনও এগুলিতে তৈলাক্ত পদার্থ বা জৈব অমল পদার্থ লেগে থাকে, যা সাধারণ সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে পুরোপুরি পরিষ্কার করা কঠিন। এই অবস্থায় ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ সবচেয়ে কার্যকর। এটি মূলত K2Cr2O7 এবং ঘন H2SO4-এর সংমিশ্রণ, যা শক্তিশালী অক্সিডাইজার হিসেবে কাজ করে। ক্রোমিক এসিড যন্ত্রপাতির জৈব ও তৈলাক্ত দাগ দ্রুত ধ্বংস করে, ফলে কাচ সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার হয় এবং পরীক্ষার নির্ভুলতা বজায় থাকে। তাই ল্যাবরেটরিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী পরিস্কারক হলো ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ।

• ল্যাবরেটরির সর্বোত্তম পরিস্কারক (Best Laboratory Cleaner):
- ল্যাবরেটরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন কাঁচের যন্ত্রপাতি যেমন- বিকার, ব্যুরেট, পিপেট, মেজারিং ফ্লাস্ক ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে অপরিষ্কার হয়ে যেতে পারে।
- অনেক সময় এসব যন্ত্রপাতিতে তৈলাক্ত পদার্থ লেগে থাকে যা সাধারণভাবে সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে পুরোপুরি পরিষ্কার হয় না।
- এই অবস্থায় সবচেয়ে কার্যকর পরিস্কারক হলো ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ।
- ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ হলো K2Cr2O7 + ঘন H2SO4 এর সংমিশ্রণ।
- এটি কাঁচের যন্ত্রপাতি থেকে কঠিন দাগ, তৈলাক্ত পদার্থ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দূষক দ্রুত এবং কার্যকরভাবে সরাতে সক্ষম।  

• ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ (Chromic Acid Mixture) এবং এর ব্যবহার:
- ল্যাবরেটরিতে কাঁচের যন্ত্রপাতি যেমন- বিকার, ব্যুরেট, পিপেট, মেজারিং ফ্লাস্ক ইত্যাদি পরিস্কার করতে ব্যবহৃত হয়।
- তৈলাক্ত পদার্থ এবং অন্যান্য জৈব দাগ দূর করতে সাহায্য করে।
- কাচের উপরের লেবেল বা আঠালো দাগ পরিষ্কার করতে কার্যকর।
- ধাতব বা প্লাস্টিকের কোনো অংশে ব্যবহার না করে শুধুমাত্র কাঁচের জন্য নিরাপদ।
- পরিস্কার করার পরে যন্ত্রপাতি ধুয়ে ভালোভাবে শুকাতে হয় যাতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক অবশিষ্ট না থাকে।
- এটি জৈব উপাদান অক্সিডাইজ করতে পারে, ফলে ক্ষতিকর জীবাণু বা ধ্বংসাবশেষও মুছে যায়।  

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

১২,৪৬৬.
ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের স্বীকৃতি স্বরূপ নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন-
  1. ক) জন বারডিন
  2. খ) ওয়াল্টার ব্রাটেইন
  3. গ) উইলিয়াম শকলি
  4. ঘ) উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালে বেল লাইব্রেরীতে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয় এবং এই আবিষ্কারের জন্য জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৪৬৭.
কোনটি তাপ সুপরিবাহী?
  1. তামা
  2. পশম
  3. কাঠ
  4. তুলা
সঠিক উত্তর:
তামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামা
ব্যাখ্যা
সুপরিবাহী পদার্থ: 
- যে সব পদার্থ খুব সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে তাকে তাপ সুপরিবাহী বলে।
যেমন- লোহা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, পানি ইত্যাদি।

কুপরিবাহী পদার্থ: 
- যে সব পদার্থ সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে না তাকে তাপ কুপরিবাহী পদার্থ বলে।
যেমন- তুলা, কাঠ, পশম, কাঁচ ইত্যাদি।

সূত্র: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
১২,৪৬৮.
ব্যাকটেরিয়ার নামকরণ করেন কে? 
  1. এহরেনবার্গ
  2. রবার্ট হুক
  3. লিউয়েন হুক
  4. লুই পাস্তুর
সঠিক উত্তর:
এহরেনবার্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এহরেনবার্গ
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। 
- তিনি এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। তাই তাকে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব। 
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪৬৯.
মঙ্গল গ্রহের কয়টি উপগ্রহ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৬২টি
  4. ৮৮টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
মঙ্গল (Mars): 
- খালি চোখে মঙ্গল গ্রহকে লালচে দেখায়।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার এবং পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় অর্ধেক।
- এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
- মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
- এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
- মঙ্গলে ফোবস ও ডিমোস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১২,৪৭০.
SI পদ্ধতিতে পদার্থের পরিমাণের একক -
  1. কিলোগ্রাম
  2. কেলভিন
  3. মোল
  4. ক্যান্ডেলা
সঠিক উত্তর:
মোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোল
ব্যাখ্যা
- বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের একক চালু থাকার ফলে বাস্তব ক্ষেত্রে বিশেষ অসুবিধা দেখা দেয়।
- এসকল অসুবিধা দূর করার জন্য ১৯৬০ সাল থেকে বিজ্ঞানীগণ বিশ্বব্যাপী একই ধরনের একক চালুর সিদ্ধান্ত নেন, একে এককের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি বা সংক্ষেপে এস আই (SI) একক বলে।
- কয়েকটি হলো- কিলোগ্রাম (kg), সেকেন্ড (s), মিটার (m), অ্যাম্পিয়ার (A), অ্যাম্পিয়ার (A), মোল (mol)।
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে ভরের একক হলো কিলোগ্রাম।
- মৌলিক ভৌত এককগুলো হলো—কিলোগ্রাম (kg, ভরের একক), সেকেন্ড (s, সময়ের একক), মিটার (m, দূরত্বের একক), অ্যাম্পিয়ার (A, বৈদ্যুতিক প্রবাহের একক), কেলভিন (K, তাপমাত্রার একক), মোল (mol, পদার্থের পরিমাণের একক) এবং ক্যান্ডেলা (cd, দীপন তীব্রতার একক)।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪৭১.
মহাজাগতিক রশ্মি বলতে কী বোঝায়? 
  1. চাঁদের আলোক
  2. সৌরশক্তির তেজস্ক্রিয় বিকিরণ
  3. মহাশূন্য থেকে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশকারী উচ্চ শক্তিসম্পন্ন কণাসমূহ
  4. বায়ুমণ্ডলে গঠিত গ্যাসীয় কণা
সঠিক উত্তর:
মহাশূন্য থেকে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশকারী উচ্চ শক্তিসম্পন্ন কণাসমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাশূন্য থেকে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশকারী উচ্চ শক্তিসম্পন্ন কণাসমূহ
ব্যাখ্যা
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays): 
- মহাজগতিক রশ্মি ইংরেজি হলো Cosmic rays. 
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বা Cosmic rays বলা হয়। 
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। 
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হলো মহাজাগতিক। 
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
১২,৪৭২.
নিচের কোন কাজে ক্লোরোফরম ব্যবহার করা হয়?
  1. চেতনানাশক হিসেবে
  2. পরীক্ষাগারে বিকারক হিসেবে
  3. রাবার নিষ্কাশনে জৈব দ্রাবক হিসেবে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ইথানল থেকে ক্লোরোফরম প্রস্তুতির মূলনীতি: 
- ইথানল, ব্লিচিং পাউডার ও পানির মিশ্রণকে পাতন করলে ক্লোরোফরম পাতিত তরল রূপে সংগৃহীত হয়। 
 -ব্লিচিং পাউডার ও পানি থেকে উৎপন্ন ক্লোরিন দ্বারা ইথানল প্রথমে জারিত হয়ে অ্যাসিটালডিহাইড বা ইথান্যাল উৎপন্ন করে এবং পরে ক্লোরিনেশন দ্বারা ক্লোরাল এবং শেষে ক্ষারীয় বিশ্লেষণের ফলে ক্লোরোফরম উৎপন্ন হয়। 
 

ক্লোরোফরম  ব্যবহার: 
১। চেতনানাশক হিসেবে ক্লোরোফরম ব্যবহার করা হয়। 
২। পরীক্ষাগারে বিকারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৩। ফাংগাসের বংশবৃদ্ধি রোধ, জৈবযৌগের সংশ্লেষণ এবং ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৪। চর্বি, তেল, মোম, রাবার নিষ্কাশনে জৈব দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪৭৩.
চর্মরোগ, একজিমা ইত্যাদি দেখা কোনটির অভাবে?
  1. ক) থায়ামিন
  2. খ) আয়োডিন
  3. গ) স্নেহ পদার্থ
  4. ঘ) আমিষ
সঠিক উত্তর:
গ) স্নেহ পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্নেহ পদার্থ
ব্যাখ্যা
স্নেহ পদার্থের অভাবে চর্মরোগ, একজিমা ইত্যাদি দেখা দেয়৷ ত্বক শুষ্ক এবং খসখসে হয়ে সৌন্দর্য নষ্ট হয়৷ দীর্ঘদীন স্নেহ পদার্থের অভাব হলে শরীরের সঞ্চিত প্রোটিন ক্ষয় হয় এবং দেহের ওজন কমে যায়।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৪৭৪.
ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভেতে ব্যবহার হওয়া রিসিভারের নাম কী?
  1. মাইক্রোফোন
  2. আলট্রাসাউন্ড ট্রান্সডিউসার
  3. জিওফোন 
  4. সিসমিক রিসিভার
সঠিক উত্তর:
জিওফোন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিওফোন 
ব্যাখ্যা

- ত্রিমাত্রিক (3D) সিসমিক সার্ভেতে মাটির নিচে প্রতিফলিত শব্দ তরঙ্গ বা কম্পন শনাক্ত করার জন্য প্রধানত জিওফোন (Geophone) ব্যবহার করা হয়। এটি যান্ত্রিক কম্পনকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে। 

শব্দের ব্যবহার: 
- শব্দের প্রচলিত ব্যবহারের কথা নিশ্চয়ই কাউকে আলাদা করে বলতে হবে না। 
যেমন- কথা বলা, গান শুনা, হৃৎস্পন্দন শোনা, যন্ত্রপাতির শব্দ শোনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে শব্দের ব্যবহার হয়। শব্দ ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিকভাবে নবজাতককে গর্ভের ভিতর থেকে দেখা সম্ভব; এই প্রক্রিয়াকে আলট্রাসনোগ্রাফি বলা হয়। 

১। ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভে (3D Seismic Survey): 
- মাটির নিচে গ্যাস বা তেল আছে কি না দেখার জন্য সিসমিক সার্ভে করা হয়। এটি করার জন্য মাটির খানিকটা নিচে ছোট বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, বিস্ফোরণের শব্দ মাটির নিচের বিভিন্ন স্তরে প্রতিফলিত হয়ে উপরে ফিরে আসে। 
- জিওফোন (Geophone) নামে বিশেষ এক ধরনের রিসিভারে সেই প্রতিফলিত তরঙ্গকে ধারণ (Detect) করা হয়। 
- সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে মাটির নিচের নিখুঁত ত্রিমাত্রিক ছবি বের করে, কোথায় গ্যাস বা কোথায় তেল আছে তা বের করা যায়। শব্দের উৎসটি কোথায় আছে এবং জিওফোনগুলো কোথায় আছে দুটিই জানা থাকার কারণে উৎস থেকে জিওফোনে শব্দ আসতে কতটুকু সময় লেগেছে জানতে পারলেই বিভিন্ন স্তরের দূরত্ব নিখুঁতভাবে বের করা যায়। 

২। আলট্রাসাউন্ড ক্লিনার: 
- ল্যাবরেটরিতে যখন ছোটখাটো যন্ত্রপাতি নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করতে হয়, তখন আলট্রাসাউন্ড ক্লিনার ব্যবহার করা হয়। এখানে কোনো একটি তরলে ছোটখাটো যন্ত্রপাতি ডুবিয়ে রেখে তার ভেতর আলট্রাসাউন্ড প্রবাহিত করা হয়, এবং তার কম্পনে যন্ত্রপাতির সব ময়লা বের হয়ে আসে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৪৭৫.
স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্যের কাজ কী? 
  1. রোগ প্রতিরোধ 
  2. দেহে তাপ এবং শক্তি উৎপাদন 
  3. কোষের গঠন 
  4. মলের পরিমাণ বৃদ্ধি 
সঠিক উত্তর:
দেহে তাপ এবং শক্তি উৎপাদন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেহে তাপ এবং শক্তি উৎপাদন 
ব্যাখ্যা

খাদ্যের প্রধান উপাদান ও তার উৎস: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। যেহেতু এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- অধিকাংশ খাদ্যে একাধিক খাদ্য উপাদান থাকে। 
- কোনো খাদ্যে যে উপাদানটি বেশি পরিমাণে থাকে, তাকে সেই উপাদানের খাদ্য হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(a) আমিষ: দেহের বৃদ্ধিসাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে। 
(b) শর্করা: দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
(c) স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্য: দেহে তাপ এবং শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
(d) খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন: রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
(e) খনিজ লবণ: বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
(f) পানি: দেহে পানি এবং তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- উপরে উল্লেখ করা খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। 
(g) খাদ্য আঁশ (Fibre) বা রাফেজ: রাফেজ পানি শোষণ করে, মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২,৪৭৬.
মানবদেহে কোন রক্তকণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি?
  1. অনুচক্রিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা
  3. লোহিত রক্তকণিকা
  4. প্লাজমা
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্তকণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা: 
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্তকণিকা রয়েছে। 
যথা- 
ক) লোহিত রক্তকণিকা: 
- লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক এক ধরনের উপাদান থাকে বলে রক্ত লাল দেখায়। 
- মানবদেহে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- মানুষের লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো। 
- পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির রক্তে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা প্রতি কিউবিক মিলিলিটারে প্রায় ৫০ লক্ষ। 
- পুরুষের তুলনায় মহিলাদের রক্তে লোহিত রক্তকণিকা কম থাকে। 
- তুলনামূলকভাবে শিশুদের দেহে রক্তকণিকার পরিমাণ বেশি থাকে। 
- মানুষের দেহে প্রতি ১২০ দিনে লোহিত রক্তকনিকা ধ্বংস হয়, আবার সমপরিমাণে তৈরিও হয়। 
- ব্যায়াম করলে লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যাও বেড়ে যায় এবং বেশি দিন বাঁচে। 

খ) শ্বেত রক্তকণিকা: 
- মানুষের শরীরে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা অনেক কম। 
- লাল অস্থিমজ্জা ও লসিকাগ্রন্থিতে শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি হয়। 
- এদের রং নেই কিন্তু নিউক্লিয়াস আছে। 
- প্রতি কিউবিক মিলিলিটারে ৫-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। 
- এরা সাধারণত ১২-১৩ দিন বেঁচে থাকে। 
- ব্যায়াম করলে এরা বেশি দিন বাঁচে এবং সংখ্যায় বেড়ে যায়। 
- শ্বেত রক্তকণিকা রক্তে প্রবেশকারী রোগজীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রক্ষা করে, ফলে শারীরিক সক্ষমতা মজবুত ও শক্তিশালী হয়। 

গ) অনুচক্রিকা: 
- অনুচক্রিকা আকারে ছোট, গোলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- প্রতি কিউবিক মিলিলিটারে প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার অণুচক্রিকা থাকে। 
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অনুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। 
- দেহের কোনো স্থানে ক্ষত হলে সেখানে ৩ মিনিটের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪৭৭.
ইনসুলিনের কাজ কী?
  1. গ্লুকোজ উৎপাদন হ্রাস করা
  2. গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তর করা
  3. প্যানক্রিয়াসকে রক্ষা করা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তর করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তর করা
ব্যাখ্যা
আমরা যখন কিছু খাই এটি গ্লুকোজে পরিনত হয়ে রক্তে আসে। প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নির্গত হয় যা রক্তের গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তর করে। কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন উৎপন্ন করতে পারে না বা শরীরের ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারেনা। যে কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমান বেড়ে যায়। মানুষের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক পরিমান ৪ - ৬ mmole/L।

[সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই]
১২,৪৭৮.
Which is not a semiconductor?
  1. Germanium
  2. Aluminum
  3. Gallium
  4. Silicon
  5. None of Above
সঠিক উত্তর:
Aluminum
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Aluminum
ব্যাখ্যা
- অ্যালুমিনিয়াম অর্ধপরিবাহী নয়।

অর্ধপরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে।
- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
- অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায় ।
- এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য ১.১ eV বা এর চেয়ে কম ।
- কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে ।

অন্যদিকে:
- অ্যালুমিনিয়াম সুপরিবাহী।
- যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে তাদেরকে পরিবাহী বলে।
- যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎপ্রবাহ চলতে পারে না তাদেরকে অপরিবাহী বলে।যেমন- কাচ, কাঠ, রাবার, পণ্ঢাস্টিক ইত্যাদি অপরিবাহী পদার্থ।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪৭৯.
নিচের কোনটি ফ্লোয়েম টিস্যু নয়?
  1. ক) ভেসেল
  2. খ) সীভ নল
  3. গ) সঙ্গী কোষ
  4. ঘ) বাস্ট তন্তু
সঠিক উত্তর:
ক) ভেসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভেসেল
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েম টিস্যু:
- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করাই এদের কাজ।
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। যথা- 
(A) সীভ নল, 
(B) সঙ্গী কোষ,
(C) ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং
(D) ফ্লোয়েম ফ্লাইবার বা বাস্ট তন্তু।
- এই ফ্লোয়েম টিস্যুর কাজ হলো- উদ্ভিদ দেহকে দৃঢ়তা প্রদান করে এবং কখনো কখনো খাদ্য পরিবহনে সহায়তা করে। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১২,৪৮০.
নিচের কোনটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকে না? 
  1. meson
  2. neutron
  3. proton
  4. electron
সঠিক উত্তর:
electron
উত্তর
সঠিক উত্তর:
electron
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন - 
১। ইলেকট্রন, 
২। প্রোটন ও 
৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- ইলেকট্রন (electron) নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪৮১.
কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদ দেহ থেকে পানি বের করে দিয়ে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত হয়?
  1. ব্যাপন 
  2. শ্বসন 
  3. বাষ্পীভবন 
  4. প্রস্বেদন 
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন 
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন: 
- যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের দেহের ভেতর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানির নির্গমন হয় তাকে প্রস্বেদন বলে।

• প্রস্বেদন ৩ প্রকার। যথা-
১) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন,
২) কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং
৩) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

প্রস্বেদনের গুরুত্বসমূহ: 
- প্রস্বেদনের কারণে উদ্ভিদ দেহ থেকে পানি বের করে দিয়ে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত হয়। 
- প্রস্বেদন কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে, ফলে উদ্ভিদ সহজে মূল দিয়ে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করতে পারে।
- প্রস্বেদনের কারণে উদ্ভিদদেহ ঠান্ডা থাকে এবং পাতায় আর্দ্রতা বজায় থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৪৮২.
পাললিক শিলার প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) স্তরীভূত
  2. খ) সুদৃঢ়
  3. গ) জীবাশ্মহীন
  4. ঘ) ভারী
সঠিক উত্তর:
ক) স্তরীভূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্তরীভূত
ব্যাখ্যা
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তাই পাললিক শিলা। 
- পলল বা তলানি থেকে গঠিত হয় বলে এরূপ শিলাকে পাললিক শিলা বলে।
-  এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়। পাললিক শিলা ভূ-ত্বকের মোট আয়তনের শতকরা ৫ ভাগ। 
- তবে মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের উন্মুক্ত অংশের প্রায় ৭৫ ভাগই পাললিক শিলায় গঠিত। 
- স্তরীভূত, জীবাশ্ম বিশিষ্ট, অকেলাসিত, তরঙ্গচিহ্ন ও কোমলতা এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- পাললিক শিলা তিন প্রকার । 
- মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পাললিক শিলা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
 
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম;  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪৮৩.
নিম্নলিখিত কোনটি মৌলিক রাশি হিসেবে গণ্য হয়?
  1. দীপন তীব্রতা
  2. বল
  3. কাজ
  4. তাপ
সঠিক উত্তর:
দীপন তীব্রতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীপন তীব্রতা
ব্যাখ্যা

• মৌলিক রাশি বা সাধারণ রাশি সেই ধরনের পরিমাণ যা অন্য কোনো রাশির সাহায্যে প্রকাশ করা যায় না। পদার্থবিজ্ঞানে রাশিগুলোকে মূলত দুই ধরনের হিসেবে দেখা হয়: মৌলিক (primary) এবং অনুমেয় (derived)। দেওয়া বিকল্পগুলোর মধ্যে দীপন তীব্রতা, বল, কাজ এবং তাপ বিবেচনা করলে দেখা যায়, দীপন তীব্রতা (luminous intensity) অন্য কোনো মৌলিক রাশির সমীকরণের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায় না। অন্যদিকে, বল, কাজ এবং তাপ সবগুলোই মৌলিক রাশির সমন্বয়ে তৈরি অনুমেয় রাশি। উদাহরণস্বরূপ, বলকে ভর ও ত্বরণের গুণফল হিসেবে লেখা যায়, কাজকে বল এবং স্থানচ্যুতি হিসেবে প্রকাশ করা যায়। 

- উত্তর: ক) দীপন তীব্রতা।


- বিশ্ব প্রকৃতির যা কিছু পরিামাপ করা যায় তাকে রাশি বলা হয়।
যেমন- একটি লোহার বলের ভর পরিমাপের করা যায়, ভর একটি রাশি। আবার কাপড়ের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করা যায় যেখানে দৈর্ঘ্য একটি রাশি।

মৌলিক রাশি:
- যে সকল রাশি পরিমাপ করার জন্য অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না, এ রাশিগুলোকে মৌলিক রাশি বলা হয়।
যেমন- সময় মাপতে অন্য কোন রাশির উপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সময় একটি মৌলিক রাশি।
- জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় বিজ্ঞানীরা পরিমাপের ক্ষেত্রে সাতটি রাশিকে মৌলিক রাশি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
যেমন- দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন তীব্রতা এবং পদার্থের পরিমাণ।

লব্ধ বা যৌগিক রাশি:
- এমন অনেক রাশি আছে যেগুলো মাপার জন্য অন্য রাশির দরকার হয়।
অর্থাৎ, যে সকল রাশি মৌলিক রাশির উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ মৌলিক রাশি থেকে পাওয়া যায়, তাদেরকে লব্ধ বা যৌগিক রাশি বলা হয়।
যেমন- বেগ পরিমাপের জন্য দূরত্ব এবং সময় এই রাশি দুটি জানার প্রয়োজন হয়। অতঃপর দূরত্বকে সময় দিয়ে ভাগ করে বেগের মান বের করতে হয়। এর থেকে বুঝা যায় যে, বেগ একটি লব্ধ বা যৌগিক রাশি।
- বেগ, ত্বরণ, কাজ, বল, তাপ, বিভব ইত্যাদি লব্ধ রাশির উদাহারণ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৪৮৪.
ব্রোঞ্জ হলো -
  1. তামা ও লোহার সংকর
  2. টিন ও দস্তার সংকর
  3. তামা ও টিনের সংকর
  4. লোহা ও দস্তার সংকর
সঠিক উত্তর:
তামা ও টিনের সংকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামা ও টিনের সংকর
ব্যাখ্যা
- সংকর ধাতু ব্রোঞ্জের উপাদান হলাে তামা ও টিন। 
- ২৫-১০% টিন ও ৭৫-৯০% কপার এর সমন্বয়ে এই সংকর ধাতুটি তৈরি। 
- ব্রোঞ্জ ধাতু কাঁসা নামেও বহুল পরিচিত। 
- সংকর ধাতু হলো একাধিক ধাতু বা একটি ধাতুর সাথে বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৪৮৫.
অক্সালিক এসিডের গলনাংক কত?
  1. ক) 0°C
  2. খ) 100°C
  3. গ) 121°C
  4. ঘ) 101°C
সঠিক উত্তর:
ঘ) 101°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 101°C
ব্যাখ্যা
- কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে উহার তরল অবস্থায় পরিণত করাকে গলন বলে ।
- যে তাপমাত্রায় কোন পদার্থের কঠিন ও তরল উভয় ভৌত অবস্থা একত্রে সহ-অবস্থান করে তাকে ঐ পদার্থের গলনাংক বলে ।
- বেনজয়িক এসিডের গলনাংক 121°C
- অক্সালিক এসিডের গলনাংক 101°C
প্রত্যেক বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় (±10°C পার্থক্যে) হঠাৎ গলে যায়, কিন্তু অবিশুদ্ধ পদার্থ ধীরে ধীরে কয়েক ডিগ্রী তাপমাত্রা ধরে গলে । কাজেই কঠিন জৈব যৌগের সুনির্দিষ্ট গলনাংক উহার বিশুদ্ধতার নিশ্চিত পরীক্ষা বলে মনে করা হয়।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১২,৪৮৬.
হোল কোন ধরনের আধান হিসেবে কাজ করে? 
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. নিরপেক্ষ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধনাত্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধনাত্মক
ব্যাখ্যা
হোল: 
- তাপীয় শক্তির জন্য ইলেকট্রন যখন কোনো সমযোজী বন্ধন ভেঙ্গে বের হয়ে আসে তখন ইলেকট্রনের এই অপসারণ সমযোজী বন্ধনে একটি শূন্য স্থান রেখে আসে, ইলেকট্রনের এই শূন্যতা বা অনুপস্থিতিকে হোল বলা হয়। 
- হোল ধনাত্মক আধান হিসেবে কাজ করে। 
- একটি হোলের চার্জ 1.6×10-19 C । 
- যখনই একটি ইলেকট্রন মুক্ত হয়, তখনই একটি হোলের সৃষ্টি হয়। 
- সুতরাং তাপীয় শক্তি হোল-ইলেকট্রন জোড় সৃষ্টি করে। 
- যতগুলো মুক্ত ইলেকট্রন সৃষ্টি হয় ততগুলোই হোলের সৃষ্টি হয়। 
- হোল হলো একটি ইলেকট্রনের অনুপস্থিতি। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪৮৭.
গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে কিসে পরিণত হয়?
  1. মার্বেল
  2. গ্রাফাইট
  3. কোয়ার্টজাইট
  4. নিস
সঠিক উত্তর:
নিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিস
ব্যাখ্যা
শিলা: 
- ভূত্বক যেসব উপাদান দ্বারা গঠিত তাদের সাধারণ নাম শিলা। 
- ভূতত্ত্ববিদগণের মতে দুই বা ততোধিক খনিজ দ্রব্যের সংমিশ্রণে এসব শিলার সৃষ্টি হয়। 
- ভূত্বক গঠনকারী সকল কঠিন ও কোমল পদার্থই শিলা। 
যেমন- নুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালি প্রভৃতি। 
- গঠনপ্রণালি অনুসারে শিলাকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- 
(১) আগ্নেয় শিলা, 
(২) পাললিক শিলা ও 
(৩) রূপান্তরিত শিলা। 

রূপান্তরিত শিলা: 
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচন্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে। 
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে। 
যেমন- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস এবং কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়। 
- রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই শিলা স্ফটিকযুক্ত, খুব কঠিন হয়; এতে জীবাশ্ম দেখা যায় না; কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৪৮৮.
কোনো পরমাণুর চতুর্থ কক্ষের ইলেকট্রন সংখ্যা-
  1. ৮টি
  2. ১৬টি
  3. ৩২টি
  4. ৬৪টি
সঠিক উত্তর:
৩২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩২টি
ব্যাখ্যা
- আমরা এখানে "চতুর্থ কক্ষ" বলতে বুঝি n = 4 শক্তিস্তর, অর্থাৎ প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা n = 4।

- একটি শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রনের সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় এই সূত্রে:
- সর্বোচ্চ ইলেকট্রন সংখ্যা=2n2  
- n = শক্তিস্তরের সংখ্যা (কক্ষ)।
- যখন n = 4, তখন:
- 2n2=2×42=2×16=32।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
১২,৪৮৯.
মানবদেহে হিমোগ্লোবিনের অভাবজনিত রোগ কোনটি? 
  1. মেরাসমাস
  2. স্কার্ভি
  3. রক্তশূন্যতা
  4. বেরিবেরি
সঠিক উত্তর:
রক্তশূন্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তশূন্যতা
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- জীবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য ভিটামিনের মতো খনিজ পদার্থ বা খনিজ লবণও খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- খনিজ পদার্থ প্রধানত কোষ গঠনে সাহায্য করে। 
- প্রাণীরা প্রধানত উদ্ভিজ্জ খাদ্য থেকে খনিজ পদার্থ পায়। 
- লৌহ (Fe) রক্তের একটি উপাদান যা খনিজ পদার্থ হিসেবে রক্তে থাকে। 
- প্রতি ১০০ ml রক্তে লৌহের পরিমাণ প্রায় ৫০ mg। 
- যকৃৎ, অস্থিমজ্জা, প্লীহা এবং লোহিত রক্তকণিকায় এটি সঞ্চিত থাকে। 
- লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে ফুলকপির পাতা, নটেশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম, বজরা ইত্যাদি। আর প্রাণিজ উৎস হচ্ছে  মাছ, মাংস, ডিম, যকৃৎ ইত্যাদি। 
- লৌহের প্রধান কাজ হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করা। 
- আর হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে দেহে 'রক্তশূন্যতা' রোগ দেখা দেয়। 

রক্তশূন্যতা রোগের কিছু লক্ষণ হলো: 
- চোখ ফ্যাকাসে হওয়া, 
- হাত-পা ফোলা, 
- দুর্বলতা, 
- মাথা ঘোরা, 
- বুক ধরফড় করা ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,৪৯০.
বংশধারা বহনকারী জিন অবস্থান করে-
  1. ক) ক্রোমোজোমে
  2. খ) লাইসোজোমে
  3. গ) রাইবোজোমে
  4. ঘ) এন্ডোপ্লাজমে
সঠিক উত্তর:
ক) ক্রোমোজোমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্রোমোজোমে
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোমের কাজ হলো বংশপরম্পরায় বৈশিষ্ট্য বহন করা যা ক্রোমোজোমের মধ্যে অবস্থিত জিনের কারণে হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
১২,৪৯১.
পরীক্ষাগারে উৎপাদিত প্রথম জৈব যৌগ কোনটি?
  1. ক) অ্যালকোহল
  2. খ) ইথানল
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) পাইরিন
সঠিক উত্তর:
গ) ইউরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইউরিয়া
ব্যাখ্যা

- ১৮১৫ সালে বিজ্ঞানী বার্জেলিয়াস প্রস্তাব করেন যে, জৈব যৌগসমূহ কেবল সজীব উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহে এক রহস্যময় প্রাণশক্তির প্রভাবে উৎপন্ন হয়ে থাকে। তাই একে পরীক্ষাগারে উৎপন্ন করা সম্ভব নয়। একে প্রাণশক্তি মতবাদ বলা হয়। তখন সব বিজ্ঞানী এ মতবাদ গ্রহণ করেন।
- ১৮২৮ সালে বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক উহলার পরীক্ষাগারে অজৈব অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড লেড সায়ানেট দ্রবণের বিক্রিয়া ঘটিয়ে আকস্মিকভাবে পরীক্ষাগারে ইউরিয়া প্রস্তুত করেন।
- ইউরিয়া হলো প্রথম জৈব যৌগ যা পরীক্ষাগারে উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এজন্য বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক উহলারকে জৈব রসায়নের জনক বলা হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১২,৪৯২.
অপটিক্যাল ফাইবারে আলো পরিবহনের মূল নীতি কী?
  1. প্রতিফলন
  2. প্রতিসরণ
  3. পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  4. বিচ্ছুরণ
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
ব্যাখ্যা

অপটিক্যাল ফাইবারে আলো পরিবহনের মূল নীতি হচ্ছে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন।

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন:
- আলোক রশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে সংকট কোণের চেয়ে বড় মানের কোণে (θc) আপতিত হয় তখন প্রতিসরণের পরিবর্তে আলোক রশ্মি সম্পূর্ণরূপে প্রথম মাধ্যমের অভ্যন্তরে প্রতিফলনের সূত্রানুযায়ী প্রতিফলিত হয়। এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।

• অপটিক্যাল ফাইবার (Optical Fiber):
অপটিক্যাল ফাইবার হলো খুব সরু ও নমনীয় কাঁচ বা প্লাস্টিকের তন্তু, যার মাধ্যমে আলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবাহিত করা যায়।

বৈশিষ্ট্য:
- এটি খুব সরু ও নমনীয় কাঁচ তন্তু দিয়ে তৈরি।
- এর মাধ্যমে আলো পরিবহন করা হয়।
- এতে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) ঘটে।
- এতে সাধারণত দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত (Infrared) রশ্মি ব্যবহার করা হয়।

• ব্যবহার:
- টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থায় দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য।
- এন্ডোস্কোপি চিকিৎসায় রোগীর পাকস্থলীর ভিতরের অংশ দেখার জন্য।
- বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা যন্ত্রে আলো পরিবহনের কাজে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী। পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২,৪৯৩.
দেহের প্রতিরক্ষণ ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে-
  1. ক) রক্তরস
  2. খ) শ্বেতকণিকা
  3. গ) অনুচক্রিকা
  4. ঘ) লোহিত কণিকা
সঠিক উত্তর:
খ) শ্বেতকণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শ্বেতকণিকা
ব্যাখ্যা
দেহের প্রতিরক্ষন ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে শ্বেতকণিকা। এরা দেহের আকার পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাগোসাইটসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে। অন্যদিকে অনুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং লোহিত রক্ত কণিকা অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে।
১২,৪৯৪.
সাবান তৈরির সময় কোন যৌগটি উপজাত হিসেবে উৎপন্ন হয়?
  1. ইথানল
  2. অ্যাসিটিক অ্যাসিড
  3. গ্লিসারিন
  4. সোডিয়াম ক্লোরাইড
সঠিক উত্তর:
গ্লিসারিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লিসারিন
ব্যাখ্যা

সাবান তৈরির উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।

• সাবান:
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK)।
- এর রাসায়নিক নাম হলো সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa)।
- সাবানের আয়নিক গ্রুপ হলো COO-Na+
- সাবান তৈরি করা হয় চর্বি এবং ক্ষার থেকে।
- সাবান তৈরির উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়

উৎস: রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

১২,৪৯৫.
ড্রোন কি?
  1. ক) চালকবিহীন বিমান
  2. খ) একটি পারমাণবিক বোমা
  3. গ) গেরিলা সংগঠন
  4. ঘ) সাবমেরিন
সঠিক উত্তর:
ক) চালকবিহীন বিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চালকবিহীন বিমান
ব্যাখ্যা
The Oxford Pocket Dictionary of Current English অনুসারে,
Drone - A remote-controlled pilotless aircraft or missile.

বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে,
Drone -
১) পুং মৌমাছি।
২) পরমুখাপেক্ষী; আলসে; নিষ্কর্মা লোক।
৩) [countable noun] একঘেয়ে, ক্লান্তিকর বক্তা বা বক্তৃতা।
৪) রেডিও নিয়ন্ত্রিত চালকহীন বিমান বা নৌযান।
১২,৪৯৬.
প্রাকৃতিক ভূগোলের কোন শাখা অশ্মমন্ডল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) জলবায়ুবিদ্যা
  2. খ) ভূমিরূপবিদ্যা
  3. গ) সমুদ্রবিদ্যায়
  4. ঘ) জীব ভূগোলে
সঠিক উত্তর:
খ) ভূমিরূপবিদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভূমিরূপবিদ্যা
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক ভূগোল
- ভূগোল বিষয়ের যে অংশ পাঠ করলে পৃথিবীর জন্ম, ভূ-প্রকৃতি অর্থাৎ পাহাড়, পর্বত, বারিমন্ডল, বায়ুমন্ডল প্রভৃতি বিষয় ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা যায় তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে।
- প্রাকৃতিক ভূগোলের প্রধান প্রকৃতি হলো- প্রকৃতির সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়কে প্রাকৃতিক ভূগোল এককভাবে প্রকাশ করে।
- তাই প্রাকৃতিক ভূগোলের পরিধিও ব্যাপক এবং ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক ভূগোলের পরিধি আরো অধিক বিস্তৃত হবে।

১. ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology): প্রাকৃতিক ভূগোলের এই শাখায় পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, পৃথিবীর উৎপত্তি, ভূ-আলোড়ন বা ভূ-আন্দোলন, বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ, ভূ-তাত্ত্বিক সময় মাপনি, ভূ-ত্বকের পরিবর্তন, পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদ, খনিজ, শিলা প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়।
- মূলত অশ্মমন্ডল বা ভূ-ত্বকের সকল বিষয় ভূমিরূপবিদ্যার অন্তর্গত
২. জলবায়ুবিদ্যা (Climatology): এই শাখা বায়ু, বায়ুস্তর, বায়ুর গঠন, বায়ুর ধর্ম, বায়ুর তাপ ও তাপমাত্ৰা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুপুঞ্জ, বায়ুপ্রাচীর, ঘূর্ণিবাত, প্রতীপ ঘূর্ণিবাত, বায়ুমন্ডলের জলীয়বাষ্প, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা করে। সংক্ষেপে বায়ুমন্ডল ও বায়ুমন্ডলের সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রদান করে ।
৩. সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography): বারিমন্ডলের প্রধান উপাদান সাগর, মহাসাগরসমূহের উৎপত্তি, বিন্যাস, বিস্তরণ, সমুদ্রস্রোত, সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ, জোয়ার-ভাঁটা, মানব জীবনের উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব ও বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে সমুদ্রপথে যোগাযোগ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ।
8. মৃত্তিকা ভূগোল (Soil Geography): মৃত্তিকা ভূগোল ভূ-ত্বকের বা অশ্মমন্ডলের উপরিভাগের অংশ অর্থাৎ মৃত্তিকার গঠন, উপাদান, বণ্টন ও বিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করে ।
৫. জীব ভূগোল (Biogeography): উদ্ভিদ বাস্তব্যবিদ্যা, উদ্ভিদের ক্রমবিকাশ, পরিবেশের উপর উদ্ভিদের প্রভাব প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ।
৬. প্রাণি ভূগোল (Zoogeography): এ শাখা পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ ও প্রাণিজগতের বণ্টন নিয়ে আলোচনা করে।
৭. গাণিতিক ভূগোল (Mathematical Geography): গাণিতিক ভূগোলে জ্যোতিষ্কমন্ডলী, সৌরজগৎ, পৃথিবী ও এর আকৃতি, গতি, আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা ও সময়, আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির ফলাফল প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪৯৭.
কোন তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয়?
  1. 4° C
  2. 4° K
  3. 25° C
  4. 100° C
সঠিক উত্তর:
4° C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
4° C
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব (Density): 
- একই আয়তনের সকল পদার্থের ভর সমান নয়, তাই পদার্থের একক আয়তনের ভরকে তার ঘনত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
যেমন- দশ একক আয়তনের বস্তুর ভর বিশ একক হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব দুই একক। 
অর্থাৎ, বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে।
গাণিতিকভাবে বলা হয়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V  । 
এখানে, বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- যেহেতু ভরের একক কিলোগ্রাম (kg) এবং আয়তনের একক ঘনমিটার (m3), তাই ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার (সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)।
- ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার (সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা g/cm3) বহুল প্রচলিত, এটি S.I এককের উপগুণিতক। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। ঘনত্বের মাত্রা, [ρ] = ML-3  । 

- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়।
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়।
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়, তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1gm/cc ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,৪৯৮.
সেলসিয়াস স্কেলের মৌলিক ব্যবধান কত?
  1. ক) ০°
  2. খ) ৫০°
  3. গ) ১০০°
  4. ঘ) ১৮০°
সঠিক উত্তর:
গ) ১০০°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০০°
ব্যাখ্যা
সেলসিয়াস স্কেলে নিম্ন স্থিরাঙ্ককে ০ ডিগ্রি (০°) এবং উর্ধ্ব স্থিরাঙ্ককে ১০০ ডিগ্রি (১০০°) ধরা হয়। মৌলিক ব্যবধান (১০০-০)° = ১০০°। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
১২,৪৯৯.
অর্ধপরিবাহী পদার্থের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. পরমশূন্য তাপমাত্রায় এরা অন্তরক
  2. কোনো অপদ্রব্য মিশালে এর তড়িৎ পরিবাহকত্ব বৃদ্ধি পায়
  3. নির্দিষ্ট তাপমাত্রা পাল্লা পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে তড়িৎ পরিবাহকত্ব হ্রাস পায়
  4. সিলিকন একটি অর্ধপরিবাহী পদার্থ
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্ট তাপমাত্রা পাল্লা পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে তড়িৎ পরিবাহকত্ব হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্ট তাপমাত্রা পাল্লা পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে তড়িৎ পরিবাহকত্ব হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
অর্ধপরিবাহী পদার্থের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো,
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় এরা অন্তরক।
- কোনো অপদ্রব্য মিশালে এর তড়িৎ পরিবাহকত্ব বৃদ্ধি পায়।
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রা পাল্লা পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে তড়িৎ পরিবাহকত্ব বৃদ্ধি পায় ও রোধ হ্রাস পায়।
- দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী বিভবপার্থক্য বৃদ্ধি করলে তড়িৎ পরিবাহকত্ব বৃদ্ধি পায়।
- সিলিকন, জার্মেনিয়াম হলো অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১২,৫০০.
কোন আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি?
  1. কমলা
  2. লাল
  3. নীল
  4. বেগুনি
সঠিক উত্তর:
লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল
ব্যাখ্যা
আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য:
- দৃশ্যমান আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম: বেগুনি < নীল < আসমানী < সবুজ < হলুদ < কমলা < লাল।
- আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে তার বিক্ষেপণ বেশি হয়।
- আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে তার বিক্ষেপণ কম হয়।
- লাল রঙের আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- লাল রঙের আলাের বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম।
- বেগুনি আলোর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশী।

তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।