বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

মোট প্রশ্ন১,০৯৬এই পাতা৯০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

PrepBank · পাতা ১১ / ১১ · ১,০০১১,০৯০ / ১,০৯৬

১,০০১.
ট্রপোমন্ডল বায়ুমন্ডলের ওজনের শতকরা কত ভাগ বহন করে?
  1. ক) ৬০
  2. খ) ৬৫
  3. গ) ৭০
  4. ঘ) ৭৫
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭৫
ব্যাখ্যা
ট্রপোমন্ডল:
- ট্রপোমন্ডল ভূ-পৃষ্ঠ হতে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমাকে ট্রপোপজ বলে যার গভীরতা অনেক কম।
- এই স্তরে উচ্চতা যত বাড়তে থাকে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা ততই কমতে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলে সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যায়।
- ট্রপোমন্ডলের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায় ও নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায়।
- এ স্তরেই আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত সকল প্রক্রিয়া সাধারণত ঘটে।
- ট্রপোমন্ডলে ধূলিকণা থাকে এবং বায়ুমন্ডলের ওজোনের শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০০২.
নিচের কোনটি জলবায়ুর নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত নয়?
  1. দ্রাঘিমারেখা
  2. সমুদ্রস্রোত
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. অক্ষাংশ
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমারেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমারেখা
ব্যাখ্যা
- দ্রাঘিমারেখা জলবায়ুর নিয়ামক নয়। 

জলবায়ুর নিয়ামক:

- সময় প্রবাহ জলবায়ুর নিয়ামক নয়।
- কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরে গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
- আবহাওয়া অফিস গুলোতে অনেকদিনের আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান গুলোকে পর্যবেক্ষণ করে জলবায়ু সম্পর্কে ধারনা করা হয়।
- পৃথিবীর সব স্থানের জলবায়ু একধরণের হয় না।
- কিছু ভৌগৌলিক কারণে স্থানভেদে জলবায়ুর পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এই বিষয় গুলোকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।

জলবায়ুর নিয়ামকগুলো হল -
- অক্ষাংশ, 
- উচ্চতা, 
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব, 
- বায়ুপ্রবাহ, 
- সমুদ্রস্রোত, 
- পর্বতের অবস্থান, 
- ভূমির ঢাল, 
- মৃত্তিকার গঠন, 
- বনভূমির অবস্থান ইত্যাদি জলবায়ুর নিয়ামক।

সূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০৩.
অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল-২ পরিচালিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৭০ সালে
  2. খ) ১৯৯১ সালে
  3. গ) ২০০৭ সালে
  4. ঘ) ২০১৩ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ২০০৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা
- ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার অংশ হিসেবে মার্কিন মেরিন কর্পস অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল-২ পরিচালনা করে।
- এতে মার্কিন রণতরী ইউএসএস তারাওয়া ও ইউএসএস কারসার্জ অংশ নেয়। এই অপারেশনে ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়।
- এর আগে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময় মার্কিন মেরিন কর্পস অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল-১ পরিচালনা করে।
(তথ্যসূত্র: গ্লোবাল সিকিউরিটি সংস্থা ওয়েবসাইট)
১,০০৪.
পাট চাষের ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. পাট চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী এটেল মাটি
  2. পাট চাষের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা ২৫° থেকে ৩৫° সেলসিয়াস
  3. যে জমিতে বর্ষার শেষের দিকে পলি পড়ে সে জমি পাট চাষের জন্য উত্তম
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যে জমিতে বর্ষার শেষের দিকে পলি পড়ে সে জমি পাট চাষের জন্য উত্তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে জমিতে বর্ষার শেষের দিকে পলি পড়ে সে জমি পাট চাষের জন্য উত্তম
ব্যাখ্যা
• পাট চাষ:
- উর্বর দো-আঁশ মাটি পাট চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
- তবে বেলে ও এঁটেল মাটি ছাড়া সব জমিতেই পাট চাষ করা যায়।
- তবে যে জমিতে বর্ষার শেষের দিকে পলি পড়ে সে জমি পাট চাষের জন্য উত্তম।
- তোষা পাট উঁচু জমিতে এবং দেশী পাট উঁচু ও নিচু দু'ধরনের জমিতেই চাষ করা যায়।
- পাট চাষের জন্যে উপযোগী তাপমাত্রা ১৮° থেকে ৩৩° সেলসিয়াস।
- পাট আঁশ প্রধানত দুটি প্রজাতি, সাদাপাট (Corchorus capsularis) ও তোষাপাট (Corchorus olitorius) থেকে উৎপন্ন হয়।
- ৫.০-৮.৬ পর্যন্ত অম্লমানের (pH) মাটিতে পাট ফলানো যায়।
- বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত ২৭টি উচ্চফলনশীল ও উন্নত মানের পাটের জাত উদ্ভাবন করেছে।
- ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, যশোর, ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জামালপুর অঞ্চলে পাট চাষের পরিমান বেশি।
- পাটের জিনোম আবিষ্কার করেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম।

উৎস:
১. বাংলাপিডিয়া।
২. কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০৫.
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান প্রভাব কী?
  1. মরুকরণ
  2. লবণাক্ততা বৃদ্ধি 
  3. বন্যা হ্রাস
  4. চর জাগা
সঠিক উত্তর:
লবণাক্ততা বৃদ্ধি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লবণাক্ততা বৃদ্ধি 
ব্যাখ্যা

• ফসল উৎপাদনে লবণাক্ততার প্রভাব:
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান প্রভাব লবণাক্ততা বৃদ্ধি।

- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততার প্রভাব দেখা যায়।
- ঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং প্রবল জোয়ারের ফলে সৃষ্ট বন্যায় সরাসরি লবণাক্ত পানি দিয়ে জমি ডুবে যাওয়ায় মাটিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে যায়। - আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির বাষ্পীভবনের মাধ্যমে মাটির নিচের লবণ উপরে উঠে আসে।
- ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়।
১৯৭৩ সালে ৮.৩৩ লাখ হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততায় আক্রান্ত ছিল।
২০০০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০.২০ লাখ হেক্টরে।
বর্তমানে লবণাক্ততায় আক্রান্ত জমির পরিমাণ ১০.৫৬ লাখ হেক্টর।
অর্থাৎ প্রায় ১৬.৮৯ লাখ হেক্টর উপকূলীয় জমির ৬২.৫২% বর্তমানে বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততায় আক্রান্ত।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।

১,০০৬.
মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উত্তর ভারত মহাসাগরের উত্তর উপকূল বরাবর যে স্রোত প্রবাহিত হয় তার নাম -
  1. আগুলহাস স্রোত
  2. মাদাগাস্কার স্রোত
  3. মৌসুমী স্রোত
  4. মোজাম্বিক স্রোত
সঠিক উত্তর:
মৌসুমী স্রোত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌসুমী স্রোত
ব্যাখ্যা
• মৌসুমী স্রোত (Monsoon Current):
- উত্তর ভারত মহাসাগরের উত্তর উপকূল বরাবর যে স্রোত মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রবাহিত হয় তাকে মৌসুমী স্রোত বলে।
- গ্রীষ্মকালে এটি পশ্চিম হতে পূর্বদিকে এবং শীতকালে একই পথে বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়।
- তাই মৌসুমী স্রোত দু’প্রকার, যেমন- গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন মৌসুমী স্রোত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০৭.
বায়ুমণ্ডলের সর্বশেষ স্তর হলো -
  1. ক) এক্সোমন্ডল
  2. খ) মেসোমন্ডল
  3. গ) স্ট্রাটোমন্ডল
  4. ঘ) ট্রপোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
ক) এক্সোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা
এক্সোমন্ডল (Exosphere):
- বায়ুমণ্ডলের সর্বশেষ স্তর হলো এক্সোমন্ডল।
- থার্মোস্ফিয়ার বা তাপমন্ডলের উপরে প্রায় ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত এই এক্সোমন্ডলের বিস্তার।
- এই স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- এক্সোমন্ডলের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
ক) এক্সোমন্ডলের পরই বিষমমন্ডল শুরু হয়।
খ) আয়নমন্ডলের বহি:সীমাই হলো এক্সোমণ্ডল যেখানে হাইড্রোজেন গ্যাসের উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায় ।
গ) এ মন্ডলের মধ্যে বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদান যেমন খুব সামান্য পরিমানে আর্গন, হিলিয়াম, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন পাওয়া যায়।
- এই মন্ডলে মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলো সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০০৮.
সামুদ্রিক সমগভীরতা রেখাকে কী বলে?
  1. আইসোবাথ
  2. আইসোহেলাইন
  3. আইসোবার
  4. আইসোহাইট
সঠিক উত্তর:
আইসোবাথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোবাথ
ব্যাখ্যা
গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাল্পনিক রেখা:
- আইসোবার: ভূপৃষ্ঠের সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা।
- আইসোহেলাইন: সমুদ্রের সম লবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানের সংযোগকারী রেখা।
- আইসোথার্ম: ভূপৃষ্ঠের সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা।
- আইসোহাইট: ভূপৃষ্ঠের সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা।
- আইসোবাথ: সামুদ্রিক সমগভীরতা রেখা।
- আইসোজিওথার্ম: ভূগর্ভস্থ সমোষ্ণ রেখা।
- আইসোশেশমল: সমভূমিকম্প তীব্রতা রেখা।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটানিকা।
১,০০৯.
এল নিনো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আবহাওয়ায় কীভাবে প্রভাব ফেলে?
  1. শীতকালীন তাপমাত্রা বৃদ্ধি
  2. বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে
  3. গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা কমায়
  4. ঘূর্ণিঝড় বৃদ্ধি পায়
সঠিক উত্তর:
বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা

◉ এল নিনো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আবহাওয়ায় বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে।

- বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা কমানোর কোনো সরাসরি সম্পর্ক এল নিনোর সাথে পাওয়া যায় না।
- এল নিনো সাধারণত বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বাড়ায় না, বরং কিছু ক্ষেত্রে এটি ঘূর্ণিঝড়ের ফ্রিকোয়েন্সি বা তীব্রতা কমাতে পারে। - এল নিনো সাধারণত শীতকালীন তাপমাত্রার উপর সরাসরি বা উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। 
- এর প্রভাব বেশি দেখা যায় বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাত এবং সামগ্রিক জলবায়ু প্যাটার্নে। 
- শীতকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ এল নিনোর সাথে সরাসরি যুক্ত নয় এই অঞ্চলে।
 
• এল নিনো:
- এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার একটি জলবায়ু ঘটনা,
- যা বিশ্বব্যাপী এবং আঞ্চলিক আবহাওয়ার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। 
- বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আবহাওয়ার ক্ষেত্রে এল নিনোর প্রভাব নিম্নরূপে বিশ্লেষণ করা যায়:
- এল নিনোর সময় উষ্ণ সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবং বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি ঘূর্ণিঝড় গঠনের জন্য অনুকূল পরিবেশ কমিয়ে দেয়। 
- তবে, এটি সম্পূর্ণরূপে ঘূর্ণিঝড় বন্ধ করে না; শুধু তাদের ধরন বা সময় পরিবর্তন করতে পারে।
∴ সুতরাং সঠিত উত্তর  বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে।

উৎস: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এবং NOAA ওয়েবসাইট।

১,০১০.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে ওজোন গ্যাসের আধিক্য আছে?
  1. ক) স্ট্রাটোমন্ডল
  2. খ) ট্রপোমন্ডল
  3. গ) মেসোমন্ডল
  4. ঘ) আয়নমন্ডল
সঠিক উত্তর:
ক) স্ট্রাটোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্ট্রাটোমন্ডল
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমন্ডল
ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিঃমিঃ পর্যন্ত স্ট্র্যাটোমন্ডল নামে পরিচিত।
- এই স্তরে ওজোন গ্যাসের আধিক্য রয়েছে।
- এই স্তরে বায়ুতে অতি সুক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
- ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বই।
১,০১১.
বিশ্বের বৃহত্তম নদী অববাহিকা 'আমাজান' কোন জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. ক) ক্রান্তীয় মহাদেশীয় জলবায়ু অঞ্চল
  2. খ) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল
  3. গ) ক্রান্তীয় সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল
  4. ঘ) মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
খ) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল
ব্যাখ্যা
- নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার উভয় পার্শ্বে ৫° উত্তর ও দক্ষিন অক্ষাংশের মধ্যে যে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করে তাকে নিরক্ষীয় জলবায়ু বলে। 
- আর পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে এ জলবায়ু বিরাজ করে তাকে নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল বলে। 
- বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় এ জলবায়ু দেখা গেলেও আমাজান নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এ জলবায়ুর প্রভাব বেশী দেখা যায় বলে একে আমাজানীয় জলবায়ুও বলে। 
- সাধারনত: নিরক্ষ রেখার উভয় আর্শ্বে পৃথিবীর মধ্যভাগের প্রায় ১০০০ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত রয়েছে ।
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাণিজ্যিক ভূগোল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,০১২.
জলবায়ু পরিবর্তনে 'অভিযোজন' বলতে বুঝায় -
  1. ক) জলবায়ু পরিবর্তনের তহবিল সংগ্রহ
  2. খ) জলবায়ু পরিবর্তনের হার কমানো
  3. গ) জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো
  4. ঘ) কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করার জন্য প্রধান দুইটি কৌশল অবলম্বন করা হয়। যথা:
১। মিটিগেশন (Mitigation)
২। অভিযোজন কৌশল (Adaptation Strategy)

• মিটিগেশন (Mitigation):
- মিটিগেশন হলো জলবায়ু পরিবর্তনের হার কমানো।
- জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাইস তাপমাত্রা কমানোর জন্য কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো গ্যাসসমূহের (CO2, CH4, CFC) বৃদ্ধি যা বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা ধরে রেখে গ্রিন হাউসের ন্যায় করার দরুন বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে বায়ুমণ্ডলের জীবাণুজ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি ইত্যাদির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
- বনায়ন করতে উৎসাহিত করতে হবে। বন নিধন হ্রাস করতে হবে।

• অভিযোজন (Adaptation Strategy):
- পরিবর্তিত জলবায়ুতে বেঁচে থাকার জন্য গৃহীত সকল ধরনের কর্মকাণ্ড হলো অভিযোজন বা জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো

তথ্যসূত্র:- পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৩.
বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টিপাত সাধারণত যে অঞ্চলে দেখা যায় -
  1. মেরু অঞ্চলে
  2. নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  3. পার্বত্য অঞ্চলে
  4. নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি:
- শীতল ও উষ্ণ বায়ু মুখোমুখি উপস্থিত হলে উষ্ণ বায়ু এবং শীতল বায়ু একে অপরের সঙ্গে মিশে না গিয়ে তাদের মধ্যবর্তী এলাকায় অদৃশ্য বায়ুপ্রাচীরের (Front) সৃষ্টি করে।
- বায়ুপ্রাচীর সংলগ্ন এলাকায় শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় ফলে শিশিরাঙ্কের সৃষ্টি হয়।
- ফলে উভয় বায়ুর সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটে, একে বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি বলে।
- বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টিপাত সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,০১৪.
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করার জন্য প্রধানত কোন দুইটি কৌশল অবলম্বন করা হয়?
  1. ক) মিটিগেশন
  2. খ) অভিযোজন কৌশল
  3. গ) অভিবাসন
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করার জন্য প্রধান দুইটি কৌশল অবলম্বন করা হয়। যথা - 
১। মিটিগেশন (Mitigation) 
২। অভিযোজন কৌশল (Adaptation Strategy)

১। মিটিগেশন (Mitigation): মিটিগেশন হলো জলবায়ু পরিবর্তনের হার কমানো। জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাইস গ্যাসসমূহের (CO2, CH4, CFC) বৃদ্ধি যা বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা ধরে রেখে গ্রিন হাউসের ন্যায় করার দরুন বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমানোর জন্য কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাণুজ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি ইত্যাদির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বনায়ন করতে উৎসাহিত করতে হবে। বন নিধন হ্রাস করতে হবে।
২। অভিযোজন (Adaptation Strategy): পরিবর্তিত জলবায়ুতে বেঁচে থাকার জন্য গৃহীত সকল ধরনের কর্মকাণ্ড হলো অভিযোজন
বা জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো।     

তথ্যসূত্র:- পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৫.
বিশ্বব্যাংকের জলবায়ু ঝুঁকি রিপোর্ট অনুযায়ী,২০৪০-২০৫৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা কত হতে পারে?
  1. ২৫.৭১°C
  2. ২৬.০৩°C
  3. ২৬.৫৯°C
  4. ২৭.৩০°C
সঠিক উত্তর:
২৬.৫৯°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬.৫৯°C
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশ একটি আর্দ্র, উষ্ণ, মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চল, যেখানে গড় তাপমাত্রা ২৫.৭১°C এবং বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ২,১৭৪.১০ মিমি।
- দেশটির জলবায়ু এল নিনো সাউদার্ন অসসিলেশন (ENSO) এবং ইন্ডিয়ান ওশান ডিপোল (IOD) দ্বারা প্রভাবিত হয়।
- ১৯৭১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা প্রতি দশকে ০.১৬°C বৃদ্ধি পায়।

প্রক্ষেপিত তাপমাত্রা: SSP3-7.0 মডেলের অধীনে, ২০২০-২০৩৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা ০.৪১°C বৃদ্ধি পেয়ে ২৬.০৩°C এবং ২০৪০-২০৫৯ সাল পর্যন্ত ০.৮৯°C বৃদ্ধি পেয়ে ২৬.৫৯°C হতে পারে।

তীব্র তাপমাত্রার ঝুঁকি: মধ্য শতাব্দী নাগাদ বাংলাদেশে তাপমাত্রার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতার কারণে তাপমাত্রা অনুভূত হবে আরো বেশি। ২০৪০-২০৫৯ সালের মধ্যে ৩৫°C তাপমাত্রা অতিক্রম করা দিনগুলির সংখ্যা বছরে প্রায় ১৩৩.৪৭ দিন হতে পারে।

আপেক্ষিক বৃষ্টিপাত: ১৯৭১-২০২০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মৌসুমে এবং অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগগুলো বিশেষ করে বসন্তকালে শুষ্ক হয়ে পড়েছে, এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগগুলো বছরের অধিকাংশ সময় বৃষ্টিপাতের মুখে রয়েছে।

প্রক্ষেপিত বৃষ্টিপাত: SSP3-7.0 মডেলের অধীনে ২০৪০-২০৫৯ সালের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভাগগুলোতে বসন্তকালে বৃষ্টিপাত কমবে, এবং উত্তরাঞ্চলীয় বিভাগগুলোতে গ্রীষ্ম মৌসুমে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাবে।

জলবায়ু সম্পর্কিত বিপদ: বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বন্যা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষয় বাড়বে। এছাড়া, দেশটির প্রধান নদী সিস্টেমে বন্যার প্রাবল্য এবং উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে খরা বাড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের সিসমিক ঝুঁকিকে আরও বাড়াতে পারে, বিশেষ করে উত্তর ও পূর্ব সীমান্ত এলাকায় ভূমিকম্প এবং ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।

উৎস: Bangladesh Climate Risk Country Profile, World Bank Climate Change Portal.
১,০১৬.
সূর্য হতে আগত অতিবেগুনি রশ্মি বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে শুষে নেয়?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. মেসোমন্ডল
  3. স্ট্রাটোমন্ডল
  4. এক্সোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাটোমন্ডল
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমন্ডল:
- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তর হলো স্ট্রাটোমন্ডল বা স্ট্রাটোস্ফিয়ার যা উর্ধ্বে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি এমনই একটি স্তর যা জলীয়বাষ্পবিহীন।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে বলা হয় স্ট্রাটোবিরতি বা স্ট্রাটোপস।
- স্ট্রাটোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ অনেক কম।
- এই স্তরেই ওজোন (O₃) গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকায় সূর্য হতে আগত অতিবেগুনি রশ্মি এই ওজোন স্তর শুষে নেয়।
- এই স্তরের নিম্নে উষ্ণতার তেমন পরিবর্তন না হলেও ১০ কিলোমিটার থেকে ধীরে ধীরে উষ্ণতা বাড়তে বা ওজোনোস্ফিয়ার থাকে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধি উচ্চ স্ট্রাটোমন্ডলে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
- পৃথিবীতে প্রাণিজগতের বসবাসের উপকারী পরিবেশ তৈরিতে এই স্তরের ভূমিকা রয়েছে। এই স্তরেই সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করে নেয়া হয়।
- স্ট্রাটোমন্ডলে ধূলিকণার পরিমাণ নগন্য এবং মেঘ দেখাই যায় না।
- এই স্তরে আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে। সাধারণত জেট বিমানগুলো এই স্তর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে কারণ ঝড়-বৃষ্টি থাকে না।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে এবং তা স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌছায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৭.
Which layer of the atmosphere contains the most greenhouse gases responsible for global warming?
  1. Troposphere
  2. Stratosphere
  3. Mesosphere
  4. Thermosphere
সঠিক উত্তর:
Stratosphere
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Stratosphere
ব্যাখ্যা

স্ট্রাটোমণ্ডল:
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
- ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমণ্ডল নামে পরিচিত।
- স্ট্রাটোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলে।

⇒ স্ট্রাটোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য:
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরেই ওজোন (০3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
- এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা ৪০ সেলিসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
- এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
- ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি স্ট্রাটোমণ্ডলের শেষ প্রান্ত নির্ধারণ করে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০১৮.
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া কোন দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন?
  1. বাংলাদেশ
  2. মালদ্বীপ
  3. ফিনল্যান্ড
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ফিনল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:  
- বিশ্বের আবহাওয়া ও ঋতুগত ধরন দিন দিন অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে।
- কোনো ঋতুতেই এখন আর আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ পাচ্ছি না।
- বৃষ্টির সময়ে অনাবৃষ্টি, খরার সময়ে বৃষ্টি, গরমের সময় ঠান্ডা হাওয়া, আর শীতকালে তপ্ত বাতাস—সব মিলিয়ে একটি এলোমেলো আবহাওয়া আজ বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, 
- বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, গ্রিনহাউস প্রভাব পৃথিবীর কিছু অঞ্চলের জন্য সুফল বয়ে আনবে। যেমন: কানাডা, রাশিয়া, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে লক্ষ লক্ষ একর জমি বরফমুক্ত হয়ে চাষাবাদ ও বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠবে।

এছাড়াও, 
- এই পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে সমান সুফল আনবে না। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাবে পৃথিবীর প্রায় ৪০ শতাংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
- গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার কারণে বাংলাদেশসহ বহু দেশের উপকূলীয় এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- এতে সমুদ্র উপকূলবর্তী বহু বিখ্যাত শহর ও জনপদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।  
১,০১৯.
বাংলাদেশের জলবায়ুতে সর্বাপেক্ষা প্রভাব বিস্তার করে নিচের কোনটি?
  1. ক) বৃষ্টিপাত
  2. খ) বায়ুর তাপ
  3. গ) বায়ুর চাপ
  4. ঘ) সমুদ্রস্রোত
সঠিক উত্তর:
ক) বৃষ্টিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
বৃষ্টিপাত
- বাংলাদেশের জলবায়ুতে সর্বাপেক্ষা প্রভাব বিস্তার করে বৃষ্টিপাত।
- ক্রান্তীয় মৌসুমি অঞ্চলে অবস্থানের কারণে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়ে থাকে।
- বার্ষিক বৃষ্টিপাত চক্রের ঋতুগত পার্থক্য অতি সুস্পষ্ট এবং তা তাপমাত্রার ঋতুগত চক্রের তুলনায় অধিকতর সুনির্দিষ্ট। শীতকাল বৃষ্টিহীন ঋতু এবং ডিসেম্বর শুষ্কতম মাস।
- ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে আগত জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ুর প্রভাবে কিছু বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়ে থাকে।
- বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের মাত্র ২-৪% এ সময়ে ঘটে থাকে। দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে শীতকালীন বৃষ্টিপাত ২০ মিমি-এরও কম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তা ৪০ মিমি-এর কিছু বেশি হয়ে থাকে।
- উত্তর-পূর্বাংশে অতিরিক্ত কিছু আর্দ্র বায়ু মেঘালয় মালভূমিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ঊর্ধ্বে উঠে যাওয়ার প্রভাবে ঠান্ডা হয়ে জমাট বেঁধে মেঘের সৃষ্টি করে।
- ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এ অঞ্চলে সামান্য বেশি হয়ে থাকে। শীতকাল পার হয়ে প্রাক-মৌসুমী গ্রীষ্মঋতুর আগমন ঘটতে থাকলে ভূ-পৃষ্ঠের প্রচন্ড উত্তাপ এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর পরিমাণে আর্দ্রতার কারণে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
- বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের ১০-২৫% এ ঋতুতে সংঘটিত হয়ে থাকে যা বজ্রবিদ্যুৎসহ ধ্বংসাত্মক কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে অনুষঙ্গ হিসেবে সংঘটিত হয়ে থাকে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,০২০.
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা কত?
  1. ১৮° - ২৬°
  2. ২০° - ২৮°
  3. ২৩° - ৩০°
  4. ১৪° - ২৪°
সঠিক উত্তর:
২০° - ২৮°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০° - ২৮°
ব্যাখ্যা
ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিভিন্নতার কারণে জলবায়ুর ধরনেরও পার্থক্য দেখা যায়। ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০°-৪৫° অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- পশ্চিম এশিয়ার তুরস্ক, সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল; দক্ষিণ ইউরোপের পুর্তগাল, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস; ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ সাইপ্রাস, চিলি, করসিকা, মালটা; আফ্রিকার তিউনেশিয়া, লিবিয়া, মরক্কো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এই অঞ্চলের উদাহরণ।

বৈশিষ্ট্য:
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল। 
- এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা থাকে ২০° - ২৮° সে. এবং শীতকালে উষ্ণতা ১০° সে. এর কম থাকে।
- এই জলবায়ু অঞ্চলে যে বৈশিষ্ট্যটি উল্লেখযোগ্য তা হলো- এখানে সমুদ্র বায়ুর প্রভাবে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৮ সে.মি থেকে ৭৫ সে.মি।
- সাধারণত অন্যান্য এলাকার তুলনায় সমুদ্র উপকূলে বৃষ্টিপাতের হার বেশি।
- বৃষ্টিপাত অধিক বলে এখানে শীতকালীন বৃক্ষ যেমন- জলপাই, কর্ক, তুঁত, নিম, পাইন গাছের উৎপত্তি লক্ষ্যণীয়। কম বৃষ্টি হয় এমন স্থানে
ঝোপঝাড় জন্মে।
- প্রকৃতপক্ষে ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক।

উৎস: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২১.
ব্যারোমিটারে পারদের উচ্চতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি কিসের ইঙ্গিত দেয়?
  1. ভালো আবহাওয়া
  2. বৃষ্টির সম্ভাবনা
  3. আসন্ন ঝড়
  4. তাৎপর্যহীন
সঠিক উত্তর:
ভালো আবহাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভালো আবহাওয়া
ব্যাখ্যা

• ব্যারোমিটারে পারদের উচ্চতার উপর আবহাওয়ার সম্ভাব্য ঘটনা:
- ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেলে - ভালো আবহাওয়ার ইঙ্গিত
- কমলে - বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।
- হঠাৎ কমে গেলে - ঝড়ের পূর্বাভাস।

তথ্যসূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০২২.
পটুয়াখালীর জলবায়ু কেমন?
  1. সমভাবাপন্ন
  2. চরমভাবাপন্ন
  3. মৃদুভাবাপন্ন
  4. ক+গ
সঠিক উত্তর:
ক+গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক+গ
ব্যাখ্যা
মৃদুভাবাপন্ন:
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
- যেমন: কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন।
- সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন বা মৃদুভাবাপন্ন জলবায়ু বলে। 

অন্যদিকে -
- সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়।
- এ কারণে সমুদ্রের দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়।
- স্থলভাগের চেয়ে জলভাগ অনেক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়।
- কারণ পানির আপেক্ষিক তাপ ধারণ ক্ষমতা বেশি।
- তবে সৌরতাপ ভূমি অপেক্ষা সমুদ্রের অনেক গভীরে প্রবেশ করে তাপ বিস্তার করে।
- এ কারণেই অনেক দীর্ঘ সময়ে সমুদ্র উত্তপ্ত হয়।
- আবার তাপ বিকিরণের ক্ষেত্রে সমুদ্র পুনরায় ধীরে ধীরে তাপ হারায় যা ভূমির ক্ষেত্রে আরও দ্রুত হয়।
- ফলে সমুদ্র ঠান্ডা হতেও দীর্ঘ সময় লাগে।
- মূলত এ কারণেই গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় এলাকা ভূ-ভাগের অভ্যন্তরের তুলনায় শীতল হয় এবং শীতকালে তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২৩.
'UNDRR' এর সদরদপ্তর-
  1. ক) নিউইয়র্কে
  2. খ) জাকার্তায়
  3. গ) ভিয়েনায়
  4. ঘ) জেনেভায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) জেনেভায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জেনেভায়
ব্যাখ্যা

- United Nations Office for Disaster Risk Reduction (UNDRR) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে।
- এটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জাতীয় কর্মকৌশল বাস্তবায়ন।
- এর সদরদপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।
উৎসঃ UNDRR'র ওয়েবসাইট।

১,০২৪.
বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কত?
  1. ২০৯ সে.মি.
  2. ২০৭ সে.মি.
  3. ২০৫ সে.মি.
  4. ২০৩ সে.মি.
সঠিক উত্তর:
২০৩ সে.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০৩ সে.মি.
ব্যাখ্যা

গড় বৃষ্টিপাত:
-
 ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগরের জলীয় বাষ্প নিয়ে আসে, যা বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়ে বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করে। 
- বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ঘটে সিলেট ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলে।
- বিশেষ করে সিলেট জেলার উত্তর অংশে যা ৫১০০ মি.মি. পর্যন্ত পৌঁছায়।
- বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত সাধারণত ২০৩ সেন্টিমিটার (৮০ ইঞ্চি)।
- তবে অঞ্চলভেদে এর পরিমাণ ভিন্ন;
- পশ্চিম ও কেন্দ্রীয় অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম- প্রায় ১৫০ সে.মি. এবং
- দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে বেশি- প্রায় ৩০০ সে.মি.।
- দেশের মোট বৃষ্টিপাতের ৭০–৮০ শতাংশ বর্ষাকালে (জুন–অক্টোবর) ঘটে।
- বাংলাদেশ একটি বৃষ্টিবহুল দেশ হলেও, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্থান ও ঋতুভেদে ভিন্নভাবে ঘটে, যা দেশের জলবায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

উৎস: Bangladesh Meteorological Department ও প্রথম আলো পত্রিকা।

১,০২৫.
উচ্চতা অনুসারে মেঘ কয় প্রকার?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
মেঘের প্রকারভেদ (Types of Couds): উচ্চতা অনুসারে মেঘকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যথা-
ক. উঁচু মেঘ,
খ. মধ্যম উঁচু মেঘ এবং
গ. নিচু মেঘ।

উঁচু মেঘ (High Cloud): উঁচু মেঘের উচ্চতা সাধারণত ৬,০০০ মিটার হতে ১২,০০০ মিটার।
মধ্যম উঁচু মেঘ (Medium High Cloud): এ মেঘ ২,০০০ হতে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় উৎপন্ন হয়।
নিচু আকাশের মেঘ (Low Colud): ভূ-পৃষ্ঠের নিকটবর্তী অঞ্চলে ২,০০০ মিটারের মধ্যে এ জাতীয় মেঘ গঠিত হয়। এটি অপেক্ষাকৃত ভারী বলে আকাশের নিচে ভেসে বেড়ায়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২৬.
কোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্পকালীন সময়ের বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহের অবস্থাকে বলা হয় -
  1. ক) জলবায়ু
  2. খ) আবহাওয়া
  3. গ) বায়ুপ্রবাহ
  4. ঘ) সমুদ্রস্রোত
সঠিক উত্তর:
খ) আবহাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবহাওয়া
ব্যাখ্যা
♦উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো - আবহাওয়া

আবহাওয়া
:
- বায়ুমণ্ডল ও তার গঠনকারী উপাদানভেদে বায়ুমন্ডলের বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে বৈচিত্র্যময় হয়।
- বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে চাপ, তাপ, আর্দ্রতা ও বায়ুপ্রবাহের পার্থক্য তৈরি হলেই প্রতিদিনের বায়ুপ্রবাহ, বায়ুতাপ ও চাপের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুর গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য, বায়ুর আর্দ্রতা, বারিপাত ইত্যাদি উপাদানের অবস্থা।
- কোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্পকালীন সময়ের বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহের অবস্থাকে বলা হয় আবহাওয়া।
- আবহাওয়া নিয়ত পরিবর্তনশীল এবং এটি একটি ক্ষুদ্র এলাকার বায়ুমণ্ডলের স্বল্পমেয়াদী অবস্থাকে তুলে ধরে।
- আবহাওয়া সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য সংগ্রহ করা যায় “আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র” থেকে।
- সাধারণত আবহাওয়া প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল বলেই প্রতিঘন্টা বা প্রতি দিনের আবহাওয়া পর্যালোচনা করে আবহাওয়ার গড় বের করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২৭.
ক্রান্তীয় মহাদেশীয় অঞ্চলে কোন সময় বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ক) কেবল বর্ষাকালেই
  2. খ) কেবল গ্রীষ্মকালেই
  3. গ) কেবল শীতকালেই
  4. ঘ) সব কালেই
সঠিক উত্তর:
খ) কেবল গ্রীষ্মকালেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কেবল গ্রীষ্মকালেই
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় ও উষ্ণ মরু অঞ্চলের মহাদেশসমূহের মধ্যভাগে যে জলবায়ু দেখতে পাওয়া যায় তাকে ক্রান্তীয় মহাদেশীয় জলবায়ু বলে। ক্রান্তীয় মহাদেশীয় অঞ্চলের গ্রীষ্মকালের গড় তাপমাত্রা ৩২° সেলসিয়াস। (রেফারেন্সঃ একাদশ- দ্বাদশ শ্রেনীর ভূগোল)
১,০২৮.
কোনটি রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ?
  1. ক) চুনাপাথর
  2. খ) মার্বেল
  3. গ) জিপসাম
  4. ঘ) কয়লা
সঠিক উত্তর:
খ) মার্বেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মার্বেল
ব্যাখ্যা

• পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তা পাললিক শিলা। এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে। পাললিক শিলা নরম ও হালকা যা সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এর মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়। পাললিক শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।

• পাললিক শিলার উদাহরণ:
- চুনাপাথর,
- কয়লা,
- নুড়িপাথর,
- বেলেপাথর,
- পলিপাথর,
- কর্দমপাথর,
- চক,
- কোকিনা,
- লবণ,
- জিপসাম,
- ডায়াটম,
- ডোলোমাইট ইত্যাদি।

• কিছু রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
- গ্রাফাইট (কয়লার রূপান্তরিত রূপ),
- মার্বেল (চুনাপাথরের রূপান্তরিত রূপ),
- নিস (গ্রানাইটের রূপান্তরিত রূপ) ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০২৯.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়-
  1. ক) সমুদ্র বায়ুর প্রভাবে
  2. খ) পার্বত্য বায়ুর প্রভাবে
  3. গ) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে
  4. ঘ) উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে
সঠিক উত্তর:
গ) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে
ব্যাখ্যা
গ্রীষ্মকালীন মৌসুমী বায়ু বা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দীর্ঘপথ সমুদ্রের উপর দিয়ে আসে বলে জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকে এবং হিমালয় ও অন্যান্য উচ্চ পর্বতগাত্রে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। এর প্রভাবে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
১,০৩০.
বাংলাদেশে বছরের কোন সময়ে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়?
  1. আষাঢ়- শ্রাবণ
  2. কার্তিক-অগ্রহায়ণ
  3. বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ
  4. ভাদ্র-আশ্বিন
সঠিক উত্তর:
বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• কালবৈশাখী ঝড়:
- কালবৈশাখী ঝড় বাংলাদেশের অতি পরিচিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- বাংলাদেশে সাধারণত এপ্রিল থেকে মে (বৈশাখ থেকে জ্যৈষ্ঠ) মাসে কালবৈশাখী ঝড় দেখা দেয়। তবে বৈশাখ মাসেই কালবৈশাখীর প্রকোপ বেশি থাকে।

- এই ঝড়ের গতিবেগ ৫৫ থেকে ৮০ কি. মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ু এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সংঘর্ষে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৩১.
নিচের কোনটি নিয়ত বায়ুপ্রবাহ?
  1. স্থলবায়ু
  2. পশ্চিমা বায়ু
  3. মৌসুমি বায়ু
  4. উপত্যকা বায়ু
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমা বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমা বায়ু
ব্যাখ্যা

বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
# নিয়মিত বায়ু।
# স্থানীয় বায়ু।
# সাময়িক বায়ু।
# অনিয়মিত বায়ু।

• নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
# অয়ন বায়ু।
# মেরু বায়ু।
# পশ্চিমা বায়ু।

• সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
# স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
# মৌসুমি বায়ু।

• স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
# পার্বত্য বায়ু।
# উপত্যকা বায়ু।

• অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
# ঘূর্ণিবাত বায়ু।
# প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৩২.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরের সামগ্রিক গড় অবস্থাকে জলবায়ু বোঝায়?
  1. উচ্চস্তর
  2. মধ্যস্তর
  3. নিম্নস্তর
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নিম্নস্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্নস্তর
ব্যাখ্যা

জলবায়ু:
- জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থা।
- অর্থাৎ জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের অনেক বছরের বায়ুমন্ডলের নিম্নস্তরের সামগ্রিক গড় অবস্থা।
- জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হলো এটি নিয়ত পরিবর্তনশীল নয়।
- আবহাওয়ার থেকে জলবায়ুর পার্থক্য হলো আবহাওয়া কোনো দেশ বা মহাদেশের বায়ুমণ্ডলের স্বল্পস্থায়ী অবস্থাকে বুঝায়।
- জলবায়ু বলতে কোনো দেশ বা মহাদেশের বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাকে বুঝায়।
- বাংলাদেশের জলবায়ু ‘ক্রান্তীয় মৌসুমি’ জলবায়ুর দেশ।
- জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো- অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৩৩.
সমুদ্রতীরে কোনটির প্রাচুর্য থাকে?
  1. নাইট্রোজেন (Nitrogen)
  2. হাইড্রোজেন (Hydrogen)
  3. অক্সিজেন (Oxygen)
  4. ওজোন (Ozone)
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন (Nitrogen)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন (Nitrogen)
ব্যাখ্যা
সমুদ্রতীরে প্রাচুর্য:
- সমুদ্রতীরের বাতাসে সামান্য হেরফের থাকলেও সেখানে নাইট্রোজেনেরই প্রাচুর্য থাকে।
-  যদিও সমুদ্রতীরের বাতাসে জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাই অক্সাইড এবং অন্যান্য গ্যাসের পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে, তবুও নাইট্রোজেন সবসময়ই বেশি পরিমাণে থাকে। 

⇒ সাধারণভাবে বায়ুমন্ডলে-
- নাইট্রোজেন - ৭৮.০২%,
- অক্সিজেন - ২০.৭১%,
- আর্গন - ০.৮০%,
- জলীয়বাষ্প ০.৪১%,
- কার্বন-ডাই-অক্সাইড - ০.০৩% থাকে,
- এবং অন্য গ্যাসসমূহের পরিমাণ ০.০২%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৩৪.
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের যে ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করে সেগুলো হলো -
  1. ক) টর্নেডো, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা
  2. খ) মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রস্তরের উচ্চতা হ্রাস এবং কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা
  3. গ) মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং শিল্পের অনিশ্চয়তা
  4. ঘ) মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা
সঠিক উত্তর:
ঘ) মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা
ব্যাখ্যা
• ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করে।
• এগুলো হলোঃ মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা
• এর মধ্যে বন্যা ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১ নম্বরে। ঝড়ের ঝুঁকিতে ২ নম্বর এবং সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ১০ নম্বর।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৩৫.
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা কোন সাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়েছে?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. আর্কটিক মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা:
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- গ্রীনিচ থেকে ১৮০° পূর্ব বা পশ্চিমে স্থলভাগকে এড়িয়ে, প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা বরাবর একটি রেখা কল্পনা করা হয়েছে।
- এই রেখাটিকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলা হয়।
- অর্থাৎ এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অঙ্কিত এই রেখা স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমা মূলত একই দ্রাঘিমা রেখা।
- ফলে একই দ্রাঘিমা রেখায় সময়ের ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে ২৪ ঘণ্টা এবং তারিখের ক্ষেত্রে দুইটি তারিখ হয়ে যাচ্ছে।
- তারিখ, সময় ও সাপ্তাহিক দিন নির্ধারণের এই সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন-এ 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাকে 'আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা' হিসাবে স্থির করা হয়।
- আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয় এবং রেখাটি সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্বাংশ এবং এ্যালিউশয়ান, ফিজি ও চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জের স্থলভাগকে এড়িয়ে ১১° পূর্ব দিয়ে বেঁকে এবং বেরিং প্রণালীতে ১২° পূর্ব দিকে বেঁকে কল্পনা করা হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩৬.
স্পারসো প্রতিষ্ঠিত হয়-
  1. ক) ১৯৭৭ সালে
  2. খ) ১৯৭৩ সালে
  3. গ) ১৯৮০ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৪ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা

- SPARRSO (স্পারসো) এর পূর্ণরূপ- Space Research and Remote Sensing Organisation (মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র)।
- এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- স্পারসো প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০ সালে।
- এটি ঢাকা শহরের আগারগাঁও এ অবস্থিত।
উৎসঃ স্পারসোর ওয়েবসাইট।

১,০৩৭.
ফলের রাজ্য বলা হয় কোন জলবায়ু অঞ্চলকে?
  1. ক) মৌসুমী অঞ্চল
  2. খ) ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল
  3. গ) তুন্দ্রা অঞ্চল
  4. ঘ) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
খ) ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল
ব্যাখ্যা
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের জলবায়ু ফল উৎপাদনের পক্ষে অত্যন্ত উপযোগী। আবার প্রচুর সূর্যকিরণও ফল পাকার পক্ষে উপযোগী। সেজন্য ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ফলের রাজ্য। এরূপ সুমিষ্ট ও রসালো ফল পৃথিবীর অন্য কোন অঞ্চলে উৎপন্ন হয় না। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
১,০৩৮.
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য-
  1. গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে
  2. চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়
  3. পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয়
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:-
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরুপ:-
১। সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়ার জন্য এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে। দিনের ব্যাপ্তি সারা বছর একই থাকে এবং বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২১°
-২৭°সে.। 
২। অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি। এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৭০০-২৫০০ মিলিমিটার।
৩। অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়। এই বনাঞ্চলে সেগুন, মেহগনি, রাবার ইত্যাদি গাছ জন্মে। গভীর এই বনাঞ্চলে সহজে সূর্যালোক প্রবেশ করতে পারে না বলে গাছগুলো সূর্যালোক পাওয়ার জন্য উঁচু হয়।
৪। অধিক উত্তাপ এ অঞ্চলে স্থায়ী নিম্নচাপ তৈরি করে এবং উপক্রান্তীয় উষ্ণ চাপ বলয়ের অয়ন বায়ু এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়। উত্তপ্ত বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে যায় এবং শান্ত বলয় বিরাজমান থাকে। ঊর্ধ্বগামী উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু উপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে পরবর্তীতে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে।
৫। এ অঞ্চলের মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য খুব উপকারী হলেও এখানে মাটি ক্ষয় হয়। অতিরিক্ত তাপ ও বৃষ্টিপাতই এই মাটি ক্ষয়ের কারণ।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল প্রথম পত্র , এইচ এস সি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩৯.
বাষ্পীভবনের প্রধান উৎস কোনটি?
  1. ভূপৃষ্ঠস্থ জলাশয়
  2. নদী
  3. সমুদ্র
  4. উদ্ভিদজগৎ
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র
ব্যাখ্যা
বাষ্পীভবন:
- সূর্যের তাপে সমুদ্র, নদী, হ্রদ প্রভৃতি থেকে পানি ক্রমাগত বাষ্পে পরিণত হচ্ছে এবং তা অপেক্ষাকৃত হালকা বলে উপর উঠে বায়ুমন্ডলে মিশে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। একে বাষ্পীভবন বলে।
- বায়ুর বাষ্প ধারণ করার একটি সীমা আছে। তা বায়ুর উষ্ণতার উপর নির্ভর করে।
- বায়ু যত উষ্ণ হয়, তত বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে।
- সমুদ্রই জলীয়বাষ্পের প্রধান উৎস।
- উদ্ভিদজগৎ, নদ-নদী এবং ক্ষদ্র ক্ষদ্র জলাশয় থেকেও বায়ু জলীয়বাষ্প সংগ্রহ করে থাকে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৪০.
মহাকাশে পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহ বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে অবস্থান করে?  
  1. ক) স্ট্রাটোমন্ডল  
  2. খ) তাপমন্ডল
  3. গ) মেসোমন্ডল  
  4. ঘ) এক্সোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
খ) তাপমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তাপমন্ডল
ব্যাখ্যা
- মহাকাশে পাঠানো কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটসমূহ তাপমন্ডলে অবস্থান করে।
- তাপমন্ডল বায়ুমন্ডলের চতুর্থ স্তর যার বিস্তৃতি ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে ৮০ কি.মি. থেকে ৫০০ কি.মি. এর মধ্যে।
- রকেটও এ স্তর দিয়ে চলাচল করে। মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা উল্কাপিণ্ড এই স্তরে এসে পুড়ে যায়।
- তাপমন্ডলের নিচের অংশ আয়নমন্ডল নামে পরিচিত যেখানে পৃথিবী থেকে প্রেরিত বেতার তরঙ্গ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে আসে।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০৪১.
বিশ্বব্যাপী নিচের কোন অর্থনৈতিক খাত থেকে সবচাইতে বেশি গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গত হয়?
  1. পরিবহন
  2. বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন
  3. ভবন নির্মাণ
  4. শিল্প
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন
ব্যাখ্যা
গ্রিন হাউস:
- গ্রিন হাউস হচ্ছে এক ধরনের কাচের ঘর।
- যেসব গ্যাস ‍ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপ আটকে রেখে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে তাদের ‘গ্রিনহাউজ গ্যাস’ বলা হয়।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রীন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাধা সৃষ্টি করে বায়ুমন্ডলকে উত্তপ্ত করে।
- ‘গ্রিন হাউস ইফেক্ট' কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন সুইডিস রসায়নবিদ সোভানটে আরহেনিয়াস।

⇒ গ্রিনহাউজ গ্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, জলীয়বাষ্প, নাইট্রাস অক্সাইড, ওজোন, হ্যালোকার্বন জাতীয় গ্যাস প্রভৃতি।

⇒ বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন খাত থেকে সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়।
- এই খাতটি প্রধানত ফসিল জ্বালানি যেমন কয়লা, তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ এবং তাপ উৎপাদন করে, যা বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) এবং অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করে।
- প্রায় ৩৪% গ্রিনহাউস গ্যাস এই খাত থেকে নিঃসরিত হয়।

অন্যদিকে,
- পরিবহন থেকে প্রায় ১৫% গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরিত হয়।
- শিল্প থেকে প্রায় ২৪% গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরিত হয়।
- ভবন নির্মাণ থেকে প্রায় ৬% গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরিত হয়।

উৎস: i) U.S. Environmental Protection Agency (.gov)। [link]
ii) Britannica.
১,০৪২.
বর্তমানে [সেপ্টেম্বর, ২০২৪] বাংলাদেশে আবহাওয়া স্টেশন কয়টি?
  1. ১২টি
  2. ৪টি
  3. ৩৫টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৫টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর:
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর একটি বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ১৮৬৭ সালে যশোর ও নারায়ণগঞ্জে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার স্থাপনের মাধ্যমে ‘পর্যবেক্ষণ সার্ভিস’ এর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে এটি ‘আবহাওয়া সার্ভিস’ নামে পরিচিতি পেলেও স্বাধীন বাংলাদেশে এটি ‘আবহাওয়া দপ্তর’ নামে এবং পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর’ করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের একমাত্র সংস্থা হিসেবে সার্বক্ষণিক বাংলাদেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, কেন্দ্রীয়ভাবে আবহাওয়ার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, আদান-প্রদান ও সংরক্ষণ করে থাকে।

আবহাওয়া স্টেশন:

- বর্তমানে বাংলাদেশে আবহাওয়া স্টেশন ৩৫টি।
- সাইক্লোন শেল্টার ১৮৪১টি।
- কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র ১২টি।
- আবহাওয়া কেন্দ্র ৪টি।
- রাডার স্টেশন ৫টি।


উৎস: আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট & ResearchGate.
১,০৪৩.
কীসের মাধ্যমে সমুদ্রের পানি উত্তপ্ত ও হালকা হয়?
  1. ক) ঘনীভবন
  2. খ) বিষমীভবন
  3. গ) বাষ্পীভবন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) বাষ্পীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাষ্পীভবন
ব্যাখ্যা
বাষ্পীভবনের মাধ্যমে সমুদ্রের পানি উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে বাষ্পাকারে উপরে ওঠে এবং সুবিশাল বায়ুমন্ডলে মিশে যায়। এছাড়া ভূপূষ্ঠের বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ থেকে প্রস্বেদনের মাধ্যমে জলীয় অংশ বায়ুমণ্ডলে সম্পৃক্ত হয়। জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু শীতল ও ঘনীভূত হয়ে মেঘ, বৃষ্টি, শিশির, কুয়াশা, তুষার, বরফ প্রভৃতিতে পরিণত হয় এবং যেগুলাে বৃষ্টিপাতসহ বিভিন্ন রূপে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়। (রেফারেন্সঃ নবম দশম শ্রেণির ভূগোল)
১,০৪৪.
কোন সংস্থা ভূ-উপগ্রহ চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ করে?
  1. স্পারসো
  2. প্রশিকা 
  3. রেড ক্রিসেন্ট
  4. সিপিপি
সঠিক উত্তর:
স্পারসো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পারসো
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার কতিপয় পন্থা:
- বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পারসো-এর মাধ্যমে ভূ-উপগ্রহের চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণের ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। 

- পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র হতে বন্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা।
- ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তি সংকেত দান, সতর্কীকরণ,উদ্ধার ও পূণর্বাসন ইত্যাদি কাজে সরকারি সংস্থা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি)-এর কার্যক্রমের আওতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

- জরুরি পরিস্থিতিতে আর্তদের চিকিৎসা, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পূণর্বাসন কাজে সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ কর্তৃক বেসামরিক প্রশাসনকে সব রকম সাহায্য ও সহযোগিতা দান করা।
- বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন সংস্থা কর্তৃক দুর্যোগ সংক্রান্ত সংকেতসমূহ প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪৫.
কোন সালে গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত রেখাটিকে মূল মধ্যরেখা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়?
  1. ১৭৮৪ সালে
  2. ১৮৪৮ সালে
  3. ১৮৮৪ সালে
  4. ১৯৪৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৮৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৮৪ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ ১৮৮৪ সালে গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত রেখাটিকে মূল মধ্যরেখা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian):

- মূল মধ্যরেখা প্রকৃতপক্ষে লন্ডনের গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত এক দ্রাঘিমারেখা।
- ১৮৮৪ সালে এই দ্রাঘিমারেখাকে মূল মধ্যরেখা (০° দ্রাঘিমারেখা) হিসেবে স্থির করে এই রেখার পূর্ব ও পশ্চিমে অন্য দ্রাঘিমারেখাগুলোর মান নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- গ্রীনিচ মান মন্দির বরাবর যে কল্পিত দ্রাঘিমা রেখা রয়েছে সেটির মান (০°) ধরা হয়।
- প্রতি ১° দ্রাঘিমান্তরে ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্য হয়।
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪৬.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব কোনটি?
  1. নতুন সড়কপথ সৃষ্টি
  2. মহাশুন্যে অভিযান
  3. মেরু অঞ্চলের বরফ গলন 
  4. সমুদ্রের পানি নিচে নেমে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলের বরফ গলন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলের বরফ গলন 
ব্যাখ্যা
• বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব: 
→ জলবায়ু পরিবর্তন।
→ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি।
→ মেরু অঞ্চলের বরফ গলন।
→ সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন।
→ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস।
→ রোগব্যাধি।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধের উপায়:
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো:-
১. পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কার্বন উৎপাদনের হারকে কমিয়ে আনা;
২. যানবাহন ও কল-কারখানার দূষিত গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ;
৩. যথাযথ মাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার;
৪. বিকল্প জ্বালানি যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, পারমানবিক শক্তি এর পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি, জৈব গ্যাস ব্যবহার করা;
৫. প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ এবং নতুন বন সৃজন;
৬. পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন;
৭. জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪৭.
ভূ-অভ্যন্তরস্থ কোন স্তরটি অত্যধিক তাপ ও চাপে আঠালো অবস্থায় রয়েছে?
  1. বহিঃ কেন্দ্রমন্ডল
  2. অন্তঃস্থ কেন্দ্রমন্ডল
  3. গুরুমন্ডল
  4. অশ্মমন্ডল
সঠিক উত্তর:
গুরুমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুমন্ডল
ব্যাখ্যা
• গুরুমন্ডল (Mantle):
- অশ্মমন্ডলের অব্যবহিত পর থেকে ভূ-অভ্যন্তরে প্রায় ২,৮৮৫ কি.মি. পর্যন্ত পুরুত্ব বিশিষ্ট স্তরটিকে গুরুমন্ডল বলে।
- এই স্তরটির গাঠনিক উপাদানগুলো হলো-সিলিকা, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, কার্বন ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ।
- অত্যধিক তাপ ও চাপে গুরুমন্ডলের উপাদানগুলো কঠিন ও তরলের মাঝামাঝি আঠালো অবস্থায় রয়েছে।

- গুরুমন্ডলের প্রধান স্তর দুইটি হলো-
(ক) লোহা ও ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ সিলিকেট খনিজ দ্বারা তৈরি উর্ধ্ব গুরুমন্ডল (৭০০ কি.মি. বিস্তৃত) এবং
(খ) আয়রন অক্সাইড, ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড ও সিলিকন অক্সাইড সমৃদ্ধ নিম্ন গুরুমন্ডল। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪৮.
দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও জলবায়ুতে বৈচিত্র্য দেখা যায় কেন?
  1. দ্রাঘিমার ভিন্নতার কারণে
  2. উচ্চতার পার্থক্যের কারণে
  3. সমুদ্র থেকে দূরত্বের তারতম্যের কারণে
  4. উদ্ভিদ আচ্ছাদনের ভিন্নতার কারণে
সঠিক উত্তর:
উচ্চতার পার্থক্যের কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চতার পার্থক্যের কারণে
ব্যাখ্যা

উচ্চতা (Altitude):
- সমুদ্র সমতল থেকে যতই উপরে ওঠা যায়, উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ততই হ্রাস পায়।
- সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- উচ্চতার পার্থক্যের কারণে দুই জায়গা একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ু ধারণ করে।
- যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতার তারতম্যের জন্য এদের জলবায়ু ভিন্ন রকম।
- উচ্চতা বেশি হওয়াতে শিলং-এ দিনাজপুরের চেয়ে তাপমাত্রা কম হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৪৯.
বায়ুমন্ডলের প্রায় ৯৭ শতাংশই ভূ-পৃষ্ঠ থেকে কত কিলোমিটার এর মধ্যে সীমাবদ্ধ?
  1. ২৫ কিলোমিটার
  2. ৩০ কিলোমিটার
  3. ৩৫ কিলোমিটার
  4. ৪০ কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
৩০ কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডল: 
- ভূ-পৃষ্ঠের চারপাশ যে বায়বীয় আবরণ দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে তাকেই সহজ ভাষায় বলা হয় বায়ুমন্ডল।
- মূলত ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উর্ধ্ব দিকে যে বায়বীয় আস্তরণ তাই বায়ুমন্ডল নামে পরিচিত ।
- এই মন্ডলটি নানা প্রকার গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা গঠিত।
-   বায়ুমন্ডলের বয়স প্রায় ৩৫ কোটি বছর।
- এর গভীরতা প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার।
-  এই বায়ুমন্ডলের প্রায় ৯৭ শতাংশই ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার এর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
 - বায়ুমন্ডলের একটির উপর আরেকটি পর্যায়ক্রমে অবস্থিত।
- সাধারণত উপরের স্তরের বায়ু নিচের বায়ুস্তরে ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।
- বায়ুর এই চাপের জন্যই পৃথিবীপৃষ্ঠ হতে যত উপরে উঠা যায়,বায়ুর ঘনত্ব ততই কমতে থাকে। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠে এই বায়ুচাপের ঘনত্ব সব থেকে বেশি দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,০৫০.
নিরক্ষরেখার অন্য নাম - 
  1. কর্কটক্রান্তি রেখা
  2. মকরক্রান্তি রেখা
  3. বিষুবরেখা 
  4. প্রধান মধ্যরেখা
সঠিক উত্তর:
বিষুবরেখা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষুবরেখা 
ব্যাখ্যা

• নিরক্ষরেখা :
- পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে যে রেখাটি পূর্ব-পশ্চিমে সমগ্র পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে নিরক্ষরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখার অপর নাম হলো- বিষুবরেখা (Equator),  অক্ষরেখা (০° Latitude), মহাবৃত্ত (Great circle)।
- নিরক্ষরেখার উপর সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- আর নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে।


অন্যদিকে, 
- ২৩°৫' উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫০° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলে।
- বাংলাদেশের উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- এই দুটি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যের আলো লম্বভাবে পৃথিবীতে পড়ে।
- সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত: উত্তর গোলার্ধে ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরুবৃত্ত এবং ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত বলে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

১,০৫১.
নিচের কোনটি জলবায়ুর নিয়ামক?
  1. ক) বায়ুর তাপ
  2. খ) আর্দ্রতা
  3. গ) বায়ু প্রবাহের দিক
  4. ঘ) বায়ুর চাপ
সঠিক উত্তর:
গ) বায়ু প্রবাহের দিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বায়ু প্রবাহের দিক
ব্যাখ্যা
জলবায়ু (Climate )
কোন অঞ্চলের বায়ুর তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুর চাপ, বায়ু প্রবাহ, বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, ঝড়, বায়ুপুঞ্জ, মেঘাচ্ছন্নতা ইত্যাদির দীর্ঘদিনের সামগ্রিক রূপকে ঐ স্থানের জলবায়ু বলা হয়।  
মূলত: কোন স্থানের ২৫-৩০ বছরের দৈনন্দিন আবহাওয়া পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে সে স্থানের জলবায়ু নির্ধারণ করা হয় বা এ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
 আবহাওয়ার মত জলবায়ুরও প্রধান উপাদানগুলো হচ্ছে :
- বায়ুর তাপ, 
- চাপ, 
- আর্দ্রতা, 
- বৃষ্টিপাত ইত্যাদি। 
 
আর এ উপাদানগুলোর নিয়ন্ত্রনকারী নিয়ামকসমূহ হচ্ছে : 
- সমুদ্র স্রোত, 
- অক্ষাংশ, 
- ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা, 
- সমুদ্র হতে দূরত্ব, 
- বায়ু প্রবাহের দিক ইত্যাদি ।
 
কোন স্থানের আবহাওয়া ও জলবায়ুর এ উপাদানসমূহ এবং এদের নিয়ন্ত্রনকারী নিয়ামকসমূহের পরিবর্তনের সাথে সাথে উক্ত স্থানের আবহাওয়া ও জলবায়ুরও পরিবর্তন ঘটে।

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাণিজ্যিক ভূগোল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,০৫২.
নিচের কোনটি অনিয়মিত বায়ু?
  1. অয়ন বায়ু
  2. প্রতীপ ঘূর্ণিবাত
  3. স্থলবায়ু
  4. পার্বত্য বায়ু
সঠিক উত্তর:
প্রতীপ ঘূর্ণিবাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতীপ ঘূর্ণিবাত
ব্যাখ্যা

বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
# নিয়মিত বায়ু।
# স্থানীয় বায়ু।
# সাময়িক বায়ু।
# অনিয়মিত বায়ু।

• নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
# অয়ন বায়ু।
# মেরু বায়ু।
# পশ্চিমা বায়ু।

• সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
# স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
# মৌসুমি বায়ু।

• স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
# পার্বত্য বায়ু।
# উপত্যকা বায়ু।

• অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
# ঘূর্ণিবাত বায়ু।
# প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৫৩.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরকে স্ট্রাটোমণ্ডল বলা হয়?
  1. প্রথম স্তর
  2. দ্বিতীয় স্তর
  3. তৃতীয় স্তর
  4. চতুর্থ স্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় স্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় স্তর
ব্যাখ্যা
• বায়ুমণ্ডলকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ট্রপোমণ্ডল,
২. স্ট্রাটোমন্ডল,
৩. মেসোমণ্ডল,
৪. তাপমণ্ডল ও
৫. এক্সোমণ্ডল।

• স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere):
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
- ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমণ্ডল নামে পরিচিত।
- স্ট্রাটোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলে।

• স্ট্রাটোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য:
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
- এই ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়।
- এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
- ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৫৪.
একই অক্ষাংশে থাকা দিনাজপুর ও শিলং-এর জলবায়ুতে বৈচিত্র্য প্রধানত কোন কারণে ঘটে?
  1. সমুদ্র থেকে দূরত্ব
  2. উচ্চতার পার্থক্য
  3. দ্রাঘিমার তারতম্য
  4. উদ্ভিদ আচ্ছাদন
সঠিক উত্তর:
উচ্চতার পার্থক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চতার পার্থক্য
ব্যাখ্যা

• উচ্চতা (Altitude):
- সমুদ্র সমতল থেকে যতই উপরে ওঠা যায়, উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ততই হ্রাস পায়।
- সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- উচ্চতার পার্থক্যের কারণে দুই জায়গা একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ু ধারণ করে।
- যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতার তারতম্যের জন্য এদের জলবায়ু ভিন্ন রকম।
- উচ্চতা বেশি হওয়াতে শিলং-এ দিনাজপুরের চেয়ে তাপমাত্রা কম হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৫৫.
বাংলাদেশে শরৎকাল বিরাজ করে কখন?
  1. আষাঢ়-শ্রাবণ
  2. ভাদ্র-আশ্বিন
  3. কার্তিক-অগ্রহায়ণ
  4. পৌষ-মাঘ
সঠিক উত্তর:
ভাদ্র-আশ্বিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাদ্র-আশ্বিন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে মোট ঋতুর সংখ্যা ৬টি।
এগুলো হলো:
- গ্রীষ্মকাল : বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাস
- বর্ষাকাল : আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস
- শরৎকাল : ভাদ্র ও আশ্বিন মাস
- হেমন্তকাল : কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাস
- শীতকাল : পৌষ ও মাঘ মাস
- বসন্তকাল : ফাল্গুন ও চৈত্র মাস।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১,০৫৬.
Corruption Perceptions Index-2020 অনুসারে বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ কোনটি?
  1. সিঙ্গাপুর
  2. ডেনমার্ক
  3. নরওয়ে
  4. আইসল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ডেনমার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা
- Transparency International প্রকাশিত Corruption Perceptions Index-2020:
- সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ : ডেনমার্ক ও নিউজিল্যান্ড
- শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ : সোমালিয়া ‍ও দক্ষিণ সুদান
বাংলাদেশের অবস্থান:
- দুর্নীতিবিরোধী সূচকে : ১৪৬তম
- শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত তালিকায় : ১২তম।
- বাংলাদেশর স্কোর : ২৬ (১০০ এর মধ্যে)।
(তথ্যসূত্র: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ওয়েবসাইট)
১,০৫৭.
স্থানীয় বায়ু কোনটি?
  1. পশ্চিমা বায়ু
  2. মেরু বায়ু
  3. অয়ন বায়ু
  4. পার্বত্য বায়ু
সঠিক উত্তর:
পার্বত্য বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্বত্য বায়ু
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
# নিয়মিত বায়ু।
# স্থানীয় বায়ু।
# সাময়িক বায়ু।
# অনিয়মিত বায়ু।

• নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
# অয়ন বায়ু।
# মেরু বায়ু।
# পশ্চিমা বায়ু।

• সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
# স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
# মৌসুমি বায়ু।

• স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
# পার্বত্য বায়ু।
# উপত্যকা বায়ু।

• অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
# ঘূর্ণিবাত বায়ু।
# প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫৮.
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রায় কত অ্যাটমোস্ফিয়ার?
  1. ০.৫ atm
  2. ১ atm
  3. ১.৫ atm
  4. ২ atm
সঠিক উত্তর:
১ atm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ atm
ব্যাখ্যা

বায়ুর চাপ :
- বায়ু তার ওজনের কারণে চারদিকে যে চাপ প্রদান করে, তাকে বায়ুর চাপ বলা হয়।
- বায়ু সাধারণত নিচ থেকে ওপরের দিকে স্তরে স্তরে সজ্জিত থাকে।
- সমুদ্রের সমতল অর্থাৎ নিম্নস্তরে বায়ুর চাপ সবচেয়ে বেশি;
- কারণ নিম্নস্তরে বায়ুর ওজন ও গভীরতা বেশি থাকে।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুর স্বাভাবিক চাপ প্রায় ৭৬ সে.মি বা ৭৬০ মিলিমিটার পারদ স্তম্ভের সমান।
- সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রায় ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার (atm) হিসেবে ধরা হয়।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৫৯.
বৃষ্টিপাতকে কয় শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
  1. ২ শ্রেণিতে
  2. ৩ শ্রেণিতে
  3. ৪ শ্রেণিতে
  4. ৫ শ্রেণিতে
সঠিক উত্তর:
৪ শ্রেণিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ শ্রেণিতে
ব্যাখ্যা
বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ:
- চারটি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে একে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়।
যথা -
১. পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rain)
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic Rain)
৩. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি (Cyclonic Rain)
৪. সংঘর্ষ বৃষ্টি (Frontal Rain)

উল্লেখ্য,
১) পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain): দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে নিনান হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে। এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।

(২) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic Rain): জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় যদি গমনপথে কোনো উঁচু পর্বতশ্রেণিতে বাধা পায় তাহলে ঐ বায়ু উপরের দিকে উঠে যায়। তখন জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ক্রমশ প্রসারিত হয় এবং পর্বতের উঁচু অংশে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে (Windward slope) বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরূপ বৃষ্টিপাতকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।

(৩) বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি (Frontal Rain): শীতল ও উষ্ণ বায়ু মুখোমুখি উপস্থিত হলে উষ্ণ বায়ু এবং শীতল বায়ু একে অপরের সঙ্গে মিশে না গিয়ে তাদের মধ্যবর্তী এলাকায় অদৃশ্য বায়ুপ্রাচীরের (Front) সৃষ্টি করে। বায়ুপ্রাচীর সংলগ্ন এলাকায় শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় ফলে শিশিরাঙ্কের সৃষ্টি হয়। ফলে উভয় বায়ুর সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটে, একে বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি বলে। এ প্রকার বৃষ্টিপাত সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

(৪) ঘূর্ণি বৃষ্টি (Cyclonic Rain): কোনো অঞ্চলে বায়ুমন্ডলে নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হলে জলভাগের উপর থেকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ এবং স্থলভাগের উপর থেকে শুষ্ক শীতল বায়ু ঐ একই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে অনুভূমিকভাবে ছুটে আসে। শীতল বায়ু ভারী বলে উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ুর উপর ধীরে ধীরে উঠতে থাকে। জলভাগের উপর থেকে আসা উষ্ণ বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে। ঐ বায়ু শীতল বায়ুর উপরে উঠলে তার ভিতরে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরূপ বৃষ্টিপাতকে ঘূর্ণি বৃষ্টি বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৬০.
নিচের কোনটি একই সাথে জলবায়ুর নিয়ামক ও উপাদান?
  1. বায়ু প্রবাহ
  2. বায়ুর চাপ
  3. বায়ুর তাপ
  4. বায়ুর আর্দ্রতা
সঠিক উত্তর:
বায়ু প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ু প্রবাহ
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু:
- পৃথিবীর প্রতিটি স্থানের বৈচিত্র্যময় আবহাওয়া লক্ষ্য করা যায়।
- সে কারণেই পৃথিবীর সকল স্থানের জলবায়ু এক রকম নয়।
-  জলবায়ুরও প্রধান উপাদান হলো বায়ুর চাপ, তাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর আর্দ্রতা, বারিপাত ইত্যাদি।
- আর এই সব উপাদানের ক্ষেত্রে নানা রকম বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় বিভিন্ন নিয়ামকের উপর ভিত্তি করে।
- জলবায়ুর নিয়ামক গুলো হল-  সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহের দিক, ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা, অক্ষাংশ, ভূমির ঢাল, মৃত্তিকা, বন ভূমির অবস্থা, পর্বতের অবস্থা ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,০৬১.
বায়ু দূষণের প্রাকৃতিক কারণ কোনটি?
  1. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  2. ধূলিঝড়
  3. দাবানল
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক কারণ:
১. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস প্রভৃতি বায়ুর সাথে মিশে বায়ুকে দূষিত করে।
২. জৈব ও অজৈব পদার্থ: বিভিন্ন প্রকার জৈব ও অজৈব পদার্থের স্বাভাবিক পচনের ফলে যে গ্যাস সৃষ্টি হয় তা বায়ুকে
দূষিত করে।
৩. দাবানল ও ধূলিঝড়: বিস্তৃত বনাঞ্চলে দাবানল হলে তা ব্যাপক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বায়ুকে দূষিত করে।
- এছাড়া মরু এলাকায় ধূলিঝড়ও বায়ু দূষণ ঘটায়।
৪. গ্যাসক্ষেত্রের বিস্ফোরণ: গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে যে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে তা বায়ুকে দূষিত করে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬২.
নিচের কোন বৃষ্টিপাত দীর্ঘস্থায়ী হয়?
  1. ক) পরিচলন বৃষ্টি
  2. খ) ঘূর্ণি বৃষ্টি
  3. গ) শৈলােৎক্ষেপ বৃষ্টি
  4. ঘ) বায়ুপ্রাচীর জনিত বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
খ) ঘূর্ণি বৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঘূর্ণি বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণি বৃষ্টি (Cyclonic Rain) : কোনাে অঞ্চলে বায়ুমণ্ডলে নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হলে জলভাগের উপর থেকে জলীয়বাষ্প পূর্ণ উষ্ণ এবং স্থলভাগের উপর থেকে শুষ্ক শীতল বায়ু ঐ একই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে অনুভূমিকভাবে ছুটে আসে। শীতল বায়ু ভারী বলে উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ুর উপর ধীরে ধীরে উঠতে থাকে। জলভাগের উপর থেকে আসা উষ্ণ বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে। ঐ বায়ু শীতল বায়ুর উপরে উঠলে তার ভিতরে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরুপ বৃষ্টিপাতকে ঘুর্ণি বৃষ্টি বলে। এই বৃষ্টিপাত সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়। মধ্য ইউরােপের বিভিন্ন দেশে শীতকালে এরুপ বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়। (রেফারন্সঃ WMO Article)
১,০৬৩.
৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুকে কী বলে?
  1. গর্জনশীল চল্লিশ
  2. অর্শ্ব অক্ষাংশ
  3. অয়ন বায়ু
  4. মেরু বায়ু
সঠিক উত্তর:
গর্জনশীল চল্লিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গর্জনশীল চল্লিশ
ব্যাখ্যা
পশ্চিমা বায়ু:
- উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে পশ্চিম বায়ু প্রবাহিত হয়।
- ৩০° অক্ষাংশে কিছু বায়ু পৃথিবীর গা-ঘেঁষে মেরুর দিকে ৬০° অক্ষাংশ পর্যন্ত পৌঁছালে মেরু এলাকা থেকে আগত শীতল ও ভারী বায়ু মুখোমুখি হয়। এসময় অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরের দিকে উঠে গেলেও এর এক অংশ মেরুবৃত্তের নিম্নচাপে প্রবাহিত হয় বলেই একে পশ্চিমা বায়ু বলা হয়।
- উত্তর গোলার্ধের বিশাল স্থলভাগের জন্য স্থানীয়ভাবে পশ্চিমা বায়ু পরিবর্তনশীল।
- দক্ষিণ গোলার্ধে জলাবিস্তৃতি ভূমিরূপের কারণেই পশ্চিমা বায়ু প্রবলভাবে প্রবাহিত হয় এবং এ কারণেই এই বায়ুপ্রবাহের ধরণকে তখন বলা হয় প্রবল পশ্চিমা বায়ু।
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সব থেকে বেশি বলেই এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring Forties)।

- নিরক্ষীয় শান্ত বলয়ের মত ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়েও দুটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়।
- ৩০° থেকে ৫০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে দুটি ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়ের অবস্থান রয়েছে।
- প্রাচীনকালে আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে জাহাজ প্রবাহিত হবার সময় ইউরোপ থেকে আমেরিকায় অশ্ব ও অন্যান্য পশু রপ্তানি করে নিয়ে যেত।
- এই অঞ্চলের বায়ু প্রবাহের জন্য বাতাসের গতি যখন মন্থর হয়ে যেতো নাবিকরা তখন খাদ্য ও পানীয় জলের অনেক অভাবে তাদের অশ্বগুলো সমুদ্রে ফেলে দিতো। এ জন্য আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) বলে।
- উত্তর গোলার্ধে ৩০° থেকে ৩৫° উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত অঞ্চলটিতে শীতকালেও পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬৪.
পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে বায়ুপ্রবাহ বছরের সকল সময় একই দিকে প্রবাহিত হয়। একে কী বলে?
  1. সাময়িক বায়ু
  2. স্থানীয় বায়ু
  3. অনিয়মিত বায়ু
  4. নিয়ত বায়ু
সঠিক উত্তর:
নিয়ত বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে বায়ুপ্রবাহ বছরের সকল সময় একই দিকে প্রবাহিত হয়। একে নিয়ত বায়ু বলে।

নিয়ত বায়ু:

- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে।
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু।

অন্যদিকে -
• সাময়িক বায়ু: কোনো নির্দিষ্ট দিক, বা বছরের কোনো নির্দিষ্ট ঋতুতে যে বায়ুপ্রবাহ জল ও স্থলভাগের তাপের তারতম্য সৃষ্টি করে তাকেই বলা হয় সাময়িক বায়ু।

• স্থানীয় বায়ু: স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়প্রবাহ।

• অনিয়মিত বায়ু: কোনো স্থানে অধিক উত্তাপের জন্য বায়ুচাপ কমে নিম্নচাপের অথবা অত্যাধিক শীতের জন্য কোনো স্থানীয় বায়ু শীতল জলে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়। এভাবে সৃষ্টি যে বায়ুপ্রবাহ তাকে বলা হয় অনিয়মিত বায়ু প্রবাহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬৫.
বাংলাদেশের ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র কয়টি?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
ব্যাখ্যা
• ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র:
• বর্তমানে বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। যথাঃ
- রাঙ্গামাটি (বেতবুনিয়া)
- গাজীপুর (তালিবাবাদ)
- মহাখালী ও
- সিলেট
• বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উদ্বোধন করেন।
• এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র: আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
১,০৬৬.
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের কোন অঞ্চলে খরার তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে? 
  1. উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলে
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
  3. পূর্ব-পশ্চিমাঞ্চলে
  4. উত্তর-পূর্বাঞ্চালে
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরার তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর, ঢাকা ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু অংশে তীব্র খরা প্রবণ এলাকা।
- রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার কিছু অংশ মাঝারি খরাপ্রবণ এলাকা।
- তবে বর্তমানে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ হ্রাস পাওয়ার শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা অববাহিকায় খরার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
- খরাতে খাপ খাওয়ানোর কৌশল হিসাবে চাষ পদ্ধতির পরিবর্তন, কম পানি লাগে এমন ফসলের চাষ, জাবড়া প্রয়োগ ইত্যাদি পদ্ধতিকে উৎসাহিত করে উপযোগী ফসলের চাষ করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা,নবম-দশম শ্রেনি।

১,০৬৭.
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে?
  1. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
  2. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
  3. বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়
  4. সমাজসেবা মন্ত্রণালয়
সঠিক উত্তর:
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর:
- বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশে আবহাওয়া বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনাকারী একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান।
- এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান।
- আবহাওয়া উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস পদ্ধতির মান-উন্নয়নসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য অধিকতর নির্ভুল তথ্য প্রদান এ অধিদপ্তরের অন্যতম দায়িত্ব।
- আবহাওয়া অধিদপ্তরের সদর দপ্তর ঢাকার আগারগাওয়ে অবস্থিত।

উৎস: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

১,০৬৮.
কোন বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়?
  1. মহাদেশীয় বায়ু
  2. মৌসুমি বায়ু
  3. চিনুক বায়ু
  4. স্থানীয় বায়ু
সঠিক উত্তর:
মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা
মৌসুমি বায়ু:
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে বলা হয় মৌসুমি বায়ু।
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি ভাষায় "মত্তসুম” শব্দ থেকে যার অর্থ হলো ঋতু। এটি একটি আঞ্চলিক বায়ু।
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত ও গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য হয় বলেই মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- প্রধাণত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ দেখা যায়।
- এছাড়াও কর্কটক্রান্তি অঞ্চলে যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার কিছু অংশ, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত ইত্যাদি অঞ্চল এই বায়ুপ্রবাহের অন্তর্গত।
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হওয়ার জন্য কর্কটক্রান্তির বায়ুর চাপ কমে যায় ও সুবৃহৎ নিম্নচাপ কেন্দ্র সৃষ্টি হয়।
- এ অবস্থায় দক্ষিণ গোলার্ধের ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আগত দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে।
- এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যাওয়া এই বায়ুকে তাই বলা হয় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের মৌসুমি বায়ু।
- মধ্য এশিয়ায় নিম্নচাপের দ্বারা দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু উৎপন্ন হয়। ফলে চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, জাপান, কম্বোডিয়া, লাওস ইত্যাদি দেশে বৃষ্টিপাত ঘটে।
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পাকিস্তান, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত হয়।
- অপরদিকে শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে এবং মকরক্রান্তিতে তখন নিম্নচাপ সৃষ্ট হয়।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ শীতল হয় বলে তখন ঐ স্থানে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়।
- এই সময় বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে এবং এই বায়ু শুষ্ক থাকে।
- মৌসুমি বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বাম দিকে বেঁকে যায় এবং উত্তর-পশ্চিমে মৌসুমি বায়ুরূপে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬৯.
নিচের কোনটি বায়ুমন্ডলের উপাদান নয়?
  1. ক) জলীয়বাষ্প
  2. খ) ধূলিকণা
  3. গ) বিভিন্ন প্রকার গ্যাস
  4. ঘ) বিভিন্ন প্রকার কঠিন পদার্থ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিভিন্ন প্রকার কঠিন পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিভিন্ন প্রকার কঠিন পদার্থ
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলের উপাদান
• পৃথিবীপৃষ্ঠ ও তার চারদিক জুড়ে বায়ুমন্ডল বেষ্টিত। এই মন্ডল নানা রকমের গ্যাসের মিশ্রণে গঠিত হয়েছে। এই গ্যাসীয়
মিশ্রণ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত প্রায় সমান।
• বায়ুমন্ডলে আরও রয়েছে অসংখ্য ধূলিকণার সংমিশ্রণ। এই সব কঠিন ও তরল কণিকাকে একত্রে বলা হয় রঞ্জক পদার্থ।
• বায়ুমন্ডলের বর্ণ, গন্ধ, আকার কিছুই নেই। তাই বায়ুমন্ডলের এই সব উপাদান স্বাভাবিক অবস্থায় অনুভব করা যায় না।
• সুতরাং বায়ুমন্ডলের উপাদান বলতে বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কণিকার সংমিশ্রণকে বুঝায়।   

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭০.
২০০৪ সালের ভয়ংকর সুনামি ঢেউয়ের গতি ছিল ঘন্টায় ----
  1. ক) ১০০-২০০ কি.মি
  2. খ) ৩০০-৪০০ কি.মি
  3. গ) ৭০০-৮০০ কি.মি
  4. ঘ) ৯০০-১০০০ কি.মি
সঠিক উত্তর:
গ) ৭০০-৮০০ কি.মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭০০-৮০০ কি.মি
ব্যাখ্যা
Indian Ocean tsunami waves travelled at speeds of up to 800km/h.
Source: bbc.com
 
১,০৭১.
কোন দুর্যোগটি ঋতুর সাথে সম্পর্কিত নয়?
  1. বন্যা
  2. ভূমিকম্প
  3. বৃষ্টি
  4. খরা
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
- ভূমিকম্প সংঘঠিত হওয়ার সাথে ঋতুর সাথে কোন সম্পর্ক নেই।
• ভূমিকম্প
:
- ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়।
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলে।
- ভূ-অভ্যন্তরস্থ শিলারাশিতে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক অবমুক্তির কারণে সৃষ্ট এই স্পন্দনের মাত্রা মৃদু কম্পন থেকে প্রচন্ড ঘূর্ণনের মধ্যে হতে পারে।
 
ভূমিকম্পের কিছু প্রধান কারণ রয়েছে:
- পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত।
- এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে।
- আবার অগ্নুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকিম্পন সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য,
- বন্যা, খরা, বৃষ্টি, এগুলো ঋতুর সাথে হয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৭২.
নিরক্ষরেখার অন্তর্গত দেশগুলোতে কোনটি মাটি ক্ষয়ের কারণ?
  1. অধিক বনাঞ্চল
  2. অধিক তাপ
  3. ঊর্ধ্বমুখী বায়ু প্রবাহ
  4. মেরুবায়ু
সঠিক উত্তর:
অধিক তাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিক তাপ
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:
- নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোতে সূর্য প্রায় সারাবছরই লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানে গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
- এই অঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য দিন-রাতের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।
- শীতের প্রকোপ একদম নেই বললেই চলে।
- নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ-
• সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়ার জন্য এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে।
• দিনের ব্যাপ্তি সারা বছর একই থাকে।
• অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি।
• এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৭০০-২৫০০ মিলিমিটার।
• অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
• এ অঞ্চলের মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য খুব উপকারী হলেও এখানে মাটি ক্ষয় হয়। অতিরিক্ত তাপ ও বৃষ্টিপাতই এই মাটি ক্ষয়ের কারণ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৩.
নিচের কোন অঞ্চল নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত নয়?
  1. গিনি উপকূল
  2. তিব্বত মালভূমি
  3. কঙ্গো নদীর অববাহিকা
  4. দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল
সঠিক উত্তর:
তিব্বত মালভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিব্বত মালভূমি
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫ ডিগ্রি অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০ ডিগ্রি অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।

নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য: 
- সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়ার জন্য এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে। 
- অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি।
- এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৭০০-২৫০০ মিলিমিটার।
- অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
- এ অঞ্চলের মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য খুব উপকারী হলেও এখানে মাটি ক্ষয় হয়। অতিরিক্ত তাপ ও বৃষ্টিপাতই এই মাটি ক্ষয়ের কারণ।

তথ্যসূত্র- ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৪.
শীতকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে কোন বায়ু প্রবাহিত হয়?
  1. উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
  2. উত্তর-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  3. দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
  4. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা
শীতকাল:
- নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস এদেশে শীতকাল বিরাজ করে।
- এ সময় সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে বলে বাংলাদেশে এর রশ্মি তীর্যকভাবে পড়ে এবং উত্তাপের পরিমাণ যথেষ্ট কমে যায়।
- এ ঋতুতে বাংলাদেশের আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক, শীতল ও আরামদায়ক থাকে বলে সবচেয়ে সুন্দর ও উপভোগ্য ঋতু বলতে এ ঋতুকে বোঝায়।
- শীতকালে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উষ্ণতার তাপমাত্রা যথাক্রমে ২৯° সে. ও ১১° সে. এবং গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৭.৭° সে.।

⇒ এসময় দক্ষিণাংশ থেকে উত্তরদিকে ক্রমশ তাপমাত্রা কম থাকে।
- এ সময় বাংলাদেশের উপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়।
- এ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে আসে বলে জলীয়বাষ্প খুব কম থাকে।
- তবে হিমালয় পর্বতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় তুষারকণা হতে সামান্য পরিমাণে জলীয়বাষ্প বহন করে।
- এ বায়ু দেশের পূর্বাঞ্চলের পর্বতসমূহ বাধা পেয়ে সামান্য বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- কোন কোন বছর নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগর হতে আগত ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকদিন বৃষ্টিপাত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, বিএড প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৫.
কেন্দ্রমণ্ডল প্রধানত কোন কোন পদার্থ দ্বারা গঠিত?
  1. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  2. সিলিকা ও অ্যালুমিনিয়াম
  3. লৌহ ও নিকেল
  4. ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
লৌহ ও নিকেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লৌহ ও নিকেল
ব্যাখ্যা

• কেন্দ্রমণ্ডল:
- গোলাকার পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬৩৭১ কি.মি.।
- পৃথিবীর কেন্দ্রের চারদিকে প্রায় ৩৪৮৬ কি.মি. ব্যাসার্ধের যে গোলক রয়েছে, সেই গোলকটির নাম কেন্দ্রমন্ডল।
- বৈজ্ঞানিকদের মতে, কেন্দ্রমণ্ডল লৌহ, নিকেল, পারদ, সীসা প্রভৃতি কঠিন ও ভারী গদার্থ দ্বারা গঠিত।
- এ স্তরে নিকেল (Nickel) ও লৌহের (Ferus) পরিমাণ বেশি থাকায় এ স্তরটি সংক্ষেপে নাইফ (Nife) নামে পরিচিত।
- এটি পানি অপেক্ষা ১০/১২ গুণ এবং পৃথিবীর অন্যান্য অংশ অপেক্ষা দ্বিগুণের অধিক ঘন।
- কিন্তু প্রচণ্ড তাপ ও চাপে এটি সম্ভবত কঠিন অবস্থায় নেই।

উল্লেখ্য,
- ভূকম্পন তরঙ্গ থেকে বুঝা যায় যে, কেন্দ্রমণ্ডল দুটি অংশে বিভক্ত: বাইরের অংশ এবং ভিতরের অংশ।
- বাইরের অংশ তরল এবং ভিতরের অংশ কঠিন অবস্থায় আছে বলে অনুমান করা হয়।
- কেন্দ্রমন্ডলের বাইরের অংশের বিস্তৃতি প্রায় ২২৭০ কি.মি.।
- কেন্দ্রমন্ডলের ভিতরের অংশটি পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে প্রায় ১,২১৬ কি.মি. ব্যাসার্ধের মধ্যে কঠিন অবস্থায় রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়; নবম দশম শ্রেণি।

১,০৭৬.
কোন জলবায়ুতে মানুষ বসবাস করতে পছন্দ করে?
  1. ক) সমভাবাপন্ন
  2. খ) শীত
  3. গ) চরমাভাবাপন্ন
  4. ঘ) গরম
সঠিক উত্তর:
ক) সমভাবাপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সমভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা
জলবায়ুর প্রভাব জনবসতির বন্টন নিয়ন্ত্রণ করে। চরমভাবাপন্ন জলবায়ুর চেয়ে সমভাবাপন্ন জলবায়ুতে মানুষ বসবাস করতে পছন্দ করে। (রেফারেন্সঃ নবম দশম শ্রেণির ভূগোল)
১,০৭৭.
বাংলাদেশে গড়ে কী পরিমাণ বার্ষিক বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ২০৩ সেন্টিমিটার
  2. ২০৩০ সেন্টিমিটার
  3. ২০o৩ সেন্টিমিটার
  4. ৩০৩ সেন্টিমিটার
সঠিক উত্তর:
২০৩ সেন্টিমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০৩ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা

• বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত:
- বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০৩ সেন্টিমিটার। 
- মাস অনুসারে জুলাই মাসে সর্বাধিক ৫২৩.০ মি.মি. এবং জানুয়ারি মাসে সর্বনিম্ন ৯ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে ।
- বাংলাদেশে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয় সিলেট জেলায়।
- সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় রাজশাহী জেলায়।

উৎস: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

১,০৭৮.
কখন বাংলাদেশে বর্ষাকাল থাকে?
  1. মাঘ - বৈশাখ
  2. পৌষ - ফাল্গুন
  3. জ্যৈষ্ঠ - কার্তিক
  4. কার্তিক - পৌষ
সঠিক উত্তর:
জ্যৈষ্ঠ - কার্তিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যৈষ্ঠ - কার্তিক
ব্যাখ্যা
বর্ষাকাল:
- গ্রীষ্ম ও শীতের মাঝামাঝি বৃষ্টিবহুল সময়কে বর্ষাকাল বা বর্ষা ঋতু বলে।
- জুন মাসের প্রথম দিকে মৌসুমি বায়ুর আগমনের সঙ্গে সঙ্গে বর্ষাকাল শুরু হয়ে যায়।
- বাংলাদেশে জুন থেকে অক্টোবর মাস (জ্যৈষ্ঠ-কার্তিক) পর্যন্ত বর্ষাকাল।

উল্লেখ্য, 
- বর্ষাকালে সূর্য বাংলাদেশে প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- কিন্তু আকাশে মেঘ থাকে এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, ফলে এ সময় অধিক তাপমাত্রা অনুভূত হয় না।
- গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস।
- বর্ষাকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে আসার সময় প্রচুর জলীয়বাষ্প সমৃদ্ধ থাকে।
- এ জলীয়বাষ্প শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ এ সময়ে হয়।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,০৭৯.
আবহাওয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞান কোনটি?
  1. ক) ওয়েদারলজি
  2. খ) মেটালার্জি
  3. গ) এস্ট্রোলজি
  4. ঘ) মেটিওরোলজি
সঠিক উত্তর:
ঘ) মেটিওরোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মেটিওরোলজি
ব্যাখ্যা
Meteorology - the branch of science concerned with the processes and phenomena of the atmosphere, especially as a means of forecasting the weather; আবহাওয়াবিদ্যা; বায়ুবিজ্ঞান।
Source: Oxford
১,০৮০.
আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক কোনটি?
  1. বায়ুর তাপ
  2. বায়ুর চাপ
  3. সমুদ্রস্রোত
  4. বায়ুর আর্দ্রতা
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রস্রোত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রস্রোত
ব্যাখ্যা

আবহাওয়া ও জলবায়ু : 
- কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নিদিষ্ট সময়ের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, তুষারপাত, মেঘাচ্ছন্নতা ইত্যাদি উপাদানের গড় অবস্থাকে আবহাওয়া বলে।
- আবহাওয়া সবসময়ই পরিবর্তনশীল।
- কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের কয়েক বছরের গড় আবহাওয়াকে জলবায়ু বলে।
- পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় কোনো স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ইত্যাদির ৩০-৪০ বছরের গড় অবস্থাকে সে স্থানের জলবায়ু বলা হয়।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ -
- অক্ষাংশ,
- উচ্চতা,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
- স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান,
- সমুদ্রস্রোত,
- ভূমির ঢাল,
- মৃত্তিকার গঠন,
- বনভূমির অবস্থান।

অন্যদিকে, 
• আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান -
- বায়ুর তাপ,
- বায়ুর চাপ,
- বায়ু প্রবাহ,
- বায়ুর আর্দ্রতা,
- পানিচক্র ও বৃষ্টিপাত।

উল্লেখ্য,
- 'সমুদ্রস্রোত' আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৮১.
কোন সম্মেলনে 'জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন  (UNFCCC)' গৃহীত হয়?
  1. জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন
  2. বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন
  3. স্টকহোম সামিট
  4. বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে
সঠিক উত্তর:
বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে
ব্যাখ্যা
♣ UNFCCC: 
• ১৯৯২ সালের ৩-১৪ জুন ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও শহরে অনুষ্ঠিত 'বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে' 'জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন  (UNFCCC)' গৃহীত হয়। 
 • UNFCCC means United Nations Framework Convention on Climate Change.  
• এটি কার্যকর হয় ১৯৯৪ সালের ২১ মার্চ। এতে মোট ১৯৭ টি দেশ ও সংস্থা স্বাক্ষর করে। 
 
 - এর উদ্দেশ্য জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা। 
- ১৯৯৫ সাল থেকে 'জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP)' নামে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

♣ বিশ্বের প্রথম পরিবেশ সম্মেলন (স্টকহোম সামিট) ১৯৭২ সালে স্টকহোম, সুইডেনে অনুষ্ঠিত হয়।  

উৎস:
UNFCCC ওয়েবসাইট, জাতিসংঘ বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।
১,০৮২.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ কোনটি?
  1. বায়ুর চাপ বৃদ্ধি
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইডের অতিরিক্ত নির্গমন
  3. সমুদ্রের তাপমাত্রা কমা
  4. সূর্যের তেজ বৃদ্ধির কারণে
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইডের অতিরিক্ত নির্গমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইডের অতিরিক্ত নির্গমন
ব্যাখ্যা

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন:
-বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ: কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের অতিরিক্ত নির্গমন।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলতে সাধারণভাবে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে বোঝায়।
- বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি তথা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্রিন হাউস গ্যাসকে দায়ী করা হয়।
- মাত্র চারটি দেশ + ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) বিশ্বের অধিকাংশ কার্বন নির্গমনের জন্য দায়ী।
- চীন হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় কার্বন নির্গমনকারী দেশ।
- চীন বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এর জন্য দায়ী।
- চীনের কার্বন নির্গমন বৃদ্ধির মূল কারণ: কোয়লা নির্ভর শক্তি।
- চীনের মাথাপিছু কার্বন নির্গমন: ৮.১ টন।

উৎস: প্রথম আলো রিপোর্ট। 

১,০৮৩.
নিচের কোনটি আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান নয়?
  1. বায়ুর চাপ
  2. পানিচক্র ও বৃষ্টিপাত
  3. বায়ুর তাপ
  4. বনভূমির অবস্থান
সঠিক উত্তর:
বনভূমির অবস্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনভূমির অবস্থান
ব্যাখ্যা
- বনভূমির অবস্থান হলো আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান। যথাঃ-

- বায়ুর তাপ,
- বায়ুর চাপ,
- বায়ু প্রবাহ,
- বায়ুর আর্দ্রতা,
- পানিচক্র ও বৃষ্টিপাত।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ: 

- অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ,
- সমুদ্রস্রোত,
- বায়ু প্রবাহ,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
- বনভূমির অবস্থান,
- ভূমির বন্ধুরতা, ভূমির ঢাল কিংবা পর্বতের অবস্থান (বায়ুপ্রবাহ বাধা পায়)।
- মৃত্তিকার গঠন,
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা (উপরের দিকে বায়ুর চাপ/তাপ পরিবর্তিত হয়)।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,০৮৪.
নিচের কোনটি বায়ুমন্ডলের উপাদান নয়?
  1. ক) পাথর
  2. খ) জলীয়বাষ্প
  3. গ) ধূলিকণা
  4. ঘ) বিভিন্ন প্রকার গ্যাস
সঠিক উত্তর:
ক) পাথর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পাথর
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলের উপাদান
• পৃথিবীপৃষ্ঠ ও তার চারদিক জুড়ে বায়ুমন্ডল বেষ্টিত। এই মন্ডল নানা রকমের গ্যাসের মিশ্রণে গঠিত হয়েছে। এই গ্যাসীয়
মিশ্রণ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত প্রায় সমান।
• বায়ুমন্ডলে আরও রয়েছে অসংখ্য ধূলিকণার সংমিশ্রণ। এই সব কঠিন ও তরল কণিকাকে একত্রে বলা হয় রঞ্জক পদার্থ।
• বায়ুমন্ডলের বর্ণ, গন্ধ, আকার কিছুই নেই। তাই বায়ুমন্ডলের এই সব উপাদান স্বাভাবিক অবস্থায় অনুভব করা যায় না।
• সুতরাং বায়ুমন্ডলের উপাদান বলতে বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কণিকার সংমিশ্রণকে বুঝায়।   

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,০৮৫.
বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?
  1. Biosphere
  2. Lithosphere
  3. Atmosphere
  4. Hydrosphere
সঠিক উত্তর:
Atmosphere
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Atmosphere
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডল:

- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere.
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল।
- বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ।
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে গঠিত।
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%। অবশিষ্ট ১% অন্যান্য উপাদান।

অন্যান্য অপশনগুলো বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক স্তর বা অঞ্চলের নাম নির্দেশ করে:
• Biosphere: পৃথিবীতে সমগ্র জীবগোষ্ঠীর বসবাসযোগ্য সমস্ত অঞ্চল।
• Lithosphere: পৃথিবীর কঠিন বাইরের স্তর।
• Hydrosphere: পৃথিবীর সকল জলভাগ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৮৬.
সমুদ্র উপকূল থেকে দূরবর্তী স্থানে কেমন জলবায়ু বিরাজ করে?
  1. উষ্ণভাবাপন্ন
  2. চরমভাবাপন্ন
  3. মৃদুভাবাপন্ন
  4. সমভাবাপন্ন
সঠিক উত্তর:
চরমভাবাপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরমভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা
জলবায়ুর একটি নিয়ামক হলো সমুদ্র থেকে দূরত্ব। এই দূরত্বের কারণে একটি স্থানের জলবায়ুর পরিবর্তন নিম্নরূপ:

সমভাবাপন্ন: সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকার জলবায়ু সাধারণত এমন হয়ে থাকে। এইসব অঞ্চলের বায়ুর তাপমাত্রা শীত, গ্রীষ্ম ও দিন-রাত্রিতে তেমন পার্থক্য হয় না। সমুদ্র হতে প্রবাহিত আর্দ্র বায়ু শীতকালে বায়ুকে উষ্ণ ও গরমকালে বায়ুকে শীতল করে। 

মৃদুভাবাপন্ন: জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে। সমুদ্র উপকূলের জলবায়ু এমন ধরনের হয়। যেমন বাংলাদেশের কক্সবাজার।

চরমভাবাপন্ন: সমুদ্র উপকূল থেকে দূরবর্তী স্থানে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে। চরমভাবাপন্ন জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে গ্রীষ্মকালে তীব্র গরম, শীতকালে তীব্র শীত।

উৎস: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮৭.
মেরুবায়ু কোন বায়ুপ্রবাহের অংশ?
  1. ক) নিয়ত বায়ু
  2. খ) স্থানীয় বায়ু
  3. গ) মৌসুমী বায়ু
  4. ঘ) সমুদ্র ও স্থলবায়ু
সঠিক উত্তর:
ক) নিয়ত বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ:
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়।
- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়।
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়।
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার।
• নিয়ত বায়ু,
• সাময়িক বায়ু,
• স্থানীয় বায়ু, 
• অনিয়মিত বায়ু।

নিয়ত বায়ু:
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে।
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৮৮.
বাংলাদেশের কোন ধরনের অঞ্চলে পেঁয়াজ ও গম বেশি উৎপন্ন হয়?
  1. পাহাড়ি অঞ্চল
  2. উপকূলীয় অঞ্চল
  3. খরাপ্রবণ অঞ্চল
  4. বর্ষা বনাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
খরাপ্রবণ অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খরাপ্রবণ অঞ্চল
ব্যাখ্যা

• খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- বাংলাদেশে পেঁয়াজ ও গম প্রধানত দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ অঞ্চলে বেশি উৎপন্ন হয়। 
- এই অঞ্চলে শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকে এবং আর্দ্রতা তুলনামূলকভাবে কম, যা উভয় ফসলের জন্য উপযোগী।

• গম: এটি মূলত নাতিশীতোষ্ণ এবং শুষ্ক আবহাওয়ার ফসল।
- উত্তরে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, পাবনা, কুষ্টিয়া, যশোর এবং রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে শীতকালে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার অনুকূল পরিবেশ গমের চারা বৃদ্ধি এবং দানা গঠনের জন্য সুবিধা দেয়।
• পেঁয়াজ: পেঁয়াজও শীত ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ভালো জন্মায়। 
- খরিফ-১ গ্রীষ্মকালীন ও রবি মৌসুমে চাষ করা যায়, তবে উত্তরের উঁচু ও মধ্যম উর্বর জমিতে এবং পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ এলাকায় সবচেয়ে ভালো ফলন হয়।

উৎস: The Daily Ittefaq.

১,০৮৯.
ইক্ষু উৎপাদনের জন্য কত সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন?
  1. ১২০ সেন্টিমিটার
  2. ১৫০ সেন্টিমিটার
  3. ১৩০ সেন্টিমিটার
  4. ১৪০ সেন্টিমিটার
সঠিক উত্তর:
১৫০ সেন্টিমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫০ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা

ইক্ষু (Sugarcane): 
- চিনি ও গুড় উৎপাদনের জন্য ইক্ষু বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ফসল।
- ইক্ষু চাষের জন্য সমতলভূমি প্রয়োজন। রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, ঢাকা, যশোর ও ময়মনসিংহ ইক্ষু চাষের প্রধান অঞ্চল।
- ইক্ষু উৎপাদনের জন্য ১৯০ থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং কমপক্ষে ১৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন।
- বেলে দোআঁশ ও কর্দমময় দোআঁশ মাটিতে ইক্ষু চাষ ভালো হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৯০.
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ কোন দুর্যোগের জন্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ?
  1. ক) বন্যা
  2. খ) ভূমিকম্প
  3. গ) নদীভাঙন
  4. ঘ) খরা।
সঠিক উত্তর:
ক) বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বন্যা
ব্যাখ্যা
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করে।
এগুলো হচ্ছে - 
- মরুকরণ,
- বন্যা,
- ঝড়,
- সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং
- কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা।

- এই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ সহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের।
- বন্যা ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অর্থাৎ ১ নম্বরে।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।