বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

মোট প্রশ্ন১,০৯৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ

PrepBank · পাতা ১০ / ১১ · ৯০১১,০০০ / ১,০৯৬

৯০১.
যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তাকে কী বলে?
  1. নিয়ত বায়ু
  2. সাময়িক বায়ু
  3. স্থানীয় বায়ু
  4. অনিয়মিত বায়ু
সঠিক উত্তর:
নিয়ত বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা

নিয়ত বায়ু: 
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।  যথা: অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু। 

অন্যদিকে -
• সাময়িক বায়ু: কোনো নির্দিষ্ট দিক, বা বছরের কোনো নির্দিষ্ট ঋতুতে যে বায়ুপ্রবাহ জল ও স্থলভাগের তাপের তারতম্য সৃষ্টি করে তাকেই বলা হয় সাময়িক বায়ু। 
• স্থানীয় বায়ু: স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়প্রবাহ।
• অনিয়মিত বায়ু: কোনো স্থানে অধিক উত্তাপের জন্য বায়ুচাপ কমে নিম্নচাপের অথবা অত্যাধিক শীতের জন্য কোনো স্থানীয় বায়ু শীতল জলে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়। এভাবে সৃষ্টি যে বায়ুপ্রবাহ তাকে বলা হয় অনিয়মিত বায়ু প্রবাহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০২.
বৃষ্টিবহুল শীতকাল ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল কোন জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য?
  1. নিরক্ষীয়
  2. মৌসুমি
  3. ভূমধ্যসাগরীয়
  4. মেরুদেশীয়
সঠিক উত্তর:
ভূমধ্যসাগরীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমধ্যসাগরীয়
ব্যাখ্যা
ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিভিন্নতার কারণে জলবায়ুর ধরনেরও পার্থক্য দেখা যায়।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০°-৪৫° অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া, তিউনিশিয়া, মিশরের উত্তরাংশ, মরক্কোর উত্তরাংশ, ভূ-মধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত।
- এছাড়াও তুরস্ক, স্পেন, গ্রীস, দক্ষিণ ফ্রান্স, ইতালি, ইসরাইল, সিরিয়া, দক্ষিণ ও পশ্চিম যুগোশ্লাভিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তভুক্ত।
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে আরও যে দেশসমূহ রয়েছে সেগুলো হলো- লেবানন, পর্তুগাল, আলবেনিয়া এবং দ্বীপসমূহ হলো কর্ষিকা, মাল্টা, সাইপ্রাস ইত্যাদি।
- এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, দক্ষিণ আমেরিকার চিলির মধ্যভাগ এবং উত্তর আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এই জলবায়ুর অর্ন্তগত।

⇒ বৈশিষ্ট্য:
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল।
- এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা থাকে ২০°- ২৮° সে. এবং শীতকালে উষ্ণতা ১০° সে. এর কম থাকে।
- এখানে সমুদ্র বায়ুর প্রভাবে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়।
- সাধারণত অন্যান্য এলাকার তুলনায় সমুদ্র উপকূলে বৃষ্টিপাতের হার বেশি।
- বৃষ্টিপাত অধিক বলে এখানে শীতকালীন বৃক্ষ যেমন- জলপাই, কর্ক, তুঁত, নিম, পাইন গাছের উৎপত্তি লক্ষ্যণীয়।
- কম বৃষ্টি হয় এমন স্থানে ঝোপঝাড় জন্মে।
- প্রকৃতপক্ষে ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক। 

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৩.
বায়ু দ্বারা ক্ষয়কার্য অধিক সংঘটিত হয় কোথায়?
  1. মেরুঅঞ্চলে
  2. নদী অববাহিকায়
  3. মরুঅঞ্চলে
  4. উপকূলবর্তী অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
মরুঅঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরুঅঞ্চলে
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠের ধীরগতির ক্ষয়কার্যের অন্যতম নিয়ামক হলো বায়ু। বায়ু দ্বারা ক্ষয়কার্যের পরিমাণ সর্বাধিক হয় মরুভূমিতে। মরু এলাকা শুষ্ক, বৃষ্টিহীন ও গাছপালা শূন্য হওয়ায় সেখানকার মাটির সুদৃঢ় নয়। যার কারণে বায়ুপ্রবাহের আঘাতে এই অঞ্চলের শিলা সহজেই বাহিত হয়ে ধীর পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষয় সাধন করে।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৯০৪.
'বৈশ্বিক উষ্ণায়ণ হ্রাস করা'র সাথে সম্পর্কিত কোনটি?
  1. ক) রামসার কনভেনশন
  2. খ) কিয়োটো প্রটোকল
  3. গ) বাসেল কনভেনশন
  4. ঘ) কার্টাগেনা প্রটোকল
সঠিক উত্তর:
খ) কিয়োটো প্রটোকল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কিয়োটো প্রটোকল
ব্যাখ্যা
কিয়ােটো প্রটোকল ১৯৯৭ সালের ১১ ডিসেম্বর স্বাক্ষর হয়। ২০০৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কার্যকর হয়।
২০১২ সালে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে বর্তমানে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়ানাে হয়। এর বিষয়বস্তু হচ্ছে বায়ুমণ্ডলের কার্বন-ডাই-অক্সাইড/ গ্রীনহাউস গ্যাসের নিঃস্বরণ হ্রাস করা অর্থাৎ বৈশ্বিক উষ্ণায়ণ হ্রাস করা।
জীবপ্রযুক্তির ব্যবহার দ্বারা পরিমার্জিত প্রাণের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত 'কার্টাগেনা প্রটোকল' ২০০০ সালের ২৯ জানুয়ারি কানাডার মন্ট্রিলে গৃহীত হয়, যা কার্যকর হয় ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৩। বাংলাদেশ ২০০০ সালের ২৪ মে এটি স্বাক্ষর এবং অনুমােদন করে ২০০৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি।
মন্ট্রিল প্রটোকলের বিষয়বস্তু হচ্ছে বায়মণ্ডলের ওজোন স্তরকে রক্ষা বিষয়ক প্রটোকল।
উৎসঃ ব্রিটানিকা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯০৫.
বাংলাদেশে বর্ষাকালে কোন বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ক্রান্তীয় বায়ু
  2. মহাদেশীয় বায়ু
  3. নিয়ত বায়ু
  4. মৌসুমি বায়ু
সঠিক উত্তর:
মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ (Wind movement):
- বায়ুপ্রবাহ কোনো এলাকার জলবায়ুর উপরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোনো এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সে এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- যেমন- বাংলাদেশে বর্ষাকালে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- শীতকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে শুষ্ক মহাদেশীয় বায়ু প্রবাহিত হওয়ার কারণে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯০৬.
পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগ সর্বাপেক্ষা বেশি -
  1. ০° অক্ষাংশে
  2. ২৩.৫° অক্ষাংশে
  3. ৬৬.৫° অক্ষাংশে
  4. ৯০° অক্ষাংশে
সঠিক উত্তর:
০° অক্ষাংশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০° অক্ষাংশে
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও অক্ষরেখা:
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্রায়)।

-  নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°। 
- অর্থাৎ পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগ সর্বাপেক্ষা বেশি ০° অক্ষাংশে।
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে।
- পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।

উল্লেখ্য:
- পৃথিবীর দুই মেরু হতে সমান দূরত্বে (পৃথিবীর মাঝখানে) পূর্ব-পশ্চিমে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা কল্পিত বৃত্তকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখার সমান্তরালে উত্তরে ও দক্ষিণে কতকগুলো রেখা কল্পনা করা হয়। এই রেখাগুলোকে অক্ষরেখা বা সমাক্ষরেখা বলে।
- অক্ষরেখাসমূহের দূরত্ব সর্বত্র সমান। নিরক্ষেরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বের মানকে ডিগ্রিতে প্রকাশ করলে তাকে অক্ষাংশ বলে। 
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°,  বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখাকে বলা হয় মহাবৃত্ত।
- নিরক্ষরেখা থেকে ৯০° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় সুমেরু এবং ৯০° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় কুমেরু।
- এছাড়া ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় কর্কটক্রান্তি এবং ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে বলা হয় মকরক্রান্তি।
- ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রমে সুমেরু বৃত্ত এবং কুমেরু বৃত্ত।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৭.
আহ্নিক গতির কারণে ভূ-পৃষ্ঠে কোনো একটি স্থানে প্রতিদিন ________ জোয়ার ও _______ ভাটা সংঘটিত হয়।
  1. একবার, একবার
  2. দুইবার, দুইবার
  3. একবার, দুইবার
  4. দুইবার, একবার
সঠিক উত্তর:
দুইবার, দুইবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইবার, দুইবার
ব্যাখ্যা
আহ্নিক গতির ফল ও জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি:
আহ্নিক গতির ফলে পৃথিবীতে বেশ কিছু কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকে। তার মধ্যে অন্যতম জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি ।
জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি:
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়।
- সমুদ্রের পানি এভাবে ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার (High Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা (Ebb or low Tide) বলে। প্রতি ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট পরপর এই জোয়ার ভাঁটা সংঘঠিত হয়।
- অর্থাৎ  আহ্নিক গতির কারণে ভূ-পৃষ্ঠে কোনো একটি স্থানে প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়।

- তবে পৃথিবী নিজ অক্ষে অনবরত ঘূর্ণনশীল হওয়ায় আহ্নিক গতির ফলে একটি স্থানের প্রতিদিন
- একই সময়ে জোয়ার-ভাটা সংঘটিত না হয়ে ৫২ মিনিট সময়ের ব্যবধানে সংঘটিত হয়।
- এক মুখ্য জোয়ার চলে যাবার ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট অর্থাৎ প্রায় সাড়ে বার ঘন্টা পরে সেই জায়গায় গৌণ জোয়ার এবং ঐ স্থানের প্রত্যেক জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট অর্থাৎ প্রায় সোয়া ছয় ঘন্টা পরে ভাঁটা হয়।
জোয়ার ভাটার কারণ:
- বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে চন্দ্র ও সূর্যের প্রভাবেই এবং পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে জোয়ার ভাটা হয়।
- জোয়ার ভাটা সংঘটনের কারণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- ক. মহাকর্ষণ শক্তির প্রভাব এবং খ. কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাব।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম ও ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৮.
ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী ‘বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের গতির দিক' -
  1. ক) উত্তর গোলার্ধে বাম দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে ডান দিকে বেঁকে যায়
  2. খ) উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়
  3. গ) উত্তর গোলার্ধে সোজাসুজি ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।
  4. ঘ) উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে সোজাসুজি বেঁকে যায়।
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়
ব্যাখ্যা
 বায়ুপ্রবাহ:
- বায়ুর তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য এক স্থান হতে অন্য স্থানে বায়ু প্রবাহিত হয়।
- ভূপৃষ্ঠে সমান্তরালভাবে বায়ু চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে।
- বায়ুপ্রবাহের কারণ ৩টি।
- যথা: বায়ুর চাপ ও উষ্ণতার পার্থক্য, পৃথিবীর আবর্তন এবং জলীয়বাষ্প। 
- বায়ু প্রবাহ সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়:
১। উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
২। ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী ‘বায়ুপ্রবাহ বা সমুদ্রস্রোতের গতির দিক সোজাসুজি উত্তর বা দক্ষিণে না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৯.
বাংলাদেশে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত কোন ঋতু স্থায়ী হয়?
  1. গ্রীষ্মকাল
  2. বর্ষাকাল
  3. শীতকাল
  4. বসন্তকাল
সঠিক উত্তর:
বর্ষাকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ষাকাল
ব্যাখ্যা
⇒ বর্ষাকাল:
- বর্ষাকাল জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
- অর্থাৎ বাংলাদেশে বর্ষাকালের সময়সীমা ধরা হয়- জুন থেকে অক্টোবর।
- জুন মাসের শেষ দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনের সাথে বর্ষাকাল শুরু হয়।
- জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আকাশে ৮০-৯০ শতাংশ আর্দ্রতা থাকে।
- এই সময় বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়।
- গড় বৃষ্টিপাত ১১৯ সেন্টিমিটার থেকে ৩৪০ সেন্টিমিটার হতে পারে।

⇒ শীতকাল:
- শীতকালে বাংলাদেশের আকাশ সাধারণত মেঘমুক্ত থাকে এবং সুন্দর আবহাওয়া থাকে।
- সাধারণত নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক - ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে।
- শীতকালে উপকূলীয় এবং পাহাড়ি এলাকায় সামান্য বৃষ্টিপাত হয়।
- এই সময় বৃষ্টিপাত খুব কম হয়, যা বার্ষিক বৃষ্টিপাতের দুই শতাংশের বেশি নয় এবং ১০০ মিলিমিটার এর বেশি হয় না।
- শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে, প্রায় ৩৬ শতাংশ।

⇒ গ্রীষ্মকাল:
- গ্রীষ্মকাল মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত হয়।
- মার্চে আকাশে মেঘের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ থাকে, যা মে মাসে বেড়ে ৫০-৬০ শতাংশে পৌঁছায়।
- গ্রীষ্মকালীন কালবৈশাখী ঝড় বজ্র বিদ্যুৎসহ প্রবল বেগে চলে।
- এর গতি প্রতি ঘণ্টায় ৪০-৮০ কিলোমিটার, কখনও কখনও ১২৮ কিলোমিটারও হতে পারে।
- এই সময়ে গড় বৃষ্টিপাত ৫১০ মিলিমিটার হয়।

তথ্যসূত্র:- অর্থনৈতিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১০.
পৃথিবীতে দিন ও রাত সমান হয় কোন তারিখে?
  1. ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর
  2. ২২ ডিসেম্বর ও ২৩ সেপ্টেম্বর
  3. ২১ জুন ও ২২ ডিসেম্বর
  4. ২১ মার্চ ও ২১ জুন
সঠিক উত্তর:
২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা

দিন-রাত্রি সমান:
- ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার (০°) উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এই দুই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।
- ২১শে মার্চ উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল থাকায় এই উত্তর গোলার্ধে বিষুব 'বাসন্ত বিষুব’ (Vernal Spring Equinox) নামে অভিহিত।
- অপরদিকে ২৩শে সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করায় উত্তর গোলার্ধে এই বিষুব ‘শারদ বিষুব' (Autumnal Equinox) নামে অভিহিত হয়।

উল্লেখ্য,
২১ জুন:
- উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত।
- দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত।

২২ ডিসেম্বর:
- উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত।
- দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৯১১.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা প্রতি লিটারে- 
  1. ০.০১ মিলিগ্রাম।
  2. ০.০৫ মিলিগ্রাম।
  3. ০.০০৫ মিলিগ্রাম
  4. ০.০০১ মিলিগ্রাম
সঠিক উত্তর:
০.০১ মিলিগ্রাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.০১ মিলিগ্রাম।
ব্যাখ্যা

 আর্সেনিক দূষণ:
- ধূসর আভাযুক্ত সাদা রংবিশিষ্ট ভঙ্গুর প্রকৃতির একটি অর্ধধাতু বা উপধাতু হচ্ছে আর্সেনিক (Arsenic).
- ৩৩ আণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট আর্সেনিকের আণবিক ভর ৭৪.৯২।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা প্রতি লিটারে ০.০১ মিলিগ্রাম।
- বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রাম।
- চাঁদপুর জেলা দেশের মধ্যে সবচেয়ে আর্সেনিক দূষণপ্রবণ জেলা।
- ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আর্সেনিক শনাক্ত করা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

উৎস: ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।

৯১২.
বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদানগুলোর শতকরা কতভাগ জলীয়বাষ্প?
  1. ০.০৩%
  2. ০.৪১%
  3. ০.৮০%
  4. ০.৭১%
সঠিক উত্তর:
০.৪১%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.৪১%
ব্যাখ্যা
• বায়ুমণ্ডল:
- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere.
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল।
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয়বাষ্পের সংমিশ্রনে গঠিত।

• বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদানগুলোর শতকরা পরিমাণ:
- নাইট্রোজেন ৭৮.০১%,
- অক্সিজেন ২০.৭১%,
- আর্গন ০.৮০%,
- জলীয়বাষ্প ০.৪১%,
- কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩% ইত্যাদি।

উৎস:
১. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২. ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।।
৯১৩.
নিরক্ষীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হলো-
  1. ক) সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয়
  2. খ) সারা বছর অধিক তাপ ও বৃষ্টিপাত
  3. গ) বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল ও বৃষ্টিবহুল শীতকাল
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে সূর্য সারা বছর লম্বভাবে কিরণ দেয়। সারা বছর অধিক তাপ ও বৃষ্টিপাত থাকে এবং সারা বছর গ্রীষ্মকাল থাকে। সারা বছরই এ অঞ্চলে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়। প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হয় বলে এই অঞ্চলে শুষ্ক ঋতু বলে কোন ঋতু নেই। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৯১৪.
গ্রীষ্মকালীন মাসগুলোর মধ্যে কোন মাস সর্বাপেক্ষা বৃষ্টিবহুল?
  1. ক) এপ্রিল
  2. খ) মে
  3. গ) জুন
  4. ঘ) জুলাই
সঠিক উত্তর:
খ) মে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মে
ব্যাখ্যা
মার্চ মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্মকালীন মাসগুলোর মধ্যে মে মাস সর্বাপেক্ষা বৃষ্টিবহুল। গড়পড়তা প্রতি তিন দিনে এক দিন বৃষ্টি হয়। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৯১৫.
যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তা হলো-
  1. আয়ন বায়ু
  2. মৌসুমী বায়ু 
  3. প্রত্যয়ন বায়ু
  4. নিয়ত বায়ু
সঠিক উত্তর:
নিয়ত বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা

• বিভিন্ন প্রকার বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা - 
• নিয়ত বায়ু, 
• সাময়িক বায়ু, 
• স্থানীয় বায়ু এবং 
• অনিয়মিত বায়ু। 

• নিয়ত বায়ু: 
যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
• অয়ন বায়ু, 
• পশ্চিমা বায়ু ও 
• মেরু বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১৬.
সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়- 
  1. অয়ন বায়ু
  2. প্রত্যয়ন বায়ু
  3. নিয়ত বায়ু
  4. মৌসুমী বায়ু
সঠিক উত্তর:
নিয়ত বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা

নিয়ত বায়ু- সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। 
-------------------------------------
• বায়ুপ্রবাহ:
- ভূপৃষ্ঠের সমান্তরাল বা অনুভূমিকভাবে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ুর চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে।
- বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রার পার্থক্য বায়ুচাপের ভিন্নতা সৃষ্টি করে।
- তাপমাত্রার পার্থক্য বায়ুপ্রবাহের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে।
- বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ বায়ুচাপের পার্থক্যের উপরও নির্ভরশীল।
- এটি পৃথিবীর পৃষ্ঠে তাপের সমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- বায়ু তার তাপমাত্রা ও চাপের পার্থক্যের কারণে সর্বদা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়। 
- এই প্রবাহ কিছু বিশেষ নিয়ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তিত হয়।
- এর ফলে নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে বায়ুর গতিবেগ ধীরে ধীরে হ্রাস পায়।
- এছাড়াও, ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী- ঘূর্ণায়মান পৃথিবীতে বায়ু সরাসরি উত্তর–দক্ষিণে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।

- বায়ুপ্রবাহ সাধারণত চার প্রকার-
১. নিয়ত বায়ু;
২. সাময়িক বায়ু;
৩. স্থানীয় বায়ু;
৪. অনিয়মিত বায়ু। 
--------------------------------------------
নিয়ত বায়ু:
- এই বায়ু উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।
- নিয়ত বায়ু পুরো বছরজুড়ে একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো নিয়ত বায়ুর দিক নির্ধারণ করে।
- এটি তিন ভাগে বিভক্ত-
১. অয়ন বায়ু,
২. পশ্চিমা বায়ু, 
৩. মেরু বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১৭.
পৃথিবীর কোন অক্ষাংশতে আহ্নিক গতির বেগ সর্বাপেক্ষা কম?
  1. ০° অক্ষাংশ
  2. ২৩.৫° অক্ষাংশ
  3. ৬৬.৫° অক্ষাংশ
  4. ৯০° অক্ষাংশ
সঠিক উত্তর:
৯০° অক্ষাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯০° অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও অক্ষরেখা:
- আহ্নিক গতি নিরক্ষরেখায় সর্বাপেক্ষা বেশি। নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°।
- অন্যদিকে ৯০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে আহ্নিক গতি সর্বাপেক্ষা কম। 
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে।
- পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।
- নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে পৃথিবীর মোট ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন।
- এই সময়কে সৌরদিন বলা হয়।
- পৃথিবী গোলাকার হলেও এর ব্যাস সর্বত্র সমান নয়।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্রায়)।
- অন্যদিকে ৯০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা কম তাই এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা কম। 

উল্লেখ্য:
- পৃথিবীর দুই মেরু হতে সমান দূরত্বে (পৃথিবীর মাঝখানে) পূর্ব-পশ্চিমে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা কল্পিত বৃত্তকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখার সমান্তরালে উত্তরে ও দক্ষিণে কতকগুলো রেখা কল্পনা করা হয়। এই রেখাগুলোকে অক্ষরেখা বা সমাক্ষরেখা বলে।
- অক্ষরেখাসমূহের দূরত্ব সর্বত্র সমান। নিরক্ষেরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বের মানকে ডিগ্রিতে প্রকাশ করলে তাকে অক্ষাংশ বলে। 
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°। নিরক্ষরেখা থেকে ৯০° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় সুমেরু এবং ৯০° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় কুমেরু।
- এছাড়া ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রামে- কর্কটক্রান্তি এবং ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে বলা হয় মকরক্রান্তি।
- ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রমে সুমেরু বৃত্ত এবং কুমেরু বৃত্ত।
- বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখাকে বলা হয় মহাবৃত্ত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৮.
ঢাকা থেকে পূর্বদিকে অবস্থিত একটি স্থানের সাথে দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪৫°। ঢাকার সময় মধ্যাহ্ন ১২:০০ টা হলে ঐ স্থানটির স্থানীয় সময় হবে-
  1. সকাল ০৯:০০ টা
  2. বিকাল ০৩:০০ টা
  3. সন্ধ্যা ০৬:০০ টা
  4. রাত ০৯:০০ টা
সঠিক উত্তর:
বিকাল ০৩:০০ টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকাল ০৩:০০ টা
ব্যাখ্যা
◉ পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
→ ৪৫° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের প্রার্থক্য হবে, ৪৫×৪ = ১৮০ মিনিট বা ৩ ঘণ্টা।
→ যেহেতু পূর্বে গেলে সময় বাড়ে সেহেতু ঢাকার সময় মধ্যাহ্ন ১২:০০ টা হলে ঐ স্থানটির স্থানীয় সময় হবে বিকেল ৩টা।
 
আন্তর্জাতিক টাইম জোন:
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে।
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- কোন স্থান থেকে পশ্চিমে গেলে সময় কমবে আর পূর্বে গেলে সময় বাড়বে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯১৯.
নিচের কোনটি 'বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' নয়?
  1. টাঙ্গুয়ার হাওর
  2. গুলশান-বারিধারা লেক
  3. তুরাগ নদী
  4. নিঝুম দ্বীপ
সঠিক উত্তর:
নিঝুম দ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিঝুম দ্বীপ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
- এর ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিবেশের উৎপাদনশীলতাও কমে গিয়েছে।
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- এ-পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
- এলাকাগুলো: সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উল্লেখ্য,
- নিঝুম দ্বীপ 'বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' নয়।

উৎস: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৯২০.
মুখ্য জোয়ার পৃথিবীর কোন অংশে সবচেয়ে বেশি ঘটে?
  1. সূর্যের দিকে থাকা অংশে
  2. সূর্যের বিপরীত দিকে থাকা অংশে
  3. চন্দ্রের পাশে থাকা অংশে
  4. চন্দ্রের বিপরীত পাশে থাকা অংশে
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রের পাশে থাকা অংশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রের পাশে থাকা অংশে
ব্যাখ্যা

• জোয়ার-ভাঁটা: 
- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে  ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাঁটা সংঘটিত হয়। 
- জোয়ার ভাঁটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মুখ্য জোয়ার
২. গৌণ জোয়ার
৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল
৪. মরা কটাল

১. মুখ্য জোয়ার: 
- চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরুপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২১.
ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ু উত্তর গোলার্ধে কোন দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়?
  1. ডান দিকে
  2. বাম দিকে
  3. সোজা
  4. উল্টো
সঠিক উত্তর:
ডান দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডান দিকে
ব্যাখ্যা
কোরিওলিস প্রভাব:
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের এই শক্তিকেই বলা হয় কোরিওলিস প্রভাব/শক্তি।
- গোলার্ধভিত্তিক এই পরিবর্তন কোনো প্রবাহিত চলমান বস্তুর উপর পৃথিবীর ঘূর্ণন বলের প্রভাব বলে অনুমান করা যায়।
- এই দিক পরিবর্তনকারী শক্তি -
১. বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে যা সর্বদা লম্বভাবে ক্রিয়া করে।
২. কোরিওলিস শক্তি বায়ুর গতির উপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
৩. কোরিওলিসের প্রভাব মেরুতে সবচেয়ে বেশি এবং বিষুবীয় এলাকায় অস্তিত্ব লোপ পায়।

⇒ পৃথিবীর আবর্তন:
- আহ্নিক গতির কারণে পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে।
- পৃথিবীর এইরূপ আর্বতনের সাথে সাথে সাগর মহাসাগরের পানিরাশিও পশ্চিম হতে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র স্রোতের সৃষ্টি হয়।
- আবর্তন গতির ফলে সৃষ্ট সমুদ্র স্রোত ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয।
- যেমন: উত্তর গোলার্ধে উপসাগরীয় স্রোত ও ক্যানারি স্রোতের প্রবাহ ঘড়ির কাঁটার দিকে অর্থাৎ ডান দিক ঘুরে প্রবাহিত হয়।
- একইভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে ব্রাজিল স্রোত ও পশ্চিমা বায়ু প্রবাহজনিত স্রোত ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরে প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২২.
পৃথিবীর তাপমাত্রা গত ১০০ বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে?
  1. ০.৩° সেলসিয়াস
  2. ০.৪° সেলসিয়াস
  3. ০.৬° সেলসিয়াস
  4. ০.৫° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
০.৬° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.৬° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর তাপমাত্রা:
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সারা বিশ্ব জুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে।
- ১৯৭৯ সাল থেকে এনওএএ সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রার হিসেব রাখছে।
- প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর আবির্ভাবের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধির আরও নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাষ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য,
- IPCC-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী (২০০৭ সালে), পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা গত ১০০ বছরে প্রায় ০.৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।
- উত্তর অক্ষাংশে বৃদ্ধি বেশি।
- আইপিসিসি আরও দেখেছে যে স্থল অঞ্চলগুলি সমুদ্রের চেয়ে দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে।
- গত একশো বছরে সারা বিশ্বে গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ০.৬ ডিগ্রি।
- অপরদিকে বাংলাদেশের তাপমাত্রা বেড়েছে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
- এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী শতকে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বাড়বে ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

উৎসনclimate.gov & IPCC website. 
৯২৩.
ঢাকার স্থানীয় সময় থেকে কোন স্থানের স্থানীয় সময় ৩ ঘণ্টা বেশি। ঢাকার দ্রাঘিমারেখা ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা হলে ঐ স্থানের দ্রাঘিমারেখা কত?
  1. ১৩৫° পূর্ব দ্রাঘিমা
  2. ৪৫° পশ্চিম দ্রাঘিমা
  3. ৪৫° পূর্ব দ্রাঘিমা
  4. ৯০° পশ্চিম দ্রাঘিমা
সঠিক উত্তর:
১৩৫° পূর্ব দ্রাঘিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৫° পূর্ব দ্রাঘিমা
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমা নির্ণয়:
১। যেহেতু ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য দুটি স্থানের স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। এ কারণে স্থান দুটির সময়ের পার্থক্য যা হয় তাকে ৪ দিয়ে ভাগ করে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।

২। যে কোনো স্থানের সময় গ্রীনিচের সময় অপেক্ষা অধিক হলে বুঝতে হবে স্থানটি গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং কম হলে স্থানটি গ্রীনিচের পশ্চিমে অবস্থিত। গ্রীনিচের দ্রাঘিমাকে ০° ধরে সময়ের পার্থক্য অনুযায়ী অন্যান্য স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়। ক্রনোমিটার নামক ঘড়ি গ্রীনিচ সময় অনুসারে চলে। তাই এই ঘড়ি দেখে কোনো স্থানের স্থানীয় সময়ের সাথে গ্রীনিচ সময়ের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।

সমাধান:
আমরা জানি, ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্য হলে দ্রাঘিমার পার্থক্য হবে ১° ।
৩ ঘণ্টা (১৮০ মিনিট) সময়ের পার্থক্য হলে দ্রাঘিমার পার্থক্য হবে (১৮০/৪)= ৪৫° ।
অর্থাৎ ঢাকার থেকে ঐ স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪৫°।

প্রশ্নে উল্লিখিত ঢাকার থেকে ঐ স্থানের স্থানীয় সময় ৩ ঘণ্টা বেশি দেখে আমরা বুঝতে পারি, ঐ স্থানের অবস্থান ঢাকার পূর্বে অবস্থিত। তাই ঢাকার দ্রাঘিমার সাথে ৪৫° দ্রাঘিমা যোগ দিলে ঐ স্থানের দ্রাঘিমারেখা পাওয়া যাবে। 
সুতরাং ঐ স্থানের দ্রাঘিমারেখা (৯০° + ৪৫°)= ১৩৫° পূর্ব দ্রাঘিমা।
উত্তর: ঐ স্থানের দ্রাঘিমারেখা ১৩৫° পূর্ব দ্রাঘিমা।

অন্যভাবে,
যে কোনো স্থানের সময় গ্রীনিচের সময় অপেক্ষা অধিক হলে বুঝতে হবে স্থানটি গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং কম হলে স্থানটি গ্রীনিচের পশ্চিমে অবস্থিত। গ্রীনিচের দ্রাঘিমাকে ০° ধরে সময়ের পার্থক্য অনুযায়ী অন্যান্য স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।
গ্রীনিচের সাথে ঢাকার দ্রাঘিমার পার্থক্য ৯০° এবং সময়ের পার্থক্য ৬ ঘণ্টা বেশি।(GMT+6)

প্রশ্নমতে, ঢাকার স্থানীয় সময় থেকে ঐ স্থানের স্থানীয় সময় ৩ ঘণ্টা বেশি, অর্থাৎ ঐ স্থানের স্থানীয় সময় গ্রীনিচের থেকে ৯ ঘণ্টা বেশি। (GMT+9)
∴ ৩ ঘণ্টা (১৮০ মিনিট) সময়ের পার্থক্য হলে দ্রাঘিমার পার্থক্য হবে (১৮০/৪)= ৪৫°।
অর্থাৎ ঢাকার থেকে ঐ স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য ৪৫°  বেশি আবার গ্রীনিচের থেকেও ঐ স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য (৯০° + ৪৫°)= ১৩৫° বেশি। (ঢাকার দ্রাঘিমার সাথে অতিরিক্ত ৪৫° যোগ করে)

এখানে, আমরা ঢাকার দ্রাঘিমা সাথে ৪৫° যোগ করে বা গ্রীনিচের দ্রাঘিমার সাথে ১৩৫° যোগ করে ঐ স্থানের দ্রাঘিমারেখা পাব।
সুতরাং ঐ স্থানের দ্রাঘিমারেখা (৯০° + ৪৫°)= ১৩৫° পূর্ব দ্রাঘিমা। বা (০° + ১৩৫°)=১৩৫° পূর্ব দ্রাঘিমা। ( ঢাকার ও রিয়াদের সময় গ্রীনিচের সময় অপেক্ষা অধিক তাই বুঝতে হবে স্থানটি গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত বা GMT+)

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৪.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের -
  1. উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে
  2. উত্তাপ কমে যাবে
  3. নদ-নদীর পানি কমে যাবে
  4. বৃষ্টিপাত কমে যাবে
সঠিক উত্তর:
উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে
ব্যাখ্যা
• সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন:
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
- সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মিশর, ভিয়েতনাম, ফিজি, কিরিবাতি, টুভ্যালু প্রভৃতি দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
- এছাড়া কৃষি জমি লবণাক্ত হয়ে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাবে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৫.
কোনটি চরমভাবাপন্ন মধ্য অক্ষাংশীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য?
  1. বরফাবৃত ভূমি
  2. কম বৃষ্টিপাত
  3. শীতলতম মাসের গড় তাপমাত্রা ৫° সে.
  4. শীতলতম মাসের গড় তাপমাত্রা ১০° সে.
সঠিক উত্তর:
বরফাবৃত ভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরফাবৃত ভূমি
ব্যাখ্যা
• চরমভাবাপন্ন মধ্য অক্ষাংশীয় বৃষ্টিবহুল জলবায়ুসমূহ:
- এ জলবায়ু গোত্রে শীতলতম মাসের গড় তাপমাত্রা ৩° সে. এর কম এবং উষ্ণতম মাসের গড় তাপমাত্রা ১০০ সে. এর বেশি থাকে এবং ভূমি বরফাবৃত থাকে।
- এ গোত্রে দুটি প্রধান শ্রেণির জলবায়ু হলো: ১. শুষ্ক শীত ঋতুসহ অতি শীতল জলবায়ু এবং ২. আর্দ্র ও অতি শীতল জলবায়ু।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৬.
বাংলাদেশের জলবায়ুতে কোন বায়ুর প্রভাব সর্বাধিক?
  1. মহাদেশীয় বায়ু
  2. মৌসুমি বায়ু
  3. মেরু বায়ু
  4. অয়ন বায়ু
সঠিক উত্তর:
মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের জলবায়ুতে — মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অত্যধিক।

• বাংলাদেশর জলবায়ু:
- বাংলাদেশ ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুর দেশ।
- শীত ও গ্রীস্ম ঋতুতে এ দেশে বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয়।
- গ্রীষ্মকালে সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু প্রচুর জলীয়বাষ্প বহন করে নিয়ে আসে ফলে তখন এদেশে প্রচুর বৃষ্টি হয়।
- পক্ষান্তরে শীত কালে স্থলভাগের উপর দিয়ে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত বায়ু শুষ্ক থাকায় তখন বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।
-  মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে তিনটি ঋতু বিশেষ ভাবে স্পষ্ট লক্ষ্য করা যায়; শীতকাল শীতল ও শুষ্ক, গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও শুষ্ক এবং বর্ষাকাল আর্দ্রভাবাপন্ন। 

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী, ভূগোল ১ম পত্র- এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৭.
বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে শীতলতম তাপমাত্রা ধারণ করে-
  1. তাপমণ্ডল
  2. এক্সোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. স্ট্র্যাটোমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
মেসোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেসোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

মেসোমণ্ডল (Mesosphere):
- স্ট্রাটোবিরতির উপরে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে মেসোমণ্ডল বলে। 
​- এই স্তরের উপরে তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়া থেমে যায়। 
​- এই স্তরকে মেসোবিরতি (Meso-pause) বলে।

​মেসোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of the Mesosphere):
(ক) এই স্তরে ট্রপোমণ্ডলের মতোই উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা কমতে থাকে। যা-৮৩° সেলসিয়াস পর্যন্ত নিচে নেমে যায়। মেসোমণ্ডল বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে শীতলতম তাপমাত্রা ধারণ করে।

​(খ) মহাকাশ থেকে যেসব উল্কা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে সেগুলোর অধিকাংশই এই স্তরের মধ্যে এসে পুড়ে যায়।

​​তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯২৮.
'পশ্চিমা বায়ু' দক্ষিণ গোলার্ধের কোন দিক থেকে প্রবাহিত হয়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম
  2. উত্তর-পশ্চিম
  3. পুর্ব-পশ্চিম
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিম
ব্যাখ্যা

পশ্চিমা বায়ু (The Westerlies):
- কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে অয়ন বায়ু ব্যতীত আরও দুটি বায়ুপ্রবাহ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
- উত্তর গোলার্ধে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
- এ বায়ুপ্রবাহকে পশ্চিমা বায়ু বলে।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ অধিক বলে স্থানীয় কারণে পশ্চিমা বায়ুর সাময়িক বিরতি ঘটে।
- কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি বলে পশ্চিমা বায়ু প্রবলবেগে এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।
- এজন্য এই বায়ুপ্রবাহকে প্রবল পশ্চিমা বায়ু (Brave west winds) বলে।
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সর্বাপেক্ষা বেশি।
- এ অঞ্চলকে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring forties) বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৯২৯.
'শাণিত ষাট' (Screaming Sixties) কোন বায়ুর সাথে সম্পর্কিত?
  1. অয়ন বায়ু
  2. মৌসুমি বায়ু
  3. মেরু বায়ু
  4. পশ্চিমা বায়ু
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমা বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমা বায়ু
ব্যাখ্যা
পশ্চিমা বায়ু (Westerlies):
-৩৫° থেকে ৬০° অক্ষাংশের মাঝে উভয় গোলার্ধে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও হালকা বায়ু প্রবাহিত হয়ে মেরু অভিমুখে গমন করে। এ বায়ুকে পশ্চিমা বায়ু বলে।
- উত্তর গোলার্ধে এ বায়ু দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের আধিক্যের জন্য বায়ু প্রবাহ ইতম্ভ ও স্থানীয় ভাবে বিভিন্ন গতির হলেও গড় গতি দক্ষিণ পশ্চিমেই হয়।
- দক্ষিণ গোলার্ধে প্রবাহ মোটামুটি নিয়ত।
- দক্ষিণ গোলার্ধে এ প্রবাহ ৪০° থেকে ৬০° অক্ষাংশে সর্বাধিক।
- এ অঞ্চলকে বলা হয় 'গর্জনশীল চল্লিশা' (Roaring Forties). 'উম্মত্ত পঞ্চাশ' (Furious Fifties) এবং 'শাণিত ষাট' (Screaming Sixties)।

উৎস:-(পৃষ্ঠা নং ১৫৮) ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি এ /বি এস এস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩০.
নিচের কোনটি জলবায়ুর নিয়ামক নয়? 
  1. সমুদ্রস্রোত
  2. অক্ষাংশ
  3. দ্রাঘিমাংশ
  4. বায়ুপ্রবাহ
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমাংশ
ব্যাখ্যা

- দ্রাঘিমাংশ  জলবায়ুর নিয়ামক নয়।
- পৃথিবীর কোনো স্থান নির্ণয় করতে গেলে দ্রাঘিমাংশ প্রয়োজন হয়।

• জলবায়ু (Climate): 
- পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় কোনো স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ইত্যাদির ৩০-৪০ বছরের গড় অবস্থাকে সে স্থানের জলবায়ু বলা হয়। 
- অক্ষাংশ, সমুদ্র হতে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহের দিক, ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা, সমুদ্রস্রোত ইত্যাদি নিয়ামকের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ুর পার্থক্য দেখা যায়।

» জলবায়ুর নিয়ামক:
১। অক্ষাংশ
২। উচ্চতা
৩। সমুদ্র থেকে দূরত্ব
৪। স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান
৫। সমুদ্রস্রোত
৬। ভূমির ঢাল
৭। ভূ-প্রকৃতি
৮। বায়ুপ্রবাহ
৯। বায়ুর চাপ এবং
১০। বনভূমির অবস্থান।

» জলবায়ুর উপাদান:
১। বায়ুর তাপ
২। চাপ
৩। বারিপাত
৪। আর্দ্রতা 
৫। বায়ুপ্রবাহ।

তথ্যসূত্র: ভুগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, ও ভুগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৩১.
যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তাকে বলা হয় -
  1. অয়ন বায়ু
  2. মৌসুমী বায়ু
  3. প্রত্যয়ন বায়ু
  4. নিয়ত বায়ু
সঠিক উত্তর:
নিয়ত বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা
• নিয়ত বায়ু:
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তাকে বলা হয় নিয়ত বায়ু।
- নিয়ত বায়ু তিন প্রকার। যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু।
- কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে সদা প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয়- অয়ন বায়ু।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩২.
গ্রীষ্মকালের শুরুতে নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে কোন ধরনের বৃষ্টিপাত হয়?
  1. পরিচলন বৃষ্টিপাত
  2. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
  3. গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাত
  4. মুষলধারে বৃষ্টিপাত
সঠিক উত্তর:
পরিচলন বৃষ্টিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিচলন বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
পরিচলন বৃষ্টিপাত:
• নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে গ্রীষ্মকালের শুরুতে পরিচলন বৃষ্টি হয়ে থাকে। এ সময়ে এই অঞ্চলের ভূপৃষ্ঠ যথেষ্ট উত্তপ্ত হলেও উপরের বায়ুমণ্ডল বেশ শীতল থাকে। ফলে ভূপৃষ্ঠের জলাশয়গুলো থেকে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে পরিচলন বৃষ্টিরূপে পতিত হয়।

উল্লেখ্য
 - ভূ-পৃষ্ঠের বায়ু উষ্ণ হলে প্রচুর জলীয়বাষ্প সম্পন্ন হালকা বায়ু উপরে উঠে যায়। এ সময়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজা নিচে নেমে আসে। এই বৃষ্টিপাতকে বলা হয় পরিচলন বৃষ্টি।
- পরিচলন বৃষ্টিতে বায়ুর তাপ হ্রাস পেয়ে যখন অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয় তখন এই ধরনের বৃষ্টিপাত ঘটায়। নিরক্ষীয় নিম্নচাপ এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় কারণ এই সব এলাকার উর্ধ্বগামী বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে।
-  নিরক্ষীয় এলাকায় স্থলভাগের থেকে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হয়। এই অঞ্চলে হালকা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে।
- হালকা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু যখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে আসে তখন এই রকম পরিচলন বৃষ্টিপাত ঘটায়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় সারাবছরই সন্ধ্যা ও বিকালে এইরূপ বৃষ্টি হয়।  

অন্যদিকে,
⇒ বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ:
চারটি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে একে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়।
যথা -
১. পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rain)
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic Rain)
৩. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি (Cyclonic Rain)
৪. সংঘর্ষ বৃষ্টি (Frontal Rain)

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৩.
দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর দিক পরিবর্তন হওয়ার যৌক্তিক কারণ কোনটি?
  1. ফেরেলের সূত্র
  2. হিমালয় পর্বতে বাধা
  3. অয়ন গতি
  4. উষ্ণতার পার্থক্য
সঠিক উত্তর:
ফেরেলের সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরেলের সূত্র
ব্যাখ্যা
মৌসুমি জলবায়ু:
- ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয় বলে একে মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়।
- কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির নিকটবর্তী অঞ্চল জুড়ে যে জলবায়ু বিস্তৃত তা মৌসুমি জলবায়ু।
- ক্যারিবিয়ান সাগর, পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপসমূহের দেশগুলো, পূর্ব আফ্রিকা, পূর্ব ব্রাজিল, উত্তর-পূর্ব অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ চীন ও জাপান, থাইল্যান্ড, কম্পুচিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিয়ানমার অর্থাৎ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও মেক্সিকো উপসাগরের উপকূলবর্তী দেশসমূহ, লাওস, মালাগাছি দ্বীপও এই জলবায়ুর অন্তর্ভুক্ত।

⇒ দক্ষিণ গোলার্ধের উচ্চচাপ বলয় থেকে আসা দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যায়।
- এই বায়ুকেই বলা হয় উত্তর গোলার্ধের মৌসুমি বায়ু।
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলা হয়।
- কারণ নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ পূর্ব অয়ন বায়ু দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে উত্তর পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৪.
ADB এর সমীক্ষা মতে, ২০৫০ সাল পর্যন্ত উষ্ণায়নের ধারা অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ এশিয়ায় কী প্রভাব পড়বে?
  1. শস্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে
  2. শস্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে
  3. পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে
  4. কৃষিক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা আসবে
সঠিক উত্তর:
শস্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শস্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে
ব্যাখ্যা
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (ADB) একটি সমীক্ষা থেকে জানা যায়,
- উষ্ণায়নের বর্তমান ধারা ২০৫০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ এশিয়ায় শস্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
- জলবায়ুর অন্য আনুষঙ্গিক পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার ১৫০ কোটির বেশি মানুষ সরাসরি পানি ও খাদ্য ঝুঁকিতে পড়বে।
- ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে এ শতকের শেষ নাগাদ বিশ্বে চাষাবাদ ২০ থেকে ৪০ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯৩৫.
বাণিজ্য বায়ু বলা হয় কোন বায়ুকে?
  1. পশ্চিমা বায়ু
  2. অয়ন বায়ু
  3. মেরু বায়ু
  4. অনিয়মিত বায়ু
সঠিক উত্তর:
অয়ন বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অয়ন বায়ু
ব্যাখ্যা

অয়ন বায়ু: 
- এই বায়ু ক্রমাগত শীতল হয়ে নিচে নামতে না পেরে উত্তর ও দক্ষিণে ছড়িয়ে যায়।
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় থেকে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে উঠে গেলে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- ফেরেলের সূত্র অনুসারে এ বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে।
- প্রাচীনকালে বাণিজ্য জাহাজগুলো এই বায়ুপ্রবাহ অনুসরণ করতো বলে একে বাণিজ্য বায়ুও বলা হয়। 
- উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব অয়ন বায়ু এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নামে পরিচিত।
- প্রায় ৩০০ অক্ষাংশ বরাবর এই বায়ু নিচে নেমে তা আবার বিষুবীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
- সাধারণত উচ্চচাপ সম্পন্ন এলাকায় অয়ন বায়ু প্রবাহিত হয় বলেই এইসব স্থানে আবহাওয়া উষ্ণ, শুষ্ক ও মেঘমুক্ত প্রকৃতির হয়।
- পৃথিবীর বড় বড় মরুভূমি যেমন-সাহারা, কালাহারি মরুভূমিতে এই বায়ুপ্রবাহের প্রভাব দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৩৬.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় বিশ্বের মোট জনসমষ্টির কত শতাংশ অধিবাসীর সরাসরি ভাগ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে?
  1. প্রায় ১০ শতাংশ
  2. প্রায় ২০ শতাংশ
  3. প্রায় ২৫ শতাংশ
  4. প্রায় ৩০ শতাংশ
সঠিক উত্তর:
প্রায় ২০ শতাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ২০ শতাংশ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রভাব: 
• বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী গ্রিনহাউস প্রভাব পৃথিবীর কয়েকটি দেশে যথা- কানাডা, রাশিয়া, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, দক্ষিণ আমেরিকা প্রভৃতি দেশগুলোর জন্য সাফল্য বয়ে আনবে।
• এ কারণে ঐসব অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ একর জমি বরফমুক্ত হয়ে চাষাবাদ ও বসবাসযোগ্য হয়ে উঠবে।
• অন্যদিকে দুর্ভোগ বাড়বে পৃথিবীর প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকার দরিদ্র অধিবাসীদের।
• কারণ গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উপকূলীয় এলাকার এক বিরাট অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
• সমুদ্র উপকূলবর্তী পৃথিবীর বেশ কয়েকটি বিখ্যাত শহর হবে ব্যাপক আকারে ক্ষতিগ্রস্ত।  
♠♠ 
• পৃথিবী উষ্ণায়নের ফলে একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় বিশ্বের মোট জনসমষ্টির প্রায় ২০ শতাংশ অধিবাসীর সরাসরি ভাগ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
• এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠলে আবহাওয়ার প্রকৃতিই বদলে যাবে। 
• সময়ে অসময়ে জলোচ্ছ্বাসের শিকার হয়ে ফসল ডুবে যাবে, দূষিত হবে সুপেয় পানি, লোনা পানি প্রবেশের ঝুঁকি বাড়বে, বনাঞ্চল ধ্বংস হবে, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা হ্রাস পাবে এবং একই দেশের মানুষ অন্য অঞ্চলে হবে জলবায়ু শরণার্থী (Climate refugee)।
• এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলের মানুষ হবে প্রথম শিকার।  

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩৭.
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতে কোন ঢালে বৃষ্টিপাত ঘটে?
  1. অনুবাত
  2. অনুপাদিত
  3. প্রতিপদ
  4. প্রতিবাত
সঠিক উত্তর:
প্রতিবাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিবাত
ব্যাখ্যা
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত:
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়।
- পর্বত অতিক্রমকারী বায়ু যদি পর্বতের অপর পাশে অর্থাৎ অনুবাত ঢালে পৌঁছায় তখন ঐ বায়ুতে জলীয়বাষ্প কমে থাকে। ঐ বায়ু নিচে নামার ফলে আরও উষ্ণ এবং শুষ্ক হয়ে উঠে বলেই ঐ স্থানে বৃষ্টিপাত হয় না।
- এই বৃষ্টিহীন স্থানকে বলা হয় বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৮.
সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের জলবায়ু কী নামে পরিচিত?
  1. উপক্রান্তীয় জলবায়ু
  2. ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু
  3. নিরক্ষীয় জলবায়ু
  4. ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু 
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু 
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের জলবায়ু :
- বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন।
- মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব এখানে এত অধিক যে, সামগ্রিকভাবে এ জলবায়ু 'ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু' নামে পরিচিত।
- দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক জলবায়ুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাংলাদেশে বছরে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ছয়টি ঋতু দেখা যায়,
- যেমন- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত।
- ঋতুভেদে জলবায়ুর কিছুটা তারতম্য হয়, কিন্তু কখনো এটি অন্যান্য শীতপ্রধান বা গ্রীষ্মপ্রধান দেশের মতো চরমভাবাপন্ন হয় না।
- তবে বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ছয়টি ঋতুকে প্রধান তিনটি ঋতু হিসেবে দেখানো যায়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম  ও দশম শ্রেণি।

৯৩৯.
বিশ্ব ওজোন স্তর সংরক্ষণ দিবস কবে?
  1. ক) ৫ জুন
  2. খ) ১৭ জুন
  3. গ) ১৬ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ১৩ অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬ সেপ্টেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবস - ৫ জুন,
বিশ্ব মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস ১৭ জুন,
বিশ্ব ওজোন স্তর সংরক্ষণ দিবস - ১৬ সেপ্টেম্বর,
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস - ১৩ অক্টোবর,
ধরিত্রী দিবস - ২২ এপ্রিল।
উৎসঃ জাতিসংঘের ওয়েবসাইট।
৯৪০.
নিচের কোনটি বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাস নয়?
  1. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  2. নাইট্রাস অক্সাইড
  3. মিথেন
  4. হেলিয়াম 
সঠিক উত্তর:
হেলিয়াম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেলিয়াম 
ব্যাখ্যা

বিশ্ব উষ্ণায়ন:
- মানুষের নেতিবাচক কর্মকান্ডের ফলে বায়ুমন্ডলে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসসমূহের উপস্থিতির মাত্রার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্যাসগুলো হলো কার্বন ডাইঅক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, মিথেন ও ক্লোরোফ্লোরো কার্বন।
- শিল্পায়ন, যানবাহনের সংখ্যাগত বৃদ্ধি, বনাঞ্চল উজাড় ও কৃষির সম্প্রসারণ ইত্যাদি কর্মকান্ডের কারণে উল্লিখিত গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
- বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশে অধিক বৃষ্টিপাত, ব্যাপক বন্যা, ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়, খরা প্রভৃতি জলবায়ুগত পরিবর্তন সাধিত হতে পারে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৯৪১.
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ জেলা কোনটি?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) সিলেট
  3. গ) গাজীপুর
  4. ঘ) দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
গ) গাজীপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গাজীপুর
ব্যাখ্যা
- সমুদ্র এবং প্রবাহমান নদীসমূহ থেকে অবস্থানগত দূরত্বের কারণে দেশের ছয়টি জেলা তুলনামূলকভাবে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্যে কম ‍ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
জেলাসমূহ হলো:
- ময়মনসিংহ
- শেরপুর
- গাজীপুর
- নীলফামারী
- মাগুরা এবং
- ঝিনাইদহ।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০)
৯৪২.
পৃথিবীর আবর্তনের বেগ সবচেয়ে বেশি কোন স্থানে?
  1. মেরু অঞ্চলে
  2. নিরক্ষরেখায়
  3. কর্কটক্রান্তি রেখায়
  4. মকরক্রান্তি রেখায়
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষরেখায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষরেখায়
ব্যাখ্যা

আহ্নিক গতি
- পৃথিবী নিজ অক্ষের চারপাশে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তিত হয়, যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে প্রতি ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা প্রায় ২৪ ঘণ্টায় একবার আবর্তিত হয়।
- এই সময়কে সৌরদিন এবং পৃথিবীর ঘূর্ণনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সবচেয়ে বড় হওয়ায় এখানে আহ্নিক গতির গতি সর্বোচ্চ। ঘণ্টায় প্রায় ১৭০০ কিলোমিটার।
- ঢাকায় পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগ ১৬০০ কিলোমিটার।
- যত মেরুর দিকে যাবে এ আবর্তনের বেগ তত কমতে থাকে এবং মেরুদ্বয়ে প্রায় নিঃশেষ হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র: NASA ওয়েবসাইট এবং  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি. 

৯৪৩.
অভিবাসন দ্বারা জনগণের কি ধরণের পরিবর্তন সম্ভব?
  1. গুণগত
  2. প্রাকৃতিক 
  3. রাজনৈতিক 
  4. পরিমাণগত
সঠিক উত্তর:
গুণগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণগত
ব্যাখ্যা

∗ অভিবাসন:
• অভিবাসন হলো এক দেশ থেকে অন্য দেশে বা এক স্থানের থেকে অন্য স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাস বা কাজ করার জন্য মানুষের স্থানান্তর।
• এটি শুধুমাত্র স্থান পরিবর্তন নয়, বরং মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একটি প্রক্রিয়া।
সামাজিক ও গুণগত ক্ষেত্রে, অভিবাসন উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করে;
- নতুন দক্ষতা ও জ্ঞান সমাজে বিস্তৃত করতে সাহায্য করে এবং
- সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমাজকে সমৃদ্ধ করে।

উল্লেখ্য, 
- অভিবাসন বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে:
• আকর্ষণমূলক কারণ (Pull factors) যেমন: ভালো কর্মসংস্থান, উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ, উন্নত শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা, বা আত্মীয়স্বজনের কাছে চলে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে নতুন স্থানে যেতে প্রলুব্ধ করে। 
• বিকর্ষণমূলক কারণ (Push factors) যেমন: প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বৈষম্য বা অপর্যাপ্ত সুযোগ মানুষকে তাদের বর্তমান স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করে।
- অভিবাসন দুই ধরনের হয় :
• আন্তর্জাতিক অভিবাসন : সেই প্রক্রিয়া যেখানে মানুষ দেশের সীমানা পার করে অন্য দেশে স্থায়ীভাবে যায়। এটি সাধারণত অর্থনৈতিক সুযোগ, নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য ঘটে।
• অভ্যন্তরীণ অভিবাসন হলো দেশের ভেতরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মানুষের স্থানান্তর। 
- এটি প্রায়শই শহরায়ণ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা জীবনযাত্রার মান উন্নতির জন্য ঘটে।
- অভিবাসনের প্রভাব বিভিন্ন মাত্রায় প্রকাশ পায়। জনসংখ্যাগতভাবে, কোনো অঞ্চলের জনসংখ্যা বাড়তে বা কমতে পারে এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব, বয়স, লিঙ্গ ও দক্ষতার গঠনেও পরিবর্তন ঘটে। 
- এছাড়াও, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিবাসনের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করে। 

উৎস:
১. Britannica;
২. বাংলাপিডিয়া।

৯৪৪.
স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় -
  1. নিয়মিত বায়ুপ্রবাহ
  2. স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ
  3. সাময়িক বায়ুপ্রবাহ
  4. অনিয়মিতস্থানীয় বায়ুপ্রবাহ
সঠিক উত্তর:
স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা

স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।
- রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ।
- উপত্যকা ও পার্বত্য বায়ু দিনের বেলায় পর্বতের গা বেয়ে উপরের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে উপত্যকা বায়ু।
- ভূমির বন্ধুরতায় পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ভিন্নরকম হয়। দিনের বেলায় পর্বত উপত্যকার তলদেশ থেকেও পর্বত গাত্র অনেক বেশি উষ্ণ হয়। এসময় পর্বতের পাদদেশের নিম্নচাপ ও উপত্যকার তলদেশে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় বলেই এই ধরনের বায়ুপ্রবাহ সৃষ্ট হয়।
- অপরদিকে রাতের বেলায় তাপ বিকিরণের ফলে পর্বতগাত্র শীতল হয় এবং এ সময় উপত্যকা উষ্ণ থাকে। এসময় পর্বতের গা বেয়ে ভারী ও শীতল বায়ু উপত্যকার নিচের দিকে নেমে আসে। এই প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় পার্বত্য বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪৫.
বিগত কত বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় ০.৭৪° সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে?
  1. ২০ বছরে
  2. ৫০ বছরে
  3. ৭৫ বছরে
  4. ১০০ বছরে
সঠিক উত্তর:
১০০ বছরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০ বছরে
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট:
- জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য ১৯৮৮ সালে গঠিত Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC) এর চতুর্থ মূল্যায়ন রিপোর্ট (AR4) অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
- বিগত ১০০ বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় ০.৭৪° সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ধারণা করা হচ্ছে, ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.১-৬.৪° সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
- অন্যদিকে, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করেছে।
- পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বহু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণিকূল বিলুপ্ত হবে। যা উদ্ভিদ ও প্রাণির বসবাসের অনুকূল পরিবেশে সরাসরি আঘাত হানার মধ্য দিয়ে ধ্বংস সাধন করবে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪৬.
জলবায়ু পরিমাপ করতে কত বছরের পরিবর্তনকে বিবেচনায় নিতে হয়?
  1. ক) ৫
  2. খ) ১০
  3. গ) ২০
  4. ঘ) ৪০
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪০
ব্যাখ্যা
কোনো স্থানের একটি নির্দিষ্ট দিনের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে।
কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি
৯৪৭.
পৃথিবীর অধিকাংশ মরুভূমি মহাদেশের পশ্চিমাংশে অবস্থিত কেন?
  1. আয়ন বায়ুর জন্য
  2. পশ্চিমা বায়ুর জন্য
  3. মেরু বায়ুর জন্য
  4. সমুদ্র বায়ুর জন্য
সঠিক উত্তর:
আয়ন বায়ুর জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়ন বায়ুর জন্য
ব্যাখ্যা

• আয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু (Trade winds):
- কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় দুটি (২৫° থেকে ৩৫, উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ) হতে সারা বছর নিয়মিতভাবে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের (০° থেকে ১০° উঃ ও দঃ অক্ষাংশ) দিকে বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে। এ বায়ুকে আয়ন বা বাণিজ্য বায়ু বলা হয়।
- উত্তর গোলার্ধে এ বায়ু নিরক্ষীয় প্রদেশের দিকে আসার সময় পৃথিবীর আবর্তনের জন্য ফেরেলের সূত্র অনুসারে বেঁকে উত্তর-পূর্ব বায়ুতে পরিণত হয়।
- দক্ষিণ গোলার্ধে এরূপ বায়ু প্রবাহ নিরক্ষীয় প্রদেশের দিকে আসতে থাকে এবং ফেরেলের সূত্র অনুসারে বাঁ দিকে বেঁকে দক্ষিণ-পূর্ব প্রবাহে পরিণত হয়।
এদের যথাক্রমে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু (North-East Trade Winds) ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু (South-East Trade Winds) বলে।
- এ বায়ু দুটির সাহায্যে পূর্বকালে বাণিজ্যের জন্য পালের জাহাজ অধিক যাতায়াত করত বলে এদেরকে বাণিজ্য বায়ুও বলা হয়।
- উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু ঘণ্টায় ১৬ কি. মি. এবং দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু অধিকাংশ সময় বাধাহীনভাবে সমুদ্রপথে চলে বলে প্রায় ২২.৪ কি. মি. বেগে প্রবাহিত হয়ে থাকে।
- আয়ন বায়ু উচ্চ অক্ষাংশ (শীতল স্থান) হতে নিম্ন অক্ষাংশে (উষ্ণতর স্থান) প্রবাহিত হয় বলে এদের জলীয়বাষ্প ধারণ করার শক্তি বৃদ্ধি পায়। - তাই এ বায়ুতে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় না।
- ফলে এ বায়ু প্রবাহের গতিপথে মহাদেশগুলোর পশ্চিমে পৃথিবীর অধিকাংশ (কালাহারি, সাহারা, আতাকামা প্রভৃতি) মরুভূমিগুলো অবস্থিত। তবে এ বায়ুর যে অংশ সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে উচ্চ পর্বতগাত্রে বাধা পায় সে অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়। তাই আয়ন বায়ু প্রভাবযুক্ত অঞ্চলে মহাদেশসমূহের পূর্ব দিকে কখনো কখনো বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী।

৯৪৮.
COP 26-এ COP মানে কী?
  1. কনফারেন্স অব প্যারিস
  2. কনফারেন্স অব দ্য পাওয়ার
  3. কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস
  4. কনফারেন্স অব দ্য প্রটোকল
সঠিক উত্তর:
কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস
ব্যাখ্যা
কপ সম্মেলন (Cop Conference):
- COP-এর পূর্ণরূপ: Conference of the Parties.
- জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় ১৫৪টি দেশ ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে।
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন (COP) প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়।
- এখানে আলোচনা করা হয় কিভাবে ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনার উপায় অর্জন করা উচিত এবং কী অগ্রগতি হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা।

উল্লেখ্য,
⇒ ২৯তম জলবায়ু সম্মেলন (COP-29):
- সর্বশেষ ২০২৪ সালের নভেম্বরে আজারবাইজানের বাকুতে ২৯তম জলবায়ু সম্মেলন (COP-29) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এ জলবায়ু সম্মেলনের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ফাইন্যান্স কপ’ বা ‘জলবায়ুর আর্থিক সম্মেলন’।
- বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর দাবি ছিল, তাদের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি পোষাতে বছরে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন (১ লাখ ৩০ হাজার কোটি) ডলার দিতে হবে।
- চূড়ান্ত চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দরিদ্র দেশগুলোকে প্রতিবছর অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেবে উন্নত দেশগুলো।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৯৪৯.
গড় হিসেবে বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. জানুয়ারি
  2. এপ্রিল
  3. জুন
  4. আগস্ট
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল
ব্যাখ্যা
গ্রীষ্মকাল:
- মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল।
- এটিই দেশের উষ্ণতম ঋতু।
- এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সে. এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি সে. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- গড় হিসেবে বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস এপ্রিল।
- এ সময়ে সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ থেকে উত্তরদিকে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বেশি থাকে।
- এপ্রিল মাসের গড় তাপমাত্রা কক্সবাজারে ২৭.৬৪ ডিগ্রি সে., নারায়ণগঞ্জে ২৮.৬৬ ডিগ্রি সে. এবং রাজশাহীতে প্রায় ৩০ ডিগ্রি সে. থাকে।
- গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার নিকটবর্তী হওয়ায় বায়ুর চাপের পরিবর্তন হয় এবং বাংলাদেশের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯৫০.
যে তাপমাত্রার বায়ু জলীয়বাষ্পে সম্পৃক্ত হয় তা কী নামে পরিচিত?
  1. ক) শিশিরাঙ্ক
  2. খ) আপেক্ষিক আর্দ্রতা
  3. গ) তুল্য আর্দ্রতা
  4. ঘ) কুয়াশা
সঠিক উত্তর:
ক) শিশিরাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শিশিরাঙ্ক
ব্যাখ্যা
বায়ুর আর্দ্রতা পরিমাপ পদ্ধতি: বায়ুর আর্দ্রতা পরিমাপের জন্য সংখ্যাতাত্ত্বিক মানে প্রকাশের ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি উলে-খয্যেগ্য। এগুলো হলো-

• আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity):
- নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প উপস্থিত থাকে তার পরিমাণকে বলা হয় বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা দ্বারা বায়ুর চাপ বা তাপমাত্রার কোনো তারতম্য ঘটে না বরং তাপমাত্রা বেড়ে গেলে বায়ুতে জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতাও বাড়তে থাকে।
- এ কারণেই আপেক্ষিক আর্দ্রতার মান জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া সাপেক্ষে তাপমাত্রার বৃদ্ধির ফলে বৃদ্ধি পায়।
- সাধারণত বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প উপস্থিত থাকে তার মান গ্রাম/কিলোগ্রামে প্রকাশ করা যায়।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, এই মান একক আয়তনের বায়ুর মধ্যে উপস্থিত জলীয়বাষ্পের পরিমাণকে বুঝায়।
- যেমন- এক কিলোগ্রাম বায়ুতে এক গ্রাম জলীয়বাষ্প আছে ।

• তুল্য আর্দ্রতা (Absolute Humidity):
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে অবস্থিত জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাপকে তুল্য আর্দ্রতা বলে।
- তুল্য আর্দ্রতা দুই পদ্ধতিতে পরিমাপ করা যায়। যথা- হাইগ্রোমিটার এবং সাইক্রোমিটার।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২৫০° সে. তাপমাত্রায় সম্পৃক্ত ১ কিলোগ্রাম বায়ুতে ২০ গ্রাম জলীয়বাষ্প থাকে।
- যদি কোনো সময়ের বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ১০ গ্রাম হয় তবে ঐ সময়ের তুল্য আর্দ্রতা হবে ১০/২০ অথবা ৫০ শতাংশ।

 • তুল্য আর্দ্রতার সাথে শিশিরাঙ্কের সম্পর্ক রয়েছে।
- যে তাপমাত্রার বায়ু জলীয়বাষ্পে সম্পৃক্ত হয় তা শিশিরাঙ্ক নামে পরিচিত।
- অর্থাৎ বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্প দ্বারা ঐ বায়ুতে সম্পৃক্ত করতে হলে যে তাপমাত্রা পর্যন্ত শীতল করা প্রয়োজন সেই তাপমাত্রাকে শিশিরাঙ্ক (Dew Point) বলে।
- শিশিরাঙ্কের চেয়ে কম তাপমাত্রার বায়ুস্থ জলীয়বাষ্প শিশির (Dew) হিসেবে জমে যেতে পারে।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫১.
নিচের কোনটি গ্রীন হাউস গ্যাস নয়?
  1. ওজোন
  2. নাইট্রোজেন
  3. মিথেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

• নাইট্রোজেন গ্রীন হাউস গ্যাস নয়।

গ্রীন হাউস গ্যাস: 
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে - 
• জলীয় বাষ্প, 
• কার্বন ডাই অক্সাইড, 
• নাইট্রাস অক্সাইড, 
• মিথেন, 
• ওজোন, 
• ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি। 
- কার্বন ডাই সালফাইড (CS2) এবং কার্বনিল সাইফাইড (COS) পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, ব্রিটানিকা এবং Royal Society of Chemistry.

৯৫২.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তর দিয়ে জেট বিমান চলাচল করে?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. থার্মোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ট্রপোমণ্ডল,
২. স্ট্রাটোমন্ডল,
৩. মেসোমণ্ডল,
৪. তাপমণ্ডল ও
৫. এক্সোমণ্ডল।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ:
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজেওপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষাড়পাত, শিশির, কুয়াশা ট্রপোস্ফিয়ারে সৃষ্টি হয়। সাধারনত এই স্তর দিয়ে উড়োজাহাজ চলাচল করে।
- ওজোন গ্যাস থাকে স্ট্রেটোস্ফিয়ারে। এই স্তর দিয়ে জেট বিমান উড়ে।
- উল্কা মেসোস্ফিয়ারে অবস্থান করে।
- থার্মোস্ফিয়ারের নিচের অংশকে আয়নমন্ডল বলে।  বেতার তরঙ্গ আয়নমন্ডলে বাধাগ্রস্থ হয়ে ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে।
- সবচেয়ে উচু স্তর হলো এক্সোমন্ডল যেখানে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেনের গ্যাস থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম (উন্মুক্ত)।
৯৫৩.
নিচের কোনটি ট্রপোমন্ডলে সৃষ্টি হয়?
  1. ক) ঝড়
  2. খ) মেঘ
  3. গ) বৃষ্টি
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
ট্রপোমন্ডল:
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪০ সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলের গভীরতা পৃথিবীর চারিদিকে সবসময় সমান থাকে না।
- ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে ও ঋতুভেদে এই গভীরতার পার্থক্য হয়।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৪.
হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের আধিক্য রয়েছে কোন স্তরে?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. আয়নোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. এক্সোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
এক্সোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা
এক্সোমন্ডল (Exosphere): 
- তাপমন্ডলের উপরে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে তাকে এক্সোমণ্ডল বলে।
- এই স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়।
- এক্সোমন্ডল, তাপমণ্ডল অতিক্রম করে ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়।
- এটি ক্রমান্বয়ে আন্তগ্রহ স্থান (Interplanetary Space) এ প্রবেশ করে।
- এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন এবং হিলিয়াম ধারণ করে, কেননা মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলো সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৫৫.
২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাবে?
  1. ক) ০.২ - ৩.১
  2. খ) ৩.১ - ৪.৮
  3. গ) ১.৩ - ৩.৫
  4. ঘ) ১.১ - ৬.৪
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১.১ - ৬.৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১.১ - ৬.৪
ব্যাখ্যা
IPCC এর চতুর্থ মুল্যায়ন রিপোর্ট অনুযায়ী গত একশো বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় ০.৭ ডিগ্রি বেড়েছে৷ ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.১-৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে।
উৎসঃ বিজ্ঞান-নবম দশম শ্রেণি
৯৫৬.
সাহারা মরুভূমি ও সাভানা বনভূমির মধ্যবর্তী পরিবর্তনশীল অঞ্চলকে কী বলে?
  1. প্রেইরি
  2. তুন্দ্রা
  3. সাহেল
  4. রেইনফরেস্ট
সঠিক উত্তর:
সাহেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহেল
ব্যাখ্যা
আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল:
- সাহারা মরুভূমি ও সাভানা বনভূমির মধ্যবর্তী পরিবর্তনশীল অঞ্চলকে সাহেল বলে। 

- সাহেল হল আফ্রিকার একটি ভূখণ্ড যা সেনেগাল এবং মৌরিতানিয়ার আটলান্টিক উপকূল থেকে ইরিত্রিয়ার লোহিত সাগর উপকূল পর্যন্ত।
- সাহেল উত্তরে সাহারা মরুভূমি এবং দক্ষিণে উর্বর সাভানার মধ্যে একটি বাফার বা ট্রানজিশন জোনের মতো কাজ করে।
- সাহেল একসময় বেশ কয়েকটি আদিবাসী আফ্রিকান রাজ্যের আবাসস্থল ছিল।
- আরবি ভাষায় সাহেলের আক্ষরিক অর্থ "প্রান্ত" বা "সীমানা"।

উৎস: World Atlas.
৯৫৭.
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (BCCTF) গঠন করা হয় কত সালে?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৫ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১০ সালে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট: 
- বর্তমানে বাংলাদেশ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে পৃথিবীর অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ।
- জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় গ্রহণের পর সরকার কর্তৃক ২০০৯ সালে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্ম পরিকল্পনা ২০০৯ (বিসিসিএসএপি, ২০০৯)  চুড়ান্ত করা হয়।
- উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম এই ধরণের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করে।
- জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা ও অভিযোজন কর্মসূচি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan (BCCSAP), 2009' বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।
- এই কর্মপরিকল্পনায় ৬টি থিমেটিক এরিয়ায় ৪৪টি কার্যক্রম চিহ্নিত করা হয়েছে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার জন্য এবং BCCSAP, ২০০৯ এ উল্লিখিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (BCCTF) গঠন করা হয়েছিল ২০১০ সালে। 
- জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বলবৎ করা হয় জলবায়ু ট্রাস্ট আইন-২০১০। 

সূত্র: বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা - ২০২৩।
৯৫৮.
সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র অবস্থিত ছিলো-
  1. ক) গুজরাটে
  2. খ) ঢাকায়
  3. গ) কলম্বোয়
  4. ঘ) থিম্পুতে
সঠিক উত্তর:
খ) ঢাকায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঢাকায়
ব্যাখ্যা

২০১৬ সালে ৪টি আঞ্চলিক সংস্থার সমন্বয়ে সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র পুণঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

৪টি সংস্থা হচ্ছে -
১) সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (নয়া দিল্লী),
২) সার্ক আবহাওয়া কেন্দ্র (ঢাকা),
৩) সার্ক বন কেন্দ্র (থিম্পু) ও
৪) সার্ক উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (মালে)।

সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র-এর বর্তমানে এর সদরদপ্তর - গান্ধীনগর, গুজরাট, ভারত

উল্লেখ্য, উপরে উল্লিখিত এই চারটি সংস্থা ২০১৬ সাল থেকে স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত।

(সূত্র: সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ওয়েবসাইট)

৯৫৯.
পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার বড় কারণ __
  1. ক) পানিতে আর্সেনিকের পরিমাণ হ্রাস
  2. খ) পরিবেশ দূষণ হ্রাস
  3. গ) ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ কামনো
  4. ঘ) উৎপাদন খরচের আধিক্য
সঠিক উত্তর:
খ) পরিবেশ দূষণ হ্রাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পরিবেশ দূষণ হ্রাস
ব্যাখ্যা
- ২০০২ সালে প্রণীত বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন অনুযায়ী দেশে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০০২ অনুযায়ী -
- সকল বা যে কোন প্রকার পলিথিন শপিং ব্যাগ, বা পলিইথাইলিন বা পলিপ্রপাইলিনের তৈরী অন্য কোন সামগ্রী বা অন্য যে কোন সামগ্রী পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তাহা হইলে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সমগ্র দেশে বা কোন নির্দিষ্ট এলাকায় এইরূপ সামগ্রীর উৎপাদন, আমদানী, বাজারজাতকরণ, বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহন বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করিবার বা প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত শতাধীনে ঐ সকল কার্যক্রম পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নির্দেশ জারী করিতে পারিবে এবং উক্ত নির্দেশ পালনে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি বাধ্য থাকিবেন।

• পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ: সরকার পরিবেশ দূষণ রোধে ২০০২ সালের জানুয়ারি থেকে ঢাকা শহরে এবং একই সালের মার্চ থেকে সারাদেশে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। পরিবেশ অধিদপ্তর নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ যাতে ব্যবহার হতে না পারে সে লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করে থাকে। পাশাপাশি সরকার জনগণকেও সচেতন করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০০২।
৯৬০.
জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে প্রতিবাত ঢালে কোন ধরনের বৃষ্টিপাত ঘটায়?
  1. পরিচলন বৃষ্টি
  2. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  3. বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি
  4. সাইক্লোনিক বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু প্রবাহ পথে পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে উপরের দিকে উঠে গিয়ে পর্বতের উঁচুতে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরূপ বৃষ্টিপাত শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত নামে পরিচিত।

এই বায়ু যখন পর্বত অতিক্রম করে অপরপ্রান্তে যায় তখন এতে জলীয়বাষ্প কমে যায়। পর্বতের অপর প্রান্তে বৃষ্টিপাত কম যা ‘বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চল’ হিসেবে পরিচিত।

বর্ষাকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আগত জলীয়বাষ্পপূর্ণ মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়। এই বায়ু হিমালয় পর্বতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে বাংলাদেশে শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি)
৯৬১.
বাংলাদেশে ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কত রেকর্ড করা হয়েছে?
  1. ২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  2. ২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  3. ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  4. ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে,
- দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড করেছে দেশের সবচেয়ে উত্তরে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়াতে।
- ৮ জানুয়ারি ২০১৮ সালে তেতুলিয়াতে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
এর-  আগে সবচেয়ে কম তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছিলো ১৯৬৮ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে আর সেটি ছিলো ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

উৎস: বিবিসি বাংলা।

৯৬২.
এক্সোমণ্ডলে কোন দুটি উপাদানের আধিক্য বিদ্যমান?
  1. ক) অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  2. খ) হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন
  3. গ) আর্গন ও নাইট্রোজেন
  4. ঘ) হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
খ) হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের সর্বশেষ স্তর হলো এক্সোমণ্ডল। তাপমণ্ডল থেকে উপরের দিকে ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত এক্সোমণ্ডল বিস্তৃত।
এক্সোমণ্ডলে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম স্তরের প্রাধান্য বেশি। এছাড়া সামান্য পরিমাণে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও আর্গন গ্যাসও বিদ্যমান রয়েছে।
এই স্তরের তাপমাত্রা ৩০০ ডিগ্রি থেকে প্রায় ১৬৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।
এক্সোমণ্ডলের পর থেকে আন্তগ্রহ বা ইন্টারপ্লানারি স্পেসের শুরু হয়েছে।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৯৬৩.
আর্দ্র ও উষ্ণ বায়ু কোন শীতল পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে যে কুয়াশা তৈরী হয় তাকে বলে-
  1. অ্যাডভেকশান কুয়াশা
  2. বিকিরণ কুয়াশা
  3. বাষ্পীয় কুয়াশা
  4. উর্ধ্ব ঢাল কুয়াশা
সঠিক উত্তর:
অ্যাডভেকশান কুয়াশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাডভেকশান কুয়াশা
ব্যাখ্যা
কুয়াশা (Fog):
- কুয়াশা হচ্ছে ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বা তার কাছাকাছি জমা হওয়া মেঘ।
- মেঘ ও কুয়াশার মধ্যে স্থান ও গঠন প্রক্রিয়া ছাড়া ভৌতিক কোনো পার্থক্য নাই।
- বায়ুর উর্ধ্ব গমন ও রূদ্ধতাপীয় শীতলতার ফলে মেঘ গঠিত হয়।
- কিন্তু বিকিরনের মাধ্যমে তাপ বর্জন অথবা একটি শীতল তলের উপর দিয়ে বায়ু প্রবাহের ফলে কুয়াশা তৈরী হয়।
- আরেক ধরনের কুয়াশা তৈরী হয় যদি বায়ুতে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প যোগ হয় এবং বায়ু জলীয়বাস্প সম্পৃক্ত হয়।

i) শীতলতার ফলে সৃষ্ট কুয়াশা (Frogs caused by cooling):
ক) অ্যাডভেকশান কুয়াশা (Advection Fog): আর্দ্র ও উষ্ণবায়ু কোনো শীতল পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে কম্বলের মত স্তরের কুয়াশা তৈরী হতে থাকে যাকে অ্যাডভেকশান কুয়াশা বলে।

খ) বিকিরণ কুয়াশা (Radiation Fog): শান্ত, শীতল ও পরিচ্ছন্ন আবহাওয়া সমৃদ্ধ রাতে বিকিরণের ফলে ভূপৃষ্ঠ শীতল হলে শিশিরাংকের চেয়ে কম তাপমাত্রায়, ভূপৃষ্ঠের উপর পাতলা আবরণে কুয়াশা জমে। শীতলতার মাত্রার উপর নির্ভর করে কুয়াশার ঘনত্ব ও বৃদ্ধি পায়।
-অধিক ঘনত্বের কুয়াশা নিচে নেমে আসে এভাবে কুয়াশার পকেট তৈরী করে। বড় বড় কুয়াশা পকেট সাধারনত নদী উপত্যকায় দেখা যায়, ঐ সবক্ষেত্রে অনেক পুরুত্বের কুয়াশা স্তর ও সৃষ্টি হয়।

গ) উর্ধ্বঢাল কুয়াশা (Upslope Fog): অপেক্ষাকৃত আর্দ্র বায়ু পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উপরে ওঠে যেতে থাকলে রূদ্ধতাপীয় শীতলতার ফলে যদি তাপমাত্রা শিশিরাংকে শীতল হয় তবে কুয়াশা জমা হতে থাকে। ভারী হওয়ায় এটি তখন ঢোল বেয়ে নীচে নেমে আসে।

ii) বাস্পীভবনের ফলে সৃষ্ট কুয়াশা (Evaporation Fog)
ক) বাষ্পীয় কুয়াশা (Steam fog): যখন শীতল বায়ু কোন উষ্ণ পানির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন ঐ বায়ুকে জলীয় বাষ্পে সম্পৃক্ত করতে কিছু পানি বাষ্পীভূত হয়। -এ বাষ্পীভূত বায়ু শীতল বায়ুর সংস্পর্শে ঘনীভূত হয় ও বায়ুতে ভাসতে থাকে; এর তাপমাত্রা নিচের পানির চেয়ে বেশী থাকে।
-এ বাষ্পীয় রূপ (Steaming appearance) কুয়াশার বাষ্পীয় কুয়াশা (Steam fog) বলে।

খ) সম্মুখবর্তী বা বারিপাত কুয়াশা (Frontal or Precipitation fog): যখন উষ্ণ ও শীতল বায়ু সংমিশ্রন বা সম্মুখ মিলন হয়, তখন উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ুর উপরে উঠে যায় এবং মেঘের সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
-নিচের শীতল বায়ু যদি শিশিরাংকের কাছাকাছি তাপমাত্রায় থাকে তবে বেশ কিছু বৃষ্টি কণা বাষ্পীভূত হয়ে কুয়াশা তৈরী করে।
-এ ধরনের কুয়াশাকে সম্মুখবর্তি কুয়াশা বা বারিপাত কুয়াশা বলে।
-ফলে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে ঘনীভূত পানিকণা ভূমিতে পতনের সময় আবার মেঘে পরিণত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি.এ/বি.এস.এস. প্রোগ্রাম,  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৪.
বৈশ্বিক উষ্ণতার মূল কারণ-
  1. ক) কার্বন ডাই অক্সাইড বৃদ্ধি
  2. খ) নাইট্রাস অক্সাইড বৃদ্ধি
  3. গ) অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রধান কারণ - কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন, সিএফসি, নাইট্রাস অক্সাইড৷ এসবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া৷ গ্রিন হাইজ গ্যাসগুলোর মূল উৎস হচ্ছে - যানবাহন, শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ইত্যাদি থেকে সৃষ্ট ধোয়া৷
উৎসঃ বিজ্ঞানঃ নবম দশম শ্রেণী
৯৬৫.
'উম্মত্ত পঞ্চাশ' (Furious Fifties) কোন বায়ুর সাথে সম্পর্কিত?
  1. অয়ন বায়ু
  2. মৌসুমি বায়ু
  3. পশ্চিমা বায়ু
  4. মেরু বায়ু
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমা বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমা বায়ু
ব্যাখ্যা
পশ্চিমা বায়ু (Westerlies):
-৩৫° থেকে ৬০° অক্ষাংশের মাঝে উভয় গোলার্ধে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও হালকা বায়ু প্রবাহিত হয়ে মেরু অভিমুখে গমন করে। এ বায়ুকে পশ্চিমা বায়ু বলে।
- উত্তর গোলার্ধে এ বায়ু দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের আধিক্যের জন্য বায়ু প্রবাহ ইতম্ভ ও স্থানীয় ভাবে বিভিন্ন গতির হলেও গড় গতি দক্ষিণ পশ্চিমেই হয়।
- দক্ষিণ গোলার্ধে প্রবাহ মোটামুটি নিয়ত।
- দক্ষিণ গোলার্ধে এ প্রবাহ ৪০° থেকে ৬০° অক্ষাংশে সর্বাধিক।
- এ অঞ্চলকে বলা হয় 'গর্জনশীল চল্লিশা' (Roaring Forties), 'উম্মত্ত পঞ্চাশ' (Furious Fifties) এবং 'শাণিত ষাট' (Screaming Sixties)।

উৎস:-(পৃষ্ঠা নং ১৫৮) ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি এ /বি এস এস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৬.
উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত এলাকাকে কী বলে?
  1. শৈবাল সাগর
  2. ফকল্যান্ড স্রোত
  3. পশ্চিম উপকূল স্রোত
  4. ব্রাজিল স্রোত
সঠিক উত্তর:
শৈবাল সাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৈবাল সাগর
ব্যাখ্যা
• উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত:
→ ক্যানারি স্রোত দক্ষিণাভিমুখী হয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় উত্তর পূর্ব অয়ন বায়ুর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়। পরবর্তীতে কর্কটক্রান্তি রেখা দক্ষিণ দিক দিয়ে পশ্চিম দিকে উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত নামে প্রবাহিত হয়।
→ উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত একটি উষ্ণ স্রোত।
→ উত্তর নিরক্ষীয় এই স্রোতটি পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়। তন্মধ্যে একটি শাখা ক্যারিবিয়ান সাগরের মধ্য দিয়ে মেক্সিকো উপসাগরে প্রবেশ করে এবং অপর শাখাটি উপসাগরীয় স্রোতের সাথে মিলিত হয়।
→ অর্থাৎ উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের উভয় শাখাই উপসাগরীয় স্রোতের মিলিত রূপ।
→ উপসাগরীয় স্রোত, ক্যানারি স্রোত ও উত্তর নিরক্ষীয় এই তিনটি স্রোত মূলত একই স্রোত এবং এই তিনটি স্রোত উপসাগরীয়, ক্যানারি ও উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত নামে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে চক্রাকারে আবর্তিত হয়ে প্রবাহিত হয়।
→ এই স্রোতসমূহের অভ্যন্তরে অর্থাৎ জলাবর্তের অভ্যন্তরে কোনো স্রোত প্রবাহিত হয় না।
→ অভ্যন্তরের এই স্রোতহীন জলে ভাসমান আগাছা শৈবাল জন্মে। তাই একে শৈবাল সাগর বলা হয়। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৭.
নিম্ন উচ্চতার মেঘ-
  1. কিউম্যুলোনিম্বাস
  2. সিরাস
  3. অল্টোস্ট্রেটাস
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কিউম্যুলোনিম্বাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিউম্যুলোনিম্বাস
ব্যাখ্যা
মেঘ (CLOUD):

• সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো:
১. উঁচু উচ্চতার মেঘ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ। উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস,
- সিরোকিউম্যুলাস, 
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।
২. মাঝারি উচ্চতার মেঘ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত। মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস,
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস, 
- নিম্বোস্ট্রেটাস। 
৩. নিম্ন উচ্চতার মেঘ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত। নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস,
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস,
- কিউম্যুলাস,
- কিউম্যুলোনিম্বাস

উৎস: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। 
৯৬৮.
উচ্চতা বাড়লে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রার পরিবর্তন কেমন হয়?
  1. ক) কমে
  2. খ) বাড়ে
  3. গ) একই থাকে
  4. ঘ) অনেক বাড়ে
সঠিক উত্তর:
ক) কমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কমে
ব্যাখ্যা
উচ্চতার সাথে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রার সম্পর্ক:

- উচ্চতা বাড়লে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা কমে ।
- সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় গেলে তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস হ্রাস পায়।
- তাই একই অক্ষাংশে অবস্থিত হয়েও রাজশাহীর এবং শিলং এর তাপমাত্রার এত পার্থক্য।

তথ্যসূত্র: একাদশ শ্রেনীর  ভূগোল বই।
৯৬৯.
ফরাসি দার্শনিক জ্যা জ্যাক রুশোর বিখ্যাত গ্রন্থ -
  1. ক) The Social Contract
  2. খ) The Spirit of Laws
  3. গ) Power: A New Social Analysis
  4. ঘ) The Leviathan
সঠিক উত্তর:
ক) The Social Contract
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) The Social Contract
ব্যাখ্যা
• 'The Social Contract' ফরাসি দার্শনিক জ্যা জ্যাক রুশোর একটি বিখ্যাত বই।
তাঁর কয়েকটি বিখ্যাত বই - 
- A Discourse Upon the Origin and Foundation of the Inequality Among Mankind
- A Discourse on the Sciences and the Arts
- Confessions
- Emile: or, On Education

অন্যদিকে, 
• সপ্তদশ শতাব্দীতে টমাস হবস তার বিখ্যাত ‘The Leviathan’ গ্রন্থে সামাজিক চুক্তি মতবাদ বিষয়ে আলোচনা করেন।
• বার্ট্রান্ড রাসেলের বিখ্যাত গ্রন্থের নাম Power: A New Social Analysis.
• 'The Spirit of Laws'- গ্রন্থের রচয়িতা ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু।

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
৯৭০.
দুটি স্থানের দ্রাঘিমা পার্থক্য কত হলে স্থান দুটির মধ্যকার সময়ের পার্থক্য ১ ঘণ্টা হবে?
  1. ক) ১০°
  2. খ) ১৫°
  3. গ) ২০°
  4. ঘ) ২৫°
সঠিক উত্তর:
খ) ১৫°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৫°
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নের উত্তর ১৫

• পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমা পার্থক্যের জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে। তাহলে ১ ঘন্টা বা ৬০ মিনিটের জন্য দ্রাঘিমা পার্থক্য হবে (৬০/৪)= ১৫ ডিগ্রি।

• সেজন্যেই বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ × ৪ ৩৬০ = মিনিট বা ৬ ঘন্টা ।

উৎস: ভূগোল নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭১.
সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির একটি প্রধান কারণ-
  1. লবণাক্ত পানি বৃদ্ধি
  2. বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত মাটি সঞ্চয়
  3. খরার কারণে মাটি জমাট বাঁধা
  4. ভূমিকম্পজনিত ভূমি সৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত মাটি সঞ্চয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত মাটি সঞ্চয়
ব্যাখ্যা

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি :
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশ নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- অসংখ্য ছোট-বড় নদী, বাংলাদেশের সর্বত্র জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে।
- সমতলভূমির উপর দিয়ে এ নদীগুলো প্রবাহিত হওয়ার কারণে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়।
- বছরের পর বছর এভাবে বন্যার সঙ্গে পরিবাহিত মাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার।

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
(ক) রংপুর ও দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি।
(খ) ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও সিলেটের অন্তর্গত বন্যা প্লাবন সমভূমি।
(গ) ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা ও ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি।
(ঘ) নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত চট্টগ্রামের উপকূলীয় সমভূমি।
(ঙ) খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল এবং বরগুনা জেলার কিয়দংশ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৭২.
'জলবায়ু বিষয়ে পদক্ষেপ' SDG'র কত নং লক্ষ্যমাত্রার অন্তর্গত?
  1. পঞ্চদশ
  2. দ্বাদশ
  3. চতুর্দশ
  4. ত্রয়োদশ
সঠিক উত্তর:
ত্রয়োদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রয়োদশ
ব্যাখ্যা
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি): 

- টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ গৃহীত একটি বৈশ্বিক কর্ম পরিকল্পনা।
- ২০১৫ সালের ২৫-২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ইউনাইটেড নেশন্স সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সামিটে এসডিজি গৃহীত হয়।
- এসডিজি এর প্রধান লক্ষ্যমাত্রা ১৭টি। এসডিজি এর লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনের সময়সীমা ২০১৬-২০৩০ খ্রিস্টাব্দ।

এসডিজির লক্ষ্যসমূহ হলো:
- প্রথম : দারিদ্র্য নির্মূল;
- দ্বিতীয় : ক্ষুধামুক্তি;
- তৃতীয় : সুস্বাস্থ্য;
- চতুর্থ : মানসম্মত শিক্ষা;
- পঞ্চম : লিঙ্গ সমতা;
- ষষ্ঠ : বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন;
- সপ্তম : সাশ্রয়ী ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি;
- অষ্টম : উপযুক্ত কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি;
- নবম : শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো;
- দশম : বৈষম্য হ্রাস;
- একাদশ : টেকসই শহর ও জনগণ;
- দ্বাদশ : পরিমিত ভোগ ও উৎপাদন;
- ত্রয়োদশ : জলবায়ু বিষয়ে পদক্ষেপ;
- চতুর্দশ : সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান;
- পঞ্চদশ : স্থলভাগের জীবন;
- ষোড়শ : শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং;
- সপ্তদশ : অভিষ্টের জন্যে অংশীদারিত্ব।



উৎস: SDG ওয়েবসাইট। 
৯৭৩.
বাংলাদেশের মৌসুমি পুকুরে মাছ ছাড়ার সময়বিলম্বের প্রধান কারণ হলো—
  1. মাছের প্রজাতি কম হওয়া
  2. জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাত কম বা দেরি 
  3. হ্যাচারিতে তাপমাত্রা কমে যাওয়া
  4. নদীর পানি বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাত কম বা দেরি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাত কম বা দেরি 
ব্যাখ্যা

 মাছ চাষ ও পোনা উৎপাদনে প্রভাব:
১) আমাদের দেশে মৌসুমি পুকুরগুলোতে এপ্রিল-মে মাসে বৃষ্টির পানি জমলে চাষিরা মাছ ছাড়ে। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাত কমে গেছে। অথবা বৃষ্টিপাত শুরু হতে দেরি হচ্ছে। এতে করে পোনা ছাড়তে দেরি হচ্ছে। আবার দেরিতে পোনা ছাড়ার পর পুকুর শুকিয়েও যাচ্ছে তাড়াতাড়ি। ফলে চাষের সময় কমে যাচ্ছে এবং মাছ বড় হওয়ার আগেই ছোট মাছ বাজারজাত করতে হচ্ছে। এতে করে চাষিরা লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে।
২) জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কম বৃষ্টিপাতের ফলে হ্যাচারিতে মাছের প্রজনন ও পোনা উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রজননের অনুকূল পরিবেশ না পাওয়া ও তাপমাত্রা বেশি থাকার কারণে হ্যাচারিতে মাছ কৃত্রিম প্রজননে সাড়া দিচ্ছে না। পেটে ডিম আসলেও ডিম ছাড়ছে না। ডিম শরীরে শোষিত হয়ে যাচ্ছে। আবার মাছ ডিম ছাড়লেও তা নিষিক্ত হচ্ছে না বা কম হচ্ছে। আবার নিষিক্ত হওয়া ডিমফোটার হারও কম হচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তন এভাবে হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদন ব্যাহত করছে।
৩) স্বল্প গভীর পুকুরে অধিক তাপমাত্রায় মাছ সহজে রোগাক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুহার বেড়ে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন কম হচ্ছে ও চাষিদের আয় কমে যাচ্ছে।
৪) কম বৃষ্টির কারণে চাষের পুকুরে কম পানি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পুকুরে বা খামারে পানি সরবরাহে চাষিকে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে।
৫) জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা এবং সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে মৎস্য সেক্টরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে গিয়ে চাষিদের দুর্ভোগ বাড়ছে। পুকুর থেকে মাছ বেরিয়ে যাচ্ছে।
৬) সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের চাষের পুকুরগুলো ডুবে যেতে পারে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।

৯৭৪.
বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোসাগরে মহীসোপানের বিস্তৃতি কত?
  1. ক) ১২ নটিক্যাল মাইল
  2. খ) ২৫০ নটিক্যাল মাইল
  3. গ) ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল
  4. ঘ) ২০০ নটিক্যাল মাইল
সঠিক উত্তর:
গ) ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোসাগরে মহীসোপানের বিস্তৃতি প্রায় ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল।
- পৃথিবীর মহাদেশসমূহের স্থলভাগের যে অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে তাকে  মহীসোপন বলে।
- মহীসোপান ১° কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে।
- মহীসোপানের গড় প্রশস্ততা ৭০ কিলোমিটার।
- পৃথিবীর বৃহত্তম মহীসোপান ইউরোপের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত।

 উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রথম আলো।
৯৭৫.
'গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring Forties)' অঞ্চলটি কোন অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. ৪৫° থেকে ৫৭° উত্তর
  2. ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ
  3. ৩০° থেকে ৩৫° দক্ষিণ
  4. ৫০° থেকে ৬০° উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণ গোলার্ধে ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্য দিয়ে পশ্চিমা বায়ু কোনো বাধা ছাড়াই উন্মুক্ত সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রচণ্ড বেগে প্রবাহিত হয়। এই বায়ুর তীব্র আওয়াজের কারণেই একে 'গর্জনশীল চল্লিশ' বলা হয়।

• পশ্চিমা বায়ু: 
- উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে পশ্চিম বায়ু প্রবাহিত হয়। 
- ৩০° অক্ষাংশে কিছু বায়ু পৃথিবীর গা-ঘেঁষে মেরুর দিকে ৬০° অক্ষাংশ পর্যন্ত পৌঁছালে মেরু এলাকা থেকে আগত শীতল ও ভারী বায়ু মুখোমুখি হয়। 
- এসময় অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরের দিকে উঠে গেলেও এর এক অংশ মেরুবৃত্তের নিম্নচাপে প্রবাহিত হয় বলেই একে পশ্চিমা বায়ু বলা হয়। 
- উত্তর গোলার্ধের বিশাল স্থলভাগের জন্য স্থানীয়ভাবে পশ্চিমা বায়ু পরিবর্তনশীল। 
- আবার দক্ষিণ গোলার্ধে জলাবিস্তৃতি ভূমিরূপের কারণেই পশ্চিমা বায়ু প্রবলভাবে প্রবাহিত হয় এবং এ কারণেই এই বায়ুপ্রবাহের ধরণকে তখন বলা হয় প্রবল পশ্চিমা বায়ু। 
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সব থেকে বেশি বলেই এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring Forties)। 

- নিরক্ষীয় শান্ত বলয়ের মত ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়েও দুটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়। 
- ৩০° থেকে ৫০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে দুটি ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়ের অবস্থান রয়েছে। 
- বায়ু নিম্নদিকে প্রবাহিত হয় বলেই এই অঞ্চলে আনুভূমিক বায়ু অনুভব করা যায় না। 
- প্রাচীনকালে আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে জাহাজ প্রবাহিত হবার সময় ইউরোপ থেকে আমেরিকায় অশ্ব ও অন্যান্য পশু রপ্তানি করে নিয়ে যেত। 
- কিন্তু এই অঞ্চলের বায়ু প্রবাহের জন্য বাতাসের গতি যখন মন্থর হয়ে যেতো নাবিকরা তখন খাদ্য ও পানীয় জলের অনেক অভাবে তাদের অশ্বগুলো সমুদ্রে ফেলে দিতো। এ জন্য আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) বলে। 
- উত্তর গোলার্ধে ৩০° থেকে ৩৫° উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত অঞ্চলটিতে শীতকালেও পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭৬.
গর্জনশীল চল্লিশে কোন বায়ুর গতিবেগ সবচেয়ে বেশি?
  1. পশ্চিমা বায়ু
  2. মৌসুমী বায়ু
  3. স্থানীয় বায়ু
  4. অয়ন বায়ু
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমা বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমা বায়ু
ব্যাখ্যা

পশ্চিমা বায়ু (The Westerlies):
- কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে অয়ন বায়ু ব্যতীত আরও দুটি বায়ুপ্রবাহ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়।
- উত্তর গোলার্ধে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
- এ বায়ুপ্রবাহকে পশ্চিমা বায়ু বলে।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ অধিক বলে স্থানীয় কারণে পশ্চিমা বায়ুর সাময়িক বিরতি ঘটে।
- কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি বলে পশ্চিমা বায়ু প্রবলবেগে এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।
- এজন্য এই বায়ুপ্রবাহকে প্রবল পশ্চিমা বায়ু (Brave west winds) বলে।
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সর্বাপেক্ষা বেশি।
- এ অঞ্চলকে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring forties) বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৯৭৭.
ট্রপোমন্ডলকে অন্য কোন নামে ডাকা হয়?
  1. আয়নমন্ডল
  2. বৃহৎমন্ডল
  3. ওজোনমন্ডল
  4. ক্ষুদ্রমন্ডল
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্রমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্রমন্ডল
ব্যাখ্যা

ট্রপোমন্ডল:
- ট্রপোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর।
- মেরু এলাকায় এ স্তরের গভীরতা প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর গড় গভীরতা প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
- এ স্তরের জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা অশান্ত বায়ুর সাথে মিশ্রিত হয়ে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সৃষ্টি করে।
- ট্রপোমন্ডলকে ক্ষুদ্রমন্ডলও বলা হয়ে থাকে।
- এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫° সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
- এ স্তরের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি (Tropopause) বলে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭৮.
জলবায়ুর কোন নিয়ামকটির প্রভাবে বাংলাদেশের দিনাজপুরের চেয়ে ভারতের শিলং-এর তাপমাত্রা তুলনামুলক শীতল?
  1. মৃত্তিকার গঠন
  2. সমুদ্র থেকে দূরত্ব
  3. উচ্চতা
  4. সমুদ্রস্রোত
সঠিক উত্তর:
উচ্চতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চতা
ব্যাখ্যা
উচ্চতা (Altitude):
- সমুদ্র সমতল থেকে যতই উপরে ওঠা যায়, উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা ততই হ্রাস পায়।
- সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- এ উচ্চতার পার্থক্যের কারণে দুই জায়গা একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ু সম্পন্ন হয়।
- যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতার তারতম্যের জন্য এদের জলবায়ু ভিন্ন রকম। উচ্চতা বেশি হওয়াতে শিলং-এ দিনাজপুরের চেয়ে তাপমাত্রা কম হয়।

উল্লেখ্য
⇒ জলবায়ুর নিয়ামক (Factors of Climate)
- পৃথিবীর সব অঞ্চলের জলবায়ু একই রকম নয়। এর কোনো অঞ্চল উষ্ণ এবং কোনো অঞ্চল শীতল।
- আবার কোনো স্থান বৃষ্টিবহুল এবং কোনো স্থান বৃষ্টিহীন।
- কিছু ভৌগোলিক বিষয়ের পার্থক্যের কারণে স্থানভেদে জলবায়ুর এরকম পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
- এই বিষয়গুলোকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।
- কিছু জলবায়ুর নিয়ামকের নাম হল-
- অক্ষাংশ (Latitude),
- উচ্চতা (Altitude),
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব (Distance from the sea),
- বায়ুপ্রবাহ (Wind movement),
- সমুদ্রস্রোত (Ocean currents),
- পর্বতের অবস্থান (Location of the mountains),
- ভূমির ঢাল (Slope of the land),
- মৃত্তিকার গঠন (Composition of the soil),
- বনভূমির অবস্থান (Location of the forest) ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭৯.
জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের কোন ঢালে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায়?
  1. ক) অনুবাত
  2. খ) অনুপাদিত
  3. গ) প্রতিবাত
  4. ঘ) প্রতিপদ
সঠিক উত্তর:
গ) প্রতিবাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রতিবাত
ব্যাখ্যা
-  উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো- প্রতিবাত ঢালে।

বৃষ্টিপাত

- বৃষ্টিপাত হলো কোনো অঞ্চলের আবহাওয়ার একটি অবস্থা যা নানা ধরনের আবহাওয়ার উপাদানসমূহের উপর নির্ভরশীল। 
- স্বাভাবিকভাবে মেঘ যখন আকাশে ভাসতে থাকে তখন তা ঘনীভূত হয়ে ফোঁটা ফোঁটা আকারে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হলে তাকে বলা হয় বৃষ্টিপাত (Rainfall)।

বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ
- মোট ৪টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে বৃষ্টিপাত প্রধানত ৪টি ভাগে বিভক্ত। 
- এই ৪টি প্রকারভেদ হলো- ১. পরিচলন বৃষ্টিপাত ২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ৩. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত এবং ৪. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত।

শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত:
- জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়।
- তবে পর্বত অতিক্রমকারী বায়ু যদি পর্বতের অপর পাশে অর্থাৎ অনুবাত ঢালে পৌছায় তখন ঐ বায়ুতে জলীয়বাষ্প কমে থাকে।
- ঐ বায়ু নিচে নামার ফলে আরও উষ্ণ এবং শুষ্ক হয়ে উঠে বলেই ঐ স্থানে বৃষ্টিপাত হয় না।
- এই বৃষ্টিহীন স্থানকে বলা হয় বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain - Shadow region)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮০.
ভূ-পৃষ্ঠের সৌরদীপ্ত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশের সংযোগস্থলকে কী বলা হয়?
  1. নিরক্ষবৃত্ত
  2. গোধূলি
  3. ঊষা
  4. ছায়াবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
ছায়াবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছায়াবৃত্ত
ব্যাখ্যা
ছায়াবৃত্ত:
- পৃথিবীর আলোকিত এবং অন্ধকার অংশের মধ্যবর্তী বৃত্তাকার অংশকে ছায়াবৃত্ত বলে।
- আবর্তনের ফলে পৃথিবীর যে অংশ অন্ধকার থেকে ছায়াবৃত্ত পার হয়ে সবেমাত্র আলোকিত অংশ পৌঁছায় সেখানে প্রভাত হয়।
- প্রভাতের কিছু পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সেখানে ঊষা এবং সন্ধ্যার কিছু পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সে সময়কে গোধূলি বলে।

অন্যদিকে,
- প্রভাতের কিছু পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সেখানে ঊষা।
- সন্ধ্যার কিছু পূর্বে যে সময় ক্ষীণ আলো থাকে সে সময়কে গোধূলি বলে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৮১.
ঘূর্ণিঝড় ‘ফেনজল’ নামকরণ করেছে কোন দেশ?
  1. মালয়েশিয়া
  2. ওমান
  3. মাল দ্বীপ
  4. সৌদি আরব
সঠিক উত্তর:
সৌদি আরব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌদি আরব
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।] 

⇒ ঘূর্ণিঝড় 'ফেনজল':
- ঘূর্ণিঝড় ‘ফেনজল’ নামকরণ করেছে 'সৌদি আরব'।

- বর্ষা–পরবর্তী মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে ‘ফেনজল’।
-  দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে 'ফেনজল'।
- আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছিল , ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে ভারতের তামিলনাড়ুর উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘ফেনজল’।]
- চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছিল।
- উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছিল।

⇒ ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ:
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক কমিটি প্রতিটি ঝড়ের একটি নাম দিয়ে থাকে।
- এ দেশগুলোর প্যানেলকে বলা হয় ডব্লিউএমও/এসক্যাপ (WMO/ESCAP)।
- অনেক আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বা অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলে ঝড়ের নামকরণ করা হলেও,
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলোয় ঝড়ের নামকরণ শুরু হয় ২০০৪ সাল থেকে।

তথ্যসূত্র: i) প্রথম আলো নিউজ।[লিঙ্ক]
         ii) World Meteorological Organization (WMO)[link]
৯৮২.
কোনটি নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয়
  2. চিরস্থায়ী নিম্নচাপ বলয় বিদ্যমান
  3. বাষ্পীভবনের মাত্রা কম
  4. চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়
সঠিক উত্তর:
বাষ্পীভবনের মাত্রা কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাষ্পীভবনের মাত্রা কম
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান করে।
- নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোতে সূর্য প্রায় সারাবছরই লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানে গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
- এই অঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য দিন-রাতের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।
- শীতের প্রকোপ একদম নেই বললেই চলে।

⇒ নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:
১. সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়ার জন্য এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে।
২. অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি।
৩. অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়
৪. অধিক উত্তাপ এ অঞ্চলে স্থায়ী নিম্নচাপ তৈরি করে এবং উপক্রান্তীয় উষ্ণ চাপ বলয়ের অয়ন বায়ু এ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।
৫. এ অঞ্চলের মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য খুব উপকারী হলেও এখানে মাটি ক্ষয় হয়।

উল্লেখ্য,
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন: মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৩.
লু (Loo) কোন অঞ্চলের স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ?
  1. আরব মালভূমি
  2. ভারতীয় উপমহাদেশ
  3. রকি পর্বত
  4. উত্তর আফ্রিকা
সঠিক উত্তর:
ভারতীয় উপমহাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতীয় উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা
স্থানীয় বায়ু (Local Wind):
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য কিংবা তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে ভূপৃষ্ঠের স্থানে স্থানে স্থানীয় বায়ুর উৎপত্তি হয়।

• কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ: 
- রকি পর্বতের চিনুক (Chinook),
- ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল (Mistral),
- আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু (Pampero),
- আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা (Bora),
- উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরক্কো (Sirocco),
- আরব মালভূমির সাইমুম (Simoom),
- মিসরের খামসিন (Khamsin) ও
- ভারতীয় উপমহাদেশের লু (Loo)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৯৮৪.
বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. উষ্ণ, শুষ্ক এবং সমভাবাপন্ন
  2. উষ্ণ, আর্দ্র এবং বিষমভাবাপন্ন
  3. উষ্ণ, আর্দ্র এবং সমভাবাপন্ন
  4. শীতল, শুষ্ক এবং বিষমভাবাপন্ন
সঠিক উত্তর:
উষ্ণ, আর্দ্র এবং সমভাবাপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উষ্ণ, আর্দ্র এবং সমভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু (Climate of Bangladesh):
- বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র এবং সমভাবাপন্ন।
- দেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করায় এবং মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাব অধিক থাকায় সামগ্রিকভাবে এদেশের জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু বলা হয়।
- এখানকার জলবায়ুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো মৌসুমী বায়ু।
- মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।
- বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার এবং গড় তাপমাত্রা ২৬° সেলসিয়াস।
- তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
- বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ হিসেবে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৫.
কোন বায়ু সারাবছর একইদিকে প্রবাহিত হয়?
  1. ক) স্থানীয় বায়ু
  2. খ) মৌসুমি বায়ু
  3. গ) সমুদ্র বায়ু
  4. ঘ) মেরু বায়ু
সঠিক উত্তর:
ঘ) মেরু বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মেরু বায়ু
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে যে বায়ু সারাবছর একইদিকে প্রবাহিত হয় তাকে নিয়ত বায়ু বলে।
নিয়ত বায়ু তিন প্রকার।
এগুলো হলো:
- অয়ন বায়ু
- পশ্চিমা বায়ু
- মেরু বায়ু।
অন্যদিকে,
- মৌসুমি বায়ু, স্থানীয় বায়ু ও সমুদ্রবায়ু নির্দিষ্ট সময়ে প্রবাহিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৯৮৬.
তুল্য আর্দ্রতার সাথে কীসের সম্পর্ক আছে?
  1. শিশিরাঙ্কের
  2. বায়ুর ঘনত্ব
  3. বায়ুর তাপমাত্রা
  4. কুয়াশা
সঠিক উত্তর:
শিশিরাঙ্কের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশিরাঙ্কের
ব্যাখ্যা
• তুল্য আর্দ্রতা (Absolute Humidity):
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে অবস্থিত জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাপকে তুল্য আর্দ্রতা বলে।
- তুল্য আর্দ্রতা দুই পদ্ধতিতে পরিমাপ করা যায়। যথা- হাইগ্রোমিটার এবং সাইক্রোমিটার।

- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২৫০° সে. তাপমাত্রায় সম্পৃক্ত ১ কিলোগ্রাম বায়ুতে ২০ গ্রাম জলীয়বাষ্প থাকে।
- যদি কোনো সময়ের বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ১০ গ্রাম হয় তবে ঐ সময়ের তুল্য আর্দ্রতা হবে ১০/২০ অথবা ৫০ শতাংশ।
- তুল্য আর্দ্রতার সাথে শিশিরাঙ্কের সম্পর্ক রয়েছে।
- যে তাপমাত্রার বায়ু জলীয়বাষ্পে সম্পৃক্ত হয় তা শিশিরাঙ্ক নামে পরিচিত। অর্থাৎ বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্প দ্বারা ঐ বায়ুতে সম্পৃক্ত করতে হলে যে তাপমাত্রা পর্যন্ত শীতল করা প্রয়োজন সেই তাপমাত্রাকে শিশিরাঙ্ক (Dew Point) বলে।
- শিশিরাঙ্কের চেয়ে কম তাপমাত্রার বায়ুস্থ জলীয়বাষ্প শিশির হিসেবে জমে যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৭.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে ওজোন গ্যাসের পরিমাণ বেশি? 
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. ​স্ট্রাটোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. তাপমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
​স্ট্রাটোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
​স্ট্রাটোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

বায়ুমন্ডলের ​স্ট্রাটোমণ্ডল স্তরে ওজোন গ্যাসের পরিমাণ বেশি।

​স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere):
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
- ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমণ্ডল নামে পরিচিত।
- স্ট্রাটোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলে।

⇒ স্ট্রাটোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of the Stratosphere):
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
- এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা ৪° সেলিসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় ৷
- এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
- ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে ।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি স্ট্রাটোমণ্ডলের শেষ প্রান্ত নির্ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৮৮.
বাংলাদেশে মৌসুমি জলবায়ু গ্রীষ্মকালে কোন দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. স্থলভাগ থেকে জলভাগের দিকে
  2. জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে
  3. উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে
ব্যাখ্যা

মৌসুমি বায়ু :
- আরবি ভাষায় 'মওসুম' শব্দের অর্থ ঋতু।
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে মৌসুমি বায়ু বলে।
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত-গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য ঘটে।
- সেজন্য মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।

• মৌসুমী জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য :
- এর প্রধান বৈশিষ্ট্যে হলো ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে দিক পরিবর্তন।
- বাংলাদেশে মৌসুমী জলবায়ু গ্রীষ্মকালে এটি জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। 
- আর শীতকালে এটি স্থলভাগ থেকে জলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়।
- ফলে গ্রীষ্মকাল বৃষ্টিবহুল এবং শীতকাল প্রায় বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকে।
- বায়ুর চাপ, তাপ, প্রবাহ এবং বৃষ্টিপাত দ্বারা এ জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য নিরূপন করাহয়।
- সাধারণত মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে তিনটি ঋতু সুষ্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।
- এগুলো হলো-শীতল ও শুষ্ক শীতকাল, উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং আর্দ্র বর্ষাকাল।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮৯.
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মাছ কোন দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে?
  1. মেরু অঞ্চলের সাগরের দিকে
  2. উষ্ণ মণ্ডলীয় অঞ্চলের দিকে
  3. সমুদ্রের গভীর অংশের দিকে
  4. নদীতে
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলের সাগরের দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলের সাগরের দিকে
ব্যাখ্যা

• সামুদ্রিক মৎস্য ক্ষেত্রে প্রভাব:
১) বায়ুমণ্ডলে দিন দিন কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে ফলে বেড়ে যাচ্ছে বাতাসের ও সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা।
ফলে বাতাসের গতি প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে, বৃষ্টির ধরন পরিবর্তন হচ্ছে। এতে করে সাগরে মাছের বিচরণ ও উৎপাদশীলতায় প্রভাব পড়ছে।
ফলে সমুদ্রের কোনো অংশে মাছের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। আবার মাছের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র বলে খ্যাত কিছু এলাকা মাছশূন্য হয়ে যেতে পারে।

২) বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে মাছ উষ্ণ মণ্ডলীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের সাগরের দিকে সরে যাচ্ছে।
- অনেক মাছ তার অভিপ্রায়ন (Migration) পথ, প্রজননক্ষেত্র এবং বিচরণক্ষেত্র পরিবর্তন করে ফেলছে।
- ফলে জেলেরা সুদূর অতীত থেকে যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে সমুদ্রের যে সব সামুদ্রিক এলাকায় মাছ আহরণ করতে যেত, সেগুলোর পরিবর্তন হলে জেলেরা বিপাকে পড়বে।

৩) কোরাল রীফ বা প্রবাল সামুদ্রিক মাছের উৎকৃষ্ট আবাসস্থল, যেখানে বিভিন্ন ধরনের মাছ বাস করে এবং প্রজনন ক্ষেত্র হিসাবে ব্যবহার করে।
- পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঢেউয়ের তারতম্য, সমুদ্রের অম্লত্ব বৃদ্ধি, দূষণ, স্রোতের গতি পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে প্রবাল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। 
- এর ফলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য তথা মৎস্য বৈচিত্র্যের উপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।

৯৯০.
বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় জলীয়বাষ্প কোথায় মিশে যায়?
  1. সমুদ্রে
  2. নভোমন্ডলে
  3. শিশির কণায়
  4. বায়ুমন্ডলে  
সঠিক উত্তর:
বায়ুমন্ডলে  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুমন্ডলে  
ব্যাখ্যা
• বাষ্পীভবন (Evaporation):
- নদী, হ্রদ, জলাশয় বা সমুদ্রের পানি সূর্যের তাপে বাষ্পে পরিণত হয় এবং তা বায়ুমন্ডলের মিশে যায়।
- এই জলীয়বাষ্প হালকা ফলে বায়ুমন্ডলে অদৃশ্য হয়ে যেতে সক্ষম হয়।
-  বায়ুর উষ্ণতার পরিমাণের উপর নির্ভর করে যে কতটুকু জলীয়বাষ্প ধারণ করা সম্ভব হবে।
- জলীয়বাষ্প প্রধানত সমুদ্র থেকে বাষ্পীভূত হয়।
- এছাড়াও,  নদ-নদী ও উদ্ভিদ জগতও জলীয়বাষ্পের অন্যতম উৎস।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯১.
বাংলাদেশের কোন নদীতে ভাঙনের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) মেঘনা নদী
  2. খ) যমুনা নদী
  3. গ) পদ্মা নদী
  4. ঘ) ব্রহ্মপুত্র নদ
সঠিক উত্তর:
গ) পদ্মা নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পদ্মা নদী
ব্যাখ্যা
- মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশের পদ্মা নদী বাংলাদেশ ও বিশ্বের সবচেয়ে ভাঙনপ্রবণ নদী।
- নাসার মতে ১৯৬৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গত ৫০ বছরে পদ্মায় ৬৬০ বর্গকিমি এলাকা ভাঙনের শিকার হয়েছে।
- বিজ্ঞান সাময়িকী স্প্রিংগার নেচার এর মতে, বিগত ১০৫ বছরে পদ্মা নদী দ্বারা ভাঙনের পরিমাণ ১,৭৪৯ বর্গকিমি। একই সময়ে পদ্মায় সৃষ্ট চরের পরিমাণ ১,৩১৬ বর্গকিমি।
- গবেষণা মতে প্রতিবছর পদ্মায় ১৭ বর্গকিমি এলাকা ভাঙনের শিকার হয় এবং ১৩ বর্গকিমি চর সৃষ্টি হয়।
- চাঁদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, সিরাজগঞ্জ, ফরিদপুর, মুন্সিগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় নদীভাঙনের পরিমাণ সর্বাধিক।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো, ১৬ আগস্ট ২০২০)
৯৯২.
বাংলাদেশের শীতলতম মাস কোনটি?
  1. নভেম্বর
  2. ডিসেম্বর
  3. জানুয়ারি
  4. ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের শীতকাল:
- সাধারণত এ দেশে নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক - ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে।
- সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের পর তাপমাত্রা কমতে থাকে।
- জানুয়ারি মাসে দেশে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকে।
-  অর্থাৎ বাংলাদেশের শীতলতম মাস জানুয়ারি।

তাপমাত্রা:
আমাদের দেশে শীতকালে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে।
- এ সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১° সেলসিয়াস থাকে।
- জানুয়ারি শীতলতম মাস। এই মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।

বায়ু প্রবাহ:
উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আগত শীতল মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে শীতকালের বাতাসের আদ্রতা অত্যন্ত কম থাকে।
- এ সময় বাতাসের সর্বনিম্ন আদ্রতা - ৩৬ ভাগ।

বৃষ্টিপাত:
শীতকালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে।
- তবে উত্তর - পূর্ব মৌসুমি বায়ু এ সময় বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং এর ফলে কিছু কিছু অঞ্চল বিশেষত পাহাড়ি এলাকায় অল্প বৃষ্টিপাত হয়।
-  এর পরিমাণ ১০ সেন্টিমিটারের অধিক নয়।

তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বই।
৯৯৩.
শিল্প বিপ্লবের পূর্বে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ কত ছিল?
  1. ক) 285-290 ppmv
  2. খ) 258-290 ppmv
  3. গ) 245-285 ppmv
  4. ঘ) 255-292 ppmv
সঠিক উত্তর:
ক) 285-290 ppmv
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 285-290 ppmv
ব্যাখ্যা

- বায়ুমন্ডলে বিভিন্ন গ্রীন হাউজ গ্যাসের মধ্যে কার্বন ডাই অক্সাইড এর পরিমান সবচেয়ে বেশি।
- শিল্প বিপ্লবের পর বা অষ্টাদশ শতাব্দীর পর থেকে এর পরিমান বেড়েই চলছে।
- গবেষণায় দেখা গেছে বায়ুমন্ডলে কার্বন দাই অক্সাইড থাকার ফলে তাপমাত্রা বেড়েই চলছে।
-  শিল্প বিপ্লবের পূর্বে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান ছিল ২৮৫ থেকে ২৯০ ppmv 
- এভাবে চলতে থাকলে ২০৫০ সালে এর পরিমান বেড়ে দাঁড়াবে ৪৫০ ppmv ।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯৪.
পৃথিবীর অধিকাংশ মরুভূমি মহাদেশের পশ্চিমাংশে অবস্থিত কেন?
  1. ক) অয়ন বায়ুর জন্য
  2. খ) সমুদ্র বায়ুর জন্য
  3. গ) মেরু বায়ুর জন্য
  4. ঘ) পশ্চিমা বায়ুর জন্য
সঠিক উত্তর:
ক) অয়ন বায়ুর জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অয়ন বায়ুর জন্য
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ জলবায়ুকে বহুলাংশে নিয়ন্ত্রিত করে। সমুদ্র হতে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু কোনো দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সে অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয় এবং উত্তাপ কমে যায়। কিন্তু স্থলভাগ হতে প্রবাহিত বায়ুতে জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে এ শুষ্ক বায়ু যে অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয় সে অঞ্চলে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় উত্তাপ হ্রাস পায় না। অয়ন বায়ু পূর্ব দিক থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়। ফলে সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হয়েও অয়ন বায়ু বাহিত মহাদেশের পশ্চিম উপকূলের দেশগুলোতে বৃষ্টি হয় না অথচ পূর্ব উপকূলের দেশগুলোতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এ কারণে অধিকাংশ মরুভূমি মহাদেশের পশ্চিমাংশে দেখা যায়। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৯৯৫.
বায়ু দূষণের প্রাকৃতিক কারণ নয় কোনটি?
  1. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  2. দাবানল ও ধূলিঝড়
  3. শিল্প-কারখানার নির্গত ধোঁয়া
  4. গ্যাসক্ষেত্রের বিস্ফোরণ
সঠিক উত্তর:
শিল্প-কারখানার নির্গত ধোঁয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিল্প-কারখানার নির্গত ধোঁয়া
ব্যাখ্যা
• বায়ু দূষণের কারণসমূহকে দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
১. প্রাকৃতিক কারণ:
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত:
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস প্রভৃতি বায়ুর সাথে মিশে বায়ুকে দূষিত করে।
• জৈব ও অজৈব পদার্থ:
- বিভিন্ন প্রকার জৈব ও অজৈব পদার্থের স্বাভাবিক পচনের ফলে যে গ্যাস সৃষ্টি হয় তা বায়ুকে দূষিত করে ।
দাবানল ও ধূলিঝড়:
- বিস্তৃত বনাঞ্চলে দাবানল হলে তা ব্যাপক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বায়ুকে দূষিত করে। এছাড়া মরু এলাকায় ধূলিঝড়ও বায়ু দূষণ ঘটায়
গ্যাসক্ষেত্রের বিস্ফোরণ:
- গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে যে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে তা বায়ুকে দূষিত করে।

২. মানব-সৃষ্ট কারণ:
• তেজস্ক্রিয় পদার্থ:
- যুদ্ধক্ষেত্র অথবা পারমানবিক চুল্লিতে দুর্ঘটনার ফলে তেজস্ক্রিয় পদার্থের বিকিরণ হলে বায়ু দূষিত হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমানবিক বোমার বিস্ফোরণ।
• এছাড়াও জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, শিল্প-কারখানার নির্গত ধোঁয়া, পরিত্যক্ত বর্জ্য পদার্থের দহন, বন উজার, ইটভাটা, কীটনাশক ইত্যাদি মানব-সৃষ্ট কারণসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৬.
উভয় গোলার্ধে ২৩.৫ থেকে ৬৬.৫ অক্ষাংশ পর্যন্ত অবস্থিত অঞ্চলের জলবায়ু কী নামে পরিচিত?
  1. ক) নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু
  2. খ) উষ্ণ জলবায়ু
  3. গ) নিরক্ষীয় জলবায়ু
  4. ঘ) মৌসুমী জলবায়ু
সঠিক উত্তর:
ক) নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু
ব্যাখ্যা
নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল: 
- পৃথিবীর যেসব এলাকায় খুব বেশী শীত বা গরম আবহাওয়া থাকে না তাকে নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল বলে।
- উভয় গোলার্ধে ২৩.৫ থেকে ৬৬.৫ অক্ষাংশ পর্যন্ত এ অঞ্চল অবস্থিত।
- এই নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের এক পার্শ্বে উষ্ণ মন্ডল এবং অপর পার্শ্বে হিম মন্ডল অবস্থিত।
- এই উভয় জলবায়ু অঞ্চলের প্রভাব নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ভেতর কিছুটা বিদ্যমান রয়েছে।

সূত্র: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৭.
আরব মালভূমির স্থানীয় বায়ুর নাম কী?
  1. সিরক্কো
  2. সাইমুম
  3. চিনুক
  4. খামসিন
সঠিক উত্তর:
সাইমুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইমুম
ব্যাখ্যা
স্থানীয় বায়ু (Local Wind):
- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য কিংবা তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে ভূপৃষ্ঠের স্থানে স্থানে স্থানীয় বায়ুর উৎপত্তি হয়।
- রকি পর্বতের চিনুক (Chinook), ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল (Mistral), আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু (Pampero), আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা (Bora), উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরক্কো (Sirocco), আরব মালভূমির সাইমুম (Simoom), মিসরের খামসিন (Khamsin) ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু (Loo) কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৯৯৮.
ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে কী বলে?
  1. Isotherm line
  2. Isobar line
  3. Isohyet line
  4. Isohpress line
সঠিক উত্তর:
Isobar line
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Isobar line
ব্যাখ্যা

সমরেখ পদ্ধতি:
- পরিমাণগত বা ঘনত্ব জ্ঞাপক একই মান বিশিষ্ট বিভিন্ন স্থানকে মানচিত্রের উপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় সেই রেখাকে সমমান রেখা বা Isopleth line বলে।
- এ রেখা সমমান বিশিষ্ট অঞ্চলের ওপর দিয়ে টানা হয়।
- প্রকৃতিক বিষয় আবহাওয়া, জলবায়ু ইত্যাদি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের উপাত্ত প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- যেমন- সমতাপ বা সমোষ্ণরেখা, সমচাপ রেখা, সমবর্ষণ রেখা এবং সমোষ্ণ রেখা।

• সমোষ্ণ রেখা (Isotherm line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর সমান তাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় সে রেখাকে সমোষ্ণ রেখা বলে।

• সমচাপ রেখা (Isobar line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমচাপ রেখা (Isobar line) বলে।

সমবর্ষণ রেখা (Isohyet line):
- সম বৃষ্টিপাত যুক্ত স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
- সমান উচ্চতা বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় তাকে সমোচ্চ রেখা বলে।
- এ সমস্ত রেখা কাল্পনিক।

উৎস: ব্যবহারিক ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯৯.
বাংলাদেশের শীতলতম মাস কোনটি?
  1. নভেম্বর
  2. জানুয়ারি
  3. ডিসেম্বর
  4. ফেব্রুয়ারী
সঠিক উত্তর:
জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
শীতলতম:
- বাংলাদেশের শীতলতম মাস জানুয়ারি।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা সিলেট।
- বাংলাদেশের শীতলতম স্থান শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম জেলা রাজশাহী।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস এপ্রিল।

তথ্যসূত্র - বাংলিপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,০০০.
বাংলাদেশে খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল কোনটি?
  1. ক) উত্তরাঞ্চল
  2. খ) উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  3. গ) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল
  4. ঘ) দক্ষিণাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
-  এ অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।

উৎস: মাধ্যমিক সাধারণ বিজ্ঞান