ক্লাউড কম্পিউটিং:
- ক্লাউড কম্পিউটিং এর মূল বিষয়টি হলো নিজের ব্যবহৃত কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভের পরিবর্তে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে সার্ভিস বা হার্ডওয়্যার ভাড়া নেওয়া।
- ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ স্টান্ডার্ডস এন্ড টেকনোলজির (NIST) সংজ্ঞা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ক্লাউড কম্পিউটিংকে নিম্নরুপে সংজ্ঞায়িত করেছে:
"ক্লাউড কম্পিউটিং হল সর্বব্যাপী, সুবিধাজনক, চাহিদা অনুযায়ী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য, সহজে পরিবর্তনীয় অংশীদারি (shared) কম্পিউটার রিসোর্সের (যেমন নেটওয়ার্ক, সার্ভার, স্টোরেজ, এপ্লিকেশন ও ডিজিটাল পরিষেবা) সামস্টিক মডেল যা পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম প্রচেষ্টায় দ্রুততম সময়ে প্রস্তুত ও ব্যবহার করা সম্ভব।"
ক্লাউড কম্পিউটিং-এর বৈশিষ্ট্য:
- NIST এর মতে ক্লাউড কম্পিউটিং-এর ৩টি বৈশিষ্ট্য থাকবে। যথা:
১. রিসোর্স স্কেলেবিলিটি: ছোট বা বড় যাই হোক, ক্রেতার সব ধরনের চাহিদাই মেটানো হবে, ক্রেতা যত চাইবে সেবা দাতা ততোই অধিক পরিমাণে সেবা দিতে পারবে।
২. অন-ডিমান্ড: ক্রেতা যখন চাইবে, তখনই সেবা দিতে পারবে। ক্রেতা তার ইচ্ছা অনুযায়ী যখন খুশি তার চাহিদা বাড়াতে বা কমাতে পারবে।
৩. পে-অ্যাজ-ইউ-গো: এটা একটি পেমেন্ট মডেল। ক্রেতাকে আগে থেকে কোন সার্ভিস রিজার্ভ করতে হবে না। ক্রেতা যা ব্যবহার করবে কেবলমাত্র তার জন্যই পেমেন্ট দিতে হবে।
ক্লাউড কম্পিউটিং প্রয়োগ মডেল (Deployment Models):
১. পাবলিক ক্লাউড (Public Cloud) – এই ক্লাউড অবকাঠামো সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত। এটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সরকারি প্রতিষ্ঠান অথবা এই তিন ধরণের সংস্থার যৌথ মালীকানায় পরিচালিত হতে পারে। এটি ক্লাউড পরিষেবা প্রদানকারীর নিজস্ব স্থাপনায় থাকে।
২. প্রাইভেট ক্লাউড (Private Cloud) – এই ক্লাউড অবকাঠামো একটি সংস্থার বিভিন্ন গ্রাহকদের (উদাঃ ব্যবসায়িক - ইউনিটসমূহ) একচেটিয়া ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়। এটি উক্ত সংস্থা বা তৃতীয় পক্ষ অথবা দুইয়ের যৌথ মালীকানায় পরিচালিত হতে পারে এবং একই স্থাপনায় অথবা দূরবর্তী স্থানে থাকতে পারে।
৩. কমিউনিটি ক্লাউড (Community Cloud) – এই ক্লাউড অবকাঠামোটি সংস্থার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট (উদাঃ লক্ষ্য, সুরক্ষার বাধ্যবাধকতা, নীতিমালা, এবং এর পরিপালন বিবেচনায়) একটি নির্দিষ্ট ভোক্তাগোষ্ঠীকে স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহারের জন্য প্রদান করা হয়। এটি গোষ্ঠীভুক্ত এক বা একাধিক সংস্থা, তৃতীয় পক্ষ বা এর যৌথ মালীকানায় পরিচালিত হতে পারে এবং একই স্থাপনায় অথবা দূরবর্তী স্থানে থাকতে পারে।
৪. হাইব্রিড ক্লাউড (Hybrid Cloud) – তথ্য ও এপ্লিকেশন বিভিন্ন প্লাটফর্মে সঠিকভাবে পরিচালনার নিমিত্তে মানদণ্ড বা বানিজ্যিক প্রযুক্তি দ্বারা যুক্ত দুই বা ততোধিক স্বতন্ত্র ক্লাউড অবকাঠামোর (পাব্লিক, প্রাইভেট অথবা কমিউনিটি) সমন্বয়ে এই ক্লাউড অবকাঠামো গঠিত (যেমন, ভিন্ন ক্লাউডের মধ্যে কার্যভারের ভারসাম্য রক্ষার্থে ব্যবহৃত ক্লাউড বাস্টিং (Bursting))।
ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের প্রধান সার্ভিস মডেল:
সেবার ধরণ অনুসারে ক্লাউড কম্পিউটিংকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. অবকাঠামোগত সেবা (Infrastructure as a services-IaaS): ব্যবহারকারী তার প্রয়োজনীয় অপারেটিং সিস্টেম ও সফ্টওয়্যার চালানোর জন্য ক্লাউড সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের নেটওয়ার্ক, সিপিইউ, স্টোরেজ ও অন্যান্য মৌলিক কম্পিউটিং রিসোর্স ভাড়া দেয়।
২. প্ল্যাটফর্মভিত্তিক সেবা (Platform as a services-PaaS): ক্লাউড সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম, ওয়েব সার্ভার, ডেটাবেজ, প্রোগ্রাম এক্সিউশন পরিবেশ ইত্যাদি থাকে। এ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারগণ তাদের তৈরি করা সফ্টওয়্যার এই প্ল্যাটফর্মে ভাড়ায় চালাতে পারেন।
৩. সফ্টওয়্যার সেবা (Software/application as a services-SaaS): ক্লাউড সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের তৈরিকৃত এ্যাপ্লিকেশন সফ্টওয়্যার ব্যবহারকারীগণ ইন্টারনেটের মাধ্যমে চালাতে পারেন।
উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ক্লাউড কম্পিউটিং নীতিমালা, ২০২০ - তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। [লিংক]