বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৭৩ / ১০০ · ৭,২০১৭,৩০০ / ১০,০৪৫

৭,২০১.
কোন দুটি বাংলা উপসর্গ?
  1. আব, ইতি
  2. অনু, অব
  3. সু, উৎ
  4. দুর, বি
সঠিক উত্তর:
আব, ইতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব, ইতি
ব্যাখ্যা

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭,২০২.
‘দ্বি’ কোন ধরনের শব্দ?
  1. ক্রমবাচক
  2. ভগ্নাংশবাচক
  3. তারিখবাচক
  4. পূরণবাচক
সঠিক উত্তর:
ক্রমবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রমবাচক
ব্যাখ্যা
• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
যেমন: ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ), ১১ (এগারো), ১২ (বারো), ১৩ (তেরো), ১৪ (চৌদ্দ), ১৫ (পনেরো), ১৬ (ষোলো), ১৭ (সতেরো), ১৮ (আঠারো), ১৯ (উনিশ), ২০ (বিশ) ইত্যাদি।

- ক্রমবাচক সংখ্যাবর্ণের সুবিধা হলো এতে ১ থেকে ৯ এবং ০ দিয়ে অসীম সংখ্যার পূর্ব পর্যন্ত ক্রম তৈরি করা যায়।
- ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে। এগুলো কখনো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়, কখনো সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- 'দুই' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ ‘দ্বি’, 'দু', এবং 'দো'।
- 'তিন' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'ত্রি' এবং ‘তে’।

---------------
• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:

পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
- যেমন: 'এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান প্রথম, প্রথমা, পহেলা ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।

পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের। যথা:
• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
- যেমন: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি।
- সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পুরণবাচক শব্দ:
কোনো পূর্ণসংখ্যা থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। 
যেমন: আধ, সাড়ে, সোয়া, পোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই) ইত্যাদি। 
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়। বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,২০৩.
'পার্থিব' এর শুদ্ধ প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. পৃথিবী + ষ্ণিক
  2. পৃথবী + ষ্ণ
  3. পৃথিবী + ষ্ণ
  4. পার্থিব + ষ্ণ
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী + ষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী + ষ্ণ
ব্যাখ্যা

• 'পার্থিব' একটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।
- পাথির্ব = পৃথিবী + ষ্ণ/অ। 

---------------------- 
আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়: 
- 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = দাপ + অট। 
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √ নন্দি+অন। 
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √ দৃশ্ + অনীয়। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,২০৪.
‘ঘনের ন্যায় শ্যাম’ ব্যাস-বাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. উপমান কর্মধারয়
  2. রূপক কর্মধারয়
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• উপমান কর্মধারয়: 
সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস তা উপমান কর্মধারয় সমাস হয়।
যেমন:
- অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা; 
- ঘনের (মেঘের) ন্যায় শ্যাম = ঘনশ্যাম;
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ = ভ্রমরকৃষ্ণ। 

এছাড়াও, তুষারশুভ্র, অরুণরাঙা, শশব্যস্ত, কাজলকালো, দুগ্ধধবল ইত্যাদি এই ধরনের সমাস নিষ্পন্ন শব্দ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২০৫.
'লাজুক' শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
- বাংলা তদ্ধিত ‘উক’ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো।

যেমন:
- লাজ + উক = লাজুক
- মিশ + উক = মিশুক,
- মিথ্যা + উক = মিথ্যুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৭,২০৬.
পশ্চাৎ অর্থে ‘অনু’ উপসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে কোন শব্দে?
  1. অনুরূপ
  2. অনুকার
  3. অনুকূল
  4. অনুতাপ
সঠিক উত্তর:
অনুতাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুতাপ
ব্যাখ্যা
• পশ্চাৎ অর্থে ‘অনু’ উপসর্গ যুক্ত শব্দ: অনুজ, অনগামী, অনুচার, অনুতাপ, অনুকরণ।

অন্যদিকে,
• সাদৃশ্য অর্থে ‘অনু’ উপসর্গ যুক্ত শব্দ: অনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার, অনুদান।
• সঙ্গে অর্থে ‘অনু’ উপসর্গ যুক্ত শব্দ: অনুকূল, অনুকম্পা।

----------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,২০৭.
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সাধারণত কোন ধরনের পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়াপদ
  3. অব্যয়
  4. সর্বনাম 
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা

ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব হলো সেই ধরনের শব্দ যা প্রাকৃতিক বা কল্পিত কোনো ধ্বনির অনুকরণে তৈরি হয়।
- এবং সাধারণত পরপর দুইবার পুনরায় বলা হয়, যাতে বিশেষ কোনো ভাব যেমন তীব্রতা বা ধারাবাহিকতা প্রকাশ পায়।
- এই ধরনের শব্দ প্রায়শই অব্যয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বাক্যে বিশেষণ বা ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
- এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো শব্দের মাধ্যমে ধ্বনির সাদৃশ্য প্রকাশ করা এবং প্রয়োগের সময় শব্দটি পুনরাবৃত্তি করা।
- কিছু ক্ষেত্রে শব্দের মাঝখানে স্বরধ্বনি যোগ হয়।
- যেমন দমাদম, খপাখপ, যা উচ্চারণকে আরও প্রাণবন্ত করে।

- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বর কিছু উদাহরণ:
- টুংটুং, ঠকরঠকর, ঢংঢং, ঝনঝন, ঝিরঝির, ভটভট,মড়মড়, সাঁইসাঁই, কড়কড়, ঝমঝম, গপগপ, কলকল, থপথপ, ফুরফুর, টাপুরটুপুর, ধুপুরধুপুর ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৭,২০৮.
কোনটি বিদেশি উপসর্গ?
  1. দুর
  2. অঘা
  3. ঊন
  4. হর
সঠিক উত্তর:
হর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হর
ব্যাখ্যা
বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উর্দু উপসর্গ: হর।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

অন্যদিকে,
- 'অঘা, এবং ঊন' খাঁটি বাংলা উপসর্গ।
- 'দুর' সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,২০৯.
'মৌমাছি' -এর ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) মৌ এর মত মাছি
  2. খ) যে মাছি ঘুরে বেড়ায়
  3. গ) মৌ মৌ করে যে মাছি
  4. ঘ) মৌ সংগ্রহ করে যে মাছি
সঠিক উত্তর:
ঘ) মৌ সংগ্রহ করে যে মাছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মৌ সংগ্রহ করে যে মাছি
ব্যাখ্যা
'মৌমাছি'-এর ব্যাসবাক্য = মৌ সংগ্রহ করে যে মাছি
- এটি একটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
এবং ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তাই মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ
ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি
প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়
স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।
এমনিভাবে, সিংহাসন, সাহিত্যসভা, গোবর গণেশ, সংবাদপত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২১০.
তৎসম শব্দ নয় কোনটি?
  1. পর্বত
  2. খিদে
  3. ভবন
  4. জলদ
সঠিক উত্তর:
খিদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খিদে
ব্যাখ্যা

• তৎসম শব্দ নয় - খিদে। 
- 'খিদে' অর্ধ-তৎসম শব্দ। এটি সংস্কৃত 'ক্ষুধা' শব্দ থেকে পরিবর্তিত হয়ে 'খিদে' হয়েছে।  

------------------
•  তৎসম শব্দ:

যে সকল শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে অবিকৃত অবস্থায় বাংলা ভাষায় এসেছে এবং এখনও তা অবিকৃত অবস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। 'তৎসম' একটি পারিভাষিক শব্দ । 'তৎ' অর্থ 'তার' এবং ‘সম’ অর্থ ‘সমান'। শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় ‘তার সমান'। অর্থাৎ সংস্কৃতের সমান।
যেমন : সূর্য, চন্দ্র, পর্বত, রবি, শশি, নক্ষত্র, মনুষ্য, পিতা, মাতা, ভ্রাতা, ধর্ম, কর্ম, ভোজন, শয়ন, সত্য, ক্ষমা, ক্ষমতা, ঘৃত, চর্ম, জল, জলদ, অদ্য, ক্ষতি, কুণ্ডল, দীক্ষিত, বন্য, মুক্তি, ভবন, পত্র, প্রস্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭,২১১.
'অজপাড়াগাঁ' শব্দে 'অজ' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অভাব 
  2. নিতান্ত মন্দ
  3. পুরনো 
  4. ভিন্নতা 
সঠিক উত্তর:
নিতান্ত মন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিতান্ত মন্দ
ব্যাখ্যা

• 'অজ' খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে 'নিতান্ত (মন্দ)' অর্থে গঠিত শব্দ- অজপাড়াগাঁ, অজমূর্খ, অজপুকুর।

---------------------
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

- তবে বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৭,২১২.
লড়াই শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √লড়া + আই
  2. খ) √লড়া + ই
  3. গ) √লড়্ + আই
  4. ঘ) √লড়্ + ই
সঠিক উত্তর:
গ) √লড়্ + আই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) √লড়্ + আই
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে ‘আই’ যুক্ত হলে ধাতু + আই হবে। সাধিত শব্দটি বা কৃদন্ত পদটি ক্রিয়া বিশেষ্য হবে।

প্রদত্ত শব্দ - প্রকৃতি ও প্রত্যয়
লড়াই = √লড়্ + আই
চড়াই = √চড়্ + আই
সেলাই = √সেল্ + আই
ঢালাই = √ঢাল্ + আই

উৎস: ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৭,২১৩.
'ভয়ে গা ছম ছম করছে।' - এখানে দ্বিরুক্ত শব্দ 'ছম ছম' কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ধ্বনিব্যঞ্জনা
  2. বিশেষণ
  3. অনুভূতি
  4. পৌনঃপুনিকতা
সঠিক উত্তর:
অনুভূতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুভূতি
ব্যাখ্যা

অব্যয় পদের কয়েকটি দ্বিরুক্তির উদাহরণ:

- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,২১৪.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
  1. বহতা
  2. ছত্র
  3. দাতব্য
  4. বাঘা
সঠিক উত্তর:
বাঘা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঘা
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- শিশু + অ = শৈশব,
- দীর্ঘ + তম = দীর্ঘতম,
- বাঘ + আ = বাঘা,
- আশি + তম = আশিতম।

অন্যদিকে,
কৃৎ প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন:
√ বহ্‌ + তা = বহতা,
√ ছদ্‌ + ত্র = ছত্র,
√ দা + তব্য = দাতব্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,২১৫.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) গ্রামছাড়া
  2. খ) রাজপথ
  3. গ) ধানক্ষেত
  4. ঘ) তেলেভাজা
সঠিক উত্তর:
ঘ) তেলেভাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তেলেভাজা
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় ।

ক. বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, 
ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো
মামার বাড়ি = মামাবাড়ি, 
ধানের খেত = ধানখেত, 
পথের রাজা = রাজপথ 
গোলায় ভরা = গোলাভরা, 
গাছে পাকা = গাছপাকা, 
অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু । 

খ. সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ: 
মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা, 
চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা
রান্নার জন্য ঘর = রান্নাঘর, 
বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া, 
আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।

গ. কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।  
যেমন: গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি, তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ। 
৭,২১৬.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কুলীন
  2. পঙ্কিল
  3. নিমাই
  4. নীলিমা
সঠিক উত্তর:
নিমাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিমাই
ব্যাখ্যা
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয়কে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: আরু, ইয়া, অট, লা, আটিয়া, উক, উয়া, আই, আ, উরিয়া ইত্যাদি।
যেমন:
- কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
- বোমা + আরু = বোমারু।
- নিম + আই = নিমাই।
- ভাদর + ইয়া = ভাদরিয়া > ভাদুরে।
- চোর + আমি = চোরামি।
- ভরা + অট = ভরাট।

----------------------
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য; এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, ইষ্ঠ, ঈন্, বতু্প্, নীন, নীয়, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- মধুর + ষ্ণ = মাধুর্য;
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- কুল + নীন = কুলীন;
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক;
- কুসুম + ইত = কুসুমিত;
- পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল;
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন;
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২১৭.
‘করকমল’ কোন সমাস?
  1. উপমান কর্মধারয় সমাস
  2. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  3. রূপক কর্মধারয় সমাস
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমিত কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা

• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। অন্যভাবে বলা যায়, সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে যে সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলা হয়।
যেমন—
- চাঁদের মতো মুখ = চাঁদমুখ
- কর কমলের ন্যায় = করকমল

তেমনই—
রক্তকমল, ফুলবাবু, মুখচন্দ্র, চরণতল, চন্দ্রমুখ, পদ্মচক্ষু, হাঁড়িমুখ, চাঁদবদন প্রভৃতি।

উপমিত কর্মধারয় সমাসের বৈশিষ্ট্য :
১. এ সমাসের ব্যাসবাক্যের দুটি পদই বিশেষ্য হয়।
২. সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে সমাস হয়।
৩. উপমেয় পদটি সাধারণত পূর্বে বসে।
৪. এ সমাসে সাধারণ ধর্মবাচক পদের উল্লেখ থাকে না।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।

৭,২১৮.
ধনাত্মক শব্দদ্বিত্ব কোনটি?
  1. বাড়াবাড়ি
  2. ঝিকিমিকি
  3. পটাপট
  4. পায়ে পায়ে
সঠিক উত্তর:
পটাপট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাপট
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, ধুপ ধুপ, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।

- কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনি আগমন ঘটে।
যেমন,
খপাখপ, গবাগব, দমাদম, পটাপট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ঝিকিমিকি ও বাড়াবাড়ি অনুকার শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।
• ‘পায়ে পায়ে’ পুনরাবৃত্ত শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,২১৯.
'ইনি' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নারীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ক) পুণ্যবতী
  2. খ) কাঙালিনি
  3. গ) তেজস্বিনী
  4. ঘ) যােগিনী
সঠিক উত্তর:
খ) কাঙালিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাঙালিনি
ব্যাখ্যা
- 'ইনি' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নারীবাচক শব্দ হচ্ছে কাঙালিনি

- নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যােগ করতে হয়।
- এ রকম কয়েকটি প্রত্যয়ের প্রয়ােগ দেখানাে হলাে:
- আ প্রত্যয়: বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রিয়-প্রিয়া, কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা।
- ই প্রত্যয়: দাদা-দাদি, জেঠা-জেঠি, পাগল-পাগলি।
- ইনি প্রত্যয়: কাঙাল-কাঙালিনি, বাঘ-বাঘিনি।
- ইনী প্রত্যয়: বিজয়ী-বিজয়িনী, যােগী-যােগিনী, তেজস্বী-তেজস্বিনী
- ঈ প্রত্যয়: কিশাের-কিশােরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী।
- নি প্রত্যয়: জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধােপ-ধােপানি।
- বতী প্রত্যয়: গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী।
- মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, শ্রীমান-শ্রীমতী।
এছাড়া ‘-অক' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নরবাচক শব্দকে নারীবাচক করার সময়ে অক’-এর জায়গায় ‘ইকা হয়। যেমন - পাঠক-পাঠিকা, লেখক-লেখিকা, গায়ক-গায়িকা।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,২২০.
"চোখেমুখে" - কোন ধরনের দ্বন্দ্ব সমাস? 
  1. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  2. সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
  3. অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
  4. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে;
- চোখে ও মুখে = চোখেমুখে;
- ধীরে ও সুস্থে = ধীরেসুস্থে;
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- দিন ও রাত = দিনরাত; বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের দৃষ্টান্ত।
- হাট ও বাজার = হাটবাজার; সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।
- অহি ও নকুল = অহিনকুল; বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

৭,২২১.
কোনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. অসীম
  2. মুখচন্দ্র
  3. বিয়েপাগলা
  4. ঘর-বাড়ি
সঠিক উত্তর:
বিয়েপাগলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়েপাগলা
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- সমসমান পদের বিভক্তি ও সন্নিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- মামার বাড়ি = মামাবাড়ি।
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা।
- পথের রাজা = রাজপথ।
- জীবনে আনন্দ = জীবনানন্দ।

অন্যদিকে:
- 'মুখচন্দ্র' উপমিত কর্মধারয় সমাস।
- 'ঘর-বাড়ি' সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।
- 'অসীম' নঞ বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।
৭,২২২.
অশুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দুল্ + অন = দোলন
  2. √বাড়ু্ + অন = বাড়ন
  3. √কাঁদ্ + অন = কাঁদন
  4. √দে + অন = দেওন
সঠিক উত্তর:
√বাড়ু্ + অন = বাড়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√বাড়ু্ + অন = বাড়ন
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়- √বাড়ু্ + অন = বাড়ন। 
- শুদ্ধ: √বাড়্‌ + অন = বাড়ন। 

• 'অন' কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন;
- √নাচ্ + অন = নাচন;
- √ঝুল্ + অন = ঝুলন;
- √দুল্ + অন = দোলন;
- √খা + অন = খাওন;
- √ছা + অন = ছাওন;
- √দে + অন = দেওন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,২২৩.
নিচের কোনটি বিদেশী প্রত্যয় এর উদাহরণ নয়?
  1. পনা
  2. বন্দী
  3. ওয়ালা > আলা
  4. ইয়া > এ
সঠিক উত্তর:
ইয়া > এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইয়া > এ
ব্যাখ্যা

ওয়ালা > আলা (হিন্দি) প্রত্যয়।
বাড়ি - বাড়িওয়ালা (মালিক অর্থে)।
পনা (হিন্দি) প্রত্যয়।
ছেলে - ছেলেওপনা।
বন্দী (বন্দ্‌ - ফারসি) প্রত্যয়।
জবানবন্দী
ইয়া > এ বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় এর উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)

৭,২২৪.
‘কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা’ কোন সমাস?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) বহুব্রীহি
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন - নীল যে আকাশ = নীলাকাশ।
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
রক্ত যে কমল = রক্তকমল।
কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।
যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৭,২২৫.
'উপাচার্য মহোদয় তাকে বরখাস্ত করলেন।'- বাক্যে 'বরখাস্ত' শব্দটি-
  1. প্রত্যয়যুক্ত
  2. উপসর্গযুক্ত
  3. বিভক্তিযুক্ত
  4. অনুসর্গযুক্ত
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উপসর্গযুক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসর্গযুক্ত
ব্যাখ্যা
• 'উপাচার্য মহোদয় তাকে বরখাস্ত করলেন।' বাক্যে 'বরখাস্ত' শব্দটি- উপসর্গযুক্ত। 
• 'বর্' ফারসি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- বরখাস্ত, বরদাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ। 

---------
• উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
উপসর্গ তিন প্রকার। যথা:
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত উপসর্গ,
৩. বিদেশি উপসর্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৭,২২৬.
’নীলপদ্ম’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন
- নীল যে পদ্ম =  নীলপদ্ম।
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- কাঁচা অথচ মিঠা =  কাঁচামিঠা।

• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যথা-
বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার বহুব্রীহি।
এখানে 'বহু' কিংবা 'ব্রীহি' কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে।

• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়। যেমন বিপদকে আপন্ন বিপদাপন্ন।

অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়। যেমন:
- জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় 'আ') = আজানুলম্বিত (বাহু),
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌প্সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৭,২২৭.
কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) পদ্মআঁখি
  2. খ) চন্দ্রমুখ
  3. গ) মনমাঝি
  4. ঘ) কাজলকালো
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাজলকালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাজলকালো
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন -
কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে
শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত
এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়। 

উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ
এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
৭,২২৮.
নিচের কোনটি প্রাতিপদিক?
  1. ক) লাজ
  2. খ) ঘর
  3. গ) বড়
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা

প্রাতিপদিক :
- ‘লাজ’, ‘বড়’, ‘ঘর’- এ শব্দগুলাের সঙ্গে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় নি। বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া- প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৭,২২৯.
নিচের কোনটি দেশি শব্দ নয়?
  1. টোপর
  2. চাউল
  3. ডিঙি
  4. চাকা 
সঠিক উত্তর:
চাকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাকা 
ব্যাখ্যা

• 'চাকা' অর্ধ-তৎসম শব্দ।
- 'চক্র' সংস্কৃত শব্দ থেকে চাকা শব্দের উৎপত্তি।

-----------------
• কিছু দেশি শব্দ:
ঢোল, ডিঙি, টোপর, বাখারি, কয়লা, কামড়, চাউল, ঝোল, ডাহা, ঢিল, পয়লা, ডাঁসা, ডাব, ডাঙর, ঢিল, মাঠ, চাটাই, ঝিনুক, শিকড়, কচি, খড়, পেট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,২৩০.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. মুখচন্দ্র
  2. অসীম
  3. তেলেভাজা
  4. ঘর-বাড়ি
সঠিক উত্তর:
তেলেভাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলেভাজা
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

অলুক তৎপুরুষ:
 কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।

অন্যদিকে:
- 'মুখচন্দ্র' উপমিত কর্মধারয় সমাস।
- 'ঘর-বাড়ি' সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।
- 'অসীম' নঞ বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।
৭,২৩১.
'উপবন' শব্দে 'উপ' উপসর্গটি কোন অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. বিশেষ
  2. সদৃশ
  3. সামীপ্য
  4. ক্ষুদ্র
সঠিক উত্তর:
সদৃশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সদৃশ
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ।
- সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন।
- ক্ষুদ্র অর্থে = উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা।
- বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ।

তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২৩২.
'ভূতপূর্ব' কোন প্রকার তৎপুরুষ সমাস?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  3. অলুক ৬ষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. সপ্তমী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
যেমন -
বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
এখানে দ্বিতীয়া বিভক্তি 'কে' লোপ পেয়েছে বলে এর নাম দ্বিতীয়া তৎপুরুষ।

সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে ) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন -
গাছে পাকা = গাছপাকা,
দিবায় নিদ্রা = দিবানিদ্রা,
সত্যে আগ্রহ (নিষ্ঠা) = সত্যাগ্রহ।

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাসে কোনো কোনো সময় ব্যাসবাক্যে পরপদ সমস্তপদের পূর্বে আসে।
যেমন -
পূর্বে ভূত = ভূতপূর্ব,
পূর্বে অশ্ৰুত = অশ্রুতপূর্ব,
পূর্বে অদৃষ্ট = অদৃষ্টপূর্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৩৩.
বিদেশি ধাতু কোনটি?
  1. টান্
  2. কাট্
  3. গম্
  4. কাঁদ
সঠিক উত্তর:
টান্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টান্
ব্যাখ্যা

বিদেশি ধাতু:
- তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।

যেমন:
- আঁট (শক্ত করে বাঁধা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- খাট্ (মেহনত করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- টান্ (আকর্ষণ) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- ডর্ (ভীত হওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসেনি সেগুলো হলো বাংলা ধাতু।
যেমন - কাট্, কাঁদ, জান্‌, নাচ্ ইত্যাদি।

সংস্কৃত ধাতু:
- বাংলা ভাষায় যেসব তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতু প্রচলিত রয়েছে তাদের সংস্কৃত ধাতু বলে।
যেমন
- কৃ, গম্, ধৃ, গঠ্‌, স্থা, কথ্‌, গঠ্‌, পঠ্‌ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,২৩৪.
ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলে ____সমাস হয়।
  1. ক) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
  2. খ) তৃতীয়া পুরুষ
  3. গ) পঞ্চমী তৎপুরুষ
  4. ঘ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
খ) তৃতীয়া পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তৃতীয়া পুরুষ
ব্যাখ্যা

ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলে তৃতীয়া পুরুষ সমাস হয় ।
যথা:
এক দ্বারা ঊন = একোন,
- জ্ঞান দ্বারা শূন্য = জ্ঞানশূন্য,
- বিদ্যা দ্বারা হীন = বিদ্যাহীন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ [নবম দশম শ্রেণি]

৭,২৩৫.
'প্রতিবেশী' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) প্রতিবেশ+ই
  2. খ) প্রতিবেশ+ইন্
  3. গ) প্রতিবেশ+ঈ
  4. ঘ) প্রতিবেশ+ঈন্
সঠিক উত্তর:
খ) প্রতিবেশ+ইন্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রতিবেশ+ইন্
ব্যাখ্যা
• প্রতিবেশী, 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রতিবেশ+ইন্। 
অর্থ:  নিকটবর্তী স্থানে বসবাসকারী, পড়শি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২৩৬.
‘কর্তা’ শব্দের স্ত্রী লিঙ্গ কি?
  1. কতৃ
  2. কর্ত্রী
  3. কর্তানী
  4. কর্তান
সঠিক উত্তর:
কর্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ত্রী
ব্যাখ্যা
• বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ: 
- যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'ত্রী' হয়।
- যেমন: কর্তা - কর্ত্রী, শ্রোতা - শ্রোত্রী ইত্যাদি।

- পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্‌, বান্‌, মান্‌, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা: সৎ - সতী, মহৎ - মহতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২৩৭.
"দু আনার সমাহার" এটি সমাসের ব্যাসবাক্য?
  1. দ্বিগু
  2. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
  3. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. অলুক দ্বন্দ্ব
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।  দ্বিগু সমাসে সমাস নিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন:
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ, 
- ত্রি (তিন) কালের সমাহার = ত্রিকাল, 
- পঞ্চ ঋষির সমাহার = পঞ্চর্ষি,
- দু আনার সমাহার = দুআনি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,২৩৮.
উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) শশব্যস্ত
  2. খ) কালচক্র
  3. গ) পরাণপাখি
  4. ঘ) বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
ক) শশব্যস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শশব্যস্ত
ব্যাখ্যা
- 'শশব্যস্ত' উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়। 
যেমন -
কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে।
শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৭,২৩৯.
বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস কোনটি?
  1. হাট-বাজার
  2. সুখ-দুঃখ
  3. দা-কুমড়া
  4. জায়া ও পতি
সঠিক উত্তর:
দা-কুমড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দা-কুমড়া
ব্যাখ্যা
• দা-কুমড়া- বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস। 
------------------ 
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন: ক্ষুধা ও পিপাসা - ক্ষুৎপিপাসা।

- বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব : অর্থের দিক থেকে যে দ্বন্দ্ব পরস্পরের মধ্যে বিরােধ তৈরি করে তাকে বলা হয় বিরােধার্থক দ্বন্দ্ব।
যেমন-
ভালােমন্দ, সাদাকালাে, দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক, দেবদানব, ধনীগরিব ইত্যাদি। 

- বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ: ছোট ও বড় - ছোটবড়, সুখ ও দুঃখ - সুখদুঃখ। 

- সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস: হাট ও বাজার - হাটবাজার

- সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব সমাস: জায়া ও পতি- দম্পতি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,২৪০.
‘আকাদামি’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. ফরাসি
  3. ইংরেজি
  4. গ্রিক
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
‘আকাদামি’ গ্রিক ভাষার শব্দ। 

• ‘আকাদামি’ শব্দের অর্থ: 
- এথেন্সের সন্নিকটে স্থাপিত প্লেটোর শিক্ষাদানকেন্দ্র। 
- কোনো বিষয়ে প্রশিক্ষণদানের উদ্দেশ্যে স্থাপিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২৪১.
'দারোগা' শব্দটি যে ভাষা থেকে আগত
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. তুর্কি
  4. পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
- গ্রেফতার,
- দারোগা,
- লুঙ্গি,
- সাদা,
- আসমান,
- কাজি,
- খোয়াব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২৪২.
পদের যে রূপ দ্বারা সংখ্যার ধারণা জন্মে তাকে কী বলে?
  1. কারক
  2. পুরুষ
  3. বচন
  4. বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
বচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বচন
ব্যাখ্যা
 • 'বচন': 
- বচন ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- কেবল বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়।

বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার:
 বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।

• একবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন – সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

• বহুবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন : তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি।
------------------
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'বচন'- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 

• 'বচন' (বিশেষ্য): 
প্রকৃত- প্রত্যয়: বচ্‌ + অন'।
অর্থ: বাক্য, কথা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২৪৩.
কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ -
  1. ঘাটাল
  2. বেতানো
  3. মাতাল
  4. রসালো
সঠিক উত্তর:
মাতাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাতাল
ব্যাখ্যা
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - মাতাল (√মাত্‌ + আল)।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - ঘাটাল (ঘাট + আল)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - বেতানো (বেত + আনো)।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - রসালো (রস + আলো)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,২৪৪.
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. কাঁদ
  2. ধর
  3. পাঠ
  4. চল
সঠিক উত্তর:
পাঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঠ
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:
• অ:
- √কাঁদ্ + অ = কাঁদ,
-√ধর্ + অ = ধর,
-√চল্ + অ = চল,
-√পড়ু + অ = পড়।

• অন> ওন:
-√নাচ্ + অন = নাচন,
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন।
 
অন্যদিকে,
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন- 
অ(অচ্)
√পট্ + অ = পাঠ,
√জি + অ = জয়,
Vকৃ + তব্য = কর্তব্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৭,২৪৫.
নিচের কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. হঠাৎ হঠাৎ
  2. জ্বর জ্বর
  3. টুং-টুং
  4. গরম গরম
সঠিক উত্তর:
টুং-টুং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টুং-টুং
ব্যাখ্যা
 ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

• কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
- কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, ফুসুর ফুসুর, ধুপ ধুপ, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপর, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। এ ধরনের কোনো কোনো ধ্বন্যাত্মক শব্দে প্রথম অংশের পরে আ-এর বিধান ঘটার ফলে আর-এক ধরনের অব্যাহত ব্যাপ্তির অর্থ সূচিত হয়।

যেমন: খপাখপ, টাপুর-টুপুর, হবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

অন্যদিকে,
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।
৭,২৪৬.
‘মেথর’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. উর্দু
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু শব্দ আছে যা বিদেশী ভাষা থেকে এসেছে কিন্তু এখন তা বাংলা ভাষার অন্তর্ভূক্ত।যেমনঃ আরবি, ফারসি, হিন্দি ইত্যাদি।
বাংলা ভাষায় আগত ফারসি শব্দগুলো তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন-
ধর্মসংক্রান্ত শব্দঃ খোদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, পয়গম্বর, ফেরেশতা, বেহেশত, রোজা ইত্যাদি।
প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দঃ কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তোশক, দফতর, দরবার, দোকান, দস্তখত, দৌলত, নালিশ, বাদশাহ, বান্দা, বেগম, মেথর, রসদ ইত্যাদি।
বিবিধ শব্দ: আমদানি, জানোয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাশ, রফতানি, হাঙ্গামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,২৪৭.
নিচের কোনটি বিদেশাগত ধাতু?
  1. বুধ্
  2. শ্রু
  3. খাদ্
  4. ঠেল্
সঠিক উত্তর:
ঠেল্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠেল্
ব্যাখ্যা

• বিদেশাগত ধাতু:
প্রধানত হিন্দি এবং কৃক্বচিৎ আরবি-ফারসি ভাষা থেকে যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বিদেশাগত ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলা হয়। যেমন ভিক্ষে মেগে খায়। এ বাক্যে 'মাগ্‌' ধাতু হিন্দি 'মা' থেকে আগত। এছাড়াও কতগুলো ক্রিয়ামূল রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন। এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে বলা হয় অজ্ঞাতমূল ধাতু। যেমন- 'হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?'এ বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে আগত তা জানা যায় না। তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু।

এখানে কয়েকটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ দেয়া হলো:
আঁট, খাট্, চেঁচ্‌, জম্, ঝুল্, টান, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, বিগড়, ভিজ্, ঠেল্, ডাক্, লটক্।

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্, বুধ্, স্থা, শ্রু, ধৃ, বন্ধ্, ঘৃষ্, ক্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,২৪৮.
'মনগড়া' - কোন সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস 
  4. নিত্য সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
- যথা:
- মন  দিয়ে গড়া = মনগড়া,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- মধু দিয়ে মাখা= মধুমাখা ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭,২৪৯.
‘একাদশ’ কোন ধরনের সংখ্যাবাচক শব্দ?
  1. তারিখ পূরণবাচক
  2. গুণিতক পূরণবাচক
  3. সাধারণ পূরণবাচক
  4. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
সঠিক উত্তর:
সাধারণ পূরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
সাধারণ পূরণবাচক:
- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।

যেমন:
- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি।

- সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়।
যেমন:
- ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,২৫০.
'ইনী' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. মায়াবিনী
  2. গৃহিণী
  3. সুকেশিনী
  4. হরিণী
সঠিক উত্তর:
হরিণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিণী
ব্যাখ্যা
•  ইনী প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ নয় - হরিণী। এটি ঈ- প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ।
এরূপ কিছু শব্দ হলো:
- তরুণ - তরুণী;
- হরিণ - হরিণী;
- নর্তক - নর্তকী;

• ইনী-প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ:
- মায়াবী - মায়াবিনী;
- সুকেশ - সুকেশিনী;
- গৃহী - গৃহিণী।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭,২৫১.
বচনের নিয়মের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়মে সাধিত হয়নি কোন বাক্যটিতে?
  1. ক) মেয়েরা কানাকানি করছে।
  2. খ) সকলে সব জানে না।
  3. গ) রবীন্দ্রনাথরা প্রতিদিন জন্মায় না।
  4. ঘ) মাছ পানিতে বড় হয়।
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাছ পানিতে বড় হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাছ পানিতে বড় হয়।
ব্যাখ্যা
মাছ পানিতে বড় হয় - এ বাক্যে একবচন দিয়ে বহুবচন বুঝানো হয়েছে।
আর বাকি তিনটি বাক্যে কোনো নিয়ম ছাড়াই অর্থাৎ বিশেষ নিয়মে বহুবচন হয়েছে।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৭,২৫২.
নিচের কোনটি নিত্য পুরুষবাচক শব্দ নয়?
  1. কৃতদার
  2. কাপুরুষ
  3. শত্রু
  4. বামন
সঠিক উত্তর:
শত্রু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শত্রু
ব্যাখ্যা

নিত্য পুরুষবাচক শব্দগুলো হলো :
- কবিরাজ
- রাষ্ট্রপতি
- পুরোহিত
- প্রধানমন্ত্রী
- সেনাপতি
- কাপুরুষ
- বামন
- কেরানি
- বিচারপতি
- কাজী
- জল্লাদ
- লম্পট
- ঢাকী
- কৃতদার
- অকৃতদার
- স্ত্রৈণ
- মোল্লা

কিন্তু বন্ধু, শত্রু, মিত্র উভয় লিঙ্গ বুঝায়

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই।

৭,২৫৩.
'আঁতাঁত' কোন ভাষার শব্দ?
  1. তৎসম
  2. স্প্যানিশ
  3. ফারসি
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ফরাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরাসি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'আঁতাঁত' - ফরাসি ভাষার শব্দ।

• 'আঁতাঁত' শব্দের অর্থ: 
- বিভিন্ন দেশ বা গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে অসাধু জোট,
- মৈত্রী।

আরো কিছু ফরাসি শব্দ:
- কার্নিশ, কার্ট্রিজ, কার্পেট, কার্বুরেটর, কুপন, ডিপো, ফসিল, লিস্ট, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২৫৪.
‘সেতার' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বিগু
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন - বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস:

- যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক থাকে, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন: 
- চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ,
- সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৭,২৫৫.
নিত্য স্ত্রী-বাচক শব্দ কোনটি?
  1. চন্দ্রমুখা
  2. সুনয়নী
  3. অরক্ষণীয়া
  4. অভিসারিণী
সঠিক উত্তর:
অরক্ষণীয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরক্ষণীয়া
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রী-বাচক শব্দ - ‘অরক্ষণীয়া’।

• নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দ :
কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই।
যেমন: সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, কুলটা, বিধবা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি

অন্যদিকে,
- ’চন্দ্রমুখ’ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - চন্দ্রমুখী, চন্দ্রমুখা।
- ’সুনয়ন’ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - সুনয়না, সুনয়নী।
- ’অভিসারী’ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ - অভিসারিণী।।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৭,২৫৬.
'বিলাতফেরত' — কোন তৎপুরুষ সমাস?
  1. পদলোপী 
  2. ষষ্ঠী
  3. পঞ্চমী
  4. চতুর্থী 
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী
ব্যাখ্যা

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা
- খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া,
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭,২৫৭.
তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়
  1. ঊর্ণনাভ
  2. পকেটমার
  3. রাজপথ
  4. বিলাতফেরত
সঠিক উত্তর:
ঊর্ণনাভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊর্ণনাভ
ব্যাখ্যা
• 'ঊর্ণনাভ' শব্দটি দিয়ে বুঝায়- মাকড়সা। 
ঊর্ণ নাভিতে যার = ঊর্ণনাভ - ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।

ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনােটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলা হয় ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ,
কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
নদী মাত যার = নদীমাতৃক,
ধর্মে প্রাণ আছে যার = ধর্মপ্রাণ,
ঊর্ণ নাভিতে যার = ঊর্ণনাভ।

অন্যদিকে,
পকেটমার শব্দটি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
রাজপথ = পথের রাজা - ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত - পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,২৫৮.
'খোশমেজাজ' কোন বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. সমানাধিকরণ
  2. ব্যাধিকরণ
  3. মধ্যপদলোপী 
  4. প্রত্যয়ান্ত
সঠিক উত্তর:
সমানাধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমানাধিকরণ
ব্যাখ্যা

• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি:
পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন:
- হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী,
- খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ।

এরকম- হৃতসর্বস্ব, উচ্চশির, পীতাম্বর, নীলকণ্ঠ, জবরদস্তি, সুশীল, সুশ্রী, বদব্য, কমবস্তু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,২৫৯.
'জয়ন্তী' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি
  2. অব্যয়ীভাব
  3. কর্মধারয়
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

জন্মতিথি উপলক্ষে অনুষ্ঠান = জয়ন্তী।
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- যেমন: বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি।
- বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা হায়াত মামুদ।

৭,২৬০.
'প্রাতিপদিক' কোন প্রত্যয়ের প্রকৃতি?
  1. কৃৎ প্রত্যয়ের
  2. তদ্ধিত প্রত্যয়ের
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়ের
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তদ্ধিত প্রত্যয়ের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ধিত প্রত্যয়ের
ব্যাখ্যা
• প্রাতিপদিক:
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলে। 
- যেমন: মুখ, পা, বই ইত্যাদি। 
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া- প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৭,২৬১.
উপসর্গ ও প্রত্যয় কার সাথে যুক্ত হয়ে শব্দ গঠন করে?
  1. পদ
  2. ধাতু
  3. শব্দ
  4. বলক
সঠিক উত্তর:
ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাতু
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি শব্দের মূল অংশকে শব্দমূল বলে।
- শব্দমূলের এক নাম প্রকৃতি। প্রকৃতি দুই ধরনের: নামপ্রকৃতি ও ক্রিয়াপ্রকৃতি।
- ক্রিয়াপ্রকৃতির অন্য নাম ধাতু।
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- নামপ্রকৃতির উদাহরণ: মা, গাছ, শির, লতা ইত্যাদি। ধাতুর উদাহরণ: কর্‌, যা, চল্‌, ধৃ ইত্যাদি।

নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলাের নাম উপসর্গ ও প্রত্যয়। 

উপসর্গ: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে। ‘পরিচালক’ শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।
প্রত্যয়: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে। সাংবাদিক” শব্দের ইক’ অংশ একটি প্রত্যয়।

উপসর্গ ও প্রত্যয় দিয়ে তৈরি শব্দকে সাধিত শব্দ বলা হয়।
- উপসর্গ ও প্রত্যয় ছাড়া শব্দ গঠনের আরাে কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে।
- এর মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলাে সমাস, যার মাধ্যমে একাধিক শব্দ এক শব্দে পরিণত হয়। যেমন হাট’ ও ‘বাজার’ শব্দ দুটি সমাসবদ্ধ হয়ে হয় হাটবাজার।
- এছাড়া কোনাে শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে নতুন শব্দ গঠিত হলে তাকে বলে শব্দদ্বিত্ব, যেমন ‘ঠক’ ও ‘ঠক’ মিলে গঠিত হয় ঠকঠক’, একইভাবে ‘অঙ্ক ও অনুরূপ ধ্বনি ‘টঙ্ক মিলে হয় অঙ্কটঙ্ক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,২৬২.
কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?
  1. ক) গায়ক
  2. খ) সন্দেশ
  3. গ) মহাযাত্রা
  4. ঘ) বাবুয়ানা
সঠিক উত্তর:
গ) মহাযাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মহাযাত্রা
ব্যাখ্যা

• যোগরূঢ় শব্দ সমূহঃ
- পঙ্কজ,
- আদিত্য,
- রাজপুত,
- মহাযাত্রা,
- জলধি,
- জলদ,
- দশানন,
- বহুব্রীহি,
- গোঁফখেজুরে ইত্যাদি।

• রূঢ়ি শব্দ সমূহঃ
- হস্তী,
- গবেষণা,
- বাঁশি,
- তৈল,
- প্রবীণ,
- সন্দেশ,
- হরিণ,
- কুশল,
- পাঞ্জাবি,
- মন্দির,
- ফলাহার,
- কারচুপি,
- রাখাল,
- কদর্য,
- শুশ্রূষা ইত্যাদি শব্দগুলো রূঢ়ি শব্দ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৭,২৬৩.
'সন্দেশ' শব্দের প্রত্যয়গত অর্থ কী?
  1. গবেষণা
  2. মিষ্টান্ন বিশেষ
  3. সংবাদ
  4. বার্তা
সঠিক উত্তর:
সংবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবাদ
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।

যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২৬৪.
'অপহরণ' শব্দের 'অপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত?
  1. স্থানান্তর
  2. অভাব
  3. নিকৃষ্ট
  4. বিকৃত
সঠিক উত্তর:
স্থানান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থানান্তর
ব্যাখ্যা
উপসর্গ: 
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
- নতুন শব্দ তৈরি করা এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন করা উপসর্গের কাজ।

 সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

বিভিন্ন অর্থে 'অপ' উপসর্গের ব্যবহার -
- বিপরীত অর্থে = অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
- নিকৃষ্ট অর্থে = অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে = অপসারণ, অপহরণ, অপনোধন। 
- বিকৃত অর্থে = অপমৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৭,২৬৫.
'দধি' কোন ধরনের শব্দ?
  1. তুর্কি
  2. ফারসি
  3. তৎসম
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম
ব্যাখ্যা
• 'দধি' - তৎসম শব্দ।
- দধি =√দধ্‌+ই।

• দধি হলো - ঈষদুষ্ণ দুধের সঙ্গে এককোষী জীবাণু মিশিয়ে স্থির অবস্থায় রেখে দেয়ার ফলে জমাটবাঁধা থকথকে টক স্বাদ খাদ্য বস্তু , দই। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৭,২৬৬.
কোনটিতে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায়?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে: রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

• সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- বনের সদৃশ = উপবন,
- শহরের সদৃশ = উপশহর।

• সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
- কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি।

• ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- উপনদী,
- উপগ্রহ।

• পশ্চাৎ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হচ্ছে:
- পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন।

অন্যদিকে,
- তৎপুরুষ সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে।
- বহুব্রীহি সমাসে কোন পদেরই প্রাধান্য পায় না।
- কর্মধারয় সমাস পরপদের অর্থ প্রাধান্য থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২৬৭.
নিচের কোন শব্দটিতে 'বৃত্তি' অর্থে ''ই'' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. উমেদারি
  2. মোক্তারি
  3. দোকানি
  4. জমিদারি
সঠিক উত্তর:
মোক্তারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোক্তারি
ব্যাখ্যা
বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে 'ই/ ঈ' প্রত্যয়টি ব্যবহৃত হয়েছে- ''মােক্তার-মােক্তারি'' শব্দে। 
------------------ 
বিভিন্ন অর্থে বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়ের ব্যবহার:

• বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে :
ডাক্তার-ডাক্তারি, মােক্তার-মােক্তারি, পােদ্দার-পােদ্দারি, ব্যাপার- ব্যাপারি, চাষ-চাষি।

• ভাব অর্থে :
বাহাদুর +ই = বাহাদুরি, উমেদার- উমেদারি।
 
• মালিক অর্থে :
জমিদার-জমিদারি, দোকান-দোকানি।
 
• জাত, আগত বা সম্বন্ধ বােঝাতে :
ভাগলপুর-ভাগলপুরি, মাদ্রাজ-মাদ্রাজি, রেশম-রেশমি, সরকার-সরকারি (সম্বন্ধ বাচক)।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২৬৮.
“মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন” এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি কোন অব্যয়?
  1. ক) অনুকার অব্যয়
  2. খ) বিয়োজক অব্যয়
  3. গ) সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. ঘ) সংযোজক অব্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) বিয়োজক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিয়োজক অব্যয়
ব্যাখ্যা
'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন'- এখানে 'কিংবা' বিয়োজক অব্যয়।

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

• বিয়োজক অব্যয়: 
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

• সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২৬৯.
'বার্ষিক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. বর্ষ + ঈক
  2. বর্ষ + ইক
  3. বর্ষা + ইক
  4. বর্ষ + ষ্ণক
সঠিক উত্তর:
বর্ষ + ইক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ষ + ইক
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

অ (ষ্ণ, অণু):
মনু + অ = মানব, 
দনু + অ = দানব, 
মধু + অ = মাধব।

ইক (ষ্ণিক, ঠক্):
অক্ষর + ইক = আক্ষরিক,
ইতিহাস + ইক = ঐতিহাসিক,
বর্ষ + ইক = বার্ষিক

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৭,২৭০.
কোন শব্দটির লিঙ্গান্তর হয় না?  
  1. কর্মচারী 
  2. ঢাকী 
  3. মহকুমা 
  4. সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
ব্যাখ্যা

• লিঙ্গান্তর:
- যেসব শব্দে পুরুষ বা স্ত্রীবাচক কোনো নির্দিষ্টতা থাকে না, বরং পুরুষ ও নারী উভয়কে বোঝায়, অথবা যা জড় পদার্থ বা ধারণা নির্দেশ করে, তাদের লিঙ্গান্তর হয় না।
- এগুলো নিত্য উভয়লিঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়।
- এর মধ্যে রয়েছে এমন পেশা, পদবী, সাধারণ নাম বা জড় বস্তু যা পুরুষ ও নারী উভয়েই বোঝাতে পারে।
- উদাহরণস্বরূপ, কর্মচারী, ঢাকী, মহকুমা- একটি পেশা বা পদ যা নারী ও পুরুষ উভয়ই পালন করতে পারে। 
- প্রথাগত ব্যাকরণে এর কোনো আলাদা স্ত্রীবাচক রূপ নেই, তাই এটি নিত্য উভয়লিঙ্গ শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- লিঙ্গান্তরহীন কিছু নির্দিষ্ট পদবী ও সম্পর্ক নিম্মরুপ, যেমন:
• কবিরাজ, যোদ্ধা,  ডাক্তার, শিক্ষক, পুলিশ, মন্ত্রী, কবি, শিল্পী, বিচারপতি, মহকুমা, শাসক, কর্মচারী, ঢাকী, কৃতদার, অকৃতদার, পুরোহিত, কেরানি, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সরকার, পীর, দরবেশ, মওলানা, সেনাপতি, দলপতি, জ্বীন, জামাতা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, 
• কিছু অপ্রাণীবাচক বা জড় বস্তুবাচক বিশেষ্যও লিঙ্গান্তরহীন,যেমন- 
- দেশ, নদী, পর্বত, সূর্য, চাঁদ, বই, কলম, টেবিল, চেয়ার, আকাশ, বাতাস, জল, খাদ্য, ফল, ফুল, গাছ, বাড়ি, শহর, গ্রাম।
• একইভাবে, অব্যয় (যেমন: আর, ও, এবং, কিন্তু, যদি, তবে, সুতরাং, অতএব, নিচে, উপরে, কাছে, দূরে);
- এবং সর্বনাম (আমি, তুমি, সে, তিনি, যিনি, যে, যা, এরা, ওরা) ও লিঙ্গহীন।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ);
বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,২৭১.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. ভরপেট
  2. উনবর্ষা
  3. বাজার
  4. অকাজ
সঠিক উত্তর:
বাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাজার
ব্যাখ্যা
• বাজার: এটি উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়; কারণ এখানে 'বা' কোনো ধরনের উপসর্গ নয়।

অন্যদিকে,
• উনবর্ষা - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'উন' রয়েছে।
• ভরপেট - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'ভর' রয়েছে।
• অকাজ - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'অ' রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২৭২.
'উপপতি' শব্দে ‘উপ’ উপসর্গ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সদৃশ
  2. মন্দ
  3. ক্ষুদ্র
  4. সামীপ্য
সঠিক উত্তর:
মন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্দ
ব্যাখ্যা
- 'উপপতি' শব্দে 'উপ' উপসর্গটি মন্দ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- এখানে 'উপ' তৎসম উপসর্গের উদাহরণ।
- বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার,

যেমন:
• সামীপ্য অর্থে = উপকূল, উপকণ্ঠ। 
• সদৃশ অর্থে = উপদ্বীপ, উপবন। 
• ক্ষুদ্র অর্থে = উপস্রহ, উপসাগর, উপনেতা। 
• বিশেষ অর্থে = উপনয়ন, উপভোগ।
• মন্দ অর্থে = উপপতি, উপদেবতা, উপজীবী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৭,২৭৩.
'মিশকালো' শব্দটি কোন সমাস?
  1. উপমান কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমান কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
যেমন: 
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- মিশির মত কালো = মিশকালো ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
উপমিত কর্মধারয় সমাস:
- পূর্বপদে উপমেয় পদের সঙ্গে পরপদে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে, উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র,
- চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল।

বহুব্রীহি সমাস:

- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
 যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি,
- স্থির নয় যে = অস্থির,
- অল্প প্রাণ যার = অল্পপ্রাণ ইত্যাদি।

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,২৭৪.
আরবি ভাষার শব্দ নয় কোনটি?
  1. খাসমহল
  2. খাসলত
  3. খাসজমি
  4. খাসদখল
সঠিক উত্তর:
খাসজমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাসজমি
ব্যাখ্যা

• আরবি ভাষার শব্দ নয়- খাসজমি। 
- 'খাসজমি' মিশ্র ভাষার শব্দ।
- এখানে, খাস (আরবি) ও জমি (ফারসি) ভাষার শব্দ। 
অর্থ:
- সরকারের কর্তৃত্বাধীন জমি।

 

আরবি ভাষার কিছু শব্দ:
এলাকা, এলাহি, কয়েদ, কসাই, কসরত, খারাবি, খারাপ, খারিজ, খাসমহল, খাসলত, খালাস, খাসদখল, খাসমহল, খাসলত, তুফান, তকদির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,২৭৫.
'নিন্দক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √নিন্দ্‌ + ইক
  2. √নিন্দ্‌ + অ
  3. √নিন্দ্‌ + অক
  4. √নিন্দ্‌ + ষ্ণক
সঠিক উত্তর:
√নিন্দ্‌ + অক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√নিন্দ্‌ + অক
ব্যাখ্যা
কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে। কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।

যেমন:
- √চড়্‌ + ক = চড়ক,
- √নিন্দ্‌ + অক = নিন্দক,
- √মিশ + উক = মিশুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,২৭৬.
কোনটি সংস্কৃত ধাতু?
  1. আক্
  2. কাদ্
  3. কর্ 
  4. কৃৎ
সঠিক উত্তর:
কৃৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃৎ
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত ধাতু:
- যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন:
- অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন:
- কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,২৭৭.
আধিক্য বোঝাতে বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে হিসেবে ব্যবহার হয়েছে কোনটিতে?
  1. কালো কালো চেহারা
  2. ছোট ছোট ডাল
  3. ভালো ভালো আম
  4. রাশি রাশি ধান
সঠিক উত্তর:
রাশি রাশি ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাশি রাশি ধান
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
১. আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান।
২. সামান্য বোঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর বোধ করছি।
৩. পরস্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ। তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

অন্যদিকে,
বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:
১. আধিক্য বোঝাতে: ভালো ভালো আম নিয়ে এসো। ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
২. তীব্রতা বা সঠিকতা বোঝাতে: গরম গরম জিলাপি, নরম নরম হাত।
৩. সামান্যতা বোঝাতে : উড়ু উডু ভাব; কালো কালো চেহারা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,২৭৮.
‘সত্যি’ কী ধরনের শব্দ?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) অর্ধতৎসম
  3. গ) তদ্ভব
  4. ঘ) দেশি
সঠিক উত্তর:
খ) অর্ধতৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অর্ধতৎসম
ব্যাখ্যা

অর্ধতৎসম বা ভগ্ন সংস্কৃত শব্দ :
সংস্কৃতকে মানদণ্ড ধরে নিয়েই নির্ধারণ করা হয়ে থাকে যে, সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত যেসব শব্দ কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলো অর্ধতৎসম শব্দ। এই শব্দগুলো মানুষের মুখে মুখেই পাল্টেছে এবং এর থেকে এমন ধারণা করাও অসংগত হবে না যে, সাধারণ বাংলা ভাষী জনগণের আসলে সংস্কৃতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব প্রদানের কোনো আগ্রহ ছিল না। তাই তারা তাদের মতো করে সংস্কৃত অনেক শব্দকে সহজ করে নিয়েছে।

অর্ধতৎসম শব্দের কয়েকটি উদাহরণ হলো : জ্যোৎস্না > জোছনা, শ্রাদ্ধ> ছেরাদ্দ, গৃহিণী> গিন্নি, বৈষ্ণব> বোষ্টম, কুৎসিত > কুচ্ছিত, সত্য > সত্যি প্রভৃতি।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৭,২৭৯.
'অন্দরমহল' শব্দের 'মহল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. আরবি 
  2. ফারসি 
  3. উর্দু
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
ফারসি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অন্দরমহল' শব্দের 'মহল' ফারসি ভাষার শব্দ।



• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
- কুলফি, কুস্তি, কোফতা, গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,২৮০.
নিচের সমাসবদ্ধ শব্দ হলাে
  1. ক) উচ্চশাখা
  2. খ) সবেগ
  3. গ) প্রবৃত্তির
  4. ঘ) অনতিদূরে
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনতিদূরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনতিদূরে
ব্যাখ্যা

নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসঃ
না-বাচক নঞ্‌ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পুর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন - অনতিদূর = ন অতিদূর, ন আচার = অনাচার, ন কাতর = অকাতর।
এরূপ,
অনাদর, নাতিদীর্ঘ, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

খাঁটি বাংলায় অ, আ, না কিংবা অনা হয়।
যেমনঃ ন কাল = অকাল বা আকাল।
এরূপ - অকেজো, অজানা, অচেনা, আলুনি, আধোয়া ইত্যাদি। নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাসবদ্ধ শব্দসমূহ।

উৎসঃ বাংলা ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৭,২৮১.
নিচের কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. খেলনা
  2. গন্তব্য
  3. সাহিত্যিক
  4. চিরুনি
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যিক
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়: 
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে।

• তদ্ধিত প্রত্যয়: 
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলােকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
যেমন,
সাহিত্যিক= সাহিত্য + ইক।

• কৃৎপ্রত্যয়: 
ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলােকে কৃৎপ্রত্যয় বলে। 
- কৃপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন,
√ খেল্‌ + অনা = খেলনা।
√ গম্‌ + তব্য + গন্তব্য।
√ চির্‌ + অনি = চিরুনি। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭,২৮২.
নিচের কোনটি পূরণবাচক শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) একাদশ
  2. খ) পাঁচ
  3. গ) পহেলা
  4. ঘ) সিকি
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) একাদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) একাদশ
ব্যাখ্যা
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনাে সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বােঝায়।
যেমন ‘এক সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ‘প্রথম’, ‘প্রথম’, ‘পহেলা' ইত্যাদি। এগুলােকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের হয়:

সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি।
সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়। যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই (৬ই), সাতই (৭ই), আটই (৮ই), নয়ই (৯ই), দশই (১০ই),

ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনাে পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বােঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন - আধ, সাড়ে, পােয়া, সােয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১- সংস্করণ।]
 
৭,২৮৩.
'পদচ্যুত' শব্দটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. পঞ্চমী
  2. তৃতীয়া
  3. চতুর্থী
  4. দ্বিতীয়া
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যেমন:
- খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া,
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত,
- পদ থেকে চ্যুত = পদচ্যুত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,২৮৪.
'বিরানব্বই' কোন সমাস?
  1. নিত্য সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দিগু সমাস
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- অন্য যুগ = যুগান্তর ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৭,২৮৫.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. চোরাই
  2. গিন্নীপনা
  3. ঘরোয়া
  4. ফনিল
সঠিক উত্তর:
ফনিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফনিল
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
ফেন + ইল্ = ফনিল;
সুখ + ইন্ = সুখিন;
নীল + ইমন = নীলিমা।

--------------
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
পাগল + আমি = পাগলামি;
থাল + আ = থালা;
চোর + আই = চোরাই;
বাত + উয়া = বাতুয়া;
ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,২৮৬.
আরবি ও ফারসি সহযোগে কোন মিশ্র শব্দটি গঠিত হয়েছে?
  1. আলিশান
  2. আসমান
  3. জমাদার
  4. চারপায়া
সঠিক উত্তর:
জমাদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জমাদার
ব্যাখ্যা
• আরবি ও ফারসি সহযোগে গঠিত মিশ্রশব্দ- জমাদার।

• জমা (আরবি) + দার (ফারসি) = জমাদার।
- ‘জমাদার’ শব্দের অর্থ: পুলিশ বা সেনাবাহিনীর কর্মচারীবিশেষ; প্রধান যন্ত্রচালক।

---------------------
• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
কুমকুম, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।

অন্যদিকে,
• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
কুলফি, কুস্তি, কোফতা, গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২৮৭.
কোন শব্দটি ফারসি?
  1. এজলাস
  2. নালিশ
  3. খারিজ
  4. কার্তুজ
সঠিক উত্তর:
নালিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নালিশ
ব্যাখ্যা
• 'নালিশ' শব্দটি ফারসি।

কিছু ফারসি শব্দ:
- আসমান,
- কশিদা,
- কয়েদি,
- কাগজ,
- কাজি, 
- কারিগর,
- খোয়াব,
- চশমা,
- চেহারা,
- দরদ,
- দরদি,
- দরবার,
- দারোগা,
- দারোয়ান,
- ফসলি,
- রোজ,
- রোজা,
- রোজগার,
- রোজনামা,
- রোজনামচা,
- লাল,
- লুঙ্গি, 
- সাদা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আরবি শব্দ - এজলাস, খারিজ।
• পর্তুগিজ শব্দ - কার্তুজ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২৮৮.
‘উদ্ধত-শির’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) তৎপুরুষ
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) দ্বন্দ্ব
  4. ঘ) দ্বিগু
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
উদ্ধত-শির = উদ্ধত যে শির। এটি কর্মধারায় সমাসের উদাহরণ। 

উৎস : বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
৭,২৮৯.
'মাতা' এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √মা + তৃচ্
  2. √মা + তি
  3. √মাতৃ + অ
  4. √মাত্‌ + আ
সঠিক উত্তর:
√মা + তৃচ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√মা + তৃচ্
ব্যাখ্যা
• তৃচ-প্রত্যয় ('চ' ইৎ 'তৃ' থাকে):
- প্রথমা একবচনে 'তৃ' স্থলে 'তা' হয়।
যেমন-
- √দা + তৃচ্ = √দা + তা = দাতা
- √মা + তৃচ্ = মাতা,
- √ক্রী + তৃচ = ক্রেতা।
- বিশেষ নিয়মে: √যুধ্‌ + তৃচ = √যুধ্‌ + তা = যোদ্ধা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭,২৯০.
"আনমনা" শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত
  2. খাঁটি বাংলা
  3. ফারসি
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা
ব্যাখ্যা
• ‘আনমনা’ শব্দটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘আন’ যোগে গঠিত শব্দ।
- ‘আন’ উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ:
- 'না' অর্থে - আনকোরা।
- 'বিক্ষিপ্ত অর্থে - আনচান, আনমনা।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২৯১.
'তেজস্বী' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) তেজ+সিৎ
  2. খ) তেজস্‌+সী
  3. গ) তেজস্‌+বিন্‌
  4. ঘ) তেজস্‌+ইন্‌
সঠিক উত্তর:
গ) তেজস্‌+বিন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তেজস্‌+বিন্‌
ব্যাখ্যা
'তেজস্বী' শব্দটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ- 

তেজস্বী (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = তেজস্‌+বিন্‌ 
অর্থ: 
- তেজোময়, দীপ্তিময়
- বিক্রমশালী, পরাক্রান্ত, বলবান। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৭,২৯২.
'গুণবান' কোন প্রকার শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
- যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, কর্তব্য, বাবুয়ানা, চিকামারা, মধুর, শয়ন, গুণবান

অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ:
- প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করলে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, আদিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,২৯৩.
'মুসাফির' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. তুর্কি
  4. দেশি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
• 'মুসাফির' শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ। 

মুসাফির (বিশেষ্য): 
- আরবি শব্দ। 
অর্থ: যে সফর করে, পর্যটক, পথিক। 
------------------------- 
• আরও কিছু আরবি শব্দ:
- ইবাদত,
- ইনসান,
- খারাপ,
- তকদির,
- তুফান,
- মজলুম,
- মুসাফির ইত্যাদি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৭,২৯৪.
'শুক' শব্দটির বিপরীত লিঙ্গ কোনটি?
  1. সাড়ি
  2. সাড়ী
  3. শাড়ী
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'শুক' এর স্ত্রীবাচক শব্দ - শারি

• অনেক সময় আলাদা আলাদা শব্দে পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক বোঝায়,
যেমন,
শুক - শারি, বাবা- মা, সাহেব- বিবি, বাদশা- মেয়ে, ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এগুলোর পুরুষ বাচক শব্দ নেই।
যেমন:
- সতীন
- সৎমা
- এয়ো
- দাই এবং
- সধবা।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২৯৫.
'রাষ্ট্রপতি' শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. তৎসম
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. উর্দু
সঠিক উত্তর:
তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম
ব্যাখ্যা
• 'রাষ্ট্রপতি' শব্দটি 'সংস্কৃত / তৎসম' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

অর্থ:
- রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,২৯৬.
নিচের কোনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ? 
  1. মেঘনাদ 
  2. রথদেখা 
  3. মৌমাছি 
  4. খাসমহল 
সঠিক উত্তর:
রথদেখা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রথদেখা 
ব্যাখ্যা
• রথদেখা = রথকে দেখা; ২য়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

• তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
- তৎপুরুষ সমাস নয় প্রকার: দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, যষ্ঠী, সপ্তমী, নঞ, উপপদ ও অলুক তৎপুরুষ সমাস।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:

- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন বিপদাপন্ন।
- ব্যাপ্তি অর্থেও দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন: চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী চিরসুখী।

এরকম: গা-ঢাকা, রথদেখা, বীজবোনা, ভাতরাঁধা, ছেলে-ভুলানো (ছড়া), নভেল-পড়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মেঘনাদ= মেঘের মত নাদ যার - বহুব্রীহি সমাস।
- মৌমাছি = মৌ সংগ্রহ করে যে মাছি-  কর্মধারয় সমাস।
- খাসমহল = খাস যে মহল- কর্মধারয় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭,২৯৭.
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. ঝিলমিল
  2. টসটস
  3. ঠেকাঠেকি
  4. সুরে সুরে
সঠিক উত্তর:
টসটস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টসটস
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। 
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়। 
যেমন- সাঁ করে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে, সাঁ সাঁ সাঁ করে অসংখ্য তির চারদিকে ছুটে গেল।

অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তৈরি হয়।
যেমন:
- ফোরা টনটন করে,
- গা ছমছম করে।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, টসটস, থকথকে, ভটভট, হিস হিস।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। 
যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

অন্যদিকে,
• ঝিলমিল ও ঠেকাঠেকি অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ।
• ‘সুরে সুরে’ পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,২৯৮.
কোনটি রূঢ় শব্দ?
  1. চিকামারা
  2. মধুর
  3. মহাযাত্রা
  4. হস্তী
সঠিক উত্তর:
হস্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হস্তী
ব্যাখ্যা
• রূঢ় শব্দ - হস্তী

রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ: 
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
এ রকম -
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়। 
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। 
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

অন্যদিকে, 
- যৌগিক শব্দ: চিকামারা, মধুর।
- যোগরূঢ় শব্দ: মহাযাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,২৯৯.
উৎপত্তি অনুসারে বাংলা শব্দ ভাণ্ডার কয় ভাগে বিভক্ত?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
উৎস/উৎপত্তি বিবেচনায় বাংলা শব্দভাণ্ডারকে চারভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা,
- তৎসম,
- তদ্ভব,
- দেশি,
- বিদেশি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

উল্লেখ্য, মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বইয়ের ২০১৯ সংস্করণে উৎস বিবেচনায় শব্দকে ৫ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যা সঠিক নয়।
কেননা, বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে, শব্দের উৎস বিবেচনায় ৪ শ্রেণিতে শব্দ বিভক্ত হিসাবে আলোচনা করা হয়েছে।
৭,৩০০.
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) আমরণ
  2. খ) অন্যায়
  3. গ) অনাসক্ত
  4. ঘ) হাটবাজার
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাটবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাটবাজার
ব্যাখ্যা
হাটবাজার- দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।
সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস- হাট ও বাজার= হাটবাজার। 
 
দ্বন্দ্ব সমাস
যে সমাসে দুই বা ততোধিক পদের মিলন হয় এবং যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
দ্বন্দ্ব সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয় ।

আরো কিছু দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ: 
- মিলনার্থক শব্দযোগে: মা - বাপ
- বিরোধার্থক শব্দযোগে: দা - কুমড়া, অহি - নকুল
- প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে: ধুতি - চাদর ।
- সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস- হাট ও বাজার= হাটবাজার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম - দশম শ্রেণী ( ২০১৯ সংস্করণ)।