বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দ প্রকরণ

মোট প্রশ্ন১০,০৪৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দ প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৭২ / ১০০ · ৭,১০১৭,২০০ / ১০,০৪৫

৭,১০১.
'আবছায়া' কোন উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ-
  1. তৎসম উপসর্গ
  2. বাংলা উপসর্গ
  3. আরবি উপসর্গ
  4. ফারসি উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
বাংলা উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'আবছায়া' বাংলা 'আব' উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে।
- 'আব' উপসর্গযোগে গঠিত কিছু শব্দ:
- আবছায়া, আবডাল।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭,১০২.
'অচিন' - শব্দটি কোন উপর্সগযোগে গঠিত?
  1. ফারসি
  2. বাংলা
  3. আরবি
  4. সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা

বাংলা 'অ' উপসর্গের ব্যবহার:
নিন্দিত অর্থে: অকেজো, অচেনা, অপয়া। 
অভাব অর্থে: অচিন, অজানা, অথৈ। 
ক্রমাগত অর্থে: অঝোর, অঝোরে। 

বাংলা উপসর্গ:
 - বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৭,১০৩.
উপমান কর্মধারয় সমাস নয় কোনটি?
  1. আয়কর
  2. ফুটিফাটা
  3. প্রস্তরকঠিন
  4. গজমূর্খ
সঠিক উত্তর:
আয়কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়কর
ব্যাখ্যা

• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- আয়ের উপর কর = আয়কর।
- মৌ আশ্রিত মাছি = মৌমাছি।
- উর্ণা নির্মিত জাল = উর্ণাজাল।
- জয় সূচক পতাকা = জয়পতাকা।

অন্যদিকে, 
- ফুটির মতো ফাটা = ফুটিফাটা; উপমান কর্মধারয় সমাস। 
- প্রস্তরের ন্যায় কঠিন = প্রস্তরকঠিন; উপমান কর্মধারয় সমাস। 
- গজের ন্যায় মূর্খ = গজমূর্খ; হলো উপমান কর্মধারয় সমাস। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭,১০৪.
নিচের কোনটি সংস্কৃত শব্দ?
  1. গৃহিণী
  2. তোশক
  3. চাহিদা
  4. কসাই
সঠিক উত্তর:
গৃহিণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৃহিণী
ব্যাখ্যা
• 'গৃহিণী'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: গৃহ + ইন্‌ + ঈ।
অর্থ:
- গৃহকর্মী,
- পত্নী।

অন্যদিকে,
• 'কসাই' হচ্ছে আরবি শব্দ।
• 'চাহিদা' বাংলা ভাষার শব্দ।
• 'তোশক' ফারসি শব্দ।
 
আরো কিছু সংস্কৃত শব্দ: জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, কৃষ্ণ, গৃহিণী, চন্দ্র, সূর্য, আকাশ, হস্ত, মস্তক, চক্ষু, নর, নারী, বৃক্ষ, লতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,১০৫.
বিদেশি ধাতু ‘খাট্’ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. ভিন্ন করা
  2. নষ্ট হওয়া
  3. মেহনত করা
  4. সিক্ত হওয়া
সঠিক উত্তর:
মেহনত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেহনত করা
ব্যাখ্যা

বিদেশি ধাতুগুলো যে অর্থে ব্যবহৃত হয় :
ধাতু     -  যে অর্থে ব্যবহৃত হয়
আঁট্  -  শক্ত করে বাঁধা;
ঝুল - দোলা;
খাট্ - মেহনত করা (বাগানের কাজে খাটা);
টান - আকর্ষণ;
লটক্  - ঝুলানো;
চেঁচ  - চিৎকার;
টুট্ - ছিন্ন হওয়া;
ঠেল্  - ঠ্যালা;
ভিজ্  - সিক্ত হওয়া।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৭,১০৬.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) চৌরাস্তা
  2. খ) ঘিভাত
  3. গ) চালাকচতুর
  4. ঘ) টাকমাথা
সঠিক উত্তর:
খ) ঘিভাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঘিভাত
ব্যাখ্যা

যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন
- গোলাপ নামের ফুল।

মধ্যপদলোপী কর্মধারয়ঃ কিছু কর্মধারয় সমাসে সমস্যমান পদের মধ্যবর্তী এক বা একাধিক পদ লোপ পায়। এগুলো মধ্যপদলোপী কর্মধারয় নামে পরিচিত।
যেমন-
- ঘি মাখানো ভাত= ঘিভাত।
- হাতে পরা হয় যে ঘড়ি= হাতঘড়ি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি। 

৭,১০৭.
তৎপুরুষ সমাসে প্রাধান্য থাকেঃ
  1. ক) পূর্বপদের
  2. খ) পরপদের
  3. গ) বিভক্তির
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) পরপদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পরপদের
ব্যাখ্যা
পূর্বপদের বিভক্তি লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোন বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম- দশম শ্রেণির বোর্ড বই।
৭,১০৮.
‘অভিনিবেশ’ শব্দটির অর্থ কি?
  1. নিস্পৃহ
  2. মনোযোগ
  3. বিশেষভাবে
  4. অভিরুচি
সঠিক উত্তর:
মনোযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোযোগ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে, 
'অভিনিবেশ'
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 

 অর্থ- 
- 'মনোযোগ',
- 'একাগ্রতা' 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
৭,১০৯.
নিচের কোনটি তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) হজ্বযাত্রা
  2. খ) বিদ্যাহীন
  3. গ) দেশসেবা
  4. ঘ) প্রাণাধিক
সঠিক উত্তর:
খ) বিদ্যাহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিদ্যাহীন
ব্যাখ্যা
তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
-  পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লােপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।

যেমন-

- বিদ্যা দ্বারা হীন= বিদ্যাহীন,
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত = বস্ত্রাচ্ছাদিত,
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা,
- ইন্দ্রিয় দ্বারা গ্রাহ্য = ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য,
- দৃষ্টি দ্বারা হীন = দৃষ্টিহীন,
- বাগ দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা,
- মন দ্বারা গড়া = মনগড়া,
- শােক দ্বারা আর্ত = শােকার্ত।

এছাড়াও আরও কিছু তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- হজের জন্য যাত্রা = হজ্বযাত্রা, - চতুর্থী তৎপুরুষ।
- দেশের সেবা = দেশসেবা - ষষ্ঠী তৎপুরুষ।
- প্রাণের চেয়ে অধিক = প্রাণাধিক - পঞ্চমী তৎপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,১১০.
'ইন্‌' কৃৎ-প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. জমিদারি
  2. ডাক্তারি
  3. তাঁতি
  4. মন্ত্রী
সঠিক উত্তর:
মন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্ত্রী
ব্যাখ্যা
• 'ইন্‌' কৃৎ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দে ইন্- প্রত্যয় (ইন্ = ঈ-কার হয়) :
যেমন:
- √শ্রম্ + ইন = শ্রমী;
- √দুষ্‌ + ইন = দোষী;
- √মন্ত্র + ইন = মন্ত্রী;
- √যুজ্ + ইন = যোগী।

অন্যদিকে,
• 'ই' বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়: পেশা, বৃত্তি অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- তাঁত + ই = তাঁতি,
- কাগজ + ই = কাগজি, 
- জমিদার + ই = জমিদারি,
- ডাক্তার + ই = ডাক্তারি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৭,১১১.
তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. মিশুক
  2. তেজস্বী
  3. বাঁধনি
  4. নিন্দক
সঠিক উত্তর:
তেজস্বী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেজস্বী
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়।
যথা- 
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- মেধা + বিন = মেধাবী,
- মায়া + বিন = মায়াবী,
- যশঃ + বিন = যশস্বী,
- নীলিমা = নীল = ইমন ,
- গুরু + অ = গৌরব ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন -
→ √বাঁধ + অনি = বাঁধনি।
→ √নিন্দ্‌ + অক = নিন্দক।
→ √মিশ + উক = মিশুক।

উপরের উদাহরণগুলোতে, 'ক', 'অক' এবং 'উক' হলো কৃৎ-প্রত্যয় এবং 'চড়ক',  'নিন্দক' এবং 'পাঠক' হলো কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৭,১১২.
'জ্বর' শব্দের দ্বিরুক্তিতে কোন অর্থ প্রকাশ পায়?
  1. সামান্য
  2. আধিক্য
  3. আতিশয্য
  4. অনুরূপ
সঠিক উত্তর:
সামান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামান্য
ব্যাখ্যা
• 'জ্বর' শব্দের দ্বিরুক্তিতে 'সামান্য' অর্থ প্রকাশ পায়।

• দ্বিরুক্ত শব্দ: 
দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন। বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে,
সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।

• বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি: বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে-

- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, থোকা থোকা জাম। 
- সামান্য বোঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি। 
- পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে : তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ।
- ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়।
- অনুরূপ বোঝাতে : তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই। 
- আগ্রহ বোঝাতে : সে মা মা বলে কাঁদছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯) এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,১১৩.
তদ্ধিতপ্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) ডুবুরী
  2. খ) দীপ্যমান
  3. গ) ভাবুক
  4. ঘ) পার্বত্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) পার্বত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পার্বত্য
ব্যাখ্যা
পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক, মহৎ + ইমন = মহিমা এবং পর্বত + ষ্ণ্য = পার্বত্য ইত্যাদি 'তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে' গঠিত শব্দ।
অন্যদিকে, √ভু + উক = ভাবুক, √দীপ্ + শানচ্ = দীপ্যমান, √ডুব্ + আরি/উরি = ডুবুরী ইত্যাদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,১১৪.
'কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব' এটি কোন সামস?
  1. ব্যতিহার বহুব্রীহি
  2. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  4. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
সঠিক উত্তর:
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৭,১১৫.
‘আনী’ প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. নাপিতানী
  2. ঠাকুরানী
  3. কাঙালিনী
  4. চাকরানী
সঠিক উত্তর:
কাঙালিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঙালিনী
ব্যাখ্যা
• কিছু শব্দ ‘ইনী’ প্রত্যয় যুক্ত করে স্ত্রীবাচক করা হয়। যথা:
- কাঙাল - কাঙালিনী,
- গোয়ালা - গোয়ালিনী,
- বাঘ - বাঘিনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘আনী’ প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
- ঠাকুর - ঠাকুরানী;
- নাপিত - নাপিতানী;
- মেথর - মেথরানী;
- চাকর - চাকরানী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,১১৬.
কোনটি বিদেশি উপসর্গজাত শব্দ?
  1. ক) বিধৃত
  2. খ) উৎকোচ
  3. গ) অপিনিহিত
  4. ঘ) বদমাশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বদমাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বদমাশ
ব্যাখ্যা
'বদমাশ' শব্দের 'বদ' ফারসি উপসর্গ।
- উৎকোচ, বিধৃত, অপিনিহিত শব্দের 'উৎ', 'বি', এবং 'অপি' তৎসম উপসর্গ।

• বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
- বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,১১৭.
‘কুশীলব’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

দ্বন্দ্ব সমাস নিম্নোক্ত কয়েক প্রকার হতে পারে-
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব,
- বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব,
- বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব,
- অঙ্গবাচক দ্বন্দ্ব,
- বহুপদবিশিষ্ট দ্বন্দ্ব,
- সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব,
- সমার্থক দ্বন্দ্ব,
- একশেষ দ্বন্দ্ব,
- অলুক দ্বন্দ্ব,
- নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব।

• নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাস কোনো নিয়ম মানে না তাকে নিপাতনে সিদ্ধ দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন:
• অহঃ ও নিশা - অহর্নিশ।
• অহঃ ও রাত্র - অহোরাত্র।
• দিবা ও রাত্রি - দিবারাত্র।
• কুশ ও লব - কুশীলব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭,১১৮.
‘নিলাজ’ কোন উপসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) বাংলা উপসর্গ
  2. খ) তৎসম উপসর্গ
  3. গ) বিদেশী উপসর্গ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) বাংলা উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাংলা উপসর্গ
ব্যাখ্যা

উপসর্গঃ শব্দ বা ধাতুর পূর্বে কতিপয় সুনির্দিষ্ট অব্যয় জাতীয় শব্দাংশ যুক্ত হয়ে সাধিত শব্দের অর্থের পরিবর্তন,সম্প্রসারণ বা সংকোচন ঘটিয়ে থাকে। এগুলোকে বলা হয় উপসর্গ।
উপসর্গ ৩ প্রকার।
- সংস্কৃত
- বাংলা
- বিদেশী

বাংলা উপসর্গঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, কদ, কু, নি এ রূপ বিশটি (২১) টি উপসর্গ রয়েছে।
বাংলা উপসর্গ বাংলা শব্দ বা ধাতুর পূর্বে বসে।

নি
অর্থদ্যোতকতা - নাই/নেতি
উদাহরণ - নিখুঁত, নিখোঁজ, নিলাজ, নিরেট ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী

৭,১১৯.
'দাঙ্গাবাজ' — কোন ধরনের শব্দ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. মিশ্র
সঠিক উত্তর:
মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'দাঙ্গাবাজ' - হিন্দি 'দাঙ্গা' এবং ফারসি 'বাজ' এর সমন্বয়ে গঠিত। অর্থ্যাৎ, এটি একটি মিশ্র শব্দ।

 

কিছু মিশ্র শব্দ:
• কয়েকটি 'আরবি + ফারসি' ভাষার শব্দ: 
- আদমশুমারি, ওকালতনামা, কেতাদুরস্ত, বরকন্দাজ। 

• কয়েকটি 'ইংরেজি + ফারসি' ভাষার শব্দ:
- হেডমৌলভি, ডাক্তারখানা, ডাক্তারবাবু, সিলমোহর, জেলখানা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,১২০.
নিচের কোনটি 'আরবি' ভাষার শব্দ?
  1. ক) কারখানা
  2. খ) চশমা
  3. গ) নগদ
  4. ঘ) আমদানি
সঠিক উত্তর:
গ) নগদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নগদ
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'নগদ' হচ্ছে আরবি শব্দ।
- অপশনের বাকি শব্দগুলো হলো- ফারসি শব্দ।

• উল্লেখযোগ্য কয়েকটি আরবি শব্দ: 
- আল্লাহ, হারাম, হালাল, হজ, জাকাত, ঈদ, উকিল, কলম, নগদ, বাকি, আদালত ইত্যাদি।
 
উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ফারসি শব্দ: 
- খোদা, দোজখ, নামাজ, রোজা, চশমা, তারিখ, তোশক, দোকান, কারখানা, আমদানি, জানোয়ার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৭,১২১.
`গরমিল‘- এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) মিল ও অমিল
  2. খ) অমিলের সাদৃশ
  3. গ) মিলের অভাব
  4. ঘ) গর ও মিল
সঠিক উত্তর:
গ) মিলের অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিলের অভাব
ব্যাখ্যা
`গরমিল‘- এর সঠিক ব্যাসবাক্য = মিলের অভাব

পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। 

গড়মিল = মিলের অভাব,
আনত = ঈষত নত,
উদ্বেল = বেলাকে অতিক্রান্ত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,১২২.
অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক কোনটি?
  1. সঙ্ঘ
  2. ব্রাত
  3. গুচ্ছ
  4. মহল
সঠিক উত্তর:
গুচ্ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুচ্ছ
ব্যাখ্যা
• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক- গুচ্ছ।
- গুচ্ছ: পুষ্পগুচ্ছ, কেশগুচ্ছ। 

অন্যদিকে,
• প্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচন লগ্নক হচ্ছে-
- সঙ্ঘ: ব্রতিসঙ্ঘ, বিদ্বৎসঙ্ঘ।
- মহল: গুণিমহল, মহিলামহল।
- ব্রাত: মধুকরব্রাত।

---------------------
বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার। যথা:
১. একবচন এবং
২. বহুবচন।

• বহুবচন:
যখন কোনো শব্দ দ্রারা একাধিক ব্যাক্তি, বস্তু বা প্রাণীকে নির্দেশ করে তখন তাকে বহুবচন বলে। সাধারণত কিছু মব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন:
- সব - ভাইসব, পাখিসব।
- সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
- আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
- মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

• 'মানী' পক্ষের বহুবচন করার সময়ে ‘-গণ', ‘-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', ‘-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন:
গণ - সদস্যগণ, সচিবগণ।
বৃন্দ - দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ।
মণ্ডলী- সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

• অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন:
- বাজারে লোক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,১২৩.
"জনগণ" কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের ষষ্ঠী বিভক্তি রে, এর ইত্যাদি) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয়। তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে। ষষ্ঠী বিভক্তির চিহ্ন 'র', 'এর'।
যেমন:
- বটের তলা = বটতলা;
- জনের গণ = জনগণ;
- ছাত্রদের আবাস = ছাত্রাবাস;
- জগতের নিদান = জগৎনিদান;
- জনের পথ = জনপথ;
- ঘোড়ার গাড়ি = ঘোড়গাড়ি;
রান্নার ঘর = রান্নাঘর ইত্যাদি।

এ-রকম: অশ্বডিম্ম, কবিগুরু, কর্মকর্তা, কর্মক্ষেত্র, কর্মাধ্যক্ষ, কার্যক্রম, কার্যনির্বাহক, কালপ্রবাহ, কল্পনাশক্তি, ক্ষতচিহ্ন, খাদ্যপ্রাণ, গঠনপ্রণালি, গৃহকর্তা, গৃহসজ্জা, গ্রন্থাগার। 

অন্যদিকে, 
------------------
• কর্মধারয় সমাস:

যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়। যেমন:
১. দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে। যেমন- যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।
২. দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে। যেমন- যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজসাহেব।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন- 
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, 
- শহরের সদৃশ = উপশহর,
- দিন দিন = প্রতিদিন, 
- পশ্চাৎ গমন = অনুগমন,
- বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ। 

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- হত (হয়েছে) শ্রী যার = হতশ্রী;
- আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ;
- হাতে হাতে যে লড়াই = হাতাহাতি;
- নেই বোধ যার = নির্বোধ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ - সংস্করণ)।
৭,১২৪.
কোনটি আরবি শব্দ নয়?
  1. ইমান
  2. বেহেশত
  3. হালাল
  4. আল্লাহ
সঠিক উত্তর:
বেহেশত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেহেশত
ব্যাখ্যা
• 'বেহেশত' শব্দটি ফারসি ভাষার শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
-  স্বর্গ, জান্নাত।

অন্যদিকে,
আরবি শব্দ - ইমান, হালাল, আল্লাহ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,১২৫.
‘মাদ্রাজি’ শব্দটিতে ‘ই’ প্রত্যয় কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. বৃত্তি বা পেশা
  2. ভাব বা স্বভাব
  3. জাত বা আগত
  4. মালিকানা
সঠিক উত্তর:
জাত বা আগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাত বা আগত
ব্যাখ্যা

ই/ঈ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ:
ক) ভাব অর্থে: বাহাদুর + ই = বাহাদুরি, উমেদার- উমেদারি।
খ) বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে: ডাক্তার-ডাক্তারি, মােক্তার-মােক্তারি, পােদ্দার-পােদ্দারি, ব্যাপার- ব্যাপারি, চাষ-চাষি।
গ) মালিক অর্থে: জমিদার-জমিদারি, দোকান-দোকানি।
ঘ) জাত, আগত বা সম্বন্ধ বােঝাতে: ভাগলপুর-ভাগলপুরি, মাদ্রাজ-মাদ্রাজি, রেশম-রেশমি, সরকার-সরকারি (সম্বন্ধ বাচক)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,১২৬.
কোনটি তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস?
  1. বউভাত
  2. অগ্ন্যুৎপাত 
  3. অল্পপ্রাণ
  4. বিয়েপাগলা
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যুৎপাত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যুৎপাত 
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যথা:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
বহুব্রীহি সমাস - বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত, অল্প প্রাণ যার = অল্পপ্রাণ।
চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস - বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭,১২৭.
উপসর্গযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. ডুবুরি 
  2. গায়ক 
  3. হাভাতে
  4. মিতালি
সঠিক উত্তর:
হাভাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাভাতে
ব্যাখ্যা

• 'হা' বাংলা উপসর্গ যোগে 'অভাব' অর্থে গঠিত শব্দ-  হাপিত্যেশ, হাভাতে, হাঘরে। 

• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে, 
• 'ডুবুরি' সাধিত শব্দ। 
• গায়ক ও মিতালি যৌগিক শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,১২৮.
"তিনি বইয়ের আধ পাতা পড়েই থেমে গেছেন।" - এখানে নিম্নরেখ কোন ধরনের শব্দ?
  1. সাধারণ পূরণবাচক
  2. তারিখ পূরণবাচক
  3. ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ
  4. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
সঠিক উত্তর:
ভগ্নাংশ পূরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভগ্নাংশ পূরণবাচক
ব্যাখ্যা

ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
- কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন-
- আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৭,১২৯.
নিচের কোনটিতে বিশেষ নিয়মে লিঙ্গান্তর ঘটেছে?
  1. কর্তা - কর্ত্রী
  2. মহৎ - মহতী
  3. রাজা - রানী
  4. সৎ - সতী
সঠিক উত্তর:
রাজা - রানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা - রানী
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ:

যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'ত্রী' হয়।
যেমন: কর্তা - কর্ত্রী, শ্রোতা - শ্রোত্রী ইত্যাদি।

পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্‌, বান্‌, মান্‌, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা: সৎ - সতী, মহৎ - মহতী ইত্যাদি।

• কোন কোন পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন:
রাজা - রানী, নর - নারী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,১৩০.
‘গণপ্রজাতন্ত্রী’ কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) তদ্ভব
  3. গ) দেশি
  4. ঘ) বিদেশি
সঠিক উত্তর:
ক) তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তৎসম
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে। যথা:
- পৃথিবী,
- আকাশ,
- গ্রহ,
- বৃক্ষ।

সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা:
- অধ্যাদেশ,
- গণপ্রজাতন্ত্রী,
- মহাপরিচালক,
- সচিবালয় ইত্যাদি।

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০২১]
৭,১৩১.
কোনটি বিদেশি উপসর্গ নয়?
  1. কার
  2. রাম
  3. গর
  4. বর
সঠিক উত্তর:
রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাম
ব্যাখ্যা
বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

অন্যদিকে,
খাঁটি বাংলা উপসর্গ - রাম

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,১৩২.
কোনটি  মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. হাট-বাজার 
  2. ঘর-দুয়ার
  3. জ্বিন-পরি
  4. খাতা-পত্র
সঠিক উত্তর:
জ্বিন-পরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্বিন-পরি
ব্যাখ্যা

মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ- জ্বিন-পরি। 
-----------------------------------------
• দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।
- জায়া ও পতি =  দম্পতি।
----------------------------------------------------
• মিলনার্থক দ্বন্দ্ব:
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন একটি সমাস যেখানে দুটি বা তার বেশি পদ সমান প্রাধান্য নিয়ে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক বা মিল প্রকাশ করে।
- এই সমাসের ব্যাসবাক্যে 'ও', 'এবং', 'আর'-এর মতো সংযোজক অব্যয় থাকে।
- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসে প্রতিটি পদেরই সমান প্রাধান্য থাকে।

- মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ হলো-
 • মা-বাপ (মা ও বাপ),
• চা-বিস্কুট (চা ও বিস্কুট),
জ্বিন-পরি (জ্বিন ও পরি),
• ভাই-বোন (ভাই ও বোন),
• চাল-ডাল (চাল ও ডাল),
• দিন-রাত (দিন ও রাত),
• তাল-তমাল (তাল ও তমাল), 
• ভালো-মন্দ (ভালো ও মন্দ),
• মাতা-পিতা (মাতা ও পিতা)। 
------------------------------------------------ 
অন্যদিকে, 
- হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, খাতা-পত্র - সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।

•  সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:  
- সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস হলো এমন এক ধরনের সমাস যেখানে দুটি একই বা সমান অর্থের শব্দকে ‘ও’ বা ‘এবং’ দিয়ে একসাথে মিলিয়ে লেখা হয়।
- এই সমাসে দুইটি শব্দের গুরুত্ব সমানভাবে থাকে।
- যেমন:
- ‘জন ও মানব’ → জনমানব;
- ‘ধন ও দৌলত’ → ধনদৌলত;
- ‘কাগজ ও পত্র’ → কাগজ-পত্র;
- 'বই ও পুস্তুক'  → বইপুস্তুক; 
- 'কল ও কারখানা' → কল-কারখানা। 

উৎস: 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৭,১৩৩.
কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ধর্ম
  2. গঞ্জ
  3. ঝিনুক
  4. দৌলত
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্ম
ব্যাখ্যা
• 'ধর্ম' তৎসম শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- ঈশ্বর ও উপাসনাপদ্ধতির বিষয়ে মতবাদ। কর্তব্য ও অকর্তব্য সম্বন্ধে জ্ঞান (মানুষের ধর্ম)।

অন্যদিকে,
- আরবি শব্দ - দৌলত।
- দেশি শব্দ - ঝিনুক।
- ফারসি শব্দ - গঞ্জ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,১৩৪.
'আফিম' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. আরবি
  2. ফারসি 
  3. পর্তুগিজ 
  4. উর্দু 
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা

• আফিম [আরবি ভাষার শব্দ]।  
- শব্দটি বিশেষ্য পদ। 
অর্থ:
- পোস্তফলের নির্যাস থেকে উৎপাদিত তিক্তস-বাদ মাদকবিশেষ।




এরূপ আরবি ভাষার কিছু শব্দ হলো- এজলাস, আদালত, কলম, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,১৩৫.
'কেদারায় আসন গ্রহণ করুন।' বাক্যে 'কেদারা' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. সংস্কৃত
  2. পর্তুগিজ
  3. দেশি
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'কেদারা' পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ।

• 'কেদারা' শব্দের অর্থ:
- হেলান দেওয়ার ব্যবস্থা-সহ একজনের বসার উপযোগী উঁচু আসনবিশেষ; চেয়ার।

• কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
ইংরেজ, পাউরুটি, আনারস , আচার, আলকাতরা, আলপিন, চাবি, আলমারি, বেহালা , বালতি, পেয়ারা , ইস্পাত, নিলাম, গরাদ, গামলা, পেরেক, মিস্ত্রি, যিশু, কেদারা, কামরা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৭,১৩৬.
‘মোটাসোটা’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. বিভক্তহীন দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৭,১৩৭.
'প্রিয়ংবদা' শব্দটি কোন সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি
  2. খ) রূপক কর্মধারয়
  3. গ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. ঘ) উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎপ্রত্যয় যুক্ত হয়, সে পদকে উপপদ বলে।
কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: প্রিয়ম্‌ বলে যে (নারী) = প্রিয়ংবদা।
জলে চরে যা= জলচর,
জল দেয় যা= জলদ,
পঙ্কে জন্মে যা= পঙ্কজ ইত্যাদি।

এরূপ- গৃহস্থ, সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পকেটমার, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছারপোকা, ঘরপোড়া, বর্ণচোরা, গলাকাটা, পা-চাটা, পাড়াবেড়ানি, ছা-পোষা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৩৮.
‘পাঞ্জাবী’ কোন ধরনের শব্দ?
  1. রূঢ়ি শব্দ
  2. যৌগরূঢ় শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ
  4. মৌলিক শব্দ
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- যেসব শব্দ প্রত্যয় ও উপসর্গযোগে মূল শব্দের অনুগামি না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।

যেমন:
- বাঁশি, তৈল, সন্দেশ, প্রবীণ, হরিণ, পাঞ্জাবী, হস্তী ইত্যাদি।

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,১৩৯.
তারিখ পূরণবাচক শব্দ কোনটি?
  1. প্রথমা
  2. একত্রিশে
  3. একাদশ
  4. আড়াই
সঠিক উত্তর:
একত্রিশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একত্রিশে
ব্যাখ্যা
• তারিখ পূরণবাচক শব্দ- একত্রিশে।

--------------------------
• পূরণবাচক:
পূরণবাচক সংখ্যা দিয়ে যেকোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ ৩ প্রকার। যথা:
• সাধারণ পূরণবাচক,
• তারিখ পূরণবাচক,
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থান নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি। এদের সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায় যেমন- ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।
- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ(১১শ) ও এগারোতম(১১তম), দ্বাদশ(১২ শ) ও বারোতম(১২তম) ইত্যাদি।
- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক শব্দে শুধু তম প্রত্যয় যোগ করা হয়।
- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচক শব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন - প্রথমা(১মা), দ্বিতীয়া(২য়া), তৃতীয়া(৩য়া), চতুর্থী, একাদশী(১১শী), দ্বাদশী(১২শী) ত্রয়োদশী(১৩শী) ইত্যাদি।

• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,১৪০.
'মেছো' শব্দের প্রকৃতি প্রত্যয় কী?
  1. মাছ + ও
  2. মেছ + ও
  3. মাছি + উয়া > ও
  4. মাছ + উয়া > ও
সঠিক উত্তর:
মাছ + উয়া > ও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাছ + উয়া > ও
ব্যাখ্যা
• ‘মেছো’ শব্দটি উয়া> ও প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিত প্রত্যয়।
- এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় হবে 'মাছ + উয়া > ও

উয়া> ও-প্রত্যয়:
• রোগগ্রস্ত অর্থে : জ্বর + উয়া = জ্বরুয়া> জ্বরো। বাত+উয়া=বাতুয়া> বেতো (ঘোড়া)।
• যুক্ত অর্থে : টাক – টেকো। -
• সেই উপকরণে নির্মিত অর্থে : খড়খড়ো (খড়োঘর)।
• জাত অর্থে : ধান- ধেনো।
• সংশ্লিষ্ট অর্থে : মাঠ-মেঠো, গাঁ-গাঁইয়া> গেঁয়ো ।
• উপজীবিকা অর্থে : মাছ-মাছুয়া> মেছো।
• বিশেষণ গঠনে দাঁত-দেঁতো (হাসি), ছাঁদ-ছেঁদো (কথা), তেল-তেলো> তেলা (মাথা), কুঁজ- কুঁজো (লোক)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
৭,১৪১.
'রাজা-বাদশা’ মিশ্র শব্দটি কোন দুটি শব্দ যোগে গঠিত?
  1. ক) তৎসম + ফারসি
  2. খ) আরবি + ফারসি
  3. গ) বাংলা + আরবি
  4. ঘ) বাংলা + ফারসি
সঠিক উত্তর:
ক) তৎসম + ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তৎসম + ফারসি
ব্যাখ্যা
রাজা-বাদশা = তৎসম ও ফারসি ভাষার মিশ্রণ

কোন কোন সময় দেশী ও বিদেশী শব্দের মিলনে শব্দদ্বৈত সৃষ্টি হয়ে থাকে তাকে মিশ্র শব্দ বলে।
শাকসবজি একটি মিশ্র।

বাংলা ভাষায় রাজা শব্দটি তৎসম(সংস্কৃত) শব্দ থেকে এসেছে এবং বাদশা শব্দটি ফারসি শব্দ থেকে এসেছে।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৭,১৪২.
ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ কোনটি?
  1. দেড়
  2. পোয়া
  3. আধ
  4. দ্বি
সঠিক উত্তর:
দ্বি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বি
ব্যাখ্যা
• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
- একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ। যেমন ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ) ইত্যাদি।

- ক্রমবাচক সংখ্যাবর্ণের সুবিধা হলো এতে ১ থেকে ৯ এবং ০ দিয়ে অসীম সংখ্যার পূর্ব পর্যন্ত ক্রম তৈরি করা যায়।

- ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে। এগুলো কখনো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়, কখনো সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন 'দুই' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'দ্বি', 'দু', এবং 'দো'। 'তিন' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'ত্রি' এবং 'তে'।

অন্যদিকে, 
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন- আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৭,১৪৩.
'বিষাদসিন্ধু' - কোন সমাস সাধিত?
  1. রূপক কর্মধারয়
  2. উপমান কর্মধারয়
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র, 
- প্রাণ রূপ প্রিয় = প্রাণপ্রিয়, 
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু, 
- জ্ঞান রূপ আলোক = জ্ঞানালোক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭,১৪৪.
কৃৎপ্রত্যয় সাধারণত যুক্ত হয়-
  1. ক) ধাতুর পরে
  2. খ) শব্দের পরে
  3. গ) ধাতুর পূর্বে
  4. ঘ) শব্দের পূর্বে
সঠিক উত্তর:
ক) ধাতুর পরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধাতুর পরে
ব্যাখ্যা
• কৃৎপ্রত্যয় যুক্ত হয় ধাতুর পরে।

• শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলােকে প্রত্যয় বলে।
যেমন - বাঘ+আ=বাঘা; দিন+ইক = দৈনিক; দু+অনা = দোলনা; কৃ+তব্য = কর্তব্য।
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলােকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।
উপরের উদাহরণে ‘আ’ ও ‘ইক’ তদ্ধিত প্রত্যয় এবং বাঘা’ ও ‘দৈনিক’ হলাে তদ্ধিতান্ত শব্দ।

• অন্যদিকে, ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলােকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। 
উপরের উদাহরণে, ‘অনা’ ও ‘তব্য হলাে কৃপ্রত্যয় এবং ‘দোলনা' ও কর্তব্য হলাে কৃদন্ত শব্দ।
প্রত্যয়ের নিজস্ব কোনাে অর্থ নেই।
তবে প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পরে অনেক সময়ে শব্দের অর্থ ও শ্রেণিপরিচয় বদলে যায়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,১৪৫.
'অরণ্য - অরণ্যানী' শব্দে নিচের কোন অর্থে 'আনী' প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?
  1. বিশেষ
  2. কঠিন
  3. বৃহৎ
  4. ক্ষুদ্র
সঠিক উত্তর:
বৃহৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃহৎ
ব্যাখ্যা
'আনী' প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দে অর্থের পরিবর্তন ঘটে।
যেমন -
- অরণ্য -- অরণ্যানী (বৃহদার্থে)
- হিম -- হিমানী (জমানো অর্থে)
অন্যদিকে,
- নাটক -- নাটিকা (ক্ষুদ্র অর্থে)
উৎসঃ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০১৯)।
৭,১৪৬.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. মেঘপুঞ্জ
  2. মেঘকুঞ্জ
  3. মেঘগুচ্ছ
  4. মেঘরাশি
সঠিক উত্তর:
মেঘপুঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
• 'পুঞ্জ' (বিশেষ্য) শব্দের অর্থ- স্তূপ; রাশি; জমিয়ে তোলা দ্রব্যের সমাবেশ; সমূহ।

• 'পুঞ্জ' দিয়ে গঠিত শব্দ:
- মেঘপুঞ্জ, প্রাজ্ঞপুঞ্জ।

• মেঘপুঞ্জ বলতে - মেঘ ঘনানো বা মেঘ জমা অর্থ প্রকাশ করে।

• বস্তুবাচক বা অপ্রাণীবাচক শব্দের সঙ্গে ব্যবহৃত আরো কয়েকটি বহুবচন বোধক শব্দ:
- আবলি- পুস্তকাবলি
- গুচ্ছ- কবিতাগুচ্ছ।
- দাম- কুসুমদাম।
- নিকর- কমলনিকর।
- পুঞ্জ- মেঘপুঞ্জ। 
- মালা- পর্বতমালা।
- রাজি- তারকারাজি।
- রাশি- বালিরাশি।
- নিচয়- কুসুমনিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৭,১৪৭.
পশ্চাৎ অর্থে তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অনুচর
  2. আবডাল
  3. অবগত
  4. অধিপতি
সঠিক উত্তর:
অনুচর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচর
ব্যাখ্যা
• পশ্চাৎ অর্থে ‘অনু’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অনুচর।

অন্যদিকে,
• সাম্যক অর্থে ‘অব’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অবগত।
• অস্পষ্টতা বোঝাতে ‘আব’ খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - আবডাল।
• অধিপত্য অর্থে ‘অধি’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অধিপতি।

-------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,১৪৮.
অর্থগত দিক থেকে 'আদিত্য' কী শব্দ?
  1. যোগরূঢ় শব্দ
  2. রূঢ় শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:

পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিত পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু ‘পঙ্কজ’ শব্দটি একমাত্র ‘পদ্মফুল’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
রাজপুত: ‘রাজার পুত্র’ অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে ‘জাতিবিশেষ’।
মহাযাত্রা: ‘মহাসমারোহে যাত্রা’ অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ ‘মৃত্যু’।
জলধি: ‘জল ধারণ করে এমন’ অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র ‘সমুদ্র’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
আদিত্য: অদিতির পুত্র বা সব দেবতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৪৯.
নিচের কোনটি 'গরীয়ান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ হবে?
  1. গরীয়সী
  2. গরিয়ানী
  3. গরিয়াসী
  4. গরীয়াসী
সঠিক উত্তর:
গরীয়সী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরীয়সী
ব্যাখ্যা

• 'গরীয়ান' শব্দটির স্ত্রীবাচক শব্দ- 'গরীয়সী'।

উল্লেখ্য, 
শুদ্ধ বানান হবে- 'গরীয়সী'। 

-----------------------
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'গরীয়ান' - এর অর্থ মর্যাদাপূর্ণ, মহান, গুরুতর, বৃহত্তর, বিত্তশালী, মহার্ঘ।
- এর স্ত্রী লিঙ্গ- গরীয়সী।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,১৫০.
নিচের কোনটি আরবি শব্দ নয়?
  1. তারিখ
  2. পয়গম্বর
  3. হারাম
  4. দাওয়াত
সঠিক উত্তর:
পয়গম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পয়গম্বর
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
’পয়গম্বর’ ফারসি শব্দ।
অর্থ:
আল্লাহর প্রেরিত দূত, বাণী বা বার্তাবাহক, নবি, রসুল।

অন্যদিকে,
• তারিখ, হারাম, দাওয়াত  আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,১৫১.
নিচের কোনটি প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ক) পেত্নী
  2. খ) বাদী
  3. গ) সভানেত্রী
  4. ঘ) জেলেনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) জেলেনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জেলেনী
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় যােগে নরবাচক শব্দ থেকে নারীবাচক শব্দগঠন।

- নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যােগ করতে হয়।
- এ রকম কয়েকটি প্রত্যয়ের প্রয়ােগ দেখানাে হলাে:
- আ প্রত্যয়: বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রিয়-প্রিয়া, কনিষ্ঠ-কনিষ্ঠা।
- ই প্রত্যয়: দাদা-দাদি, জেঠা-জেঠি, পাগল-পাগলি।
- ইনি প্রত্যয়: কাঙাল-কাঙালিনি, বাঘ-বাঘিনি।
- ইনী প্রত্যয়: বিজয়ী-বিজয়িনী, যােগী-যােগিনী, তেজস্বী-তেজদ্বিনী।
- ঈ প্রত্যয়: কিশাের-কিশােরী, নর-নারী, সুন্দর-সুন্দরী।
- নি প্রত্যয়: জেলে-জেলেনি, বেদে-বেদেনি, ধােপ-ধােপানি।
- বতী প্রত্যয়: গুণবান-গুণবতী, পুণ্যবান-পুণ্যবতী।
- মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, শ্রীমান-শ্রীমতী।
এছাড়া ‘-অক' প্রত্যয় দিয়ে গঠিত নরবাচক শব্দকে নারীবাচক করার সময়ে অক’-এর জায়গায় ‘ইকা হয়। যেমন - পাঠক-পাঠিকা, লেখক-লেখিকা, গায়ক-গায়িকা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,১৫২.
কোনটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ নয়?
  1. কম
  2. ভর
  3. আড়
  4. ইতি
সঠিক উত্তর:
কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম
ব্যাখ্যা
খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
- 'কম' ফারসি উপসর্গ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,১৫৩.
'নীলিমা' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. নীল + ইমা 
  2. নীল + ইমন
  3. নীল + ঈমা
  4. নীল + ইমন্
সঠিক উত্তর:
নীল + ইমন্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল + ইমন্
ব্যাখ্যা

• এ ধরনের প্রশ্নের ক্ষেত্রে নিজস্ব বিবেচনায় উত্তর করবেন।
- জব সল্যুশনের প্রশ্ন বিধায় আমরা অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তরটি গ্রহণ করেছি।
- যেহেতু ইমন্‌ প্রত্যয় হসযুক্ত তাই ঘ নং উত্তর অধিক গ্রহণযোগ্য।

'নীলিমা' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় =  নীল + ইমন্‌।

• তদ্ধিত প্রত্যয়: 
শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য , - এখানে 'ষ্ণ' প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ তৈরি হয়েছে। 

সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিতপ্রত্যয়যুগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। 
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য

• ইমন্-প্রত্যয়:
- নীল + ইমন্‌ = নীলিমা।
- মহৎ + ইমন্‌ = মহিমা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭,১৫৪.
'দ্রবণ' - এর প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √দ্র + ওন
  2. খ) √দ্রু + অন
  3. গ) √দ্র + অন
  4. ঘ) √ দ্রু + ওন
সঠিক উত্তর:
খ) √দ্রু + অন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) √দ্রু + অন
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
দ্রবণ (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
প্রকৃতি- প্রত্যয়: √দ্রু + অন।
অর্থ:
- গলন,
- ক্ষরণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,১৫৫.
দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে হয়-
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বিগু সমাস
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস:
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন-
• নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
• শান্ত অথচ শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
• কাঁচা অথচ মিঠা = কাঁচামিঠা।

কর্মধারয় সমাস কয়েক প্রকারে সাধিত হয়।
যেমন:
১. দুটি বিশেষণ পদে একটি বিশেষ্যকে বোঝালে।
যেমন- যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর।

২. দুটি বিশেষ্য পদে একই ব্যক্তিকে বোঝালে।
যেমন – যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজ সাহেব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,১৫৬.
'চোখা' শব্দের সাথে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হলে যে অর্থ প্রকাশ পায় -
  1. অবজ্ঞা
  2. জাত
  3. সদৃশ
  4. স্বার্থ
সঠিক উত্তর:
স্বার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বার্থ
ব্যাখ্যা
• 'চোখা' শব্দের সাথে 'আ' প্রত্যয় যুক্ত হলে যে অর্থ প্রকাশ পায় - স্বার্থ

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

আ-প্রত্যয়:
(ক) অবজ্ঞার্থে: চোর + আ = চোরা, কেষ্ট + আ = কেষ্টা।
(খ) বৃহদার্থে: ডিঙি + আ = ডিঙা (সপ্তডিঙা মধুকর)।
(গ) সদৃশ অর্থে: বাঘ + আ = বাঘা, হাত + আ = হাতা।
এরূপ - কাল-কালা (চিকন কালা), কান-কানা।
(ঘ) 'তাতে আছে' বা 'তার আছে' অর্থে: জল + আ = জলা, গোদ + আ = গোদা।
এরূপ - রোগ-রোগা, চাল- চালা, লুন-লুনা > লোনা।
(ঙ) সমষ্টি অর্থে: বিশ-বিশা, বাইশ + আ = বাইশা (মাসের বাইশা > বাইশে।
(চ) স্বার্থে: জট + আ = জটা, চোখ-চোখা, চাক-চাকা।
(ছ) ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে: হাজির-হাজিরা, চাষ-চাষা।
(জ) জাত ও আগত অর্থে: মহিষ > ভইস-ভয়সা (ঘি), দখিন-দখিনা > দখনে (হাওয়া)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,১৫৭.
'রাশি' শব্দযোগে গঠিত সঠিক বহুবচন শব্দ কোনটি?
  1. বৃক্ষরাশি
  2. কদমরাশি
  3. বালিরাশি
  4. কুসুমরাশি
সঠিক উত্তর:
বালিরাশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বালিরাশি
ব্যাখ্যা

• 'বালি' এর সাথে 'রাশি' বহুবচন বাচক শব্দ বেশি মানানসই এবং শুদ্ধ।

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:
- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি।
- যেমন-গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, জলরাশি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
- বাকি অপশনের সঠিক বহুবচন হলো:
- কুসুমনিচয় বা কুসুমদাম, 
- বৃক্ষরাজি বা বৃক্ষসমূহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭,১৫৮.
অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ - 
  1. অনুক্ষণ
  2. অনন্ত
  3. অন্তরীপ
  4. প্রগতি
সঠিক উত্তর:
অনুক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুক্ষণ
ব্যাখ্যা

অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।

যেমন:
বিপ্‌প্সা (অনু, প্রতি):
- দিন দিন = প্রতিদিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ

অন্যদিকে,
- নঞ বহুব্রীহি সমাস - অনন্ত।
- নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস - অন্তরীপ।
- প্রাদি সমাস - প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭,১৫৯.
'দরদ’ ও 'দরদি' কোন ভাষার শব্দ?
  1. প্রথমটি আরবি, দ্বিতীয়টি ফারসি
  2. প্রথমটি ফারসি, দ্বিতীয়টি আরবি
  3. দুটোই আরবি
  4. দুটোই ফারসি
সঠিক উত্তর:
দুটোই ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটোই ফারসি
ব্যাখ্যা
• 'দরদ’ ও 'দরদি' দুটোই ফারসি ভাষার শব্দ।

কিছু ফারসি শব্দ:
- আসমান,
- কশিদা,
- কয়েদি,
- কাগজ,
- কাজি, 
- কারিগর,
- খোয়াব,
- চশমা,
- চেহারা,
- দরবার,
- দারোগা,
- দারোয়ান,
- ফসলি,
- রোজ,
- রোজা,
- রোজগার,
- রোজনামা,
- রোজনামচা,
- লাল,
- লুঙ্গি, 
- সাদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,১৬০.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. চিকামারা
  2. দৌহিত্র
  3. অতিথি
  4. মহাযাত্রা
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অতিথি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিথি
ব্যাখ্যা
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ: 
যে সব শব্দ গঠনের উপাদান অর্থাৎ প্রকৃতি-প্রত্যয় অনুসারে অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে। 
যেমন:
- 'সন্দেশ' শব্দটির প্রকৃতি- প্রত্যয় (সম্‌+দেশ) অনুসারে অর্থ হলো সংবাদ। কিন্তু সন্দেশ বলতে আমরা বুঝি এক ধরনের মিষ্টি।
আবার,
যেমন- গবেষণা (গো+ এষণা)  অর্থ- গরু খোজা; গভীরতম অর্থ- ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
'অতিথি' - অত্‌ + ইতি (ব্যুৎপত্তিগত অর্থ - যার তিথি নেই) কিন্তু ব্যবহারগত অর্থ- মেহমান।

এরূপ- বাঁশি, তৈল, প্রবীণ ইত্যাদি৷

অন্য অপশনে,
চিকামারা = চিকা + মারা - যৌগিক শব্দ।
• দৌহিত্র = দুহিতা+ ষ্ণ - যৌগিক শব্দ।
• মহাযাত্রা - - মহাযাত্রা ( মহাসমারোহে যাত্রা); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- 'মৃত্যু' - যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৬১.
'কর্তব্য' কী ধরনের শব্দ?
  1. রূঢ়ি শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
ব্যাখ্যা

শব্দ:
- শব্দকে অর্থগতভাবে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
১. যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন: 
- গায়ক,
- দৌহিত্র,
- কর্তব্য,
- বাবুয়ানা,
- চিকামারা,
- মধুর,
- শয়ন,
- গুণবান।

২. রূঢ়ি শব্দ:
- প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করলে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন: 
- হস্তী,
- বাঁশি,
- তৈল,
- প্রবীণ,
- সন্দেশ।

৩. যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।যেমন:
- পঙ্কজ,
- রাজপুত,
- মহাযাত্রা,
- জলধি,
- আদিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,১৬২.
শব্দার্থ অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দ সমষ্টিকে ভাগ করা যায়-
  1. ক) দুই ভাগে
  2. খ) তিন ভাগে
  3. গ) চার ভাগে
  4. ঘ) পাঁচ ভাগে
সঠিক উত্তর:
খ) তিন ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিন ভাগে
ব্যাখ্যা

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,১৬৩.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. মায়াবী
  2. নীলিমা
  3. মেধাবী
  4. কারিগর
সঠিক উত্তর:
কারিগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারিগর
ব্যাখ্যা

• কারিগর শব্দের গর (গর > কর) ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
• এরূপ কিছু শব্দ- বাজিকর, সওদাগর ইত্যাদি।
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়ঃ
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- মেধা + বিন = মেধাবী
- মায়া + বিন = মায়াবী
- যশঃ + বিন = যশস্বী ইত্যাদি।
- নীলিমা = নীল + ইমন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,১৬৪.
কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. সম
  2. অতি
  3. অভি
  4. আব
সঠিক উত্তর:
আব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,১৬৫.
'বরখেলাপ' শব্দটিতে কোন ধরনের উপসর্গ রয়েছে?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. তৎসম
  4. খাঁটি বাংলা
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
• 'বরখেলাপ' শব্দের — 'বর' ফারসি উপসর্গ।
- ফারসি উপসর্গ 'বর' মন্দ অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
যেমন:
বরখাস্ত, বরদাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ ইত্যাদি।
------------------------ 
উপসর্গ ৩ প্রকার।
যথা-
বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা: 
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ। 

• বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
---------------------
কিছু ফারসি উপসর্গের উদাহরণ- 
ফি - প্রত্যেক অর্থে= ফি-বছর, ফি-হপ্তা, ফি-রোজ, ফি-সব।
না - না অর্থে = নামঞ্জুর, নারাজ, নাচার।
কম - কম অর্থে = কমবখত, কমআক্কেল, কমজোর।
ব - সাথে অর্থে = বকলম, বনাম, বমাল। 
নিম - অর্ধেক অর্থে = নিমরাজি, নিমমোল্লা। 
দর - অধীন অর্থে = দরপাট্টা, দরখাস্ত, দরপাওনা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,১৬৬.
কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) আনারস
  2. খ) চেয়ার
  3. গ) হস্ত
  4. ঘ) টেবিল
সঠিক উত্তর:
গ) হস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হস্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে, 
তৎসম শব্দ- হস্ত। 
হস্ত শব্দের অর্থ: বাহু; ভুজ।

তৎসম শব্দ:
যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলা ভাষায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে সেসব শব্দকে তৎসম শব্দ বলা হয়।
'তৎসম একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ - তৎ (তার) + সম (সমান) = তার সমান অর্থ্যাৎ, সংস্কৃতের সমান।

তৎসম শব্দের উদাহরণ: 
- হস্ত 
- চন্দ্র,
- সূর্য,
- নক্ষত্র,
- ভবন,
- ধর্ম,
- পাত্র,
- মনুষ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,১৬৭.
'বঁধু' শব্দটি কোন লিঙ্গের উদাহরণ?
  1. নিত্য স্ত্রী লিঙ্গ
  2. উভয় লিঙ্গ
  3. স্ত্রীলিঙ্গ
  4. পুংলিঙ্গ
সঠিক উত্তর:
উভয় লিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভয় লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'বঁধু' শব্দের অর্থ: বন্ধু।
- এটি উভয় লিঙ্গ।

উল্লেখ্য,
বঁধু এবং বধূ বানানগত দিক থেকে দুটোই ঠিক। আর বধূ অর্থ বউ।
------------------
• লিঙ্গ:
লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ। তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, স্ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে। 
লিঙ্গ চার প্রকার। যথা :
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন: বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন: মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: মানুষ, গরু, শিশু, সন্তান, বাঙালি।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন: বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- অষ্টম শ্রেণি।
৭,১৬৮.
'দর্শনীয়' শব্দটির প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি
  1. √ দৃশ্ + নীয়
  2. √ দর্শন + ইয়
  3. √ দৃশ্ + অনীয়
  4. √ দৃশ্য + অনীয়
সঠিক উত্তর:
√ দৃশ্ + অনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ দৃশ্ + অনীয়
ব্যাখ্যা
• 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √ দৃশ্ + অনীয়।
-  প্রকৃতি (√ দৃশ্) এবং প্রত্যয় (অনীয়)।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:  
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √ নন্দি+অন। 
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √ দৃশ্ + অনীয়।
- 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = দাপ + অট। 
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।  
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়  : √দৃশ্‌ + অনীয়'। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৬৯.
সাধিত শব্দ তৈরির প্রক্রিয়া নয় কোনটি?
  1. ক) সন্ধি
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) প্রত্যয়
  4. ঘ) সমাস
সঠিক উত্তর:
ক) সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সন্ধি
ব্যাখ্যা
গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত – এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

⇒ মৌলিক শব্দ :
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনাে অংশ থাকে না, সেগুলােকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন – গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

⇒ সাধিত শব্দ :
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।

উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন – পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।

শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে।
যেমন – ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,১৭০.
'অবুঝ' কোন সমাস?
  1. দ্বিগু সমাস
  2. অব্যয়ীভাব সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• 'অবুঝ' - অ(নেই) বুঝ যার - নঞ্‌ বহুব্রীহি।

• নঞ্‌ বহুব্রীহি:

- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ্জ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি বলে।
- নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।
যেমন:
- ন (নাই) জ্ঞান যার - অজ্ঞান,
- বে (নাই) হেড যার - বেহেড,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার - নাচার।
- নি (নাই) ভুল যার - নির্ভুল,
- না (নয়) জানা যা - নাজানা, অজানা ইত্যাদি।
এরকম-নাহক, নিরুপায়, নির্ঝঞ্ঝাট, অবুঝ, অকেজো, বে-পরোয়া, বেহুঁশ, অনন্ত, বেতার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭,১৭১.
'বন্ধন' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √বন্‌ + অন
  2. খ) √বন্ধ্‌ + ন
  3. গ) √বন্‌ + ধন্‌
  4. ঘ) √বন্ধ্‌+অন
সঠিক উত্তর:
ঘ) √বন্ধ্‌+অন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) √বন্ধ্‌+অন
ব্যাখ্যা
বন্ধন (বিশেষ্য) 
 {(তৎসম বা সংস্কৃত) √বন্ধ্‌+অন(ল্যুট্‌)}
অর্থ:
- বাঁধন
- অবরোধ; আটক; কয়েদ
- আবেষ্টন; বদ্ধভাব (বেণী-বন্ধন)
-  নির্মাণ; গ্রন্থন (সেতু-বন্ধন)
-  নিয়ন্ত্রণ; সংযম; নিরোধ

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান 
৭,১৭২.
"আড়ক্ষ্যাপ্যা" শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. ফারসি
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা
• "আড়" একটি বাংলা উপসর্গ।
- "আড়" উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ:
- আড়চোখে, আড়নয়নে, আড়পাগলা, আড়ক্ষ্যাপ্যা, আড়কোলা, আড়গড়া।

বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

আরবি উপসর্গ:
- আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।

ফারসি উপসর্গ: 
- কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৭,১৭৩.
কোনটি 'আ' প্রত্যয় যোগে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ক) গায়িকা
  2. খ) নায়িকা
  3. গ) প্রথমা
  4. ঘ) বালিকা
সঠিক উত্তর:
গ) প্রথমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রথমা
ব্যাখ্যা
'আ' প্রত্যয় যোগে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ - 
প্রথম - প্রথমা

'ইকা' প্রত্যয় যোগে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ -
গায়ক - গায়িকা
নায়ক - নায়িকা
বালক - বালিকা

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,১৭৪.
”পঙ্কজ” কোন প্রকার সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমান কর্মধারয় 
  2. উপপদ তৎপুরুষ
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. যষ্ঠী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা

• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে  = জলদ,
- পক্ষে জন্মে যা = পঙ্কজ।
এরূপ-গৃহস্থ, সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পকেটমার, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছারপোকা, ঘরপোড়া, বর্ণচোরা, গলাকাটা, পা-চাটা, পাড়াবেড়ানি, ছা-পোষা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

৭,১৭৫.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ক) √স্ব্প্ + ত = সুপ্ত
  2. খ) √রুজ্ + ত = রুগ্‌ণ
  3. গ) √মস্‌জ্‌ + ত(ক্ত) = মগ্ন
  4. ঘ) √দুহ্ + ত = দুগ্ধ
সঠিক উত্তর:
ক) √স্ব্প্ + ত = সুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) √স্ব্প্ + ত = সুপ্ত
ব্যাখ্যা
-√স্বপ্ + ত = সুপ্ত
-√রুজ্ + ত = রুগ্‌ণ
-√মস্‌জ্‌ + ত(ক্ত) = মগ্ন
-√দুহ্ + ত = দুগ্ধ
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৭,১৭৬.
‘ধার্য” শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √ধৃ+য্য
  2. খ) √ধৃ+য
  3. গ) √ধার+য
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
‘ধার্য' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়: '√ ধারি + য'।  

• ‘ধার্য'- সংস্কৃত শব্দ।
যার অর্থ- ধারণযোগ্য; ধারণীয়। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৭,১৭৭.
'আগ্নেয়' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. অগ্নে + ইয়
  2. অগ্নি + এয়
  3. অগ্নে + এয়
  4. অগ্নি + ঈয়
সঠিক উত্তর:
অগ্নি + এয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নি + এয়
ব্যাখ্যা
• এয় (ষ্ণেয়)- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়: জাত বা উৎপন্ন এবং পরায়ণ অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
• ভগিনী + এয় = ভাগিনেয়,
• অগ্নি + এয় = আগ্নেয়,
• গঙ্গা + এয় = গাঙ্গেয়,
• রাধা + এয় = রাধেয়;
• অতিথি + এয় = আতিথেয় ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,১৭৮.
নিচের কোন শব্দটি সমাসের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) আমরা
  2. খ) হিমাচল
  3. গ) বেদখল
  4. ঘ) ঘড়ামি
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) আমরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আমরা
ব্যাখ্যা
আমরা - আমি, তুমি ও সে। বাংলায় ‘আমরা’কে একশেষ দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭,১৭৯.
”কমলাক্ষ” কোন প্রকার সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. দ্বিগু 
  3. কর্মধারয় 
  4. বহুব্রীহি 
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুব্রীহি 
ব্যাখ্যা

• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে কোন নতুন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

- বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদে 'অক্ষি' শব্দের স্থলে 'অক্ষ' এবং 'নাভি' শব্দ স্থলে 'নাভ' হয়।
যেমন:
- কমলের ন্যায় অক্ষি যার = কমলাক্ষ,
- পদ্ম নাভিতে যার পদ্মনাভ।

এরূপ- উর্ণনাভ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষা ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সালে সংস্করণ)।

৭,১৮০.
'মায়াবী' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. মায়া + বিনি
  2. মায়া + বিন
  3. মায়া + বি
  4. মায়া + ষ্ণিক
সঠিক উত্তর:
মায়া + বিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়া + বিন
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়।

যথা:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- মেধা + বিন = মেধাবী,
- মায়া + বিন = মায়াবী,
- নীলিমা + নীল = ইমন,
- গুরু + অ = গৌরব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,১৮১.
কোনটি পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ নয়?
  1. বারো
  2. বারোতম
  3. বারোই
  4. দ্বাদশ
সঠিক উত্তর:
বারো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বারো
ব্যাখ্যা
• সংখ্যাবাচক শব্দ:
- যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে।
- দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, আয়তন, খণ্ড, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যাপক ব্যবহার হয়।
- সংখ্যাশব্দ দুই রকমের: ক্রমবাচক ও পূরণবাচক।
 ক্রমবাচক: এক, দুই, তিন।
পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়।

• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
যেমন - ‘এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ‘প্রথম', ‘প্রথমা’, ‘পহেলা' ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের হয়:
১. সাধারণ পূরণবাচক: একাদশ ও এগারোতম, দ্বাদশবারোতম
২. তারিখ পূরণবাচক: এগারোই, বারোই
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আড়াই, তেহাই।

অন্যদিকে,
ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ - বারো

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,১৮২.
'মদ্যপ' কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাস?
  1. উপপদ তৎপুরুষ
  2. অলুক তৎপুরুষ
  3. সপ্তমী তৎপুরুষ
  4. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- মদ পান করে যে = মদ্যপ, 
- পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
- যাদু করে যে = যাদুকর,
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
- ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা,
- মধু পান করে = মধুপ ইত্যাদি।

এছাড়া রয়েছে-
বর্ণচোরা, গলাকাটা, পা-চাটা, পাড়াবেড়ানী, ছা-পোষা, হাড়ভাঙা, ঘরপোড়া, মাছিমারা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,১৮৩.
কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
  2. ছাত্ররা বাংলা পড়ছে।
  3. শিক্ষক ছাত্রদের পড়াচ্ছেন।
  4. তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না
সঠিক উত্তর:
তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না
ব্যাখ্যা

• ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন:
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য - ছাত্ররা বাংলা পড়ছে। শিক্ষক ছাত্রদের পড়াচ্ছেন।
কর্মবাচ্য - চোরটা ধরা পড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭,১৮৪.
'চা-বিস্কুট' এটি কোন দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. মিলনার্থক
  2. বিরোধার্থক
  3. বিপরীতার্থক
  4. সমার্থক
সঠিক উত্তর:
মিলনার্থক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিলনার্থক
ব্যাখ্যা

দ্বন্দ্ব সমাস সাধিত হয় নিম্নোক্ত কয়েক উপায়ে -

মিলনার্থক শব্দযোগে:
- মা-বাপ, মাসি-পিসি, জ্বিন-পরী, চা-বিস্কুট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- বিরোধার্থক শব্দযোগে: দা-কুমড়া, অহি-নকুল, স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
- বিপরীতার্থক শব্দযোগে : আয়-ব্যয়, জমা-খরচ, ছোট-বড়, ছেলে-বুড়ো, লাভ-লোকসান ইত্যাদি।
- সমার্থক শব্দযোগে: হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, কল-কারখানা, মোল্লা-মৌলভী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭,১৮৫.
'উকিল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফরাসি
  2. উর্দু
  3. তুর্কি
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
• উকিল,
- বিশেষ্য পদ। 
- এটি আরবি ভাষার শব্দ। 
অর্থ:
- আইন ব্যবসায়ী,
- ব্যবহারজীবী,
- প্রতিনিধি।

এরূপ আরবি ভাষার কিছু শব্দ হলো- এজলাস, আদালত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,১৮৬.
‘বিলাতফেরত’ কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  3. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  4. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা
- খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া,
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।

• সাধারণত চ্যুত, আগত, ভীত, গৃহীত, বিরত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, পালানো, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরপদের সঙ্গে যুক্ত হলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন:
- স্কুল থেকে পালানো = স্কুলপালানো,
- জেল থেকে মুক্ত = জেলমুক্ত ইত্যাদি।

এ রকম জেলখালাস, বোঁটাখসা, আগাগোড়া, শাপমুক্ত, ঋণমুক্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,১৮৭.
নিচের কোনটি পর্তুগিজ ভাষার শব্দ?
  1. কেরানী
  2. চাহিদা
  3. তোপ
  4. কার্তুজ
সঠিক উত্তর:
কেরানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেরানী
ব্যাখ্যা
'কেরানী’ পর্তুগিজ শব্দ।
পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত অন্যান্য শব্দ- কপি, কাজু, কামরা, কেদারা, গামলা, গির্জা, গুদাম, চাবি, জানালা, তামাক, তােয়ালে ইত্যাদি।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৭,১৮৮.
‘ডাব’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. তদ্ভব
  3. তৎসম
  4. দেশি
সঠিক উত্তর:
দেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি
ব্যাখ্যা
উৎস বিবেচনায় শব্দ ৪ প্রকার।
যথা -
১. তৎসম শব্দ
২. তদ্ভব শব্দ
৩. দেশি শব্দ
৪. বিদেশী শব্দ

দেশি শব্দ: বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্টীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলে।
যেমন - কুড়ি, পেট, চুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,১৮৯.
‘ঢং ঢং করে ঘড়িটা বেজেই চলেছে।’- বাক্যে ‘ঢং ঢং’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
⇒ ‘ঢং ঢং করে ঘড়িটা বেজেই চলেছে।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘ঢং ঢং’ ধ্বন্যাত্মক শব্দ দ্বিত্বের উদাহরণ।

শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের। যথা:
১. অনুকার দ্বিত্ব,
২. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব,
৩. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

⇒ কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
চকচক, জ্বলজ্বল, থকথকে, কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপ, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

⇒ কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন: খপাখপ, হবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,১৯০.
‘ফুলকুমারী’ শব্দটি কোন ধরণের সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি সমাস
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) দ্বন্দ্ব সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয় সমাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মধারয় সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস: বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে ‘কর্মধারয়’ সমাস বলে। অথবা, যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সঙ্গে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
উদাহরণ:
- ফুলের মতো কুমারী = ফুলকুমারী
- নাল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- যা কঁচা তা-ই মিঠা = কাঁচামিঠা।

বহুব্রীহি সমাস: যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে এ দুয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো অর্থ প্রধানরূপে প্রতয়িমান হয় তাকে ‘বহুব্রীহি’ সমাস বলে।
উদাহরণ:
- দশ আনন যার = দশানন।

তৎপুরুষ সমাস: যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান বলে বিবেচিত হয় এবং পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি বিভক্তি লোপ পায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
উদাহরণ:
- ধানের ক্ষেত = ধানখেত।
- ভাতকে রাঁধা = ভাতরাধা।

দ্বন্দ্ব সমাস: সংযোজক অব্যয় লোপ পেয়ে এবং উভয় পদের অর্থেরই প্রাধান্য বজায় রেখে যে সমাস হয় তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
উদাহরণ:
- মাতা ও পিতা = মাতাপিতা।
- ভালো ও মন্দ= ভালোমন্দ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,১৯১.
তপশিল শব্দের অর্থ কী?
  1. বিবরণ
  2. আইন
  3. অধ্যাদেশ
  4. বিধি
সঠিক উত্তর:
বিবরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবরণ
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- তপশিল একটি আরবি শব্দ।
- অর্থ- জমির চৌহদ্দির বিবরণ। ২ বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রণীত তালিকা,

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,১৯২.
‘জ্ঞানবৃক্ষ’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. রূপক কর্মধারয়
  2. উপমিত কর্মধারয়
  3. উপমান কর্মধারয়
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপক কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

জ্ঞান রূপ বৃক্ষ = জ্ঞানবৃক্ষ। এটি একটি রূপক কর্মধারয় সমাস।

যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
কাজলের ন্যায় কালো = কাজলকালো, কমল রূপ মুখ = কমলমুখ, বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু, মন রূপ মাঝি = মনমাঝি, এগুলো রূপক কর্মধারয় সমাস।
এছাড়াও মোহনিদ্রা, শোকানল, দিলদরিয়া, ভবনদী, বিদ্যাধন, পরানপাখি এগুলোও রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭,১৯৩.
উৎসমূল অনুযায়ী ‘লড়াকু’ শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
  1. উর্দু
  2. হিন্দি
  3. বাংলা
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
ব্যাখ্যা
• লড়াকু - হিন্দি শব্দ।

কিছু হিন্দি শব্দ:
- কাচারি,
- দুলকি,
- দিলরুবা,
- দাপট,
- দাবা,
- দাঙ্গা,
- দহলা,
- দশেরা
- রোকড়,
- লেনদেন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,১৯৪.
'পাঠক' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √পাঠ্‌ + অক
  2. √পাঠ্‌ + ণক
  3. √পঠ্‌ + অক
  4. √পাঠ্‌ + ওক
সঠিক উত্তর:
√পঠ্‌ + অক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√পঠ্‌ + অক
ব্যাখ্যা
• ণক-প্রত্যয় ('ণ' ইৎ 'অক' থাকে):
পঠ্‌ + ণক = √পঠ্‌ + অক = পাঠক।
[মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়ে 'অ' স্থানে 'আ' হয়েছে। ]

যেমন:
- √নী + ণক = (নৈ + অক-প্রথম স্বরের বৃদ্ধি) নায়ক,
- √গৈ + ণক = গায়ক,
- √লিখ্ + ণক = লেখক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৭,১৯৫.
কোনটি কৃদন্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) ভাজি
  2. খ) বিবাহিত
  3. গ) দৈনিক
  4. ঘ) পাগলামি
সঠিক উত্তর:
ক) ভাজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাজি
ব্যাখ্যা

- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎপ্রত্যয় বলে।
- কৃৎপ্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে কৃদন্ত শব্দ বলে।
- দুল্‌+অনা= দোলনা।
- কৃ+তব্য= কর্তব্য।
- 'অনা' ও 'তব্য' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'দোলনা' ও 'কর্তব্য' হলো কৃদন্ত শব্দ।
- ভাজ+ই= ভাজি, এখানে 'ই' হলো কৃৎপ্রত্যয় এবং 'ভাজি' হলো কৃদন্ত শব্দ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,১৯৬.
নিচের কোন শব্দটি 'উয়া' প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. ক) বাড়িওয়ালা
  2. খ) রিকশাওয়ালা
  3. গ) পড়ুয়া
  4. ঘ) সাপুড়িয়া
সঠিক উত্তর:
গ) পড়ুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পড়ুয়া
ব্যাখ্যা
•'পড়ুয়া' হচ্ছে কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ যা ‘উয়া’ প্রত্যয় যোগে গঠিত। 

• ‘উয়া’ প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ: 
- পড়ুয়া = পড়ু + উয়া (কৃৎপ্রত্যয়)।
- মাছোয়া = মাছ + উয়া (তদ্ধিতান্ত প্রত্যয়)।

• বাকি অপশনগুলো হচ্ছে-
- বাড়িওয়ালা = বাড়ি + ওয়ালা (তদ্ধিতান্ত প্রত্যয়)।
- রিক্সাওয়ালা = রিকশা + ওয়ালা (তদ্ধিতান্ত প্রত্যয়)।
- সাপুড়িয়া= উড়িয়া প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)। 
৭,১৯৭.
নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস নয়?
  1. ক) প্রাণভয়
  2. খ) ঝালমুড়ি
  3. গ) স্মৃতিসৌধ
  4. ঘ) বকধার্মিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) বকধার্মিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বকধার্মিক
ব্যাখ্যা
ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তাই মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
যেমন- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ
ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি
প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়
স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।
এমনিভাবে, সিংহাসন, সাহিত্যসভা, গোবর গণেশ, সংবাদপত্র ইত্যাদি। বক্যের ন্যায় ধার্মিক = বকধার্মিক উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
৭,১৯৮.
সাধারণত কোন অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয় না?
  1. ক) পর্যন্ত
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) অনতিক্রম্যতা
  4. ঘ) আধিক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) আধিক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আধিক্য
ব্যাখ্যা
• সামীপ্য, বীপ্সা, অনতিক্রম্যতা, অভাব, পর্যন্ত, অতিক্রান্ত, বিরোধ, সাদৃশ্য, যোগ্যতা পশ্চাৎ প্রভৃতি অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।

• 'আধিক্য' অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয় না।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)
৭,১৯৯.
“সুবর্ণ” কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
সঠিক উত্তর:
গ) বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়ে থাকে তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন - কালো বরণ যার - কালোবরণ; সুন্দর বর্ণ যার - সুবর্ণ; পোড়া কপাল যার - পোড়াকপাল ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ
৭,২০০.
‘গ্রাহী’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কি হবে?
  1. √গ্রহ + ণিন
  2. √গ্রা + হী
  3. √গ্রাহ + ইন
  4. √গ্রা + ণিন
সঠিক উত্তর:
√গ্রহ + ণিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√গ্রহ + ণিন
ব্যাখ্যা
‘গ্রাহী’ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় √গ্রহ + ণিন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।