বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

লোক সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

লোক সাহিত্য

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ২১২

১০১.
'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা'র পালাসমূহের সংগ্রাহক ছিলেন-
  1. আশুতোষ চৌধুরী
  2. দীনেশচন্দ্র সে
  3. চন্দ্রকুমার দে
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০২.
লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন কোনটি?
  1. ছড়া
  2. ধাঁধা
  3. পালা
  4. প্রবাদ
সঠিক উত্তর:
ছড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছড়া
ব্যাখ্যা
• লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি "ছড়া"।

• লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- লােকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. বাংলাপিডিয়া।
১০৩.
'বন থেকে বেরুল টিয়ে সোনার টোপর মাথায় দিয়ে।' এটি কিসের উদাহরণ?
  1. ক) প্রবাদের
  2. খ) ছড়ার
  3. গ) উপমার
  4. ঘ) ধাঁধার
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধাঁধার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধাঁধার
ব্যাখ্যা
'বন থেকে বেরুল টিয়ে সোনার টোপর মাথায় দিয়ে।' এটি ধাঁধার উদাহরণ যার উত্তর হচ্ছে আনারস। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১০৪.
'লোকসাহিত্য' সংগ্রহে অবদান রেখেছেন কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• দীনেশচন্দ্র সেন:
দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির ইতিহাস প্রণয়নের পাশাপাশি তিনি রচনা করেন কবিতা, উপন্যাস ও গল্প। সব মিলে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ৬০।

- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১০৫.
'মৈমনসিংহ গীতিকা'য় মোট কয়টি গীতিকা বা পালা স্থান পেয়েছে?
  1. ১২টি
  2. ১০টি
  3. ১৫টি
  4. ২২টি
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে, যথা:
- মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০৬.
'নদের চাঁদ' কোন পালা'র চরিত্র?
  1. মহুয়া
  2. মলুয়া
  3. দেওয়ানা মদিনা
  4. দস্যু কেনারাম
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা

'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। 

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে, 
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:

'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৭.
বাংলাদেশে গীতিকা সাহিত্যে কয় ধরনের গীতিকা প্রচলিত?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
গীতিকা:
- গীতিকা লোকসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
- গীতিকা ছড়ার মত ছোটো নয়, গীতিকা আকারে অনেক বড়।
- এতে বলা হয় নরনারীর জীবন ও হৃদয়ের কথা।
- বাংলা সাহিত্যে গীতিকার রয়েছে বিরাট ভাণ্ডার।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গীতিকা হচ্ছে - মহুয়া, মলুয়া ও দেওয়ান মদীনা, দস্যু কেনারাম ইত্যাদি। 

• বাংলাদেশে গীতিকা সাহিত্যে ৩ ধরনের গীতিকা প্রচলিত।
যথা: 
১. নাথ গীতিকা,
২. মৈমনসিংহ-গীতিকা ও
৩. পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০৮.
'গম্ভীরা' হলো -
  1. বাউল গান
  2. মরমি গান
  3. লোকসঙ্গীত
  4. মৈমনসিংহ গীতিকা
সঠিক উত্তর:
লোকসঙ্গীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকসঙ্গীত
ব্যাখ্যা
গম্ভীরা:
- গম্ভীরা গান এক প্রকার জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত।
- সাধারণত বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে এ গান প্রচলিত।
- ‘গম্ভীরা’ হচ্ছে এক প্রকার উৎসব।
- ধারণা করা হয় যে, গম্ভীরা উৎসবের প্রচলন হয়েছে শিবপূজাকে কেন্দ্র করে।
- শিবের এক নাম ‘গম্ভীর’, তাই শিবের উৎসব গম্ভীরা উৎসব এবং শিবের বন্দনাগীতিই হলো গম্ভীরা গান।
- গম্ভীরা গানের উৎপত্তি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় হিন্দুসমাজে।
- পাকিস্তান সৃষ্টির পর মালদহ থেকে গম্ভীরা গান রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলে আসে।

এছাড়াও,
⇒ বিভিন্ন অঞ্চলের লোকসঙ্গীত:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত হলো ভাটিয়ালি।
- ভাওয়াইয়া বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসংগীত। রংপুর ও কুচবিহার জেলা এই গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গানের বিখ্যাত শিল্পী হলেন আব্বাসউদ্দীন আহমেদ।
- গম্ভীরা হলো চাপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত।
- ধামাইল গান প্রধানত সিলেটের হাওরাঞ্চলে প্রচলিত মেয়েদের আচার-কেন্দ্রিক নাচ ও গানের নাম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০৯.
দোভাষী পুঁথি বলতে কি বোঝায়?
  1. দুই ভাষায় রচিত পুঁথি
  2. কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুঁথি
  3. তৈরি করা কৃত্রিম ভাষায় রচিত পুঁথি
  4. আঞ্চলিক বাংলায় রচিত পুঁথি
সঠিক উত্তর:
কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুঁথি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুঁথি
ব্যাখ্যা
• পুথি সাহিত্য:
- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।

- পুথি (বা পুঁথি) শব্দের উৎপত্তি ‘পুস্তিকা’ শব্দ থেকে। এ অর্থে পুথি শব্দদ্বারা যেকোনো গ্রন্থকে বোঝালেও পুথি সাহিত্যের ক্ষেত্রে তা বিশেষ অর্থ বহন করে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত।

- হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০) আমীর হামজা রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন। আরবদেশের ইতিহাস-পুরাণ মিশ্রিত কাহিনি অবলম্বনে রচিত আমীর হামজা জঙ্গনামা বা যুদ্ধ বিষয়ক কাব্য।

- মধ্যযুগে প্রায় পাঁচশ বছর ধরে বাংলা ভাষার যে ঐতিহ্য তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এ কাব্যের ভাষার মিল নেই। বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি, ফারসি প্রভৃতি শব্দের মিশ্রণজাত একটি ভিন্ন ভাষায় কাব্যটি রচিত। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এ কাব্যে ৩২% বিদেশি শব্দের পরিসংখ্যান দিয়েছেন। হুগলি, হাওড়া, কলকাতা, ২৪ পরগনা প্রভৃতি অঞ্চলের মুসলমানদের কথ্যভাষা এর উৎস ছিল বলে মনে করা হয়।

- গরীবুল্লাহ নিজে এবং তাঁর শিষ্য সৈয়দ হামজা এ ভাষায় আরও কয়েকখানি কাব্য রচনা করেন। তাঁদের অনুসরণে পরবর্তীকালে বহু সংখ্যক মুসলমান কবি এ জাতীয় কাব্য রচনা করেন।
- এগুলির পাঠক ছিল সর্বস্তরের মুসলমান; তবে নিম্নবিত্তের চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা ছিল সর্বাধিক।

- পুথি সাহিত্যের শব্দসম্ভার ও ভাষারীতি লক্ষ করে বিভিন্ন জন এর বিভিন্ন নামকরণ করেছেন। রেভারেন্ড জেমস লং এ ভাষাকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা’, আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা সাহিত্য’।

- কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি ‘বটতলার পুথি’ নামেও পরিচিত হয়।
- গবেষকগণ ভাষা-বৈশিষ্ট্য ও বাক্যরীতির দিক থেকে বিচার করে প্রথমে এগুলিকে দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে ‘মিশ্র ভাষারীতির কাব্য’ বলে অভিহিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১০.
দোভাষী পুঁথি বলতে কী বোঝায়?
  1. দুই ভাষায় রচিত পুঁথি
  2. কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুঁথি
  3. তৈরি করা কৃত্রিম ভাষায় রচিত পুঁথি
  4. আঞ্চলিক বাংলায় রচিত পুঁথি
সঠিক উত্তর:
কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুঁথি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুঁথি
ব্যাখ্যা
• পুথি সাহিত্য:
- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।

- পুথি (বা পুঁথি) শব্দের উৎপত্তি ‘পুস্তিকা’ শব্দ থেকে। এ অর্থে পুথি শব্দদ্বারা যেকোনো গ্রন্থকে বোঝালেও পুথি সাহিত্যের ক্ষেত্রে তা বিশেষ অর্থ বহন করে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১১.
কোন চরিত্রটি 'কাজলরেখা' পালার অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সাধু
  2. শুকপাখি
  3. রত্নেশ্বর
  4. ধনেশ্বর
সঠিক উত্তর:
সাধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু
ব্যাখ্যা

• 'কাজলরেখা' পালার অন্তর্ভুক্ত চরিত্র নয় - সাধু
- 'সাধু' মহুয়া পালার অন্তর্ভুক্ত চরিত্র।

কাজলরেখা:

- ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েকটি পালা ও রূপকথা মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনে সংকলিত হয়।
- "কাজলরেখা" মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
- এদের মধ্যে কাজলরেখা কোনো পালা নয়। এটা পদ্য ও গল্পাকারে বর্ণিত রূপকথা। এর রচয়িতা কে তা জানা যায়নি।

উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র:
- ধনেশ্বর,
- কাজলরেখা,
- রত্নেশ্বর,
- শুকপাখি

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১১২.
'মৈমনসিংহ গীতিকা' কতটি ভাষায় অনুদিত?
  1. ২০টি 
  2. ২২টি
  3. ৩২টি
  4. ২৩টি 
সঠিক উত্তর:
২৩টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩টি 
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১৩.
রামনিধি গুপ্ত রচিত টপ্পা সঙ্গীত সংকলন কোনটি?
  1. হারামনি
  2. গীতরত্ন
  3. সংগীতমাধব
  4. রত্নগীত
সঠিক উত্তর:
গীতরত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতরত্ন
ব্যাখ্যা
⇒ টপ্পা সঙ্গীত:
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।

- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা- 
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

অন্যদিকে,
গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'৷
মুহম্মদ মনসুর উদ্দীনের বাংলা সংকলন 'হারামনি'।

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১৪.
কবি দ্বিজ কানাইয়ের ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনা ও বেদনার সাদৃশ্য কোন পালায় ফুটে উঠেছে?
  1. মলুয়া
  2. কমলা
  3. দস্যু কেনারাম
  4. মহুয়া
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

• মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তিদ্বয়:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

অন্যদিকে,
• ‘মলুয়া’ ও ‘দস্যু কেনারাম’ চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা।
• ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১৫.
'আলাল’ - কোন পালার চরিত্র?
  1. মহুয়া
  2. মলুয়া
  3. দেওয়ানা মদিনা
  4. দেওয়ানা ভাবনা 
সঠিক উত্তর:
দেওয়ানা মদিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেওয়ানা মদিনা
ব্যাখ্যা

দেওয়ানা মদিনা:
- পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।

‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা, 
- সোনার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১৬.
'মদিনা' কোন পালার অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. আলাল-দুলালের পালা
  2. দেওয়ান ভাবনা পালা
  3. দস্যু কেনারামের পালা
  4. কাজল রেখা
সঠিক উত্তর:
আলাল-দুলালের পালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাল-দুলালের পালা
ব্যাখ্যা

• 'দেওয়ানা মদিনা' পালা:
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি। বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি 'দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম 'আলাল-দুলালের' পালা।

'দেওয়ানা মদিনা'র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা,
- সোনাফর।

--------------------------
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন। গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে। যথা:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১৭.
বটতলার পুঁথি বলতে বুঝায়-
  1. মধ্যযুগীয় কাব্যের হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি
  2. বটতলা নামক স্থানে রচিত কাব্য
  3. দোভাষী বাংলায় রচিত পুঁথি সাহিত্য
  4. অবিমিশ্র দেশজ বাংলায় রচিত লোকসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
দোভাষী বাংলায় রচিত পুঁথি সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোভাষী বাংলায় রচিত পুঁথি সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• বটতলার পুঁথি বলতে বুঝায়- দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে ‘মিশ্র ভাষারীতির কাব্য।

------------------------------
• পুথি সাহিত্য:

- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।

- পুথি (বা পুঁথি) শব্দের উৎপত্তি ‘পুস্তিকা’ শব্দ থেকে। এ অর্থে পুথি শব্দদ্বারা যেকোনো গ্রন্থকে বোঝালেও পুথি সাহিত্যের ক্ষেত্রে তা বিশেষ অর্থ বহন করে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত।

- হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০) আমীর হামজা রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন। আরবদেশের ইতিহাস-পুরাণ মিশ্রিত কাহিনি অবলম্বনে রচিত আমীর হামজা জঙ্গনামা বা যুদ্ধ বিষয়ক কাব্য।

- মধ্যযুগে প্রায় পাঁচশ বছর ধরে বাংলা ভাষার যে ঐতিহ্য তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এ কাব্যের ভাষার মিল নেই। বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি, ফারসি প্রভৃতি শব্দের মিশ্রণজাত একটি ভিন্ন ভাষায় কাব্যটি রচিত। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এ কাব্যে ৩২% বিদেশি শব্দের পরিসংখ্যান দিয়েছেন। হুগলি, হাওড়া, কলকাতা, ২৪ পরগনা প্রভৃতি অঞ্চলের মুসলমানদের কথ্যভাষা এর উৎস ছিল বলে মনে করা হয়।

- গরীবুল্লাহ নিজে এবং তাঁর শিষ্য সৈয়দ হামজা এ ভাষায় আরও কয়েকখানি কাব্য রচনা করেন। তাঁদের অনুসরণে পরবর্তীকালে বহু সংখ্যক মুসলমান কবি এ জাতীয় কাব্য রচনা করেন।
- এগুলির পাঠক ছিল সর্বস্তরের মুসলমান; তবে নিম্নবিত্তের চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা ছিল সর্বাধিক।

- পুথি সাহিত্যের শব্দসম্ভার ও ভাষারীতি লক্ষ করে বিভিন্ন জন এর বিভিন্ন নামকরণ করেছেন। রেভারেন্ড জেমস লং এ ভাষাকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা’, আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা সাহিত্য’।

- কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি ‘বটতলার পুথি’ নামেও পরিচিত হয়।
- গবেষকগণ ভাষা-বৈশিষ্ট্য ও বাক্যরীতির দিক থেকে বিচার করে প্রথমে এগুলিকে দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে ‘মিশ্র ভাষারীতির কাব্য’ বলে অভিহিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১৮.
‘চন্দ্রাবতী’ পালাটির রচয়িতা কে?
  1. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  2. দ্বিজ ঈশান
  3. মনসুর বয়াতি
  4. দ্বিজ কানাই
সঠিক উত্তর:
নয়ানচাঁদ ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয়ানচাঁদ ঘোষ
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

গীতিকাগুলো হলো:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা, 
- চন্দ্রাবতী
- রামায়ণ উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া
১১৯.
কোনটিকে লোকসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয়?
  1. উপকথা
  2. রূপকথা
  3. ছড়া
  4. গীতিকা
সঠিক উত্তর:
গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতিকা
ব্যাখ্যা
• গীতিকা:
- গীতিকা লোকসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ‌।
- গীতিকা হয় বেশ দীর্ঘ; তাতে বড় কাহিনি বলা হয়ে থাকে কিন্তু অধিকাংশ গীতিকার লেখকের নাম পাওয়া যায় না।
- এতে বলা হয় নরনারীর জীবন ও হৃদয়ের কথা।

- কয়েকটি গীতিকা: মহুয়া, দেওয়ানা মদিনা, মলুয়া ইত্যাদি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লোকসাহিত্যের অনুরাগী ছিলেন।
- লোকসাহিত্যের পৃথিবী হচ্ছে পল্লী। তবুও সাহিত্য পল্লীর মানুষের আনন্দকে ফুটিয়েছে ফুলের মতন, বেদনাকে বাজিয়েছে একতারার সুরের মতন। লোকসাহিত পল্লীর মানুষের বুকের বাঁশরি।

অন্যদিকে,
• রূপকথা:
অন্যান্য লোককথার চেয়ে রূপকথার কাহিনি দীর্ঘতর হয়ে থাকে। রূপকথার মাধ্যমে এক অজানা রহস্যময় জগতের বিচিত্র কাহিনি শ্রোতার কাছে পরিবেশিত হয়। এসব কাহিনিতে বিভিন্ন রাজ্য ও রাজপুত্রের উল্লেখ থাকে। ভৌগলিক মাপকাঠিতে সে সব রাজ্যের কোন পরিচয় থাকে না। নানা অলৌকিক ও অবিশ্বাস্য ঘটনা এতে ভীড় করে। বাস্তব রাজ্যের সঙ্গে রূপকথার কোন সম্পর্ক নেই।

• উপকথা:
পশুপক্ষীর চরিত্র অবলম্বনে যেসব কাহিনি গড়ে উঠেছে সেগুলোর নাম উপকথা। কৌতুকসৃষ্টি ও নীতিপ্রচারের জন্যে উপকথা'র সৃষ্টি। এতে মানবচরিত্রের মতই পশুপাখির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে বা বক্তব্য পরিবেশিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের মতই পশু-পাখিরা কথাবার্তা বলে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করেছে।

• ছড়া:
লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি ছড়া। ছড়াগুলো বিশেষ কোনো ব্যক্তির সৃষ্টি বলে মনে করা হয় না, এর সৃষ্টির পিছনে সমষ্টিমনের প্রভাব কার্যকর।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১২০.
নিচের কোনটি নাথ সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. গোর্খবিজয়
  2. ময়নামতির গান
  3. গোপীচন্দ্রের সন্যাস
  4. জয়নবের চৌতিশা
সঠিক উত্তর:
জয়নবের চৌতিশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়নবের চৌতিশা
ব্যাখ্যা

শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত কাব্য 'জয়নবের চৌতিশা'। এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ।

নাথ সাহিত্য:

- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনী হলো গোরক্ষবিজয়।

উল্লেখ্য,
- শেখ ফয়জুল্লাহ নাথ সাহিত্যের জনক।
- মুসলমান হয়েও তিনি নাথ সাহিত্য রচনা করেছিলেন।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- ‘গোরাক্ষ বিজয়’ এর রচয়িতা - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- ‘গোপীচন্দ্রের সন্যাস’ এর রচয়িতা - শুকুর মাহমুদ।
- ‘মীনচেতন’ এর রচয়িতা - শ্যামাদাস সেন।
- ‘ময়নামতির গান’ এর রচয়িতা - ভবানী দাস।
- ‘গোর্খবিজয়’ এর রচয়িতা - ভীমসেন রায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২১.
‘পূর্ববঙ্গ-গীতিকা’ শিরোনামে প্রকাশিত পালাগুলোর সংগ্রাহক কে?
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. চন্দ্রকুমার দে
  3. সুকুমার সেন
  4. দক্ষিণারঞ্জন রায় মিত্র
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রকুমার দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রকুমার দে:
- চন্দ্রকুমার দে (১৮৮৯-১৯৪৬) লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও লেখক।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার রাঘবপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- চন্দ্রকুমার আমৃত্যু পল্লীর এ লোকসম্পদ সংগ্রহে নিয়োজিত থেকে বহু সংখ্যক পালা সংগ্রহ করেন।
- সেগুলির অধিকাংশই দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায়  মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) ও  পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (১৯২৬) নামে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় এবং দেশবিদেশের বহু গুণিজনের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২২.
কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকায় স্থান পেয়েছে?
  1. ভেলুয়া
  2. নেজাম ডাকাতের পালা
  3. কঙ্ক ও লীলা
  4. কাফেনচোরা
সঠিক উত্তর:
কঙ্ক ও লীলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঙ্ক ও লীলা
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা।

অন্যদিকে,
- পূর্ববঙ্গ গীতিকা পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক। সেগুলির মধ্যে ধোপার পাট, মইষাল বন্ধু, কাঞ্চন মালা, কমলা রানীর গান, মদনকুমার ও মধুমালা, নেজাম ডাকাতের পালা, দেওয়ান ঈশা খাঁ, মাঞ্জুর মা, কাফেনচোরা, ভেলুয়া, হাতিখেদা, আয়নাবিবি, কমল সদাগর, চৌধুরীর লড়াই, গোপিনী-কীর্তন, সুজা-তনয়ার বিলাপ, বারতীর্থের গান, নুরুন্নেছা ও কবরের কথা, পরীবানুর হাঁইলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১২৩.
'পূর্ববঙ্গ গীতিকা'র লোকপালাসমূহের সংগ্রাহক কে?
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. চন্দ্রকুমার দে
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রকুমার দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা
• 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা'র লোকপালাসমূহের সংগ্রাহক ছিলেন- চন্দ্রকুমার দে।

---------------------
• চন্দ্রকুমার দে:

- চন্দ্রকুমার দে (১৮৮৯-১৯৪৬) লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও লেখক।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার রাঘবপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- চন্দ্রকুমার আমৃত্যু পল্লীর এ লোকসম্পদ সংগ্রহে নিয়োজিত থেকে বহু সংখ্যক পালা সংগ্রহ করেন।
- সেগুলির অধিকাংশই দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) ও পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (১৯২৬) নামে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় এবং দেশবিদেশের বহু গুণিজনের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

চন্দ্রকুমারের সংগৃহীত পালাগুলি হচ্ছে -
• মৈমনসিংহ-গীতিকা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- দস্যু কেনারাম,
- কমলা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- দেওয়ান মদিনা ও
- ধোপার পাট;

• পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- ভেলুয়া সুন্দরী,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী,
- আন্ধা বন্ধু,
- বন্ডুলার বারমাসী,
- রতন ঠাকুর,
- পীর বাতাসী,
- জিবালনি,
- সোনারামের জন্ম ও
- ভারাইয়া রাজা।

- এগুলি ছাড়া তাঁর সংগৃহীত আরও কতগুলি পালা হচ্ছে: অধুয়া সুন্দরী, সুরতজামাল, কাজলরেখা, আসমা, সত্যপীরের পাঁচালি, চন্দ্রাবতীর রামায়ণ, লীলার বারমাসী ও গোপিনী কীর্তন।
- পালাগুলির বেশির ভাগ ময়মনসিংহ ও সিলেট থেকে সংগৃহীত হয়েছে। মৌখিক ধারার এসব গান ও সাহিত্য মাঠপর্যায় থেকে সংগ্রহ করে জনসম্মুখে তুলে ধরার মৌলিক কৃতিত্ব চন্দ্রকুমারের। পালা সংগ্রহ ছাড়া চন্দ্রকুমার নিজে বেশ কিছু কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৪.
'নদের চাঁদ' - চরিত্রটি কোন পালার অন্তর্ভুক্ত?
  1. রূপবতী
  2. মলুয়া
  3. কমলা
  4. মহুয়া
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা

'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। 

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে, 
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২৫.
পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. নিজাম ডাকাতের পালা
  2. আয়না বিবি
  3. দস্যু কেনারামের পালা
  4. চৌধুরীর লড়াই
সঠিক উত্তর:
দস্যু কেনারামের পালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দস্যু কেনারামের পালা
ব্যাখ্যা
• "দস্যু কেনারামের পালা" পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।

• পূর্ববঙ্গ গীতিকার উপাখ্যান গুলো হলো:

- নিজাম ডাকাতের পালা,
- কাফন চোরা,
- চৌধুরীর লড়াই,
- আয়না বিবি,
- ভেলুয়া ইত্যাদি।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
• এগুলো হলো:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১২৬.
পশুপাখির চরিত্র অবলম্বনে সৃষ্ট কাহিনিকে কী বলে?
  1. রূপকথা
  2. ব্রতকথা
  3. উপকথা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকথা
ব্যাখ্যা
উপকথা:
 - পশুপক্ষীর চরিত্র অবলম্বনে যেসব কাহিনি গড়ে উঠেছে সেগুলোর নাম উপকথা। কৌতুকসৃষ্টি ও নীতিপ্রচারের জন্যই এগুলোর সৃষ্টি।
- এতে মানবচরিত্রের মতই পশুপাখির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে বক্তব্য পরিবেশিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের মতই পশু- পাখিরা কথাবার্তা বলে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করেছে।
- কেবল পশুপক্ষীর চরিত্রই যে উপকথার বিষয়বস্তু তা নয়, মানবচরিত্রও এগুলোতে স্থান পেয়েছে।
- পশুপক্ষী অনেক ক্ষেত্রে রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। গল্পের বর্ণনায় পুনরাবৃত্তি এসে বর্ণনাকে আকর্ষণীয় করে তোলে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২৭.
কোন কাব্য ফার্সি রচনার অনুবাদ?
  1. রসুল বিজয়
  2. রাগমালা
  3. ইউসুফ-জুলেখা
  4. সাতনামা
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ-জুলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ-জুলেখা
ব্যাখ্যা
- ইউসুফ-জুলেখা কাব্য ফার্সি রচনার অনুবাদ। 

ভাষা ও সাহিত্য:

- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ ও উন্নতির জন্য সুলতানি ও মুঘল শাসনকালের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ইলিয়াস শাহি বংশের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ (১৩৯৩-১৪১১ খ্রিষ্টাব্দ) এর শাসনকালেই প্রথম বাঙালি মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর প্রণয়মূলক কাব্য 'ইউসুফ-জুলেখা' রচনা করেন।
- এটি ফার্সি রচনার অনুবাদ।
- সুলতানি যুগে আরও কয়েকজন কবি ফার্সি কাব্যের অনুবাদ করেছেন।
- তাঁদের মধ্যে দৌলত উজির বাহরাম খান ও দোনা গাজীর নাম উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১২৮.
'মানিকরাজার গান' কোন গীতিকার অন্তর্গত?
  1. নাথ গীতিকা
  2. পূর্ববঙ্গ-গীতিকা
  3. মৈমনসিংহ-গীতিকা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নাথ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাথ গীতিকা
ব্যাখ্যা

নাথ গীতিকা :
নাথ অর্থ প্রভু বা পালনকর্তা; কিন্তু নাথ বলতে নাথ ধর্মে বিশ্বাসী সম্প্রদায়কেই বোঝানো হয়।
নাথ সাহিত্যগুলো গীতিকা বা ইধষষধফ জাতীয় রচনা।
বৌদ্ধ ও শৈব ধর্মের মিলনে নাথ ধর্ম সৃষ্টি হয়েছে।

নাথ গীতিকার নাম ও রচয়িতা:

- ময়নামতীর গান বা মানিকরাজার গান - ভবানীদাস
- গোপীচাঁদের সন্ন্যাস - শুকুর মহম্মদ।

মৈমনসিংহ-গীতিকাগুলো হলো:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- দস্যু কেনারাম,
- কমলা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- দেওয়ান মদিনা ও
- ধোপার পাট;

পূর্ববঙ্গ-গীতিকাগুলো গলো:
- ভেলুয়া সুন্দরী,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী,
- আন্ধা বন্ধু,
- বন্ডুলার বারমাসী,
- রতন ঠাকুর,
- পীর বাতাসী,
- জিবালনি,
- সোনারামের জন্ম ও
- ভারাইয়া রাজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২৯.
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯২২ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯২৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩০.
মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি ছিলেন-
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. মালাধর বসু
  3. রাধারমণ গোপ
  4. রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমাদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- শেখ ফয়জুল্লাহ ‘মর্সিয়া-সাহিত্যে'র আদিকবি। তাঁর গ্রন্থের নাম জয়নবের চৌতিশা (১৫৭০)।
- ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

• মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি হচ্ছেন রাধারমণ গোপ। তাঁর রচিতগ্রন্থ:
- ইমামগণের কেচ্ছা,
- আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩১.
কোনটি মর্সিয়া সাহিত্যের গ্রন্থ?
  1. কলিমা জালাল
  2. গুলে বকাওলী
  3. ইমামগণের কেচ্ছা
  4. সিকান্দারনামা
সঠিক উত্তর:
ইমামগণের কেচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমামগণের কেচ্ছা
ব্যাখ্যা

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা-কেন্দ্রিক কাব্যের অপর নাম মর্সিয়া সাহিত্য। আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক। শোকবিষয়ক রচনাকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়। 
আরবি সাহিত্যে মর্সিয়ার উদ্ভব নানা ধরনের শোকাবহ ঘটনা থেকে হলেও পরে তা কারবালা প্রান্তরে নিহত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদকে উপজীব্য করে লেখা কবিতা মর্সিয়া নামে আখ্যাত হয়। জঙ্গনামা ও মর্সিয়া সাহিত্য প্রথমত আরবে, পরে পারস্যে বিকাশ লাভ করে এবং মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে এ সাহিত্যধারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলায় এ কাব্যধারা মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত প্রচলিত ছিল।

- মর্সিয়া কাব্য বা শোক কাব্যের পটভূমিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, 'যুদ্ধ কাব্যের মধ্য কারবালাযুদ্ধ কাব্যই ষোল-সতের শতক থেকে বাংলার মুসলিম সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় হতে থাকে।

- শেখ ফয়জুল্লাহকে মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়। তাঁর রচিত কাব্য 'জয়নবের চৌতিশা'। এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ। এটি কারবালার কাহিনি নিয়ে রচিত। এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

-  মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ। রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।

অন্যদিকে,
'গুলে বকাওলী' মধ্যযুগের রোমান্টিক প্রণয়কাব্যের একটি ধারা। সতেরো শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথম 'গুলে বকাওলী' কাব্য রচনা করেন।

• অন্ধকার যুগে রামাই পণ্ডিত রচিত গ্রন্থ ‘কলিমা জালাল’। 

'সিকান্দারনামা' হলো মধ্যযুগের বিখ্যাত কবি আলাওল-এর লেখা একটি কাব্যগ্রন্থ, যা তিনি পারস্যের কবি নিজামি-এর 'সিকান্দারনামা' অবলম্বনে বাংলায় অনুবাদ করেন। এই কাব্যটি মূলত আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট বা সিকান্দার-এর জীবন ও কর্ম, বিশেষ করে তাঁর চীন ও ভারত বিজয় অভিযান নিয়ে রচিত

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩২.
লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন- 
  1. ছড়া
  2. ধাঁধা
  3. পালা
  4. প্রবাদ
সঠিক উত্তর:
ছড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছড়া
ব্যাখ্যা

• লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি "ছড়া"।

• লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- লােকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

১৩৩.
নিচের কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত নয়?  
  1. ভেলুয়া
  2. মহুয়া
  3. চন্দ্রাবতী
  4. মলুয়া
সঠিক উত্তর:
ভেলুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেলুয়া
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

অন্যদিকে,
পূর্ববঙ্গ গীতিকার পালা:
- মাইষাল বন্ধু,
- ভেলুয়া
- কমলারাণী
- দেওয়ান ঈসাখাঁ
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান
- আয়না বিবি
- শিলা দেবী
- পীর বাতাসী ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
১৩৪.
মধ্যযুগের সাহিত্যের কোন ধারাটি ধর্ম বা দেব-দেবীর চেয়ে মানুষের প্রণয়কে বেশি গুরুত্ব দেয়?
  1. বৈষ্ণব সাহিত্য
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. নাথ সাহিত্য
  4. লোক সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যুযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩৫.
'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা' - কোন সাহিত্যের সংকলন?
  1. রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  2. লোকসাহিত্য
  3. বৈষ্ণব পদাবলি
  4. নাথ সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
লোকসাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকসাহিত্য
ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- 'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা' পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন। মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন। দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

পূর্ববঙ্গ গীতিকার উপাখ্যানগুলো হলো:
- নিজাম ডাকাতের পালা,
- কাফন চোরা,
- চৌধুরীর লড়াই,
- আয়না বিবি,
- ভেলুয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৩৬.
'মলুয়া' পালা কে রচনা করেছেন?
  1. দ্বিজ ঈশান
  2. মনসুর বয়াতি
  3. দ্বিজ কানাই
  4. চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
• 'মলুয়া' পালা রচনা করেছেন চন্দ্রাবতী।

• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• গীতিকা গুলো হলো:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা
- বিদ্যাসুন্দর
- রামায়ণ উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া
১৩৭.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' কাব্যের রচয়িতা কে? 
  1. রামনিধি গুপ্ত 
  2. শুকুর মাহমুদ 
  3. ভীমসেন রায়
  4. শ্যামাদাস সেন
সঠিক উত্তর:
শুকুর মাহমুদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুকুর মাহমুদ 
ব্যাখ্যা

• নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে ।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য হলো:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ। 
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ। 
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

---------------------------
• শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৩৮.
"নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা।" - এটা কোন ধরনের পল্লীসাহিত্য?
  1. প্রবাদবাক্য
  2. ছড়ার গান
  3. খনার বচন
  4. ডাকের কথা
সঠিক উত্তর:
প্রবাদবাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাদবাক্য
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) প্রবাদবাক্য।

ব্যাখ্যা:
“নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা” একটি প্রবাদবাক্য (প্রবাদ)।

এটি গ্রামীণ/পল্লী জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত একটি লোকোক্তি যা লোকমুখে প্রচলিত।
অর্থ: কোনো কাজে দক্ষতা না থাকলে দোষটা কাজের বা পরিবেশের ওপর চাপানো হয় (যেমন: নাচতে না পারলে দোষ উঠানের বাঁকা হওয়ার)।
এ ধরনের বাক্য সংক্ষিপ্ত, ব্যঙ্গাত্মক এবং জীবনের সত্যকে ধরিয়ে দেয় — যা প্রবাদের মূল বৈশিষ্ট্য।

অন্য অপশন বিশ্লেষণ:
খ) ছড়ার গান → এগুলো শিশুতোষ, ছন্দোবদ্ধ, গানের মতো করে গাওয়া হয় (যেমন: আকাশে চাঁদ উঠেছে রে...)। এটা গান নয়।

গ) খনার বচন → খনা নামে পরিচিত একজন নারীর নামে প্রচলিত কৃষি-সম্পর্কিত উপদেশমূলক বচন (যেমন: 'কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত')

ঘ) ডাকের কথা → ডাক (লোককবি ডাক) নামে পরিচিত একজনের নামে প্রচলিত কৃষি-আবহাওয়া-সম্পর্কিত লোককথা/উক্তি।

সুতরাং এটি পল্লীসাহিত্যের প্রবাদবাক্য। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

১৩৯.
প্রথম কে ‘মাণিকচন্দ্র রাজার গান' এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশ করেন?
  1. আবদুল করিম
  2. স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন
  3. ড. পঞ্চানন মণ্ডল
  4. ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী 
সঠিক উত্তর:
স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন
ব্যাখ্যা

• নাথসাহিত্যের কবিগণ:
নাথধর্ম সংক্রান্ত গল্পকাহিনি নিয়ে যেসব সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে তা দীর্ঘদিন পর্যন্ত লোকচক্ষুর অন্তরালেই ছিল। ১৮৭৮ সালে প্রথমবার স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন রংপুর থেকে সংগৃহীত একটি গীতিকা ‘মাণিকচন্দ্র রাজার গান' নাম দিয়ে এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশ করেন। পরবর্তী কালে উত্তর ও পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ‘ময়নামতীর গান', ‘গোপীচন্দ্রের গান,' 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' ইত্যাদি বিভিন্ন নামে একই কাহিনিভিত্তিক পুঁথি আবিষ্কৃত হয়েছে। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ শেখ ফয়জুল্লাকৃত 'গোরক্ষবিজয়' কাব্যের পুঁথি আবিষ্কার করে প্রকাশ করেছেন। 'গোর্খবিজয়’ নামে অন্য একটি পুঁথি পঞ্চানন মণ্ডল কর্তৃক সম্পাদিত হয়েও প্রকাশিত হয়েছে। এই সব গ্রন্থ থেকে নাথসাহিত্যের পরিচয় লাভ করা যায়।

গোরক্ষনাথ-মীননাথের কাহিনি অবলম্বনে রচিত যে সব কাব্য সম্পাদিত হয়ে প্রকাশ পেয়েছে সেগুলো হল:
১. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সম্পাদিত কবি শেখ ফয়জুল্লার ‘গোরক্ষবিজয়',
২. ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত কবি শ্যামদাস সেনের 'মীনচেতন' এবং
৩. ড. পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত কবি ভীম সেনের 'গোর্খবিজয়'।

এই তিনটি কাব্যের কবিরা স্বতন্ত্র না একই ব্যক্তি এ সম্পর্কে পণ্ডিতগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। বিভিন্ন নামে প্রকাশিত এ সব ভণিতার মধ্যে কোন ঐক্য নেই। কবীন্দ্ৰ, শেখ ফয়জুল্লা, ভীমদাস ও শ্যামদাস সেনের ভণিতা বিক্ষিপ্ত ভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। 
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বিভিন্ন মতামত পর্যালোচনা করে লিখেছেন, 'নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হইতেছে যে গোরক্ষবিজয় বা গোর্খবিজয়ের কবি শেখ ফয়জুল্লা ভিন্ন অন্য কেহ হইতে পারেন না।' 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

১৪০.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে পুথি সাহিত্য রচনার সূত্রপাত করেন কে?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. সৈয়দ হামজা
  3. আমীর হামজা
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ফকির গরীবুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকির গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• পুথি সাহিত্য:
- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়। - বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত।

- হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০) 'আমীর হামজা' রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন। আরবদেশের ইতিহাস-পুরাণ মিশ্রিত কাহিনি অবলম্বনে রচিত আমীর হামজা জঙ্গনামা বা যুদ্ধ বিষয়ক কাব্য।

- মধ্যযুগে প্রায় পাঁচশ বছর ধরে বাংলা ভাষার যে ঐতিহ্য তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এ কাব্যের ভাষার মিল নেই। বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি, ফারসি প্রভৃতি শব্দের মিশ্রণজাত একটি ভিন্ন ভাষায় কাব্যটি রচিত। 

- গরীবুল্লাহ নিজে এবং তাঁর শিষ্য সৈয়দ হামজা এ ভাষায় আরও কয়েকখানি কাব্য রচনা করেন। তাঁদের অনুসরণে পরবর্তীকালে বহু সংখ্যক মুসলমান কবি এ জাতীয় কাব্য রচনা করেন। এগুলির পাঠক ছিল সর্বস্তরের মুসলমান; তবে নিম্নবিত্তের চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা ছিল সর্বাধিক।

- পুথি সাহিত্যের শব্দসম্ভার ও ভাষারীতি লক্ষ করে বিভিন্ন জন এর বিভিন্ন নামকরণ করেছেন। রেভারেন্ড জেমস লং এ ভাষাকে বলেছেন 'মুসলমানী বাংলা', আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন 'মুসলমানী বাংলা সাহিত্য'।

- কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি 'বটতলার পুথি' নামেও পরিচিত হয়। গবেষকগণ ভাষা-বৈশিষ্ট্য ও বাক্যরীতির দিক থেকে বিচার করে প্রথমে এগুলিকে দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে 'মিশ্র ভাষারীতির কাব্য' বলে অভিহিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪১.
‘হারামণি’ লোকগীতি সংকলন করেন-
  1. মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
  2. শুকুর মাহমুদ
  3. মনসুর বয়াতি
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
ব্যাখ্যা
⇒ মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন:
- ১৯০৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর থানার মুরারিপুর গ্রামে জন্ম। 
- পাবনা  এডওয়ার্ড কলেজ ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘বেদুইন মুসলমান’।
- মনসুরউদ্দীন মনেপ্রাণে ছিলেন  বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি, বিশেষত লোকসংস্কৃতির একজন একনিষ্ঠ অনুরাগী।
- তিনি পদ্মার চরাঞ্চল এবং পাবনা-ফরিদপুর-কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে গান, ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, গল্প ইত্যাদি লোকসাহিত্যের অনেক উপাদান সংগ্রহ করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ফোকলোর চর্চা দেশের সুধীমহলের স্বীকৃতি লাভ করে।
- ১৯৮৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

⇒ লোকগীতি সংকলন ‘হারামণি’: 
- মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন এর অক্ষয় কীর্তি হলো 'হারামণি'। 
- এর মোট ১৩ খণ্ডে লোকসঙ্গীত সংকলন ও সম্পাদনা করে তিনি প্রভুত খ্যাতি অর্জন করেন।
- প্রতিটি খণ্ডের সম্পাদনায় তিনি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- শিরনী,
- ধানের মঞ্জরী,
- আগরবাতী,
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা (৩ খণ্ড: ১৯৬০-৬৬) ও
- ইরানের কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪২.
কবিগান রচয়িতা এবং গায়ক হিসেবে এরা উভয়েই পরিচিত -
  1. ক) রাম বসু এবং ভোলা ময়রা
  2. খ) এন্টনি ফিরিঙ্গি এবং রামপ্রসাদ রায়
  3. গ) সাবিরিদ খান এবং দাশরথী রায়
  4. ঘ) আলাওল এবং ভারতচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
ক) রাম বসু এবং ভোলা ময়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাম বসু এবং ভোলা ময়রা
ব্যাখ্যা
আঠারো শতকের শেষ ও উনিশ শতকের শুরুর দিকে বাংলা সাহিত্যে কবিগান রচয়িতাদের আবির্ভাব ঘটে।
- উল্লেখযোগ্য কবিগানের ধরন - তর্জা, পাঁচালি, খেউড়, আখড়াই, দাঁড়া কবিগান, বসা কবিগান, ঢপ, টপ্পা, কীর্তন ইত্যাদি।
- কবিগান  এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক গান। দুটি দলে এ প্রতিযোগিতা হয়। দলের দলপতিকে বলে কবিয়াল বা সরকার।
- কবিয়ালের সঙ্গীদের নাম দোহার। যন্ত্রসঙ্গীতকারীদের মধ্যে ঢুলি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। দল দুটি পর্যায়ক্রমে আসরে এসে গান পরিবেশন করে।

উল্লেখযোগ্য কবিগান রচয়িতা:
- গোঁজলা গুই (প্রাচীনতম কবি)
- রাম বসু,
- রাসু,
- নৃসিংহ
- অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি
- হরু ঠাকুর
- রামনিধি গুপ্ত
- কেষ্টা মুচী
- ভবানী
- রামানন্দ নন্দী
- ভোলা ময়রা (ভোলানাথ মোদক), 
- নিতাই বৈরাগী

- বিশ শতকের শুরুতে কলকাতায় কবিগানের গুরুত্ব হারাতে থাকলেও বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।
- বিশ শতকে সর্বাধিক জনপ্রিয় কয়েকজন কবিয়াল হরিচরণ আচার্য (১৮৬১-১৯৪১),  রমেশ শীল (১৮৭৭-১৯৬৭), রাজেন্দ্রনাথ সরকার (১৮৯২-১৯৭৪), মানিকগঞ্জের রাধাবল্লভ সরকার, উপেন্দ্র সরকার, ভাসান সরকার, কুমুদ সরকার, অভয়চরণ সরকার, বিজয়কৃষ্ণ অধিকারী (১৯০৩-১৯৮৫), গুমানী দেওয়ান প্রমুখ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় -
- অপশন - ক) তে প্রদত্ত দুজনই রাম বসু এবং ভোলা ময়রা - কবিগান রচয়িতা ও গায়ক ছিলেন।
- অপশন - খ) তে প্রদত্ত 'এন্টনি ফিরিঙ্গি' কবিওয়ালা হলেও 'রামপ্রসাদ রায়' নামে কোনো কবিওয়ালার সন্ধান পাওয়া যায় নি।
- অপশন গ) তে প্রদত্ত 'সাবিরিদ খান' মধ্যযুগের আখ্যানকবি ও 'দাশরথি রায়' (১৮০৬-১৮৫৭)  স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। ‘দাশু রায়’ নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন। 
- অপশন ঘ) তে প্রদত্ত 'আলাওল' (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং 'ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর' (১৭১২-১৭৬০)  মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত।
১৪৩.
কোনটি 'মহুয়া' পালা'র চরিত্র?
  1. হুমরা বেদে
  2. নদের চাঁদ
  3. সাধু
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- 'মহুয়া' পালার রচনায় তাঁর যে উদার নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মূলে তাঁর ব্যক্তিজীবনের সংস্কারমুক্ত মানবিক বোধ সক্রিয় বলে ধারনা করা হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
- এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪৪.
'কঙ্ক ও লীলা' নিচের কোন লোকসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  2. মৈমনসিংহ গীতিকা
  3. নাথ গীতিকা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা
• 'কঙ্ক ও লীলা' মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত।

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• গীতিকা গুলো হলো:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ), দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা
- বিদ্যাসুন্দর
- রামায়ণ উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৫.
মৈমনসিংহ গীতিকায় অন্তর্ভুক্ত গীতিকা নয় কোনটি?
  1. দেওয়ান ভাবনা
  2. কাজলরেখা
  3. রূপবতী
  4. আয়না বিবি
সঠিক উত্তর:
আয়না বিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়না বিবি
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকায় অন্তর্ভুক্ত গীতিকা নয় - আয়না বিবি। এটি পূর্ববঙ্গ-গীতিকা

মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে:
 যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪৬.
দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত 'পূর্ব্ববঙ্গ-গীতিকা'র কোন খণ্ড 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' নামে প্রকাশিত?
  1. ক) প্রথম খণ্ড
  2. খ) দ্বিতীয় খণ্ড
  3. গ) তৃতীয় খণ্ড
  4. ঘ) চতুর্থ খণ্ড
সঠিক উত্তর:
ক) প্রথম খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রথম খণ্ড
ব্যাখ্যা
‘পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকা’র চারটি খণ্ডে মোট ৫৫টি পালা আছে। 

‘পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকা’র প্রথম খণ্ডটি ‘মৈমনসিংহ গীতিকা' নামে ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
এতে ১০টি পালা আছে :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ানা ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা। 

সূত্র: পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকা, (১ম ও ২য় খন্ড এর মুখবন্ধ থেকে নেয়া)
১৪৭.
‘দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক কে?
  1. ক) মনসুর বয়াতি
  2. খ) শাহ মুহাম্মদ গরীবুল্লাহ
  3. গ) আবদুল হাকিম
  4. ঘ) সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর:
ক) মনসুর বয়াতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মনসুর বয়াতি
ব্যাখ্যা
• ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক মনসুর বয়াতি।
• বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
• ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।
• ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: আলাল, দুলাল, মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৮.
‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ প্রকাশের কত বছর পূর্ণ হয়েছে?
  1. দ্বিশতবর্ষ
  2. সুবর্ণ জয়ন্তী
  3. শতবর্ষ
  4. সার্ধ শতবর্ষ
সঠিক উত্তর:
শতবর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শতবর্ষ
ব্যাখ্যা

⇒ পূর্ব বাংলার মানুষের সাহিত্যগাথা মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২৩ সালে। এ বছর পূর্ণ হলো সেই মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশের ১০০ বছর বা শতবর্ষ।

⇒ মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ নামে সংকলনটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৪৯.
'গোরাক্ষ বিজয়' কোন সাহিত্য ধারর অন্তর্ভুক্ত?
  1. মৈমনসিংহ গীতিকা
  2. মঙ্গলকাব্য 
  3. নাথসাহিত্য 
  4. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
সঠিক উত্তর:
নাথসাহিত্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাথসাহিত্য 
ব্যাখ্যা

নাথসাহিত্য:
নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনিভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনি বা আখ্যায়িকা।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য হলো:
'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
'গোর্থবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও শুকুর মাহমুদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং শুকুর মাহমুদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫০.
দ্বিজ কানাই রচিত পালা কোনটি?
  1. কমলা
  2. মলুয়া
  3. বিদ্যাসুন্দর
  4. মহুয়া
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- 'মহুয়া' পালার রচনায় তাঁর যে উদার নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মূলে তাঁর ব্যক্তিজীবনের সংস্কারমুক্ত মানবিক বোধ সক্রিয় বলে ধারনা করা হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

অন্যদিকে, 
• 'কমলা' দ্বিজ ঈশান রচিত পালা। 
• 'বিদ্যাসুন্দর' কবিকঙ্ক প্রণীত পালা। 
• 'মলুয়া' অজ্ঞাত তবে অনুমান করা হয় চন্দ্রাবতীর লেখা। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫১.
বাংলা টপ্পা গান কোন টপ্পা শৈলীর অনুকরণে প্রবর্তিত হয়েছে?
  1. ফারসি টপ্পার
  2. আরবি টপ্পার
  3. ফরাসি টপ্পার 
  4. হিন্দুস্থানি টপ্পার
সঠিক উত্তর:
হিন্দুস্থানি টপ্পার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দুস্থানি টপ্পার
ব্যাখ্যা
• টপ্পা গান:
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।

- রামনিধি গুপ্ত ছাপরা জেলায় চাকরি করাকালে একজন মুসলমান ওস্তাদের নিকট সঙ্গীতে তালিম নেওয়ার সময় শোরী মিঞার হিন্দুস্থানি টপ্পার সঙ্গে পরিচিত হন। তিনি চাকরিশেষে কলকাতায় এসে হিন্দুস্থানি টপ্পার আদলে বাংলা টপ্পা গানের প্রবর্তন করেন। তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)।

- এ গানের বৈশিষ্ট্য হলো একেকটি স্বরের ওপর মধ্যলয়ে দোলায়মান কম্পন দ্বারা গানের কথাগুলির গড়িয়ে গড়িয়ে অবরোহণ। নিধুবাবু বাংলা গানের কাব্যিক সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য শোরী মিঞার টপ্পার তানে ক্ষিপ্রতার বদলে কোমল কম্পন ব্যবহার করেন। তবে তিনি হিন্দুস্থানি টপ্পার রাগ ও তালের ব্যবহারে সাধারণত কোনো পরিবর্তন আনেননি।

- প্রেমসঙ্গীত ছাড়াও তিনি টপ্পার ছাঁচে ব্রহ্মসঙ্গীত রচনা করেছেন, যেমন: ‘পরমব্রহ্ম তৎপরাৎপর পরমেশ্বর/ নিরঞ্জন নিরাময় নির্বিশেষে সদাশয়/ আপনা আপনি হেতু বিভু বিশ্বধর।’ (বেহাগ/ আড়া)।

- নিধুবাবুর সমসাময়িককালে এবং কিছুকাল পরে যাঁরা বাংলা টপ্পা রচনায় অবদান রাখেন তাঁদের মধ্যে কালী মীর্জা ও শ্রীধর কথকের নাম উল্লেখযোগ্য।

• রামনিধি গুপ্ত রচিত বিখ্যাত টপ্পা:
নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫২.
জাত গেল জাত গেল বলে
একি আজব কারখানা
সত্য কাজে কেউ নয় রাজি
সবি দেখি তা না-না-না।।
- এই গানটির রচয়িতা কে?
  1. আব্দুল হাকিম
  2. লালন শাহ
  3. হাসন রাজা
  4. শাহ আবদুল করিম
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ
ব্যাখ্যা
লালন শাহ:
- তিনি বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা, গায়ক ছিলেন।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- এ তথ্যটি পাওয়া যায় তাঁর মৃত্যুর দুসপ্তাহ পরে হিতকরী (১৮৯০) পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ-নিবন্ধে।

লালন ফকিরের উল্লেখযোগ্য কয়েটি গান:
• খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কেমনে আসে যায়।।

• আমি অপার হয়ে বসে আছি
ও হে দয়াময়,
পারে লয়ে যাও আমায়।।

• জাত গেল জাত গেল বলে
একি আজব কারখানা
সত্য কাজে কেউ নয় রাজি
সবি দেখি তা না-না-না।।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৫৩.
লোক সাহিত্যধারা সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. ধর্ম ও মানবিকতা আছে
  2. ধর্ম আছে, মানবিকতা নেই
  3. ধর্ম নেই, মানবিকতা আছে
  4. ধর্ম নেই, মানবিকতা নেই
সঠিক উত্তর:
ধর্ম নেই, মানবিকতা আছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্ম নেই, মানবিকতা আছে
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য - ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা - বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- মধ্যুযগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫৪.
লোকসাহিত্যকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কী বলে আখ্যায়িত করেছিলেন?
  1. সাহিত্যের প্রাণস্পন্দন
  2. জনপদের হৃদয়-কলরব
  3. সমাজের প্রতিচ্ছবি
  4. ঐতিহ্যের প্রতিধ্বনি
সঠিক উত্তর:
জনপদের হৃদয়-কলরব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনপদের হৃদয়-কলরব
ব্যাখ্যা

• লোকসাহিত্য:
- লোকের মুখে মুখে প্রচলিত — কাহিনী, গান, ছড়া ইত্যাদি লোকসাহিত্যের ধারা।
- মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিমণ্ডলে একটি সংহত সমাজমানস থেকে এর উদ্ভব।
- সাধারণত অক্ষরজ্ঞানহীন পল্লিবাসীরা স্মৃতি ও শ্রুতির ওপর নির্ভর করে এর লালন করে।
- মূলে ব্যক্তিবিশেষের রচনা হলেও সমষ্টির চর্চায় তা পুষ্টি ও পরিপক্কতা লাভ করে।
- এজন্য লোকসাহিত্য সমষ্টির ঐতিহ্য, আবেগ, চিন্তা ও মূল্যবোধকে ধারণ করে।
- বিষয়, ভাষা ও রীতির ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারাই এতে অনুসৃত হয়।
- কল্পনাশক্তি, উদ্ভাবন-ক্ষমতা ও পরিশীলিত চিন্তার অভাব থাকলেও লোকসাহিত্যে শিল্পসৌন্দর্য, রস ও আনন্দবোধের অভাব থাকে না।

বিশেষ তথ্য:
• লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
তাই,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে — ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
• লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও  প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।

১৫৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন সাহিত্যকে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. বৈষ্ণব সাহিত্য
  2. নাথসাহিত্য
  3. লোকসাহিত্য
  4. মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর:
লোকসাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকসাহিত্য
ব্যাখ্যা
• লোকসাহিত্য:
- মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিমণ্ডলে একটি সংহত সমাজমানস থেকে এর উদ্ভব।
- সাধারণত অক্ষরজ্ঞানহীন পল্লিবাসীরা স্মৃতি ও শ্রুতির ওপর নির্ভর করে এর লালন করে।
- মূলে ব্যক্তিবিশেষের রচনা হলেও সমষ্টির চর্চায় তা পুষ্টি ও পরিপক্কতা লাভ করে।
- এজন্য লোকসাহিত্য সমষ্টির ঐতিহ্য, আবেগ, চিন্তা ও মূল্যবোধকে ধারণ করে।
- বিষয়, ভাষা ও রীতির ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারাই এতে অনুসৃত হয়।
- কল্পনাশক্তি, উদ্ভাবন-ক্ষমতা ও পরিশীলিত চিন্তার অভাব থাকলেও লোকসাহিত্যে শিল্পসৌন্দর্য, রস ও আনন্দবোধের অভাব থাকে না।

লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
তাই,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও  প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫৬.
পশুপাখিরা যখন চরিত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে অলৌকিক কাহিনি লিখিত হয় তখন তাকে কী বলে?
  1. উপকথা 
  2. রূপকথা
  3. ঝুলি
  4. গপ্প
সঠিক উত্তর:
উপকথা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকথা 
ব্যাখ্যা

উপকথা:
পশুপাখিরা যখন চরিত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে অলৌকিক কাহিনি লিখিত হয় তখন তাকে উপকথা বলে।
যেমন: বেঙ্গমা-
বেঙ্গমী, শুক-সারী, টোনা-টুনি কিংবা পক্ষীরাজ ঘোড়ার কাহিনি।

উল্লেখ্য,
• রূপকথা: 
- শিশুতোষ কল্পকাহিনি হলো রূপকথা।
- এগুলোতে রাক্ষস-খোক্ষস, দৈত-দাবন, জিন-পরি, রাজা-রানিদের কাহিনি থাকে।
- ঠাকুরমার ঝুলি ও ঠাকুরদাদার ঝুলি দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১৫৭.
বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক কে?
  1. ক) বিজয়গুপ্ত
  2. খ) নিধুবাবু
  3. গ) বিপ্রদাস পিপলাই
  4. ঘ) মালাধর বসু
সঠিক উত্তর:
খ) নিধুবাবু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিধুবাবু
ব্যাখ্যা
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫৮.
'আলাল’ - কোন পালার চরিত্র?
  1. মহুয়া
  2. দেওয়ানা মদিনা
  3. মলুয়া
  4. দেওয়ান ভাবনা
সঠিক উত্তর:
দেওয়ানা মদিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেওয়ানা মদিনা
ব্যাখ্যা

দেওয়ানা মদিনা:
- পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।

‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা, 
- সোনার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫৯.
দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা মতে, 'মহুয়া' পালা কে রচনা করেন?
  1. নয়নচাঁদ ঘোষ
  2. দ্বিজ কানাই
  3. চন্দ্রবতী
  4. দ্বিজ ঈশান
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

• মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তিদ্বয়:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

অন্যদিকে,
• ‘চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র’ নয়ানচাঁদ ঘোষ প্রণীত পালা। 
• ‘মলুয়া’ ও ‘দস্যু কেনারাম’ চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা।
• ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬০.
'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা কে?
  1. ভীমসেন রায়
  2. শ্যামাদাস সেন
  3. ভবানী দাস
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ভবানী দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবানী দাস
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনিভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনি বা আখ্যায়িকা।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য হলো:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও শুকুর মাহমুদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং শুকুর মাহমুদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬১.
নিম্নের কোনটি পূর্ববঙ্গ গীতিকার পালার অন্তর্ভুক্ত? 
  1. কাফেন চোরা
  2. কমল সওদাগর
  3. নেজাম ডাকাইতের পালা
  4. সবকয়টি 
সঠিক উত্তর:
সবকয়টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকয়টি 
ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা: 
- পূর্ববঙ্গ-গীতিকা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।

• সম্পাদনা ও প্রকাশ: 
- ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় পূর্ববঙ্গ-গীতিকা প্রকাশিত হয়।
- এর প্রকাশে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেন তৎকালীন উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।
- ড. দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত এবং চন্দ্রকুমার দে কর্তৃক সংগ্রহীত “পূর্ববঙ্গ-গীতিকা” গ্রন্থটি প্রথমবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এর সংকলন ও প্রকাশ প্রক্রিয়া ১৯২৩ থেকে ১৯৩২ সালের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পন্ন হয়।

• পূর্ববঙ্গ-গীতিকা তিন খন্ডে বিভক্ত।
- প্রথম খণ্ড: মৈমনসিংহ গীতিকা।

• সংগ্রাহক:
- প্রধান সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে।
- এছাড়া জসীমউদ্দীন, আশুতোষ চৌধুরী, নগেন্দ্রচন্দ্র দে প্রমুখের ভূমিকাও রয়েছে।

• বিষয়বস্তু:
- ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, ত্রিপুরা অঞ্চলের লোকগাঁথা ও পালা;
- সাধারণ মানুষের প্রেম, বেদনা, সামাজিক দ্বন্দ্ব ও ট্র্যাজেডির চিত্র।

• রচয়িতা: পল্লীর অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত সাধারণ মানুষ; মুখে মুখে রচিত ও গায়েনদের মাধ্যমে পরিবেশিত।
• গুরুত্ব: দীনেশচন্দ্র সেনের ইংরেজি অনুবাদ Eastern Bengal Ballads গ্রন্থের মাধ্যমে বিশ্বপরিসরে পরিচিতি লাভ করে।
• সংখ্যা: পূর্ববঙ্গ-গীতিকায় সংগৃহীত পালার সংখ্যা পঞ্চাশেরও বেশি।

• পালা:
- পূর্ববঙ্গ-গীতিকার পালার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
- ধোপার পাট, মইষাল বন্ধু, কাঞ্চন মালা, কমলা রানীর গান, মদনকুমার ও মধুমালা, নেজাম ডাকাইতের পালা, দেওয়ান ঈশা খাঁ, মাঞ্জুর মা, কাফেনচোরা, ভেলুয়া, হাতিখেদা, আয়নাবিবি, কমল সদাগর, চৌধুরীর লড়াই, গোপিনী-কীর্তন, সুজা-তনয়ার বিলাপ, বারতীর্থের গান, নূরুন্নেছা ও কবরের কথা, পরীবানুর হাঁইলা প্রভৃতি।
- অধিকাংশ পালা চতুর্দশ শতকে রচিত হলেও কিছু পালার সৃষ্টি ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৬২.
"সময় গেলে সাধন হবে না"- গানটির রচয়িতা কে?
  1. লালন শাহ্‌
  2. হাসন রাজা
  3. সিরাজ সাঁই
  4. মজনু ফকির
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ্‌
ব্যাখ্যা

• "সময় গেলে সাধন হবে না"- গানটির রচয়িতা লালন শাহ্‌।

• লালন শাহ্:
- লালন শাহ্ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
- তাই তিনি গেয়েছে - ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’

• তাঁর রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান:
- আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
- আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।
- খাচার ভিতর অচিন পাখি।
- বাড়ির কাছে আরশিনগর।
- সব লােকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
- সময় গেলে সাধন হবে না।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

১৬৩.
পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি-
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. শাহ মুহাম্মদ সগীর
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ফকির গরীবুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকির গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি- ফকির গরীবুল্লাহ।
------------------
• পুঁথি সাহিত্য:
- পুঁথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০)  আমীর হামজা রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন।
---------------------
- দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, আদি, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ।
- ফকির গরীবুল্লাহ না থাকলে উত্তর হবে সৈয়দ হামজা।
- মর্সিয়া‌ সাহিত্যের আদি কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
-------------------
• পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ফকির গরীবুল্লাহ্‌।
- তিনি ’আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন।

• ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য-
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- সােনাভান,
- জঙ্গনামা,
- সত্যপীরের পুঁথি ও
- ইউসুফ জোলেখা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬৪.
‘দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক কে?
  1. ক) শাহ্‌ মুহাম্মদ সগীর
  2. খ) সৈয়দ সুলতান
  3. গ) মনসুর বয়াতি
  4. ঘ) আবদুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
গ) মনসুর বয়াতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মনসুর বয়াতি
ব্যাখ্যা
• ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক মনসুর বয়াতি
• বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
• বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
• ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।
• ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: আলাল, দুলাল, মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬৫.
মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি কে?
  1. ক) আবদুল হাকিম
  2. খ) শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
-  মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয় শেখ ফয়জুল্লাহকে
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত মর্সিয়া সাহিত্যের গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা। গ্রন্থটি ১৫৭০ সালে রচনা করা হয়।
- মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি রাধারমণ গোপ। তাঁর রচিত গ্রন্থ সমূহ হচ্ছে ‘ইমামগণের কেচ্ছা' ‘আফনামা’।
- ‘মুক্তল হোসেন’ মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১৬৬.
দ্বিজ কানাই রচিত ময়মনসিংহ গীতিকা কোনটি?
  1. মহুয়া
  2. কমলা
  3. চন্দ্রাবতী
  4. দস্যু কেনারামের পালা
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

অন্যদিকে, 
• 'কমলা' পালার রচয়িতা দ্বিজ ঈশান। 
• 'চন্দ্রাবতী' পালার রচয়িতা নয়ানচাঁদ ঘোষ। 
• দস্যু কেনারামের পালার রচয়িতা চন্দ্রাবতী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬৭.
চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা কোনটি?
  1. মহুয়া পালা
  2. মলুয়া পালা
  3. দস্যু কেনারাম পালা
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
ব্যাখ্যা
• ‘দস্যু কেনারাম পালা’ ও ‘মলুয়া’ চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা।

-------------------
• চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য:
- রামায়ণ,
- মলুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'মহুয়া' পালার রচয়িতা দ্বিজ কানাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬৮.
'হারামণি' লোকসঙ্গীত সংকলন গ্রন্থটি সম্পাদনা করেন কে?
  1. মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন
  2. শুকুর মাহমুদ
  3. মনসুর বয়াতি
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন
ব্যাখ্যা
• লোকগীতি সংকলন ‘হারামণি’:
- মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন এর অক্ষয় কীর্তি হলো 'হারামণি'।
- এর মোট ১৩ খণ্ডে লোকসঙ্গীত সংকলন ও সম্পাদনা করে তিনি প্রভুত খ্যাতি অর্জন করেন।
- প্রতিটি খণ্ডের সম্পাদনায় তিনি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

---------------------------
• মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন:
- মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন ১৯০৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর থানার মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘বেদুইন মুসলমান’।
- মনসুরউদ্দীন মনেপ্রাণে ছিলেন বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি, বিশেষত লোকসংস্কৃতির একজন একনিষ্ঠ অনুরাগী।
- তিনি পদ্মার চরাঞ্চল এবং পাবনা-ফরিদপুর-কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে গান, ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, গল্প ইত্যাদি লোকসাহিত্যের অনেক উপাদান সংগ্রহ করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ফোকলোর চর্চা দেশের সুধীমহলের স্বীকৃতি লাভ করে।
- ১৯৮৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- শিরনী,
- ধানের মঞ্জরী,
- আগরবাতী,
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা (৩ খণ্ড: ১৯৬০-৬৬) ও
- ইরানের কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬৯.
'কমলা' - পালার রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজ কানাই
  2. দ্বিজ ঈশান
  3. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  4. মনসুর বয়াতি
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ ঈশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ ঈশান
ব্যাখ্যা

ভনিতা থেকে কিছু গীত রচয়িতার নাম জানা যায়,
যেমন:
- মহুয়া-দ্বিজ কানাই,
- চন্দ্রাবতী- নয়ানচাঁদ ঘোষ,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দস্যু কেনারামের পালা- চন্দ্রাবতী,
- দেওয়ানা মদিনা- মনসুর বয়াতি।

মৈমনসিংহ গীতিকা:

- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ  পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৭০.
মৈমনসিংহ গীতিকা কত সালে গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৩ সালে 
  2. ১৯২৬ সালে 
  3. ১৯২৯ সালে 
  4. ১৯৩৬ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে 
ব্যাখ্যা

 মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- গীতিকাগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা ২৩ টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- কেদারনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় প্রকাশিত "সৌরভ" পত্রিকায় এর দুইটি পালা প্রথম প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭১.
চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা কোনটি?
  1. বিদ্যাসুন্দর
  2. দস্যু কেনারাম পালা
  3. মহুয়া
  4. কমলা
সঠিক উত্তর:
দস্যু কেনারাম পালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দস্যু কেনারাম পালা
ব্যাখ্যা
• ‘দস্যু কেনারাম পালা’ চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা।

-------------------
• চন্দ্রাবতী:

- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য:
- রামায়ণ
- মলুয়া
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘বিদ্যাসুন্দর’ কবি কঙ্ক প্রণীত পালা।
• ‘কমলা’ পালার রচয়িতা দ্বিজ ঈশান।
• 'মহুয়া' পালার রচয়িতা দ্বিজ কানাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭২.
‘গোরক্ষবিজয়’ কাহিনির রচয়িতা কে?
  1. বিজয় গুপ্ত
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য:
- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনি ভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো শেখ ফয়জুল্লাহর ‘গোরক্ষবিজয়’।
- রাজা মাণিকচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান বা গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার কাহিনি।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭৩.
নাথ সাহিত্যের কবি নন কে?
  1. শেখ ফয়জুল্লা
  2. শ্যামদাস সেন
  3. ভীম সেন
  4. রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
রামপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• নাথ সাহিত্যের কবি নন- রামপ্রসাদ সেন। 

--------------------------
• নাথ সাহিত্যের কবিগণ:

- নাথধর্ম সংক্রান্ত গল্পকাহিনি নিয়ে যেসব সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে তা দীর্ঘদিন পর্যন্ত লোকচক্ষুর অন্তরালেই ছিল। ১৮৭৮ সালে প্রথমবার স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন রংপুর থেকে সংগৃহীত একটি গীতিকা 'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' নাম দিয়ে এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশ করেন। পরবর্তী কালে উত্তর ও পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে 'ময়নামতীর গান', 'গোপীচন্দ্রের গান,' 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' ইত্যাদি বিভিন্ন নামে একই কাহিনিভিত্তিক পুঁথি আবিষ্কৃত হয়েছে।

- আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ শেখ ফয়জুল্লাকৃত 'গোরক্ষবিজয়' কাব্যের পুঁথি আবিষ্কার করে প্রকাশ করেছেন। 'গোর্খবিজয়' নামে অন্য একটি পুঁথি পঞ্চানন মণ্ডল কর্তৃক সম্পাদিত হয়েও প্রকাশিত হয়েছে। এই সব গ্রন্থ থেকে নাথসাহিত্যের পরিচয় লাভ করা যায়।

- গোরক্ষনাথ-মীননাথের কাহিনি অবলম্বনে রচিত যে সব কাব্য সম্পাদিত হয়ে প্রকাশ পেয়েছে সেগুলো হল:
১. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সম্পাদিত কবি শেখ ফয়জুল্লার 'গোরক্ষবিজয়',
২. ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত কবি শ্যামদাস সেনের 'মীনচেতন' এবং
৩. ড. পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত কবি ভীম সেনের 'গোর্খবিজয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
১৭৪.
বাংলা সাহিত্যে 'লেটো' কী হিসেবে পরিচিত?
  1. বাউলগান
  2. লোকগান
  3. শাক্ত পদাবলি
  4. ভাটিয়ালী গান 
সঠিক উত্তর:
লোকগান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকগান
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যে 'লেটো' - এক ধরনের লোকগান হিসেবে পরিচিত।
--------------------
• লেটো গান সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য:
লেটো গান - পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে প্রচলিত এক প্রকার লোকসঙ্গীত। এটি যাত্রাগানের প্রকারভেদ। যাত্রাগানের মতোই পালার আকারে রচিত এ গান নৃত্য ও অভিনয়সহ পরিবেশন করা হয়; সঙ্গে থাকে বাদকদল।

- লেটো গান শুরু হয় বন্দনা দিয়ে। সখি, সঙদার, পাঠক বিভিন্ন নামে নট-নটীরা গান ও নাচ পরিবেশন করে। 
- এর বিষয়বস্ত্ত সামাজিক রঙ্গরস ও আটপৌরে গ্রামীণ জীবন; পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়েও পালা রচিত হয়।  
- কাজী নজরুল ইসলাম শৈশবকালে লেটোদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- তাঁর রচিত রাজপুত্রের সঙ, চাষার সঙ, আকবর বাদশা প্রভৃতি লেটো গানের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- লেটো গানে অনেক সময় দুটি দলের মধ্যে প্রতিযোগিতাও হয়; দলের প্রধানকে বলা হয় ‘গোদা কবি’।
-------------------- 
• লোকসঙ্গীত নিয়ে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: 
- 'ভাওয়াইয়া' মূলত রংপুর অঞ্চলের গান। মূলত গরুর গাড়ি চালকদের মুখে এ গান শোনা যায়।
- 'গম্ভীরা' বৃহত্তর রাজশাহী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) অঞ্চলের গান।
- 'জারি গান' মূলত ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চলের গান। এটি মূলত দুই পক্ষের মধ্যে গানের প্রতিযোগিতা।
- 'ভাটিয়ালী' মূলত ময়মনসিংহ অঞ্চলের গান।
- 'চটকা' রংপুর অঞ্চলের গান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট।

১৭৫.
‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম -
  1. লীলাবতী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. শ্যামা
  4. রত্নাবতী
সঠিক উত্তর:
লীলাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লীলাবতী
ব্যাখ্যা

• ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম - লীলাবতী।

খনার বচন:
- খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি।
- ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি
- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত।
- এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৭৬.
বাউল মতের উদ্ভব ঘটে কত শতাব্দীতে? 
  1. ষোড়শ শতাব্দী
  2. সপ্তদশ শতাব্দী
  3. ঊনবিংশ শতাব্দী
  4. বিংশ শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
সপ্তদশ শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তদশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা

বাউল পদাবলি:
- বাউল পদাবলি হলো গান বা পদাবলির মাধ্যমে বাউলদের আধ্যাত্মিকতা, জীবনদর্শন ও সাধনার প্রকাশ।
- বাউল গান বাংলা লোকসাহিত্যের অংশ। 
- বাউল মতের উদ্ভব ঘটে সপ্তদশ শতাব্দীতে।
- এই মত ঊনবিংশ শতাব্দীতে জনপ্রিয় হয়।
- বিশেষ করে লালন শাহ সাধারণ মানুষের কাছে বাউল গান পৌঁছে দেন এবং এটি জনপ্রিয় করেন।
- বাউল গান বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ইউনেস্কো’র ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এ অন্তর্ভুক্ত; ২০০৫ সালে ইউনেস্কো বাউল গানকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে।
- লালন শাহকে বাউল সম্রাট বলা হয়। 
- তাঁর দর্শন ও গানের প্রভাব বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ বহু শিল্পী ও সাধকের ওপর পড়েছে।

• গুরুত্বপূর্ণ বাউল সাধক:
- সিরাজ শাহ, 
- লালন শাহ, 
- পাঞ্জু শাহ, 
- শাহ আব্দুল করীম, 

• লালন ফকিরের উল্লেখযোগ্য কিছু গান:
- খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়, আমি অপার হয়ে বসে আছি ও হে দয়াময়, পারে লয়ে যাও আমায়।
- জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা, সত্য কাজে কেউ নয় রাজি, সবি দেখি তা না-না-না।
- সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে, লালন কয় জাতের কী রূপ আমি দেখলাম না দুই নজরে।
- সময় গেলে সাধন হবে না, দিন থাকতে দ্বীনের সাধন কেন জানলে না।
- গুরু গো… ও ও ও বেধ বিধির পথ শাস্ত্র কানা, আর এক কানা মন আমার এসব দেখি কানার হাট বাজার।
- বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা এক পড়শি বসত করে, আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৭৭.
'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' এর প্রথম সংগ্রাহক কে?
  1. জর্জ গ্রীয়ার্সন
  2. চন্দ্রকুমার দে
  3. দীনেশ্চন্দ্র সেন 
  4. স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
জর্জ গ্রীয়ার্সন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ গ্রীয়ার্সন
ব্যাখ্যা

 • নাথগীতিকা:
- স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন ১৮৭৮ সালে রংপুর জেলার মুসলমান কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে 'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' প্রকাশ করলে 'নাথগীতিকা' সুধীসমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- এইগুলো এক শ্রেণির ঐতিহাসিক রচনা।
- ইতিহাসের কোন বিস্মৃত যুগে এই গীতিকার নায়ক রাজা গোপীচাঁদ বা গোবিন্দচন্দ্র মায়ের নির্দেশে তরুণ যৌবনে দুই নবপরিণীতা বধূ প্রাসাদে রেখে সন্ন্যাস অবলম্বন করেছিলেন এই কাহিনি কেন্দ্র করেই নাথগীতিকার উদ্ভব।
- নাথসম্প্রদায়ভুক্ত গুরুবাদী যোগিগণ তাঁদের গুরুর অলৌকিক মহিমাকীর্তন প্রসঙ্গে এই গীতিকা দেশবিদেশে প্রচার করেছেন।
- নাথগীতিকার দুটি বিভাগ: প্রথমটি তরুণ রাজপুত্র গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাসের কাহিনি। এ সম্পর্কিত গীতিকা 'গোরক্ষবিজয়', 'মীনচেতন' নামে পরিচিত।
- অপর শ্রেণির গীতিকাগুলো 'মাণিক রাজার গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গীত', 'ময়নামতীর গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গান', 'গোপীচাঁদের সন্ন্যাস', 'গোপীচাঁদের পাঁচালী' ইত্যাদি নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৭৮.
নারীর নানা আচরণীয় ও অনাচরণীয় বিষয় আলোচিত হয় কোথায়?
  1. ক) ব্রতকথা
  2. খ) প্রবাদ
  3. গ) রূপকথা
  4. ঘ) উপকথা
সঠিক উত্তর:
ক) ব্রতকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ব্রতকথা
ব্যাখ্যা
নারীর নানা আচরণীয় ও অনাচরণীয় বিষয় হলো ব্রতকথা মূল উপজীব্য।
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
১৭৯.
মধ্যুযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. জীবনী সাহিত্য
  2. অনুবাদ সাহিত্য
  3. লোক সাহিত্য
  4. নাথ সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ। মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।

- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- 'কানু ছাড়া গীত নাই' উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যুযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৮০.
'আপন ঘরে বোঝাই সোনা, পরে করে লেনা দেনা।' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) করিম শাহ
  2. খ) আব্দুল হাকিম
  3. গ) লালন শাহ
  4. ঘ) আলাউদ্দিন খাঁ
সঠিক উত্তর:
গ) লালন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লালন শাহ
ব্যাখ্যা
বাউল গান লোকগীতির একটি বিশেষ অংশ। বাউল গান মূলত বাউল সম্প্রদায়ের গান। শ্রেষ্ঠ বাউল গান রচয়িতা লালন শাহ। তাকে বাউল সম্রাট বলা হয়। তার রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গান- 'কেউ মালায় কেউ তসবি গলায়, তাইতে যে জাত ভিন্ন বলায়।', 'জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা', 'আপন ঘরে বোঝাই সোনা, পরে করে লেনা দেনা।', 'খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়।', 'আমি অপার হয়ে বসে আছি।', 'তিন পাগলে হলো মেলা নদে এসে।', 'এসব দেখি কানার হাট বাজার।', 'মিলন হবে কত দিনে.....।' উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৮১.
কোনটি বাউল গানের বৈশিষ্ট্য?
  1. বীরত্বগাথা ও ভক্তিমূলক
  2. মানবিক আবেগ ও দৈনন্দিন জীবন
  3. আধ্যাত্মিক প্রেম ও অন্তর্গত অনুসন্ধান
  4. পল্লী জীবনের সুখ দুঃখ
সঠিক উত্তর:
আধ্যাত্মিক প্রেম ও অন্তর্গত অনুসন্ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধ্যাত্মিক প্রেম ও অন্তর্গত অনুসন্ধান
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর- আধ্যাত্মিক প্রেম ও অন্তর্গত অনুসন্ধান। 

------------------
বাউল গান: সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ-

বাউল গান হলো বাউল সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক লোকসংগীত। বাউলরা একটি লৌকিক ধর্মীয় সম্প্রদায়, যারা দেহতত্ত্ব ও আত্মসাধনাভিত্তিক এক বিশেষ ধর্মমত পালন করেন। এই ধর্মের কোনো লিখিত শাস্ত্র বা গ্রন্থ নেই; সবকিছু মৌখিক ধারায় গানের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। বাউলরা ধর্মীয় তত্ত্ব ও দর্শন, জীবনবোধ ও আদর্শের কথা গানের ভাষায় প্রকাশ করে সাহিত্যে। 

বাউল গানের মূল ভাবধারা:
• দেহকে মন্দির মনে করে দেহসাধনার মাধ্যমে মানবাত্মা ও পরমাত্মার মিলন সাধন করা।
• পরমাত্মাকে বিভিন্ন প্রতীকী ভাষায় অভিহিত করা হয় — যেমন: মানুষ, মনের মানুষ, অচিন পাখি, মনুরায় ইত্যাদি।
• সাধনা গুরু-নির্ভর; গুরুর দীক্ষা নিয়ে যোগসাধনা, আচার-অনুষ্ঠান ও প্রেম-ভক্তির মাধ্যমে এই মিলন সম্ভব।
• বাউল গানে প্রধানত স্থান পায়: আত্মতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, গুরুতত্ত্ব, প্রেমতত্ত্ব, সৃষ্টিতত্ত্ব, মানুষতত্ত্ব।

বাউল গানের প্রধান স্রষ্টা: লালন শাহ (১৭৭৪–১৮৯০)- 
• জন্ম: কুষ্টিয়ার ভাড়রা গ্রাম (মতান্তরে যশোরের হরিশপুর)
• সাধনাস্থল: কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া (এখানেই তাঁর আস্তানা ও সমাধি)
• অবদান: আনুমানিক ২০০০–২৫০০টি বাউল গান রচনা করেন।
• নিজে গাইতেন এবং শিষ্যদের মাধ্যমে ধারাটি ছড়িয়ে দেন।
----------------------

প্রশ্নে প্রদত্ত অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
ক) বীরত্বগাথা ও ভক্তিমূলক:
[বাউল গানে বীরত্বগাথা (যুদ্ধ-বীরত্বের কাহিনী) নেই। ভক্তিমূলক উপাদান আছে, কিন্তু এটি প্রধান বৈশিষ্ট্য নয়। বাউল গান মূলত দেহতত্ত্ব, আত্মানুসন্ধান ও অধ্যাত্মিক প্রেম-কেন্দ্রিক।]

খ) মানবিক আবেগ ও দৈনন্দিন জীবন:
[মানবিক আবেগ (প্রেম, বিরহ, মানবতা) আছে, কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ বর্ণনা বাউল গানের মূল লক্ষ্য নয়। এগুলো প্রতীকী ভাষায় (যেমন অচিন পাখি, মনের মানুষ) আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের জন্য ব্যবহৃত হয়।]

গ) আধ্যাত্মিক প্রেম ও অন্তর্গত অনুসন্ধান:
[এটিই সবচেয়ে সঠিক ও প্রধান বৈশিষ্ট্য। বাউল গান দেহ-কেন্দ্রিক আধ্যাত্মিক সাধনা, পরমাত্মার সাথে মানবাত্মার মিলন, আধ্যাত্মিক প্রেম (ভক্তি-রাগ), গুরুতত্ত্ব, প্রেমতত্ত্ব, আত্মতত্ত্ব ইত্যাদি নিয়ে গড়ে ওঠে। লালন শাহের গানে এই অন্তর্গত অনুসন্ধান (অন্তর্মুখী খোঁজ, মনের মানুষের সন্ধান) স্পষ্ট। UNESCO-ও Baul songs-কে spiritual liberation ও God-এর সাথে সম্পর্কের অনুসন্ধান হিসেবে বর্ণনা করে।

ঘ) পল্লী জীবনের সুখ দুঃখ:
[পল্লী/গ্রামীণ জীভনের সুখ-দুঃখ অনেক লোকগানে (যেমন ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া) থাকে, কিন্তু বাউল গানের মূল বিষয় নয়। বাউলরা যাযাবর, দেহ-আত্মা-পরমাত্মার রহস্য নিয়ে গান করে, দৈনন্দিন দুঃখ-সুখের বর্ণনা গৌণ।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৮২.
কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকায় স্থান পেয়েছে?
  1. ভেলুয়া
  2. দস্যু কেনারামের পালা
  3. রতন ঠাকুর
  4. আয়না বিবি
সঠিক উত্তর:
দস্যু কেনারামের পালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দস্যু কেনারামের পালা
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকায় গীতিকায় স্থান পেয়েছে - দস্যু কেনারামের পালা

অন্যদিকে,
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা - আয়না বিবি, রতন ঠাকুর, ভেলুয়া।

মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে:
 যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৮৩.
পুথি সাহিত্যের গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামান
  2. কারবালার যুদ্ধ
  3. দেওয়ান মদিনা
  4. সত্যপীরের পুঁথি
সঠিক উত্তর:
দেওয়ান মদিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেওয়ান মদিনা
ব্যাখ্যা
• পুথি সাহিত্যের গ্রন্থ নয়- দেওয়ান মদিনা।
• 'দেওয়ান মদিনা' মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত পালা।

------------------
• পুথি সাহিত্য:

- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণির বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল।
- এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- পুঁথি সাহিত্যের আদি ও সার্থক কবি হলেন ফকির গরীবুল্লাহ।

বিষয়বস্তু অনুসারে পুঁথি সাহিত্যকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করা যায়-
• প্রণয়োপাখ্যান জাতীয় কাব্য:
ইউসুফ জোলেখা, সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামান, লাইলী মজনু, পদ্মাবতী, গুলে বাকওয়ালী ইত্যাদি।

• যুদ্ধ সম্পর্কিত কাব্য:
- জঙ্গনামা, আমীর হামজা, সোনাভান, কারবালার যুদ্ধ ইত্যাদি।

• পীর পাঁচালি:
- গাজী কালু চম্পাবতী, সত্যপীরের পুঁথি

• ইসলাম ধর্ম, ইতিহাস নবী আউলিয়ার জীবনী ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কিত কাব্য
- কাসাসুল আম্বিয়া, তাজকিরাতুল আউলিয়া, হাজার মসলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮৪.
"নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?" কোন ধারার সঙ্গীত?
  1. পালাগান
  2. টপ্পা গান
  3. মর্সিয়া সঙ্গীত
  4. বাউল গান
সঠিক উত্তর:
টপ্পা গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টপ্পা গান
ব্যাখ্যা
• টপ্পা গান:
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।

- রামনিধি গুপ্ত ছাপরা জেলায় চাকরি করাকালে একজন মুসলমান ওস্তাদের নিকট সঙ্গীতে তালিম নেওয়ার সময় শোরী মিঞার হিন্দুস্থানি টপ্পার সঙ্গে পরিচিত হন। তিনি চাকরিশেষে কলকাতায় এসে হিন্দুস্থানি টপ্পার আদলে বাংলা টপ্পা গানের প্রবর্তন করেন। তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)।

- এ গানের বৈশিষ্ট্য হলো একেকটি স্বরের ওপর মধ্যলয়ে দোলায়মান কম্পন দ্বারা গানের কথাগুলির গড়িয়ে গড়িয়ে অবরোহণ। নিধুবাবু বাংলা গানের কাব্যিক সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য শোরী মিঞার টপ্পার তানে ক্ষিপ্রতার বদলে কোমল কম্পন ব্যবহার করেন। তবে তিনি হিন্দুস্থানি টপ্পার রাগ ও তালের ব্যবহারে সাধারণত কোনো পরিবর্তন আনেননি।

- প্রেমসঙ্গীত ছাড়াও তিনি টপ্পার ছাঁচে ব্রহ্মসঙ্গীত রচনা করেছেন, যেমন: ‘পরমব্রহ্ম তৎপরাৎপর পরমেশ্বর/ নিরঞ্জন নিরাময় নির্বিশেষে সদাশয়/ আপনা আপনি হেতু বিভু বিশ্বধর।’ (বেহাগ/ আড়া)।

- নিধুবাবুর সমসাময়িককালে এবং কিছুকাল পরে যাঁরা বাংলা টপ্পা রচনায় অবদান রাখেন তাঁদের মধ্যে  কালী মীর্জা ও শ্রীধর কথকের নাম উল্লেখযোগ্য।

• রামনিধি গুপ্ত রচিত বিখ্যাত টপ্পা:
নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮৫.
টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম -
  1. সংগীতচিন্তা
  2. গীতরত্ন
  3. সঙ্গীতসার
  4. গীতবিতান
সঠিক উত্তর:
গীতরত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতরত্ন
ব্যাখ্যা
• টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)।

টপ্পা গান:

- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।

রামনিধি গুপ্ত:
- রামনিধি গুপ্তর ডাক নাম নিধু (বাবু)।
- তিনি বাংলা টপ্পাগানের প্রবর্তক।
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা:

নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮৬.
বাউল গান কী ধরনের সাহিত্য?
  1. মুখ্য সাহিত্য 
  2. গৌণ সাহিত্য
  3. তত্ত্ব সাহিত্য
  4. বজ্রযান সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
তত্ত্ব সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তত্ত্ব সাহিত্য
ব্যাখ্যা

• বাউল গানকে — তত্ত্ব সাহিত্য বলা হয়।
---------------
বাউল গান ও বাউল সম্প্রদায়:

বাউল গান:
• বাউলদের আধ্যাত্মিক গানকে বাউল গান বা বাউল সংগীত বলা হয়।
• বাউলরা ধর্মীয় তত্ত্ব, দর্শন, জীবনবোধ ও আদর্শ গানেই প্রকাশ করেন।
• মৌখিক ধারার গান হওয়ায় এটি মূলত লোক-সাহিত্য।
• বাউলরা তাঁদের গানকে ধর্মের অঙ্গ বলে মনে করেন।

বাউল সম্প্রদায়:
• বাউল একটি ধর্মীয় লোক-সম্প্রদায়।
• তাঁরা দেহতত্ত্বাশ্রিত ও অধ্যাত্মমুখী লৌকিক ধর্মমত পোষণ করেন।
• এ ধর্মমতকে ‘বাউল ধর্মমত’ বলা হয়।
• এ সম্প্রদায়ের কোনো লিখিত সাহিত্য বা শাস্ত্র নেই।

গান পরিবেশনের উপলক্ষ:
- ধর্মীয় আসর
- ওরস উৎসব
- ভিক্ষোপজীবিকা
- অন্যান্য আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্র।

বাউল সাধনা ও তত্ত্ব:
• তাঁরা ‘দেহতত্ত্ব’-এর সাধনা দ্বারা পরমাত্মার সন্ধান করেন।
• মানুষের দেহেই পরমাত্মার অবস্থান আছে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন।
• মানুষ, মনের মানুষ, অচিন পাখি, মনুরায় প্রভৃতি প্রতীকের মাধ্যমে তাঁরা পরমাত্মাকে বোঝান।
• মানবাত্মা ও পরমাত্মার মিলন সাধনই তাঁদের সাধনার মূল লক্ষ্য।
• এই মিলন অধ্যাত্মপ্রেম ও ভক্তি দ্বারা সম্ভব।

বাউল গানের মূল তত্ত্বসমূহ
• আত্মতত্ত্ব → মনের প্রস্তুতি;
• দেহতত্ত্ব → সাধনার রীতি-পদ্ধতি;
• গুরুতত্ত্ব → গুরুর চরণে শরণ;
• প্রেমতত্ত্ব → ভক্তি ও ভালোবাসা;
• সৃষ্টিতত্ত্ব → জীবসৃষ্টির রহস্য;
• মানুষতত্ত্ব → পরমাত্মার মিলনাকাঙ্ক্ষা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৮৭.
লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি কোনটি?
  1. ধাঁধা
  2. ছড়া
  3. কাব্য
  4. গান
সঠিক উত্তর:
ছড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছড়া
ব্যাখ্যা
• লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি - ছড়া।

• লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- লোকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে 'জনপদের হৃদয়-কলরব' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।
- লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি ছড়া।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১৮৮.
'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা' লোকসাহিত্য সংকলনের অন্তর্ভুক্ত পালা কোনটি?
  1. দেওয়ান ভাবনা
  2. কমলারাণী
  3. রূপবতী
  4. কঙ্ক ও লীলা
সঠিক উত্তর:
কমলারাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমলারাণী
ব্যাখ্যা

• 'কমলারাণীর পালা' পূর্ববঙ্গের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় লোককাহিনী ভিত্তিক নাট্যমূলক পালা বা পালা গান। এটি মূলত জমিদার জানকীনাথ মল্লিকের স্ত্রী কমলা রানীর বাস্তব কাহিনি অবলম্বনে রচিত একটি করুণ আখ্যান, যেখানে একটি দীঘি খননের কাহিনি ফুটে উঠেছে। কুদ্দুস বয়াতি ও অন্যান্য শিল্পীদের কণ্ঠে এই কাহিনীটি পালা গান হিসেবে প্রচলিত। 

• 'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা':

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন। পূর্ববাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পালাগুলো সংগ্রহ করা হয়। এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্‌দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।

পূর্ববঙ্গ-গীতিকাগুলো হলো:
- ভেলুয়া,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী ইত্যাদি।

-------------------------
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৮৯.
লোকসাহিত্য কাকে বলে?
  1. গ্রামীণ নরনারীর প্রণয় সংবলিত উপাখ্যানকে
  2. লোক সাধারণের কল্যাণে দেবতার স্তুতিমূলক রচনাকে
  3. লোকের মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনী, গান, ছড়া ইত্যাদিকে
  4. গ্রামীণ অশিক্ষিত ও অখ্যাত লোকের সৃষ্ট রচনাকে
সঠিক উত্তর:
লোকের মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনী, গান, ছড়া ইত্যাদিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকের মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনী, গান, ছড়া ইত্যাদিকে
ব্যাখ্যা
• লোকের মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনী, গান, ছড়া ইত্যাদি লোকসাহিত্যের ধারা।

---------------------
• লোকসাহিত্য:

- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়। একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিমণ্ডলে একটি সংহত সমাজমানস থেকে এর উদ্ভব।
- সাধারণত অক্ষরজ্ঞানহীন পল্লিবাসীরা স্মৃতি ও শ্রুতির ওপর নির্ভর করে এর লালন করে। মূলে ব্যক্তিবিশেষের রচনা হলেও সমষ্টির চর্চায় তা পুষ্টি ও পরিপক্কতা লাভ করে। এজন্য লোকসাহিত্য সমষ্টির ঐতিহ্য, আবেগ, চিন্তা ও মূল্যবোধকে ধারণ করে।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, কথা, ধাঁধাঁ, ছড়া ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৯০.
বাংলা লোকসাহিত্য সংশ্লিষ্ট 'আলকাপ' হলো এক প্রকার-
  1. সারিগান
  2. কর্মসংগীত
  3. পালাগান
  4. বিবেকের গান
সঠিক উত্তর:
পালাগান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালাগান
ব্যাখ্যা
• আলকাপ গান পালাগানের একটি শাখা।

• আলকাপ গান: 
- সাধারণত পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও মালদহ এবং বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলে এ গানের প্রচলন বেশি।
- আলকাপ একটি দলীয় ও মিশ্র প্রকৃতির সঙ্গীত প্রদর্শন। এতে নাচ, গান, কথা, ছড়া, অভিনয় ইত্যাদির মিশ্রণ আছে। 
 - আলকাপ গানের প্রধান দুটি অংশ- গান গাওয়া ও বোল বা ছড়া কাটা।
- গানের বিষয়বস্ত্ত সাধারণত রাধাকৃষ্ণলীলা ও অন্যান্য পৌরাণিক কথা, আর ছড়ার বিষয়বস্ত্ত সমকালের সামাজিক ঘটনা। 
- সারি গান  এক প্রকার  লোকসঙ্গীত, যা শ্রমসঙ্গীত বা কর্মসঙ্গীত নামেও পরিচিত।
- নৌকার মাঝি-মাল্লাদের গান হিসেবেই এর প্রধান পরিচয়।
- মাঝিরা সারিবদ্ধভাবে বসে বৈঠা টানার তালে তালে এ গান গায় বলেই এর নাম হয়েছে সারি গান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১৯১.
'দেওয়ান ভাবনা' কোন সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  2. নাথ গীতিকা 
  3. মর্সিয়া সাহিত্য 
  4. মৈমনসিংহ গীতিকা
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা

• 'দেওয়ান ভাবনা' মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত।

--------------------
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

গীতিকা গুলো হলো:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- দেওয়ান ভাবনা,
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা, 
- বিদ্যাসুন্দর উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৯২.
নাথসাহিত্য কোন যুগের বাংলা সাহিত্যের ধারা?
  1. উত্তরাধুনিক যুগ
  2. আধুনিক যুগ
  3. প্রাচীন যুগ
  4. মধ্যযুগ
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগ
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্য: 
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা। 

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য: 
» গোরাক্ষ বিজয় --- শেখ ফয়জুল্লাহ। 
» গোপীচন্দ্রের সন্যাস --- শুকুর মুহম্মদ। 
» মীনচেতন --- শ্যামাদাস সেন। 
» ময়নামতির গান --- ভবানী দাস। 
» গোর্খবিজয় --- ভীমসেন রায়। 

নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও সুকুর মহম্মদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল। 
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং
সুকুর মহম্মদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া। 
১৯৩.
কত সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১৭ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯১৯ সালে
  4. ১৯২৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
- দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়। এটি ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯৪.
পূর্ববঙ্গ গীতিকা'র পালাসমূহের কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. এশিয়াটি সোসাইটি
  2. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. কল্লোল পত্রিকা
  4. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
সঠিক উত্তর:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

• পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরণের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৯৫.
'হারামণি' কিসের সংকলন?
  1. লোকগীতি
  2. নাটক
  3. ছড়া
  4. ছোট গল্প
সঠিক উত্তর:
লোকগীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকগীতি
ব্যাখ্যা
• লোকগীতি সংকলন ‘হারামণি’:
- মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন এর অক্ষয় কীর্তি হলো 'হারামণি'।
- এর মোট ১৩ খণ্ডে লোকসঙ্গীত সংকলন ও সম্পাদনা করে তিনি প্রভুত খ্যাতি অর্জন করেন।
- প্রতিটি খণ্ডের সম্পাদনায় তিনি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

• মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন:
- ১৯০৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর থানার মুরারিপুর গ্রামে জন্ম।
- পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘বেদুইন মুসলমান’।
- মনসুরউদ্দীন মনেপ্রাণে ছিলেন বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি, বিশেষত লোকসংস্কৃতির একজন একনিষ্ঠ অনুরাগী।
- তিনি পদ্মার চরাঞ্চল এবং পাবনা-ফরিদপুর-কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে গান, ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, গল্প ইত্যাদি লোকসাহিত্যের অনেক উপাদান সংগ্রহ করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ফোকলোর চর্চা দেশের সুধীমহলের স্বীকৃতি লাভ করে।
- ১৯৮৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- শিরনী,
- ধানের মঞ্জরী,
- আগরবাতী,
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা (৩ খণ্ড: ১৯৬০-৬৬) ও
- ইরানের কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৯৬.
'ঠাকুরমার ঝুলি' কী জাতীয় রচনার সংকলন?
  1. ক) রূপকথা
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) গ্রাম্য কবিতা
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ক) রূপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রূপকথা
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে রূপকথার অন্যতম সংকলন ‘ঠাকুরমার ঝুলি’। 
- গ্রন্থটি সংকলন করেন- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার।
- এটি প্রকাশিত হয়েছিলো- ১৯০৭ সালে।
- এর পরবর্তী খন্ড- ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’ যা ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার - দৃষ্টিহীন ছদ্মনামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯৭.
পশুপক্ষীর চরিত্র অবলম্বনে যেসব কাহিনি গড়ে উঠেছে সেগুলোর নাম -
  1. উপকথা
  2. ধাঁধাঁ
  3. ব্রতকথা
  4. রূপকথা
সঠিক উত্তর:
উপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকথা
ব্যাখ্যা
উপকথা:
- পশুপক্ষীর চরিত্র অবলম্বনে যেসব কাহিনি গড়ে উঠেছে সেগুলোর নাম উপকথা।
- কৌতুকসৃষ্টি ও নীতিপ্রচারের জন্যই এগুলোর সৃষ্টি।
- এতে মানবচরিত্রের মতই পশুপাখির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে বক্তব্য পরিবেশিত হয়েছে।
- অনেক ক্ষেত্রে মানুষের মতই পশু-পাখিরা কথাবার্তা বলে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করেছে।
- কেবল পশুপক্ষীর চরিত্রই যে উপকথার বিষয়বস্তু তা নয়, মানবচরিত্রও এগুলোতে স্থান পেয়েছে।
- পশুপক্ষী অনেক ক্ষেত্রে রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- গল্পের বর্ণনায় পুনরাবৃত্তি এসে বর্ণনাকে আকর্ষণীয় করে তোলে। যেমন -'কাক ও চড়ুই পাখি' গল্পে বলা হয়:

'গেরস্ত ভাই, দাও ত আগুন, গড়ব কাস্তে, কাটব ঘাস, খাবে গাই, দিবে দুধ, খাবে কুকুর, হবে তাজা, মারবে মোষ, লব শিং, খুঁড়ব মাটি, গড়ব ঘটি, তুলব জল, ধুব ঠোঁট-তবে খাব চড়ুইর বুক।'

অন্যদিকে,
ব্রতকথা:
- বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেয়েলি ব্রতের সঙ্গে সম্পর্কিত কাহিনি অবলম্বনে ব্রতকথা নামে এক ধরনের লোককথার বিকাশ ঘটেছে।
- এ সব কাহিনিতে যে ধর্মবোধের কথা বলা হয়েছে তাতে মেয়েদের  জাগতিক কল্যাণই নিহিত।
- ব্রতকথার কাজ গার্হস্থ্য বর্তব্য সাধন। গার্হস্থ্য সুখসমৃদ্ধি বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা মিটানো এর লক্ষ্য।

রূপকথা:
- অন্যান্য লোককথার চেয়ে রূপকথার কাহিনি দীর্ঘতর হয়ে থাকে।
- রূপকথার মাধ্যমে এক অজানা রহস্যময় জগতের বিচিত্র কাহিনি শ্রোতার কাছে পরিবেশিত হয়।
- এসব কাহিনিতে বিভিন্ন রাজ্য ও রাজপুত্রের উল্লেখ থাকে।
- ভৌগোলিক মাপকাঠিতে সে সব রাজ্যের কোন পরিচয় থাকে না।
- নানা অলৌকিক ও অবিশ্বাস্য ঘটনা এতে ভীড় করে। বাস্তব রাজ্যের সঙ্গে রূপকথার কোন সম্পর্ক নেই।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৯৮.
গোপীচন্দ্রের কাহিনি কোন সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পুঁথি সাহিত্য
  2. মৈমনসিংহ গীতিকা
  3. নাথসাহিত্য
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নাথসাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাথসাহিত্য
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনিভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো শেখ ফয়জুল্লাহর গোরক্ষবিজয়, রাজা মাণিকচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান বা গোপীচন্দ্রের গান এবং গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস একই ধারার কাহিনি।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।

- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি। 
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।

- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯৯.
কোন বাংলা গানকে ইউনেস্কো Heritage of Humanity অভিধায় ভূষিত করেছে?
  1. রবীন্দ্র সংগীত
  2. নজরুল সংগীত
  3. ভাটিয়ালি গান
  4. বাউল গান
সঠিক উত্তর:
বাউল গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাউল গান
ব্যাখ্যা
• বাউল সংগীত:
- ‘বাউল গান’ বাউল সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক গান। বাউল একটি ধর্মীয় লোক-সম্প্রদায়।
- বাউলরা ধর্মীয় তত্ত্ব ও দর্শন, জীবনবোধ ও আদর্শের কথা গানের ভাষায় প্রকাশ করেন। মৌখিক ধারার এ গানই বাউল সংগীত হিসেবে পরিচিত।
- বাউল গানের স্রষ্টা লালন শাহ্। বাংলাদেশের কুষ্টিয়া বাউল গানের কেন্দ্র-ভূমি, কালক্রমে তা পার্শ্ববর্তী যশোর, ফরিদপুর, পাবনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। অনুরূপভাবে এ গান পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া, বর্ধমান ও বীরভূম জেলায় প্রসার লাভ করেছে।

- বাউল গানকে এদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি বড় উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে।
- ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন, মানবতার ইতিহাসে এই বাউল সংগীতের অপরিসীম সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত গুরুত্ব বিবেচনা করে ২০০৫ সালে একে “Masterpiece of the Oral and Intangible Heritage of Humanity” হিসেবে ঘোষণা দেয়।
- পরবর্তীতে ২০০৮ সালে ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত Intergovernmental Committee’র তৃতীয় অধিবেশনে বাংলাদেশের বাউল সংগীতকে ‘Intangible Cultural Heritage of Humanity’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন।
২০০.
গম্ভীরা কোন অঞ্চলের গান?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) সিলেট
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) মুন্সিগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
গ) রাজশাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাজশাহী
ব্যাখ্যা
গম্ভীরা গান এক প্রকার জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত। সাধারণত বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে এ গান প্রচলিত। ‘গম্ভীরা’ হচ্ছে এক প্রকার উৎসব। ধারণা করা হয় যে, গম্ভীরা উৎসবের প্রচলন হয়েছে শিবপূজাকে কেন্দ্র করে। শিবের এক নাম ‘গম্ভীর’, তাই শিবের উৎসব গম্ভীরা উৎসব এবং শিবের বন্দনাগীতিই হলো গম্ভীরা গান। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া