বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

লোক সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

লোক সাহিত্য

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ২১২

.
লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি -
  1. ছড়া
  2. গান 
  3. কাব্য 
  4. ধাঁধা
সঠিক উত্তর:
ছড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছড়া
ব্যাখ্যা

লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- লোকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে 'জনপদের হৃদয়-কলরব' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।
- লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি ছড়া

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

.
'নদের চাঁদ ও হুমরা বেদে' চরিত্র দুটি মৈমনসিংহ গীতিকার কোন পালার অন্তর্ভুক্ত?
  1. রূপবতী
  2. দস্যু কেনারামের পালা
  3. মলুয়া
  4. মহুয়া
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা
মহুয়া পালা: 
- নমশূদ্রদের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মহুয়া পালা রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- এটি ময়মনসিংহ গীতিকার অন্যতম পালা।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'রাজা মানিকচন্দ্রের গান' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. অনুবাদ সাহিত্য
  2. নাথসাহিত্য
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. বাউল সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
নাথসাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাথসাহিত্য
ব্যাখ্যা
⇒ নাথসাহিত্য:
- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনিভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা। 
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো শেখ ফয়জুল্লাহর গোরক্ষবিজয়।
- রাজা মাণিকচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান বা  গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার কাহিনি।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
.
মৈমনসিংহ গীতিকা গ্রন্থে কয়টি পালা ও গীতিকা স্থান পেয়েছে?
  1. ১২টি 
  2. ১৩টি 
  3. ১১টি 
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি পালা ও গীতিকা স্থান পেয়েছে। 

যেমন:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
‘আফৎনামা’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. মুহম্মদ খান
  3. রাধারমণ গোপ
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমাদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- শেখ ফয়জুল্লাহ ‘মর্সিয়া-সাহিত্যে'র আদিকবি। তাঁর গ্রন্থের নাম জয়নবের চৌতিশা (১৫৭০)।
- ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

• মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি হচ্ছেন রাধারমণ গোপ। তাঁর রচিতগ্রন্থ:
- ইমামগণের কেচ্ছা,
- আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
‘গোরক্ষবিজয়' - কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. ক) বৈষ্ণব পদাবলী
  2. খ) কবিগান
  3. গ) মঙ্গলকাব্য
  4. ঘ) নাথ সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাথ সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা
- 'গোরক্ষবিজয়' নাথধর্মবিষয়ক আখ্যানকাব্য।
- যোগিশ্রেষ্ঠ গোরক্ষনাথের জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনার কথা এতে বিবৃত হয়েছে।
- উজ্জ্বল চারিত্রিক আদর্শের জন্য গোরক্ষনাথ নাথসিদ্ধাদের মধ্যে প্রধান হয়ে ওঠেন এবং সর্বত্র ভক্তি ও সমাদর লাভ করেন।
- গোরক্ষবিজয়ের প্রথম রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া 
.
‘কাজলরেখা’ কী জাতীয় রচনা?
  1. পালা
  2. রূপকথা
  3. ছড়া
  4. উপকথা
সঠিক উত্তর:
রূপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপকথা
ব্যাখ্যা
• কাজলরেখা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েকটি পালা ও রূপকথা মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনে সংকলিত হয়।
- এদের মধ্যে কাজলরেখা কোনো পালা নয়। এটা পদ্য ও গল্পাকারে বর্ণিত রূপকথা।
- এর রচয়িতা কে তা জানা যায় নি।

• রূপকথা:
- অন্যান্য লোককথার চেয়ে রূপকথার কাহিনি দীর্ঘতর হয়ে থাকে।
- রূপকথার মাধ্যমে এক অজানা রহস্যময় জগতের বিচিত্র কাহিনি শ্রোতার কাছে পরিবেশিত হয়।
- এসব কাহিনিতে বিভিন্ন রাজ্য ও রাজপুত্রের উল্লেখ থাকে।
- ভৌগলিক মাপকাঠিতে সে সব রাজ্যের কোন পরিচয় থাকে না।
- নানা অলৌকিক ও অবিশ্বাস্য ঘটনা এতে ভীড় করে।
- বাস্তব রাজ্যের সঙ্গে রূপকথার কোন সম্পর্ক নেই।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• পালা:
- পালাগান কাহিনিমূলক লোকগীতি।
- পাঁচালি ছন্দে রচিত দেবতার কথা বা ধর্মসঙ্গীতও পালা নামে পরিচিত।
- মঙ্গলকাব্যে দিনে পরিবেশিত কাহিনী দিবাপালা এবং রাতে পরিবেশিত কাহিনী নিশাপালা নামে অভিহিত।
- পালার অন্য নাম ‘পাট’, যেমন ধোবার পাট।
- পালাগান প্রধানত পৌরাণিক ও লৌকিক আখ্যানভাগ নিয়ে রচিত। 
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পৌরাণিক পালাকীর্তন হচ্ছে: মান, মাথুর, নৌকাবিলাস, কালীয়দমন, নিমাইসন্ন্যাস প্রভৃতি।
- চন্দ্রাবতী, মহুয়া, মলুয়া, কমলা, দেওয়ান মদিনা, দেওয়ান ভাবনা, রূপবতী, দস্যু কেনারামের পালা, ভেলুয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য লৌকিক আখ্যানমূলক পালাগান।

• প্রবাদ:
- প্রবাদ লোকসাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট শাখা।
- প্রবাদ বলতে বোঝায় মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি।
- ব্যক্তি ও সমাজজীবনের অভিজ্ঞতার ফলে প্রবাদের সৃষ্টি এবং নীতি ও উপদেশ বিতরণ এর লক্ষ্য।
- জীবনের বিচিত্র পরিসরে মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে যে অভিজ্ঞতা লাভ করে থাকে পরবর্তী পর্যায়ে কাজে লাগানোর জন্য অবয়বে প্রবাদের সৃষ্টি করা হয়েছে।

• উপকথা:
- পশুপক্ষীর চরিত্র অবলম্বনে যেসব কাহিনি গড়ে উঠেছে সেগুলোর নাম উপকথা।
- কৌতুকসৃষ্টি ও নীতিপ্রচারের জন্যে উপকথা'র সৃষ্টি। 
- এতে মানবচরিত্রের মতই পশুপাখির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে বা বক্তব্য পরিবেশিত হয়েছে।
- অনেক ক্ষেত্রে মানুষের মতই পশু-পাখিরা কথাবার্তা বলে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করেছে।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,মাহবুবুল আলম।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩. বাংলাপিডিয়া।
.
নাথ সাহিত্যের জনক কে?
  1. ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. খ) শেখ গরীবুল্লাহ
  3. গ) শ্যামদাস সেন
  4. ঘ) ভীমসেন
সঠিক উত্তর:
ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
শেখ ফয়জুল্লাহ নাথ সাহিত্যের জনক। মুসলমান হয়েও তিনি নাথ সাহিত্য রচনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
.
কোন রচনাটি কৃষিসংক্রান্ত জ্ঞানে সমৃদ্ধ?
  1. ব্রতকথা
  2. খনার বচন
  3. মহুয়া
  4. হারামনি
সঠিক উত্তর:
খনার বচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খনার বচন
ব্যাখ্যা
• খনার বচন:
খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন। শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি। বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

--------------------
• ব্রতকথা:
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেয়েলি ব্রতের সঙ্গে সম্পর্কিত কাহিনি অবলম্বনে ব্রতকথা নামে এক ধরনের লোককথার বিকাশ ঘটেছে। এ সব কাহিনিতে যে ধর্মবোধের কথা বলা হয়েছে তাতে মেয়েদের জাগতিক কল্যাণই নিহিত। ব্রতকথার কাজ গার্হস্থ্য বর্তব্য সাধন। গার্হস্থ্য সুখসমৃদ্ধি বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা মিটানো এর লক্ষ্য।

------------------
• 'মহুয়া' পালা:
- 'মহুয়া' ময়মনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত একটি পালা। এই পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। 
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

-------------------
• লোকগীতি সংকলন ‘হারামণি’:
- মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন এর অক্ষয় কীর্তি হলো 'হারামণি'।
- এর মোট ১৩ খণ্ডে লোকসঙ্গীত সংকলন ও সম্পাদনা করে তিনি প্রভুত খ্যাতি অর্জন করেন।
- প্রতিটি খণ্ডের সম্পাদনায় তিনি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া
১০.
'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' এর প্রকাশক কে?
  1. চন্দ্রকুমার দে
  2. জর্জ গ্রীয়ার্সন
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. দীনেশ্চন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
জর্জ গ্রীয়ার্সন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ গ্রীয়ার্সন
ব্যাখ্যা
নাথগীতিকা:
- স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন ১৮৭৮ সালে রংপুর জেলার মুসলমান কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে 'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' প্রকাশ করলে 'নাথগীতিকা' সুধীসমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- এইগুলো এক শ্রেণির ঐতিহাসিক রচনা।
- ইতিহাসের কোন বিস্মৃত যুগে এই গীতিকার নায়ক রাজা গোপীচাঁদ বা গোবিন্দচন্দ্র মায়ের নির্দেশে তরুণ যৌবনে দুই নবপরিণীতা বধূ প্রাসাদে রেখে সন্ন্যাস অবলম্বন করেছিলেন এই কাহিনি কেন্দ্র করেই নাথগীতিকার উদ্ভব।
- নাথসম্প্রদায়ভুক্ত গুরুবাদী যোগিগণ তাঁদের গুরুর অলৌকিক মহিমাকীর্তন প্রসঙ্গে এই গীতিকা দেশবিদেশে প্রচার করেছেন।
- নাথগীতিকার দুটি বিভাগ: প্রথমটি তরুণ রাজপুত্র গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাসের কাহিনি। এ সম্পর্কিত গীতিকা 'গোরক্ষবিজয়', 'মীনচেতন' নামে পরিচিত।
- অপর শ্রেণির গীতিকাগুলো 'মাণিক রাজার গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গীত', 'ময়নামতীর গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গান', 'গোপীচাঁদের সন্ন্যাস', 'গোপীচাঁদের পাঁচালী' ইত্যাদি নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১.
মৈমনসিংহ গীতিকা কত সালে প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়? 
  1. ১৯১০ সালে
  2. ১৯১৬ সালে
  3. ১৯৩০ সালে
  4. ১৯২৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন। গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়। মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।

যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১২.
মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের কয়টি ভাষায় মুদ্রিত হয়েছে?
  1. ২০টি
  2. ২২টি
  3. ২৩টি
  4. ২৪টি
সঠিক উত্তর:
২৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩টি
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা'র প্রধান সংগ্রাহকদের মধ্যে কে ছিলেন না?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. আশুতোষ চৌধুরী
  4. নগেন্দ্রচন্দ্র দে
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা: 
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন। মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন - চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক। ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।  
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪.
কোনটি চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য?
  1. মলুয়া
  2. মহুয়া
  3. দেওয়ানা মদিনা
  4. কমলা
সঠিক উত্তর:
মলুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মলুয়া
ব্যাখ্যা

চন্দ্রাবতী:
- মধ্যযুগ তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী। তিনি ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জের পাতোয়ারি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- চন্দ্রাবতী পুরাতন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে গৌরব অর্জন করেন।
- মহিলা রামায়ণকার বলা হয় চন্দ্রাবতীকে। তিনিই মহিলা কবিদের মধ্যে প্রথম রামায়ণ অনুবাদ করেন।
- চন্দ্রাবতী মধ্যযুগের তিনজন মহিলা কবির একজন। অপর দুইজন চণ্ডীদাসের অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।
- তিনি ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্যগুলো হলো:
- মলুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মহুয়া-দ্বিজ কানাই,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দেওয়ানা মদিনা - মনসুর বয়াতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫.
'মৈমনসিংহ গীতিকা' প্রথম কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯১০ সালে
  2. ১৯২০ সালে
  3. ১৯৩০ সালে
  4. ১৯২৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে:
 যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬.
"ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।" - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন পালার অন্তর্ভুক্ত?
  1. মহুয়া
  2. কমলা
  3. চন্দ্রাবতী
  4. বিদ্যাসুন্দর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা

'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। 

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে, 
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৭.
'মৈমনসিংহ গীতিকা'র পালাগানগুলো মূলত বৃহত্তর ময়মনসিংহের কোন অঞ্চলের লোকসংগীত?
  1. উত্তর ও পশ্চিমের পাহাড়ি অঞ্চল
  2. নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চল
  3. জামালপুর ও শেরপুরের সমতল ভূমি
  4. টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চল
সঠিক উত্তর:
নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চল
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে:
 যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৮.
নিচের কোনটি মৈমনসিংহ গীতকা নয়?
  1. দেওয়ান ভাবনা
  2. দস্যু কেনারামের পালা
  3. রতন ঠাকুর
  4. রূপবতী
সঠিক উত্তর:
রতন ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রতন ঠাকুর
ব্যাখ্যা
- মৈমনসিংহ গীতকা নয় - রতন ঠাকুর।
- এটি হচ্ছে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা।

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
যথা:
১. মহুয়া,
২. মলুয়া,
৩. চন্দ্রাবতী,
৪. কমলা,
৫. দেওয়ান ভাবনা,
৬. দস্যু কেনারামের পালা,
৭. রূপবতী,
৮. কঙ্ক ও লীলা,
৯ কাজলরেখা ও
১০. দেওয়ানা মদিনা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৯.
'মহুয়া পালা' কে রচনা করেন?
  1. দ্বিজ ঈশান 
  2. চন্দ্রবতী
  3. দ্বিজ কানাই
  4. মনসুর বয়াতী
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- 'মহুয়া' পালার রচনায় তাঁর যে উদার নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মূলে তাঁর ব্যক্তিজীবনের সংস্কারমুক্ত মানবিক বোধ সক্রিয় বলে ধারনা করা হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
- এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

২০.
মৈমনসিংহ গীতিকায় কয়টি গীতিকা স্থান পেয়েছে?
  1. ১২টি
  2. ১০টি
  3. ১৩টি
  4. ১৯টি
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ  পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২১.
দ্বিজ কানাই রচিত ‘মহুয়া’ পালায় বেদে সম্প্রদায়ের সর্দারের নাম কী ছিল?
  1. কুব্বাত আলী
  2. রতন সর্দার
  3. হুমরা 
  4. সমিরন
সঠিক উত্তর:
হুমরা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমরা 
ব্যাখ্যা

দ্বিজ কানাই রচিত ‘মহুয়া’ পালায় বেদে সম্প্রদায়ের সর্দারের নাম ছিল- হুমরা বাইদ্যা। 
-------------------------
'মহুয়া পালা':
- ‘মহুয়া পালা’, দ্বিজ কানাই (১৬৫০) রচিত, মৈমনসিংহ গীতিকার অন্যতম জনপ্রিয় ও করুণ প্রেমকাহিনী। কাহিনীর কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো বেদে সম্প্রদায়ের কন্যা মহুয়া এবং জমিদার নদের চাঁদ। মহুয়া শৈশবে হুমরা বাইদ্যা নামে এক বেদে সর্দারের কাছে চলে যায় এবং বেদে সম্প্রদায়ের মধ্যেই বড় হয়। বড় হয়ে মহুয়া সাপের খেলা দেখাতে শিখে। একদিন হুমরা বেদের দল বাউলের গ্রামে আসে, সেখানেই মহুয়া ও নদের চাঁদের মধ্যে গভীর প্রেম গড়ে ওঠে। তাদের প্রেম জনসমাজের নজরে আসলে সামাজিক বাধার সৃষ্টি হয়। নদের চাঁদের আত্মীয় ও সমাজের চাপের কারণে হুমরা বাইদ্যা মহুয়াকে অন্যত্র নিয়ে যায়। নদের চাঁদ মহুয়াকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেও, শেষপর্যন্ত হুমরা বাইদ্যা মহুয়াকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে। মহুয়া প্রেমের জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে আত্মবলিদান দেয়, নিজের বুকে ছুরি বসিয়ে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনার পর নদের চাঁদও মহুয়ার বিরহে সংসার ত্যাগ করেন।

- মহুয়া পালার গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি:
• ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী রাত্রি।। 
নিশাকালে হুমরা তার করল চুরি।। 

• লজ্জা নাই নিলজ্জ ঠাকুর লজ্জা নাইরে তর।। 
গলায় কলসী বাইন্দা জলে ডুব্যা মর।। 

• কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ি।। 
তুমি হও গহিন গাঙ আমি ডুব্যা মরি।। 
------------
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা হলো বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল (বর্তমান কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা) থেকে সংগৃহীত প্রাচীন লোকগাথা ও পালাগানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- এটি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত গল্প ও গানসমূহকে একত্রিত করেছে, যা গ্রামীণ সংস্কৃতির অনন্য দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় এই গীতিকাগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মূল সংগ্রাহক ছিলেন চন্দ্রকুমার দে।
- মৈমনসিংহ গীতিকার কাহিনিগুলো সাধারণ মানুষের জীবন, নারীর প্রেম, সংগ্রাম ও ট্রাজিক পরিণতি নিয়ে রচিত।
- ভাষা সহজ, সরল ও গ্রামীণ ছন্দময়। 
- এই সংকলন বিশ্বসাহিত্যে স্বীকৃত এবং ২৩টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- সৌরভ পত্রিকায় কেদারনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এর দুটি পালা প্রথম প্রকাশিত হয়। 

• সংকলনে ১০টি গীতিকা ও রূপকথা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- যেমন:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা),
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২২.
মর্সিয়া সাহিত্যে হিন্দু কবি হলেন- 
  1. ভবানী দাস
  2. দুর্লভ মল্লিক 
  3. রাধারমণ গোপ
  4. শ্যামাদাস সেন
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনী নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন - শেখ ফয়জুল্লাহ। তার রচিত গ্রন্থের নাম জয়নবের চৌতিশা এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ। 
- রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৩.
শুকুর মাহমুদ রচিত কাব্য কোনটি?
  1. মীনচেতন
  2. গোর্খবিজয়
  3. গোপীচাদের সন্ন্যাস
  4. গোরক্ষবিজয়
সঠিক উত্তর:
গোপীচাদের সন্ন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপীচাদের সন্ন্যাস
ব্যাখ্যা
শুকুর মাহমুদ ও 'গোপীচাদের সন্ন্যাস' কাব্য:
- শুকুর মহম্মদের কাব্যের নাম 'গোপীচাদের সন্ন্যাস'। তাঁর মতে এটি ঐতিহাসিক কাহিনিকাব্য।
- ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়।
- ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী শুকুর মহম্মদের পুঁথি দিনাজপুর থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। সে পুঁথি শতাধিক বৎসরের পুরাতন। কবির নিবাস বালুরঘাটে সিন্দুর-কুসুম গ্রামে ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। পুরাণ শুনে কবি এ কাব্য রচনা করেন।

- যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি শুকুর মহম্মদের কাব্য সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে লিখেছেন, 'কবির ভাষা প্রাঞ্জল। কিন্তু নারীর বেশভূষা ও রূপবর্ণনা করিবার সময় তিনি সংস্কৃত শব্দের লোভছাড়িতে পারেন নাই। অনেক শব্দের অপপ্রয়োগ করিয়াছেন, বর্ণনাও ব্যর্থ হইয়াছে। তথাপি তাঁহার রচনায় সংযম আছে; অন্যান্য কবির ন্যায় গ্রাম্যজনসুলভ অশ্লীলতা নাই। ভাষা দেখিলে কবিকে দুই একশত বৎসরের অধিক পুরাতন বোধ হয় না।'

- ড. মুহম্মদ এনামুল হক শুকুর মহম্মদের কাল আনুমানিক ১৬৮৩ থেকে ১৭৫০ সঙ্গি বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁকে ত্রিপুরার কবি মনে করেন এবং তাঁর মতে আঠার শতকের গোড়ার দিকে এ কাব্য রচিত হয়। 

- কবি নিজের নাম সম্পর্কে বলেছেন:
আবদুল শুকুর নাম পিতাএ রাখিল।
শুকুর মোহাম্মদ নাম কিতাবে ঘুষিল।

অন্যদিকে, 
গোরক্ষনাথ-মীননাথের কাহিনি অবলম্বনে রচিত যে সব কাব্য সম্পাদিত হয়ে প্রকাশ পেয়েছে সেগুলো হলো:
১. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সম্পাদিত কবি শেখ ফয়জুল্লার 'গোরক্ষবিজয়',
২. ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত কবি শ্যামদাস সেনের 'মীনচেতন' এবং
৩. ড. পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত কবি ভীম সেনের 'গোর্খবিজয়'। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
২৪.
রামপ্রসাদ সেনকে 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. দাশরথি রায়
  3. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা

রামপ্রসাদ সেন:
 - তিনি ছিলেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- শাক্তপদাবলির আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি রামপ্রসাদ সেন।
- পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে পরিচিত।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।

• তাঁর কয়েকটি জনপ্রিয় গান হলো: 
- ‘মন রে কৃষি কাজ জানো না’,
- ‘ডুব দেরে মন কালী বলে’,
- ‘মা আমায় ঘুরাবি কত’ ইত্যাদি। এ গানগুলির আবেদন চিরন্তন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২৫.
“নানান দেশের নানান ভাষা, বিনে স্বদেশী ভাষাপুরে কি আশা”—এই বিখ্যাত টপ্পাটি রচনা করেছেন কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. শোরী মিঞা
  3. কালী মীর্জা
  4. শ্রীধর কথক
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা

নানান দেশের নানান ভাষা, বিনে স্বদেশী ভাষাপুরে কি আশা”—এই বিখ্যাত টপ্পাটি রচনা করেছেন- রামনিধি গুপ্ত।
---------------------------------
• টপ্পা:
- টপ্পা হলো ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের চারটি প্রধান ধারার একটি।
- অপর তিনটি হলো ধ্রুপদ, খেয়াল এবং ঠুম্রি।
- টপ্পা দুই প্রকারে বিভক্ত: হিন্দুস্থানি ও বাংলা।
- হিন্দুস্থানি টপ্পাকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল অযোধ্যার নবাব-দরবারের সঙ্গীতজ্ঞ গোলাম নবী বা শোরী মিঞার দ্বারা। 
- আর বাংলা টপ্পার সূচনাকারী হচ্ছে- রামনিধি গুপ্ত। 

- কলকাতা ও তার শহরতলীতে সমসাময়িক কালে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গান প্রচলিত ছিল।
- এই গান মূলত হিন্দি টপ্পার আদর্শ অনুসরণ করত।
- বাংলা টপ্পাগানের প্রবর্তক নিধুবাবু চাকরির সময় একজন মুসলমান ওস্তাদের কাছে সঙ্গীত শিক্ষা নেন।
- এবং শোরী মিঞার হিন্দুস্থানি টপ্পার সঙ্গে পরিচিত হয়ে কলকাতায় এসে বাংলা টপ্পা গানের সৃষ্টিশীল রূপ দেন।
- নিধুবাবুর টপ্পা সংকলনের নাম ছিল ‘গীতরত্ন'।

- বাংলা টপ্পার বৈশিষ্ট্য হলো—
- একেক স্বরের ওপর মধ্যলয়ে দোলায়মান কোমল কম্পন;
- যা গানের কথাগুলিকে স্বাভাবিকভাবে আবৃত্তি করে।
- তবে নিধুবাবু হিন্দুস্থানি টপ্পার রাগ ও তাল প্রায় অপরিবর্তিত রেখেছিলেন।
- নিধুবাবুর সমসাময়িক এবং পরবর্তী সময়ে বাংলা টপ্পা রচনায় কালী মীর্জা ও শ্রীধর কথক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।

- নিধুবাবু রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
- “নানান দেশের নানান ভাষা, বিনে স্বদেশী ভাষাপুরে কি আশা” 

- নিধুবাবু শুধু প্রেমসঙ্গীতই নয়, ব্রহ্মসঙ্গীতও টপ্পার ছাঁচে রচনা করেছিলেন।
- যেমন:
- ‘পরমব্রহ্ম তৎপরাৎপর পরমেশ্বর/ নিরঞ্জন নিরাময় নির্বিশেষে সদাশয়/ আপনা আপনি হেতু বিভু বিশ্বধর।’

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

২৬.
রামনিধি গুপ্ত বাংলা সাহিত্যে কোনটির প্রবর্তন হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন?
  1. মর্সিয়া গান
  2. নাথ গান
  3. টপ্পা গান
  4. পাচাঁলি গান
সঠিক উত্তর:
টপ্পা গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টপ্পা গান
ব্যাখ্যা
• টপ্পা সঙ্গীত:
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ তবে বাংলা টপ্পা সর্বতোভাবে পাঞ্জাবি টপ্পার অনুকরণ নয়।
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্থানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম - গীতরত্ন (১৮৩২)।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

অন্যদিকে,
• কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য৷ মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি শেখ ফয়জুল্লাহ৷ তাঁর গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা (১৫৭০)।

• শিবের উপাশক এক শ্রেণীর যোগী সম্প্রদায় ছিল যাদের ধর্মের নাম ছিল নাথ ধর্ম। এই নাথ ধর্মের কাহিনিই বর্ণিত হয়েছে নাথ সাহিত্যে।  শেখ ফয়জুল্লাহ নাথ সাহিত্যের আদি কবি। উনার আখ্যানকাব্যের নাম “গোরক্ষ বিজয়”।

• আগে মঙ্গলকাব্যকেই “পাচাঁলি” নামে আখ্যায়িত করা হত। পরে, দীর্ঘ আখ্যানমূলক কাব্য পাঁচালি নামে পরিচিত হয়। পাঁচালি গানের রচয়িতাদের মধ্যে শক্তিশালী কবি ছিলেন দাশরথি রায়। 

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৭.
মর্সিয়া সাহিত্যে হিন্দু কবি হলেন-
  1. রামপ্রসাদ সেন 
  2. রামনিধি গুপ্ত 
  3. রাধারমণ গোপ
  4. রাধামন গোপ
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম 'জয়নাবের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ।তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৮.
'মহুয়া' পালাটির প্রণেতা ছিলেন-
  1. দ্বিজ বংশীদাস 
  2. চন্দ্রাবতী 
  3. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  4. দ্বিজ কানাই
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া' পালা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিস্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৯.
কারবালা এবং ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মুসলমানদের রচিত সাহিত্যকে কী বলে?
  1. মর্সিয়া সাহিত্য
  2. পুথি সাহিত্য
  3. নাথসাহিত্য
  4. লোক সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• কারবালা এবং ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মুসলমানদের রচিত সাহিত্যকে মর্সিয়া সাহিত্য বলে

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'জয়নালের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ - মুক্তল হোসেন।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি রাধারমণ গোপ।
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা', 'আফৎনামা'।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
- অন্যভাবে বলা যায়, নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য।

• পুথি সাহিত্য:
- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য।
- আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- পুথি (বা পুঁথি) শব্দের উৎপত্তি ‘পুস্তিকা’ শব্দ থেকে। এ অর্থে পুথি শব্দদ্বারা যেকোনো গ্রন্থকে বোঝালেও পুথি সাহিত্যের ক্ষেত্রে তা বিশেষ অর্থ বহন করে।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। 
- পুথি সাহিত্যের শব্দসম্ভার ও ভাষারীতি লক্ষ করে বিভিন্ন জন এর বিভিন্ন নামকরণ করেছেন।
- রেভারেন্ড জেমস  লং এ ভাষাকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা’, আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা সাহিত্য’।
- কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি ‘বটতলার পুথি’ নামেও পরিচিত হয়।

• লোক সাহিত্য:
- মধ্যুযগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩০.
"নেজাম ডাকাতের পালা" - কোন ধরনের লোকসাহিত্য?
  1. মৈমনসিংহ গীতিকা 
  2. নাথগীতিকা
  3. পূর্ববঙ্গ-গীতিকা
  4. কবিগান 
সঠিক উত্তর:
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা
ব্যাখ্যা

• 'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা':
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন। পূর্ববাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পালাগুলো সংগ্রহ করা হয়। এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্‌দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।

পূর্ববঙ্গ-গীতিকাগুলো হলো:
- ভেলুয়া,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- নেজাম ডাকাতের পালা,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে,
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই), মলুয়া (চন্দ্রাবতী), চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র (নয়ানচাঁদঘোষ), কমলা (দ্বিজ ঈশান) কঙ্ক ও লীলা, রূপবতী, । নিজাম ডাকাতের পালা, কাফন চোরা, চৌধুরীর লড়াই, আয়না বিবি, ভেলুয়া ইত্যাদি পূর্ববঙ্গ গীতিকা উপাখ্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

৩১.
"সময় গেলে সাধন হবে না।" চরণটির রচয়িতা কে?
  1. লালন শাহ
  2. সাবিরিদ খান
  3. শাহ আব্দুল করিম
  4. সিরাজ শাহ
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালন শাহ
ব্যাখ্যা
• 'সময় গেলে সাধন হবে না।" চরণটির রচয়িতা লালন শাহ।

• লালন ফকিরের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গান:

- খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়।
- আমি অপার হয়ে বসে আছি ও হে দয়াময়, পারে লয়ে যাও আমায়।।
- জাত গেল জাত গেল বলে একি আজব কারখানা।

• লালন শাহ:

- লালন শাহ বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা, গায়ক।
- ১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
-মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর গান মরমি ব্যঞ্জনা ও শিল্পগুণে সমৃদ্ধ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩২.
'দস্যু কেনারামের পালা' কোন সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নাথ সাহিত্য 
  2. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  3. মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. ধর্মমঙ্গল কাব্য 
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
- দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা:
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি)
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- দেওয়ান ভাবনা, 
- কঙ্ক ও লীলা ও
- কাজলরেখা (রূপকথা)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

৩৩.
'লেটো' কী?
  1. নজরুল সঙ্গীত
  2. রবীন্দ্র সঙ্গীত
  3. সারিগান
  4. লোকগান
সঠিক উত্তর:
লোকগান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকগান
ব্যাখ্যা
• 'লেটো' এক ধরনের লোকগান।
--------------------
• লেটো গান সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য:
- লেটো গান  পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে প্রচলিত এক প্রকার  লোকসঙ্গীত।
- এটি যাত্রাগানের প্রকারভেদ।
- যাত্রাগানের মতোই পালার আকারে রচিত এ গান নৃত্য ও অভিনয়সহ পরিবেশন করা হয়; সঙ্গে থাকে বাদকদল।
- লেটো গান শুরু হয় বন্দনা দিয়ে। সখি, সঙদার, পাঠক বিভিন্ন নামে নট-নটীরা গান ও নাচ পরিবেশন করে। 
- এর বিষয়বস্ত্ত সামাজিক রঙ্গরস ও আটপৌরে গ্রামীণ জীবন; পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়েও পালা রচিত হয়।  
- কাজী নজরুল ইসলাম শৈশবকালে লেটোদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- তাঁর রচিত রাজপুত্রের সঙ, চাষার সঙ, আকবর বাদশা প্রভৃতি লেটো গানের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- লেটো গানে অনেক সময় দুটি দলের মধ্যে প্রতিযোগিতাও হয়; দলের প্রধানকে বলা হয় ‘গোদা কবি’।
-------------------- 
• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: 
- 'ভাওয়াইয়া' মূলত রংপুর অঞ্চলের গান।
- মূলত গরুর গাড়ি চালকদের মুখে এ গান শোনা যায়।
- 'গম্ভীরা' বৃহত্তর রাজশাহী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) অঞ্চলের গান।
- 'জারি গান' মূলত ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চলের গান। এটি মূলত দুই পক্ষের মধ্যে গানের প্রতিযোগিতা।
- 'ভাটিয়ারী' মূলত ময়মনসিংহ অঞ্চলের গান।
- 'চটকা' রংপুর অঞ্চলের গান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট।
৩৪.
'টপ্পা' কী?
  1. ক) এক ধরনের গান
  2. খ) বাদ্যযন্ত্র
  3. গ) নাচের মুদ্রা
  4. ঘ) বিশেষ ধরনের খেলা
সঠিক উত্তর:
ক) এক ধরনের গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এক ধরনের গান
ব্যাখ্যা
কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ। 
- বাংলা  টপ্পাগানের জনক ছিলেন  নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত ।
- তাঁর টপ্পাগানের সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)। 

বিখ্যাত টপ্পাগান-
"নানান দেশের নানান ভাষা।
বিনে স্বদেশীয় ভাষা
পুরে কি আশা।।" -এর রচয়িতা নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩৯)

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫.
বাংলাদেশের সাহিত্যে লোকসাহিত্য সংগ্রাহক কে?
  1. ড. কাজী আব্দুল মান্নান
  2. ড. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. ড. কাজী দীন মহাম্মদ
  4. ড. আশরাফ সিদ্দিকী
সঠিক উত্তর:
ড. আশরাফ সিদ্দিকী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. আশরাফ সিদ্দিকী
ব্যাখ্যা

• ড. আশরাফ সিদ্দিকী বাংলাদেশের সাহিত্যে লোকসাহিত্য সংগ্রাহক।

ড. আশরাফ সিদ্দিকী:
• আশরাফ সিদ্দিকী (১ মার্চ ১৯২৭-১৯ মার্চ ২০২০) ছিলেন একজন বাঙালি সাহিত্যিক।
- বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন যেসব সাহিত্যিক, আশরাফ সিদ্দিকী তাদের একজন।
- তিনি পাঁচশ’রও অধিক কবিতা রচনা করেছেন।
- গভীর গবেষণা করেছেন বাংলার লোকঐতিহ্য নিয়ে। তিনি একাধারে প্রবন্ধকার, ছোটগল্প লেখক, ঔপন্যাসিক, লোকসাহিত্যিক, এবং শিশু সাহিত্যিক।
- বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৬৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন।
লোকসাহিত্যের ভেতর রয়েছে :
- লোকসাহিত্য প্রথম খণ্ড (১৯৬৩), 
- রবীন্দ্রনাথের শান্তি নিকেতন (১৯৭৪),
- কিংবদন্তির বাংলা (১৯৭৫),
- শুভ নববর্ষ (১৯৭৭),
- লোকায়ত বাংলা (১৯৭৮),
- আবহমান বাংলা (১৯৮৭),
- বাংলার মুখ (১৯৯৯),
- প্যারিস সুন্দরী (১৯৭৫),
- বাংলাদেশের রূপকথা (১৯৯১),
- লোক সাহিত্য-দ্বিতীয় খণ্ড।

উৎস: ইনকিলাব পত্রিকা প্রতিবেদন।

৩৬.
‘নদের চাঁদ’ কোন পালার অন্তর্গত চরিত্র?
  1. মলুয়া
  2. চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র
  3. মহুয়া
  4. দস্যু কেনারাম
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
• এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
• 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
• নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
• এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭.
'নদের চাঁদ' ও 'হুমরা বেদে' চরিত্রগুলো কোন পালায় পাওয়া যায়?
  1. মহুয়া
  2. মলুয়া
  3. দস্যু কেনারামের পালা
  4. কমলা
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিস্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮.
'গীতরত্ন' কোন ধরনের গানের সংকলন?
  1. মর্সিয়া 
  2. মুর্শিদি 
  3. টপ্পা
  4. ঠুমরী
সঠিক উত্তর:
টপ্পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টপ্পা
ব্যাখ্যা

• রামনিধি গুপ্ত:
- রামনিধি গুপ্ত বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত।
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের স্থাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টল্লা শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম হচ্ছে 'গীতরত্ন' (১৮৩২)।

তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ হলো:
নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৯.
"শুকপাখি" - কোন পালার চরিত্র?
  1. মহুয়া
  2. কাজলরেখা
  3. কমলা
  4. রূপবতী
সঠিক উত্তর:
কাজলরেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজলরেখা
ব্যাখ্যা

কাজলরেখা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েকটি পালা ও রূপকথা মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনে সংকলিত হয়।
- "কাজলরেখা" মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
- এদের মধ্যে কাজলরেখা কোনো পালা নয়। এটা পদ্য ও গল্পাকারে বর্ণিত রূপকথা। এর রচয়িতা কে তা জানা যায়নি।

উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র:
- ধনেশ্বর,
- কাজলরেখা,
- রত্নেশ্বর,
- শুকপাখি

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪০.
'আয়না বিবি' উপাখ্যানটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ডাক ও খনার বচন 
  2. মৈমনসিংহ গীতিকা
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
সঠিক উত্তর:
পূর্ববঙ্গ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ববঙ্গ গীতিকা
ব্যাখ্যা
• পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- 'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা' পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন। মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন। দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

পূর্ববঙ্গ গীতিকার উপাখ্যানগুলো হলো:
- নিজাম ডাকাতের পালা,
- কাফন চোরা,
- চৌধুরীর লড়াই,
- আয়না বিবি,
- ভেলুয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪১.
প্রবাদ বলতে কী বোঝায়?
  1. মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি
  2. মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি বিস্তৃত অভিব্যক্তি
  3. বস্তুকেন্দ্রিক অভিব্যক্তি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি
ব্যাখ্যা
প্রবাদ:
- প্রবাদ লোকসাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট শাখা।
- প্রবাদ বলতে বোঝায় মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি
- ব্যক্তি ও সমাজজীবনের অভিজ্ঞতার ফলে প্রবাদের সৃষ্টি এবং নীতি ও উপদেশ বিতরণ এর লক্ষ্য।
- জীবনের বিচিত্র পরিসরে মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে যে অভিজ্ঞতা লাভ করে থাকে পরবর্তী পর্যায়ে কাজে লাগানোর জন্য অবয়বে প্রবাদের সৃষ্টি করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪২.
‘হারামণি’ লোকসঙ্গীত সংকলন ও সম্পাদনা করেন-
  1. শুকুর মাহমুদ
  2. মনসুর বয়াতি
  3. ফকির গরীবুল্লাহ
  4. মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন:
- ১৯০৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর থানার মুরারিপুর গ্রামে জন্ম।
- পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘বেদুইন মুসলমান’।
- মনসুরউদ্দীন মনেপ্রাণে ছিলেন বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি, বিশেষত লোকসংস্কৃতির একজন একনিষ্ঠ অনুরাগী।
- তিনি পদ্মার চরাঞ্চল এবং পাবনা-ফরিদপুর-কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে গান, ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, গল্প ইত্যাদি লোকসাহিত্যের অনেক উপাদান সংগ্রহ করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ফোকলোর চর্চা দেশের সুধীমহলের স্বীকৃতি লাভ করে।
- ১৯৮৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• লোকগীতি সংকলন ‘হারামণি’:
- মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন এর অক্ষয় কীর্তি হলো 'হারামণি'।
- এর মোট ১৩ খণ্ডে লোকসঙ্গীত সংকলন ও সম্পাদনা করে তিনি প্রভুত খ্যাতি অর্জন করেন।
- প্রতিটি খণ্ডের সম্পাদনায় তিনি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- শিরনী,
- ধানের মঞ্জরী,
- আগরবাতী,
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা (৩ খণ্ড: ১৯৬০-৬৬) ও
- ইরানের কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৩.
বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক কে?
  1. বিপ্রদাস পিপলাই
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. মুকুন্দদাস
  4. মালাধর বসু
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা
টপ্পা সঙ্গীত:
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্থানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম - গীতরত্ন (১৮৩২)।

- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪.
কোনটি মনসুর বয়াতি রচিত পালা?
  1. দেওয়ানা মদিনা
  2. দেওয়ান ভাবনা
  3. কাজলরেখা
  4. কমলা
সঠিক উত্তর:
দেওয়ানা মদিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেওয়ানা মদিনা
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে। এগুলো হলো: মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা।

• 'দেওয়ানা মদিনা' পালা:
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধিন বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙের দেওয়ানদের সম্পর্কে রচিত পালা 'দেওয়ানা মদিনা' ।
- এ পালার লেখক মনসুর বয়াতি।
- বানিয়াচঙের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবন কাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি এর মূল বিষয়।
এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা,
- সোনাফর।

অন্যদিকে,
• ‘দেওয়ান ভাবনা’ পালাটির রচয়িতা কে তা জানা যায়নি।
• কাজলরেখা কোনো পালা নয়। এটা পদ্য ও গল্পাকারে বর্ণিত রূপকথা। এর রচয়িতা কে তা জানা যায় নি।
• ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৫.
"ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।। রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।"— এই পঙ্‌ক্তিটি কোন পালার অংশ?
  1. মলুয়া
  2. চন্দ্রাবতী
  3. কমলা
  4. মহুয়া
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা

'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৬.
লোকসাহিত্যের সংগ্রাহক ছিলেন-
  1. ক) দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) দক্ষিণারঞ্জন রায় মিত্র
  3. গ) সুকুমার সেন
  4. ঘ) চন্দ্রকুমার দে
সঠিক উত্তর:
ঘ) চন্দ্রকুমার দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা
চন্দ্রকুমার দে (১৮৮৯-১৯৪৬) লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও লেখক।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার রাঘবপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- চন্দ্রকুমার আমৃত্যু পল্লীর এ লোকসম্পদ সংগ্রহে নিয়োজিত থেকে বহু সংখ্যক পালা সংগ্রহ করেন।
- সেগুলির অধিকাংশই দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায়  মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) ও  পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (১৯২৬) নামে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় এবং দেশবিদেশের বহু গুণিজনের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭.
'গীতরত্ন' কোন ধরনের গানের সংকলন?
  1. বাউল গানের সংকলন
  2. মর্সিয়া গানের সংকলন
  3. ঠুমরী গানের সংকলন
  4. টপ্পা গানের সংকলন
সঠিক উত্তর:
টপ্পা গানের সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টপ্পা গানের সংকলন
ব্যাখ্যা
• টপ্পা গান:
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।

- রামনিধি গুপ্ত ছাপরা জেলায় চাকরি করাকালে একজন মুসলমান ওস্তাদের নিকট সঙ্গীতে তালিম নেওয়ার সময় শোরী মিঞার হিন্দুস্থানি টপ্পার সঙ্গে পরিচিত হন। তিনি চাকরিশেষে কলকাতায় এসে হিন্দুস্থানি টপ্পার আদলে বাংলা টপ্পা গানের প্রবর্তন করেন। তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)।

- এ গানের বৈশিষ্ট্য হলো একেকটি স্বরের ওপর মধ্যলয়ে দোলায়মান কম্পন দ্বারা গানের কথাগুলির গড়িয়ে গড়িয়ে অবরোহণ। নিধুবাবু বাংলা গানের কাব্যিক সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য শোরী মিঞার টপ্পার তানে ক্ষিপ্রতার বদলে কোমল কম্পন ব্যবহার করেন। তবে তিনি হিন্দুস্থানি টপ্পার রাগ ও তালের ব্যবহারে সাধারণত কোনো পরিবর্তন আনেননি।

- প্রেমসঙ্গীত ছাড়াও তিনি টপ্পার ছাঁচে ব্রহ্মসঙ্গীত রচনা করেছেন, যেমন: ‘পরমব্রহ্ম তৎপরাৎপর পরমেশ্বর/ নিরঞ্জন নিরাময় নির্বিশেষে সদাশয়/ আপনা আপনি হেতু বিভু বিশ্বধর।’ (বেহাগ/ আড়া)।

- নিধুবাবুর সমসাময়িককালে এবং কিছুকাল পরে যাঁরা বাংলা টপ্পা রচনায় অবদান রাখেন তাঁদের মধ্যে কালী মীর্জা ও শ্রীধর কথকের নাম উল্লেখযোগ্য।

• রামনিধি গুপ্ত রচিত বিখ্যাত টপ্পা:
নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৮.
'মহুয়া' পালার রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজ ঈশান 
  2. দ্বিজ কানাই
  3. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  4. চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

অন্যদিকে, 
• 'কমলা' পালার রচয়িতা দ্বিজ ঈশান। 
• 'চন্দ্রাবতী' পালার রচয়িতা নয়ানচাঁদ ঘোষ। 
• দস্যু কেনারামের পালার রচয়িতা চন্দ্রাবতী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৯.
কয় ধরনের গীতিকা প্রচলিত আছে বাংলা সাহিত্যে?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা
গীতিকা:
- গীতিকা লোকসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
- গীতিকা ছড়ার মত ছোটো নয়, গীতিকা আকারে অনেক বড়। এতে বলা হয় নরনারীর জীবন ও হৃদয়ের কথা।
- বাংলা সাহিত্যে গীতিকার রয়েছে বিরাট ভাণ্ডার।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গীতিকা হচ্ছে - মহুয়া, মলুয়া ও দেওয়ান মদীনা, দস্যু কেনারাম ইত্যাদি। 

বাংলাদেশে গীতিকা সাহিত্যে ৩ ধরনের গীতিকা প্রচলিত
যথা: 
১. নাথ গীতিকা,
২. মৈমনসিংহ-গীতিকা ও
৩. পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০.
'মহুয়া' পালার চরিত্র নয় কোনটি?
  1. নদের চাঁদ
  2. হুমরা বেদে
  3. কমলা
  4. সাধু
সঠিক উত্তর:
কমলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমলা
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা: 
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
• এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
•'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই। 
• নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
• এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে, 
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

অন্যদিকে,
- ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১.
'হুমরা বেদে' কোন পালার অন্তর্গত চরিত্র?
  1. মহুয়া পালা
  2. বিদ্যাসুন্দর পালা
  3. মলুয়া পালা
  4. কমলা পালা
সঠিক উত্তর:
মহুয়া পালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া পালা
ব্যাখ্যা
'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- 'মহুয়া' পালার রচনায় তাঁর যে উদার নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মূলে তাঁর ব্যক্তিজীবনের সংস্কারমুক্ত মানবিক বোধ সক্রিয় বলে ধারনা করা হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

অন্যদিকে,
• 'কমলা' দ্বিজ ঈশান রচিত পালা।
• 'বিদ্যাসুন্দর' কবিকঙ্ক প্রণীত পালা।
• 'মলুয়া' অজ্ঞাত তবে অনুমান করা হয় চন্দ্রাবতীর লেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২.
'হারামণি' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. ধাঁধার সংকলন
  2. ছড়ার সংকলন
  3. গল্পের সংকলন
  4. লোকসঙ্গীত সংকলন
সঠিক উত্তর:
লোকসঙ্গীত সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকসঙ্গীত সংকলন
ব্যাখ্যা
লোকগীতি সংকলন 'হারামণি':
- মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন এর অক্ষয় কীর্তি হলো লোকসঙ্গীত সংকলন গ্রন্থ 'হারামণি'।
- এর মোট ১৩ খণ্ডে লোকসঙ্গীত সংকলন ও সম্পাদনা করে তিনি প্রভুত খ্যাতি অর্জন করেন। প্রতিটি খণ্ডের সম্পাদনায় তিনি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

-------------------
• মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- শিরনী,
- ধানের মঞ্জরী,
- আগরবাতী,
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা (৩ খণ্ড: ১৯৬০-৬৬) ও
- ইরানের কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৩.
দেওয়ানা মদিনা পালার লেখক কে?
  1. দ্বিজ কানাই
  2. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  3. মনসুর বয়াতি
  4. চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
মনসুর বয়াতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসুর বয়াতি
ব্যাখ্যা

দেওয়ানা মদিনা:
- দেওয়ানা মদিনা পালার লেখক মনসুর বয়াতি।
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম 'আলাল-দুলালের' পালা।
- বাংলাদেশ ও হবিগঞ্জ জেলার বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙের দেওয়ান পরিবারের পালা হলো দেওয়ানা মদিনা।

• দেওয়ানা মদিনা পালার উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- 'আলাল' 
- 'দুলাল'
- আমিনা,
- মমিনা,
- ইরাধন ব্যাপারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৪.
দীনেশচন্দ্র সেন ‘পূর্ববঙ্গ-গীতিকা’ কবে প্রকাশ করেন?
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯১৫ সালে
  3. ১৯১৩ সালে
  4. ১৯২০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫.
‘দস্যু কেনারামের পালা’ রচনা করেছেন কে?
  1. দ্বিজ ঈশান
  2. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  3. মনসুর বয়াতি
  4. চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা।

ভনিতা থেকে কিছু গীত রচয়িতার নাম জানা যায়,
যেমন:
- মহুয়া-দ্বিজ কানাই,
- চন্দ্রাবতী- নয়ানচাঁদ ঘোষ,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দস্যু কেনারামের পালা- চন্দ্রাবতী,
- দেওয়ানা মদিনা- মনসুর বয়াতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৬.
নিচের কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকা?
  1. আলাদ
  2. মুক্তল
  3. কমলা
  4. রূহবতী
সঠিক উত্তর:
কমলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমলা
ব্যাখ্যা
⇒ মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫৭.
‘মুক্তল হোসেন’ মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. রাধারমণ গোপ
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. মুহম্মদ খান
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ খান
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- শেখ ফয়জুল্লাহ ‘মর্সিয়া-সাহিত্যে'র আদিকবি। তাঁর গ্রন্থের নাম জয়নবের চৌতিশা (১৫৭০)।
- ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

• মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি হচ্ছেন রাধারমণ গোপ। তাঁর রচিতগ্রন্থ:
- ইমামগণের কেচ্ছা,
- আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮.
পুঁথি সাহিত্যের ভাষা কীরূপ?
  1. ফারসি
  2. বাংলা
  3. আরবি 
  4. মিশ্র
সঠিক উত্তর:
মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) মিশ্র।
------------------
'পুথি সাহিত্য' সম্পর্কিত আলোচনা:


পরিচয়:
• ‘পুথি’ শব্দটির উৎপত্তি পুস্তিকা থেকে; সাধারণ অর্থে যেকোনো গ্রন্থকে বোঝায়, কিন্তু পুথি সাহিত্য বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
• পুথি সাহিত্য — আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য।

• এর রচয়িতা ও পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
• ব্যাপ্তিকাল: আঠারো থেকে উনিশ শতক।
 
বৈশিষ্ট্য ও প্রচার:
- রেভারেন্ড জেমস লং এ ভাষাকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা’, আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা সাহিত্য’।
- কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি ‘বটতলার পুথি’ নামেও পরিচিত হয়।
- গবেষকগণ ভাষা-বৈশিষ্ট্য ও বাক্যরীতির দিক থেকে বিচার করে প্রথমে এগুলিকে — দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে — ‘মিশ্র ভাষারীতির কাব্য’ বলে অভিহিত করেন।
 
• ড. আনিসুজ্জামান তাঁর রচিত — 'মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' গ্রন্থে এই শ্রেণির কাব্যের নাম সম্পর্কে বলেছেন - 
"কলকাতার সস্তা ছাপাখানা থেকে মুদ্রিত হয়ে এইধারার কাব্য দেশময় প্রচারিত হয়েছিল বলে — বটতলার পুঁথি নামেও একে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা চলেছে।"
 
উৎস:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
- বাংলাপিডিয়া।

৫৯.
কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকা?
  1. দেওয়ান ভাবনা
  2. ভেলুয়া সুন্দরী
  3. রতন ঠাকুর
  4. আয়না বিবি
সঠিক উত্তর:
দেওয়ান ভাবনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেওয়ান ভাবনা
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা - দেওয়ান ভাবনা।

অন্যদিকে,
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা - আয়না বিবি, রতন ঠাকুর, ভেলুয়া সুন্দরী।

মৈমনসিংহ গীতিকা: 

- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
 যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬০.
খনার বচনে কোনটি প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. জ্যোতিশাস্ত্র
  2. কৃষি
  3. আবহাওয়া
  4. উপরের সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা

• খনার বচন:
- খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি।
- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬১.
বাংলায় টপ্পার প্রচলন হয় কত শতকে?
  1. সপ্তদশ শতকে
  2. অষ্টাদশ শতকে
  3. ঊবিংশ শতকে
  4. বিংশ শতকে
সঠিক উত্তর:
অষ্টাদশ শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টাদশ শতকে
ব্যাখ্যা
 টপ্পা:
- বাংলায় অষ্টাদশ শতকের শেষ ভাগ থেকে টপ্পার প্রচলন।
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধু (বাবু)।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে বহু সংগীতজ্ঞ সুললিত, অপূর্ব টপ্পা রচনা করে গেছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন রাধামোহন সেন, কালিকা মির্জা, শ্রীধর কথক, দাশরথী রায় বিশেষভাবে  উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২.
নিচের কোনটি পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত?
  1. দেওয়ানা ভাবনা
  2. কমলা
  3. মলুয়া
  4. ভেলুয়া
সঠিক উত্তর:
ভেলুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেলুয়া
ব্যাখ্যা
• পূর্ববঙ্গ গীতিকাগুলো হলো:
- নিজাম ডাকাতের পালা,
- কাফন চোরা,
- কমল সওদাগর,
- চৌধুরীর লড়াই,
- কাঞ্চনমালা,
- আয়না বিবি,
- ভেলুয়া,
- কমলা রানির গান।

অন্যদিকে,
- মলুয়া, দেওয়ানা ভাবনা ও কমলা মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৩.
'দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম কী 
  1. কারবালার পালা 
  2. হাসান-হোসেনের পালা 
  3. আলাল-দুলালের পালা
  4. আলালের পালা 
সঠিক উত্তর:
আলাল-দুলালের পালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাল-দুলালের পালা
ব্যাখ্যা

• 'দেওয়ানা মদিনা' পালা:
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি 'দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম 'আলাল-দুলালের' পালা।

'দেওয়ানা মদিনা'র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা,
- সোনাফর।

---------------------
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে। মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।

এগুলো হলো- 
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৪.
বিখ্যাত লোকগীতি 'হারামণি'- সম্পাদনা করেছেন কে?
  1. ড. আশরাফ সিদ্দিকী
  2. দীনেশ চন্দ্র সেন
  3. মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন
  4. ড. মযহারুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন
ব্যাখ্যা

লোকগীতি সংকলন ‘হারামণি’: 
- মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন এর অক্ষয় কীর্তি হলো 'হারামণি'। 
- এর মোট ১৩ খণ্ডে লোকসঙ্গীত সংকলন ও সম্পাদনা করে তিনি প্রভুত খ্যাতি অর্জন করেন।
- প্রতিটি খণ্ডের সম্পাদনায় তিনি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন:
- মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন ১৯০৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর থানার মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। 
- পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘বেদুইন মুসলমান’।
- মনসুরউদ্দীন মনেপ্রাণে ছিলেন  বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি, বিশেষত লোকসংস্কৃতির একজন একনিষ্ঠ অনুরাগী।
- তিনি পদ্মার চরাঞ্চল এবং পাবনা-ফরিদপুর-কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে গান, ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, গল্প ইত্যাদি লোকসাহিত্যের অনেক উপাদান সংগ্রহ করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ফোকলোর চর্চা দেশের সুধীমহলের স্বীকৃতি লাভ করে।
- ১৯৮৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- শিরনী,
- ধানের মঞ্জরী,
- আগরবাতী,
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা (৩ খণ্ড: ১৯৬০-৬৬) ও
- ইরানের কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬৫.
মৈমনসিংহ গীতিকায় মোট কয়টি  গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে?
  1. ১০টি
  2. ১৩টি
  3. ২৩টি
  4. ২৬টি
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৬.
মর্সিয়া কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. পালাগান
  2. প্রেমকাব্য
  3. শোককাব্য
  4. পল্লী গীতি
  5. ক ও ঘ
সঠিক উত্তর:
শোককাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শোককাব্য
ব্যাখ্যা
• কারবালা-কেন্দ্রিক কাব্যের অপর নাম মর্সিয়া সাহিত্য। আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক। শোকবিষয়ক রচনাকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়।

-------------------
• মর্সিয়া কাব্য:

- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'মর্সিয়া সাহিত্য' নামে এক ধরনের শোককাব্য বিস্তৃত অঙ্গন জুড়ে ছড়িয়ে আছে।

- 'মর্সিয়া' কথাটি আরবি এর অর্থ শোক প্রকাশ করা। আরবি সাহিত্যে মর্সিয়ার উদ্ভব নানা ধরনের শোকাবহ ঘটনা থেকে হলেও পরে তা কারবালা প্রান্তরে নিহত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদকে উপজীব্য করে লেখা কবিতা মর্সিয়া নামে আখ্যাত হয়।

- আরবি সাহিত্য থেকে মর্সিয়া কাব্য ফারসি সাহিত্যে স্থান পায়। ভারতে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এদেশে ফারসি ভাষায় মর্সিয়া প্রচলিত হয় এবং পরে উর্দু ভাষাতেও তার প্রসার ঘটে।

- মর্সিয়া কাব্য বা শোক কাব্যের পটভূমিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, 'যুদ্ধ কাব্যের মধ্য কারবালাযুদ্ধ কাব্যই ষোল-সতের শতক থেকে বাংলার মুসলিম সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় হতে থাকে।

- শেখ ফয়জুল্লাহকে মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়। তার রচিত কাব্য জয়নবের চৌতিশা। এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ। এটি কারবালার কাহিনি নিয়ে রচিত।
- মর্সিয়া সাহিত্যের প্রধান কবি - ফকির গরীবুল্লাহ্।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬৭.
‘মুক্তল হোসেন’ মর্সিয়া সাহিত্য গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ কবীর
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. মুহম্মদ খান
  4. নওয়াজিস খান
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ খান
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমাদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- শেখ ফয়জুল্লাহ ‘মর্সিয়া-সাহিত্যে'র আদিকবি। তাঁর গ্রন্থের নাম ‘জয়নবের চৌতিশা’ (১৫৭০)।
- ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

• মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি হচ্ছেন রাধারমণ গোপ। তাঁর রচিতগ্রন্থ:
- ইমামগণের কেচ্ছা,
- আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন ধারার সাহিত্যকে 'জনপদের হৃদয়-কলরব' বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. অনুবাদ সাহিত্য
  3. লোক সাহিত্য
  4. মর্সিয়া সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা

লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিমন্ডলে একটি সংহত সমাজমানস থেকে এর উদ্ভব।
- সাধারণত অক্ষরজ্ঞানহীন পল্লিবাসীরা স্মৃতি ও শ্রুতির ওপর নির্ভর করে এর লালন করে।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা।
- এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে 'জনপদের হৃদয়-কলরব' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি ছড়া।

• লোকসাহিত্যকে প্রধানত আটটি শাখায় ভাগ করা যায়। যথা- 
- লোকসঙ্গীত,
- গীতিকা,
- লোককাহিনী,
- লোকনাট্য,
- ছড়া,
- মন্ত্র,
- ধাঁধা ও
- প্রবাদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৬৯.
কবিয়াল কারা?
  1. কবিগান প্রতিযোগিতার বিচারক
  2. কবিগানের দলের দলপতি
  3. যন্ত্রসঙ্গীতকার
  4. ঢুলি
সঠিক উত্তর:
কবিগানের দলের দলপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিগানের দলের দলপতি
ব্যাখ্যা
• কবিগান: 
- কবিগান এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক গান।
- দুটি দলে এ প্রতিযোগিতা হয়। দলের দলপতিকে বলে কবিয়াল বা সরকার।
- কবিয়ালের সঙ্গীদের নাম দোহার। যন্ত্রসঙ্গীতকারীদের মধ্যে ঢুলি মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- দল দুটি পর্যায়ক্রমে আসরে এসে গান পরিবেশন করে।

- গোঁজলা গুঁইকে বলা হয় কবিগানের আদি কবিয়াল।
- তাঁর আবির্ভাবকাল আঠারো শতকের প্রথমার্ধ।
- উনিশ শতকের কলকাতায় যে কয়জন কবিয়াল বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে হরু ঠাকুর (১৭৪৯-১৮২৪), নিতাই বৈরাগী (১৭৫১-১৮২১), রাম বসু (১৭৮৬-১৮২৮), ভোলা ময়রা, এন্টনি ফিরিঙ্গি প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।
- উল্লেখযোগ্য কবিগানের ধরন - তর্জা, পাঁচালি, খেউড়, আখড়াই, দাঁড়া কবিগান, বসা কবিগান, ঢপ, টপ্পা, কীর্তন ইত্যাদি।

• উল্লেখযোগ্য কবিগান রচয়িতা: 
- গোঁজলা গুই (প্রাচীন কবি), 
- রাম বসু,
- নৃসিংহ, 
- এন্টনি ফিরিঙ্গি,
- হরু ঠাকুর, 
- রামনিধি গুপ্ত,
- কেষ্টা মুচী, 
- ভবানী,
- রামানন্দ নন্দী,

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৭০.
মৈমনসিংহ গীতিকার ভূমিকা লিখেন কে?
  1. চন্দ্রকুমার দে
  2. ড. দীনেশ্চন্দ্র সেন
  3. কেদারনাথ মজুমদার
  4. সৌরভ মজুমদার
সঠিক উত্তর:
ড. দীনেশ্চন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. দীনেশ্চন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- পূর্ব-ময়মনসিংহ বর্তমান দুর্গাপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা অঞ্চলের প্রচলিত ও লোক্মুখে প্রচারিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
- দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের পান্ডিত্যপূর্ণ ভূমিকা লিখেন ড. দীনেশচন্দ্র সেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া
৭১.
নাথ সাহিত্যের জনক বলা হয় কাকে?
  1. ভীমসেন রায়
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ 
  3. শ্যামাদাস সেন
  4. ভবানী দাস
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ 
ব্যাখ্যা

• নাথসাহিত্য:
- শেখ ফয়জুল্লাহ নাথ সাহিত্যের জনক। মুসলমান হয়েও তিনি নাথ সাহিত্য রচনা করেছিলেন।
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস। 
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭২.
কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত?
  1. আয়নাবিবি
  2. কাজলরেখা
  3. কাঞ্চন মালা
  4. কমল সদাগর
সঠিক উত্তর:
কাজলরেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজলরেখা
ব্যাখ্যা

• কাজলরেখা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েকটি পালা ও রূপকথা মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনে সংকলিত হয়।
- "কাজলরেখা" মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
- এদের মধ্যে কাজলরেখা কোনো পালা নয়। এটা পদ্য ও গল্পাকারে বর্ণিত রূপকথা। এর রচয়িতা কে তা জানা যায় নি।

উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- ধনেশ্বর,
- কাজলরেখা,
- রত্নেশ্বর,
- শুকপাখি।

অন্যদিকে, 
• আয়নাবিবি, কাঞ্চন মালা ও কমল সদাগর পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত পালা। 

---------------------
• মৈমনসিংহ গীতিকা: 

- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে। যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৩.
মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের কয়টি ভাষায় মুদ্রিত হয়েছে?
  1. ২৩টি 
  2. ২৪টি 
  3. ২২টি 
  4. ২১টি  
সঠিক উত্তর:
২৩টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩টি 
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে:
 যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৪.
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা'র সংগ্রাহক হলেন -
  1. জসীম উদ্দীন
  2. আশুতোষ চৌধুরী
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক। ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৫.
'কঙ্ক ও লীলা' নিচের কোনটির অন্তর্গত?
  1. ক) পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  2. খ) মৈমনসিংহ গীতিকা
  3. গ) মধ্যযুগের গীতিকবিতা
  4. ঘ) নাথ গীতিকা
সঠিক উত্তর:
খ) মৈমনসিংহ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা
উল্লেখযোগ্য ময়মনসিংহ গীতিকাগুলো হলো:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭৬.
লোকসাহিত্যকে প্রধানত কতটি শাখায় ভাগ করা যায়?
  1. পাঁচটি
  2. ছয়টি
  3. সাতটি
  4. আটটি
সঠিক উত্তর:
আটটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটটি
ব্যাখ্যা

লোকসাহিত্য:
- এটি মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা।
- এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে 'জনপদের হৃদয়-কলরব' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি ছড়া।

• লোকসাহিত্যকে প্রধানত আটটি শাখায় ভাগ করা যায়। যথা- 
- লোকসঙ্গীত,
- গীতিকা,
- লোককাহিনী,
- লোকনাট্য,
- ছড়া,
- মন্ত্র,
- ধাঁধা ও
- প্রবাদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৭৭.
কোনটি নাথ সাহিত্য?
  1. দস্যু কেনারামের পালা
  2. গোরক্ষ বিজয়
  3. কঙ্ক ও লীলা
  4. মলুয়া
সঠিক উত্তর:
গোরক্ষ বিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরক্ষ বিজয়
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনিভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনি বা আখ্যায়িকা।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য হলো:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

• নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও শুকুর মাহমুদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং শুকুর মাহমুদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৮.
রামপ্রসাদ সেন কোন ধরনের গানের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত?
  1. রাজসঙ্গীত
  2. লোকগীতি
  3. শ্যামাসঙ্গীত
  4. ভজনগীতি
সঠিক উত্তর:
শ্যামাসঙ্গীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্যামাসঙ্গীত
ব্যাখ্যা

রামপ্রসাদ সেন:
- রামপ্রসাদ সেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- সংসারের বিভিন্ন দুঃখ-কষ্টকে গৌরব মনে করে মায়ের উদ্দেশে তিনি গান বেঁধেছেন: 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।'
- রামপ্রসাদ প্রচুর গান রচনা করেছিলেন যার বেশির ভাগই হারিয়ে গেছে।
- কৃষ্ণচন্দ্র তাকে 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে
পরিচিত।
- রামপ্রসাদ নিজে এই সুরে কালী বা শ্যামার উদ্দেশে অনেক সঙ্গীত রচনা করেন, যা শ্যামাসঙ্গীত নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৯.
"পূর্ববঙ্গ-গীতিকা" কোন ধারার সাহিত্য?
  1. বৈষ্ণব সাহিত্য
  2. মর্সিয়া
  3. লোক সাহিত্য
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা: 
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।  
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৮০.
‘গম্ভীরা’ বাংলাদেশের কোন্ অঞ্চলের লোকসংগীত?
  1. ক) চট্রগ্রাম
  2. খ) রাঙ্গামাটি
  3. গ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. ঘ) জামালপুর
সঠিক উত্তর:
গ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
গম্ভীরা গান এক প্রকার জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত।
- গম্ভীরা চাপাইননবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চল, ভাণ্ডারী চট্টগ্রাম অঞ্চল এবং ভাওয়াইয়া রংপুর অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত।
- ‘গম্ভীরা’ হচ্ছে এক প্রকার উৎসব।
- ধারণা করা হয় যে, গম্ভীরা উৎসবের প্রচলন হয়েছে শিবপূজাকে কেন্দ্র করে।
- শিবের এক নাম ‘গম্ভীর’, তাই শিবের উৎসব গম্ভীরা উৎসব এবং শিবের বন্দনাগীতিই হলো গম্ভীরা গান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৮১.
‘মহুয়া’ পালার রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজ ঈশান
  2. মনসুর বয়াতি
  3. দ্বিজ কানাই
  4. নয়ানচাঁদ ঘোষ
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা
ভনিতা থেকে কিছু গীত রচয়িতার নাম জানা যায়,

যেমন:
- মহুয়া-দ্বিজ কানাই,
- চন্দ্রাবতী- নয়ানচাঁদ ঘোষ,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দস্যু কেনারামের পালা- চন্দ্রাবতী,
- দেওয়ানা মদিনা- মনসুর বয়াতি।

মৈমনসিংহ গীতিকা:

- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮২.
মধ্যুযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে কোনটি ভিন্ন?
  1. জীবনী সাহিত্য
  2. নাথ সাহিত্য
  3. লোক সাহিত্য
  4. বৈষ্ণব সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে ‘লোক সাহিত্যধারা’ ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৩.
''থাল ঝনঝন থাল ঝনঝন থাল নিল চোরে।
বৃন্দাবনে আগুন লাগল কে নিবাইতে পারে।'' - কিসের উদাহরণ?
  1. খনার বচন
  2. ছড়া
  3. ধাঁধাঁ
  4. প্রবাদ
সঠিক উত্তর:
ধাঁধাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাঁধাঁ
ব্যাখ্যা
• থাল ঝনঝন থাল ঝনঝন থাল নিল চোরে।
বৃন্দাবনে আগুন লাগল কে নিবাইতে পারে। - ধাঁধাঁর উদাহরণ।

ধাঁধাঁ:
- লোকসাহিত্যে 'ধাঁধা' অন্যতম প্রাচীন শাখা হিসেবে বিবেচিত।
- রূপকের সাহায্যে এবং জিজ্ঞাসার আকারে কোন একটি ভাব সূক্ষ্ম বুদ্ধি ও চিন্তার অনুশীলনের মাধ্যমে ধাঁধাঁয় রূপায়িত হয়ে ওঠে।
- এতে বুদ্ধিবৃত্তি বিকাশের যে নিদর্শন পাওয়া যায় তাতে তাকে আদিম জাতির সৃষ্টি মনে না করে বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন মানবমনের সৃষ্টি বলে অনুমিত হয়।
- মানুষ সুপ্রাচীন কাল থেকে ধাঁধাঁর ব্যবহার করে আসছে।
- প্রত্যেক দেশের প্রাচীন সাহিত্যেই ধাঁধাঁর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়।
- প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে ধাঁধাঁ বা হেঁয়ালী ব্যবহারের প্রাচুর্য ছিল।

- ধাঁধাঁর উত্তর জনশ্রুতিমূলক হয়ে থাকে।
- সাধারণত উত্তর জানা না থাকলে প্রশ্নকর্তার সম্মুখে বিব্রত হতে হয়।
- তবে ধাঁধাঁর মীমাংসা জনশ্রুতিমূলক বলেই তার জবাবদান সম্ভবপর।
- আগে থেকে জানা না থাকলে লোকসাহিত্যের ধাঁধাঁর উত্তর বের করা কঠিন। কারণ ধাঁধাঁর মধ্যে বক্তব্য সাধারণত সঙ্গতিপূর্ণ থাকে না। যেমন:

একটুখানি পুতুনি কইয়ে ভুর ভুর করে
রাজা আইলে প্রজা আইলে তুইল্যা সেলাম করে।

- এর উত্তর যে 'হুঁকা'-তা আগে থেকে জানা না থাকলে ধাঁধাঁর বক্তব্য থেকে তা উদ্ধার করা চলে না।

- অনেক সময় ধাঁধাঁর উত্তরের সঙ্গে বক্তব্যের অর্থসঙ্গতি খুঁজে পাওয়া যায় না।
- ধাঁধাঁর মধ্যে অর্থহীন পদও ছন্দের ঝংকার তোলে। যেমন: 

থাল ঝনঝন থাল ঝনঝন থাল নিল চোরে।
বৃন্দাবনে আগুন লাগল কে নিবাইতে পারে। (-রোদ)

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮৪.
মৈয়মনসিংহ গীতিকার কোন পালার সাথে কবি দ্বিজ কানাই এর ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে?
  1. মহুয়া পালা
  2. কমলা পালা 
  3. মলুয়া পালা 
  4. দস্যু কেনারামের পালা 
সঠিক উত্তর:
মহুয়া পালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া পালা
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া পালা':
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
"কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ী।।
তুমি হও গহীন গাঙ্গ আমি ডুব্যা মরি।।"

অন্যদিকে, 
--------------------
• চন্দ্রাবতী রচিত কয়েকটি পালা হচ্ছে - মলুয়া, দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।
• ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৫.
কোনটি পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত?
  1. কমলা
  2. মলুয়া
  3. দেওয়ানা ভাবনা
  4. কাঞ্চনমালা
সঠিক উত্তর:
কাঞ্চনমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঞ্চনমালা
ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন  চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক। ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরণের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।  
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

পূর্ববঙ্গ গীতিকাগুলো হলো:
- নিজাম ডাকাতের পালা,
- কাফন চোরা,
- কমল সওদাগর,
- চৌধুরীর লড়াই,
- কাঞ্চনমালা,
- আয়না বিবি,
- ভেলুয়া,
- কমলা রানির গান।

অন্যদিকে,
- মলুয়া, দেওয়ানা ভাবনা ও কমলা মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৮৬.
'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা' সংকলনের প্রধান সংগ্রাহক কে ছিলেন?​
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর​
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্‌দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন। দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৭.
ফকির গরীবুল্লাহ্‌ পুঁথি সাহিত্যের কাব্যধারার সূত্রপাত করেন কোন গ্রন্থ রচনার মধ্যদিয়ে? 
  1. ইউসুফ-জুলেখা 
  2. আমীর হামজা
  3. মধুমালতী
  4. জৈগুনের পুথি
সঠিক উত্তর:
আমীর হামজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমীর হামজা
ব্যাখ্যা

• পুঁথি সাহিত্য:
- পুঁথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণির বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল।

- এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত।

- হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ্‌ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০) 'আমীর হামজা' রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন। গরীবুল্লাহর প্রথম কাব্য  ইউসুফ-জুলেখা সাধু বাংলায় রচিত। তিনি মিশ্র ভাষারীতিতে রচনা করেন সোনাভান, সত্যপীরের পুথি, জঙ্গনামা ও আমীর হামজা। 

- সপ্তদশ শতাব্দীর কবি সৈয়দ হামজা পুথি সাহিত্যের অন্যতম কবি। সৈয়দ হামজার প্রথম কাব্য মধুমালতী সাধু বাংলায় রচিত। এরপর তিনি মিশ্র ভাষায় রচনা করেন জৈগুনের পুথি (১৭৯৮) ও হাতেম তাই (১৮০৪) কাব্যদুটি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৮.
মৈমনসিংহ গীতিকায় কয়টি গীতিকা স্থান পেয়েছে
  1. ১০টি 
  2. ১১টি 
  3. ১২টি 
  4. ২৩টি 
সঠিক উত্তর:
১০টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি 
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন। গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়। মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।

যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৯.
'তরজা' কী?
  1. পাঁচালীর বিবর্তিত রূপ
  2. কবিগান জাতীয় লোকসংগীত
  3. প্রার্থনা সংগীত বিশেষ
  4. এক প্রকার সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
কবিগান জাতীয় লোকসংগীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিগান জাতীয় লোকসংগীত
ব্যাখ্যা
• 'তরজা': 
- তরজা প্রচলিত পল্লিসঙ্গীত। এটি প্রশ্নোত্তরমূলক একপ্রকার লোকগীতি/লোকসংগীত।
- পরিবেশনার পদ্ধতি কবিগানের অনুরূপ। তবে এর বিষয় ও ব্যাপ্তি কবিগানের চেয়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত।

- বাংলায় তরজা গানের প্রচলন ছিল প্রাচীনকাল থেকেই, তবে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে মধু ঠাকুর ও তারক পাল নামে দুই কবিয়াল এ গানকে জনপ্রিয় করে তোলেন।
- আরবি ‘তরজিবন্দ’ (অর্থ কবিতার চরণ যা কবিতায় ঘুরে ঘুরে আসে) শব্দ থেকে তরজা শব্দের উৎপত্তি বলে মনে করা হয়; কেউ কেউ অবশ্য একে তর্জের দেশিয় রূপ বলে মনে করেন।
- এ গানে দুটি দল থাকে এবং দুটি দলে থাকে দুজন কবিয়াল ও তাদের সহকারিবৃন্দ।
- গানের প্রথমে থাকে দেবস্ত্ততি, তারপর সরস্বতী বন্দনা এবং শেষে আসর বা সভা বন্দনা। চাপান ও উতোর নামে এ গানের দুটি অংশ।
- সভা বন্দনার পর কবিয়ালদ্বয় গানের মাধ্যমে প্রশ্নোত্তর আকারে পরস্পরের সঙ্গে তর্ক করে।
- চাপান অংশে একজন প্রশ্ন করে এবং উতোর অংশে অন্যজন তার উত্তর দেয়। তরজা গানের সঙ্গে অনুষঙ্গ বাদ্যযন্ত্র হিসেবে ঢোল ও কাঁসর বাজানো হয়। 

উল্লেখ্য, 
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
তরজা, তর্জা (বিশেষ্য): 
অর্থ: লোকসঙ্গীতবিশেষ যাতে দুই দলের মধ্যে সদ্য-সদ্য গান রচনা করে উত্তর-প্রতু্যত্তর চলে, কবির লড়াই বা কবিগানজাতীয় সঙ্গীত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯০.
মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয় কাকে?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. দৌলত কাজী
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া কাব্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'মর্সিয়া সাহিত্য' নামে এক ধরনের শোককাব্য বিস্তৃত অঙ্গন জুড়ে ছড়িয়ে আছে। 'মর্সিয়া' কথাটি আরবি এর অর্থ শোক প্রকাশ করা।
- আরবি সাহিত্যে মর্সিয়ার উদ্ভব নানা ধরনের শোকাবহ ঘটনা থেকে হলেও পরে তা কারবালা প্রান্তরে নিহত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদকে উপজীব্য করে লেখা কবিতা মর্সিয়া নামে আখ্যাত হয়।
- আরবি সাহিত্য থেকে মর্সিয়া কাব্য ফারসি সাহিত্যে স্থান পায়।
- ভারতে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এদেশে ফারসি ভাষায় মর্সিয়া প্রচলিত হয় এবং পরে উর্দু ভাষাতেও তার প্রসার ঘটে।
- মর্সিয়া কাব্য বা শোক কাব্যের পটভূমিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, 'যুদ্ধ কাব্যের মধ্য কারবালাযুদ্ধ কাব্যই ষোল-সতের শতক থেকে বাংলার মুসলিম সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় হতে থাকে।
- শেখ ফয়জুল্লাহকে মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়। তার রচিত কাব্য জয়নবের চৌতিশা। এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ। এটি কারবালার কাহিনি নিয়ে রচিত।
- মর্সিয়া সাহিত্যের প্রধান কবি- ফকির গরীবুল্লাহ্।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯১.
পুঁথি সাহিত্যের ভাষা কিরূপ?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) ফারসি
  3. গ) হিন্দি
  4. ঘ) মিশ্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশ্র
ব্যাখ্যা
পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য।
- আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- পুথি (বা পুঁথি) শব্দের উৎপত্তি ‘পুস্তিকা’ শব্দ থেকে। এ অর্থে পুথি শব্দদ্বারা যেকোনো গ্রন্থকে বোঝালেও পুথি সাহিত্যের ক্ষেত্রে তা বিশেষ অর্থ বহন করে।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। 
- পুথি সাহিত্যের শব্দসম্ভার ও ভাষারীতি লক্ষ করে বিভিন্ন জন এর বিভিন্ন নামকরণ করেছেন।
- রেভারেন্ড জেমস  লং এ ভাষাকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা’, আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা সাহিত্য’।
- কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি ‘বটতলার পুথি’ নামেও পরিচিত হয়।
- গবেষকগণ ভাষা-বৈশিষ্ট্য ও বাক্যরীতির দিক থেকে বিচার করে প্রথমে এগুলিকে দোভাষী পুথি এবং পরবর্তীকালে ‘মিশ্র ভাষারীতির কাব্য’ বলে অভিহিত করেন।

- ড. আনিসুজ্জামান তাঁর রচিত 'মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' গ্রন্থে এই শ্রেণির কাব্যের নাম সম্পর্কে বলেছেন - 
"কলকাতার সস্তা ছাপাখানা থেকে মুদ্রিত হয়ে এইধারার কাব্য দেশময় প্রচারিত হয়েছিল বলে বটতলার পুঁথি নামেও একে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা চলেছে।" 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৯২.
পূর্ববঙ্গ গীতিকার সংগ্রাহক কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. সুকুমার সেন
  3. চন্দ্রকুমার দে
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রকুমার দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা: 
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।  
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৯৩.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রের সংগৃহীত রূপকথার সংকলন নয় কোনটি?
  1. দাদা মশায়ের থলে
  2. ঠাকুরমার ঝুলি
  3. ঠানদিদির ঝুলি
  4. ঠাকুরদাদার ঝুলি
সঠিক উত্তর:
ঠানদিদির ঝুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠানদিদির ঝুলি
ব্যাখ্যা
- "ঠানদিদির ঝুলি" দক্ষিণারঞ্জন মিত্রের সংগৃহীত রূপকথার সংকলন নয়। 

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র রচিত রূপকথার গ্রন্থ হচ্ছে- ঠানদিদির থলে।

------------------------
• ঠাকুরমার ঝুলি:
- 'ঠাকুরমার ঝুলি' বাংলাদেশের প্রচলিত বিভিন্ন রূপকথার সংকলন।
- রূপকথার সাথে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্যও আছে।
- কারণ পশু-পাখির মুখ দিয়েও কাহিনী বর্ণিত হয়েছে এই গ্রন্থে।
- এ গ্রন্থের ভূমিকা লিখে দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- গ্রন্থটি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- তিনি ঢাকা জেলার উলাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিশু সাহিত্যিক ও লোক সংগ্রাহক হিসেবে খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।
- তিনি 'সুধা' নামের একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।

• তাঁর রচিত সংগৃহিত কাহিনি গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি
- ঠাকুরদাদার ঝুলি
- দাদা মশায়ের থলে
- ঠানদিদির থলে।
- খোকা বাবুর খেলা।
- আমাল বই।
- কিশোরদের মন।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৯৪.
‘গোর্খবিজয়’ নাথ সাহিত্যের রচয়িতা কে?
  1. ভবানী দাস
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. শ্যামাদাস সেন
  4. ভীমসেন রায়
সঠিক উত্তর:
ভীমসেন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভীমসেন রায়
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- ‘গোরাক্ষ বিজয়’ এর রচয়িতা - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- ‘গোপীচন্দ্রের সন্যাস’ এর রচয়িতা - শুকুর মাহমুদ।
- ‘মীনচেতন’ এর রচয়িতা - শ্যামাদাস সেন।
- ‘ময়নামতির গান’ এর রচয়িতা - ভবানী দাস।
- ‘গোর্খবিজয়’ এর রচয়িতা - ভীমসেন রায়।

• নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও শুকুর মাহমুদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং শুকুর মাহমুদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৯৫.
পুঁথি সাহিত্যের উদ্ভব -
  1. ক) ষোড়শ শতাব্দীতে
  2. খ) সপ্তদশ শতাব্দীতে
  3. গ) অষ্টাদশ শতাব্দীতে
  4. ঘ) উনবিংশ শতাব্দীতে
সঠিক উত্তর:
গ) অষ্টাদশ শতাব্দীতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অষ্টাদশ শতাব্দীতে
ব্যাখ্যা
পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল।
এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া
৯৬.
কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকা?
  1. রূপবতী
  2. মদিনা
  3. কঙ্কবতী
  4. দেওয়ান
সঠিক উত্তর:
রূপবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপবতী
ব্যাখ্যা
• ‘রূপবতী’ মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত একটি পালা।
- পালাটির কবির নাম অজ্ঞত।

অন্যদিকে,
• মদিনা, কঙ্কবতী ও দেওয়ান ময়মনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত পালা নয়।

উল্লেখ্য,
• ‘দেওয়ান মদিনা নামে মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত একটি পালা রয়েছে।

---------------------------
মৈমনসিংহ গীতিকা:

• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া
৯৭.
সুফিচর্যা জাতীয় গ্রন্থ 'জ্ঞানপ্রদীপ' এর রচয়িতা-
  1. ক) শেখ চান্দ
  2. খ) কাজী শেখ মনসুর
  3. গ) সৈয়দ সুলতান
  4. ঘ) মীর মুহম্মদ শফী
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ সুলতান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
• সুফিচর্যা জাতীয় গ্রন্থ 'জ্ঞানপ্রদীপ' এর রচয়িতা- 'সৈয়দ সুলতান'। 

• সৈয়দ সুলতান (আনু. ১৫৫০-১৬৪৮):
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম। চট্টগ্রামের লস্করপুর তথা পরাগলপুরে কবি সাময়িকভাবে বসবাস করেন। 
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।
- তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর  নবীবংশ, জ্ঞানপ্রদীপ, জ্ঞানচৌতিশা ও জয়কুম রাজার লড়াই  উল্লেখযোগ্য। 
- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।
- ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে  হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে।
- তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে। বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।
- নবীবংশের দ্বিতীয় খন্ড রসুলচরিত একখানা পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৮.
‘মহুয়া’ পালায় কোন অঞ্চলের গীতিকার বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে?
  1. বগুড়া
  2. ময়মনসিংহ
  3. জামালপুর
  4. রংপুর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৯৯.
মধ্যযুগের কোন সাহিত্যধারাটি ধর্ম বা দেব-দেবীর পরিবর্তে মানুষের প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করেছে?
  1. বৈষ্ণব সাহিত্য
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. লোক সাহিত্যধারা
  4. শাক্তপদ
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্যধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্যধারা
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যুযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০০.
লোকসাহিত্যকে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য হলো মূলত মৌখিক ধারায় বিকশিত এক ধরনের সাহিত্য।
- এই সাহিত্য অতীতের ঐতিহ্য ও বর্তমান জীবনের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে।
- এটি লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত শাখা, যার ভেতর দিয়ে একটি জাতির সামষ্টিক অনুভূতি, বিশ্বাস ও আত্মার স্পন্দন প্রকাশ পায়। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লোকসাহিত্যকে “জনপদের হৃদয়-কলরব” বলে অভিহিত করেছেন।
- বিষয়বস্তুর দিক থেকে লোকসাহিত্যকে সাধারণত আটটি শাখায় ভাগ করা হয়—
- ছড়া,
- লোকসঙ্গীত,
- গীতিকা,
- লোককাহিনী,
- লোকনাট্য,
- মন্ত্র,
- ধাঁধা,
- ও প্রবাদ।


- লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি:

- লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি হিসেবে ছড়ার কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ছড়া কোনো একক ব্যক্তির রচনা নয়; বরং এটি সমাজের সমষ্টিগত চিন্তা ও অভিজ্ঞতার ফল।
- ছড়ার ছন্দই বাংলা কবিতার সবচেয়ে প্রাচীন ছন্দ, যা লৌকিক ছন্দ নামেও পরিচিত।
- সহজ ও সরল ভাষা, জোরালো ছন্দ, অন্ত্যমিল এবং সংক্ষিপ্ত কাঠামো ছড়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- মুখে মুখে প্রচলিত হওয়ায় ছড়া দীর্ঘকাল ধরে টিকে আছে।
- ছড়া প্রধানত শিশুদের আনন্দ, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;  
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।