• শক্তিশালী ঝড়-তুফান এবং বজ্রসহ আবহাওয়ার সময় সাধারণত ব্ল্যাক আউট দেখা যায়। ঝড় এবং বজ্রপাত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের লাইনে প্রভাব ফেলে, যার ফলে বিদ্যুৎ সংযোগে হঠাৎ সমস্যা সৃষ্টি হয়। এর ফলে বৈদ্যুতিক গ্রিডে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে এবং বিদ্যুৎ সম্পূর্ণভাবে চলে যায়। এই পরিস্থিতিকে ব্ল্যাক আউট বলা হয়। অন্যদিকে, ট্রানসিয়েন্ট হলো ছোট সময়ের বৈদ্যুতিক অস্থায়ী উত্তেজনা, নয়েজ হলো সিগন্যালে অপ্রয়োজনীয় গোলমাল, আর ব্রাউন আউট হলো ভোল্টেজের হ্রাস যা আলো বা যন্ত্রপাতি আংশিকভাবে কাজ করতে বাধা দেয়। তাই ঝড়-তুফানের সময় সবচেয়ে সাধারণ ঘটনা হলো ব্ল্যাক আউট।
• বিদ্যুৎ সরবরাহ সমস্যা:
- বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ একটি সাধারণ ব্যাপার।
- বিদ্যুৎ পাওয়ার লাইনে সাধারণত চার ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যথা-
১. ব্রাউন আউট:
- পরিকল্পিত বা অপরিকল্পিত কোনো কারণে সরবরাহ লাইনে বিদ্যুতের ভোল্টেজ কমে যাওয়াকে ব্রাউন আউট বলা হয়।
- সাধারণত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর অক্ষমতার কারণে এ ঘটনা ঘটে।
- এক্ষেত্রে কম্পিউটার বন্ধ রাখা উচিত।
২. ব্ল্যাক আউট:
- হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়াকে ব্লাক আউট বলে।
- সাধারণত প্রচণ্ড ঝড়, তুফান, বজ্রপাত প্রভৃতি কারণে ব্লাক আউট হতে পারে।
- ব্লাক আউটের কারণে কম্পিউটারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
- তাই ঝড়, তুফান ও বজ্রপাতের সময় কম্পিউটার বন্ধ রাখা উচিত।
৩. ট্রানসিয়েন্ট:
- বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন সৃষ্ট ভোল্টেজ বা কারেন্টের অপেক্ষাকৃত বড় ধরনের স্পাইককে ট্রানসিয়েন্ট বলা হয়।
- অনেক ট্রানসিয়েন্ট পাওয়ার সাপ্লাই দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে নিঃশ্বেষ হয় কিন্তু অনেক ট্রানসিয়েন্ট এ বাধা অতিক্রম করে কম্পিউটারের ভেতরের অনেক বর্তনীসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট করে দিতে পারে।
৪. নয়েজ:
- সাধারণত প্রিন্টারের শব্দ, স্পিকারের উচ্চমাত্রার শব্দ, পাওয়ার সাপ্লাই, কুলিং ফ্যান ইত্যাদি থেকে নয়েজ সৃষ্টি হয়ে থাকে।
- প্রিন্টার, ডিস্ক ড্রাইভ, স্পিকার ইত্যাদির নয়েজকে শাব্দিক নয়েজ এবং পাওয়ার সাপ্লাই, কুলিং ফ্যান ইত্যাদির নয়েজকে সিস্টেম নয়েজ বলা হয়।
- এ ধরনের নয়েজ কম্পিউটারের বিভিন্ন হার্ডওয়্যারের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।