বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মূল্যবোধ

মোট প্রশ্ন৭৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মূল্যবোধ

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৭৮০

৩০১.
কোনটি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়?
  1. ক) সৌজন্যবোধ
  2. খ) মূল্যবোধ
  3. গ) নৈতিকতা
  4. ঘ) কর্তব্যপরায়ণতা
সঠিক উত্তর:
খ) মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধের যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩০২.
“সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।" এটি কার অভিমত?
  1. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  2. এম. আর. উইলিয়াম
  3. এইচ. ডি. স্টেইন
  4. স্টুয়ার্ট সি. ডড
সঠিক উত্তর:
স্টুয়ার্ট সি. ডড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টুয়ার্ট সি. ডড
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
→ যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে, তাকেই আমরা সাধারণত মূল্যবোধ বলে থাকি।
→ সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড যে সকল নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।

মূল্যবোধের ধারণা ও সংজ্ঞা:
- বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে মূল্যবোধের বিশেষ করে সামাজিক মূল্যবোধের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।

স্টুয়ার্ট সি. ডড (Stuart C. Dodd) বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।"

→ এইচ. ডি. স্টেইন (H.D. Stain)-এর মতে, “জনসাধারণ যার সম্বন্ধে আগ্রহী, যা তারা কামনা করে, যাকে তারা অত্যাবশ্যক বলে মনে করে, যার প্রতি তাদের অগাধ শ্রদ্ধা বর্তমান এবং যা সম্পাদনের মাধ্যমে তারা আনন্দ উপভোগ করে তাকেই মূল্যবোধ বলে।”
→ এম. আর. উইলিয়াম (M.R. William)-এর মতে, “মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। এর আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতি-নীতি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এই মানদণ্ডে সমাজে মানুষের কাজের ভালো-মন্দ বিচার করা হয়।”
→ এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩০৩.
সুশাসন নিশ্চিতকরণে কোনটি জরুরি?
  1. ক) গণতান্ত্রিক পরিবেশ
  2. খ) সহাবস্থান
  3. গ) স্বৈরতন্ত্র
  4. ঘ) অর্থনৈতিক উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
ক) গণতান্ত্রিক পরিবেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গণতান্ত্রিক পরিবেশ
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ। সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই। [সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী]
৩০৪.
মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে -
  1. মানবিকতার মাধ্যমে
  2. আচার-আচরণের মাধ্যমে
  3. সহমর্মিতার মাধ্যমে
  4. শ্রমের মর্যাদার মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
আচার-আচরণের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচার-আচরণের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।

মূল্যবোধের কিছু উপাদান -
• শৃঙ্খলা: শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
• সহমর্মিতা: মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে
পারে না।

• সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি
অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।
• মানবিকতা: মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবিকতা না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না; মূল্যবোধসম্পন্ন বলার তো
প্রশ্নই আসে না। অর্থাৎ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অবশ্যই মানবিক গুনাবলির অধিকারী হবে।

• শ্রমের মর্যাদা: শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য। এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে
পরিবর্তন আসে। এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্মান করতে শিখে।  

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৫.
মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোন ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে উঠে?
  1. স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র
  2. পুঁজিবাদী রাষ্ট্র
  3. কল্যাণমূলক রাষ্ট্র
  4. আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ, চিন্তা ও সমাজ গঠনের নৈতিক মানদণ্ড।
- আর এই মূল্যবোধই একটি রাষ্ট্রকে কল্যাণমূলক পথে পরিচালিত করে।
- মূল্যবোধ মানুষকে সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলে।
- মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত রাষ্ট্র দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বৈষম্য ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকে।
- মূল্যবোধ মানুষ ও রাষ্ট্রকে মানবিক করে তোলে।
- তাই মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে গড়ে উঠে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র, যেখানে মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রাধান্য পায়।

উল্লেখ্য, কল্যাণমূলক রাষ্ট্র (Welfare State) হলো এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা-
- যা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে,
- যেখানে রাষ্ট্র নাগরিকের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান, কর্মসংস্থান ইত্যাদির দায়িত্ব নেয়,
- যেখানে ন্যায্যতা ও সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩০৬.
মূল্যবোধ বলতে বুঝায়-
  1. সমাজে নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতা
  2. মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক
  3. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
  4. প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলী গ্রহণ করা
সঠিক উত্তর:
মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- সার্বিকভঅবে, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিশ্বাস। 
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৭.
জনকল্যাণের উদ্দেশ্য হলো -
  1. জনগণের উন্নতি
  2. সামাজিক ন্যায়বিচার
  3. সুষম উন্নয়ন সাধন করা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

মৌলিক মূল্যবোধ:
- একজন প্রশাসকের প্রধান মূল্যবোধ জনকল্যাণ ৷
- এটি নির্দেশ করে যে প্রশাসক তার সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করেন।

⇒ জনকল্যাণের উদ্দেশ্য হলো:
• জনগণের উন্নতি,
• সামাজিক ন্যায়বিচার,
• সুষম উন্নয়ন সাধন করা।

⇒ উল্লেখ্য:
- ক্ষমতা প্রশাসকের কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু যদি জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়, তবে এটি অপ্রয়োজনীয় হতে পারে।
- স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ তবে এটি প্রশাসকের কাজে জনকল্যাণের সাথে সম্পর্কিত নয়। স্বাধীনতা প্রশাসকের কার্যক্রমের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে।
- কর্মদক্ষতা একটি প্রশাসকের প্রয়োজনীয় গুণ, তবে এটি মূল মূল্যবোধ নয়; এটি জনকল্যাণ সাধনের জন্য একটি সহায়ক গুণ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০৮.
যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে অন্যতম দায়ী কোনটি?
  1. ক) বিদেশী সংস্কৃতি
  2. খ) মাদকাসক্ততা
  3. গ) নগরায়ন
  4. ঘ) ছাত্র রাজনীতি
সঠিক উত্তর:
খ) মাদকাসক্ততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাদকাসক্ততা
ব্যাখ্যা
- যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে অন্যতম দায়ী হলো মাদকাসক্তি।
- মাদকাসক্ততার প্রভাবে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। মাদকাসক্তরা অর্থের জন্যে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। এতে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
- হতাশা, বেকারত্ব, অপসংস্কৃতি, মূল্যবোধ শিক্ষার অভাব প্রভৃতি কারণে যুব সমাজ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে।
- বেকারত্ব, দারিদ্র্য, অপসংস্কৃতি, অসুস্থ ছাত্ররাজনীতি প্রভৃতিও যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে দায়ী।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
৩০৯.
সামাজিক মূল্যবোধকে ‘একটি মানদণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন কে?
  1. স্টুয়ার্ড সি. ডড
  2. নিকোলাস রেসার
  3. এইচ এম জনসন
  4. জেন লেন্নন
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -

• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১০.
মূল্যবোধ (Values) কী ?
  1. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
  2. মানুষের সঙ্গে মানষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ।
  3. মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে কার্যাদি নির্ধারণের দিক নির্দেশনা।
  4. নাগরিক জিবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় মনোভাব।
সঠিক উত্তর:
মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধ স্থায়ী নয় বরং পরিবর্তনশীল।
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে তাকে আমরা সাধারণত মূল্যবোধ বলে থাকি।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং
- প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।
- মূল্যবোধ হলো ঐসব চিন্তাভাবনা, আশা-আকাঙ্খা, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, এটা মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কার্যাবলীকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রণ করে।
- শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক সুবিবেচিত আচরণের সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩১১.
প্রতিটি শিশু কোন মূল্যবোধ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  3. নৈতিক মূল্যবোধ
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

উৎস: i) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
         ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১২.
নিচের কোনটি গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ নয়?
  1. ক) নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  2. খ) আইনের শাসন
  3. গ) জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা
  4. ঘ) সহনশীলতা
সঠিক উত্তর:
ক) নীতি ও ঔচিত্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নীতি ও ঔচিত্যবোধ
ব্যাখ্যা
নীতি ও ঔচিত্যবোধ হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান। সহনশীলতা, আত্মসংযম, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ,আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ইত্যাদি হলো গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩১৩.
ক্লাইড ব্লুখোন সামাজিক মূল্যবোধকে কীভাবে ব্যাখ্যা করেছেন?
  1. সমাজে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচরণের ধারা
  3. বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ
  4. সমাজের প্রত্যাশিত ও প্রাপ্ত গুণাবলি
সঠিক উত্তর:
প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচরণের ধারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচরণের ধারা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -

• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৪.
মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে কীসের মাধ্যমে? 
  1. ব্যাক্তির সম্পদ বণ্টন প্রক্রিয়ায়
  2. রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে
  3. ব্যক্তির আচরণে
  4. ব্যক্তির স্বতন্ত্র সত্তার স্বীকৃতিতে
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তির আচরণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তির আচরণে
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের উপাদান:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়,
- যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ।
- আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৫.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান -
  1. পরমতসহিষ্ণুতা
  2. স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন
  3. স্বেচ্ছাচারিতা
  4. শক্তিশালী রাজনৈতিক দল
সঠিক উত্তর:
পরমতসহিষ্ণুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমতসহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা

• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা:
- বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মাঝে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অন্যতম।
- নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্মসংযম, পরমত সহিষ্ণুতা এর মতো গুনাবলিগুলো মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়।

• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- একটি রাষ্ট্র কেবল গণতন্ত্র ঘোষণা করলেই মূল্যবোধ মানুষকে সহনশীলতার শিক্ষা দিয়ে থাকে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত বিশেষ করে বিরুদ্ধ মত সহ্য করা ও বিবেচনা করা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করে।
- এহেন মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজ-নিজ অধিকার ভোগ ও কর্তব্য সম্পাদনে তৎপর হয়।
- সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- এ মূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার প্রতি সমান দৃষ্টি দিয়ে থাকে।
- এর ফলে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।  

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৬.
সাধারনের দৃষ্টিতে কোনটি মূল্যবোধ সম্পন্ন শাসন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য?
  1. আইনের নির্বাচনী প্রয়োগ
  2. নাগরিকের অংশগ্রহণ 
  3. কর্তৃত্ববাদ
  4. গোপনীয়তা
সঠিক উত্তর:
নাগরিকের অংশগ্রহণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগরিকের অংশগ্রহণ 
ব্যাখ্যা

© সাধারনের দৃষ্টিতে মূল্যবোধ সম্পন্ন শাসন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য -নাগরিকের অংশগ্রহণ।

মূল্যবোধ:

- মূল্যবোধ ব্যক্তির এমন কতিপয় ব্যক্তিগত বিশ্বাস, বৈশিষ্ট্য বা মানবিক গুণাবলি যা তার আচরণের মান বা আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
- মূল্যবোধ কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিশ্বাস।
- এটা মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ডও বটে।
- মানুষের বোধশক্তি জন্মানোর পর থেকেই তার নিজের মধ্যে বস্তু, ঘটনা ও প্রতিবেশ সম্পর্কে এক ধরনের ভালোমন্দ, ন্যায়-অন্যায় ধারণা পোষণ করে থাকে।
- এ সকল ধারণাই ব্যক্তির কর্মক্ষেত্রে তার কাজের নৈতিক আচরণে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
- ব্যক্তি জীবন ও কর্মজীবন, দুই ক্ষেত্রেই ব্যক্তি কোনো অবস্থাতেই তার মূল্যবোধকে বিসর্জন দিতে চায়না।

• মূল্যবোধ সম্পন্ন শাসন ব্যবস্থা:
- মূল্যবোধ সম্পন্ন শাসন ব্যবস্থা হলো এমন একটি শাসন ব্যবস্থা যা সততা, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং নৈতিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

⇒ নাগরিকের অংশগ্রহণ:
- মূল্যবোধ সম্পন্ন শাসন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য হিসেবে নাগরিকের অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ দৃষ্টিতে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
- নাগরিকের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নীতি প্রণয়ন, মনিটরিং এবং জবাবদিহিতায় যুক্ত হয়।
- এটি স্বচ্ছতা বাড়ায় ও দুর্নীতি কমায় এবং শাসনকে জনমুখী করে।

অন্যদিকে,
- আইনের নির্বাচনী প্রয়োগ- এটি আইনের অপব্যবহার নির্দেশ করে যা মূল্যবোধের বিপরীত।
- কর্তৃত্ববাদ: এটি মূল্যবোধহীন শাসনের উদাহরণ। এতে জনগণের অংশগ্রহণ নেই।
- গোপনীয়তা: এটি দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতা বাড়ায়, মূল্যবোধ সম্পন্ন শাসনের সম্পূর্ণ বিপরীত।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৭.
কোন গুণাবলী গুলো সামাজিক মূল্যবোধের মাধ্যমে বিকশিত হয়?
  1. সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ
  2. সহযোগিতা ও মমত্ববোধ
  3. সামাজিক সংহতি
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

⇒ সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে বিভিন্ন উপাদান যেমন- ভৌগোলিক পরিবেশ, জলবায়ু, স্থানীয় কৃষ্টি, ধর্মীয় বিশ্বাস, যুদ্ধ, সমস্যা, চাহিদা ও সম্পদ প্রভাব বিস্তার করে।
- আমাদের সমাজের মূলবোধের সাথে যেমন সৌদি আরবের মূল্যবোধের মিল পাওয়া যাবে না, তেমনি করে প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের সমাজের সামাজিক মূল্যবোধের পার্থক্য পরিলক্ষিত হবে।

উল্লেখ্য,
- জাতীয় সত্তার দর্পণ হিসেবে সামাজিক মূল্যবোধকে বিবেচনা করা হয় কারণ সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহযোগিতা ও মমত্ববোধের মতো গুণাবলির বিকাশ সামাজিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই ঘটে যা একটি জাতির সামগ্রিক পরিচিতি ও উন্নয়নে সহায়তা করে। 
 
উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৮.
মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস কী?
  1. সমাজ
  2. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  3. পরিবার
  4. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিলো, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- প্রাচীন অনেক মূল্যবোধ এখন আর নেই।
- এজন্যই মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩১৯.
"সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত" এই উক্তিটি কার?
  1. এফ ই মেরিল
  2. এইচ এম জনসন
  3. ফ্রাঙ্কেল
  4. ক্লাইড ক্লুখোন
সঠিক উত্তর:
ক্লাইড ক্লুখোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লাইড ক্লুখোন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের ধারণা ও বৈশিষ্ট্য:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুণাবলি। এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়। এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়।

- ক্লাইড ক্লুখোন (Clyde Kluokhon) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই। কেননা একজনের কাছে যা আদর্শ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে।
- তবে অনেকের মতে মানবিক গুণাবলি এবং সঠিক বিবেক-বুদ্ধির বহিঃপ্রকাশই মূল্যবোধ।
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদণ্ড"।
- অতএব,সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
-সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩২০.
মানবীয় গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ প্রথমে কোথায় শুরু হয়?
  1. বিদ্যালয়ে
  2. সমাজে
  3. পরিবারে
  4. খেলার মাঠে
সঠিক উত্তর:
পরিবারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবারে
ব্যাখ্যা

⇒ প্রাথমিকভাবে মানুষের মানবীয় গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ পরিবারে ঘটে।

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মানুষের শৈশবকাল থেকে তার মানবীয় গুণাবলি ও মূল্যবোধ প্রথমে পরিবারে গড়ে ওঠে।
- পরিবার হলো সেই প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান যেখানে শিশু শিখতে শুরু করে শিষ্টাচার, সততা, সহানুভূতি, ন্যায়পরায়ণতা ইত্যাদি।
- বাবা-মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা শিশুদের মাঝে এই মূল্যবোধের উদাহরণ সৃষ্টি করেন।
- পরিবারে শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক আচরণ ও চিন্তা গঠিত হয়, যা পরবর্তীতে বিদ্যালয়, সমাজ ও রাষ্ট্রে আরও বিকাশ পায়।
- তবে, প্রাথমিক বিকাশের ক্ষেত্র হিসেবে পরিবারই মূল ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৩২১.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্যর সাথে সংযুক্ত?
  1. সম্পর্কের সেতু
  2. সামাজিক মানদন্ড
  3. পরিবর্তনশীলতা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
• আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়।
- একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে।
- অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।

• সামাজিক মানদন্ড:
- বিদ্যমান মূল্যবোধ দিয়ে একটি সমাজের বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, চিন্তা-ভাবনার মূল্যায়ন করা যায়।
- যেমন, কৃষি প্রধান সমাজের মূল্যবোধ একরকম,
- আবার শিল্পসমৃদ্ধ সমাজের মূল্যবোধ অন্যরকম।
• সম্পর্কের সেতু:
- অপরিচিত ব্যক্তিরা অনেক সময় একই মূল্যবোধের হলে, তাদের মাঝেও একটি আত্নিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।
- যেমন কোন বাংলাদেশি নাগরিক লন্ডনে আরেকজন অপরিচিত বাংলাদেশী নাগরিককের সাথে দেখা হলে সহজেই তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে।
• পরিবর্তনশীলতা: সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধ পরিবর্তিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩২২.
'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' উক্তির মাধ্যমে কোন ধরনের মূল্যবোধ প্রকাশিত হয়।
  1. ক) সামাজিক মূল্যবোধ
  2. খ) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  3. গ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) ধর্মীয় মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values): 
» অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়।
» গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা ও সংযম গড়ে তুলতে হবে।
» গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।
» সবসময় ভাবতে হবে 'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' শৃঙ্খলাবোধে বিশ্বাসী হতে হবে।
» অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হতে হবে। সরকারকে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ বা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
» নির্বাচনে জয়- পরাজয়কে মেনে নিতে হবে। আইনসভাকে কার্যকর করতে হবে।
» হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, বরং আইনসভায় বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসসর মোঃ মোজ্জামেল হক।
৩২৩.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ নয়?
  1. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
  2. আধুনিক মূল্যবোধ
  3. আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ
  4. আচরনগত মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
আচরনগত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচরনগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

⇒ আচরনগত মূল্যবোধ নামে কোন মূল্যবোধ নেই ৷

♦ মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদন্ড।

⇒ মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ,
- ধর্মীয় মূল্যবোধ,
- সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- আধুনিক মূল্যবোধ,
- আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩২৪.
কোন মূল্যবোধ ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  3. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  4. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৫.
"মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।" - উক্তিটি কার? 
  1. উইলিয়াম 
  2. মেরিল 
  3. ফ্রাঙ্কেল 
  4. শেফার
সঠিক উত্তর:
ফ্রাঙ্কেল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রাঙ্কেল 
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:

- সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে,
"মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"

- ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
"মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

- মেরিল এর মতে,
''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।''

- শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩২৬.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের-
  1. ইতিবাচক
  2. নেতিবাচক
  3. সম্পূরক
  4. সাংঘর্ষিক
সঠিক উত্তর:
সম্পূরক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পূরক
ব্যাখ্যা

- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের সম্পূরক।
- আইন, রাষ্ট্র, সুশাসন প্রভৃতির মূলভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষার ধারণা উভয়ই মানবজাতির জন্য ইতিবাচক।
- সরকার ও রাষ্ট্রীয় জনকল্যাণমুখিতা উভয়ই মূল্যবোধ ও সুশাসনের উপাদান।

৩২৭.
মূল্যবোধের __________ হলো সংস্কৃতি।
  1. সোপান
  2. প্রাণ
  3. চালিকাশক্তি
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
চালিকাশক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালিকাশক্তি
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
- আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং মূল্যবোধের চালিকাশক্তি হলো সংস্কৃতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩২৮.
CEDAW সনদ কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) শিশু অধিকার
  2. খ) আমলাতান্ত্রিক শিষ্টাচার
  3. গ) নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ
  4. ঘ) দুর্নীতি প্রতিরোধ
সঠিক উত্তর:
গ) নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ
ব্যাখ্যা
CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination against Women) সনদ হলো নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক দলিল।
- এটি ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর গৃহীত হয় এবং কার্যকর হয় ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। এই সনদে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে।

(তথ্যসূত্র: OHCHR ওয়েবসাইট)
৩২৯.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি কোনটি? 
  1. মূল্যবোধ
  2. নৈতিকতা
  3. সমাজ
  4. রাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজ
ব্যাখ্যা
সভ্যতা (Civilization):
- সাধারণ অর্থে সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা।
- এ প্রসঙ্গে ম্যাকাইভার এবং পেজ এর মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তারা বলেন, আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা।
- জেরি এবং জেরি বলেন, “সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির উন্নত ধরন যেমন- কেন্দ্রীয় সরকার, শিল্পকলা ও শিক্ষণের উন্নয়ন, নীতি-নৈতিকতার সমন্বিত রূপ যা নগরের সাথে সম্পর্কিত এবং বৃহত্তর সমাজ যার মধ্যে নির্দিষ্ট।”
- স্কট বলেন, “সভ্যতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।”
- বটোমোর বলেন, “সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়”।
- সব মিলিয়ে বলা যায়, সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন। সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমষ্টিকে বোঝায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির অধিকতর অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রবাহিত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি। সমাজের বিশ্লেষণ করেই সভ্যতার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

সূত্র: সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩০.
মূল্যবোধ কী?
  1. পারস্পরিক সম্পর্কের মূলনীতি।
  2. প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের নির্দেশিকা।
  3. আচরণ পরিচালনার নীতি ও মানদণ্ড।
  4. সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় মনোভাব।
সঠিক উত্তর:
আচরণ পরিচালনার নীতি ও মানদণ্ড।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচরণ পরিচালনার নীতি ও মানদণ্ড।
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং
- প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।
- মূল্যবোধ স্থায়ী নয় বরং পরিবর্তনশীল।
- মূল্যবোধ হলো ঐসব চিন্তাভাবনা, আশা-আকাঙ্খা, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, এটা মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কার্যাবলীকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রণ করে।
- শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক সুবিবেচিত আচরণের সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৩১.
অ্যালমন্ড ও পাওয়েল কত ধরনের চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উল্লেখ করেছেন?
  1. ক) তিন ধরণ
  2. খ) চার ধরণ
  3. গ) পাঁচ ধরণ
  4. ঘ) আট ধরণ
সঠিক উত্তর:
খ) চার ধরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চার ধরণ
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
তাদের মতে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী চার ভাগে বিভক্ত। এরা হলো:
- স্বতঃস্ফুর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

(তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩ : স্নাতক শ্রেণী : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৩৩২.
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়-
  1. আপেক্ষিকতা 
  2. বিভিন্নতা 
  3. স্থিতিশীলতা 
  4. পরিবর্তনশীলতা
সঠিক উত্তর:
স্থিতিশীলতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থিতিশীলতা 
ব্যাখ্যা

- স্থিতিশীলতা নৈতিক মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়।

» মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য: 
• নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল।
- নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।

• বিভিন্নতা:
- সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
- উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক থেকে শুরু করে নানা দিক থেকে পশ্চিমা সংস্কৃতির মূল্যবোধের সাথে বাঙালি সংস্কৃতির মূল্যবোধের পার্থক্য আছে।

• আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়।
- একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে।
- অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।

• পরিবর্তনশীলতা:
- ভিন্ন সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে।
- যেমন, একজন বাঙালি দীর্ঘ দিন পশ্চিমা কোন সংস্কৃতিতে বসবাস করলে তার আচারণ-আচরণে চিন্তায় নানান পরিবর্তন ঘটতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি ,  উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৩.
মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. কর্তব্যবোধ
  2. পরিবর্তনশীলতা
  3. শ্রমের মর্যাদা
  4. আইনের শাসন
সঠিক উত্তর:
পরিবর্তনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবর্তনশীলতা
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়মিত পরিবর্তনশীল। আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ আমাদের কাছে অর্থহীন। যেমন বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা। আবার বর্তমানে অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মোজাম্মেল হক।

৩৩৪.
নিচের কোনটি বাহ্যিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) সাহসিকতা
  2. খ) সত্যকে সত্য বলা
  3. গ) রাজনৈতিক সহনশীলতা
  4. ঘ) শ্রমের মর্যাদা
সঠিক উত্তর:
ক) সাহসিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সাহসিকতা
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৩৩৫.
মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান কোনটি?
  1. ক) সহমর্মিতা
  2. খ) শৃঙ্খলা
  3. গ) নীতিবোধ
  4. ঘ) সৌজন্যবোধ
সঠিক উত্তর:
খ) শৃঙ্খলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের উপাদান
▪ মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
▪ এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে। এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান। নিম্নে এরকম কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল:- 

শৃঙ্খলা: শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।

সহমর্মিতা: মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে
পারে না।

সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি
অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়। 

নীতিবোধ: নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়। কোন কাজ করতে গেলে নিজের
বিবেক, নীতি ও যুক্তি প্রয়োগ করে তা করা উচিত। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৬.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ?
  1. শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ চর্চা করা
  2. দায়িত্বশীলতার নীতি বাস্তবায়ন করা
  3. ভিন্ন মতের প্রতি সহিষ্ণু মনোভাব বজায় রাখা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো এমন একগুচ্ছ চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প, যা মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে।

♦ রাজনৈতিক মূল্যবোধের উপাদানসমূহ:
• রাজনৈতিক সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা ৷
• শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ চর্চা করা।
• রাজনৈতিক সহনশীলতা প্রদর্শন করা।
• দায়িত্বশীলতার নীতি বাস্তবায়ন করা।
• ভিন্ন মতের প্রতি সহিষ্ণু মনোভাব বজায় রাখা।
• বিরোধী মত প্রকাশ ও প্রচারের স্বাধীনতা প্রদান করা ৷
• বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বাধা না দেয়া
• নির্বাচনের ফলাফল (জয়-পরাজয়) মেনে নেয়া ৷
• রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে তোলা ।
• আইনসভার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করা।
• সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ নিশ্চিত করা।
• সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৭.
নিচের কোনটি নৈতিক মূল্যবোধের উৎস?
  1. আইন
  2. বিবেক
  3. ধর্মগ্রন্থ
  4. প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
বিবেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবেক
ব্যাখ্যা
- নীতি এবং ঔচিত্যবোধ থেকে নৈতিকতা বা নৈতিক মূল্যবোধ উৎসারিত।
- নৈতিক আচরণ বা মূল্যবোধ হলো সেসব মনোভাব ও আচরণ যা মানুষ সব সময় ভালো, কল্যাণকর এবং অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তি অনুভব করে।
নৈতিক মূল্যবোধ সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা
- সত্যকে সত্য বলা
- মিথ্যাকে মিথ্যা বলা
- দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩৩৮.
মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষ কী বিচার করতে পারে?
  1. নৈতিকতা ও অনৈতিকতা
  2. ভালো ও মন্দ
  3. ন্যায় ও অন্যায়
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো একটি মানবিক গুণ, যা একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের ওপর নির্ভরশীল। এটি সমাজে বসবাস, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিক আচরণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- এটি ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় ও নৈতিকতা-অনৈতিকতার পার্থক্য নির্ধারণ করে।
- মূল্যবোধ আপেক্ষিক, অর্থাৎ সময়, সমাজ ও সম্পর্কের ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে।
- এটি শৃঙ্খলা, মানবিকতা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার মতো বিভিন্ন উপাদান নিয়ে গঠিত।
- অর্থাৎ মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষ ন্যায় ও অন্যায়, ভালো ও মন্দ, নৈতিকতা ও অনৈতিকতা বিচার করতে পারে।

⇒ মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ সুন্দর ও আদর্শ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এটি মানুষের আচরণ ও চিন্তাধারাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
- সুতরাং, একটি নৈতিক ও সুসংগঠিত সমাজ গঠনে মূল্যবোধ অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৯.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) মূল্যবোধ হলো একপ্রকার নীতি ও মানদণ্ড।
  2. খ) মূল্যবোধ শিক্ষা সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।
  3. গ) নীতি ও ঔচিত্যবোধ থেকে মূল্যবোধ উৎসারিত।
  4. ঘ) মূল্যবোধ আইনের উপর প্রতিষ্ঠিত।
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূল্যবোধ আইনের উপর প্রতিষ্ঠিত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূল্যবোধ আইনের উপর প্রতিষ্ঠিত।
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ ন্যায়বোধ, নীতি ও ঔচিত্যবোধ হতে উৎসারিত।
- মূল্যবোধের শিক্ষা সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।
- মূল্যবোধ আইনের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। এটি মানুষের বিবেক বোধের সাথে সম্পৃক্ত।
(সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩৪০.
গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে কোন মূল্যবোধটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত?
  1. একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা
  2. কেবল নিজ দলের মত প্রচার
  3. বিরোধী মতের সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ
  4. রাজনৈতিক সহনশীলতা
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক সহনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক সহনশীলতা
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো সেই গভীর চিন্তাধারা, বিশ্বাস, আদর্শ ও সংকল্পের সমষ্টি যা একজন মানুষের রাজনৈতিক আচরণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং দিকনির্দেশনা দেয়।
- এটি কোনো বাহ্যিক নিয়ম বা আইন নয়।

⇒ রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্ৰদান,
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
- বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪১.
কোনটি শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করতে শিখায়?
  1. নৈতিকতা
  2. গণতন্ত্র
  3. মূল্যবোধ শিক্ষা
  4. সুশাসন
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ শিক্ষা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।

⇒ মূল্যবোধের উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা,
- কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা,
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা।

উল্লেখ্য,
• মূল্যবোধ শিক্ষা শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করতে শিখায়।
• শ্রমের মর্যাদা মূল্যবোধের একটি ভিত্তি বা উপাদান।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৪২.
মূল্যবোধের কোন উপাদান মানুষকে ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিতের পার্থক্য করতে সাহায্য করে?
  1. শৃঙ্খলাবোধ
  2. সহনশীলতা
  3. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  4. সামাজিক ন্যায়বিচার
সঠিক উত্তর:
নীতি ও ঔচিত্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতি ও ঔচিত্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের উপাদান:
গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় যে উপাদানগুলো মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত, সেগুলো হলো:
১. নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- সামাজিক জীবনে ভালো-মন্দ, সঠিক-ভুল বিচার করার ভিত্তি হলো নীতি ও ঔচিত্যবোধ। সমাজে কারো ক্ষতি না করা, কটুক্তি না করা এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এই নীতি ও ঔচিত্যবোধের অন্তর্ভুক্ত। এটি মানুষের মধ্যে নৈতিকতার বিকাশ ঘটায় এবং তাকে ন্যায়, অন্যায়, ভালো, মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থক্য করতে সাহায্য করে।
২. সামাজিক ন্যায়বিচার:
- ধর্ম-বর্ণ, লিঙ্গ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি সমান বিচার। সামাজিক ন্যায়বিচার মানে হলো সমাজে সকলের প্রতি আইনের চোখে সমান আচরণ ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।
৩. শৃঙ্খলাবোধ:
- সমাজের নিয়ম-নীতি ও আচরণে শৃঙ্খলা বজায় রাখার মূল্যবোধ। এটি সমাজের অগ্রগতির প্রধান সোপান এবং সমাজের কাঠামো ঠিক রাখে।
৪. সহনশীলতা:
- সহনশীলতা হচ্ছে সুনাগরিকের অন্যতম গুণ এবং গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ। এটি মানুষকে একে অপরের মতামত ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে সাহায্য করে।
৫. সহমর্মিতা:
- অন্যের দুঃখ-কষ্টের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এবং সাহায্য করার ইচ্ছা। এটি সমাজে সহানুভূতির পরিবেশ সৃষ্টি করে।
৬. সৌজন্যবোধ:
- পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভদ্রতার প্রদর্শন। এটি সামাজিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটায় এবং একে অপরের প্রতি সদাচরণের মানদণ্ড তৈরি করে।
৭. মানবিকতা:
- মানবিকতা হচ্ছে মানুষের মৌলিক অধিকার, সম্মান ও মঙ্গলার্থে সহানুভূতির মূল্যবোধ। এটি মানুষের প্রতি সহানুভূতির অনুভূতি তৈরি করে।
৮. শ্রমের মর্যাদা:
- কাজের প্রতি সম্মান এবং শ্রমের উপযুক্ত মূল্যায়ন। এটি সমাজে শ্রমিক শ্রেণির মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং সমাজের উন্নয়ন ঘটায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৪৩.
আমলাতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো-
  1. ক) স্বাধীনতা
  2. খ) ক্ষমতা
  3. গ) জনকল্যাণ
  4. ঘ) কর্মদক্ষতা
সঠিক উত্তর:
গ) জনকল্যাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জনকল্যাণ
ব্যাখ্যা
যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তা ই মূল্যবোধ। একজন আমলা বা প্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হলো জনগণের কল্যাণ সাধন করা। এই মূল্যবোধের আলোকেই একজন প্রশাসক বা আমলা তার কর্মকাণ্ডকে পরিচালিত করে। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৩৪৪.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. নির্দিষ্টতা
  2. বিভিন্নতা
  3. আপেক্ষিকতা
  4. সৌজন্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সৌজন্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌজন্যবোধ
ব্যাখ্যা

-  সৌজন্যবোধ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়।

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য

 - নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।
- নির্দিষ্টতা: যেমন, মায়ের প্রতি কারো সম্মান। আবার তা সাধারণও হতে পারে। যেমন, যে প্রতিবেশীকে ভালবাসে আসলে সে নিজেকেই ভালবাসে।
- বিভিন্নতা: সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক থেকে শুরু করে নানা দিক থেকে পশ্চিমা সংস্কৃতির মূল্যবোধের সাথে বাঙালি সংস্কৃতির মূল্যবোধের পার্থক্য আছে।
- আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়। একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে। অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।

অন্যদিকে,
- মূল্যবোধের উপাদান:  নীতিবোধ: শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ ,মানবিকতা, শ্রমের মর্যাদা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৫.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের অভাবে সমাজে কী ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়?
  1. সামাজিক নিরাপত্তা
  2. বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা
  3. সামাজিক দায়বদ্ধতা
  4. জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের অভাবজনিত ফলাফল:

- মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন সমাজে শৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার, এবং সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সহায়ক। 
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের অভাবে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা সৃষ্টি হয়। 
- সমাজে আইন অমান্য করার প্রবণতা বেড়ে যায়, যা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে।
- প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অপব্যবহার বৃদ্ধি পায়, ফলে কার্যকরী ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয় এবং সমাজে সমস্যা সৃষ্টি হয়।
- এই পরিস্থিতি উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা, বা জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির সুযোগকে বাধাগ্রস্ত করে।
- তাই, মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসনের অভাব সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৬.
'সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড'-উক্তিটি কার?
  1. এইচ এম জনসন
  2. জন লক
  3. ক্লাইড ব্লুখোন
  4. এফ ই মেরিল
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী। এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।
- কেননা একজনের কাছে যা আর্দশ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে।
- তবে অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেক-বুদ্ধির বহিঃপ্রকাশই মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
- ক্লাইড ব্লুখোন বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত"।
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
- অতএব, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৭.
কোনটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত? 
  1. উপযোগবাদ
  2. উদারতাবাদ
  3. নৈতিকতা
  4. সামন্তবাদ
সঠিক উত্তর:
উদারতাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদারতাবাদ
ব্যাখ্যা

• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে: 
- মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়- নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্মসংযম, পরমত সহিষ্ণুতা।
- সমাজের কথা, প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা, অন্যের অধিকার সম্পর্কে চিন্তা করা মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
- যা আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন।
- মূলত উদারতাবাদ নামক মতবাদ থেকেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে এর উৎপত্তি।

উল্লেখ্য, 
- অধ্যাপক জর্জ এইচ সেবাইন-
- "ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনি সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার তত্ত্ব ও অনুশীলন হচ্ছে উদারতাবাদ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৪৮.
মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য কোনটি?
  1. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  2. রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধ করা
  3. অর্থনৈতিক অবক্ষয় রোধ করা
  4. সাংস্কৃতিক অবক্ষয় রোধ করা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে পরিগণিত।
- তাই মূল্যবোধ ‍শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।

⇒ সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪৯.
"সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"-উক্তিটি কার? 
  1. এফ ই মেরিল 
  2. এইচ এম জনসন 
  3. ক্লাইড ক্লুখোন
  4. উইলোবী
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এইচ এম জনসন 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের ধারণা: 
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল। 
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"।

• ক্লাইড ক্লুখোন বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।

• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল: - "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫০.
'সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত'-উক্তিটি কার?
  1. ক্লাইড ব্লুখোন
  2. এফ ই মেরিল
  3. এইচ এম জনসন
  4. অধ্যাপক হল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ক্লাইড ব্লুখোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লাইড ব্লুখোন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন:
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে, 'সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড'।
- ক্লাইড ব্লুখোন বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
- অতএব, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য। সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫১.
মূল্যবোধের উপাদান নয় কোনটি?
  1. শৃঙ্খলাবোধ
  2. সামাজিক ন্যায়বিচার
  3. অসহনশীলতা
  4. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
সঠিক উত্তর:
অসহনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসহনশীলতা
ব্যাখ্যা
- অসহনশীলতা মূল্যবোধের উপাদান নয়।

মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
১. নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- সমাজে কারও ক্ষতি না করা, কারো মনে কষ্ট না দেয়া, কটুক্তি না করা প্রভৃতি হচ্ছে নীতি ও ঔচিত্যবোধ।
- নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যক্তি তার নিজের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে।
- এর ফলে সে ন্যায়, অন্যায়, ভালো, মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থক্য করে তার নিজের ভালো বা মঙ্গলের চেষ্টা করে।

২. সামাজিক ন্যায়বিচার:
- সামাজিক ন্যায়বিচারের অর্থ, ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-নির্ধন সকলের প্রতি বিচারের মানদণ্ড এক ও অভিন্ন।
- আইনের চোখে সবাই সমান। সমাজে বসবাসকারী সকলের সুবিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।

৩. শৃঙ্খলাবোধ:
- সমাজজীবনের অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ।
- শৃঙ্খলা মানুষের মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

৪. সহনশীলতা:
- সহনশীলতা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ।
- সহনশীলতা গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও কিাশের জন্য সহনশীলতা একান্ত অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করার মত সহিষ্ণুতা থাকতে হবে।
- সহনশীলতা উত্তেজনা প্রশমিত করে সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাহায্য করে।

এছাড়া, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, আইনের শাসন, নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ, সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা, সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৫২.
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়-
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) সামাজিক মাপকাঠি
  3. গ) বিভিন্নতা
  4. ঘ) আইনের শাসন
সঠিক উত্তর:
ঘ) আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

আইনের শাসন মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয় এটি সুশাসনের একটি উপাদান।
যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তা ই মূল্যবোধ।
সামাজিক ন্যায়বিচার, নীতি ও ঔচিত্যবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, আইনের শাসন, নাগরিক চেতনা ও কর্তব্যবোধ ইত্যাদি - মূল্যবোধের উপাদান।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৫৩.
রাজনৈতিক মূল্যবোধ কোনটি?
  1. সত্যবাদিতা
  2. দেশপ্রেম
  3. শৃঙ্খলাবোধ
  4. দানশীলতা
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্খলাবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্খলাবোধ
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷

রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ রাজনৈতিক সততা,
শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
→ রাজনৈতিক সহনশীলতা,
→ রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
→ দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
→ পরমতসহিষ্ণুতা,
→ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
→ সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৪.
ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রগতিশীল, দায়িত্বশীল ও কর্তব্য পরায়ন হতে সাহায্য করে -
  1. ক) মূল্যবোধ শিক্ষা
  2. খ) রাজনৈতিক শিক্ষা
  3. গ) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
  4. ঘ) সামাজিক শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
ক) মূল্যবোধ শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মূল্যবোধ শিক্ষা
ব্যাখ্যা
• ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রগতিশীল, দায়িত্বশীল ও কর্তব্য পরায়ন হতে সাহায্য করে মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য।
• মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধানতম লক্ষ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
• মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি হলো মূল্যবোধ।
• ব্যক্তির মধ্যে পারিবারিক ও সামাজিক সৌহার্দ্য ও সহানুভূতির মনোভাব জাগ্রত হয় মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩৫৫.
কোনটি সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়?
  1. ক) মূল্যবোধ
  2. খ) নৈতিকত
  3. গ) সৌজন্যবোধ
  4. ঘ) শৃঙ্খলা
সঠিক উত্তর:
ক) মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- এটি অর্জনের  বিষয়, আরোপিত নয়।
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই। কেননা একজনের কাছে যা আর্দশ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে। তবে অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেকবুদ্ধির বহি:প্রকাশই মূল্যবোধ।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (এইচএসসি প্রোগ্রাম), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৬.
কোনটি সামাজিক মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সমাজ স্বীকৃত
  2. পরিবর্তনশীলতা 
  3. আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী
  4. আইনগত শাস্তিযোগ্য
সঠিক উত্তর:
আইনগত শাস্তিযোগ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনগত শাস্তিযোগ্য
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়- আইনগত শাস্তিযোগ্য। 

সামাজিক মূল্যবোধ:

- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৭.
কোনো বিষয়কে বাস্তবিকভাবে বোঝার সামর্থকে বলা হয় -
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. বাহ্যিক মূল্যবোধ
  3. বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধ
  4. আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধ:
- বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধ বলতে বাস্তবিকভাবে কোনো বিষয়কে বোঝার সামর্থ্যকে বোঝায়।
- সমাজ বা পরিবেশ থেকে উদ্ভুত কোনো বিষয়কে যৌক্তিকভাবে গ্রহণ করার বিষয়টি বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধের অংশ।
- এ মূল্যবোধ উত্তরাধিকার সূত্রে মানুষ পায় এবং নিজেও অর্জন করে।
- সমাজের কোনো বিষয়কে যদি কেউ যৌক্তিক দৃষ্টিতে গ্রহণ না করে তখন আমরা বলি 'পাগলামি' করছে।
- অর্থাৎ তার বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যবোধের ঘাটতি রয়েছে।

উৎস: Bangla News Express.
৩৫৮.
আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ কী?
  1. সামাজিক আচরণের নিয়ন্ত্রণ
  2. সৌন্দর্যবোধ ও শিল্পকলার প্রতি আগ্রহ
  3. আত্মার বিকাশের উপর গুরুত্ব
  4. মানবিক সম্পর্কের প্রতি সহানুভূতি
সঠিক উত্তর:
আত্মার বিকাশের উপর গুরুত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মার বিকাশের উপর গুরুত্ব
ব্যাখ্যা
আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ (Spiritual Values):
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- এজন্যই মানুষ ভালোভাবে, সৎভাবে বাঁচতে চায়, সৎ থাকতে চায় এবং সৎ মানুষকে পছন্দ করে, মিথ্যেবাদীকে ও অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে, ভালো কাজ করতে পারলে মনে মনে স্বস্তি ও তৃপ্তিবোধ করে।
- অন্তর্নিহিত আত্মিক শক্তিই (Spiritual Power) মানুষকে এসবে উদ্বুদ্ধ করে।
- আত্মিক মূল্যবোধ সহজাত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৫৯.
অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে কোন মূল্যবোধ বলা যেতে পারে?
  1. আধুনিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. পারিবারিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ (Moral values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৬০.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের ভিত্তি নয়?
  1. ঔচিত্যবোধ
  2. নৈতিক প্রাধান্য
  3. সামাজিক ন্যায়বিচার
  4. শৃঙ্খলাবোধ
সঠিক উত্তর:
নৈতিক প্রাধান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক প্রাধান্য
ব্যাখ্যা
- যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই মূল্যবোধ।
- সামাজিক ন্যায়বিচার, নীতি ও ঔচিত্যবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, আইনের শাসন, নাগরিক চেতনা ও কর্তব্যবোধ ইত্যাদি হলো মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
অন্যদিকে,
- সামাজিক মাপকাঠি, বিভিন্নতা, নৈতিক প্রাধান্য, আপেক্ষিকতা, পরিবর্তনশীলতা ইত্যাদি হলো মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩৬১.
মূল্যবোধ কীসের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়?
  1. নৈতিকতা
  2. অভ্যাস
  3. ধর্ম
  4. আচরণ
সঠিক উত্তর:
আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচরণ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

⇒ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৬২.
নিম্নের কোনটি থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি আসে?
  1. ধর্ম থেকে
  2. নীতি ও মতাদর্শ থেকে
  3. মূল্যবোধ চর্চা থেকে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ চর্চা থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ চর্চা থেকে
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- মূল্যবোধ চর্চা থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি আসে।

⇒ মূল্যবোধ মানুষকে সহনশীলতার শিক্ষা দিয়ে থাকে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত বিশেষ করে বিরুদ্ধ মত সহ্য করা ও বিবেচনা করা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করে।
- এহেন মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজ-নিজ অধিকার ভোগ ও কর্তব্য সম্পাদনে তৎপর হয়।
- সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। এ মূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার প্রতি সমান দৃষ্টি দিয়ে থাকে। এর ফলে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যমতে পৌছানো জরুরি, যা কেবল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মধ্য দিয়েই সম্ভব।
- সরকারের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যসম্পাদনকারী ব্যক্তিবর্গের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন হওয়া উচিত।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্দীপ্ত ব্যক্তি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ থেকে বিরত থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৩.
সততা,সহমর্মিতাবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, প্রভৃতি মানবীয় গুণাবলির সমষ্টিকে বলা হয়-
  1. মূল্যবোধ
  2. সহনশীলতা
  3. সামাজিকতা
  4. সদাচরণ
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
♦ সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামাজিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তার সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
- স্টূয়ার্ট সি.ডড-এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হলো  সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা  ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।
- ক্লাইড ক্লখোন-এর মতে,সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজ্যবোধ প্রভৃতি গুলাবলির সমষ্টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩৬৪.
কিসের মাধ্যমে মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে?
  1. নীতিবোধের মাধ্যমে 
  2. সাম্যর মাধ্যমে
  3. আচার-আচরণ 
  4. সহমর্মিতার মাধ্যমে 
সঠিক উত্তর:
আচার-আচরণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচার-আচরণ 
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের উপাদান: 
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়,
- যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ।
- আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৬৫.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাবে কী দেখা যায়?
  1. সহনশীলতা
  2. সুশাসন
  3. আইনের শাসন
  4. রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাবে দেখা যায় রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:

- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।

১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৬৬.
‘স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা‘ এটি কোন ধরনের কর্তব্য?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. গণতান্ত্রিক
  4. নৈতিক
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক কর্তব্য (Political Duties):
- মানুষ শুধু সামাজিক জীবই নয়, সে রাজনৈতিক জীবও।
- রাজনৈতিক জীব হিসেবে মানুষের রয়েছে বেশ কিছু রাজনৈতিক কর্তব্য।

এগুলো হলো—
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা,
→ রাষ্ট্রপ্রণীত আইন মেনে চলা,
→ সততা ও সতর্কতার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা,
স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা,
→ প্রয়োজনে রাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৬৭.
নিম্নের কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. আপেক্ষিকতা
  2. বিভিন্নতা
  3. স্থিতিশীলতা
  4. পরিবর্তনশীলতা
সঠিক উত্তর:
স্থিতিশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থিতিশীলতা
ব্যাখ্যা

•  স্থিতিশীলতা নৈতিক মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়।

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য: 
• নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল।
- নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।

• বিভিন্নতা:
- সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
- উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক থেকে শুরু করে নানা দিক থেকে পশ্চিমা সংস্কৃতির মূল্যবোধের সাথে বাঙালি সংস্কৃতির মূল্যবোধের পার্থক্য আছে।

• আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়।
- একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে।
- অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।

• পরিবর্তনশীলতা:
- ভিন্ন সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে।
- যেমন, একজন বাঙালি দীর্ঘ দিন পশ্চিমা কোন সংস্কৃতিতে বসবাস করলে তার আচারণ-আচরণে চিন্তায় নানান পরিবর্তন ঘটতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি ,  উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৮.
'মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ' উক্তিটি করেছেন -
  1. স্টুয়ার্ড সি. ডড
  2. এইচ এম জনসন
  3. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  4. এফ ই মেরিল
সঠিক উত্তর:
এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -

• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৯.
কিসের মাধ্যমে মানুষ 'নৈতিকতা ও অনৈতিকতা'-এর পার্থক্য নির্ধারণ করে -
  1. সুশাসন
  2. সততা
  3. মূল্যবোধ
  4. কর্তব্যবোধ
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে ।
- মূল্যবোধ দ্বারা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা,সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ হলো সত্য ও ন্যায়। সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৭০.
কীসের অভাবে ব্যাক্তি সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না? 
  1. সৌজন্যবোধ
  2. সহমর্মিতা 
  3. শৃঙ্খলা
  4. শালীনতা 
সঠিক উত্তর:
সহমর্মিতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহমর্মিতা 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের উপাদান: 
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- নিম্নে এরকম কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল-
ক. নীতিবোধ:
- নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।
- যৌক্তিকতা সাধারণত নীতিবোধের উপর নির্ভরশীল।
- কেননা নৈতিক কাজ যুক্তি বিরুদ্ধ হতে পারে না। তাই যে যত বেশি নীতিবান হবে তার মূল্যবোধ তত পরিশীলিত হবে।

খ. শৃঙ্খলা:
- শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।

গ. সহমর্মিতা:
- মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।

ঘ. সৌজন্যবোধ:
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭১.
সামাজিক অবক্ষয় বলতে মূলত কী বোঝায়?
  1. অর্থনৈতিক বৈষম্য
  2. রাজনৈতিক অস্থিরতা
  3. মূল্যবোধের অনুপস্থিতি
  4. প্রযুক্তিগত পশ্চাৎপদতা
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের অনুপস্থিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের অনুপস্থিতি
ব্যাখ্যা

সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য: সামাজিক মাপকাঠি, যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন, নৈতিক প্রাধান্য, বিভিন্নতা, আপেক্ষিকতা পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা।
- মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান: নীতি ও ঔচিত্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৭২.
মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে-
  1. ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটে
  2. সামাজিক বৈষম্য দূর হয়
  3. রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান সমূহের উন্নতি হয়
  4. সার্বিক জীবনাচরণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
সামাজিক বৈষম্য দূর হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক বৈষম্য দূর হয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসন একটি সুস্থ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের জন্য অপরিহার্য।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো "সামাজিক বৈষম্য দূর করা", কারণ এটি সুশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
- মূল্যবোধের শিক্ষা মানুষকে নৈতিকতা, সততা ও মানবিকতা শেখায়, যা সমাজে সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।
- অন্যদিকে, সুশাসন নিশ্চিত করলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমান সুযোগের ব্যবস্থা হয়।
- মূল্যবোধের শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্যের ভিত্তি গড়ে ওঠে, যার ফলে সামাজিক বৈষম্য কমে যায়।

অন্যদিকে,
→ সুশাসনের মূল নীতি হলো ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, যাতে একক কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি পুরো রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।
→ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নতি সুশাসনের একটি লক্ষ্য হতে পারে, তবে মূল্যবোধ শিক্ষার সরাসরি প্রভাব এটি নয়।
→ মূল্যবোধ শিক্ষা জীবন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়, কিন্তু এটি সুশাসনের সরাসরি প্রভাব নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৩.
সহমর্মিতাবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ প্রভৃতি কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ (social values):
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামাজিক আচার-ব্যবস্থা ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তার সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
- স্টুয়ার্ট সি. ডডএর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।
- ক্লাইড কুখোন-এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।
- নিকোলাস রেসার-এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব গুণাবলি যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতাবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ প্রভৃতি সুকুমার বৃত্তি বা গুণাবলির সমষ্টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৭৪.
নিম্নের কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. বিমূর্ত ও অলিখিত
  2. বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি
  3. ভাল-মন্দ বিচার করে
  4. সর্বজনীন ও অপরিবর্তনীয়
সঠিক উত্তর:
সর্বজনীন ও অপরিবর্তনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বজনীন ও অপরিবর্তনীয়
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- মূল্যবোধ সমাজস্থ প্রত্যেক মানুষের জীবন ধারণের নির্দেশনা দিয়ে থাকে।
- মূল্যবোধ এক ধরনের বিশ্বাস, যা ব্যক্তি তথা মানুষের সার্বিক বিশ্বাস ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থান করে ব্যক্তির করণীয় অথবা মর্যাদা অর্জন সম্পর্কে বিশ্বাসবোধের জন্ম দেয়।

⇒ বিভিন্ন সংজ্ঞা হতে মূল্যবোধের যে বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা যায় তা হলো:
১. মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি;
২. মূল্যবোধ মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে;
৩. মূল্যবোধ একটি অলিখিত সামাজিক বিধান;
৪. মূল্যবোধ মানুষের আচরণের ভাল-মন্দ বিচার করে;
৫. মূল্যবোধ একটি বিমূর্ত, অলিখিত ও আপেক্ষিক প্রত্যয়;
৬. মূল্যবোধের কোনো সর্বজনীন রূপ নেই- সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তনশীল।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৫.
সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করার মূল উপাদান কোনটি?
  1. নৈতিকতা
  2. আর্থিক সক্ষমতা
  3. ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত
  4. সাংস্কৃতিক পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:

- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল এর মতে, ‘‘সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজে মানুষের আচরণের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।

• সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান হলো:
- ন্যায়বিচার,
- ঔচিত্যবোধ,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- আইনের শাসন,
- নৈতিকতা,
- সাম্য,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- নাগরিক চেতনা ও
- কর্তব্যবোধ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩৭৬.
মূল্যবোধ সামাজিক _____ এর উন্মেষ ঘটায়
  1. ক) ন্যায় ও অন্যায়
  2. খ) ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ
  3. গ) পারিবারিক ও রাজনৈতিক শিক্ষার
  4. ঘ) সততা ও নিষ্ঠার
সঠিক উত্তর:
খ) ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ
ব্যাখ্যা
- মানুষের নৈতিক গুণাবলি জাগ্রত করে মূল্যবোধ।
- এছাড়াও মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ এর উন্মেষ ঘটায়।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।   

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৭৭.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করে -
  1. ন্যায়পরায়ণতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. দায়বদ্ধতা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।

সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো হলো: 
- পরমত সহিষ্ণুতা,
- স্বচ্ছতা, 
- আইনের শাসন,
- ন্যায়পরায়ণতা,
- সচেতনাবোধ সৃষ্টি,
- দায়বদ্ধতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৮.
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়-
  1. ক) আইনের যথার্থ প্রয়োগ
  2. খ) শক্তিশালি আমলাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
  3. গ) নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র
  4. ঘ) গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
ক) আইনের যথার্থ প্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আইনের যথার্থ প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় - আইনের যথার্থ প্রয়োগ। [সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই]
৩৭৯.
একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে উঠে কিসের ওপর ভিত্তি করে?
  1. ক) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  2. খ) ধর্মীয় মূল্যবোধ
  3. গ) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) সামাজিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ক) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব (Importance of Democratic Values):
সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব নিম্নরূপ:
১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি : গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।  গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে উঠে। 
২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি : গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পন্ন জাতি কর্মঠ  ও পরিশ্রমী হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।
 ৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে : গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে। 
৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয় ।
 ৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে : গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যাক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে। 
৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয় : গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয় পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রার জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়। 
৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ : গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা, দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।
 
তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৮০.
নিম্নলিখিত কোনটি মূল্যবোধের উপাদান?
  1. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  2. সহনশীলতা
  3. শ্রমের মর্যাদা
  4. বর্ণিত সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
• মূল্যবোধের উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- আইনের শাসন,
- সহনশীলতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- সহমর্মিতা,
- নাগরিক চেতনা ও
- কর্তব্যবোধ ইত্যাদি মূল্যবোধের উপাদান।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।

৩৮১.
বর্তমান সমাজে মূল্যবোধের অভাব ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে কী সমস্যা তৈরি হচ্ছে?
  1. শিক্ষার উন্নতি
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  3. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
  4. নতুন প্রজন্মের নৈতিক সংকট
সঠিক উত্তর:
নতুন প্রজন্মের নৈতিক সংকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নতুন প্রজন্মের নৈতিক সংকট
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের অভাব ও নৈতিক অবক্ষয়:
- বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও মূল্যবোধের অভাব একটি গভীর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- পিতা-মাতা, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ ও সমাজের অন্যান্য স্তরের মানুষের মধ্যে এই সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা নতুন প্রজন্মের সামনে নৈতিক সংকট তৈরি করছে।
- পরিবারে শিশুরা তাদের পিতামাতার আচরণ থেকে শিক্ষা নেয়, তাই পিতা-মাতাদের উচিত নৈতিক আদর্শ অনুসরণ করা।
- শিক্ষকদেরও নিজেদের নৈতিক মান উন্নত করতে হবে, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের সঠিক পথ দেখাতে পারেন।
- রাজনীতিবিদদের মধ্যে সৎ নেতৃত্বের অভাব সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- এই অবক্ষয় থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের সকলের দায়িত্ব হচ্ছে নৈতিকতার মূল্য দেওয়া এবং সমাজে সৎ জীবনযাত্রার মান প্রতিষ্ঠা করা।
- মূল্যবোধের অভাব সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যায়, তবে আমরা যদি নৈতিকতার পথে চলি, তবে একটি উন্নত, ন্যায্য সমাজ গঠন সম্ভব।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো নিউজ। [লিঙ্ক]
৩৮২.
নৈতিকতা ও ঔচিত্যবোধের বিকাশভূমি হিসেবে কোনটিকে বিবেচনা করা হয়?
  1. রাষ্ট্র
  2. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  3. পরিবার
  4. সমাজ
সঠিক উত্তর:
সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজ
ব্যাখ্যা

নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ মূল্যবোধের একটি উপাদান। 
- সমাজ হচ্ছে স্বাভাবিক পরিবেশ, যাকে নৈতিকতা ও ঔচিত্যবোধের বিকাশভূমি বা শিক্ষাক্ষেত্র বলা যেতে পারে।
- নৈতিকতার সাথে তাই মূল্যবোধের সম্বন্ধ অত্যন্ত নিবিড়।
- সমাজে কারো ক্ষতি না করা, কারো মনে কষ্ট না দেওয়া, কটূক্তি না করা প্রভৃতি হচ্ছে নীতি ও ঔচিত্যবোধ।  
- নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যক্তি তার নিজের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে। ফলে সে ন্যায়-অন্যায়, ভাল-মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থ্যক্য করে ভালো বা মঙ্গলের চেষ্টা করে।

উল্লেখ্য মূল্যবোধের অন্যান্য উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ, 
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
-  সহনশীলতা, 
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা,
- কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা,
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৮৩.
‘সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা‘ কোন ধরণের মূল্যবোধ?
  1. ক) ধর্মীয়
  2. খ) সাংস্কৃতিক
  3. গ) সামাজিক
  4. ঘ) আধ্যাত্মিক
সঠিক উত্তর:
ক) ধর্মীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধর্মীয়
ব্যাখ্যা
 ধর্মীয় মূল্যবোধ (Religious Values):
- যে সব ধর্মীয় অনুশাসন, আচার-আচরণ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করে তাকে ধর্মীয় মূল্যবোধ বলে।

→ সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন
,
→ অপরের ধর্মমতকে সহ্য করা,
→ অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মকর্ম ও ধর্ম প্রচারে বাধা না দেয়া,
→ রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ কোনো ধর্মকে শ্রেষ্ঠ ভাবা এবং সেভাবে বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা প্রদান না করাই হলো ধর্মীয় মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৩৮৪.
মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি?
  1. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
  2. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।
- বস্তুত সামাজিক মূল্যবোধ হল সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।
- সুতরাং মানুষের মধ্যে সামাজিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে সামাজিকীকরণের মাধ্যমে।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে।
- উপর্যুক্ত মূল্যবোধগুলো ভালো নাগরিক হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৩৮৫.
কোনটির মাধ্যমে মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়?
  1. জ্ঞানার্জন
  2. আইন কানুন
  3. স্বাধীনতা
  4. গণতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানার্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানার্জন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষা এবং মূল্যবোধ:
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩৮৬.
মূল্যবোধের চালিকাশক্তি কী?
  1. সুশাসন
  2. গনতন্ত্র
  3. সংস্কৃতি 
  4. ধর্ম
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
- আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩৮৭.
গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ কোনটি?
  1. সামাজিক ন্যায়বিচার
  2. পরিবার
  3. সামাজিক নৈতিকতা
  4. মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সামাজিক ন্যায়বিচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক ন্যায়বিচার
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- সামাজি ন্যায়বিচারের অর্থ ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-নির্ধনের সকলের প্রতি বিচারের মানদন্ড এক ও অভিন্ন।
- আইনের চোখে সবাই সমান। সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যাক্তি স্বাধীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষিত হবে।
- গনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি সামাজিক ন্যায়বিচার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
৩৮৮.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন কেন?
  1. ব্যক্তি অধিকার নিশ্চিত করার জন্য
  2. গণতন্ত্রের চর্চা করার জন্য
  3. দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য
  4. ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটানোর জন্য
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি অধিকার নিশ্চিত করার জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি অধিকার নিশ্চিত করার জন্য
ব্যাখ্যা
⇒ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন ব্যক্তি অধিকার নিশ্চিত করার জন্য।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- একে অপরের সাথে আন্ত:সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্রের মূল কাজ হল ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা।
- একজনের অধিকার ও স্বাধীনতা অন্যের উপর নির্ভরশীল, যা বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক মূল্যবোধ প্রয়োজন।
- অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোর অর্থই হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- একটি সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তির অধিকার, মর্যাদা, সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয়।
- ব্যক্তি অন্যের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ, সহমর্মী ও সংযত হয়।
- জাতি, ধর্ম, বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক সমাজের সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য,
- মূল্যবোধ মানুষকে সহনশীলতার শিক্ষা দিয়ে থাকে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত বিশেষ করে বিরুদ্ধ মত সহ্য করা ও বিবেচনা করা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করে।
- এহেন মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজ-নিজ অধিকার ভোগ ও কর্তব্য সম্পাদনে তৎপর হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩৮৯.
নীতি ও ঔচিত্যবোধ থেকে যে মূল্যবোধ বিবেচনা করা হয় তাকে কী বলে?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. বাহ্যিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
নীতি ও ঔচিত্যবোধ থেকে যে মূল্যবোধ বিবেচনা করা হয় তাকে বলে নৈতিক মূল্যবোধ।

নৈতিক মূল্যবোধ:

- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।

⇒ নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯০.
সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে -
  1. সুশাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
• সামাজিক মাপকাঠি:
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

• যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন:
- মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে।
- একই রীতি-নীতি, আচার- অনুষ্ঠান ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজের সকলে পরস্পর মিলিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করে।

• নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ আইন নয়।
- এর বিরোধিতা বেআইনি নয়।
- এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা।
- মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আছে বলে মানুষ এটা মনে করে।

• বিভিন্নতা:
- মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, দেশ জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- যেমন- পাশ্চাত্য দেশে মেয়েরা যে পোশাক পরে আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য সে পোশাক সমাজ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নয়।

• বৈচিত্রময়তা ও আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ বৈচিত্রময় ও আপেক্ষিক।
- আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত, কাল তা সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।

• সুতরাং, মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা দূরীভূত করে ও সুশাসন নিশ্চিত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৯১.
কোনটি মানবীয় গুণ?
  1. ক) শৃঙ্খলাবোধ
  2. খ) আত্মসংযম
  3. গ) সহমর্মিতা
  4. ঘ) সহনশীলতা
সঠিক উত্তর:
গ) সহমর্মিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সহমর্মিতা
ব্যাখ্যা
• সহমর্মিতা: সহমর্মিতা একটি মানবীয় গুণ।
- সহমর্মিতার অনুভূতি একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রে বসবাসকারী মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে আপন করে এবং মানুষে মানুষে বৈষম্য দূর করে।
‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে'—সহমর্মিতার এই অনুভূতিই গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩৯২.
'ধর্মাবলম্বীদের ধর্মকর্ম' ও 'ধর্ম প্রচারে বাধা না দেয়া' কোন ধরনের মূল্যবোধ
  1. সামাজিক
  2. ধর্মীয়
  3. আধ্যাত্মিক
  4. সাংস্কৃতিক
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মীয়
ব্যাখ্যা
• ধর্মীয় মূল্যবোধ (Religious Values):
- যে সব ধর্মীয় অনুশাসন, আচার-আচরণ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করে তাকে ধর্মীয় মূল্যবোধ বলে।
- সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, অপরের ধর্মমতকে সহ্য করা, অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মকর্ম ও ধর্ম প্রচারে বাধা না দেয়া, রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ কোনো ধর্মকে শ্রেষ্ঠ ভাবা এবং সেভাবে বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা প্রদান না করাই হলো ধর্মীয় মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৩৯৩.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের যৌথ ফলাফল কোনটি?
  1. দুর্নীতিযুক্ত সমাজ
  2. ন্যায়বিচারহীন সমাজ
  3. নিপীড়নমূলক প্রশাসন
  4. জবাবদিহিতামূলক আমলাতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতামূলক আমলাতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতামূলক আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের উপযোগিতা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা হলো এমন এক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ব্যক্তি সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা, কর্তব্য, সহানুভূতি, সহনশীলতা ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করে।
- অন্যদিকে, সুশাসন হলো এমন এক প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত থাকে।
- এই দুইটি যখন একত্রে সমাজে প্রয়োগ করা হয়, তখন একটি কার্যকর, দায়িত্বশীল এবং জবাবদিহিতামূলক আমলাতন্ত্র গড়ে ওঠে।
- অর্থাৎ, আমলারা তখন জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ হয়ে কাজ করেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রবণতা হ্রাস পায়, এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা সম্ভব হয়।

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে:
- দুর্নীতি দমন সহজ হয়;
- প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়;
- দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়;
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়;
- ন্যায়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৪.
মূল্যবোধের চালিকাশক্তি কোনটি?
  1. সুশাসন
  2. গণতন্ত্র
  3. নৈতিকতা
  4. সংস্কৃতি
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ (Values):
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরনের মাধ্যমে।
- এটি মানুষকে সঠিক ও ভুল, ভালো ও মন্দ, সত্য ও মিথ্যা -এর পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়। (-শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে গঠন ও সুদৃঢ় করা সম্ভব।)
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে। তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।
- বয়স ও অভিজ্ঞতার সাথে সাথে মূল্যবোধের ধারণায় পরিবর্তন ঘটে। 
- মানুষ জন্মের পর থেকেই মূল্যবোধের শিক্ষা পেতে শুরু করে, যা আমৃত্যু চলতে থাকে।
- সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।
- মূল্যবোধ হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৩৯৫.
মূল্যবোধের উপাদান হিসেবে বিবেচ্য নয় কোনটি?
  1. পরশ্রীকাতরতা
  2. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  3. শৃঙ্খলাবোধ
  4. নাগরিক চেতনা
সঠিক উত্তর:
পরশ্রীকাতরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরশ্রীকাতরতা
ব্যাখ্যা

- মূল্যবোধের উপাদান নয় পরশ্রীকাতরতা।

• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।

• মূল্যবোধের উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- আইনের শাসন,
- সহনশীলতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- সহমর্মিতা,
- নাগরিক চেতনা ও
- কর্তব্যবোধ ইত্যাদি মূল্যবোধের উপাদান।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।

৩৯৬.
মূল্যবোধের অন্যতম প্রধান উৎস কোনটি?
  1. ক) ইতিহাস
  2. খ) বিজ্ঞান
  3. গ) ধর্ম
  4. ঘ) দর্শন
সঠিক উত্তর:
গ) ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধর্ম
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধের অন্যতম প্রধান উৎস হলো ধর্ম। 
- মানুষ পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবন যাপনে, কাজ-কর্ম করার ক্ষেত্রে, খাদ্য গ্রহণে, পোশাক-পরিচ্ছেদে, কোথায় কীভাবে আচরণ করবে অর্থাৎ আমাদের কোথায় কেমন আচরণ করতে হবে ধর্ম তার দিক-নির্দেশনা ও শিক্ষা দেয়। 
- অধিকাংশ বড় ধর্ম পারলৌকিক পুরস্কার ও শাস্তির কারণ,করণীয় ও ধরন তুলে ধরে। এভাবে ধর্ম আবশ্যকীয় দিক-নির্দেশনা দিয়ে ইহজাগতিক ও পারলৌকিক জীবনকে সুন্দর, সফল ও সার্থক করতে সাহায্য করে।
 
উৎস: nape.portal.gov.bd
৩৯৭.
কোন ধরণের মূল্যবোধ নাগরিককে দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালনে তাগিদ দেয়?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  3. নৈতিক মূল্যবোধ
  4. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।
১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৯৮.
জনমত বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) অধিকাংশের মতামত
  2. খ) মতমোড়লদের মতামত
  3. গ) কল্যাণকামী ও যুক্তিযুক্ত মতামত
  4. ঘ) গণমাধ্যমের বক্তব্য
সঠিক উত্তর:
গ) কল্যাণকামী ও যুক্তিযুক্ত মতামত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কল্যাণকামী ও যুক্তিযুক্ত মতামত
ব্যাখ্যা
- সাধারণ অর্থে জনমত বলতে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ বা অধিকাংশের মতামতকে বুঝলেও জনমত হলো যুক্তিযুক্ত, স্পষ্ট ও কল্যাণকামী মতামত।
- জনমতকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়।
- সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের উপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩৯৯.
জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কোন মূল্যবোধের চর্চা গুরুত্বপূর্ণ?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা দ্বারা সকলের মধ্যে জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা গুরুত্বপূর্ণ।


উল্লেখ্য,
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো হলো: 
- পরমত সহিষ্ণুতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, ন্যায়পরায়ণতা, সচেতনাবোধ সৃষ্টি, দায়বদ্ধতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০০.
সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রধান উৎস কোনটি?
  1. রাজনৈতিক আদর্শ
  2. অপসংস্কৃতি
  3. আইন
  4. সামাজিক প্রথা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক প্রথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক প্রথা
ব্যাখ্যা
যেসব রীতিনীতি মানুষের সাংস্কৃতিক আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাদের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বলে।
- সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রধান উৎস হলো সামাজিক প্রথা
- সমাজে বসবাসকারী ভিন্ন ভিন্ন মানুষের সংস্কৃতি ও সংস্কৃতি চর্চার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)