বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মূল্যবোধ

মোট প্রশ্ন৭৮০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মূল্যবোধ

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৭৮০

২০১.
রাজনৈতিক মূল্যবোধ কোনটি?
  1. ক) সত্যবাদিতা
  2. খ) দেশপ্রেম
  3. গ) শিষ্টাচার
  4. ঘ) দানশীলতা
সঠিক উত্তর:
গ) শিষ্টাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শিষ্টাচার
ব্যাখ্যা
যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত  তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে। 
রাজনৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছে:
- রাজনৈতিক সততা 
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ 
- রাজনৈতিক সহনশীলতা 
- পরমতসহিষ্ণুতা 
 
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক)
 
২০২.
জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালিত করার নীতিমালা কোনটি?
  1. ক) সংস্কৃতি
  2. খ) মূল্যবোধ
  3. গ) সংযম
  4. ঘ) আইন
সঠিক উত্তর:
খ) মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ জাতীয় দর্শন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। 
- এটি জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালিত করার নীতিমালা বা সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক শক্তি। 
- আধুনিক ধারণা অনুযায়ী মূল্যবোধ হলো কতগুলো জৈব মানসিক সংগঠনের এমন এক সমন্বয় যা পরিবেশের বৃহৎ অংশকে সক্রিয়তার দিক থেকে সমগুণসম্পন্ন করে তোলে এবং ব্যক্তির মধ্যে উপযুক্ত আচরণ সৃষ্টি করে।
- এ সংজ্ঞাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় পরিবেশ ও পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের জৈব মানসিক প্রবণতা যা সাধারণধর্মী ও সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ সৃষ্টি করে তাকে মূল্যবোধ বলা হয়। 
 
উৎস: স্কুল অব এডুকেশন; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২০৩.
"সামাজিক মূল্যবোধ হলো ঐ সমস্ত রীতি-নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের কাছ থেকে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে।"- কার উক্তি?
  1. এইচ, ডি, স্টেইন
  2. স্টুয়ার্ট.সি.ডড
  3. ম্যাকাইভার
  4. এম, আর উইলিয়াম
সঠিক উত্তর:
স্টুয়ার্ট.সি.ডড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টুয়ার্ট.সি.ডড
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হল কতকগুলো নীতি, আদর্শ এবং আচরণবিধি যাকে একটি সমাজের মানুষ ভাল ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করে। 
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ। 

স্টুয়ার্ট.সি.ডড বলেন, 
"সামাজিক মূল্যবোধ হলো ঐ সমস্ত রীতি-নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের কাছ থেকে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে।" 

সমাজবিজ্ঞানী এম, আর উইলিয়াম বলেন,
"মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড যার আদর্শে মানুষের ব্যবহার ও রীতি-নীতি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সমাজে মানুষের কাজের ভাল-মন্দের বিচার করা হয়।"
 
এইচ, ডি, স্টেইন বলেন, 
"জনসাধারণ যার সম্বন্ধে আগ্রহশীল, যা তারা কামনা করে, যাকে তারা অত্যাবশ্যক বলে মনে করে, যার প্রতি সকলের অগাধ শ্রদ্ধা আছে এবং যা সম্পাদনের মাধ্যমে তারা আনন্দ উপভোগ করে তাকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।" 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৪.
মূল্যবোধকে অন্য কি নামে আখ্যায়িত করা যায়?
  1. সামাজিক নৈতিকতা
  2. রাজনৈতিক নৈতিকতা
  3. অর্থনৈতিক নৈতিকতা
  4. ধর্মীয় নৈতিকতা 
সঠিক উত্তর:
সামাজিক নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধকে সামাজিক নৈতিকতা নামে আখ্যায়িত করা যায়। 

মূল্যবোধ:

- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- সামাজিক মাপকাঠি, যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন, নৈতিক প্রাধান্য, বিভিন্নতা, আপেক্ষিকতা পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা।

নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ আইন নয়।
- এর বিরোধিতা বেআইনি নয়।
- এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা।
- মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আছে বলে মানুষ এটা মনে করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২০৫.
কোনটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে?
  1. ক) সহমর্মিতা
  2. খ) মানবিকতা
  3. গ) শ্রমের মর্যাদা
  4. ঘ) শৃঙ্খলা
সঠিক উত্তর:
গ) শ্রমের মর্যাদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শ্রমের মর্যাদা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।

• শ্রমের মর্যাদা:
→ শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য।
→ এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে।
→ এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্মান করতে শিখে।  

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৬.
মূল্যবোধ কী পরীক্ষা করে?
  1. ভালো ও মন্দ
  2. ন্যায় ও অন্যায়
  3. নৈতিকতা ও অনৈতিকতা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- যা সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও পরিমন্ডলে বসবাসের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধ পরীক্ষা করে ভালো ও মন্দের, ন্যায় ও অন্যায়ের, নৈতিকতা ও অনৈতিকতার ইত্যাদি।
- মূল্যবোধ বিষয়টি আপেক্ষিক।
- এটি সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারিত, পরিবর্তিত ও নির্দিষ্ট হয়ে থাকে।
- নীতিবোধ, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাসহ এর অনেকগুলো উপাদান রয়েছে।
- সুন্দর ও আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক অপরিহার্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৭.
সংস্কৃতি হলো-
  1. ক) মানুষের বাহ্যিক আচরণ
  2. খ) মানুষের জীবন প্রণালি
  3. গ) মানুষের ব্যক্তিগত চেতনা
  4. ঘ) মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস
সঠিক উত্তর:
খ) মানুষের জীবন প্রণালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মানুষের জীবন প্রণালি
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি হলো মানুষের যাবতীয় কর্মকাণ্ড তথা জীবন প্রণালি।
- মানুষের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান ধারণা, বিশ্বাস, ধর্ম, নীতিবোধ প্রভৃতি সংস্কৃতির উপাদান হিসেবে চিহ্নিত। সংস্কৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক সমাজবিজ্ঞান : প্রথমপত্র)
২০৮.
সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন কী ধরনের মূল্যবোধ?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. আধুনিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷

রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ রাজনৈতিক সততা,
 শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
→ রাজনৈতিক সহনশীলতা,
→ রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
→ দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
→ পরমতসহিষ্ণুতা,
→ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
→ সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ।
→ বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান।
→ বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রধান না করা।
→ নির্বাচনে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়া।
→ আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৯.
'জাতিসংঘ' শব্দটি কত সালে প্রথম ব্যবহৃত হয়?
  1. ১৯৪০ সালে
  2. ১৯৪২ সালে
  3. ১৯৪৪ সালে
  4. ১৯৪৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪২ সালে
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ:
• জাতিসংঘ:  
- ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সনদ কার্যকরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ গঠিত হয়।
- এর আগে ১৯৪৫ সালের ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো শহরে জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরিত হয়।
- জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ৫১টি।
- এর বর্তমান সদস্য ১৯৩টি।
- জাতিসংঘের স্থায়ী পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২ টি (ভ্যাটিকান ও ফিলিস্তিন)।
- জাতিসংঘ সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত।

এছাড়াও,
- জাতিসংঘ শব্দটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডেলানো রুজভেল্ট দ্বারা প্রস্তাবিত, প্রথমবার জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রে ব্যবহৃত হয়েছিল, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে ওয়াশিংটন, ডিসি-তে ১ জানুয়ারী ১৯৪২ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল ।
- ঘোষণাপত্রে অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ২৬টি দেশের প্রতিনিধিরা যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য সহযোগিতা করার সংকল্প করেছে।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
২১০.
ঋণগ্রস্থ মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে কোন মূল্যবোধ বলা হয়?
  1. আর্থিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।

উল্লেখ্য,
- অন্যায়কে অন্যায় বলা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, - সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা,  অসহায় ও ঋণগ্রস্থ মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২১১.
নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস কোনটি?
  1. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
  2. পরিবার
  3. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
  4. উচ্চশিক্ষা
সঠিক উত্তর:
পরিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবার
ব্যাখ্যা
• নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।
- ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি হলো:
- পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ।
- আইনের শাসন।
- অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১২.
সামাজিক মূল্যবোধ নয় কোনটি?
  1. ক) সততা
  2. খ) সহনশীলতা
  3. গ) সাম্প্রদায়িকতা
  4. ঘ) ন্যায়পরায়ণতা
সঠিক উত্তর:
গ) সাম্প্রদায়িকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাম্প্রদায়িকতা
ব্যাখ্যা
শিষ্টাচার, সততা,ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ ইত্যাদি হলো সামাজিক মূল্যবোধ। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২১৩.
মূল্যবোধ দৃঢ় হয় কীসের মাধ্যমে?
  1. ধর্মের মাধ্যমে
  2. শিক্ষার মাধ্যমে
  3. কর্মের মাধ্যমে
  4. রাজনীতির মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ: 
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন নবম- দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

২১৪.
সামাজিক অবক্ষয় রোধে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?
  1. শক্তিশালী সেনাবাহিনী
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  3. রাজনৈতিক দল
  4. আইনের শাসন 
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন 
ব্যাখ্যা

সামাজিক অবক্ষয়:
- অবক্ষয় শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘ক্ষয়প্রাপ্তি’।
- সামাজিক মূল্যবোধ তথা সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ধৈর্য, উদারতা, শিষ্টাচার, সৌজন্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, অধ্যবসায়, নান্দনিক সৃজনশীলতা, দেশপ্রেম, কল্যাণবোধ, পারস্পরিক মমতাবোধ ও অপরাপর নৈতিক গুণাবলি লোপ পাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়াকে বলে সামাজিক অবক্ষয়।

⇒ যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উল্লেখ্য,
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ। সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

২১৫.
সততা ও ন্যায়পরায়ণতা কী ধরনের মূল্যবোধ?
  1. ক) ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. খ) সার্বজনীন মূল্যবোধ
  3. গ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
খ) সার্বজনীন মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সার্বজনীন মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ আপেক্ষিক বা পরিবর্তনশীল হলেও সততা, ন্যায়পরায়ণতা, পরোপকার প্রভৃতি মূল্যবোধসমূহ সার্বজনীন। স্থান কিংবা সময়ের ব্যবধানে এসব মূল্যবোধ সব সময়ই অস্তিত্বশীল থাকে।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২১৬.
কেন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন?
  1. গণতন্ত্র চর্চা করার জন্য
  2. ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিতের জন্য
  3. জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিতের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিতের জন্য
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- গণতন্ত্রের মূল কাজ হল ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা।

⇒ একজনের অধিকার ও স্বাধীনতা অন্যের উপর নির্ভরশীল, যা বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক মূল্যবোধ প্রয়োজন।
- অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোর অর্থই হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- একটি সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তির অধিকার, মর্যাদা, সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয়।
- ব্যক্তি অন্যের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ, সহমর্মী ও সংযত হয়।
- জাতি, ধর্ম, বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক সমাজের সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধ মানুষকে সহনশীলতার শিক্ষা দিয়ে থাকে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত বিশেষ করে বিরুদ্ধ মত সহ্য করা ও বিবেচনা করা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করে।
- এহেন মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজ-নিজ অধিকার ভোগ ও কর্তব্য সম্পাদনে তৎপর হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৭.
ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি কোনটি?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  3. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  4. পেশাগত মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
পেশাগত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেশাগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ হলো, ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি। ব্যক্তিত্বের ধরন, আগ্রহ ও কাজ-সম্পর্কিত মূল্যবোধ প্রভৃতি একজন ব্যক্তির পেশাগত মূল্যবোধে প্রভাব বিস্তার করে। পেশা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এ মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে,
• ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর। এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে। ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়। প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়। ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ। সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল (Francises E. Meril) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।" ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

• ধর্মীয় মূল্যবোধ:
- ধর্মীয় ঐতিহ্য ও বিশ্বাস থেকে যে মূল্যবোধ গড়ে ওঠে তাই ধর্মীয় মূল্যবোধ। ধর্মীয় অনুশীলন এবং নির্দেশনায় গড়ে ওঠা সামগ্রিক বিশ্বাস, আদর্শ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, দর্শন, রীতি-নীতি ইত্যাদি মিলিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরি হয়।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৮.
মূল্যবোধের উপাদান নয় কোনটি?
  1. সাম্প্রদায়িকতা
  2. শৃঙ্খলাবোধ
  3. আইনের শাসন
  4. শ্রমের মর্যাদা
সঠিক উত্তর:
সাম্প্রদায়িকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্প্রদায়িকতা
ব্যাখ্যা

⇒ সাম্প্রদায়িকতা মূল্যবোধের উপাদান নয়।

 ♦ মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।

♦ মূল্যবোধের উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা, কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা,
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২১৯.
মূল্যবোধের নির্ধারক হিসেবে পরিচিত -
  1. অভ্যাস
  2. আচরণ
  3. নৈতিকতা
  4. ধর্ম
সঠিক উত্তর:
আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচরণ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- আচরণ মূল্যবোধের নির্ধারক হিসেবে পরিচিত।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি ।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায় ৷
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে ৷
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২২০.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মানুষকে কোন গুণের শিক্ষা দেয়?
  1. কর্তৃত্ব
  2. সহনশীলতা
  3. প্রতিযোগিতা
  4. শাসন
সঠিক উত্তর:
সহনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহনশীলতা
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: 
- মূল্যবোধ মানুষকে সহনশীলতার শিক্ষা দিয়ে থাকে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত বিশেষ করে বিরুদ্ধ মত সহ্য করা ও বিবেচনা করা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করে।
- এহেন মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজ-নিজ অধিকার ভোগ ও কর্তব্য সম্পাদনে তৎপর হয়।
- সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- এ মূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার প্রতি সমান দৃষ্টি দিয়ে থাকে।
- এর ফলে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যমতে পৌঁছানো জরুরি, যা কেবল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মধ্য দিয়েই সম্ভব।
- সরকারের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যসম্পাদনকারী ব্যক্তিবর্গের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন হওয়া উচিত।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্দীপ্ত ব্যক্তি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ থেকে বিরত থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২১.
জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি কোনটি?
  1. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  2. সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  3. নৈতিক মূল্যবোধ
  4. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।
১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২২২.
কোন আদর্শের উপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. স্বাধীনতা
  2. মৈত্রী
  3. সাম্য
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্ৰ:
- সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার গুরুত্ব 'সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা'-এ তিনটি আদর্শের উপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত।
- গণতন্ত্রে সকলেই সমান; সমঅধিকারের নীতিটি শুধু তত্ত্বগতভাবে নয়, বাস্তবেও গৃহীত হতে দেখা যায় ৷
- জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ধনী-গরীব, স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই আইনের চোখে সমান ৷
- গণতন্ত্রে সবাই আইন দ্বারা সমভাবে সংরক্ষিত হবার সুযোগ পায় বলে প্রত্যেকে নিজ নিজ ব্যক্তিসত্তার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে।
- অন্যভাবে আমরা বলতে পারি, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার ভোগ করতে পারে।

তথ্যসূত্র - রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৩.
“সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলী, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে।”-- সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে প্রদত্ত সংজ্ঞাটি কার?
  1. ক) এফ. ই মেরিল
  2. খ) এম. ডব্লিউ পামফ্রে
  3. গ) নিকোলাস রেসার
  4. ঘ) এম. আর উইলিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) নিকোলাস রেসার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিকোলাস রেসার
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
২২৪.
মানুষের সামগ্রিক সামাজিক জীবনাচারের অপরিহার্য অংশ-
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) আইনের শাসন
  4. ঘ) মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

- মানুষের সামগ্রিক সামাজিক জীবনাচারের অপরিহার্য অংশ মূল্যবোধ।
- সমাজ কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য উপাদান হলো মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানব আচরণের অলিখিত দলিল।
- মূল্যবোধের ধারনা সহজাত নয় বরং অর্জিত।
- মূল্যবোধ মানবসত্তার ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশ ঘটায়।

২২৫.
মূল্যবোধ শিক্ষা দূর করে -
  1. ক) মাদকাসক্ততা
  2. খ) রাহাজানি
  3. গ) ইভটিজিং
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ শিক্ষা হলো শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি সম্পর্কিত শিক্ষা।
- মূল্যবোধের শিক্ষার অভাবে সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়।
- সেজন্যে ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি সামাজিক অবক্ষয়জনিত কর্মকাণ্ড রোধ করতে মূল্যবোধ শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২২৬.
“The Problems of Philosophy” - বইটি কার লেখা?
  1. ক) জ্যাঁ পল রুশো
  2. খ) বার্টান্ড রাসেল
  3. গ) কার্ল মার্ক্স
  4. ঘ) নিকোলা ম্যাকিয়াভ্যালী
সঠিক উত্তর:
খ) বার্টান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বার্টান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ দার্শনিক বার্টান্ড রাসেলের লেখা The Problems of Philosophy - বইটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়। তার লেখা অন্যান্য বই -
A History of Western Philosophy,
The Principles of Mathematics,
Unpopular Essays,
The Conquest of Happiness ইত্যাদি।
২২৭.
কোন মূল্যবোধ রাষ্ট্র, সরকারও গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. ইতিবাচক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলি রাষ্ট্র, সরকার এবং বিভিন্ন গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত এবং সমর্থিত।
- এই মূল্যবোধগুলি সাধারণত মানুষের মৌলিক অধিকার, স্বাধীনতা, সাম্য, ন্যায়বিচার, এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলি রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা এবং নাগরিকদের মধ্যে একটি সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২২৮.
মূল্যবোধ শিক্ষা কী নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা দূরীভূত করে ও সুশাসন নিশ্চিত করে?
  1. মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ
  2. আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ
  3. দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ
  4. সামাজিক অসমতা নিয়ন্ত্রণ
সঠিক উত্তর:
মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

⇒ মূল্যবোধের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির মধ্যে নিজের প্রতি, পরিবারের প্রতি, দেশের প্রতি, সকল ধর্মের প্রতি সঠিক ও যথার্থ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিত্তি মজবুত করে।
- মূল্যবোধ ও সুশাসন জাতীয় ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সাংবিধানিক অধিকার, জাতীয় সংহতি, সমাজের উন্নতি ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে।

• সুতরাং, মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা দূরীভূত করে ও সুশাসন নিশ্চিত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২২৯.
মূল্যবোধের পরিবর্তনশীলতার ফলে কোনটি অর্থহীন হয়ে গেছে?
  1. রাজনৈতিক নীতি
  2. সামাজিক সংস্কার
  3. বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা
  4. আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
• পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা: মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা। সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল। আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়। অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন। যেমন- বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা। আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে। মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

• সামাজিক মাপকাঠি: মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ। মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

• যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন: মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে। একই রীতি-নীতি, আচার- অনুষ্ঠান ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজের সকলে পরস্পর মিলিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করে।

• নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ আইন নয়। এর বিরোধিতা বেআইনি নয়। এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা। মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আছে বলে মানুষ এটা মনে করে।

• বিভিন্নতা: মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, দেশ জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়। যেমন- পাশ্চাত্য দেশে মেয়েরা যে পোশাক পরে আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য সে পোশাক সমাজ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নয়।

• বৈচিত্রময়তা ও আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ বৈচিত্রময় ও আপেক্ষিক।আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত, কাল তা সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।

• সুতরাং, মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা দূরীভূত করে ও সুশাসন নিশ্চিত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৩০.
______________ মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য।
  1. দুর্নীতি রোধ করা
  2. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  3. ব্যক্তি স্বার্থের উন্নয়ন ঘটানো
  4. রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজ নৈতিকতা, ন্যায়বিচার, মানবিকতা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা সম্পর্কে সচেতন হয়।
- এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা, যাতে সমাজে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় থাকে।

মূল্যবোধ শিক্ষার গুরুত্ব:
- নৈতিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা;
- নৈতিক চরিত্র গঠন ও সদাচরণ শেখানো;
- সত্যবাদিতা, সততা ও ন্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া;
- সামাজিক সমস্যা ও অপরাধ কমানো;
- নতুন প্রজন্মকে নৈতিকভাবে গড়ে তোলা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩১.
"নারী-পুরুষ ও তৃতীয় লিঙ্গের সমান সুযোগ" কোন ধরনের মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  3. নৈতিক মূল্যবোধ
  4. আধুনিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
আধুনিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুনিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
আধুনিক মূল্যবোধ (Modern Values):
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল, আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, 
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। এগুলো আজ আর নেই।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক। বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।
- "বিধবা বিবাহ প্রথা চালু, নারী-পুরুষ ও তৃতীয় লিঙ্গের সমান সুযোগ, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা" আধুনিক মূল্যবোধ। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৩২.
 মানুষের ’ভুল’ ও ’শুদ্ধ’ -এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে-
  1. কর্তব্যবোধ
  2. মূল্যবোধ
  3. সদাচার
  4. মানবিকতা
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- এটি এমন একটি গুণ যা মানুষের ভুল ও শুদ্ধ, ভালো-মন্দ, দোষ-গুণের পার্থক্য নির্ধারণ করে।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।
- মূল্যবোধ হলো ঐসব চিন্তাভাবনা, আশা-আকাঙ্খা, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, যা মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কার্যাবলীকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রণ করে। মূল্যবোধ স্থায়ী নয় বরং পরিবর্তনশীল।
- শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক সুবিবেচিত আচরণের সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৩৩.
মূল্যবোধ শিক্ষার উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. ব্যক্তিগত স্বার্থের অগ্রাধিকার
  2. প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন
  3. সামাজিক অনুশাসন ও আদর্শ স্থাপন
  4. ব্যবসায়িক দক্ষতার উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অনুশাসন ও আদর্শ স্থাপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অনুশাসন ও আদর্শ স্থাপন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার বিকাশ ঘটায়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার উদ্দেশ্য হল সামাজিক অনুশাসন এবং আদর্শ স্থাপন করা, যাতে শিক্ষার্থীরা নৈতিক এবং সামাজিক দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করতে পারে।
- এই শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, এবং দায়িত্ববোধ তৈরি করে, যা সমাজে শৃঙ্খলা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের আচরণে নিয়ম ও শৃঙ্খলা নিয়ে আসে, যা সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
- এটি মানুষকে ন্যায় এবং ন্যায়বিচার মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করে, যা সমাজে সাম্য এবং অধিকার নিশ্চিত করে।

অন্যদিকে, মূল্যবোধ শিক্ষার উদ্দেশ্যের বিপরীত হচ্ছে-
- ব্যক্তিগত স্বার্থের অগ্রাধিকার,
- আইন অমান্য করার প্রবণতা, এবং
- সমাজে বিশৃঙ্খলা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২৩৪.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) মূল্যবোধ মানুষের আচরণ পরিমাপের মাপকাঠি
  2. খ) মূল্যবোধ সামাজিক রীতি-নীতির সমষ্টি
  3. গ) মূল্যবোধ শিক্ষা সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও রীতিনীতির সমষ্টি। মূল্যবোধ মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ এবং ন্যায়-অন্যাযের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে।
মূল্যবোধের অনুপস্থিতির ফলে সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়। যার কারণে সামাজিক অবক্ষয় রোধের জন্যে মূল্যবোধ শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২৩৫.
সুনাগরিকের গুণাবলি নয় কোনটি?
  1. ক) বুদ্ধি
  2. খ) সহিষ্ণুতা
  3. গ) বিবেক
  4. ঘ) আত্মসংযম
সঠিক উত্তর:
খ) সহিষ্ণুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা
লর্ড ব্রাইস সুনাগরিকের ৩ টি গুণাবলির উল্লেখ করেছেন। তার মতে যার মধ্যে বুদ্ধি, বিবেক এবং আত্মসংযম থাকবে এবং এসবের প্রয়োগ থাকবে সেই সুনাগরিক। (সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২৩৬.
'গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার জনগণের এজেন্ট মাত্র' এ উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক সিলি
  2. ম্যাকাইভার
  3. সি.এফ. স্ট্রং
  4. লর্ড ব্রাইস
সঠিক উত্তর:
ম্যাকাইভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা:
- গনতন্ত্রের ইংরেজী প্রতি শব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগন এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে।
- চিন্তাবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে গণতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার ব্যবস্থাই নয় বরং এক ধরনের জীবন দর্শন বা জীবনপদ্ধতি।

⇒ প্রফেসর সিলী বলেন, "এটি এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেকের অংশ আছে।”
- লর্ড ব্রাইস, 'Modern Democracy' নামক গ্রন্থে বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে সেই ধরনের শাসন ব্যবস্থা যাতে রাষ্ট্রশাসন আইনত কোন বিশেষ শ্রেণী বা শ্রেণীগুলোর হাতে না থেকে সমাজের নাগরিকদের হাতে থাকে।
- সি. এফ. স্ট্রং সুন্দরভাবে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়ে বলেন, "শাসিতগণের সক্রিয় সম্মতির উপর যে সরকার প্রতিষ্ঠিত তাকে গণতন্ত্র বলে।" 
- অধ্যাপক লিন্ডসে উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্র সরকারের ন্যায় সমাজেরও একটি তত্ত্ব বটে.
- কার্ল জি ফ্রেডরিখ বলেন, “গণতন্ত্র হচ্ছে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন সংঘটনের জন্য স্বীকৃত একটি প্রধান উপায়।”
- ১৮৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতান্ত্রিক সরকারের স্বরূপ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, "গণতন্ত্র হল জনগণের, জনগণের জন্য এবং জনগণের দ্বারা সরকার।" 
- অধ্যাপক ডাইসি বলেন, "গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ।"
- গ্রীক ঐতিহাসিক হেরোডোডাস এর মতে, "গনতন্ত্র এমন এক প্রকার শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসন ক্ষমতা আইনত কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের ওপর ন্যস্ত না থেকে সমাজের সকল সদস্যদের ওপর ন্যস্ত থাকে।"
- স্যার ক্রিপসের মতে, "গণতন্ত্র হচ্ছে সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সকল বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকদের ইচ্ছাকে প্রভাবিত করতে পারে।"
- ম্যাকাইভারের মতে, "গণতান্ত্রিক শাসনে সরকার জনগণের এজেন্ট মাত্র এবং তারা সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে।"

⇒ গণতন্ত্র দুই প্রকার।
১. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
২. পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৭.
কোনটির অভাবে সমাজে অবক্ষয় দেখা যায়?
  1. ক) মূল্যবোধের শিক্ষা
  2. খ) পারিবারিক শিক্ষা
  3. গ) অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
ক) মূল্যবোধের শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মূল্যবোধের শিক্ষা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ শিক্ষা হলো শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি সম্পর্কিত শিক্ষা।
মূল্যবোধের শিক্ষার অভাবে সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়
• সেজন্যে ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি সামাজিক অবক্ষয়জনিত কর্মকাণ্ড রোধ করতে মূল্যবোধ শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩৮.
সমাজে ইভটিজিং ও পর্নোগ্রাফি বৃদ্ধির কারণ কী?
  1. উচ্চশিক্ষা
  2. গ্রাম উন্নয়ন
  3. মূল্যবোধের অভাব
  4. সামাজিক ন্যায়বিচার
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের অভাব
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের অবক্ষয়:
- মূল্যবোধের অবক্ষয় বলতে সমাজে নৈতিক ও নীতিগত মূল্যবোধের অভাব বা অনুপস্থিতিকে বোঝায়।
- এটি ঘটলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধের অভাব হলো সমাজে ইভটিজিং ও পর্নোগ্রাফি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ ও নৈতিকতার ভিত্তি গড়ে তোলে।
- যখন এই মূল্যবোধগুলি সমাজে অনুপস্থিত থাকে বা ক্ষীণ হয়ে যায়, তখন মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও সততার অভাব দেখা দেয়, যা বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজের প্রসার ঘটায়।

উল্লেখ্য,
মূল্যবোধের চর্চা ও প্রসার ঘটিয়ে ইভটিজিং এবং পর্নোগ্রাফি রোধ করা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন:
→ শিক্ষার প্রসার: শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক ও মূল্যবোধের শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা।
→ সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি: ইভটিজিং ও পর্নোগ্রাফির কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
→ পারিবারিক শিক্ষা: পরিবারে সঠিক নৈতিক শিক্ষা ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।
→ নিয়ম ও আইন প্রয়োগ: কঠোর আইন ও তার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৯.
নিচের কোনটি মূল্যবােধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) সামাজিক মাপকাঠি
  2. খ) যােগসূত্র ও সেতুবন্ধন।
  3. গ) নৈতিক প্রাধান্য
  4. ঘ) শৃঙ্খলাবােধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) শৃঙ্খলাবােধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শৃঙ্খলাবােধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবােধের বৈশিষ্ট্য – সামাজিক মাপকাঠি, যােগসূত্র ও সেতুবন্ধন, নৈতিক প্রাধান্য, বিভিন্নতা, আপেক্ষিকতা, পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা।
অন্যদিকে, নীতি ও ঔচিত্যবােধ, সামাজিক ন্যায়বিচার, শৃঙ্খলাবােধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যবােধের ভিত্তি বা উপাদান।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বাের্ড বই

২৪০.
একজন প্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ কোনটি?
  1. কর্মদক্ষতা
  2. জনকল্যাণ
  3. স্বাধীনতা
  4. ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
জনকল্যাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনকল্যাণ
ব্যাখ্যা

মৌলিক মূল্যবোধ:
- একজন প্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হচ্ছে জনকল্যাণ।
- এটি নির্দেশ করে যে প্রশাসক তার সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করেন।
- জনকল্যাণের উদ্দেশ্য হলো জনগণের উন্নতি, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং সুষম উন্নয়ন সাধন করা।
- ক্ষমতা প্রশাসকের কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু যদি জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়, তবে এটি অপ্রয়োজনীয় হতে পারে।
- স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি প্রশাসকের কাজে জনকল্যাণের সাথে সম্পর্কিত নয়। স্বাধীনতা প্রশাসকের কার্যক্রমের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে।
- কর্মদক্ষতা একটি প্রশাসকের প্রয়োজনীয় গুণ, তবে এটি মূল মূল্যবোধ নয়; এটি জনকল্যাণ সাধনের জন্য একটি সহায়ক গুণ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪১.
জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে মূল্যবোধ শিক্ষার গুরুত্ব কী?
  1. জাতীয় সম্পদ অপব্যবহার করা
  2. ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া
  3. সামাজিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করা
  4. জনসাধারণকে আইন অমান্য করতে উৎসাহিত করা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও জাতীয় উন্নয়ন:

- জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে মূল্যবোধ শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- কারণ এটি সমাজে শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, এবং দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে, যা জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- এটি জনসাধারণকে আইন মেনে চলার এবং নিজেদের কার্যক্রমে সৎ ও নৈতিক হতে উদ্বুদ্ধ করে।
- ফলে সমাজে শৃঙ্খলা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়, যা সামগ্রিকভাবে জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
২৪২.
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিচের কোনটি?
  1. আইনের শাসন
  2. শ্রমের মর্যাদা
  3. নৈর্ব্যক্তিকতা
  4. সামাজিক মানদন্ড
সঠিক উত্তর:
নৈর্ব্যক্তিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈর্ব্যক্তিকতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- সামাজিক মাপকাঠি,
- যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন,
- নৈতিক প্রাধান্য,
- বিভিন্নতা,
- বৈচিত্র্যময়তা ও আপেক্ষিকতা,
- পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা ইত্যাদি।

মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন ইত্যাদি

তথ্যসূত্র -  উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
২৪৩.
সমাজে 'যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন' হিসেবে কাজ করে-
  1. সুশাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4. আইনের শাসন
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল। 

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
সামাজিক মাপকাঠি:
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন:
- মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে।
- একই রীতি-নীতি, আচার- অনুষ্ঠান ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজের সকলে পরস্পর মিলিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করে।

নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ আইন নয়।
- এর বিরোধিতা বেআইনি নয়।
- এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা।
- মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আছে বলে মানুষ এটা মনে করে।

বিভিন্নতা:
- মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, দেশ জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- যেমন- পাশ্চাত্য দেশে মেয়েরা যে পোশাক পরে আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য সে পোশাক সমাজ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নয়।

বৈচিত্রময়তা ও আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ বৈচিত্রময় ও আপেক্ষিক।
- আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত, কাল তা সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।

পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন।
- যেমন- বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা।
- আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে।
= মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৪৪.
সামাজিক আচরণের দিক দিয়ে কাম্য মূল্যবোধ হলো -
  1. দেশপ্রেম
  2. সুনাগরিকতা
  3. দলগত বিশ্বস্ততা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের উৎস:
- মূল্যবোধের একটি উল্লেখ্যযোগ্য অংশ জেনেটিক্যালি নির্ধারিত হয়।
- তথাপি মূল্যবোধের বৈচিত্রতার ক্ষেত্রে পরিবেশগত উপাদান ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
- মূল্যবোধকে একটি প্রত্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- এ প্রত্যয়ের উপাদান হচ্ছে: নীতি, মান ও বিশ্বাস।
- এসব উপাদান স্পষ্ট করে দেয় ব্যক্তি, সমাজ বা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান; ভাল-মন্দ, দোষ-গুন, ন্যায়পরায়নতা, নৈতিকতা বিচার করে এবং নৈতিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে কাজের দিক নির্দেশনা। এ উপাদানগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ বংশগতি থেকে পেয়ে থাকে।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক আচরণের দিক দিয়ে কাম্য মূল্যবোধ হচ্ছে সুনাগরিকতা, দলগত বিশ্বস্ততা, সহযোগিতা, স্বার্থত্যাগ, দেশপ্রেম ইত্যাদি।
- সামাজিক বিভিন্ন আচরণের উপর ভিত্তি করে নানা স্তরের মূল্যবোধ তৈরি হয়।
- সমাজতত্ত্ব ও শিক্ষাতত্ত্বের মধ্য দিয়েও ব্যক্তির মূল্যবোধ প্রভাবিত হয়ে থাকে।
- পরিবারের মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও সমাজ অনুমোদিত মূল্যবোধ আহরণ ও আয়ত্ত করতে সহায়তা করে।

পরিশেষে আমরা বলতে পারি,
- মূল্যবোধ গড়ে ওঠার পেছনে যেসব সহায়ক কাজ করে তা হলো- পরিবার, ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনকানুন, সংবিধান, সংস্কৃতি, নীতিবোধের চর্চা, সংগঠন ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সভাসমিতি, সামাজিক ন্যায়-বিচার, আইনের শাসন, সামাজিক অনুষ্ঠান, নাগরিক চেতনা, সামাজিক শিক্ষা ইত্যাদি।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৫.
কীভাবে মূল্যবোধ নির্ধারিত হয়?
  1. সুশাসন
  2. নৈতিকতা
  3. আচরণ
  4. সংস্কৃতি
সঠিক উত্তর:
আচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আচরণ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।

উল্লেখ্য,
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়। জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৪৬.
মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেক-বুদ্ধির বহিঃপ্রকাশই-
  1. সুশাসন
  2. নৈতিকতা 
  3. মূল্যবোধ
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ: 
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।
- কেননা একজনের কাছে যা আর্দশ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে।
- তবে অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেক-বুদ্ধির বহিঃপ্রকাশই মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"।
- ক্লাইড কুখোন বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত"।
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল (F. E. Meril) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন,এইচ এসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৭.
গণতান্ত্রিক মূল্যবােধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নয় কোনটি?
  1. নৈতিকতা
  2. স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন
  3. আত্নসংযম
  4. পরমত সহিষ্ণুতা
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
মূল্যবোধের শ্রেণীবিভাগ হলো-
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ,
- ধর্মীয় মূল্যবোধ,
- সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- আধুনিক মূল্যবোধ,
- আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ।

- বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মাঝে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অন্যতম।
- নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্নসংযম, পরমত সহিষ্ণুতা এর মতো গুণাবলিগুলো মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়।
- একটি রাষ্ট্র কেবল গণতন্ত্র ঘোষণা করলেই হবে না, তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য জনগণের মাঝে গণতান্ত্রিক চেতনা, সংকল্প ও উদ্দেশ্য তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থাকতে হবে।
- সমাজের কথা, প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা, অন্যের অধিকার সম্পর্কে চিন্তা করা মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ যা আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম ও ২য় পত্র); মো. মোজাম্মেল হক এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২৪৮.
প্লেটোর ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. সততা
  2. প্রজ্ঞা
  3. সাহস
  4. ন্যায়
সঠিক উত্তর:
সততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সততা
ব্যাখ্যা
সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়। সততা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। 
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
 
উল্লেখ্য,
- অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়।
- তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সদ্গুণ এবং নৈতিক সদগুণের মধ্যে পার্থক্য করেছিলেন।
- নৈতিক সদ্গুণের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, সময় এবং সমাজভেদে এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৯.
রাষ্ট্র ও সরকারের জনকল্যাণমুখীতার অনুপস্থিতি কী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়?
  1. ক) ন্যায়বিচারের অভাব
  2. খ) সামাজিক অসমতা
  3. গ) মূল্যবোধের অবক্ষয়
  4. ঘ) দায়িত্ববোধের অভাব
সঠিক উত্তর:
গ) মূল্যবোধের অবক্ষয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মূল্যবোধের অবক্ষয়
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র ও সরকারের জনকল্যাণমুখীতার অনুপস্থিতি মূল্যবোধের অবক্ষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মূল্যবোধের অনুপস্থিতি বা নেতিবাচক পরিবর্তনই হলো মূল্যবোধের অবক্ষয়। মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থাকে এই মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ করা।
[সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী এবং পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক]]
২৫০.
মূল্যবোধ শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয় কোনটি?
  1. জাতীয় সংসদ
  2. বিশ্ববিদ্যালয়
  3. পরিবার
  4. বিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সংসদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ মূল্যবোধ শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়।

মূল্যবোধ শিক্ষা:

- যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় তথা ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি রোধ করে থাকে।

⇒ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৫১.
মানুষের মধ্যে সামাজিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে কোনটির মাধ্যমে?
  1. উচ্চমানের প্রযুক্তি অনুসরণ
  2. অর্থনৈতিক প্রণোদনা
  3. সামাজিকীকরণ
  4. আইনের বাধ্যবাধকতা
সঠিক উত্তর:
সামাজিকীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিকীকরণ
ব্যাখ্যা

→ মানুষের মধ্যে সামাজিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে সামাজিকীকরণের মাধ্যমে।

সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।
- সুতরাং মানুষের মধ্যে সামাজিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে সামাজিকীকরণের মাধ্যমে।

উল্লেখ্য:
- আইনের বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে সামাজিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে না।
- অর্থনৈতিক প্রণোদনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে।
- উচ্চমানের প্রযুক্তি অনুসরণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

২৫২.
মূল্যবোধ তৈরির সূতিকাগার বলা হয়-
  1. ক) পরিবারকে
  2. খ) রাষ্ট্রকে
  3. গ) সমাজকে
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) পরিবারকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পরিবারকে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ তৈরি মূলত পারিবারিক পরিমণ্ডলেই শুরু হয়। কারণ পরিবার এমন একটি মৌলিক প্রতিষ্ঠান যা শিশুর জীবনের সূচনালগ্নেই তার চেতনায় এমন বোধ বপন করে দিতে পারে যা দীর্ঘস্থায়ী হয়; এমন নজির রয়েছে প্রচুর। তাই পরিবারই মূল্যবোধ তৈরির সূতিকাগার বলা হয়। সূত্র- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
২৫৩.
মূল্যবোধের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস- 
  1. বিদ্যালয়
  2. পরিবার
  3. ধর্মীয় গ্রন্থ
  4. সমাজ
সঠিক উত্তর:
বিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

 • মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই শিশুর মূল্যবোধ শিক্ষা ও সামাজিকীকরণের সূত্রপাত হয়।
- মূল্যবোধের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় বা শিক্ষালয়।
- এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।

২৫৪.
'গোপনীয়তা বজায় রাখা' কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. পেশাগত মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
পেশাগত মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেশাগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ প্রতিটি পেশার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
- পেশার উদ্দেশ্য ও পেশাগত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে মূল্যবোধ পেশাগত কার্যক্রমকে স্বক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তা হচ্ছে পেশাগত মূল্যবোধ।
- পেশাগত মূল্যবোধ এক পেশাকে অন্য পেশা থেকে পৃথক সত্ত্বা দান করে।
- যেমন: 'গোপনীয়তা বজায় রাখা' সমাজকর্ম পেশার একটি মূল্যবোধ।

উৎস: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৫.
আধুনিক বিশ্ব কোন মূল্যবোধকে বেশি গুরুত্ব দেয়?
  1. গণতান্ত্রিক
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. ব্যক্তিগত
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিগত
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

তথ্যসূত্র: এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৬.
কোনটি মানুষের আচরণের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে? 
  1. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  2. প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ 
  3. সমাজকর্ম মূল্যবোধ
  4. সামাজিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র:
i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৭.
রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কার্যাবলি হলো-
  1. ক) আইন প্রণয়ন
  2. খ) নিরাপত্তা রক্ষা
  3. গ) রাজস্ব আদায়
  4. ঘ) জনকল্যাণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) জনকল্যাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জনকল্যাণ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করণের জন্যে রাষ্ট্র যেসব কাজ করে থাকে তা হলো রাষ্ট্রের আবশ্যক কাজ। যেমনঃ আইন প্রণয়ন, নিরাপত্তা বিধান, অর্থসংক্রান্ত ইত্যাদি। অন্যদিকে নাগরিকদের জন্য কল্যাণমূলক কার্যাবলি সমূহ হলো ঐচ্ছিক কাজ। (সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২৫৮.
‘নীতি ও ঔচিত্যবোধ’ কীসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মূল্যবোধের ভিত্তি
  2. নৈতিকতার বৈশিষ্ট্য
  3. রাজনৈতিক অধিকার
  4. আইনি বিধান
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের ভিত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের ভিত্তি
ব্যাখ্যা

‘নীতি ও ঔচিত্যবোধ’ মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদানের অন্তর্ভুক্ত।

• মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে। এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।

⇒ নিম্নে এরকম কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা এবং
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৫৯.
কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. ক) আইন মেনে চলা
  2. খ) পরোপকারিতা
  3. গ) ন্যায়পরায়ণতা
  4. ঘ) শ্রমের মর্যাদা
সঠিক উত্তর:
ক) আইন মেনে চলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আইন মেনে চলা
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে।
রাজনেতিক মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছে:
- আইন মেনে চলা
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন, 
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, 
- রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- ন্যায়পরায়ণতা : সার্বজনীর মূল্যবোধ।
- শ্রমের মর্যাদা : সামাজিক মূল্যবোধ। 
- পরোপকারিতা : নৈতিক মূল্যবোধ। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক।
২৬০.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের সম্পর্কের ফলে সমাজে কী ধরনের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে?
  1. দমনমূলক
  2. একনায়কতান্ত্রিক
  3. প্রতিহিংসামূলক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও সুশাসনের সম্পর্ক:
- মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ ও চিন্তার নৈতিক দিকনির্দেশনা, যা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- যখন সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব হয় এবং নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ বৃদ্ধি পায়।
- এছাড়া নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র গঠনে মূল্যবোধের ভূমিকা অপরিসীম।
- মূল্যবোধই একটি জাতিকে তার সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং সামাজিক ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখতে সহায়তা করে।
- তাই দমনমূলক, একনায়কতান্ত্রিক বা প্রতিহিংসামূলক সংস্কৃতি নয়- বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক সমাজ-সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
 
তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৬১.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ নয়?
  1. শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ চর্চা করা
  2. সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা
  3. দায়িত্বশীলতার নীতি বাস্তবায়ন করা
  4. বিরোধী মত প্রকাশ ও প্রচারের স্বাধীনতা প্রদান করা
সঠিক উত্তর:
সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো এমন একগুচ্ছ চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প, যা মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে।

রাজনৈতিক মূল্যবোধের উপাদানসমূহ:
- রাজনৈতিক সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা।
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ চর্চা করা।
- রাজনৈতিক সহনশীলতা প্রদর্শন করা।
- দায়িত্বশীলতার নীতি বাস্তবায়ন করা।
- ভিন্ন মতের প্রতি সহিষ্ণু মনোভাব বজায় রাখা।
- বিরোধী মত প্রকাশ ও প্রচারের স্বাধীনতা প্রদান করা।
- বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বাধা না দেয়া।
- নির্বাচনের ফলাফল (জয়-পরাজয়) মেনে নেয়া।
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে তোলা।
- আইনসভার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করা।
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ নিশ্চিত করা।
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা।

অন্যদিকে,
• নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।

• নৈতিক মূল্যবোধগুলো হচ্ছে:
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা,
- অন্যায়কে অন্যায় বলা,
- অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা,
- দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো,
- বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা,
- অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬২.
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ কোনটিকে নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. নৈতিকতাকে
  2. সাম্যকে
  3. স্বাধীনতাকে
  4. বিশ্বাসকে
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতাকে
ব্যাখ্যা
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৩.
মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার মূল ভিত্তি কোনটি?
  1. মূল্যবোধ
  2. নৈতিকতা
  3. সামাজিক মর্যাদা
  4. আর্থিক অবস্থা
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড যে সকল নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।
- সুশাসনের সাথে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পর্ক খুবই নিবিড়।
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 

২৬৪.
শৃঙ্খলাবোধ কীসের ভিত্তি বা উপাদান?
  1. মূল্যবোধ
  2. সুশাসন
  3. নৈতিকতা
  4. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
১. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
২. সামাজিক ন্যায়বিচার
৩. শৃঙ্খলাবোধ
৪. সহনশীলতা
৫. সহমর্মিতা
৬. শ্রমের মর্যাদা
৭. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
৮. আইনের শাসন
৯. নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ
১০. সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা
১১. সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা

শৃঙ্খলাবোধ: 

- সমাজজীবনের অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ।
- বিশ্বে যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত।
- সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে ব্যক্তির নিরাপত্তার অভাব দেখা দেয় এবং সামাজিক অগ্রগতি ব্যাহত হয়।
- তাই সমাজজীবনের সর্বক্ষেত্রে পরিবার থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত, কলকারখানা, সর্বত্র শৃঙ্খলার প্রয়োজন।
- শৃঙ্খলা মানুষের মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৬৫.
সমাজের মানুষের ভালো-মন্দ আচরণ বিচারের মানদণ্ড কী?
  1.  শিক্ষাগত যোগ্যতা
  2. রাজনৈতিক নেতৃত্ব
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. সুশাসন 
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ: 
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
• এস সি ডডের ভাষায়: - সামাজিক মূল্যবোধ হলো ঐ সমস্তরীতি নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের কাছে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে লাভ করে।

এছাড়াও,
• এম আর উইলিয়ামস:
- "মূল্যবোধ হলো মানুষের ইচ্ছার একটি মানদন্ড যার আদর্শে মানুষের আচরণ ও আইন কানুন নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সমাজে মানুষের কাজের ভাল মন্দ বিচার করা হয়"।
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- স্থান-কাল-পাত্র ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: সমাজকল্যান ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬৬.
মূল্যবোধ শিক্ষা গ্রহণের প্রধান লক্ষ্য কী?
  1. ব্যক্তিগত স্বার্থের অগ্রাধিকার
  2. আইন অমান্য করার প্রবণতা
  3. সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার বিকাশ
  4. সমাজে বিশৃঙ্খলা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার বিকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার বিকাশ
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্ন অনুসারে, মূল্যবোধ শিক্ষা গ্রহণের প্রধান লক্ষ্য "সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার বিকাশ"।

⇒ মূল্যবোধ শিক্ষা:

- মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে সামাজিক শৃঙ্খলা এবং ন্যায়বিচার বিকাশ ঘটায়।
- এই শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, এবং দায়িত্ববোধ তৈরি করে, যা সমাজে শৃঙ্খলা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের আচরণে নিয়ম ও শৃঙ্খলা নিয়ে আসে, যা সমাজে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
- এটি মানুষকে ন্যায় এবং ন্যায়বিচার মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করে, যা সমাজে সাম্য এবং অধিকার নিশ্চিত করে।

অন্যদিকে, মূল্যবোধ শিক্ষার উদ্দেশ্যের বিপরীত হচ্ছে:
- ব্যক্তিগত স্বার্থের অগ্রাধিকার,
- আইন অমান্য করার প্রবণতা, এবং
- সমাজে বিশৃঙ্খলা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২৬৭.
নিচের কোনটি মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ?
  1. ক) মানবিকতা
  2. খ) সৌজন্যবোধ
  3. গ) শৃঙ্খলা
  4. ঘ) নীতিবোধ
সঠিক উত্তর:
ক) মানবিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মানবিকতা
ব্যাখ্যা
 মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। 

• মূল্যবোধ:

- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে। এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে। এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।

• মূল্যবোধের কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল:
• নীতিবোধ: নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়। কোন কাজ করতে গেলে নিজের বিবেক, নীতি ও যুক্তি প্রয়োগ করে তা করা উচিত। যৌক্তিকতা সাধারণত নীতিবোধের উপর নির্ভরশীল। কেননা নৈতিক কাজ যুক্তি বিরুদ্ধ হতে পারে না। তাই যে যত বেশি নীতিবান হবে তার মূল্যবোধ তত পরিশীলিত হবে।

• শৃঙ্খলা:
শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
• সহমর্মিতা: মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।
• সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

• মানবিকতা: মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবিকতা না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না; মূল্যবোধসম্পন্ন বলার তো প্রশ্নই আসে না। অর্থাৎ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অবশ্যই মানবিক গুনাবলির অধিকারী হবে।
• শ্রমের মর্যাদা: শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য। এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে
পরিবর্তন আসে। এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্মান করতে শিখে। 
নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন মূল্যবোধ
২৬৮.
মূল্যবোধের অভাবে কোনটি সম্ভব নয়?
  1. রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন
  2. সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা
  3. শিক্ষার প্রসার
  4. সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ
সঠিক উত্তর:
সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের অভাবে কোনটি সম্ভব নয়- সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা।

• মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার ব্যবহার ও কর্মকান্ড যে সব নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ অনুপস্থিত থাকলে সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মূল্যবোধের উপস্থিতি ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

⇒ মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৬৯.
"কর্তব্যের জন্য কর্তব্য" - ধারনাটি প্রবর্তক কে?
  1. হার্বার্ট স্পেন্সার
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. জাঁ জ্যাক রুশো
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য' ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- ইমানুয়েল কান্টকে কর্তব্যমুখী নৈতিকতার প্রবর্তক বলা হয়।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা' বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭০.
মূল্যবোধ দৃঢ় হয় কোনটির মাধ্যমে?
  1. ধর্মের মাধ্যমে
  2. জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে
  3. কর্মের মাধ্যমে
  4. রাজনীতির মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ: 
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন নবম- দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

২৭১.
'ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ'-এই ধারণাটি কার?
  1. গ্রিন
  2. ফ্রাঙ্কেল
  3. শেফার
  4. উইলিয়াম
সঠিক উত্তর:
শেফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেফার
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
• মূল্যবোধ সম্পর্কে শেফার বলেন, ''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

• মূল্যবোধ সম্পর্কে সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম বলেন "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"

• মূল্যবোধ সম্পর্কে ফ্রাঙ্কেল বলেন, "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

• মূল্যবোধ সম্পর্কে 'সমাজবিজ্ঞানী গ্রিন এর মতে, "মূল্যবোধ হচ্ছে তুলনামূলকভাবে স্থায়ী সচেতনতা যা আবেগের সন্নিকটস্থ অবস্থা, লক্ষ্য, ধারণা অথবা ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৭২.
একজন জনপ্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হলো-
  1. জনকল্যাণ
  2. স্বাধীনতা
  3. কর্মদক্ষতা
  4. ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
জনকল্যাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনকল্যাণ
ব্যাখ্যা

জনপ্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ:
- আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা জনমতের উপর নির্ভরশীল।
- সরকারের উত্থান, পতন, সাফল্য বহুলাংশে জনমতের উপর নির্ভরশীল।
- জনমতকে অগ্রাহ্য করে কোন শাসক দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্রে সদা জাগ্রত জনমত সরকারের স্বেচ্ছাচার রোধ করে গণতন্ত্রের স্বরূপ বজায় রাখে।
- একজন জনপ্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হলো জনকল্যাণ।
- আধুনিক গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জনমত মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- জনমতের চাপে সরকার রক্ষণশীল মনোভাব পরিত্যাগ করে।
- সরকার যুগোপযোগী ও প্রগতিশীল কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন প্রণয়নও পরিবর্তনে জনমতের প্রভাব অপরিসীম। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২৭৩.
সংখ্যালঘিষ্ঠের প্রতি সহিষ্ণু আচরণ কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷

রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ রাজনৈতিক সততা,
 শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
→ রাজনৈতিক সহনশীলতা,
→ রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
→ দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
→ পরমতসহিষ্ণুতা,
→ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
→ সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭৪.
'সমাজের পরিবর্তনশীলতা' কোন মূল্যবোধের সাথে জড়িত?
  1. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  2. আধুনিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
আধুনিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুনিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• আধুনিক মূল্যবোধ:
- আধুনিক মূল্যবোধ বলতে সমাজের পরিবর্তনশীলতা কে বুঝায়।
- সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিলো, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- 'সমাজের পরিবর্তনশীলতা' আধুনিক মূল্যবোধের উদাহরণ।
- প্রাচীন অনেক মূল্যবোধ এখন আর নেই। এজন্যই মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

সূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৭৫.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) আপেক্ষিকতা
  2. খ) সামাজিক মানদন্ড
  3. গ) নীতিবোধ
  4. ঘ) পরিবর্তনশীলতা
সঠিক উত্তর:
গ) নীতিবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নীতিবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
১. নৈতিক প্রাধান্য
২. নির্দিষ্টতা
৩. বিভিন্নতা
৪. আপেক্ষিকতা
৫. সামাজিক মানদন্ড
৬. পরিবর্তনশীলতা
৭. সম্পর্কের সেতু

• মূল্যবোধের উপাদান:
১. নীতিবোধ
২. শৃঙ্খলা
৩. সহমর্মিতা
৪. সৌজন্যবোধ
৫. মানবিকতা
৬. শ্রমের মর্যাদা

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৬.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন কোনটি? 
  1. সমাজের কথা বলা 
  2. প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা দেখা
  3. অন্যের অধিকার সম্পর্কে চিন্তা করা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা: 
বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মাঝে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অন্যতম।
- নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্মসংযম, পরমত সহিষ্ণুতা এর মতো গুনাবলিগুলো মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়।
- সমাজের কথা, প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা, অন্যের অধিকার সম্পর্কে চিন্তা করা মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ যা আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন।
- মূলত উদারতাবাদ নামক মতবাদ থেকেই এর উৎপত্তি।
- অধ্যাপক জর্জ এইচ সেবাইন উদারতাবাদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন "ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনি সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার তত্ত্ব ও অনুশীলন হচ্ছে উদারতাবাদ।
মানুষের মানবিক ব্যক্তিত্ব, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সহজাত যুক্তিবোধ ও গুণ, এবং পারস্পরিক সম্মতিসহ এমন আরো কয়েকটি গুণের চর্চাই হল উদারতাবাদ, যার সবকটিই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্র ব্যর্থ হবার পেছনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাবকেই দায়ী করা হয়।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন,এইচ এসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭৭.
'মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড'-উক্তিটি কার?
  1. নিকোলাস রেসার
  2. এম আর উইলিয়াম
  3. স্টুয়ার্ট সি ডড
  4. এম ডি স্টেইন
সঠিক উত্তর:
এম আর উইলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম আর উইলিয়াম
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values):
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়।
- কেননা সহনশীলতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যতম গুণ।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়।
- গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা ও সংযম গড়ে তুলতে হবে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।
- সবসময় ভাবতে হবে ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
- ’শৃঙ্খলাবোধে বিশ্বাসী হতে হবে।
- অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হতে হবে।
- সরকারকে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ বা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
- নির্বাচনে জয়- পরাজয়কে মেনে নিতে হবে।
- আইনসভাকে কার্যকর করতে হবে।
- হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, বরং আইনসভায় বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

⇒ সমাজবিজ্ঞানী আর. এম. উইলিয়াম (R. M. William) এর মতে "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড যার আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতি-নীতি পরিচালিত এবং যার মানদণ্ডে সমাজস্থ মানুষের কার্যাবলীর ভালমন্দ বিচার করা হয়।"

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৮.
একটি জাতির জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কোনটি?
  1. সামাজিক সম্পদ
  2. রাজনৈতিক সম্পদ
  3. অর্থনৈতিক সম্পদ
  4. জাতীয় সম্পদ
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক সম্পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক সম্পদ
ব্যাখ্যা

একটি জাতির জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রাজনৈতিক সম্পদ।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম। যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।

১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি: 
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৭৯.
আমলাতন্ত্রের প্রবক্তা বলা হয় কাকে? 
  1. ক) নিকোলা ম্যাকিয়াভেলী
  2. খ) মন্টেস্কু
  3. গ) ম্যাক্স ভেবার
  4. ঘ) জন স্টুয়ার্ট মিল
সঠিক উত্তর:
গ) ম্যাক্স ভেবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ম্যাক্স ভেবার
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্রের প্রবক্তা বলা হয় - ম্যাক্স ভেবারকে।

- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারীদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy যার অর্থ দাড়ায় Desk Government.
- প্রখ্যাত জার্মান তাত্ত্বিক ম্যাক্স ভেবার প্রথম আইনগত ও যুক্তিসঙ্গত মডেল হিসেবে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন। যার কারণে তাকে আমলাতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে অভিহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
২৮০.
তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয় কবে?
  1. ক) ২০০৬ সালে
  2. খ) ২০০৯ সালে
  3. গ) ২০১১ সালে
  4. ঘ) ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ২০০৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা
তথ্য অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার। ২০০৯ সালের ৫ এপ্রিল তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত সকল সরকারি, আধা সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে আবেদনের মাধ্যমে নাগরিকগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত তথ্য পেতে পারেন। তাদের এই অধিকার লঙ্ঘিত হলে তারা তথ্য কমিশনের নিকট প্রতিকার চাইতে পারেন।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২৮১.
মূল্যবোধ দৃঢ় হয় কীসের মাধ্যমে?
  1. শিক্ষার মাধ্যম
  2. সুশাসনের মাধ্যমে
  3. গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
  4. আইনের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার মাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার মাধ্যম
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ: 
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন নবম- দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

২৮২.
ব্যাক্তির চিরন্তন মূল্যবোধ কোনটি?
  1. স্বার্থকতা
  2. সত্য ও ন্যায়
  3. অহমিকা 
  4. অসহিষ্ণুতা
সঠিক উত্তর:
সত্য ও ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য ও ন্যায়
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মানুষের আচরণের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী ধারনা বা আদর্শ বলে-সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূলবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি- সহনশীলতা।
- মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড হচ্ছে- মূল্যবোধ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রের আচরনের ভিত্তি হচ্ছে- মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে- সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
- মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- মূল্যবোধ শিক্ষা বিকাশ সাধন করে- ব্যক্তি সত্তার।
- চিরন্তন মূল্যবোধ হলো- সত্য ও ন্যায়।

এছাড়াও,
- মুল্যবোধের চালিকাশক্তি- সংস্কৃতি।
- মূল্যবোধ জাগ্রত করে- নীতিশাস্ত্র।
- সুশাসনের প্রাণ হচ্ছে- সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৩.
সমাজে মূল্যবোধের ভিত্তি শক্তিশালী করা যায়-
  1. শিক্ষার মাধ্যমে
  2. ধর্ম চর্চার মাধ্যমে
  3. গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
  4. সুশাসনের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
⇒ শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড এবং নীতি।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়, কারণ শিক্ষা মানুষের মধ্যে বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
অর্থাৎ সমাজে মূল্যবোধের ভিত্তি শক্তিশালী করা যায়-শিক্ষার মাধ্যমে।

- শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে, যা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সহায়ক হয়।

⇒ অন্যদিকে, 
ধর্ম চর্চার মাধ্যমে:
- ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহারকে সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত করতে সাহায্য করে, যা সমাজে নৈতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক।
গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মানুষের মধ্যে সমতা, স্বাধীনতা, এবং ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ায়, যা সমাজে মূল্যবোধের উন্নতি ঘটায়।
 সুশাসনের মাধ্যমে:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করলে সমাজে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৮৪.
অতীতে প্রচলিত কোন প্রথাটি আধুনিক মূল্যবোধের কারণে বিলুপ্ত হয়েছে?
  1. ডিজিটাল শিক্ষা
  2. গণতান্ত্রিক নির্বাচন
  3. স্বাধীন শিক্ষা ব্যবস্থা
  4. সতীদাহ প্রথা
সঠিক উত্তর:
সতীদাহ প্রথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীদাহ প্রথা
ব্যাখ্যা
আধুনিক মূল্যবোধ (Modern Values):
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল।
- এগুলো আজ আর নেই।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না।
- গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৮৫.
নিচের কোনটি আধুনিক মূল্যবোধ? 
  1. অন্যায় থেকে বিরত থাকা
  2. সৎ মানুষকে পছন্দ করা
  3. নির্বাচনে জয় পরাজয় মেনে নেয়া
  4. সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা
সঠিক উত্তর:
সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা
ব্যাখ্যা
আধুনিক মূল্যবোধ (Modern Values):
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। এগুলো আজ আর নেই।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক। বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।
- "বিধবা বিবাহ প্রথা চালু, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা" আধুনিক মূল্যবোধ।

অন্যদিকে: 
- সৎ মানুষকে পছন্দ করা আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ। 
-  নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া - রাজনৈতিক মূল্যবোধ। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৮৬.
'সংখ্যালঘিষ্ঠদের প্রতি সহিষ্ণু আচরণ' কোন ধরনের মূল্যবোধের পরিচায়ক?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক মূল্যবোধ :
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷

» রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ রাজনৈতিক সততা,
→ শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
→ রাজনৈতিক সহনশীলতা,
→ রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
→ দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
→ পরমতসহিষ্ণুতা,
→ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
→ সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৭.
কোনটি ব্যক্তিগত মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. ব্যক্তির রুচি
  2. পরমতসহিষ্ণুতা
  3. অন্যায় থেকে বিরত থাকা
  4. গোপনীয়তা বজায় রাখা
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তির রুচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তির রুচি
ব্যাখ্যা

• ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর। 
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়। 
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

অন্যদিকে,
- 'গোপনীয়তা বজায় রাখা' সমাজকর্ম পেশার একটি মূল্যবোধ।
-  পরমতসহিষ্ণুতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা নৈতিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৮.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. সাংস্কৃতিক অবক্ষয় রোধ করা
  2. দুর্নীতি রোধ করা
  3. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
ব্যাখ্যা
সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।

⇒ তাই মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় তথা ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি রোধ করে থাকে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধের কার্যকর উপস্থিতি বাঞ্চনীয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮৯.
সামাজিক মূল্যবোধ ব্যক্তির কোন ধরনের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. সামাজিক
  2. ব্যক্তিগত
  3. রাজনৈতিক
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯০.
কোন ধরনের মূল্যবোধ সুশাসনের প্রাণস্বরূপ?
  1. ক) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. খ) অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  3. গ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) সামাজিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকার করে নেওয়া হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদন্ড।
এসব মূল্যবোধের আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতিনীতি নিয়ন্ত্রিত হয়।
সুশাসন যেমন গণতন্ত্রের প্রাণ; গণতান্ত্রিক মূল্যবোধও সুশাসনের প্রাণ। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সুশাসনের সম্পর্ক খুবই নিবিড়।

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
২৯১.
নিম্নের কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ নয়?
  1. সহনশীলতা
  2. দানশীলতা
  3. সৌজন্যবোধ
  4. জবাবদিহিতার মানসিকতা
সঠিক উত্তর:
দানশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দানশীলতা
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে।

⇒ রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
- বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,
- বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
- নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
- আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৯২.
'Power: A New Social Analysis' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. কার্ল মার্কস
  3. ম্যাক্স ওয়েবার
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখা গ্রন্থ:
- Human Society in Ethics and Politics,
- Power: A New Social Analysis,
- The Problem of Philosophy,
- Religion and Science,
- The Analysis of Mind,
- Marriage and Morals,
- Political Ideals,
- Logic and knowledge.

তথ্যসূত্র - Britannica.com

২৯৩.
অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোকে কী বলা হয়?
  1. নাগরিকের কর্তব্য
  2. সামাজিক শৃঙ্খলা
  3. রাজনৈতিক সহনশীলতা
  4. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সমাজে বসবাসের জন্য মূল্যবোধ অপরিহার্য।
- একে অপরের সাথে আন্ত:সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হল এই মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধহীন ব্যক্তি সমাজের জন্য বিপদস্বরূপ।
- অন্যদিকে গণতন্ত্রের মূল কাজ হল ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা।
- একজনের অধিকার ও স্বাধীনতা অন্যের উপর নির্ভরশীল, যা বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক মূল্যবোধ প্রয়োজন।
- অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোর অর্থই হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- একটি সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তির অধিকার, মর্যাদা, সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয়।
- ব্যক্তি অন্যের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ, সহমর্মী ও সংযত হয়।
- জাতি, ধর্ম, বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক সমাজের সৃষ্টি হয়।
- বর্তমান সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ফলে হানাহানি, প্রতিহিংসা ও সংঘাত লেগেই থাকে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
- দীর্ঘ সময়ের সামষ্টিক উদ্যোগের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯৪.
মূল্যবোধ সম্পর্কে কোনটি সত্য?
  1. ক) মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
  2. খ) মূল্যবোধ বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
  3. গ) মূল্যবোধ অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়।
  4. ঘ) উপরের সবগুলো।
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী। 
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল। 
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়। 
- এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়। 
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই। 
- কেননা একজনের কাছে যা আদর্শ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে। 
- তবে অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেক বুদ্ধির বহি:প্রকাশই মূল্যবোধ। 
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৯৫.
আতিথেয়তা কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. রাজনৈতিক
  2. ধর্মীয়
  3. নৈতিক
  4. সামাজিক
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল (Francises E. Meril) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯৬.
'The Subjection of Women' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. ম্যাকাইভার
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. জ্যাক রুশো
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা

John Stuart Mill:
- জন স্টুয়ার্ট মিল (১৮০৬-১৮৭৩)।
- ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।
- তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
• "A System of Logic"
• "Autobiography"
• "Considerations on Representative Government"
• "Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy"
• "Examination of Sir William Hamilton's Philosophy"
• "On Liberty"
• "Principles of Political Economy"
• "The Subjection of Women"
• "Utilitarianism".

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।

২৯৭.
সামাজিকীকরণের সূত্রপাত ঘটে-
  1. ক) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
  2. খ) সমাজে
  3. গ) পরিবারে
  4. ঘ) গণমাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
গ) পরিবারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরিবারে
ব্যাখ্যা
সামাজিকীকরণ হলো শিশুর সামাজিক হয়ে উঠার প্রক্রিয়া। এটি একটি শিখন প্রক্রিয়া যা মৃত্যু পর্যন্ত চলমান থাকে। শিশুর সামাজিকীকরণের সূত্রপাত ঘটে পরিবারে। পরবর্তীতে বিদ্যালয়, সমাজ, সঙ্গী-সাথী, গণমাধ্যমে শিশুর সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। (সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
২৯৮.
মূল্যবোধ শিক্ষার সাথে সুশাসনের সম্পর্ক কোনটিকে প্রভাবিত করে?
  1. ক) রাজনৈতিক উন্নয়ন
  2. খ) নৈতিক উন্নয়ন
  3. গ) রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন
  4. ঘ) অর্থনৈতিক উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
গ) রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
২৯৯.
কোনটি অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়?
  1. কর্তব্যপরায়ণতা
  2. সৌজন্যবোধ
  3. শৃঙ্খলা
  4. মানবিকতা
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্খলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান।
- শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।

এছাড়াও মূল্যবোধের কিছু উপাদান -
• সহমর্মিতা: মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধ সম্পন্ন হতে পারে না।

• সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

• মানবিকতা: মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবিকতা না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না; মূল্যবোধসম্পন্ন বলার তো প্রশ্নই আসে না। অর্থাৎ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অবশ্যই মানবিক গুনাবলির অধিকারী হবে।

• শ্রমের মর্যাদা: শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য। এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্মান করতে শিখে।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০০.
একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ কোনটি?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. সরলতা
  3. দক্ষতা
  4. নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ হচ্ছে নৈতিকতা।
- নৈতিকতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থা, সততা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তি তৈরি করে।
- এটি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিশ্বাস ও প্রেরণা জাগাতে সহায়ক।
- নৈতিকতা এমন একটি গুণ যা সততা, ন্যায্যতা, এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সঠিক ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
- নৈতিকতা ছাড়া অন্য গুণাবলিগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে,
- দায়িত্বশীলতা: দায়িত্বশীলতা একজন প্রশাসকের গুরুত্বপূর্ণ গুণ, তবে এটি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। যদি কোনো প্রশাসক দায়িত্বশীল হলেও নৈতিক না হন, তবে তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন না। নৈতিকতা দায়িত্ব পালনের পথনির্দেশক।
- সরলতা: সরলতা একটি ব্যক্তিগত গুণ যা ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে সরলতা সবসময় কার্যকর নয়। নৈতিকতার অভাব থাকলে সরলতা একটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতিতে বাধা হতে পারে।
- দক্ষতা: দক্ষতা প্রশাসকের কাজের ফলাফল উন্নত করে, তবে নৈতিকতা ছাড়া দক্ষতা ক্ষতিকর হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো দক্ষ ব্যক্তি যদি অনৈতিক হয়, তবে সে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারে (যেমন: দুর্নীতি বা অন্যায় সিদ্ধান্ত)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।