উত্তর
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ: ধান
রোগের নাম: ধানের ব্লাস্ট রোগ (Blast of Rice)
ছত্রাকের নামঃ Pyricularia oryzae
বীজ ও গাছের অংশে জীবাণু টিকে থাকে, বৃষ্টির মাধ্যমে ছড়ায়।
৪৯তম বিসিএস ⎯ উদ্ভিদবিদ্যা [৫৮১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৫০ প্রশ্ন
উদ্ভিদ: ধান
রোগের নাম: ধানের ব্লাস্ট রোগ (Blast of Rice)
ছত্রাকের নামঃ Pyricularia oryzae
বীজ ও গাছের অংশে জীবাণু টিকে থাকে, বৃষ্টির মাধ্যমে ছড়ায়।
উদ্ভিদ: গম
রোগের নাম: Stem rust of wheat
ছত্রাকের নাম: Puccinia graminis
- শীতকালীন আবহাওয়ায় ছড়ায়, বাতাসে স্পোরের সাহায্যে এই রোগ ছড়ায়।
- প্রতিরোধী জাত, খেতে আগাছা নিয়ন্ত্রণ, ছত্রাকনাশক প্রয়োগ (Propiconazole) প্রয়োগ করে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
উদ্ভিদ- আলু
রোগের নাম- Late blight of potato
ছত্রাকের নাম- Phytophthora infestans
- মাটিতে বা বীজে অবশিষ্ট স্পোর থেকে ছড়ায়, ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
- রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার, প্রতিরোধী জাত, রিডোমিল বা ম্যানকোজেব ছত্রাকনাশক স্প্রে দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
রোগ-প্রতিরোধী বা রোগমুক্ত জাত ব্যবহারের মাধ্যমে রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করা হয়। এটি একটি প্রতিরোধমূলক (preventive) কৌশল, যা রোগের বিস্তার ঘটার আগেই প্রতিরোধে সহায়তা করে।
Phytophthora infestans দ্বারা সৃষ্ট লেট ব্লাইট রোগ নিয়ন্ত্রণে ম্যানকোজেব (Mancozeb) বা মেটালাক্সিল যুক্ত ছত্রাকনাশক কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়।
উদ্ভিদ রোগের লক্ষণ হলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক অবস্থার পরিবর্তন।
যেমন: পাতার রঙ পরিবর্তন, পাতা ঝরা, দাগ পড়া, শিকড় নষ্ট হওয়া ইত্যাদি।
অন্য অপশনগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও প্রজনন প্রক্রিয়া নির্দেশ করে, যা রোগের লক্ষণ নয়।
যখন উদ্ভিদ রোগের কারণ হয় অজীবিত (non-living) — যেমন তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, পুষ্টির অভাব বা অতিরিক্ততা, দূষণ ইত্যাদি তখন একে অজৈব (Abiotic) কারণজনিত রোগ বলা হয়।
- Biotic: জীবিত কারণ (ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, ভাইরাস)
- Pathogenic: রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম জীব বা অণুজীব
- Viral: ভাইরাসজনিত রোগ
Puccinia graminis গমে স্টেম রাস্ট (Stem Rust) রোগ সৃষ্টি করে, যা একটি ছত্রাকজনিত রোগ।
উদ্ভিদ রোগকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়—জীবিত (Biotic) এবং অজীবিত (Abiotic) কারণ অনুসারে।
- জীবিত কারণ (Biotic): এগুলো জীবন্ত জীব যেমন ফাঙ্গাস, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, নেমাটোডের কারণে হয়। এই জীবেরা উদ্ভিদে আক্রমণ করে রোগ সৃষ্টি করে।
- অজীবিত কারণ (Abiotic): পরিবেশগত বা অজৈব কারণ যেমন তাপমাত্রার চরম পরিবর্তন, পুষ্টির অভাব, রাসায়নিক দূষণ, জলাবদ্ধতা ইত্যাদি উদ্ভিদের ক্ষতি করে রোগের মত লক্ষণ তৈরি করে কিন্তু প্যাথোজেন নয়।
অন্য অপশনগুলো যেমন ফাঙ্গাস, ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ও নেমাটোড শুধুমাত্র জীবিত কারণের উদাহরণ। আর টমেটো ও আলু উদ্ভিদ, রোগের প্রকার নয়।
ধানের ব্লাস্ট রোগের প্রাথমিক লক্ষণ পাতায় দেখা যায়, যেখানে ডায়মন্ড-আকৃতির ছাই রঙের কেন্দ্রযুক্ত বাদামি দাগ দেখা যায়। রোগটি পরে শীষ ও দানায়ও ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রাথমিক লক্ষণগুলো পাতায় ছোট তির্যক দাগ হিসেবে দেখা যায়।
অজীবিত (Abiotic) কারণে উদ্ভিদ রোগ হলে পরিবেশগত উপাদান যেমন তাপমাত্রা, পানি, মাটি ইত্যাদি প্রধান ভূমিকা পালন করে। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ফাঙ্গাস জীবিত (biotic) কারণ।
গমের স্টেম রাস্ট (Stem Rust of Wheat):
রোগের লক্ষণ:
- কাণ্ড এবং পাতার আবরণের উপর ছোট, লালচে-বাদামী রঙের ফোস্কা বা পিউস্টুল দেখা যায়।
- এই ফোস্কাগুলো ফেটে গেলে সেখান থেকে পাউডারের মতো লালচে বা কমলা রঙের স্পোর বের হয়।
- রোগের তীব্রতা বাড়লে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং শিষ দুর্বল হয়ে যায়।
রোগের কারণ: Puccinia graminis নামক ছত্রাক।
- রোগের স্পোর (urediniospores) বাতাস বা বৃষ্টির মাধ্যমে এক ক্ষেত থেকে অন্য ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে।
- সুস্থ গাছের পাতায় স্পোর অঙ্কুরিত হয়ে সংক্রমণ ঘটায়।
- গাছে নতুন স্পোর তৈরি হয় এবং চক্রটি চলতে থাকে।
- ফসল কাটার পর স্পোরগুলো (teliospores) ফসলের অবশিষ্টাংশ বা বারবেরি গাছের উপর সুপ্ত অবস্থায় থাকে এবং পরের মৌসুমে সংক্রমণ ঘটায়।
প্রতিকার:
- রোগ প্রতিরোধী জাতের গম চাষ করা।
- ফসলের অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে ফেলা।
- ছত্রাকনাশক (যেমন: প্রোপিকোনেজল) ব্যবহার করা।
ফাঙ্গাস হলো এক ধরনের জীবিত অণুজীব যা উদ্ভিদে রোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই একে জীবিত প্যাথোজেন বলা হয়।
উদ্ভিদের নাম: পাট
রোগের নাম: Stem rot
ছত্রাকের নাম: Colletotrichum corchorum
- পাটের কাণ্ড পচা রোগের জন্য দায়ী Colletotrichum corchorum, যা মাটিতে বা মৃত অংশে বাস করে।
- মাটিতে ও মৃত উদ্ভিদাংশে টিকে থাকে
- জমি সেচমুক্ত রাখা, বপনের আগে ট্রাইকোডার্মা ব্যবহার, রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
Inoculation হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে রোগ সৃষ্টি করে এমন প্যাথোজেন প্রথমবার উদ্ভিদের সাথে সংযুক্ত হয়। এটি হলো রোগের প্রথম ধাপ, যেখানে প্যাথোজেন উদ্ভিদে প্রবেশ করার জন্য প্রস্তুত হয়। এর পরই প্যাথোজেন সংক্রমণ (Infection) শুরু হয়। তাই ইনোকুলেশন হলো উদ্ভিদ রোগের শুরু।
ধানের টুংরো রোগের প্রধান লক্ষণ হলো পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া এবং পাতার বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া, অর্থাৎ পাতাগুলো ছোট হয়ে পড়ে। এটি এক ধরনের ভাইরাসজনিত রোগ যা প্রধানত পাতা খেকো পোকা (leafhopper) দ্বারা ছড়ায়। এই রোগে ধানের গাছ দুর্বল হয়ে যায় এবং উৎপাদন অনেক কমে যায়। তাই এ লক্ষণগুলো রোগ শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ।
Dissemination হলো সেই ধাপ যেখানে প্যাথোজেন বাতাস, পানি, পোকামাকড় বা অন্যান্য মাধ্যমে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন শিকার উদ্ভিদের কাছে পৌঁছায়। এটি প্যাথোজেনের বিস্তার প্রক্রিয়া, যা রোগের ব্যাপ্তি বাড়ায়। তাই, প্যাথোজেনের ছড়িয়ে পড়ার ধাপকে Dissemination বলা হয়।
উদ্ভিদ রোগের লক্ষণ সাধারণত প্যাথোজেনের বৃদ্ধি ও প্রজনন (Growth & Reproduction) ধাপে প্রকাশ পায়। এই সময় প্যাথোজেন হোস্টের ভিতরে বৃদ্ধি পেয়ে উদ্ভিদের টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে পাতা দাগ, মাড়ামারি, হেলানো বা রঙ পরিবর্তন ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়।
Fusarium oxysporum f.sp. cubense মাটির মাধ্যমে শিকড়ে প্রবেশ করে কলার পানামা রোগ সৃষ্টি করে।
উদ্ভিদের নাম: কলা
রোগের নাম: Panama Disease of banana
ছত্রাকের নাম: Fusarium oxysporum f.sp. cubense
- মাটির মাধ্যমে শিকড়ে প্রবেশ করে দীর্ঘদিন মাটিতে টিকে থাকে
- প্রতিরোধী জাত ব্যবহার, জমিতে জীবাণুনাশক প্রয়োগ (Trichoderma), মাটি জীবাণুমুক্তকরণ (সূর্যস্নান) করে উক্ত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
উদ্ভিদের cuticle বা epidermis দিয়ে প্যাথোজেন প্রবেশ ঘটে Infection ধাপে। এই ধাপে প্যাথোজেন উদ্ভিদের ভেতরে প্রবেশ করে এবং সংক্রমণ শুরু করে।
Disease cycle বলতে প্যাথোজেনের উদ্ভিদের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার (Inoculation), সংক্রমণ (Infection), বৃদ্ধি ও প্রজনন (Growth & Reproduction), বিস্তার (Dissemination) এবং শীতকাল বা গরমে টিকে থাকার (Over-wintering/Over-summering) সব ধাপকে বোঝায়। এটি পুরো রোগ সৃষ্টি ও বিস্তারের প্রক্রিয়া।
আখের রেড রট রোগ (Colletotrichum falcatum দ্বারা সৃষ্ট) প্রধানত সংক্রমিত সেট বা ক্ষতযুক্ত কান্ডের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত অংশ থেকে ছত্রাক প্রবেশ করে এবং সংক্রমণ ঘটায়।
Xanthomonas হলো এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া যা প্রধানত ধানের পাতায় আক্রমণ করে। এটি ধানের ব্যাকটেরিয়াল পাতার দাগ রোগ (Bacterial Leaf Blight) সৃষ্টি করে।
- এই ব্যাকটেরিয়া ধানের পাতায় সংক্রমণ ঘটায় এবং পাতার ওপর জলছাপের মতো বাদামী দাগ দেখা দেয়।
- ধীরে ধীরে দাগগুলো বড় হয়ে পাতার ক্ষয় বা শুষ্ক হওয়ার কারণ হয়।
- রোগের ফলে ধানের পাতা কম শক্তিশালী হয়, যার কারণে গাছের বৃদ্ধি ও শস্য উৎপাদনে প্রভাব পড়ে।
- Xanthomonas ব্যাকটেরিয়া বৃষ্টি, বাতাস এবং ধানের রোপণ এলাকার দূষিত সরঞ্জাম দিয়ে ছড়ায়।
- রোগ প্রতিরোধে রোগমুক্ত বীজ, প্রতিরোধী জাত নির্বাচন, এবং সঠিক কৃষি ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।
উদ্ভিদের নাম: কলা
রোগের নাম: Panama Disease of banana
ছত্রাকের নাম: Fusarium oxysporum f.sp. cubense
- মাটির মাধ্যমে শিকড়ে প্রবেশ করে দীর্ঘদিন মাটিতে টিকে থাকে
- প্রতিরোধী জাত ব্যবহার, জমিতে জীবাণুনাশক প্রয়োগ (Trichoderma), মাটি জীবাণুমুক্তকরণ (সূর্যস্নান) করে উক্ত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
Over-summering হলো সেই ধাপ যেখানে প্যাথোজেন গরম ও অনুকূলহীন সময়ে cyst বা অন্য কোনো স্থায়ী রূপ ধারণ করে টিকে থাকে। এটি প্যাথোজেনের দীর্ঘমেয়াদি বেঁচে থাকার কৌশল।
রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ হল এমন একটি পদ্ধতি যেখানে কীটনাশক বা ফান্সিসাইডের মতো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে উদ্ভিদ রোগ ও কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এটি দ্রুত ও কার্যকরী পদ্ধতি এবং ফাঙ্গাস বা ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সৃষ্ট সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
Colletotrichum falcatum causes red rot in sugarcane, spreading via infected setts or plant debris. (Colletotrichum falcatum আখে রেড রট রোগ সৃষ্টি করে।)
Erwinia একটি ব্যাকটেরিয়া গণের অণুজীব, যা বিভিন্ন উদ্ভিদে পচন রোগ সৃষ্টি করে (যেমন: সফট রট)।
ধানের ব্লাস্ট রোগ গরম ও আর্দ্র পরিবেশে দ্রুত ছড়ায়। বিশেষ করে উচ্চ তাপমাত্রা ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা (যেমন বৃষ্টিপাত বা কুয়াশা) এই রোগের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে।
ধানের ব্লাস্ট রোগ (Blast of Rice)
রোগের লক্ষণ:
পাতা: পাতার উপর কচি অবস্থায় ছোট ছোট ডিম্বাকৃতির দাগ দেখা যায়, যা পরে বড় হয়ে মাঝখানে ধূসর ও চারপাশে বাদামী হয়। এই দাগগুলো দেখতে চোখের মতো লাগে।
গিট: আক্রান্ত গিটগুলো কালো হয়ে পচে যায় এবং সহজেই ভেঙে যায়।
শীষ: শীষের গোড়ায় কালো দাগ দেখা যায়, যা পরে শীষকে শুকিয়ে দেয়। এর ফলে ধানে চিটা হয়।
রোগের কারণ: Pyricularia oryzae নামক ছত্রাক।
রোগের কারণ:
- আক্রান্ত ফসলের অবশিষ্টাংশ বা বীজ থেকে ছত্রাকের স্পোর (conidia) পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
- এই স্পোরগুলো বাতাস, পানি বা বৃষ্টির মাধ্যমে সুস্থ গাছের পাতার সংস্পর্শে আসে।
- আর্দ্র ও ঠান্ডা পরিবেশে স্পোর অঙ্কুরিত হয়ে পাতায় সংক্রমণ ঘটায়।
- পাতায় নতুন স্পোর তৈরি হয়, যা আবার বাতাস ও পানির মাধ্যমে অন্যান্য গাছকে আক্রমণ করে।
- এই ছত্রাক পরের বছর সংক্রমণ ঘটানোর জন্য বীজের মধ্যে বা ফসলের অবশিষ্টাংশে বেঁচে থাকে।
প্রতিকার:
- রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করা।
- ছত্রাকনাশক (যেমন: ট্রাইসাইক্লাজোল) ব্যবহার করা।
- নিয়ন্ত্রিত সার ব্যবহার (বিশেষ করে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার পরিহার করা)।
- আক্রান্ত ফসলের অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে ফেলা।
উদ্ভিদ- আখ
রোগের নাম- আখের লাল পচা রোগ (Red Rot of Sugarcane)
ছত্রাকের নাম- Colletotrichum falcatum
- সংক্রমিত সেট বা মৃত উদ্ভিদাংশ থেকে ছড়ায়
- রোগমুক্ত সেট ব্যবহার, কাটার পরে জমি শুকিয়ে রাখা, ট্রাইকোডার্মা ট্রিটমেন্ট দ্বারা এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ধানের ব্লাস্ট রোগ (Blast of Rice)
রোগের লক্ষণ:
পাতা: পাতার উপর কচি অবস্থায় ছোট ছোট ডিম্বাকৃতির দাগ দেখা যায়, যা পরে বড় হয়ে মাঝখানে ধূসর ও চারপাশে বাদামী হয়। এই দাগগুলো দেখতে চোখের মতো লাগে।
গিট: আক্রান্ত গিটগুলো কালো হয়ে পচে যায় এবং সহজেই ভেঙে যায়।
শীষ: শীষের গোড়ায় কালো দাগ দেখা যায়, যা পরে শীষকে শুকিয়ে দেয়। এর ফলে ধানে চিটা হয়।
রোগের কারণ: Pyricularia oryzae নামক ছত্রাক।
রোগের কারণ:
- আক্রান্ত ফসলের অবশিষ্টাংশ বা বীজ থেকে ছত্রাকের স্পোর (conidia) পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
- এই স্পোরগুলো বাতাস, পানি বা বৃষ্টির মাধ্যমে সুস্থ গাছের পাতার সংস্পর্শে আসে।
- আর্দ্র ও ঠান্ডা পরিবেশে স্পোর অঙ্কুরিত হয়ে পাতায় সংক্রমণ ঘটায়।
- পাতায় নতুন স্পোর তৈরি হয়, যা আবার বাতাস ও পানির মাধ্যমে অন্যান্য গাছকে আক্রমণ করে।
- এই ছত্রাক পরের বছর সংক্রমণ ঘটানোর জন্য বীজের মধ্যে বা ফসলের অবশিষ্টাংশে বেঁচে থাকে।
প্রতিকার:
- রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করা।
- ছত্রাকনাশক (যেমন: ট্রাইসাইক্লাজোল) ব্যবহার করা।
- নিয়ন্ত্রিত সার ব্যবহার (বিশেষ করে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার পরিহার করা)।
- আক্রান্ত ফসলের অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে ফেলা।
ধানের ব্লাস্ট রোগ (Blast of Rice)
রোগের লক্ষণ:
পাতা: পাতার উপর কচি অবস্থায় ছোট ছোট ডিম্বাকৃতির দাগ দেখা যায়, যা পরে বড় হয়ে মাঝখানে ধূসর ও চারপাশে বাদামী হয়। এই দাগগুলো দেখতে চোখের মতো লাগে।
গিট: আক্রান্ত গিটগুলো কালো হয়ে পচে যায় এবং সহজেই ভেঙে যায়।
শীষ: শীষের গোড়ায় কালো দাগ দেখা যায়, যা পরে শীষকে শুকিয়ে দেয়। এর ফলে ধানে চিটা হয়।
রোগের কারণ: Pyricularia oryzae নামক ছত্রাক।
রোগের কারণ:
- আক্রান্ত ফসলের অবশিষ্টাংশ বা বীজ থেকে ছত্রাকের স্পোর (conidia) পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
- এই স্পোরগুলো বাতাস, পানি বা বৃষ্টির মাধ্যমে সুস্থ গাছের পাতার সংস্পর্শে আসে।
- আর্দ্র ও ঠান্ডা পরিবেশে স্পোর অঙ্কুরিত হয়ে পাতায় সংক্রমণ ঘটায়।
- পাতায় নতুন স্পোর তৈরি হয়, যা আবার বাতাস ও পানির মাধ্যমে অন্যান্য গাছকে আক্রমণ করে।
- এই ছত্রাক পরের বছর সংক্রমণ ঘটানোর জন্য বীজের মধ্যে বা ফসলের অবশিষ্টাংশে বেঁচে থাকে।
প্রতিকার:
- রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করা।
- ছত্রাকনাশক (যেমন: ট্রাইসাইক্লাজোল) ব্যবহার করা।
- নিয়ন্ত্রিত সার ব্যবহার (বিশেষ করে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার পরিহার করা)।
- আক্রান্ত ফসলের অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে ফেলা।
অজীবিত (Abiotic) কারণ বলতে বোঝায় এমন পরিবেশগত বা ভৌত কারণ, যা জীব নয়—যেমন: খরা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, মাটির pH, পুষ্টির অভাব ইত্যাদি।
- খরাপ্রবণ পানি একধরনের পরিবেশগত চাপ, যা উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে ব্যাঘাত ঘটায়।
- TMV (Tobacco Mosaic Virus), Puccinia (stem rust fungus) এবং Erwinia (bacterial pathogen) — এগুলো জীবিত (Biotic) কারণ।
রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করলে রোগের সংক্রমণ কমে, ফলে গাছের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয় এবং ফসলের উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। এটি একটি কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।
শারীরিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে সংক্রমিত গাছ বা গাছের অংশ কেটে ফেলা, পোড়ানো বা ধ্বংস করা হয় যাতে রোগ ছড়িয়ে পড়া বন্ধ হয়। এটি একটি সরাসরি ও কার্যকর পদ্ধতি।
জৈবিক নিয়ন্ত্রণ (Biological Control) মানে হলো রোগ প্রতিরোধ বা দমন করতে *রাসায়নিকের বদলে জীবন্ত উপকারী অণুজীব (যেমন Trichoderma ছত্রাক) বা উপকারী পোকা/প্রাণী ব্যবহার করা।
- এরা ক্ষতিকর জীবাণু বা কীটপতঙ্গকে আক্রমণ করে মেরে ফেলে।
- এতে পরিবেশ দূষণ হয় না, আবার ফসলও ভালো হয়।
ভাইরাসের কারণে উদ্ভিদের মধ্যে টমেটো মোজাইক একটি সাধারণ রোগ। অন্যান্য রোগগুলো ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকজনিত, তাই টমেটো মোজাইক ভাইরাসজনিত রোগের ভালো উদাহরণ।
কলা গাছের পানামা রোগ মাটির মাধ্যমে ছড়ায়, তাই মাটি জীবাণুমুক্তকরণ এবং ট্রাইকোডার্মার মত জীবাণুনাশক প্রয়োগ খুবই কার্যকর।
জুটের স্টেম রট রোগের এজেন্ট হলো Macrophomina phaseolina। এটি একটি ছত্রাক যা গাছের কান্ড ও শিকড়ে সংক্রমণ ঘটিয়ে গাছ ধীরে ধীরে নষ্ট করে। Colletotrichum falcatum সাধারণত গমের রোগের জন্য দায়ী, Magnaporthe oryzae ধানের ব্লাস্ট এবং Phytophthora বিভিন্ন উদ্ভিদে ফাইটোপাথোজেনিক রোগ সৃষ্টি করে।
পাটের কাণ্ড পচা রোগ (Stem Rot of Jute):
এই রোগ Macrophomina phaseolina নামক ছত্রাকের কারণে হয়। এটি মাটির মধ্যে বা ফসলের অবশিষ্টাংশে মাইক্রোস্ক্লেরোশিয়া নামে এক ধরনের ছোট সুপ্ত (Dormant) কাঠামো আকারে দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে।
রোগের বিস্তার:
- যখন পরিবেশ আর্দ্র ও উষ্ণ হয়, তখন এই মাইক্রোস্ক্লেরোশিয়া থেকে মাইসেলিয়াম তৈরি হয়ে গাছের কান্ডে সংক্রমণ ঘটায়।
- আক্রান্ত গাছে কাণ্ড ও পাতায় কালো বা বাদামী দাগ দেখা যায় এবং কাণ্ড দুর্বল হয়ে ভেঙে যায়।
- একবার গাছ আক্রান্ত হলে, সেই গাছের কান্ডেও নতুন মাইক্রোস্ক্লেরোশিয়া তৈরি হয়, যা পরবর্তী বছর আবার সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
রোগ প্রতিরোধের উপায়:
- শস্য পর্যায়ক্রম অনুসরণ করলে মাটির ছত্রাকজনিত চাপ কমে।
- বীজ শোধন করলে ছত্রাকের প্রাথমিক সংক্রমণ রোধ হয়।
- ফসলের অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে ফেললে মাটিতে টিকে থাকা জীবাণু ধ্বংস হয়।
- প্রয়োজনে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে।
- এই রোগের নিয়ন্ত্রণে পরিষ্কার চাষাবাদ, শস্য পর্যায়ক্রম, বীজ শোধন ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ অত্যন্ত কার্যকর। এতে ফসলের উৎপাদনশীলতা ও আঁশের মান বজায় থাকে।
Infection ধাপে প্যাথোজেন উদ্ভিদের কোষে প্রবেশ করে এবং সেগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করে। এর ফলে রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। এটি হলো রোগচক্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কারণ এখান থেকেই রোগের প্রকৃত প্রভাব শুরু হয়।
পাটের কাণ্ড পচা রোগ Macrophomina phaseolina নামক ছত্রাক দ্বারা হয়। এটি মাটির মধ্যে এবং ফসলের অবশিষ্টাংশে ক্ষুদ্র সুপ্ত কাঠামো (মাইক্রোস্ক্লেরোশিয়া) হিসেবে টিকে থাকে। অনুকূল পরিবেশে এই কাঠামো থেকে মাইসেলিয়াম তৈরি হয়ে নতুন গাছ আক্রমণ করে। আক্রান্ত গাছে কাণ্ডে কালো বা বাদামী দাগ পড়ে এবং দুর্বল হয়ে ভেঙে যায়। রোগ তীব্র হলে গাছ শুকিয়ে যায় এবং আঁশের মান খারাপ হয়। রোগ নিয়ন্ত্রণে ফসলের অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে ফেলা, বীজ শোধন, ছত্রাকনাশক ব্যবহার এবং শস্য পর্যায়ক্রম পালন জরুরি।
ধান ব্লাস্ট রোগ থেকে ফসল রক্ষার জন্য রোগমুক্ত বা রোগ প্রতিরোধী ধানের জাত ব্যবহার সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। এটি রোগের সংক্রমণ কমায় এবং ফসলের ক্ষতি রোধ করে। ঘন বপন ও অতিরিক্ত পানি রোগ বিস্তার বাড়াতে পারে, আর কীটনাশক স্প্রে ভাইরাস বা ছত্রাকজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রযোজ্য নয়।
ফসল চক্র পরিবর্তনের মাধ্যমে মাটিতে থাকা রোগজীবীর সংখ্যা কমে যায়, যা রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
সংক্রমণের পর প্যাথোজেন পোষক উদ্ভিদের কোষ থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে ও সক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি ও বংশবৃদ্ধি করে।
- ছত্রাক মাইসেলিয়াম তৈরি করে এবং বিভিন্ন প্রকার স্পোর (যেমন: স্পোরাঞ্জিওস্পোর, অ্যাস্কোস্পোর, বা বাসিডিওস্পোর) উৎপন্ন করে।
- ব্যাকটেরিয়া দ্বিখণ্ডন প্রক্রিয়ায় দ্রুত সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়।
- ভাইরাস পোষক কোষের বিপাকীয় প্রক্রিয়া ব্যবহার করে নিজের জেনেটিক উপাদান ও প্রোটিন কাঠামো তৈরি করে।
- এই ধাপেই রোগের লক্ষণ দৃশ্যমান হতে থাকে।
রোগ প্রতিরোধে রোগমুক্ত বীজ, প্রতিরোধী জাত এবং ফসল চক্র এই তিনটি পদ্ধতি একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।
Over-wintering প্রক্রিয়ায় প্যাথোজেন শীতকাল বা প্রতিকূল পরিবেশে ফসলের অবশিষ্টাংশ বা মৃত টিস্যুর মধ্যে নিষ্ক্রিয় (dormant) অবস্থায় টিকে থাকে। পরবর্তীতে উপযুক্ত পরিবেশ পেলেই তা আবার সক্রিয় হয়ে রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
ইন্টিগ্রেটেড ডিজিজ ম্যানেজমেন্ট (IDM) বা ইনটিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট (IPM) হলো একটি সমন্বিত পদ্ধতি যেখানে রোগ ও কীট নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক পদ্ধতির ব্যবহার করা হয়। যেমন: জৈব, রসায়নিক, শারীরিক এবং সাংস্কৃতিক পদ্ধতির সংমিশ্রণ, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে।