• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'অদ্ভূত' - বানানটি অশুদ্ধ। শব্দটির শুদ্ধরূপ: 'অদ্ভুত'।
• বানানের নিয়ম: 'অদ্ভুত' ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে 'ভূত' বানানে ঊ-কার হবে। যেমন, উদ্ভূত, ঘনীভূত, ভূতপূর্ব, পরাভূত, বাষ্পীভূত।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২.
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
ক
√কৃ + অনীয় = করণীয়
খ
√কাঁদ্ + অন = কাঁদন
গ
√গৈ + অক = গায়ক
ঘ
√নৈ + অক = নায়ক
ব্যাখ্যা
কৃৎ প্রত্যয়: ক্রিয়া প্রকুৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: চল (ধাতু) + অন্ত = চলন্ত, কৃ (ধাতু) + তব্য = কর্তব্য। বাংলা ভাষায় দু ধরনের কৃৎ প্রত্যয়ের ব্যবহার আছে। যথা: বাংলা কৃৎ প্রত্যয় ও সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। ----------------- • বাংলা কৃৎ প্রত্যয়: বাংলার নিজস্ব অনেক ধাতু রয়েছে যেগুলো সংস্কৃত নয়। এসব ধাতুর সঙ্গে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বাংলা কৃৎ প্রত্যয় বলে। যেমন: √কাঁদ্ + অন = কাঁদন,√নাচ্ + অন = নাচন, √দুল্ + অনা = দোলনা, √খেল্ + অনা = খেলনা।
• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়: ধাতুর সঙ্গে যেসব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: √নৈ + অক = নায়ক, √গৈ + অক = গায়ক, √কৃ + অনীয় = করণীয়,√রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০১৯)
৩.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
ক
বিভিষীকা
খ
অনুরনন
গ
পিপিলীকা
ঘ
অন্তঃসত্ত্বা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'অন্তঃসত্ত্বা'— শুদ্ধ বানান।
অন্যদিকে, • 'পিপিলীকা' এর সঠিক বানান 'পিপীলিকা'। • 'বিভিষীকা' এর সঠিক বানান 'বিভীষিকা'। • 'অনুরনন' এর শুদ্ধ বানান - 'অনুরণন'।
উৎস: বাংলা বানান অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪.
'রক্ষণীয়' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
ক
√রক্ষ + নীয়
খ
√রক্ষ্ + অনয়
গ
√রক্ষ্ + অনীয়
ঘ
√রক + অনীয়
ব্যাখ্যা
• 'রক্ষণীয়' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় - √রক্ষ্ + অনীয়। -------------------- • কৃৎ-প্রত্যয়: - ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন (১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর (২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়। যেমন - → চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)। → চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন্ত (বিশেষণ পদ)। - কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত পদটিকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। যেমন - ওপরের উদাহরণে 'চলন' ও 'চলন্ত' কৃদন্ত পদ। - তৎসম বা সংস্কৃত প্রকৃতির সঙ্গেও অনুরূপভাবে কৃৎ-প্রত্যয় যোগে কৃদন্ত পদ সাধিত হয়। যেমন - → √গম্ + অন = গমন, → √কৃ + তব্য = কর্তব্য।
• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়: • তব্য ও অনীয় প্রত্যয়: কর্ম ও ভাববাচ্যের ধাতুর পরে (ক) তব্য ও (খ) অনীয় প্রত্যয় হয়। (ক) তব্য: √কৃ + তব্য = কর্তব্য, √দা + তব্য = দাতব্য, √পঠ্ + তব্য = পঠিতব্য। (খ) অনীয়: √কৃ + অনীয় = করণীয়, √রক্ষ্ + অনীয় = রক্ষণীয়, √দৃশ্ + অনীয় = দর্শনীয়। এরূপ - পানীয়, শ্রবণীয়, পালনীয় ইত্যাদি।
তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫.
কোনটি ইউরোপীয় ভাষার শব্দ নয়?
ক
আলকাতরা
খ
কুপন
গ
ক্যারাটে
ঘ
ক্যামেলিয়া
ব্যাখ্যা
• ক্যারাটে শব্দটি - জাপানি ভাষার শব্দ, যা একটি মার্শাল আর্টের নাম। তাই এটি ইউরোপীয় ভাষার শব্দ নয়। উল্লেখ্য, - জাপান এশিয়া মহাদেশের একটি দেশ। ------------------------- বহু ইউরোপীয় ভাষার শব্দ বাংলায় নানা সূত্রে প্রবেশ করেছে- • পর্তুগিজ শব্দ- আলকাতরা, আলমারি, বালতি, পাদ্রি। • ফরাসি - কুপন, কার্তুজ, কোলাজ, দেতাঁত, রেস্তোরা, ক্যাপসুল। • লাতিন শব্দ- ক্যামেলিয়া, ক্যাম্পাস।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান নয়?
ক
অতিথি
খ
সমীচিন
গ
মহিরুহ
ঘ
পুণ্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'সমীচিন'-শুদ্ধ বানান নয়। - বানানটির শুদ্ধরূপ: সমীচীন।
• আরো কিছু শুদ্ধ বানান: ধরণি, পিওন, প্রণামি, ধরন,স্বতঃপ্রণোদিত, ঐকমত্য।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭.
'দুনিয়া' কোন ভাষার শব্দ?
ক
ফারসি
খ
আরবি
গ
তৎসম
ঘ
হিন্দি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, - 'দুনিয়া'- আরবি শব্দ।
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু আরবি শব্দ : - আদাব, খবর,মসলা, খাজনা, খালাস, জলসা, জেলা, দালাল, আদালত।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৮.
'নিন্দা জ্ঞাপন' করা অর্থে প্রত্যয়সাধিত শব্দ কোনটি?
ক
ঠকামো
খ
চোরামি
গ
ছেলেমি
ঘ
ঘরামি
ব্যাখ্যা
• 'ছেলেমি'শব্দের প্রত্যয় নিন্দা জ্ঞাপন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়: • আমি / আম / আমো / মি-প্রত্যয়: (ক) ভাব অর্থে: → ইতর + আমি = ইতরামি, → পাগল + আমি = পাগলামি, → চোর + আমি = চোরামি, → বাঁদর + আমি = বাঁদরামি, → ফাজিল + আমো = ফাজলামো।
(খ) বৃত্তি (জীবিকা) অর্থে: → ঠক + আমো = ঠকামো (ঠকের বৃত্তি বা ভাব), → ঘর + আমি = ঘরামি।
(গ) নিন্দা জ্ঞাপন: → জেঠা + আমি = জেঠামি, → ছেলে + আমি = ছেলেমি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯.
'সাহিত্যিক' শব্দটির 'ইক' অংশটুকু কী বোঝায়?
ক
প্রকৃতি
খ
ধাতু
গ
প্রত্যয়
ঘ
বলক
ব্যাখ্যা
• 'সাহিত্যিক' শব্দটির 'ইক' অংশটুকু —প্রত্যয়। ------------- • প্রত্যয়: - শব্দ গঠনের উদ্দেশ্যে নাম প্রকৃতি বা ক্রিয়া প্রকৃতির পরে যে শব্দাংশ যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয় বলে। যেমন, সাহিত্য+ইক= সাহিত্যিক, সংবাদ + ইক = সাংবাদিক, ঢাকা + আই = ঢাকাই।
অন্যদিকে, • বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়। একে নামপদ বা নাম-প্রকৃতিও বলা হয়৷ • প্রাতিপদিক হলো তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি এবং ধাতু হলো কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি। • ক্রিয়ার মূল অংশকে ধাতু বলা হয়। একে ক্রিয়া-প্রকৃতিও বলে। •যে শব্দকে বা কোনো শব্দের যে অংশকে আর কোনো ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায় না, তাকে প্রকৃতি বলে। - শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
প্রকৃতি: যে শব্দকে বা কোনো শব্দের যে অংশকে আর কোনো ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায় না, তাকে প্রকৃতি বলে। প্রকৃতি দুই প্রকার। যথা - ১. নাম প্রকৃতি; উদাহরণ - হাত + ল = হাতল (বাঁট)। এখানে, হাত - নাম প্রকৃতি। ২. ক্রিয়া প্রকৃতি; উদাহরণ - √চল্ + অন্ত = চলন্ত (চলমান)। এখানে, চল্ - ক্রিয়া প্রকৃতি।
বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা 'এখনই' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০.
নিচের কোন বানানগুচ্ছ শুদ্ধ?
ক
ত্রিভূজ, প্রনয়ণ
খ
মরুদ্যান, অঞ্জলী
গ
বাল্মীকী, মূহুর্মুহু
ঘ
দুর্ভাবনা, মিথস্ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, শুদ্ধ বানানগুচ্ছ হলো: • 'দুর্ভাবনা' - দুশ্চিন্তা; অশুভ আশঙ্কা। • 'মিথস্ক্রিয়া' - পারস্পরিক ক্রিয়া
• ঢোল (বিশেষ্য): - দেশি শব্দ। অর্থ: উভয় প্রান্ত চামড়া দিয়ে আবৃত বেলনাকার বাদ্যযন্ত্র বিশেষ। ---------------------- • দেশি শব্দ: - বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের সংস্কৃতির কিছু কিছু শব্দ আর্যদের প্রভাবে পরিবর্তিত না হয়ে অবিকৃতভাবে বাংলা ভাষায় রক্ষিত আছে, এসব শব্দকে বলা হয় দেশি শব্দ। - প্রাচীনকালে এদেশের অধিবাসী ছিলেন অনার্য, দ্রাবিড়, কোল প্রভৃতি জাতি। - তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় রক্ষিত হয়েছে। এগুলোকে দেশী শব্দ বলা হয়। - অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ণয় করা যায় না। - দেশী শব্দের উদাহরণ- পেট, ডাব, গজ, টোপ,ডিঙ্গা, চাউল ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২.
ক্রিয়া প্রকৃতির সাথে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়?
ক
স্ত্রী প্রত্যয়
খ
তদ্ধিত প্রত্যয়
গ
কৃৎ প্রত্যয়
ঘ
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়: - শব্দ গঠনের উদ্দেশ্যে নাম প্রকৃতি বা ক্রিয়া প্রকৃতির পরে যে শব্দাংশ যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয় বলে।
• কৃৎ-প্রত্যয়: - ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন (১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর (২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়। যেমন - → চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন (কৃৎ-প্রত্যয়) - চলন (বিশেষ্য পদ)। → চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) - চলন্ত (বিশেষণ পদ)।
• তদ্ধিত প্রত্যয়: - নাম শব্দ বা নাম প্রকৃতির সাথে যেসব প্রত্যয় যুক্ত সেসব প্রত্যয় কে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। যেমন: ঢাকা + আই - ঢাকাই, সাহিত্য + ইক - সাহিত্যিক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
'সৈনিক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়-
ক
সেনা + এক
খ
সেনা + ইক
গ
সৈন্য + এক
ঘ
সৈন্য + ইক
ব্যাখ্যা
• সৈনিক (বিশেষ্য): - সংস্কৃত শব্দ। - সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় — সেনা + ইক।
• শব্দের অর্থ : - সিপাহি, - যোদ্ধা, - সেনাসদস্য, - সশস্ত্র প্রহরী।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৪.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
ক
নিক্কণ
খ
সূচ্যগ্র
গ
অনুর্ধ্ব
ঘ
কার্য্যালয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, সূচ্যগ্র- বানানটি শুদ্ধ।
সূচ্যগ্র (সংস্কৃত শব্দ) - সংস্কৃত শব্দ। অর্থ: - সূচের আগা বা ডগা বিশেষণ - অতি সামান্য। -------------------- নিক্কণ, অনুর্ধ্ব, সবগুলো বানান অশুদ্ধ।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, শুদ্ধ রূপ: