পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (সাহিত্য)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
বাংলাবিদ সাহিত্য পরীক্ষা - ১৪: টপিক : বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের লেখকগণ জহির রায়হান, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, দীনবন্ধু মিত্র, হাসান আজিজুল হক, হাসান হাফিজুর রহমান, হুমায়ুন আজাদ, হুমায়ূন আহমেদ, কাজী মোতাহার হোসেন, কামিনী রায়, কালীপ্রসন্ন সিংহ, কুসুমকুমারী দাশ, কায়কোবাদ, গোলাম মোস্তফা, চণ্ডীচরণ মুনশী, জাহানারা ইমাম, দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রফিক আজাদ, হুমায়ুন কবির, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই।[গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] [এই টপিকের উপর কোন ভিডিও লেকচার নাই]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

বাংলাবিদ (সাহিত্য) · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
‘সাজাহান’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়  
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়  
ব্যাখ্যা

‘সাজাহান’ নাটকটি রচনা করেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।

• সাজাহান নাটক সম্পর্কিত কিছু তথ্য: 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সাজাহান এক ঐতিহাসিক পারিবারিক ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে রচিত।
- সাজাহান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯০৯ সালে।
- মোগল সাম্রাজ্যের পটভূমিতে রচিত এই নাটকটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হিসেবে পরিচিত।

- নাটকটিতে দেখা যায়- জীবনের শেষ দিকে সম্রাট সাজাহান একদিকে স্ত্রী মমতাজের মৃত্যুশোকে ভেঙে পড়েছেন। অন্যদিকে নিজের ছেলেদের ক্ষমতার লড়াইয়ে তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। আওরঙ্গজেব ক্ষমতা দখল করে পিতাকে কারাবন্দি করে। আর দারা–সুজাদের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সংঘাত আরও ঘনীভূত হয়। এসব ঘটনার মধ্যে সাজাহানের পুত্রস্নেহ, অহং, আত্মমর্যাদা ও মানসিক যন্ত্রণা নাটকে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে মানুষের স্বভাব, দুর্বলতা ও সম্পর্কের জটিল দিকগুলোকে তুলে ধরায় নাটকটি আরও জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গান “ধনধান্যে পুষ্পে ভরা” প্রথম ব্যবহৃত হয় তাঁর ঐতিহাসিক নাটক ‘সাজাহান’-এ।
---------------------------------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
-  দ্বিজেন্দ্রলাল রায় বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই, নদিয়ার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর বাবা কার্তিকেয়চন্দ্র রায় ছিলেন গায়ক ও সাহিত্যিক, তাই ছোটবেলা থেকেই শিল্প-সাহিত্যের পরিবেশে মানুষ হন দ্বিজেন্দ্রলাল।
- কবি, নাট্যকার ও গীতিকার—এই তিন পরিচয়েই তিনি সমানভাবে খ্যাত।
- বাংলা সংগীতে তিনি সৃষ্টি করেন ‘দ্বিজেন্দ্রগীতি’ নামে এক স্বতন্ত্র ধারা, যার মধ্যে দেশপ্রেম, প্রকৃতির সৌন্দর্য আর মধুর সুরেলা অনুভূতি মিলেমিশে আছে।
- তিনি প্রায় ৫০০ গান লিখেছেন; “ধনধান্য পুষ্পভরা” তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা।
- তাঁর হাসির গানও বিশেষ জনপ্রিয়, যার জন্য তিনি ‘হাসির গানের রাজা’ নামে পরিচিত। 
- হাসির গানের রাজা’ 'D.L. Ray' নামেও পরিচিত ছিলেন।
- তিনিই প্রথম বাংলা ভাষায় প্যারোডি গান রচনা করেন।
- নাট্যসাহিত্যেও তাঁর অবদান অনবদ্য।
- ‘তাঁর রচিত ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক নাটক:
সাজাহান’,
• ‘চন্দ্রগুপ্ত’,
• ‘নুরজাহান’,
• ‘তারাবাঈ’,
• ‘একঘরে’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. বেদেনী
  2. রসকলি
  3. ডাকহরকরা
  4. কালিন্দী
সঠিক উত্তর:
রসকলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রসকলি
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প রসকলি।

• ‘রসকলি’:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রসকলি’ গল্পটি বীরভূমের গ্রামীণ জীবনের প্রকৃতি, লোকবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বাস্তব ছবি তুলে ধরে।
- গল্পের কেন্দ্রেই রয়েছে রসকলি নামের তরুণী, যার একাকিত্ব, ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা ও সমাজের কঠোর রীতিনীতির সঙ্গে তার মানসিক টানাপোড়েন ফুটে ওঠে।
- সহজ-সরল গ্রামের জীবনের আড়ালে থাকা মানসিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক জটিলতাই গল্পের প্রধান শক্তি। 
---------------------------------------

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮–১৯৭১) ছিলেন বাংলা কথাসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ লেখক।
- পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুরের জমিদার পরিবারে এই সাহিত্যিকের জন্ম।
- সাধারণ মানুষের জীবন, যেমন বেদে, পটুয়া, লাঠিয়াল, চৌকিদার, বাগদী, বোষ্টম, ডোম প্রভৃতি সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর বাস্তব জীবনচিত্র তিনি গল্পে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ছিল ‘রসকলি’, যা প্রকাশিত হয়েছিল কল্লোল পত্রিকায়।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প:
- ‘রসকলি’,
- ‘বেদেনী’,
- ‘ডাকহরকরা'।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- জলসাঘর,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন—ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
জহির রায়হানের প্রকৃত নাম কী?
  1. মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
  2. জহিরুল ইসলাম
  3. জহির উদ্দিন
  4. মোহাম্মদ রায়হান
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
ব্যাখ্যা

জহির রায়হানের প্রকৃত নাম - মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।

• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান (১৯৩৫–১৯৭২) ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- তিনি ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন।
- জহির রায়হান বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
- তাঁর লেখনী ও নির্মাণ বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিখোঁজ হন। 
- তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উপন্যাসসমূহ:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে (যার জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার পান),
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- তুলাসিন্ধু সেতুবন্ধ,
- অপূর্ব, ব্যারিকেড,
- ক্ষয়িষ্ণু,
- ডায়মন্ড নেকলেস ও
- আমি কেন সিরাজী।

• তাঁর গল্পগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সোনার হরিণ,
- মহামৃত্যু,
- জন্মান্তর,
- ম্যাসাকার এবং
- মানুষের ঘরবাড়ি।

• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- কখনও আসেনি,
- কাঁচের দেয়াল,
- জীবন থেকে নেয়া,
- বেহুলা,
- সঙ্গম।

• তাঁর পরিচালিত তথ্যচিত্র: স্টপ জেনোসাইড।
• “একুশের গল্প” জহির রায়হান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সার্থক ছোটগল্প।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ রচিত মহাকাব্য- 
  1. রথযাত্রা
  2. বিজয়নামা
  3. মহাশ্মশান
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
মহাশ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা

মহাশ্মশান’ মহাকাব্যটি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত হয়েছে।
-------------------
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ এর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশি।
- কায়কোবাদ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট মহাকবি।
- তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এবং তিনি ২১ জুলাই ১৯৫১ সালে প্রয়াত হন।
- কায়কোবাদ বাংলা সাহিত্যে আধুনিক মহাকাব্য ধারার শেষ কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবীনচন্দ্র সেনের ধারায় মহাকাব্য রচনা করেছেন, বিশেষভাবে নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন তাঁর প্রধান সাহিত্যিক আদর্শ।
- তার প্রধান মহাকাব্য ‘মহাশ্মশান’ (১৯০৪) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে লেখা হয়েছে, যা জয়-পরাজয় ও ধ্বংসের ভয়াবহতা তুলে ধরে।
- এই কাব্য থেকেই নাট্যকার মুনীর চৌধুরী অনুপ্রাণিত হয়ে রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকটি রচনা করেন।
- মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাঁর বিরহ বিলাপ কাব্য প্রকাশ পায়।

• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- অশ্রুমালা: বিখ্যাত গীতিকাব্য;
- কুসুম কানন: কাব্যগ্রন্থ;
- বিরহ বিলাপ: প্রথম কাব্যগ্রন্থ;
- শিব-মন্দির: হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির চেতনা;
- অমিয়ধারা: উল্লেখযোগ্য কাব্য;
- মহররম শরীফ: বৃহৎ কাহিনী কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলা সাহিত্যকর্মের সঠিক যুগল কোনটি?
  1. একাত্তরের যিশু — অজয় দাশগুপ্ত
  2. একাত্তরের দিনগুলি — জাহানারা ইমাম
  3. একাত্তরের বর্ণমালা — শামসুল হুদা 
  4. একাত্তরের বিজয়গাথ — সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের দিনগুলি — জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাত্তরের দিনগুলি — জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলা সাহিত্যকর্মের সঠিক যুগল: একাত্তরের দিনগুলি — জাহানারা ইমাম।

• ‘একাত্তরের দিনগুলি’:
- ‘একাত্তরের দিনগুলি’ জাহানারা ইমামের লেখা একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দিনপঞ্জি। 
- বইটিতে তিনি ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, বেদনা এবং ছেলের (শহীদ রুমী) স্মৃতি তুলে ধরেছেন।
- এটি মূলত একটি দিনলিপি, যেখানে প্রতিদিনের ঘটনা, অনুভূতি ও পর্যবেক্ষণ লিপিবদ্ধ আছে।
- বইতে মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব চিত্র, হানাদার বাহিনীর অত্যাচার, সাধারণ মানুষের জীবন, এবং গেরিলাদের কার্যক্রমের বর্ণনা রয়েছে
- জাহানারা ইমাম তার শহীদ পুত্র রুমীর আত্মত্যাগ ও মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাগুলো উল্লেখ করেছেন, যা একজন মায়ের গভীর শোক ও সংগ্রামের সাক্ষ্য দেয়।
- গ্রন্থে দেশের প্রতি ভালোবাসা, স্বাধীনতার প্রতি ন্যায়বিচার এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চিত্রও ফুটে উঠেছে।
- এটি কেবল একটি বই নয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল, যা যুদ্ধের ভয়াবহতা, একজন মায়ের ত্যাগ এবং দেশপ্রেমের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
----------------------------------------
জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম (১৯৩৫-২০০৩) বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন অগ্রগামী নারী।
- যিনি শুধু মুক্তিযুদ্ধকালীন শহীদ রুমীর মা হিসেবে নয়;
- বরং পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধবিরোধী আন্দোলনে তাঁর সাহসী ভূমিকার জন্যও সুপরিচিত।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর ছেলে, রুমী, স্বাধীনতার লড়াইয়ে অংশ নেয়।
- রুমীর আত্মত্যাগের কারণে তিনি ‘শহীদ জননী’ হিসেবে জনসাধারণের কাছে পরিচিত।

অন্যদিকে, 
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উল্লেখযোগ্য বাংলা সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে :
- একাত্তরের যাত্রী — আজয় দাশগুপ্ত;
- একাত্তরের যিশু — শহরয়ার কবির;
- একাত্তরের যাত্রী — শাহরিয়ার কবির;
- একাত্তরের বিজয়গাথা — মেজর রফিকুল ইসলাম;
- একাত্তরের ডায়েরি — বেগম সুফিয়া কামাল;
- একাত্তরের বর্ণমালা — আখতার মুকুল;
- একাত্তরের রণাঙ্গন — শামসুল হুদা;

উৎস:  
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. নন্দিত নরকে
  2. শঙ্খনীল কারাগার
  3. আজ রবিবার
  4. দেয়াল 
সঠিক উত্তর:
আজ রবিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজ রবিবার
ব্যাখ্যা

• হুমায়ুন আহমেদ রচিত উপন্যাস নয় - আজ রবিবার।
- আজ রবিবার হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি নাটক। 

• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গীতিকার, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং শিক্ষাবিদ।
- তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি সাহিত্যিক।
- তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সাহিত্যে অসামান্য প্রভাব ফেলেছেন।
- তাঁর জনপ্রিয় চরিত্রের মধ্যে রয়েছে হিমু, মিসির আলি এবং শুভ্র।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
• আজ রবিবার;
• কোথাও কেউ নেই।

- হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
• জোছনা ও জননীর গল্প;
• শ্যামল ছায়া;
• ১৯৭১;
• অনীল বাগচীর একদিন;
• সৌরভ;
• আগুনের পরশমনি।

- এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে আছে:
• দেয়াল; 
• নন্দিত নরকে;
• শঙ্খনীল কারাগার;
• লীলাবালি;
• বাদশা নামদার।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র:
• আগুনের পরশমণি;
• শ্রাবণ মেঘের দিন এবং
• শ্যামল ছায়া, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
কোন সাহিত্যিককে ‘বাংলার মিল্টন’ নামে অভিহিত করা হয়?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. শামসুর রাহমান
  3. সমর সেন
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বাংলার মিল্টন’ নামে পরিচিত।

• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যয়:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৩৮–১৯০৩) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি ও দেশপ্রেমিক সাহিত্যিক।
- তিনি মধুসূদনের পরবর্তী সময়ের প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- হেমচন্দ্র আইনজীবী, কেরানি ও প্রধান শিক্ষকের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
- তাঁর মহাকাব্যিক প্রবণতা, ছন্দ, ভাষা ব্যবহার এবং মহাকাব্য রচনার দক্ষতার জন্য ‘বাংলার মিল্টন’ নামে পরিচিত
- তাঁর প্রধান মহাকাব্য ‘বৃত্রসংহার’ বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রচনাগুলোর মধ্যে গণ্য হয়। 
- তাঁর প্রথম কাব্য: ‘চিন্তাতরঙ্গিনী’।
- তিনি শেক্সপিয়রের টেমপেস্ট ও রোমিও-জুলিয়েট অনুবাদ করেছেন।
- এছাড়াও ‘কুলীন মহিলা বিলাপ’ কবিতায় তিনি বিধবা ও বহুবিবাহের সমাজিক অবহেলার প্রতি সচেতনতা প্রকাশ করেছেন।

 • অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা: 
- বীরবাহু,
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- কবিতাবলী,
- সাঙ্গরূপক কাব্য,
- চিত্তবিকাশ।

অন্যদিকে :
• শামসুর রাহমান — আধুনিক নাগরিক কবি হিসেবে পরিচিত।
• সমর সেন — নাগরিক কবি নামে পরিচিত, বাংলার মিল্টন নন।
• সুফিয়া কামাল — ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলাপিডিয়া। 

.
গোলাম মোস্তফা রচিত ‘বিশ্বনবী’ একটি -
  1. প্রবন্ধ
  2. ছোটগল্প
  3. গদ্যকাব্য
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
গদ্যকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গদ্যকাব্য
ব্যাখ্যা

গোলাম মোস্তফার ‘বিশ্বনবী’ হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর জীবন নিয়ে লেখা একটি গদ্যকাব্য।

• ‘বিশ্বনবী’:
- ‘বিশ্বনবী’ ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে নবীপ্রেম, গভীর আবেগ এবং সুললিত ভাষার মাধ্যমে তাঁর জীবন ও কর্ম ফুটে উঠেছে।
- বাংলা সীরাত সাহিত্যে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও উচ্চমানের রচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
-----------------------------------
গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭–১৯৬৪) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, লেখক ও অনুবাদক।
- তিনি মূলত ইসলামী ভাবধারার কবিতা লেখার জন্য খ্যাতি অর্জন করেন।
- তার উপাধি ছিল ‘কাব্য সুধাকর।
- এছাড়া তিনি ‘মুসলিম রেনেসাঁসের কবি’ নামেও পরিচিত ছিলেন।
- কবিতার পাশাপাশি তিনি উপন্যাস, প্রবন্ধ, এবং আরবি ও উর্দু থেকে অনুবাদ করতেও পারদর্শী ছিলেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গদ্যরচনা হলো 'বিশ্বনবী'।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- গীতি সঞ্চয়ণ;
- রক্তরাগ ;
- খোশরোজ ;
- কাব্যকাহিনি;
- সাহারা;
- হাস্নাহেনা;
- বুলবুলিস্তান;
- তারানা ই পাকিস্তান বনি আদম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

.
নিচের কোন প্রহসনটি দীনবন্ধু মিত্রের রচিত?
  1. বৈকুণ্ঠের খাতা   
  2. আলীবাবা 
  3. যৎকিঞ্চিত 
  4. সধবার একাদশী
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা

• দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন হচ্ছে ‘সধবার একাদশী’। 

• ‘সধবার একাদশী’:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন ‘সধবার একাদশী’ তৎকালীন কলকাতার উচ্চবিত্ত সমাজের ভণ্ডামি, মদ্যপান ও বেশ্যাসক্তির কুপ্রভাবকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরেছে। 
- সমাজের ধনী শ্রেণির নৈতিক অবক্ষয় ও তাদের ভোগবিলাসী জীবনের অসারতা এই প্রহসনের মূল বিষয়।
- বাংলা নাট্যসাহিত্যে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রহসন হিসেবে স্বীকৃত।
- এই প্রহসনে বিধবার অন্ধ ধর্মাচার ও কুসংস্কারকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
----------------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল গন্ধর্বনারায়ণ।
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধ চলাকালে তিনি কাছাড় অঞ্চলে ডাক বিভাগের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেন; এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি দেয়।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা ও নাটক হলো ‘নীলদর্পণ’।

• দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো,
- জামাই বারিক।

• দীনবন্ধু মিত্রের নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।
-----------------------------------------
অন্যদিকে, 
- বৈকুণ্ঠের খাতা প্রহসনটির রচয়িতা হচ্ছে- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
- আলীবাবা ও যৎকিঞ্চিত হচ্ছে কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত প্রহসন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১০.
চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গদ্যকর্ম- 
  1. রাজাবলি
  2. তোতা ইতিহাস
  3. আয়না
  4. মহাফিলনামা
সঠিক উত্তর:
তোতা ইতিহাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোতা ইতিহাস
ব্যাখ্যা

চণ্ডীচরণ মুনশীর রচিত গদ্যকর্ম হচ্ছে তোতা ইতিহাস।

• চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের অষ্টাদশ শতাব্দীর উল্লেখযোগ্য বাঙালি লেখক।
- বাংলা গদ্যের একেবারে শুরুর দিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। 
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা ভাষার অধ্যাপক  ছিলেন।
- তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গদ্যকর্ম ‘তোতা ইতিহাস’।
- তোতা ইতিহাস বাংলা গদ্যের অন্যতম প্রাচীন উপাখ্যানগ্রন্থ।
- যা চণ্ডীচরণ মুনশী ১৮০৪ খ্রিষ্টাব্দে ফার্সি তুতিনামা থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন।
- পরের বছর, অর্থাৎ ১৮০৫ সালে গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে মুদ্রিত হয়ে প্রকাশ পায়।
- পরে এই বইটি, ভাগবদ্গীতার সঙ্গে, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা শিক্ষার পাঠ্যপুস্তক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
- প্রকৃত অর্থে এটি কাদির বখশ রচিত ফার্সি গল্পগ্রন্থের সফল বঙ্গানুবাদ;
- এবং বাংলা গদ্য সাহিত্যের সূচনালগ্নের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
- ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১১.
“ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাবো” কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অলৌকিক ইস্টিমার
  2. অসম্ভবের পায়ে
  3. সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে
  4. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
সঠিক উত্তর:
সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে
ব্যাখ্যা

• “ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাবো” কবিতাটি সীমাবদ্ধ জলে` সীমিত সবুজে কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ (১৯৪১-২০১৬) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী কবি, লেখক ও সম্পাদক।
- তিনি তার স্বতন্ত্র কাব্যভাষা, প্রকৃতি ও প্রেমের কবিতা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখার জন্য পরিচিত।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
- তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা “ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাবো” ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে রচিত, যা প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। 
- ভাত দে হারামজাদা কবিতাটি কবির 'সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
• ‘অসম্ভবের পায়ে’,
• ‘সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে’,
• ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’,
• ‘পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি’, ইত্যাদি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১২.
“নদী ও নারী” কোন ইংরেজি উপন্যাসের বাংলা রূপান্তর? 
  1. The River and Women
  2. Men and River
  3. Rivers and Women
  4. Men and Rivers
সঠিক উত্তর:
Men and Rivers
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Men and Rivers
ব্যাখ্যা

• “নদী ও নারী” হুমায়ুন কবিরের 'Men and Rivers' নামক ইংরেজি উপন্যাসের বাংলা রূপান্তর।

• হুমায়ুন কবির:
- হুমায়ুন কবির ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি দার্শনিক, লেখক, কবি, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ।
- তাঁর একমাত্র বাংলা উপন্যাস “নদী ও নারী”।
- এটি মূলত পদ্মা নদীর বিশালতা, চরভূমি এবং চরবাসীর জীবন, সম্পর্ক ও টিকে থাকার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে লেখা।
- এটি তাঁর ইংরেজি উপন্যাস “Men and Rivers”-এর বাংলা রূপান্তর, যা ১৯৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে নতুন জেগে ওঠা চরভূমিতে মানুষের জীবন-সংগ্রাম, প্রেম, সম্পর্ক এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের মিথস্ক্রিয়ার চিত্রণ করা হয়েছে। 

• তার উল্লেখযোগ্য রচনাবলী:
- নদী ও নারী (উপন্যাস);
- ইমানুয়েল কান্ট;
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব;
- বাংলার কাব্য (সমালোচনা গ্রন্থ)।

উৎস:
বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য;
বাংলাপিডিয়া।

১৩.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার রচিত রূপকথার সংকলনের মধ্যে কোনটি অনুবাদকৃত? 
  1. ঠাকুরমার ঝুলি
  2. ঠানদিদির থলে
  3. পৃথিবীর রূপকথা
  4. ঠাকুরদাদার ঝুলি
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর রূপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবীর রূপকথা
ব্যাখ্যা

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের রূপকথার সংকলনের মধ্যে 'পৃথিবীর রূপকথা' অনুবাদকৃত

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার (১৮৭৭-১৯৫৭) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি শিশু সাহিত্যিক ও লোককথা সংগ্রাহক।
- তিনি বাংলা রূপকথা সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
- তিনি শুধুমাত্র রূপকথা সংগ্রাহকই ছিলেন না, চিত্রশিল্পী এবং ছড়াকার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের কাজ বাংলা শিশু সাহিত্য ও লোককথার ধারাকে নতুন দিশা দিয়েছে।

• তাঁর বিখ্যাত রূপকথার সংকলন:
- ঠাকুরমার ঝুলি – বাংলা শিশু সাহিত্যের এক মাইলফলক;
- ঠাকুরদাদার ঝুলি;
- ঠানদিদির থলে;
- চিরদিনের রূপকথা;
- পৃথিবীর রূপকথা (অনুবাদ)।

• শিশুতোষ রচনা:
- খোকাবাবুর খেলা;
- আমাল বই;
- চারু ও হারু;
- ফার্স্ট বয়, লাস্ট বয়;
- উৎপল ও রবি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

১৪.
ভাষা আন্দোলনকেন্দ্রিক প্রথম সাহিত্যসংকলন “একুশে ফেব্রুয়ারি” এর সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. মোজাফফর আহমদ
  4. হাসান হাফিজুর রহমান 
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান 
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলনকেন্দ্রিক প্রথম সাহিত্যসংকলন “একুশে ফেব্রুয়ারি” এর সম্পাদক ছিলেন - হাসান হাফিজুর রহমান

• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের এক বিশিষ্ট কবি, সাংবাদিক ও সাহিত্যসমালোচক।
- তিনি ১৪ জুন ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ছিল ‘বিমুখ প্রান্তর’।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত প্রথম সাহিত্যসংকলন “একুশে ফেব্রুয়ারি” (১৯৫৩)–এর সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- পরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে তিনি “বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র” (১৯৮২–৮৩) সম্পাদনার কাজও পরিচালনা করেন।

- তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
• আধুনিক কবি ও কবিতা,
• মূল্যবোধের জন্য, 
• সাহিত্য প্রসঙ্গ, এবং 
• আলোকিত গহ্বর। 

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
• বিমুখ প্রান্তর, 
• প্রতিবিম্ব, 
• অন্তিম শহরের মতো, 
• যখন উদ্যত সঙ্গীন, 
• আর্ত শব্দাবলী, 
• ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী, ও
 • শোকার্ত তরবারি।

- আরো দুটি মৃত্যু তাঁর একটি উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৫.
বিতর্কিত কবি হিসেবে কাকে অভিহিত করা হয়?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. রফিক আজাদ
  3. আব্দুল মান্নান 
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা

•  হুমায়ুন আজাদকে বিতর্কিত কবি হিসেবে কাকে অভিহিত করা হয়।

• হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ (১৯৪৭-২০০৪) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি লেখক, কবি, ঔপন্যাসিক, ভাষাবিজ্ঞানী, সমালোচক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
- তিনি প্রথাবিরোধী, সাহসী এবং বহুমাত্রিক লেখার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- হুমায়ুন আজাদকে বিতার্কিক বলা হয় কারণ তিনি তার সাহিত্য ও প্রবন্ধে প্রচলিত ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক ধ্যানধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
- ধর্ম, মৌলবাদ, নারীবাদ এবং রাজনীতির মতো বিষয় নিয়ে তাঁর সমালোচনামূলক লেখা সমাজে বিতর্ক এবং সচেতনতা সৃষ্টি করেছিল। 

- তাঁর বিতর্কিত প্রবন্ধ:
• নারী;
• ২য় লিঙ্গ।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
• ‘অলৌকিক ইস্টিমার’,
• ‘জ্বলো চিতাবাঘ’,
• ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’,
• ‘যতোই গভীরে যাই মধু যতোই ওপরে যাই নীল’।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
• ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’,
 • ‘যখন গিয়েছি ভীরু’।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য গবেষণা ও প্রবন্ধ:
• 'লাল নীল দিপাবলী'।
• ‘নারী’,
 • ‘আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম’,
• ‘ভাষার জাদুকর’।

- কিশোর সাহিত্য গ্রন্থ:
• ‘আবুল আব্বাস’,
• ‘দ্বিতীয় মানুষ’,
• ‘আমাদের শহরে একদল নক্ষত্র’। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৬.
‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে কাকে ভূষিত করা হয়েছিল?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. কাজী আবদুল ওদুদ
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. সিকান্দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা

• ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে কাজী মোতাহার হোসেনকে ভূষিত করা হয়েছিল।

• কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭–১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক। 
- তিনি সাহিত্যচর্চা ও জ্ঞানচর্চা—উভয় ক্ষেত্রেই নিজস্ব অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন।
- ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠায় তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
- তিনি শিখা’ পত্রিকায় মুখপত্র ‘হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
- এছাড়া, তিনি ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’–এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন, যা তৎকালীন সমাজে যুক্তিবাদী চিন্তার প্রসার ঘটায়।
- ১৯২৬ সালে কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন ও আবুল ফজলের সহযোগিতায় তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি কিছুদিন ‘শিখা’ পত্রিকাটি সম্পাদনাও করেছিলেন।
- শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
- সেই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পাকিস্তান সরকার তাঁকে ১৯৬০ সালে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধিতে সম্মানিত করে।
- ‘সঞ্চয়ন’ কাজী মোতাহার হোসেন রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধসংকলন।
- এই গ্রন্থে তাঁর সাহিত্যবোধ ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশনার মধ্যে রয়েছে:
- সঞ্চয়ন, 
- নির্বাচিত প্রবন্ধ,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস, এবং 
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৭.
“পাছে লোকে কিছু বলে” কবিতাটি কার সৃষ্টিকর্ম?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. কামিনী রায়
  4. বেগম রোকেয়া
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

“পাছে লোকে কিছু বলে” কবিতাটি কামিনী রায়ের সৃষ্টিকর্ম।

• পাছে লোকে কিছু বলে:
-
কামিনী রায়ের রচিত এই কবিতাটি তাঁর সমগ্র সাহিত্যজীবনে সবচেয়ে বেশি পরিচিত ও আলোচিত।
- এটি শুধু তাঁর কাব্যধারায় নয়, বাংলা সাহিত্যে নারীর মনোজগৎ ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি হিসেবেও বিশেষ খ্যাতি পেয়েছে।
- কবিতার সাহিত্যমান, ভাবগভীরতা ও শিক্ষামূল্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পাঠ্যসূচিতেও এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
-------------------------------------
কামিনী রায়:
-
কামিনী রায় জন্মগ্রহণ করেন ১২ অক্টোবর ১৮৬৪ সালে, বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাসন্ডা গ্রামে।
- কামিনী রায় ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ কবি ও নারীবাদী চিন্তাবিদ। 
- নারীশিক্ষা ও নারীর অধিকার বিষয়ে তিনি ছিলেন বাংলার পথিকৃৎ লেখিকাদের মধ্যে অন্যতম।
- ব্রিটিশ ভারতের প্রথম নারী গ্রাজুয়েট হিসেবে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রেও এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
- সাহিত্যজীবনের শুরুতে তিনি কখন “জনৈক বঙ্গমহিলা” ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “আলো ও ছায়া” (১৮৮৯) প্রকাশের পর থেকেই তিনি সমসাময়িক সাহিত্যসমাজে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
- অশোকসঙ্গীত (সনেট সংকলন);
- মাল্য ও নির্মাল্য;
- দীপ ও ধূপ;
- জীবনপথে;
- পৌরাণিকী;
- অম্বা (নাট্যকাব্য)।

•  তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ — নারীশিক্ষা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধগ্রন্থ।

• শিশুতোষ রচনা:
- গুঞ্জন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- পরার্থে;
- সুখ;
- পাছে লোকে কিছু বলে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৮.
“আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে” কবিতার রচয়িতা কে?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. বেগম রোকেয়া
  3. কামিনী রায়
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

“আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে” কবিতার রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ।

• ‘আদর্শ ছেলে’:
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন,
‘মানুষ হইতে হবে’ – এই যার পণ"৷

- কুসুমকুমারী দাশের ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতায় কবি এমন এক ছেলের চিত্র এঁকেছেন, যার মুখে থাকবে আনন্দময় হাসি এবং বুকে অমিত শক্তি ও জোশ। 
- এই ছেলে কেবল কথায় নয়, কাজেও বড় হবে এবং সব পরিস্থিতিতে “মানুষ” হওয়ার প্রতিজ্ঞা রাখবে।
- বিপদ বা চ্যালেঞ্জ এলে সে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে আসবে। 
- কবির দৃষ্টিতে আদর্শ ছেলে হলো সেই যে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করবে।
- যে হবে কর্মনিষ্ঠ, সাহসী এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিক।
------------------------------------------------------------
কুসুমকুমারী দাশ:
- কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক বিশিষ্ট মহিলা কবি।
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- এবং ১৯৪৮ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র জীবনানন্দ দাশ বাংলা কাব্যজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় কবি হিসেবে স্বীকৃত।
- কুসুমকুমারী দেবী মূলত শিশুতোষ ও নীতিপ্রধান কবিতার জন্য সুপরিচিত।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা “আদর্শ ছেলে”।
- কবিতাটির প্রথম পঙক্তি “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে”—বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বহু পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, 
• কুসুমকুমারী দাশ শিশুদের জন্য লিখেছিলেন “কবিতা মুকুল” নামে একটি পুস্তিকা, যা তাঁর উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ সাহিত্যকর্ম হিসেবে পরিচিত।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য গদ্যরচনার মধ্যে রয়েছে: “পৌরাণিক আখ্যায়িকা”।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৯.
‘আগুনপাখি’ কোন অঞ্চলের মানুষকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে?
  1. কলকাতা
  2. বর্ধমান
  3. ঢাকা
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান
ব্যাখ্যা

‘আগুনপাখি’ উপন্যাসে হাসান আজিজুল হক বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ঐ এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন, রাজনীতির প্রভাব এবং সাম্প্রদায়িকতা ফুটিয়ে তুলেছেন।

◊ ‘আগুনপাখি’:
- হাসান আজিজুল হকের ‘আগুনপাখি’ উপন্যাসটি বিংশ শতাব্দীর ভারত বিভাগের প্রেক্ষাপটে বর্ধমান অঞ্চলের গ্রামীণ জীবনকে কেন্দ্র করে লেখা।
- উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি জীবনের নেতিবাচক দিকগুলো পরিহার করে ইতিবাচকতার সন্ধান করেছেন।
- উপন্যাসে বিশেষভাবে একটি গ্রামীণ পরিবারের উত্থান-পতন এবং দেশভাগের সময়কার ভয়াবহ পরিস্থিতি ফুটে উঠেছে।
- কাহিনীটি মূলত এক সাধারণ গ্রাম্য গৃহিণীর দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, মন্বন্তর এবং মানুষের ব্যক্তিগত আশা-আকাঙ্ক্ষার সংঘাত সুস্পষ্টভাবে চিত্রিত হয়েছে।
- এর মাধ্যমে হাসান আজিজুল হক সাধারণ মানুষের সংগ্রামী জীবন, সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ব্যক্তিগত আশা ও দুঃখকে গভীরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

হাসান আজিজুল হক:
- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে বর্ধমান জেলয় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত একজন কথাসাহিত্যিক হিসেবে সুপরিচিত।
- সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার লাভ করেছেন;
- যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক এবং ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক।
- তিনি ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে মৃত্যু বরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ;
- নামহীন গোত্রহীন;
- পাতালে হাসপাতালে;
- জীবন ঘষে আগুন;
- আমরা অপেক্ষা করছি;
- রোদে যাবো।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসসমূহ:
- বৃত্তায়ন;
- সাবিত্রী উপাখ্যান;
- আগুনপাখি;
- শিউলি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধসমূহ:
- অপ্রকাশের ভার;
- কথা লেখা কথা;
- কথাসাহিত্যের কথকতা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য।

২০.
সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ-  
  1. সাঁঝের মায়া 
  2. কেয়ার কাঁটা 
  3. আলো ও ছায়া 
  4. অশোকসঙ্গীত 
সঠিক উত্তর:
সাঁঝের মায়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঁঝের মায়া 
ব্যাখ্যা

• সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ- সাঁঝের মায়া। 

• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি কবি, লেখক, নারী অধিকার কর্মী এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ।
- তিনি ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।
- কারণ তিনি কেবল সাহিত্যেই নয়, ভাষা আন্দোলন, নারীবাদী সংগ্রাম এবং সামাজিক উন্নয়নের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তিনি নারীমুক্তি ও সমান অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন।
- তাঁর সাহস ও প্রতিরোধর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে আইয়ুব খানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করা।
- তিনি সমগ্র বাঙালি জাতি, বিশেষ করে সবসময় নারীদের রক্ষা করতে চেয়েছেন।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া;
- উদাত্ত পৃথিবী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প: ‘কেয়ার কাঁটা’।
• তাঁর স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: ‘একাত্তরের ডায়েরী’।

অন্যদিকে, 
- আলো ও ছায়া এবং অশোকসঙ্গীত কাব্যগ্রন্থ দুইটির রচয়িতা হচ্ছে- কামিনী রায়। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য।