ব্যাখ্যা
• CDC 1604 দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার।
• প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৪২ হতে ১৯৫৯):
- প্রথম প্রজন্মের ব্যপ্তিকাল ১৯৪২ হতে ১৯৫৯ পর্যন্ত।
- এই প্রজন্মের কম্পিউটারের সার্কিটে বায়ুশুন্য টিউব ব্যবহৃত হত।
- ভারী, সীমিত তথ্যধারণ ক্ষমতা, উত্তাপ সমস্যা ইত্যাদি ছিল এই বায়ুশুন্য টিউবগুলোর বৈশিষ্ট্য।
- এরপর ধীরে ধীরে তথ্যধারণ করার ক্ষেত্রে বায়ুশুন্য টিউব এর পরিবর্তে চৌম্বকধর্মী বস্তু আসতে লাগলো।
- উদাহরণস্বরূপ, এবিসি (ABC), এনিয়াক (ENIAC), ইউনিভ্যাক (UNIVAC) ইত্যাদি এই পর্যায়ভুক্ত।
• দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৫৯ হতে ১৯৬৫):
- দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যপ্তিকাল ১৯৫৯ হতে ১৯৬৫ পর্যন্ত।
- এই প্রজন্মের কম্পিউটারের সার্কিটে বায়ুশুন্য টিউব এর পরিবর্তে ট্রানজিস্টার ব্যবহার শুরু হয়।
- ট্রানজিস্টারের কাজ সুইচের মতো এবং এতে কোন চলমান অংশ নেই। ফলে কম্পিউটার অতি দ্রুত গতি পেল।
- একই সাথে কম্পিউটারের আকার ছোট হয়ে আসলো এবং তথ্যধারণ ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেল।
- এই সময় তাপ সমস্যার অবসান হয় ও নির্ভরশীলতার উন্নতি ঘটে।
- চুম্বকীয় কোর স্মৃতি এবং উচ্চগতি সম্পন্ন প্রবেশমুখ ও বহির্মুখ সরঞ্জাম কম্পিউটারে ব্যবহৃত হয়।
- এই পর্যায়ে অ্যাসেম্বলী ভাষার উদ্ভব হয়।
- উদাহরণস্বরূপ, IBM 1600, CDC 1604, NCR 300 সিরিজ ইত্যাদি।
• তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৬৫ হতে ১৯৭১):
- তৃতীয় প্রজন্মের ব্যপ্তিকাল ১৯৬৫ হতে ১৯৭১ পর্যন্ত।
- একীভূত বর্তনীর ব্যাপক প্রচলন, অর্ধপরিবাহী স্মৃতি, উন্নত কার্যকারীতা ও নির্ভরশীলতা এইসব কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য।
- তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারগুলো ন্যানো সেকেন্ড সময়ে কোন একটি নির্দেশ পালন করতে পারতো।
- উদাহরণ: IBM 360, PDP 11 ইত্যাদি।
• চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৭১ হতে বর্তমান):
- চতুর্থ প্রজন্মের ব্যপ্তিকাল ১৯৭১ হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত।
- বৃহদাকার একীভূত বর্তনীর ব্যবহার, তথ্য ধারণ ক্ষমতা, উন্নত নির্ভরশীলতা এইসব কম্পিউটারের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য 'কম্প্যাক্ট ডিস্ক' (Compact Disk) বা সিডি (CD) এর অধিক ব্যবহার হয়।
- উদাহরণ: IBM PS/2, Apple Macintosh ইত্যাদি।
• পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৮২ হতে বর্তমান):
- প্রকৃতপক্ষে পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার বলতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কম্পিউটারকেই বোঝানো হয়েছে।
- কম্পিউটারগুলোর নিজস্ব বিচার বুদ্ধি থাকবে, শিক্ষা গ্রহণ করার ক্ষমতা থাকবে, কন্ঠস্বর বোঝতে পারবে এবং সেই নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে পারবে।
- এসব কম্পিউটারগুলোর মেমোরির তথ্য ধারণ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি হবে এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা খুবই বেশি হবে।
- অত্যাধুনিক সফট্ওয়্যার ব্যবহার করে কম্পিউটারসমূহ পরামর্শকের (যেমন- ডাক্তার, আইনবিধ, শিক্ষক) ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে।
উৎস: কম্পিউটার পরিচিতি ও ব্যবহার, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।