পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩৪
সিলেবাস
বিষয় - কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি টপিক - কম্পিউটার ১. ডাটাবেজ সিস্টেম ও এর উপাদান, ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। ২. কম্পিউটার রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপদ ব্যবহার, সাইবার অপরাধ ও এর প্রতিকার ইত্যাদি। ৩. কম্পিউটার নেটওয়ার্ক [ল্যান, ম্যান, ওয়াই-ফাই, ওয়াইম্যাক্স] ও ইন্টারনেটের ধারণা ও বিবর্তন। ৪. ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW), নিত্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং প্রযুক্তি: ই-মেইল, ফ্যাক্স ইত্যাদি; ৫. দৈনন্দিন জীবনে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার। এবং বিষয় - বাংলা সাহিত্য টপিক - বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের লেখকগণ [গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের জীবনী, সাহিত্য-কর্ম, অবদান, স্বীকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে হবে। অন্যান্য লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে পড়লেই হবে।] ১. গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নীলিমা ইব্রাহিম, প্রমথ চৌধুরী, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মীর মশাররফ হোসেন, মুনীর চৌধুরী। ২. অন্যান্য লেখকগণ: গোবিন্দচন্দ্র দাস, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড, নওয়াব ফয়জুন্নেসা, নবীনচন্দ্র সেন, নির্মলেন্দু গুণ, নুরুল মোমেন, প্রেমেন্দ্র মিত্র, প্যারীচাঁদ মিত্র, ফররুখ আহমদ, বদরুদ্দীন ওমর, বন্দে আলী মিয়া, বিজন ভট্টাচার্য, বিষ্ণু দে, মনোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ, মামুনুর রশিদ, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ নজিবর রহমান, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। ------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৪ প্রশ্ন

.
'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি':
- এটি নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণাগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে। (১৯৯৪ সালের বই মেলাতে প্রথম প্রকাশিত হয় বলে ধরে নেওয়া হয়)
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনীনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'

• তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ-গবেষণা:

- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য।

• নীলিমা ইব্রাহিম:

- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ।
- নীলিমা ইব্রাহিমের ১৯২১ সালে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন

• তাঁর রচিত নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
 - বিশ শতকের মেয়ে
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'ইন্দিরা' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্প
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'ইন্দিরা' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস ইন্দিরা।
- ইন্দিরা ছোট উপন্যাস, অনেকে বলেন বড়ো গল্প।
- ১৮৭২ সালে 'বঙ্গদর্শনে' প্রথম প্রকাশিত হয়।
 - এই কাহিনিটি উত্তমপুরুষের বয়ানে রচিত।
- এটি কৌতুক-পরিহাসপূর্ণ উপভোগ্য কাহিনি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দনী, 
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
'মৌরিফুল' ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• 'মৌরিফুল' ছোটগল্পের রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:

- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প 'উপেক্ষিতা' প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:

• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
নিচের কোনটি মুনীর চৌধুরী রচিত অনুবাদ নাটক?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. চিঠি
  3. কেউ কিছু বলতে পারে না
  4. দণ্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা
• মুনীর চৌধুরী রচিত 'কেউ কিছু বলতে পারে না' জর্জ বার্নার্ড শ এর 'You never can tell'-এর বাংলা অনুবাদ।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:

- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• মুনীর চৌধুরী:

- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
'শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ' গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
'শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ' গ্রন্থটি  রচনা করেছেন ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:

- তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
নিচের কোনটি ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. সিরাজাম মুনীরা
  2. নতুন লেখা
  3. হাতেমতায়ী
  4. মরুশিখা
ব্যাখ্যা
• 'মরুশিখা' ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়।
• 'মরুশিখা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত।

• ফররুখ আহমদ:

- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা, 
- হরফের ছড়া, 
- ছড়ার আসর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• আলালের ঘরের দুলাল:
- 'আলালের ঘরের দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ। 
- প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব 'আলালের ঘরের দুলাল',
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- এ উপন্যাসে প্যারীচাঁদ মিত্র প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত গদ্যরীতির নিয়ম ভেঙ্গে চলিত ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।
- সাধারণ মানুষের মুখে ব্যবহৃত কথ্য ভাষা 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- তিনি ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম " টেকচাঁদ ঠাকুর"।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।

• তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।

• তাঁর একমাত্র প্রহসন:
- মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. রত্নাবতী
  2. বসন্তকুমারী
  3. রত্নাবলী
  4. জমিদার দর্পণ
ব্যাখ্যা
• রত্নাবতী:
- মীর মশাররফ হোসেন মুসলিম সাহিত্যিকদের মধ্যে প্রথম গদ্যগ্রন্থ রচনা করার মর্যাদা লাভ করেছেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ - রত্নাবতী।
- গ্রন্থটির দুটি কেন্দ্রীয় চরিত্র রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্ত।
- তাদের মধ্যে "ধন বড় না বিদ্যা বড়" এ বিতর্কের সমাধানই "রত্নাবতী" গদ্যগ্রন্থের মূল বিষয় বস্তু।
- ২ রা সেপ্টেম্বর ১৮৬৯ সালে, কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- লেখক গ্রন্থটিকে কৌতুকাবহ উপন্যাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে,
-'রত্নাবলী' নাটকের রচয়িতা রামনারায়ণ তর্করত্ন।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। 
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়ার বস্তানী।
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
'নবান্ন' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. নুরুল মোমেন
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'নবান্ন' নাটক:
- বিজন ভট্টাচার্য এর বিখ্যাত নাটক 'নবান্ন'।
- পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে নাটকটি রচিত হয়েছে।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় অবদান রাখেন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর, সমকালীন জাতীয় আন্দোলন, মেহনতি মানুষের চাহিদা ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ কৃষক সমাজের দুঃখ-দুর্দশা, তাদের সংগ্রাম, সফলতা- ব্যর্থতা নাটকের মূল সুর।

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় তিনি রচনা করেন 'জীয়নকন্যা' নাটক।
- এছাড়া তাঁর আরও দুটি নাটক হলো মরাচাঁদ ও কলঙ্ক।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- নবান্ন,
- জীয়নকন্যা'
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. কথামালা
  2. হিতোপদেশ
  3. কথোপকথন
  4. লিপিমালা
ব্যাখ্যা
• 'হিতোপদেশ'  মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ।

অন্যদিকে,
- 'কথোপকথন' ও 'লিপিমালা' উইলিয়াম কেরির মৌলিক গ্রন্থ।
- 'কথামালা' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গ্রন্থ।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
'সংস্কৃতির সংকট' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বদরুদ্দীন উমর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'সংস্কৃতির সংকট' গ্রন্থের রচয়িতা বদরুদ্দীন উমর।

• বদরুদ্দীন উমর:

- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি 'সংস্কৃতি' সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
"কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো।" উক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে। সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো" উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "যোগাযোগ" উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।

• 'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- যোগাযোগ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসে অর্থনৈতিক শ্রেণিদ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপট ফুটে উঠেছে।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ঘরে বাইরে, 
- মালঞ্চ, 
- চতুরঙ্গ, 
- চার অধ্যায়
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- গোরা,
- রাজর্ষি, 
- শেষের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৩.
বিষ্ণু দে রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. উর্বশী ও আর্টেমিস
  2. তন্বী
  3. অর্কেস্ট্রা
  4. বালুচর
ব্যাখ্যা
• উর্বশী ও আর্টেমিস:
- এটি বিষ্ণু দে রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে।
- সনাতন রোমান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে।
• গ্রন্থটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: উর্বশী, উর্বশী ও আর্টেমিস, প্রেম, ছেদ, পলায়ন, রাত্রিশেষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- তন্বী  ও অর্কেস্ট্রা সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বালুচর' জসীমউদ্দীন রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

• বিষ্ণু দে:

- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিস্যৎ,
- সেই অন্ধকার চাই,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৪.
বিখ্যাত 'আনোয়ারা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. ফররুখ আহমদ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান এর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা।
- উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটিতে মধ্যবিত্ত বিকাশের চিত্রের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লা, গোলাপ জান ইত্যাদি।

• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবেলতৈল এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি 'সাহিত্যরত্ন' উপাধি লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- প্রেমের সমাধি,
- পরিণাম,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- দুনিয়া আর চাই না,
- গরীবের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫.
'কবর' নাটক কোন বিদেশি নাটকের অনুকরণে লেখা?
  1. Bury The Dead
  2. Buried Emotion
  3. Deadman Land
  4. Buried Island
ব্যাখ্যা
• কবর:
- একাঙ্ক বিশিষ্ট 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- নাটকটি মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw এর Bury the Dead অবলম্বনে রচিত।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান।
- এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।
- প্রকাশ্যে প্রথম মঞ্চস্থ হয় ১৯৫৬ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে উদযাপন উপলক্ষে।

• মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
১৬.
'গিনিপিগ' নাটক কে রচনা করেছেন?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. নুরুল মোমেন
  3. মামুনুর রশীদ
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• 'গিনিপিগ' নাটকের রচয়িতা হলেন মামুনুর রশীদ।
- নাটকটি ১৯৮৫ সালে প্রাকাশিত হয়।

• মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর জন্মস্থান-
  1. হুগলি
  2. নদীয়া
  3. চব্বিশ পরগনা
  4. মেদিনীপুর
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। 
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৮.
বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলির মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়? 
  1. হার্ডওয়্যার
  2. সক্ষমতা
  3. ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা
  4. কানেকটিভিটি
ব্যাখ্যা
- বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়- ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা। 

বিশ্বগ্রাম: 

- বর্তমানে Global শব্দটির সাথে Village শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে Global Village নামক একটি নতুন ধারণা প্রচলিত হয়েছে যার অর্থ হলো বৈশ্বিক গ্রাম বা বিশ্বায়ন। 
- বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া বিশেষ করে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর ব্যাপক ব্যবহার ও প্রভাবে আজ বিশ্বের যে কোন দেশের মানুষ অন্য দেশের মানুষের সাথে খুব সহজেই যোগাযোগ করতে পারাই হচ্ছে মূলত বিশ্বগ্রামের ধারণা। 
- কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিখ্যাত দার্শনিক মারশেল ম্যাকলুহান সর্বপ্রথম গ্লোবাল ভিলেজ বা বৈশ্বিক গ্রাম কথাটি ব্যবহার করেন। 
- তাঁর মতে, ' ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সারা বিশ্বকে একটি গ্রামে পরিণত করাই হলো বিশ্বগ্রাম'। 

বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার উপাদানসমূহ: 
- বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ হলো- 
১। হার্ডওয়্যার (Hardware): 
- বিশ্বগ্রামে যে কোন ধরনের তথ্য আদান-প্রদানের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত হার্ডওয়্যার সামগ্রীর। 
- হার্ডওয়্যারের মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার এবং এর সাথে যুক্ত পেরিফেরাল যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন, স্যাটেলাইট, অডিও-ভিডিও রেকর্ডার, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি। 

২। সফটওয়্যার (Software): 
- বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য হার্ডওয়‍্যারের পাশাপাশি প্রয়োজন সফটওয়্যার। 
- সফটওয়‍্যারের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সিস্টেম সফটওয়‍্যার, এ্যাপ্লিকেশন সফটওয়‍্যার, ব্রাউজিং সফটওয়্যার, কমিউনিকেটিং সফটওয়্যার, প্রোগ্রামিং ভাষা ইত্যাদি। 

৩। কানেকটিভিটি (Connectivity): 
- বিশ্বগ্রামের প্রতিটি মানুষ যাতে নিরাপদে তথ্য ও উপাত্ত আদান-প্রদান করতে পারে এবং পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে সেজন্য প্রয়োজন নেটওয়‍্যার্ক বা কানেকটিভিটি। 
- বিশ্বের তথ্য ভান্ডারের সাথে সার্বক্ষণিকভাবে বা প্রয়োজনে যুক্ত থেকে তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কানেকটিভিটি মূল ভূমিকা পালন করে। 

৪। উপাত্ত ও তথ্য (Data and Information): 
- উপাত্তকে প্রসেসিং বা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমেই ব্যবহারযোগ্য তথ্যে পরিণত করা হয়। 
- বিশ্বগ্রামে উপাত্ত ও তথ্যকে মানুষের প্রয়োজনে একে অপরের সাথে বিনামূল্যে বা অর্থের বিনিময়ে শেয়ার করতে হয়। 

৫। সক্ষমতা (Capacity): 
- বিশ্বগ্রামের উপাদানগুলোর মধ্যে মানুষের সক্ষমতা অন্যতম। 
- যেহেতু বিশ্বগ্রাম মূলত তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর তাই এ বিষয়ে মানুষের সচেতনতা, স্বাক্ষরতা ও সক্ষমতা ইত্যাদির উপর এর প্রয়োগ অনেকাংশে নির্ভর করছে। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
টেলিগ্রাফির জন্য কোন ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার করা হয়? 
  1. ব্রড ব্যান্ড
  2. ভয়েস ব্যান্ড
  3. মাইক্রো ব্যান্ড
  4. ন্যারো ব্যান্ড
ব্যাখ্যা
ব্যান্ডউইডথ: 
- এক স্থান হতে অন্য স্থানে অথবা এক কম্পিউটার হতে অন্য কম্পিউটারে ডাটা স্থানান্তরের হারকে ডাটা ট্রান্সমিশন স্পীড বলে। এই ট্রান্সমিশন স্পীডকে অনেক সময় ব্যান্ডউইডথও বলা হয়। 
- এই ব্যান্ডউইডথ সাধারণত Bit Per Second (bps) এ হিসাব করা হয়। 
অর্থাৎ, প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ বিট ট্রান্সমিট করা হয় তাকে bps বা ব্যান্ডউইডথ বলে। 
- এই ডাটা ট্রান্সফার গতির উপর ভিত্তি করে ব্যান্ডউইডথকে তিনভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। ন্যারো ব্যান্ড (Narrow Band): 
- ন্যারো ব্যান্ড সাধারণত 45 থেকে 300 bps পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
- এ ডাটা স্থানান্তর গতিকে ন্যারো ব্যান্ড বা Sub Voice Band বলে। 
- ধীর গতি ডাটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এই ব্যান্ড ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- টেলিগ্রাফিতে ন্যারো ব্যান্ডকে ব্যবহার করা হয়। 

২। ভয়েস ব্যান্ড (Voice Band): 
- এই ব্যান্ডের ডাটা গতি 9600 bps পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
- এটি সাধারণত টেলিফোনে বেশি ব্যবহার করা হয়। 
- তবে কম্পিউটার ডাটা কমিউনিকেশনে কম্পিউটার থেকে প্রিন্টারে ডাটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কিংবা কার্ড রিডার থেকে কম্পিউটারে ডাটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এই ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার করা হয়। 

৩। ব্রড ব্যান্ড (Broad Band): 
- ব্রড ব্যান্ড উচ্চগতি সম্পন্ন ডাটা স্থানান্তর ব্যান্ডউইডথ যার গতি কমপক্ষে এক মেগা বিট পার সেকেন্ড (Mbps) হতে অত্যন্ত উচ্চ গতি পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
- সাধারণত কো-এক্সিয়াল ক্যাবল ও অপটিক্যাল ফাইবারে ডাটা স্থানান্তরে ব্রড ব্যান্ড ডাটা ট্রান্সমিশন ব্যবহার করা হয়। 
- তাছাড়া স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন এবং মাইক্রোওয়েভ কমিউনিকেশনেও এই ব্যান্ড ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
কোন টপোলজিতে একাধিক কম্পিউটার একটি মূল ক্যাবলের সাথে সংযুক্ত থাকে? 
  1. রিং টপোলজি
  2. বাস টপোলজি
  3. মেস টপোলজি
  4. স্টার টপোলজি
ব্যাখ্যা
নেটওয়ার্ক টপোলজি: 
- দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে ক্যাবল, হাব বা সুইচ ইত্যাদি দ্বারা নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত করার জন্য যুক্তি নির্ভর পথের ডিজাইন এবং ব্যবস্থাপনাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলা হয়। 
অর্থাৎ, যে ব্যবস্থায় কম্পিউটারসমূহ বা নোডসমূহ পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে, তাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলে। 
- ব্যবহারের ক্ষেত্র, তথ্য আদান প্রদানের গতি ও নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণের ভিত্তিতে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলি বিভিন্ন ভাবে সংযুক্ত থাকে। 
- নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য টপোলজি হচ্ছে- 
১। বাস টপোলজি (Bus Topology): 
- যে টপোলজিতে একটি মূল ক্যাবলের সাথে সব কয়েকটি ওয়ার্কস্টেশন বা কম্পিউটার সংযুক্ত থাকে তাকে বাস টপোলজি বলে। একে অনেক সময় লিনিয়ার বাস টপোলজিও বলা হয়। 
- এখানে মূল ক্যাবল বা তারটিকে বলা হয় ব্যাকবোন (Backbone)। মূল ক্যাবলের উভয় প্রান্তে টারমিনেটর ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়। 
- এখানে কোন কেন্দ্রিয় কম্পিউটার থাকে না। প্রতিটি কম্পিউটার বা ওয়ার্কস্টেশন মূল বাসের সাথে তারের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। 

২। রিং টপোলজি (Ring Topoplogy): 
- এ ধরনের সংগঠনে কম্পিউটারগুলো পরস্পর বৃত্তাকারে যুক্ত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। প্রতিটি কম্পিউটার দুই দিকের দুইটি কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত থাকে। 
- কম্পিউটারগুলোকে এমনভাবে সংযোগ দেয়া হয় যেন রিংয়ের সর্বশেষ কম্পিউটারটি প্রথমটির সাথে যুক্ত থাকে। 
- এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে পাঠানো ডাটা বা সংকেত বৃত্তাকার পথে (একমুখী প্রবাহ) কম্পিউটারগুলোর মধ্যে ঘুরতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না নির্দিষ্ট কম্পিউটার ডাটা গ্রহণ করে। 
- রিং টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটারের গুরুত্ব সমান। প্রত্যেকটি কম্পিউটার স্বাধীন। 

৩। স্টার টপোলজি (Star Topology): 
- এ ধরনের সংগঠনে একটি কেন্দ্রিয় ডিভাইস এর সাথে অন্যান্য কম্পিউটারগুলো সংযুক্ত থাকে। কেন্দ্রিয় ডিভাইসটি হতে পারে একটি হাব বা সুইচ। 
- হাব বা সুইচ এর মাধ্যমে কম্পিউটারগুলো পরস্পরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। ডাটা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে হাব বা সুইচ। 
- এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটার এ ডাটা স্থানান্তরের জন্য প্রথমে কেন্দ্রিয় ডিভাইসে প্রেরণ করতে হয়। এরপর কেন্দ্রিয় ডিভাইস ডাটা গ্রহণকারী কম্পিউটারে ডাটা পাঠিয়ে দেয়। 

৪। মেস টপোলজি (Fully Inter-connected Topology): 
- মেশ টপোলজির প্রত্যেকটি ওয়ার্কস্টেশন বা কম্পিউটারের একাধিক সংযোগ ব্যবস্থা থাকে এবং প্রতিটি কম্পিউটার আলাদা লিংক ব্যবস্থাধীন থাকে। 
- এ ব্যবস্থায় প্রতিটি কম্পিউটার সরাসরি যে কোন কম্পিউটারে ডাটা আদান-প্রদান করতে পারে। 
- এ ধরনের নেটওয়ার্কভূক্ত কম্পিউটারগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংযোগকে পয়েন্ট টু পয়েন্ট লিংক বলে। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১.
কম্পিউটারে টেম্পোরারি ফাইল বেশি হলে কী ঘটে?
  1. হার্ডড্রাইভ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়
  2. ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়
  3. কম্পিউটারের কাজের গতি কমে যায়
  4. কম্পিউটারের কাজের গতি বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
কম্পিউটার রক্ষণাবেক্ষণ: 
- পার্সোনাল কম্পিউটার বা ডেস্কটপ, ল্যাপটপসহ সকল ধরনের কম্পিউটার এর সঠিক ব্যবহার, পরিচর্যা এবং ট্রাবলশুটিং করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার ইন্সটল এবং আন-ইন্সটল করাকে কম্পিউটার রক্ষণাবেক্ষণ বলা হয়। 
- কম্পিউটারকে দীর্ঘ দিন কর্মক্ষম রাখতে এবং নতুন নতুন কাজে ব্যবহার উপযোগী করতে কম্পিউটারের রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজন। 
- নতুন নতুন সফটওয়্যার ইন্সটল করে কম্পিউটারের উপযোগিতা বাড়ানো যায়। 
- কিন্তু কিছুদিন ব্যবহার করার পরে এগুলোর কাজের গতি কমে যায়, তাই কম্পিউটারের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরী। 

- কম্পিউটার যেহেতু সফটওয়্যার চালিত যন্ত্র তাই সফটওয়্যার হালনাগাদ ও আপডেটের মাধ্যমে কম্পিউটারকে সংরক্ষণ ও কাজের গতি ঠিক রাখা যায়।
যেমন-
১। অপারেটিং সিস্টেম আপডেট: উইন্ডোজসহ অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেম নিয়মিত আপডেট করলে পারফরম্যান্স ভালো থাকে।
২। রেজিস্ট্রি ক্লিন আপ: মাঝে মাঝে রেজিস্ট্রি ক্লিন আপ করলে কম্পিউটার সচল ও ত্রুটিমুক্ত থাকে।
৩। টেম্পোরারি ফাইল মুছে ফেলা: কম্পিউটার ব্যবহার করার সময় অনেক টেম্পোরারি ফাইল তৈরি হয়। অনেক দিন টেম্পোরারি ফাইলগুলো না মুছে দিলে হার্ডডিস্কের অনেক জায়গা দখল করে থাকে এবং এই অস্থায়ী ফাইলগুলো কাজের গতি কমিয়ে দেয়। সেজন্য উচিত, সফটওয়্যারের সাহায্য নিয়ে এই অস্থায়ী ফাইলগুলো ডিলিট করা বা মুছে দেয়া। এতে হার্ডডিস্কের বেশ খানিকটা জায়গা খালি হবে আবার কম্পিউটার এর কাজের গতিও অনেক বেড়ে যাবে। 
৪। ব্রাউজার ক্যাশ পরিষ্কার: ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে জমে থাকা ক্যাশ ও কুকিজ কম্পিউটারের গতি কমাতে পারে, তাই নিয়মিত পরিষ্কার করা দরকার।
৫। এন্টিভাইরাস ব্যবহার: ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার থেকে রক্ষা পেতে এন্টিভাইরাস ও এন্টিস্পাইওয়্যার ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
কোনটি বায়োমেট্রিক্সের দেহের গঠন ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের পদ্ধতি?
  1. ফিংগার প্রিন্ট
  2. ভয়েস রিকগনিশন
  3. টাইপিং কীস্ট্রোক
  4. সিগনেচার ভেরিফিকেশন
ব্যাখ্যা
বায়োমেট্রিক্স: 
- গ্রীক শব্দ metron অর্থ পরিমাপ এবং "bio" অর্থ জীবন, এ দু'টি শব্দ থেকে Biometrics শব্দের উৎপত্তি। 
- বায়োমেট্রিক্স হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে কোন ব্যক্তির দেহের গঠন এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে তাকে অদ্বিতীয়ভাবে চিহ্নিত বা সনাক্ত করা যায়। 
- কম্পিউটার বিজ্ঞানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিকে ব্যক্তি সনাক্তকরণ এবং কোন সিস্টেমে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- দেহের গঠন এবং আচরণগহত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। 
যথা- 
ক. দেহের গঠন ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের বায়োমেট্রিক পদ্ধতি:
১. ফিংগার প্রিন্ট (Fingerprint)
২. হ্যান্ড জিওমিট্রি (Hand geometry), 
৩. আইরিস এবং রেটিনা স্ক্যান (Iris and retina scan), 
৪. ফেইস রিকোগনিশন (Face recognition) এবং 
৫. ডিএনএ টেস্ট (DNA test) । 

খ. আচরণগত বৈশিষ্ট্যের বায়োমেট্রিক পদ্ধতি: 
১. ভয়েস রিকগনিশন (Voice recognition), 
২. সিগনেচার ভেরিফিকেশন (Signature verification) এবং 
৩. টাইপিং কীস্ট্রোক (Keystroke verification) । 

- একটি বায়োমেট্রিক ডিভাইস কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলোকে ডিজিটাল কোডে রূপান্তর করে এবং এই কোডকে কম্পিউটারে সংরক্ষিত কোডের সাথে তুলনা করে। 
- যদি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত কোড কম্পিউটারে সংরক্ষিত কোডের সাথে মিলে যায় তবে তাকে ডিভাইস ব্যবহারের অনুমতি দেয় বা তাকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। 
- আইন শৃঙ্খলা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে এ প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। 
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন বিভাগেও বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
ফ্যাক্সের পুরো নাম কী? 
  1. ফাইল এক্সচেঞ্জ
  2. ফ্যাক্সিমিল
  3. ফাস্ট অ্যাক্সেস
  4. ফাইবার অ্যাক্সেস
ব্যাখ্যা
ফ্যাক্স (Fax): 
- বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার বেইন ১৮৪২ সালে ফ্যাক্স মেশিন আবিস্কার করেন। 
- ফ্যাক্সের পুরো নাম হলো ফ্যাক্সিমিল। 
- কোনো ডকুমেন্টকে হুবহু কপি করে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রাপকের কাছে পাঠাতে ফ্যাক্স ব্যবহার করা হয়। 
- প্রেরক যে ডকুমেন্ট যেমন দলিল, সার্টিফিকেট, ছবি, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি প্রাপকের কাছে পাঠাতে চান সে ডকুমেন্ট তার ফ্যাক্স মেশিনের সাহায্যে হুবহু কপি তৎক্ষণাৎ প্রাপকের ফ্যাক্স মেশিনে পাঠাতে পারেন এবং প্রাপক তার মেশিন থেকে সেই ডকুমেন্টের প্রিন্ট কপি পেয়ে যান। 

- ফ্যাক্স মেশিন হলো মূলতঃ টেলিফোন, স্ক্যানার, প্রিন্টার ও মোডেম সম্মিলিত একটি যন্ত্র। 
- প্রেরক কোনো ডকুমেন্ট পাঠাতে চাইলে তিনি প্রথমে টোলফোনে ডায়াল করে প্রাপকের ফ্যাক্স মেশিনের সাথে টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করেন। 
- তারপর তাঁর ডকুমেন্টটি ফ্যাক্স মেশিনে রাখলে ডকুমেন্টের যাবতীয় লেখা বা ছবি স্ক্যানারের মাধ্যমে ডিজিটাল ছবিতে রূপান্তর হয়। 
- সেই ছবি মোডেমের সাহায্যে এনালগ সংকেতে রূপান্তর করে টেলিফোন লাইনের সাহায্যে প্রাপকের মোডেমে পাঠায়। 
- প্রাপকের মোডেম সেই এনালগ সংকেতকে পুনরায় ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করে ফ্যাক্স মেশিনের প্রিন্টারে পাঠায় এবং প্রিন্টারে সাহায্যে প্রেরকের পাঠানো ডকুমেন্টের হুবহু কপি প্রাপক পেয়ে যান। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
একটি ডাটাবেজ টেবিলের সারিগুলো কী নামে পরিচিত?
  1. ফিল্ড
  2. রেকর্ড
  3. কুয়েরি
  4. মডিউল
ব্যাখ্যা
ডাটা: 
- ডাটা শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Datumn এর বহুবচন, Datumn শব্দটির অর্থ হল তথ্যের উপাদান। 
- প্রক্রিয়াকরণ করে তথ্যে পরিণত করার জন্য কম্পিউটারে ডাটা ইনপুট নেয়া হয়, তাই প্রাথমিকভাবে সংগৃহীত অগোছালো তথ্যকে ডাটা বলা হয়। 
যেমন- কোন একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নাম, পদবি, মুলবেতন ইত্যাদি হচ্ছে এক একটি ডাটা। 

ডাটাবেজ: 
- ডাটা শব্দের অর্থ হচ্ছে উপাত্ত এবং বেজ শব্দের অর্থ সমাবেশ। 
- পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এক বা একাধিক ডাটা টেবিল বা ফাইলের সমষ্টি হলো ডাটাবেজ। 
- একটি ডাটাবেজের এক বা একাধিক টেবিল, কুয়েরি, ফর্ম, রিপোর্ট মডিউল ইত্যাদি ফাইল থাকতে পারে। 
- ডাটাবেজকে তথ্যভাণ্ডার বলা হয়, চারপাশে অজস্র তথ্য ও উপাত্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- তবে এ সমস্ত তথ্যের সমাবেশকে ডাটাবেজ বলা যাবে না, কারণ ডাটাবেজ হল সেই সকল ডাটা বা তথ্যের সমষ্টি যাদের পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক আছে।
যেমন- ভোটার তালিকায় সংরক্ষিত ভোটারদের তথ্যসমূহ, কোন কোম্পানির কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ফাইলের রেকর্ডসমূহ ইত্যাদি। 

ডাটাবেজের বিভিন্ন উপাদান:
- ডাটাবেজের অনেকগুলো উপাদান আছে। 
যেমন- ডাটা, রেকর্ড, ফিল্ড, ডাটা টেবিল ইত্যাদি। 
- সমজাতীয় অনেকগুলো ডাটাকে একটি টেবিলে রাখা হয়। 
- একটি টেবিলে অনেকগুলো কলাম ও সারি থাকে। 
- প্রত্যেটি কলামের একটি করে শিরোনাম থাকে। 
- শিরোনামগুলো ফিল্ড নামে পরিচিত। 
- আর পাশাপাশি কয়েকটি কলামের সমন্বয়ে গঠিত হয় একটি সারি। 
- প্রতিটি সারিকে বলা হয় রেকর্ড। 

ডাটাবেজ ব্যবহারের সুবিধা: 
- ডাটাবেজ ব্যবহারের সুবিধা অনেক। 
যেমন: 
১। অতি দ্রুত ডাটা উপস্থাপন করা যায়। 
২। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ডাটা পরিচালনা করা যায়। 
৩। সংরক্ষিত ডাটাকে পরবর্তীতে আপডেট করা যায়। 
৪। অল্প সময়ে ডাটার বিন্যাস করা যায়। 
৫। বিভিন্ন শিল্প কারখানায় পণ্যের উৎপাদন, চাহিদা, পরিমান, মজুদ, লেনদেনের হিসাব ইত্যাদি বিশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংরক্ষণে ডাটাবেজ ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
কোনটি হাফ-ডুপ্লেক্স (Half-Duplex) মোডের উদাহরণ?
  1. রেডিও
  2. ইন্টারনেট
  3. টেলিভিশন
  4. ওয়াকিটকি
ব্যাখ্যা
ডাটা ট্রান্সমিশন মোড: 
- ডাটা কমিউনিকেশন ব্যবস্থায় উৎস থেকে গন্তব্যে ডাটা পাঠানো হয়। 
- উৎস থেকে গন্তব্যে ডাটা ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে ডাটা প্রবাহের দিককে বিবেচনা করে ডাটা পাঠানোর পদ্ধতিকে ডাটা ট্রান্সমিশন মোড বলা হয়। 
- ডাটা প্রবাহের দিকের উপর ভিত্তি করে ডাটা ট্রান্সমিশন মোডকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। সিমপ্লেক্স (Simplex): 
- শুধুমাত্র একদিকে ডাটা প্রেরণের মোড বা পদ্ধতিকে বলা হয় সিমপ্লেক্স। 
- এক্ষেত্রে গ্রাহক যন্ত্রটি কখনোই প্রেরক যন্ত্রটিতে ডাটা পাঠাতে পারে না। 
উদাহরণ- রেডিও, টিভি। 

২। হাফ-ডুপ্লেক্স (Half-Duplex): 
- হাফ-ডুপ্লেক্স পদ্ধতিতে যে কোন প্রান্ত ডাটা গ্রহণ অথবা প্রেরণ করতে পারে কিন্তু গ্রহণ এবং প্রেরণ একই সাথে করতে পারে না। 
উদাহরণ- ওয়াকিটকি। 

৩। ফুল-ডুপ্লেক্স (Full-Duplex): 
- এক্ষেত্রে একই সময়ে উভয় দিক হতে ডাটা প্ররণের ব্যবস্থা থাকে। 
- যে কোন প্রান্ত প্রয়োজনে ডাটা প্রেরণ করার সময় ডাটা গ্রহণ অথবা ডাটা গ্রহণের সময় প্রেরণও করতে পারবে। 
উদাহরণ- টেলিফোন, মোবাইল। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত সিস্টেমটির নাম হলো-
  1. পাসওয়ার্ড
  2. ফার্মওয়‍্যার
  3. হার্ডওয়‍্যার
  4. সফটওয়‍্যার
ব্যাখ্যা
পাসওয়ার্ড: 
- গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, উপাত্ত ও সফটওয়্যার নিরাপত্তায় এক ধরনের তালা ব্যবহার করা হয়, আর এই সিস্টেমের নামই হলো পাসওয়ার্ড। 
- প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রসার যত বাড়ছে, নিরাপত্তার বিষয়টি ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। 
- আইসিটি বিষয়ক যন্ত্রপাতি যেমন কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কিংবা মোবাইল ফোনগুলো সফটওয়‍্যার দ্বারা পরিচালিত হয়। 
- সকল তথ্য ও সফটওয়‍্যারগুলো রক্ষা করতে পাসওয়ার্ড এর কোন বিকল্প নাই। 
- পাসওয়ার্ড দেওয়া থাকলে যে কেউ ইচ্ছে করলেই তথ্য চুরি কিংবা কোন ধরনের ক্ষতি করতে পারে না। তবে পাসওয়ার্ড তৈরির সময় আমাদের অনেক সতর্ক হতে হবে। 

- বেশির ভাগ মানুষ পাসওয়ার্ড হিসেবে সহজে মনে রাখা যায় এমন বর্ণ ব্যবহার করে। 
যেমন- ১২৩৪৫৬ বা ৬৫৪৩২১ বা abcdef ইত্যাদি। ফলে পাসওয়ার্ড সহজে ধরে ফেলা যায়। 
- সার্ভার, কম্পিউটার বা কোন আইসিটি যন্ত্রে রক্ষিত তথ্য ও উপাত্তের নিরাপত্তা বিধানের জন্য পাসওয়ার্ড অবশ্যই মৌলিক বা unique হতে হবে, কারণ পাসওয়ার্ড অনন্য বা unique না হলে অনেক সমস্যা হতে পারে। 
যেমন- 
১। আইসিটি যন্ত্রগুলো ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। 
২। হ্যাকাররা সহজেই তথ্য চুরি করতে পারে। 
৩। যন্ত্রপাতির রক্ষিত তথ্য নষ্ট করার সুযোগ তৈরি হয়। 

- মৌলিক বা unique পাসওয়ার্ড তৈরি একটি সৃজনশীল কাজ। 
- কিছু নিয়ম মেনে পাসওয়ার্ড তৈরি করলেই তথ্য চুরির ভয় থাকে না। 
যেমন- 
• নিজের বা পরিবারের কারো নাম বা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার না করা। 
• সংখ্যা, চিহ্ন ও অক্ষর ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছোটো হাতের ও বড় হাতের দুই ধরনের অক্ষর মিশিয়ে নেয়া ভালো। 
• পাসওয়ার্ডটি বড় আকারের করা। 
• পাসওয়ার্ড মনে রাখার জন্য নিজের পছন্দমত সংকেত ব্যবহার করা। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
আরপানেট সিস্টেম ব্যবহার করে কোন ব্যক্তি প্রথম ই-মেইল সিস্টেম চালু করেন?
  1. অ্যাডা লাভলেস
  2. চার্লস ব্যাবেজ
  3. স্টিভ জবস
  4. রেমন্ড স্যামুয়েল টমলিনসন
ব্যাখ্যা
রেমন্ড স্যামুয়েল টমলিনসন: 
- ষাট-সত্তরের দশকে ইন্টারনেট প্রটোকল ব্যবহার করে আরপানেটের (ARPANET) জন্ম হয়। 
- তখন থেকে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কম্পিউটারসমূহের মধ্যে আন্তঃসংযোগ বিকশিত হতে শুরু করে। 
- এর ফলেই পরবর্তীতে তৈরি হয় ইন্টারনেট। 
- ১৯৭১ সালে আমেরিকান প্রোগ্রামার রেমন্ড স্যামুয়েল টমলিনসন আরপানেট (ARPANET) সিস্টেম ব্যবহার করে প্রথম ই-মেইল সিস্টেম চালু করেন। 
- এজন্য তিনি @ চিহ্ন ব্যবহার করেন যা এখন পর্যন্ত ই-মেইল অ্যাড্রেসে ব্যবহার হয়ে আসছে। 

স্টিভ জবস: 
- স্টিভ জবস যুক্তরাষ্ট্রের একজন উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবক। 
- তাঁকে পার্সোনাল কম্পিউটার বিপ্লবের পথিকৃৎ বলা হয়। 
- তিনি ও তাঁর দুই বন্ধু স্টিভওজনিয়াক এবং রোনাল্ড ওয়েন ১৯৭৬ সালের ১লা এপ্রিল অ্যাপল কম্পিউটার নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন। 
- বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। 
- অ্যাপলের হাতেই পার্সোনাল কম্পিউটারের নানান পর্যায় বিকশিত হয়েছে। 

চার্লস ব্যাবেজ: 
- প্রযুক্তির ইতিহাসের অন্যতম এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্বের নাম চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage)। 
- তিনি ছিলেন একাধারে গণিতবিদ, দার্শনিক, আবিষ্কারক এবং যন্ত্র প্রকৌশলী। 
- তাঁকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়। 
- তিনি ডিফারেন্স ইঞ্জিন ও এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন নামের দুইটি গণনা যন্ত্র তৈরি করেন। 

অ্যাডা লাভলেস: 
- গণনার কাজটি কিভাবে আরো কার্যকর করা যায় সেটি নিয়ে ভেবেছিলেন কবি লর্ড বায়রনের কণ্যা অ্যাডা লাভলেস (Ada Lovelace)। 
- মায়ের কারণে অ্যাডা ছোটবেলা থেকে বিজ্ঞান ও গণিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। 
- ১৮৩৩ সালে চার্লস ব্যাবেজের সাথে তার পরিচয় হয়। 
- তিনি ব্যাবেজের এনালিটিক্যাল ইঞ্জিনকে কাজে লাগানোর জন্য "প্রোগ্রামিং" এর ধারণা দেন। এ কারণে অ্যাডা লাভলেসকে "প্রোগ্রামিং" ধারণার প্রবর্তক হিসেবে সম্মানিত করা হয়। 
- ১৮৪২ সালে ব্যাবেজ তুরিন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর ইঞ্জিন সম্পর্কে বক্তব্য দেন। 
- অ্যাডা সে সময় ব্যাবেজের সহায়তায় পুরো বক্তব্যে ইঞ্জিনের কাজের ধারাটি বর্ণনা করেন। কাজের ধারা বর্ণনার সময় তিনি এটি ধাপ অনুসারে ক্রমাঙ্কিত করেন। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
ই-মেইল ঠিকানায় কোন অংশটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের নাম নির্দেশ করে? 
  1. ব্যবহারকারীর নাম
  2. @ চিহ্নের আগের অংশ
  3. @ চিহ্নের পরের অংশ
  4. ডট (.) চিহ্নের পরের অংশ
ব্যাখ্যা
ই-মেইল (E-mail): 
- ই-মেইল বা ইলেকট্রনিক মেইল আজকাল বহুল ব্যবহৃত একটি যোগাযোগ মাধ্যম। 
- কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত এক কম্পিউটারের সাথে অন্য কম্পিউটারের সংযোগ স্থাপন করে যে কোনো ডকুমেন্ট, চিঠি-পত্র, চিত্র বা গ্রাফিক্স এবং যে কোনো তথ্য আদান প্রদান করা যায়। 
- টেলিফোন লাইন ও মোডেম ব্যবহার করে এ সংযোগ স্থাপন করা যায়। 
- প্রেরণকৃত তথ্য প্রাপক গ্রহণ না করা পর্যন্ত নেটওয়ার্কের একটি স্টোরেজে (সার্ভার) জমা থাকে। 
- বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে ফ্রি ই-মেইল পরিষেবা প্রদান করে। 
- ব্যবহারকারীরা এসব সাইটে বিনামূল্যে ই-মেইল একাউন্ট খুলতে পারেন। 
- একাউন্ট তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সাইন আপ বা ক্রিয়েট একাউন্ট অপশনে গিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পূরণ করতে হয়। 
- একাউন্ট তৈরি হলে সেটির মাধ্যমে ই-মেইল আদান-প্রদান করা যায়। 
- ই-মেইল ঠিকানায় সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ডোমেইন থাকে, যেমন @gmail.com, @yahoo.com ইত্যাদি। 
- প্রতিটি একাউন্টের জন্য পৃথক পাসওয়ার্ড নির্ধারিত থাকে। 
- ওয়েবসাইটের ডোমেইন এক্সটেনশন থেকে তার ধরন চেনা যায়, যেমন .com (কমার্শিয়াল), .org (সংস্থা), .net (নেটওয়ার্ক), এবং .edu (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
ক্লায়েন্ট-টু-ক্লায়েন্ট সংযোগের জন্য কোন মোডে ওয়াই-ফাই ডিভাইসগুলোকে সংযুক্ত করা যায়?
  1. রাউটার মোড
  2. সিস্টেম মোড
  3. নেটওয়ার্ক মোড
  4. এড-হক মোড
ব্যাখ্যা
ওয়াই-ফাই (Wi-Fi): 
- বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিগুলোকে তারবিহীন উপায়ে সংযুক্ত করার একটি কৌশল হলো ওয়াই-ফাই (Wi-Fi)। 
অর্থাৎ, ওয়াই-ফাই হলো জনপ্রিয় একটি ওয়‍্যারলেস নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি যা তারবিহীন উচ্চ গতির ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক সংযোগসমূহ সরবরাহের জন্য বেতার তরঙ্গকে ব্যবহার করে থাকে। 
- অনেকেই ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) কে "wireless fidelity' এর সংক্ষিপ্তরূপ মনে করে থাকেন যা আসলে ভুল। 
- এটি 'ওয়াই-ফাই অ্যালায়েন্স (Wi-Fi Alliance)' এর একটি ট্রেডমার্ক এবং IEEE 802.11 স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহারকারী পণ্যসমূহের একটি ব্র্যান্ড নাম। 

ওয়াই-ফাই এর বৈশিষ্ট্য: 
- ওয়াই-ফাই এর কভারেজ সীমিত পরিসর থেকে নিয়ে বিস্তৃত পরিসরেও পাওয়া সম্ভব। 
- ওয়াই-ফাই আওতার মধ্যে সকল ডিভাইসগুলোতে তারবিহীন উপায়ে কিংবা তারের মাধ্যমে ইন্টারনেট অ্যাকসেস ও ইন্টারনেটওয়ার্কিং সরবরাহ করে। 
- আইফোন, অ্যানড্রয়েড, বাদা এবং সিম্বিয়ান অপারেটিং সিস্টেম চালিত ফোনগুলো ওয়্যারলেস সংযোগ তৈরি করতে পারে। 
- ক্লায়েন্ট-টু-ক্লায়েন্ট সংযোগগুলোর জন্য রাউটার ছাড়াও এড-হক মোডে ওয়াই-ফাই ডিভাইসগুলোকে সংযুক্ত করা যায়। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
ইন্টারনেটের সকল ডাটা কোথায় সংরক্ষিত থাকে? 
  1. সার্ভারে
  2. ইউজার ইন্টারফেসে
  3. ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত কম্পিউটারে
  4. ক্লায়েন্ট সফটওয়্যারে
ব্যাখ্যা
ইন্টারনেট: 
- ক্লায়েন্ট/সার্ভার প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে ইন্টারনেট গড়ে উঠেছে। 
- ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ক্লায়েন্ট এ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে তাদের কার্য সম্পাদন করে। 
- সকল ডাটা, ই-মেইল ম্যাসেজ, ডাটাবেজ এবং ওয়েবসাইট এসবই সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে। 
- ব্যবহারকারী তার প্রয়োজন অনুযায়ী তার নিজ কম্পিউটার থেকে সার্ভারের সাথে সংযোগ ঘটিয়ে তথ্যের আদান-প্রদান করে। 
- ইন্টারনেটের যে প্রধান ক্ষমতাগুলো নিয়ে প্রায়শই আলোচনার ঝড় ওঠে সেগুলো হলো: ই-মেইল, ইউজনেট, নিউজগ্রুপ, লিস্টসার্ভ, চ্যাটিং, টেনেট, FTP (File Transfer Protocol), গোফার, অরচি (Archie), ভেরনিকা (veronica), WAIS এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW)। 
- তথ্য অনুসন্ধানের জন্য এগুলোই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। 

ইন্টারনেট যেভাবে কাজ করে: 
১. ইন্টারনেটের সকল কম্পিউটার কমান্ড এবং ডাটা আদান-প্রদানের জন্য TCP/IP (Transmission Control Protocol/Internet Protocol) প্রটোকল ব্যবহার করে। 
২. একটি কম্পিউটার প্রথমে স্থানীয় নেটওয়ার্কের সাথে সংযোজিত হয়, অত:পর ইন্টারনেট ব্যাকবোনের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সংক্ষম হয়। 
৩. একটি কম্পিউটার সরাসরি ইন্টারনেটের সাথে সংযোজিত হতে পারে, অথবা আরেকটি কম্পিউটারের রিমোট টার্মিনালের সাথে অথবা নেটওয়ার্কের গেটওয়ের মাধ্যমে সংযোজিত হতে পারে। 
৪. ইন্টারনেটের সকল কম্পিউটারেরই একটি বিশেষায়িত সংখ্যাত্মক IP ঠিকানা থাকে এবং প্রায় সকলের একটি ঠিকানা থাকে যা ডোমেইন নেম (Domain Name) সিস্টেম ব্যবহার করে। 
৫. বেশিরভাগ ইন্টারনেট প্রোগ্রামই ক্লায়েন্ট-সার্ভার মডেল ব্যবহার করে; ব্যবহারকারী ক্লায়েন্ট প্রোগ্রাম সচল করে সার্ভারের কাছ থেকে ডাটা আদান-প্রদান করে। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
কোন টপোলজিতে কয়েকটি টপোলজির সংমিশ্রণ হয়?
  1. ট্রি টপোলজি
  2. বাস টপোলজি
  3. হাইব্রিড টপোলজি
  4. স্টার টপোলজি
ব্যাখ্যা
নেটওয়ার্ক টপোলজি: 
- দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে ক্যাবল, হাব বা সুইচ ইত্যাদি দ্বারা নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত করার জন্য যুক্তি নির্ভর পথের ডিজাইন এবং ব্যবস্থাপনাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলা হয়। 
অর্থাৎ, যে ব্যবস্থায় কম্পিউটারসমূহ বা নোডসমূহ পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে, তাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলে। 
- ব্যবহারের ক্ষেত্র, তথ্য আদান প্রদানের গতি ও নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণের ভিত্তিতে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলি বিভিন্ন ভাবে সংযুক্ত থাকে। 
- নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য টপোলজি হচ্ছে- 
১। বাস টপোলজি (Bus Topology): 
- যে টপোলজিতে একটি মূল ক্যাবলের সাথে সব কয়েকটি ওয়ার্কস্টেশন বা কম্পিউটার সংযুক্ত থাকে তাকে বাস টপোলজি বলে। 
- একে অনেক সময় লিনিয়ার বাস টপোলজিও বলা হয়। 
- এখানে মূল ক্যাবল বা তারটিকে বলা হয় ব্যাকবোন (Backbone)। 
- মূল ক্যাবলের উভয় প্রান্তে টারমিনেটর ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়। 
- এখানে কোন কেন্দ্রিয় কম্পিউটার থাকে না। 
- প্রতিটি কম্পিউটার বা ওয়ার্কস্টেশন মূল বাসের সাথে তারের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। 

২। হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid Topology): 
- এ ধরনের টপোলজিতে কয়েক প্রকার টপোলজির সংমিশ্রণ দেখা যায় তাই একে হাইব্রিড টপোলজি বলে। 
- সব ধরনের সংগঠনে কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। এ জন্য হাইব্রিড টপোলজি কয়েক ধরনের টপোলজির সমন্বয়ে তৈরি হয়। 

৩। স্টার টপোলজি (Star Topology): 
- এ ধরনের সংগঠনে একটি কেন্দ্রিয় ডিভাইস এর সাথে অন্যান্য কম্পিউটারগুলো সংযুক্ত থাকে। কেন্দ্রিয় ডিভাইসটি হতে পারে একটি হাব বা সুইচ। 
- হাব বা সুইচ এর মাধ্যমে কম্পিউটারগুলো পরস্পরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। ডাটা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে হাব বা সুইচ। 
- এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটার এ ডাটা স্থানান্তরের জন্য প্রথমে কেন্দ্রিয় ডিভাইসে প্রেরণ করতে হয়। এরপর কেন্দ্রিয় ডিভাইস ডাটা গ্রহণকারী কম্পিউটারে ডাটা পাঠিয়ে দেয়। 

৪। ট্রি টপোলজি (Tree Topolopy): 
- ট্রি টপোলজি সংগঠনে ওয়ার্ক স্টেশন বা কম্পিউটারগুলো বিভিন্ন স্তরে সংযুক্ত থাকে। বিভিন্ন স্তরের কম্পিউটারগুলোকে হাবের মাধ্যমে একটির সঙ্গে অন্যটি সংযুক্ত থাকে। 
- প্রথম স্তরের কম্পিউটারকে দ্বিতীয় স্তরের কম্পিউটারের হোস্ট বলে। আবার দ্বিতীয় স্তরের কম্পিউটারগুলোকে তৃতীয় স্তরের কম্পিউটারের হোস্ট বলে। মূল হোস্ট অবশ্যই শক্তিশালী কম্পিউটার হতে হয়। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
কোন কোম্পানির রোবট "আসিমো" নামে পরিচিত? 
  1. সনি কর্পোরেশন
  2. মাইক্রোসফট কোম্পানি
  3. মুরাতা কোম্পানি
  4. হোন্ডা কোম্পানি
ব্যাখ্যা
রোবটিক্স: 
- কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত যে মেশিন মানুষের মতো কাজ করে তাকে বলা হয় রোবট। 
- আর প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা, গঠন ও কাজ নিয়ে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়। 
- এই প্রযুক্তির মাধ্যমে রোবটের দর্শন ক্ষমতা, স্পর্শ ক্ষমতা, হাত ও পায়ের যথাযথ পরিচালন, চলাচলের ক্ষমতা, শারীরিক মুভমেন্ট ইত্যাদি উদ্ভব হয়েছে। 
- রোবট অত্যন্ত দ্রুত, ক্লান্তিহীন ও নিখুঁত কর্মক্ষম একটি যন্ত্র। 
- রোবটের সাহায্যে যে কোন প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করা যায়। তবে রোবট তৈরি করা ব্যয়বহুল ও শ্রমসাধ্য ব্যাপার।
- জাপানের মুরাতা কোম্পানির "মুরাতা বয়", হোন্ডা কোম্পানির "আসিমো”, সনি কর্পোরেশনের "আইবো” ইত্যাদি রোবট প্রায় মানুষের মতই বিশেষ কোন কাজ করতে পারে। 

রোবটের ব্যবহার: 
- বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে রোবটকে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
যেমন- 
• শিল্পের বিপজ্জনক ও কঠিন কাজ করা। 
• বৃহৎ মেশিনের কষ্টদায়ক যন্ত্রপাতির সংযোজন। 
• খনি হতে বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ উত্তোলন। 
• মহাকাশ গবেষণায় রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে। 
• মহাশূন্যের ছবি সংগ্রহ। 
• ক্ষতিকর বিস্ফোরক সনাক্তকরণে। 
• গৃহস্থালীর কাজে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে। 
• গভীর অরণ্য কিংবা বহুদূরত্বে শত্রুর উপস্থিতির প্রমাণে। 
• শিল্প কারখানায় দ্রুত উৎপাদন কার্য হাসিলে রোবটের ব্যবহার হচ্ছে ইত্যাদি। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩.
ন্যানোসেকেন্ড কী?
  1. এক সেকেন্ডের এক কোটি ভাগের একভাগ
  2. এক সেকেন্ডের একশত ভাগের একভাগ
  3. এক সেকেন্ডের একশত কোটি ভাগের একভাগ
  4. এক সেকেন্ডের এক হাজার ভাগের একভাগ
ব্যাখ্যা
কম্পিউটার: 
- Computer শব্দটির আভিধানিক অর্থ গণনাযন্ত্র বা হিসাবকারী যন্ত্র। 
- পূর্বে কম্পিউটার দিয়ে শুধুমাত্র হিসাব-নিকাশের কাজই করা হতো। কিন্তু বর্তমান অত্যাধুনিক কম্পিউটার দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে জটিল হিসাব-নিকাশের কাজ নির্ভুলভাবে করা ছাড়াও বহু রকমের কাজ করা যায়। 
- কম্পিউটার সেকেন্ডের মধ্যে কোটি কোটি হিসাব-নিকাশ করতে পারে। 
- সাধারণত ন্যানোসেকেন্ড -এ কম্পিউটারে কাজ করার গতি হিসাব করা হয়। 
- ন্যানোসেকেন্ড হচ্ছে এক সেকেন্ডের একশত কোটি ভাগের একভাগ সময় মাত্র। 
- ইলেকট্রন প্রবাহের মাধ্যমে কম্পিউটারের যাবতীয় কাজকর্ম পরিচালিত হয়। 
- মূলত কম্পিউটার একটি অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্র, যা নিজস্ব স্মৃতিভাণ্ডারে সুনির্দিষ্ট এক বা একাধিক কাজের নিদের্শাবলি সংরক্ষণ করে রাখে। 
- ব্যবহারকারী ডাটা বা উপাত্ত সরবরাহ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটার প্রক্রিয়াকরণ (প্রসেসিং) করে কাজের ফলাফল প্রদান করে। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪.
ওয়াইম্যাক্সের স্ট্যান্ডার্ড ব্র্যান্ড নাম কী? 
  1. IEEE 802.11
  2. IEEE 802.16
  3. IEEE 802.3
  4. IEEE 802.20
ব্যাখ্যা
ওয়াইম্যাক্স (WiMAX): 
- ওয়াইম্যাক্স এর পুরো অর্থ হলো ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারঅপেরিবিলিটি ফর মাইক্রোওয়েভ অ্যাকসেস (WiMAX-Worldwide Interoperability for Microwave Access). 
- ওয়াইম্যাক্স এর স্ট্যান্ডার্ড ব্র্যান্ড নাম হলো IEEE802.16  । 
- ওয়াইম্যাক্স নামটি দিয়েছে ওয়াইম্যাক্স ফোরাম যা গঠিত হয়েছিল ২০০১ সালের জুনে। 
- ওয়াইম্যাক্স এর মাধ্যমে উচ্চ গতির ব্রডব্যান্ড সেবা, তারবিহীন ব্যবস্থা বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ইন্টারনেট অ্যাকসেস করার সুযোগ পাওয়া যায়। 

ওয়াইম্যাক্স এর সুবিধা: 
- ওয়াইম্যাক্সের মাধ্যমে ওয়াইফাই হটস্পটে ইন্টারনেট সেবা দেয়া যায়। 
- ক্যাবল ও ডিএসএল এর পরিবর্তে তারবিহীন উপায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট অ্যাকসেস করা যায়। 
- প্রত্যন্ত অঞ্চলেরও সেবা পাওয়া যায় এমনকি যেখানে ফোনের সংযোগ পৌঁছেনি সেখানেও। 
- তথ্য ও টেলিযোগাযোগ সেবাগুলো প্রদান করা যায়। 
- নিরাপদ ইন্টারনেট সংযোগ সুবিধা প্রদান করা যায়। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।