পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

পরীক্ষাবার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৯৩
সিলেবাস
Exam - 10 • Full Model Test - 04 Topic: Full Syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬ · তারিখ অনির্ধারিত · ৯৩ প্রশ্ন

.
'আইনজীবী' এর সংজ্ঞা দেওয়ানি কার্যবিধিতে কোন ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. ধারা ২(১)
  2. ধারা ২(১১)
  3. ধারা ২(১৩)
  4. ধারা ২(১৫)
ব্যাখ্যা
ধারা : ২(১৫)- আইনজীবী:

"আইনজীবী হলো এমন কোনো ব্যক্তি যিনি আদালতে অন্য কাউকে প্রতিনিধিত্ব করার এবং সেই ব্যক্তির পক্ষে বক্তব্য রাখার অধিকারী।"

Section 2(15)-
"pleader" means any person entitled to appear and plead for another in Court.

.
যদি এখতিয়ারসম্পন্ন একাধিক আদালত বিভিন্ন আপিল আদালতের অধীন হয়, তবে দেওয়ানি কার্যবিধির ২২ ধারার অধীনে মোকদ্দমা স্থানান্তরের আবেদন কোথায় পেশ করতে হবে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. যেকোন জেলা জজ আদালতে
  3. যেকোন আপিল আদালতে
  4. বর্ণিত সকল আদালতে
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২২ থেকে ২৪ পর্যন্ত মোকদ্দমা স্থানান্তরের বিধান রয়েছে। ধারা ২২ এ কোন মোকদ্দমা একের অধিক আদালতে দায়েরযোগ্য হলে, তা স্থানান্তরের ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। উক্ত ধারায় শুধুমাত্র বিবাদী অপর পক্ষকে নোটিশ দিয়ে প্রথম সম্ভাব্য সুযোগে (At the earliest possible opportunity) অপর একটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে পারবে।


• ধারা ২৩ (কোন আদালতে আবেদন করতে হবে)-
১) যখন এখতিয়ারসম্পন্ন একাধিক আদালত একই আপিল আদালতের অধীন হয়, তখন উক্ত আপিল আদালতে ২২ ধারানুযায়ী আবেদন পেশ করতে হবে।
২) যখন অনুরূপ আদালতসমূহ বিভিন্ন আপিল আদালতের আওতাধীনে হয় তখন হাইকোর্ট ডিভিশনে আবেদন পেশ করতে হবে।

.
আদালত কর্তৃক কোনো প্লিডিং সংশোধনের আদেশ দেবার মূল উদ্দেশ্য নিচের কোনটি?
  1. দ্রুততার সাথে মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করা
  2. মোকদ্দমার বিষয়বস্তুকে সহজে উপস্থাপন করা
  3. মোকদ্দমায় কার পক্ষে ভারসাম্য আছে না নির্ধারণের জন্য
  4. মোকদ্দমার বিরোধীয় প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণের জন্য
ব্যাখ্যা
 ⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির- আদেশ:-৬ বিধি-১৭: প্লিডিংস সংশোধন (Amendment of Pleadings)-
- মামলার যে কোন পর্যায়ে আদালত যে কোন পক্ষকে আরজি বা জবাবের ন্যায়সঙ্গত পরিবর্তন বা সংশোধন করার অনুমতি দিতে পারেন।
- বাদী বা বিবাদী উভয় পক্ষের বিরোধের প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় সংশোধন করা যাবে।
- আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতার উপর আরজি জবাব সংশোধনের আদেশ নির্ভর করে।
- প্লিডিংস সংশোধনের দরখাস্ত দাখিল করতে হয় বিচারিক আদালতে।
- প্লিডিংস মামলার যে কোন পর্যায়ে এমনকি আপিল আদালতের মাধ্যমে সংশোধন করা যায়।
.
যদি বিবাদী বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করেন এবং বাংলাদেশে সমন গ্রহণের কোনো এজেন্ট না থাকে, তবে সমন কী করতে হবে?
  1. বাতিল করতে হবে
  2. স্থানীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে পাঠাতে হবে
  3. বিবাদীর বিদেশস্থ ঠিকানায় পাঠাতে হবে
  4. রাষ্ট্রদূত বা কনস্যুলারের মাধ্যমে পাঠাতে হবে
ব্যাখ্যা
বিশেষ ক্ষেত্রে সমন জারির পদ্ধতি: দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৫-

বিধি ২১: বিবাদী অন্য আদালতের এখতিয়ারাধীন এলাকায় বসবাস করলে, সেই এলাকার এখতিয়ারাধীন কোনো সমন জারিকারী আদালত সমন পাঠাবে এবং সেই আদালত সমন জারি করবে।
বিধি ২৪: বিবাদী কারাগারে বন্দী থাকলে, তার কাছে সমন জারির জন্য কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে সমন পাঠাতে হবে।
বিধি ২৫: বিবাদী বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করলে এবং বাংলাদেশে সমন গ্রহণের কোনো এজেন্ট না থাকলে, সমন বিবাদীর বিদেশস্থ ঠিকানায় পাঠাতে হবে।
বিধি ২৬: বিদেশে থাকা বিবাদীর ক্ষেত্রে, প্রয়োজনে সমন রাজনৈতিক প্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জারি করা যেতে পারে।
বিধি ২৭: সরকারী কর্মকর্তা বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তার জন্য, সংশ্লিষ্ট অফিসের প্রধানের বরাবর সমন পাঠাতে হবে।
বিধি ২৮: বিবাদী যদি সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিক হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কমান্ডিং অফিসারের কাছে সমন পাঠাতে হবে।
.
'Compensation for obtaining arrest, attachment or injunction on insufficient grounds' - দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারার বিধান?
  1. ৯৪ ধারার
  2. ৯৫ ধারার
  3. ৯৭ ধারার
  4. ৯৯ ধারার
ব্যাখ্যা

ধারা ৯৫- Compensation for obtaining arrest, attachment or injunction on insufficient grounds (অযৌক্তিক বা অপর্যাপ্ত কারণে গ্রেফতার, সম্পত্তি আটক বা নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্তির জন্য ক্ষতিপূরণ):
(১) যদি কোনো মোকদ্দমায় গ্রেফতার, সম্পত্তি আটক বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা হয় এবং—
(ক) আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে উক্ত গ্রেফতার, সম্পত্তি আটক বা নিষেধাজ্ঞার আবেদন অপ্রতুল বা অযৌক্তিক ভিত্তিতে করা হয়েছে, অথবা
(খ) মামলাটি ব্যর্থ হয় এবং আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে মামলাটি দায়ের করার জন্য কোনো যৌক্তিক বা সম্ভাব্য কারণ ছিল না,

তবে বিবাদী আদালতে আবেদন করতে পারবেন এবং আদালত, উক্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, আদেশের মাধ্যমে বিবাদীর খরচ বা ক্ষতির জন্য যথাযথ বলে গণ্য পরিমাণ ক্ষতিপূরণ (সর্বাধিক দশ হাজার টাকা) আদায়ের নির্দেশ দিতে পারেন।

তবে শর্ত থাকে যে, আদালত তার আর্থিক এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করে কোনো ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারবে না।

(২) উক্ত আবেদনের বিষয়ে আদালতের আদেশ হলে, সংশ্লিষ্ট গ্রেফতার, সম্পত্তি আটক বা নিষেধাজ্ঞার জন্য ক্ষতিপূরণের পৃথক কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না।

.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৯ বিধি-১৩ক অনুযায়ী, একতরফা ডিক্রি রদের আদেশ জারির পর আদালত কী করবে?
  1. মামলাটি বন্ধ করে দেবে
  2. বাদীকে নোটিশ প্রদান করবে
  3. বিবাদীকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে
  4. নতুন ডিক্রি জারি করবে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, আদেশ-৯ বিধি-১৩ক: সরাসরি একতরফা ডিক্রি রদ/বাতিল:
(১) বিধি-১৩ বা অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, আদালত বিলম্ব এড়ানোর এবং নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে বিবাদীকে বিধি-১৩ অনুযায়ী যথেষ্ট কারণ প্রমাণের জন্য সাক্ষ্য উপস্থাপনের প্রয়োজন ছাড়াই সরাসরি ডিক্রি রদ করতে পারবে, তবে আদালত বিবাদীকে অনধিক তিন হাজার টাকা খরচ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবে:
শর্ত থাকে যে, আদালত এই বিধির অধীনে ডিক্রি রদ করবে না, যদি না বিবাদী, যিনি আদালতে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দাখিল করেছেন, ডিক্রি জারির তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ডিক্রি রদের জন্য একটি আবেদনপত্র, অফিডেভিট সহ, আদালতে জমা দেন।
আরও শর্ত থাকে যে, একই বিবাদীর পক্ষ থেকে এই বিধির অধীনে একাধিকবার ডিক্রি রদ করা যাবে না।

(২) উপ-বিধি (১) অনুযায়ী একতরফা ডিক্রি রদের আদেশ জারি হওয়ার সাথে সাথে আদালত বাদীকে এ বিষয়ে নোটিশ প্রদান করবে, এবং এর খরচ বিবাদী বহন করবে।
.
অস্থাবর সম্পত্তি অর্পণের নিমিত্তে দেয়া ডিক্রি অনুযায়ী যদি অস্থাবর সম্পত্তি সমর্পণ সম্ভব না হয়, তাহলে আদেশ ২০ বিধি-১০ অনুযায়ী ডিক্রিতে কী উল্লেখ করতে হবে?
  1. বিকল্প হিসাবে দণ্ডের পরিমাণ
  2. সম্পত্তির মালিকের অনুমতি
  3. বিকল্প হিসাবে প্রদেয় টাকার পরিমাণ
  4. উক্ত সম্পত্তির পরিবর্তে অন্য সম্পত্তি
ব্যাখ্যা
আদেশ ২০ বিধি-১০: অস্থাবর সম্পত্তি অর্পণের নিমিত্তে ডিক্রি:
যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা অস্থাবর সম্পত্তির জন্য এবং ডিক্রি উক্ত সম্পত্তি অর্পণের জন্য হয়, সেক্ষেত্রে সমর্পণ যদি সম্ভব না হতে পারে তবে বিকল্প হিসাবে প্রদেয় টাকার পরিমাণও ডিক্রিতে বর্ণনা করতে হবে।

Order 20 Rule 10: Decree for delivery of movable property:
Where the suit is for movable property, and the decree is for the delivery of such property, the decree shall also state the amount of money to be paid as an alternative if delivery cannot be had.
.
'Parties at issue' - বলতে নিচের কোন ধারণাটি সঠিক?
  1. মোকদ্দমায় যুক্ত হতে আগ্রহী পক্ষগণ
  2. মোকদ্দমায় যে পক্ষের নাম ভুলভাবে যুক্ত করা হয়েছে
  3. মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে স্বার্থ থাকা পক্ষগণ
  4. মোকদ্দমায় যার নাম যুক্ত করা উচিত কিন্তু যুক্ত করা হয়নি
ব্যাখ্যা

"Parties at issue" বলতে সেই পক্ষগুলোকে বোঝানো হয় যাদের স্বার্থ মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অর্থাৎ, যাদের অধিকার বা দাবির ওপর মামলার রায় প্রভাব ফেলতে পারে। এটি সাধারণত বাদী (Plaintiff) ও বিবাদী (Defendant) বা সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

"Parties at Issue" এর মূল বৈশিষ্ট্য:
- মোকদ্দমার মূল পক্ষ → মামলায় যাদের স্বার্থ জড়িত।
- মামলার রায়ে যাদের অধিকার বা দায় প্রভাবিত হতে পারে → মামলার যে কোনো সিদ্ধান্ত তাদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
- প্রয়োজনীয় বা অনিবার্য পক্ষ (Necessary or Proper Parties) → আদালত যাদের উপস্থিতি জরুরি বলে মনে করে।

অন্যান্য বিকল্পগুলো:
মোকদ্দমায় যে পক্ষের নাম ভুলভাবে যুক্ত করা হয়েছে → এটি সংশোধনযোগ্য ভুল এবং "Misjoinder of parties" বা "Wrongly joined parties" হিসেবে পরিচিত।
মোকদ্দমায় যার নাম যুক্ত করা উচিত কিন্তু যুক্ত করা হয়নি → এটি "Nonjoinder of necessary parties" নামে পরিচিত।
মোকদ্দমায় যুক্ত হতে আগ্রহী পক্ষগণ → কেবল আগ্রহী হওয়া যথেষ্ট নয়, মামলার ফলাফলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে।

.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৩ আদেশে নিচে বর্ণিত কোন তালিকা দেওয়া আছে?
  1. আপিলযোগ্য ডিক্রির তালিকা
  2. আপিলযোগ্য আদেশের তালিকা
  3. আপিলঅযোগ্য আদেশের তালিকা
  4. আপিলঅযোগ্য ডিক্রির তালিকা
ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৩ এর বিধান হলো- আদেশের বিরুদ্ধে আপিল। আদেশ ৪৩ এ মোট ২৫টি আপিলযোগ্য আদেশ (Appealable Order) এর তালিকা রয়েছে।

আদেশ ৪৩:
আদেশ ৪৩ মোট ২৫টি আপীলযোগ্য আদেশের তালিকা উল্লেখ করেছে যেগুলোর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করা যায়। যেমন - অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা, স্থগিতাদেশ, মোকদ্দমা বাতিল করা, জামিন প্রত্যাখ্যান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮ এর ধারা ১০৪ আপীলযোগ্য আদেশগুলোর সামগ্রিক বর্ণনা দিয়েছে। এই ধারা বলছে যে, যদি কোনো আদালত এমন কোনো আদেশ প্রদান করে যা চূড়ান্ত না হয়ে একটি বিষয়ের বিরাট অংশ নিষ্পত্তি করে দেয়, তাহলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যেতে পারে।
১০.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৩২ ধারা অনুসারে, The Court may compel the attendance of any person to whom a summons has been issued under ______.
  1. section 27
  2. section 28
  3. section 30
  4. section 31
ব্যাখ্যা
• The Code of Civil Procedure, 1908, Section- 32: Penalty for default:
The Court may compel the attendance of any person to whom a summons has been issued under section 30 and for that purpose may- 
(a) issue a warrant for his arrest; 
(b) attach and sell his property; 
(c) impose a fine upon him not exceeding five hundred Taka; 
(d) order him to furnish security for his appearance and in default commit him to the civil prison.

দেওয়ানী কার্যবিধি ৩২ ধারার বিধান- হাজির না হলে দণ্ড:
যার প্রতি ৩০ ধারা অনুসারে সমন দেয়া হয়েছে, আদালত তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে পারেন এবং এই উদ্দেশ্যে
ক) গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করতে পারেন;
খ) তার সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করতে পারেন;
গ) তাকে অনধিক ৫০০ টাকা জরিমানা করতে পারেন;
ঘ) তার হাজিরার জন্য তাকে জামানত দেয়ার আদেশ দিতে পারেন; এবং জামানত না দিলে তাকে দেওয়ানী কারাগারে প্রেরণ করতে পারেন।
১১.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮ আদেশের ৯ বিধি মোতাবেক আদালত কর্তৃক চাহিত জবাব দানে ব্যর্থ হলে, আদালত তার বিরুদ্ধে -
  1. রায় ঘোষণা করতে পারেন
  2. ৩ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেবেন
  3. মামলা স্থগিত রাখতে পারেন
  4. উপরের যেকোনোটির নির্দেশ দিতে পারেন
ব্যাখ্যা
দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ আদেশের ৯ বিধি অনুযায়ী- আদালত প্রয়োজন মনে করলে, যেকোনো সময় যে কোনো পক্ষকে লিখিত বিবৃতি বা অতিরিক্ত লিখিত বিবৃতি পেশের আদেশ দিতে পারে এবং তা পেশ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিবে। আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্ত পক্ষ লিখিত বিবৃতি পেশ করতে ব্যর্থ হলে, ১০ বিধি অনুযায়ী আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা [pronounce judgment] করতে পারে বা মোকদ্দমার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো আদেশ দিতে পারে।

দেওয়ানি কার্যবিধির ৮ আদেশের ১০ বিধি- লিখিত জবাব আদালত কর্তৃক দাখিলের জন্য বলা হলে তা দাখিল করতে ব্যর্থ হলে পদ্ধতিঃ
কোন পক্ষের থেকে লিখিত জবাব তলব করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা দাখিল করতে ব্যর্থ হলে আদালত তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারে বা মোকদ্দমা সম্পর্কে অন্য কোন উপযুক্ত আদেশ দিতে পারে।
১২.
হাইকোর্টের রেফারেন্স সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. আদালত নিজ উদ্যোগে কোনো রেফারেন্স চাইতে পারে
  2. সংক্ষুব্ধ পক্ষগণ রেফারেন্সের আবেদন করতে পারেন না
  3. রেফারেন্স কোর্ট হিসেবে হাইকোর্ট তার অধস্তন আদালতের রায় বা ডিক্রি পরিবর্তন করতে পারে
  4. বর্ণিত সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৩ ধারায় রেফারেন্সের (Reference) বিধান রয়েছে। ১১৩ ধারার বিধান অনুযায়ী যে কোন আদালত কোন মামলা হাইকোর্ট বিভাগের অভিমত গ্রহণের জন্য প্রেরণ করতে পারেন এবং হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত মামলা সম্পর্কে উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারবেন।

দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৬ নং আদেশে রেফারেন্স সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে যা নিম্নরূপ-
৪৬ নং আদেশের ১ নং বিধি অনুযায়ী আপিল-অযোগ্য ডিক্রির মামলার বিচার পর্যায়ে বা আপিলে অথবা উক্ত ডিক্রি জারি করার সময়, আইন বা আইনের ন্যায় বলবৎ কোন রীতি সম্পর্কিত প্রশ্নের সৃষ্টি হলে, উক্ত মামলার বিচারকারী আদালত বা আপিল আদালত অথবা ডিক্রি জারিকারক আদালত, স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে (own motion) বা কোন পক্ষের আবেদনক্রমে মামলাটি হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্তের জন্য হাইকোর্টে প্রেরণ করতে পারে।

- রেফারেন্স প্রেরণকারী আদালত রেফারেন্স প্রেরণ করা সত্ত্বেও মামলার কার্যক্রমে অগ্রসর হতে পারে কিংবা কার্যক্রম স্থগিত রাখতে পারে এবং হাইকোর্ট বিভাগ প্রেরিত সিদ্ধান্তের আলোকে ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করতে পারেন।

- ৪৬ নং আদেশের ৫ নং বিধি অনুযায়ী অধীনস্ত যে আদালত হাইকোর্টে রেফারেন্সের জন্য কোন বিষয় পাঠাবে, সেই বিষয়ে উক্ত আদালত কর্তৃক দেওয়া ডিক্রি/আদেশ হাইকোর্ট বিভাগ পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারবে অথবা যে কোন উপযুক্ত আদেশ প্রদান করতে পারে। অর্থাৎ, Reference কোর্ট হিসেবে হাইকোর্ট তার অধস্তন আদালতের রায় বা ডিক্রি পরিবর্তন করতে পারে।
১৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির ২৬ আদেশের ৪ বিধিতে কয় ধরনের ব্যক্তির ক্ষেত্রে জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশন পাঠানো যেতে পারে বলে উল্লেখ করা আছে?
  1. ৩ ধরনের
  2. ৪ ধরনের
  3. ৫ ধরনের
  4. ৬ ধরনের
ব্যাখ্যা
 • দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ এ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য কমিশনের নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ রয়েছে।

আদেশ ২৬ বিধি ৪ অনুসারে, নিম্নোক্ত ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালত কমিশন প্রেরণ করতে পারেন [Persons for whose examination commission my issue]:
i) এমন ব্যক্তি যে আদালতের অধিক্ষেত্রের সীমানার বাইরে বসবাস করে;
ii) সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নির্ধারিত তারিখের পূর্বে সে ব্যক্তি অধিক্ষেত্রের সীমানার বাইরে চলে যাবে;
iii) প্রজাতন্ত্রের চাকুরিতে নিয়োজিত ব্যক্তি; যার পক্ষে আদালতে উপস্থিত হলে জনস্বার্থের ক্ষতি হতে পারে।
১৪.
কোনো আরজি ত্রুটিযুক্ত হবার কারণে নাকচ হয়ে গেলে, নতুনভাবে আরজি দাখিলে কোনো বাধা নেই - এটি দেওয়ানী কার্যবিধির কোন আদেশের কোন বিধিতে বলা আছে?
  1. আদেশ ৭ বিধি ১০
  2. আদেশ ৭ বিধি ১১
  3. আদেশ ৭ বিধি ১২
  4. আদেশ ৭ বিধি ১৩
ব্যাখ্যা
আদেশ ৭ বিধি ১৩:
যে কোনো পূর্ববর্তী কারণে মোকদ্দমার আবেদন (plaint) প্রত্যাখ্যাত হলে, তা বাদীকে একই কারণ বা ঘটনার জন্য নতুন আবেদন দাখিল করতে বাধা সৃষ্টি করবে না। যদি আদালত কোনো কারণে মোকদ্দমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে, তবে তা বাদীকে নতুন আবেদন দাখিল করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে না। অর্থাৎ, বাদী একই কারণে নতুন আবেদন করতে পারবেন।

[The rejection of the plaint on any of the grounds herein before mentioned shall not of its own force preclude the plaintiff from presenting a fresh plaint in respect of the same cause of action.]
১৫.
দেওয়ানী কার্যবিধির ৫৯ ধারায় রায়সিদ্ধ দেনাদারকে কোন কারণে মুক্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে?
  1. গুরুতর অসুস্থতার কারণে
  2. আর্থিক অক্ষমতার কারণে
  3. ডিক্রি মেটানোর পর
  4. মোকদ্দমা বাতিলের কারণে
ব্যাখ্যা
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ সালের আইনের ৫৯ ধারা অনুযায়ী দেনাদারকে গ্রেফতার করার পর কোন ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হইলে তাকে মুক্তি দেওয়ার বিধান আছে। 
দেওয়ানী কার্যবিধি ৫৯ ধারার বিধান অসুস্থতার দরুন মুক্তি (Release on ground of illness):
১) কোন রায়সিদ্ধ দেনাদারকে গ্রেফতার করার জন্য পরোয়ানা জারির পর যে কোন সময় তার গুরুতর অসুস্থতার কারণে আদালত তা নাকচ করতে পারেন।
২) রায়সিদ্ধ দেনাদারকে গ্রেফতারের পর আদালত যদি মনে করেন যে, স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় ঐ ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক রাখা চলে না, তাহলে আদালত তাকে মুক্তি দিতে পারবেন।

৩) দেওয়ানি জেলে আটক রায়সিদ্ধ দেনাদার নিম্নলিখিত উপায়ে মুক্তি পেতে পারে-
ক) কোন সংক্রামক বা ক্ষতিকারক রোগের দরুন সরকার তাকে মুক্তি দিতে পারেন; বা
খ) উক্ত ব্যক্তির গুরুতর অসুস্থতার দরুন সোপর্দকারী আদালত বা তা যে আদালতের অধীনস্ত তদ্রূপ কোন আদালত তাকে মুক্তি দিতে পারেন।

৪) এই ধারার অধীনে মুক্তিপ্রাপ্ত রায়সিদ্ধ দেনাদারকে পুনরায় গ্রেফতার করা যেতে পারে, কিন্তু উক্ত ব্যক্তিকে দেওয়ানি জেলে আটক রাখার মোট মেয়াদ গড়ে ৫৮ ধারায় উল্লেখিত মেয়াদের অধিক হবে না।
১৬.
দলিল স্বীকারের নোটিশ অনুযায়ী পক্ষকে কত দিনের মধ্যে দলিল স্বীকার করতে হয়?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
আদেশ ১২ বিধি ২: দলিল স্বীকারের নোটিশ:
মোকদ্দমার যেকোনো পক্ষ অন্য পক্ষকে নোটিশ প্রদান করতে পারে, যাতে বলা হয় যে, তারা পনেরো দিনের মধ্যে কোনো দলিল স্বীকার করবে, তবে উপযুক্ত ব্যতিক্রম ছাড়া। যদি অন্য পক্ষ তা স্বীকার করতে বা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে বা অবহেলা করে, তবে দলিল প্রমাণের খরচ সেই পক্ষকে বহন করতে হবে, যেহেতু তারা স্বীকার করতে বা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তবে আদালত যদি অন্যভাবে নির্দেশ না দেয়।

Order-12 Rule-2: Notice to admit documents:

Either party may call upon the other party to admit, within fifteen days from the date of service of notice, any document, saving all just exceptions; and in case of refusal or neglect to admit, after such notice, the costs of proving any such document shall be paid by the party so neglecting or refusing, whatever the result of the suit may be, unless the Court otherwise directs; and no costs of proving any document shall be allowed unless such notice is given, except where the omission to give the notice is, in the opinion of the Court, a saving of expense.
১৭.
প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা দায়ের করতে হলে কী প্রয়োজন?
  1. বিবাদীর অনুমোদন
  2. আদালতের অনুমতি
  3. বাদীর ২ জন সাক্ষী
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানি কার্যবিধির ১নং আদেশের ৮ নং বিধিতে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা [Representative suit] এর বিধান রয়েছে।
সাধারণত মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে স্বার্থসংশ্লিস্ট সকল ব্যক্তিকে উক্ত মোকদ্দমায় বাদী বা বিবাদী হিসেবে যুক্ত হতে হয়। কিন্তু ১নং আদেশের ৮ নং বিধির আওতায় প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা এই নিয়মের ব্যতিক্রম। অর্থাৎ এই বিধিমতে, যেক্ষেত্রে কোন মামলায় বহু সংখ্যক লোকের একই রূপ স্বার্থ (same interest) থাকলে, সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতিক্রমে সকলের পক্ষে এক বা একাধিক ব্যক্তি মামলা দায়ের করতে পারে। এই এক বা একাধিক ব্যক্তি অন্যান্য সকলকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই ধরনের মোকদ্দমাকে প্রতিনিধিত্বমূলক মোকদ্দমা বা Representative suit বলা হয়।

Order 1 Rule 8: One person may sue or defend on behalf of all in same interest-
1) Where there are numerous persons having the same interest in one suit, one or more of such persons may, with the permission of the Cour sue or be sued, or may defend, in such suit, on behalf of or for the benefit of all persons so interested. But the Court shall in such case give, at the plantiffs expense, notice of the institution of the suit to all such personal either by person service or, where from the number of persons or any other cause such service is not reasonably practicable, by public advertisement as the Court in each case may direct

2) Any person on whose behalf or for whose benefit a suit is instituted or defended under sub-rule (1) may apply to the Court to be made a party to such suit.
১৮.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ৩৮, বিধি ৭-এর অধীনে সম্পত্তি ক্রোক করার কোন বিধান দেয়া আছে? 
  1. সম্পত্তির মালিকের অনুমতি নিয়ে ক্রোক করা যাবে 
  2. কেবলমাত্র ঋণগ্রহীতার অনুরোধে সম্পত্তি ক্রোক করা যাবে 
  3. সম্পত্তির বর্তমান বাজার মূল্য যাচাই করার পর ক্রোক করা যাবে 
  4. ডিক্রি জারির জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে ক্রোক করা যাবে 
ব্যাখ্যা
আদেশ ৩৮ বিধি-৭: ক্রোক করার পদ্ধতি: 
অন্যরূপ স্পষ্ট বিধান ব্যতিরেকে, ডিক্রি জারির দরুন সম্পত্তি ক্রোকের পদ্ধতিতে উক্ত ক্রোক করা যাবে। 

Rule.-7: Mode of making attachment: 
Save as otherwise expressly provided, the attachment shall be made in the manner provided for the attachment of property in execution of a decree. 
১৯.
'সরকারি পদাধিকারবলে কৃত কোনো কাজের জন্য মোকদ্দমায় উক্ত কর্মকর্তার গ্রেফতার ও হাজিরা থেকে অব্যাহতি'- দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারার বিষয়বস্তু?
  1. ৫৩ ধারা
  2. ৭৭ ধারা
  3. ৮১ ধারা
  4. ৯১ ধারা
ব্যাখ্যা
ধারা-৮১: গ্রেফতার ও ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি:
পদাধিকারবলে কৃত কার্যের দরুন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করা হলে-
ক) ডিক্রি জারি ব্যতীত বিবাদিকে গ্রেফতার করা বা তার সম্পত্তি ক্রোক করা যাবে না; এবং
খ) যদি আদালত মনে করেন যে, উক্ত কর্মচারী তার কর্তব্যকার্যে অনুপস্থিত থাকলে জনসাধারণের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাহলে আদালত তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি প্রদান করবেন।

Sec 81: Exemption from arrest and personal appearance:
In a suit instituted against ta public officer in respect of any act purporting to be done by him in his official capacity-
a) the defendant shall not be liable to arrest not his property to attachment otherwise than in execution of a decree, and,
b) where the Court is satisfied that the defendant cannot absent himself from his duty without detriment to the public service, it shall exempt him from appearing in person.
২০.
‘ক’ একজোড়া দুষ্প্রাপ্য কারুকার্যখচিত পাত্রের অধিকারী। কিন্তু সেগুলো ‘খ’-  এর দখলে রয়েছে। এ জিনিসগুলো অত্যন্ত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এবং তার বাজারদর নির্ণয় করাও কষ্টসাধ্য। এক্ষেত্রে ‘ক’ এর প্রতিকার কী?
  1. ‘খ’-কে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা যেতে পারে
  2. ‘ক’-কে ফেরত দেওয়ার জন্য ‘খ’-কে বাধ্য করা যেতে পারে
  3. ‘খ’-কে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনে বাধ্য করা যেতে পারে
  4. ‘ক’-কোন প্রতিকার পাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১১ ধারার বিধান: অব্যবহিত দখল লাভের অধিকারী ব্যক্তির নিকট থেকে দখল প্রদানের নিমিত্তে মালিক নয় এরূপ দখলকারী ব্যক্তির দায় দায়িত্ব:
যে সম্পত্তির মালিক সে নিজে নয়, এমন অস্থাবর সম্পত্তির কোন বিশেষ অংশের দখলকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তিকে নিম্নোক্ত যে কোন অবস্থাতে অবিলম্বিত দখল লাভের অধিকারী ব্যক্তির নিকট সেটি প্রদানার্থে সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্য করা যেতে পারে-
(ক) যখন দাবিকৃত সম্পত্তি দাবিদারের জিম্মাদারের বা প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিবাদীদের নিকট রয়েছে;
(খ) যখন দাবিকৃত বস্তুর ক্ষতি টাকার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দাবীদারের পর্যাপ্ত প্রতিকার করবে না;
(গ) যখন দাবিকৃত বস্তুর ক্ষতির কোন সাধিত যথার্থ ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হবে;
(ঘ) যখন দাবিকৃত বস্তুর দখল দাবিদারের নিকট হতে অন্যায়ভাবে হস্তান্তরিত করা হয়েছে।

অর্থাৎ, ‘খ’ কে এগুলো ‘ক’-এর কাছে ফেরত দেওয়ার জন্য বাধ্য করা যেতে পারে।
২১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে কোন আইনে প্রদত্ত সব সংজ্ঞা সমভাবে প্রযোজ্য বলে গণ্য করতে হয়?
  1. The Registration Act, 1908
  2. The Code of Civil Procedure, 1908
  3. The Contract Act, 1872
  4. The Evidence Act, 1872
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ৩ ব্যাখামূলক অনুচ্ছেদে বলা আছে,
চুক্তি আইন, ১৮৭২ এ যেসব শব্দের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে এমন যেসব শব্দ এই আইনে ব্যবহৃত হয়েছে, তার অর্থ উক্ত আইনে অনুরূপ শব্দগুলোর যে অর্থ করা হয়েছে সেরূপ একই অর্থবোধক গণ্য করা হবে।
[all words occurring in this Act, which are defined in the Contract Act, 1872, shall be deemed to have the meanings respectively assigned to them by that Act.]
২২.
একটি বাড়ি ও জমি ২০ লাখ টাকায় ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য দুই পক্ষ চুক্তি করে, যেখানে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কিছু আসবাবপত্রের মূল্য পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে দুই পক্ষ আসবাবপত্রের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে একমত হতে ব্যর্থ হয়। এমন পরিস্থিতিতে-
  1. চুক্তিটি বাতিল বলে গণ্য হবে
  2. চুক্তিটির কোনো কার্য সম্পাদন সম্ভব নয়
  3. মূল্য নির্ধারণ পর্যন্ত চুক্তিটি স্থগিত থাকবে
  4. শুধু বাড়ি ও জমির ব্যাপারে কার্যসম্পাদনের আদেশ দিতে পারে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারামতে-
কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে, আদালত ঐ চুক্তির সম্পাদনযোগ্য বৃহত্তর অংশের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের আদেশ এবং বাকী অসম্পাদিত অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারার বিধান:
কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটুকু পালন করতে সমর্থ হয় এবং ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়; তাহলে আদালত চুক্তিভুক্ত যে কোন এক পক্ষের মামলা দায়েরক্রমে বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের, এবং ক্ষুদ্রতর অংশটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।

Section 14: Specific performance of part of contract where part unperformed is small:
Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, but the part which must be left unperformed bears only a small proportion to the whole in value, and admits of compensation in money, the Court may, at the suit of either party, direct the specific performance of so much of the contract as can be performed, and award compensation in money for the deficiency.
২৩.
'Principles of rectification'- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারার বিষয়বস্তু?
  1. ৩১ ধারা
  2. ৩২ ধারা
  3. ৩৩ ধারা
  4. ৩৪ ধারা
ব্যাখ্যা
The Specific Relief Act, 1877- Section 33. Principles of rectification:
 In rectifying a written instrument, the Court may inquire what the instrument was intended to mean, and what were intended to be its legal consequences, and is not confined to the inquiry what the language of the instrument was intended to be.

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারায় দলিল সংশোধনের সময় আদালত কর্তৃক অনুসৃত নীতির বিধান রয়েছে। ৩৩ ধারায় বলা হয়েছে যে, একটি লিখিত দলিল সংশোধনের সময় দলিল দ্বারা কি বুঝাতে চাওয়া হয়েছিল এবং চুক্তির বৈধ ফলাফল বিষয়ে পক্ষসমূহের কি অভিপ্রায় ছিল আদালত সে সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে পারবেন। শুধুমাত্র দলিলের ভাষা দ্বারা পক্ষসমূহ কি অভিপ্রায় ব্যক্ত করতে চেয়েছিল আদালত এই বিষয়েই অনুসন্ধান সীমিত রাখবেন না। অর্থাৎ দলিল সংশোধনের ক্ষেত্রে আদালত পক্ষগণের ইচ্ছা কি ছিল তা খুঁজে বের করবেন এবং সে ইচ্ছা কার্যকর করবেন। এরূপ ক্ষেত্রে আদালত শুধুমাত্র দলিলের গঠনের দিকে না তাকিয়ে দলিলের মূল বিষয়ের উপর লক্ষ্য দেবেন।
২৪.
A, B এর বৈধ চলাচলের রাস্তার অর্ধেক অংশে নতুন বাড়ি নির্মাণ করেন এবং উক্ত পথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এক্ষেত্রে The Specific Relief Act, 1877 অনুসারে B এর সর্বোত্তম প্রতিকার কী?
  1. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  2. ঘোষণা ও খাস দখলের পুনরুদ্ধার
  3. বাধ্যতামূলক ও চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
  4. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও খাস দখলের পুনরুদ্ধার
ব্যাখ্যা
এক্ষেত্রে, 'B' এর সর্বোত্তম প্রতিকার হচ্ছে আদালত থেকে চিরস্থায়ী ও বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা। 

- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারায় বলা হয়েছে,
আবেদনকারীর পক্ষে কোন বিদ্যমান বাধ্যবাধকতা, যা ভঙ্গ করাকে প্রতিরোধ করার জন্য চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর হতে পারে। নিষেধাজ্ঞা চিরস্থায়ী করার অর্থ ইহা নয় যে, উক্ত নিষেধাজ্ঞা চিরকালের জন্য চলতে থাকবে এবং উক্ত নিষেধাজ্ঞার ডিক্রির বিরুদ্ধে কোন কিছু করা যাবে না। কোন উপর্যুক্ত আদালত যতদিন পর্যন্ত স্বত্বের মীমাংসা না করেন এবং এই নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি রদ না করেন ততদিন পর্যন্ত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চলতে থাকবে।

অপরদিকে, কোন ব্যক্তি কোন কাজ করতে আইনগত ভাবে বাধ্য থাকা শর্তেও তা করা থেকে বিরত থাকলে আদালত তাকে কাজটি সম্পাদন করতে বাধ্য করে তথা কোন বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ রোধ করার জন্য নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে যে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে তা বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা নামে পরিচিত। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারায় এই সম্পর্কে বলা হয়েছে।  বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে সে যে কাজ করতে বাধ্য তাকে তা করতে আদেশ দেয়া হয়। সেজন্য ৫৫ ধারার বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা আদালতে প্রার্থনা করা হলে আদালত তার বিবেচনামূলক স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে সন্তুষ্টচিত্তে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে মঞ্জুর করে থাকেন।
 
- এক্ষেত্রে আদালত ‘A’ কে বাড়ি নির্মাণের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য নিষেধাজ্ঞা এবং ‘B’ কে উক্ত পথে চলার আদেশ দিতে পারে।
২৫.
যদি একটি পাবলিক কোম্পানি দ্বারা চুক্তি করা হয় এবং পরে সেটি অন্য পাবলিক কোম্পানির সাথে মিলিত হয়, তাহলে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন পেতে পারবে-
  1. পুরনো কোম্পানি
  2. নতুন গঠিত কোম্পানি
  3. কোম্পানির উদ্যোক্তা ব্যক্তিরা
  4. শুধুমাত্র শেয়ারহোল্ডাররা
ব্যাখ্যা
ধারা ২৩- সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন যে পেতে পারে:
এই অধ্যায়ে ভিন্নরূপ বিধিবদ্ধ না থাকলে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন পেতে পারে-
ক) চুক্তির যেকোন পক্ষ;

খ) চুক্তির যেকোন পক্ষের বা স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি; শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে তেমন পক্ষের শিক্ষা, দক্ষতা, স্বচ্ছলতা বা কোন ব্যক্তিগত গুণাগুণ চুক্তির উল্লেখযােগ্য উপাদান হয় বা যেক্ষেত্রে চুক্তিতে বিধান থাকে‌ যে, তার স্বার্থের স্বত্ব নিয়ােগ করা যাবে না, সেক্ষেত্রে তার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি বা তার প্রধান চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের অধিকারী হবেন না, যদি না চুক্তিতে তার অংশ ইতপূর্বেই সম্পাদিত থাকে।

গ) যেক্ষেত্রে চুক্তি হচ্ছে একটি বিবাহের ব্যাপারে নিষ্পত্তি বা একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার সন্দেহপূর্ণ অধিকারের আপােষ-মীমাংসা, সেক্ষেত্রে চুক্তি অনুসারে হিতকরভাবে অধিকারী যেকোন ব্যক্তি;

ঘ) যেক্ষেত্রে একজন আজীবন প্রজা তার ক্ষমতার যথাযথ প্রয়ােগপূর্বক চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সেক্ষেত্রে অবশিষ্ট ব্যক্তি;

ঙ) যেক্ষেত্রে চুক্তিপত্র এমন যা সম্পন্ন করা হয়েছিল তার পূর্বাধিকারীর সাথে ও যেক্ষেত্রে তেমন চুক্তিপত্রের লাভ উত্তরাধিকারী পাবার অধিকারী, সেক্ষেত্রে অধিকার ভােগের উত্তরাধিকারী;

চ) যেক্ষেত্রে চুক্তি হচ্ছে এমন উত্তরাধিকারী যা থেকে সৃষ্ট মুনাফা লাভের অধিকারী ও তা ভঙ্গহেতু আর্থিক ক্ষতি ভােগ করবে, সেক্ষেত্রে অবশিষ্ট ভাগের উত্তরাধিকারী;

ছ) যেক্ষেত্রে পাবলিক কোম্পানি চুক্তি করে ও তার পর পরই তা অপর একটি পাবলিক কোম্পানির সাথে মিলিত হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে মিলিত হওয়ার কারণে গঠিত নতুন কোম্পানি;

জ) যেক্ষেত্রে একটি পাবলিক কোম্পানির উদ্যোক্তা ব্যক্তিগণ কোম্পানি গঠিত হওয়ার আগেই কোম্পানির প্রয়ােজনবশতঃ চুক্তি করে এবং কোম্পানি গঠনের শর্তাবলীতে তেমন চুক্তিকে নির্বিঘ্ন করা হয়, সেক্ষেত্রে কোম্পানি।
২৬.
'ক', 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' তা 'গ'-এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পর 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এ মর্মে একটি জাল দলিল দাখিল করে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবেই 'খ' কে হস্তান্তর প্রদান করা হয়েছিল। 'গ' সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারায়- 
  1. জাল দলিল বাতিলের আদেশ পেতে পারে
  2. জাল দলিল সংশোধনের আদেশ পেতে পারে
  3. জাল দলিল কার্যকরের আদেশ পেতে পারে
  4. কোনো প্রতিকার পাবে না
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৯: যখন বাতিলের আদেশ প্রদানযোগ্য:
যেকোন ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে লিখিত চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য, যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে, তেমন দলিল নিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে, তবে সে তা বাতিল বা বাতিলযোগ্য ঘোষণার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এবং আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে তেমন রায় প্রদান করতে এবং চুক্তি বিলুপ্তি হিসাবে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
যদি দলিল নিবন্ধন আইন অনুসারে নিবন্ধিকৃত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি কপি সে কর্মকর্তার বরাবরে প্রেরণ করবেন, যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে এবং তেমন কর্মকর্তা তার বইতে দলিলের নকলে তার বিলুপ্তির বিষয়াবলী লিপিবদ্ধ করবেন।

(ক) একটি জাহাজের মালিক প্রতারণামূলকভাবে জাহাজটিকে সমুদ্র যাত্রার উপযুক্তমর্মে উল্লেখপূর্বক একজন দায়গ্রাহক 'খ' কে উক্ত জাহাজের বীমা করতে প্রবৃত্ত করে। 'খ' বীমা পলিসির বিলুপ্তি পেতে পারে।

(খ) 'ক', 'খ' কে জমি প্রদান করে। 'খ' তা 'গ'-এর নামে উইল করে মারা যায়। এর পর 'ঘ' জমির দখল গ্রহণ করে এবং এ মর্মে একটি জাল দলিল দাখিল করে যে, তার পক্ষে জিম্মাদার হিসাবেই 'খ' কে হস্তান্তর প্রদান করা হয়েছিল। 'গ' এই জাল দলিলের বাতিলের আদেশ পেতে পারে।

(গ) 'ক' তার জমির, সকল প্রজা উচ্ছেদযোগ্য, এ বিবরণ প্রদান পূর্বক 'খ' এর নিকট জমি বিক্রয় করে। ১৮৭৭ সালের ১লা জানুয়ারী তারিখে একটি দলিলের মাধ্যমে 'খ' এর নিকট তা হস্তান্তর করে। এই তারিখের পরপরই ১৮৭৬ সালের পহেলা অক্টোবরের তারিখ দিয়ে 'ক' প্রতারণামূলকভাবে 'গ' কে উক্ত জমির অংশবিশেষ ইজারা প্রদান করে এবং নিবন্ধন আইন অনুসারে ইজারা নিবন্ধন করা হয়। 'খ' এ ইজারার বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
 
(ঘ) 'ক' একটি জাহাজ 'খ' এর নিকট অর্পণে সম্মত হল। যার জন্য 'খ' কে ৪টি হুণ্ডির মারফত ৩০,০০০ টাকা প্রদান করতে হবে, যা 'ক' গ্রহণ করবে। হুণ্ডিসমূহ প্রণয়ন ও গ্রহণ করা হল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী জাহাজ প্রদান করা হল না। 'ক', 'খ' এর বিরুদ্ধে একটি হণ্ডি প্রসঙ্গে মামলা দায়ের করল। 'খ' সকল হুণ্ডির বিলুপ্তি লাভ করতে পারে।
২৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৮ ধারা অনুসারে - On adjudging the rescission of a contract, the Court may require the party to __________ to make any compensation to the other which justice may require.
  1. the defendant
  2. whom such relief is rejected
  3. whom such relief is not granted
  4. whom such relief is granted
ব্যাখ্যা
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 38- Court may require party rescinding to do equity:
On adjudging the rescission of a contract, the Court may require the party to whom such relief is granted to make any compensation to the other which justice may require.

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৮ ধারা অনুযায়ী: রদকারী পক্ষের পক্ষ থেকে আদালত প্রয়োজন অনুসারে ন্যায়পরতার দাবি করতে পারেন:
চুক্তি রদের রায় প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত যে পক্ষকে প্রতিকার মঞ্জুর করেছেন, সেই পক্ষের থেকে অপর পক্ষকে ন্যায়বিচারের প্রয়োজন অনুসারে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।
২৮.
কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কার্যসম্পাদনের আদেশ দিতে সরকার কার সাথে পরামর্শ করবেন?
  1.  রাষ্ট্রপতির সাথে
  2. প্রধানমন্ত্রীর সাথে
  3. অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে
  4. হাইকোর্ট বিভাগের সাথে 
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ১১(৪) ধারার বিধান হল:
এই ধারায় যা কিছুই বর্ণিত থাকুক না কেন, সরকার হাইকোর্ট ডিভিশনের সাথে পরামর্শসাপেক্ষে নির্ধারিত মেয়াদের জন্য যে কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বাদি পালন করার নির্দেশ দিতে পারবেন এবং অনুরূপ নির্ধারিত মেয়াদকালে উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বসমূহ পালন করবেন না।

অর্থাৎ, সরকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যাবলী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সম্পাদনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগের সাথে পরামর্শ করে থাকেন।

Section 11(4)-
Notwithstanding anything contained in this section, the Government may require any Executive Magistrate to perform the functions of a Judicial Magistrate for a period to be determined in consultation with the High Court Division and during such period, the Magistrate shall not perform the functions of an Executive Magistrate.
২৯.
'একজন নারীর দেহ তল্লাশি সংক্রান্ত বিধান'- ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারায় আছে?
  1. ৫০ ধারা
  2. ৫১ ধার
  3. ৫২ ধারা
  4. ৫৩ ধারা
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারায় স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশীর বিধান রয়েছে। ৫২ ধারা অনুযায়ী-
কোন স্ত্রীলোকের দেহ তল্লাশী করার প্রয়োজন হলে শালীনতার প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে অন্য একজন স্ত্রীলোক দ্বারা তল্লাশী করাতে হবে।

Section 52- Mode of searching women:
Whenever it is necessary to cause a woman to be searched, the search shall be made by another woman, with strict regard to decency.
৩০.
একজন বেসরকারি ব্যক্তি নিচে বর্ণিত কোন ক্ষেত্রে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেন না?
  1. আমলযোগ্য অপরাধ করেছেন এমন কাউকে
  2. আমলঅযোগ্য অপরাধ করেছেন এমন কাউকে 
  3. অপরাধী বলে ঘোষিত কোনো ব্যক্তিকে
  4. জামিনঅযোগ্য অপরাধ করেছেন এমন কাউকে
ব্যাখ্যা
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা- সাধারণ নাগরিক কর্তৃক গ্রেফতার এবং গ্রেফতারের পরবর্তী কার্যপ্রণালী:
 
(১) যে কোন সাধারণ নাগরিক তাঁর মতে জামিন অযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনকারীকে অথবা অপরাধী মর্মে ঘোষিত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেন এবং অনাবশ্যক বিলম্ব না করে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে পুলিশ অফিসারের কাছে হস্তান্তর করবেন অথবা পুলিশ অফিসারের অনুপস্থিতিতে তাকে নিকটস্থ থানায় হেফাজতে নিয়ে যাবেন বা নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করবেন।

(২) এ ধরণের ব্যক্তি ৫৪ ধারার বিধানসাপেক্ষ বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকলে কোন পুলিশ অফিসার পুনরায় তাকে গ্রেফতার করবেন।

(৩) সে আমল-অযোগ্য অপরাধ করেছে মর্মে বিশ্বাস করাার কারণ থাকলে এবং পুলিশ অফিসারের দাবীকে সে নিজের নাম ও বাসস্থান প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলে অথবা যদি এরূপ নাম ও বাসস্থান দেয় যা উক্ত অফিসারের মিথ্যা রূপে বিশ্বাস করবার কারণ ঘটে, সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে ৫৭ ধারার বিধান সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সে কোন অপরাধ করেছে মর্মে বিশ্বাস করবার মত পর্যাপ্ত কারণ না থাকলে তাকে সাথে সাথে ছেড়ে দিতে হবে।
৩১.
'একজন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তার অধস্তন ম্যাজিস্ট্রেটগণের বসার সময়, স্থান বা বিচার্য বিষয়ের শ্রেণি সম্পর্কে বিধি প্রণয়ন করতে পারেন' - এই ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধির কোথায় বর্ণিত আছে?
  1. ১৬ ধারা
  2. ১৭ ধারা
  3. ২০ ধারা
  4. ২১ ধারা
ব্যাখ্যা
ধারা ২১(১): চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (Chief Metropolitan Magistrate):
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তার এখতিয়ারাধীন এলাকায় এই বিধি বা বর্তমানে প্রযোজ্য কোনো আইনের অধীনে তাঁর বা কোনো মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটের উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

এছাড়াও, তিনি সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে সময় সময়ে এই বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিয়ম তৈরি করতে পারবেন, যা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করবে:
(ক) মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটদের আদালতের কার্যপ্রণালী, কাজের বণ্টন এবং আদালতের পদ্ধতি।
(খ) মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটদের বেঞ্চ (Bench) গঠনের নিয়মাবলী।
(গ) এসব বেঞ্চ কোন সময়ে এবং কোথায় বসবে, তা নির্ধারণ।
(ঘ) বেঞ্চে বসা ম্যাজিস্ট্রেটদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলে তা কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে, সেই পদ্ধতি।
(ঙ) আরও যে-কোনো বিষয়, যা একজন প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট (Chief Judicial Magistrate) তাঁর অধীনস্থ ম্যাজিস্ট্রেটদের উপর সাধারণ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার মাধ্যমে পরিচালনা করতে পারেন, তাও অন্তর্ভুক্ত।
৩২.
ফৌজদারি কার্যবিধির  ১৯০ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট কয়ভাবে অপরাধ আমলে নিতে পারেন?
  1. ২ ভাবে
  2. ৩ ভাবে
  3. ৪ ভাবে
  4. ৫ ভাবে
ব্যাখ্যা
আমলে নেয়া অর্থ হলো -অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অপরাধের বিরুদ্ধে অগ্রসর হওয়ার জন্য উপাদান আছে বলে ম্যাজিস্ট্রেট মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে এবং সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন অগ্রসর হওয়ার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধটি আমলে নিয়েছে বলে গণ্য হবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০ এ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে নেয়ার বিধান উল্লেখ রয়েছে।

• যে সকল ম্যাজিস্ট্রেটগণ অপরাধ আমলে নিতে পারেন:
i. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
ii. মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
iii. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
iv. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট অথবা
v. ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যকোন ম্যাজিস্ট্রেট

• ম্যাজিস্ট্রেট ৩টি উৎসের উপর ভিত্তি করে অপরাধ আমলে (Cognizance) নিতে পারেন। যথা-
i. অভিযোগ (Complaint ) [ধারা ১৯০ (১)(ক)]
ii. পুলিশের লিখিত রিপোর্ট (Report) [ধারা ১৯০ (১)(খ)]
iii. তথ্য (information), নিজস্ব জ্ঞান ( knowledge ) বা সন্দেহবশত (suspicion) কোন তথ্য পেলে [ধারা ১৯০ (১)(গ)]

• ক্ষমতাপ্রাপ্ত ২য় ও ৩য় শ্রেণীর ম্যজিস্ট্রেট অভিযোগ ও রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে মামলা আমলে নিতে পারেন। [ধারা ১৯০(৩)]
• ৩য় শ্রেণীর ম্যজিস্ট্রেট তথ্য (information), নিজস্ব জ্ঞান (knowledge) বা সন্দেহ (suspicion) এর উপর ভিত্তি করে মামলা আমলে নিতে পারেন না।
• সরকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করতে পারেন। (Government may empower any Executive Magistrate to take cognizance) [ধারা ১৯০ (৪)]
৩৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪ক ধারামতে - Assistant Sessions Judge shall be construed as a reference to a ___________.
  1. Sessions Judge
  2. Joint Sessions Judge
  3.  District Sessions Judge
  4. Additional District Sessions Judge
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪ক ধারামতে - In this Code, unless the context otherwise requires, any reference-
(d) to an Assistant Sessions Judge, shall be construed as a reference to a joint Sessions Judge;

[এই বিধিতে, প্রসঙ্গের অন্যথা না হলে, সহকারী দায়রা জজ-এর যে কোনো উল্লেখকে যুগ্ম দায়রা জজ-এর উল্লেখ হিসেবে গণ্য করা হবে।
৩৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারায় কোনো স্থানে তল্লাশি করতে হলে কমপক্ষে কতজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে তল্লাশিটি করতে হবে?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা- সাক্ষীর উপস্থিতিতে তল্লাশী কার্যক্রম চালাতে হবে:
(১) এই অধ্যায় মোতাবেক তল্লাশী করার পূর্বে যে অফিসার বা ব্যক্তি তা করতে গিয়েছেন, তিনি যে এলাকার মধ্যে, যে স্থান তল্লাশী করতে হবে তা অবস্থিত, সেই এলাকার দুই বা ততোধিক নিরপেক্ষ ও গণ্যমান্য অধিবাসীকে তল্লাশীর সাক্ষী হবার জন্য আহ্বান করবেন এবং এরূপ করার জন্য তাদেরকে বা তাদের যে কোন একজনের প্রতি লিখিত আদেশ দিতে পারবেন।

(২) তাদের সমক্ষে তল্লাশী করতে হবে, এবং ঐরূপ অফিসার বা অন্য ব্যক্তি ঐরূপ তল্লাশী করার সময় যেসব জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং যেসব স্থানে ঐগুলি যথাক্রমে পাওয়া যায় তার একটি তালিকা তৈরী করবেন এবং ঐরূপ সাক্ষীগণ তাতে সই দিবেন; কিন্তু আদালত বিশেষভাবে সমন না দিলে এই ধারায় সম্পাদিত তল্লাশী দর্শনকারী ব্যক্তিকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে না।
৩৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির কত ধারায় মৃত্যুর কারণ তদন্তে ম্যাজিষ্ট্রেট কবরস্থ লাশ তুলার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন?
  1. ১৭৪(১) ধারায়
  2. ১৭৪(২) ধারায়
  3. ১৭৬(১) ধারায়
  4. ১৭৬(২) ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৬ ধারার বিধান:
(১) কোন ব্যক্তি পুলিশের হেফাজতে থাকাকালে মারা গেলে সুরতহাল তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা সম্পন্ন নিকটতম ম্যাজিষ্ট্রেট অবশ্যই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ অফিসার কর্তৃক তদন্ত ছাড়াও অথবা এরূপ তদন্তের অতিরিক্ত তদন্ত করবেন এবং ১৭৪ ধারার (১) উপধারার (ক), (খ) ও (গ) অনুচ্ছেদে উল্লিখিত অন্যান্য ক্ষেত্রে উক্তরূপে ক্ষমতাবান যেকোন ম্যাজিষ্ট্রেট মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ অফিসার কর্তৃক তদন্ত ছাড়াও অথবা এরূপ তদন্তের অতিরিক্ত তদন্ত করতে পারবেন এবং তিনি যদি এরূপ করেন তাহলে কোন অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে তার যেরূপ ক্ষমতা থাকবে এক্ষেত্রেও তার সেরূপ ক্ষমতা থাকবে। এরূপ তদন্ত পরিচালনার সময় ম্যাজিষ্ট্রেট অবস্থা অনুসারে অতঃপর বর্ণিত পদ্ধতিসমূহের যে কোন একটি পদ্ধতিতে গৃহীত সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করবেন।

- কবর হতে লাশ তুলিবার ক্ষমতা:

(২) যে লাশ ইতোমধ্যে কবরস্থ করা হয়েছে, উক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট যদি মৃত্যুর কারণ আবিস্কারের জন্য তা পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তাহলে তিনি লাশটি কবর হতে তুলিবার এবং উহা পরীক্ষা করে দেখিবার ব্যবস্থা করতে পারেন।
৩৬.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ৪২১ ধারার আওতায় আপিল সংক্ষিপ্ত খারিজ করার পূর্বে-
  1. নতুন সাক্ষ্য গ্রহণ করতে হবে
  2. আপিলকারীকে অবশ্যই আদালতে হাজির থাকতে হবে
  3. নতুন অভিযোগ দায়ের করতে হবে
  4. আপিলকারীকে বক্তব্যের সুযোগ দিতে হবে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৪২১- আপিলের সংক্ষিপ্ত খারিজ:
(১) ধারা ৪১৯ বা ৪২০ এর আওতায় দরখাস্ত ও নকল পাবার পর আপিল আদালত উহা পড়বেন, এবং যদি ইহা বিবেচনা করেন যে, হস্তক্ষেপ করার মত পর্যাপ্ত কারণ নেই, সেক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে আপিল খারিজ করতে পারবেন-

শর্ত থাকে যে,
ধারা-৪১৯ এর আওতায় দাখিলকৃত আপিলের ক্ষেত্রে আপিলকারী বা তার উকিলকে বক্তব্য পেশ করার যৌক্তিক সুযোগ না দিয়ে আপিল খারিজ করা যাবে না।

(২) এই ধারার আওতায় আপিল খারিজ করার পূর্বে আদালত মামলার নথি তলব করতে পারবেন, কিন্তু আদালত এরূপ তলব করতে বাধ্য হবেন না।
৩৭.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ২৬২(২) অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত বিচারে সর্বোচ্চ কত বছর কারাদণ্ড প্রদান করা যেতে পারে?
  1. এক বছর
  2. দুই বছর
  3. তিন বছর
  4. পাঁচ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ ধারা ২৬২: সংক্ষিপ্ত বিচারের প্রক্রিয়া-
(১) এই অধ্যায়ের অধীনে বিচারকরণের ক্ষেত্রে, অধ্যায় XX-এ বর্ণিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, তবে এখানে উল্লেখিত কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া।

→ কারাদণ্ডের সীমা:
(২) এই অধ্যায়ের অধীনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুই বছরের অধিক কারাদণ্ডের রায় প্রদান করা যাবে না।

৩৮.
যদি আপিলকৃত সিদ্ধান্ত কোনো চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অন্য ম্যাজিস্ট্রেট প্রদান করে, তাহলে প্রত্যয়নের সার্টিফিকেট কার মাধ্যমে পাঠানো হবে?
  1. সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে
  2. চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে
  3. চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
ধারা ৪২৫: আপিলের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ নিম্ন আদালতে প্রত্যয়ন:
(১) যখন এই অধ্যায়ের অধীনে উচ্চ আদালত বিভাগ (হাইকোর্ট ডিভিশন) আপিলের উপর কোনো মামলা সিদ্ধান্ত দেয়, তখন এটি তার রায় বা আদেশ সেই আদালতে প্রত্যয়ন করবে, যেখানে আপিলকৃত সিদ্ধান্ত, দণ্ড বা আদেশ রেকর্ড করা বা প্রদত্ত হয়েছিল।

তবে শর্ত থাকে যে, যদি উক্ত সিদ্ধান্ত, দণ্ড বা আদেশ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অন্য কোনো ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক রেকর্ড বা প্রদত্ত হয়ে থাকে, তাহলে প্রত্যয়নের সার্টিফিকেট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে প্রেরণ করতে হবে, যেখানে যা প্রযোজ্য।

(২) যে আদালতে হাইকোর্ট বিভাগ তার রায় বা আদেশ প্রত্যয়ন করে, সে আদালত উচ্চ আদালতের রায় বা আদেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আদেশ গ্রহণ করবে; এবং যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে রেকর্ড সংশোধন করা হবে।
৩৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারাটি একই আইনের কোন ধারাকে প্রভাবিত করবে না?
  1. ১৮২ ধারা
  2. ১৮৮ ধারা
  3. ২৬৬ ধারা
  4. ৩৬৬ ধারা
ব্যাখ্যা
ধারা ৪০৩: একবার দণ্ডিত বা খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য পুনরায় বিচার করা যাবে না

(১) যে ব্যক্তি কোনো আদালতের আইনি অধিকারভুক্ত বিচারাধীন কোন অপরাধে একবার বিচারিত হয়ে দণ্ডিত বা খালাস প্রাপ্ত হয়েছে, তার এই দণ্ড বা খালাস প্রযোজ্য থাকা অবস্থায়, তাকে একই অপরাধের জন্য আবার বিচার করা যাবে না, এবং একে বাদ দিয়ে যে কোনো অপরাধের জন্যও বিচার করা যাবে না, যা তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের সাথে সম্পর্কিত হতে পারত, যা ধারা ২৩৬ অনুযায়ী পৃথক অভিযোগের মাধ্যমে করা যেত, অথবা যা সে ধারা ২৩৭ অনুযায়ী দণ্ডিত হতে পারত।

(২) যে ব্যক্তি কোনো অপরাধে খালাস বা দণ্ডিত হয়েছে, তাকে পরবর্তীতে অন্য কোনো আলাদা অপরাধের জন্য বিচার করা যেতে পারে, যদি সেই অপরাধটি তার পূর্ববর্তী বিচারাধীন মামলায় ধারা ২৩৫(১) অনুযায়ী আলাদা অভিযোগ হিসেবে তার বিরুদ্ধে আনা হতে পারত।

(৩) যে ব্যক্তি কোনো অপরাধে দণ্ডিত হয়েছে এবং সে অপরাধের ফলে কোনো অন্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যা তার প্রথম দণ্ডিত অপরাধ থেকে পৃথক ছিল, তাকে পরবর্তীতে সেই অপরাধের জন্য বিচার করা যেতে পারে, যদি অপরাধের ফলাফল তখন ঘটেনি বা আদালত জানত না যে তা ঘটেছে।

(৪) যে ব্যক্তি কোনো অপরাধে খালাস বা দণ্ডিত হয়েছে এবং সে অপরাধটি যে কোনো কাজ দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল, তাকে সেই একই কাজ দ্বারা সংঘটিত অন্য কোনো অপরাধের জন্য পরবর্তীতে অভিযোগ আনা এবং বিচার করা যেতে পারে, যদি প্রথমে বিচারকারী আদালত সেই অপরাধের বিচার করার জন্য যোগ্য না ছিল।

(৫) এই ধারায় কোনো কিছুই General Clauses Act, ১৮৯৭ এর ধারা ২৬ বা এই কোডের ধারা ১৮৮ এর বিধানকে প্রভাবিত করবে না।
৪০.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী পুলিশ অফিসার অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারি পরোয়ানার সারমর্ম জানাবেন ও পরোয়ানা দেখাবেন?
  1. ধারা ৭৮
  2. ধারা ৮০
  3. ধারা ৮২
  4. ধারা ৮৪
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৮০ ধারা- পরোয়ানার সারমর্ম নোটিশকরণ:
গ্রেফতারী পরোয়ানা কার্যকর করতেছেন এরূপ কোন পুলিশ অফিসার বা অপর কোন ব্যক্তি, যাকে গ্রেফতার করা হবে, তাকে পরোয়ানার সারমর্ম অবহিত করাবেন এবং যদি প্রয়োজন হয় তাহলে উক্ত পরোয়ানাটি দেখাবেন।

Section 80- Notification of substance of warrant:
The police-officer or other person executing a warrant of arrest shall notify the substance thereof to the person to be arrested, and, if so require, shall show him the warrant.
৪১.
অভিযোগকারী কতদিনের মধ্যে খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭ ধারায় খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান আলোচনা করা হয়েছে। খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়-
১- হাইকোর্ট বিভাগে;
২- দায়রা জজের নিকট।

খালাস আদেশটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দিলে দায়রা জজের নিকট এবং দায়রা আদালত দিলে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করতে হবে। খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে-
১. পাবলিক প্রসিকিউটর;
২. অভিযোগকারী।

৪১৭ (১) ধারায় পাবলিক প্রসিকিউটর এবং ৪১৭ (২) ধারায় অভিযোগকারী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে। পাবলিক প্রসিকিউটর যেকোনো মামলায় (G.R এবং C.R উভয় মামলায়) প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিলকরতে পারে। অভিযোগকারী শুধুমাত্র নালিশী মামলায় (C.R মামলায়) প্রদত্ত খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪১৭(৩) ধারা অনুসারে, 
খালাস আদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী আপিল দায়ের করতে পারে ৬০ দিনের মধ্যে এবং তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ১৫৭ ধারা অনুচ্ছেদ অনুসারে পাবলিক প্রসিকিউটর খালাসের বিরুদ্ধে ৬ মাসের মধ্যে আপিল দায়ের করতে পারে।
৪২.
রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের মামলার ক্ষেত্রে কার অনুমতি সাপেক্ষে মামলা দায়ের করতে হয়?
  1. প্রধান বিচারপতির অনুমতিক্রমে
  2. হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের অনুমতিক্রমে
  3. সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার অনুমোদনক্রমে
  4. বিচারিক আদালতের অনুমতিক্রমে
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা অনুযায়ী,
কোনো আদালত এমন কোনো অপরাধের বিচার কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না, যা দণ্ডবিধির অধ্যায় VI অথবা অধ্যায় IXA এ উল্লিখিত, বা দণ্ডবিধির ধারা ১০৮ক, ১৫৩্ক, ২৯৪A, ২৯৫ক ও ৫০৫ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য, যদি না সেই অপরাধের বিষয়ে সরকার বা সরকারের কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার আদেশে কিংবা অনুমোদনে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে এই নিয়মের আওতাভুক্ত নয় দণ্ডবিধির ১২৭ ধারা।

[No Court shall take cognizance of any offence punishable under Chapter VI or IXA of the Penal Code (except section 127), or punishable under section 108A, or section 153A, or section 294A, or section 295A or section 505 of the same Code, unless upon complaint made by order of, or under authority from, the Government, or some officer empowered in this behalf by the Government].
৪৩.
Final Report কখন পেশ করা হয়?
  1. যখন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাক্ষী পাওয়া যায়
  2. যখন প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা বা প্রমাণ পাওয়া যায়
  3. যখন প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা বা প্রমাণ পাওয়া যায় না
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
পুলিশ রিপোর্ট:
পুলিশ অফিসার বা মামলার তদন্তকারী অফিসার মামলার তদন্ত শেষে আদালতের নিকট যে প্রতিবেদন পেশ করে, তাকেই পুলিশ রিপোর্ট বলে। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩ এ পুলিশ রিপোর্ট সম্পর্কে বিধান রয়েছে।

-সাধারণত পুলিশ রিপোর্ট ২ প্রকার-
১. Charge Sheet ( অভিযোগ পত্র): 
প্রাথমিক তদন্ত শেষে সত্যতা/প্রমাণ খুঁজে পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, তাকেই Charge Sheet বলে এবং ম্যাজিস্ট্রেট এর ভিত্তিতে মামলায় অগ্রসর হন।

২. Final Report (চূড়ান্ত প্রতিবেদন): 
প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা/প্রমাণ খুঁজে পাওয়া না গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, তাকেই Final Report বলে এবং এর উপর ভিত্তি করে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি [Discharge] দেন।
৪৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭১ ধারায় রায়ের কপির জন্য আসামি পক্ষ আবেদন করলে তা দিতে হবে-
  1. খরচসহ ৭ দিনের মধ্যে
  2. খরচবাদে ১৫ দিনের মধ্যে
  3. খরচসহ ১৫ দিনের মধ্যে
  4. খরচবাদে কোনো বিলম্ব ছাড়া
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭১ ধারার বিধান: আসামীর আবেদনে রায় প্রভৃতির অনুলিপি তাহাকে দিতে হইবে:
(১) আসামী আবেদন করলে রায়ের একটি নকল অথবা সে ইচ্ছা করলে ও সম্ভব হলে তার নিজের ভাষায় বা আদালতের ভাষায় উহার একটি অনুবাদ তাকে অবিলম্বে দিতে হবে। ২০ অধ্যায়ের মামলা ব্যতিত অন্য যেকোন মামলায় এরূপ নকল বিনা মূল্যে দিতে হবে

মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত ব্যক্তির বিষয়:
(৩) যখন কোন দায়রা জজ কোন আসামীকে মৃত্যু দণ্ডাদেশ প্রদান করেন, তখন উক্ত দায়রা জজ তাকে আরও জানাইবেন যে সে আপীল করতে চাইলে কতদিনে মধ্যে আপীল করতে পারবে।
৪৫.
কোন অপরাধের তদন্ত বা বিচারের উদ্দেশ্যে যে স্থানে কোন ফৌজদারি আদালতের অধিবেশন বসে, ঐ স্থানকে _________ আদালত হিসেবে গন্য করতে হবে।
  1. উন্মুক্ত
  2. বদ্ধ
  3. গোপন
  4. সংরক্ষিত
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩৫২: আদালত উন্মুক্ত থাকবে-
কোন অপরাধের তদন্ত বা বিচারের উদ্দেশ্যে যে স্থানে কোন ফৌজদারি আদালতের অধিবেশন বসে, ঐ স্থানকে উন্মুক্ত আদালত হিসেবে পরিগণিত করতে হবে এবং যে পর্যন্ত সেখানে সুবিধাজনক স্থান সংকুলান হয়, সে পর্যন্ত সেখানে সর্ব সাধারণের প্রবেশাধিকার থাকতে পারেঃ

শর্ত থাকে যে, বিচারকারী জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট সঠিক মর্মে মনে করলে কোন বিশেষ মামলার অনুসন্ধান বা বিচারের যেকোন ধাপে আদেশ প্রদান করতে পারবেন যে, সর্বসাধারণ বা কোন বিশেষ ব্যক্তি আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত কক্ষ বা ভবনে প্রবেশ করতে বা অন্য কোন জায়গায় অবস্থান করতে পারবে না।
৪৬.
ফৌজদারি কার্যবিধির কোন ধারা অনুযায়ী দায়রা আদালত চার্জ গঠন করে?
  1. ২৪৫ক ধারা
  2. ২৬৫ক ধারা
  3. ২৬৫খ ধারা
  4. ২৬৫ঘ ধারা
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, ধারা- ২৬৫ঘ: চার্জ গঠন করা:
(১) যদি উক্ত পর্যালোচনা এবং শুনানির পর আদালত এই মতামত ব্যক্ত করে যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপরাধ করার জন্য সন্দেহ সৃষ্টি করার যথেষ্ট কারণ আছে, তবে আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি লিখিত চার্জ গঠন করবে।

(২) যখন আদালত উপধারা (১) অনুযায়ী একটি চার্জ গঠন করে, তখন ওই চার্জটি অভিযুক্তকে পড়া এবং ব্যাখ্যা করা হবে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে যে, সে অভিযুক্ত অপরাধে দোষী কিনা, অথবা সে বিচার প্রার্থনা করে।
৪৭.
সরকারি স্ট্যাম্প জালকরণের অপরাধ সম্পর্কে দণ্ডবিধির কোন ধারায় বলা আছে?
  1. ১৫১ ধারা
  2. ১৬১ ধারা
  3. ২৩৫ ধারা
  4. ২৫৫ ধারা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ২৫৫ ধারা- সরকারি স্ট্যাম্প জাল করণ:
কোন ব্যক্তি যদি সরকার দ্বারা রাজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত কোন স্ট্যাম্প জাল করে বা জ্ঞাতসারে অনুরূপ কোন স্ট্যাম্প জাল করার প্রক্রিয়ার অংশ বিশেষ সম্পাদন করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা: এক মূল্যের খাঁটি স্ট্যাম্পকে কোন ব্যক্তি যদি দেখতে অপর মূল্যের খাঁটি স্ট্যাম্পের মত করে লয়, তবে সে ব্যক্তি এই অপরাধ অনুষ্ঠান করে বলে পরিগণিত হবে।

Section 255- Counterfeiting Government stamp:
Whoever counterfeits, or knowingly performs any part of the process of counterfeiting, any stamp issued by Government for the purpose of revenue, shall be punished with imprisonment for life or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.

Explanation:- A person commits this offence who counterfeits by causing a genuine stamp of one denomination to appear like a genuine stamp of a different denomination.
৪৮.
'ক' দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারার অধীনে একজনকে দণ্ডিত করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় ও উক্ত ব্যক্তি সেই ধারানুসারে সর্বোচ্চ শাস্তি পায়। পরবর্তীতে 'ক' এর মিথ্যা সাক্ষ্য প্রমাণিত হয়। এক্ষেত্রে 'ক' সর্বোচ্চ শাস্তি কী পেতে পারে?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৭ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারার বিধান- খুনসহকারে ডাকাতি:
যদি মিলিতভাবে ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি, যে কোন একজন অনুরূপ ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে খুন করে, তবে তাদের প্রত্যেকে মৃত্যুদণ্ডে অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারা মতে, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবনের ২ ধরনের শাস্তি হতে পারে। যথা:
(i) কোন আসামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার পরও অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য সৃষ্টি করার পরও উক্ত আসামীর মৃত্যুদন্ড না হলে বা আসামী খালাস পেলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী যাবজ্জীবন কারাদন্ড অথবা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

(ii)  মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানের ফলে কোন নির্দোষ লোকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

⇒ এক্ষেত্রে 'ক' এর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

৪৯.
What does the term "injury" denote under Section 44 of the Penal Code?
  1. Only bodily harm
  2. Only harm to property
  3. Only psychological harm
  4. Harm to mind, body, reputation, or property
ব্যাখ্যা
⇒ যদি কোন ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তিতে অবৈধভাবে কোনরূপ ক্ষতিসাধন করা হয় তবে তাকে 'ক্ষতি' বলে।

দণ্ডবিধির ধারা ৪৪: "ক্ষতি":
"ক্ষতি" শব্দটি এমন যে কোনো ধরনের ক্ষতি বা হানি বোঝায়, যা অবৈধভাবে কোনো ব্যক্তির দেহ, মন, খ্যাতি বা সম্পত্তির ওপর ঘটানো হয়।

Section-44: “Injury”-
The word "injury" denotes any harm whatever illegally caused to any person, in body, mind, reputation or property.
৫০.
A, একটি গুরুতর এবং আকস্মিক উত্তেজনার কারণে, Z কে পিস্তল দিয়ে গুলি করে, এমন পরিস্থিতিতে যে, যদি তার গুলির কারণে Z এর মৃত্যু ঘটে, তবে তা অপরাধমূলক হত্যার চেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে। এই পরিস্থিতিতে A দণ্ডবিধির _______ এর অধীনে অপরাধ করেছে।
  1. ধারা ৩০৪
  2. ধারা ৩০৭
  3. ধারা ৩০৮
  4. ধারা ৩০৯
ব্যাখ্যা
ধারা ৩০৮ - অপরাধমূলক নরহত্যার উদ্যোগ:
যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করে যার মধ্যে এমন উদ্দেশ্য বা জ্ঞান থাকে এবং এমন পরিস্থিতি থাকে যে, যদি সে তার সেই কাজ দ্বারা মৃত্যু ঘটাতে সক্ষম হয়, তবে তাকে হত্যার অপরাধ না হলেও অপরাধের গম্ভীরতা অনুযায়ী দায়ী করা হবে, তাকে অপরাধমূলক হত্যার চেষ্টা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সাজা হবে: তিন বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে এবং, যদি কোনো ব্যক্তিকে আঘাত করা হয় এমন কাজ দ্বারা, তবে সাজা হবে: সাত বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে।

উদাহরণ
A, একটি গুরুতর এবং আকস্মিক উত্তেজনার কারণে, Z কে পিস্তল দিয়ে গুলি করে, এমন পরিস্থিতিতে যে, যদি তার গুলির কারণে মৃত্যু ঘটে, তবে তা অপরাধমূলক হত্যা হবে, তবে এটি খুনের অপরাধ না হয়ে অপরাধমূলক হত্যার চেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে। এই পরিস্থিতিতে A ধারা ৩০৮ এর অধীনে অপরাধ করেছে।
৫১.
প্ররোচনার [Provocation] দরুণ স্বেচ্ছায় আঘাত প্রদান করা হলে, দণ্ডবিধির ৩৩৪ ধারায় তার সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ৬ মাসের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  2. ৩ মাসের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. ২ মাসের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. ১ মাসের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৩৪ - প্ররোচনার কারণে স্বেচ্ছায় আঘাত প্রদান:
যে ব্যক্তি গুরুতর এবং আকস্মিক প্ররোচনার কারণে স্বেচ্ছায় আঘাত করে, যদি সে অন্য কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য বা জ্ঞান না থাকে, কেবল সেই ব্যক্তিকে আঘাত করে যে প্ররোচনা দিয়েছে, তবে তাকে এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয়ই দেওয়া যেতে পারে।

[Whoever voluntarily causes hurt on grave and sudden provocation, if he neither intends nor knows himself to be likely to cause hurt to any person other than the person who gave the provocation shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to five hundred taka, or with both.]
৫২.
A, Z সম্পর্কে একটি বদনাম ছড়াবে বলে ভয় দেখায়, যদি না Z তাকে টাকা দেয়। এতে Z বাধ্য হয়ে টাকা দেয়। এক্ষেত্রে, A _________ করেছে।
  1. ডাকাতি
  2. দস্যুতা
  3. অপরাধমূলকভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ
  4. বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়
ব্যাখ্যা
⇒ বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায়ের সংজ্ঞা (Extortion)-
কাউকে ক্ষতি করার ভয় দেখিয়ে তার নিকট থেকে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করাকে বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায় বা extortion বলে। অন্যভাবে বলা যায়, কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অপর কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুর ভয়, আঘাতের ভয় বা পথরুদ্ধ করার ভয় দেখিয়ে কোন কিছু দিতে বাধ্য করলে তাকে বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায় বলে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৮৩ ধারা- বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়:
কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে তার বা অপর কারো জখম হওয়ার ভয়ে অভিভূত করে এবং তদ্বারা অনুরূপ ভয়ে অভিভূত ব্যক্তিকে কোন ব্যক্তির কাছে যেকোন প্রকার দান বা চাঁদা প্রদানের বা কোন সম্পত্তি, মূল্যবান জামানত বা মূল্যবান জামানতে রূপান্তরযোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরযুক্ত বস্তু অর্পণে অসাধুভাবে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি বল প্রয়োগে 'সম্পত্তি আদায়' করার অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

⇒ উদাহরণ-
(ক) ক, গ-কে এইরূপ ভয় দেখায় যে, গ তাকে টাকা না দিলে ক গ-এর বিরুদ্ধে মানহানির কুৎসা রটনা করবে। এইভাবে সে তাকে টাকা দিতে গ-কে বাধ্য করে। ক 'বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়' করেছে বলে পরিগণিত হবে।
৫৩.
A causes cattle to enter upon a field belonging to Z, intending to cause and knowing that he is likely to cause damage to Z's crop. A has committed _________.
  1. mischief
  2. tresspass
  3. Criminal force
  4. misappropriation of property
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪২৫ ধারার বিধান- ক্ষতি বা অনিষ্ট:
 কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও কোন সম্পত্তি ধ্বংস বা বিনষ্ট করে, অথবা কোন সম্পত্তিতে বা উহার অবস্থানে এমন কোন পরিবর্তন সাধন করে, যার ফলে উহার মূল্য বা আবশ্যকীয়তা বিনষ্ট হয় বা হ্রাস প্রাপ্ত হয়, বা উহা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি 'ক্ষতি' সাধন করেছে বলে গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা ১:- ক্ষতি অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য অপরাধীর ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা বিনষ্ট সম্পত্তির মালিকের ক্ষতি বা লোকসান করার ইচ্ছা থাকা প্রয়োজন নয়। কোন সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের উদ্দেশ্য থাকলে অথবা সম্পত্তির অনুরূপ ক্ষতিসাধন কর্তৃক কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও সম্পত্তিটির ক্ষতিসাধন করলে অপরাধটি সংঘটিত হবে, যে সম্পত্তিটির অনুরূপ ক্ষতিসাধন করা হল, সে সম্পত্তিটি অনুরূপে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সম্পত্তি হোক আর নাই হোক।

ব্যাখ্যা ২:- যে ব্যক্তি কাজ সংঘটন করল সে ব্যক্তির নিজের বা মিলিতভাবে সে ব্যক্তির ও অন্যান্য ব্যক্তির সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে অনুষ্ঠিত কাজ কর্তৃক ক্ষতি সাধিত হতে পারে।

উদাহরণ:
- A, Z-এর ক্ষেতের মধ্যে গবাদি পশু প্রবেশ করায়, উদ্দেশ্য করে এবং জানে যে সে Z-এর ফসলের ক্ষতি ঘটাবে। A এই কাজটি করার মাধ্যমে অনিষ্ট ঘটিয়েছে।
[A causes cattle to enter upon a field belonging to Z, intending to cause and knowing that he is likely to cause damage to Z's crop. A has committed mischief.]
৫৪.
ব্যাংক কোম্পানীর সাথে প্রতারণার শাস্তি কত?
  1. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৬২খ - ব্যাংকিং কোম্পানিকে প্রতারণার মাধ্যমে সুবিধা গ্রহণের জন্য দণ্ড:
“যে কেউ কোনো ব্যাংকিং লেনদেনের সময় প্রতারণার মাধ্যমে কোনো ব্যাংকিং কোম্পানি থেকে কোনো ধরনের সুবিধা গ্রহণ করে, তাকে দুই বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।”

ব্যাখ্যা (Explanation):
এই ধারায় এবং ৪৬২A ধারায় “ব্যাংকিং কোম্পানি” বলতে বোঝায়—

১. ব্যাংকিং কোম্পানি (Banking Company Ordinance, 1962 এর ৫(গ) ধারা অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত)
২. বাংলাদেশ ব্যাংক জাতীয়করণ আদেশ, ১৯৭২ (P.O. No. 26 of 1972) অনুসারে গঠিত কোনো ব্যাংক
৩. আর্থিক প্রতিষ্ঠান, (বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ এর ৫০(গ) ধারা অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত)
৪. বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা, ১৯৭২ (P.O. No. 128 of 1972)
৫. বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক, ১৯৭২ (P.O. No. 129 of 1972)
৬. বাংলাদেশ গৃহ নির্মাণ অর্থ সংস্থা, ১৯৭৩ (P.O. No. 7 of 1973)
৭. বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ১৯৭৩ (P.O. No. 27 of 1973)
৮. ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ, ১৯৭৬ (Ord. XL of 1976)
৯. গ্রামীণ ব্যাংক, ১৯৮৩ (Ord. XLVI of 1983)
১০. রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, ১৯৮৬ (Ord. LVIII of 1986)
১১. ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত কোনো ব্যাংক।
৫৫.
'ক’ একটি কুঠার নিয়ে কাজ করছে। হঠাত কুঠারটির মাথা উঠে গিয়ে কাছে দণ্ডায়মান এক ব্যক্তিকে আঘাত করে ও তিনি নিহত হন। এক্ষেত্রে যদি ‘ক’ এর পক্ষে যথাযথ সতর্কতার অভাব না থেকে থাকে, তাহলে দণ্ডবিধির কত ধারা অনুসারে 'ক' এর কাজটি অপরাধ হবে না?
  1. ধারা ৯০
  2. ধারা ৮৭
  3. ধারা ৮৫
  4. ধারা ৮০
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৮০ ধারা- আইনানুগ কাজ সম্পাদনকালে বিপত্তি বা দুর্ঘটনা:
কোন আইনানুগ কাজ আইনানুগ পদ্ধতিতে আইনানুগ উপায়ে যথোপযুক্ত সতর্কতা ও যত্নসহকারে সম্পাদন করাকালে কোন অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বা অবগতি ছাড়া দুর্ঘটনা বা দুর্ভাগ্যক্রমে অনুষ্ঠিত কোন কিছুই অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

উদাহরণ:
‘ক’ একটি কুঠার নিয়ে কাজ করছে, হঠাৎ তা কুঠারের মাথাটি খুলে গিয়ে উড়ে যায় এবং সন্নিকটে দণ্ডায়মান এক ব্যক্তিকে নিহত করে। এক্ষেত্রে যদি ‘ক’ এর পক্ষে যথাযথ সতর্কতার অভাব না থেকে থাকে, তাহলে তার কাজ মার্জনীয় হবে এবং অপরাধ হবে না।

Section 80- Accident in doing a lawful act:
Nothing is an offence which is done by accident or misfortune, and without any criminal intention or knowledge in the doing of a lawful act in a lawful manner by lawful means and with proper care and caution.

Illustration:
A is at work with a hatchet; the head flies off and kills a man who is standing by. Here if there was no want of proper caution on the part of A, his act is excusable and not an offence.
৫৬.
শামীম স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া তার গর্ভপাত ঘটিয়েছেন। এক্ষেত্রে, শামীম দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারায় সর্বোচ্চ কী শাস্তি পেতে পারে?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. ৭ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৫ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৩ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩১৩ ধারা- স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত করণ:
কোন ব্যক্তি যদি পূর্ববর্তী ধারায় বর্ণিত অপরাধটি সংশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া সম্পাদন করে স্ত্রীলোকটি আসন্ন প্রসবা হোক বা না হোক- তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

Section 313: Causing miscarriage without women's consent:
Whoever commits the offence defined in the last preceding section without the consent of the woman, whether the woman is quick with child or not, shall be punished with imprisonment for life, or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.
৫৭.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী নিচের কোনটি ‘জনশৃঙ্খলা বিরোধী অপরাধ’?
  1. দাঙ্গা
  2. মারামারি
  3. বেআইনি সমাবেশ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধি অনুযায়ী,
দাঙ্গা (Riot), বেআইনি সমাবেশ (Unlawful Assembly) এবং মারামারি (Affray) - সবকটিই জনশৃঙ্খলা বা সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করে, তাই এগুলো ‘জনশৃঙ্খলা বিরোধী অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হয়।

১. বেআইনি সমাবেশ (Unlawful Assembly) – 
যখন পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি কোনো অবৈধ উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়, অথবা বৈধ উদ্দেশ্যে একত্র হলেও সে সমাবেশ পরে অবৈধ রূপ নেয়, তখন তা বেআইনি সমাবেশ হিসেবে গণ্য হয়।

উদ্দেশ্যগুলো হতে পারে:
- সরকার বা আইন-বিরোধী কাজ করা;
- জনসাধারণকে ভীতি প্রদর্শন;
- কোন ব্যক্তি বা সম্পত্তির বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ।

২. দাঙ্গা (Riot) –
যখন বেআইনি সমাবেশে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা বলপ্রয়োগ বা সহিংসতা করে, তখন তা দাঙ্গা হিসেবে গণ্য হয়। উদাহরণ: কোনো রাজনৈতিক মিছিলের সময় লোকজন ভাঙচুর বা লাঠিচার্জ শুরু করলে তা “দাঙ্গা” হতে পারে।

৩. মারামারি (Affray) –
যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি জনসমক্ষে ঝগড়া করে ও জনশৃঙ্খলা নষ্ট করে, তখন তাকে মারামারি (Affray) বলা হয়।
৫৮.
অবৈধ সমাবেশে নিযুক্ত ব্যক্তিকে আশ্রয়দানের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ১ মাস কারাদণ্ড
  2. ২ মাস কারাদণ্ড
  3. ৩ মাস কারাদণ্ড
  4. ৬ মাস কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ – ধারা ১৫৭: অবৈধ সমাবেশে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে নিয়োজিত ব্যক্তিদের আশ্রয়দান:
যে কোনো ব্যক্তি যদি তার দখলে থাকা বা তার নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো বাড়ি বা স্থানে এমন কোনো ব্যক্তিকে আশ্রয় দেয়, গ্রহণ করে বা একত্রিত করে—এবং সে জানে যে, ঐ ব্যক্তিরা অবৈধ সমাবেশে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত, নিযুক্ত বা নিয়োজিত হতে যাচ্ছে—তাহলে উক্ত ব্যক্তি অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে।

এই অপরাধের জন্য তাকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।
৫৯.
What is the offence described in Section 170 of the Penal Code, 1860?
  1. Stealing government documents
  2. Pretending to be a public servant
  3. Bribing a government official
  4. Refusing government orders
ব্যাখ্যা
Section 170- Personating a public servant:
Whoever pretends to hold any particular office as a public servant, knowing that he does not hold such office or falsely personates any other person holding such office, and in such assumed character does or attempts to do any act under colour of such office, shall be punished with imprisonment of either description, for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

⇒ দণ্ডবিধির ১৭০ ধারার বিধান- সরকারী কর্মচারী বলে ছদ্মবেশ ধারণ:
কোন ব্যক্তি যদি কোন পদে অধিষ্ঠিত নয় বলে জানা সত্ত্বেও সে পদে অধিষ্ঠিত রয়েছে বলে পরিচয় দেয় অথবা অন্য যে ব্যক্তি যে পদে অধিষ্ঠিত আছে নিজেকে সে পদে অধিষ্ঠিত সে ব্যক্তি বলে ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং এইরূপ মিথ্যা ছদ্মবেশ ধারণ করে সে পদের অধিকার বলে কোন কাজ করে বা করতে চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
৬০.
দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারা অনুসারে, জালিয়াতি সংঘটিত হয় যদি মিথ্যা দলিল তৈরি করা হয়-
  1. প্রতারণার উদ্দেশ্যে
  2. ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে
  3. স্বত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারা- জালিয়াতি:
কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের কিংবা কোন ব্যক্তিবিশেষের ক্ষতিসাধনের জন্য অথবা কোন দাবি বা স্বত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে অথবা কোন ব্যক্তিকে তার সম্পত্তি ত্যাগে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন প্রকাশ্য বা অনুক্ত চুক্তি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে অথবা কোন প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে বা যাতে প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে এইরূপ অভিপ্রায়ে, কোন মিথ্যা দলিল কিংবা দলিলের অংশবিশেষ প্রণয়ন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি জালিয়াতি করেছে বলে পরিগণিত হবে।

Section 463- Forgery: 
Whoever makes any false document or part of a document, with intent to cause damage or injury, to the public or to any person, or to support any claim or title, or to cause any person to part with property, or to enter into any express or implied contract, or with intent to commit fraud or that fraud may be committed, commits forgery.
৬১.
'ক', 'ম'- কে একটি দেয়ালঘেরা জায়গায় যেতে বাধ্য করে এবং সেখানে 'ম' কে তালাবদ্ধ করে রাখে। ফলে, 'ম' দেয়ালের মধ্যবর্তী নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যেতে অসমর্থ হয়। দণ্ডবিধি অনুযায়ী ক এর অপরাধটি কী নামে অভিহিত হবে?
  1. অবৈধ অবরোধ
  2. অবৈধ অর্পণ
  3. অন্যায় নিয়ন্ত্রণ
  4. অবৈধ বল প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৪০ ধারার বিধান- অবৈধ অবরোধ:
যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তির চলাচলে অবৈধভাবে এমন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে যে, উক্ত ব্যক্তি নিৰ্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করতে পারে না, তবে সে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে অবরোধ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণ:
(ক) ক, চ-কে একটি দেয়াল-ঘেরা জায়গায় যেতে বাধ্য করে এবং সেখানে চ-কে তালাবদ্ধ করে রাখে। ফলে চ সে দেয়ালের মধ্যবর্তী নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যেতে অসমর্থ হয়। ক চ-কে অবৈধভাবে অবরোধ করেছে।

(খ) ক কোন অট্টালিকার সকল বহির্দ্বারে আগ্নেয়াস্ত্রে-সজ্জিত ব্যক্তিদের মোতায়েন করে চ-কে বলে যে, চ অট্টালিকা হতে নিষ্ক্রমণের চেষ্টা করলে আগ্নেয়াস্ত্র-সজ্জিত ব্যক্তিরা চ-এর প্রতি গুলিবর্ষণ করবে। ক অবৈধভাবে চ-কে অবরোধ করেছে।
৬২.
দণ্ডবিধি অনুসারে 'Adulteration of drugs' অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
ধারা ২৭৪ - ওষুধের ভেজাল [Adulteration of drugs]:
যে ব্যক্তি কোনো ওষুধ বা চিকিৎসা প্রস্তুতিকে এমনভাবে ভেজাল দেয়, যাতে সেই ওষুধ বা চিকিৎসা প্রস্তুতির কার্যকারিতা কমে যায় অথবা তার কার্যক্রম পরিবর্তিত হয়, বা এটি ক্ষতিকর হয়, এবং যদি তার উদ্দেশ্য থাকে যে এটি বিক্রি বা ব্যবহার করা হবে অথবা জানে যে এটি বিক্রি বা ব্যবহার করা হবে, এমনভাবে যে এটি মনে হবে যে এটি ভেজাল মুক্ত, তবে তাকে ছয় মাস পর্যন্ত যে কোনো ধরনের কারাদণ্ড অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেয়া হবে।

[Whoever adulterates any drug or medical preparation in such a manner as to lessen the efficacy or change the operation of such drug or medical preparation, or to make it noxious, intending that it shall be sold or used for, or knowing it to be likely that it will be sold or used for, any medicinal purpose, as if it had not undergone such adulteration, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.]
৬৩.
দণ্ডবিধির কত ধারায় কোন নারীর শালীনতার অমর্যাদার অভিপ্রায়ে কোন মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি বা কোন কার্যকে অপরাধ বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে?
  1. ৫০৬ ধারায়
  2. ৫০৭ ধারায়
  3. ৫০৯ ধারায়
  4. ৫১০ ধারায়
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারা- কোন নারীর শালীনতার অমর্যাদার অভিপ্রায়ে কোন মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি বা কোন কার্য:
কোন ব্যক্তি যদি কোন নারীর শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে সে নারী যাতে শুনতে পায় এমন কোন কথা বলে বা শব্দ করে অথবা সে নারী যাতে দেখতে পায় এমন ভাবে কোন অঙ্গভঙ্গি করে বা কোন বস্তু প্রদর্শন করে অথবা অনুরূপ নারীর গোপনীয়তা অনধিকার লঙ্ঘন করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

Section 509- Word, gesture or act intended to insult the modesty of a woman:
Whoever, intending to insult the modesty of any woman, utters any word, makes any sound or gesture, or exhibits any object, intending that such word or sound shall be heard, or that such gesture or object shall be seen, by such woman, or intrudes upon the privacy of such woman, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.
৬৪.
'ক' একজন মৃত ব্যক্তির দানপত্রের নির্বাহক। দানপত্রে তাকে যেভাবে সম্পত্তি বন্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা ভঙ্গ করে সে সম্পত্তি আত্মসাৎ করে । 'ক' __________ করেছে।
  1. চুরি
  2. প্রতারণা
  3. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  4. অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪০৫ ধারার বিধান- অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ:
কোন ব্যক্তি যদি কোনভাবে কোন সম্পত্তির বা সম্পত্তি পরিচালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে, অসাধুভাবে সে সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বা নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, অথবা অনুরূপ দায়িত্ব যেভাবে নির্বাহিত হত বলে বিহিত আইনে নির্দেশ করা হয়েছে, তা খেলাফ করে সে দায়িত্ব নির্বাহ সম্পর্কে সে প্রকাশ্য বা অনুরূপ যে আইনগত চুক্তি করেছে তা খেলাফ করে সে সম্পত্তি অসাধুভাবে ব্যবহার করে, বা বিলি ব্যবস্থা করে অথবা ইচ্ছাপূর্বক অপর কোন ব্যক্তিকে তা করতে দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি ‘অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের’ অপরাধ করেছে।

উদাহরণ:
(ক) ক কোন মৃত ব্যক্তির দানপত্রের নির্বাহক। দানপত্রে তাকে যেভাবে সম্পত্তি বন্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা ভঙ্গ করে সে সম্পত্তি আত্মসাৎ করে । ক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেছে।

(খ) ক একটি গুদামের রক্ষক। চ বিদেশ যাত্রাকালে তার আসবাবপত্র ক-এর কাছে গচ্ছিত রাখে এই শর্তে যে, গুদামের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থপ্রদানের পর গুদাম হতে চ-এর আসবাবপত্র প্রত্যপণ করা হবে। ক অসাধুভাবে এই গচ্ছিত আসবাবপত্র বিক্রয় করে । ক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেছে।

(গ) ঢাকার বাসিন্দা ক চট্টগ্রামের বাসিন্দা চ-এর এজেন্ট। ক ও চ-এর মধ্যে একটি স্পষ্ট বা অব্যক্ত চুক্তি এই মর্মে বিদ্যমান আছে যে, চ-এর প্রেক্ষিতে সকল টাকা ক, চ-এর নির্দেশ মত বিনিয়োগ করবে। চ ক-এর কাছে এক লক্ষ টাকা প্রেরণ করে এই টাকা কোম্পানির কাগজে লগ্নি করার নির্দেশ দেয়। ক অসাধুভাবে নির্দেশটি অমান্য করে টাকাটা নিজের ব্যবসায় খাটায়। ক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেছে।
৬৫.
গুরুতর প্ররোচনা ব্যতীত অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের অপরাধে একজন অপরাধীকে সর্বোচ্চ কত টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যেতে পারে?
  1. ২০০ টাকা
  2. ৩০০ টাকা
  3. ৫০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৫২: গুরুতর প্ররোচনা ব্যতীত আক্রমণ বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগের শাস্তি-
যে ব্যক্তি কাউকে গুরুতর এবং হঠাৎ প্ররোচনা ছাড়া আক্রমণ বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করবে, তাকে তিন মাস পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয়ই আরোপ করা হবে।

ব্যাখ্যা:
গুরুতর এবং হঠাৎ প্ররোচনা, যদি অপরাধী প্ররোচনাটি নিজের থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বা স্বেচ্ছায় তৈরি করে এবং সেটিকে অপরাধের জন্য অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে, তবে ওই প্ররোচনা অপরাধের শাস্তি কমানোর কারণ হবে না।

এছাড়া, যদি প্ররোচনা আইন মেনে কিছু করা হয়, বা কোনো সরকারি কর্মচারী তার বৈধ ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্ররোচনা প্রদান করে, অথবা ব্যক্তি নিজেকে বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে প্ররোচনা দেয়, তবে সেক্ষেত্রে প্ররোচনাটি শাস্তি কমানোর কারণ হবে না।

যে প্ররোচনাটি গুরুতর এবং হঠাৎ ছিল, তা অপরাধ কমানোর জন্য যথেষ্ট কিনা, তা একটি প্রকৃত ঘটনা হিসেবে বিচার করা হবে।
৬৬.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী কখন নিজ স্ত্রীর সাথে যৌনসঙ্গম ধর্ষণ বলে পরিগণিত হবে?
  1. স্ত্রী ১৮ বছরের কম বয়স্ক হলে
  2. স্ত্রী ১৬ বছরের কম বয়স্ক হলে
  3. স্ত্রী ১৪ বছরের কম বয়স্ক হলে
  4. স্ত্রী ১৩ বছরের কম বয়স্ক হলে
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা- ধর্ষণ:
কোন পুরুষ অতঃপর উল্লেখিত ব্যতিক্রম ভিন্ন অপর সকল ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পাঁচটি যেকোন অবস্থায় কোন স্ত্রীলোকের সাথে যৌনসঙ্গম করলে সে ধর্ষণ করেছে বলে পরিগণিত হবে।
প্রথমত: স্ত্রীলোকটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে;
দ্বিতীয়ত: স্ত্রীলোকটির সম্মতি ব্যতিরেকে;
তৃতীয়ত: স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে মৃত্যু বা জখমের ভয় প্রদর্শন করে স্ত্রীলোকটির সম্মতি আদায় করা হলে;
চতুর্থত: স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে পুরুষটি জানে যে, সে স্ত্রীলোকটি স্বামী নয়, এবং পুরুষটি ইহার জানে যে, স্ত্রীলোকটি তাকে এমন অপর একজন পুরুষ বলে ভুল করেছে, যে পুরুষটির সাথে সে আইন সম্মতভাবে বিবাহিত হয়েছে বা বিবাহিত বলে বিশ্বাস করে;
পঞ্চমত: স্ত্রীলোকটি সম্মতিক্রমে অথবা সম্মতি ব্যতিরেকে, যদি স্ত্রীলোকটির বয়স চৌদ্দ বৎসরের কম হয়।

ব্যাখ্যা: ধর্ষণের অপরাধের জন্য আবশ্যকীয় যৌনসঙ্গমের জন্য যৌনাঙ্গ প্রবিষ্ট করাই যথেষ্ট গণ্য হবে।

ব্যতিক্রম: কোন পুরুষের কর্তৃক নিজ স্ত্রীর সাথে যৌনসঙ্গম ধর্ষণ বলে পরিগণিত হবে না, যদি স্ত্রী তের বৎসরে নিম্ন বয়স্কা না হয়।
৬৭.
'Consideration of proved confession affecting person making it and others jointly under trial for same offence' - এটি সাক্ষ্য আইনের কত ধারার শিরোনাম?
  1. ৪৬ ধারা
  2. ৩৮ ধারা
  3. ৩৭ ধারা
  4. ৩০ ধারা
ব্যাখ্যা
• Section 30- Consideration of proved confession affecting person making it and others jointly under trial for same offence
When more persons than one are being tried jointly for the same offence, and a confession made by one of such persons affecting himself and some other of such persons is proved, the Court may take into consideration such confession as against such other persons as well as against the person who makes such confession.

Explanation.-"Offence", as used in this section, includes the abatement of, or attempt to commit, the offence.

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারায় বলা হয়েছে-
যেখানে একের অধিক ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য যৌথ বিচার করা হচ্ছে, সেখানে কোন একজন অভিযুক্ত নিজেকে সহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জড়িয়ে কোন দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করলে, উক্ত স্বীকারোক্তি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হলে তা স্বীকারোক্তি প্রদানকারীসহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
৬৮.
The Evidence Act, 1872 এর ১৪৭ ধারা অনুসারে, সাক্ষীকে উত্তর দিতে বাধ্য করার ব্যাপারে সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হয়ে থাকে?
  1. ১৩২ ধারা
  2. ১৩৬ ধারা
  3. ১৪১ ধারা
  4. ১৪২ ধারা
ব্যাখ্যা
ধারা ১৪৭ - সাক্ষীকে উত্তর দিতে বাধ্য করা:
যদি কোনো প্রশ্ন এমন একটি বিষয় সম্পর্কিত হয় যা মোকদ্দমা বা কার্যবিবরণী সম্পর্কিত, তবে ধারা ১৩২ এর বিধান এটির উপর প্রযোজ্য হবে।

When witness to be compelled to answer-
If any such question relates to a matter relevant to the suit or proceeding, the provisions of section 132 shall apply thereto.
৬৯.
দলিল যার বিরুদ্ধে প্রমাণ করতে চাওয়া হচ্ছে তার কাছেই যদি মূল দলিলটি থাকে এবং নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও তা সে দাখিল না করে, সেক্ষেত্রে কোনো দলিল প্রমাণের পদ্ধতি কী?
  1.  প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা
  2. মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা
  3. দলিল অফিসের রেজিস্ট্রার পরীক্ষা দ্বারা
  4. দলিল প্রমাণ করা যাবে না
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন ধারা ৬৫ - যে সমস্ত ক্ষেত্রে দলিল সম্পর্কে মাধ্যমিক সাক্ষ্য দেওয়া যেতে পারে:
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে কোন দলিলের অস্তিত্ব, অবস্থা বা বিষয়বস্তু সম্পর্কে মাধ্যমিক সাক্ষ্য দেওয়া যেতে পারে:

(ক) দলিলটি যার বিরুদ্ধে প্রমাণ করতে চাওয়া হচ্ছে, মূল দলিলটি তার দখলে বা কর্তৃত্বাধীনে আছে, অথবা আদালতের সমনের আওতার বাইরে বা এখতিয়ারের বাইরে কোন ব্যক্তির দখলে বা কর্তৃত্বাধীনে আছে বলে যদি দেখানো হয় বা প্রতীয়মান হয়, অথবা যদি এমন ব্যক্তির দখলে বা কর্তৃত্বাধীনে তা থাকে, যে ব্যক্তি তা হাজির করতে আইনত বাধ্য, কিন্তু ৬৬ ধারায় উল্লেখিত নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও সে ব্যক্তি যদি তা হাজির না করে।

(খ) দলিলটি যার বিরুদ্ধে প্রমাণ করা হবে, সে ব্যক্তি বা তার কোন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি মূল দলিলের অস্তিত্ব, অবস্থা বা বিষয়বস্তু লিখিতভাবে স্বীকার করেছে বলে যখন প্রমাণ করা হয়।

(গ) মূল দলিল যেক্ষেত্রে বিনষ্ট হয়েছে বা হারিয়ে গেছে, অথবা যেক্ষেত্রে মূল দলিলে বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তি তার নিজের ত্রুটি বা অবহেলা ছাড়া অপর কোন কারণে যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে তা হাজির করতে পারে না।

(ঘ) মূল দলিলটির প্রকৃতি যেক্ষেত্রে এরূপ যে সহজে তা স্থানান্তর করা যায় না।

(ঙ) মূল দলিলটি যেক্ষেত্রে ৭৪ ধারায় বর্ণিত সর্বসাধারণের দলিলের আওতাভুক্ত।

(চ) মূল দলিলটি যেক্ষেত্রে এমন যে, এ আইন বা বাংলাদেশে কার্যকরী অন্য কোন আইনে তার জাবেদা নকল সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করার বিধান আছে।

(ছ) কোন মূল দলিলে যখন অপরাপর এমন বহু সংখ্যক দলিলের বিবরণ থাকে যেগুলি আদালতের পরীক্ষা করে দেখা সুবিধাজনক নয়, এবং যে ঘটনা প্রমাণ করতে হবে, তা ঐ সকল দলিলের সাধারণ ফলস্বরূপ।

উপরোক্ত (ক), (গ) ও (ঘ) উদাহরণের ক্ষেত্রে দলিলটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে যে কোন মাধ্যমিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে।
উপরোক্ত (খ) উদাহরণের ক্ষেত্রে উল্লিখিত স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য হবে।
(ঙ) অথবা (চ) উদাহরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলিলের জাবেদা নকল মাধ্যমিক সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য, কিন্তু অন্য কোন মাধ্যমিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।
(ছ) উদাহরণের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি দলিলগুলি পরীক্ষা করে দেখেছে এবং অনুরূপ দলিল পরীক্ষা করে দেখার ব্যাপারে যে পারদর্শী, দলিলগুলির সাধারণ ফল সম্পর্কে তার দ্বারা সাক্ষ্য দেওয়া যেতে পারে।
৭০.
যখন আদালত কোনো ঘটনাকে __________ হিসেবে গণ্য করবেন, তখন সেই ঘটনাকে মিথ্যা প্রমাণিত করার জন্য আদালত সাক্ষ্যদানের অনুমতি দেবেন না।
  1. Conclusive Proof
  2. Shall presume
  3. May presume
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৪ ধারার মতে- অনুমান (Presumption) ৩ প্রকার:
১) অনুমান করতে পারে (May presume);
২) অনুমান করবে (Shall presume);
৩) চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof)।

অনুমান করতে পারে (May presume):
যেখানেই এই আইনের বিধান আছে যে, আদালত কোন বিষয় ধরে নিতে পারেন, সেখানে আদালত হয় সেই বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন; না হয় তা প্রমাণ করার আহ্বান জানাবেন।

অনুমান করবে (Shall presume):
যেখানেই এই আইনের নির্দেশ আছে যে, আদালত কোন বিষয় অবশ্যই ধরে নিবেন, সেখানে উক্ত বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন।

চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof):
এই আইনে যখন একটি বিষয়কে অপর একটি বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ বলে গণ্য করা হয়, তখন আদালত প্রথমোক্ত বিষয় প্রমাণিত হলে অপর বিষয়ও প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন এবং তা মিথ্যা প্রমাণিত করার জন্য সাক্ষ্যদানের অনুমতি দিবেন না।
৭১.
মোকদ্দমার কোনো পক্ষই সাক্ষ্য না দিলে প্রমাণ করার দায়িত্ব কার ওপর বর্তায়?
  1. আদালতের
  2. মোকদ্দমায় কোনো সাক্ষ্য না দিলে যে জিতবে
  3. মোকদ্দমায় যে পক্ষের প্রাইমা ফেসি কেইস আছে
  4. মোকদ্দমায় কোনো সাক্ষ্য না দিলে যে পক্ষ ঠকবে
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১০২ ধারার বিধান: প্রমাণের দায়িত্ব যাহার উপর ন্যস্ত থাকে:
মামলায় বা কার্যক্রমে কোন পক্ষ হইতেই সাক্ষ্য দেওয়া না হইলে যে পক্ষ মামলায় ঠকিবে, মামলার বিষয়বস্তু প্রমাণ করিবার দায়িত্ব সেই পক্ষের উপর ন্যস্ত।
 
⇒ উদাহরণঃ
(ক) ক একটি জমির জন্য খ-এর বিরুদ্ধে দেওয়ানী মামলা দায়ের করে। জমিটি খ-এর দখলে আছে। ক দাবি করে যে খ-এর পিতা গ উইল করিয়া ঐ জমি ক-কে দিয়া গিয়াছে। এই মামলায় কোন পক্ষ্য সাক্ষ্য না দিলে খ জমির দখল বজায় রাখিবার অধিকারী হইবে। সুতরাং এইক্ষেত্রে প্রমাণের দায়িত্ব ক-এর উপর ন্যস্ত আছে।
৭২.
সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারানুসারে, An admission is a statement, oral or documentary or contained _____________ which suggests any inference as to any fact in issue or relevant fact.
  1. in digital record
  2. in forensic evidence
  3. in physical evidence
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
Section-17. Admission defined:
An admission is a statement, oral or documentary or contained in digital record, which suggests any inference as to any fact in issue or relevant fact, and which is made by any of the persons, and under the circumstances, hereinafter mentioned.

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারার বিধান: স্বীকৃতির সংজ্ঞা: 
স্বীকৃতি হচ্ছে মৌখিক বা ঐ দালিলিক বিবৃতি অথবা ডিজিটাল রেকর্ড যা বিচার্য বিষয় - বা প্রাসঙ্গিক ঘটনা প্রসঙ্গে কোনো অনুমানের ইঙ্গিত দেয়, এবং যা এ আইনের পরবর্তীতে বর্ণিত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যে কেউ কর্তৃক প্রদত্ত হয়।
৭৩.
পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন কার অনুমতি সাপেক্ষে করতে হয়?
  1. প্রতিপক্ষের আইনজীবীর
  2. আদালতের অনুমতি
  3. পিপি’র অনুমতি
  4. প্রতিপক্ষের অনুমতি
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ১৪২ ধারা- ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন যখন অবশ্যই করা যাবে না (When they must not be asked) :
বিরুদ্ধ পক্ষ যদি আপত্তি করেন, তবে জবানবন্দী ও পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা যাবে না। যেসকল বিষয় ভূমিকামূলক অথবা বিতর্কিহীন অথবা যেসব বিষয় পূর্বেই যথেষ্টরূপে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত মনে করেন, সে সকল বিষয় সম্পর্কে আদালত অবশ্যই ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করার অনুমতি দিবেন।
৭৪.
'ক' তার সাবেক স্বামী 'খ' এর বিরুদ্ধে নাবালক সন্তানের খোরপোষের দাবিতে একটি পারিবারিক মোকদ্দমা করেছে। 'খ' তার জবাবে বিবাহ, তালাক এবং সন্তানের দাবি অস্বীকার করেনি। এক্ষেত্রে উক্ত সন্তান যে 'ক' ও 'খ' এর- এ বিষয়ে নিচে বর্ণিত কোন কারণে আদালতে কোনো প্রমাণের প্রয়োজন পড়ে না?
  1. বিবাহের কাগজ পরীক্ষা করে তা চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য করার কারণে
  2. বিবাহের বৈধতার কারণে তা প্রমাণের কোনো প্রয়োজন পড়ে না
  3. কোনো আইনজীবী এ বিষয়ে বিরোধিতা না করলে বা না করার কারণে
  4. উভয় পক্ষ কর্তৃক আরজি ও জবাবে তা স্বীকৃত বিধায় প্রমাণের প্রয়োজন পড়ে না
ব্যাখ্যা
উক্ত ঘটনার প্রেক্ষাপটে, 'ক' তাঁর সাবেক স্বামী 'খ' বিরুদ্ধে সন্তানের খোরপোষ দাবি করে একটি পারিবারিক মামলা দায়ের করেন। 'খ' মামলার জবাবে সন্তান, বিবাহ ও তালাক সম্পর্কিত বিষয়ে কোনো বিরোধ প্রকাশ করেননি, বরং স্বীকার করেন যে তিনি তালাকের সময় থেকেই সন্তানের খোরপোষ প্রদান করে আসছেন। এই পরিস্থিতিতে আদালত "উক্ত সন্তান 'ক' ও 'খ' এর সন্তান" – এই বিষয়টি প্রমাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না।

এর কারণ হচ্ছে, সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারামতে-
মোকদ্দমার পক্ষ বা তাদের প্রতিনিধি যে সকল বিষয় বা ঘটনা মোকদ্দমার শুনানীর সময় বা মোকদ্দমার শুনানীর পূর্বে লিখিত আকারে স্বীকার করতে সম্মত হয়েছে অথবা প্লিডিংসের (Pleadings) মাধ্যমে স্বীকার করেছে, সে সকল বিষয় প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। ৫৮ ধারার আলোকে, যদি কোনো বিষয় উভয় পক্ষ দ্বারা আরজি (Plaint) ও জবাবের (Written Statement) মাধ্যমে স্বীকৃত হয়, তবে সে বিষয়ে প্রমাণ হাজির করার প্রয়োজন পড়ে না।
৭৫.
'Accomplice' সাক্ষ্য আইনে কী অর্থে ব্যবহার হয়?
  1. দুষ্কর্মের সহযোগী
  2. তদন্তকার্যের সহযোগী
  3. সরল মনে বিশ্বাসকারী
  4. ইচ্ছাকৃত প্রতারণাকারী
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারার বিধান- দুষ্কর্মের সহযোগী:
আসামীর বিরুদ্ধে দুষ্কর্মের সহযোগী সাক্ষ্য দেয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলে পরিগণিত হবেন। আসামীকে দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা দেয়া হলে, শুধুমাত্র সে কারণে ঐ সাজা বেআইনী হবে না।

Section-133- Accomplice: 

An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.
৭৬.
সাক্ষ্য আইনের ১৬৫ ধারা অনুযায়ী, বিচারক কোন সময়ে প্রশ্ন করতে পারেন?
  1. রায় ঘোষণার পরে
  2. কেবল বাদীর জবানবন্দির সময়
  3. কেবল সাক্ষ্যগ্রহণের সময়
  4. মোকদ্দমা চলাকালীন যেকোন সময়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬৫ ধারার বিধান: বিচারক কর্তৃক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার বা কিছু দাখিল করার আদেশ প্রদানের ক্ষমতা-
বিচারক প্রাসঙ্গিক ঘটনা উদঘাটন করার জন্য অথবা উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য যে কোন সাক্ষীকে যে কোন সময় যে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারবেন, অথবা প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক ঘটনা সম্পর্কে পক্ষগণকে যে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারবেন এবং যে কোন দলিল বা বস্তু উপস্থাপন করার আদেশ দিতে পারবেন।

তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন অনুসারে যে সকল ঘটনা প্রাসঙ্গিক ও যথারীতি প্রমাণিত বলে ঘোষিত হবে, তার ভিত্তিতেই মামলার রায় দান করতে হবে।

⇒ পক্ষগণ বা তাদের প্রতিনিধিগণ বিচারকের কোন প্রশ্ন বা আদেশ সম্পর্কে কোন আপত্তি করতে পারবে না। অনুরূপ কোন প্রশ্নের উত্তরে সাক্ষী যা বলবে ঐ সম্পর্কে আদালতের অনুমতি ব্যতীত সাক্ষীকে কোন জেরা করতেও পারবে না।
⇒ ১৬৫ ধারার ক্ষমতা আদালতের সহজাত ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।
⇒ ১৬৫ ধারার ক্ষমতাবলে উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য আদালত মামলার পক্ষ বা সাক্ষী অথবা কোন ব্যক্তিকে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে পারে।
৭৭.
সাক্ষ্য আইনে তৃতীয় পক্ষের অভিমত (Opinion of third party) বা মতামতের প্রাসঙ্গিকতা বিষয়টি মূলত আলোচনা করা হয়েছে-
  1. ৩০-৪১ ধারায়
  2. ৪০-৫১ ধারায়
  3. ৪৫-৫১ ধারায়
  4. ৫০-৫৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনে তৃতীয় পক্ষের অভিমত (Opinion of third party) বা মতামতের প্রাসঙ্গিকতা বিষয়টি মূলত আলোচনা করা হয়েছে: ধারা ৪৫ থেকে ৫১ পর্যন্ত।

এই ধারাগুলোর মধ্যে:
ধারা ৪৫: Expert opinion (বিশেষজ্ঞ মতামত);
ধারা ৪৬: Facts bearing upon expert opinion;
ধারা ৪৭: Opinion as to handwriting;
ধারা ৪৮: Opinion as to custom or usage;
ধারা ৪৯: Opinion as to relationships;
ধারা ৫০: Opinion as to existence of right or custom;
ধারা ৫১: Grounds of opinion when relevant.

এই ধারাগুলোতে বলা হয়েছে কোন কোন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ, সাধারণ ব্যক্তি বা তৃতীয় পক্ষের মতামত আদালতের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
৭৮.
According to Section 140 of the Evidence Act, witnesses to character-
  1. Cannot be cross-examined
  2. Can only be examined-in-chief
  3. Can only provide written statements
  4. Can be cross-examined and re-examined
ব্যাখ্যা
Section 140- Witnesses to character:
Witnesses to character may be cross-examined and re-examined.

ধারা ১৪০: চরিত্র সম্পর্কে সাক্ষী:
চরিত্র সম্পর্কে সাক্ষীদের জেরা (cross-examination) এবং পুনরায় জেরা (re-examination) করা যেতে পারে।
৭৯.
সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারা মোতাবেক, কোনো আসামির মামলা সাধারণ ব্যতিক্রমের মধ্যে গণ্য হবে যদি মামলাটি -
  1. মামলাটি দণ্ডবিধির কোনো সাধারণ ব্যতিক্রমের ভেতরে পড়ে
  2. মামলাটি পেনাল কোডের বিশেষ ব্যতিক্রমের ভেতরে পড়ে
  3. মামলাটি দণ্ডবিধির কোনো proviso এর ভেতরে পড়ে
  4. উল্লিখিত সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
• ধারা ১০৫ - অভিযুক্তের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের অধীনে প্রমাণের দায়িত্ব:
যখন কোনো ব্যক্তি অপরাধের জন্য অভিযুক্ত হন, তখন সে ব্যক্তি (অভিযুক্ত) এর দায়িত্ব যে, পেনাল কোডের সাধারণ ব্যতিক্রম বা অন্য কোনো বিশেষ ব্যতিক্রম বা proviso (যে কোনো বিশেষ বিধি বা শর্ত যা একই কোড বা অন্য কোনো আইনে অপরাধের সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে) অনুসারে তার মামলার ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি প্রমাণ করতে হবে।

এছাড়া, আদালত এই পরিস্থিতির অবস্থানে অনুপস্থিতি (absence of such circumstances) অনুমান করবে, অর্থাৎ, অভিযুক্তকে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি প্রমাণ করতে হবে এবং আদালত এই পরিস্থিতি না থাকার বিষয়টিকে স্বাভাবিক ধরে নেবে।
৮০.
ট্রাষ্ট সম্পত্তির হিসাবের জন্য মামলা দায়ের করা হলে তা -
  1. তামাদির মেয়াদ হবে ১ বছর
  2. তামাদির মেয়াদ হবে ২ বছর
  3. তামাদির মেয়াদ হবে ৩ বছর
  4. তামাদি দ্বারা বারিত হবে না
ব্যাখ্যা
⇒ তামাদি আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী,
যদি কোনো সম্পত্তি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট হিসেবে কারও কাছে ন্যস্ত (vested) থাকে, তাহলে সেই সম্পত্তির মালিক বা তার আইনি প্রতিনিধি বা অধিকারী (assigns) – যদি তারা বিনিময়ে কোনো মূল্য পরিশোধ না করে থাকেন – তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে তামাদি সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য নয়।

এর অর্থ হলো,
সুনির্দিষ্ট ট্রাস্টভুক্ত সম্পত্তি উদ্ধার বা তার হিসাব চাওয়ার জন্য মামলা দায়েরের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, যেকোনো সময় মামলা করা সম্ভব। তবে, এই বিধান সাধারণ সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, এটি কেবলমাত্র নির্দিষ্ট ট্রাস্টভুক্ত সম্পত্তি ও ধর্মীয় বা দাতব্য ট্রাস্টভুক্ত সম্পত্তি-এর জন্য প্রযোজ্য।
৮১.
তামাদি আইনের ৩ ধারা প্রযোজ্য -
  1. আপিলের ক্ষেত্রে
  2. মূল মোকদ্দমার ক্ষেত্রে
  3. দরখাস্তের ক্ষেত্রে
  4. বর্ণিত সবগুলো ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
ধারা-৩: তামাদি মেয়াদ শেষে দায়েরকৃত মামলা ইত্যাদি খারিজ -
এই আইনের ৪ হইতে ২৫ ধারা (উভয় ধারাসহ) সাপেক্ষে- প্রথম তফসিলে বর্ণিত নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ পার হওয়ার পর মামলা, আপিল বা দরখাস্ত রুজু বা দাখিল করা হলে, বিবাদীপক্ষ যদি তামাদির প্রশ্ন উত্থাপন নাও করে, তবুও উক্ত মামলা, আপিল বা দরখাস্ত খারিজ বলে বিবেচিত হবে।

ব্যাখ্যা: সাধারণত উপযুক্ত কর্মচারির নিকট আরজি উপস্থিত করলে, নিঃস্ব হলে নিঃস্বভাবে মামলা করার অনুমতির জন্য দরখাস্ত করলে এবং আদালত যেখানে কোম্পানি বন্ধ করে ফেলছে; সেখানে কোম্পানির বিরুদ্ধে দাবির ক্ষেত্রে দাবিদার সরকারী অবসায়কের নিকট দাবি প্রেরণ করলে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে বিবেচনা করা হয়।

• ধারা ৩ অনুযায়ী,
নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ শেষ হবার পর মামলা, আপিল বা দরখাস্ত করা হলে মামলা খারিজ হবে। এক্ষেত্রে বিবাদী পক্ষ কোন আপত্তি উত্থাপন না করলেও আদালত তা খারিজ করে দেবেন। তামাদি আইনের ৩ ধারা ৩টি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে-
- মূল মামলা (Original suit);
- আপিল (Appeal);
- দরখাস্ত/আবেদনপত্র (Application)

• ৩ ধারার বিধান আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক। তাই পক্ষগণ একমত হয়েও তামাদির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারবে না। আদালত তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার ফলে কোন মোকদ্দমা খারিজ করলে পরবর্তী ঐ মামলার একই পক্ষ একই বিষয়বস্তু নিয়ে কোন মোকদ্দমা করলে উক্ত মোকদ্দমা Res-Judicata দ্বারা বারিত হবে।
৮২.
মানসিকভাবে অসুস্থ থাকা অবস্থায় হস্তান্তরিত হওয়া সম্পত্তির জন্য মোকদ্দমায় তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা

তামাদি (Limitation) আইন এর ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
মানসিক অসুস্থ অবস্থায় সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে মোকদ্দমার মেয়াদ থাকে ৩ বছর। এটি ওই ব্যক্তির সুস্থ হওয়ার পর ৩ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে। এই মেয়াদের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি তার মানসিক সুস্থতা ফিরে পায় এবং সে জানে যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়েছে, তখন সে তিন বছরের মধ্যে আদালতে মামলা করতে পারে।

৮৩.
তামাদি আইনের ২০ ধারা প্রযোজ্য -
  1. অগ্রক্রয় মোকদ্দমার ক্ষেত্রে
  2. পারিবারিক মোকদ্দমার ক্ষেত্রে
  3. অর্থ আদায়ের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে
  4. স্বত্ব ঘোষণার মোকদ্দমার ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ২০ ধারা (Section 20 of the Limitation Act) এমন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে কোনো দায় (debt) স্বীকার করা হয় বা আংশিক পরিশোধ করা হয়, এবং এর ফলে নতুন করে সময় গণনা শুরু হয়। এটি সাধারণত অর্থ আদায়ের মামলা বা দেনা-পাওনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।

তামাদি আইনের ২০ ধারামতে,
ঋণ বা দেনার ক্ষেত্রে তামাদির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই আংশিকভাবে কোন ঋণ বা সুদ পরিশোধ করলে, উক্ত অর্থ প্রদানের তারিখ থেকে নতুন করে তামাদির সময় শুরু হয়। অর্থাৎ কোন দেনা আংশিক পরিশোধ করলে পরিশোধের তারিখ হতে নতুন করে তামাদির মেয়াদ গণনা আরম্ভ হবে।তবে এই ক্ষেত্রে দেনা পরিশোধ অবশ্যই লিখিত এবং স্বাক্ষরিত হতে হবে।
৮৪.
স্থাবর সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশের ক্ষতিপূরণের মামলা কখন থেকে গণনা করা হবে?
  1. মামলার রায় ঘোষণার তারিখ থেকে
  2. অনধিকার প্রবেশের তারিখ থেকে
  3. ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের তারিখ থেকে
  4. অনধিকার প্রবেশ সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার তারিখ হতে
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ৩৯:
স্থাবর সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশের (trespass) জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা:
৩ বৎসর -অনধিকার প্রবেশের তারিখ হতে।
৮৫.
তামাদি আইনের ৬ ধারায় কয় ধরনের অপারগতাকে 'আইনগত অপারগতা' হিসেবে বৈধতা দেয়া হয়েছে?
  1. ৪ ধরনের
  2. ৫ ধরনের
  3. ৩ ধরনের
  4. ২ ধরনের
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী, ৩টি বিষয়কে আইনগত অপারগতা (Legal Disability) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১. নাবালকত্ব [Minority];
২. উন্মাদ [Insanity];
৩. জড়বুদ্ধি বা চরম বুদ্ধিহীনতা [Idiocy]।

⇒ মােকদ্দমা করার অধিকারী ব্যক্তি যে সময়ে মামলা করার অধিকারী হয়, তখন সে নাবালক বা উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি সম্পন্ন থাকলে, তার মামলা দায়ের করার ও তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে, যে সময় থেকে তার আইনগত অপারগতার অবসান ঘটবে।

⇒ যদি উক্ত ব্যক্তির একটি আইনগত অপারগতা থাকাকালীন সময়ে আরাে একটি অপারগতায় আক্রান্ত হয়, সেক্ষেত্রে দুটি আইনগত অপারগতার অবসান হওয়ার পর তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

⇒ যদি উক্ত ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেইক্ষেত্রে তার আইনানুগ প্রতিনিধি, যদি তার আবার কোন অপারগতা না থাকে, তাহলে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

৮৬.
গাজীপুরে অবস্থিত একটি কারখানার একজন শ্রমিককে তার পাওনা মজুরি থেকে বঞ্চিত করলে, উক্ত শ্রমিক তামাদি আইনের বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ কতদিনের ভেতরে মজুরি আদায়ের জন্য মোকদ্দমা করতে পারবেন?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা
• তামাদি আইনের ১ম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৭ অনুসারে,
গৃহ-ভৃত্য, কারিগর বা শ্রমিকের মজুরী বকেয়া হলে তার মামলা করার সময়সীমা হলো ১ বছর।

⇒ অর্থাৎ, শ্রমিকের মজুরী যে তারিখে বকেয়া হবে সেই তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে তাকে মামলা করতে হবে।
৮৭.
হাসান তার বন্ধকী স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য বন্ধক গ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলা করতে চায়। তামাদি আইনের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হাসানের মামলা কত বছরের মধ্যে গ্রহণযোগ্য হবে?
  1. ১২ বছর
  2. ২৪ বছর
  3. ৪৮ বছর
  4. ৬০ বছর
ব্যাখ্যা
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১৪৮:
বন্ধকী স্থাবর সম্পত্তি খালাস করার জন্য বা দখল পুনরুদ্ধারের [redeem] জন্য বন্ধক গ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলা;
তামাদি- ৬০ বৎসর;
তামাদি শুরু - যখন সম্পত্তি খালাস করার বা দখল পুনরুদ্ধার করার অধিকার উদ্ভব হয়।
৮৮.
'ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল সংক্রান্ত বিধান'- তামাদি আইনের কোন অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু?
  1. ১৫০ অনুচ্ছেদ
  2. ১৫২ অনুচ্ছেদ
  3. ১৫৫ অনুচ্ছেদ
  4. ১৫৭ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
তামাদি আইন, ১৯০৮ (Limitation Act) এর অনুচ্ছেদ ১৫৭-এ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী খালাস আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

⇒ অনুচ্ছেদ ১৫৭ অনুযায়ী,
- খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ খালাস আদেশ প্রদানের ৬ মাসের মধ্যে আপিল করতে পারে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 ধারা ৪১৭(৩) মতে,
খালাস আদেশের বিরুদ্ধে ফরিয়াদিকে খালাস আদেশ প্রদানের ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।
৮৯.
দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিলের আবেদন এর ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ কত?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
তামাদি (Limitation) আইন এর ১৭৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
যে ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর অধীনে আপিল বিভাগে আপিল করার জন্য আবেদন করতে চান, তাকে আপিলের জন্য অনুমতি লাভ করতে হলে, যে দিন থেকে ডিক্রি আপিল করা হয়েছে তার তারিখ থেকে নব্বই দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
৯০.
'The right to be heard before another' - নীতিকে সংক্ষেপে কি বলা হয়?
  1. pro-audience
  2. pre-audience
  3. post-audience
  4. first-audience
ব্যাখ্যা

"Pre-audience" নীতিটি বলতে বোঝানো হয় যে, একজন পক্ষের কথা শোনার পূর্বে অন্য পক্ষের কথা শোনা হবে না। এটি সেই নীতিকে প্রকাশ করে যেখানে একটি পক্ষকে অন্যের উপস্থিতির আগে শুনে নেয়া হয়, অর্থাৎ, প্রাথমিকভাবে তার বক্তব্য শোনা হয়। The Bangladesh Legal Practitioner's and Bar Council Order, 1972 এর ২৬ অনুচ্ছেদে এই নীতি উল্লেখ আছে।

অনুচ্ছেদ ২৬:
(১) অন্যান্য সকল এডভোকেটগণের পূর্বে এটর্নি জেনারেল এর শুনানি করার অধিকার থাকিবে।
( 1) The Attorney-General for Bangladesh shall have the right of pre-audience over all other advocates.

(২) অপরাপর এডভোকেটগণের মধ্যে নিরীক্ষণ করিবার অধিকার তাদের পরস্পরের জ্যেষ্ঠতার উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হইবে।
(2) The right of pre-audience among other advocates shall be determined by seniority interse.

৯১.
“কোনো একজন আইনজীবী পরস্পরবিরোধী স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করবেন না।”- এটি কার এর প্রতি একজন আইনজীবীর আচরণ সম্পর্কিত নীতি?
  1. মক্কেল
  2. সাধারণ জনগণ
  3. আদালত
  4. অন্যান্য আইনজীবী
ব্যাখ্যা

CANONS OF PROFESSIONAL CONDUCT AND ETIQUETTEE- অধ্যায়- ২ [মক্কেলগণের প্রতি আচরণ]:

১. কোনো একজন আইনজীবী তাঁর মক্কেলের সম্পত্তি বা মামলায় জড়িত সম্পত্তি বা স্বার্থের প্রতি আসক্ত হইবেন না।

২. কোনো একজন আইনজীবী তাঁর মক্কেল বা পূর্ববর্তী মক্কেলের কোনো বিষয়ে নিযুক্তি হেতু বা অন্য কোনো কারণে, গোপনীয় তথ্য জেনে থাকলে তিনি তদ্বিষয়ে আইনগত সহায়তা দানের জন্য তাঁর মক্কেল বা পূর্ববর্তী মক্কেলের বিরুদ্ধে নিয়োগ লাভ করবেন না। অবশ্য যেক্ষেত্রে কোনো একজন আইনজীবী যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যক্তি কতৃর্ক নিযুক্তি হননি এবং এরূপ নিযুক্তি লাভের জন্য সেবাগত ফি নিননি সেক্ষেত্রে তিনি এরূপ ব্যক্তির স্বাার্থের প্রতিকূলে নিযুক্তির লাভে বারিত নন।

৩. যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধ পক্ষের সাথে বা বিরোধীয় বিষয়বস্তুতে কোনো একজন আইনজীবীর সম্পর্ক থাকে, সেক্ষেত্রে তা প্রথমে ব্যক্ত না করে তিনি উক্ত ব্যক্তির পক্ষে পেশাগত নিযুক্তি গ্রহণ করবেন না।

৪. কোনো একজন আইনজীবী পরস্পরবিরোধী স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করবেন না।

৫. কোনো একজন আইনজীবী স্ব—নামে বা বেনামে কোনো সম্পত্তি ইচ্ছাপত্র কতৃর্ক, বন্ধক উদ্ধার কতৃর্ক বা আদালত—এর নিলাম কিনবেন না। তিনি কোনো একটি পক্ষের যে সম্পত্তির জন্য আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলা পরিচালনা করিয়াছেন সে কাজের পারিশ্রমিক, পুরস্কার বা দান হিসেবে উক্ত সম্পত্তি পুরোপুরি বা অংশবিশেষ গ্রহণ করবেন না।

৬. কোনো একজন আইনজীবী তাঁর নিজের সম্পত্তির সাথে মক্কেলের সম্পত্তি একত্রিত করে ফেলবেন না এবং যদি তিনি মক্কেলের অর্থ বা সম্পদ পেয়ে থাকেন বা রিসিভ করে থাকেন, তাহলে তা অতি তাড়াতাড়ি উক্ত মক্কেলকে জানিয়ে দিবেন।

৭. কোনো একজন আইনজীবী যে পর্যন্ত না একজন পরামর্শক নিযুক্তি না হবেন সে পর্যন্ত কোনো মামলার বাদী বা আসামি পক্ষে মামলা সম্পর্কে উপদেশ দেওয়া আরম্ভ করবেন না। অবশ্য যেক্ষেত্রে কোনো পক্ষের সাথে বা বিষয়বস্তুর সাথে তার সম্পর্ক এরূপ হয় যে তার পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সেক্ষেত্রে তিনি তা করতে পারেন।

৮. কোনো একজন আইনজীবী তাঁর পেশাগত ক্ষমতায় কোনো আইন লংঘনের জন্য পরামর্শ দিবেন না। আইন বলবৎ নিন মর্মে সরল বিশ্বাসে পরামর্শ প্রদান করলে অত্র বিধি প্রযোজ্য হবে না।

৯. একজন আসামির অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে কোনো আইনজীবীর ব্যক্তিগতভাবে জানা হতে সৃষ্ট মতামত বা বিশ্বাস যা—ই হোক না কেন তিনি উক্ত আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনে মামলা চালানোর অধিকার রাখেন। অন্যদিকে, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যিনি কেবলমাত্র পরিস্থিতির শিকার তার পক্ষে আইনজীবী রূপে মামলা চালানোর জন্য অস্বীকৃতি জ্ঞাপনও করতে পারেন। যদি আসামি পক্ষে মামলা চালানোর এরূপ দায়িত্ব গ্রহণ করে তাহলে কোনো একজন আইনজীবী ন্যায়ানুগ ও সম্মানজনকভাবে দেশের আইন কতৃর্ক অনুমোদিত সকল উপায়ে তার আত্মপক্ষ সমর্থন করতে বাধ্য এজন্য যে, কোনো ব্যক্তিকেই আইনের সঠিক প্রক্রিয়া ব্যতিরেকে তার জীবন বা স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

১০. ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইনজীবীগণ এরূপ কোনো প্রকার দাবি করবেন না যেন তাদের পরামর্শ ও সেবার চেয়ে অতিরিক্ত হয় অথবা তার অবমূল্যায়ন হয়।

১১. আইনজীবী তার মক্কেলের সাথে ফি বা পারিশ্রমিক সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো বিরোধ সেই পর্যন্ত পরিহার করে চলবেন যে পর্যন্ত তিনি তার বিবেচনায় তার সেবার জন্য যৌক্তিকভাবে পাওয়ার অধিকার রাখেন। মক্কেলের কোনো প্রকার আইন সম্পর্কিত বিষয়ে মামলার কেবলমাত্র অন্যায়, অপচাপ বা প্রবঞ্চনা প্রতিহতের চেষ্টা করতে হবে।

১২. কোনো একজন আইনজীবী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লোকগ্রাহ্য এরূপ কোনো হানিকর কোনো ঘটনাই কার্যকরভাবে উদ্ভূত বা পালিত হতে পারে না এবং প্রত্যাখ্যাত হইতে পারে না কেননা উক্ত পেশা জনসাধারণের উচ্চ ধারণা ও বিশ্বাস থেকে যা সঠিক দায়িত্ব পালন দ্বারা অর্জন করা হয়েছে।

১৩. যখন কোনো একজন আইনজীবী, আনুষ্ঠানিক বিষয় যেমন কোনো দলিলের প্রত্যয়ন বা জিম্মাদারী বা রীতিসিদ্ধ বিষয়ের সাক্ষী ব্যতিরেকে তার মক্কেলের পক্ষে সাক্ষী হন, তখন সে মামলার বিচার পরিচালনার দায়িত্ব অন্য আইনজীবীর উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। ন্যায়বিচারের জন্য অপরিহার্যতা দায়িত্ব অন্য আইনজীবীর উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। ন্যায়বিচারের জন্য অপরিহার্যতা ব্যতিরেকে কোনো আইনজীবী তার মক্কেলের জন্য সাক্ষ্য প্রদান থেকে বিরত থাকবেন।

১৪. সচরাচর কোনো বিষয়ে যা বিচার ক্ষেত্রে মামলার গুণাগুণকে বারিত করে না, নতুবা মক্কেলের অধিকারের উল্লে­খযোগ্য ক্ষতিকারক রূপে নহে যথা, প্রতিপক্ষের আইনজীবীকে মামলা চালানোর তাগিদ দেওয়া যেক্ষেত্রে তিনি কোনো বিষয়ে শোকার্ত বা অসুস্থ থাকেন; প্রতিপক্ষের আইনজীবীর ক্ষতিকারক কোনো এক বিশেষ তারিখে মামলা চালানোর তাগিদ দেওয়া যেক্ষেত্রে অন্য তারিখে মামলা চালালে, কোনো ক্ষতির কারণ ছিলো না, বর্ধিত কোনো সময়ে লিখিত বর্ণনা পেশে রাজীনামা প্রদান করা, যুক্তিতর্ক পেশ ইত্যাদির ক্ষেত্রে আইনজীবীকে তার স্ব—বিবেক অনুযায়ী বুদ্ধি খাটানোর সুযোগ প্রদান করতে হবে। উক্ত রকমের বিষয়ে মক্কেলের এরূপ দাবি করার সুযোগ থাকবে না যে, তার আইনজীবী হবেন কিংবা তিনি তার সুবিচার ও আদর্শের প্রতিকুলে কাজ করবেন।

৯২.
THE BANGLADESH LEGAL PRACTITIONERS AND BAR COUNCIL RULES, 1972 এর ৭৫ক বিধিতে কয়টি কমিটির কথা উল্লেখ আছে?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৬ টি
ব্যাখ্যা
THE BANGLADESH LEGAL PRACTITIONERS AND BAR COUNCIL RULES, 1972

বিধি ৭৫ক - বার কাউন্সিল কর্তৃক কমিটি গঠন:
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, তার বিদ্যমান কার্যাবলি ও দায়িত্বসমূহ কার্যকরভাবে সম্পাদনের জন্য নিম্নলিখিত কমিটিসমূহ গঠন করতে পারে, যথা—

১। আইন সংস্কার কমিটি (Law Reform Committee) –
যার সদস্য সংখ্যা হবে সর্বাধিক নির্ধারিত, এবং কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত হবে। (উল্লেখিত অনুচ্ছেদে সংখ্যাটি অসম্পূর্ণ আছে, মূল আইনে নির্ধারিত)

২। মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কমিটি (Human Rights & Legal Aid Committee) –
যার সদস্য সংখ্যা হবে সর্বাধিক ৫ জন, কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত।

৩। হাউস কমিটি (House Committee) –
সর্বাধিক ৫ জন সদস্য, কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত।

৪। রিলিফ কমিটি (Relief Committee) –
সর্বাধিক ৫ জন সদস্য, কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত।

৫। রোল ও প্রকাশনা কমিটি (Roll and Publication Committee) –
সর্বাধিক ৫ জন সদস্য, কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত।

৬। অভিযোগ ও নজরদারি কমিটি (Complaint and Vigilance Committee) –
সর্বাধিক ৫ জন সদস্য, কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত।
৯৩.
আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন বয়স কত হতে হবে?
  1. ১৮ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ২১ বছর
  4. ২৫ বছর
ব্যাখ্যা

আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির যোগ্যতাসমূহ:
আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির যোগ্যতাসমূহ The Bangladesh Legal Practitioner's and Bar Council Order, 1972 এর অনুচ্ছেদ ২৭ এ আলোচনা করা আছে। অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী-

১. তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
২. ২১ বছর বয়স পূর্ণ হতে হবে।
৩. বাংলাদেশের কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে হবে।
৪. বাংলাদেশের বাহিরে বার কাউন্সিল স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে হবে, অথবা তাকে ব্যারিস্টার হতে হবে।
৫. তাকে বার কাউন্সিল নিধার্রিত পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে হবে।
৬. নিধার্রিত পন্থায় বার কাউন্সিল নিধার্রিত ফি প্রদান করতে হবে।
৭. যিনি ন্যূনতম ৭ (সাত) বছর মোক্তার হিসেবে কাজ করেন, তিনি ২৭ অনুচ্ছেদের দফা ১ এর উপ দফা (ক), (খ), (ঘ), এবং (ঙ) দফার শর্তসমূহ পালন করে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে পারবেন।