পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ রাষ্ট্রবিজ্ঞান [৩৪১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ রাষ্ট্রবিজ্ঞান [৩৪১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়25 minutes
মোট প্রশ্ন৫০
সিলেবাস
Exam - 5 Topics: G. Political thought (Modern) Machiavelli, Hobbes, Locks, Montesquieu, Rousseau Karl Marx. Mao-Ze-Dong. Source: Class - 4 and Relevant Books
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ রাষ্ট্রবিজ্ঞান [৩৪১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ রাষ্ট্রবিজ্ঞান [৩৪১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৫০ প্রশ্ন

.
Who says first about the formation of state on the basis of nationalism? (জাতীয়তার ভিত্তিতে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা প্রথম কে বলেছেন?)
  1. Aristotle (এরিস্টটল)
  2. Machiavelli (ম্যাকিয়াভেলি)
  3. Hobbes (হবস)
  4. Rousseau (রুশো) 
ব্যাখ্যা

- জাতীয়তার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের নাগরিকগণ যখন একটি কল্যাণরাষ্ট্র গঠন করে তখন সেই রাষ্ট্রকে জাতীয় রাষ্ট্র বলা যায়। 
- বর্তমানে অসংখ্য জনপদ, শহর-নগর এবং এক বা একাধিক জাতি নিয়ে রাষ্ট্র গঠিত হয়। এসব যাষ্ট্রের আয়তন যেমন বিশাল তেমনি জনসংখ্যাও বিপুল। অনেক সময় এসব জাতীয় রাষ্ট্র বহু ধর্মের, বহু বর্ণের এবং বহু ভাষাভাষি মানুষ বসবাস করে। তবে তাদের জাতীয় পরিচয় থাকে একটি এবং একই জাতীয়তাবোধে তারা উদ্বুদ্ধ হয়।
- পনেরো ও ষোলো শতকে ধর্মীয় আধিপত্যবাদ ও মধ্যযুগীয় বিশ্বজনীনতাধাদের করালগ্রাস থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য ইউরোপীয় জনগণ যে আন্দোলন পরিচালনা করে, মূলত তা থেকেই জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে। 
- ইতালির রাষ্ট্রচিন্তাবিদ ম্যাকিয়াভেলী তার দূরদৃষ্টি দ্বারা অনুভব করেন যে, আগামীতে যে রাষ্ট্রব্যবস্থার উদ্ভব হবে মূলত তা হবে 'জাতীয় রাষ্ট্র' এবং এর ভিত্তি হবে 'জাতীয়তাবাদ'। তিনিই প্রথম জাতীয় রাষ্ট্রের কথা চিন্তা করেন।জাতীয়তাবাদী চেতনার আল্যোকে 'জাতীয় রাষ্ট্র' গড়ে উঠার পেছনে ষোলো শতকের রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনও প্রেরণা যোগায়।
- জাতীয় রাষ্ট্রের তাত্ত্বিক ভিত্তি রচনার ক্ষেত্রে জ্যাঁ বোঁদা-এর অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনিই প্রথম সার্বভৌমিকতার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেন। প্রধানত সাম্রাজ্যবাদ ও ঔপনিবেশিকতার নাগপাশ থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই জাতীয় রাষ্ট্রের উদ্ভব।

সূত্র: পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা-রাখী বর্মণ।

.
What is the meaning of "Renaissance"? ("রেনেসাঁ" শব্দের অর্থ কী?) 
  1. Rebirth (পুনর্জাগরণ)
  2. বিপ্লব (Revolution)
  3. সংস্কার (Reform)
  4. আধুনিকতা (Modernity)
ব্যাখ্যা

- রেনেসাঁ শব্দটি ফরাসি ভাষা থেকে এসেছে, যার আক্ষরিক অর্থ পুনর্জন্ম বা পুনর্জাগরণ। ইউরোপে মধ্যযুগের পর (১৪শ শতাব্দী থেকে) জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য ও মানবতাবাদী চেতনার নবজাগরণকে রেনেসাঁ বলা হয়। এটি মূলত মধ্যযুগের অন্ধকার যুগের পর নতুনভাবে মানবিক মূল্যবোধ, বৈজ্ঞানিক কৌতূহল এবং সৃজনশীলতার উন্মেষ ঘটায়।
- বিপ্লব শব্দের অর্থ হলো মূলগত, আকস্মিক ও ব্যাপক পরিবর্তন। এটি সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, অর্থনীতি বা চিন্তাধারায় হঠাৎ এবং মৌলিক পরিবর্তন বোঝায়।
- আধুনিকতা শব্দের অর্থ হলো নতুন ধারা, প্রগতিশীলতা এবং পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে চলার মনোভাব। এটি সমাজ, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও রাজনীতিতে আধুনিক যুগের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
- সংস্কার শব্দের অর্থ হলো কোনো প্রতিষ্ঠান, সমাজ বা ব্যবস্থার ত্রুটি সংশোধন করে তাকে উন্নতির পথে নিয়ে যাওয়া।
এটি সাধারণত ধীরগতি ও আইনসঙ্গত প্রক্রিয়ায় ঘটে, বিপ্লবের মতো আকস্মিক নয়।

সূত্রঃ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা-মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

.
The main characteristic of modern state thought is— (আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি-) 
  1. Divine power (ঐশ্বরিক ক্ষমতা)
  2. Traditional custom (প্রথাগত রীতি)
  3. Sovereignty (সার্বভৌমত্ব)
  4. Monarchy (রাজতন্ত্র) 
ব্যাখ্যা

- প্রাচীন ও মধ্যযুগে রাষ্ট্রের ভিত্তি ধরা হতো ঈশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতা (Divine Right) বা প্রথাগত শাসনব্যবস্থা। কিন্তু রেনেসাঁ ও আলোকায়নের যুগে রাষ্ট্রকে ভাবা হয় মানুষের চুক্তি ও সম্মতির ভিত্তিতে গঠিত একটি সার্বভৌম সত্তা হিসেবে। ঐশ্বরিক ক্ষমতা বলতে বোঝায় ঈশ্বর বা কোনো স্বর্গীয় সত্তার এমন অসাধারণ এবং অতিপ্রাকৃত শক্তি যা সাধারণ মানুষের ক্ষমতার বাইরে এবং যা সৃষ্টি, নিয়ন্ত্রণ, এবং প্রাকৃতিক নিয়মকে প্রভাবিত করতে পারে। এই ক্ষমতা সাধারণত সৃষ্টির শক্তি, অলৌকিক ঘটনা ঘটানো, অথবা মানুষের জীবনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতাকে বোঝায়। 
- সার্বভৌমত্ব মানে হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ, স্বাধীন ও চূড়ান্ত ক্ষমতা, যা অন্য কোনো শক্তির অধীন নয়। তাই আধুনিক রাষ্ট্রকে চিহ্নিত করার মূল বৈশিষ্ট্য হলো সার্বভৌমত্ব, যা রাষ্ট্রকে অন্য সকল প্রতিষ্ঠান থেকে পৃথক করে।
- প্রথাগত রীতি বলতে একটি নির্দিষ্ট সমাজ বা গোষ্ঠীর দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা বিশ্বাস, নিয়ম-কানুন, আচার-অনুষ্ঠান, বা আচরণকে বোঝায়, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সবাই মেনে চলে। এটি একটি সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত সামাজিক প্রথা, যা ব্যক্তিগত বা পারিবারিক স্তরেও পালন করা হতে পারে। 
- রাজতন্ত্র একটি সরকার ব্যবস্থা যেখানে একজন রাজার হাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকে এবং এই ক্ষমতা সাধারণত উত্তরাধিকার সূত্রে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তরিত হয়। এই শাসনব্যবস্থায় রাজা রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে কাজ করেন, কিন্তু তার ক্ষমতা নিরঙ্কুশ বা সাংবিধানিকভাবে সীমিত হতে পারে। নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রে রাজার ক্ষমতা সীমাহীন থাকে, কিন্তু সাংবিধানিক রাজতন্ত্রে রাজা সংবিধান ও আইনের গণ্ডির মধ্যে থেকে ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। 

সূত্র: পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা – রাখী বর্মন।

.
In which year was the People’s Republic of China established? (কত সালে গণপ্রজাতান্ত্রিক চীন প্রতিষ্ঠিত হয়?)  
  1. 1947
  2. 1949
  3. 1959
  4. 1921
ব্যাখ্যা

- গণপ্রজাতান্ত্রিক চীন (People’s Republic of China) প্রতিষ্ঠিত হয় ১ অক্টোবর, ১৯৪৯ সালে। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ শেষে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (নেতৃত্বে মাও সেতুং) জাতীয়তাবাদী দল কুওমিনতাংকে পরাজিত করে। ১৯৪৯ সালের ১লা অক্টোবর বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে মাও সেতুং গণপ্রজাতান্ত্রিক চীনের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করেন। এরপর চীন সমাজতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যায়।
- রাজধানী: বেইজিং
- শাসন ব্যবস্থা: দেশটি চীনের কমিউনিস্ট পার্টি দ্বারা শাসিত একটি একদলীয় রাষ্ট্র।
- জনসংখ্যা: ১৪২ কোটি।
- আয়তন: প্রায় ৯৬ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার।
- অর্থনীতি: ঐতিহ্যবাহী কৃষক সমাজ থেকে পরিকল্পিত অর্থনীতির অধীনে সমাজতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে ভারী শিল্প ও সমাজতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
- ইতিহাস: চিনা সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র থেকে এর উদ্ভব।
- ভৌগোলিক অবস্থান :পূর্ব দিকে কোরিয়া, পশ্চিমে ও দক্ষিণ-পশ্চিমে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, ভুটান ও নেপাল অবস্থিত।  উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটান, মায়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনাম সহ ১৪টি দেশের সাথে এর স্থল সীমান্ত রয়েছে।  
- অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক:  গণচীন একটি একদলীয় কমিউনিস্ট রাষ্ট্র। দেশের শাসনব্যবস্থা ঐতিহ্যবাহী কৃষক সমাজ থেকে সমাজতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে সমাজতন্ত্রের দিকে ঝুঁকেছে। ভবিষ্যতের উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত অর্থনীতির অধীনে ভারী শিল্পে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

.
"Political power grows out of the barrel of a gun." — Who said this? ('ক্ষমতার উৎস হলো বন্দুকের নল।" উক্তিটি কার? )
  1. Mao Zedong (মাও সেতুং) 
  2.   Vladimir Lenin (ভ্লাদিমির লেনিন)
  3. Karl Marx (কার্ল মার্ক্স)
  4. Joseph Stalin (জোসেফ স্টালিন)
ব্যাখ্যা

- চীনের বিপ্লবী নেতা মাও সেতুং (Mao Zedong) ১৯৩৮ সালে তাঁর একটি বক্তৃতায় বলেন- "Political power grows out of the barrel of a gun." (বাংলায়: "রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস হলো বন্দুকের নল।") এই উক্তির মাধ্যমে মাও বোঝাতে চেয়েছিলেন যে রাজনৈতিক ক্ষমতা কেবল আদর্শ বা কথায় আসে না, বরং সশস্ত্র সংগ্রাম ও সামরিক শক্তি দিয়েই রাষ্ট্রক্ষমতা দখল ও টিকিয়ে রাখা যায়।চীনের কমিউনিস্ট বিপ্লবে সশস্ত্র সংগ্রাম ছিল প্রধান হাতিয়ার, আর এই উক্তি তারই প্রতিফলন। 
- "সাম্রাজ্যবাদ হল পুঁজিবাদী বিকাশের শেষ ধাপ, যেখানে অর্থের শক্তি রাজনীতি ও রাষ্ট্রের ওপর প্রাধান্য পায়।"  লেনিন দেখিয়েছিলেন কিভাবে উন্নত পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো অর্থনৈতিক দিক থেকে দুর্বল দেশগুলোকে শোষণ করে, যা সাম্রাজ্যবাদের জন্ম দেয়।
- ঐতিহাসিক সব আন্দোলন যা ঘটেছে, মূলত শোষিত এবং শোষকের মধ্যে শ্রেণি সংগ্রামের ফল।" ("The history of all hitherto existing society is the history of class struggles.")  মার্ক্স দেখিয়েছিলেন সমাজের ইতিহাস মূলত বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণীর মধ্যে সংঘর্ষের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে, যেখানে শোষিত শ্রেণী শোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে।
- "একটি জাতি যদি তার ইতিহাস ভুলে যায়, সে তার ভবিষ্যৎও হারায়।"( "A nation that forgets its past has no future.") স্টালিন মনে করতেন যে একটি জাতি ও সমাজের ইতিহাস বোঝা এবং স্মরণ রাখা অপরিহার্য, কারণ তা না হলে জাতি তার ভবিষ্যতের দিকে সুসংগঠিতভাবে এগোতে পারবে না।

সূত্রঃ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

.
According to John Locke, from which right do all other rights originate? (লকের মতে, কোন্ অধিকার থেকে সকল প্রকার অধিকারের সৃষ্টি হয়?) 
  1. Right to life (বেঁচে থাকার অধিকার) 
  2. Right to liberty (স্বাধীনতার অধিকার) 
  3. Right to property (সম্পত্তির অধিকার)
  4. Right to equality (সমতার অধিকার) 
ব্যাখ্যা

- John Locke (১৭০০-এর দিকে) তার "Two Treatises of Government"-এ বলেন যে সম্পত্তির অধিকার (Right to Property) হলো মানুষের প্রাকৃতিক অধিকারগুলোর মূল ভিত্তি। তার মতে, মানুষের জীবন, স্বাধীনতা এবং সম্পদ রক্ষা করা মূল লক্ষ্য। অন্যান্য অধিকার যেমন শিক্ষা, নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক অধিকার সবই সম্পত্তির অধিকার রক্ষার সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ, মানুষের শ্রম ও প্রাপ্ত সম্পদের উপর অধিকারই অন্যান্য অধিকারগুলোর উৎস।
- Right to Life (বেঁচে থাকার অধিকার) হলো একটি মৌলিক মানবাধিকারের অংশ, যা প্রতিটি মানুষকে নিরাপদে, মর্যাদাসহ বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করে। এটি শুধু শারীরিক বেঁচে থাকার সীমাবদ্ধতা নয়, বরং মানুষের সম্মান, নিরাপত্তা, এবং মৌলিক জীবনযাপনের উপায়ও নিশ্চিত করে।বাংলাদেশের সংবিধান ধারা ৩২ অনুযায়ী “প্রতিটি নাগরিকের বেঁচে থাকার অধিকার” নিশ্চিত করা হয়েছে।
- Right to Liberty (স্বাধীনতার অধিকার) হলো একটি মৌলিক মানবাধিকারের অংশ, যা প্রত্যেক মানুষকে স্বাধীনভাবে চিন্তা, চলাফেরা, কাজকর্ম ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দেয়, সীমাবদ্ধতা ছাড়া যে কোনও অন্যায় বাধা ছাড়া।বাংলাদেশের সংবিধান ধারা ৩৭–৪২ অনুযায়ী নাগরিকদের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার সংরক্ষিত আছে।
- সমতার অধিকার (Right to Equality) হলো এমন একটি মৌলিক অধিকার যা নিশ্চিত করে যে প্রতিটি মানুষ আইন অনুযায়ী সমান এবং বৈষম্যবিহীন সুরক্ষা পাবে। এটি জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, বর্ণ বা সামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে অন্যায় আচরণকে প্রতিরোধ করে। সংবিধান ধারা ২৭ অনুসারে, "সকল নাগরিক আইনের সমান অধিকারী এবং আইন অনুযায়ী সমান সুরক্ষা পাবেন।"

সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা-রাখী বর্মন।

.
Who is considered the father of the Theory of Consent? (সম্মতি তত্ত্বের জনক বলা হয় কাকে?) 
  1. Thomas Hobbes (টমাস হবস)
  2. Jean-Jacques Rousseau (জ্যা জ্যাক রুশো) 
  3. John Locke (জন লক) 
  4. Montesquieu (মন্টেস্কু) 
ব্যাখ্যা

- John Locke-কে সাধারণত "Theory of Consent" বা সম্মতি তত্ত্বের জনক বলা হয়। তার মতে, রাষ্ট্রের বৈধতা মানুষের স্বেচ্ছামূলক সম্মতি থেকে আসে। অর্থাৎ, জনগণ যদি শাসকের নীতির সঙ্গে সম্মত না হয়, তবে শাসনের কোনো নৈতিক বা রাজনৈতিক অধিকার নেই। এটি আধুনিক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- টমাস হবস (1588–1679) একজন ইংরেজ দার্শনিক, যিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আধুনিক তত্ত্বের একজন প্রাথমিক প্রবর্তক। তার প্রধান কাজ হলো “Leviathan” (1651)। মানুষ প্রকৃতিতে স্বাভাবিকভাবেই স্বার্থপর, অহংকারী ও প্রতিযোগিতামূলক।  স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো নিয়ম বা আইন নেই, তাই মানুষ অবিরাম যুদ্ধ এবং ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে থাকে।  নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করার জন্য মানুষ স্বেচ্ছায় একটি চুক্তি করে একটি ক্ষমতাশালী সত্তার (Leviathan) অধীনে অধীন হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে মানুষ নিজস্ব স্বাধীনতার কিছু অংশ বাতিল করে, তবে বিনিময়ে সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা পায়। রাষ্ট্র বা সরকারের প্রধান কাজ হলো শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আইন প্রয়োগ করা ও মানুষকে নিরাপদ রাখা।
- জ্যা জ্যাক রুশো (1712–1778) একজন ফরাসি-সুইস দার্শনিক। তিনি সমাজতত্ত্ব ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর প্রধান কাজ হলো “The Social Contract” (1762)। মানুষ স্বাভাবিক অবস্থায় ভালো এবং স্বাধীন, কিন্তু সমাজের আবির্ভাব ও বৈষম্য মানুষকে দূষিত করে।প্রাকৃতিক অবস্থায় মানুষ শান্তিপ্রিয়, সহজ জীবনযাপন করে।ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও সামাজিক স্তর তৈরি হওয়ার পরই মানুষ অসাম্য ও শোষণের শিকার হয়। শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ স্বেচ্ছায় সমাজের জন্য নিয়ম ও শাসনের অধীনে আসে। এতে ব্যক্তির স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে হারায় না; বরং সমষ্টিগত স্বার্থ ও “General Will” অনুযায়ী স্বাধীনতা অর্জন করে। সমাজের সর্বোচ্চ নীতি হলো সাধারণ ইচ্ছা, যা সকলের কল্যাণের জন্য কাজ করে।
- মঁটেস্কু (1689–1755) একজন ফরাসি দার্শনিক। তিনি “The Spirit of the Laws” (1748) গ্রন্থের মাধ্যমে আধুনিক রাজনৈতিক তত্ত্ব ও সরকার কাঠামোর ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন। Montesquieu-এর মতে, একটি দেশের স্বতন্ত্রতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করতে রাষ্ট্রের ক্ষমতা তিনটি ভাগে বিভক্ত করা উচিত। এতে কোনো একক ব্যক্তি বা সংস্থা সব ক্ষমতা না পেয়ে রাষ্ট্র শৃঙ্খলিত ও স্বাধীন থাকে।

সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা-রাখী বর্মন।

.
Which philosopher's writings encouraged the French Revolution? ( কোন দার্শনিকের লেখনী ফরাসি বিপ্লবকে উৎসাহিত করেছিল?) 
  1. John Locke (জন লক) 
  2.  Thomas Hobbes (টমাস হবস) 
  3. Jean-Jacques Rousseau (জ্যা জ্যাক রুশো) 
  4. Montesquieu (মন্টেস্কু) 
ব্যাখ্যা

- Jean-Jacques Rousseau-এর রাজনৈতিক তত্ত্ব, বিশেষ করে "The Social Contract", মানুষকে স্বাধীনতা, সমানাধিকার এবং জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার দিকে উৎসাহিত করেছিল।তিনি বলেন, "Man is born free, and everywhere he is in chains," যা মানুষের স্বাভাবিক স্বাধীনতার অধিকারকে গুরুত্ব দেয়।
- ফরাসি বিপ্লবের নেতা ও চিন্তাবিদরা রুসো-এর এই ধারণাকে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার এবং বিপ্লবী আন্দোলন শুরু করার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

- ফরাসি বিপ্লব (French Revolution) – 1789–1799ঃ সমাজ তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল: ক্যাথলিক চার্চ ও আদি প্রভুত্বশীলরা (First Estate), অভিজাতদের (Second Estate), সাধারণ মানুষ / তৃতীয় শ্রেণী (Third Estate)। তৃতীয় শ্রেণীর মানুষ কর দিয়ে বঞ্চিত ও শোষিত ছিল।
- বিপ্লবের কারণ- রাজার একচেটিয়া শাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকারহীনতা। সরকারী অর্থের অভাব, উচ্চ কর, ধনীর অগ্রাধিকার,খারাপ ফসল ও খাদ্য সংকট, Enlightenment (জ্ঞানোদয় আন্দোলন) – মানুষের স্বাধীনতা ও সমতার ধারণা প্রচার।
 বাস্টিল দখল (Bastille Day, 1789): বিপ্লবের প্রতীক, কারাগার দখল করে সাধারণ মানুষ ক্ষমতার চ্যালেঞ্জ দেখায়। “Declaration of the Rights of Man and of the Citizen” (1789): মানুষের স্বাধীনতা, সমতা ও অধিকারকে আইনগত স্বীকৃতি দেয়।রাজপরিবারের পতন ও রাজার মৃত্যুদণ্ড (1793): লুই XVI কে হত্যা করা হয়। Reign of Terror (1793–1794): বিপ্লব বিরোধীদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে সন্ত্রাস ও গণহত্যা। ন্যাপোলিয়নের উত্থান (1799): বিপ্লব শেষ হয়, ন্যাপোলিয়ন ক্ষমতা দখল করে।
- ফলাফল: প্রাচীন রাজতন্ত্রের পতন, সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার প্রসার, সমতা, স্বাধীনতা ও ভাতৃত্বের  ধারণার প্রসার, ইউরোপে নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের সূচনা। 

সূত্র: পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা-রাখী বর্মন।

.
In society, the emergence of social classes occurs through— (সমাজে শ্রেণির আবির্ভাব ঘটে কোনটির মাধ্যমে?) 
  1. Political laws (রাজনৈতিক আইন) 
  2. Religious beliefs (ধর্মীয় বিশ্বাস) 
  3. Cultural traditions (সাংস্কৃতিক সম্পর্ক) 
  4. Economic relations (অর্থনৈতিক সম্পর্ক) 
ব্যাখ্যা

- কার্ল মার্ক্স (Karl Marx) এর তত্ত্ব অনুযায়ী, সমাজে শ্রেণি (Class) গঠন হয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে। অর্থাৎ কারা সম্পদ ও উৎপাদনের সরঞ্জামের মালিক এবং কারা শ্রমিক, সেই ভিত্তিতেই সমাজে শ্রেণিবিন্যাস সৃষ্টি হয়।
- উদাহরণস্বরূপ: বুর্জোয়া (উৎপাদন মালিক) এবং প্রলেতারিয়েট (শ্রমিক)। এই অর্থনৈতিক ভেদাভেদের কারণে শ্রেণি সংগ্রামও ঘটে, যা সমাজ পরিবর্তনের প্রধান চালিকা শক্তি।
- কার্ল মার্ক্স মনে করতেন যে সমাজে শ্রেণি বৈষম্য (Class Inequality) মূলত অর্থনৈতিক সম্পর্কের কারণে জন্মায়। অর্থাৎ, মানুষকে শ্রেণিতে ভাগ করা হয় তাদের উৎপাদন উপায় এবং সম্পদ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতার ভিত্তিতে। সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামো (যেমন কৃষি, শিল্প, পুঁজিবাদী ব্যবস্থা) মানুষের সামাজিক সম্পর্ক নির্ধারণ করে। যারা উৎপাদন উপকরণের মালিক (যেমন জমি, ফ্যাক্টরি) তারা শোষক শ্রেণি। যারা শ্রম বিক্রি করে জীবিকা অর্জন করে, তারা শোষিত শ্রেণি। 
- বুর্জোয়া (Bourgeoisie) উৎপাদন উপকরণের মালিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা রাখে। প্রলেতারিয়েট (Proletariat) - শ্রমিক, জীবিকার জন্য শ্রম বিক্রি করে। অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে বুর্জোয়া ও প্রলেতারিয়েটের মধ্যে স্বার্থবিরোধ ও সংঘাত জন্মায়। এই সংঘাত সমাজ পরিবর্তনের শক্তি।

সূত্রঃ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

১০.
Which of the following is a key purpose of the social contract in Hobbes’ theory? (হবসের তত্ত্বে সামাজিক চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য কী?)
  1. To maximize personal freedoms only (কেবল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা) 
  2. To create moral perfection (নৈতিক পরিপূর্ণতা সৃষ্টি)
  3. To abolish sovereignty (সার্বভৌমত্ব বাতিল করা) 
  4. To ensure security and peace (নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করা)
ব্যাখ্যা

- সামাজিক চুক্তি মানুষকে প্রাকৃতিক অবস্থার অরাজকতা থেকে রক্ষা করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের অধীনে নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করে।
- টমাস হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ হলো একটি রাজনৈতিক তত্ত্ব যা রাষ্ট্রের উৎপত্তি এবং জনগণের সার্বভৌমত্বের ভিত্তি ব্যাখ্যা করে। হবস তাঁর " Leviathan " গ্রন্থে এই মতবাদ উপস্থাপন করেন। 
- সরকার বা সমাজের পূর্বে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বাস করত। এই রাজ্যে, প্রত্যেকেরই সবকিছু করার স্বাধীনতা ছিল, কিন্তু সেখানে কোনো নিয়ম-কানুন বা ন্যায়বিচার ছিল না। এই কারণে জীবন ছিল "একা, দরিদ্র, কুৎসিত, পাশবিক এবং সংক্ষিপ্ত"। 
- মানুষ নিজেদের মধ্যে একটি চুক্তি করে একটি সরকার গঠন করে। এই চুক্তির মাধ্যমে তারা তাদের কিছু স্বাধীনতা সরকারের কাছে হস্তান্তর করে, যাতে সরকার তাদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।সরকার জনগণের উপর সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে যাতে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে। 
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি মানুষের প্রয়োজনে হয়েছে। মানুষ যখন প্রকৃতির রাজ্যে নিজেদের জীবনকে নিরাপদ মনে করেনি, তখন তারা নিজেদের মধ্যে চুক্তি করে রাষ্ট্র গঠন করে, যা তাদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। 

সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা-রাখী বর্মন।

১১.
According to Hobbes, life in the state of nature is—(হবস মতে, প্রাকৃতিক অবস্থায় জীবন কেমন-)
  1. Solitary, poor, nasty, brutish, and short (একাকী, দরিদ্র, কুটিল, নিষ্ঠুর এবং সংক্ষিপ্ত)
  2. Peaceful and harmonious (শান্তিপূর্ণ ও সমন্বিত)
  3. Governed by justice and equality (ন্যায় ও সমতার দ্বারা শাসিত)
  4. Based on natural laws alone (শুধুমাত্র প্রাকৃতিক আইনের উপর নির্ভরশীল)
ব্যাখ্যা

- প্রাকৃতিক অবস্থায় কোনো সরকার বা আইন নেই, মানুষ স্বার্থপর এবং নিজের স্বার্থ অনুসারে আচরণ করে, ফলে অরাজকতা ও ভয় সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বর্বর জীবনযাপন করতো। সেখানে কোন বিধিবদ্ধ আইন ছিলনা যা মানুষের বিশৃঙ্ক্ষল জীবনে শৃঙ্খলা আনতে পারে;বরং প্রকৃতির আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো।
- দৈহিক ও মানসিক দিক দিয়ে সকল মানুষ সমান হলেও তারা মনে মনে করে একে অপরের চেয়ে বলবান,মানসিক দিক দিয়ে সচেতন বা মেধাবী। সবাই সমক্ষমতাসম্পন্ন ভাবার কারণে সকলেই এক জিনিস পেতে চায় তাই মতবিরোধ,সংঘর্ষ ও কলহ দেখা দেয়। সংঘর্ষের কারণ হল- প্রতিযোগিতা,আত্মবিশ্বাসহীনতা,অহংকার ও গৌরব। তাদের জীবন ছিল একাকী, দরিদ্র, কুটিল, নিষ্ঠুর এবং সংক্ষিপ্ত। 
- প্রকৃতির রাজ্যে এ ভয়াবহ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য মানুষ উপায় খুঁজতে শুরু করে। এরূপ অবস্থায় চুক্তি সম্পাদন করে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের নিকট ক্ষমতা অর্পণ করে। 

সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা-রাখী বর্মন।

১২.
According to Locke, the main purpose of government is—(লকের মতে,সরকারের মূল উদ্দেশ্য-)   
  1. To control religion (ধর্ম নিয়ন্ত্রণ) 
  2. To protect natural rights (প্রাকৃতিক অধিকার রক্ষা)
  3. To maintain monarchy (রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখা) 
  4. To enforce fear ( ভয় প্রয়োগ) 
ব্যাখ্যা

- জন লক (1632–1704) একজন ইংরেজ দার্শনিক। তিনি Social Contract Theory এবং Natural Rights (প্রাকৃতিক অধিকার) তত্ত্বের জন্য বিখ্যাত। তার Political Philosophy আধুনিক গণতন্ত্রের ভিত্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ। 
- প্রাকৃতিক অধিকার হচ্ছে মানুষ জন্মগতভাবে কিছু অধিকার নিয়ে আসে, যা কোনো সরকারও দিতে বা ছিনিয়ে নিতে পারে না। যেমন- নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নিজের ইচ্ছামতো জীবনযাপন করার অধিকার,  নিজের শ্রম ও অর্জিত সম্পদ রক্ষা করার অধিকার।
- প্রাকৃতিক অবস্থায় মানুষ স্বাধীন হলেও, আইন ও শৃঙ্খলা নেই। এই অবস্থায় অন্যের অধিকার লঙ্ঘিত হতে পারে, যেমন হত্যা, চুরি বা অন্যায় শোষণ। তাই মানুষ স্বেচ্ছায় একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করে, যাতে তার অধিকার রক্ষা হয়।
মানুষ কিছু ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সরকারকে দান করে। বিনিময়ে সরকার নাগরিকদের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তি রক্ষা করবে। যদি সরকার এই অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, জনগণকে সরকার পরিবর্তনের অধিকার আছে।
- যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের সম্পত্তি হরণ করার চেষ্টা করে, সরকার সেই ব্যক্তি থেকে সম্পত্তি রক্ষা করবে। যদি সরকার নিজেই অধিকার লঙ্ঘন করে, নাগরিকরা বিপ্লব বা পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করতে পারে।

সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা-রাখী বর্মন 

১৩.
The “General Will” in Rousseau’s theory refers to— (রুশোর “সাধারণ ইচ্ছা (General Will)”  বোঝায়-)
  1. The collective interest of all people (সকল মানুষের সাধারণ স্বার্থ)
  2. The will of the majority (সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছা)
  3. The king’s desire (রাজার ইচ্ছা)
  4. Personal interest (ব্যক্তিগত স্বার্থ)
ব্যাখ্যা

- “General Will” বা সাধারণ ইচ্ছা হলো সকল মানুষের সাধারণ কল্যাণ ও স্বার্থের সমষ্টিগত ধারণা। সাধারণ ইচ্ছা তত্ত্বের মাধ্যমে যদিও রুশোর গণতান্ত্রিক চিন্তাচেতনার প্রতিফলন ঘটেছে । রুশো মনে করেন, সবার সমষ্টিগত ইচ্ছা সাধারণ ইচ্ছা নয়। কারণ তিনি বলেন, সমষ্টিগত ইচ্ছার মধ্যে জনকল্যাণ নাও থাকতে পারে। এজন্য তিনি কল্যাণ-অকল্যাণের প্রশ্নে সাধারণ ইচ্ছাকে দু’ভাগে ভাগ করেছেন। যথা: ১. সাধারণ ইচ্ছা এবং ২. সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছা। একজন ব্যক্তির ইচ্ছা যদি সর্বজনের স্বার্থ ও কল্যাণের সাথে সংগতিপূর্ণ হয় তাহলে সেটি সাধারণ ইচ্ছা হতে পারে। 
- প্রত্যেক মানুষের মধ্যে দুপ্রকার ইচ্ছা ক্রিয়াশীল। একটি হলো যথার্থ ইচ্ছা (Actual Will) এবং অপরটি প্রকৃত ইচ্ছা (Real Will)।রুশোর মতে, ব্যক্তির আত্মকেন্দ্রিক ইচ্ছা হলো যথার্থ ইচ্ছা (Actual Will)। এ ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যক্তি কেবল নিজের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে। এতে সমাজের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল মোটেই বিবেচিত হয় না।
- একজন ব্যবসায়ী অসৎ পথে সম্পদ সঞ্চয় করলে নিজের সম্পদ বৃদ্ধি পেতে পারে কিন্তু এতে সমাজের ক্ষতি সাধিত হয়। এখানে ব্যক্তির যথার্থ ইচ্ছা (Actual Will) ক্রিয়াশীল।উক্ত ব্যবসায়ী যদি অন্যায় বা অসৎ পথে ব্যবসা করতে প্রলুব্ধ না হয় তাহলে বুঝতে হবে তার মধ্যে প্রকৃত ইচ্ছা (Real Will) ক্রিয়াশীল। কারণ প্রকৃত ইচ্ছা (Real Will) ব্যক্তির তথা সমাজের কল্যাণের সাথে সংগতিপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে, প্রকৃত ইচ্ছা (Real Will) ব্যক্তির মনুষ্যত্বসম্পন্ন ও বিবেকসম্পন্ন ইচ্ছা। এ ধরনের ইচ্ছায় সমষ্টির স্বার্থ রক্ষিত হয়।

সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম।

১৪.
Which work best reflects Marx’s theory of class struggle? (মার্ক্সের শ্রেণি সংগ্রাম তত্ত্ব কোন গ্রন্থে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে?)
  1. Das Kapital
  2. Communist Manifesto
  3. German Ideology
  4. Critique of Hegel’s Philosophy of Right
ব্যাখ্যা

- ১৮৪৮ সালে মার্ক্স ও এঙ্গেলসের লেখা Communist Manifesto ঘোষণাপত্রে শ্রেণি সংগ্রামের মূল ধারণা স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
- ইতিহাসের মূল চালিকা শক্তি হলো শোষক ও শোষিত শ্রেণির সংঘাত।পুঁজিবাদী সমাজে বুর্জোয়া ও প্রলেতারিয়েটের মধ্যে স্বার্থবিরোধ চরমে পৌঁছায়।
- বুর্জোয়া শ্রমিকদের শ্রম থেকে অতিরিক্ত মূল্য (Surplus Value) গ্রহণ করে। শ্রমিকরা চরমভাবে বঞ্চিত হয়।
- শ্রমিকদের একত্রিত হয়ে বুর্জোয়া শাসন উল্টে ফেলা।শ্রমিক শ্রেণি ক্ষমতা দখল করবে এবং উৎপাদন ব্যবস্থার মালিকানা নেবে।শ্রেণি, শোষণ ও বৈষম্য থাকবে না। উৎপাদনের উপকরণ সবার সমান ভাগে ব্যবহৃত হবে। লক্ষ্য: “From each according to his ability, to each according to his needs”।
- এই গ্রন্থের মূল স্লোগান (Famous Slogan): “Workers of the world, unite!” (দুনিয়ার মজদুর এক হও)।

সূত্রঃ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

১৫.
Correct sequence of social development according to Marx is— (কার্ল মার্ক্সের মতে সমাজের বিকাশের সঠিক ধাপ কোনটি?)  
  1. Feudalism → Capitalism → Communism (সামন্তবাদ → পুঁজিবাদ → সাম্যবাদ)
  2. Primitive → Feudalism → Capitalism → Communism (আদিম → সামন্তবাদ → পুঁজিবাদ → সাম্যবাদ)
  3. Primitive → Slavery → Feudalism → Capitalism → Socialism → Communism (আদিম → দাসপ্রথা → সামন্তবাদ → পুঁজিবাদ → সমাজতন্ত্র → সাম্যবাদ)
  4. Capitalism → Feudalism → Socialism (পুঁজিবাদ → সামন্তবাদ → সমাজতন্ত্র) 
ব্যাখ্যা

- মার্ক্সের ঐতিহাসিক বস্তুবাদ (Historical Materialism) অনুযায়ী এটাই সমাজ বিকাশের ধাপ।মার্ক্সের ঐতিহাসিক বস্তুবাদ তত্ত্ব অনুসারে, মানব ইতিহাসের পরিবর্তন মূলত অর্থনৈতিক (Material) ভিত্তির উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ, উৎপাদনের উপায় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সমাজের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো নির্ধারণ করে।
- সমাজের অর্থনৈতিক ভিত্তি (যেমন কৃষি, শিল্প, পুঁজিবাদ) মানব সম্পর্ক ও সামাজিক কাঠামো গঠনে প্রভাব ফেলে।
উৎপাদনের উপকরণ কার হাতে তা সমাজে শ্রেণি বিভাজন ও ক্ষমতার সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
- শোষক শ্রেণি (যারা উৎপাদন উপকরণের মালিক) এবং শোষিত শ্রেণি (যারা শ্রম বিক্রি করে জীবিকা অর্জন করে)। সমাজে বৈষম্য এবং শোষণ উৎপন্ন হয়। ইতিহাসের পরিবর্তন ঘটার প্রধান শক্তি হলো শোষক ও শোষিত শ্রেণির সংঘাত।
- সমাজের রাজনৈতিক, আইনগত ও ধর্মীয় কাঠামো অর্থনৈতিক ভিত্তির (Base) উপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, Base → Superstructure।
 - উদাহরণ: পুঁজিবাদী সমাজে (Capitalist Society), মালিক শ্রেণি শ্রমিক শ্রেণিকে শোষণ করে। এই বৈষম্যের কারণে শ্রমিকদের আন্দোলন এবং বিপ্লব সংঘটিত হয়।

সমাজ বিকাশের স্তরঃ 
- Primitive Communism (প্রাথমিক সাম্যবাদ)-উৎপাদন যৌথভাবে, মালিকানা সাধারণ।কোনো শ্রেণি বৈষম্য নেই।
- Slave Society (দাস প্রথা সমাজ)-উৎপাদনের মালিক এক শ্রেণি (দাস মালিক) এবং শ্রমিক (দাস) অন্য শ্রেণি।দাস শোষিত, দাস মালিক শোষক।
- Feudalism (ফিউডাল সমাজ / জমিদার প্রথা)-জমিদার শ্রেণি মালিক, কৃষক বা সর্ফ শ্রমিক।শোষণ কৃষকের ওপর কেন্দ্রিত।
Capitalism (পুঁজিবাদী সমাজ)-বুর্জোয়া শ্রেণি উৎপাদন উপকরণের মালিক।প্রলেতারিয়েট শ্রম বিক্রি করে জীবিকা অর্জন করে।
শ্রেণি সংগ্রাম সর্বাধিক তীব্র।
- Socialism / Communism (সম্যবাদী সমাজ)-উৎপাদন উপকরণ সবার সমান মালিকানাধীন। শ্রেণি, শোষণ ও বৈষম্য থাকবে না।
সমাজের লক্ষ্য: “From each according to his ability, to each according to his needs”।
 - সংক্ষিপ্তভাবে: Primitive Communism → Slave Society → Feudalism → Capitalism → Socialism/Communism

সূত্রঃ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

১৬.
Marx described religion as— (মার্ক্স ধর্মকে  বলেছেন-)
  1. A source of liberation (মুক্তির মাধ্যম)
  2. The foundation of human consciousness (মানুষের চেতনার মূল)
  3. The opium of the people (জনগণের আফিম)
  4. A tool of class struggle (শ্রেণি সংগ্রামের হাতিয়ার) 
ব্যাখ্যা

- কার্ল মার্ক্স (1818–1883) ধর্মকে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করেছেন। তার মতে, ধর্ম কোনো আলাদা বা আধ্যাত্মিক সত্য নয়; এটি মূলত অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর উপর নির্ভরশীল। মার্ক্সের ধর্ম তত্ত্বের মূল ধারণা
ধর্মকে “মানবতার নিজস্ব কল্পনা” হিসেবে দেখা। মার্ক্স বলেছেন: “Religion is the opium of the people” (ধর্ম মানুষদের আফিমের মতো)। ধর্ম মানুষকে তাদের কষ্ট ও শোষণ থেকে সাময়িক স্বস্তি দেয়। এটি মানুষকে বাস্তব সমস্যা মোকাবিলা না করে স্বপ্ন ও ভ্রমের মধ্যে রাখে। মার্ক্স ধর্মকে মানুষের বাস্তব দুঃখ-কষ্টের বিরুদ্ধে ভ্রান্ত সান্ত্বনা হিসেবে দেখেছিলেন।
- তাঁর মতে, শাসক শ্রেণি ধর্মকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, যাতে তারা শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করে। ধর্ম মানুষের কাছে আশা ও শান্তির প্রতীক মনে হলেও, আসলে এটি তাদেরকে বাস্তব সমস্যার সমাধান থেকে দূরে রাখে।
- সমাজে যখন অসাম্য ও শোষণ থাকে, তখন ধর্ম মানুষকে ধৈর্য ধারণ ও স্বীকার করার জন্য প্ররোচিত করে। শ্রমিক বা শোষিত শ্রেণি ধর্মের মাধ্যমে তাদের শোষণকে ন্যায়সঙ্গত মনে করতে শেখে।
- ধর্ম সামাজিক অবকাঠামোর অংশ। অর্থনৈতিক কাঠামো (Base) ধর্মসহ সমস্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করে। পুঁজিবাদী বা অন্য কোনো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অনুযায়ী ধর্মের চরিত্র ও ভূমিকা পরিবর্তিত হয়।
- ধর্মকে উল্টো উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা শোষণের হাতিয়ার হিসেবে দেখানো। সমাজ পরিবর্তনের জন্য, মানুষকে ধর্মের ভ্রম থেকে বের করে বাস্তব অর্থনৈতিক ও সামাজিক শোষণ চিহ্নিত করতে হবে।
-  উদাহরণ: পুঁজিবাদী সমাজে শ্রমিকরা ধনী মালিকদের শোষণ সহ্য করার জন্য ধর্মকে প্ররোচিত মনে করতে পারে। ধর্ম মানুষের সান্ত্বনার উৎস, কিন্তু এটি সামাজিক বৈষম্য দূর করে না।

সূত্রঃ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

১৭.
In Marxist economics, “Surplus Value” means— (মার্ক্সীয় অর্থনীতিতে “Surplus Value” বলতে বোঝায়-)
  1. Fair wages of workers (শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি)
  2. The extra value produced by workers but appropriated by capitalists (শ্রমিকের উৎপাদিত অতিরিক্ত মূল্য, যা পুঁজিপতি আত্মসাৎ করে)
  3. State tax (রাষ্ট্র কর্তৃক আদায়কৃত কর)
  4. Agricultural surplus (কৃষিপণ্যের উদ্বৃত্ত অংশ)
ব্যাখ্যা

- মার্ক্সীয় অর্থনীতিতে “Surplus Value” (উদ্বৃত্ত মূল্য) বলতে বোঝায় শ্রমিক যে অতিরিক্ত মূল্য উৎপাদন করে, কিন্তু সেই মূল্য শ্রমিকের হাতে না গিয়ে পুঁজিপতির হাতে যায়।শ্রমিক তার শ্রমশক্তি বিক্রি করে নির্দিষ্ট মজুরি পায়। কিন্তু শ্রমিক যে পণ্য উৎপাদন করে, তার বাজারমূল্য শ্রমিকের প্রাপ্ত মজুরির চেয়ে অনেক বেশি। এই অতিরিক্ত অংশটিই হলো উদ্বৃত্ত মূল্য (Surplus Value), যা পুঁজিপতি নিজের মুনাফা হিসেবে নিয়ে নেয়। এভাবেই শোষণ ঘটে এবং পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মূল ভিত্তি গড়ে ওঠে।
- কার্ল মার্কসের উদ্বৃত্ত মূল্য (surplus value) তত্ত্ব অনুসারে, শ্রমিক তার কাজের মাধ্যমে যে মূল্য তৈরি করে, তার চেয়ে কম মজুরি পায়। এই বাড়তি মূল্য বা উদ্বৃত্ত অংশটুকু (surplus) পুঁজিপতি বা মালিক আত্মসাৎ করে, যা তার লাভ হিসেবে গণ্য হয়।
- উদাহরণঃ একটি কারখানায় শ্রমিক একদিনে ৬ ঘণ্টা কাজ করে। এই ৬ ঘণ্টার শ্রমের মাধ্যমে সে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মূল্য তৈরি করে। কিন্তু মালিক তাকে ৪ ঘণ্টার মজুরি দিয়ে ২ ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজ করিয়ে নেয়। এই অতিরিক্ত ২ ঘণ্টার কাজের ফলে যে মূল্য তৈরি হয়, সেটাই হলো উদ্বৃত্ত মূল্য, যা মালিক লাভ হিসেবে গ্রহণ করে।

সূত্রঃ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

১৮.
Marx viewed revolution as— (মার্ক্স বিপ্লবকে  দেখেছেন-) 
  1.  Gradual reform (ধীরগতির সংস্কার হিসেবে)
  2. Peaceful negotiation (শান্তিপূর্ণ সমঝোতা হিসেবে)
  3. Violent and fundamental change (সহিংস ও মৌলিক পরিবর্তন হিসেবে)
  4. Merely cultural change (কেবল সাংস্কৃতিক পরিবর্তন হিসেবে)
ব্যাখ্যা

- কার্ল মার্ক্স (1818–1883) বিপ্লবকে সমাজ পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেছেন। তার মতে, শোষণ ও বৈষম্যযুক্ত সমাজে শান্তিপূর্ণ পরিবর্তন সম্ভব নয়, তাই বিপ্লব অপরিহার্য। বিপ্লব হলো পুরনো সমাজ কাঠামো ভেঙে নতুন সমাজ গঠনের প্রক্রিয়া।এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের মৌলিক রূপ।
- কার্ল মার্ক্সের দৃষ্টিতে বিপ্লব (Revolution) হলো সহিংস ও মৌলিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেণি (প্রলেতারিয়েত) পুঁজিবাদী শ্রেণিকে (বুর্জোয়া) উৎখাত করে এবং সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করে।মার্ক্স বিশ্বাস করতেন, শ্রেণি সংগ্রামের অবশ্যম্ভাবী ফল হলো বিপ্লব।ধীরে ধীরে সংস্কার বা শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে পুঁজিবাদকে উৎখাত করা সম্ভব নয়।কেবলমাত্র বিপ্লবের মাধ্যমে উৎপাদনের উপকরণ শ্রমিক শ্রেণির হাতে যাবে। বিপ্লবের পর আসবে “প্রলেতারিয়েতের একনায়কত্ব”, যা সাম্যবাদের পথে একটি রূপান্তর ধাপ।
- মার্ক্সের মতে, শোষক শ্রেণি তাদের সুবিধা হারাতে চায়, তাই শান্তিপূর্ণ পথে শোষণ দূর করা সম্ভব নয়। শ্রমিক বা প্রলেতারিয়েটকে শোষক বুর্জোয়া শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বা সক্রিয় প্রতিরোধ করতে হবে।
- সমাজের ইতিহাস হলো শোষক ও শোষিত শ্রেণির সংগ্রামের ইতিহাস। পুঁজিবাদী সমাজে বুর্জোয়া ও প্রলেতারিয়েটের মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছালে বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- উৎপাদন ব্যবস্থার মালিকানা শ্রমিকদের হাতে নিয়ে আসা। শোষণমুক্ত, সমতাভিত্তিক সমাজ (Communist Society) গঠন। শ্রেণি বৈষম্য, দারিদ্র্য ও শোষণ দূর করা।
- উদাহরণ: ১৯০৫ বা ১৯১৭ সালের রাশিয়ান বিপ্লব: শোষক সাম্রাজ্যবাদী সরকারের বিরুদ্ধে শ্রমিক ও কৃষকের সক্রিয় আন্দোলন।
- Marx মতে, এমন বিপ্লবের মাধ্যমেই শোষক শ্রেণি উৎখাত হয় এবং নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠা হয়।

সূত্রঃ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

১৯.
The “Great Leap Forward” was initiated by—(“গ্রেট লিপ ফরওয়ার্ড” কে চালু করেছিলেন?) 
  1. Zhou Enlai
  2. Mao Zedong
  3. Deng Xiaoping
  4. Chiang Kai-shek
ব্যাখ্যা

- Great Leap Forward (1958–1962) ছিল চীনের দ্রুত শিল্পায়ন এবং কৃষি সংগ্রহ কেন্দ্রীকরণের প্রচেষ্টা।লক্ষ্য ছিল চীনের অর্থনীতি দ্রুত উন্নত করা এবং দেশকে একটি আধুনিক সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করা।এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল এবং গুরুতর খাদ্য সঙ্কটের (famine) কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- চীনের অর্থনীতি দ্রুত আধুনিকীকরণ ও শিল্পায়িত করা। উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে চীনকে শক্তিশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা। ছোট ছোট খামার (Private farms) বন্ধ করে কোলেকটিভ খামার (People’s Communes) গঠন। শ্রমিক ও কৃষকদের একত্রিত করে সব মিলিয়ে সমষ্টিগত উৎপাদন। প্রতিটি কমিউনে লোহা ও স্টীল উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য চীনা জনগণকে উৎসাহিত করা।
- গ্রামের সব মানুষকে একত্রিত করা। সম্পদ, শ্রম ও উৎপাদন উপকরণ মিলিতভাবে ব্যবহার। সাধারণ মানুষকে ছোট চুলার মাধ্যমে স্টীল উৎপাদনের নির্দেশ। লক্ষ্য ছিল শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি। সরকারি কর্তৃপক্ষ প্রায়শই উৎপাদন সংক্রান্ত মিথ্যা রিপোর্ট গ্রহণ করত।
-  উৎপাদন প্রকৃতির তুলনায় কম হওয়া, বিশেষ করে খাদ্যশস্য। লোকসভ্যায় বিশাল অনাহার ও ঘাটতি। ২০–৩০ মিলিয়নের বেশি মানুষের মৃত্যু, প্রধানত অনাহার ও অপুষ্টি কারণে। মাও-এর নীতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। পরে Cultural Revolution (1966–1976) এর পথে চীন এগোয়।
 - গ্রেট লিপ ফরওয়ার্ড ছিল চীনের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রচেষ্টা, কিন্তু অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ও বাস্তবতার অভাব এর ফলে মারাত্মক মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনে।

সূত্রঃ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

২০.
Mao Zedong’s main objective in the Cultural Revolution was to—(মাও সে তুং-এর সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মূল লক্ষ্য কী ছিল?)
  1. Promote industrialization (শিল্পায়ন প্রচার করা)
  2. Remove capitalist and traditional elements (পুঁজিবাদী ও প্রথাগত উপাদান দূর করা)
  3. Increase foreign trade (বিদেশী বাণিজ্য বৃদ্ধি করা)
  4. Modernize agriculture (কৃষি আধুনিকীকরণ করা)
ব্যাখ্যা

- মাও সে তুং-এর সাংস্কৃতিক বিপ্লব (Cultural Revolution) মূল লক্ষ্য ছিল পুঁজিবাদী ও প্রথাগত উপাদানগুলো দূর করা এবং কমিউনিস্ট মতাদর্শকে শক্তিশালী করা। Cultural Revolution (1966–1976) চালু করেছিলেন মাও সে তুং। উদ্দেশ্য ছিল চীনের কমিউনিস্ট পার্টি এবং সমাজকে “বুর্জোয়া প্রভাব” থেকে মুক্ত করা। শিক্ষাবিদ, শিল্পপতি, রাজনৈতিক কর্মকর্তা এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে প্রচারণা চালানো হয়। এর মাধ্যমে মাও চাইছিলেন যে কমিউনিস্ট ভাবধারার প্রতি জনসাধারণের আনুগত্য বজায় থাকুক এবং ব্যুরোক্রেটি বা নতুন অভিজাত শ্রেণি গঠন হোক না।
- চীনের সমাজে যে সমস্ত পুঁজিবাদী বা বুর্জোয়া চিন্তাভাবনা ও অভ্যাস রয়ে গেছে, তা নির্মূল করা।  শিল্প ও অর্থনীতিতে প্রাচীন বা ব্যক্তিগত স্বার্থের আধিপত্য দূর করা।
- চীনের পুরনো সংস্কৃতি, ধর্ম, ঐতিহ্য, সামাজিক প্রথা যেগুলি সমাজে বৈষম্য বা শোষণকে সহায়ক, তা নির্মূল করা।নতুন সমাজের জন্য কমিউনিস্ট আদর্শকে শক্তিশালী করা।
- সাধারণ মানুষকে (বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও শ্রমিক) শিক্ষিত করা ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় করা।বুর্জোয়া চিন্তাভাবনা বিরোধী আন্দোলনে সবাইকে অংশগ্রহণ করানো।
- স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কমিউনিস্ট আদর্শ প্রচার।ইতিহাস, সাহিত্য ও শিল্পে পূর্বাচারী ও প্রথাগত উপাদান ধ্বংস।
- মাও নিজের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। পার্টিতে বা সমাজে যে কেউ বুর্জোয়া বা প্রথাগত উপাদান বহন করত, তাকে লক্ষ্য করা হতো।
 - শিক্ষাব্যবস্থা, সংস্কৃতি ও শিল্পে বিশৃঙ্খলা। রাজনৈতিক শত্রুদের বিরুদ্ধে মহাযুদ্ধ, আন্দোলন ও নিপীড়ন। কমিউনিস্ট আদর্শের সাথে সমাজের সম্পূর্ণ “রূপান্তর”।

সূত্র: আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

২১.
Who is the chief proponent of the theory of class struggle? (শ্রেণি সংগ্রাম তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা কে?)
  1. Max Weber (ম্যাক্স ওয়েবার)
  2. Karl Marx (কার্ল মার্ক্স)
  3. Emile Durkheim (এমিলি ডুর্খেইম)
  4. John Locke (জন লক) 
ব্যাখ্যা

- শ্রেণি সংগ্রাম তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা হলেন কার্ল মার্ক্স (Karl Marx)। মার্ক্স তার ইতিহাস-ভিত্তিক বস্তুবাদ (Historical Materialism) তত্ত্বে বলেছেন, সমাজের ইতিহাস মূলত শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস। অর্থাৎ উৎপাদনের উপকরণে নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানার ভিত্তিতে সমাজে শোষক ও শোষিত শ্রেণির দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়, যা শেষ পর্যন্ত বিপ্লব ও সামাজিক পরিবর্তনের কারণ হয়।
- মানুষকে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থান ও উৎপাদন সম্পর্কের ভিত্তিতে শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। বুর্জোয়া (Bourgeoisie) উৎপাদন উপকরণের মালিক, শ্রমিকদের শোষণ করে। প্রলেতারিয়েট (Proletariat)- শ্রমিক, উৎপাদন উপকরণের মালিক নয়, জীবনধারণের জন্য শ্রম বিক্রি করে। শ্রমিকদের শ্রম থেকে লাভ সংগ্রহ করে বুর্জোয়া। এই বৈষম্য সমাজে অসাম্য ও সংঘাত সৃষ্টি করে। 
- শোষক ও শোষিত শ্রেণির মধ্যে স্বার্থবিরোধ ও সংঘাত। এটি সমাজ পরিবর্তনের প্রধান শক্তি। পুঁজিবাদী সমাজে শ্রমিকরা শোষণের শিকার, তাই শোষক শ্রেণিকে উৎখাত করার জন্য বিপ্লব অপরিহার্য। বিপ্লবের পর সমাজে সম্যবাদী (Communist) ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হবে।
 - উদাহরণ: ফ্যাক্টরিতে মালিক শ্রমিকদের শ্রম ব্যবহার করে লাভ অর্জন করে। শ্রমিকরা শোষণ সহ্য করতে না পেরে আন্দোলন বা বিপ্লবের পথে যায়।

সূত্রঃ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

২২.
Which of the following revolutions does Marx predict as a result of class struggle? (শ্রেণি সংগ্রামের ফলে মার্ক্স কোন ধরনের বিপ্লবের পূর্বাভাস দেন?) 
  1. Socialist Revolution (সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব)
  2. Green Revolution (সবুজ বিপ্লব)
  3. French Revolution (ফরাসি বিপ্লব)
  4. Industrial Revolution (শিল্প বিপ্লব)
ব্যাখ্যা

- কার্ল মার্ক্সের মতে, সমাজের ইতিহাস হলো মূলত শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস। প্রতিটি সমাজে উৎপাদন উপকরণের মালিক শ্রেণি (শোষক) ও যারা শ্রম দিয়ে বাঁচে (শোষিত) তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিদ্যমান থাকে। পুঁজিবাদী সমাজে এই দ্বন্দ্ব হয় বুর্জোয়া শ্রেণি (মালিক শ্রেণি) ও প্রলেতারিয়েত শ্রেণি (শ্রমিক শ্রেণি)-এর মধ্যে।মার্ক্স বিশ্বাস করতেন, এই দ্বন্দ্ব ও সংগ্রামের চূড়ান্ত ফল হবে এক সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব, যেখানে শ্রমিক শ্রেণি পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে উৎখাত করবে এবং শ্রেণিহীন সমাজ (Communist Society) প্রতিষ্ঠা করবে।
- সবুজ বিপ্লব (১৯৬০–১৯৭০-এর দশক)-  ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ । উদ্দেশ্য-খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য সুরক্ষা ও দারিদ্র্য হ্রাস , উচ্চ ফলনশীল ধান, গম ও অন্যান্য ফসলের বীজ ব্যবহার করে সংক্ষিপ্ত সময়ে বেশি ফসল উৎপাদন, আধুনিক সেচ ও জল সংরক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি। খরা প্রতিরোধে সহায়ক, ফসলের বৃদ্ধি ও রোগ-কীটনাশনে ব্যবহৃত। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির ক্ষতি করতে পারে। ট্র্যাক্টর, হারভেস্টার, বিয়ারিং যন্ত্র ইত্যাদি ব্যবহারে কৃষি কাজ দ্রুত ও সহজ হয়।নতুন ফসল প্রজাতি, রোগ প্রতিরোধী ফসল এবং উন্নত চাষপ্রণালী তৈরি। খাদ্যশস্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি,অনাহার হ্রাস ও খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি,কৃষির আধুনিকীকরণ ও আয় বৃদ্ধি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি সাপেক্ষে খাদ্য চাহিদা পূরণ। পরিবেশ দূষণ ও মাটির উর্বরতা হ্রাস,ছোট কৃষক ও দরিদ্র কৃষকদের জন্য ব্যয়বহুল প্রযুক্তি, জলসম্পদের উপর চাপ বৃদ্ধি, ফসলের বৈচিত্র্য হ্রাস, এক ধরনের ফসলের উপর নির্ভরশীলতা।
- প্রথম শিল্প বিপ্লব (প্রায় ১৭৬০–১৮৪০): বৃটেনে শুরু, মূলত বাষ্পশক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার। দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব (প্রায় ১৮৭০–১৯১৪): বিদ্যুৎ, স্টীল, রেল ও টেলিযোগাযোগের ব্যবহার।তৃতীয় শিল্প বিপ্লব (২০শ শতাব্দীর মধ্যভাগ): কম্পিউটার ও অটোমেশন।চতুর্থ শিল্প বিপ্লব (বর্তমান): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, ইন্টারনেট অব থিংস (IoT)।
- ফরাসি বিপ্লব (French Revolution) ছিল ১৭৮৯ থেকে ১৭৯৯ সালের মধ্যে ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন। এটি প্রাচীন শাসনব্যবস্থা (Absolute Monarchy) ভেঙে গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ছিল।

সূত্রঃ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

২৩.
Which book contains Marx and Engels’ systematic exposition of class struggle? (কার্ল মার্ক্স ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস শ্রেণি সংগ্রামের পদ্ধতিগত ব্যাখ্যা কোন গ্রন্থে প্রদান করেছেন?)
  1. The German Ideology
  2. The Communist Manifesto
  3. Das Kapital
  4. Critique of Pure Reason
ব্যাখ্যা

- কার্ল মার্ক্স ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস ১৮৪৮ সালে প্রকাশ করেন The Communist Manifesto। এই গ্রন্থে তারা প্রথমবারের মতো শ্রেণি সংগ্রাম তত্ত্বকে স্পষ্ট ও পদ্ধতিগতভাবে ব্যাখ্যা করেন।ইতিহাস হলো শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস। পুঁজিবাদে শোষক শ্রেণি (বুর্জোয়া) ও শোষিত শ্রেণি (প্রলেতারিয়েত) মধ্যে দ্বন্দ্ব বিদ্যমান।এই দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত সমাধান হবে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। প্রলেতারিয়েতরা (শ্রমিক শ্রেণি) ক্ষমতা দখল করে এক শ্রেণিহীন ও শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তুলবে।

- কার্ল মার্ক্স ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস ১৮৪৬ সালে প্রকাশ করেন The German Ideology । মানব ইতিহাসের পরিবর্তন অর্থনৈতিক ভিত্তি (Mode of Production) এবং উৎপাদন সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক ভিত্তি (Base) সামাজিক, রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামো (Superstructure) নির্ধারণ করে। সমাজে শোষক ও শোষিত শ্রেণির মধ্যে সংঘাত হলো সমাজ পরিবর্তনের প্রধান শক্তি। পুঁজিবাদী সমাজে বুর্জোয়া ও প্রলেতারিয়েটের মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছালে বিপ্লব সংঘটিত হয়। শ্রমিক শ্রেণি একত্রিত হয়ে শোষক বুর্জোয়া শাসন উৎখাত করবে। উৎপাদন উপকরণের মালিকানা শ্রমিকদের হাতে যাবে। শ্রেণি, শোষণ ও বৈষম্য থাকবে না। উৎপাদনের উপকরণ সবার সমান মালিকানাধীন। ধর্ম, আইন ও রাজনীতি অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর নির্ভরশীল।

- কার্ল মার্ক্স ১৮৬৭  সালে প্রকাশ করেন Das Kapital। মার্ক্স পুঁজিবাদী অর্থনীতির কাজের প্রক্রিয়া, উৎপাদন ও বণ্টন পদ্ধতি বিশ্লেষণ করেছেন। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার শোষণ ও অসাম্য প্রকাশ করা। পণ্য ও পরিষেবার মূল্য নির্ধারিত হয় শ্রমের দ্বারা শ্রমিকদের শ্রমের মূল্য পূর্ণরূপে দেওয়া হয় না; বাকি অংশ অতিরিক্ত মূল্য (Surplus Value) হিসেবে মালিক (বুর্জোয়া) লাভ করে। শ্রমিকরা তাদের শ্রম বিক্রি করে, কিন্তু উৎপাদনের অধিকাংশ ফলাফল মালিকদের হাতে যায়। এটি অর্থনৈতিক বৈষম্য ও শোষণ সৃষ্টি করে। পুঁজিবাদী অর্থনীতি-  সম্পদের কেন্দ্রায়ন (Concentration of Wealth),শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে স্বার্থবিরোধ, অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকট (Crises) তৈরি করে। সাম্যবাদী সমাজ- শ্রমিক বিপ্লবের মাধ্যমে পুঁজিবাদী শোষণ দূর করা। উৎপাদন উপকরণের মালিকানা সমানভাবে বণ্টন। শ্রেণি মুক্ত সমাজ (Classless Society) প্রতিষ্ঠা।

 - ইমানুয়েল কান্ত ১৭৮১ সালে প্রকাশ করেন Critique of Pure Reason। কান্ত জানাতে চেয়েছেন মানুষ কীভাবে জ্ঞান লাভ করে। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন বোধগম্য জ্ঞান (Phenomena) এবং সত্তাগত জ্ঞান (Noumena) এর মধ্যে পার্থক্য। Phenomena: যা আমরা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভব করি। Noumena: যা নিজস্বভাবে অস্তিত্বে আছে, কিন্তু আমাদের পক্ষে সরাসরি উপলব্ধি সম্ভব নয়। কান্তের মতে, জ্ঞান জন্মায় অভিজ্ঞতা এবং যুক্তির সংমিশ্রণে। একে তিনি Transcendental Idealism নামে অভিহিত করেছেন। A priori: অভিজ্ঞতার আগে জানা যায় এমন সত্য। (যেমন, গাণিতিক সত্য), A posteriori: অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানা যায়। কান্তের নতুন ধারণা, যা অভিজ্ঞতার বাইরে সত্য, কিন্তু নতুন জ্ঞান প্রদান করে।
উদাহরণ: “সকল ঘটনা কোনো কারণবশত ঘটে।”

সূত্রঃ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন  

২৪.
Scientific Socialism is based on which theory? (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কোন তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে গঠিত?)
  1. Natural Law (প্রাকৃতিক আইন)
  2. Historical Materialism (ঐতিহাসিক বস্তুবাদ)
  3. Idealism (ভাববাদ)
  4. Social Contract (সামাজিক চুক্তি) 
ব্যাখ্যা

- Scientific Socialism (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র) শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন কার্ল মার্ক্স ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস।তাদের মতে, সমাজতন্ত্রকে কল্পনা বা ইউটোপিয়ান ধারনার ওপর নয়, বরং বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণ ও ইতিহাসের বাস্তব সত্য-এর ওপর দাঁড় করাতে হবে। এই বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের ভিত্তি হলো ঐতিহাসিক বস্তুবাদ তত্ত্ব (Historical Materialism)।মানবসমাজের উন্নয়ন ঘটে উৎপাদন শক্তি (Forces of Production) ও উৎপাদন সম্পর্ক (Relations of Production)-এর দ্বন্দ্বের মাধ্যমে।এই দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্টি হয় শ্রেণি সংগ্রাম।শ্রেণি সংগ্রামের চূড়ান্ত ফলাফল হবে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও শ্রেণিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা।
- অতএব, Scientific Socialism কল্পনার ওপর নয় বরং ঐতিহাসিক বস্তুবাদ ও শ্রেণি সংগ্রাম তত্ত্ব-এর ওপর দাঁড়ানো।বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র হলো সমাজ পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যা শ্রেণি সংগ্রাম ও অর্থনৈতিক ভিত্তির বিশ্লেষণে শোষণমুক্ত সমাজ গঠনকে লক্ষ্য করে। সমাজ ও ইতিহাসের পরিবর্তন ঘটে অর্থনৈতিক ভিত্তি (Mode of Production) ও শ্রেণি সংগ্রামের মাধ্যমে।
- এটি মৌলিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করা যায়। দুটি প্রধান শ্রেণি- বুর্জোয়া (Bourgeoisie): উৎপাদন উপকরণের মালিক,  প্রলেতারিয়েট (Proletariat): শ্রম বিক্রি করে জীবনধারণকারী। সমাজ পরিবর্তনের মূল শক্তি। শ্রমিকদের বিপ্লবের মাধ্যমে শোষক শ্রেণিকে উৎখাত করা সম্ভব। উৎপাদনের উপকরণ সকলের হাতে সমানভাবে বণ্টন। শোষণ ও বৈষম্য দূর করে শ্রেণিহীন সমাজ গঠন।
- সমাজ পরিবর্তনের তত্ত্ব অনুভূতিপ্রসূত নয়, বরং অর্থনৈতিক বাস্তবতার বিশ্লেষণ ভিত্তিক। তাই এর নাম Scientific Socialism।

সূত্রঃ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

২৫.
Which book of Marx provides the economic foundation of scientific socialism? (কার্ল মার্ক্সের কোন গ্রন্থ বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রদান করে?) 
  1. The Communist Manifesto
  2. Das Kapital
  3. The Holy Family
  4. The German Ideology
ব্যাখ্যা

- কার্ল মার্ক্সের Das Kapital  গ্রন্থটি বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রদান করে।এই গ্রন্থে তিনি বিশ্লেষণ করেছেন—পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে। পুঁজিপতিরা কীভাবে অতিরিক্ত মূল্য (Surplus Value) আহরণ করে শ্রমিকদের শোষণ করে।
- শ্রমিক ও মালিক শ্রেণির মধ্যে দ্বন্দ্ব কীভাবে তীব্র হয়ে ওঠে। এই দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত কীভাবে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ডেকে আনবে।
- অন্যদিকে, The Communist Manifesto(1848) মূলত রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে লেখা হয়েছিল, কিন্তু Das Kapital(1867) হলো বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে মার্ক্সবাদী সমাজতন্ত্রের মজবুত ভিত্তি।

সূত্র: আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

২৬.
Which slogan is associated with Scientific Socialism? (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের সাথে কোন স্লোগানটি জড়িত?) 
  1. “Back to Nature” (“প্রকৃতির কোলে ফিরে যাও”)
  2. “Workers of the world, unite!” (দুনিয়ার মজদুর, এক হও!)
  3. “Liberty, Equality, Fraternity” (“স্বাধীনতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব”)
  4. “The greatest happiness of the greatest number” (“সর্বাধিক সংখ্যকের সর্বাধিক সুখ”) 
ব্যাখ্যা

- বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র (Scientific Socialism)-এর মূল স্লোগান হলো  “Workers of the world, unite!” (দুনিয়ার মজদুর, এক হও!) এই স্লোগানটি দেওয়া হয়েছিল কার্ল মার্ক্স ও ফ্রেডরিক এঙ্গেলস কর্তৃক রচিত “দ্য কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো” (1848)-তে। শ্রমিক শ্রেণি (Proletariat) হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ কিন্তু পুঁজিবাদী সমাজে তারা শোষিত।পৃথিবীর সকল শ্রমিকের স্বার্থ অভিন্ন, তাই তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রাম করতে হবে। শ্রেণি সংগ্রামের মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেণি একদিন পুঁজিবাদী সমাজকে উৎখাত করে সমাজতান্ত্রিক ও শ্রেণিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করবে।

- “Back to Nature” (“প্রকৃতির কোলে ফিরে যাও”) ধারণাটি মূলত দার্শনিক জাঁ-জাক রুশো (Jean-Jacques Rousseau)-এর সাথে সম্পর্কিত। রুশো বিশ্বাস করতেন, সভ্যতার কৃত্রিমতা ও বৈষম্য মানুষকে দূষিত করেছে। প্রকৃতির সরল ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেলে মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা ও সমতার স্বাদ পাবে। তাই তার দর্শনে “Back to Nature” মানে হলো সভ্যতার ভণ্ডামি ও শোষণ থেকে মুক্ত হয়ে প্রাকৃতিক, সরল ও নৈতিক জীবনে প্রত্যাবর্তন।

- “Liberty, Equality, Fraternity” (“স্বাধীনতা, সমতা, ভ্রাতৃত্ব”) স্লোগানটি মূলত ফরাসি বিপ্লব (French Revolution, 1789)-এর সাথে সম্পর্কিত। ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষা।সকল মানুষের প্রতি সমান অধিকার ও সুযোগ। মানুষদের মধ্যে একতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ। এটি ছিল ফরাসি বিপ্লবের মূল আদর্শ, যা পরবর্তীতে আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

- “The greatest happiness of the greatest number” (“সর্বাধিক সংখ্যকের সর্বাধিক সুখ”) হলো  Utilitarianism-এর মূল নীতি।
প্রধান প্রচারক ছিলেন জেরেমি বেনথম (Jeremy Bentham)। অর্থাৎ নীতি বা কার্যক্রমের সঠিকতা নির্ধারিত হবে তা দেখে যে কাজটি সর্বাধিক মানুষের জন্য সর্বাধিক সুখ বা কল্যাণ নিয়ে আসে। এটি নৈতিকতা এবং নীতি নির্ধারণে গণসংখ্যার কল্যাণকে প্রাধান্য দেয়।

২৭.
Which one is not a stage of historical development in Marxism? (নিম্নের কোনটি মার্ক্সবাদের ঐতিহাসিক বিকাশের পর্যায় নয়?)
  1. Feudalism (সামন্তবাদ)
  2. Capitalism (পুঁজিবাদ) 
  3. Socialism (সমাজতন্ত্র) 
  4. Liberalism (উদারতাবাদ) 
ব্যাখ্যা

- মার্ক্সবাদের ঐতিহাসিক বস্তুবাদ তত্ত্ব অনুযায়ী, সমাজের বিকাশ ঘটে উৎপাদন উপকরণ ও উৎপাদন সম্পর্কের পরিবর্তনের মাধ্যমে। মূল পর্যায়গুলো হলো:
প্রাচীন সমাজ (Primitive Communism) – সম্পদ সমানভাবে ভাগ হয়, কোনো শ্রেণি বৈষম্য নেই।
দাসপ্রথা সমাজ (Slave Society) – শোষক ও শোষিত শ্রেণি তৈরি হয়।
সামন্তবাদী সমাজ (Feudal Society) – জমিদার ও কৃষকের দ্বন্দ্ব।
পুঁজিবাদী সমাজ (Capitalism) – বুর্জোয়া ও প্রলেতারিয়েত শ্রেণির দ্বন্দ্ব।
সমাজতান্ত্রিক/কমিউনিস্ট সমাজ (Socialism/Communism) – শ্রেণিহীন সমাজের দিকে ধাবিত।
- উদারতাবাদ সমাজ মার্ক্সবাদের ধাপের মধ্যে নেই। উদারতাবাদ হলো রাজনৈতিক-নৈতিক দর্শন, যা ব্যক্তির স্বাধীনতা, আইন সমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র-এর উপর জোর দেয়। এটি সামাজিক বিকাশের ধাপ নয়, বরং রাজনৈতিক দর্শন ও নীতি।

সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম।

২৮.
What was the main objective of the Cultural Revolution? (সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?) 
  1. Industrial modernization (শিল্পের আধুনিকায়ন)
  2. To eliminate capitalism and traditional elements ( পুঁজিবাদ ও ঐতিহাসিক উপাদানসমূহ দূর করা )
  3. To establish democracy (গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা) 
  4. To expand China’s territory (চীনের সীমানা বৃদ্ধি) 
ব্যাখ্যা

- সাংস্কৃতিক বিপ্লব (Cultural Revolution, 1966–1976) শুরু করেছিলেন মাও সেতুং। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল—চীনের সমাজে বুর্জোয়া সংস্কৃতি, অভিজাত চিন্তা ও পুরনো প্রথার প্রভাব কমানো। প্রাচীন প্রথা, ঐতিহাসিক সংস্কৃতি ও পুরাতন শাসনব্যবস্থা ধ্বংস করা।
- সমাজে সমতা ও শ্রেণিহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্য। রেড গার্ডসদের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজে বিপ্লবী কার্যক্রম চালানো। - সুতরাং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল পুঁজিবাদ ও ঐতিহাসিক উপাদানসমূহ দূর করা এবং সমাজতান্ত্রিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।

সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম।

২৯.
The Cultural Revolution is considered part of Mao’s— (সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে মাও-এর কোন নীতির অংশ হিসেবে ধরা হয়?)
  1. Great Leap Forward (বৃহৎ লাফ)
  2. Struggle to maintain power and ideological control (শক্তি ও আদর্শগত নিয়ন্ত্রণের জন্য যুদ্ধ) 
  3. Policy of opening-up (উন্মুক্তকরণ নীতি) 
  4. Reform and modernization program ( সংস্কার ও আধুনিকায়ন কর্মসূচি)
ব্যাখ্যা

- সাংস্কৃতিক বিপ্লব (Cultural Revolution, 1966–1976) ছিল মাও সেতুং-এর একটি মূল নীতি, যা রাজনৈতিক ও আদর্শগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং পুঁজিবাদী ও বুর্জোয়া প্রভাব নির্মূল করা লক্ষ্য করেছিল। মাও সেতুং তাঁর নেতৃত্ব ধরে রাখার জন্য সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন চালিয়েছিলেন।  সমাজের সব স্তরে কমিউনিস্ট চিন্তাধারা প্রতিষ্ঠা। সমাজে প্রথাগত ও শোষক চিন্তার প্রভাব হ্রাস। রেড গার্ডসদের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প-সংস্কৃতিতে বিপ্লবী পরিবর্তন আনা।

- Policy of opening-up (উন্মুক্তকরণ নীতি) চীনে দেং শিয়াওপিং (Deng Xiaoping) দ্বারা ১৯৭৮ সালে চালু করা হয়।
 বিদেশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করা, সরকারি অর্থনীতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও বাণিজ্যকে উৎসাহ দেওয়া, 
 শিল্প, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উন্নয়ন। এটি চীনের অর্থনীতিকে বিশ্ববাজারের সাথে সংযুক্ত করে এবং দেশের সমৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

- Reform and modernization program ( সংস্কার ও আধুনিকায়ন কর্মসূচি) চীনের দেং শিয়াওপিং (Deng Xiaoping)-এর নেতৃত্বে ১৯৭৮ সালে শুরু করা হয়। মূল লক্ষ্য ছিল চীনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা। সরকারি খাতের alongside ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়া। কৃষি ও শিল্প খাতে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বাজারকেন্দ্রিক ব্যবস্থা চালু করা। নতুন প্রযুক্তি ও শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি। বিদেশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থনীতিকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করা।
এর মাধ্যমে চীনের অর্থনীতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে এবং দেশের সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।

- বৃহৎ লাফ (Great Leap Forward, ১৯৫৮–১৯৬২) চীনে মাও সেতুং-এর নেতৃত্বে চালু করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল চীনের অর্থনীতি ও শিল্পায়নকে দ্রুত উন্নত করা। ছোট কৃষি খামার একত্রিত করে বৃহৎ সমবায় কৃষি গঠন করা, গ্রামীণ এলাকায় ছোট-খাট লোহার ভাটা ও শিল্প কার্যক্রম চালু করা, চীনের শিল্প ও কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্রুত উন্নয়ন পরিকল্পনা।পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হয় এবং বড় ধরনের খাদ্য সংকট ও ক্ষয়ক্ষতি দেখা দেয়। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উৎপাদন কম ছিল, যার ফলে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ঘটে।

সূত্র: রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম ও ইন্টারনেট।

৩০.
Maoism stresses which type of revolutionary strategy? (মাওবাদ কোন ধরনের বিপ্লবী কৌশলের ওপর জোর দেয়?
  1. Peasant-based guerrilla war (গ্রামীণ কৃষক-ভিত্তিক গেরিলা যুদ্ধ)
  2. Urban insurrection (শহুরে অভ্যুত্থান)
  3. Parliamentary democracy (সংসদীয় গণতন্ত্র) 
  4. Economic liberalization (অর্থনৈতিক উদারতাবাদ) 
ব্যাখ্যা

- মাওবাদ হলো মাও সেতুং-এর বিপ্লবী দর্শন ও নীতি, যা চীনা গণতান্ত্রিক বিপ্লব ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য প্রয়োগ করা হয়েছিল। শহরের শ্রমিকের বদলে গ্রামীণ কৃষকরা বিপ্লবের অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। ছোট ও গতিশীল ইউনিট ব্যবহার করে বড় ও শক্তিশালী শত্রুকে দুর্বল করা। গ্রামীণ এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে শহরের দিকে এগোনো।মাওবাদে “প্রথম গ্রাম থেকে শহর” কৌশলটি ব্যবহার করা হয়। সুতরাং মাওবাদে বিপ্লব গ্রামীণ কৃষক ভিত্তিক গেরিলা যুদ্ধের ওপর নির্ভরশীল।

- Urban insurrection (শহুরে অভ্যুত্থান) এমন একটি বিপ্লবী বা রাজনৈতিক কৌশল, যেখানে শহরের জনগণ/শ্রমিক ও নাগরিকরা কেন্দ্রীভূত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। শহুরে অভ্যুত্থান সাধারণত: শ্রমিক ও ছাত্র আন্দোলন দ্বারা শুরু হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কেন্দ্র দখল করার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে। মার্ক্সবাদে ও লিনিনবাদের প্রেক্ষাপটে এটি শহর ভিত্তিক শ্রমিক বিপ্লবের কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়।

- সংসদীয় গণতন্ত্র হলো এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে সরকারের কার্যক্রম ও নীতি নির্ধারণে সংসদ বা আইনপ্রণেতার প্রধান ভূমিকা থাকে। আইন প্রণয়ন ও সরকারের তদারকি সংসদের মাধ্যমে হয়। সাধারণত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হয়।  নাগরিক ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। সরকার সংসদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে এবং সংসদ কর্তৃক কোন সময় অপসারণযোগ্য। উদাহরণ: যুক্তরাজ্য, ভারত, বাংলাদেশ ইত্যাদি দেশ।

- অর্থনৈতিক উদারতাবাদ হলো এমন একটি নীতি বা প্রক্রিয়া, যেখানে সরকার অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রণ হ্রাস করে, বাজার-ভিত্তিক ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগকে উৎসাহ দেয়। সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে বাজারের স্বাধীনতা বাড়ানো,বিদেশি পুঁজিকে দেশীয় অর্থনীতিতে আকৃষ্ট করা,ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও ব্যবসার বিকাশের জন্য নীতি তৈরি করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া। উদাহরণ: চীনের দেং শিয়াওপিং-এর উন্মুক্তকরণ নীতি, ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কার।

সূত্রঃ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

৩১.
Which of the following countries have Maoist movements today? (বর্তমানে কোন দেশে মাওবাদী আন্দোলন রয়েছে?
  1. India and Nepal
  2. USA and UK
  3. Germany and Japan
  4. Saudi Arabia and Qatar
ব্যাখ্যা

বর্তমানে যেসব দেশে মাওবাদী আন্দোলন বিদ্যমানঃ 
১. ভারত: ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মাওবাদী) বা নকশালপন্থীরা সবচেয়ে সক্রিয় মাওবাদী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এরা মূলত “লাল করিডোর” নামে পরিচিত এলাকাগুলোতে (ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ইত্যাদি) কার্যক্রম চালায়। এ আন্দোলন সরকারবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপ নিয়েছে এবং ভারতের অন্যতম বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে (২০২৫) ভারত সরকার কঠোর অভিযান চালিয়ে এদের শক্তি অনেকটা দুর্বল করে দিয়েছে। তবে এরা এখনও সক্রিয়।

২. ফিলিপাইনস: ফিলিপাইনে নিউ পিপলস আর্মি (NPA) নামের গেরিলা বাহিনী মাওবাদী আদর্শে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী কমিউনিস্ট বিদ্রোহগুলোর একটি (১৯৬৯ সাল থেকে সক্রিয়)।
গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলে এদের প্রভাব রয়েছে।

৩. নেপাল: নেপালে মাওবাদী বিদ্রোহ (১৯৯৬–২০০৬) ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে ২০০৬ সালের পর মাওবাদীরা শান্তি প্রক্রিয়ায় যোগ দিয়ে মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করে। বর্তমানে তারা সরাসরি সশস্ত্র আন্দোলন চালায় না, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী।

৪. পেরু: পেরুতে শাইনিং পাথ (Sendero Luminoso) নামের মাওবাদী সংগঠন এখনো বিদ্যমান।মূল সংগঠন দুর্বল হয়ে গেলেও কিছু ভগ্নাংশ (যেমন MPCP) এখনও গ্রামীণ অঞ্চলে সশস্ত্র কার্যক্রম চালায়।

৫. তুরস্ক: তুরস্কে কিছু ক্ষুদ্র মাওবাদী দল (যেমন TKP/ML, TİKKO) এখনও কার্যক্রম চালায়। এদের আন্দোলন ক্ষুদ্র আকারে হলেও বিদ্যমান।

৬. ইরান: ইরানে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইরান (মার্কসবাদী–লেনিনবাদী–মাওবাদী) নামের একটি সংগঠন রয়েছে। তারা মূলত রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, সশস্ত্র লড়াই নয়।

৩২.
New Democracy was mainly designed for—
  1. Industrialized capitalist countries
  2. Backward, semi-colonial, semi-feudal countries
  3. Developed socialist states
  4. Western democracies
ব্যাখ্যা

- New Democracy তত্ত্বটি মাও সে তুং (Mao Zedong) প্রণয়ন করেন।এর লক্ষ্য ছিল সেইসব দেশকে মুক্ত করা যেগুলো সরাসরি পুঁজিবাদী নয়, আবার সমাজতন্ত্রে পৌঁছায়নি, বরং ঔপনিবেশিক শাসন ও সামন্ততান্ত্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে বন্দী ছিল।মাওবাদী দৃষ্টিতে, এ ধরনের দেশগুলোতে সরাসরি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সম্ভব নয়; আগে দরকার একটি মধ্যবর্তী ধাপ – যাকে বলা হয় New Democratic Revolution।
- মাও বিশ্বাস করতেন, চীনকে সমাজতন্ত্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে অন্যান্য বিপ্লবী শ্রেণি যেমন কৃষক, বুদ্ধিজীবী ও ছোট বুর্জোয়াদের একটি জোট গঠন করতে হবে। এই জোট একটি যৌথ একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করবে, যা পুঁজিবাদী শাসনের অবসান ঘটাবে।
- নয়া গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্য ছিল সাম্রাজ্যবাদ ও সামন্ততন্ত্রের অবসান ঘটানো। মাও মনে করতেন, চীনকে বিদেশি শক্তির শোষণ থেকে মুক্ত করতে এবং অভ্যন্তরীণভাবে সামন্ততান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দিতে হবে।
- নয়া গণতন্ত্রের অধীনে, একটি নতুন ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যেখানে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার থাকবে, তবে তা শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। এই রাষ্ট্র পুঁজিবাদী শোষণমুক্ত একটি সমাজ গঠনের দিকে এগিয়ে যাবে।
নয়া গণতন্ত্রকে বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের একটি অংশ হিসেবেও দেখা হতো। মাও মনে করতেন, চীনের এই বিপ্লব অন্যান্য দেশেও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে।
- নেতৃত্বে থাকবে শ্রমিক শ্রেণি (working class),কৃষক, ক্ষুদ্র পুঁজিপতি ও জাতীয় পুঁজিপতিদের নিয়ে হবে ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট,সামন্তবাদ ও ঔপনিবেশিকতার অবসান ঘটানো হবে,পরবর্তী ধাপে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি হবে।
- উদাহরণ: চীনে ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পেছনে New Democracy তত্ত্ব বড় ভূমিকা রেখেছিল।

সূত্র: আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

৩৩.
According to Mao, contradiction is—(মাও সেতুং-এর মতে, বৈপরীত্যই -) 
  1. A temporary phenomenon (একটি সাময়িক ঘটনা / সাময়িক প্রপঞ্চ)
  2. The essence of all things and processes (সকল বস্তুর ও প্রক্রিয়ার মূল সত্তা)
  3. Only present in politics (শুধুমাত্র রাজনীতিতে বিদ্যমান) 
  4. Absent in socialism (সমাজতন্ত্রে অনুপস্থিত) 
ব্যাখ্যা

- According to Mao, contradiction is the essence of all things and processes. (মাও সেতুং-এর মতে, বৈপরীত্যই হলো সকল বস্তুর ও প্রক্রিয়ার মূল সত্তা।) মাও সেতুং তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ “On Contradiction” (১৯৩৭)-এ বৈপরীত্য (Contradiction) সম্পর্কে তত্ত্ব দেন। তাঁর মতে, প্রত্যেক বস্তু, ঘটনা ও প্রক্রিয়ার ভেতরেই দ্বন্দ্ব বা বৈপরীত্য বিদ্যমান। এই বৈপরীত্যই পরিবর্তন, বিকাশ ও অগ্রগতির চালিকাশক্তি। অর্থাৎ, দ্বন্দ্ব ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।
 - সব কিছুতেই বৈপরীত্য আছে। যেমন – সমাজে ধনী-দরিদ্র, সামন্তবাদ-পুঁজিবাদ, উৎপাদনশক্তি-উৎপাদন সম্পর্ক।
প্রতিটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতির বৈপরীত্য আলাদা। যেমন – উপনিবেশিক সমাজে প্রধান বৈপরীত্য হলো জাতীয় স্বাধীনতার লড়াই।
যে বৈপরীত্য কোনো সময়ের মূল সমস্যাকে নির্দেশ করে, সেটি প্রধান (Principal contradiction)। অন্যগুলো গৌণ (Secondary contradictions)। বৈপরীত্যের সংগ্রামই পরিবর্তনের চালিকা শক্তি।
 - উদাহরণ: চীনের বিপ্লবের সময়ে মাও দেখিয়েছিলেন যে চীনের প্রধান বৈপরীত্য হলো  জনগণ বনাম সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ। এ দ্বন্দ্বের সমাধানেই গণবিপ্লব সংঘটিত হয়।
 - মাওয়ের মতে, বৈপরীত্য (Contradiction) হলো প্রকৃতি, সমাজ ও চিন্তার মধ্যে পরিবর্তন ও বিকাশের মূল উৎস।

সূত্র: আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

৩৪.
Which of the following best describes General Will? ( সর্বোত্তমভাবে সাধারণ ইচ্ছা বলতে কী বোঝায়?)
  1. The sum of all private interests (সকল ব্যক্তিগত স্বার্থের সমষ্টি)
  2. The will of the strongest group (প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ইচ্ছা) 
  3. The will that aims at the common interest of society যে ইচ্ছার লক্ষ্য সমাজের সামষ্টিক বা সাধারণ কল্যাণ) 
  4. The will of the majority faction only (শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠীর ইচ্ছা)
ব্যাখ্যা

- রুশোর মতে, রাষ্ট্রীয় সংগঠন একটি নৈতিক সংস্থা। এর নিজস্ব একটি ইচ্ছা আছে, যে ইচ্ছা কোনো ব্যক্তির বা অংশবিশেষের নয়। অথচ ব্যক্তির ইচ্ছা এ গণইচ্ছার মধ্যে প্রতিফলিত হয়। এটি কল্যাণকর ও সবার স্বার্থ সংরক্ষণকারী ইচ্ছা। এ ইচ্ছা হলো জনগণের ইচ্ছা। গণইচ্ছা আইনের উৎস। 
- রুশো মনে করেন, সবার সমষ্টিগত ইচ্ছা সাধারণ ইচ্ছা নয়। কারণ তিনি বলেন, সমষ্টিগত ইচ্ছার মধ্যে জনকল্যাণ নাও থাকতে পারে। এজন্য তিনি কল্যাণ-অকল্যাণের প্রশ্নে সাধারণ ইচ্ছাকে দু’ভাগে ভাগ করেছেন। যথা: ১. সাধারণ ইচ্ছা এবং ২. সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছা। একজন ব্যক্তির ইচ্ছা যদি সর্বজনের স্বার্থ ও কল্যাণের সাথে সংগতিপূর্ণ হয় তাহলে সেটি সাধারণ ইচ্ছা হতে পারে। 
- তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে দুপ্রকার ইচ্ছা ক্রিয়াশীল। একটি হলো যথার্থ ইচ্ছা (Actual Will) এবং অপরটি প্রকৃত ইচ্ছা (Real Will)।রুশোর মতে, ব্যক্তির আত্মকেন্দ্রিক ইচ্ছা হলো যথার্থ ইচ্ছা (Actual Will)। এ ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যক্তি কেবল নিজের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে। এতে সমাজের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল মোটেই বিবেচিত হয় না।

সূত্র: রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম।

৩৫.
The “Will of All” represents—( সকলের ইচ্ছা নির্দেশ করে-)
  1. Shared interest of society (সমাজের সম্মিলিত স্বার্থ)
  2. The sum of private/self-interests of individuals (প্রত্যকের ব্যক্তিগত ইচ্ছার সমষ্টি)  
  3. The law of the state (রাষ্ট্রের আইন) 
  4. The decision of parliament (সংসদের সিদ্ধান্ত) 
ব্যাখ্যা

- সকলের ইচ্ছা" বলতে সাধারণত একটি সমষ্টিগত আকাঙ্ক্ষা বা ব্যক্তিগত ইচ্ছার যোগফলকে বোঝায় যা সমাজের সামগ্রিক কল্যাণকর ইচ্ছার চেয়ে আলাদা। এটি রুশোর রাজনৈতিক দর্শনে ব্যবহৃত একটি ধারণা, যেখানে 'সকলের ইচ্ছা' বা ব্যক্তিগত ইচ্ছা (will of all) হলো বিভিন্ন ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার সমষ্টি। 
- সকলের ইচ্ছা গোষ্ঠীর স্বার্থের পরিবর্তে সংকীর্ণ ব্যক্তিস্বার্থকেই বড় করে। তাই এটি কিছুটা অভিজাততন্ত্রের সহায়ক।
ন্যায়-অন্যায়ের প্রশ্নে সকলের ইচ্ছা ন্যায়-অন্যায়ের প্রশ্নে জর্জরিত। কারণ এটি ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থে জড়িত। 
- সকলের ইচ্ছা ব্যক্তিগত স্বার্থরক্ষায় নিমজ্জিত থাকেবলে উন্নততর আদর্শে উজ্জীবিত হতে পারে না।

সূত্র: রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম।

৩৬.
Which of the following could be an example of General Will? (নিচের কোনটি সাধারণ ইচ্ছার উদাহরণ হতে পারে)
  1. Passing a law for universal education (সর্বজনীন শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আইন প্রণয়ন)
  2. Landlords protecting their property interests(জমিদাররা তাদের সম্পত্তি স্বার্থ রক্ষা করা)
  3. Business elites lobbying for tax cuts (ব্যবসায়ী অভিজাতরা কর হ্রাসের জন্য প্রভাব বিস্তার করছে)
  4. A king imposing his will on subjects ( একজন রাজা তার প্রজাদের ওপর নিজের ইচ্ছা চাপানো)
ব্যাখ্যা

- Passing a law for universal education (সর্বজনীন শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আইন প্রণয়ন) সমাজের বৃহত্তর কল্যাণের জন্য করা সিদ্ধান্ত, শুধুমাত্র কিছু ব্যক্তির স্বার্থ নয়। রুশোর তত্ত্ব অনুযায়ী, General Will সর্বদা সমাজের সম্মিলিত মঙ্গল নির্দেশ করে।অন্যদিকে, যদি কোনো আইন শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে, সেটা হবে Will of All, কিন্তু General Will নয়।

- Landlords protecting their property interests(জমিদাররা তাদের সম্পত্তি স্বার্থ রক্ষা করা) ব্যক্তিগত স্বার্থের উদাহরণ, যা সমাজের সর্বজনীন কল্যাণ নির্দেশ করে না। রুশোর ভাষায়, এটি Will of All বা ব্যক্তিগত/গোষ্ঠী স্বার্থের অংশ হতে পারে, কিন্তু General Will নয়। যদি শুধু জমিদাররা তাদের কর কমানোর জন্য আইন চায়, তা সমাজের সার্বিক মঙ্গলের জন্য নয়।

- Business elites lobbying for tax cuts (ব্যবসায়ী অভিজাতরা কর হ্রাসের জন্য প্রভাব বিস্তার করছে) ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠী স্বার্থের উদাহরণ, যা সমাজের সর্বজনীন কল্যাণের দিকে নির্দেশ করে না।রুশোর তত্ত্ব অনুযায়ী, এটি Will of All বা বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থের অংশ হতে পারে, কিন্তু General Will নয়। কারণ, কর হ্রাস শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের উপকার করে, সাধারণ জনগণের নয়।

- একজন রাজা তার প্রজাদের ওপর নিজের ইচ্ছা চাপানো ব্যক্তিগত বা একপক্ষের স্বার্থের উদাহরণ, যা সমাজের সর্বজনীন কল্যাণ নির্দেশ করে না। রুশোর ভাষায়, এটি Will of All নয়, বরং একনায়ক শাসনের উদাহরণ। General Will মানে হলো সমাজের সার্বিক মঙ্গল এবং নৈতিক যৌক্তিক সিদ্ধান্ত, কিন্তু এখানে শুধুমাত্র রাজার ব্যক্তিগত ইচ্ছা প্রযোজ্য।

সূত্র: ইন্টারনেট।

৩৭.
According to Rousseau, sovereignty resides in— (রুশোর মতে সার্বভৌমত্ব কোথায় থাকে?) 
  1. The monarch (রাজার নিকট)
  2. The parliament (সংসদের নিকট)
  3. The people collectively (যোথভাবে জনগণের নিকট)
  4. The judiciary (বিচার বিভাগের নিকট)
ব্যাখ্যা

- রুশোর মতে, সার্বভৌমত্ব মানুষের মধ্যে, বিশেষত জনগণের মধ্যে বসবাস করে। অর্থাৎ, রাজা বা কোনও ব্যক্তির নয়, জনগণই সার্বভৌমত্বের অধিকারী।
- জনগণের স্বার্থ এবংসাধারণ ইচ্ছাই রাষ্ট্রের মূল নীতি ও শক্তির উৎস।Øরুশো মনে করেন, মানুষ চুক্তির মাধ্যমে প্রত্যেকের ক্ষমতা সমষ্টিগত ইচ্ছার ওপর সমর্পণ করেছে। আর এ সমষ্টিগত বা সাধারণ ইচ্ছাই সার্বভৌম। 
- তাই রুশোর সার্বভৌমত্ব সাধারণ ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত। কারণ সাধারণ ইচ্ছা কল্যাণকামী এবং এটি জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতি ইঙ্গিত দান করে।রুশোর সার্বভৌমত্বের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি চরম, অবিভাজ্য, অপ্রতিহত, অহস্তান্তরযোগ্য, নিরঙ্কুশ, স্থায়ী ও অসীম ক্ষমতা। 
- তবে তিনি সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে টমাস হবস (Thomas Hobbes)-এর বিপরীত ধারণা ব্যক্ত করেছেন। অর্থাৎ হবস যেখানে চরম রাজতন্ত্রকে সমর্থন করে রাজার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এক ব্যক্তি বা সংস্থার হাতে এ ক্ষমতা ন্যস্ত করেছেন, রুশো সেখানে সাধারণ ইচ্ছা তথা জনসাধারণের ওপর ন্যস্ত করেছেন। অর্থাৎ জনসাধারণই সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।

সূত্র: রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম।

৩৮.
Montesquieu emphasized that despotism arises when— (মন্টেস্কু জোর দিয়েছেন যে একনায়কতন্ত্র তখন জন্মায় যখন—)
  1. Laws are written (আইন লিখিত থাকে)
  2. One person or body controls all powers (একজন ব্যক্তি সকল ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে)
  3. People have freedom (জনগণের স্বাধীনতা থাকে)
  4. Government is representative (সরকার প্রতিনিধিত্বমূলক হয়) 
ব্যাখ্যা

- মন্টেস্কুর মতে, একনায়কতন্ত্র বা অত্যাচার তখনই জন্মায় যখন শাসন এবং আইন প্রণয়নের ক্ষমতা এক হাতে কেন্দ্রীভূত হয়।
অর্থাৎ, শাসক সব শক্তি নিয়ন্ত্রণ করলে এবং ক্ষমতার মধ্যে কোনও ভারসাম্য না থাকলে জনগণ দমনমূখী শাসনের মুখোমুখি হয়।
- তিনি ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ গুরুত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন, যাতে আইন প্রণয়ন, বিচার ও প্রশাসনের ক্ষমতা আলাদা থাকে।মানুষের আনুগত্য যখন কোন ব্যক্তিবিশেষ বা ব্যক্তিসংস্থার প্রতি প্রদর্শিত না হয়ে আইনের প্রতি প্রদর্শিত হয় তখন স্বাধীনতার উদ্ভব ঘটে। 
- মন্টেস্কুর মতে, মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য ক্ষমতাকে বিভাজন করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, শাসনক্ষমতাকে এমনভাবে বিন্যস্ত করতে হবে যাতে সকল ক্ষমতা একই ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত না থাকে এবং যাতে একজনের ক্ষমতা দ্বারা অন্যজনের ক্ষমতাকে সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত করতে পারে।
- আইন বিভাগ আইন তৈরি করে, শাসন বিভাগ আইন অনুযায়ী শাসন করে এবং বিচার বিভাগ আইন লঙ্ঘনকারীর বিচার করে শাস্তি প্রদান করে। তবে সরকারের এই তিন ধরনের ক্ষমতা কোন এক বিভাগের হাতে থাকা ঠিক নয়। তাতে সরকার স্বেচ্ছাচারী হতে পারে।

সূত্র: পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা – রাখী বর্মন।

৩৯.
Montesquieu’s idea of political liberty depends on—(মন্টেস্কুর রাজনৈতিক স্বাধীনতার ধারণা নির্ভর করে—)
  1. Fear of rulers (শাসকের ভয়) 
  2. Proper balance between powers (শক্তির উপযুক্ত ভারসাম্য) 
  3. Economic prosperity alone (শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নতি) 
  4. Religion only (শুধু ধর্ম) 
ব্যাখ্যা

- মন্টেস্কুর মতে, রাজনৈতিক স্বাধীনতা বজায় রাখার জন্য ক্ষমতার বিভাজন অপরিহার্য। তিনি বিশ্বাস করতেন, যদি বিচার, আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনের ক্ষমতা এক হাতে থাকে, তাহলে জনগণের স্বাধীনতা হুমকিতে পড়ে। তাই শক্তি ভাগ করা  রাজনৈতিক স্বাধীনতার ভিত্তি।
- মন্টেস্কুর মতে, মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য ক্ষমতাকে বিভাজন করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, শাসনক্ষমতাকে এমনভাবে বিন্যস্ত করতে হবে যাতে সকল ক্ষমতা একই ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত না থাকে এবং যাতে একজনের ক্ষমতা দ্বারা অন্যজনের ক্ষমতাকে সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত করতে পারে। মন্টেস্কুর স্বাধীনতা সম্পর্কিত চিন্তা দুই প্রকার স্বাধীনতার কথা বলে। সেগুলো হচ্ছে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বা Political Liberty এবং নাগরিক স্বাধীনতা বা Civil Liberty)।
- রাজনৈতিক স্বাধীনতাঃ  মানুষের আইন অনুসারে যা করার অধিকার আছে এবং নিরাপত্তার সাথে যদি তা করতে পারে তাহলেই তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে অভিহিত করা যায়। তাঁর মতে রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্ম সংবিধান থেকে। রাষ্ট্র ও মানুষের সম্পর্কের নিরিখে জন্ম হয় রাজনৈতিক স্বাধীনতার। এ স্বাধীনতা স্বৈরশাসনের বিপরীতে অবস্থান করে।
- নাগরিক স্বাধীনতাঃ  নাগরিক স্বাধীনতা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। ব্যক্তি বা নাগরিক স্বাধীনতার জন্য সংবিধানের তেমন প্রয়োজন নেই বলে মন্টেস্কু মনে করেন। ব্যক্তির আচার-আচরণ ইত্যাদির উপর নাগরিক স্বাধীনতা নির্ভর করে।

সূত্র: রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম।

৪০.
Montesquieu influenced which modern political system most directly? (মন্টেস্কু কোন আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সবচেয়ে সরাসরি প্রভাবিত করেছেন?)
  1. American Constitution (আমেরিকার সংবিধান)
  2. Chinese socialism (চীনের সমাজতন্ত্র)
  3. French monarchy (ফরাসি রাজতন্ত্র) 
  4. British parliamentary system only (শুধু ব্রিটিশ সংসদীয় ব্যবস্থা) 
ব্যাখ্যা

- ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু বলেছিলেন, যদি শাসন, আইন প্রণয়ন ও বিচার ক্ষমতা এক হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে জনগণের স্বাধীনতা হুমকিতে পড়ে। তাই স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ক্ষমতা ভাগ করা আবশ্যক।
- ইউরোপে বিশেষ করে ফ্রান্সে একনায়ক শাসনের কারণে জনগণ দমনমূখী শাসনের শিকার হয়েছে। আমেরিকান উপনিবেশগুলোও ব্রিটিশ রাজা ও পার্লামেন্টের অত্যাচারের অভিজ্ঞতা পেয়েছিল। স্বাধীন উপনিবেশগুলো স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। তাই তারা শাসনকে বিভিন্ন শাখায় ভাগ করে প্রতিটি শাখার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করার ব্যবস্থা নেয়।
- মন্টেস্কু আমেরিকার সংবিধানকে সবচেয়ে সরাসরি প্রভাবিত করেছেন, চীনের সমাজতন্ত্র  মার্কসবাদ , লেনিনবাদ , মাওবাদ দ্বারা প্রভাবিত।

সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম

৪১.
According to Montesquieu, the best form of government depends on— (মন্টেস্কুর মতে, সরকারের সেরা ধরন নির্ভর করে—)
  1. Climate, customs, and geography (জলবায়ু, প্রথা এবং ভূগোল) 
  2. Religion only(শুধু ধর্ম)
  3. Economic system only (শুধু অর্থনৈতিক অবস্থা)
  4. Military power only ( শুধু সামরিক শক্তি) 
ব্যাখ্যা

- মন্টেস্কু বিশ্বাস করতেন, দেশের জলবায়ু, মানুষের সামাজিক আচরণ ও ভৌগোলিক পরিবেশ সরকারের কার্যকারিতা ও ধরন প্রভাবিত করে। ঠান্ডা অঞ্চলে শক্তিশালী শাসন ও কঠোর আইন প্রয়োজন হতে পারে। গরম অঞ্চলে ভিন্ন রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বা নীতি কার্যকর। তিনি একে “প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ অনুযায়ী সরকার” ধারণা হিসেবে দেখেছেন।
- মন্টেস্কু আইনের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখা দিয়েছেন। সমাজের সর্বত্র আইন এক নয়। এই বিভিন্নতাই আইনের বৈচিত্র্যের অন্যতম কারণ। জলবায়ু, ভূ-প্রকৃতি, জনগণের পেশা, সরকারের প্রকারভেদ ইত্যাদি আইনের চরিত্র নির্ধারণে সাহায্য করে। মন্টেস্কুর মতে, এ সকল বস্তুবাদী পরিবেশ আইনের মূলনীতি (ইংরেজি: Spirit of Law) স্থির করে। একেই আইনের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখা নামে অভিহিত করা হয়।

সূত্র: আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন।

৪২.
Montesquieu is a- (মন্টেস্কু একজন-)
  1. A French philosopher  (ফরাসি দার্শনিক)
  2. An English economist (ইংরেজি অর্থনীতিবিদ)
  3. An Italian revolutionary (একজন ইতালীয় বিপ্লবী)
  4. A German sociologist (জার্মান সমাজবিজ্ঞানী) 
ব্যাখ্যা

মন্টেস্কু ছিলেন একজন ফরাসি বিচারক, ইতিহাসবিদ, এবং রাজনৈতিক দার্শনিক। তিনি মূলত তাঁর ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ  তত্ত্ব এবং "আইনের আত্মা" (The Spirit of the Laws) নামক প্রভাবশালী গ্রন্থের জন্য পরিচিত। এই গ্রন্থে তিনি সরকারব্যবস্থার বিভিন্ন রূপ, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং সীমিত সরকারের ধারণা নিয়ে আলোচনা করেন, যা পরবর্তীকালে মার্কিন সংবিধান প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

পূর্ণ নাম: চার্লস লুই ডি সেকেন্ড্যাট, ব্যারন দে লা ব্রেড এট দে মন্টেস্কিউ (Charles-Louis de Secondat, Baron de La Brède et de Montesquieu)। 

প্রভাবশালী তত্ত্ব:
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিটি তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত অবদান, যা সরকারের বিভিন্ন শাখার (আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ) মধ্যে ক্ষমতা ভাগ করে দেওয়ার কথা বলে, যাতে কোনো একক শাখা অতিরিক্ত শক্তিশালী হতে না পারে। 

প্রভাবিত রাষ্ট্র:
তাঁর কাজ ব্রিটিশ সংবিধান দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল, যেখানে তিনি নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রের প্রতি অনুরাগ দেখিয়েছিলেন এবং ফ্রান্সের স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের সমালোচনা করেন। 

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
পার্সিয়ান লেটার্স (The Persian Letters): এই গ্রন্থে তিনি ফ্রান্সের সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে সমালোচনা করেন। 
আইনের আত্মা (The Spirit of the Laws): এই গ্রন্থে তিনি সরকার ব্যবস্থা, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ এবং জলবায়ুর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। 

৪৩.
Montesquieu’s most famous work is— (মন্টেস্কুর বিখ্যাত কাজ হচ্ছে-) 
  1. The Spirit of the Laws
  2. Leviathan
  3. Two Treatises of Government
  4. The Social Contract
ব্যাখ্যা

মন্টেস্কুর The Spirit of the Laws প্রকাশিত হয় ১৭৪৮ সালে। The Spirit of the Laws বা আইনের আত্মা হলো ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কিউ রচিত একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক গ্রন্থ। এটি আইন ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে একটি তুলনামূলক আলোচনা, যেখানে ক্ষমতার পৃথকীকরণের ধারণাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই গ্রন্থটি সরকারের আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগের মধ্যে পৃথকীকরণের প্রস্তাব করে, যা আধুনিক গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। ফরাসি বিপ্লবসহ পরবর্তীকালে অনেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় এই গ্রন্থটি গভীর প্রভাব ফেলেছিল।  মন্টেস্কু বিভিন্ন দেশের শাসনব্যবস্থা ও আইন নিয়ে গবেষণা করে দেখিয়েছেন কীভাবে সরকার ও সমাজের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি সরকারের তিনটি শাখার (আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ) মধ্যে ক্ষমতা বিভাজন করার কথা বলেছেন, যাতে কোনো একটি শাখার হাতে সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত না হয়।  লেভিয়াথান (Leviathan) হলো ইংরেজ দার্শনিক থমাস হবস (Thomas Hobbes) রচিত একটি বিখ্যাত রাজনৈতিক দর্শনের গ্রন্থ যা প্রকাশিত হয় ১৬৫১ সামে। এ গ্রন্থের  প্রধান বিষয়: রাষ্ট্র, সার্বভৌমত্ব, সামাজিক চুক্তি (Social Contract)। Hobbes বলেন, প্রাকৃতিক অবস্থায় মানুষ স্বার্থপর, ভীতিপ্রবণ ও প্রতিযোগিতামূলক। সেখানে জীবন ছিল: “solitary, poor, nasty, brutish and short” অর্থাৎ — একা, দরিদ্র, নোংরা, হিংস্র এবং সংক্ষিপ্ত। মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন করে। রাষ্ট্রকে তিনি এক বিশাল দানব (Leviathan)-এর সাথে তুলনা করেছেন, যার শরীর গঠিত জনগণ দ্বারা। রাষ্ট্র বা শাসক (Sovereign)-এর কাছে পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা (Absolute Power) থাকবে, যাতে সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে। জনগণ একবার ক্ষমতা শাসকের হাতে তুলে দিলে আর তা ফিরিয়ে নিতে পারবে না। কারণ, সার্বভৌমত্বের উদ্দেশ্য হলো অরাজকতা (anarchy) প্রতিরোধ করা।

Two Treatises of Government হলো ইংরেজ দার্শনিক জন লক (John Locke)-এর লেখা একটি বিখ্যাত রাজনৈতিক গ্রন্থ যা  ১৬৮৯ গোপনে প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থের প্রধান বিষয়: রাষ্ট্র, সরকার, সার্বভৌমত্ব, প্রাকৃতিক অধিকার ও সামাজিক চুক্তি। দুটি ট্রিটিসের (Treatises) সারসংক্ষেপ- প্রথম ট্রিটিস (First Treatise): লক এখানে রাজাদের ঈশ্বরপ্রদত্ত অধিকার (Divine Right of Kings) তত্ত্ব খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেছিলেন, শাসন ক্ষমতা ঈশ্বর প্রদত্ত নয়, বরং মানুষের সম্মতিতে আসে। দ্বিতীয় ট্রিটিস (Second Treatise): প্রকৃতির অবস্থায় মানুষ স্বাধীন ও সমান। সবার প্রাকৃতিক অধিকার আছে— জীবন, স্বাধীনতা, ও সম্পত্তি (Life, Liberty, Property)। মানুষ তাদের প্রাকৃতিক অধিকার রক্ষার জন্য পারস্পরিক সম্মতিতে সরকার গঠন করে। সরকারের ক্ষমতা সীমিত থাকবে এবং এটি জনগণের সম্মতি থেকে আসবে। যদি সরকার জনগণের অধিকার রক্ষা না করে, জনগণের অধিকার আছে সরকারকে অপসারণ করার। লকের Two Treatises of Government আধুনিক উদার গণতন্ত্র (Liberal Democracy)-এর ভিত্তি। এটি আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণা (1776) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

The Social Contract(1762) ” হলো ফরাসি দার্শনিক জ্যঁ-জাক রুশো (Jean-Jacques Rousseau) রচিত একটি বিখ্যাত রাজনৈতিক দর্শনের গ্রন্থ। এ গ্রন্থের প্রধান বিষয়: রাষ্ট্র, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, সাধারণ ইচ্ছা (General Will)। প্রাকৃতিক অবস্থায় মানুষ ছিল শান্তিপ্রিয়, নির্দোষ ও স্বাধীন। সমাজ ও সম্পত্তির আবির্ভাবের পর অসমতা ও দমন শুরু হয়। মানুষ পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন করে। তবে Hobbes-এর মতো Absolute Sovereign নয়, বরং জনগণের সমষ্টিগত ইচ্ছা থেকে সার্বভৌমত্ব আসবে। সার্বভৌমত্ব জনগণের হাতে থাকবে এবং এটি অবিভাজ্য ও হস্তান্তরযোগ্য নয়। জনগণের General Will (সাধারণ ইচ্ছা)-ই হবে আইনের ভিত্তি। Rousseau-র The Social Contract ফরাসি বিপ্লব (1789)-এ গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তার ধারণা আধুনিক গণতন্ত্র ও জনপ্রভুত্ব (Popular Sovereignty)-এর ভিত্তি গড়ে তোলে।

সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম

৪৪.
Rousseau’s Social Contract aims to— (রুশোর সামাজিক চুক্তির উদ্দেশ্য-)
  1. Protect private property only (ব্যক্তিগত সম্পত্তি রক্ষা করে মাত্র) 
  2. Achieve collective freedom and equality (সমষ্টিগত স্বাধীনতা ও সমতা অর্জন)
  3. Strengthen monarchy (রাজতন্ত্র শক্তিশালী করে) 
  4. Maintain social hierarchy (সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস বজায় রাখা) 
ব্যাখ্যা

- রুশো বিশ্বাস করতেন যে রাষ্ট্র গঠনের আসল উদ্দেশ্য হলো জনগণের General Will অনুযায়ী এমন আইন তৈরি করা, যা সবার স্বাধীনতা ও সমতা নিশ্চিত করে। তাই তার সামাজিক চুক্তি জনগণের সার্বভৌমত্ব, সাধারণ ইচ্ছা, স্বাধীনতা ও সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য।
- রুশো হবসের মতো প্রকৃতির রাজ্যের ভয়াবহ কিংবা মনুষ্যপ্রকৃতির খারাপ দিকের চিত্রায়ণ করেননি। রুশোর মতে,প্রকৃতির রাজ্য ছিল পৃথিবীর স্বর্গ, মানুষ ছিল পরম সুখী ও আনন্দোচ্ছ্বল। মানুষের জীবন ছিল সৎ, স্বাভাবিক, সুন্দর ও সহজসরল। 
- প্রকৃতির রাজ্যের এ অনাবিল আনন্দময় পরিবেশ ছিল ক্ষণস্থায়ী। কালক্রমে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং মানুষের যুক্তিবাদী চিন্তার উৎকর্ষের ফলে প্রকৃতির রাজ্যে বিভিন্ন সমস্যা দানাবেঁধে ওঠে। 
- মানুষ নিজের সম্পত্তি বৃদ্ধি ও সংরক্ষণে অন্যের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ফলে প্রকৃতির রাজ্য বিশৃঙ্খল ও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং মানুষের সুখশান্তি, সাম্য-স্বাধীনতা বিনষ্ট হয়; মানুষ নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করে। 
- এহেন অবস্থা থেকে নিষ্কৃতির জন্য মানুষ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন করে। অর্থাৎ মানুষ তাদের প্রত্যেকের ক্ষমতা ব্যক্তিগত ও স্বতন্ত্রভাবে চর্চার পরিবর্তে সমষ্টিগতভাবে চর্চার চুক্তি করে। এখানে সমষ্টিগত ইচ্ছাই সার্বভৌম ইচ্ছা এবং রাষ্ট্রই এ ইচ্ছার রক্ষক।

সূত্র: রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম।

৪৫.
Rousseau’s statement “Man is born free, and everywhere he is in chains” refers to—
(“মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন, অথচ সর্বত্র সে শৃঙ্খলে আবদ্ধ” রুশোর উক্তি বোঝায়- )
  1. The natural freedom of humans and social constraints imposed by society (মানুষের প্রাকৃতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক বাঁধা সমাজ কর্তৃক তৈরি) 
  2. The need for monarchy to control humans (রাজতন্ত্রের জন্য মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন)
  3.  humans are naturally obedient to kings ( মানুষ প্রকৃতিগতভাবে রাজার আদেশ মানতে বাধ্য)
  4. The economic dependence of peasants on landlords (জমিদারের উপর কৃষকের অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা) 
ব্যাখ্যা

- Rousseau বলেছিলেন মানুষ প্রকৃতির অবস্থায় ছিল স্বাধীন ও সমান। কিন্তু সমাজ, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও প্রতিষ্ঠান তৈরি হওয়ার পর অসাম্য, শোষণ ও দমন শুরু হয়। তাই তার Social Contract-এর লক্ষ্য ছিল মানুষকে General Will-এর অধীনে নতুনভাবে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও সমষ্টিগত সমতা ফিরিয়ে দেওয়া।
- মানুষের জন্মগত স্বাধীনতা, যেখানে সে প্রকৃতির নিয়মে নিজের ইচ্ছামতো বাঁচতে পারে। ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও আইন ছিল না, তাই সবাই সমান ছিল।
- সমাজ, প্রতিষ্ঠান, আইন এবং বিশেষ করে ব্যক্তিগত সম্পত্তি সৃষ্টি হওয়ার ফলে অসাম্য ও দমন তৈরি হয়। এতে মানুষ শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে যায়— কারও হাতে ক্ষমতা জমা হয়, আর অন্যরা বঞ্চিত হয়।

সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা – রাখী বর্মন

৪৬.
According to Hobbes, why do humans enter into a social contract? (হবস-এর মতে মানুষ কেন সামাজিক চুক্তিতে প্রবেশ করে?) 
  1. To gain economic wealth only (শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সম্পদ অর্জনের)
  2. To escape the chaos of the state of nature and ensure security (প্রকৃতির রাজ্যের বিশৃঙ্খলা  থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য) 
  3. To preserve divine authority (ঐশ্বরিক কর্তৃত্ব রক্ষা) 
  4. To protect aristocracy (অভিজাততন্ত্র রক্ষা) 
ব্যাখ্যা

- সরকার বা সমাজের পূর্বে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বাস করত। এই রাজ্যে, প্রত্যেকেরই সবকিছু করার স্বাধীনতা ছিল, কিন্তু সেখানে কোনো নিয়ম-কানুন বা ন্যায়বিচার ছিল না। এই কারণে জীবন ছিল "একা, দরিদ্র, কুৎসিত, পাশবিক এবং সংক্ষিপ্ত"। 
- মানুষ নিজেদের মধ্যে একটি চুক্তি করে একটি সরকার গঠন করে। এই চুক্তির মাধ্যমে তারা তাদের কিছু স্বাধীনতা সরকারের কাছে হস্তান্তর করে, যাতে সরকার তাদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। 
- সরকার জনগণের উপর সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে যাতে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে। 
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি মানুষের প্রয়োজনে হয়েছে। মানুষ যখন প্রকৃতির রাজ্যে নিজেদের জীবনকে নিরাপদ মনে করেনি, তখন তারা নিজেদের মধ্যে চুক্তি করে রাষ্ট্র গঠন করে, যা তাদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। 

সূত্র: রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম।

৪৭.
Which form of government did Hobbes prefer? (হবস কোন ধরণের সরকারকে অধিক পছন্দ করেন?) 
  1. Absolute monarchy (চরম রাজতন্ত্র) 
  2. Representative democracy (প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র) 
  3.  Republic (প্রজাতন্ত্র)  
  4. Oligarchy (অভিজাততন্ত্র) 
ব্যাখ্যা

- হবস-এর মতে, মানুষের প্রাকৃতিক অবস্থায় (State of Nature) জীবন “solitary, poor, nasty, brutish and short” ছিল।
শান্তি, নিরাপত্তা এবং অराजকতা থেকে মুক্তি পেতে মানুষের উচিত সম্পূর্ণ ক্ষমতা সংরক্ষিত এক সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের কাছে।
তিনি Absolute Monarchy (পরিপূর্ণ রাজতন্ত্র)-কে সবচেয়ে কার্যকর এবং নিরাপদ মনে করতেন, কারণ এতে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হয়।
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র হলো এমন একটি শাসন ব্যবস্থা যেখানে জনগণ সরাসরি সরকার চালায় না, বরং তাদের প্রতিনিধি (representatives) নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন পদে নিযুক্ত হয় এবং তাদের পক্ষ থেকে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসন পরিচালনা করে।
- প্রজাতন্ত্র হলো এমন একটি শাসন ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি (যেমন রাষ্ট্রপতি) জনগণ দ্বারা নির্বাচিত হয় এবং সাধারণভাবে উত্তরাধিকার ভিত্তিক রাজতন্ত্র নেই।
- অভিজাততন্ত্র হলো এমন একটি শাসন ব্যবস্থা যেখানে কয়েকজন সমৃদ্ধ, শক্তিশালী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দেশের শাসন পরিচালনা করে। সাধারণ জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ সীমিত থাকে।

সূত্র: রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম।

৪৮.
If a government fails to protect natural rights, Locke argues that—(জন লকের মতে, যদি কোনো সরকার মানবের প্রাকৃতিক অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে-)
  1. People must obey anyway ( জনগণের যেকোনভাবে মানা উচিত)
  2. People have the right to revolt (জনগণের অভ্যুত্থান করার অধিকার রয়েছে) 
  3. Sovereignty is absolute (সার্বভৌমত্ব চরম) 
  4. Religion must intervene (ধর্ম হস্তক্ষেপ করবে) 
ব্যাখ্যা

- জনগণই সার্বভৌম ক্ষমতার প্রকৃত মালিক। শাসক জনগণের স্বাভাবিক অধিকার খর্ব করলে জনগণ তাকে উৎখাত করে নতুন সরকার গঠন করতে পারবে। জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি কোনো সার্বভৌম শাসকের স্থান নেই। মূলত লক সার্বভৌম ক্ষমতাকে জনগণের হাতে অর্পণ করে গণতন্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।
- জন লক (John Locke) অনুযায়ী, যদি কোনো সরকার মানবের প্রাকৃতিক অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণের অধিকার আছে সরকারকে পরিবর্তন বা উৎখাত করার।
- প্রাকৃতিক অধিকার (Natural Rights): জীবন (Life), স্বাধীনতা (Liberty), সম্পদ (Property)। লক-এর মতবাদ অনুসারে সরকার এই অধিকারগুলি রক্ষা করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকার ব্যর্থ হলে: জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, সংস্কার বা নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করার অধিকার রয়েছে।

সূত্র: পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা – রাখী বর্মন।

৪৯.
Montesquieu is best known for advocating— (মন্টেস্কু অধিক পরিচিত সমর্থনের জন্য-) 
  1. Absolute monarchy (চরম রাজতন্ত্র) 
  2. Separation of powers (ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ)
  3. Divine right of kings (রাজার ঐশ্বরিক অধিকার) 
  4. Direct democracy (প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র) 
ব্যাখ্যা

- মন্টেস্কু ১৭৪৮ সনে তিনি তার 'The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন। এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়। মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে- আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা। এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।
- প্রত্যেক রাষ্ট্রেই সরকারের তিনটি বিভাগ আছে। যেমন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। আইন বিভাগ আইন তৈরি করে, শাসন বিভাগ আইন অনুযায়ী শাসন করে এবং বিচার বিভাগ আইন লঙ্ঘনকারীর বিচার করে শাস্তি প্রদান করে। তবে সরকারের এই তিন ধরনের ক্ষমতা কোন এক বিভাগের হাতে থাকা ঠিক নয়। তাতে সরকার স্বেচ্ছাচারী হতে পারে। তাই প্রত্যেক বিভাগ আলাদা লোক দ্বারা আলাদাভাবে সংগঠিত হওয়া প্রয়োজন। এ ব্যবস্থাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বলে।
- ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র-ড. মোহাম্মদ আব্দুল ওদুদ ভূইয়া।

৫০.
Which of the following is a famous Machiavelli principle? (নিচের কোনটি ম্যাকিয়াভেলির নীতি?) 
  1. The ends justify the means (লক্ষ্য মাধ্যমের যৌক্তিকতা বিধান করে) 
  2. Life, liberty, and property (জীবন, স্বাধীনতা,সম্পত্তি)
  3. Separation of powers (ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ) 
  4. Class struggle (শ্রেণি সংগ্রাম)
ব্যাখ্যা

- The ends justify the means (লক্ষ্য মাধ্যমের যৌক্তিকতা বিধান করে)  মূলত ম্যাকিয়াভেলি (Machiavelli)-এর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি। অর্থাৎ, একজন নেতা যদি কোনো বড় লক্ষ্য বা রাষ্ট্রের স্বার্থ অর্জন করতে চায়, তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য নৈতিকতা বা পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা এড়ানো যেতে পারে।
- একজন শাসকের জন্য প্রজাদের আনুগত্য ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই, প্রয়োজনে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, যদিও তা নৈতিকতার মানদণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
- ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য শাসককে কূটকৌশল অবলম্বন করতে হতে পারে। প্রয়োজনে মিথ্যা বলা, প্রতারণা করা বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাও তার জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে। 
- একজন শাসকের মধ্যে কিছু বিশেষ গুণাবলী থাকা ভালো, যেমন- ন্যায়পরায়ণতা, বদান্যতা ইত্যাদি কিন্তু এগুলো ক্ষমতার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। একজন শাসককে অবশ্যই পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং প্রয়োজনে তার গুণাবলী বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করা উচিত নয়।
উদাহরণ: কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে রাজা বা নেতা অসৎ পদক্ষেপ নিতে পারে যদি তা রাজ্য বা জনগণের কল্যাণে সাহায্য করে।

সূত্র: পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা – রাখী বর্মন।