পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes১৮ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
বাংলাবিদ ব্যাকরণ: পরীক্ষা – ১৮ টপিক: পুরুষ ও স্ত্রী-বাচক শব্দ পদাশ্রিত নির্দেশক উক্তি - কারক ও বিভক্তি [লাইভ ক্লাস - ৩৫ ও ৩৬]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
কোন শব্দটি ক্লীব লিঙ্গ?
  1. বালক
  2. ফুল
  3. রাজা
  4. নারী
ব্যাখ্যা

- ‘ফুল’ একটি নির্জীব বস্তু, তাই এটি ক্লীব লিঙ্গ।

ক্লীবলিঙ্গ:
- যে সকল শব্দ নির্জীব বস্তু, ভাব বা পদার্থ বোঝায় এবং যাদের ক্ষেত্রে পুং বা স্ত্রী লিঙ্গ নির্ধারণ করা যায় না, সেগুলোকে ক্লীব লিঙ্গ বলা হয়। 
- যেখানে লিঙ্গভেদ অর্থহীন বা অনির্দিষ্ট, সেখানেই ক্লীবলিঙ্গের ব্যবহার দেখা যায়।
- যেমন: কলম, বই, টেবিল, নদী, আকাশ, পাথর, জল, ফুল, দেশ, শহর, বাড়ি, বাতাস, আলো, অন্ধকার, চেয়ার, টেবিল, গাড়ি, বল, খেলা, রং, সময়, সংখ্যা, গ্রাম, বন, পাহাড়, সমুদ্র ইত্যাদি ক্লীবলিঙ্গের উদাহরণ। 
- এসব শব্দ কোনো জীবিত পুরুষ বা নারীকে নির্দেশ করে না।
- এই লিঙ্গভিত্তিক শ্রেণিবিভাগের মাধ্যমে শব্দকে প্রাণিবাচক ও অপ্রাণীবাচক হিসেবে আলাদা করা হয়।
- এর ফলে ভাষায় শব্দের প্রকৃতি ও ব্যবহার সহজে বোঝা যায় এবং ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ স্পষ্ট হয়।
---------------------------
অন্যদিকে,
- বালক — পুরুষ মানুষ বোঝায়, তাই পুংলিঙ্গ।
- নারী — স্ত্রী মানুষ বোঝায়, তাই স্ত্রীলিঙ্গ।
- রাজা — পুরুষ শাসক বোঝায়, তাই পুংলিঙ্গ।
----------------------------------
উল্লেখ্য,
- কিছু প্রাণীবাচক শব্দকেও অনেক সময় ক্লীবলিঙ্গ হিসেবে ধরা হয়;
- যেমন- সাপ, ব্যাঙ, কাক, মাছ, টিকটিকি ইত্যাদি।
- কারণ সাধারণ ব্যবহারে এসব প্রাণীর ক্ষেত্রে স্ত্রী বা পুরুষ লিঙ্গ নির্দিষ্ট করা কঠিন বা অপ্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়।

উৎস: 
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

.
নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দ কোনটি?
  1. অসূর্যম্পশ্যা
  2. সুলতানা
  3. মালেকা
  4. খানম
ব্যাখ্যা

- নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দ হচ্ছে- অসূর্যম্পশ্যা।

নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দ:
- বাংলা ব্যাকরণে নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দ বলতে সেইসব তৎসম শব্দকে বোঝানো হয়, যেগুলো সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি আগত এবং যাদের কোনো পুরুষবাচক রূপ নেই।
- উদাহরণস্বরূপ: 
• ‘সতী’ শব্দটি একজন পুণ্যবতী বা পতিব্রতা স্ত্রীকে বোঝায়। 
একইভাবে ‘অসুর্যম্পশ্যা’ বলতে সেই নারীকে বোঝানো হয়, যিনি সূর্যের মুখ দেখেননি।
• আবার ‘বিধবা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয় সেই নারীর জন্য, যার স্বামী মৃত্যুবরণ করেছেন। 
- এসব শব্দে নারীর পরিচয় স্পষ্ট হলেও পুরুষের জন্য কোনো সমতুল্য শব্দ নেই।
∗ নিম্মের এই  শব্দগুলো তৎসম হওয়ার পাশাপাশি চিরস্থায়ীভাবে স্ত্রীলিঙ্গবাচক;  এদের কোনো পুরুষবাচক প্রতিশব্দ নেই।
• যেমন: 
- অসূর্যম্পশ্যা,
- সতীন,
- অর্ধাঙ্গিনী,
- কুলটা,
- বিধবা,
- অরক্ষণীয়া,
- সপত্নী, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সুলতানা, মালেকা, খানম হচ্ছে বিদেশী স্ত্রীবাচক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)। 

.
কোন শব্দটির লিঙ্গান্তর হয় না? 
  1. খান 
  2. ধোপা  
  3. মরদ  
  4. কেরানি 
ব্যাখ্যা

- কেরানি শব্দটির লিঙ্গান্তর হয় না।

লিঙ্গান্তর:
- যেসব শব্দে পুরুষ বা স্ত্রীবাচক কোনো নির্দিষ্টতা থাকে না, বরং পুরুষ ও নারী উভয়কে বোঝায়, অথবা যা জড় পদার্থ বা ধারণা নির্দেশ করে, তাদের লিঙ্গান্তর হয় না।
- এগুলো নিত্য উভয়লিঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়।
- এর মধ্যে রয়েছে এমন পেশা, পদবী, সাধারণ নাম বা জড় বস্তু যা পুরুষ ও নারী উভয়েই বোঝাতে পারে।
- উদাহরণস্বরূপ, কেরানি একটি পেশা বা পদ যা নারী ও পুরুষ উভয়ই পালন করতে পারে;
- প্রথাগত ব্যাকরণে এর কোনো আলাদা স্ত্রীবাচক রূপ নেই, তাই এটি নিত্য উভয়লিঙ্গ শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- লিঙ্গান্তরহীন কিছু নির্দিষ্ট পদবী ও সম্পর্ক নিম্মরুপ, যেমন:
• কবিরাজ, যোদ্ধা,  ডাক্তার, শিক্ষক, পুলিশ, মন্ত্রী, কবি, শিল্পী, বিচারপতি, মহকুমাশাসক, কর্মচারী, ঢাকী, কৃতদার, অকৃতদার, পুরোহিত, কেরানি, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সরকার, পীর, দরবেশ, মওলানা, সেনাপতি, দলপতি, জ্বীন, জামাতা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, 
• কিছু অপ্রাণীবাচক বা জড় বস্তুবাচক বিশেষ্যও লিঙ্গান্তরহীন,যেমন- 
- দেশ, নদী, পর্বত, সূর্য, চাঁদ, বই, কলম, টেবিল, চেয়ার, আকাশ, বাতাস, জল, খাদ্য, ফল, ফুল, গাছ, বাড়ি, শহর, গ্রাম।
• একইভাবে, অব্যয় (যেমন: আর, ও, এবং, কিন্তু, যদি, তবে, সুতরাং, অতএব, নিচে, উপরে, কাছে, দূরে);
- এবং সর্বনাম (আমি, তুমি, সে, তিনি, যিনি, যে, যা, এরা, ওরা) ও লিঙ্গহীন।
--------------------------------------
অন্যদিকে, 
অন্যদিকে,
- 'খান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- খানম,
- 'ধোপা' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- ধোপানী,
- 'মরদ' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- জেনানা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা,ড. হায়াত মামুদ। 

.
‘কুলি’ শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ কোনটি?
  1. কামিনি
  2. কামিন
  3. কুলিনী
  4. কুলিপত্নি 
ব্যাখ্যা

- ‘কুলি’ শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ- 'কামিন'।

লিঙ্গ:
- বাংলা ব্যাকরণে কিছু শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়;
- অর্থাৎ মূল পুরুষবাচক শব্দের লিঙ্গ পরিবর্তন না করে সম্পূর্ণ ভিন্ন শব্দ নারীকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 
- উদাহরণস্বরূপ,
• পুরুষবাচক – স্ত্রীবাচক (ভিন্ন শব্দ):
- কুলি  – কামিন; 
- গোলাম – বাঁদি; 
- বিদ্বান – বিদুষী;
- এঁড়ে – বকনা;
- শুক – শারি;
- বলদ – গাভী; 
- রাজা – রানি;
- জনক – জননী;
- ভদ্রলোক – ভদ্রমহিলা;
- ছাত্র – ছাত্রী;
- নর্তক – নর্তকী;
- মহাশয় – মহাশয়া;
- গুরু – গুর্বী;
- দেবতা – দেবী;
- গায়ক – গায়িকা;
- যুবক – যুবতী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।

.
’আ-প্রত্যয়’ যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বাহিকা 
  2. গায়িকা
  3. পূজনীয়া 
  4. শিক্ষিকা
ব্যাখ্যা

- ’আ-প্রত্যয়’ যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ পূজনীয়া।

’আ-প্রত্যয়’ যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক:
- পুংবাচক শব্দের শেষে ‘আ’’ প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
- যেমন:
∗ পুরুষবাচক – স্ত্রীবাচক:
- পূজনীয় – পূজনীয়া ;
- চপল – চপলা;
- অগ্রজ – অগ্রজা;
- বৃদ্ধ – বৃদ্ধা;
- অনাথ – অনাথা;
- মহাশয় – মহাশয়া;
- কুটিল – কুটিলা;
- শিষ্য – শিষ্যা;
- মনোহর – মনোহরা;
- মূর্খ – মূর্খা;
- কৃপণ – কৃপণা;
- জীবিত – জীবিতা;
- কোকিল – কোকিলা;
- প্রিয় – প্রিয়া;
- সুনয়ন – সুনয়না;
- জটিল – জটিলা;
- বীর – বীরাঙ্গনা;
- প্রবীণ  – প্রবীণা;
- সেবক  –  সেবিকা;
- সুনীল – সুনীলা, ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'ক' বা 'অক' থাকলে 'ইকা' যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়, যেমন:
- বাহক - বাহিকা;
- গায়ক - গায়িকা;
- শিক্ষক - শিক্ষিকা। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
’খানা, খানি, গাছা’ কী নির্দেশ করে?
  1. পদাশ্রিত নির্দেশক
  2. নির্দেশক সর্বনাম
  3. সর্বনাম
  4. অব্যয় 
ব্যাখ্যা

- খানা, খানি, গাছা’ পদাশ্রিত নির্দেশকের উদাহরণ।

পদাশ্রিত নির্দেশক:
- পদাশ্রিত নির্দেশক হলো এমন কিছু শব্দাংশ যা বিশেষ্য বা বিশেষণ পদের পরে বসে পদটিকে নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্টভাবে বোঝায়।
- এটি ইংরেজি আর্টিকেল ‘The’–এর মতো কাজ করে।
- এ ধরনের শব্দাংশকে পদাশ্রিত অব্যয়ও বলা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ—“বইটি”, “ছেলেটা”, “একখানা” ইত্যাদি।
- একবচন ও বহুবচনের জন্য আলাদা আলাদা রূপ রয়েছে।

• একবচনে পদাশ্রিত নির্দেশক সাধারণত একটি বস্তু বা ব্যক্তি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- এ ধরনের নির্দেশককে আবার ভাগ করা যায়-
- সাধারণ: -টা, -টি (যেমন: কলমটা, বইটি)।
- অনির্দিষ্ট: -টা, -টি (যেমন: একটি দেশ, একটু খাবার)।
- বস্তুবাচক/আকার: -খানা, -খানি (যেমন: বইখানা, কলমখানি)।

• বহুবচনে পদাশ্রিত নির্দেশক একাধিক বস্তু বা ব্যক্তি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন:
- সাধারণ: -গুলো, -গুলি (যেমন: বইগুলো, কলমগুলি)।
- সম্ভ্রম/শ্রেণি: -গণ, -বৃন্দ (যেমন: শিক্ষকগণ, ভক্তবৃন্দ)।

উল্লেখ্য,
- এছাড়াও কিছু বিশেষ নির্দেশক আছে, যা নির্দিষ্টতা বা অনির্দিষ্টতা প্রকাশ করে। যেমন:
- পরিমাপের সল্পতা: -টুকু, -টুক, -টুকুন (যেমন: সামান্য একটু, একটুকুন);
- অনির্দিষ্ট: -গাছ, -গাছা, -গাছি (যেমন: একগাছ চুল)।
- অনির্দেশক: - এক, জন, ( যেমন: জন চারেক লোক)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮)।

.
'উক্তি পরিবর্তন' বাংলা ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1.  শব্দতত্ত্ব
  2. পদতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

- বাংলা ব্যাকরণে উক্তি পরিবর্তন বাক্যতত্ত্ব এর  আলোচ্য বিষয়। 

উক্তি ও বাক্যতত্ত্ব: 
-বাংলা ব্যাকরণে উক্তি হলো বাক্য প্রকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ; যা বাক্যতত্ত্ব এর আলোচ্য বিষয়।
- বাক্য প্রকরণে মূলত প্রত্যক্ষ উক্তি  এবং পরোক্ষ উক্তি –এর নিয়ম নিয়ে আলোচনা করা হয়।
-উক্তি এবং বাচ্য পরিবর্তন একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- বাক্য প্রকরণ বাক্যের গঠন, পদবিন্যাস, এবং বাক্য পরিবর্তনের নিয়ম নিয়ে আলোচনা করে, যার মধ্যে উক্তি একটি প্রধান অংশ। 
- উক্তি মূলত বাচ্যের ধারণা থেকেই আসে;
- কারণ বাচ্য নির্ধারণ করে বাক্যে কর্তা, কর্ম বা ক্রিয়ার প্রাধান্য কীভাবে প্রকাশ পাচ্ছে, যা উক্তি পরিবর্তনের মূল ভিত্তি।

উল্লেখ্য, 
• উক্তি হলো বক্তার কথা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রকাশ করার প্রক্রিয়া।
• অন্যদিকে, বাচ্য হলো বাক্যের এমন রূপ যা কর্তা, কর্ম বা ক্রিয়ার প্রাধান্য অনুসারে বাক্যের কাঠামো পরিবর্তন করে।
- সহজভাবে বলতে গেলে, উক্তি বাক্যের বিষয়বস্তু প্রকাশ করে, আর বাচ্য বাক্যের প্রকাশভঙ্গি বা গঠন (কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য) নির্ধারণ করে। 

 উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
'এক' শব্দের সঙ্গে ‘টা’ বা ‘টি’ যুক্ত হলে সাধারণত কী বোঝায়?
  1. নির্দিষ্টতা 
  2. অনির্দিষ্টতা
  3. একাধিক বস্তু
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

- 'এক' শব্দের সঙ্গে ‘টা’ বা ‘টি’ যুক্ত হলে সাধারণত অনির্দিষ্টতা বোঝায়।

পদাশ্রিত নির্দেশক:
- পদাশ্রিত নির্দেশক হলো এমন কিছু শব্দাংশ যা বিশেষ্য বা বিশেষণ পদের পরে বসে পদটিকে নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্টভাবে বোঝায়।
- বাংলা ব্যাকরণে এক শব্দের সঙ্গে ‘টা’ বা ‘টি’ যুক্ত হলে এটি সাধারণত অনির্দিষ্টতা নির্দেশ করে;
- অর্থাৎ নির্দিষ্ট নয় এমন কিছুকে বোঝায়।
- উদাহরণস্বরূপ, একটি দোকান, একটি বই, একটি ছেলে—এখানে যেকোনো একটি দোকান, বই বা ছেলে বোঝানো হয়েছে, তবে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

অন্যদিকে,
- যখন ‘টা/টি’ অন্য সংখ্যা বা বিশেষ্য/সর্বনাম পদের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা নির্দিষ্টতা প্রকাশ করে।
- যেমন: বইটা = নির্দিষ্ট বই; দিনটি = নির্দিষ্ট দিন।
- উদাহরণ: “আমি বইটা পড়েছি” অর্থ হলো নির্দিষ্ট সেই বইটি পড়েছি।
------------------------------------
উল্লেখ্য,  
- বোঝার নিয়ম—‘এক’ + টা/টি: এটি কোনো একটিকে বোঝায়, কিন্তু সেই ‘একটি’ যে কোনো একটি হতে পারে, তা নির্দিষ্ট করা হয় না। উদাহরণ: “একটি কলম দাও” মানে যেকোনো একটি কলম।
‘টা/টি’ পদটি সংখ্যা বা শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অনির্দিষ্ট বা নির্দিষ্ট বস্তু বোঝায়।
- তবে ‘এক’ থাকলে অনির্দিষ্টতা বুঝায়।
- আর অন্য সংখ্যা বা নির্দিষ্ট শব্দের সঙ্গে থাকলে নির্দিষ্টতা বুঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

.
নিচের কোনটি ‘ইনী'- প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. চাকরানি
  2. ধোপানি
  3. বিহঙ্গিনী
  4. নাপিতানী
ব্যাখ্যা

- ‘বিহঙ্গিনী’ শব্দটি মূল পুরুষবাচক শব্দ ‘বিহঙ্গ’ থেকে গঠিত।

ইনী’ প্রত্যয় যোগে স্ত্রীলিঙ্গ: 
- বাংলা ব্যাকরণে কিছু পুরুষবাচক শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গে রূপান্তরিত করতে নির্দিষ্ট প্রত্যয় যোগ করা হয়।
- কিছু পুরুষবাচক শব্দকে ‘ইনী’ প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীলিঙ্গে রূপান্তরিত করা হয়। যেমন- 
• পুরুষবাচক + স্ত্রীবাচক ('ইনী'প্রত্যয় যোগে):
- বিহঙ্গ + ইনী = বিহঙ্গিনী;
- যোগী + ইনী = যোগিনী;
- গৃহী + ইনী = গৃহিণী;
- রজক (পুংলিঙ্গ) + ইনী = রজকিনি;
- যোগী + ইনী = যোগিনী;
- হিম + ইনী = হিমানী।

অন্যদিকে, 
- চাকর শব্দের শেষে ‘আনী’ যোগ করে গঠিত হয়েছে চাকরানি।
- ধোপা শব্দের শেষে ‘নি’ যোগ করে হয়েছে ধোপানি।
- নাপিত শব্দের শেষে ‘আনী’ যোগ করে হয়েছে নাপিতানী।

উৎস: ব্যাকরণ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১০.
কোনো জিনিসকে টুকরো করলে তার বৈশিষ্ট্য নষ্ট না হলে তা বুঝাতে কোন নির্দেশক ব্যবহৃত হয়?
  1. টুকু/টুকুন
  2. গাছা/গাছি
  3. গুলি/গুলো
  4. খানা/খানি 
ব্যাখ্যা

কোনো জিনিসকে টুকরো করলে তার বৈশিষ্ট্য নষ্ট না হলে তা বুঝাতে টুকু/টুকুন নির্দেশক ব্যবহৃত হয়।

• পদাশ্রিত নির্দেশক:
- বাংলা ভাষায় ‘টুকু’ শব্দটি একটি পদাশ্রিত নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- ‘টুকু’ হলো এমন একটি নির্দেশক যা অল্প পরিমাণ, অংশ, নির্দিষ্টতা এবং স্নেহসূচক অর্থ প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়।
- মূলত এটি বস্তু বা পদার্থের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে তার ক্ষুদ্র অংশ নির্দেশ করে।
যেসব জিনিস টুকরো করলে বা বিচ্ছিন্ন করলে তাদের মূল বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়না, সেখানে ‘টুকু’ ব্যবহার করা হয়।
- যেমন: কাগজটুকু, বৈঠকটুকু, ইত্যাদি। 
------------------------------------
• ‘টুকু’ ব্যবহারের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ:

- অল্প পরিমাণ বা অংশ বোঝাতে:
- বিশেষ্য পদের সাথে যুক্ত হয়ে সামান্য অংশ বা পরিমাণ বোঝায়, যেমন: জলটুকু, দুধটুকুন, ভাতটুকু, কাগজটুকু, কাপড়টুকু।

- নির্দিষ্টতা বোঝাতে (পদাশ্রিত নির্দেশক হিসেবে):
- বিশেষ্য পদের পরে বসে নির্দিষ্টতা প্রকাশ করে, যেমন: দুলটুকু (নির্দিষ্ট দুলটি)।

- স্নেহ ও ভালোবাসা প্রকাশে:
- শিশু বা প্রিয়জনের প্রতি মমতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেমন: সোনাটুকু, বাবুসোনাটুকু, লক্ষ্মীটুকু।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ);
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১১.
ছাত্ররা বলল, "কী মজা! আজ আমাদের ছুটি হবে।” বাক্যটির পরোক্ষ উক্তি হলো- 
  1. ছাত্ররা আনন্দে বলল যে আজ তাদের ছুটি হবে।
  2. ছাত্ররা আনন্দের সাথে  বলল যে আজ আমাদের ছুটি হবে।
  3. ছাত্ররা আনন্দের সাথে  বলল যে সেদিন তাদের ছুটি হবে।
  4. ছাত্ররা বিস্ময়ে বলল, "আজ তাদের ছুটি হবে"।
ব্যাখ্যা

• ছাত্ররা বলল, "কী মজা! আজ আমাদের ছুটি হবে।” বাক্যটির পরোক্ষ উক্তি হলো- 
- ছাত্ররা আনন্দের সাথে  বলল যে সেদিন তাদের ছুটি হবে।

প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উক্তি:
- বাংলা ব্যাকরণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উক্তি এর মধ্যে মূল পার্থক্য হলো উক্তি কিভাবে প্রকাশ করা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ,
• প্রত্যক্ষ উক্তি:
 “কী মজা! আজ আমাদের ছুটি হবে।” – এখানে ছাত্ররা নিজের মতো করে আনন্দ প্রকাশ করেছে এবং ‘আজ’ শব্দ ব্যবহার করে বর্তমান সময় নির্দেশ করেছে।
- এখানে মূল উক্তির ‘আনন্দ’ ভাবটি ‘কী মজা!’ দ্বারা প্রকাশ পেয়েছে, যা পরোক্ষ উক্তিতে সংক্ষেপে প্রকাশ করা হয়েছে।
পরোক্ষ উক্তি:
 ছাত্ররা আনন্দে বলল যে সেদিন তাদের ছুটি হবে।
- এখানে বক্তার কথা অন্য ভাষায় পুনর্গঠন করা হয়েছে। 
- ‘আজ’ শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে ‘সেদিন’ হয়েছে, এবং ‘কী মজা!’–এর মতো আবেগসূচক শব্দ বাদ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তর করার নিয়মগুলো হলো:
 ১. বর্ণনামূলক ক্রিয়ার পরিবর্তন: ‘বলল’ শব্দের পরিবর্তে আবেগ অনুযায়ী ব্যবহার করতে হয়, যেমন—‘আনন্দে বলল’, ‘দুঃখ করে বলল’, ‘বিস্ময়ে বলল’।
 ২. উদ্ধৃতি চিহ্ন ও যোজক: উদ্ধৃতি চিহ্ন তুলে ‘যে’ বা ‘যাতে’ যোগ করতে হয়।
 ৩. আবেগসূচক শব্দ অপসারণ: ‘আহা!’, ‘ওহ!’ ইত্যাদি শব্দ বাদ দিতে হয়।
 ৪. বিশেষণ ও ক্রিয়ার পরিবর্তন: ‘কী’ বা ‘কেমন’ দিয়ে শুরু হওয়া বাক্যকে ‘খুব’ বা ‘বেশি’ দিয়ে পুনর্গঠন করা যায়।
 ৫. সর্বনাম ও কালের পরিবর্তন: প্রথম পুরুষের সর্বনাম দ্বিতীয় বা তৃতীয় পুরুষে পরিবর্তিত হয়, এবং বর্তমান কাল অতীত কালে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
বিশেষ অর্থে, নির্দিষ্টতা জ্ঞাপনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক কোনগুলো?
  1. কেতা, গুলিন
  2. কেতা, পাটি
  3. তা, টুক
  4. তা, গাছা
ব্যাখ্যা

বিশেষ অর্থে, নির্দিষ্টতা জ্ঞাপনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক গুলো হচ্ছে- কেতা, তা, পাটি।

• নির্দিষ্টতা জ্ঞাপনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক:
- বাংলা ভাষায় কিছু পদাশ্রিত নির্দেশক যেমন কেতা, তা, পাটি বিশেষ অর্থে নির্দিষ্টতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- এই ধরনের নির্দেশক সাধারণত একবচন ও বহুবচন অনুযায়ী নির্দিষ্টতা প্রকাশ করে, যেমন—‘বইটি’, ‘লোকটা’।
- এছাড়া এগুলো খণ্ড বা অংশ বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়, যেমন: ‘একটুকরো’, ‘পোয়াটাক’।
• উদাহরণস্বরূপ:
- কেতা: “কয়েক কেতা বই দাও” – নির্দিষ্ট পরিমাণ বা অংশ বোঝায়।
- তা: “নয় তা কাগজ দাও” – কিছু কাগজের নির্দিষ্ট অংশ বোঝানো হয়েছে।
- পাটি: “এক পাটি জুতো চাই” – এক জোড়া বা এক সেট বোঝাতে ব্যবহৃত।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৩.
“অমি ব্যাট দিয়ে ক্রিকেট খেলে।” — বাক্যটিতে ‘ব্যাট দিয়ে’ কোন কারক নির্দেশ করে?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3.  অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা

- “অমি ব্যাট দিয়ে ক্রিকেট খেলে।” - বাক্যটিতে ‘ব্যাট দিয়ে’ করণ কারক নির্দেশ করে।

করণ কারক:
- বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে যে নামপদের (বিশেষ্য বা সর্বনাম) সম্পর্ক থাকে, তাকে কারক বলে।
- কারক দেখায় যে, কে কাজটি করছে, ক্রিয়াটি কার ওপরে ঘটছে, কোথায় বা কীভাবে ঘটছে ইত্যাদি।
- যেই পদ দিয়ে বোঝায় যে কাজটি কোন যন্ত্র, উপকরণ বা উপায়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে সেই পদই হলো করণ কারক।
- বাক্যে ক্রিয়াপদকে যদি ‘কী দিয়ে’ বা ‘কী উপায়ে’ প্রশ্ন করা হয়, তবে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই করণ কারক।
- যেমন:
• রহিম চাবি দিয়ে তালা খুলল (কী দিয়ে খুলল? → চাবি দিয়ে)।
• সে লাঠির দ্বারা দরজাটি ভাঙল (কী দ্বারা ভাঙল? → লাঠির দ্বারা)।
-------------------------------------
• অমি ব্যাট দিয়ে ক্রিকেট খেলে।
- অমি → কর্তৃকারক (ক্রিয়ার সম্পাদক/যে কাজটি করে);
- ব্যাট দিয়ে → করণ কারক (কী দিয়ে কাজটি সম্পাদিত হচ্ছে);
- ক্রিকেট → কর্মকারক (ক্রিয়ার লক্ষ্যবস্তু)।
আবার,
- “কী দিয়ে খেলে?” → ব্যাট দিয়ে ⇒ করণ কারক।
- এখানে খেলার কাজটি ব্যাট দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, তাই এটি করণ কারক।

----------------------------------
অন্যদিকে,
- কর্তৃকারক – কাজটি যে করে তাকে বোঝায় (এখানে অমি)।
- কর্মকারক – কাজটি যার উপর হয় তাকে বোঝায় (এখানে ক্রিকেট)।
- অধিকরণ কারক – কাজটি কোথায় বা কখন হয় তা বোঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

১৪.
‘ছেলেরা সাপের ভয়ে লাফালাফি করল।’— বাক্যে ‘সাপের’ কোন কারক ও কোন বিভক্তি নির্দেশ করছে?
  1. কর্মকারকে ষষ্ঠী
  2. করণ কারকে ষষ্ঠী
  3. অপাদান কারকে ষষ্ঠী
  4. কর্তৃকারকে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা

- এখানে ‘সাপের’ শব্দটি অপাদান কারক নির্দেশ করছে এবং এটি ষষ্ঠী বিভক্তি।

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তাই হলো অপাদান কারক।
• বাক্য: ‘ছেলেরা সাপের ভয়ে লাফালাফি করল’।
- এখানে ‘সাপের’ শব্দটি অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি। 
-  কারণ, যদি প্রশ্ন করা হয়- কিসের ভয়ে লাফালাফি করছে, তাহলে উত্তর হবে সাপের ভয়ে।
- ছেলেরা সাপের ভয় থেকে লাফালাফি করছে, অর্থাৎ ভয় পাওয়ার উৎস বা হেতু বোঝানো হচ্ছে।
- এখানে ষষ্ঠী বিভক্তির চিহ্ন ‘এর’ ব্যাবহার করা হয়েছে।
- তাই ‘ছেলেরা সাপের ভয়ে লাফালাফি করল’ বাক্যটিতে সাপের হচ্ছে অপাদানে ষষ্ঠী বিভক্তি।
-----------------------------------------
- অপাদান কারকের কিছু উদাহরণ:
- যেমন:
 • বাস স্টেশন ছেড়েছে।
- বাক্যে 'স্টেশন' থেকে বাসটি বিচ্যুত হয়েছে। 
- এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি।
- তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।
• এই রাস্তায় কুকুরের ভয় নেই।
- এখানে কুকুরের ভয়ে ভীত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।
- তাই 'কুকুরের' অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫.
“সে আমাকে দিয়ে চিঠিটা লেখালো”–বাক্যটিতে প্রযোজক কর্তা কে?
  1. সে
  2. চিঠি
  3. আমি
  4. কেউ নয়
ব্যাখ্যা

- “সে আমাকে দিয়ে চিঠিটা লেখালো”–বাক্যটিতে প্রযোজক কর্তা - সে।

প্রযোজক কর্তা:
- প্রযোজক কর্তা কর্তৃকারকের একটি প্রকারভেদ। 
- প্রযোজক কর্তা হলো সেই কর্তা, যিনি নিজে সরাসরি কাজ না করে অন্যকে দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করান।
- অন্যদিকে, যাকে দিয়ে কাজটি করানো হয় তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ,
“সে আমাকে দিয়ে চিঠিটা লেখালো” —এখানে সে প্রযোজক কর্তা, কারণ সে নিজে লিখছেনা, আমাকে দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করেছে।
• “হুজুর ছাত্রদের কুরআন পড়াচ্ছেন”—এখানে হুজুর প্রযোজক কর্তা, কারণ তিনি নিজে পড়াচ্ছেন না, ছাত্রদের দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করছেন। 
• “মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন”—এখানে মা প্রযোজক কর্তা এবং শিশু প্রযোজ্য কর্তা। 

• প্রযোজক কর্তার কিছু উদাহরণ হলো:
- “মালিক শ্রমিককে দিয়ে বাড়ি তৈরি করাচ্ছেন”  → মালিক = প্রযোজক কর্তা।
- “আমি তাকে দিয়ে অঙ্কটা কষালাম”  → আমি = প্রযোজক কর্তা।
- "কৃষক গরু দিয়ে চাষ করায়"  → কৃষক = প্রযোজক কর্তা।
- “সাপুড়ে সাপ খেলাচ্ছে।” → সাপুড়ে = প্রযোজক কর্তা।
- “আমি তাকে দিয়ে কাজটি করালাম।” → আমি = প্রযোজক কর্তা। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬.
কোন বাক্যটি কর্মকর্তৃবাচ্য কর্তার উদাহরণ নির্দেশ করছে?
  1. ছেলে বই পড়ছে
  2. মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন
  3. বাঁশি বাজে
  4. শিক্ষক ছাত্রদের পড়াচ্ছেন
ব্যাখ্যা

কর্মকর্তৃবাচ্য কর্তার উদাহরণ- বাঁশি বাজে।

→ কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা:
- কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা বলতে সেই ধরনের বাক্যকে বোঝায় যেখানে কাজটি হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কে করছে তা বলা হয় না।
- এখানে ক্রিয়ার কাজের ওপর গুরুত্ব থাকে।
- বাক্যে আলাদা কোনো কর্তা থাকে না বা কর্তা অনুপস্থিত থাকে।
- কর্মটিই যেন কর্তা হিসেবে কাজ করে ক্রিয়া সম্পন্ন করে।

• যেমন:
- "বাঁশি বাজে", বাক্যে 'বাঁশি' নিজেই হলো কর্মকর্তৃবাচ্যের কর্তা।
- “বাঁশি বাজে” বাক্যে বাঁশিই নিজে বাজছে, কে বাজাচ্ছে বলা হয় না।
- এই বাক্যে আসল কর্তা উহ্য রয়েছে।
- বাক্যের কর্মপদটিই মুখ্য হয়ে কর্তার মতো আচরণ করছে। 

কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তার কিছু উদাহরণ:
- গাড়ি চলে বাক্যে গাড়িই নিজে চলছে।
- চোর ধরা পড়েছে (এখানে চোর নিজেই ধরা পড়েছে)। 
- বই পড়া হচ্ছে (বই নিজেই পড়া হচ্ছে)।
- ঘটনাটি ঘটেছে (ঘটনাটি নিজেই ঘটেছে)। 
- ঝড় আসছে (ঝড় নিজেই আসছে)।
- জল পড়ে (জল নিজেই পড়ে)।
- পাতা নড়ে (পাতা নিজেই নড়ে)।
- বাতাস বইছে (বাতাস নিজেই বইছে)। 

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৭.
ঐকদেশিক আধারাধিকরণের উদাহরণ কোনটি?
  1. পুকুরে মাছ আছে।
  2. তিলে তৈল আছে।
  3. আকাশে চাঁদ উঠেছে।
  4. রাকিব অঙ্কে কাঁচা।
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) পুকুরে মাছ আছে ও গ) আকাশে চাঁদ উঠেছে।
অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো। 
------------ 

ঐকদেশিক আধারাধিকরণ:
- বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। 
- উদাহরণ: পুকুরে মাছ আছে ।
- অর্থাৎ, পুকুরের যে কোনো একস্থানে মাছ আছে।
- সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক আধারাধিকরণ হয়।
- উদাহরণ: ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)।
পুকুরে মাছ আছে: পুকুর বিশাল, কিন্তু মাছ পুকুরের যেকোনো এক জায়গায় আছে.
আকাশে চাঁদ উঠেছে: আকাশ বিশাল, কিন্তু চাঁদ তার একটি নির্দিষ্ট অংশে উঠেছে.
বনে বাঘ থাকে: বন একটি বিশাল স্থান, কিন্তু বাঘ বনের কোনো একটি অংশে থাকে.
ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে: ঘাট বিশাল, কিন্তু নৌকা ঘাটের কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে বাঁধা. 

উল্লেখ্য,
- অধিকরণ কারক:
- অধিকরণ কারক সময়, ভাব বা স্থানের বিশেষ অংশ নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং 
- এটি সপ্তমী বিভক্তিতে প্রকাশ পায়।
- অধিকরণ কারকের তিনটি প্রধান ধরন রয়েছে:
১. কালাধিকরণ: যখন ক্রিয়ার সময় বোঝানো হয়। যেমন – “প্রভাতে সূর্য উঠে।” এখানে ‘প্রভাতে’ সময় নির্দেশ করছে।
২. ভাবাধিকরণ: কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য যদি অন্য ক্রিয়ার ভাব প্রকাশ করে। সবসময় সপ্তমী বিভক্তি ব্যবহার হয়।
৩. আধারাধিকরণ: ক্রিয়ার স্থান বা আধারের সাথে সম্পর্কিত।
-------------------------------

• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।

অভিব্যাপক:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে,তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)।
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)।

ঐকদেশিক:
- বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

বৈষয়িক:
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন-
- রাকিব অঙ্কে কাঁচা।
- আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৮.
‘মেয়েরা উঠোনে দৌড়াচ্ছে।’— বাক্যটিতে ‘মেয়েরা’ কোন কারক নির্দেশ করে? 
  1. অধিকরণ কারক
  2.  অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

- ‘মেয়েরা উঠোনে দৌড়াচ্ছে।— বাক্যটিতে ‘মেয়েরা’ কর্তৃকারক নির্দেশ করে।
 
কর্তৃকারক:
- যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- এখানে প্রশ্ন করলে- কে দৌড়াচ্ছে? → মেয়েরা। 
- তাই ‘মেয়েরা’ কর্তৃকারক।

-
কর্তৃকারকের কিছু উদাহরণ:
• রহিম গান গায়- (কে গান গায়? → রহিম)।
- রহিম কর্তৃকারক।
• মেয়েরা উঠোনে দৌড়াচ্ছে- (কারা দৌড়াচ্ছে? → মেয়েরা)।
- মেয়েরা কর্তৃকারক।
• আমি চা খাই (কে চা খায়? → আমি)।
- আমি কর্তৃকারক।
• অধ্যাপক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছেন-  (কে পরীক্ষা নিয়েছেন? → অধ্যাপক)।
- অধ্যাপক কর্তৃকারক।
- তারা সিনেমা দেখছে (কে দেখছে? → তারা)। 
- তারা কর্তৃকারক।

অন্যদিকে,
- অধিকরণ কারক – কাজটি কোথায় বা কখন হয় তা বোঝায়।
- অপাদান কারক - কোনো কিছুর উৎস, বিচ্যুতি, বিরতি, আরম্ভ বা রক্ষা নির্দেশ করে এবং যা দেখে কেউ ভীত বা প্রভাবিত হয়।
- করণ কারক - কাজের উপায় বা যন্ত্র বোঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

১৯.
কোন শব্দটি উভয় লিঙ্গ? 
  1. সন্তান 
  2. কবি 
  3. ডাক্তার 
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

বাংলায় ‘লিঙ্গ’ শব্দের সঠিক অর্থ- চিহ্ন/ প্রতীক/ বৈশিষ্ট্য।

লিঙ্গ:
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গ বলতে সেই সকল শব্দকে বোঝায়, যার দ্বারা পুরুষ, স্ত্রী বা অচেতন বস্তুকে চিহ্নিত করা যায়।
- ‘লিঙ্গ’ পুরুষ, স্ত্রী বা অচেতন বস্তুকে চিহ্নিত করে বলে লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়। 
- লিঙ্গকে চার প্রকারে ভাগ করা হয়—পুংলিঙ্গ, স্ত্রীলিঙ্গ, ক্লীবলিঙ্গ এবং উভয়লিঙ্গ।
-  শুধুমাত্র প্রাণীবাচক শব্দই পুংলিঙ্গ বা স্ত্রীলিঙ্গের পর্যায়ে পড়ে;
- আর অপ্রাণীবাচক শব্দ সবসময় ক্লীবলিঙ্গের অন্তর্গত হয়।
• যেসব শব্দ পুরুষ জাতিকে বোঝায়, সেগুলোকে পুংলিঙ্গ বলা হয়।
- যেমন- মানুষ, শিক্ষক, ছাত্র, গোয়ালা, সিংহ ইত্যাদি।

• যেসব শব্দ স্ত্রী জাতিকে বোঝায়, সেগুলোকে স্ত্রীলিঙ্গ বলা হয়।
- যেমন- মা, ছাত্রী, শিক্ষিকা, সিংহী ইত্যাদি।

• কিছু শব্দ আছে যেগুলো পুরুষ ও স্ত্রী উভয়কে বোঝায়, সেগুলোকে উভয়লিঙ্গ বলা হয়।
- যেমন- সন্তান, ডাক্তার, শিশু, বহু কবি, শিল্পী ইত্যাদি। 

• আবার, কিছু শব্দ আছে যেগুলো পুরুষ বা স্ত্রী নয়, বরং অচেতন বা জড় বস্তুকে বোঝায়, সেগুলোকে ক্লীবলিঙ্গ বলা হয়।
- যেমন- গাছ, ফুল, জামা, বাড়ি, পর্বত, বৃক্ষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।