- খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দী হতে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
- এ সময়ই প্রথমবারের মতো ভারতে বড় বড় রাজ্য গঠনের আভাস পাওয়া যায় এবং একই সাথে তাদের মধ্যে
চলে শক্তি সংগ্রহ ও প্রাধান্য বিস্তারের জন্য তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
- মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট বুঝতে হলে মগধকেন্দ্রিক সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক তৎপরতার ইতিহাস অনুধাবন করতে হবে।
- উত্তরে কাবুল থেকে দাক্ষিণাত্রে গোদাবরী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে যে রাজ্যগুলির কথা জানা যায় সেগুলি হচ্ছে কাম্বোজ, গান্ধার, কুরু, কোশল, শূরসেন, পাঞ্চাল, মল্ল, বৃজি বা বজ্জি, মৎস্য, চেদী, বৎস, কাশী, অঙ্গ, অবন্তী, অশ্বক ও মগধ।
- এই ষোলটি রাজ্য প্রায়ই প্রাধান্য বিস্তারের জন্য নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত থাকতো।
- ক্রমেই অপেক্ষাকৃত দুর্বল জনপদগুলির স্বাতন্ত্র্য বিনষ্ট করে ভারতের রাজনীতির ক্ষেত্রে চারটি রাজ্য প্রধান হয়ে ওঠে।
- এই রাজ্যগুলি হচ্ছে কোশল, অবন্তী, বৎস ও মগধ।
- ভারতের খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর ইতিহাস হচ্ছে এই বৃহৎ শক্তিবর্গের অন্তর্দ্বন্দ্বের ইতিহাস এবং মগধের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ইতিহাস।
- বর্তমান বিহারের দক্ষিণাংশ, মুখ্যত পাটনা ও গয়া জেলা, প্রাচীনকালে মগধ নামে পরিচিত ছিল।
- এখানে ছিল নানা জাতির মিশ্রিত জনবসতি। বিভিন্ন কারণে ভারতের ইতিহাসে এই মগধের গুরুত্ব যথেষ্ট।
- মগধের ভৌগোলিক অবস্থান এর শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছিল।
- মগধের মাঝখান দিয়ে ছিল পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের মধ্যে যাতায়াতের রাস্তা। মগধ রাজ্যও ছিল বেশ সুরক্ষিত ।
- গঙ্গা, শোন ও গন্ডক নদী এর রাজ্যকে তিনদিক থেকে গিরে রেখেছিল। এর ফলে কোন শত্রুদেশের পক্ষে সহসা মগধ আক্রমণ করা সম্ভব ছিল না।
- এ রাজ্যের আদি রাজধানী ছিল খুবই সুরক্ষিত স্থান। এর চারদিকে ছিল পাহাড় এবং পাথরের উঁচু প্রাচীর। মগধের পরবর্তী রাজধানী পাটলীপুত্রও ছিল সুরক্ষিত।
- এমনি ধরনের অবস্থানগত ভৌগোলিক সুবিধার জন্য মগধ সহজে প্রতিবেশীদের আক্রমণ করতো; কিন্তু মগধকে প্রতিবেশী রাজ্য আক্রমণ করতে পারেনি। ঐতিহাসিক ব্যাশাম, রোমিলা থাপার প্রমুখ গঙ্গা নদীর উপর মগধের নিয়ন্ত্রণ এবং মগধের বাণিজ্যিক সমৃদ্ধির উল্লেখ করে বলেন, মগধ রাজ্যের রাজবংশগুলির নেতৃবৃন্দ খুব সহজেই সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতায় জড়িত এবং সফল হতে পেরেছিলেন।
উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।